text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
নোয়াখালীতে মাসব্যাপী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হামিদুল হক বকুল স্মৃতি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট খেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার রাতে নোয়াখালী পৌরসভার হরিনারায়ণপুর স্থানীয় নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে খেলার আনুষ্ঠানিকতা ঘোষণা করেন উদ্বোধক বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মিজানুর রহমান। টুর্নামেন্টের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন খান ও এমিল সাদেকীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র রতন কৃষ্ণ পাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সুজন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সচিত্র নোয়াখালী পত্রিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম হারুন, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ, যায়যায়দিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জু, সাংবাদিক জামাল হোসেন বিষাদ, আবদুল মোতালেব, এস এ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রহিম বাবুল, দৈনিক লাখোকন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. তছলিম হোসেন শিকদার, মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি আবু হাসনাত বাবুল, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সোহেল হোসেন বাদশা, দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক বিধান চন্দ্র সেন, দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের সালাউদ্দিন সমুনসহ প্রমুখ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে খেলে নোয়াখালী বনাম চট্টগ্রাম টিম। খেলায় ২-১ এ চট্টগ্রাম টিম বিজয়ী হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর দেশটিকে 'এখন'ই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও ভাষণে ৪৪ বছর বয়সী এই নেতা আহ্বান জানান, 'নতুন বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখনই ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত করে নিতে আমরা আবেদন জানাচ্ছি।' বার্তা সংস্থা এএফপি খবরে এ তথ্য জানানো হয়। জেলেনস্কি বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হলো সব ইউরোপিয়ানের সঙ্গে একীভূত হওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা তা হলো সমানাধিকার। আমি নিশ্চিত, এটি ন্যায্য ও এটি সম্ভব।' তিনি বলেন, মস্কোর আগ্রাসনে প্রথম চার দিনে ১৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৪৫ জন। এই হতাহতদের তিনি 'ইউক্রেনের বীর' বলে সম্বোধন করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট আজ সোমবার বলেছেন, চলমান এ সংঘাতে সাত শিশুসহ ১০২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। কিন্তু তিনি মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। জেলেনস্কি বলেন, 'ইউক্রেনবাসী দেখিয়ে দিয়েছে আমরা কে। আর রাশিয়াও দেখিয়েছে, তারা কিসে পরিণত হয়েছে।'রাশিয়ান সেনাদের অস্ত্র পরিত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, 'আপনারা অস্ত্র ফেলে দিয়ে এখান থেকে বিদায় নিন। আপনাদের কমান্ডার ও প্রোপাগান্ডা ছাড়ানোকারীদের বিশ্বাস করবেন না। নিজের জীবন বাঁচান।' জেলেনস্কি দাবি করেন, চলমান এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার রুশ সেনা জীবন হারিয়েছে। রাশিয়াও হতাহতের কথা স্বীকার করলেও, সংখ্যা জানায়নি। ইউক্রেনের নেতা আরও জানান, দেশে যেসব বন্দী, যাঁদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা দেশকে রক্ষায় সাহায্য করতে পারবেন। জেলেনস্কি বলেন, 'নৈতিক স্থান থেকে আমাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি দরকার।' জেলেনস্কি আবার তাঁর দেশকে সমর্থন দেওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'আমাদের যুদ্ধবিরোধী জোটের সমর্থন নিঃশর্ত ও নজিরবিহীন। আমাদের প্রত্যেকেই যোদ্ধা এবং আমি নিশ্চিত, আমরা সবাই জয়ী হব।' | 3 |
আম উপহার পেয়ে এবার আপ্লুত হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ উপহার তাকে সম্প্রতি তার বাংলাদেশ সফরে পাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদার আতিথেয়তার স্মৃতিও মনে করিয়ে দিয়েছে। এ জন্য মোদি শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আগের দিন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আম উপহার পেয়ে আপ্লুত হয়েছেন এবং চিঠি লিখে তা জানিয়েছেন। শুক্রবার (৯ জুলাই) ঢাকায় পৌছা এক চিঠিতে শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মেদি বলেন, আমাকে আম পাঠিয়ে আপ্লুত করেছেন আপনি। এছাড়া ওই চিঠিতে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও সামনে এগিয়ে নিতে সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। গত রবিবার (৪ জুলাই) উপহার হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ২৬০০ কেজি হাড়িভাঙ্গা আম পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ওই উপহার ভারতে পৌঁছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নোম্যান্সল্যান্ডে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) মো. সানিউল কাদের এটি গ্রহণ করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপহারগুলো কলকাতা এবং দিল্লিস্থ বাংলাদেশ মিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছানো হয়। বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া ভারতের আরও ৪টি রাজ্য আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং মেঘালায়ের মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য আলাদাভাবে আম উপহার পাঠান প্রধানমন্ত্রী। উপহার হিসেবে আম পাঠানোর জন্য মঙ্গলবার (৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এর আগে সোমবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে ৩০০ কেজি হাড়িভাঙ্গা আম পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৪ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, 'আম' কূটনীতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের 'আম কূটনীতি'র মধ্যে ভারত, চীন, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, জাপান, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ রয়েছে। কিছু দেশে উপহার হিসাবে আম পাঠানো হচ্ছে। আর কিছু দেশে পাঠানো হচ্ছে আমের বাজার ধরার জন্য। এর ফলে আম কূটনীতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্র মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ২ হাজার ৬০০ কেজি হাড়িভাঙা আম উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতে আম পাঠানোর মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনীতিতে আরেকটু 'হাওয়া' লাগল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভোরের কাগজকে বলেন, শুধু ভারত নয়, আমাদের প্রতিবেশি সব দেশসহ চায়না, আরব আমিরাত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে আম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটাকে কি 'আম কূটনীতি' বলছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ তা বলতে পারেন। এবার এমনিতেই আমের ফলন বেশি। কিন্ত লকডাউনের কারণে ক্রেতা কম। এরকম পরিস্থিতিতে সরকার আম কিনে বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। আরব আমিরাতে আম পাঠানোর কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ভারত ও পাকিস্তান থেকে আম কিনে। আমাদের দেশেও যে ভালো আম উৎপাদন হয় তারা তা মানতে চায় না। এজন্য এবার উপহার পাঠানো হয়েছে। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার কেবল বাড়ছেই। বলা যায়, মূল্যস্ফীতি যেন পাগলা ঘোড়ায় সওয়ার হয়েছে। প্রতি মাসেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে অর্থনীতির অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। গত মাসে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এবার জানা গেল, মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে-১৯৮১ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাসসহ সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির মূল্যের রেকর্ড বৃদ্ধি হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়রি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারকের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঢেউ আসতে শুরু করে।যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, এ বছরের মার্চ মাসে সেখানে জ্বালানির মূল্য ৩২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির সঙ্গে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। গম ও সূর্যমুখী তেলের মতো বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের বড় রপ্তানিকারক এই দুই দেশ-এর জেরে সারা বিশ্বেই খাদ্যমূল্য বাড়ছে। উন্নত দেশে সাধারণত মূল্যস্ফীতির সহনীয় হার ধরা হয় ২ শতাংশ। অথচ এখন মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার ক্রিস্টেন হাভলিক বলেন, মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় নিজেকে এখন তাঁর উন্মাদের মতো মনে হয়। মহামারির প্রথম বছরে নর্থ ক্যারোলাইনায় মাসিক বাসাভাড়া ৪০০ ডলার বৃদ্ধি পায়। আয়ের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে এই বর্ধিত ভাড়া বহন করা তাঁর জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ছিল বলে জানান ক্রিস্টেন। বলেন, 'গত বছর আমি ও আমার স্বামী দুজনেই ভালো বেতনে চাকরি করার সুয়োগ পেয়েছিলাম। যদি তা না পেতাম, তবে আমাদের নর্থ ক্যারোলাইনা ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে হতো। আমরা দুজনে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত তেমন একটা অর্থ জমাতে পারিনি।' গত বছর করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে আসতে শুরু করলে পশ্চিমা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন তাতে নতুন মাত্রা যোগ করে।যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ধারায় লাগাম পরাতে গত মাসে তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদের হার বাড়ায়। আর এ বছরের মধ্যে নীতি সুদহার আরও কয়েক বার বাড়ানো হবে বলে ইঙ্গিত দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে নীতি সুদহার এত সামান্য পরিমাণে বৃদ্ধি করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে মনে করেন ফেডের কর্মকর্তারা। ফেডের সেন্ট লুইস শাখার প্রেসিডেন্ট জেমস বুলার্ড ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, নীতি সুদহার এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে, যাতে প্রবৃদ্ধির ধারায় প্রকৃত অর্থেই প্রভাব পড়ে। তবে সে ক্ষেত্রে মন্দার শঙ্কা আছে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকেরা। সে জন্য বুলার্ডের অভিমত, নীতি সুদহার ২ দশমিক ৪ শতাংশ হলে অর্থনীতির সংকোচন বা প্রসারণ কোনোটাই হবে না। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি তাদের রাজনীতিবিদদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে তাতে পশ্চিমা নেতারা রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবেন, সেই সম্ভাবনা সুদূরপরাহত বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা। | 0 |
আর্থিক অনিয়মের দায়ে জেলে যেতে হল সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে। বিচারে দেশের সাবেক প্রেসিডেন্টের দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। শনিবার আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত এক মামলায় তাকে দোষীসাব্যস্ত করে সাজা দেন দেশটির একটি আদালত। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের। ১৯৮৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ ত্রিশ বছর সুদান শাসন করেন সাবেক এই সামরিক শাসক। এপ্রিলে গণবিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে রাজধানী খার্তুমের কোবার কারাগারে রয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গ্রেফতারির সময় তার ঘর থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১৩ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্যের সুদানি পাউন্ড। তা নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আর্থিক দুর্নীতির মামলা। সুদানের সাবেক এই প্রেসিডেন্টের আইনজীবী জানান, ১৯৮৯ সালের সামরিক অভ্যুত্থান ও এ বছরের শুরুতে বিক্ষোভকারীদের হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপর এক মামলার শুনানিতে তাকে আদালতে ডাকা হতে পারে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় বখাটেদের অত্যাচারে 'আত্মহননের' পথ বেছে নিল আরও এক স্কুলছাত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিলি খাতুন। এর আগে গত রোববার দুপুরে একই পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা করে মোস্তফাপুর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের জিয়ানগর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী রাজিফা আকতার সাথী। মিলির মা বেলি খাতুন এ ঘটনায় একই গ্রামের বখাটে বুলু মণ্ডল (৩৮) ও তার সহযোগী ছদরুল ফকিরকে (৩৬) আসামি করে মামলা করেছেন। তার ধারণা, বখাটেরা তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে এসে হয়তো মিলিকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। পুলিশ অভিযুক্ত দুই বখাটেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পালিয়ে আছে। পুলিশ ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, স্থানীয় একটি কেবল অপারেটর সংস্থার লাইনম্যান আবদুর রশিদের মেয়ে মিলি খাতুনকে একই গ্রামের দুই সন্তানের পিতা বুলু মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করত। একই গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে ছদরুল ফকির তাকে সহযোগিতা করত। মিলি খাতুনের মা বেলি খাতুন সমকালকে বলেন, বখাটেপনার প্রতিবাদ করায় বুলু মণ্ডল কয়েকদিন আগেও তার মেয়েকে বেধড়ক পিটিয়েছিল। এতে মিলির নাকমুখ দিয়ে রক্ত বের হয় এবং সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুলু মণ্ডল প্রভাবশালী হওয়ায় ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনি কোথাও নালিশ করার সাহস পাননি। মিলির মা সমকালকে জানান, তার মেয়ে মিলি সোমবার স্কুলে না গিয়ে বাড়িতেই ছিল। দুপুরের দিকে বুলু মণ্ডল বারবার মোবাইল ফোনে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে। তিনি বলেন, 'ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে বুলু মণ্ডল আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে একটি বাঁশঝাড়ের কাছে এসে আবারও আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। আমি তখন আমার মেয়েকে চুপ থাকতে বলি। পরে দোকান থেকে কেরোসিন তেল আনতে যাই। সন্ধ্যার একটু আগে এসে দেখি ঘরের দরজা খোলা এবং ভেতরে গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় আমার মেয়ের লাশ ঝুলছে।' তিনি জানান, মিলিকে হয়তো বখাটেরা হত্যার পর এভাবে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। মোস্তফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামিম হোসেন জানান, মিলি খাতুন খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল। দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, 'আমরা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখব। আসামিদের গ্রেফতার করতে পারলেই সবকিছু আরও পরিষ্কার হবে।' এর আগে স্কুলছাত্রী সাথী আত্মহত্যা করার পর মামলা হলে পুলিশ অভিযুক্ত বখাটে যুবক হুজাইফা ইয়ামিনকে (২০) গ্রেফতারের জন্য জিয়ানগরে অভিযানে যায়। তখন ওই বখাটের পক্ষের লোকজনের হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের একটি ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেয়, যা এখনও উদ্ধার হয়নি। হামলার অভিযোগে ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও বখাটে ইয়ামিন গ্রেফতার হয়নি।
| 6 |
জল্পনার শুরু আজ সকাল থেকেই। তিন দিন আগে করোনা পজিটিভ হওয়া সাকিব আল হাসান ব্যক্তিগতভাবে গতকাল আবার করোনা পরীক্ষা করান। সেই পরীক্ষায় নেগেটিভ আসার খবর চাউর হতেই চট্টগ্রাম টেস্টে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।আজ আরেকবার করোনা পরীক্ষায়ও নেগেটিভ আসে সাকিবের। করোনা থেকে সেরে উঠলেও পুরো ফিট সাকিবকেই টেস্ট দলে পেতে চান রাসেল ডমিঙ্গো। সকালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার অনুশীলন শেষে দুপুরে মাঠে আসে বাংলাদেশ। দলের অনুশীলন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে নিয়ে বাংলাদেশ কোচ বলেন, 'যেকোনো দল পুরো ফিট সাকিবকে তার সেরা একাদশে চাইবে। কিন্তু ৫০-৬০ শতাংশ ফিট কাউকে খেলানো খুবই কঠিন হবে।'আজ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা সাকিবের। তাঁর শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে কোন পর্যায়ে আছে, সেটির ওপর নির্ভর করছে প্রথম টেস্ট তিনি খেলতে পারবেন কি না। ডমিঙ্গোও সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, 'আমাদের দেখা দরকার ফিটনেসের দিক থেকে সে (সাকিব) কোন অবস্থায় আছে। মাত্র করোনা নেগেটিভ হয়েছে। খুব বেশি ক্রিকেটও খেলেনি। সে অবশ্যই বড় খেলোয়াড়, দলের সমন্বয় সহজ করে দেয়। আগামীকাল তাকে আমরা দেখব। গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সে ব্যাটিং-বোলিং কিছুই করেনি। এটা পাঁচ দিনের খেলা। এখানে অনেক গরম। সে হিসাবে আমাদের সব দিক বিবেচনা করে দেখতে হবে।'সাকিব না খেললে একই সঙ্গে একজন বাড়তি বোলার ও ব্যাটারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে এই তারকা অলরাউন্ডারের ঘাটতি মেটাতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বিবেচনায় আছেন বলে জানিয়েছেন ডমিঙ্গো। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট খেলেছিলেন মোসাদ্দেক। শ্রীলঙ্কা সিরিজেও দলে শেষ মুহূর্তে যুক্ত হন ২৬ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। মোসাদ্দেককে নিয়ে ডমিঙ্গো বলেন, 'সে (মোসাদ্দেক) আমাদের নির্বাচনের ভাবনায় আছে। সে বোলিং করতে পারে। সাকিব খেলতে না পারলে মোসাদ্দেক খেলার জন্য বিবেচনায় আছে।' | 12 |
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচ মানেই চিরকালীন উত্তাপ। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে সেই উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। ব্রাজিলের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম লেগে খেলতে গিয়ে ম্যাচের ৭ মিনিটের মাথায় ব্রাজিলিয়ান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বাগড়া দিলে বাধে বিপত্তি। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নিয়ম ভেঙে আর্জেন্টিনা চার খেলোয়াড়কে ব্রাজিলে নিয়ে এসেছে। পরে স্থগিত হয়ে যায় ম্যাচটি। স্থগিত হওয়া সেই ম্যাচ নিয়ে তদন্ত শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সেই ম্যাচ বাতিলের পর এই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, যা দুই দলের চিরন্তন উত্তেজনায় বাড়তি রসদ জোগাচ্ছে।সান হুয়ানে আগামীকাল ভোরে মাঠে নামার আগে দুই দলই আছে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে। ইতোমধ্যে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট কেটে রেখেছে ব্রাজিল। কাতারের সুবাস পাচ্ছে আর্জেন্টিনাও। তবে এই দুই দলের লড়াইয়ে সব ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে মর্যাদা। বিশ্বব্যাপী দুই দলের শতকোটি সমর্থকের চোখও থাকে এই লড়াইয়ে। লড়াইটা যে তাদেরও!নিজেরা মুখোমুখি হওয়ার আগে দুই দলই আছে দারুণ ছন্দে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ১২ ম্যাচের ১১টি জিতেছে ব্রাজিল। ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে এখন সেলেসাওরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনাও রীতিমতো উড়ছে। ১২ ম্যাচের ৮টিতেই জিতেছে তারা। ড্র করেছে বাকি চার ম্যাচে। সর্বশেষ ম্যাচে অস্কার তাবারেজের শক্তিশালী উরুগুয়েকে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। আর ব্রাজিল নিজেদের শেষ ম্যাচে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল কলম্বিয়াকে। জাতীয় দলের জার্সিতে ছন্দে আছেন মেসি-নেইমারের দুজনই। আগের ম্যাচে চোটে থাকায় শেষ দিকে মাঠে নামতে হয়েছিল মেসিকে। এই ম্যাচে হয়তো প্রথম থেকেই দেখা যাবে আর্জেন্টাইন জাদুকরকে।ব্রাজিলের জন্য আরেকটি কারণে এই ম্যাচটি 'প্রতিশোধের'। কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল ব্রাজিল। রিওতে সেদিনের কান্নার দায় হয়তো আজ কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে চাইবেন নেইমাররা। পাশাপাশি সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তাঁদের পাশে। সব মিলিয়ে এই ম্যাচের আগে হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াইয়ের আভাসই মিলছে। | 6 |
নিউইয়র্কে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল আরেক বাংলাদেশির। ৬০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাজমা খানমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুনের এ নিষ্ঠুর ঘটনা ঘঠে বুধবার স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টা) সিটির কুইন্সে জ্যামাইকা হিলস এলাকায়। নিজ বাসার দু'ব্লকের মধ্যে ১৬০-১২ নরম্যাল রোডে নাজমা খানমকে হত্যা করা হয়। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় নাজমা খানম আক্রান্ত হন। শতগজ পেছনেই হাঁটছিলেন তার স্বামী। পুুলিশ জানায়, 'আমাকে মেরে ফেললো, বাঁচাও-বাঁচাও' নাজমা খানমের এমন আর্তচিৎকারে স্বামী দৌড়ে কাছে আসার আগেই দুর্বৃত্ত কেটে পড়ে। তার স্বামী ভেবেছিলেন যে, তার স্ত্রী হয়তো ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন। কিন্তু কাছে এসে দেখতে পান যে, বুক থেকে রক্ত গড়াচ্ছে। সাথে সাথে ফোন করেন পুলিশকে। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সসহ পুলিশ এসে নাজমা খানকে নিকটস্থ জ্যামাইকা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন। নিহত নাজমা খানম ৩ সন্তানের মা। তার এক সন্তান নিউইয়র্কে এবং অপর দু'জন থাকেন বাংলাদেশে। গত ১৩ আগস্ট এই এলাকার কাছাকাছি দূরত্বে ওজনপার্কে গুলি করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জি (৫৫) এবং তার সাথী তারা মিয়াকে (৬৪)। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে অস্কার মরেল (৩৫) নামক এক হিসপ্যানিককে। নাজমা খানমের আরেক ভাগ্নে মোহাম্মদ রহমান দাবি করেন, 'তার খালাকেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটিও হেইট ক্রাইম। কারণ তিনি মুসলিম পোশাকে হাঁটছিলেন। এছাড়া তার কাছে থেকে কিছুই নেয়নি দুর্বৃত্তটি।' তদন্ত কর্মকর্তারা অবশ্য তা স্বীকার করেননি। তারা বলেছেন, 'এক্ষুণি হেইট ক্রাইম' হিসেবে অভিহিত করার মত কিছুই উদঘাটিত হয়নি।' উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ইমামসহ দুই বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনাকেও 'হেইট ক্রাইম' হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মুসলিম আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। তারা প্রবাসীদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। অকুস্থলে এবং তার আশপাশের সিসিটিভিসহ সবকিছু পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জানা গেছে।
নাজমা খানমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সংবাদ মূলধারার সবকটি টিভি এবং জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। ইমাম হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিনের ব্যবধানে অকারণে আরেক বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় প্রবাসীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কুইন্সের জ্যামাইকা এবং ওজনপার্ক এলাকায় লক্ষাধিক বাংলাদেশি বাস করছেন। সকলেই বাংলাদেশি পোশাকে চলাফেরা করেন। জাতিগতভাবে বাঙালিরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নিজেদের অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। 'এতদেত্ত্বেও চোরাগুপ্তা হামলার শিকার হওয়ায় কেউই এখন নিরাপদ বোধ করছেন না'-মন্তব্য কম্যুনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আকবর হোসেনের। এই এলাকায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন আকবর। তিনি বলেন, 'ভেবেছিলাম, এটি আমাদের নিরাপদ আবাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় একেবারেই অপরিচিত লাগছে এলাকাটি।' নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, ঘাতকের গ্রেফতারে সহায়তার জন্যে। কেউ কিছু জানলে তা যেন ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে ফোন করে জানান, সে আহবানও জানানো হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/ ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | 4 |
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে স্পিডবোটডুবিতে নরসিংদীর ১৫ জন নিখোঁজের ঘটনায় এক সহযোগীসহ স্থানীয় মূল দালাল তারেক মোল্লাকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তারেক মোল্লার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ সোমবার বিকেলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রোববার বাগেরহাট জেলার নবীগঞ্জ থানার শ্রীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সহযোগী রায়হানসহ তারেক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তারেক মোল্লা রায়পুরার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের বাচ্চু মোল্লার ছেলে। রায়হানের বাড়িও রায়পুরায়। এর আগে তারেক মোল্লার আরও দুই সহযোগী মামুন মোল্লা (৩৯) ও সুবল চন্দ্র শীল (৪৫) গ্রেপ্তার হন। এ নিয়ে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মানব পাচারকারী চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার হলেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি লিবিয়া থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশী ৩৫ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি স্পিডবোট ইতালি যাচ্ছিল। তাঁদের একজন মাল্টা সীমানার জলরাশিতে ছিটকে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্পিডবোটটি উল্টে গিয়ে এর সব যাত্রী ডুবে যান। ১১ ঘণ্টা পর কোস্টগার্ডের সদস্যরা উল্টে যাওয়া স্পিডবোটের ওপরে অবস্থান করা জীবিত সাতজনকে উদ্ধার করেন। তবে তীরে পৌঁছার আগেই ঠান্ডায় জমে তাঁদের একজনের মৃত্যু হয়। এখনো নিখোঁজ ওই ২৮ জনের মধ্যে ১৫ জনই নরসিংদীর। ঘটনার ৩৫ দিন পর বেঁচে ফেরাদের মধ্যে ইউসুফ মৃধা ও শেখ সামিউল নামের দুজন দেশে আসেন। তাঁদের কাছেই ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা। এ নিয়ে ৫ মার্চ প্রথম আলোর অনলাইনে 'ভূমধ্যসাগরে স্পিডবোটডুবি: দেশে ফিরে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলেন বেঁচে যাওয়া দুজন' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পুলিশের ভাষ্য, রায়পুরার আমীরগঞ্জের হাসনাবাদের মনির চন্দ্র শীল নামের এক ব্যক্তি পাঁচ বছর ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করে বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার করছেন। তাঁর মাধ্যমে নরসিংদীর রায়পুরা ও আশপাশের উপজেলা থেকে স্থানীয় লোকজনকে প্রলোভিত করে মানব পাচার করেন এই তারেক মোল্লা। স্থানীয় তরুণ-যুবকদের বৈধ পথে ইতালি নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মৌখিক চুক্তিতে অর্থ সংগ্রহ করতেন তিনি। তাঁর মাধ্যমেই রায়পুরার ডৌকারচর এলাকার নিখোঁজ আশিষ সূত্রধর, আলামিন ফরাজী ও নাদিম সরকার নামের তিনজন সাড়ে আট লাখ টাকা করে চুক্তি করেছিলেন। সাড়ে ৬ লাখ টাকা তার হাতে দেওয়ার পর তাঁরা যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের ইতালি না পাঠিয়ে এই দালাল চক্রটি লিবিয়াতে পাঠায়। সেখান থেকেই অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির পথে যাত্রা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ আশীষ সূত্রধরের বাবা অনিল চন্দ্র সূত্রধরের করা মামলায় এই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাঁদের আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত স্থানীয় মূল দালাল তারেক মোল্লার এক দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আগামীকাল তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। | 6 |
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে নারী পুলিশের সন্তানের জন্য দিবাযত্নকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ বলছে, ওই দিবাযত্নকেন্দ্রে শিশুদের জন্য আধুনিক সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জিও টিভির খবরে জানা যায়, রাওয়ালপিন্ডি সিটি পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আহসান ইউনুস এক টুইটে জানান, আইজিপি পাঞ্জাবের পরিকল্পনা অনুসারে পুলিশ বাহিনীর কল্যাণের জন্য এটি আরেকটি পদক্ষেপ। ; . ../ টুইটে আরও জানানো হয়, দিবাযত্নকেন্দ্র খোলার ফলে দায়িত্ব পালনের সময় নারী পুলিশ কর্মকর্তারা সন্তানদের নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকবেন। রাওয়ালপিন্ডির পুলিশ কর্মকর্তা আমনা বেগ বলেন, কর্মস্থলে লিঙ্গ সংবেদনশীলতা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নারী কর্মকর্তাদের প্রয়োজন বোঝে, এমন এক বিভাগে কাজ করতে পেরে তিনি খুবই খুশি। | 3 |
সকাল সাড়ে ৯টা। হালকা রোদের আবেশী ভাব কাটেনি তখনো। বন্যাকবলিত সিলেটের রাস্তা-ঘাটে লাগেনি নাগরিক ব্যস্ততা। মূল সড়কগুলোতে টুকটাক সিএনজি আর রিকশা চলছে। সেসবে যাতায়াত যারা করছেন তাদের অধিকাংশই চাকুরে।দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোর সঙ্গে এই পর্যটন নগরীর মূল পার্থক্য-এই শহরের মানুষ ঘুম থেকে ওঠে দেরিতে। তাই বলা হয়, সিলেট শহর জাগে দেরিতে। সকালে নগরীর মিরের ময়দান পয়েন্ট থেকে তালতলা হয়ে বন্দর এলাকার জেলা প্রশাসনের কার্যালয় পর্যন্ত সড়ক ছিলো সুনসান। কিছু ভবঘুরে, হাতে গোনা ত্রাণ প্রত্যাশী মানুষ ও দুজন স্থানীয় টেলিভিশন সংবাদ কর্মী ছাড়া আর তেমন কাউকে দেখা গেল না এই পথে। তালতলা পয়েন্টের সড়কগুলোতে এখনো পানি থাকায় সেখানে দোকানপাটও খুব বেশি খোলা হয়নি। দুই একটি যা খোলা হয়েছে, সেগুলোর পানি কতটুকু কমেছে তা দেখার জন্য।তালতলা পয়েন্টের সুফিয়া মেনশনের অদূরেই দেখা মিলল বিশেষভাবে বানানো ঠেলা গাড়ির। সেখানে আঠারোটি টিনের বাক্স বিশেষভাবে বসানো। সেসব বাক্সে ভরা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি। পানি ভরছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি একজন পেশাদার পানি বিক্রেতা। কথা বলে জানা গেলো, বন্যার কারণে শহরের অধিকাংশ বিশুদ্ধ পানির লাইন নষ্ট। তাই খাবার পানির সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়িক ব্যস্ততা বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে নির্দিষ্ট কিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পানি সরবরাহ করলেও এখন সেই হোটেল ও রেস্টুরেন্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাসা-বাড়িতে পানি সরবরাহের কাজ।সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে যদি ১০ গাড়ি পানি বিক্রি করতাম এখন সেখানে ২০ গাড়ি বিক্রি করছি। চাহিদা এর থেকে বেশি হলেও, আমার একার পক্ষে তা পূরণ করা সম্ভব না। চাহিদা যেহেতু বাড়ছে তাই দামও তো বেড়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, আগে এক গাড়ি পানি ১০০ টাকা বিক্রি করতাম এখন দেড় শ টাকা বিক্রি করি। কখনো ২০০ টাকাও বিক্রি করি। সময়, জায়গা আর কাস্টমারের ওপর নির্ভর করে দামটা।'সাইফুল যে গভীর নলকূপ থেকে পানি নেন সেই নলকূপের মালিককে দিনে দিতে হয় ৮০০ টাকা। বিনিময়ে সারা দিন সে পানি নিতে পারবে। কোন বাধা ধরা পরিমাণ নেই। দিনে দেড় হাজার টাকার মতো পানি বিক্রি করেন তিনি। এতে করে চুক্তির টাকা বাদ দিলে তার ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা টিকে দিন শেষে। বন্যাকবলিত অসহায় নগরবাসী বাধ্য হয়েই কিনছেন ঠেলায় টানা এসব পানি। তাঁদের একজন তালতলারই বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'দাম বেশি হলেও পানি কিনে খেতে হবে। পানির তো কোন বিকল্প নেই। তবে বাসার কাছে হওয়ায় আমরা কমদামেই কিনতেছি। মাঝে মাঝে দুই, এক বালতি পানি এই নলকূপ থেকে ফ্রীতেও নেই।'বন্যার কারণে সিলেট নগরবাসী যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তার অন্যতম হলো বিশুদ্ধ পানি। পানির অভাবে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে নগরীর হাসপাতালগুলোতে। অনেক ভাড়াটিয়া বাসিন্দারা শহর ছাড়ছেন শুধু বিশুদ্ধ পানির অভাবে। খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নানা পানিবাহিত রোগ।খাবার পানির সংকট চরমে বিষয়টি স্বীকার করেছেন সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান। এই সংকট মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি এখনো নামেনি। সরকার বন্যার্তদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। আমাদের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছে। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পাত্র বিতরণ করছে আশ্রয় কেন্দ্রসহ পানিবন্দী এলাকায়। দেওয়া হচ্ছে খাবার স্যালাইনও। আমরা প্রস্তুত আছি। বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় যা যা পদক্ষেপ দরকার তার সবই আমরা গ্রহণ করব। | 6 |
প্রথম ওভারেই ফজলহক ফারুকিকেকাভারে দারুণ চার মেরে রানের খাতা খুলেছিলেন মুনিম শাহরিয়ার। চতুর্থ ওভারে মুজিব উর রহমানকে টানা দুই চার, ঝড়ো শুরুর আভাস দিলেও অভিষেকটা খুব একটা রাঙাতে মুনিম শাহরিয়ার। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে রাশিদ খানের শিকার হয়েছেন। বল পায়ে লাগলে জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউর শরণাপন্ন হন মুনিম। কিন্তু এবার সিদ্ধান্ত তার বিপক্ষে যায়। ৩ চারে ১৮ বলে ১৭ রান করেও তাকে ধরতে হয় সাজঘরের পথ। এবারের বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে কয়েকটা বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন এই তরুণ ব্যাটার। বিপিএলে ৬ ম্যাচ খেলে ২৯.৬৬ গড়ে ১৭৮ রান করেছেন। স্ট্রাইকরেট ছিল ১৫২.১৩। | 12 |
মাত্র ২৩ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন ভারতের জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মৃত্যুর রহস্যের কিনারা এখনও হয়নি। আত্মহত্যা না অন্য কোনওভাবে মৃত্যু তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। রোজ রোজ প্রত্যুষার মৃত্যু ঘিরে বেরিয়ে আসতে থাকা তথ্য আরও অবাক করা। এরমধ্যেই 'বালিকা বধূ' খ্যাত প্রত্যুষার মৃত্যুর যে প্রভাব বুধবার দেখা গেল তা সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ২৬ বছরের গৃহবধূ মধূ মহানন্দের খুবই পছন্দের চরিত্র ছিল 'আনন্দী'। নিয়মিত দর্শক ছিলেন 'বালিকা বধূ'র। কিন্তু প্রত্যুষ্যার হঠাৎ মৃত্যুর খবর তিনি ভেঙ্গে পড়েন। সারাদিন টিভিতে শুধু প্রত্যুষ্যার খবরই দেখতেন। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ মধু নিজের দু'বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে মধুর স্বামী মুকুল ঘরে ফিরে এসে স্ত্রীকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে দেখেন। পুলিশ মধুর স্বামীকে আটক করলেও আত্মহত্যার কারণ জানানোর পর ছেড়ে দেয়। মধুর মা-বাবা জানান, টিভিতে 'আনন্দী' চরিত্রে প্রভাবিত ছিল তাদের মেয়ে। প্রত্যুষার মৃত্যু সহ্য করতে পারেনি সে।
গত ১ এপ্রিল মুম্বাইতে নিজের বাড়িতে প্রত্যুষাকে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার। ঝাড়খণ্ডের মেয়ে প্রত্যুষা 'বালিকা বধূ' সিরিয়ালে 'আনন্দী' চরিত্রের জন্য ভারতীয় দর্শকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন।
| 2 |
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, ভোজ্য তেলসহ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনমনে নাভিশ্বাস উঠেছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধির পাঁয়তারা গণবিরোধী ও সরকারের দায়িত্বহীন আচরণ। তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিলে দেশপ্রেমিক জনগণ ও রাজনৈতিক শক্তিকে সাথে নিয়ে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেবে লেবার পার্টি। তিনি শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লেবার পার্টি ঢাকা মহানগর আয়োজিত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। ডা: ইরান বলেন, করোনা সংকট এখনো দেশবাসী কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা। এসময় বিদ্যুতের দাম বাড়লে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতে খরচ বাড়বে। নিত্যপণ্যের দাম আরো বাড়বে। মানুষের মাসিক খরচ বাড়বে। যা বহন করার সক্ষমতা সাধারণ মানুষের নেই। তিনি বলেন, 'বিদ্যুতের মুলা' ঝুলিয়ে রেন্টাল, কুইক রেন্টালসহ অনেক অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে খরচ বাড়ানো হয়েছে। দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের কথা না শুনে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্ধিত ও অহেতুক খরচের টাকা জনগণের পকেট থেকে তুলতে দাম বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎসহ জ্বালানি খাতের দুর্নীতি ও ভুলনীতির সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, সরকার ও কিছু ব্যক্তির ভুলনীতি ও দুর্নীতির দায় সাধারণ জনগণ নেবে না। তেল নিয়ে কারসাজি সৃষ্টিকারী কালোবাজারী সিন্ডিকেট-মজুতদারদের বিচার, দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিত্যপণ্যের মজুত গড়ে তোলা, টিসিবি'র পণ্য অন্তত তিন কোটি ঘরে পৌঁছে দেয়া, সারাদেশে রেশনিং ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালুর দাবিতে লেবার পার্টির চলমান আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করার আহ্বান জানান ডা: ইরান। লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হিন্দুরত্ম রামকৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন এনডিপি চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, লেবার পার্টির মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম চৌধুরী মিলন, ইসলামী ঐক্যজোটের বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীন, দেশ বাঁচাও আন্দোলনের রকিবুল ইসলাম রিপন, এনডিএমের নুরুজ্জমান হীরা, মুসলিম সমাজের মাসুদ হোসেন, জাস্টিস পার্টির আবুল কাসেম, লেবার পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হুমাউন কবীর, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোন্দকার মিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো: মনির হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম সাদী, মহিলা সম্পাদিকা নাছিমা নাজনিন সরকার, ছাত্রমিশন সভাপতি সৈয়দ মো: মিলন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান রিফাত প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি | 9 |
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপ গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিনিধিদল। বুধবার দুপুরে উপজেলার ভূলতা এলাকায় অবস্থিত কারখানা পরিদর্শন করেন স্কপের আট সদস্য প্রতিনিধিদলের নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেভার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আক্তার চৌধুরী, জাতীয় শ্রমিক লীগের ট্রেড ইউনিয়ন সমন্বয়ক বিষয়ক সম্পাদক মো. ফিরোজ হোসাইন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব বুলবুল, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ইউক্রেনের মারিউপোলের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মারিউপোলের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, থিয়েটারে বোমা হামলা চালায় রুশ বাহিনী, যেখানে বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।মারিউপোলের ডেপুটি মেয়র সেরহি অরলভ বিবিসিকে বলেছেন, সেই আশ্রয়কেন্দ্রে সহস্রাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছিল। তবে হতাহতের সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।বুধবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, 'রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবেই থিয়েটারে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়া আমাদের জনগণের প্রতি যা করছে, তাতে আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে।'ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, থিয়েটারে হামলা চালিয়ে রাশিয়া যুদ্ধাপরাধ করেছে।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে মারিউপোলের প্রসূতি হাসপাতাল, গির্জা ও ভবনে হামলা চালিয়েছিল রুশ সেনারা।মারিউপোলের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর মারিউপোলে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।তবে ওই থিয়েটার হলে হামলা চালানো হয়নি বলে দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। | 3 |
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের একটি কুপে (জোন) চলছে গোলপাতা সংগ্রহের ধুম। নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পেরে খুশি বাওয়ালিরা। বন বিভাগের কঠোর নিরাপত্তা আর কড়াকড়িতে মৌসুমের প্রথম দফায় গোলপাতা কাটতে এখন ব্যস্ত তারা।বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন থেকে বনজ দ্রব্য আহরণ সংকুচিত করায় এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় গোলপাতা সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বাওয়ালিরা। গোলপাতা সংগ্রহের ভরা মৌসুমে এবার বাওয়ালিদের বিএলসি (অনুমতি) দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল বন বিভাগ।সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের কুপ (জোন) থেকে পারমিট (অনুমতি) গ্রহণ করে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এর ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষেরা। তবে বনের ওপর থেকে চাপ কমাতে বনজ দ্রব্য আহরণ সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে বনবিভাগ।খুলনা রেঞ্জের গোলপাতা কুপ কর্মকর্তা নির্মল কুমার মণ্ডল বলেন, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের ১টি কুপে প্রথম দফায় ৭৪ হাজার ৭শ ৫ মন গোলপাতা কাটার পারমিট দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তার মধ্যে প্রথম দফায় গোলপাতা সংগ্রহ করার জন্য ১১৮টি বিএলসির অনুকূলে বাওয়ালিরা ৫৮ হাজার ৬৬০ মণ গোলপাতা সংগ্রহ করার অনুমতি (পারমিট) নিয়েছে।গত ৩০ জানুয়ারি থেকে এ সব বিএলসির অনুকূলে পারমিট দেওয়া শুরু হয় এবং আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত গোলপাতা আহরণ চলবে। খুলনা গোলপাতার সহযোগী কুপ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বাওয়ালিরা যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য নিয়মিত কুপের পক্ষে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ না থাকায় গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নাও হতে পারে বলেও তিনি জানান।খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, নির্বিঘ্নে যাতে বাওয়ালিরা গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য বন বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। ইতিমধ্যে বাওয়ালিরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা আহরণ করছে। কয়রা উপজেলার সুতারখালি এলাকার বাওয়ালি নজরুল ইসলামা বলেন, ২৫ বছর ধরে তিনি সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করে আসছেন। কিন্তু বন বিভাগের এত কড়াকড়ি আগে কখনো দেখেননি।কয়রার খুচরা গোলপাতা ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, এখন আগের মতো আর গোলপাতার চাহিদা নেই। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতার গত বছরের গোলপাতা এখনো রয়ে গেছে। তবে অনেক বাওয়ালি বলেছেন, গোলপাতায় যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করা হয়, সেই তুলনায় ব্যবসা নেই। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. মো. আবু নাসের মোহসীন হোসেন বলেন, তিনি প্রতিটি স্টেশনে নিয়মিত তদারকি করে বিএলসি নবায়ন করার অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি কূপে নৌকার মিল রেখে গোলপাতা কাটার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি গোলপাতা কুপ পরিদর্শন করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা কাটার জন্য বাওয়ালিদের নির্দেশনা দিয়েছেন। | 6 |
করোনা রোগের ভাইরাস কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি ই-আইটিইসি কোর্সের আয়োজন করেছে ভূবনেশ্বরের অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স (এআইআইএমএস)। ভারতের হাইকমিশনের সহায়তায় প্রথম বারের মতো পুরোপুরি বাংলায় এই কোর্সটি আগামী ১২-১৩ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের চিকিৎসা পেশাজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এতে অংশ নিতে পারবেন। অনলাইন কোর্সের জন্য আগ্রহীদের ://./-. এই ঠিকানায় নিবন্ধন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে ১৭-২১ এপ্রিল এআইআইএমএস, রায়পুরের পরিচালনায় এ ধরণের প্রথম অনলাইন কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে ভারতের চন্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এডুকেশন এন্ড রিসার্চ কর্তৃক দ্বিতীয় অনলাইন কোর্সটি শুরু হয়েছে। যা চলবে ৬ মে পর্যন্ত। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৫০ জনেরও বেশী স্বাস্থ্য পেশাজীবী এ কোর্সগুলো দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন বলছে, বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে প্রতিকূল সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে সবসময় প্রস্তুত ভারত। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে ফোনালাপে দুই দেশেরই প্রধানমন্ত্রী এক সংগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। বন্ধু প্রতিম এ দুই দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কোভিড-১৯ সংক্রমণে সৃষ্ট পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। | 3 |
আবুধাবিতে স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৮টায় আইপিএলের ১৪তম আসরের দ্বিতীয় পর্বের খেলায় অংশ নেবে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই দলে খেলছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি। এই খেলা শুরুর আগে শাহরুখ খান নিজ দলের ক্রিকেটারদের উদ্দেশে বলেন, 'মনে রেখো তোমরা প্রত্যেকে একজন যোদ্ধা। শেষ পর্যন্ত লড়াই করো। এই আকাশ তোমাদের।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 12 |
নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়ন সম্পর্কে শাজাহান খানের হুমকি বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা শাজাহান খানের বক্তব্যে সরকারের বিপদে পড়ার কোনো বিষয় নেই। সোমবার সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নির্দেশ দেবেন সেভাবেই সরকার চলবে। আইন বাস্তবায়নও হবে। এখানে কারো ইচ্ছায় কিছু হয় না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 9 |
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন, টেলিমেডিসিনে দেশের ৭০ ভাগ করোনা রোগী ঘরে বসে সেবা নিতে পারছেন। শুক্রবার বাগেরহাটের রামপালে 'আমাদের গ্রাম ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের' উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প 'আমাদের গ্রাম'-এর নতুন সেবা 'আমাদের গ্রাম ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার (টেলিমেডিসিন)' উদ্যোক্তা ও প্রকল্প পরিচালক রেজা সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে খুলনার সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন-অর-রশীদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ডা. মামুন আল মাহতাব বক্তৃতা করেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের রোগীকে অপারেশন করা সম্ভব। বাংলাদেশ এরইমধ্যে ফাইভ-জির পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ফাইভজি চালুর ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। দেশে ইন্টারনেটের বর্ধিত চাহিদা পূরণে তৃতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগের উদ্যোগ এবং মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করেছি। করোনাকালে ডিজিটাল কানেক্টিভিটিতে বাংলাদেশ তার সক্ষমতার দৃষ্টান্তমূলক স্বাক্ষর রেখেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ঘরে বসে অফিস করতে পারছে। ডিজিটাল কমার্স মানুষের দোরগোড়ায় নিত্যপণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। | 11 |
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রার্থী না হয়েও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জয়ের কারিগর ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নির্বাচনে বিজেপি পুরো মন্ত্রিসভাকেই ভোটের ময়দানে নামিয়ে দিয়েছিল। আর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি'র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারী ব্রিগেডও। অপরদিকে তৃণমূলে মমতা ও অভিষেক। ভোট প্রচারে নেমে দুর্নীতি ইস্যুতে অভিষেককেই নিশানা করেছিলেন বিজেপি-র নেতারা। একের পর এক বাক্যবাণে তারা বিঁধেছেন অভিষেককে। বিজেপি নেতাদের মুখে ভাইপো ছিল অন্যতম উচ্চারণ। ঘটনাচক্রে এই ভোট পর্বেই অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কয়লা-কাণ্ডে নোটিস পাঠায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-র। তার বাড়ি 'শান্তিকুঞ্জ'-এও পৌঁছে যান সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। ঘটনাচক্রে সেই ঘটনাপ্রবাহের স্রোত আছ়ড়ে পড়ে ভোটযুদ্ধে, অভিষেকের বিরুদ্ধেও। কিন্তু একের পর এক 'চাপ' সহ্য করে ঠান্ডা মাথায় 'খেলা' চালিয়ে গিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। যার ফল মিলেছে হাতেনাতে। অভিষেকের গড় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কেবলমাত্র ভাঙড় জয় করেছেন সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর নওশাদ সিদ্দিকি। বাকি ৩০টি আসনই গিয়েছে জোড়াফুল শিবিরের দখলে। বঙ্গ-যুদ্ধের প্রতি পর্বে বিজেপি যেখানে একের পর এক তারকা প্রচারককে লড়াইয়ে নামিয়েছে। সেখানে তৃণমূলের প্রচারের মুখ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক। বস্তুত দলের তারকা প্রচারক ছিলেন তারা দু'জনেই। মমতার মতোই উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ-রাজ্যের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছেন অভিষেক। তৃণমূলের এই কৌশল যে বিজেপি-কে ধারে এবং ভারে টেক্কা দিয়েছে তা সামনে এল ফল ঘোষণা হতেই। | 3 |
সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল। ফিচার ও স্বল্পদৈর্ঘ্য মিলিয়ে মোট ১০৭টি ছবি এতে প্রদর্শিত হবে। উৎসবে স্থানীয় মেধাবী নির্মাতাদের গুরুত্ব দেয়া হবে। সৌদি আরবের জেদ্দায় চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হচ্ছে ১২ মার্চ, চলবে ২১ মার্চ পর্যন্ত। সেরা ফিচার ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রী, চলচ্চিত্রে সেরা অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হবে উৎসবে। পুরস্কার দেয়া হবে ১৯ মার্চ। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কোনো কারণে ডিসেম্বরে এ নির্বাচন করা না গেলে আগামী বছরের ১৭ মার্চের আগে ভোট হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঘোষিত 'মুজিববর্ষ' পালনের সুবিধার্থে এমন চিন্তা-ভাবনা করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ইসির নির্বাচন শাখা সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর বলেন, যেসব সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষের দিকে সেগুলোর বিষয়ে আমরা ফিল্ডের রিপোর্ট নিচ্ছি। এগুলোর সব রিপোর্ট পেলেই কমিশন বসবে। কমিশন সিদ্ধান্ত দিলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একসঙ্গে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির ভোট হয়েছিল। এরপর ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৪ মে, দক্ষিণ সিটিতে ১৭ মে এবং চট্টগ্রাম সিটিতে প্রথম সভা হয় ওই বছরের ৬ আগস্ট। সে হিসাবে ঢাকা উত্তরের ক্ষেত্রে এ মেয়াদ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত, দক্ষিণে ১৬ মে পর্যন্ত। চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যে কোনো সময় ভোট করতে হবে। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকার দুই সিটির ভোট করতে না পারলে ইসিকে সেক্ষেত্রে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি বাদ দিয়ে মার্চে যেতে হবে। কারণ, জানুয়ারির ১ তারিখে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা চূড়ান্ত হবে ৩১ জানুয়ারি। ফলে এ সময়ে ভোট করতে গেলে নতুন ভোটারদের ভোট দেয়া না দেয়ার প্রশ্নে আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। ফলে ডিসেম্বরে কোনো কারণে ঢাকার দুই সিটির ভোট না হলে তা মধ্য-মার্চের (১৭ মার্চ) আগে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে ইসি। ইসি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে সিটি নির্বাচন ইভিএমে আয়োজন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানোর বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সীমানা, ওয়ার্ড বিন্যাস ও অন্যান্য বিষয়ে কোনো জটিলতা রয়েছে কি না বা তিন সিটি (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কি না- সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে পত্র পাঠাতে সুপারিশ করা হয়েছে। | 6 |
২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সরকার চলতি অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের অর্জনের উপর ভিত্তি করে ১৫.২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এফবিসিসিআই-এর মূল্যায়নে, বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, সরকারের বাণিজ্য সহায়কনীতি, রপ্তানিকারকদের সরবরাহ দক্ষতা ও কারখানার নিরাপত্তা পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রেক্ষিতে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তবে কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে উৎপাদন ব্যয় কমানো ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলসহ (ইডিএফ) অন্যান্য ব্যাংক সুদের হার হ্রাস, বেসরকারিখাতে সহজলভ্য ঋণ প্রবাহ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ক্ষেত্রে সব ধরনের নীতি সহায়তা, চট্টগ্রাম বন্দরসহ সকল বন্দর, এয়ারপোর্ট প্যাসেঞ্জার এবং কার্গো অপারেশন ও ব্যবস্থাপনা, মাল্টিমোডাল কানেকটিভিটি, ট্রেড লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা ও সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সর্বোপরি রপ্তানিনীতিতে উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার জন্য এফবিসিসিআই আহ্বান জানাচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্যকে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বাণিজ্য সহায়ক (ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন) কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ও রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ বছর নতুন ১৩টি পণ্য রপ্তানির আয়ের বিপরীতে 'নগদ সহায়তা' দেয়ার সিদ্ধান্ত এবং জগএ সেক্টরে ট্রেড ফ্যাসিলিটিজ সুবিধা- পণ্য বহুমুখীকরণ, লক্ষ্যমাত্রার চাইতে আরও উচ্চ রপ্তানি অর্জনে সহায়ক হবে। একই সাথে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের সকল সুবিধা ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা কাম্য। পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশের সার্বিক রপ্তানি (পণ্য ও সেবা) আয়বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪.৩০ শতাংশ এবং শুধুমাত্র সেবাখাতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৬.০৬ শতাংশ যা আশা ব্যঞ্জক। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে এবং সকল ধরনের নীতিসহায়তা নিশ্চিত করা হলে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণের কাংখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। দেশের বেসরকারিখাতের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সব সময়ই সচেষ্ট থাকবে। সপ্তম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভিশন-২০৪১ এর আলোকে রপ্তানি বৃদ্ধি, পণ্য বাজার সম্প্রসারণ ও উচ্চ মূল্যের পণ্য বহুমুখীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়নে সরকারকে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করতে এফবিসিসিআই সব সময় প্রস্তুত বলেও ওই প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। | 0 |
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কাজলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তলসহ নিরব ফরমান উল্লাহ খান (৪২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ মঙ্গলবার রাতে র্যাব-১০ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এনায়েত কবির সোয়েব এ তথ্য জানিয়েছেন।র্যাবের দাবি, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সুবিধামতো জায়গায় সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন নিরব। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ অস্ত্রের কেনাবেচা করেন তিনি।এনায়েত কবির বলেন, গ্রেপ্তার নিরবের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড এ্যামুনিশান উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একজন পেশাদার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী বলে স্বীকার করেছেন। নিরবের নামে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অস্ত্র মামলা হয়েছে।এ ছাড়া তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা। | 6 |
এই প্রথম নন-অফিসার ক্যাডারে মহিলারা সেনায় যোগ দিলেন। প্রথমাবরের জন্য ভারতীয় সেনায় যোগ দিল নারী সেনা পুলিশের কোর। এই প্রথম নন-অফিসার ক্যাডারে নারীরা সেনায় যোগ দিলেন। শনিবার (৯ মে) বেঙ্গালুরুর দ্য কোর অফ মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের দ্রোণাচার্য প্যারেড গ্রাউন্ডে নারী সেনা পুলিশের ৮৩ জন সদস্য প্যারেডে অংশ নেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। করোনা আবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে খুবই সামান্য আয়োজনের মধ্যে এই প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯০ সাল থেকে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগে যোগ দিয়েছেন অফিসার ব়্যাঙ্কে। নারী সেনা পুলিশের এই প্যারেডের মূল্যায়ন করেন দ্য কোর অফ মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের কমান্ডান্ট। তাঁরা তাঁদের অসাধারণ ড্রিলের মাধ্যমে সেখানে উপস্থিত আধিকারিকদের মন জয় করে নেন। আর সেই সঙ্গে ৬১ সপ্তাহের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলভাবে নিজেদের প্রমাণ করায়, দ্য কর্প অফ মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের কমান্ডান্ট বাহিনীর সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান। সেনার নারী পুলিশ বাহিনী ৬১ সপ্তাহের অনুশীলনে অংশ নেয়। অনুশীলনে ছিল মিলিটারি ট্রেনিং এবং প্রোভোস্ট ট্রেনিং। যেখানে যুদ্ধবন্দিদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, পুলিশের কর্তব্য এবং আনুষ্ঠানিক কর্তব্য শেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে স্কিল ডেভলপমেন্ট যার মধ্যে গাড়ি চালানো এবং গাড়ি কীভাবে ঠিক করতে হয় এ সেই সঙ্গে সিগন্যাল সম্পর্কেও সেখানো হয়েছে।
| 3 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন: সরকার দেশে সবধর্মের মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এছাড়া সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সব সাম্প্রদায়িক ঘটনার পেছনে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। রবিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মির্জা ফখরুল বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জনগণ ধর্মবিশ্বাস পালন করতে পারছেন না। উপাসনালয়গুলোরও নিরাপত্তা নেই। ইসলাম ধর্মে যারা বিশ্বাস করেন, তাদেরও নিরাপত্তা নেই এখানে। সামগ্রিকভাবে জনগণের নিরাপত্তা দিতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। এ সরকার অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকার। তারা নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে গত দুটি টার্ম জোর করে ক্ষমতায় আছে। আমরা তখনই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো, যখন নির্বাচনের সত্যিকার পরিবেশ তৈরি হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্যই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন একটি নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় আমরা অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আর সেজন্যই আমরা আন্দোলন করছি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীমসহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, কৃষকদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
প্রতিদিন সাবান ব্যবহারে মুখ, হাত, পা ও পিঠের ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ত্বক পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে সাবানের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয়। কিন্তু ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষা ও কমনীয়তা ফিরে পেতে ভেষজ উপায়েও ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়।প্রাকৃতিক উপকরণটকদই: টকদই ত্বকের মরা কোষ ঝরিয়ে ফেলতে দারুণ কাজ করে। সাবানের বিকল্প হিসেবে ত্বকে এর ব্যবহার বেশ পুরোনো। এটি শুধু পরিষ্কারই করে না, সঙ্গে ত্বকে জোগায় পুষ্টি। মুখের শুষ্ক ত্বকে কমনীয়তা ফেরাতে টকদই ব্যবহার করতে পারেন।ফল ও সবজি থেঁতো: সাবানের বিকল্প হিসেবে শসা, কলা, পেঁপে ও লেবু ব্যবহার করা যায়। ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখতেও এসব ফল খুব ভালো কাজ করে।কলা: একটা মাঝারি সাইজের কলা থেঁতো করে নিন। সঙ্গে মেশান দুধের সর। এরপর মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন মাখুন। ত্বক নরম হবে। শুষ্কতা কমে যাবে।কমলার খোসাবাটা: কমলার খোসাবাটা ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করতে ও ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে। এর মধ্যকার ভিটামিন সি ত্বকে লাবণ্য ফিরিয়ে আনে। কমলার খোসাবাটার সঙ্গে পরিমাণমতো দুধ মিশিয়ে সারা শরীরে মেখে নিন। প্রায় শুকিয়ে গেলে আলতো করে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। শরীর পরিষ্কার হবে। তেল: নারকেল তেল হালকা গরম করে পুরো শরীরে ম্যাসাজ করে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে শরীর রগড়ে স্নান করে ফেলুন। এতে শরীরে মরা কোষ জমবে না। ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হবে ও থাকবে পেলব।দুধ: মুখ পরিষ্কার করার জন্য দুধ খুবই উপকারী। ত্বকের ময়লা কাটাতে বেসনের সঙ্গে দুধ ও হলুদবাটা মিশিয়ে পুরো শরীরে লাগানো যায়।মসুর ডালবাটা: মসুর ডালবাটা ত্বক গভীরভাবে পরিচ্ছন্ন রাখতে খুবই কার্যকরী। ত্বকের যেকোনো দাগ দূর হবে নিয়মিত মসুর ডালবাটা ব্যবহারে। সঙ্গে পরিমাণমতো মেশাতে পারেন হলুদবাটা, দুধ ও লেবুর রস।মুলতানি মাটি: ত্বকের লোমকূপ থেকে ময়লা অপসারণ করতে মুলতানি মাটি খুব কার্যকর। পাশাপাশি এটি ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বলা ভাব কমায়। মুলতানি মাটির সঙ্গে পানি ছাড়াও গোলাপজল, টকদই, আপেল সিডার ভিনেগার ইত্যাদি মিশিয়ে ত্বকে প্রলেপ লাগানো যায়।লেখক: রূপবিশেষজ্ঞ | 4 |
ঢাকা: উইঘুরদের ওপর চীনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপিত একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল। গত মঙ্গলবার ইসরায়েল ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে। ওই বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রায় দশ লাখ উইঘুর মুসলিমকে অন্যায়ভাবে ক্যাম্পে বন্দী করে রেখেছে।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার প্রতিবেদনে বল হয়, এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েল এমন কাজ করল । যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়েই দেশটি ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে।অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, স্পেন এবং যুক্তরাষ্ট্রও ওই বিবৃতিতে সমর্থন জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, উইঘুরদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে চীন। অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি, যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা এবং শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে জোর করে আলাদা করে দিচ্ছে চীন সরকার।যদিও চীন এই অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি, কারিগরি শিক্ষার জন্যই উইঘুরদেরকে ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে দূরে থাকবে।ইসরায়েল চীনকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে চীনের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সাল থেকেই জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন শুরু করে চীন সরকার। | 3 |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একদল কুকুরের কামড়ে মারা গেছে লোকালয়ে ছুটে আসা এক হরিণ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সাগর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর মৃত হরিণটি উদ্ধার না করায় রাত ৯টা পর্যন্ত সেটি সাগর পাড়ে পড়ে ছিল।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যায় উপকূলীয় বন থেকে একটি চিত্রা হরিণ মুরাদপুর গুলিয়াখালী সাগর পাড়ে চলে আসে। এ সময় সাগর পাড়ে থাকা এক দল কুকুর হরিণটিকে দেখে আক্রমণ করেন। কুকুরের ধাওয়ায় দিশেহারা হরিণটি সাগর পাড়ের চারদিকে ছুটতে থাকেন। একপর্যায়ে কুকুরগুলো হরিণটিকে ধরে কামড়াতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই হরিণটির মৃত্যু হয়।মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহেদ হোসেন নিজামী বাবু বলেন, বনের ভেতর থাকা হরিণটি সাগর পাড়ে চলে আসে। সেখানে থাকা কুকুরের দল তাকে কামড়ে মেরে ফেলে।এ ঘটনার পর বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী উপকূলীয় বন কর্মকর্তাদের খবর দেয়। তাঁরা রাত ৯টা পর্যন্ত হরিণটি উদ্ধার করতে আসেননি।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, আসলে হরিণের মৃত্যুর খবর আমরা একটু দেরিতে পেয়েছি। খবর পেয়েই সেখানে আমার একজন বিট অফিসারকে পাঠিয়ে মৃত হরিণটি উদ্ধার করেছি। এ ব্যাপারে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
সম্প্রতি নিজেদের প্রথম ৫জি স্মার্টফোন 'পোকো এম৩ প্রো' উন্মোচন করেছে স্মার্টফোন ব্র্যান্ড পোকো। ১৪ জুন থেকে ভারতে বিক্রি হবে স্মার্টফোনটি। সবমিলিয়ে দুটি সংস্করণে আসছে পোকো এম৩ প্রো। প্রথম সংস্করণে মিলবে ৪ গিগাবাইট র্যাম এবং ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সংস্করণটিতে থাকবে ৬ গিগাবাইট র্যাম, ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজ। ভারতে প্রথম সংস্করণটির দাম ধরা হচ্ছে ১৩,৯৯৯ রুপি, আর দ্বিতীয় সংস্করণটির দাম ধরা হচ্ছে ১৫,৯৯৯ রুপি। দেশটিতে জুনের ১৪ তারিখ থেকে পাওয়া যাবে স্মার্টফোনটি। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিয়াসাত ডেইলির। পোকো এম৩ প্রো এর ডিসপ্লেতে ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিয়া গরিলা গ্লাস ৩। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ডিভাইসটিতে থাকছে অ্যান্ড্রয়েড ১১। পেছনে ক্যামেরা থাকছে ৩টি - ৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো ক্যামেরা এবং ২ মেগাপিক্সেলের ডেপথ ক্যামেরা। অন্যদিকে, সামনে থাকছে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। স্মার্টফোনটিতে থাকবে পাঁচ হাজার মিলিঅ্যাম্প আওয়ার সক্ষমতার ব্যাটারি এবং ১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সমর্থিত ২২.৫ ফাস্ট চার্জার। এতে করে ঘণ্টা পর ঘণ্টা স্মার্টফোন নানা ধাঁচের অডিও-ভিজুয়াল কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। তিনটি রংয়ে পাওয়া যাবে ডিভাইসটি। রং তিনটি হল: পাওয়ার ব্ল্যাক, কুল ব্লু এবং পোকো ইয়েলো। | 11 |
'বদলে যাওয়া কক্সবাজার' উৎসব শুরু হবে আজ বৃহস্পতিবার। দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান কক্সবাজারের চিত্র এক দশকে অনেকটাই পাল্টে গেছে। সাগর ছোঁয়া রানওয়ে। মুক্তার রঙে ঝিনুকের মতো রেল স্টেশন। অর্থনীতির গেম চেঞ্জার গভীর সমুদ্রবন্দরসহ আরও কত কি! দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে এ জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। ছোট-বড় ৭৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। এই বদলে যাওয়া কক্সবাজারের সাফল্য তুলে ধরে আজ বৃহস্পতিবার (৩১) মার্চ সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে 'উন্নয়নের নতুন জোয়ার, বদলে যাওয়া কক্সবাজার' উৎসব। যেখানে তুলে ধরা হবে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা সংগ্রাম, ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের ইতিহাস। জমকালো এই উৎসব গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন সৈকতের অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উৎসবটি আয়োজন করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগ। বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন প্রেরিত অনুষ্ঠানমালার সূচিতে এ উৎসবকে দুই পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্ব অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে চলবে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, স্বাগত বক্তব্য, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বিষয়ে ডকুমেন্টরি প্রদর্শন। সকাল সাড়ে ১০টায় কবিতা আবৃত্তি করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা। এরপর স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্ববোধক গান ও পল্লী সঙ্গীত, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে স্কুল শিক্ষার্থীদের সংলাপ এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরে স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হবে। বেলা পৌনে একটায় স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। অতিথিদের আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। এরপর রয়েছে স্থানীয় শিশু শিল্পীদের অংশগ্রহণে সমবেত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের স্বাগত বক্তব্যের পর 'জোরশে চলো বাংলাদেশ' শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। সন্ধ্যা ছয়টা ৫০ মিনিটে স্থানীয় উন্নয়নের উপর উপস্থাপনা। এতে বক্তব্য রাখবেন, ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব ডা. আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় উন্নয়নের সুবিধাভোগীদের বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বক্তব্য রাখবেন। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানিয়ে 'ও জোনাকি' গানের ভিডিওচিত্র চিত্রায়ণ করা হবে। এরপর সাতটা ২০ মিনিটে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই 'একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার' গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য ও সৈকতের আকাশ রাঙানো হবে হরেক রঙের আতশবাজিতে। সবশেষে মঞ্চ মাতাবেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস ও চিরকুট। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, সমুদ্র সৈকতে যেহেতু উৎসবটি হচ্ছে এতে অনেক পর্যটকের সমাগম হবে। এজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বীচ কর্মী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে। | 6 |
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্বিচারে পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গোদাতলী এলাকায় হানিফ নাম এক ব্যক্তির জমিতে ক্রিক বাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে ওই পাহাড় কাটাহচ্ছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে রাঙামাটি মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এ কাজটি দেখভাল করছে খাগড়াছড়ি মৎস্য অফিসের প্রকৌশল বিভাগ। মানিকছড়িতে কাজ করা ঠিকাদার রাঙামাটির বাসিন্দা বলে জানা গেলেও তাঁর পরিচয় জানাননি প্রকল্প কর্মকর্তারা। তবে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে কর্মকর্তারা বলছেন, ঠিকাদারকে পাহাড় কাটার কারণ জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আর যেন পাহাড় কাটা না হয়, সে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে।গড়াছড়ি জেলা মৎস্য কার্যালয় ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পাহাড়ে ক্রিক বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য তিন জেলায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী ইউপির গোদাতলী এলাকায় একটি ক্রিক বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. হানিফের প্রথম শ্রেণির জমিতে বাঁধ তৈরিতে ব্যয় ধরা হচ্ছে সাত লাখ টাকা। পুরো কাজটি দেখভাল করছে খাগড়াছড়ি মৎস্য অফিসের প্রকৌশল বিভাগ।গোদাতলীতে মৎস্য ক্রিক বাঁধে পাহাড় কাটার সত্যতা স্বীকার করেন প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হযরত আলী। তিনি বলেন, 'ঠিকাদার ও সুবিধাভোগী পরিবার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দেদার পাহাড় কেটে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পাহাড় কাটায় নিষেধ করেছি।'প্রকল্পের সহকারী পরিচালক শরৎ কুমার ত্রিপুরা আজকের পত্রিকাকে জানান, গোদাতলীর হানিফের জমিতে মৎস্য চাষে ক্রিক বাঁধে পাহাড় কাটার বিষয় সম্পর্কে ঠিকাদারকে সতর্ক করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব ও নতুন করে আবার পাহাড়ে আঁচড় দিলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকল্পের সহকারী পরিচালকের কাছে ঠিকাদারের বিস্তারিত পরিচয় জানতে চাইলে বলেন, 'আমি পানছড়ি উপজেলায় মিটিংয়ে আছি। এই মুহূর্তে জানা নেই। পরে জানাব।'তবে পরে বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার তাঁকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাঙামাটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিগন্ত এন্টারপ্রাইজ এই কাজ পরিচালনা করছে। | 6 |
বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে ২০০৯ সালে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনা কতটা প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে এক গবেষণার পর ফলাফলের যে চিত্র উঠে এসেছে তাকে হতাশাজনক বলে মনে করছেন গবেষক-দলের সদস্যরা। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অ্যাকশন এইডের উদ্যোগে এই গবেষণা কর্মের ফলাফল আজ ঢাকায় প্রকাশিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কর্পোরেট খাত, মিডিয়া সহ পাঁচটি খাতের ২১টি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং ব্যবস্থাপকদের মধ্যে গবেষণাটি চালানো হয়েছে। অ্যাকশন এইডের পরামর্শক হিসাবে গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমিন। গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, "প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০০৯ সালের গাইডলাইন এর প্রয়োগ একবারেই নাই বললে চলে। যেখানে আছে সেখানে সীমিত-ভাবে প্রয়োগ হচ্ছে।" "আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একেবারেই নাই, এবং শুধু যে নাই তা নয় যাদের সেটা প্রয়োগ করার কথা তারা অনেকে এই গাইডলাইন সম্বন্ধে জানেনই না।" মিজ ইয়াসমিন বলেন, বর্তমান যে আইনি কাঠামো আছে তাতে যৌন হয়রানি সম্পর্কে কোনও সংজ্ঞা পাওয়া যায়না। "এই আইনে যৌন হয়রানি বা সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট বলতে আমরা কী বুঝি - তার একটা সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।" গবেষক মিজ ইয়াসমিন আরও জানান, এই গাইডলাইনে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর ছিল- এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে তারা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন যাতে করে যৌন হয়রানি সম্বন্ধে আরও সচেতনতা সৃষ্টি করা যায়। তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি ছিল তা হল - প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে , একটি যৌন হয়রানি বিষয়ক অভিযোগ কমিটি গঠন করতে হবে নীতিমালা অনুসারে। কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না? গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক তাসলিমা ইয়াসমিন জানান, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গবেষণায় যারা ছিলেন সেখানে দেখা গেছে গাইডলাইন প্রয়োগ হয়েছে, সে ধরনের একটা কমিটিও করা হয়েছে। কিন্তু যে পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা সে তুলনায় অভিযোগের সংখ্যা একদমই সমানুপাতিক না। "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এইধরনের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট কমপ্লেইন কমিটি আছে। কিন্তু দু-একটি ছাড়া বাকিগুলো একবারেই নন-ফাংশনাল (অকার্যকর)," তিনি বলেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এই চিত্রটি আরও খারাপ বলে জানান এই শিক্ষক। "কর্মক্ষেত্রে আমরা দেখলাম, রাইট-বেজড এনজিও যারা (মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান) এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছেন তারা দুয়েকটি ছাড়া সকলেরই ২০০৯ সালের গাইডলাইনের ইমপ্লেমেন্টেশেন নেই।" "এর কারণ সম্পর্কে আমরা জেনেছি যাদের এই গাইডলাইনটি প্রয়োগ করার কথা তারা কিন্তু এই গাইডলাইনের বিষয়ে জানেনই না।" "ধরুন একটি গার্মেন্টস যার পাঁচ/দশ হাজার শ্রমিক আছে, তার শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় যে বা যারা আছে তারা হয়তো জানেনই না যে এরকম একটি গাইডলাইন আছে।" এই নীতিমালা বাস্তবায়নের দিক থেকে বিবেচনা করলে পরিস্থিতি সব মিলিয়ে হতাশাজনক বলে তিনি তার মতামত তুলে ধরেন। | 6 |
ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধ-চকলেট কার না পছন্দ। আর হালের দিনগুলোতে জন্মদিন পালন থেকে শুরু করে যেকোনো উদ্যাপনে কেক যেন চাই-ই চাই। এ দুয়ে মিলেমিশে যখন সামনে হাজির হয় চকলেট কেক, তখন জিবে জল না এসে পারে? মজার বিষয় হলো, চকলেট কেক একেবারে আলাদাভাবে উপভোগের জন্য পুরো একটি দিনই রয়েছে। চকলেট কেক দিবস। আজ ২৭ জানুয়ারি দিবসটি উদ্যাপন করেন চকলেট কেকপ্রেমীরা। বছরজুড়ে নানা দিবসের ভিড়ে চকলেট কেক নিয়ে আলাদা একটি দিন রয়েছে, তা শুনে হয়তো অনেকের চোখই কপালে উঠবে। এর কারণও আছে। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে চকলেট কেক দিবস পালনের তেমন একটা চল নেই। তবে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে কিন্তু ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে দিবসটির। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে চকলেট কেক দিবস ঘটা করে উদ্যাপন করা হয়। কথা হচ্ছে যখন চকলেট কেক নিয়ে, তখন এর ইতিহাসটা একটু ঘেঁটে নেওয়া যাক। ফিরে যাই কয়েক শ বছর পেছনে। মার্কিন সাপ্তাহিক পত্রিকা ডোভার পোস্ট বলছে, চকলেট কেকের জন্ম ১৭৬৫ সালে। সে বছর একজন চকলেট প্রস্তুতকারীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঘন চকলেট সিরাপ তৈরি করেন জেমস বেকার নামের এক চিকিত্সক। ওই সিরাপ ছাঁচে ফেলে কেকের রূপ দেন তাঁরা। উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে তা থেকে পানীয় বানানো। সেটিকেই বলা হচ্ছে প্রথম চকলেট কেক। পরে চকলেট কেকের ধারণাকে আরও সামনে এগিয়ে নেন এলিজা লেসলি। রন্ধনশিল্প নিয়ে লেখালেখি করে নাম কামিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এই নারী। ১৮৪৭ সালে 'দ্য লেডিস রেসিপ্ট বুক' নামে তাঁর লেখা রান্নার একটি বই প্রকাশিত হয়। সেখানে তুলে ধরেন চকলেট কেকের রেসিপি। তবে এলিজার কেকে ব্যবহার করা হয়েছিল চকলেটের টুকরা। তরল চকলেট মেশানোর বুদ্ধি তখনো কারও মাথায় আসেনি। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, ততই মজাদার হয়েছে চকলেট কেক। সারাহ টাইসন, মারিয়া পারলোয়ারের মতো পাকা সব রাঁধুনিদের মাথা থেকে বের হয়েছে নানা রেসিপি। এসেছে আজকের তুলতুলে চকলেট কেক। চকলেট কেক নিয়ে কমবেশি জানা গেলেও দিবসটির ইতিহাস এখনো অন্ধকারে। কবে থেকে চকলেট কেক দিবস পালন করা হয়, কার হাত ধরেই-বা শুরু, তা এখনো জানা যায়নি। চকলেট কেক দিবস কীভাবে পালন করা হয় তা তুলে ধরেছে দিবসকেন্দ্রিক ওয়েবসাইট ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার। মার্কিনদের যেহেতু দিবসটি নিয়ে মাতামাতি বেশি, তাই ধারণা দেওয়া হয়েছে তাঁদেরকে ঘিরেই। এদিনে কেকপ্রেমীদের একটাই কাজ, চকলেট কেক খাও আর অন্যকে খাওয়াও। কেকের দোকানে গিয়ে পয়সা খরচা করে পছন্দের কেকটি কিনে ফেলতেও মানা নেই। কেক ভালো হলে দোকানিকে ধন্যবাদ জানানো হয়। সাধ জাগলে এদিন বাসাতেই চকলেট কেক বানান অনেকে। আর হাতের কাছে ক্যামেরা তো আছেই। কেক নিজের বানানো হোক কিংবা কেনা, ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট না করলে কমতি থেকেই যায়। এ গেল চকলেট কেক দিবসের কথা। এবার জেনে নেওয়া যাক চকলেট কেক নিয়ে মজার কিছু তথ্য। ন্যাশনাল ডেস টুডে নামের একটি ওয়েবসাইট বলছে, নানা ধরনের কেকের ভিড়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচজনের একজন জন্মদিন পালনে বেছে নেন চকলেট কেক। অনেকের কাছেই আবার কেক মানে শুধুই চকলেট কেক। যুক্তরাষ্ট্রের ৪ শতাংশ মানুষ নাকি চকলেট কেক ছাড়া অন্য কোনো কেক মুখেই তোলেন না। বাজারে ভ্যানিলা কেক, লেমন কেক, অরেঞ্জ কেকসহ নানা ধরনের কেকের চল রয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে ৩২ শতাংশ মার্কিন কেকপ্রেমীর পছন্দ চকলেট কেক। এই কেক এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে ১৮৭৯ সালে তা নিখুঁতভাবে বানানো শেখাতে রীতিমতো কোচিং সেন্টার খুলে বসেন রডল্ফ লিন্ড নামের এক ব্যক্তি। যে চকলেট কেক নিয়ে এত আয়োজন, লাখো মানুষের আগ্রহ, সেটিকে কী বলা যায়? কেকের রাজা? | 3 |
ঢাকা: গোটা বিশ্বে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। করোনা মহামারির এই সময়ে প্রচলিত বাজার ব্যবস্থা নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে। এই ফুরসতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আস্থা বাড়ছে মানুষের। ফলে দিনকে দিন ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কদর বাড়ছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় গত বছর ডিজিটাল বিজ্ঞাপন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর হওয়া আয়ের হিসাবে। এদিকে বিজ্ঞাপন থেকে আয় বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অভিযোগও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ক্রমাগত বাড়ছে। অনেক সময় ব্যক্তির অজান্তেই তার ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অ্যাপল তার ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নীতিতে কিছু বদল এনেছে। এতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বিপাকে পড়তে পারে।করোনা মহামারির এই সময়ে অনলাইনে কেনাকাটা অনেক বেড়েছে। কিন্তু ভোক্তাদের অনেকের মধ্যেই নজরদারির আওতায় পড়ে যাওয়ার ভয় কাজ করে। এ ভয় অমূলকও নয়। অনলাইন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের বয়স, রুচি ইত্যাদির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচার করতে দেখা যায়। এই বিজ্ঞাপনগুলোর উপস্থিতিই বলে দেয়, সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর তথ্যের দিকে বিজ্ঞাপনদাতাদের বেশ নজর রয়েছে।এ ক্ষেত্রে অ্যাপলের একটি উদাহরণ হাজির করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। সাময়িকীটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ স্মার্টফোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি তার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সফটওয়্যার আপডেট আনে, যার বিরুদ্ধে নজরদারীর অভিযোগ উঠেছে। অ্যাপলের সর্বশেষ মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম (আইওএস) এমন সব অ্যাপস সরবরাহ করছে, যেগুলো ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নজরদারীর সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করে। অবশ্য ব্যবহারকারীরা চাইলে এই চেষ্টা প্রতিহত করতে পারে। কিন্তু বিশ্বস্ত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপগুলোর এই চেষ্টা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।কোনো ব্যবহারকারী যদি এসব অ্যাপকে নজরদারীর সম্মতি দিয়ে বসেন, তবে সে তথ্য নিশ্চিতভাবেই পাচার হয় বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে। অনলাইন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনদাতাদের বিস্তার এই প্রক্রিয়ার সাফল্যই ঘোষণা করছে। গণমাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গ্রুপএম-এর তথ্যমতে, এক দশক আগে বিশ্বব্যাপী মোট বিজ্ঞাপনের মাত্র ২০ শতাংশ ছিল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। এক দশকের ব্যবধানে এই হার বেড়ে ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর মহামারির সত্ত্বেও গত বছর এই খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ শতাংশ।গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট গত ২৭ এপ্রিল চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের এই প্ল্যাটফর্ম জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। এর ঠিক পরদিনই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফেসবুক জানায়, তাদের ব্যবসা একই সময়ে আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। কিন্তু এই যে এত সব বিজ্ঞাপনী আয়, তার সবটাতেই টান দিয়ে বসতে পারে একটি শক্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নীতি। বিষয়টি এখন ভীষণভাবে আলোচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে এই নীতি ভাঙার দায়ে ফেসবুকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার খবরও প্রকাশ পেয়েছে।ইকোনমিস্ট জানায়, ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) নামে একটি আইন করে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্যালফোর্নিয়া কনজিউমার প্রাইভেসি অ্যাক্ট নামে একই ধরনের আরেকটি আইন হয় কাছাকাছি সময়ে। দুটি আইনই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য ব্যবহারকারীদের তথ্য কাজে লাগানোর পথকে কঠিন করেছে।কিন্তু এসব আইনকে খুব একটা তোয়াক্কা করতে দেখা যাচ্ছে না প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নীতি লঙ্ঘনের যেকোনো অভিযোগের বিপরীতে তারা প্রয়োজনে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে প্রস্তুত। কিন্তু ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার টুলগুলো অপসারণ করতে রাজি নয় তারা। এ ক্ষেত্রে অ্যাপল সম্প্রতি কিছুটা ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের সাফারি ওয়েব ব্রাউজার সেসব কুকিজ ব্লক করছে, যেগুলো বিজ্ঞাপনদাতারা সাধারণত ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নিতে ব্যবহার করছে। নিজেদের ক্রোম ব্রাউজার নিয়ে এমন পরিকল্পনা রয়েছে গুগলেরও।তবে অ্যাপল যে পথে এগোচ্ছে, তাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপাকে পড়তে হতে পারে। কারণ, নিজেদের ডিভাইসের সেটিংসে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারীরা চাইলে বিভিন্ন অ্যাপের নজরদারী টুলকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারেবন।আগেই বলা হয়েছে অ্যাপল এমন কিছু অ্যাপকে জায়গা করে দেয়, যা ব্যক্তির অজ্ঞাতেই বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নেয়। এসব অ্যাপ আইডেন্টিফায়ার ফর অ্যাডভার্টাইজার (আইডিএফএ) কোডের মাধ্যমে এই নজরদারীর কাজটি করে। অ্যাপলের আনা নতুন পরিবর্তনের কারণে এখন এর ব্যবহারকারীরা চাইলে এখন থেকে অ্যাপগুলোকে এই কোড ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে পারবেন।অ্যাপলের এই পদক্ষেপ রীতিমতো উল্টে দেবে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জগৎকে। এ বিষয়ে ইন্টারনেট অ্যাডভার্টাইজিং ব্যুরোর প্রধান জন মিউ দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, বিজ্ঞাপন দুনিয়ায় এই পদক্ষেপ বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে।উদাহরণ হিসেবে গুগলের কথা বলা যায়। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন খাত থেকে হওয়া ১৪ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের সার্চবারে লেখা বিভিন্ন শব্দের ওপর। আর আমাজন এ ক্ষেত্রে নজর রাখে তার ভোক্তাদের ওপর। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন খাতে আয়ের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে থাকা এই প্রতিষ্ঠান নজর রাখে, তার ভোক্তারা কোন বিজ্ঞাপন দেখে শেষ পর্যন্ত কী কিনছেন তার ওপর। আর অ্যাপল তার আইফোন ব্যবহারকারীদের কে কোথায় কখন যাচ্ছে, তার সব হিসাব রাখে। আর ফেসবুক বরাবরই খেয়াল রাখে তার ব্যবহারকারীদের পছন্দ-অপছন্দের দিকে।এ অবস্থায় অ্যাপলের ডিভাইসে আনা নতুন এই পরিবর্তন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। গত আগস্টেই অ্যাপল ঘোষণা করেছিল যে, তারা তাদের অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক থেকে আয় কমিয়ে আনছে। এতে বিপদে পড়বে অন্যরা। কারণ, অ্যাপল ঠিকই নিজের ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখে এবং এতে কোনো ব্যাত্যয়ও হবে না। ফলে মূল দুশ্চিন্তা এখন বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর। কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের ওপর নজর রাখতে ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সুরক্ষানীতির ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। আর সারা বিশ্বে অ্যাপলের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এতই যে, তা উপেক্ষা করার সুযোগও তাদের হাতে নেই। ফলে অ্যাপলের ডিভাইসগুলোয় আনা তথ্য সুরক্ষানীতি নিয়ে অন্যদের দুর্ভাবনা না থাকার কোনো কারণ আর থাকছে না। | 11 |
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে ১৫ কেজি ওজনের একটি পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়েছে। উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের অন্তারমোড় নামক স্থানে আজ সোমবার সকালেসাহিন শেখের জালে মাছটি ধরা পড়ে। তিনি মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে নিলামে মাছটি ক্রয় করেন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী মো. শাজাহান শেখ। তিনি এক হাজার দুইশ' টাকা কেজি দরে ১৮ হাজার টাকায় মাছটি ক্রয় করেন । মাছ ব্যবসায়ী মো. শাজাহান শেখ বলেন, পদ্মা নদীতে এখন বেশ কিছু বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তবে চায়না জালের কারণে অনেক মাছ এখন বড় হতে পারছে না। এই জালগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে মৎস্য দপ্তর এই জালের ব্যবহার বন্ধ না করলে আগামীতে পদ্মায় বড় মাছের আকাল পড়বে। এ প্রসঙ্গে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, পদ্মা মাছ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির ব্যাপারে আমাদের নজরদারী রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই চায়না জালের ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
রাজবাড়ীতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০০ জন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহিম টিটন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২ শত ৪৮ জনে।সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০০ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১১০ জন, পাংশা উপজেলার ৪৯ জন, কালুখালী উপজেলার ১৯ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলার ১৩ জন ও গোয়ালন্দ উপজেলার ৯ জন রয়েছেন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৮ ও ৭ জন, পাংশা উপজেলায় ১ হাজার ৫৬২ জন, কালুখালী উপজেলায় ৪৮৫ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৫৩৩ জন এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় ৮৬১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৫০২ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৮৪ জন, পাংশা উপজেলায় ১ হাজার ৬৬ জন, কালুখালী উপজেলায় ২৯৫ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৪১৮ জন এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় ৬৩৯ জন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জেলায় করোনা ইউনিটে ভর্তি আছে ৭৬ জন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ২৮ জন, গোয়ালন্দে ৭ জন, পাংশায় ১৯ জন, বালিয়াকান্দিতে ৬ জন এবং কালুখালীতে ১৬ জন।এ ছাড়া হোম আইসোলশনে আছেন ১ হাজার ৬১৬ জন। যার মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলায় ৬৬৫ জন, পাংশা উপজেলায় ৪৬১ জন, কালুখালী উপজেলায় ১৭০ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১৭ জন, গোয়ালন্দ উপজেলায় ২১৩ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত জেলায় ৫৪ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছেন ৩০ জন, পাংশা উপজেলায় ১৬ জন, কালুখালী উপজেলায় ৪ জন, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ উপজেলায় ২ জন করে মোট ৪ জন। এখন পর্যন্ত জেলায় ২৭ হাজার ৫৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে পিসিআর ল্যাবে ২১ হাজার ৭৯৬টি এবং র্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।সিভিল সার্জন ইব্রাহিম টিটন জানান, প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জনসাধারণ সচেতন না হলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সেই সঙ্গে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। | 6 |
গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেটস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ ভাষাভাষী অধ্যুষিত এই দুটি অঞ্চল একত্রে 'ডোনবাস' নামে পরিচিত। স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পর অঞ্চল দুটিকে বেসামরিকীকরণের লক্ষ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরই মধ্যে শুক্রবার ৫১তম দিনে গড়িয়েছে এই সামরিক অভিযান। এই সময়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে নিজেদের সাধ্যমতো প্রতিরোধীও গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। ফলে রাজধানী কিয়েভ ও এর আশেপাশের এলাকা এবং চেরনিহিভ থেকে পিছু হঁটতে বাধ্য হয় রুশ বাহিনী। এদিকে, আমেরিকা ও ইউরোপী ইউনিয়নের দেশগুলো এই অভিযানকে 'পুতিনের ভূমি জবরদখল' বলে আখ্যা দিয়েছে। তিনি রুশ অভিযানের ৫০তম দিনে নিজ দেশের জনগণকে 'সাহসী দেশের অটুট জনগণ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার ভাষণ শুরু করেন। জেলেনস্কি বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে ৫০ দিন প্রতিরোধ করেছি। রুশ আক্রমণের পঞ্চাশ দিন।" ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই সময়কালে, এই ৫০ দিন আমাকে অনেক বিশ্ব নেতাকে ভিন্নভাবে নিজেদেরকে দেখিয়েছেন। অনেক পশ্চিমা নেতাদের সাথে তার কথোপকথন এবং বৈঠকের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, "বিগত ৫০ দিনে আমি রাজনীতিবিদদের এমন আচরণ করতে দেখেছি যেন তাদের কোনও ক্ষমতাই নেই। এবং আমি অ-রাজনীতিবিদদের দেখেছি যারা এই ৫০ দিনে নেতৃত্বের দাবিদার কয়েকজন রাষ্ট্রনায়কের চেয়েও বেশি করেছেন।" তার বক্তৃতায় তিনি রাশিয়ার মস্কভা জাহাজ ডুবে যাওয়ার বিষয়ে কোনও কিছু স্পষ্ট করে উল্লেখ করেননি। তবে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যারা দেখিয়েছে যে রুশ জাহাজ যেতে পারে... কেবল তলদেশে। জেলেনস্কি বলেন, "আমাদের প্রতিরক্ষার পঞ্চাশ দিন একটি অর্জন। লাখ লাখ ইউক্রেনীয়দের কৃতিত্ব। ২৪ ফেব্রুয়ারি যারা জীবনের মূল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল- লড়াই করার জন্য। প্রকৃত মানুষ হিসেবে। হাল ছেড়ে দেয়নি এবং বিশ্বাসঘাতকতাও করেনি।" সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বন্ধের আইন কার্যকরের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের তামাক বিরোধী জোট। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে এই দাবি জানান তাঁরা।পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের উপদেষ্টা আবু নাসের খান বলেন, অনেকে সিগারেটের ভেতর অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করছেন। তবে সবাই সিগারেটের ভেতর অন্যান্য তামাক দিয়ে সেগুলো স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয় না। কিন্তু অনেকেই এটা করে।পবা চেয়ারম্যান বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুনাফা অর্জনকারী কোম্পানি। এদের সঙ্গে তামাক কোম্পানিগুলো যুক্ত হয়েছে। তাই তারা চাইছে না তামাকজাত দ্রব্য বন্ধ হোক।তামাক বিরোধী জোটের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নীতিনির্ধারকদের বিভিন্নভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তামাক বিক্রেতা কোম্পানিগুলো। তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে তারা। তাদের এই পদক্ষেপগুলোকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলে উল্লেখ করেন আলোচকেরা।এ সময় উপস্থিত ছিল মাদক বিরোধী সংগঠন প্রত্যাশা, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ও এইড ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা। | 6 |
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ে আবারও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদের পশ্চিম পাশের পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। মসজিদ ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের মধ্যবর্তী লালন পাহাড় নামে পরিচিত পাহাড়টির প্রায় অর্ধেকটা পুড়ে গেছে। আধঘন্টার চেষ্টায় ক্যাম্পাসের কয়েকজন আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে এ বিষয়ে বলতে পারেননি আশপাশের কেউ। আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেওয়া আনসারের এসিস্ট্যান্ট কমান্ডার বাচ্চু মিয়া বলেন, 'আমি খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি পাহাড়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে আরও কয়েকজন আনসার ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় আগুন নেভাতে পেরেছি।' খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসের এসব পাহাড়ে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে বহিরাগতরা নিয়মিত যাতায়াত করে। ক্যাম্পাসের অনেকেই মনে করছেন আগুন লাগার পেছনে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। | 6 |
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, বিভিন্ন গণজমায়েতে মাস্ক পরাই ভুলে গেছে মানুষ।কেউ কেউ লোকদেখানো মাস্ক পরলেও তা নিতান্তই কম। আবার কেউ মুখের থুতনির নিচে ঝুলিয়ে রেখেছেন মাস্ক। না বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণের হার ছিল ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ; যা গত মঙ্গলবার পর্যন্ত কমে হয়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। জেলায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৭৩৮ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ৪১৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৯০ জনের। সক্রিয় রোগী রয়েছেন ২৯ জন।ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলায় তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল। এ পর্যন্ত ৬৯২ জন শনাক্ত হয়েছেন, এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৬৭ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন। টিকার নিবন্ধন করেছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৩০ জন, দ্বিতীয় ডোজ ২৩ হাজার ৮৯৩ জন। নিবন্ধনের পর টিকার অপেক্ষায় রয়েছেন ৩৩ হাজার ২৩১ জন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান জানান, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা কমিয়ে আনা সম্ভব। | 6 |
রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিনের যোগ্য উত্তরসূরী মা। দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীও তিনি। সেই মায়ের সন্তান গান গাইবে না তা কী হয়? গাইলেনও। কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সির মেয়ে রোদেলা প্রথমবার কণ্ঠ দিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রজাপ্রতি প্রজাপতি' গানটিতে। গত শনিবার মগবাজারে অবস্থিত গায়েনবাড়ি স্টুডিওতে গানটিতে কণ্ঠ দিলেন রোদেলা। মেয়ের গাওয়া গানটিতে হামিং দিলেন ন্যান্সি। যদিও এর অনেক শিল্পীর গানেই হামিং দিয়েছেন তিনি। এবার দিলেন নিজের মেয়ের গানে। বিষয়টি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত এ গায়িকা। সমকাল অনলাইনকে জানালেন সে উচ্ছাসের কথা। ন্যান্সি বলেন, মেয়ে গাইলো আর আমি হামিং দিলাম। বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য অন্য রকম। গান বাজনার প্রতি রোদেলার আগ্রহ দেখে আমিও অবাক। আমি সবসময় চাইছি সে যেন নিজের মতো করে বড় হয়। সেটাই হচ্ছে। পড়াশুনার পাশাপাশি গানের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। বাসায় আমিই ওকে গান শেখাচ্ছি। প্রথম গান গাওয়া প্রসঙ্গে রোদেলা জানায়, জীবনে প্রথম বারের মত মাইক্রোফোন এর সামনে দাঁড়ালাম। আমি অনেক এক্সাইটেড। মীর মাসুম আংকেল কে অনেক ধন্যবাদ, গানটি গাইবার সময় আমাকে সাহস যুগিয়ে যাবার জন্য। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। গানটির স্টুডিও ভার্সনের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। পহেলা মার্চ গানটি রোদেলার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে বলেই জানান ন্যান্সি। রোদেলার পুরো নাম মারজিয়া বুশরা রোদেলা। এগারো বছর বয়স তার। পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। মেয়েও কী তাহলে মায়ের মতো শিল্পী হচ্ছে? প্রশ্নের উত্তরে ন্যান্সি বলেন, মায়ের মতো কিছু হোক এটা আমি চাইনা। রোদেলা ওর মতো হয়েই বেড়ে উঠুক। রোদেলা যদি নিয়মিত গান গাইতে চায় তাহলে অবশ্যই গাইবে। এতে আমিও খুশি। ওর কণ্ঠে গানের বিষয়টা রয়েছে। আশা করি বড় হলে ওর কণ্ঠ আরও শ্রুতিমধুর হবে। | 2 |
থানায় নিরাপত্তা চেয়ে বাড়ি ফেরার পথেই প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারের সমতা সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন-চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জিকু। তাঁদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।জানা যায়, আহত বাবলু চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের কাজী সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং জিকু পাঁচপাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন।ইউপিনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ আহতদের। তাঁদের দাবি, চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় বর্তমান চেয়ারম্যান ঘোড়া প্রতীকের নুরুল আমিনের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ এলাকার মনির, তাজু, রিয়াজ, নোমান, আজিম, রনিসহ ৩০-৩৫ জন মিলে এই হামলা চালিয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।নুরুল আমিন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যেই তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর উপনির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।তাঁর এই জয়ের পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে আহতরা জানান, নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আইনুল আহম্মেদ তানভীর পরাজিত হওয়ার পর থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের লোকজন বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের নেতা কাজী বাবলুকে হুমকি দিয়ে আসছে। শনিবার রাতে তাঁরা চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করতে যান।থানা থেকে বের হয়ে রাত ১০টার দিকে বাবলু ও জিকু মোটরসাইকেলযোগে চন্দ্রগঞ্জ বাজারের দিকে যাওয়ার সময় চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে বাবলু মাথায় এবং জিকু চোখ ও মাথায় আঘাত পান।এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেত-কর্মীরা চন্দ্রগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন।এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, হামলার ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে আমি বা আমার লোকজন জড়িত নয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ঘটনার দায় আমার ওপর চাপানো হচ্ছে।চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, থানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে জেনেছি। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি গির্জায় বন্দুকধারীর গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। নিউইয়র্কে একটি সুপার মার্কেটে বন্দুকধারীর গুলিতে ১০ জন নিহত হওয়ার একদিন পরই এমন ঘটনা ঘটল। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস শহরের অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফের দপ্তর এক টুইটার পোস্টে জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় দেড়টার কিছু আগে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে উডস শহরের প্রেসবিটারিয়ান চার্চে এ ঘটনা ঘটেছে।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই একজন মারা গেছেন। বাকি চারজনের অবস্থা গুরুতর। পঞ্চম ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গির্জার কোথায় গুলি চালানো হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আটক ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু এখনো জানা যায়নি।শেরিফের মুখপাত্র ক্যারি ব্রাউন বলেছেন, 'প্রায় ৩০ জন মানুষের চোখের সামনে এ সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এই গির্জায় বেশির ভাগ তাইওয়ান বংশোদ্ভূত মানুষেরা প্রার্থনা করে থাকেন।' বন্দুকধারী গির্জার কারও পরিচিত কি না কিংবা কোনো জাতিগত বিদ্বেষ থেকে এ রক্তপাত ঘটানো হয়েছে কি না, তদন্ত কর্মকর্তারা তা খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান তিনি।এর আগে গত শনিবার বিকেলে নিউইয়র্কে বাফেলো শহরের ব্যস্ত একটি সুপার মার্কেটে বন্দুকধারীর হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আগত হয়েছেন তিনজন। নিহত সবাই কৃষ্ণাঙ্গ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। | 3 |
আজকের করোনা অতিমারি প্রকৃত অর্থেই একটি বৈশ্বিক সংকট-ব্যাপ্তিতে, গভীরতায় ও অভিঘাতে। ব্যাপ্তির দিক থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১২টি দেশ ও ভূখণ্ড এর শিকার হয়েছে। অভিঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের মোট ১৯ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং ৪১ লাখের বেশি মানুষ এই অতিমারিতে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে। নতুন নতুন ধরনের জীবাণু তরঙ্গের মতো আসছে-গ্রাস করছে দেশ, সমাজ ও মানুষ। সন্দেহ নেই, তেজ ও তাণ্ডবের দিক থেকে করোনা সারা বিশ্বকে দিশেহারা করে ফেলেছে এবং মাত্র দেড় বছরের মধ্যে এটা জীবন ও জগতের চিত্র বদলে দিয়েছে। করোনা সংকট এক 'নতুন বাস্তবতার' জন্ম দিয়েছে। এ বাস্তবতার নানান প্রভাব আছে বিভিন্ন পর্যায়ে-দেশজ ও রাষ্ট্রীয় স্তরে। এই বাস্তবতার নানান মাত্রিকতা আছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, সামাজিক বলয়ে ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে। এই বাস্তবতার অভিঘাত পড়বে ব্যক্তিমানুষের জীবনে, পারিবারিক আঙিনায়, সমাজের উঠোনে। প্রশ্ন উঠছে, করোনার কারণে বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে এবং সে অবস্থায় করণীয় কী?বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব অর্থনীতি ২০২০ সালে ৪.৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ১৯৩০ সালের অতিমন্দার পর এই প্রথম বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার এত হ্রাস পেল। গত বছর চীনের প্রবৃদ্ধির হারও ছিল ২ শতাংশের কিছু বেশি। অথচ দুই দশক ধরে চীনের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশের ওপরে। করোনা অতিমারি পৃথিবীর সব দেশে কর্মনিয়োজনকেও সংকুচিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী অর্থনীতিতেও বেকারত্বের হার ২০১৯-এর ৩ শতাংশ থেকে তিন গুণ বেড়ে ২০২০-এ ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেবামূলক খাত, যেখানে কর্মনিয়োজন সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। যুক্তরাষ্ট্রে ৬৬ লাখ লোক কর্মহীন হয়ে পড়েছে, স্পেনে ৩৫ লাখ। এর ফলে তাদের কর্মসংস্থান, আয় ও জীবনযাত্রার মানের ওপরে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাজ্যে প্রাক্কলন করা হচ্ছে যে, প্রায় ৮ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী তাঁদের ব্যবসা হারাবেন।করোনা সংকটে অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও হবে দরিদ্র, প্রান্তিক ও নাজুক জনগোষ্ঠী। এর মধ্যে থাকবে বিত্তহীন, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং নারীরা। সারা বিশ্বে গত তিন দশকে চরম দারিদ্র্য হ্রাস করার ব্যাপারে যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে, তা ব্যাহত হবে। গত ত্রিশ বছরে বিশ্বের চরম দরিদ্রের সংখ্যা ১৯০ কোটি থেকে ৮৯ কোটিতে নেমে এসেছিল। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন বিশ্বে ২ লাখের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসছিল। এখন প্রাক্কলনে বলা হচ্ছে, করোনার কারণে সারা বিশ্বে নতুন করে ৫০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে।এ সংকটের একটি ফলাফল হতে পারে বৈশ্বিক খাদ্যঘাটতি। এর মধ্যেই বলা হচ্ছে, বিশ্বে ২৫ কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষপীড়িত হতে পারে। সাধারণ সময়ে খাদ্য লভ্যতার ক্ষেত্রে উৎপাদন নয়, বণ্টনই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অসম বণ্টনের কারণেই মোট উৎপাদন পর্যাপ্ত হলেও সবার কাছে খাদ্য লভ্য হয় না। দরিদ্ররা বুভুক্ষুই থেকে যায়। করোনা-পরবর্তী পর্যায়ে এ সংকটটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। পৃথিবীতে খাদ্যের অভাবে কোনো দুর্ভিক্ষ হয়নি, হয়েছে সুষম বণ্টনের অভাবে। ১৯৪৩-এর মন্বন্তরের সময়ে মানুষ যখন বুভুক্ষায় মারা গেছে, তখনো সরকারি গুদামে খাদ্য মজুত ছিল।করোনা সংকটকে পুঁজি করে দেশজ ও আন্তর্জাতিক কায়েমি স্বার্থবাদীরা খাদ্যসামগ্রী মজুত করে মুনাফা সর্বোচ্চকরণে প্রয়াসী হতে পারে। ফলে কৃত্রিম খাদ্যসংকট তৈরি হতে পারে এবং আবির্ভূত হতে পারে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ। সুতরাং প্রকৃতিসৃষ্ট খাদ্য ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হবে মানুষের সৃষ্ট সংকট। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ-জাতীয় দুর্ভিক্ষে প্রধান বলি হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। বৈশ্বিক পর্যায়ে জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশজ আলোচনা এখনই শুরু হওয়া উচিত-কী করে আন্তর্জাতিক বণ্টনব্যবস্থাকে সংহত করা যায়। সেই সঙ্গে দেশজ পর্যায়ে প্রতিরোধব্যবস্থাও প্রণীত হওয়া দরকার।খাদ্য গ্রহণে কৃচ্ছ্রসাধন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একান্ত প্রয়োজন। খাদ্য অপচয় নয়, লোক দেখানো ভোগ নয়-এগুলোই আমাদের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে দরিদ্র জনগণের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য খাদ্য-ত্রাণ বজায় রাখতে হবে। বিশ্বের সব দেশেই এটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে হবে। এ জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে জোরদার করা প্রয়োজন। আমরা সবাই এখন একই নৌকার যাত্রী। এ অবস্থায় আত্মকেন্দ্রিকতা আমাদের উত্তরণের পথ হতে পারে না। যূথবদ্ধতাই আমাদের পরিত্রাণের একমাত্র উপায়-এই সহজ সত্যটি আমরা যেন ভুলে না যাই।কোনো দুর্যোগেই বিশ্বের সব জনগোষ্ঠী সমভাবে পরাস্ত হয় না। তবে বেশির ভাগ দুর্যোগেই, তা সে যুদ্ধবিগ্রহই হোক, কিংবা ঘূর্ণিঝড়-প্লাবনই হোক অথবা দুর্ভিক্ষ-মহামারিই হোক না কেন, অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র ও প্রান্তিক গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর মধ্যে একদিকে যেমন নানান প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন মানুষ আছে, তেমনি আছেন জাতিসত্তাভিত্তিক সংখ্যালঘু; একদিকে যেমন আছে পরিবেশ-শরণার্থী, তেমনি আছে নৃতাত্ত্বিক ক্ষুদ্রগোষ্ঠী। এবারের করোনা দুর্যোগও তার ব্যতিক্রম নয়। সব দেশেই এ প্রবণতা বর্তমান।প্রথমেই যে কথাটা বলা দরকার, তা হচ্ছে, করোনার সংক্রমণ আর মৃত্যুহারের মাঝেই তো একধরনের বৈষম্য আছে। করোনায় যাদের প্রাণহানি ঘটেছে, তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ পুরুষ এবং ৩০ শতাংশ নারী। করোনার সংক্রমণ আর মৃত্যুহারের মধ্যেও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অনুপাত বেশি। তেমনি যেসব ব্যক্তিবর্গ নানান রোগে যেমন: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, প্রমেহ, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত অসুবিধায় ভুগছেন, তাঁরাও করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর অন্যতম শিকার। যেসব রোগের কথা বলা হয়েছে, তাতে যাঁরা ভুগছেন, সেসব জনগোষ্ঠীর যেকোনো জীবাণু প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই তাঁরাই করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর মূল শিকার হয়েছেন।দ্বিতীয় প্রবণতা সম্পর্কে কিছুটা বলা প্রয়োজন। নারীর তুলনায় পুরুষেরা মৃত্যুর মূল শিকার। চীনের ৩ হাজার ৫০০ করোনায় মৃত্যুর মধ্যে ৬৪ শতাংশ পুরুষ আর ৩৬ শতাংশ নারী। ব্রিটেনে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর ৭০ শতাংশ পুরুষ ও ৩০ শতাংশ নারী। অর্থাৎ, পুরুষের মৃত্যুর হার নারীর দ্বিগুণ। এর কারণ বিবিধ। নারীর একটি জৈবিক শারীরিক সু-অবস্থা আছে, যার কারণে নারীর প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেশি। সেই সঙ্গে ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপানের প্রকোপ পুরুষের মাঝে বেশি, সুস্বাস্থ্য অভ্যাস পুরুষের চেয়ে নারীর ভালো এবং হৃদরোগ বা প্রমেহর মতো রোগের সংক্রমণ পুরুষের চেয়ে নারীর মধ্যে কম। যেকোনো জীবাণু প্রতিরোধের ক্ষমতা তরুণদের চেয়ে বয়ঃবৃদ্ধদের কম। করোনাও তার ব্যতিক্রম নয়। ফলে করোনায় মৃত্যুহার বয়ঃবৃদ্ধদের বেশি।দ্বিতীয়ত, এ পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, তাতে বিভিন্ন দেশে নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুরা অনানুপাতিকভাবে বেশি করোনার শিকার হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যার মাত্র ১৩ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ; কিন্তু করোনা সংক্রমণে তাদের অনুপাত ২৫ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে প্রতি তিনজন করোনায় আক্রান্ত মানুষের মধ্যে একজন নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু। বলা হচ্ছে, কৃষ্ণাঙ্গ ও কিছু কিছু দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। যুক্তরাজ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ৫৮ শতাংশ চিকিৎসক ও সেবিকাই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত। এ পর্যন্ত ব্রিটেনে কৃষ্ণাঙ্গ, এশীয় ও সংখ্যালঘু উদ্ভূত ১৩০ জন চিকিৎসক, সেবিকা ও অন্যান্য সেবাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। নিবিড় পরিচর্যা স্থাপনায় প্রতি তিনটি মৃত্যুর একজন কৃষ্ণাঙ্গ, এশীয় ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর।নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের অনানুপাতিকভাবে করোনার শিকার হওয়ার পেছনে নানান কারণ রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অসমতা। দারিদ্র্যের কারণেই এই জনগোষ্ঠী একই বাড়িতে গাদাগাদি করে বসবাস করে। ফলে সংগনিরোধ সেখানে বাতুলতা মাত্র। সেই সঙ্গে এ-জাতীয় মানুষ কর্মসংস্থানের যে স্তরে কাজ করে, সেখানে কাজ ও আয়ের জন্য তাদের বাইরে আসতেই হয়। ফলে সামাজিক জনদূরত্ব সেখানে কাজ করে না। নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুরা যেখানে বসবাস করে, সেখানে সামাজিক সেবার বিস্তৃতি ও মান উভয়েই বড় সীমিত। সব মিলিয়ে করোনাকালে এসব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বড়ই কম।যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গেছে, প্রতি চারজন করোনায় সংক্রমিতের একজন কৃষ্ণাঙ্গ। ব্রিটেনেও এ-জাতীয় প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আগামী দিনে যখন অন্যান্য দেশের উপাত্ত লভ্য হবে, তখন হয়তো দেখা যাবে, সংখ্যালঘুরাই সংক্রমিত হয়েছিল বেশি এবং মৃত্যুর সংখ্যাও তাদের মাঝেই বেশি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে উচ্চতর সংক্রমণের কারণের কিছু কিছু কাঠামোগত এবং কিছু কিছু প্রায়োগিক। কাঠামোগত দিক থেকে বিচার করলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিক দিক থেকেই দরিদ্র, বঞ্চিত ও অসমতার শিকার। তারা স্বল্পশিক্ষিত, তাদের পুষ্টির অভাব রয়েছে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান নিম্ন। ন্যূনতম সামাজিক সুবিধাও তাদের কাছে লভ্য নয়। সুতরাং কাঠামোগত দিক থেকে তারা যেকোনো সংকটে ভঙ্গুর অবস্থানে থাকে।সেই সঙ্গে প্রায়োগিক অনেক কারণও এর সঙ্গে যুক্ত। কৃষ্ণাঙ্গরা বেশির ভাগই কর্ম-মইয়ের নিচের দিকে অবস্থান করেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাঁদের সঞ্চয় কম, অন্যদিকে কাজের জন্য তাঁদের ঘরের বাইরে আসতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাঁদের জীবনযাত্রা প্রণালির কারণেও ঘরের মধ্যে সামাজিক জনদূরত্ব বজায় রাখা তাঁদের জন্য কষ্টকর। তাঁরা যেসব অঞ্চলে বসবাস করেন, সেখানে স্বাস্থ্যসুবিধা ও সেবাও সীমিত। এসব প্রায়োগিক কারণেও তাঁদের করোনা-ভঙ্গুরতা বেশি। (চলবে)লেখক: ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগ,জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিনিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র | 8 |
বার্সেলোনার সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) নাম লেখালেও স্প্যানিশরা লিওনেল মেসিকে এখনো কতটা আপন ভাবেন, পরশু তারই প্রমাণ মিলল।গত ১০ আগস্ট প্যারিসে পা রাখলেও পিএসজির জার্সিতে মেসির অভিষেক ম্যাচ দেখতে ভক্তদের অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও ১৯ দিন। পরশু রাতে রেঁসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।এই ম্যাচটিই স্পেনে জন্ম দিয়েছে নতুন রেকর্ডের। মেসির অভিষেক ম্যাচ টেলিভিশন পর্দায় ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখেছেন ৬৭ লাখ ৩৪ হাজার স্প্যানিশ। কেবল টেলিসিনকো চ্যানেলেরই দর্শক ছিল ২০ লাখ। এর আগে দেশটির এত মানুষ একসঙ্গে ফরাসি লিগ ওয়ানের কোনো ম্যাচ দেখেননি!পিএসজির জার্সিতে মেসির অভিষেক ম্যাচটি টিভিতে দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তাঁর সাবেক বার্সা সতীর্থ জেরার্দ পিকে। নিজ কোম্পানি কসমস হোল্ডিংয়ের সহযোগিতায় স্পেনে ফরাসি লিগ ওয়ানের সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছেন পিকে।রোববার রাতে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে প্রিয় বন্ধু নেইমার জুনিয়রের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। অভিষেকে গোল না পেলেও রেঁসের রক্ষণভাগের ভালোই পরীক্ষা নিয়েছেন তিনি।খুদে জাদুকরের মঞ্চে অবশ্য আলো ছড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে রেঁসকে হারিয়েছে পিএসজি। দারুণ জয়ে মেসির নতুন যাত্রাটাও স্মরণীয় হয়েছে। | 12 |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে ট্রাকচাপায় আহত শিক্ষার্থী রায়হান প্রামাণিক রিমেলের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান একটি হুইলচেয়ার দিয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে রাবির শহীদ মীর আবদুল কাইয়ূম ইন্টারন্যাশনাল ডরমিটরিতে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার হুইলচেয়ারটি আহত শিক্ষার্থীর কাছে হস্তান্তর করেন।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম, ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ক্যাম্পাসে ২০তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণস্থলের সামনের সড়কে ট্রাকচাপায় গুরুতর আহত হন গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান প্রামাণিক রিমেল। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। একই দুর্ঘটনায় নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল। | 6 |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় লস্ট ডাচম্যান স্টেট পার্কে ছবি তুলতে গিয়ে ৭০০ ফুট উপর থেকে পড়ে এক হাইকারের মৃত্যু হয়েছে। পা পিছলে পড়ে যান তিনি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পিনাল কাউন্টি শেরিফের অফিস। খবর সিএনএনের। খবরে বলা হয়েছে, ফ্ল্যাট আয়রন ট্রেইলের প্রায় ৭০০ ফুট নিচে ২১ বছর বয়সী রিচার্ড জ্যাকবসন মরদেহ পাওয়া যায়। শেরিফের অফিসের মুখপাত্র লরেন রেইমার ইমেইলের মাধ্যমে সিএনএনকে এ তথ্য জানান। অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগের একটি হেলিকপ্টার জ্যাকবসনের মরদেহ খুঁজতে ও উদ্ধার করতে সাহায্য করেছে বলে জানায় শেরিফের অফিস। পার্কটি ফিনিক্স থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে অবস্থিত। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
ক্যাটরিনা কাইফ এর ওপর আমির খানের ক্রাশ খাওয়া নাকী সেই ধুম থ্রি থেকে। কিন্তু ক্যাটরিনাকে সে কথা জানানোর সাহস হয়নি বলিউড আমিরের। মনে মনেই ক্যাটারিনার প্রতি মুগ্ধতা রেখেছেন। এখন আর সেটা লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফের ক্যাটরিনা আমির খানের বিপরীতে থাগস অব হিন্দুস্তান ছবিতে অভিনয় করছেন। ছবিতে ক্যাটরিনা একজন দুর্দান্ত নৃত্যশিল্পী সুরাইয়া জানের চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং আমির খান ক্যাটরিনাকে জানানোর জন্য তাঁর কাছ থেকে সাহায্য প্রার্থনা করছেন। আমির খান জানান, আমরা কী বলতে চাইছি তা যদি আপনি এখনও না বুঝে থাকেন তবে আমি নিশ্চিত আপনি এখনও থাগস অব হিন্দুস্তানে ক্যাটরিনার চরিত্রের সঙ্গে আলাপ করে উঠতে পারেননি। আসন্ন ছবি 'থাগস অব হিন্দুস্তান'র সদ্য প্রকাশিত মোশন পোস্টারে ক্যাটরিনার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলের সুরাইয়া জান হিসাবে আলাপ করিয়ে দিয়েছেন আমির খান। পোস্টার শেয়ার করে আমির লিখেছেন, "সুরাইয়া জান... সবচেয়ে খুব সুন্দর থাগ... ধুম থ্রি-এর সময় থেকে আমি ওকে পছন্দ করি... কিন্তু বলার সাহস কখনও হয়নি। যদি কেউ তাকে জানিয়ে দেন তবে খুব উপকার হয়।" একটা চকচকে পোশাক পরে একটা সোনালী ব্যাকড্রপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুরাইয়া জান রূপি ক্যাটরিনার থেকে চোখ সরানো যাচ্ছে না।'' 'থাগস অফ হিন্দুস্তান' ছবির মাধ্যমে যেন ধুম থ্রির আমির খান, ক্যাটরিনা কাইফ ও পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ আচার্যের পুনর্মিলন ঘটেছে। এ ছাড়াও এই ছবিতে আমির খানের সঙ্গে তার দঙ্গল সহ অভিনেত্রী ফতিমা সানা শেখ, লগন অভিনেতা লয়েড ওয়েনের এবং বুম সহ-অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ক্যাটরিনারও পুনর্মিলন ঘটেছে। যশ রাজ ফিল্মস প্রযোজিত 'থাগস অব হিন্দুস্তান' ছবিটি ফিলিপ মিডোস টেইলরের ১৮৩৯ সালের উপন্যাস 'কনফেশনস অব এ থাগ' অবলম্বনে নির্মিত। আগামী ই নভেম্বর থাগস অব হিন্দুস্তান মুক্তি পাবে। | 2 |
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ জয় পেয়েছে। গত বছরের মতো এবারও ১১টি পদের ১০টিতেই জয় পেয়েছে এই পরিষদ। বাকি একটি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গণনা শেষে আজ শুক্রবার ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আফজালুল করিম। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে ৪৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন লস্কর নুরুল হক। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এস এম সাদিকুর রহমান পেয়েছেন ৩২৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১০ ভোট। সহসভাপতির দুটি পদে ৫৩৫ ও ৪০১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন যথাক্রমে মোস্তাফিজুর রহমান ও বিষ্ণুপদ মুখার্জী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দুটি পদের মধ্যে জয়ী একজন হলেন আওয়ামী লীগের কাজী আবুল কালাম, ৪৬৬ ভোট। অর্থ সম্পাদক পদে ৪৩৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সাইফুল ইসলাম মোল্লা। নির্বাহী সদস্যের চার পদেই জয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রার্থীরা। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেন বাচ্চু ৫৫৪, আর্শিব উদ্দিন ৬২৬, আতিকুর রহমান খান ৫৫৮ ও সুমন বাড়ৈ ৪৫৯ ভোট পেয়েছেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জাহিদুল ইসলাম ৪০৩ ভোট পেয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার আফজালুল করিম বলেন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির ৯৭৫ ভোটারের মধ্যে গতকাল ৮৩২ জন ভোট দেন। নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ভোট গ্রহণ নিয়ে প্রার্থীদের কোনো অভিযোগ ছিল না। এবারের নির্বাচনে ১১ পদের বিপরীতে দুটি প্যানেলে ২২ জন এবং সভাপতি পদে ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। | 6 |
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ শুক্রবার সকালে বিক্রয় কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন, ইউএনও সাদিকুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার সুফি মো. রফিকুজ্জামান, জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, বড় বাজার কাঁচামাল আড়ত সমিতির সভাপতি শাহ আলম প্রমুখ। | 6 |
বয়স ৭৮ হলে কী হবে, এই মুহূর্তে বলিউডের ব্যস্ততম অভিনেতাদের একজন অমিতাভ বচ্চন। ২৭ আগস্ট সিনেমা হলে মুক্তি পাবে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ছবি 'চেহেরে'। জানা গেছে, এই ছবির জন্য এক রুপি পারিশ্রমিক নিতে রাজি হননি বিগ বি। শুটিং স্পটে যাতায়াত খরচের বাইরে অন্য কোনো আনুষঙ্গিক খরচও তিনি নেননি। এমনকি তাঁর ভাড়া বিমানের খরচও নিজেই মিটিয়েছেন বিগ বি। আন্তর্জাতিক লোকেশনে এই বিমান ব্যবহার করেন তিনি। কেন এত উদার হলেন পেশাদার অভিনেতা অমিতাভ? 'চেহেরে'র গল্পটি নাকি তাঁর দারুণ পছন্দ হয়েছে। এতটাই পছন্দ যে ছবিটিতে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলিউড শাহেনশা। শুধু তা-ই নয়, ছবির প্রচারেও মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমাগত 'চেহেরে'র প্রোমো, গানসহ নানা কিছু পোস্ট করছেন। ছবিতে অমিতাভ বচ্চন একটা কবিতা পাঠ করেছেন। টাইটেল ট্রাকে তাঁর আবৃত্তি শোনা যাবে। করোনার জন্য ছবিটি এত দিন মুক্তি পায়নি। রহস্য-থ্রিলারধর্মী এই ছবিতে অমিতাভ বচ্চন ছাড়া ইমরান হাশমিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। এই প্রথম তাঁরা একসঙ্গে পর্দায় আসছেন। রুমি জাফরি পরিচালিত এই ছবিতে আরও আছেন অন্নু কাপুর, ধৃতিমান চ্যাটার্জি, সিদ্ধার্থ কাপুর, রঘুবীর যাদব, রিয়া চক্রবর্তী। বিগ বি-কে আগামী দিনে ঝুন্ড, মেডে, ব্রহ্মাস্ত্রসহ আরও নানা ছবিতে দেখা যাবে। | 2 |
পেঁয়াজের ট্রাক আসার আগেই রাস্তায় দীর্ঘ সময় ধরে লাইন ধরে আছেন সাধারণ মানুষ। সচিবালয়ের সামনে শত শত মানুষের ভীড়। এছাড়া মতিঝিলের শাপলা চত্বরে বাংলাদেশ বাংকের সামনে পেঁয়াজের জন্য সকাল থেকে লাইন ধরে আছেন অনেকে। পেঁয়াজের জন্য অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন মহিলা জানান, ১২টার পর মতিঝিলে টিসিবির পেঁয়াজের ট্রাক আসতে পারে। সেই অপেক্ষায় আছেন সবাই। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৩০ টাকা। বার্মিজ ও ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। দুপুরে কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের আড়তে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। পাঁচ কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়। বার্মিজ পেঁয়াজ কেজি ১৮০ টাকা করে। আর পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। পাকিস্তানি পেয়াজ ১৮৪ টাকা করে, পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ৯২০ টাকায়। ইন্ডিয়ান কেজি ১৯০ টাকা করে, পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা আর চাইনিজ কেজি প্রতি ১৫০ টাকা করে আর পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। এদিকে অধিক দামের আশায় কৃষকরা পাতাসহ নতুন পেয়াজ বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। সেই পেঁয়াজ পাইকারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ টাকা। আর খুচরা বাজারে একই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। পাতাসহ সেই নতুন পেঁয়াজ সংরক্ষণ উপযোগী নয় বলে পেঁয়াজের বাজারে তা দাম কমানোর ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। | 0 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার (১৯ মার্চ) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান দুলালসহ সাধারণ মুসল্লীরা অংশগ্রহণ করেন। মোনাজাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত ও বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর প্রমুখ। এসময় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি প্রকল্পের আওতায় একসাথে ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করার নজির পৃথিবীতে কোথাও নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই এটি সম্ভব হয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে ৫০টি মডেল মসজিদের কাজ শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সেগুলো উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন তার কাছে যা চাচ্ছে তাই পাচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যও সবার কাছে দোয়া কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। এসএইচ | 6 |
টাইগাররা সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সোমবার (২২ নভেম্বর) আর কিছুক্ষণ পর সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে। এদিন টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাইগার দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এ নিয়ে তিন ম্যাচেই টস জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু আগের দুই ম্যাচ জিততে পারেনি টাইগাররা। এদিকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। সোমবার তৃতীয় ম্যাচে বাবর আজমদের মিশন বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করা। আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনীর মিশন অন্তত একটি জয় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে লড়াই করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি টাইগাররা।ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে তিন বিভাগেই হতশ্রী লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আজ ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। তবে যাই হোক সময় বলে দেবে কে হাসবে বিজয়ীর হাসি। | 12 |
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ।দ্বিতীয় টেস্টে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন সাকিব-তামিমরা। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে তাদের নির্ভরযোগ্য দলপতিকে কি পাবে টাইগাররা? সেটা নিয়ে একটা সংশয় তৈরি হয়ে গেছে। কারণ স্ত্রী সুমনা হক সুমির অসুস্থতার কারণে এই সফরে যে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন মাশরাফি। জানা গেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে নিয়মিত জিম আর বোলিং অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন মাশরাফি। এর মধ্যেই তার স্ত্রী সুমনা হক সুমি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হঠাৎ সেই অসুস্থতা আরও বাড়ায় হাসপাতালে নিতে হয়েছে। মাশরাফিকে তাই পুরো সময় অসুস্থ স্ত্রীর পাশেই থাকতে হচ্ছে। আর এতে করে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ অধিনায়কের খেলা আপাতত অনিশ্চিত। তবে, শনিবারই দলের সঙ্গে যেতে না পারলে মাশরাফি যে খেলতে পারবে না এমন নয়। যেহেতু ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে এখনও বেশ খানিকটা সময় আছে; তাই আরও একটু সময় পাচ্ছেন টাইগার অধিনায়ক। ততদিনে স্ত্রীর অবস্থার উন্নতি হলে খেলা নিয়ে অনিশ্চিয়তার কালো মেঘ কেটে যাবে। প্রসঙ্গত, টেস্ট সিরিজ শেষে ১৯ জুলাই একদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ২২ জুলাই। বিডি-প্রতিদিন/১০ জুলাই, ২০১৮/মাহবুব | 12 |
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মরণোত্তর চক্ষুদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মরণোত্তর চক্ষুদানবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ও সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি। মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, 'আমি আমার মৃত্যুর পর চক্ষুদান করতে চাই। মৃত্যুর পর আমার চোখ যদি কারও কাজে আসে, তাহলে আমি খুশি হব।' মোজাম্মেল হক বলেন, 'শহরের মানুষের মধ্যে অপেক্ষাকৃত মানবিকতা কম। সব কাজই নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে। অন্যদিকে গ্রামের মানুষ উদার। অন্যের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে। তাই মরণোত্তর চক্ষুদান আন্দোলন উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ভালো সুফল পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে কর্নিয়া সংগ্রহ করা গেলে, অনেক মানুষ পৃথিবীর আলো দেখতে পারবে।' অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব.) হারুন-অর-রশিদ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বরেন চক্রবর্তী, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম লিটু প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। মঙ্গলবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন কর্মসূচিতে আসার সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় নারী সদস্যসহ ছাত্রদলের বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হয়। আমরা এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল মত-পথের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ নেই। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছাত্রলীগ হল এবং ক্যাম্পাসে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। হলসমূহে গেস্টরুম কালচারের নামে ভিন্নমত এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর অত্যাচার ও নিপীড়ন চালিয়ে এক রকমের ত্রাসেরপরিবেশ সৃষ্টি করছে। তারা প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে নানা রকম অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা এরই এক নজির। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সচিত্র সংবাদ থেকে দেখা যাচ্ছে যে হামলার সময় সন্ত্রাসীরা চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো একক ছাত্র সংগঠনের সম্পত্তি নয়। সকল মত-পথের শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠন এখানে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে এটাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য বিনষ্টকারী সন্ত্রাসীদের বিনা উস্কানিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপর আজকের হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। অন্যথায় উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্যবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই দায়ভার গ্রহণ করতে হবে বলেও জানান সাদা দলের নেতারা। সাদা দলের আহ্বায়ক ড. লুৎফর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা একটা বিবৃতি দিয়েছি। আমরা আগামীকাল ভিসির সাথে জোড়ালোভাবে কথা বলবো। তিনি যদি কোনো ব্যবস্থা না নেন তাহলে আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে কর্মসূচি ঘোষণা করব। | 9 |
রাজধানীর মিরপুর-১০ এর সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের সেই বাড়িটিতে 'গুপ্তধন' উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ বা প্রকৌশলীরা দেখে সিদ্ধান্ত দিলে আবার অভিযান চালানো হবে। জানা গেছে, এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরআগে, গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে ২০ জন শ্রমিক নিয়ে বাড়িটির দুই ঘরের মেঝের খনন কাজ শুরু হয়। সাড়ে চার ফুট গভীরে খনন করার পর বিকাল ৪টার দিকে তা স্থগিত করা হয়। খননের সময় প্রায় ৩০ জন পুলিশ পুরো বাড়িটিকে ঘিরে রাখে। মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফফির জানান, তৈয়ব নামের এক ব্যক্তির করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ সাপেক্ষে ওই বাড়ির দুটি ঘরে খনন কাজ শুরু করা হয়। বাড়ির চারটি ঘরের সবকটিতে পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বাড়িটির মূল মালিকের নাম দিলশাদ খান। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান চলে যান। মাঝেমধ্যে সৈয়দ আলম নামে তার দূরসম্পর্কের এক আত্মীয় বাংলাদেশে আসেন। কক্সবাজারের তৈয়বের সঙ্গেও তার বন্ধুত্ব রয়েছে। এরা কক্সবাজার ও ঢাকায় জমি কেনাবেচায় সম্পৃক্ত। আলমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে ওই বাড়িতে গুপ্তধন থাকার বিষয়টি জানতে পারেন তৈয়ব। এদিকে বাড়িটি বর্তমানে দখলে রাখা মনিরুল ইসলামের দাবি- তিনি ২০১০ সালে ওই বাড়ি কিনে নেন। বর্তমানে তার নিয়োগ দেওয়া দুজন কেয়ারটেকারও সেখানে বাস করেন। আর বাড়ির মালিকানা নিয়ে মনিরুল ও দিলশাদের সন্তানদের সঙ্গে এক ধরনের বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। তারা তাদের বাবার বাড়ি উদ্ধারে কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মনিরুল জোরপূর্বক বাড়িটি দখল করে রেখেছেন। এমনকি শফিকুল নামে একজনকে তত্ত্বাবধায়ক রেখেছেন। শহীদুল্লাহ নামে মালিক পক্ষের এক ঘনিষ্ঠ লোকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন শফিকুল। বাড়ির ভালোমন্দ সব কিছু তাকে জানান। শহীদুল্লাহ পুলিশের সদস্য বলেও জানা গেছে। তৈয়বের ভাষ্য, তাকে নিয়ে সৈয়দ আলম ঢাকায় আসেন ওই বাড়ির গুপ্তধনের সন্ধানে। পরে তাকে ছাড়াই সৈয়দ আলম মনিরুলের সঙ্গে আঁতাত করেন। বিষয়টি টের পেয়ে গুপ্তধনের তথ্য জানিয়ে পূর্ব পরিচিত রাবেয়া চৌধুরী নামে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর মডেল থানায় জিডি করেন। স্থানীয়রা জানান, দিলশাদের লোকজন বাড়ি দখলে না নিতে পারলে মনিরুলও যাতে থাকতে না পারে, সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বিডি প্রতিদিন/ ২২ জুলাই ২০১৮/ ওয়াসিফ | 6 |
আগামীকাল বৃহস্পতিবার টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতার ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং সেখানে অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দিতে আগামীকাল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সফর করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সকালে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর তিনি বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে নিহত শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ফাতেহা ও মোনাজাতে শরিক হবেন। প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া হেলিপ্যাডে পৌঁছে সরাসরি বঙ্গবন্ধুর মাজারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে নিহত অন্যান্য শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে এর আগে তিন বাহিনীর একটি চৌকষ দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করবে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, দলের নেতাকর্মীরা মাজার প্রাঙ্গণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেবেন। | 6 |
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৬টি দুই ম্যাচের ও একটি এক ম্যাচের। দেশের মাটিতে তিনটি ও নিউজিল্যান্ড সফরে চারটি সিরিজ খেলে টাইগাররা। ২০০১ সালে প্রথম দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিলো বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। সেটি ছিলো দুই ম্যাচের। এরপর দুই ম্যাচের তিনটি সিরিজে অংশ নেয় টাইগাররা। পঞ্চম দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি ছিলো এক ম্যাচের। সেটি ছিলো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। এরপর আবারো দুই ম্যাচের দু'টি টেস্ট সিরিজ খেলে দু'দল। সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের সফরে টেস্ট সিরিজ খেলেছিলো বাংলাদেশ।নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ : সিরিজ জয়ী দল স্বাগতিক সালদুই ম্যাচ ২-০ ববধানে জয়ী নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২০০১দুই ম্যাচ ২-০ ববধানে জয়ী নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ ২০০৪দুই ম্যাচ ২-০ ববধানে জয়ী নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২০০৮দুই ম্যাচ ২-০ ববধানে জয়ী নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ ২০০৮এক ম্যাচ ১-০ ববধানে জয়ী নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২০১০দুই ম্যাচ ড্র বাংলাদেশ ২০১৩দুই ম্যাচ ২-০ ববধানে জয়ী নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২০১৭সূত্র : বাসস | 12 |
সারা দেশে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। এতে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তবে চৌদ্দগ্রামের সাতটি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দলটির আট নেতা। তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।প্রার্থী হওয়া বিএনপির নেতারা হলেন ২ নম্বর উজিরপুর ইউপিতে সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আবদুস ছোবহান, ৫ নম্বর শুভপুর ইউপিতে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব জিতু, ৮ নম্বর মুন্সীরহাট ইউপিতে সাবেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা আবদুল কাইউম ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, ৯ নম্বর কনকাপৈত ইউপিতে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক রাশেদ, ১০ নম্বর বাতিসা ইউপিতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, ১১ নম্বর চিওড়া ইউপিতে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম মজুমদার জালাল এবং ১৩ নম্বর জগন্নাথদীঘি ইউপিতে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী।স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া, বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের খবর এবং এই নির্বাচনে স্থানীয় প্রভাব তথা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজ কাজ করায় দলটির নেতারা নির্বাচনের মাঠে লড়াই করতে আগ্রহী হচ্ছেন।এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাঁরা এখন পর্যন্ত কোথাও সরকারদলীয় প্রার্থীর দ্বারা বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করেননি।কনকাপৈত ইউপিতে চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবদুর রাজ্জাক রাশেদ বলেন, 'চৌদ্দগ্রামে বিএনপির বিশাল একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ডাকে সাড়া দিয়ে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।'মুন্সীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রার্থী শাহআলম বলেন, 'নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। দলীয় নেতা-কর্মীরা নিরলসভাবে আমার পক্ষে কাজ করছেন।'উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা বলেন, 'কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছে না। এরপরও কেউ কেউ প্রার্থী হয়েছেন। এটি তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে এটি সত্য যে, আমাদের এসব নেতার এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।' | 6 |
শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে গ্রেফতার মাদ্রাসা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম খানকে (৫৫) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার সকালে এই আদেশ দেন আদালত। এর আগে সোমবার রাতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠায় পুলিশ। জাহাঙ্গীর আলম খানসিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ফুলকোচা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি জেলার রায়গঞ্জ উপজেলারবাঐখোলা-রুদ্রপুর গ্রামের মৃত এনতাজ আলীর ছেলে। সদর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, মাদ্রাসায় আরবি পড়ানোর সময় ক'জন শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোড়পূর্বক প্রায়ই বলৎাকার করে আসছিলেন জাহাঙ্গীর আলম খান। দুইদিন আগে অনুরূপ এক ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটি তার বাবাকে জানায়। ওসি বলেন, পরে সোমবার বিকেলে সদর থানায় ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। | 6 |
ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আবার কনটেইনার-জট তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। গত বুধবার পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৭২৪ টিইইউস কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে জমা হয়েছে, যা বন্দরের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া কনটেইনারবাহী ১২টি জাহাজ বন্দরে কনটেইনার খালাসের জন্য বহির্নোঙরে অপেক্ষা করছে। বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাস না করলে আগামীতে বন্দরে কনটেইনার-জট ভয়াবহ রূপ নেবে।চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরে কনটেইনার থাকে প্রায় ৩৫-৩৬ হাজার। তবে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখতে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১৫ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। সেই হিসাবে বন্দরে ৪১ হাজার ৬৬৫ টিইইউস কনটেইনার থাকলেই সেটিকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু ৭ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৯২০ টিইইউস। ৮ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৪২ হাজার ৮০০ টিইইউস কনটেইনার জমা হয়েছে। ৯ মে বন্দরে কনটেইনার ছিল ৪৪ হাজার ৬২৮টি, এদিন কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছিল ২ হাজার ৭৮১টি। ১০ মে কনটেইনার ছিল ৪৪ হাজার ৭৪৯টি, এদিন কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছিল ৪ হাজার ৬২১টি। ১১ মে কনটেইনার ছিল ৪৩ হাজার ৭২৪টি, এদিন কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছিল ৪ হাজার ৭৯৯টি। ইতোমধ্যে কনটেইনারের সংখ্যা স্বাভাবিক সংখ্যার পরিমাণকে ছাড়িয়ে গেছে। গত বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ হাজার ৫৯ টিইইউস কনটেইনার বেশি জমা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি জায়গা কনটেইনারে ভর্তি হয়ে গেছে।চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারি এবং হ্যান্ডলিংয়ে আগের দিন সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময় হিসাব ধরে দিন নির্ধারণ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, কনটেইনার ডেলিভারি অব্যাহত রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল বন্দরের। কিন্তু আমদানিকারকেরা ডেলিভারি না নেওয়ায় ডেলিভারি হয়নি। তবে ডেলিভারির পরিমাণ কমে গেলেও জেটিতে জাহাজে পণ্য ওঠা স্বাভাবিক ছিল।চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ এপ্রিল বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারি হয় ৫ হাজার ১৫৬ টিইইউস। এদিন ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৩৫ হাজার ৯৯৩ টিইইউস। এর পর থেকে ক্রমেই কমতে থাকে ডেলিভারির সংখ্যা। এক দিনের ব্যবধানে ৩০ এপ্রিল ডেলিভারি কমে যায় ১ হাজার ৮৫১ টিইইউস। এদিন ডেলিভারি হয় ৩ হাজার ৩০৫ টিইইউস। ১ মে ২ হাজার ৯৭২ টিইইউস, ২ মে ১ হাজার ৬৮ টিইইউস, ৩ মে ২২৭ টিইইউস কনটেইনার ডেলিভারি হয়। ৪ এপ্রিল কোনো কনটেইনার ডেলিভারি কিংবা হ্যান্ডলিং হয়নি। ৫ মে ৭০৫ টিইইউস, ৬ মে ১ হাজার ৯২ টিইইউস, ৭ মে ১ হাজার ৫১২ টিইইউস হ্যান্ডলিং ডেলিভারি হয়। গত ৭ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৪২ হাজার ৯২০ টিইইউস। ৮ মে সকাল পর্যন্ত ৪২ হাজার ৮০০ কনটেইনার বন্দরের ইয়ার্ডে জমা হয়।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দাবি করেন, এখনো কনটেইনার-জট হয়নি। এখনো বন্দরের ইয়ার্ডে ১০ হাজার কনটেইনার রাখা যাবে। বন্দর সচিব আশা করেন, এই সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।এদিকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঈদুল ফিতরের ছুটিকালীন এবং তার পরবর্তী সময়ে বন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকবে। সব আমদানি-রপ্তানিকারক, শিপিং এজেন্ট, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট, প্রাইভেট অফডকসহ বন্দরসংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারকে ঈদের ছুটির সময় তাদের পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার জন্য ওই বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়েছিল।এ ছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পাঁচজন ডেপুটি কমিশনার এবং একজন সহকারী কমিশনারের তত্ত্বাবধানে সাতজন রাজস্ব কর্মকর্তা, ২২ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং ১৩ জন শাখা সহকারীকে ২ থেকে ৪ মে পর্যন্ত ছুটি চলাকালীন শুল্কায়নের দায়িত্ব দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এত কিছুর পরও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আশানুরূপ পণ্য খালাস নেননি আমদানিকারকেরা।এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো বেসরকারি আইসিডিগুলোতেও আমদানি পণ্য ডেলিভারিতে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। তবে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিডি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার। জানা গেছে, খাদ্যপণ্যসহ ৩৮ ধরনের পণ্য ডেলিভারি হয় আইসিডি থেকে। প্রসঙ্গত, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ সম্পন্ন হয় প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। বাংলাদেশে যে পরিমাণ কনটেইনার পরিবহন হয়, তার ৯৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে হয়। | 6 |
তখন বলা হতো লিপ মুভমেন্ট। মানে, সিনেমায় গান গাইবেন একজন; কিন্তু ঠোঁট নাড়বেন অন্যজন। এ রকম ব্যাপার আগে ছিল না ভূ-ভারতে। এ রকম কিছু যে হতে পারে, সেটাও ছিল ভাবনার অতীত। সুদূর বোম্বে থেকে লিপ মুভমেন্টের অনুরোধ নিয়ে তিন ভদ্রলোক এসেছিলেন প্রতিভা বসুদের কলকাতার বাড়িতে। আসার সময় বড় মেহনত করতে হয়েছিল। এর আগে একবার খোঁজ করেছিলেন; কিন্তু সে সময় প্রতিভা বসু কলকাতায় ছিলেন না। এবার ট্রাংক কল করে, নিশ্চিত হয়ে তারা এসেছেন তাঁদের অনুরোধ নিয়ে।বুদ্ধদেব বসু এরই মধ্যে প্রতিভার পাণিপ্রার্থী হয়েছেন। সে সময়কার ঘটনা এটি। সিনেমায় যিনি অভিনয় করবেন, তাঁর একই সঙ্গে সংলাপ বলা, গান গাওয়া, ক্রীড়াবিদ হওয়া ইত্যাদি রাজ্যের গুণাগুণ দরকার ছিল। কিন্তু সব সময় সবকিছু দুইয়ে দুইয়ে চার হবে-সেটা ভাবলে তো মুশকিল। তাই সুন্দর চেহারার সুন্দর সংলাপ বলা নায়ক-নায়িকা হয়তো পাওয়া গেল; কিন্তু তাদের গানের গলা শুনলে দর্শক হল ছেড়ে জঙ্গলে পালাবে। এ কারণেই উৎপাদন হলো লিপ মুভমেন্ট। প্রতিভার গানের গলা ভালো, রবীন্দ্রনাথও তাঁর গান পছন্দ করেন, সুতরাং অনায়াসেই অনুরোধ নিয়ে এলেন এই তিনজন। লিপসিং করলে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা তখনকার মধ্যবিত্ত একটি মেয়ের জন্য বিশাল এক অঙ্ক। প্রতিভার তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স। এই বয়সে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার প্রলোভন ফেলনা নয়। বাড়িতে প্রতিভার বাধানিষেধ ছিল কম। এমনকি তবলার সঙ্গে মার্গ সংগীত রেওয়াজ করার সময় তাদের বাড়ির ছাদে ঢিল পড়েছিল। বাবা মেয়ের গান থামিয়ে দেননি, বাড়ি বদলে ছিলেন। কেন প্রতিভার সিনেমার লিপ মুভমেন্ট করতে পারেননি, সেটা বোঝা যাবে সিনেমা বিষয়ে তৎকালীন মধ্যবিত্তের মনোভঙ্গির কথা জানতে পারলে। যখনই বিষয়টা নিয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা হলো, তখনই বোঝা গেল, সিনেমার গান গাওয়া বলতে তাঁরা বোঝেন সিনেমায় নামা।তাঁদের মতে, এর চেয়ে বড় কলঙ্ক আর কিছু হতে পারে না। কেউ কেউ বললেন, বাইজিদের মতো টাকা নিয়ে সিনেমায় নামবে মেয়ে? তাহলে সেসব মেয়ের সঙ্গে তোমার মেয়ের তফাত রইল কোথায়? আরও বললেন, সিনেমায় নামলে এই মেয়ের আর কখনো বিয়ে হবে না। বিয়ে হলেও পরে কথাটা জানাজানি হলে বিয়ে টিকবে না। প্রতিভা সেই কথা জানিয়েছিলেন বুদ্ধদেব বসুকে।ঘর ফাটিয়ে অট্টহাসি দিয়ে বিষয়টির রফা করেছিলেন বুদ্ধদেব। এবং বলেছিলেন, 'ব্যাপারটা কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং। ঠোঁট নাড়িয়ে একজনের গান গাইবে আরেকজন? তা রাজি হয়ে যাও না। একটা অভিজ্ঞতা হবে।' প্রতিভা অবশ্য শেষ পর্যন্ত রাজি হতে পারেননি। সেই সময় বিয়ের তোড়জোড় এমনভাবে শুরু হয়েছিল যে, সিনেমায় লিপসিং করার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যায় তাঁর।সূত্র: প্রতিভা বসু, জীবনের জলছবি, পৃষ্ঠা: ১০১-১০৩ | 2 |
একটি মামলা, একজন ব্যক্তি এবং পাঁচ বছরের সাজা-এসব ছাপিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাবনায় এসেছে জাতীয় রাজনীতি, দেশ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গ। এ রায় চলমান রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়াবে এবং সমঝোতার কোনো সুযোগ আর থাকছে না। তবে রায় ঘোষণার দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সরকার ও বিরোধীপক্ষের ভূমিকা দায়িত্বশীল ছিল বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দেশজুড়ে যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, রায়-পূর্ব ও রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তার প্রতিফলন না ঘটার বিষয়টি ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। তবে আগামী দিনগুলো নিয়ে শঙ্কার কথা আসছে ঘুরেফিরে। অহিংস কর্মসূচি পালনে গত বুধবার নেতা-কর্মীদের প্রতি খালেদা জিয়ার আহ্বান, গতকাল তাঁর বরাত দিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের একই অনুরোধ সত্ত্বেও আতঙ্ক কাটছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতিতে অতিমাত্রায় সতর্কতার ছাপ রয়েছে। গত দুই দিন সারা দেশের সঙ্গে ঢাকাকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করা, গত ১০ দিনে বিএনপির তিন সহস্রাধিক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার, র্যাব-পুলিশ ছাড়াও বিপুলসংখ্যক বিজিবি মোতায়েনের ঘটনাগুলো মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন আসামি। রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে গতকাল একাধিক সরকারি কর্মকর্তা চলমান পরিস্থিতিতে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেন, মাঠের খালেদা জিয়ার চেয়ে এই নেত্রী বেশি শক্তিশালী কি না, সেটি এখন দেখার বিষয়। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি অনেকেই যেমন বিশ্বাস করেন, তেমনি এই মামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টিও কেউ কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার সাজা হলেও অস্বস্তিটা থেকেই যাবে। কারণ, দেশের মানুষ দুই নেত্রীকে আলাদাভাবে দেখে। ভোটের হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের নেতৃত্বাধীন দুটি ধারায় জনমতও প্রায় সমান। দুর্নীতি, সুশাসন, দারিদ্র্যবিমোচন, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ পিছিয়ে আছে। কিন্তু আর্থসামাজিক অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতিও আছে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্যবিমোচনের চেষ্টাসহ সামগ্রিক উন্নয়নে দুটি দলের অবদান রয়েছে। যদিও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অতীতের চেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতিতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকেই গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির নেতারা এবং খালেদা জিয়া নিজেও গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তাঁকে সাজা দিয়ে সরকার আসলে ভোট থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, এটা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ, আইনি লড়াইয়ে ওনার অংশ নিতে পারার সম্ভাবনাই বেশি। আর উনি না পারলেও ওনার দল তো পারবেই। তাঁর মতে, বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়, নির্বাচন সামনে রেখেই তারা সতর্ক ও সমঝোতার কর্মসূচি দিয়েছে। এ বছরই দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন। গতকাল বরিশালে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভোট চেয়েছেন, এর আগে ৩০ জানুয়ারি সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তিনি। গতকাল রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে জোরেশোরে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের জন্য কারও দুই বছরের বেশি সাজা হলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের দুটি রায় উল্লেখ করে বলেন, একটিতে বলা আছে, আপিল যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মামলা পূর্ণাঙ্গ স্থানে যায়নি, সে জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত নির্বাচন করতে পারবেন। আবার আরেকটিতে বলা আছে, নির্বাচন করতে পারবেন না। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের মধ্যে এইচ এম এরশাদের পর খালেদা জিয়াকেই দুর্নীতির দায় নিয়ে কারাগারে যেতে হলো। তিন যুগের রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবারই সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় পড়েছেন এই নেত্রী। দলের ভাঙন নিয়ে কথা উঠেছে, গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়া নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, ক্ষমা একবার হয়, বারবার হয় না। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, সরকার দলটি ভাঙার চেষ্টা করছে। যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল কীভাবে চলবে, সেটি যেমন বড় প্রশ্ন, তেমনি কঠিন প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে দলের ঐক্য ধরে রাখা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, মাঠপর্যায়ে সমর্থক থাকলেও বিএনপির নেতারা সবার মত নিয়ে কীভাবে কাজ করবেন, সেটা এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও চারটি দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এগুলো হচ্ছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, নাইকো এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা। এ ছাড়া অন্যান্য মামলা রয়েছে ৩১ টি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন এই দুই নেত্রী এবং এরশাদের পতন ছিল তাঁদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফসল। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক (২০০৭-২০০৮) সরকারের সময় দুই নেত্রী একসঙ্গে জেলে ছিলেন। নব্বই-পরবর্তী সময়ে গুটি গুটি পায়ে গণতন্ত্রের যে অগ্রযাত্রা, সেখানে দুই নেত্রীর ভূমিকাই ছিল মুখ্য। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারেননি। ১৯৯১ সাল থেকে সব নির্বাচনের পর পরাজিত দল সব সময় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বিজয়ী দলের বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে বিরোধী দল ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের শেষ ভাগে যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে বিরোধী দল অংশ নেওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, কোকোর মৃত্যুর পর খালেদা জিয়ার বাসায় গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ বেশ কিছু ঘটনায় দুই দলের মধ্যে তিক্ততা বেড়েছে। বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কারাবরণ অবাস্তব কোনো বিষয় নয়। আইন-আদালত যেমন চলবে, তেমনি রাজনীতিতে সমঝোতার পথ খোলা রাখতে হবে। সম্প্রতি জার্মানিতে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে রাজি হয়েছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল, যা তাঁর ভাষায় 'বেদনাদায়ক সমঝোতা'। আবুল মকসুদ মনে করেন, এই মামলার পর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বা দলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এক জিনিস। দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই বিবেচ্য। সাজার পর সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আগামী নির্বাচনকে কীভাবে দেখেন, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। | 9 |
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিশ্বের সব মুসলমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন টুড্রো। এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। এ সময় রমজান উপলক্ষে মুসলমানদের প্রতি ইসলামের মূল্যবোধ অনুযায়ী যথযাথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, "কোনও সন্দেহ নেই এবারের রজমান হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি জানি মানুষ তাদের জীবনে রজমানের প্রকৃত অর্থ জীবনে বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করবে।" তিনি বলেন, "কানাডার মুসলমানরা সবসময়ই আমাদের এই দেশকে অপেক্ষাকৃত ভাল ও শক্তিশালী জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখছে এবং এই মাসেও এর ব্যতিক্রম হবে না।" বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কয়েকদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকসজ্জা প্রভৃতি। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর নয়া পল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কর্মসূচিগুলো হচ্ছে- ২৬ মার্চ শনিবার ভোর ৬টায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে যাত্রা এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের কবর জিয়ারত। ৩০ মার্চ আলোচনা সভা, ২৬ মার্চ বেলা ৩টায় স্বাধীনতা র্যালি। | 6 |
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলার উল্টে গিয়ে ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এক জেলে উদ্ধার হলেও এখন নিখোঁজ ২০ জেলের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি জেলা ট্রলার মালিক সমিতি। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে এফবি সাফওয়ান নামে একটি মাছ ধরা ট্রলারের মাঝি ও জেলে মহসিন হাফিজুর রহমানকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ডুবে যাওয়া ওই ট্রলার এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ওই ট্রলারের মালিক পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির। এর আগে রোববার ভোররাতে ঝড়ের কবলে পড়ে পটুয়াখালীর গলাচিপার দক্ষিণের সোনার চর এলাকায় ভোলার চরফ্যাশনের আমিনাবাদ এলাকার মাছধরার ট্রলারটি ডুবে যায়। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের নাম ও মালিকের নাম জানা যায়নি। উদ্ধার হওয়া জেলে হাফিজুর রহমান বর্তমানে বরগুনার তালতলী উপজেলার ছকিনা এলাকায় আছে বলে জানা গেছে। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে বৈরী আবহাওয়া থাকায় সাগরে টিকতে না পেরে জেলেরা বাড়ি ফিরতেছিলেন। পথিমধ্যে রোববার ভোররাতে পটুয়াখালীর গলাচিপার দক্ষিণে সোনারচর এলাকায় ২১ জন জেলেসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। একদিন পর সোমবার রাত ১১ টার দিকে এক জেলে উদ্ধার হলেও বাকি ২০ জেলেসহ ট্রলারটি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলে হাফিজুর রহমানের বরাত দিয়ে গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আরও বলেন, ট্রলারটি উল্টো হয়ে তলিয়ে গেছে। বাকি ২০ জন জেলের জীবন নিয়ে এখন তারা শঙ্কায় আছেন। | 6 |
বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার জন্য উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আমেরিকায় ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ব্রিটেনের একটি আদালত। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল নেবেন বলেও আদালত জানিয়েছে। যদিও জুলিয়ানের আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ১৪ দিনের মধ্যে নতুন করে আবেদন করতে পারেন বলেও জানিয়েছে এই আদালত। আমেরিকার নেতৃত্বে ইরাক ও আফগানিস্তানে হওয়া সঙ্ঘাত সংক্রান্ত পাঁচ লাখ গোপন সামরিক ফাইল ফাঁস করার অভিযোগ উঠেছিল জুলিয়ানের বিরুদ্ধে। এই কারণে আমেরিকাতে তাকে অপরাধীও ঘোষণা করা হয়। না। আমেরিকা ফিরলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। জুলিয়ানের মামলা এই আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে এই দীর্ঘ চলা মামলায় ইতি পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রীতির কাছে আবেদন জানাবেন বলেও জুলিয়েনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন। জুলিয়ানের আইনি পরামর্শদাতা সংস্থা বার্নবার্গ পিয়ার্স সলিসিটরস গত মাসে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, জুলিয়ান এর আগে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানাননি। গত মাসে জুলিয়ানকে আমেরিকায় ফেরত পাঠানোর আবেদনের বিরুদ্ধে পাল্টা আবেদন করার অনুমতি পাননি। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা | 3 |
আরব আমিরাতের ধীর গতির উইকেটে একজন লেগ স্পিনারের গুরুত্ব বুঝতে স্কটল্যান্ড-নামিবিয়ার মতো সহযোগী দলগুলো একবারও ভাবেনি। উল্টোপিঠে বাংলাদেশই একমাত্র দল যাদের স্কোয়াডে কোনো লেগ স্পিনার নেই। যিনি ছিলেন সেই আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে 'অতিরিক্ত' হিসেবে নিয়ে গেলেও বিশ্বকাপের শুরুর আগে পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশে!'চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে' পরিস্থিতির মতো বিপ্লবের অভাব এখন ঠিকই উপলব্ধি করতে পারছেন রঙ্গনা হেরাথ। লেগ স্পিনার নিয়ে যেখানে বাংলাদেশের চিরন্তন হাহাকার, সেখানে কাজ চালানোর মতো দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বিপ্লবকে দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেন, এমন প্রশ্ন সংবাদ সম্মেলনে শুনতে হলো বাংলাদেশের স্পিন কোচকে।এবারের বিশ্বকাপে দারুণ করছেন রশিদ খান, আদিল রশিদ, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মতো লেগ স্পিনাররা। অন্য দলের সাফল্য দেখে হেরাথও স্বীকার করলেন দলে বিপ্লবকে দরকার ছিল। আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্পিন কোচ বলেছেন, 'আমাদের তিনজন স্পিনার ছিল, তাই ম্যানেজমেন্ট ভেবেছিল তাতেই চলবে। এই টুর্নামেন্টে লেগ স্পিনাররা ভালো করছে। রশিদ খান, আদিল রশিদ, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গারা ভালো খেলছে। তাদের কেউ কেউ আইপিএলেও ভালো করেছিল।'বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেই সিরিজে বিপ্লবকে ফেরানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন হেরাথ, 'আমি নিশ্চিত যে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামী সিরিজে কিংবা সামনে যেকোনো সিরিজে আবার বিপ্লব দলে ফিরবে। আশা করি, সে আবার বাংলাদেশের পক্ষে খেলার সুযোগ পাবে।' | 12 |
পাঞ্জাবের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নিকে পরাজিত করে এমএলএ নির্বাচিত হয়েছেন লাভ সিং উগোক। কিন্তু তাঁর মা এখনো ঝাড়ুদার! এমনো কি হতে পারে? হ্যাঁ, হতে পারে এবং হয়েছেও। ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে এমএলএ নির্বাচিত হয়ওয়ার পরও তাঁর মা বালদেব কাউর এখনো পাঞ্জাবের একটি সরকারি স্কুলের ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।একসময় মোবাইল মেরামতের দোকানে কাজ করা আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা লাভ সিং উগোক চরণজিৎ সিং চান্নিকে পাঞ্জাবের ভাদৌর আসন থেকে ৩৭ হাজার ৫৫০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।ছেলে এমএলএ নির্বাচিত হওয়ার পরও কেন ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করছেন সে বিষয়ে লাভ সিংয়ের মা বলেন, 'আমরা অর্থ উপার্জনে সব সময়ই কঠোর পরিশ্রম করেছি। বর্তমানে আমার ছেলের অবস্থান বদলালেও আমি স্কুলে আমার কাজ চালিয়ে যাব।'মজার ব্যাপার হলো, লাভ সিং উগোক ঝাড়ু প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করেছিলেন। ছেলের বিজয়ে উল্লসিত মা বালদেব কাউর বলেন, 'ঝাড়ু' তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বালদেব কাউর আরও বলেন, 'যদিও সে (লাভ সিং) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে আমরা সব সময়ই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে আমার ছেলেই জিতবে।'বালদেব কাউর যে স্কুলে কাজ করেন, সেখানকার অধ্যক্ষ অমৃত পাল কাউর বলেন, 'উগোক এই স্কুলেই পড়াশোনা করেছে, সে আমাদের খ্যাতি এনে দিয়েছে। উগোকের মা দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলে ঝাড়ুদারের কাজ করছেন। তিনিও এখানেই পড়াশোনা করেছেন।'উগোকের বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করা দর্শন সিং বলেছেন, তাঁদের পরিবার আগের মতোই চলবে।' তিনি চান তাঁর ছেলে পরিবারের বদলে মানুষের কল্যাণে মনোযোগী হোক।দর্শন সিং আরও বলেন, 'এলাকার মানুষ তাঁকে নির্বাচিত করেছে। আমরা চাই সে মানুষের কল্যাণে কাজ করুক। আমরা আগে যেভাবে থাকতাম, সেভাবেই জীবনযাপন করব।'২০১৩ সালে লাভ সিং এএপিতে যোগ দেন এবং দ্রুত দলের প্রথম সারিতে উঠে আসেন। এর আগে ২০১৭ সালের নির্বাচনেও লাভ সিং ভাদৌর থেকে আম আদমির মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু পার্টি তখন তাঁকে দেয়নি। | 3 |
কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গণি থানার ভেতর পলাতক আসামিদের সঙ্গে কেক কেটে জন্মদিন পালন করায় তাঁকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে প্রত্যাহারের এ আদেশ দেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান।পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি গত ২ মার্চ সন্ধ্যায় জন্মদিন উপলক্ষে থানার অফিস কক্ষে পলাতক আসামিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন। তখন ওসির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি আরহান মাহমুদ রুবেলসহ অন্যরা। পলাতক আসামিরা ওসির জন্মদিন পালন করায় জনসম্মুখে কক্সবাজার জেলা পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই চকরিয়া থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, সাংবাদিক কারওই কল ধরেন না তিনি২ মার্চ ওসি ওসমান গণির জন্মদিন ছিল। ওই দিন তিনি নিজ কার্যালয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার পলাতক আসামিদের সঙ্গে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন। জন্মদিন পালনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ ছাড়া গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আজকের পত্রিকার অনলাইনে 'জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, সাংবাদিক কারওই কল ধরেন না তিনি' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়েও তোপের মুখে পড়েন ওসি ওসমান গণি।আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য তারেকুল ইসলাম রাহিতকে কুপিয়ে গুরুতর আহত এবং তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তারেকুলের ছোট ভাই তানজীমুল ইসলাম বাদী হয়ে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরহান মাহমুদ রুবেলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। আদালতে ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জুয়েল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ওসিকে (ওসমান গণি) প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।' | 6 |
নড়াইলে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফির পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত কৃষককে ফোন করে খোঁজখবর এবং বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যেন দালালের খপ্পরে না পড়েন, সেজন্য বিভিন্ন পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারাও কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। এতে পাল্টে গেছে নড়াইল, নলদী ও লোহাগড়া খাদ্যগুদামের চিত্র। সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক মিন্টু সরকার, সঞ্জিত মহলদার ও অন্নদা বিশ্বাস ১৩ থেকে ২৫ বছর ধরে ধানচাষ করছেন। এবারই প্রথম ধান দিতে সদর উপজেলা খাদ্য বিভাগে (এলএসডি) এসেছেন। তারা জানান, সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার পক্ষ থেকে ফোন করে তাদের লটারিতে ধান দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। তারা যেন গুদামে গিয়ে ধান দেন, সে ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কেউ অর্থ দাবি বা খারাপ ব্যবহার করলে জানানোর জন্য দুটি ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, আগে কখনও এভাবে কেউ ফোন করেননি। মাশরাফি বিন মুর্তজার কৃষিবিষয়ক প্রতিনিধি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ কৃষক জানেন না তারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন। বিষয়টি জানাতে এবং প্রভাবশালী ও কোনো সিন্ডিকেট যাতে গুদামে ধান দিতে না পারে, সেজন্য কষ্ট হলেও কৃষকদের ফোন করা হচ্ছে। এমপির আশা, প্রকৃত কৃষকরা যেন জানতে এবং সরাসরি গুদামে এসে ধান দিতে পারেন। আগামী বোরো মৌসুমেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। নড়াইল সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের (এলএসডি) পরিদর্শক তরুণ বালা বলেন, খাদ্যগুদামের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকে প্রচার এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্যগুদামের দেয়ালেও কৃষকদের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরা কৃষকদের ধান দিতে অনেক সহযোগিতা করছেন। না হলে রাঘববোয়ালদের ঠেকানো সম্ভব হতো না। লোহাগড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মান্নান আলী বলেন, এমপির পক্ষ থেকে কৃষকদের ফোন করে গুদামে ধান দিতে উৎসাহিত করা খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি সারাদেশের একটি মডেল হতে পারে। নড়াইল জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মনিরুল হাসান বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে প্রকৃত কৃষক উপকৃত হবেন এবং প্রভাবশালী ও দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে। গত ২৬ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো লোহাগড়া ও সদর উপজেলায় ধান সংগ্রহে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষকের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়। সদর উপজেলায় ৬ হাজার ৬৮৪ কৃষকের মধ্য থেকে এক হাজার ৯৭৫ এবং লোহাগড়া উপজেলায় ছয় হাজার ৫০০ কৃষকের মধ্য থেকে এক হাজার ১৭৫ কৃষককে বাছাই করা হয়েছে। ২৬ টাকা কেজি দরে এ বছর সদর উপজেলায় এক হাজার ৯৭৫ টন এবং লোহাগড়া উপজেলায় এক হাজার ৮৮ টন আমন ধান সংগ্রহ করা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহ চলবে। | 6 |
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর জেরে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আজ শুক্রবার বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৩০ নভেম্বর ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর সাক্ষাতের পর ড. সেলিমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ ৪ দফা দাবি জানন। অপর দাবিগুলো হলো-ড. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, কুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং শিক্ষকের পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছে। পালটা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, ওই সাক্ষাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অধ্যাপক সেলিম হোসেনকে লাঞ্ছিত করেন এবং মানসিক নির্যাতন চালান। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার কমিটির দুই সদস্য দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। ড. সেলিম কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 1 |
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম খায়রুজ্জামানকে আটক করেছে। তাঁকে দেশটির সেলাঙ্গর প্রদেশের আমপাং এলাকা থেকে আটক করা হয়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন শেষে এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে রয়েছেন খায়রুজ্জামান। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত একাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কী অভিযোগে খায়রুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্যারিসভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটসের (এফআইডিএইচ) এশিয়া ডেস্কের পরিচালকের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে গতকাল দুপুরে এ বিষয়ে একটি টুইট করা হয়। টুইটে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত এম খায়রুজ্জামানকে দেশটির পুলিশ রাজধানী কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খায়রুজ্জামানের আটকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। খায়রুজ্জামান সাবেক সেনা কর্মকর্তা। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন তিনি। ওই হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। ! : , , , - , ../ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মিয়ানমার, মিসর ও ফিলিপাইনে বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন খায়রুজ্জামান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খায়রুজ্জামানকে অবসরে পাঠানোর পাশাপাশি জেল হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর খায়রুজ্জামান জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর তিনি চাকরি ফিরে পেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক পদে যোগ দেন। ২০০৪ সালে খায়রুজ্জামান জেল হত্যা মামলা থেকে খালাস পান। ২০০৫ সালে তিনি মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ পান। পরে ২০০৭ সালের আগস্টে তাঁকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খায়রুজ্জামানকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে থেকে যান। পরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দেওয়া শরণার্থী মর্যাদায় খায়রুজ্জামান মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেন। জানা গেছে, খায়রুজ্জামান এখন শরণার্থী হিসেবে ইউএনএইচসিআরের যে কার্ডটি ব্যবহার করেন, সেটি ২০২০ সালের মার্চে তাঁকে দেওয়া হয়। তাঁকে দেওয়া কার্ডটির মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। | 6 |
অনলাইনে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের ওয়েবসাইট শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই অনলাইন ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম আমরা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেব। সোমবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের জেন্ডার, জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচি এ সংলাপের আয়োজন করে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স লুকানোর কোনো সুযোগ থাকবে না, বাল্যবিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। বিয়ে নিয়ে প্রতারণা দূর হবে। ভেরিফাই করা যায় এমন ডকুমেন্ট ছাড়া অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হবে না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ইতোমধ্যে 'বন্ধন ডটজিওভি ডটবিডি' নামে ওয়েবসাইটটির আর্কিটেকচার ও প্রটোকলসহ 'ডেমো' তৈরি করেছে বলে তিনি জানান। তবে জন্ম নিবন্ধন সনদকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন ও যাচাইকরণের ব্যবস্থা ছাড়া বয়স নিয়ে প্রতারণার সুযোগ রয়ে যাবে বলে মনে করেন এই কর্মসূচির পরিচালক নবনীতা চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার কাজ শুরু হলেও, বিয়ে বা কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ ডিজিটালি যাচাই করার কোনো বাধ্যবাধকতা বা বিবাহ নিবন্ধন ডিজিটাল করার কোনো উদ্যোগ নেই। তাই এখনও সনদ জালিয়াতি বা ভুয়া দলিলপত্র দিয়ে কাজ সারার উপায় থেকে যাচ্ছে। এর ফলে বাল্যবিবাহ বা শিশু শ্রমে নিয়োজিতদের কোনো পূর্ণ পরিসংখ্যানও থাকছে না। ১৩ বছরের মেয়েকে ১৮ লিখে বিয়ে দেওয়া যাচ্ছে, কাজেও নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে। বিবাহ নিবন্ধন ও কাজের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাচাইকরণকেও ডিজিটাল পদ্ধতির আওতাভুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জরিমানা দিয়ে বা আইনের কঠোর প্রয়োগ করে নয়, আন্তরিকতা-ভালবাসা দিয়ে একটা পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে হবে। এমন প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি করতে হবে, যেখানে কোনো ফাঁকি দেওয়ারই সুযোগ থাকবে না। | 6 |
নওগাঁর মহাদেবপুরে স্কুলড্রেস না পরে স্কুলে আসায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি পক্ষ বলছে, হিজাব পরে আসার কারণেই শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে। আরেকটি পক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষক শাসন করেছেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে কোন্দল থাকায় নিজ স্বার্থ হাসিলে একটি পক্ষ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা উসকানি দিচ্ছে।ঘটনার এক দিন পর ওই বিদ্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ওই শিক্ষক বলছেন, স্কুলড্রেস পরে না আসায় তিনি শিক্ষার্থীদের কিছুটা শাসন করেছেন। এতে এখন ধর্মীয় রং চড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণ জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ঘটনার দিন তিনি স্কুলের কাজে বাইরে ছিলেন। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে শোকজ করা হবে বলেও জানান তিনি।এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় কোনো পক্ষেরই অভিযোগ পাননি তিনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই শিক্ষকের বাড়ি এবং স্কুলটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, 'বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'ঘটনা গত বুধবারের। ওই দিন দুপুরে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনাটি ঘটে উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযোগ ওঠে, 'হিজাব' পরার কারণেই নাকি ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে। এরই জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা ওই স্কুলে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। স্কুলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে না পেয়ে স্কুলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত বুধবার স্কুলে হিজাব পরে যাওয়ার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিপেটা করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পাল। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'স্কুলড্রেস না পরে এলে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না।'যদিও স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দিন শুধু মেয়েদের নয়, মারধর করা হয়েছিল ছেলেদেরও। স্কুলড্রেস না পরার কারণেই এভাবে 'শাসন' করা হয়। কয়েকজন মেয়েকে মারধর করেন আমোদিনী পাল। আর ছেলেদের মারধর করেন স্কুলের অন্য এক পুরুষ শিক্ষক। স্কুলড্রেস না পরে আসার কারণ জানতে চাইলেও এ নিয়ে কেউ সুস্পষ্ট কিছু বলেননি।এরপর স্কুল থেকে বাড়িতে চলে যায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণি পড়ুয়া প্রায় ১৮ জন শিক্ষার্থী। ঘটনার পরদিন এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ওই বিদ্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কয়েকজন অভিভাবক অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান।এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আমোদিনী পাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, কোনো ধর্মীয় ইস্যুতে নয়। স্কুলড্রেস পরে আসতেই কিছুটা শাসন করেছিলেন তিনি। এর ওপর এখন ধর্মীয় রং লাগানো হচ্ছে। কিছু লোক এ কাজ করছে। তিনি জানান, এর আগেও শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস পরে স্কুলে আসার কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু তারা শোনেনি। | 6 |
জেলা-উপজেলায় মোটরসাইকেল চলাচলে আইন মানা হয় না। দুর্ঘটনার ৮৫% মহাসড়ক, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে। তিন বন্ধু বায়েজিদ, জাকারিয়া ও সাকিব। তিনজনেরই বয়স ২২ বছরের আশপাশে। মেলা থেকে মোটরসাইকেলে একসঙ্গে ফিরছিলেন। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনই মারা যান। বাবা-মায়েরা হারান তাঁদের আদরের সন্তানদের। ঘটনাটি ঘটে গত ৯ মার্চ বাগেরহাটের মোংলায়। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবার জানায়, মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দিয়েছিল। গুরুতর আহত এই তিন তরুণকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বায়েজিদের বাবা মো. জাহাঙ্গীর (৬০) এখন দোকানের সামনে থেকে ছেলের মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটির সিসিটিভি ফুটেজ বারবার দেখেন, আর কাঁদেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বায়েজিদ তাঁর চার সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে। তাঁর সঙ্গে বায়েজিদ দোকানে বসতেন। তাঁকে চা বানিয়ে খাওয়াতেন। মুঠোফোনে এসব বলতে বলতে জাহাঙ্গীরের কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে ওঠে। পরিবার ও পুলিশ জানায়, এই তিনজনের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। মোটরসাইকেলের চালকের ছিল না চালানোর কোনো প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। অভিযোগ রয়েছে, মোটরসাইকেলে তিনজন ওঠা নিষিদ্ধ হলেও মোংলায় অহরহ এই নিয়ম ভাঙা হয়। শুধু মোংলা নয়, জেলা, উপজেলা ও গ্রামের চিত্রটি এমনই। বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূল শহরের বাইরে মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ সড়কে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মানার কোনো তাগিদ কারও মধ্যে নেই। চালক ও আরোহীরা হেলমেট পরেন না, বেশির ভাগ চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না এবং এক মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি না ওঠার নিয়মটিও মানা হয় না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেলও অহরহ চলে। এসব নিয়ম মানাতে পুলিশেরও কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। যদিও রাজধানীতে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিতে পুলিশের কড়া তদারকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজধানী ঢাকার মতো সারা দেশে যদি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি না ওঠার নিয়ম মানানো যেত, তাহলে ঝুঁকি কমত। দেশে মোটরসাইকেল বাড়ছে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। এ অবস্থায় নিয়ম মানতে জোর দেওয়ার কোনো বিকল্পও নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ওয়েবসাইটে একটি নির্দেশিকায় বলা আছে, সঠিকভাবে হেলমেট পরিধান করলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমে। আর গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমে ৭০ শতাংশ। জেলা-উপজেলায় মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে তদারকি কেন করা হচ্ছে না জানতে চাইলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সক্ষমতা অনুযায়ী তাঁরা সড়কে নজরদারি করেন। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের সচেতনতার অভাব আছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, অসচেতন মানুষকে বাধ্য করার কাজটি পুলিশের। এ জন্যই সড়ক আইন করা হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ২০২১ সালে মোট ২ হাজার ৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যান ২ হাজার ২১৪ জন, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ। আর ২০২১ সালে যত দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় ৩৯ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ২০২১ সালে আগের বছরের চেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ ও এই দুর্ঘটনাগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা ৫১ শতাংশ বেড়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বড় শহরের বাইরে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু বেশি। মোট মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৮৫ শতাংশ হয় জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ সড়কে। বাকিটা শহরে। দুর্ঘটনা বেশি ঢাকা জেলা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, নওগাঁ ও টাঙ্গাইলে। ২০২১ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ৭৪ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ৪৫ বছর। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার তিন তরুণ রুদ্র মাহামুদ (২০), মুরাদ গাজী (২২) ও নাঈম হাওলাদার (২২) গত ২৮ মার্চ গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল। নিহত নাঈম হাওলাদারের বাবা নওশের আলী হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলেরও মোটরসাইকেল আছে। নাঈম হেলমেট পরেই মোটরসাইকেল চালাতেন। তবে সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে বের হওয়ার সময় হেলমেট ছিল না। বাবা বলেন, হেলমেটটা থাকলে হয়তো ছেলে সেদিন বেঁচে যেত। প্রথম আলোয় গত ১২ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না। জাপানি মোটরসাইকেল কোম্পানি ইয়ামাহা ও বাংলাদেশে তাদের পরিবেশক এসিআই মোটরস প্রতিষ্ঠিত ইয়ামাহা রাইডিং একাডেমির জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক শেখ নোমান রাহুল প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেল চালাতে ভালো মানের হেলমেটের বিকল্প নেই। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ভালো মানের হেলমেট মাথাকে অনেকটা সুরক্ষা দেয়। তিনি বলেন, এখন যে প্লাস্টিকের পাতলা হেলমেট দেখা যাচ্ছে, তা পরা হয় পুলিশের জরিমানা এড়ানোর জন্য। এসব হেলমেট সুরক্ষা দেয় না। স্বীকৃত মান মেনে তৈরি হেলমেটের ব্যবহার করতে হবে। বাড়তি সুরক্ষার জন্য পায়ে, বুকে ও হাতে পরার মতো বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সঠিক প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা না মানায় দুর্ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে শেখ নোমান রাহুল আরও বলেন, মোটরসাইকেল চালানো সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। জেলা-উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অনেক রোগীকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। গত সোমবার পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, হূমায়ুন কবির নামের একজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরকে নিয়ে আসা হয়েছে নরসিংদী থেকে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত। পা ভেঙেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেল নিয়ে হূমায়ুন প্রায়ই ঘোরাঘুরি করে। সোমবার মোটরসাইকেল চালানোর সময় সে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়। সে সময় তার মাথায় হেলমেট ছিল না। সড়ক দুর্ঘটনার বেশির ভাগ রোগী যায় পঙ্গু হাসপাতালে। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, ঢাকার বাইরের রোগীই সবচেয়ে বেশি। সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়া রোগীদের চিকিৎসা হয় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে। হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যেসব রোগী আসেন, তার ৫০ শতাংশই মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী। এঁদের মধ্যে ৭০ শতাংশ আসেন ঢাকার বাইরে থেকে। ঢাকার বাইরে থেকে যেসব রোগী আসেন, তাঁদের অবস্থা খুবই গুরুতর হয় জানিয়ে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়া রোগীর অনেক জটিলতা থাকে। যাঁদের ক্ষতির পরিমাণ বেশি, তাঁরা পক্ষাঘাতগ্রস্ত, প্রতিবন্ধিতা, কথা বলতে না পারার মতো সমস্যায় পড়েন। পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তির এই হাল হলে পুরো পরিবারই তার ভুক্তভোগী হয়। | 6 |
হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে সালেহ উদ্দিন আহমেদ ও আবদুল মোছাব্বির বকুল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। দুজনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা আইনজীবী সমিতির ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষে রাত ৯টার দিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। হবিগঞ্জ আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এক বছর মেয়াদি সমিতি পরিচালনা পরিষদের মোট পদ ১৫টি। এর মধ্যে সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক (প্রথম শাখা), যুগ্ম সম্পাদক (দ্বিতীয় শাখা), ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়ন সম্পাদক, লাইব্রেরি সম্পাদকসহ সাতটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আটটি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ৬৩৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫২৫ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এবারের নির্বাচনে কোনো প্যানেল ছিল না। সভাপতি পদে সালেহ উদ্দিন পেয়েছেন ২৫০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল হান্নান চৌধুরী পেয়েছেন ১৫৭ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুল মোছাব্বির পেয়েছেন ২৭৫ ভোট, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সমর্থক আবদুল হাই পেয়েছেন ১৪২ ভোট। এ ছাড়া সহসভাপতি হিসেবে আবু তাহের মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক (প্রথম শাখা) পদে জন্টু চন্দ্র দেব, যুগ্ম সম্পাদক (দ্বিতীয় শাখা) পদে জেবুন্নেসা চৌধুরী, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়ন সম্পাদক পদে জাদিলউদ্দিন আহমেদ ও লাইব্রেরি সম্পাদক পদে আবদুল মজিদ নির্বাচিত হন। নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের আহ্বায়ক নুরুল আমিন প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। | 6 |
জাতীয় ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে'কে দুই মাসের জন্য অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের অস্কার ব্রুজনকে। | 12 |
হাজার বছরের গল্প। মেঘনার উপকূলে তিলে তিলে গড়ে ওঠে এক নিটোল জনপদ। সমুদ্রপাড়ের অনিন্দ্যসুন্দর নোয়াখালী শহরের দক্ষিণে এর অবস্থান। উত্তাল সাগরের মাঝে বিশাল এ প্রান্তর ২০০ বছর ধরে ভাঙাগড়ার খেলায় মত্ত ছিল। একদিন সত্যি সত্যি জায়গাটি হারিয়েও গেল। প্রকৃতির লীলাখেলায় সেখানেই ফের জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ চর। কালের বিবর্তনে এর নাম হয়েছে পূর্বচরবাটা। কাগজে-কলমে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পড়েছে গ্রামটি।এখানকার সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেন। শিক্ষার বিকাশ একসময় অলীক স্বপ্নই ছিল। ছিল না নাগরিক সুবিধার কোনো কিছুই। বিশাল প্রান্তরজুড়ে বাসা বেঁধেছিল অদ্ভুত এক আঁধার। সেই আঁধারের পরই যেন সোনালি সকালের দেখা মিলল। গত ৩০ বছরে বদলে গেছে এখানকার জীবনমান।স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, এ গ্রামেরই সন্তান সরকারের সাবেক সচিব এ টি এম আতাউর রহমান গ্রামের এমন পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দান করে গ্রামে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। গ্রামে এখন বাড়ি বাড়ি শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে।১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় চরবাটা হাবিবিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রথমে একটি টিনশেড ঘরে এর কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পাকা ভবনে পাঠদান চলছে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় 'পূর্বচরবাটা জুনিয়র হাইস্কুল'। ১৯৯৯ সালে মেলে মাধ্যমিকের স্বীকৃতি, ২০০২ সালে লাভ করে এমপিওভুক্তি। ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন উচ্চমাধ্যমিকের মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি (বিএম) শাখায় কম্পিউটার অপারেশন ও সেক্রেটারিয়েল সায়েন্সে ছাত্রছাত্রী ভর্তির অনুমতি পায়। ২০০০ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভকেশনাল শাখা চালু করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে।এসবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এ টি এম আতাউর রহমান বলেন, 'আমি আমার জায়গা থেকে উজাড় করে সব দিয়েছি। এখন নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব এগুলো এগিয়ে নেওয়ার।' | 6 |
হিজলা উপজেলার পুরোনো বন্দরে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।। গত ৫-৬ বছর ধরেই এটির এই অবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আশপাশের এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের।এই রাস্তাটি উপজেলার বরজালিয়া ইউনিয়নের হিজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছন দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি পুরোনো হিজলা বন্দর যাওয়ার একমাত্র সড়ক। এই সড়কের এক কিলোমিটার অংশের দুই পাশে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গৌরবদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন, আমির হোসেন নান্নু, বরজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবীব হিরন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন নেতা-কর্মীর বাসভবন।বরজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবীব হিরন হাওলাদার বলেন, 'এই রাস্তা কার্পেটিং করার দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপ এখন থেকে চলে গেছে শুনছি।'এ ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি।হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, 'উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর বলতে পারবে কেন কাজ বন্ধ রয়েছে।'তবে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ওবায়েদুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি অবগত আছি। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।' | 6 |
খ্যাতনামা রেডিও সংবাদ ভাষ্যকার কাফি খান আর নেই। ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়া স্টেটের আর্লিংটনে অবস্থিত ভার্জিনিয়া সেন্টার হাসপাতালে ১ জুলাই বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে ৯২ বছর বয়সে কাফি খান শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। দুই পুত্র এবং দুই কন্যার জনক কাফি খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্থানীয় সময় শুক্রবার জুমার নামাজের পর সুগারল্যান্ড রোডে অবস্থিত আদমস সেন্টার মসজিদে এবং নিকটস্থ মুসলিম গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তাঁর মৃত্যু সংবাদে প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, ৫ দিন আগে ভয়েস অব আমেরিকার আরেক প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল আহমেদ (৮২) ইন্তেকাল করেছেন ভার্জিনিয়ার পার্শ্ববর্তী ম্যারিল্যান্ড স্টেটে। উল্লেখ্য, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়েও তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে কর্মরত অবস্থায় কিছু প্রবাসীর সাথে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত একই চেতনা লালন করেছেন । কাফি খানের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গেরচব্বিশপরগনা জেলার বারাসাত এলাকার কাজীপাড়া গ্রামে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 4 |
দুই কারণে নতুন শ্রমিক নিয়োগের হার বেড়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক-সংকটের কথা বলছেন উদ্যোক্তারা। নারায়ণগঞ্জের প্লামি ফ্যাশনস নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছে। এ জন্য শ্রমিকের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত তিন মাসে তারা ৭০০ শ্রমিক নিয়োগও দিয়েছে। আগামী এক মাসে আরও ৩০০ শ্রমিক নেবে। নতুন লোকবল নিয়োগের আগে পরিবেশবান্ধব এই কারখানাটিতে কাজ করতেন ২ হাজার কর্মী। জানতে চাইলে প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুল হক গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, 'করোনার প্রথম ধাক্কার পর যখন ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাড়তে শুরু করে, তখনই আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করি। কারণ, অনেক ক্রেতাই গুণগত মানসম্পন্ন কারখানা খুঁজছেন। বর্তমানে ক্রয়াদেশ ভালো থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে তেমন বেগ পেতে হচ্ছে না।' ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লামি ফ্যাশনসের মতো রপ্তানিমুখী অনেক পোশাক কারখানাই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। আবার আগের তুলনায় ক্রয়াদেশে কম লিড টাইম (ক্রয়াদেশ থেকে পণ্য জাহাজীকরণ পর্যন্ত সময়) দেওয়ায় অল্প সময়ে বেশি পণ্য উৎপাদনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই দুই কারণেই মূলত নতুন শ্রমিক নিয়োগের হার বেড়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কিংবা অদক্ষ কোনো শ্রমিকই পাচ্ছেন না বলে জানালেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, ২০১৯ সালের তুলনায় পোশাকের ক্রয়াদেশ ১০-১৫ শতাংশ বেশি আসছে। বাড়তি ক্রয়াদেশের ফলে ৫-৭ শতাংশ শ্রমিক নিয়োগ বাড়তে পারে। তাতে দুই লাখের কিছু কমবেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে কারখানা ও শ্রমিকের সংখ্যার সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিইডি) ম্যাপড ইন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে রপ্তানিমুখী ৩ হাজার ৩৮৪ পোশাক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কাজ করেন ২৬ লাখ ৬৬ হাজার শ্রমিক। এর মধ্যে ১১ লাখ ১৩ হাজার পুরুষ ও ১৫ লাখ ৫৩ হাজার নারী। ম্যাপড ইন বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ও বিজিএমইএর দাবি আমলে নিলে বাড়তি ক্রয়াদেশের কারণে ৫-৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ লাখ ৩৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৬ হাজার নতুন শ্রমিক নিয়োগ হতে পারে পোশাকশিল্পে। তবে ৩ হাজার ৩৮৪ কারখানার মধ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য নয়, এমন কারখানার সংখ্যা ৬৭৫। ফলে নতুন শ্রমিক নিয়োগের সংখ্যাটি আরও কম হতে পারে। আবার করোনাকালে ছাঁটাই হওয়া অনেক শ্রমিকও আবার নিয়োগ পাচ্ছেন। পোশাক খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি স্নোটেক্স গ্রুপ। তারা বছরে ২৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। তাদের স্নোটেক্স আউটারওয়্যার ও স্নোটেক্স স্পোর্টসওয়্যারে ছয় হাজার নতুন শ্রমিক নিয়োগ পেয়েছে। আরও এক হাজার নতুন শ্রমিক নিয়োগ করা হবে। স্নোটেক্স গ্রুপের এমডি এস এম খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, '২০১৯ সালের তুলনায় আমাদের ক্রয়াদেশ বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ। সক্ষমতা আরও বেশি হলে ক্রয়াদেশ আরও বেশি নেওয়া যেত।' পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা জানান, বিপুলসংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। তাই সেসব দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান আগামী গ্রীষ্ম ও বসন্ত মৌসুমের জন্য করোনার আগের মতো ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। তা ছাড়া মিয়ানমারে সেনাশাসন ও ভারতে করোনার ভয়াবহতার কারণেও কিছু ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে। তার আগেই চীন থেকে কিছু ক্রয়াদেশ বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে স্থানান্তর করে আসে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতারা। সাম্প্রতিককালে ভিয়েতনামে লকডাউন থাকার কারণেও কিছু ক্রয়াদেশ আসছে। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ ক্রয়াদেশ বেশি এসেছে। চট্টগ্রামের ডেনিম এক্সপার্ট ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত তিন-চার মাসে ৩৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে। আরও সাড়ে তিন শ শ্রমিক নেবে। এ তথ্য দিয়ে ডেনিম এক্সপার্টের এমডি মোস্তাফিজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, 'ক্রয়াদেশ দিতে আগ্রহী ক্রেতাদের ফোন প্রতিদিনই পাচ্ছি। ক্রয়াদেশের এমন চাপ গত পাঁচ বছরে পাইনি। তবে বর্তমানে বড় সমস্যা হচ্ছে শ্রমিকের সংকট। চাহিদা অনুযায়ী লোক পাচ্ছি না। সে কারণে উৎপাদনক্ষমতাও বাড়ানো যাচ্ছে না।' করোনার প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে পোশাক রপ্তানি ইতিমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ভালো হয়নি। তবে আগস্টে ২৭৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের চেয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ বেশি। আরেক শীর্ষস্থানীয় পোশাক কারখানা স্প্যারো অ্যাপারেলস। দেশে চারটি ছাড়াও জর্ডানে তাদের যৌথ মালিকানায় একটি কারখানা রয়েছে। দেশ থেকে তারা বছরে ২০ কোটি ডলার বা ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করে। পবিত্র ঈদুল আজহার পর প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন ৮০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এমডি শোভন ইসলাম বলেন, 'করোনার মধ্যে ক্রয়াদেশ কমাসহ নানাবিধ কারণে কয়েকটি লাইন বন্ধ করতে হয়েছিল। ক্রয়াদেশের চাপে সেগুলো চালু করেছি।' নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, 'ক্রেতারা আগের চেয়ে কম লিড টাইমে পোশাকের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। তাই অল্প সময়ে বেশি উৎপাদনের জন্য লোকবল নিয়োগ বেড়েছে। তাতে পুরো খাতে বর্তমান জনবলের চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি নতুন কর্মসংস্থান হবে।' তিনি বলেন, প্রায় প্রতিটি কারখানার ফটকেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে। | 0 |
পাকিস্তান ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপের এবারের আসরের শিরোপা জিতেছে শোয়েব মালিকের দল খাইবার পাখতুনখাওয়া। ফাইনালে তারা ১০ রানে হারিয়েছে সাউদার্ন পাঞ্জাবকে। ২০ ওভারে খাইবারের ৪ উইকেটে ২০৬ রানের জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান করতে সক্ষম হয় পাঞ্জাব। এ ম্যাচে ২২ বলে অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সি শোয়েব মালিক। শোয়েব মালিক পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা একজন ক্রিকেটার। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরমেটে জাতীয় দলের হয়ে তারই সবচেয়ে বেশি রান। তরুণ বয়সের মতো খেলছেন এই বয়সে এসেও। পাঞ্জাবের বিপক্ষে তার দল পরশু টস হেরে ব্যাট করতে নামে। দুই ওপেনারের মধ্য ফখর জামান খেলেন ৬৭ রানের ইনিংস। রিজওয়ান করেন ২৫ রান। হাফিজের ৩৮ রানের পরই ঝড় তোলেন শোয়েব। বড় স্কোরের জন্য ২২ বলে তিনি খেলেন ৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংস। ফলে খাইবার ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান তুলে স্কোরবোর্ডে। পাঞ্জাবের হয়ে আমির ইয়ামিন, জাহিদ মাহমুদ ও মোহাম্মদ ইমরান। জবাব দিতে নেমে শান মাসুদ, জিসান আশরাফ এবং শোয়েব মাকসুদরা খুব দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হুসাইন তালাত এবং খুশদিল শাহ মিলে দারুণ জুটি গড়েন। ১০৮ রানের মাথায় গিয়ে ভাঙে এই জুটি। ৩৩ বলে ৬৩ রান করেন হুসাইন তালাত, ৬টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মার মারেন তিনি। ২৪ বলে ৩৪ রান করেন খুশদিল শাহ। শেষ মুহূর্তে ১৩ বলে ৩৮ রানের ঝড় তোলেন মোহাম্মদ ইমরান। কিন্তু তার এই ঝড়ও পরাজয় বাঁচাতে পারেনি। ৮ উইকেটে ১৯৬ রানে থেমে যায় সাউদার্ন পাঞ্জাবের ইনিংস। খাইবারের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট। আরেক অভিজ্ঞ পেসার ওয়াহাব রিয়াজও নেন ৩ উইকেট। দুজনই ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন ৩৬ রান করে। ১টি করে উইকেট নেন উসমান সিনওয়ারি এবং আসিফ আফ্রিদি। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন পাখতুনখাওয়ার ফখর জামান। ১২ ম্যাচে ৪২০ রান করেছেন তিনি। তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ৬৮। চারশোর বেশি রান করেছেন সিন্ধের খুরাম মানজুরও। বল হাতে সবচেয়ে বেশি সফল চ্যাম্পিয়ন দলের শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১০ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছেন ২০ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার। হারিস রউফ পেয়েছেন ১৮টি উইকেট। উইকেটরক্ষক হিসেবে সবার সেরা মধ্য পাঞ্জাবের কামরান আকমল। ১০ ম্যাচে ১১টি ডিসমিসাল পেয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এর মধ্য ৮টি ক্যাচ ও ৩টি স্টাম্পিং। টুর্নামেন্টে সেঞ্চুরি হয়েছে ৩টি। এগুলো এসেছে খুরাম মানজুর, আবদুল্লাহ শফিক ও খুশদিল শাহর ব্যাট থেকে। | 12 |
এবারও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাঁচটি ওয়াগন (মালগাড়ি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন হয়ে ঢাকা রুটে চালু হতে যাচ্ছে একটি 'ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন'। রাজশাহী থেকে মাত্র এক টাকা ১৭ পয়সায় এ আম রাজধানী ঢাকায় পাঠাতে পারবেন আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার (১৮ মে) পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পাকশী) মো. নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্দেশক্রমে এ ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন আগামী ২৫ মে থেকে চালু হচ্ছে। এ কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি ওয়াগনের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৪৩ মেট্রিক টন। তবে আম বহন করা হবে ৩০ মেট্রিক টন। কাঁচা বা আধাপাকা আম যেন অতিরিক্ত গরম ও চাপে নষ্ট না হয়ে যায় সে কারণে ওয়াগনে ধারণক্ষমতার কিছু কম আম বহন করা হবে। ট্রেনটি চালুর জন্য এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারেও আগামী ২৫ মে বিকেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ রুটে 'ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন' যাত্রা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ে জানিয়েছে, ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটি প্রতিদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিকেল ৪টায় ছেড়ে আসবে। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে ৫টা ২০ মিনিটে। পণ্য তোলার জন্য ট্রেনটি এখানে ৩০ মিনিট বিরতি দেবে। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি আবারও ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ২টায়। ঢাকা থেকে ট্রেনটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাবে। রাজশাহী পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে। সেখানে ২০ মিনিট থেমে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পৌঁছাবে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটিতে মোট পাঁচটি ওয়াগন (মালগাড়ি) থাকবে। এতে আমের পাশাপাশি সব প্রকার শাক-সবজি, ফলমূল, ডিমসহ কৃষিজাত পণ্য, আসবাবপত্র এবং রেলওয়ের আইনে পার্সেল হিসেবে বহনযোগ্য সব প্রকার মালামাল বহন করা হবে। রেলওয়ে জানিয়েছে, ট্রেনটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এক কেজি আমের ভাড়া লাগবে এক টাকা ৩০ পয়সা। আর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে এক কেজি আম ঢাকার বিমানবন্দর, তেজগাঁও বা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পরিবহন করতে খরচ পড়বে ১ টাকা ১৭ পয়সা। ক্যারেট প্রতি লেবার খরচ ধরা হয়েছে ১০ টাকা। এটি নির্ধারিত। নিয়মানুযায়ী ট্রেন ছাড়ার আগে যে কেউ তাদের মালামাল বুকিং দিতে পারবেন। এর আগে গত বছর ৫ জুন প্রথমবারের মতো এ রুটে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়। | 6 |
হঠাৎ কিডনির জটিলতাসহ শরীরে নানা সংকট বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন নায়ক ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। স্ত্রী ফারহানা পাঠানের ভাষায়, ফারুক অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। তারপর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করান। এখন মোটামুটি ভালো আছেন। আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে ফারুকের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বললেন তাঁর স্ত্রী ফারহানা পাঠান।ফারুকের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কারণ, কোভিড-১৯ টেস্টে ফারহানা পাঠানের ফলাফল পজিটিভ এসেছে বলে জানালেন তিনি। তিন দিন ধরে তাঁরা দুজনেই ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফারককে একজন কিডনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে দেড় মাসের চিকিৎসা শেষে গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় ফেরেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফারুক। দেশে ফেরার ১১ দিনের মাথায় করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানতে পারলে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। করোনার সঙ্গে লড়াই করতে করতে কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর ২৪ নভেম্বর রাতে কোভিড-১৯ পজিটিভ নিয়েই বাসায় ফেরেন ফারুক। বাসায় ফেরার আট দিনের মাথায় আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরই মধ্যে জানতে পারেন, স্ত্রীও কোভিড-১৯ পজিটিভ। ৩ ডিসেম্বর স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একই হাসপাতালে ভর্তি হন।ফারহানা পাঠান বলেন, 'সেদিন রাতে ফারুকের অবস্থা দেখে আমরা সবাই ঘাবড়ে যাই। দিশেহারা হয়ে পড়ি। কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। সিঙ্গাপুর ও ঢাকার সব ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। এরপর সবার পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করাই।' দফায় দফায় জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ঢাকার দুটি বড় হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন ফারুক। দুটি পরীক্ষাতেই তাঁর কোভিড-১৯ নেগেটিভ আসে। এ ছাড়া টাইফয়েড, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার পরীক্ষাও করানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনো রোগ ধরা পড়েনি। এতে দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে ফারুকের পরিবারের। সে সময় চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছিলেন, এ অভিনেতা টিবিতে (যক্ষ্মা) ভুগছেন। অবশেষে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, ফারুক টিবিতে আক্রান্ত। প্রায় পাঁচ দশক ধরে ঢালিউড মাতিয়েছেন ফারুক। অভিনয় ছাড়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। সংসদ ফারুক এখন কিছুটা সুস্থ আছেন বলে জানালেন তাঁর স্ত্রী ফারহানা পাঠান। তিনি বললেন, 'চিকিৎসকেরা বেশ আন্তরিকতা নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কয় দিন খুব কষ্ট পেয়েছে ফারুক। তিন দিনের মাথায় আজ কিছুটা ভালো লাগছে বলে জানিয়েছে। কোভিড-১৯ পজিটিভ হলেও তা মোটেও ভয়ের কিছু না বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।' অসুস্থ ফারুককে গত ১৩ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সাত বছর ধরে সিঙ্গাপুরের এ হাসপাতালেই তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আসছেন। এবার সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে নায়ক ফারুক দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। | 2 |
দুর্নীতিবাজরা যাতে শাস্তি পায় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনার মো. জহুরুল হক বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাতকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কর্মকান্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় তিনি দুদক অফিস অবকাঠামো ও জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়নের এ ধারাকে টেকসই করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ খুবই প্রয়োজন। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যাতে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও পরিবার থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্রপতি আশা করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধেও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই আলোড়ন তুলেছে, সারা পৃথিবী উদযাপনে সামিল হয়েছে। বিশ্বের যেসব দেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেনি, স্বাধীনতা পেতে সমর্থন দেয়নি বরং বিরোধিতা করেছে, সেসব দেশও এই উদযাপনে সামিল হয়েছে, বাংলাদেশকে 'বিশ্বে উন্নয়নের উদাহরণ' হিসেবে উল্লেখ করেছে। অথচ স্বাধীনতাবিরোধী, পাকিস্তানের এদেশীয় দোসর সহযোগী ও ধর্মান্ধরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনকে কালিমালিপ্ত করার জন্য অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। রবিবার (২৮ মার্চ) ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সম্প্রতি ২০ নাগরিকের দেওয়া বিবৃতি প্রসঙ্গে ড. রাজ্জাক বলেন, বিএনপি, জামাত ও ধর্মান্ধরা যখন প্রতিবাদের নামে জ্বালাও পোড়াও, জনগণ ও সরকারি সম্পদ নষ্টসহ সাধারণ নাগরিকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে তখন এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা সবসময়ই নিরব থাকেন। ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নিয়ে আসা হয়েছে। কোন স্বৈরাচারকে নিয়ে আসা হয়নি। এটা নিয়ে ধর্মান্ধরা দেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদের নামে জ্বালাও পোড়াও, জনগণ ও সরকারি সম্পদ নষ্টসহ সাধারণ নাগরিকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। এ ধরণের আন্দেলন ও প্রতিবাদের অধিকার দেশের কোন নাগরিকের নেই। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সকল নাগরিকের রয়েছে। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। | 6 |
গোপালগঞ্জে বাস চাপায় মোটর সাইকেলের ২ অরোহী নিহত হয়েছে। এ সময় বাস ও ভ্যানের আরো ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছে।শনিবার সকাল ৮ টার দিকে গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া সড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া নামক স্থানে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) গোপালগঞ্জ অফিসের অফিস রেজিষ্ট্রার ইমরান হোসেন (৩৮), মাঠ কর্মকর্তা পুলক ব্যাপারী (৩৪)।গুরুতর আহত রিকের গোপালগঞ্জ অফিসের ম্যানেজার রুবেল ফকির(৩৫) সহ ১০ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) গোপালগঞ্জ অফিসের হিসাব রক্ষক সাইফুল ইসলাম ওই দুই জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, ঈদের ছুটি শেষে ম্যানেজার রুবেল ফকির, মাঠ অফিসার ও অফিস রেজিষ্ট্রার অফিসের কাজে যোগ দিতে একটি মোটর সাইকেলে করে পিরোজপুর থেকে গোপালগঞ্জ আসছিলেন। তাদের বাড়ি পিরোজপুরে। গোপালগঞ্জ সদর থানার এস.আই শওকত হোসেন জানান, বাগেরহাট থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী একটি লোকালবাস (নং গোপালগঞ্জ জ ০৫-০০৭) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘোনাপাড়ায় একটি মোটর সাইকলেকে চাপা দিলে মোটর সাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলের অপর আরোহী। পরে বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভ্যান ও অপর একটি বাসকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত গোপালগঞ্জে যাওয়ার সময় সড়কের আইল্যান্ডে উঠে পড়ে। এতে বাস ও ভ্যানের ১০ যাত্রী আহত হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে সড়ক থেকে বাস দুটি অপসারণ করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নিহত দুইজনের লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। | 6 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্য রাশেদা ফেরদৌস। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গত দেড় বছরে র্যাবে কর্মরত ৭ জন মারা গিয়েছেন করোনায়।র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৫ জুলাই রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন প্রেষণে কর্মরত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য রাশেদা ফেরদৌস। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বৃহস্পতিবার সকালে ইমপালস হাসপাতাল স্থানান্তর করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। শুক্রবার রাতে এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, রাশেদা ফেরদৌস কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকেই র্যাবের চলমান সব অপারেশনাল কার্যক্রমে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।এ বছরের ৫ মার্চ থেকে র্যাবে কর্মরত ছিলেন রাশেদা। তিনি গাজীপুরের সফিপুরে মাতৃ ইউনিট ১ নারী আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। ৪১ বছরের রাশেদার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। সেখানেই শুক্রবার দাফন করা হয় তাঁকে। | 6 |
মাত্র দেড় মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল শিল্পী রানী দাসের (১৯)। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগর উপজেলার প্রদীপ চন্দ্র দাসের মেয়ে শিল্পী রানী দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের জিনারদী গ্রামের বিমল দাসের ছেলে শ্যামল দাসের। বিয়ের সময় ছেলের পরিবারকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা যৌতুক ও এক ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়ার কথা ছিল মেয়ের পরিবারের। কিন্তু মেয়ের পরিবার বিয়ের আগের দিন ছেলে পক্ষকে এক লাখ টাকা ও আধাভরি স্বর্ণালংকার দিতে সক্ষম হলেও বাকি আধাভরি স্বর্ণ ও ১০ হাজার টাকা দিতে পারেননি। ফলে বিয়ের সাপ্তাহখানেক পর থেকেই নববধূ শিল্পী রানীর ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। পরে মেয়ের নির্যাতন সইতে না পেরে তার স্বজনরা ছেলের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে ৬ মাসের সময় চেয়েছিলেন যৌতুকের বাকি টাকা ও স্বর্ণ পরিশোধে। কিন্তু তার আগেই স্বামী শ্যামল ও তার পরিবারের সদস্যরা নববধূ শিল্পী রানী দাসকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলো অভিযোগ করেছেন তার বড় ভাই শুভ চন্দ্র দাস। সোমবার বিকালে পলাশ থানা পুলিশ নববধূ শিল্পী রানীর লাশ স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় সোমবার রাতে নববধূর ভাই শুভ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে স্বামী শ্যামল ও শ্বশুর বিমলকে আসামি করে হত্যামামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালেঅভিযুক্ত শ্যামল ও বিমলকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দীন জানান, নিহত শিল্পী রানীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যামামলা রুজু হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী শ্যামল ও শ্বশুর বিমলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে। | 6 |
একসময় ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ক্রুজেরিওর হয়ে খেলা রোনালদো নিজেই এবার ক্লাবটি কিনে নিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিল জাতীয় দল ও ইউরোপের ক্লাবগুলোতে খেলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নেওয়া রোনালদো ১৯৯৩ সালে এই ক্লাব দিয়ে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। ক্লাবটির নতুন মালিক এখন এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।রোনালদো নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্লাবটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট সার্জিও সান্তোস রদ্রিগেজও এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। গতকাল শনিবার মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে রোনালদোর সঙ্গে চুক্তি করেছেন আগের মালিক ক্রুজেরিও একসময় ছিল ব্রাজিলের অন্যতম সেরা ক্লাব কিন্তু ২০১৯ সালে তারা দ্বিতীয় বিভাগে নেমে গেছে।রোনালদোর লক্ষ্য ক্রুজেরিওকে আবারও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এখানে আমার অনেক অবদান রাখতে হবে ক্রুজেরিওর কাছ থেকে বড় কিছু পেতে হলে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে এবং লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।'ক্রুজেরিও রোনালদোর মালিকানাধীন দ্বিতীয় ক্লাব। এর আগে স্পেনের ক্লাব রিয়াল ভায়াদোলিদের মালিকানাও কিনে নিয়েছেন তিনি। ২০২০-২১ মৌসুমে লা লিগা থেকে ভায়াদোলিদের অবনমন হলে তা কিনে নেন রোনালদো। ব্রাজিলিয়ান তারকা এই দুই ক্লাবকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। | 12 |
চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার থেকে মিনা নামের মেয়েটি যখন ঢাকার চলচ্চিত্রজগতে এসে পা রেখেছেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩। রুপালি পর্দার মোহে তো নয়ই, নিজের ইচ্ছায়ও নয়, এসেছিলেন বাবার জোরাজুরিতে। অসচ্ছল পরিবারটির জন্য বাড়তি কিছু আয়ের দায় এসে পড়েছিল ছোট্ট কাঁধে। জে এম সেন স্কুলের মেয়েরা যখন ইউনিফর্ম আর দুকাঁধে কলা বেণি দুলিয়ে স্কুলে যাচ্ছে, পাড়ার মেয়েরা হাডুডু আর চি-কুতকুত খেলার আনন্দময় শৈশবে মেতে আছে, মিনাকে তখন দাঁড়াতে হলো আলো ও ক্যামেরার সামনে। অভিনয়ের প্রথম পাঠটিও শিখে আসেননি, এক-আধটু নাচ জানতেন, এটুকুই তো পুঁজি। কিন্তু সুভাষ দত্ত পরিচালিত সুতরাং ছবিটি যখন মুক্তি পেল, তখন দর্শকের উজাড় করা ভালোবাসায় সিক্ত মিনা, সুভাষ দত্তের নায়িকা কবরী। প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। তখনকার সময়ের জনপ্রিয় সিনেমা পত্রিকা চিত্রালীতে নবাগত নায়িকা সম্পর্কে সচিত্র সংবাদের শিরোনাম, 'আসলাম, দেখলাম, জয় করলাম। ' এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বাহানা, চাওয়া পাওয়া, সাত ভাই চম্পা, আবির্ভাব-একের পর এক দর্শকনন্দিত ছবির নায়িকা কবরী। দীর্ঘাঙ্গী নন; খাড়া নাক, রাজহাঁসের গ্রীবা, এমনকি পটলচেরা চোখও নয়, তাহলে কী জাদুতে দর্শকচিত্ত জয় করলেন? উত্তর একটাই-নবকৈশোরের সারলে ভরা মুখ, অপূর্ব সুন্দর হাসি আর সহজাত অভিনয়প্রতিভা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রজগতে 'মিষ্টি মেয়ে' নামে স্থায়ী আসন তৈরি হয়ে গেল তাঁর। ক্যারিয়ারের শুরুতেই সাফল্যের দেখা মিলল, কিন্তু সাফল্যের সঙ্গে সুখ হাত ধরাধরি করে হাঁটবে, এমন কোনো ধরাবাঁধা কথা নেই। কবরীর কর্মজীবন তাই যতটা আলোঝলমলে, ব্যক্তিগত জীবন ততটাই অতৃপ্তি ও অপ্রাপ্তির খতিয়ান। বিভিন্ন সময়ে আলাপচারিতা ও পত্রপত্রিকার সাক্ষাত্কারে অকপটে এ অতৃপ্তির কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কম বয়সে বিয়ে হয়ে গেল চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী চিত্ত চৌধুরীর সঙ্গে। এটাও নিজের ইচ্ছায় নয়। কারণ, নিজের স্বাধীন মতামত প্রকাশের বয়সটা তখনো হয়নি। প্রথম জীবনে ভালো লেগেছিল এক তরুণ চিকিত্সককে, তিনিও ভালোবেসেছিলেন মিনাকে। কিন্তু মিলনের পূর্ণতা পায়নি সেই প্রেম। সেই জীবনকে ফেলে আসতে হয়েছে চট্টগ্রামের এক শহরতলিতে, কারণ মিনা এখন কবরী, ঢাকার চলচ্চিত্রজগতের ব্যস্ত তারকা। একদিকে বাহানা, সোয়ে নদীয়া জাগে পানি, মেরে সনম-এর মতো উর্দু ছবি, অন্যদিকে সাহিত্যনির্ভর কাহিনির পাশাপাশি রূপবান, আবার বনবাসে রূপবান, পারুলের সংসার, সাত ভাই চম্পা, অরুণ বরুণ কিরণমালার মতো রূপকথা ঘরানার ছবিতেও কাজ করেছেন কবরী। দম ফেলার ফুরসত নেই তখন। খান আতাউর রহমান পরিচালিত সোয়ে নদী জাগে পানি 'মস্কো-তাসখন্দ আফ্রো-এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল'-এ প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু বাংলা ছবির দর্শকেরা যেভাবে বিপুল ভালোবাসায় বরণ করেছিলেন কবরীকে, সেভাবে তাঁর উর্দু ছবিগুলো জনপ্রিয়তা পায়নি। সম্ভবত তাঁর চেহারার মধ্যেই ছিল আদি ও অকৃত্রিম এক বাঙালি মেয়ের প্রতিকৃতি, যা তাঁকে দর্শকের মনে জায়গা করে দিয়েছিল। খ্যাতির প্রায় মধ্যগগনে যখন, তখনই শুরু হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। তত দিনে কবরী তারকা শুধু নন, সমাজসচেতন একজন মানুষ। তাঁর চারপাশে তখন জহির রায়হান, খান আতা, এস এম পারভেজ, আনিস চৌধুরী, কাইয়ুম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হকের মতো দেশের সংস্কৃতিজগতের গুণী মানুষের ভিড়। নিজে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা পাননি বলে বড় একটা আফসোস ছিল জীবনে, এঁদের সান্নিধ্য আর নিজের জানার কৌতূহল, শিক্ষার প্রতি অদম্য অনুরাগ ক্রমেই শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমান করে তুলেছিল তাঁকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পৌঁছেছিলেন। সেখানে কাজ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে। ভারতের কলকাতা-বোম্বে-দিল্লি-হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে সভা-সমাবেশে বক্তৃতা করে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করেছেন। বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) বি আর চোপড়া পরিচালিত জয় বাংলা নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। সেই একাত্তর সালে পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ২০ হাজার টাকা। এর অর্ধেক ১০ হাজার টাকা তিনি মুক্তিযুদ্ধ তহবিলের জন্য দান করেছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনে। বোম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগও হয়েছিল তখন। সেখানকার খ্যাতিমান পরিচালক শক্তি সামন্ত, সংগীত পরিচালক সলিল চৌধুরী, নায়ক-নায়িকা দিলীপকুমার, ধর্মেন্দ্র, সুনীল দত্ত, দেব আনন্দ, বিশ্বজিৎ, নার্গিসদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিখ্যাত 'রাজশ্রী প্রোডাকশন' একটি ছবির জন্য অগ্রিমও দিয়েছিল। কিন্তু কেন যেন মন টেকেনি। তাঁর স্বপ্ন ও অপেক্ষা কখন দেশ স্বাধীন হবে, কবে আবার বাংলার আপামর দর্শকের 'মিষ্টি মেয়েটি' তাদের প্রতীক্ষিত হাসি-কান্নার গল্পে ফিরে যাবে, আবার বাংলাদেশের পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ মুখরিত হবে মুহুর্মুহু করতালিতে। দেশ স্বাধীন হলো। একেবারে নতুন করে শুরু হলো যাত্রা। কবরী ফিরে পেলেন তাঁর হারানো আসন। এখন আরও পরিণত তাঁর অভিনয়, আরও তীব্র আমন্ত্রণ তাঁর কটাক্ষে। রংবাজ, সুজন সখীর চপল চঞ্চল নায়িকা লাখো তরুণের রাতের ঘুম কেড়ে নেন। 'হৈ হৈ হৈ রঙিলা, রঙিলা রে...' গেয়ে সিক্তবসনা সুন্দরীর দেহবিভঙ্গ বা 'গুনগুন গুন গান গাহিয়া নীল ভোমরা যায়...' গেয়ে সখী-পরিবেষ্টিত গ্রাম্য তরুণীর দুষ্টু-মিষ্টি দৃষ্টির আমন্ত্রণ উতলা করে তুলেছিল দর্শককে। আবার অন্যদিকে তিতাস একটি নদীর নাম-এর নতুন বউটি বা সারেং বৌ-এর নবীতুনের চরিত্রে সেই একই শিল্পী যে মর্মস্পর্শী অভিনয় করেছেন, তার তুলনা তো এ দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিরল। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও জনহিতকর কাজে যুক্ত হয়েছিলেন কবরী। নেমেছিলেন সক্রিয় রাজনীতিতেও। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের তীব্র বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে জয়লাভ করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী সরোয়ার তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিলেন। কারণ, ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সরোয়ার। কিন্তু পিছু হটতে রাজি না হওয়ায় কবরীকে বলা হয়েছিল সরোয়ার পদবি ত্যাগ করতে। নির্দ্বিধায় নাম পরিবর্তন করে সারাহ্ বেগম কবরী নামে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঘরে-বাইরে লড়ে, জয়ী হয়ে সেদিন নিজের তুঙ্গস্পর্শী মনোবল ও একাগ্রতার প্রমাণ দিয়েছিলেন কবরী। অবশ্য এই রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকল না পরবর্তীকালে নির্বাচনে আর দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায়। সে অন্য প্রসঙ্গ। ২০০১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব 'মিলেনিয়াম ফেস্টিভ্যালে'র চেয়ারপারসন ছিলেন তিনি। মানসম্পন্ন এক উত্সবের আয়োজন করে অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন কবরী। আগেই বলেছি, গুণী মানুষদের সান্নিধ্যে থেকে তাঁদের আলোকস্পর্শে নিজেকে আলোকিত করেছেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় মাধ্যমিকের গণ্ডি ছড়ানোর সুযোগ পাননি, অথচ রুচি-শিক্ষা-সংস্কৃতির সঙ্গে সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের এমন এক বিরল সমন্বয় ঘটেছিল তাঁর চরিত্রে, যা বিস্ময়কর। এই ব্যক্তিত্বের জোরেই বিদ্বৎসমাজে সমীহ পেয়েছেন, আবার সংসারজীবনে প্রকৃত সঙ্গ ও সাহচর্যলাভে বঞ্চিত হয়েও নিজের চারটি পুত্র-সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন, বিদেশে প্রতিষ্ঠালাভের সুযোগ করে দিয়েছেন। একটি সন্তান শারীরিক প্রতিবন্ধী, শেষ দিন পর্যন্ত তাকে আগলে রেখেছেন মাতৃস্নেহে। অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্টের জন্য সম্মানিত হয়েছেন। নিজের পরিচালিত আয়নার জন্য পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো সেরা ছবির পুরস্কার। বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উত্সবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সেন্সর বোর্ডের সদস্য হয়েছেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিচারক কিংবা চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির সদস্যও হয়েছেন। কিন্তু সফল অভিনয়শিল্পী কবরীর ব্যক্তিজীবনের অপ্রাপ্তি যেমন তাঁকে আজীবন অসুখী করে রেখেছিল, তেমনি রাষ্ট্রের তরফ থেকেও কম বঞ্চনার শিকার হননি তিনি। এ কথা যুগপৎ বিস্ময় ও বেদনার সঙ্গে উল্লেখ করতে হয়, অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে নানাভাবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে ঋদ্ধ করেছেন যিনি, তাঁর ভাগ্যে জোটেনি একুশে পদক বা স্বাধীনতা পদকের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। অসীম অতৃপ্তির মাঝে এইটুকু শুধু সান্ত্বনা-শিল্পী ও শিল্প বেঁচে থাকে মানুষের ভালোবাসায়, এ দেশের চলচ্চিত্রামোদী মানুষ কবরীকে তা দিয়েছে দুহাত ভরে। বিশ্বজিৎ চৌধুরী কথাসাহিত্যিক; সাংবাদিক | 6 |
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে শায়িত হলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে বাবার কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি। তার ছেলে আনন্দ জামান জানান, আল মারকাজুল ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবীরা শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সিএমএইচ থেকে তার বাবার মৃতদেহ গ্রহণ করেন। পরে কোভিড-১৯ নীতিমালা অনুযায়ী সেখানেই গোসল-কাফনের ব্যবস্থা হয়। জানাজা শেষে সাড়ে ১০টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে বাবাকে সমাহিত করা হয়। দাফনের আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার কভিড-১৯ টেস্ট করে জানায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। করোনার দহন দিনে টালমাটাল দেশ ও বিশ্ব বাস্তবতায় সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই ব্যক্তিত্বের নির্মম অনন্তযাত্রায় দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সব পর্যায়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ বিশিষ্টজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তে তার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শোক প্রতিক্রিয়ায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ২৭ এপ্রিল হৃদরোগ সমস্যার পাশাপাশি কিডনি ও ফুসফুসে জটিলতা, পারকিনসন্স ডিজিজ এবং প্রোস্টেট ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিফ কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক খন্দকার কামরুল ইসলামের অধীনে করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ৯ মে শনিবার তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ফুসফুসের সংক্রমণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর আগে দেশের বাইরে গিয়েও কয়েকবার চিকিৎসা নিয়েছিলেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এটিএম মোয়াজ্জেম ও মা সৈয়দা খাতুন। বাবা ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক আর মা গৃহিণী হলেও লেখালেখির প্রতি ছিল তার আন্তরিক ভালোবাসা। আনিসুজ্জামানের পিতামহ শেখ আবদুর রহিম ছিলেন তার সময়ের একজন বরেণ্য লেখক ও সাংবাদিক। আনিসুজ্জামানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতার পার্ক সার্কাস হাই স্কুলে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে চলে আসার পর খুলনা জিলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে ঢাকার প্রিয়নাথ হাই স্কুল (বর্তমান নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫৩ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ১৯৫৭ সালে একই বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৯ সালের জুনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের রিডার হিসেবে কাজ শুরু করেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করেন এবং পরে ভারত গমন করে শরণার্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি'র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধকালীন গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান ইংরেজিতে প্রণয়নের পর তার দ্রুতগতির বাংলা রূপান্তরের কাজ শেষ করেন এই মনস্বী পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৭২ সালে ড. কুদরাত-এ-খুদাকে প্রধান করে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত গণআদালতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আশির দশকে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নাগরিক সমাজের নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বরেণ্য এই ব্যক্তিত্ব। আনিসুজ্জামানের উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে- মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য, মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র, স্বরূপের সন্ধানে, আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, পুরোনো বাংলা গদ্য, আমার একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর, কাল নিরবধি, বাংলা-ফারসি শব্দসংগ্রহ ও আইন-শব্দকোষ অন্যতম ইত্যাদিসহ প্রায় পঞ্চাশটি গ্রন্থ। স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধি ও সকল গণতান্ত্রিক-মানবাধিকার প্রশ্নে রুচিশীল আনিসুজ্জামান ছিলেন সুদৃঢ় প্রগতিবাদী ও ন্যায়ের প্রতি অকুণ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে অবিচল ড. আনিসুজ্জামান জাতির বিবেক হিসেবে বহুবার আবির্ভূত হয়েছেন। যে কোনো সরকারের আমলে ঋজু ও অমল কণ্ঠে তিনি মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার পক্ষে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের অজস্র মানুষের সরাসরি শিক্ষক তিনি; তারপরও তার সরাসরি ছাত্র না হলেও বয়স নির্বিশেষে কয়েক প্রজন্মের কাছে তিনি শ্রদ্ধেয় শিক্ষকই ছিলেন। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় তাকে সবাই 'স্যার' বলে সম্বোধন করেছেন। বহু বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষ তার কাছে বরাবর পেয়েছেন সুস্মিত প্রশ্রয়, উদার অভিভাবকত্ব। বিশেষত গত পাঁচ দশকের বাংলাদেশে সব প্রজন্মের লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক কর্মীর আস্থা ও ভরসাস্থল ছিলেন আনিসুজ্জামান। সবার মতামত শোনার মতো বিবেচনা ও প্রজ্ঞা তার ছিল। নিজের বক্তব্য প্রকাশে তিনি সারাজীবন কখনোই তথ্যবিকৃতি বা একপেশে মন্তব্য করেননি। জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মার্জিত ব্যবহার, ভদ্রতা, পরিমিতি ও বিবেচনাবোধের অতুলনীয় এক উদাহরণ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। পরিমিতি ও তথ্য-উপাত্তে তার তুল্য ব্যক্তি পুরো উপমহাদেশেই বিরল। 'আমার অভিধান' নামে তিনি আঙ্গিকে হ্রস্ব অথচ প্রয়োজনীয় এক অভিধান রচনা করেন। অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৮৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এ ছাড়া জীবনজুড়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও পেয়েছেন অলক্ত পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার। এ ছাড়া রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'পদ্মভূষণ' অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৩ ও ২০১৭ সালে দু'বার আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়। | 6 |
বিশ্বনাথে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান।ওই পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান সাঈদ এতে সভাপতিত্ব করেন। বিশ্বনাথ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নবীন সোহেল সভা সঞ্চালনা করেন।বক্তব্য দেন রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খালেদ উদ-দীন, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, ওই পরিষদের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মণিকাঞ্চন চৌধুরী, আব্দুল হান্নান ইউজেটিক্স, শামীম আহমদ, আব্বাস হোসেন ইমরান, বিভাংশু গুণ বিভু প্রমুখ। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.