id stringlengths 1 4 | title stringlengths 1 362 | author stringclasses 40
values | poem stringlengths 30 15.4k | label int64 0 10 | label_name stringclasses 11
values |
|---|---|---|---|---|---|
100 | একা আমি ফিরব না আর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | একা আমি ফিরব না আর এমন করে-- নিজের মনে কোণে কোণে মোহের ঘোরে। তোমায় একলা বাহুর বাঁধন দিয়ে ছোটো করে ঘিরতে গিয়ে আপনাকে যে বাঁধি কেবল আপন ডোরে। যখন আমি পাব তোমায় নিখিলমাঝে সেইখনে হৃদয় পাব হৃদয়রাজে। এই চিত্ত আমার বৃন্ত কেবল তারি 'পরে বিশ্বকমল; তারি 'পরে পূর্ণ প্রকাশ দেখাও মোরে। | 8 | Religious |
885 | আপন মনে | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | আমার ভিতর ঘর করেছে লক্ষ জনায়– এবং আমায় পর করেছে লক্ষ জনে এখন আমার একটি ইচ্ছে, তার বেশি নয় স্বস্তিতে আজ থাকতে দে না আপন মনে। লক্ষ জনে আমার ভিতর ঘর করেছে, লক্ষ জনে পর করেছে। আমার একটি ইচ্ছা, স্বগতোক্তির মতো–আপন মনে থাকার। যারা থাকতে দিচ্ছে না, তাদের কাছে আমার এই সামান্য নিবেদন বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে। | 0 | Miscellaneous |
1936 | মন ভালো নেই | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই কেউ তা বোঝে না সকলি গোপন মুখে ছায়া নেই চোখ খোলা তবু চোখ বুজে আছি কেউ তা দেখেনি প্রতিদিন কাটে দিন কেটে যায় আশায় আশায় আশায় আশায় আশায় আশায় এখন আমার ওষ্ঠে লাগে না কোনো প্রিয় স্বাদ এমনকি নারী এমনকি নারী এমনকি নারী এমনকি সুরা এমনকি ভাষা মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই বিকেল বে... | 3 | Separation |
1973 | তুমি যাও তুমি আসো | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | আমার ক্ষুধা ও শান্তি তোমার কাছেই আমার বিরহ আর মিলনের প্রথম যন্ত্রণা তোমার গভীরে উন্মীলিত । পৃথিবীর এপাশ ওপাশ দেখে কখনো স্পন্দিত দেশে কান্তিমান সবুজের কাছে নদী আর নাব্যতায় আত্মমগ্ন ব-দ্বীপের কাছে ফিরে যাই , শুনি কার পায়ের আওয়াজ ট্রেনের কম্পারটমেন্টে হুলুস্থুল বাসের ভিতরে লঞ্চের সিঁড়িতে বাজে কার যেন চলে যাওয়া অপার দুঃখের... | 3 | Separation |
841 | ছুটি | শঙ্খ ঘোষ | হয়তো এসেছিল | কিন্তু আমি দেখিনি | এখন কি সে অনেক দূরে চ’লে গেছে? যাব | যাব | যাব | সব তো ঠিক করাই আছে | এখন কেবল বিদায় নেওয়া, সবার দিকে চোখ, যাবার বেলায় প্রণাম, প্রণাম! কী নাম? আমার কোনো নাম তো নেই, নৌকো বাঁধা আছে দুটি, দুরে সবাই জাল ফেলেছে সমুদ্রে— | 0 | Miscellaneous |
560 | রক্তপাত, পড়ন্ত বেলায় | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | আজকের মতো খেলা তো প্রায় খতম হতে চলল। আর মাত্র মিনিট পাঁচেক বাকি। যাও বাছা, মাঠে গিয়ে এই পাঁচটি মিনিট তুমি কোনোক্রমে দাঁড়িয়ে থাকো। চেয়ে দ্যাখো, আলো পড়ে এসেছে। চেয়ে দ্যাখো, ওদের বোলারদের চোখ। লোভে চকচক করছে। মনে হচ্ছে, ওদের তেষ্টা এখনও মেটেনি। মনে হচ্ছে, এই শেষবেলায় ওরা অন্তত আর-একজনের রক্ত না-দেখে ছাড়বে না। বলো... | 0 | Miscellaneous |
1435 | নমুদের কালো মেয়ে | জসীম উদ্দীন | ইতল বেতল ফুলের বনে ফুল ঝুর ঝুর করেরে ভাই। ফুল ঝুর ঝুর করে ; দেখে এলাম কালো মেয়ে গদাই নমুর ঘরে। ধানের আগায় ধানের ছড়া, তাহার পরে টিয়া, নমুর মেয়ে গা মাজে রোজ তারির পাখা দিয়া, দুর্বাবনে রাখলে তারে দুর্বাতে যায় মিশে, মেঘের খাটে শুইয়ে দিলে খুঁজে না পাই দিশে। লাউয়ের ডগায় লাউয়ের পাতা, রৌদ্রেতে যায় ঊনে, গা-ভরা তার সোহাগ দোলে তা... | 1 | Love |
510 | যবনিকা কম্পমান | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কেহই কিংখাবে আর ঢাকে না বিরহ; দাঁত নখ ইত্যাদি সবাই আজ অনায়াসে দেখতে দেয়। পৃথিবীর নিখিল সন্ধ্যায় গোপন থাকে না কিছু। যত কিছু দেখিনি, এবারে সব দেখা হয়। যেন পশুলোমে সব ঢাকা ছিল। গোলাপি কম্বল তুলে নিলে স্পষ্ট হয় কিছু রক্ত, আর পিত্তের সবুজ, পুঁজ, কফ, লালা, গয়ের ইত্যাদি। সব গোলাপি কম্বলে চাপা দিয়ে প্রত্যেকে দেখিয়েছিল ... | 0 | Miscellaneous |
1198 | স্নানযাত্রা | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | বাইরে এসো …কে যেন বুকের মধ্যে বলে ওঠে… বাইরে এসো… এখুনি আমার বুকের ভিতরে কার স্নান সমাপন হল! সারাদিন ঘুরেছি অনেক দূরে দূরে। তবুও বাইরে যাওয়া হলো না। ঘরের ভিতরে অনেক দূরে দূরে পা ফেলেছি। ঘরের ভিতরে দশ-বিশ মাইল আমি ঘুরেছি! এখন সন্ধ্যায় কে যেন ফের বুকের ভিতরে বলে উঠল : এসো। বাইরে এসো… কে যেন বুকের ভিতর ঘড়ির ঘন্টায় বলে যাচ... | 1 | Love |
1116 | পরানের গহীন ভিতর-২ | সৈয়দ শামসুল হক | আন্ধার তোরঙ্গে তুমি সারাদিন কর কি তালাশ? মেঘের ভিতর তুমি দ্যাখ কোন পাখির চক্কর? এমন সরল পথ তবু ক্যান পাথরে টক্কর? সোনার সংসার থুয়া পাথারের পরে কর বাস? কি কামে তোমার মন লাগে না এ বাণিজ্যের হাটে? তোমার সাক্ষাৎ পাই যেইখানে দারুণ বিরান, ছায়া দিয়া ঘেরা আছে পরিস্কার তোমার উঠান অথচ বেবাক দেখি শোয়া আছে মরনের খাটে। নিঝুম জঙ... | 1 | Love |
1955 | তোমাকে ছাড়া | মহাদেব সাহা | তুমি যখন আমার কাছে ছিলে তখন গাছের কাছে গেলে আমার ভীষণ আনন্দ বোধ হতো লতাপাতার উৎসাহ দেখে আমি সারাদিন তার কাছে ঘুরে বেড়াতাম কোনো কোনো দেন পাখিদের বাষভূমিতে আমার অনেক উপাখ্যান শোনা হতো তুমি যখন আমার কাছে ছিলে তখন প্রত্যহ সূর্যোদয় দেখতে যেতাম তোমাদের বাড়ির পুরনো ছাদে তোমার সেই যে দজ্জাল ভাই সারারাত তাস খেলে এসে পড়ে পড়... | 3 | Separation |
1776 | আমি চেয়ে আছি তোমাদের সবাপানে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমি চেয়ে আছি তোমাদের সবাপানে। স্থান দাও মোরে সকলের মাঝখানে। নীচে সব নীচে এ ধূলির ধরণীতে যেথা আসনের মূল্য না হয় দিতে, যেথা রেখা দিয়ে ভাগ করা নেই কিছু যেথা ভেদ নাই মানে আর অপমানে, স্থান দাও সেথা সকলের মাঝখানে। যেথা বাহিরের আবরণ নাহি রয়, যেথা আপনার উলঙ্গ পরিচয়। আমার বলিয়া কিছু নাই একেবারে, এ সত্য যেথা নাহি ঢাকে আপনারে, সে... | 2 | Metaphor |
1449 | তাই তোমার আনন্দ আমার 'পর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তাই তোমার আনন্দ আমার 'পর তুমি তাই এসেছ নীচে। আমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর, তোমার প্রেম হত যে মিছে। আমায় নিয়ে মেলেছ এই মেলা, আমার হিয়ায় চলছে রসের খেলা, মোর জীবনে বিচিত্ররূপ ধরে তোমার ইচ্ছা তরঙ্গিছে। তাই তো তুমি রাজার রাজা হয়ে তবু আমার হৃদয় লাগি ফিরছ কত মনোহরণ-বেশে প্রভু নিত্য আছ জাগি। তাই তো, প্রভু, হেথায় এল নেমে, তোমারি প্র... | 1 | Love |
690 | মধুপুরে | মহাদেব সাহা | মনটা ভীষণ উড়ু উড়ু, আমি যেন উড়ো পাতা, ঝাউবনের কান্না শুনি বুকের মধ্যে সারা দুপুর- উড়তে উড়তে কোথায় যাবো, ঠিকানা ঠিক কোথায় পাবো নাকি শেষে হারিয়ে যাবো, এই আমি এই উড়ো পাতা, উড়ো পাতা! মনটা ভীষণ উড়ু উড়ু টেবিলে বই, লেখার কাগজ ঝড় বয়ে যায় মনের ভেতর; সব উড়ে যায় আমিও যাই মনটা ভীষণ উড়ু উড়ু শালবনে কার ছায়া দেখি- ... | 0 | Miscellaneous |
901 | হরিণেরা | জীবনানন্দ দাশ | স্বপ্নের ভিতরে বুঝি–ফাল্গুনের জ্যোৎস্নার ভিতরে। দেখিলাম পলাশের বনে খেলা করে হরিণেরা; রূপালি চাঁদের হাত শিশিরে পাতায়; বাতাস ঝরিছে ডানা — মুক্তা ঝ’রে যায় পল্লবের ফাঁকে ফাঁকে-বনে বনে-হরিণের চোখে; হরিণেরা খেলা করে হাওয়া আর মুক্তার আলোকে। হীরের প্রদীপ জ্বেলে শেফালিকা বোস যেন হাসে হিজল ডালের পিছে অগণন বনের আকাশে,– বিলুপ্ত... | 0 | Miscellaneous |
1050 | অন্ধ মেয়ে | সুকুমার রায় | গভীর কালো মেঘের পরে রঙিন ধনু বাঁকা, রঙের তুলি বুলিয়ে মেঘে খিলান যেন আঁকা! গবুজ ঘাসে রোদের পাশে আলোর কেরামতি রঙিন্ বেশে রঙিন্ ফুলে রঙিন্ প্রজাপতি! অন্ধ মেয়ে দেখ্ছে না তা – নাইবা যদি দেখে- শীতল মিঠা বাদল হাওয়া যায় যে তারে ডেকে! শুনছে সে যে পাখির ডাকে হরয কোলাকুলি মিষ্ট ঘাসের গন্ধে তারও প্রাণ গিয়েছে ভুলি! দুঃখ সুখের ... | 0 | Miscellaneous |
991 | প্রভু, আজি তোমার দক্ষিণ হাত | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রভু, আজি তোমার দক্ষিণ হাত রেখো না ঢাকি। এসেছি তোমারে, হে নাথ, পরাতে রাখী। যদি বাঁধি তোমার হাতে পড়ব বাঁধা সবার সাথে, যেখানে যে আছে কেহই রবে না বাকি। আজি যেন ভেদ নাহি রয় আপনা পরে, তোমায় যেন এক দেখি হে বাহিরে ঘরে। তোমার সাথে যে বিচ্ছেদে ঘুরে বেড়াই কেঁদে কেঁদে, ক্ষণেক-তরে ঘুচাতে তাই তোমারে ডাকি। | 0 | Miscellaneous |
1891 | অন্তরাল | মহাদেব সাহা | মানুষের ভিড়ে মানুষ লুকিয়ে থাকে গাছের আড়ালে গাছ, আকাশ লুকায় ছোট্ট নদীর বাঁকে জলের গভীরে মাছ; পাতার আড়ালে লুকায় বনের ফুল ফুলের আড়ালে কাঁটা, মেঘের আড়ালে চাঁদের হুলস্তুল সাগরে জোয়ার ভাটা। চোখের আড়ালে স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে তোমার আড়ালে আমি, দিনের বক্ষে রাত্রিকে ধরে রাখে এভাবে দিবসযামী। | 2 | Metaphor |
30 | সর্বহারা | কাজী নজরুল ইসলাম | ব্যথার সাতার-পানি-ঘেরা চোরাবালির চর, ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস সেই চরে তোর ঘর? শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা, হাট তুলে দে সর্বহারা, মেঘ-জননীর অশ্র”ধারা ঝ’রছে মাথার’ পর, দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি দুলিয়ে তর”-কর।। কন্যারা তোর বন্যাধারায় কাঁদছে উতরোল, ডাক দিয়েছে তাদের আজি সাগর-মায়ের কোল। নায়ের মাঝি! নায়ের মাঝি! পাল তু’লে তুই দে রে আজি ত... | 7 | Policy |
667 | এসেছি অঘ্রানে এক আমি আগন্তুক | মহাদেব সাহা | অঘ্রানে আমার জন্ম হবে যদি মরে যাই ঠিক ঠিক গালের জরুল নিয়ে চেয়ে দেখো এসেছি অঘ্রানে এক আমিআগন্তুক! তোমাদের স্থির মানব্ স্থিতির মাঝখানে এসে দাঁড়াবো আদ্যন্ত এক মানুষী সংবিৎ শস্যের সুঘ্রাণ লেগে রবে এই সারা চক্ষুময় সারাদেহ রোমাঞ্চিত হবে যদি মরে যাই ফিরে এসে ঠিক চিনে নেবো তাকে প্রাক্তন প্রেমিকা পায়রার খোপ এই, শস্যক্ষেত্... | 0 | Miscellaneous |
645 | পাখির শয়ন | মহাদেব সাহা | কতোটা সতর্ক হয়ে জল হয় মেঘের শরীর, ক নিয়মে মুয়ে থাকে পাখি ঘাসে, পুরু বাতাসের ভাঁজে, খোলা পুষ্প পল্লবের ছাদে এই তো পাখিরা বেশ, হিংসা দ্বেষ কিছু নেই তার। পাখি বড়ো স্বভাব সজ্জন মেলে আছে শরীরের সীমা কেমন উদাস নগ্ন ওরা পাখি, তাই মানে অরণ্য-আবাস এমনটি শব্দ আছে পাখির শয়ন বলো ভেঙে যাবে ভয়ে! পাখি তো শয়ন করে যেভাবে জলের ব... | 0 | Miscellaneous |
1106 | তোতা পাখি | যোগীন্দ্রনাথ সরকার | আতা গাছে তোতা পাখি ডালিম গাছে মউ, কথা কও না কেন বউ ? কথা কব কী ছলে, কথা কইতে গা জ্বলে ! | 0 | Miscellaneous |
482 | আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো | জয় গোস্বামী | আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো : ‘এই জীবন নিয়ে তুমি কি করেছো এতদিন ?’— তাহলে আমি বলবো একদিন বমি করেছিলাম, একদিন ঢোঁক গিলেছিলাম, একদিন আমি ছোঁয়া মাত্র জল রুপান্তরিত হয়েছিল দুধে, একদিন আমাকে দেখেই এক অপ্সরার মাথা ঘুরে গিয়েছিল একদিন আমাকে না বলেই আমার দুটো হাত কদিনের জন্য উড়ে গেছিল হাওয়ায় একদিন মদ হিসেবে ঢুকেছিলাম এক জবর... | 0 | Miscellaneous |
444 | ভাঙা বাড়ি | জয় গোস্বামী | ভাঙা বাড়ি। চারিদিকে ঘাস। এখানে কি কেউ বাস করে? জড়বুদ্ধি ক্রোধ, হাহাকার জমে জমে পিণ্ড হয় ঘরে বন্ধু না–বন্ধুর জ্যান্ত লাশ হাত নাড়ে জানলার ভিতরে জানলার এপারে লম্বা ঘাস পোকামাকড়ের ঝাঁক চলাচল করে! | 0 | Miscellaneous |
363 | অনর্থক নয় | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | বেয়ারা পাঠিয়ে কারা টাকা তোলে ব্যঙ্ক থেকে? আমি তো নিজের সইটা এখনো চিনি না বিষম টাকার অভাব!নেই। শুধু হৃৎপিন্ড হাওয়া টেনে নেয়ে হাসি কুলকুচো করি। মাথায় মুকুট নেই বলে কেউ ধার দিতেও চায় না। কিছু টাকা জমা আছে ব্লাড ব্যাঙ্কে। সামান্য। কাঁটা ছাড়ানো মাছের মতন গদ্য লিখলে ক্যাশ আসে। পারি না। কবিতায় দশ টাকা তাই বা মন্দ কি, ... | 0 | Miscellaneous |
1306 | একেই বুঝি মানুষ বলে | সৈয়দ শামসুল হক | নষ্ট জলে পা ধুয়েছো এখন উপায় কি? আচ্ছাদিত বুকের বোঁটা চুমোয় কেটেছি। কথার কোলে ইচ্ছেগুলো বাৎসায়নের রতি, মানে এবং অন্য মানে দুটোই জেনেছি। নষ্ট জলে ধুইয়ে দেবে কখন আমার গা, তোমার দিকে হাঁটবে কখন আমার দুটো পা? সেই দিকে মন পড়েই আছে, দিন তো হলো শেষ; তোমার মধ্যে পবিত্রতার একটি মহাদেশ এবং এক জলের ধারা দেখতে পেয়েছি- একেই বুঝি মান... | 1 | Love |
2068 | অস্ট্রেলিয়া | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বদরুল মিয়া মাথায় কী পোকা হল গেল অস্ট্রেলিয়া ফোন করে যখন আমি খোঁজ নিতে যাই অবাক ব্যাপার - তার নিশানাই নাই। সহজ সরল মানুষ বদরুল মিয়া পিছলা খেয়ে পড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া গিয়া। | 5 | Children |
1134 | কাঁপন ১৮ | তসলিমা নাসরিন | শরীর কি শুধু রাত্তিরেই চায় বজ্রপাত! চায় ছিঁড়ে ফুঁড়ে আসা ঝড় তুফান! সারাদিন দেখি ফুঁসে ওঠে জল, সারাদিন দেখি অলিতে গলিতে বান! | 1 | Love |
2189 | ওগো তুমি বলে দাও | পূর্ণেন্দু পত্রী | আহা! এই পৃথিবীতে উজ্জীবিত কত না সুন্দর কত না সুন্দর এই পৃথিবীর অথৈ হৃদয়, সূর্যোদয়ে কত শোভা কত শোভা গোধূলি সন্ধ্যায় নক্ষত্র ব্যাপ্তির রূপ বিরহী গগনে উন্মুখর। সুন্দর দেখেছি কত আশ্বিনে এবং অঘ্রাণে কতদিন হেমন্তের হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়া চুলে, কমিষ্ঠা কন্ঠার চোখে কত দূর জীবনের সুর সুন্দর দেখেছি কত রৌদ্রমুগ্ধ ফসলের ঘ্রাণে।... | 6 | Patriotic |
1684 | আত্মচরিত ০২ | পূর্ণেন্দু পত্রী | বৃষ্টি এলে ষোলো বছর বয়সটা ভিজতে ভিজতে ফিরে আসে আবার। পায়ের তলায় বন্যার জল, রুপোর মল পরা ঢেউ মখমল মাটি, শামুক, কাটা, পায়ের রক্তের দাগ, সব ফিরে আসে আবার। কার যেন ভিজে চুলের ডাকাডাকি, আকাশময় যেন একটাই কাজর-পরা চোখ। চাঁপা ফুলের গন্ধ পুড়তে থাকে দুপুরবেলার রোদে আমি তার হাহাকারের হাত ধরে ঘুরে বেড়াই। সেই হাহাকার কতবার তোমার ভে... | 2 | Metaphor |
1323 | মানসসুন্দরী | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজ কোনো কাজ নয়-- সব ফেলে দিয়ে ছন্দ বন্ধ গ্রন্থ গীত-- এসো তুমি প্রিয়ে, আজন্ম-সাধন-ধন সুন্দরী আমার কবিতা, কল্পনালতা। শুধু একবার কাছে বোসো। আজ শুধু কূজন গুঞ্জন তোমাতে আমাতে; শুধু নীরবে ভুঞ্জন এই সন্ধ্যা-কিরণের সুবর্ণ মদিরা-- যতক্ষণ অন্তরের শিরা-উপশিরা লাবণ্যপ্রবাহভরে ভরি নাহি উঠে, যতক্ষণে মহানন্দে নাহি যায় টুটে চেতনাবেদনা... | 1 | Love |
1128 | এ প্রেম নয় | তসলিমা নাসরিন | সারাক্ষণ তোমাকে মনে পড়ে তোমাকে সারাক্ষণ মনে পড়ে মনে পড়ে সারাক্ষণ। তুমি বলবে আমি ভালোবাসি তোমাকে, তাই। কিন্তু এর নাম কি ভালোবাসা? নিতান্তই ভালোবাসা? যে ভালোবাসা হাটে মাঠে না চাইতেই মেলে! ভালো তো আমি বাসিই কত কাউকে, এরকম তো মরে যাই মরে যাই লাগে না! এ নিশ্চয় ভালোবাসার চেয়ে বেশি কিছু, বড় কিছু। তোমার কথাগুলো, হাসিগুলো আমাকে... | 1 | Love |
787 | পোশাক-পরিচ্ছদ | পূর্ণেন্দু পত্রী | নতুন জামা-জুতো পরলে পরিচয়হীন অন্যলোক হয়ে যাই আমি। তখন নিজেকেই প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, কেমন আছেন ? ভালো? একবার বিদেশে গিয়েছিলাম অন্য লোকের ওভারকোট পরে সকালসন্ধে সেই ওভারকোট পরা মানুষটাকে দেখে মনে হতো মিলিটারি-কামড়ানো কোন রাজ্যের পলাতক রাষ্ট্রপতি। এইসব দেখেশুনেই আমার ধারণা, মানুষের কোন ধরা-বাঁধা পোশাক না থাকাই ভালো। স... | 0 | Miscellaneous |
903 | সাবিত্রী | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | ১ তমিস্রা রজনী ব্যাপিল ধরণী, দেখি মনে মনে পরমাদ গণি, বনে একাকিনী বসিলা রমণী কোলেতে করিয়া স্বামীর দেহ। আঁধার গগন ভুবন আঁধার, অন্ধকার গিরি বিকট আকার দুর্গম কান্তার ঘোর অন্ধকার, চলে না ফেরে না নড়ে না কেহ || ২ কে শুনেছে হেথা মানবের রব? কেবল গরজে হিংস্র পশু সব, কখন খসিছে বৃক্ষের পল্লব, কখন বসিছে পাখী শাখায়। ভয়েতে সুন্দর... | 0 | Miscellaneous |
756 | বৃক্ষরোপণ | পূর্ণেন্দু পত্রী | মেঘ দেখেছে, ঢেউ দেখেছে আর দেখেছে কাছের অন্ধকার পাড়া-পড়শী কেউ দেখেনি, সবটা গোপন বৃক্ষরোপন সেদিন তোমার মর্মমূলে। ভীষণ ভূমিকম্পে দুলে হঠাৎ যেদিন ছিটকে যাবে সকল খেলা লুকোচুরির মস্ত ছুরির একক ঘায়ে ভাঙবে যখন দখলদারির দালান-কোঠা রঙীন সুতোর সমস্ত ফুল এবং বোঁটা প্রকাশ্য রোদ বৃষ্টি তাপে, তখনো দুই স্পর্শকাতর মনের খাপে বৃক্ষরোপ... | 0 | Miscellaneous |
769 | হে প্রসিদ্ধ অমরতা | পূর্ণেন্দু পত্রী | হে প্রসিদ্ধ অমরতা কী সুন্দর তোমার ভ্রুকুটি ঘরের বাহিরে ডেকে এনে ভাঙো ঘর, স্থিরতার খুঁটি। ধবংসের আগুনে জলে ঝড়ে তুমি রাখো মায়াবী দর্পণ মহিমার স্পর্শ যারা চায় রক্তপাতে তাদের তর্পণ হে প্রসিদ্ধ অমরতা কী উজ্জল তোমার পেরেক বিদ্ধ ও নিহত হয় যারা কেবল তাদেরই অভিষেক। | 0 | Miscellaneous |
1233 | ছন্দরীতি | মহাদেব সাহা | তোমাদের কথায় কথায় এতো ব্যকরণ তোমাদের উঠতে বসতে এতো অভিধান, কিন্তু চঞ্চল ঝর্ণার কোনো ব্যাকরণ নেই আকাশের কোনো অভিধান নেই, সমুদ্রের নেই। ভালোবাসা ব্যাকরণ মানে না কখনো হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো সংবিধান নেই হৃদয় যা পারে তা জাতিসঙ্ঘ পারে না গোলাপ ফোটে না কোনো ব্যাকরণ বুঝে। প্রেমিক কি ছন্দ পড়ে সম্বোধন করে? নদী চিরছন্দময়, কিন্তু সে... | 1 | Love |
868 | হিং টিং ছট্ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্বপ্নমঙ্গল স্বপ্ন দেখেছেন রাত্রে হবুচন্দ্র ভূপ, অর্থ তার ভাবি ভাবি গবুচন্দ্র চুপ। শিয়রে বসিয়ে যেন তিনটে বাঁদরে উকুন বাছিতেছিল পরম আদরে। একটু নড়িতে গেলে গালে মারে চড়, চোখে মুখে লাগে তার নখের আঁচড়। সহসা মিলাল তারা, এল এক বেদে, "পাখি উড়ে গেছে' ব'লে মরে কেঁদে কেঁদে; সম্মুখে রাজারে দেখি তুলি নিল ঘাড়ে, ঝুলায়ে বসায়ে... | 0 | Miscellaneous |
1133 | কাঁপন ১৯ | তসলিমা নাসরিন | আমি ততটা যুবতী নই যতটা ছিলাম আগে কিন্তু তত তো বৃদ্ধা নই যত আমি হব। তোমার স্পর্শে যদি এ শরীর জাগে, তুমি যে হও সে হও, কোনও দ্বিধা নেই, শোবো | 1 | Love |
207 | গরীবের সৌন্দর্য | হুমায়ুন আজাদ | গরিবেরা সাধারণত সুন্দর হয় না। গরিবদের কথা মনে হ’লে সৌন্দর্যের কথা মনে পড়ে না কখনো। গরিবদের ঘরবাড়ি খুবই নোংরা, অনেকের আবার ঘরবাড়িই নেই। গরিবদের কাপড়চোপড় খুবই নোংরা, অনেকের আবার কাপড়চোপড়ই নেই। গরিবেরা যখন হাঁটে তখন তাদের খুব কিম্ভুত দেখায়। যখন গরিবেরা মাটি কাটে ইট ভাঙে খড় ঘাঁটে গাড়ি ঠেলে পিচ ঢালে তখন তাদের সার... | 4 | Humanity |
501 | দেয়াল | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | চেনা আলোর বিন্দুগুলি হারিয়ে গেল হঠাৎ– এখন আমি অন্ধকারে, একা। যতই রাত্রি দীর্ণ করি দারুণ আর্তরবে, এই নীরন্ধ্র নিকষ কালোর কঠিন অবয়বে যতই করি আঘাত, মিলবে না আর, মিলবে না আর, মিলবে না তার দেখা। হারিয়ে গেল হঠাৎ আমার আলোকলতা-মন,– নেই, এখানে নেই; হারিয়ে গেল প্রথম আলোর হঠাৎ-শিহরণ,– নেই। চার-দেয়ালে বন্ধ হয়ে চার দেয়ালের গ... | 0 | Miscellaneous |
1025 | বড় ভয়ে গোপনে গোপনে বাঁচি | তসলিমা নাসরিন | মানুষের চরিত্রই এমন বসলে বলবে না, বসো না দাঁড়ালে, কি ব্যাপার হাঁটো আর হাঁটলে, ছি: বসো। শুয়ে পড়লে ও তাড়া – নাও উঠো, না শুলে ও স্বষ্তি নেই, একটু তো শুবে ! ওঠ বস করে করে নষ্ঠ হচ্ছে দিন এখনো মরতে গেলে বলে ওঠে – বাঁচো না জানি কখন ও বাঁচতে দেখলে বলে উঠবে – ছি: মরো বড় ভয়ে গোপনে গোপনে বাঁচি। | 0 | Miscellaneous |
719 | প্রতিদ্বন্দ্বী! এসো যুদ্ধ হবে | পূর্ণেন্দু পত্রী | ডালিম ফুলের লাল জার্সি পেয়ে গেছি প্রতিদ্বন্দ্বী! এসো যুদ্ধ হবে। অনন্ত হালদার এসে বলে গেল তুমি নাকি এক তরফা আশী বছরের ইজারা নিয়েছেঅ এই পৃথিবীর সব হাততালি। ধনুস্টঙ্কারের মতো তুমি নাকি বেঁকে গেছ মালা পেয়ে, মালা পেয়ে পেয়ে? অথচ জানো কাল তোমার ছায়াকে কারা পুড়িয়েছে তংসাবতী খালে। আগামী বৈশাখে সাত লক্ষ গোলাপের জনসভা ডেক... | 0 | Miscellaneous |
704 | নববর্ষের চিঠি | মহাদেব সাহা | এবারও তেমনি শেষ চৈত্রের খর নিঃশ্বাসে নতুন বছর আসবে হয়তো; কিন্তু তুমি কি জানো এদেশে কখন আসবে নতুন দিন? কখন উদ্দীপনা অবসাদ আর ব্যর্থতাকেই দেবে নিদারুণ হানা। ছড়াবে হৃদয়ে আগামীর গাঢ় রঙে, ভাসাবে মেঘের দূর নীলিমায় স্বপ্নের সাম্পান? বলো না কখন এই ক্ষীণ হাতে ঘুরবে যুগের চাকা কখন সত্যি নতুন বছরে আসবে নতুন দিন, তুলবে তাদের ... | 0 | Miscellaneous |
72 | পাবো প্রেম কান পেতে রেখে | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | বড় দীর্ঘতম বৃক্ষে ব’সে আছো, দেবতা আমার । শিকড়ে, বিহ্বল প্রান্তে, কান পেতে আছি নিশিদিন সম্ভ্রমের মূল কোথা এ-মাটির নিথর বিস্তারে ; সেইখানে শুয়ে আছি মনে পড়ে, তার মনে পড়ে ? যেখানে শুইয়ে গেলে ধীরে-ধীরে কত দূরে আজ ! স্মারক বাগানখনি গাছ হ’য়ে আমার ভিতরে শুধু স্বপ্ন দীর্ঘকায়, তার ফুল-পাতা-ফল-শাখা তোমাদের খোঁড়া-বাসা শূন... | 8 | Religious |
1832 | রাশান রোলেট | হুমায়ূন আহমেদ | টেবিলের চারপাশে আমরা ছ'জন চারজন চারদিকে ; দু'জন কোনাকুনি দাবার বোড়ের মত খেলা শুরু হলেই একজন আরেকজনকে খেয়ে ফেলতে উদ্যত । আমরা চারজন শান্ত, শুধু দু'জন নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে আছে । তাদের স্নায়ু টানটান। বেড়ালের নখের মত তাদের হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসবে তীক্ষ্ম নখ । খেলা শুরু হতে দেরি হচ্ছে, আম্পায়ার এখনো আসেনি। খেলার সরঞ্জ... | 2 | Metaphor |
1851 | কালের যাত্রার ধ্বনি | সুফিয়া কামাল | কাল কভু চুপ নাহি রয়, কথা কয়, সে যে কথা কয়। সে আবার জেগে ওঠে প্রত্যহের জীবন-স্পন্দনে; সে দুর্বার প্রাণবেগে বেঁচে ওঠে নিত্যের স্মরণে। দুর্জয় শক্তিতে তার কীর্তি লেখে যুগের প্রাচীরে শতাব্দীর সাক্ষ্য রাখি, দিবস-নিশীথ-বক্ষ চিরে গতি চলে তার, তার সাথে ছন্দ রেখে চলে সিন্ধু নদী পারাবার। কত প্রভাতের সূর্য হেসে আসে বাড়াইয়া ক... | 2 | Metaphor |
489 | সহোদরা | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | না, সে নয়, অন্য কেউ এসেছিল; ঘুমো, তুই ঘুমো। এখনো রয়েছে রাত্রি, রোদ্দুরে চুমো লাগেনি শিশিরে। ওরে বোকা, আকাশে ফোটেনি আলো, দরজায় এখনো তার টোকা পড়েনি! টগর-বেল-গন্ধরাজ-জুঁই সবাই ঘুমিয়ে আছে, তুই জাগিসনে আর! তোর বরণডালার মালাগাছি দে আমাকে, আমি জেগে আছি। না রে মেয়ে, নারে বোকা মেয়ে, আমি ঘুমোবো না। আমি নির্জন পথের দিকে চে... | 0 | Miscellaneous |
1030 | সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে | হুমায়ুন আজাদ | আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক সব সংঘ-পরিষদ; চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে চ’লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের অধিকারে। চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক মন্দি... | 0 | Miscellaneous |
417 | আমিও ছিলাম | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | পাঁচজনে বলে পাঁচ কথা, আমি নিজেকে এখনো চিনি না চেয়েছিলাম তো সকালবেলার শুদ্ধ মানুষ হতে দশ দিকে চেয়ে আলোর আকাশে আয়নায় মুখ দেখা আমিও ছিলাম, আমিও ছিলম, এই সুখে নিশ্বাস জনি না কোথায় ভূল হয়ে যায়, ছায়া পড়ে ঘোর বনে ঝড়ে বৃষ্টিতে পায়ে পায়ে হেঁটে যাকে মনে করি বন্ধু সে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়, চোখে অচেনা মতন ভ্রূকুটি নেশায... | 0 | Miscellaneous |
985 | যেন শেষ গানে মোর সব রাগিণী পূরে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যেন শেষ গানে মোর সব রাগিণী পূরে-- আমার সব আনন্দ মেলে তাহার সুরে। যে আনন্দে মাটির ধরা হাসে অধীর হয়ে তরুলতায় ঘাসে, যে আনন্দে দুই পাগলের মতো জীবন-মরণ বেড়ায় ভুবন ঘুরে-- সেই আনন্দ মেলে তাহার সুরে। যে আনন্দ আসে ঝড়ের বেশে, ঘুমন্ত প্রাণ জাগায় অট্ট হেসে। যে আনন্দ দাঁড়ায় আঁখিজলে দুঃখ-ব্যথার রক্তশতদলে, যা আছে সব ধুলায় ফে... | 0 | Miscellaneous |
921 | শ্মশান | জীবনানন্দ দাশ | কুহেলির হিমশয্যা অপসারি ধীরে রূপময়ী তন্বী মাধবীরে ধরণী বরিয়া লয় বারে-বারে-বারে! -আমাদের অশ্রুর পাথারে ফুটে ওঠে সচকিতে উৎসবের হাসি, অপরূপ বিলাসের বাঁশি! ভগ্ন- প্রতিমারে মোরা জীবনের বেদীতটে আরবার গড়ি, ফেনাময় সুরাপাত্র ধরি ভুলে যাই বিষের আস্বাদ! মোহময় যৌবনের সাধ আতপ্ত করিয়া তোলে স্থবিরের তুহিন- অধর! চির-মৃত্যুচর হে... | 0 | Miscellaneous |
1021 | চম্পা | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত | আমারে ফুটিতে হ’লো বসন্তের অন্তিম নিশ্বাসে, বিষণ্ণ যখন বিশ্ব নির্মম গ্রীষ্মের পদানত; রুদ্র তপস্যার বনে আধ ত্রাসে আধেক উল্লাসে, একাকী আসিতে হ’লো সাহসিকা অপ্সরার মতো। বনানী শোষণ-ক্লিষ্ট মর্মরি’ উঠিল এক বার, বারেক বিমর্ষ কুঞ্জে শোনা গেল ক্লান্ত কুহু স্বর; জন্ম-যবনিকা-প্রান্তে মেলি’ নব নেত্র সুকুমার দেখিলাম জলস্থল, - শুন্য,... | 0 | Miscellaneous |
1846 | কব্বর | হুমায়ূন আহমেদ | তিনি শায়িত ছিলেন গাঢ় কব্বরে যার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বেঁধে দেয়া, গভীরতা নয়। কব্বরে শুয়ে তাঁর হাত কাঁপে পা কাঁপে গভীর বিস্ময়বোধ হয়। মনে জাগে নানা সংশয়। মৃত্যু তো এসে গেছে, শুয়ে আছে পাশে তবু কেন কাটে না এ বেহুদা সংশয়? | 2 | Metaphor |
89 | ভজন পূজন সাধন আরাধনা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ভজন পূজন সাধন আরাধনা সমস্ত থাক্ পড়ে। রুদ্ধদ্বারে দেবালয়ের কোণে কেন আছিস ওরে। অন্ধকারে লুকিয়ে আপন মনে কাহারে তুই পূজিস সংগোপনে, নয়ন মেলে দেখ দেখি তুই চেয়ে দেবতা নাই ঘরে। তিনি গেছেন যেথায় মাটি ভেঙে করছে চাষা চাষ-- পাথর ভেঙে কাটছে যেথায় পথ, খাটছে বারো মাস। রৌদ্রে জলে আছেন সবার সাথে, ধুলা তাঁহার লেগেছে দুই হাতে; তা... | 8 | Religious |
1943 | একটি কথা | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | একটি কথা বাকি রইলো, থেকেই যাবে মন ভোলালো ছদ্মবেশী মায়া আর একটু দূর গেলেই ছিল স্বর্গ নদী দূরের মধ্যে দূরত্ব বোধ কে সরাবে। ফিরে আসার আগেই পেল খুব পিপাসা বালির নীচে বালিই ছিল, আর কিছু না রৌদ্র যেন হিংসা, খায় সমস্তটা ছায়া রাত্রি যেমন কাঁটা, জানে শব্দভেদী ভাষা বালির নীচে বালিই ছিল, আর কিছু না একটি কথা বাকি রইলো, থেকেই যাবে। | 3 | Separation |
328 | কত লক্ষ বরষের তপস্যার ফলে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কত লক্ষ বরষের তপস্যার ফলে ধরণীর তলে ফুটিয়াছে আজি এ মাধবী। এ আনন্দচ্ছবি যুগে যুগে ঢাকা ছিল অলক্ষ্যের বক্ষের আঁচলে। সেইমতো আমার স্বপনে কোনো দূর যুগান্তরে বসন্তকাননে কোনো এক কোণে একবেলাকার মুখে একটুকু হাসি উঠিবে বিকাশি-- এই আশা গভীর গোপনে আছে মোর মনে। | 0 | Miscellaneous |
406 | পুনর্জন্মের সময় | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | নদীর সঙ্গে খেলা শুরু করবার মুহূর্তে আমার অন্ধকার পছন্দ হয়নি আমি নক্ষত্রলোককে সংস্কৃত থেকে আনুবাদ করা ভাষায় ডাক দিয়ে বললাম, আলো দেখাও! চাঁদের অভিমান হয়েছিল, কিন্তু নীহারিকাপুঞ্জ নিচু হয়ে এলো কেনো দৈব-নির্দেশ ছাড়াই বাতাস উড়িয়ে নিলো নদীটির ওড়না আমার শরীরে অসহ্য উত্তাপ, আমি সূর্যলোকোর আগন’ক শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি,... | 0 | Miscellaneous |
1418 | নকশী কাঁথার মাঠ – ১০ | জসীম উদ্দীন | দশ বড় ঘর বান্দাছাও মোনাভাই বড় করছাও আশা রজনী প্রভাতের কালে পঙ্খী ছাড়বে বাসা | . — মুর্শীদা গান নতুন চাষা ও নতুন চাষাণী পাতিল নতুন ঘর, বাবুই পাখিরা নীড় বাঁধে যথা তালের গাছের পর | মাঠের কাজেতে ব্যস্ত রূপাই, নয়া বউ গেহ কাজে, দুইখান হতে দুটি সুর যেন এ উহারে ডেকে বাজে | ঘর চেয়ে থাকে কেন মাঠ পানে, মাঠ কেন ঘর পানে, দুইখান... | 1 | Love |
1889 | অভিযান | কাজী নজরুল ইসলাম | নতুন পথের যাত্রা-পথিক চালাও অভিযান ! উচ্চ কণ্ঠে উচ্চার আজ - “মানুষ মহীয়ান !” চারদিকে আজ ভীরুর মেলা , খেলবি কে আর নতুন খেলা ? জোয়ার জলে ভাসিয়ে ভেলা বাইবি কি উজান ? পাতাল ফেড়ে চলবি মাতাল স্বর্গে দিবি টান্ ।। সরল সাজের নাইরে সময় বেরিয়ে তোরা আয় , আজ বিপদের পরশ নেব নাঙ্গা আদুল গায় । আসবে রণ-সজ্জা করে , সেই আশায়ই রই... | 2 | Metaphor |
1853 | সাঁঝের মায়া | সুফিয়া কামাল | অনন্ত সূর্যাস্ত-অন্তে আজিকার সূর্যাস্তের কালে সুন্দর দক্ষিণ হস্তে পশ্চিমের দিকপ্রান্ত-ভালে দক্ষিণা দানিয়া গেল, বিচিত্র রঙের তুলি তার_ বুঝি আজি দিনশেষে নিঃশেষে সে করিয়া উজাড় দানের আনন্দ গেল শেষ করি মহাসমারোহে। সুমধুর মোহে ধীরে ধীরে ধীরে প্রদীপ্ত ভাস্কর এসে বেলাশেষে দিবসের তীরে ডুবিল যে শান্ত মহিমায়, তাহারি সে অস্তরা... | 2 | Metaphor |
1689 | যুদ্ধ | পূর্ণেন্দু পত্রী | যে আমাকে অমরতা দেবে সে তোমার ছাপাখানা নয়, সে আমার সত্তার সংগ্রাম নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়। | 2 | Metaphor |
1633 | একটাই মোমবাতি | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | একটাই মোমবাতি, তুমি তাকে কেন দু’দিকে জ্বেলেছ? খুব অহঙ্কারী হলে তবেই এমন কাণ্ড করা যায়। তুমি এত অহঙ্কারী কেন? চোখে চোখ রাখতে গেলে অন্য দিকে চেয়ে থাকো, হাতে হাত রাখলে গেলে ঠেলে দাও, হাতের আমলকী-মালা হঠাৎ টান মেরে তুমি ফেলে দাও, অথচ তারপরে এত শান্ত স্বরে কথা বলো, যেন কিছুই হয়নি, যেন যা কিছু যেমন ছিল, ঠিক তেমনি আছে। খুব অহ... | 2 | Metaphor |
1897 | শামুক | হেলাল হাফিজ | ‘অদ্ভুত, অদ্ভুত’ বলে সমস্বরে চিৎকার করে উঠলেন কিছু লোক। আমি নগরের জ্যেষ্ঠ শামুক একবার একটু নড়েই নতুন ভঙ্গিতে ঠিক গুটিয়ে গেলাম, জলে দ্রাঘিমা জুড়ে যে রকম গুটানো ছিলাম, ছিমছাম একা একা ভেতরে ছিলাম, মানুষের কাছে এসে নতুন মুদ্রায় আমি নির্জন হলাম, একাই ছিলাম আমি পুনরায় একলা হলাম। | 2 | Metaphor |
706 | এবার বর্ষার জলে | মহাদেব সাহা | এবার বর্ষার জলে ধুয়ে নেবো মলিন জীবন ধুয়ে নেবো আপাদমস্তক এই ভিতর-বাহির, নতুন বর্ষার জলে পুনরায় হবো সঞ্জীবিত; আমি চাই কেবল জীবন জুড়ে অঝোর বর্ষণ দিনরাত বৃষ্টিজল, দুইকুল ভরা স্নিগ্ধ নদী, বর্ষার শ্যামল ছায়া, পরিশুদ্ধ বৃষ্টিধারা নব- এবার বর্ষার জলে ধুয়ে নেবো আমার জীবন ! | 0 | Miscellaneous |
1239 | আমার আকাশ জুড়ে | মহাদেব সাহা | আর কোনো চাঁদ নেই, আমার আকাশ জুড়ে তুমি, আলোকিত হয় তাকে এই সত্তা, এই পটভূমি! | 1 | Love |
689 | সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া | মহাদেব সাহা | সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া, হৃদয়ের তর্জমা নিষিদ্ধ আর মননের সম্মুখে প্রাচীর বিবেক নিয়ত বন্দী, প্রেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা; এখানে এখন পাখি আর প্রজাপতি ধরে ধরে কারাগারে রাখে- সবাই লাঞ্ছিত করে স্বর্ণচাঁপাকে; সুপেয় নদীর জলে ঢেকে দেয় বিষ, আকাশকে করে উপহাস। আলোর বিরুদ্ধাচারী আঁধারের করে শুধু স্ততি, ব... | 0 | Miscellaneous |
993 | নিশার স্বপন ছুটল রে, এই | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নিশার স্বপন ছুটল রে, এই ছুটল রে। টুটল বাঁধন টুটল রে। রইল না আর আড়াল প্রাণে, বেরিয়ে এলেম জগৎ-পানে, হৃদয়শতদলের সকল দলগুলি এই ফুটল রে, এই ফুটল রে। দুয়ার আমার ভেঙে শেষে দাঁড়ালে এই আপনি এসে নয়নজলে ভেসে হৃদয় চরণতলে লুটল রে। আকাশ হতে প্রভাত-আলো আমার পানে হাত বাড়ালো, ভাঙা কারার দ্বারে আমার জয়ধ্বনি উঠল রে, এই উঠল রে। | 0 | Miscellaneous |
1965 | দুঃখ দিয়েছিলে তুমি | পূর্ণেন্দু পত্রী | দুঃখ দিয়েছিলে তুমি আবার লাইটারও দিয়েছিলে। বোতাম ছিড়ে আমাকে লগ্ন করেছো তুমি আবার বুনে দিয়েছো নাইলনের সবুজ জামা। কমলালেবু নিংড়ে নিংড়ে বানানো সরবৎ ভিতরে মিশিয়ে দিলে গোপন কান্নাকাটি স্মৃতির পেস্তা-বাদাম সেই সরবৎ খেতে হবে এখন প্রত্যহ বাইশ বছরের যুবকটা যতদিন আমার চুলের ভিতরে আঁচড়াবে আগুন রঙের চিরুনি। | 3 | Separation |
2066 | অভাগার কাহিনী | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | ১ লা থাকি একলা শুই নিজের কাপড় নিজেই ২ খাটাখাটনি রাত্রি ৩ সঙ্গী খালি মুড়ির টিন। চেষ্টা করি বাঁ ৪ পাছ দিয়ে সব পাচার। বাইরে গেলে চান্দি ৬ এতো বেয়াদপ কেমনে হয়? ঝগড়া করিস আমার ৭ ভাগ ব্যাটা তুই জলদি ৮ মাঝে মাঝে লাগে ভয় কেউ দেখি আর মানুষ ৯ সবার মাঝেই অসন্তোষ যত ১০ এই নন্দঘোষ? | 5 | Children |
1542 | অবেলায় শঙ্খধ্বনি | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | অতোটা হৃদয় প্রয়োজন নেই, কিছুটা শরীর কিছুটা মাংস মাধবীও চাই। এতোটা গ্রহণ এতো প্রশংসা প্রয়োজন নেই কিছুটা আঘাত অবহেলা চাই প্রত্যাখান। সাহস আমাকে প্ররোচনা দেয় জীবন কিছুটা যাতনা শেখায়, ক্ষুধা ও খরার এই অবেলায় অতোটা ফুলের প্রয়োজন নেই। বুকে ঘৃণা নিয়ে নীলিমার কথা অনাহারে ভোগা মানুষের ব্যথা প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই- ক... | 1 | Love |
795 | আমাদের তুমুল হৈ-হল্লা | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমরা যারা চল্লিশের চৌকাঠ পেরিয়ে পঞ্চাশের দিকে সেদিন আঠারো বছরের উথাল-পাথাল বাউগুলে সেজে সারারাত তুমুল হৈ-হল্লা। আগুনের পিন্ডি গিলে গিলে, আগুনের পিন্ডি গিলে গিলে প্রত্যেকে এক-একজন তালেবর। ‘বুঝেছি, পৃথিবীটাকে উচ্ছন্নে পাঠাবে ছোঁড়াগুলো । নিজের মনে গজ গজ জানলা খুলে পালিয়ে গেল হাওয়া। ‘বুঝেছি, একটা কেচ্ছা-কেলেঙ্কারী না ঘ... | 0 | Miscellaneous |
666 | কতো নতজানু হবো, দাঁতে ছোঁবো মাটি | মহাদেব সাহা | কতো নতজানু হবো, কতো দাঁতে ছোঁবো মাটি এই শিরদাঁড়া হাঁটু ভেঙে কতোবার হবো ন্যুব্জ আধোমুখ? আজীবন সেজদার ভঙ্গিতে কতো আর নোয়াবো শরীর? এক রকম স্পষ্ট দাঁড়ানো দৃঢ়ভাব কারো কারো সহজাত থাকে, মানুষের মধ্যে থেকে তাহাদের পাঁচফুট নয় ইঞ্চি মাথা মানুষের চে’ও কিছু উঁচু আমি কতো আর নতজানু হবো দাঁতে ছোঁবো মাটি? আমার জনক সে কি জন্ম থেকে... | 0 | Miscellaneous |
610 | যাবেন না | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কখন যে একদল মানুষ আমাকে ঘিরে ফেলেছে, তা আমি বুঝতে পারিনি। হাত ধরে যিনি আমাকে আজ এই হাটের মধ্যে এনে ছেড়ে দিয়েছিলেন, চোখের পলক ফেলতে-না-ফেলতেই তিনি ভ্যানিশ। বুঝতে পারছিলুম যে, আমারও এখন সরে পড়া দরকার। কিন্তু মানুষের বলয়ের বাইরে যেই আমি আমার পা পাড়িয়েছি, অমনি কেউ একজন বলে উঠল, ‘যাবেন না।’ যাবেন না, যাবেন না, যাবেন ন... | 0 | Miscellaneous |
1797 | কখনো আমার মাকে | শামসুর রাহমান | কখনো আমার মাকে কোনো গান গাইতে শুনিনি। সেই কবে শিশু রাতে ঘুম পাড়ানিয়া গান গেয়ে আমাকে কখনো ঘুম পাড়াতেন কি না আজ মনেই পড়ে না। যখন শরীরে তার বসন্তের সম্ভার আসেনি, যখন ছিলেন তিনি ঝড়ে আম-কুড়িয়ে বেড়ানো বয়সের কাছাকাছি হয়তো তখনো কোনো গান লতিয়ে ওঠেনি মীড়ে মীড়ে দুপুরে সন্ধ্যায়, পাছে গুরুজনদের কানে যায়। এবং স্বামীর সংসারে এসেও মা ... | 2 | Metaphor |
960 | ধান ক্ষেত | জসীম উদ্দীন | পথের কেনারে পাতা দোলাইয়া করে সদা সঙ্কেত, সবুজে হদুদে সোহাগ ঢুলায়ে আমার ধানের ক্ষেত। ছড়ায় ছড়ায় জড়াজড়ি করি বাতাসে ঢলিয়া পড়ে, ঝাঁকে আর ঝাঁকে টিয়ে পাখিগুলে শুয়েছে মাঠের পরে। কৃষাণ কনের বিয়ে হবে, তার হলদি কোটার শাড়ী, হলুদে ছোপায় হেমন্ত রোজ কটি রোদ রেখা নাড়ি। কলমী লতার গহনা তাহার গড়ার প্রতীক্ষায়, ভিনদেশী বর... | 0 | Miscellaneous |
506 | আবহমান | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া, লাউমাচাটার পাশে। ছোট্ট একটা ফুল দুলছে, ফুল দুলছে, ফুল সন্ধ্যার বাতাসে। কে এইখানে এসেছিল অনেক বছর আগে, কেউ এইখানে ঘর বেঁধেছে নিবিড় অনুরাগে। কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে, এই মাটিকে এই হাওয়াকে আবার ভালবাসে। ফুরয় না্ তার কিছুই ফুরয় না, নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না! যা... | 0 | Miscellaneous |
42 | উত্তম ও অধম | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত | কুকুর আসিয়া এমন কামড় দিল পথিকের পায় কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে বিষ লেগে গেল তাই। ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা বিষম ব্যথায় জাগে, মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায় জাগে শিয়রের আগে। বাপেরে সে বলে র্ভৎসনা ছলে কপালে রাখিয়া হাত, তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে তোমার কি নাই দাতঁ? কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল “তুই রে হাসালি মোরে, দাঁত... | 7 | Policy |
1525 | চিরকুট | মহাদেব সাহা | হঠাৎ সেদিন হাতে পেয়ে চিরকুট নিমিষে সময় হয়ে গেলো যেন লুট; পার হয়ে বহু বছরের ব্যবধান কানে ভেসে এলো হারানো দিনের গান। মনে পড়ে গেলো তোমার প্রতম খাম আদ্যক্ষরে লেখা ছিলো শুধু নাম, একটি গোলাপ আঁকা ছিলো এককোণে র-ফলাবিহীন প্রিয় লেখা পড়ে মনে; খুব সাধারণ খাতার কাগজে লেখা লুকিয়ে পড়েছি, হয়নি সেভাবে দেখা তবু মনে আছে কোথায়... | 1 | Love |
676 | আমি চাই | মহাদেব সাহা | আমি আজ প্রাণখোলা অট্টহাসি চাই বৈশাখের ঝড় চাই, উদ্দামতা চাই। ফিসফিস কানাকানি চাই না মোটেও, যার যা বলার খুবই স্পষ্টাস্পষ্টিভাবে বলা চাই। অশ্রু ও আর্দ্রতা নয় আজ আমি খর চৈত্র চাই সেতু ভেঙে আজ চাই দীর্ঘ ব্যবধান, আজ শুধু দূরত্ব চাই নৈকট্য চাই না চাই না শীতল ছায়া, চাই দগ্ধ রৌদ্রের দুপুর। আজ চাই শক্ত মাটি, ইট-কাঠ, লোহা কাদা... | 0 | Miscellaneous |
1023 | সময় | তসলিমা নাসরিন | রাত তিনটেয় ঘুম ভেঙে গেলে এখন আর বিরক্ত হই না রাতে ভালো ঘুম না হলে দিনটা ভাল কাটে না – এমান বলে লোকে । দিন যদি ভাল না কাটে তাহলে কি কিছু যায় আসে ! আমার দিনই বা কেন , রাতই বা কেন ? দিন দিনের মতো বসে থাকে দূরে , আর রাত রাতের মতো , ঘুমিয়ে থাকার গায়ে মুখ গুঁজে গুঁটি গুঁটি শুয়ে থাকে জেগে থাকা । এসব দিন রাত , এসব সময় , ... | 0 | Miscellaneous |
1313 | ফুলবাজার | শঙ্খ ঘোষ | পদ্ম, তোর মনে পড়ে খালযমুনার এপার ওপার রহস্যনীল গাছের বিষাদ কোথায় নিয়ে গিয়েছিল? স্পষ্ট নৌকো, ছৈ ছিল না, ভাঙা বৈঠা গ্রাম হারানো বন্য মুঠোয় ডাগর সাহস, ফলপুলন্ত নির্জনতা আড়ালবাঁকে কিশোরী চাল, ছিটকে সরে মুখের জ্যোতি আমরা ভেবেছিলাম এরই নাম বুঝি বা জন্মজীবন | কিন্তু এখন তোর মুখে কী মৃণালবিহীন কাগজ-আভা সেদিন যখন হেসেছিলি সত্... | 1 | Love |
998 | যতিহীন | জীবনানন্দ দাশ | বিকেলবেলা গড়িয়ে গেলে অনেক মেঘের ভিড় কয়েক ফলা দীর্ঘতম সূর্যকিরণ বুকে জাগিয়ে তুলে হলুদ নীল কমলারঙের আলোয় জ্ব’লে উঠে ঝরে গেল অন্ধকারের মুখে। যুবারা সব যে যার ঢেউয়ে,- মেয়েরা সব যে যার প্রিয়ের সাথে কোথায় আছে জানি না তো; কোথায় সমাজ, অর্থনীতি? স্বর্গগামী সিঁড়ি ভেঙে গিয়ে পায়ের নিচে রক্তনদীর মতো- মানব ক্রমপরিণতির ... | 0 | Miscellaneous |
1445 | প্রেমের হাতে ধরা দেব | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রেমের হাতে ধরা দেব তাই রয়েছি বসে; অনেক দেরি হয়ে গেল, দোষী অনেক দোষে। বিধিবিধান-বাঁধনডোরে ধরতে আসে, যাই সে সরে, তার লাগি যা শাস্তি নেবার নেব মনের তোষে। প্রেমের হাতে ধরা দেব তাই রয়েছি বসে। লোকে আমায় নিন্দা করে, নিন্দা সে নয় মিছে, সকল নিন্দা মাথায় ধরে রব সবার নীচে। শেষ হয়ে যে গেল বেলা, ভাঙল বেচা-কেনার মেলা, ডাকতে যারা এ... | 1 | Love |
1400 | পঁচিশ বছর পরে (মাঠের গল্প) | জীবনানন্দ দাশ | শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে- বলিলামঃ ‘ একদিন এমন সময় আবার আসিও তুমি- আসিবার ইচ্ছা যদি হয়; পঁচিশ বছর পরে ।‘ এই ব’লে ফিরে আমি আসিলাম ঘরে; তারপর, কতবার চাঁদ আর তারা, মাঠে- মাঠে মরে গেল, ইঁদুর – পেঁচারা জ্যোৎস্নায় ধানক্ষেত খুঁজে এল-গেল ! – চোখ বুজে কতবার ডানে আর বাঁয়ে পড়িল ঘুমায়ে কত- কেউ !- রহিলাম জেগে আমি এক... | 1 | Love |
1299 | আত্মসমালোচনা | পূর্ণেন্দু পত্রী | এও এক ধরনের অসুখ এ বোধ, অতৃপ্তির আর অসর্ম্পূতার। এর জ্বরও ওঠে, নামে, কাঁপায়। গভীর বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ফেরার পর এও হয়ে যায় হাড়-পাঁজরের কফ-কাশি। ভীষণ টঙ্কারের মতো মুহূর্তগুলো যা বাজে তার ভিতরকার গণনাহীন কাঁপনগুলোকে চিনিয়ে দিতে, আর ধরার আগেই মিলিয়ে যায় ক্রমশ দূর প্রতিধ্বনিহীনতায় হৃতসর্বস্ব হতে হতে। | 1 | Love |
1821 | শিকড় এবং ডালপালা | পূর্ণেন্দু পত্রী | জন্মমুহূর্তে বীজের চোখে যেই নামল বৃক্ষের স্বপ্ন অমনি দ্বিখন্ডিত। আবখানা নেমে গেল মাটির তিমিরে শিকড় আধখানা রয়ে গেল মাটির উপর পৃথিবীর সকাল-বিকেলে ডালপালা। স্বপ্ন মানেই এক অনির্বচনীয় হত্যাকারী এক আলোকিত খড়গ। একটা কিছু হয়ে ওঠার স্বপ্নে বুকের মধ্যে যেই বজ্র-বিদ্যুৎ বৃষ্টি বাদলের হৈহৈ রৈরৈ হাঁকাহাঁকি অমনি দ্বিখন্ডিত হয়... | 2 | Metaphor |
1320 | হৃদয়যমুনা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যদি ভরিয়া লইবে কুম্ভ, এসো ওগো, এসো মোর হৃদয়নীরে। তলতল ছলছল কাঁদিবে গভীর জল ওই দুটি সুকোমল চরণ ঘিরে। আজি বর্ষা গাঢ়তম, নিবিড়কুন্তলসম মেঘ নামিয়াছে মম দুইটি তীরে। ওই যে শবদ চিনি নূপুর-রিনিকিঝিনি, কে গো তুমি একাকিনী আসিছ ধীরে। যদি ভরিয়া লইবে কুম্ভ, এসো ওগো, এসো মোর হৃদয়নীরে। যদি কলস ভাসায়ে জলে বসিয়া থাকিতে চাও আপনা ভুলে-- হ... | 1 | Love |
821 | কুড়িটি হাইকু | মলয় রায়চৌধুরী | ১.যতটুকু ঝুঁকে-দেখা বাতাসে ছড়ানো আকাশ ল্যাজের রক্তাভ আলো ২.কোমরে হাত মেয়েটি সম্রাট অশোক কাঁদছেন কালো ঠান্ডা পাথর ৩.মেঠোপটে লাশ লেবু-পাতায় সবুজ টুপটাপ স্যাতসেঁতে ঘাসফড়িং ৪. সুন্দরী পাতার রস রক্তাক্ত হাত ছেলেটির মৌয়ালিরা ফিরছে মধু নিয়ে ৫.শ্মশানে ধোঁয়ার কুন্ডলী জলে চিংড়ি মাছের ঝাঁক গৌতমবুদ্ধ হেঁটে গেলেন ৬.হাসছে বু... | 0 | Miscellaneous |
192 | বস্তীর মেয়ে | জসীম উদ্দীন | বস্তীর বোন, তোমারে আজিকে ছেড়ে চলে যেতে হবে, যত দূরে যাব তোমাদের কথা চিরদিন মনে রবে। মনে রবে, সেই ভ্যাঁপসা গন্ধ অন্ধ-গলির মাঝে, আমার সে ছোট বোনটির দিন কাটিছে মলিন সাজে। পেটভরা সে যে পায় না আহার, পরনে ছিন্নবাস, দারুণ দৈন্য অভাবের মাঝে কাটে তার বারোমাস। আরো মনে রবে, সুযোগ পাইলে তার সে ফুলের প্রাণ, ফুটিয়া উঠিত নানা রঙ ল... | 4 | Humanity |
1855 | হে মহান নেতা | সুফিয়া কামাল | কায়েদে আজম! হে মহান নেতা সাড়া দাও, দাও সাড়া, তোমারে ভোলেনি, আজিও ডাকিছে বঞ্চিত সবহারা তোমারে হেরেনি, শুনেছিল শুধু তোমার কন্ঠবাণী; জেনেছিল তারা, তুলেছে পতাকা তোমার বজ্রপাণি অবিচল ন্যায়ে, সত্যের আলো ইসলামী ছায়াতল বহু যুগান্ত আধাঁর অন্তে আবার সমুজ্জ্বল হয়ে এল, নীল নভ হতে হাসে অর্ধচন্দ্র-তারা শ্যামা বসুমতী বিছায়ে আচ... | 2 | Metaphor |
1770 | দয়া করে ইচ্ছা করে আপনি ছোটো হয়ে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দয়া করে ইচ্ছা করে আপনি ছোটো হয়ে এসো তুমি এ ক্ষুদ্র আলয়ে। তাই তোমার মাধুর্যসুধা ঘুচায় আমার আঁখির ক্ষুধা, জলে স্থলে দাও যে ধরা কত আকার লয়ে। বন্ধু হয়ে পিতা হয়ে জননী হয়ে আপনি তুমি ছোটো হয়ে এসো হৃদয়ে। আমিও কি আপন হাতে করব ছোটো বিশ্বনাথে। জানাব আর জানব তোমায় ক্ষুদ্র পরিচয়ে? | 2 | Metaphor |
1750 | তরুণ কিশোর | জসীম উদ্দীন | তরুণ কিশোর ! তোমার জীবনে সবে এ ভোরের বেলা, ভোরের বাতাস ভোরের কুসুমে জুড়েছে রঙের খেলা। রঙের কুহেলী তলে, তোমার জীবন ঊষার আকাশে শিশু রবি সম জ্বলে। এখনো পাখিরা উঠেনি জাগিয়া, শিশির রয়েছে ঘুমে, কলঙ্কী চাঁদ পশ্চিমে হেলি কৌমুদী-লতা চুমে। বঁধুর কোলেতে বধুয়া ঘুমায়, খোলেনি বাহুর বাঁধ, দীঘির জলেতে নাহিয়া নাহিয়া মেটেনি তারার সাধ। এ... | 2 | Metaphor |
1509 | কোনো একজনের জন্যে | শামসুর রাহমান | এতকাল ছিলাম একা আর ব্যথিত, আহত পশুর অনুভবে ছেঁড়াখোঁড়া। দুর্গন্ধ-ভরা গুহাহিত রাত নিস্ফল ক্রোধে দীর্ণ, শীর্ণ হাহাকার ছাড়া গান ছিল না মনে, জানি প্রাণে ছিল না সতেজ পাতার কানাকানি এমনকি মরম্নভূমির তীব্রতাও ছিল না ধমনীতে, স্বপ্ন ছিল না, ছিল না স্বপ্নের মতো হৃদয়। কে জানতো এই খেয়ালি পতঙ্গ, শীতের ভোর, হাওয়ায় হাওয়ায় মর্... | 1 | Love |
1766 | মানের আসন, আরামশয়ন | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মানের আসন, আরামশয়ন নয় তো তোমার তরে। সব ছেড়ে আজ খুশি হয়ে চলো পথের 'পরে। এসো বন্ধু তোমরা সবে একসাথে সব বাহির হবে, আজকে যাত্রা করব মোরা অমানিতের ঘরে। নিন্দা পরব ভূষণ করে কাঁটার কণ্ঠহার, মাথায় করে তুলে লব অপমানের ভার। দুঃখীর শেষ আলয় যেথা সেই ধুলাতে লুটাই মাথা, ত্যাগের শূন্যপাত্রটি নিই আনন্দরস ভরে। | 2 | Metaphor |
1764 | রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে পরাও যারে মণিরতন-হার-- খেলাধুলা আনন্দ তার সকলি যায় ঘুরে, বসন-ভুষণ হয় যে বিষম ভার। ছেঁড়ে পাছে আঘাত লাগি, পাছে ধুলায় হয় সে দাগি, আপনাকে তাই সরিয়ে রাখে সবার হতে দূরে, চলতে গেলে ভাবনা ধরে তার-- রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে, পরাও যারে মণিরতন-হার। কী হবে মা অমনতরো রাজার মতো সাজে, কী... | 2 | Metaphor |
1932 | অপমান এবং নীরাকে উত্তর | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, নীরা, কেন হেসে উঠলে, কেন সহসা ঘুমের মধ্যে যেন বজ্রপাত, যেন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে, নীরা, হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে কেন সাক্ষী কেন বন্ধু ... | 3 | Separation |
1625 | তারাখণ্ড সমুদ্রে পড়েছে | জয় গোস্বামী | তারাখণ্ড সমুদ্রে পড়েছে তার আগে আকাশে লম্বা আগুনের ল্যাজ–একপলক তার আগে ঝলকে সাদা গাছপালা ভূখণ্ড পাহাড়–একপলক উড়তে উড়তে ফ্রিজ করছে সরীসৃপ পাখি পৃথিবী ধ্বংসের ঠিক একপলক দেরি মৃত্যুর আগের স্বপ্নে এই দৃশ্য ফিরে আসে, সেই থেকে, সব পাখিদেরই | 2 | Metaphor |
898 | শ্যামলী | জীবনানন্দ দাশ | শ্যামলী, তোমার মুখ সেকালের শক্তির মতন: যখন জাহাজে চড়ে যুবকের দল সুদূর নতুন দেশে সোনা আছে বলে, মহিলারি প্রতিভায় সে ধাতু উজ্জ্বল টের পেয়ে, দ্রাক্ষা দুধ ময়ূরশয্যার কথা ভুলে সকালের রূঢ় রৌদ্র ডুবে যেত কোথায় অকূলে। তোমার মুখের দিকে তাকালে এখনো আমি সেই পৃথিবীর সমুদ্রে নীল, দুপুরের শূন্য সব বন্দরের ব্যথা, বিকেলের উপকন্ঠে... | 0 | Miscellaneous |
1609 | কাঁপন ১৬ | তসলিমা নাসরিন | চল্লিশে এসে ক্ষয়রোগে পড়ে আজ মরি তো কাল মরি এ শরীর ভয়ঙ্করী কি জানি কিসেতে গড়েছি প্রেমিক পেলেই দেখি সবে আমি ষোলোয় পড়েছি। | 2 | Metaphor |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.