id stringlengths 1 4 | title stringlengths 1 362 | author stringclasses 40
values | poem stringlengths 30 15.4k | label int64 0 10 | label_name stringclasses 11
values |
|---|---|---|---|---|---|
1747 | বামুন বাড়ির মেয়ে | জসীম উদ্দীন | বামুন বাড়ির মেয়ে, কাঁচা রোদের বরণ ঝরে গা-খানি তার বেয়ে- সে রোদ দেখা যায়, যেমনি বনের পাতার ফাঁকে, শিশু-রবির টুকরো আলো ছড়ায় ঝাঁকে ঝাঁকো; তেমনি তাহার বসন বেয়ে, আঁচলখানি বেয়ে, যে পথ দিয়ে চলে সে পথ রূপে যে যায় নেয়ে। এই গাঁয়েতে আধলা পুকুর, পচা কাজল জল; বেঙের ছাতি তাহার বুকে ভাসছে অবিরল। সেখানেতে পানার বহর মশার দলের সনে, চিরস... | 2 | Metaphor |
1910 | একটি পতাকা পেলে | হেলাল হাফিজ | কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে আমি আর লিখবো না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন,–’পেয়েছি, পেয়েছি’। কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে। কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে ভূমিহীন মনুমি... | 2 | Metaphor |
1760 | মনকে, আমার কায়াকে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মনকে, আমার কায়াকে, আমি একেবারে মিলিয়ে দিতে চাই এ কালো ছায়াকে। ওই আগুনে জ্বালিয়ে দিতে, ওই সাগরে তলিয়ে দিতে, ওই চরণে গলিয়ে দিতে, দলিয়ে দিতে মায়াকে-- মনকে, আমার কায়াকে। যেখানে যাই সেথায় একে আসন জুড়ে বসতে দেখে লাজে মরি, লও গো হরি এই সুনিবিড় ছায়াকে মনকে, আমার কায়াকে। তুমি আমার অনুভাবে কোথাও নাহি বাধা পাবে, পূর্ণ একা দেবে দে... | 2 | Metaphor |
2084 | হুলোর গান | সুকুমার রায় | বিদ্ঘুটে রাত্তিরে ঘুট্ঘুটে ফাঁকা, গাছপালা মিশ্মিশে মখ্মলে ঢাকা! জট্বাঁধা ঝুল কালো বটগাছতলে, ধক্ধক্ জোনাকির চক্মকি জ্বলে। চুপচাপ চারিদিকে ঝোপ ঝাড়গুলো, আয় ভাই গান গাই আয় ভাই হুলো। গীত গাই কানে কানে চীৎকার ক'রে, কোন্ গানে মন ভেজে শোন্ বলি তোরে। পূবদিকে মাঝরাতে ছোপ্ দিয়ে রাঙা রাতকানা চাঁদ ওঠে আধখানা ভাঙা। চট্ ক... | 5 | Children |
2164 | তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা | শামসুর রাহমান | তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ? আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ? তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা, সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো, সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর। তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা, শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো দানবের মত চিৎকার করতে করতে তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধ... | 6 | Patriotic |
799 | বিরুদ্ধাচরণ | পূর্ণেন্দু পত্রী | শিল্পের শৃঙ্খলা ভেঙে, নৈতিকতা ভেঙে তুমি যদি বায়ুমুখ নৈরাজ্যের কুহকে বাঁকিয়ে নিজের সিদ্ধিকে ভাবো সভ্যতারই আরও উত্তরণ বিরুদ্ধাচরণ ব্রত হবে। যে গেলাসই জল দেয় ছুঁড়ে ভাযো, অথচ তোমার জল চাই মুহুর্মুহু, জল চাই, জলস্তম্ভ চাই। সমস্ত গেলাস ভেঙে, জলাধার ভেঙে যদি চাও নিরাপদ সমুদ্র-শোষণ, বিরুদ্ধাচরণ ব্রত হবে। তোমার মোহর থেকে ঝল... | 0 | Miscellaneous |
427 | হিংসার উপরে কালো ঘাস | জয় গোস্বামী | হিংসার উপরে কালো ঘাস নীচে হাড়, মাটি জমা খুলি কারোর জানার কথা নয় মালসার মতো গোল পৃথিবী মুখের কাছে ধ’রে ভেতরের হাড় মাটি কয়লা তেল লোহা ফেলে দিয়ে, ফাঁকা ওই করোটিতে আমি রাত্রিভোর সশব্দ খাঁকারে রক্ত, দমকে দমকে রক্ত, ফেলি তলায় আকাশ বয়ে যায় | 0 | Miscellaneous |
2043 | প্রস্থান | হেলাল হাফিজ | এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিয়ো৷ এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালী তাল পাখাটা খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পত্র দিয়ো৷ ক্যালেন্ডারের কোন পাতাটা আমার মতো খুব ব্যথিত ডাগর চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে, পত্র দিয়ো৷ কোন কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে কোন স্মৃতিটা উস্কানি দেয় ভাসতে বলে প্রেমের বানে পত্র দিয়... | 3 | Separation |
702 | তোমরা হয়তো পারো | মহাদেব সাহা | তোমাদের পক্ষে সম্ভব তোমরা এক ধমকে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে দিতে পারো বেয়াড়া বাসটি তোমাদের গলার শব্দেই কেঁপে ওঠে, তোমরা চুলের ঝুঁটি ধরে শাসন করতে পারো এই শহরকে গ্রামের তো কথাই নেই হাঁক না দিতেই তটস্ত; তোমাদের সবাই সমীহ করে, উঠতে বসতে তোমাদের নিয়ে সবাই ব্যস্ত তোমরা চোখ তুলে তোকাতেই লাইটপোস্টগুলোও কেমন বিব্রত হয়ে যায় তোমা... | 0 | Miscellaneous |
1066 | স্বপ্ন | জীবনানন্দ দাশ | পান্ডুলিপি কাছে রেখে ধূসর দীপের কাছে আমি নিস্তব্ধ ছিলাম বসে; শিশির পড়িতেছিল ধীরে ধীরে খসে; নিমের শাখার থেকে একাকীতম কে পাখি নামি উড়ে গেল কুয়াশায়-কুয়াশায় থেকে দূর কুয়াশায় আরো। তাহারই পাখার হাওয়া প্রদীপ নিভায়ে গেল বুঝি? অন্ধকার হাতড়ায়ে ধীরে ধীরে দেশলাই খুঁজি; যখন জ্বালিব আলো কার মুখ দেখা যাবে বলিতে কি পারো? ক... | 0 | Miscellaneous |
412 | কথা ছিল | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | সামনে দিগন্ত কিংবা অনন্ত থাকার কথা ছিল অথচ কিছুটা গিয়ে দেখি কানা গলি ঘরের ভিতরে কিচু গোপন এবং প্রিয় স্মৃতিচিহ্ন থেকে যাওয়া উচিত ছিল না? নেই, এই দুৎখ আমি কার কাছে বলি! সমস্ত নারীর মধ্যে একজনই নারীকে খুঁজেছি এ-রকমই কথা ছিল স্নিগ্ধ ঊষাকালে প্রবল স্রোতের মতো প্রতিদিন ছুটে চলে যায় জন্ম থেকে বারবার খসে পড়ে আলো রাত্রির জ... | 0 | Miscellaneous |
2193 | আমার জন্ম | নির্মলেন্দু গুণ | তপ শেষে যখন বাল্মীকি তাঁর মুদিত নয়ন খুলিলেন, দেখিলেন লব নেই; চোখের সমুখে দিগন্তবিস্তৃত ধু-ধু শূন্য তপোবন প’ড়ে আছে৷ ‘কোথা লব, কোথা লব? ফিরে আয়৷’ ডাকিলেন মুনি, ফিরে এলো প্রতিধ্বনি, শিশু লব দিলো না উত্তর৷ এ কোন্ বিধির লীলা, ভাবিলেন চিন্তক্লীষ্ট মুনি: ‘শুন্য হাতে কী মুখে যাইব আজ সেই পূণ্যাশ্রমে, – যেখানে অকল্পনীয় লব-হী... | 6 | Patriotic |
1283 | হিংসে করে | পূর্ণেন্দু পত্রী | তোমার ওষ্ঠ করবী গাছ বাল্যকালের শিউলিতলা পরিব্রাজক কোঁচড় ভর্তি কুড়িয়ে নিলেও অনেক থাকে আঁচল পাতার উচ্চাভিলাষ। মেঘ কখনো ফুরোয় নাকো হাজার দাঁতে কামড়ে খেলেও আক্রমণে বৃষ্টি থেকে আঁজলা নিলে বৃষ্টি থাকে সেই যুবতী উচ্ছৃসিত। তোমার থেকে যা কিছু নিই জলন্ত মোম সব গলে যায় আগুন থাকে। হিংসে করে, হিংস্র করে তোমাকে কোনো ধুপের রাতে ধ্বংস... | 1 | Love |
2130 | বাক বাক্ কুম পায়রা | রোকনুজ্জামান খান | বাক বাক্ কুম পায়রা মাথায় দিয়ে টায়রা বউ সাজবে কাল কি চড়বে সোনার পালকি। | 5 | Children |
1807 | রক্তের মুখ | আবুল হাসান | আহত শাবক শেষে আউড়ে নিল রক্তের ক্লিষ্ট ধ্রুপদী নিহত রক্তের স্রোতে শেষবার দেখে নিল পৃথিবীর মুখ উত্তপ্ত দেহের গায়ে এঁকে নিয়ে স্থিতির সুখ প্রার্থনায় আওড়ালে, ওহে প্রভু আর একটু বেচে থাকি যদি... আর বানরের শেষ দৃশ্যে বনমোরগের দুটো পাখা উড়ন্ত বিলাসে তার নায়কের কথা তুলে নিয়ে প্রত্যুত্তরে জানালো সে প্রতিবাদে, কেঁপে গেল জা... | 2 | Metaphor |
1905 | ক্যাকটাস | হেলাল হাফিজ | দারুন আলাদা একা অভিমানী এই ক্যাকটাস। যেন কোন বোবা রমণীর সখী ছিলো দীর্ঘকাল কিংবা আজন্ম শুধু দেখেছে আকাল এরকম ভাব-ভঙ্গি তার। ধ্রুপদী আঙিনা ব্যাপী কন্টকিত হাহাকার আর অবহেলা, যেন সে উদ্ভিদ নয় তাকালেই মনে হয় বিরান কারবালা। হয় তো কেটেছে তার মায়া ও মমতাহীন সজল শৈশব অথবা গিয়েছে দিন এলোমেলো পরিচর্যাহীন এক রঙিন কৈশোর, নাকি ... | 2 | Metaphor |
2150 | প্রিয়তমাসু | সুকান্ত ভট্টাচার্য | সীমান্তে আজ আমি প্রহরী। অনেক রক্তাক্ত পথ অতিক্রম ক'রে আজ এখানে এসে থমকে দাড়িয়েছি- স্বদেশের সীমানায়। ধূসর তিউনিসিয়া থেকে স্নিগ্ধ ইতালী, স্নিগ্ধ ইতালী থেকে ছুটে গেছি বিপ্লবী ফ্রান্সে নক্ষত্রনিয়ন্ত্রিত নিয়তির মতো দুর্নিবার, অপরাহত রাইফেল হাতে; - ফ্রান্স থেকে প্রতিবেশী বার্মাতেও। আজ দেহে আমার সৈনিকের কড়া পোশাক, হাতে... | 6 | Patriotic |
1989 | কমল-কাঁটা | কাজী নজরুল ইসলাম | আজকে দেখি হিংসা-মদের মত্ত-বারণ-রণে জাগ্ছে শুধু মৃণাল-কাঁটা আমার কমল-বনে। উঠল কখন ভীম কোলাহল, আমার বুকের রক্ত-কমল কে ছিঁড়িল-বাঁধ-ভরা জল শুধায় ক্ষণে ক্ষণে। ঢেউ-এর দোলায় মরাল-তরী নাচ্বে না আন্মনে।। কাঁটাও আমার যায় না কেন, কমল গেল যদি! সিনান-বধূর শাপ শুধু আজ কুড়াই নিরবধি! আস্বে কি আর পথিক-বালা? প’রবে আমার মৃণাল-মালা? আ... | 3 | Separation |
1794 | হারাধনের দশটি ছেলে | যোগীন্দ্রনাথ সরকার | হারাধনের দশটি ছেলে ঘোরে পাড়াময়, একটি কোথা হারিয়ে গেল রইল বাকি নয়। হারাধনের নয়টি ছেলে কাটতে গেল কাঠ, একটি কেটে দু’খান হল রইল বাকি আট। হারাধনের আটটি ছেলে বসলো খেতে ভাত, একটির পেট ফেটে গেল রইল বাকি সাত। হারাধনের সাতটি ছেলে গেল জলাশয়, একটি সেথা ডুবে ম’ল রইল বাকি ছয়। হারাধনের ছয়টি ছেলে চ’ড়তে গেল গাছ, একটি ম’ল পিছলে পড়ে রইল ... | 2 | Metaphor |
657 | কোনো বাস নেয় না আমাকে | মহাদেব সাহা | আজীবন শুধু হাঁটছি আমি নারী, তার দেয়া সংসারের ব্যস্ততা নিয়ে দ্রত দৌড়চ্ছি কেবল সে আমার ইন্দ্রিয়ে জন্ম দিয়ে গেছে কাজ ভালোবাসা, প্রলোভন মানবিক ব্যবহার নারী তার দিয়ে গেছে দুচোখের গুপ্ত ঠিকানা তার সঙসারের সন্তানের অভিলাষ নিয়ে তার সে চোখের ইমেজ হাতে আমি দৌড়চ্ছি কেবল ; স্টপেজে স্টপেজে যাই হাত তুলি, ডেকে বলি, শুনুন আমাক... | 0 | Miscellaneous |
1548 | বউ | নির্মলেন্দু গুণ | কে কবে বলেছে হবে না? হবে,বউ থেকে হবে । একদিন আমিও বলেছিঃ 'ওসবে হবে না ।' বাজে কথা। আজ বলি, হবে, বউ থেকে হবে । বউ থেকে হয় মানুষের পুনর্জন্ম, মাটি,লোহা, সোনার কবিতা, ---কী সে নয়? গোলাপ, শেফালি, যুঁই, ভোরের আকাশে প্রজাপতি, ভালোবাসা, ভাগ্য, ভাড়াবাড়ি ইতিপূর্বে এভাবে মিশেনি । ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, দুইজন্ম এবার মিশেছে, দেখ... | 1 | Love |
1046 | জীবন একটি নদীর নাম | রফিক আজাদ | জীবন একটি নদীর নাম, পিতামাতার ঐ উঁচু থেকে নেমে-আসা এক পাগলা ঝোরা— ক্রমশ নিম্নাভিমুখী; পাথুরে শৈশব ভেঙে কৈশোরের নুড়িগুলি বুকে নিয়ে বয়ে চলা পরিণামহীন এক জলধারা— গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে বেলে-এঁটেল-দোআঁশ মাটি ভেঙে-ভেঙে সামনে চলা এক ক্ষুদ্র স্রোতস্বিনী; এই বয়ে চলা পথে বিভিন্ন বৃক্ষের সঙ্গে চলে দ্বিরালাপ; একবার এক বৃদ্ধ অশ্বথে... | 0 | Miscellaneous |
1159 | হিমযুগ | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | শরীরের যুদ্ধ থেকে বহুদূর চলে গিয়ে ফিরে আসি শরীরের কাছে কথা দিয়েছিলে তুমি উদাসীন সঙ্গম শেখাবে- শিশিরে ধুয়েছো বুক, কোমল জ্যোঃস্নার মতো যোনি মধুকূপী ঘাসের মতন রোম, কিছুটা খয়েরি কথা দিয়েছিলে তুমি উদাসীন সঙ্গম শেখাবে- আমার নিশ্বাস পড়ে দ্রুত, বড়ো ঘাম হয়, মুখে আসে স’তি কথা দিয়েছিলে তুমি উদাসীন সঙ্গম শেখাবে। নয় ক্রুদ্ধ যুদ্ধ, ... | 1 | Love |
1589 | অচল প্রেমের পদ্য - ০১ | হেলাল হাফিজ | আছি। বড্ড জানান দিতে ইচ্ছে করে, – আছি, মনে ও মগজে গুন্ গুন্ করে প্রণয়ের মৌমাছি। | 1 | Love |
797 | অলৌকিক | পূর্ণেন্দু পত্রী | অলৌকিক এইভাবে ঘটে। হঠাৎ একদিন ফাঁক হয়ে যায় সাদাসিধে ঝিনুক, ভিতর থেকে ঠিকরে বেরোয় সাদা জ্যোৎস্না। সেদিন মুক্তোর মতো গড়িয়ে এলে আমার হাতে। অমনি বদলে গেল দৃশ্য। আমার ডান দিকে ছিল মেঘলা দিন হয়ে গেল ডালিম-ফাটানো রোদ। আর বাঁদিকে ছিল ইটের পাঁজা হয়ে গেল লাল টালির ডাকবাংলো। অলৌকিক এইভাবে ঘটে। | 0 | Miscellaneous |
2033 | অচল প্রেমের পদ্য - ১৩ | হেলাল হাফিজ | তুমি আমার নিঃসঙ্গতার সতীন হয়েছ ! | 3 | Separation |
964 | রাখাল ছেলে | জসীম উদ্দীন | “রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! বারেক ফিরে চাও, বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?” ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা গাঁ, কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা, সেথায় আছে ছোট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া, সাঁঝ-আকাশের ছড়িয়ে-পড়া আবীর রঙে নাওয়া, সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা- সেথায় যাব, ও ভাই এবার আমায় ছাড় না।” “র... | 0 | Miscellaneous |
1140 | আরও প্রেম দিও | তসলিমা নাসরিন | আরও প্রেম দিও আমাকে, এত অল্প প্রেমে আমার হয় না, আমি পারি না। আরও প্রেম দিও, বেশি বেশি প্রেম দিও যেন আমি রেখে কুলিয়ে উঠতে না পারি, যেন চোখ ভরে, হৃদয়ের সবকটি ঘর যেন ভরে যায় যেন শরীর ভরে, এই তৃষ্ণার্ত শরীর। প্রেম দিতে দিতে আমাকে অন্ধ করে দাও, বধির করে দাও, আমি যেন শুধু তোমাকেই দেখি, কোনও ঘৃণা, কোনও রক্তপাত যেন আমাকে দেখতে... | 1 | Love |
1598 | বিদায়-স্মরণে | কাজী নজরুল ইসলাম | পথের দেখা এ নহে গো বন্ধু এ নহে পথের আলাপন। এ নহে সহসা পথ-চলা শেষে শুধু হাতে হাতে পরশন।। নিমেষে নিমেষে নব পরিচয়ে হ’লে পরিচিত মোদের হৃদয়ে, আসনি বিজয়ী-এলে সখা হ’য়ে, হেসে হ’রে নিলে প্রাণ-মন।। রাজাসনে বসি’ হওনি ক’ রাজা, রাজা হ’লে বসি, হৃদয়ে, তাই আমাদের চেয়ে তুমি বেশী ব্যথা পেলে তব বিদায়ে। আমাদের শত ব্যথিত হৃদয়ে জাগি... | 1 | Love |
1717 | ধান কাটা হয়ে গেছে | জীবনানন্দ দাশ | ধান কাটা হয়ে গেছে কবে যেন — ক্ষেত মাঠে পড়ে আছে খড় পাতা কুটো ভাঙা ডিম — সাপের খোলস নীড় শীত। এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতর ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ — কেমন নিবিড়। ওইখানে একজন শুয়ে আছে — দিনরাত দেখা হত কত কত দিন হৃদয়ের খেলা নিয়ে তার কাছে করেছি যে কত অপরাধ; শান্তি তবু: গভীর সবুজ ঘাস ঘাসের ফড়িং আজ ঢেকে আছে তার চিন্তা আ... | 2 | Metaphor |
309 | সর্বদেহের ব্যাকুলতা কী বলতে চায় বাণী | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সর্বদেহের ব্যাকুলতা কী বলতে চায় বাণী, তাই আমার এই নূতন বসনখানি। নূতন সে মোর হিয়ার মধ্যে দেখতে কি পায় কেউ। সেই নূতনের ঢেউ অঙ্গ বেয়ে পড়ল ছেয়ে নূতন বসনখানি। দেহ-গানের তান যেন এই নিলেম বুকে টানি। আপনাকে তো দিলেম তারে, তবু হাজার বার নূতন করে দিই যে উপহার। চোখের কালোয় নূতন আলো ঝলক দিয়ে ওঠে, নূতন হাসি ফোটে, তারি সঙ্গে... | 0 | Miscellaneous |
1377 | দুজন | জীবনানন্দ দাশ | ‘আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন-কতদিন আমিও তোমাকে খুঁজি নাকো;- এক নক্ষত্রের নিচে তবু-একই আলোপৃথিবীর পারে আমরা দুজনে আছি; পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়, প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়, হয় নাকি?’- বলে সে তাকাল তার সঙ্গিনীর দিকে; আজ এই মাঠ সূর্য সহধর্মী অঘ্রাণ কার্তিকে প্রাণ তার ভরে গেছে। দুজনে আজকে ... | 1 | Love |
372 | দ্বারভাঙা জেলার রমণী | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | হাওড়া ব্রীজের রেলিং ধরে একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়েছিল দ্বারভাঙা জেলা থেকে আসা টাট্কা রমনী ব্রীজের অনেক নিচে জল, সেখানে কোনো ছায়া পড়ে না কিন্তু বিশাল এক ভগবতী কুয়াশা কলকাতার উপদ্রুত অঞ্চল থেকে গড়িয়ে এসে সভ্যতার ভূমধ্য অরিন্দে এসে দাঁড়ালো সমস্ত আকাশ থেকে খসে পড়লো ইতিহাসের পাপমোচানবারী বিষণ্ণতা ক্রমে সব দৃশ্য, পথ ও মান... | 0 | Miscellaneous |
1365 | ছিন্নবিচ্ছিন্ন | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | তুমুল বৃষ্টিতে সব পাতা ভিজে গেলো এখনই শুকাতে হবে রোদ্দুর কোথায়? তিজেলে চড়াতে হবে অন্ন, তা কোথায়? মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে শুকাতেও জানে। এই অন্ন, পাতা-পত্র, এর অন্য মানে। | 1 | Love |
990 | রূপসাগরে ডুব দিয়েছি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রূপসাগরে ডুব দিয়েছি অরূপ রতন আশা করি; ঘাটে ঘাটে ঘুরব না আর ভাসিয়ে আমার জীর্ণ তরী। সময় যেন হয় রে এবার ঢেউ খাওয়া সব চুকিয়ে দেবার, সুধায় এবার তলিয়ে গিয়ে অমর হয়ে রব মরি। যে গান কানে যায় না শোনা সে গান সেথায় নিত্য বাজে, প্রাণের বীণা নিয়ে যাব সেই অতলের সভামাঝে। চিরদিনের সুরটি বেঁধে শেষ গানে তার কান্না কেঁদে, নীর... | 0 | Miscellaneous |
1711 | তুচ্ছ, তুচ্ছ এইসব | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | তুচ্ছ এইসব–এই জানালা কপাট গোরস্থান তুচ্ছ, তুচ্ছ এইসব, ভালোবাসা, ভালো-মন্দে বাসা তুচ্ছ, তুচ্ছ, এইসব জানালা কপাট গোরস্থান… তারপর, কে আছো মন্দিরে? মন্দিরে ভিতে কি ফড়িং? ভালোবাসা মানে এক হিম অন্ধকার খুঁজে নিয়ে পুঁতে ফেলা অশ্লীল ডালিম তারপর, কে আছো মন্দিরে? আমি যাই ভিত্তি খুঁড়ে খুঁড়ে আমি যাই ভিত্তি খুঁড়ে খুঁড়ে… | 2 | Metaphor |
149 | শহীদদের প্রতি | আসাদ চৌধুরী | তোমাদের যা বলার ছিল বলছে কি তা বাংলাদেশ ? শেষ কথাটি সুখের ছিল ? ঘৃণার ছিল ? নাকি ক্রোধের, প্রতিশোধের, কোনটা ছিল ? নাকি কোনো সুখের নাকি মনে তৃপ্তি ছিল এই যাওয়াটাই সুখের। তোমরা গেলে, বাতাস যেমন যায় গভীর নদী যেমন বাঁকা স্রোতটিকে লুকায় যেমন পাখির ডানার ঝলক গগনে মিলায়। সাঁঝে যখন কোকিল ডাকে কারনিসে কি ধুসর শাখে বারুদেরই ... | 10 | War |
2081 | হুঁকোমুখো হ্যাংলা | সুকুমার রায় | হুঁকোমুখো হ্যাংলা বাড়ি তার বাংলা মুখে তার হাসি নাই দেখেছ? নাই তার মানে কি? কেউ তাহা জানে কি? কেউ কভু তার কাছে থেকেছ? শ্যামাদাস মামা তার আফিঙের থানাদার, আর তার কেহ নাই এ-ছাড়া - তাই বুঝি একা সে মুখখানা ফ্যাকাশে, ব'সে আছে কাঁদ'-কাঁদ' বেচারা? থপ্ থপ্ পায়ে সে নাচত যে আয়েসে, গালভরা ছিল তার ফুর্তি, গাইতো সে সারা দিন 'সারে... | 5 | Children |
1719 | শিকার | জীবনানন্দ দাশ | ভোর; আকাশের রং ঘাসফড়িঙের দেহের মতো কোমল নীল: চারিদিকে পেয়ারা ও নোনার গাছ টিয়ার পালকের মতো সবুজ। একটি তারা এখনো আকাশে রয়েছে : পাড়াগাঁর বাসরঘরে সবচেয়ে গোধূলি-মদির মেয়েটির মতো; কিংবা মিশরের মানুষী তার বুকের থেকে যে মুক্তা আমার নীল মদের গেলাসে রেখেছিল হাজার হাজার বছর আগে এক রাতে তেমনি- তেমনি একটি তারা আকাশে জ্বলছে এখনো। হি... | 2 | Metaphor |
1587 | অচল প্রেমের পদ্য - ০৩ | হেলাল হাফিজ | তোমার জন্য সকাল, দুপুর তোমার জন্য সন্ধ্যা তোমার জন্য সকল গোলাপ এবং রজনীগন্ধা। | 1 | Love |
1187 | জাগরণ হেমবর্ণ | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | জাগরণ হেমবর্ণ, তুমি ওকে সন্ধ্যায় জাগাও আরও কাছে যাও ও কেন হিংসার মতো শুয়ে আছে যাখন পৃথিবী খুব শৈশবের মতো প্রিয় হলো জল কনা- মেশা হওয়া এখন এ আশ্বিনের প্রথম সোপানে বারবার হাতছানি দিয়ে ডেকে যায় আরও কাছে যাও জাগরণে হেমবর্ণ, তুমি ওকে সন্ধ্যায় জাগাও। মধু-বিহ্বলেরা কাল রাত্রিকে খেলার মাঠ করেছিল ঘাসের শিশিরে তার খণ্ডচিহ্ন ট্রেন... | 1 | Love |
1483 | লোকেন বোসের জর্নাল | জীবনানন্দ দাশ | সুজাতাকে ভালোবাসতাম আমি — এখনো কি ভালোবাসি? সেটা অবসরে ভাববার কথা, অবসর তবু নেই; তবু একদিন হেমন্ত এলে অবকাশ পাওয়া যাবে এখন শেলফে চার্বাক ফ্রয়েড প্লেটো পাভলভ ভাবে সুজাতাকে আমি ভালোবাসি কি না। পুরোনো চিঠির ফাইল কিছু আছে: সুজাতা লিখেছে আমার কাছে, বারো তেরো কুড়ি বছর আগের সে-সব কথা; ফাইল নাড়া কি যে মিহি কেরানীর কাজ; নাড... | 1 | Love |
819 | আগুনের ভেতর দিয়ে বাস-রুট | পূর্ণেন্দু পত্রী | গনগনে আগুনের ভিতর দিয়ে আমাদের বাস-রুট। পিকাসোর ছবির মতো ক্ষতবিক্ষত ভাঙচুরে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে গেছি আমরা। ফাটাচায়ের পেয়ালা থেকে লাফিয়ে উঠে যে-সব নীরব শোক আত্মঘাতী হওয়ার জন্যে ছুটে যায় ঘুরন্ত চাকার দিকে তাদের পিঠে হাত রেখে আমরা বলি এসো। আশবাঁটিতে মাছ-কাটার মতো ফিনকি দেওয়া যাদের আর্তনাদে সূর্যোদয়ের আকাশ ভাঙা আশি... | 0 | Miscellaneous |
2170 | বাঙলা ভাষা | হুমায়ুন আজাদ | শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী- একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী। আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার। তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়- হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়। লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ শেকলের মুখোমুখি আ... | 6 | Patriotic |
1739 | চিরশিশু | কাজী নজরুল ইসলাম | নাম-হারা তুই পথিক-শিশু এলি অচিন দেশ পারায়ে। কোন্ নামের আজ প’রলি কাঁকনম বাঁধনহারায় কোন্ কারা এ।। আবার মনের মতন ক’রে কোন্ নামে বল ডাক্ব তোরে! পথ-ভোলা তুই এই সে ঘরে ছিলি ওরে এলি ওরে বারে বারে নাম হারায়ে।। ওরে যাদু ওরে মাণিক, আঁধার ঘরের রতণ-মাণি! ক্ষুধিত ঘর ভ’রলি এনে ছোট্ট হাতের একটু ননী। আজ যে শুধু নিবিড় সুখে কান্না-স... | 2 | Metaphor |
906 | বৃষ্টি | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | চল নামি-আষাঢ় আসিয়াছে-চল নামি। আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃষ্টিবিন্দু, একা এক জনে যূথিকাকলির শুষ্ক মুখও ধুইতে পারি না-মল্লিকার ক্ষুদ্র হৃদয় ভরিতে পারি না। কিন্তু আমরা সহস্র সহস্র, লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি,-মনে করিলে পৃথিবী ভাসাই। ক্ষুদ্র কে? দেখ, যে একা, সেই ক্ষুদ্র, সেই সামান্য। যাহার ঐক্য নাই, সেই তুচ্ছ। দেখ, ভাই সকল কেহ এক... | 0 | Miscellaneous |
996 | আগমনী | জসীম উদ্দীন | আজ তুমি আসিবে যে মেয়ে, সেই ডোবা পুকুরের পানা পুকুরের, কলমীলতার জাল দিয়ে ঘেরা পানি- সেই সে পানিতে নেয়ে। মনে যদি হয় কলমী ফুলের কতকটা রঙ লইও অধরে মেখে, ঠোটেতে মাখিও আর একটুকু হাসি লাল সাপলার ফোটা ফুলগুলি দেখে। যদি মনে হয় সিক্ত বসনে একটু দাঁড়িও ও অঙ্গ বেয়ে ঝরিবে সজল সোনা, দোষ নিওনাক ডাহুকের ডাকে হয় যদি কিছু ছোট ছোট... | 0 | Miscellaneous |
817 | আমরা কথা বলি | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমরা কথা বলি ভিতরে ঢুকে পড়ে কার যেন ঠাণ্ডা হাত। আমরা বলি শাক সবজির মতো সরল সাদামাঠা কথাবার্তা। যে-সব রাজবাড়ি ভেঙে পড়ছে তার ইটগুলো কারা কিনবে, পুরনো বন্ধুরা মারা যাওয়ার আগে কে স্বপ্ন দেখেছিল কেমন, কাঁকড়া বিছে এবং মাকড়শার মধ্যে কে বেশি বিষাক্ত, পৃথিবীর সমস্ত বসন্তকালকেই শীত ঠেলে ঠেলে আসতে হয় কেন এইরকম সব পাতলা ঝির... | 0 | Miscellaneous |
758 | পান খাওয়ার গল্প | পূর্ণেন্দু পত্রী | সবুজ পাতায় প্রথম মাখালে চুন আট-পহরের ঘাঁটা বিছানায় ধপ ধপে সাদা চাদর তারপর সেই সাদা চাদরে জাঁতিকাটা ফালা ফালা সুপরি বহু যুগের ক্ষুধায় কাঁদতে কাঁদতে যে মরেছে তার কঙ্কাল, আরেকবার বাঁচার ইচ্ছেয় যার হাড়ের ফুটোগুলো এখনো বাঁশীর মতো ব্যাকুল অর্থাৎ আমি, খানিক পরেই আমার পাশে এনে বসাল তোমাকে কেয়া-খয়েরের কুঁচি গা ফেটে বেরোচ... | 0 | Miscellaneous |
1137 | কাঁপন ১৪ | তসলিমা নাসরিন | বয়স যত বাড়ে তত বয়স খসে পড়ে শরীর আগে স্পর্শ করো, প্রেমের কথা পরে | 1 | Love |
29 | কারার ঐ লৌহ-কপাট | কাজী নজরুল ইসলাম | কারার ঐ লৌহকপাট, ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট, রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী। ওরে ও তরুণ ঈশান! বাজা তোর প্রলয় বিষাণ! ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি। গাজনের বাজনা বাজা! কে মালিক? কে সে রাজা? কে দেয় সাজা মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে? হা হা হা পায় যে হাসি, ভগবান পরবে ফাঁসি! সর্বনাশী শিখায় এ হীন তথ্য কে রে! ওরে ও পাগলা... | 7 | Policy |
953 | ও মোহন বাঁশী | জসীম উদ্দীন | ও মোহন বাঁশী! বাজাও বাজাওরে কানাই! ধীরে অতি ধীরে; আমি জল আনিতে যমুনাতে, ও বাঁশী শুনব ফিরে ফিরেরে কানাই! ধীরে অতি ধীরে। কলসী ভরার ছলে, তোমার ছায়া দেখব জলেরে কানাই! আমি হারায়ে পায়ের নূপুর, ও ঘরে নাহি যাব ফিরেরে কানাই। ধীরে অতি ধীরে। তোমার বাঁশীর স্বরে যদি কলসীর জল নড়েরে, তারে ঘুম পাড়াবরে, কাঁকণ বাজাইয়া করেরে কানাই!... | 0 | Miscellaneous |
278 | বসন্ত বন্দনা | নির্মলেন্দু গুণ | হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে, হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে । আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা,--দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে, তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্তপথিক । এলিয়ে পড়েছে হাওয়া, ত্বকে কী চঞ্চল শিহরণ, মন যেন দুপুরের ঘূর্ণি-পাওয়া পাতা, ভালোবেসে অনন্ত সঙ্গীত স্রোতে পাক খেয়ে ম... | 9 | Nature |
1671 | আমার ভেতরে যেন ফুটে উঠি | মহাদেব সাহা | স্বপ্নের ভেতর, স্মৃতির ভেতর, এই একার ভেতর আমি অনন্তকাল ডুবে আছি; বার্চবন, স্নেজগাড়ি, দূরের ঘন্টাধ্বনি আমার স্মৃতির মধ্যে তোলপাড় করে ওঠে সুদূর বাতাস, ধূ-ধূ ঝাউবীথি- দেখি সূর্যাস্তের ছায়ার ভেতর আরো অশরীরী নগ্ন নর্তকীরা সব আরো স্বপ্নের ভেতর আরো স্মৃতির ভেতর আরো ছায়ার ভেতর ক্রমাগত ডুব-সাঁতার দিতে দিতে, ডুব-সাঁতার দিতে দিতে... | 2 | Metaphor |
1551 | মিথ্যে নয় | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কবিতার সার কথা সত্য, অথচ কবিরা সব মিথ্যুকের একশেষ নয়? নীরার গলায় আমি কতবার দুলিয়েছি উপমার মণিহার ভোরবেলা নীরার দু’হাতে আমি তুলে দিই শিশির মাখানো সাদা ফুল ফলগুলি যাদু-সরঞ্জাম যেন হঠাৎ অদৃশ্য হতে জানে কতকাল ফুল ছুঁইনি, আঙুল পোড়ায় সিগারেট! বিশুদ্ধ পোষাক-পরা আমি এক ফুলবাবু সন্ধেবেলা ফুরফুর বাতাসে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ম... | 1 | Love |
87 | তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর, যবে আমার জনম হবে ভোর। চলে যাব নবজীবন-লোকে, নূতন দেখা জাগবে আমার চোখে, নবীন হয়ে নূতন সে আলোকে পরব তব নবমিলন-ডোর। তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর। তোমার অন্ত নাই গো অন্ত নাই, বারে বারে নূতন লীলা তাই। আবার তুমি জানি নে কোন্ বেশে পথের মাঝে দাঁড়াবে, নাথ, হেসে, আমার এ হাত ধরবে কাছে এসে, লাগবে প্রা... | 8 | Religious |
659 | আজীবন একই চিঠি | মহাদেব সাহা | নখরে জ্বালিয়ে রাখি লক্ষ্যের দীপ্র ধনুক যেন এক শব্দের নিষাদ এই নির্মল নিসর্গে বসে কাঁদি, তবু সেই নির্মম শব্দাবলী ছিঁড়ে আনতে পারি না বলে সুতীক্ষ্ণ অনুযোগ হতে অব্যাহতি দিন; এই শোকের শহরে আমি যার কাছে চাই ফুল, কিছু মনোরম শোভা, যেসবের বিসতৃত বর্ণনা আমি আপনাকে লিখতে পারি, সে আমার হাতে শুধু তুলে দেয় দুঃখের বিভিন্ন টিকিট। আ... | 0 | Miscellaneous |
1713 | জন্মদিনে | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | জন্মদিনে কিছু ফুল পাওয়া গিয়েছিলো। অসম্ভব খুশি হাসি গানের ভিতরে একটি বিড়াল একা বাহান্নটি থাবা গুনে গুনে উঠে গেলো সিঁড়ির উপরে লোহার ঘোরানো সিঁড়ি, সিঁড়ির উপরে সবার অলক্ষ্যে কালো সিঁড়ির উপরে। শুধু আমিই দেখেছি তার দ্বিধান্বিত ভঙ্গি তার বিষণ্ণতা। জন্মদিনে কিছু ফুল পাওয়া গিয়েছিলো এখন শুকিয়ে গেছে। | 2 | Metaphor |
926 | জীবন-মরণ দুয়ারে আমার | জীবনানন্দ দাশ | সরাইখানার গোলমাল আসে কানে, ঘরের শার্শি বাজে তাহাদের গানে, পর্দা যে উড়ে যায় তাদের হাসির ঝড়ের আঘাতে হায়! -মদের পাত্র গিয়েছে কবে যে ভেঙে! আজো মন ওঠে রেঙে দিলদারদের দরাজ গলায় রবে, সরায়ের উৎসবে! কোন্ কিশোরীর চুড়ির মতন হায় পেয়ালা তাদের থেকে থেকে বেজে যায় বেহুঁশ হাওয়ার বুকে! সারা জনমের শুষে-নেওয়া খুন নেচে ওঠে মো... | 0 | Miscellaneous |
762 | কে খেয়েছে চাঁদ | পূর্ণেন্দু পত্রী | দাঁতে কামড়িয়ে কে খেয়েছে চাঁদ? সন্ধেবেলায়? মহাশুন্যের ছড়ানো টেবিলে পড়ে আছে যেন ছিরিছাঁদহীন ভাঙা বিস্কুট। কে খেয়েছে চাঁদ? ক’দিন আগেও কোজাগরী শাড়ি লুটিয়ে হেঁটেছে বর-বর্নিনী। যমুনার মতো চিকন অঙ্গ বুকে তরঙ্গ, কাঁখে তরঙ্গ আকাশের ঘাটে স্নান করে গেছে লজ্জা ভাসিয়ে কলসী ভাসিয়ে। কে খেয়েছে চাঁদ? কার তৃষ্ণার উনোনে আগুন ... | 0 | Miscellaneous |
1500 | এসএমএস | আনিসুল হক | বৃষ্টি তুমি এসো তুমুল করে বেসো | 1 | Love |
2097 | আয়রে আলো আয় | সুকুমার রায় | পুব গগনে রাত পোহাল, ভোরের কোণে লাজুক আলো নয়ন মেলে চায়। আকাশতলে ঝলক জ্বলে, মেঘের শিশু খোলার ছলে আলোক মাখে গায়।। সোনার আলো, রঙিন্ আলো, স্বপ্নে আঁকা নবীন আলো - আয়রে আলো আয়। আয়রে নেমে আঁধার পরে, পাষাণ কালো ধৌত করে আলোর ঝরণায়।। ঘুম ভাঙান পাখির তানে জাগ্রে আলো আকুল গানে অকুল নীলিমায়। আলসভরা আখিঁর কোণে, দুঃখ ভয়ে আঁধ... | 5 | Children |
1944 | তোমাকে বলেছিলাম | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | তোমাকে বলেছিলাম, যত দেরীই হোক, আবার আমি ফিরে আসব। ফিরে আসব তল-আঁধারি অশথগাছটাকে বাঁয়ে রেখে, ঝালোডাঙার বিল পেরিয়ে, হলুদ-ফুলের মাঠের উপর দিয়ে আবার আমি ফিরে আসব। আমি তোমাকে বলেছিলাম। আমি তোমাকে বলেছিলাম, এই যাওয়াটা কিছু নয়, আবার আমি ফিরে আসব। ডগডগে লালের নেশায় আকাশটাকে মাতিয়ে দিয়ে সূর্য যখন ডুবে যাবে, নৌকার গলুইয়ে মাথা রে... | 3 | Separation |
1151 | কলকাতার প্রেম | তসলিমা নাসরিন | তোমাকে তিরিশ তিরিশ লাগে, অথচ তুমি তেষট্টি তেষট্টি হও, তিরিশ হও তাতে কার কী এলো গেলো তুমি তুমিই; তেমনই, তোমাকে ঠিক যেমন হলে মানায়। চোখদুটোর দিকে যখনই তাকাই, মনে হয় ওই চোখ বুঝি দুহাজার বছর ধরে চিনি ঠোঁটের দিকে, চিবুকের দিকে, হাত বা হাতের আঙুলের দিকে তাকাতে নিলেই দেখি চিনি দুহাজার কেন, তারও চেয়ে আগে থেকে চিনি। এত চিনি যে ... | 1 | Love |
776 | নিজের মধ্যে | পূর্ণেন্দু পত্রী | গাছতলা ভরে গেছে ডেয়ো পিঁপড়েয়। মাঝখানে মুনিঋষির মতো নিজের মধ্যে নিজে। ধূপ, ধুনুচি, ত্রিশূল ত্রিশূলে টাঙানো ডমরু গলায় রুদ্রাক্ষ, মাথায় বটঝুরি জট, কিচ্ছু নেই। শুধু খানিকটা আগুন পাঁজরার আড়ালে পুড়বার মতো কিছু কাঠ-কোঠরা ইচ্ছে-অনিচ্ছের, লোভ-লালসার। মুনিঋষির মতো বসে আছি গাছতলায় ডেয়ো পিপড়েদের খুনখারাপি কামড়, ক্ষতবিক্... | 0 | Miscellaneous |
1571 | তুলনামূলক হাত | নির্মলেন্দু গুণ | তুমি যেখানেই স্পর্শ রাখো সেখানেই আমার শরীর৷ তোমার চুলের ধোয়া জল তুমি যেখানেই খোঁপা ভেঙ্গে বিলাও মাটিকে; আমি এসে পাতি হাত, জলভারে নতদেহ আর চোখের সামগ্রী নিয়ে ফিরি ঘরে, অথবা ফিরি না ঘরে, তোমার চতুর্দিকে শূন্যতাকে ভরে থেকে যাই৷ তুমি যেখানেই হাত রাখো, যেখানেই কান থেকে খুলে রাখো দুল, কন্ঠ থেকে খুলে রাখো হার, সেখানেই শরীর ... | 1 | Love |
2037 | পিছু-ডাক | কাজী নজরুল ইসলাম | সখি! নতুন ঘরে গিয়ে আমায় প’ড়বে কি আর মনে? সেথা তোমার নতুন পূজা নতুন আযোজনে! প্রথম দেখা তোমায় আমায় যে গৃহ-ছায় যে আঙিনায়, যেথায় প্রতি ধূলিকণায়, লতাপাতার সনে নিত্য চেনার বিত্ত রাজে চিত্ত-আরাধনে, শূন্য সে ঘর শূন্য এখন কাঁদছে নিরজনে।। সেথা তুমি যখন ভুল্তে আমায়, আস্ত অনেক কেহ, তখন আমার হ’য়ে অভিমানে কাঁদত যে ঐ গেহ... | 3 | Separation |
153 | শত্রু এক | সুকান্ত ভট্টাচার্য | এদেশ বিপন্ন আজ; জানি আজ নিরন্ন জীবন- মৃত্যুরা প্রত্যহ সঙ্গী, নিয়ত শত্রুর আক্রমণ রক্তের আল্পনা আঁকে, কানে বাজে আর্তনাদ সুর; তবুও সুদৃঢ় আমি, আমি এক ক্ষুধিত মজুর আমার সম্মুখে আজ এক শত্রুঃ এক লাল পথ, শত্রুর আঘাত আর বুভুক্ষায় উদ্দীপ্ত শপথ। কঠিন প্রতিজ্ঞা-স্তব্ধ আমাদের দৃপ্ত কারখানায়, প্রত্যেক নির্বাক যন্ত্র প্রতিরোধ সংক... | 10 | War |
1748 | চৌধুরীদের রথ | জসীম উদ্দীন | চৌধুরীদের রথ ডান ধারে তার ধূলায় ধূসর তালমা হাটের পথ। চামচিকে আর আরসূলারা নির্ভাবনায় বসি, করছে নানান কল-কোলাহল রথের মাঝে পশি! বাদুর সেথা ঝুলছে সুখে, বাহির জগৎখানি, অনেক দিনই ত্যাগ করেছে তাদের জানাজানি। গরুর বীরের মাথায় বসি পাঁকুড় গাছের চারা, মেলছে শিকড়, তবু ঠাকুর দেয়নি কোন সাড়া। কাঠের ঘোড়ার ঠ্যাং ভেঙেছে, খসছে রথের ছাদ, ... | 2 | Metaphor |
881 | যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো? | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো। এতো কালো মেখেছি দু হাতে এতোকাল ধরে! কখনো তোমার ক’রে, তোমাকে ভাবিনি। এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে চাঁদ ডাকে : আয় আয় আয় এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে চিতাকাঠ ডাকে : আয় আয় যেতে পারি যে-কোন দিকেই আমি চলে যেতে পারি কিন্তু, কেন যাবো? সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো যাবো কিন্তু, এখনি যাব... | 0 | Miscellaneous |
1346 | বিরহ | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | এখন সন্ধ্যা, হৃদয় বন্ধ্যা যেই তুমি চলে গেলে যত ছিলো সুখ রাঙা কিংশুক নিয়ে গেলে অঞ্চলে । রোদ্রের ফণা বৃষ্টির কণা হয়ে ঝরে যার চোখে সে এখন দূরে রাতের শরীরে খোঁজে তার দয়িতকে । | 1 | Love |
1550 | বাসন্তী | সুফিয়া কামাল | আমার এ বনের পথে কাননে ফুল ফোটাতে ভুলে কেউ করত না গো কোনদিন আসা-যাওয়া। সেদিন ফাগুন-প্রাতে অরুণের উদয়-সাথে সহসা দিল দেখা উদাসী দখিন হাওয়া।... বুকে মোর চরণ ফেলে বধুঁ মোর আজকে এলে আজি যে ভরা সুখে কেবলই পরাণ কাঁদে। | 1 | Love |
1642 | ঈশ্বর! ঈশ্বর! | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | ঈশ্বরের সঙ্গে আমি বিবাদ করিনি। তবুও ঈশ্বর হঠাৎ আমাকে ছেড়ে কোথায় গেলেন? অন্ধকার ঘর। আমি সেই ঘরের জানলায় মুখ রেখে দেখতে পাই, সমস্তা আকাশে লাল আভা, নিঃসঙ্গ পথিক দূর দিগন্তের দিকে চলেছেন। অস্ফুট গলায় বলে উঠি : ঈশ্বর! ঈশ্বর! | 2 | Metaphor |
707 | এই বয়সে বিশ্ববাউল | মহাদেব সাহা | শেষ বয়সে বিশ্ববাউল ভিতর-বাহির আউল-ঝাউল, বেঁধেছি ঘর পথের ওপর; সেই পথও কি মিথ্যা বা ভুল! কোথায় দুরে নীল সরোবর পদ্ম ফোটে অষ্টপ্রহর; পাখিরা গায় ফুল ঝরে যায়, মন্দাকিনী মগ্ন নিথর। নিজের ঘরে নিজেই বাউল এই বয়সে আউল-ঝাউল, যা ছিলো তা ছিন্ন কাঁথা, সব হারিয়ে নিঃস্ব বাউল। | 0 | Miscellaneous |
1425 | নকশী কাঁথার মাঠ – ০২ | জসীম উদ্দীন | দুই এক কালা দতের কালি যা দ্যা কলম লেখি, আর এক কালা চক্ষের মণি, যা দ্যা দৈনা দেখি, —ও কালা, ঘরে রইতে দিলি না আমারে | — মুর্শিদা গান এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল, কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল! কাঁচা ধানের পাতার মত কচি-মুখের মায়া, তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া | জালি লাউয়ের ডগার মত বাহু দুখান... | 1 | Love |
1417 | নকশী কাঁথার মাঠ – ১১ | জসীম উদ্দীন | এগার সাজ সাজ বলিয়ারে শহরে পৈল সাড়া, সাত হাজার বাজে ঢোল চৌদ্দ হাজার কাড়া | প্রথমে সাজিল মর্দ আহ্লাদি ডগরি, পাঁচ কাঠে ভুঁই জুইড়া বসে মর্দ এয়সা ভারি | তারপরে সাজিল মর্দ তুরক আমানি, সমুদ্দুরে নামলে তার হৈল আঁটুপানি | তারপরে সাজিল মর্দ নামে লোহাজুড়ী, আছড়াইয়া মারত সে হাতীর শুঁড় ধরি | তারপরে নামিল মর্দ নামে আইন্দ্যা ছাই... | 1 | Love |
75 | মুনাজাত | কাজী নজরুল ইসলাম | আমারে সকল ক্ষুদ্রতা হতে বাঁচাও প্রভু উদার। হে প্রভু! শেখাও - নীচতার চেয়ে নীচ পাপ নাহি আর। যদি শতেক জন্ম পাপে হই পাপী, যুগ-যুগান্ত নরকেও যাপি, জানি জানি প্রভু, তারও আছে ক্ষমা- ক্ষমা নাহি নীচতার।। ক্ষুদ্র করো না হে প্রভু আমার হৃদয়ের পরিসর, যেন সম ঠাঁই পায় শত্রু-মিত্র-পর। নিন্দা না করি ঈর্ষায় কারো অন্যের সুখে সুখ পাই ... | 8 | Religious |
1841 | এই তো ছিলাম শিশু | হুমায়ুন আজাদ | এই তো ছিলাম শিশু এই তো ছিলাম বালক এই তো ইস্কুল থেকে ফিরলাম এই তো পাখির পালক কুড়িয়ে আনলাম এই তো মাঘের দুপুরে বাসা ভাঙলাম শালিকের সাঁতরিয়ে এলাম পুকুরে এই তো পাড়লাম কুল এই তো ফিরলাম মেলা থেকে এই তো পেলাম ভয় তেঁতুলতলায় এক সাদাবউ দেখে এই তো নবম থেকে উঠলাম দশম শ্রেণীতে এই তো রাখলাম হাত কিশোরীর দীঘল বেণীতে এই তো নিলাম ত... | 2 | Metaphor |
1791 | এই মলিন বস্ত্র ছাড়তে হবে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এই মলিন বস্ত্র ছাড়তে হবে হবে গো এইবার-- আমার এই মলিন অহংকার। দিনের কাজে ধুলা লাগি অনেক দাগে হল দাগি, এমনি তপ্ত হয়ে আছে সহ্য করা ভার। আমার এই মলিন অহংকার। এখন তো কাজ সাঙ্গ হল দিনের অবসানে, হল রে তাঁর আসার সময় আশা এল প্রাণে। স্নান করে আয় এখন তবে প্রেমের বসন পরতে হবে, সন্ধ্যাবনের কুসুম তুলে গাঁথতে হবে হার। ওরে আয় সময় নেই ... | 2 | Metaphor |
1772 | কে বলে সব ফেলে যাবি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কে বলে সব ফেলে যাবি মরণ হাতে ধরবে যবে। জীবনে তুই যা নিয়েছিস মরণে সব নিতে হবে। এই ভরা ভাণ্ডারে এসে শূন্য কি তুই যাবি শেষে। নেবার মতো যা আছে তোর ভালো করে নেই তুই তবে। আবর্জনার অনেক বোঝা জমিয়েছিস যে নিরবধি, বেঁচে যাবি, যাবার বেলা ক্ষয় করে সব যাস রে যদি। এসেছি এই পৃথিবীতে, হেথায় হবে সেজে নিতে, রাজার বেশে চল্ রে হেসে মৃত্য... | 2 | Metaphor |
331 | কে তোমারে দিল প্রাণ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কে তোমারে দিল প্রাণ রে পাষাণ। কে তোমারে জোগাইছে এ অমৃতরস বরষ বরষ। তাই দেবলোকপানে নিত্য তুমি রাখিয়াছ ধরি ধরণীর আনন্দমঞ্জরী; তাই তো তোমারে ঘিরি বহে বারোমাস অবসন্ন বসন্তের বিদায়ের বিষণ্ন নিশ্বাস; মিলনরজনীপ্রান্তে ক্লান্ত চোখে ম্লান দীপালোকে ফুরায়ে গিয়াছে যত অশ্রু-গলা গান তোমার অন্তরে তারা আজিও জাগিছে অফুরান, হে পাষাণ,... | 0 | Miscellaneous |
1209 | আমি ও তিনি | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | আমি বললুম, “এটা কিছু নয়।” তিনি বললেন, “এটাই মন্দাকিনীর ধারা নিশ্চয়, এতেই তৃষ্ণা মেটাই।” আমি বললুম, “মন্দাকিনী কি এত কাছে? এটা ছল।” তিনি বললেন, “না, না, এটা ঠিকই স্বর্গঙ্গার জল।” আমি বললুম, “পিছনের টানে ঠিক নয় বসে যাওয়া।” তিনি বললেন ,”বইছে এখানে অতি পবিত্র হাওয়া।” আমি বললুম, “বসুন তা হলে, স্নান করে হাওয়া খান,– পাথরে পা ... | 1 | Love |
2196 | যেভাবে সে এলো | হেলাল হাফিজ | অসম্ভব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছিলো, সামনে যা পেলো খেলো, যেন মন্বন্তরে কেটে যাওয়া রজতজয়ন্তী শেষে এসেছে সে, সবকিছু উপাদেয় মুখে। গাভিন ক্ষেতের সব ঘ্রাণ টেনে নিলো, করুণ কার্নিশ ঘেঁষে বেড়ে ওঠা লকলকে লতাটিও খেলো, দুধাল গাভীটি খেলো খেলো সব জলের কলস। শানে বাধা ঘাট খেলো সবুজের বনভূমি খেলো উদাস আকাশ খেলো কবিতার পান্ডুলিপি খেলো। দু’... | 6 | Patriotic |
291 | আজি শ্রাবণ ঘন গহন মোহে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজিশ্রাবণঘন- গহন- মোহে গোপন তব চরণ ফেলে নিশার মতো নীরব ওহে সবার দিঠি এড়ায়ে এলে। প্রভাত আজি মুদেছে আঁখি, বাতাস বৃথা যেতেছে ডাকি, নিলাজ নীল আকাশ ঢাকি নিবিড় মেঘ কে দিল মেলে। কূজনহীন কাননভূমি, দুয়ার দেওয়া সকল ঘরে, একেলা কোন্ পথিক তুমি পথিকহীন পথের 'পরে। হে একা সখা, হে প্রিয়তম, রয়েছে খোলা এ ঘর মম, সমুখ দিয়ে স্বপনসম... | 9 | Nature |
1710 | আতাচোরা | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | আতাচোরা পাখিরে কোন তুলিতে আঁকি রে হলুদ ? বাঁশ বাগানে যাইনে ফুল তুলিতে পাইনে কলুদ হলুদ বনের কলুদ ফুল বটের শিরা জবার মূল পাইতে দুধের পাহাড় কুলের বন পেরিয়ে গিরি গোবর্ধন নাইতে ঝুমরি তিলাইয়ার কাছে যে নদিটি থমকে আছে তাইতে আতাচোরা পাখিরে কোন তুলিতে আঁকি রে —হলুদ ? | 2 | Metaphor |
757 | বিষন্ন জাহাজ | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমরা যেখানে বসেছিলাম তার পায়ের তলায় ছিল নদী নদীতে ছিল নৌকা আর দূরে একটা বিষন্ন জাহাজ। আমি যখন তোমার তুমি যখন আমার ঠোঁটে বুনে দিচ্ছিলে যাবজ্জীবনের সুখ ঠিক সেই সময়ে ডুকরে কেঁদে উঠল জাহাজটা ভোঁ বাজিয়ে। তারপর থেকে রোজ আমাদের যাবজ্জীবন সুখের ভিতরে একটু একটু করে ঢুকে পড়ছে সেই বিষন্ন জাহাজ তার সেই ভয়ঙ্কর আর্তনাদ বাজিয়ে... | 0 | Miscellaneous |
732 | আজ্ঞে হ্যাঁ | পূর্ণেন্দু পত্রী | সূর্য নামের ছোকরাটা বড় জ্বলতে শিখেছে, তাই না হে? আজ্ঞ হ্যাঁ। গনগণে চোখ, জ্বলজ্বলে ভূরু, উরু ভেঙে দিলে কেমন হয়? আজ্ঞ হ্যাঁ। আজকাল আর চাঁদে সে রকম রাবড়ির মতো জেল্লা নেই আজ্ঞে হ্যাঁ। টুনি বালবদের ফোলাপে ফাঁপালেপ্রতিভা ছড়াবে হাজার গুণ। আজ্ঞে হ্যাঁ। নিজের লালার সরু সুতোর দিয়ে বেনারসী বোনে মাকড়সা। আজ্ঞে হ্যাঁ। আমারও তে... | 0 | Miscellaneous |
11 | নতুন শব্দ : সফদার হাসমি | পূর্ণেন্দু পত্রী | এই মৃত্যুশোক কাঁধ থেকে নামানো যাবে না কোনোদিন। আর বর্বরতা কি নির্বোধ। যেন মৃত্যু হলেই মুছে যায় প্রতিজ্ঞার প্রাণ। আক্রমণ কোনো নতুন শব্দ নয়। হিংসা কোনো নতুন শব্দ নয়। নতুন শব্দ-সফদার হাসমি। সফদার হাসমি মানে জাগা, জেগে থাকা, জাগানো। | 7 | Policy |
1487 | গুচ্ছ কবিতা | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | ১. থাকুক তোমার একটু স্মৃতি থাকুক একলা থাকার খুব দুপুরে একটি ঘুঘু ডাকুক ২. দিচ্ছো ভীষণ যন্ত্রণা বুঝতে কেন পাছো না ছাই মানুষ আমি, যন্ত্র না! ৩. চোখ কেড়েছে চোখ উড়িয়ে দিলাম ঝরা পাতার শোক। | 1 | Love |
779 | আত্মচরিত ০৪ | পূর্ণেন্দু পত্রী | নতজানু হয়ে কারো পদতলে বসি, ইচ্ছে করে অকপটে সব কথা তার সাথে বলাবলি হোক। খুলে দিই কপাটের খিল পর্দার আড়াল, ঘন বনবীথি ছায়া, ভিজে ছায়া নোনাধরা পুরনো পাঁচিন দেয়ালে কামড়ে থাকা সুপ্রাচীন ঘন অন্ধকার স্যাঁতলার নানাবিধ মুখভঙ্গী, ফাটলের দাগ তেল ও জলের দাগ, পান পিক, পিপাসার দাগ সব চিহ্ন, সব ছারখার সমস্ত গোপন দুঃখ শোক অকপটে বল... | 0 | Miscellaneous |
1579 | জানি জানি কোন্ আদি কাল হতে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জানি জানি কোন্ আদি কাল হতে ভাসালে আমারে জীবনের স্রোতে , সহসা হে প্রিয় , কত গৃহে পথে রেখে গেছ প্রাণে কত হরষন । কতবার তুমি মেঘের আড়ালে এমনি মধুর হাসিয়া দাঁড়ালে , অরুণ-কিরণে চরণ বাড়ালে , ললাটে রাখিলে শুভ পরশন । সঞ্চিত হয়ে আছে এই চোখে কত কালে কালে কত লোকে লোকে কত নব নব আলোকে আলোকে অরূপের কত রূপদরশন । কত যুগে যুগে কে... | 1 | Love |
1763 | গান দিয়ে যে তোমায় খুঁজি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গান দিয়ে যে তোমায় খুঁজি বাহির মনে চিরদিবস মোর জীবনে। নিয়ে গেছে গান আমারে ঘরে ঘরে দ্বারে দ্বারে, গান দিয়ে হাত বুলিয়ে বেড়াই এই ভুবনে। কত শেখা সেই শেখালো, কত গোপন পথ দেখালো, চিনিয়ে দিল কত তারা হৃদ্গগনে। বিচিত্র সুখদুখের দেশে রহস্যলোক ঘুরিয়ে শেষে সন্ধ্যাবেলায় নিয়ে এল কোন্ ভবনে। | 2 | Metaphor |
1521 | স্মৃতি | মহাদেব সাহা | সে আসে আমার কাছে ঘুরে ঘুরে যেন এক স্রোতস্বিনী নদীর সুবাস, ভালোবাসা সে যেন হৃদয়ে শুধু ঘুরে ঘুরে কথা কয়, চোখের ভিতর হতে সুগভীর চোখের ভিতরে, সে আসে প্রতিদিন জানালায় ভোরের রোদের মতো বাহুলগ্ন আমার প্রেমিকা; সে আসে প্রত্যহ এই আলোকিত উজ্জ্বল শহরে, ইতিহাস আরো সব কিংবদন্তী কথা কয় আমার স্মৃতিতে, সে আসে দূর থেকে মনে হয় শ্যাম... | 1 | Love |
1538 | খতিয়ান | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | ‘হাত বাড়ালেই মুঠো ভরে যায় ঋণে অথচ আমার শস্যের মাঠ ভরা। রোদ্দুর খুঁজে পাই না কখনো দিনে, আলোতে ভাসায় রাতের বসুন্ধরা। টোকা দিলে ঝরে পচা আঙুলের ঘাম, ধস্ত তখন মগজের মাস্তুল নাবিকেরা ভোলে নিজেদের ডাক নাম চোখ জুড়ে ফোটে রক্তজবার ফুল। ডেকে ওঠো যদি স্মৃতিভেজা ম্লান স্বরে, উড়াও নীরবে নিভৃত রুমালখানা পাখিরা ফিরবে পথ চিনে চিনে... | 1 | Love |
1240 | দেখতে চাই | মহাদেব সাহা | আমাকে দেখাও তুমি দূরের আকাশ, ওই দূরের পৃথিবী আমি তো দেখতে চাই কাছের জীবন; তুমি আমাকে দেখাতে চাও দূর নীহারিকা সমুদ্র-সৈকত বিস্তৃত দিগন্তরেখা, দূরের পাহাড় তুমি চাও আরো দূরে, দূর দেশে আমাকে দেখাতে কোনো রম্য দ্বীপ, স্নিগ্ধ জলাশয় আমি চাই কেবল দেখতে এই চেনা সরোবর, কাছের নদীটি। আমাকে দেখাতে চাও বিশাল জগৎ, নিয়ে যেতে চাও অনন্তে... | 1 | Love |
1596 | বধূ-বরণ | কাজী নজরুল ইসলাম | এতদিন ছিলে ভূবনের তুমি আজ ধরা দিলে ভবনে, নেমে এলে আজ ধরার ধূলাতে ছিলে এতদিন স্বপনে! শুধু শোভাময়ী ছিলে এত দিন কবির মানসে কলিকা নলিন, আজ পরশিলে চিত্ত- পুলিন বিদায় গোধূলি- লগনে। ঊষার ললাট-সিন্দুর-টিপ সিথিঁতে উড়াল পবনে।। প্রভাতে ঊষা কুমারী, সেজেছে সন্ধ্যায় বধূ ঊষসী, চন্দন- টোপা- তারা- কলঙ্কে ভ'রেছে বে-দাগ- মু'শশী। মুখর... | 1 | Love |
575 | তা নইলে | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কিছু পেলে কিছু দিয়ে দিবি, তা নইলে পৃথিবী চলতে-চলতে একদিন চলবে না। আকাশে ঘনিয়ে আসবে ঘোর অন্ধকার, তোর ঘরে-বাইরে কেউ কথা বলবে না। দরজায় লাগানো ছিল তালা, বেলকুঁড়ির মালা পড়ে ছিল রজ্জুর সমান। লুণ্ঠন করেছ পুষ্প সব, অথচ সৌরভ এক-কণা করোনি কাউকে দান। কিছু যত পাচ্ছে, প্রতিদিন জমছে তত ঋণ। একটু তার শোধ করো এবারে। নইলে খসে পড়ব... | 0 | Miscellaneous |
1432 | আজ আমার মনে ত না মানেরে | জসীম উদ্দীন | আজ আমার মনে ত না মানেরে সোনার চান, বাতাসে পাতিয়া বুকরে শুনি আকাশের গান। আজ নদীতে উঠিয়া ঢেউ আমার কূলে আইসা লাগে, রাতের তারার সাথে ঘরের প্রদীপ জাগেরে। চান্দের উপর বসাইয়ারে যেবা গড়ছে চান্দের বাসা, আজ দীঘিতে শাপলা ফুটে তারির লয়ে আশারে। উড়িয়া যায় হংসরে পঙ্খী, যায়রে বহুত দূর, আজ তরলা বাঁশের বাঁশী টানে সেই সুররে। আজ কাঙ্খের ক... | 1 | Love |
1059 | সহজ | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কেমন সহজ আমি ফোটালাম একলক্ষ ফুল হঠাৎ দিলাম জ্বেলে কয়েকটা সুর্য চাঁদ তারা আবার খেয়াল হলে এক ফুঁয়ে নেভালাম সেই জ্যোৎস্না (মনে পড়ে কোন্ জ্যোৎস্না?) নেভালাম সেই রোদ (তাও মনে পড়ে?) নিন্দুকে নানান কথা আমাকে দেখিয়ে বলবে, বিশ্বাস করো না। হয়তো বলবে শিশু কংবা নির্বোধ অথবা ম্যাজিকওয়ালা- ছেঁড়া তাঁবু ফাটা বজনা, নানান সেল... | 0 | Miscellaneous |
1771 | নদীপারের এই আষাঢ়ের | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নদীপারের এই আষাঢ়ের প্রভাতখানি নে রে, ও মন, নে রে আপন প্রাণে টানি। সবুজ নীলে সোনায় মিলে যে সুধা এই ছড়িয়ে দিলে, জাগিয়ে দিলে আকাশতলে গভীর বাণী-- নে রে, ও মন, নে রে আপন প্রাণে টানি। এমনি করে চলতে পথে ভবের কূলে দুই ধারে যা ফুল ফুটে সব নিস রে তুলে। সেগুলি তোর চেতনাতে গেঁথে তুলিস দিবস-রাতে, প্রতি দিনটি যতন করে ভাগ্য মানি, নে ... | 2 | Metaphor |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.