id stringlengths 1 4 | title stringlengths 1 362 | author stringclasses 40
values | poem stringlengths 30 15.4k | label int64 0 10 | label_name stringclasses 11
values |
|---|---|---|---|---|---|
1620 | নারী ও শিল্প | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | ঘুমন্ত নারীকে জাগাবার আগে আমি তাকে দেখি উদাসীন গ্রীবার ভঙ্গি, শ্লোকের মতন ভুরু ঠোঁটে স্বপ্ন বিংবা অসমাপ্ত কথা এ যেন এক নারীর মধ্যে বহু নারী, বিংবা দর্পণের ঘরে বস চিবুকের ওপরে এসে পড়েছে চুলের কালো ফিতে সরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে না, কেননা আবহমান কাল থেকে বেণীবন্ধনের বহু উপমা কয়েছে আঁচল ঈষৎ সরে গেছে বুক থেকে-এর নাম বিস্রস্ত, এ... | 2 | Metaphor |
1535 | আশ্চর্য | পূর্ণেন্দু পত্রী | একটি নারীর মাঝে অকস্মাৎ খুঁজে পায় কেউ আশ্চর্যের নীলিমাকে। দৃশ্যহীন ঘন অন্ধকারে নক্ষত্ররাজিরা গেছে আকাশে সোনালী শিল্প রুয়ে তার স্নিগ্ধ সুষমার মোহাচ্ছন্ন ঘ্রাণ নিতে নিতে ঘুমের মতন জাগে। ঘুমোতে দেয় না স্তব্ধতারে। একে একে আবরণ পূজার ফুলের মতো ঝরে। তারপর সেই দুটি অপরুপ লজ্জার ভঙ্গিমা একে অপরের বন্য বাসনাকে বাহু দিয়ে বেঁ... | 1 | Love |
671 | মানুষ বড়ো ক্রন্দন জানে না | মহাদেব সাহা | সবাই কলহে পটু, মানুষ বড়ো পছন্দ করে না তবু দেখো মা তোমার উদ্দেশ্যে নীরবে এই কবিতার দীঘৃ অশ্রুপাত কেউ সে-কথা জানে না, শুধু আমি জানি এই কবিতা তোমারই জন্য কতো ভাসিয়েছে বুক। যাদের ব্যথিত ভেবে এতোদিন প্রকৃতিকে উপেক্ষা করেছি ভেবেছি যাদের চোখ শ্রাবণের জলভরা নদী, আজ দেখি তাদের চোখে একবিন্দু শিশিরও জমেনি অনুভূতিহীন সেইসব চোখে ... | 0 | Miscellaneous |
672 | পৃথিবী আমার খুব প্রিয় | মহাদেব সাহা | ঢাকা আমার খুব প্রিয়, কিন্ত আমি থাকি আজিমপুর নামক একটি গ্রামে; খুবই ছোটোখাটো একটি গ্রাম, বলা চলে শান্ত-স্নিগ্ধ ছোট্ট একটি পাড়া এখানেই এই কবরের পাশে আমি আছি; বস্তুত এখান থেকে ঢাকা বহুদুরে, আমি সেই ঢকা শহরের কিছুই জানি না আমাকে সবাই জানে আমি ঢাকার মানুষ, কিন্তু আমি বাস করি খুবই ছোট্ট নিরিবিলি গ্রামে আমি এই ঢাকার খুব সাম... | 0 | Miscellaneous |
1729 | ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল | জীবনানন্দ দাশ | ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল,- ডালিম ফুলের মতো ঠোঁট যার রাঙা,- আপেলের মতো লাল যার গাল, চুল যার শাঙনের মেঘ,- আর আঁখি গোধূলির মতো গোলাপী রঙিন, আমি দেখিয়াছি তারে ঘুমপথে,-স্বপ্নে-কত দিন! মোর জানালার পাশে তারে দেখিয়াছি রাতের দুপুরে- তখন শুকনবধূ যেতেছিল শ্মশানের পানে উড়ে উড়ে! মেঘের বুরুজ ভেঙে অস্তচাঁদ দিয়েছিল উঁকি, সে কোন্ ... | 2 | Metaphor |
99 | ছিন্ন করে লও হে মোরে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ছিন্ন করে লও হে মোরে আর বিলম্ব নয় ধুলায় পাছে ঝরে পড়ি এই জাগে মোর ভয়। এ ফুল তোমার মালার মাঝে ঠাঁই পাবে কি, জানি না যে, তবু তোমার আঘাতটি তার ভাগ্যে যেন রয়। ছিন্ন করো ছিন্ন করো আর বিলম্ব নয়। কখন যে দিন ফুরিয়ে যাবে, আসবে আঁধার করে, কখন তোমার পূজার বেলা কাটবে অগোচরে। যেটুকু এর রঙ ধরেছে, গন্ধে সুধায় বুক ভরেছে, তোমার ... | 8 | Religious |
1686 | তোমার জন্যে, ও আমার প্রিয়া | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমি গেলাম পাখির বাজারে তোমার জন্যে পাখি কিনতে ও আমার প্রিয়া। পাখির বাজারে পাখি নেই। থিক খিক করছে লোহা-লক্কড়ের খাঁচা আর সরু মোটা শিকলি আর সেই সব দাঁড়িপাল্লা যাতে রক্ত ওজন হয় সেরা জাতের পাখিদের সবুজ হৃৎপিণ্ড। আমি গেলাম ফুলের বাজারে তোমার জন্যে ফুল কিনতে ও আমার প্রিয়া। ফুলের বাজারে ফুল নেই। থিক থিক করছে নীল মাছি হলুদ ডানা... | 2 | Metaphor |
1246 | লিরিকগুচ্ছ - ৩২ | মহাদেব সাহা | তোমাকে দুচোখ মেলে দেখেছি যে মাত্র একবার সমস্ত জীবনের শুধু এইটুকু সাফল্য আমার! | 1 | Love |
1779 | এই করেছ ভালো, নিঠুর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এই করেছ ভালো, নিঠুর, এই করেছ ভালো। এমনি করে হৃদয়ে মোর তীব্র দহন জ্বালো। আমার এ ধূপ না পোড়ালে গন্ধ কিছুই নাহি ঢালে, আমার এ দীপ না জ্বালালে দেয় না কিছুই আলো। যখন থাকে অচেতনে এ চিত্ত আমার আঘাত সে যে পরশ তব সেই তো পুরস্কার। অন্ধকারে মোহে লাজে চোখে তোমায় দেখি না যে, বজ্রে তোলো আগুন করে আমার যত কালো। | 2 | Metaphor |
248 | শিল্পতরু | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | বাম পাঁজরে বৃষ্টি ঝরে ডান পাঁজরে রোদ ও ফুল তুমি ফুটছো এখন কোন পাহাড়ের ভাঁজে সে পাহাড় কি এতই সুদূর এতই দূরতম স্মৃতির রেখাও মেশে না তার ঝরনা পাথর ঢালে ! সোনালি রোদ ঘাই মারছে অপরাহ্ণের মেঘে ও বনফুল উড়ছো তুমি কোন আকাশের নীলে কার পকেটে সুঘ্রাণ ছড়াও গন্ধ মাখাও বুকে কাকে খুঁজছো প্রনয়মুগ্ধ অনির্দিষ্ট পথে ? গিটার শুনছো ? প... | 9 | Nature |
1390 | দক্ষিণা | জীবনানন্দ দাশ | প্রিয়ার গালেতে চুমো খেয়ে যায় চকিতে পিয়াল রেণু!- এল দক্ষিণা,-কাননের বীণা,- বনানীপথের বেণু! তাই মৃগী আজ মৃগের চোখেতে বুলায়ে নিতেছে আখিঁ, বনের কিনারে কপোত আজিকে নেয় কপোতীরে ডাকি! ঘুঘুর পাখায় ঘুঙুর বাজায় আজিকে আকাশখানা,- আজ দখিনার ফর্দা হাওয়ায় পর্দা মানে না মানা! শিশিরশীর্ণা বালার কপোলে কুহেলির কালো জাল উষ্ণ চুমোর আঘাতে হয়... | 1 | Love |
840 | পুনর্বাসন | শঙ্খ ঘোষ | যা কিছু আমার চার পাশে ছিল ঘাসপাথর সরীসৃপ ভাঙা মন্দির যা কিছু আমার চার পাশে ছিল নির্বাসন কথামালা একলা সূর্যাস্ত যা কিছু আমার চার পাশে ছিল ধ্বংস তীরবল্লম ভিটেমাটি সমস্ত একসঙ্গে কেঁপে ওঠে পশ্চিম মুখে স্মৃতি যেন দীর্ঘযাত্রী দলদঙ্গল ভাঙা বাক্স প’ড়ে থাকে আমগাছের ছায়ায় এক পা ছেড়ে অন্য পায়ে হঠাত সব বাস্তুহীন | যা কিছু আমা... | 0 | Miscellaneous |
1065 | রবীন্দ্রনাথের প্রতি | সুকান্ত ভট্টাচার্য | এখনো আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি, প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্ততা ছড়ায় যথারীতি, এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি, নির্ভয়ে উপেক্ষা করি জঠরের নিঃশব্দ ভ্রূকুটি; এখনো প্রাণের স্তরে স্তরে, তোমার দানের মাটি সোনার ফসল তুলে ধরে। এখনো স্বগত ভাবাবেগে, মনের গভীর অন্ধকারে তোমার সৃষ্টিরা থাকে জেগে। তবুও ক্ষুধিত দিন ক্রমশ সম্... | 0 | Miscellaneous |
43 | আজিকার শিশু | সুফিয়া কামাল | আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা। আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি। উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জিন ,পরী, দেও, দানা। পাতালপুরীর অজানা কাহিনী তোমরা শোনাও সবে মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন কর... | 7 | Policy |
1293 | আরশিতে সর্বদা এক উজ্জল রমনী | পূর্ণেন্দু পত্রী | আরশিতে সর্বদা এক উজ্জল রমণী বসে থাকে। তার কোনো পরিচয়, পাসপোর্ট, বাড়ির ঠিকানা মানুষ পায়নি হাত পেতে। অনুসন্ধানের লোভে মুলত সর্বতোভাবে তাকে পাবে বলে অনেক মোটর গাড়ি ছুটে গেছে পাহাড়ের ঢালু পথ চিরে অনেক মোটর গাড়ি চুরমার ভেঙে গেছে নীল সিন্ধুতীরে তারও আগে ধ্বসে গেছে শতাধিক প্রাসাদের সমৃদ্ধ খিলান হাজার জাহাজ ডুবি হয়ে গেছে হোমার... | 1 | Love |
2095 | ও বাবা ! | সুকুমার রায় | পড়তে বসে মুখের পরে কাগজ খানি থুয়ে রমেশ ভায়া ঘুমোয় পড়ে আরাম ক’রে শুয়ে। শুনছ নাকি ঘড়র্ ঘড়র্ নাক ডাকার ধুম? সখ যে বড় বেজায় দেখি- দিনের বেলায় ঘুম! বাতাস পোরা এই যে থলি দেখ্ছ আমার হাতে, দুড়ম করে পিট্লে পরে শব্দ হবে তাতে। রমেশ ভায়া আঁতকে উঠে পড়বে কুপোকাৎ লাগাও তবে -ধুম ধাড়াক্কা! ক্যাবাৎ! ক্যাবাৎ! ও বাবারে! এ... | 5 | Children |
970 | বেদের বহর | জসীম উদ্দীন | মধুমতী নদী দিয়া, বেদের বহর ভাসিয়া চলেছে কূলে ঢেউ আছাড়িয়া। জলের উপরে ভাসাইয়া তারা ঘরবাড়ি সংসার, নিজেরাও আজ ভাসিয়া চলেছে সঙ্গ লইয়া তার। মাটির ছেলেরা অভিমান করে ছাড়িয়া মায়ের কোল, নাম-হীন কত নদী-তরঙ্গে ফিরিছে খাইয়া দোল। দুপাশে বাড়ায়ে বাঁকা তট-বাহু সাথে সাথে মাটি ধায়, চঞ্চল ছেলে আজিও তাহারে ধরা নাহি দিল হায়।... | 0 | Miscellaneous |
2071 | ইমার্জেন্সি | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | প্রতিদিন দেখ কতদূর থেকে কতশত রোগী আসে কারো জ্বর কারো মাথায় ব্যথা কেউ বসে শুধু কাশে। কারো চুলকানি কারো এলার্জি কারো চোখ টকটকে লাল কারো বদহজম কারো বুকে ব্যথা কারো পেট পুরো বেহাল। এতো রোগী সব চুপ করে বসা কারো ব্যস্ততা নাই আর তোমার একটু গলা ভেঙ্গেছে বলে ইমার্জেন্সি চাই? | 5 | Children |
1914 | অন্যরকম সংসার | হেলাল হাফিজ | এই তো আবার যুদ্ধে যাবার সময় এলো আবার আমার যুদ্ধে খেলার সময় হলো এবার রানা তোমায় নিয়ে আবার আমি যুদ্ধে যাবো এবার যুদ্ধে জয়ী হলে গোলাপ বাগান তৈরী হবে। হয় তো দু’জন হারিয়ে যাবো ফুরিয়ে যাবো তবুও আমি যুদ্ধে যাবো তবু তোমায় যুদ্ধে নেবো অন্যরকম সংসারেতে গোলাপ বাগান তৈরী করে হারিয়ে যাবো আমরা দু’জন ফুরিয়ে যাবো। স্বদেশ জু... | 2 | Metaphor |
663 | দক্ষিণ সমুদ্রে যাবো | মহাদেব সাহা | দক্ষিন সমুদ্রে যাবো একা যাবো, সমুদ্র সান্নিধ্যে যাবো একা যাবো, একাকীই যাবো সেখানে সমুদ্র গড়ে মাটির ত্রিপল খুলে ছাউনি বিছাবো জলেরই বিছানা হবে, কাঁথা হবে, পাড়সুদ্ধ হবে হাতের মুদ্রায় ওই সবুজ বর্ষাতি তাও হবে আঙুলেই বাড়ির নকশা হবে, চৌচাল মেলানো ওই দেয়াল কার্ণিশ হবে সমুদ্র্লানের আগে হাতের মুষ্টি খুলে ঝরোকা বানাবো। দক্ষি... | 0 | Miscellaneous |
259 | বানর যুথ | জসীম উদ্দীন | গহন বনের মাঝে, বুড়ো বটগাছ শিকড়ে- বাকলে জড়ায়েছে নানা সাজে। জীর্ণ শীর্ণ বুকের পাঁজর গিয়াছে হইয়া ফাঁক, তাহার মধ্যে বাসা বাঁধিয়াছে কোকিল শালিক কাক। সাপের খোলস ঝুলে আছে কোথা, কোথাও শুকনো ডাল, মহাযোগী বট ধ্যানে নিমগ্ন কত যুগ কত কাল। সেদিন প্রভাতে বেড়াতে বেড়াতে হেরিলাম তার তলে, বানরের দল ঘুমায়ে রয়েছে ধরিয়া এওর গলে... | 9 | Nature |
1200 | নিজের কাছে স্বীকারোক্তি | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | আমিপাহাড় থেকে পড়তে পড়তে তোমাকে ধরে বেঁচে রয়েছি, কবিতা। আমিপাতালে ডুবে মরতে মরতে তোমাকে ধরে আবার ভেসে উঠেছি। আমিরাজ্যজয় করে এসেও তোমার কাছে নত হয়েছি, কবিতা। আমিহাজার দরজা ভালবেসেও তোমার বন্ধ দুয়ারে মাথা কুটেছি। কখনও এর, কখনও ওর দখলে গিয়েও ফিরি তোমারই টানে, কবিতা। আমাকে নাকি ভীষণ জানে সকলে, তোমার থেকে বেশি কে জানে, কবিতা... | 1 | Love |
147 | অভিশাপ দিচ্ছি | শামসুর রাহমান | আজ এখানে দাড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে অভিশাপ দিচ্ছি। আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক কৃষ্ঞপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে, মগজের কোষে কোষে যারা পুতেছিলো আমাদেরই আপনজনের লাশ দগ্ধ, রক্তাপ্লুত, যারা গনহত্যা করেছে শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু সেই সব পশুদের। ফায়ারিং স্কোয়াডে ওদের সারিব... | 10 | War |
415 | আছে ও নেই | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | হাওড়া স্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে সেই পাগলটি পৃথিবীর সমস্ত পাগলের রাজা হয়ে সে উলঙ্গ, কেননা উম্মাদ উলঙ্গ হতে পারে, তাতে প্রকৃতির তালভঙ্গ হয় না কখনো পাশেই গম্ভীর ট্রেন, ব্যস্ত মানুষের হুড়োহুড়ি সকলেই কোথাও না কোথাও পৌছুতে চায় তার মধ্যে এই মূর্তিমান ব্যতিক্রম, ইদানীং অযাত্রী, উদাসীন- মাঝারি বয়েস, লম্বা, জটপাকা... | 0 | Miscellaneous |
400 | কবির মৃত্যু : লোরকা স্মরণে | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | দু’জন খসখসে সবুজ উর্দিপরা সিপাহী কবিকে নিয়ে গেল টানতে টানতে কবি প্রশ্ন করলেন : আমার হাতে শিকল বেঁধেছ কেন? সিপাহী দু’জন উত্তর দিল না; সিপাহী দু’জনেরই জিভ কাটা। অস্পষ্ট গোধুলি আলোয় তাদের পায়ে ভারী বুটের শব্দ তাদের মুখে কঠোর বিষণ্নতা তাদের চোখে বিজ্ঞাপনের আলোর লাল আভা। মেটে রঙের রাস্তা চলে গেছে পুকুরের পাড় দিয়ে ফ্লোর... | 0 | Miscellaneous |
1111 | পরানের গহীন ভিতর-৭ | সৈয়দ শামসুল হক | নদীর কিনারে গিয়া দেখি নাও নিয়া গ্যাছে কেউ অথচ এই তো বান্ধা আছিল সে বিকাল বেলায়। আমার অস্থির করে বুঝি না কে এমন খেলায়, আমার বেবাক নিয়া শান্তি নাই, পাচে পাছে ফেউ। পানির ভিতরে য্যান ঘুন্নি দিয়া খিলখিল হাসে যত চোর যুবতীরা, গ্যারামের শ্যাষ সীমানায় বটের বৈরাগী চুল, ম্যাঘে চিল হারায় বারায়, বুকের ভিতরে শিস দিয়া সন্ধা... | 1 | Love |
1862 | হে মহাজীবন | সুকান্ত ভট্টাচার্য | হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয় এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো, পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো! প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা- কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্সানো রুটি।। | 2 | Metaphor |
1876 | ফুটবল খেলোয়াড় | জসীম উদ্দীন | আমাদের মেসে ইমদাদ হক ফুটবল খেলোয়াড়, হাতে পায়ে মুখে শত আঘাতের ক্ষতে খ্যাতি লেখা তার। সন্ধ্যা বেলায় দেখিবে তাহারে পটি বাঁধি পায়ে হাতে, মালিশ মাখিছে প্রতি গিঠে গিঠে কাত হয়ে বিছানাতে। মেসের চাকর হয় লবেজান সেঁক দিতে ভাঙ্গা হাড়ে, সারা রাত শুধু ছটফট করে কেঁদে কেঁদে ডাক ছাড়ে। আমরা তো ভাবি ছমাসের তরে পঙ্গু সে হল হায়, ... | 2 | Metaphor |
1085 | পথহারা | কাজী নজরুল ইসলাম | বেলা শেষে উদাস পথিক ভাবে, সে যেন কোন অনেক দূরে যাবে - উদাস পথিক ভাবে। ‘ঘরে এস’ সন্ধ্যা সবায় ডাকে, ‘নয় তোরে নয়’ বলে একা তাকে; পথের পথিক পথেই বসে থাকে, জানে না সে কে তাহারে চাবে। উদাস পথিক ভাবে। বনের ছায়া গভীর ভালোবেসে আঁধার মাথায় দিগবধূদের কেশে, ডাকতে বুঝি শ্যামল মেঘের দেশে শৈলমূলে শৈলবালা নাবে - উদাস পথিক ভাবে। বা... | 0 | Miscellaneous |
1368 | ভিতর-বাইরে বিষম যুদ্ধ | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | ইচ্ছে ছিলো তোমার কাছে ঘুরতে-ঘুরতে যাবোই আমার পুবের হাওয়া। কিন্তু এখন যাবার কথায় কলম খোঁজে অস্ত্র কোথায় এবং এখন তোমার পাশে দাঁড়িয়ে-থাকা কুঞ্জলতায় রক্তমাখা চাঁদ ঢেকেছে আকুল চোখ ও মুখের মলিন আজকে তোমার ভিতর-বাইরে বিষম যুদ্ধ পুবের হাওয়া।। | 1 | Love |
772 | শোকাভিভূত | পূর্ণেন্দু পত্রী | শোকাভিভূতের ন্যায় বেলা বয়ে যায়। বিশুদ্ধ গন্ধের মতো কোনো নারী দেখেছো কোথাও? তার করতলে নাকি কয়ে গেছে মানুষের শোকের ওষুধ? বাতাসকে এই কথা বলা মাত্র সমস্ত বাতাস হো-হো হেসে লুটোপুটি খায় বাগানবিহীন এই কলকাতার দেয়ালে-চাতালে। ভীষণ ভ্রমের মতো কোনো স্বপ্ন দেখেছো কোথাও? তার ছায়াতলে নাকি রয়ে গেছে মানুষের সুখের ওষুধ? মানুষকে... | 0 | Miscellaneous |
1705 | কতদিন তোমাকে দেখিনা | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | কতদিন অন্ধকারে নক্ষত্র দেখি না দেখি না দিগন্তব্যাপী মেঘের বিস্তার কতদিন আকাশ দেখি না দেখি না বহতা নদী থই থই জলের যৌবন কতদিন নিসর্গের সান্নিধ্যে আসি না নিসর্গ কখনো ছিলো আমার প্রেমিকা । কতযুগ পর আমি ভেজানো দরোজা খুলে দেখি আমার মায়ের সেই মুখ শান্ত স্নিগ্ধ প্রসন্ন বিকেল পাপবিদ্ধ আমার আত্মায় পড়ে ছায়া। কতদিন পরে আজ নিজেকে দে... | 2 | Metaphor |
1956 | বদলবাড়ি চেনা যায় না | মহাদেব সাহা | তোমার কালো চোখের মতো পাল্টে গেছে বসতবাড়ি উদোম চড়া, গাছগাছালি বট-বিরিক্ষ ওলটপালট সারা বাড়ি একলা এখন, বাড়ির মধ্যে কালো গাড়ি, এলোমেলো ভাঙা চাঁদ ও শূলন্য তাঁবু, শূনো বাড়ির চিহ্ন, চিহ্ন। তোমার কালো চোখের মতো পাল্টে গেছে শহরতলী শহরবাড়ি চেনা যায় না, চেনা যায় না দেয়ালগুলি বদলে গেছে মাটির নিচে লাল কবরে শহরতলীর মধ্যে মিশাল এবড়োখ... | 3 | Separation |
528 | অন্ধের সমাজে একা | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | রাস্তার দুইধারে আজ সারিবদ্ধ দাঁড়িয়েছে অন্ধ সেনাদল; আমি চক্ষুষ্মান হেঁটে যাই প্রধান সড়ক। দেখি, বল্লমের ধাতু রোদ্দুরের প্রেম পায়, বন্দুকের কুঁদার উপরে কেটে বসে কঠিন আঙুল। যে-কোনো মুহূর্তে ঘোর মারামারি হতে পারে, তবু অস্ত্রগুলি উল্টানো রয়েছে আপাতত। পরস্পরের দিকে পিঠ দিয়ে সকলে এখন সম্মান রচনা করে। আমি দেখি, অযুত নিযুত... | 0 | Miscellaneous |
1730 | ছায়া-প্রিয়া | জীবনানন্দ দাশ | দুপুররাতে ও কার আওয়াজ! গান কে গাহে,- গান না! কপোত-বধূ ঘুমিয়ে আছে নিঝুম ঝিঁঝির বুকের কাছে; অস্তচাঁদের আলোর তলে এ কার তবে কান্না! গান কে গাহে,- গান না! শার্শি ঘরের উঠছে বেজে, উঠছে কেঁপে পর্দা! বাতাস আজি ঘুমিয়ে আছে জল-ডাহুরের বুকের কাছে; এ কোন্ বাঁশি শার্শি বাজায় এ কোন হাওয়া ফর্দা দেয় কাঁপিয়ে পর্দা! নূপুর কাহার বাজল রে ঐ... | 2 | Metaphor |
1662 | আমার সজল চোখ বুঝলে না | মহাদেব সাহা | তোমরা কেউ আমার সজল চোখ বুঝলে না, বুঝলে পেরেক বুঝলে ডলার-পাউণ্ড, বিমানবন্দুর, যুদ্ধজাহাজ তোমরা কেউ একটি খোঁপা-খোলা মেঘ বুঝলে না, বুঝলে রক্ত বুঝলে ছুরি, বুঝলে দংশন, তোমরা কেউ বন্ধুর পবিত্র মুখ বুঝলে না, বুঝলে হিংসা বুঝলে রাত্রি, বুঝলে অন্ধকার, বুঝলে ছোবল; তোমরা কেউ আমার সজল চোখ বুঝলে না, বুঝলে আঘাত তোমরা কেউ বন্ধুর কোমল ... | 2 | Metaphor |
2049 | ইদানিং জীবন যাপন | হেলাল হাফিজ | আমার কষ্টেরা বেশ ভালোই আছেন, প্রাত্যহিক সব কাজ ঠিক-ঠাক করে চলেছেন খাচ্ছেন-দাচ্ছেন, অফিসে যাচ্ছেন, প্রেসক্লাবে আড্ডাও দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে কষ্টেরা আমার সারাটা বিকেল বসে দেখেন মৌসুমী খেলা, গোল স্টেডিয়াম যেন হয়ে যায় নিজেই কবিতা। আজকাল আমার কষ্টেরা বেশ ভালোই থাকেন, অঙ্কুরোদ্গম প্রিয় এলোমেলো যুবকের অতৃপ্ত মানুষের শুশ্রূষ... | 3 | Separation |
2126 | খোকার সাধ | কাজী নজরুল ইসলাম | আমি হব সকাল বেলার পাখি সবার আগে কুসুম-বাগে উঠব আমি ডাকি। সূয্যিমামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে, ‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’- মা বলবেন রেগে। বলব আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাক, হয়নি সকাল- তাই বলে কি সকাল হবে না ক? আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে? তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!’ ঊষা দিদির ওঠার আগে উঠব পাহাড়-চূড়ে, ... | 5 | Children |
1150 | এসেছি অস্ত যেতে | তসলিমা নাসরিন | পুবে তো জন্মেছিই, পুবেই তো নেচেছি, যৌবন দিয়েছি, পুবে তো যা ঢালার, ঢেলেইছি যখন কিছু নেই, যখন কাঁচা পাকা, যখন চোখে ছানি, ধুসর ধুসর, যখন খালি খালি, যখন খাঁ খাঁ — এসেছি অস্ত যেতে পশ্চিমে। অস্ত যেতে দাও অস্ত যেতে দাও দাও অস্ত যেতে না দিলে স্পর্শ করো, একটু স্পর্শ করো, স্পর্শ করো একটুখানি লোমকূপে বুকে স্পর্শ করো ত্বকের মরচে ত... | 1 | Love |
167 | স্বাধীন প্যালেস্টাইন তোমার জন্য এই কবিতা | মহাদেব সাহা | আমার এই কবিতা, গোলাপ ও স্বর্ণচাঁপার প্রতি যার বিশেষ দুর্বলতা ছিলো যার তন্ময়তা ছিলো পাখি, ফুল ও প্রজাপতির দিকে সে এখন প্যালেস্টাইনী গেরিলাদের কানে স্বাধীনতার গান গাইছে; ইসরাইলী হামলায় ক্ষতবিক্ষত লেবাননের পল্লীতে সে এখন ব্যস্ত উদ্ধারকর্মী, হাতে শুশ্রূষার ব্যাগ নিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাহুতে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে দিচ্ছে আমা... | 4 | Humanity |
498 | প্রিয়তমাসু | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | তুমি বলেছিলে ক্ষমা নেই, ক্ষমা নেই। অথচ ক্ষমাই আছে। প্রসন্ন হাতে কে ঢালে জীবন শীতের শীর্ণ গাছে। অন্তরে তার কোনো ক্ষোভ জমা নেই। তুমি বলেছিলে, তমিস্রা জয়ী হবে। তমিস্রা জয়ী হলো না। দিনের দেবতা ছিন্ন করেছে অমারাত্রির ছলনা; ভরেছে হৃদয় শিশিরের সৌরভে। তুমি বলেছিলে, বিচ্ছেদই শেষ কথা। শেষ কথা কেউ জানে? কথা যে ছড়িয়ে আছে হৃদয... | 0 | Miscellaneous |
1420 | নকশী কাঁথার মাঠ – ০৮ | জসীম উদ্দীন | আট “কি কর দুল্যাপের মালো ; বিভাবনায় বসিয়া, আসত্যাছে বেটির দামান ফুল পাগড়ি উড়ায়া নারে |” “আসুক আসুক বেটির দামান কিছু চিন্তা নাইরে, আমার দরজায় বিছায়া থুইছি কামরাঙা পাটি মারে | সেই ঘরেতে নাগায়া খুইছি মোমের সস্র বাতি, বাইর বাড়ি বান্দিয়া থুইছি গজমতি হাতি নারে |” . — মুসলমান মেয়েদের বিবাহের গান বিয়ের কুটুম এসেছে আজ সাজুর ... | 1 | Love |
1702 | প্রতীক্ষা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ওরে মৃত্যু, জানি তুই আমার বক্ষের মাঝে বেঁধেছিস বাসা। যেখানে নির্জন কুঞ্জে ফুটে আছে যত মোর স্নেহ-ভালোবাসা, গোপন মনের আশা, জীবনের দুঃখ সুখ, মর্মের বেদনা, চিরদিবসের যত হাসি-অশ্রু-চিহ্ন-আঁকা বাসনা-সাধনা; যেখানে নন্দন-ছায়ে নিঃশঙ্কে করিছে খেলা অন্তরের ধন, স্নেহের পুত্তলিগুলি,আজন্মের স্নেহস্মৃতি, আনন্দকিরণ; কত আলো, কত ছায়া, ক... | 2 | Metaphor |
759 | পাখি বলে যায় | পূর্ণেন্দু পত্রী | ওপারে আমার ডিঙি পড়ে আছে, এপারে জল। অনর্গল পাতা ঝরে পড়ে। বৃদ্ধ বটের দীর্ঘশ্বাস মেটে আকাশ কালো থাবা নাড়ে, যেন গোগ্রাসে গিলবে সব অর্বাচীন পাখি বলে যায় আজ দুর্যোগ ক্ষমতাসীন। ওপারে আমার ভিঙি পড়ে আছে, এপারে চর ধুলি কাতর পথের দুধারে দুঃখিত বন, ঝাপসা চোখ। ভীষণ শোক যে-ভাবে কাঁদায়, সেইভাবে নামে নির্বিকার মেঘলা দিন। পাখি বল... | 0 | Miscellaneous |
1062 | কাশ্মীর | সুকান্ত ভট্টাচার্য | সেই বিশ্রী দম-আটকানো কুয়াশা আর নেই নেই সেই একটানা তুষার-বৃষ্টি, হঠাৎ জেগে উঠেছে- সূর্যের ছোঁয়ায় চমকে উঠেছে ভূস্বর্গ। দুহাতে তুষারের পর্দা সরিয়ে ফেলে মুঠো মুঠো হলদে পাতাকে দিয়েছে উড়িয়ে, ডেকেছে রৌদ্রকে, ডেকেছে তুষার-উড়িয়ে-নেওয়া বৈশাখী ঝড়কে, পৃথিবীর নন্দন-কানন কাশ্মীর। কাশ্মীরের সুন্দর মুখ কঠোর হল প্রচণ্ড সূর্য... | 0 | Miscellaneous |
594 | জাহাজি কবিতা | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | মাঝে-মাঝে মনে হয়, রক্তের ভিতরে আর ঝাঁকি নেই। তাই বলে কি বাকি নেই কোনো কাজ? সভাকক্ষে গিয়ে কি পরাস্ত কণ্ঠে বলব, “মহারাজ, বিস্তর উদ্যম, ঘর্ম, এবং সময় দিয়েছি আপনাকে, আর নয়, এইবারে সম্যক্ ছুটি দিয়ে দিন?” ময়দানের বিশাল মিটিং ফুঁড়ে উর্দ্ধে উঠে যায় সুন্দর সুঠাম ছায়াতরু, গাছতলায় চাঁদকপালি গোরু ঘাস খায়। কিচিমিচি তিন... | 0 | Miscellaneous |
464 | কী দুর্গম চাঁদ তোর নৌকার কিনারে গেঁথে আছে | জয় গোস্বামী | কী দুর্গম চাঁদ তোর নৌকার কিনারে গেঁথে আছে! অন্যদিকে কী সুন্দর মাঝি! যার মুখ কঙ্কালের, যার বাহু জং-ধরা লোহার। বল্, তোর মাঝিকে বল্, শুরু করতে লৌহের প্রহার। অত যে দুর্মূল্য চাঁদ, সেও তো সুলভে ভাঙতে রাজি! খণ্ডে খণ্ডে জলে পড়ছে, জল ছিটকে উঠছে দূরে কাছে… বল তোর ইচ্ছে হয় না সেই দৃশ্যে দাঁড়াতে আবার ওই উল্কাগুলি খেতে জলরাশি... | 0 | Miscellaneous |
1371 | চেনা পাথরের জন্যে | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | একটি চেনা পাথর পড়ে আছে পরনে তার অসংখ্য মৌমাছি ভিতরে মৌ–কী জানি কার কাছে ভালোবাসার অমল মালাগাছি? একটি চেনা পাথর পড়ে আছে পাথর, ওকে নাম দিয়েছি ওরা ভয় ক’রে তার শক্তি আগাগোড়াই ঝর্না বলে ডাক দিলে প্রাণ বাঁচে।। | 1 | Love |
1407 | দূরের বন্ধু | কাজী নজরুল ইসলাম | বন্ধু আমার! থেকে থেকে কোন্ সুদূরের বিজন পুরে ডাক দিয়ে যাও ব্যথার সুরে? আমার অনেক দুখের পথের বাসা বারে বারে ঝড়ে উড়ে, ঘর-ছাড়া তাই বেড়াই ঘুরে।। তোমার বাঁশীর উদাস কাদন শিথিল করে সকল বাঁধন কাজ হ’ল তাই পথিক সাধন, খুঁজে ফেরা পথ-বঁধরে, ঘুরে’ ঘুরে’ দূরে দূরে।। হে মোর প্রিয়! তোমার বুকে একটুকুতেই হিংসা জাগে, তাই তো পথে হয় না থাম... | 1 | Love |
939 | কার্তিক মাঠের চাঁদ (মাঠের গল্প) | জীবনানন্দ দাশ | জেগে ওঠে হৃদয়ে আবেগ ,- পাহাড়ের মতো ওই মেঘ সঙ্গে লয়ে আসে মাঝরাতে কিংবা শেষরাতের আকাশে যখন তোমারে !- মৃত সে পৃথিবী এক আজ রাতে ছেড়ে দিল যারে ! ছেঁড়া- ছেঁড়া শাদা মেঘ ভয় পেয়ে গেছে সব চ’লে তরাসে ছেলের মতো ,- আকাশে নক্ষত্র গেছে জ্ব’লে অনেক সময়,- তারপর তুমি এলে, মাঠের শিয়রে ,-চাঁদ ;- পৃথিবীতে আজ আর যা হবার নয়, একদিন... | 0 | Miscellaneous |
649 | সবাই মেলায় যায় | মহাদেব সাহা | দুপুর গড়িয়ে গেলো আমাদের মেলা দেখতে যাওয়া হলো না তো, দুপুর গড়িয়ে গেলে মেলার শৌখিন সব খেলনা ফুরিয়ে গায়, একে একে ফুরিয়ে যায় মেলার জৌলুস ধনীর দুলাল এসে ফি বছর আগেভাগে আমাদের মেলা থেকে নিয়ে যায় মজার খেলনাগুলো, নিয়ে যায় দামী সব কাঠের আসবাব, সারা মেলা থেকে তন্নতন্ন করে খুঁজে নিয়ে যায় মেলার যা কিছু রম্য দর্শনীয়... | 0 | Miscellaneous |
556 | কবিতার পাণ্ডুলিপি | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কবিতার পাণ্ডুলিপি ধীরে-ধীরে তৈরী হয়ে ওঠে। বন্ধু ও স্বজনবর্গ ক্রমে আরও দূরে সরে যায়। ক্রমশ অস্পষ্ট হয় যৌবনের আনন্দ-যন্ত্রণা। মনে হয়, যৎপরোনাস্তি যে-শব্দনিচয় একদা খুবই অর্থবহ ছিল, আজ তিলমাত্র অর্থ বহন করে না। দিন দীর্ঘ হয়, রাত্রি আরও দীর্ঘ, স্মৃতির ভিতরে পোকা হাঁটে, হাওয়া ঘুরে যায়। পুড়ে যায় প্রাচীন পুঁথি ও পান্... | 0 | Miscellaneous |
2085 | হারাধনের দশটি ছেলে | যোগীন্দ্রনাথ সরকার | হারাধনের দশটি ছেলে ঘোরে পাড়াময়, একটি কোথা হারিয়ে গেল রইল বাকি নয়। হারাধনের নয়টি ছেলে কাটতে গেল কাঠ, একটি কেটে দু’খান হল রইল বাকি আট। হারাধনের আটটি ছেলে বসলো খেতে ভাত, একটির পেট ফেটে গেল রইল বাকি সাত। হারাধনের সাতটি ছেলে গেল জলাশয়, একটি সেথা ডুবে ম’ল রইল বাকি ছয়। হারাধনের ছয়টি ছেলে চ’ড়তে গেল গাছ, একটি ম’ল পিছলে পড়ে রইল ... | 5 | Children |
356 | ক্লান্তির পর | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | আমি তোমার অধর থেকে ওষ্ঠ তুলে তাকিয়ে দেখি মুখের দিকে তুমি তোমার কোনো কথাই রাখেনি কথা ছিল কি এমন করে কান্না, এমন চোখের দুই পাশ মুচড়ে তাকানোর? কথা ছিল কি বিকেলবেলা ঘড়ির নিচে মায়ার খেলা আদর পেয়ে মার্জারীর মতো শরীর বাঁকানো? হাওয়ায় এখন নদীর মতো শব্দ ওঠে তিনটি কথা বলতে এসে তোমার ঠোঁটে চোখের মধ্যে দেখতে পেলাম মনোহরণ; এখ... | 0 | Miscellaneous |
312 | আজ প্রভাতের আকাশটি এই | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজ প্রভাতের আকাশটি এই শিশির-ছলছল, নদীর ধারের ঝাউগুলি ওই রৌদ্রে ঝলমল, এমনি নিবিড় করে এরা দাঁড়ায় হৃদয় ভরে তাই তো আমি জানি বিপুল বিশ্বভুবনখনি অকূল মানস-সাগরজলে কমল টলমল। তাই তো আমি জানি আমি বাণীর সাথে বাণী, আমি গানের সাথে গান, আমি প্রাণের সাথে প্রাণ, আমি অন্ধকারের হৃদয়-ফাটা আলোক জ্বলজ্বল। | 0 | Miscellaneous |
319 | এবারে ফাল্গুনের দিনে সিন্ধুতীরের কুঞ্জবীথিকায় | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এবারে ফাল্গুনের দিনে সিন্ধুতীরের কুঞ্জবীথিকায় এই যে আমার জীবন-লতিকায় ফুটল কেবল শিউরে-ওঠা নতুন পাতা যত রক্তবরন হৃদয়ব্যথার মতো; দখিন হাওয়া ক্ষণে ক্ষণে দিল কেবল দোল, উঠল কেবল মর্মর কল্লোল। এবার শুধু গানের মৃদু গুঞ্জনে বেলা আমার ফুরিয়ে গেল কুঞ্জবনের প্রাঙ্গণে। আবার যেদিন আসবে আমার রূপের আগুন ফাল্গুনদিনের কাল দখিন হাওয... | 0 | Miscellaneous |
2076 | সৎপাত্র | সুকুমার রায় | শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে— তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে ? গঙ্গারামকে পাত্র পেলে ? জানতে চাও সে কেমন ছেলে ? মন্দ নয় সে পাত্র ভালো রঙ যদিও বেজায় কালো ; তার উপরে মুখের গঠন অনেকটা ঠিক পেঁচার মতন ; বিদ্যে বুদ্ধি ? বলছি মশাই— ধন্যি ছেলের অধ্যবসায় ! উনিশটিবার ম্যাট্রিকে সে ঘায়েল হয়ে থামল শেষে । বিষয় আশয় ? গরীব বেজায়— কষ্টে–... | 5 | Children |
1288 | যে টেলিফোন আসার কথা | পূর্ণেন্দু পত্রী | যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি। প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে সূর্য ডোবে রক্তপাতে সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূণ্য বিছানাতে। একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি। যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি। অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসন ঘন্টা শাঁখের উলু একশ বনেরবাতাস এস একটা গাছে হুলুস্থুলু আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে দীঘির পড়ে হারি... | 1 | Love |
1094 | মেঘের পরে মেঘ জমেছে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মেঘের 'পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে, আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে। কাজের দিনে নানা কাজে থাকি নানা লোকের মাঝে, আজ আমি যে বসে আছি তোমারি আশ্বাসে। আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে। তুমি যদি না দেখা দাও, কর আমায় হেলা, কেমন করে কাটে আমার এমন বাদল-বেলা। দূরের পানে মেলে আঁখি কেবল আমি চেয়ে থাকি, পরান আমার কেঁদে... | 0 | Miscellaneous |
665 | তখন সুবর্ণ হবে ঘাস | মহাদেব সাহা | যাই হোক, কুসুম ঝরিয়া যাক, খুলে যাক শিশুর পালক উজ্জ্বলতা তাহাও নিভিয়া যাক, জলরাশি হয়ে যাক খাঁখাঁ বালিযাড়ি যাই হোক তাহার বিশ্বাস রাখো, একদিন পরিত্রাণ হবে পরিশুদ্ধ হবে মাটি, জল, জলের কুচ্ছিত মুখচ্ছবি, ছায়া, সেই পীত নষ্ট জরে ফিরে পাবে বণৃহীন ঘ্রাণ তাহার বিশ্বাস রাখো চক্ষুষ্মান হবে সভ্যতার এই অন্ধ রাজা বিবর্ণ গোলাপ পুন... | 0 | Miscellaneous |
315 | আজ এই দিনের শেষে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজ এই দিনের শেষে সন্ধ্যা যে ওই মানিকখানি পরেছিল চিকন কালো কেশে গেঁথে নিলেম তারে এই তো আমার বিনিসুতার গোপন গলার হারে। চক্রবাকের নিদ্রানীরব বিজন পদ্মাতীরে এই সে সন্ধ্যা ছুঁইয়ে গেল আমার নতশিরে নির্মাল্য তোমার আকাশ হয়ে পার; ওই যে মরি মরি তরঙ্গহীন স্রোতের 'পরে ভাসিয়ে দিল তারার ছায়াতরী; ওই যে সে তার সোনার চেলি দিল মেলি র... | 0 | Miscellaneous |
1638 | আকাঙ্ক্ষা তাকে | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | আকাঙ্ক্ষা তাকে শান্তি দেয়নি, শান্তির আশা দিয়ে বার বার লুব্ধ করেছে। লোভ তাকে দূর দুঃস্থ পাপের পথে টেনে নিয়ে তবুও সুখের ক্ষুধা মেটায়নি দিনে দিনে আরও নতুন ক্ষুধার সৃষ্টি করেছে; সুখলোভাতুর আশায় দিয়েছে আগুন জ্বালিয়ে। এই যে আকাশ, আকাশের নীল, এই যে সুস্থসবল হাওয়ার আসা-যাওয়া, রূপরঙের মিছিল, কোনোখানে নেই সান্ত্বনা তার। বন্ধুরা ... | 2 | Metaphor |
741 | প্রিয়-পাঠক-পাঠিকাগণ | পূর্ণেন্দু পত্রী | প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ! এখন থেকে আমার কবিতায় তুমুল ওলোট-পালট। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন দমকলের ঘন্টায় বেহদ্দ বেজে বেজে বহু শব্দের গা থেকে খসে পড়েছে প্লাস্টার এবং পালিশ। একদিন সোফিয়া লোরেনের মতো মার কাটারি ছিল যে সব শব্দ এখন গ্রন্থাবলীর অলিতে গলিতে তাদের হিঁজড়ে-নাচ। অনেক সম্ভাবনাময় শব্দ এখন পয়লা নম্বেরের বখাটে স... | 0 | Miscellaneous |
206 | আমরা তো অল্পে খুশি | জয় গোস্বামী | আমরা তো অল্পে খুশি, কী হবে দুঃখ করে? আমাদের দিন চলে যায় সাধারণ ভাতকাপড়ে। চলে যায় দিন আমাদের অসুখে ধারদেনাতে রাত্তিরে দুভায়ে মিলে টান দিই গঞ্জিকাতে। সবদিন হয়না বাজার, হলে হয় মাত্রাছাড়া - বাড়িতে ফেরার পথে কিনে আনি গোলাপচারা। কিন্তু পুঁতব কোথায়? ফুল কি হবেই তাতে? সে অনেক পরের কথা টান দিই গঞ্জিকাতে। আমরা তো অল্পে ... | 4 | Humanity |
1286 | না | পূর্ণেন্দু পত্রী | তোমার কাছে চেয়েছিলাম অনির্বচনীয়তা দাওনি। আকাশ ভর্তি মেঘ করেছে, মেঘের হাতে তানপুরা গাওনি। পায়ের কাছে পৌঁছে দিলাম নৌকা বোঝাই বন্দনা দাওনি। গোপন কথা জানিয়েছিলাম, দুত ছিল রাজহংসেরা পাওনি। চাইবে বল রক্তকমল ভিজিয়ে দিলাম চন্দনে চাওনি। তোমার কাছে চেয়েছিলাম অনির্বচনীয়তা দাওনি। | 1 | Love |
624 | আমার সমুদ্র দেখা, আমার পাহাড় দেখা | মহাদেব সাহা | আমার কোনোদিন সমুদ্রদর্শন হয়নি, পাহাড় দেখাও না কেন যে সমুদ্র বা পাহাড় আমাকে এমন বিমুখ করেছে সমুদ্র আমাকে দর্শন দেননি কখনো পাহাড় আমাকে সান্নিধ্য, বাল্টিকের তীরে দাঁড়িয়ে আমি যেমন ধু-ধু জলরাশি ছাড়া কোনো সমুদ্রই দেখতে পাইনি আর তেমনি ময়নামতির পাহাড়েও প্রস্তরীভুত নিস্তব্ধতা, এই আমার পাহাড় কিংবা সমুদ্রদর্শন! হয়তো সম... | 0 | Miscellaneous |
250 | পাবো প্রেম কান পেতে রেখে | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | বড় দীর্ঘতম বৃক্ষে ব’সে আছো, দেবতা আমার । শিকড়ে, বিহ্বল প্রান্তে, কান পেতে আছি নিশিদিন সম্ভ্রমের মূল কোথা এ-মাটির নিথর বিস্তারে ; সেইখানে শুয়ে আছি মনে পড়ে, তার মনে পড়ে ? যেখানে শুইয়ে গেলে ধীরে-ধীরে কত দূরে আজ ! স্মারক বাগানখনি গাছ হ’য়ে আমার ভিতরে শুধু স্বপ্ন দীর্ঘকায়, তার ফুল-পাতা-ফল-শাখা তোমাদের খোঁড়া-বাসা শূন... | 9 | Nature |
1350 | নির্বাসনে | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | তোমাকে করেছি আমি নিজের শাসক আজ তুমি রাজ্যপাট ভক্ত প্রজা ছেড়ে কোন তীর্থে হয়েছো উধাও ? ভ্রাম্যমান তোমার বহর গেছে সাথে এদিকে যে পোড়া মাঠে দুর্গন্ধ ও বমি শুন্য সিংহাসন কাঁদে নির্জন আঁধারে তোমার দেহের গন্ধে বুনো রাত্রি আসে পাহাড়ি সিংহ ডাকে রক্তের গভীরে । তোমার স্তনের ঘাম উদ্ভিন্ন গোলাপ উড়ে যায় অনিচ্ছায় সপ্তর্ষিমণ্ডলে একদিন ... | 1 | Love |
606 | সময় বড় কম | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কলিং বেল বেজে উঠতেই দরজার আই-হোল্-এ উঁকি মেরে যাকে দেখতে পেলুম, তার চোখের কোনো চামড়া নেই, আর গায়ের চামড়া ছাইবর্ণ। চিনতে একটুই অসুবিধে হল না; কেননা এর আগে আরও সাত-আটবার এই লোকটিকে আমি দেখেছি। শেষ দেখি ছিয়াত্তর সালে, যমুনোত্রীর পথে। আলগা একটা পাথরে ঠোকর খেয়ে আমার ঘোড়াটা যখন খাদের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে, সামনের পাহাড়ের... | 0 | Miscellaneous |
2187 | আবহমান ভগ্নী-ভ্রাতা | পূর্ণেন্দু পত্রী | ডাইনে বাঁয়ে দুইদিকে দুই বাংলা আমার আপন স্বজন দুজন মাতা। ভালোবাসার সাঁকোর ওপর পা টলমল পা টলমল পা বাড়ালেই পদ্মা নদী হাত বাড়ালেই পদ্ম পাতা এবার পাবো। আজান-বাজান ভাটিয়ালীর কন্ঠনালীর ছন্দগাথা প্রবহমান নদীনালায় গুনতে যাবো। পাঁজর পোড়া গর্ত খোঁড়া হাটের মাঠের ঘরের ঘাটের সব দরজা জানলা খুলে খুঁজতে যাবো অগ্নিবরণ ভোরবেলাতে আ... | 6 | Patriotic |
1575 | ওটা কিছু নয় | নির্মলেন্দু গুণ | এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ? একটু দাঁড়াও আমি তৈরী হয়ে নিই । এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ? তেমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল অন্ধকার । ওটা নয়, ওটা চুল । এই হলো আমার আঙ্গুল, এইবার স্পর্শ করো,–না, না, না, -ওটা নয়, ওটা কন্ঠনালী, গরলবিশ্বাসী এক শিল্পীর মাটির ভাস্কর্য, ওটা অগ্ন... | 1 | Love |
416 | চেনার মুহূর্ত | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | বহু অর্চনা করেছি তোমায়, এখন ইচ্ছে টেনে চোখ মারি হে বীণাবাদিনী, তুমিও তো নারী, ক্ষমা করো এই বাক-ব্যবহার তুমি ছাড়া আর এমন কে আছে, যার কাছে আমি দাস্য মেনেছি- এবার আমাকে প্রশ্রয় দাও, একবার আমি ছিনা টান করি। একবার এই পাংশুবেলায় তুমি হয়ে ওঠো শরীরী প্রতিমা অনেক দেখেছি দুনিয়া বাহার, এবার ফুঁদিয়ে নেভাই গরিমা হলুদকে বলা র... | 0 | Miscellaneous |
1284 | যখন তোমার ফুলবাগানে | পূর্ণেন্দু পত্রী | কালকে তোমার ডাল ভেঙেছি, ফুল ছিঁড়েছি। অপরাধের হাওয়ায় ছিল ত্বরিৎগতি সেই কাঁপুনি ঝাউ পাতাতে, ক্ষয়ক্ষতি যার গায়ের ধুলো এমন মাদল, যার ডাকে বন আপনি দোলে পাহাড় ঠেলে পরাণ-সখা বন্ধু আসে আলিঙ্গনে সমস্ত রাত পায়ে পরায় সর্বস্বান্ত নাচের নেশা। দস্যু যেমন হাতড়ে খোঁজে বাউটি বালা কেউর কাঁকন, জলে যেমন সাপের ছোবল আলগা মাটির আঁচল টানে দ্ব... | 1 | Love |
308 | যেদিন উদিলে তুমি, বিশ্বকবি, দূর সিন্ধুপারে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যেদিন উদিলে তুমি, বিশ্বকবি, দূর সিন্ধুপারে, ইংলণ্ডে দিকপ্রান্ত পেয়েছিল সেদিন তোমারে আপন বক্ষের কাছে, ভেবেছিল বুঝি তারি তুমি কেবল আপন ধন; উজ্জ্বল ললাট তব চুমি রেখেছিল কিছুকাল অরণ্যশাখার বাহুজালে, ঢেকেছিল কিছুকাল কুয়াশা-অঞ্চল-অন্তরালে বনপুষ্প-বিকশিত তৃণঘন শিশির-উজ্জ্বল পরীদের খেলার প্রাঙ্গণে। দ্বীপের নিকুঞ্জতল তখনো ওঠে... | 0 | Miscellaneous |
1869 | আগ্নেয়গিরি | সুকান্ত ভট্টাচার্য | কখনো হঠাৎ মনে হয়ঃ আমি এক আগ্নেয় পাহাড়। শান্তির ছায়া-নিবিড় গুহায় নিদ্রিত সিংহের মতো চোখে আমার বহু দিনের তন্দ্রা। এক বিস্ফোরণ থেকে আর এক বিস্ফোরণের মাঝখানে আমাকে তোমরা বিদ্রূপে বিদ্ধ করেছ বারংবার আমি পাথরঃ আমি তা সহ্য করেছি। মুখে আমার মৃদু হাসি, বুকে আমার পুঞ্জীভূত ফুটন্ত লাভা। সিংহের মতো আধ-বোজা চোখে আমি কেবলি দেখ... | 2 | Metaphor |
1331 | বিম্ববতী | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রূপকথা সযত্নে সাজিল রানী, বাঁধিল কবরী, নবঘনস্নিগ্ধবর্ণ নব নীলাম্বরী পরিল অনেক সাধে। তার পরে ধীরে গুপ্ত আবরণ খুলি আনিল বাহিরে মায়াময় কনকদর্পণ। মন্ত্র পড়ি শুধাইল তারে-- কহ মোরে সত্য করি সর্বশ্রেষ্ঠ রূপসী কে ধরায় বিরাজে। ফুটিয়া উঠিল ধীরে মুকুরের মাঝে মধুমাখা হাসি-আঁকা একখানি মুখ, দেখিয়া বিদারি গেল মহিষীর বুক-- রাজকন্যা বি... | 1 | Love |
625 | অসুস্থতা আমার নির্জন শিল্প | মহাদেব সাহা | অসুস্থতা আমার নির্জন শিল্প, আমি তাকে দুঃখভরা নকশীকাঁথার মতো আমার শরীরে করেছি সেলাই, বড়োই যাতনাময় তবু তার নিবিড় সান্নিধ্যে থেকে আমি বুঝেছি কেমন এই প্রবাহিত তোমাদের অটুট জীবন চারধারে, কেমন সুস্থতা তার মাঝে ক্রমাগত অন্তঃসারশূন্যতার কী গভীর ধস ও ফাটল! অসুস্থতা আমার নির্জন শিল্প তার কাছে থেকেই তো আমি প্রথম শিখেছি তোমার ম... | 0 | Miscellaneous |
2145 | সেই পদ্মপাতাখানি | পূর্ণেন্দু পত্রী | সেই পদ্মপাতাখানি ছুঁয়ে আছি তবু। যতই ফুঁ দাও ঝড়ে নেভাতে পারবে না মোমের আগুন। এত ভূল কর কেন যোগে ও বিয়োগে? ত্রিশূলের কতটুকু ক্ষমতা ক্ষতির? নির্বাসনদণ্ড দিয়ে মুকুট কেড়েছ, তবু দেখ পৃথিবীর পাসপোর্ট আত্মীয় করেছে। আমার পতাকা উড়ছে পাখিদের স্বাধীনতা ছুঁয়ে। | 6 | Patriotic |
1518 | গোলাপ ফোটাবো | হুমায়ুন আজাদ | ওষ্ঠ বাড়িয়ে দাও গোলাপ ফোটাবো, বঙ্কিম গ্রীবা মেলো ঝরনা ছোটাবো। যুগল পাহাড়ে পাবো অমৃতের স্বাদ, জ্ব’লে যাবে দুই ঠোঁটে একজোড়া চাঁদ। সুন্দরীর নৌকো ঢুকাবো বঙ্গোপসাগরে, অতলে ডুববো উত্তাল আশ্বিনের ঝড়ে। শিউলির বোঁটা থেকে চুষে নেবো রস, এখনো আমার প্রিয় আঠারো বয়স। তোমার পুষ্পের কলি মধুমদগন্ধময়, সেখানে বিন্দু বিন্দু জমে আমা... | 1 | Love |
2184 | বঙ্গভাষা | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;-- তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি! অনিদ্রায়, অনাহারে সঁপি কায়, মনঃ, মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;-- কেলিনু শৈবালে, ভুলি কমল-কানন! স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে, -- "ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের ... | 6 | Patriotic |
1922 | খোকার সাধ | কাজী নজরুল ইসলাম | আমি হব সকাল বেলার পাখি সবার আগে কুসুম-বাগে উঠব আমি ডাকি। সূয্যিমামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে, ‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’- মা বলবেন রেগে। বলব আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাক, হয়নি সকাল- তাই বলে কি সকাল হবে না ক? আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে? তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!’ ঊষা দিদির ওঠার আগে উঠব পাহাড়-চূড়ে, ... | 2 | Metaphor |
558 | হ্যালো দমদম | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | আমার হাতের মধ্যে টেলিফোন; আমার পায়ের কাছে খেলা করছে সূর্যমণি মাছেরা। পিচ-বাঁধানো সড়কের উপর দিয়ে নৌকো চালিয়ে আমি পৃথিবীর তিন-ভাগ জল থেকে এক-ভাগ ডাঙায় যাব। সেই নৌকোর জন্যে আমি বসে আছি; আর, পাঁচ মিনিট পরপর ডায়াল ঘুরিয়ে চিৎকার করছি: হ্যালো দমদম…হ্যালো দমদম…হ্যালো… আমার মাথার উপরে জ্বলছে নিয়ন-বাতি; আর আমার গোড়ালির ... | 0 | Miscellaneous |
197 | অন্তর-ন্যাশনাল সঙ্গীত | কাজী নজরুল ইসলাম | জাগো– জাগো অনশন-বন্দী, ওঠ রে যত জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত! যত অত্যাচারে আজি বজ্র হানি’ হাঁকে নিপীড়িত-জন-মন-মথিত বাণী, নব জনম লভি’ অভিনব ধরণী ওরে ওই আগত।। আদি শৃঙ্খলা সনাতন শাস্ত্র-আচার মূল সর্বনাশের, এরে ভাঙিব এবার! ভেদি’ দৈত্য-কারা! আয় সর্বহারা! কেহ রহিবে না আর পর-পদ-আনত।। কোরাস্ : নব ভিত্তি ’পরে নব নবীন জগৎ হবে উত্থিত... | 4 | Humanity |
1163 | দেখা হবে | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | ভ্রূ-পল্লবে ডাক দিলে, দেখা হবে চন্দনের বনে- সগন্ধের সঙ্গে পাবো, দ্বিপ্রহরে বিজন ছায়ায় আহা, কি শীতল স্পর্শ হৃদয়-ললাটে, আহা, চন্দন চন্দন দৃষ্টিতে কি শান্তি দিলে, চন্দন, চন্দন আমি বসে থাকবো দীর্ঘ নিরালায় প্রথম যৌবনে আমি অনেক ঘুরেছি অন্ধ, শিমূলে জরুলে লক্ষ লক্ষ মহাদ্রুম, শিরা-উপশিরা নিয়ে জীবনের কত বিজ্ঞাপন তবুও জীবন জ্বলে,... | 1 | Love |
1915 | কামাল পাশা | কাজী নজরুল ইসলাম | [তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আস্মানের আঙিনা তখন কার্বালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রীক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হইহা গিয়াছে। তাহাদের অধিকাংশ সৈন্যই রণস্থলে হত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। বাকি সব প্রাণপণে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিতেছে। তুরস্কের জাতীয় সৈন্যদলের কাণ্ডারী বিশ্বত্রাস মহাবাহু কামাল-পাশা মহাহর্ষ... | 2 | Metaphor |
1848 | প্রার্থী | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমাকে একটু আলোক দাও: রোদ মাতাল ভোর একটু দাও মুক্ত হাওয়া রুদ্ধশ্বাস এ বুকে, আমি কী দেব, কি দিতে পারি তোমাকে শক্তিমান তোমাকে দিই কখানা ভাঙা পাঁজরে যত জ্বালা। আমাকে একটু বর্ষা দাও: দুমুঠো কাটি ধান একটু দাও ফাল্গুনে রোদ আঁধার ঘোর ঘরে আমি কী দেব, কি দিতে পারি তোমাকে মহাব্রতী তোমাকে দিই কোটরাগত দুচোখে যত দাহ। আমাকে একটু শক্... | 2 | Metaphor |
1473 | কবিতা | জসীম উদ্দীন | তাহারে কহিনু, সুন্দর মেয়ে! তোমারে কবিতা করি, যদি কিছু লিখি ভুরু বাঁকাইয়া রবে না ত দোষ ধরি।” সে কহিল মোরে, “কবিতা লিখিয়া তোমার হইবে নাম, দেশে দেশে তব হবে সুখ্যাতি, আমি কিবা পাইলাম ?” স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিনু কি দিব জবাব আর, সুখ্যাতি তরে যে লেখে কবিতা, কবিতা হয় না তার। হৃদয়ের ফুল আপনি যে ফোটে কথার কলিকা ভরি, ইচ্ছা করিলে প... | 1 | Love |
986 | তোরা শুনিস নি কি শুনিস নি তার পায়ের ধ্বনি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তোরা শুনিস নি কি শুনিস নি তার পায়ের ধ্বনি, ওই যে আসে, আসে, আসে। যুগে যুগে পলে পলে দিনরজনী সে যে আসে, আসে, আসে। গেয়েছি গান যখন যত আপন-মনে খ্যাপার মতো সকল সুরে বেজেছে তার আগমনী- সে যে আসে, আসে, আসে। কত কালের ফাগুন-দিনে বনের পথে সে যে আসে, আসে, আসে। কত শ্রাবণ অন্ধকারে মেঘের রথে সে যে আসে, আসে, আসে। দুখের পরে পরম দুখে, ত... | 0 | Miscellaneous |
675 | এই চৈত্রে | মহাদেব সাহা | এমন চৈত্রের রাতে আমি লিখি শ্রাবনের গান বর্ষণ থামেনি আজো দুই চোখ জলে ভাসমান, সবাই উল্লাসে মাতে, চৈত্রনিশি করে উদ্যাপন আমর ফাল্গুন নেই চৈত্রে নামে অঝোর শ্রাবণ। এই চৈত্রে আমি বড়ো ভয়ানক মনঃকষ্টে আছি এতো যে ফুটেছে ফুল আমি তবু দুঃখ পেয়ে বাঁচি, সকলেই চৈত্রে সব দেখে-শোনে, আয়োজন করে আমি এই চৈত্রে আরো মরে যাই বাহিরে-ভিতরে। ... | 0 | Miscellaneous |
239 | কুলি-মজুর | কাজী নজরুল ইসলাম | দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে, বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে। বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল! কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্? রাজপথে তব চলিছে মোটর, স... | 4 | Humanity |
1557 | সপ্তক | জীবনানন্দ দাশ | এইখানে সরোজিনী শুয়ে আছে; – জানি না সে এইখানে শুয়ে আছে কিনা। অনেক হয়েছে শোয়া; – তারপর একদিন চ’লে গেছে কোন দূর মেঘে। অন্ধকার শেষ হ’লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে : সরোজিনী চলে গেলো অতদূর? সিঁড়ি ছাড়া – পাখিদের মত পাখা বিনা? হয়তো বা মৃত্তিকার জ্যামিতিক ঢেউ আজ? জ্যামিতির ভূত বলে: আমি তো জানি না। জাফরান – আলোকের বিশু... | 1 | Love |
1890 | দারিদ্র্য | কাজী নজরুল ইসলাম | হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্। তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস, অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস; উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার, বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার! দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস, অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস, অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ! শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দা... | 2 | Metaphor |
1751 | কবর | জসীম উদ্দীন | এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক। এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা, সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা। সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি, লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের... | 2 | Metaphor |
204 | তৃতীয় বিশ্বের একজন চাষীর প্রশ্ন | হুমায়ুন আজাদ | আগাছা ছাড়াই, আল বাঁধি, জমি চষি, মই দিই, বীজ বুনি, নিড়োই, দিনের পর দিন চোখ ফেলে রাখি শুকনো আকাশের দিকে। ঘাম ঢালি খেত ভ’রে, আসলে রক্ত ঢেলে দিই নোনা পানিরূপে; অবশেষে মেঘ ও মাটির দয়া হলে খেত জুড়ে জাগে প্রফুল্ল সবুজ কম্পন। খরা, বৃষ্টি, ঝড়, ও একশো একটা উপদ্রব কেটে গেলে প্রকৃতির কৃপা হ’লে এক সময় মুখ দেখতে পাই থোকাথোকা স... | 4 | Humanity |
439 | রাস্তায় পড়েছে ব্রিজ–জল নেই–বালি | জয় গোস্বামী | রাস্তায় পড়েছে ব্রিজ–জল নেই–বালি রাস্তায় পড়েছে শুকনো ধুলো ও আগাছা ভরা বিরাট ইঁদারা শ্মশান? পড়েছে তাও– চিতায় চাদর ঢেকে শুনেছিল যারা তারা কাজে বেরিয়েছে প্রান্তরে, কামান গাড়ি ঠেলে হঠাৎ কোথায় হাওয়া? চাপাচুপি খড়ের নিঃশ্বাস? কবরে, বোমার গর্তে ঝুঁকে ঝুঁকে দেখি মা, আর মায়ের হাতে মুখ চাপা অনাথ। | 0 | Miscellaneous |
2107 | অসম্ভব নয়! | সুকুমার রায় | এক যে ছিল সাহেব, তাহার গুণের মধ্যে নাকের বাহার। তার যে গাধা বাহন, সেটা যেমন পেটুক তেমনি ঢ্যাঁটা। ডাইনে বল্লে যায় সে বামে তিন পা যেতে দুবার থামে । চল্তে চল্তে থেকে থেকে খানায় খন্দে পড়ে বেঁকে। ব্যাপার দেখে এম্নিতরো সাহেব বললে “সবুর করো- মাম্দোবাজি আমার কাছে? এ রোগেরও ওষুধ আছে।” এই না বলে ভীষন ক্ষেপে গাধার পিঠে বস্... | 5 | Children |
848 | নিভৃত | সুকান্ত ভট্টাচার্য | বিষণ্ণ রাত, প্রসন্ন দিন আনো আজ মরণের অন্ধ অনিদ্রায়, সে অন্ধতায় সূর্যের আলো হানো, শ্বেত স্বপ্নের ঘোরে যে মৃতপ্রায়। নিভৃত-জীবন-পরিচর্যায় কাটে যে দিনের, আজ সেখানে প্রবল দ্বন্দ্ব। নিরন্ন প্রেম ফেরে নির্জন হাটে, অচল চরণ ললাটের নির্বন্ধ? জীবন মরণে প্রাণের গভীরে দোলা কাল রাতে ছিল নিশীথ কুসুমগন্ধী, আজ সূর্যের আলোয় পথকে ভো... | 0 | Miscellaneous |
1933 | কেউ কথা রাখেনি | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী আর এলোনা পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি। মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দে... | 3 | Separation |
2121 | লিচু চোর | কাজী নজরুল ইসলাম | বাবুদের তাল-পুকুরে হাবুদের ডাল-কুকুরে সে কি বাস করলে তাড়া, বলি থাম একটু দাড়া। পুকুরের ঐ কাছে না লিচুর এক গাছ আছে না হোথা না আস্তে গিয়ে য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে গাছে গো যেই চড়েছি ছোট এক ডাল ধরেছি, ও বাবা মড়াত করে পড়েছি সরাত জোরে। পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই, সে ছিল গাছের আড়েই। ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার, ধুমাধুম গোটা দুচ্চা... | 5 | Children |
1818 | স্বরচিত নির্জনতা | পূর্ণেন্দু পত্রী | স্বরচিত নির্জনতা, সযত্ন-সৃজিত নির্জনতা তুমি আছ পার্শ্ববর্তী,কী অপুর্ব সুখ। বাইরে ভুলের হাওয়া বইছে বহুক। পল্লবেরা মরে শুধু পল্লবেরা অবেলায় ঝরে পল্লবেরা কাঁপে গায়ে হতাশার জর বনস’লী ভুলে গেছে নিজস্ব মর্মর। আদিম চীৎকার তুলে কাপালিক মগ্ন মন্ত্র পাঠে অশ্রুধ্বনি নাভীমূলে অবনত শোকে যারা হাঁটে। কেউ যদি চায় বিশ্বটাকে কিনে নে... | 2 | Metaphor |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.