text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁদের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন ও রাজশাহীর একজন মারা গেছেন। সবাই মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। কারও নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। মৃত চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী।রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চলতি মাসে এ নিয়ে ১৫৪ জনের মৃত্যু হলো। সোমবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ জন। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে মোট রোগী ছিলেন ১১৩ জন।এরমধ্যে রাজশাহীর ৪৬ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৬ জন, নাটোরের ছয়জন, নওগাঁর ২২ জন, পাবনার ১২ জন, কুষ্টিয়ার পাঁচজন, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের দুজন করে এবং ঝিনাইদহ এবং বগুড়ার একজন করে রোগী ভর্তি ছিলেন।জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, রোববার জেলার ২৬১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ছয়জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট হয়েছে। সংক্রমণের হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। | 6 |
সম্প্রতি ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী বাংলা আদি সংস্কৃতি উৎসব ২০২০। ঢাকা ফেস্টিভ্যালের আয়োজনে গত ১২ ও ১৩ জানুয়ারি এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অভিনেতা ও শিক্ষানুরাগী টুটুল চৌধুরীকে সম্মাননা পদক দেয়া হয়। অভিনেতা টুটুল চৌধুরী হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, কথাসাহিত্যিক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিস বিভাগের প্রধান ড. আহমেদুল কবির, ভারতের আসামে নিযুক্ত ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর অব বাংলাদেশ ড. শাহ মো. তানভির মুনসুর, উৎসবের আন্তর্জাতিক প্রধান সমন্বয়ক মাকসুদা সুলতানা ঐক্য, উৎসব পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ, উৎসবের উপদেষ্টা কবি, গীতিকার, এসএম শওকত ওসমানসহ দেশ বিদেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক, কুটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এই অভিনেতা বর্তমানে একাধিক ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। এগুলো হল কায়সার আহমেদের পরিচালনায় 'বকুলপুর', মিজানুর রহমান লাবুর 'প্রিয় পরিবার' এবং সুমন আনোয়ারের 'ইডিয়ট'। এছাড়া তার অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'মালা ভাবী' ভারতের রাজস্থান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে আগামী সপ্তাহে। এছাড়া টুটুল চৌধুরী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। অঞ্জন আইচের পরিচালনায় এটির নাম 'আগামীকাল'। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট-মন্ডল অডিটরিয়ামে এই উৎসবটি অনুষ্টিত হয়।এই উৎসবটি 'মুজিব বর্ষ ২০২০-২১' কে উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ২০২১ সালে এই উৎসবটি ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারী ৪ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। | 2 |
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরো আট জন। এছাড়া নিরাপদ আবাসস্থলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১২ হাজার মানুষকে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, একদিনের ভারী বর্ষণে দ্বীপের বাংকুলু প্রদেশের কয়েকশ' ভবন, সেতু এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও সেখানে আপাতত না ফিরে যেতে লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরো নুগরো জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। বন্যায় আরো বেশি কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ভূমিধস ও বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। এদিকে হেলিকপ্টার থেকে নেওয়া ছবিতে দেখা যায়, নদীগুলো বৃষ্টির পানিতে উপচে পড়েছে। চারদিক শুধু পানিতে থৈ থৈ করছে। বন্যা, ভূমিধস ইন্দোনেশিয়ার জন্য স্বাভাবিক ঘটনা, বিশেষ করে অক্টোবর এবং এপ্রিল মৌসুমে। গত কয়েকদিন আগেও জাকার্তায় বন্যায় দুইজনের মৃত্যু হয়। | 3 |
গোপালগঞ্জে জোবায়ের শেখ (১৪) নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষককে না জানিয়ে বাসায় যাওয়ার অপরাধে ওই ছাত্রকে বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।গতকাল শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের গোবরা ইদারায়েত ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরমানিকদাহ গ্রামের মো. শহর আলী শেখের ছেলে। তাকে চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. শহর আলী শেখ গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক মঈনুল ইসলামকে (২২) গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। ওই শিক্ষক বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার গ্রীসনগর গ্রামের মাহমুদ শেখের ছেলে। আজ বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওসি মো. মনিরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, গতকাল দুপুরে শিক্ষার্থী জোবায়ের মাদ্রাসার কাউকে কিছু না বলে বাড়িতে যায়। পরে সে আবার মাদ্রাসায় ফিরে এলে সন্ধ্যায় শিক্ষক মঈনুল ইসলাম জোবায়েরকে বেত দিয়ে বেধড়ক আঘাত করেন। জোবায়ের সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। তার পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।এ ঘটনার বিচার দাবি করে শিক্ষার্থীর বাবা শহর আলী শেখ বলেন, ওই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। যেন আর কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব মুফতি নাসিরুদ্দিন। ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। | 6 |
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামে একটি লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মৃত স্বজনদের আহাজারিতে এখন নদীতীরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সবশেষ ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।আজ শুক্রবার দুপুরে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশান্ত কুমার দে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল নদীতীরে স্বজনেরা ভিড় করছেন। এই ভিড় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে। বাড়ছে নদীতীরে স্বজনদের আহাজারি। এদের মধ্যে বেশির ভাগই জানেন না তাঁদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে।লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা বরগুনার তালতলী উপজেলার মোসা. সোনিয়া বেগম (২৫) নামের এক যাত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, লঞ্চে আগুন লাগার সময় তিনি ইঞ্জিনরুমের ওপরে দোতলার ডেকে অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ডেক গরম হয়ে চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এরপর লঞ্চের সঙ্গে বাঁধা দড়ি বেয়ে ছোট ছেলেকে নিয়ে নিচে নামেন। এরপর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে তীরে ওঠেন। তবে তার মা রেখা বেগম এবং পাঁচ বছরের বড় ছেলে জুনায়েদ সিকদার এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশান্ত কুমার দে বলেন, 'লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী ছিল বরগুনার। আগুন থেকে বাঁচতে এদের মধ্যে অনেকে নদীতে লাফ দিয়েছিলেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের একটি ও কোস্ট গার্ডের দুটি দল অভিযান পরিচালনা করছে।'ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা ও ঝালকাঠির কোস্ট গার্ড সদস্যরা কাজ করছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।নিহতদের মধ্যে বেতাগী উপজেলার কাজীরাবাদ ইউনিয়নের মো. রিয়াজ (২৩) এবং বরগুনার সদর উপজেলার ফুলঝুরি ইউনিয়নের ৮ বছরের শিশু তাইফার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনেরা। এ ঘটনায় শিশুটি মারা গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে আছেন তার বাবা বশির।এদিকে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ ৮০-৯০ জন বরিশাল, ঝালকাঠিসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে বরিশালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় সেখানে দগ্ধ রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক যাত্রী ও তাঁদের স্বজনেরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে লঞ্চটিতে আগুন লাগে। আকস্মিকভাবে ইঞ্জিন রুম থেকে আগুনের লেলিহান শিখা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুন ও ধোঁয়ায় লঞ্চ আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে প্রাণে বাঁচতে অনেকেই লঞ্চ থেকে নদীতে লাফ দেন। এ সময় লঞ্চের ভেতরে থাকা যাত্রীরা চারদিকে ছোটাছুটি করতে থাকে। তাদের ধাক্কায় ও পদদলিত হয়ে অনেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে চিৎকার করতে থাকে। যে যেভাবে পেরেছে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালিয়েছে। অনেকেই স্বজনদের রেখে নদীতে ঝাঁপ দেয়।নিচতলার ইঞ্জিনরুম-সংলগ্ন জায়গায় যেসব যাত্রী ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে রওনা হয়, তারাই বেশি দগ্ধ হন। এ সময় কয়েকজনকে শরীরে আগুন নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।লঞ্চের যাত্রী শিমুল তালুকদার জানান, ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালের ঠিক আগে গাবখান সেতুর কিছু আগে লঞ্চের ইঞ্জিনরুমে আগুন লেগে যায়। এরপর সেই আগুন পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। জীবন বাঁচাতে তিনি নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে ওঠেন। তবে অনেকেই লঞ্চে থেকে যায়। | 6 |
চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সুতা (সার্জিক্যাল সুতা) পাচারের সময় কর্মস্থল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) কর্মচারী নেতা আব্দুল হাকিমকে (৪০) আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রবিবার (৮ মে) দুপুরে হাসপাতালের প্রধান গেট থেকে কালো ব্যাগভর্তি সুতাসহ আব্দুল হাকিমকে আটকের পর র্যাব-৩ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল হাকিম হাসপাতালের ২১৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, ঢামেক শাখার সমাজকল্যাণ ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। | 6 |
জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ফলপ্রসু বাজেট পেশের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি, সাবেকমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, বাজেট তৈরির সময় জনপ্রতিনিধিদের মতামত নিলে তা আরো গণমুখী হতো। সাংসদ বা সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বাজেট দেয়ায় তাতে কতটা গ্রামীণ জনগোষ্ঠির চাহিদার প্রতিফলন ঘটবে এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। গতকাল শনিবার এক সাক্ষাতকারে ভোরের কাগজকে তিনি এসব কথা বলেন। হাসানুল হক ইনু বলেন, এবারের করোনাকালে অস্বাভাবিক গতানুগতিক বাজেট দেয়া উচিত নয়। করোনাকালে কিছু দিক বদলকারী, মোড় বদলকারী বাজেট দিতে হবে, যার কেন্দ্রে থাকবে করোনা মোকাবিলায় জন্য টিকা উৎপাদন ও টিকা সংগ্রহ করার বিশেষ বরাদ্দ ও পরিকল্পনা। বর্তমানে বিশজুড়ে আর্থ সামজিক বিভিন্ন ত্রুটি প্রকাশিত হয়েছে। এসব ত্রুটি চিহ্নিত করে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া দরকার। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার খাতে বেশী বরাদ্দ নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে এ পাঁচটি খাতকে সার্বজনীনতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, শ্রমিক অঞ্চলের স্বাস্থ্য কার্ড বিতরন করা যেতে পারে। যত শক্তিশালী অর্থনীতিই থাক, সামাজিক অর্থনীতি বেশ নড়বড়েই মনে হয়েছে। তাই, যারা দিন আনে দিন খায় তাদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ থাকতে হবে। তাছাড়া কোভিটের আঘাতে গরীবের সংখ্যা বেড়ে গেছে, প্রবাসী ফেরৎ কয়েক লাখ শ্রমিক দেশে বেকার হয়ে পড়েছে, তাদের তথ্যপুঞ্জি করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার। তিনি বলেন, করোনাকালে গ্রামীণ অর্থনীতি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। বহুমাত্রিক এই গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো সচল ও লাভজনক করতে এই খাতে বেশী বরাদ্দ দরকার। আর করোনাকালে আমাদের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখা প্রবাসীদের প্রবাসে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং যে ৭ লাখ প্রবাসী ফিরে এসেছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ প্রচুর বাড়াতে হবে। অবকাঠামোসহ সর্বক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে। করোনাকালে স্কুল কলেজ, অফিস আদালত প্রায় সবই অনলাইন সিস্টেমে চলে এসেছে, অথচ বিশের সব দেশের চেয়ে আমাদের দেশে ইন্টারনেটের মূল্য বেশী। এবারের বাজেটে ইন্টারনেট সেবাকে সার্বজনীন করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে বিশেষ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানান তিনি। বাজেটে কর না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১ লাখ মানুষের প্রত্যেকে বছরে এক কোটির ওপরে কর দিতে সক্ষম। তাদের চিহ্নিত করলে আয় বাড়বে। তাছাড়া দেশে প্রায় ৯ লাখ হাট-বাজার রয়েছে। কিন্তু তারা ট্যাক্স-ভ্যাটের বা করের আওতায় নেই। এজন্য প্রতিটি উপজেলায় করের অফিস প্রতিষ্ঠিত করা এবং ১৫ হাজারের মত কর্মী নিয়োগ করে স্বল্প পরিমান ভ্যাট-ট্যাক্স আদায় করলে দেশের আয় বাড়বে। তিনি মনে করেন, দেশের জঙ্গীবাদ নির্মূল করতে আমাদের গ্রামীন সংস্কৃতির প্রবাহকে ত্বরান্তিত করতে হবে। এজন্য ছোটখাটো নাট্যদল, বাউল, যাত্রাদল, পুতুল নাচেরদলসহ বিভিন্ন গান বাজনার গোষ্ঠী বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীকে প্রণোদনা দিয়ে আবারো গ্রামীন সংস্কৃতিকে চাঙ্গা করতে হবে। এজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা দরকার। তাহলে দেশের সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প কিছুটা হলেও অসাম্প্রদায়িকতার দিকে ধাবিত হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে যেসব খাতে অর্থ ব্যয় করতে পারেনি, বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে করুন দশা, তাদের প্রচুর অর্থ অব্যয়িত রয়েছে। কেন তারা খরচ করতে পারলো না, তার জন্য স্বাস্থ্য সেবা থেকে সাধারণ জনগণ বঞ্চিত হলো, এজন্য কারা দায়ী তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। | 0 |
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের প্লাতেউও রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫৪ জন নিহত হয়। আরও হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গত রোববার মোটরসাইকেলে একদল বন্দুকধারী গ্রামের মানুষের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এ দিন একদল বন্দুকধারী মোটরসাইকেলে গ্রামগুলোতে যায়। মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলি করতে থাকে। তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বাড়িঘর ও দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর যারা পালানোর বা অন্যত্র লুকানোর চেষ্টা করছিল, তাদের গুলি করে বন্দুকধারীরা। ওই হামলার পর কয়েক দিনে ১৫৪ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাজ্যের গার্গার জেলার জ্যেষ্ঠ কাউন্সিলর ইয়াউ আবুবকর বলেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত ১৫৪ জন নিহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। এর মধ্যে ঝোপঝাড়ে পাওয়া মরদেহ রয়েছে।' প্রাথমিকভাবে প্রাণহানির যে হিসাব পাওয়া গিয়েছে এ সংখ্যা তার চেয়ে তিন গুণ বেশি। আবু বকর বলেন, মরদেহগুলো গণকবর দেওয়ার কাজ চলছে। হামলার পর বন্দুকধারীদের ধরতে ওই এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নাইজেরিয়ার তথ্যমন্ত্রী লাই মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্রধারী অপরাধী চক্র ও উগ্রবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারামের যোদ্ধারা এই হামলার জন্য দায়ী। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন যা ঘটছে, তা হলো দস্যু (হামলার জন্য দায়ী অপরাধী চক্র) এবং বোকো হারাম বিদ্রোহীদের মধ্যে এসব অপরাধ করতে হাত মিলিয়েছে। | 3 |
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছে। কাবুলের স্থানীয় সময় শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় আত্মঘাতী এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে বিস্ফোরণের এই ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১৮০ জনের বেশি। আত্মঘাতী এই হামলায় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান। এছাড়া অন্য কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলায় ৬৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুসরাত রাহিমি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বোমা বিস্ফোরণে ৬৩ জন নিহত ও ১৮২ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকা মোহাম্মদ ফরহাগ নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোমা বিস্ফোরণের পর প্রায় ২০ মিনিট ধরে হলের ভেতরটা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। তিনি জানান, হলের যে অংশে নারীদের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, বিস্ফোরণের সময় তিনি সেই অংশে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। পুরুষদের জন্য নির্ধারিত অংশেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং সেখানে যারা ছিলেন তারা হয় নিহত অথবা আহত হয়েছেন। এর আগে গত ১২ জুলাই আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগারহারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়। এই অঞ্চলের ক্রমেই কার্যক্রম বাড়িয়ে চলা জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করে। | 3 |
নোয়াখালীর হাতিয়াতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাতকে আটক করেছে র্যাব-১১। বুধবার রাতে উপজেলার চরগাসিয়া বার আউলিয়ার বাজারস্থ এক ফার্মেসি দোকানের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় আরো ৫-৬ জন পালিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিরা হলেন-লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর গজারিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম ওরফে কালোন বেপারীর ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩৭) ও হাতিয়ার চর কিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হকের ছেলে সোহরাব উদ্দিন (৩২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পরস্পর যোগসাজসে ঘটনাস্থল এলাকায় অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রসহ ডাকাতির উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ৬ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা ও ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডসহ একটি ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ফেনীর এক কলেজ শিক্ষার্থী। তার নাম নিজাম উদ্দিন (১৮)। সে ফুলগাজী হাজী মনির আহমদ ডিগ্রী কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্র ও উপজেলার জি এম হাট ইউনিয়নের পূর্ব বশিকপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিজাম জানান, সোমবার ছাগলনাইয়া থেকে ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি ব্যাগ কুড়িয়ে পান তিনি। মঙ্গলবার সকালে তার শিক্ষক দেবাশীষ দাসকে বিষয়টি অবহিত করলে, তিনি ব্যাংকের পরামর্শে প্রকৃত মালিক খোঁজ করতে বলেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত মালিক খুঁজে পান নিজাম উদ্দিন এবং সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকালে নিজাম কে পরিষদে ডেকে পুরষ্কৃত করেন জি এম হাট ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন রতন। চেয়ারম্যান জানান, সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেয়ার পর টাকার মালিক পুরষ্কার হিসেবে কিছু টাকা দিতে চাইলেও নিজাম গ্রহণ করেনি। চেয়ারম্যান আরো বলেন, সততার এক উজ্জল দৃষ্টন্ত স্থাপন করে নিজাম উদ্দিন আমাদের জি এম হাট ইউনিয়নকে গর্বিত করেছেন। | 6 |
মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের ঢল বন্ধে পরিবার থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার দায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি রাজ্য। অভিবাসী পরিবারগুলোতে বাবা-মায়ের থেকে সন্তানদের আলাদা করা 'নিষ্ঠুর ও অবৈধ' নীতির জন্যই এই মামলাগুলো করা হয়েছে। ট্রাম্পের নীতিকে নিষ্ঠুর এবং বেআইনি উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করা হয়। ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ ১৭টি অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল যৌথভাবে মঙ্গলবার এই মামলা দায়ের করেন। মামলা করা রাজ্যগুলো হলো:ওয়াশিংটন,ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ডেলাওয়্যার, আইওয়া, ইলিনয়, ম্যারিল্যান্ড, মিনেসোটা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলিনা, অরিগন, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্মন্ট ও ভার্জিনিয়া। এ রাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা ওয়াশিংটন ডিসিতে একত্র হয়ে সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা বন্ধে গত সপ্তাহে ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন তাকে ভূয়া বলেও উল্লেখ করেন তারা। ইতোমধ্যে ত্রিশ দিনের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবারগুলোকে এক করার নির্দেশ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক বিচারক। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশু যাদের বয়স ৫ বছরের নীচে তাদেরকে পরিবারের কাছে ফেরৎ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সান দিয়েগোর এক বিচারকও। এর আগে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন প্রত্যাশীদের রুখতে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করার পর আবার গত ২০ জুন ট্রাম্প প্রশাসন সেই পরিবারগুলোকে একসাথে রাখার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকেও 'ছলনা' বলে বর্ণনা করা হয়েছে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে অবস্থিত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা ওই মামলায়। একই দিনে আবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স কাগজ ছাড়া অভিবাসীদের ব্রাজিলে এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেছেন, যদি কেউ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারে তাহলে তার আসার প্রয়োজন নেই। পেন্স বলেন, আমেরিকায় যারা আশ্রয় চান তাদের উদ্দেশ্যে সরাসরি তার মন থেকে বলা কথা হলো: 'আপনি যদি বৈধভাবে আসতে না পারেন, তবে একেবারেই আসবেন না। মাদক বা মানব পাচারকারীদের সাহায্য নিয়ে লুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার চেষ্টা করে আপনারা নিজেদের বা নিজেদের সন্তানদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না। | 3 |
তামাক কোম্পানিগুলোর প্রলোভনে পড়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ভাঙছেন দেশের অধিকাংশ রেস্তোরাঁ মালিকেরা। তারা কুট কৌশলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনের মাধ্যমে কিশোর এবং যুবকদের তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণে উৎসাহিত করছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভয়েসেস ফর ইন্টারেকটিভ চয়েস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (ভয়েস) তামাক কোম্পানির উল্লেখিত অনৈতিক কুট কৌশল ও ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে গবেষণা করে ফলাফল প্রকাশ করে।আজ বুধবার ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) সহযোগিতায় সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয় রেস্তোরাঁ গুলোতে 'আলোকিত রঙিন সজ্জিত বাক্স' (যার ভেতর সিগারেটের খালি প্যাকেট) বিজ্ঞাপনের উপকরণ হিসাবে প্রদর্শিত হতে দেখা যায়। যার সবগুলোতেই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) এর খালি প্যাকেট ও লোগো পাওয়া যায়। শতকরা ৭৩ ভাগ রেস্তোরাঁয় ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকায় এবং শতকরা ২৭ ভাগ রেস্তোরাঁর প্রবেশ পথে ও রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশন টেবিলের কাছে বিজ্ঞাপন সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে। এই বিজ্ঞাপন সামগ্রী প্রদর্শনের জন্য তামাক কোম্পানি রেস্তোরাঁর মালিকদের এককালীন নগদ অর্থ দিয়ে থাকে। এই অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ পনেরো লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা। যার গড় পরিমাণ আট লাখ টাকা। এই নগদ সুবিধা ব্যাংক চেক এবং ব্যাংক ট্রান্সফার এই দুই মাধ্যমে দেওয়া হয়। এই সুবিধা নেওয়ার সময় ৬০ শতাংশ রেস্তোরাঁ লিখিত চুক্তি করেছে এবং ৪০ শতাংশ মৌখিক চুক্তি করেছে।তবে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বা ব্যবহার উৎপাদিত করার উদ্দেশ্যে, কোন দান, পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান, বা কোন অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করা যাবে না। তা ছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে যে কোন উপায়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার না করার জন্য বলা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে শাস্তির কথা বলা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছে, তামাক কোম্পানিগুলো তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তামাক বিক্রয়কে উৎসাহিত করে। তারা বিভিন্ন কৌশল যেমন পণ্য বিক্রয়ের ওপর লক্ষ্যমাত্রা প্রদান, সেরা বিক্রেতাদের নাম তামাক কোম্পানির বিশেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রী প্রদান এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সরঞ্জাম যেমন বিছানা, আলমারি, প্রেশার কুকার, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ইত্যাদি এবং বিলাস সামগ্রী এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ এবং দামি গিফট ভাউচার ইত্যাদি দিয়ে থাকে।গবেষণা ফলাফল প্রকাশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহল হক বলেন, 'সারা বিশ্বে তামাক নিয়ন্ত্রণ অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশেও তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন ও নীতিমালা রয়েছে। কিছু আইন বাস্তবায়ন হলেও, অনেক আইন কার্যকর হয়নি। আইনের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে আমাদের কাজ করতে হবে।' ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাংসদ অসীম কুমার উকিল, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী অতিরিক্ত সচিব হাসেম আলী খোন্দকার, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান, টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ। আলোচকেরা তাদের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মতে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশের নিশ্চিত করতে, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে আরও জোরদার করে সকল বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শন, বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানান। | 6 |
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে স্বপ্নের মতো অভিষেক হয়েছে আলিস ইসলামের। কিন্তু মাঠে নেমে দুঃস্বপ্নের মতো শুরু করেন তিনি। ঢাকা ডায়নামাইটস দলে তিনি সুযোগ পান ডানহাতি স্পিনার হিসেবে। ঢাকার দলে এমনিতে নারিন-সাকিবের মতো অলরাউন্ডার আছেন। আছেন শুভাগত। তাতে আনকোরা এই আলিস আহমেদকে স্পিনার হিসেবে খেলানো বিলাসিতা মনে হতে পারে। কিন্তু অধিনায়ক সাকিব যেমন আলিসকে দলে নেওয়ার কারণ জানালেন তেমনি বোঝালেন আলিস নিজে। ঢাকা শুরুতে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে। ব্যাট হাতে মাঠে নামা হয়নি আলিসের। এরপর ফিল্ডিংয়ে নেমে এক ওভারে শুভাগতর বলে মিঠুনের দুই ক্যাচ ছাড়েন তিনি। সহজ ক্যাচ ছিল দুটোই। অভিষেক ম্যাচে তিনি যেন দর্শক কিংবা মাঠের হইহুল্লোড় নিতে পারছিলেন না। শট লেগে তার ক্যাচ মিস দুটি চোখে ফোটার মতো। কিন্তু তার চেয়ে সম্ভবত বেশি চোখে লেগে থাকবে তার দারুণ হ্যাটট্রিক। দলের হয়ে ১৮তম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভারে বল করতে আসেন তিনি। ম্যাচ বলতে গেলে তখন রংপুরের পকেটে। হাতে ৬ উইকেট। করতে হবে ১৮ বলে ২৬ রান। ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান মিঠুন। ক্যাচ মিসের প্রায়শ্চিত্ব করার দায়িত্বটা আলিস ওই ওভারে হাতে তুলে নিলেন। ক্যারম বল করে মিঠুন-মাশরাফিকে ফেরালেন। এরপর তুলে নিলেন ফরহাদ রেজাকে। আলিসের হয়ে গেল হ্যাটট্রিক। টি-২০ অভিষেকে এর আগে আর কেউ হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়তে পারেননি। অভিষেকে আলিস ইসলাম তা করে দেখালেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাও ঢাকা জিতেছে মাত্র ২ রানে। আলিস ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। শেষ ওভারটাও বল করেছেন তিনি। হয়েছেন ম্যাচসেরা। ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, আমরা জানতাম আলিসের দারুণ বল করার ক্ষমতা আছে। তাই তাকে দলে নেওয়া। দলের জন্য ভালো যে সে ভালো করেছে। আমরা কাছে অধিনায়কত্ব করার মজা এটাই। এমন ম্যাচ জিতলে আলাদা আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়। যে আলিস ইসলামকে নিয়ে সাকিব আল হাসান কথা বললেন, তার ক্রিকেট প্রোফাইল ঘাটলে অবশ্য বিশেষ কিছুই পাওয়া যায় না। ডানহাতে অফস্পিন করেন। বয়স হয়েছে ২২ বছর ৩০ দিন। এমনকি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার তথ্যও মেলে না ইএসপিএন কিংবা ক্রিকবাজের মতো ক্রীড়া বিষয়ক সাইটে। মেলে কেবল ঢাকার হয়ে রংপুরের বিপক্ষে খেলা এই ম্যাচটির তথ্য। আনকোরা ক্রিকেটার থেকে রেকর্ড গড়া আলিস তাই শেষ অবধি হতে পারেন এবারের বিপিএলের বড় পাওয়া। | 12 |
সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ১১১টি সুপারিশ করেছে সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত কমিটি। সুপারিশগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে কমিটি। সভা শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবেদনে ১১১টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আশু করণীয় ৫০টি, স্বল্পমেয়াদি ৩২টি ও দীর্ঘমেয়াদি ২৯টি। মন্ত্রী বলেন, আজকের সভায় প্রতিবেদনটি শুধু গ্রহণ করলাম। কোনো সিদ্ধান্ত দেইনি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৭তম সভা হবে। ওই সভায় সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। ওই টাস্কফোর্সই এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, এই কমিটির সুপারিশ ও সড়ক পরিবহন আইন আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই। সাধারণত কমিটি গঠনের পর রিপোর্ট আলোর মুখ দেখে না। এই রিপোর্টটি তার ব্যতিক্রম। এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা তৈরিতে কাজ করছে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই মুহূর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাইরে আছেন। তিনি আগামীকাল দেশে ফিরবেন। ফিরে তিনি এই বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের আপত্তি ছিল, এগুলো পরিবর্তন হবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আইন ঠিক রেখে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হবে। তবে বিষয়টি যেহেতু আইন প্রণয়নের, তাই আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেখবেন। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সড়কে শৃঙ্খলা জোরদার ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এই কমিটিতে পরে আরও আট সদস্যকে নেওয়া হয়। কমিটি সাতটি সভা করে একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। | 6 |
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে অসময়ের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার ইটভাটাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মালিকদের দাবি, গত রোববার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে অধিকাংশ কাঁচা ইট গলে গেছে। এতে তাঁদের অন্তত ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে ভাটার কাঁচা ইট গলে কাদা হয়ে গেছে। কিছু কাঁচা ইট পলিথিন দিয়ে ঢেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন শ্রমিকেরা। পোড়ানোর জন্য চুল্লিতে সাজানো ইটেও পানি পড়ে গলে গেছে। প্রায় সব কটি ভাটার কয়লা ভিজে নষ্ট হয়েছে। প্রতিটি ভাটায় ৫ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রতিটিতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিকেরা। সব মিলিয়ে উপজেলার ১২টি ভাটায় অন্তত ২ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা করছেন তাঁরা।উপজেলার মিঠাছড়া অবস্থিত এসবিকে-২ ভাটার মালিক মাহমুদুল হক বলেন, তাঁদের ভাটায় ১০ লাখ কাঁচা ইট ছিল। এ ছাড়া চিমনির মধ্যেও বেশ কিছু কাঁচা ইট ছিল। সবই নষ্ট হয়ে গেছে। এর মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে রয়েছে ভাটা পরিষ্কার করার কাজ। এতেও ২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হবে।সুফিয়া রোডের এমএইচ অ্যান্ড ব্রাদার্স ব্রিকের মালিক জুয়েল বলেন, তাঁদের তিনটি ভাটায় প্রায় ৩০ লাখ কাঁচা ইট ছিল। হঠাৎ যে বৃষ্টি হবে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। যে কারণে ইট সরানো যায়নি।মস্তাননগরের এমএনবি ব্রিকের মালিক মো. মুসলিম উদ্দিন খান বলেন, 'আমাদের দুটি ইটের ভাটায় প্রায় ২০ লাখ কাঁচা ইট বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। এমনিতে এ বছর মাটির দাম, শ্রমিক খরচ ও কয়লার মূল্য আকাশছোঁয়া। তার ওপর বৃষ্টির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। অন্য বছর যে কয়লা ৮ লাখ টাকায় কিনতাম, এখন বেড়ে হয়েছে ২৪ লাখ টাকা।'গত বছর তাঁরা প্রতি ১০০ ফুট মাটি ১০০ টাকায় কিনেছেন, এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা। শ্রমিক খরচ অন্যান্য বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি দিতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।করেরহাট সাইবেনিখীলে অবস্থিত আরবিএম ব্রিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানবি মুরাদ জানান, তাঁর ভাটায় ১০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। নতুন করে উৎপাদনে যেতে ১০ দিনের বেশি সময় লাগবে।উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খোকা বলেন, প্রতিটি কাঁচা ইট তৈরিতে ২-৩ টাকা খরচ হয়। হঠাৎ বৃষ্টিপাতে ভাটার মালিকদের যে লোকসান হয়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আজহারুল হক চৌধুরী নওশা মিয়া বলেন, নষ্ট হওয়া কাঁচা ইটের মাটি সরিয়ে নতুন করে ইট তৈরি করতে হবে। এতে বাড়তি শ্রমিক লাগবে, বাড়বে খরচ। ভাটাগুলোর প্রতিটির ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হবে।এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলার ৪০টি ইটভাটায় প্রায় ৪০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন মালিকেরা। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি ও পাইন্দং ইউনিয়নের কয়েকটি ভাটা ঘুরে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা যায়, সাজানো কাঁচা ইটগুলো বৃষ্টির পানিতে ভেঙে গেছে। ভেজা ইট পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, নষ্ট ইটগুলো শ্রমিকেরা সরিয়ে নতুন করে তৈরির কাজ শুরু করেছেন।পূর্ব-সুয়াবিল গ্রামের এবিসি ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, প্রায় দুই লাখ ইট বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার মতো লোকসান গুনতে হবে।কাঞ্চননগরের কেবিএম ইটভাটার মালিক মো. নাজিম উদ্দিন জানান, অসময়ের বৃষ্টিতে তাঁর ভাটায় প্রায় ১ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। এসব নষ্ট ইট সরানোর জন্য আরও ২৫ হাজার টাকা খরচ হবে। সব মিলিয়ে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।পাইন্দং গ্রামের পিবিএম ব্রিকসে কাঁচা ইট তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক নজিবুল ইসলাম বলেন, 'কাঁচা ইট তৈরির জন্য মৌসুমের শুরুতে ভাটার মালিকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছি। ঠিকমতো ইট তৈরি করে দিতে না পারলে টাকা ফেরত দিতে হবে।'উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সমিতির আওতায় উপজেলায় ৪০টি ইটভাটা রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। এতে প্রতিটি ভাটায় ৫ লাখ টাকা করে হলে অন্তত দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হওয়া এসব কাঁচা ইটের মাটি সরিয়ে নিয়ে আবারও নতুন করে ইট তৈরি করতে হবে। এতে বাড়তি শ্রমিক লাগবে, বাড়বে খরচ। | 6 |
জঙ্গি মামলায় জামিন ঠেকাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও পাবলিক প্রসিকিউটদের কার্যালয়ের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ে একটি সমন্বয় সেল গঠনের তাগিদ দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ ধরনের সেল শুধু থাকলেই হবে না, তাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
জঙ্গিরা আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে যাচ্ছে-সম্প্রতি এমন সংবাদ অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, 'জামিন পেয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একটি কো-অর্ডিনেশন সেল থাকা দরকার। যারা নাকি জঙ্গি তাদের ব্যাপারে একেবারে কম্পিউটারে তাদের নাম থাকা উচিত। সেই কম্পিউটার প্রত্যেক জেলায় যারা আইন কর্মকর্তা (পিপি) আছেন তারা যাতে বোতাম টিপলেই সেসব নাম পেয়ে যান। আমার অফিসেও এটা থাকা উচিত যাতে বোতাম টিপলেই আমি কোন জেলায় সন্ত্রাসী মামলায় কে কে আছে এবং তাদের জামিন কখন হয়েছে বা তাদের জামিন আবেদন কখন করা হয়েছে, এটা যাতে আমরা জানতে পারি।'
তিনি বলেন, 'এ ব্যাপারে ইনফরমেশন টেকনোলজির যতো অ্যাপ্লিকেশন হবে ততো এটা আরও গতিশীল হবে। আর সেই সেলকে শুধু ঘরে বসে থাকলে হবে না, তাদের অনবরত যোগাযোগ করতে হবে।'
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, 'জঙ্গিরা নানারকম চালাকির সুযোগ নিচ্ছে। জামিন আবেদনে লিখছে ১৭ নম্বর আদালতে শুনানি হবে। কিন্তু শুনানি করছে ১৩ নম্বর আদালতে। আমাদের অফিস খবর জানতে পারে না। যদি (সেল) এটা ট্র্যাকিং করতে থাকে, কোন কোর্টে কোন জঙ্গি মামলার শুনানি হবে এবং জরুরিভিক্তিতে যদি আমাকে জানানো হয়, অবশ্যই আমরা বা আমার সহকর্মীরা প্রবলভাবে বাধা দিতে পারি।'
জঙ্গিদের জামিনের ক্ষেত্রে এজাহার ও চার্জশিটের দুর্বলতার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, 'জঙ্গিদের ব্যাপারে যখন এজাহার করা হয়, সেটা যদি ঠিকমতো করা না হয়, তাদের থেকে কী কী আলামত পাচ্ছে-সেটা সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয় না। এছাড়া চার্জশিটও সঠিকভাবে দেওয়া না হয়, ফলে আইনের ফাঁকফোকরেই তারা জামিনের সুযোগ নিচ্ছে।'
জঙ্গি মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে-এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'বিচারিক আদালত যদি তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন তা কার্যকর হয় না যদি হাইকোর্ট সেটাকে বহাল না রাখে। সুতরাং আইন মোতাবেকই জঙ্গিদের বিচার হচ্ছে। ও আইন মোতাবেকই এগুলো নিষ্পত্তি হবে। যদি সুপ্রিম কোর্ট এসব রায় বহাল রাখে তাহলে তা কার্যকর হবে। সেজন্য সবাইকে একটু অপেক্ষা করতে হবে।'
| 6 |
পিচঢালা সরু রাস্তা। এই রাস্তা ধরে যতই গ্রামের ভেতরে এগোনো যায় রাস্তার দুই পাশে শুধু সবজি আর সবজি। নানা জাতের সবজিতে ভরপুর গ্রাম। শুধু জমিতেই নয়, গ্রামের কৃষকদের বাড়ির আঙিনায়, ঘরের চালা ও গাছে ঝুলে আছে নানা জাতের সবজি।কৃষকেরা ব্যস্ত সবজি খেতে। কেউ সবজি খেতে নিড়ানি, কেউ জমি তৈরি, কেউ আবার সেচ দিচ্ছেন। এমনই দৃশ্য চোখে পড়বে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পাতেলডাঙি গ্রামে। উপজেলায় গ্রামটি সবজির গ্রাম নামেই পরিচিত।খোকসা বাসস্ট্যান্ড থেকে এ গ্রামের দূরত্ব ১ কিলোমিটার। সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকেরা মাঠের পর মাঠ ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, পটল, টমেটো, পালং শাক, মরিচ, শিম, লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ব্যস্ত। কয়েকজন কৃষক সবজি তুলে বাজারে নিচ্ছেন।প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বিভিন্ন এলাকার পাইকারেরা এখান থেকে গাড়িবোঝাই করে সবজি কিনে নেন।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাতেলডাঙি গ্রামটি নিরাপদ সবজি গ্রাম। এ গ্রামের পরিবারগুলো সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল। বংশ পরম্পরায় ১৫ বছর ধরে তারা সবজি চাষ করছেন। এ বছর গ্রামটির ২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।কৃষক অতুল পরামানিক (৬৫) বলেন, নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য এখন আমরা জমিতে জৈব সার, গোবর, বিষটোপ, জৈব কীটনাশক, হলুদ ট্র্যাপ, সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ ব্যবহার করছি। আগে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতাম।এবার আড়াই বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করছেন চৈতন্য মোদক (৬৫)। ৪০ বছর যাবৎ সবজি চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'গত বছর সেচ দিতে বিঘাপ্রতি খরচ হতো ৬০০ টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ বছর খরচ পড়ছে ১ হাজার টাকা। এমনিভাবে গত বছর পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ দিতে বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৬০০ টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ বছর খরচ পড়ছে ১ হাজার টাকা। কিন্তু সে তুলনায় সবজির দাম বাড়েনি। এ জন্য আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।'পাতেলডাঙি গ্রামের সুকুমার মন্ডল ও মিঠুন শেখ অন্যের জমিতে কাজ করেন। প্রতিদিন তাঁরা ৩০০ টাকার করে হাজিরা পান। তাঁরা জানান, ধান, পাট, গমে লোকসান গুনতে গুনতে কৃষক যখন দিশেহারা তখন বিকল্প উপায়ে সবজি চাষে বেছে নিয়েছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা বলেন, পাতেলডাঙি গ্রামে কৃষকেরা ১৫ বছর ধরে নিরাপদ বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। এ বছর এই গ্রামে ২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। বর্তমানে ৫৫ জন কৃষক বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। নিরাপদ সবজি চাষের জন্য কৃষকদের পরিবেশবান্ধব কৌশল শিখিয়ে দিতে গ্রামে একটি 'কৃষক মাঠ স্কুল' খোলা হয়েছে। | 6 |
রাজশাহীতে থানা থেকে বেরিয়ে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে কলেজছাত্রী লিজা রহমান (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সংখ্যা ও নাম উল্লেখ না করে লিজার শ্বশুর বাড়ির বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, লিজার বাবা আলম মিয়া বাদী হয়ে বুধবার রাতে মহানগরীর শাহ মখদুম থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় তার মেয়েকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আলম মিয়া। এ জন্য লিজার স্বামী সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া শ্বশুর মাহাবুব আলম খোকন ও শাশুড়ি নাজনিন বেগমকে আসামি করা হয়েছে। আর নাম ও সংখ্যা উল্লেখ না করে সাখাওয়াতের ভাই-বোন, ভগ্নিপতিসহ শ্বশুর বাড়ির বেশ কয়েজনকে আসামি করা হয়েছ। শাহ মখদুম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বণী ইসরাইলকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে এ মামলায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রংপুরের গাইবান্ধা জেলার নিজ গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে লিজার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহত লিজার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের পর নিজের আগুনে আগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত লিজার মরদেহ বুধবার রাতে দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। শরীরের ৬৩ শতাংশ দগ্ধ হয়ে ঢামেক'র বার্ন ইউনিটে কলেজছাত্রী লিজা এই টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
আজ ১২ ডিসেম্বর, ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহের জন্মদিন। নিঃসন্দেহে যুবরাজ সিংহ ভারতীয় ক্রিকেটে এক বর্ণময় চরিত্র। দেশের হয়ে অভিষেকের পর থেকেই মাঠে এবং মাঠের বাইরে নানা কারণে তিনি শিরোনামে এসেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছয় বলে ছয় ছক্কাই হোক, বা ২০১১ বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার, যুবরাজের অবদানকে অস্বীকার করতে পারেননি কেউই। যুবরাজ বারবারই তা অস্বীকার করেছেন। তবে সমর্থকদের জল্পনা তাতে থামেনি। বরং আরও বেড়েছে। দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে তার সম্পর্ক যেমন। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই দু'জনকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। পরে ভারতের খেলার সময় দীপিকাকে দেখা যায় গ্যালারি থেকে যুবরাজকে উৎসাহ দিচ্ছেন। এমনকি দীপিকা তার জন্য জন্মদিনের পার্টিও আয়োজন করেছিলেন। মিনিশা লাম্বার সঙ্গেও যুবরাজের নাম জড়িয়ে গিয়েছিল। ২০১১ সালে দু'জনের একটি ছবি সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। মিনিশা তা স্বীকার করেননি। তখন বলেছিলেন, তার মতোই দেখতে কোনও নারীর সঙ্গে ছিলেন যুবরাজ। দীপিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বঙ্গতনয়া রিয়া সেনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় যুবরাজের নাম। একটি পার্টিতে গিয়ে রিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল যুবরাজের। দু'জনেই নাকি একে অপরের থেকে চোখ সরাতে পারেননি। কোনও এক গেট টুগেদারে একে অপরের হাত ধরেছিলেন তারা। মহব্বঁতে-খ্যাত কিম শর্মার সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল যুবরাজের। প্রায় চার বছর ডেট করার পর ২০০৭ সালে বিচ্ছেদ হয় তাদের। অনেকেই বলেছিলেন, কিমের খারাপ ব্যবহারের কারণেই নাকি তাদের বিচ্ছেদ হয়নি। তবে আর এক পক্ষের দাবি, মা শবনমের সমর্থন ছিল না বলেই কিমের সঙ্গে বিচ্ছেদ করেন যুবরাজ। মহব্বঁতে-খ্যাত আরেক অভিনেত্রী প্রীতি জাঙ্গিয়ানির সঙ্গেও জড়িয়েছিল যুবরাজের নাম। কিমের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেই নাকি দু'জনে সম্পর্কে জড়ান। একাধিকবার ডেট হলেও দু'জনের কেউই তা স্বীকার করেননি। ছোটবেলার বন্ধু অঞ্চল কুমারের সঙ্গেও ছিল যুবরাজের সম্পর্ক। আইপিএল ম্যাচের পর দু'জনে একাধিক পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে কোনও এক কারণে দু'জনের সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। বিষেন সিংহ বেদির ছেলে অভিনেতা অঙ্গদ বেদির স্ত্রী নেহা ধুপিয়ার সঙ্গেও জড়িয়েছিল যুবরাজের নাম। ২০১৪ সালে দু'জনের ডেটিং করার খবর প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম। অভিনেত্রী সোফি চৌধুরির জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে নেহার সঙ্গে দেখা হয় যুবরাজের। তখন থেকেই প্রেম। তবে পরে নেহাই প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, অভিনেত্রী প্রীতি জিন্তার সঙ্গেও জড়িয়ে গিয়েছিল যুবরাজের নাম। যুবরাজ তখন তৎকালীন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দলে খেলেন, যে দল এখনও প্রীতির মালিকানাধীন। ম্যাচের পর একাধিক পার্টিতে প্রীতির সঙ্গে দেখা গিয়েছিল যুবরাজকে। দু'জনের পরস্পরকে জড়িয়ে ধরার ছবি এখনও নেটমাধ্যমে পাওয়া যাবে। যদিও প্রীতি এই সম্পর্কের কথা বারবার অস্বীকার করেছেন। অবশেষে ২০১৬ সালে নিজের জীবনসঙ্গীনী খুঁজে পান যুবরাজ। বিয়ে করেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী হ্যাজল কিচকে। বেশ কিছু বছর ধরে হ্যাজলকে ডেট করার পর বিয়ে করেন যুবরাজ। এই বিয়েতে সমর্থন ছিল তার মা শবনমেরও। ধুমধাম করে বিয়ে হয় দু'জনের। সম্প্রতি এই দম্পতির পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। স্বামীর উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা লিখে নেটমাধ্যমে পোস্ট করেন কিচ। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে সাপ কিনে সেই সাপ দিয়ে কামড়ে স্ত্রীকে হত্যার মামলায় এক ব্যক্তিকে দুইবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। সোমবার কেরালা রাজ্যের আদালত এই রায় ঘোষণা করে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্ত্রীকে গোখরার ছোবলে খুন করার মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি সুরজ নামের ওই যুবককে পাঁচ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। ২০২০ সালের মার্চে সাপের কামড়ে মারা যান সুরজের স্ত্রী উথরা (২৫)। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুরজ যৌতুকের দাবি করেছিলেন বলে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গোখরা এবং বোড়া সাপ কীভাবে পাওয়া যায় তা নিয়ে অনেক দিন অনলাইনে খোঁজ করেছিলেন সুরজ। শুধু তাই নয়, কীভাবে গোখরার বিষ বের করা হয় সেই ভিডিও কয়েকবার দেখেছিলেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, অনেক খোঁজাখুঁজির পর সুরেশ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ হয় কেরালার বাসিন্দা সুরজের। ১০ এবং ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সুরেশের কাছ থেকে দু'টি সাপ কেনেন তিনি। উথরা যখন বাবার বাড়িতে ছিলেন সে সময়ই তাকে সাপের ছোবলে খুন করা হয়। ২০২০ সালের ৭ মে বাবার বাড়িতেই সাপের কামড়ে ম়ৃত্যু হয় তার। উথরার পরিবারের অভিযোগ ছিল, মেয়েকে সাপের ছোবলে খুন করেছে সুরজ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাচক্রে ওই ঘর থেকেই গোখরা উদ্ধার হয়। এর আগেও মার্চে শ্বশুরবাড়িতে উথরাকে সাপে কামড়েছিল। তখন তার পরিবার অভিযোগ তুলেছিল খুন করতেই সাপের ছোবল খাইয়েছিলেন সুরজ। কেরালার পুলিশ সুপার হরিশঙ্কর জানান, প্রথমে ওই ঘটনাকে স্বাভাবিক সাপের কামড় বলে চালাতে চেয়েছিলেন সুরজ। তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। আদালতে আইনজীবী এই মামলাকে 'বিরলের চেয়েও বিরল' আখ্যা দিয়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড কামনা করেন। আদালত মামলাটি 'বিরল' মন্তব্য আসামিকে দুইবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। এর আগে রাজস্থানেও এমনই একটি মামলা প্রকাশ্যে আসে। ২০১৯ সালে রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার ওই ঘটনায় এক নারী সাপের সাহায্যে তার শাশুড়িকে খুন করান বলে অভিযোগ। জানা যায়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জানতে পারার কারণেই পুত্রবধূ তার প্রেমিকের সাহায্যে শাশুড়িকে হত্যা করেছিলেন। | 3 |
আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩০ জানুয়ারি একটি পরীক্ষার দিন। এই পরীক্ষায় জয়ী হতেই হবে। তিনি নেতা-কর্মীদের মনোবল ধরে রাখারও আহ্বান জানান। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় নির্বাচনী প্রচার কার্যালয় উদ্বোধনের সময় তাবিথ আউয়াল এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তাবিথ আউয়াল বলেন, 'আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মনোবল ভাঙা যাবে না। যত সমস্যাই আসুক, তা মোকাবিলা করে বিজয়ী হতে হবে।' তিনি ওই সময় নিজের প্রতীক ধানের শীষ ছাড়াও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নবী হোসেন (ঘুড়ি প্রতীক) ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থী তালেহা ইসলামের (আনারস প্রতীক) পক্ষে ভোট চান। তিনি বলেন, 'এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে আবার ফিরিয়ে আনব।' এর আগে সকালে তাবিথ আউয়াল উত্তর বাড্ডার রহমতউল্লাহ গার্মেন্টস এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এ সময় তিনি বলেন, 'গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারা দেখছি। আগে পোস্টার ছেঁড়া হতো। এখন অনেক জায়গায় ব্যাটারিসুদ্ধ মাইক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ফেরত দিচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।' নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) করে সবার জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করুন। নির্বাচনের আরও ১২ দিন বাকি আছে। প্রতিটি দিন যেন সবাই সুস্থভাবে প্রচার চালাতে পারেন। বাড্ডা এলাকার সমস্যা তুলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, এই এলাকা নতুন করে সিটি করপোরেশনে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু নাগরিক সুবিধা নেই। রাস্তাঘাট খারাপ। সড়কে বাতি নেই। কর্মজীবী নারীদের জন্য এখনো অনিরাপদ। গত মৌসুমে এ এলাকার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, মেয়র নির্বাচিত হলে নাগরিকদের নিরাপত্তাসহ সব রকমের ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনী প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিকুল ইসলামের 'চা দোকানি সাজার' বিষয়ে সাংবাদিকেদের এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, ' আমার প্রতিপক্ষ তাঁর নির্বাচনী প্রচার যেভাবে পারেন, করবেন। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব না।' তবেতাবিথ আউয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পেজে পোস্ট করা একটি ছবি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। ওই ছবিকে নিয়ে অনেকে বলছেন তিনি 'বাস কনডাক্টর সেজেছিলেন'। ছবিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আপনারা দেখবেন, ২০১৫ সালে নির্বাচনী প্রচারের ওই ছবিতে আমি বাসের জানালার বাইরে গণসংযোগের জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। সেখানে বাসের কনডাক্টর সাজার কোনো চেষ্টা ছিল না। এটাকে নিয়ে এখন অপব্যবহার করা হচ্ছে।' তাবিথ আউয়াল আজ উত্তর বাড্ডার পর সাঁতারকুল, মেরাদিয়া, জোয়ারসাহারা এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। গণসংযোগে বিএনপির কয়েক শ নেতা-কর্মী, সমর্থক খালেদা জিয়া ও ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন। তাঁরা প্রার্থীর প্রচারপত্র বিলি করেন। | 9 |
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ট্রাক্টরের চাপায় শাহীন মিয়া (২৬) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি। এর আগে গত মঙ্গলবার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন শাহীন মিয়া। তিনি উপজেলার পোগলদিঘার মুনারপাড়া গ্রামের মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে। বিন্ন্যাফৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ছিলেন তিনি।স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার শাহীন মিয়া একই উপজেলার পিংনার মেঁদুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে যান। পরদিন মঙ্গলবার সকালে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথিমধ্যে মেঁদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টর তাঁকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সরিষাবাড়ী ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।শাহীন মিয়ার অবস্থার আরও অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে একইদিন রাতে তাঁকে ঢাকার আজগর আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আজ সকালে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহীন মিয়া।এ বিষয়ে মৃতের ফুপা শ্বশুর লাল মিয়া ও বন্ধু শিমুল মিয়া জানান, শাহীন মিয়া তাঁর ছেলে ও স্ত্রীকে দেখতে গত সোমবার শ্বশুর বাড়িতে আসেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে ফেরার পথে মেঁদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি ট্রাক্টর তাঁকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সরিষাবাড়ী, ময়মনসিংহ পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।অপরদিকে, স্থানীয়রা ঘটনার পর থেকে ওই ট্রাক্টরটিকে আটকে রেখেছে।তারাকান্দি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) আব্দুল লতিফ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ নিয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। | 6 |
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ চা-বাগান। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারা বছরই পর্যটকেরা বেড়াতে আসেন এখানে। জেলার ৯১টি চা-বাগানের অধিকাংশই শ্রীমঙ্গলে। আর এই চা-বাগানগুলোর একেকটির সৌন্দর্য একেক রকম। এর মধ্যে কিছু কিছু চা-বাগানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে পর্যটকেরা নিজেদের আবিষ্কার করেন অন্য এক রাজ্যে।চা-বাগানের জন্য শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এলেও অনেকেই ভালো করে চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন না। অনেকে লাউয়াছড়া বন দেখতে যাওয়ার সময় বিটিআরআইওটি রিসোর্টের আশপাশের অল্প পরিসরের চা-বাগান দেখেই নিজেদের আশা পূরণ করেন। অনেকেই আবার শুধু চা-বাগান দেখার জন্য ছোট একটি যানবাহন নিয়ে ছুটে চলেন এক বাগান থেকে আরেক বাগানে। বিশেষ করে যারা দৃষ্টিজুড়ে শুধু সবুজের সমারোহ দেখতে চান, তাঁরা চাইলে যেতে পারেন এমআর খান চা-বাগানের দার্জিলিং টিলায়। দেখতে অনেকটা দার্জিলিংয়ের চা-গানের মতো। তাই নাম দেওয়া হয়েছে দার্জিলিং টিলা নামে।শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা হরিপদ রায় বলেন, জায়গাটি দার্জিলিংয়ের চেয়েও সুন্দর। মৌলভীবাজার জেলায় অনেক সুন্দর চা-বাগান ও পাহাড়ি এলাকা রয়েছে। ঠিকভাবে এগুলো তুলে ধরতে পারলে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রীমঙ্গলের একেক বাগানের সৌন্দর্য একেক রকম। দার্জিলিং টিলা স্পটটি খুবই সুন্দর। এর আশপাশে কোনো বাড়িঘর নেই, পুরোটাই সাউন্ডলেস।এমআর খান চা-বাগানের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশ অনেক ভালো। বিশেষ করে বাগানের মধ্যবর্তী স্থানের ৭ নম্বর সেকশনটি খুবই সুন্দর। এটি দেখার জন্য বিভিন্ন সময় মানুষ বেড়াতে আসেন। পর্যটকদের জন্য এখানে বেশ কিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।এমআর খান চা-বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক জহির চৌধুরী বলেন, জায়গাটি তাঁরা পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করে রাখেন। তবে জায়গাটি দেখতে হলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে।এমআর খান চা-বাগানে যেতে হলে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ রোড পেট্রলপাম্প চত্বর থেকে রাধানগর হয়ে মহাজেরাবাদের সিএনজি অটোরিকশায় উঠে এমআর খানের রাস্তায় নেমে এক থেকে দেড় কিলোমিটার হেঁটে যেতে হবে। আর রিজার্ভ নিলে এমআর খানের দার্জিলিং টিলায় সরাসরি গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে। শ্রীমঙ্গল থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। সময় লাগবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। | 6 |
সৌদি আরবে ২০১৭ সালে ১ কোটি ৯০ মানুষ ওমরাহ পালন করেছেন। এর মধ্যে বিদেশি ছিলেন ৬৫ লাখ। ওমরাহ ভিসা নিয়ে মক্কা, মদিনা ও জেদ্দার বাইরে অন্য স্থান ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আর কেউ নতুন এই নিয়ম ভঙ্গ করলে তার জেল-জরিমানা হবে বলে জানিয়েছে সৌদির পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পাসপোর্ট অধিদপ্তর সতর্ক করে দিয়ে বলেছে ওমরাহ হাজিদের অবশ্যই এ নিয়ম মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো বিলম্ব না করে দেশে চলে যেতে হবে। অন্যথায় ভিসার নতুন শর্ত ভঙ্গ করলে ওমরাহ হাজিদের ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা এবং দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ৬ মাসের জেল খাটতে হবে। এছাড়া ভিসার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ওমরাহ হজ পালন করে দেশে ফিরতে হবে জানিয়েছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেসিডেন্সি, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটিতে অভিযান চালাচ্ছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সৌদি সরকার এই অভিযান শুরু করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ লাখ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩ লাখের বেশি ব্যক্তি তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মেয়াদোওীর্ণ ভিসাধারী ব্যক্তিকে স্থানান্তর, কাজ দেয়া বা থাকতে না দেয়ার ব্যাপারে সৌদির নাগরিক ও বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদির পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এ ধরনের অপরাধে চলমান অভিযানে ২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুখবর সৌদি নাগরিকদের, দু:সংবাদ প্রবাসীদের সৌদি চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর জানিয়েছে দেশটি। খুচরা বিক্রয় খাতের প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার চাকরি শুধু সৌদি আরবের নাগরিকরাই পাবেন। ১২টি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আগামী হিজরি সালের শুরু থেকেই তা চালু হবে। সৌদি আরবের স্মল এন্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ অথোরিটির রিটেইল সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মাহমৌদ মাজি এমনটি জানিয়েছেন। আল-ইক্তিসাদিয়াহ বিজনেস ডেইলিকে তিনি আরো জানান, ঘড়ি, চশমা, গাড়ির যন্ত্রাংশ, চিকিৎসা উপকরণ, বৈদ্যুতিক যন্ত্র, ভবন উপকরণ এবং সবধরণের কার্পেটের বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে সৌদি নাগরিকরা চাকরি পাবেন। গাড়ি, মোটর বাইকের শোরুম, বাড়ি ও অফিসের আসবাবপত্র, শিশু, পুরুষদের রেডিমেড পোশাক, গৃহস্থালী উপকরণ বিক্রয় কেন্দ্রেও একই সিদ্ধান্তের আওতায় থাকবে। অানুষ্ঠানিকভাবে সৌদি ন্যাশনালাইজেশন স্কিম বা নিতাকাত সিস্টেম নামক নীতি অনুযায়ী, সৌদি কোম্পানির জনবলের একটি নির্দিষ্ট অংশ সৌদি নাগরিকদের দিয়েই পূরণ করতে হবে। ক্ষুদ্র ও বৃহৎ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে সৌদিদের নিয়োগ জনবলের ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে জানিয়ে মাজি জানান, এবিষয়ক সংস্থাগুলো ২০২০ সালের মধ্যে এই হার ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে। | 3 |
ডিসেম্বর মানেই গৌরবময় বিজয়ের আনন্দ। লাল ও সবুজ রং আমাদের ফ্যাশনে আইকনিক রং হয়ে উঠেছে গত ৫০ বছরে। এখন লাল-সবুজের ছাপ চোখে পড়ে সবখানেই। প্রতিবছরের মতো এ বছরও দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো শিশুদের জন্য নিয়ে এসেছে বিভিন্ন ধরনের পোশাক। পোশাকে রয়েছে বিজয়ের পতাকা ওড়ানোর মোটিফ, লাল-সবুজ পতাকা, দেশাত্মবোধক গানের লাইন প্রভৃতি। কে ক্রাফটবিজয়ের মাসে শিশুদের জন্য লাল ও সবুজ রঙের টি-শার্ট, ফ্রক, পাঞ্জাবির পাশাপাশি কালো রঙের পোশাকও নিয়ে এসেছে কে ক্রাফট। কালো রঙের পোশাকে রয়েছে দেশাত্মবোধক গান ও বিজয় উল্লাসের মোটিফ। কিছু কিছু টি-শার্টে আছে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির স্মারক। পাঞ্জাবিতে রয়েছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, পতাকা ও বাটিক মোটিফ। টি-শার্টের দাম ৩৫৫ টাকা এবং পাঞ্জাবির দাম ৬৯৫-৭১৫ টাকা। ফ্রকের দাম ৮৩৫-১০১৫ টাকা। বিশ্বরঙলাল-সবুজ রঙের টপস, ফ্রক, কামিজ ও পাঞ্জাবি নিয়ে এসেছে বিশ্বরঙ। সাদা ও জলপাই রঙের সঙ্গে লাল-সবুজের সংমিশ্রণের পোশাকও রয়েছে এখানে।কিছু কিছু কামিজে রয়েছে কটি। পোশাকে রয়েছে এমব্রয়ডারি কাজ। শিশুদের পাঞ্জাবিতে রয়েছে লাল-সবুজ-হলুদ-কমলা রঙের মিশেল। রয়েছে এক রঙের পাঞ্জাবিও। দাম ১২৫০-২০০০ টাকা।রঙ বাংলাদেশশিশুদের জন্য রঙ বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে শাড়ি, টপস, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি। লাল রঙের ভয়েল কাপড়ের শাড়িতে রয়েছে সবুজ রঙের ব্লক প্রিন্ট। আঁচলে রয়েছে টার্সেল। লাল রঙের পাঞ্জাবিতে রয়েছে সবুজ ও টিয়া রঙের ব্লকপ্রিন্ট। সবুজ রঙের টপস, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবিও এনেছে ব্র্যান্ডটি। পাঞ্জাবিগুলোর দাম ৬৩০-৯৮০ টাকা। শাড়ির দাম ৮৫০-১০০০ টাকা। অঞ্জন'সঅঞ্জন'সে পাওয়া যাচ্ছে সবুজ ও জলপাই রঙের পাঞ্জাবি। সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবিতে রয়েছে স্ক্রিনপ্রিন্ট। ব্র্যান্ডটিতে রয়েছে লাল ও নেভি ব্লু রঙের পোশাক। দাম ৫৯১-১৫০০ টাকা পর্যন্ত। | 6 |
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে এদিন করোনায় কারও মৃত্যু না হলেও করোনা উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর পূর্বে করোনা ও উপসর্গে জুলাই মাসে ৪৮২ এবং আগস্ট মাসে ৪১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এই হাসপাতালে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে তাঁদের মৃত্যু হয়।করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন মহিউদ্দিন খান জানান, করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে নতুন ১৫ জন ভর্তিসহ বুধবার সকাল পর্যন্ত ১২৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে আইসিউতে ৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া মঙ্গলবারে সুস্থ হয়ে ৩২ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন এবং ৫৩ জন ওয়ানস্টপ ফ্লু কর্নারে সেবা নিয়েছেন।সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৪টি নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত ২১ হাজার ৪২৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২০ হাজার ৮০ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট ২৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। | 6 |
একটি সড়ক দুর্ঘটনা চুরমার করে দিয়েছে তিনটি পরিবারের স্বপ্ন। স্তব্ধ হয়ে গেছে তাদের সবাই, নিশ্চল নিশ্চুপ হয়ে গেছে তাদের চারপাশ।রোববার বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফার্মাসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফৌজিয়া মোসলেম। তাকে বহনকারী ইজিবাইককে সামনাসামনি ধাক্কা দিয়ে সব কিছু ওলটপালট করে ফেলেছে একটি পিকআপ ভ্যান। ফৌজিয়ার নিজের পরিবার, তার হবু স্বামী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।ফৌজিয়ার অকালমৃত্যুতে সোমবার কালো পতাকা উত্তোলন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ঘাতক চালক কিংবা পিকআপ ভ্যানটিকে আটক করতে পারেনি।নোবিপ্রবির ফার্মাসি বিভাগের অষ্টম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী ফৌজিয়া মোসলেম রোববার দুপুরে নোয়াখালী পৌরসভার পশ্চিম সাহাপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হন। সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে সেখান থেকে সোনাপুর-সুবর্ণচর আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর দিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চড়ে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন তিনি। ইজিবাইকের চালকের পেছনের আসনে বসেছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাকে বহনকারী ইজিবাইকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের উত্তরপাশে ঠক্কর এলাকায় পৌঁছার পর সুবর্ণচর-সোনাপুরগামী একটি পিকআপ ভ্যান ইজিবাইককে সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফৌজিয়া ছিটকে পড়ে মাথায় ও কপালে আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে যান। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিহত শিক্ষার্থী মাথায় ও কপালে আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। এ সংবাদে তার পরিবার, হবু স্বামীর পরিবার ও ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। অকাল এ মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।ফৌজিয়ার বাবা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-ঠিকাদার মো. মোসলেম উদ্দিন কন্যাশোকে পাথর। এক বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে ফৌজিয়া ছিলেন সবার বড়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফৌজিয়ার বাবা বলেন, জীবনের সব স্বপ্নই ছিল এই মেয়েকে ঘিরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল ওর; কিন্তু সে স্বপ্ন ভেঙে গেল।নোবিপ্রবির ভিসি ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান জানান, এ মৃত্যু একেবারেই অপ্রত্যাশিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে ফৌজিয়া গত বৃহস্পতিবার তার হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফৌজিয়ার পরিবারের পাশে আছে।মেধাবী, সুশ্রী ফৌজিয়া এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ এবং ফার্মেসি বিভাগের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। মাস্টার্সেও প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন ছিল তার। একই বিভাগের প্রভাষক মনির হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথাও চূড়ান্ত ছিল।গত রোববার রাত ৯টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে ফৌজিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়। আত্মীয়স্বজন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর, ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আশপাশের লোকজন চোখের জলে চিরবিদায় দেন তাকে।সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘাতক চালক ও পিকআপ ভ্যানটিকে আটক করতে পুলিশ রোববার রাত থেকেই কাজ শুরু করেছে।
| 6 |
চলমান কঠোর বিধিনিষেধেও পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হয়েছে গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান। এখনও বহাল আছে বিধিনিষেধ। কিন্তু নগরীতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বাড়ায় আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে অনেক জায়গায় যানজট লেগে থাকছে। ফলে দিন যতই গড়াচ্ছে অকার্যকর হয়ে পড়ছে চলমান বিধিনিষেধ।বুধবার চলমান বিধিনিষেধের ১৩ তম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, সিএনজির, রিকশা, মোটরসাইকেল চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের চলাচল বেড়েছে।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আজ ব্যাংক বন্ধ থাকলেও শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। ফলে মানুষ বাইরে আসছে। খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট। রাজধানীর জুড়ে কাঠের বিধিনিষেধ অনেকটাই ঢিলেঢালা ভাবে চলছে। রাজধানীর মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্টর নেই বললেই চলে। নেই কোনো তৎপরতা। বাইরে বের হওয়া মানুষ ও যানবাহন জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়ায় চলাচল করতে পারছেন। রাজধানীর সড়কে গণপরিবহন না চললে মাঝে মাঝে দু একটি বাস যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। সেসব বাসে লেখা বিদেশগামী যাত্রীদের আসা-যাওয়ার জন্য।এদিকে অফিসগামী যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। গণপরিবহন না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য। রিকশায় বাড়তি ভাড়া। সব গন্তব্যে যেতে চাই না রিকশা। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন জুলহাস হক। মগবাজার থেকে যাবেন মতিঝিল। রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সরকার ব্যাংক, শিল্প প্রতিষ্ঠান সবই খুলে দিয়েছে আর কি বাকি আছে খুলতে। তাহলে এই বিধিনিষেধ রেখে লাভটা কি। এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য গণপরিবহন খুলে দেওয়া হোক। না হলে সব বন্ধ করে দেওয়া হোক। অফিস খুলে দিয়ে গণপরিবহন বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি করার অধিকার কারও নেই।'বাড্ডা বাসস্ট্যান্ডে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, 'আমার ভাই অসুস্থ ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছে। তাকে দেখার জন্যই হাসপাতালে যাচ্ছি। গণপরিবহন না থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজিতে যেতে হচ্ছে। এই ভাবে যাতায়াতের জন্য অনেক টাকা খরচ হয়। চলাচলে বাড়তি খরচে এক শ্রেণির মানুষ চরম বিপদে পড়েছে।'এদিকে বাইরে বের হওয়া মানুষের মধ্যে আগের চেয়ে সচেতনতা কমেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতেও অনীহা দেখা গেছে মানুষের মধ্যে। অনেকেই মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছেন।মুদির দোকান চালান রিয়াজুল ইসলাম চলমান বিধিনিষেধ নিয়ে তিনি বলেন, 'লকডাউন কেবল কাগজে কলমে, বাইরে আসলে তো দেখা যায় সব চলছে। গণপরিবহন ছাড়া সবকিছুর স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তাহলে এমন লকডাউন রেখে লাভ কি। এই লকডাউনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে কর্মহীন হয়ে পড়েছে মানুষ।' এদিকে রাজধানীতে যানজট সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। রামপুরা এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, ' শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলার কারণেই রাজধানীর সড়কে গত কয়েকদিনে ধরেই যানবাহনের চাপ বেড়েছে। প্রতিটা সড়কে রিকশা বেশি চলার কারণে যানজট লাগছে। আমার চেষ্টা করছি যানজট যাতে না লাগে।'এদিকে ঈদুল আজহার পরে গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এই বিধিনিষেধ আগামী ৫ আগস্ট থাকার কথা থাকলেও তা আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানিয়েছিল সরকার। | 6 |
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী হাঙর ভাস্কর্য মোড় থেকে পূর্ব দিকে পাঁচ কিলোমিটার গেলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস। তার উল্টো দিকে ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির পাশ ঘেঁষে উত্তর দিকে চান্দের পাড়ায় চলে গেছে চার লেনের একটি কাঁচা রাস্তা। চান্দের পাড়া গ্রামটি পড়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে। সড়কের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণমুখী ছয়তলা একটি ভবন। ভবনটির মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ। এখন ভবনের চারদিকে গ্লাস লাগানো ও ছাদের ওপর স্টিলের ক্যানোফি বসানোর প্রস্তুতি চলছে। ভবনের ভেতরে চলছে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন, ফায়ার ফাইটিং, স্যানেটারি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিসহ নানা কাজ। মূল রেলস্টেশন ভবনের পূর্ব পাশে চলছে পদচারী-সেতু ও প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশন এটি। ২৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা রেলস্টেশন ভবনটি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুটের। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সরাসরি কক্সবাজারে আসবে স্বপ্নের রেল। রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্বপ্নপূরণের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে ৬৯ শতাংশ। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের রামু, ঈদগাঁও, পেকুয়া ও চকরিয়া অংশে প্রায় ২৮ কিলোমিটার রেলট্রেক বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। দিন-রাত কাজ করছেন ১৫০ জন প্রকৌশলীসহ প্রায় ২ হাজার শ্রমিক। এ ছাড়া আইকনিক রেলস্টেশন ভবন, ছোট-বড় সেতু, কালভার্ট, লেভেল ক্রসিং ও হাইওয়ে ক্রসিংয়ের কাজও পুরোদমে চলছে। চান্দের পাড়া গ্রামটি ছিল ধান চাষের জায়গা। এই জায়গা ভরাট করে চলছে আইকনিক রেলস্টেশন ভবনসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ। ৩ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা গেছে, চান্দের পাড়ার মধ্যভাগে ২৯ একর জায়গাজুড়ে চলছে রেলস্টেশন নির্মাণযজ্ঞ। ছয় শতাধিক শ্রমিক ও প্রকৌশলী স্টেশন ভবন, পদচারী-সেতু, প্ল্যাটফর্ম ও ১৯টির বেশি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। ছয়তলা ভবনের কোথায় কী হচ্ছে, তার সবকিছু এই প্রতিবেদকের কাছে বর্ণনা দিলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার শিশির মণ্ডল। তিনি বললেন, ছয়তলা রেলস্টেশনের মূল ভবনটির কাজ শেষ। এখন ভবনের চারদিকের গ্লাস ফিটিংস, ছাদের ওপর স্টিলের ক্যানোফি টানার প্রস্তুতি চলছে। এগুলো চীন থেকে আমদানি হবে। পাশাপাশি ভবনের দরজা-জানালা ফিটিংস, টাইলস, স্যানিটারি, বিদ্যুতের লাইন ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ চলছে। মূল ভবনের সামনে খোলা মাঠে তৈরি হবে ঝিনুকাকৃতির দৃষ্টিনন্দন একটি ফোয়ারা। যাত্রীরা ঝিনুক ফোয়ারা দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করবেন। তারপর চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে পদচারী-সেতু হয়ে উঠবেন ট্রেনে। আবার ট্রেন থেকে নেমে ভিন্ন পথে বেরিয়ে যাত্রীরা পা বাড়াবেন সৈকতশহরে। এ জন্য তৈরি হচ্ছে গমন ও বহির্গমনের পৃথক দুটি সড়ক। থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের তিনটি বড় জায়গা। ভবনের পূর্ব পাশে নির্মিত হচ্ছে ৮০ ফুট লম্বা পদচারী-সেতু। এর সঙ্গে যুক্ত হবে পৃথক তিনটি চলন্ত সিঁড়ি। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভবনের উত্তরে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ মিটার প্রস্থের তিনটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ৬৫০ মিটার ও প্রস্থ ১২ মিটার। মূল ভবনের নিচতলায় থাকবে টিকিট কাউন্টার, অভ্যর্থনাকক্ষ, লকার, তথ্যকেন্দ্র, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, পেসেঞ্জার লাউঞ্জ ও পদচারী-সেতুতে যাতায়াতের পথ। দ্বিতীয় তলায় থাকবে শপিং মল, শিশুযত্নকেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি। তৃতীয় তলায় ৩৯ কক্ষবিশিষ্ট তারকামানের হোটেল; চতুর্থ তলায় রেস্তোরাঁ, শিশুযত্নকেন্দ্র, কনফারেন্স হল ও কর্মকর্তাদের কার্যালয়। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে প্রকল্পের (আইকনিক স্টেশন বিল্ডিং) কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার মো. আবদুল জব্বার প্রথম আলোকে বলেন, ১০০ কিলোমিটারের নির্মাণাধীন রেলপথের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে আইকনিক এই রেলস্টেশন। যেখানে থাকছে তারকামানের হোটেল, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, শিশুযত্নকেন্দ্র, লকার বা লাগেজ রাখার স্থান। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে রাতের ট্রেন ধরে সকালে কক্সবাজারে নেমে পর্যটকেরা লাগেজ, মালামাল স্টেশনে রেখে সারা দিন সমুদ্রসৈকত বা দর্শনীয় স্থান ঘুরে রাতের ট্রেনে আবার ফিরতে পারবেন নিজ গন্তব্যে। রেলওয়ে প্রজেক্টের (আইকনিক স্টেশন বিল্ডিং) প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ছয়তলা আইকনিক স্টেশন ভবনের মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম ও পদচারী-সেতুর কাজও ৩০ শতাংশ এগিয়েছে। ছাদের কাঠামো স্থাপনসহ ভবনের অন্যান্য কাজ চলতি এপ্রিল মাসে শুরু হবে। বর্ষা মৌসুমেও কাজে সমস্যা হবে না। কারণ, ভবনের মূল কাঠামোর কাজ যেহেতু শেষ, ফলে এই কাজগুলো ভেতরে বসে করা যাবে। মেয়াদের দুই মাস আগেই যেন আইকনিক রেলস্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ হয়, সে লক্ষ্যে পুরোদমে কাজ চালানো হচ্ছে। স্টেশন ভবনের পশ্চিম পাশে একসঙ্গে চলছে পাঁচতলা ২০টি ভবনের নির্মাণকাজ। | 6 |
রংপুরের পীরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সৈকত মণ্ডল। এ ছাড়া অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় বটেরপাড়া মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে আদালতে তোলা হলে তিনিও স্বেচ্ছায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতকে জানিয়েছেন।আজ রোববার সন্ধ্যায় রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের আদালতে তাঁরা অপরাধ স্বীকার করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপরাধ স্বীকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধক শহিদুর রহমান। এর আগে হিন্দুপল্লিতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে থাকা ৩৭ আসামিকে বিকেলে আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান নতুন করে রিমান্ড আবেদন না করায় শুনানি শেষে তাদেরও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিদের পক্ষে একাধিক আইনজীবী জামিন আবেদন করলেও আবেদন নামঞ্জুর হয়।প্রসঙ্গত, ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ঘটনায় পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর মাঝিপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৃথক চারটি মামলা হয়। এর মধ্যে তিনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। একটি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলা। এ পর্যন্ত চার মামলায় ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। | 6 |
দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০১৮-১৯ মেয়াদে নির্বাচনে 'টিম হরাইজন' প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। সাধারণ এবং সহযোগী ক্যাটাগরিতে নয় কার্যনির্বাহী সদস্যের বিপরীতে টিম হরাইজন থেকে ছয় জন বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে টিম হরাইজনের দলনেতা মেট্রোনেটের প্রধান নির্বাহী বেসিসের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর সর্বোচ্চ ১৯৮ ভোট পেয়েছেন।এছাড়া একই প্যানেল থেকে স্পেকট্রাম সফটওয়্যার অ্যান্ড কনসালটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশফিকুর রহমান (১৮৩ ভোট), ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফারহানা এ রহমান (১৭৮ ভোট), বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের পরিচালক শোয়েব আহমেদ মাসুদ (১৮১ ভোট), জানালা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজিদ সিদ্দিক স্পন্দন (১৮০ ভোট) এবং শুটিং স্টার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিদারুল আলম সানি (১৭৫ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া উইন্ড অব চেঞ্জ প্যানেলের দলনেতা দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা এবং দুর্জয় প্যানেলের দলনেতা ফ্লোরা লিমিটেডের মোস্তাফা রফিকুল ইসলামের ডিউক বিজয়ী হয়েছেন। আর সহযোগী ক্যাটাগরিতে আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর নির্বাচিত হয়েছেন।এদিকে আগামী ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক পদবণ্টন নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিজয়ী প্যানেলের প্রধান সৈয়দ আলমাস কবীর সমকালকে বলেন, আজ (শনিবার) রাতেই তারা পদবণ্টন সম্পন্ন করেছেন। নতুন কমিটিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন সৈয়দ আলমাস কবীর। এছাড়া সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মুশফিকুর রহমান ও শোয়েব আহমেদ এবং অন্য বিজয়ীরা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।এবারের নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে তিন প্যানেল ও স্বতন্ত্রভাবে ৪০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাটাগরিতে আট পদের বিপরীতে ৩৪ জন এবং সহযোগী ক্যাটাগরিতে একমাত্র পদের বিপরীতে ছয় জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সর্বশেষ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর নির্বাচনে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২৬ প্রার্থী এবং সহযোগী ক্যাটাগরিতে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাজধানীর বেসিস কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নয় কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত করতে ৫৪২ জন সদস্য ভোট দেন। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৩৯৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সঠিকভাবে ভোট না দেওয়ায় ১৩টি ভোট বাতিল করা হয়। আর সহযোগী ক্যাটাগরিতে ১৪৫ জন ভোট দেন। এক্ষেত্রেও চারটি ভোট বাতিল হয়। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীর সমকালকে বলেন, আইসিটি খাতের উন্নয়নে সব বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।তবে এর আগে গত মঙ্গলবার বেসিসের ১১ সদস্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য নির্বাচনী কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই দিনই বেসিসের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নেতাদের উদ্যোগে এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের হস্তক্ষেপে নির্বাচন কর্মকাণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগেও বেসিসের গঠনতন্ত্র ইস্যুতে গত বছরের ৮ জুলাই এবং ২৮ ডিসেম্বর দুই দফার নির্বাচন স্থগিত হয়। অবশেষে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর ঝুলে থাকা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম কামাল জানিয়েছেন, দিনভর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। আগামী ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক পদবণ্টনের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেবে। | 11 |
করোনা সংকটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালনার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার অজুহাতে একলাফে বাসের ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এখন দেশের কোন গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। যে সব শর্ত অনুসরন করে বর্ধিত ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয়েছিল তার কোনটাই মানা হচ্ছে না। সেই পুরনো কায়দায় গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। আবার এই করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়ার চেয়েও অধিকাংশ রুটে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে করোনা সংকটে কর্মহীন ও আয় কমে যাওয়া দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, সরকার যাত্রীপ্রতিনিধি বাদ দিয়ে মালিকদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে করোনার এই মহাসংকটে থাকা দেশের অসহায় জনগণের উপর একচেটিয়াভাবে বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বর্ধিত করে অযৌক্তিকভাবে চাপিয়ে দিলে সাথে সাথে দেশব্যাপী চলাচলরত বাস-মিনিবাসের সাথে লেগুনা, হিউম্যান হলার, টেম্পু, অটোরিক্সা, প্যাডেলচালিত রিক্সা, ইজিবাইক, নসিমন-করিমন, টেক্সিক্যাবসহ সকল প্রকার যানবাহনের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হয়, ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানীকে আরেক দফা উসকে দেওয়া হয়। তৎসময়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে এই ভাড়া বৃদ্ধির তীব্র বিরোধীতা করা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে স্বাস্থ্যবিধির নামে গণপরিবহণের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে দেশের প্রতিটি রুটে বর্ধিত ভাড়া পুর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান তিনি। | 6 |
জীবদ্দশায় মাত্র পাঁচবার বিজ্ঞানীদের সামনে দেখা দিয়েছে এ প্রাণী। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ পূর্ব হোবার্টের তাসমান পেনিসুলার উপকূলে। সম্প্রতি ২২ বছর আগে দেখা গোলাপি হ্যান্ডফিশকে বিপন্ন ঘোষণা করা হয়। এবার তাসমানিয়ার উপকূলে আবারও দেখা গেছে বিরল অ্যাংলারফিস বর্গের এ মাছ। প্রবাল নিয়ে গবেষণা করার সময় এটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। হাতের মতো অঙ্গ থাকা এ মাছ পানির ১৫-৪০ মিটারের মধ্যে থাকে। দেখলে মনে হয় পানিতে হাঁটছে। তবে সম্প্রতি ক্যামেরায় ধরা পড়া এ প্রজাতি ১২০ মিটার গভীরে ছিল।গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক নেভিল ব্যারেট জানান, এ মাছ শনাক্ত করা বেশ কঠিন। কেননা এটি আকারে মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে এ গবেষণা করা হলেও কয়েক দিন আগে তাঁদের নজরে আসে। | 6 |
সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে বাউলশিল্পী রণেশ ঠাকুরের সংগীত সাধনার ঘরটি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুড়ে গেছে বাদ্যযন্ত্র আর চল্লিশ বছর ধরে জমানো গানের সংগ্রহশালা। তাই ঘর ও মনপোড়া এই শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আয়োজন করা হচ্ছে 'লাইভ কনসার্ট ফর রণেশ ঠাকুর'। ৩০ মে শনিবার এটি ফেসবুকে সরাসরি প্রচার হবে। যেখানে অংশ নেবেন বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও প্রবাসের শিল্পীরা। জানা গেছে, অনলাইন কনসার্টে অংশ নেবেন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বাউল শিল্পীরাও। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বাদ্যযন্ত্র ছাড়া এই ব্যতিক্রমী কনসার্টে বাউল রণেশ ঠাকুরের প্রতি সংহতি জানাবেন শিল্পী বাপ্পা মজুমদার, বাউল শফি মণ্ডল, শিল্পী আশিক, পিন্টু ঘোষ, জলের গানের রাহুল আনন্দ, শিল্পী কনক আদিত্য, মেঘদলের শিবু কুমার শীল, অবসকিউর ব্যান্ডের টিপু, বাউলার প্রকাশ, কানাডা থেকে আশিকুজ্জামান টুলু, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাজুল ইমাম, লন্ডন থেকে অমিত দে, গৌরী চৌধুরী, ক্ষ ব্যান্ডের সোহিনী আলম, অস্ট্রেলিয়া থেকে পারমিতা দে, জার্মানি থেকে শবনম সুরিতা ডানা, ভারত থেকে দোহার ব্যান্ডের রাজীব, সিলেটের বাউল সূর্যলাল দাস ও বাউল বশীর উদ্দিন সরকার। এতে অংশ নেবেন বাউল রণেশ ঠাকুর নিজেও। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা, কানাডা সময় সকাল ১০টা, যুক্তরাজ্য সময় বেলা ৩টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রচারিত হবে। এটি প্রচার করবে আয়োজনের সহযোগী দাশ অ্যান্ড কোং, নগরনাট ও সিলেটটুডে২৪। কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ বাউল রণেশকে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের অন্যতম শিষ্য বাউল রণেশ। ১৭ মে রোববার রাতে রণেশ ঠাকুরের বাড়িতে তাঁর গানের আসরঘরটি আগুনে পুড়ে যায়। এটি ৭ হাত প্রস্থ ও ১৪ হাত লম্বা টিনের বেড়া ও টিনের চালার একটি ঘর ছিল। তবে তাঁর বসতঘরটি টিনের চালার পাকা ঘর। গভীর রাতে শব্দ শুনে তিনি বের হয়ে দেখেন আসরঘরে আগুন জ্বলছে। এই ঘরে কেউ না থাকলেও এটিতে তাঁর কিছু বাদ্যযন্ত্র ও গানের খাতা ছিল। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, এটি পরিকল্পিত। যারা নানা সময়ে শাহ আবদুল করিমকে তাঁর গানের চর্চায় বাধা দিয়েছে, তারাই রণেশ ঠাকুরের গানের আসরঘরে আগুন দিয়েছে। | 2 |
দেশের ডেন্টাল কলেজ ও মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন দোহারের সন্তান আরিফুল ইসলাম রেদোয়ান। তিনি উপজেলার মইতপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।গত রোববার ফল প্রকাশ হয় ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার। এতে ৯৪.২৫ নম্বর পেয়ে জাতীয় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হন রেদোয়ান। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ ভর্তি পরীক্ষা ৩৯ হাজার ১৩০ জন ভর্তি-ইচ্ছুক অংশ নেন। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৭২৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।রেদোয়ানের স্বজনেরা জানান, ছোটবেলা থেকেই রেদোয়ান মেধাবী ও পরিশ্রমী। এ পর্যন্ত সব বোর্ড পরীক্ষায় তিনি গোল্ডেন এ+ পেয়েছেন। পিইসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং এসএসসি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছেন রেদোয়ান। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ও দোহারের ড্যাফোডিলস্ হাই স্কুলে পড়েছেন।আরিফুল ইসলাম রেদোয়ান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আজকে আমরা এই ফলাফলের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে আমার মা, বাবা এবং আমার শিক্ষকদের। আমার বাবা ও মায়ের স্বপ্ন ছিল আমি ডাক্তার হব। আল্লাহর রহমতে আমি ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছি।' | 6 |
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে দায়িত্ব পালনের সময় ব্র্যান্ড রেনড এক মার্কিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার জবাবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর যথাযথ পরিণতি চাপিয়ে দেবে। মৃত্যুর খবর ছিল বিস্ময়কর এবং ভয়ংকর।সুলিভান জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে আলোচনা করবে।যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পুরস্কারজয়ী ওই সাংবাদিকের নাম ব্র্যান্ড রেনড (৫২)। ইরপিন শহরের কাছে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী গুলিবর্ষণ করলে তাতে বিদ্ধ হন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু করে। এরপর এই প্রথম কোনো বিদেশি সাংবাদিক নিহত হলেন। | 3 |
বরিশালের হিজলায় দীর্ঘ ২৫-৩০ বছরের জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিরসন করলেন হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইউনুস মিয়া ও গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাজাহান তালুকদার। গতকাল মঙ্গলবার দুই পরিবারের দীর্ঘ বছরের দ্বন্দ্বের নিরসন করা হয়।ঘটনা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামে কাউরিয়া বাজারসংলগ্ন হোসেন চৌকিদার ও মিলন সরদার গংয়ের দুই পরিবারের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পরিবার একাধিক ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় গতকাল স্থানীয় চেয়ারম্যান সাজাহান তালুকদার ও ইউপি সদস্য কাশেম বিন টেনুসহ দুজন সার্ভেয়ার নিয়ে জমি পরিমাপ করে পিলার নির্ধারণ করা হয়। তখন হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তদারক করেন।স্থানীয় বাসিন্দা রিপন ফকির জানান, ওসি ও চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে দুই পরিবারের দীর্ঘ বছরের দ্বন্দ্বের নিরসন হয়েছে, যা এলাকাবাসী চিরদিন মনে রাখবে বলে জানান তিনি।এ বিষয়ে হোসেন চৌকিদার ও মিলন সরদার বলেন, আমরা ওসি ও চেয়ারম্যান মহোদয়ের ওপর সন্তুষ্ট। তাঁরা আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন করে দুই পরিবারের মধ্যে মিল করে দিয়েছেন।'গুয়াবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাজাহান তালুকদার বলেন, এ দুই পরিবার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে ছিল। গত কয়েক দিন যাবৎ চেষ্টা করে তাদের বিরোধ নিরসন করতে পেরেছি। আমার ইউনিয়নের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।'এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, শুধু জমির বিরোধ নয়, সব ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমার চেষ্টা রয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা দিতে চাই। এ দুই পরিবারের মধ্যে শান্তি ফিরে আসুক সেই কামনা করছি।' | 6 |
আদরের পোষা বিড়ালটি হারিয়ে গিয়েছিল। কোথাও খুঁজে না পেয়ে একপর্যায়ে সেটিকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দেন বিড়ালটির মালিক। এর মধ্যেই পেরিয়ে যায় ছয় বছর। এত দিন পর এসে হারানো প্রাণীটিকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। বিড়ালটি ফিরে পেয়েছে পুরোনো পরিবার! ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান অ্যান্টোনিও শহরে। টেক্সাস নিউজ টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই বিড়ালের নাম 'মাংকি ফেস'। বিড়ালটি ফিরে পেতে সহায়তা করেছে সেখানকার প্রাণী সেবাদাতা সংগঠন সান অ্যান্টোনিও অ্যানিমেল কেয়ার সার্ভিস। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ছয় বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল মাংকি ফেস। সম্প্রতি সেটিকে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাংকি ফেসকে পাওয়ার বর্ণনা দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, তাদের কর্মীরা পথে অসুস্থ একটি বিড়ালের সন্ধান পান। পরে সেটিকে সংগঠনের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়। সেবা করা হয় বিড়ালটির। এতে ধীরে ধীরে সেটি সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে সেবা করার একপর্যায়ে বিড়ালটির শরীরে একটি মাইক্রোচিপ খুঁজে পান সংগঠনের কর্মীরা। সেটা থেকেই বিড়ালটির নাম ও মালিকের পরিচয়, ঠিকানা পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে তাঁরা বিড়ালটির মালিককে খুঁজতে থাকেন। তবে হারানো বিড়ালটি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এত সহজ ছিল না। মাইক্রোচিপে পাওয়া ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, বিড়ালটির মালিক এখন আর সেখানে থাকেন না। প্রায় ছয় বছরে আবাস বদলে ফেলেছেন তিনি। এরপর আরও বিভিন্ন উৎসে সন্ধান চালান সংগঠনটির কর্মীরা। টানা দুই সপ্তাহ খোঁজার পর অবশেষে ওই মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় তাঁকে হারানো বিড়ালটির কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ছয় বছর পর হারানো বিড়াল ফিরে পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত হয়েছেন ওই নারী। | 3 |
আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে বোমা হামলায় স্থানীয় তালেবানের পুলিশ প্রধান নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবারের এই হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ১১ জন।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদে শিগাল জেলার তালেবানের পুলিশ প্রধানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ প্রধান মারা গেছেন এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।কুনার প্রদেশের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এএফপিকে জানান, তাঁরা আহত অবস্থায় ১১ জনকে পেয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন তালেবান যোদ্ধা এবং সাতজন বেসামরিক নাগরিক।এই হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এই হামলা চালিয়ে থাকতে পাড়ে। ২০১৪ সাল থেকেই আফগানিস্তানে আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে তালেবান। সম্প্রতি আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের একটি মসজিদে হামলা চালায় আইএস। এই হামলায় কমপক্ষে ১০০ জন নিহত হন। | 3 |
কোলাহলে মুখর থাকা শিবচরের বাংলাবাজার লঞ্চ ও স্পিডবোটঘাটে এখন ভুতুড়ে নীরবতা বিরাজ করছে। লঞ্চঘাটের টার্মিনালে থাকা সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। লঞ্চের মালিক-শ্রমিকেরা মাঝেমধ্যে ঘাট এলাকায় ঢুঁ মারলেও জনসাধারণের লঞ্চ টার্মিনাল অংশে যাওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হলে ফেরিতে কোনো যাত্রী পার হচ্ছে না। তবে পণ্যবাহী ট্রাক আর জরুরি যানবাহন কিছু কিছু পার হওয়ায় ফেরিঘাটে লোকজনের কিছুটা চলাচল থাকলেও লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটের অংশ বর্তমানে সুনসান নীরব।লঞ্চঘাট সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে যতবারই লকডাউন ঘোষণা হয়েছে, গণপরিবহনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে বন্ধ রাখা হয়েছে লঞ্চ চলাচলও। তবে সে সময় হাজার হাজার যাত্রীর ফেরিতে ছিল অবাধ পারাপার। আর্থিকভাবে লঞ্চ মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ফেরিঘাটের ইজারাদারদের লাভের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল কয়েক গুণ। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারি এই সিদ্ধান্ত সব সময় মেনে নিয়েছে লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ। লঞ্চের চালক-শ্রমিক থেকে শুরু করে সব কর্মচারীর লকডাউনের মধ্যেও বেতন-ভাতা চালু রেখেছেন তাঁরা।এদিকে গত ৩ মে সকালে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটের কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে স্পিডবোটডুবিতে ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে সব স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে এই নৌরুটে। স্পিডবোট ও লঞ্চঘাট পাশাপাশি থাকায় লকডাউনে ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা এই ঘাট এলাকায়।স্থানীয়রা জানান, লঞ্চ ও ফেরিঘাট আলাদা। লঞ্চঘাট থেকে ফেরিঘাটের মাঝে বেশ কিছুটা পথের দূরত্বও রয়েছে। লকডাউনে জরুরি পরিবহনের জন্য ফেরি চালু থাকায় ফেরিঘাটে লোকজনের আনাগোনা রয়েছে। আর পুরো লঞ্চঘাট জনমানবশূন্য।বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চঘাট সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২২ জুন মঙ্গলবার সকাল থেকে নৌরুটে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে কঠোর লকডাউন শুরু হলে নৌরুটের ফেরিতেও বন্ধ হয়ে যায় যাত্রী পারাপার। পণ্যবাহী ট্রাক আর অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল করলেও তেমন চাপ নেই। লঞ্চঘাটের অংশে চারটি লঞ্চঘাট ও একটি স্পিডবোটঘাট ঘিরে দুই শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের বিচরণ এই ঘাট এলাকা এখন জনমানবশূন্য। ঘাটের পন্টুনে নোঙর করে রাখা রয়েছে লঞ্চগুলো। অলস পড়ে আছে স্পিডবোট।বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শ আক্তার হোসেন বলেন, 'নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ রয়েছে। এ ছাড়া স্পিডবোটের সংখ্যা দুই শতাধিক। যদিও স্পিডবোট চলাচলের কোনো বৈধতা নেই। গত ৩ মে থেকে সম্পূর্ণভাবে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের পারাপারের সবচেয়ে জনপ্রিয় নৌযান হলো লঞ্চ। তবে লকডাউনে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ থাকছে। আর লঞ্চ বন্ধ থাকলে এই লঞ্চঘাট জনমানবশূন্যতায় পরিণত হয়। কেমন যেন ভুতুড়ে পরিবেশ ঘাটে।'এদিকে বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হলে নৌরুটে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। ঘাটে আটকে থাকা পণ্যবাহী ট্রাক আর জরুরি যানবাহন পারাপার করা হয়েছে গত দুই দিনে। উভয় ঘাটেই কোনো আটকে থাকা ট্রাক নেই। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। গাড়ি এলেই ফেরি ছাড়ছে। তবে ঘাটে গাড়িও দীর্ঘসময় পরপর আসছে।'বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘাট ফাঁকা রয়েছে। কোনো ট্রাক নেই ঘাটে। সকাল থেকে দুই-একটা করে অ্যাম্বুলেন্স আসছে। তা নিয়েই ফেরি ছেড়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দিনের চেয়ে আজকের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকটাই সুনসান নীরবতা ঘাটে।এদিকে ঘাট এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। ঘাটে প্রবেশের সব পথেই রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। লঞ্চ ও ফেরিঘাটে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ঘাটে কোনো থ্রি-হুইলার প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. জামালউদ্দিন।তিনি বলেন, যাত্রী নেই, যানবাহনও নেই। ঘাট এলাকায় কোনো চাপ নেই এখন। ঘাটের চিত্র পাল্টে গেছে। সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যরা ঘাটে দায়িত্ব পালন করছেন। | 6 |
ডুমুরিয়ায় সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে এখন শুধুই বইছে মৌমাছির গুঞ্জন। দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে শোভা পাচ্ছে হলুদ আর হলুদ। সরিষার ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বিল ডাকাতিয়া ও আটলিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া ও চুকনগর এলাকা ঘুরে অনেক সরিষা খেত দেখা গেছে।ধারণা করা হচ্ছে চলতি মৌসুমে সরিষা চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। দুটি ফসলের মাঝে কৃষকেরা সরিষা চাষের ফলনকে বোনাস হিসেবে দেখছেন। সরিষা কেটে ওই জমিতে আবার বোরো আবাদ করা হয়।এতে কৃষি জমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এক সময় কৃষকেরা আমন ধান কাটার পর জমি পতিত ফেলে রাখত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা পুরোটাই পাল্টে গেছে। বর্তমানে আমন ধান কাটার পর জমিতে সরিষা লাগানো হচ্ছে। যা ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারে।ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরিষা চাষ খুবই লাভজনক একটা আবাদ। অতি অল্প সময়ে, অল্প পুঁজিতে কৃষকেরা লাভবান হন। তাই বেশিরভাগ কৃষক এখন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এক বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করতে খরচ হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। যদি সঠিকভাবে পরিচর্চা করা যায়, তাহলে প্রতি বিঘায় ফলন হয় ৫ থেকে ৬ মণ।এলাকার চাষি আব্দুল হালিম জানান, দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে দেড় হাজার টাকা করে ব্যয় হয়েছে। সরিষার ফুলে খেত ভরে গেছে। ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা পাওয়া যাবে।ইউনিয়নের বিল ডাকাতিয়া এলাকার কৃষক আফসার আলী জানান, আমন ধান কাটার পর কয়েক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আশা করছি বেশ ভাল ফলন হবে। এই সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের তেল ও সার কেনার টাকা জোগাড় হয়ে যাবে।টিপনা গ্রামের কৃষক পরিতোষ রাহা বলেন, ধান আবাদে কোনো লাভ নেই। উৎপাদন খরচই উঠে না। সরিষা আবাদে খরচ কম লাভ বেশি। এক থেকে দুই বার সেচ দিলে চলে। বাজার দর ভালো হলে এক মণ সরিষা ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এ কারণে আমি আর ধান আবাদে যাচ্ছি না। এক মণ ধান ৯০০ টাকা আর এক মণ সরিষা ১ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ দ্বিগুণ লাভ।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, সরিষা মূলত একটি মসলা জাতীয় ফসল। স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষককে বেশি ফলন পেতে নানাভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে কৃষকের কোন সমস্যা না হয়। আশা করছি প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না ঘটলে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে। | 6 |
চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে ২৫ মিটার এলাকায় আবারও ফাটল দেখা দেয়। মুহূর্তেই কিছু এলাকা নদীতে তলিয়ে গেছে। এতে মেঘনার ভাঙনের মুখে রয়েছে পুরো এলাকা। ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা মালামাল সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ১০টায় পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় ভয়াবহ ফাটল দেখা যায়। এ সময় শহর রক্ষা বাঁধের বেশকিছু ব্লক নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বিরাট এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দেয়ায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্ট ঘূর্ণিপাকে হরিসভাসহ পুরানবাজার ব্যবসায়িক এলাকাটি ঝুঁকিতে রয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধের হরিসভা এলাকায় কয়েক মাস আগেও ভাঙন দেখা দেয়। ওই সময় ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়। পুরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শক মো. মাসুদ বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছি। চাঁদপুর পাউবো'র নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার জানান, প্রায় ২৫ মিটার এলাকাজুড়ে শহর রক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক জিইও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। | 6 |
নরসিংদীর মাধবদীতে বাস ও কাভার্ডভ্যানে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে।বুধবার সকালে কান্দাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ জানাতে পারেনি। দুর্ঘটনার পর পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কান্দাইল বাসস্ট্যান্ড কয়েক যাত্রী বাসে উঠার চেষ্টা করছিল। এ সময় পিছন থেকে ঢাকাগ্রামী একটি কাভার্ডভ্যান বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাস ও কাভার্ডভ্যান রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।মাধবদী থানার ওসি মো.ইলিয়াস সরকার জানান, দুর্ঘটনায় পাঁচ জন মারা যায়। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
| 6 |
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন কর ফাঁকি দিয়েছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁঁইয়া। রোববার সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। কামাল হোসেন কর ফাঁকি দিয়েছেন কি-না, তা জানতে চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ১৯ নভেম্বর এনবিআরকে চিঠি দেয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপরোক্ত মন্তব্য করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সেটি বিবেচনায় রেখেই এনবিআর কাজটি করছে। এ জন্য কিছু সময় লাগবে বলে জানান তিনি। নির্বাচনে আছেন বলেই কামাল হোসেনকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে কি-না- এমন প্রশ্নে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, না; তাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। একাদশ সংসদ নির্বাচনে কামাল হোসেন নিজে অংশ না নিলেও বিএনপিকে নিয়ে তার নেতৃত্বে গড়ে তোলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিচ্ছে। প্রসঙ্গ নতুন ভ্যাট আইন : এনবিআর চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলনে জানান, নতুন ভ্যাট আইনে তিনটি হার হতে পারে এবং ২০১৯ সালের জুলাই থেকে এ আইন কার্যকর হবে। নতুন আইনে কিছুটা সংস্কার করা হচ্ছে- এ কথা উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আরও বলেন, সব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ কার্যকর হলে একটু অসুবিধা হবে। সে জন্য এর পরিবর্তে কয়েকটি হার নির্ধারণের চিন্তাভাবনা চলছে। সম্ভবত তিনটি হার করা হবে। এতে মানুষের ওপর ভ্যাটের চাপ কমলেও রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি। তবে হারগুলো কত হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি। উল্লেখ্য, নতুন ভ্যাট আইনে সর্বক্ষেত্রে অভিন্ন বা একক হারে ভ্যাট হার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি ১৫ শতাংশ। কিন্তু একটি হার কার্যকর হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইনটি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার কথা। সর্বোচ্চ ভ্যাট পরিশোধের জন্য এবার ১৪৪ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। | 6 |
নীলফামারীর ডিমলায় নাউতারা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান নয়নের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ছাত্রীর বাবা দুজনকে অভিযুক্ত করে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান নয়ন ও সহোদর ভাই নাউতারা ইউপি চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান নয়ন বলেন, 'একটি শ্রেণিকক্ষে ২০-৩০ জনের ক্লাস পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেখানে অন্য শিক্ষকেরাও পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করেন। তাই কোনো ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির বিষয়টি সাজানো ও উদ্দেশ্যমূলক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ওই ছাত্রীর বাবা মো. লিটনের নেতৃত্বে রোববার দিবাগত আমাকে অপহরণের উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে স্কুলের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনও করেছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এমন মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।'অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে গত ২২ এপ্রিল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ থাকলেও নাউতারা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান খোলা রাখেন। গত ২৮ এপ্রিল ক্লাস পরীক্ষায় ৫ম শ্রেণির ওই ছাত্রীর পরীক্ষার কক্ষে গিয়ে অধ্যক্ষ মাহামুদুল হাসান নয়ন ছাত্রীটির হিজাব ঠিক করার নামে শ্লীলতাহানি করেন। এতে ছাত্রীটি কান্নাকাটি শুরু করলে পরীক্ষা শেষে অফিসে নিয়ে তাকে এ ঘটনা কাউকে না বলার ধমক দেন অধ্যক্ষ।আরও জানা যায়, ছাত্রীটির বাবা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চাকরি করেন। গত শনিবার তিনি বাড়ি এলে ছাত্রীটির মা বিষয়টি তাঁকে জানান। পরে ছাত্রীর বাবা ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করেন।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা মামুন-অর-রশিদ অভিযোগ করে বলেন, রাতে বিষয়টি আপসের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে ডাকেন। তারপর রাত ৩টা পর্যন্ত আলোচনা হলেও এ ঘটনার কোনো সমাধান হয়নি। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ছাত্রীর অভিভাবকের বিরুদ্ধে এলাকায় মানববন্ধন করান। সেই সঙ্গে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ছাত্রীটির পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার পাঁয়তারা করছে ইউপি চেয়ারম্যান।এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাউতারা ইউপি চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বলেন, 'রাজনৈতিক কারণে আমার ভাইকে হেয় করা হচ্ছে। আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তারা থানায় মামলা করতে পারে। কিন্তু মধ্যরাতে হামলা কেন?'এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, 'এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।' | 6 |
করোনা মোকাবিলায় বিএনপি মাঠে না থেকে শুধু সমালোচনা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যদি ত্রাণ বঞ্চিত হন, ১০ টাকা মূল্যে চালের তালিকাভূক্ত হতে চায়; তালিকা দিতে পারেন। শনিবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ কমিটির উদ্যোগে শহরের গোর-এ- শহীদ ময়দানে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালিদ বলেন, বিএনপি রাজনীতির ময়দান থেকে হারিয়ে গিয়ে, ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলে রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'মীর্জা ফখরুল যদি মনে করেন, তিনি ১০ টাকা কেজি চালের আওতায় আসতে চান, রাস্তা পরিস্কার আছে। আপনি যদি ত্রাণ সাহায্যের আওতায় আসতে চান, সে রাস্তাও আমাদের পরিস্কার আছে। শুধু আপনাদের সম্মতি দরকার। আপনি সে ধরনের নিবেদন করলেই, সরকার আপনাদের কাছে ত্রাণ ও ১০ টাকা কেজি চাল পৌঁছে দেবে।' নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'কিছু মানুষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য সরকারের বিষোদগার করছে। বিএনপি মহাসচিব বলছেন, দেশে ত্রাণকার্য সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। ফখরুলকে বলতে চাই, ১০ টাকা কেজি চাল নিয়ে এর আগেও আপনারা অনেক সমালোচনা করেছিলেন। আজকে বাংলাদেশের এক কোটি মানুষ ১০ টাকা কেজি চাল পাচ্ছে। ২০১৬ সালেই প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন।' খালিদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে। ১৯৪৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যা বলেছে, তার প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুষ্ঠু ত্রাণ বিতরণ হয়নি উল্লেখ করে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানেই অভিযোগ পাওয়া গেছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ জনের মতো জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরকে সরানো হয়েছে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে। তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, জেলা ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক আলতাফুজ্জামাম মিতা, সদস্য সচিব ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল, সদস্য অ্যাড. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। জেলা ত্রাণ কমিটির পক্ষ থেকে এ সময় ৫০০ দুস্থ লোকের হাতে ত্রাণ তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। পরে জেলা পরিষদের পক্ষ হতে এবং প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার কয়েকটি স্থানে ত্রাণ বিতরণ করেন। | 6 |
নতুন বছরের প্রথম দিন সকালেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুতে আঘাত হেনে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল সফরকারীরা। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৫৮ রান। বে ওভালের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে শনিবার সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে বোলিং বেছে নেয় সফরকারীরা। তাসকিন, শরিফুল ও ইবাদতকে নিয়ে সাজানো টাইগারদের পেস আক্রমণের শুরুটাও ভালোই ছিল। তাসকিন ও শরিফুল দুজনেই সুইং আদায় করে নেন। তবে প্রথম সাফল্য পান চোট কাটিয়ে টেস্ট দলে ফেরা শরিফুল। সময় গড়াতেই সেই স্বস্তি উধাও। বরং টাইগার বোলারদের ছন্নছাড়া বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে উইকেটে জাঁকিয়ে বসেন দুই কিউই টপ অর্ডার ব্যাটার উইল ইয়াং ও ডেভন কনওয়ে। অবশ্য ইয়াং ফিফটি হাঁকিয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি। ল্যাথাম বিদায় নেওয়ার পর উইকেটে থিতু হয়ে রানের ফোয়ারা ছোটান ইয়ং ও কনওয়ে। অথচ ইয়াং প্রথম রানের দেখা পান ২২ বল খেলে। কনওয়েও ২২ বলে রান করেন মাত্র ২। তবে ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন দুজনেই। ১০২ বলে জুটিতে ফিফটি রান আসে। প্রথম সেশনটা আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি তারা। দ্বিতীয় সেশনে কিছুটা মারমুখী হন কনওয়ে ও ইয়াং। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে ১০১ বলে ফিফটি তুলে নেন কনওয়ে। পরে ১৩১ বলে ফিফটির দেখা পান ল্যাথাম। দুজনের জুটিতে আসে ১৩৮ রান। এরপর মিরাজের বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর থ্রোয়ে রানআউটের শিকার হন ইয়াং (৫২)। কনওয়ের বিদায়ের পর হাল ধরেছিলেন হেনরি নিকোলস, তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন টম ব্লান্ডেল। কিন্তু এই জুটিকে বেশিদূর যেতে দেননি ইবাদত। দিনের বাকি সময় বাজে বোলিং করলেও শেষ বেলায় এসে ব্লান্ডেলকে (১১) বিদায় করেন এই ডানহাতি পেসার। দিন শেষে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন নিকোলস। | 12 |
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যান ১৬ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। এর পর থেকে এটিই এখন 'টক অব দ্য টাউন'। ই-কমার্স খাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার একটি অধ্যায়ের পরিণতি দেখল সবাই। তবে এটি চূড়ান্ত কোনো দৃশ্য নয়। বিগত দুই দশকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি একটি দুষ্টচক্র সমানভাবে কাজ করছে। এ কারণে প্রায়ই আমরা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত হতে দেখি। আমরা যদি সমস্যার মূল চিহ্নিত করে এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সুরক্ষাব্যবস্থা নিতে না পারি, তাহলে প্রতারণার এই আগ্রাসী ঢেউ উপকূল পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডেও আছড়ে পড়বে। অর্থাৎ, বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে মূলধারার অর্থনীতি। প্রথমে খোঁজার চেষ্টা করব অবাধ তথ্যপ্রবাহের এ যুগে মানুষ জেনে-বুঝে কেন এসব প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়? প্রকৃতপক্ষে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম কোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্র নয়, অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম। তবু আকর্ষণীয় কিন্তু অস্বাভাবিক অফারের লোভ বা ফাঁদে পা দেয় সাধারণ মানুষ। বিগত দশকগুলোয় আমরা দেখেছি, সাধারণ মানুষ কখনো এমএলএম, কখনো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ বা অন্য কোনো ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগের প্ল্যাটফর্ম না হওয়া সত্ত্বেও অতি লাভের আশায় কিছু মানুষ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে অগ্রিম টাকা রেখে এখন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এর পেছনেও কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, দেশে ই-কমার্স পরিচালনার জন্য কার্যকর কোনো নীতিমালা নেই। যার কারণে, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের সুবিধামতো ব্যবসায়িক মডেল বানিয়ে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলতে পারছে। আজকের আলোচনায় ই-কমার্সের নীতিমালার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে খুব বেশি আলোকপাত করব না। শুধু একটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই, কার্যকর নীতিমালা না থাকলে কোনো খাতই সঠিক উপায়ে বিকশিত হয় না। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আয় বর্ধনের সুযোগ বাড়ছে না সেভাবে। এর পেছনে প্রথম ও প্রধান কারণ অনুকূল ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অভাব। বিশ্বব্যাংকের 'ডুয়িং বিজনেস' র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থান ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৬৮! এশিয়া মহাদেশে বাংলাদেশের পেছনে মাত্র ৩টি দেশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া, আফগানিস্থান ও ইরাক। যেসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক ব্যবসার অনুকূল পরিবেশের এ র্যাঙ্কিং করে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যবসা শুরুর আনুষ্ঠানিকতা, অনুমতি বা লাইসেন্স, অবকাঠামো নির্মাণের শর্তাবলি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির প্রাপ্যতা, সম্পদের মালিকানার নিবন্ধন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ, ঋণের প্রাপ্যতা, করকাঠামো, আইনি সহায়তা ইত্যাদি। এসব কারণে দেশে বেসরকারি খাতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সহজে ও সুবিধাজনক উপায়ে নিজের অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন না। এর ফলাফলস্বরূপ, বিগত বছরগুলোয় জিডিপি ও মাথাপিছু আয় বাড়লেও বাড়েনি বেসরকারি বিনিয়োগ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের আশপাশে থাকলেও বেসরকারি বিনিয়োগের গড় প্রবৃদ্ধি অনেকটাই স্থবির। এ ছাড়া একই সময়ে কর্মসংস্থানের গড় প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের কম। এটি অপ্রত্যাশিত এবং অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক কিছু নয়। নাজুক ব্যবসায় পরিবেশের কারণে সাধারণ মানুষ, যাঁদের ক্ষুদ্র পুঁজি বা স্বল্প সঞ্চিত অর্থ রয়েছে, তাঁরা ক্ষুদ্র ব্যবসায় নামতে ভয় পান। বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসায়ের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই মানুষ ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগের বিকল্প উপায় খুঁজছেন। তখনই দৃশ্যপটে আসে পঞ্জি স্কিম বা ফ্রড পুঁজির ব্যবসা। যেটির পরিণতি হিসেবে সাধারণ মানুষ ফ্রড ব্যবসার অংশীদার হন। এ দেশে এমএলএমের নামে সাধারণ মানুষের শত শত কোটি টাকা লুটপাটের ইতিহাস এখনো তাজা। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে হাজার হাজার মানুষ জিম্মি হয়ে আছেন ই-কমার্সের নামে ফ্রড ব্যবসার ফাঁদে। গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে প্রতারিত একজনের বক্তব্য দেখছিলাম। তিনি আকুতি করছিলেন, ইভ্যালিতে তাঁর বিনিয়োগের ১১ লাখ টাকা ফেরত চান। একটু অবাকই হলাম। ইভ্যালি বা অন্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো কোনোভাবেই বিনিয়োগের কোনো ক্ষেত্র না। মানুষ তারপরও এগুলোকেই বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবেই চিন্তা করছে। বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের। অভ্যন্তরীণ ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়াতেই অনেকে ই-কমার্স সাইটকে বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে চিন্তা করার মতো ভয়াবহ ভুল করছেন। সাধারণ মানুষের একাংশ ফ্রড পুঁজির ফাঁদে পা দেওয়ার পেছনে দ্বিতীয় যে বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো আমাদের 'বেহাল পুঁজিবাজার'। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে অনেকে পুঁজি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার 'ব্ল্যাকহোল' বলে থাকেন। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের হিসাবমতে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে! এটি বিস্ময়কর! আরও ভয়াবহ খবর হচ্ছে ৫০ টাকার শেয়ারের দাম কমতে কমতে ১ টাকায় এসে ঠেকেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের শেয়ারবাজার কিছু অসাধু সিন্ডিকেটের দখলে। যার কারণে বিগত এক দশকে শেয়ারবাজার সম্পর্কে ইতিবাচক কোনো খবর আসেনি। সাধারণত, যেকোনো দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারবাজার একটি বড় ভরসার জায়গা। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। উল্টো বছরের পর বছর অনেক ক্ষুদ্র পুঁজির মানুষকে নিঃস্ব করেছে এই শেয়ারবাজার। এসব কারণে পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। এই আস্থাহীনতা মানুষকে যেখানে-সেখানে বিনিয়োগ করতে প্ররোচিত করে। আর ফ্রড পুঁজির ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটি নিয়ে থাকেন। গত কয়েক বছর আমাদের পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ কম। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি! মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজারের এ রকম পরস্পরবিরোধী চিত্র খুবই অস্বাভাবিক। এর জন্য দায়ী পুঁজিবাজারের ওপর মানুষের আস্থাহীনতা। অর্থনৈতিক সুশাসনও একটি বড় কারণ। কোনো দেশে যদি বৃহৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেটি পরিশোধ না করারও সুযোগ নিতে পারে, তাহলে তারা কখনোই পুঁজিবাজারমুখী হবে না। তৃতীয় বিষয়টি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক। সাধারণ মানুষ যে কারণে যেকোনো উপায়ে তাদের উপার্জিত বা সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করতে চায়, তা হলো প্রবহমান মুদ্রাস্ফীতি। গত এক দশকে দেশের বাজারে প্রতিবছর গড় মুদ্রাস্ফীতি ৫ শতাংশের ওপরে। এটি সরকারি হিসাব। বাস্তবে মুদ্রাস্ফীতির হার আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা আছে। পূর্ববর্তী বছরের সঙ্গে বর্তমান বছরগুলোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদরের বিষয়টি তুলনা করলে এ সম্ভাবনাকে সত্যি মনে হবে। যদি সরকারি হিসাবই ধরি, তাহলেও মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রতিবছরই মানুষের সঞ্চিত অর্থের প্রকৃত মান ৫ শতাংশ হারে কমে যাচ্ছে। তাই মানুষ চায় যেকোনো খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তাঁর পুঁজির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে যে হারে জিডিপি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে হারে বিনিয়োগের যথাযথ ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে মানুষ যেখানে-সেখানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হচ্ছেন। বিদেশে টাকা পাচার বৃদ্ধির পেছনের কারণও এটি। মোটকথা, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আয় বাড়ছে। কিন্তু সে আয়ের প্রকৃত মূল্য ধরে রাখার জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের যে সুযোগ থাকার কথা তা নেই। যার কারণে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যেখানে-সেখানে অর্থ লগ্নি করতে বাধ্য হচ্ছে। আর এর ফলেই কয়েক বছর পর পর আমরা নতুন নতুন ফ্রড ব্যবসার বিস্তার দেখতে পাই। যার শেষ পরিণতি হয় সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে। উপরিউক্ত তিনটি মূল সমস্যার মধ্যেই এর সমাধান নিহিত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে হবে। আর্থিক খাতে সুশাসন ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ থাকলে এমএলএম বা ই-কমার্সের নামে মানুষের টাকা কুক্ষিগত করার সুযোগ কেউ পেত না। ব্যবসায়িক পরিবেশের সূচকগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা এবং বিকেন্দ্রীভূত বাস্তবায়নের কৌশল থাকতে হবে। একটি ব্যবসার অনুমোদন নেওয়া থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংযোগ সহজেই নিশ্চিত করতে হবে। পুঁজিবাদী অর্থনীতির যেকোনো দেশের জন্য পুঁজিবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেটমুক্ত করার দাবি অনেক পুরোনো। উদীয়মান ও জায়ান্ট অর্থনীতির প্রতিটি দেশের পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র পুঁজিকে ফ্রড ব্যবসার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পুঁজিবাজারে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা আবশ্যক। | 0 |
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মুরাদুজ্জামান মুকুল (৪৮) নামে এক প্রভাষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ধুনট সদরের পশ্চিম ভরণশাহী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।মুরাদুজ্জামান উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শৈলমারি গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক। আজ শুক্রবার সকালের দিকে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মামলা সূত্রে জানা গেছে, মুরাদুজ্জামান ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে ধুনট পৌর এলাকার দক্ষিণ অফিসারপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে স্ত্রী, কন্যা ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন।ওই বাসার মালিকের মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পেশাগত কারণে বাসার মালিক ও তাঁর স্ত্রী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকেন। একই সময়ে মুরাদুজ্জামানের স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে যান।এই সুযোগে মুরাদুজ্জামান কৌশলে ওই স্কুলছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন। এরপর সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গত ৩ মার্চ বেলা ১১টার দিকে ওই ছাত্রীকে নিজের ঘরে এনে ধর্ষণ করেন।এ সময় ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন মুরাদুজ্জামান। ছবি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন। আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে এর মধ্যে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেছেন মুরাদুজ্জামান।সর্বশেষ ১২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুরাদুজ্জামান ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন স্কুলছাত্রীর চিৎকারে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মুরাদুজ্জামান বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে মুরাদুজ্জামানের পরিবারকে বাসা থেকে বের করে দেন ওই ছাত্রীর মা-বাবা।এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন মুরাদুজ্জামান। পরে স্কুলছাত্রী তাঁর বাবা-মাকে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দেন। স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মুরাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের সময় আপত্তিকর ছবি ধারণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মুরাদুজ্জামান। স্কুলছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) পাঠানো হয়েছে। বগুড়া আদালতে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।' | 6 |
তুলনামূলক অপ্রতিষ্ঠিত কিংবা দুর্বল, কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ব্যবহার করে চোরাচালানি চক্র আমদানি নিষিদ্ধ বিভিন্ন পণ্য দেশে আনছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতসারে এসব হচ্ছে।গত বছরের ২১ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে সরিষা বীজ আমদানির ঘোষণা দিয়ে ৪৩ টন ১৪৬ কেজি পপি বীজের চালান আনার ঘটনায় এমন অপকৌশল করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)। অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও একই কৌশল করা হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।পপি বীজের চালানটি আটকের পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ওই বছরের ৩ জুন বন্দর থানায় একটি মামলা করে। মামলায় আসামি করা হয় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। পুলিশ এখনো পর্যন্ত ওই ঘটনায় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রতিনিধিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক মুহাম্মদ শরীফ গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত দুজন আসামি এবং তদন্তে পাওয়া তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনেই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।মুহাম্মদ শরীফ বলেন, এই ঘটনায় মূল হোতাসহ আরও কয়েকজন জড়িত। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।সিআইডি জানায়, সর্বশেষ ১৭ মে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনালের মালিক ফ্রেডরিক রিবেরু ওরফে লিটন (৪৪), আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আজমাইন ট্রেডের স্থানীয় প্রতিনিধি উত্তম দত্ত ওরফে রুবেল (৪২) ও নজরুল ইসলাম ওরফে আল-আমিন (৬০)।ওই দিনেই গ্রেপ্তার তিনজন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে অভিযুক্তরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কেউ পপি বীজ আসার বিষয়ে জানতেন না বলে জানান।জবানবন্দিতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে টিপু নামে এক ব্যক্তি সরিষা বীজ আনার একটি ডকুমেন্ট নিয়ে আসেন। পরে সেই ডকুমেন্ট নিয়ে নজরুল ও উত্তম দত্ত যান রিবেরুর কাছে। এ জন্য ৩৫ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন টিপু নামের ওই ব্যক্তি। পরে রিবেরু বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেন।নজরুল বলেন, 'টিপু আমাদের যে ডকুমেন্ট দিয়েছিল তাতে সরিষা বীজ উল্লেখ ছিল। কিন্তু তাতে কীভাবে পোস্তা দানা বা পপি বীজ এসেছে তা জানা নাই।'একই দিন জবানবন্দিতে উত্তম দত্ত বলেন, মালামালের বিষয়ে টিপু সব জানত। টিপু তাঁদের বলেছিল মালামালের কনটেইনার খোলা ও ফিজিক্যাল এক্সামের কাজ সবই মোস্তাফিজ নামে একজন করবেন। আমরা শুধু মোস্তাফিজের সঙ্গে ছিলাম।সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিক রিবেরু জবানবন্দিতে বলেন, গত বছরের এপ্রিলে উত্তম দত্ত ও আল আমিন একটি ডকুমেন্টস ক্লিয়ারিং করে মালামালগুলো খালাস করার জন্য আসেন। কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁরা আমাকে ৫ হাজার টাকা দেবেন বলেছিলেন।রিবেরু জবানবন্দিতে জানান, তাঁরা টিপু নামে যাঁর কাছ থেকে ডকুমেন্ট নিয়েছিলেন তাঁকে তিনি চেনেন না।একই ঘটনায় গত বছর হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনালের মালিক অখিল চন্দ্র মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তিনি এই মামলার এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অখিল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, তিন বছর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ২৪ লাখ টাকায় নাজিমউদ্দিন, রেজাউল করিম, মঞ্জুরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান ও রিবেরুর কাছে লাইসেন্সগুলো বিক্রি করেন। পপি বীজ আমদানির বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।গত বছরের ৫ আগস্ট মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজু আহমেদ আদালতে জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি বলেন, ঢাকার চকবাজারে একটি মশার কয়েলের দোকানের কর্মচারী তিনি। ব্যবসার সূত্র ধরে সেখানে আকবর হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। তাঁকে একটি আমদানির লাইসেন্স তৈরি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। পরে আজমাইন ট্রেড সেন্টার নামে একটি এলসি খোলেন। আকবরের কথামতো কাগজপত্রে সই করেন রাজু। এ সময় সরিষা বীজ আনার জন্য আজমাইন ট্রেড সেন্টারের নামে ২৬ হাজার ৩০০ ডলার জমা দেওয়া হয়।সিআইডি বলছে, এ পর্যন্ত যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মূলত তাঁদের একটি চক্র দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছেন। মাত্র ৩৫ হাজা টাকার বিনিময়ে এঁদের ব্যবহার করা হয়। | 6 |
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেছেন, 'নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা র্যাবের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়নি। যেসব র্যাব সদস্য ব্যক্তিগত ভাবে এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিল তাদের শাস্তি হয়েছে।'
শুক্রবার রংপুর র্যাব-১৩ আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বেনজির আহমেদ বলেন, 'র্যাব দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এদেশে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। তাই র্যাবের প্রতি মানুষ আস্থাশীল। র্যাবকে মানুষ ভালোবাসে।'
তিনি বলেন, 'নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় র্যাবই প্রথম তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। জড়িতদের বরখাস্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। র্যাব কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে র্যাবের অনেক সদস্যকে জেল, বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। যে কোনো মূল্যে র্যাবকে ক্লিন রাখা হবে।'
সুন্দরগঞ্জের এমপি লিটন হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'পুলিশের পাশাপশি র্যাব সদস্যরা লিটন হত্যা রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। প্রকৃত খুনিরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।'
জঙ্গি প্রসঙ্গে র্যাব প্রধান বলেন, 'জঙ্গি সদস্যরা অধিকাংশই উত্তরাঞ্চলে। কেন এরা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় জড়িয়ে পড়ছে এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও র্যাব যৌথভাবে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে। এই গবেষণার কাজ দেশের ১৪ জেলায় চলবে।'
তিনি বলেন, '২০০৪ সালের পর আবার ২০১৪ সালে জঙ্গিরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এদের সংখ্যা এক হাজারের কম। অনেকেই গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।'
জঙ্গি তৎপরতার কারণ খুঁজতেই গবেষণার প্রয়োজন বলেও মনে করেন র্যাব প্রধান।
বেনজির আহমেদ শীর্তাত মানুষের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'দেশের অন্যান্য জায়গার চেয়ে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি। ১০ বছর আগেও কুড়িগ্রাম মঙ্গাপীড়িত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন মঙ্গা শব্দটি ইতিহাস থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।'
তিনি আরো বলেন, 'দেশের এখনও ৯ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের দরিদ্রতা দূর হয়েছে। দেশ উন্নয়নের মাইল ফলকে পৌঁছেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দরিদ্রতার হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।'
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ, রংপুর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি বশির আহমেদ, র্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার আতিকুল্ল্যাহসহ অন্যরা।
| 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় জয়ী হওয়ার জন্য নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। শনিবার সকালে নওগাঁর মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যেতিনিএকথা বলেন। তিনি রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে যুক্ত হন। ওবায়দুল কাদেরবলেন, 'তাদের অপরাজনীতির জন্যই জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে বিএনপি প্রকারান্তরে নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে।' সরকার দেশকে বিরোধী দলহীন করার চেষ্টা করছে- বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,'তাদের এই বক্তব্য ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের অব্যাহত এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও মজবুত করতে সরকার শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দল চায়।' তিনি বলেন,'দেশে এখন দুর্দিন নেই, ভয়াবহ দুর্দিন চলছে আপনাদের (বিএনপির) রাজনীতিতে। বিএনপির রাজনৈতিক মনস্তত্ব এখন দুর্দশাগ্রস্থ।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সমালোচনায় ভয় পায় না জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। দেশের মানুষ ও অর্থনীতি করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, অর্জন করেছে ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি। শুধু বিএনপি দেশের উন্নয়ন দেখতে পায় না। ওবায়দুল কাদের বলেন, গ্রাম হতে শহরের প্রতিটি সেক্টরে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন দৃশ্যমান। হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকার অপচেষ্টা না করে বাস্তবতা মেনে ও দেশের মানুষের প্রতি আপনারা শ্রদ্ধাশীল হোন। 'দেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটাতে হবে'- বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে কোনো একদলীয় শাসনব্যবস্থা নেই, আছে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা, আছে কার্যকর সংসদ। তিনি বলেন, বিএনপি এখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গে গোপন সখ্যতা গড়ে তুলে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে। এদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চ্যালেঞ্জ করা হয় তখনও বিএনপি প্রকাশ্যে একটি বাক্য বলারও সাহস দেখাতে পারে না, অথচ তারা বলে দলে নাকি মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেশি। ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের বর্ণচোরা আর গোপন ষড়যন্ত্রের রাজনীতির কারণে জনগণ মনে করে ভাস্কর্য অবমাননার মূল পরিকল্পনাকারী ও কুশীলব বিএনপি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের মনোনয়ন দিলে তারা প্রশ্রয় পেয়ে যাবে, দলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে, তাই এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ অনেক কঠোর। দল করতে হলে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষের মধ্যেই সারা বাংলাদেশের পাড়ায় মহল্লায় শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে, গোটা বাংলাদেশ বিদ্যুৎতের আলোয় আলোকিত হবে। মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, সংসদ সদস্য এমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার প্রমুখ। | 9 |
আনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া স্বামীকে দেশে আনতে জন্মসনদের প্রয়োজনে মনিরামপুরের খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে যান কাশিপুর গ্রামের রুমি খাতুন। তিন বছর আগে ৩৬৫ টাকা জমা দিয়ে স্বামীর জন্য জন্মসনদের আবেদন করেন তিনি। শামীম ঠিকই দেশে পৌঁছেছেন, কিন্তু জন্মসনদ হয়নি তাঁর। অবশেষে গতকাল সোমবার রুমি জানতে পারেন তাঁর আবেদনের কোনো তথ্য নেই পরিষদে। নতুন আবেদন করতে হবে তাঁকে।দুই মেয়ে তাকিয়া ও তাবাস্সুমের জন্মসনদের জন্য আট মাস আগে আবেদন করেছেন একই গ্রামের মাহফুজা খাতুন। কিন্তু এখনো মেয়েদের জন্মসনদ পাননি তিনি। মাহফুজা খাতুন বলেন, 'আট মাস হাঁটিছি। আজ আইসে বলিছি আমার টাকা ফেরত দিতে। জন্মসনদ করাব না।'এক মাস আগে স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের জন্মসনদের আবেদন করেন মাহমুদকাটি গ্রামের নাজিম উদ্দিন। গেল ২৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করে ওই দিনই মোবাইলে সফল বার্তা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সনদ হাতে পাননি।১০ দিন আগে একই পরিষদে জন্মসনদের আবেদন করেন ইমন হোসেন। গতকাল সোমবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর ফাইল উধাও। এদিকে জন্মসনদ দেওয়ার কথা বলে গত রোববার (৩১ অক্টোবর) খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাশিপুর গ্রামের আল আমিনকে বসিয়ে রাখেন সচিব। পরে তাঁকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন।জন্মসনদ নিয়ে ভোগান্তির এমন বহু অভিযোগ রয়েছে খেদাপাড়া ইউনিয়নের আবেদনকারীদের। অভিযোগ, পরিষদের চাহিদামতো টাকা এবং সব কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করেও মাসের পর মাস ঘুরতে হয় পরিষদে, কিন্তু সনদ মেলে না। আবার বারবার টাকা নিয়ে একই নামে একাধিকবার ভুল সনদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে।গতকাল সোমবার সরেজমিন খেদাপাড়া পরিষদে গেলে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় ভুক্তভোগী রুমি খাতুন বলেন, 'স্বামীর জন্মসনদের জন্য তিন বছরে বহুবার পরিষদে আইছি। সচিবের কাছে গেলি উদ্যোক্তারে দেখায়। আবার উদ্যোক্তার কাছে গেলি সচিবেরে দেখায়। কাজ করে দেয় না কেউ। ৩৬৫ টাকা দিয়ে কাগজপত্র জমা দিছি। এখন বলতেছে আমার আবেদনই হয়নি।'রুমি বলেন, 'স্বামীর জন্য সনদ আর কাজে না লাগলেও সামনে মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাব। সে জন্য জন্মসনদ লাগবে।'এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার প্রহল্লাদ দেবনাথ বলেন, 'আমি সপ্তাহে দুই দিন জন্মসনদের আবেদন দেখি। নতুন বা সংশোধনী যে আবেদনই হোক তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা।'খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্মসনদের জন্য ৫০ টাকা আবেদন খরচ হলেও খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আবেদনকারীর কাছ থেকে প্রতি আবেদনে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এত টাকা দিয়ে আবেদন করেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যাঁরা এর চেয়েও বেশি টাকা দেন, তাঁদের কাজ হয়ে যায় দ্রুত।মাহমুদকাটি গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, 'আমার ভাগনির জন্মসনদের জন্য দফাদার সোহরাবকে ৭০০ টাকা দিছি। এক সপ্তাহের মধ্যে সে আমার কাগজ বাড়ি পৌঁছে দেছে।'অভিযোগ স্বীকারও করেছেন সোহবার। তিনি বলেন, 'অনেকের জন্মসনদে ভুল থাকে। তাঁরা জরুরিভাবে সংশোধনী চায়। আমি বাড়তি দু-এক শ টাকা নিয়ে সচিবরে কিছু দিয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করিয়ে নিই।'এদিকে গত রোববার খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জন্মসনদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন রঘুনাথপুর গ্রামের নফর আলী। তিনি বলেন, 'আমার ছেলে ও মেয়ের জন্য একসঙ্গে জন্মনিবন্ধন করতে দিই। অনেক দিন ঘোরানোর পর সনদ দেছে। তাতে ছেলের নামের জায়গায় মেয়ের নাম আর মেয়ের নামের জায়গায় ছেলের নাম দিয়ে ফেলেছে। আবার টাকা দিয়ে সংশোধনীর জন্য আবেদন করি। সেবারও আমার স্ত্রীর নামে ভুল করে। সচিবের কাছে গেলে বাড়তি টাকা চান। পরে টাকা দিয়ে আবার কাজ করাতে হয়েছে।'এসব বিষয়ে উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, 'অনেকে ঠিকমতো তথ্য দেন না। আবার কাজ সম্পন্ন হলে নিতে আসেন না। তাই দেরি হয়।'সচিব মৃণালকান্তি বলেন, '২০০ টাকার অতিরিক্ত নেওয়া হয় না। অনেক সময় তথ্যের ত্রুটি থাকে। চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করতে দেরি করেন। এ জন্য জন্মসনদ দিতে দেরি হয়। উদ্যোক্তা আনোয়ারও ঠিকমতো কথা শোনেন না। তিনি নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করেন।'মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, 'কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
৪০ কেজিতে এক মণ, এই হিসাবেই সব বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় আমবাজার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে হিসাবটা বদলে গেছে! সেখানে আমচাষিদের জিম্মি করে ৫০ কেজিতে এক মণের হিসাব করা হচ্ছে। আর এই হিসাবেই চাষিদের আম বিক্রি করতে বাধ্য করছেন আড়তদাররা। তবে আড়তদাররা ৫০ কেজিতে এক মণ আম কিনলেও ব্যাপারীদের কাছে ৪০ কেজিতে মণ দরেই বিক্রি করছেন। এতে করে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছেন আড়তদাররা। জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে কানসাট আমবাজারে বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। আমচাষিরা বলছেন, করোনার কারণে এমনিতেই আমের দাম কম, অন্যদিকে ৪০ কেজিতে মণ হওয়ার কথা থাকলেও আড়তদাররা নিচ্ছেন ৫০ কেজি করে। জসিম নামে আরেক আম আমচাষি বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার থেকে বসেছিলাম খিরসাপাত আম নিয়ে। দাম বলছে ১,২০০ টাকা মণ, আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়। এ ছাড়া আমের মণ ৪০ কেজিতে নেওয়ার কথা থাকলেও ৫০ কেজিতে নিচ্ছেন আড়ৎদাররা। আমের ওজন ৪০ থেকে ৪২ কেজিতে মণ করার দাবি জানান তিনি। আমিনুল নামে এক আড়তদার বলেন, আম হচ্ছে কাঁচাপণ্য। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে ওজন কমে যায়। এ জন্যই প্রধানত প্রতিমণে ১০ কেজি আম বেশি নেওয়া হচ্ছে। ৫০ কেজি ওজন নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই নিচ্ছে, তাই এভাবে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব জানান, ২০১৬-২০১৭ সালে আমের সঠিক ওজন নেওয়া ও ডিজিটাল মিটারে ওজন করার ব্যপারে আন্দোলন করা হয়। একসময় আড়তদারদের বাধ্য করা হয় ডিজিটাল মিটার ব্যবহারে। সেসময় ৪৫-৪৬ কেজিকে এক মণ হিসাবে আম কেনা শুরু করেন আড়তদাররা। পরে জেলা প্রশাসনের সভায় লিখিতভাবে জানানো হয় ৪০ কেজিতে এক মণ হিসাব করার। কিন্তু জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কোথাও এর বাস্তবায়নে ভূমিকা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। এদিকে আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক উমর ফারুক টিপু জানান, কানসাট বাজারে আমের মণ ৪০ কেজিতেই ধরা হচ্ছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে পৌঁছাতে ওজন কমে যায়, তাই ৫-৬ কেজি আম বেশি নেওয়া হয়। তিনি বলেন, কৃষকের কাছে ৫০ কেজিতে মণ নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাকিব আল রাব্বি বলেন, আমের মণ ৪০ কেজির বাইরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
কিছু বুঝে ওঠার আগেই আর্জেন্টিনা ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন স্পেনে। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার সঙ্গে লিওনেল মেসি যখন একের পর এক শিরোপা উৎসব করতেন, পৃথিবীর এই প্রান্ত আর্জেন্টিনায় তখন একটা শিরোপার হাহাকার। শিরোপাটার জন্য আর্জেন্টাইনদের রাগটা এই মেসির ওপরই বেশি। তা হবেই না কোন? পায়ের জাদুতে বিশ্বকে বিমোহিত করা মেসি যে বারবার এই একটা জায়গায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছেন।বার্সার মতো অসংখ্য রেকর্ড আর শিরোপা উৎসব কোনোটাই যে স্বদেশের হয়ে করতে পারেননি মেসি। ক্ষোভটা দিনে দিনে বাড়ছিল। প্রশ্নটা তো সেই কবেই উঠে গিয়েছিল। মেসি যতটা আর্জেন্টিনার, তার চেয়ে বেশি স্পেনের! দেশপ্রেম নিয়ে উঠেছে অগণিত প্রশ্ন। মেসি শুধুই শুনে গেছেন। নিজে জানতেন আর্জেন্টিনা আর আর্জেন্টাইনদের জন্য তিনি কতটা অনুভব করেন। যেকোনো মূল্যে আর্জেন্টাইনদের জন্য একটা শিরোপা জিততে চান, অনেকবারই বলেছেন।কোনোভাবেই যেন কিছু হয়ে উঠছিল না। কাছে এসেও বারবার মলিন অবয়বে ফিরতে হয়েছে। আর্জেন্টাইনদের আর শিরোপার উৎসব করা হয় না। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কোপা আমেরিকা ২০২১। স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেন মেসি-দি মারিয়ারা। একে তো করোনা মহামারিতে খালি গ্যালারি, তার ওপর খেলাটা হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাটিতে, শিরোপা উৎসবে থাকতে পারেননি আর্জেন্টাইনরা।শিরোপা উৎসবটা কী তবে অসমাপ্ত রয়ে গেল? সেই অপূর্ণতাটাও ঘুচে গেল আজ। শিরোপাজয়ের দুই মাস পর অবশেষে শিরোপা উৎসবের সুযোগ পেলেন আর্জেন্টাইনরা। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে আজ বলিভিয়ার মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। গ্যালারিভর্তি দর্শক। ম্যাচটাও কী দারুণভাবেই না রাঙালেন মেসি। হ্যাটট্রিক করে দলকে জেতালেন।হ্যাটট্রিকের পথে দ্বিতীয় গোলে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় পেছনে ফেলে দেন কিংবদন্তি পেলেকে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইনদের সামনে শিরোপা উৎসবও করলেন। তার আগে পৃথিবীর সব আবেগ যেন ছুঁয়ে গেল মেসিকে। অশ্রুসিক্ত হলেন তিনি। গাল বেয়ে পড়া মেসির সেই অশ্রু পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন সতীর্থরা। একজন এসে তো জড়িয়েই ধরলেন অধিনায়ককে। গ্যালারি থেকে যে কান্নার সাক্ষী হয়েছেন আর্জেন্টাইনরা।ম্যাচ শেষের সাক্ষাৎকারেও আবেগ লুকাতে পারেননি মেসি। ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন মেসির মা-ভাই। তাঁরাও উৎসবে যোগ দিলেন। সাক্ষী হলেন কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ গোলাদাতার মুকুট পরলেন ঘরের ছেলে। নিজের মাঠে এই উদ্যাপন করতে পেরে মেসি নিজেও খুশি। বলেছেন, 'মনুমেন্টালে এই রেকর্ডটা উদ্যাপন করতে পারছি, এর থেকে ভালো কিছু হতে পারে না। আমার মা ও ভাই স্ট্যান্ডে আছেন, তাঁরা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তাঁরা আজ আমার জন্য উদ্যাপন করছেন। আমি অনেক খুশি।'পেলেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার রেকর্ডটা গড়া যে মেসির স্বপ্ন ছিল, সেটাও লুকাননি মেসি। ম্যাচ শেষে বলেছেন, 'আমি আসলেই এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে চেয়েছি। আমি এই রেকর্ডটা নিজের করে নিতে চেয়েছি। রেকর্ডটা ভাঙার স্বপ্ন দেখেছি। অনেক অপেক্ষার পর অবশেষে রেকর্ডটা আমার হয়েছে। অসাধারণ এক মুহূর্ত এটা।'এদিন অবশ্য আরেকটি রেকর্ডে নাম তুলেছেন মেসি। একসময়ের বার্সা সতীর্থ ও প্রিয় বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে ছাড়িয়ে গেছেন কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়। উরুগুয়ে তারকা সুয়ারেজের গোলসংখ্যা ২৫। হ্যাটট্রিক গোলে সেটা টপকে গেছেন মেসি (২৬)।আচমকা এক ঝড়ে বার্সার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি ঘটেছে মেসির। পাড়ি জমিয়েছেন প্যারিসে। এত সব ভাঙনের মাঝে মেসি বছরটা ভুলতে পারবেন না কখনোই। এ বছরই যে তিনি আর্জেন্টাইনদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছেন। | 12 |
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক কলেজছাত্র আব্দুর রশিদ (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কলেজ স্টেশন বটতলা কালিমন্দির সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আব্দুর রশিদ উপজেলার সিহিপুর গ্রামে বাসিন্দা।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুর রশিদ তাঁর অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পথে উপজেলার কলেজ স্টেশন সড়কে তার মোটরসাইকেলকে একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে রশিদ সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।সোনাতলা থানার ওসি মো. রেজাউল করিম বলেন, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রশিদ তার মায়ের ওষুধ কিনতে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। | 6 |
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) মাতৃভাষা বাংলাসহ মোট ছয়টি ভাষায় চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠন 'চোখ ফিল্ম সোসাইটি'। বহুভাষিক এ চলচ্চিত্র উৎসব আগামী শনিবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হবে। আজ বুধবার বিকেলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।জানা যায়, অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী আগামী শনিবার বেলা ৩টায় বাংলা চলচ্চিত্র 'অজ্ঞাতনামা' ও সন্ধ্যা ৬টায় ইংরেজি 'সোল'; রোববার বেলা ৩টায় ইতালি 'বাইসাইকেল থিবস' ও সন্ধ্যা ৬টায় কুরিয়ান 'প্যারাডাইজ' এবং সোমবার বেলা ৩টায় পর্তুগিজ 'সিটি অফ গড' ও সন্ধ্যা ৬টায় ফরাসি চলচ্চিত্র 'এ সেপারেশন' বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে প্রদর্শন করা হবে। বিভিন্ন ভাষায় এসব চলচ্চিত্র উপভোগ করতে অনলাইন ও অফলাইনে ২০ টাকা মূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় আজ, কাল বৃহস্পতিবার ও প্রদর্শনীর দিন সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে সশরীরে এবং অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।'চোখ ফিল্ম সোসাইটি'র সভাপতি ফাহিম আল হৃদয় বলেন, মাতৃভাষা ও মায়ের সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ তাঁর মায়ের ভাষাতেই প্রথম কথা বলতে শিখে। পৃথিবীতে প্রায় ৭ হাজারের ওপরে ভাষার সংখ্যা ছিল। যা এখন সাড়ে ৩ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। তাই পৃথিবীর সকল ভাষার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এ বহুভাষিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছি।উল্লেখ্য, প্রগতিশীল চেতনা, আন্তর্জাতিকতাবাদ, গভীর শিল্পবোধ, সমাজ নির্মাণ-বিনির্মাণমুখি চলচ্চিত্র চর্চা বা বিপ্লবে ব্রতী হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৬ সালের ২৯ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে 'চোখ ফিল্ম সোসাইটি'। | 1 |
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)'র প্রেসিডেন্ট হয়েছে বাংলাদেশ। ৩৬ সদস্যের নির্বাহী বোর্ডের সর্বসম্মতিক্রমে ২৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার চলতি বছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থার নেতৃত্ব পেল বাংলাদেশ। ফলাফল ঘোষণার পরই প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শামীম আহসান একইসাথে ফাও, ইফাদ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিরও বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশ এখন থেকে নির্বাহী বোর্ডে নেতৃত্বের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলায় এবং বিদ্যমান কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ করে সংঘাত-পীড়িত দেশগুলোতে ডব্লিউএফপি-র সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। রাষ্ট্রদূত আহসান তার সূচনা বক্তব্যে বিশ্বের বিপুলসংখ্যক নাজুক জনগোষ্ঠীকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডব্লিউএফপি-র ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদানে বোর্ড সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 4 |
পুলিশের গুলিতে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের (৩৬) মা নাসিমা আক্তারকে ফোন করে সমবেদনা ও সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সিনহা রাশেদের মায়ের মোবাইলে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সিনহার পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন তিনি। সিনহার মা নাসিমা আক্তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারের দাবি জানান। পরে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে জানিয়ে নাসিমা আক্তারকে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে সেনা কর্মকর্তা সিনহা রাশেদ খান নিহতের ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটি মঙ্গলবার থেকে তদন্তকাজ শুরু করেছে। এদিন সকালে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান কক্সবাজারে পৌঁছে বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যদের নিয়ে এক সমন্বয় সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ওই ঘটনার পর প্রথমে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাহজাহান আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও পরে তা পুনর্গঠন করা হয়। গত ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক পুনর্গঠন করা কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন প্রতিনিধি, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির একজন প্রতিনিধি ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ, উৎস অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট মতামত দিতে বলা হয়েছে। ওই ঘটনার পর ২ আগস্ট কক্সবাজারে আসেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ও অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. জাকির হোসেন। সোমবার বিকেলে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে টেকনাফ পরিদর্শন করেন ডিআইজি। কিন্তু ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে কিছুই বলেননি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের (৩৬) মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে তার পরিবার। তারা বলছে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও নিজ দেশে সিনহাকে এভাবে মারা যেতে হবে, তা তারা কখনোই ভাবেননি। সিনহার বাড়ি যশোরের বীর হেমায়েত সড়কে। তার বাবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এরশাদ খান। সিনহা ৫১ বিএমএ লং কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন লাভ করেন। ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেও (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করেন। সিনহা অবিবাহিত ছিলেন। দুই বোনের একমাত্র ভাই তিনি। বড় বোন একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক। ছোট বোন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং আমাজনে চাকরি করেন। | 6 |
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হলেও বিভিন্ন দেশে ব্যক্তিগত সফরে গিয়ে তাঁকে এই দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। তবে তাঁর পেছনে প্রতি মাসে গড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।জাতীয় সংসদের গত এক বছরের পাঁচটি অধিবেশনের কার্যক্রম নিয়ে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন পার্লামেন্ট ওয়াচে এই কথা বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এটি প্রকাশ করা হয়। টিআইবি বলেছে, প্রধান বিরোধী দলের সভাপতিকে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্বের কোনো সরকারি গেজেট পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব হচ্ছে আধুনিক মুসলিমপ্রধান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং এ দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের জনশক্তি রপ্তানি বাজারের প্রসারে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করা। এই সময়ে বিভিন্ন দেশে ব্যক্তিগত সফর করলেও বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনে ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। টিআইবি বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সরকারি প্রটোকল, বিশেষ ভাতা ও অন্যান্য খাত বাবদ মাসে গড়ে পাঁচ লাখ টাকা সরকারি ব্যয় হয় বিশেষ দূতের পেছনে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিআইবি বিভিন্ন সূত্রে চেষ্টা করেও এরশাদকে নিয়োগের কোনো প্রজ্ঞাপন পায়নি। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এরশাদকে বিশেষ দূত করার বিষয়ে গেজেট আছে। | 9 |
বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অন-ডিমান্ড ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিস হলো 'নেটফ্লিক্স'। এই নেটফ্লিক্সের অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক র্যানডলফ। তিনি ও রিড হেসটিংস মিলে ১৯৯৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁদের ব্যবসা শুরু করেন। মার্ক র্যানডলফ পড়াশোনা করেছেন ভূতত্ত্ব নিয়ে।যৌথভাবে রেডের সঙ্গে নেটফ্লিক্স প্রতিষ্ঠার আগেও তিনি ছয়-ছয়টি সফল প্রকল্পের উদ্যোক্তা ছিলেন। সেগুলো শূন্য থেকে বড় করে কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির কাছে। ২০০৪ সালে মার্ক নেটফ্লিক্স থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এখন মার্ক র্যানডলফ ডট কম নামে তাঁর একটা নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে। এখানে তিনি সরাসরি মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমস্যার সমাধান দেন, পরামর্শ দেন।সমস্যার সমাধানই তাঁর কাছে বড় 'বিনোদন'। লিংকডইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্ক করপোরেট সংস্কৃতি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে কী করণীয় তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।সঙ্গ খুঁজুন বুঝে-শুনেআপনি যা চান তা-ই করা শুরু করুন। আপনার এমন কোনো চাকরি করা উচিত যা আপনাকে আপনার পছন্দের ক্যারিয়ারের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে ভেবেচিন্তে মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। প্রথমবার যাঁরা চাকরি করা শুরু করেন, তাঁদের কাছে সবকিছুই নতুন মনে হয়। কর্মজীবন শুরু করার সময় অনেক লোক খুব পছন্দের হয়। কিন্তু তাঁরা আসলে আপনাকে সঠিক পথে চলতে বাধা দেন, যা আপনার পছন্দসই ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর। আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে যে আপনি আপনার ক্যারিয়ারকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।কাজ শিখুন সেরাদের থেকেআপনার আশপাশের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে খুঁজে বের করুন। এরপর তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন, তাঁর থেকে কাজ শিখুন। এমন কাউকে খুঁজুন যিনি আপনাকে গুরুত্বসহকারে নেবেন। তাঁরা আপনাকে যেভাবে কাজ করতে বলবেন, সেভাবেই করুন। তাঁদের সব প্রশ্নে আপনার উত্তর যেন 'ইয়েস স্যার' বা 'ইয়েস ম্যাম' হয়। সেখানে গিয়ে আপনি দেখতে পাবেন যে তাঁরা কীভাবে তাঁদের কাজ করেন। আমাদের অনেকেরই শেখার মন-মানসিকতা নেই। কাজ যত ছোটই হোক না কেন, আপনার উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আগে আপনার আগ্রহের কাজটি শিখে নেওয়া।ইন্টার্নশিপের গুরুত্বআপনার যতই প্রাতিষ্ঠানিক সনদ থাকুক না কেন, দিন শেষে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা ছাড়া আপনার যত ডিগ্রিই থাকুক না কেন, কেউ আপনাকে নেবে না। আর আপনি যদি অভিজ্ঞতা ছাড়াই পারিশ্রমিক হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বসেন, আপনাকে প্রথমেই বাদ দিয়ে দেবে। কারণ চাকরির লাইনে আপনার চেয়েও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। ইন্টার্নশিপ ছাত্রদের পছন্দসই ক্ষেত্রে হাতে-কলমে কাজ করার সুযোগ প্রদান করে। এটা তাঁদের চাকরির জন্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তৈরি করে।কৌশলী হতে হবেআমার কর্মজীবনে আমি যা অর্জন করেছি তার বেশির ভাগই এই কৌশল ব্যবহার করে হয়েছি। প্রায় প্রতিটি ব্যবসায় আমি প্রথমে বিনা মূল্যে পরিষেবা প্রদান করেছি। এরপর যাঁরা আগে ওই কাজটা করেছেন, তাঁদের খুঁজে বের করে তাঁদের মতামত নিই। আমার কাছে আর্থিক ব্যাপারের আগে কাজটা ভালোমতো শেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উদারতা মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। উদারতা ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা না থাকলে আপনি কোথাও স্বস্তি পাবেন না। মার্ক এবং আমি উভয়েই সফলভাবে এটি করেছি এবং আপনিও করতে পারেন।সূত্র: লিংকডইন | 1 |
তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ফলে ওই তিন ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আর ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না। বাকি চারটি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই চারটি ইউপির তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী লড়ছেন। অপরটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বিএনপি নেতা সাবেক এক চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি ইউপিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এবং একটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর ওই ৭ ইউপির ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে পাকশী, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী আর কোনো প্রার্থী না থাকায় পাকশী ইউপিতে নৌকার প্রার্থী মো. সাইফুজ্জামান, মুলাডুলি ইউপিতে নৌকার আবদুল খালেক এবং দাশুড়িয়া ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থী বকুল সরদার বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সলিমপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ওই ইউপিতে নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া প্রার্থীদের আর কোনো বাধা নেই। খুব শিগগির তাঁদের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশ হবে। উপজেলার সাঁড়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ইমদাদুল হক। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আরেক সদস্য জুয়েল চৌধুরী। সাহাপুর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী আকাল উদ্দিন সরদার। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপনের ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এমলাক হোসেন। লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউপিতে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিস উর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক মোল্লা। জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস বলেন, দলের নির্দেশ অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। যাঁরা বিদ্রোহ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। | 9 |
বাংলাদেশ মজুরি কাঠামো নিয়ে অসন্তোষের জের ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কয়েকদিনের বিক্ষোভের পর মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আগামীকাল থেকেই শ্রমিকদের কাজে ফেরার আল্টিমেটাম দিয়েছে। সংকট নিরসনে সরকার একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহবান জানিয়েছিলো কিন্তু তারপরেও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে আজ রোববার কঠোর হুঁশিয়ারি আসলো মালিকদের তরফ থেকে। আজও আশুলিয়া, মিরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ বন্ধ রেখে সড়কে নানা ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে শ্রমিকরা। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের কালকের মধ্যে কাজে ফিরে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, 'যেসব শ্রমিক কাজে ফিরবেনা তারা কোনো মজুরি বা বেতন পাবেনা।' আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আপনারা কর্মস্থলে ফিরে যান, উৎপাদন কাজে অংশগ্রহণ করুন। আগামীকাল থেকে কারখানায় কাজ না করলে আপনাদের কোনো মজুরি দেয়া হবেনা।' 'যদি কোনো কারখানায় শ্রমিকরা কাজ না করেন তাহলে শ্রম আইনর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী 'নো ওয়ার্ক নো পে'। কোনোভাবেই শ্রমিকদের আর কোনো বেতন প্রদান করা হবেনা,' তিনি বলেন। মিস্টার রহমান বলেন, যারা কাজ করবেনা তারা কোনোভাবেই বেতন পাবেনা। 'আবার বলছি কাজে যোগ দেন। কাজ করুন। কাল থেকে কাজ না করলে কেউ বেতন পাবেননা'। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। সমস্যা সমাধানে সরকার গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটি কাজ করছে। 'কমিটি মজুরি কাঠামোর ব্যত্যয় থাকলে তা পুনর্বিবেচনা করবে। তার জন্য আন্দোলন ভাংচুর করার কোনো প্রয়োজন নেই'। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'দেশের অর্থনীতির প্রাণ ও প্রধান কর্মসংস্থান খাত নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে, তা হতে দিবেননা।' 'এ খাত ধ্বংস হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আপনারা। আপনারা কর্মহীন হবেন। আপনাদের জন্য কর্মসংস্থান হতে পারে এমন আর কোনো খাত এখনো বাংলাদেশে গড়ে উঠেনি'। | 0 |
ইউক্রেনে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান চলমান। এ অবস্থায় ইউক্রেনে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে এ প্রতিশ্রুতি দেন বরিস জনসন। টুইট বার্তায় তিনি আরও বলেন, এই ভয়ানক সংঘাতের অবসান ঘটাতে সাহায্য করার জন্য সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য। সূত্র: বিবিসি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
চট্টগ্রামের রাউজানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীদের দাফন করছে 'শেষ বিদায়ের সারথি' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যেরা।সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার রাউজান পৌরসভার হাজীপাড়া গ্রামের মো. বেলালকে দাফন করেন সংগঠনটির সদস্যেরা। মো. বেলাল গত সোমবার রাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কোথাও কোনো নারী-পুরুষ মারা গেলে তাঁরা সেখানে উপস্থিত হয়ে কাফন, দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করছেন। এতে হিন্দু ও মুসলিম বা অন্য কোনো ধর্মের লোকের মধ্যে ভাদভেদ করছেন না তাঁরা। ইতিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে পুরো রাউজানে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তাঁরা।জানা যায়, উদ্যোগটি নিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী। আর স্বেচ্ছাসেবকদের দেখভাল ও সার্বিক সহযোগিতা করছেন পৌর মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ।এ দলটি গত তিনমাস ধরে এ ধরনের কাজ করছে। তাঁরা গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২০ জনের দাফন করেছেন। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে এর সদস্যরা কাজ করেন। তাঁদের দলে রাউজানের হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মের তরুণেরা আছেন। করোনায় মুসলিম কেউ মারা গেলে কাফন ও দাফন সম্পন্ন করেন মুসলিম যুবকেরা। অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক মারা গেলে হিন্দু যুবকেরা তাঁদের সৎকার ও দাহ সম্পন্ন করেন।পৌর মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, সংগঠনটি অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে। করোনায় যেখানে আপন মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যেরা লাশ দাফন ও দাহ করছেন। তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাই মানুষের বিপদে পাশে থাকতে।'এই স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যেরা আগে 'আশার আলো' নামে সংগঠিত ছিলেন। করোনার প্রথম দিক থেকেও তাঁরা করোনা রোগীদের দাফন করেন। পরে 'শেষ বিদায়ের সারথি' নাম দিয়ে সংগঠনটি দাফনে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। | 6 |
টেসলার গাড়ি নির্মাতা ও স্পেসএক্সের মহাকাশচারী ধনকুবের ইলন মাস্ক চার হাজার ৩০০ কোটি ডলারে টুইটার কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এবং কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা। তিনি মনে করেন, টুইটারকে আমূল বদলে ফেলা দরকার। তবে এখন যে কাঠামোতে টুইটার প্রতিষ্ঠিত আছে তাতে এর উন্নতি সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে এটি মানুষের চাহিদা পূরণেও অক্ষম। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের চেয়ারম্যান ব্রেট টেইলরের কাছে এক চিঠিতে এ পরিবর্তনের কথা জানান। কয়েকদিন আগেই টুইটারের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার কিনেছেন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। এবার পুরো সামাজিক মাধ্যমটিই কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এসময় টেসলা প্রতিষ্ঠাতা সামাজিক মাধ্যমটি কেনার জন্য ৫৪ ডলার ২০ সেন্ট করে দেয়ার প্রস্তাব করেন। টুইটারের চেয়ারম্যান ব্রেট টেইলরের কাছে লেখা চিঠিতে ইলন মাস্ক জানান, যদি তিনি পুরো টুইটারের মালিকানা না কিনতে পারেন, সেক্ষেত্রে এর যে শেয়ার কিনেছেন সেটিও তিনি ভেবে দেখবেন। | 3 |
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতারদৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। শহিদুল আলমের জামিন প্রশ্নে দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেবচক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান। শহিদুল আলমের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, এ আদেশের ফলে শহিদুল আলমের মুক্তিতে বাধা নেই। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। আলোকচিত্রী শহিদুল আলম গত আগস্টে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি আইনে রমনা থানায় করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঢাকার হাকিম আদালতে শহিদুলের জামিন আবেদন নাকচ হলে তার আইনজীবীরা ১৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন। এরপর ওই আদালতে তার জামিন সংক্রান্ত আবেদন নামঞ্জুর হলে ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে ৪ সেপ্টেম্বর ওই আবেদনের শুনানিতে বিব্রবতবোধ করেন হাইকোর্ট। এ পর্যায়ে বিধি অনুসারে প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চকে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন শহিদুল আলমের জামিন আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ। পরে ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালত শহিদুল আলমের জামিন নাকচ করেন। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে হাইকোর্টে ফের আবেদন করা হয়।ওই আবেদনের শুনানি নিয়েগত ৭ অক্টোবরহাইকোর্ট শহিদুলকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন এবংএক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলেন। পরেসেই রুলের ওপর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানি শুরু হলেও গত ১ নভেম্বর মামলাটি ওই বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।এরপর শহিদুল আলমের আইনজীবীরা আবেদনটি বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেন।বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের এই বেঞ্চ আগে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে শহিদুল আলমকে জামিন দেন। | 6 |
সারাবিশ্বে প্রচলিত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে বেশ পরিচিত পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএল)। মারকাট ব্যাটিং ও আগুন ঝরানো বোলিংয়ের জন্য এটি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিপুল আলোচিত। বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টের সপ্তম আসর। এ আসরের সবক'টি ম্যাচই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা চলছে। গত ছয় আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানো ব্যাটসম্যানদের এখানে তুলে ধরা হলো। গত ছয় আসরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন আকমল ভ্রাতৃত্রয়ীর বড় ভাই কামরান আকমল। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (৬৯) খেলার কারণে তিনি সবার থেকে এগিয়ে। শুধু তাই নয়; তিনি ছক্কাও হাঁকিয়েছেন সবার চেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত অন্তত ৮৪ বার বলকে বাউন্ডারির বাইরে উড়িয়ে মেরেছেন তিনি। ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডে তার পরেই রয়েছেন গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মারদাঙ্গা ব্যাটিং করা আরেক পাকিস্তানি আসিফ আলি। তিনি মেরেছেন ৬৮টি ছক্কা। আর এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বেন ডাঙ্ক। ২০২০ সালের আসরে এক ম্যাচেই তিনি অন্তত ১২ বার বলকে উড়িয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছিলেন। সে ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে করাচি কিংসের বিপক্ষে ৯৯ রানের অনবদ্য রানের ইনিংসে তিনি এই ছক্কাগুলো হাঁকান। গত আসরেও কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে বাবলগাম ফোলানো এই অস্ট্রেলিয়ান এক ম্যাচে ১০টি ছক্কা হাঁকান। তবে এ আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা কে হাঁকান তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত। সূত্র : ডন | 12 |
মিয়ানমারে চলমান আন্দোলনে এবার জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করেছেন আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। দেশটির সদ্য ক্ষমতাচ্যুত পার্লামেন্ট সদস্য, অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের নেতা ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খবর আলজাজিরা ও রয়টার্সের। এ সরকারে মিয়ানমারের 'ভারপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট' মান উইন খাইং থানকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘোষণা দিয়ে মিয়ানমারের কিংবদন্তি গণতান্ত্রিক কর্মী মিন কো নাইং ১০ মিনিটের এক ভিডিও বার্তা প্রচার করেছেন। তাতে তিনি বলেন, 'আপনারা দয়া করে জনগণের সরকারকে স্বাগত জানান। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল জাতীয় ঐক্যের সরকারের। প্রাথমিকভাবে এই সরকারের কয়েকটি পদ নির্ধারিত হয়েছে। আমরা সামরিক শাসনের মূলোৎপাটনের চেষ্টা করছি, তাই আমাদের বহু আত্মত্যাগ করতে হবে।' তিনি জানান, এই ঐক্যের সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়। ক্ষমতাচ্যুত সংসদ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত জাতিসংঘে মিয়ানমারের আইনপ্রণেতাদের দূত ড. সাশা বলেছেন, মিয়ানমারের ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠিত হলো। | 3 |
জাতীয় লিগ গত ২২ বছরে শক্তিশালী ভিত্তি পেয়েছে- এই দাবির পক্ষে বাজি ধরার লোক না পাওয়া গেলেও দুর্বলতা দেখিয়ে দেওয়ার লোকের অভাব হবে না। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ পরিণত হয়েছে বিসিবির রুটিন কাজে। প্রতিবছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে খেলা শুরু করে শেষ করাই লক্ষ্য থাকে। পারফরম্যান্স বা লিগের মান নিয়ে জবাবদিহি করতে হয় না কাউকেই। লিগটা সেভাবে গড়েও তোলা হয়নি। তার ওপর লিগের দুটি ধাপ (টায়ার) করায় ম্যাচ সংখ্যা কমে গেছে। নিয়মিত হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে খেলা হলেও সাতটি করে ম্যাচ হতো। সব কিছু পর্যালোচনা করে বিসিবির কাছে প্রথম শ্রেণির লিগের সংস্কারের লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অনূর্ধ্ব-২৩ দল গঠন, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ খেলা, দৈনিক ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের সম্মানী ও দুই বছরের জন্য কোচিং স্টাফ নিয়োগের সুপারিশ রেখে প্রস্তাবনা তৈরি করে বিসিবিতে জমা দিয়েছেন তিনি। নান্নু জানান, পরের মৌসুম থেকে ধাপে ধাপে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হতে পারে। দেশে আটটি বিভাগ থাকলেও জাতীয় লিগ খেলে সাতটি বিভাগীয় দল। অষ্টম দল ঢাকা মেট্রো। ঢাকা মেট্রো বিলুপ্ত করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় দল করার সুপারিশ করেছেন নান্নু। ময়মনসিংহ দল করা হলে মাহমুদুল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রকিবুল হাসান, শুভাগত হোম, রাকিবুল হাসান, মুনিম শাহরিয়ার, পিনাক ঘোষ, আবু হায়দার রনি, জোবায়ের হোসেন লিখন, আব্দুল মজিদরা আরও বেশি আন্তরিকতা নিয়ে খেলতে পারবেন। তবে খেলোয়াড় থাকলেই হবে না, বিসিবির গঠনতন্ত্রে ময়মনসিংহ বিভাগকে জাতীয় লিগে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নান্নুর প্রস্তাবনায় প্রতিটি বিভাগে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় লিগের দলের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় লিগের সমান্তরালে চলবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলা। প্রথম শ্রেণির দল হোম ম্যাচ খেললে ২৩ দল খেলবে অ্যাওয়ে ম্যাচ। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে তিনজন করে সিনিয়র ক্রিকেটার থাকবেন। ২৩ দল থেকে খেলোয়াড় নিতে পারবে সিনিয়র দল। সে ক্ষেত্রে সিনিয়র দল থেকে অবনমন করা হবে খারাপ খেলা ক্রিকেটারদের। তিন দিনের ম্যাচ খেলবে ২৩ দল। প্রথম ইনিংস ১০০ ওভারের, দ্বিতীয় ইনিংস ৪০ ওভারের। এতে করে টেস্ট এবং ওয়ানডে দুই সংস্করণের ম্যাচে উত্তেজনা থাকবে। ১৯৯৯ সালে জাতীয় লিগ চালু করা হয়েছিল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলার পরিকল্পনায়। তাতে করে ভিন্ন কন্ডিশনে খেলা অভ্যাসে পরিণত করার পাশাপাশি বেশি ম্যাচ খেলতে পারতেন ক্রিকেটাররা। গত কয়েক বছরে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে খেলার নিয়ম অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে। বিভাগীয় দলগুলোর কোচিং স্টাফও নেই সেভাবে। লিগ শুরুর এক সপ্তাহ আগে বিসিবির কোচরা বিভাগীয় দলে যোগ দেন। দুই বছরের জন্য কোচিং স্টাফ নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন নান্নু। প্রতিটি বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আবাসন সুবিধার পাশাপাশি নূন্যতম চারটি করে আউটার পিচ তৈরি করে দুটিতে ফাস্ট বোলিং কন্ডিশন, একটি ব্যাটিং ও অন্যটি স্পিন ট্র্যাক রাখতে হবে। জিম, ইনডোর সুবিধা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক। দুই টায়ার তুলে দিয়ে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে নিয়মে ম্যাচ খেলার সুপারিশ রাখা হয়েছে প্রস্তাবনায়। জাতীয় লিগে টায়ার ওয়ানের ম্যাচ ফি বর্তমানে ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় টায়ারের ৪০ হাজার টাকা। দু'দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও পুরো ম্যাচ ফি পান ক্রিকেটাররা। নতুন প্রস্তাবে দিনের ভিত্তিতে ম্যাচ ফি নির্ধারণ করতে বলা হচ্ছে। প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা করে হবে ম্যাচ ফি। ম্যাচ তিন দিন খেলা হলে জয়ী দলের ক্রিকেটাররা পুরো চার দিনের সম্মানী পাবেন। পরাজিত দল পাবে তিন দিনের ম্যাচ ফি। জাতীয় লিগ নিয়ে কেন এই প্রস্তাব- জানতে চাওয়া হলে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, 'এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা গেলে লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে যাবে। কোচিং স্টাফের জবাবদিহি থাকবে। কেউ খারাপ করলে নিচে নেমে যাবেন, ভালো করলে বয়সভিত্তিক দল থেকে সিনিয়র দলে আসবেন। ম্যাচ ফির জন্য হলেও জিততে চেষ্টা করবেন খেলোয়াড়রা। বিসিবি আমার প্রস্তাবটা নিয়েছে। ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। বিভাগীয় ক্রিকেট কমিটি বানাতে হবে প্রথমে। জাতীয় লিগের উন্নতি করতে হলে এই প্রক্রিয়ায় যেতেই হবে। আট দল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে খেললে ১৪টি করে ম্যাচ পাবে। ম্যাচ বেশি খেললে ক্রিকেটাররা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনি বেশি ম্যাচ খেলায় পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে।' ভারতের রঞ্জি ট্রফিতেও দিনের হিসাবে ম্যাচ ফি দেওয়া হয়। যদিও সম্মানী ভালো, ৩৫ হাজার রুপি। চার দিন খেলা হলে এক লাখ ৪০ হাজার রুপি। যেটা বেড়ে দুই থেকে আড়াই লাখ রুপি করার উদ্যোগ নিয়েছে বিসিসিআই। বাংলাদেশে সম্মানী না বাড়ালেও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে আট দলের এক টায়ারে খেলা হলে লাভই হবে দেশের ক্রিকেটের। | 12 |
কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির নিকট দেশটিতে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি তার পরিচয় পত্র হস্তান্তর করেছেন। রবিবার রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি তার পরিচয় পত্র হস্তান্তর করেন। পরিচয় পত্রের অনুলিপি হস্তান্তর শেষে রাষ্ট্রদূত কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মুরাইখি কাতারের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংশা করেন। তাছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে তিনি নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে কাতার সরকার কর্তৃক শ্রম আইনের সংস্কারকে রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন সময়োপযোগী ও অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি কাতারে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া দু'দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রেক্ষিতে অগ্রাধিকার বিষয়সমূহে একযোগে কাজ করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আগ্রহ ব্যক্ত করেন। উক্ত বৈঠকে কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধান (চিফ অব প্রটোকল), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া বিভাগের পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব রাজনৈতিক ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মাহবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
হরভজন সিং তার মুম্বাইয়ের বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। একটি সংস্থার দাবি অনুযায়ী, হরভজনের এই বাড়ি ১৭ কোটি ৫৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে। হস্তান্তরবাবদ (স্ট্যাম্প ডিউটি) ৮৭ লাখ ৯০ হাজার রুপি কর দিতে হয়েছে হরভজনকে। মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে ২,৮৩০ বর্গফিটের একটি বাড়ি ছিল হরভজনের। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সেই বাড়ি কিনেছিলেন ভারতীয় স্পিনার। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে তার নামে নথিভুক্ত হয় সেই বাড়িটি। রুস্তমজি এলিমেন্টস নামক একটি আবাসন নির্মাণ সংস্থার থেকে এই বাড়ি কিনেছিলেন হরভজৃন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 12 |
স্বাক্ষর ও সিলমোহর জালিয়াতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কৃত নেতা মিখা পিরেগুকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন। মিখা পিরেগুর জালিয়াতির তথ্য গোপনে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে সংগঠনের 'বিদ্রোহী অংশের' ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন চৌধুরীর সদস্য পদও স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের অভিযোগ প্রতিহিংসার কারণে এমনটা করা হয়েছে। মিখা পিরেগু কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনের 'বিদ্রোহী অংশে' রয়েছেন। একই কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বে থাকা নজির আমিন চৌধুরী সম্প্রতি ছাত্র ইউনিয়নের 'বিদ্রোহী অংশ' ঘোষিত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছেন। গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিখাকে বহিষ্কার ও নজিরের সদস্য পদ স্থগিত করার কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মাহির শাহরিয়ারের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিখা পিরেগুকে ১৪ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এর উত্তর দিতে বলা হয় এবং উত্তর না দিলে ওই সভায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি স্বাক্ষর জালিয়াতি ও জালিয়াতির তথ্য গোপন করার দায়ে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিখা পিরেগুকে স্বাক্ষর জালিয়াতির তথ্য গোপনে সহযোগিতা করায় কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নজির আমিন চৌধুরীর সদস্য পদ স্থগিত করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মিখা পিরেগুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তিনি মৌখিকভাবে জানান যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি রিভিউ আবেদন করেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে রিভিউ আবেদনের দলিল ও তাঁর নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ দাখিল করতে বলে। কিন্তু তিনি গত চার মাসেও তা দাখিল করেননি। এই ঘটনায় তাঁকে আবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। অন্যদিকে ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সংগঠনের ৪০তম জাতীয় সম্মেলনের সময় নজির আমিন চৌধুরী (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নেরও সাবেক সভাপতি) মিখা পিরেগুর অনিয়ম ও ছাত্রত্বের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হয়েছে বলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতিকে অবহিত করেন। নজির মূলত মিখা পিরেগুকে জালিয়াতির তথ্য গোপনে সহযোগিতা করেছেন বলেই কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। গত বছরের ২২ নভেম্বর ৪০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে ফয়েজ উল্লাহকে সভাপতি ও দীপক শীলকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। সম্মেলনের প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে তখন থেকেই সংগঠনের একটি অংশ পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এই অংশটি তখন 'বিদ্রোহী অংশ' হিসেবে পরিচিতি পায়। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি 'বিদ্রোহী' অংশের সাত নেতাকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন ফয়েজ উল্লাহ-দীপক শীলেরা। তাঁদের বিরুদ্ধে 'সংগঠনে বিশৃঙ্খলা ও উপদলীয় তৎপরতার' অভিযোগ তোলা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সম্পা দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটিও গঠন করা হয় সেদিন। এ নিয়ে গত কয়েক মাসে সংগঠনটির অন্তর্কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। দুই অংশ পৃথকভাবেই কর্মসূচি পালন করছিল। গত ১২ এপ্রিল জরুরি সম্মেলন ডাকেন 'বিদ্রোহীরা'। ফয়েজ-দীপকদের আমন্ত্রণ করা হলেও তাঁরা সেখানে যাননি। 'বিদ্রোহীরা' তখন ফয়েজ-দীপককে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রেখে পুনর্গঠিত একটি কমিটি ঘোষণা করেছিলেন। তবে ফয়েজ-দীপকেরা ওই কমিটিকে 'অবৈধ ও ভিত্তিহীন' বলে আখ্যা দেন। এরপর ১৮ জুন জাতীয় পরিষদের সভা করে ১৯ জুন ফয়েজ-দীপকদের অব্যাহতি দিয়ে কমিটি পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করেন 'বিদ্রোহীরা'। ফয়েজ একে 'একধরনের ষড়যন্ত্র' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এরপর গতকাল 'বিদ্রোহী অংশের' মিখা পিরেগুকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার ও নজির আমিন চৌধুরীর সদস্য পদ স্থগিতের ঘোষণা দিলেন ফয়েজ-দীপকেরা। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের 'বিদ্রোহী অংশ' ঘোষিত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, 'মিখা পিরেগু বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রিভিউ আবেদন করেছেন, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মূলত প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ফয়েজ উল্লাহ ও দীপক শীলেরা এসব কাজ করছেন। এটা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টামাত্র। ছাত্র ইউনিয়নের জাতীয় পরিষদ যেহেতু ফয়েজ-দীপককে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, ফলে তাঁদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আমরা আমলেই নিচ্ছি না।' মিখা পিরেগু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর বহিষ্কারের দাপ্তরিক আদেশ গণমাধ্যমে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ এই আদেশে সই করেন গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ পরীক্ষার জন্য করা আবেদনে বিভাগীয় সভাপতির স্বাক্ষর ও সিলমোহর জালিয়াতিসংক্রান্ত গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মিখা পিরেগু তখন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, 'আমি ফটোকপি জমা দিয়েছিলাম, তাই বিভাগ অভিযোগ জানায়। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এর বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছি।' ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, 'মিখা পিরেগুর কাছে আমরা তাঁর রিভিউ আবেদনবিষয়ক দলিলাদি চেয়েছিলাম, তাঁকে এ জন্য সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তা জমা দিতে পারেননি। তিনি জালিয়াতির তথ্য গোপন করেছেন। তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের আলোকে ছাত্র ইউনিয়ন তাঁকে বহিষ্কার করেছে।' | 9 |
কিশোরগঞ্জ জেলার একমাত্র করোনা ডেডিকেডেট শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে একটিও খালি নেই। করোনা ইউনিটের দেড় শ আসনের মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ১২৫ জন।জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৬৯ জনের। এর মধ্যে জেলা সদরেই রয়েছেন ৪৬৫ জন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।হাসপাতালে কর্মরত ডা. মুহাম্মদ আবিদুর রহমান ভূঁইয়া (আরপি মেডিসিন) আজকের পত্রিকাকে জানান, 'গত কয়েক দিনে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালের ২ জন ডাক্তার, ২৫ জন নার্স, ৩ জন কর্মচারীসহ মোট ৩০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে চিকিৎসাসেবা হুমকির মুখে পড়েছে।'গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০২ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জনের। এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৩৬৮ জনের। মোট মারা গেছেন ৯১ জন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলাতেই মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের।এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ২১৩ জন।বর্তমানে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৪। এদের মধ্যে ৭৫ জন হাসপাতালে এবং ৯৪৯ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। জেলার একমাত্র অষ্টগ্রাম উপজেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত কোনো রোগী নেই।বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত মোট ১ হাজার ২৪ জন রোগীর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৭১২ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ১৩ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৩৫ জন, তাড়াইল উপজেলায় ২৩ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৩১ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৬০ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ২৯ জন, ভৈরব উপজেলায় ৮৫ জন, নিকলী উপজেলায় ৫ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ২০ জন, ইটনা উপজেলায় ৯ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ২ জন রয়েছেন।এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন।এরপর গত ১৯ জুন থেকে সিনোফার্ম টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৪০ জন সিনোফার্ম টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। | 6 |
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সংকট সমাধানে গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকবার রুশ প্রেসিডেন্টের সাথে মুখোমুখি কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রোববারও কজন রুশ সাংবাদিকের সাথে এক সাক্ষাৎকার জেলেনস্কি বলেন, একটি 'নিরপেক্ষ এবং নির্জোট' দেশ হিসাবে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে তিনি রাজী। তবে একইসাথে তিনি বলেন যে কোনো মীমাংসা প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে মুখোমুখি কথা বলে হতে হবে। কিন্তু তেমন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সার্বিয়ার মিডিয়াতে সোমবার এক সাক্ষাৎকারে লাভরভ বলেন, উপযুক্ত প্রস্তুতির আগে দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন তার ইউক্রেনীয় প্রতিপক্ষের সাথে দেখা করতে অস্বীকার করেননি, তবে এরকম কোন বৈঠক হতে গেলে তার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত হতে হবে।' ইস্তাম্বুলে বৈঠকওদিকে মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন দফা বৈঠক শুরু হতে পারে বলে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে রোববার এক টেলিফোন আলাপের পর নতুন দফা শান্তি বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৈঠকের কথা জানালেও এ দফায় কী কী নিয়ে কথা হবে তা জানাতে অস্বীকার করেন। তবে এই বৈঠকের দুদিন আগে রুশ সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকারে শর্ত সাপেক্ষে নিরপেক্ষ দেশ হিসাবে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার যে ইচ্ছা জেলেনস্কি জানিয়েছে তা নিয়েই ইস্তাম্বুলে কথা হতে পারে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন। নিরপেক্ষ দেশ নিয়ে অস্পষ্টতাতবে ইউক্রেন থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জোনাহ ফিশার বলছেন, যেসব শর্ত জেলেনস্কি জুড়ে দিয়েছেন তাতে রাশিয়া সহসা রাজী হবে সে সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। প্রথম কথা, সংবাদদাতা বলেন,জেলেনস্কি যেটা বলেছেন যে ইউক্রেন ন্যাটো জোটে ঢুকবে না কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তা পুতিনের আদৌ পছন্দ হবেনা। দ্বিতীয়ত, জেলেনস্কি বলেছেন যে কোনো চুক্তির আগে রুশ সৈন্যদের ২৪শে ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থানে ফিরতে হবে, অর্থাৎ তিনি পূর্ণ সৈন্য প্রত্যাহার চান। কিন্তু এত সৈন্য এবং অস্ত্র-সরঞ্জাম খুইয়ে দখল করা ভূমি, বিশেষ করে দক্ষিণ এবং পূর্বের কৌশলগত-ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছেড়ে রুশ সৈন্যরা চলে যাবে সে সম্ভাবনা কম। তৃতীয়ত, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন যে কোনো ছাড় গণভোটে পাশ হতে হবে। কিন্তু যুদ্ধ বন্ধ করে সেই গণভোটের ফলাফলের জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিন বসে থাকবেন সে সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বড় কথা, জোনাহ ফিশার বলছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন এখন ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে কী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন তা অস্পষ্ট। 'ইউক্রেনকে নেটোতে ঢোকা থেকে বিরত রেখেই কি তিনি সন্তুষ্ট হবেন? নাকি ইউক্রেনের আরো কিছু এলাকা তিনি নিয়ে নিতে চান? নাকি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে ইউক্রেন যাতে কোনোদিন উঠে দাঁড়াতে না পারে সেটি নিশ্চিত করাই এখন তার মূল লক্ষ্য?' জোনাহ ফিশার মনে করেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের মনে কি রয়েছে তার ওপরই নির্ভর করবে সহসা কোনো মীমাংসা হবে কিনা। ওদিকে, শান্তি বৈঠক শুরুর আগের দিন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির একজন সিনিয়র উপদেষ্টা আলেকজান্ডার রোদনিয়ানস্কি বলেছেন, এক ইঞ্চি জমি ছাড়ার ইচ্ছা ইউক্রেনের নেই। বিবিসিকে তিনি বলেন, মীমাংসা করার চাপ এখন মস্কোর ওপর। সূত্র : বিবিসি | 3 |
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ২টি পদে মোট ১৯২ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। 'দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান' শীর্ষক প্রকল্পে ইনস্ট্রাক্টর পদে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন শুরু ২৬ নভেম্বর থেকে। আবেদন করা যাবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পদের নাম: ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টর (ব্যবহারিক) পদসংখ্যা: ১২৮টি যোগ্যতা: ন্যূনতম এসএসসি পাস এবং বিআরটিএর ইনস্ট্রাক্টর লাইসেন্সধারী হতে হবে। অনুমোদিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক হিসেবে ৩ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সম্মানী: মাসিক সাকল্যে ৪০,০০০ টাকা পদের নাম: ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টর (তাত্ত্বিক) পদসংখ্যা: ৬৪টি যোগ্যতা: ডিপ্লোমা ইন অটোমোবাইল মেকানিক্যাল পাস। অনুমোদিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক হিসেবে ১ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিআরটিএর ইনস্ট্রাক্টর লাইসেন্সধারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সম্মানী: মাসিক সাকল্যে ৪০,০০০ টাকা আবেদনের ঠিকানাপ্রকল্প পরিচালক, 'দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান' শীর্ষক প্রকল্প, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, ৮৯/২ (৮ম তলা), কাকরাইল, ঢাকা-১০০০। | 1 |
স্প্যানিশ লা লিগায় আজ রিয়াল সোসিয়েদাদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে গেতাফে। আর এর মাধ্যমে পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চমস্থানে উঠে এসেছে তারা। ম্যাচটিতে গেতাফের হয়ে দুটো গোলই করেন জাইমি মাতা। অপরদিকে রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে গোলটি করেন আদনান জানুজাজ। পয়েন্ট টেবিলের সেরা চারে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্নে বিভোর গেতাফে গত মার্চ মাসের পর এই প্রথম জয় তুলে নিলো। বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থস্থানে রয়েছে সেভিয়া। তাদের চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েয়ে গেতাফে। এদিকে ম্যাচটিতে ২০ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি শট থেকে দলকে প্রথম গোলটি এনে দেন জাইমি মাতা। ম্যাচের প্রথমার্ধের বাকি সময়টা এই ব্যবধান ধরে রাখে তারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটের সময় আদনান গোল করে রিয়াল সোসিয়েদাদকে সমতায় ফেরান। তবে এই সময়ে গোল হজম করলেও ঘাবড়ে না গিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে থাকেন গেতাফের খেলোয়াড়রা। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যখন আর মাত্র ৭ মিনিট সময় বাকি আছে ঠিক তখনই দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন জাইমি মাতা। ম্যাচের প্রায় অন্তিম মূহুর্তে গোল হজম করায় রিয়াল সোসিয়েদাদের জন্য গোল পরিশোধ করাটা কঠিন ব্যপারই ছিল। ফলে তারা আর গোল শোধ করতে পারেনি। | 12 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন ২৭ সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।একই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও ভাষণ দেওয়ার কথা।খবর এনআরবি নিউজের। জাতিসংঘের ভাষণ দেওয়ার পরদিন সকালে বাংলাদেশ মিশনে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিলিত হবেন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে। একই দিনদুপুরে টাইমস স্কোয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট মারক্যুইস হোটেলের বলরুমে নাগরিক সংবর্ধনায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। এদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন। সে আলোকেই সবকিছু সাজানো হচ্ছে বলে জানান সংবর্ধনার আয়োজকরা। জানা গেছে, জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছবেন শেখ হাসিনা। এবার তিনি সাধারণ পরিষদে ১৬তম ভাষণ দেবেন। যথারীতি এ বিশ্বসভায় বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি। এ ছাড়া জলবায়ু, টেকসই উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য, শরণার্থী ইস্যুতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রোহিঙ্গা ইস্যু এবারও প্রাধান্য পাবে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে।জানা গেছে, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতিও প্রশংসিত হবে জাতিসংঘে। এ সফরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা থাকবেন হোটেল প্যালেসে। সেই হোটেলেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা অবস্থান করবেন। এদিকে শেখ হাসিনাকে জেএফকে এয়ারপোর্টে বিপুল অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে জনসংযোগ শুরু হয়েছে। | 6 |
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের (মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা) অনুপ্রবেশ এখনো অব্যাহত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তে দিয়ে প্রবেশের পর তাদের জায়গা হয় আশ্রয় শিবিরে। রাখাইনে অভিযানের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বিচারে গুলি করছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। গুলিবিদ্ধ ও দগ্ধ শরীর নিয়েই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কক্সবাজার ডিজিটাল হাসপাতাল, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেডিকেলে তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে আহতবস্থায় আরও চার রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলো মংডুর আকিয়াবের নুরুল আমিনের ছেলে মো. শফি (২৫), নয়াপাড়ার আহমদ হোসেনের মেয়ে হাসিনা বেগম (১৮), নুরু মিয়ার ছেলে জাফর আলমকে (২৫) ,মংডুর হাইসুকার আবদুল জব্বারের ছেলে ওসামা (১৬)। বিডি প্রতিদিন/৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭/ফারজানা
| 6 |
ইংলিশ চ্যানেলের দুই প্রান্তে একইদিনে দুই রকম দৃশ্য। ২৩ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসার আনন্দে যখন ওয়েম্বলিতে উৎসবে মাতোয়ারা নটিংহ্যাম ফরেস্ট তখন সাগরের অন্য প্রান্তে ফ্রান্সের স্টাড জফু-গিসাতে চলছে ধুন্ধুমার কাণ্ড। অবনমনের যন্ত্রণা সইতে না পেরে ফরাসি দল সেন্ট এতিঁয়েনের সমর্থকেরা মাঠে নেমে পড়লেন ফুটবলারদের পেটাতে!ফ্রান্সের লিগ ওয়ানের অন্যতম বড় দল সেন্ট এতিঁয়েন গতকাল পড়েছে অবনমনের খড়্গে। লিগ ওয়ানের প্লে-অফে গতকাল অক্সের কাছে টাইব্রেকে হেরে যায় এতিঁয়েন। ম্যাচের পরপরই তাই লাঠি, ফ্লেয়ার নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।গত কয়েক বছর ধরেই আর্থিক সংকটে ধুঁকছিল ১০ বারের লিগ শিরোপাজয়ী এতিঁয়েন। করোনায় সেটা আরও করুণ হয়েছে। এবারের লিগ ওয়ানে পয়েন্ট টেবিলের তলানির তৃতীয় দল হওয়ায় লিগে নিজেদের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে প্লে-অফে জিততে হতো দলটাকে। প্রতিপক্ষ ছিল ১০ বছর আগে সবশেষ লিগ ওয়ানে খেলা অক্সে। প্রথম লেগে ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটা গতকাল এতিঁয়েনের মাঠে দ্বিতীয় লেগেও দেখেছে একই ফল। দুই লেগে ২-২ গোলে সমতায় থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকে।টাইব্রেকে প্রথম শটেই বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন এতিঁয়েনের রিয়াদ বৌদেবু। সেই শটেই শেষ পর্যন্ত কপাল পোড়ে এতিঁয়েনের, ৪-৫ ব্যবধানে হেরে যায় এতিঁয়েন। ২০০৪ সালের পর আবারও নেমে যায় লিগ টুতে।লিভারপুল-রিয়াল সম্পর্কিত জানতে - এখানে ক্লিক করুনখেলা শেষ হতেই মাঠে নেমে পড়েন স্বাগতিক সমর্থকেরা। মাঠে ছোড়া হয় ফ্লেয়ার, ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুণ। উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকদের ঠেকাতে সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমেছে দাঙ্গা পুলিশ। ছুড়েছে কাদানি গ্যাস। ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা মাঠে নামার আগেই অবশ্য দুই দলের ফুটবলারদের ড্রেসিং রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের ছোঁড়া কাদানি গ্যাসের ধোঁয়ায় ফুটবলারদের কাশতে দেখা গেছে এক ভিডিওতে।উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য আগে থেকেই কুখ্যাতি আছে সেন্ট এতিঁয়েন সমর্থকদের। এই সমর্থকদের জন্য আগেও জরিমানা গুনতে হয়েছে ক্লাবকে। মোনাকোর বিপক্ষে গত মাসের ম্যাচেও মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল এতিঁয়েন সমর্থকদের জন্য।খেলাসম্পর্কিত আরও পড়ুন:২৩ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে 'রবিন হুড'র নটিংহ্যাম ফরেস্টএমবাপ্পেকে আমরা ভুলে গেছিইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখন পাকিস্তানপরের বছর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফাইনালের টিকিট কেটে রাখতে বললেন ক্লপপ্যারিসের রাতটা নিজের করে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুসনিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আনচেলত্তি | 12 |
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নে ফসলি জমি থেকে সঞ্জু মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই ইউনিয়নের শিবপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সঞ্জু গড়াডোবা ইউনিয়নের কাটাহুঁশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী বলেন, স্থানীয়দে দেওয়া খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন একাদশ জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৭ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচিত এমপি খান আহমেদ শুভ। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব তন্দ্রা শিকদার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। শনিবার (২২ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি উপস্থিত ছিলেন। শপথ গ্রহণ শেষে খান আহমেদ শুভ এমপি রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
করোনাভাইরাস নিয়ে চীনের সমালোচনা করে সম্পাদকীয় প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তিন সাংবাদিককে বহিষ্কার করেছে চীন। এবার ওই তিন সাংবাদিককে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটি। সোমবার একটি প্রতিবেদনের বিতর্কিত শিরোনামে ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই তিন রিপোর্টারকে বহিষ্কার করেছে চীন। এই তিন নাগরিককেই ৫ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে চীন। এর আগে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, চলতি মাসের শুরুতে দ্য ওয়াল জার্নালের সম্পাদকীয় পাতায় চীনের সমালোচনা করা হয়। শিরোনামে লেখা হয়-'চায়না ইজ দ্য রিয়েল সিক ম্যান অব এশিয়া'। এমন শিরোনামে চীনকে বিশ্ববাসীর সামনে ছোট ও কটাক্ষ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উনবিংশ শতাব্দীতে অটোমান সাম্রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে বর্ণনা করতে 'সিক ম্যান অব ইউরোপ' পরিভাষাটির ব্যবহার হয়েছিল। এবার চীনের অর্থনীতির অবস্থা বোঝাতে ওই পরিভাষা ব্যবহার করেন ওয়াল্টার রাসেল।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সরকার চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত। কথা, চিন্তা, বিবেক, মতপ্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে হুকুমবাদের দৌরাত্ম্যে। বহুত্ববাদিতা বিনষ্ট করে সামাজিক স্থিতি ও ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। তাই এখন সর্বত্র ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দখলবাজদের জয়জয়কার। এই অসহনীয় দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।' ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল ঘোষণা উপলক্ষে সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। এ দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাকে চিরকাল কুক্ষিগত করার অসৎ উদ্দেশ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। একটি মাত্র দল বাকশাল ছাড়া অন্য সব দল এবং সরকার অনুগত ৪টি সংবাদপত্র ছাড়া বাকি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মানুষের বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়; তারা বাকস্বাধীনতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করে মূলত মানবাধিকারকেই পদদলিত করেছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভুয়া ভোটের নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে দ্বিতীয় বাকশালি রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুপরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য আগেভাগেই আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে। | 9 |
নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় লঞ্চ ডুবির ঘটনায় এক মা ও এক বছরের শিশুর একসাথে জড়িয়ে থাকাবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মা সন্তানের জড়িয়ে ধরা লাশের এ দৃশ্য দেখে কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। খোদ কেঁদেছেন উদ্ধারকর্মী থেকে শুরু করে মিডিয়া কর্মীরা। লাশ দুটি হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ খাসকান্দি এলাকায় বিথী আক্তার (২৫) ও তার মেয়ে আরিফার (১)। এ সময় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে গোসল করানোর সময় মা ও মেয়েকে আলাদা করেন স্বজনরা। নিহত বিথী আক্তার ওই গ্রামের আরিফ কাজির স্ত্রী। আরিফ ডেকোরেটরের লাইট মিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি স্ত্রী, সন্তান ও শাশুড়িকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায়। এলাকার চর মাশুরা কবরস্থানে নিহত বিথী ও তার মেয়ে আরিফাকে দাফন করা হয়েছে বিথীর মা পাকিজা বেগমের পাশে। এর আগে পাকিজা বেগমকে দাফন করা হয়। একই লঞ্চে ডুবে পাকিজা বেগমও নিহত হন। রবিবার সন্ধ্যার কিছু আগে এসকেএল-৩ নামের একটি কোস্টার জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ২০০ মিটার লঞ্চটিকে টেনে নিয়ে যায়। এরপর লঞ্চটি যাত্রীসহ ডুবে যায়। আশপাশে কোনো নৌকা না থাকায় অনেকেই রক্ষা পাননি। ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চটি উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। রবিবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শিশু ও নারীসহ মোট ৩৪ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ভালো খেলেছে দলটি। সেমিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ। কিন্তু ফাইনালটা নিজেদের হলো না নিউজিল্যান্ডের। হারতে হলো অস্ট্রেলিয়ার কাছে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বললেন, নিজেদের কাজটি তারা ঠিকমতো করতে পারেননি, এটা লজ্জার। রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া। কিউইদের করার ১৭২ রানের জবাবে সাত বল হাতে রেখে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌছায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ শেষে কেন উইলিয়ামসন বলেন, 'আজ হয়নি, কিন্তু আমরা যেভাবে খেলেছি টুর্নামেন্টে, তার জন্য গর্বিত। ছেলেরা দায়বদ্ধ ছিল আমরা যা কিছু করতে চেয়েছি তার প্রতি। এখানে অনেকের হৃদয় ভেঙেছে। তবে জয়ী দলে থাকা সবসময় সুন্দর। অস্ট্রেলিয়াকে কৃতিত্ব দিতে চাই। তবে নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করতে পারিনি আমরা, এটা লজ্জার।' লক্ষ্যটা আরো বেশি দিতে পারলে ভালো হতো। তবে যা ছিল তাও চ্যালেঞ্জের। কেন বলেন, 'আমরা ভালো একটা জায়গায় যেতে চেয়েছি, উইকেট ভাঙা ছিল। কিছু ভালো জুটি হয়েছে। যে লক্ষ্য দিয়েছিলাম, আমাদের মনে হয়েছে লড়াই করার মতো। এটা দারুণভাবে তাড়া করতে হতো। অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত দল, তারা এটা করে ফেলেছে।' তিনি আরও বলেন, 'ভালো সংগ্রহ গড়েছেন কি না, এটা কখনোই বুঝতে পারবেন না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তবে অনেক দূর যেতে পারিনি। অস্ট্রেলিয়ার কৃতিত্ব আছে। তারা দাপটের সাথে রান তাড়া করেছে, আমাদের কোনো সুযোগ দেয়নি।' | 12 |
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো- দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের তোতা মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তার নিশি (৪) ও একই গ্রামের এরশাদুল হকের মেয়ে তাহা (৩)। হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে নিশি ও তাহা খেলছিলো। এক পর্যায়ে তারা পুকুরে পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে গেলে চিকিৎসকরা দু'জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। | 6 |
নওগাঁয় প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাসায় ডেকে নিয়ে এসে আপত্তিকর ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে ৭ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে নওগাঁ সদর মডেল থানায় পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নান মিয়া গ্রেপ্তাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে বিকেলেই গ্রেপ্তার ৭ জনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা মো. টিটুর বাসার ভাড়াটিয়া বুলবুলি বেগম (২৩) মোবাইল ফোনে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলেন। এরপরে তিনি কৌশলে ভাড়াবাসায় প্রেমিকদের ডেকে নিয়ে আসেন। পরে ওই যুবকদের বিবস্ত্র করে ছবি তুলে তা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে আসছিলেন বুলবুলি ও তার সহযোগীরা। তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দুপুরে আত্রাই থানার বান্দাইখাড়া বাজার এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে মো. নাসির উদ্দিনকে ওই বাসায় ডেকে নিয়ে ঘরে আটকে রাখেন। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। এসময় ওই যুবককে বিবস্ত্র করে ওই চক্রের সদস্যরা ছবি তোলেন। পরে জিম্মি করে নাসির উদ্দিনের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি। এই অবস্থায় নাসির উদ্দিনকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধ করতে বলে তারা। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানোর পর তার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আকতার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ, সদর থানার ওসি মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন ও ওসি( তদন্ত) ফয়সাল বিন আহসান পুলিশ ফোর্স নিয়ে শনিবার বিকালে বুলবুলি বেগমের ভাড়া বাসায় অভিযান চালান। এসময় পুলিশ প্রেমের ফাঁদে ফেলে চাদাবাজি চক্রের সদস্য জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার সরস্বতীপুর পুকুরপাড়া গ্রামের মো. বুলুর মেয়ে বুলবুলি (২৩), আত্রাই উপজেলার মধুগুড়নই গ্রামের ইউসুফ শেখের ছেলে মো. বাহাদুর শেখ ৩৮), তার স্ত্রী মোছা. মুক্তা (৩৮), চকবাড়িয়া বাউস্থাপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে মো. ইদ্রিস আলী (৪৫), কাশিয়াপাড়া গ্রামের মো. আজিজুল হাকিমের ছেলে মো. আল আমিন (৩২), নবারের তাম্বু গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মুন্নি বিবি (২৮) এবং সদর উপজেলার বাচাড়ীগ্রাম সোনার পাড়ার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. এনামুল হককে গ্রেপ্তার করে। সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই তৎপরতা চালিয়ে আসছে বলে স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। | 6 |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক হলেন তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক। আজ সোমবার তিনি নিজে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এম সানাউল হক জানান, আজ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত অফিস আদেশ এসেছে। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে থেকেই তিনি সহ-সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে এম আব্দুল হান্নান খানকে গত ২৭ নভেম্বর ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। পরে তার করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর তিনি রাজধানীর সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই তদন্ত সংস্থাও গঠন করা হয়। সেসময় তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এম সানাউল হক। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
ঢাকা: ফুটবল বার্সেলোনা শহরে উৎসবের মতো। মেসিদের এ শহরের মানুষের সঙ্গে ফুটবল ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। সেখানে ক্রিকেটের কথা শুনলে যে কেউ অবাক হতেই পারেন! সেই অবাক করার ঘটনাই ঘটতে যাচ্ছে। ভারত-পাকিস্তানের নারী ক্রিকেটারদের দাবিতে বার্সেলোনা প্রশাসন ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে কদিন আগে বার্সেলোনা প্রশাসন ৩০ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ইউরোতে (বাংলাদেশি ৩১১ কোটি টাকা) স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। স্টেডিয়ামটি কোন খেলা হবে তা জানতে চেয়ে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সবাইকে চমকে দিয়ে বার্সেলোনা নগরবাসী ৮২২ প্রকল্পের মধ্যে বেছে নিয়েছেন ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রকল্পকেই।কীভাবে এ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখল, সেটির পেছনের গল্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ২০ বছরের নারী ক্রিকেটার হিফসা বাট। গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিফসা বলেছেন, ''তিন বছর আগে মাধ্যমিক স্কুলে সবকিছু শুরু হয়েছিল, যখন আমাদের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক এসে বললেন, ''আমরা এখন থেকে স্কুলের সময়ের পর খেলার জন্য একটা ক্রিকেট ক্লাব করব। কে কে যোগ দিতে চাও?'' আমার বাবা আমাদের কীভাবে খেলতে হয়, সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন, এরপর আমরা নিজেরা নিজেরা খেলতে শুরু করলাম।' | 12 |
স্থাপত্যবিদ্যার তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন। তাতে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০টি প্রকল্প অংশ নেয়। প্রকল্পগুলো নিয়ে হয় তিন দিনের প্রদর্শনী। বিশিষ্ট স্থপতিদের নিয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর দূরদর্শিতা ও মেধার ভিত্তিতে এর মধ্য থেকে তিনটি প্রকল্পকে সেরা নির্বাচিত করেন। রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার সেরা তরুণ স্থপতিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তরুণ, সৃজনশীল ও মেধাবী স্থপতিদের উৎসাহিত করতে এই স্থাপত্য প্রকল্প প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস (কেএসআরএম)। 'কেএসআরএম অ্যাওয়ার্ডস ফর ফিউচার আর্কিটেক্টস: বেস্ট আন্ডার গ্র্যাজুয়েট থিসিস' শীর্ষক এই আয়োজনে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি)। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের নবীনেরা অপার সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিরলস প্রচেষ্টা থাকলে সাফল্য আসবেই। অর্থনীতি, অবকাঠামোর দিক থেকে এগোলেও নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সূচকে বাংলাদেশ এগোতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন রেজাউল করিম। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, তরুণ স্থপতিদের টেকসই, পরিবেশসম্মত ও দুর্যোগ সহনশীল স্থাপনা গড়ার দিকে নজর দিতে হবে। স্থাপনা হতে হবে দেশের সংস্কৃতিকে মাথায় রেখে, অন্য কোনো দেশের অনুকরণে না। অনুষ্ঠানে তরুণ স্থপতিদের উদ্দেশ্যে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভিত্তি স্থপতিবৃন্দের পরিচালক ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, টেকসই নগর উন্নয়নে অর্থনীতি, পরিবেশ, সাম্য-তিনটি বিষয় জরুরি। কিন্তু দেশের বর্তমান উন্নয়ন শুধু সবলের জন্য। অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে ও শারীরিকভাবে সবলদের জন্য। যেখানে বিশেষভাবে সবল ব্যক্তি (প্রতিবন্ধী), নারী ও শিশুদের স্থান কোথায়? এই পুরস্কার স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আইএবির সভাপতি জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপত্যবিষয়ক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। যারা তরুণ, মেধাবী, সৃষ্টিশীল তাদের অনুপ্রেরণা দেবে এই পুরস্কার। এই পুরস্কার শুরুর পেছনের গল্প শোনান কেএসআরএম স্টিল প্ল্যান্ট লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান। তিনি বলেন, নতুন আধুনিক স্থাপত্য কাজ দেখলে অনুপ্রাণিত হই। ভবিষ্যৎ স্থপতিদের অনুপ্রেরণা দিতে কেএসআরএম এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। কেএসআরএম ও আইএবি এই কর্মসূচির বিষয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে। এরপর ২৫ থেকে ২৭ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। তাতে আইএবির অধিভুক্ত দশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিনটি করে মোট ৩০টি সেরা গবেষণাপত্র প্রদর্শিত হয়। সেখান থেকে বিচারকেরা তিনটি প্রকল্পকে সেরা নির্বাচিত করেন। সেরা তিন নবীন স্থপতির মধ্যে প্রথম হয়েছেন আরমান আলম, দ্বিতীয় বৃষ্টি সরকার ও তৃতীয় হয়েছেন রহমান গোলাম মাহমুদুর। এ ছাড়া ফাহিম হাসান ও শরীফুল আলমকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার। পুরস্কার বিতরণের সময় অতিথিদের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন কেএসআরএমের পরিচালক সারোয়ার জাহান। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন আইএবির সেক্রেটারি (শিক্ষা) স্থপতি আরেফিন ইব্রাহিম। | 0 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চাই। যতটুকুই পারি, করতে চাই। যখন কোনো ভালো কাজ করি, তখনই মনে হয়-তিনি থাকলে আরও আগেই এসব ভালো কাজ হতো। ভালো কাজ করলে মনে হয়, তার আত্মা শান্তি পাচ্ছে।'
মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় গ্রন্থ 'কারাগারের রোজনামচা'র প্রকাশনা উৎসবে তিনি এ কথা বলেন। বইটির প্রকাশক বাংলা একাডেমি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বঙ্গবন্ধু দেশটাকে গড়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। পারলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতো। তিনি সারাজীবন এ দেশের জন্য কষ্ট করেছেন। সেটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব এ দেশের মানুষের।'
অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। বইটির উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যের পুরোটা জুড়েই আবেগপ্রবণ ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লিখিত বক্তব্য নয়, তিনি কথা বলছিলেন একজন মেয়ের মতো করে। বাবাকে হারিয়ে ফেলা একজন মেয়ের মর্মস্পর্শী বেদনা ছুঁয়ে যায় মিলনায়তনভর্তি সুধীজনকেও।
প্রধানমন্ত্রী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, "আগরতলা মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর একসময় আব্বা-আম্মা পাশাপাশি বসেছিলেন। আমি সে সময় আব্বার খাতা থেকে পড়ছিলাম। আব্বা উঠে এসে কোনো কিছু না বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, 'এখন পড়িস না, আমার মৃত্যুর পর পড়িস।' ১৫ আগস্ট সবাইকে হারিয়ে ফেলার পর এ কথাগুলো খুব মনে পড়ছিল। প্রথম দিকে আমি খাতাগুলো পড়ার সাহস করতে পারছিলাম না। পড়তে বসলেই আব্বার সেই কথাগুলো মনে পড়ে যেত।"
শেখ হাসিনা বলেন, 'বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষকে স্বাধীনতা, রাষ্ট্র, আত্মশক্তি দিয়েছেন। যখনই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন, তখন তাকে আর কেউ সময় দেয়নি। তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। সমালোচনা করে লেখা, বক্তব্য স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিকে তার মৃত্যুর পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল। যারা এ পটভূমি তৈরি করেছিলেন, তারা পরে উপলব্ধি করবেন, কী হারিয়েছেন।'
বঙ্গবন্ধুর খাতা উদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বহু বছর পর আব্বার লেখা খাতাগুলো খুঁজে পাই। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর এসবির মাধ্যমে দুটি খাতা উদ্ধার করা হয়, যা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর একটির ওপরে লেখা ছিল জেল প্রশাসনের সমালোচনা করার কারণে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আজকে মায়ের কথা মনে হচ্ছে। কারণ, আব্বা গ্রেফতার হলে তিনি কারাগারে গিয়ে তাকে খাতা দিয়ে আসতেন। পড়ার জন্য বই দিয়ে আসতেন। তিনি সব সময়ই আব্বাকে লেখার জন্য উৎসাহ দিতেন। আম্মা সে খাতাগুলো যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন। ১৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে ওই খাতাগুলোই খালি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে নিয়ে আসি। আর কিছু নিয়ে আসার মতো ছিলও না। সারাবাড়িতে তখনও রক্তের ছোপ লেগে ছিল।'
বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের স্মৃতি মনে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কখনও আব্বাকে একটানা দুই বছর কাছে পাইনি। ছোটবেলায় আব্বার সঙ্গে জেলখানাতেই দেখা হতো। আমরা জানতাম, আব্বা দেশের জন্য কাজ করছেন। তাই কোনো আবদার রাখতাম না তার কাছে। কিন্তু যখনই তিনি বাইরে থাকতেন, তখন এতটা আদর দিতেন, সব ভুলে যেতাম। এমন আদর আর কোনো সন্তান তার পিতার কাছ থেকে পেয়েছে কি-না, জানা নেই।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তার আরও লেখা আমাদের হাতে রয়েছে, যা গ্রন্থাকারে বের করার প্রস্তুতি চলছে। তার জন্মশতবর্ষের আগে সেগুলো প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে এসবির ৩০ থেকে ৪০ হাজার পৃষ্ঠার প্রতিবেদন রয়েছে, যার মাধ্যমে তার জীবন ও বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে। তবে এখান থেকে অফিসিয়াল বিষয়াদি ফেলে দেওয়া হবে। সে সঙ্গে আগরতলা মামলার ডকুমেন্টসও প্রকাশ করা হবে। ইতিহাস যারা জানতে চান, তারা এসব বই থেকে জানতে পারবেন। এসব লেখা পাঠের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে আরও ভালোভাবে সবাই জানতে পারবেন। তিনি তার খাতায় যেভাবে লিখেছেন, আমরা সেভাবেই লেখেছি। কোনো ধরনের সম্পাদনা করা হয়নি। সবাই এ বই পড়বেন, প্রয়োজনে সমালোচনা করবেন।'
ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'বঙ্গবন্ধু যে ভাষায় এ বই লিখেছেন, সেটি নিয়েও গবেষণা হওয়া উচিত। তিনি চলিত ভাষায় লিখেছেন, কিন্তু তার মাঝে আঞ্চলিক ক্রিয়াপদের ব্যবহার করেছেন। এতটাই সাবলীল তার লেখা যে সব মানুষ বুঝতে পারছেন।'
এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, '২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষপূর্তি-এ দুই উপলক্ষ সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর একটি প্রামাণ্য জীবনী দেখতে চাই। সে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ারের কার্যক্রমকেও গতিশীল করতে হবে।'
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর দুটি গ্রন্থই এ দেশের ইতিহাসের আকরগ্রন্থ। বইগুলোর প্রতিটি পাতা পড়তে হবে। একজন রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রস্রষ্টা বঙ্গবন্ধু যে লেখক, তা এ দুই বইয়ে প্রমাণিত হয়েছে। লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন, হৃদয়গ্রাহী, বিশ্লেষণধর্মী অনন্যসাধারণ আত্মজৈবনিক রচনা। এ বইয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা উঠে এসেছে। সে সঙ্গে উঠে এসেছে তার রাজনৈতিক তত্ত্বও।'
মুনতাসীর মামুন বলেন, 'বঙ্গবন্ধু নিজের দেশকে মা ও কন্যার মতো করে দেখেছেন। তার এ শর্তহীন ভালোবাসা ছিল গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগপর্যন্ত। তার গড়ে তোলা সেনাবাহিনী তাকে গুলিবিদ্ধ করায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।'
বইটি নিয়ে তিনি বলেন, 'এ বইয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর যে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, তার প্রতিটিই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। এ বইয়ের মতো সুমুদ্রিত ও সুগ্রন্থিত বই এর আগে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেনি। এর জন্য তাদেরও ধন্যবাদ।'
শামসুজ্জামান খান বলেন, 'এ বইয়ে জেলের আইনকানুন, নিয়মনীতি, অপরাধপ্রবণতা চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। এ বই পাঠ করলে বোঝা যায়, বঙ্গবন্ধু শুধু বড়মাপের রাজনৈতিক ছিলেন না, একজন অসাধারণ লেখকও। তিনি যদি রাজনীতি না করে লেখালেখি করতেন, তাহলে বড় লেখকদের তালিকায় থাকতেন।'
'কারাগারের রোজনামচা' বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ কালপর্বের কারাস্মৃতি স্থান পেয়েছে। এই গ্রন্থটি এর আগে প্রকাশিত অসমাপ্ত আত্মজীবনীর (২০১২) দ্বিতীয় খণ্ড নয়; এটি বঙ্গবন্ধুর সম্পূর্ণ নতুন গ্রন্থ। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কারাগারে লেখা তার দুটি ডায়েরি জব্দ করে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহায়তায় উদ্ধার করা একটি ডায়েরির গ্রন্থরূপ বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'কারাগারের রোজনামচা'।
বইটির ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩৩২ পৃষ্ঠার এ বইটির মূল্য ৪০০ টাকা; ৩০ শতাংশ কমিশনে বইটি পাওয়া যাচ্ছে ২৮০ টাকায়। শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ অঙ্কিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অবলম্বনে গ্রন্থটির প্রচ্ছদ ও নকশা করেছেন তারিক সুজাত।
| 6 |
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ও মিজোরামের সীমান্ত এলাকায় জনতা-পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। নিহত হয়েছেন আসাম পুলিশের ছয় সদস্য। এ নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছেন প্রতিবেশী দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। পাল্টাপাল্টি টুইট করেছেন তাঁরা। তাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ট্যাগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানানো হয়েছে। খবর এনডিটিভির। দুদিন আগেই অমিত শাহ মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে গিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর আজ সোমবার সকালে সংঘর্ষ বাধে আসাম ও মিজোরামের সীমান্তে। আসামের চাঁচর জেলা ও মিজোরামের কোলাসিব জেলার স্থানীয় লোকজন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। পাল্টাপাল্টি হামলায় মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশ। এ সময় হামলা হয় সরকারি গাড়িতে। চলে গুলি। তবে কে বা কারা এ সময় গুলি চালিয়েছে, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ সংঘর্ষের ঘটনায় আসামের ছয় পুলিশ নিহত হয়েছেন, রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এমনটাই জানিয়েছেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় টুইটারে বিরোধে জড়িয়েছেন আসাম ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীরাও। অমিত শাহকে ট্যাগ করে পাল্টাপাল্টি টুইট করেছেন তাঁরা। দুপুরে প্রথমে টুইট করেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা। এতে সংঘর্ষের একটি ভিডিও জুড়ে দেন তিনি। অমিত শাহকে ট্যাগ করে সংঘর্ষ অবিলম্বে বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে আরজি জানান। . . . ../ অপর একটি টুইটে তিনি ঘটনাস্থল থেকে ভাঙচুরের শিকার হয়ে ফেরা একটি সরকারি গাড়ির ভিডিও পোস্ট করেন। লিখেন, এ ধরনের সহিংসতা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?এরপর পাল্টা টুইট করেন হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনিও সংঘর্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গাকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, 'বেসামরিক মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ শেষ না হওয়ার আগে কোলাসিবের (মিজোরাম) এসপি আমাদের পোস্ট সরিয়ে নিতে বলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি কীভাবে সরকার চালাব? আশা করি, আপনি দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন।' অপর এক টুইটে আসামের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আসাম দুই রাজ্যের সীমান্তে শান্তি মেনে চলার পক্ষে। আমি মিজোরামের রাজধানী আইজল সফরে যাওয়া ও শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছি।' সব কটি টুইটে তাঁরা অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তরের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় অমিত শাহ দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। অবিলম্বে সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরই দুই রাজ্যের পুলিশ ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে আসে। , ( ) ' . ? ../ মিজোরামের তিন জেলা-আইজল, কোলাসিব ও মামিতের সঙ্গে আসামের চাঁচর, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ জেলার ১৬৪ কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সীমান্তে বেশ কিছু জমি নিয়ে দুই রাজ্যের বিরোধ চলে আসছে। এসব জমির মালিকানা দাবি করে দুই রাজ্যের বাসিন্দারাই। এমনকি অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের সেসব জায়গায় অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা হয়। গত মাসেও একবার এই দুই রাজ্যের সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছিল। এসব বিরোধ নিরসনে সীমান্ত কমিশন গঠন করেছে মিজোরাম সরকার। অন্যদিকে মিজোরামের পাশাপাশি মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গেও আসামের সীমান্ত নিয়ে বিরোধ রয়েছে। | 3 |
চলতি বছরের এপ্রিল-মে থেকেই লাদাখ সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার আশপাশে সৈন্য সমাবেশ এবং সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে শক্তি মজবুত করছে চীন। গত ১৫ জুন লাদাখের পূর্বাঞ্চলের গালওয়ান উপত্যকায় চীনের পিপলস লিবারেল আর্মির (পিএলএ) সৈন্যদের সঙ্গে সহিংস সংঘাতে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। সম্প্রতি ভারতীয় পত্রিকা 'দ্য হিন্দু' জানিয়েছে, বিতর্কিত লাদাখ সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) আশপাশে প্রায় এক হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা এখন চীনের নিয়ন্ত্রণে আছে। সে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা কেন্দ্রীয় সরকারকে এই তথ্য জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে দ্য হিন্দু। দেশটির সরকারি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেছেন, দেপসাং সমতল এলাকা থেকে চুশুল পর্যন্ত অমীমাংসিত সীমান্তে পরিকল্পিতভাবে সেনা-সমাবেশ করেছে চীন। ওই কর্মকর্তা বলেন, দেপসাং সমভূমির টহল পয়েন্ট ১০ থেকে ১৩ পর্যন্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীন। ওই এলাকার পরিমাণ প্রায় ৯০০ বর্গ কিলোমিটার হতে পারে বলে ধারণা করছে ভারত। ওই কর্মকর্তা বলেন, গালওয়ান উপত্যকায় প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটার এবং হট স্প্রিংস এলাকায় ১২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চীনের দখলে আছে। প্যাংগং সো লেকের কাছে ৬৫ বর্গ কিলোমিটার এবং চুশুলে ২০ বর্গ কিলোমিটার চীনের নিয়ন্ত্রণে আছে। দ্য হিন্দু বলছে, প্যাংগং সো লেকের কাছে ফিঙ্গার ৪ থেকে ৮ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। ফিঙ্গার ৪ থেকে ৮ এর পার্বত্য এই এলাকার পরিমাণ প্রায় ৮ কিলোমিটার। | 3 |
সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে (এলটিএম) দরপত্র আহ্বান ও নির্মাণসামগ্রীর দর বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল বুধবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে অবস্থান ধর্মঘট করেন ঠিকাদারেরা।এ সময় বক্তব্যে তাঁরা বলেন, এলটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান জানিয়ে ১৪ মার্চ সিসিকের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে দরখাস্ত দেওয়া হয়। এ নিয়ে কয়েকবার আলোচনা করার পর তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। যার কারণে প্রায় ৪০০ ঠিকাদার বেকার হয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হচ্ছে এলটিএম। এর ফলে অন্তত সবাই মিলে কাজ পাওয়ার একটি পথ খোলা থাকবে। তা ছাড়া বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রীর দরের সঙ্গে বাজার দরের অনেক পার্থক্য থাকায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালনের সময় সিসিক মেয়রের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন ঠিকাদাররা। এ সময় সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ঠিকাদারদের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।সিলেট সিটি করপোরেশন কন্ট্রাক্টর ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিলার আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিলের পরিচালনায় অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, আকিকুল হাসান চৌধুরী, সুয়েব আহমদ, জহিন হোসেন তুহিন, খুররম আহমদ চৌধুরী, অরুন দে, এনায়েত আহমদ মনি, ঝুমক দাশ, রাসেল আহমদ, আব্দুল মুমিন মামুন, ওয়াহিদ বকস, জিয়াউর রহমান, শাহাদৎ হোসেন, মঈনুল ইসলাম মইন, মো. আব্দুর রব, কামাল আহমদ, শফিকুর রহমান, মারুফ আহমদ, রাখাল দে, অমিত দে, এহতেশামুল হক চৌধুরী, মামুন বকত, আব্দুল কাইয়ুম নাছিম, রেনু মিয়া, তোফাজ্জল হক তাজুল, হেলাল আহমদ, রূপক নাগ, মুরাদ আহমদ, রাজিব আহমদ টিপুন প্রমুখ। | 6 |
ভূমিকম্পসংক্রান্ত বাংলাদেশের আগের ইতিহাস এবং পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, ভারত ও মিয়ানমারে ঘটা ভূমিকম্পের কারণে বাংলাদেশের ভূখণ্ড কেঁপে ওঠার যে অভিজ্ঞতা আছে, তা মনে করিয়ে দেয় যে আমরা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছি। ইউরেশিয়া, ইন্ডিয়া ও চায়না প্লেট-তিনটি বাংলাদেশকে ঘিরে অবস্থান করায় এদের মধ্যে যুগের পর যুগ ধরে ঠোকাঠুকিতে অনেক ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে বলে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে। এই ঝুঁকির ক্রমানুসারে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০ বাংলাদেশকে চারটি জোনে ভাগ করেছে, যার মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয় জোনে অবস্থিত। ঢাকাসহ দেশের সব শহরে ভবনগুলো ভূমিকম্পের কথা হিসাবে রেখে গুরুত্বসহ ডিজাইন করা দরকার। বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকায় দেশের অধিকসংখ্যক মাঝারি ও উঁচু ভবন নির্মিত হচ্ছে। ঢাকায় ভবন করতে একটি নকশা বা প্ল্যান রাজউকে জমা দিতে হয়। রাজউকের বিজ্ঞ স্থপতিরা সেই প্ল্যান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি সবকিছু তাঁদের বিধিমালা মেনে করা হয়ে থাকে, তবে অনুমোদন দেন। যদি কোনো রকম ত্রুটি থাকে, তবে আবেদনকারীকে পুনরায় প্ল্যানটি জমা দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ভবনটির কাঠামো ডিজাইন-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র রাজউক থেকে জমা দিতে বলা হয় না বলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগই নেই। এ কারণে ভবনের প্ল্যানটি অনুমোদন পেয়ে ভবন নির্মাণের সময় নির্মাতাকে কোনো পর্যায়ে নির্মাণসংক্রান্ত জবাবদিহি করতে হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভবন ডিজাইন করা হয় যেসব ফার্ম বা ব্যক্তিবিশেষ দিয়ে, এর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু, তা যাচাই-বাছাই করার সুযোগই বর্তমান রাজউকের বিধিমালায় নেই। কাঠামোগত ডিজাইন সম্পর্কে উদাসীনতার কারণে ঢাকা শহরে হাজার হাজার ভবন কয়েকটি ত্রুটি নিয়ে নির্মিত হয়ে চলেছে। ত্রুটি ছাড়া আবাসিক ভবন খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। আগেই বলেছি, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ভূমিকম্পের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রায় প্রতিটি আবাসিক ভবনে সফট স্টোরি সমস্যা আছে, অনেক ভবনে বিমের চেয়ে কলাম দুর্বল করে নির্মিত, অনেক ভবনে বিম ব্যবহার না করে ফ্ল্যাট স্ল্যাব দিয়ে নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সফট স্টোরি সমস্যা নেই-এমন আবাসিক ভবন পাওয়া যাবে না। এ সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর। আবাসিক ভবনের নিচতলাটি ফাঁকা রেখে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। নিচতলাটিতে শুধু কলাম থাকে। কলামের সঙ্গে তাকে সাহায্যকারী কোনো ওয়াল বা দেয়াল থাকে না। ওপরের বসবাসের তলাগুলোয় পাঁচ ইঞ্চির পরিমাপের অনেক দেয়াল থাকে। এই দেয়ালগুলো থাকায় বসবাসের তলাগুলোর ভূমিকম্প প্রতিরোধের সক্ষমতা নিচের কার পার্কিংয়ের তলার চেয়ে বেশি। কার পার্কিংয়ের তলাটির সক্ষমতা ওপরের বসবাসযোগ্য তলার চেয়ে শতকরা ৩০ ভাগ কম হলে তখন কার পার্কিংয়ের তলাটি অতিশয় ঝুঁকিপূর্ণ, যেটাকে প্রকৌশলের ভাষায় সফট স্টোরি বলে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কার পার্কিংয়ের তলাটিতে কলামের সঙ্গে উইং ওয়াল, শেয়ার ওয়াল ও ব্রেসিং নির্মাণ করতে হয়। ঢাকার কোনো ভবনে এমন দেখা যায় না। অনেক ভবনে বিমের চেয়ে কলামকে দুর্বল করে নির্মাণ করা হয়। এর ফলে ভূমিকম্প হলে কলাম বিধ্বস্ত হয়ে ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। ফ্ল্যাট স্ল্যাব দিয়ে অনেক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেটা অতিশয় ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, সে ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট স্ল্যাবটি কলামের চেয়ে অতিশয় শক্তিশালী হওয়ায় কলামকে সহজেই বিধ্বস্ত করবে যদি ভূমিকম্প হয়। রাজউকের লোকবলের মধ্যে ভবনের কাঠামোগত ডিজাইন চেক করার জনবল অপ্রতুল। কিন্তু আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রাজউক সহজেই কাজটি করতে পারে। কয়েকটি শর্ত পূরণ করার বাধ্যবাধকতা রেখে এলাকাভিত্তিক এমন কয়েকটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাজউক নিয়োগ করতে পারে। একটি ভবনের প্ল্যান জমা দিলে এর সঙ্গে যে কাঠামোর ডিজাইন জমা দেওয়া হবে, তা ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দিয়ে চেক করাতে হবে। চেক করার ফি জমাদানকারীর কাছ থেকে জমা দেওয়ার সময় নিয়ে নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের দশতলা একটি ভবনের মোট ১৫ হাজার বর্গফুটের জন্য ওই ভবনের কাঠামোগত ডিজাইন চেক করার ফি ১০ টাকা হিসাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হতে পারে। এটা নিবন্ধকারের ব্যক্তিগত মতামত। এর কমবেশিও হতে পারে, যেটা রাজউক ঠিক করবে। ভবনের কাঠামোগত ডিজাইন চেক করার ব্যবস্থা যদি রাজউক না করে, তবে এখনকার মতো ত্রুটি নিয়ে ভবন নির্মাণ হতেই থাকবে। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ঘটেছিল যে ভূমিকম্প (দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক, মাত্রা ৮ দশমিক ১), তা যদি পুনরায় ঘটে, তবে ঢাকা তখনকার মতো কাঁপবে এবং বেশির ভাগ ভবনের দাঁড়িয়ে থাকার সক্ষমতা থাকবে না। একটি প্রলয় ঘটে যাবে। মানুষ বাস করে যে ভবনে, ভূমিকম্পে প্রাণহানি এড়াতে সেই ভবন ভূমিকম্প প্রতিরোধের ক্ষমতা নিয়ে নির্মাণ হওয়া জরুরি। ড. আলী আকবর মল্লিক কাঠামো প্রকৌশলী, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ। | 8 |
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংস হত্যায় মানুষের মানবিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে কষাঘাত করা হয়েছে। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি। জিএম কাদের বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে দেশের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে, সেই ছাত্ররা যখন তাদেরই কোনো সহপাঠীকে অমানুষিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে, সমাজে কতটা অবক্ষয় নেমে এসেছে। মানবিক মূল্যবোধের কতখানি পতন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, আমি এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা যাতে কোনোভাবে রক্ষা না পায় সেদিকে সব পক্ষের নজর রাখতে হবে।আশা করি, এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর মনোভাবের বাস্তবায়ন ঘটবে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্ররা যে দাবি পেশ করেছে তা বিবেচনার জন্য আমি বুয়েট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যা দেখে যেকোনো জিঘাংসার নেশা যেন চিরতরে নির্মূল হয়ে যায়। | 9 |
লেবাননজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার ১৩ দিন পর গত ২৯ অক্টোবর দেশটির প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি এটিকে দেশের জন্য খুব বেশি প্রয়োজনীয় 'ইতিবাচক ধাক্কা' বলে অভিহিত করেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সাদ হারিরি আউনের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং সরাসরি হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই গোষ্ঠী নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পক্ষে। এ ব্যাপারে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে, তা নিয়ে হারিরি তাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগের অর্থ এই নয় যে হারিরি পুরোপুরি শাসকগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বরং এতে তাঁর ফিউচার মুভমেন্ট, হিজবুল্লাহ ও ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্ট জোটের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত রাজনৈতিক চুক্তির পরিধিতে পরিবর্তন আনার অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয়েছে। ওই চুক্তিই মিশেল আউনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছিল। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হারিরি লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে হারিরির ওয়াশিংটন সফরকালে হিজবুল্লাহ ও ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্টের (এফপিএম) প্রতিনিধিত্বকারী মন্ত্রীরা পদত্যাগ করে তাঁর সরকারকে অচল করে দিয়েছিলেন এবং নাজিব মিকাতির নেতৃত্বে একটি নতুন সরকার গঠনের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিলেন। এবার অবশ্য চাপের উৎস ভিন্ন ছিল, যা হারিরিকে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অবসান ঘটানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, একটি নতুন সরকার গঠন করা হোক, সেটা চালাবে টেকনোক্র্যাটরা, যাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। কিছু রাজনৈতিক শক্তি বর্তমান পার্লামেন্টের মতো একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলছে, যা গত বছর নির্বাচিত হয়েছে। লেবাননের চলমান বিক্ষোভ ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত প্রেসিডেনশিয়াল চুক্তিতে চাপ সৃষ্টি করেছে, যা লেবাননের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করলেও একটি উপদলীয় ক্ষমতার ভাগাভাগির চুক্তির পথ প্রশস্ত করেছিল; সেটা দুর্নীতি এবং জবাবদিহিহীনতাকে উৎসাহিত করেছে। জনগণের এই চাপ শাসকগোষ্ঠীকে ওই চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা এবং নতুন করে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ করার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু পরিবর্তনের জন্য বিক্ষোভকারীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শাসন পরিচালনার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা না করে রাজনৈতিক শ্রেণিকে ক্ষমতায় থাকার জন্য রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে বেশ ব্যস্ত বলে মনে হচ্ছে। সাদ হারিরি প্রগ্রেসিভ সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান ওয়ালিদ জুম্বলাত এবং লেবানিজ বাহিনীর প্রধান সামির গিয়াগাকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজনৈতিক চুক্তির পরিধি নিয়ে আবার আলোচনা করতে চান। তিনি অবশ্য এই আলোচনায় প্রেসিডেন্ট আউনের জামাতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিবরান বাসিলকে রাখতে চান না। কারণ, বাসিল বিভাজনমূলক বক্তৃতা দিয়ে এবং সরকারি পর্যায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করার জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ এবং আউন এখনই তাঁকে সরকারে রাখার জন্য জোর দিচ্ছেন। তবে তাঁর নিজের পরিবারের মধ্যে অন্তর্বিরোধের কারণে প্রেসিডেন্টের অবস্থান অস্পষ্ট মনে হচ্ছে। আউনের তিন মেয়ের মধ্যে দুজন বিশ্বাস করেন যে বাসিল তাঁদের বাবার বিশ্বাসযোগ্যতাকে কলঙ্কিত করছেন এবং তাঁর চলে যাওয়া উচিত। এদিকে হিজবুল্লাহ আভাস দিয়েছে যে হারিরি যদি তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব বহাল রাখেন, তাহলে সরকার থেকে বাসিলকে অপসারণে তারা রাজি হবে না। হারিরি তাঁর পক্ষে লম্বা খেলা খেলবেন বলে মনে হচ্ছে, তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তাঁর ওপর জনগণের ক্ষোভকে প্রশমিত করবে এবং তাঁকে রাজনৈতিক অবস্থান ফিরে পেতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে হারিরির পদত্যাগের পর তিনটি ঘটনা ঘটতে পারে। প্রথমত, সংসদে হিজবুল্লাহ এবং তার সহযোগীরা হারিরিকে একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ম্যান্ডেট দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে মন্ত্রিপরিষদ একত্র করার চেষ্টা করবেন, যা হিজবুল্লাহ-এফপিএমকে খুশি রাখবে বা বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেবেন এবং সব মন্ত্রী পদের জন্য টেকনোক্র্যাটদের এগিয়ে রাখবেন। জনগণের চাপ এবং তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ওপর নির্ভর করে হিজবুল্লাহ এবং আউন প্রতিরোধ করতে পারেন বা জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে হিজবুল্লাহ এটা বুঝতে পেরেছে যে টেকনোক্র্যাটদের দ্বারা পরিচালিত সরকারকে স্বীকার করার অর্থ আগাম সংসদ নির্বাচন এবং একটি নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যা তার ক্ষমতাকে হ্রাস করবে। হারিরি যদি টেকনোক্র্যাটদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে দেন, তাহলে হিজবুল্লাহ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে। বিকল্পভাবে আউন, হারিরি এবং হিজবুল্লাহ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন, যা বাসিলের মতো বিতর্কিত মন্ত্রীদের অপসারণ করে কিছু টেকনোক্র্যাটকে মন্ত্রীর পদে রাখবে এবং একটি সংস্কার পরিকল্পনার প্রস্তাব দেবে। তবে সদ্য পদত্যাগ করা মন্ত্রিসভার সংশোধিত সংস্করণ সম্ভবত আবারও জনগণের ক্ষোভকে উসকে দেবে। দ্বিতীয়ত, হিজবুল্লাহ এবং তার সহযোগীরাও নতুন মন্ত্রিসভায় পার্লামেন্টের ভোটে নেতৃত্ব নিতে পারে এবং হারিরির জায়গায় কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রধানমন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করতে পারে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিজবুল্লাহ এবং হারিরির সম্মতিতে একটি টেকনোক্রেটিক মন্ত্রিসভা গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, যা প্রতিবাদকারীদের সন্তুষ্ট করবে, তবে উভয় পক্ষই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এমন মন্ত্রীদের কাছে নীতিনির্ধারণের ক্ষমতা সমর্পণ করবে তা কল্পনা করা শক্ত। বিকল্পভাবে আউন এবং হিজবুল্লাহ হারিরিকে কোণঠাসা করার জন্য তাদের সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ব্যবহার করতে পারে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রীকে টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিতে পারে। এটি হারিরিকে বিরোধী দলের দিকে ঠেলে দেবে। লেবাননে এ ধরনের সরকার হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত বলে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারে, যারা হিজবুল্লাহকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্য হচ্ছে বর্তমান মন্ত্রিসভা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে রয়ে গেছে এবং রাজনৈতিক অভিজাতরা পরবর্তী খেলার জন্য অপেক্ষা করছেন। এটি প্রতিবাদকারীদের হাল ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে এবং দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। সুতরাং, হারিরির পদত্যাগ সংকটের সমাধানের চেয়ে দেশকে আরও রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দেবে বলেই মনে হচ্ছে। আল-জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত জো ম্যাকারন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ে বিশেষজ্ঞ | 8 |
ঢাকার সাভারের তুরাগ নদে মাছ ধরতে গিয়ে তিন মণ ওজনের একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করেছেন জেলেরা। মাছ ধরার সময় নদে ডলফিনটি ভাসতে দেখে তীরে আনেন তাঁরা। গত রোববার সন্ধ্যায় তাঁরা ডলফিনটি উদ্ধার করেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে আশুলিয়া বাজার সংলগ্ন নদীর ঘাটে মাছ ধরতে যান কয়েকজন জেলে। এ সময় ওই ডলফিনটি তাঁদের চোখে পড়ে। এরপর তাঁরা ডলফিনটি তীরে আনার চেষ্টা করেন। অবশেষে সন্ধ্যায় ডলফিনটিকে তাঁরা তীরে আনতে সক্ষম হন।ডলফিন উদ্ধার করা জেলেদের অন্যতম শ্রী পরিতোষ চন্দ্র বলেন, 'আমরা বিকেলে তুরাগ নদে মাছ ধরতে যাই। প্রতিদিনের মতো আমরা মাছ ধরছিলাম। সামনে বড় একটি কালো বস্তু ভেসে থাকতে দেখি। পরে কাছাকাছি গিয়ে দেখি একটি ডলফিন মরে ভেসে উঠেছে। সন্ধ্যায় জাল দিয়ে ডলফিনটি আমরা তীরে তুলে আনি। এ সময় উৎসুক জনতা ভিড় করেন।'সাভার উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সরকার বলেন, যে ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়েছে সেটি গ্যাংগিজ জাতীয় ডলফিন। একে গাঙ্গেয় শুশুকও বলা হয়। গত এক যুগে এদের দেখা মেলেনি।কামরুল ইসলাম সরকার বলেন, ডলফিনটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ ফুট। এটি উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে মরে ভেসে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ এখনো সুস্পষ্ট নয়। তবে এর কারণ উদ্ঘাটনের জন্য প্রাণী গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাঁরা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.