id stringlengths 1 4 | title stringlengths 1 362 | author stringclasses 40
values | poem stringlengths 30 15.4k | label int64 0 10 | label_name stringclasses 11
values |
|---|---|---|---|---|---|
2202 | আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা। নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা। আজ ভ্রমর ভোলে মধু খেতে, উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে, আজ কিসের তরে নদীর চরে চখাচখির মেলা। ওরে যাবো না আজ ঘরে রে ভাই, যাবো না আজ ঘরে! ওরে আকাশ ভেঙে বাহিরকে আজ নেব রে লুঠ করে। যেন জোয়ার জলে ফেনার রাশি বাতাসে আজ ফুটেছে হাসি, আজ বিনা কাজে বাজিয়ে... | 6 | Patriotic |
159 | কামাল পাশা | কাজী নজরুল ইসলাম | [তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আস্মানের আঙিনা তখন কার্বালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রীক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হইহা গিয়াছে। তাহাদের অধিকাংশ সৈন্যই রণস্থলে হত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। বাকি সব প্রাণপণে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিতেছে। তুরস্কের জাতীয় সৈন্যদলের কাণ্ডারী বিশ্বত্রাস মহাবাহু কামাল-পাশা মহাহর্ষ... | 10 | War |
1398 | পরস্পর | জীবনানন্দ দাশ | মনে প’ড়ে গেল এক রূপকথা ঢের আগেকার , কহিলাম,- শোনো তবে ,- শুনিতে লাগিল সবে, শুনিল কুমার ; কহিলাম ,- দেখেছি সে চোখ বুজে আছে, ঘুমানো সে এক মেয়ে – নিঃসাড় পুরীতে এক পাহাড়ের কাছে ; সেইখানে আর নাই কেহ ,- এক ঘরে পালঙ্কের’পরে শুধু এক খানা দেহ প’ড়ে আছে ;- পৃথিবীর পথে- পথে রূপ খুঁজে খুঁজে তারপর,- তারে আমি দেখেছি গো ,- সেও চোখ বুজ... | 1 | Love |
1357 | অবনী বাড়ি আছো | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | অবনী বাড়ি আছো অবনী বাড়ি আছো দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া কেবল শুনি রাতের কড়ানাড়া ‘অবনী বাড়ি আছো?’ বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস দুয়ার চেপে ধরে– ‘অবনী বাড়ি আছো?’ আধেকলীন হৃদয়ে দূরগামী ব্যথার মাঝে ঘুমিয় পড়ি আমি সহসা শুনি রাতের কড়ানাড়া ‘অবনী বাড়ি আছ?’ | 1 | Love |
233 | যেভাবে সে এলো | হেলাল হাফিজ | অসম্ভব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছিলো, সামনে যা পেলো খেলো, যেন মন্বন্তরে কেটে যাওয়া রজতজয়ন্তী শেষে এসেছে সে, সবকিছু উপাদেয় মুখে। গাভিন ক্ষেতের সব ঘ্রাণ টেনে নিলো, করুণ কার্নিশ ঘেঁষে বেড়ে ওঠা লকলকে লতাটিও খেলো, দুধাল গাভীটি খেলো খেলো সব জলের কলস। শানে বাধা ঘাট খেলো সবুজের বনভূমি খেলো উদাস আকাশ খেলো কবিতার পান্ডুলিপি খেলো। দু’... | 4 | Humanity |
1758 | জীবনে যা চিরদিন | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জীবনে যা চিরদিন রয়ে গেছে আভাসে প্রভাতের আলোকে যা ফোটে নাই প্রকাশে, জীবনের শেষ দানে জীবনের শেষ গানে, হে দেবতা, তাই আজি দিব তব সকাশে, প্রভাতের আলোকে যা ফোটে নাই প্রকাশে। কথা তারে শেষ করে পারে নাই বাঁধিতে, গান তারে সুর দিয়ে পারে নাই সাধিতে। কী নিভৃতে চুপে চুপে মোহন নবীনরূপে নিখিল নয়ন হতে ঢাকা ছিল, সখা, সে। প্রভাতের আলোকে ... | 2 | Metaphor |
2098 | আড়ি | সুকুমার রায় | কিসে কিসে ভাব নেই? ভক্ষক ও ভক্ষ্যে- বাঘে ছাগে মিল হলে আর নেই রক্ষে। শেয়ালের সাড়া পেলে কুকুরেরা তৈরি, সাপে আর নেউলে ত চিরকাল বৈরী! আদা আর কাঁচকলা মেলে কোনোদিন্ সে? কোকিলের ডাক শুনে কাক জ্বলে হিংসেয়। তেলে দেওয়া বেগুনের ঝগড়াটা দেখিনি? ছ্যাঁক্ ছ্যাঁক্ রাগ যেন খেতে আসে এখনি। তার চেয়ে বেশি আড়ি আমি পারি কহিতে- তোমাদের ... | 5 | Children |
441 | মাঠে বসে আছে জরদ্গব | জয় গোস্বামী | মাঠে বসে আছে জরদ্গব। মাথায় পাহাড়। সামনের থালায় মাটি। তৃণ। সে খায়, থালায় গর্ত খুঁড়ে– দইয়ের ভাঁড়ের মতো কেটে কেটে নামে– আর ক্ষিদে শেষ হয় না–খনিজ সম্পদ কমে আসে, আরো কম–সুড়ুৎ চুমুকে জমানো তেলের গর্ভ খালি হয়ে যায় কাদা-ঝোল মাখা হাতে, জরদ্গব, থাকা মনে ক’রে খালি ফুটো পৃথিবী বাজায়! | 0 | Miscellaneous |
323 | আনন্দ-গান উঠুক তবে বাজি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আনন্দ-গান উঠুক তবে বাজি এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে। অশ্রুজলের ঢেউয়ের 'পরে আজি পারের তরী থাকুক ভাসিতে। যাবার হাওয়া ওই যে উঠেছে--ওগো ওই যে উঠেছে, সারারাত্রি চক্ষে আমার ঘুম যে ছুটেছে। হৃদয় আমার উঠছে দুলে দুলে অকূল জলের অট্টহাসিতে, কে গো তুমি দাও দেখি তান তুলে এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে। হে অজানা, অজানা সুর নব বাজাও আমার ব্... | 0 | Miscellaneous |
1429 | ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে | জসীম উদ্দীন | ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে সেজন কি তোর পর, সে ত তোরি তরে কেন্দে কেন্দে বেড়ায় দেশান্তর; রে বন্ধু! তোরি তরে সাজাইলাম বন-ফুলের ঘর, রে বন্ধু মন-ফুলের ঘর, ও তুই ভোমর হয়া হানলি কাঁটা সেই না ফুলের পর; রে বন্ধু! এক ঘরেতে লাগলে আগুন পোড়ে অনেক ঘর, মনের আগুন মনই পোড়ায়-নাই কোন দোসর; রে বন্ধু! আগে যদি জানতামরে তোর রূপে আগুর জ্বলে,... | 1 | Love |
1397 | বোধ | জীবনানন্দ দাশ | আলো –অন্ধকারে যাই- মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়,- কোন এক বোধ কাজ করে ! স্বপ্ন নয়- শান্তি নয়-ভালোবাসা নয়, হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়! আমি তারে পারি না এড়াতে, সে আমার হাত রাখে হাতে; সব কাজ তুচ্ছ হয়,-পণ্ড মনে হয়, সব চিন্তা – প্রার্থনায় সকল সময় শূন্য মনে হয়, শূন্য মনে হয় ! সহজ লোকের মতো কে চলিতে পারে! কে থামিতে পারে এই আলোয় আঁধার... | 1 | Love |
1695 | বাবুর বাগান | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | যে যেখানে পারে, সেইখানে থোয় কেড়েকুড়ে আনে যা সে, কিছু থাকে তার হাতের মুঠোয়, কিছু ঝরে যায় ঘাসে। যে সে রেখেছিল লোহার খাঁচায়, হয়েছে পাখির দানা কিছুটা মোরগে ঠুকরিয়ে খায়, কিছু শালিখের ছানা। সিঁদকাঠি হাতে গর্ত খুঁড়ছে এই রাত্রে যে, তার জানা নেই তারই পিছনে ঘুরছে তিন জোড়া বাটপার। যে সেখানে পারে, রাখে সেইখানে কেড়ে-আনা টাকাকড়ি, তা... | 2 | Metaphor |
530 | সভাকক্ষ থেকে কিছু দূরে | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কী করলে হাততালি মেলে, বিলক্ষণ জানি; কিন্তু আমি হাততালির জন্য কোনোদিন প্রলুব্ধ হব না। তোমার চারদিকে বহু কিঙ্কর জুটেছে, মহারানি। ইঙ্গিত করলেই তারা ক্রিরিরিং ঘড়িতে বাজিয়ে ঘণ্টি অদ্ভুত উল্লাসে গান গায়! আমিও দু-একটা গান জানি, কিন্তু আমি কোরাসের ভিতরে যাব না। মহারানি, যেমন জেনেছি, ঠিক সেইরকম উচ্চারণে বাজাব তোমাকে। তুমি সি... | 0 | Miscellaneous |
1026 | দুঃখবতী মা | তসলিমা নাসরিন | মা'র দুঃখগুলোর ওপর গোলাপ-জল ছিটিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল, যেন দুঃখগুলো সুগন্ধ পেতে পেতে ঘুমিয়ে পড়ে কোথাও ঘুমটি ঘরের বারান্দায়, কুয়োর পাড়ে কিম্বা কড়ইতলায়। সন্ধেবেলায় আলতো করে তুলে বাড়ির ছাদে রেখে এলে দুঃখগুলো দুঃখ ভুলে চাঁদের সঙ্গে খেলত হয়তো বুড়িছোঁয়া খেলা। দুঃখরা মা'কে ছেড়ে কলতলা অব্দি যায়নি কোনওদিন। যেন এরা... | 0 | Miscellaneous |
2102 | আবোল তাবোল - ৩ | সুকুমার রায় | এক যে ছিল রাজা- (থুড়ি, রাজা নয় সে ডাইনি বুড়ি) ! তার যে ছিল ময়ূর- (না না, ময়ূর কিসের ? ছাগল ছানা) । উঠানে তার থাক্ত পোঁতা- -(বাড়িই নেই, তার উঠান কোথা) ? শুনেছি তাত পিশতুতো ভাই- -(ভাই নয়ত, মামা-গোঁসাই ) । বল্ত সে তার শিষ্যটিরে- -(জন্ম-বোবা বলবে কিরে) । যা হোক, তারা তিনটি প্রানী- -(পাঁচটি তারা, সবাই জানি !) থও না... | 5 | Children |
1998 | প্রতিদান | জসীম উদ্দীন | আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিবাগী, - পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি। দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর ; আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর। আমার এ কুল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কুল বাঁধি, যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি; সে মো... | 3 | Separation |
456 | জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়ছে | জয় গোস্বামী | জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়ছে জ্বলে 'ছ্যাৎ' আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙে কোটি কোটি যুগ পরেকার ঘুম, যার মাথার ওপরে হা করা আকাশগর্ত, লৌহমেঘ, আর তার নিচে, ঘুরতে ঘুরতে, ক্রমশ তলিয়ে যাওয়া পৃথিবীর নিঃশব্দ চিৎকার। | 0 | Miscellaneous |
2128 | মামার বাড়ি | জসীম উদ্দীন | আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা, ফুল তুলিতে যাই ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই। মামার বাড়ি পদ্মপুকুর গলায় গলায় জল, এপার হতে ওপার গিয়ে নাচে ঢেউয়ের দল। দিনে সেথায় ঘুমিয়ে থাকে লাল শালুকের ফুল, রাতের বেলা চাঁদের সনে হেসে না পায় কূল। আম-কাঁঠালের বনের ধারে মামা-বাড়ির ঘর, আকাশ হতে জোছনা-কুসুম ঝরে মাথার ‘পর। রাতের বেল... | 5 | Children |
1499 | ম’রে যেতে সাধ হয় | আনিসুল হক | শাহানা, তুমি গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতো ক্যাম্পাসে এসো না, আমার খারাপ লাগে। সখী পরিবৃতা হয়ে মোগল-দুহিতার মতো করিডোরে অমন ক’রে হেঁটো না, আমার খারাপ লাগে। শাহানা, তুমি চিবুক নাড়িয়ে রাঙা মাড়িতে দুধ শাদা হাতে লালিম জিহ্বায় গিটারের তারের মতো বেজে উঠো না — দরদালান কেঁপে উঠে, ঢিল পড়ে বুকের পুকুরে, কাঁপে পানি থি... | 1 | Love |
132 | ফিরে আসা গ্রাম | মহাদেব সাহা | এই গ্রাম প্রতিরাতে হাতছানি দিয়ে ডাকতো আমাকে উৎকন্ঠিতা প্রেমিকার মতো কানে কানে শোনাতো কাহিনী, যুদ্ধক্ষেত্রে মধ্যরাতে কখনো হঠাৎ স্বদেশ-স্বজনহারা কান্নায় ভরে যেতো বুক আমার দুঃখিনী গ্রাম কিছুতেই তোমাকে পারিনি ভুলে যেতে; এই গ্রাম, লতাগুল্ম-আচ্ছাদিত শৈশবের স্মৃতি অকস্মাৎ মধ্যরাতে ডাকতো আমাকে মৌনস্বরে, হয়তো তখন আমি শত্রুর ... | 10 | War |
286 | নাম ভূমিকায় | হেলাল হাফিজ | তাকানোর মতো করে তাকালেই চিনবে আমাকে। আমি মানুষের ব্যকরণ জীবনের পুষ্পিত বিজ্ঞান আমি সভ্যতার শুভ্রতার মৌল উপাদান, আমাকে চিনতেই হবে তাকালেই চিনবে আমাকে। আমাকে না চেনা মানে মাটি আর মানুষের প্রেমের উপমা সেই অনুপম যুদ্ধকে না চেনা। আমাকে না চেনা মানে সকালের শিশির না চেনা, ঘাসফুল, রাজহাঁস, উদ্ভিত না চেনা। গাভিন ক্ষেতের ঘ্রাণ, ... | 9 | Nature |
1558 | হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে | জয় গোস্বামী | অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে করো আনন্দ আয়োজন করে পড়ো লিপি চিত্রিত লিপি আঁকাবাঁকা পাহাড়ের সানুতলে যে একা ঘুরছে, তাকে খুঁজে বার করো করেছো, অতল; করেছিলে; পড়ে হাত থেকে লিপিখানি ভেসে যাচ্ছিল–ভেসে তো যেতই, মনে না করিয়ে দিলে; –’পড়ে রইল যে!’ পড়েই থাকত–সে-লেখা তুলবে বলে কবি ডুবে মরে, কবি ... | 1 | Love |
225 | স্বেচ্ছা | জয় গোস্বামী | ওরা তো জমি দিয়েছে স্বেচ্ছায় ওরাতো ঘর ছেড়েছে স্বেচ্ছায় লাঠির নিচে ওরা তো স্বেচ্ছায় পেতেছে পিঠ, নীচু করেছে মাথা তোমরা কেন দেখতে পাও না তা দেখেছি, সবই দেখেছি স্বেচ্ছায় বাধ্য হয়ে দেখেছি স্বেচ্ছায় মানব অধিকারের শবদেহ বানের জলে দেখেছি ভেসে যায় রাজ-আদেশে হাতকড়া-পড়ানো রক্তঝরা গণতন্ত্রটিকে প্রহরীদল হাঁটিয়ে নিয়ে যায... | 4 | Humanity |
661 | মানুষ | মহাদেব সাহা | মানুষ মানে জন্মতারিখ, কোষ্ঠীখাতা বাসস্থান ও বধ্যভূমি কাগজপত্র, ঘরগেরস্ত, পিতামাতা, নামঠিকানা অন্যবিধ জাতিগোষ্ঠী আত্মীয়তা স্ত্রী-পরিবার, নুনমরিচ ও খাদ্যদ্রব্য মানুষ মানেই জীবনযাপন এই একাকী বন্দীদশা! মানুষ মানে হাতের পিঠে ওলটপালট হিজিবিজি, লিখন এসব ভাগ্যলেখা, নদীর জোয়ার, চাঁদের ভাঙন, চিরকালীন এ সমস্ত শীতসন্ত ভুলভ্রান্ত... | 0 | Miscellaneous |
1537 | কী করে ভালোবাসবো | পূর্ণেন্দু পত্রী | কী করে ভালোবাসবো বল কী করে ভালোবাসবো বল সখী, মরুভূমির মতন যদি প্রাণের দাহে অহরহই জ্বলি, হৃদয়ে যদি গভীর ক্ষত বালুচরের মতন গ্রাস করে, কী করে ভালোবাসবো বল কী করে ভালোবাসবো বল সখী। দগ্ধ যদি বুকের টানে আমার সব হাসিরা ঝরে যায়, আমার সব সকাল আর রাত্রি যদি কাঁদনে ছলোছলো, আমার সব সূর্যমুখী পাপড়ি ছিড়ে ধুলোয় যদি মেশে, কী করে ... | 1 | Love |
1636 | অমানুষ | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | শিম্পাঞ্জি, তোমাকে আজ বড় বেশি বিমর্ষ দেখলুম চিড়িয়াখানায়। তুমি ঝিলের কিনারে। দারুণ দুঃখিতভাবে বসে ছিলে। তুমি একবারও উঠলে না এসে লোহার দোলনায়; চাঁপাকলা, বাদাম, কাবলি-ছোলা–সবকিছু উপেক্ষিত ছড়ানো রইল। তুমি ফিরেও দেখলে না। দুঃখী মানুষের মতো হাঁটুর ভিতরে মাথা গুঁজে ঝিলের কিনারে শুধু বসে রইলে একা। শিম্পাঞ্জি, তোমাকে কেন এত বেশ... | 2 | Metaphor |
1850 | মিটাতে জঠর ক্ষুধা | সুফিয়া কামাল | অন্তর তৃষা মিটাতে এনেছে মমতার মধু-সুধা? রিক্তের প্রাণ ভরিবে কি আজ পুণ্যের আশ্বাসে? অবহেলিতেরে ডেকে নেবে ঘরে, তাদের দীর্ঘশ্বাসে। ব্যথিত মনের সম বেদনায় দূর করি দিয়ে প্রাণ জুড়াবে, শুনাবে ভরসায় ভরা আগামী দিনের গান? হে কাফেলা! তুমি চল পাঁওদল কাঁধেতে মিলায়ে কাঁধ, পথে পথে আজ চলিছে যাহারা তাহাদের সংবাদ লও, শোনো ঘরে কার আজ... | 2 | Metaphor |
236 | দাসবংশ | নির্মলেন্দু গুণ | কোনো কাজকর্ম তো নাই, খাচ্ছেন দাচ্ছেন, আর যখন যা চাচ্ছেন হাতের কাছে তাই পেয়ে যাচ্ছেন। স্প্যানিশ অলিভ অয়েল মালিশ করে পালিশ করছেন বেগম সাহেবার পাছা, আর নিজের বীচির চামড়া। আর আমরা আমাগো হুগায় মাখছি ভেরেণ্ডার তেল। আপনগো দিন যায় মহানন্দে, ভিসিআরে, টিভির পর্দায়। আমরা মাঠের লোক, বস্তিবাসী, পথের মানুষ, মেধাহীন কৃমিকীট আর ... | 4 | Humanity |
1253 | লিরিকগুচ্ছ - ০৫ | মহাদেব সাহা | তোমার বিষণ্ন মুখ দেখে মনে হয় সব ফুল ঝরে গেছে পৃথিবীতে বড়ো দুঃসময়! | 1 | Love |
781 | সেই গল্পটা | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি। শোনো। পাহাড়টা, আগেই বলেছি ভালোবেসেছিল মেঘকে আর মেঘ কী ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা সে তো আগেই শুনেছো। সেদিন ছিল পাহাড়টার জন্মদিন। পাহাড় মেঘেকে বললে আজ তুমি লাল শাড়ি পরে আসবে। মেঘ পাহাড়কে বললে আজ তোমাকে স্মান করিয়ে দেবো চন্দন জলে। ভালোবাসলে নারীরা ... | 0 | Miscellaneous |
314 | জানি আমার পায়ের শব্দ রাত্রে দিনে শুনতে তুমি পাও | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জানি আমার পায়ের শব্দ রাত্রে দিনে শুনতে তুমি পাও, খুশি হয়ে পথের পানে চাও। খুশি তোমার ফুটে ওঠে শরৎ-আকাশে অরুণ-আভাসে। খুশি তোমার ফাগুনবনে আকুল হয়ে পড়ে ফুলের ঝড়ে ঝড়ে। আমি যতই চলি তোমার কাছে পথটি চিনে চিনে তোমার সাগর অধিক করে নাচে দিনের পরে দিনে। জীবন হতে জীবনে মোর পদ্মটি যে ঘোমটা খুলে খুলে ফোটে তোমার মানস-সরোবরে-- সূ... | 0 | Miscellaneous |
1259 | এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না | মহাদেব সাহা | এক কোটি বছর হয় তোকাকে দেখি না একবার তোমাকে দেখতে পাবো এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে- বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার হবো ভরা দামোদর কয়েক হাজার বার পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল; তোমাকে একটিবার দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার প্রাচীর, ছুটে যবো নাগরাজ্যে পাতালপুরীতে কিংবা বোমারু বিমান ওড়া শঙ্কিত শহরে। যদি জানি একবার... | 1 | Love |
1388 | সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয় | জীবনানন্দ দাশ | চোখ দুটো ঘুমে ভরে ঝরা ফসলের গান বুকে নিয়ে আজ ফিরে যাই ঘরে! ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন,- স্বপন ক’দিন রয়! এসেছে গোধূলি গোলাপিবরণ,-এ তবু গোধূলি নয়! সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়, আমাদের মুখ সারাটি রাত্রি মাটির বুকের’পরে! কেটেছে যে নিশি ঢের,- এতদিন তবু অন্ধকারের পাইনি তো কোনো টের! দিনের বেলায় যাদের দেখিনি-এসেছে... | 1 | Love |
1604 | চতুরের ভূমিকা | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কিছু উপমার ফুল নিতে হবে নিরুপমা দেবী যদিও নামের মধ্যে বেখেছেন আসল উপমা ক্ষণিক প্রশ্রয়-তুষ্টি চায় আজ সামান্য এ কবি, রবীন্দ্রনাথেরও আপনি চপলতা করেছেন ক্ষমা। যদিও প্রত্যহ আসে অগণিত সুঠাম যুবক নানা উপহার আনে সময় সাগর থেকে তুলে আমি তো আনি নি কিছু চম্পা কিংবা কুর্চি কুরুবক সাজাতে চেয়েছি শুধু স্পর্শহীন উপমার ফুলে। আকাশে অ... | 1 | Love |
2142 | তোমরা কি জানো | মহাদেব সাহা | তোমরা কি জানো এ শহর কেন হঠাৎ এমন মৌনমিছিলে হয়ে ওঠে ভারী, অশ্রুসিক্ত? কেন বয়ে যায় শোকার্ত মেঘ আর থোকা থোকা শিশিরবিন্দু পথে কেন এতো কৃষ্ণচূড়ার গাঢ় সমাবেশ; আমি জানি এতো মেঘ নয়, নয় শীতের শিশির; প্রিয়হারা এ যে একুশে রাজপথ জুড়ে এতো রঙিন আল্পনা আঁকা তোমরা কি জানো সে তো নয় কোনো রঙ ও তুলির ব্যঞ্জনা কিছু এই আল্পনা, পথের শিল্প শহ... | 6 | Patriotic |
826 | মেলাপুরুষ | মলয় রায়চৌধুরী | মাগগি গণ্ডার দিনে পাইকারি হারে খুন হল কি হল না গুদামঘরের ছাদ ভেঙে কে রে গদি টানাটানি করে সে ফেরারি গৃহবধু যোনিতে কুলুপ এঁটে ঋণমেলা থেকে নোনা বালি লিঙ্গ পেয়েছিল সুদ জরিমানা মিলে স্পর্শকাতর আদালতে মুদ্দোফরাস এসে লাশটাকে চুমু খেয়ে স্বাগত জানালে জিপ খুলে বললেন উঁহুহু চলবে না বিগ্রহ ধুলোয় তৈরি নামাব কোথায় আপনি তো জানেনই... | 0 | Miscellaneous |
1208 | হেমলতা | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কিছু কথা অন্ধকারে বিদেশে ঘুরছে, কিছু কথা বাতাসে উড়ছে, কিছু কথা আটকে আছে পাথরের তলে, কিছু কথা ভেসে যাচ্ছে কাঁসাইয়ের জলে, পুড়তে-পড়তে শুদ্ধ হয়ে উঠছে কিছু কথা। হেমলতা, তুমি কথা দিয়েছিলে, আমি দিতে এখনও পারিনি, তাই বলে ছাড়িনি আজও হাল। বাতাসে আগুনে জলে উদয়াস্ত আজও মায়াজাল টেনে যাচ্ছি, জোড়-মেলানো কথা যদি পাই, তোমাকেই দেব। হেমল... | 1 | Love |
1268 | ষাটের দশক | মহাদেব সাহা | কোথায় কেমন আছ তুমি প্রিয় ষাটের দশক তোমার কি এখন খুবই কষ্ট, তুমি খুবই একা, দরোজায় তোমার কি শুধু দীর্ঘশ্বাস গ্রিলে বিষণ্ন গোধূলি? কোথায় তোমার সেই উদ্দাম অশ্বের গতিবেগ, মধ্যরাতে কাঁপানো ফুটপাত- রক্তমাংসে পরস্পর ভালোবাসাবাসি, সেই বাঁধভাঙা অথই জোয়ার আজ এই বয়সের ভাঁজপড়া তোমার মুখের দিকে আমি আর তাকাতে পারি না; প্রিয় ষাট, কোথা... | 1 | Love |
727 | এখনো | পূর্ণেন্দু পত্রী | কাগজ পেলেই আঁকচারা কাটা অভ্যেস। একবার আঁকছিলুম রাজবাড়ি। আঁকতে আঁকতে হয়ে উঠলো আলকাতরা মাখা দৈত্য, কাগজ থেকে লাফ দিয়ে উঠলো দশ আঙুলের থাবা খাঁবো, খাঁবো, খাঁবো। সেই থেকে আর রাজবাড়ি আঁকি না। আঁকি রাজহাঁস, ময়ুর, জলের ঘূর্নি, আর সেই সব শিকড় যা ডুবে আছে আকুলি-বিকুলি তৃষ্ণার ভিতরে। পদ্মপাতায় ডুমুরের গুছির মতো ফলে থাকে যে... | 0 | Miscellaneous |
1885 | রাখালের বাঁশি | হেলাল হাফিজ | কে আছেন ? দয়া করে আকাশকে একটু বলেন - সে সামান্য উপরে উঠুক, আমি দাঁড়াতে পারছি না | 2 | Metaphor |
887 | কঠিন অনুভব | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | চারধারে তার উপঢৌকন, কিন্তু আছে স্থির, দুহাত মুঠিবদ্ধ কিন্তু ভিতরে অস্থির। কেউ তাকে দ্যাখেনি হতে, উচিত ভেবে সব ফিরিয়ে দিল, তার ছিলো এক কঠিন অনুভব। | 0 | Miscellaneous |
527 | উপাসনার সায়াহ্নে | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | ভীষণ প্রাসাদ জ্বলে, যেন চিরকাল জ্বলে সায়াহ্নবেলায়। অলিন্দ, ঝরোকা, শ্বেতমর্মরের সমস্ত নির্মাণ জ্বলে ওঠে। আগুনের সুন্দর খেলায় দাউদাউ জ্বলে হর্ম্য, প্রমোদ-নিকুঞ্জ। কিংবা সাধের তরণী অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেন অন্যপথে ধীরে আগুয়ান হতে গিয়ে অগ্নিবয়লয়ের দিকে ঘুরে যায়। মুহূর্তে মাস্তুলে, পালে, পাটাতনে প্রচণ্ড হলুদ জ্বলে ওঠে। স... | 0 | Miscellaneous |
325 | হে ভুবন | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হে ভুবন আমি যতক্ষণ তোমারে না বেসেছিনু ভালো ততক্ষণ তব আলো খুঁজে খুঁজে পায় নাই তার সব ধন। ততক্ষণ নিখিল গগন হাতে নিয়ে দীপ তার শূন্যে শূন্যে ছিল পথ চেয়ে। মোর প্রেম এল গান গেয়ে; কী যে হল কানাকানি দিল সে তোমার গলে আপন গলার মালাখানি। মুগ্ধচক্ষে হেসে তোমারে সে গোপনে দিয়েছে কিছু যা তোমার গোপন হৃদয়ে তারার মালার মাঝে চিরদিন... | 0 | Miscellaneous |
1448 | আমার এ গান ছেড়েছে তার | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমার এ গান ছেড়েছে তার সকল অলংকার, তোমার কাছে রাখে নি আর সাজের অহংকার। অলংকার যে মাঝে পড়ে মিলনেতে আড়াল করে, তোমার কথা ঢাকে যে তার মুখর ঝংকার। তোমার কাছে খাটে না মোর কবির গরব করা, মহাকবি, তোমার পায়ে দিতে চাই যে ধরা। জীবন লয়ে যতন করি' যদি সকল বাঁশি গড়ি, আপন সুরে দিবে ভরি সকল ছিদ্র তার। | 1 | Love |
458 | জননী এই আঙিনা | জয় গোস্বামী | জননী এই আঙিনা–আজ শরীর বটচারা বাতাস পথবালক, আর মেয়েটি লণ্ঠন! | 0 | Miscellaneous |
1745 | কমলা রাণীর দীঘি | জসীম উদ্দীন | কমলা রাণীর দীঘি ছিল এইখানে, ছোট ঢেউগুলি গলাগলি ধরি ছুটিত তটের পানে। আধেক কলসী জলেতে ডুবায়ে পল্লী-বধূর দল, কমলা রাণীর কাহিনী স্মরিতে আঁখি হত ছল ছল। আজ সেই দীঘি শুকায়েছে, এর কর্দমাক্ত বুকে, কঠিন পায়ের আঘাত হানিয়া গরুগুলি ঘাস টুকে। জলহীন এই শুষ্ক দেশের তৃষিত জনের তরে। কোন সে নৃপের পরাণ উঠিল করুণার জলে ভরে। সে করুণা ধারা ম... | 2 | Metaphor |
1721 | রাজার উপর রাজা6 | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | গাছ পুঁতিলাম ফলের আশায়, পেলাম কেবল কাঁটা। সুখের আশায় বিবাহ করিলাম পেলাম কেবল ঝাঁটা || বাসের জন্য ঘর করিলাম ঘর গেল পুড়ে। বুড়ো বয়সের জন্য পুঁজি করিলাম সব গেল উড়ে || চাকুরির জন্যে বিদ্যা করিলাম, ঘটিল উমেদারি। যশের জন্য কীর্ত্তি করিলাম, ঘটিল টিটকারী || সুদের জন্য কর্জ্জ দিলাম, আসল গেল মারা। প্রীতির জন্য প্রাণ দিলাম, শেষে ক... | 2 | Metaphor |
919 | পিরামিড | জীবনানন্দ দাশ | -বেলা বয়ে যায় ! গোধূলির মেঘ- সীমানায় ধূম্র মৌন সাঁঝে নিত্য নব দিবসের মৃত্যুঘণ্টা বাজে ! শতাব্দীর শব্দেহে শ্মশানের ভস্মবহ্নি জ্বলে! পান্থ ম্লান চিতার কবলে একে একে ডুবে যায় দেশ , জাতি,- সংসার, সমাজ , কার লাগি হে সমাধি, তুমি একা বসে আছ আজ কী এক বিক্ষুব্ধ প্রেতকায়ার মতন ! অতীতের শোভাযাত্রা কোথায় কখন চকিতে মিলায়ে গেছ... | 0 | Miscellaneous |
679 | আমার কণ্ঠ কেউ থামাতে পারবে না | মহাদেব সাহা | যতোই চাও না কেন আমার কন্ঠ তুমি থামাতে পারবে না, যতোই করবে রুদ্ধ ততোই দেখবে আমি ধ্বনি-প্রতিধ্বনিময়। আমার কন্ঠকে কেউ কোনোদিন থামাতে পারেনি যেমন পারেনি কেউ কোনো কালে ঠেকাতে অরুনোদয়, চাও বা না চাও নৈঃশব্দ্যেও যদি কান পাতো শুনবে আমারই কণ্ঠস্বর। কীভাবে আমার কণ্ঠ সম্পূর্ণ রাখবে রুদ্ধ করে আমি তো পাখির কলস্বরে হই উচ্চারিত, কখ... | 0 | Miscellaneous |
1603 | অন্তরাল | মহাদেব সাহা | মানুষের ভিড়ে মানুষ লুকিয়ে থাকে গাছের আড়ালে গাছ, আকাশ লুকায় ছোট্ট নদীর বাঁকে জলের গভীরে মাছ; পাতার আড়ালে লুকায় বনের ফুল ফুলের আড়ালে কাঁটা, মেঘের আড়ালে চাঁদের হুলস্তুল সাগরে জোয়ার ভাটা। চোখের আড়ালে স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে তোমার আড়ালে আমি, দিনের বক্ষে রাত্রিকে ধরে রাখে এভাবে দিবসযামী। | 1 | Love |
1726 | চাঁদিনীতে | জীবনানন্দ দাশ | বেবিলোন কোথা হারায়ে গিয়েছে,-মিশর-‘অসুর’ কুয়াশাকালো; চাঁদ জেগে আছে আজো অপলক,- মেঘের পালকে ঢালিছে আলো! সে যে জানে কত পাথারের কথা,- কত ভাঙা হাট মাঠের স্মৃতি! কত যুগ কত যুগান্তরের সে ছিল জ্যোৎস্না, শুক্লাতিথি! হয়তো সেদিনো আমাদেরি মতো পিলুবারোয়াঁর বাঁশিটি নিয়া ঘাসের ফরাশে বসিত এমনি দূর পরদেশী প্রিয় ও প্রিয়া! হয়তো তাহারা আমা... | 2 | Metaphor |
2090 | গল্পবুড়ো | জসীম উদ্দীন | গল্পবুড়ো, তোমার যদি পেটটি ভরে রূপকথা সব গিজ গিজ গিজ করে, আর যদি না চলতে পার, শোলক এবং হাসির, ছড়ার, পড়ার কথার ভরে; যদি তোমার ইলি মিলি কিলি কথা খালি খালি ছড়িয়ে যেতে চায় সে পথের ধারে, তবে তুমি এখানটিতে দাঁড়িয়ে গিয়ে ডাক দিও ভাই- ডাক দিও ভাই! মোদের পূর্নিমারে। যদি তোমার মিষ্টি মুখের মিষ্টি কথা আদর হয়ে ছড়িয়ে যেতে চায় যে পথের... | 5 | Children |
316 | এই দেহটির ভেলা নিয়ে দিয়েছি সাঁতার গো | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এই দেহটির ভেলা নিয়ে দিয়েছি সাঁতার গো, এই দু-দিনের নদী হব পার গো। তার পরে যেই ফুরিয়ে যাবে বেলা, ভাসিয়ে দেব ভেলা, তার পরে তার খবর কী যে ধারি নে তার ধার গো, তার পরে সে কেমন আলো, কেমন অন্ধকার গো। আমি যে অজানার যাত্রী সেই আমার আনন্দ। সেই তো বাধায় সেই তো মেটায় দ্বন্দ্ব। জানা আমায় যেমনি আপন ফাঁদে শক্ত করে বাঁধে অজানা স... | 0 | Miscellaneous |
1536 | অনেককেই তো অনেক দিলে | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে। এর আকাশে ওর আকাশে ওষ্ঠপুটের অনেক পাখি উড়িয়ে দিলে পায়রাকে ধান খুটিতে দিলে খোয়াই জুড়ে বুকের দুটো পর্দাঢাকা জানলা খুলে কতজনকে হাত-ডোবানো বৃষ্টি দিলে। কত মুখের রোদের রেখা মুছিয়ে দিলে নীল রুমালে। আমি ছাড়া অনেককেই তো অনেক দিলে। চায়ের কাপে মিষ্টি দিলে হাসির থেকে নকশাকাটা কাঁচের গ্লাসে স... | 1 | Love |
333 | এ কথা জানিতে তুমি, ভারত-ঈশ্বর শা-জাহান | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এ কথা জানিতে তুমি, ভারত-ঈশ্বর শা-জাহান, কালস্রোতে ভেসে যায় জীবন যৌবন ধন মান। শুধু তব অন্তরবেদনা চিরন্তন হয়ে থাক্ সম্রাটের ছিল এ সাধনা। রাজশক্তি বজ্র সুকঠিন সন্ধ্যারক্তরাগসম তন্দ্রাতলে হয় হোক লীন, কেবল একটি দীর্ঘশ্বাস নিত্য-উচ্ছ্বসিত হয়ে সকরুণ করুক আকাশ এই তব মনে ছিল আশ। হীরা মুক্তামানিক্যের ঘটা যেন শূন্য দিগন্তের ... | 0 | Miscellaneous |
1949 | মেলার মাঠে | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | হাতখানা যার শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলাম, হঠাৎ কখন ছিটকে গিয়ে এই মাঠে সে হারিয়ে গেছে! এখন তাকে খুঁজব কোথায়! কোত্থেকে যে কোন্খানে যায় নিরুদ্দিষ্ট লোকজনেরা ভিড়ের মধ্যে ভাসতে-ভাসতে। হাসতে-হাসতে যাচ্ছে সবাই, কেউ কিনেছে বেলুন-চাকি, কেউ ঝুড়ি, কেউ কাঁসার বাসন, কেউ নিতান্ত কাঠের পাখি। সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি পড়ছে ছিপছিপ... | 3 | Separation |
388 | স্বপ্নের কবিতা | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | আমি তো দাঁড়িয়েছিলাম পাশে, সামনে বিপুল জনস্রোত হলুদ আলোর রাস্তা চলে গেছে অতিকায় সুবর্ণ শহরে কেউ আসে কেউ যায়, কারো আঙুল থেকে ঝরে পড়ে মধু কেউ দাঁতে পিচ কাটে, সুবর্ণষ্ঠীবীর স্মৃতি লোভ ক’রে কেউ বা ছুঁয়েছে খুব লঘু যত্নে, সুখী বারবনিতার তম্বুরাযুগল হেন পাছা কারো চুলে রত্নচ্ছটা, কারো কণ্ঠে কাঁচা-গন্ধ বাঘনখ দোলে আমি তো দা... | 0 | Miscellaneous |
467 | ওই যে বাড়ির তীরে কবর ওঠানো তার | জয় গোস্বামী | ওই যে বাড়ির তীরে কবর ওঠানো তার ছায়াচরে ঘুমে শুরু হই আমার অতীতকাল জলে ডাক দিলো: ‘ওরে লগ্নে লগ্নে ফেরী ছেড়ে যায়’ গৃহমুণ্ডে যে-বায়স নুড়িমুখে বসে তার ‘কা’ ধ্বনিতে সকাল অজ্ঞান খেলনা দুর্গের সামনে যতবার হাবাখেলা উত্থাপন করি, বাজে টাকা যতই পালাতে যাই, ছাদ ভেঙে মাথায় পড়ে ততবার হতভাগ্য যশ সখার আঙুল শুষে পদ্মিনী খেলেন, ফ... | 0 | Miscellaneous |
1835 | অদ্ভুত আঁধার এক | জীবনানন্দ দাশ | অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ, যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা; যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া। যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয় মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা শকুন ও শেয়ালের খাদ... | 2 | Metaphor |
428 | স্বপ্নে মরা ময়ূর | জয় গোস্বামী | স্বপ্নে মরা ময়ূর, তার গায়ে চাঁদের আলো কার্নিশের ফণীমনসা ছাদের কোণে ঘর কাঁটায় বেঁধা কতকালের শুকোনো সব পাখি ওদের গলায় ফিসফিসোয় বাতাস, ডাক, স্বর মরা ময়ূর দাঁড়িয়ে–গায়ে ফুটফুট জোনাকি শিকল গেঁথে ঝোলানো চাঁদ, পেণ্ডুলাম, কালো হেলানো গাছ, গলতে থাকা ইটকাঠের বাড়ি স্বপ্নে মরা ময়ূর, তার স্পষ্ট চোখ, খোলা | 0 | Miscellaneous |
41 | আফিম তবুও ভালো, ধর্ম সে তো হেমলক বিষ | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষরতা। জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ি রূপে ক্রমশঃ উঠছে ফুটে ক্ষয়রোগ, রোগেরপ্রকোপ একদার অন্ধকারে ধর্ম এনে দিয়েছিল আলো, আজ তার কংকালের হাড় আর পঁচা মাংসগুলো ফেরি কোরে ফেরে কিছু স্বার্থাণ্বেষী ফাউল ... | 7 | Policy |
1561 | জলহাওয়ার লেখা | জয় গোস্বামী | স্নেহসবুজ দিন তোমার কাছে ঋণ বৃষ্টিভেজা ভোর মুখ দেখেছি তোর মুখের পাশে আলো ও মেয়ে তুই ভালো আলোর পাশে আকাশ আমার দিকে তাকা– তাকাই যদি চোখ একটি দীঘি হোক যে-দীঘি জ্যোৎস্নায় হরিণ হয়ে যায় হরিণদের কথা জানুক নীরবতা– নীরব কোথায় থাকে জলের বাঁকে বাঁকে জলের দোষ? — নাতো! হাওয়ায় হাত পাতো! হাওয়ার খেলা? সেকি! মাটির থেকে দেখি! মাটিরই গু... | 1 | Love |
1294 | চেনা যায় | পূর্ণেন্দু পত্রী | অন্ধকার ছিলে বুঝি? গাছের আড়ালে ছিলে, গর্তে ছিলে ভিজে খড়ে জড়াজড়ি ছিলে? মাথাভর্তি লণ্ডভণ্ড চুল। সারা গায়ে রক্তের আঁকচারা। যুদ্ধে ছিলে, সেনাপতি ছিলে? এখনও তোমার চোখে আগুনের ছাই প্রকাণ্ড কপাল জুড়ে থাকে থাকে গুপ্ত অস্ত্রাগার। বহুদিন পরে দেখা তবুও তোমাকে ঠিক অভিমন্য বলে চেনা যায়। | 1 | Love |
2183 | কপোতাক্ষ নদ | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে। সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জলে দুগ্ধস্রোতরূপি তুমি মাতৃভূমি স্তনে। আর কি হে হবে দেখা যত দিন যাবে প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে বারি রূপ ... | 6 | Patriotic |
643 | মৃত্যুর প্রাচীন ভাষ্য | মহাদেব সাহা | কোনো কোনো মুহূর্তে এই মৃত্যুও হয়ে ওঠে জীবনের গূঢ় অভিষেক আরো গভীর বাঙ্ময়। সে-মৃত্যু প্রার্থনা করি, সে-মৃত্যু প্রণাম করে যায় একদিকে তুমি, একদিকে মৃত্যুর মৌনতা যেন বৃক্ষের ছায়ায় আরো শুদ্ধ পুণ্যশীল আলোর উপরে আরো কোনো অপার্থিব রোদ এসে করে যায় সবুজ মার্জনা; দুধারে পথের পাশে নাম লিখে যাওয়া তো মূর্খতা মানুষে পথিকে তবু ... | 0 | Miscellaneous |
533 | পূর্ব গোলার্ধের ট্রেন | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | মাঝ-রাত্রে ঘুম ভেঙে যায়। হঠাৎ ধড়মড় করে উঠে বসি। মনে হয়, ঘণ্টা পড়ে গেছে, ট্রেন আসতে আর দেরি নেই। অথচ বিছানাপত্র, তোরঙ্গ, জলের কুঁজো–সব কিছু ছত্রখান হয়ে আছে। আমি দ্রুত হাতে ওয়েটিং রুমের সেই ছড়ানো সংসার গুছিয়ে তুলতে থাকি। বাইরে হুলুস্থুলু চলছে, ইনজিনের শানটিং, লোহার- চাকাওয়ালা গাড়ি ছুটছে, হাজার পায়ের শব্দ, আলো... | 0 | Miscellaneous |
1492 | সকিনা | জসীম উদ্দীন | দুখের সায়রে সাঁতারিয়া আজ সকিনার তরীখানি, ভিড়েছে যেখানে, সেতা নাই কূল, শুধুই অগাধ পানি। গরীবের ঘরে জন্ম তাহার, বয়স বাড়িতে হায়, কিছু বাড়িল না, একরাশ রূপ জড়াইল শুধু গায়। সেই রূপই তার শত্রু হইল, পন্যের মত তারে, বিয়ে দিল বাপ দুই মুঠি ভরি টাকা আধুলির ভারে! খসম তাহার দাগী-চোর, রাতে রহিত না ঘরে, হেথায় হোথায় ঘুরিয়া... | 1 | Love |
895 | শিরীষের ডালপালা | জীবনানন্দ দাশ | শিরীষের ডালপালা লেগে আছে বিকেলের মেঘে, পিপুলের ভরা বুকে চিল নেমে এসেছে এখন; বিকেলের শিশুসুর্যকে ঘিরে মায়ের আবেগে করুণ হয়েছে ঝাউবন। নদীর উজ্জ্বল জল কোরালের মতো কলবরে ভেসে নারকোলবনে কেড়ে নেয় কোরালীর ভ্রূণ; বিকেল বলেছে এই নদীটিকে: ‘শান্ত হতে হবে–’ অকূল সুপুরিবন স্থির জলে ছায়া ফেলে এক মাইল শান্তি কল্যাণ হয়ে আছে। তার ... | 0 | Miscellaneous |
499 | নিতান্ত কাঙাল | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | নিতান্তই ক্লান্ত লোকটা শুধু ছোট্ট একটা ঘরের কাঙাল। দক্ষিণের জানলা দিয়ে ধুধু অফুরন্ত মাঠ দেখবে। আর পশ্চিমের জানলা দিয়ে লাল সূর্য-ডোবা সন্ধ্যার বাহার। নিতান্তই ক্লান্ত লোকটা। শুধু ছোট্ট একটা ঘরের কাঙাল! নিতান্তই ক্লান্ত লোকটা। তাই মিষ্টি একটা মেয়ের কাঙ্গাল। যে তাকে খুনসুটি করে প্রায়ই রাত জাগাবে। বলবে, ‘কোন দিশি লোক ত... | 0 | Miscellaneous |
1086 | কে বেশি কে কম | জয় গোস্বামী | চিনতে পেরে গেছে বলে যার জিভ কেটে নিল ধর্ষণের পরে দু’হাতে দু’টো পা ধরে ছিঁড়ে ফেললো যার শিশুটিকে ঘাড়ে দু’টো কোপ মেরে যার স্বামীকে ফেলে রাখলো উঠোনের পাশে মরা অবধি মুখে জল দিতে দিল না সেই সব মেয়েদের ভেতরে যে-শোকাগ্নি জ্বলছে সেই আগুনের পাশে এনে রাখো গুলির অর্ডার দেওয়া শাসকের দু’ঘন্টা বিষাদ তারপর মেপে দ্যাখো কে বেশি কে ক... | 0 | Miscellaneous |
21 | সিন্ধু | জীবনানন্দ দাশ | বুকে তব সুর-পরী বিরহ-বিধুর গেয়ে যায়, হে জলধি, মায়ার মুকুর! কোন্ দূর আকাশের ময়ুর-নীলিমা তোমারে উতলা করে! বালুচর সীমা উলঙ্ঘি তুলিছ তাই শিরোপা তোমার,- উচ্ছৃঙ্খল অট্টহাসি,-তরঙ্গের বাঁকা তলোয়ার! গলে মৃগতৃষ্ণাবিষ, মারীর আগল তোমার সুরার স্পর্শে আশেক-পাগল! উদ্যত উর্মির বুকে অরূপের ছবি নিত্যকাল বহিছ হে মরমিয়া কবি হে দুন্দুভি দ... | 7 | Policy |
2078 | মেঘের খেয়াল | সুকুমার রায় | আকাশের ময়দানে বাতাসের ভরে, ছোট বড় সাদা কালো কত মেঘ চরে। কচি কচি থোপা থোপা মেঘেদের ছানা হেসে খেলে ভেসে যায় মেলে কচি ডানা। কোথা হতে কোথা যায় কোন্ তালে চলে, বাতাসের কানে কানে কত কথা বলে। বুড়ো বুড়ো ধাড়ি মেঘ ঢিপি হয়ে উঠে- শুয়ে ব'সে সভা করে সারাদিন জুটে। কি যে ভাবে চুপ্চাপ, কোন ধ্যানে থাকে, আকাশের গায়ে গায়ে কত ছ... | 5 | Children |
999 | মনে পড়ে সুদূরের মাস্তুল | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | পেছনে তাকালে কেন মূক হয়ে আসে ভাষা ! মনে পড়ে সেই সব দুপুরের জলাভূমি, সেই সব বেতফল, বকুল কুড়ানো ভোর, আহা সেই রাঙাদির আঁচলতলের উত্তাপ, মনে পড়ে... মনে পড়ে, বন্দরে সেই সব কালোরাত, ঈগলের মতো ডানা সেই বিশাল গভীর রাতে, একটি কিশোর এসে চুপি চুপি সাগরের কূলে দাঁড়াতো একাকী তন্ময় চোখে তার রাশি রাশি বিস্ময় নিয়ে। কবে তারে ডা... | 0 | Miscellaneous |
1691 | একটি দুটি তিনটি যুবক | পূর্ণেন্দু পত্রী | কলকাতা শহরে মাত্র একটি দুটি তিনটি মানুষ এখনো যুবক হয়ে আছে স্বেচ্ছাচারে। ফুটবলের মতো তারা কারো পায়ে থাকে না কখনো। ক্রিকেট ব্যাটের মতো ঘূর্ণি বলে যৌবনের জৌলুস হাঁকায়। একেকটি শীত আসে একেকটি যুবক খসে পড়ে। উল্কাবৃন্তচ্যুত তারা আকাশের কিনারা হারিয়ে সরপুটি, চাঁদা পুটি, অল্প জলে অতিকায় খেলা। হে গভীর! এখানে এসো না। কলকাতার ক্ষণ... | 2 | Metaphor |
303 | মেয়েটি | তসলিমা নাসরিন | মেয়েটি একা, মেয়েটি অসহ্য রকম একা, এরকমই সে একা, এরকম নির্লিপ্তি আর জগতের সকল কিছুতে তার নিস্পৃহতা নিয়ে একা, এভাবেই সে বেঁচে আছে দীর্ঘ দীর্ঘ কাল নির্বাসনে। কেবল কলকাতাই তরঙ্গ তোলে মেয়েটির স্থির হয়ে থাকা জলে, কেবল কলকাতাই তাকে বারবার নদী করে দেয়, কলকাতাই কানে কানে ভালো থেকো মন্ত্র দেয়। কেবল কলকাতাই। কলকাতার ধুলোয়... | 0 | Miscellaneous |
838 | মহা নিমগাছ | শঙ্খ ঘোষ | ঈশানে নৈঋতে দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে মাটির উপর মুখ রেখে সে এখন শুয়ে আছে শেষ রাতের খোলা প্রান্তরে আর কেউ নেই শুধু তার পিঠের দিকে তাকিয়ে আছে লক্ষ লক্ষ তারা হাতের ডানায় লেগে আছে ঘাসের সবুজ, বুকে ভেজা মাটি এইটুকু ছাতা যেন কোনো কোমলতা ছিল না কোথাও কোনোখানে তারপর আকাশ আর পৃথিবীর ঢাকনা খুলে বেরিয়ে আসে ভোর এসে দেখে : যেখানে স... | 0 | Miscellaneous |
260 | আজ বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজ বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে; চলেছে গরজি, চলেছে নিবিড় সাজে। হৃদয়ে তাহার নাচিয়া উঠিছে ভীমা, ধাইতে ধাইতে লোপ ক'রে চলে সীমা, কোন্ তাড়নায় মেঘের সহিত মেঘে, বক্ষে বক্ষে মিলিয়া বজ্র বাজে। বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে। পুঞ্জে পুঞ্জে দূর সুদূরের পানে দলে দলে চলে, কেন চলে নাহি জানে। জানে না কিছুই কোন্ মহাদ্রিতলে গভীর শ্রা... | 9 | Nature |
1782 | কথা ছিল এক-তরীতে কেবল তুমি আমি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কথা ছিল এক-তরীতে কেবল তুমি আমি যাব অকারণে ভেসে কেবল ভেসে, ত্রিভুবনে জানবে না কেউ আমরা তীর্থগামী কোথায় যেতেছি কোন্ দেশে সে কোন্ দেশে। কূলহারা সেই সমুদ্র-মাঝখানে শোনাব গান একলা তোমার কানে, ঢেউয়ের মতন ভাষা-বাঁধন-হারা আমার সেই রাগিণী শুনবে নীরব হেসে। আজো সময় হয় নি কি তার, কাজ কি আছে বাকি। ওগো ওই-যে সন্ধ্যা নামে সাগরতীরে।... | 2 | Metaphor |
2129 | হনহন পনপন | সুকুমার রায় | চলে হনহন ছোটে পনপন ঘোরে বনবন কাজে ঠনঠন বায়ু শনশন শীতে কনকন কাশি খনখন ফোঁড়া টনটন মাছি ভনভন থালা ঝন ঝন। | 5 | Children |
166 | মানুষের সাথে থাকো | মহাদেব সাহা | যতোই ব্যথিত হও মানুষের সান্নিধ্য ছেড়ো না মানুষের সাথে থাকো সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে, যতোই আঘাত পাও মানুষকে কিছুতে ছেড়ো না যখন কিচুই নেই মনে রেখো, তখনো সর্বশেষ আশা এই মানুষ; সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও তোমার পাশে এসে মানুষই দাঁড়াবে ফুল যখন ফুটবে না, পাখি যখন গাইবে না কেবল আকাশ-বাতাস মথিত করে আসবে ধ্বংস, আসবে মৃত্যু তখনো মান... | 4 | Humanity |
2053 | কাজলা দিদি | যতীন্দ্রমোহন বাগচী | বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে লেবুর তলে, থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই, মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই? সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো; দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি তখন, ও-ঘর থেকে ক... | 3 | Separation |
1945 | দুপুরবেলায় নিলাম | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | অকস্মাৎ কে চেঁচিয়ে উঠল রক্তে ঝাঁকি দিয়ে “নিলাম, নিলাম, নিলাম!” আমি তোমার বুকের মধ্যে উঁকি মারতে গিয়ে চমকে উঠেছিলাম। অথচ কেউ কোথাও নেই তো, খাঁ-খাঁ করছে বাড়ি, পিছন দিকে ঘুরে দেখেছিলাম, রেলিং থেকে ঝাঁপ দিয়েছে শাড়ি একগলা রোদ্দুরে। বারান্দাটা পিছন দিকে, ডাইনে-বাঁয়ে ঘরে, সামনে গাছের সারি। দৃশ্যটা খুব পরিচিত, এখনও পর-পর সাজিয়... | 3 | Separation |
687 | এ জীবন আমার নয় | মহাদেব সাহা | এ জীবন আমার নয়, আমি বেঁচে আছি অন্য কোনো পাখির জীবনে, কোনো উদ্ভিদের জীবনে আমি বেঁচে আমি লতাগুল্ম-ফুলের জীবনে; মনে হয় চাঁদের বুকের কোনো আদিম পাথার আমি ভস্মকণা, ভাসমান একটু শ্যাওলা আমি; এই যে জীবন দেখছো এ জীবন আমার নয় আমি বেঁচে আছি বৃক্ষের জীবনে, পাখি, ফুল, ঘাসের জীবনে। আমি তো জন্মেই মৃত, বেঁচে আছি অন্য এক জলের উদ্ভিদ-... | 0 | Miscellaneous |
847 | কবে | সুকান্ত ভট্টাচার্য | অনেক স্তব্ধ দিনের এপারে চকিত চুতুর্দিক, আজো বেঁচে আছি মৃত্যুতাড়িত আজো বেঁচে আছি ঠিক। দুলে ওঠে দিন; শপথমুখর কিষাণ শ্রমিকপাড়া, হাজারে হাজারে মাঠে বন্দরে আজকে দিয়েছে সাড়া। জ'লে আলো আজ, আমাদের হাড়ে জমা হয় বিদ্যুৎ, নিহত দিনের দীর্ঘ শাখায় ফোটে বসন্তদূত। মূঢ় ইতিহাস; চল্লিশ কোটি সৈন্যের সেনাপতি। সংহত দিন, রুখবে কে এই এ... | 0 | Miscellaneous |
2173 | তোমাকে যাইনি ছেড়ে | মহাদেব সাহা | তোমাকে যাইনি ছেড়ে আম-জাম কাঁঠালের বন, অশ্বত্থ-হিজল-বট, ঘুঘু-ডাকা চৈত্রের দুপুর- এই খেয়াঘাট পার হয়ে কতো আত্মীয়-বান্ধব চলে গেছে, এই গাঁয়ের হালট ধরে চলে গেছে নয়াদা ও রাঙা বৌদি আঁচলে চোখের জল মুছতে মুছতে কাকিমা ও তার কিশোরী মেয়েটি; সেই কবে মামাদের এতো বড়ো রায়বাড়ি শূন্য হয়ে গেছে- শিশুদি ও উষা পিসিমার কথা আজকাল বড... | 6 | Patriotic |
1931 | পঁচিশ বছর পরে (মাঠের গল্প) | জীবনানন্দ দাশ | শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে- বলিলামঃ ‘ একদিন এমন সময় আবার আসিও তুমি- আসিবার ইচ্ছা যদি হয়; পঁচিশ বছর পরে ।‘ এই ব’লে ফিরে আমি আসিলাম ঘরে; তারপর, কতবার চাঁদ আর তারা, মাঠে- মাঠে মরে গেল, ইঁদুর – পেঁচারা জ্যোৎস্নায় ধানক্ষেত খুঁজে এল-গেল ! – চোখ বুজে কতবার ডানে আর বাঁয়ে পড়িল ঘুমায়ে কত- কেউ !- রহিলাম জেগে আমি এক... | 3 | Separation |
832 | অন্ধকারে, একলা মানুষ | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | ঠাট্টা, হাসি, গান, কলরব যেই থেমেছে, দূরে কাছে দেখছি পথের সঙ্গীরা সব স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাপার কী, আর গল্প কি নেই? রাস্তাটা যে অনেক বাকি। চোখ তুলে কালপুরুষ দেখেই ফুরিয়ে গেল সব কথা কি? সত্যি ছিল সঙ্গীরা? ধুস্। মধ্যরাতে পথের ধারে এই তো আমি একলা মানুষ দাঁড়িয়ে আছি অন্ধকারে। | 0 | Miscellaneous |
369 | নীরার অসুখ | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | নীরার অসুখ হলে কলকাতার সবাই বড় দুঃখে থাকে সূর্য নিভে গেলে পর, নিয়নের বাতিগুলি হঠাৎ জ্বলার আগে জেনে নেয় নীরা আজ ভালো আছে? গীর্জার বয়স্ক ঘড়ি, দোকানের রক্তিম লাবণ্য–ওরা জানে নীরা আজ ভালো আছে! অফিস সিনেমা পার্কে লক্ষ লক্ষ মানুষের মুখে মুখে রটে যায় নীরার খবর বকুলমালার তীব্র গন্ধ এসে বলে দেয়, নীরা আজ খুশি হঠাৎ উদাস হা... | 0 | Miscellaneous |
1742 | আজ আমার মনে ত না মানেরে | জসীম উদ্দীন | আজ আমার মনে ত না মানেরে সোনার চান, বাতাসে পাতিয়া বুকরে শুনি আকাশের গান। আজ নদীতে উঠিয়া ঢেউ আমার কূলে আইসা লাগে, রাতের তারার সাথে ঘরের প্রদীপ জাগেরে। চান্দের উপর বসাইয়ারে যেবা গড়ছে চান্দের বাসা, আজ দীঘিতে শাপলা ফুটে তারির লয়ে আশারে। উড়িয়া যায় হংসরে পঙ্খী, যায়রে বহুত দূর, আজ তরলা বাঁশের বাঁশী টানে সেই সুররে। আজ কাঙ্খের ক... | 2 | Metaphor |
1348 | আষাঢ়ের রাত | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | লণ্ঠনের সামান্য আলোয় অসামান্য হয়ে ওঠে আষাঢ়ের বৃষ্টিঝরা রাত বাইরে আঁধার ক্রমে জমে ওঠে , বাতাসের দুপদাপ বেড়ে বেড়ে সুতীক্ষ্ণ শিসের মতো হয় এমন সময়ে তুমি দাঁড়ালে দরজায়, সেই তুমি একদিন যার চোখে রেখেছি এ চোখ শিমুল ওড়ানো পথে যার হাতে ছুঁয়েছি এ হাত হোস্টেল পালিয়ে আসা যার ঠোঁটে গোধূলির মসৃণ আলোয় ছুঁয়েছি এ ঠোঁট । বাইরে জলের শব্দ ... | 1 | Love |
1058 | মানুষের হৃদয়ে ফুটেছি | নির্মলেন্দু গুণ | গতকাল ছিল কালো-লালে মেশা একটি অদ্ভুত টুনটুনি । লাফাচ্ছিল ডাল থেকে ডালে, পাতার আড়ালে, ফুল থেকে ফুলে । তার সোনামুখী ঠোঁট, যেন কলমের ডগায় বসানো একরত্তি হীরে । প্রতিটি আঁচড়ে কেটে ভাগ করছিল ফুল থেকে মধু, মধু থেকে ফুল; আমার সমস্ত কলতল ভেসে যাচ্ছিল রক্তকরবীর মধুস্রোতে । আজ সকাল থেকেই রক্তকরবীর ডালে ফুলের আগুন-জ্বলা হাত; ফু... | 0 | Miscellaneous |
678 | আমার ফেলতে হবে আরো অশ্রুজল | মহাদেব সাহা | আমার ফেলতে হবে আরো অশ্রুজল, আমাকে ভাঙতে হবে আরো দীর্ঘ পথ আমি জানি আমার ঝরাতে হবে আরো রক্ত ঘাম; অন্য কারো কথা আমি বলতে পারি না, তবে আমার ঠিকই জানি আরো অনেক মোছাতে হবে নগ্ন পদতল, সবার পায়ের নিচে আরো বহু হতে হবে ঘাস আমাকে সরাতে হবে আরো অনেক পথের তীক্ষ্ণ কাঁটা; আমি জানি না হলে আমার এই ব্যর্থ হাতে ফুটবে না কোনো তুচ্ছ ফুল, ... | 0 | Miscellaneous |
25 | এক আল্লাহ জিন্দাবাদ | কাজী নজরুল ইসলাম | উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ; আমরা বলিব সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ। উহারা চাহুক সংকীর্ণতা, পায়রার খোপ, ডোবার ক্লেদ, আমরা চাহিব উদার আকাশ, নিত্য আলোক, প্রেম অভেদ। উহারা চাহুক দাসের জীবন, আমরা শহীদি দরজা চাই; নিত্য মৃত্যু-ভীত ওরা, মোরা মৃত্যু কোথায় খুঁজে বেড়াই! ওরা মরিবেনা, যুদ্ব বাধিঁলে ওরা লুকা... | 7 | Policy |
2036 | অভিশাপ | কাজী নজরুল ইসলাম | যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে! ছবি আমার বুকে বেঁধে পাগল হ’লে কেঁদে কেঁদে ফিরবে মর” কানন গিরি, সাগর আকাশ বাতাস চিরি’ যেদিন আমায় খুঁজবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে! স্বপন ভেঙে নিশুত্ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে, কাহার যেন চেনা-ছোঁওয়ায় উঠবে ও-বুকে ছমকে,- জাগবে হঠাৎ... | 3 | Separation |
419 | স্পর্শটুকু নাও | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | স্পর্শটুকু নাও আর বাকি সব চুপ ছেঁড়া পৃষ্ঠা উড়ে যায়, না-লেখা পৃষ্ঠাও কিছু ওড়ে হিমাদ্রি-শিখর থেকে ঝুঁকে-জড়া জলাপ্রপাতের সবই আছে শুধু যেন শব্দরাশি নেই স্পর্শটুকু নাও আর বাকি সব চুপ ভোর আনে শালিকেরা, কোকিল ঘুমন্ত, আর জেগে আছে দেবদারু বন নীলিমার হিম থেকে খসে যায় রূপের কিরীট স্পর্শটুকু নাও আর বাকি সব চুপ বেলা গেল, শোনো... | 0 | Miscellaneous |
1658 | ভুলে-ভরা আমার জীবন | মহাদেব সাহা | ভুলে-ভরা আমার জীবন, প্রতিটি পৃষ্ঠায় তার অসংখ্য বানান ভুল এলোমেলো যতিচিহ্ন; কোথাও পড়েনি ঠিক শুদ্ধ অনুচ্ছেদ আমার জীবন সেই ভুলে-ভরা বই, প্রুফ দেখ হয়নি কখনো। প্রতিটি পাতায় তাই রাশি রাশি ভুল, ভুল কাজ, ভুল পদক্ষেপ আমার জীবন এ আগাগোড়া ভুলের গণিত, এই ভুল অঙ্ক আমি সারাটি জীবন ধরে কষে কষে মেলাতে পারিনি ফল তার শুধু শূন্য, শুধু শূ... | 2 | Metaphor |
1215 | চৈত্রের চিঠি | মহাদেব সাহা | চৈত্রের এই শেষ রজনীতে তোমাকে পাঠাই বিব্রত খাম, লিখেছি কি তাতে ঠিক মনে নেই তবু এই চিঠি, এই উপহার! তোমার খামে কি আদৌ লিখেছি স্বপ্নের মতো স্মরণীয় নাম? তাও মনে নেই; আমি শুধু জানি তবু এই চিঠি তোমারই জন্যে। যদি কোনোদিনও মলিন চিঠিটি পৌঁছবে না গিয়ে সেই ঠিকানায় বছর এমনি আসবে ও যাবে, ভাসবে না তবু যুগল কলস! আমি বসে আছি, তুমিও কি ... | 1 | Love |
2006 | সুখের বাসর | জসীম উদ্দীন | নয়া জমিদার আদিলদ্দীন ধরি সকিনারে হাত, কহিল, চল গো সোনার বরণী, মোর ঘরে মোর সাথ! মালার মতন করিয়া তোমারে পরিয়া রাখিব গলে, পঙ্খী করিয়া পুষিব তোমারে উড়াব আকাশ ভরি, আমার দুনিয়া রঙিন করিব তোমারে মেহেদী করি। সকিনা কহিল, আপনি মহান, হতভাগিনীর তরে, যাহা করেছেন জিন্দেগী যাবে ঋণ পরিশোধ করে। তবুও আমারে ক্ষমা করিবেন, আপনার ঘরে ... | 3 | Separation |
468 | একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট | জয় গোস্বামী | একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট অন্যটিতে আরম্ভের ডানা ছড়ানো ঈগল ছোঁ মেরে ওঠে আবার, তার নখে সরীসৃপ পায়ের গোছে শিকল একটি শুভ আরম্ভের মাঙ্গলিক ঘট ঘটের নীচে সাপের চোখ, মণি বুড়ো আঙুল কেটে দেওয়ার পরেও বাকি থাকে কলম, তর্জনী মাটির কান, মাটির নীচে রক্ত চলাচল– ভূর্গভের হৃদয় নড়ে–ওষ্ঠ? নড়ে তা-ও! দুঃখ তার কণ্ঠা ক্ষুর দিয়ে ফা... | 0 | Miscellaneous |
244 | নদীপথে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গগন ঢাকা ঘন মেঘে, পবন বহে খর বেগে। অশনি ঝনঝন ধ্বনিছে ঘন ঘন, নদীতে ঢেউ উঠে জেগে। পবন বহে খর বেগে। তীরেতে তরুরাজি দোলে আকুল মর্মর-রোলে। চিকুর চিকিমিকে চকিয়া দিকে দিকে তিমির চিরি যায় চলে। তীরেতে তরুরাজি দোলে। ঝরিছে বাদলের ধারা বিরাম-বিশ্রামহারা। বারেক থেমে আসে, দ্বিগুণ উচ্ছ্বাসে আবার পাগলের পারা ঝরিছে বাদলের ধারা। মেঘেত... | 9 | Nature |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.