text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
চোখের সৌন্দর্য ও মায়া বাড়িয়ে তোলে কাজল। তবে বাজারের সব কোম্পানির কাজলই যে ভালো, সেটা বলা যাবে না। কাজলে কাজলে রয়েছে বিস্তর ফারাক।লরিয়াল প্যারিস কাজল ম্যাজিককালো কাজলে যদি চোখ রাঙাতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন 'লরিয়াল প্যারিস কাজল ম্যাজিক'। এটি ফ্রান্সের লরিয়াল ব্র্যান্ডের। এই কাজল তৈরিতে ব্যবহার করা হয় কোকোয়া বাটার, এস্টারস, অলিভ অয়েল ও ভিটামিন ডি। এই কাজল মাখনের মতো মসৃণ। এক টানেই চোখে দারুণভাবে বসে যায়। যাঁরা সারা দিন বাইরে থাকেন, দীর্ঘ সময় কাজল ঠিক রাখতে চান, তাঁরা লরিয়ালের এই কাজলটি কিনতে পারেন। কারণ, এটি দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চোখে থাকে। লেপ্টে যাওয়ার ভয় থাকে না।ল্যাকমি আইকনিক কাজলস্টাইলিশ ও সুন্দর লুক পাওয়ার জন্য বেছে নিতে পারেন ল্যাকমি আইকনিক কাজল। এটি খুব নিখুঁতভাবে চোখে লেগে থাকবে। আপনার চোখের মায়া বাড়িয়ে সাহসী লুক দেবে এই কাজল। কাজলটি ম্যাট ফিনিশিং দেবে। ১০ ঘণ্টার মতো আপনাকে রাখবে সুরক্ষিত।লোটাস হারবাল ইকোস্টে ক্রিমি কোল ইনটেন্স কাজলযে কাজলগুলো অধিক সময় চোখ সুরক্ষা দেয়, সেগুলোর মধ্যে লোটাস হারবাল ইকোস্টে ক্রিমি কোল ইনটেন্স কাজল অন্যতম। কাজলটি দ্রুতই ক্রিমি ভাব এনে দেয়। তবে চোখের চারপাশে ছড়ায় না। ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চোখের সৌন্দর্য ধরে রাখে। কাজলটি আপনার চোখে রহস্যময় ভাব ফুটিয়ে তুলবে। লোটাস হারবাল ইকোস্টে ক্রিমি কোল ইনটেন্স কাজলের মূল্য ৩৪৫ রুপি।ম্যাক মডার্ন টুইস্ট কাজল লাইনার'ম্যাক মডার্ন টুইস্ট কাজল লাইনার'টি ব্যবহার করা খুব সহজ। এটি সহজেই যেকোনো ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। কাজলটি খুব মসৃণ। কাজল দিয়ে যাঁরা লাইনারের কাজও করতে চান, তাঁরা ম্যাকের এই কাজলটি কিনতে পারেন। পানি প্রতিরোধী এ কাজলটি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চোখকে সুরক্ষা দেবে। কাজলটি অমসৃণ নয়। ভারতীয় মুদ্রায় এই কাজলটি কিনতে গুনতে হবে ৯৯০ রুপি।ফেসেস আল্টিমেট প্রো ইনটেন্স জেল কাজলচোখে কাজলের সুবর্ণরেখা টানতে যাঁরা ভালো একটি কাজল খুঁজছেন, তাঁরা বেছে নিতে পারেন 'ফেসেস আল্টিমেট প্রো ইনটেন্স জেল কাজল'। কাজলটির টেক্সচার খুব ক্রিমি। এ কাজলটি আপনাকে স্মোকি লুক আনতে সহায়তা করবে। যাঁদের ত্বক খুব সেনসিটিভ, তাঁরা এই কাজল ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো প্রকার বিরক্তির কারণ হবে না। তবে কাজলটি আপনাকে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে না। ৬-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত অনায়াসে থাকবে।সূত্র: স্কুপহুপ | 4 |
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় 'জয় বাংলা ভিলেজে' বসবাসরত অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ২ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি ও ১ কেজি লবণ প্রদান করা হয়। ঈদের আগের দিন রাত ১১টায় কাহারোল উপজেলার ভাবরদিঘী ও খোশালপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পেগিয়ে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মধ্যকার বাতিল হয়ে যাওয়া ম্যাচটি খেলার নির্দেশ দিয়েছে ফিফা। সোমবার (৯ মে) ফিফার আপিল কমিটি ম্যাচটি নিয়ে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার আপিলগুলো পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাও পাওলোতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাঠ হানা দেয় ব্রাজিলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর্জেন্টিনার চারজন খেলোয়াড় দেশটির করোনাভাইরাস সম্পর্কিত বিধি লঙ্ঘন করেছে এই অভিযোগে তখন তাদের আটক করতে উদ্যত হয় ব্রাজিলের আইন প্রয়োগকারীরা। অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার পর ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর, গত মাসে ফিফা যখন প্রথমবার এই ম্যাচটি পুনরায় খেলার নির্দেশ দেয় দুই দলকে। ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা দুই দলই ইতোমধ্যে কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাই দুই দলের কেউই এখন আর এই ম্যাচটি খেলতে সম্মত হচ্ছিল না। তখন আর্জেন্টিনা ফিফার নির্দেশের বিরুদ্ধে ক্রীড়া আদালতে নালিশ জানানোর কথাও বলেছিল। এবার ফিফা দুই দলের সেই ম্যাচকে ঘিরে করা আপিলগুলো পর্যালোচনা করে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের নির্দেশ বহাল রেখেছে। এছাড়া সেই ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুই দলকে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ফিফা। | 12 |
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা (কবিতা) কে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি নুরজাহান বেগম মুক্তা। তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, 'তার ছবি এরশাদ সাহেবের সাথে দেখলাম, খালেদা জিয়ার সাথেও দেখলাম, এমনকি আমাদের নেত্রীর পেছনেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। এই নারী তো সুবিধাবাদী, এরা খুবই বিপজ্জনক। এরা আমাদের নেত্রী পর্যন্ত আসে কাদের হাত ধরে??? আসুন এদেরকে চিহ্নিত করি। গত শনিবার (১৪ নভেম্বর) যুবলীগের কমিটি ঘোষণার পর পদ পাওয়া কবিতার দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবি দুটির প্রেক্ষিতেই সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি নুরজাহান বেগম মুক্তা তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ার পরই তার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে অনেকেই নানা মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, 'কবিতা চৌধুরী মৌসুমী তুমি কার?' ফেসবুকে যে ছবিগুলো শেয়ার করা হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে সোফায় বসেন তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন মৌসুমী। আরেকটি ছবি আছে সেখানে দু'জনেই বসা। ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেসমিন শামীমা নিঝুম লিখেছেন, 'পাকিস্তানি প্রেতাত্মা জামায়াত-শিবির বিএনপির শিকড় বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী রাজনীতির কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে তার প্রমাণ এটা। এতো যাচাই বাছাইয়ের পরেও এরা আওয়ামী লীগে প্রবেশ করছে। আমার মনে হয় হাইকমান্ড এ ব্যাপারে অবগত নয়। আশা করি ঘটনা সত্য হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। যতটুকু জেনেছি, মৌসুমী ফাতেমার বড় ভাই রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা যুবদলের সেক্রেটারী। ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা (নির্বাহী সদস্য)।' এমবি কানিজ নামের একজন খালেদা জিয়ার সঙ্গে মৌসুমীর তিনটি ছবি দিয়ে লিখেছেন, 'এই নেন দুই কেন্দ্রীয় যুবলীগের ত্যাগী ট্যাগী সদস্য! কেন রে ভাই দলে ত্যাগী নেতা নেত্রীর অভাব! কতজন গতকাল প্রকাশিত কমিটিতে একটা সদস্যপদ পায়নি বলে বুকের তীব্র ব্যাথা রক্তক্ষরণে ঘুমাতে পারেনি! তাদের পরিবারসহ এই তীব্র দহন হজম করে নেত্রীর পানে চেয়ে সকল ব্যথা লাঘব করে। আর তোমরা এসব কাউয়া পক্ষী রূপ বদলানো, দল বদলানো চরিত্রের লোকদের এতো বড় ঐতিহ্যবাহী সংগঠনে ঢুকিয়ে নিলা নিজের ঘাম জড়ানো রক্ত জড়ানো নেতাকর্মীকে বাঁশ দেয়ার জন্য??? বুঝবা তোমরাও ' | 6 |
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার ১১ বছর পর এই প্রথমবার আরব কোনো দেশে সফরে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদ। শুক্রবার আরব আমিরাতে পৌঁছান আসাদ। সফরে আসাদ অনেক 'বিতর্কিত' এবং প্রভাবশালী শাসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যারা সিরিয়ার সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার এই খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন। এই সফরে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক সম্ভাব্য উষ্ণতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগে যারা আসাদকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এই সফরের সমলোচনা করেছে। দেশটি এই সফরকে 'গভীর হতাশাজনক' বলে মন্তব্য করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাদের সঙ্গে আসাদ দেখা করেছেন তার মধ্যে দুবাইর ধনকুবের শাসক শেখ মোহাম্মদ আল মাকতুমও রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বেশ কয়েকটি বিতর্কে জড়িয়েছেন। এ ছাড়া আসাদ যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে দেখা করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিও যান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সাক্ষাতের সময় যুবরাজ সিরিয়া আরবের নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ বলে জোর দেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটির সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বলে জানান। সাক্ষাতে দুই নেতা সিরিয়ায় রাজনৈতিক এবং মানবিক সাহায্য কিভাবে পাঠানো যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুই দেশের বাণিজ্য কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় তাও আলোচনা করেছেন তারা। এ ছাড়া আসাদ ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের মালিক শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও দেখা করেছেন। | 3 |
কোটি টাকা ব্যয়ে জিমনেশিয়াম করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। মার্চ-এপ্রিলে বাফুফে ভবনেই হবে আধুনিক ফুটবল জিমনেশিয়াম। এরই মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আইসান গ্রুপের সাথে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফিফা ও এএফসির কাছে বড় অনুদান পেতে কাজ করছেন কর্তারা। ম্যাচপ্রতি একজন পেশাদার ফুটবলার ৯০ মিনিটে গড়ে দৌড়ান ১০ কিলোমিটার । দ্য বিউটিফুল গেমে স্কিলের সঙ্গে ফিটনেস-সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফিটনেস উন্নতির সঙ্গে গতি, শক্তি ও স্ট্যামিনা বাড়াতে দিনের লম্বা সময় জিমে কাটানো জরুরি। বিশ্ব ফুটবলের প্রায় প্রতিটি ক্লাব ও ফেডারেশনে রয়েছে অত্যাধুনিক জিমনেশিয়াম। স্বাধীনতার পরপরই গঠন করা হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সময়ের সাথে অবকাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু এখনো একটা জিমনেশিয়াম বানাতে পারেনি বাফুফে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেই সুইমিং সুবিধাও। ফলাফলফিটনেস পরীক্ষায় ঢের পিছিয়ে লাল-সবুজ। গত বছর একটি আধুনিক জিমনেশিয়ামের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বাফুফে। দেরিতে হলেও এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে। জানুয়ারিতে কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হচ্ছে বাফুফের প্রথম জিমনেশিয়ামের কাজ। নিজস্ব জিম না থাকায় প্রতি বছর বড় অংকের টাকা খরচ করে হোটেলের সুইমিংপুল বা জিমনেশিয়াম ব্যবহার করছে বাফুফে। নিজেদের জিম থাকলে উপকার দুইপক্ষেরই। ফিটনেসের উন্নতিতে ফুটবলারদের মনোযোগ বাড়বে, অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে না ফেডারেশনকেও। সামনে জাতীয় ও বয়সভিতিক দলগুলোর ব্যস্ত সূচি। ঘরোয়া ফুটবলের সঙ্গে আছে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শুধু জাতীয় দল নয়, প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুটবলারাও জিম সুবিধা পাবেন। | 12 |
নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াছিন আরাফাত শাকিল (২২) নামের এক কিশোর গ্যাং লিডারকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার গভীররাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ঘাটলা গ্রামের লন্ডনি মার্কেটসংলগ্ন ব্রিজের উপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঘাটলা গ্রামের বনগাজী বাড়ির সামছুলের ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাদিরপুরের কিশোর গ্যাং লিডার শাকিল দীর্ঘদিন থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিভিন্ন মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনৈতিক কাজ করত এবং ওই সকল কাজের স্থির চিত্র কৌশলে ধারণ করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বুধবার দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ডিবি কার্যালয়ে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ডিবি কার্যালয়ের পরিদর্শক কবির হোসেন বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি আইনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার কিশোর গ্যাং লিডারের প্রধান কাজ হচ্ছে উঠতি বয়সের মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপকর্ম করা । তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জেলায় কিশোর গ্যাং বলে কোনো বাহিনীর অস্তিত্ব থাকবে না। জেলাকে অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জঙ্গিবাদ ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে জেলা পুলিশ কাজ করছে। পুলিশ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে যা কিছু প্রয়োজন সব করবে। এ জেলার মানুষ যাতে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে পুলিশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। | 6 |
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদ হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি রওশন ওরফে আলী ওরফে উদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। উদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে আরও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান আজ বৃহস্পতিবার সকালে তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।ছাত্রলীগের সমন্বয়ক ও বিএলএফ-এর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কাজী আরেফ স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে গঠিত জাসদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা।১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি জনসভায় গুলিতে জাসদের পাঁচ নেতা নিহত হন। কাজী আরেফ আহমেদ ছাড়াও সেদিন নিহত হয়েছিলেন তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরায়েল হোসেন ও শমসের মণ্ডল। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট ১০ জনের ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন জেলা জজ। রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিলে ২০০৮ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট নয়জনের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে। একজনকে খালাস ও ১২ জনের সাজা মওকুফ করেন আদালত। এরপর ২০১৬ সালে ৮ জানুয়ারি তিন খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়। বাকি পলাতক খুনিদের মধ্যে উদয় মধ্যে উদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করলো র্যাব। | 6 |
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে যে অযাচিত মন্তব্য করেছেন তাকে স্বাস্থ্য খাতে নিজের ব্যর্থতা ধামাচাপা দেয়ার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। পম্পেও সম্প্রতি দাবি করেন, ইরান নিজের স্বাস্থ্যসেবা খাতে পুঁজি বিনিয়োগ না করে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেয়ার কাজে অর্থ ব্যয় করছে। জাহানপুর বলেন, গত চার দশকে ইরান নিজের স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ ওষুধ ইরানে তৈরি হচ্ছে এবং জটিল রোগের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। দেশের জনগণের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবীমা দেয়ার যে পরিকল্পনার কথা এখনো আমেরিকার কাছে দিবাস্বপ্ন মনে হয় তা এরইমধ্যে ইরান বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। ইরানের বেশিরভাগ মানুষকে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের অনেকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে এই সেবা পাচ্ছেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে ইস্যু বানিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করাই বিএনপির উদ্দেশ্য। শুক্রবার সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে একথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, সন্তানের মৃত্যুর পর বেগম জিয়াকে সান্ত্বনা দিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন গিয়েছিলেন, তখন তারা দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই অমানবিক ও অসভ্য আচরণ কোন সভ্য দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান করতে পারেন? এর জবাব কি দিবেন বিএনপি মহাসচিব? তিনি বলেন, গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণের বিপরীতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ কোন সভ্য দেশের একজন দলপ্রধান করতে পারেন? তার জবাবও কি বিএনপি মহাসচিব দিবেন? ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবকে অনুরোধ করে বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের ভোটের সাথে প্রতারণা করে যিনি সংসদে যান না, অথচ তার দল সংসদে-এমন দ্বিচারিতার রাজনীতি কে করেছে? কোন সভ্য দেশের রাজনৈতিক দল করতে পারে? তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার শাসনামলে কোনো দণ্ডিত, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এ ধরনের কোনো সুযোগ পেয়েছেন কি? অথবা তাদের শাসনামলে বিরোধী দলের কেউ এমন সুযোগ পেয়েছেন, এ ধরনের কোনো নজির তারা দেখাতে পারবেন কি? বিএনপি নেতারা এখন বেগম জিয়ার জন্য মায়া কান্না করছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অথচ তার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য চোখে পড়ার মতো একটি মিছিলও তারা করতে পারেনি। সূত্র: বাসস। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 9 |
দু'দিন আগেই ইপিএলে নরউইচ সিটির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে সমালোচকদের জবাব দিয়েছিলেন তিনি। আর সোমবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারিবারিক জীবনে বিষাদের ছায়া নেমে এলো। নেটমাধ্যমে রোনালদো জানিয়ে দিলেন, তার যমজ সন্তানের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই খবর পাওয়ামাত্রই গোটা বিশ্বে তার সমর্থকরাও ব্যথিত। সোমবার রোনালদো নেটমাধ্যমে লেখেন, 'অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের ছেলে মারা গেছে যেকোনো মা-বাবার কাছেই এটা সবচেয়ে বড় দুঃখ। এক মাত্র মেয়ে সন্তানের বেঁচে যাওয়াই এই কঠিন সময়ে আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে। কিছুটা আশা এবং খুশি নিয়ে অন্তত বাঁচতে পারছি।' রোনালদো আরো বলেন, 'সব সময় আমাদের খেয়াল রাখার জন্য সমস্ত ডাক্তার এবং নার্সদের ধন্যবাদ। আমরা এই মুহূর্তে বিধ্বস্ত। এই কঠিন সময়ে গোপনীয়তা আশা করি সবার থেকে।' গত অক্টোবরেই রোনালদো এবং তার বান্ধবী জিওর্জিনা রদ্রিগেস ঘোষণা করেছিলেন, তাদের যমজ সন্তান হতে চলেছে। এমনকি তার ডাক্তারি রিপোর্টের ছবিও প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ফুটবলারকে। সেই যমজ সন্তানেরই এক জন মারা গিয়েছে এ দিন। ২০১০ সালে প্রথম বার সন্তানের বাবা হন রোনালদো। ছেলের নাম দেন ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র। ঘটনাচক্রে সেই ছেলেও এখন ফুটবলে বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করার পথে। তবে কোনো দিনই তার মাতৃপরিচয় সামনে আনেননি রোনালদো। ২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে দুই সন্তানে এভা এবং মাতেয়োর বাবা হন রোনালদো। সেই বছরই নভেম্বরে জিওর্জিনা এবং তার প্রথম সন্তান আলানার জন্ম হয়। এর পর এই বছর যমজ সন্তান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার একজনকে আগেই হারালেন রোনালদো।সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা | 12 |
ঝিনাইদহ পৌর এলাকার লক্ষিকোল গ্রামে নির্যাতনে বাক প্রতিবন্ধী রাব্বুল হোসেন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকালে তার পিতা ট্রাক ড্রাইভার শরিফুল ইসলাম ও সৎ বোন পারুলকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এখনও কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারী বাঁশ বাগানের ভেতর সন্তান প্রসব করেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বথুয়াবাড়ি গ্রামের একটি বাঁশ বাগানের ভেতর তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মা ও তাঁর নবজাতক সন্তানকে উদ্ধার করেছে থানা-পুলিশ।থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে পরিচয় বলতে না পারা ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী উপজেলার বথুয়াবাড়ি এলাকায় আসেন। সে নিজের নাম বলেছেন মর্জিনা। এর বেশি কিছু সে বলতে পারে না।বথুয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুর রসিদ নামে এক কৃষকরে বাড়ির পাশে বাঁশ বাগানের ভেতর গত চার দিন ধরে আশ্রয় নেন তিনি। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বাঁশ বাগানের পাশের বাসিন্দারা তাঁকে তিন বেলা খাবার দিত। এ অবস্থায় শনিবার সকালের দিকে বাঁশ বাগান থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। তাঁরা গিয়ে দেখেন মর্জিনা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে তাঁকে নিয়ে বসে আছে। স্থানীয় লোকজন ওই নবজাতককে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ করেন। কিন্তু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মর্জিনা তাঁর সন্তানকে দিতে রাজি হয়নি। সংবাদ পেয়ে মা ও তাঁর সন্তানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে পুলিশ।ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসানুল হাছিব বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে মা ও তাঁর সন্তানকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাঁরা উভয়ই সুস্থ রয়েছে।ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
আগামী ১৪ থেকে ১৮ জুলাই জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মুশফিকুর রহমান জানান, বিগত বছরগুলোতে তিনদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা হচ্ছে পাঁচদিন ব্যাপী। গত বছর ২৪ থেকে ২৬ জুলাই ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জেলা প্রশাসক সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব, সচিবরা বিভিন্ন অধিবেশনে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মূল্যবান উপদেশ ও দিক-নির্দেশনা দেন। উদ্বোধনের পর মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে শুনবেন ও নির্দেশনা দেবেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিক-নির্দেশনা গ্রহণ করবেন জেলা প্রশাসকরা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন কার্য অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেবেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। | 6 |
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক গৃহবধূকে নিজ বাড়িতে অটক রেখে ধর্ষণের অভিযোগে মিন্টু প্রামাণিক (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ বাগাতিপাড়া উপজেলার মিশ্রিপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মিন্টুর বাড়ি থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। শনিবার বিকেলে ওই নারী বাদি হয়ে বাগাতিপাড়ায় দুই জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। মিন্টু বাগাতিপাড়া উপজেলার মিশ্রিপাড়া গ্রামের হানিফ প্রামাণিকের ছেলে। মামলার অপর আসামি বড়াইগ্রাম উপজেলার মাধাইমুরি গ্রামের আফছার মেম্বারের ছেলে মো. শরিফ। তিনি সম্পর্কে গৃহবধূর ধর্মভাই। থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গুরুদাসপুরের প্রফেসর পাড়ার ওই গৃহবধূ গত ১২ মে তার ধর্মভাই শরিফের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে এক রাত থাকার পর তিনি ও শরিফ শুক্রবার বাগাতিপাড়ার দয়ারামপুরে বেড়াতে যায়। সেখানে ঘোরাঘুরি করে দুপুরের পর স্থানীয় মায়ের দোয়া নামে একটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া করে। খাওয়া শেষে শরিফ গৃহবধূকে হোটেলে বসিয়ে রেখে বাহিরে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তিনি হোটেলে ফিরে আসেননি। এরই মধ্যে রাত হয়ে যায়। এক সময় মিন্টু গৃহবধূর কাছে এসে গল্প করতে থাকে এবং শরিফের নম্বরে কল দেয়। কিন্তু শরিফ ফোন রিসিভ করেননি। এ সময় মিন্টু গৃহবধূকে বলে আপনি এই রাতে বাড়ি যেতে পারবেন না, আমার বাড়িতে চলেন। সেখানে রাতটুকু কাটিয়ে সকালে চলে যাবেন। ওই কথায় বিশ্বাস করে তিনি মিন্টুর বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর মিন্টু তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। গৃহবধূ কোনো উপায়ান্তর না দেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। ফোন পেয়ে রাতেই বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ মিশ্রিপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। কিন্তু ততক্ষণে মিন্টু পালিয়ে যায়। পরে মিন্টুর বাড়ির কাছের একটি রাস্তা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। গৃহবধূ জানান, তিনি সন্দেহ করছেন তার ধর্মভাই শরিফ মোটা টাকার বিনিময়ে তাকে মিন্টুর কাছে বিক্রি করে দিয়ে পালিয়ে যায়। বাগাতিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একজন মহিলা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানায় তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। ওই ফোন পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে আসামির বাড়ি থেকে গৃহবধূরকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মিশ্রিপাড়া গ্রামের একটি রাস্তা থেকে মিন্টুকে আটক করা হয়। শনিবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। | 6 |
বগুড়ার ধুনটে মাস্ক না পরায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দুই দিনে ২০ ব্যক্তিকে ৭ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করেছে। বুধবার বিকেলে ও বৃহস্পতিবার দুপুরে ধুনট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ্ আল রনির নেতৃত্বে ধুনট পৌর এলাকায় এঅভিযান পরিচালনা করা হয়। একারণে ধুনট পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বুধবার ১৫ জনকে ৫ হাজার ৮০০ টাকা এবং বৃহস্পতিবার ৫ জনকে ১ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসেরসংক্রমণ রোধে সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
'কথার কথা?' অবাক হয়ে গেলাম বন্ধুটির মন্তব্যে। প্রগতিশীল বলে তাঁর নামডাক আছে, পড়াশোনার ব্যাপ্তিও তাঁর কম নয়, সাহিত্য-সমাজ নিয়েও তিনি চিন্তাভাবনা করেন। এহেন ব্যক্তিটি যে এমন একটা উৎকট মন্তব্য করবেন, ভাবতেই পারিনি। দুদিন ধরে যে বিষয়টি আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল, সে বিষয়টি নিয়েই বন্ধুটিকে দু-এক কথা বলছিলাম। কিন্তু তা নিয়ে যথাযথ চিন্তাভাবনা না করেই হালকাভাবেই তিনি বলে বসলেন, 'ও তো একটা কথার কথা।'বিষয়টির সূত্রপাত এভাবেই। দপ্তরে বসে কাজ করছিলাম। সাড়া দিয়ে প্রবেশ করলেন তরুণী সহকর্মীটি, যিনি আগামীকাল থেকেই মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন। বিদায়ী সাক্ষাৎকারের জন্য এসেছেন তিনি। এ কথা-সে কথা বললাম, আশ্বস্ত করতে চেষ্টা করলাম তাঁকে আগামী দিনগুলোর জন্য, হাসি-ঠাট্টার কথাও হলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। তাঁর স্বামী ববের কথাও উঠল, ওই ঠাট্টার বুনটেই। পরিচিত সে-ও আমার। ওই সব কথার রেশ ধরে একসময়ে তিনি মন্তব্য করলেন, ' ' .' একটা গর্বের আভা ছড়িয়ে পড়ল তাঁর সারা মুখে। কিন্তু কেন জানি, খট করে কথাটা লাগল আমার কানে।সারা দিন ধরে ওই একটি বাক্যই জলের মতো আমার মনের অলি-গলিতে ঘুরতে লাগল। বাড়ি ফিরে রাতের খাবারের পর যে বইটি পড়ছিলাম, সেটা নিয়েই বসা গেল-রমানাথ রায়ের ছোটগল্প। পড়তে পড়তে একটি গল্পের মাঝামাঝি গল্পের নায়িকা মালতীর মন্তব্য পড়ে আবারও চমকালাম। সন্তানসম্ভবা মালতী দৃঢ়স্বরে বলছে, 'না, ও আমি করতে পারব না। অনিমেষের সন্তান আমার গর্ভে।'আমি ধীরে ধীরে বইটি মুড়ে রাখলাম। তিনটি জিনিস আমাকে অবাক করল। এক. একটি কথা বাস্তব জীবনে শুনেছি, আর অন্য কথাটি গল্পে পড়েছি। দুই. কথাটি একজন বিদেশিনী বলেছেন, আবার কথাটি এক বাংলা গল্পের নায়িকাও বলেছেন। তিন. কথাটি এক জায়গায় উচ্চারিত হয়েছে বাংলায়, অন্য জায়গায় ইংরেজিতে। কিন্তু এত সব ভিন্নতা সত্ত্বেও ইংরেজি ও বাংলা দুটো বাক্য একই কথা বলেছে এবং সেখানেই আমার যত অস্বস্তি, যত আপত্তি।দুটো কথনেরই প্রতিপাদ্য তিনটি-দুটো প্রত্যক্ষ আর একটি পরোক্ষ। প্রত্যক্ষ ব্যাপার দুটো হচ্ছে, এক. সন্তানটি পুরুষের-এক ক্ষেত্রে ববের, অন্য ক্ষেত্রে অনিমেষের। দুই. উভয় ক্ষেত্রেই নারী হচ্ছেন শুধু একটি আধার, যা শিশুটিকে ধারণ করছেন মাত্র। পরোক্ষভাবে এটাই বেরিয়ে আসছে যে নারী মানেই পুরুষের সম্পত্তি।ভেবে পাই না, এটা কেমন করে হয়? একটি মানবসন্তান মা-বাবা দুজনেরই অবদানের ফল-দুজনেরই সৃষ্টি। সেখানে কেমন করে ভাবা হয় যে সন্তানটি পুরুষেরই? এমন একটি ব্যাপারকে কেমন করে 'কথার কথা' বলা যায়? কথা শুধু তো কথা নয়। কী বলছি, কেন বলছি, কেমন করে বলছি, তা তো শুধু শব্দের সমষ্টি নয়, সে তো ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, মানসিকতা ও সমাজ-বাস্তবতার প্রতিফলনও।অতএব, যে বাক্যদ্বয় পূর্বোল্লিখিত হয়েছে, তা মানব-জন্মের বিবর্তনে সর্বজনীনভাবে নারীর ভূমিকাকে নিতান্ত খাটো করেই দেখা হয়নি, সেখানে একটি অসম্মানজনক অবস্থানে তাঁকে রাখা হয়েছে। নারী প্রজননের যন্ত্রমাত্র, আর কিছু নয়। অন্যদিকে মানব-জন্ম বিবর্তনে নির্দেশিত ভূমিকায় পুরুষের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য যেন জ্বলজ্বল করে। বলা বাহুল্য, অন্যায় ও অসত্যের ধ্বজা উড়িয়ে। সেখানে নারীর ভূমিকাকে অবদমিত করা হয়েছে। সমস্বীকৃতি তো দূরের কথা।এর হাত ধরেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের উদ্ভব এবং সদম্ভ বিরাজ। জানি, পুরুষশাসিত সমাজের বিবর্তনের অন্য বহুবিধ ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ আছে। কিন্তু মানব বিবর্তনের ধারায় প্রজনন প্রক্রিয়ায় পুরুষের নিরঙ্কুশ মালিকানা দেওয়ার মাধ্যমে পুরুষের সর্বময় প্রভুত্ব ও আধিপত্যকে স্থায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এ কারণে বংশপরম্পরায় পিতার নামেই পুত্র বা কন্যার নামকরণ করা হয়, সে নামেই তাদের পরিচিতি ও চিহ্নিতকরণ। মাতার নাম সেখানে অপাঙ্ক্তেয়। অনেক উদার পিতা সেখানে সন্তানের মাতার নামটিকে কখনোসখনো জায়গা দেন বটে, তবে সেটা ব্যতিক্রম, সচরাচর তা ঘটে না। আদিবাসী মাতৃতান্ত্রিক সমাজে অবশ্য মায়ের নামে সন্তানের নামকরণ করা হয় বৈকি, কিন্তু সেটা তো মূলধারায় ঘটে না।এর হাত ধরে আসে সম্পদের অধিকার। পুরুষতান্ত্রিক বংশপরম্পরায় যেহেতু নারীরা অন্তর্ভুক্ত নয়, সুতরাং সম্পদের অধিকার থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা হয়। ভাবা যায়, যদিও পৃথিবীর জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, কিন্তু বিশ্বের চাষযোগ্য জমির মাত্র ১০ শতাংশের মালিকানা নারীদের। হ্যাঁ, সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে ধর্মের রীতি-নীতির দোহাই দেওয়া হয় বটে, কিন্তু মূলত সেখানে কাজ করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষ কর্তৃক সম্পদ দখল করার অপপ্রয়াস। সেই অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে আরও সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য নারীকে ব্যবহার করা হয় নানান বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে।এই চালচিত্রের বদলের জন্য বহু কিছু করতে হবে। এক দিনে তা হবে না এবং একটি প্রয়াসের মাধ্যমে তা হবে না। তবে তার শুরুটা হোক না মানবশিশুর পৃথিবীতে আগমন ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে, সচরাচর যা বলা হয় এবং যেমন করে বলা হয়, তার আশু পরিবর্তনের নামে। সে বক্তব্যে নারী-পুরুষের যৌথ ভূমিকার সমস্বীকৃতি তো থাকতেই হবে, কিন্তু সেই সঙ্গে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে নারীর ভূমিকার প্রতি। কারণ, সত্যিকার অর্থে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মানবশিশুর জন্ম ঘটনায় মায়ের অবদান বেশি। তিনি সন্তানকে ধারণ করে থাকেন নিজ দেহে দীর্ঘদিন। মায়ের দেহ থেকে পুষ্টি নিয়েই ভ্রূণের বর্ধন। অতঃপর অতীব তীব্র প্রসববেদনার মধ্য দিয়ে মা একটি শিশুর জন্ম দেন।সন্তানের নামের ক্ষেত্রেও মায়ের নামটিকে বাবার নামের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া যায় না। জানি, অনেকেই বলবেন, এগুলো সব প্রতীকী প্রয়াস, কিন্তু প্রতীকের গুরুত্বকে খাটো করে দেখা ঠিক নয়। বহু প্রতীকী প্রয়াসের মাধ্যমে পৃথিবীর বহু পরিবর্তন হয়েছে।খুব নমিত হয়ে বলি, বহু বছর আগে আমার জন্মের পরে আমার তরুণ পিতা আমার মাতার নামে আমার নামকরণ করেছিলেন। আমার মায়ের নাম ছিল 'জাহানারা'। সেখান থেকে আমার পারিবারিক নাম দেওয়া হয় 'জাহান' এবং আমার পুরো নাম হয় 'সেলিম জাহান'। আমার পিতার পারিবারিক নাম 'হক' আমার নামের সঙ্গে সংযুক্ত হয়নি। আজ থেকে ৭০ বছর আগে সেই যুগে আমার পিতা যে অবিস্মরণীয় কাজটি করেছিলেন, তার জন্য আমার মুগ্ধতার সীমা নেই এবং আমার সারা জীবন আমি তাঁর কাছে একধরনের কৃতজ্ঞতা বোধ করেছি।শেষের কথা বলি। সন্তান ধারণ ও জন্মদানের দীর্ঘ যে কষ্টের পথ, তা পাড়ি দেওয়া শুধু নারীর পক্ষেই সম্ভব। পুরুষকে যদি সন্তান ধারণ করতে আর সন্তানের জন্ম দিতে হতো, তাহলে আমার মনে হয় পৃথিবীর জনসংখ্যা ৪০০-এর বেশি হতো না। | 8 |
রাজারবাগ দরবার শরীফকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উলামা পির মাশায়েখ ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' এবং সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন 'মিথ্যা' দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করে এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।বাংলাদেশ ওলামা পির মাশায়েখ ঐক্যজোটের সভাপতি মুফতি মাও: আব্দুল হালিম সিরাজী বলেন, 'জামাত শিবির চক্র বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকাতে 'তাকিয়া' ভিত্তিক কাজ করে যাচ্ছে। মিডিয়ায় অনুপ্রবেশ করা এসব জামাতী রিপোর্টাররাই রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে অব্যাহত মিডিয়া ক্যু চালিয়ে যাচ্ছে। ৭ হাজার একর জমি দখল, জমি দখলের জন্য মিথ্যা মামলা, মামলাবাজ সিন্ডিকেট এগুলো সবই জামাতী মদদপুষ্ট হলুদ সাংবাদিকতা।'রাজারবাগ শরীফের পির দিল্লুর রহমান সম্পর্কে সিআইডির প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে দাবি করে কাঞ্চনপুর দরবারের হাফেজ আব্দুল জলীল বলেন, 'এরূপ মিথ্যা তথ্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা সিআইডি কি করে হাইকোর্টে পাঠাতে পারল এটা তদন্তের জন্য আমরা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।'হাক্কানি তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান কাজী আহমদুর রহমান সাহেব বলেন, 'রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে সেটাই বর্তমান পৃথিবীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে কোথাও রাজারবাগ শরীফের কোনো বক্তব্য নেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।'মানববন্ধনে বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান মুয়াজ্জিন আলহাজ্জ্ব মাওলানা কারি কাজী মাসউদুর রহমান বলেন, 'রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর সাহেব ১৯৭১ সালে ছাত্র অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা করেছেন। পির সাহেবের মেজ ভাই হাফিজুর রহমান হারুণ ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন। যারা পির সাহেবদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়, পির সিন্ডিকেট বলে নিউজ করে তারা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়।'প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পির আল্লামা শায়খ খন্দকার গোলাম মওলা নকশেবন্দী বলেন, 'আগামী নির্বাচনে জামাত সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। তারা রাজারবাগ শরীফসহ হক পির সাহেবদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। জামাত প্রভাবিত সিন্ডিকেট যেভাবে মিডিয়া ক্যু করছে তা গভীর নিন্দার।'সভাপতির বক্তব্যে ঢাকার মিরপুরের মুহাম্মাদীয়া দরবারের পির আল্লামা মুজিবুর রহমান খান আল মাদানী বলেন, 'এ দেশের মানুষ পির আউলিয়া ভক্ত। কাজেই জঙ্গিবাদ-জামাত-মৌলবাদ বিরোধী হক দরবার শরীফের বিরুদ্ধে মিডিয়া ক্যু ও প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রে দেশের পির সাহেবরা বসে থাকবে না। তরিকতপন্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নিষ্ক্রিয় থাকবে না।'সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ধর্ম সম্পাদক আলহাজ্জ্ব মাওলানা খলীলুর রহমান সরদার, টাঙ্গাইলের পির জনাব আখতার হোসাইন বুখারী, সম্মিলিত ইসলামি গবেষণা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী সহ প্রমুখ। | 6 |
থমাস টুখেল বুঝি সর্বজয়ের মিশন নিয়েই চেলসিতে এসেছেন! দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে চার মাসের মধ্যে লন্ডনের জায়ান্ট ক্লাবটিকে এনে দিয়েছেন ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। নতুন মৌসুমের শুরুতে দলকে জিতিয়েছেন উয়েফা সুপার কাপ। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন তিনি।সে লক্ষ্য পূরণে লিগ মৌসুমের মাঝপথেই অনেকটা এগিয়ে গেল চেলসি। লেস্টার সিটিকে তাদেরই মাঠ কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে গতকাল ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল ব্লুজরা। এ জয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানটা আরও সুসংহত করল তারা। আন্তর্জাতিক বিরতির আগেও শীর্ষে ছিল টুখেলের দল। আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরেই রয়ে গেল ব্রেন্ডান রজার্সের লেস্টার।তবে এ দিন নীলের বদলে হয়েছে হলুদ উৎসব। লেস্টারের হোম কিট চেলসির মতোই নীল হওয়ায় অ্যাওয়ে দল হিসেবে হলুদ জার্সি পরে নেমেছিলেন জর্জিনিও-কাই হাভার্টজরা। প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যান অতিথিরা। গোল করেন অ্যান্টনি রুডিগার ও ফরাসি তারকা এন'গোলো কান্তে। বিরতির পর ব্যবধান বাড়ান বদলি ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ।চেলসির প্রতিটি গোলে উচ্ছ্বাসের মাত্রাটা একটু বেশিই ছিল লন্ডন থেকে আসা সমর্থকদের মাঝে। গত মে মাসে এই লেস্টারের কাছে হেরেই যে এফএ কাপের শিরোপা হাতছাড়া করেছিল চেলসি। তাদের কালকের জয়টা তাই একরকম প্রতিশোধও। | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডে বিদেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের ফেরাতে আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও বাড়ানো হবে।ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের এ কথা বলেন। আজ রোববার জেলহত্যা দিবস। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তারপর কাদের এসব কথা বলেন।সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আজকে যাঁরা খুনি, তাঁদের দণ্ড কার্যকর হয়েছে। যাঁদের দণ্ড কার্যকর হয়নি, তাঁরা বিদেশে পলাতক। তাঁদের ফিরিয়ে আনার জন্য জোরদার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। এই কূটনৈতিক প্রয়াস সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে।' আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আইনে সমস্যা আছে। অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান নেই। যাঁরা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন, তাঁরা ফাঁসির আসামি। ফাঁসির আসামি বিধায় তাঁদের ফিরিয়ে আনতে অসুবিধা হচ্ছে। তবু বিভিন্ন দেশে যাঁরা রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, উচ্চপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে, তাঁদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়।কাদের বলেন, কলঙ্কজনক রক্তাক্ত দুটি ঘটনা-১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট, এরপর ৩ নভেম্বর। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর একই সূত্রে গাঁথা। একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন ও নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়ার ঘৃণ্য অভিলাষে আমাদের জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের চারজন প্রথম সারির সংগঠককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।' কাদের বলেন, 'তাঁদের যে স্বপ্ন, শহীদদের স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধু ও জাতির পিতার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আজকে আমাদের শপথ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া, এটা আমাদের অঙ্গীকার।' ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সপরিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাঁদের হত্যা করে। জাতীয় এই চার নেতা হলেন স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র, বেসামরিক সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান। | 9 |
চলতি মৌসুমে বরিশালের বাবুগঞ্জে আমনের ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকাই আশানুরূপ ফলনের কারণ বলে জানা গেছে। তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মানুষ ব্যস্ত থাকায় কিছু এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ধান কাটতে বিলম্ব হচ্ছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে কৃষকেরা আছেন শঙ্কায়।সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৭০০ জন কৃষককে বিনা মূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের কৃষক ওবায়দুল্লাহ বলেন, 'শ্রমিক সংকট থাকায় জমি থেকে ধান কাটতে সময় বেশি লাগছে।'বাবুগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ৯ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের সার, কীটনাশক প্রয়োগে সচেতন করাসহ পোকামাকড় দমনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা স্থানীয় কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। | 6 |
নবনীতা চৌধুরী ও লাবিক কামাল দুজনই আলাদা স্কেলে গান করেন। মূলত, এ কারণে তাঁদের দ্বৈতকণ্ঠে গান করা হয়নি। এবার করলেন। নবনীতা চৌধুরী ও লাবিক কামালের দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়া রাধারমণ দত্তের গান 'বন্ধু দয়াময়' গানটি আগামীকাল ৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটা থেকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি সিরিজের ইউটিউব পেজে দেখা যাবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, 'বন্ধু দয়াময়' গানটির সংগীতায়োজন করেছেন লাবিক কামাল। লাবিকের সংগীতায়োজনে নবনীতার কণ্ঠে 'সোনালী বন্ধু', 'রূপ দেখিলাম রে', 'বল গো সখী' গানগুলো জনপ্রিয় হলেও এই প্রথম এ সংগীতজুটি একসঙ্গে গান করলেন। এ প্রসঙ্গে নবনীতা বলেন, 'মঞ্চে বা টেলিভিশনে আমরা নিয়মিত একসঙ্গে গাইলেও এটাই প্রথম একসঙ্গে গাওয়া গান। সব সময় কোথাও গাইতে গেলেই দ্বৈত গানের অনুরোধ থাকে দর্শক, শ্রোতার কাছ থেকে। অবশেষে আমরা রাধারমণের দারুণ সুন্দর এই গানটি করলাম একসঙ্গে।' লাবিক বলেন, 'আমাদের দুজনের স্কেলটা একসঙ্গে গাওয়ার জন্য মেলানো কঠিন, তাই অনেক গানে হারমোনাইজ করলেও দ্বৈত গাওয়া হয়নি। কিন্তু এই গানটা দুজনে মিলে গাইতে এবং মিউজিক করতে এত এনজয় করলাম যে মনে হলো গানটা রিলিজ হলে সবাই হয়তো পছন্দ করবেন। জি সিরিজের খালেদ ভাইও গান শোনামাত্র খুব আগ্রহ দেখালেন এবং মিউজিক ভিডিও করে এই ঈদেই প্রকাশ করতে চাইলেন।' লাবিক ও নবনীতার গাওয়া 'বন্ধু দয়াময়' গানটি এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের 'ঈদ আনন্দমেলা'য় প্রচারিত হয়েছে। অনেকে তাঁদের এ গানের প্রশংসাও করেছেন। জি সিরিজ থেকে প্রকাশিতব্য মিউজিক ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন মঞ্জু আহমেদ। গানটি মিক্স করেছেন এবং বেইজ বাজিয়েছেন ফায়জান আহমেদ এবং গিটার বাজিয়েছেন রাফসান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই গানের মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ে শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন। | 2 |
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামি জিহাদ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, 'অপারেশন সোর্ড অব আল-কুদস' দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের শেষ যুদ্ধ নয়। আল-কুদস জেরুজালেম শহরের শেখ জাররাহ শরণার্থী শিবিরে ফিলিস্তিন নাগরিকদের ওপর ইহুদিবাদী সেনাদের বর্বর আচরণের প্রেক্ষাপটে ইসলামি জিহাদ আন্দোলন এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলো। গত বেশ কিছুদিন ধরে শেখ জাররাহ শরণার্থী শিবিরে আবার ইহুদিবাদী সেনারা ফিলিস্তিন বাসিন্দাদের ওপর বর্বরতা শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জিহাদ আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র খালেদ আল-বাত্স রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, "যতদিন ইহুদিবাদীরা আমাদের ভূমি দখল করে রাখবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের নিরন্তর সংগ্রাম চলবে কারণ এই ভূখণ্ডের মালিক আমরা এবং এক বিঘত জমিও আমরা তাদের ছেড়ে দেব না।" এদিকে, ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের আল-কুদস শাখার মুখপাত্র মোহাম্মদ হামাদে বলেছেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে তার সংগঠন আবার লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, বর্ণবাদী ইসরায়েলের উচিত- শিক্ষা গ্রহণ এবং শেখ জাররাহ শরণার্থী শিবিরে হামলা বন্ধ করা। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
কাউখালীতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ১ম ডোজ কোভিড-১৯ টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীদের ১ম ডোজ টিকা দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও এই শিক্ষার্থীরা টিকা দিতে পারেনি। উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় শুধু মাত্র অনলাইন জন্মনিবন্ধনকারী ১২-১৮ বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৭৮ জন এর মধ্যে গতকাল সোমবার পর্যন্ত টিকা দিয়েছে ৫ হাজার ৯০৭ জন। নিবন্ধন করা শিক্ষার্থী টিকা থেকে বাদ পরেছে ৭৭১ জন। এ ছাড়াও জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে পারেনি ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। এ সব মিলে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এ উপজেলায় ১ম ডোজ টিকা থেকে এখনো বঞ্চিত হয়েছে।উপজেলার আইরন জয়কুল এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নান্না মিয়া জানান, হঠাৎ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে না পারা, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে না পারায় তাঁর স্কুলের ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ১ম ডোজ টিকা নিতে পারেনি।উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পূর্ব আমরাজুড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম দাস জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী ১ম ডোজ টিকা গ্রহণ করেনি কারণ তারা টিকা দেওয়ার কথা শুনে বিদ্যালয় আসা বন্ধ করে দিয়েছে। | 6 |
ভারতের আসামের নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের কাউকেই গ্রেফতার করা হবে না এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাই আগের মতোই রাষ্ট্রীয় অধিকার ভোগ করবেন। রোববার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শনিবার সকালে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স-এনআরসির (নাগরিকপঞ্জি)
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে আসাম সরকার। ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখের
বেশি মানুষ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যারা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাননি তাদের 'রাষ্ট্রহীন' বলা যাবে না, আইনত 'বিদেশি'ও বলা যাবে না। ওইসব ব্যক্তি যে সুবিধা সে ভোগ করে আসছেন, তাতে কোনো হেরফের ঘটানো হবে না বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, তালিকায় নাম না থাকা মানুষজনকে বিনা খরচে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। | 3 |
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সর্বশেষ ম্যাচটি ভেস্তে গিয়েছিল ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একক কর্তৃত্বে। তবে বুধবার (১৭ নভেম্বর) ভোর ৫টায় স্থগিত হয়ে যাওয়া সেই ম্যাচে আবারও পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল। চোট সমস্যা কাটিয়ে আর্জেন্টিনার এস্তাদিও সান হুয়ানে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এ ম্যাচে শুরু থেকেই খেলবেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে ইনজুরির কারণে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন ব্রাজিলের নেইমার। যদিও উরুগুয়ের বিপক্ষে গত ম্যাচের আগেও মেসিকে নিয়ে একই কথা বলেছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কলোনি। তবে শুক্রবারের (১২ নভেম্বর) বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিটেই কেবল মেসিকে মাঠে দেখা গিয়েছিল। চলমান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের লাতিন আমেরিকান অঞ্চল থেকে ব্রাজিল ইতোমধ্যেই কাতার বিশ্বকাপে পা দিয়ে ফেলেছে। ৬ পয়েন্ট পেছনে থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আলবিসেলেস্তেরাও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিতের একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী মেসিকে নিয়ে স্কলোনি বলেন, ''সে (মেসি) আগের ম্যাচেও শারীরিকভাবে ফিট ছিল এবং ম্যাচের শেষদিকে আমরা তাকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিই যেন সে ভালো অনুভব করে। সে আগামী ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই খেলবে।'' ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটা সহজ হবে না উল্লেখ করে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন,''ম্যাচটি খুবই কঠিন হবে। তারা বাছাই পর্বে সবার ওপরে আছে এবং ইতোমধ্যেই মূলপর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে।'' এদিকে, বাঁ উরুর চোটের কারণে এ ম্যাচে বাছাইপর্বে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারকে না পাওয়ার কথা জানিয়ে ব্রাজিল দল এক বিবৃতিতে বলে, ''চোট নিয়ে নেইমার ভালো নেই। যেহেতু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই, তাই দলের পক্ষ থেকে তাকে এ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'' সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ২৬ ম্যাচেই অপরাজিত রয়েছে আর্জেন্টিনা, যার মাঝে রয়েছে ব্রাজিলের মাঠেই তাদেরকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের সুখস্মৃতি। তবে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ হারটিও ব্রাজিলের বিপক্ষেই, যেটি এসেছিল ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে। | 12 |
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) উপমহাব্যবস্থাপক ও রাজশাহীর শাখা প্রধান আব্দুল মোত্তালিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার আইসিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন গাজী এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপিতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি শুধু খোরাকী ভাতা পাবেন। আদেশে আব্দুল মোত্তালিবকে প্রধান আইসিবির কার্যালয়ের ডিসিপ্লিন, প্রিভেন্স ও আপিল বিভাগে অবিলম্বে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কানোপাড়া সাজুরিয়া গ্রামের মৎসচাষী আব্দুল বারিক মণ্ডলের নামে ২০১১ সালে আইসিবি থেকে ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে নথিপত্র জাল করে প্রথম কিস্তির ২৭ লাখ টাকা তুলে নেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মঙ্গলপাড়া গোবিন্দপাড়া গ্রামের গোলাম মোর্শেদ হক। এ কাজে সহায়তার অভিযোগ ওঠে রাজশাহী শাখা প্রধান আব্দুল মোত্তালিব ও প্রধান কার্যালয়ের এজিএম আহম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তিনজনের নামে মামলা করেন বারিক। মামলাটি তদন্ত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম। তিনি ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পলাতক থাকেন মোত্তালিব। অবশেষে মামলার নির্ধারিত দিন গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি রাজশাহী বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। ২৮ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত তাকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন। আব্দুল মোত্তালিব যেদিন কারাগারে যান, সেদিনও তিনি হাজিরা খাতায় সই করেছেন। দিনটি ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। আব্দুল মোত্তালিব রবিবার অর্থাৎ ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ দিনের অর্জিত ছুটির আবেদন দেন। ১৪ সেপ্টেম্বর এ আবেদন দেন তিনি। ছুটির আবেদনে পৈত্রিক জমিজমা ভাগ-বাটোয়ারা, খাজনা পরিশোধ এবং সীমানা প্রচীর নির্মাণসহ পারিবারিক কাজে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। গ্রামে না গিয়ে তিনি আদালতের মাধ্যমে গিয়েছিলে কারাগারে। মোত্তালিব যেদিন জেলে যান, সেদিন থেকেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি দিব্যি অফিস করছিলেন। জেলে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রেখেছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
বাংলদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, কুনমিং, চীনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয় । কনসাল জেনারেল এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কনসাল জেনারেল বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য জাতির পিতা দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জেল জুলুম সহ্য করেছেন, সব সময় দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে থেকে দেশ ও জনগণের সেবা করেছেন। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। | 9 |
টাইগার সমর্থকরা এই ম্যাচটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, শ্রীলঙ্কার থেকে বাংলাদেশ শক্তিমত্তায় বেশ এগিয়ে। এই ম্যাচটিতে তাই পূর্ণ ২ পয়েন্ট পাওয়ার আশায় ছিলেন টাইগার ভক্ত-সমর্থকরা। সেই আশায় জল ঢেলে দিল বৃষ্টি। ব্রিস্টলে দিনভর বৃষ্টির প্রকোপে মাঠ প্রস্তুত করা যায়নি। দুই দফা মাঠ পরিদর্শন করেও ইতিবাচক কিছু জানাতে পারেননি আম্পায়াররা। অবশেষে ঘোষণা এলো ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ারই। স্থানীয় সময় ১টা ৫৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৬টা ৫৭) ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন আম্পায়াররা। খেলা হলে কি হতো? তা নিয়ে আগাম মন্তব্য ঠিক না। বিশেষ করে খেলাটি যখন ক্রিকেট, যার পরতে পরতে অনিশ্চয়তা। ওঠা নামা। কখন কবে কি ঘটে যায়, আগাম বলা কঠিন। তারপরও বাংলাদেশ দল এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়টাই প্রত্যাশিত ছিল। তাই ব্রিস্টলের আকাশ গোমড়া করে থাকলেও কোটি বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থক আশায় উন্মুখ হয়ে ছিলেন বৃষ্টি কেটে যাবে। খেলা গড়াবে মাঠে এবং মাশরাফির দল জিতবে। প্রকৃতির বৈরী আচরণে সে আশা আর পূরণ হলো না। ব্রিস্টলে ম্যাচের আগে থেকেই বৃষ্টি ছিল। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টা) পিচ ও আউটফিল্ড পরিদর্শনের কথা ছিল আম্পায়ারদের, বৃষ্টির কারণে সেটি স্থগিত করা হয়। কারণ সকাল ১০টার পর থেকে আবারও ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির তোড় খুব না হলেও বাতাসের কারণে তার প্রবলতা বেশি মনে হচ্ছিল। সেই বৃষ্টি পরে আর থামেনি। আবহাওয়ার অবস্থা দেখে পরে আবার জানানো হয়, স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আম্পায়াররা আবারও পিচ ও আউটফিল্ড পরিদর্শন করবেন। বৃষ্টির কারণে সেই পরিদর্শনও বাতিল করা হয়। | 12 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে পড়েছে। এদিকে, হাইকোর্টের সামনে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। হাইকোর্টের সামনে থেকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এবং কার্জন হলের সামনে থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর মিছিল নিয়ে জড়ো হলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে কার্জন হল এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া করতে দেখা যায়। দুই দলের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠি, হকিস্টিক, রডও দেখা যায়। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে ছাত্রদলের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ঢাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ সকাল থেকেই ছাত্রদলকে প্রতিহত করার জন্য লাঠিসোটা হাতে পুরো ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে দেখা গেছে বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। এ সময় তাদের ছাত্রদলের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত স্লোগান দিতেও শোনা যায়। পরে ছাত্রদলের কিছু কর্মী হাইকোর্টের ভিতরে চলে আসে। হাইকোর্টের ভিতরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কর্মী নাহিদ চৌধুরীকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া, আহত হন ছাত্রদলের লিখন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, বাংলা কলেজ ছাত্রদল সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ নাজমুল ইসলাম বাহার। তাদেরকে কাকরাইলের ইসলামী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০ মিনিটের মতো ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শেষে এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পিছু হটলে দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্টের সামনের সড়ক পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সংঘর্ষে একজন সাংবাদিককেও মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংঘর্ষের রেশ ক্যাম্পাসে দ্রুত ছড়িয়ে পরে। এসময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মহড়া, ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার মিছিল ও দেশীয় অস্ত্র হাতে উত্তপ্ত স্লোগানে ক্যাম্পাসে ঘুরতে দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রব্বানী ভোরের কাগজকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাত ঘটলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরে তা থামিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা যাতে নেওয়া হয়। | 6 |
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেছেন। আদালত তাদের জামিন নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিমানের জুনিয়র টেকনিশিয়ান মো. সিদ্দিকুর রহমান ও প্রকৌশলী কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী শুনানি শেষে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। ইঞ্জিন অয়েলের ট্যাংকের একটি নাট ঢিলে থাকায় ওই বিপত্তি ঘটে। এ ঘটনায় নয়জনকে আসামি করে দায়েরকৃত মামলায় বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ | 6 |
আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাগুরা সদর উপজেলার আয়োজনে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা মিলনায়তনে এ চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় ৭১ জন নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপলক্ষে প্রায় দুই লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয় বলে জানান আয়োজকরা। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের দামকুড়ি গ্রামে সাবেক ও নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তারাপুর গ্রামের নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে ঝোলানো নৌকা প্রতীক পুড়িয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘীর দামকুড়ি গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় দামকুড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন-পশ্চিম দামকুড়ি গ্রামের খাইরুল ইসলাম, আবদুল হাই ফকির, নুরুজ্জামান, শামীম হোসে, মনির হোসেন, হেলেনা ও পূর্ব দামকুড়ি গ্রামের এবাদুল, লাইলী বেগম, নাঈম, সায়েদ আলী। আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে উপজেলার দামকুড়ি গ্রামে ফুটবল প্রতীকের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান ও পরাজিত টিউবওয়েল প্রতীকের ইউপি সদস্য সুলতান আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। গত সোমবার সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ বাজারে নৌকার একটি মিছিলে ওই নবনির্বাচিত ও পরাজিত দুই ইউপি সদস্যদের কর্মী-সমর্থকদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে গতকাল সকালে দামকুড়ি মাদ্রাসার পাশে একটি চা স্টলে উভয় পক্ষ ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অনন্ত ১০ জন আহত হন।এ বিষয়ে ছাতারদিঘী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবদুর রউফ বাদশা বলেন, নবনির্বাচিত ও পরাজিত দুই ইউপি সদস্যর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কয়েকজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে পাবনার বেড়ায় চাকলা ইউপির আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ঘটনার জন্য ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী সরদারকে দায়ী করেছেন। অবশ্য ইদ্রিস আলী সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নৌকার প্রার্থীরা নিজেরাই তাঁদের প্রতীকে আগুন দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট ও মামলা দিয়ে তাঁর কর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।জানা গেছে, আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে বেড়া উপজেলার সাতটি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে চাকলা ইউপির আওয়ামী লীগের (সদ্য বহিষ্কৃত) সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী সরদার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন পরপর দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন।ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীরা আতঙ্কিত হয়ে রাতের আঁধারে নৌকা প্রতীকে আগুন দিয়ে ভোটারের মধ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। সচেতন ভোটারেরা ভোটের মাধ্যমে তাঁকে বিজয়ী করবেন বলে তিনি আশাবাদী। এ ছাড়া প্রতীক পোড়ানোর ব্যাপারে তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।জানতে চাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী ইদ্রিস আলী সরদার বলেন, নৌকা প্রতীকে আগুন দেওয়ার প্রশ্ন আসে না। মূলত তাঁরা বুঝতে পেরেছেন সুষ্ঠু ভোট হলে তাঁদের ভরাডুবি হবে। সে কারণে হামলা মামলার কৌশলে তাঁরা এ কাজটি করে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ভয় দেখাচ্ছেন।বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। রাতের আঁধারে সংঘটিত ওই ঘটনার তদন্ত ও অভিযোগর ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) টিভির নিবন্ধনের জন্য এখন পর্যন্ত ছয় শর কাছাকাছি আবেদন পড়েছে। এখনো কোনো আইপি টিভিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যাচাই-বাছাই শেষে এ মাসের মধ্যেই কিছু আইপি টিভির অনুমোদন দেওয়া হবে। আর নীতিমালা অনুযায়ী কোনো আইপি টিভি সংবাদ পরিবেশন করতে পারে না। সচিবালয়ে আজ সোমবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এই কথা জানান তথ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীরের 'জয়যাত্রা' আইপি টিভি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ কথা জানালেন তথ্যমন্ত্রী। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের 'সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া মাসে এক কোটি টিকা দেওয়ার ঘোষণা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা' সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার রোডম্যাপ ঠিক করেই এই ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপির নেতারা টিকা নিয়ে বরাবরই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর 'সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশে মৃত্যুহার বেড়েছে' শীর্ষক বক্তব্যের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ও উপমহাদেশের পরিস্থিতি তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। করোনাভাইরাসের ডেলটা ধরন পৃথিবীর এক শর বেশি দেশে ছড়িয়েছে। যেসব দেশে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানেও এই ধরন ছড়িয়েছে। অনেক দেশে, অনেক অঞ্চলে যেখানে সবকিছু মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল সেখানে আবার নতুনভাবে স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করা হয়েছে। এগুলো জাফরুল্লাহ সাহেব জেনেও মাঝেমধ্যে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক ছাড়া অন্য কোনো কিছু না। তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুরু থেকেই করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে এবং সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে করোনার প্রথম ঢেউ অত্যন্ত সফলভাবে মোকাবিলা করা গেছে। দ্বিতীয় ঢেউও এখন পর্যন্ত অনেকটা মোকাবিলা করা গেছে। 'বিধিনিষেধের মধ্যেই রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেওয়া, শ্রমিকদের দুর্ভোগ, ব্যাপক করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা এবং এ নিয়ে কেন সচিব পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে'-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেই সরকারের কাছে দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সচিব বৈঠক করলেও সিদ্ধান্তটি কোনো ব্যক্তি বা সচিবের নয়। এটি সরকারেরই সিদ্ধান্ত। তবে তৈরি পোশাক কারাখানার মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ঢাকায় অবস্থান করা বা ঢাকার আশপাশে যেসব শ্রমিক আছেন, তাঁদের দিয়ে তাঁরা আপাতত শুরু করবেন। কোনো কোনো গার্মেন্টস মালিক সেটির ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে ঢাকার বাইরের শ্রমিকদেরও কাজে যোগদান করার জন্য ফোন করা হয়েছে। এখানেই বিভ্রান্তিটা হয়েছে। | 9 |
পাঁচ বছর আগে ইরানে মাসিহ আলিনেজাদ নামে এক নারী দেশটিতে অভিনব এক আন্দোলন শুরু করেন। দেশটিতে বাধ্যতামূলকভাবে হিজাব বা মাথা ঢাকার স্কার্ফ ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন তিনি। সেই আন্দোলনে যোগ দেয় কয়েক হাজার নারী। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পরে এবং রাস্তায় অভূতপূর্ব বিক্ষোভ হয়। কিন্তু এই বিক্ষোভ আন্দোলনের পাঁচ বছর হতে চলেছে, যে লক্ষ্য নিয়ে এটা শুরু হয়েছে তার কাছাকাছি কতটা পৌছাতে পেরেছে? তার কাছে এটা ছিল সাধারণ একটা স্বাধীনতা ভোগ করার মত একটা ঘটনা। এরপর তিনি অন্য নারীদের আহ্বান জানান তারাও যেন তাদের গোপন স্বাধীনতার মুহূর্ত শেয়ার করে। ফলস্বরুপর সারাদেশ থেকে অসংখ্য নারী তাদের ছবি পোষ্ট করতে থাকেন যেগুলোর বেশিরভাগই দেখা যায় মাথায় হিজাব নেই। এখান থেকেই শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে বাধ্যতামূলক মাথা ঢাকার স্কার্ফ ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন . এই আন্দোলন পরে আরো অন্য আন্দোলনকে উস্কে দেয়। যেমন, , এবং এই হ্যাসট্যাগ দেয়া নামে সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক জাগরণ তৈরি হয়। মাসিহ'র সোশ্যাল মিডিয়াতে রয়েছে ২৫ লক্ষের বেশি অনুসারী যেটা কিনা বাধ্য করেছে দেশটির সরকারকে তাকে বিবেচনার মধ্যে আনতে। অনলাইনে হুমকি
মাসিহ'র লেখা ' ' বইটিতে তিনি লিখেছেন তিনি বেড়ে উঠেছেন ইরানের উত্তরদিকে ছোট একটি গ্রামে এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে। তার পরিবারের মানুষের সামনেও তাকে হিজাব পরতে হত। তার কাছে মনে হয়েছিল এটা নারীদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। তিনি বর্ণনা করেছেন তিনি সবসময় অন্য নারীদের কথা বলার সুযোগ তৈরি করে দিতে চেয়েছেন কারণ যখন তিনি ইরানে ছিলেন তখন তার কথা বলার বা প্রতিবাদ করার কোন সুযোগ ছিল না। তবে তার এই প্রচারণার চরম মূল্য তাকে দিতে হয়েছে। মাসিহ ২০০৯ সাল থেকে স্ব আরোপিত নির্বাসনে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে ইরানে যান না। তার পরিবারকে নিষেধ করা হয়েছে দেশ ছেড়ে না যাওয়ার জন্য। তার পিতা এখন তার হয়ে আর কোন কথা বলেন না। মাসিহ মনে করেন সরকারের এজেন্টরা তার বাবাকে তাদের মত করে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। মৃত্যুর হুমকি মসিহ'র জন্য প্রতিদিনকার ব্যাপার। তিনি বলছিলেন ফেসবুকে সরকার সমর্থিত একটি গ্রুপের কাছ থেকে তিনি মেসেজ পেয়েছেন-তারা লিখেছে "আমরা তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে তোমার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেব"। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এই পরিস্থিতির জন্য তার কোন অনুতাপ আছে কিনা। তিনি বলেছেন 'কখনই না'। তিরি আরো বলেছেন "৪০ বছর ধরে তারা বলে আসছে নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার এটা সঠিক সময় নয় কিন্তু তারা এখন আর নারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না"। সূত্র: বিবিসি বাংলা বিডি প্রতিদিন/২০ মে ২০১৮/হিমেল | 3 |
মেহেরপুরের মুজিবনগর কেদারগঞ্জ বাজারের কাছে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় দুই মোটরসাইকেল চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।বুধবার ঈদের দিনদুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-মুজিবনগর সোনাপুর গ্রামের মাঠপাড়ার মিনারুল ইসলামের ছেলে শামিম হোসেন (২২), একই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে শাকিল আহমেদ (২৩) এবং মেহেরপুরের গাংনী গাড়াডোব গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে মুস্তাকিন হোসেন (২৫)।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোনাপুর মাঠপাড়ার শামিম ও শাকিল মোটরসাইকেল নিয়ে মানিকনগর থেকে মুজিবনগর সড়কে উঠছিল। এ সময় মুজিবনগর ঘুরতে যাচ্ছিল মুস্তাকিন। তখন দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল চালক শামিম ও মুস্তাকিনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত শাকিলের মৃত্যু হয়।পরে পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। মুজিবনগর থানার ওসি আব্দুল হাশেম জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। দুই মোটরসাইকেলে মোট ৫ জন আরোহী ছিলেন। দ্রুত গতির কারণেই এ দুঘর্টনা ঘটেছে। আহত হয়েছে আরও দুজন। | 6 |
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ভাগ্য হঠাৎ প্রশ্নের মুখোমুখি। একদিকে অমিক্রনের ভ্রুকুটি, অন্যদিকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতির নির্দেশ দেশের নির্বাচন কমিশনকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। ভোটভাগ্য স্থির করতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুশীল চন্দ্র আগামীকাল সোমবার বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণের সঙ্গে। তারপর কমিশন সদস্যরা যাবেন উত্তর প্রদেশে। তিন দিনের সফর শেষে ৩০ ডিসেম্বর দিল্লি ফিরে তাঁরা তাঁদের ইতিকর্তব্য ঠিক করবেন। তত দিন পর্যন্ত ঝুলে থাকছে অনিশ্চয়তার পর্দা। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অনুষ্ঠিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরালার মতো বড় রাজ্যে বিধানসভার ভোট। পশ্চিমবঙ্গের ভোট হয়েছিল আট পর্যায়ে। সে নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে পড়তে হয়েছিল প্রবল সমালোচনার মুখে। কেন জনসমাবেশ বন্ধ করা হয়নি, কেন রোড শোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি-এমন ধরনের কথা শুনতে হয়েছিল কমিশনকে। এবার আগেভাগেই এ ধরনের প্রশ্ন তুলে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি শেখর যাদব। গত শুক্রবার এক মামলার শুনানির সময় তিনি এই পরামর্শ দিয়ে বলেন, নবরূপী কোভিডের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় নির্বাচনী জনসভা নিষিদ্ধ করা দরকার। উত্তর প্রদেশের ভোট পিছিয়ে দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নির্বাচন কমিশনের ভাবনাচিন্তা করা দরকার। বিচারপতি তাঁর ওই অভিমত নির্বাচন কমিশনকে জানানোর নির্দেশও দেন। হাইকোর্টের অভিমত জানা মাত্র নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। কালক্ষেপণ না করে নির্বাচন কমিশন অমিক্রনের প্রকোপ ও পাঁচ রাজ্যের ভোটের ওপর তার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বুঝতে উদ্যোগী হয়। কমিশনের এক সূত্রের মতে, নাগরিক নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের ভোটের দরুন যে বিরূপ সমালোচনা শুনতে হয়েছে, তা যাতে না হয় সেই বিষয়ে কমিশন সতর্ক। সূত্রের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গে কমিশন পরামর্শ করবে। ভারতে অমিক্রনের প্রকোপ বাড়লেও এখনো বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদিও অমিক্রন সংক্রান্ত জরুরি বৈঠক শেষে তেমন কথা বলেছেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি উত্তর প্রদেশের ভোট গ্রহণ পিছিয়ে দেওয়ার কথা বললেও কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে পাঁচ রাজ্য সম্পর্কে। ভোটের প্রচার নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশিকা কমিশন আগেই দিয়েছে। মুশকিল হলো, সেসব কোনো দল আগেও মানেনি, এখনো মানছে না। পশ্চিমবঙ্গে এমনই হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন জনসভাগুলোয়। উত্তর প্রদেশেও এখন তা-ই ঘটছে। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে মোদি বারবার ওই রাজ্যে যাচ্ছেন বিবিধ প্রকল্প ঘোষণা করতে। তাঁর জনসভায় বিপুল মানুষ জড়ো হচ্ছেন। বিরোধী নেতাদের জনসভাও সমানে পাল্লা দিচ্ছে। ফলে বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। কমিশন এখন কী করবে, সেই জল্পনা বেড়ে গেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে নতুন বিধানসভা গড়তে হবে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড, গোয়া ও মণিপুরে। বছর শেষে ভোট হওয়ার কথা হিমাচল প্রদেশ ও গুজরাটে। সাত রাজ্যের মধ্যে পাঞ্জাব ছাড়া প্রতিটিতেই বিজেপি ক্ষমতাসীন। উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড ও গোয়ায় শাসক দল রয়েছে প্রবল চাপে। তিন রাজ্যেই কৃষক আন্দোলনে বিজেপি কোণঠাসা। বিরোধী শক্তিও জোরদার। এই অবস্থায় শাসক দলের একাংশ মনে করছে, ভোট কিছুদিন পিছিয়ে গেলে বিজেপি ঘর গোছানোর বাড়তি সময় পাবে। বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতা সুব্রামানিয়াম স্বামী ইতিমধ্যে টুইট করে বলেছেন, উত্তর প্রদেশের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের ওপর ক্ষিপ্ত। সেখানে ভোট পেছানোর অর্থ রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হওয়া। তাতে বিজেপির লাভ বই ক্ষতি নেই। উত্তর প্রদেশে ভোট পিছোলে তিনি তাই অবাক হবেন না। বিচারপতি শেখর যাদবের পরামর্শ কতটা 'রাজনৈতিক', শুরু হয়েছে সেই চর্চাও। বিভিন্ন মামলার শুনানির সময় তিনি ইদানীং এমন মন্তব্য করেছেন, যা জনজীবনে যথেষ্ট আলোচিত। যেমন গত সেপ্টেম্বর মাসে গোহত্যাসংক্রান্ত এক মামলায় তিনি বলেছিলেন, 'গরুকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণা করা উচিত। গোরক্ষা হিন্দুদের মৌলিক অধিকার।' পরের মাসে তাঁর পরামর্শ ছিল, রাম, কৃষ্ণ, রামায়ণ, গীতা, ঋষি বাল্মীকি ও বেদব্যাসকে জাতীয় মর্যাদায় ভূষিত করে হেরিটেজের আওতায় আনা দরকার। বলেছিলেন, রাম ছাড়া ভারত অসম্পূর্ণ। ভারতের মহান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্কুলে অবশ্যপাঠ্য হওয়া উচিত। ধর্মান্তরকরণ-সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে 'উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা' সরব। উত্তর প্রদেশে কোণঠাসা হিন্দুত্ববাদীদের রক্ষার জন্য বিচারপতির এই পরামর্শ কি না, রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসছে সেই প্রসঙ্গও। | 3 |
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে ডাকাতের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন নবাগত চিত্রনায়িকা নিশাত নাওয়ার সালওয়া। সালওয়া বাবা-মাসহ কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে রোহিতপুর নামক একটি স্থানে ডাকাতের কবলে পড়েন। পরে ৯৯৯-এর মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে বুধবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফেসবুকে পুরো ঘটনাটির বর্ণনা দিয়েছেন নিশাত নাওয়ার সালওয়া। তিনি লিখেছেন : অসংখ্য ধন্যবাদ রইলো ও বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি। তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আমি এবং আমার পরিবার আজ বিপদের হাত থেকে উদ্ধার হলাম।
আজ রাত ৮টার সময় কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরছিলাম আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে সাথে আমার আম্মু, আব্বু ছিলেন। হঠাৎ রোহিতপুর এর কাছাকাছি নিরিবিলি একটি স্থানে আসলে ৪ টি বাইকে করে ৪/৫ জন বখাটে ছেলে আমাদের গাড়ির গতিরোধ করে। তার মধ্যে একটি ছেলে নিজেকে কেরানীগঞ্জ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দাবি করে (যা সম্পূর্ণ বানোয়াট)। তারা এগিয়ে এসে ড্রাইভারকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে এবং বলতে থাকে যে তাদের বাইকের সাথে আমাদের গাড়ির ধাক্কা লেগেছে । সেরকম কিছুই আসলে হয়নি। একপর্যায়ে তারা ড্রাইভারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হ্যারাসমেন্ট করতে থাকে। তারা মূলত একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র যারা প্রায়শই পথ আটকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় ও নানাভাবে হেনস্তা করে থাকে। আমি তৎক্ষণাৎ ৯৯৯ এ কল করে বিস্তারিত ঘটনা জানাই। ৫ মিনিটের মধ্যে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের দায়িত্বরত ফোর্স ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে অপরাধীদের আটক করে থানায় নিয়ে যান। যথাসময়ে পুলিশ উপস্থিত না হলে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি জুতার তৈরির কারখানায় আগুন লেগেছে। উপজেলার উলুসাড়া এলাকার ওই কারখানায় শনিবার বিকেলে এই আগুনের সূত্রপাত। আগুন নেভাতে গিয়ে কমপজেক্ষ পাঁচ শ্রমিক আহত হয়েছেন। গাজীপুর, কালিয়াকৈর, সাভার ইপিজেড, কাশিমপুর ডিবিএল ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট আগুন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, বিকেলে সোয়া পাঁচটার দিকে কারখানার ভেতরে জুতার গোডাউনে টিন শেডের পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক মিটার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এসময় কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ওই জুতার কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা আতংতি হয়ে কয়েকটি তলা থেকে তাড়াহুড়ো করে নেমে বেরিয়ে যান। ওই সময় কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা কারখানার পূর্বপাশে টিন শেড দিয়ে তৈরি জুতার কাঁচামাল রাখা গোডাউনে আগুন দেখতে পান। শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে গাজীপুর, কালিয়াকৈর,সাভার ইপিজেড, কাশিমপুর ডিবিএল ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। ফলে অগ্নিকাণ্ডে কারখানার টিনশেড গোডাউনে রাখা শত শত টাকার চামড়া, ক্যামিকেলসহ নানা রকমের মালামাল পুড়তে দেখা যায়। আগুনের শিখা আকাশের অনেক উঁচুতে উঠে যাওয়াতে কারখানা ঘেঁষে গড়ে উঠা অনেক বাড়িওয়ালা আগুন আতংকে ঘরের মালামাল বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। আগুনের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, ডিএসপি, ডিবি, শিল্পপুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে নিরাপত্তা দিতে থাকে। স্থানীয় গ্রামবাসী অহিদুল ইসলাম, জহির, শিপন বলেন, বিকেলের দিকে একটা বিকট শব্দ শুনতে পাই। কিছুক্ষণ পরে ওই জুতা তৈরির কারখানার জুতার কাঁচা মালামাল রাখার গোডাউন থেকে কালো ধোয়া বের হতে দেখি। এসময় এলাকায় আগুন আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে জুতা তৈরির কারখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি।কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা কবির আলম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ করছে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। কালিয়াকৈর থানার এসআই আনিসুর রহমান বলেন, আমরা আগুন নেভানো পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। যাতে কারখানার বাইরের লোক এসে কোনওরকম লুটপাট করতে না পারে। | 6 |
বাসে যাত্রী সেজে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা বড়ি নিয়ে আসা একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ রোববার র্যাব-৩ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গতকাল শনিবার ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১৮ হাজার ৬০০টি ইয়াবাসহ এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সোহাগ চৌধুরী (২৫), রিয়াজুল ইসলাম (২৪), আফরিজ চৌধুরী শাওন (২৫), শাওন (২০) ও মাহাবুবুল আলম (২৫)। র্যাব-৩-এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক বলেন, এই চক্রের সদস্যরা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। | 6 |
ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ উল্লা খান। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুয়ায়ী যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ৪ বছরের জন্য এ নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। প্রফেসর ড. ফারুক আহমেদ উল্লা খান নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগদান করবেন। | 6 |
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তুষার আলী নামের বরখাস্তকৃত এক কারা পুলিশকে ইয়াবাসহ আটক করছে থানা পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলা শহরের কলাহাটা থেকে ৪০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। আটক তুষার আলী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মৌবাড়িয়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। এক বছর আগে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কর্মরত থাকাকালে তাকে বরখাস্ত করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার এসআই জাকারিয়া মাসুদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ শহরের কলাহাট ডাকবাংলোর সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তুষার আলীকে আটক করে তার কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক তুষার আলীর বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। | 6 |
গাজীপুরের শ্রীপুরে আটটি কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটছে। এ সময় জনতা ধাওয়া দিলে ব্যাগভর্তি কঙ্কাল ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। আজ বুধবার ভোর রাতের দিকে পৌর এলাকার লোহাগাছ গ্রামে অবস্থিত পৌর কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার নির্ধারিত কবরস্থান হওয়ায় এখানে একাধিক বেওয়ারিশ ও সহায়সম্বলহীন মানুষের মরদেহ কবর দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে পৌর কবরস্থানে গিয়ে ৮টি কবরের মাটি খোদাই করা দেখতে পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন খোঁড়া কবর দেখতে ভিড় জমায়।স্থানীয় রুহুল আমীন বলেন, আজ বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে বের হলে ৭-৮জন ব্যক্তিকে ব্যাগভর্তি কিছু বহন করতে দেখতে পাই। তাঁদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন। পরে কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। এ সময় একজনের মাথা থেকে একটি ব্যাগভর্তি কিছু ফেলে যায়। আমি এটা নজর দেওয়ার সুযোগে তাঁরা পালিয়ে যায়। পরে ওই ব্যাগে মানুষের কঙ্কালের মাথা,হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ পাওয়া যায়। বিষয়টি থানা-পুলিশে জানানো হলে তারা এগুলো তাদের হেফাজতে নেয়।শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
বাংলাদেশ ও ভারত হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতার একটি কাঠামো (ফ্রেমওয়ার্ক অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এমওইউ) সই করেছে ঢাকা ও দিল্লি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সম্মেলনের আগে ঢাকায় এ সমঝোতা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় হাইড্রোকার্বন খাতে দ্বিমুখী বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ। ফলে বাংলাদশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং সরবরাহে ভারতের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে ভারত চট্টগ্রাম পর্যন্ত জ্বালানি পাইপলাইনে তেল সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে এলপিজি ও এলএনজিও সরবরাহ করতে চায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ইতোমধ্যে ভারতের বিপুল অংশগ্রহণ। জ্বালানি পাইপলাইনে ভারত থেকে ডিজেল আসবে। লাইন নির্মাণ শুরু হয়েছে। অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করছে ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি। এলপি গ্যাস পরিবহনে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে ভারত। ভারত থেকে হাজার মেগাওয়াটের ওপর বিদ্যুৎ কিনছে বাংলাদেশ। দুই দেশ যৌথভাবে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এলএনজি সরবারহে সমঝোতা হয়েছে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন ফ্রেমওয়ার্ক অব তেল-গ্যাস খাতে দুই দেশের যৌথ অংশগ্রহণকে আরও দৃঢ় করবে বলে ঢাকা-দল্লির যৌথ বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈদ্যুতিক শক্তি রূপান্তর, উৎপাদন, গ্যাস এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ এবং হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানে সহযোগিতার সম্ভাব্য অন্যান্য উপায়গুলোও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। হাইড্রোকার্বন খাতসহ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সাতটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানিখাতে সহযোগিতার সম্পর্ক আগে থেকেই বিদ্যমান। ডিজেল আমাদনির জন্য পাইপলাইন নির্মাণ হচ্ছে, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করছে। এসব বিষয়কে একটা একক ফ্রেমের আওতায় আনতেই নতুন সমঝোতা হলো। ভারত বাংলাদেশে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ করতে চায়। চট্টগ্রাম পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ সমঝোতার আওতায় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে যৌথ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করেন আনিছুর রহমান। এই ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্টের ফলে দেশের তেল-গ্যাস খাতে ভারতের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানি বিষয়ক এই বিশেষ সহকারী বলেন, বাংলাদেশ ভারত থেকে অনেকদিন আগে থেকেই বিদ্যুৎ কিনছে। ডিজেল আনতে যাচ্ছে। ওদের কোম্পানি আমাদের সমুদ্রে কাজ করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাচ্ছে। নতুন সমঝোতার আওতায় জ্বালানি খাতের বিষয়গুলোকে একত্রিত করা হলো। এতে দর প্রক্রিয়ার বাইরেও জিটুজি ভিত্তিতে ভারতীয় কোম্পানি বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে অংশ নিতে পারবে। ঢাকা-দিল্লি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পর্ক: ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন। এসময় বিদ্যুৎখাতে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আরও সমঝোতা চুক্তি সই হয়। বিদ্যুৎখাতে সহযোগিতার জন্য দুই দেশের সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের স্টিয়ারিং ও ওয়ার্কিং কমিটি রয়েছে। ২০১০ সালের সমঝোতা স্মারকের অধীনেই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাংলাদেশ ভারত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর সঞ্চালন কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। এই লাইনে বর্তমানে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে। এছাড়া ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে। ভারতের বেসরকারি কোম্পানি রিলায়েন্স পাওয়ার ঢাকার অদূরে মেঘনাঘাটে ৭৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। ভারতের আদানি পাওয়ার ঝাড়খন্ড রাজ্যে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে, যার পুরো বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করবে। বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশের বিপিডিবি ও ভারতের এনটিপিসি যৌথভাবে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। ভারতের এপিম ব্যাংক বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কোম্পানিকে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে ভারতের আসাম থেকে বিহার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। বাংলাদেশ ও ভারতের কোম্পানিগুলো এলএনজি খাতে সহায়তার তিনটি পৃথক চুক্তি করেছে। পেট্রোবাংলা ও ভারতের কুতুবদিয়া দ্বীপে একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের যশোর, খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের নির্মাণ কাজ চলছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পরিশোধিত ডিজেল শিলিগুড়ি হয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বিপিসির ডিপোতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে রেলপথে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করছে বাংলাদেশ। বাংলদেশের বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ওএনজিসি ভিদেশ অগভীর সমুদ্রের ব্লক এসএস-০৪ এবং এসএস-০৯ এ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করছে। ইতোমধ্যে মোট ৫০৮১ লাইন কিলোমিটার ২-ডি সাইসমিক সার্ভে ও ডাটা বিশ্লেষণের কাজ সম্পন্ন করেছে। এসএস-০৪ আরও একটি অনুসন্ধান কূপ এবং এসএস-০৯ এ একটি অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ওএনজিসি। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অনেক অবকাঠামো খাতে ভারতের অনেক কোম্পানি কাজ করছে। বিশেষ করে সঞ্চালন লাইন, পাইপলাইন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রতিবেশী দেশটির অনেক কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজে ভারত পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমাদানির জন্য ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন বাংলাদেশের। | 6 |
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, লেখাপড়া শেষে চাকরি খুঁজলে হবে না, উদ্যোক্তা হতে হবে। শিক্ষার্থীরা অন্যের জন্য কাজ তৈরি করে দেবে। শুক্রবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০১৯-এর পুরস্কার বিতরণ এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০১৬ ও ২০১৭-এর কৃতী ক্রীড়াবিদদের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মান নিশ্চিত করতে এখন কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন শুধু ডিগ্রির জন্য কলেজে না আসে। তারা যেন সত্যিকার অর্থে শিক্ষাগ্রহণ করে সুনাগরিক হতে পারে, স্বাবলম্বী হয়। তাদের মধ্য থেকে যোগ্য নেতৃত্ব যেন উঠে আসে সেই শিক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, 'বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেন; কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে সেই সমালোচনার জবাব। কারণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আছে ২৮ লাখ শিক্ষার্থী, যা বিশ্বের অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। এটিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন করে গতিশীল নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, 'জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেবল গাজীপুরের বোর্ডবাজারে অবস্থিত এক টুকরো ভূখণ্ড নয়। এটি বাংলাদেশের মানচিত্র। সারদেশব্যাপী এর পরিসর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ বছরের ইতিহাসে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আর কখনও হয়নি। এটিই প্রথম।' তিনি জানান, বেসরকারি কলেজের মধ্যে মডেল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূরসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ পর্বে ছেলেমেয়ে উভয় গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুলনার বিএল কলেজ। ছেলেদের গ্রুপে রানার্সআপ হয়েছে খুলনার খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজ। আর মেয়েদের গ্রুপে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ রানার্সআপ হয়েছে। | 6 |
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহালম পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরার পর শাহালমের অত্যাচার ও নির্যাতনের বর্ণনা দিতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী। ওই এলাকায় গণমাধ্যম কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই অতীতের অভিযোগের বিষয় তুলে বক্তব্য দিচ্ছেন তাঁরা।গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বউবাজার এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রতিবেদককে জানান, শাহালমের বিভিন্ন অত্যাচার ও নির্যাতন নীরবে সহ্য করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কেন? এমন প্রশ্নে তাঁরা জানান, শাহালমের অত্যাচারের বিষয়ে কাউন্সিলর সোহেলের কাছে বিচার চাইতেন তাঁরা। কাউন্সিলর প্রতিবাদ করায় তাঁকে খুন হতে হয়েছে। কাউন্সিলরের মতো লোক মারা গেলে তাঁরা কীভাবে প্রতিবাদ করবেন, এমন মন্তব্য করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় বউবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহানা বেগম বলেন, 'আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। আমাদের মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। কখন সুমন-শাহালমের চোখ পড়ে, এই চিন্তা ঘুম হতো না।'বকুল আরা বেগম বলেন, 'আমার এক সন্তান বাইরে থাকে। আরেক সন্তান দেশে কাজ করে। শাহালমের ভয়ে আমরা আতঙ্কে থাকতাম। ওই পক্ষ আমার বাড়ি ভাঙচুর করেছে, ঘর লুটপাট করেছে।'বউবাজারের সবজি ব্যবসায়ী ফজর নেছা বলেন, 'অত্যাচারে আমরা ব্যবসা ঠিকমতো করতে পারতাম না। তিনি আগেও কয়েকটি হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেসব হত্যা থেকে পার পেয়ে আবার এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন।'আরেক ব্যবসায়ী রাজিব জানান, 'গত কয়েক মাস আগে শাহালমের চাচা সুমন আমাকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এমনটা করেছে।'পাথুরিয়াপাড়ার জেবুন্নেছা বেগম বলেন, 'শাহালম ও সুমন অনেক মা-বোনদের অত্যাচার করেছে। আমার মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে নিষেধ করেছে। তাঁর ভয়ে আমার মেয়েকে নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।'স্থানীয় ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগম বলেন, 'ব্যবসা করতে গিয়ে আমরা অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি। বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর লোকদের চাঁদা দিতে হতো।'পাথুরিয়াপাড়ার মিলন মিয়া বলেন, 'বাড়ি করতে শাহালমকে টাকা দিতে হয়েছে। তাঁর বাহিনী এ অঞ্চলে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ সব অপকর্ম করত।'শেফলি বেগম নামের এক নারী বলেন, 'সমিতির কিস্তির টাকা দিতে না পাড়ায় ওই সমিতির লোক শাহালমকে ব্যবহার করেছে। শাহালম আমার ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে গেছিল।'শাহালম নিহত হওয়ার খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সুজানগর, বউবাজার, নবগ্রাম, পাথুরিয়াপাড়ার শত শত নারী-পুরুষ সড়কে এসে ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানান। | 6 |
১৬ বছর পর বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠিত হয়েছে। গতকাল দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফোরামের ২০৩ সদস্যের মধ্যে ১৮৮ জনের প্রত্যক্ষ ভোটে অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গত রাতে নির্বাচন কমিশন এই ফল ঘোষণা করে। ঘোষিত ফলে ৬৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন মহসিন মন্টু। তার অপর দুই প্রতিদ্বদ্বী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টু পেয়েছেন ৬১ ভোট এবং অ্যাডভোকেট শহীদ হোসেন পেয়েছেন ৫৯ ভোট।
সিনিয়র সহসভাপতি পদে ১০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু, তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী মেহেদী হাসান শাহিন পেয়েছেন ৭৮ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শেখ হুমাউন কবীর মাসুদ ও আবুল কালাম আজাদ ইমন ৬৮ করে ভোট পাওয়ায় শেখ হুমাউন কবীর মাসুদকে সাংগঠনিক সম্পাদক-১ ও আবুল কালাম আজাদ ইমনকে সাংগঠনিক সম্পাদক-২ করা হয়েছে। এই পদে অপর প্রার্থী মো. মাহমুদ হোসাইন আল-মামুন ৪৭ ভোট পেয়েছেন।
১৬ বছর পর কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে গোপন ও স্বচ্ছ ব্যালটে নির্বাচিত হয়েছে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নতুন নেতৃত্ব।
বিডি প্রতিদিন/আল আমীন | 6 |
জন্ম থেকে রুমকি খানমের দুই হাত ও পা অচল। বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। ছোটবেলায় রুমকিকে পড়াশোনা করাতে চাননি তাঁর মা-বাবা। তবে মেয়ের জোরাজুরিতেই তাঁকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। হাত-পা অচল হলেও রুমকির শ্রবণ ও মেধাশক্তি প্রখর। এ বছর এইচএসসিতে জিপিএ-৪ দশমিক ৫৮ পেয়েছেন রুমকি। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে যে তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, সেগুলোর সব কয়টিতে এ প্লাস পেয়েছেন তিনি। তবে ভালো ফল করেও ভবিষ্যতের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে রুমকির পরিবার। রুমকি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের আবদুর রউফ মোল্লা ও আবেদা সুলতানার মেয়ে। লোহাগড়া উপজেলার আমাদা আদর্শ কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই রুমকি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় তিনি তাঁর বিদ্যালয়ের ২৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একাই জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এসএসসিতে জিপিএ-৩ দশমিক শূন্য ৬ এবং জেএসসিতে পেয়েছিলেন ৩ দশমিক ৭৫। এসএসসি ও জেএসসিতে জিপিএ কম থাকায় এইচএসসিতে জিপিএ-৫ হয়নি। জন্ম থেকেই রুমকি প্রতিবন্ধী। তাঁর দুই হাত ও দুই পা বাঁকা ও শুকনো। কোনো হাতে-পায়ে শক্তি নেই। নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। গোসল, খাওয়াসহ সব কাজেই তাঁকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। ছোটবেলায় রুমকি বাম হাতে কলম ধরে বাম পায়ের সহযোগিতায় লিখতেন। তবে বড় হওয়ার পর বাম হাতে কলম ধরে ডান হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে লেখেন। তারপরও রুমকির হাতের লেখা বেশ সুন্দর। মুখে কলম ধরে ছবিও আঁকেন তিনি। রুমকি বলেন, ছোটবেলা থেকে তাঁর স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর প্রথম পছন্দ। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চান তিনি। রুমকির বাবা আবদুর রউফ মোল্লা স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মা আবেদা সুলতানা গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে রুমকি মেজ। বড় ভাই রেজওয়ান ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ছোট বোন রুবাইয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী। রুমকির মা আবেদা সুলতানা বলেন, রুমকির এইচএসসির ফলাফলের পর বাড়ির সবাই বেশ খুশি। রুমকি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে। ভ্যানে বা অন্য পরিবহনে করে নিয়ে রুমকিকে ক্লাসরুমের বেঞ্চে বসিয়ে দিতে হয়। এভাবে প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়া সম্ভব হয় না। আবার প্রাইভেট শিক্ষকের কাছেও এভাবে যাওয়া কষ্টকর। বাড়িতে প্রাইভেট শিক্ষক আনার মতো আর্থিক সচ্ছলতা নেই। তাই রুমকি কখনো প্রাইভেটও পড়েনি। আবেদা সুলতানা বলেন, 'মেয়ের খুব ইচ্ছা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। এখন উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার মতো আর্থিক সচ্ছলতা নেই। আর রুমকির জন্য খরচ বেশি হবে।' বাবা আবদুর রউফ মোল্লা বলছিলেন, 'শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতার জন্য ছোটবেলায় রুমকির পড়শোনা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাঁর ইচ্ছার কাছে আমরা হার মেনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে আরও নানা প্রতিবন্ধকতা হবে।' রুমকির কলেজের শিক্ষক ফরহাদ খান বলেন, রুমকি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। তাঁর শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও তাঁর লেখা স্পষ্ট ও সুন্দর। সহায়তা পেলে মেয়েটি ভালো করবে। | 6 |
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগদান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর দে। রবিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এক পত্র দিয়ে যোগদান করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ভাস্কর্যের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ড. সৌমিত্র শেখর। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কনফারেন্স কক্ষে এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি উপস্থিত সকলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় নিজের বক্তব্যে আগামী চার বছর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় একাডেমিক কার্যক্রমের উপর গুরুত্বারোপ করা হবে জানিয়ে প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর দে বলেন, 'আপনারা আমাকে একটি শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস উপহার দিলে আমি আগামী দুই বছরের মধ্যে আপনাদেরকে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিতে পারবো বলে প্রত্যাশা করছি।' এর আগে গেল বুধবার অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 1 |
জীবনটাকে মাঝেমধ্যে বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করি। গোলমেলে জীবনটায় হিসাব মেলাতে বসে সবকিছু এলোমেলোই থেকে যায়। তা না হলে কি আর কয়েক শ মাইল পাড়ি দিয়ে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য সুদূর রাজধানীতে যেতে হয়। প্রায় এক যুগ আগে সেটাই ভাবতাম। আজকের সঙ্গে তখনকার সময়ের এটুকুই ফারাক। তখন ছিলাম বেকার, আজ আমি চাকরিজীবী। সময় গড়িয়েছে অনেক। সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছু বদলে গেলেও চাকরিপ্রত্যাশী বেকারত্বের কষ্ট ঘোচেনি। আমার এক প্রতিভাবান বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে ঢাকায় অবস্থানের জন্য সহজ একটি পদ্ধতি বেছে নেয়। এমফিল ডিগ্রি ভর্তি হওয়ার সুবাদে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ওঠে। ঢাকায় তাঁর অবস্থান পাকা হয়ে গেল। ঢাকায় থাকার মতো কোনো জায়গা ছিল না বলে তাঁর এমন দূরদর্শী কাজ! সেখানে অবস্থান করে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই তাঁর মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, এমফিল ডিগ্রি নয়! বর্তমানে ব্যাংক কিংবা অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ২ বা ৩ ধাপে হয়। পরীক্ষার সব ধাপই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। তবে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত তিনবার ঢাকায় যাওয়া-আসা কতজনের পক্ষে সম্ভব, সেটাই বিবেচ্য। একবার মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত হতে পারলেই যে চাকরি নিশ্চিত হয়ে যাবে, তা তো নয়। এমনও পরিচিত ব্যক্তি দেখেছি, যিনি কিনা ১৪তম মৌখিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে তবেই চাকরি নিশ্চিত করতে পেরেছিলেন। পরীক্ষার আবেদনে এবং ঢাকায় অবস্থান করতে কত টাকা বেকার ছেলেটিকে খরচ করতে হয়েছিল, তার হিসাব কে রাখে। তাঁর মতো এমন অনেকে আছেন, শুধু পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যই যাঁদের হাজার হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। বেকার সময়ে এতগুলো টাকার জোগান দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। বেকারত্বের এ কঠিন সময়ে অনেকে টিউশনি করে আবেদন এবং যাতায়াতের টাকা সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর অনেকেই টিউশনি করতে পারেনি। ফলে বেকারদের আরও সীমাহীন কষ্ট ও দুর্ভোগ বেড়ে যায়। যেখানে বিসিএস প্রিলিমিনারিতে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক লক্ষ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অন্য কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় না কিংবা হওয়ার মতো কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ে না। যদি অন্যান্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ রকম উদ্যোগ নেওয়া হতো, তাহলে কয়েক লাখ বেকার তরুণ-তরুণী বারবার ঢাকায় যাওয়া থেকে রেহাই পেতেন। তাতে বেকারদের কষ্ট কমে আসত এবং অনেক টাকাও বেঁচে যেত। বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমান কর্মদক্ষতায় এগিয়ে চলেছেন। নারীদের অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এসব চাকরিপ্রত্যাশী বেশির ভাগ তরুণী নিজ জেলায় অবস্থান করেন। তাই পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে প্রতিবার ঢাকায় যাওয়া-আসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তা ছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেকেই রাজধানীকেন্দ্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চান না। তাই ইচ্ছা থাকলেও অনেকে পরীক্ষায় বসতে চান না। ফলে নারীরা চাকরিক্ষেত্রে প্রবেশে চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। অথচ এ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা রাজধানীকেন্দ্রিক না হয়ে অন্তত বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পথ সুগম হতো। নারীদের সামনে যাওয়ার পথ আরও প্রসারিত হতো। অথচ তা তিমিরেই থেকে যায়। করোনাকালে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের হতাশা বহুগুণ বেড়ে যায়। আশা ছিল, করোনা থেমে গেলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। কিন্তু সেটাও আর হলো না। একদিকে চাকরি পেতে প্রাণপণ চেষ্টা, অন্যদিকে আবেদনকারী সব বাছাই পরীক্ষায় বসতে না পারা। সব মিলিয়ে হতাশা আরও বাড়তে থাকে। করোনার সংক্রমণ কমে আসায় একে একে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হতে থাকে। সে হিসেবে গত কয়েক শুক্রবারে একই সময়ে অনেক পরীক্ষা হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীরা মাত্র একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। ফলে চাকরি পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসে। অথচ সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিমিত্তেই চাকরিপ্রার্থীরা আবেদন করেন। প্রতিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিমিত্তে প্রত্যেককে আলাদাভাবে নির্ধারিত ফির মাধ্যমে আবেদন করতে হয়েছে। প্রতিটি আবেদনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রয়োজন পড়ে। বাস্তবে অনেকগুলো পরীক্ষায় আবেদন করা বেকারদের সাধ্যের বাইরে। তাই ধারদেনা করে হলেও আবেদন সম্পন্ন করে। পছন্দের একাধিক পদে আবেদন করা সত্ত্বেও একটি পরীক্ষা দিয়ে আত্মতৃপ্ত থাকতে হচ্ছে। আবেদন করা সত্ত্বেও যাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারছেন না, তাঁদের হতাশার সঙ্গে মানসিক যাতনা তাড়া করছে। যেখানে সাধারণ ছাত্র থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতি মেধাবী ছাত্রটিও চাকরির আশায় দিন গুনছেন, সেখানে এক দিনে এতগুলো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া কতটুকু সমীচীন, সেটাই বিবেচ্য। উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বরে একই দিনে ২১টি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়! একই দিনে এতগুলো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে মেধাবীদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে। কারণ, সবাই সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভালো মানের চাকরির প্রত্যাশা করেন। তাই অপেক্ষাকৃত ভালো পদের বিপরীতে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী বেড়ে যায়। আবার যেসব চাকরির বিজ্ঞাপনে শূন্য পদের সংখ্যা বেশি, সেসব পদের বিপরীতে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষার্থী বেড়ে যাবে। বাকিগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। একসঙ্গে অনেক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সমন্বয়ের অভাবে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। ফলে মেধাবীরা ভালো চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা, আদৌ তা হবে না। ফলে কোনো কোনো পরীক্ষায় উপস্থিত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাবে, আবার কোনো কোনোটিতে উপস্থিত প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাবে। তাতে অনেক মেধাবী ছাত্র প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা চাকরির স্থান দখল করে রাখবে। এভাবে চলতে থাকলে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের হতাশায় গ্রাস করবে, যদিও আমাদের তরুণ-তরুণীরা শত প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে এগিয়ে চলে। তাই চাকরি প্রার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যে পিএসসি শুক্রবারে পরীক্ষা না নেওয়ার কথা ঘোষণা প্রদান করে, যা এ মুহূর্তে একটি ভালো উদ্যোগ বলা চলে। অন্য সব চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান সুন্দর ও অভিনব এ পন্থা অবলম্বন করলে চাকরিপ্রত্যাশীরা আরও স্বস্তি পেত। তবে বিসিএসের ৪৩তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২৯ অক্টোবর পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকলেও ওই দিন আরও কয়েকটি পরীক্ষা নির্ধারণ করা হয়। বলা বাহুল্য, এসব পরীক্ষার সমন্বয়হীনতার অভাবে বেকার তরুণ-তরুণীদের সমস্যা নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এ সমস্যা থেকে উত্তরণের কোনো পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে না। ফলে চাকরিপ্রত্যাশী বেকারদের ভোগান্তি বাড়ছে বৈ কমছে না। *লেখক: অনজন কুমার রায়, ব্যাংকার | 1 |
ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন,ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হচ্ছে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অংশীদার; তারা সমস্যার অংশ, সমাধানের অংশ নয়। রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন বা পিএলও'র কেন্দ্রীয় পরিষদের কনভেনশনে তিনি এ আহ্বান জানান। তিন দিনের এ সম্মেলন থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত 'শতাব্দির সেরা চুক্তি'কেও প্রত্যাখ্যান করছেন মাহমুদ আব্বাস। মাহমুদ আব্বাস বলেন, ইসরাইলের দখলদারিত্ব ঠেকাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে জ্বলন্ত রাখতে হবে।ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে জ্বলন্ত অবস্থায় রাখতে হবে। ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও জিহাদ আন্দোলন ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামের পথ বেছে নিলেও মাহমুদ আব্বাস বহু বছর ধরে কথিত শান্তি আলোচনার পথে হেঁটেছেন। | 3 |
একলেসিয়া প্রাচীন গ্রিসে নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি উপায় হিসেবে সুবিদিত। এই পদ্ধতিতে যোগ্য নাগরিকেরা নগর ও রাষ্ট্রের কল্যাণে প্রণীত আইন সম্পর্কে চূড়ান্ত মতামত দেওয়ার অধিকার রাখতেন। তাঁরা সংসদ সদস্যদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন না; কিন্তু যোগ্য নাগরিক হিসেবে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তবে এটি পুরোপুরি অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি ছিল না। কারণ, সমাজের সব স্তরের মানুষের, যেমন: গ্রামের দরিদ্র মানুষ কিংবা নারীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। তাই একটি দেশের সব মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকারভুক্ত বিষয়গুলোয়-স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি-একলেসিয়া পদ্ধতি হুবহু অনুসরণ করলে অর্থবহ ফলাফল নাও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু একলেসিয়া পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে এই পদ্ধতিতে মতামত সংগ্রহের একটি সর্বজনীন উপায় হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আধুনিক এই সময়েও একলেসিয়া পদ্ধতি স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে একটি সর্বজনগ্রাহ্য পদ্ধতি হতে পারে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি লক্ষণীয়; কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। যে কারণে কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির প্রাদুর্ভাব এবং সাম্প্রতিক কালে ডেঙ্গু রোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার চলমান দুর্বলতাগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য করণীয় নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ৩০ জুলাই প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, মানসিক অসুস্থতা স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের জীবনে নীরবে আঘাত হেনে চলেছে। আরেকটি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের পক্ষে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে রিপোর্ট করেছে। যদিও স্বাস্থ্য একটি সর্বজনীন ও মৌলিক অধিকার কিন্তু, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় সবার অভিজ্ঞতা সমান নয়। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ ন্যায্যতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা পায় না। এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ২০১৫ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অবজারভেটরি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনীতি ও বিদ্যমান ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নসহ শহর ও পল্লী এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের অসম স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওপরের আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটি জনকল্যাণমুখী ও অংশগ্রহণমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে। প্রথমত, একটি অধিকতর অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া কি আদৌ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারবে? দ্বিতীয়ত, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? তৃতীয়ত, বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি কোনো অবস্থায় রয়েছে? যেকোনো জননীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বশীল অংশগ্রহণ সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ, জনসম্পৃক্ততা নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা ও সেবার ক্ষেত্রে অন্যায্য দূর করে। কেউ কেউ জনগণকে সম্পৃক্ত করে নীতি প্রণয়ন কার্যক্রম ব্যয়বহুল বলে সমালোচনা করেন। যদিও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে প্রণীত নীতির সুফল ও উপকারের তুলনায় ব্যয় যা হয় তা খুবই সামান্য। অতএব, একটি অধিকতর অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত স্বাস্থ্যনীতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে বিপুলভাবে সহায়তা করতে পারে।বাংলাদেশে জননীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব-এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া বলতে কী বুঝব, সেটা সুস্পষ্ট হওয়া দরকার। দেশের নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াসহ পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে যুক্ত হবেন। ফলে, প্রণীত নীতির সামাজিক প্রভাবও নিরূপণ করা যাবে। স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সম্পৃক্ত করা কঠিন হলে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে একটি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেখানে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বাংলাদেশে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়নের বিষয়টি বর্তমানে কোন অবস্থায় রয়েছে, এ-সংক্রান্ত তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি মূলত আমলাতন্ত্রের কার্যাধীন। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হলেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। গবেষণাপত্রের লেখক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম আতিকুল হক সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি ও নাগরিকদের সাক্ষাৎকার এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা নীতিমালা প্রণয়ন করাকে কেবল তাঁদের দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করেন। তাঁরা বিদ্যমান নীতিমালা উন্নয়নে কোনোমতে কাজটি শেষ করে থাকেন। এম আতিকুল হক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে জননীতি প্রণয়নে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা আমলাতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ গঠনমূলক ও সর্বব্যাপী না হয়ে আনুষ্ঠানিক হয়ে পড়েছে। সর্বোপরি, জননীতি প্রণয়ন কার্যক্রমে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কারা সম্পৃক্ত হবেন, তার কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় জনগণের অংশগ্রহণ মূলত শর্ত পূরণের জন্য করা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ আছে। আন্তর্জাতিক উদাহরণের আলোকে স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক করা যেতে পারে? যেমন: থাইল্যান্ডে ন্যাশনাল হেলথ অ্যাসেম্বলি কার্যক্রমের মাধ্যমে সে দেশের সরকার, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিরা একত্র হয়ে ২০০৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের জন্য দরকারি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পণ্যের অবৈধ বিজ্ঞাপন বন্ধ করা, সুস্বাস্থ্যের জন্য সাইকেল চালনা, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয়, সুস্বাস্থ্যের জন্য আবাসনসহ প্রায় ৮৫টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। এ কথা অনস্বীকার্য যে রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সম্পর্ক দ্বিমুখী হওয়া দরকার। নাগরিকদের জানা দরকার, তাঁরা কীভাবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন? বিগত দিনগুলোয় তাঁরা কীভাবে সংগঠিত হয়েছেন-এই আত্মজিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে আগাতে পারেন। একলেসিয়ার মতো জনমত সংগ্রহ পদ্ধতিতে অর্থবহ মতামত দিতে তাঁরা কতটুকু প্রস্তুত? রাষ্ট্র জনগণের মতামত গ্রহণে কতটুকু প্রস্তুত? এবং সবশেষে যে প্রশ্নটা অবধারিতভাবে চলে আসে-রাষ্ট্র ও নাগরিকেরা যদি একে অন্যের কথা শোনার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি কীভাবে হবে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে জনগণের ফলপ্রসূ অংশগ্রহণ ঘটানো সম্ভব হবে। ফলে, বাংলাদেশের জনগণ সংবিধান স্বীকৃত ন্যায্য স্বাস্থ্য অধিকার পাওয়ার পথ সুগম হবে। শেগুফা হোসেন ফ্রিল্যান্স কনসালটেন্ট, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ | 8 |
প্রকাশ্যে গণতন্ত্রে ফেরার দাবি ধীরে ধীরে প্রবল হয়ে উঠছে। সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ও বিপুল ভোটে জয়ী ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি পার্টির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু কির মুক্তির দাবিতে দেশটিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ বাড়ছে। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গনে দ্বিতীয় দিনের মতো হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে মিছিল করেছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। খবর: রয়টার্স, গার্ডিয়ান, বিবিসি প্রতিবাদকারীরা লাল বেলুন নিয়ে নামে, এই রঙটি সু কির দল এনএলডি'র প্রতিনিধিত্ব করে। বিক্ষোভে নেমে হাজার মানুষ শ্লোগান দেয়, 'আমরা সামরিক স্বৈরাচার চাই না! আমরা গণতন্ত্র চাই!' রাস্তার মাঝখান দিয়ে এনএলডির পতাকা দুলিয়ে 'থ্রি-ফিঙ্গার' স্যালুট দিয়ে মিছিল করেন তারা। এটি এখন অভ্যুত্থান বিরোধীতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। গাড়ির চালকরা হর্ন বাজাতে থাকেন ও যাত্রীরা সু কির ছবি উঁচু করে ধরে থাকেন। এর আগে সকালের মাঝামাঝিতে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর মাওলামাইনে মোটরসাইকেলে করে প্রায় ১০০ লোক রাস্তায় নেমে আসে। মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ে শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়। দক্ষিণপূর্বের আরেকটি শহর কারেন রাজ্যের পায়াথোনজুতে সারারাত একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থান নিয়ে ছিল কয়েকশ লোক। সকাল হওয়ার পরও তারা সেখানে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রপন্থি গান গাইতে থাকে। ১০ বন্ধু নিয়ে মিছিলে যোগ দেওয়া ২২ বছর বয়সী একজন তরুণ বলেন, 'আমরা অভ্যুত্থান মেনে নিতে পারি না। আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমাদের রাজপথে বের হয়ে আসতে হবে।' ত্রিশোর্ধ এক নারী বলেন, আগের দিনের প্রতিবাদে তারা যোগ দেননি, তবে আজ যোগ দিয়েছেন। তিনি আর ভয় না পাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নারী বলেন জনগণের সঙ্গে যোগ দিতে হবেই। কারণ আমরা গণতন্ত্র চাই। আগের দিন দেশটির জান্তা সরকার ইন্টারনেট বন্ধ ও ফোন লাইনে নিয়ন্ত্রণের পরও এসব দৃশ্য ফেইসবুকে সম্প্রচারিত হয়েছে। তবে সেনা নজরদারির বাধা ডিঙিয়ে এ বিক্ষোভের খুব অল্প দৃশ্যই দেশটির বাইরে এসেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনা বাহিনী সু কি ও তার ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে নতুন একটি জান্তা সরকার গঠন করে। তারপর থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু প্রতিবাদ শুরু হলেও শনিবার দেশজুড়ে লাখো মানুষ সামরিক জান্তা বিরোধী বিক্ষোভে রাজপথে নেমে আসে। | 3 |
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার এবং ৫ অক্টোবর আবাসিক হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা। অনার্স ৪র্থ বর্ষ এবং মাস্টার্সের যেসব শিক্ষার্থী করোনার অন্তত প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন, শুধু তাঁরাই টিকার সনদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে গ্রন্থাগার ব্যবহার ও নিজ নিজ হলে উঠতে পারবেন।আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান গ্রন্থাগার ও বিভাগীয়/ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট আবাসিক শিক্ষার্থীরা ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে নিজ নিজ হলে উঠতে পারবেন। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রতিটি আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ব্যানার ও ফেস্টুন থাকবে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে অনার্স ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে। আবাসিক হলগুলোতে আগের মতো ঠাসাঠাসি করে বসবাস এবং 'গণ রুম' রাখা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র নিয়মিত আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করবেন। সভায় হল ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়।এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী টিকা কার্যক্রমের আওতায় আসার পর সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রমের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে টিকা প্রদান কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থী এখনো টিকা রেজিস্ট্রেশন করেনি, তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। | 1 |
বাউফলে মৃত্যুর ২৪ দিন পর রেহেনা বেগম (৫৭) নামের এক নারী স্ব-শরীরে রেজিস্ট্রি অফিসে হাজির হয়ে জমি দলিল করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় একদিকে যেমন রেজিস্ট্রি অফিসের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি চাঞ্চল্যও সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই নারীর এক ওয়ারিশ দলিল বাতিল চেয়ে পটুয়াখালী সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যিনি সম্পর্কে ওই নারীর চাচাতো ভাই। সূত্র জানায়, বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের ফজলুল হক সিকদারের ছেলে আলতাফ হোসেন সিকদারের স্ত্রী রেহেনা বেগম। স্বামী আলতাফ হোসেন ২০১১ সালে মারা যান। তাদের কোন সন্তান ছিল না। মদনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু রেজিস্ট্রার ও সনদ অনুযায়ী রেহেনা বেগম ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মারা গেছেন। তাদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ওয়ারিশ তিন চাচাতো ভাই। কিন্তু ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর রেহেনা বেগম স্ব-শরীরে বাউফল সাব রেজিস্ট্রি অফিসে হাজির হয়ে কেমবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ৬৯/২০১৯ নম্বর দলিল মূলে চন্দ্রপাড়া মৌজার ৫০ শতাংশ এবং ৭০/২০১৯ নম্বর দলিল মূলে ভরিপাশা মৌজার ২৪ শতাংশ জমি লিখে দেন। তবে সাইফুল ইসলাম ওই নারীর কোনো ওয়ারিশ নয়। মদনপুরা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশেও সাইফুল ইসলামের নাম নেই। বাউফল সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্র জানায়, জমির দলিল নিবন্ধনের নিয়মানুযায়ী দলিলদাতাকে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে হলফনামায় সহি স্বাক্ষর দিতে হয়। এমনকি দলিলেও দাতা ও গ্রহিতার ছবিযুক্ত স্বাক্ষর থাকতে হয়। মদনপুরা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, রেহেনা বেগম ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মারা গেছেন যা এলাকার সবাই জানে। সে অনুযায়ী, তার ওয়ারিশ তিন চাচাতো ভাই আবুল হোসেন, একেএম শফিউল আলম, মামুন হোসেনকে মৃত্যু সনদ দেয়া হয়েছে। মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর কীভাবে তিনি দলিল দিলেন সেটা আমার বোধগম্য নয়। এমন জাল-জালিয়াতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। ওয়ারিশ মামুন হোসেন বলেন, রেহেনা বেগম মারা যাওয়ার আগে আমরাই তাকে দেখভাল করতাম। জমিও আমরা চাষাবাদ করতাম। সম্প্রতি জানতে পারি সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে রেহেনা বেগম অছিয়াতনামা দলিল দিয়েছেন। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি, মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর দলিল দিয়েছেন। পরে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ওই দলিলের সই মোহর উঠিয়ে দলিল বাতিল চেয়ে ২০ আগস্ট পটুয়াখালীর বাউফল সহকারি জজ আদালতে মামলা করেছি। বাউফলের সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাউফলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। জমিদাতাকে অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। কোনভাবেই মৃত্যু ব্যক্তি জমি দাতা হতে পারবেন না। | 6 |
শেন ওয়ার্নকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সুনীল গাভাস্কার। ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক বলেছেন, শেন ওয়ার্নের ক্রিকেট দক্ষতারতুলনা করার সময় ঠিক ছিল না। তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করাও উচিত হয়নি। তার জবাব দেওয়াও উচিত হয়নি। থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন ৫২ বছর বয়সীওয়ার্ন। সেখান থেকেই তার হঠাৎ মৃত্যুর খবর আসায় শোকস্তব্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। এখনো তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে গাভাস্কার বলেছেন, ওয়ার্নকে তিনি সর্বকালের সেরা মানেন না। সে তুলনায় তিনি শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন ও ভারতীয় স্পিনারদের এগিয়ে রাখবেন। কারণ ভারতে ওয়ার্নের রেকর্ড খুবই সাদামাটা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 12 |
একমাত্র সন্তানকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন আসাদুজ্জামান আসাদ। হাঁটতে হাঁটতে বাসা থেকে বেশ দুরে চলে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় ৪ বছর ৮ মাস বয়সী ছেলে সাদ আবরার জামান রুপক আর হাঁটতে পারছিল না। তাই তাকে কোলে নিয়ে রিকশাযাগে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু বাসায় আর পৌঁছা হয় না। একটি ট্রাক কেড়ে নেয় বাবা-ছেলের প্রাণ।
একমাত্র সন্তান ও স্বামীকে হারিয়ে দুঃসহ বেদনা নিয়ে বেঁচে রইলেন স্ত্রী ইলারা রুমি। তার আর্তনাদ-'আমার পৃথিবী এখন অন্ধকার। আলো বলতে কিছু রইলো না। আমার সব শেষ হয়ে গেল।'
ট্রাক চাপায় বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে শুক্রবার রাতে, রাজধানীর মিরপুরে শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটের সামনের সড়কে।
ট্রাকটির (কুস্টিয়া ট-৪৩৮) চালক শহিদ মিয়াকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার শহিদকে আসামি করে মিরপুর থানায় একটি মামলা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে. নিহতের পরিবারের সদস্যদের আবেদনে লাশের ময়নাতদন্ত হয়নি। শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে বাবা-ছেলের লাশ গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় নেওয়া হয়।
আসাদুজ্জামানের ভায়রা সেলিম রেজা সমকালকে জানান, আসাদুজ্জামান দক্ষিণ বাড্ডায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ছিলেন। তার বাসা মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে। স্ত্রী রুমি ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সেখানে থাকতেন আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার অফিস ছুটি থাকায় সারাদিন বাসাতেই ছিলেন আসাদুজ্জামান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। ফিরতে দেরি হওয়ায় স্ত্রী ফোন দিলে আসাদুজ্জামান বলেন, 'রুপককে হাঁটতে পারছে না, তাই রিকশায় ফিরছি, দ্রুত পৌঁছে যাব।'
কিন্তু ছেলেকে নিয়ে আর বাসায় ফিরতে পারেননি তিনি। তাদের বহনকারী রিকশাটি শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটের সামনের সড়কে এলে একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়েন বাবা ও সন্তান। এরপরও ছেলেকে কোল থেকে ছাড়েননি বাবা।
সন্তানকে কোলে নিয়েই রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। এক পথচারী রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
মিরপুর থানার এসআই ফরিদা পারভীন সমকালকে জানান, বাবা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ট্রাক চালক শহিদকে আসামি করে নিহতের ভায়রা সেলিম রেজা মামলা দায়ের করেছেন।
| 6 |
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল গঠন করেছে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি। সোমবার আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা এবং সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের গতিবিধি সার্বক্ষণিক মনিটরিংসহ এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। ১৪ সদস্য বিশিষ্ট মনিটরিং সেলের সদস্যরা হচ্ছেন ডা. হেদায়েতুল ইসলাম বাদল, আখলাকুর রহমান মাইনু, ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুব্বর আমিনুল, হারুন-অর-রশীদ, মাহবুব রশীদ, মিজানুর রহমান, আব্দুল বারেক, আকাশ জয়ন্ত গোপ, বেলাল মোহাম্মদ নুরী, আমিনুর রশীদ লিটন, অরিন্দম হালদার, গোপাল সরকার, আব্দুলতাহ আল মাসুম ও খালিদ হোসাইন খান বিপু। | 9 |
যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে স্নাতক শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম (২৫) শখের বশে করেছেন কুলের বাগান। বাবা-মায়ের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে তিন বিঘা জমিতে রোপণ করেছেন পাঁচ শতাধিক কুলের চারা। এ বাগান দেখতে প্রায় নিয়মিত লোকজন ভিড় করছেন। আলোচিত এ কুলের বাগানটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এড়েন্দা গ্রামে।মো. রাকিবুল ইসলামের বাবা মো. জহর শেখ লোহাগড়া উপজেলার এড়েন্দা এলাকার বাসিন্দা। মো. রাকিবুল ইসলাম শখের বশে কাশ্মীরিকুল, থাই, সিডলেস ও বল সুন্দরী জাতের পাঁচ শতাধিক চারা মেহেরপুর থেকে এনে রোপণ করেন। আট মাসের মাথায় শুরু হয়েছে ফলন।মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, 'গত বছর আমি যশোর এক আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে কুল বাগান দেখি। বাড়ি এসে আমি বিষয়টি মা-বাবাকে জানালে তাঁরা উৎসাহের পাশাপাশি অর্থসহ জমির জোগান দেন। আমি তিন বিঘা জমিতে পাঁচ শতাধিক বল সুন্দরী, কাশ্মীরি, থাই ও সিডলেস জাতের কুলের চারা রোপণ করি। মাত্র আট মাসের মাথায় শুরু হয়েছে ফলন।' উপজেলার অন্য বেকার যুবকেরা এ ধরনের আরও কুল বাগান করে নিজেদের ভাগ্য বদলাবেন এমনটি প্রত্যাশা রাকিবুলের।। মো. রাকিবুল ইসলামের এ সাফল্যে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এলাকার অনেক যুবক কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, 'তিন বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছি। এ বাগানে নিয়মিত ৭ জন লোক কাজ করে। অনেকে আমার কাছে পরামর্শ নিতে আসে। আমি তাঁদের পরামর্শ দেই। বিশেষ করে যারা বেকার তাঁদের আমি কুল চাষের পরামর্শ দেই। এতে একদিকে নিজের বেকারত্ব ঘুচবে। পাশাপাশি আরও অনেককে তাঁর কুল বাগানে কাজ দিতে পারবেন। আমি বেকার যুবকদের কম দামে চারা দেওয়াসহ পরামর্শ দেওয়ার কথা এলাকায় জানিয়ে দিয়েছি।'রাকিবুলের বাবা মো. জহর শেখ বলেন, 'কলেজ পড়ুয়া ছেলের কৃষির প্রতি ঝোঁক দেখে খুশি হয়েছি। শিক্ষিত বেকার যারা তারাও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে।'লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রইচউদ্দিন বলেন, 'লোহাগড়া উপজেলায় প্রথমবারের মতো কাশ্মীরি কুলসহ বিভিন্ন জাতের কুল আবাদ হচ্ছে। আকারে বড় ও সুস্বাদু কাশ্মীরি কুলের বেশ চাহিদা রয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ দেন। এই কাশ্মীরি কুলসহ বিভিন্ন জাতের কুল লোহাগড়ায় রোপণ করে প্রাথমিকভাবে সাফল্য দেখা গেছে। এই কুল রোপণ ও চাষের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।' | 6 |
সাবেক গভর্নর ফজলে কবিরকে আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ পেলেন। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) আইন ২০২০ এর অনুচ্ছেদ ১৩(৩) এবং ১০(৫) এর বিধান অনুযায়ী জনাব ফজলে কবিরকে তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বয়স নির্ধারিত ছিল ৬৫ বছর। সরকার দুই বছর বাড়িয়ে ৬৭ বছর করে আইন পাস করেছে জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে। ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ফজলে কবিরকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তিনি ওই বছরের ২০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগদান করেন। সেই অনুযায়ী তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ গত ২০ মার্চ শেষ হয়। পরে সরকার তার মেয়াদ আরও সাড়ে তিন মাস বাড়ায়। গত ৩ জুলাই সেই মেয়াদও শেষ হয়। গভর্নরের অবর্তমানে ডেপুটি গভর্নর-১ এসএম মনিরুজ্জামান ও ডেপুটি গভর্নর-২ আহমেদ জামাল তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। অবশেষে আবার ফজলে কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হলো। | 0 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার সড়কের অবস্থা ভালো আছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১ টায় গাবতলি বাসটার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এবার সড়ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো আছে। গাজীপুরে সড়কে যে সংকট ছিল, এবার আর সেই সংকট থাকবে না। উত্তরবঙ্গের সড়কে ঈদের সময় যে সমস্যা হয়, সেটাও আমরা উত্তরণ করেছি। কাজেই সেখানেও কোন সংকট হবে বলে মনে হয় না। সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবহনের সবাই যদি সচেতন হন, রং সাইডে গাড়ি যদি না চালান, একটু ভির হলেই দেখা যায়, অনেকেই রং সাইডে চলে যান। রং সাইডে দুই চারটা গাড়ি গেলেই পুরো রাস্তায় যানজট লেগে যায়। যার যে দায়িত্ব সেটা যথাযথ ভাবে পালন করা হলে, এবারের ঈদ যাত্রা অনেকটাই ভালো হবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 9 |
সরকারের জলবায়ু তহবিলের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাতে জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে বামজোট জলবায়ু তহবিলের অর্থ নয়ছয় ও ব্যাপক দুর্নীতিরও অভিযোগ করেন। জোট নেতারা বিবৃতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেননা পৃথিবীর প্রায় সব দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা হচ্ছে অথচ এখানে তা নির্মাণ করে পরিবেশ ও জলবায়ুর ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সম্প্রতি বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার বিচারের দাবিও করেন তারা। বিবৃতিতে জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মোহাম্মদ শাহ আলম, খালেকুজ্জামান, সাইফুল হক, মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, জোনায়েদ সাকি, মোশাররফ হোসেন নান্নু, মোশরেফা মিশু, ইকবাল কবির জাহিদ, হামিদুল হক স্বাক্ষর করেন। বৃস্পতিবার (২২ এপ্রিল) 'লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেট' এ দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে 'স্ববিরোধী' বলে উল্লেখ করেছেন বামজোটের নেতারা। তারা মনে করেন বাংলাদেশে জলবায়ু তহবিলের অর্থ নয় ছয় হচ্ছে। সে কারণে সরকারের কাছে তারা এ তহবিলের অর্থ বা আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। | 6 |
চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আবাসন মেলা। নগরীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার এ মেলা শুরু হয়েছে। এবারের মেলায় এক ছাদের নিচে ২৯টি আবাসন প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮০০টি প্রস্তুত ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য প্রদর্শন করছে। এমনকি নতুন এসব ফ্ল্যাটের জন্য বুকিংও নেওয়া হচ্ছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ১৪তম বারের মতো এই মেলা আয়োজন করেছে। মেলার এবারের স্লোগান 'স্বপ্নিল আবাসন সবুজ দেশ, লাল সবুজের বাংলাদেশ'। এমন সময়ে মেলা আয়োজন করা হয়েছে, যখন মহামারির ধাক্কা সামলে চট্টগ্রামে এই খাতে সুদিন ফিরেছে। মেলায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭১টি স্টল রয়েছে। আবাসন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ভবন নির্মাণসামগ্রী ও ঋণদাতা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। গতকাল দুপুরে মেলার উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। রিহ্যাবের সভাপতি শামসুল আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, রিহ্যাবের সহসভাপতি কামাল মাহমুদ, চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে নসরুল হামিদ বলেন, 'আগামীতে পরিকল্পিত শিল্প এলাকা ছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হবে না। সুতরাং যত্রতত্র বাণিজ্যিক স্থাপনা করবেন না।' রিহ্যাব চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, 'মেলার আগেই এ বছর আবাসন খাতে বিক্রির হার বিগত আট বছরের তুলনায় বেশি ছিল। ফলে এবারের মেলায় ফ্ল্যাট বুকিং ও বিক্রি প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।' তিনি বলেন, এবার মেলায় যেসব প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, তাদের হাতে অন্তত ৮০০টি প্রায় প্রস্তুত ফ্ল্যাট রয়েছে। চার দিনব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলায় একবার প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে ৫০ টাকা এবং মাল্টিপল টিকিটে চারবার প্রবেশ করা যাবে ১০০ টাকায়। মেলায় অংশ নেওয়া আবাসন প্রতিষ্ঠান সিপিডিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, 'মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে প্রকল্প হাতে নিয়েছি আমরা। প্রতিটি প্রকল্পে সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে নতুনত্ব আনা হয়েছে।' মেলায় অংশ নেওয়া জুমাইরা হোল্ডিংসের হাতে অবশ্য প্রস্তুত ফ্ল্যাট নেই। মেলায় তারা আটটি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প তুলে ধরছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের সবই বিলাসবহুল প্রকল্প। প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর বিক্রি করতে খুব বেগ পেতে হচ্ছে না। | 0 |
২০০৮ সালে 'ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ' প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন সানিয়া সুলতানা লিজা। এরপর বেরিয়েছে তাঁর বেশ কিছু অ্যালবাম। চলচ্চিত্রেও অসংখ্য প্লেব্যাক করেছেন লিজা। দেশের যে কয়েকজন সংগীতশিল্পী নিয়মিত কনসার্টে পারফর্ম করেন, লিজা তাঁদের অন্যতম। সম্প্রতি নতুন ব্যান্ড গঠন করেছেন তিনি। নাম দিয়েছেন-'লিজা অ্যান্ড লাইটস'।ব্যান্ডটির দলপ্রধান লিজা। সঙ্গে আছেন ওয়াহিদুল ইসলাম নয়ন (কি-বোর্ড), জাহিদুল হাসান রতন (বেজ গিটার), কাজী রাকিব হোসাইন (অক্টোপ্যাড), মাজেদ এমিলি (পারকেশন) ও পলাশ ফারুকী (লিড গিটার ও ব্যান্ড ম্যানেজার)। এই সদস্যদের নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে স্টেজ শো করছেন লিজা। টিভি লাইভেও নিয়মিত একসঙ্গে পাওয়া যায় তাঁদের। এত দিন পর তাঁদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যান্ডের ঘোষণা দিলেন লিজা।লিজা বলেন, 'প্রায়ই দেখি ব্যান্ডগুলোয় ভাঙন। আমার দলে তেমন কিছু ঘটলে তো খারাপ লাগবে। তাই শুরুতে ব্যান্ড করতে চাইনি। এভাবে একসঙ্গে আমাদের এক যুগ কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে এক পরিবারের মতো একে অপরের পাশে আছি আমরা। নিয়মিত প্র্যাকটিস করি। একদিন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাদের দলের এবার নাম দেওয়া উচিত। এত দিন যখন একসঙ্গে আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।'শুধু কনসার্ট আর টিভি শো নয়, লিজা অ্যান্ড লাইটস থেকে মৌলিক গানও প্রকাশের পরিকল্পনা আছে গায়িকার। লিজা বলেন, 'এই দল থেকে মৌলিক গান প্রকাশ করতে কোনো বাধা নেই। আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দল। আমি যেমন গাইতে পারি, অন্য সদস্যরা সুর করতে ও বাজাতে পারেন। তা ছাড়া, আমার মৌলিক গানগুলো স্টেজের জন্য আলাদা কম্পোজ করেই গাই। তাই কম্পোজিশনের চর্চা আছে আমাদের। তবে মৌলিক গান প্রকাশের ক্ষেত্রে আরেকটু সময় নিতে চাই আমরা।'লিজা অ্যান্ড লাইটস সর্বশেষ পারফর্ম করেছে বরিশালে। ভবিষ্যতেও তাঁদের বেশ কিছু স্টেজ শো আছে বলে জানিয়েছেন লিজা। | 6 |
সময় তখন রাত সোয়া ১২টা। ঘাট থেকে দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে মাঝসমুদ্রে জাহাজ। যাত্রার ক্লান্তিতে কেউ কেউ ঘুমিয়ে পড়েছেন। আবার ভ্রমণের আনন্দে আড্ডা-গল্পে মশগুল অনেকেই। কেউবা ব্যস্ত গভীর রাতের সৌন্দর্য উপভোগে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে ভেসে আসে 'আগুন, আগুন' চিৎকার। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জাহাজজুড়ে। সবার মধ্যে ভর করে উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগ। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকে সেন্ট মার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বে ওয়ানে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে জাহাজের একটি ইঞ্জিনে আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন জাহাজের কর্মীরা। তবে আতঙ্ক-ভয় আর কমেনি যাত্রীদের। শেষ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার পরিবর্তে চট্টগ্রামে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত হয়। আজ শুক্রবার বেলা ১টায় সে জাহাজ নগরের পতেঙ্গায় ওয়াটার বাস টার্মিনালে পৌঁছায়। ঘাটে নামার পর সবার মাঝে স্বস্তি ফেরে। আর শেষ হয় ১৩ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির। জাহাজে থাকা যাত্রীরা জানায়, আগুন ধরলে জাহাজটি সাগরে নোঙর করে রাখা হয়। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কান্নাকাটি করতে থাকেন। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে চরম আতঙ্কে ছিলেন অভিভাবকেরা। জাহাজে ছিলেন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি বলেন, আগুনের কারণে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তবে নিরাপদে ফিরতে পেরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন এখন।পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে জাহাজটি বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা যাওয়ার পর জাহাজে এই সমস্যা হয়। জাহাজটিতে থাকা পর্যটক জহুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হয়। ডেকের ওপর থেকে তার পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। সমস্যার পর ইঞ্জিন বন্ধ করে জাহাজটি সাগরে নোঙর করা হয়। পরে সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। গত বছর চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্রপথে সেন্ট মার্টিনে বিলাসবহুল এই জাহাজটির চলাচল শুরু হয়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স জাহাজটি পরিচালনা করে আসছে। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের মহাব্যবস্থাপক মো. হাসানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জাহাজের ইঞ্জিনে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে তিন মিনিটের মধ্যে জাহাজে থাকা টেকনিশিয়ানরা তা ঠিক করেন। এরপর জাহাজটির সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল। কিন্তু যাত্রীরা ভীত ছিল। ফিরে আসতে চেয়েছিল। এ জন্য জাহাজ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের জামালখানের বাসিন্দা আবদুল গাফফারের এক ছেলে, ছেলের বউ, দুই মেয়ে ও জামাতা, চার নাতি-নাতনি সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে যাচ্ছিলেন এই জাহাজে করে। একই জাহাজে ছিল তাঁর ভাতিজা, ভাতিজা বউ ও তাঁদের সন্তান। তিনি বলেন, সারা রাত টেনশনে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের চিন্তায় রাতে ঘুম হয়নি। তাঁরা নিরাপদে ফেরায় দুশ্চিন্তা কমেছে। | 6 |
মুন্সিগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার কাউন্সিলরের ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার বেলা পৌনে একটার দিকে উপজেলার মিরকাদিমের কমলাঘাট নৌবন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মুন্সিগঞ্জে ঘাটের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে পৌর মেয়র আবদুস সালামের ছেলে মানিকের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহত তরুণের পরিবার। নিহত তরুণের নাম মো. ঝলক শিকদার (২২)। তিনি মিরকাদিম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিটন শিকদারের ছেলে। মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ঝলক। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক মাস আগে মিরকাদিম লঞ্চঘাটের ইজারার দায়িত্বে ছিলেন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লিটন শিকদারের ভাই আওলাদ শিকদার। তখন পৌর মেয়র আবদুস সালামের অনুসারী নৈদিঘির পাথর এলাকার জিল্লুর, মাসুদ ও মমিনকে ঘাট থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে কাউন্সিলরের পরিবারের সঙ্গে জিল্লুরদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কিছুদিন পর পৌর মেয়রের ছেলে মানিক ঘাটের ইজারর দায়িত্ব পান। আজ লঞ্চঘাটে নৌকা থেকে টাকা তুলছিলেন জিল্লুর মাসুদ ও মমিনরা। টাকা তুলতে বাধা দেন ঝলকসহ কয়েকজন। এ সময় তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি ঝলককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান জিল্লুর পক্ষের লোকজন। স্থানীয় লোকজন ঝলককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এস এম ফেরদৌস বেলা দেড়টার দিকে প্রথম আলোকে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ঝলকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঝলকের বন্ধু সম্পদ বলেন, 'ঘটনার সময় ঝলক আর আমি একসঙ্গে ছিলাম। জিল্লুর খেয়াঘাটে চাঁদা তোলেন। আমরা তাতে বাধা দিই। এটাই ঝলকের জন্য কাল হয়েছে। মেয়রের ছেলে মানিকের নির্দেশে জিল্লুর, মাসুদরা চাকু মারে।' ঝলকের বাবা কাউন্সিলর লিটন শিকদার বলেন, 'আমার সব শেষ হয়ে গেল। মেয়র সালামের ছেলে মানিক আমার ছেলেকে মেরে ফেলল। ছেলে হত্যার বিচার চাই।' অভিযোগের বিষয়ে মিরকাদিম পৌর মেয়র আবদুস সালাম বলেন, নিহত ব্যক্তির পক্ষ অনেক কিছুই বলতে পারে। ঘটনার সময় তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাঁর ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, 'যে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে, এটা অনেক দিন আগের। লিটন কমিশনাররা জিল্লুর রহমানদের ঘাট থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে জিল্লুর ও লিটনদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছিল। আমি কয়েকবার তাদের মধ্যে মিল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি। এ ঘটনার জের ধরেই আজকে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।' মুন্সিগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বিকেল চারটার দিকে প্রথম আলোকে জানান, মূলত লঞ্চঘাটের ইজারা নিয়েই কাউন্সিলর লিটন এবং স্থানীয় জিল্লুর পক্ষের দ্বন্দ্ব ছিল এ দ্বন্দ্বের জেরে কাউন্সিলরের ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। | 6 |
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে 'ইকড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২১' অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ইকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে গতকাল শুক্রবার বিকালে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক উপজেলা যুবলীগ নেতা কামাল হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতায় ইকড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট কমিটি সপ্তাহব্যাপী এ খেলার আয়োজন করে। জেলার ৬টি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৮টি দল অংশগ্রহণ করবে। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে মাঠের পাশে বসে গ্রাম্য মেলা। খেলা শুরু হওয়ার আগে আয়োজকরা বক্তব্য রাখেন। এরপর ফুটবলে সর্ট মেরে শুভ উদ্বোধন করেন কুশনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন আবু। রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঝিনাইদহের পাগলাকানাই ইউনিয়ন কোর্টপাড়ার রবিউল ইসলাম। এসময় আয়োজকরা জানান, এই ফুটবল টুর্নামেন্ট উপভোগ করতে দুরদুরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মাঠের চারপাশে জমায়েত হন। প্রত্যেক বছর এ মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। করোনার কারণে দুই বছর খেলা বন্ধ ছিল। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
যানজট নিরসন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়সহ সব অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হবে। তাই অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশা জব্দ করছে জেলা ট্রাফিক বিভাগ। এদিকে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নামে পরিবহন শ্রমিক সংগঠন ও চালক-মালিক পক্ষ থেকে চাঁদা আদায় করছেন। মাসিক চাঁদা দেওয়ার পরও ট্রাফিক পুলিশ কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন স্থান থেকে কেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করছেন, তা নিয়ে শ্রমিক সংগঠন ও চালক-মালিকদের ক্ষোভ।তাই টোকেন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা। গতকাল বুধবার সকালে নগরীর কচুয়া চৌমুহনীতে তাঁরা এ বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অটোরিকশা বন্ধ রাখেন।পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশিস ঘোষ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাবলু ও জেলা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক এমদাদুল হকের আশ্বাসে সড়ক থেকে সরে আসেন চালকেরা।আন্দোলনকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক নূর মোহাম্মদ বলেন, 'আমরা নগরীতে চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। প্রতি মাসে বিভিন্ন সংগঠন আমাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক নেতা, ট্রাফিক পুলিশসহ বিভিন্নজনকে ম্যানেজ করার নাম করে টাকা নেন। আমাদের টোকেন দেন, যাতে কেউ হয়রানি না করে। অথচ আমরা এখনো হয়রানির শিকার হচ্ছি।'বিক্ষোভকারী সুমন বলেন, 'সংগঠনকে মাসিক চাঁদা, প্রতিটি মোড় পার হওয়ার সময় চাঁদা, মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকায় টোকেন সংগ্রহ না করলে বিভিন্ন হয়রানি, ট্রাফিক পুলিশের নামে চাঁদাসহ বিভিন্ন অজুহাতে আমরা চালক ও মালিকেরা হয়রানি হচ্ছি।'জেলা অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আলম বলেন, 'আমাদের সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থ আদায়ে কাজ করে। আমরা কোনো টোকেন বাণিজ্যর সঙ্গে জড়িত নেই। শুনেছি একটি চক্র এই টোকেন বাণিজ্যর সঙ্গে জড়িত। আমাদের সংগঠন থেকে ট্রাফিক বিভাগকে বলা হয়েছে, যে সকল যানবাহনের কাগজপত্র নাই, তা জব্দ করে নিয়ে যেতে। যাঁদের গাড়ির কাগজপত্রে মেয়াদ নাই, মামলা দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিতে। অথচ সব গাড়ি জব্দ করায় শ্রমিকেরা আন্দোলন করেছেন।'জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক এমদাদুল হক বলেন, 'নগর যানজট নিরসন কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নগরীতে অবৈধ স্ট্যান্ড বসতে দেওয়া যাবে না। আমরা এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছি। সবাইকে বলার পরও এসব স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখায় জব্দ করছি। তাতে অনেক চালক উল্টো ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ট্রাফিক পুলিশের নামে কেউ হয়রানি করলে, চালকদের আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি।' | 6 |
রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আধুনিকায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নিজস্ব অর্থায়নে ৩০টি কম্পেক্টর ভেহিক্যাল কিনবে। বুধবার নগরীর ওয়াসা রোডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা জানান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তাপস বলেন, 'আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যেন বর্জ্য সংগ্রহ করে সরাসরি কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে নেওয়া যায়- সেই প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনায় নজর দিচ্ছি। আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করছি। বর্জ্য সংগ্রহকারীও নিবন্ধন করেছি, যাতে করে তাদের মাধ্যমে সরাসরি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা থেকে বর্জ্য নিয়ে আসতে পারি। এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনেছি।'তিনি বলেন, 'আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ১৫টি ১০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ও ১৫টি ৭ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ৩০টি কম্পেক্টর ভেহিক্যাল কেনার উদ্যোগ নিয়েছি।'ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, 'এ নিয়ে ৩৯টি এসটিএস আমরা নির্মাণকাজ শেষ করেছি। বাকিগুলোর কাজ চলমান আছে। আশা করছি, এ বছরের মধ্যেই আমাদের ৭৫টি ওয়ার্ডে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারব।'এ সময় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর সিতওয়াত নাঈম, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্য অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত দুই শিক্ষার্থীকে এক সহকারী প্রক্টর লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এদিকে বুধবার চলমান ধর্মঘটে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ ছাড়া এদিন উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন 'অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর'-এর পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। হামলা ও লাঞ্ছিতের বিষয়ে জাবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, 'অবরোধ ও ধর্মঘটের সমর্থনে সকালে পুরোনো কলাভবনের সামনে অবস্থান নিই। সাড়ে ১০টার দিকে কিছু উত্তেজিত শিক্ষার্থী এসে আমাকে ধরে টানতে থাকে। এ সময় সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল স্যারও (নাট্য ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক) এসে আমাকে ঘাড় ও কলার ধরে জোরে টানতে থাকে। এতে প্রথমে আমি গেটের সঙ্গে হাতে আঘাত পাই। পরে স্যার ঘাড় ও কলার ধরে ফের টান দিলে নিচে পড়ে আঘাত পাই। একজন শিক্ষকের এ ধরনের আচরণে আমি হতবাক। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তিনি হামলা করেছেন। তার শাস্তি হওয়া উচিত।' এ ঘটনায় তিনি প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। আরেক ছাত্রী প্রক্টর বরাবর একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, 'ধর্মঘট চলাকালে সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল তার অনুসারী শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।' হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলাভবন থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন অনুষদ ও সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে 'উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে' গিয়ে শেষ হয়ে। হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, একজন সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনা চরম নিন্দনীয়। এ দিয়ে বোঝা যায় উপাচার্য তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে কীভাবে ক্যাম্পাস শাসন করছেন। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মহিবুর রৌফ শৈবাল বলেন, 'আমি কোনো হামলা করিনি। আমি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জয়ের কলার নয়, ঘাড় ধরে গেট থেকে সরিয়ে আনছিলাম। এ সময় নিচে থেকে কেউ একজন আমার তলপেটে ৮-১০টি লাথি মারে। এখন আমি সাভারের এনাম মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছি।' এ বিষয়ে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল।সহকারী প্রক্টর শৈবালএ সময়জয়কে গেটের সামনে থেকে সরিয়ে আনতে যান। তখন পেছন থেকে কেউ জয়কে ধাক্কা দিলে সে পড়ে যায়। এ ঘটনায় শৈবাল নিজেও আহত হয়েছেন। আর ওই ছাত্রীর অভিযোগপত্র এখনও পাইনি। কারণ আমি হাসপাতালে ছিলাম।' | 6 |
মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণাধীন ঘরের মান দেখতে ঠাকুরগাঁওয়ে পরিদর্শনে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক জাজরীন নাহার। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার ঢোলার হাট ইউনিয়নের বড়দেশ্বরী ও সালন্দর ইউনিয়নের ঘাট পাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর সরেজমিন পরিদর্শন করেন তিনি। পরে এ উপলক্ষে সালন্দর ইউনিয়নের ঘাটপাড়ায় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মুজিবের গান উপভোগ করেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক জাজরীন নাহার। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভূমি কমিশনার কামরুজ্জামান সোহাগসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক জাজরীন নাহার জেলার বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার নির্মাণাধীন ঘর পরিদর্শন করেন। এবার মজিববর্ষ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলায় ৭ হাজার ৮০০ ঘর নির্মাণ হচ্ছে গৃহহীনদের জন্য। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ঘর হস্তান্তর করবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
বারবার অনুরোধ করার পরও দেখা যাচ্ছে মানুষ জনসমাগম পরিহার করতে চাচ্ছেন না। এভাবে নিয়ম অগ্রাহ্য করলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শনিবার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে একথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সাধারণ রোগে মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা পাচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উদ্বেগ জানিয়ে বলেন,'বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মানুষ এখন বিপদে আছে, এই বিপদে তারা (প্রাইভেট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান) যদি চিকিৎসা না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকে তবে সরকারও তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।' বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাত-পা বেঁধে ও মুখে দড়ি লাগিয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নদীর পানিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদলার পাড় গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে স্থানীয় প্রতিবেশী আবুল হোসেন বস্তার মুখ খোলে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।উদ্ধারকৃত নারী বাদলার পাড় গ্রামের কারি নিজাম উদ্দিনের মেয়ে মাইফুল নেছা (২৩)। তিনি বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।মাইফুল নেছার মা মমতা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলার চৌধুরীপাড়া গ্রামের সাজিদুল মিয়ার ছেলে আবু তাহের জান্নাতের (২৮) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের টাকা মেটানোর জন্য আমার মেয়ে মাইফুলকে চাপ দিচ্ছিল আবু তাহের। কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। কিছুদিন আগে বিষ খাইয়ে মেরেও ফেলতে চেয়েছিল আমার মেয়েকে। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে বিচার সালিসও হয়েছে আবু তাহেরের বিরুদ্ধে।বিচার সালিসের পর গত রাতে আমার মেয়ে টয়লেট গেলে মেয়ের স্বামী, শ্বশুর ও দেবররা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাঁর মুখ চেপে ধরে হাত, পা বেধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পাশে ভাঙার খাল নদীতে ফেলে দেয়।মাইফুল নেছার বোন জামাই আশু মিয়া ও বড় ভাই ওবায়দুল্লাহ জানান, বিয়ের পর থেকেই তারা আমার বোনকে নির্যাতন করছিল। যৌতুকের ৫০ হাজার টাকার দাবি মেটানোর পরও নির্যাতন বন্ধ করেনি। আজ হাত পা বেঁধে আমার বোনকে নদীতে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিল।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আবু তাহের জান্নাত, তাঁর বাবা ও ভাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
বিএনপির বেশির ভাগ নেতা ও জোটের শরিকের অনেকেই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণ-অনশন কর্মসূচির বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এমন গণ-অনশন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। এসব কর্মসূচিতে যদি বিএনপির নেতা-কর্মীরা মরেও যান, তবু তাঁর মুক্তি মিলবে না। তাঁকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। স্বেচ্ছায় কারাবরণ করার চেয়ে রাজপথে আন্দোলনই খালেদা জিয়ার মুক্তি এনে দিতে পারে। বিএনপিরকারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে আজ রোববার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করে দলটি। আজকের কর্মসূচিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের নেতারাও অংশ নেন। গণ-অনশন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বিএনপির নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। গণ-অনশন কর্মসূচি শুরুর পর থেকে বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। দলটির অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ও জোট শরিক দলের নেতারা দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে কর্মসূচি চান। তাঁরা বলেন, খালেদা জিয়ার কারাবাসের প্রায় ১৪ মাস চলছে। এর মধ্যে তাঁকে মুক্ত করার জন্য বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে এসেছে, কিন্তু কোনো কার্যকর কর্মসূচি হাতে নেয়নি। এতে করে দলের নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়েছেন। এ ছাড়া যে পরিস্থিতি, তাতে আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো সুযোগ নেই। সে জন্য রাজপথে আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়া ও 'গণতন্ত্রকে' মুক্ত করা সম্ভব না। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এর আগেও বেশ কয়েকবার অনশন, প্রতীকী গণ-অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। আজকের কর্মসূচিটি নির্ধারিত সময়ের চেয়েও আধা ঘণ্টা বেশি সময় পালন করেছে দলটি। যদিও নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা। অনেকে অভিযোগ করেছেন, অনেক নেতা-কর্মী চেহারা দেখিয়ে দু-একবার স্লোগান দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। এমন ধরনের নেতা-কর্মী থাকলে কোনো কর্মসূচি দিয়ে কাজ হবে না। এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সকাল থেকে অনুষ্ঠিত গণ-অনশন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকলেও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ কর্মসূচিতে উপস্থিত হন বেলা ৩টা ৫ মিনিটে। দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আবদুল মঈন খান কর্মসূচিতে এসে পৌঁছান দুপুর আড়াইটার পর। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাসও দুইটার পর গণ-অনশনে যোগ দেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই 'অবৈধ', 'গণবিচ্ছিন্ন' সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে লাভ নেই। তাঁকে জেলে নেওয়া হয়েছে যে উদ্দেশ্যে, সেটি পূরণ হয়েছে। বর্তমানে গায়ের জোরে সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখতে পারবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। তাঁকে মুক্ত করতে হলে রাজপথের আন্দোলনের বিকল্প নেই। স্লোগান দিয়ে তাঁর মুক্তি হবে না। তিনি বলেন, এই সরকার গত ১০ বছরে মানুষের অনেক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনা। সরকার যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা বেশি দিন থাকবে না। এই শূন্যতা পূরণ হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন না করলে খালেদা জিয়া ও 'গণতন্ত্রকে' মুক্ত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, অনেকে বলেন বিএনপি আন্দোলন করতে জানে না। কার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে? প্রতিপক্ষ দল তো নেই। যেটি আছে, সেটি পত্রিকায় দেখা যায়, বাস্তবে নেই। এই সরকারের একধরনের ভীতি কাজ করে। যে কারণে সরকারের সম্পূর্ণ আস্থা পুলিশ, র্যাব বাহিনী ও অন্য বাহিনীর ওপর। নিজ দলের ওপর আস্থা নেই। খালেদা জিয়ার প্যারোল মুক্তির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্যারোল মুক্তি নিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়া কখনো প্যারোল নেননি। তিনি প্যারোল নেবেন না। তিনি বলেন, সরকার যদি প্যারোল দিতে পারে, তাহলে আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করা হয় কেন? তিনি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং দলের নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে কর্মসূচি চেয়ে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার বলেন, '২০-দলীয় জোটের কাছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানাই। মাহমুদুর রহমান মান্না নন, আমরা ঐক্যফ্রন্টের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন আশা করছি। না হলে ঐক্যফ্রন্টকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।' কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, 'হলের ভেতরে গণ-অনশন করে ১০০ বছরেও শেখ হাসিনাকে নড়াতে পারবেন না। এই "অবৈধ" সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি আপনারা করতে পারেন না। করলে আপনাদের পতন হবে।' বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'যদি রাস্তায় নামতে পারেন, নামেন। আরও ১০টা মামলা হবে। দেশটা তো কারাগার হয়ে গেছে। রাস্তায় নামলে একসময় শেখ হাসিনা বলবেন, "ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি"।' জেএসডির সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন, 'ঘরের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইতে রাজি নই। এখানে ১ হাজার ১০০ জন লোক মারা গেলেও কিছু হবে না। বাংলাদেশে অনেক ধরনের ডিক্টেটর (স্বৈরাচার) এসেছে, কিন্তু এমন সিভিল ডিক্টেটর কখনো আসেনি।' তিনি বলেন, 'যদি খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে চান, তাহলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়তে হবে। আমি এখনই রাস্তায় নামতে রাজি আছি। আপনাদের নেতারা রাজি আছে কি না বলুন?' সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নেতাদের আন্দোলনের দাবি মেনে নেন। তিনি বলেন, 'আমরা কোনো প্যারোলে মুক্তির কথা বলিনি। জামিন পাওয়া খালেদা জিয়ার অধিকার। যেসব মামলায় অনেকে জামিন পেয়েছেন, সেখানে তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে বাইরে আনতে সরকার ভয় পায়।' তিনি বলেন, সরকার দেশের সব অর্জন, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশ বাঁচাতে এবং খালেদা জিয়াকে যেকোনো মূল্যে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল শহীদউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ ২০-দলীয় জোটের নেতারা গণ-অনশনে একাত্মতা জানিয়ে বক্তব্য দেন। অবশ্য অনশনে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। | 9 |
ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তাদের দল এখন চরম দুর্দিনের ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতায় বিএনপি আজ গভীর সঙ্কটে নিপতিত। সোমবার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক দৈন্যতায় চরম দুর্দিনের কালো অন্ধকারের হতাশা জেঁকে বসেছে বিএনপির মনে। সেই সঙ্কট ঢাকতে মির্জা ফখরুল জাতিকে দুর্দিনের আষাঢ়ে গল্প শোনানোর পাঁয়তারা করছেন।' ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির শাসনামলের দুঃসহ নির্যাতন-নিস্পেষণ এখনও দেশবাসীর স্মৃতিতে দগদগে ক্ষতের স্মারক বহন করছে। বাংলার জনগণ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও চরম অনিশ্চয়তার দুর্বিসহ সময়ে আর ফিরে যেতে চায় না। সেই অন্ধকার সময় কাটিয়ে দেশ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে আলোকজ্জ্বল আগামীর পথে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, 'সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কালজয়ী নেতৃত্বে স্বৈরতন্ত্রের প্রতিভূ বিএনপি-জামায়াতের সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা এবং পারিপার্শ্বিক সবধরনের প্রতিবন্ধকতা জয় করে উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, এগিয়ে যাবেই। বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবেই, ইনশাল্লাহ্।' ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থান বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও বেগবান করে তোলে। তিনি বলেন, একইভাবে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বাতিঘর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তৎকালীন আরেক স্বৈরশাসক চট্টগ্রামের লালদিঘীর ময়দানে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গণহত্যা চালায়। বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রাণরক্ষায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করেন। সেদিন পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর নির্বিচার গুলি চালিয়ে ২৪ জন বা তার অধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করে। আহত হন কমপক্ষে দুই শতাধিক নেতাকর্মী। তাই দিনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নৃশংসতম কালো দিন। সেতুমন্ত্রী বলেন, বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে যে দেশদ্রোহী অপশক্তি স্বৈরাচার আইয়ুব-মোনেমের পক্ষে তথা বাঙালির স্বাধীনতা এবং মুক্তির বিপক্ষে ছিল তাদের উত্তরাধিকার আজও বাংলাদেশের গণতন্ত্র-উন্নয়ন অগগ্রতি-মুক্তি ও সমৃদ্ধির পথে প্রধান অন্তরায়। সেই অপশক্তির প্রতিভূ বিএনপি-জামায়াত দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে ব্যাহত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বৈরশাসনের গর্ভে জন্ম নেওয়া বিএনপি গায়ে গণতন্ত্রের আস্তিন জড়ালেও তাদের আস্তিনের মধ্যেই রয়েছে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরা দানবীয় রূপ। স্বৈরতন্ত্রের প্রতিভূ বিএনপির গোপন অভিপ্রায়ে রয়েছে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার নানামুখী ষড়যন্ত্রের নীলনকশা। নির্বাচনে অংশ না নেওয়া, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিকরণে অনিহা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং দেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকা সেই নীলনকশারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। | 9 |
পুনম পান্ডের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছিল, আরশি খানের ক্ষেত্রেও তাই হলো। আইপিএলে কেকেআর-এর জয়ের শর্তে নগ্ন হওয়ার কথা বলে বলিউডে ব্রেক থ্রু পেয়েছিলেন পুনম পান্ডে। আর এবার ইডেনে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে নগ্নতায় বাজি ধরা আরশি খানের কাছে বলিউডে পা রাখার সুযোগ এলো।
আরশির দাবি, তার কাছে দুটি বলিউড সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছে। দুটিই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ছবি। তবে কারা তাকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন কিংবা তিনি রাজি হলেন কি না সেসব কিছু জানাতে রাজি হননি আরশি।
দীর্ঘদিন ধরেই মডেলিংয়ের সঙ্গে জড়িত আরশি। তিনি আফ্রিদির শয্যাসঙ্গিনী গার্লফ্রেন্ড দাবি করে খবরে এসেছিলেন। তারপর দিন যত গড়িয়েছে নিজের বিস্ফোরক দাবিতে তত মশলা দিয়েছেন আরশি। শেষ অবধি ইডেনে টি২০ বিশ্বকাপে ভারত জিতলে খোলা পিঠে ছবি আপলোড করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাস্তবেও করে দেখিয়েছেন। আরশির সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
| 2 |
এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের খুব কাছে বুচা শহরে এক গণকবরের সন্ধান পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, গণকবর থেকে যাদের দেহ উদ্ধার হয়েছে, তারা সবাই সাধারণ মানুষ, সেনাসদস্য নন। তাদের দেহে অত্যাচারের স্পষ্ট চিহ্ন আছে। পেছন থেকে তাদের মাথায় গুলি করা হয়েছে বলেও বোঝা যাচ্ছে। এ ভয়াবহতার বিচার চেয়ে বিশ্ব রাজনীতির কাছে আর্জি জানিয়েছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সেই একটি কবরই বুঝিয়ে দেয়, ইউক্রেনে রাশিয়া কী ঘটিয়েছে। এছাড়াও কিয়েভ, বুচা-সহ একাধিক শহরে রাস্তায় মৃতদেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বস্তুত, গণকবরের ছবি উদ্ধার হওয়ার পরে বিশ্বের একাধিক দেশ এর বিরোধিতা করেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলফ শলৎস রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হবে বলে জানিয়েছেন। ২০০৮ সালে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য পদ দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গেছিল।অ্যামেরিকার উদ্যোগে সে কাজ হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জার্মানি এবং ফ্রান্স বাধা দেয়। সে সময় জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি। দুই বিশ্বনেতা জানান, ইউক্রেন এখনো ন্যাটো যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। আরো কিছুদিন পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ইউক্রেনকে সদস্যপদ দিলে রাশিয়া আক্রমণাত্মক মনোভাব নিতে পারে, এই আশঙ্কাতেই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ম্যার্কেল এবং সারকোজি। জেলেনস্কি বলেছেন, ম্যার্কেল ও সারকোজি গিয়ে ইউক্রেনের গণকবর দেখে আসতে পারেন। তাদের সিদ্ধান্তের জন্যই আজ ইউক্রেনকে এই সংকটে পড়তে হয়েছে। ইউক্রেনের এ পরিস্থিতির জন্য সেই দুই বিশ্বনেতাকে সরাসরি দায়ী করেছেন জেলেনস্কি। তবে জেলেনস্কির সেই বক্তব্যের পর জার্মানি বা ফ্রান্স কেউই কোনো মন্তব্য করেনি। রবিবার গ্র্যামি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সেই মঞ্চেও একটি রেকর্ডেড বক্তৃতা দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, এ এক অদ্ভুত নৈঃশব্দ। বোমার নৈঃশব্দ। মৃত্যুর নৈঃশব্দ ঘিরে ধরেছে ইউক্রেনকে। আপনারা প্রতিবাদ করে, গান গেয়ে কবিতা লিখে সেই নৈঃশব্দের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন। চুপ করে বসে থাকবেন না। বস্তুত এর পরেই ইউক্রেনের এক সংগীতকার গ্র্যামির মঞ্চে যুদ্ধবিরোধী গান গেয়ে শোনান। ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ান বহু শিল্পী। এদিকে এক ডাচ সাংবাদিককে ইউক্রেন থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। রাশিয়ার রকেট তেল শোধনাগারের ওপর পড়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন সেই ডাচ সাংবাদিক। ফলে রবিবার ইউক্রেনের গোয়েন্দারা তাকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে সীমান্তের ধারে নামিয়ে দেয়া হয়। আগামী ১০ বছর তিনি ইউক্রেনে ঢুকতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছে। | 3 |
৫ লাখ টাকার চেক প্রতারণার অভিযোগে নায়িকা অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাঠানো আইনি নোটিশকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, তাকে অপমান ও হেয় করতেই এ ঘটনা সাজানো হয়েছে। এটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে অপু বিশ্বাস বলেন, 'অনেক আগেই তো আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া গত বছর এই চেক নিয়ে থানায় জিডিও করেছি। এই চেক নিয়ে কীভাবে আইনি নোটিশ পাঠায়? বোঝাই যাচ্ছে যে আমার সম্মানহানির জন্য এমনটা করা হয়েছে। আমি চুপ করে থাকবো না। বাদশাহ বুলবুলে বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবো।' এর আগে রবিবার (১৯ জুলাই) চেক প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মুনজুর আলমের মাধ্যমে অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন () বাদশাহ বুলবুল নামের এক ব্যবসায়ী। নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী বাদশাহ বুলবুলের সঙ্গে অপু বিশ্বাসের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সুবাধে প্লট ক্রয়ের কিস্তি পরিশোধ, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য অপু ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নেন। গত ৭ জুলাই সে ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে ৫ লাখ টাকার একটি চেক দিলে অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেটি ফেরত দিয়েছে। বিষয়টি অপু বিশ্বাসকে জানানো হলে তিনি কালক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তাই লিগ্যাল নোটিশে অপুকে ৩০ দিনের মধ্যে সব অর্থ পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। তা না করা হলে অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। | 2 |
ঈদুল আজহার তিনদিনের ছুটি শেষে আজ থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, প্রশাসনের কেন্দ্রস্থল সচিবালয়, ব্যাংকসহ সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। সেজন্য রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষ। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে পাড়ি দিয়েছিলেন অনেকে। ঈদের ছুটি শেষে তারা আবার রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কল্যাণপুর-গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে অনেককেই ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। বাস কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগমুহূর্তে প্রায় সবাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়লেও ফেরার সময় আস্তে আস্তে ফেরেন। অনেকেই ঈদের নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি যোগ করে নেন। আবার কেউ কেউ ঈদ শেষে অফিস ধরতে ঢাকায় ফিরলেও তাদের পরিবার বাড়িতে থেকে যান আরো কিছুদিন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা কম সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই ফেরার সংখ্যাটাও কম। এদিকে, ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পাশপাশি অনেককেই ঢাকা ছাড়তেও দেখা গেছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা ঈদের সময়েও বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন সাধারণত তারা ঢাকা ছাড়ছেন। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় স্বজনদের বাসায় বেড়াতে আসা লোকজন এবং ঈদ কেন্দ্রীক জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসা নিম্নবিত্ত মানুষরা এখন বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন। | 6 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮৫ জনে।একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫২৯ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ২৬৬ জনে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২০ হাজার ১৩২টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৪০ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩৮ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪ জন, চট্টগ্রামে ২ জন ও খুলনা বিভাগের ২ জন রয়েছেন। | 6 |
ঢাকা: করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশে রিকশা ছাড়া সব ধরনের পরিবহন বন্ধ করে আজ থেকে তিন দিন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে এই বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সড়কে বাস ছাড়া সবই চলছে। ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সব যানবাহনই চলতে দেখা গেছে।সোমবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা, নতুনবাজার, মেরুল, গুলশানসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। সরকারের বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শুধু রিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহন চলবে।সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তর বাড্ডার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে মতিঝিল যাওয়ার উদ্দেশে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক যাত্রী খুঁজছেন। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কেন সড়কে-জানতে চাইলে ওই চালক বলেন, অনেকে অফিসে যাইতে পারে না বাস নাই। তাই কম ভাড়ায় যাত্রী নিচ্ছি। মানুষের উপকার হচ্ছে। আমারও কিছু টাকা আসছে।' এর আগে সকালে আবদুল্লাহপুর থেকে চারজন নিয়ে বাড্ডায় আসেন বলে জানিয়েছেন তিনি।নতুনবাজার বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক দিদার বলেন, এসব লকডাউন দিয়া কী হইব? সরকার কি যারা অফিস যাইব হ্যাগো গাড়ি দিছে?'সরকারের এই বিধিনিষেধে দোকানপাট, মার্কেট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও বিভিন্ন মহল্লায় গড়ে ওঠা কাপড়ের দোকানগুলো খোলা থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিনা প্রয়োজনে অলিগলিতে, চায়ের দোকানে আড্ডা জমাতেও দেখা গেছে অনেককে। | 6 |
ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি অবসর নিলে দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব। ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির পেছনে ধোনির অনেক অবদান রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস বিশ্বকাপের পর থেকে মাঠে বাইরে রয়েছেন ধোনি। ওই আসরের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় ভারত। মাঠের বাইরে থাকায় ধোনির অবসর নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কিন্তু অবসর নিয়ে ধোনি মুখ খুলছেন না। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলী, জাতীয় দলের নির্বাচক, অধিনায়ক-কোচ কেউই ধোনির ভবিষ্যত নিয়ে খোলাসা করে কিছুই বলছেন না। তবে অনেকের ধারণা, আগামী আইপিএলে নিজের পারফরমেন্সের বিচার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন ধোনি। এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন ভারতের কোচ রবি শাস্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, 'আগামী আইপিএলের উপর নির্ভর করছে ধোনির ভবিষ্যত।' সম্প্রতি কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে ধোনিকে বাদ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকতে হলে যে সংখ্যক ম্যাচ খেলতে হয়, তা খেলেননি ধোনি। তাই ধোনিকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখেনি বোর্ড। তবে কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে ধোনির মত অবস্থা ভারতের দুই লিটল মাস্টার সুনীল গাভাস্কার ও শচীন টেন্ডুলকারের হয়েছিল বলে জানান কপিল, 'কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই ধোনি, এতে আমি দুঃখিত। গাভাস্কার-টেন্ডুলকারেরও এমন অবস্থা হয়েছিল।' ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারতের অধিনায়ক ছিলেন ধোনি। কপিলও ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালে প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতে ভারত। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 12 |
যশোরের ঝিকরগাছার বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ করেছেন এক প্রার্থী। গতকাল রোববার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টিউবওয়েল প্রতীকের সদস্য পদপ্রার্থী শামসুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগে শামসুর রহমান উল্লেখ করেন, 'ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর গণনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার আনওয়ারুল ইসলাম আমার প্রতীক টিউবওয়েলে ভোট বেশি থাকা সত্ত্বেও কারচুপি করে আমাকে পরাজিত ঘোষণা করেন। এ কেন্দ্রে কোনো প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। প্রিসাইডিং অফিসার আমার কোনো এজেন্টের স্বাক্ষর না নিয়ে ভয়ভীতি ও জোর জবরদস্তি করে আমাকে পরাজিত ঘোষণা করেন। এ মর্মে রিটার্নিং অফিসার কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেননি।'প্রিসাইডিং অফিসার আনওয়ারুল ইসলাম বলেন, 'ইউপি নির্বাচনে ভোট গণনায় কোনো কারচুপি হয়নি।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, 'অভিযোগ পেয়েছি তবে, অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।' | 6 |
মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ৯৪ জন। এছাড়া এ সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে আরো ৩ হাজার ৭২৪ জনের শরীরে। এ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬ হাজার ১০৯ জনে। আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ২৬১ জন। করোনাভাইরাস নিয়ে সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজার ৮৫৫টি। শনাক্তের হার ১২.৭ শতাংশ। আরো উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরো ৬ হাজার ১৮৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ২১ হাজার ৮৮৩ জন। এর আগে রোববার করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের। এছাড়া করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৪৮ জনের দেহে। গত ৫ ও ১০ আগস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়। এছাড়া ২৭ জুলাই মৃত্যু হয় ২৫৮ জনের। তার আগের দিন মৃত্যু হয় ২৪৭ জনের। এবং ২ আগস্ট মৃত্যু হয় ২৪৬ জনের। এছাড়া ২৮ জুলাই করোনা শনাক্ত হয় সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের শরীরে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। | 6 |
বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও মেক্সিকো সিটির সাবেক মেয়র আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর সংক্ষেপে আমলো, অবশেষে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিক ভোটগণনায় দেখা গেছে, ৫৩ ভাগ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দ্বিগুণ। নির্বাচিত হওয়ার পর আজ রবিবার স্থানীয় সময় বিকেলে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আমলো বলেন, 'আজ, সবাই আমাদের বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে।' সূত্র: বিবিসি ও সিএনএন বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
মির্জাপুরে চলতি মৌসুমে কয়লার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে ইট পোড়ানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভাটার মালিকেরা। সিন্ডিকেটে করে কয়লার দাম কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে বলে ভাটার মালিকেরা অভিযোগ করেছেন। দাম সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।তবে ভারত কয়লা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দাম বেড়েছেন বলে দাবি কয়লা ব্যবসায়ীদের। তাঁরা বলছেন, বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। ফলে দাম বেড়েছে।জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় ৯৬টি ইটভাটা রয়েছে। আগে এসব ইটভাটায় লাকড়ি পোড়ানো সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও পরিবেশবান্ধব ঝিকঝাক ভাটা তৈরি করায় লাকড়ি পোড়ানো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ইট পোড়াতে বর্তমানে শতভাগ কয়লার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁদের। কিন্তু সম্প্রতি বেড়েছে কয়লার দাম। তা-ও আবার প্রায় তিনগুণ। আর দাম বাড়ার জন্য ইটভাটার মালিকেরা দায়ী করছেন কয়লা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে।মির্জাপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি আবদুল কাদের শিকদার বলেন, 'সিন্ডিকেট করে ভারতীয় কয়লা আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সুযোগে ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কয়লা কয়েক গুণ বেশি দামে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছি। গত বছর টনপ্রতি কয়লা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। সেই কয়লা চলতি মৌসুমের শুরুতেই প্রায় তিনগুণ অর্থাৎ ২০ থেকে ২১ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। অথচ এসব কয়লা দিয়ে পোড়ানো ইট বিক্রি করতে হবে আগের দামেই। ফলে অতিরিক্ত মূল্যে কয়লা কিনে ভাটার মালিকদের মূলধন হারাতে হবে।'বাঁশতৈল এলাকার মেসার্স এলবিএম ব্রিকসের মালিক তাজুল ইসলাম বলেন, 'কয়লার দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার অর্ধেক ভাটার মালিক ইট পোড়ানো বন্ধ রেখেছেন।'মির্জাপুরের গোড়াই সৈয়দপুর এলাকার মেসার্স শাকিল ব্রিকস মালিক নুর মোহাম্মদ বলেন, 'গত বছর এক কোটি টাকার কয়লা লেগেছিল। এখন সেই পরিমাণ কয়লা কিনতে তিন কোটি টাকা লাগছে। এতে মূলধন খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। কয়লার বাড়তি দামের সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি গাড়ি ভাড়া।'টাঙ্গাইল জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান বলেন, 'প্রত্যেক ইটভাটার মালিক ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন। কয়লার দাম এভাবে বাড়তে থাকলে মূলধন হারিয়ে দেউলিয়া হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। কয়লার দাম নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।' | 6 |
বন্ধু রিকার্ডো ফালকোসহ মোট ৪ জনকে সঙ্গে নিয়ে ২০১৩ মিলান মিলান ভেন্যু নামক একটি নাইট ক্লাবে যান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার রবিনহো। সে সময় তিনি ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে খেলতেন। নাইট ক্লাবে আনন্দ ফুর্তি করতে গেলেও সেখানে গিয়ে তিনি চরম ঘৃন্য এক কাজ করে বসেন। নিজের বন্ধুকে নিয়ে সেই নাইট ক্লাবেই এক আলবেনিয়ার ২৩ বছরের এক তরুণীকে গণধর্ষণ করেন। আর সেই ঘটনার পর রবিনহোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সেই তরুণী। এরপর রবিনহোর বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দেশটির পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ধর্ষনের প্রমাণ পায় তদন্তকারীরা। আর এ ঘটনার কারণে ২০১৭ সালে তাকে ৯ বছরের জেল দেয় ইতালির পুলিশ। তিনিসহ আরো যে ৫ জন এই ধর্ষনের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেককে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে ৫০ হাজার ইউরো করে জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। তবে সেই অভিযোগ প্রথম থেকেই অস্বীকার করেন রবিনহো। ফলে তার বিরুদ্ধে রায় দেয়ার পর তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তবে আপিল করেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। কারণ আপিল বিভাগ সেই রায়টিকেই বহাল রেখেছেন। অবশ্য রবিনহো জানিয়েছেন তিনি দ্বিতীয়বারের মত এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। ফলে রবিনহোকে এখনই জেলে যেতে হবে না। ইতালির আইন অনুযায়ী আপিল কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলের বাইরে থাকা যাবে। এদিকে আপিল বিভাগেও তার সাজা বহাল রাখায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ধর্ষণের শিকার সেই তরুণীর আইনজীবি। রায় শেষে তিনি বলেন, 'এই রায় একটি যুগান্তকারী রায়। এটির মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে আইন এখনো কার্যকর রয়েছে। এটি নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। এদিকে অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে রবিনহোর সাবেক ক্লাব সান্তোস তাকে পুনরায় দলে নেয়ার ঘোষণা দেয়। তবে এই ঘোষণা দেয়ার পরই তারা তীব্র সমালোচনায় পরে। ধর্ষনের সাজাপ্রাপ্ত একজন খেলোয়াড়কে দলে ভেড়ানোয় তাদের সমালোচনা করে মানুষ। আর এরপরই সান্তোস সেই চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও সান্তোস তাদের বিবৃতিতে বলে যে রবিনহো যেন তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় মনযোগ দিতে এ জন্য তারা তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। | 12 |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষকেরর পদোন্নতি৪ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১৪তম সিন্ডিকেটের সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। বহিষ্কৃতশিক্ষকরা হলেন,মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মে হাবিবা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সালমা খাতুন। এরমধ্যে উম্মে হাবিবা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে অনুপস্থিত ও অনুমোদিতভাবে ছুটিতে থাকার কারণে বহিষ্কৃতহন। সালমা খাতুন তান সুপারভাইজারেরস্বাক্ষর জালিয়াতির কারণে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারিঅধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আগামী চার বছর তার পদোন্নতি স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সাদিকুল ইসলাম সাগর জানান, ওই সব ঘটনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 1 |
রাজধানীর নিকেতন থেকে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দায়ের করে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র্যাব। শনিবার দুপুরে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গুলশান থানায় নিয়ে যান র্যাব সদস্যরা। গুলশান থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, শামীমের বিরুদ্ধে র্যাব তিনটি অভিযোগ দিয়েছে। এর একটি মাদক আইনে, একটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এবং আরেকটি অস্ত্র আইনে। এসব মামলার আসামি হিসেবে জি কে শামীমসহ আটজনকে রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান ওসি। এর আগে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নিকেতনের ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনে শামীমের কার্যালয় 'জি কে বিল্ডার্সে' অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় সেখান থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার এফডিআরসহ বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। তার আগে বুধবার রাতে গুলশানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতি খালেদকে। ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে তার পরিচালিত অবৈধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র্যাব। এরপরই আলোচনায় আসে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শামীমের নাম। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শামীম। তার নানা কর্মকণ্ডের কথা এরই মধ্যে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে 'মনস্টার' সম্বোধন করে তাদের পদ থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সভায় যুবলীগের কিছু নেতার কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। | 6 |
এবারের নির্বাচনেও চট্টগ্রাম-৬ আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। টানা তিনবারের সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর ওপর আবারও আস্থা রাখতে চান স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী। অন্যদিকে সুষ্ঠু ভোট হলে একসময় নিজদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাউজান আসনটি ফিরে পাবেন বলে আশা বিএনপির নেতা-কর্মীদের।তবে এখানে বিএনপি দুধারায় বিভক্ত। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকারের নেতৃত্বে এই দুটি ভাগ। দুজনই মনোনয়ন চাইছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন অধ্যক্ষ ইলিয়াস নূরী। | 9 |
ফেনীর দাগনভূঞায় চুরি করা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (১৯) নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সিলোনিয়া বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তিনি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা।দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গতকাল সকালে সালাউদ্দিন জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া বাজার থেকে অটোরিকশাটি চুরি করে নোয়াখালীতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। | 6 |
পূর্ণ মেয়াদের থেকেও বেশি দিন ধরে চলছে এবারের বইমেলা। বড় পরিসর ও সময় বেশি পাওয়ায় করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় তাই বুকে বেঁধেছিল প্রকাশনা সংস্থাগুলো। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারলেও গতবারের থেকে বিক্রি ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশির ভাগ প্রকাশক। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে মেলার শেষ সপ্তাহে যে পরিমাণ বিক্রির প্রত্যাশা থাকে, এবার তা পূরণ হয়নি বলে দাবি করছেন তাঁরা।ছুটির দিনগুলোতে তুলনামূলক ভালো বিক্রি হলেও শেষ সপ্তাহের অন্যান্য দিনে বিক্রির পরিমাণ ছিল অনেকটাই কম। এ কথা জানিয়ে 'জার্নিম্যান বুকস'-এর মানবসম্পদ কর্মকর্তা শুভ বলেন, 'শেষ সপ্তাহ হিসেবে আমরা যে ধরনের প্রত্যাশা করেছিলাম, সেটা পূরণ হয়নি। তবুও আমাদের কিছু স্বতন্ত্র সংগ্রহ থাকার কারণে নির্দিষ্ট লেখকদের বই বিক্রি হচ্ছে। শেষ সাত দিনে হুলুস্থুল বিক্রির যে রেওয়াজ থাকে মেলায়, এবার সেটা দেখা যাচ্ছে না। অন্তত আমাদের স্টলের অবস্থা এমন।'অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না বলে মন্তব্য করে ঐতিহ্য প্রকাশের ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন খান কাজল বললেন, 'শেষ সময়ে এসে ভালো বেচাবিক্রির আশা ছিল আমাদের। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। তবুও মেলা যেহেতু চলছে, শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকতে হবে।'গত বছরের তুলনায় এ বছরের বইমেলাকে অনেকটা মন্দের ভালো হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রকাশকেরা। তবে এখনো বিক্রি বাড়ার আশায় রয়েছেন তাম্রলিপি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী এ কে এম তারিকুল ইসলাম রনি। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, 'করোনায় প্রকাশকদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা ১০ বছরেও পোষাবে কি না, সন্দেহ। এই ক্ষতি আমরা মেনে নিয়েছি। তবে পাঠকেরা যদি আমাদের পাশে থাকেন তাহলে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।'বাংলা প্রকাশের ব্যবস্থাপক নুরুন্নবী চৌধুরী বললেন, 'শেষ সপ্তাহে আমরা আশানুরূপ বিক্রি করতে পারিনি। ফেব্রুয়ারি মাসের মেলা ফেব্রুয়ারিতে করাই ভালো। মার্চের গরম এবং সামনে তিন দিন সরকারি ছুটি থাকায় মানুষ ঢাকা ছাড়বে। এ অবস্থায় মেলার শেষ দিকে এসে কেমন বিক্রি হবে, সেটা খুব সহজে বোঝা যায়।'গতকাল মেলার ২৮তম দিনে নতুন বই এসেছে ৭৬টি। এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক মুস্তাফিজ শফির উপন্যাস 'স্পর্শ'। বইটি প্রকাশ করেছে কথা প্রকাশ। এ ছাড়া তরুণ লেখক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের উপন্যাস 'চন্দন গন্ধের বন'-এর মোড়ক উন্মোচন হয়েছে গতকাল। বইটি নিয়ে গতকাল বিকেল থেকে শিখা প্রকাশনীর স্টলে দেখা গেছে পাঠক-ক্রেতাদের ভিড়। উল্লেখযোগ্য অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে জার্নিম্যান থেকে প্রকাশিত মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত 'সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ', মেঘনা পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত চায়না পারভীনের কবিতার বই 'নিঃস্বার্থ ভালোবাসা', উত্তরা থেকে প্রকাশিত মোহাম্মদ মাহবুব আলমের 'আলতা রঙ ফাগুন' ইত্যাদি।গতকাল মেলার মূল মঞ্চে 'লেখক বলছি' অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং অনিকেত শামীম। | 6 |
ইসরাইলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সম্প্রতি গোপনে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় যুদ্ধবাজ নেতা জেনারেল খলিফা হাফতারের ছেলে সাদ্দাম হাফতারের সাথে সাক্ষাত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন ফ্রি বেকনে গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সাদ্দাম হাফতার ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাদ্দাম হাফতার লিবিয়া শাসনে পশ্চিমা সমর্থন লাভের চেষ্টা করছেন। এই বিষয়ে 'সমর্থনের সংকেত' হিসেবে লিবিয়ায় সাদ্দাম হাফতারের সাথে সাক্ষাত করেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও ফ্রি বেকন বৈঠকের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ইসরাইলি কর্মকর্তারা সাদ্দাম হাফতারের সাথে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে আলোচনা করেন। ওই সূত্র দাবি করে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা সাদ্দাম হাফতারকে সমর্থনের কথা জানান। সাদ্দাম হাফতার ডিসেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লিবিয়ার সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জেনারেল খলিফা হাফতার ১৯৬৯ সালে লিবিয়ায় অভ্যুত্থানে গাদ্দাফিকে সহায়তা করেন। কিন্তু ১৯৮৭ সালে শাদে লিবিয়ার অভিযানে গিয়ে বন্দী হওয়ার পর হাফতারকে ত্যাগ করেন গাদ্দাফি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাস শুরু করেন হাফতার। ২০১১ সালে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলে লিবিয়ায় ফেরেন তিনি। গাদ্দাফি পরবর্তী লিবিয়ায় নিজেকে প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে যান খলিফা হাফতার এবং বিভক্ত লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের কার্যকর শাসকে পরিণত হন তিনি। সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট | 3 |
রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন করে অস্ত্র ক্রয় করতে যাচ্ছে পারস্য উপসাগরের দেশ ইরান। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ থেকে এস-৩০০ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে দেশটি। ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান আলায়েদ্দিন বোরোউজেরডি জানিয়েছেন, 'রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বহুদিনের। এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় আমাদের সে সম্পর্কের একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ দিক। আমাদের সেনাবাহিনীর উচিত হবে ভবিষ্যৎ অস্ত্র সরববাহের কথা বিবেচনা করে এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কেননা রাজনৈতিক দিক থেকে অস্ত্র কিনতে এখন আর কোন বাধা নেই। ' এর আগে ২০০৭ সালে ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৩০০ সিস্টেম ক্রয়ের চুক্তি করেছিল। কিন্তু ২০১০ সালে ইরানের উপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া অস্ত্রের চালান ইরানে পাঠাতে পারেনি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৫ সালে ইরানের উপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ২০১৬ সালের অক্টোবরে এস-৩০০ সিস্টেমের চালান ইরানে পাঠানো হয়। এস-৩০০ সিস্টেম হচ্ছে বিমান বিধ্বংসী একটি সিস্টেম। যার মাধ্যমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক যেকোন ব্মিান ধ্বংস করা যায়। বিডিপ্রতিদিন/ ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭/ ই জাহান | 3 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগ তৃণমূল থেকে সব সময়ই সোচ্চার ছিল। ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পথে চলতে হবে। বুধবার দুপুরে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
'নারী নির্যাতন বন্ধ করি, কমলা রঙের বিশ্ব গড়ি' স্লোগানে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে এক ও ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নারী নির্যাতনবিরোধী অরেঞ্জ ক্যাম্পেইন।গতকাল সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক (ইএএলজি) প্রকল্পের আওতায়উখিয়ায় ১৬ দিনব্যাপী এ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে উপজেলা পরিষদ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়।শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) শ্রাবস্তী রায় বলেন, 'বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কারণ, একটি জাতিকে এগিয়ে যেতে হলে নারী-পুরুষ উভয়কেই সমানভাবে কাজ করতে হবে।'এ সময় উখিয়া উপজেলায় নারী নির্যাতনের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উপস্থিত নারী-পুরুষ ও জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে নারী নির্যাতনবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ।অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জুর মোরশেদ, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী প্রমুখ। | 6 |
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। পল্টন থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়। শনিবার (২৭ মার্চ) বিকালে ভোরের কাগজকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগে উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, ভাংচুর ও সরকারি সম্পদ ক্ষতি সাধন করায় অজ্ঞাতনামা চারপাশে জনকে আসামি করে পল্টন থানা পুলিশ শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে মামলাটি করে। আগামীকাল রোববার হরতাল ডাকার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক নিয়মে সবারই অধিকার রয়েছে। যেমন তারা হরতাল ডেকেছেন। কিন্তু এর ভেতরেই কেউ আবার বের হতে চাইলেও তাদের বাধা দেয়ার কোনো অধিকার নেই। প্রত্যেকটি নাগরিকের অধিকার রয়েছ। তবে আমাদের কাজ জনগণের নিরাপত্তা বিধান ও জানমাল রক্ষা করা। কেউ যদি তা বিনষ্ট করতে চায় আমাদের কাজ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। | 6 |
আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য পদ থেকে সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া দুই মামলায় ১২ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে।গত শনিবার গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শাহিদুর রহমান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। একই সঙ্গে এই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।অন্য দিকে পল্লবী থানায় দায়ের করা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ইয়ামিন কবির। সঙ্গে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয়।গুলশান থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় হেলেনা তিন দিনের রিমান্ডে আছেন। গত শুক্রবার তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড থেকে ফেরত পাঠানোর পর তাকে অন্য দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।এর আগে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর এলাকায় নিজ বাসা থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তাঁকে আটক করে।হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা ও হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, ওয়াকিটকি উদ্ধার করে র্যাব। এছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে গুলশান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে।মাদক আইন, বন্যপ্রাণী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও টেলিযোগাযোগ আইনে একটি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়।ওই দিন রাতেই পল্লবীতে জয়যাত্রা টেলিভিশন অফিসে অভিযান চালায় র্যাব। অননুমোদিতভাবে আইপি টেলিভিশন সম্প্রচার করায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা হয়।উল্লেখ্য, এসব ঘটনার আগে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতিবহির্ভূত হওয়ায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ হতে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামে একটি সংগঠন খুলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। | 6 |
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কয়েকজন গ্রাহকের নামে ঋণ অনুমোদন করেছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকের (এনবিএল) পরিচালনা পর্ষদ। এ ছাড়া নতুন এলসি সুবিধা এবং অন্য ব্যাংকের ঋণ অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলী খানকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির ৪৪৯তম পর্ষদ সভায় নেওয়া এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করে সম্প্রতি এনবিএলের এমডিকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৩ মে দেওয়া চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত ৮৭ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া নতুন ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা না মেনে ডিফাইন ফিড মিল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে এলসি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আবার প্রণোদনার আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৮৯ গ্রাহকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নেওয়া হয়। অথচ পর্ষদের সভায় ১৬ গ্রাহককে নতুন অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১০৫ গ্রাহকের ঋণ বিতরণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ সৈয়দ আব্দুল বারীকে টেলিফোন করেও পাওয়া যায়নি। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এফএমসি ডকইয়ার্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অন্য ব্যাংকের ঋণ অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের সব বকেয়া ঋণ আদায়ের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। আবার পরিচালনা পর্ষদের আলোচ্য সূচিতে অন্তর্ভুক্তি না করে এবং পর্ষদ সভায় আলোচনা না করেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলী খানকে তিন বছরের জন্য স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার মারা যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃশ্যমান বিভিন্ন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ ও উচ্চপর্যায়ে নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আবার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ছাড়াই ১৪৬ কোম্পানিকে দেওয়া ৮৮৭ কোটি টাকা দ্রুত আদায় করতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার দায়ে সিকদার পরিবারের ঘনিষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত এমডি এএসএম বুলবুলকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া এবি ব্যাংকে ঋণখেলাপির দায়ে গত ২৭ জুন পরিচালক পদ হারিয়েছেন রিক হক সিকদার। | 0 |
প্রেমিকের ফোনে ডেটিং অ্যাপ। ব্যাস তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেমিকা সামুরাই তলোয়ার দিয়ে হামলা চালান প্রেমিকের ওপর। প্রেমিক অ্যালেক্স আহত অবস্থায় খবর দেন পুলিশে। ঘটনাটি ঘটে ৩ মার্চ। জানা গেছে, প্রেমিক যখন ঘুমে আচ্ছন্ন সেই সময় প্রেমিকা এমিলি জাভিয়ার গোপনে সামুরাই তলোয়ার নিয়ে নিজের বিছানার কাছে লুকিয়ে রাখেন। ঘর অন্ধকার থাকলেও এমিলি নিজের ফোনের আলোয় সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। এমিলির প্রেমিক অ্যালেক্স লোভেল সেই সময় ঘুমোচ্ছিলেন। আর ঘুমের মাঝেই তলোয়ার নিয়ে চলে তার হামলা। অ্যালেক্সের ঘুম ভাঙে যখন তিনি দেখেন তার ২ বছরের প্রেমিকা তার ওপর তলোয়ার দিয়ে হামলা চালাচ্ছেন। অ্যালেক্স যেহেতু মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বিভিন্ন সিনেমা দেখে কুংফু শিখেছে তাই তার প্রেমিকার হামলা রোধ করতে সফল হন তিনি। রীতিমতো খোলা হাতেই সামুরাই তলোয়ারনিয়ে হামলারত প্রেমিকাকে সামলান। এই ঘটনায় যদিও অ্যালেক্স আহত হয়েছেন। অ্যালেক্স বলেন, 'আমি কুংফুর প্যাচ মেরে এমিলির হাত থেকে নিজেকে বাঁচাই। আমার মনে হয় সকলেরই চীনা মার্শাল আর্ট শেখা দরকার। আমি এমিলিকে যত বলি যে আমি তাকেই ভালবাসি কিন্তু তাও আমায় এমিলি খুন করতে উদ্যত হয়।' বিডি প্রতিদিন/ আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর | 5 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.