text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে কোভিড আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে। এ সময়ে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ হয়। খবর বাসসের। ব্রাসেলসে প্রায় আট হাজার লোক মিছিল করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদরদপ্তরের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় তারা স্বাধীনতা বলে শ্লোগান দিতে থাকে। সদরদপ্তরের কাছাকাছি গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় দুটি ড্রোন ও একটি হেলিকপ্টার বিক্ষোভকারীদের মাথার ওপর দিয়ে উড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীরা হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে আতশবাঁজি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় পুলিশ বলছে, তাদের দুজন কর্মকর্তা ও চার বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। আরও ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। বেলজিয়ামে মাস্ক পরা, লকডাউন ও ভ্যাকসিন পাশসহ করোনা নিয়ন্ত্রণে কিছু বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য নীতির বিরুদ্ধে লোকজন এ বিক্ষোভ শুরু করে। এদিকে এরইমধ্যে শুক্রবার বেলজিয়াম প্রধানমন্ত্রী আলেক্সজান্ডার ডি ক্রু স্যানিটারি আইন কঠোর করাসহ আরও কিছু কড়াকড়ি নিয়ম ঘোষণা করেন। বেলজিয়ামে জনসংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। দেশটিতে গত সাত দিনে দৈনিক গড়ে ১৭ হাজার ৮'শরও বেশি লোক করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। মারা গেছে ৪৪ জন। এছাড়া করোনাক্রান্ত প্রায় আট'শ লোক মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকটে রয়েছে। তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছে। | 3 |
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেলে পড়ছিলেন এক ছাত্রী। ২০১৭ সালে বদলে গেল তাঁর পৃথিবী। সাধারণ থেকে অসাধারণ একজনে পরিণত হলেন তিনি বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয় করে। সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মেয়ে মানুষি ছিল্লার হয়েছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭। ভারতে ১৭ বছর পর এই অর্জন আসে মানুষির হাত ধরে। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে আগ্রহ বাড়ে বলিউডে। নাম লেখান যশরাজ ফিল্মসের 'পৃথ্বীরাজ' ছবিতে। ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। মানুষির বিপরীতে পৃথ্বীরাজ চৌহানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার। মানুষিকে দেখা যাবে রাজকুমারী সংযোগিতার চরিত্রে। রাজা পৃথ্বীরাজ তাঁকে বিয়ে করেন। যশরাজ ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা করছেন ড. চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিভেদি। তিনি টেলিভিশনের সবচেয়ে বড় মহাকাব্যিক ধারাবাহিক 'চাণক্য' পরিচালনা করেছেন। যশরাজ ফিল্মসের অন্যতম বড় বাজেটের ছবি 'পৃথ্বীরাজ'-এর জন্য ৩৫টি ভিন্ন ভিন্ন সেট নির্মাণ করা হয়েছিল। দ্বাদশ শতাব্দীতে পৃথ্বীরাজ চৌহানের বীরত্ব ও প্রেমের গল্প উঠে আসবে এ ছবিতে। তিনি সে সময় আজমির ও দিল্লি শাসন করছিলেন। তিনি ছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী যোদ্ধা। কনৌজের রাজা জয়চন্দ্রের কন্যা সংযোগিতা আর পৃথ্বীরাজের প্রেম ও বিয়ের ঘটনাটি ভারতে একটি জনপ্রিয় প্রেম উপাখ্যান হিসেবে প্রচলিত। দর্শকেরা মুখিয়ে আছেন 'পৃথ্বীরাজ' ছবিটির জন্য। করোনার সময় মুক্তি আটকে ছিল এই ছবির।মানুষির হাতে রয়েছে 'দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি'। যশরাজ ফিল্মসের এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন ভিকি কৌশল। অজয় দেবগনের সঙ্গে নাম ঠিক না হওয়া নতুন আরও এক ছবিতে অভিনয়ের বিষয়টিও প্রায় চূড়ান্ত। | 2 |
দুর্নীতির অভিযোগে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আইয়ুব আলী ফর্সা ও অপর দুই ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার বিকালে সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ এসেছে বলে জানিয়েছে শেরপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
শেরপুর: যাত্রা শুরু করেছিলেন ফুটবলার হিসেবে। কিন্তু হয়ে গেলেন দেশসেরা অ্যাথলেট! শেরপুরের অজপাড়াগাঁয়ের সন্তান ৪০০ মিটার দৌড়ে দেশসেরা স্প্রিন্টার জহির রায়হানের গল্পটা এমনই। এবার তিনি জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ব অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। জহির অলিম্পিকে দৌড়াবে জেনে আনন্দে আত্মহারা তার পরিবারসহ শেরপুর জেলার সর্বস্তরের মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক পুরস্কার পাওয়া জহির এবার টোকিও অলিম্পিকে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।জহিরের পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের দীঘলদি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক ও শিখা বেগম দম্পতির চার পুত্র সন্তানের মধ্যে জহির রায়হান দ্বিতীয়। বড় ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ রাসেল এবং জহিরের ছোট জামিল ও যিদনী। রাসেল ও জহির যখন ছোট, তখন তাদের পড়াশোনার জন্য গ্রামের বাড়ি ছেড়ে শহরের বাড়ইপাড়া মহল্লায় বসবাস শুরু করেন আব্দুর রাজ্জাক। এরপর শহরের একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করান রাসেল ও জহিরকে।রাসেল নিয়মিত স্কুল করলেও ৩য় শ্রেণিতে ওঠার পর খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন জহির। এ জন্য স্কুলেও সে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। তা নিয়ে প্রথমে বাবা-মা বকাবকি করলেও বাবা আব্দুর রাজ্জাক শরীরচর্চার শিক্ষক হওয়ায় তারও খেলাধুলার প্রতি ঝোঁক ছিল। শেষ পর্যন্ত জহিরকে তিনি ফুটবল অনুশীলন করার জন্য শেরপুরের স্থানীয় ক্লাব 'ফর ফুটবল শেরপুর' এর কোচ সাধন বসাকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে সে ভালো ফুটবলার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়। ফুটবল খেলার সময় তার দৌড়ের ক্ষিপ্রতা দেখে অবাক হয়েছিলেন কোচ সাধন বসাক।পরবর্তীতে শেরপুরে বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণ টিম আসে খেলোয়াড় বাছাই করার জন্য। প্রথমবার সেখানে অংশ নিয়ে জায়গা না করতে পারলেও পরেরবার ২০১২ সালে অ্যাথলেটিক খেলোয়াড় হিসেবে বিকেএসপিতে জায়গা করে নেন জহির। সেখানে প্রথমে এক মাস প্রশিক্ষণ করে বাছাইয়ে টিকে যান এবং আবারও পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিকেএসপিতে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পান জহির। এরপর থেকেই শুরু হয় তার সামনে এগিয়ে চলা।জহির রায়হান দেশের বড় বড় আসরে অনেক পুরস্কার জিতেছেন। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে ৪৬.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে দেশীয় আসরে ৩২ বছরের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ, নাইরোবি, কেনিয়া ও এশিয়ান ইয়ুথ অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ থাইল্যান্ডে ৪০০ মিটার ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে হিটে উত্তীর্ণ হয়ে সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কায় সাউথ এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৯ সালে কাতারে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস, ২৩ তম এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ এবং নেপালে ১৩ তম সাউথ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করেছেন জহির।জহিরের সাফল্য দেখে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে তাকে পেটি অফিসার হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন একজন অ্যাথলেট মনোনয়নের জন্য অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনকে চিঠি দেয়। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সিলেকশন কমিটি মনোনয়নের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করলে সেখান থেকে জহির রায়হানের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো পারফরমেন্সের ভিত্তিতে টোকিও অলিম্পিকের জন্য তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।এদিকে জহিরের অলিম্পিকে অংশগ্রহণের খবর শোনার পর থেকেই তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন শেরপুরের ক্রীড়ামোদীসহ সর্বস্তরের মানুষ। তার এ কৃতিত্বের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী, জেলা প্রশাসনসহ হুইপ আতিউর রহমান আতিক তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দিয়েছেন। সেই সাথে তাকে উৎসাহ দিতে হুইপ আতিক এক লাখ টাকা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার তরফ থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।ছেলের সাফল্যে বেজায় খুশি বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ছোট থেকেই জহিরের খেলার প্রতি টান ছিলো বেশি। তাই আমার বড় ছেলের পরামর্শে আমি তাকে খেলাধুলার চর্চা করাতে আগ্রহী হয়ে ওঠি। আমার ছেলে শেরপুরের সুনাম দেশে ছড়িয়েছে। আমি চাই এবার যাতে সে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান বয়ে আনতে পারে। মা শিখা বেগমও ছেলের সাফল্যের জন্য সবার দোয়া কামনা করেন।অ্যাথলেট জহির রায়হান জানান, আমি ছোট থেকেই খেলা পাগল ছিলাম। প্রথমে ফুটবল দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে আমার বাবার ইচ্ছেতেই আমি অ্যাথলেটিকসে বিকেএসপিতে ভর্তি হতে সক্ষম হই। আজ আমি আমার বাবা-মার আশা পূরণ করতে পেরেছি। এ জন্য আমার বর্তমান ও সাবেক কোচদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর আমার সংস্থা নৌ-বাহিনী আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছে। সেই সাথে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনও আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। আমি দেশবাসীসহ সবার কাছে দোয়া চাই। আমি যেন টোকিও অলিম্পিকে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারি।জহির রায়হানের প্রথম কোচ সাধন বসাক জানান, জহির প্রথমে আমার কাছে ফুটবল অনুশীলন করেছে। তার অনুশীলন ও তার গতি দেখে প্রথম থেকেই আমি ভেবেছি, সে একদিন বড় কিছু করতে পারবে। আজ সেটাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। এতে আমি খুবই খুশি।'জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মানিক দত্ত জানান, টোকিও অলিম্পিকে জহির ভালো করবে বলে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আশাবাদী। মাশরাফিকে দিয়ে যেমন দেশবাসী নড়াইলকে আলাদা করে চেনে, ঠিক তেমনি শেরপুর জেলাকেও জহিরকে নিয়ে ভিন্নভাবে চিনবে বলে আশা করছি।শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, জহির শেরপুর জেলার অহংকার। সে শুধু শেরপুর নয় সারা দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করছে।এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আতিক বলেন, জহিরের অলিম্পিকে অংশগ্রহণ অবশ্যই শেরপুরবাসীর জন্য একটি গর্বের বিষয়। আমি আশা করব, শেরপুরের কৃতি সন্তান জহির টোকিও অলিম্পিকেও সফল হবে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। | 6 |
শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও সদর উপজেলার সংযোগস্থল কলস নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।উপজেলা এলজিইডি অফিস বলছে, ওই জায়গায় সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।জানা গেছে, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শেরপুর সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে কলস নদী। কোনো পাকা সেতু না থাকায় এ নদীর ওপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়ে ওই তিন উপজেলার আশেপাশের গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন।ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে গ্রামের বৃদ্ধ ও কোমলমতি স্কুলশিক্ষার্থীদেরও। স্বাধীনতার পর থেকেই স্থানীয়রা সেখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছেন।বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু সে আশ্বাস আর বাস্তবায়িত হয়নি। সময় বাঁচাতে বাঁশের সাঁকো দিয়েই আশেপাশের ১০ গ্রামের অন্তত ৮-১০ হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে যাতায়াত করেন। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। এই সাঁকোর আশেপাশের এলাকায় পশ্চিম কলসপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মাদিয়া কওমী মাদ্রাসা ও কলসপাড় নঈমী দাখিল মাদ্রাসাসহ অন্তত ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পড়তে যান।এতে মাঝে-মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া নদীর অপরপাড়ে থাকা কলসপাড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যেতে দুর্ভোগে পড়েন সেবাপ্রার্থীরা। গুরুতর রোগী থাকলে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য ও গবাদিপশু পারাপারেও বিড়ম্বনায় পড়েন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বর্ষাকালে ভোগান্তি যেন নতুন মাত্রা পায়।কলসপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলেয়া খাতুন, বিলকিছ আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এই ভাঙাচোরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাইতে ভয় করে। আমিসহ কয়েকজন পা পিছলে পড়ে গেছিলাম। এখন সাবধানে ভয়ে ভয়ে পার হই। আর কোনো রাস্তা না থাকায় এইদিক দিয়াই যাইতে হয়। পশ্চিম কলসপাড় গ্রামের মো. রহমত আলী বলেন, 'স্বাধীনতার পর থেকেই একটা পাকা সেতুর জন্য অপেক্ষা করতাছি। অন্যান্য জায়গায় অনেক পাকা সেতু হইছে। খালি আমাদেরটাই হইতাছে না। এই সেতুর জন্য কোনো একটা ভালো ব্যবসা-বাণিজ্যও করতে পারি না। স্থানীয় গৃহবধূ আমেনা বেগম বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্ট করে সাঁকো পারাপার হইতে হয়। ছোট ছোট পোলাপানদের স্কুলে যাইতে দিতেও ভয় লাগে। টেনশনে থাকি। এখানে একটা পাকা সেতু খুব দরকার।ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম তোতা বলেন, 'কলস নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সময় উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। তখন আমাদের সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি নির্মাণে খুব দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন কর্তৃপক্ষ।এ ব্যাপারে শেরপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই জায়গায় একটি সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। | 6 |
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তাহমিনা আক্তার পিনু (২৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে গৃহবধূর শ্বশুর পক্ষের লোকজনের দাবি, পিনু আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের মজুমদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ মারা যাওয়া পিনুর স্বামী ইফতেখারুল আলম মজুমদার রাসেলকে (৩৫) আটক করেছে। মারা যাওয়া গৃহবধূর বাবা মেয়েকে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মারা যাওয়া তাহমিনা আক্তার পিনু উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামের মো. ইউনুসের মেয়ে ও একই উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের ওয়ালী উল্লাহর ছেলে ইফতেখারুল মজুমদার রাসেলের (৩৫) স্ত্রী।তাহমিনা আক্তার পিনুর বাবা মো. ইউনুস জানান, তিন বছর আগে তাহমিনা আক্তার পিনুর সঙ্গে অভিযুক্ত রাসেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায় সময় রাসেল যৌতুকের জন্য পিনুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে রাসেলকে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আরও টাকার জন্য রাসেল ও তার পরিবারের লোকজন পিনুকে নির্যাতন করতে থাকে। পিনুর বাবা আরও জানান, শুক্রবার রাতে রাসেল মোবাইলে ফোন করে তার বাড়িতে সমস্যা হয়েছে জানিয়ে তাকে দ্রুত যেতে বলে লাইন কেটে দেয়। পরে তিনি পিনুর শয়নকক্ষে গিয়ে মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে পিনু আত্মহত্যা করেছে বলে রাসেল তাকে জানায়। পিনুর বাবা বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে। পরে আমি পুলিশকে খবর দিলে তারা গিয়ে পিনুর লাশ নিয়ে আসে। আয়ান নামে পিনুর ১০ মাসের একটি ছেলে রয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়রা জানায়, এর আগেও রাসেল বিয়ে করেন। ওই সংসারে তার ছয় বছরের একটি সন্তান রয়েছে। রাসেলের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তান রেখেই প্রথম স্ত্রী রাসেলকে তালাক দিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। সম্প্রতি আগের স্ত্রীর সাথে রাসেল আবারও যোগাযোগ করতে থাকে। এ নিয়ে পিনুর সাথে রাসেলের প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদ হতো।পিনুর ভাই আবু সালমান রাফি জানান, তার বোন পিনুকে রাসেল পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে নাটক সাজিয়েছে। তার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। যৌতুকের জন্য এবং সাবেক স্ত্রীর প্ররোচনায় পিনুকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাসেলের খালা পিংকি বেগম শনিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাসেল দুপুর বেলায় স্ত্রী পিনুর সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সন্ধ্যায় রাসেল বাড়ি ফিরে দেখে তার রুমের দরজা বন্ধ। রুম থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে পিনুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে রাসেল। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, 'সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় পিনু আত্মহত্যা করেছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে'। | 6 |
তালায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।গত বুধবার বিকেলে তালা উপজেলার কানাইয়দিয়া গ্রামের সন্তোষ রায়ের কলেজ পড়ুয়া কন্যা শম্পা রানী রায় (১৮) বিকেলে হঠাৎ অসুস্থবোধ করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই মৃত্যুর হয় তাঁর। সে কপিলমুনি কলেজের ছাত্রী। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় ইউপি সদস্য কালিদাশ অধিকারী জানান, সদা হাসিখুশি থাকা মেয়ের এমন মৃত্যু কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী।অপরদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর তালার উথালী গ্রামের ছেলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ও প্রফেশনাল কলেজের ছাত্র মেহেদি (২২) কে অসুস্থতার কারণে সাতক্ষীরা সিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মেহেদির বাবা জানান, মেহেদী করোনার এক ডোজ টিকা গ্রহণ করেছিল।তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সরদার। জানান, এমন মৃত্যু দুঃখজনক। তবে অকাল মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায় নি এখনো। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন করোনাকালীন মানসিক অবসাদে সকল বয়সের মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে। সে ক্ষেত্রেও এমন মৃত্যু হতে পারে। | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় সর্বমোট ১৯ জনের করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ২জন। আর সুস্থ হয়েছেন একজন। জেলার সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, ১০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৫৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়। এরমধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩'শ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন আখাউড়ায়। এরপরই নাসিরনগরে ৫ জন। এছাড়া বিজয়নগর উপজেলায় ২ জন, নবীনগরে এবং বাঞ্ছারামপুরে ১ জন, সরাইলে ১ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩০ হাজার ৪৬৭ জন। আর হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯৮ জন। এসময়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা ৭৪ জনের মধ্যে ২৮ জন ছাড়া পেয়েছেন। হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা ১৭ জনের মধ্যে ২জন ছাড়া পেয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
দেশে করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২৫৫ জনে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্য়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে, আগের দিন বুধবার ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩৭ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ১৪৯ জন পুরুষ এবং ৮৮ জন নারী। এ ছাড়া নতুন রোগী শনাক্ত হয় আরও ১৬ হাজার ২৩০ জন, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। গত মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দেশে ভেঙেছে সব মৃত্যুর রেকর্ড, মারা গেছে ২৫৮ জন। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয় ১৪ হাজার ৯২৫। | 6 |
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন আব্দুররহমান আলে-সানি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও আল-আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের উসকানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি শুক্রবার দোহায় বলেছেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে চায়- অন্তত এমন কোনো আভাস এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আলে-সানি বলেন, যতদিন সকল ফিলিস্তিনিকে সন্তুষ্ট করে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে তেল আবিব ব্যর্থ হবে ততদিন ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কাতারের নীতিতে পরিবর্তন আসবে না। কাতার কোনোদিন ইসরাইলের সাথে কোনোকরম কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধে অস্ত্রিবিরতি প্রতিষ্ঠার ঘটনায় তার দেশের মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংকট সমাধানেও মধ্যস্থতা করতে রাজি দোহা। তিনি বলেন, কাতার একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ মে থেকে ইসরাইল টানা ১২ দিন ধরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বেসামরিক অবস্থানগুলোতে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ৬৯ শিশুসহ অন্তত ২৬০ ফিলিস্তিনি শাহাদাতবরণ করেন এবং আহত হন আরো প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি। সূত্র : পার্সটুডে | 3 |
রুট পারমিট বাতিল করা সত্ত্বেও পরিবহন চালানোর অভিযোগে জাবালে নূর পরিবহনের ৬ বাস জব্দ করেছে র্যাব। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে র্যাব-১ ও র্যাব-৪ এর সদস্যরা এসব বাস জব্দ করে।র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের জানান, বিআরটিএ কর্তৃক রুট পারমিট বাতিল হওয়া সত্ত্বেও জাবালে নূর পরিবহনের বাসগুলো রাস্তায় বের করা হয়। তাই সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় জাবালে নূর পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষিতে এক বাসের চাপায় মিম ও রাজিব নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরও ১০-১৫ শিক্ষার্থী। ঘটনার দিনই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। | 6 |
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরবের রাজ পরিবারে। রিয়াদের গভর্নরকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ পরিবারের একশ ৫০ জন আক্রান্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজ পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুও হয়েছে বলে মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে। সৌদি আরবের সরকারি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার কভিড -১৯ এর কারণে একজন সৌদি যুবরাজ মারা গেছেন। রয়্যাল কোর্ট প্রিন্স সৌদ বিন আবদুল্লাহ বিন ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের মৃত্যুর ঘোষণা দেয়। কিন্তু কোর্টের পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে বলা হচ্ছে, আবদুল আজিজের মৃত্যুর পর রাজ পরিবারের অনেক সদস্যই হাসপাতাল কিংবা নিজে বাসভবনে করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন। সৌদি লিক জানিয়েছে, দেশটি চিকিৎসক নিজার বাহবরি নিশ্চিত করেছেন যে, এক হাজার দু'শরও বেশি করোনা রোগী আছেন; যাদের অবস্থা গুরুতর। তাদের ভেন্টিলেটর দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেদ্দা ও রিয়াদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। রয়টার্স জানিয়েছে, তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে সাতশরও বেশি মানুষের। | 3 |
তরুস্কের ইস্তাম্বুলে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনাকে 'গঠনমূলক' বলে বর্ণনা করেছেন রাশিয়ার প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেডিসঙ্কি। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেডিসঙ্কি। তিনিআরও বলেন, রাশিয়ান এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে সম্মত হলে পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠকের সম্ভাবনা ছিল। এর আগে ইস্তাম্বুলে মঙ্গলবার শান্তি আলোচনায় বসেন রাশিয়া-ইউক্রেনের সমঝোতাকারীরা। সেই সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আছেন রুশ ধনকুবের ও ইংলিশ ফুটবল ক্লাব চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচ। সূত্র: আল-জাজিরা বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে 'ন্যাট্রিয়াম পারমাণবিক চুল্লি' স্থাপন করবেন দুই শীর্ষ মার্কিন বিলিয়নিয়ার বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট। আকারে ছোট উন্নত প্রযুক্তির এসব পারমাণবিক চুল্লিতে প্রচলিত চুল্লির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।গেটসের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান টেরাপাওয়ার ও বাফেটের প্যাসিফিকরপের যৌথ উদ্যোগ এসব ন্যাট্রিয়াম চুল্লি বসানো হবে। ওয়াইওমিংয়ের কোথায় এ পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করা হবে, তার বিস্তারিত বিবরণ চলতি বছরের শেষের দিকে ঘোষণা করা হবে বলে গত বুধবার এক যৌথ বিবৃতি জানায় কোম্পানি দুটি।এসব ন্যাট্রিয়াম চুল্লিকে কার্বনমুক্ত জটিল প্রযুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। কারণ, এখানে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের সঙ্গে মাঝেমধ্যে সৌর বা বায়ুবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। তাই এটা খানিকটা পরিবেশবান্ধব হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, 'ন্যাট্রিয়াম চুল্লি জ্বালানি শিল্পের চেহারা বদলে দেবে।'ন্যাট্রিয়াম চুল্লির প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য গত বছর মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় টেরাপাওয়ারকে প্রাথমিকভাবে ৮ কোটি ডলার অনুদান দেয়। ভবিষ্যতেও টেরাপাওয়ারকে এমন আরও অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের।ন্যাট্রিয়াম চুল্লি বসাতে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে বলে গত বছর জানিয়েছিল টেরাপাওয়ার। সব ঠিক থাকলে, এই চুল্লি থেকে পাওয়া 'পরিবেশবান্ধব' বিদ্যুৎ ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির পাওয়ার গ্রিডে যুক্ত করা যাবে বলে জানান টেরাপাওয়ারের প্রধান নির্বাহী পরিচালক ক্রিস লেভেস্ক।এদিকে টেরাপাওয়ারের উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব হওয়ার দাবি সত্ত্বেও এসব উন্নত চুল্লির ফলে ইউরেনিয়াম সহজলভ্য হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তা ছাড়া এসব চুল্লিতে যেসব ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হবে, তা প্রচলিত পারমাণবিক চুল্লির চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এ অবস্থায় বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের হাতে ইউরেনিয়াম ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর তা দিয়ে তারা যেনতেনভাবে 'অপরিশোধিত' পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। | 11 |
চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়োগে কোন স্বজনপ্রীতি করেননি দাবি করে যারা লস্কর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।তিনি বলেন, 'অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। এর পেছনে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। গত আট বছরে বন্দরে অসন্তোষ হয়নি। বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা চলছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।'রোববার চট্টগ্রাম বন্দর ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১২ তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।নৌমন্ত্রী বলেন, 'বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি। নিয়োগের ক্ষেত্রে আমি স্বজনপ্রীতি করছি না। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই কাজ করছি। অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। মানুষকে বিভ্রান্ত না করে সত্য প্রকাশ করুন।'তিনি বলেন, 'ইদানিং বলা হচ্ছে আমি নাকি অযাচিত হস্তক্ষেপ করছি। অযাচিত হস্তক্ষেপ কি আমি সেটাই বুঝি না। বরং যারা বন্দর নিয়ে কথা বলছেন তারাই তো অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন। আইন মেনে দায়িত্ব পালন করছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন বলেই চট্টগ্রামে এসে কাজ করছি। কথা বলতে চাইলে এখানে এসে বলতে হবে। কমিটির বাইরে গিয়ে বলবেন না।'জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্য ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছিল উল্লেখ করে নৌ পরিবহনমন্ত্রী বলেন, 'আমি নাকি ৯২ জন লস্কর নিয়োগ দিয়েছি। এরমধ্যে ৯০ জন মাদারিপুরের কেবল ২ জন চট্টগ্রামের। এ ঘোষণায় অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছে। আসিফ নজরুলের মতো মানুষ ফেসবুকে লিখেছে। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।'তিনি বলেন, 'লস্কর পদে ২৬ জেলা থেকে ৮৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ৮ বছরে ১১৫ পদে ১ হাজার ৯৪৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লস্করসহ বন্দরের কোন নিয়োগে স্বজনপ্রীতি করিনি।'সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সামশুল হক চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, বিজিএমইএ এর প্রথম সহ সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম আকতার হোসেন, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ।এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী, সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো.জাফর আলম, কমডোর শাহীন রহমান (হারবার অ্যান্ড মেরিন), প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নজমুল হক, পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সরওয়ার, ও সচিব ওমর ফারুক।
| 6 |
দশমিনা উপজেলায় ক্রীড়ার মানোন্নয়নে যুগোপযোগী মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভেন্যু প্রধানেরা। স্থানীয় সাংসদ এস এম শাহজাদার কাছে এ দাবি জানান তারা।উপজেলায় বর্তমানে ২৫টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। এ ছাড়া রয়েছে ১টি মহিলা কলেজ, ১টি টেকনিক্যাল কলেজ, ১টি সরকারি কলেজ, ১টি ইউনিয়ন পর্যায়ের কলেজ ও ১৯টি ফাজিল, কামিল, দাখিল ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলায় কম-বেশি প্রায় ২০টি খেলার মাঠ রয়েছে। কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে মাঠগুলো গোচারণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।এসব মাঠে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসার খেলাধুলাসহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ উদ্দিন সৈকত বলেন, 'উপজেলায় আমাদের মাঠে জাতীয় সকল প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু মাঠটি ঠিক ২০ বছর আগের মতো আছে। এ মাঠের চারপাশে ড্রেন দরকার, বালু দিয়ে মাঠ ভরাট করতে হয়। যা আমাদের স্কুলের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।'সাবেক ফুটবলার সিকদার মন্টু বলেন, 'দশমিনা উপজেলায় ক্রীড়ার মানোন্নয়নে কোনো কাজ হচ্ছে না। বর্ষায় মাঠে জলাবদ্ধতা, আর শুকনা মৌসুমে উঁচু-নিচু মাঠ, ঘাস। আমাদের ছেলেরা মাঠে যায় না, কারণ মাঠের পরিবেশ তাদের উপযোগী নয়।'এস এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফোরকান সিকদার বলেন, 'বিদ্যালয়ের মাঠ স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সংস্কার করা সম্ভব নয়। একটি মাঠ ভরাট করা, গোলবার, ড্রেন ইত্যাদি তৈরি করা ব্যয়বহুল কাজ। এ কাজ করতে হলে বাজেট লাগবে।'স্থানীয় সাংসদ এস এম শাহজাদা বলেন, 'উপজেলায় ক্রীড়ার মানোন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। ৬টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করার জন্য কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।' | 6 |
এক ক্যাচ মিসে বদলে গেল ম্যাচের গতিপথ। যে পেলেন জীবন। সেই ওয়েড টানা তিন বলে অবিশ্বাস্য তিন ছক্কা হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে তুলে নিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অজিরা। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের আধিপত্য ছিল পুরো ম্যাচেই। আগে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৭৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে পাকিস্তান। জবাবে শুরু থেকে নড়বড়ে অস্ট্রেলিয়াকে শেষ অবধি জয় পাইয়ে দেন স্টয়নিস-ওয়েড জুটি। শাহিন শাহ আফ্রিদির ১৯তম ওভারের শেষ তিন বলে ওয়েড হাঁকান তিন ছক্কা। ম্যাচ শেষ সেখানেই। অথচ ওই ওভারের তৃতীয় বলে ওয়েড দিয়েছিলেন ক্যাচ। যা আয়ত্তের মধ্যে থেকেও লুফে নিতে পারেননি পাক পেসার হাসান আলি। ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম পুরো টিমের প্রশংসা করলেও বললেন সেই ক্যাচের কথা। তার মতে, ক্যাচটি নিতে পারলে ভিন্ন কিছু হতে পারত। বাবর আজম বলেন, 'ব্যাট হাতে আমাদের শুরুটা বেশ ভালো। ভালো টার্গেটও দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু ম্যাচে আমরা তাদের অনেক সুযোগ দিয়েছি। আমরা যদি শেষের দিকের ক্যাচটি নিতে পারতাম, তাহলে চিত্র বদলে যেতে পারত।' তিনি আরো বলেন, 'তবে পুরো টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলেছি। একজন অধিনায়ক হিসেবে আমি সন্তুষ্ট। বোলার, ব্যাটার সবাই ভালো করেছে টুর্নামেন্টে। ভক্তরা পাশে থেকে সাপোর্ট দিয়েছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।' | 12 |
নীলফামারীর ডিমলায় পৃথক ঘটনায় ২ নারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, উপজেলা পূর্বছাতনাই গ্রামের জুল হোসেনের স্ত্রী রাসেদা বেগম(২৮) ও দক্ষিন তিতপাড়া(বড়জুম্মা) গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী লাইলী বেগম(২৭) এবং ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামের ছলিমুদ্দিনের পুত্র কামরুল ইসলাম(৩৫)। এসব ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। জানাগেছে, ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী গ্রামের আজিজুল ইসলামের কন্যা লাইলী বেগম (২৭)এর সাথে একই উপজেলা দক্ষিন তিতপাড়া (বড়জুম্মা) গ্রামের সমসের আলীর পুত্র শফিকুল ইসলামের (৩২) প্রায় ১৩ বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে কারনে-অকারনে স্বামী ও তার বাড়ীর লোকজন লাইলী বেগমকে প্রায়ই মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যতন করতো। মঙ্গলবার ভোরে লাইলী বেগমকে তার স্বামীর বাড়ীতে মৃত্যু অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় লাইলী বেগমের বড়ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের স্বামী শফিকুল ইসলামসহ ৬ জনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ লাইলী বেগমের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও শ্বশুর সমসের আলী(৬৫)কে আটক করেন। অন্যদিকে ডিমলা উপজেলার দক্ষিন সুন্দর খাতা গ্রামের আহেদ আলীর কন্যা রাশেদা বেগম(২৮) এর সাথে প্রায় ১২ বছর আগে একই উপজেলা পূর্বছাতনাই গ্রামের মৃত আব্দুল গণির পুত্র জুল হোসেন (৩৭) এর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার বাড়ীর লোকজন রাশেদা বেগমকে সোমবার শারীরিক ভাবে নির্যতন করেন। নির্যাতনে রাশেদা বেগম মারা গেলে তার মুখে বিষ ঢেলে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ রেখে স্বামী জুল হোসেন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আসাদুল হক বাদী হয়ে জুল হোসেনসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। আটক জুল হোসেনকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে নীলফামারী কারাগারে প্রেরণ করা হয়। অপর দিকে উপজেলার ছানতাই বালাপাড়া গ্রামে শুক্রবার দিন মুজুরীর টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এক সংঘর্ষে কামরুল ইসলাম(৩৫) নামে এক দিনমুজুর গুরুতর আহত হন। আহত দিনমুজুরকে প্রথমে ডিমলা এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় দিন মুজুর কামরুল ইসলাম রোববার রাতে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কুলছুম বেগম সোমবার ৫ জনকে আসামী করে ডিমলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয় নি। ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মফিজ উদ্দিন শেখ ঘটনা ৩ টির সত্যতা স্বীকার করেছেন। | 6 |
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন,নৈতিকতার অভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক সকল খাতেই সংকট তৈরি হচ্ছে। অর্থ সঞ্চালনের প্রধান মাধ্যম ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুঁজিবাজার চলছে ক্যাসিনোর মতো করে। বাজারে কোনো সমতা থাকছে না, যার হাতে অর্থ আছে সেই মুনাফা নিচ্ছে। উৎপাদক ও ভোক্তা সব সময় ঠকছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। নাগরিকদের অধিকার থাকলেও রাষ্ট্রীয় সেবায় কোনো সমতা নেই। অসমতা রয়েছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির তিন দিনব্যাপী ২০তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য 'অর্থশাস্ত্র ও নৈতিকতা'। রাষ্ট্র ও সমাজের এসব সমস্যা সমাধানে গণতন্ত্রায়ন ও সামাজিক গণতান্ত্রিক বিপ্লব দরকার বলে মনে করেন রেহমান সোবহান।রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন।সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল বারকাত স্বাগত বক্তব্য ও সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদ উদ্বোধনী পর্বের সমাপনী বক্তব্য রাখেন।বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অতিথিরা-সমকালরেহমান সোবহান বলেন, 'বর্তমানে অর্থনীতিতে নৈতিকতার প্রকট সংকট রয়েছে। এটি একটি চিহ্নিত সমস্যা। এ সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ব্যাংকিং খাতে। ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সার্বিক অর্থনীতিতে। তাই সুষম উন্নয়ন, রাজনৈতিক সমতা ও গণতন্ত্রের জন্য নৈতিকতা অত্যন্ত জরুরি।'তিনি বলেন, 'শিক্ষার হার বাড়ছে, কিন্তু মানসম্পন্ন শিক্ষা হচ্ছে না। ধনীরা খরচ করে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবায়ও অনেক বৈষম্য। এ খাতের মৌলিক সমস্যাগুলো দূর করতে হবে।'রেহমান সোবহান আরওবলেন, 'আলুর বাম্পার ফলন হচ্ছে। অথচ ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে বেশি দামে, অন্যদিকে কৃষক দামও পাচ্ছেন না। এগুলো নৈতিকতার অভাবে হচ্ছে। পরিবেশেও বিশাল অবিচার হচ্ছে। কৃষিজমি, খাসজমি, জলাশয় দখল হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর মূল্য দিতে হবে। বাড়ছে লিঙ্গবৈষম্যও। নারীরা উন্নয়নে অনেক অবদান রাখলেও তার স্বীকৃতি বিশেষ হচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় সেবা সকলে সমানভাবে পাচ্ছে না। লোক দেখে, সুবিধা নিয়ে সেবা দেওয়া হয়।'রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অসমতা রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, 'রাজনীতিতেও গণতান্ত্রিকতা নেই। সবক্ষেত্রে সকলে সমানভাবে অংশ নেয় না বা নিতে পারে না। যদিও বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক বিভাজন চলছে। বছরের পর বছর ধরে অনিয়ম, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এসব বন্ধ না হলে পুরো সমাজকে ব্যাপক মূল্য দিতে হবে। এ জন্য সামাজিক গণতান্ত্রিক বিপ্লব দরকার।' সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষকদের সুবিধা ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি।সিপিডির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, 'দেশের ব্যাংকগুলো যারা টাকা নিয়ে ফেরত দেয় না তাদেরই টাকা দেয়। যারা ফেরত দেয় তাদের ব্যাংক টাকা দেয় না। পুঁজিবাজার চলছে ক্যাসিনোর মতো করে। যদিও বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজারেরই এ অবস্থা। অর্থ রফতানি হচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। এসবই হচ্ছে নৈতিকতার অভাবে।'স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, 'নৈতিকতার সঙ্গে অর্থনীতি যুক্ত করতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।' তিনি বলেন, 'অর্থনীতিকে শুধু মুনাফাভিত্তিক করা হয় বা মুক্তবাজার অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, সেটা শুধু মুনাফা ও লোকসানের মধ্যেই থেকে যাবে। তবে অর্থনীতি ও নৈতিকতার সংমিশ্রণ ঘটাতে সক্ষম হলে বৈষম্য দূর করা সম্ভব।তাই এ বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা ও নীতি প্রয়োজন।'তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায় উন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট। কিন্তু সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) অর্থনীতির বৈষম্যের বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শোষণমুক্ত সমাজ ও দারিদ্র্য বিমোচন করতে অর্থনীতির সঠিক পথটি নির্ধারণ করতে হবে। ঠিক করতে হবে কী করতে চাই এবং কী করতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে কী ধরনের সংস্কার ও নীতির প্রয়োজন সেটাও ঠিক করতে হবে। এজন্য সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।'অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল বারকাত বলেন, 'প্রচলিত অর্থশাস্ত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে অর্থনীতির পাঠ্যসূচি পরিবর্তন করা যেতে পারে।'তিনি আরও বলেন, 'অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে আবদ্ধ থাকলেই চলবে না, বরং তাদের নীতিদর্শন, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও রাজনীতি সম্পর্কেও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।'বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অতিথিরা-সমকালউদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রথম প্লেনারি অধিবেশনে 'অর্থশাস্ত্র ও নৈতিকতা: জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন' শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল।কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, 'বৈষম্য বিশ্বব্যাপী আছে। বাংলাদেশেও আছে। তবে দেশে বৈষম্য বাড়ছে। আবার নব্য উদারতাবাদ কাজ করছে ভীষণভাবে। ফলে যাদের বেশি আছে তাদের আরও বেশি হচ্ছে, আর যাদের নেই তারা পেছনে পড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে তা বলা যাচ্ছে না।'তিনি বলেন, 'সমাজে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে 'পিছিয়ে থাকা, পিছিয়ে পড়া ও পিছিয়ে রাখা' বিষয়টি বন্ধ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সকলকে সমানভাবে সুবিধা দিতে হবে। এসবই নিশ্চিত হবে নৈতিকতা নিশ্চিত করা গেলে।'কাজী খলীকুজ্জমান আহমদবলেন, 'নীতি আছে কিন্তু যারা বাস্তবায়ন করেন তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি আছে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমিয়ে আনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন করতে হলে সবার জন্য সমান সুযোগ দিতে হবে। মানবাধিকার ও মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ধান্ধাবাজ, চাটুকার ও দুর্নীতিবাজদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।'উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ব্র্যাকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেন (মরণোত্তর) ও সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরীকে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি স্বর্ণপদক সম্মাননা-২০১৭ দেওয়া হয়।
| 0 |
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে...গানটি গাওয়া না হলে ঈদ অসম্পূর্ণ। আজও লিখছি নতুনভাবে। প্রয়োজনীয় বিবরণটি পিতা আব্বাসউদ্দিনের নিজ জবানিতে, ছাপা দিনলিপি ও আমার শিল্পী জীবনের কথার ১৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায়।ইসলামি গান, আমি ও কাজীদাএকদিন কাজীদাকে বললাম, 'কাজীদা, একটা কথা মনে হয়। এই যে পিয়ারু কাওয়াল, কাল্লু কাওয়াল-এরা উর্দু কাওয়ালি গায়, এদের গানও শুনি অসম্ভব বিক্রি হয়, এই ধরনের বাংলায় ইসলামি গান দিলে হয় না? আপনি তো জানেন কীভাবে কাফের-কুফর বলে বাংলার মুসলমান সমাজের কাছে আপনাকে অপাঙেক্তয় করে রাখার জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছে একদল ধর্মান্ধ! যদি ইসলামি গান লেখেন, মুসলমানের ঘরে ঘরে উঠবে আপনার জয়গান।'তিনি বললেন, 'আব্বাস, ভগবতীবাবুকে বলে তার মত নাও, আমি ঠিক বলতে পারব না।' ভগবতী ভট্টাচার্য, অর্থাত্ গ্রামোফোন কোম্পানির রিহার্সাল-ইনচার্জকে বললাম। তিনি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন, 'না না না, ওসব গান চলবে না।ছয় মাস পর। দুপুরে বৃষ্টি, অফিস থেকে গ্রামোফোন কোম্পানির রিহার্সাল ঘরে গিয়েছি। দেখি, বৃদ্ধা আশ্চর্যময়ী ও বৃদ্ধ ভগবতীবাবু রসালো গল্প করছেন। সালাম দিতেই বৃদ্ধ বললেন: 'বসুন, বসুন।' বললাম, 'যদি কিছু মনে না করেন, বলি। সেই যে বলেছিলাম ইসলামি গান দেওয়ার কথা, আচ্ছা, একটা এক্সপেরিমেন্টই করুন না, বিক্রি না হলে আর নেবেন না, ক্ষতি কি?' হেসে বললেন, 'নেহাতই নাছোড়বান্দা আপনি, আচ্ছা আচ্ছা, করা যাবে।'পাশের ঘরে কাজীদা। এক ঠোঙা পান আর চা আনতে বললাম দশরথকে। দরজা বন্ধ করে আধঘণ্টার ভেতরই লিখে ফেললেন: 'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ'। তখনই সুরসংযোগ করে শিখিয়ে দিলেন। পরের দিন: 'ইসলামের ঐ সওদা লয়ে এল নবীন সওদাগর'। গান দুখানা লেখার ঠিক চার দিন পরই রেকর্ড। কাজীদার ধৈর্য মানছিল না, চোখেমুখে কী আনন্দই যে খেলে যাচ্ছিল! তখনকার দিনে যন্ত্র ব্যবহার হতো হারমোনিয়াম আর তবলা। গান দুখানা তখনো মুখস্থ হয়নি। তিনি নিজে যা লিখে দিয়েছিলেন, মাইকের পাশ দিয়ে হারমোনিয়ামের ওপর ঠিক আমার চোখ বরাবর হাত দিয়ে কাজীদা নিজেই সেই কাগজখানা ধরলেন, আমি গেয়ে চললাম। এই আমার প্রথম ইসলামি রেকর্ড। দু'মাস পর ঈদুল ফিতর। শুনলাম, গান দুখানা তখন বাজারে বের হবে।ঈদের বাজার করতে ধর্মতলার দিকে গিয়েছি। বি এন সেন, অর্থাত্ সেনোলা রেকর্ড কোম্পানির বিভূতিদার সঙ্গে দেখা। তিনি বললেন, 'আব্বাস, আমার দোকানে এস।' এক ফটোগ্রাফার ডেকে নিয়ে এসে বসলেন, 'এর ফটোটা নিন।' আমি অবাক! বললাম, 'ব্যাপার কী?' তিনি বললেন, 'তোমার একটা ফটো নিচ্ছি, ব্যস, আবার কী?'ঈদের বন্ধে বাড়ি গেলাম। কলকাতায় ফিরে এসে ট্রামে চড়ে অফিসে যাচ্ছি। ট্রামে একটি যুবক পাশে গুনগুন করে গাইছে, 'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে'। অবাক হলাম। এ গান কী করে শুনল! অফিস ছুটির পর গড়ের মাঠে বেড়াতে গিয়েছি, মাঠে বসে একদল ছেলের মাঝে একটি ছেলে গেয়ে উঠল, 'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে'। বিভূতিদার দোকানে গেলাম। আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরলেন। সন্দেশ, রসগোল্লা, চা এনে বললেন, 'খাও।' গান দুটো এবং আর্ট পেপারে ছাপানো বিরাট ছবির একটা বান্ডিল সামনে রেখে বললেন, 'বন্ধুবান্ধবের কাছে বিলি করে দিও। সত্তর-আশি হাজার ছাপিয়েছি, ঈদের দিন এসব বিতরণ করেছি। আর এই দেখ, দু'হাজার রেকর্ড এনেছি তোমার।'আনন্দে-খুশিতে মন ভরে উঠল। ছুটলাম কাজীদার বাড়ি। তিনি রিহার্সাল রুমে। দাবা খেলায় মত্ত। আমার গলার স্বর শুনে একদম লাফিয়ে উঠে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, 'আব্বাস, তোমার গান কী যে-' আর বলতে দিলাম না, পা ছুঁয়ে তার কদমবুসি করলাম। এবার আমার কথাএ গান নিয়ে আরও লেখা হবে কোনো দিন গল্পে, উপন্যাসে। আজ নয় অন্য কোন দিন, এ কারণে যে এই গানটি মুসলমানদের জাগিয়ে তুলেছিল। ভুলেই ছিলাম আমাদের পরিচয়, যাতে মূর্ত স্বতন্ত্র বীণার তারে গুঞ্জরিত কাব্য সুধা ও সংগীত। নজরুল ও আব্বাসউদ্দিন তা জাগিয়ে তুলেছিলেন।গানের গভীরে কী বলতে চেয়েছেন কবি তাঁর মাত্র দশ লাইনের গানে, সেটাই বিবেচ্য। গান শুনি, ভেতরে ঢুকি না। শোন আসমানি তাগিদঅর্থ: আল্লাহ্তা'য়ালার বয়ান, অর্থাত্ কোরআন শরিফে কী রয়েছে। মানবতার স্বার্থে নিজকে বিলিয়ে দেবার জন্য প্রস্তুত কি না, এটাই আসমানি তাগিদ। পুঞ্জীভূত সম্পদের ভার, দিনে দিনে যা বেড়েই চলছে, তাতে বাঙালির নিদ্রা ভঙ্গ হবে কি? নিদ্রা থেকে জাগরিত হয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লে, কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে কি? জাকাত না দিলে মুসলমানদের এই মুর্দা বেশ ঘুঁচবে না।কবির কথায়, 'দে জাকাত মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ'। জাকাত নিয়েই নজরুলের একাধিক গান। মনে পড়বে কাজী নজরুল ইসলাম ঈদগাহ নিয়ে লিখেছেন অসংখ্য কবিতা ও গান। ঈদগাহ নিয়েই তাঁর স্বপ্নের বিস্তার। এটি শাহাদাতের ঈদগাহ, যেখানে মুসলমান প্রস্তুত শাহাদাতের জন্য। যে ময়দানে সব গাজি মুসলিম হয়েছে শহীদ।শহীদ হতে চাইবে না যারা, ঈদগাহ তাদের জন্য নয়। কারণ এ পৃথিবীর সম্পদ আহরণ ও ভোগ নিয়েই তারা ব্যস্ত। ঈদগাহের মাঠে ঢুকতেই কয়েক হাজার প্রার্থী, বেশির ভাগ অন্ধ, লাচার, তারপরেও হাজার দুখি মানুষের মিছিল। এই কয়েক হাজার মানুষকে সম্পদ বিলানো কোনো ব্যাপারই না। জাকাত দিতে প্রস্তুত সব মুসলমান, এমনকি গরিবেরাও। স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়। কাজটি করতে পারলে এবং আল্লাহ্ সহায় হলে প্রার্থী কমতে থাকবে। এমন দিন নিশ্চয়ই আসবে, যখন জাকাত নেওয়ার কেউ থাকবে না। আজ ভুলে যা তোর দোস্ত দুশমন, হাত মিলাও হাতেশাহী মঞ্জিলে থাকব না। রসুল (সা.) ছিলেন না। দারিদ্র্যই ছিল তাঁর অহংকার। গরিবদের মতো থাকব, সাধারণ পোশাক। জীবন নিয়োজিত হবে গরিবের স্বার্থে। চিন্তা হবে আগামী ঈদ কেমন করে তাদের মুখে হাসি ফোটাবে। বড়মানুষি ও বড়লোকি পরিহার করে চলব। বিলাসিতা থেকে হব মুক্ত। দোস্ত দুশমন ভুলে যাব। আমরা কি আজও ঈদের দিন তা ভুলে যাই? দোস্ত ও দুশমনের ফারাক বেড়েই চলে। তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদঅর্থাত্: চাই ইসলামের মুরিদ হতে। রাজনৈতিক দল বা পীর সাহেবানের মুরিদ নয়। শক্ত করে ধরব আল্লাহ্র রজু। মুর্শিদ ও পীর: হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ঢাল্ হূদয়ের তোর তশ্তরীতে 'শির্ণী তৌহিদে'র'তৌহিদ' আল্লাহ্র একত্ববাদ, তাঁর 'ওয়াহ্দানিয়াত'। আল্লাহর সৃষ্টির সঙ্গে একাত্মবোধ, মমত্ববোধ, প্রগাঢ় ভালোবাসা। কারও প্রতি নয় বিদ্বেষ, এটিই তৌহিদের শির্ণী। ঈদের মাঠে কোলাকুলি করি। নিজকে বিলিয়ে দিই। এর চেয়ে আর কোনো আনন্দ জীবনে খুঁজে পাইনি ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত। তৌহিদের শির্ণীর জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুত। এখনই পাব প্রিয় হজরতের দাওত। শেষ লাইনটি লক্ষ করুন: তোর দাওত্ কবুল করেব হজরত হয় মনে উম্মীদমদিনা শরিফে হজরতের দাওত-এ এই অধম শরিক। কদিন আগে। লিখেছি এ নিয়ে: 'রসুল (সা.)-এর পদপ্রান্তে'। সবুজ গম্বুজের নিচে রওজাপাকের সামনে আসন গেড়ে বসি। কেউ সরায় না। নজরুল, আব্বাসউদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, তিন নায়েবে রসুল ঈপ্সিত দরবারে হাজিরা দিতে পারেননি। তাতে কী? তাঁদের প্রতিনিধি উপস্থিত। এক হাজার বছর পরেও প্রতিনিধিরা থাকবেন চোখের পানির সয়লাবে। কবির মনের এই উম্মীদ নিশ্চয়ই কবুল করেছেন হজরত।মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব। | 10 |
দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং বিকল্পভাবে নিষ্পত্তির বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক দেবনাথ জানান, মাঠ পর্যায়ে কমিটি করে এ বিষয়ে শুনানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) এক আলোচনা বৈঠকে এসব জানান তিনি। অশোক দেবনাথ বলেন, অনেকে না বুঝে সরল বিশ্বাসে দ্বৈত ভোটার হয়েছে। আবার অনেকে অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে দ্বৈত ভোটার হয়েছে। এজন্য মাঠ প্রশাসন থেকে কমিশন বিষয়টি যাচাই বাছাই করবে। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি দ্বৈত ভোটারের বিষয়টি যাচাই বাছাই করবে। সরল বিশ্বাসে কেউ দ্বৈত ভোটার হলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। আর অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ ভোটার হলে ওই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। | 6 |
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে বুনো হাতির দল। দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বম সংলগ্ন লোকালয়ে ঢুকে পড়া হাতির দলটি বনে ফেরাতে গিয়ে বিট কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানিরছড়া বিট কর্মকর্তা সোহেল রানা, বাপ্পি, সাইদুল হোসেন ও আরো দু'জন ইআরটি সদস্য। শনিবার (০৬ নভেম্বর) বেলা ৩টা পর্যন্ত হাতিগুলো দক্ষিণ মিঠাছড়ি সংলগ্ন চেইন্দার লম্বাঘোনায় অবস্থান করছে। বিট কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, শনিবার ভোরে ১৬টি বুনো হাতির একটি দল দক্ষিণ মিঠাছড়ির চেইন্দা এলাকায় ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে হাতিগুলো বনে ফেরানোর চেষ্টা চালায় বনকর্মী ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্যরা। কিন্তু জঙ্গল ঘন হওয়ায় হাতিদের বনে ফেরানোর চেষ্টা বার বার ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে দুপুরে ফাঁকা গুলি করা হলে হাতির দল থেকে তিনটি হাতি বন বিভাগ ও ইআরটি সদস্যদের দিকে তেড়ে আসে। তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে এ সময় পাঁচজন আহত হন। স্থানীয়রা জানান, হাতিগুলোকে বনে ফেরানোর জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কক্সবাজার দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, খাবারের সন্ধানে হাতিগুলো লোকালয়ে এসেছে। তাদের বনে ফেরাতে গিয়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। | 6 |
নড়াইলে জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২১ পালন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিভিল সার্জন অফিসের সভাকক্ষে এ সভা হয়। সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।সভা থেকে জানানো হয়, এ বছর জেলায় ৯৭ হাজার ৫ হাজার ৮৫ শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। | 6 |
ভারতে গ্রেপ্তার পিকে হালদারকে এখনই বাংলাদেশে ফেরত পাওয়ার আশা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সোমবার বিকেলে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভারতে বিচার শেষ হওয়ার পরই কেবল পিকে হালদারকে ফেরত পাওয়া যেতে পারে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদার ভুয়া তথ্যে ভারতে অবস্থান করার কারণে গত শনিবার দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। ভারতের সঙ্গে আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় পি কে হালদারকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা সম্ভব হবে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটা নির্ধারিত প্রক্রিয়া আছে। একটি নীতি আছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভারত সরকার তার গ্রেপ্তারের ব্যাপারে বাংলাদেশকে জানাবে। এরপর ভারতীয় আইনে তার বিচার হবে। বিচারে শাস্তি হলে তার শাস্তির মেয়াদ বাংলাদেশে এসে পূর্ণ করবে। তবে যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সোনালী অধ্যায় চলছে, সে কারণে অবশ্যই আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যা করতে চাই, সে বিষয়ে ভারত আমাদের কথা শুনবে। হয়ত তার কিছু বিচার হবে। এরপরে হয়ত আমাদের দেবে। এ বিষয়ে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়ার বাংলাদেশে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুপ চেটিয়ার প্রথম বিচার বাংলাদেশে হয়েছে। এরপরে তাকে ভারতের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। | 6 |
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা করেছে। সারা দেশে ৬৫ হাজার ১২৭ জন অবৈধ নদী দখলদার রয়েছে। দখলদারদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে সারা দেশে অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৪ জন অবৈধ নদী দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্য বেনজীর আহমদ। লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, দেশের বিভিন্ন নদীর তীরভূমি থেকে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৪৪৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে ৭২৩.৬২ একর তীরভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। দেশের নদীগুলো দখলমুক্ত করতে ২০১০ সাল থেকে অভিযান শুরু করা হয়। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, নদী দখল রোধে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। নদীর তীরভূমি পুনর্দখল রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে নদীর উভয় তীরে ওয়াকওয়ে, আরসিসি স্টেপস, বসার বেঞ্চ, বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ, নদীর পাড় বাঁধাই, গাইড ওয়াল নির্মাণ, বৃক্ষ রোপণ ইত্যাদি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার চারদিকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ১১০ কিলোমিটার বৃত্তাকার নৌপথের দুই তীরে অবস্থিত ২২০ কিলোমিটার তীরভূমিতে প্রথম পর্যায়ে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে এবং দুটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে 'বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে, জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। ওই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী নদীবন্দর এলাকায় চার হাজার সীমানা পিলার নির্মিত হয়েছে এবং দেড় হাজার সীমানা পিলারের নির্মাণকাজ চলমান। তিনি আরো বলেন, এ ছাড়া রামচন্দ্রপুর থেকে বসিলা এবং রায়েরবাজার খাল থেকে কামরাঙ্গীর চর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মিত হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৮ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। ২১ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের দরপত্র ৯ নভেম্বর গ্রহণ করা হয়েছে। টঙ্গী নদীবন্দর এলাকায় একটি ইকোপার্ক নির্মিত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, তৃতীয় পর্যায়ে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃক 'ঢাকা শহরের চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে, জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)' শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। ঢাকা শহরের চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে সীমানা পিলার স্থাপন করায় অবৈধ দখল হ্রাস পেয়েছে। সীমানা পিলার স্থাপনকাজ সম্পন্ন হলে অবৈধ দখল সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। নৌ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের নৌ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের শুকিয়ে যাওয়া এবং মৃতপ্রায় ৪৭টি নদী ড্রেজিং করে তিন হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া মোট ৩৮টি ড্রেজার এবং ১৬৮টি ড্রেজার সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হয়েছে। আরো ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। | 6 |
নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সহকারি পাইলট পৃথুলা রশিদ (২৪) সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের ইলিশপুর গ্রামের মেয়ে। সে উপজেলার ইলিশপুর গ্রামের কাজল হোসেন ও রাফেজা বেগমের একমাত্র মেয়ে। এদিকে, পৃথুলা রশিদরের গ্রামের বাড়ি উপজেলার ৮নং কেরালকাতা ইউনিয়নের ইলিশপুরে চলছে শোকের মাতম। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পিতা-মাতা ও স্বজনেরা। খুব শীঘ্রই ছুটি নিয়ে বাড়ি আসার কথা ছিল তার। কথা ছিল আসছে আমের মৌসুমে বাড়িতে এসে আম খাবে। পৃথুলা রশিদের গ্রামের বাড়ি কলারোয়ার ইলিশপুরে হলেও জন্ম-বেড়ে ওঠা ঢাকা ও দেশের বাইরে। তাই এখানে তার বসবাস ছিল না। উল্লেখ্য, গত সোমবার বিধস্ত হওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের১০ জন নেপালি যাত্রীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেন তিনি। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে করতেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় পৃথুলা রশিদের। বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার | 6 |
১৯২৬ সালের আজকের দিন ১৪ জানুয়ারি বাংলা সাহিত্যের স্তম্ভ খ্যাত মহাশ্বেতা দেবী জন্মেছিলেন আমাদের শহর ঢাকায়। শুভ জন্মদিন, মহাশ্বেতা দেবী! তার বাবা মণীশ ঘটক, মা ধরিত্রী দেবী দু'জনই ছিলেন লেখক ও সমাজকর্মী। বাংলা চলচ্চিত্রে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার নমুনা হয়ে থাকা ঋত্বিক ঘটক ছিলেন পারিবারিক সম্পর্কে মহাশ্বেতা দেবীর কাকা। দেশভাগের বেদনা শিল্পে প্রকাশ করেছেন দু'জনই। যার যার মাধ্যমে। প্রকাশযোগ্য লেখনী অনেকের দ্বারাই সম্ভব। আর বাংলায় কম নেই লেখক, কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। কিন্তু একজন মহাশ্বেতা দেবী অনন্য এ কারণে যে, তিনি কেবল লেখক ছিলেন না। লিখতেন নিম্নবর্গের কথা আর রাস্তায়, মাঠে, গঞ্জে, গাঁওয়ে লড়তেন তাদের হয়ে। বাংলা সাহিত্যে তিনি এককভাবে বিরাজ করেন বিপুল প্রতিরোধের শক্তি হয়ে। মহাশ্বেতা দেবীর অনবদ্যতা এখানেই যে, তার আদিবাসীদের সাথে মিলে মিশে থাকা কুটিরে হাজির হতে হয়েছে প্রত্যেককে। গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক থেকে শুরু করে সাহিত্য অ্যাকাডেমি, জ্ঞানপীঠ, র্যামন ম্যাগসাইসাই, পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ, সার্ক সাহিত্য, বঙ্গবিভূষণ- সব্বাইকে, সব স্বীকৃতিকে। আমৃত্যু তিনি লড়েছেন সর্বত্র সর্বস্ব উজাড় করে। স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছেন শান্তি নিকেতনে, মধ্যপ্রদেশে, ছত্তিসগড়ে, নর্মদায়, বিরসা মুণ্ডার জন্য, শিঙ্গুর, নন্দীগ্রামে। পা ফেলেছেন নিজস্বী ভাবেই ফ্রাঙ্কফুটে। ওদের মতো, ওদের সাজে নয়। মহাশ্বেতা দেবীর গর্ভে জন্ম নেওয়া বাংলা ভাষার বারুদ কবির নাম নবারুণ ভট্টাচার্য। দারিদ্র মহাশ্বেতার ছিল অর্থে। জীবিকা নির্বাহে কাজ করেছেন অনুলিখনকারী হিসেবেও। কিন্তু চিত্তে তার ব্যাপকতা অনন্ত। ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই অদেখা ভুবনে পাড়ি জমালেও মহাশ্বেতা দেবী বিরাজিত এখন ও সামনের বহু প্রহরে। তার কীর্তিময় জীবন পথ দেখাবে। তার সাহিত্যে মানুষ জাগবে। এ থেকে নির্মিত চলচ্চিত্র দিশা ফেরাবে। শিল্পে সত্যের জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের সবটুকু দেয়াই মহাশ্বেতা দেবীর দীর্ঘ জীবন শিক্ষা দেয়। তা না বুঝলে দাসত্ব। আর বুঝলে মুক্তি। ফ্রিল্যান্স লেখক ও সাংবাদিক হাসান শাওনের জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজধানীর মিরপুরে। পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনিস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়। ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই "হুমায়ূনকে নিয়ে" প্রকাশিত হয়। | 6 |
বিমানবন্দরে কাস্টমসের লাইনের কথা অনেকেই জানেন। ভিন দেশ বা রাজ্য থেকে কোনো পণ্য আনলে প্রয়োজন শুল্কদপ্তরের ছাড়পত্র। কিন্তু, সেই দেশ যদি হয় চাঁদের বুড়ির! ধূসর, শব্দহীন, নিকষ অন্ধকারে মোড়া এক অজানা চরাচর। সেখান থেকে ফিরলেও কী লাইন দিতে হবে কাস্টমসে? উদ্ভট মনে হলেও এই প্রশ্নের জবাব, হ্যাঁ। চাঁদের তল্লাটে প্রথম পা রাখা ব্যক্তিদেরও আর পাঁচজন সাধারণ বিমানযাত্রীদের মতো সই করতে হয়েছিল কাস্টমসের ফর্মে। সে আজ থেকে ৫২ বছর আগের কথা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এলো ওই ফর্মের ছবি। সৌজন্যে চন্দ্রপৃষ্ঠে পা রাখা দ্বিতীয় মহাকাশচারী এডউইন 'বাজ' অলড্রিন। তারিখটা কয়েক দিন আগের, ২৪ জুলাই। সাল ১৯৬৯। চন্দ্রবিজয় করে সবে ফিরেছেন 'অ্যাপোলো ১১'-র তিন মহাকাশচারী- নীল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স। ৮ দিনের মহাকাশযাত্রা। মাঝে ২০ জুলাই প্রায় ২২ ঘণ্টা কেটেছে চাঁদে। উত্তেজনা ও ধকলে কাবু তিনজনে। কিন্তু, সরকারি নিয়ম বড় বালাই! পৃথিবীতে নামার পর কোথায় তাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে, তা নয় যেতে হল কাস্টমসের লাইনে। সেখান থেকে ফিরে এসে তারপর ফুল-মালার পালা। এত দিন পর সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই ট্যুইটারে রসিকতা করেছেন 'অ্যাপোলো ১১'-র চালক অলড্রিন। লিখেছেন, 'একবার ভাবুন, আটদিন আমরা মহাকাশে কাটিয়েছি। প্রায় ২২ ঘণ্টা চাঁদে ছিলাম। বাড়ি মানে পৃথিবীতে ফিরেছিলাম কেবল কাস্টমসে যেতে হবে বলে।' সাথে দেয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে 'জেনারেল ডিক্লারেশন' শীর্ষক ফর্মটি। সেখানে জ্বলজ্বল করছে কোথা থেকে তারা আসছেন সেই নাম- চাঁদ। সঙ্গে মালপত্রের বিবরণ, 'মুন রক অ্যান্ড মুন ডাস্ট স্যাম্পলস' (চাঁদের পাথর এবং ধুলোর নমুনা)। আর্মস্ট্রং, অলড্রিন ও কলিন্স তিনজনেরই সই রয়েছে তাতে। উল্লেখ্য, কলিন্স চাঁদে পা রাখেননি। ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন ওয়েবসাইটে এ ফর্মটি প্রকাশ করা হয়েছিল। চেনাজানা ইতিহাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা টুকরা মজার খোরাক চোখ এড়ায়নি নেটিজেনদের। অলড্রিনের এই ট্যুইট এখন ভাইরাল। নানা টিপ্পনিও উড়ে এসেছে। একজন বলেছেন, 'কিছু জিনিস ইতিহাসের থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, পেপারওয়ার্ক। ওঁরা এই ফর্ম পূরণ না করলে কি হতো? মহাকাশে ফেরত পাঠিয়ে দিত?' কারো আবার ঠাট্টা, 'এসব আসলে মহাকাশচারীদের অটোগ্রাফ সংগ্রহের কায়দা।' এমন কাণ্ডকারখানা উস্কে দিয়েছে মহাকাশপ্রেমীদের কৌতূহলও। সূত্র : বর্তমান | 3 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধাপরাধী পরিবারের স্বজন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামিদের স্বজন, দুর্নীতিবাজ ও তাদের স্বজন এবং বাংলা ভাই ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের মনোনয়ন দিয়েছে। এই অপরাধীরা যেন ভোট না পায়। এ বিষয়ে দেশের জনগণকে সচেতন থাকতে বলবো।' গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, 'ড. কামাল, সুলতান মনসুর, কাদের সিদ্দিকী ও মান্নারা এত আবেগ দিয়ে জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা বলেন। এত আবেগ দিয়ে লেখা, এত বিবেক! কোথায় গেল সেই বিবেক? ওই ধানের শীষেই তো তারা নির্বাচন করছেন। কীভাবে তারা অপরাধীদের সঙ্গে হাত মেলান? তবে তাদের লজ্জা একটু কম লাগে বলে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে খামোশ বলতে পারেন। তবে খামোশ বললেই মানুষের মুখ খামোশ হবে না, জনগণ চুপ হবে না।' শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, 'স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, তাদের যুদ্ধাপরাধীদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো অধিকার ছিল না। অথচ যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত, আজ আমরা দেখি তাদের পরিবারের সদস্যদের বিএনপিসহ যে ঐক্য করা হয়েছে, তাতে তাদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।' দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই অপরাধীরা যেন আর কখনো নির্বাচিত হতে না পারেন। যেসব অঞ্চলে এরা দঁড়িয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করুন। সম্পূর্ণভাবে এদের বয়কট করুন। মনে রাখতে হবে, এরা ক্ষমতায় আসলে এদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, এদেশের অগ্রগতি ব্যাহত হবে, এদেশের ভাগ্য গড়ার জন্য আজকে যে অর্থনৈতিক উন্নয়নটা হচ্ছে সেটাও থেমে যাবে।' জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মতিউর রহমান নিজামীসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের স্বজনদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তাদের কাছে আমার প্রশ্ন-যারা এত বড় অপরাধ করলো, আর যে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমরা পরাজিত করলাম, তাদের এই দোসরদের কীভাবে ধানের শীষে মনোনয়ন দেওয়া হলো? আর যারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, এখন বিএনপি জোটের সঙ্গে চলে গেলেন-তারা এই ধানের শীষ নিয়ে একই সঙ্গে কীভাবে নির্বাচন করবেন? এ প্রশ্নের জবাব তারা জাতির কাছে দিতে পারবেন কি-না?' তিনি বলেন, যারা বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, কামাল হোসেনরা...তারা এই লজ্জাটা কোথায় রাখবেন-আমার এটাই প্রশ্ন। ওদের অনেকে আবার পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই'-এর সঙ্গেও না-কি কথা বলছেন? তারা আসলে কী চান? আর এদের সঙ্গে যারা হাত মিলিয়েছেন তারা কি লজ্জা পান? না-কি পান না? তবে তাদের লাজ-লজ্জা কম আছে। একজন (সাংবাদিক) প্রশ্ন করতেই তাকে খামোশ বলে দিলেন... খামোশ (চুপ) বললেই কি মানুষের মুখ খামোশ হয়ে যাবে? খামোশ বললে মানুষের মুখ খামোশ হবে না, মানুষকে খামোশ রাখা যাবে না।' এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এত বড় বড় কথা বললেন সেই কামাল হোসেন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর... কাদের সিদ্দিকী তো তার মেয়েকেও ধানের শীষ দিয়ে ইলেকশনে। আমাদের মান্না এত তাত্ত্বিক লেখা, এত সুন্দর সুন্দর কথা, এত জ্ঞানগর্ভ কথা বলেন, কোথায় গেল সেই বিবেক? তাদের সেই বিবেকটা গেল কোথায়? যারা আজকে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, ওই ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন, তারা রাজনীতিকে কোথায় নামিয়েছেন? মনে হয় রাজনীতিকে অপরাধী জগতের রাজনীতিতে পরিণত করেছেন। রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে, দেশের মঙ্গল ও উন্নয়নের জন্য। আজ সেখানে এই অপরাধীরা যদি ক্ষমতায় এসে যায় তাহলে দেশের ভাগ্যে কী ঘটবে?' বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, 'পাকিস্তানি সেনা ও তার দোসরদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে কোন বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানী-গুনী মানুষ থাকবেন না, যারা দেশটাকে পরবর্তী সময়ে চালাতে সাহায্য করতে পারেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা শুরু করেছিল তারা। আর ঠিক যেই মুহূর্তে তারা মনে করলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পতনটা অবশ্যম্ভাবী, আর তাদের সময় নেই, সেই সময় তারা বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরু করে দেয়। আমরা তাদের সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।' তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়ে তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন। আইয়ুব খান আমল থেকেই দেখা, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরাচাররা ক্ষমতা দখলে রাখার জন্য একটি দল গঠন করে। ক্ষমতা টিকে থাকতে প্রহসনের নির্বাচনও করে। বাংলাদেশেও জেনারেল জিয়াউর রহমানও ঠিক এই কাজই করেছিলেন। তিনি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।' শেখ হাসিনা বলেন, 'খুনি মোশতাকই জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এরপর জিয়া ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দেন। পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে সব সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের ছেড়ে দেন। বিভিন্ন অঞ্চলে অঞ্চলে যারা খুনের আসামি-জিয়াউর রহমান তাদের ছেড়ে দিয়ে নিজের দলে নিয়ে আসেন। তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার এলাকায় একদিনে প্রায় দেড়শ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধীরাই ছিল তার আপনজন। তাদেরকেই তিনি ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। তাদের মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।' টানা দুই মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভোটারদের সামনে তুলে ধরার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সারাবিশ্বে এখন বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। সরকারের এসব উন্নয়নের কথা ভোটারদের সামনে তুলে ধরে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে হবে। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবী শহিদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন দলের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। | 6 |
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দিয়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার এক চিকিৎসকের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আ জ ম সামসুদ্দিন মাসুদ অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হকের পরিচয় দিয়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. সুজন কুমার সরকারের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছিলেন। পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজ শফী সমকালকে জানান, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার কাকিলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রোববার রাতে খুলনায় নিয়ে আসা হয়েছে।সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আ জ ম সামসুদ্দিন মাসুদ রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জীবননগর গ্রামের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ওসি এজাজ শফী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী কনসালটেন্ট ডা. সুজন কুমার সরকারের কাছে ফোন দিয়ে নিজেকে অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক পরিচয় দেন। চাকরির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং এটা থেকে রক্ষা পেতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে চাকরিতে সমস্যা হবে বলেও হুমকি দেন। ডা. সুজন বিকাশে দুই ধাপে ৩৩ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পেয়ে প্রতারক চক্র ফোন নম্বর বন্ধ করে দেয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ১৭ জুন ডা. সুজন পাইকগাছা থানায় জিডি এবং গত ৩ আগস্ট মামলা দায়ের করেন। ওসি জানান, প্রযুক্তির সহায়তা ও সোর্স নিয়োগ করে লালমনিহাট জেলায় তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। গত ৬ আগস্ট লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার কাকিলা গ্রাম থেকে সামসুদ্দিন মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে ৮ আগস্ট রাতে তাকে খুলনায় আনা হয়েছে। এজাজ শফী বলেন, 'সরকারি কর্মকর্তাদের নামে এ ধরণের প্রতারক চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় রয়েছে। ইতোপূর্বে লালমনিরহাট জেলা থেকে ৩ প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে বিকাশে টাকা আদায় করত।' | 6 |
রূপালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিএমডি) পদে সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়েছেন খান ইকবাল হোসেন ও মো. শওকত আলী খান। এর পর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও মোনাজাত করেছেন এই দুই ডিএমডি।গত শনিবার দুপুরে তাঁরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তাঁরা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে জাতির পিতার সমাধিসৌধে সংরক্ষিত পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন তাঁরা। | 6 |
সাফে শুরুটা দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তপু বর্মণের পেনাল্টি গোলে আসে স্বস্তির জয়। আর ভারতের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। ১০ জনের দল নিয়েও জয়ের সমান এক ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়েন ইয়াসিন আরাফাতরা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পরের ম্যাচগুলো নিয়েও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টিকিট নিয়েও চলছে হাহাকার।ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে জামালদের প্রাণপণ লড়াইয়ের প্রশংসা মিলছে চারদিক থেকে। এই ম্যাচের পর জামাল-ইয়াসিনদের নিয়ে মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগ্রহের পারদও চূড়ায় উঠেছে। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে। এই ম্যাচে মাঠে বসে জামালদের খেলা দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।আগামী বুধবার মালেতে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগেই টিকিট নিয়ে শুরু হয়েছে হাহাকার। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফে জানিয়েছে, মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বাগতিকদের বিপক্ষে পরের ম্যাচের টিকিটের জন্য হাহাকার চলছে। আজ মালেতে অবস্থিত মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে ভোররাত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিড় লেগে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে।তবে প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিট পাচ্ছেন না প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ নিয়ে আয়োজকদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন তারা। টিকিট নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক প্রবাসী জানান, আয়োজকেরা বাংলাদেশিদের কাছে যথেষ্ট টিকিট বিক্রি না করায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সাড়ে ৭ হাজার টিকিট এর মধ্যে বাংলাদেশিদের কাছে মাত্র ২০০-৩০০ টিকিট বিক্রি করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। | 12 |
নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় ট্রাক্টর উল্টে চাপা পড়ে হারেজ আলী মন্ডল (৭০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় তোরাব আলী নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার বান্দায়খাড়া-নওগাঁ সড়কের দুই নম্বর স্লুইসগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হারেজ আলী মন্ডল রানীনগর উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের মৃত তুমিজ মন্ডলের ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক্টরটির হেলপার ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বালু বহনের জন্য ট্রাক্টর নিয়ে রানীনগর থেকে বান্দায়খাড়া যাওয়ার সময় বান্দায়খাড়া-নওগাঁ সড়কের দুই নম্বর স্লুইসগেট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা এক মোটরসাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে উল্টে যায় ট্রাক্টরটি। চালক ট্রাক্টর থেকে লাফ দিয়ে বাঁচলেও ট্রাক্টরে থাকা হেলপার ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সেই সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহী তোরাব আলীকে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রানীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। | 6 |
আহত ব্যক্তিরাই বোমা তৈরি করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সেটাও খুঁজে বের করা হবে। আপাতত আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরা সুস্থ হলেই গ্রেপ্তার করা হবে। আজ বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল।মাদারীপুর জেলা পুলিশের তথ্য মতে, গত সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ইউপি সদস্য মান্নান মোল্লার বাড়ির একটি অব্যবহৃত ঘরে বসে হাতবোমা তৈরি করছিলেন কয়েকজন যুবক। রাত ১টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ওই ঘরটির চাল ও বেড়া বিধ্বস্ত হয়। এ সময়ে বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন ওই ইউনিয়নের মাথাভাঙা গ্রামের নুরাই বেপারীর ছেলে ইয়ামিন বেপারী ও দক্ষিণকান্দি গ্রামের মৌজালী শিকদারের ছেলে সুমন শিকদার। আহতরা উভয়েই ইউপি সদস্য মান্নান মোল্লার নির্বাচনী কর্মী। আর মান্নান মোল্লা বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান চাঁন মিয়া শিকদারের অনুসারী। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। তবে তারা ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান। মূলত নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত করতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসে।মাদারীপুরে হাতবোমা বিস্ফোরণে ইউপি সদস্যের বাড়ি বিধ্বস্ত, আহত ৬এ ঘটনায় সোমবার রাতে কালকিনি থানার এসআই আবু সাঈদ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আহত সিডিখান ইউনিয়নের মাথাভাঙা ইয়ামিন বেপারী ও দক্ষিণকান্দি গ্রামের সুমন শিকদারসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয়রা বলছেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হাতবোমা তৈরি করছিলেন তারা। আগামী ১১ অক্টোবর ওই ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হবে।এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইশতিয়াক আসফাক রাসেল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আহত দুই ব্যক্তি বোমা তৈরি করছিলেন। বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে তাঁরা আহত হন। আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। | 6 |
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে প্রাসঙ্গিকভাবে ইসলাম ধর্ম বিষয়েও কথা বলেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার বক্তব্য রেকর্ড করে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে অসন্তোষের জেরে স্কুল ছুটির পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন দেয় শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের অসন্তোষের জেরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিষয়টি সমঝোতার সমাধান না মেনে ২২ মার্চ ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থানা ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপর হৃদয় চন্দ্রকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। ওইদিন রাতেই বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের ঘটনা জানাজানির পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ছড়িয়ে দেওয়া অডিও রেকর্ডে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। তাই তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি ওঠে শিক্ষক, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহল থেকে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হৃদয় মণ্ডলকে "ফাঁসানোর জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে" একটি মহল। তবে সেই মামলা প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। অবশ্য হৃদয় মণ্ডল বলেছেন, "আমি খুবই আশাবাদী যে মামলাটি প্রত্যাহার করা হবে। কারণ, আমাকে যেদিন গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়, সেদিন এসপি এবং প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন, স্যার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মামলাটি করতে হচ্ছে, পরে আমরা মামলা প্রত্যাহার করে নেবো। আবার মামলার বাদী আসাদ মিয়াঁও আমাকে বলেছেন, তিনি মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না। প্রধান শিক্ষক তাকে স্বাক্ষর করতে বলেছেন, তিনি তাই করেছেন। ফলে আসাদও কোনো আপত্তি করবে বলে মনে হয় না।" মুন্সীগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমর কুমার ঘোষ মনে করেন, "পরিস্থিতি এখন এতটাই ঘোলাটে যে, মামলা প্রত্যাহার না করলে উল্টে প্রধান শিক্ষক ফেঁসে যেতে পারেন। এই পরিস্থিতির জন্য এখন তো তাকেই অনেকে অভিযুক্ত করছেন।" তাই তার আশা- দ্রুতই হয়ত মামলাটি প্রত্যাহার হবে। তবে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক মনে করেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল এখন এলাকায় ফিরলেও কোনো ধরনের ঝামেলা হবে না। তিনি বলেন, "তার পরিবারের সদস্যরা তো এখনও এলাকাতেই আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনিও এলাকায় এলে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তবে তিনি স্কুলে কবে যোগ দেবেন সে ব্যাপারে তো আমরা কিছু বলতে পারি না।" এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহম্মদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন। এর আগে তিনি দাবি করেছেন, আসাদকে মামলার বাদী হতে কে বলেছে তা তিনি জানেন না। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিনিধি ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই সব করা হয়েছে বলে দাবি তার। তবে আসাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধান শিক্ষক তাকে মামলার এজাহারে স্বাক্ষর করতে বলেছেন। | 6 |
লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের "মাসুদ রানা" সিরিজের প্রথম বই "ধ্বংস পাহাড়" থেকে সিনেমা তৈরির খবর বেশ পুরোনো। এমনকি সিনেমার নামও ঘোষণা করা হয়ে গেছে। সেই "এম আর নাইন" সিনেমায় মাসুদ রানার চরিত্রে দেখা যাবে এ বি এম সুমনকে। চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে হলিউডের অ্যাভেইল এন্টারটেইনমেন্ট ও বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া। জানা গেছে, এবার "এম আর নাইন" সিনেমায় যুক্ত হচ্ছেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। সিনেমাটিতে তাকে ভারতীয় গুপ্তচর সুলতা রাও এর ভূমিকায় দেখা যাবে। এ বিষয়ে মিম জানান, গত সপ্তাহে তিনি ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। অনেকদিন ধরেই তার সঙ্গে সিনেমাটিতে অভিনয়ের বিষয়ে কথাবার্তা হয়ে আসছিল, কিন্তু তিনি চুক্তিবদ্ধ না হয়ে তা প্রকাশ করতে চায়নি। টালিউড ও হলিউডের যৌথ প্রযোজনার এ ছবিটি বাংলা ও ইংরেজি দুইটি ভাষায়ই আলাদা আলাদা করে শুটিং করা হবে। তাই বেশ বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানালেন মিম। আগামী বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের লোকেশনগুলোতে সিনেমাটির শুটিং শুরু করা হবে বলে জানান বাংলাদেশি প্রযোজক। বাংলাদেশে টানা ২৫ দিন শুটিং করা হবে। এরপর, শুটিং হবে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে। "এম আর নাইন" চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন মার্কিন বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি প্রযোজক ও পরিচালক আসিফ আকবর। "এম আর নাইন" চলচ্চিত্রটিতে এ বি এম সুমন, বিদ্যা সিনহা মিম ছাড়াও অভিনয় করবেন বাংলাদেশের তারিক আনাম খান, সানজু জন, সাজ্জাদ, জেসিয়া, আলিসা এবং হলিউডের মাইকেল জে হোয়াইট, লুইস ট্যান্ট, ফ্রেঙ্গগ্রেলোসহ অনেকেই। | 2 |
চাটমোহর (পাবনা) : পাবনার চাটমোহর উপজেলায় চাটমোহর-পাবনা সড়কের তেনাচিরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মজিবর রহমান (৬৫)। তিনি উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের মোস্তালীপুর গ্রামের মৃত আনছার আলীর ছেলে এবং মোস্তালীপুর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।ইউপি সদস্য রোকনুজ্জামান রোকন মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানান, বাড়ি থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে রেলবাজারের অমৃতকুণ্ডা হাটে যাচ্ছিলেন মজিবর। তেনাচিরা নামক এলাকায় পৌঁছালে চাটমোহর-পাবনা সড়কে ওঠার সময় পাবনা থেকে চাটমোহরগামী একটি সিএনজি অটোরিকশা তাঁকে ধাক্কা দেয়। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ওসি (তদন্ত) হাসান বাশির জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মজিবুর রহমানের লাশ তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য সংলাপের ফলাফল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কি আমাদের সঙ্গে সংলাপের জন্যে ডেকেছেন? নাকি আমাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে ধাপ্পা দিবেন, আলোচনার নামে তিনি লোক দেখানো সংলাপের আয়োজন করেছেন কি না সেটাও ভাবার বিষয়।' জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুধবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করেন। মান্না বলেন, 'ঐক্যফ্রন্ট চায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন যেন এদেশে না হয়।' তিনি বলেন, 'সংবিধান সংশোধন করে হলেও আমরা গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চাই।' জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, 'জনগণের সরকার ৪৬ বছর পরেও সৃষ্টি হয়নি। দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হয় না।' '৪৬ বছরেও সংবিধানের চার মূলনীতি সবাই ভুলে গিয়েছে। ক্ষমতায় এলে আর কারও হুঁশ থাকে না। যারা সংবিধান মানে না, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এমনকি আজকাল যোগ্যতার মূল্যায়ন হয় না। সুপ্রিম কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগ হয় না। অতীতে কে কোন দল করত তা দেখে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আমি আপনাকে অনুরোধ করি ইভিএম ব্যবহার করে, ডাবল ব্যালট ছাপিয়ে, কারচুপি আর জালিয়াতি করে নির্বাচন করবেন না।' 'জনগণের জন্যে সংবিধান, সংবিধানের জন্যে জনগণ নয়; উল্লেখ করে রব বলেন, 'একটি দেশের সরকার প্রধান চাইলে পারে না এমন কিছুই নেই।' বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া সকল মামলা তুলে নিতে শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান আ স ম রব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. কামাল হোসেন বলেন, 'বঙ্গবন্ধু লিখিত তৈরি করে দিয়ে গেছেন, এদেশের জনগণই এদেশের মালিক। জনগণ যেন পূর্ণ স্বাধীনতা পায় ও দেশের সকল সম্পদ ভোগ করতে পারে সেটা সংবিধানেই লেখা আছে।' জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু শুধু আমার নেতা নন, তিনি আন্তর্জাতিক নেতা। তার নেতৃত্বের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা ছিল না। তিনি ছিলেন বিশাল হৃদয়ের।' কামাল হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, 'কিন্তু আজকাল শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নোংরা রাজনীতির চর্চা চলছে। বঙ্গবন্ধুর সময় ছাত্র রাজনীতি ছিল, আমি ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে গিয়ে দেখেছিলাম রাজনীতি নোংরা ছিল না।' সংলাপ প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, 'সংলাপে আমি বিশ্বাস করি। আশা করি সংলাপ ভালো কিছু বয়ে আনবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ সংলাপের মধ্যে দিয়ে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। ঐক্যমতে জনতার জয় হবেই।' বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, 'স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছি।' 'সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে আমরা এ ঐক্য গঠন করেছি' বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ। অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বক্তব্র রাখেন। | 9 |
রাজবাড়ীর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাংশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাক ও ত্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ইসহাক শেখ (৩৫), তার কন্যা শিখা (১০) ও পুত্র আব্দুল মালেক (৫)। এ ঘটনায় তার স্ত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। নিহতরা কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার বাসিন্দা। নিহত ইসহাক শেখ সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
পাবনার চাটমোহরে বিয়ের বাস উল্টে শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামের মাদারী মন্ডলের ছেলে কালাম মন্ডলের বিয়ে উপলক্ষ্যে যাত্রীবাহী একটি বাস একই উপজেলার ফৈলজানা থেকে কনেসহ ফিরছিল। পথিমধ্যে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাহাদুরপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের বাড়ির পাশের পুকুরে উল্টে যায়। এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে বাসের ভেতরে থাকা বর-কনেসহ অন্যান্য যাত্রীদের উদ্ধার করে। এ সময় বাসে থাকা প্রায় ৩০ জন যাত্রীর মধ্যে শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। তাদের হাসপাতাল, স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। কেউ মারা যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে। তবে বাস উল্টে থাকায় নিচে কেউ চাপা পড়ে আছে কি না তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। খবর পেয়ে চাটমোহর ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের ভেতরে বিভিন্নভাবে তল্লাশি চালান। তবে কারো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম ও চাটমোহর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বাসটির নিচে কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাসটি তুলতে হবে। আর বাসটি তোলার জন্য পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা লোকবল পাঠিয়ে বাসটি তোলার ব্যবস্থা নিচ্ছে। | 6 |
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় সমালোচনার মুখে বিদায় নেওয়া কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার স্থলে নতুন কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন নিশারুল আরিফ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেটে পৌঁছেই তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রায়হানদের আখালিয়া নেহারিপাড়ার বাড়িতে যান। ওই সময় তিনি পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে বলেন, 'আমরা লজ্জিত, দুঃখিত।' নিশারুল আরিফ রায়হানের মা সালমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রায়হানের ছোট মেয়েকে আদর করেন। এ সময় নতুন কমিশনার রায়হান হত্যায় মূল অভিযুক্ত এসআই আকবরকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আকবরকে গ্রেপ্তার করা হবে। গত ১১ অক্টোবর পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনার চার দিন পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সমালোচনার মুখে পড়েন গোলাম কিবরিয়া। প্রায় চার বছর এসএমপিতে দায়িত্ব পালন করলেও তার বিদায়টা সুখকর হয়নি। নতুন পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ মঙ্গলবার রাতে রায়হানের বাড়িতে যাওয়ার আগে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।এসএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের সমকালকে জানান, নতুন কমিশনার বুধবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন। | 6 |
রাজধানীর হাতিরপুলে স্যানিটাইজার ঢালতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়েছেন চিকিৎসক দম্পতি রাজীব ভট্টাচার্য ও অনুসূয়া ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাতিরপুলের বাসায় স্যানিটাইজারের একটি বোতল থেকে অন্য বোতলে কিছুটা ঢেলে নিচ্ছিলেন ডা. রাজীব। তখন হঠাৎ বোতল থেকে পড়ে যাওয়া স্যানিটাইজার আগুনের সংস্পর্শে আসে। মুহূর্তে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এতে মারাত্মক দগ্ধ হন রাজীব। তাকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী অনুসূয়াও দগ্ধ হন। দুজনকেই উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। সঙ্কটাপন্ন রাজীবকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ডা. রাজীব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক। আর ডা. অনূসূয়া কাজ করেন শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তারা হাতিরপুল এলাকার ইস্টার্ন প্লাজার পেছনের একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকেন। সেখানেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তাদের স্বজনরা। এদিকে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয় তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র সমকালকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় আলামত। প্রাথমিকভাবে সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার তথ্য মিলেছে। তবে তদন্তের আগে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হবে। ঘটনার সময় চিকিৎসক দম্পতি ছাড়াও ডা. অনুসূয়ার বাবা ওই বাসায় উপস্থিত ছিলেন। তার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। শরীরের ৮৭ ভাগই পুড়ে যাওয়ায় রাজীবের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তার স্ত্রী অনুসূয়ার শরীরের ২০ ভাগ পুড়েছে। তার অবস্থাও গুরুতর। কেউ বিপদমুক্ত নয়। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রাজীবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুদীপ দে জানান, বাসায় ব্যবহারের জন্য একটি বড় বোতলে স্যানিটাইজার রাখা ছিল। সেটি থেকে ছোট বোতলে খানিকটা জীবাণুনাশক ঢালছিলেন রাজীব। ওই সময় বোতল থেকে স্যানিটাইজার পড়ে যায়। তখন রাজীব ধূমপান করছিলেন। তার সিগারেট থেকে স্যানিটাইজারে আগুন ধরে যায়। এই দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে রাজশ্রী ঘটনার সময় বাসায় ছিল না। করোনা পরিস্থিতির কারণে তিন সপ্তাহ আগে তাকে কুমিল্লার দেবীদ্বারে দাদার বাড়িতে পাঠানো হয়। | 6 |
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হওয়ার পরেও বাঙালি জাতি এখনো বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। আজ মঙ্গলবার সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। জিএম কাদের বলেন, 'আমরা এখনো শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে পারিনি। এ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে। সরকারি দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য হচ্ছে। অথচ বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্যই আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম হয়েছিল, স্বাধিকারের আন্দোলন হয়েছিল।' জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'বাঙালি জাতির ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্য থেকে মুক্তি, শোষণ থেকে মুক্তি। কারণ, আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম যে পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে আমাদের বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। চাকরি-বাকরি যেকোনো বিষয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের সেকেন্ড ক্লাস হিসেবে এবং যারা সংখ্যালঘু, তাদের থার্ড ক্লাস সিটিজেন হিসেবে ট্রিট করা হতো। এটা বাঙালি জাতি মেনে নিতে পারিনি।' জি এম কাদের মনে করেন, শোষণমুক্ত দেশ গড়ার আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, 'এখনো দেখি দেশ থেকে মিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। এগুলো নিয়ে নথিপত্রসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। কাজেই আমরা মনে করি, আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি।' শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'স্বাধীনতার প্রাক্কালে দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের হত্যা করে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। আজকের দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাই।' শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি চালিয়ে যাবেন বলেও অঙ্গীকার করেন জি এম কাদের। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য সব অ্যাথলেটদেরই একটি স্বপ্ন থাকে। দেশের হয়ে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে অংশগ্রহণ করাই অনেক গর্বের কথা। কিন্তু এমন গর্বকে পায়ে ঠেলে দিলেন আলজেরিয়ার এক অ্যাথলেট। অলিম্পিক জুডোর ৭৩ কেজি ওজনশ্রেণিতে আলজেরিয়ান জুডোকা ফেথি নুরিনের প্রতিপক্ষ ছিলেন সুদানের মোহামেদ আবদালরাসুল। সে ম্যাচে জিতলে পরের রাউন্ডে নুরিনের প্রতিপক্ষ হতেন ইসরায়েলের তোহার বাটবাল। কিন্তু এর আগেই তিনি টোকিও অলিম্পিক থেকে সরে দাঁড়ালেন। এই কারণে শাস্তি পেলেন নুরিন এবং তার কোচ আমের বেন ইয়াকলিফ। তাদের অলিম্পিক থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এমনটাই নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশনের (আইজেএফ) নির্বাহী কমিটি। নিজের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলজেরিয়ান এক টিভিকে নুরিন বলেন, 'অলিম্পিকে আসতে অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু ফিলিস্তিনের পাশে থাকাটা সবার আগে। তাদের বিষয়টি সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটাই চূড়ান্ত।' নুরিনের সিদ্ধান্তে মনক্ষুণ্ন না হয়ে উল্টো বাহবা দিয়েছেন তার কোচ আমের বেন ইয়াকলিফ। তিনি বলেছেন, 'আমাদের ভাগ্যটা ভালো হয়নি এবার। ড্রয়ের কারণে একজন ইসরায়েলি প্রতিপক্ষ পেয়েছি। এ কারণে আমাদের সরে যেতে হচ্ছে। নুরিন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।' আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশন (আইজেএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, 'আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশনের দর্শনের পুরো বিপরীত সিদ্ধান্ত। আইজেএফ সব সময় কড়া বৈষম্যহীন নীতি মেনে চলে। জুডোর মূল্যবোধের মাধ্যমে সংহতি বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। এই খেলার অন্যতম মূল ভিত্তি হলো সম্মানবোধ ও বন্ধুত্ব। সিদ্ধান্তটি আমাদের খেলার মূলনীতির পরিপন্থী।' | 12 |
প্রার্থীদের অভিযোগ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জায়েদ খানের বিরুদ্ধে 'ভোটারদের টাকা দেয়ার অভিযোগ' তোলেন আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ। অভিযোগ অস্বীকার করে জায়েদ খান বলেন, 'মিথ্যা অভিযোগ এনে নির্বাচনের ইমেজ নষ্ট করা হচ্ছে। ভোটারদের টাকা নয়, নির্বাচনের ব্যাজ পরিয়ে দিচ্ছিলাম।'অন্যদিকে টেলিভিশন অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচনে এ ধরনের কোনো অভিযোগের কথা শোনা যায়নি। সভাপতিদের সৌহার্দ্যচলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দুই প্যানেলের দুই সভাপতি প্রার্থী ইলিয়াস কাঞ্চন ও মিশা সওদাগরকে দেখা গেল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। একসঙ্গে খোশগল্পের ফাঁকে ভোট প্রার্থনাও করছিলেন দুজন। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, 'প্রার্থীদের আচরণ কেমন হবে, তা আমাদের দুই প্রার্থীর আচরণই বলে দিচ্ছে। এটাই শিল্পীদের পরিচয়।' মামলা নয়শতাধিক শিল্পীর ভোটাধিকার বাতিল করার বিষয়ে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছিলেন আলমগীর। তবে ভোট দিতে এসে বলেন, 'মামলা তো সত্যি সত্যি করব না। নির্বাচনের পূর্বে বিপরীতমুখী অনেক কথা হয়, কিন্তু নির্বাচনের পরে আমরা সবাই এক।'পরিচালক সমিতির ক্ষোভশুক্রবার সকাল থেকেই পরিচালক, প্রযোজক সমিতিসহ চলচ্চিত্রের মোট ১৭টি সংগঠনের সদস্যদের এফডিসিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান। এ সময় তিনি এফডিসির এমডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি ৪৪ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে। এমন জঘন্য অবস্থা আমি কখনো দেখিনি, জঘন্য এমডি কখনো দেখিনি।' পরিচালক সমিতির ক্ষোভশুক্রবার সকাল থেকেই পরিচালক, প্রযোজক সমিতিসহ চলচ্চিত্রের মোট ১৭টি সংগঠনের সদস্যদের এফডিসিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান। এ সময় তিনি এফডিসির এমডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি ৪৪ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে। এমন জঘন্য অবস্থা আমি কখনো দেখিনি, জঘন্য এমডি কখনো দেখিনি।' দুই সংগঠনের সদস্যঅনেক শিল্পীই দুই সংগঠনের সদস্য হওয়ায় দুই জায়গায় ছুটতে হয়েছে তাঁদের। এ তালিকায় আছেন আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, জাহিদ হাসান, শাহরিয়ার নাজিম জয়, মাহফুজ আহমেদসহ অনেকেই। এর মধ্যে প্রথমবার শিল্পী সমিতির ভোট দেন আসাদুজ্জামান নূর। বিদায়ী সভাপতি হলেও শিল্পী সংঘের নির্বাচনে ভোট দেননি শহীদুজ্জামান সেলিম। সময় বাড়ানো হয়সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫ পর্যন্ত সময় বেধে দিলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি ভোটদান প্রক্রিয়া। তাই দু-ঘণ্টা বাড়ানো হয় অভিনয়শিল্পী সংঘের সময়সীমা। আর চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির ভোটদান চলে ৬টা ১০মিনিট পর্যন্ত।ভোটারের অনুভূতিযাঁরা জয়ী হবেন, তাঁরা শিল্পীদের স্বার্থে কাজ করবেন। শিল্পীরা যাতে অভিনয়টা পেশা হিসেবে নিতে পারেন, সে বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেবেন, সুখে-দুঃখে শিল্পীদের পাশে থাকবেন-এটাই আমার চাওয়া।-আসাদুজ্জামান নূর।আমাদের নির্বাচন সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে হয়। এবারও তা-ই হচ্ছে। কোভিড সিচুয়েশনে অনেকের সঙ্গে দেখা হয় না। নির্বাচন ঘিরে সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।-জাহিদ হাসানআমি পরিবর্তনে বিশ্বাসী। শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা উচিত। যাঁরা জয়ী হবেন, তাঁরা যেন ফিল্মের উন্নতির জন্য কাজ করেন। -বিদ্যা সিনহা সাহা মিমবলতে গেলে এফডিসিতেই আমার জন্ম। প্রথমবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। এটা অন্য রকম অনুভূতি। উৎসব দেখে খুব ভালো লাগছে। এই উৎসব চলতে থাকুক। শিল্পীদের আনাগোনায় মুখর থাকুক এফডিসি।-প্রার্থনা ফারদিন দীঘি | 6 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'কোভিড-১৯ কালীন পরিস্থিতিতে রুগ্ন দেশের সংবাদপত্র শিল্প আরও ভয়াবহভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সংবাদপত্র শিল্প এখন মুমূর্ষু অবস্থায়। এই শিল্প এখন খাদের কিনারে। সংবাদপত্র শিল্পের কর্মীরা এখন এক ঘোর দুর্দিন অতিক্রম করছে। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।' রোববার এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে করোনা মহামারি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সংবাদপত্রের বিক্রির সংখ্যা, বিজ্ঞাপন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। রাজধানীসহ সারাদেশে অনেক সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পত্রিকা তাদের কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না এবং প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংবাদকর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। পত্রিকাগুলো নিজেদের টিকিয়ে রাখতে অত্যন্ত জোরেসোরে ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংবাদ কর্মীরা চাকরি হারিয়ে কিংবা ক্রমাগত আয় কমে যাওয়ায় পত্রিকার নিরুপায় কর্মীরা দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। এই মহামারির বিষন্ন পরিস্থিতিতে বিকল্প আয়েরও কোন সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছেন। এখনও অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সংবাদপত্র শিল্পের সংকটের কারণে করোনা আক্রান্ত সংবাদকর্মীরা নিজেদের চিকিৎসা ব্যয়ও নির্বাহ করতে পারছেন না। সংবাদপত্র শিল্পকে রক্ষায় নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- নোয়াবের দাবির প্রতি বিএনপির সংহতি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'নোয়াব' এর নেতৃবৃন্দ তাদের দাবি নিয়ে আলোচনা করার সময় মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যত: এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক কিছুই ঘটেনি। সরকার পরিকল্পিতভাবে এই খাততে ধ্বংস করতে চায়। করোনার এই সংকটকালে অন্যান্য দু'একটি শিল্পকে কিছু প্রণোদনা দেওয়া হলেও সংবাদপত্র শিল্পের প্রতি সরকার একেবারেই ভ্রুক্ষেপহীন। সংবাদপত্রের প্রতি বর্তমান সরকার সবসময় বৈরী মনোভাব পোষণ করে। হয়তো সেজন্যই সরকার সংবাদপত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের দাবি শুনেও না শোনার ভান করছে। সংবাদপত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও ভ্যাট 'নোয়াব' এর দাবি অনুযায়ী নির্ধারণ করার জন্য আহ্বান জনিয়ে তিনি বলেন, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান এবং সরকারের কাছে পাওনা বিপুল পরিমাণ বিজ্ঞাপনের বিল দ্রুত পরিশোধের মাধ্যমে এই মুহূর্তে সংবাদপত্র শিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, 'নোয়াব' ইতোমধ্যেই যেটির আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া নেই। তিনি বলেন, সংবাদপত্র মানব সভ্যতার অগ্রগতির আলোকদিশারী। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক থাকে সংবাদপত্র শিল্পের। মানবগোষ্ঠীর বহু মত ও চিন্তা সংবাদপত্রেই প্রতিফলিত হয়। এই শিল্পকে ধ্বংস করার অর্থ- মধ্যযুগকে ডেকে আনারই সামিল। | 9 |
বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রজাতির দু'টি নীলগাইয়ের মধ্যে একটি নীলগাই মারা গেছে। দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানায় রাখা দুটি নীলগাইয়ের মধ্যে নারী নীলগাইটি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নেটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে মারা গেছে। এতে একদিকে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রজাতির এই দুটি প্রাণীর। অন্যদিকে বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীর বংশবৃদ্ধির স্বপ্ন ভঙ্গ হলো বন বিভাগের। নারী নীলগাইটি মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে রামসাগর জাতীয় উদ্যানের তত্বাবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিন জানান, ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নারী নীলগাইটির মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করা হবে। আব্দুস সালাম তুহিন জানান, রামসাগর জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানায় শনিবার সন্ধ্যায় দুটি নীলগাই খেলা করছিল। এক পর্যায়ে নারী নীলগাইটি নেটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছিটকে শক্ত মাটিতে পড়ে যায়। এতে বুকে আঘাত পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে মারা যায় নারী নীলগাইটি। উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তঘেষা একটি নদীতে ভারত থেকে আসা নারী নীলগাইটিকে উদ্ধার করা হয়। দেশে বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটিকে পরবর্তীতে দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানায় রাখা হয়। সেই থেকেই টানা ৫ মাস ধরে একাকিত্ব সময় পার করছিল নারী নীলগাইটি। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার জোতবাজার এলাকায় ভারত থেকে আসা একটি পুরুষ নীলগাই উদ্ধার করা হয়। পরে এই পুরুষ নীলগাইটিকে রামসাগর জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানায় রাখা নারী নীলগাইটির কাছে নিয়ে আসা হয় বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীর বংশ বিস্তারের জন্য। বনবিভাগ বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীর বংশ বিস্তারের চেষ্টা চালালেও প্রায় দেড় মাস পুরুষ ও নীলগাইটি একসাথে থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় মারা গেলো নারী নীলগাইটি। ফলে বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীর বংশ বিস্তারের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো বন বিভাগের। | 6 |
কানাডার টরেন্টো বিমানবন্দরের রানওয়েতে দু'টি বিমানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার টরেন্টোরপিয়ারসন অন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতেওয়েস্ট জেট ও সানউইং বিমান কোম্পানির দু'টি বিমানের মধ্যেসংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।এতে একটি বিমানের লেজে আগুন ধরে যায়। এ সময় আতঙ্কিত আরোহীরা জরুরি পথ দিয়ে বিমান থেকে বেরিয়ে আসে। ওয়েস্ট জেট ও সানউইং বিমান কোম্পানির পক্ষ থেকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।পিয়ারসন অন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেগত পাঁচ মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দুর্ঘটনা ঘটলো। ভিডিও ফুটেজে সানউইংয়ের বিমানের লেজে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ওয়েস্ট জেট কোম্পানির পক্ষ থেকে টুইটারে বলা হয়েছে, 'ওয়েস্ট জেট নিশ্চিত করছে যে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ডব্লিউএস২৪২৫ বিমানটি ১৬৮ যাত্রী ও ছয় ক্রু নিয়ে কানকুন থেকে টরেন্টো পিয়ারসনে যাওয়ার জন্য উড্ডয়নের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় সানউইংয়ের একটি বিমান পেছন থেকে এটাকে ধাক্কা দেয়।' দুর্ঘটনার পর বিমানের যাত্রীদের নিরাপদে টার্মিনাল দিয়ে সরিয়ে নেয়া হয় বলেও টুইটে উল্লেখ করা হয়। | 3 |
ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্ঘাটনে ১৭ সদস্যের নাগরিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডির কলাবাগানে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) কার্যালয়ে কমিটিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খানকে আহ্বায়ক ও নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুলকে সদস্যসচিব করে এই নাগরিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন নদী ও নৌখাতবিষয়ক গবেষক সাংবাদিক আশীষ কুমার দে। বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোর ভি শিপসের সাবেক প্রধান নৌ প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর সাবেক সচিব সৈয়দ মনোয়ার হোসেন, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ মিয়া, ব্যারিস্টার নিশাদ মাহমুদ, সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব আলী, আইনজীবী জীবনানন্দ জয়ন্ত, কোস্ট ফাউন্ডেশনের মোস্তফা কামাল আকন্দ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, বিআইডব্লিউটিএর সাবেক কর্মকর্তা প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, পুরান ঢাকা পরিবেশ ফোরামের আহ্বায়ক মো. নাজিম উদ্দিন।নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'মর্মান্তিক এ ঘটনার পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ছাড়া ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, কোনো লঞ্চ দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় না। তাই দুর্ঘটনার মূল কারণও অজানা থেকে যায়। এ কারণে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যান সরকারের উচ্চপর্যায়সহ সাধারণ জনগণের দৃষ্টির আড়ালে। এমনকি দুর্বল কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট তদন্তের কারণে অনেক দুর্ঘটনার প্রকৃত তথ্য নৌ প্রতিমন্ত্রী, নৌসচিবও জানতে পারেন না বলে আমাদের ধারণা। এসব কারণে প্রকৃত দোষীদের যথাযথ শাস্তি হয় না।আমিনুর রসুল বাবুল বলেন, 'পরিবেশ, নৌখাত, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১৭ (সতেরো) সদস্যবিশিষ্ট একটি নাগরিক তদন্ত কমিটি (ছায়া তদন্ত কমিটি) গঠন করা হয়েছে। এ ধরনের কমিটি গঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে-তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ, অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ব্যবস্থার ক্রটি-বিচ্যুতি ও দুর্বলতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো নৌ দুর্ঘটনা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি এড়াতে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে।'গত ২৩ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকার সদরঘাট থেকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীভর্তি এমভি অভিযান-১০ লঞ্চ ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা নদীতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়। এতে দগ্ধ হয়ে এ পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাণ রক্ষায় লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও অনেক যাত্রী চিকিৎসাধীন আছেন। | 6 |
দেশজুড়ে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে পরিবারে নারীর ভূমিকা। কন্যা, বোন, স্ত্রী বা মা হওয়ার পাশাপাশি তাদের অনেকেই এখন পরিবারের অন্যতম প্রধান উপার্জনকারী সদস্য। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে গৃহিণীরা পরিবারে নতুন নতুন ভূমিকা পালন করেছেন। মহামারিকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে তৈরি করেছেন নিজেদের। বিভিন্ন উপায়ে উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের ও নিজের অর্থনৈতিক অবস্থাকে সুদৃঢ় করেছেন। তাঁদের মধ্যেই কেউ প্রয়োজনে, কেউবা শখের বশে নিজেদের তৈরি করা কেক-মিষ্টি বিক্রি করছেন অনলাইনে বা অফলাইনে; হয়ে উঠছেন জনপ্রিয়। কোনো মায়ের ভালোবাসার ছোঁয়ায় তৈরি মিষ্টি চলে যাচ্ছে আরও অনেক মায়ের ঘরে। ফলে শুধু অর্থনৈতিকই নয়, বরং সামাজিকভাবেও সমৃদ্ধ হচ্ছেন প্রত্যেক নারী, প্রতিটি পরিবার। ছড়িয়ে পড়ছে তাঁদের নাম আর গুণের কথা। আর এসব নারীর পছন্দের সঙ্গী হয়ে তাঁদের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে নিউজিল্যান্ড ডেইরি বাজারে নিয়ে এসেছে ফার্মল্যান্ড ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার। এই গুঁড়া দুধ আসে বিশ্বখ্যাত ডেইরি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা লিমিটেড, নিউজিল্যান্ড থেকে। যাতে থাকে সর্বোচ্চ গুণ ও মানের নিশ্চয়তা। তা ছাড়া ফার্মল্যান্ড ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডারের ইউনিক ফর্মুলেশন কেক, মিষ্টি ইত্যাদি ডেজার্টে দেয় অনন্য ও অতুলনীয় টেস্ট-খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে। শুধু সাশ্রয়ী মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্যই নয়, বরং নিউজিল্যান্ড ডেইরি নারীদের আরও এগিয়ে দিতে হাতে নিয়েছে নতুন প্রকল্প। এটির মাধ্যমে ৩৬ হাজার পরিবার থেকে বেছে নেওয়া হবে ৩ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে, যাঁদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করবে নিউজিল্যান্ড ডেইরি। সঠিক প্রশিক্ষণ, নিজের দক্ষতা আর সর্বোৎকৃষ্ট পণ্যের শক্তিতে এই সব নারী পরিচিত হবেন স্বনামে, নিজের গুণে। ফার্মল্যান্ড ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার বাজারজাতকরণ উপলক্ষে ২৪ জানুয়ারি ডেইলি স্টার ভবনের এ এস মাহমুদ সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উদ্বোধনী ভাষণ দেন নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এ. মল্লিক, এফসিএ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মহসিন আহমেদ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা। সংবাদ সম্মেলনে পণ্যের গুণগত মানের প্রশ্নে ভোক্তার প্রতি নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের কমিটমেন্টের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন এস. এ. মল্লিক। এভাবেই নিজের দক্ষতা ও প্রতিভায় সামনে এসে এগিয়ে যাবে; স্ত্রী, কন্যা বা মা পরিচয়ের বাইরে তারা স্বনামে খ্যাত হবে বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। | 4 |
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে পাঁচ দিন অনশন করার পরও বিয়ে না করায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক তরুণী (২২)। আজ শনিবার সকালে বাবার বাড়িতে তিনি বিষ পান করেন। বর্তমানে তিনি মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।প্রেমিকের নাম রায়হান (২৫)। তিনি উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের মতি মৃধার ছেলে।স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আট মাস আগে তাঁদের দুজনের পরিচয় হয়। বিয়ের দাবিতে ওই তরুণী গত সোমবার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সুবিদখালী ওই যুবকের বাড়িতে অনশনে বসেন। তবে শুক্রবার ওই নারীর বাবা জব্বার জোমাদ্দার সুবিদখালী রায়হানের বাসা থেকে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান। আজ সকালে বাবার বাড়িতেই তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।তরুণীর দাবি, সাড়ে চার বছর আগে পাশের গ্রামের একজনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সে সংসারে তাঁর তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে রায়হানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে রায়হান তাঁকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। এমনকি স্বামীকে তালাক দিতেও বাধ্য করেন। এখন বিয়ের জন্য চাপ দিলে রায়হান বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না। বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে পাঁচ দিন তিনি অবস্থান নেন।মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উমর ফারুক জাবির বলেন, 'বিষপান করা এক নারীকে তাঁর স্বজনেরা আজ সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাঁর পাকস্থলী পরিষ্কার করে সুস্থ করা হয়েছে। এরপর ওই রোগী কাপড় পরিবর্তনের অজুহাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিছু না বলে হাসপাতাল কম্পাউন্ড ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।'মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, 'বিষয়টি শুনে আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। ভিকটিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
অবশেষে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টি-পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মন্ত্রিসভায় বিলাওয়াল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পেতে যাচ্ছে, সেটা আগে থেকেই অনেকটা নির্ধারিত। তবে জোটের শরিকদের সাথে হিসেব-নিকেশ না মেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় শপথ নেননি বিলাওয়াল। লন্ডনে মুসলিম লিগ-নওয়াজের শীর্ষ নেতা নওয়াজ শরীফের সাথে বৈঠকের পর বিলাওয়াল শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভাইকে অভিনন্দন জানিয়ে আসিফা ভুট্টো জারদারি টুইটারে বলেন, 'পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়ালঅভিনন্দন। কাজটা অনেক কঠিন, আগের সরকার আমাদের আন্তর্জাতিক অবস্থান খারাপ করে দিয়ে গেছে। তবে তুমি আমাদের দেশ পুনঃরায় গড়তে পারবে, তাতে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। দল ও পরিবার তোমার জন্য গর্বিত।'
সূত্র: জিও টিভি
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
হয় ব্যর্থতার চোরাবালিতে। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর নীলফামারীর চিলাহাটি রেলস্টেশন দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরুর একটি ভালো খবর বেরিয়েছে।প্রথম ট্রেনে ভারত থেকে আসে পাথর ও গম। ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে আসা ট্রেনটি সীমান্তবর্তী হলদিবাড়ী স্টেশন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এভাবে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন আসবে-যাবে।জলপাইগুড়ি থেকে ছেড়ে আসা ভারতীয় ট্রেন তাদের হলদিবাড়ী স্টেশন হয়ে চিলাহাটি স্টেশনে এসে ইঞ্জিন পরিবর্তন করবে। এরপর পণ্য ও যাত্রী বাংলাদেশি ইঞ্জিন টেনে আনবে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম তীর পর্যন্ত। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতমুখী ট্রেন হলদিবাড়ী যাওয়ার পর ইঞ্জিন পরিবর্তন হবে। সে দেশের ইঞ্জিন পণ্য ও যাত্রী নিয়ে যাবে ভারতের জলপাইগুড়ি পর্যন্ত। এভাবে দুই দেশের মধ্যে ট্রেনগুলো চলাচল করবে নিয়মিত। এর জন্য চার লাইনের রেলপথকে ১০ লাইনে উন্নীত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিলাহাটি স্টেশনটিকেও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় দুই দেশের মধ্যে এই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গেল বছরের ১৭ ডিসেম্বর আবারও এই রুটের পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।আমরা মনে করি, এই রুট বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও নেপাল, ভুটানসহ চার দেশের যোগাযোগের সঙ্গে বাণিজ্য প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ভারতের সেভেন সিস্টার্স এবং নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বিরাট সুযোগ তৈরি হবে। কারণ, ওই সব অঞ্চল যোগাযোগে অপেক্ষাকৃত দুর্গম। ফলে বাংলাদেশ হয়ে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য ওই সব অঞ্চলে রপ্তানি ও যাতায়াত করা এখন সহজ হবে। সবার জন্যই তা ব্যয়সাশ্রয়ী ও লাভজনক। এর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে শুরুতেই গবেষণা করে সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।দেশগুলোর মানুষের মধ্যে যাতায়াতের ভালো সুযোগ তৈরি হবে এই নতুন রেলপথে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি হয়ে ভারতের পর্যটন এলাকা দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, মিরিক, সিকিমসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর বাংলাদেশি ভ্রমণ করেন। আর নেপাল, ভুটান তো আছেই। একইভাবে বাংলাদেশেরও পর্যটনের সম্ভাবনাগুলো ওই সব দেশের পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। সবার জন্যই যাতায়াত ব্যয়সাশ্রয়ী হবে।এই সুযোগ সময়েই কাজে লাগাতে হবে। এর আগেও বাংলাদেশ নতুন অনেক কিছুই করেছে, চালুর পরে যার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেখা যায়নি। বরং অবহেলা, পরিচর্যা ও মনোযোগের অভাবে শুধু রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হতে দেখা যায়। চালুর সময় যে উৎসাহ, তা ধরে রাখতে হবে বাস্তবায়নেও। এমন যেন না হয় যে প্রতিবেশী দেশগুলো ঠিকই তাদের লাভ ঘরে তুলবে আর আমরা তা চেয়ে চেয়ে দেখব। | 8 |
ঢাকা : ইউরোতে কাল ডেনমার্ক-ফিনল্যান্ড ম্যাচের পর একটি ড্যানিশ দৈনিকের শিরোনাম, 'ডেনমার্ক হেরেছে, তবে জীবন জিতেছে'।আসলেই তো তাই। ফিনল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে ডেনমার্ক ম্যাচ হারলেও ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনকে ফিরে পেয়েছে তারা। তিনি ফিরে এসেছেন যাঁদের অক্লান্ত চেষ্টায়-তাঁরা হলেন ডেনমার্ক ফুটবল দলের মেডিকেল টিম।ম্যাচের পর এরিকসেনের ফিরে আসা প্রসঙ্গে ক্রীড়া হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় শর্মা বিবিসিকে তাই বলেছেন, 'যে জিনিসটি তার জীবন বাঁচিয়েছে সেটি হলো খুব দ্রুত ও জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা।' ডেনমার্কের হার ছাপিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচিত ঘটনা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে এরিকসনের মাঠে লুটিয়ে পড়া।প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঠে এমন দৃশ্য নাড়িয়ে দিয়েছিল গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ১৫ হাজার দর্শক ও টিভিতে ম্যাচ দেখা কোটি ফুটবলপ্রেমীকে। পরে চিকিৎসকদের দ্রুত তৎপরতায় বড় কোনো বিপদ ঘটেনি। ডেনমার্ক দলের টিম ডাক্তার মার্টিন বোসেন ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, 'এটা নিশ্চিত যে সে অচেতন ছিল। যখন তার পাশে গেলাম, সে তখন নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, এটা আমি বুঝতে পারি। কিন্তু হঠাৎ করে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিলে তার বুকে হাত দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার চেষ্টা করি।'বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা মহত্তম পেশা। এই মুহূর্তগুলোয় এ কথার যথার্থতা আরও ভালো টের পাওয়া যায়। মার্টিন বোসেন নিজেও পরিস্থিতি সামাল দিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। বলছিলেন, 'মেডিকেল টিম ও দলের অন্যদের কাছ থেকে খুব দ্রুতই সব ধরনের সহায়তা এসেছিল। ক্রিস্টিয়ানকে ফেরাতে যা করার দরকার ছিল, তাই আমরা করতে পেরেছি। হাসপাতালে নেওয়ার আগে সে আমার সঙ্গে কথাও বলেছে। চিকিৎসকদের মধ্যে আবেগ থাকতে নেই। তবে ক্রিস্টিয়ানের ঘটনাটি আমার ভেতরে যা ছিল, সেটি বের করে এনেছে। এত কাছে থেকে এই উৎকণ্ঠা দেখে আর কিছু বুঝে উঠতে না পারায় আমার মধ্যে প্রচণ্ড আবেগ কাজ করছিল।'মার্টিন বোসেন এরিকসেনের সতীর্থদেরও ধন্যবাদ দিতে ভোলেননি। বোসেন মনে করেন এরিকসেন দ্রুতই সেরে উঠবেন। বোসেন তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলছেন, 'এটা ভীতিকর অভিজ্ঞতা ছিল। তবে মেডিকেল দলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা ক্রিস্টিয়ানের জন্য যা করেছে, সত্যিই অসাধারণ। আর তার দলের সতীর্থরা তাকে যেভাবে ঘিরে ধরেছিল, সেটি নিয়ে নতুন করে বলার নেই। ওই মুহূর্তে সবকিছু যেভাবে আবেগতাড়িত করেছে আমাদের, এই দৃশ্য কেউই দেখতে চাইবে না। আশা করি এখন সবকিছু ঠিক আছে, ক্রিস্টিয়ানও দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।' | 12 |
নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলায় কুকুর লেলিয়ে দিয়ে রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাককে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মামলা নিয়েছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর মঙ্গলবার আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জামতলা এলাকার মাহমুদুর রহমান রুপু ও প্রহরী মহিউদ্দিনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনার পরপরই একটি প্রভাবশালী মহলের হুমকির কারণে রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাক ভীত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর গত ৫ আগস্ট প্রভাবশালী মহলটি অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান রুপুকে দিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে রাজ্জাককে চোর আখ্যা দিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে আবেদন করে। কুকুরের কামড়ে আহত রাজ্জাককে থানায় এসে মামলা দিতে বলে ফতুল্লা থানা পুলিশ। কিন্তু অসুস্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় তিনি মামলা দায়ের থেকে বিরত থাকে। অবশেষে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর মঙ্গলবার তিনি মামলা করেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
বিডি-প্রতিদিন/০৭ আগস্ট, ২০১৮/মাহবুব | 6 |
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে তুফান-২ নামের ৮৮ হাত বাইচের নৌকা নির্মাণ হচ্ছে। এতে ব্যয় করা হচ্ছে আট লাখ টাকা। বিশাল নৌকাটি একপলক দেখতে এরই মধ্যে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসতে শুরু করেছেন।উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণ হচ্ছে বিশাল আকৃতির এই নৌকা। কারিগরেরা তাঁদের নিপুণ ছোঁয়ায় বাইচের নৌকা তৈরি করছেন। কেউ করাত দিয়ে কাঠ কাটছেন, কেউ হাতুড়ি দিয়ে নৌকায় পেরেক লাগাতে ব্যস্ত। নৌকা তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে লোহা, শাল, গজারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ।নৌকাটির মূল কারিগর নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাঙ্গা পিঠা এলাকার সুনীলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ছয়জন কারিগর মিলে দুই মাস ধরে নৌকাটি তৈরিতে কাজ করছেন। নৌকাটির সব রকমের কাজ শেষ পর্যায়ে। শেষ সময়ে ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। এরপর রং করতে আলকাতরা ও গাবের রস ব্যবহার করা হবে।তেঘরিয়া গ্রামের নৌকাবাইচের মাল্লা জসিম ব্যাপারী বলেন, 'প্রায় ২০ বছর ধরে নৌকা বাইচে অংশগ্রহণ করি। আমার দেখা এটাই সবচেয়ে বড় নৌকা।'তেগুরিয়া যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম আসাদ বলেন, 'আমাদের এলাকার নৌকার মাঝিমাল্লারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এই নৌকা তৈরি করা হচ্ছে।'তেঘরিয়া যুব সংঘের সভাপতি শেখ শহীদুল্লাহ সোহেল বলেন, 'আমাদের এলাকার প্রবীণেরা নৌকাবাইচের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছেন আদিকাল থেকে। আমাদের আগের একটি তুফান নামের ৬০ হাত বাইচের নৌকা রয়েছে। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য এবং পূর্বসূরিদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিশাল আকারের এ নৌকাটি আট লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হচ্ছে। এই নতুন নৌকাটির নামকরণ হয়েছে তুফান-২। আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নৌকাবাইচে অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার এনেছি। বড় নৌকা দিয়ে আরও বড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারব-ইনশা আল্লাহ।' | 6 |
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরমল্লিকপুর গ্রামের যুবলীগ কর্মী পলাশ মাহমুদ হত্যার ১৭ দিন পর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রুবেল শেখকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি রুবেল শেখ চর মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু হেনা মিলনের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে ঢাকার মহম্মদপুর এলাকা থেকে পলাশ মাহমুদ হত্যা মামলার আসামি রুবেল শেখকে (২৫) গ্রেপ্তার করে লোহাগড়া থানায় নিয়ে আসেন।গত শনিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকাণ্ডের পাশে নবগঙ্গা নদী থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ফুলকুচি উদ্ধার করেন।ওই দিন দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামি রুবেল শেখ নড়াইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।এ ব্যাপারে ওসি শেখ আবু হেনা মিলনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, 'পলাশ মাহমুদ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।'উল্লেখ্য গত ২৫ অক্টোবর রাতে চর মল্লিকপুর গ্রামে খোকন শেখের ছেলে যুবলীগ কর্মী পলাশ মাহমুদকে (২৮) হত্যা করে একদল দুর্বৃত্তরা। হত্যার ঘটনায় নিহত পলাশের মা পলি বেগম বাদী হয়ে ২৮ অক্টোবর ২২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। | 6 |
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, অপ্রচার মোকাবেলা করতে হলে নিজেদের প্রচার করতে হবে। শুধু কাজ করলে হবে না, মানুষকে জানিয়ে দিতে হবে আমরা তাদের জন্য কি করছি। কাজ করলে মানুষ ভোট দিবে, তবে বাস্তব কথা এখন প্রচারের যুগ। তাই প্রচার করতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ নতুন কার্যালয়ে 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সংসদ সদস্যদের করণীয়' শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সংসদ সদস্যদের করণীয়' শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন | 6 |
বৈশ্বিক তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যগুলো অর্জন এবং প্যারিস রুলবুকের চূড়ান্ত করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ), ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এবং গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন (সিসিএ)- এর উদ্যোগে 'ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-গ্লোবাল পার্লামেন্টারি গ্রুপ'- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন স্পিকার। বৈশ্বিক জলবায়ুর বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ফোরামে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন, সেখানে তিনি এসব দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই আমরা কপ-২৬ প্লাটফর্মে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তড়িৎ সমাধান হিসেবে ভর্তুকির আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশে শক্তির স্বাধীনতা অর্জন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং শক্তিবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে ইতোমধ্যে 'মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান' গৃহিত হয়েছে। প্ল্যানিটারি ইমার্জেন্সি মোকাবিলার মাধ্যমে গ্রহ রক্ষা এবং এর যথাযথ সংরক্ষণে বৈশ্বিক সম্মিলিত প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি। অনারারি আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জিসিএ সভাপতি বান কি মুন, আইপিইউ মহাসচিব মার্টিন চুংগঙ, মালদ্বীপের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ, ফিলিপাইনের ডেপুটি স্পিকার লরেন লেগার্দা এবং ইউকে হাউজ অব কমন্সের সংসদ সদস্য ডেরেন জোন্স কি-নোট বক্তব্য রাখেন। সিভিএফ প্রেসিডেন্সি অব বাংলাদেশের স্পেশাল এনভয় আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২০ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা আগামীকাল সোমবার (৪ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হবে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটি ছাড়া ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৫ মে পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে পরীক্ষা শুরু হবে।আজ রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মো. আতাউর রহমান এ তথ্য জানান।জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মো. আতাউর রহমান জানান, সারা দেশে মোট ১ হাজার ৮৭৯টি কলেজের ৭১১টি কেন্দ্রে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর ক্যাম্পাসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০২-৯৯৬৬৯১৫১৭ এবং ০২-৯৯৬৬৯১৫৩৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। | 6 |
কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নতুন নয় শেন ওয়ার্নের জন্য। আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ২০০৮ সালে আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়কত্ব ও কোচ দুই পদ-ই সামলান তিনি। কিংবদন্তি লেগ স্পিনার এবার কোচিংয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেট ক্লাব দ্য হান্ড্রেডের। ২০২০ সালে ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে ১০০ বলের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। তাতে লন্ডনের লর্ডসভিত্তিক ক্লাব দ্য হান্ড্রেডের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন ওয়ার্ন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ওয়ার্ন বলেন, 'নতুন ব্রান্ডের এই টুর্নামেন্টে কোচিংয়ের সুযোগ পাওয়া এবং আধুনিক যুগের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য সত্যিই খুব উপভোগ্য হবে এবং চ্যালেঞ্জের জন্য আমি মুখিয়ে আছি।' ৪৯ বছর বয়সী ওয়ার্ন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেগ-স্পিনার হিসেবে বিবেচিত। সাবেক অজি তারকা ১৪৫ টেস্টে নিয়েছেন ৭০৮ উইকেট। টুর্নামেন্টে দ্য হান্ড্রেডের নারী ক্রিকেট দলের দায়িত্ব সামলাবেন লিসা কেইথলি। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট ইতিহাসে এর আগে কোনো নারী কোচের দায়িত্ব পালন করেননি। এবার ১০০ বলের টুর্নামেন্টে ইতিহাসই লিখতে যাচ্ছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান নারী ক্রিকেটার। | 12 |
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, দেশের মানুষ এখন স্বাধীন মত প্রকাশে শঙ্কা বোধ করছে। ন্যায্য মতামত ক্ষমতাবানদের বিপরীত হলেই শাসক গোষ্ঠী রুষ্ট হয়। বৃহস্পতিবার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের গাইবান্ধা জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পৌর শহীদ মিনার চত্বরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও আবু বক্কর সিদ্দিককে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৯ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোস্তফা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার প্রমুখ। কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৮ বছর হলো। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই সোনার বাংলায় স্বাধীনতার ফসল জনগণ কতটুকু ভোগ করছে। সব নাগরিকের মৌলিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার কথা, কিন্তু তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাম্য, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অঙ্গীকার। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাতীয়, আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। বাস্তবায়িত হচ্ছে না জনগণের প্রত্যাশা। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বলেন, লাগামহীন দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খুন-ধর্ষণ, ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় সীমাহীন সন্ত্রাস, অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা ও দলের চরম ব্যর্থতা, অসৎ আমলাদের ঔদ্ধত্যের কারণে গোটা জাতি আজ জিম্মি। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। | 6 |
মিঠাপানির ইলিশের স্বাদ বেশি। বৃহত্তর বরিশালে নদ-নদীর পানি লবণহীন হওয়ায় এ অঞ্চলে আরোহিত ইলিশের স্বাদের সুনাম সর্বত্র। তাই তো কলকাতার পর্যটকবাহী জাহাজ 'আর ভি বেঙ্গল গঙ্গা'র পর্যটকরা বরিশালে নেমেই খোঁজ নিলেন ইলিশের। যদিও এখন মৌসুম না হওয়ায় ইলিশ সংকটের কারণে এর স্বাদ ছাড়াই বরিশাল ত্যাগ করতে হয়েছে তাদের। বাংলাদেশ-ভারত নৌরুট চালুর অংশ হিসেবে কলকাতার জাহাজ বেঙ্গল গঙ্গা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বরিশাল ত্যাগ করে। বুধবার দুপুর দেড়টায় নগরী-সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা পার্কের জেটিতে নোঙর করে রাতে সেখানে থাকে জাহাজটি। ১৯ জন পর্যটক নিয়ে গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কলকাতার খিদিরপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে এটি। বরিশালে পৌঁছার আগে পিরোজপুরের কাউখালীতে কিছুক্ষণের জন্য যাত্রাবিরতি করা হয়। ঢাকা পৌঁছার আগে চাঁদপুরে যাত্রাবিরতি করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জাহাজে পর্যটকদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা গালফ অরিয়েন্ট সি ওয়েস লিমিটেডের লজিস্টিক ম্যানেজার মো. নুরুজ্জামান জানান, ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে চালু হতে যাচ্ছে নৌযান যাত্রীসেবা। পরীক্ষামূলক সফরে আসা বেঙ্গল গঙ্গায় ১৯ পর্যটকের মধ্যে লন্ডন, আমেরিকা ও ইতালির আছেন ছয়জন। বাকিরা ভারতীয়। এ ছাড়া জাহাজের ক্রু ৩০ জন। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া জাহাজ 'মধুমতি' এখন কলকাতায় অবস্থান করছে। বেঙ্গল গঙ্গা আগামী ৮ এপ্রিল কলকাতার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। মো. নুরুজ্জামান জানান, জাহাজে থাকা বেশিরভাগ পর্যটক বরিশালে নেমে ইলিশের খোঁজ করছেন। ইলিশ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা। কয়েকজন আমাকে ইলিশ ক্রয় করে এনে দিতেও অনুরোধ করেছেন। তবে ইলিশের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে সেভাবে পাওয়া যায়নি ইলিশ। পর্যটকরা বুধবার রাতে নগরীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। স্থানীয় লোকজনের কাছে জানতে চান ইলিশ সম্পর্কে। বেঙ্গল গঙ্গার পর্যটক ইন্দ্রজিৎ পাল জানান, বরিশালের ইলিশের কথা অনেক শুনেছি। এখানকার ইলিশ নাকি অনেক সুস্বাদু। তবে দুঃখের বিষয়, ভালো আকৃতির ইলিশ পাওয়া যায়নি। জাহাজটিতে ভ্রমণ করেছেন আর ভি বেঙ্গল গঙ্গার স্বত্বাধিকারী রাজ সিং। তিনি বলেন, 'নদীপথে ভারত-বাংলাদেশের এ যাত্রীসেবা ও ভ্রমণে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে পর্যটন শিল্পে। আমরা দু'দেশের মধ্যে চলাচলের জন্য নতুন জাহাজ বানানোর কাজ করছি। আমরা চাই কলকাতা থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত সেবা দিতে। এভাবে নৌপথে দু'দেশের মধ্যে ভ্রমণ ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পে উভয় দেশই এগিয়ে যাবে। | 6 |
দুর্নীতি ও সন্ত্রাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগে ৫৭ জন বিচারককে চাকরিচ্যুত করেছেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ। স্থানীয় সময় বুধবার তাদের বরখাস্ত করা হয় বলে জানিয়েছে বিশ্বগণমাধ্যম। এমন ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মাথাতেই সরকারি গেজেট প্রকাশ করে ওই বিচারকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। গত জুলাইয়ে করোনা মোকাবিলায় সরকারের অব্যবস্থাপনার জেরে সহিংস বিক্ষোভের হয় তিউনিসিয়ায়। প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ এর জেরে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন। তবে দেশটির বিরোধীরা প্রেসিডেন্ট কায়েসের নেওয়া পদক্ষেপকে 'অভ্যুত্থান' হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়াও তারবিরুদ্ধে আছে এককভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ। নির্বাচন কমিশন থেকে বিচার ব্যবস্থা সব জায়গাতেই হস্তক্ষেপ করছেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট। ১০ বছর আগে তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন দাবিতে বিপ্লব ঝড় ওঠে।তিউনিসিয়ার সেই বিপ্লব আগুন লেগেছিল গোটা আরব বিশ্বে। যার নাম দেওয়া হয়েছে আরব বসন্ত। বিপ্লবের এক দশক পেরিয়ে গেলেওতিউনিসিয়ার অর্থনৈতিক সংকট এখনওকাটেনি। সূত্র: টিআরটি বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে খেলে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাশরাফি। তবে অধিনায়কত্ব ছড়লেও খেলা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই রাজপুত্র এ ঘোষণা দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, কাউকে কখনো দোষারোপ করার মন আমার ছিল না। খেলা আমার লাইফ না কিন্তু খেলা আমার লাইফের একটা অংশ। কেউ অনেক দিন খেলুক আর যে পাঁচ দিন খেলেছে তাকেও সিদ্ধান্ত নিতে সময় দিতে হয়। মাঠে যখন খেলতে নেমেছি তখন বাংলাদেশের হয়েই নেমেছি। যখন ভুল ধরা হয় তখন মনে হয় আসলেই ভুল করে ফেলেছি। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন মাশরাফি। কিন্তু হাঁটুর চোটে দলের বাইরে চলে যাওয়ার কারণে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। এরপর ২০১৪ সালে ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব ফিরে পেয়েই সফল তিনি। নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ২০১৫ আর ২০১৯ বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৮৭টি ওয়ানডে ম্যাচে এখন পর্যন্ত জিতেছেন ৪৯টি। | 12 |
ওপার বাংলার সিরিয়াল 'বোঝে না সে বোঝে না' এপার বাংলায়ও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। আলোচিত সেই সিরিয়ালের অরণ্য আর পাখি চরিত্রের জুটি আবারও ফিরছেন জুটি হয়ে। তবে এবার আর সিরিয়ালে নয়, যশ-মধুমিতার রোমান্স দেখা যাবে বাংলাদেশের গায়ক ও সংগীত পরিচালক তানভীর ইভানের গানের ভিডিওতে। গানের নাম 'ও মন রে'। 'অভিমান', 'অভিযোগ'-এর মতো গান গেয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, ওপার বাংলায়ও জনপ্রিয় হয়েছেন ইভান।এসভিএফ মিউজিকের ব্যানারে তৈরি এই গানের ভিডিও পরিচালনা ও কোরিওগ্রাফি করছেন বাবা যাদব। সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতার সিনেমার সৌমিক হালদার। আট বছর আগে এসভিএফের প্রযোজনায়ই তৈরি ব্লকবাস্টার ধারাবাহিক 'বোঝে না সে বোঝে না'তে যশ-মধুমিতা জুটিকে পেয়েছিলেন দর্শক।এই সিরিয়াল শেষ হওয়ার পর ২০১৬ সালে 'গ্যাংস্টার' ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় নাম লেখান যশ। বছর চারেক পর 'লাভ আজ কাল পরশু' ছবি দিয়ে মধুমিতাও ছবিতে নাম লেখান। মধুমিতার সঙ্গে ফের জুটি বাঁধা প্রসঙ্গে যশ বলেন, 'বোঝে না সে বোঝে না'র পর অনেক দিন ধরেই আমাদের একসঙ্গে দেখতে চাইছিলেন ভক্তরা। এই মিউজিক ভিডিওতেই আবার আমাদের এক হওয়া। আশা করছি ভক্তরা খুশি হবেন।'বাবা যাদবের কথায়, 'এটা বিরাট এক দায়িত্ব। যশ-মধুমিতা জুটি নিয়ে নতুন কাজের জন্য আমাকেও অনেকে নানা সময়ে বলতেন। আমি খুশি যে ওরা আবার একসঙ্গে কাজ করছে। চেষ্টা করব চমৎকার একটি মিউজিক ভিডিও উপহার দিতে।' গানটির গায়ক ইভান বলেন, 'এই মিউজিক ভিডিওর শুটিং হয়েছে কলকাতার এক স্টুডিওতে। যশ-মধুমিতা আমার খুবই পছন্দের দুজন অভিনয়শিল্পী। সবচেয়ে বড় চমক যে তাঁরা আমার গানের মাধ্যমে ফিরছেন। এসভিএফকে ধন্যবাদ যে এত বড় আয়োজনে আমার গানটা প্রকাশ করছে।'ইভানের 'বাবা' শিরোনামের একটি গান গত ২৯ জুলাই ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে। এই ঈদের অন্যতম প্রশংসিত গান। গানটি কাজল আরেফিন অমির 'আপন' নাটকে ব্যবহার হয়েছিল। ইভান বলেন, 'প্রেম, বিরহ নিয়েই আমার অধিকাংশ গান। তবে বাবার প্রতি সবার মতো আমারও ভালোবাসা আছে, সেই ভালোবাসা থেকেই গানটা গাওয়া। এ গানটি আমি নিজের বাবাকে উৎসর্গ করেছি।' | 2 |
বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে আরও ৮৮ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এ সময় মারা গেছেন দুজন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই সময়ে তাঁরা মারা যান। আজ শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানিয়েছেন।হুমায়ুন কবির জানান, এই নিয়ে জেলায় মোট মারা গেছে ১০৬ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ হাজার ১৫১ জন। সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৩৬০ জন। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও বাড়িতে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ৬৮৫ জন।সিভিল সার্জন আরও জানান, লকডাউন শিথিল ও কোরবানি উপলক্ষে বেশিসংখ্যক লোকজন বাইরে বের হচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। | 6 |
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র পদের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে কাল বৃহস্পতিবার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৬টি কেন্দ্রে একটানা ভোটগ্রহণ করা হবে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩২ হাজার ৯০৫ জন। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেবেন ভোটাররা।এই নির্বাচনের আগের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে তাঁর প্রতীক জগ। আমিনুল ইসলাম পৌরসভার সাবেক মেয়র। তিনি জামায়াতের নেতা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এই ভোটে অংশ নেওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলে তিনি ভোট বয়কট করেছেন। আজ বুধবার সকালে নিজের সই করা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে তিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্যানার ফেস্টুন খুলে ফেলা, কর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা এবং নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়াকে তিনি ভোট বয়কটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।এই নির্বাচনে আরও তিনজন মেয়র প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন-আওয়ামী লীগ মনোনীত অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস (নৌকা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রুলু (মোবাইল ফোন) ও জান্নাতুল ফেরদাউস (নারকেল গাছ)।গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়ার বিভিন্ন স্থানে লাগানো পোস্টার খুলে তাঁরই বাড়ির সামনে রেখে আসে দুর্বৃত্তরা। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে জান্নাতুল ফেরদাউস বলেছিলেন, এলাকায় ভোটের পরিবেশ নেই। তাঁরও ব্যানার-ফেস্টুন খুলে ফেলা হচ্ছে। কর্মী-সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা এলাকায় সন্ত্রাসী কায়দায় নির্বাচন করছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।জান্নাতুল ফেরদাউসের স্বামী মনিরুল ইসলাম বাবু ছিলেন পৌরসভার এই টানা দুইবারের মেয়র। প্রথমবার তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করে মেয়র হয়েছিলেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে 'বিদ্রোহী' হয়ে তিনি মেয়র হন। এরপর এপ্রিলে ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি মারা যান। সে কারণেই এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য সবারই অভিযোগ থাকলেও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ খুব ভালো। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সে খবরও বুধবার দুপুর পর্যন্ত তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। | 6 |
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করতেচট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) হস্তক্ষেপ চেয়েছেননাগরিক সমাজ-চট্টগ্রামের প্রতিনিধিরা। সোমবার দুপুরে সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভরত নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম- এর প্রতিনিধিরা সংগঠনের চেয়ারম্যান সমাজ বিজ্ঞানী ড. অনুপম সেনের নেতৃত্বে চউকে যান। চউক চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিআরবি নিয়ে তাদের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগও দেন তারা। তাতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বন্ধে চউকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। চউক চেয়ারম্যান দোভাষ বলেন, 'সিআরবি হেরিটেজ জোন হিসেবে সংরক্ষিত এলাকা। তাই চউকের অনুমতি ছাড়া এখানে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করার সুযোগ নেই। তাছাড়া হাসপাতাল কিংবা অন্যকেনো স্থাপনা নির্মাণে কোন ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি।' এসময় তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের উদ্বেগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও অবহিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। চউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মো. উউনুস, যুগ্ম সদস্য সচিব রাশেদ হাসান, কাজী মহসিন। নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাংবাদিক শুকলাল দাশ সমকালকে বলেন, 'চট্টগ্রামের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত সিআরবি'র প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় চট্টগ্রামবাসীর দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে আপত্তি জানিয়েছেন। এবার চউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা দেখা করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। চউক চেয়ারম্যান প্রয়োজনে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনবেন বলেও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।' আমেরিকা-কানাডায়ও সিআরবি রক্ষা আন্দোলন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশেও। সিআরবি রক্ষায় গত সপ্তাহে আমেরিকার জ্যাকসন হাইটসে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। গত রোববার সন্ধ্যায় ব্রুকলিনের চট্টগ্রাম নামে পরিচিত চট্টগ্রাম ভবনের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে অবিলম্বে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়। সেখানে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে একই দিন চট্টগ্রাম সমিতি- কানাডার উদ্যোগে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের বিরোধিতা করে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি মো. ইয়াকুব, সাধারণ সমআদক খোরশেদ চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টা মঞ্জুরুল চৌধুরীসহ কর্মকর্তারা। এই কর্মসূচিতেও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। | 6 |
পীরগাছায় প্রথমবারের মতো চাষ করা ভিটামিন-ই এবং ফাইবার সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল বেগুনি জাতের ধান নজর কেড়েছে উপজেলাবাসীর। মাত্র দুই শতক জমিতে চীনা এ ধান চাষ করে এখন আলোচনায় রয়েছেন চাষি মোজাফফর আহমেদ মিন্টু।সবুজের মধ্যে বেগুনি ধানখেত দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। ইতিমধ্যে কৃষি অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা খেতটি পরিদর্শন করে গেছেন।উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের জগজীবন গ্রামের মোজাফফর জানান, তিনি এক বন্ধুর কাছ থেকে এক কেজি বীজ ধান নিয়ে এসেছিলেন। পরে তা পরীক্ষামূলকভাবে দুই শতক জমিতে চাষ করেন। এ ধানের গাছ বেগুনি রঙের হলেও শিষ অন্য ধানের মতো। তবে শিষ অনেক বেশি হয় এবং ধানের ছড়া অনেক লম্বা হয় বলে জানান তিনি।কীটনাশক ব্যবসায়ী মোজাফফর বলেন, 'আমি কৌতুহলবশত বীজ এনে চারা করে রোপণ করি। সাধারণ মানুষ ও কৃষি অফিসের এ ধরনের সাড়া পাব বুঝিনি। তাহলে আরও বেশি করে রোপণ করতাম।'উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ ধানকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ নাম দিয়েছে 'পার্পল লিফ রাইস'। আর স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন 'দুলালি সুন্দরী'। ধানের চালের রং বেগুনি হয় এবং মোটা হয়ে থাকে। বোরো ও আমন দুই মৌসুমেই চাষাবাদ করা যায়। একর প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ মণ ধান উৎপাদন হয়।সংশ্লিষ্ট ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হক জানান, অনেক পুষ্টিগুণের পাশাপাশি দীর্ঘদিন এই ধানের ভাত খেলে ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও হৃদ্রোগের মতো অনেক রোগের ঝুঁকি কমে। সাধারণত অন্য জাতের ধান চাষ থেকে এ ধানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক পরিমাণে কম লাগে। এ জাতের ধান কৃষকের ঘরে তুলতে প্রায় ৯০ দিন সময় দরকার হয়।বেগুনি জাতের ধানের খেতটি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ। তাঁরা বলেন, যদি ফল ভালো হয় তাহলে অন্য কৃষকদের এটি চাষ করতে উৎসাহিত করা হবে। আর যেহেতু পীরগাছায় এই প্রথম বেগুনি ধানের চাষ হচ্ছে তাই খেতে মানুষের আনাগোনা একটু বেশি।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আলম বলেন, 'বেগুনি জাতের ধান চাষ পীরগাছায় এই প্রথম। ফলন যদিও একটু কম, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। ধান ও চালের সার্বিক উৎপাদনের মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব না রাখলেও এর ধান ও চাল দেখতে অনেক সুন্দর। এটা পরিবেশের ওপর ভালো একটা প্রভাব রাখবে। যদি ফলন ভালো হয় তাহলে আমরা কৃষকদের চাষাবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করব।' | 6 |
রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত এক টেলিভিশনে যুদ্ধবিরোধী বার্তা প্রচার করা সাংবাদিক মেরিনা ওভস্যানিকোভা নিখোঁজ হয়েছেন। এমনটি দাবি করেছে ওভিডি-ইনফো নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিভিশনে যুদ্ধবিরোধী বার্তা প্রচার করার পর মেরিনা ওভস্যানিকোভাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।ওভিডি-ইনফোর পক্ষ থেকে একটি টুইট বার্তায় বলা হয়, চ্যানেল ওয়ানের কর্মচারী মারিয়া ওভস্যানিকোভা-এর বিরুদ্ধে একটি প্রাক-তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। বার্তা সংস্থা টিএএসএস জানায়, ভ্রেম্যা নামের একটি অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচারের সময় যুদ্ধবিরোধী বার্তা দেন তিনি। তিনি কোথায় আছেন তা এখনো অজানা।ওভিডি-ইনফো বিক্ষোভে বিরোধীদের আটকের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে।রুশ টিভিতে সাংবাদিকের যুদ্ধবিরোধী বার্তাবিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সাংবাদিকের নাম মেরিনা ওভস্যানিকোভা। তিনি চ্যানেল ওয়ানের একজন সম্পাদক। সন্ধ্যায় যখন একটি সংবাদ অনুষ্ঠান চলছিল, তখন মেরিনা ওভস্যানিকোভা একটি প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে উপস্থাপিকার পেছনে দাঁড়িয়ে যান। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-'যুদ্ধ নয়, লড়াই বন্ধ করো, প্রচারণায় বিশ্বাস করবেন না, তারা এখানে আপনাদের মিথ্যা বলছে।'এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত রোববার রাতে অন্য একটি লাইভ অনুষ্ঠানে এই সাংবাদিক বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়া যা করছে সেটা 'অপরাধ'। ক্রেমলিনের হয়ে তাঁকে যে প্রচারণায় অংশ নিতে হচ্ছে, এ জন্য তিনি লজ্জিত।মেরিনা ওভস্যানিকোভা বলেছেন, 'আমি লজ্জিত যে আমি টেলিভিশনের পর্দায় মিথ্যা বলতে বাধ্য হচ্ছি। আমার খুবই লজ্জা হয় যে, আমরা রুশদের জম্বিতে পরিণত হতে দিয়েছি।'ওভস্যানিকোভাকে সমর্থন দেওয়া আইনজীবী পাভেল চিকভ টুইট বার্তায় বলেন, ওভসায়ানিকোভা ১২ ঘণ্টার বেশি পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।ওভস্যানিকোভার আইনজীবীর বরাত দিয়ে ইউক্রেনের কূটনীতিক অলেক্সান্ডার শেরবা বলেন, তাঁকে কোনো থানায় পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো গোপন জায়গায় রাখা হয়েছে ওভস্যানিকোভাকে। | 3 |
অনেকটা ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ হয়ে যাবে, তবুও বলি। রাবেয়া খাতুন আমার লেখক জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। নিজের প্রতি, সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি একজন লেখকের দায়বদ্ধতার সীমারেখা তিনিই আমাকে শিখিয়েছেন। লেখাকে তিনি উপাসনা ভাবতেন। তাই তার লেখার টেবিল, লেখার কাগজ, লেখার কলম সবকিছুই ছিল আলাদা। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বাসা বদল হয়েছে। কিন্তু লেখার টেবিল বদল হয়নি। আমার সাংবাদিকতা জীবনে অসংখ্যবার রাবেয়া খাতুনের মুখোমুখি হয়েছি। সাক্ষাৎকার নিয়েছি, আড্ডা দিয়েছি। তার কাছেই শিখেছি কীভাবে সময়কে গুরুত্ব দিতে হয়, সময়ের কাজ সময়েই করতে হয়। প্রথম সাক্ষাৎকারের স্মৃতি মনে পড়েছে। ইত্তেফাক ছেড়ে আনন্দ আলোতে যুক্ত হয়েছি। সিদ্ধান্ত হলো, রাবেয়া খাতুনের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত হলাম এবং রাবেয়া খাতুনের মুখোমুখি বসার সুযোগ পেলাম। এই প্রথম প্রিয় লেখক রাবেয়া খাতুনকে সামনে থেকে দেখছি। আমার স্কুলশিক্ষক পিতা এই মহান লেখকের গুণমুগ্ধ পাঠক ছিলেন। আমার মায়ের বালিশের তলায় রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস দেখতাম। রাত জেগে রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস পড়তেন মা। তাদের মুখেই আমি প্রথম লেখক রাবেয়া খাতুনের নাম শুনি। স্কুলজীবনেই রাবেয়া খাতুনের লেখার ভক্ত হয়ে যাই আমি। স্বপ্ন দেখতাম, কোনোদিন যদি ঢাকায় আসার সুযোগ পাই তাহলে প্রথমে রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে দেখা করব। কিন্তু এই সুযোগটা এভাবে হয়ে যাবে, কখনোই ভাবিনি।
বসে আছি প্রিয় লেখকের মুখোমুখি। তিনি হাসিমুখে বললেন, মিষ্টি খাও। আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি তার দিকে। কী মমতামাখা কণ্ঠ! যেন মায়ের সামনে বসে আছি। সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু হলো। প্রথম দিনেই বুঝলাম, লেখক হওয়া অত সহজ নয়। লেখক হতে গেলে অনেক কিছু জানতে হয়, পড়তে হয়। একজন লেখকের মূল শক্তি হলো তার শব্দের সমৃদ্ধ ভান্ডার। সাক্ষাৎকারে অসংখ্য শব্দের মালা গাঁথলেন রাবেয়া খাতুন। আমি অভিভূত। সাক্ষাৎকার শেষে আমার লেখালেখির খোঁজ নিলেন। বললেন, লেখালেখিও এক ধরনের উপাসনা। প্রতিদিন এক পাতা হলেও লিখবে। লেখার টেবিল আর কলমকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মুড়িয়ে রাখবে।
তার পর থেকে কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, আমাদের প্রিয় খালাম্মা আমার কাছে মা হয়ে উঠলেন। ফোন করলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করতেন, কী লিখছ? দেখা হলে কাছে ডেকে বলতেন- তোমার লেখার খবর কী? ভালো আছ? একটা সময় আমার এমন অবস্থা হয়েছিল যে, তার মুখের কথা শোনার জন্য হঠাৎ হঠাৎ ফোন দিতাম। এখনও ঘোর কাটেনি আমার। রাবেয়া খাতুন বেঁচে নেই; আমাদের খালাম্মা, আমাদের মমতাময়ী মা বেঁচে নেই- এটা যেন বিশ্বাস হয় না। জন্মের পর মৃত্যু অবধারিত। তবুও রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু মেনে নিতে পারি না। পরপারে, না ফেরার দেশে অনেক ভালো থাকবেন খালাম্মা। আমিন সুম্মা আমিন। আসুন না একবার পেছন ফিরে তাকাই। কিশোরী বয়সে পত্রিকায় লেখা পাঠিয়েছিলেন বলে রাবেয়া খাতুনের পরিবারে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল। বড়রা ভেবেছিলেন, একটি মেয়ের হাতের লেখা সংসারের বাইরের পুরুষদের দেখা অসামাজিক কাজের তুল্য। এই ঘটনা প্রমাণ করে নারী হিসেবে কী রকম অবরুদ্ধ সমাজের বাসিন্দা ছিলেন রাবেয়া খাতুন। এ অবস্থা থেকে উঠে এসে বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান লেখকের স্বীকৃতি পেয়েছেন রাবেয়া খাতুন। তার এই অনন্য দৃষ্টান্ত লেখকদের জন্য অনুকরণীয় এবং অবশ্যই অনুপ্রেরণার।
রাবেয়া খাতুনের হাসিমাখা মুখটাও সবার কাছে অনেক প্রিয়। আরও বেশি প্রিয় তার ছোটগল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনিসহ সাহিত্যের বিশাল জগৎ। রাবেয়া খাতুন অসংখ্য ছোটগল্প লিখেছেন। উপন্যাসের সংখ্যা দেড় শতাধিক। বিজয়ের ৫০ বছরে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার লেখা ফেরারি সূর্য, নীল নিশীত, বাগানের নাম মালনীছড়া, মেঘের পরে মেঘ, একাত্তরের নয় মাস, একাত্তরের নিশান তরুণদের পড়া উচিত।
সম্পাদক, আনন্দ আলো | 8 |
দীর্ঘ ছয় মাস কারাভোগের পর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ধানমন্ডি থানা সভাপতি শেখ রবিউল আলম রবি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। গত ১৮ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। শেখ রবিউল আলম রবি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-কলাবাগান-হাজারীবাগ-নিউমার্কেট) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য গত ১৭ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার একদিন পরই রবিকে আটক করে পুলিশ। তার নামে ১৬৫ টি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলায় জামিনের পর কাশিমপুর কারাগার থেকে সন্ধ্যায় মুক্তি পান তিনি। কারাগারের সামনে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী শেখ রবিউল আলম রবিকে স্বাগত জানান। | 9 |
রাজশাহী নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় ১১ হাজার কেভি লাইনে ট্রান্সফরমার বসানোর কাজ করছিলেন ২ শ্রমিক। এরমধ্য লাইনে সহসাই বিদ্যুৎ চলে আসে। জ্ঞান হারিয়ে তারা ঝুলছিলেন বিদ্যুতের খুঁটিতে। তবে কোমরে বেল্ট থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) বিদ্যুতের খুঁটিতে এ ঘটনা ঘটে। ২ শ্রমিক হলেন শামীম রেজা (২৫) ও আকবর আলী (৩৫)। তাদের বাড়ি নগরীর কাপাসিয়া এলাকায়। তারা দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিভিত্তিতে ঠিকাদারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ২০ মিনিট ঝুলে থাকার পর সহকর্মীরা তাদের নিচে নামিয়ে হাসাতালে নিয়ে যান। শঙ্কামুক্ত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ছেড়ে দেয়। জানা যায়, নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর অধীনে শ্রীরামপুর এলাকায় ট্রান্সফরমার বসানোর জন্য লাইনে কাজ চলছিল। এ কাজের জন্য দুপুর ১২টা থেকে ১ ঘণ্টার জন্য ১১ হাজার কেভি লাইনে শাটডাউন নেওয়া হয়। কিন্তু কাজ শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় লাইনে বিদ্যুৎ চলে আসে। তারপর দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে দুজন ঝুলছেন। তারপর স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন তাঁদের মই দিয়ে খুঁটি থেকে নিচে নামান। এর আগে ৬ ডিসেম্বর পাঠানপাড়া এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে শ্রমিক থাকা অবস্থায় সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়। এতে রেজাউল ইসলাম নামে নেসকোর এক সহকারী মারা যান। | 6 |
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সব প্রচেষ্টাই বিফলে চলে যাবে। তাই জঙ্গি দমনের মতই সুশাসন প্রশ্নে সরকারকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দল ও মুখ না দেখে আইনের কঠোর প্রয়োগ সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের আইনানুযায়ী নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে জাসদ জাতীয় কমিটির সভায় হাসানুল হক ইনু এসব বক্তব্য রাখেন। একমাত্র সুশাসনই পারে দলবাজী, গুণ্ডামী, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে। ইনু বলেন, ক্রবর্ধমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ও লিঙ্গবৈষম্য সামাজিক অশান্তি ডেকে আনছে। বৈষম্যের অবসানে সুশাসন ও সমাজতন্ত্রের বিকল্প নেই। জাসদ সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে নতুন পর্বের রাজনীতির চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, কেন্দ্রীয় নেতা মীর হোসাইন আখতার, অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ, রেজাউল করিম তানসেন, আবদুল হাই তালুকদার, সবেদ আলী, নুরুল আখতার, নাদের চৌধুরী, আফজাল হোসেন খান জকি প্রমুখ। | 9 |
কম বেশি সব মুভিপ্রেমিদের কাছে জনপ্রিয় ছবি হ্যারি পটার। পছন্দের মুভির চরিত্রের বিভিন্ন রং ঢংয়ে সাজেন দর্শক-ভক্তরাও। যা ভাবা তাই কাজ। হ্যারি পটারের জাদু-ঝাঁটার ওপর বসে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুই যুবক। ব্রাজিলের সাও পাওলোর রাস্তায় গাড়ির পাশাপাশি হ্যারিপটারের ঝাঁটার এমন কাণ্ড দেখে রীতিমতো অবাক সবাই। ভিডিওটি ইতোমধ্যে ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। বছর চল্লিশের ভিনিসিয়াস স্যাঙ্কটাস এবং আটাশ বছরের আলেসান্দ্রো রুশোর যান দেখে শনিবার চমকে গিয়েছিলেন সাও পাওলোর মানুষ। তারা দু'জনে হ্যারি পটারের ঢঙে বসেছিল ঝাঁটার উপর। ঝাঁটা দিয়ে তৈরি এই নতুন যানের তারা নাম দিয়েছেন 'ব্রুমস্টিক স্কুটার'। মোটরের সঙ্গে একটি চাকা যুক্ত রয়েছে এতে। তার মাধ্যমেই এগিয়ে যায় এটি। ঝাঁটার সামনের অংশ যে দিকে ঘোরানো হবে, সেই অনুসারে গতিপথ পরিবর্তন করবে 'ব্রুমস্টিক স্কুটার।' রুশো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই স্কুটার সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে ছুটতে পারে। বাড়ি থেকে কাজের জায়গায় যেতেই বুমস্টিক স্কুটার ব্যবহার করেন ভিনিসিয়াস এবং রুশো। তাদের আশা, আগামী দিনে পটার ভক্তরা এই স্কুটার নিয়ে আরও উৎসাহ দেখাবেন। | 2 |
জার্মানিতে ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অথচ, কোনো দল এখন পর্যন্ত পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে তেমন কোন আলোচনা তোলেনি, ইশতেহার দেয়নি। বিষয়টি মানতে না পেরে টানা তিন সপ্তাহ ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন তরুণ।ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির বার্লিনে চ্যান্সেলর ভবনের কাছাকাছি তাবু বসিয়ে তাঁরা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। হাতে আঁকা ব্যানারে পরিবেশের বর্তমান অবস্থা ও প্রত্যাশা তুলে ধরছেন। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী ছয়জন রয়েছেন। অনশনকারীরা এরই মধ্যে দুর্বল বোধ করলেও আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।এ তরুণদের অভিযোগ, প্রায়ই জার্মানি প্রায়ই বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। সঠিক উদ্যোগ নিলে এসব দুর্যোগ মোকাবিলা বা ক্ষতি কমানো খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। তবে দুই সপ্তাহ বাদে নির্বাচন হলেও কোনো দলের প্রার্থীই এ বিষয়ে তেমন কোন ইশতেহার বা বিজ্ঞানসম্মত সমাধান উপস্থাপন করতে পারেনি।' অনির্দিষ্টকালের অনশন' এর পরিণতি সম্পর্কে তাঁরা ভীত হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে ভয় আরও বেশি বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তাই তাঁরা এ সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।অনশনকারী জ্যাকব হেইঞ্জ (২৭) বলেন, 'আমি এটা করছি কারণ আমাদের সরকার তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হচ্ছে যা অকল্পনীয় ও ভয়াবহ। আমরা পানি, খাদ্য এবং ভূমির মতো সম্পদ নিয়ে সংগ্রামের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। এরই মধ্যে পৃথিবীর অনেক মানুষ এ বাস্তবতার মুখোমুখি। তাই বাবা, মা ও বন্ধুদের জানিয়ে দিয়েছি যে আর দেখা নাও হতে পারে।' একই উদ্দেশ্যে ক্যাম্প থেকে দূরে আরও চারজন তাঁদের অনশনে যোগ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।অনশনকারীদের মুখপাত্র হান্না লুয়েবার্ট বলেন, 'জলবায়ু সংকট একটি রাজনৈতিক সংকট এবং হয়তো আমাদের গণতন্ত্রেরও একটি সংকট। কারণ, প্রতি চার বছর পরপর নির্বাচন এবং আমাদের সংসদের মধ্যে তদবিরকারীদের ব্যাপক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রায়শই এই সত্যের দিকে নিয়ে যায় যে অর্থনৈতিক স্বার্থের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের সভ্যতা, আমাদের বেঁচে থাকা।'অনশনকারীদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন চ্যান্সেলর প্রার্থী (গ্রিন পার্টির অ্যানালেনা বেয়ারবক) ফোনে কথা বলেছেন। তিনি অনশনকারীদের অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও তা নাকচ করেছেন এ তরুণেরা। অন্য প্রার্থীরা যোগাযোগ করেননি বলেও তাঁরা হতাশা প্রকাশ করেন। | 3 |
টানা দুদিন করোনা শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৫৩ জন। করোনা মহামারি শুরুর পর এটি দেশটিতে এক দিনে করোনা শনাক্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত ২৪ ঘণ্টায় মালয়েশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৭ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৯১০ জন। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দা স্টার।নতুন শনাক্তের অর্ধেকই দেশটির ক্ল্যাং উপত্যকার। সেখানে শিলানগড়ে ৪ হাজার ২৭৭ জন নতুন শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া রাজধানী কুয়ালালামপুরে নতুন শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৮ জন।গতকাল শুক্রবার (৯ জুলাই) রেকর্ড সর্বোচ্চ ৯ হাজার ১৮০ জন শনাক্তের সংবাদ জানিয়েছিল দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর আগে করোনা শনাক্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল গত ২৯ মে। গত ২৯ মে করোনা শনাক্ত হয়েছিলেন সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২০ জন।পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় করোনায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ২৭ হাজার ১৯১ জন। এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ৬ হাজার ৬৭ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৭ হাজার ১০৩ জন।উল্লেখ্য, গত ১ জুন থেকে মালয়েশিয়ায় লকাডাউন কার্যকর হয়। পরে দুই সপ্তাহ বাড়ানোর পর দেশটিতে এই লকডাউন এখনো জারি রয়েছে। | 3 |
ঢাকার ধামরাইয়ে ৯ম ধাপে সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এ ইউনিয়নে ২৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের বিপরীতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আরও ৪ জন। এ ছাড়া সদস্য পদে প্রার্থী রয়েছেন মোট ৫৮ জন।জানা যায়, গত বছরের ১১ নভেম্বর ধামরাইয়ের ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণায় কয়েকটি ইউনিয়নে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটলেও নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। সূতিপাড়া ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষের ঘটনার খবর পাওয়া না গেলেও ভোটাররা আশঙ্কায় আছেন ভোট গ্রহণের দিন কী হবে?সূতিপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মো. পিয়াল হোসেন (২৫) আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ভোটের দিন কী হবে তা আসলে আমরা কেউ জানি না। আমরা আনন্দের সঙ্গে আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাই।'৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ কৃষক আফজাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। কোনো রাজনৈতিক দল করি না। কিন্তু কে চেয়ারম্যান হলে আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হবে, তা কিন্তু বুঝি। এখন শান্তিপূর্ণভাবে যদি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারি তাহলে সেই ভোট দিয়ে তৃপ্তি পাওয়া যায়। আমরা ভোটাররা চাই যেন সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারি। ভোটের সময় যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।'স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা। তিনি বলেন, আমি অতীতেও আমার ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে সাধারণ মানুষের যে সামান্য চাহিদা তা পূরণ করা তেমন আহামরি কিছু না। নিজের ইচ্ছাশক্তি থাকলেই তা পূরণ করা যায়।সাবেক চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'আমাকে জনগণ ভোট দিয়ে একবার চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। আমার সম্পর্কে তাঁদের ধারণা আছে যে আমি জনগণের জন্য কি করেছি। আমি শতভাগ আশাবাদী যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন।'আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম (রাজা) আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি আওয়ামী লীগের কর্মী। নৌকা প্রতীক নিয়ে গতবারও আমি নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম। আমি আমার ইউনিয়নবাসীর পাশে সব সময় ছিলাম আছি। আমি উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। করোনা মহামারি, বন্যাসহ সব সময় আমি জনগণের পাশে ছিলাম। সবাই আমাকে ভালোবাসে। এবারও জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।'এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাচন অফিসার আয়শা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তাঁরা তাঁদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখনো কোনো সংঘর্ষ বা কোনো প্রার্থীর প্রচারণার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আমরা পাইনি।' | 6 |
রাজবাড়ীর কালুখালীতে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচন করায় আট 'বিদ্রোহী' প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। গত সোমবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান নবাব ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম খায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৪৭ / ১১ ধারা মোতাবেক তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন মৃগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন সরদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাদশা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান সাগর মোল্লা। সাওরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার ঠান্ড, ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মাদ আলী বিশ্বাস, মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ হোসেন, মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মজনু এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম মৃধা।উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান বলেন, তৃতীয় ধাপের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় দলের সব পর্যায় থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।বহিষ্কৃত মৃগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন সরদার বলেন, এভাবে বহিষ্কার করার কোনো এখতিয়ার কারও নেই। আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর উত্তরও দিয়েছিলাম। পরে বহিষ্কারের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। | 6 |
ক্ষণিকের ভালোবাসা তীব্র হয়, বেশি দিলে হয় ক্ষয়। যাদের ভালোবাসায় মগ্ন এই মন, তারা দূরে থেকে আমার না হয়- শনিবার রাত ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেষ স্ট্যাটাস ছিলো মনিরুল ইসলামের (১৫)। স্ট্যাটাসের ২৫ ঘণ্টা পরই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে বিদায় নিতে হবে তা জানা ছিলো না। গ্রামের বাড়ি থেকে মা'কে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যাচ্ছিল বাড়িতে। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় মনিরুলের। রোববার রাত নয়টার দিকে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা সড়কের গৌরীপুরের বেলতলী এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয় একটি ট্রাক। নেত্রকোনার দুর্গাপুরগামী সিএনজি চালিত অটোরিকশাটিকে পেছন থেকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিন ব্যাক্তি নিহত হন। আহত হন নারীসহ আরও দুই জন। নিহতদের একজন- মনিরুল ইসলাম। সে দুর্গাপুর উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের ভ্যাকু চালক মনসুর খানের ছেলে। মনিরুল ইসলামের মোহাম্মদপুর এলাকার আদাবর আইডিয়াল স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। জানা যায়, পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকাতেই বসবাস করতো মনিরুল। মা আকলিমা খাতুন গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়িতে যাচ্ছিলো মনিরুল। বাস থেকে ময়মনসিংহ শহরে নামার পর বাড়িতে ফোনও করে সে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই পুলিশের এক ফোনে সব এলোমেলো হয়ে যায় পরিবারটির। মনিরুলের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পৌঁছানো হয় পরিবারটির কাছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা সড়কের শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় মনিরুলের বাবা মনসুর খানের সঙ্গে। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ মনসুর খান। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলো মনিরুল। আদরের সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা যেনো কোনো দিশা পাচ্ছিলেন না। রাত ১২টার দিকে পুলিশি কাজ শেষ করে মনিরুলের লাশ তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের বাবা মনসুর খান বলেন, 'ওর (মনিরুল) মাকে নিতে বাড়িতে আতেছিল। কিন্তু বাড়িতে আর যাওয়া হয়নি। নিয়ে যেতে হচ্ছে সন্তানের লাশ।' নিহতের চাচা মো. লিটন মিয়া বলেন, 'বাড়ি যাওয়ার পথে মনিরুলদের বহনকরা সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে বেপরোয়া গতির ট্রাক চাপা দিলে তার ভাতিজার মৃত্যুর হয়। অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল ছিলো মনিরুল।' শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সারোয়ার হোসেন বলেন, পেছন থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। এক স্কুলছাত্রের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
ঝিনাইদহে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রাস্তায় বের হচ্ছে মানুষ। নানা অজুহাতে ইজিবাইক, অটোরিক্সা, অটোভ্যান, মোটর সাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। এদিকে, লকডাউন কার্যকরে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। সকালে শহরের হামদহ দোয়েল চত্বর মোড়, পোস্ট অফিস মোড়, চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ডের মুজিব চত্বর, পাগলাকানাই মোড়, আরাপপুর বাসষ্ট্যান্ডসহ শহরের বিভিন্ন মোড়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চেকপোস্টে চলাচলকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়াও বিনা কারণে আসা ব্যক্তিদের বাড়িতে ফেরত পাঠানো এবং স্বাস্থ্য বিধি মানতে নানা রকম পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন বিষয়ে শুনানির জন্য ১১ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে হাজির করে পুলিশ। গত শনিবার সাইফুলকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরআগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিং আইডিতে বিনিয়োগ করে প্রতারিত আঁখি বেগম নামের এক ভুক্তভোগী গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাইফুল ইসলামসহ ১০ জন এবং অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সাইফুল ইসলাম ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- শরিফুল ইসলাম, ইরিন ইসলাম, সালাহউদ্দিন, আহসান হাবিব, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, আব্দুস সামাদ, রেদোয়ান রহমান ও রাহুল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বলেন, রিং আইডি প্রাথমিকভাবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে তারা এ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সার্ভিস যোগ করে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেছে। এসব সার্ভিসের ভেতরে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, কমিউনিটি জবসসহ বিভিন্ন সার্ভিস, যার আড়ালে এ আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এ খাতে বিনিয়োগ করে। | 6 |
গোদাগাড়ী (রাজশাহী): গোদাগাড়ী উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ভোরে গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।আটকরা হলেন-পৌরসভার সারাংপুর এলাকার রানা (২৪) ও আমিন (২২) বাগানপাড়া মহল্লার মো. ছানা (২৮), লালবাগের সুমন (২৫) এবং তৌফিক (২০)।গোদাগাড়ীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকায় কিশোররা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।ওসি জানান, আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাঁদের আদালতেও পাঠানো হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযান চলবে বলেও জানান ওসি। | 6 |
সাভারের আশুলিয়ায় রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে। শনিবার হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্রগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির লিফলেট বিতরণকালে আশুলিয়ায় বসবাসরত পার্বত্য অঞ্চলের নাগরিকেরা তাদের আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন , বিকালে কান্তময় ওরফে রিপন চাকমা ও সুনিল ওরফে রিপন ত্রিপুরা নামের দুই ব্যক্তি হিল উইমেন্স ফেডারশনের ও চট্রগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে উৎস্কানিমূলক লিফলেট বিতরণ করছিল আশুলিয়ায় বসবাসরত পার্বত্যাঞ্চলের নাগরিকদের মধ্যে। এসময় তাদের আটক করা হয় এবং রাঙ্গামাটিতে নানিয়ারচর এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ওই দুই জনের নাম জানার পর জানান তারা দুজনই শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার আসামি। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশকে খবর দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটক দুজনের বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন রাঙ্গামাটি থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/ ই-জাহান | 6 |
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, সম্প্রতি নতুন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া কনস্টেবল নিয়োগে জব মার্কেট থেকে বেস্ট অব দি বেস্ট প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার পদে নিয়োগেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ সময় আইজিপি বলেন, পরিবর্তিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট ও কনস্টেবল নিয়োগের ফলে জব মার্কেট থেকে বেস্ট অব দি বেস্ট লোক আসবে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে পরিবর্তিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কিত এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।এতে আরও বক্তব্য দেন- ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. খলিলুর রহমান, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন। পুলিশপ্রধান বলেন, আমরা মেধার পাশাপাশি শারীরিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করছি। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে মানুষ এক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখবেন। তিনি বলেন, নতুন প্রক্রিয়ায় কনস্টেবল নিয়োগ ছিল একটি দুঃসাহসিক কাজ। | 6 |
পাকিস্তানে ধর্ষণবিরোধী এক নতুন অধ্যাদেশে সই করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। ফলে, এটি আইনে পরিণত হওয়ার পথ সুগম হলো। ধর্ষণের মামলার বিচার দ্রুত করা ও সাজা আরও কঠোর করার লক্ষ্যে করা হয়েছে এ আইন। খবর বিবিসির। নতুন আইনের আওতায় ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামের একটি জাতীয় তালিকা তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম-পরিচয় গোপন রাখার বিষয় নিশ্চিত করা ও কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষককে রাসায়নিক পদ্ধতিতে বন্ধ্যাকরণ করা হবে। এ আইন কার্যকর হলে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত ধর্ষণ মামলার শুনানি করবে। আর চার মাসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাহোরের কাছে এক নারীকে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর সম্প্রতি ওই অরডিন্যান্স জারি করা হয়। পরে প্রেসিডেন্ট তাতে সই করলেন। লাহোর অভিমুখী একটি সড়কের পাশে ওই নারীকে তাঁর দুই শিশুসন্তানের সামনে ধর্ষণ করা হয়। ওই নারী পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনা মানুষকে হতবাক করে দেয়। শুরু হয় দেশজুড়ে প্রতিবাদী বিক্ষোভ। প্রতিবাদ থামাতে সরকার ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর মন্ত্রিসভা গত মাসে নতুন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি তাতে অনুমোদন দেন। নতুন এ পদক্ষেপ পার্লামেন্টে পেশ ও তা স্থায়ীভাবে আইনে পরিণত করতে সরকারের হাতে ১২০ দিন সময় আছে। এরপর সেটি কার্যকর হবে। কেউ কেউ নতুন পদক্ষেপের সমালোচনাও করেছেন। তাঁরা বলছেন, আইনে যে সাজার কথা বলা হয়েছে, তা অতি কঠোর। এটি অনুমোদন করার আগে প্রয়োজনীয় সলাপরামর্শ করেননি সরকারি কর্মকর্তারা। বিভিন্ন দেশে যৌন অপরাধীদের সাজার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে বন্ধ্যাকরণের মতো পদক্ষেপ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যেমন শিশু ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খোঁজাকরণে ২০১৬ সালে আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়া। আর ২০০৯ সালে পোল্যান্ডে শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য এই সাজা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানে কয়েক বছর ধরেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। ২০১৫ সালে প্রত্যন্ত একটি গ্রামে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। পরে সেই দৃশ্য ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনলাইনে এ রকম দৃশ্য ছড়িয়ে দেওয়া ঠেকাতে দেশটিতে এত দিন কোনো আইন ছিল না। | 3 |
৪০ বছর বয়সে সদ্য প্রয়াত হয়েছেন ভারতীয় অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লা। তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিনোদন সংবাদপত্রে আলোচনার শেষ নেই। তাঁর মৃত্যুকে নানা দিক থেকে রগরগে করে তোলার চেষ্টা চলছে। এ পরিস্থিতিতে আজ তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে সিদ্ধার্থের ভক্তদের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছে তারা।সিদ্ধার্থের পরিবার লিখেছে, 'সিদ্ধার্থের সফরের যাঁরা সঙ্গী ছিলেন আর যাঁরা ওকে গভীর ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তবে এই সফর কখনোই শেষ হওয়ার নয়। কারণ, ও আমাদের হৃদয়ে সারা জীবন জীবন্ত থাকবে।' বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, 'সিদ্ধার্থ ওর জীবনকে একান্তে রাখতে পছন্দ করত। আর তাই অনুরোধ, আমাদের এই শোকের সময় "একান্তে" থাকতে দেওয়া হোক। আমাদের প্রতি যে সংবেদনশীলতা আর সহানুভূতি মুম্বাই পুলিশ দেখিয়েছে, তার জন্য তাদের বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাতে চাই। মুম্বাই পুলিশ এই সময় ঢাল হয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিটা মুহূর্তে আমাদের তারা রক্ষা করেছে। অনুগ্রহ করে ওকে (সিদ্ধার্থ) আপনাদের প্রার্থনার মধ্যে বাঁচিয়ে রাখুন। সারা জীবন ওকে স্মরণ করুন।-শুক্লা পরিবার।' সিদ্ধার্থের মা রিতা শুক্লা আর দুই বোন প্রীতি, নিতু আজ সন্ধ্যায় সিদ্ধার্থের জন্য অনলাইনে এক প্রার্থনাসভার আয়োজন করেছেন। এই সভায় তাঁর ভক্তরাও যোগ দিতে পারবেন। মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সিদ্ধার্থ। 'বাবুল কা আংগন ছুটে না' টেলিভিশন ধারাবাহিক থেকে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। 'বালিকা বধূ' ধারাবাহিক তাঁকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল। রিয়েলিটি শো 'বিগ বস ১৩'-এর সবচেয়ে পছন্দের প্রতিযোগী ছিলেন সিদ্ধার্থ। তিনি এই সিজনে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২ সেপ্টেম্বর সিদ্ধার্থ শুক্লার মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তদন্তে মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে যে তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক। পুলিশ জানিয়েছে, হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। | 2 |
সচরাচর গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী বলা হয় তাঁদের উভয়কে। ক্রমে মধ্যপন্থী অবস্থা থেকে বাম দিকে সরে এসেছেন তাঁরা। এ রকম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ইউরোপ-আমেরিকায় আগেও ছিল। তবে গত পাঁচ-ছয় বছর জেরেমি করবিন ও বার্নি স্যান্ডার্সের উত্থান আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। এ লেখা তৈরির সময় যুক্তরাষ্ট্রে বিলিয়নিয়ার রয়েছেন ৫৮৫ জন এবং যুক্তরাজ্যে ৫৪ জন। উভয় দেশ মিলিয়ে মিলিয়নিয়ার ৮ হাজারের বেশি। তাঁরা বিশ্ব পুঁজিতন্ত্রের অভিভাবকতুল্য। এ রকম দুই জনপদে বসে মুনাফাবাদের কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলছেন স্যান্ডার্স ও করবিন। এ সাহস ও ঔদ্ধত্য দেখছে পুরো বিশ্ব। কিন্তু করবিন ও স্যান্ডার্সের আবির্ভাব কি আদৌ ইউরোপ-আমেরিকার সমাজজীবনে কোনো পরিবর্তন আনতে পারল? করবিনের মতো স্যান্ডার্সও কি আশার মরীচিকা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত হারিয়ে যাবেন? এসব নিয়ে পর্যালোচনার শেষ নেই। অদম্য স্যান্ডার্স করবিন ও স্যান্ডার্সের মধ্যে দ্বিতীয়জনকে নিয়েই বিশ্ব সংবাদমাধ্যম মেতে আছে এ মুহূর্তে। যুক্তরাষ্ট্রের বছর শেষের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গতবার যে যুদ্ধে তিনি হিলারির কাছে হেরেছিলেন। এ লেখা তৈরির সময় পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের শিবিরের ১৯টি 'প্রাইমারি' ও 'ককাস'-এর ৭টিতে জিতেছেন স্যান্ডার্স। ১০টিতে ভিন্ন প্রার্থীরা জিতেছেন। দুটি প্রায় সমান সমান। মনোনয়নের চূড়ান্ত লড়াইয়ে জন্য প্রায় দুই হাজার 'ডেলিগেট' জোগাড় করার লক্ষ্য থাকে একজন প্রার্থীর। সেই দৌড়ে দলের ভেতর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন আর স্যান্ডার্সের ব্যবধান এখন সামান্য। ১০-এর বেশি প্রার্থী থাকলেও ইতিমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে দুজনের লড়াইয়ে পরিণত করেছেন স্যান্ডার্স। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারিতে দলে তাঁর প্রতি সমর্থন ৮ ভাগ বেড়েছে। 'প্রাইমারি'তে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াতে জিতে চমক দেখিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার বিজয় ডেলিগেটের হিসাবও বদলে দিচ্ছে। তারপরও স্যান্ডার্সকে নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে দলটিতে। তিনি এমন সব অর্থনৈতিক সংস্কারের আওয়াজ তুলেছেন, যা ধনীদের জন্য অস্বস্তিকর। রিপাবলিকানদের মতোই ডেমোক্রেটিক দলও ওই জগৎকে চটাতে অনিচ্ছুক। কিন্তু স্যান্ডার্স মুখর। তাঁর বয়স এখন ৭৮। কয়েক দিন আগেই এক দফা হৃদ্রোগে পড়েছেন। থামতে নারাজ এই অদম্য বুড়ো। তিনি পুরোনো ডেমোক্র্যাট নন। কিন্তু 'বহিরাগত' হলেও দলটির নিচুতলার সমর্থকভিত্তি এখন তাঁর সঙ্গে বলেই মনে হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের রক্ষণশীল অংশ তাঁকে হারাতে সব ভেদাভেদ ভুলে বাইডেনকে সামনে রেখে জোট বাঁধতে শুরু করেছে। স্যান্ডার্সের সামনে সমস্যাটি কেবল ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন পাওয়া নয়, ট্রাম্পকে তিনি হারাতে সক্ষম কি না, সে প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হচ্ছে তাঁকে। ট্রাম্পকে নিয়ে ক্লান্ত বিশ্ব চাইছে ২০২১-এ হোয়াইট হাউসে ভিন্ন মুখ আসুক। তবে এই প্রত্যাশায় খানিকটা পানি ঢেলে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল। স্যান্ডার্স ও ব্রিটিশ নির্বাচন তবে করবিন এখনো যুক্তরাজ্যে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা। লেবার দলের প্রধান হিসেবে আছেন এখনো। পরিবর্তনবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে ইউরোপের ইতিহাস তাঁকে বহুকাল স্মরণে রাখবে। কিন্তু তাঁর আমলের শেষে দলের ভোট কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। আসন কমেছে ৬০টি। ফলে তাঁকে যেতে হবে। দলটি নতুন কাউকে নেতা নির্বাচন করা মাত্র করবিনের বিদায় ঘটবে। লেবারদের ১২০ বছর পূর্তি হচ্ছে এ মাসে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই নতুন নেতা বেছে নেবে তারা। ফলে স্যান্ডার্সের মতো বিশ্ব প্রচারমাধ্যমের মনোযোগে নেই করবিন এখন। একজন সাধারণ সংসদ সদস্যের জীবনে চলে যাচ্ছেন তিনি। হয়তো পুরোনো অতীতের মতো মানবাধিকার বিষয়ে উচ্চকিত থাকবেন, কিন্তু ২০১৯-এর ব্রিটেনে তিনি প্রগতিশীল আর্থসামাজিক কর্মসূচির পক্ষে যে রাজনৈতিক মনোযোগ তৈরি করেছিলেন, তাকে হারিয়ে দেওয়া গেছে। ফরেন পলিসি জার্নাল বলছে, করবিন এতটাই বাম দিকে মোড় নিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে তাল মেলানো ব্রিটেনবাসীর পক্ষে কঠিন ছিল। দলেও ঐকমত্যের অভাব ছিল। ভবিষ্যতে যিনিই লেবার দলের নেতা হবেন, তাঁর ওপর চাপ তৈরি হয়ে আছে দলকে নির্বাচনে জয়ের উপযোগী করার। করবিনের ছায়া থেকে বের হতে চাইবে লেবার নেতৃত্ব। বাজার জরিপ প্রতিষ্ঠান 'ইউগভ' সদ্য দেখাল, ১৪ শতাংশ লেবার সদস্য কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপসে রাজি নন। কিন্তু দলকে ক্ষমতায় দেখতে আদর্শ নিয়ে অল্পবিস্তর আপস করতে তৈরি প্রায় ৮২ শতাংশ। স্পষ্ট যে করবিনের পর লেবার দলে নীতিগত পরিবর্তন ঘটতে থাকবে। পরাজয়ে পরাজয়ে ক্লান্ত তারা। করবিনবাদের ভবিষ্যৎ তাই আপাতত উজ্জ্বল নয় আর। এমনকি তাঁর অনুসারী রেবেকা লং-বেইলে নেতা হলেও। তবে স্যান্ডার্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা উঠলেই করবিনের প্রসঙ্গ আসছে। আমেরিকার আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এমন ঘটবে। ওই নির্বাচনের ফল দ্বারা ব্রিটেনে করবিনবাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আরেকবার। ব্রিটেনের নির্বাচনী ফল স্যান্ডার্সের জন্যও খারাপ হয়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে মাত্র দুই মাসে সেই ধাক্কা সামলে উঠেছে তাঁর প্রচার দল। করবিনবাদ-স্যান্ডার্সবাদ ২০১৭ সালে ব্রিটেনে এক সফরে এসে বক্তৃতাকালে করবিনের প্রশংসা করেছিলেন ৮ বছরের জ্যেষ্ঠ স্যান্ডার্স। করবিন তখন দেশ-বিদেশে ব্রিটেনের নীতিকৌশল নিয়ে প্রবল প্রশ্ন তুলছিলেন। লেবার দলকেও ভেতর থেকে পাল্টাতে শুরু করেন। স্যান্ডার্সের জন্য সেটাই ছিল সংহতির জায়গা। তাঁকেও আমেরিকায় 'ডেমোক্র্যাট' এলিটদের বিরুদ্ধে লড়ে দলে জায়গা করতে হয়েছে। দুজনের প্রধান মিলের জায়গা তাঁরা কাজটিতে কিছুটা সফল। মাঠপর্যায়ে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীগুলো এবং কালো ও মিশ্র বর্ণের মানুষদের সংগঠিত করে এ পরিবর্তন ঘটানো গেছে। করবিন তরুণদের ব্যাপক হারে রাজনীতিতে এনেছেন। ২০১৫-এর আগস্টে দলটিতে পূর্ণ সদস্য ছিল ৩ লাখের কম। এখন ৫ লাখের বেশি। স্যান্ডার্সও আমেরিকার শ্রমজীবীদের একাংশকে আবার ডেমোক্র্যাট শিবিরে জড়ো করছেন। যাঁরা করপোরেটবান্ধব নীতির কারণে এ দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন একদা। স্যান্ডার্সের লক্ষ্য দুই কোটি নতুন ভোটার। করবিন ও স্যান্ডার্সের এ কৌশলের সাংগঠনিক তাৎপর্য অনেক। ডেমোক্রেটিক পার্টি ও লেবার পার্টিতে কাঠামোগত গণতন্ত্রায়ণ বেড়েছে। এর আর্থিক ফলাফলও ইতিবাচক। ২০১৭ সালে লেবারদের সদস্য চাঁদা ছিল রক্ষণশীল দলের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। পরের বছর সদস্যদের থেকে দলের আয় আগের চেয়ে প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড বেড়েছে। সদস্য চাঁদা দিয়েই ইউরোপের অন্যতম সচ্ছল পার্টি এখন তারা। স্যান্ডার্সও 'গরিব' সমর্থকদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানে বিশাল এক নির্বাচনী তহবিল গড়ে তুলেছেন। জানুয়ারিতে তিনি ২৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল পেয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। বৃদ্ধিটি চোখে পড়ার মতো। করবিনের মতো স্যান্ডার্সের টিমে রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ একদল কর্মীগোষ্ঠী। তবে অনেক সময় এই কর্মীরা 'গোত্র'-এর মতো রক্ষণশীল আচরণ করে ফেলে, যার ফলে দলে গোষ্ঠী-সংঘাতও বাড়ে। এ কারণেই হিলারি ক্লিনটনের সমর্থক গোষ্ঠীসহ ডেমোক্র্যাটদের রক্ষণশীল ধারা স্যান্ডার্সবাদকে 'প্রতিবিপ্লব' হিসেবে দেখছে এখন। করবিনবাদ যেভাবে লেবার দলে অভ্যন্তরীণ আদর্শিক সংঘাত বাড়িয়েছে, স্যান্ডার্সবাদও তাই। তবে সমাজের নিচুতলায় করবিন ও স্যান্ডার্সের আবেদন অনেক। এর কারণ, উভয়ে অর্থনৈতিক অসাম্য ও শ্রেণিভেদ নিয়ে আলাপ তুলতে পছন্দ করেন। উভয়ে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে চান। শিক্ষার্থীদের বেতন কমানো বা তুলে দেওয়ারও পক্ষে উভয়ে। স্যান্ডার্স মনে করেন, 'এগুলো কেবল আমেরিকার বিষয় নয়, অন্যান্য দেশেরও বিষয়; বিশ্বের ৯৯ শতাংশের স্বার্থ আছে এতে।' করবিন রেলওয়ের জাতীয়করণ চেয়েছিলেন। জনস্বাস্থ্যের দায়িত্বও রাষ্ট্রের বলে মনে করতেন। স্যান্ডার্সের বড় ইস্যু নিম্নতম মজুরি হার বাড়ানো। এভাবেই দুজন রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গা 'মধ্য-ডান' থেকে 'মধ্য-বাম' অবস্থানে টেনে আনায় সফল। তবে উভয়ের রয়েছে একই রকম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। পিউ গবেষণা কেন্দ্রের হিসাবে আমেরিকার ২৭ শতাংশ মানুষ এখন নিজেদের ডেমোক্রেটিক সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেয়। রিপাবলিকান পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা ৩০ শতাংশ। ৪২ শতাংশ বলেছেন তাঁরা স্বতন্ত্র ও সিদ্ধান্তহীন। আদর্শিক দিক থেকে আমেরিকা একটা মধ্য-ডান চরিত্রের দেশ। বহুকাল ধরে এখানে সমাজতন্ত্রকে ভীতিকর বিষয় হিসেবে প্রচার চালানো হয়। মার্টিন লুথার কিংকেও 'কমিউনিস্ট' বলে কোণঠাসা করা হতো। এ রকম দেশে স্যান্ডার্সের মতো বামদের প্রেসিডেন্ট হওয়া দুরূহ। যেভাবে রক্ষণশীল ভাবাদর্শের ব্রিটেন করবিনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়নি। ফলে করবিনের আদর্শ আসলে অজনপ্রিয় বরিস জনসনকে সাহায্য করেছে কি না, সে প্রশ্ন আছে। যেভাবে স্যান্ডার্সের মনোনয়নও ট্রাম্পের জন্য উপহারস্বরূপ হয়ে উঠতে পারে। অনেক ডেমোক্র্যাট তাই বলছেন, স্যান্ডার্সকে মনোনয়ন দেওয়া আসলে ট্রাম্পকে আগাম জেতানো। এসব অভিমত অবশ্যই অতি বিতর্কিত। তবে সারবত্তা আছে তাতে। করবিনের সঙ্গে স্যান্ডার্সের আরেক মিল নির্বাচনী প্রচারণায় করপোরেট জগতের পাশাপাশি উভয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল ও ভারত। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে থাকা সব ইহুদি ও ভারতীয় বংশজাত ট্রাম্পের সমর্থক নন, কিন্তু বিজেপি ইতিমধ্যে স্যান্ডার্সের বিরুদ্ধে নামার হুমকি দিয়ে রেখেছে। বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক বি এল সন্তোষ ২৭ ফেব্রুয়ারি টুইটারে এ হুমকি দেন। স্যান্ডার্স দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা করতে ট্রাম্পের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সে কারণে বিজেপি ক্ষুব্ধ। ২০১৯-এর নভেম্বরে একইভাবে করবিনের বিরুদ্ধে প্রচারে নামে ওএফবিজেপি (ওভারসিজ ফ্রেন্ড অব বিজেপি)। অন্তত অল্প কয়েকটি আসনে লেবার দলের পরাজয়ে ব্রিটেনের ১৪ লাখ ভারতীয় বংশজাত ভোটারের মৃদু ভূমিকা ছিল। সেই তুলনায় ইসরায়েল করবিনকে ভুগিয়েছে বিপুলভাবে। স্যান্ডার্স সম্প্রতি নির্বাচনী এক বিতর্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে 'প্রতিক্রিয়াশীল বর্ণবাদী' বলে যেন মৌচাকে ঢিল মারলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেম থেকে তেলআবিবে ফেরানোরও পক্ষে। এটা শোনা ইসরায়েলের পক্ষে দুঃসহ। লেবার দলের অনেকে মনে করেন, নির্বাচনের আগে করবিন ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ালেই ভালো করতেন। সংবাদমাধ্যম জগতে ইসরায়েলের প্রভাব বিপুল। করবিনের মতো স্যান্ডার্সকেও এখন বিশাল এ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। বিদেশনীতি বনাম অর্থনীতি দেশ-বিদেশের সব প্রতিপক্ষের মিলিত চেষ্টায় করবিনের রাজনৈতিক ভাগ্য আপাতত নির্ধারিত হয়ে গেছে। স্যান্ডার্স সম্পর্কে এখনো সে রকম চূড়ান্ত কথা বলার সময় আসেনি। করবিন লেবার দলে টনি ব্লেয়ারের মতো প্রভাবশালী পুরোনোদের অনুসারী দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছেন। যাঁরা মনে করেন, করবিনের রাজনীতি 'পশ্চিমা মূল্যবোধের বিরোধী'। স্যান্ডার্সও একই আদর্শিক কারণে হিলারি-ওবামার মতো প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটদের অসহযোগিতার মুখে আছেন। করবিনকে দলের ভেতর থেকে অনেক অন্তর্ঘাত সামলাতে হলেও লেবার দলে প্রচুর বামপন্থী সংগঠক আছেন এখনো। কিন্তু স্যান্ডার্স এমন একটি দলের মনোনয়ন চাইছেন, যেটা মোটেই বামপন্থীদের দল নয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের উপাত্ত অনুযায়ী ডেমোক্রেটিক পার্টিতে মধ্যপন্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এমনকি অন্তত ১৫ শতাংশ সদস্য রক্ষণশীল আদর্শের। এ রকম সদস্যরা স্যান্ডার্সের 'বিনা খরচের স্বাস্থ্যসেবা' ও 'বিনা মূল্যের শিক্ষা'য় কতটা আগ্রহী হবেন, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। এখন পর্যন্ত স্যান্ডার্স মনোনয়নের দৌড়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও তাঁর পক্ষে এমন কোনো জনজোয়ার বইছে না, যা ট্রাম্পকে নিশ্চিতভাবে ধরাশায়ী করবে। তবে স্যান্ডার্স মনে করেন, তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা একধরনের 'চলমান বিপ্লব'। করবিন 'বৈপ্লবিক পরিবর্তন' আনতে চেয়েছিলেন মুখ্যত ব্রিটেনের বিদেশনীতিতে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে স্যান্ডার্সের চেয়ে তাঁকে বেশি আগ্রহী ও র্যাডিক্যাল মনে হয়েছিল। ভোটাররা তাতে আগ্রহ দেখাননি। কিন্তু তাতে যুদ্ধ থামছে না। নেতৃত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার মুহূর্তেও লেবার দলকে 'করবিনবাদ' থেকে পরিশুদ্ধ করতে ব্রিটেন-আমেরিকার প্রধান প্রধান প্রচারমাধ্যমে চেষ্টায় কমতি নেই আজও। বোঝা যাচ্ছে, করবিনের ছায়ার সঙ্গেও যুদ্ধ চলবে। সে কারণেই হয়তো, স্যান্ডার্স বিদেশনীতি নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক আমলাতন্ত্রকে খ্যাপাচ্ছেন কম। তাঁর প্রচার আন্দোলনের মূল মনোযোগ অর্থনৈতিক। শ্বেতাঙ্গ 'পরিচয়ের রাজনীতি' আমেরিকার ধনীদের সংগঠনগুলো স্যান্ডার্সসূচিত 'বিপ্লব'-এর বিপরীতে দাঁড়াবেন, এটা বোধগম্য। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের বড় একাংশও তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তিতে যে সোচ্চার, এটা বেশ কৌতূহলময়। প্রাইমারির আগে আগে তাঁরা দলের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বলছেন, বেশি বামপন্থী কাউকে সমর্থন দিয়ো না। স্যান্ডার্সকে মনোনীত করলে ব্রিটেনের মতো ঘটনা হবে। করবিনের অধীনে লেবার দল যেভাবে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে, সেভাবেই ট্রাম্পের কাছে ডেমোক্র্যাটরা হেরে যাবেন স্যান্ডার্সের কারণে। বড় ধনীরাও দলটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমও একই আচরণ করবে। এসব যুক্তি দিয়েই স্যান্ডার্সবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে 'ক্ষতিকর' মনে করছেন। ডেমোক্র্যাট দলকে 'মধ্যপন্থী' কোনো প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে নামানো উচিত, এ রকম প্রার্থীই রিপাবলিকান ট্রাম্পকে হারাতে পারবেন বলে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের যুক্তি। তাঁদের বক্তব্যের সামাজিক সত্যতা খুঁজতে গিয়ে এক জরিপে (গ্যালাপ, মে ২০১৯) দেখা গেল, এ মুহূর্তে একজন সমকামী বা নাস্তিক এমনকি একজন মুসলমানকেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে পারে সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকা; কিন্তু ৫৩ শতাংশ নাগরিক সমাজতন্ত্রীদের ওই পদে দেখতে অনিচ্ছুক। সম্ভবত এ কারণেই ট্রাম্প ও রিপাবলিকান শিবির চাইছে স্যান্ডার্সের মতো প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভালো। ব্রিটেনে করবিনের পরিণতি তাদের উৎসাহ দিয়েছে। তবে করবিন কেবল উচ্চ ধনীদের বিদ্বেষের শিকার নন, পাশাপাশি শ্রমজীবীরাও তাঁকে ভোট দেননি। এ হিসাবটা বড় অদ্ভুত। করবিন যাঁদের জন্য এবং যাঁদের স্বার্থে গত কটি বছর লড়েছেন, তাঁরা লেবারদের ভোট দেননি। তিনি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান প্রশ্নে ছিলেন সবচেয়ে সোচ্চার। বেকারত্ব কমানো তাঁর বড় কর্মসূচি ছিল। কিন্তু ব্রিটেনের যেসব এলাকায় এ রকম ভোটার বেশি, সেখানে লেবার দল হেরেছে বিপুল ভোটে। এই ভোটাররা প্রভাবিত হয়েছেন শ্বেতাঙ্গ 'পরিচয়ের রাজনীতি' দ্বারা। আমেরিকায়ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের আবেগ প্রবল এ মুহূর্তে। সমাজে রিপাবলিকানদের সংখ্যাও কম নয়। ট্রাম্প-শিবির যে শরণার্থীবিরোধী রাজনীতি করছে, সেটা ভেবেচিন্তেই। করবিন ইরাক থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত বিদেশনীতি পাল্টানোর কথা জানাচ্ছিলেন বারবার। কিন্তু সেসব কর্মসূচির চেয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে 'ব্রিটেনের গৌরব পুনরুদ্ধারে'র রক্ষণশীল রাজনীতি বেশি পছন্দ করেছে নিম্নবিত্ত সমাজ। রাজনীতিবিদ্যার জন্য এটা এক নতুন শিক্ষা। প্রশ্ন উঠেছে, স্যান্ডার্সও একই আবেগের কাছে পরাস্ত হবেন কি না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার সময় আসেনি অবশ্য এখনো। যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রেসিডেন্ট? ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারি ও ককাসের ভোটাভুটি শেষ হবে জুন নাগাদ। তখনই কেবল স্যান্ডার্সের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। মনোনয়ন পেলে, তারপর থাকছে চূড়ান্ত ভোটের হিসাব। ফলে ব্যক্তি স্যান্ডার্সের জন্য ইনিংসের অনেকখানি এখনো বাকি। করবিন হেরে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একধরনের অস্পষ্ট ও মধ্যপন্থী দোদুল্যমানতা। তিনি সামাজিক ইস্যুগুলোতে যতটা স্পষ্ট ছিলেন নির্বাচনের প্রধান প্রসঙ্গে, ততটাই ছিলেন সিদ্ধান্তহীন। অথচ এটাই ছিল নির্বাচনের প্রধান ইস্যু। স্যান্ডার্স অধিকাংশ প্রধান নীতিগত বিষয়ে দ্বিধাহীন। ডেমোক্রেটিক পার্টির পুরোনো ভুলগুলোর বোঝা বইতে একদম নারাজ তিনি। এমনকি গত নির্বাচনী যুদ্ধে নিজের ভুলগুলো থেকে শিখেছেন অনেক। ২০১৬-তে হিলারির বিরুদ্ধে তিনি ভরসা করেছিলেন মূলত শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের ওপর। কাজ হয়নি। এবার প্রাইমারি ও ককাস জিততে স্প্যানিশ ও কালোদের কাছে টানতে চাইছেন বেশি। এখনো দলে কালোদের মধ্যে তাঁর সমর্থন আশানুরূপ নয়। তাঁরা জো বাইডেনকে পছন্দ করছেন। স্যান্ডার্সের প্রধান বৈশিষ্ট্য, পরিবর্তন প্রশ্নে অতি উচ্চাভিলাষ। তবে তাঁর মধ্যে মধ্যপন্থী অস্পষ্টতা কম। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে লুকোচুরি করেন না। যেমন, জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় অর্থনীতির আমূল রূপান্তরের জন্য 'গ্রিন টেকনোলজি'র পক্ষে বলছে তিনি। যেখানে অর্থনীতি হবে প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎবান্ধব। এ কর্মসূচির জন্য ৫০ ট্রিলিয়ন ডলার দরকার। এ বিনিয়োগ যে নানা উপায়ে বিত্তশালীদের ওপর বাড়তি কর থেকে আসবে, তা-ও হিসাবপত্তর করে জানিয়ে দিয়েছেন ইতিমধ্যে। এ রকম বহুমুখী করের পদধ্বনি আছে তাঁর প্রচারে। এতে করবিনের মতোই তিনিও ক্রমে চারদিক থেকে আক্রমণে পড়ছেন। গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রে যে উচ্চবিত্তদের অসুবিধা, সেটা বোঝা গিয়েছিল করবিনের বিরুদ্ধে বহুপক্ষীয় আক্রমণ দেখে। স্যান্ডার্সের বিরুদ্ধেও খোদ ডেমোক্রেটিক পার্টিতে ধনীরা ক্রমে জোটবদ্ধ এখন। খোদ দলের ভেতর স্যান্ডার্সের কোণঠাসা দৃশ্য আমাজনের মতো বিশাল বিশাল করপোরেটের জন্য বিশেষ উপভোগ্য। আমেরিকার মিডিয়া জগতের দিকে তাকালে বোঝা যায়, স্যান্ডার্সবিরোধিতা কীভাবে শ্রেণিযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। মিলিয়নিয়ার-বিলিয়নিয়ার ক্ষমতা, সম্পদ এবং অসাম্যের বর্তমান স্থিতিশীল অবস্থা সহজে বদলাতে দেবে, এটা ভাবা হাস্যকর। এমনকি তারা ডেমোক্র্যাট শিবিরের হলেও। ইতিমধ্যে শেষ হওয়া ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি ও ককাসগুলোর ভোট উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উচ্চ আয়ের সদস্যরা স্যান্ডার্সকে সমর্থন করছেন না। কিন্তু তিনিও হাল ছাড়ার পাত্র নন। ঘণ্টায় ন্যূনতম ১৫ ডলার মজুরির দাবিটি ইতিমধ্যে আমেরিকাজুড়ে এতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে যে স্যান্ডার্স ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেলেও এ দাবির ফয়সালা করতে হবে করপোরেটদের। স্যান্ডার্সের 'সবার জন্য কাজ' ও 'সবার জন্য স্বাস্থ্য'-এর দাবি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর জন্য প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি উত্তর আমেরিকাজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর পক্ষে প্রাধান্য সুস্পষ্ট। তবে এ-ও সাক্ষ্য মেলে, আমেরিকা আদর্শ দেখে ভোট দেয় না, কথা ও কাজের মিল খোঁজে। আর দলীয় কর্মীরা প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেন কে প্রতিপক্ষকে হারাতে সক্ষম, সেটা দেখে। স্যান্ডার্স বরাবরই আশ্বস্ত করছেন, নতুন ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল করে তিনি ভোটের পুরোনো অঙ্ক পাল্টাবেন। তবে এখনো তিনি রাজনীতিতে অনাগ্রহীদের নির্বাচনী উৎসবে টেনে আনতে পারছেন বলে মনে হচ্ছে না। এমনও মনে হয়নি, ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ মধ্যপন্থী রিপাবলিকানদের তিনি হাতির বদলে ডেমোক্র্যাটদের গাধা প্রতীক পছন্দ করাতে পারবেন। সে রকম নতুন সমর্থক ছাড়া ডেমোক্র্যাটদের বিদ্যমান ভোটব্যাংকের মধ্যে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জিতে আসার মতো তরঙ্গ তৈরি স্যান্ডার্সের জন্য কঠিন। সবকিছু মিলিয়ে বিজয়ের সম্ভাবনা তাঁর নেই, এটা যেমন বলা যাচ্ছে না তেমনি সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীও বলা যাচ্ছে না তাঁকে। 'কমরেড' করবিন যেভাবে রিপাবলিকানদের ছড়ানো জাতীয়তাবাদী আবেগ রুখতে পারেননি, স্যান্ডার্সের সামনে রয়েছে সে রকম সাদা শ্রেষ্ঠত্বের ঢেউ। ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন নিয়ে ট্রাম্পকে হারাতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইহুদি প্রেসিডেন্ট। ৭০ শতাংশের বেশি খ্রিষ্টানের দেশ আমেরিকায় ইহুদিরা ৩ শতাংশের কম। দেশটি এখনো তার এ সৌন্দর্য ধরে রেখেছে যে রাজনীতির সর্বোচ্চ পরিসরে আদর্শিক ভিন্নতা নিয়ে লড়তে ধর্ম, জাতি ও লিঙ্গগত পরিচয় সমস্যা হচ্ছে না। এ বহুত্ববাদ অবশ্যই অনন্য এক সাংস্কৃতিক সম্পদ। আলতাফ পারভেজ:ইতিহাস গবেষক | 8 |
জনগণের সংগ্রামী ঐক্য জোরদার করা এবং বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে বাম জোটের মিটিং, মিছিল ও জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার বিকেলে বাম জোটের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞতিতে বলা হয়, কাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হবে নওগাঁ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বাম-গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে জেলা শহরগুলোতেও জনসভা, মিটিং, মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এসব জনসভায় বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে জনসভার কর্মসূচি সফল করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। | 6 |
রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক আহত জঙ্গি রাকিবুল হাসান (রিগেন) এক বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় শিবির পরিচালিত রেটিনা মেডিকেল কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। নিখোঁজের ঠিক এক বছরের মাথায় জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক হলেন মেডিকেল ভর্তিচ্ছু সেই শিক্ষার্থী। হাসানের মা রোকেয়া আকতার এ বিষয়টি জানিয়েছেন। বগুড়া শহরের জামিল নগরের বাসিন্দা রোকেয়া আকতার মঙ্গলবার দুপুরে জানান, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় এক বছর পূর্বে সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তারা। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে হাসান ওই কোচিং-এ ভর্তি হয়েছিল। প্রায় এক মাস কোচিং করার পর গত বছরের ২৬ জুলাই সে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে গিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এ ঘটনার পরদিন ২৭ জুলাই হাসানের মা বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর ১৭২০, তারিখ ২৭.০৭.১৫ ইং। নিখোঁজ হওয়ার এক বছর পর জঙ্গি আস্তানায় আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় হতবাক হয়েছেন তার মা। বগুড়া সদর থানার ওসি আবুল বাসার জানান, রাজধানীঢাকায় আটক হওয়া জঙ্গি রিগেনের বাড়ি বগুড়ায়। পুলিশ সদস্যরা এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ | 6 |
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, জামায়াতকে দুর্বল করা গেলেও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা যায়নি। তারা মিসরের মুরসি অথবা তুরস্কের এরদোগানে ফিরে আসতে চায়। আর সেই সময়টা জামায়াতকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রাখতে চায়। সেটা সময়ের ব্যাপার। ইতোমধ্যে তার জায়গা নিতে চাচ্ছে 'মোল্লাতন্ত্র' যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হেফাজত। কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে বিষবৃক্ষ রোপণ করা হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মেনন।গতকাল সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া সভাপতিত্ব করছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আল্লামা শফী, হেফাজতে ইসলামসহ কওমি আলেমদের ব্যাপারে আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন, তেঁতুল হুজুরের আবদারে পাঠ্যপুস্তকে কুসুমকুমারীর 'আমাদের দেশে কবে সেই ছেলে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে,' কবিতাসহ রবীন্দ্রনাথ- দ্বিজেন্দ্রনাথ সবাই নির্বাসিত হন। মনে হয় আমরা খাজা শাহাবুদ্দিনের যুগে ফিরে যাচ্ছি। সেই পাকিস্তানের প্রথম যুগের মতো নজরুল কবিতার মুসলমানি করিয়ে হয়তো আমাদের সজীব কবির মহাশ্মশান'র বদলে,'সজিব করিব গোরস্থান' বলে আবৃত্তি করতে হবে। তিনি বলেন, তেঁতুল হুজুরের দল প্রধানমন্ত্রীকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছেন। তাদের শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু আমরা বিষবৃক্ষ রোপণ করছি কিনা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, এটা সত্য অতি উৎসাহী কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বাড়াবাড়ি করেছে। কিন্তু তাতে এই নির্বাচন অশুদ্ধ বা অবৈধ হয়ে যায়নি। তাই বলে আমাদেরও আত্মতৃপ্তির অবকাশ নাই। বরং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের যে আন্দোলন করে আমরা সফলতা অর্জন করেছিলাম, তা যেন এভাবে হারিয়ে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। | 9 |
মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৯৭ শতাংশ। বড় কাজ পিচঢালাই ৭০ শতাংশ শেষ। জুনের শেষে সেতু চালু করা সম্ভব। সেতু বা সড়কের ওপর যানবাহন চলাচলের জন্য সর্বশেষ কাজ হচ্ছে পিচঢালাই। এখন পদ্মা সেতুতে এ পিচঢালাইয়ের কাজ চলছে। এটিই সেতুতে সর্বশেষ বড় কাজ। প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুসারে, এ কাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী ২৯ মে। চাইলে এরপর যেকোনো সময় সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারবে সরকার। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং কর্মপরিকল্পনা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর কখন কোন কাজ সম্পন্ন করা হবে, এর একটা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, পরামর্শক ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ মিলে তৈরি এ পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী ৩০ জুনের পর মূল সেতুতে আর কোনো কাজ বাকি থাকার কথা নয়। আগামী জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। গত ২৮ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং সেতু বিভাগের ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি এবং কবে চালু হবে সে বিষয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এরপর ৩০ মার্চ এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী ৩০ জুন পদ্মা সেতু চালু হবে। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রত্যাশা করে আছি, এ বছরের শেষ নাগাদ এটি চালু করতে পারব। আমাদের অর্থবছর শেষ হবে জুন মাসে। আমরা বিশ্বাস করি, এর মধ্যে এটি চালু করতে পারব।' এরপরই সেতুটি জুনে নাকি আরও পরে চালু হবে-এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা দুজনই জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু চালুর বিষয়টি ঠিক করবেন সরকারের নীতনির্ধারকেরা। তাঁরা উচ্চপর্যায়ে কথা বলছেন। তবে কাজ চলছে পরিকল্পনামতোই। পদ্মা সেতুর কাজ মোটাদাগে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে মূল সেতু, নদীশাসন, সংযোগ সড়ক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন। এর মধ্যে মূল সেতু ও নদীশাসন ছাড়া সব কাজ আগেই শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৯৭ শতাংশ। নদীশাসনের কাজের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ। সব মিলিয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৯২ শতাংশ। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। তবে ঠিকাদারের দেনা-পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া এবং সেতুতে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদার যাতে ঠিক করে দিতে পারেন, এ জন্য শেষ এক বছর রাখা হয়েছে। মূলত আগামী জুনের মধ্যেই মূল সেতু ও নদীশাসনের কাজ শেষ করার বিষয়ে ঠিকাদারদের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেতু বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নদীশাসনের কাজ শেষ করতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত লেগে যাবে। তবে এর আগে সেতু চালু করা নিয়ে কারিগরি কোনো জটিলতা নেই। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ স্টিলের স্প্যান জোড়া দেওয়ার পর পদ্মা সেতুতে ভারী কাজ খুব একটা বাকি ছিল না। এরপর সেতুতে ছোট-বড় ২০ ধরনের কাজ ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সেতুর প্রান্তে দেয়াল ও মাঝখানে বিভাজক বসানো এবং গ্যাসের পাইপ স্থাপন। এসব কাজ শেষ হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসেই। এরপর বাতি লাগানোর জন্য স্টিলের খুঁটি (ল্যাম্পপোস্ট) বসানো এবং মেরামতকাজের জন্য মনোরেল বসানো-এ দুটি কাজও শেষ হয়েছে। এখন বাকি আছে আরও ১৪ ধরনের কাজ। সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, ১৪ ধরনের কাজ আবার বড় ও ছোট-এ দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় কাজ বাকি আছে চারটি। বাকি ১০টি ছোট কাজ। প্রকল্পের নথি থেকে জানা গেছে, চারটি বড় কাজের মধ্যে রয়েছে সেতুর উপরিভাগে পানিনিরোধক স্তর বসানো, মূল সেতু ও ভায়াডাক্টে পিচঢালাই এবং ৪০০ কেভি বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ। ৭ এপ্রিল পর্যন্ত পানিনিরোধক স্তর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৮৯ শতাংশ। ১৮ মের মধ্যে এ কাজ শেষ করার কথা। মূল সেতু (নদীর অংশ) ও ভায়াডাক্টে (স্থলভাগ) পিচঢালাইয়ের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত মূল সেতুতে পিচঢালাই হয়েছে ৭৪ শতাংশ এবং ভায়াডাক্টে ৫৬ শতাংশ। আগামী ২৯ মে পিচঢালাইয়ের কাজ শেষ করার কথা। ৪০০ কেভি বিদ্যুতের লাইনের কাজটি মূল সেতুর অংশ হলেও এটি সেতু থেকে অনেক দূরে। এর সঙ্গে সেতু চালুর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকার পথে বিদ্যুৎ সঞ্চালন নিশ্চিত করতে এ লাইন। এ কাজ এগিয়েছে ৮০ শতাংশ। ২২ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। বাকি থাকা ছোট কাজগুলোর মধ্যে কয়েকটি আবার পিচঢালাইয়ের ওপর নির্ভরশীল। যেমন সেতু ও ভায়াডাক্টে সাইন-সংকেত ও মার্কিং বসানো এবং পানিনিষ্কাশনের পাইপ বসানো। এ ছাড়া সেতুর প্রান্তে স্টিলের রেলিং স্থাপন, রেললাইনের পাশে হাঁটার রাস্তা নির্মাণ এবং আর্কিটেকচারাল লাইটিং স্থাপনের কাজ বাকি আছে। এসব কাজের অনেকগুলো এগিয়েছে, কিছু কাজ শুরুই হয়নি। তবে সবগুলোই ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। সেতু বিভাগের সূত্র জানায়, এসব কাজের মধ্যে আর্কিটেকচারাল লাইটিংয়ের কাজটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করার সম্ভাবনা কম। এটি মূলত দুবাইয়ের বুর্জ আল খলিফা টাওয়ারের মতো করে বিশেষ দিনে সেতুকে আলোকসজ্জিত করার কাজ। এটি করা নিয়ে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এ কাজ না হলেও যানবাহন চালুতে কোনো বাধা নেই। প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র বলছে, সেতুর প্রান্তে রেলিংয়ে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে স্টিল আসার কথা। এর জন্য সেতুর কাজ আটকে থাকার কথা নয়। কারণ, চলতি মাস বা আগামী মাসে এলেও রেলিং লাগাতে এক মাসের বেশি সময় লাগবে না। ঠিকাদারকে এর আগে জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন ঠিকাদারও আর সময় বাড়ানোর পক্ষে নয়। এতে তাদের বাড়তি খরচের বিষয় আছে। ২০০৭ সালে একনেকে পাস হওয়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। ২০১১ সালে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফা সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। বর্তমানে কয়েক দফা সময় বৃদ্ধির পর এখন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে আরেক দফা প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করতে হবে। সমীক্ষায় এসেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। মোংলা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলাকে সারা দেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে এ সেতু। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলবে, তেমনি সহজ হবে মানুষের চলাচলও। পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়া প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের মধ্যে মূল সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা। সেটা শেষ করতে পারা উচিতও। কিছু কিছু ঝামেলা আছে। তবে দেখা যাক, কী হয়। | 6 |
কভিড-১৯ নামের নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে পবিত্র কাবা ঘরের মূল তাওয়াফের স্থান (মাতাফ) বন্ধ করা হয়েছিল। সেটি আবারও মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ওমরাহকারীদের জন্য এখনো নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পর তা মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। মাতাফ এলাকা এশার নামাজের পর থেকে ফজর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
মুম্বাই হাইকোর্টে গত বৃহস্পতিবার জামিন পাওয়ার পর আজ শনিবার জেল থেকে মুক্তি পেলেন বলিউড তারকা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান। আর আলোচিত এই মামলায় জামিনদার হয়েছেন শাহরুখের বহু সিনেমার নায়িকা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু জুহি চাওলা। খবর এনডিটিভির। জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার আরিয়ানের জামিনদার হিসেবে ১ লাখ রুপির মুচলেকায় সই করেছেন জুহি চাওলা। এদিন আরিয়ানের আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডের সঙ্গে আদালতে হাজির হন জুহি। তিনি বলেন, আরিয়ানকে ছোটবেলা থেকেই তিনি চেনেন, তার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কও আছে। উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের একটি প্রমোদতরী থেকে গ্রেফতার হন আরিয়ান। মাদক গ্রহণ ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরিয়ানকে গ্রেফতার দেখায় এনসিবি। তবে এর সত্যতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত পাওয়া গেছে। একাধিকবার জামিন বাতিলের পর বোম্বে হাইকোর্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার জামিন পান আরিয়ান। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে এ সংক্রান্ত আইনটির একটি সংশোধনী প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগামীকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। অর্থাৎ কাল থেকেই এটি আইনে পরিণত হবে। এর আগে এটির আইনি যাচাই (ভেটিং) হবে। মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন আছে। সেটিকে এখন মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। এর ফলে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনী আনা হবে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
'দেশের জন্য সব হারালাম। কী পেলাম।' দেশে থাকতে এ রকমই খেদোক্তি করেছিলেন কোহিনূর মোয়াজ্জেম হোসেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে শহীদ হন তাঁর স্বামী লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (১৯৩৩-১৯৭১)। তিনি ছিলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার যখন প্রথম এই মামলা দায়ের করে, তখন আসামির তালিকায় বঙ্গবন্ধুর নাম ছিল না। মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন ১ নম্বর আসামি। পরে বঙ্গবন্ধুকে ১ নম্বর আসামি করা হলে মোয়াজ্জেম হন ২ নম্বর আসামি।আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ভারতের সহযোগিতায় পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেখানে মূল সামরিক নেতা হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন নৌবাহিনীর কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন। রাজনৈতিক নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মোয়াজ্জেমই সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একদল তরুণ সদস্যকে নিয়ে সরকারকে উৎখাত করতে সক্রিয় ভূমিকা নেন বলে পাকিস্তানি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়।কোহিনূর হোসেন এই প্রতিবেদককে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, করাচিতে তাঁর বাসায়ই একাধিকবার বঙ্গবন্ধু গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হতো, তা তিনি জানতেন না। মোয়াজ্জেম সাহেবকে পরে জিজ্ঞেস করলে বলতেন, 'এসব রাষ্ট্রীয় বিষয়। তোমরা বুঝবে না।' এরপর মোয়াজ্জেম করাচি থেকে ঢাকায় বদলি হয়ে আসেন। কিছুদিন পর তিনি গ্রেপ্তার হন। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সব কাগজপত্র নিয়ে যায় সেনারা। মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করলেও কোথায় নিয়ে গেছে, অনেক দিন পরিবারের কেউ জানতেন না। পরে মামলার কথা প্রকাশ পেলে জানা যায়, তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কোহিনুর হোসেনের ভাষ্য: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বেরিয়ে এসে মোয়াজ্জেম বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর ৩২ নম্বরের বাসায় কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে নতুন দল করলেন। প্রথমে এর নাম রাখলেন লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কমিটি। পরে জাতীয়তাবাদী দল। তিনি মনে করতেন লাহোর প্রস্তাবে এক পাকিস্তানের কথা নেই। ফলে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করতেই হবে। পাকিস্তানি বাহিনী মোয়াজ্জেমের এই মনোভাব জানত বলেই অভিযানের শুরুতেই তাঁকে হত্যা করে। মোয়াজ্জেম তখন থাকতেন সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছের একটি বাসায়। সেদিনের ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কোহিনূর বলেন, 'তিনতলা বাসা। মোয়াজ্জেম নিচের তলায় থাকতেন। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। ২৫ মার্চও অনেক নেতা-কর্মী এসেছিলেন। তাঁরা চলে গেলে রাত ১২টার পর থেকে ট্যাংক চলার ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।' এর পরের ঘটনা বলতে গিয়ে কোহিনূর বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, 'জিপ গাড়ি ও বুটের আওয়াজ শুনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি অনেক আর্মি অস্ত্র তাক করে আমাদের বাসার সামনে দাঁড়ানো। কমান্ডার মোয়াজ্জেম কোথাও লুকিয়ে ছিলেন। আর আর্মিরা তাঁকে খুঁজছিল। তাঁকে না পেয়ে তারা চেঁচিয়ে বলে, "মিসেস মোয়াজ্জেম কোথায়?" তখন তিনি (মোয়াজ্জেম) বেরিয়ে নিচে গিয়ে বলেন, "আমিই কমান্ডার মোয়াজ্জেম।" ওরা তাঁকে উর্দুতে কয়েকবার বলেছে, "বলো পাকিস্তান জিন্দাবাদ"। তিনি বলেছেন, "না, আমি পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলব না। আমার এক দফা, বাংলাদেশ স্বাধীন চাই।" সঙ্গে সঙ্গে ওরা গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়েও মোয়াজ্জেম বলেছেন, "বাংলাদেশ স্বাধীন চাই।" দোতলার জানালার পর্দা সরিয়ে দেখি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর সেনারা তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে বেয়নেট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। তখন সমস্ত শরীর রক্তাক্ত। দেখলাম তাঁকে চ্যাংদোলা করে ওরা নিয়ে যাচ্ছে। তখনো মাথাটা ঝুলছে। এ দৃশ্য দেখে আমি চিৎকার দিয়ে উঠি।' বেগম মোয়াজ্জেমের বড় আক্ষেপ, তিনি তাঁর স্বামীর লাশটিও ফিরে পাননি। টিক্কা খান নাকি মোয়াজ্জেমকে হত্যা করে তাঁর লাশ নিয়ে যেতে বলেছিল। স্বাধীনতার পর কোহিনূর অনেক কষ্টে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া করান। বঙ্গবন্ধু তাঁকে চাকরি দিয়েছিলেন সমাজকল্যাণ বিভাগে। সেই চাকরিই ছিল তাঁর একমাত্র সম্বল। কোহিনূর মোয়াজ্জেমের পরিবারের কেউ আর এখন দেশে থাকেন না। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে এক ছেলে আয়ারল্যান্ডে থাকেন। এক আইরিশ মেয়েকে বিয়ে করেছেন। মেয়ে লন্ডনে থাকেন, তাঁর সঙ্গেই বেগম মোয়াজ্জেম আছেন। আরেক ছেলে অসুস্থ ছিলেন। সম্প্রতি মারা গেছেন। বিদেশে যাওয়ার আগে কোহিনূর হোসেন ধানমন্ডির এক নম্বর সড়কে একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। ছেলেমেয়েরা আগেই চলে গিয়েছিলেন। অনেক বয়স হয়েছে। একা কী করে থাকবেন? এরপর তিনিও লন্ডনে চলে যান। মেয়েই তাঁর দেখাশোনা করেন। বছর তিনেক আগে কোহিনূর হোসেন একবার দেশে এসেছিলেন। তাঁর বড় ভাইয়ের ছেলে ডা. ইকবাল আর্সলানের সঙ্গে ২৫ মার্চ টেলিফোনে কথা হয়। জিজ্ঞেস করি, আপনার ফুফু কেমন আছেন? তিনি বললেন, 'ফুফু লন্ডনে মেয়ের সঙ্গেই আছেন। আরেক ছেলে থাকে আয়ারল্যান্ডে। মাস ছয়েক আগে তিনি লন্ডনে গেলে ফুফুর সঙ্গে দেখা করেছেন।' কোহিনূর হোসেন এখন দেশে নেই। কিন্তু যেই দেশের জন্য মোয়াজ্জেম হোসেন জীবন দিয়েছেন, সেই দেশ তো আছে তাঁর অন্তরে। সোহরাব হাসান: কবি ও সাংবাদিক। | 8 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনার বিচার হবে। সে যেই হোক, যে দলেরই হোক, তা আমি দেখি না, অপরাধী অপরাধীই বলে মনে করি। তবে কোন অপরাধীকে যেন রক্ষার চেষ্টা না করা হয় সে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ থাকবে সংসদ সদস্যরা যেন এই ধরনের অপরাধীদের কখনো রক্ষা করার চেষ্টা না করেন। অপরাধ যে করে এবং অপরাধীকে যারা রক্ষা করে তারা সমানভাবে দোষী। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন উত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদের করা এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যেই ইউএনওর সাথে যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হচ্ছে। সেটা আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে আসলে বিষয়টা কি। কিছু কিছু জায়গায় বলা হচ্ছে চুরি করার জন্য। সেখানে আরো কি কি ঘটনা থাকতে পারে সেগুলো কিন্তু যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে। তাকে হেলিকপ্টারে করে সাথে সাথে নিয়ে এসে তার চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ ধরনের ব্যবস্থা কিন্তু আমরা করেছি। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি অপরাধী কিন্তু আমার চোখে অপরাধী। সে কোন দল, কে, কি আমি কিন্তু সেটা বিচার করি না। সেটা আপনারা দেখেছেন। আমি অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখি। সেখানে যদি আমার দলেরও লোক হয়, সমর্থক হয় তাকেও আমি ছাড়ি না, ছাড়বো না। এটা হলো আমার নীতি এবং সেই নীতি নিয়ে আমি চলছি। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সময়ে আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী প্রত্যেকে আমাদের প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, আনসার, ভিডিপি, পুলিশ বাহিনী এবং আমাদের দলের নেতাকর্মী আমাদের ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ আন্তরিকতার সাথে মাঠে কাজ করেছে। এই কাজ করতে গিয়ে আমাদের বহু নেতাকর্মী এই করোনা আক্রান্ত হয়েছে, অনেকেই মারা গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একটার পর একটা ধাক্কা আসলো। করোনাভাইরাস এই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে সেই ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ২৪ লাখ মানুষকে আমরা সরিয়ে তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। আম্পানের ধাক্কা না কাটতে কাটতে আসলো বন্যা। সেই বন্যা মোকাবেলা করা এবং এই প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের প্রাণ দেওয়া তাদের সাহায্য করা এটা কিন্তু সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে করেছে। বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুনের রশিদ এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বলেছেন, অতীত টেনে কথা বলি কেন? অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের চলার পথ নির্দিষ্ট করতে হয়। তা নইলে শিক্ষা হয় না। সেই কারণেই অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হয়। এখানে অতীত নিয়ে কথা না একানব্বই সালের কথা আমি বলেছি, সেই ঘূর্ণিঝড়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, আমরা তো দেখেছি কত অবহেলার শিকার হয়েছিল এই দেশের মানুষ, ঠিক সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের পর যেমন মানুষ অবহেলিত ছিল। সেই সময় আমরা বিরোধী দলে থেকে আমরাই সেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারপর সরকার গিয়েছিল, সরকারতো ঘুমাচ্ছিল। আর এই পার্লামেন্টে বলেছিল যত মানুষ মরার কথা ছিল ততো মানুষ মরে নাই। এটা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল। এইটা হল দুর্ভাগ্য। অতীতকে স্মরণ করতে হবে, সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাহলেই আমরা আগামী দিনের পথ চলতে পারবো। এসময় তিনি করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। | 6 |
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট ছিলেন। আজ বুধবার চলে গেলেন প্রবীণ ক্রিকেট সংগঠক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাইসউদ্দিন আহমেদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান। রাইসউদ্দিন আহমেদের ছেলে আশফাক আহমেদ প্রথম আলোকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে এ প্রবীণ ক্রিকেট সংগঠকের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ৪৪ বছর আগে এই জানুয়ারি মাসেই যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বিপক্ষে যে তিন দিনের ম্যাচটি দিয়ে জাতীয় দলের যাত্রা শুরু, রাইসউদ্দিন আহমেদ সেটি আয়োজনে নেপথ্যে রেখেছিলেন বড় ভূমিকা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের পর্বে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে ছিল তাঁর নাম। করোনা পজিটিভ হলে গত ২৫ ডিসেম্বর রাইসউদ্দিন আহমেদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে তিনি রূপচাঁদা-প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পেয়েছিলেন। | 12 |
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৩ মে) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ইন্তেকালে শনিবার বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এ কারণে আজ শনিবার দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশে একজন পরীক্ষিত ও অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো। প্রধানমন্ত্রীও তার বাণীতে বাংলাদেশিদের জন্য আমিরাতের মরহুম প্রেসিডেন্টের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তারা প্রয়াত প্রেসিডেন্টের পরিবার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শুক্রবার বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুর খবর জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। এরইমধ্যে দেশটির রাষ্ট্রপতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় শুক্রবার থেকে ৪০ দিনের জন্য আনুষ্ঠানিক শোক ছাড়াও পতাকা অর্ধনমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া তিন দিনের জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ফেডারেল এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি খাতেও কাজ স্থগিত রাখা হবে। শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ২০০৪ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি এবং আবুধাবির শাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.