id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
660 | জয় গোস্বামী | ছাই | প্রেমমূলক | ফাল্গুনের ক্ষত, যাও, অন্ধকারে পায়ে কুশ ফুটে
তারা চিনে চিনে ফিরে এসো । এরপর ক্ষুদ্ধ হিম
শুরু হয়ে যাবে এই শুয়ে থাকো পুরনো মরুতে ।
সারারাত্রি জেগে তুমি তৈরি করে নেবে না পিদিম ?
কারো পা তীরের বালি মাড়িয়ে দৌড়েছে, আজ এই জলে তার
একগাছি চুলও যদি ভেসে থাকে নেমে তাই ধরে ধরে
তলায় সবুজ দেশ কাকে বলে ‘ছোটকাকী ফিরে এসো ঘরে ?’
কপালে জ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%9c%e0%a7%9f-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80/ |
1795 | পূর্ণেন্দু পত্রী | কয়েকটি জরুরী ঘোষণা | চিন্তামূলক | আগামী চোদ্দ বছর মহিষ কিংবা নেউল রঙের মেঘের মুখদর্শন করব না কেউ।
আগামী চোদ্দ বছর আমাদের কবিতা থেকে হিজড়ে-নাচন বৃষ্টির নির্বাসন।
স্বেচ্ছাচারী এবং হামলাবাজ হাওয়াকে চোদ্দ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছি আমি
আর পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় টেলিফোনে ট্রাঙ্কলে
রেডিওগ্রামে জানিয়ে দিয়েছি
সমস্ত বিক্ষুব্ধ জলস্রোত যেন মাটিতে নাক-খত দিয়ে ক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1302 |
2512 | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | বিধি আমায় ভিন্ন জনম দাও | মানবতাবাদী | বিধি আমায় ভিন্ন জনম দাও
পশু পাখী বৃক্ষ লতা
কীট পতঙ্গ যথা-তথা
যা খুশী রূপ দিয়ে আমার এ রূপ কেড়ে নাও
অভিশপ্ত মানব-জনম নাও-গো কেড়ে নাও ।।
শিশু রাজন হত্যাকারী
সবাই মানব জনমধারী
মানুষ বড়ই পাপাচারী
পোকা-মাকড় বানাও আমায় মেনে নেবো তাও
অভিশপ্ত মানব-জনম নাও গো-কেড়ে নাও ।। | https://www.bangla-kobita.com/rafiquzzaman/bidhi-amay-bhinno-jonom-dao/ |
3398 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পুণ্যের হিসাব | সনেট | সাধু যবে স্বর্গে গেল, চিত্রগুপ্তে ডাকি
কহিলেন, “আনো মোর পুণ্যের হিসাব।”
চিত্রগুপ্ত খাতাখানি সম্মুখেতে রাখি
দেখিতে লাগিল তার মুখের কী ভাব।
সাধু কহে চমকিয়া, “মহা ভুল এ কী!
প্রথমের পাতাগুলো ভরিয়াছ আঁকে,
শেষের পাতায় এ যে সব শূন্য দেখি—
যতদিন ডুবে ছিনু সংসারের পাঁকে
ততদিন এত পুণ্য কোথা হতে আসে!”
শুনি কথা চিত্রগুপ্ত মনে মনে ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/punnyer-hisab/ |
4283 | শহীদ কাদরী | মাংস, মাংস, মাংস | চিন্তামূলক | আমাকে রাঙাতে পারে তেমন গোলাপ
কখনও দেখি না। তবে কাকে, কখন, কোথায়
ধরা দেবো? একমাত্র গোধূলি বেলায়
সবকিছু বীরাঙ্গনার মতন রাঙা হয়ে যায়।
শৈশবও ছিলো না লাল। তবে জানি,
দেখেছিও, ছুরির উজ্জ্বলতা থেকে ঝরে পড়ে বিন্দু বিন্দু লাল ফোঁটাতবে হাত রাখবো ছুরির বাঁটে? সবুজ সতেজ-
রূপালি রেকাবে রাখা পানের নিপুণ কোনো খিলি নয়,
মাংস, মাংস, মাং... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4167.html |
1148 | জীবনানন্দ দাশ | মনোবীজ | প্রেমমূলক | জামিরের ঘন বন অইখানে রচেছিলো কারা?
এইখানে লাগে নাই মানুষের হাত।
দিনের বেলায় যেই সমারূঢ় চিন্তার আঘাত
ইস্পাতের আশা গড়ে- সেই সব সমুজ্জ্বল বিবরণ ছাড়াযেন আর নেই কিছু পৃথিবীতেঃ এই কথা ভেবে
যাহারা রয়েছে ঘুমে তুলীর বালিশে মাথা গুঁজে;
তাহারা মৃত্যুর পর জামিরের বনে জ্যোৎস্না পাবে নাকো খুঁজে;
বধির-ইস্পাত খড়্গ তাহাদের কোলে তুলে নে... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/monobij/ |
3273 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ধ্রুবাণি তস্য নশ্যন্তি | নীতিমূলক | রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে, শুধু ব্যর্থ হয় তারা। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dhrubani-tosyo-noshyonti/ |
609 | জয় গোস্বামী | অজাতক | শোকমূলক | —- ‘ভিতরে না…ভিতরে না… দেখো সাবধানে…’
—- ‘হ্যাঁ জানি। খেয়াল আছে। দেব না। দিচ্ছি না। ভয় নেই’
দাম্ভিক মেয়েটি ঠিক ওই সময় কত অসহায়
আমাকে বিশ্বাস করেছিল।নিজের আনন্দ রাখতে মারের সাবধান রইল না।
—- ‘যদি কিছু হয়ে যায়’
—- ‘ও কিছু হবে না।’ —- ‘ঠিক তো?’—- ‘না কিছু হবে না।’
শিকড় উপড়ে তুলতে দেরি হয়েছিল।ভাঙা গর্ভ থেকে টেনে বার করা অস... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%85%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%95-%e0%a6%9c%e0%a7%9f-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80/ |
3583 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ১১ | প্রকৃতিমূলক | রবির কিরণ হতে আড়াল করিয়া রেখে
মনটি আমার আমি গোলাপে রাখিনু ঢেকে —
সে বিছানা সুকোমল , বিমল নীহার চেয়ে ,
তারি মাঝে মনখানি রাখিলাম লুকাইয়ে ।
একটি ফুল না নড়ে , একটি পাতা না পড়ে —
তবু কেন ঘুমায় না , চমকি চমকি চায় —
ঘুম কেন পাখা নেড়ে উড়িয়ে পালিয়ে যায় ?
আর কিছু নয় , শুধু গোপনে একটি পাখি
কোথা হতে মাঝে মাঝে উঠিতেছে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bideshi-fuler-guccho-11/ |
1931 | প্রেমেন্দ্র মিত্র | ফ্যান | মানবতাবাদী | নগরের পথে পথে দেখেছ অদ্ভুত এক জীব
ঠিক মানুষের মতো
কিংবা ঠিক নয়,
যেন তার ব্যঙ্গ-চিত্র বিদ্রূপ-বিকৃত !
তবু তারা নড়ে চড়ে কথা বলে, আর
জঞ্জালের মত জমে রাস্তায়-রাস্তায়।
উচ্ছিষ্টের আস্তাকূড়ে ব’সে ব’সে ধোঁকে
আর ফ্যান চায়।রক্ত নয়, মাংস নয়,
নয় কোন পাথরের মতো ঠান্ডা সবুজ কলিজা।
মানুষের সত্ ভাই চায় সুধু ফ্যান;
তবু যেন স... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3995.html |
198 | কাজী নজরুল ইসলাম | অবসর | প্রেমমূলক | লক্ষ্মী আমার! তোমার পথে আজকে অভিসার,
অনেক দিনের পর পেয়েছি মুক্তি-রবিবার।
দিনের পর দিন গিয়েছে হয়নি আমার ছুটি,
বুকের ভিতর ব্যর্থ কাঁদন পড়ত বৃথাই লুটি
বসে ঢুলত আঁখি দুটি!
আহা আজ পেয়েছি মুক্ত হাওয়া
লাগল চোখে তোমার চাওয়া
তাইতো প্রাণে বাঁধ টুটেছে রুদ্ধ কবিতার।
তোমার তরে বুকের তলায় অনেক দিনের অনেক কথা জমা,
কানের কাছে মুখটি... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/obsor/ |
2932 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কেন মধুর | প্রেমমূলক | রঙিন খেলেনা দিলে ও রাঙা হাতে
তখন বুঝি রে বাছা, কেন যে প্রাতে
এত রঙ খেলে মেঘে জলে রঙ ওঠে জেগে,
কেন এত রঙ লেগে ফুলের পাতে—
রাঙা খেলা দেখি যবে ও রাঙা হাতে।
গান গেয়ে তোরে আমি নাচাই যবে
আপন হৃদয়-মাঝে বুঝি রে তবে,
পাতায় পাতায় বনে ধ্বনি এত কী কারণে,
ঢেউ বহে নিজমনে তরল রবে,
বুঝি তা তোমারে গান শুনাই যবে।
যখন ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/keno-modhur/ |
2328 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | দেবদৃষ্টি | স্বদেশমূলক | শচী সহ শচীপতি স্বর্ণ-মেঘাসনে,
বাহিরিলা বিশ্ব দরশনে।
আরোহি বিচিত্র রথ,
চলে সঙ্গে চিত্ররথ,
নিজদলে বিমণ্ডিত অস্ত্র আভরণে,
রাজাজ্ঞায় আশুগতি বহিলা বাহনে।
হেরি নানা দেশ সুখে,
হেরি বহু দেশ দুঃখে—
ধর্ম্মের উন্নতি কোন স্থলে;
দেব অগ্রগতি বঙ্গে উতরিল।
কহিলা মাহেন্দ্র সতী শচী সুলোচনা,
কোন্ দেশে এবে গতি,
কহ হে প্রাণের পতি,
এ দেশে... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/devdrishti/ |
4390 | শামসুর রাহমান | আমার সময় চাই | চিন্তামূলক | পরিণামদর্শী ছিলাম না কোনোকালে,
তা বলে এমন সাজা পেতে হবে, ভাবি নি কখনো।
নিজকে তখনো এরকম অনাশ্রিত, অসহায়
আমার হয় নি মনে। অপরাধ করি নি, তবুও
অপরাধী বলে শক্রদল তর্জনী উঁচিয়ে খোলা
রাস্তায় আমাকে নিয়ে সার্কাস বানাবে।শেষ অব্দি আমাকে নিয়েই যাবে, জানি।
তার আগে আত্মজের শিশু কন্যাটিকে
আরো কিছু কাল আদর করতে দাও; মায়ের মমতা,
আরো যার... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/amar-somy-chai/ |
767 | জসীম উদ্দীন | আজ আমার মনে ত না মানেরে | প্রেমমূলক | সোনার চান,
বাতাসে পাতিয়া বুকরে
শুনি আকাশের গান।
আজ নদীতে উঠিয়া ঢেউ আমার কূলে আইসা লাগে,
রাতের তারার সাথে ঘরের প্রদীপ জাগেরে।
চান্দের উপর বসাইয়ারে যেবা গড়ছে চান্দের বাসা,
আজ দীঘিতে শাপলা ফুটে তারির লয়ে আশারে।
উড়িয়া যায় হংসরে পঙ্খী, যায়রে বহুত দূর,
আজ তরলা বাঁশের বাঁশী টানে সেই সুররে।
আজ কাঙ্খের কলসী ধইরারে কান্দে যমুনার... | https://banglarkobita.com/poem/famous/793 |
4497 | শামসুর রাহমান | একদা যাদের নাম | মানবতাবাদী | একটি গাছের হাত অভিবাদনের
ভঙ্গিতে আমার দিকে উঠে আসে; তাকে
কিছু কথা বলতে গিয়েও থেমে যাই। হাত নাড়া
দেখি, দূরে পাথরের বুকে
জলরেখা ফোটে, তবু গলে না হৃদয়
মানুষের।
বীণার ধ্বনিকে বোবা করে
এখন প্রধান হয়ে ওঠে
অস্ত্রের ঝংকার, চারা গাছের পাতারা
ছোরার আদলে বাড়ে। এক পাল জন্তু
সগৌরবে হেঁটে যায় বিপুল আঁধারে,
একদা যাদের নাম মানুষ বলেই ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekda-jader-nam/ |
4219 | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | দিন যায় | চিন্তামূলক | সুখের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে
শীতের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে
অর্ধেক কপাল জুড়ে রোদ পড়ে আছে
শুধু ঝড় থমকে আছে গাছের মাথায়
আকাশমনির ।ঝড় মানে ঝোড়ো হাওয়া, বাদ্ লা হাওয়া নয়
ক্রন্দনরঙের মত নয় ফুলগুলি
চন্দ্রমল্লিকার ।জয়দেবের মেলা থেকে গান ভেসে আসে
সঙ্গে ওড়ে ধুলোবালি, পায়ের নূপুর
সুখের চট্ কা ভাঙে গৈরিক আবাসে
দিন যা... | https://www.bangla-kobita.com/shaktichattopadhyay/din-jay/ |
3256 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দেবতার গ্রাস | গীতিগাথা | গ্রামে গ্রামে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে
মৈত্র মহাশয় যাবেন সাগরসংগমে
তীর্থস্নান লাগি। সঙ্গীদল গেল জুটি
কত বালবৃদ্ধ নরনারী; নৌকা দুটি
প্রস্তুত হইল ঘাটে। পুণ্য লোভাতুর
মোক্ষদা কহিল আসি, "হে দাদাঠাকুর,
আমি তব হব সাথি।' বিধবা যুবতী,
দুখানি করুণ আঁখি মানে না যুকতি,
কেবল মিনতি করে--অনুরোধ তার
এড়ানো কঠি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/debotar-gras/ |
203 | কাজী নজরুল ইসলাম | অমর-কানন | প্রকৃতিমূলক | অমর কানন
মোদের অমর-কানন!
বন কে বলে রে ভাই, আমাদের তপোবন,
আমাদের তপোবন। এর দক্ষিণে ‘শালী’ নদী কুলুকুলু বয়,
তার কূলে কূলে শালবীথি ফুলে ফুলময়,
হেথা ভেসে আসে জলে-ভেজা দখিনা মলয়,
হেথা মহুয়ার মউ খেয়ে মন উচাটন।দূর প্রান্তর-ঘেরা আমাদের বাস,
দুধহাসি হাসে হেথা কচি দুব-ঘাস,
উপরে মায়ের মতো চাহিয়া আকাশ,
বেণু-বাজা মা... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/amor-kanon/ |
3511 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বয়স আমার বুঝি হয়ত তখন হবে বারো | চিন্তামূলক | বয়স আমার বুঝি হয়তো তখন হবে বারো,
অথবা কী জানি হবে দুয়েক বছর বেশি আরো।
পুরাতন নীলকুঠি-দোতলার 'পর
ছিল মোর ঘর।
সামনে উধাও ছাত--
দিন আর রাত
আলো আর অন্ধকারে
সাথিহীন বালকের ভাবনারে
এলোমেলো জাগাইয়া যেত,
অর্থশূন্য প্রাণ তারা পেত,
যেমন সমুখে নীচে
আলো পেয়ে বাড়িয়া উঠিছে
বেতগাছ ঝোপঝাড়ে
পুকুরের পাড়ে
সবুজের আলপনায় রঙ দিয়ে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bahas-mamar-haba-veje-baro/ |
4932 | শামসুর রাহমান | পুলিশও প্রত্যক্ষ করে | সনেট | ক্ষমাহীন নিষেধের বেয়নেট উদ্যত চৌদিকে
এবং ডাইনে বাঁয়ে কাঁটাতার, যেন বর্ধমান
ফণিমনসার বন। ব্যক্তিগত নিবাসসমূহ
গিসগিসে গোয়েন্দার অবাধ আস্তানা, শিরস্ত্রাণ-
নিয়ন্ত্রিত জীবনের, কিছু গনতান্ত্রিক বিকার
এখনো গোলাপ চায় এ মড়কে। মৃত্যুভয় ফিকে
হ’য়ে এলে আমাদের প্রিয় লুম্পেন ইচ্ছার ব্যূহ
হিজড়োর মতন নেচে ওঠে নিরাশ্রিত চমৎকার।প্রধান সড়... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/pulisho-prottyokkho-kore/ |
5536 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | রৌদ্রের গান | স্বদেশমূলক | এখানে সূর্য ছড়ায় অকৃপণ
দুহাতে তীব্র সোনার মতন মদ,
যে সোনার মদ পান ক'রে ধন ক্ষেত
দিকে দিকে তার গড়ে তোলে জনপদ।ভারতী! তোমার লাবণ্য দেহ ঢাকে
রৌদ্র তোমায় পরায় সোনার হার,
সূর্য তোমার শুকায় সবুজ চুল
প্রেয়সী, তোমার কত না অহংকার।সারাটা বছর সূর্য এখানে বাঁধা
রোদে ঝলসায় মৌন পাহাড় কোনো,
অবাধ রোদ্রে তীব্র দহন ভরা
রৌদ্রে জ্... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/roudrer-gaan/ |
1734 | পাবলো নেরুদা | মাতাল ও মাছকন্যা | মানবতাবাদী | অনুবাদ:চয়ন খায়রুল হাবিবএক্কেবারে নেংটো মেয়েটি ঢোকবার সময়
পানাশালাত বেশ ক’জন জোয়ান মর্দ বসে বসে পান করছিল।
পান করতে করতে,ওরা মেয়েটির দিকে
থু থু থু…করে থুতু ছিটাচ্ছিল।
সবে সাগর থেকে উঠে আসা মেয়েটি
এসবের কিছুই বুঝতে পারছিল না।
মেয়েটি পথ হারানো মাছকন্যা ।
টিটকারি থু থুক্কার জ্বলজ্বলে মাংশ ছুয়ে
পিছলে পিছলে খসে পড়ছিল।
খিস্তি... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3978.html |
5792 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | দেখা | প্রেমমূলক | -ভালো আছো?
-দেখো মেঘ, বৃষ্টি আসবে?
-ভালো আছো?
-দেখো ঈশান কোণের কালো, শুনতে পাচ্ছো ঝড়?
-ভালো আছো?
-এই মাত্র চমকে উঠলো ধবধবে বিদ্যুৎ।
-ভালো আছো?
-তুমি প্রকৃতিকে দেখো
-তুমি প্রকৃতিকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে রয়েছো
-আমি তো অণূর অনু, সামান্যের চেয়েও সামান্য
-তুমিই তো জ্বালো অগ্নি, তোলো ঝড়,রক্তে এত উম্মাদনা
-দেখো সত্যিকার বৃষ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/449 |
2778 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ঈর্ষার সন্দেহ | নীতিমূলক | লেজ নড়ে, ছায়া তারি নড়িছে মুকুরে
কোনোমতে সেটা সহ্য করে না কুকুরে।
দাস যবে মনিবেরে দোলায় চামর
কুকুর চটিয়া ভাবে, এ কোন্ পামর?
গাছ যদি নড়ে ওঠে, জলে ওঠে ঢেউ,
কুকুর বিষম রাগে করে ঘেউ-ঘেউ।
সে নিশ্চয় বুঝিয়াছে ত্রিভুবন দোলে
ঝাঁপ দিয়া উঠিবারে তারি প্রভু-কোলে।
মনিবের পাতে ঝোল খাবে চুকুচুকু,
বিশ্বে শুধু নড়িবেক তারি লেজটুকু। (কণ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/irshar-sondheo/ |
1708 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | হঠাৎ হাওয়া | প্রকৃতিমূলক | হঠাৎ হাওয়া উঠেছে এই দুপুরে
আকাশী নীল শান্তি বুঝি ছিনিয়ে নিতে চায়।
মালোঠিগাঁও বিমূঢ়, হতবাক্।
মেঘের ক্রোধ গর্জে ওঠে ঝড়ের ডঙ্কায়।
এখনই এল ডাক।
মন্দাকিনী মিলায় তাল তরঙ্গের নূপুরে।
এ যেন হরধনুর টান ছিলাতে
হেনেছে কেউ প্রবল টংকার।
চিনের চোখ মীলিত। কার ভীষণ জটাজাল
আকাশে পড়ে ছড়িয়ে, শোনো বাতাসে বাজে তার
সঘন করতাল।
ত্রিলোক কোট... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1702 |
5173 | শামসুর রাহমান | যেতে-যেতে বড় ক্লান্ত | চিন্তামূলক | অনেকটা পথ একা হেঁটে যেতে-যেতে বড় ক্লান্ত
হয়ে যেন ঢ’লে পড়ি বালির লুকানো
মৃত্যুফাঁদে। গা বেয়ে শীতল
ঘর্ম-স্রোত বয়ে যেতে থাকে।
কী করি? কী করি?-প্রশ্ন বারবার
হানা দেয় অন্তরের একান্ত শোণিতে।এই যে এখানে আমি তোমার দুয়ারে ভোরবেলা,
দুপুর, বিকেল আর সন্ধ্যায়, গভীর
রাত্তিকে ভিখিরি হয়ে পড়ে থাকি একা,
সে শুধু ঝঙ্কৃত কিছু শব্দাবলি কাগজ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jete-jete-boro-klanto/ |
5250 | শামসুর রাহমান | সকলেই গ্যাছে | চিন্তামূলক | সকলেই চলে গ্যাছে, বলা যায় পৌঁছে গেছে ঠিক
নির্দিষ্ট গন্তব্যে, শুধু আমি এই দম আটকানো
রুদ্ধ এলাকায়
দাঁড়ানো ভীষণ একা। কথা ছিল যাবো, নিশ্চয় আমিও
যাবো
সকলের সঙ্গে, কিন্তু আমি বড় বেশি দেরি করে
ফেলেছি নিশ্চিত।
ওরা কেউ পথে কোনো কিছু দেখে, মানে
রূপ-শোভা দেখে দাঁড়ায়নি
একদণ্ড থমকে কোথাও।ওরা চলে গেছে, লক্ষ্য স্থির রেখে সময় মাফিক।
অ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/sokolei-gache/ |
5758 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কেউ কথা রাখেনি | প্রেমমূলক | কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী
আর এলোনা
পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।
মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর
তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1856 |
3475 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ফুরিয়ে গেল পৌষের দিন | চিন্তামূলক | ফুরিয়ে গেল পৌষের দিন;
কৌতূহলী ভোরের আলো
কুয়াশার আবরণ দিলে সরিয়ে।
হঠাৎ দেখি শিশিরে-ভেজা বাতাবি গাছে
ধরেছে কচি পাতা;
সে যেন আপনি বিস্মিত।
একদিন তমসার কূলে বাল্মীকি
আপনার প্রথম নিশ্বসিত ছন্দে
চকিত হয়েছিলেন নিজে,--
তেমনি দেখলেম ওকে।
অনেকদিনকার নিঃশব্দ অবহেলা থেকে
অরুণ-আলোতে অকুণ্ঠিত বাণী এনেছে
এই কয়টি কিশলয়;
সে যেন স... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/fureya-galo-pusar-din/ |
5856 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | শিল্প | প্রেমমূলক | শিল্প তো সার্বজনীন, তা কারুর একলার নয়
এ কথা ভাবলেই বড় ভয় লাগে, এই সত্য ঘোর শত্রু
ভয় লাগে, বড় ভয় লাগে।
নীরা নাম্মী মেয়েটি কি শুধু নারী? মন বিঁধে থাকে
নীরার সারল্য কিংবা লঘু খুশী,
আঙুলের হঠাৎ লাবণ্য কিংবা
ভোর ভোর মুখ
আমি দেখি, দেখে দেখে দৃষ্টিভ্রম হয়
এত চেনা, এত কাছে, তবু কেন এতটা সুদূর
নীরার সূপের গায়ে লেগে আছে যেন শি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1817 |
855 | জসীম উদ্দীন | পুরান পুকুর | প্রকৃতিমূলক | পুরান পুকুর, তব তীরে বসি ভাবিয়া উদাস হই,
খেজুরের গোড়ে বাঁধা ছোট ঘাট, করে জল থই থই;
রাত না পোহাতে গাঁয়ের বধুরা কলসীর কলরবে,
ঘুম হতে তোমা জাগাইয়া দিত প্রভাতের উৎসবে।
সারাদিন ধরি ঘড়ায় ঘড়ায় তব অমৃতরাশি,
বধুদের কাঁখে ঢলিয়া ঢলিয়া ঘরে ঘরে যেত হাসি।
‘বদনায়’ভরা একটুকু, তারি ভরসায় গেঁয়ো-চাষী,
চৈত্র-রোদের করুণ করিয়া বাজাত গানের ব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/778 |
5686 | সুকুমার রায় | শিশুর দেহ | চিন্তামূলক | চশমা-আঁটা পণ্ডিতে কয় শিশুর দেহ দেখে-
'হাড়ের পরে মাংস দিয়ে, চামড়া দিয়ে ঢেকে,
শিরার মাঝে রক্ত দিয়ে, ফুসফুসেতে বায়ু,
বাঁধল দেহ সুঠাম করে পেশী এবং স্নায়ু।'
কবি বলেন, 'শিশুর মুখে হেরি তরুণ রবি,
উৎসারিত আনন্দে তার জাগে জগৎ ছবি।
হাসিতে তার চাঁদের আলো, পাখির কলকল,
অশ্রুকণা ফুলের দলে শিশির ঢলঢল।'
মা বলেন, 'এই দুরুদুরু ম... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/shishur-deho/ |
4738 | শামসুর রাহমান | জ্বলছে স্বদেশ | সনেট | কবীর চৌধুরী ঠিকই বলেছেন, জ্বলছে স্বদেশ-
প্রায় প্রতিদিন মরে লোক গুলি খেয়ে খোলা পথে,
পুলিশের জুলুমে জর্জর দেশবাসী, কোনো মতে
দিন কাটে প্রতিবাদী নেতাদের প্রত্যহ অশেষ
ঝুঁকিতে এবং অনেকেই হচ্ছেন আটক। বেশ
আছেন আনন্দে মেতে নারী নীরো, বাজাচ্ছেন বাঁশি
মসনদে বসে, ঠোঁটে তার খেলে যায় ক্রূর হাসি
ক্ষণে ক্ষণে, পারিষদবর্গ তার কাছে সুখবর... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jolche-swadesh/ |
4098 | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | খতিয়ান | প্রেমমূলক | ‘হাত বাড়ালেই মুঠো ভরে যায় ঋণে
অথচ আমার শস্যের মাঠ ভরা।
রোদ্দুর খুঁজে পাই না কখনো দিনে,
আলোতে ভাসায় রাতের বসুন্ধরা।
টোকা দিলে ঝরে পচা আঙুলের ঘাম,
ধস্ত তখন মগজের মাস্তুল
নাবিকেরা ভোলে নিজেদের ডাক নাম
চোখ জুড়ে ফোটে রক্তজবার ফুল।
ডেকে ওঠো যদি স্মৃতিভেজা ম্লান স্বরে,
উড়াও নীরবে নিভৃত রুমালখানা
পাখিরা ফিরবে পথ চিনে ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/325 |
2161 | মহাদেব সাহা | তুমি | প্রেমমূলক | তোমাকেই আজো মনে মনে করি উপাসনা ভাবি স্মরণযোগ্য
বহু বেদনায় বহু ব্যবধানে তোমাকেই আজো অসময়ে খুঁজি,
তুমি ছাড়া কোনো স্মরণযোগ্য নারী নেই আর নাম নেই আর
তোমার প্রতিভা এই শতাব্দী তারও বেশিকাল পাবে প্রাধান্য
আমাদের ঢের বয়সের বেশি তবু আমাদের বয়সের চেয়ে তারুণ্যময়
তোমারই রূপের দুরন্ত খ্যাতি এ শহরে আজো প্রবাদতুল্য!
আমাদের যুগে তুমিই... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1381 |
699 | জয় গোস্বামী | প্রণয়গীতি | প্রেমমূলক | এইখানে টান দাও এই এত ঠাণ্ডায়
ওই কোলে ঠাই দাও সজনী ও সজনী
দেখিতে না দেখিতে, কিলবিলে দিঘিতে
আমাকে ডোবাল মম আত্মীয়স্বজনই
আজ উঠে দেবী তোরে সকাতরে বলি হে
অধমে খাওয়াও তব হাড়মাস গলিয়ে
সঙ্গী ও সাথীরা, ছেলে-পিলে-নাতিরা
পেট ফুলে উল্টিয়ে ছিল সবকজনই
ওঠে আজ ঠ্যাংকাটা, কে উঠে ঘোড়ার মাথা
কে ছেলে কে মেয়ে ওরা -অলিঙ্গ অযোনি
শৃঙ্গী না শঙ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%9f%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a7%9f-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80/ |
6007 | হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় | জীবন সঙ্গীত | চিন্তামূলক | বলো না কাতর স্বরে, বৃথা জন্ম এ সংসারে
এ জীবন নিশার স্বপন,
দারা পুত্র পরিবার, তুমি কার কে তোমার
বলে জীব করো না ক্রন্দন;
মানব-জনম সার, এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
কর যত্ন হবে জয়, জীবাত্মা অনিত্য নয়
ওহে জীব কর আকিঞ্চন ।
করো না সুখের আশ,... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4486.html |
3000 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গানের জাল | প্রেমমূলক | দেবে তুমি
কখন নেশায় পেয়ে
আপন-মনে
যাও চলে গান গেয়ে।
যে আকাশের সুরের লেখা লেখ
কুঝি না তা, কেবল রহি চেয়ে।
হৃদয় আমার অদৃশ্যে যায় চলে,
প্রতিদিনের ঠিকঠিকানা ভোলে-
মৌমাছিরা আপনা হারায় যেন
গন্ধের পথ বেয়ে।গানের টানা জালে
নিমেষ-ঘেরা বাঁধন হাতে
টানে অসীম কালে।
মাটির আড়ালে করি ভেদন
স্বর্গলোকের আনে বেদন,
পরান ফেলে ছেয়ে। | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ganar-jal/ |
3697 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মরীচিকা | প্রেমমূলক | ওই-যে তোমার মানস-প্রজাপতি
ঘরছাড়া সব ভাবনা যত, অলস দিনে কোথা ওদের গতি।
দখিন হাওয়ার সাড়া পেয়ে
চঞ্চলতার পতঙ্গদল ভিতর থেকে বাইরে আসে ধেয়ে।
চেলাঞ্চলে উতল হল তারা,
চক্ষে মেলে চপল পাখা আকাশে পথহারা।
বকুলশাখায় পাখির হঠাৎ ডাকে
চমকে-যাওয়া চরণ ঘিরে ঘুরে বেড়ায় শাড়ির ঘূর্ণিপাকে।
কাটায় ব্যর্থ বেলা
অঙ্গে অঙ্গে অস্থিরতার চক... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/morecheka/ |
1637 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | প্রবাস-চিত্র | স্বদেশমূলক | যেখানে পা ফেলবি, তোর মনে হবে, বিদেশে আছিস।
এই তোর ভাগ্যলিপি।
গাছপালা অচেনা লাগবে, রাস্তাঘাট
অন্যতর বিন্যাসে ছড়ানো,
সদরে সমস্ত রাত কড়া নাড়বি, তবু
বাড়িগুলি নিদ্রার গভীর থেকে বেরিয়ে আসবে না।
এই তোর ভাগ্যলিপি।
সকলে বলবে না কথা; যারা বলবে,
তারা পর্যটন বিভাগের কর্মী মাত্র,
যে-কোনো টুরিস্ট্কে তারা দুটি-চারটি ধোপদুরস্ত কথা
উ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1644 |
3458 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রায়শ্চিত্ত | মানবতাবাদী | উপর আকাশে সাজানো তড়িৎ-আলো--
নিম্নে নিবিড় অতিবর্বর কালো
ভূমিগর্ভের রাতে--
ক্ষুধাতুর আর ভূরিভোজীদের
নিদারুণ সংঘাতে
ব্যাপ্ত হয়েছে পাপের দুর্দহন,
সভ্যনামিক পাতালে যেথায়
জমেছে লুটের ধন।
দুঃসহ তাপে গর্জি উঠিল
ভূমিকম্পের রোল,
জয়তোরণের ভিত্তিভূমিতে
লাগিল ভীষণ দোল।
বিদীর্ণ হল ধনভাণ্ডারতল,
জাগিয়া উঠিছে গুপ্ত গুহার
কালীনাগি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/pachetae/ |
3582 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ১০ | প্রেমমূলক | কেমনে কী হল পারি নে বলিতে,
এইটুকু শুধু জানি–
নবীন কিরণে ভাসিছে সে দিন
প্রভাতের তনুখানি।
বসন্ত তখনো কিশোর কুমার,
কুঁড়ি উঠে নাই ফুটি,
শাখায় শাখায় বিহগ বিহগী
বসে আছে দুটি দুটি।
কী যে হয়ে গেল পারি নে বলিতে,
এইটুকু শুধু জানি–
বসন্তও গেল, তাও চলে গেল
একটি না কয়ে বাণী।
যা-কিছু মধুর সব ফুরাইল,
সেও হল অবসান–
আমারেই শুধু ফেলে রে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bideshi-fuler-guccho-10/ |
1292 | টুটুল দাস | রবীন্দ্রনাথকে | রূপক | গীষ্ম সকাল জানলা খোলা রোদে
খাক হয়েছে পুড়ে খুচরো অভিমান
মেঘের দেখা নাই তো চৌহদ্দে
জমিয়ে রাখা বৃষ্টি জলে স্নান।স্নানের নামে গায়ে মাখছি ধূলো
ধূলো কোথায়? কাদা-ই বলা যায়
বললেই বা কি এমন এসে গেল
না বলা কথা ঝুলছে বারান্দায়।বারান্দাতে দাঁড়ায় এসে কবি
ঝোলার ভিতর একটাও নেই সাপ
ভুলের পাশে ভুল ঠিকানার ছবি
প্রেমের নামে অালিঙ্গন নিষ্... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%bf/ |
4660 | শামসুর রাহমান | গদ্য কবিতার চালে | চিন্তামূলক | দুপুরবেলা খেলাচ্ছলে কোথায় যে যাচ্ছিলাম
আস্তে সুস্থে, কী খেয়াল হলো
হঠাৎ ঢুকে পড়লাম
স্টেডিয়ামের বইয়ের দোকানে, সেখানেই
দেখা তোমার সঙ্গে। নিমেষে দুপুরের অধিক ঝলোমলো
হয়ে উঠলো দুপুর; তোমার চোখে চোখ পড়তেই
ভাবি, অনন্তকালের রঙ কি শাদা
পায়রার মতো? নাকি সমুদ্রের জলরাশির মতো
নীল? অনন্তকাল কি অপরূপ তালে-বাঁধা
কোনো ধ্রুপদী নাচ? সম্ভ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/godyo-kobitar-chale/ |
5617 | সুকুমার রায় | টিক্ টিক্ টং | ছড়া | টিক্ টিক্ চলে ঘড়ি, টিক্ টিক্ টিক্,
একটা ইঁদুর এল সে সময়ে ঠিক।
ঘড়ি দেখে একলাফে তাহাতে চড়িল,
টং করে অমনি ঘড়ি বাজিয়া উঠিল।
অমনি ইঁদুরভায়া ল্যাজ গুটাইয়া,
ঘড়ির উপর থেকে পড়ে লাফাইয়া।
ছুটিয়া পালায়ে গেল আর না আসিল,
টিক্ টিক্ টিক্ ঘড়ি চলিতে লাগিল।। | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/tik-tik-tong/ |
1854 | পূর্ণেন্দু পত্রী | প্রাচীন ভিক্ষুক | চিন্তামূলক | রাজার দুলাল ভেবে ফিরায়ো না।
মাথার মুকুট গলে জয়মালা দেখে ফিরায়ো না।
আমি সেই প্রাচীন ভিক্ষুক।
শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা
শিরায় বিলাপ
নাভিতটে দংশনের লোভী ফণা, বিষধর সাপ
যথাযথ সকলই প্রাচীন।
মাথায় মুকুট গলে জয়মালা দেখে ফিরায়ো না।
গম্বুজ খিলান কিংবা মখমলে প্লাবিত মদিরা
বৃক্ষশাখে হারেমের উচ্চকিত হাসির মতন পুষ্পশোভা দেখে ফিরায... | https://banglarkobita.com/poem/famous/480 |
5233 | শামসুর রাহমান | শুধু দেখি | সনেট | আমার কবিত্ব বুঝি গৃহত্যাগী সিদ্ধার্থের মতো
বড় অনশন-ক্লিষ্ট আজ, নইলে কেন হে নবীনা
তোমার রূপের শিখা অনায়াসে জ্বালতে পারি না
ছত্রে ছত্রে? এই চোখ, এই ওষ্ঠ আর সমুন্নত
নাকের উপমা খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হচ্ছি অবিরত।
নতুন উপমা পেলে অবশেষে হে তুলনাহীনা,
তা-ও বড়ো তুচ্ছ মনে হয় আর মগজে যে বীণা
বাজে মাঝে-মাঝে, তারও সুর কাটে, চেতনা বিব... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shudhu-dekhi/ |
3764 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যখন দেখা হল | প্রেমমূলক | যখন দেখা হল
তার সঙ্গে চোখে চোখে
তখন আমার প্রথম বয়েস;
সে আমাকে শুধাল,
"তুমি খুঁজে বেড়াও কাকে?"
আমি বললেম,
"বিশ্বকবি তাঁর অসীম ছড়াটা থেকে
একটা পদ ছিঁড়ে নিলেন কোন্ কৌতুকে,
ভাসিয়ে দিলেন
পৃথিবীর হাওয়ার স্রোতে,
যেখানে ভেসে বেড়ায়
ফুলের থেকে গন্ধ,
বাঁশির থেকে ধ্বনি।
ফিরছে সে মিলের পদটি পাবে ব'লে;
তার মৌমাছির পাখায় বা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jakhan-dakha-halo/ |
3305 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নামজাদা দানুবাবু রীতিমতো খর্চে | হাস্যরসাত্মক | নামজাদা দানুবাবু
রীতিমতো খর্চে,
অথচ ভিটেয় তার
ঘুঘু সদা চরছে।
দানধর্মের ‘পরে
মন তার নিবিষ্ট,
রোজগার করিবার
বেলা জপে “শ্রীবিষ্ণু’,
চাঁদার খাতাটা তাই
দ্বারে দ্বারে ধরছে।
এই ভাবে পুণ্যের
খাতা তার ভরছে। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/namjada-danubabu-ritimoto-khorche/ |
5967 | হাসন রাজা | সোনা বন্ধে আমারে | রূপক | সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো
সোনা বন্ধে আমারে পাগল করিল।
আরে না জানি কি মন্ত্র করি জাদু করিল।।
রূপের ঝলক দেখিয়া তার আমি হইলাম কানা
সেই অবধি লাগল আমার শ্যাম পিরিতির টানা।।
হাসন রাজা হইল পাগল লোকের হইল জানা
নাচে নাচে পালায় পালায় আর গায়ে জানা।।
মুখ চাহিয়া হাসে আমার যত আদি পরী
দেখিয়াছি বন্ধের দুখ ভুলিতে না পারি।... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4474.html |
5728 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | আমাকে জড়িয়ে | চিন্তামূলক | তোমাদের অসম্পূর্ণতা দেখে, স্মৃতির কুয়াশা দেখে আমার মন কেমন করে
সারা আকাশ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে এক পরম কারুণিক নিষাদ
তার চোখ মেটে সিঁদুরের মতো লাল, আমি জানি তার দুঃখ
হে কুমারীর বিশ্বাসহন্তা, হে শহরতলীর ট্রেনের প্রতারক
তোমাদের টুকিটাকি সার্থকতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরোনো মাছের আঁশ
হে উত্তরের জানালার ঝিল্লি, হে মধ্য সাগরের ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/445 |
3744 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মৃত্যুর পরে | চিন্তামূলক | আজিকে হয়েছে শান্তি ,
জীবনের ভুলভ্রান্তি
সব গেছে চুকে ।
রাত্রিদিন ধুক্ধুক্
তরঙ্গিত দুঃখসুখ
থামিয়াছে বুকে ।
যত কিছু ভালোমন্দ
যত কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব
কিছু আর নাই ।
বলো শান্তি , বলো শান্তি ,
দেহ-সাথে সব ক্লান্তি
হয়ে যাক ছাই ।গুঞ্জরি করুক তান
ধীরে ধীরে করো গান
বসিয়া শিয়রে ।
যদি কোথা থাকে লেশ
জীবনস্বপ্নের শেষ
তাও যাক ম... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/mrittur-pore/ |
3446 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রভেদ (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | নীতিমূলক | অনুগ্রহ দুঃখ করে, দিই, নাহি পাই।
করুণা কহেন, আমি দিই, নাহি চাই। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/proved-konika/ |
1999 | বিষ্ণু বিশ্বাস | কালো মেয়ে | প্রেমমূলক | শুধু মৃতদের গল্প কত আর কাঁধে ঝুলে যাবে
এবার নিষ্কৃতি পেলে, শান্তি অন্বেষণে মহাকাশে
গিয়ে, দু’টুকরো লোহা ঠুকে আগুন জ্বালিয়ে দেব
অসহ অসীম শব পুড়ে হোক ছাই পুড়ে ছাই।তারপর আমাদের নিমগাছটির পাশে নদী
কদমগাছটি আছে অন্যদের মুঘলের ঘাটে
তুমি আছো কালো মেয়ে সন্ধ্যা স্নানের ঝংকৃত দূরে
আমি ভালোবেসে ভুলে তোমাকে জ্বালিয়ে দিই নাই। | https://banglapoems.wordpress.com/2013/10/01/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a7%81-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be/ |
664 | জয় গোস্বামী | জল থেকে ডাঙায় উঠে ওরা | মানবতাবাদী | জল থেকে ডাঙায় উঠে ওরা
পালিয়ে চলেছে আজীবন
এক যুগ থেকে অন্য যুগে
উড়ে আসে ক্ষেপনাস্ত্র, তীর
ছেলে বউ মেয়ে বুড়ো জননী ও শিশু কোলাহল
দাউদাউ উদ্ধাস্তু শিবির | https://banglarkobita.com/poem/famous/1737 |
4780 | শামসুর রাহমান | তিনটি স্তবক | মানবতাবাদী | এই তো বৃষ্টি ছাঁট আর ঝোড়ো হাওয়া
ময়লা আকাশটাকে ঝাঁট
দিয়ে গেল। বসে আছি ঘরে
বড় একা; নিজের ভেতরে এক আরশিনগরে কারো ছায়া
পড়ে বলে মনে হয়। পড়শির সঙ্গে দেখা।
যথারীতি জমে যাবে মাদারির খেল। ন্যায়নীতি
নিয়ে কানামাছি খেলি, ভয়ভীতি বিসর্জন দিতে
পেরেছি কি? বিবেকের আঁশ
এখনো আছে কি কিছু লেগে অস্তিত্বের তন্তুজালে?
কালে কালে কী যে হবে। অলী... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tinti-stobok/ |
5354 | শামসুর রাহমান | হে শহর, হে অন্তরঙ্গ আমার | স্বদেশমূলক | হে শহর, হে প্রিয় শহর, হে অন্তরঙ্গ আমার,
তুমি কি আমাকে পাঠাতে চাও বনবাসে?
নইলে কেন এই উত্তেজনা তোমার সমগ্র সত্তা জুড়ে?
কেন এই আয়োজন, দাঁতে-দাঁত-ঘষা আয়োজন
প্রহরে প্রহরে? হে শহর, তুমি কি বাস্তবিকই
নির্বাসন বরাদ্দ করেছ আমার জন্যে?হে শহর, হে প্রিয় শহর, হে মোহিনী আমার,
দেখি এখন তুমি আমার চোখে চোখ রেখে
তাকাতে পারো কি না।
এই ত... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/he-shohor-he-ontoronggo-amar/ |
3749 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মোর কিছু ধন আছে সংসারে | প্রেমমূলক | মোর কিছু ধন আছে সংসারে,
বাকি সব ধন স্বপনে
নিভৃতস্বপনে।
ওগো কোথা মোর আশার অতীত,
ওগো কোথা তুমি পরশচকিত,
কোথা গো স্বপনবিহারী।
তুমি এসো এসো গভীর গোপনে,
এসো গো নিবিড় নীরব চরণে
বসনে প্রদীপ নিবারি,
এসো গো গোপনে।
মোর কিছু ধন আছে সংসারে
বাকি সব আছে স্বপনে
নিভৃত স্বপনে।রাজপথ দিয়ে আসিয়ো না তুমি,
পথ ভরিয়াছে আলোকে
প্রখর আলোকে।
সবার... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/mor-kichu-dhon-ache-songsare/ |
4414 | শামসুর রাহমান | ইচ্ছে তাঁর ইচ্ছে | চিন্তামূলক | সূর্য আকাশে রৌদ্র ছড়ায়,
দুপুরের রোদ বিকেলে গড়ায়,
অনাবৃষ্টিতে শস্যের ক্ষেত জ্ব’লেপুড়ে যায়
খালবিল সব নিমেষে শুকায়,
-ইচ্ছে তাঁর ইচ্ছে।মারিতে মড়কে দেশ ছারখার,
নব সংসারে ওঠে হাহাকার,
মেঘচেরা রোদে বাতাসে নড়ছে গাছের ডালটা,
-ইচ্ছে তাঁর ইচ্ছে।জীর্ণ দেয়ালে শুধু থেকে থেকে
বেয়াড়া একটা কাক ওঠে ডেকে,
চৌধুরীদের বউটা শরীরে জড়ায় আগুন
ষ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/icche-tar-icche/ |
4745 | শামসুর রাহমান | টাইরেসিয়াসের মতো | মানবতাবাদী | দোরগোড়ায় রোজ বসে থাকতো
যে-লোকটা, আলো সম্পর্কে কোনো
ধারণাই ছিল না তার।
কারণ, সে ছিল জন্মান্ধ। ফলত
আরো অনেক কিছুর মতোই আলো নিয়ে
সে কোনোদিন ওর কাঁচাপাকা চুল-ভর্তি
মাথাটা ঘামায়নি।
দোরগোড়ায় হামেশা বসতো লোকটা,
কিন্তু কুঁড়েমি
ওর ধাতস্থ হয়নি কস্মিনকালেও।
ভোরবেলার আলো তার সত্তায় খেলা করতো,
ওর জানা ছিল না। ভিক্ষা-টিক্ষা
করার কথা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tairesiaser-moto/ |
5531 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | মেয়েদের পদবী | হাস্যরসাত্মক | মেয়েদের পদবীতে গোলমাল ভারী,
অনেকের নামে তাই দেখি বাড়াবাড়ি;
'আ'কার অন্ত দিয়ে মহিলা করার
চেষ্টা হাসির ৷ তাই ভূমিকা ছড়ার ৷
'গুপ্ত' 'গুপ্তা' হয় মেয়েদের নামে,
দেখেছি অনেক চিঠি, পোস্টকার্ড, খামে ৷
সে নিয়মে যদি আজ 'ঘোষ' হয় 'ঘোষা'
তা হলে অনেক মেয়ে করবেই গোসা,
'পালিত' 'পালিতা' হলে 'পাল' হবে 'পালা'
নির্ঘাত বাড়বেই মেয়েদের জ্বালা;... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/post20160509112750/ |
5576 | সুকুমার রায় | আশ্চর্য | হাস্যরসাত্মক | নিরীহ কলম, নিরীহ কালি,
নিরীহ কাগজে লিখিল গালি--
"বাঁদর বেকুব আজব হাঁদা
বকাট্ ফাজিল অকাট্ গাধা।"
আবার লিখিল কলম ধরি
বচন মিষ্টি, যতন করি--
"শান্ত মানিক শিষ্ট সাধু
বাছারে, ধনরে লক্ষ্মী যাদু।"
মনের কথাটি ছিলো যে মনে,
রটিয়া উঠিল খাতার কোণে,
আঁচরে আঁকিতে আখর ক'টি
কেহ খুশি, কেহ উঠিল চটি!
রকম রকম কালির টানে
কারো কারো অশ্রু ... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/ashchorjo/ |
710 | জয় গোস্বামী | বাদুড় বৃষ্টির মধ্যে দেবদারু গাছ ছেড়ে যায় | রূপক | বাদুড় বৃষ্টির মধ্যে দেবদারু গাছ ছেড়ে যায়
বাদুড় আমার রক্ত খেয়ে
আকাশে পালায়
পালিয়ে বাঁচে না
রাত্রে দেখা যায়
বাদুড় চাঁদের মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে
পেট থেকে রক্ত, রক্ত নয়, বালি ওগরায় | https://banglarkobita.com/poem/famous/1751 |
1283 | জীবনানন্দ দাশ | হেমন্তের রাতে | চিন্তামূলক | শীতের ঘুমের থেকে এখন বিদায় নিয়ে বাহিরের অন্ধকার রাতে
হেমন্তলক্ষ্মীর সব শেষ অনিকেত অবছায়া তারাদের
সমাবেশ থেকে চোখ নামায়ে একটি পাখির ঘুম কাছে
পাখিনীর বুকে ডুবে আছে,–
চেয়ে দেখি;– তাদের উপরে এই অবিরল কালো পৃথিবীর
আলো আর ছায়া খেলে–মৃত্যু আর প্রেম আর নীড়।
এ ছাড়া অধিক কোনো নিশ্চয়তা নির্জন্তা জীবনের পথে
আমাদের মানবীয় ইতিহাস চে... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/hemonter-ratey/ |
5865 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | সারাটা জীবন | প্রেমমূলক | আমাকে দিও না শাস্তি, শিয়রের কাছে কেন এত নীল জল
কোথাও বোঝার ভুল ছিল, তাই ঝড় এলো সন্ধের আকাশে
আমাকে দিও না শাস্তি, কেন ফেলে চলে গেলে অসমাপ্ত বই
চতুর্দিকে এত শব্দ, শব্দ গিরিবর্তে ঝোলে অদ্ভূত শূন্যতা
আকাশের গায়ে গায়ে কালো তাঁবু, জগতের সব দীন দুঃখী শুয়ে আছে
একজন শুধু বাইরে, তুমি তার একাকিত্ব তুলে নাও মরাল গ্রীবার মতো হাতে
আ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1818 |
5069 | শামসুর রাহমান | ভিন্ন জীবন উঠলো নেচে | মানবতাবাদী | একটি দ্বীপের অধিবাসী অষ্টপ্রহর
অন্ধকারে ডুবে থাকে। যায় না দেখা কোনও কালে
তাদের কিংবা অন্য কারও দেহের ছায়া।
ভুলেও কেউ আসে না সেই দ্বীপের তীরে।মাঝে-মধ্যে দ্বীপবাসীরা
হাওয়ার ছন্দে নেচে ওঠে, ওদের গানের তালে তালে
ফুলের, ফলের গাছেরা সব দুলতে থাকে-
যেন ভীষণ মাতাল ওরা, লুটবে ধুলোয়।দ্বীপবাসীদের মধ্যে ক’জন ছিলো বটে
খুব আলাদা। অন... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/vinno-jibon-uthlo-neche/ |
2676 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজু সখি মুহু মুহু | প্রেমমূলক | আজু সখি , মুহু মুহু
গাহে পিক কুহু কুহু ,
কুঞ্জবনে দুঁহু দুঁহু
দোঁহার পানে চায় ।
যুবনমদবিলসিত
পুলকে হিয়া উলসিত ,
অবশ তনু অলসিত
মূরছি জনু যায় ।
আজু মধু চাঁদনী
প্রাণউনমাদনী ,
শিথিল সব বাঁধনী ,
শিথিল ভই লাজ ।
বচন মৃদু মরমর,
কাঁপে রিঝ থরথর ,
শিহরে তনু জরজর
কুসুমবনমাঝ ।
মলয় মৃদু কলয়িছে ,
চরণ নহি চলয়িছে ,
বচন মুহু খলয়ি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/aju-sake-muhu-muhu/ |
4030 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হালকা আমার স্বভাব | চিন্তামূলক | হালকা আমার স্বভাব,
মেঘের মতো না হোক
গিরিনদীর মতো।
আমার মধ্যে হাসির কলরব
আজও থামল না।
বেদীর থেকে নেমে আসি,
রঙ্গমঞ্চে বসে বাঁধি নাচের গান,
তার বায়না নিয়েছি প্রভুর কাছে।
কবিতা লিখি,
তার পদে পদে ছন্দের ভঙ্গিমায়
তারুণ্য ওঠে মুখর হয়ে,
ঝিঁঝিট খাম্বাজের ঝংকার দিতে
আজো সে সংকোচ করে না।
আমি সৃষ্টিকর্তা পিতামহের
রহস্য-সখা।
তি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/halka-amar-subab/ |
1307 | তসলিমা নাসরিন | এমন | প্রেমমূলক | কী হচ্ছে আমার এসব!
যেন তুমি ছাড়া জগতে কোনও মানুষ নেই, কোনও কবি নেই, কোনও পুরুষ নেই, কোনও
প্রেমিক নেই, কোনও হৃদয় নেই!
আমার বুঝি খুব মন বসছে সংসারকাজে?
বুঝি মন বসছে লেখায় পড়ায়?
আমার বুঝি ইচ্ছে হচ্ছে হাজারটা পড়ে থাকা কাজগুলোর দিকে তাকাতে?
সভা সমিতিতে যেতে?
অনেক হয়েছে ওসব, এবার অন্য কিছু হোক,
অন্য কিছুতে মন পড়ে থাক, অন্য ক... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%8f%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%89-%e0%a6%ac/ |
5497 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | পৃথিবীর দিকে তাকাও | মানবতাবাদী | দেখ, এই মোটা লোকটাকে দেখ
অভাব জানে না লোকটা,
যা কিছু পায় সে আঁকড়িয়ে ধরে
লোভে জ্বলে তার চোখটা।
মাথা উঁচু করা প্রাসাদের সারি
পাথরে তৈরি সব তার,
কত সুন্দর, পুরোনো এগুলো!
অট্রালিকা এ লোকটার।
উঁচু মাথা তার আকাশ ছুঁয়েছে
চেয়ে দেখে না সে নীচুতে,
কত জামির যে মালিক লোকটা
বুঝবে না তুমি কিছুতে।
দেখ, চিমনীরা কী ধোঁয়া ছাড়ছে
কলে আর ... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/prithibir-dike-takao/ |
5505 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | বিদ্রোহের গান | মানবতাবাদী | বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি?
এসো তবে আজ বিদ্রোহ করি,
আমরা সবাই যে যার প্রহরী
উঠুক ডাক।
উঠুক তুফান মাটিতে পাহাড়ে
জ্বলুক আগুন গরিবের হাড়ে
কোটি করাঘাত পৌঁছোক দ্বারে
ভীরুরা থাক।
মানবো না বাধা, মানবো না ক্ষতি,
চোখে যুদ্ধের দৃঢ় সম্মতি
রুখবে কে আর এ অগ্রগতি,
সাধ্য কার?
রুটি দেবে নাকো? দেবে না অন্ন?
এ লড়াইয়ে তুমি নও প্র... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1094 |
2238 | মহাদেব সাহা | মানুষের মধ্যে কিছু অভিমান থাকে | চিন্তামূলক | সব মানুষেরই মধ্যে কিছু অভিমান থাকে,
এইটুকু থাক, এইটুকু থাকা ভালো
এই অভিমান জমে জমে মানুষের বুকে হবে নক্ষত্রের জল।
মমতা মমতা বলো অভিমান তারই তো আকার
তারই সে চোখের আঠালো টিপ, জড়োয়া কাতান,
মমতা মমতা বলো অভিমান তারই একনাম
একদিন অভিমান জমে জমে
সব বুকে স্বর্ণখনি হবে ;
মানুষের মধ্যে কিছু অভিমান থাকে, চোখের
ভিতরে থাকে, হৃৎপিণ্... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1460 |
3303 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নাম তার সন্তোষ | হাস্যরসাত্মক | নাম তার সন্তোষ,
জঠরে অগ্নিদোষ,
হাওয়া খেতে গেল সে পচম্বা।
নাকছাবি দিয়ে নাকে
বাঘনাপাড়ায় থাকে
বউ তার বেঁটে জগদম্বা।
ডাক্তার গ্রেগ্সন
দিল ইনজেক্শন–
দেহ হল সাত ফুট লম্বা।
এত বাড়াবাড়ি দেখে
সন্তোষ কহে হেঁকে,
“অপমান সহিব কথম্ বা।
শুন ডাক্তার ভায়া,
উঁচু করো মোর পায়া,
স্ত্রীর কাছে কেন রব কম বা।
খড়ম জোড়ায় ঘষে
ওষুধ লাগাও কষে–
শ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/nam-tar-sontosh/ |
5593 | সুকুমার রায় | কুম্ড়োপটাশ | হাস্যরসাত্মক | (যদি) কুম্ড়োপটাশ নাচে—
খবরদার এসো না কেউ আস্তাবলের কাছে;
চাইবে নাকো ডাইনে বাঁয়ে চাইবে নাকো পাছে;
চার পা তুলে থাকবে ঝুলে হট্টমূলার গাছে!(যদি) কুম্ড়োপটাশ কাঁদে—
খবরদার! খবরদার! বসবে না কেউ ছাদে;
উপুড় হয়ে মাচায় শুয়ে লেপ কম্বল কাঁধে;
বেহাগ সুরে গাইবে খালি ‘রাধে কৃষ্ণ রাধে’! (যদি) কুম্ড়োপটাশ হাসে—
থাকবে খাড়া একটি ঠ্যাঙ... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/kumropotash/ |
2039 | মলয় রায়চৌধুরী | মেলাপুরুষ | মানবতাবাদী | মাগগি গণ্ডার দিনে পাইকারি হারে খুন হল কি হল না
গুদামঘরের ছাদ ভেঙে কে রে গদি টানাটানি করে
সে ফেরারি গৃহবধু যোনিতে কুলুপ এঁটে
ঋণমেলা থেকে নোনা বালি লিঙ্গ
পেয়েছিল
সুদ জরিমানা মিলে স্পর্শকাতর আদালতে
মুদ্দোফরাস এসে লাশটাকে চুমু খেয়ে স্বাগত জানালে
জিপ খুলে বললেন
উঁহুহু চলবে না
বিগ্রহ ধুলোয় তৈরি নামাব কোথায়
আপনি তো জানেনই ভাল... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1149 |
1530 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | অন্তিম শ্রাবণসন্ধ্যা | প্রকৃতিমূলক | বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু বাতাসে জলের গন্ধ রয়েছে এখনও।
আকাশের ভাবগতিক দেখে মনে হয়,
খানিকটা জিরিয়ে নিয়ে সে আবার কাজে লেগে যাবে।
পাখিরা তা জানে, তাই কোনো
উৎসাহ তাদেরও নেই এই মুহূর্তে ডানা ছড়াবার।
দিকচিহ্নহীন
যে-বিশ্বে রঙের স্পর্শ এতক্ষণ কোথাও ছিল না,
মেঘের আড়াল থেকে সূর্যদেব বিদায়ের ক্ষণে
সেখানে সামান্য রঙ ছড়িয়ে দিলেন।
জা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1546 |
1664 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | মাঠের | প্রকৃতিমূলক | অন্যমনে যেতে যেতে হঠাৎ যদি
মাঠের মধ্যে দাঁড়াই,
হঠাৎ যদি তাকাই পিছন দিকে,
হয়তো দেখতে পাওয়া যাবে বিকেলবেলার নদীটিকে।ও নদী, ও রহস্যময় নদী,
অন্ধকারে হারিয়ে যাসনে, একটু দাঁড়া;
এই যে একটু-একটু আলো, এই যে ছায়া ফিকে-ফিকে,
এরই মধ্যে দেখে নেব সন্ধ্যাবেলার প্রথম তারাটিকে।ও তারা, ও রহস্যময় তারা,
একটু আলো জ্বালিয়ে ধর, দেখে রাখি
আকা... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0/ |
5451 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | কলম | মানবতাবাদী | কলম, তুমি কত না যুগ কত না কাল ধ'রে
অক্ষরে অক্ষরে
গিয়েছ শুধু ক্লান্তিহীন কাহিনী শুরু ক'রে।
কলম, তুমি কাহিনী লেখো, তোমার কাহিনী কি
দুঃখে জ্বলে তলোয়ারের মতন ঝিকিমিকি?
কলম, তুমি শুধু বারংবার,
আনত ক'রে ক্লান্ত ঘাড়
গিয়েছ লিখে স্বপ্ন আর পুরনো কত কথা,
সাহিত্যের দাসত্বের ক্ষুদিত বশ্যতা।
ভগ্ন নিব, রুগ্ন দেহ, জলের মতো কালি,... | https://banglarkobita.com/poem/famous/256 |
5992 | হুমায়ুন আজাদ | ভালো থেকো | প্রকৃতিমূলক | ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা।
ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা।
ভালো থেকো।
ভালো থেকো চর, ছোট কুড়ে ঘর, ভালো থেকো।
ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির।
ভালো থেকো জল, নদীটির তীর।
ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/509 |
6014 | হেলাল হাফিজ | অমিমাংসিত সন্ধি | প্রেমমূলক | তোমাকে শুধু তোমাকে চাই, পাবো?
পাই বা না পাই এক জীবনে তোমার কাছেই যাবো।
ইচ্ছে হলে দেখতে দিও, দেখো
হাত বাড়িয়ে হাত চেয়েছি রাখতে দিও, রেখো
অপূণতায় নষ্টে-কষ্টে গেলো
এতোটা কাল, আজকে যদি মাতাল জোয়ার এলো
এসো দু’জন প্লাবিত হই প্রেমে
নিরাভরণ সখ্য হবে যুগল-স্নানে নেমে।
থাকবো ব্যাকুল শর্তবিহীন নত
পরস্পরের বুকের কাছে মুগ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/86 |
3628 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বৃষ্টি রৌদ্র | ছড়া | ঝুঁটি - বাঁধা ডাকাত সেজে
দল বেঁধে মেঘ চলেছে যে
আজকে সারাবেলা ।
কালো ঝাঁপির মধ্যে ভরে
সুর্যিকে নেয় চুরি করে ,
ভয় - দেখাবার খেলা ।
বাতাস তাদের ধরতে মিছে
হাঁপিয়ে ছোটে পিছে পিছে ,
যায় না তাদের ধরা ।
আজ যেন ওই জড়োসড়ো
আকাশ জুড়ে মস্ত বড়ো
মন - কেমন - করা ।
বটের ডালে ডানা - ভিজে
কাক বসে ওই ভাবছে কী যে ,
চড়ুইগুলো চুপ ।
বৃষ্টি হয়... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bristy-roudro/ |
5740 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | উত্তরাধিকার | চিন্তামূলক | নবীন কিশোর, তোমায় দিলাম ভূবনডাঙার মেঘলা আকাশ
তোমাকে দিলাম বোতামবিহীন ছেঁড়া শার্ট আর
ফুসফুস-ভরা হাসি
দুপুর রৌদ্রে পায়ে পায়ে ঘোরা, রাত্রির মাঠে চিৎ হ’য়ে শুয়ে থাকা
এসব এখন তোমারই, তোমার হাত ভ’রে নাও আমার অবেলা
আমার দুঃখবিহীন দুঃখ ক্রোধ শিহরণ
নবীন কিশোর, তোমাকে দিলাম আমার যা-কিছু ছুল আভরণ
জ্বলন্ত বুকে কফির চুমুক, সিগারেট ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1854 |
5148 | শামসুর রাহমান | যদি আরো কিছুকাল | চিন্তামূলক | যদি আরো কিছুকাল পৃথিবীর ধুলোবালি, জল
আমার সত্তায় লাগে, বাতাস রূপালি
চুলগুলি নিয়ে খেলা করে নিরিবিলি
আরো কিছুকাল, তবে এমন কী ক্ষতি হবে কার?এইতো দেখছি ফুল তার যৌবনের আভা নিয়ে
ফুটে আছে, ডালে বসে পাখি চমৎকার
শিস দিয়ে বিকালকে বেশি বৈকালিক
ক’রে তোলে, বুঝি বা ঈষৎ ঈশ্বরিত!মোড়ায় আছে বসে মা আমার বৈধব্যের শুভ্র
স্তব্ধতায়, স্মৃতিগু... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jodi-aro-kichukal/ |
4892 | শামসুর রাহমান | নিঝুম বৃষ্টির সুর | প্রেমমূলক | সাঁওতাল রমণীর মতো যে অন্ধকার
দিগন্তে স্তব্ধ,
তা’ এখন শহরের ওপর খুব নীচু হ’য়ে
ঝুঁকে পড়েছে; ওর নিঃশ্বাস
অনুভব করি ত্বকে। থমথমে গুমোট-ছেঁড়া
হাওয়ায় ঈষৎ শৈত্য; শহরের চোখের পলক
না পড়তেই বাতাসের
প্রচণ্ড মাতলামি, নিমেষে হাজার হাজার
দরজা জানালা বন্ধ। আকাশ ফুটো করে
বৃষ্টি এল অগণিত ঘোড়সওয়ারের মতো আওয়াজে।
মেঘের বুকে বিদ্যুৎ-তরবারি... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/nijum-bristir-sur/ |
2694 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আফ্রিকা | চিন্তামূলক | উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,
তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে
রুদ্র সমুদ্রের বাহু
প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে
ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা-
বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।
সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি
সংগ্রহ করছিলে দুর্গম... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/afrika/ |
3061 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ছিন্ন করে লও হে মোরে | ভক্তিমূলক | ছিন্ন করে লও হে মোরে
আর বিলম্ব নয়
ধুলায় পাছে ঝরে পড়ি
এই জাগে মোর ভয়।
এ ফুল তোমার মালার মাঝে
ঠাঁই পাবে কি, জানি না যে,
তবু তোমার আঘাতটি তার
ভাগ্যে যেন রয়।
ছিন্ন করো ছিন্ন করো
আর বিলম্ব নয়।কখন যে দিন ফুরিয়ে যাবে,
আসবে আঁধার করে,
কখন তোমার পূজার বেলা
কাটবে অগোচরে।
যেটুকু এর রঙ ধরেছে,
গন্ধে সুধায় বুক ভরেছে,
তোমার সেবায় লও ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/chinno-kore-lou-he-more/ |
1598 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | ঢেউ | চিন্তামূলক | এখানে ঢেউ আসে না, ভালবাসে না কেউ, প্রাণে
কী ব্যথা জ্বলে রাত্রিদিন, মরুকঠিন হাওয়া
কী ব্যথা হানে জানে না কেউ, জানে না, কাছে পাওয়া
ঘটে না। এরা কোথায় যায় জটিল জমকালো
পোশাকে মুখ লুকিয়ে, দ্যাখো কত না সাবধানে
আঁচলে কাচ বাঁধে সবাই, চেনে না কেউ সোনা;
এখানে মন বড় কৃপণ, এখানে সেই আলো
ঝরে না, ভেঙে পড়ে না ঢেউ—এখানে থাকব না।
যে-ম... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1620 |
2730 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমি | চিন্তামূলক | এই যে সবার সামান্য পথ, পায়ে হাঁটার গলি
সে পথ দিয়ে আমি চলি
সুখে দুঃখে লাভে ক্ষতিতে,
রাতের আঁধার দিনের জ্যোতিতে।
প্রতি তুচ্ছ মুহূর্তেরই আবর্জনা করি আমি জড়ো,
কারো চেয়ে নইকো অমি বড়ো।
চলতে পথে কখনো বা বিঁধছে কাঁটা পায়ে,
লাগছে ধুলো গায়ে;
দুর্বাসনার এলোমেলো হাওয়া,
তারি মধ্যে কতই চাওয়া পাওয়া,
কতই বা হারানো,
খেয়া ধরে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ame/ |
2626 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অল্প জানা ও বেশি জানা | নীতিমূলক | তৃষিত গর্দভ গেল সরোবরতীরে,
‘ছিছি কালো জল!’ বলি চলি এল ফিরে।
কহে জল, জল কালো জানে সব গাধা,
যে জন অধিক জানে বলে জল সাদা। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/olpo-jana-o-beshi-jana/ |
5916 | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | পরপার | স্বদেশমূলক | আমরা যেন বাংলাদেশের
চোখের দুটি তারা।
মাঝখানে নাক উঁচিয়ে আছে_
থাকুক গে পাহারা। দুয়োরে খিল।
টান দিয়ে তাই
খুলে দিলাম জানলা। ওপারে যে বাংলাদেশ
এপারেও সেই বাংলা।। | http://kobita.banglakosh.com/archives/4470.html |
3158 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তুমি কেমন করে গান কর যে গুণী | ভক্তিমূলক | তুমি কেমন করে গান কর যে গুণী,
অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি।
সুরের আলো ভুবন ফেলে ছেয়ে,
সুরের হাওয়া চলে গগন বেয়ে,
পাষাণ টুটে ব্যাকুল বেগে ধেয়ে,
বহিয়া যায় সুরের সুরধুনী।মনে করি অমনি সুরে গাই,
কণ্ঠে আমার সুর খুঁজে না পাই।
কইতে কী চাই, কইতে কথা বাধে;
হার মেনে যে পরান আমার কাঁদে;
আমায় তুমি ফেলেছ কোন্ ফাঁদে
চৌদিকে মোর সুরের জাল ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/tumi-kemon-kore-gan-koro-je-guni/ |
3315 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নিদ্রিতার চিত্র | সনেট | মায়ায় রয়েছে বাঁধা প্রদোষ – আঁধার ;
চিত্রপটে সন্ধ্যাতারা অস্ত নাহি যায় ।
এলাইয়া ছড়াইয়া গুচ্ছ কেশভার
বাহুতে মাথাটি রেখে রমণী ঘুমায় ।
চারি দিকে পৃথিবীতে চিরজাগরণ ,
কে ওরে পাড়ালে ঘুম তারি মাঝখানে !
কোথা হতে আহরিয়া নীরব গুঞ্জন
চিরদিন রেখে গেছে ওরই কানে কানে !
ছবির আড়ালে কোথা অনন্ত নির্ঝর
নীরব ঝর্ঝর – গানে পড়িছে ঝরিয়া ।
চিরদ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/nidritar-chitro/ |
1723 | পাবলো নেরুদা | জীবন | চিন্তামূলক | অনুবাদ: অসিত সরকারমাঝে মাঝে যখন তোমার কথা ভাবি
কি যে খারাপ লাগে!
যেহেতু তুমি জানো না
আমার সঙ্গে রয়েছে অগণন বিজয়ী মানুষের মুখ
যা তুমি দেখতে পাও না,
আমার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে অগণন পা আর হৃদয়,
তাই আমি একা নই
একা হিসেবে নিজের কোনো অস্তিত্বই নেই,
আমি কেবল রয়েছি যারা আমার সঙ্গে চলেছে তাদের পুরোভাগে,
তাই আমি দুর্বল নই
কেননা আমি ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3940.html |
5280 | শামসুর রাহমান | সুদূরের অনন্য প্রবাসী | মানবতাবাদী | শহীদ, বলো তো বন্ধু সেই সব দুপুর, গোধূলিবেলা আর
সন্ধ্যারাত, মধ্যরাত মার্কিন মুলুকে
ঢেউ হয়ে স্মৃতিতটে আছড়ে পড়ে কি
কখনও সখনও? বলো, পাতাল ট্রেনের কামরায়
তন্দ্রাচ্ছন্ন মুহূর্তে চকিতে জেগে ওঠো নাকি বিউটি বোর্ডিং
আর লক্ষ্মীবাজারের ঘ্রাণে?যখন বস্টনে ঘন কুয়াশার কাফন জড়ানো সন্ধেবেলা
কাঙ্ক্ষিত আড্ডায় মেতে ওঠ কিংবা তুষারের আলিঙ্গন... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/sudure-ononyo-probasi/ |
1060 | জীবনানন্দ দাশ | দুজন | প্রেমমূলক | ‘আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন-কতদিন আমিও তোমাকে
খুঁজি নাকো;- এক নক্ষত্রের নিচে তবু-একই আলোপৃথিবীর পারে
আমরা দুজনে আছি; পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়,
প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়,
হয় নাকি?’- বলে সে তাকাল তার সঙ্গিনীর দিকে;
আজ এই মাঠ সূর্য সহধর্মী অঘ্রাণ কার্তিকে
প্রাণ তার ভরে গেছে।
দুজনে আজক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/956 |
4637 | শামসুর রাহমান | কোন্ সে ব্যাধির | প্রেমমূলক | কে তুমি আমাকে লাটিমের মতো
ঘুরোতে ঘুরোতে আখেরে কোথাও
দূরে ছুড়ে ফেলো? কখনও তোমার
পাই না তো খোঁজ। কত পথে হাঁটি,
কত মাঠে ছুটি, নদীর কিনারে
বসে থাকি এক ধ্যানীর ধরনে।প্রায়শ কতো রাত কেটে যায়
নির্ঘুম আর সারাদিন কাটে
ঘরের ভেতর পায়চারি করে।
কখনও আহার মুখে তুলে নিতে
ভুলে যাই আর গাছে পাখিদের
সংসার দেখে কত যে সময়
কেটে যায় আর জরুরি ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kon-se-badhir/ |
3243 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুর্ভাগা দেশ | মানবতাবাদী | হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
মানুষের অধিকারে
বঞ্চিত করেছ যারে,
সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে
ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।
বিধাতার রুদ্ররোষে
দুর্ভিক্ষের-দ্বারে বসে
ভাগ করে খেতে ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/durbhaga-desh/ |
1679 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | যেহেতু | প্রেমমূলক | আশা ছিল শান্তিতে থাকার,
আহা, ব্যর্থ হল সেই আশা,
যেহেতু মস্তিষ্কে ছিল তার
মস্ত একটা ভিমরুলের বাসা।
এবং সাদা যে কালো নয়,
কালো নয় নীল কিংবা লাল,
যেহেতু সে তাতেও সংশয়
লালন করেছে চিরকাল…
বন্ধুদের পরামর্শ শুনে
মীমাংসার বারিবিন্দুগুলি
অবিলম্বে চিন্তার আগুনে
ছিটোটে পারলেই তার খুলি
ঠাণ্ডা হয়ে আসত। সে যেহেতু
সাধ্য আর সাধনার ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1697 |
1758 | পূর্ণেন্দু পত্রী | আত্মচরিত | চিন্তামূলক | আমার বয়স ৪৮।
আমার মাথার প্রথম পাকা চুলের বয়স ২০।
এবং আমার স্নায়ুতন্ত্রীর ভিতরে স্তবকে স্তবকে সাজানো যে-সব স্মৃতি
তারা খ্রীষ্টপূর্ব ১০০০০ বছরের চেয়ে পুরনো।
সর্বক্ষণ পাঁজবার আড়ালে মুখ লুকিয়ে থাকে যে-বিষাদ
একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলুম, কত বয়স হলো হে?
বললে, ২০০৬ এর কাছাকাছি এলে কানায় কানায় ৭০০ বছর।
কেননা দীর্ঘ বিদীর্ণ দান্ত... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1168 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.