id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
17 | অমিতাভ দাশগুপ্ত | গঙ্গা | চিন্তামূলক | কবি আজকাল ভোরবেলা ওঠে
বাগবাজারের গঙ্গার ঘাঁটে যায়
পাশে বাঁ হাতের মতো স্ত্রী
কবির সারা শরীরে সার সার পিনিশ সালতি নৌকো
লঞ্চের ছুঁচলো সিটি
সমুদ্রগামী জাহাজের সুগ্মভীর ডাক
অথচ
পিত্তপ্রধান পায়ের পাতা সিঁড়ির প্রথম ধাপে পেতে
সে চুপচাপ বসে থাকে
আর
সমস্ত গঙ্গা যখন একটি আভূমিপ্রণতা নারী হয়ে
তাঁর রোগা পা ছুঁয়ে প্রণাম করে—
রাগী বা... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%97%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ad-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b6/ |
3121 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ঝুলন | রূপক | আমি পরানের সাথে খেলিব আজিকে মরণখেলা
নিশীথবেলা।
সঘন বরষা, গগন আঁধার
হেরো বারিধারে কাঁদে চারিধার---
ভীষণ রঙ্গে ভবতরঙ্গে ভাসাই ভেলা;
বাহির হয়েছি স্বপ্নশয়ন করিয়া হেলা
রাত্রিবেলা॥ওগো, পবনে গগনে সাগরে আজিকে কী কল্লোল!
দে দোল্ দোল্।
পশ্চাত্ হতে হাহা ক'রে হাসি
মত্ত ঝটিকা ঠেলা দেয় আসি,
যেন এ লক্ষ যক্ষশিশুর অট্টরোল।
আক... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jhulon/ |
6050 | হেলাল হাফিজ | ফেরীঅলা | চিন্তামূলক | কষ্ট নেবে কষ্ট
হরেক রকম কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট !
লাল কষ্ট নীল কষ্ট কাঁচা হলুদ রঙের কষ্ট
পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট,
আলোর মাঝে কালোর কষ্ট
‘মালটি-কালার’ কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট ।
ঘরের কষ্ট পরেরর কষ্ট পাখি এবং পাতার কষ্ট
দাড়ির কষ্ট
চোখের বুকের নখের কষ্ট,
একটি মানুষ খুব নীরবে নষ্ট হবার কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট ।
... | https://banglarkobita.com/poem/famous/122 |
4643 | শামসুর রাহমান | ক্ষ্যাপার মতোই ঘুরি | সনেট | এখন প্রত্যূষ, ফিকে অন্ধকার, হৃদয়ে শ্রাবণ
অবিরাম; বসে আছি, নির্ঘুম কেটেছে সারারাত,
দু’চোখে মরিচ-গুঁড়ো, এই প্রভাতী হাওয়ার হাত
বুলোয় প্রলেপ কিছু, তবু শুধু হু হু করে মন।
যে আমার স্থৈর্য, নিদ্রা অগোচরে করেছে হরণ,
তাকেই সঁপেছি মনপ্রাণ, তারই উদ্দেশে কবিতা
লিখি নিত্য ভূতগ্রস্ততায়; সে-যে প্রজ্ঞাপারমিতা
কষ্ট দেয়, তবু তারই কাছে চ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/khapar-motoi-ghuri/ |
4755 | শামসুর রাহমান | ঢের ঢের দিনরাত | চিন্তামূলক | এই যে এখন এই হাড়-কাঁপানো শীতের ভোরবেলা
কাঠের চেয়ারে ব’সে একটি কবিতা
রচনার কথা ভেবে কলম নিয়েছি হাতে, দেখছি বাইরে
ধূসর কুয়াশা তার বিছিয়েছে জাল, যখন বাড়ির
সবাই ঘুমের গাঢ় মখমলে ডুবে আছে,
আমি কিছু শব্দ খুঁজে বেড়াচ্ছি, যেমন
নাবিক তালাশ করে প্রকৃতির মায়াঘেরা দ্বীপপুঞ্জ দীপ্র
আগ্রহ-উন্মুখ চোখে। প্রকৃত সন্ধান জেগে আছে
আমার এখনও... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/dher-dher-dinrat/ |
816 | জসীম উদ্দীন | নকশী কাঁথার মাঠ – ০৩ | কাহিনীকাব্য | তিন
চন্দনের বিন্দু বিন্দু কাজলের ফোঁটা
কালিয়া মেঘের আড়ে বিজলীর ছটা
— মুর্শিদা গান
ওই গাঁখানি কালো কালো, তারি হেলান দিয়ে,
ঘরখানি যে দাঁড়িয়ে হাসে ছোনের ছানি নিয়ে ;
সেইখানে এক চাষীর মেয়ে নামটি তাহার সোনা,
সাজু বলেই ডাকে সবে, নাম নিতে যে গোনা |
লাল মোরগের পাখার মত ওড়ে তাহার শাড়ী,
ভোরের হাওয়া যায় যেন গো প্রভাতী মেঘ ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/806 |
3068 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জটিল সংসার | চিন্তামূলক | জটিল সংসার,
মোচন করিতে গ্রন্থি জড়াইয়া পড়ি বারংবার।
গম্য নহে সোজা,
দুর্গম পথের যাত্রা স্কন্ধে বহি দুশ্চিন্তার বোঝা।
পথে পথে যথাতথা
শত শত কৃত্রিম বক্রতা।
অণুক্ষণ
হতাশ্বাস হয়ে শেষে হার মানে মন।
জীবনের ভাঙা ছন্দে ভ্রষ্ট হয় মিল,
বাঁচিবার উৎসাহ ধূলিতলে লুটায়ে শিথিল।
ওগো আশাহারা,
শুষ্কতার 'পরে আনো নিখিলের রসবন্যাধারা।
ব... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jatel-sansar/ |
5799 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | নারী ও শিল্প | চিন্তামূলক | ঘুমন্ত নারীকে জাগাবার আগে আমি তাকে দেখি
উদাসীন গ্রীবার ভঙ্গি, শ্লোকের মতন ভুরু
ঠোঁটে স্বপ্ন বিংবা অসমাপ্ত কথা
এ যেন এক নারীর মধ্যে বহু নারী, বিংবা
দর্পণের ঘরে বস
চিবুকের ওপরে এসে পড়েছে চুলের কালো ফিতে
সরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে না, কেননা আবহমান কাল
থেকে বেণীবন্ধনের বহু উপমা কয়েছে
আঁচল ঈষৎ সরে গেছে বুক থেকে-এর নাম বিস্রস্ত,... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1799 |
5601 | সুকুমার রায় | গন্ধ বিচার | হাস্যরসাত্মক | সিংহাসনে বস্ল রাজা বাজল কাঁসর ঘন্টা,
ছট্ফটিয়ে উঠল কেঁপে মন্ত্রীবুড়োর মনটা।
বললে রাজা, 'মন্ত্রী, তোমার জামায় কেন গন্ধ?'
মন্ত্রী বলে, 'এসেন্স দিছি- গন্ধ ত নয় মন্দ!'
রাজা বলেন, 'মন্দ ভালো দেখুক শুঁকে বদ্যি,'
বদ্যি বলে, 'আমার নাকে বেজায় হল সর্দি।'
রাজা হাঁকেন , 'বোলাও তবে- রাম নারায়ণ পাত্র।'
পাত্র বলে, 'নস্যি নিলাম ... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/gondho-bichar/ |
960 | জীবনানন্দ দাশ | এই শতাব্দী-সন্ধীতে মৃত্যু | চিন্তামূলক | (অগণন সাধারণের)সে এক বিচ্ছিন্ন দিনে আমাদের জন্ম হয়েছিলো
ততোধিক অসুস্থ সময়ে
আমাদের মৃত্যু হয়ে যায়।
দূরে কাছ শাদা উঁচু দেয়ালের ছায়া দেখে ভয়ে
মনে করে গেছি তাকে- ভালোভাবে মনে ক'রে নিলে-
এইখানে জ্ঞান হতে বেদনার সুরু-
অথবা জ্ঞানের থেকে ছুটি নিয়ে সান্ত্বনার হিম হ্রদে একাকী লুকালে
নির্জন স্ফটিকস্তম্ভ খুলে ফেলে মানুষের অভিভূত ঊ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ei-shotabdii-shondhiitey-mrittu/ |
4894 | শামসুর রাহমান | নিভিয়ে এক ফুঁয়ে | প্রেমমূলক | আকাশ যেন আজ ঠান্ডা ভারী কাঁথা,
ময়লা ফুটো দিয়ে মারছে উঁকি তারা;
পায় না মনে ঠাঁই ঘরে ফেরার টান,
কলিংবেল দিলো ঝাঁকুনি সন্ধ্যাকে।
পাশের ঘরে এই কবিকে তাড়াতাড়ি
লুকিয়ে রেখে তুমি বিদায় চেয়ে নিলে।
তোমার ব্যবহারে কেমন মায়া ছিলো,
নিষ্ঠুরতা বলে তাকে পারিনি ধরে নিতে।বুকের ঝাড়বাতি নিভিয়ে এক ফুয়ে
আমাকে ফেলে তুমি ক্ষিপ্র চলে গেলে।
আমা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/nivie-ek-fue/ |
226 | কাজী নজরুল ইসলাম | আমার কৈফিয়ৎ | মানবতাবাদী | বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!কবি-বন্ধুরা হতাশ হইয়া মোর লেখা প’ড়ে শ্বাস ফেলে!
বলে, কেজো ক্রমে হচ্ছে অকেজো পলিটি... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/amar-koifiyot/ |
3355 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পদ্মা | প্রকৃতিমূলক | হে পদ্মা আমার,
তোমায় আমায় দেখা শত শত বার।
একদিন জনহীন তোমার পুলিনে,
গোধূলির শুভলগ্নে হেমন্তের দিনে,
সাক্ষী করি পশ্চিমের সূর্য অস্তমান
তোমারে সঁপিয়াছিনু আমার পরান।
অবসানসন্ধ্যালোকে আছিলে সেদিন
নতমুখী বধূসম শান্ত বাক্যহীন;
সন্ধ্যাতারা একাকিনী সস্নেহ কৌতুকে
চেয়ে ছিল তোমাপানে হাসিভরা মুখে।
সেদিনের পর হতে, হে পদ্মা আমার,
তো... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/podma/ |
2486 | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | তোমার চিঠি | প্রেমমূলক | সকালে তোমার চিঠি হাতে এলো আজ
যার হাতে পাঠিয়েছো তার মুখ দেখিনি কারণ
কুয়াশার দীর্ঘ হাত বাড়িয়ে সে পৌছে দিয়ে গেছে--
আমাদের পৃথিবীতে পত্র যোগাযোগ
ক্রমেই অচল হতে চলেছে এখন
চিঠির ঘ্রাণের কথা - স্বাদ
ভুলে যাচ্ছে মানুষেরা অবলীলাক্রমে
শোক দুঃখ প্রকাশের কান্না নেই - তাকে
হজম করেছে এক লৌকিকতার নামে কালো ফিতা
হৃদয়ের যত কথা আঙুলের অ... | https://www.bangla-kobita.com/rafiquzzaman/tomar-chithi/ |
563 | কাজী নজরুল ইসলাম | হোঁদলকুতকুতের বিজ্ঞাপন | হাস্যরসাত্মক | মিচকে-মারা কয় না কথা মনটি বড়ো খুঁতখুঁতে।
‘ছিঁচকাঁদুনে’ ভ্যাবিয়ে ওঠেন একটু ছুঁতেই না ছুঁতে।
ড্যাবরা ছেলে ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে থেকে গাল ফুলান,
সন্দেশ এবং মিষ্টি খেতে – বাসরে বাস – এক জাম্বুবান!
নিম্নমুখো-যষ্টি ছেলে দশটি ছেলে লুকিয়ে খান,
বদমায়েশির মাসি পিসি, আধখানা চোখ উঁচিয়ে চান!
হাঁদারা হয় হদ্দ বোকার, সব কথাতেই হাঁ করে!... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/hodolkutkuter-biggyapon/ |
3437 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রবাসে | ছড়া | বিদেশমুখো মন যে আমার কোন্ বাউলের চেলা,
গ্রাম-ছাড়ানো পথের বাতাস সর্বদা দেয় ঠেলা।
তাই তো সেদিন ছুটির দিনে টাইমটেবিল প'ড়ে
প্রাণটা উঠল নড়ে।
বাক্সো নিলেম ভর্তি করে, নিলেম ঝুলি থলে,
বাংলাদেশের বাইরে গেলেম গঙ্গাপারে চ'লে।
লোকের মুখে গল্প শুনে গোলাপ-খেতের টানে
মনটা গেল এক দৌড়ে গাজিপুরের পানে।
সামনে চেয়ে চেয়ে দেখি, গম-জ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/probasa/ |
1694 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | সভাকক্ষ থেকে কিছু দূরে | প্রেমমূলক | কী করলে হাততালি মেলে, বিলক্ষণ জানি;
কিন্তু আমি হাততালির জন্য কোনোদিন
প্রলুব্ধ হব না।
তোমার চারদিকে বহু কিঙ্কর জুটেছে, মহারানি।
ইঙ্গিত করলেই তারা ক্রিরিরিং
ঘড়িতে বাজিয়ে ঘণ্টি অদ্ভুত উল্লাসে গান গায়!
আমিও দু-একটা গান জানি,
কিন্তু আমি কোরাসের ভিতরে যাব না।
মহারানি,
যেমন জেনেছি, ঠিক সেইরকম উচ্চারণে বাজাব তোমাকে।
তুমি সিং... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1647 |
1046 | জীবনানন্দ দাশ | তুমি | প্রেমমূলক | নক্ষত্রের চলাফেরা ইশারায় চারি দিকে উজ্জ্বল আকাশ;
বাতাসে নীলাভ হয়ে আসে যেন প্রান্তরের ঘাস;
কাঁচপোকা ঘুমিয়েছে — গঙ্গাফড়িং সেও ঘুমে;
আম নিম হিজলের ব্যাপ্তিতে পড়ে আছ তুমি।‘মাটির অনেক নীচে চলে গেছ? কিংবা দূর আকাশের পারে
তুমি আজ? কোন্ কথা ভাবছ আধারে?
ওই যে ওকানে পায়রা একা ডাকে জমিরের বনে;
মনে হয় তুমি যেন ওই পাখি-তুমি ছাড়া স... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/tumi/ |
3447 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রলাপ ১ | প্রেমমূলক | ১
গিরির উরসে নবীন নিঝর,
ছুটে ছুটে অই হতেছে সারা।
তলে তলে তলে নেচে নেচে চলে,
পাগল তটিনী পাগলপারা। ২
হৃদি প্রাণ খুলে ফুলে ফুলে ফুলে,
মলয় কত কী করিছে গান।
হেতা হোতা ছুটি ফুল-বাস লুটি,
হেসে হেসে হেসে আকুল প্রাণ।৩
কামিনী পাপড়ি ছিঁড়ি ছিঁড়ি ছিঁড়ি,
উড়িয়ে উড়িয়ে ছিঁড়িয়ে ফেলে।
চুপি চুপি গিয়ে ঠেলে ঠেলে দিয়ে,
জাগায়ে ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/prolap-1/ |
4566 | শামসুর রাহমান | কাঁদতে পারি না | প্রেমমূলক | ‘এমন বিমর্ষ কেন তুমি’, আমাকে সওয়াল করে
আমার ঘরের বাতি। জানলার পর্দা কাঁপা কাঁপা
স্বরে প্রশ্ন করে, ‘কবি তোমার নিষ্প্রভ চোখ দু’টি
এমন কাতর কেন আজ?’ বারান্দার বুলবুলি
বলে, ‘কোন্ কাঁটা এসে তোমার হৃদয় অবেলায়
এমন জখম করে?’ ফ্লাওয়ার ভাসের ফুলগুলি
প্রশ্নাকুল, ‘কোন্ কীট তোমার অন্তর কুরে কুরে
খাচ্ছে আজ? আমার লেখার খাতা বড়ই নিশ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kadte-pari-na/ |
955 | জীবনানন্দ দাশ | এই নিদ্রা | চিন্তামূলক | আমার জীবনে কোনো ঘুম নাই
মৎস্যনারীদের মাঝে সবচেয়ে রূপসী সে নাকি
এই নিদ্রা?গায় তার ক্ষান্ত সমুদ্রের ঘ্রাণ- অবসাদ সুখ
চিন্তার পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন-বিমুখ
প্রাণ তারএই দিন এই রাত্রি আসে যায়- বুঝিতে দেয় না তারে; কোনো ধ্বনি ঘ্রাণ
কোনো ক্ষুধা- কোনো ইচ্ছা- পরীরো সোনার চুল হয় যাতে ম্লানঃ
আমাদের পৃথিবীর পরীদের;- জানেনা সে; শোনেনা... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ei-nidra/ |
6047 | হেলাল হাফিজ | প্রতিমা | প্রেমমূলক | প্রেমের প্রতিমা তুমি, প্রণয়ের তীর্থ আমার।
বেদনার করুণ কৈশোর থেকে তোমাকে সাজাবো বলে
ভেঙেছি নিজেকে কী যে তুমুল উল্লাসে অবিরাম
তুমি তার কিছু কি দেখেছো?
একদিন এই পথে নির্লোভ ভ্রমণে
মৌলিক নির্মাণ চেয়ে কী ব্যাকুল স্থপতি ছিলাম,
কেন কালিমা না ছুঁয়ে শুধু তোমাকেই ছুঁলাম
ওসবের কতোটা জেনেছো?
শুনেছি সুখেই বেশ আছো, কিছু ভাঙ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/119 |
2736 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই | ভক্তিমূলক | আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই,
বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে।
এ কৃপা কঠোর সঞ্চিত মোর
জীবন ভ'রে।
না চাহিতে মোরে যা করেছ দান
আকাশ আলোক তনু মন প্রাণ,
দিনে দিনে তুমি নিতেছ আমায়
সে মহাদানেরই যোগ্য করে
অতি-ইচ্ছার সংকট হতে
বাঁচায়ে মোরে।
আমি কখনো বা ভুলি, কখনো বা চলি
তোমার পথের লক্ষ্য ধরে-
তুমি নিষ্ঠুর সম্মুখ হতে
যাও যে সরে।
এ যে ত... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ami-bohu-bashonai-pranpone-chai/ |
5954 | স্মরণজিৎ চক্রবর্তী | আজ | প্রেমমূলক | সারাদিন আজ বৃষ্টি আসুক পাখি
ভেজা গাছেদের ডানায় বসুক ঘুম
আমিও নাহয় তোমার দু চোখে রাখি
মেঘ জমা কোনও পাহাড়ের মরসুমতুমিও কোথাও আলো ছায়া বেঁচে থাকো
মেঘ পিঠে নিয়ে আমিও বেরই ট্রাম
বড় গাছেদের গোপনে পালক রাখো
শহরে ওড়াও নরম গোলাপি খামসাদা কাগজের মনমরা আলো ভাসে
বুকের শহর বহুদিন ভাঙাচোরা
প্যাস্টেল রঙে কারা যেন ফিরে আসে…
বিগত ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%86%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80/ |
4736 | শামসুর রাহমান | জুনের দুপুর | প্রেমমূলক | সেদিন জুনের দুপুর ছিল, একলা ছিলে তুমি।
ঘরের দুপুর বাড়ায় গ্রীবা,
হঠাৎ তোমার পায়ের, নিচে উঠলো কেঁপে ভূমি।
তখন আমি কিসের ঘোরে নিজের ভেতর একা বাঁচছি, মরছি, মরছি, বাঁচছি।
এমনি করেই দ্বন্দ্ব থেকে ফোটে দুঃখরেখা!
ক্লান্ত মনে পড়ছি ধুধু দেয়াল-জোড়া লেখা।
বুকের ভেতর মরুর জ্বালা,
তোমার সঙ্গে ক’যুগ যেন হয়নি আমার দেখা।ঘরে-বাইরে সঙ্গে... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/juner-dupur/ |
5844 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | মহারাজ, আমি তোমার | রূপক | মহারাজ, আমি তোমার সেই পুরনো বালক ভৃত্য
মহারাজ, মনে পড়ে না? তোমার বুকে হোঁচট পথে
চাঁদের আলোয় মোট বয়েছি, বেতের মতো গান সয়েছি
দু’হাত নিচে, পা শূন্যে- আমার সেই উদোম নৃত্য
মহারাজ, মনে পড়ে না? মহারাজ, মনে পড়ে না? মহারাজ,
চাঁদের আলোয়?
মহারাজ, আমি তোমার চোখের জলে মাছ ধরেছি
মাছ না মাছি কাঁকরগাছি একলা শুয়েও বেঁচে তা আছি
ইষ্টকু... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1898 |
1219 | জীবনানন্দ দাশ | সময়ের তীরে | মানবতাবাদী | নিচে হতাহত সৈন্যদের ভিড় পেরিয়ে,
মাথার ওপর অগণন নক্ষত্রের আকাশের দিকে তাকিয়ে,
কোনো দূর সমুদ্রের বাতাসের স্পর্শ মুখে রেখে,
আমার শরীরের ভিতর অনাদি সৃষ্টির রক্তের গুঞ্জরণ শুনে,
কোথায় শিবিরে গিয়ে পৌঁছলাম আমি।
সেখানে মাতাল সেনানায়কেরা
মদকে নারীর মতো ব্যবহার করছে,
নারীকে জলের মতো;
তাদের হৃদয়ের থেকে উত্থিত সৃষ্টিবিসারী গানে
নত... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/shomoyer-tirey/ |
5255 | শামসুর রাহমান | সত্যি-বলতে | মানবতাবাদী | সত্যি-বলতে আজকাল যে যার মর্জিমাফিক
আমার কবিতার গালে ঠিক গুনে গুনে
ঠাস ঠাস চড় চাপড় লাগিয়ে দ্যায়। কেউ পানের
পিক ছোঁড়ে মুখে, গলা ধাক্কা, গুঁতো,
পাক্কারদ্দা আছে লেগে। কেউ
মোড়লী চালে কান মুচড়ে নিজের তপ্ত মেজাজে
ঢালে ঠাণ্ডা পানি। কেউবা ফেউ লেলিয়ে
পরখ করে, কান্না জুড়ে দ্যায় কিনা অভিমানী
আমার পংক্তিমালা। মাতব্বর
সেই লোক, হ্যাঁ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/sotti-bolte/ |
5512 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | ব্যর্থতা | মানবতাবাদী | আজকে হঠাৎ সাত সমুদ্র তেরো নদী
পার হ’তে সাধ জাগে, মনে হয় তবু যদি
পক্ষপাতের বালাই না নিয়ে পক্ষীরাজ,
চাষার ছেলের হাতে এসে যেত হঠাৎ আজ৷
তা হলে না হয় আকাশবিহার হ’ত সফল,
টুকরো মেঘেরা যেতে-যেতে ছুঁয়ে যেত কপোল;
জনারণ্যে কি রাজকন্যার নেইকো ঠাঁই?
কাস্তেখানাকে বাগিয়ে আজকে ভাবছি তাই৷অসি নাই থাক, হাতে তো আমার কাস্তে আছে,
চাষার ছেলে... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/byarthota/ |
1528 | নির্মলেন্দু গুণ | “সুন্দরগঞ্জ বা বাঁশখালীর গল্প” | মানবতাবাদী | ‘রাইতভর ঘুমুইতে পারি না,
ওরা আবার কহন আয়ে, কহন আয়ে।’আর কাঁন্দিস না মা, আমার কথা শোন,
তুই তোর হাতের শাঁখা খুলে ফেল,
মুছে ফেল তোর সিঁথির সিঁদুর।
মা-কালীর শেষকৃত্য দেখে-দেখে, শেষে
আমাদের শেষকৃত্য ডেকে আনবি নাকি?
চল মা, তোর ভগবান পুড়ছে, পুড়ুক।এই চন্দ্রমুগ্ধ মূর্খের উল্লাস থেমে গেলে
একাত্তরের মতো আবারও আমরা
ফিরে আসবো আম... | https://banglapoems.wordpress.com/2013/03/14/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%b6%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%b0/ |
3988 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্তন | স্বদেশমূলক | ১
নারীর প্রাণের প্রেম মধুর কোমল ,
বিকশিত যৌবনের বসন্তসমীরে
কুসুমিত হয়ে ওই ফুটেছে বাহিরে ,
সৌরভসুধায় করে পরান পাগল ।
মরমের কোমলতা তরঙ্গ তরল
উথলি উঠেছে যেন হৃদয়ের তীরে ।
কী যেন বাঁশির ডাকে জগতের প্রেমে
বাহিরিয়া আসিতেছে সলাজ হৃদয় ,
সহসা আলোতে এসে গেছে যেন থেমে —
শরমে মরিতে চায় অঞ্চল – আড়ালে ।
প্রেমের সংগীত যেন বিকশিয়া রয় ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ston/ |
5990 | হুমায়ুন আজাদ | বাঙলাদেশের কথা (আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম) | স্বদেশমূলক | যখন আমরা বসি মুখোমুখি, আমাদের দশটি আঙুল হৃৎপিন্ডের মতো কাঁপতে থাকে
দশটি আঙুলে, আমাদের ঠোঁটের গোলাপ ভিজে ওঠে আরক্ত শিশিরে,
যখন আমরা আশ্চর্য আঙুলে জ্বলি, যখন আমরাই পরষ্পরের স্বাধীন স্বদেশ,
তখন ভুলেও কখনো আমাকে তুমি বাঙলাদেশের কথা জিজ্ঞেস করো না;
আমি তা মূহূর্তেও সহ্য করতে পারি না, -তার অনেক কারণ রয়েছে।
তোমাকে মিনতি করি ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/397 |
1301 | তসলিমা নাসরিন | আমেরিকা | মানবতাবাদী | কবে তোমার লজ্জা হবে আমেরিকা?
কবে তোমার চেতন হবে আমেরিকা?
কবে তোমার সন্ত্রাস বন্ধ করবে তুমি আমেরিকা?
কবে তুমি পৃথিবীর মানুষকে বাঁচতে দেবে আমেরিকা?
কবে তুমি মানুষকে মানুষ বলে মনে করবে আমেরিকা?
কবে এই পৃথিবীটাকে টিকে থাকতে দেবে আমেরিকা?
শক্তিমান আমেরিকা, তোমার বোমায় আজ নিহত মানুষ,
তোমার বোমায় আজ ধ্বংস নগরী,
তোমার বোমায় আজ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/2009 |
5939 | সৈয়দ শামসুল হক | পরানের গহীন ভিতর-১২ | সনেট | উঠানের সেই দিকে আন্ধারের ইয়া লম্বা লাশ,
শিমের মাচার নিচে জোছনার সাপের ছলম,
পরীরা সন্ধান করে যুবতীর ফুলের কলম,
তারার ভিতরে এক ধুনকার ধুনায় কাপাশ,
আকাশে দোলায় কার বিবাহের রুপার বাসন,
গাবের বাবরি চুল আলখেল্লা পরা বয়াতির,
গাভির ওলান দিয়া ক্ষীণ ধারে পড়তাছে ক্ষীর,
দুই গাঙ্গ এক হয়া যাইতাছে- কান্দন, হাসন।
একবার আসবা না?... | https://www.bangla-kobita.com/shamsulhaque/poraner-gohin-bhitor-12/ |
5700 | সুকুমার রায় | হনহন পনপন | ছড়া | চলে হনহন
ছোটে পনপনঘোরে বনবন
কাজে ঠনঠনবায়ু শনশন
শীতে কনকনকাশি খনখন
ফোঁড়া টনটনমাছি ভনভন
থালা ঝন ঝন।কাব্যগ্রন্থঃ- হ য ব র ল | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/post20160511123823/ |
161 | আহসান হাবীব | দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন | প্রেমমূলক | মুখোমুখি ফ্ল্যাট
একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়
: আপনারা যাচ্ছেন বুঝি ?
: চলে যাচ্ছি, মালপত্র উঠে গেছে সব ।
: বছর দুয়েক হল, তাই নয় ?
: তারো বেশী । আপনার ডাক নাম শানু, ভালো নাম ?
: শাহানা, আপনার ?
: মাবু ।
: জানি ।
: মাহবুব হোসেন । আপনি খুব ভালো সেলাই জানেন ।
: কে বলেছে । আপনার তো অনার্স ফাইন্যাল, তাই নয় ?
: এবার ফাইন্যাল ।
:... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3817.html |
4068 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ১৪০০ সাল | প্রকৃতিমূলক | আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে--
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
তোমাদের করে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার
বসি বাতায়নে
সুদূর দিগন্তে চাহি ক... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/1400-shaal/ |
957 | জীবনানন্দ দাশ | এই পৃথিবীতে আমি অবসর নিয়ে শুধু আসিয়াছি | সনেট | এই পৃথিবীতে আমি অবসর নিয়ে শুধু আসিয়াছি — আমি হৃষ্ট কবি
আমি এক; — ধুয়েছি আমার দেহ অন্ধকারে একা একা সমুদ্রের জলে;
ভালোবাসিয়াছি আমি রাঙা রোদ, ক্ষান্ত কার্তিকের মাঠে — ঘাসের আঁচলে
ফড়িঙের মতো আমি বেড়ায়েছি — দেখেছি কিশোরী এস হলুদ করবী
ছিঁড়ে নেয় — বুকে তার লাল পেড়ে ভিজে শাড়ি করুন শঙ্খের মতো ছবি
ফুটাতেছে — ভোরের আকাশখানা রাজহা... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/eei-prithibitey-aami-oboshor-niye-shudhu-ashiachi/ |
3792 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যে যায় তাহারে অার | রূপক | যে যায় তাহারে অার
ফিরে ডাকা বৃথা।
অশ্রুজলে স্মৃতি তার
হোক পল্লবিতা। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/je-jai-tahare-ar/ |
3235 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুই বন্ধু | সনেট | মূঢ় পশু ভাষাহীন নির্বাক্হৃদয়,
তার সাথে মানবের কোথা পরিচয়!
কোন্ আদি স্বর্গলোকে সৃষ্টির প্রভাতে
হৃদয়ে হৃদয়ে যেন নিত্য যাতায়াতে
পথচিহ্ন পড়ে গেছে, আজো চিরদিনে
লুপ্ত হয় নাই তাহা, তাই দোঁহে চিনে।
সেদিনের আত্মীয়তা গেছে বহুদূরে;
তবুও সহসা কোন্ কথাহীন সুরে
পরানে জাগিয়া উঠে ক্ষীণ পূর্বস্মৃতি,
অন্তরে উচ্ছলি উঠে সুধাময়ী প্রীতি,... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dui-bondhu/ |
2870 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কবি-কাহিনী (চতুর্থ সর্গ) | কাহিনীকাব্য | "এ তবে স্বপন শুধু, বিম্বের মতন
আবার মিলায়ে গেল নিদ্রার সমুদ্রে! সারারাত নিদ্রার করিনু আরাধনা-- যদি বা আইল নিদ্রা এ শ্রান্ত নয়নে, মরীচিকা দেখাইয়া গেল গো মিলায়ে! হা স্বপ্ন, কি শক্তি তোর, এ হেন মূরতি মুহূর্ত্তের মধ্যে তুই ভাঙ্গিলি, গড়িলি? হা নিষ্ঠুর কাল, তোর এ কিরূপ খেলা-- সত্যের মতন গড়িলি প্রতিমা, স্বপ্নের মতন তাহা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/kobi-kahini-choturtho-sorgo/ |
3778 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যাও তবে প্রিয়তম সুদূর সেথায় | প্রেমমূলক | ১
যাও তবে প্রিয়তম সুদূর সেথায়,
লভিবে সুযশ কীর্তি গৌরব যেথায়,
কিন্তু গো একটি কথা, কহিতেও লাগে ব্যথা,
উঠিবে যশের যবে সমুচ্চ সীমায়,
তখন স্মরিয়ো নাথ স্মরিয়ো আমায়–
সুখ্যাতি অমৃত রবে, উৎফুল্ল হইবে যবে,
তখন স্মরিয়ো নাথ স্মরিয়ো আমায়।
২
কত যে মমতা-মাখা, আলিঙ্গন পাবে সখা,
পাবে প্রিয় বান্ধবের প্রণয় যতন,
এ হতে গভীরতর, কতই উল্লাসকর... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jao-tobe-priyotomo-sudur-sethai/ |
4434 | শামসুর রাহমান | উপেক্ষার পর্দার আড়ালে | চিন্তামূলক | জমে নি আমার পুণ্য এক রত্তি ভেবে নিয়ে পাড়াপড়শিরা
জনান্তিকে আমাকে হাবিয়া দোজখের অগ্নিকুণ্ডে
নিক্ষেপ করেন দশবার। আল্লা-অলা একজন
আমাকে গাফেল আখ্যা দিয়ে মনে-মনে
এশার নামায শেষে কিছু নসিহতের আহত
সাগ্রহে ছিটিয়ে দেন আমার ওপর।একজন বাউল ঘুঙুর পায়ে দোতারা বাজিয়ে
আমাকে মনের মানুষের নিগূঢ় সন্ধান দিতে
গান গেয়ে রহেস্যের টানেন। নিয়মিত... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/upekkhar-pordar-arale/ |
4974 | শামসুর রাহমান | ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ | স্বদেশমূলক | এখানে এসেছি কেন? এখানে কী কাজ আমাদের?
এখানেতো বোনাস ভাউচারের খেলা নেই কিংবা নেই মায়া
কোনো গোল টেবিলের, শাসনতন্ত্রের ভেল্কিবাজি,
নেই, নেই সার্কাসের নিরীহ অসুস্থ বাঘ, কসর দেখানো
তরুণীর শরীরের ঝলকানি নেই কিংবা ফানুস ওড়ানো
তা-ও নেই, তবু কেন এখানে জমাই ভিড় আমরা সবাই?আমি দুর পলাশতলীর
হাড্ডিসার ক্লান্ত এক ফতুর কৃষক
আমি মেঘনা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/february-1969/ |
2962 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | খবর পেলেম কল্য | ছড়া | খবর পেলেম কল্য,
তাঞ্জামেতে চ’ড়ে রাজা
গাঞ্জামেতে চলল।
সময়টা তার জলদি কাটে;
পৌঁছল যেই হলদিঘাটে
একটা ঘোড়া রইল বাকি,
তিনটে ঘোড়া মরল।
গরানহাটায় পৌঁছে সেটা
মুটের ঘাড়ে চড়ল। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/khobor-pelem-kolyo/ |
2201 | মহাদেব সাহা | পৃথিবী আমার খুব প্রিয় | স্বদেশমূলক | ঢাকা আমার খুব প্রিয়, কিন্ত আমি থাকি
আজিমপুর নামক একটি গ্রামে; খুবই ছোটোখাটো
একটি গ্রাম, বলা চলে শান্ত-স্নিগ্ধ ছোট্ট একটি পাড়া
এখানেই এই কবরের পাশে আমি আছি; বস্তুত এখান থেকে
ঢাকা বহুদুরে, আমি সেই ঢকা শহরের কিছুই জানি না
আমাকে সবাই জানে আমি ঢাকার মানুষ,
কিন্তু আমি বাস করি খুবই ছোট্ট নিরিবিলি গ্রামে
আমি এই ঢাকার খুব সামান... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1443 |
99 | আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ | মাগো, ওরা বলে | স্বদেশমূলক | ‘কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর, আমি ডালের বড়ি
শুকিয়ে রেখেছি—
খোকা তুই কবে আসবি!
কবে ছুটি?’চিঠিটা তার পকেটে ছিল,
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।‘মাগো, ওরা বলে,
সবার কথা কেড়ে নেবে
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা, তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরী হচ্ছে।
তোমার জন্য কথার ঝুড়ি নিয়ে
তবেই না বাড়ী ... | https://banglapoems.wordpress.com/2015/11/11/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%8b-%e0%a6%93%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%b0-%e0%a6%93%e0%a6%ac%e0%a6%be/ |
5903 | সুবোধ সরকার | রূপম | মানবতাবাদী | রূপমকে একটা চাকরি দিন—এম. এ পাস, বাবা নেই
আছে প্রেমিকা সে আর দু’-এক মাস দেখবে, তারপর
নদীর এপার থেকে নদীর ওপারে গিয়ে বলবে, রূপম
আজ চলি
তোমাকে মনে থাকবে চিরদিন
রূপমকে একটা চাকরি দিন, যে কোন কাজ
পিওনের কাজ হলেও চলবে |তমালবাবু ফোন তুললেন, ফোনের অন্য প্রান্তে
যারা কথা বলেন
তাদের যেহেতু দেখা যায় না, সুতরাং তারা দুর্জ্ঞেয় ... | https://banglapoems.wordpress.com/2013/10/04/%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%a7-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/ |
2558 | রফিক আজাদ | নগর ধ্বংসের আগে | চিন্তামূলক | নগর বিধ্বস্ত হ’লে, ভেঙ্গে গেলে শেষতম ঘড়ি
উলঙ্গ ও মৃতদের সুখে শুধু ঈর্ষা করা চলে।
‘জাহাজ, জাহাজ’ – ব’লে আর্তনাদ সকলেই করি -
তবুও জাহাজ কোনো ভাসবে না এই পচা জলে।
সমুদ্র অনেক দূর, নগরের ধারে-কাছে নেই :
চারপাশে অগভীর অস্বচ্ছ মলিন জলরাশি।
রক্ত-পুঁজে মাখামাখি আমাদের ভালবাসাবাসি;
এখন পাবো না আর সুস্থতার আকাঙ্খার খেই।
যেখ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/364 |
3184 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তোমার সোনার থালায় সাজাব আজ | ভক্তিমূলক | তোমার সোনার থালায় সাজাব আজ
দুখের অশ্রুধার।
জননী গো, গাঁথব তোমার
গলার মুক্তাহার।
চন্দ্র সূর্য পায়ের কাছে
মালা হয়ে জড়িয়ে আছে,
তোমার বুকে শোভা পাবে আমার
দুখের অলংকার।ধন ধান্য তোমারি ধন,
দিতে চাও তো দিয়ো আমায়,
নিতে চাও তো লও।
দুঃখ আমার ঘরের জিনিস,
খাঁটি রতন তুই তো চিনিস–
তোর প্রসাদ দিয়ে তারে কিনিস,
এ মোর অহংকার।১৩১৫
(গীতাঞ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/tomar-sonar-thalay-sajabo-aj/ |
254 | কাজী নজরুল ইসলাম | উৎসর্গ (অগ্নিবীণা) | স্তোত্রমূলক | ভাঙা বাংলার রাঙা যুগের আদি পুরোহিত,
সাগ্নিক বীর শ্রীবারীন্দ্রকুমার ঘোষ শ্রীশ্রীচরণারবিন্দেষু অগ্নি-ঋষি!
অগ্নি-বীণা তোমায় শুধু সাজে।
তাই তো তোমার বহ্নি-রাগেও বেদন-বেহাগ বাজে॥
দহন-বনের গহন-চারী– হায় ঋষি– কোন্ বংশীধারী নিঙ্ড়ে আগুন আন্লে বারি অগ্নি-মরুর মাঝে।
সর্বনাশা কোন্ বাঁশি সে বুঝ্তে পারি না যে॥
দুর্বাসা হে! রুদ... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/ognibina/ |
3924 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সভাতলে ভুঁয়ে কাৎ হয়ে শুয়ে | হাস্যরসাত্মক | সভাতলে ভুঁয়ে
কাৎ হয়ে শুয়ে
নাক ডাকাইছে সুল্তান,
পাকা দাড়ি নেড়ে
গলা দিয়ে ছেড়ে
মন্ত্রী গাহিছে মূলতান।
এত উৎসাহ দেখি গায়কের
জেদ হল মনে সেনানায়কের–
কোমরেতে এক ওড়না জড়িয়ে
নেচে করে সভা গুলতান।
ফেলে সব কাজ
বরকন্দাজ
বাঁশিতে লাগায় ভুল তান। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/sovatole-vuye-kat-hoye-suye/ |
4200 | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | আমি একা, বড়ো একা | প্রেমমূলক | চন্দনের ধূপ আমি কবে পুড়িয়েছি
মনে নেই। মন আর স্মৃতিগুলি ধরে না আদরে।
সংশ্লিষ্ট চন্দন এই অবহেলা সহ্য করে গেছে।
কখনো বলেনি কিছু, বলেনি বলেই পরিত্রাণ
পেয়েছে সহজে, নয়তো অসহ্য কুঠারে ধ্বংস হতো।আমার সংহারমূর্তি দেখেছে চন্দন একদিন
কিশোর বয়সে, সেই অভিপ্রেত সুকালে, সময়ে।
দেখেছে এবং একা-একা ভয়ে-রহস্যে কেঁপেছে–
বলেছে, আমার দুটি সু... | https://www.bangla-kobita.com/shaktichattopadhyay/ami-eka-boro-eka/ |
1446 | নবারুণ ভট্টাচার্য | একটা | মানবতাবাদী | একটা কথায় ফুলকি উড়ে শুকনো ঘাসে পড়বে কবে
সারা শহর উথাল পাথাল, ভীষণ রাগে যুদ্ধ হবে
কাটবে চিবুক চিড় খাবে বুক
লাগাম কেড়ে ছুটবে নাটক
শুকনো কুয়োয় ঝাঁপ দেবে সুখ
জেলখানাতে স্বপ্ন আটক
একটা ব্যথা বর্শা হয়ে মৌচাকেতে বিঁধবে কবে
ছিঁড়বে মুখোশ আগ্নেয় রোষ
জুলবে আগুন পুতুল ন... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3/ |
5540 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | সহসা | চিন্তামূলক | আমার গোপন সূর্য হল অস্তগামী
এপারে মর্মরধ্বনি শুনি,
নিস্পন্দ শবের রাজ্য হতে
ক্লান্ত চোখে তাকাল শকুনি।গোদূলি আকাশ ব’লে দিল
তোমার মরণ অতি কাছে,
তোমার বিশাল পৃথিবীতে
এখনো বসন্ত বেঁচে আছে।অদূরে নিবিড় ঝাউবনে
যে কালো ঘিরেছে নীরবতা,
চোখ তারই দীর্ঘায়িত পথে
অস্পষ্ট ভাষায় কয় কথা।আমার দিনান্ত নামে ধীরে
আমি তো সুদূর পরাহত,
অশত্থশাখ... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/sohosa/ |
1649 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | বার্মিংহামের বুড়ো | চিন্তামূলক | “ফুলেও সুগন্ধ নেই। অন্ততঃ আমার
যৌবনবয়সে ছিল যতখানি, আজ তার অর্ধেক পাই না।
এখন আকাশ পাংশু, পায়ের তলায় ঘাস
অর্ধেক সবুজ, নদী নীল নয়। তা ছাড়া দেখুন,
স্ট্রবেরি বিস্বাদ, মাংস রবারের মতো শক্ত। ভীষণ সেয়ানা
গোরুগুলি। বালতি ভরে দুধ
দেয় বটে, কিন্তু খুব জোলো দুধ। নির্বোধ পশুও
দুগ্ধের ঘনতা আজ চুরি করে কী অবলীলায়।
এদিকে মদ্যও প্রায় ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1665 |
4683 | শামসুর রাহমান | গুন খুন | মানবতাবাদী | এখনো আমার নামে কোনো গেরেপ্তারী
পরোয়ানা নেই,
আমি অপরাধী তার কোনো সাক্ষী-সাবুদ কোথাও
কখনো পাবে না খুঁজে কেউ। তবু কেন
হাতকড়া, কয়েদখানার
কালো শিক চোখে ভেসে ওঠে বারবার। চারপাশে
শুনি কত চোখে ভেসে ওঠে বারবার। চারপাশে
শুনি কত গুঞ্জরণ, মনে হয় যেন
সবাই আমাকে নিয়ে নানা কথা বলাবলি করে
আমার আড়ালে-আবডালে। তাহলে কি
হাড়কাঠে গলা দিয়ে ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/gun-khun/ |
4724 | শামসুর রাহমান | জয়ঢাক বাজাতে আগ্রহী আজও | মানবতাবাদী | ফাঁদ তো পাতাই থাকে নানাদিকে, পা হড়কে আটকে পড়াটা
অসম্ভব কিছু নয়। চৌদিকে ইঁদুর-দৌড় খুব
জমেছে দেখতে পাচ্ছি, কে কাকে কনুই
দিয়ে গুঁতো মেরে আচানক
নিজের জবর গলা সম্মুখে এগিয়ে দিয়ে বাজি
জিতে নেয়া, হৈ-হুল্লোড়ে মেতে ওঠা কেল্লা ফতে বটে।কথাগুলো কোথায় কখন ঠিক কে যে
শুনিয়েছিলেন, মনে পড়ছে না। উচ্চারিত কথামালা কোন্
সন্ধ্যাবেলা দুলেছি... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/joydhak-bajate-agrohi-ajo/ |
3992 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্থির জেনেছিলাম পেয়েছি তোমাকে | প্রেমমূলক | স্থির জেনেছিলেম, পেয়েছি তোমাকে,
মনেও হয়নি
তোমার দানের মূল্য যাচাই করার কথা।
তুমিও মূল্য করনি দাবি।
দিনের পর দিন গেল, রাতের পর রাত,
দিলে ডালি উজাড় ক'রে।
আড়চোখে চেয়ে
আনমনে নিলেম তা ভাণ্ডারে;
পরদিনে মনে রইল না।
নববসন্তের মাধবী
যোগ দিয়েছিল তোমার দানের সঙ্গে,
শরতের পূর্ণিমা দিয়েছিল তারে স্পর্শ।
তোমার কালো চুলের বন্যা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ther-janaselam-payase-tumaka/ |
1697 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | সাংকেতিক তারবার্তা | চিন্তামূলক | সারাদিন আলোর তরঙ্গ থেকে ধ্বনি জাগে :
দূরে যাও।
সারারাত্রি অন্ধকার কানে-কানে মন্ত্র দেয় :
দূরে যাও!
বাল্যবয়সের বন্ধু, পরবর্তী জীবনে তোমরা
কে কোথায়
কর্মসূত্রে জড়িয়ে রয়েছ, আমি খবর রাখি না।
কেউ কি অনেক দূরে রয়ে গেলে?
কৈশোর-দিন্র সঙ্গী, তোমরা কেউ কি
দূর-ভুবনের মৃত্তিকায়
সংসার পেতেছ, তবু
কৈশোর-দিনের কথা ভুলতে পারোনি?
কিংবা য... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1648 |
3192 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দরিদ্রা | সনেট | দরিদ্রা বলিয়া তোরে বেশি ভালোবাসি
হে ধরিত্রী, স্নেহ তোর বেশি ভালো লাগে,
বেদনাকাতর মুখে সকরুণ হাসি,
দেখে মোর মর্ম-মাঝে বড়ো ব্যথা জাগে।
আপনার বক্ষ হতে রস-রক্ত নিয়ে
প্রাণটুকু দিয়েছিস সন্তানের দেহে,
অহর্নিশি মুখে তার আছিস তাকিয়ে,
অমৃত নারিস দিতে প্রাণপণ স্নেহে।
কত যুগ হতে তুই বর্ণগন্ধগীতে
সৃজন করিতেছিস আনন্দ-আবাস,
আজো শেষ ন... | http://kobita.banglakosh.com/archives/414.html |
4500 | শামসুর রাহমান | এখন তোমাকে ছাড়া | সনেট | আসে না দু’চোখে ঘুম কিছুতেই কোনো কোনো রাতে
তোমাকে প্রবল ভেবে। কত হিজিবিজি, ছায়াবাজী
প্রহরে প্রহরে দেখি, দেখি অস্থিচর্মসার মাঝি
নৌকোর কংকাল নিয়ে বুকে ঝোড়ো জলের আঘাতে
ছিন্নভিন্ন কালো চরে। নয় সবুজ পাতার ভিড়ে,
ভাঙা কবরের পাশে একটি কোকিল করে বাস,
স্মৃতিপোষ্য, আর গানে তার শিহরিত বুনো ঘাস
ঘন ঘন, মহাকায় কৃকলাস ঘোরে নদীতীরে।নির্... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekhon-tomake-chara/ |
1155 | জীবনানন্দ দাশ | মহাত্মা গান্ধী | ভক্তিমূলক | অনেক রাত্রির শেষে তারপর এই পৃথিবীকে
ভালো ব’লে মনে হয়;—সময়ের অমেয় আঁধারে
জ্যোতির তারণকণা আসে,
গভীর নারীর চেয়ে অধিক গভীরতর ভাবে
পৃথিবীর পতিতকে ভালোবাসে, তাই
সকলেরই হৃদয়ের ’পরে এসে নগ্ন হাত রাখে;
আমরাও আলো পাই—প্রশান্ত অমল অন্ধকার
মনে হয় আমাদের সময়ের রাত্রিকেও।একদিন আমাদের মর্মরিত এই পৃথিবীর
নক্ষত্র শিশির রোদ ধূলিকণা মানু... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/mohatma-gaandhi/ |
2256 | মহাদেব সাহা | লিরিকগুচ্ছ - ১৩ | প্রেমমূলক | তোমার চোখে যে এতো জল
আর এতো ব্যাকুলতা-
সব বুঝি তবু বুঝি নাই
এই সামান্য কথা! | https://banglarkobita.com/poem/famous/1393 |
1683 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | লালদিঘিতে বৃষ্টি | প্রকৃতিমূলক | স্নানের পাট চুকিয়ে
মেঘের শাড়িখানাকে খুলে রেখে
আশ্বিনের খটখটে রোদ্দুরে নিজেকে শুকিয়ে নিচ্ছিল
আকাশ।
হঠাৎ চোখে পড়লে যে,
লালদিঘির মধ্যে তার ছবি দুটেছে, আর
হাঁ করে সেই
বেআব্রু ছবির দিকে তাকিয়ে আছে
বেহায়া একদল মানুষ।
কী ঘেন্না! কী ঘেন্না!
রাগে, অপমানে নিমেষে আবার কালো হয়ে গেল
আকাশের মুখ।
চড়চড় করে বৃষ্টি নামল তক্ষুনি। আর
মা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1543 |
3171 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর | ভক্তিমূলক | তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর,
যবে আমার জনম হবে ভোর।
চলে যাব নবজীবন-লোকে,
নূতন দেখা জাগবে আমার চোখে,
নবীন হয়ে নূতন সে আলোকে
পরব তব নবমিলন-ডোর।
তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর।তোমার অন্ত নাই গো অন্ত নাই,
বারে বারে নূতন লীলা তাই।
আবার তুমি জানি নে কোন্ বেশে
পথের মাঝে দাঁড়াবে, নাথ, হেসে,
আমার এ হাত ধরবে কাছে এসে,
লাগবে প্রাণে নূ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/tomay-khoja-shesh-hobe-na-mor/ |
2057 | মহাদেব সাহা | আমার কবিতার জন্যে | প্রকৃতিমূলক | আমি কবিতা লিখবো বলে এই আকাশ
পরেছে নক্ষত্রমালা,
পরেছে রঙধনু-পাড় শাড়ি, অপরূপ চন্দ্রহার
নদীর গহনা পরে আছে গ্রামগুলি,
শুধু আমি কবিতা লিখবো তাই এই প্রকৃতি
পরেছে পুষ্পশোভা,
কানে পরেছে ফুলের দুল, হাতে ঝিনুকের চুড়ি।
মন হুহু-করা এমন উদাস বাতাস, এমন
স্নিগ্ধ বৃষ্টিধারা
এই ঝর্নার মুখর গান, ফুলের সৌরভ
কেবল আমার কবিতার মধ্যে, আমি কব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1398 |
4091 | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | উল্টো | প্রেমমূলক | এতো সহজেই ভালোবেসে ফেলি কেন!
বুঝি না আমার রক্তে কি আছে নেশা-দেবদারু-চুলে উদাসী বাতাস মেখে
স্বপ্নের চোখে অনিদ্রা লিখি আমি,
কোন বেদনার
বেনোজলে ভাসি সারাটি স্নিগ্ধ রাত?সহজেই আমি ভালোবেসে ফেলি,
সহজে ভুলিনা কিছু-
না-বলা কথায় তন্ত্রে তনুতে পুড়ি,
যেন লাল ঘুড়ি একটু বাতাস পেয়ে
উড়াই নিজেকে আকাশের পাশাপাশি।সহজে যদিও ভালোবেসে ফেলি... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%89%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae/ |
5923 | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | সকলের গান | মানবতাবাদী | কমরেড, আজ নতুন নবযুগ আনবে না?
কুয়াশাকঠিন বাসর যে সম্মুখে।
লাল উল্কিতে পরস্পরকে চেনা-
দলে টানো হতবুদ্ধি ত্রিশঙ্কুকে,
কমরেড, আজ নবযুগ আনবে না? আকাশের চাঁদ দেয় বুঝি হাতছানি?
ওসব কেবল বুর্জোয়াদের মায়া-
আমরা তো নই প্রজাপতি- সন্ধানী!
অন্তত, আজ মাড়াই না তার ছায়া। কুঁজো হয়ে যারা ফুলের মূর্ছা দেখে
পৌঁছোয় না কি হাতুড়ি তাদের পিঠে... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4468.html |
3109 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জীবনের আশি বর্ষে প্রবেশিনু যবে | চিন্তামূলক | জীবনের আশি বর্ষে প্রবেশিনু যবে
এ বিস্ময় মনে আজ জাগে--
লক্ষকোটি নক্ষত্রের
অগ্নিনির্ঝরের যেথা নিঃশব্দ জ্যোতির বন্যাধারা
ছুটেছে অচিন্ত্য বেগে নিরুদ্দেশ শূন্যতা প্লাবিয়া
দিকে দিকে,
তমোঘন অন্তহীন সেই আকাশের বক্ষস্তলে
অকস্মাৎ করেছি উত্থান
অসীম সৃষ্টির যজ্ঞে মুহূর্তের স্ফুলিঙ্গের মতো
ধারাবাহী শতাব্দীর ইতিহাসে।
এসেছি সে পৃথি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jebana-ashe-basha-probaseno-jaba/ |
4549 | শামসুর রাহমান | কবিতার আসা না-আসা | চিন্তামূলক | বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, বসে আছি পুরানো চেয়ারে
নিশ্চুপ, নিঝুম খুব, যদিও অন্তরে আঁধিঝড়
বইছে অনেকক্ষণ। মাঝে-মাঝে এদিক ওদিক
চেয়ে দেখি, চোখ পড়ে সারি সারি বই, জানলার
পর্দায়, সোফায় আর টেলিফোন সেটে। যেন আমি
কারো মৃদু পদধ্বনি শোনার আশায় কান পেতে
রয়েছি কখন থেকে। এখানে সে পা রাখে কিনা এ
সন্ধ্যেবেলা আমার দৃষ্টির গালিচায়, দেখা যাক।সম্... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kobitar-asa-na-asa/ |
3724 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মিলন-সুলগনে | রূপক | মিলন-সুলগনে,
কেন বল্,
নয়ন করে তোর
ছল্ছল্।
বিদায়দিনে যবে
ফাটে বুক
সেদিনও দেখেছি তো
হাসিমুখ। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/milon-sulogone/ |
5424 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | অনন্যোপায় | মানবতাবাদী | অনেক গড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হল, ব্যর্থ বহু উদ্যম আমার,
নদীতে জেলেরা ব্যর্থ, তাঁতী ঘরে, নিঃশব্দ কামার,
অর্ধেক প্রাসাদ তৈরী, বন্ধ ছাদ-পেটানোর গান,
চাষীর লাঙল ব্যর্থ, মাঠে নেই পরিপূর্ণ ধান।
যতবার গড়ে তুলি, ততবার চকিত বন্যায়।
উদ্যত সৃষ্টিকে ভাঙে পৃথিবীতে অবাধ অন্যায়।
বার বার ব্যর্থ, তাই আজ মনে এসেছে বিদ্রোহ,
নির্বিঘ্নে গড়... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/ononyopay/ |
2050 | মহাদেব সাহা | আজীবন একই চিঠি | ভক্তিমূলক | নখরে জ্বালিয়ে রাখি লক্ষ্যের দীপ্র ধনুক
যেন এক শব্দের নিষাদ এই নির্মল নিসর্গে বসে কাঁদি, তবু
সেই নির্মম শব্দাবলী ছিঁড়ে আনতে পারি না বলে
সুতীক্ষ্ণ অনুযোগ হতে অব্যাহতি দিন; এই
শোকের শহরে আমি যার কাছে চাই ফুল, কিছু মনোরম
শোভা, যেসবের বিসতৃত বর্ণনা আমি আপনাকে লিখতে পারি, সে
আমার হাতে শুধু তুলে দেয় দুঃখের বিভিন্ন টিকিট।
আম... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1463 |
4977 | শামসুর রাহমান | ফ্ল্যাশব্যাক এবং … | চিন্তামূলক | শৈলাবাস, যা স্যানাটরিয়ামও বটে, ভিড়াক্রান্ত। এখন সেখানে প্রজ্ঞা
ভীষণ শ্বাসকষ্টে ভুগছে। তপ্ত শলাকা দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে
বিবেকের চোখ; উপরন্তু ওর হাতে ভারী শেকল, পায়ে বেড়ি। বোধি
নির্বাসিত। মিথ্যার বারফট্রাই আর মাস্তানিতে সত্য গা ঢাকা
দিয়েছে। আমাদের কোনও কোনও স্বপ্ন বিশ্বাসঘাতকতায়
মেতে আমাদের বিদ্রূপ করে যখন তখন। এখানে অনেক... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/flashbak-ebong/ |
3644 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ব্রিজটার প্ল্যান দিল | ছড়া | ব্রিজটার প্ল্যান দিল
বড়ো এন্জিনিয়ার
ডিস্ট্রিক্ট্ বোর্ডের
সবচেয়ে সীনিয়ার।
নতুন রকম প্ল্যান
দেখে সবে অজ্ঞান,
বলে, “এই চাই, এটা
চিনি নাই-চিনি আর।’ব্রিজখানা গেল শেষে
কোন্ অঘটন দেশে,
তার সাথে গেছে ভেসে
ন হাজার গিনি আর। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/btijtar-plan-dilo/ |
5985 | হুমায়ুন আজাদ | তোমার দিকে আসছি | প্রেমমূলক | অজস্র জন্ম ধরে
আমি তোমার দিকে আসছি
কিন্তু পৌঁছুতে পারছি না।
তোমার দিকে আসতে আসতে
আমার এক একটা দীর্ঘ জীবন ক্ষয় হয়ে যায়
পাঁচ পঁয়সার মোম বাতির মত।
আমার প্রথম জন্মটা কেটে গিয়েছিলো
শুধু তোমার স্বপ্ন দেখে দেখে,
এক জন্ম আমি শুধু তোমার স্বপ্ন দেখেছি।
আমার দুঃখ,
তোমার স্বপ্ন দেখার জন্যে
আমি মাত্র একটি জন্ম পেয়েছিলাম।
... | https://banglarkobita.com/poem/famous/503 |
624 | জয় গোস্বামী | আমাকে প্রত্যেকবার কেটে | রূপক | আমাকে প্রত্যেকবার কেটে
পশুরক্ত পাওয়া যাবে–পর্বতচূড়ায়
পা থেকে আমার ধড় উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখলেই
পাখিরা চিৎকার করবে–লাল হবে আকাশ
সমুদ্রের জলে
আমার মহিষমুণ্ড, বেঁকে যাওয়া শিঙ
দেখা দেবে সূর্যের বদলে! | https://banglarkobita.com/poem/famous/1717 |
263 | কাজী নজরুল ইসলাম | ওগো প্রিয় তব গান | প্রেমমূলক | ওগো প্রিয় তব গান
আকাশ গাঙের জোয়ারে উজান বাহিয়া যায়।
মোর কথাগুলি কাঁদিছে বুকের মাঝারে,
পথ খুঁজে নাহি পায়।ওগো দখিনা বাতাস, ফুলের সুরভি বহ
ওরি সাথে মোর না বলা বাণী লহ।
ওগো মেঘ, তুমি মোর হয়ে গিয়ে কহ
বন্দিনী গিরি-ঝরণা পাষাণতলে যে কথা কহিতে চায়।ওরে ও সুরমা, পদ্মা, কর্ণফুলি
তোদের ভাটির স্রোতে
নিয়ে যা আমার না বলা কথাগ... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/ogo-prio-tobo-gaan/ |
5731 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | আমার খানিকটা দেরি হয়ে যায় | চিন্তামূলক | যে পান্থনিবাসে যাই দ্বার বন্ধ, বলে, ‘ঐ যে রুগ্ন ফুলগুলি
বাগানে রয়েছে শুধু, এখন বসবেন?’ কেউ মুমূর্ষু অঙ্গুলি
আপন উরসে রেখে হেসে ওঠে, পাতা ঝরানোর হাসি, 'এই অবেলায়
কেন এসেছেন আপনি, কী আছে এখন? গত বসন্তমেলায়
সব ফুরিয়েছে, আর আলো নেই, দেখুন না তার ছিঁড়ে গেছে, সব ঘরে
ধুলো, তালা খুলবে না এ জন্মে; পরিচারিকার হাতে কুষ্ঠ!' ভগ্ন ক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1882 |
3370 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পলাশ আনন্দমূর্তি জীবনের ফাগুনদিনের | চিন্তামূলক | পলাশ আনন্দমূর্তি জীবনের ফাগুনদিনের,
আজ এই সম্মানহীনের
দরিদ্র বেলায় দিলে দেখা
যেথা আমি সাথিহীন একা
উৎসবের প্রাঙ্গণ-বাহিরে
শস্যহীন মরুময় তীরে।
যেখানে এ ধরণীর প্রফুল্ল প্রাণের কুঞ্জ হতে
অনাদৃত দিন মোর নিরুদ্দেশ স্রোতে
ছিন্নবৃন্ত চলিয়াছে ভেসে
বসন্তের শেষে।
তবুও তো কৃপণতা নাই তব দানে,
যৌবনের পূর্ণ মূল্য দিলে মোর দীপ্তিহীন প... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/polash-anondomurti-jiboner-fagundiner/ |
4062 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হে রাজন তুমি আমারে | ভক্তিমূলক | হে রাজন্, তুমি আমারে
বাঁশি বাজাবার দিয়েছ যে ভার
তোমার সিংহদুয়ারে–
ভুলি নাই তাহা ভুলি নাই,
মাঝে মাঝে তবু ভুলে যাই,
চেয়ে চেয়ে দেখি কে আসে কে যায়
কোথা হতে যায় কোথা রে।কেহ নাহি চায় থামিতে।
শিরে লয়ে বোঝা চলে যায় সোজা,
না চাহে দখিনে বামেতে।
বকুলের শাখে পাখি গায়,
ফুল ফুটে তব আঙিনায়–
না দেখিতে পায়,না শুনিতে চায়,
কোথা যায় কোন্... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/he-rajon-tumi-amare/ |
5535 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | রোম | মানবতাবাদী | ভেঙ্গেছে সাম্রাজ্যস্বপ্ন, ছত্রপতি হয়েছে উধাও;
শৃঙ্খল গড়ার দুর্গ ভূমিসাৎ বহু শতাব্দীর।
'সাথী আজ দৃঢ় হাতে হাতিয়ার নাও' -
রোমের প্রত্যেক পথে ওঠে ডাক ক্রমশ অস্থির।
উদ্ধত ক্ষমতালোভী দস্যুতার ব্যর্থ পরাক্রম
মুক্তির উত্তপ্ত স্পর্শে প্রকম্পিত যুগ যুগ অন্ধকার রোম।
হাজার বছর ধ'রে দাসত্ব বেঁদেছে বাসা রোমের দেউলে,
দিয়েছে অনেক... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/rome/ |
1803 | পূর্ণেন্দু পত্রী | কেবল আমি হাত বাড়ালেই | প্রেমমূলক | হাওয়া তোমার আঁচল নিয়ে ধিঙ্গীনাচন করলো খেলা
সকাল বিকেল সন্ধেবেলা
চোখের খিদের আশ মেটালো লস্পটে রোদ রাস্তা ঘাটে
যখন হাঁটো সঙ্গে হাঁটে
বনের পথে হাঁটলে যখন কাঁটাগাছে টানলে কাপড়
চ্যাংড়া ছোঁড়ার ফাজলামিকে ভেবেছিলাম মারবে থাপড়।
একটা নদীর লক্ষটা হাত, ভাসিয়ে দিলে সর্বশরীর
লুটপাটেতে ছিনিয়ে নিলে ওষ্ঠপুটের হাসির জরির
জেল্লাজলুস।
কেব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1229 |
4737 | শামসুর রাহমান | জুয়েলের জাদু | মানবতাবাদী | সন্ধ্যারাতে জুয়েল আইচ বহুদিন পর ফের
আমাকে মোটরকালে নিয়ে
আমাদের শ্যামলীর বাসায় এলেন
নক্ষত্রের পানে চেয়ে বেদনার পানে
বড় বেশি ঝুঁকে গিয়ে। তাকে দেখে আমাদের দীপিতা ত্বরিত
এল ছুটে। ছোট্র এই মেয়ে আগে জুয়েলের জাদু
দেখেছিল এক সন্ধ্যারাতে। সেই স্মৃতি
নিয়ে এল টেনে তাকে আমাদের আলাপের কাছে।অনেকের মতো দীপিতাও জেনে গেছে মজাদার
গায়েবি... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jeweler-jadu/ |
6057 | হেলাল হাফিজ | যাতায়াত | প্রেমমূলক | কেউ জানে না আমার কেন এমন হলো।
কেন আমার দিন কাটে না রাত কাটে না
রাত কাটে তো ভোর দেখি না
কেন আমার হাতের মাঝে হাত থাকে না কেউ জানেনা।
নষ্ট রাখীর কষ্ট নিয়ে অতোটা পথ একলা এলাম
পেছন থেকে কেউ বলেনি করুণ পথিক
দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও,
কেই বলেনি ভালো থেকো সুখেই থেকো
যুগল চোখে জলের ভাষায় আসার সময় কেউ বলে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/128 |
2386 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | শকুন্তলা | সনেট | মেনকা অপ্সরারূপী, ব্যাসের ভারতী
প্রসবি, ত্যজিলা ব্যস্তে, ভারত-কাননে,
শকুন্তলা সুন্দরীরে, তুমি, মহামতি,
কণ্বরূপে পেয়ে তারে পালিলা যতনে,
কালিদাস ! ধন্য কবি, কবি-কুল-পতি !
তব কাব্যাশ্রমে হেরি এ নারী-রতনে
কে না ভাল বাসে তারে, দুষ্মন্ত যেমতি
প্রেমে অন্ধ?কে না পড়ে মদন-বন্ধনে?
নন্দনের পিক-ধ্বনি সুমধুর গলে;
পারিজাত-কুসুমের পর... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/shakuntala/ |
5760 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | গদ্যছন্দে মনোবেদনা | মানবতাবাদী | ভেবেছিলাম নিচু করবো না মাথা, তবুও ভেতরের এক কুত্তার বাচ্চা
মাঝে মাঝে মসৃণ পায়ের কাছে ঘষতে চায় মুখ, জানি তো অসীমে
ভাসিয়েছি আমার আত্মার শাদা পায়রা দূত, বলেছি মৃত্যুর চেয়েও সাচ্চা
মানুষের মতো বেঁচে থঅকা- তবু তার দু’একটা পালক খসে
জ্যোস্নায় মনখারাপ হিমে।
মাঝে মাঝে গদি মোড়া চেয়ারে বসলেও ব্যথা করে পশ্চাৎদেশে, আমি জানি
আচম্ব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1823 |
1960 | বিনয় মজুমদার | একটি উজ্জ্বল মাছ | প্রেমমূলক | একটি উজ্জ্বল মাছ একবার উড়ে
দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্রকৃত পস্তাবে স্বচ্ছ জলে
পুনরায় ডুবে গেলো — এই স্মিত দৃশ্য দেখে নিয়ে
বেগনার গাঢ় রসে আপক্ক রক্তিম হ’লো ফল |
বিপন্ন মরাল ওড়ে, অবিরাম পলায়ন করে,
যেহেতু সকলে জানে তার শাদা পালকের নিচে
রয়েছে উদগ্র উষ্ণ মাংস আর মেদ ;
স্বল্পায়ু বিশ্রাম নেয় পরিশ্রান্ত পাহাড়ে পাহাড়ে ;
সমস্ত জ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4040.html |
2977 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গত দিবসের ব্যর্থ প্রাণের | প্রকৃতিমূলক | গত দিবসের ব্যর্থ প্রাণের
যত ধুলা, যত কালি,
প্রতি উষা দেয় নবীন আশার
আলো দিয়ে প্রক্ষালি। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/goto-diboser-bartho-praner/ |
489 | কাজী নজরুল ইসলাম | রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ৩ | ভক্তিমূলক | পরান ভরে পিয়ে শরাব,
জীবন যাহা চিরকালের।
মৃত্যু-জরা-ভরা জগৎ
ফিরে কেহ আসবেনা ফের।
ফুলের বাহার, গোলাব- কপোল,
গেলাস- সাথী মস্ত-ইয়ার,
এক লহমার খুশির তুফান,
এইতো জীবন!- ভাবনা কিসের!! | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/rubaiyat-e-hafiz-3/ |
1844 | পূর্ণেন্দু পত্রী | পরিণয় উপলক্ষে | প্রেমমূলক | এইখানে সব আছে। স্তব্ধতার মুখে
শুনতে পাবে অবিরল সলজ্জ সংলাপ
দৃষ্টি যদি ডুবে যায় তরল আঁধারে
তবু কারো নিংশ্বাসের উজ্জল উত্তাপ।
তোমাকে রঙিন করে দেবে স্পর্শ সুখে।
নিয়ে এসো দিনাস্তের অসংখ্য বিলাপ
কে তাকে উড়িয়ে দেবে গানের পাখির
পাখনায় বেঁধে ব্যাপ্ত অসীমের বুকে।
যেখানেই হাত ছোঁবে সে নদী-গিরির
অজ্ঞাত শিল্পীর আঁকা দৃশ্য... | https://banglarkobita.com/poem/famous/479 |
1735 | পাবলো নেরুদা | যদি আমায় তুমি ভুলে যাও | প্রেমমূলক | অনুবাদ:ইমন জুবায়েরএকটি কথা আমি তোমাকে
জানিয়ে দিতে চাই ।
তুমি কি জান
আমি যখন আমার জানালার বাইরে
মন্থর হেমন্তের লাল ডালে
স্ফটিক চাঁদটির দিকে তাকাই,
যদি ছুঁয়ে দিই
আগুনের কাছটিতে
অবোধগম্য কিছু ছাই
কিংবা কাটা গুঁড়ির বৃত্তাকার শরীর-
এসবই তোমার নিকটে আমায় বহন করে নিয়ে যায়,
যেনবা- যা কিছু অস্তিত্বশীল,
সুগন্ধ, আলো, কিংবা ধাতুসম... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3949.html |
2912 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কুঁজো তিনকড়ি ঘোরে | ছড়া | কুঁজো তিনকড়ি ঘোরে
পাড়া চারিদিককার,
সন্ধ্যায় ঘরে ফেরে
নিয়ে ঝুলি ভিক্ষার।
বলে সিধু গড়গড়ি
রাগে দাঁত কড়মড়ি,
“ভিখ্ মেগে ফের’, মনে
হয় না কি ধিক্কার?’
ঝুলি নিজে কেড়ে বলে,
“মাহিনা এ শিক্ষার।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/kujo-tinkori-ghore/ |
3220 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দীনের দান | নীতিমূলক | মরু কহে, অধমেরে এত দাও জল,
ফিরে কিছু দিব হেন কী আছে সম্বল?
মেঘ কহে, কিছু নাহি চাই, মরুভূমি,
আমারে দানের সুখ দান করো তুমি। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/diner-dan/ |
147 | আসাদ চৌধুরী | তখন সত্যি মানুষ ছিলাম | স্বদেশমূলক | নদীর জলে আগুন ছিলো
আগুন ছিলো বৃষ্টিতে
আগুন ছিলো বীরাঙ্গনার
উদাস-করা দৃষ্টিতে।
আগুন ছিলো গানের সুরে
আগুন ছিলো কাব্যে,
মরার চোখে আগুন ছিলো
এ-কথা কে ভাববে?
কুকুর-বেড়াল থাবা হাঁকায়
ফোসে সাপের ফণা
শিং কৈ মাছ রুখে দাঁড়ায়
জ্বলে বালির কণা।
আগুন ছিলো মুক্তি সেনার
স্বপ্ন-ঢলের বন্যায়-
প্রতিবাদের প্রবল ঝড়ে
কাঁপছিলো সব-... | https://banglarkobita.com/poem/famous/381 |
5631 | সুকুমার রায় | নাচন | ছড়া | নাচ্ছি মোরা মনের সাধে গাচ্ছি তেড়ে গান
হুলো মেনী যে যার গলার কালোয়াতীর তান।
নাচ্ছি দেখে চাঁদা মামা হাস্ছে ভরে গাল
চোখটি ঠেরে ঠাট্টা করে দেখ্না বুড়োর চাল। | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/nachon/ |
1987 | বিষ্ণু দে | গার্হাস্থ্যাশ্রম (পূর্বরঙ্গ) | সনেট | তোমায় লেগেছে ভালো – সে-কথা তো জানো ?
তোমার ও কটা চোখ – যদিচ বাঙালি,
বুধবার থেকে কেন মনে পড়ে খালি !
লোকে যাকে প্রেম বলে – সে কি তুমি মানো ?
জেনে-শুনে চোখ দিয়ে আমাকে কি টানো ?
না কি তুমি অজানিতে ভরে যাও ডালি ?
না কি আমি সংস্কৃত, প্রাকৃত ও পালি
পড়েছি প্যারিসে গিয়ে, তাই চোখে আনো
কৌতুহল নামে বস্তু ? অলকা, বলো তো।
আমাকে বলত... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4109.html |
1370 | তসলিমা নাসরিন | লজ্জা, ২০০২ | মানবতাবাদী | প্রথমে মেয়েটির পেটের বাচ্চাটি বের করে নিল পেট কেটে, খুব ধারালো ছুরিতে কেটে,
এরপর বাচ্চাটির গলা কাটল তারা, মাথাটি ছুঁড়ে ফেললো মেয়েটির পায়ের কাছে, ধড়টি
মাথার কাছে। ছুঁড়ে ফেলে বেদম হাসতে লাগল তারা। কারা তারা?
তারা হিন্দু, সম্ভাব্য হিন্দুরাজ্যের দেশপ্রেমিক নাগরিক।
মেয়েটি যখন চিৎকার করছে বাঁচার জন্য, মেয়েটির শরীরে তারা আগুন... | https://banglarkobita.com/poem/famous/2011 |
2812 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এইক্ষণে | ভক্তিমূলক | এইক্ষণে
মোর হৃদয়ের প্রান্তে আমার নয়ন-বাতায়নে
যে-তুমি রয়েছ চেয়ে প্রভাত-আলোতে
সে-তোমার দৃষ্টি যেন নানা দিন নানা রাত্রি হতে
রহিয়া রহিয়া
চিত্তে মোর আনিছে বহিয়া
নীলিমার অপার সংগীত,
নিঃশব্দের উদার ইঙ্গিত।
আজি মনে হয় বারে বারে
যে মোর স্মরণের দূর পরপারে
দেখিয়াছ কত দেখা
কত যুগে, কত লোকে, কত জনতায়, কত একা।
সেই-সব দেখা আজি শিহরি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1952 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.