id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
4192 | লালন শাহ | সময় গেলে সাধন হবে না | নীতিমূলক | দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধন হবে নাজানো না মন খালে বিলে
থাকে না মিন জল শুকালে ।।
কি হবে আর বাঁধা দিলে
মোহনা শুকনা থাকে, মোহনা শুকনা থাকে,
সময় গেলে সাধন হবে না
সময় গেলে সাধন হবে নাঅসময়ে কৃষি কইরে মিছা মিছি খেইটে মরে
গাছ যদি হয় বীজের জোরে ফল ধরে না
তাতে ফল ধরে না,
সময় গেলে সাধ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4423.html |
5117 | শামসুর রাহমান | মিলনের মুখ | স্বদেশমূলক | গুলিবিদ্ধ শহর করছে অশ্রুপাত অবিরত,
কেননা মিলন নেই। দিন দুপুরেই নরকের
শিকারী কুকুর তার বুকে বসিয়েছে দাঁত, বড়
নিঝুম স্থাপত্য আজ মিলনের প্রতিবাদী মুখ।মিছিলে আসার আগে মায়ের স্নেহের ছায়া থেকে
তাড়াতাড়ি সরে এসে, স্ত্রীর প্রতি হাত নেড়ে, চুমো
খেয়ে শিশুকন্যাটিকে নেমেছিল পথে শুভ্রতায়
শহরের বন্দীদশা ঘোচাবার দুর্নিবার টানে।এ শহর ছি... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/miloner-mukh/ |
564 | কাজী নজরুল ইসলাম | হোলি | ভক্তিমূলক | আয় লো সই খেলব খেলা
ফাগের ফাজিল পিচকিরিতে।
আজ শ্যামে জোর করব ঘায়েল
হোরির সুরের গিটকিরিতে।
বসন ভূষণ ফেল লো খুলে,
দে দোল দে দোদুল দুলে,
কর লালে লাল কালার কালো
আবির হাসির টিটকিরিতে॥(পুবের হাওয়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/holi/ |
2791 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | উৎসর্গ (আরোগ্য) | চিন্তামূলক | কল্যাণীয় শ্রীসুরেন্দ্রনাথ করবহু লোক এসেছিল জীবনের প্রথম প্রভাতে —
কেহ বা খেলার সাথী, কেহ কৌতূহলী,
কেহ কাজে সঙ্গ দিতে, কেহ দিতে বাধা।
আজ যারা কাছে আছ এ নিঃস্ব প্রহরে,
পরিশ্রান্ত প্রদোষের অবসন্ন নিস্তেজ আলোয়
তোমরা আপন দীপ আনিয়াছ হাতে,
খেয়া ছাড়িবার আগে তীরের বিদায়স্পর্শ দিতে।
তোমরা পথিকবন্ধু,
যেমন রাত্রির তারা
অন্ধকারে লু... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/utshorgo/ |
864 | জসীম উদ্দীন | বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে | রূপক | বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে
বালুর চরে,
কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া
গাঁয়ের ঘরে।
কোমল তৃণের পরশ লাগিয়া,
পায়ের নুপুর পড়িয়াছে খসিয়া।
চলিতে চরণ ওঠে না বাজিয়া
তেমন করে।
কোথায় খেলার সাথীরা আমার
কোথায় ধেনু,
সাঝেঁর হিয়ায় রাঙিয়া উঠিছে
গোখুর-রেণু।
ফোটা সরিষার পাঁপড়ির ভরে
চরো মাঠখানি কাঁপে থরে থরে।
সাঁঝের শিশির দুচরণ ধরে
কাঁদিয়া ঝরে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/802 |
1485 | নির্মলেন্দু গুণ | তোমার চোখ এতো লাল কেন | প্রেমমূলক | আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য।
বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক। আমি হাত পাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না।
আমি জানি এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী... | https://www.bangla-kobita.com/nirmalendugoon/tomar-chak-eto-lal-keno/ |
5135 | শামসুর রাহমান | ম্লান হয়ে যাই | প্রেমমূলক | খুব ভোরে জেগে উঠে দেখি চেনা সুন্দর পৃথিবী
আমার দিকেই গাঢ় মমতায় তাকিয়ে রয়েছে;
গাছ, লাল গোলাপ কাছের নার্সারির, খোলা পথ
নীলকণ্ঠ, ভাসমান মেঘ শুভেচ্ছা জানায়, ভাবি-
আজ তুমি প্রিয়তমা, সুস্থ থাকবে, আনন্দে ভরে
রইবে তোমার মন। কেননা আবার কাল রাতে
দেখা হলো আমাদের। দুপুরে তোমার সঙ্গে কথা
বলে কণ্ঠস্বর শুনে তোমাকে নীরোগ জানলাম।এমত ধা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/mlan-hoye-jai/ |
207 | কাজী নজরুল ইসলাম | আঁধারে | রূপক | অমানিশায় আসে আঁধার তেপান্তরের মাঠে;
স্তব্ধ ভয়ে পথিক ভাবে,– কেমনে রাত কাটে!
ওই যে ডাকে হুতোম-পেঁচা, বাতাস করে শাঁ শাঁ!
মেঘে ঢাকা অচিন মুলুক; কোথায় রে কার বাসা?
গা ছুঁয়ে যায় কালিয়ে শীতে শূন্য পথের জু জু–
আঁধার ঘোরে জীবন-খেলার নূতন পালা রুজু। (ঝড় কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/adhare/ |
4489 | শামসুর রাহমান | একটি ভ্রূণের উক্তি | মানবতাবাদী | নারীদেহ লোলুপ পুরুষ বারবার তোকে তার
শয্যায় নিয়েছে; তুই ভ্রষ্টা না কি ক্ষণিক প্রেমিকা-
এই বিচারের ভার নিতে পারব না। কেন তুই
হে নিঠুরা আমাকে কুরিয়ে ফেলে দিলি সার্জনের
ক্লিনিকে গোপনে? তোর নিজস্ব গুহায় ক্রমান্বয়ে
আমাকে সপ্রাণ বেড়ে উঠতে দিলি না? মা বলার
সাধ অঙ্কুরেই নষ্ট, আলো অন্ধকার আর বুক
ধুক ধুক করা খেলা নিয়ে হৈ হৈ জানতে... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekti-vruner-ukti/ |
871 | জসীম উদ্দীন | বেদের বেসাতি | কাহিনীকাব্য | প্রভাত না হতে সারা গাঁওখানি
কিল বিল করি ভরিল বেদের দলে,
বেলোয়ারী চুড়ি চিনের সিদুর,
রঙিন খেলনা হাঁকিয়া হাঁকিয়া চলে।
ছোট ছোট ছেলে আর যত মেয়ে
আগে পিছে ধায় আড়াআড়ি করি ডাকে,
এ বলে এ বাড়ি, সে বলে ও বাড়ি,
ঘিরিয়াছে যেন মধুর মাছির চাকে।
কেউ কিনিয়াছে নতুন ঝাঁজর,
সবারে দেখায়ে গুমরে ফেলায় পা;
কাঁচা পিতলের নোলক পরিয়া,
ছোট মেয়েটির স... | https://banglarkobita.com/poem/famous/762 |
4494 | শামসুর রাহমান | একটি সামান্য সংলাপ | রূপক | ‘আচ্ছা জনাব, আপনি তো হামেশা
মেঘের মুলুকে থাকেন, তাই না?’‘মাফ করবেন জনাব, প্রায়শ এই অধম
জমিনেই থাকে, কী রোদে, কী বৃষ্টিতে; তবে হ্যাঁ,
সত্যি বলতে কি, কালেভদ্রে মেঘলোকে
কী করে যে চলে যাই, জানি না নিজেই।‘‘মাফ করবেন, আমি ভাই অতসর বুঝি না।
লোকে বলে, তাঁরাও উঁচু কিসিমের মানুষ,
ইয়া মোটা মোটা কেতাব লিখেছেন
গহীন রাতের চেরাগ জ্বে... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekti-samanyo-songlap/ |
503 | কাজী নজরুল ইসলাম | শাখ-ই-নবাত | মানবতাবাদী | [‘শাখ-ই-নবাত’ বুলবুল-ই-শিরাজ কবি হাফিজের মানসীপ্রিয়া ছিলেন।]শাখ-ই-নবাত শাখ-ই-নবাত! মিষ্টি রসাল ‘ইক্ষু-শাখা’।
বুলবুলিরে গান শেখাল তোমার আঁখি সুরমা-মাখা।
বুলবুল-ই-শিরাজ হল গো হাফিজ গেয়ে তোমার স্তুতি,
আদর করে ‘শাখ-ই-নবাত’ নাম দিল তাই তোমার তুতি।
তার আদরের নাম নিয়ে আজ তুমি নিখিল-গরবিনি,
তোমার কবির চেয়ে তোমায় কবির গানে অধিক... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/shakh-e-nobat/ |
1029 | জীবনানন্দ দাশ | জয়জয়ন্তীর সূর্য | চিন্তামূলক | কোনো দিন নগরীর শীতের প্রথম কুয়াশায়
কোনো দিন হেমন্তের শালিখের রঙে ম্লান মাঠের বিকেলে
হয়তো বা চৈত্রের বাতাসে
চিন্তার সংবেগ এসে মানুষের প্রাণে হাত রাখে;
তাহাকে থামায়ে রাখে।
সে চিন্তার প্রাণ
সাম্রাজ্যের উত্থানের পতনের বিবর্ণ সন্তান
হ'য়েও যা কিছু শুভ্র র'য়ে গেছে আজ,
সেই সোম-সুপর্ণের থেকে এই সূর্যের আকাশে-
সে-রকম জীবনের উত্ত... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/joyjoyontir-surjo/ |
3841 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | লজ্জা | প্রেমমূলক | আমার হৃদয় প্রাণ
সকলই করেছি দান,
কেবল শরমখানি রেখেছি।
চাহিয়া নিজের পানে
নিশিদিন সাবধানে
সযতনে আপনারে ঢেকেছি।
হে বঁধু, এ স্বচ্ছ বাস
করে মোরে পরিহাস,
সতত রাখিতে নারি ধরিয়া–
চাহিয়া আঁখির কোণে
তুমি হাস মনে মনে,
আমি তাই লাজে যাই মরিয়া।
দক্ষিণপবনভরে
অঞ্চল উড়িয়া পড়ে
কখন্ যে নাহি পারি লখিতে।
পুলকব্যাকুল হিয়া
অঙ্গে উঠে বিকশিয়া,... | http://kobita.banglakosh.com/archives/422.html |
2691 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আপনারে নিবেদন | নীতিমূলক | আপনারে নিবেদন
সত্য হয়ে পূর্ণ হয় যবে
সুন্দর তখনি মূর্তি লভে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/apnare-nibedon/ |
5582 | সুকুমার রায় | কলিকাতা কোথা রে | হাস্যরসাত্মক | গিরিধি আরামপুরী, দেহ মন চিৎপাত,
খেয়ে শুয়ে হু হু করে কেটে যায় দিনরাত;
হৈ চৈ হাঙ্গামা হুড়োতাড়া হেথা নাই;
মাস বার তারিখের কোন কিছু ল্যাঠা নেই;
খিদে পেলে তেড়ে খাও, ঘুম পেলে ঘুমিও-
মোট কথা, কি আরাম, বুঝলে না তুমিও !
ভুলেই গেছিনু কোথা এই ধরা মাঝেতে
আছে যে শহর এক কলকাতা নামেতে-
হেন কালে চেয়ে দেখি চিঠি এক সমুখে,
চায়েতে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/519 |
5057 | শামসুর রাহমান | ভাঙাচোরা চাঁদ মুখ কালো করে ধুঁকছে | চিন্তামূলক | মাথার ভেতর এক ঝাঁক ছোট পাখি
বেশ কিছু দিন থেকে কিচিরমিচির করে চলেছে হামেশা;
শুধু রাত্রিবেলা গাঢ় ঘুমে হয়তো-বা
নিঝুম নিশ্চুপ থাকে,-অনুমান করি। এভাবেই অস্বস্তিতে
কাটছে জীবন। কে আমাকে বলে দেবে
হায়, এই উপদ্রুত মাথায় ঝিঁঝির একটানা
ধ্বনি কবে হবে শেষ। আজ এটা, কাল সেটা আছে তো লেগেই
যেমন কৌতুকপ্রিয় বালকেরা বেড়ালের লেজে
ভারি ঘণ্টা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/vangachora-chad-mukh-kalo-kore-dhukche/ |
1571 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কিছু-বা কল্পনা | চিন্তামূলক | প্রত্যেকটা প্রসাদ কিছু শূন্যতা রচনা করে যায়,
আলোকিত মঞ্চের পিছনে থাকে অন্ধকার,
ট্রেন চলে যাবার পরে প্ল্যাটফর্মটা আবার
খাঁখাঁ করতে থাকে,
নিঃশব্দে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে খোলা জানালায়
চক্ষু রাখে
মালবাবুর বউ,
এই ছোট্ট শহর ছেড়ে তার কখনও দিল্লি বা লখনউ যাওয়া হয়নি।
খানিকটা এগিয়েছিল, তারপর–কে জানে কেন–এগোয়নি
জেলা-বোর্ডের রাস্ত... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1579 |
2774 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ইদিলপুরেতে বাস নরহরি শর্মা | ছড়া | ইদিলপুরেতে বাস নরহরি শর্মা,
হঠাৎ খেয়াল গেল যাবেই সে বর্মা।
দেখবে-শুনবে কে যে তাই নিয়ে ভাবনা,
রাঁধবে বাড়বে, দেবে গোরুটাকে জাবনা–
সহধর্মিণী নেই, খোঁজে সহধর্মা।
গেল তাই খণ্ডালা, গেল তাই অণ্ডালে,
মহা রেগে গাল দেয় রেলগাড়ি-চণ্ডালে,
সাথি খুঁজে সে বেচারা কী গলদ্ঘর্মা–
বিস্তর ভেবে শেষে গেল সে কোডর্মা। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/idilpurete-bas-norhori-shorma/ |
2732 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমি চঞ্চল হে | প্রেমমূলক | আমি চঞ্চল হে,
আমি সুদূরের পিয়াসি।
দিন চলে যায়, আমি আনমনে
তারি আশা চেয়ে থাকি বাতায়নে,
ওগো প্রাণে মনে আমি যে তাহার
পরশ পাবার প্রয়াসী।
আমি সুদূরের পিয়াসি।
ওগো সুদূর,বিপুল সুদূর, তুমি যে
বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি।
মোর ডানা নাই, আছি এক ঠাঁই,
সে কথা যে যাই পাসরি।আমি উৎসুক হে,
হে সুদূর, আমি প্রবাসী।
তুমি দুর্লভ দুরাশার মতো
কী কথা ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ami-chonchol-he/ |
805 | জসীম উদ্দীন | জেলে গাঙে মাছ ধরিতে যায় | গীতিগাথা | জেলে গাঙে মাছ ধরিতে যায়,
পদ্মা নদীর উজান বাঁকে ছোট্ট ডিঙি নায়।
পদ্মা নদী কাটাল ভারী, চাক্কুতে যায় কাটা,
তারির পরে জেলের তরী করে উজান+ভাঁটা।
জলের উপর শ্যাওলা ভাসে, স্রোতের ফুলও ভাসে,
তারির পরে জেলের তরী ফুলেল পালে হাসে;
তারি সাথে ভাসায় জেলে ভাটীর সুরে গান,
জেলেনী তার হয়ত তাহার সাথেই ভেসে যান।
জেলে গাঙে মাছ ধরিতে যায়,
... | https://banglarkobita.com/poem/famous/764 |
5848 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | মৃত্যুদণ্ড | শোকমূলক | একটা চিল ডেকে উঠলো দুপুর বেলা
বেজে উঠলো, বিদায়,
চতুর্দিকে প্রতিধ্বনি, বিদায়
বিদায়, বিদায়!
ট্রামলাইনে রৌদ্র জ্বলে, গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়েছিলাম আমি
হঠাৎ যেন এই পৃথিবী ডেকে দেখালো আমায়
কাঁটা-বেধাঁনো নগ্ন একটি বুক;
রূপ গেল সব রূপান্তরে আকাশ হল স্মৃতি
ঘুমের মধ্যে ঘুমন্ত এক চোখের রশ্মি দেখে
অন্ধকারে মুখ লুকালো একটি অন্ধকার।
হ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1899 |
3646 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ভক্তিভাজন | নীতিমূলক | রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে আমি দেব রথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব—হাসে অন্তর্যামী। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/voktivajon/ |
2455 | মোহাম্মদ কামাল | বাঙালি রক্তের মত লাল-1 - | স্বদেশমূলক | কুড়ালের ছায়া দুলে উঠে যদি বলে যায়
আর ফাল্গুনে পলাশ না ফোটে,
শিমুল নাফোটে, না ফোটে ডালিম
উস্কানির আলো কোন লাল ফুল!
দীর্ঘদেহী কুড়ালের ছায়া দুলে ওঠে বাঙলায়..
ইতিহাস আছে, কোন
কুড়াল শাসন ভীত ইতিহাস?
বাঙালি রক্তের মত লাল
ফুল ফুটবেই
অনন্ত ফাল্গুন. | https://banglapoems.wordpress.com/2013/10/12/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-1-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be/ |
4599 | শামসুর রাহমান | কী তবে আমার কাজ | মানবতাবাদী | কী তবে আমার কাজ? কেউ বলে, ময়দানে গিয়ে
স্টেজে উঠে আগুন-ঝরানো,
জনতা-জাগানো বক্তৃতায় মেতে ওঠো। কেউ
বলে, যত পারো লিফলেট লিখে সর্বত্র ছড়াও।এইসব পরামর্শ শুনে শুনে দু’বেলা কানের
পর্দা ফেটে যেতে চায়! উত্তেজক মিছিলে প্রায়শ
সোৎসাহে সামিল হয়ে স্লোগান ছড়ালে
হবে কি সার্থক এই মানব জীবন শান্তশিষ্ট এ বান্দার?বস্তুত এসব কাজে দক্ষতা দেখ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ki-tobe-amar-kaj/ |
3105 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জীবনে তব প্রভাত এল | চিন্তামূলক | জীবনে তব প্রভাত এল
নব-অরুণকান্তি।
তোমারে ঘেরি মেলিয়া থাক
শিশিরে-ধোওয়া শান্তি।
মাধুরী তব মধ্যদিনে
শক্তিরূপ ধরি
কর্মপটু কল্যাণের
করুক দূর ক্লান্তি। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jibone-tobo-provat-elo/ |
4876 | শামসুর রাহমান | না জানি কোন্ বিপদ | মানবতাবাদী | আমি কি হারিয়ে ফেলে পথ
এসেছি এখানে এই জনহীন প্রায় অবাস্তব জায়গায়?
চারদিকে দৃষ্টি মেলে দেখতে পাচ্ছি না
মানব-সন্তান, পশুপাখি কাউকেই,
এমনকি গাছপালা, হ্রদ তা-ও নেই।হঠাৎ কোত্থেকে এক অর্ধনগ্ন পুরুষ নাচতে
শুরু করে এবং নিমেষে জায়গাটা অপার্থিব মনে হলো
আর আমি ডানা মেলে উড়ে যেতে-যেতে
মেঘে মিশে যেতে থাকি। পাখি হয়ে গেছি
ভেবে পক্ষী-স... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/na-jani-kon-bipod/ |
201 | কাজী নজরুল ইসলাম | অভিযান | মানবতাবাদী | নতুন পথের যাত্রা-পথিক
চালাও অভিযান !
উচ্চ কণ্ঠে উচ্চার আজ -
“মানুষ মহীয়ান !”
চারদিকে আজ ভীরুর মেলা ,
খেলবি কে আর নতুন খেলা ?
জোয়ার জলে ভাসিয়ে ভেলা
বাইবি কি উজান ?
পাতাল ফেড়ে চলবি মাতাল
স্বর্গে দিবি টান্ ।।
সরল সাজের নাইরে সময়
বেরিয়ে তোরা আয় ,
আজ বিপদের পরশ নেব
নাঙ্গা আদুল গায় ।
আসবে রণ-সজ্জা করে ,
সেই আশা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/162 |
3100 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জীবন যখন শুকায়ে যায় | ভক্তিমূলক | জীবন যখন শুকায়ে যায়
করুণাধারায় এসো।
সকল মাধুরী লুকায়ে যায়,
গীতসুধারসে এসো।কর্ম যখন প্রবল-আকার
গরজি উঠিয়া ঢাকে চারি ধার,
হৃদয়প্রান্তে হে নীরব নাথ,
শান্তচরণে এসো।আপনারে যবে করিয়া কৃপণ
কোণে পড়ে থাকে দীনহীন মন,
দুয়ার খুলিয়া হে উদার নাথ,
রাজ-সমারোহে এসো।বাসনা যখন বিপুল ধুলায়
অন্ধ করিয়া অবোধে ভুলায়
ওহে পবিত্র, ওহে অনিদ্র,
রু... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jibon-jokhon-shukaye-jay/ |
2279 | মহাদেব সাহা | স্বপ্নপ্রোথিত সত্তা | চিন্তামূলক | আমার স্বপ্নকে কারা রাত্রিদিন এমন পাহারা দিয়ে ফেরে
মনে হচ্ছে এই একগুচ্ছ স্বপ্নকে নিয়ে তারা অধিক চিন্তিত
শলা-পরামর্শে ব্যস্ত, গেরিলারও চেয়ে বেশি ভীত
আমার স্বপ্নকে নিয়ে তারা;
মাইনেরও চেয়ে বেশি ক্ষতিকর একগুচ্ছ সোনালি স্বপ্নের ডালপালা
তাই তারা সর্বদা শঙ্কিত এই বক্ষলগ্ন স্বর্ণচাঁপাগুলিকে নিয়েই।
তারাও কি জানে এই স্বপ্নগুচ্ছ হ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1354 |
3562 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বাহির হতে বহিয়া আনি | চিন্তামূলক | বাহির হতে বহিয়া আনি
সুখের উপাদান।
আপনা-মাঝে আনন্দের
আপনি সমাধান। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bahir-hote-bohia-ani/ |
5893 | সুবোধ সরকার | চোখের | মানবতাবাদী | মানুষের চোখ থেহে গড়িয়ে পড়া চোখের জল
ভালো লাগে না আমার
সবচেয়ে বড় অপচয়ের নাম চোখের জল
অসহ্য, সরিয়ে নাও তোমার চোখ, আমি তাকাব নাখেতে দিতে না পেরে বাবা চলে গেলেন, মেঘলা আকাশ
মায়ের চোখ ফেটে সারাদিন শুধু জল নয়
যেন একজন নারী গলে গলে বেরিয়ে আসত ।
পাঁচ বছর বাদে ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ
মা, আমার অসহ্য লাগে চোখের জল । চুপ করো ।চ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%a7-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/ |
4475 | শামসুর রাহমান | একটি গাধাকে দেখি | রূপক | একটি গাধাকে আমি প্রতিদিন দেখি আশে পাশে,
শহরে নিঃসঙ্গ ভিড়ে,আমার সান্নিধ্যে দেখি রোজ
আওলাদ হোসেন লেনের মোড়ে, বাবুর বাজারে,
ইসলামপুরে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভেন্যুর ফুটপাথে, সিদ্ধেশ্বরী,
পলাশী বেইলী রোডে, বুড়িগঙ্গা নদীটির তীরে
মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে, ধানমন্ডি লেকের ওপারে।
হঠাৎ কখনো রমনা পার্কে তার দেখা পাওয়া যায়,
একটি গাধার সঙ্... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekti-gadhake-dekhi/ |
4515 | শামসুর রাহমান | এমন বর্ষার দিনে | প্রেমমূলক | চল্লিশটি বর্ষার সজল স্পর্শ তোমাকে আকুল
করে আজো, আজো দেখি তুমি জানালার কাছ ঘেঁষে
বাইরে তাকিয়ে আষাঢ়ের জলধারা দ্যাখো খুব
মুগ্ধাবেশে; মনে হয়, আষাঢ় তোমার মন আর
হৃদয় শ্রাবণ। তুমি এই তো সেদিন ঘন কালো
মেঘদল দেখে, শুনে বৃষ্টির জলতরঙ্গ বল্লে
নিবিড় মেদুর স্বরে, ‘এ বৃষ্টি আমার, এই বর্ষা
আমাকে সস্নেহে তার দীর্ঘ আঙুলে ছুঁয়ে যায়।এখন... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/emon-borshar-dine/ |
5795 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | দ্বারভাঙা জেলার রমণী | রূপক | হাওড়া ব্রীজের রেলিং ধরে একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়েছিল
দ্বারভাঙা জেলা থেকে আসা টাট্কা রমনী
ব্রীজের অনেক নিচে জল, সেখানে কোনো ছায়া পড়ে না
কিন্তু বিশাল এক ভগবতী কুয়াশা কলকাতার উপদ্রুত অঞ্চল থেকে
গড়িয়ে এসে
সভ্যতার ভূমধ্য অরিন্দে এসে দাঁড়ালো
সমস্ত আকাশ থেকে খসে পড়লো ইতিহাসের পাপমোচানবারী বিষণ্ণতা
ক্রমে সব দৃশ্য, পথ ও মানুষ মুছে যা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1866 |
392 | কাজী নজরুল ইসলাম | প্রতিবেশিনী | প্রেমমূলক | আমার ঘরের পাশ দিয়ে সে চলত নিতুই সকাল-সাঁঝে।
আর এ পথে চলবে না সে সেই ব্যথা হায় বক্ষে বাজে।আমার দ্বারের কাছটিতে তার ফুটত লালী গালের টোলে,
টলত চরণ, চাউনি বিবশ কাঁপত নয়ন-পাতার কোলে –
কুঁড়ি যেমন প্রথম খোলো গো!
কেউ কখনও কইনি কথা,
কেবল নিবিড় নীরবতা
সুর বাজাত অনাহতা
গোপন মরম-বীণার মাঝে।
মূক পথের আজ বুক ফেটে যায় স্মরি তারই পায়ে... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/protibeshini/ |
5619 | সুকুমার রায় | ট্যাঁশ গরু | হাস্যরসাত্মক | ট্যাঁশ্ গরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে;
যার খুশি দেখে এস হারুদের আফিসে।
চোখ দুটি ঢুলু ঢুলু, মুখখান মস্ত,
ফিট্ফাট্ কালোচুলে টেরিকাটা চোস্ত।
তিন-বাঁকা শিং তার ল্যাজখানি প্যাঁচান-
একটুকু ছোঁও যদি, বাপরে কি চ্যাঁচান!
লট্খটে হাড়গোড় খট্খট্ ন'ড়ে যায়,
ধম্কালে ল্যাগ্ব্যাগ চমকিয়ে প'ড়ে যায়।
বর্ণিতে রূপ গুণ সাধ্য কি কবিতার... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/tyash-goru/ |
5259 | শামসুর রাহমান | সন্ধ্যাভাষা | সনেট | নও বিদেশিনী, বাংলাই বলো, তবু মাঝে মাঝে
বুঝি না তোমার ভাষা পুরোপুরি, ফলে বেশ ভুল
বোঝাবুঝি হয়, যেন জমে মনে, অন্তর্গত ফুল
কেমন মুষঢ়ে পড়ে এবং বসে না মন কাজে।
কখনো কখনো এরকম হয় ভোরে কিংবা সাঁঝে
কয়লার গুঁড়ো আর ধুলোবালি ছায়ায় পুতুল
হয়ে আসে, চিকচিকে মরীচিকা এবং অকূল
দরিয়া আছড়ে পড়ে, ভ্রান্তির অর্কেস্ট্রা তীব্র বাজে।প্রজাপতি আর ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/sondhyavasha/ |
1496 | নির্মলেন্দু গুণ | পৌত্তলিক | প্রেমমূলক | যখন আমি তোমার মুখের দিকে তাকাই,
মনে হয় দুটি শিল্পিত হাতের দশটি আঙ্গুল
চীনামাটির ফ্লাওয়ার-ভাসের মতো আদর করে
ধরে রেখেছে তোমার গৌরবর্ণ স্নিগ্ধ মুখখানি।
সেই কবে একদিন সুদূর শৈশবে
মাটির প্রতিমা দেখে মুগ্ধ হয়েছিল চোখ;
তারপর তুমি, মাটির বদলে মাংস,
কল্পনার বদলে বাস্তব, পৌত্তলিক রক্ত
তবু তোমাকে প্রতিমা ভেবে সুখী।
তুমি কি শেষে আ... | https://www.bangla-kobita.com/nirmalendugoon/pouttolick/ |
2696 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আবার এরা ঘিরেছে মোর মন | ভক্তিমূলক | আবার এরা ঘিরেছে মোর মন।
আবার চোখে নামে যে আবরণ।
আবার এ যে নানা কথাই জমে,
চিত্ত আমার নানা দিকেই ভ্রমে,
দাহ আবার বেড়ে ওঠে ক্রমে,
আবার এ যে হারাই শ্রীচরণ।তব নীরব বাণী হৃদয়তলে
ডোবে না যেন লোকের কোলাহলে।
সবার মাঝে আমার সাথে থাকো,
আমায় সদা তোমার মাঝে ঢাকো,
নিয়ত মোর চেতনা-‘পরে রাখো
আলোকে-ভরা উদার ত্রিভুবন।১৬ ভাদ্র, ১৩১৬
(গীতা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/abar-era-ghireche-mor-mon/ |
2028 | মদনমোহন তর্কালঙ্কার | পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল | প্রকৃতিমূলক | পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।।
শীতল বাতাস বয় জুড়ায় শরীর।
পাতায়-পাতায় পড়ে নিশির শিশির।।
ফুটিল মালতী ফুল সৌরভ ছুটিল।
পরিমল লোভে অলি আসিয়া জুটিল ॥গগনে উঠিল রবি সোনার বরণ।
আলোক পাইয়া লোক পুলকিত মন ॥
রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে ॥
উঠ শিশু মুখ ধোও পর নিজ বেশ।
আপন পাঠেতে মন ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4145.html |
5249 | শামসুর রাহমান | সংবাদপত্রে কোনো একটি ছবি দেখে | মানবতাবাদী | তুমি ও ঘুমিয়ে ছিলে ছোট খাটে, পাছে ঘুম-দ্বীপে
ঝড় ওঠে, পাছে বানচাল হয় চাঁদের মতোই
স্বপ্নের মোহন নৌকো, হাঙরের দাঁত ছিঁড়ে ফেলে
শান্তির রুপালি মাছ কিংবা অপদেবতার ক্রূর
দৃষ্টি পড়ে কচি মুখে, ঘুমের মোমের ডানা পুড়ে
হয় ছাই, পাছে ভয় পাও তাই মায়ের প্রার্থনা
একা ঘরে সারাক্ষণ ছিল জেগে তোমার শয্যার
চতুষ্পার্শ্বে; উদ্ভিদের মতো তুমি ঘু... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/songbadpotre-kono-ekti-chobi-dekhe/ |
5464 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | ছাড়পত্র | মানবতাবাদী | যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চীৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা
প... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/charptrro/ |
2569 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অক্ষমতা | চিন্তামূলক | এ যেন রে অভিশপ্ত প্রেতের পিপাসা —
সলিল রয়েছে প'ড়ে, শুধু দেহ নাই।
এ কেবল হৃদয়ের দুর্বল দুরাশা
সাধের বস্তুর মাঝে করে চাই - চাই।
দুটি চরণেতে বেঁধে ফুলের শৃঙ্খল
কেবল পথের পানে চেয়ে বসে থাকা!
মানবজীবন যেন সকলি নিষ্ফল —
বিশ্ব যেন চিত্রপট, আমি যেন আঁকা!
চিরদিন বুভুক্ষিত প্রাণহুতাশন
আমারে করিছে ছাই প্রতি পলে পলে,
মহত্ত্বের... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/okkhomota/ |
65 | আবিদ আনোয়ার | কার্যকারণ | চিন্তামূলক | নিজেরই দুধের ভাণ্ডে মাঝেমাঝে লাথি মারে ছৈরতের গাই--
কারণ খোঁজো না যদি আকষ্মাৎ কোথাও পালাই ।আমি এক পক্ষিণীকে চিনি
যে তার খয়েরি ডিমে ক'সপ্তাহ তা দিয়েছে প্রায় প্রতিদিনই,
তারপর হঠাৎ উধাও--
পড়ে আছে খড়কুটো, তুলার বলের মতো অর্ধস্ফূট একজোড়া ছাও ।কী এমন হয়েছিলো? বড়জোর এই বলা যায়:
হয়তো আকাশ তাকে ডেকেছিলো মৌন ইশারায়!আমাকেও যেতে হ... | https://www.bangla-kobita.com/abid50anwar/karjokaron/ |
3885 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শেষ হিসাব | রূপক | চেনাশোনার সাঁঝবেলাতে
শুনতে আমি চাই--
পথে পথে চলার পালা
লাগল কেমন, ভাই।
দুর্গম পথ ছিল ঘরেই,
বাইরে বিরাট পথ--
তেপান্তরের মাঠ কোথা-বা,
কোথা-বা পর্বত।
কোথা-বা সে চড়াই উঁচু,
কোথা-বা উতরাই,
কোথা-বা পথ নাই।
মাঝে-মাঝে জুটল অনেক ভালো--
অনেক ছিল বিকট মন্দ,
অনেক কুশ্রী কালো।
ফিরেছিলে আপন মনের
গোপন অলিগলি,
পরের মনের বাহির-দ্বারে
... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shas-hesab/ |
2063 | মহাদেব সাহা | আমার সজল চোখ বুঝলে না | মানবতাবাদী | তোমরা কেউ আমার সজল চোখ বুঝলে না, বুঝলে পেরেক
বুঝলে ডলার-পাউণ্ড, বিমানবন্দুর, যুদ্ধজাহাজ
তোমরা কেউ একটি খোঁপা-খোলা মেঘ বুঝলে না, বুঝলে রক্ত
বুঝলে ছুরি, বুঝলে দংশন,
তোমরা কেউ বন্ধুর পবিত্র মুখ বুঝলে না, বুঝলে হিংসা
বুঝলে রাত্রি, বুঝলে অন্ধকার, বুঝলে ছোবল;
তোমরা কেউ আমার সজল চোখ বুঝলে না, বুঝলে আঘাত
তোমরা কেউ বন্ধুর কোমল ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1365 |
5277 | শামসুর রাহমান | সামান্যই পুঁজি | মানবতাবাদী | গর্ব করবার মতো কিছু নয়, সামান্যই পুঁজি।
রোদ আনতে চাঁদিনী ফুরায়; তার চুলে, নাভিমূলে
বৃষ্টি মেখে দিলে প্রাণে বয়ে যায় খরার পবন।
বাড়ির সম্মুখে সন্তর্পণে পদচ্ছাপ রেখে গেলে
কোমল হরিণ কোনো বাজে না গভীর রাতে বাঁশি।
অভ্র দিয়ে শান্তির কুটির বানানোর বাসনায়
কামলার মতো খাটি সারাদিন, তবু অসমাপ্ত
দেয়ালে গজায় বুনো ঘাস। কবে থেকে ব’সে আ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/samannoi-puji/ |
493 | কাজী নজরুল ইসলাম | রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ৭ | ভক্তিমূলক | আমার সকল ধ্যানে জ্ঞানে,
বিচিত্র সে সুরে সুরে
গাহি তোমার বন্দনা গান,
রাজাধিরাজ, নিখিল জুড়ে!
কী বলেছে তোমার কাছে
মিথ্যা ক'রে আমার নামে
হিংসুকেরা,- ডাকলে না আজ,
তাইতে আমায় তোমার পুরে!! | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/rubaiyat-e-hafiz-7/ |
380 | কাজী নজরুল ইসলাম | পাপড়ি-খোলা | প্রেমমূলক | রেশমি চুড়ির শিঞ্জিনীতে রিমঝিমিয়ে মরমকথা
পথের মাঝে চমকে কে গো থমকে যায় ওই শরম-নতা।
কাঁখচুমা তার কলসি-ঠোঁটে
উল্লাসে জল উলসি ওঠে,
অঙ্গে নিলাজ পুলক ছোটে
বায় যেন হায় নরম লতা।
অ-চকিতে পথের মাঝে পথ-ভুলানো পরদেশী কে
হানলে দিঠি পিয়াস-জাগা পথবালা এই উর্বশীকে!
শূন্য তাহার কন্যা-হিয়া
ভরল বধূর বেদন নিয়া,
জাগিয়ে গেল পরদেশিয়া
বিধুর... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/papri-khela/ |
4860 | শামসুর রাহমান | দোরগোড়া থেকে | সনেট | আমিতো স্বর্গের দীপ্ত দোরগাড়া থেকে ফিরে যাই,
ফিরে যাই বারবার এবং আমার পুণ্যফল
শূন্য বলে চতুর্দিক থেকে ক্ষিপ্ত প্রেতের দঙ্গল
তেড়ে আসে হৈ-হৈ, বলে সমস্বরে, তোর নেই ঠাঁই
অমরায়, তুই যা গন্ধুকে, আগুনের বাজখাই
আঁচ তোকে নিত্য দগ্ধ করুক, তুই যা। বেদখল
হয়েছে আমার মরুদ্যান আর এখন সম্বল
শুধু আত্মাভস্মকারী তৃষ্ণা, প্রতারক রোশনাই।হাঁ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/dorgora-theke/ |
3994 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্নেহগ্রাস | সনেট | অন্ধ মোহবন্ধ তব দাও মুক্ত করি—
রেখো না বসায়ে দ্বারে জাগ্রত প্রহরী
হে জননী, আপনার স্নেহ-কারাগারে
সন্তানেরে চিরজন্ম বন্দী রাখিবারে।
বেষ্টন করিয়া তারে আগ্রহ-পরশে,
জীর্ণ করি দিয়া তারে লালনের রসে,
মনুষ্যত্ব-স্বাধীনতা করিয়া শোষণ
আপন ক্ষুধিত চিত্ত করিবে পোষণ?
দীর্ঘ গর্ভবাস হতে জন্ম দিলে যার
স্নেহগর্ভে গ্রাসিয়া কি রাখিবে আবার?... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/snehogras/ |
4888 | শামসুর রাহমান | নিজের নিকট থেকে | চিন্তামূলক | নিজের নিকট থেকে বহুদূরে চলে যেতে চাই-
দিনের আড়ালে,
রাত্রির ওপরে ভেসে ভেসে যতদূর যাওয়া যায়
ততদূর চলে যেতে চাই। এ শহরে ঘরে কিংবা
বাইরে কোথাও
বলো না থাকতে কেউ আমাকে, এক্ষুণি
আসবাব, বইপত্র, লেখার টেবিল আর কবিতার খাতা
তছনছ করে চলে যেতে চাই অতিদূরে পথরেখা
ধরে একা একা!আমি কি অজ্ঞাতবাসে যাবো সবকিছু ফেলে টেলে?
বন্ধুবান্ধবের মুখ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/nijer-nikot-theke/ |
1077 | জীবনানন্দ দাশ | নিরালোক | চিন্তামূলক | একবার নক্ষত্রের দিকে চাই — একবার প্রান্তরের দিকে
আমি অনিমিখে।
ধানের ক্ষেতের গন্ধ মুছে গেছে কবে
জীবনের থেকে যেন; প্রান্তরের মতন নীরবে
বিচ্ছিন্ন খড়ের বোঝা বুকে নিয়ে ঘুম পায় তার;
নক্ষত্রেরা বাতি জ্বেলে জ্বেলে — জ্বেলে — ‘নিভে গেলে — নিভে গেলে?’
বলে তারে জাগায় আবার;জাগায় আবার।
বিক্ষত খড়ের বোঝা বুকে নিয়ে — বুকে নিয়ে ঘুম পায়... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/niralok/ |
879 | জসীম উদ্দীন | যাব আমি তোমার দেশে | স্বদেশমূলক | পল্লী-দুলাল, যাব আমি-যাব আমি তোমার দেশে,
আকাশ যাহার বনের শীষে দিক-হারা মাঠ চরণ ঘেঁষে।
দূর দেশীয়া মেঘ-কনেরা মাথায় লয়ে জলের ঝারি,
দাঁড়ায় যাহার কোলটি ঘেঁষে বিজলী-পেড়ে আঁচল নাড়ি।
বেতস কেয়ার মাথায় যেথায় ডাহুক ডাকে বনের ছায়ায়,
পল্লী-দুলাল ভাইগো আমার, যাব আমি যাব সেথায়।
তোমার দেশে যাব আমি, দিঘল বাঁকা পন্থখানি,
ধান কাউনের খে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/780 |
338 | কাজী নজরুল ইসলাম | তুমি আমার সকালবেলার সুর | প্রেমমূলক | তুমি আমার সকালবেলার সুর
বিদায় আলোয় উদাস করা অশ্রুভারাতুর।ভোরের তারার মতো তোমার সজল চাওয়ায়
ভালোবাসা চেয়ে সে যে কান্না পাওয়ায়
রাত্রিশেষের চাঁদ তুমি গো, বিদায়বিধুর।তুমি আমার ভোরের ঝরা ফুল
শিশির নাওয়া শুভ্রশুচি পূজারিণীতুল।অরুণ তুমি তরুণ তুমি করুণ তারও চেয়ে
হাসির দেশে তুমি যেন বিষাদ লোকের মেয়ে
তুমি ইন্দ্রসভার মৌ... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/tumi-amar-sokalbelar-shur/ |
1017 | জীবনানন্দ দাশ | ঘুমায়ে পড়িব আমি একদিন | সনেট | ঘুমায়ে পড়িব আমি একদিন তোমাদের নক্ষত্রের রাতে;
তখনো যৌবন প্রাণে লেগে আছে হয়তো বা — আমার তরুণ দিন
তখনো হয়নি শেষ- সেই ভালো — ঘুম আসে-বাংলার তৃণ
আমার বুকের নিচে চোখ বুজে-বাংলার আমের পাতাতে
কাঁচপোকা ঘুমায়েছে — আমিও ঘুমায়ে রবো তাহাদের সাথে,
ঘুমাব প্রাণের সাধে এই মাঠে — এই ঘাসে — কথাভাষাহীন
আমার প্রাণের গল্প ধীরে-ধীরে যাবে-অন... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ghmaye-poribo-aami-ekdin/ |
1276 | জীবনানন্দ দাশ | হায় পাখি একদিন কালীদহে ছিল না কি | সনেট | হায় পাখি, একদিন কালীদহে ছিল না কি – দহের বাতাসে
আষাঢ়ের দু’পহরে কলরব কর নি কি এই বাংলায়!
আজ সারাদিন এই বাদলের কোলাহলে মেঘের ছায়ায়
চাঁদ সদাগর: তার মধুকর ডিঙাটির কথা মনে আসে,
কালীদহে কবে তারা পড়েছিলো একদিন ঝড়ের আকাশে,-
সেদিনো অসংখ্য পাখি উড়েছিলো না কি কালো বাতাসের গায়,
আজ সারাদিন এই বাদলের জলে ধলেশ্বরীর চরায়
গাংশালিখের ঝা... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/hai-pakhi-ekdin-kaliidohe-chilo-ki-na/ |
3799 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যেদিন চৈতন্য মোর মুক্তি পেল লুপ্তিগুহা হতে | মানবতাবাদী | যেদিন চৈতন্য মোর মুক্তি পেল লুপ্তিগুহা হতে
নিয়ে এল দুঃসহ বিস্ময়ঝড়ে দারুণ দুর্যোগে
কোন্ নরকাগ্নিগিরিগহ্বরের তটে; তপ্তধূমে
গর্জি উঠি ফুঁসিছে সে মানুষের তীব্র অপমান,
অমঙ্গলধ্বনি তার কম্পান্বিত করে ধরাতল,
কালিমা মাখায় বায়ুস্তরে। দেখিলাম একালের
আত্মঘাতী মূঢ় উন্মত্ততা, দেখিনু সর্বাঙ্গে তার
বিকৃতির কদর্য বিদ্রূপ। একদিক... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jedin-choitonyo-mor-mukti-pelo-luptiguha-hote/ |
4552 | শামসুর রাহমান | কবির অশ্রুর চেয়ে দামী | প্রেমমূলক | আমি কি অজ্ঞাতবাসে আছি? এ-রকম থেকে যাবো
গোপনীয় মনোকষ্টে ডুবে বহুদিন দলছাড়া?
কীট-পতঙ্গের সঙ্গে উচ্চারণহীন মেলামেশা,
বিষণ্ণ বিকেলে হ্রদে ভাসমান প্রেমিকের জামা,
আর ঊর্ণাজালের মতই ঝোপঝাড়ে তেজী আলো,
মাথার ওপর উড্ডয়নপরায়ণ একা দীর্ঘপদী পাখি-
ভাবি আজো নিসর্গের পৃষ্ঠপোষকতা
রয়েছে অটুট। গোধুলিতে খোলামেলা
ঢিবির ওপরে ব’সে দেখি জীবনে... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kobir-oshrur-cheye-dami/ |
3343 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পউষের পাতা-ঝরা তপোবনে | চিন্তামূলক | পউষের পাতা-ঝরা তপোবনে
আজি কী কারণে
টলিয়া পড়িল আসি বসন্তের মাতাল বাতাস;
নাই লজ্জা, নাই ত্রাস,
আকাশে ছড়ায় উচ্চহাস
চঞ্চলিয়া শীতের প্রহর
শিশির-মন্থর।
বহুদিনকার
ভুলে-যাওয়া যৌবন আমার
সহসা কী মনে ক'রে
পত্র তার পাঠায়েছে মোরে
উচ্ছৃঙ্খল বসন্তের হাতে
অকস্মাৎ সংগীতের ইঙ্গিতের সাথে।
লিখেছে সে--
আছি আমি অনন্তের দেশে
যৌবন তোমার
চির... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1925 |
4912 | শামসুর রাহমান | পরা বাক্ পেতে চায় | রূপক | নাছোড় ভাদুরে বৃষ্টি ভোরবেলা আমাকে দেবে না
বারান্দায় যেতে আজ। এবং তুমিও, হে অচেনা,
আসো না ছাদে, আঁচ করি,
সঙ্গে নিয়ে সহচরী!
বেশ কিছুদিন থেকে তোমার অমন রমনীয় উপস্থিতি
বস্তুত পাচ্ছি না টের। প্রীতি
নিও অবচেতনায়, শুভেচ্ছাও বটে, দূর থেকে,
যখন উঠবে ডেকে
পাখি সেই গাছে, যা দাঁড়িয়ে আছে মাঝখানে, যার
পাতার আড়ালে তুমি আর
তোমার সঙ্গি... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/pora-bah-pete-chay/ |
996 | জীবনানন্দ দাশ | কোথাও দেখি নি | সনেট | কোথাও দেখি নি, আহা, এমন বিজন ঘাস — প্রান্তরের পারে
নরম বিমর্ষ চোখে চেয়ে আছে– নীল বুকে আছে তাহাদের
গঙ্গাফরিঙের নীড়,কাঁচপোকা, প্রজাপতি শ্যামাপোকা ঢের,
হিজলের ক্লান্ত পাতা– বটের অজস্র ফল ঝরে বারে বারে
তাহাদের শ্যাম বুকে–পাড়াগাঁর কিশোরেরা যখন কান্তারে
বেতের নরম ফল, নাটা ফক খেতে আসে,ধুন্দুল বীজের
খোঁজ করে ঘাসে ঘাসে– বক তাহা... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/kothao-dekhi-ni/ |
1982 | বিষ্ণু দে | অন্ধকারে আর | প্রেমমূলক | অন্ধকারে আর রেখো না ভয়,
আমার হাতে ঢাকো তোমার মুখ
দু-চোখে দিয়ে দাও দুঃখ সুখ,
দু-বাহু ঘিরে গড়ো তোমার জয়,
আমার তালে গাঁথো তোমার লয় |
অসহ আলো আজ ঘৃণায় দগ্ধ,
দূষিত দিনে আর নেইকো রুচি,
অন্ধকারই একমাত্র শুচি,প্রেমের নহবত ঘৃণায় স্তব্ ধ |
আমার হাতে ঢাকো তোমার মুখ || | http://kobita.banglakosh.com/archives/4119.html |
4298 | শামসুর রাহমান | অথচ বেলা-অবেলায় | চিন্তামূলক | রাতে চাঁদটা হঠাৎ যেন বেজায়
বেঁকে বসল। বলা যেতে পারে, মেজাজ তার হয়তো
অকারণেই বিগড়ে গেছে। হয়তো
এখনই সে ছিটকে মিলিয়ে যাবে জলের ঢেউয়ে।হঠাৎ আকাশটাকে কেন যেন বেখাপ্পা
ঠেকছে। বস্তুত যেন আকাশকে কেউ ভীষণ
চড় কষিয়ে তার সৌন্দর্যকে নির্দয়ের ধরনে
ধ্বংস করে ফেলেছে। যে-জলাশয় আমার অনেক
সময়কে সাজিয়ে দিয়েছে বিচিত্র সব
চিত্রের আবদানে তার ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/othocho-bela-obelai/ |
162 | আহসান হাবীব | মেঘনা পাড়ের ছেলে | প্রকৃতিমূলক | আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
মেঘনা নদীর ঢেউয়ের বুকে
তালের নৌকা বেয়ে
আমি বেড়াই হেসে খেলে-
আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে।
মেঘনা নদীর নেয়ে আমি মেঘনা পাড়ে বাড়ি
ইচ্ছে হ’লেই এপার থেকে ওপারে দেই পাড়ি।
তালে তালে তালের নৌকা
দু’হাতে যাই বেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকো আমার ভাসে
মেঘমুলুকের ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3809.html |
5676 | সুকুমার রায় | মহাভারতঃ আদিপর্ব | কাহিনীকাব্য | কুরুকুলে পিতামহ ভীষ্মমহাশয়
ভুবন বিজয়ী বীর, শুন পরিচয়-
শান্তনু রাজার পুত্র নাম সত্যব্রত
জগতে সার্থক নাম সত্যে অনুরত।
স্বয়ং জননী গঙ্গা বর দিলা তাঁরে-
নিজ ইচ্ছা বিনা বীর না মরে সংসারে।
বুদ্বিভ্রংশ ঘটে হায় শান্তনু রাজার,
বিবাহের লাগি বুড়া করে আবদার।
মৎস্যরাজকন্যা আছে নামে সত্যবতী,
তারে দেখি শান্তনুর লুপ্ত হল মতি।
মৎস... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/mohabharot-adiporbo/ |
4799 | শামসুর রাহমান | তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা | স্বদেশমূলক | তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,
সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর।
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মত চিৎকার করতে করতে
তুমি আসবে ব’লে, হে স্ব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/591 |
1501 | নির্মলেন্দু গুণ | বসন্ত | প্রকৃতিমূলক | হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে,
হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে
বনের কুসুমগুলি ঘিরে । আকাশে মেলিয়া আঁখি
তবুও ফুটেছে জবা,–দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে,
তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্তপথিক ।এলিয়ে পড়েছে হাওয়া, ত্বকে কী চঞ্চল শিহরণ,
মন যেন দুপুরের ঘূর্ণি-পাওয়া পাতা, ভালোবেসে
অনন্ত সঙ্গীত স্রোতে পাক খেয়ে মৃত্তিকার ব... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6/ |
3844 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | লুকায়ে আছেন যিনি | চিন্তামূলক | লুকায়ে আছেন যিনি
জগতের মাঝে
আমি তাঁরে প্রকাশিব
সংসারের কাজে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/lukae-achen-jini/ |
5226 | শামসুর রাহমান | শীতরাত্রির সংলাপ | প্রকৃতিমূলক | যে-রাত্রির পাস্টেরনাক দেখেছেন সাদা প্রান্তরের
বরফের স্তূপে, নেকড়ের ক্ষুধিত চিৎকারে ছেঁড়া
শূন্যতায়, সে-রাত্রি দেখিনি আমি এবং এখানে
আমাদের ফটকে জমে না।
অজস্র তুষার আর বরফ চিবানো আধ-পাগলা
মেয়ে বাগানের ভাঙা বেড়াটার ধারে
অথচ চৌকাঠে
মুচ্কি হেসে দাঁড়ায় না এসে সিল্কের রুমাল-বাঁধা
চুলে খোলা পায়।
একদার কুয়াশায় লীন কোনো পৌষের হি... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shitratrir-songlap/ |
2614 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অবসান | চিন্তামূলক | জানি দিন অবসান হবে,
জানি তবু কিছু বাকি রবে।
রজনীতে ঘুমহারা পাখি
এক সুরে গাহিবে একাকী-
যে শুনিবে, সে রহিবে জাগি
সে জানিবে, তারি নীড়হারা
স্বপন খুঁজিছে সেই তারা
যেথা প্রাণ হয়েছে বিবাগী।
কিছু পরে করে যাবে চুপ
ছায়াঘন স্বপনের রূপ।
ঝরে যাবে আকাশকুসুম,
তখন কূজনহীন ঘুম
এক হবে রাত্রির সাথে।
যে-গান স্বপনে নিল বাসা
তার ক্ষীণ গু... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/yabusan/ |
3462 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রার্থনা -খেয়া | ভক্তিমূলক | আমি বিকাব না কিছুতে আর
আপনারে।
আমি দাঁড়াতে চাই সভার তলে
সবার সাথে এক সারে।
সকালবেলার আলোর মাঝে
মলিন যেন না হই লাজে,
আলো যেন পশিতে পায়
মনের মধ্যে একবারে।
বিকাব না, বিকাব না
আপনারে।
আমি বিশ্ব-সাথে রব সহজ
বিশ্বাসে।
আমি আকাশ হতে বাতাস নেব
প্রাণের মধ্যে নিশ্বাসে।
পেয়ে ধরার মাটির স্নেহ
পুণ্য ... | https://banglapoems.wordpress.com/2011/11/30/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be/ |
1022 | জীবনানন্দ দাশ | চাঁদিনীতে | প্রেমমূলক | বেবিলোন কোথা হারায়ে গিয়েছে,-মিশর-‘অসুর’ কুয়াশাকালো;
চাঁদ জেগে আছে আজো অপলক,- মেঘের পালকে ঢালিছে আলো!
সে যে জানে কত পাথারের কথা,- কত ভাঙা হাট মাঠের স্মৃতি!
কত যুগ কত যুগান্তরের সে ছিল জ্যোৎস্না, শুক্লাতিথি!
হয়তো সেদিনো আমাদেরি মতো পিলুবারোয়াঁর বাঁশিটি নিয়া
ঘাসের ফরাশে বসিত এমনি দূর পরদেশী প্রিয় ও প্রিয়া!
হয়তো তাহারা আমা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/917 |
3074 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জন্মকথা | ছড়া | খোকা মাকে শুধায় ডেকে —
‘ এলেম আমি কোথা থেকে ,
কোন্খানে তুই কুড়িয়ে পেলি আমারে । '
মা শুনে কয় হেসে কেঁদে
খোকারে তার বুকে বেঁধে —
‘ ইচ্ছা হয়ে ছিলি মনের মাঝারে ।
ছিলি আমার পুতুল - খেলায় ,
প্রভাতে শিবপূজার বেলায়
তোরে আমি ভেঙেছি আর গড়েছি ।
তুই আমার ঠাকুরের সনে
ছিলি পূজার সিংহাসনে ,
তাঁরি পূজায় তোমার পূজা করেছি ।
আমার চিরক... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jonmokotha/ |
3944 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সাত সমুদ্র পারে | ছড়া | দেখছ না কি , নীল মেঘে আজ
আকাশ অন্ধকার ।
সাত সমুদ্র তেরো নদী
আজকে হব পার ।
নাই গোবিন্দ , নাই মুকুন্দ ,
নাইকো হরিশ খোঁড়া ।
তাই ভাবি যে কাকে আমি
করব আমার ঘোড়া ।
কাগজ ছিঁড়ে এনেছি এই
বাবার খাতা থেকে ,
নৌকো দে - না বানিয়ে , অমনি
দিস , মা , ছবি এঁকে ।
রাগ করবেন বাবা বুঝি
দিল্লি থেকে ফিরে ?
ততক্ষণ যে চলে যাব
সাত সমুদ্র তীরে ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/sat-somudro-pare/ |
1586 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | চিরমায়া | প্রেমমূলক | বাহিরে দেখি না, শুধু স্থির জানি ভিতরে কোথাও
চৌকাঠে পা রেখে তুমি দাঁড়িয়ে রয়েছ,
চিরমায়া।
দাঁতে-চাপা অধরে কৌতুক স্থির বিদ্যুতের মতো
লগ্ন হয়ে আছে, ভুরু
বিদ্রুপের ভঙ্গিতে বাঁকানো, জ্বলে
কোমল আগুন
সিঁথি ও ললাটে। স্থির সরসীর মতো দুই চোখে
চক্ষু রেখে জগৎ-সংসার
অকস্মাৎ তার
কার্যকারণের-সূত্রে গাঁথা মাল্যখানিকে ঘোরাতে
ভুলে যায়।
... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1564 |
1956 | বিনয় মজুমদার | আমাকে ও মনে রেখো | স্বদেশমূলক | পৃথিবী,সূর্য ও চাঁদ এরা জ্যোতিস্ক এবং
আকাশের তারাদের কাছে চলে যাবো ।
আমাকে ও মনে রেখো পৃথিবীর লোক
আমি খুব বেশী দেশে থাকি নি কখনো ।
আসলে তিনটি মাত্র দেশে আমি থেকেছি,এখন
আমি থাকি বঙ্গদেশে,আমাকেও মনে রেখো বঙ্গদেশ তুমি । | http://kobita.banglakosh.com/archives/4078.html |
3153 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তুমি আছ হিমাচল ভারতের অনন্তসঞ্চিত | সনেট | তুমি আছ হিমাচল ভারতের অনন্তসঞ্চিত
তপস্যার মতো। স্তব্ধ ভূমানন্দ যেন রোমাঞ্চিত
নিবিড় নিগূঢ়-ভাবের পথশূন্য তোমার নির্জনে,
নিষ্কলঙ্ক নীহারের অভ্রভেদী আত্মবিসর্জনে।
তোমার সহস্র শৃঙ্গ বাহু তুলি কহিছে নীরবে
ঋষির আশ্বাসবাণী, “শুন শুন বিশ্বজন সবে,
জেনেছি, জেনেছি আমি।’ যে ওঙ্কার আনন্দ-আলোতে
উঠেছিল ভারতের বিরাট গভীর বক্ষ হতে
আদি-অ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/tumi-acho-himachol-varoter-onontosonchito/ |
35 | অরুণাভ ঘোষ | শাহবাগ | স্বদেশমূলক | কাঁটাতারের এপার থেকে কতটা দেখা যায়?
এক কুড়ি, দুই কুড়ি, তিন কুড়ি – না, আরো বেশী
আরো আরো আরো অনেক বেশী,
আঙুলের কড়ে ধরেনি সবটা,
ওগুলোতো শুধু সংখ্যা – তবে কি দিয়ে মাপা যাবে আবেগ?
.
ওরা কারা?
– দিন নেই রাত নেই
ঊষা-গোধুলির পারাপার ভেঙে ঠিক যেন রিলে করে
প্রতিদিন জমা হয়?
স্মৃতি-সত্তার উন্মেষে ভবিষ্যতের দিকে এগ... | https://banglapoems.wordpress.com/2013/03/12/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%97-%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%ad-%e0%a6%98%e0%a7%8b%e0%a6%b7/ |
4015 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্রোত | চিন্তামূলক | জগৎ-স্রোতে ভেসে চলো, যে যেথা আছ ভাই!
চলেছে যেথা রবি শশী চল্ রে সেথা যাই।
কোথায় চলে কে জানে তা, কোথায় যাবে শেষে,
জগৎ-স্রোত বহে গিয়ে কোন্ সাগরে মেশে।
অনাদি কাল চলে স্রোত অসীম আকাশেতে,
উঠেছে মহা কলরব অসীমে যেতে যেতে।
উঠিছে ঢেউ, পড়ে ঢেউ, গনিবে কেবা কত!
ভাসিছে শত গ্রহ তারা, ডুবিছে শত শত।
ঢেউয়ের ‘পরে খেলা করে আলোকে আঁ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/srot/ |
776 | জসীম উদ্দীন | উড়ানীর চর | প্রকৃতিমূলক | উড়ানীর চর ধূলায় ধূসর
যোজন জুড়ি,
জলের উপরে ভাসিছে ধবল
বালুর পুরী।
ঝাঁকে বসে পাখি ঝাঁকে উড়ে যায়
শিথিল শেফালি উড়াইয়া বায়;
কিসের মায়ায় বাতাসের গায়
পালক পাতি;
মহা কলতানে বালুয়ার গানে
বেড়ায় মাতি।
উড়ানীর চরে কৃষাণ-বধূর
খড়ের ঘর,
ঢাকাই সীমের উড়িছে আঁচল
মাথার পর।
জাঙলা ভরিয়া লাউ এর লতায়
লক্ষ্মী সে যেন দুলিছে দোলায়;
ফাল্গুন... | https://banglarkobita.com/poem/famous/752 |
2557 | রফিক আজাদ | তোমার কথা ভেবে | প্রেমমূলক | তোমার কথা ভেবে রক্তে ঢেউ ওঠে—
তোমাকে সর্বদা ভাবতে ভালো লাগে,
আমার পথজুড়ে তোমারই আনাগোনা—
তোমাকে মনে এলে রক্তে আজও ওঠে
তুমুল তোলপাড় হূদয়ে সর্বদা…
হলো না পাশাপাশি বিপুল পথ-হাঁটা,
এমন কথা ছিল চলব দুজনেই
জীবন-জোড়া পথ যে-পথ দিকহীন
মিশেছে সম্মুখে আলোর গহ্বরে…। | http://kobita.banglakosh.com/archives/1621.html |
1479 | নির্মলেন্দু গুণ | গতকাল | প্রেমমূলক | গতকাল বড়ো ছেলেবেলা ছিল
আমাদের চারিধারে,
দেয়ালের মতো অনুভূতিমাখা মোম
জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে আমারা দেখেছি
শিখার ভিতরে মুখ ।
গতকাল ছিল জীবনের কিছু
মরণের মতো সুখ ।গতকাল বড়ো যৌবন ছিল
শরীরে শরীর ঢালা,
ফুলের বাগান ঢেকে রেখেছিল
উদাসীন গাছপালা ।আমরা দু’জনে মাটি খুঁড়ে-খুঁড়ে
লুকিয়েছিলাম প্রেম,
গতকাল বড় ছেলেবেলা ছিল
বুঝিনি কী হারালাম !... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81/ |
5487 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে | মানবতাবাদী | আমার প্রার্থনা শোনো পঁচিশে বৈশাখ,
আর একবার তুমি জন্ম দাও রবীন্দ্রনাথের।
হাতাশায় স্তব্ধ বাক্য; ভাষা চাই আমরা নির্বাক,
পাঠাব মৈত্রীর বাণী সারা পৃথিবীকে জানি ফের।
রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে আমাদের ভাষা যাবে শোনা
ভেঙে যাবে রুদ্ধশ্বাস নিরুদ্যম সুদীর্ঘ মৌনতা,
আমাদের দুঃখসুখে ব্যক্ত হবে প্রত্যেক রচনা।
পীড়নের প্রতিবাদে উচ্চারিত হবে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1120 |
1364 | তসলিমা নাসরিন | যেও না | প্রেমমূলক | যেও না। আমাকে ছেড়ে তুমি এক পাও কোথাও আর যেও না।
গিয়েছো জানি, এখন উঠে এসো। যেখানে শুয়ে আছো, যেখানে তোমাকে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে
সেখান থেকে লক্ষ্মী মেয়ের মত উঠে এসো।
থাকো আমার কাছে, যেও না। কোথাও আর কোনওদিন যেও না।
কেউ নিতে চাইলেও যেও না।
রঙিন রঙিন লোভ দেখিয়ে কত কেউ বলবে, এসো। সোজা বলে দেবে যাবো না।
সারাক্ষণ আমার হাতদুটো ধরে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1970 |
2613 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অবর্জিত | চিন্তামূলক | আমি চলে গেলে ফেলে রেখে যাব পিছু
চিরকাল মনে রাখিবে, এমন কিছু,
মূঢ়তা করা তা নিয়ে মিথ্যে ভেবে।
ধুলোর খাজনা শোধ করে নেবে ধুলো,
চুকে গিয়ে তবু বাকি রবে যতগুলো
গরজ যাদের তারাই তা খুঁজে নেবে।
আমি শুধু ভাবি, নিজেরে কেমনে ক্ষমি--
পুঞ্জ পুঞ্জ বকুনি উঠেছে জমি,
কোন্ সৎকারে করি তার সদ্গতি।
কবির গর্ব নেই মোর হেন নয়--
কবির লজ্জা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/yubjetay/ |
2825 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | একা ব’সে সংসারের প্রান্ত-জানালায় | চিন্তামূলক | একা ব’সে সংসারের প্রান্ত-জানালায়
দিগন্তের নীলিমায় চোখে পড়ে অনন্তের ভাষা।
আলো আসে ছায়ায় জড়িত
শিরীষের গাছ হতে শ্যামলের স্নিগ্ধ সখ্য বহি।
বাজে মনে– নহে দূর,নহে বহু দূর।
পথরেখা লীন হল অস্তগিরিশিখর-আড়ালে,
স্তব্ধ আমি দিনান্তের পান্থশালা-দ্বারে,
দূরে দীপ্তি দেয় ক্ষণে ক্ষণে
শেষতীর্থমন্দিরের চূড়া।
সেথা সিংহদ্বারে বাজে দিন-অবসান... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/eka-bose-songsare-pranto-janalai/ |
2042 | মল্লিকা সেনগুপ্ত | আপনি বলুন, মার্কস | মানবতাবাদী | ছড়া যে বানিয়েছিল, কাঁথা বুনেছিল
দ্রাবিড় যে মেয়ে এসে গমবোনা শুরু
করেছিল
আর্যপুরুষের ক্ষেতে, যে লালন
করেছিল শিশু
সে যদি শ্রমিক নয়, শ্রম কাকে বলে ?
আপনি বলুন মার্কস, কে শ্রমিক,
কে শ্রমিক নয়
নতুনযন্ত্রের যারা মাসমাইনের
কারিগর
শুধু তারা শ্রম করে !
শিল্পযুগ যাকে বস্তি উপহার দিল
সেই শ্রমিকগৃহিণী
প্রতিদিন জল তোলে, ঘর মোছ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/5629.html |
242 | কাজী নজরুল ইসলাম | আশীর্বাদ | মানবতাবাদী | আপনার ঘরে আছে যে শত্রু
তারে আগে করো জয়,
ভাঙো সে দেয়াল, প্রদীপের আলো
যাহা আগুলিয়া রয়।
অনাত্বীয়রে আত্বীয় করো,
তোমার বিরাট প্রাণ
করে না কো যেন কোনোদিন কোনো
মানুষে অসম্মান।
সংসারের মিথ্যা বাঁধন
ছিন্ন হোক আগে,
কবে সে তোমার সকল দেউল
রাঙিবে আলোর রাগে। | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/asibad/ |
2062 | মহাদেব সাহা | আমার ভেতরে যেন ফুটে উঠি | চিন্তামূলক | স্বপ্নের ভেতর, স্মৃতির ভেতর, এই
একার ভেতর আমি
অনন্তকাল ডুবে আছি;
বার্চবন, স্নেজগাড়ি, দূরের ঘন্টাধ্বনি
আমার স্মৃতির মধ্যে তোলপাড় করে ওঠে
সুদূর বাতাস, ধূ-ধূ ঝাউবীথি-
দেখি সূর্যাস্তের ছায়ার ভেতর আরো অশরীরী
নগ্ন নর্তকীরা সব
আরো স্বপ্নের ভেতর
আরো স্মৃতির ভেতর
আরো ছায়ার ভেতর ক্রমাগত ডুব-সাঁতার
দিতে দিতে, ডুব-সাঁতার
দিতে দিতে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1337 |
2364 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | ময়ূর ও গৌরী | নীতিমূলক | ময়ুর কহিল কাঁদি গেীরীর চরণে,
কৈলাস-ভবনে;—
“অবধান কর দেবি,
আমি ভৃত্য নিত্য সেবি
প্রিয়োত্তম সুতে তব এ পৃষ্ঠ-আসনে।
রথী যথা দ্রুত রথে,
চলেন পবন-পথে
দাসের এ পিঠে চড়ি সেনানী সুমতি;
তবু, মা গো, আমি দুখী অতি!
করি যদি কেকাধ্বনি,
ঘৃণায় হাসে অমনি
খেচর, ভূচর জন্তু;—মরি, মা, শরমে!
ডালে মূঢ় পিক যবে
গায় গীত, তার রবে
মাতিয়া জগৎ... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/moyur-o-gouri/ |
601 | গোলাম মোস্তফা | প্রার্থনা | স্তোত্রমূলক | অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি
বিচার দিনের স্বামী।
যত গুণগান হে চির মহান
তোমারি অন্তর্যামী।দ্যুলোক-ভূলোক সবারে ছাড়িয়া
তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি
তোমারি করুণাকামী।সরল সঠিক পূণ্য পন্থা
মোদের দাও গো বলি,
চালাও সে-পথে যে-পথে তোমার
প্রিয়জন গেছে চলি।যে-পথে তোমার চির-অভিশাপ
যে-পথে ভ্রান্তি, চির-পরিতাপ
হে... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4371.html |
2436 | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | টেলিফোন | হাস্যরসাত্মক | -হ্যালো, কে বলছ?
-আমি।
-আমি কে?
-আমি রাজিব।
-আজিব?
-আজিব না রাজিব। র আকার রা জ ইকারে জি-
-র আকারে রা, গ ইকারে গি?
-না না। গ ইকারে গি না জ ইকারে জি। জিলাপির জি।
-খিলাপীর খি?
-খিলাপীর খি না, জিলাপীর জি। জ ইকারে জি, ল আকারে লা-
-জ ইকারে জি, ম আকারে মা?
-না না। ম আকারে মা না। ল আকারে লা। লাটাইয়ের লা।–
-ঘাটাইয়ের ঘা?
-ঘাটাইয়... | https://banglarkobita.com/poem/famous/2039 |
5394 | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত | করবী | প্রকৃতিমূলক | দূর হতে আমি গোলাপেরি মত ঠিক
তবু আমোদিত করিতে পারিনা দিক।।গোলাপেরি মত অতুলন মম হাসি
তুব হায় অলি ফিরে যায় কাছে আসি।।পথের প্রান্তে ফুটে আছি অহরহ
গোলাপের মত রচিতে পারি নে মোহ।।ভালোবাসা মোর রাখি নি কাটায় ঘিরে
সুলভ প্রেমের দুর্দশা তাই কিরে।।গোলাপের মত কন্টকী নই শুধু
তাই কি এ বুকে জমে না গোলাপী মধু।। | https://www.bangla-kobita.com/satyendranath/korobi/ |
2889 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কাঁচা আম | চিন্তামূলক | তিনটে কাঁচা আম পড়ে ছিল গাছতলায়
চৈত্রমাসের সকালে মৃদু রোদ্দুরে ।
যখন-দেখলুম অস্থির ব্যগ্রতায়
হাত গেল না কুড়িয়ে নিতে ।
তখন চা খেতে খেতে মনে ভাবলুম ,
বদল হয়েছে পালের হাওয়া
পুব দিকের খেয়ার ঘাট ঝাপসা হয়ে এলে ।
সেদিন গেছে যেদিন দৈবে-পাওয়া দুটি-একটি কাঁচা আম
ছিল আমার সোনার চাবি ,
খুলে দিত সমস্ত দিনের খুশির গোপন কুঠ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/kacha-am/ |
647 | জয় গোস্বামী | কী দুর্গম চাঁদ তোর নৌকার কিনারে গেঁথে আছে | রূপক | কী দুর্গম চাঁদ তোর নৌকার কিনারে গেঁথে আছে!
অন্যদিকে কী সুন্দর মাঝি!
যার মুখ কঙ্কালের, যার বাহু জং-ধরা লোহার।
বল্, তোর মাঝিকে বল্, শুরু করতে লৌহের প্রহার।
অত যে দুর্মূল্য চাঁদ, সেও তো সুলভে ভাঙতে রাজি!
খণ্ডে খণ্ডে জলে পড়ছে, জল ছিটকে উঠছে দূরে কাছে…
বল তোর ইচ্ছে হয় না সেই দৃশ্যে দাঁড়াতে আবার
ওই উল্কাগুলি খেতে জলরাশ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1730 |
3891 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শ্বশুরবাড়ির গ্রাম | ছড়া | শ্বশুরবাড়ির গ্রাম,
নাম তার কুলকাঁটা,
যেতে হবে উপেনের–
চাই তাই চুল-ছাঁটা।
নাপিত বললে, “কাঁচি
খুঁজে যদি পাই বাঁচি–
ক্ষুর আছে, একেবারে
করে দেব মূল-ছাঁটা।
জেনো বাবু, তাহলেই
বেঁচে যায় ভুল-ছাঁটা।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shoshurbarir-gram/ |
3557 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বালক | ছড়া | বয়স তখন ছিল কাঁচা; হালকা দেহখানা
ছিল পাখির মতো, শুধু ছিল না তার ডানা।
উড়ত পাশের ছাদের থেকে পায়রাগুলোর ঝাঁক,
বারান্দাটার রেলিং-'পরে ডাকত এসে কাক।
ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত গলির ওপার থেকে,
তপসিমাছের ঝুড়ি নিত গামছা দিয়ে ঢেকে।
বেহালাটা হেলিয়ে কাঁধে ছাদের 'পরে দাদা,
সন্ধ্যাতারার সুরে যেন সুর হত তাঁর সাধা।
জুটেছি বৌদিদির কা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/baluk/ |
3203 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দিক্বালা | প্রকৃতিমূলক | দূর আকাশের পথ উঠিছে জলদরথ,
নিমেন চাহি দেখে কবি ধরণী নিদ্রিত।
অস্ফুট চিত্রের মত নদ নদী পরবত,
পৃথিবীর পটে যেন রয়েছে চিত্রিত!
সমস্ত পৃথিবী ধরি একটি মুঠায়
অনন্ত সুনীল সিন্ধু সুধীরে লুটায়।
হাত ধরাধরি করি দিক্বালাগণ
দাঁড়ায়ে সাগরতীরে ছবির মতন।
কেহ বা জলদময় মাখায়ে জোছানা।
নীল দিগন্তের কোলে পাতিছে বিছানা।
মেখের শয্যায় ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dikbala/ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.