id stringlengths 1 4 | title stringlengths 1 55 | author stringclasses 125
values | poem stringlengths 4 14.6k | label int64 0 11 | label_name stringclasses 12
values |
|---|---|---|---|---|---|
2896 | নামকরণ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | একদিন মুখে এল নূতন এ নাম —
চৈতালিপূর্ণিমা ব ' লে কেন যে তোমারে ডাকিলাম
সে কথা শুধাও যবে মোরে
স্পষ্ট ক ' রে
তোমারে বুঝাই
হেন সাধ্য নাই ।
রসনায় রসিয়েছে , আর কোনো মানে
কী আছে কে জানে ।
জীবনের যে সীমায়
এসেছ গম্ভীর মহিমায়
সেথা অপ্রমত্ত তুমি ,
পেরিয়েছ ফাল্গুনের ভাঙাভাণ্ড উচ্ছিষ্টের ভুমি ,
পৌঁছিয়াছ তপঃশুচি নিরাসক্ত বৈশা... | 3 | ভক্তিমূলক |
4058 | ছায়ার ত্রিভুজ | শামসুর রাহমান | এখন আমি আগেকার মতো নেই আর। ক’দিন থেকে আমার
বুকের ভেতর একটা ছায়ার ত্রিভুজ জেগে উঠেছে। সেই ত্রিভুজের
শীর্ষবিন্দুতে কালো ঝুঁটি-অলা আজনবি এক বিষণ্ন পাখির
বসবাস। ওর দু’ফোটা কালো চোখ ঘিরে সিঁদুর রঙের
বাহার। পাখিটাকে কথা বলাবার জন্যে, নিদেনপক্ষে একটি
কি দু’টি শিস যাতে শোনায় আমাকে, কত যে সাধ্য-সাধনা করেছি
সে জন্যে। অথচ সে নিস্... | 1 | চিন্তামূলক |
4814 | রামগরুড়ের ছানা | সুকুমার রায় | রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
"হাসব্ না-না, না-না"।
সদাই মরে ত্রাসে- ঐ বুঝি কেউ হাসে!
এক চোখে তাই মিট্মিটিয়ে
তাকায় আশে পাশে।
ঘুম নাহি তার চোখে আপনি বকে বকে
আপনারে কয়, "হাসিস্ যদি
মারব কিন্তু তোকে!"
যায় না বনের কাছে, কিম্বা গাছে গাছে,
দখিন হাওয়ার সুড়সুড... | 8 | হাস্যরসাত্মক |
3649 | পালক | শঙ্খ ঘোষ | সবকিছু মুছে নেওয়া এই রাত্রি তোমার সমান।
সমস্ত ক্ষতের মুখে পলি পড়ে। কখনো-কখনো
কাছে দূরে জ্বলে ওঠে ফসফরাস। কিছুরই কোথাও
ক্ষান্তি নেই। প্রবাহ চলেছে শুধু তোমারই মতন
একা একা, তোমারই মতন এত বিকারবিহীন।
যখনই তোমার কথা ভাবি তবু, সমস্ত আঘাত
পালকের মতো এসে বুকের ওপরে হাত রাখে
যদিও জানি যে তুমি কোনোদিনই চাওনি আমাকে। | 0 | প্রেমমূলক |
3546 | ভালোবেসেই যাবো | রেদোয়ান মাসুদ | তুমি ভুলতে বললেই ভুলে যাবো
এ কি করে ভাবো?
ভুল যদি করেই থাকি ভালোবেসে
সে ভুলে ভাসিনা একটু চোখের জলে।
ভাসতে ভাসতে যদি কখনও
পৌছে যাই তোমার বাড়ির ঘাটে;
তখন কি তুমি ফিরিয়ে দিবে?
না’কি ভালোবেসে আবার
গ্রহন করে নিবে তোমার বুকে?
জানি তুমি ভুলে যেতেই বলবে।
কারন তুমি ভুল করেছো ভালোবেসে,
আর সেই ভুলই করে যাবে অবশেষে!
আমি ভুল করিনি ... | 0 | প্রেমমূলক |
2169 | ঝাপসা | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | মেয়েটার নাম হল হাফসা
যখনই ছবি তোলে, ছবি ওঠে আবছা।
ক্যামেরাটা ঠিক আছে
হাফসা মেয়েটাই আসলে বেশ ঝাপসা। | 4 | রূপক |
3739 | আবার এসেছো তুমি | শামসুর রাহমান | আবার এসেছো তুমি বৃক্ষতলে খর পুর্ণিমায়
নিঃশব্দে পেরিয়ে ডোরাকাটা পথ, শাড়ির হিল্লোল
তুলে নিরিবিলি, দেখলাম। মোহন ছন্দের দোল
তোমার সত্তায়, তুমি জোৎস্নাময় হেসে নিরালায়
চলো যাই বলে উঠে গেলে যানে, আস্তে পুনরায়
বসেছি তোমার পাশে আগেকার মতো, ডামাডোল
চতুর্দিকে, পুলিশের হুইসিল, কারো রাগী বোল
ভেসে আসে, কখনোবা রবীন্দ্রসংগীত বয়ে যায়।জ... | 0 | প্রেমমূলক |
4885 | চোখ নিয়ে চলে গেছে | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | এই যে বাইরে হু হু ঝড়, এর চেয়ে বেশী
বুকের মধ্যে আছে
কৈশোর জুড়ে বৃষ্টি বিশাল, আকাশে থাকুক যত মেঘ,
যত ক্ষণিকা
মেঘ উড়ে যায়
আকাশ ওড়ে না
আকাশের দিকে
উড়েছে নতুন সিঁড়ি
আমার দু বাহু একলা মাঠের জারুলের ডালপালা
কাচ ফেলা নদী যেন ভালোবাসা
ভালোবাসার মতো ভালোবাসা
দু‘দিকের পার ভেঙে
নরীরা সবাই ফুলের মতন, বাতাসে ওড়ায়
যখন তখন
রঙিন পাপড়ি
... | 5 | প্রকৃতিমূলক |
3812 | ঈদকার্ড, ১৯৭৭ | শামসুর রাহমান | হঠাৎ হারিয়ে ফেলি যদি দৃষ্টিশক্তি কোনোদিন,
তবুও তোমাকে আমি দেখবো সর্বদা সবখানে।
যদি পক্ষাঘাতে হই হীনবল, চলৎশক্তিহীন,
তথাপি নিশ্চিত আমি ছুটে যাবো তোমারই বাগানে,
যেখানে থাকবে বসে তুমি সবুজ মেঘের মতো
ঘাসে কিংবা ডাল থেকে অন্যমনে তুলে নেবে ফুল।
যদি কোনো দ্রুত ধাবমান যান কিংবা দৃষ্ট ক্ষত
কেড়ে নেয় আমার দু’হাত, তবু তোমাকে ব্যাক... | 0 | প্রেমমূলক |
667 | প্রত্যেকটা মাধুর্যের দিন | জয় গোস্বামী | রাত্রে অসম্ভব ভয় করে
মনে পড়ে তোমাকে প্রবলপ্রবল
প্রবলগত আট বছরের প্রত্যেকটা মাধুর্যের দিন
ফিরে এসে মন ছিঁড়ে খায়কী করে সমস্তটুকু মুছে ফেলব বলো?তোমার প্রেমিক,তিনি আমাকে কি সাহায্য করবেন
তোমারই মতন?ওষুধের স্ট্রিপ শেষ,চোখ খুলে বসে থাকি একা বিছানায়----রাত্রি কেটে যায় | 0 | প্রেমমূলক |
1513 | মিলিত মৃত্যু | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়।
বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে।
বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো।
অন্তত আর যাই করো, সমস্ত কথায়
অনায়াসে সম্মতি দিও না।
কেননা, সমস্ত কথা যারা অনায়াসে মেনে নেয়,
তারা আর কিছুই করে না,
তারা আত্মবিনাশের পথ
পরিস্কার করে।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দুর কথা বলা যাক।
শুভেন্দু এবং সুধা কায়মনোবাক... | 7 | নীতিমূলক |
4418 | যাত্রা থামাবো না | শামসুর রাহমান | এগিয়ে যেতেই চাই। স্থবির আমার চতুর্দিকে
গজিয়ে উঠুক নিত্য দীর্ঘকায় ঘাস
আর আমি পোকামাকড়ের
স্পর্শেও অনড় থাকি, আমাকে করে না
দখল এমন সাধ কস্মিনকালেও। আমি দূর
তারাময় আকাশে সাঁতার কেটে চাঞ্চল্যের স্বাদ পেতে চাই।অথচ আমাকে আজকাল বারবার
ভীষণ ঝিমুনি ঘিরে ধরে; হাঁটতে দাঁড়ালে যেন
কেউ চেপে চেয়ারে বসিয়ে দেয় অথবা শয্যায়
হাত-পা ছড়িয়ে দি... | 1 | চিন্তামূলক |
138 | রবীন্দ্রনাথ | আল মাহমুদ | এ কেমন অন্ধকার বঙ্গদেশ উত্থান রহিত
নৈশব্দের মন্ত্রে যেন ডালে আর পাখিও বসে না।
নদীগুলো দুঃখময়, নির্পতগ মাটিতে জন্মায়
কেবল ব্যাঙের ছাতা, অন্যকোন শ্যামলতা নেই।
বুঝি না, রবীন্দ্রনাথ কী ভেবে যে বাংলাদেশে ফের
বৃক্ষ হয়ে জন্মাবার অসম্ভব বাসনা রাখতেন।
গাছ নেই নদী নেই অপুষ্পক সময় বইছে
পুনর্জন্ম নেই আর, জন্মের বিরুদ্ধে সবাই
শুনুন... | 9 | শোকমূলক |
1848 | মুক্তিযুদ্ধের কবিতা | বুদ্ধদেব বসু | আজ রাত্রে বালিশ ফেলে দাও, মাথা রাখো পরস্পরের বাহুতে,
শোনো দূরে সমুদ্রের স্বর, আর ঝাউবনে স্বপ্নের মতো নিস্বন,
ঘুমিয়ে পোড়ো না, কথা ব’লেও নষ্ট কোরো না এই রাত্রি-
শুধু অনুভব করো অস্তিত্ব।
কেন না কথাগুলোকে বড়ো নিষ্ঠুরভাবে চটকানো হ’য়ে গেছে,
কোনো উক্তি নির্মল নয় আর, কোনো বিশেষণ জীবন্ত নেই;
তাই সব ঘোষণা এত সুগোল, যেন দোকানের জ... | 2 | মানবতাবাদী |
4272 | ফোটে বুনো ফুল | শামসুর রাহমান | ছিলাম নিশ্চুপ ব’সে বিকেলে ঘরের এককোণে,
হাতে ছিল আধ-পড়া বই।
হঠাৎ পাশের পুরো খোলা দরজার
নগ্নতাকে যেন চুমো খেয়ে অন্দরে প্রবেশ করে
তিনটি শকুন। কখন যে হাত থেকে
আধ-পড়া বইটি মেঝেতে পড়ে গেলো
জানতে পারিনি; শকুনোর, কী অবাক কাণ্ড, ছিল
বেজায় নিশ্চুপ।অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি অযাচিত
আগত শকুনদের দিকে।
বিস্মিত আমাকে ওরা চকিতে বাংলায়
কর... | 1 | চিন্তামূলক |
1849 | রুপান্তর | বুদ্ধদেব বসু | দিন মোর কর্মের প্রহারে পাংশু,
রাত্রি মোর জ্বলন্ত জাগ্রত স্বপ্নে |
ধাতুর সংঘর্ষে জাগো, হে সুন্দর, শুভ্র অগ্নিশিখা,
বস্তুপুঞ্জ বায়ু হোক, চাঁদ হোক নারী,
মৃত্তিকার ফুল হোক আকাশের তারা |
জাগো, হে পবিত্র পদ্ম, জাগো তুমি প্রাণের মৃণালে,
চিরন্তনে মুক্তি দাও ক্ষণিকার অম্লান ক্ষমায়,
ক্ষণিকেরে কর চিরন্তন |
দেহ হোক মন, মন হোক প্রা... | 1 | চিন্তামূলক |
2085 | যাও সঙ্গমে সৎকারে, প্রেমে | মহাদেব সাহা | সঙ্গমে সৎকারে নেমে মানুষের দূরে আরো এক অতিদূরে
চলে যেতে হয়
আরো এক বিশুদ্ধ জল তুলে নিয়ে আপাদমস্তক সিক্ত
করে নিতে হয়। অতৃপ্ত তৃষ্ণা ক্লান্ত, সুখী, শোকমগ্ন
কিংবা শিহরনস্নাত মুখ শিশুদের মতন নিরীহ
তোমরা মানুষ, এই মায়া তোমাকে সম্ভব। এই প্রেমে, এই তৃষ্ণা, এই
সফলতা, এইভাবে একে একে সংজ্ঞাহীন অবগাহনে গমন।
কোনো একদিন এই মায়াময় পথ... | 2 | মানবতাবাদী |
173 | শিক্ষাগুরুর মর্যাদা | কাজী কাদের নেওয়াজ | বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
শিক্ষক মৌলভী
ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির... | 7 | নীতিমূলক |
905 | জার্মানীর রাত্রিপথেঃ ১৯৪৫ | জীবনানন্দ দাশ | সে এক দেশ অনেক আগের শিশুলোকের থেকে
সাগরগামী নদীর মত স্বরে
আমার মনের ঘুঘুমরালহংসী ঝাউয়ের বনে
আধো আলোছায়াচ্ছন্ন ভাবে মনে পড়ে
টিউটনের গল্পে ছড়ায় সাগরে সূর্যালোকে
গ্রিমের থেকে...... শিলাত সানুজ দানবীয়
গ্যেটের সে দেশ সূর্য অনিকেত?
মাঝে মাঝে আমার দেশের শিপ্রা, পদ্মা, রেবা, ঝিলম, জলশ্রীকে আমি
সর্পীযোনের মতন কোথাও পাহাড় অবধি
অ... | 2 | মানবতাবাদী |
853 | উন্মেষ | জীবনানন্দ দাশ | কোথাও নদীর পারে সময়ের বুকে-
দাঁড়ায়ে রয়েছে আজো সাবেককালের এক স্তিমিত প্রাসাদ;
দেয়ালে একটি ছবিঃ বিচারসাপেক্ষ ভাবে নৃসিংহ উঠেছে;
কোথাও মঙ্গল সংঘটন হ’য়ে যাবে অচিরাৎ।নিবিড় রমণী তার জ্ঞানময় প্রেমিকের খোঁজে
অনেক মলিন যুগ- অনেক রক্তাক্ত যুগ সমুত্তীর্ণ ক’রে
আজ এই সময়ের পারে এসে পুনরায় দেখে
আবহ্মানের ভাঁড় এসেছে গাধার পিঠে চ’ড়ে। | 1 | চিন্তামূলক |
550 | বিদায়ের শেষ চুম্বন | কায়কোবাদ | ( ১ )
আবার, আবার সেই বিদায়-চুম্বন,
আলেয়ার আলো প্রায়,
আঁধারে ডুবায়ে যায়,
স্মৃতিটি রাখিয়া হায় করিতে দাহন!( ২ )
বিদায়-চুম্বন,
উভয়েরি প্রাণে করে অগ্নি বরিষণ,
উভয়ে উভয় তরে,
আকুলি ব্যাকুলি করে,
উভয়েরি হৃদিস্তরে যাতনা-ভীষণ!
এমনি কঠোর হায় বিদায়-চুম্বন!( ৩ )
প্রণয়ের মধুমাখা প্রথম চুম্বনে,
শুধু সুখ সমুল্লাস ;
এতে ... | 0 | প্রেমমূলক |
1424 | গুরু যা বলেন | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | মস্ত বড় মিরগেলটাকে বঁড়শিতে গাঁথবার জন্যে
ফাতনার উপরে চোখ রেখে
শ্রীমন্ত সেই সকাল থেকে
ঘাটের রানায় বসে আছে।
আসলে ওই মাছটাই যে তাকে টোপ গিলিয়ে গেঁথে রেখেছে,
শ্রীমন্ত তা জানে না।
সকাল ছ’টা অব্দি খুনের আসামি রামদেও কাহারকে
পাহারা দেবার জন্যে
রাত-দশটায় যে-লোকটা
থানা-হাজতের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিল,
পাথুরে করিডরে যতই না কেন বুট ... | 2 | মানবতাবাদী |
1268 | নিলে না প্রিয়তমা | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | কলেজ রোডের অনেক স্মৃতি
চৈত্র মাঘের ফুল্ল প্রীতি
রেখেছিলাম তোমার জন্য জমা
বললে তুমি নেড়ে দু’হাত
চোখের পাতায় বিপন্ন রাত
এই কি ভালোবাসার সীমা !
ভেবেছিলাম করবে তুমি ক্ষমা
কোঁকড়ানো চুল হাওয়ায় মেলে বললে
তুমি আমায় কেমন করে ভুললে
ভাষা আমার পথ পেলো না খুঁজে
হৃদয় জুড়ে তোমার ব্যথা বাজে ।
ফিরিয়ে দিলে ফিরিয়ে দিলে তুমি
যেন আমি কর... | 0 | প্রেমমূলক |
4572 | হ্যাঁ গৌরী, তোমাকেই | শামসুর রাহমান | হ্যাঁ গৌরী, তোমাকে, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
তোমাকে ভালো না বেসে পারা যায় না,
তোমাকে ভালো না বেসে বাঁচা অসম্ভব।
আমার প্রতি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি হৃৎস্পন্দনে
তোমার বসতি।
কী ক’রে আমি পথ হাঁটবো, আকাশের দিকে
দৃষ্টি মেলে দেবো সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখার জন্যে,
কী ক’রে আমি আঁজলায় ভরে নেবো শান্তির জলধারা,
কী ক’রে আমি কবিতা লিখব... | 0 | প্রেমমূলক |
1747 | সেই গল্পটা | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
শোনো।
পাহাড়টা, আগেই বলেছি
ভালোবেসেছিল মেঘকে
আর মেঘ কী ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে
বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা
সে তো আগেই শুনেছো।
সেদিন ছিল পাহাড়টার জন্মদিন।
পাহাড় মেঘেকে বললে
আজ তুমি লাল শাড়ি পরে আসবে।
মেঘ পাহাড়কে বললে
আজ তোমাকে স্মান করিয়ে দেবো চন্দন জলে।
ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায়... | 0 | প্রেমমূলক |
422 | মধুকর মঞ্জীর বাজে | কাজী নজরুল ইসলাম | মধুকর মঞ্জীর বাজে বাজে গুন্ গুন্ মঞ্জুল গুঞ্জরণে
মৃদুল দোদুল নৃত্যে বন শবরী মাতে কুঞ্জবনে।বাজায়ছে সমীর দখিনা
পল্লবে মর্মর বীণা
বনভুমি ধ্যান-আসীনা
সাজিল রাঙা কিশলয় বসনে।ধূলি-ধূসর প্রান্তর পরেছিল গৈরিক সন্ন্যাসী সাজ
নব দূর্বাদল শ্যাম হলো আনন্দে আজ।লতিকা বিতানে ওঠে ডাকি
মুহু মুহু ঘুমহারা পাখি
নব নীল অঞ্জন মাখি
উদাসী আ... | 5 | প্রকৃতিমূলক |
4245 | প্রকৃত বোদ্ধা যদি | শামসুর রাহমান | কে তুমি এখন এই অবেলায় আমাকে ঘুমের
শান্তি থেকে জাগিয়ে তুলেছ
অন্ধকারে? বেশ কিছুক্ষণ পরে নানা শব্দের
অনুরণে চোখ দু’টি বুজে এলে কে যেন হঠাৎ
আমাকে খুঁচিয়ে তুলে দেয়; চেয়ে দেখি
কেউ নেই, বাতাসের খুব জোর স্পর্শ থাকি।কিছুক্ষণ ডানে বামে ঘুরে পুনরায় ঘুমোবার
চেষ্টায় প্রলুপ্ত হয়ে চোখের পাতাকে
শান্তি দিতে চেয়ে ব্যর্থ হই। কিছুক্ষণ পরে... | 1 | চিন্তামূলক |
560 | মায়ের প্রতি | কুসুমকুমারী দাশ | তোমার বন্দিনী মূর্তি ফুটিল যখন,
দীপ্ত দিবালোকে,
সহস্র ভায়ের প্রাণ উঠিল শিহরি,
ঘৃণা, লজ্জা, শোকে |
পবিত্র বন্দনমন্ত্রে কম্পিত বাংলা
দূর আর্য ভূমি!
মুক্তকণ্ঠে যুক্তকরে ডাকিছে তোমায়,
হে লজ্জাবারিণী— |
সাধনার ধন তুমি ভারতবাসীর,—
সহস্র পীড়নে,
উপবাসে, অনশনে ভোলে নাই তোমা |
দুর্বল সন্তানে
দিব্য মন্ত্রে দিব্য স্নেহে দাও স্থান... | 6 | স্বদেশমূলক |
1510 | মাঠের সন্ধ্যা | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | অন্যমনে যেতে যেতে হঠাৎ যদি
মাঠের মধ্যে দাঁড়াই,
হঠাৎ যদি তাকাই পিছন দিকে,
হয়তো দেখতে পাওয়া যাবে বিকেলবেলার নদীটিকে।
ও নদী, ও রহস্যময় নদী,
অন্ধকারে হারিয়ে যাসনে, একটু দাঁড়া;
এই যে একটু-একটু আলো, এই যে ছায়া ফিকে-ফিকে,
এরই মধ্যে দেখে নেব সন্ধ্যাবেলার প্রথম তারাটিকে।
ও তারা, ও রহস্যময় তারা,
একটু আলো জ্বালিয়ে ধর, দেখে রাখি... | 5 | প্রকৃতিমূলক |
1489 | বয়ঃসন্ধি | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কে কোন্ ভূমিকা নেব, কে কার বান্ধব হব, এইবারে সব
জানা যাবে বেতার-বার্তায়।
পুরনো বন্ধু ও পুঁথি, ইজের-কামিজ-ধুতি-প্যাণ্টের করুণ কলরব
শেষ হয়ে যায়
এখন মরিচা-পড়া সমস্ত পুরনো তালাচাবির গরব
মৎস্যের আহার হতে চায়।
এখন আমরা এক ভিন্ন লোকালয়ে
দাঁড়িয়ে রয়েছি।
এখন আমরা যেন আর-এক-সময়ে
দাঁড়িয়ে রয়েছি।
এখন আমরা যেন ভয়ে-ভয়ে
দাঁড়িয়ে রয়েছি... | 1 | চিন্তামূলক |
291 | চিরঞ্জীব জগলুল | কাজী নজরুল ইসলাম | প্রাচীর দুয়ারে শুনি কলরোল সহসা তিমির-রাতে,
মিসরের শের, শির শমশের-সব গেল এক সাথে!
সিন্ধুর গলা জড়ায়ে কাঁদিতে দু'তীরে ললাট হানি'
ছুটিয়া চ'লেছে মরু-বকৌলি 'নীল' দরিয়ার পানি!
আঁচলের তার ঝিনুক মানিক কাদায় ছিটায়ে পড়ে,
সোঁতের শ্যাওলা আলো কুন্তল লুটাইছে বালুচরে......
মরু-'সাইমুম'-তাঞ্জামে চড়ি' কোন পরীবানু আসে?
'লু'-হাওয... | 2 | মানবতাবাদী |
1119 | হঠাৎ তোমার সাথে | জীবনানন্দ দাশ | হঠাৎ তোমার সাথে কলকাতাতে সে এক সন্ধ্যায়
উনিশশো চুয়াল্লিশে দেখা হ’ল- কত লোক যায়
তড়াম বাস ট্যাক্সি মোটর জিপ হেঁকে
যাদের হৃদয়ে বেশি কথা হাতে কাজ কম-
তাদের অনেকে পায়ে হেঁটে চলে যায়।কেবলি ক্লান্তিতে ধুঁকে আমাদের মুখে ঠোঁটে তবু যেই হাসি
ফুটে উঠে স্বপ্নকে খণ্ডন ক’রে বিষয়প্রত্যাশী
অমূল্য সংসারী সে-ই-বাজারে বন্দরে ঘোরে, মাপজোক ... | 0 | প্রেমমূলক |
4100 | তবুও তাণ্ডবে | শামসুর রাহমান | বর্বরতা অভ্যাস করে না ত্যাগ; ভয়ঙ্কর পশু
হয়ে কুশ্রী মাথা তোলে যখন তখন; শান্তিপ্রিয়
প্রাণীদের কণ্ঠনালী ছিঁড়ে ফেলে, হৃৎপিণ্ড উপড়ে
নেয়, এক লহমায়-বস্তুত জীবন ক্রমাগত
আর্তনাদ করে বর্বরের পদতলে। যখন সে
নিঃশ্বাসে বাতাস ভারি করে তাড়াতাড়ি নিভে যায়
বসতির প্রতিটি ঘরের দীপ, প্রেমিক-প্রেমিকা
কোমল প্রণয়বাক্য উচ্চারণে ভয়ে কেঁপে ওঠে।সভ... | 2 | মানবতাবাদী |
1263 | তুমিহীন দিন | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | জানালাটা খুলতেই শীতের সোনালী ভোর আমার গ্রীবায়
দু’বাহু জড়িয়ে বলে, নেই, সে তো নেই
নিঃশব্দ আকাশ বলে, নেই
পাতাঝরা শাখা বলে, নেই
রোদের চিকন ছায়া , সেও বলে , নেই
তোমার অস্তিত্ব তবু তুমিহীন ঘরে বলে ওঠে
সকাল গড়িয়ে যায় ওঠো
হাত ধরে টেনে টেনে অবশেষে অভিমান করে
কিছুক্ষণ বসে থাকে অদূর চেয়ারে
কখনো- বা উদাসীন দু’চোখ বুলায়
আকাশের বিশ... | 0 | প্রেমমূলক |
858 | এই পৃথিবীর | জীবনানন্দ দাশ | এই পৃথিবীর বুকের ভিতরে কোথাও শান্তি আছে;
অঘ্রাণ মাস রাত্রি হ’লে অনেক বিষয়াবিষের সমাধান
মাঠে জলে পাখির নীড়ে নক্ষত্রেতে থাকে;
অমেয় গোলকধাঁধাঁয় ঘুরে প্রাণ
চেষ্টা করে সমাজ জাতি সময় সৃষ্টি সঠিক বুঝে নিতে।
সকল প্রয়াণ সফল হবে গ্লাশিয়ারের দীপ্তি আসার আগে;
এখন রৌদ্রে আজন্মকাল অনুষ্ঠানের দিন;
সফল হতে ইতিহাসের অনেক দিন লাগে।
সে স... | 1 | চিন্তামূলক |
117 | কদম ফুলের ইতিবৃত্ত | আল মাহমুদ | আমি তোমাকে কতবার বলেছি আমি বৃক্ষের মতো অনড় নই
তুমি যতবার ফিরে এসেছ ততবারই ভেবেছ
আমি কদমবৃক্ষ হয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকব
কিন্তু এখন দেখ আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলেও
হয়ে গিয়েছি বৃক্ষের অধিক এক কম্পমান সত্তা
বাঁশি বাজিয়ে ফুঁ ধরেছি আর চতুর্দিক থেকে কেঁদে
উঠেছে রাধারা
আমি কি বলেছিলাম ঘর ভেঙে আমার কাছে এসো
আমি কি বলেছিলাম যমুনায়... | 0 | প্রেমমূলক |
3900 | কঙ্কালের সঙ্গে | শামসুর রাহমান | আজকাল কী-যে হয়, বড়
ভুল করে ফেলি বারবার। চিঠি লিখে
খামে ভরবার পর ঠিকানা লিখতে গিয়ে কিছু
বাদ পড়ে যায়
অনিচ্ছাবশত আর সেই ভ্রম ভ্রমরের মতো
হুল ফোটাতেই থাকে। চিঠিখানি ডাকঘরে বেঘোরে ঘুমায়।বয়সকে দোষী ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা
দিই বটে, তবু এই বেয়াড়া মনের হঠকারি আচরণে
ক্রদ্ধ হয়ে আমারই মাথার চুল ছিঁড়ি
আর কষে চড় দিই টেবিলের গালে। অকস্... | 4 | রূপক |
3012 | ফসল গিয়েছে পেকে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ফসল গিয়েছে পেকে,
দিনান্ত আপন চিহ্ন দিল তারে পাণ্ডূর আভায়।
আলোকের ঊর্ধ্বসভা হতে
আসন পড়িছে নুয়ে ভূতলের পানে।
যে মাটির উদ্বোধন বাণী
জাগায়েছে তারে একদিন,
শোনো আজি তাহারই আহ্বান
আসন্ন রাত্রির অন্ধকারে।
সে মাটির কোল হতে যে দান নিয়েছে এতকাল
তার চেয়ে বেশি প্রাণ কোথাও কি হবে ফিরে দেওয়া
কোনো নব জন্মদিনে নব সূর্যোদয়ে! | 4 | রূপক |
1137 | প্রতিচ্ছেদ | টুটুল দাস | পায়ের তলায় আগুন রাখা
শহর জুড়ে রক্তচোষার বাস;
দাবানলে ফুল ফুটেছে কটা
সে ফুলে কি রক্ত খুঁজে পাস?খুঁজতে খুঁজতে অন্ধগলির
রাতে, আরেকটা মোমবাতি
জিন্স ভিজলো আবেগ দিয়ে
আর, ভিজলো যে চাপাতি।ভেজার মতো বৃষ্টি কোথায়?
শহরটাকে গ্রাস করেছে খরা
ঘামের জলেই চুমুক দিয়ে
তৃষ্ণা মেটায় জনম সর্বহারা।সর্বহারা হারাবে কি আর
মৌলবাদে মৌলিকতাই বাদ
অ... | 2 | মানবতাবাদী |
2263 | দাসীপুত্র | যতীন্দ্রমোহন বাগচী | পরের দুয়ারে দাসী বটে আজি, তবু সে মোদেরই মা,---
ভুলিবারে চাই সতত সে কথা ; ভুলিবারে পারি না।
কাঙালের ঘরে যাহা কিছু জোটে, সে যে ধূলিমাখা খুদ,
উপবাস ক্ষীণ শীর্ণ বক্ষে শুকায়ে গিয়াছে দুধ,---
তবু তাই খেয়ে বাঁচে এই প্রাণ, তাই দিয়ে এই দেহ,
ধূলামাটি মাখা তাহারই অঙ্কে বাঁধি দুদিনের গেহ,
হাঁটিতে শিখেছি যার হাঁটু ধরে, যে বুকে মেলিয়... | 2 | মানবতাবাদী |
3007 | প্রেমের আদিম জ্যোতি আকাশে সঞ্চরে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রেমের আদিম জ্যোতি আকাশে সঞ্চরে
শুভ্রতম তেজে,
পৃথিবীতে নামে সেই নানা রূপে রূপে
নানা বর্ণে সেজে।
(স্ফুলিঙ্গ) | 3 | ভক্তিমূলক |
967 | পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে | জীবনানন্দ দাশ | পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে ঘুরে গেলে দিন
আলোকিত হয়ে ওঠে—রাত্রি অন্ধকার
হয়ে আসে; সর্বদাই, পৃথিবীর আহ্নিক গতির
একান্ত নিয়ম, এই সব;
কোথাও লঙ্ঘন নেই তিলের মতন আজো;
অথবা তা হতে হলে আমাদের জ্ঞাতকুলশীল
মানবীয় সময়কে রূপান্তরিত হয়ে যেতে হয় কোনো
দ্বিতীয় সময়ে; সে-সময় আমাদের জন্যে নয় আজ।
রাতের পর দিন—দিনের পরের রাত নিয়ে সুশৃঙ্খল
পৃথিবীকে... | 1 | চিন্তামূলক |
686 | বোঝা | জয় গোস্বামী | আমি একটা ভারী বোঝা।তুমি বয়ে চলেছিলে আমায়।
আমি কিছু বুঝিনি তখন।
যখন সটান ছুড়ে ফেললে আস্তাকুঁড়ে
তখন বুঝলাম।জঞ্জাল!জঞ্জাল!জঞ্জালে আগুন দিল কারা?ঘুরে ঘুরে ধোঁয়া উঠছে আজ
শেষ-হওয়া সম্পর্ক পুড়ে পুড়ে... | 0 | প্রেমমূলক |
4183 | ধ্বংসকেই দ্রুত ডেকে আনে | শামসুর রাহমান | ভীষণ ঘুরছে মাথা, হাত-পা টলছে, যেন ঢেউয়ে
নৌকা, তবু দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, উদ্যম হারালে
চলবে না। আমাদের চোখের সামনে চাঁদটিকে
গিলে খাচ্ছে দুরন্ত খবিশ, শহরের
সবগুলো বাগিচার নানাবিধ ফুল
কীটের সন্ত্রাসের নিমেষেই ঝরে পড়ছে লোলুপ মৃত্তিকায়।যে-ভাবে কাঁপছে জমি, মনে হয়, নিমেষেই দরদালানের
কাতার পড়বে ধসে তাসের ধরনে। চেয়ে দ্যাখো,
কেমন নড়... | 2 | মানবতাবাদী |
3827 | এ কাকে দেখতে গিয়ে | শামসুর রাহমান | লি্ফট বড় দেরি করে, কতক্ষণ এখানে এভাবে
এক ঠায় একাকী দাঁড়িয়ে থাকা যায়? বার বার ঘড়ি পড়ি,
ছটফট করি, পাঁচতলা সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাবো? সহজ তো নয় আর,
এদিকে সময় বড় কম। দীর্ঘ করিডোর
স্তব্ধতায় কেমন ঝিমিয়ে-পড়া, প্রায়
দৌড়ে যাই কেবিনের দিকে, দরজায় মৃদু টোকা।এ কাকে দেখতে গিয়ে দেখে ফেলি কাকে? ঠান্ডা রোদে
ছিলেন চেয়ারে ব’সে বারান্দায়, খাড়... | 1 | চিন্তামূলক |
400 | বিদায়-বেলায় | কাজী নজরুল ইসলাম | তুমি অমন ক’রে গো বারে বারে জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না,
জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না।
ঐ কাতর কন্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না,
শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না।।
হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারা জীবনের বেদনা,
আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না।
ঐ ব্যথাতুর আঁখি কাঁদো-কাঁদো মুখ
দেখি আর শুধু হেসে যাও,আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো ... | 0 | প্রেমমূলক |
2680 | চাষের সময়ে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | চাষের সময়ে
যদিও করি নি হেলা।
ভুলিয়া ছিলাম
ফসল কাটার বেলা। (স্ফুলিঙ্গ) | 4 | রূপক |
2400 | আপনি ফুল লুকায়ে বনছায়ে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আপনি ফুল লুকায়ে বনছায়ে
গন্ধ তার ঢালে দখিনবায়ে। (স্ফুলিঙ্গ) | 4 | রূপক |
4262 | প্রায়শ্চিত্ত | শামসুর রাহমান | প্রত্যহ কিছু না কিছু দৃশ্য আমি চুরি ক’রে নিই।ভিন্ন চরিত্রের রৌদ্র, আলাদা জ্যোৎস্নার
বিনম্র কম্পন, অগোচর রাস্তা এবং গ্রন্থের
অত্যন্ত রহস্যময় লিপি চুরি করে নিই; সিঁড়ির আড়ালে
ছায়াচ্ছন্ন মোহন মিথুন মূর্তি, লোপামুদ্রা ভীষণ বিব্রত
শাড়ির আঁচল নিয়ে; একজন বৃদ্ধ, বর্তমানচ্যুত কাছিমের মতো
মুখে বর্ষিয়সী মহিলার অবয়বে
বসন্তের চেলি দ... | 1 | চিন্তামূলক |
2 | জল বলে চল, মোর সাথে চল | অতুলপ্রসাদ সেন | জল বলে চল, মোর সাথে চল
তোর আঁখিজল, হবে না বিফল, কখনো হবে না বিফল।
চেয়ে দেখ মোর নীল জলে শত চাঁদ করে টল মল।
জল বলে চল, মোর সাথে চল।
বধু রে আন তরা করি, বধুরে আন তরা করি,
কূলে এসে মধু হেসে ভরবে গাগরী,
ভরবে প্রেমের হৃদ কলসি, করবে ছল ছল।
জল বলে চল, মোর সাথে চল।
মোরা বাহিরে চঞ্চল, মোরা অন্তরে অতল,
সে অতলে সদা জ্বলে রতন উজল।
এ... | 3 | ভক্তিমূলক |
4535 | স্বগত ভাষণ | শামসুর রাহমান | আমার মাথার ক্ষত দ্যাখে লোকে ফুলের মতন
উন্মীলিত প্রতিদিন, আমি বিশ শতকের যিশু।
আমার চৌদিকে দেখি ক্রুশকাঠ নিয়ে যাচ্ছে বয়ে
মুখ বুজে কয়েকটি শীর্ণ শব, তারাই আবার
জ্বলজ্বলে রাত্রির দোকানে এসে কয় খিলি পান
কিনে দলছাড়া হয় অথবা প্রচণ্ড ক্ষোভে মেতে
নখ দিয়ে মাটি খুঁড়ে তোলে তারার কবর
দেখতে চায় না চাঁদ ভেসে যাক অবারিত নীলে।আমার মাথাট... | 4 | রূপক |
2176 | পিউটার | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | সেদিন পিউটার কিনতে গেলাম বাজারে
ঘুরে দেখি দোকানে দাম চায় হাজারে
কিছুতেই বেশি না শুধু হবে কম,কী এক ধানাই পানাই
কম-পিউটারে হবে না, আমার বেশি-পিউটার চাই! | 8 | হাস্যরসাত্মক |
2201 | কথা ছিলো না কি | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | কথা ছিলো না কি !
নগরীর ওই পারে নেমে গেলে রোদ ---
আশ্চর্য বিকেল হয়ে নরম আঙুলে
আমার গভীরে তুমি বাজাবে সরোদ ---
কথা ছিলো না কি !!গাছের নিবিড় ছায়া ঘাসের শরীরে
ছড়ায় যে ভাবে ধীরে ধীরে
সে ভাবে গড়িয়ে নেমে তোমার আদর
হয়ে যাবে এই বুকে শুক-শারী বোধ ---
কথা ছিলো না কি ।।কথা ছিলো না কি --
তুমি আমি মিলে হয়ে যাবো
সন্ধ্যার আঁচলে জ্বলা ... | 0 | প্রেমমূলক |
1299 | কিছু | নবারুণ ভট্টাচার্য | কিছু একটা পুড়ছে
আড়ালে, বেরেতে, তোষকের তলায়, শ্মশানে
কিছু একটা পুড়েছেই
আমি ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছি
বিড়ি ধরিয়েছে কেউ
কেউ উবু হয়ে ফুঁ দিচ্ছে উনুনে
কেউ চিতায় তুলে দিয়েছে
আন্ত্রিক রোগে মৃত শীর্ণতম শিশু
ওলট পালট খাচ্ছে জ্বলন্ত পাখি
কোথাও গ্যাসের সিলিণ্ডার ফেটেছে
কোথাও কয়লাখনিতে, বাজির কারখানায় আগুন
কিছু একটা পুড়ছে
চার কোন... | 6 | স্বদেশমূলক |
3956 | কী পরীক্ষা নেবে_ | শামসুর রাহমান | কী পরীক্ষা নেবে তুমি আর বারবার?
হাতে জপমালা নেই, তবু
আমি তো তোমার নাম মন্ত্রের মতন
করি উচ্চারণ সর্বক্ষণ। যেখানে তোমার ছায়া
স্বপ্নিল বিলাসে
অপূর্ব লুটিয়ে পড়ে, সেখানে আমার ওষ্ঠ রেখে
অনেক আলোকবর্ষ যাপন করতে পারি, তোমারই উদ্দেশে
সাঁতার না জেনেও নিঃশঙ্ক দ্বিধাহীন
গহন নদীতে নেমে যেতে পারি।
তোমার সন্ধানে ক্রোশ ক্রোশ দাউ দা... | 0 | প্রেমমূলক |
4415 | যন্ত্রণা | শামসুর রাহমান | আমার ছেলেটা জ্বরে ধুঁকছিলো,জ্বলছিলো তার
চোখ দুটো, টকটকে কৃষ্ণচূড়া। কী ভেবে নিলাম
ছোট হাত মুঠোর ভিতর আর ছুঁয়ে দেখলাম
কপালটা যাচ্ছে পুড়ে, হাঁপাচ্ছে সে এবং মাথার
ব্যথায় কাতর খুব। শুকনো ঠোঁট পাখির ছানার
দুরু দুরু বুক যেন, টের পাই। বাইরে উদ্দাম
হাওয়া, দরজায়, জানালার দিচ্ছে হানা অবিরাম।
কেবলি শিউরে উঠি ডাক্তারকে ডাকবো আবার?ক... | 0 | প্রেমমূলক |
2531 | এবার নীরব করে দাও | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এবার নীরব করে দাও হে তোমার
মুখর কবিরে।
তার হৃদয়-বাঁশি আপনি কেড়ে
বাজাও গভীরে।
নিশীথরাতের নিবিড় সুরে
বাঁশিতে তান দাও হে পুরে
যে তান দিয়ে অবাক কর’
গ্রহশশীরে।যা-কিছু মোর ছড়িয়ে আছে
জীবন-মরণে,
গানের টানে মিলুক এসে
তোমার চরণে।
বহুদিনের বাক্যরাশি
এক নিমেষে যাবে ভাসি,
একলা বসে শুনব বাঁশি
অকূল তিমিরে।৩০ চৈত্র, ১৩১৬
(গীতাঞ্জলি ... | 3 | ভক্তিমূলক |
3592 | একবার তুমি | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা কর–
দেখবে, নদির ভিতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে
পাথর পাথর পাথর আর নদী-সমুদ্রের জল
নীল পাথর লাল হচ্ছে, লাল পাথর নীল
একবার তুমি ভাল বাসতে চেষ্টা কর ।বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল–ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়
সমস্ত পায়ে-হাঁটা পথই যখন পিচ্ছিল, তখন ওই পাথরের পাল একের পর এক বিছিয়ে
যেন কবি... | 0 | প্রেমমূলক |
4879 | চতুরের ভূমিকা | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কিছু উপমার ফুল নিতে হবে নিরুপমা দেবী
যদিও নামের মধ্যে বেখেছেন আসল উপমা
ক্ষণিক প্রশ্রয়-তুষ্টি চায় আজ সামান্য এ কবি,
রবীন্দ্রনাথেরও আপনি চপলতা করেছেন ক্ষমা।
যদিও প্রত্যহ আসে অগণিত সুঠাম যুবক
নানা উপহার আনে সময় সাগর থেকে তুলে
আমি তো আনি নি কিছু চম্পা কিংবা কুর্চি কুরুবক
সাজাতে চেয়েছি শুধু স্পর্শহীন উপমার ফুলে।
আকাশে... | 0 | প্রেমমূলক |
3204 | মৃত্যুর পরে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজিকে হয়েছে শান্তি ,
জীবনের ভুলভ্রান্তি
সব গেছে চুকে ।
রাত্রিদিন ধুক্ধুক্
তরঙ্গিত দুঃখসুখ
থামিয়াছে বুকে ।
যত কিছু ভালোমন্দ
যত কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব
কিছু আর নাই ।
বলো শান্তি , বলো শান্তি ,
দেহ-সাথে সব ক্লান্তি
হয়ে যাক ছাই ।গুঞ্জরি করুক তান
ধীরে ধীরে করো গান
বসিয়া শিয়রে ।
যদি কোথা থাকে লেশ
জীবনস্বপ্নের শেষ
তাও যাক ম... | 1 | চিন্তামূলক |
4020 | গদ্য সনেট_ ৮ | শামসুর রাহমান | কী করে প্রকাশ করবো আমার আজকের
অনুভূতি? কাল রাত্তিরে যন্ত্রণার ত্রিশূলে বিদ্ধ হয়ে
শেষ প্রহর পর্যন্ত নির্ঘুম কাটিয়েছি, যতক্ষণ না
মুয়াজ্জিন ফজরের আজানের সুর ছড়িয়ে দিলেন
ঘুমন্ত পাড়ায়। আজ আমি পদ্মফুলের অজস্র
পাপড়ির আলিঙ্গনে বাঁধা পড়েছি, আমার সকল
রোমকূপে আনন্দধারা, এই মুহূর্তে আমি বসন্ত বাহার;
কেননা, দু’সপ্তাহ পর তোমার কণ্ঠস... | 0 | প্রেমমূলক |
2976 | প্রচ্ছন্ন পশু | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সংগ্রামমদিরাপানে আপনা-বিস্মৃত
দিকে দিকে হত্যা যারা প্রসারিত করে
মরণলোকের তারা যন্ত্রমাত্র শুধু,
তারা তো দয়ার পাত্র মনুষ্যত্বহারা!
সজ্ঞানে নিষ্ঠুর যারা উন্মত্ত হিংসায়
মানবের মর্মতন্তু ছিন্ন ছিন্ন করে
তারাও মানুষ বলে গণ্য হয়ে আছে!
কোনো নাম নাহি জানি বহন যা করে
ঘৃণা ও আতঙ্কে মেশা প্রবল ধিক্কার--
হায় রে নির্লজ্জ ভাষা! ... | 2 | মানবতাবাদী |
4133 | তোমাকেই ডেকে ডেকে | শামসুর রাহমান | এখন তোমার ঘুম নিশীথের দিঘিতে নিটোল
পদ্ম আর তোমার নিদ্রিত যৌবনের পূর্ণিমায়
উদ্ভসিত বন্ধ ঘর। আমার চোখের পাতা জুড়ে
নেই আজ নিদ্রার কুসুম, জ্বালাধরা চোখ মেলে
কাটাই প্রহর, শুনি প্রতারক জ্যোৎস্নার প্রভাবে
স্তব্ধ নিসর্গকে অপ্রস্তুত করে আচানক কাক
ডেকে ওঠে। আমার খাতার পাতা অসমাপ্ত এক
চতুর্দশপদী বুকে নিয়ে জুড়ে দিয়েছে মাতম।কখন যে ... | 0 | প্রেমমূলক |
794 | রজনী গন্ধার বিদায় | জসীম উদ্দীন | শেষ রাত্রের পান্ডুর চাঁদ নামিছে চক্রবালে,
রজনী গন্ধা রূপসীর আঁখি জড়াইছে ঘুম-জালে।
অলস চরণে চলিতে চলিতে ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে,
শিথিল শ্রানি- চুমিছে তাহার সারাটি অঙ্গ ধরে!
উতল কেশেরে খেলা দিতে শেষ উতল রাতের বায়ু:
ঘুমাতে ঘুমাতে কাঁপিয়া উঠিছে স্মরিয়া রাতের আয়ু।
রজনী- গন্ধা রাতের রূপসী ঝুমিছে শ্রানি-ভরে,
অঙ্গ হইতে ঝরিছে কুসুম একট... | 9 | শোকমূলক |
149 | আমার সন্তান | আহসান হাবীব | তাকে কেন দুদিনেই এমন অচেনা মনে হয় !
সন্ধ্যায় পড়ার ঘরে একা বসতে ভয় পেত। নিজেই নিজের
ছায়া দেখে কেঁপে উঠত। কনিষ্ঠকে সঙ্গী পেলে তবেই নির্ভয়ে
বসত সে পড়ার ঘরে।
আমার সন্তান
যে আমার হাতের মুঠোয়
হাত রেখে তবে
নিশ্চিন্তে এ-পাড়া
ও-পাড়া ঘুরেছে, গেছে মেলায়
এবং নানা প্রশ্নে
ব্যতিব্যস্ত করেছে আমাকে
আজ
তাকে কেন দুদিনেই এমন অ... | 6 | স্বদেশমূলক |
3769 | আমার প্রেমের মধ্যদিনে | শামসুর রাহমান | তোমার চুলের রাত্রি, শিখা-জিত আমাকে জড়ায়
গনগনে দ্বিপ্রহরে। তোমার ব্যাকুল বাহুদ্বয়
আমার বন্দর হয়, কী নিঃশব্দ, দীপ্র গীতময়
হয়ে ওঠে নিমেষেই কম্পমান তোমার অধর
আমার তৃষিত ওষ্ঠে আর ছোট ছায়াচ্ছন্ন ঘর
রূপান্তরে ছলোচ্ছল জলপুরী, থর থর তুমি
তরঙ্গিত নদী, কখনো বা গাঢ় বেদনার ভুমি,
তোমার চোখের জল আমার আত্মায় ঝরে যায়।চুম্বনের পূর্ণতায় ... | 0 | প্রেমমূলক |
1426 | ঘরে চন্দ্রমা | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | বুঝতে পারিনি আমি তার কথা
সে তবু রয়েছে দাঁড়িয়ে।
যেন-বা মূর্ত্তিময়ী সরলতা
চেনা ঘরবাড়ি ছাড়িয়ে
স্বপ্নে অন্য জগতে দিয়েছে পাড়ি,
যেখানে ভিন্ন রকমের ঘরবাড়ি,
ভিন্ন বর্ণ-গন্ধের কাড়াকাড়ি
দেয় মানবিক নানা বৃত্তি ও
নানা বিশ্বাস নাড়িয়ে,
যেখানে চল্তি অর্থগুলিও
অনর্থে যায় হারিয়ে।
চিত্রার্পিত ভঙ্গিটি তার,
সে আছে দাঁড়িয়ে দরজায়,
যেন ছোঁয়... | 0 | প্রেমমূলক |
1202 | ব্যক্তিগত ব্যাপার | তসলিমা নাসরিন | ভুলে গেছো যাও,
এরকম ভুলে যে কেউ যেতে পারে,
এমন কোনও অসম্ভব কীর্তি তুমি করোনি,
ফিরে আর তাকিও না আমার দিকে, আমার শূন্যতার দিকে।
আমি যেভাবেই আছি, যেভাবেই থাকি এ আমার জীবন, তুমি এই
জীবনের দিকে আর করুণ করুণ চোখে তাকিয়ে না কোনওদিন।
ভুলে গেছো যাও,
বিনিময়ে আমি যদি ভুলে না যাই তোমাকে, যেতে না পারি
সে আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তুম... | 0 | প্রেমমূলক |
1820 | শেষ | বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় | পালটে যাবে দৃষ্টি সেটা বুঝেছিলাম লেখার আগে
তবুও আমি লিখেছি আর পড়েছে কিছু লোক
মহাভারত শুদ্ধ ছিল, শুদ্ধ আছে, শুদ্ধ থাকে
অসুখ যাও রাজ্য ছেড়ে, রাজার ভালো হোক।।ভালই যদি হবে তাহলে রাজার কেন একলা হবে।
রানী কেন হবে না কোনো ভালো?
আমি তো তাকে কাঁদতে দেখে এগিয়ে গিয়েছিলাম কাছে
বলেছিলাম, তোমার চোখে সূর্য রেখে জ্বালোআড়াল শুধু চ... | 0 | প্রেমমূলক |
3251 | যেদিন ফুটল কমল কিছুই জানি নাই | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যেদিন ফুটল কমল কিছুই জানি নাই
আমি ছিলেম অন্যমনে |
আমার সাজিয়ে সাজি তারে আনি নাই
সে যে রইল সঙ্গোপনে |
মাঝে মাঝে হিয়া আকুলপ্রায়
স্বপন দেখে চম্ কে উঠে চায়,
মন্দ মধুর গন্ধ আসে হায়
কোথায় দখিন সমীরণে |ওগো সেই সুগন্ধে ফিরায় উদাসিয়া
আমায় দেশে দেশান্তে |
যেন সন্ধানে তার উঠে নিঃশ্বাসিয়া
ভুবন নবীন বসন্তে |
কে জানিত দূরে... | 3 | ভক্তিমূলক |
399 | বিজয়িনী | কাজী নজরুল ইসলাম | হে মোর রাণি! তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে।
আমার বিজয়-কেতন লুটায় তোমার চরণ-তলে এসে।
আমার সমর-জয়ী অমর তরবারী
দিনে দিনে ক্লানি- আনে, হ’য়ে ওঠে ভারী,
এখন এ ভার আমার তোমায় দিয়ে হারি,
এই হার-মানা-হার পরাই তোমার কেশে।।
ওগো জীবন-দেবী।
আমায় দেখে কখন তুমি ফেললে চোখের জল,
আজ বিশ্বজয়ীর বিপুল দেউল তাইতে টলমল!
আজ বিদ্রোহীর এই রক্ত... | 0 | প্রেমমূলক |
3987 | কোনো একজনের জন্যে | শামসুর রাহমান | এতকাল ছিলাম একা আর ব্যথিত,
আহত পশুর অনুভবে ছেঁড়াখোঁড়া।
দুর্গন্ধ-ভরা গুহাহিত রাত নিস্ফল ক্রোধে দীর্ণ,
শীর্ণ হাহাকার ছাড়া গান ছিল না মনে,
জানি প্রাণে ছিল না সতেজ পাতার কানাকানি
এমনকি মরম্নভূমির তীব্রতাও ছিল না ধমনীতে,
স্বপ্ন ছিল না,
ছিল না স্বপ্নের মতো হৃদয়।
কে জানতো এই খেয়ালি পতঙ্গ, শীতের ভোর,
হাওয়ায় হাওয়ায় মর... | 0 | প্রেমমূলক |
3388 | সেই আমাদের দেশের পদ্ম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সেই আমাদের দেশের পদ্ম
তেমনি মধুর হেসে
ফুটেছে, ভাই, অন্য নামে
অন্য সুদূর দেশে। (স্ফুলিঙ্গ) | 4 | রূপক |
869 | কমলালেবু | জীবনানন্দ দাশ | একবার যখন দেহ থেকে বার হয়ে যাব
আবার কি ফিরে আসব না আমি পৃথিবীতে?
আবার যেন ফিরে আসি
কোনো এক শীতের রাতে
একটা হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে
কোনো এক পরিচিত মুমূর্ষুর বিছানার কিনারে। | 1 | চিন্তামূলক |
4349 | ভিন্ন ভুবনে | শামসুর রাহমান | বহুদিন পর সন্ধ্যা রাতে আবার সেখানে। গেট পেরুতেই আমার
শরীরের অনেক দিনের আলো-ছায়া গান হয়ে যায় বাগানটিকে দেখি
বাড়িটার মুখ থমথমে। আমার দীর্ঘ না-আসা ওর অবয়বে ঝুলিয়ে
দিয়েছে অভিমানের মেঘ, যেন এখনই বইবে জলধারা। ওর গায়ে কতবারই না
চোখ বুলিয়েছি সস্নেহে, করেছি সানুরাগ করমর্দন। কতদিন তার
বুকের এক পাশে নিবিড় বসে স্বপ্নের উপত্যকায় ভ্... | 4 | রূপক |
5023 | আলালের ঘরের দুলাল | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দেব কিসে
পায়ে শিকল দিয়ে কোকিল
মরছে কেশে কেশেএ গাঁয়েতে বান তো
ও গাঁয়েতে খরা
যে করে হোক আখেরে ভোট
ভাতের টোপে ধরানীচেয় থাকে হাবা বোবা
ওপরতলায় কালা
কাজের জন্যে মানুষ হন্যে
দরজাগুলোয় তালাএই এটাকে চেয়ারে বসা
ওই ওটাকে হটা
সামনে পুলুশ পিছনে জুলুশ
তবে না ঘটাপটাখুনখারাবি রং বুলিয়ে
মন ভুলিয়ে ... | 2 | মানবতাবাদী |
4895 | জুয়া | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | অত্যান্ত ঠান্ডা মাথায় জীবন বদলে নিলাম আমি ও নিখিলেশ,
হাতঘড়ি ও কলম, পকেট বই, রুমাল-
রেডিওতে পাঁচটা বাজলো, আচ্ছা কাল
দেখা হবে,- বিদায় নিলাম,- সন্ধেবেলার রক্তবর্ণ বাতাস ও শেষ
শীতের মধ্যে, একা সিঁড়ি দিয়ে নামবার
সময় মনে পড়লো- ঠিকানা ও টেলিফোন নাম্বার
এসবও বদলানো দরকার, যেমন মুখভঙ্গী ও দুঃখ, হাসির মুহূর্ত
নিখিলেশ ক্রুদ্ধ ও উ... | 1 | চিন্তামূলক |
4470 | শীতরাত্রির সংলাপ | শামসুর রাহমান | যে-রাত্রির পাস্টেরনাক দেখেছেন সাদা প্রান্তরের
বরফের স্তূপে, নেকড়ের ক্ষুধিত চিৎকারে ছেঁড়া
শূন্যতায়, সে-রাত্রি দেখিনি আমি এবং এখানে
আমাদের ফটকে জমে না।
অজস্র তুষার আর বরফ চিবানো আধ-পাগলা
মেয়ে বাগানের ভাঙা বেড়াটার ধারে
অথচ চৌকাঠে
মুচ্কি হেসে দাঁড়ায় না এসে সিল্কের রুমাল-বাঁধা
চুলে খোলা পায়।
একদার কুয়াশায় লীন কোনো পৌষের হি... | 5 | প্রকৃতিমূলক |
1309 | আত্মকেন্দ্রিক স্বপ্ন | নির্মলেন্দু গুণ | প্রাণে জ্বলে ওঠে গগনচুম্বী
বাসনা ঢেউ,
তোমাকে পাবে না পরান ভরিয়া
আমি ছাড়া কেউ ।
তাই বুঝি এই ঘটনাটি কত
ধ্রুব, অবশ্য;
আমাকেও দ্রুত হতে হবে জানি
দৃঢ়, স্ববশ্য ।
আমি চলে যাব পার হয়ে নদী
থামব না মোটে,
দেখবে তোমার আকাশে তখন
কত তারা ফোটে-
হলুদ-সবুজ, কালো-লাল সব
প্রীতি-নমস্য । | 0 | প্রেমমূলক |
3115 | বিশ্বের আলোকলুপ্ত তিমিরের অন্তরালে এল | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিশ্বের আলোকলুপ্ত তিমিরের অন্তরালে এল
মৃত্যুদূত চুপে চুপে, জীবনের দিগন্ত আকাশে
যত ছিল সূক্ষ্ম ধূলি স্তরে স্তরে দিল ধৌত করি
ব্যথার দ্রাবক রসে দারুণ স্বপ্নের তলে তলে
চলেছিল পলে পলে দৃঢ়হস্তে নিঃশব্দে মার্জনা ।
কোন্ক্ষণে নটলীলা-বিধাতার নব নাট্যভূমে
উঠে গেল যবনিকা। শূন্য হতে জ্যোতির তর্জনী
স্পর্শ দিল একপ্রান্তে স্তম্ভিত ব... | 1 | চিন্তামূলক |
2615 | কোন্ ক্ষণে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কোন্ ক্ষণে
সৃজনের সমুদ্রমন্থনে
উঠেছিল দুই নারী
অতলের শয্যাতল ছাড়ি।
একজনা উর্বশী, সুন্দরী,
বিশ্বের কামনা-রাজ্যে রানী,
স্বর্গের অপ্সরী।
অন্যজনা লক্ষ্মী সে কল্যাণী,
বিশ্বের জননী তাঁরে জানি,
স্বর্গের ঈশ্বরী।
একজন তপোভঙ্গ করি
উচ্চহাস্য-অগ্নিরসে ফাল্গুনের সুরাপাত্র ভরি
নিয়ে যায় প্রাণমন হরি,
দু-হাতে ছড়ায় তারে বসন্তের পুষ্পি... | 1 | চিন্তামূলক |
1656 | গাছপালাগুলো | পূর্ণেন্দু পত্রী | গাছপালাগুলো যেন কেমন হয়ে গেছে আজকাল।
কেউ কেউ স্মান করেনি কতদিন
কেউ কেউ চুল কাটেনি কতদিন
কেউ কেউ বাসি জামাকাপড় পরে আছে কতদিন।
মনে হয় মাঝরাতে ঘুসঘুসে জ্বর হয় কারো কারো
কারো কারো হাঁপানির শ্বাসকষ্ট শুনতে পাই মাঝরাতে
স্বপ্নের মধ্যে এপাশ-ওপাশ আইঢাই করে কেউ কেউ।
কেউ কেউ নিশ্বাস ফেলে আগুনে হাপরের মতো।
গাছপালাগুলো সত্যি সত্য... | 4 | রূপক |
578 | অন্ধ চলেছেন | জয় গোস্বামী | অন্ধ চলেছেন। খঞ্জ, চলেছেন। লাঠি
পুরনো বন্ধুর মতো চলেছে তাঁদের সঙ্গে।
হাত কাটা। ন্যাড়া মাথা। ঘেয়ো।
অষ্টাবক্র। ব্যান্ডেজ জড়ানো
চাকাঅলা কাঠের বাক্সের মধ্যে বসা--
সকলকে নিয়ে এই ধীরগতি মিছিলও চলেছে
অতিকায় মেঘের চাঙড় ফেটে ফেটে
গনগনে অস্তরশ্মি বেরোচ্ছে তখন
ঢাল বেয়ে ঢাল বেয়ে সকলেই ওই
চুল্লির ভিতরে নেমে যেতে
ব্যান্ডেজ, কাপড়, কা... | 2 | মানবতাবাদী |
658 | নৌকো থেকে বৈঠা পড়ে যায় | জয় গোস্বামী | নৌকো থেকে বৈঠা পড়ে যায়
জলের তলায়
কালো ছাইরঙা জল একবার ঢেউ দিয়ে অন্ধকার
এখন কোথায় আছে সেই বৈঠাখানি?
দুটো কৌতুহলী মাছ, দু’ খণ্ড পাথর, লক্কড়, সাইকেল ভাঙা
গোল আংটির পাশে পাঁকে গাঁথা চারানা আট আনা। অন্ধকারে
ওদের চোখ জ্বলে। এই জলে থেকে থেকে
এখন ওরাও কোনো প্রাণী।
হারানো বৈঠার কাছে পৌঁছে দেখি, তার
দুধারে জন্মেছে পাখনা, পিঠ... | 4 | রূপক |
660 | পশ্চিমে বাঁশবন | জয় গোস্বামী | পশ্চিমে বাঁশবন। তার ধারে ধারে জল।
বিকেল দাঁড়াল ধানক্ষেতে।
জলে ভাঙা ভাঙা মেঘ। ফিরে আসছে মাছমারা বালকের দল।
খালি গা, কোমরে গামছা, লম্বা ছিপ, ঝুড়ি–
আবছা কোলাহল।
তোমার কি ইচ্ছে করে, এখন ওদের সঙ্গে যেতে?
কয়েদি উত্তর দেয় না। সে শুধু বিকেলটুকু
এঁকে রাখছে ঘরের মেঝেতে। | 1 | চিন্তামূলক |
3535 | ফিরে এসো | রেদোয়ান মাসুদ | তুমি ফিরে এসো
ঐ দূর আকাশের রোদ্র হয়ে
চারিদিকে আলোকিত করে
এই হ্নদয়ের সকল ধোয়াশা দূর করে।
.
তুমি ফিরে এসো
ঐ দূর আকাশে কুয়াশা হয়ে
নির্জন অন্ধকারে অতি গোপনে
আমায় ছুয়ে দিতে।
.
তুমি ফিরে এসো
ঐ দূর আকাশের বৃষ্টি হয়ে
চারিদিকে ভিজিয়ে দিয়ে
আমার হ্নদয় খানি সতেজ করে।
.
তুমি ফিরে এসো
ঐ অথৈই সাগরের জল হয়ে
চারিদিক প্লাবিত করে
আমার পু... | 0 | প্রেমমূলক |
3316 | শেষপর্ব | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যেথা দূর যৌবনের প্রান্তসীমা
সেথা হতে শেষ অরুণিমা
শীর্ণপ্রায়
আজি দেখা যায়।
সেথা হতে ভেসে আসে
চৈত্রদিবসে দীর্ঘশ্বাসে
অস্ফুট মর্মর
কোকিলের ক্লান্ত স্বর,
ক্ষীণস্রোত তটিনীর অলস কল্লোল,--
রক্তে লাগে মৃদুমন্দ দোল।
এ আবেশ মুক্ত হ'ক;
ঘোরভাঙা চোখ
শুভ্র সুস্পষ্টের মাঝে জাগিয়া উঠুক
রঙকরা দুঃখ সুখ
সন্ধ্যার মেঘের মতো যাক সরে
আপনা... | 1 | চিন্তামূলক |
3391 | সেদিন আমাদের ছিল খোলা সভা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সেদিন আমাদের ছিল খোলা সভা
আকাশের নিচে
রাঙামাটির পথের ধারে।
ঘাসের 'পরে বসেছে সবাই।
দক্ষিণের দিকে শালের গাছ সারি সারি,
দীর্ঘ, ঋজু, পুরাতন,--
স্তব্ধ দাঁড়িয়ে,
শুক্লনবমীর মায়াকে উপেক্ষা ক'রে;--
দূরে কোকিলের ক্লান্ত কাকলিতে বনস্পতি উদাসীন।
ও যেন শিবের তপোবন-দ্বারের নন্দী,
দৃঢ় নির্মম ওর ইঙ্গিত।
সভার লোকেরা বললে,--
"একটা ক... | 1 | চিন্তামূলক |
437 | মিসেস এম রহমান | কাজী নজরুল ইসলাম | মোহররমের চাঁদ ওঠার তো আজিও অনেক দেরি,
কোন কারবালা-মাতম উঠিল এখনি আমায় ঘেরি'?
ফোরাতের মৌজ ফোঁপাইয়া ওঠে কেন গো আমার চোখে!
নিখিল-এতিম ভিড় ক'রে কাঁদে আমার মানিস-লোকে!
মর্সিয়া-খান! গা'সনে অকালে মর্সিয়া-শোকগীতি,
সর্বহারার অশ্রু-প্লাবনে সয়লাব হবে ক্ষিতি!......আজ যবে হায় আমি
কুফার পথে গো চলিতে চলিতে কারবালা মাঝে থামি,
হ... | 9 | শোকমূলক |
4504 | সাবান | শামসুর রাহমান | পাড়ার দোকান থেকে একটি সাবান কিনে এনে
রেখে দিলো নিজের দেরাজে। মোড়কের ভাঁজ খুলে
প্রায়শই ঘ্রাণ নেয়, আবার গচ্ছিত রাখে স্মিত
হেসে যথাস্থানে, সেই ঘ্রাণ তাকে ন্যালক্ষ্যাপা করে
বারংবার, নিয়ে যায় সময়ের অন্য পারে। কার
গায়ে একরম ঘ্রাণ ছিলো? গোসলের পর খোলা,
ঈষৎ ফাঁপানো চুলে যে আসতো নিঃশব্দে দ্বিপ্রহরে,
তার গায়ে? কখনও-সখনও সোনারুর ... | 4 | রূপক |
1073 | সমারূঢ় | জীবনানন্দ দাশ | ‘বরং নিজেই তুমি লিখোনাকো একটি কবিতা-‘
বলিলাম ম্লান হেসে; ছায়াপিণ্ড দিলো না উত্তর;
বুঝিলাম সে তো কবি নয়- সে যে আরূঢ় ভণিতা
পাণ্ডুলিপি, ভাষ্য, টীকা, কালি আর কলমের পর
ব’সে আছে সিংহাসনে-কবি নয়- অজর অক্ষর
অধ্যাপক, দাঁত নেই- চোখে তার অক্ষম পিঁচুটি;
বেতন হাজার টাকা মাসে- আর হাজার দেড়েক
পাওয়া যায় মৃত সব কবিদের মাংস কৃমি খুঁটি
য... | 0 | প্রেমমূলক |
4453 | শব্দ | শামসুর রাহমান | সেই কবে থেকে শব্দ আমাকে স্বস্তি দেয় না,
মস্তিতে রাখে বন্দী, ঘুমোতে দেয় না শান্তিতে, ক্রুদ্ধ
পাখির মতো
একটানা ঠোকরাতে থাকে সকাল সন্ধ্যা, ঘোরায়
অবিরত বনবাদাড়ে, আলো আঁধারে,
তৃষ্ণায় জিভ বেরিয়ে-আসা মাছে, যেখানে
গ্রাম্য বধূর লাশ পশুর লোভের করাতে অপভ্রংশ,
সনাক্ত করণের পরপারে। শব্দ আমাকে হাতছানি দিয়ে
ডেকে নিয়ে নাকানি চুবানি খা... | 1 | চিন্তামূলক |
4265 | প’ড়ে আছি রুক্ষ দ্বীপে | শামসুর রাহমান | দেখছি আমার পাশ কাটিয়ে একটি লোক লাঠি
হাতে খুব খোঁড়াতে খোঁড়াতে
আমাকে পেছনে ফেলে যেতে চায় যেন। কিছুক্ষণ
পর একজন অন্ধ বৃক্ষতলে শীর্ণ হাত পেতে ব’সে আছে।
তাকে কিছু দেব ভেবে হাতড়াই পকেট; অথচ
পকেট ধূসর মরুভূমি।মনে-মনে নিজেকে ধিক্কার দিতে-দিতে
বড় ক্লান্ত বোধ করি। কিয়দ্দূর হেঁটে
গেলে পর চোখে পড়ে গাছের ছায়ায়
কে এক বিচ্ছিরি বিকলাঙ... | 1 | চিন্তামূলক |
3426 | হার | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শুক্লা একাদশী।
লাজুক রাতের ওড়না পড়ে খসি
বটের ছায়াতলে,
নদীর কালো জলে।
দিনের বেলায় কৃপণ কুসুম কুণ্ঠাভরে
যে-গন্ধ তার লুকিয়ে রাখে নিরুদ্ধ অন্তরে
আজ রাতে তার সকল বাধা ঘোচে,
আপন বাণী নিঃশেষিয়া দেয় সে অসংকোচে। অনিদ্র কোকিল
দূর শাখাতে মুহুর্মুহু খুঁজতে পাঠায় কুহুগানের মিল।
যেন রে আর সময় তাহার নাই,
এক রাত... | 1 | চিন্তামূলক |
230 | আশা (পুবের হাওয়া কাব্যগ্রন্থ) | কাজী নজরুল ইসলাম | মহান তুমি প্রিয়
এই কথাটির গৌরবে মোর চিত্ত ভরে দিয়ো।
অনেক আশায় বসে আছি যাত্রা-শেষের পর
তোমায় নিয়েই পথের পারে বাঁধব আমার ঘর –
হে চির-সুন্দর!
পথ শেষ সেই তোমায় যেন করতে পারি ক্ষমা,
হে মোর কলঙ্কিনী প্রিয়তমা!
সেদিন যেন বলতে পারি, ‘এসো এসো প্রিয়,
বক্ষে এসো এসো আমার পূত কমনীয়!’
হায় হারানো লক্ষ্মী আমার! পথ ভুলেছ বলে
চির-সাথি যা... | 0 | প্রেমমূলক |
75 | ডিশ এন্টেনার নারীগণ | আবিদ আনোয়ার | আমি সে সম্রাট নই
স্তনাঢ্য রেলিঙ বেয়ে হেঁটে যাবো রাতের হেরেমে,
যে-মধু মেলেনি কোনো সম্রাজ্ঞীতে তাকে পাবো বাঁদীদের প্রেমে ।
রঙিন সুরার সাথে পান ক'রে নূপুরের ধ্বনি
উজ্জীবিত করে নিয়ে শিরা ও ধমনী
আবারও ফিরবো ঘরে, টের পাবো রক্তকণিকায়
স্বপ্নময় লাল ঘাগরা, নর্তকীর উরু-নাভি তখনও ঝলকায়;
বেঘোর কাটবে রাত স্ত্রীকে ভেবে উষ্ণ পরনারী,
দ... | 2 | মানবতাবাদী |
2552 | ওরে পদ্মা, ওরে মোর রাক্ষসী প্রেয়সী | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ওরে পদ্মা, ওরে মোর রাক্ষসী প্রেয়সী,
লুব্ধ বাহু বাড়াইয়া উচ্ছ্বসি উল্লসি
আমারে কি পেতে চাস চির আলিঙ্গনে।
শুধু এক মুহূর্তের উন্মত্ত মিলনে
তোর বক্ষোমাঝে চাস করিতে বিলয়
আমার বক্ষের যত সুখ দুঃখ ভয়?
আমিও তো কতদিন ভাবিয়াছি মনে
বসি তোর তটোপান্তে প্রশান্ত নির্জনে,
বাহিরে চঞ্চলা তুই প্রমত্তমুখরা,
শানিত অসির মতো ভীষণ প্রখরা,
অন্তর... | 5 | প্রকৃতিমূলক |
3089 | বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ১৩ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নহে নহে এ মনে মরণ।
সহসা এ প্রাণপূর্ণ নিশ্বাসবাতাস
নীরবে করে যে পলায়ন,
আলোতে ফুটায় আলো এই আঁখিতারা
নিবে যায় একদা নিশীথে,
বহে না রুধিরনদী, সুকোমল তনু
ধূলায় মিলায় ধরণীতে,
ভাবনা মিলায় শূন্যে, মৃত্তিকার তলে
রুদ্ধ হয় অময় হৃদয়–
এই মৃত্যু? এ তো মৃত্যু নয়।
কিন্তু রে পবিত্র শোক যায় না যে দিন
পিরিতির স্মিরিতিমন্দিরে,
উপেক্ষিত অতী... | 1 | চিন্তামূলক |
2482 | উচ্চের প্রয়োজন | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কহিল মনের খেদে মাঠ সমতল,
হাট ভ’রে দিই আমি কত শস্য ফল।
পর্বত দাঁড়ায়ে রন কী জানি কী কাজ,
পাষাণের সিংহাসনে তিনি মহারাজ।
বিধাতার অবিচার, কেন উঁচুনিচু
সে কথা বুঝিতে আমি নাহি পারি কিছু।
গিরি কহে, সব হলে সমভূমি-পারা
নামিত কি ঝরনার সুমঙ্গলধারা? (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | 7 | নীতিমূলক |
1572 | নেংটো সুন্দরির বন্দনায় | পাবলো নেরুদা | অনুবাদ:চয়ন খায়রুল হাবিবখাস কলিজায়
পাক সাফ চোখে
আমি তোমার সৌন্দর্জ উদজাপন করি
অঝরে ঝরা রক্তপাত ধরে রাখি
যাতে তা লাগাম পরাতে পারে
আমার কবিতায় শোয়া
তোমার শরিরের বাকে
জংগল ঘেরা জমিতে
অথবা সমুদ্রে সার্ফিংঃ
সুগন্ধি ফেনায়
সাগরের বাজনায়।
ও নেংটো সুন্দরিঃ
সমান তালে তালে সুন্দর
তোমার পায়ের পাতা
প্রাচিন বাতাস আর শব্দের
কারুকাজ আঙ... | 0 | প্রেমমূলক |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.