text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশের দারিদ্রের হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করে এশিয়ার টাইগারে পরিণত হতে যাচ্ছে। 'উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ' বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার মাইলফলক। মুজিববর্ষ ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর সন্ধিক্ষণে এই ঐতিহাসিক অর্জনের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অর্জনের মূলে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী, প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। তিনি আজ বিশ্বনন্দিত নেতা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে 'উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ' উপলক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আরো বলেন, নারী ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী গৃহীত সুপরিকল্পিত নীতিমালা ও কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ভিন্ন মর্যাদায় অবস্থান করছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন করে মেধা নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে প্রধানমন্ত্রী অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশকে সমৃদ্ধির সোপানে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা, সার্বজনীন শিক্ষা কার্যক্রম, বিনামূল্যে বই বিতরন, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, হাইটেক পার্ক স্থাপন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বয়স ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে দারিদ্রের হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছরে সোনার বাংলা বিনির্মাণের ভিত রচনা করে গেছেন। পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদ সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
যশোরের বেনাপোলে জুয়া খেলার আসর থেকে সরঞ্জামসহ একাধিক মামলার আটজন আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেনাপোলে কাগজপুকুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানাধীন কাগজপুকুর গ্রামের নওশের আলীর ছেলে মো. রুবেল হোসেন (২৭), মফিজুর রহমানের ছেলে মো. তুহিন আলম বাপ্পি (২৫), মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে মো. জাফর হোসেন তুষার (২৬), মৃত ছলেমান মন্ডলের ছেলে মো. আনার আলী (৫৪), মৃত মোসলেম মোড়লের ছেলে মো. টিটু হোসেন (২৯), ভবারবেড় গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে মো. সজল হোসেন (২৫), মৃত শাহনুর রহমানের মো. সাইফুল ইসলাম চঞ্চল (৩৭) ও আইয়ুব কাজীর ছেলে মো. হান্নান কাজী (৩৫)। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
ভোলার লালমোহনে শিশুদের নিয়ে শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন। রোববার সকালে লালমোহন সজিব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্কে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শোভা যাত্রা, পুরস্কার বিতরণী, কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন (এমপি) বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে নিষ্পাপ শিশু রাসেলকেও ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিল। খুনিরা বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার মুছে ফেলতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু, কিশোর, তরুণদের কাছে এক ভালোবাসার নাম। অবহেলিত, অধিকার বঞ্চিত শিশুদের আলোকিত জীবন গড়ার প্রতীক। দেশে শেখ রাসেল এক মানবিক সত্তায় পরিণত হয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান মুরাদ প্রমূখ।
6
নাইজেরিয়া চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি। তবে বিক্ষোভে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং সেনা সদস্যের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বুহারির এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, নাইজেরিয়ার সাবেক নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে নিহতের সংখ্যা ঘোষণা করেছেন তিনি। কিভাবে দেশের এই অশান্তি, বিশৃঙ্খলার অবসান করা যায় সে বিষয়টি নিয়েই ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিক্ষোভের আয়োজন করা একটি গ্রুপ এখন লোকজনকে বাড়িতে অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে। নারীবাদী জোটও লোকজনকে তাদের রাজ্যের কারফিউ অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাগোসে কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হবে। দু'সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটির বড় শহরগুলোয় পুলিশের বিতর্কিত বিশেষ বাহিনী স্পেশাল অ্যান্টি-রবারি স্কোয়াডের (সার্স) বর্বরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বহু হতাহত ছাড়াও অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এদিকে, নিজের দেশের জনগণকে হত্যায় নাইজেরিয়া সরকারকে দায়ী করেছেন দেশটির ফুটবলার ওডিয়ন জুড ইগহালো। সম্প্রতি টুইটারে এক ভিডিও বার্তা পোস্ট করে তিনি বলেন, 'আমি এই সরকারকে নিয়ে খুবই লজ্জিত।'
3
ওষুধের ব্যবসা ছেড়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন রনজিত দাস (৫০)। সময়মতো অনেককে সেখানে পাঠাতে না পারায় চাপে ছিলেন। অনেকে টাকা ফেরত চেয়ে বার বার তাগাদা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে স্ত্রী আর দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে গোপনে এলাকা ছাড়েন। লোকজন নানাভাবে খোঁজ করেও রনজিতের সন্ধান পাচ্ছিল না। অবশেষে রেললাইনে মিলল তাঁর লাশ। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলস্টেশন-সংলগ্ন নন্দনগর-লামাপাড়া এলাকা থেকে গত সোমবার দিবাগত রাতে রনজিতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি পাশের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামে। এ ঘটনায় কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। রেল পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে আনা হয়। নিহত ব্যক্তির প্যান্টের পকেটে থাকা মানিব্যাগে একটি কাগজে কয়েকটি মুঠোফোনের নম্বর লেখা ছিল। সেসব নম্বরের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় মেলে। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ প্রতিবেশীরা লাশটি রনজিতের বলে শনাক্ত করেন। এর পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। রনজিতকে চেনেন এমন অন্তত চার-পাঁচজন বলেন, রনজিতের বাড়ি গ্রামে হলেও তিনি উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাঁর একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। তাঁরা বলেন, রনজিতের ওষুধের ব্যবসা ভালোই চলছিল। সন্তাদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত থাকতেন। অধিক মুনাফার লোভে পড়ে রনজিত আদম ব্যবসায় নেমেছিলেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য সানাউল হক চৌধুরী মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রনজিত বেশ কয়েক বছর ধরে বাড়ি ছেড়ে উপজেলা সদরে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় থাকেন বলে জানা গেছে। তাঁদের খবর পাঠানো হয়েছে। কুলাউড়া রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল আহমদ বলেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
6
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানার এএসআই এক পরিবহন শ্রমিককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানা ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে রাখে তারা। এসময় থানার সামনের ময়মনসিংহ-ফুলবাড়ীয়া সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে এএসপির আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা। বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানিয়েছে, ফুলবাড়ীয়া কেআই ফাজিল মাদ্রাসা রোডে সেলিম মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন থানার এএসআই আমিনুল ইসলাম। সোমবার (২৭ নভেম্বর) রাতে কোন এক সময় তার বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। প্রাণীসম্পদ রোডে ভোর পর্যন্ত আ. কদ্দুস ডিলারের গোডাউনে বিস্কুট নামান বিসমিল্লাহ কার্গো সার্ভিস নামের একটি কাভার্ডভ্যান। ভ্যানটি মালামাল নামিয়ে ত্রিশাল পর্যন্ত চলে গেলে এএসআই ত্রিশাল থানা পুলিশের সহযোগিতায় গাড়িটি আটক করে ফুলবাড়ীয়া নিয়ে আসে। পরে চালক রফিকুল ইসলামকে (৪০) তার বাসায় নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে এ খবর শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ধ্যার পর থানার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে সার্কেল এএসপি আল আমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। চালক রফিকুল ইসলামকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, এএস আই আমিনুল ইসলাম একটি অন্য টাইপের, সে ভালুকায় চাকুরী করতো, সেখানে বাড়ি করেছে, এসপি মহোদয় তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে।
6
'দুঃসাহস দেখাবেন না মিস্টার ওসমান' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেছেন, 'হুঁশ করে কথা বলবেন। আমি কোনো অন্যায় কাজ তো করিনি যে মাফ চাইবো। ক্ষমা চাইবেন আপনারা। আমাকে ক্ষমা চাইতে বলেন কোন দুঃসাহসে? দুঃসাহস দেখাবেন না মিস্টার ওসমান। কখনও কিছু বলিনি আপনাকে।' গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা সিটি কমপ্লেক্স ভবন ও মুক্তিযোদ্ধা সড়ক উদ্বোধনকালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন। আইভী বলেন, 'নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ আপনার কথা বলা বন্ধ করে দেবে। কার সঙ্গে লড়তে আসেন? কথা বুঝে বলবেন। বাজে কথা বলবেন না।' সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকারের সভাপতিত্বে এ সময় প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা হাসান, নাসিকের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভূঁইয়া, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ, নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন, বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আব্দুল লতিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
6
জ্বালানি তেলের সংকটে পড়া লেবাননকে সহযোগিতার জন্য ইরান তেলবাহী যেসব জাহাজ পাঠিয়েছে সেগুলোতে কোনো রকমের হস্তক্ষেপ না করার জন্য আমিরকাকে সতর্ক করেছে তেহরান। সোমবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে। খবর-পার্সটুডের। গত সপ্তাহে লেবাননের তেল সংকট মোকাবেলার জন্য বৈরুতের উদ্দেশে একটি জাহাজ পাঠায় ইরান। হিজবুল্লাহ আন্দোলন জানিয়েছে, ইরান থেকে তেলভর্তি দ্বিতীয় জাহাজও রওয়ানা হয়েছে। এ সম্পর্কে খাতিবজাদে গত সপ্তাহে বলেছিলেন, লেবাননের সরকার এবং দেশটির ব্যবসায়ীদের কাছে তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত ইরান। যতক্ষণ পর্যন্ত লেবাননে ইরানি তেলের ক্রেতা থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তেহরান তেল সরবরাহ করবে। তিনি আরো বলেন, লেবাননে তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের সরকার। খাতিবজাদে সুস্পষ্ট করে বলেন, "লেবাননের জনগণ যথেষ্ট বিত্তশালী এবং তাদের অন্য কোনো দেশের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। যেসব দেশ বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে তাদের এই অপচেষ্টা বন্ধ করা উচিত। পাশাপাশি লেবাননের জনগণের প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ দেয়া দরকার।" বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বৈঠকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটি বলেছে, এটি একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা এবং এই ধরনের ঘটনা ফিলিস্তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্খার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। খবর-পার্সটুডের। ইসরায়েলি মন্ত্রীদের সঙ্গে স্বশাসন কর্তৃপক্ষের এই বৈঠককে হামাস জাতীয় এবং নৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। হাজেম কাসেম আরো বলেন, স্বশাসন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের এই ধরনের আচরণ এ অঞ্চলের আরো দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে শুধু উৎসাহিত করবে না বরং সে সম্পর্ক মজবুত করতেও তৎপর করে তুলবে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
সরকারি জরিপের ফল যদি খারাপ হয়, সাধারণত তা আর আলোর মুখ দেখে না বলে একটা ধারণা চালু আছে। কিন্তু গেল সপ্তাহে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এমনই এক জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপে উঠে আসা তথ্যগুলো ভয়াবহ। তবে তা নিয়ে কেউ যে খুব বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন, তেমন আলামত পাওয়া যাচ্ছে না। জরিপের ফল বিশ্লেষণ করে আগের বছরের মোট মৃত্যুর তুলনায় গত বছরের মৃত্যুর সংখ্যা যে মাত্রায় বেড়েছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে খুব একটা আলোচনা চোখে পড়ছে না। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে অবশ্য বাড়তি মৃত্যুর আলোচনা বেশ জোরেশোরেই হচ্ছে এবং গবেষকেরা সেগুলো বিশ্লেষণ করে কোভিড-১৯-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক নির্ধারণ করছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের তথ্য বলছে, দেশে গত বছর ব্রেন স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত মৃত্যু প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে ব্রেন স্ট্রোকে মারা গেছেন ৮৫ হাজার ৩৬০ জন। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৫০২। কিডনি রোগে মৃত্যুহার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। একইভাবে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বা হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুও। গত বছর হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪০৮ জন মারা গেছেন। আগের বছর এ রোগে মারা যান ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৯ জন, অর্থাৎ হৃদ্রোগে মৃত্যুর হার বেড়েছে ২২ শতাংশের বেশি। একইভাবে ক্যানসার এবং কিডনির রোগে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বেসরকারি জরিপের হিসাবে বেড়েছে আত্মহত্যায় মৃত্যু এবং প্রবণতা বৃদ্ধির হার প্রায় ৪৪ শতাংশ। সামান্য যেটুকু ভালো খবর এতে উঠে এসেছে তা হলো, আগের বছরের মতোই গত বছরও এইচআইভি বা এইডসে কারও মৃত্যু হয়নি। হাঁপানি রোগেও মৃত্যু কিছুটা কমেছে। চিকুনগুনিয়া আর ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর পরিমাণও নাটকীয়ভাবে কমেছে। তবে এই তিন-চারটি রোগে মৃত্যু কমলেও স্ট্রোক, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারে মৃত্যুহার অনেক বেশি হওয়ায় মোট হিসাবে ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর এসব হিসাব তিন লাখের বেশি পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপের ওপর ভিত্তি করে অনুমিত হিসাবের চিত্র। আসল চিত্রে এ থেকে কম-বেশি তারতম্য হতেও পারে। সরকারি হিসাবে দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত সাড়ে আট হাজার। চলতি বছরের গত আড়াই মাসের মৃত্যুর হিসাব বাদ দিলে গত বছর করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবে আরেকটু কমবে। করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন কতজন, তার অবশ্য কোনো সরকারি হিসাব নেই। আর বেসরকারি হিসাবে তা হাজার দুয়েকের মতো। সব মিলিয়ে করোনার ভয়াবহতা বাংলাদেশ এড়াতে পেরেছে বলেই একটি ধারণা মোটামুটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। সব পরিসংখ্যানই বলছে, আপেক্ষিকভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধারণার একটি বিপজ্জনক দিক হচ্ছে, সবার মধ্যে একধরনের ফাঁপা নিরাপত্তাবোধ জেঁকে বসেছে। 'হৃদ্রোগে করোনার চেয়ে কুড়ি গুণ বেশি মৃত্যু' বা 'করোনায় মৃত্যুর চেয়ে আত্মহত্যার সংখ্যা বেশি' প্রভৃতি শিরোনামও এ ধরনের ভিত্তিহীন নিরাপত্তাবোধ তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। যার পরিণতি হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বা মাস্ক পরার মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলো উপেক্ষা ও সংক্রমণের বিস্তার ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি। করোনায় মৃত্যুর হিসাব নিয়ে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এখন নতুন চিন্তা ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশে মৃত্যুহার অনেক বেশি, সেসব দেশের সরকারি পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বলা হচ্ছে সরকারি হিসাবে করোনার ভয়াবহতার প্রকৃত ব্যাপকতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। জন্ম ও মৃত্যুর আধুনিক ও উন্নত রেকর্ড পদ্ধতি চালু থাকার পরও এই হিসাবকে অসম্পূর্ণ বা কম বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যেসব কারণ দেখানো হচ্ছে, তা বেশ জোরালো যুক্তিসম্পন্ন। প্রথমত, কোভিডের কারণে প্রায় সব দেশেই অন্যান্য রোগের চিকিৎসা বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত যাঁদের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল, তাঁরা চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। তাঁদের মৃত্যুর জন্যও কোভিডই পরোক্ষভাবে দায়ী। দ্বিতীয়ত, বিপুলসংখ্যক রোগীর কোভিড নির্ধারণের পরীক্ষাই হয়নি। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই কোভিডের কোনো উপসর্গ দৃশ্যমান হয় না এবং কোভিড অনেক রোগের মাত্রা আকস্মিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী কোভিডের শিকার অনেকেই হাসপাতালে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর আবার অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন, যেগুলো যথাযথভাবে তালিকাভুক্ত হয়নি। এখনো লাখ লাখ রোগীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ায় তাঁদের মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে, কিন্তু এসব মৃত্যু সরকারি হিসাবে থাকবে না। এগুলোর বাইরে সরাসরি করোনায় আক্রান্ত না হয়েও মারা গেছেন এমন কিছু মৃত্যুর জন্যও পরোক্ষে মহামারিকেই দায়ী করা হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে আত্মহত্যা এবং অপরটি দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যা। দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনে নিঃসঙ্গতা এবং আয়-রোজগার বন্ধ বা কমে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে যে মানসিক সমস্যা তৈরি করেছে, তার পরিণতিতে আশঙ্কাজনক হারে আত্মহত্যা বেড়েছে। বেকারত্ব, আর্থিক সংকট, সন্তানদের লালনপালনের চাপ ও টানাপোড়েনে দাম্পত্য কলহ নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়ে পারিবারিক নির্যাতন এবং সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়েছে। এই পটভূমিতে বলা হচ্ছে কোভিড মহামারির আসল ভয়াবহতা বোঝার জন্য অতিরিক্ত বা বাড়তি মৃত্যুর হিসাব করা বাঞ্ছনীয়। ২০১৪ থেকে ২০১৯-এই পাঁচ বছরের বছরওয়ারি মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তার গড়ের সঙ্গে করোনাকালীন বছরের (করোনায় প্রথম ৫০টি মৃত্যুর পর থেকে এক বছর পর্যন্ত সময়) মৃত্যুর তুলনা করে বাড়তি মৃত্যুর যে সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাই বাড়তি মৃত্যু। আর এই বাড়তি মৃত্যুর কারণ কোভিড মহামারি। ব্রিটেনের সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট প্রায় ৭৫টি দেশের বাড়তি মৃত্যুর হিসাব নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে (ট্র্যাকিং কোভিড-১৯ এক্সেস ডেথস অ্যাক্রস কান্ট্রিজ)। ৯ মার্চ হালনাগাদ করা হিসাবে অনেক দেশেই বাড়তি মৃত্যু কোভিডের ঘোষিত মৃত্যুর চেয়ে বেশি। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকায় কোভিডে মৃত্যু প্রায় ৪৯ হাজার, কিন্তু বাড়তি মৃত্যু প্রায় ১ লাখ সাড়ে ২৮ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রে কোভিডে মৃত্যু প্রায় সাড়ে ৪ লাখ, কিন্তু বাড়তি মৃত্যু সাড়ে ৫ লাখের বেশি। ব্রিটেনে কোভিডে মৃত্যু ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি আর বাড়তি মৃত্যু ১ লাখ ২৪ হাজার। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের হিসাব এই তালিকায় নেই। সব দেশেই যে বাড়তি মৃত্যু হয়েছে, তা অবশ্য নয়। ডজনখানেক দেশে দেখা যাচ্ছে আগের পাঁচ বছরের গড় হারের চেয়ে গত বছর মৃত্যু হয়েছে কম। পত্রিকাটির মতে, সম্ভবত সামাজিক দূরত্ব কার্যকরভাবে অনুসৃত হওয়ায় এসব দেশে সংক্রমণ কম ঘটেছে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সরাসরি কোভিডে মৃত্যুর পাশাপাশি বাড়তি মৃত্যুর হারও প্রায় সমান্তরাল গতিতে বেড়েছে বলেই এসব পরিসংখ্যানে প্রমাণ মেলে। মাসওয়ারি হিসাবের বিশ্লেষণেও তেমনটাই দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেখানে গত জানুয়ারিতে যে অতিসংক্রমণশীল এবং মারাত্মক ধরনের কোভিড চিহ্নিত হয়েছে, সেই জানুয়ারিতেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। বাংলাদেশেও এমন একটি আইন চালু আছে, যাতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তা ছাড়া মৃত্যুর নিবন্ধন ছাড়া ছাড়পত্র বা সার্টিফিকেট মেলার কথা নয়। সব ধরনের উত্তরাধিকারের প্রশ্ন নিষ্পত্তিতে এই সার্টিফিকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বা বিচ্যুতি ছাড়া সব মৃত্যুর একটা নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান সরকারের কাছে থাকার কথা। জরিপের অনুমিত হিসাব নয়, প্রকৃত নথিবদ্ধ সংখ্যার ভিত্তিতে করোনাকালে মোট মৃত্যুর তথ্য প্রয়োজন। কেননা, মহামারির ক্ষতি কিন্তু এই বাড়তি মৃত্যুর হিসাব ছাড়া অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। কামাল আহমেদ: সাংবাদিক
8
বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এবং তার ভাইদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলজাজিরা টেলিভিশন যে প্রতিবেদন প্রচার করেছে, হাইকোর্ট সেই প্রতিবেদন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সব ধরনের সামাজিক মাধ্যম থেকে অবিলম্বে সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক টেলিভিশনটির এই প্রতিবেদন নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইস্যুটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হাইকোর্টে একটি রিট মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি মো: মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো: কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এটি সরিয়ে ফেলার জন্য প্রয়োজনে বিদেশি কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে হলে, সেটা করার জন্যও আদালত আদেশ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর প্রধান আজিজ আহমেদ ও তার ভাইদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলজাজিরা সম্প্রতি 'অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন' নামে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করে, যাতে বেশকিছু দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এনিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে বাংলাদেশে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধের আদেশ চেয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে আবেদনটি বিবেচনার যোগ্য কি-না তা নির্ধারণে, বুধবার ছয়জন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগের নির্দেশ দেন আদালত। বুধবার আদালত যে ছয়জন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়েছে, তারা হচ্ছেন এ জে মোহাম্মদ আলী, আব্দুল মতিন খসরু, শাহদীন মালিক, ফিদা এম কামাল, প্রবীর নিয়োগী এবং কামাল উল আলম। আদালতে ওই রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এনামুল কবির ইমন। রিটে বাংলাদেশে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সেই সাথে 'অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন' নামে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনটি ইউটিউব, ফেসবুক ও টুইটার থেকে অপসারণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়। তথ্যচিত্রটি যেহেতু ১০ দিন আগে প্রচারিত হয়েছে, তার ফলে এখন নতুন করে স্থগিতাদেশ দেবার আবেদন জনস্বার্থে গ্রহণযোগ্য কিনা, এবং বিদেশি প্রচারমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা যাবে কি না এসব বিষয়ে আইনজীবীদের মতামত জানতে চেয়েছে আদালত। পহেলা ফেব্রুয়ারি রাতে আলজাজিরা 'অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন' শিরোনামে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রচার করে। বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি 'উদ্দেশ্যমূলক' এবং 'ভিত্তিহীন'। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর আইএসপিআর এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছিলেন, আলজাজিরার বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, সরকার তা খতিয়ে দেখছে। সূত্র : বিবিসি
6
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাম্মেল হোসেনের জানাজা শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোজাম্মেল হোসেনের জানাজায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এমপি, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান এমপি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, মির্জা আজম এমপি, আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, আওয়ামী লীগের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এম এম কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনসমূহের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শরিক হন। প্রথমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মো. মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে মরহুমের কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি ও হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতার পক্ষ থেকে মো. মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শরিক হন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মীরহাজীরবাগ এলাকায় বাসের ধাক্কায় খোকন মিয়া (৪০) নামে এক রিকশা আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ কাঁচপুর এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন ও স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন। খোকনের সঙ্গে থাকা রিকশার অপর আরোহী কামাল সরদার জানান, তার কাঁচপুরে একটি গ্যারেজে আছে। গাড়ির পার্টস কিনতে খোকনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাজধানীর ধোলাইখাল আসেন। পরে সেখান থেকে রিকশা নিয়ে মীরহাজীরবাগ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে বাহাদুরশাহ পরিবহন নামে একটি বাস তাদের রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে খোকন ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে বাস তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, বাসটি জব্দ করাসহ চালককে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
6
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ডা. গোলাম মোস্তফা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার রাত আটটার দিকে রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখারও সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, জামাতা, নাতি নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। রাজবাড়ী পৌর এলাকার ১ নং বেড়াডাঙ্গার বাসিন্দা ছিলেনতিনি। গোলাম মোস্তফার পারিবারিক সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন যাবত তিনি জটিল রোগে ভুগছিলেন। এরপর জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ নানান সমস্যায় ভুগতে থাকায় গত ৫ আগস্ট তিনি নমুনা দিয়ে নিজ বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার বিকেলে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। রাতে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ফরিদপুরেনেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান তিনি। রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম জানান, ডা. গোলাম মোস্তফার রিপোর্ট শনিবার রাতে হাতে এসে পৌছায়। তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন। এদিকে রোববার সকালে তার বাসভবন সংলগ্ন নবারুণ সংঘের মাঠে জানাজা শেষে ভবানীপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্নসামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শোক জানিয়েছেন।
6
ভোলা সদরের আবহাওয়া অফিস সড়কের একটি ব্যক্তিগত গুদাম থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত ৬ হাজার ২০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় পরিবেশক (ডিলার) রাশেদুল আমিনকে জরিমানাসাহ গুদামটি সিলগালা করেছেন আদালত। রোববার সন্ধ্যা রাতের দিকে ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবহাওয়া অফিস সড়কে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম আকিব ওসমান অভিযান পরিচালনা করেন।ভোলা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মোস্তফা সোহেল জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর নির্বাহী হাকিম আকিব ওসমানের নেতৃত্বে আবহাওয়া অফিস সড়কের একটি গুদামে অভিযান চালানো হয়। গুদামে রূপচাঁদা, ফরচুনসহ বিভিন্ন কোম্পানির ৬ হাজার ২০০ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল মজুত করা ছিল। এ সময় পরিবেশক রাশেদুল আমিনকে আটকসহ তেল জব্দ করা হয়। পরে নির্বাহী হাকিম নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুতের অপরাধে পরিবেশককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই অপরাধে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। মোস্তফা সোহেল আরও জানান, পরিবেশক রাশেদুল আমিন বেশি দামে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করেছেন।
6
উন্নয়নের জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, 'তবে কিছু নেতা আছে, যারা ব্যবসা করার জন্য রাজনীতি করে। তারা সুযোগসন্ধানী, দুর্বৃত্ত। তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দিতে হবে।' সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আছাব উদ্দিন সরদার স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ রোববার বিকেলে দিরাই পৌর শহরের থানা পয়েন্টে এই শোকসভা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'বাঙালি জাতি আর পিছিয়ে থাকবে না। বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। এখন তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। দেশের ১৮ কোটি মানুষের ঘরে বিদ্যুতের বাতি জ্বলছে। গ্রামে গ্রামে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ হচ্ছে। পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল হচ্ছে। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে শেখ হাসিনার পাশে থাকতে হবে। তাঁকে সাহস ও শক্তি জোগাতে হবে।' উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সমীরণ সরকারের সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম ও অবনী মোহন দাস, দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী, দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশারফ মিয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রঞ্জন রায় প্রমুখ। গত ২৬ মে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছাব উদ্দিন সরদার বার্ধক্যজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন।
9
আন্তর্জতিক পুরস্কার পাওয়া তুরস্কের জনপ্রিয় সিরিয়াল 'জান্নাত' প্রচার হচ্ছে বাংলাদেশ এটিএন বাংলায়। প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টায় প্রচার হচ্ছে এটি।ইতোমধ্যে শত পর্ব পার করেছে। এক এতিম মেয়ের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে তুর্কী সিরিয়াল 'জান্নাত'। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়া মেয়েটি আর্কিটেক্ট হয়ে তার স্বপ্নের ফার্মে যখন চাকরি পায় তখন সে ভাবতে শুরু করে তার জীবনের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়ে সাফল্য ধরা দিতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই চাকরি পাওয়ার ঘটনা থেকেই তার জীবনে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাকে ফেলে যাওয়া মা ফিরে আসে আবার। তবে মাতৃসুলভ ভালোবাসা নিয়ে ফিরে আসেনা মা, তীব্র বিদ্বেষ নিয়েই তার জীবনে আবির্ভূত হয় । অন্যদিকে তার জীবনে যে প্রেম আসে, সেখানেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ায় তার মায়ের আরেক মেয়ে। এমন গল্প নিয়েই 'জান্নাত'। আর এফএল প্লাস্টিক নিবেদনে পাওয়ার্ড বাই রিগাল ফার্নিচারের সৌজন্যে এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে সিরিয়ালটি। বাংলাদেশে সিরিয়ালটি নিয়ে এসেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান 'বঙ্গ'। এবার বঙ্গবিডির ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে জান্নাত। বাংলাদেশে 'ভি থ্রী কমিউনিকেশন্স প্রাইভেট লিমিটেড পরিবেশনা করছে সিরিয়ালটি। ২০১৭ সালের তুর্কির এই ডেইলি সোপটি বেশ পরিচিতি পায়। এটি পরিচালনা করেছেন সাদুল্লাহ জেলেন। প্রচারিত হয়েছে তুরস্কের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চ্যানেল 'এটিভি'-তে। কোরিয়ান ডেইলি সোপ 'টিয়ার্স অব হ্যাভেন'-এর কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত হয় এটি।
2
উত্তরপাড়ার মুক্তকেশী কালী মন্দিরে পূজা দিয়ে ভোটের প্রচার শুরু করেছেন টলিউড অভিনেতা তথা তৃণমূল প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক। হুগলি জেলার উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকেই কাঞ্চনকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। নির্বাচন কমিশনে তার জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে নগদ ২৬ হাজার ৬৪২ টাকা এবং তার স্ত্রীর হাতে রয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮২৯ টাকা। এছাড়া এইচডিএফসি'র আরও তিনটি অ্যাকাউন্ট এবং এসবিআই'র দুটি আলাদা অ্যাকাউন্টে মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ১১৯ টাকা রয়েছে। অর্থাৎ তার মোট ব্যাংক আমানত ৭ লাখ ৯০ হাজার ১০৫ টাকা এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক আমানত ৭ লাখ ২৯ হাজার ১৪২ টাকা। মিউচুয়াল ফান্ডে কাঞ্চনের কোনো বিনিয়োগ নেই। তবে তার স্ত্রীর ৪০ হাজার টাকার মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। কাঞ্চনের একটি ৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৪৮ টাকার জীবনবীমা রয়েছে। ২০১৫ সালে একটি গাড়ি কিনেছিলেন কাঞ্চন। যার দাম ১৬ লাখ ৭১ হাজার ১৭২ টাকা। ১৬ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে কাঞ্চনের। যার বাজার দর ৭৯ হাজার ৪৮০ টাকা। তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ২৬ হাজার ৭৩১ টাকার সাড়ে ৫ গ্রাম সোনার গয়না। এছাড়া সিইএসসি'র সিকিউরিটি ডিপোজিট, টিডিএস এবং মেট্রোপলিটন ক্লাবের সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসাবে মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৭৬ টাকা রয়েছে। নেতাজী নগরে কাঞ্চনের নামে একটি ১ হাজার ৫০ বর্গ ফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০০৫ সালে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৮৮ টাকা দিয়ে এটি কিনেছিলেন তিনি। ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজার মূল্য ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসবিআই-তে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬২১ টাকার গাড়ি ঋণ রয়েছে কাঞ্চনের। এ ছাড়া ১৭ হাজার ৩৩৫ টাকার অন্য একটি ঋণও রয়েছে। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৮ লাখ ২১ হাজার ৩২৩ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকার। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮২ টাকা। স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির কোনো উল্লেখ নেই হলফনামায়। সূত্র : আনন্দবাজার বিডি প্রতিদিন/এমআই
2
পাবনার সাঁথিয়ায় বিষপানে এক দম্পতি আত্মহত্যা করেছে। উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বছরখানেক আগে উপজেলার মানপুর গ্রামের মানিক হোসেনের মেয়ে মারিয়া খাতুনের (১৮) সঙ্গে কল্যাণপুর গ্রামের রমজান আলী ব্যাপারীর ছেলে রাকিব ব্যাপারীর (২৫) বিয়ে হয়। মোবাইল ফোন ও ফেসবুক চালানোকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। স্বামীর ওপর অভিমান করে রাতেই মারিয়া বিষপান করে। স্বজনেরা তাঁকে দ্রুত সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। গত শনিবার সকালে মারিয়া ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। পরে দাফন কাজ শেষে স্বামী রাকিব বাড়িতে ফিরে গ্যাস ট্যাবলেট খায়। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি মারা যান।ওসি আশিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, ইউডি মামলা হয়েছে।
6
২০২০ সালে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি করোনা মহামারির চেয়ে ক্ষুধায় বিশ্বে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার এমনটি জানানো হয়েছে।অক্সফামের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৯ সাল থেকে গত বছর দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ছয় গুণ বেড়েছে। করোনা মহামারিতে বিশ্বের দুর্বল সম্প্রদায়গুলো বারবার একই বার্তা দিচ্ছে যে করোনার আগেই ক্ষুধায়ই তারা মারা যাবে।অক্সফাম বলছে, প্রতি মিনিটে বিশ্বে ক্ষুধায় ১১ জনের মৃত্যু হচ্ছে, যেখানে করোনায় প্রতি মিনিটে মারা যাচ্ছে ৭ জন।অক্সফামের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইয়েমেন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, ভেনেজুয়েলা ও সিরিয়ার মতো দেশগুলোয় করোনা মহামারি খাদ্যসংকটকে আরও তীব্র করেছে।বিবৃতিতে অক্সফামের পক্ষ থেকে বলা হয়, গণবেকারত্ব এবং মারাত্মকভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; যা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।অক্সফাম বলছে, ৫ লাখের বেশি মানুষ বিশ্বে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে রয়েছে। আর বিশ্বের সাড়ে ১৫ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধা নিয়ে জীবনধারণ করছে। এসব মানুষের তিনজনের মধ্যে দুজনই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোয় বাস করে।এ নিয়ে অক্সফাম ফ্রান্স অফিসের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা হেলেনে বোট্রেউ বলেন, 'সংঘাত, কোভিড-১৯-এর অর্থনৈতিক পরিণতি এবং জলবায়ুসংকটের মতো একের পর এক সংকট বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি।'বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আগামী সোমবার প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এর আগেই ক্ষুধা নিয়ে এই বিশ্লেষণ প্রকাশ করল অক্সফাম।
3
বিয়ের সামাজিক তকমাটা অপ্রয়োজনীয়। পরস্পরের পাশে থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভোগ ম্যাগাজিনে সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন নোবেল শান্তি পুরষ্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই। আর তার এই বক্তব্যকে ঘিরেই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে পাকিস্তানে। মালালার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে পাকিস্তানের নেটিজেনদের একাংশ। বিখ্যাত ব্রিটিশ ফ্যাশন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালালা রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতিত থেকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তবে বিয়ের বিষয়ে তার মন্তব্যেই ক্রুদ্ধ পাকিস্তানের নেটিজেনরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেউ কেউ মালালার এই কথায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মালালার কাছ থেকে এমন কথা আশা করেননি তারা। মালালা বলেন, জীবনসঙ্গীর জন্য বিয়ে করাটা অপ্রয়োজনীয়। আমি তো এখনও বুঝতে পারলাম না যে লোকে বিয়ে কেন করে? যদি সত্যি আপনার জীবনে কোনও মানুষকে চান, তার জন্য বিয়ের আইনি কাগজে সইয়ের কী প্রয়োজন? দুজনে পরস্পরের পাশে থাকাটাই কি যথেষ্ট নয়? মালালার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
3
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গভীর অনুরাগী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সাথে বঙ্গবন্ধুর চিন্তার মিল রয়েছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ রবিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে 'মানবতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ'-শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, মানবতার সংকট নিরসনের রবীন্দ্রনাথের প্রাচ্যের প্রতি যে প্রত্যাশা তা পূরণে বঙ্গবন্ধু ভূমিকা রেখেছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সে কারণে আজ এই দুই মহামানবের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। কেননা সকল মহামানবের চিন্তা একজায়গায় পুঞ্জিভূত হয়, সকল উদার চিন্তা একজায়গায় গিয়ে মেশে, সকল উদার চিন্তাই শাশ্বত। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রবীন্দ্রনাথের গভীর অনুরাগী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় বাঙালি গণমানুষ সম্মিলিতভাবে একটি কঠিন সংকটকে উতরিয়ে যে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে, এটি বঙ্গবন্ধুর কাছে একটি পরম তৃপ্তির বিষয়। রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করেন বলেই বঙ্গবন্ধু তখন বলেছিলেন, 'কবিগুরু, তুমি দেখো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি বাঙালি কিন্তু মানুষ হয়েছে'। রবীন্দ্রনাথ অন্য প্রসঙ্গে কথাগুলো বললেও সেদিন বঙ্গবন্ধুর এই কথা দ্বারা তার রবীন্দ্রনাথের প্রতি অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড.ভিষ্মদেব চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, মানবতার সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের সহায় রবীন্দ্রনাথ। এ কারণে ১৫০ বছর পরও রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্রনাথ তার জীবনদশায় দুটি বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু হওয়ার পর তার জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুর আগে সমৃদ্ধ, প্রাজ্ঞ, স্থিত রবীন্দ্রনাথ এই ভয়াবহ আগামীকে প্রত্যক্ষ করেছেন বর্তমানের পটে দাড়িয়ে। তিনি দেখেছেন পশ্চিমা বিশ্ব কীভাবে বিজ্ঞানকে ব্যক্তিস্বার্থে, গোষ্ঠিস্বার্থে, রাজনৈতিক স্বার্থে, জাতিগত সংকীর্ণতা থেকে ব্যবহার করেছে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুও রবীন্দ্রনাথের অনুসারী ছিলেন। এখন পর্যন্ত এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় নি যে বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথের সাথে সরাসরি দেখা করেছিলেন। তবে বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথকে হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন। তিনি তার গান শুনতে ভালোবাসতেন। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন আমাদের জাতীয় সংহতির প্রণেতা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত ও নৃত্যকলা বিভাগের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
1
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম এমপি করোনাবিরোধী যুদ্ধে সৈনিক সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত ও তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অন্যদের মতো সাংবাদিকদের জন্যও ত্রাণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা উচিত। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকন মারা গেছেন। শুধু তাই নয়, ঢাকা ও সফস্বলে অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণের সংবাদ সংগ্রহে মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকরা করোনা মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করছেন। তেমনি করোনা সমস্যা মোকাবেলায় অনেক সীমাবদ্ধতা, অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কথাও সাহসের সাথে তুলে ধরছেন সাংবাদিকরা। চিকিৎসার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ও ত্রাণ তৎপরতায় সফলতা ও ব্যর্থতার কথাও সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি। তিনি বলেন, আজকে দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীরা অনেক খবর খুবই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। চিকিৎসক, নার্স ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো মাঠে কর্মরত সাংবাদিকরাও করোনাবিরোধী যোদ্ধা। আজকে করোনায় অনেকে মারা যাচ্ছে, অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের সহায়তা করা সরকার ও মিডিয়ার মালিক পক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই সময়ে সাংবাদিক বন্ধুদের জন্য কোন রকম সহায়তা করা যায় কিনা তা বিবেচনা করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
6
গোপালগঞ্জে ১৩ হাজার ৬শ' পিচ ইয়াবাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর পূর্বপাড়া ফকিরকান্দি গ্রামের মর্জিনা বেগমের ভাড়া বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে ওই ৪ জনের কাছ থেকে ১৩ হাজার ৬শ' পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-রাজশাহী জেলার পুটিয়া থানার ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামের রঞ্জু হোসেনের স্ত্রী মনিরা বেগম (৩৫), মনিরার বোন মর্জিনা বেগম (৩০) গোপালগঞ্জ শহরের থানাপাড়া নতুন বাজার রোডের বাসিন্দা মৃত আকবর মুন্সির ছেলে স্বপন মুন্সি (৪০), ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কোনাগ্রামের মৃত সিরাজ খানের শফিউলতাহ খান (৪০)। মনিরা গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ভাদুলিয়া গ্রামের আকবর হোসেন মোলতার মেয়ে। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে বলেন,মনিরা বেগমের স্বামী রঞ্জু হোসেন মাদক ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি একাধিক মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। স্বামীর পথ ধরেই মনিরা বেগম তার বোন মর্জিনা বেগমকে সাথে নিয়ে বড় বড় মাদকের চালান গোপালগঞ্জে এনে জমজমাট পাইকারী মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হরিদাসপুর পূর্বপাড়া ফকিরকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ গ্রেফতার করা হয়। আটক মাদকের আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ ৮০ হাজার বলে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, গোপালগঞ্জকে মাদক মুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
6
বরিশাল নগরীর পশ্চিমাংশে রূপাতলী বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্রে করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী শ্রমিকেরা এবার সদর আসনের এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের ২ অনুসারীকে কুপিয়েছেন। আহতরা হলেন জেলা বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুমন মোল্লা (৪০) এবং তার সহযোগী আল আমিন (২৫)। সোমবার ইফতারির কিছু আগে রূপাতলী টার্মিনাল-সংলগ্ন বসুন্ধরা হাউজিং এলকায় সুমন মোল্লার বাড়ির সামনে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় তার বাড়িসহ আরও তিনটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সুমন মোল্লার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।সুমন মোল্লার স্ত্রী আইরিন আক্তার জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ইফতার করার জন্য সুমন মোল্লা রূপাতলী বসুন্ধরা হাউজিংয়ের বাড়িতে আসেন। ইফতারিরর ৬-৭ মিনিট আগে বাড়িতে প্রবেশ করার সময় ৩৫-৪০ জন ধারালো অস্ত্রধারী তাকে ধরে নিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে কোপাতে থাকে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আল আমিন সুমনকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। সুমন মোল্লার ডাক চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং সুমন মোল্লার বাড়ি ও পাশের দুটি বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে জানান তিনি। স্থানীয় কাউন্সিলর (২৫ নম্বর ওয়ার্ড) সাইদুর রহমান জাকিরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায় বলে আইরিন আক্তারের অভিযোগ।বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নিতে সুমনের ওপর এই হামলা হয়েছে বলে তিনি অভিেযোগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাউন্সিলর সইদুর রহমান জাকির মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী। মেয়রের অনুসারীরাই এই হামলা করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে মেয়র অনুসারী বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, 'আমরা সন্ধ্যায় রূপাতলী এলাকায় যাইনি। তাই এটা কারা করেছে সে ব্যাপারে কিছুই জানি না। কেউ অভিযোগ করলেই সেটা সত্য হয়ে যায় না।' কাউন্সিলর সাইদুর রহমান জাকির বলেন, 'সুমন মোল্লার ওপর হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অসত্য।' এর আগে রোববার দুপুরে মেয়র অনুসারী শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক এবং ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা প্রতিমন্ত্রী অনুসারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহমুদের কার্যালয়ে হামলা চালান। রোববার দুপুরে রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।হামলায় সুলতান মাহমুদসহ প্রতিমন্ত্রী অনুসারী ২০ শ্রমিক আহত হন। রূপাতলী বাস টার্মিনাল কেন্দ্রীক শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের এমপি জাহিদ ফারুকের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করে। মেট্টােপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভূঞা রাত ৯টায় বলেন, তিনি সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে ও টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে রুপাতলী টার্মিনাল এবং সংলগ্ন বসুন্ধরা হাউজিং এলাকায় মেয়রের অনুসারীরা মহড়া দিচ্ছে। পুলিশ কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রুপাতলী টার্মিনাল এলাকায়।
6
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই দেশব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশী কূটনীতিকেরা। তাদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনের দিন সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে ভোট দিতে আস্থা পাবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন কী ভূমিকা নেয়, সরকার কমিশনকে কতটা সহায়তা করে- তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। একাধিক পশ্চিমা কূটনীতিক নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতা দেখতে কেউ পছন্দ করে না। কিন্তু চলমান পরিস্থিতি উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন কী কী পদক্ষেপ নেয়া তার ওপর সবার নজর থাকবে। ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠান অবশ্যই একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনকে তাদের সক্ষমতার পরিচয় দিতে হবে। তাদের মতে, চলতি বছর নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক। একটি ভালো লক্ষণ। তবে নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়াটা উদ্বেগজনক। কেননা এতে নির্বাচনের দিন সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে ভোট দেয়ার আস্থা হারাবে। বিশেষ করে নারীরা ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত হবে না। এটি ভোটার সংখ্যার (টার্নওভার) ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার নির্বাচনে সবার শান্তিপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে বলেন, রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করতে হবে। সবাই যেন সহিংসতা থেকে দূরে থাকে। কেননা, সহিংসতা গণতন্ত্রের পথে বাধা। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সহিংসতা শুধু তাদের উদ্দেশ্যই পূর্ণ করে। রাষ্ট্রদূত বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার অংশ নেবেন। আমরা সবাই এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণকে যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহিত করে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে সর্বসম্মতভাবে পাস হওয়া প্রস্তাবে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে এবং ভোটারদের বাধাহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কংগ্রেস বাংলাদেশের নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে চারটি প্রস্তাব করেছে। প্র্রথম প্রস্তাবে কংগ্রেস সদস্যরা বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দ্বিতীয় প্রস্তাবে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি বাংলাদেশের সরকারকে শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃতীয় প্রস্তাবে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- তা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার ব্যাপারে কংগ্রেস সদস্যরা তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। চতুর্থ প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ এসেছে। এতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার কারণে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মনুষ্যসৃষ্ট মানবিক এই বিপর্যয়ের মতো জটিল পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় কাজ করছে।
9
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যখন সার দেশব্যাপী করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, ঠিক তখন থেকেই সুনামগঞ্জের হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার মানুষজনের মাঝে টিকা নেওয়ার বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। এর মধ্যে উপজেলার হাওর পাড়ের গ্রামগুলোর লোকজনের মধ্যেই টিকা নিয়ে অনাগ্রহীর সংখ্যা বেশি।তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা চিকিৎসক মির্জা রিয়াদ হাসান জানান, হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার মানুষজনের মাঝে টিকা গ্রহণ নিয়ে নানা সংশয় কাজ করছে। তাই করোনা টীকাদান কর্মসূচির প্রথম ধাপে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ৭০০ লোক টিকা গ্রহণ করে। টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে ১২ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১ হাজার ২০৭ জন লোক টিকা গ্রহণ করেন। উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী গ্রাম ভবানীপুর গ্রামের চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী কৃষক সঞ্জয় তালুকদার জানান, ভবানীপুর গ্রাম থেকে মাত্র ৪-৫ জন লোক করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন। গ্রামের লোকজন করোনার টিকা কেন নিচ্ছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষক সঞ্জয় বলেন, গ্রামের মানুষ করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কেই তেমন কিছু জানে না, যে কয়েকজন জানে তাদের মধ্যে করোনার টিকা গ্রহণ নিয়ে কি থেকে কি হয় এই ভয় কাজ করে।গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নীহার রঞ্জন তালুকদার জানান, উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রাম রামসিংহপুর, এই গ্রামের দুই একটি পরিবার ছাড়া অন্য কোনো পরিবারের লোকজন করোনার টিকা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, এ ইউনিয়নের অনেক গ্রামের মানুষ করোনা সম্পর্কেই কিছু জানে না যার ফলে করোনার টিকা নিতেও তাদের মাঝে কোন আগ্রহ নেই।তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমেদ হোসেন শাফী জানান, করোনার টিকা গ্রহণ নিয়ে এখানকার লোকজনের মাঝে অনীহা রয়েছে। তবে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হলে টিকা নিতে লোকজন আগ্রহী হবে।তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির বলেন, তাহিরপুর উপজেলার হাওর পাড়ের গ্রামগুলোতে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে মাইকিং প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্যও আমরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেই লোকজনের মাঝে টিকা গ্রহণে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।
6
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, সামরিক এবং সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসবাদের জন্য আলাদা তিনটি মামলা করা হবে। লেবাননের আল মায়াদিন নিউজ নেটওয়ার্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) জারিফের এ সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। তিনি বলেন, গত ৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে সার্কিন সেনারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র কুদস ফোর্সের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছে। এটি পরিষ্কারভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ। জারিফ বলেন, এই তিনটি অভিযোগে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। বর্তমান সময়ে বিশ্ব জনমতের সামনেই ট্রাম্প এই তিনটি অপরাধ করেছেন। ইনশাল্লাহ এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক আইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করব। সূত্র : পার্সটুডে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আওয়ামী লীগের এক 'নেতার বিষে' গবাদি পশু মারা যাচ্ছে। তার অনুমোদনহীন ব্যাটারি কারখানার বিষাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ায় গত দুই মাসে ১৬টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। ব্যাটারি পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় গরুগুলোর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিরিরবন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। এই অবস্থায় কারখানাটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে কারখানাটির মালিক আব্দুল মালেকের দাবি, তার কাছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলার ৯ নম্বর ভিয়াইল ইউনিয়নের নানিয়াটিকর গ্রামের আত্রাই নদীর পাশে অবৈধ ব্যাটারি পোড়ানোর কারখানাটি। এর মালিক আব্দুল মালেক ভিয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের 'নির্বাহী সদস্য' দাবি করেছেন। কারখানাটি গড়ে ওঠার পর বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত দুই মাসে এলাকার সকাল রায়ের তিনটি গরু, শাহ আলম, সুবাশ রায়, আশুতোষ রায় ও আলতাফ হোসেনের দুটি করে গরু, বিমল রায়, বাবুল রায়, পরেশ রায়, আনোয়ার হোসেন, সুশিলা রায়ের একটি করে গরু মারা গেছে। এই কারখানার বিষাক্ত গ্যাসে প্রতিনিয়ত গবাদি পশুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সরেজমিন দেখা যায়, দিনাজপুর সদর ও চিরিরবন্দর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদী। এর পূর্ব পাশে নানিয়াটিকর গ্রামের আম ও লিচু বাগানের ভেতরে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির জন্য টিন দিয়ে ঘেরা একটি কারখানা। ধোঁয়ায় কারখানার আশপাশের আম, কাঁঠাল ও লিচু গাছের পাতা ঝলসে গেছে। ব্যাটারির এসিড ও পোড়া দুর্গন্ধে ভরপুর চারপাশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ট্রাকে ভরে পুরোনো ব্যাটারি আনা হয় কারখানায়। সেই ব্যাটারি কেটে প্ল্যাস্টিক আলাদা করা হয়। এরপর ভারি ধাতু গলিয়ে সিসা তৈরি করে আবার ট্রাকে করে পাঠানো হয় ঢাকায়। রাতভর চলে এই কর্মযজ্ঞ। ব্যাটারি পোড়ানোর কারণে রাতের বেলায় দূর্গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। সুশীলা বালা নামের এক বৃদ্ধা বলেন, তার দুটি গরু। আত্রাই নদীর বাঁধে গরুগুলো চরান। বাঁধের ধারে ব্যাটারি কারখানা হওয়ায় বিষাক্ত গ্যাসে তার একটি গরু মারা গেছে। তিনি জানান, কারখানা হওয়ার কয়েকদিন পর হঠাৎ একদিন দেখেন গরুটা খায় না। কী রোগ, চিকিৎসক বলতে পারেননি। বাড়ি থেকে চিকিৎসক যেতে না যেতেই গরুটা মারা গেল। কারখানাটি দ্রুত বন্ধের দাবি জানান তিনি। পারভিন নামের এক নারী জানান, তার ৯টি গরু। ব্যাটারি কারখানার বিষাক্ত গ্যাসে একটি গরু মারা গেছে। এই কারখানার জন্য এলাকার ১৬টি গরু মারা গেছে। এই কারখানার জন্য তাদেরও নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। এর গ্যাসে রাতে ঘুম হয় না তাদের। বুধ বালা নামের এক বৃদ্ধা বলেন, 'আমরা গরিব। গরু কেনার মতো পয়সা নাই। আধি (বর্গা) নিয়েছিলাম গরু, সেখান থেকে দুইটা গরু পাইছি। নদীপাড়ের এই কারখানার জন্য একটা গরু মারা গেছে। এভাবে গরু মরলে আমরা কী করে খাব?' পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, তার একটি গরু অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। একটি গাভি অসুস্থ হয়ে গেছে। তিনবার চিকিৎসক দেখানো হয়েছে। এখনও সুস্থ হয়নি। যেই কারখানার ধোঁয়া পরিবেশ দূষণ করে, সেই কারখানা চান না তারা। ভিয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কমল রায় বলেন, কারখানার কারণে গরু মারা যাচ্ছে, মানুষেরও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে তিনিও আছেন। নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে কারখানার মালিক আব্দুল মালেক বলেন, স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন। তবে কারখানার গ্যাসের কারণে গরু মারা গেছে- বিষয়টি সঠিক নয়। তাছাড়া এই কারখানার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র দিয়েছে। ছাড়পত্র দেখতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখন আমার কাছে নাই।' ভিয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিন্দ্র নাথ রায় বলেন, 'আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে কোনো নির্বাহী সদস্য পদ নেই। আব্দুল মালেক আমাদের কোনো সদস্য না। তিনি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাচ্ছে। এটি আমরা জানি না।' কথা হলে চিরিরবন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সারফরাজ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। অনেক গরুর চিকিৎসাও দিয়েছেন এবং এখনও দিচ্ছেন। ব্যাটারি পোড়ানোর ফলে যে গ্যাস তৈরি হচ্ছে, তাতেই গরুগুলো অসুস্থ হচ্ছে। এই গ্যাস মানুষেরও ক্ষতি করতে পারে। চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। দিনাজপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক একেএম ছামিউল আলম কুরশি বলেন, কারখানাটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কারখানা চালানোর কোনো নিয়ম নেই।
6
২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনজারভেটরশিপ আইনের অধীনে আদালতের আদেশে পপ তারকা ব্রিটনির বাবা জেমিকে মেয়ের সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। সে সময় উদ্বেগ ও অবসাদের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে। ফলে গত ১৩ বছর ধরে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের ব্যক্তিগত ও আর্থিক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন তার বাবা। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে ব্রিটনির বাবার আইনি অভিভাবকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেন তার আইনজীবী। বারবার বাবার সেই অধিকার বাতিলের আবেদন করে আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই গায়িকা। জিম্মাদশার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের জন্য সম্প্রতি তিনি ম্যাথিউ রোজেনগার্ট নামক নতুন একজন আইনজীবী নিয়োগ দেন। আদালতের কাছে ম্যাথিউ অনুরোধ করেন দ্রুত যেন জেমি স্পিয়ার্সকে সরিয়ে ব্রিটনির সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সার্টিফায়েড (স্বীকৃত) পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেসন রুবিনের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বরে, লস এঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে। সূত্র : রয়টার্স বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
2
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩৮৫ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৮ হাজার ৩১ জনে। আর মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭১০ জন। যেখানে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু ও ৩২৯ জন শনাক্ত হওয়ার খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৬৭ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪১৭ জন।এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৪২ হাজার ২৩৫টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। প্রতি ১০০ জনে সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।
6
মা আমার জীবনের আদর্শ। আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা, আমার সবকিছুই আমার মাকে ঘিরে। বিশ্ব মা দিবসে এমনটাই জানালেন নাট্যাভিনেত্রী তারিন জাহান। তিনি আরো বলেন, মায়ের যেমন বিকল্প হয় না, ঠিক তেমনি মায়ের কোনো তুলনা হয় না। আমার জীবনে মায়ের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। ছোটবেলা থেকে আমার বেড়ে ওঠা, আমার শিক্ষা, আমার নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠা, সংগীত শিল্পী হয়ে ওঠা, সর্বোপরি একজন অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পেছনে আমার মায়েরই অবদান সবচেয়ে বেশি।
2
হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে আরেকটি হত্যা। হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলা সাক্ষীকে সরিয়ে দিতে হত্যা। গত এপ্রিলে রংপুরে একের পর এক ঘটেছে তিনটি হত্যাকাণ্ড। গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর বাগডোহরায় চাঞ্চল্যকর এই ট্রিপল মার্ডার মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে সিআইডি। মঙ্গলবার রংপুর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আতাউর রহমান তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, নির্বাচন ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজিজুল ইসলাম ও সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলামের মধ্যে। এর জেরে গত ৬ এপ্রিল চর বাগডোহরা আনন্দ বাজার এলাকায় আজিজুলের ওপর হামলা চালায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা। আজিজুল দৌড়ে স্থানীয় মমিন আলীর বাড়ির খাটের নিচে লুকান। সাইফুল খাটের নিচ থেকে আজিজুলকে বের করার পর লাঠি, দা, বল্লম, হাঁসুয়াসহ দেশীয় নানা অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে আজিজুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ওইদিন বিকেলে আজিজুল মারা যান। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে সাইফুল তার ৮৬ বছর বয়সী শয্যাশায়ী চাচাতো ভাই রেয়াজুল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে আঙিনায় নিয়ে গলা কেটে ও পেটে বল্লম দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং আজিজুল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা তাকে হত্যা করেছে বলে প্রচার চালায়। আজিজুল খুনের ঘটনায় সাইফুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলে সাইফুলও পাল্টা একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় ২৮ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে গত ১৯ মে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়। সিআইডি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। সাইফুল ইসলামের সহযোগী শফিকুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চর বাগডোহরার একটি পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ১৩টি বল্লম, ছোরা, দা, হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে সাইফুল পলাতক। এদিকে আজিজুলকে হত্যার দৃশ্য তার নাতনি মোনালিসা (১২) দেখে ফেলায় তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করে সাইফুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। বিষয়টি বুঝতে পেরে মোনালিসাকে ৩ মাস অন্য স্থানে রাখে তার পরিবার। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে ভেবে মোনালিসা বাড়ি ফেরে। বাড়ি ফেরার ৫ দিন পর মোনালিসার লাশ নিজ ঘরে দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের লোকজন এটি আত্মহত্যা ভেবে মামলা করেনি। পরে ময়নাতদন্তে মোনালিসার মুখ থেকে রক্ত বের হতে এবং গলায় জখম দেখা যায়। সিআইডি গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী মোনালিসাকেও সাইফুল ও তার সহযোগীরা হত্যা করে নিজ ঘরে ঝুলিয়ে রেখেছিল। বিশেষ পুলিশ সুপার আতাউর রহমান বলেন, আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিল। আজিজুল হত্যা মামলার সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখালে বিচারক তাদের জামিন বাতিল করেন। পরে গ্রেপ্তার ২৮ জনকে রিমান্ডে নিলে আব্দুর রহিম নামে একজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এ ছাড়া রেয়াজুল হত্যা মামলায় আরও ৩ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মমিনের বাড়িতে আজিজুলের ওপর হামলার ঘটনায়ও কয়েকজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক সাইফুলকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মোনালিসা হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
6
বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানকে নিয়ে আলোচনার যেন শেষ নেই। অভিনয় মঞ্চ থেকে ঘর কোথায় কী করছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলতেই থাকে। অভিনেত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি নাকি মা হতে চলেছেন! গেল বৃহস্পতিবার, মুম্বাইয়ের এক রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরাবন্দি হন অভিনেত্রী। এদিন কালো ম্যাক্সি ড্রেস ও সঙ্গে ডেনিম জ্যাকেট পরে ছিলেন তিনি। মুহূর্তেই হন ক্যামেরাবন্দি। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিভিন্ন পোস্টের নিচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা লিখেছেন, বেবির অপেক্ষায় রইলাম। অনেকে আবার অগ্রীম শুভকামনা জানিয়েছেন। যদিও বিদ্যা এ বিষয়ে কোন কিছুই বলেননি। ২০১২ সালে আদিত্য রায় কাপুরের সঙ্গে মালাবদল করেছেন অভিনেত্রী বিদ্যা। তারপর থেকে সুখেই ঘর সংসার করছেন তিনি। শেষবার বিদ্যাকে দেখা গিয়েছিল 'তুমহারি সুলু' ছবিতে। যেখানে বিদ্যার অভিনয় মুগ্ধ করেছিল সিনেমাপ্রেমীদের। ছবিটি বক্স অফিসে বেশ ভালো ব্যবসাও করে। বিদ্যার নতুন ছবি 'মিশন মঙ্গল'। শিগগিরই ছবিটি মুক্তি পাবে।
2
আপেল সিডার ভিনেগার পুরোপুরি প্রাকৃতিক পণ্য। আপেলকে দুবার প্রসেস করে তৈরি করা হয়। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা-চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার। এই আপেল সিডার ভিনেগার ভালো রাখবে আপনার পা-ও। আর যদি পা ফেটেই যায়, সেটাও সেরে উঠবে ধীরে ধীরে। এক বালতি গরম পানিতে এক টেবিল চামচ ভিনেগার মেশান। এরপর সেই মিশ্রণের ভেতর পা চুবিয়ে বসে থাকুন। এভাবে ১৫ মিনিট থাকুন। তারপর পা উঠিয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে সেখানে লাগান ময়েশ্চারাইজার। টি ট্রি তেলও পায়ের যত্নের একটা ভালো সমাধান। শুষ্ক ত্বকের রুক্ষতা আর নিষ্প্রাণ ভাব দূর করতে টি ট্রি তেল খুব কাজের। টি ট্রি কিন্তু চা-গাছ নয়! উদ্ভিদটির উৎস অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলস এলাকায়। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা এ গাছের তেল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে। সেখানকার লোককাহিনিতে প্রচলিত আছে, স্বর্গের এক দেবতা তাদের এ তেল উপহার দিয়েছেন। এই তেলে বেশ কিছু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আর ভিটামিন আছে। একটা কাপে চার ভাগের এক ভাগ জলপাই তেল নিন। সেখানে ছয়-সাত ফোঁটা টি ট্রি তেল দিন। আঙুল দিয়ে মেশান। পায়ের গোড়ালিতে লাগান। ১৫ মিনিট পর টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলুন বা ধুয়ে ফেলুন। ফাটা পা সেরে উঠবে। খনিজ লবণও পা ফাটা সারাতে উপকারী। ১০০ গ্রাম লবণ কয়েক ফোঁটা মধুর সঙ্গে মেশান। ফাটা গোড়ালিতে ম্যাসাজ করুন। এতে পায়ের মৃত কোষগুলো উঠে যাবে। আর ত্বকের রুক্ষতাও কমে আসবে। ঘৃতকুমারীও (অ্যালো ভেরা) পা ফাটা রোধ করতে উপকারী। দুই টেবিল চামচ অ্যালো ভেরার জেল নিন। এর সঙ্গে এক টেবিল চামচ গ্লিসারিন মেশান। এরপর সেই মিশ্রণ পায়ের গোড়ালিতে লাগান। প্রতিদিন গোসলের আগে একবার করে লাগাতে পারেন। গোলাপজলের সঙ্গে কিছুটা গ্লিসারিন মেশান। এই মিশ্রণ পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। এতে পা ফাটা ও ব্যথা কমবে। পা ফাটা সমস্যার সমাধানে তিলের তেল দারুণ কার্যকর। পায়ে তিলের তেল মাখলে পা ফাটা দূর হয়। এ ছাড়া ভ্যাসলিনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ফাটা স্থানে মালিশ করুন। এতে ওই মিশ্রণ সেখানে শোষিত হয় বলে পা ফাটা দ্রুত সেরে যায়।
4
নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫৯ জন শিক্ষার্থী এবার বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ৩৯ জন ও ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০ জন।গত মঙ্গলবার মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল হয়। রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থীর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।জানা যায়, এ বছর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ২৬৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ২৪৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ৩৯ জন।অন্যদিকে এইচএসসিতে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পান ৩৭২ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৪৭ জনের মধ্য জিপিএ-৫ পান ৩১৪ জন। আর মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ২০ জন।সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী আদুরি তাসফিন ফারজানার বাড়ি দিনাজপুরের রানিরবন্দরে। বাবা মারা যান ছোটকালেই। আদুরি এ বছর ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে। তিনি বলেন, 'বাবার স্বপ্ন ছিল আমি একদিন ডাক্তার হবো। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। সাফল্যের প্রতিটি ধাপে শিক্ষকদের কঠোর শ্রম রয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে আমি একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চাই।'রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম অনন্যা ও আসিফ বাবু নামে দুজন শিক্ষার্থী বলেন, করোনাকালে কলেজ অনেকদিন বন্ধ থাকলেও শিক্ষকরা ফোনে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নিয়ে আমাদের সিলেবাস পূর্ণ করেছেন। আমাদের শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশটা ব্যতিক্রম।সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ (কলেজ) আক্কাস আলী সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমাদের শিখন পদ্ধতিটা ব্যতিক্রম। শিক্ষার্থীদের শ্রেণির পড়া শ্রেণিতেই করানো হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে বিভক্ত করে পাঠদান করানো হয়। এতে করে একদিকে যেমন তাঁদের মধ্যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে ওঠে তেমনি একজনের সঙ্গে অন্য জনের অনেক বিষয়ে শেয়ারিং হয়।'সরকারি কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'কলেজে পাঠদান চলে গ্রিন, ক্লিন, এনজয়েবল ক্লাসরুম লার্নিং পদ্ধতিতে। এ কারণেই আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও মননশীলতা দিন দিন বাড়ছে।'তিনি আরও বলেন, 'এ কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত স্বচ্ছ। মেধাবী শিক্ষার্থীরাই এ কলেজে পড়ার সুযোগ পায়। কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরা একধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করি। ক্লাসরুমেই পাঠদান সম্পন্ন করা হয়। এর ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের যাবতীয় প্রয়োজনীয়তা মাথায় রাখা হয়। তবে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি কোনো চাপ রাখা হয় না।'
6
'হাসতে নাকি জানে না কেউ/কে বলেছে ভাই?/এই শোন না কত হাসির/খবর বলে যাই।' রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের লেখা এই 'হাসি' কবিতাটি বেশিরভাগেরই হয়তো পড়া হয়েছে ছোটবেলায়। হাসি নিয়ে এমন অনেক কবিতাই লেখা হয়েছে। তবে হাসি নিয়ে যে দিবস আছে, এ কথাটি এখনও অনেকেই জানেন না। বছরের ৩৬৫ দিনে প্রায় সাড়ে চারশ দিবস পালিত হয়। হাসি দিবসও তেমন। ১৯৯৯ সাল থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম শুক্রবার পালন করা হয় হাসি দিবস। এ বছর বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। আজ বিশ্ব হাসি দিবস। ১৯৬৩ সালে শিল্পী হারভে রোজ বল হলুদ রঙের বৃত্তের মধ্যে দুটি চোখ ও একটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির মুখের ছবি আঁকেন, যা 'স্মাইলি' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্মাইলির বাণিজ্যিক ব্যবহারে ব্যাপক পরিচিতি পান যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী হারভে। তার চেষ্টায় ১৯৯৯ সাল থেকে অক্টোবরের প্রথম শুক্রবারটি বিশ্ব হাসি দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। অবশ্য বিশ্বব্যাপী হাস্যযোগ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ড. মদন কাটারিয়ার ১৯৯৮ সালে ভারতের মুম্বাইতে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব ছড়িয়ে দেওয়ার ব্রত নিয়ে 'হাসি দিবস' পালন করেন।
6
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণী নামফলক নির্মাণে ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ইউএনও নিজেই ঠিকাদার সেজে কাজ করিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্নিষ্ট ঠিকাদারের। এসব নামফলকের কাজ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে করা হলেও ফলকগুলোতে সৌজন্যে উপজেলা প্রশাসন লেখায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একজন ইউপি চেয়ারম্যান তার পরিষদসংলগ্ন দুটি নামফলক থেকে টাইলস অপসারণ করিয়েছেন। উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২৫টি সাইকেল ক্রয়, প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা দানের লক্ষ্যে একটি দ্রুতগামী ইঞ্জিনচালিত ট্রলার তৈরিসহ ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের দুই পাশে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন ও সেলবরষ ইউনিয়ন, সেলবরষ ও পাইকুরাটি ইউনিয়ন, পাইকুরাটি ও মধ্যনগর ইউনিয়ন, ধর্মপাশা বারহাট্টা সড়কে ধর্মপাশা উপজেলা ও বারহাট্টা উপজেলার নাম উল্লেখ করে স্বাগতম ও বিদায় লেখা সংবলিত মোট আটটি ফলক নির্মাণের জন্য ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার আরপি এন্টারপ্রাইজকে। আরপি এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমান জানান, যথাসময়ে সাইকেল ক্রয় ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা তৈরি করে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। নামফলকের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। ওই ঠিকাদার জানান, নামফলকের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন করে বিশেষ টাইলস বসানোর কাজ নিজেই করাবেন বলে তার কাছে ইউএনও দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। যদিও ফলকে নাম লিখন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। পরে ইউএনও ধর্মপাশা উপজেলার এক সংবাদকর্মীর সোনালী ব্যাংকের হিসাব (টাকা হস্তান্তরের রসিদ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত) মাধ্যমে ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে নিজেই কাজ করাতে থাকেন। এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তিনি নামফলকের কোনো কাজ করাননি। তবে নামফলকের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ঠিকাদারকে। টাইলসসহ অন্যান্য কাজ ঠিকাদার নিজেই করিয়েছেন। ঠিকাদার যে কারও ব্যাংক হিসেবে টাকা লেনদেন করতে পারেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। এদিকে উপজেলা পরিষদের ব্যয়ে নির্মিত ফলকগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের নাম উল্লেখ করায় সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান তার এলাকার দুটি নামফলক থেকে টাইলস অপসারণ করিয়েছেন। চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুর হোসেন বলেন, যেখানে উপজেলা পরিষদের টাকায় কাজ হয়েছে, সেখানে উপজেলা প্রশাসন তিনি কি করে লেখেন? যাকে দিয়েই কাজ করিয়ে থাকুক তা সমীচীন হয়নি। তাই নামফলক থেকে মিস্ত্রি দিয়ে টাইলস অপসারণ করিয়েছি। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ফলকে উপজেলা প্রশাসনের নাম রয়েছে যা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
6
ভারতে একদিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ২.৫৭ লাখ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আজ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। গত ৫ দিন ধরে ভারতে ৩ লাখের নিচে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৯ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ১৯৪ জনের। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
4
দ্বিতীয়বারের মতো শেখ কামাল ক্লাব কাপের ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। সোমবার (২৮ অক্টোবর) শ্বাসরুদ্ধকর প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের গোকুলাম কেরেলা এফসিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ম্যাচটিতে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে জোড়া গোল করেছেন দিদিয়ের ব্রসু। আর অন্য গোলটি করেছেন ম্যাথু চিনিদু। অন্যদিকে গোকুলামের হয়ে গোল করেছেন হ্যানরি কিসেক্কা ও মার্কাস জোসেফ। ম্যাচটিতে প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় গোকুলাম। প্রথমার্ধের পুরো সময় এই ব্যবধান ধরে রাখে তারা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের একদম শুরুতে ৪৭ মিনিটের মাথায় সমতা আনে চট্টগ্রাম আবাহনী। এরপর আবার ৮০ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় দুরান্ড কাপের চ্যাম্পিয়নরা। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র এক মিনিট আগে আবার গোল করে সমতায় ফিরে আবাহনী। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে ড্র হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এরপর ১০৫ মিনিটের মাথায় অসাধারণ গোল করে ফাইনাল নিশ্চিত করে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। ১০৫ মিনিটে চিনিদুর করা গোলটি প্রায় ঠেকিয়েই দিয়েছিলেন গোকুলামের গোলরক্ষক। কিন্তু তিনবারের চেষ্টায় সেটিকে গোলে রূপান্তর করতে সমর্থ হয় চট্টগ্রাম আবাহনী। এর আগে ২০১৫ সালের প্রথম আসরে খেলতে নেমেই চ্যাম্পিয়ন হয় চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ ক্লাবটি। কিন্তু ২০১৭ সালের দ্বিতীয় আসরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। ফলে এবারের আসরটি আকাশি-নীল জার্সিধারীদের জন্য ছিল শিরোপা পুনঃরুদ্ধারের মিশন। সেই মিশনের কাছে আরেকধাপ এগিয়ে গেল তারা। আগামীকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলতে নামবে মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু এফসি ও ভারতের মোহনবাগান।
12
রবিবার রাত তখন তিনটা। বচ্চন পরিবারে ধুমধাম করে দীপাবলির অনুষ্ঠান চলছে। সবাই মেতে উঠেছেন আনন্দে। আচমকাই আগুন ধরে যায় ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের বহুদিনের ম্যানেজার অর্চনা সদানন্দের পোশাকে। হঠাৎই 'হিরো'-র ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন কিং খান। অর্চনাকে বাঁচাতে গায়ের জ্যাকেট খুলে তা পরিয়ে দেন অর্চনার গায়ে শাহরুখের উপস্থিত বুদ্ধিতে এবং সাহসে বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন অর্চনা। জানা গেছে, সেদিন পার্টিতে রাত তিনটা বেজে যাওয়ায় অতিথিদের অনেকেই বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। অর্চনা কথা বলছিলেন এক পরিচালকের সঙ্গে। সে সময়ই ঘটে বিপদ। শাহরুখ না থাকলে হয়তো সেদিন প্রাণনাশও হতে পারত অর্চনার। ঝুঁকি ছিল, তা সত্ত্বেও নিজের বিপদকে তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যান শাহরুখ। শুধু রিল লাইফে নয়, রিয়েল লাইফেও যে তিনি 'সুপারহিরো' প্রমাণ মিলল আরও এক বার। সূত্র: আনন্দবাজার বিডি প্রতিদিন/কালাম
2
আইসিসির দ্বাদশ ওয়ার্ল্ড চেম্বার্স কংগ্রেসে যোগ দেবে আইসিসি বাংলাদেশ। ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেবেন আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আইসিসি ও ওয়ার্ল্ড চেম্বার্স ফেডারেশনের ১২তম ওয়ার্ল্ড চেম্বার্স কংগ্রেস ২৩-২৫ নভেম্বর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হচ্ছেন আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পূর্বাণী গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, ইভেন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, উত্তরা গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমান, সিসিসিআইয়ের সদস্য মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ ও আইসিসি বাংলাদেশের মহাসচিব আতাউর রহমান।
0
তথ্যে ভুল থাকলেও আমাদের তেমন কিছু যায়-আসে না। অভিধান বলছে, মধুমাস হলো চৈত্র। আর আমজনতা মধুমাস বলতে বোঝে জ্যৈষ্ঠ। আমরা, যারা জিব বাড়িয়ে, হাত বাড়িয়ে তালগাছের মতো এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকি জ্যৈষ্ঠের দিকে, তাদের জন্য জ্যৈষ্ঠ মধুমাস। এ ক্ষেত্রে আমরা 'ব্যাকরণ মানি না'র দলে।সে যা হোক। জ্যৈষ্ঠ যখন এসেই গেছে, তখন আম, কাঁঠাল, জাম-জামরুলে চারদিক রঙিন হয়ে থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। মধ্য দুপুরে ছয়তলার ছাদের ক্যানটিনে খেতে উঠে আমার চোখ কেবলই চলে যায় পাশের বাড়ির ছাদে। এই হতশ্রী শহরে সে ছাদের একটি টবে লাগানো হয়েছে জামরুলগাছ। সবুজ পাতায় ছাওয়া সে গাছে ঝুলে থাকে টুকটুকে লাল জামরুল। আর আমি বিস্বাদ 'বিমূঢ় কুক্কুট' মানে ফার্মের মুরগির ড্রামস্টিক চিবোতে চিবোতে সে জামরুলগাছের দিকে চেয়ে থাকি অপলক। আর ভাবি, দিন দিন জামরুলের সংখ্যা কমে যাচ্ছে আমার চোখের সামনে। কিন্তু আমি অসহায়। আর তখনই আমার মনের কোণে ভেসে ওঠে, এতটা অসহায় তো ছিলাম না কোনো দিন! বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তাদেরই গাছের কাঁচামিঠা আম পেড়ে আনার পরিকল্পনা তো আমারই ছিল কোনো এককালে। সে তো কম দুঃসাহসের কথা নয়। আজ সে বয়স নেই বলে থাক। আক্ষেপ করে লাভ কী।এখন আর সে দিনও নেই, সে বয়সও নেই। এখন হিসাব জানি। মে মাসের পনেরো তারিখের মধ্যে বাজারে পুরুষ্ট পাকা আম উঠতে শুরু করে। চলে জুলাই পর্যন্ত। সপ্তাহখানেক এদিক-সেদিক হয় বটে। কিন্তু এটাই সাধারণ সময়।আম নিয়ে বাঙালির পাগলামির কি আর অন্ত আছে? খাওয়ার ঐতিহ্য তো আছেই। আছে তার তরিকাও। এক জ্যেষ্ঠ নাগরিকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আম কাটার ভালো উপায় কী? তিনি চোখের পাতা না ফেলে বলেছিলেন, বাঁশের ধারালো ছিলকা অথবা ঝিনুক। কাটারি বা ছুরি দিয়ে আম কাটা মহাপাপ। কেন? তাতে কী কী সব থাকে, যা আমের স্বাদ নষ্ট করে। আম খাওয়ার সেরা উপায়? উত্তর, গাছের তলায় তীর্থের কাকের মতো দাঁড়িয়ে থাকা। তারপর যেই গাছপাকা আম পড়বে মাটিতে, অমনি সেটা খেয়ে নেওয়া। তাহলে কি গাছের ডাল ঝাঁকিয়ে, ঢিল ছুড়ে আম খাব না? উত্তর, খাবি। তাতে অপরিপক্ব আমও থাকে। সেটার স্বাদ গাছপাকার মতো হয় না। মোদ্দা কথা, আমের আসল স্বাদ পেতে গাছে পাকা আম খেতে হবে গাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে! তা না হলে নাকি 'অভিজাত' হওয়া যাবে না। আভিজাত্যের কথাই যখন উঠল, তখন রানি ভিক্টোরিয়ার ভারতীয় খেদমদগার আবদুল করিমের কথা না বলে চলবে কেন? 'ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আবদুল' নামে একটি সিনেমা নির্মিত হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেখানে দেখা যায়, ভারত থেকে সুদৃশ্য বাক্সে বন্দী হয়ে একটি আম পৌঁছায় রানির কাছে। যখন সেটি খোলা হলো, দেখা গেল সেটা থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আবদুল জানালেন, আমটি পচা। রানির মুখ গেল চুপসে, আম আর খাওয়া হলো না।কিন্তু মহান মির্জা গালিব (১৭৯৭-১৮৬৯) সে রকম কোনো বিপদে পড়েননি। 'এজিদের মতো থালায় বায়েজিদের মতো' খানা খাওয়া মানুষ ছিলেন তিনি। উর্দু ও ফারসি কবিতা, তাজা ফুল, সুপক্ব ও মুর্শিদাবাদের সুস্বাদু আম আর কাবাব-এসব না বুঝলে মির্জা গালিবকে বোঝাই হয় না। এই যে এসেছে আমের মৌসুম, হরেক রকম আমের গন্ধে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার যখন ম-ম করতে শুরু করেছে, তখন বাংলা সাহিত্য থেকে কোট করতে গেলে সেই 'আমসত্ত্ব দুধে ফেলি'তেই আপনাকে থামতে হবে। একটু অগ্রসর হলে অবশ্য রবীন্দ্রনাথের জাপান ভ্রমণে আম সঙ্গে নেওয়ার গল্পটা আসবে। আর? তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া মুশকিল। অথচ আমের মৌসুমে আপনি চোখ বন্ধ করে মির্জা গালিবকে স্মরণ করতে পারেন। গালিব বলেছিলেন, আমের দুটো গুণ থাকতে হবে, ১. হতে হবে প্রচুর মিষ্টি এবং ২. থাকতে হবে অসংখ্য। আমপ্রেমী বাঙালি, কোনো সন্দেহ আছে?
6
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) সদস্য প্রার্থীর দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্যকামার গাও ঘোষবাড়ীসংলগ্ন মিন্টু স্টোরে এ ঘটনা ঘটে।৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. মিন্টু শেখ বলেন, 'আমি কয়েক বছর ধরে এই ভিটির ওপর দোকানঘর তুলে ব্যবসা করছি। এই দোকানের ওপর নির্ভর করে আমার সংসার চলে। আজ (বুধবার) সকালে আমি ভাগ্যকুল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর পদে প্রতীক আনতে যাই। এ সুযোগে ভাগ্যকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মিলন খানের ছেলে মেহেদীর নেতৃত্বে শফি সর্দারের ছেলে শহিদ সর্দারসহ ৭-৮ জন মিলে দোকান ভেঙে প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।'সরেজমিন দেখা যায়, একটি টিনের তৈরি দোচালা পাটাতন দোকানের বেড়া ও খুঁটি মাটিতে পড়ে আছে। মাটি খুঁড়ে খুঁটিগুলো তুলে ফেলায় মাটির গর্তগুলো রয়ে গেছে। অভিযুক্ত মেহেদী বলেন, 'আমার জায়গায় মিন্টু শেখ দোকান তুলেছিলেন। তাঁকে আমি কয়েকবার বলার পরেও দোকান সরিয়ে নেননি। দোকানের সব মালামাল ফাঁকা জায়গায় রাখা আছে।'শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, 'অভিযোগ পেয়েছি, এটি নির্বাচনী কোনো সহিংসতা নয়। সেখানে অফিসার পাঠিয়েছি, ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
পূবালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি মোহাম্মদ আলীকে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে। মোহাম্মদ আলী পদোন্নতির আগে একই ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ২০০৮ সালে মহাব্যবস্থাপক ও চিফ টেকনিক্যাল অফিসার পদে পূবালী ব্যাংকে যোগ দেন। তিনি পূবালী ব্যাংকে তথ্যপ্রযুক্তি, কার্ড, শাখা পরিচালন, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং, গবেষণা, ট্রেজারি (ফ্রন্ট অফিস), আন্তর্জাতিক, কনজ্যুমারস ক্রেডিট, লিজ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রভৃতি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি এবং হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে পূবালী ব্যাংক নিজস্ব জনবলের সহায়তায় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার প্রস্তুত করে বেসরকারি খাতে সর্ববৃহৎ অনলাইন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। তিনি পূবালী ব্যাংকে , , প্রতিষ্ঠা এবং ও চালুকরণে নেতৃত্ব দেন। তিনি পূবালী ব্যাংকের কৌশল প্রস্তুতকরণ ও ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মোহাম্মদ আলী রংপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে -তে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১০ম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, আইবিএ থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (মার্কেটিং) এবং থেকে এমবিএ (ফিন্যান্স) করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পান। এ ছাড়া তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন। বিজ্ঞপ্তি
0
গফরগাঁওয়ের যশরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান হিমেলের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যশরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম রিয়েলসহ ১৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন মাহমুদুল হাসান।মামলায় বলা হয়, গত সোমবার রাতে যশরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে চেয়ার তারিকুল ইসলাম রিয়েল চেয়ারম্যানের নির্দেশে দৌলতপুর এলাকায় স্থানীয় যুবক খায়রুল, সুলতান, হজরত আলীসহ ১৫ থেকে ২০ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করেন।এ সময় তাঁরা মাহমুদুল হাসানকে কুপিয়ে আহত করেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের জগলু নামের আরেক কর্মী আহত হন। আহত মাহমুদুল হাসানকে দেখতে গতকাল হাসপাতালে যান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন বাদল।এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম রিয়েল বলেন, 'সেদিন আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।'
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী গণমাধ্যমকর্মী হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নারী হেনস্তার ঘটনায় দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আদনান আজিজ চৌধুরী বলেন, 'শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নয়, এ দেশের সরকারও নারীর প্রতি সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা এরূপ নিপীড়ন ও হেনস্তার ঘটনা ঘটতে দেখছি। এ ধরনের ঘটনাগুলো আমাদের প্রশাসন ও সরকারের ব্যর্থতা বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।'এ ঘটনার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে উল্লেখ করে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক অর্ণি আনজুম বলেন, 'এ ধরনের হেনস্তার ঘটনা নতুন নয়। এ জন্য দায়ী রাষ্ট্রব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা ও সিস্টেম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ধরনের হেনস্তার ঘটনা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জন্য অশনিসংকেত।'সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহসভাপতি শ্যামজিৎ পাল শুভ্র বলেন, 'ক্যাম্পাস এলাকায় এ ধরনের হেনস্তার ঘটনা সকল শিক্ষার্থীর জন্য লজ্জাজনক। সেই সঙ্গে এটি সকল নারী শিক্ষার্থীর জন্য হুমকির কারণ। এ ধরনের ঘটনায় সকলের প্রতিবাদ জানানো একান্ত জরুরি।'নারীর প্রতি সকল ধরনের অন্যায়, নিপীড়ন ও হেনস্তার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান অন্যান্য বক্তারা।সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহসভাপতি মাঈন আহমেদ, সহসাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ, রিপিয়ন চাকমা প্রমুখ।
6
নড়াইলে ৮টি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ৩ জনকে আটক করেছে র্যাব। সোমবার সদর উপজেলার চন্ডীবরপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন- চন্ডীবরপুর গ্রামের কালিপদ সাহার ছেলে বিশ্বজিত সাহা (৫১), মন্টু সরকারের ছেলে কালু সরকার (৫৫) ও দুলাল বিশ্বাসের ছেলে সাগর বিশ্বাস (২৮)। এ সময় রবি বিশ্বাস নামে একজন পালিয়ে যায়। র্যাব-৬ খুলনার স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মেজর শামীম সরকারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর ৫টার দিকে চন্ডিবরপুর গ্রামের বিশ্বজিত সাহার বাড়িতে অভিযান চালান র্যাব সদস্যরা। এ সময় ৮টি বোমা এবং বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত ডিভাইস, গান পাউডার, তার, সার্কিট ও ২০টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির ৫০টি সিম উদ্ধার করা হয়। মেজর শামীম সরকার বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এই চক্রটি সরঞ্জামাদী কিনে এনে বোমা তৈরি করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের কাছে বিক্রি করতো। এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
6
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের হালদা নদীর মাছ ও ডলফিনসহ জলজ প্রাণী রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত আছে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু গুটিকয়েক স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণে সরকারি-বেসরকারি সব চেষ্টাই ব্যাহত হচ্ছে। কড়া নজরদারির মধ্যেও গত ১১ জুন হালদা নদীতে বড়শি দিয়ে সাড়ে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ শিকার করেন হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নুরুল হকের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুছ ওরফে সোহেল। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী থেকে মাছ শিকারের দায়ে তাকে ১২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। একই ব্যক্তি গত ২৭ জুন হালদা নদীতে আবারো বড়শি দিয়ে চার কেজি ওজনের একটি রুই মাছ শিকার করেন। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও হালদা নদী গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া ভোরের কাগজকে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নাই। এরা শুধু হালদার নয়, দেশ ও জাতির শত্রু । এরইমধ্যে মা মাছসহ বড় মাছ শিকারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ডলফিনও হত্যা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার দুপুরে হালদায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাত্তার ঘাট থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত এ অভিযানে প্রায় তিন হাজার মিটার ঘেরা জাল ও ভাসা জাল জব্দ করা হয়। মা মাছ, ডলফিন ও হালদার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
6
শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ বুধবার সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দায়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছেলে ও তাঁর আরও ১৫ সহযোগীর ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালত পুলিশকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সোমবারের হামলার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে শ্রীলঙ্কার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে শপথ নিতে পারেন। তিনি দেশটির ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা।শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর জানিয়েছে, গতকাল বুধবার রাতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন রনিল।
3
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোম্পানীগঞ্জে কিছুদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা চলছিল, সে ব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। সেখানে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাংগঠনিক তদন্তও চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিগগিরই সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সকাল ১০টায় আক্কেলপুর মুজিবুর রহমান (এমআর) ডিগ্রি সরকারি কলেজ মাঠে এই সম্মেলন শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান ওরফে রকেট। সভাপতিত্ব করেন আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদ আলী। ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছেন। দল করলে দলীয় শৃঙ্খলা মানতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তিনি যত বড়ই নেতাই হোন না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ভালো আচরণ করার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'আমরা যদি জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ না করি, তাহলে শেখ হাসিনার সব উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে। আপনারা জনগণকে আচরণ দিয়ে খুশি রাখবেন, এটি শেখ হাসিনার বার্তা। আমি আপনাদের সেই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। জনগণই আমাদের শক্তি। কাজেই জনগণকে জিম্মি করে কোনো কর্মসূচি দেবেন না।' বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টেনে ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষিত না করার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সুসময়ে যাঁরা দলে আসছেন, তাঁরা বসন্তের কোকিল। দলের দুঃসময়ে এই বসন্তের কোকিলদের দেখা যাবে না। তখন তাঁরা সরে যাবেন, খুঁজে পাওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাঁচাতে হবে। খারাপ লোকদের দলে টেনে দল ও গ্রুপ ভারী না করার পরামর্শ দেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'দলের মধ্যে যাঁরা অপকর্ম, অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন, আমাদের নেত্রী কাউকেই ছাড় দিচ্ছেন না। আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরাও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। এখানে কোনো হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলে দেওয়া হয়েছে, সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। কে কোন পরিচয়ের, সেটা দেখবে না।' বিএনপির প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে বিএনপি সিদ্ধহস্ত। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে জনগণ ও পুলিশকে দাঁড় করিয়েছে। দলটি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে বিএনপি বিভিন্ন পৌরসভায় জয়ী হয় কীভাবে? বিএনপি অব্যাহত ব্যর্থতা আর ক্ষমতার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
9
কেউ বলছেন পাঁচ লাখ, কেউ বলছেন তার চেয়ে বেশি; কেউবা বলছেন লাখ দুয়েকের বেশি হবে না। বিশাল সমাবেশে মাথা গুনে জনসংখ্যা নির্ণয় করা যায় না। উখিয়া-টেকনাফের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অভিন্ন কোনো সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেল না। তবে গত ২৫ আগস্ট কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের সমাবেশে লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ যে হয়েছে, এ বিষয়ে কারও সংশয় নেই। এত বড় সমাবেশ এখানকার বাসিন্দারা আর কখনো দেখেনি। এক মাস অতিক্রান্ত হলেও তাই এই সমাবেশের কথা এখনো তাঁদের মুখে মুখে। সত্যি বলতে কি, এই বিশাল সমাবেশ ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলেছে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের। এক ডাকে এত লোক জড়ো করার সামর্থ্য যাদের আছে, তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এটি স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ, নাকি এর পেছনে কারও ইন্ধন ছিল? উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে যেসব দেশি-বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে, তাদের কোনো কোনোটির মধ্যে দুরভিসন্ধি আছে কি না, এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শঙ্কা-সংশয় আছে। তা ছাড়া, সমাবেশের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, এ নিয়ে সরকারের লোকজনেরই নানা বক্তব্যে বিভ্রান্তি বেড়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা আতঙ্কিত, কারণ এখানে নানা সময়ে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ঘটেছে, এসব ঘটনা সহিংস রূপও নিয়েছে। কিন্তু এভাবে একত্র হতে পারার শক্তিটা যদি অনুভব করতে পারে রোহিঙ্গারা, তাহলে তাদের মধ্যে যে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি আছে, তারা ইতিমধ্যে সংখ্যালঘু হয়ে পড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে (রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ, স্থানীয় বাসিন্দা সাড়ে ৫ লাখ) কোণঠাসা করে ফেলতে পারে। পত্রিকান্তরে এমন উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, 'রোহিঙ্গারা আমাদের রেড সিগন্যাল দিয়েছে।' উখিয়া কোর্টবাজার এলাকায় কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী আদিল চৌধুরীর কাছে স্থানীয় লোকজনের শঙ্কার যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাঁর লেখা তিনটি নিবন্ধের ফটোকপি এই লেখককে দিয়ে বলেন, 'আমার বক্তব্য এখানে আছে।' তাঁর একটি নিবন্ধের শিরোনাম 'একটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠার অপেক্ষায়।' তাতে এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, '...এই অগ্ন্যুত্পাত কখন হতে পারে? বিশাল রোহিঙ্গা শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকাটির জনজীবনে অগ্নি-উদ্গিরণ কখন শুরু হবে, তার দিনক্ষণ হয়তো বলা যাবে না, তবে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে অল্প অল্প ধোঁয়া দেখে যে কেউ বলবে বিপদ আসন্ন।' কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরসংলগ্ন মাঠে জনসভা আয়োজনের ব্যাপারে রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু অনলাইন টিভিতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। রোহিঙ্গা শিবিরে অন্তত ১০টি অনলাইন টিভি দীর্ঘদিন চালু ছিল। রোহিঙ্গারা মুঠোফোনে তাদের ভাষায় প্রচারিত অনলাইন টিভি চ্যানেলের খবর দেখে। এসব চ্যানেলের বেশির ভাগ প্রচারিত হয় দেশের বাইরে থেকে, বিশেষ করে দুবাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া থেকে। এসব চ্যানেলে প্রচারের জন্য উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন ফুটেজ পাঠানো হয়। টেকনাফ মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবদুল গনি বলেন, এই অনলাইন টিভি চ্যানেলগুলো খুবই বিপজ্জনক। কারণ, শিবিরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ লোকের হাতে মুঠোফোন আছে। যদি কোনো অপপ্রচার বা গুজব এই চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হয়, তাতে এখানে বড় ধরনের দাঙ্গা-ফ্যাসাদ বেধে যেতে পারে। এই অনলাইন টিভিগুলোতে বাংলাদেশ ও বাঙালিবিরোধী প্রচারণার দু-একটা ভিডিও ক্লিপ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসব তৎপরতা বন্ধ করতে সম্প্রতি প্রশাসন রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় থ্রি-জি, ফোর-জি মুঠোফোন সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এই উদ্যোগ যথেষ্ট কার্যকর ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এর আগে আরাকান রাজ্যে থাকাকালেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশিদের নামে ৩ লাখ সিম সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে। তা ছাড়া, রোহিঙ্গাদের অনেকেরই কাছে আছে মিয়ানমারের মোবাইল কোম্পানিগুলোর সিম। সেই কোম্পানিগুলো সীমান্তবর্তী এলাকায় টাওয়ার বসিয়ে থ্রি-জি, ফোর-জি সেবা চালু করায় রোহিঙ্গাদের পক্ষে মুঠোফোনের ব্যবহার দুঃসাধ্য নয়। এ ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের নাম-পরিচয় অনুযায়ী মুঠোফোনের সিম সংগ্রহ ও ব্যবহার করার অনুমতি দিলে নিয়মিত নজরদারি করা সম্ভব হতো বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা আগেও ঘটেছে। কিন্তু নিজের বাড়ি থেকে যুবলীগের নেতা ওমর ফারুককে তুলে পাহাড়ের অভ্যন্তরে নিয়ে গিয়ে খুন করার ঘটনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০১৭ সালে যখন বাস্তুহারা রোহিঙ্গারা দলে দলে এ দেশে আসছিল, তখন যাঁরা মানবিক কারণে এসব অসহায় মানুষকে আশ্রয় ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ওমর ফারুক ছিলেন অগ্রগণ্য। ওমর ফারুকের মৃত্যুর পর তাঁর এই মানবিক কর্মকাণ্ডের ছবি স্থানীয় পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হলে উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও রোহিঙ্গা শিবিরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন। ওমর ফারুকের হত্যাকাণ্ডের পর এ পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন অন্তত সাতজন রোহিঙ্গা। পুলিশ প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ দুর্বৃত্তদের যেমন আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে, তেমনি সাধারণ নিরীহ রোহিঙ্গাদেরও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। কারণ, বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের বড় অংশটিই নিরুপদ্রব এবং শান্তিপূর্ণ জীবন ও পরিবেশ চায়। উখিয়া থেকে কক্সবাজার শহরে এসে পৌঁছানোর দিন (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে খবর পেয়েছিলাম, টেকনাফের শালবন শিবিরে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন ওমর ফারুক হত্যাকাণ্ডের একজন রোহিঙ্গা আসামি। পরদিন সকালে রওনা দিয়েছিলাম টেকনাফের উদ্দেশে। যে এলাকায় বাস করতেন ওমর ফারুক, সেই জাদিমোরার একটি শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষণ্ন ও উদ্বিগ্ন চেহারা দেখেছি। ২৭ বছর বয়সী ইউএনএইচসিআরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী কেফায়েত উল্লাহ থেকে শুরু করে ৭০ বছর বয়সী হোসেন আহমদ-সবার কথায় মনে হলো, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে থাকতে চান তাঁরা। কিছু দুর্বৃত্তের জন্য বাঙালি ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে অশান্তি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে তাঁদের ধারণা। কুতুপালং এলাকায় রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশ ও ওমর ফারুক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বলেও দাবি করলেন তাঁরা। মো. ইয়াছিন নামের এক তরুণ ও তাঁর মা রাজুমা খাতুন বললেন, 'ওমর ফারুক ছেলেটি বড় ভালো ছিল।' একটি খুনের ঘটনা ও একটি বিশাল সমাবেশ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিভেদ বাড়িয়ে তুলেছে, এ কথা মনে করেন কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনও। তবে দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পুলিশ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, 'একদিকে হত্যাকারীদের শাস্তি দিয়ে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তদের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁদের বোঝাতে চাই, যাঁরা আপনাদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন না। অন্যদিকে স্থানীয়দেরও বুঝিয়ে বলেছি, রোহিঙ্গারা এখানে আছে, প্রত্যাবাসনে বিলম্ব হচ্ছে-এটা বাস্তবতা। তারা অপরাধ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা সংঘাত এড়িয়ে চলুন।' পুলিশ প্রশাসনের এসব কথায় আমরা আশ্বস্ত হতে চাই। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যত প্রলম্বিত হবে, স্থানীয় ব্যক্তিরা তত হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবেন, এটাই স্বাভাবিক। এখন মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়াতে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতার সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। বিশ্বজিৎ চৌধুরী: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক, কবি ও সাহিত্যিক[]
8
তিতাস উপজেলার শিবপুর-লালপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। এতে সরু হয়ে গেছে সড়ক। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যান। সরু সড়কেও আগের মতো দ্রুতগতিতে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। আশঙ্কা করা হচ্ছে দুর্ঘটনার।সড়কটি গৌরীপুর-হোমনা সড়কের শিবপুর স্টেশন থেকে শাহপুর, লালপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দির শহিদনগর স্টেশন পর্যন্ত গেছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে কয়েক শ সিএনজিচালিত অটোরিকশা।এ ছাড়া দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে যানজটের সৃষ্টি হলে সড়কটি ব্যবহার করে হোমনা ও বাঞ্ছারামপুর এলাকার ঢাকামুখী যানবাহন। এতে ব্যস্ত সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন শিবপুর, শাহপুর ও লালপুর গ্রামের মানুষ।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষার পানি কমতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সড়কের শাহপুর অংশের মাটি ধসে পাশের জলাশয়ে পড়ছে। এলাকাবাসীর ধারণা, বৃষ্টির কারণে সড়কের মাটি নরম হয়ে গেছে। এ কারণে এ ধস।এ ছাড়া সড়কটিতে ইট, বালু ও অন্যান্য মালবাহী ভারী যান চলাচল করছে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।লালপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, 'শাহপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে থেকে লালপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খারাপ। সড়কটি আমাদের একমাত্র ভরসা। এ দিয়েই গ্রামের বাসিন্দাদের ইউনিয়ন অফিস, উপজেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গৌরীপুর বাজারে যেতে হয়।' শিগগির সড়কটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।শাহপুর গ্রামের স্বপন মিয়া বলেন, এ বছর অতিবৃষ্টি হয়েছে। এখন বর্ষার পানি কমতে শুরু করায় সড়কের অনেক স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।শিবপুর গ্রামের ফজলুল হক বলেন, 'সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিগগির মেরামতের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।'মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক মিয়া সরকার বলেন, 'বর্ষার পানি ও অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের মাটি নরম হয়ে গেছে। এতে মালবাহী যান চলাচল করতে গিয়ে সড়কে ধস দেখা দিচ্ছে। সড়কের যেসব স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে, তা মেরামত করতে উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।'উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, 'সড়কটির কিছু অংশে ধসের খবর জেনেছি। মেরামত করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে বলেছি।'
6
তিন দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে আজ থেকে অনুশীলনে নামার কথা ছিল পুরো বাংলাদেশ দলের। তবে এখনই অনুশীলনে নামা হচ্ছে না দলের একটা অংশের। অধিনায়ক মুমিনুল হকসহ দলের চার ক্রিকেটার তো আছেনই। কোচিং ও অফিশিয়ালসহ দলের ৯ সদস্যকে সাত দিনের অতিরিক্ত কোয়ারেন্টিন করতে হবে।দুবাই থেকে নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার বিমানে চার ক্রিকেটারের কাছাকাছি থাকা এক যাত্রী করোনা পজিটিভ হয়েছেন। মুমিনুলসহ ওই যাত্রীর কাছাকাছি ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও ইয়াসির আলী রাব্বি। নিউজিল্যান্ডে গিয়ে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও সতর্কতা হিসেবে এখন বাড়তি সাত দিনের কোয়ারেন্টিন করতে হবে তাঁদের। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার কোয়ারেন্টিনের চতুর্থ দিনে জিম সেশন করেছেন ক্রিকেটাররা। আজ তাঁদের নেটে অনুশীলন করার কথা।
6
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলা দলগুলো স্কোয়াড দিয়েছে গত মাসে। কোনো কোনো দল তো বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ওমানেও পৌঁছে গেছে।তবে এখনো দলের পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে। আগামী ১০ অক্টোবর যেটির শেষ সময়। এর দুদিন আগে গতকাল শুক্রবার পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ দলে তিন পরিবর্তন এনেছে।দলে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে থাকা ফখর জামান ঢুকেছেন ১৫ সদস্যের মূল দলে। ফখরের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন হায়দার আলী ও সরফরাজ আহমেদ। এই তিন ক্রিকেটারকে জায়গা দিতে সরে যেতে হয়েছে আজম খান, খুশদিল শাহ ও মোহাম্মদ হাসনাইনকে। খুশদিল শাহকে ১৫ সদস্যের দলে না রাখা হলেও আছেন অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন আনা নিয়ে কথা বলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাচক ওয়াসিম খান। ওয়াসিম বলেছেন, 'ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে দলে হায়দার আলী, ফখর জামান ও সরফরাজ আহমেদকে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলে এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও আলোচন করা হয়েছে।'পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দল: বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান (সহ-অধিনায়ক), আসিফ আলী, ফখর জামান, হায়দার আলী, হারিস রউফ, হাসান আলী, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, সরফরাজ আহমেদ (উইকেটরক্ষক), শাহিন শাহ আফ্রিদি, শোহেব মাকসুদ।রিজার্ভ বেঞ্চ: খুশদিল শাহ, শাহনেওয়াজ দানি ও উসমান কাদির।
12
যুক্তরাজ্যে লন্ডনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অপরাধে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ব্রিটেনের একটি আদালত। শুক্রবার (১৯ মার্চ) দক্ষিণ লন্ডনের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী মুন্না হামযাকে ব্রিটেনের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এই শাস্তি দিয়েছেন উলউইচ ক্রাউন কোর্ট। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী কমান্ড। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৬ এর সেকশন ১ এর ২ ধারা মোতাবেক হামজাকে এই সাজা দেয়া হয়েছে। খবরটি মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এই রায় অন্য উস্কানিদাতাদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরিরিজম কমান্ডার রিচার্ড স্মিথ।
6
আর কে মিশন রোড। টিকাটুলী মোড় হয়ে এ রাস্তাটি গিয়ে মিশেছে মানিকনগর বিশ্ব রোডে। এক কিলোমিটারের এ রাস্তায় ২৫৭টি গর্ত। কোনোটি ছোট আবার কোনো কোনোটি বড় আকারের। বড় গর্তগুলোতে গাড়ির চাকা ঢুকে যায়। নির্দেশনার জন্য গর্তগুলোর ভেতরে বাঁশ ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে চালকেরা বুঝতে পারেন। তার পর প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি এই গর্তে আটকে যাচ্ছে। টিকাটুলী ব্রাদার্স ক্লাব ও রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে দিয়ে এ সড়কটি গিয়ে মিশেছে বিশ্ব রোডের সঙ্গে। কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনটি গেছে এ রাস্তার বুক চিড়ে। রাস্তাটির ডানে-বায়ে আরো কিছু ছোট ছোট রাস্তা ঢুকেছে। আর কে মিশন রোডটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। এরা প্রতিক্ষণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চলাচলে। দিন যত যাচ্ছে রাস্তায় গর্ত, গর্তের আয়তন ও গভীরতাও ততই বাড়ছে। মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে। সুমন নামের এক গাড়িচালক বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই এ রাস্তাটির বেহাল দশা। রাস্তাটির মধ্যে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে ভয় লাগে। কখন কোন গর্তে গাড়ির চাকা আটকে যায় সেই আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিনই এরূপ ঘটনা ঘটছে। কোনো সতর্কতায় কাজ হয় না। অপর গাড়িকে সাইড দিতে গেলেই ফসকে গাড়ির চাকা পড়ে যায় গর্তে। দিদার নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তার গর্তের মধ্যে পানি জমে গেলে গাড়ির চাকায় তা ছিটকে প্রায়ই দোকানে ঢুকে যায়। অনেক সময় দেখা গেছে দোকানের অনেক টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। দিদার বলেন, গোলাপবাগ, মানিকনগর, গোপীবাগ, মুগদা, বাসাবো, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদসহ ঢাকা পূর্ব এলাকার লাখ লাখ বাসিন্দা এ রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন। অথচ এ রাস্তাটির কোনো বাবা-মা নেই। কে সংস্কার করবেন, কার কাছে বললে রাস্তাটি সংস্কার হবে তা-ও জানেন না স্থানীয়রা। মাঝে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের কাছে তারা অনেকবার বলেছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। জাকির নামের এক পথচারী বলেন, এ রাস্তাটিতে দিনভর যানজট লেগে থাকে। অথচ পুরো রাস্তাটি এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রেললাইনের ওপার থেকে বিশ্ব রোড পর্যন্ত এখন আর চলাচলের উপযোগী নেই। মানুষ হাঁটতেও পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই পানি ও কাঁদা জমে যায়। জাকির বলেন, কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেলে তিনি বাসায় যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে বাজার সদাই বাঁধা ছিল। গর্তে পড়ে তিনি ছিটকে পড়ে যান। আর অনেক টাকার বাজার সদাই রাস্তার পানিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে যায়। জসিম শিকদার নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তাটি এ এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় রাস্তার গর্তে রিকশার চাকা আটকে গিয়ে রিকশা উল্টে যাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় না স্কুলগামী শিশুরা রিকশা থেকে ছিটকে পড়ছে।মোশাররফ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় বৃষ্টি হলে। তখন আর গর্তগুলো দেখা যায় অপরিচিত গাড়ি চালকেরা বুঝতে না পেরে ওই গর্তের মধ্যে পড়ে যান। মোশাররফ বলেন, তারা সম্ভাব্য সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু রাস্তাটির সংস্কার হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে দেখা যায় আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটের ময়লা দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করা হয়। গর্তের মধ্যে ওই ময়লা ফেলার পর দুর্গতি আরো বাড়ে।
6
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮০০ জনবল নিয়োগে ব্যাপক ঘুষ লেনদেন ও অনিয়ম-দুর্নীতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি, বলেছে, অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশের প্রায় ছয়মাস পর, 'খাতায় অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে'- এই কারণ দেখিয়ে শুধু সেই বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল করাই যতেষ্ঠ নয়। এই ঘটনায় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘুষ লেনদেন ও অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে শুধুমাত্র 'খাতায় অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে' উল্লেখ করায়, প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনায় আদৌ দুর্নীতি হয়েছে কিনা, কিংবা হয়ে থাকলে তাদের পরিচয় এবং কিভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে, তা অমীমাংসিত থেকে গেছে। ড. জামান বলছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত যেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হলো, সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে পদস্থ সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ প্রস্তাব করার অভিযোগ ছিল। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কিনা বা জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নগুলো অবান্তর নয়। বরং আমরা মনে করি, দুর্নীতির যে ভয়াবহ বিস্তারের ইঙ্গিত সেই প্রতিবেদনে ছিল, তার প্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপই প্রত্যাশিত ছিল। আমাদের আশঙ্কা, অনিয়মের তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ায় নিয়োগ বাতিল করে আপাতত বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, এবং কার্যত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটকেই টিকিয়ে রাখা হলো। পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কথিত 'উপরমহলে'র যোগসাজশের সন্দেহটাও ঘনীভূত হলো। স্বাস্থ্যখাতে বিগত বছরগুলোতে যে পরিমান অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ পেয়েছে তার প্রেক্ষিতে এই পুরো খাতটি ঢেলে সাজানোর জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে, কেউ স্বাস্থ্য খাতে বড় কোন দুর্নীতি দেখাতে পারেনি- এমন সব মন্তব্য করে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আর নেই। পক্ষ-বিপক্ষের বিবেচনার ঊর্দ্ধে উঠে প্রতিটি অভিযোগের সুষ্টু তদন্ত করে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। বিশেষ করে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যতো ধরণের অভিযোগ, এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নানামুখী স্বার্থ ও সংশ্লিষ্টতার কথা আলোচিত হয়েছে- তার প্রেক্ষিতে সামগ্রিক শুদ্ধাভিযান এখন সময়ের দাবি। টিআইবি আশা করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষিত 'শুন্য সহনশীলতা' নীতির যথাযথ বাস্তবায়নের শুরুটা হবে এই স্বাস্থ্যখাত থেকেই। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সামগ্রিকভাবে সরকারের পাশাপাশি, দুর্নীতি দমন কমিশনকেও দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
6
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক কৃষ্ণা রায় চৌধুরীকে চাপা দেওয়া বাসের চালক মো. মোরশেদ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার হাতিরঝিল থানা পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। কৃষ্ণার ওপর বাস উঠিয়ে তার পা থেঁতলে দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও চালক দাবি করেছেন, বাসটিতে সমস্যা ছিল। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তবে মামলার অপর দুই আসামি বাস মালিক ও বাসটির হেলপারকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত ২৭ আগস্ট রাজধানীর বাংলামটর এলাকায় নিজের অফিসের উল্টো পাশের সড়কের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন কৃষ্ণা রায়। ওই সময়ে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টের একটি বাস ফুটপাতে উঠে তাকে ধাক্কা দেয়। পরে দুই দফা অস্ত্রোপচারে তার বাঁ পা ঊরু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় বাসের মালিক, চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা করেন কৃষ্ণার স্বামী রাধে শ্যাম চৌধুরী। দীর্ঘদিনেও মামলাটির তদন্ত সংস্থা থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হওয়ার পর গত সোমবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা মূল অভিযুক্ত চালক মোরশেদকে গ্রেফতার করেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ জানান, ঘটনার দিন তিনি বদলি চালক হিসেবে বাসটি চালান। এর আগে প্রাইভেটকার চালালেও ওই দিনই প্রথম বাস চালানোর সুযোগ পান। তিনিফার্মগেট থেকে শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় বাংলামটর ক্রসিংয়ের অদূরে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায়। এতে ওই নারী চাকার নিচে চাপা পড়েন। পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী কমিশনার সালমান হাসান সমকালকে বলেন, জবানবন্দির পর মোরশেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্ঘটনার দিন বাসটিতে প্রথম ওঠায় ওই চালক তার হেলপারের নামটিও জানাতে পারেনি।
6
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. মান্নান মাতুব্বরকে হত্যা মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গত ২৮ মে জামিনের জন্যে ফরিদপুর জজ কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ২০২১ সালের ২৩ জুলাই বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী কাজীপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে শহিদুল ফকির ওরফে শহীদ ফকির নামে জনৈক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সায়েম শেখের ছেলে আ. মান্নান শেখ (৬৫) বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই দায়ের করা ওই হত্যা মামলায় পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. মান্নান মাতুব্বরকে এক নং আসামি করা হয়। এছাড়া চেয়ারম্যান আ. মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা বোয়ালমারী থানায় চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছি। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জেল হাজতে আছেন জেনে এ বিষয়টি আমি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।
6
আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন দলটির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব
6
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাইফ্লো অক্সিজেন ক্যানোলাসহ ২১টি অক্সিজেন সরবরাহ সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদের উদ্যোগে এসব সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন কচুয়ার সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ড. সেলিম মাহমুদ। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড সেলিম মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বাংলাদেশ তথা বিশ্বমানবতার এই ক্রান্তিকালে আমাদের সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন। এই আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে তার পক্ষ থেকে আমি কচুয়ার মানুষের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে ও কচুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ূব আলী পাটোয়ারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী, কচুয়ার পৌর মেয়র ও যুব লীগের সভাপতি নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক মাহবুব আলম, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসানুল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কামরুন্নাহার ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আমির হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন দুলাল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্তার হোসেন সোহেল ভূঁইয়া, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন সরকার, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাচ্ছেল খান প্রমুখ।
6
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার সরকারহাট বাজারে গতকাল রবিবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিপুল পরিমাণ সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারহাট বাজারে সওজ বিভাগের জায়গা দীর্ঘদিন পর্যন্ত অবৈধ দখলে থাকায় বাজারে যানজট ছিল নিত্য ব্যাপার। জেলা প্রশাসনের সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়ার পর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিন্ধান্ত হলে গতকাল রবিবার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীন, সড়ক বিভাগের ম্যাজিষ্ট্রেট মনোয়ারা বেগম,সওজর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার ও সওজর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে দুইটি স্কেভেটার প্রায় ৫০ জন শ্রমিক দিনভর কাজ করেন। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,গ্রাম পুলিশ উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সরকারহাট বাজারে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় এক শ্রেনীর লোক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে রেখে ছিল। এতে করে এ বাজারে যানজট ছাড়া ও জনচলাচল কষ্টসাধ্য ছিল। জনস্বার্থে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এতে তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকার মূল্যের সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
6
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমল ফেসবুকের। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের শেষ তিন মাসে দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৯২ কোটি ৯০ লাখ। এর আগের তিন মাসে এই ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল ১৯৩ কোটি। এদিকে ফেসবুকের আয় নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রতিযোগী টিকটক ও ইউটিউবের চেয়ে তাদের আয় কমেছে। এর পেছনে অন্যতম একটি কারণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিমাণ কমিয়েছে। এরপর মেটার শেয়ারের দামও কমেছে নিউইয়র্কে। এর মূল্য প্রায় ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। মেটার পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসার পর টুইটার, স্ন্যাপচ্যাট ও পিনট্রেস্টের শেয়ারের দামও কমেছে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, ফেসবুকের ব্যবসা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারী, বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার কমিয়ে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনী সংস্থাটি গুগলের। এরপরই মেটার বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের অবস্থান। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন কমেছে। এর কারণে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের লক্ষ্য অনুসারে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। মেটার চিফ ফিন্যান্সিয়াল কর্মকর্তা ডেভ ওয়েহনার বলেন, চলতি বছরে প্রতিষ্ঠাটির আয়ে প্রভাব ফেলবে এসব পরিবর্তন। এতে আর্থিক মূল্য হতে পারে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার।
3
আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের হোতা আজম খানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। চাকরির নামে দুবাইয়ে দেশের হাজারেরও বেশি তরুণী-কিশোরীকে পাচার করে তাদের অনৈতিক কাজে জড়াতে বাধ্য করার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গত বছরের ২ জুলাই সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর লালবাগ থানায় একটি মামলা করে। আজম খানকে সহযোগীসহ গ্রেফতারের পর সেই বছরের ১২ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম প্রধান ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছিলেন, দুবাইয়ে মানবপাচার চক্রের গডফাদার আজমের বিলাসবহুল হোটেলের সন্ধান পেয়েছি। তিনি ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড ও হোটেল সিটি টাওয়ারের অন্যতম মালিক। এর মধ্যে তিনটি ফোর স্টার, একটি থ্রি স্টার মানের। তিনি বাংলাদেশে অর্ধশত দালালের মাধ্যমে কিশোরী অথবা ২০-২২ বছরের মেয়েদের উচ্চবেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করতেন।' তিনি জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজম স্বীকার করেছেন গত আট বছরে তিনি হাজারেরও বেশি তরুণীকে দুবাই পাচার করেন। সে বছরের ১৩ জুলাই এ বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আজম খান। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
বাস ভাড়া বৃদ্ধির পদক্ষেপকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু। মঙ্গলবার নিজ বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন আমির হোসেন আমু। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি বাসভাড়া বৃদ্ধির পদক্ষেপ অমানবিক। আমরা জানি অধিকাংশ বাসই গ্যাসে চালিত। কিন্তু গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি না হওয়ার পরও সব বাসের ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ ১৪ দল পায় না বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, হয় গ্যাসচালিত বাসের সিলিন্ডার নিয়ে নিতে হবে, এই বাসব্যবস্থাই বাদ দিতে হবে। সবাইকে তেলে আনতে হবে। না হলে, বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে জনগণের যাতে স্বস্তি হয় সেরকম বাসভাড়া নির্ধারণের দাবি করছি। পণ্যের দাম কমাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সরবরাহ ও উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও অহেতুক দফায় দফায় যে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে সেদিকে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বসে তা সুরাহা করার আহ্বান জানান তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেজিডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পান্নু শেখ, মাহাবুর মোল্লা, ইনামুল মোল্লা, মান্নান মোল্লা, শরিফুল মোল্লা, আলমগীর হোসেন,আক্কাজ মল্লিক, আজিম শেখ, আল-আমিন মোল্লা, ইকরাম মল্লিক ও সুমন শেখকে আলফাডাঙ্গা এবং পাশ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কার্শিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়াহয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাতে বেজিডাঙ্গা গ্রামের দিনমজুর মিরান শেখের মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র পক্ষ দেখতে আসাকে কেন্দ্র করে গ্রামের মাসুদ মাস্টার মোল্লা ও আলমগীর হোসেন পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির হয়। সেই সূত্র ধরে মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অনন্ত ১৫ জন আহত হয়। আলফাডাঙ্গা থানার ওসি রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
6
টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী স্বাগতা মাঝেমধ্যে উপস্থাপনাও করেন। কখনো কখনো চলচ্চিত্রেও দেখা গেছে তাঁকে। অভিনয় করেছেন 'শত্রু শত্রু খেলা' ছবিতে মান্নার নায়িকা হিসেবেও। ২০১০ সালে এই অভিনয়শিল্পীর 'সূচনা রেখার দিকে' ছবিটি মুক্তি পায়। প্রায় এক দশক পরে অভিনয় করলেন নতুন চলচ্চিত্রে-তবে একটি নয়, তিনটি ছবিতে।স্বাগতা অভিনীত নতুন ছবি তিনটি হচ্ছে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের 'পাপ পুণ্য' এবং অন্য দুটি নূরুল আলম আতিকের 'লাল মোরগের ঝুঁটি' ও 'মানুষের বাগান'। স্বাগতা জানান, একেবারে নীরবে ছবি তিনটির শুটিং শেষ করেছেন। ইচ্ছে করেই তিনি খবরটি কাউকে জানাননি। স্বাগতা বলেন, 'গল্প ভালো না লাগলে ছবিতে কাজ করার আগ্রহ পাই না। সর্বশেষ যে ছবিটির কাজ করেছিলাম, সেটি সরকারি অনুদানের ছিল, গল্পও ভালো লেগেছিল। এরপর কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও গল্প ভালো লাগেনি। নতুন তিনটি ছবির গল্প ভীষণ ভালো লেগেছে। কাউকে জানাতে চাইনি, চেয়েছি আগে শুটিং শেষ হোক, তারপর জানাব। তবে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। বড় পর্দায় নিজেকে দেখার জন্য এক্সাইটেড হয়ে আছি।' স্বাগতা আরও বলেন, 'আমি বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করলেও সরকারি অনুদানের ছবিতে কাজ করার একটা সুপ্ত ইচ্ছে ছিল। "সূচনা রেখার দিকে'' সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে অনেক বেশি আনন্দিত হয়েছিলাম। চরিত্রটি অনেকটা স্বপ্নের মতো ছিল।' 'সূচনা রেখার দিকে' সিনেমার একটি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন স্বাগতা। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সিনেমার কোনো গানে কণ্ঠ দেন তিনি। সাড়ে তিন বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে স্বাগতা সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। তাঁর প্রথম সিনেমা 'লিনজা'। এরপর একে একে 'সম্মান', 'সতীপুত্র আবদুল্লাহ' ও 'টপ মাস্তান' সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। ২০০৬ সালে স্বাগতা প্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন 'শত্রু শত্রু খেলা' সিনেমায়। এতে স্বাগতা অভিনয় করেন মান্নার বিপরীতে। এ ছাড়া 'কোটি টাকার ফকির', 'অশান্ত মন', 'ডুবসাঁতার' ও 'ফিরে এস বেহুলা' সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন স্বাগতা।
2
ভাসানচর রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সির (ইউএনএইচসিআর) হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি। তিনি বলেছেন, ওইসব রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চায় ইউএনএইচসিআর এবং জাতিসংঘের অংশীদাররা। তারা বুঝতে চায় ওইসব রোহিঙ্গার আকাঙ্খা সম্পর্কে এবং ওই দ্বীপে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চায়। রোববার তিনি এ নিয়ে একটি টুইট করেছেন। তাতে ফিলিপ্পো বলেছেন, যেকোন স্থানান্তর অবশ্যই স্বেচ্ছায় এবং জ্ঞাত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হতে হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউএন নিউজ। এতে বলা হয়, মিডিয়ার রিপোর্ট অনুসারে প্রায় ১৬০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে কক্সবাজারের আশ্রয় শিবির থেকে বঙ্গোপসাগরের বুকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই দ্বীপটি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঝুঁকিপ্রবণ। উল্লেখ্য, কক্সবাজারে আশ্রয় শিবিরে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে অবস্থিত জাতিসংঘ অফিস বলেছে, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি অথবা তাদের শনাক্তকরণের সঙ্গে তাদেরকে জড়িত করা হয়নি। এক বিবৃতিতে ওই অফিস বলেছে, ভাসানচরে যেকোনো পুনর্বাসন হওয়া উচিত প্রযুক্তিবিষয়ক সুরক্ষার অধীনে। ভাসানচরে শরণার্থীদের বসবাসের নিরাপত্তা, উপযোগিতা ও তা টেকসই কিনা তা নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চায় জাতিসংঘ। একই সঙ্গে সুরক্ষা কাঠামো, সহযোগিতা এবং মূল ভূখন্ডে ফেরার উপযোগিতা যাচাই করে দেখতে চায় তারা। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সরকার ভাসানচর প্রকল্প ঘোষণার সময় থেকেই এই স্থানান্তর পরিকল্পনা ভালভাবে বুঝতে গঠনমূলক আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে আসছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি, প্রক্রিয়া ও অপারেশনাল ইস্যু বিবেচনার জন্য প্রস্তাব দিয়ে আসছে। (আমরা) এখনও এই আলোচনা অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক। রোহিঙ্গা সঙ্কটের শুরু ২০১৭ সালের আগস্টে। ওই সময় মিয়ামনারের পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র একটি গ্রুপ পুলিশের আউটপোস্টে হামলা চালায়। এর পর রোহিঙ্গাদের ওপর শুরু হয় ধারাবাহিক আক্রমণ। এসব রোহিঙ্গার বেশির ভাগই মুসলিম। মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো এবং জাতিসংঘের সিনিয়র কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ওই হামলাকে জাতি নিধনের উদ্দেশে বলে অভিহিত করেছেন। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ওই নৃশংস হামলার পর ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জীবনের মায়ায় পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। তাদের সঙ্গে পোশাক ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের এই ঢল নামার আগে থেকেই এখানে অবস্থান করছিলেন মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত আরো কমপক্ষে দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী।
3
যানজটের সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। রমজানের মধ্যে অফিস-আদালতের পাশাপাশি এবার পুরোদমে চলছে ক্লাস চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও। তাই এবারের রমজানে যানজটের মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। এর আগে যানজটে বাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা আটকে থাকতে দেখলেও এ বছর শুরু হয়েছে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) ইফতারের আগ মুহূর্তে চট্টগ্রামের হালিশহরে সল্টগোলা লেভেলক্রসিংয়ে এমনই অদ্ভুত দৃশ্যের দেখা মিলেছে। এর আগে গত মাসেও সল্টগোলায় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফয়সাল সিয়াম নামে এক ব্যবহারকারী একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, "শুধুমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব। চলন্ত ট্রেন আটকে গেলো জ্যামের মধ্যে।" মাত্র ১৯ ঘণ্টা আগে শেয়ার করা ভিডিওটি এরই মধ্যে দেখেছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। শেয়ার করেছেন অন্তত ৩ হাজার ব্যবহারকারী। ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেন চলে এলেও লেভেলক্রসিংয়ের গেট খোলা। আর ক্রসিংয়ের ওপরেই দাঁড়িয়ে আছে যানজটে আটকে থাকা যানবাহনের সারি। ফলে, চলন্ত ট্রেনটিই জ্যামের মধ্যে এসে দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। গত ১৭ মার্চ পিয়াল নামে আরেক ব্যবহারকারী একই ক্রসিংয়ে আরেকটি ট্রেন আটকে পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। স্থানীয়রা জানান, এটি বন্দরের ট্রেন। সাধারণত বন্দর থেকে ট্রেনটি বের হওয়ার সময় লেভেলক্রসিংয়ে জ্যাম থাকার কারণে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
6
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদকে স্মরণ করেছে নরসিংদীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহীদ আসাদের নিজ বাড়ি শিবপুরের ধানুয়ায় কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী আসাদের কবরে ফুল দেওয়াসহ তার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া শহীদ আসাদ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে আসাদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ আসাদ ১৯৪২ সালের ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর থানার ধানুয়া গ্রামে। বাবার নাম আলহাজ মোহাম্মদ আবু তাহের। তিনি ১৯৬০ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মানসহ এমএ পাস করেন। ১৯৬৯ এর এই দিনে ঢাকার রাজপথে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। সেই থেকে দিবসটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন
6
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দাম বাড়ানো হলেও এখন কেন কমানো হচ্ছে না বলে ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্ধিত সভার উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।প্রয়োজন ছাড়াই তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, 'বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এই অজুহাতে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন তো তেলের দাম কমছে। কিন্তু দাম কমানো হচ্ছে না কেন? এর আগেও তেলের দাম বিশ্ববাজারে খুবই কম ছিল তখনো তেলের দাম কমানো হয়নি।'জ্বালানি তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয় দাবি করে তিনি বলেন, 'ট্যাংকার বা পাইপ লাইন ছাড়া তেল পাচার করা অসম্ভব। কোনো দেশেই জ্বালানি তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম প্রতি লিটার ৭ টাকা রেখেছিলেন। এখন সেই ডিজেলের দাম ৮০ টাকা।'তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে লাখ লাখ মানুষ পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছে জানিয়ে এই বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, 'ন্যাচারাল গ্যাসে চালিত বাস গুলোও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে অথচ গ্যাসের দাম বাড়েনি। আবার সরকার যতটুকু ভাড়া বাড়িয়েছে, শ্রমিকেরা তার চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করছে। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে তাদের পথে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।'জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরও বলেন, 'সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল দিচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কারও নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। কৃষক যে পণ্য ৫ টাকায় বিক্রি করে রাজধানীতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে অনেক গুন। কিন্তু আমাদের দেশের বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই।আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর কোনো প্রেম নেই জানিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, 'আমাদের সঙ্গে প্রেম করে আওয়ামী লীগ তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়েছে। এখন আমাদের ওপর নির্যাতন করছে। আর কোনো জোট নয়, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে তিন শ আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবে।'জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসন বাবলার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির প্রমুখ।
9
বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মনে করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) রাজশাহী মহানগরের নেতারা। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁরা এ কথা বলেন।বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ, মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী মহানগর জাসদ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জাসদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী। বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপ্রস্তুত থাকা ও গাফিলতির কারণেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কয়েকজনের প্রাণ ঝরে গেল।গুজব রটনাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভেতরেও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ঢুকে পড়ে ঘরকাটা ইঁদুরের মতো ষড়যন্ত্র ও লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছে। এদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জাসদের মহানগর সাধারণ সম্পাদক আমিরুল কবির বাবু, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, আশরাফুল ওমর দুলাল, জেলা কমিটির সহসভাপতি শামসুল জামান, মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল করিম কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সুজন, সদস্য ফয়সাল রহমান প্রমুখ। মানববন্ধনের আগে নগরীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
6
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সঙ্ঘটিত যাবতীয় অনিয়ম তদন্ত করে সুরাহার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অন্য দিকে নির্বাচনী অভিযোগ আইনগতভাবে মোকাবেলার কথা বলেছে জাতিসঙ্ঘ। অনিয়মের কারণে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ হয়েছে। অনিয়মের এসব অভিযোগ স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করে সুরাহা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ওয়াশিংটন থেকে গতকাল মঙ্গলবার দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের উপ-মুখপাত্র রবার্ট পেলাডিনো বলেছেন, নির্বাচনের আগে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। এ কারণে বিরোধীদলীয় অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা অবাধে প্রচারণা চালাতে পারেননি। নির্বাচনের দিন অনিয়মের কারণে কিছু ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনকে এসব অনিয়মের দাবি সুরাহা করতে গঠনমূলকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দারুণ রেকর্ড এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এ লক্ষ্যগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধীদের সাথে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এ দিকে ইইউ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সার প্রতিফলন। তবে নির্বাচনের দিনটি সহিংস ছিল। নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা ছিল। এটি নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনিয়মের এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে সুরাহা করা উচিত। বিবৃতিতে বলা হয়, ইইউ চায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে ইইউ এসব কাজকে সমর্থন দিয়ে যাবে।এ দিকে নির্বাচনী অভিযোগগুলো শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইনগত পদ্ধতিতে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। তারা বলেছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে সহিংস ঘটনা ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘ সচেতন রয়েছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র গতকাল এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণকে জাতিসঙ্ঘ স্বাগত জানায়। আমরা সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম পালন করে নির্বাচন-পরবর্তী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি, যে পরিবেশে জনগণের সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ থাকবে। সহিংসতা ও জানমালের ওপর আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের দিন প্রার্থী ও ভোটারদের হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন মুখপাত্র।
9
এলোন মাস্কের কোম্পানি টেসলার মডেল এস গাড়ির দুর্ঘটনায় দুই আরোহীর মৃত্যু টেক্সাসে। গাড়িটি তখন অটোপাইলট মোডে ছিল। এলোন মাস্কের টেসলা উন্নত প্রযুক্তির গাড়ি তৈরি করে। অটোপাইলট মোডের এই গাড়ি চালক ছাড়াই চালানো যায়। ওই গাড়িরই দুর্ঘটনা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় মাস্কের টেসলা কোম্পানির মডেল এস গাড়ি অটোপাইলট মোডে চলছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গাড়িটি একটা বাঁক মিস করে। তারপর সোজা তা একটা গাছে গিয়ে ধাক্কা মারে। গাড়িতে আগুন ধরে যায়। দুজন আরোহী নিহত হন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়ির আগুন নেভাতে এক লাখ লিটার পানি লেগেছে। গাড়ির ব্যাটারিতে বারবার আগুন ধরে যাচ্ছিল। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়িটি কেউ চালাচ্ছিলেন না। কারণ, আগুন নেভানোর পর তারা দেখেন চালকের পাশের আসনে এক আরোহী পুড়ে মারা গেছেন। আরেকজন পিছনের আসনে বসেছিলেন। গাড়ি চলছিল অটোপাইলট মোডে। এই দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই মাস্ক দাবি করেছিলেন, টেসলার অটোপাইলট গাড়ির দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অন্য সাধারণ গাড়ির তুলনায় অনেক কম। বস্তুত তার দাবি, সাধারণ গাড়ির দুর্ঘটনার সম্ভাবনা টেসলার তুলনায় ১০ গুণ বেশি। এরপরই অ্যামেরিকার ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অর্গানাইজেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনার বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে। তারা টেসলাকে গাড়ির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলা হচ্ছে। টেসলার গাড়ির সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেছে। কনজিউমার রিপোর্টস-এর কেলি ফাঙ্কহাউস জানিয়েছেন, 'কয়েক বছর ধরেই টেসলা তাদের গাড়ির সুরক্ষা রিপোর্ট নিয়ে ঠিক তথ্য দিচ্ছে না। গাড়ির কার্যকারিতা নিয়ে তাদের দাবিই বিশ্বাস করতে হবে।'সূত্র : ডয়েচে ভেলে
3
বিজ্ঞাপনী বাণিজ্যের যুগে বইও প্রচণ্ড প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। বইয়ের মান নির্ধারিত হচ্ছে মূলত বিক্রির সংখ্যা দিয়ে। লেখালেখির জগতে 'জনপ্রিয় ধারা' শব্দটি আগেও ছিল। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বেস্ট সেলার, দু-চারটি সংস্করণের তকমার প্রবল প্রতাপ। বহুল প্রচার, আর ফেসবুকে মুহুর্মুহু মুখ দেখানো তো আছেই। রয়েছে অনলাইন জরিপ, মুহূর্তেই যা বদলে দিতে পারে যেকোনো হিসাব। এমনকি লেখালেখি হয়ে গেছে প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাগত সুবিধা আদায়ের মাধ্যম। এর ভেতর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী করে স্মরণ করা যায়?গত শতাব্দীর ত্রিশ-চল্লিশের দশক বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেমন, সাহিত্যের ইতিহাসেও তেমনি ঘটনাবহুল ও অবিস্মরণীয় কাল। বাংলা সাহিত্যেও এ কথা সমান সত্য। এ সময় বাংলা কবিতায় যেমন 'আধুনিক' ধারা সূচিত হয়, কথাসাহিত্যে তেমনি আবির্ভূত হয় ঈপ্সিত আধুনিকতা। কবিতায় অনুবাদনির্ভর আধুনিকতার তুলনায় কথাসাহিত্য অনেক বেশি প্রাচুর্যময় ছিল। আসলে একই সময়ে কোনো একটি ভাষায় এতজন কর্মচঞ্চল ও শক্তিশালী লেখক-কবির উপস্থিতি বিশ্বের ইতিহাসেই বিরল।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বিশ্বস্বীকৃত ও বিপুল কর্মরাজীর মহাপুরুষ সচল থাকার পরও সে সময় রবীন্দ্র-উত্তর আধুনিকতা বিস্তার লাভ করে। বিশেষত তাঁর ভাব নির্ভরতার বিপরীতে মানুষের বহির্জীবন ও অন্তর্জীবনের বৈচিত্র্য এবং সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা চলছিল। আর এই ক্ষেত্রেই দক্ষতা দেখিয়েছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।মাত্র ৪৮ বছরের সংক্ষিপ্ত আয়ুষ্কাল। এর মধ্যে ৩৭টি উপন্যাস, দুই শতাধিক গল্প, কিছু প্রবন্ধ রচনা করেছেন মানিক। এগুলো বিশ্বের যেকোনো সৃষ্টিবহুল লেখকের সমৃদ্ধ সম্ভারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তা ছাড়া মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শতাধিক সম্পূর্ণ-অসম্পূর্ণ কবিতা ও খসড়া পাওয়া যায়। অবশ্য এগুলো তাঁর যুবক বয়সেই (১৬-২১ বছর) রচিত। মৃত্যুর পরও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক অপ্রকাশিত সাহিত্য পাওয়া গেছে। তা ছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পত্রিকায় লিখতেন। যদিও লেখাগুলো পরে আর সংগ্রহ করা যায়নি। তাতেই 'জীবনঘনিষ্ঠ কথাশিল্পী' অভিধা তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ী হয়ে গেছে।মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০৮ সালের ১৯ মে, বঙ্গাব্দ ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৩১৫। বাবা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মস্থল ভারতের সাঁওতাল পরগণার দুমকা শহরে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকার তৎকালীন বিক্রমপুর মহকুমার (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা) মালদপিয়া গ্রামে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তাঁদের পরিবার দেশ ত্যাগ করেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি খুঁজে পাওয়া নিয়ে চমৎকার গল্প আছে প্রয়াত কথাশিল্পী কায়েস আহমেদের; নাম-'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটে ও মালদপিয়ার রমণী মুখুজ্জে'। গল্পের কোথাও সাম্প্রদায়িকতার কথা নেই। তবু গল্পটা পড়লেই বোঝা যায় তাঁরা কেন দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।সাহিত্যের সূচনা বিচারে এ তথ্য সত্য যে, কলেজে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে প্রথম গল্প 'অতসীমামী' লিখেছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরুতেই বাজিমাত। প্রথম গল্প গ্রন্থভুক্ত 'মহাসংগম' গল্পটি সম্পর্কে অধ্যাপক নির্মাল্য আচার্য বলেন, 'এর তুল্য গল্প বিশ্বসাহিত্যে কদাচিৎ মিলবে।' এই শুরুর গল্পটি ইঙ্গিত দেয়-সাহিত্যের জগতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলা হঠাৎ করেই শুরু হয়েছিল। সাধারণ্যে অন্তত এমন ধারণা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন হলো-সত্যি কি হঠাৎ করে লেখকের জন্ম হয়? এই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন মানিক। 'সাহিত্য করার আগে' প্রবন্ধে তিনি লেখেন-'আমি বলব, না, এ রকম হঠাৎ কোনো লেখকই গজান না। রাতারাতি লেখক পরিণত হওয়ার ম্যাজিকে আমি বিশ্বাস করি না। অনেক কাল আগে থেকেই প্রস্তুতি চলে। লেখক হবার জন্য প্রস্তুত হয়ে আসলেই কেবল একজনের পক্ষে হঠাৎ একদিন লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সম্ভব।''দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটি ধারাবাহিক প্রকাশের মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক মানিকের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৩৪ সালে 'বঙ্গশ্রী' সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত উপন্যাসটি সম্পর্কে আরেক অগ্রগণ্য ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য কিছু নন, তিনি ঔপন্যাসিক।' পরের বছর 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হতে থাকে 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসটি। ১৯৩৫ সালে 'জননী', 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস এবং 'অতসীমামী ও অন্যান্য গল্প' গল্পগ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাঁর গ্রন্থকার হিসেবে যাত্রা শুরু হয়।মনে রাখা দরকার, গত শতাব্দীর ত্রিশের দশক সাহিত্যের মতো ভারতবর্ষে রাজনীতিরও উত্থান-পতনের সময়। তখনই প্রকাশ হয় মানিকের প্রথম উপন্যাস। এর অন্তত একটি দিক তাঁর 'নিজস্ব ধরন' হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। তা হলো, সমসাময়িক ইতিহাস ও সমাজের সঙ্গে তাঁর সাহিত্যের নিবিড় যোগ। সমাজের তল খুঁজতে গিয়ে, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তাঁর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া ছিল প্রায় অবধারিত। এর একটা উত্তর পাওয়া যাবে তাঁর 'সাহিত্য করার আগে' প্রবন্ধে। তিনি লেখেন, 'মার্কসবাদ যেটুকু বুঝেছি তাতেই আমার কাছে ধরা পড়ে গিয়েছে যে, আমার সৃষ্টিতে কত মিথ্যা, বিভ্রান্তি আর আবর্জনা আমি আমদানি করেছি- জীবন ও সাহিত্য এগিয়ে নেবার উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও।'আজকের দিনে রাষ্ট্রের বিরাজনীতিকরণ প্রকল্প (বলা যায়, রাজনীতিহীনতার রাজনীতি) কিংবা রাজনীতিবিমুখ নৈনাগরিকের সময়ে দাঁড়িয়ে মানিকের এই উপলব্ধির অনুধাবন খানিকটা কঠিন। তবে অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, সেই সময় রাজনীতির ভেতরই মানুষের মুক্তির দিশা ছিল। তা ছিল মানবমুক্তি-সমাজ প্রগতির রাজনীতি। তাই রাজনৈতিক সংস্রব তাঁর সাহিত্যের মান কমিয়েছে, নিন্দুকের এমন প্রচার সত্য নয়। বরং তাঁর লেখনী এতটা উর্বর ছিল যে, সমসাময়িক বিষয়ের প্রতি সাবলীল সাড়া দিতে পেরেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর সাহিত্যে সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মনঃসমীক্ষাতত্ত্ব ও মার্কসীয় বিশ্ববীক্ষা সফলভাবে যুক্ত হয়েছে। সাহিত্যে উঠে এসেছে সেসব মানুষের জীবন ও সংগ্রাম।মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখক হিসেবে, সাহিত্যের প্রতি 'সৎ' থেকেই কমিউনিজমে আস্থাশীল হয়ে ওঠেন। রাজনৈতিক চর্চা তাঁর সাহিত্যকে দলীয় প্রচারপত্রে নামিয়ে আনেনি। চল্লিশের দশকের প্রথম দিকে তিনি 'ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘ'-এ যুক্ত হন। ১৯৪৪ সালের শেষের দিকে যুক্ত হন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে। যুগপৎ লেখক ও রাজনীতিক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। তিনি পরবর্তীতে 'প্রগতি লেখক সংঘ'-এর সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।মূলত শ্রমিক ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে দু-খণ্ডের 'শহরতলি' উপন্যাসটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থী বুদ্ধিজীবী মহলে তাঁর সাড়া পড়ে। দাঙ্গার পটভূমিতে কলকাতার বেহাল নগরজীবন নিয়ে তাঁর প্রখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস 'স্বাধীনতার স্বাদ'। বাঙালি সমাজের হতাশা, গ্রামীণ জীবনের অবহেলা, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অসারতা নিয়ে লেখেন শ্লেষাত্মক উপন্যাস 'অমৃতস্য পুত্রাঃ'।শব্দ নির্বাচন, উপমা ও ভাষাশৈলীর কারণে 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে ক্ল্যাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। 'ভিটেমাটি' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটক। যুদ্ধ, মন্বন্তর, দাঙ্গা বিধ্বস্ত অবস্থা নিয়ে রচিত 'আজ কাল পরশুর গল্প' গল্পগ্রন্থটি তাঁর বিপ্লবী চেতনার অনন্য দলিল। কোনো কোনো গল্পে তাঁর জীবনলব্ধ অভিজ্ঞতা ও মানসের সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর অনেক উপন্যাস, গল্পই পরে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। জানিয়ে রাখা যেতে পারে, তাঁর জীবদ্দশাতেই ১৯৪৮ সালে 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র তৈরি হয়।বিএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় এবং লেখক হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কারণে পরিবারের সঙ্গে বেশ দূরত্ব তৈরি হয়েছিল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এর কারণে দ্রুতই তাঁকে পেশাজীবন বেছে নিতে হয়। ১৯৩৫ সালে 'বঙ্গশ্রী' পত্রিকায় সম্পাদকীয় পদে পাঁচ বছর যুক্ত থাকেন। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেটা ছেড়ে দিয়ে পরে ভাইয়ের সঙ্গে প্রকাশনা ব্যবসা শুরু করেছিলেন। যদিও আড়াই বছরের মাথায় তা গোটাতে হয়। পরে স্বল্পকালীন নানা পেশায় যুক্ত হলেও কোনোটাই আর স্থায়ী হয়নি। লেখক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই কেটেছে তাঁর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাঁর এই জীবনযুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে পড়ল। একদিকে অর্থ সংস্থানের জন্য প্রচুর পরিশ্রম, অন্যদিকে বিদ্যমান বাস্তবতায় পার্টির কাচের ক্রমবর্ধমান চাপ; সব মিলিয়ে মানিক এক ত্রিশঙ্কু দশায় পড়লেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দশা থেকে তাঁর মুক্তি মেলেনি। বলা যায়, চিকিৎসার অভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়। দিনটি ছিল ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর। বঙ্গাব্দ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৩৬৩।এমনকি এই মৃত্যুর খবরটি পর্যন্ত মানিকের পার্টি কমরেড ও লেখকদের কাছে পৌঁছানো যায়নি অর্থাভাবে। শুনতে যেমনই লাগুক এটাই সত্য। মানিকের মৃত্যুর খবর প্রথম পেয়েছিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তিনি মানিকের স্ত্রী কমলার (ডলি) কাছে জানতে চান, তাঁকে কেন ফোন করে আগে জানানো হয়নি? কমলার উত্তর ছিল-'তাতেও যে পাঁচ আনা লাগাত দাদা।'এই বঙ্গে যে শুধু লিখে বাঁচা যায় না, তা কি সমাজঘনিষ্ঠ মানিক জানতেন না? জানতেন নিশ্চয়। তারপরও তিনি এই লেখালিখির জীবনই বেছে নিয়েছিলেন। কমিউনিস্ট রাজনীতিতে আস্থাশীল মানিকের কলম-শ্রমিকের জীবন বেছে নেওয়া তো স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু শুধু এটুকুই কি? না, আরও কিছু তাড়না ছিল। কী সেই তাড়না? উত্তর জানতে মানিকেরই শরণ নেওয়া যাক। 'লেখকের কথা ও প্রগতি সাহিত্যের আত্মকথা' শীর্ষক তাঁর প্রবন্ধ সংকলনে থাকা 'কেন লিখি' প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, 'জীবনকে আমি যেভাবে ও যতভাবে উপলব্ধি করেছি, অন্যকে তার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ ভাগ দেওয়ার তাগিদে আমি লিখি। আমি যা জেনেছি, এ জগতে কেউ তা জানে না (জল পড়ে পাতা নড়ে জানা নয়)। কিন্তু সকলের সে আমার জানার এক শব্দার্থক ব্যাপক সম ভিত্তি আছে। তাকে আশ্রয় করে আমার খানিকটা উপলব্ধি অন্যকে দান করি।'এবার ফেরা যাক শুরুর প্রসঙ্গে। এই সময়ে কেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্মরণ করা? এর উত্তর আছে 'এই সময়' শব্দের ভেতর। 'এই সময়' ও সাহিত্যকে আমরা কীভাবে দেখি, তার মীমাংসার ওপরই আসলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও তাঁর স্মরণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি দাঁড়িয়ে আছে। অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, 'এই সময়' প্রতিটি মানুষ প্রচণ্ড মানসিক দ্বন্দ্বের ভেতর বাস করেন। বাজার সংস্কৃতির প্রভাব, পুঁজির প্রবল চাপ, রাষ্ট্রের দুঃশাসন, বৈষম্যের ক্ষমতা চর্চা, প্রতিষ্ঠার ইঁদুর দৌড়, পণ্যের ভিড়ে বিপন্ন জীবনে স্বস্তির কোনো সুযোগ নেই। সমাজের উচ্চকোটি থেকে নিম্নকোটির সবার ভেতর এই দ্বন্দ্ব আছে। ভেতরে-ভেতরে সবাই পুড়ে খাক হয়ে গেলেও প্রকাশ্যে শ্রেণিবৈষম্য বাড়ছে। মানুষের নির্বুদ্ধিতা, শঠতা, প্রতারণা, লোভে খোদ মানবতাই আজ বিপন্ন। যাদের সঙ্গে মিশছে, থাকছে, তাকেও মানুষ আর বিশ্বাস করতে পারে না।বিষয়টির চমৎকার তাত্ত্বিক ভিত্তি দিয়েছেন ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো তাঁর 'ধ্রুপদি যুগে উন্মাদনার ইতিহাস' বইয়ে। বইটির আলোচনায় অমল বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর 'উত্তর আধুনিক চিন্তা ও কয়েকজন ফরাসি ভাবুক' বইতে বলছেন: 'আমরা যাকে প্রাতিস্বিকতা বলতে অভ্যস্ত, যাকে আমরা ধরে নিই মানুষের অনড়, ধ্রুব চরিত্র বলে, সেটি মূলত কিছু সামাজিক ও নৈতিক বিধিনিষেধের প্রত্যাদেশে আমাদের ওপর আরোপিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মুহূর্তে, একজন সামাজিক প্রাণী তার নিজের কাছে বিদেশি ও বিচ্ছিন্ন।'সেই পথ ধরে মিশেল ফুকো রীতিমতো ঘোষণা করেছেন, 'আমাদের চিন্তার কাঠামো খুব সহজেই বলে দেয় যে, মানুষ সাম্প্রতিক সময়ের এক আবিষ্কার। আর যা সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।'এই বাস্তবতায় আমাদের তথাকথিত 'বেস্ট সেলার' সাহিত্যের লেখকেরা কী দিচ্ছেন? এই বাস্তবতা কি তাঁরা ধরতে পারছেন? মনে হয় না। এর কিছুই তাঁরা ব্যাখ্যা করার সাধ্য রাখেন না। তাঁরা বিদ্যমান বাস্তবতাকে উদ্যাপন করছেন। এই সাহিত্য আরও সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে চিন্তাকে। তা ছাড়া আমাদের সাহিত্য ঘুরপাক খাচ্ছে মধ্যবিত্তীয় সংকটে। যে কারণে গল্পের চরিত্রগুলো আবর্তিত হয় পলাতক ধরনের ফ্যান্টাসিতে। আর এখানেই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব। তিনি এই ব্যবস্থা ও বাস্তবতা ব্যাখ্যা করেন। সাহিত্যের কাজ যে নিছক আনন্দ দেওয়া নয়, বরং মনকে সমৃদ্ধ করা, চিন্তাকে জাগ্রত করা-সেই কাজ করে মানিকের সাহিত্য।শেষটা হোক মানিকেরই ভাষ্যে। 'সাহিত্য করার আগে' প্রবন্ধে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, 'ভদ্র জীবনকে ভালোবাসি, ভদ্র আপনজনদেরই আপন হতে চাই, বন্ধুত্ব করি ভদ্র ঘরের ছেলেদের সঙ্গেই, এই জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষা স্বপ্নকে নিজস্ব করে রাখি, অথচ এই জীবনের সংকীর্ণতা, কৃত্রিমতা, যান্ত্রিকতা, প্রকাশ্য ও মুখোশ পরা হীনতা, স্বার্থপরতা প্রভৃতি মনটাকে বিষিয়ে তুলেছে। এই জীবন আমার আপন অথচ এই জীবন থেকেই মাঝে মাঝে পালিয়ে ছোটলোক চাষা-ভূষাদের মধ্যে গিয়ে যেন নিশ্বাস ফেলে বাঁচি। আবার ওই ছোটলোকদের অমার্জিত রিক্ত জীবনের রুক্ষ কঠোর নগ্ন বাস্তবতার চাপে অস্থির হয়ে নিজের জীবনে ফিরে এসে হাঁফ ছাড়ি।'অলাত এহ্সান: গল্পকার ও সমালোচক
4
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় বোরো চাষে কৃষকের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে চলছে সেচ, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে ব্যস্ততা। তাঁরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।কৃষকেরা জানান, এ অঞ্চলে প্রতিবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে। কয়েক দিন শীত ও কুয়াশা অনেক কম থাকায় বোরো চারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। চারাও সুস্থ-সবল হয়েছে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তাহলে এ বছরও বোরোর বাম্পার ফলন হবে।উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলায় মোট খাদ্যচাহিদা ৩৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন। যার বিপরীতে উৎপাদন হয় ৪৩ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন। উপজেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১০ হাজার ৭৮০ হেক্টর। যার মধ্যে ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টরে বোরো মৌসুমে আবাদ চলে।উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেরকি গ্রামের কৃষক রবিউল আলম জানান, বোরো ধানের চারা উৎপাদন শেষ হয়েছে। এখন রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি চলতি মৌসুমে ২৪০ শতাংশ (২ একর) জমিতে বোরোর চাষ করবেন। এখন পর্যন্ত ১০০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। সাময়িক সেচসংকটের কারণে বাকি জমি রোপণে বিলম্ব হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবারও ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি।একই ইউনিয়নের নাহারা গ্রামের কৃষক মো. মোহন হোসেন জানান, তিনি এ বছর ২১০ শতকে বোরো ধান রোপণ করবেন। এ সপ্তাহের মধ্যে ১০০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণকাজ সম্পন্ন হবে।উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র দাস জানান, এ বছর বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর। গত বছরের চেয়ে যা ১০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে উচ্চফলনশীল (উফশী) ব্রি-ধান ২৮, ২৯, ৫৮, ৬৭, ৭৪, ৭৫, ৮৯, ৯১, ৯২ ও বিআর ১৬, হাইব্রিড এসএল-৮, আফতাব এলপি-৭০, ছক্কা, অ্যাগ্রো-১৪, হীরা, সুপার ও ইস্পাহানি জাতের ধান চাষ হচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানান, চলতি বছরে বোরো মৌসুমে ৩ হাজার ৬৭০ জন কৃষককে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সার ও বীজসহায়তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ২ হাজার ১০০ কৃষককে হাইব্রিড বীজ সহায়তাসহ বিভিন্ন ব্যাচে সহস্রাধিক কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন।
6
কার্যালয়ে টেলিফোন আছে। প্রতি মাসে বিলও দিতে হয়। তবু তারাগঞ্জের অনেক সরকারি কর্মকর্তা তাঁদের কার্যালয়ের টিঅ্যান্ডটি ফোন নম্বরটি ভুলতে বসেছেন। এতে অবশ্য তাঁদের দোষ দেওয়া যায় না। কারণ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ের টেলিফোনগুলো প্রায় তিন বছর হতে চলল নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থানীয় এক্সচেঞ্জ কার্যালয়ে বারবার আবেদন করে বিরক্ত।গত সোমবার উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে গেলে জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারী মাহাবুব আলম আক্ষেপ করে বলেন, 'টেলিফোন সংযোগ সারা বছর নষ্ট থাকে। ৬ থেকে ৭ মাস পরপর বিলের কাগজ নিয়ে এসে বিল নিয়ে যায়। টেলিফোন ঠিক করার কথা বললে ঢাকার ফোন নম্বর দেয়। টেলিফোনে কথা না হলেও তাদের টাকা দিতে হয়। এ জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি।'তারাগঞ্জ টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরে দুই একর জমির ওপর অবস্থিত এক্সচেঞ্জটি ২০০৬ সালে কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল হিসেবে উন্নীত করা হয়। এই এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সংযোগের ক্ষমতা রয়েছে ৫০০টি। এক সময় উপজেলায় ৩৫০টির মতো সংযোগ চালু ছিল। কিন্তু বর্তমানে কমে গিয়ে সরকারি ও বেসরকারি কার্যালয় এবং আবাসিক এলাকা মিলিয়ে মোট সংযোগ দাঁড়িয়েছে ৪৬টি। এসব সংযোগ বছরের অধিকাংশ সময় নানা কারণে বিকল থাকে। আর বাকি সংযোগগুলো অনেক দিন ধরে নষ্ট রয়েছে।তারাগঞ্জ থানার ওসি ফারুক আহম্মদে বলেন, 'টেলিফোন সংযোগ নষ্ট থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্স ও কল আসা বন্ধ আছে। সরকারি জিনিস দিনের পর দিন এভাবে বিকল হয়ে আছে। টেলিফোন অফিসের লোকদের ডাকলেও আসে না। ছয় মাসে একদিন এসে ঠিক করে দিয়ে বিল নিয়ে যায়। পরের দিন আবার টেলিফোন চলে না। নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে টেলিফোন অফিসে।'উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, তাঁর কার্যালয়ের টেলিফোনটি গত ৯ মাস ধরে কাজ করছে না। যেদিন টেলিফোন অফিসের লোকজন বিল নিতে আসেন শুধু সেই দিনই সংযোগ সচল থাকে।ইউএনও আমিনুল জানান, তিনি তারাগঞ্জে যোগদানের পর থেকে কোনো দিন অফিসের টেলিফোন দিয়ে কাউকে কল করতে পারেননি। কখনো টেলিফোন সেটটিতে কলও আসেনি। শুধু টেবিলের শোভা বর্ধনের জন্য এটি রাখা।রংপুর টিঅ্যান্ডটির জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বিজয় সরকার বলেন, 'সংযোগ ত্রুটির বিষয়টি জানা আছে। এটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি খুব শিগগিরই সমাধান হবে যাবে।'
6
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ব্যবহার না করেও যদি বিশাল অংকের এক বিলের কাগজ চলে আসে! তবে অবাক হবারেই কথা। এবার ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের শিকার হলেন জয়া আহসান। চলিত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। এমন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসাতে বিব্রতকর পরিস্থিতি পরেছেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি তার ফেসবুকে এই ব্যপারটি তুলে ধরেন। তার এই ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখার পর অনেক মিডিয়া ব্যক্তিত্বরাও সেখানে তাদের সাথে একই রকম ঘটনা ঘটেছে বলে কমেন্ট করেন। নির্মাতা আদনান আল রাজীব লিখেছেন, আমার সাথেও একই ঘটনা গত মাসে ঘটেছে, জানি না কি করবো। সেই সাথে অভিনেত্রী বন্যা মির্জাও লেখেন,আমাদেরও এমন হচ্ছে, কিছু বুঝালাম না। এমন বিদ্যুৎ বিলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এবার ভুক্তভোগী হচ্ছেন তারকারাও।
2
এই বছরের ইউএস ওপেনের পরেই সম্ভবত টেনিসকে বিদায় জানাচ্ছেন সানিয়া মির্জা। এখনও পর্যন্ত সেরকমই পরিকল্পনা করে রেখেছেন তিনি। আপাতত ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রস্তুতি সারতে রোমে রয়েছেন ছয়টি গ্র্যান্ড স্লামের মালকিন। সেখান থেকেই আনন্দবাজার অনলাইনকে নিজের অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানালেন তিনি। রোমে ক্লে-কোর্টে ইটালিয়ান ওপেন খেলছেন। সানিয়ার জুটি লুসি রাদেকা। সোমবার প্রথম রাউন্ডে সানিয়া-রাদেকা জুটি ৬-১, ৬-২ গেমে উড়িয়ে দিয়েছেন পোল্যান্ডের অ্যালিসায়া রোসোলস্কা ও নিউজিল্যান্ডের এরিন রুটলিফ জুটিকে। ষষ্ঠ বাছাই সানিয়াদের প্রি-কোয়ার্টারে খেলতে হবে এলিনা রিবাকিনা-লিউডমিলা সামসোনোভা জুটির সঙ্গে। সানিয়া আগেই জানিয়েছিলেন, এই বছরই তার টেনিস জীবনের শেষ। এই বছরই অবসর নেবেন তিনি। কিন্তু ঠিক কবে অবসর নেবেন জানাননি। মঙ্গলবার সানিয়া জানালেন, বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম ইউএস ওপেন খেলেই অবসরের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তবে নতুন করে চোট পেলে তার আগেই সরে দাঁড়াবেন। সানিয়া জানালেন, শরীর ঠিক থাকলে বা নতুন করে চোট না পেলে তিনি ফ্রেঞ্চ ওপেনের পরে বছরের বাকি দু'টি গ্র্যান্ড স্লাম উইম্বলডন ও ইউএস ওপেনেও খেলবেন। প্রতিটি প্রতিযোগিতার আগে প্রস্তুতি সারার জন্য সংশ্লিষ্ট কোর্টের দু'-একটি প্রতিযোগিতাতেও খেলবেন। তবে কোন কোন প্রস্তুতি প্রতিযোগিতায় খেলবেন, তা এখনও ঠিক করেননি। এখন যেমন ক্লে-কোর্টের প্রস্তুতি সারতে রোমে খেলছেন। এরপর ১৫ মে থেকে ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গে আরও একটি প্রতিযোগিতায় খেলতে পারেন। সেটিও চূড়ান্ত নয়। ২২ মে থেকে ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু হচ্ছে। চলবে ৫ জুন পর্যন্ত। বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম উইম্বলডন চলবে ২৭ জুন থেকে ১০ জুলাই। তার আগে বার্মিংহাম, বার্লিন বা ইস্টবোর্নে ঘাসের কোর্টে প্রস্তুতি সারতে পারেন সানিয়া। বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম ইউএস ওপেন শুরু ২৯ অগস্ট থেকে। চলবে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ততদিন পর্যন্ত চোটমুক্ত থাকলে খেলে যাবেন সানিয়া। তারপরেই টেনিসকে বিদায় জানাবেন তিনি। ভারতের প্রথম মহিলা টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার নজির রয়েছে সানিয়ার। ডাবলসে বিশ্বের প্রাক্তন এক নম্বর সিঙ্গলসে সর্বোচ্চ ২৭ নম্বরে উঠেছিলেন। এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসে পদক রয়েছে তার। শেষ বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পেয়েছিলেন ২০১৬-র অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মার্টিনা হিঙ্গিসের সঙ্গে জুটি বেঁধে। মোট ৬টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম রয়েছে তার। ডাবলস এবং মিক্সড ডাবলসে তিনটি করে। সব থেকে বেশি সাফল্য হিঙ্গিসের সঙ্গেই। সম্প্রতি টেনিস কোর্টে সে ভাবে দেখা যায়নি তাকে। ২০১৮ থেকে মাতৃত্বকালীন বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। এরপর অতিমারিতে কোর্টে ফেরার সম্ভাবনা আরও থমকে যায়। শেষ খেতাব এসেছে ২০২১ সালের অস্ত্রাভা ওপেনে।
12
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সেসময় হোয়াইট হাউসে শিক্ষানবীস হিসেবে কর্মরত মনিকা লিউনস্কির গোপন সম্পর্কের কথা প্রকাশকারী লিন্ডা ট্রিপ মারা গেছেন। ৭০ বছর বয়সী এই সাবেক আমেরিকান সিভিল সার্ভেন্ট দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে বুধবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্টের। লিউনস্কির সঙ্গে ট্রিপ কথপোকথনের রেকর্ডিং প্রকাশ করলে ১৯৯৮ সালে অভিশংসনের মুখোমুখি হন তখনকার প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন। এ ঘটনায় প্রশংসার পাশাপাশি নিন্দার শিকার হন তিনি। বিশ্ব গণমাধ্যম বলছে, সেই সময় হোয়াইট হাউসে শিক্ষানবীস হিসেবে কর্মরত ছিলেন মনিকা লিউনস্কি। আর পেন্টাগনে কাজ করতেন ট্রিপ। বয়সে ২৪ বছরের পার্থক্য সত্ত্বেও ট্রিপের সঙ্গে লিউনস্কির এক ধরনের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। ওই বন্ধুত্বের সূত্রেই তিনি মনিকার সঙ্গে ক্লিনটনের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন এবং ১৯৯৭ সালে তিনি গোপনে লিউনস্কির সঙ্গে কথোপকথন রেকর্ড করতে থাকেন। সেসময় ট্রিপ, ক্লিনটন-মনিকার সম্পর্ক বিষয়ক তথ্য স্টার নেতৃত্বাধীন তদন্ত দলকে দেশপ্রেমের কারণে দেয়ার কথা বললেও সমালোচকরা তার বিরুদ্ধে বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রেসিডেন্টের সম্মানহানির অভিযোগ করেছিলেন। ২০০১ সালে ক্লিনটনের মেয়াদের একেবারে শেষদিন ট্রিপ পেন্টাগন থেকে চাকরিচ্যুত হন; পরে ভার্জিনিয়ায় স্বামীর সঙ্গে একটি দোকান খোলেন তিনি। সম্প্রতি ট্রিপের অসুস্থতার খবর পেয়ে অতীতের কথা ভুলে লিন্ডা ট্রিপের জন্য সুস্থতা কামনা করেছিলেন মনিকা লিউনস্কি। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
সাভারের বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কের পাশ থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে পা উদ্ধার করে ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় সরকার মার্কেটে ঢাকামুখী লেনের পাশে ময়লার স্তূপে গোড়ালি থেকে কাটা পা দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তারা ৯৯৯-এ কল করে খবর দিলে পুলিশ এসে কাটা পা উদ্ধার করে ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠিয়ে দেয়।আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন বলেন, আজ সকালে সড়কের পাশে পলিথিনে মোড়ানো একটি পা দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে জানায় স্থানীয়রা। পরে প্রাথমিক সুরতহালে দেখা যায় সেটি গোড়ালি থেকে কাটা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, এটি পুরুষের পা।উপপরিদর্শক আরও বলেন, আশপাশে এমন অঙ্গহানি হওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ডিএনএ টেস্টের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট এলে তদন্তের কাজ শুরু করা হবে। কাটা ওই পা কার, তা এখনই বলার কোনো সুযোগ নেই।
6
নড়াইল শহরের ভওয়াখালীতে হালিমা বেগম নামে এক প্রতিবেশিকে হত্যার দায়ে সেলিম সরদার নামে একজনকে ফাঁসির আদেশ ও ১০ হাজার টাকা জরিমাণা এবং মোমেনা বেগমসহ অপর প্রতিবেশি সাজ্জাদ খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩ নভেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ আদেশ দেন। এরমধ্যে আসামি মোমেনা বেগম রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক আছেন। মোমেনা ও সাজ্জাদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত সেলিম ভওয়াখালীর সলেমান সরদারের ছেলে এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত সাজ্জাদ কবির খানের ছেলে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ মে আসামি সেলিম সরদার ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজারের টাকা ছিনতাই করেন। ঘটনাটি প্রতিবেশি হালিমা বেগম দেখে স্থানীয় লোকজনকে জানান। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেলিমের মা আসামি মোমেনা বেগম হালিমাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন। কথাকাটির এক পর্যায়ে সেলিম সরদার কোদাল দিয়ে হালিমাকে মাথায় আঘাত করেন। এ সময় সেলিমের মা মোমেনা বেগম এবং অপর আসামি সাজ্জাদ খান হালিমাকে কিল, লাথিসহ মারধর করে। আহত হালিমা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
6
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে, তবে কমেছে মৃত্যুর সংখ্যা। একই সময়ে বিশ্বে বেড়েছে সুস্থতার হারও। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হালনাগাদ তথ্য প্রদানকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ওয়েবসাইটটির পরিসংখ্যান বলছে, শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৪ জন এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৭০১ জনের। পাশপাশি, এই দিন সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৯০ হাজার ২০০ জন। বৃহস্পতিবার বিশ্বে করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৯২ জন। ওইদিন এ রোগে মারা গিয়েছিলেন ৭ হাজার ৪৮৯ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩১ জন। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ১৪ হাজার ১৫৮ জন এবং মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ২১২ জন। একই সময়সীমার মধ্যে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৩৬৯ জন। শুক্রবার করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসেবে বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই দিন দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ২৭৪ জন এবং এ রোগে মারা গেছেন ১ হাজার ৫৫২ জন। দৈনিক মৃত্যুতে এ দিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ছিল রাশিয়া। দেশটিতে শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৬৪ জনের। পাশাপাশি, এই দিন দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ১৪১ জন। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ছাড়াও শুক্রবার যুক্তরাজ্যে নতুন রোগী ৪৯ হাজার ২৯৮, মৃত্যু ১৮০, তুরস্কে নতুন রোগী ২৮ হাজার ১৯২, মৃত্যু ২২৮ এবং ইউক্রেনে নতুন রোগী ২৩ হাজার ৭৮৫, মৃত্যু ৬১৪। শুক্রবার ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৩৩১ জন এবং এ রোগে মারা গেছেন ৬৬৬ জন। অন্যদিকে, এই দিন ব্রাজিলে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৪০২ জন এবং এ রোগে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৪৭ জন।
3
দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা। এই বন্দর ঘিরে এক পাড়ে গড়ে উঠেছে স্থানীয়দের বহুমুখী ব্যবসা। অন্য পাড়ে বন্দর এলাকা, ইপিজেডসহ দেশি-বিদেশিদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। মাঝখানে বয়ে গেছে মোংলা নদী। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই নদীকে বাধা মনে করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।১৯৫০ সালে মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠা হয়। এর পর থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে মোংলা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। অবশেষে স্থানীয়দের সেই দাবি আলোর মুখ দেখছে। সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে এ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নদীর ওপর প্রাথমিক জরিপ চালাচ্ছে একদল সার্ভেয়ার।সেতু বিভাগের সার্ভেয়ার সমন্বয়কারী মো. হাফিজুর রহমান অন্তর বলেন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে এই জরিপ চালানো হচ্ছে। আর এই জরিপের ওপর নির্ভর করে মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। কঠোর পরিশ্রম ও শতভাগ নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে সবার সঙ্গে কথা বলে তাঁরা পজিটিভ প্রতিবেদন তৈরি করছেন বলে জানান।মোংলা উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বাগেরহাট জেলার ব্যস্ততম নদী মোংলা। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ২৪৫ মিটার। নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার (পাকানো)। বাগেরহাটের পশ্চিম দিকের অনেকগুলো খাল বিশেষত কুমারখালী নদী, ফয়লা নদীর জলধারা রামপাল উপজেলার কাছে একত্রিত হয়ে মোংলা নাম ধারণ করেছে।আপাতত নদীটি আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বন্দরনগরী মোংলার পাশে পশুর নদীতে পতিত হয়েছে। নদীটির উজানের তুলনায় ভাটির দিক বেশি প্রশস্ত। নদীতে সারা বছর পানিপ্রবাহ থাকে এবং ছোটবড় নৌযান চলাচল করে। এই নদী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রথম শ্রেণির নৌপথ হিসেবে স্বীকৃত।এই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য গত ৪ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণসহ নানা রকম তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন তৈরি করছেন।মোংলা নদীতে চলমান একমাত্র ফেরিটি শুধুমাত্র জোয়ারের সময় চলাচল করে। ভাটির সময় নাব্যতাসংকটে চলতে পারে না। যে কারণে পণ্য পরিবহনে বড় বাধা হওয়ায় পচনশীল পণ্য গাড়িতেই পচে নষ্ট হয় বলে জানান মাছ ব্যবসায়ী কায়কোবাদ শেখ ও সত্তার ইজারদার।নদীর ওপারে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত নৌবাহিনীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র শোভন আকন বলে, 'বর্ষাকালে নৌকায় করে এই নদী পার হতে প্রচণ্ড ভয় লাগে। আবার অনেক সময় ঘাটে মাঝি না থাকায় কলেজে যেতে দেরি হয়, ক্লাস মিস হয়। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।'সেতুটি নির্মিত হলে আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে বলে জানান মোংলা পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান।বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ডিজাইন) মো. লিয়াকত আলী বলেন, মোংলা নদীতে সেতু নির্মাণ করার জন্য সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন এর জন্য প্রাথমিক জরিপ চলছে। জরিপের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
6
রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি, কারমাইকেল কলেজের সাবেক জিএস শহিদুল ইসলাম মিজু বলেছেন, আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে। নেত্রীকে মুক্ত করতে রংপুরের বিএনপি নেতাকর্মীরা জীবন দিতেও প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকারী টালবাহনার প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবিতে রংপুর বিএনপির সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বেলা ১ টায় নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড় থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে মুল সড়কে উঠতে চাইলে তাতে বাধা দেয়া পুলিশ। এসময় নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের কথাকাটাকাটি হয়। এরপর পুলিশী বেরিকেডের ভেতরেই সমাবেশ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মহানগর বিএনপির সভাপমি মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি কাওসার জামান বাবলা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক সেলিম চৌধুরী, মহানগর যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম নয়ন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি রাশেদ উন নবী বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক মোখছেদুল আরেফীন রুবেল, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি নুর হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জিম, মহানগর ওলামাদল সভাপতি আফজালুল হক নোমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল আবছার দুলাল প্রমুখ।
6
মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পাওয়া সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ছাত্রী সাধনা রানী মাহাতোর দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন অনেকে। ৯ এপ্রিল শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর পক্ষ থেকে সাধনার মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে সাধনাদের বাড়িতে আসেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৃপ্তি কণা মণ্ডল। তিনি সাধনার হাতে ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন। বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে সাধনাকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন সাধনাকে সহায়তার কথা জানিয়েছেন। সাধনা রানী মাহাতো উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের ধলজান গ্রামের সুধীর চন্দ্র মাহাতো ও ভারতী রানী মাহাতোর মেয়ে। তিনি চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তিনি এবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করা বাবার উপার্জনে সাধনাদের পরিবার চলে। এ নিয়ে ৮ এপ্রিল প্রথম আলো অনলাইনে 'মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও দুশ্চিন্তায় সাধনা' ও ৯ এপ্রিল প্রথম আলোর ছাপা পত্রিকাতেও তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর অনেকে সাধনার পাশে এসে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাধনা বলেন, 'আমার বিশ্বাস ছিল আমার পাশে মানুষ দাঁড়াবে। তবে এত তাড়াতাড়ি মাননীয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দানশীল মানুষ আমার পাশে দাঁড়াবেন, আশা করিনি। এই সবকিছু সম্ভব হয়েছে প্রথম আলোতে আমাকে নিয়ে নিউজ করার ফলে।' সাধনার বড় ভাই সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, প্রথম আলোতে তাঁর বোনকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ ও বিদেশের অনেক হৃদয়বান মানুষ পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সবার সহযোগিতায় তাঁদের স্বপ্ন পূরণের পথে। বোনের মেডিকেলে পড়া নিয়ে আর দুশ্চিন্তা নেই।
6
সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুঁলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে সোমবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকে অধিকাংশ বিভাগেই। জানা গেছে, সোমবার সকালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ভবনে নতুন করে তালা ঝুঁলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় ফটকগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পোস্টারও লাগানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে দুপুর পর্যন্ত অবস্থান নেওয়ার পর একটি মিছিল নিয়ে তারা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে যান। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এদিনের মতো আন্দোলন স্থগিত করা হয়। সমাবেশেজানানো হয়,দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চলবে। সমাবেশে ডাকসুর ভিপি উপস্থিত হয়ে জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি ডাকসুর সমর্থন রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ডাকসুর পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হবে। আন্দোলনকারীরা জানান, আগে চার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তারা। তবে এখন সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। তারা জানান, সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবি ঢাবির অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। 'তালা কর্মসূচি' আন্দোলনকে বেগবান করেছে। এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এর আগে রোববারও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের অবরোধে বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। ওইদিন বিকেলে শিক্ষার্থীদের লাগানো তালাগুলো ভেঙে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে জরুরি এক বৈঠকের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতে তাদের সমর্থন রয়েছে দাবি করে তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা:অধিভুুক্তি বাতিলের দাবিতে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন ডাকসুর নেতারা। দুয়েকদিনের মধ্যেই শিডিউল পেলে এ সাক্ষাৎ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডাকসুর সদস্য রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য। সোমবার আন্দোলন চলাকালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে গিয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের জানান, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান দেশের বাইরে রয়েছেন। ফলে সাত কলেজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নেই।' ঐতিহ্য বলেন, 'এ ব্যাপারে ডাকসুতে বৈঠক হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উঠেছে। ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী শিডিউল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে মেলেনি। দুয়েকদিনের মধ্যেই সাক্ষাৎ হতে পারে।' অধিভুক্তি রাখার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সমর্থন:এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি রাখার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে অবস্থান নিয়ে এ সমর্থন জানান মঞ্চের আহ্বায়ক অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। এসময় মঞ্চের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তখন প্রতিটি বিভাগের পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়ের অধীনে কলেজগুলো ছিল। তখন তো এতো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন,'মাথাব্যথা হলে তো মাথা কেটে ফেলা যায় না। তেমনি সাত কলেজকে বাদ দিয়েও সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য তাদের শিক্ষার মানোন্নয়নে যা যা করা দরকার এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে সেভাবে কাজ করতে হবে।' এর আগে সোমবার সকাল ১০টার দিকে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ও ঢাবি শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ এসে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাঁধা দেন। এতে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা এসে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে প্রবেশ করতে চান। তালা খুলতে না দিলে আমিনুল ইসলাম বুলবুল 'ছেলে-পেলে আনবো নাকি' বলে হুমকি দেন। সরেজমিনে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিলে তারা উত্তেজিত হয়ে পাল্টা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা-'নির্লজ্জ প্রশাসন, ধিক্কার-ধিক্কার', 'অ্যাকশন-অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন', 'ভুয়া-ভুয়া' বলে স্লোাগান দিতে থাকেন।
6
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম, পিএসসিকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. আনিসুর রহমানকে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। যা ক্রমেই বাড়ছে। নিহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ছয় কর্মী রয়েছেন। ভয়াবহ বিস্ফোরণে চারদিকের অন্তত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকা প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠে। এ ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষ আহত ও অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। এছাড়া অনেক মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ১৩ ঘণ্টায়ও আগুন নেভানো যায়নি।
6
পাইকগাছার পৌরসদরের গদায়পুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিত্যক্ত ভবনটি স্থানীয়রা ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। এখানে ফেলা পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ আশপাশের মানুষ।পাশের কয়েকটি মার্কেটের দোকানিরা বলছেন, নোংরা ও দুর্গন্ধময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।গতকাল শুক্রবার গিয়ে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত ভবনটির ভেতরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বর্জ্য। সেগুলো পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ভবনটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাক চেপে ধরে চলাচল করছেন মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি অপসারণ কিংবা এর পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে কারওর মাথা-ব্যথা নেই।জানা গেছে, পৌর বাজারের অভিজাত রেস্টুরেন্ট ও মধুমিতা পার্কের পাশে একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে দুটি ভবন রয়েছে, সেখানে একটি নতুন দ্বিতল ভবন ও একটি একতলা পুরোনো ভবন রয়েছে। একতলা ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কিন্তু ভবনটি অপসারণ না করায় পাশে থাকা ডাস্টবিনের সঙ্গে সঙ্গ ভবনটিকেও ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।ভবনটির সামনের মার্কেটের এক ব্যবসায়ী মিন্টু বলেন, 'ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে পাশের কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। দুর্গন্ধে টেকা দায়।'আরেক ব্যবসায়ী মামুন বলেন, 'এখানকার নোংরা পরিবেশের কারণে আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছি। শিগগিরই ভবনটি অপসারণ করা হোক।'উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিতীশ চন্দ্র গোলদার জানান, 'পৌরসভার ডাস্টবিনটি আমাদের ভবনের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। আমরা আবারও পৌর কর্তৃপক্ষকে বলব।পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, 'শিগগিরই ভবনটির অপসারণ কিংবা পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
যশোরের চৌগাছা উপজেলা বিএনপির স্থগিত আহ্বায়ক কমিটি পুনর্বহাল রাখা হবে, নাকি নতুন কমিটি দেওয়া হবে এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে, কার্যক্রম স্থগিত হওয়া ৩১ সদস্যের ওই আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। যেখানে স্থগিত কমিটির দুটি পক্ষের মধ্যে একটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে পদপদবিতে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়। এর পর উপজেলায় ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে জহুরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় পাতিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, হাকিমপুর ইউপির চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, ইউনুচ আলী ও এম এ সালামকে।কিন্তু তাঁদের মধ্যে জহুরুল, আতাউর রহমান লাল ও মাসুদুল হাসান একটি পক্ষ এবং ইউনুচ আলী ও এম এ সালাম আরেকটি পক্ষে ভাগ হয়ে যান। তাঁদের নেতৃত্বে আলাদাভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে।গত ১৬ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে নেতাদের যশোরে ডাকে জেলা বিএনপি। সেখানে জেলার জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনে বিতণ্ডায় জড়িয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় উভয় পক্ষ। এমনকি তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সে ঘটনার জেরে জেলার জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন যশোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।সেই থেকে বিএনপির কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচিই উপজেলায় দলীয়ভাবে পালন হচ্ছে না। শুধু পৌর বিএনপি, উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে পালিত কর্মসূচিতে নেতারা উপস্থিত থাকছেন।তবে সম্প্রতি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে কমিটি দেওয়া হচ্ছে এমন গুঞ্জন। নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সম্পাদকদের নাম নিয়েই মূলত এই আলোচনা-সমালোচনার সূত্রপাত।দলের একটি পক্ষ প্রচার চালাচ্ছে উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম এবং এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ আলীকে বাদ দিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সহসভাপতি এমএ সালামকে নতুন সভাপতি এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাকিমপুর ইউপির পরপর তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসানকে নতুন সাধারণ সম্পাদক করা হচ্ছে। জহুরুল ইসলাম ও ইউনুচ আলী উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। তাঁরাই দুই পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।এদিকে নতুন কমিটিতে উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের কান্ডারি প্রায় ৩৬ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বপালনকারী বর্তমান আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম এবং পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক দুবারের পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ারকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জনে নেতা কর্মীদের মধ্যে গুমোট ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলার রাজনীতিতে জহুরুলের প্রতিপক্ষ বলে পরিচিত এম এ সালাম পক্ষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে জহুরুলপন্থী উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির একাধিক নেতা জানান, এমনটা হওয়া অসম্ভবের কিছু না।উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ সালাম এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, 'আমরা এমন কিছু তাঁরা শুনিনি।'চৌগাছা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার বলেন, 'এমন কিছু গুঞ্জন শুনে জেলা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি।'যশোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, 'ভুল বোঝাবুঝি ও মান অভিমানকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। দ্রুতই আদেশ প্রত্যাহার করে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে।'
6
বাংলাদেশ ও নেপালসহ চারটি দেশে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা সরবরাহ শুরু করবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) থেকে। কোভ্যাক্স প্রোগ্রামের আওতায় সেরাম ওই তারিখ থেকে কোভিশিল্ড টিকা সরবরাহ শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্য দুই দেশ হলো তাজিকিস্তান ও মোজাম্বিক। সূত্র জানায়, আগামী বুধবার কোভিশিল্ডের প্রথম চালান হাতে পাবে নেপাল। ভারত সরকার অক্টোবরে সেরামকে 'ভ্যাকসিন মৈত্রী' প্রোগ্রামের অধীনে বাংলাদেশ, নেপাল ও মিয়ানমারে ১০ লাখ ডোজ করে কোভিশিল্ড রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউটের এক সিনিয়র কর্মকর্তা সম্প্রতি দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের স্টকে ২৪ কোটি ৮৯ লাখ ১৫ হাজার ডোজ কোভিশিল্ড টিকা আছে এবং দিন দিন স্টক বাড়ছে।
4
'২৪ তারিখ খেলা হবে'! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় এই কথাটিই যেন এবার মাঠের খেলায় ফিরতে যাচ্ছে। আক্ষরিক অর্থেই আগামীকাল ২৪ অক্টোবর 'খেলা হচ্ছে'। ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের সমর্থকেরা আগামীকাল রোববার টিভি পর্দা থেকে চোখ সরানোর সুযোগ পাবেন না!বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের এই দিনটা শুরু হবে বিকেল চারটায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চোখ রাখার মধ্যে দিয়ে। তখন থেকে যে শুরু হবে সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের প্রথম লড়াই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেই ম্যাচের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে যাবে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি! সারা বছর রাজনীতি নিয়ে উত্তেজনায় থাকা দুই প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তান এবার লড়বে দুবাইয়ের বাইশ গজে।এ তো গেল ক্রিকেটের কথা। আপনি যদি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-করিম বেনজেমা-মোহামেদ সালাহদের খেলা দেখতে চান, তাহলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফাঁকে ফাঁকে টিভির রিমোট ঘোরাতে হবে অন্য চ্যানেলেও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রাত সাড়ে ৯টায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে মুখোমুখি হবে দুই জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল। এর আগে রাত ৮টায় তো স্প্যানিশ লা লিগায় এল ক্লাসিকো। মেসি-রোনালদো না থাকায় এই এল ক্লাসিকোর আগুনে ভাবটা একটু কমলেও ঝাঁজটা কিন্তু আছেই।খেলা এখানেই শেষ নয়। একই দিন মধ্যরাতে টিভি পর্দায় হাজির হবেন লিওনেল মেসি-নেইমারও! ফরাসি লিগ ওয়ানে স্তাদে ভেলোদ্রোমে আর্জেন্টাইন ও ব্রাজিলিয়ান দুই জাদুকরের দল পিএসজি মুখোমুখি হবে প্রতিদ্বন্দ্বী মার্শেইয়ের বিপক্ষে। একই সময়ে সান সিরোতে আছে ইতালিয়ান সিরি 'আ'-এর দুই বড় দল ইন্টার মিলান-জুভেন্টাসের খেলাও।একই দিনে ক্রিকেট-ফুটবলের এত এত মহারণ শেষ কবে দেখেছে বিশ্ব!
12
লাদাখ সীমান্ত নিয়ে ভারত-চীন উত্তেজনা চলছেই। এরই মধ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে সম্মলনে যোগ দিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে সামরিকক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে বড়সড় চুক্তি করল ভারত। - রাইফেল তৈরিতে দুই দেশের মধ্যে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এতে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন অস্বস্তিতে পড়েছে। জানা গেছে, একে-৪৭ রাইফেল ক্যাটাগরির সবচেয়ে লেটেস্ট এবং অ্যাডভান্সড সংস্করণ এই - । ইন্ডিয়ান স্মল আরম সিস্টেম ৫.৫৬৪৫ এমএম রাইফেলের জায়গায় একে৪৭-এর এই ভার্সনটি ব্যবহার করা হবে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। ভারত ও রাশিয়া যৌথ প্রয়াস ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেল প্রাইভেট লিমিটেডের অংশ হিসেবে দেশের মাটিতেই তৈরি হবে একে-৪৭ ক্যাটাগরির সর্বশেষ এবং উন্নত রাইফেল। রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড সবচেয়ে বেশি ৫০.৫ শতাংশ অংশীদার। অন্যদিকে কালাশনিকোভ গ্রুপ সেখানে ৪২ শতাংশ পাবে। রাশিয়ার সরকারের রফতানি সংস্থা রোসোবর্ন এক্সপোর্টের হাতে থাকবে ৭.৫ শতাংশ। রাশিয়ান অস্ত্র ৭.৬২*৩৯ এমএম রাইফেল উত্তরপ্রদেশের কোরওয়া অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা হবে। ২০১৯ সালেই বিশাল এই সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আরও জানা গেছে, প্রযুক্তিস্থাপন এবং প্রস্তুতকারক ইউনিট নিয়ে একে৪৭ ক্যাটাগরির সাম্প্রতিকতম এই সংস্করণ প্রতি খরচ প্রায় ১,১০০ ইউএস ডলার। ১৯৯৬ সাল থেকে ইনসাস হিমালয়ের উচ্চতায় এবং প্রতিকুল পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয় ইন্ডিয়ান স্মল আরম সিস্টেম। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ককে আরও প্রসারিত করতে একাধিক চুক্তি নিয়ে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই শোইগুর সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রসঙ্গত, গত জুনেও মস্কো সফরে গিয়েছিলেন রাজনাথ। রাশিয়ার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিক্টরি ডে'র ৭৫ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমন্ত্রিত ছিলেন রাজনাথ। সেখানে গিয়ে তিনি বর্ণাঢ্য সামরিক কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন। ওই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। সূত্র: কলকাতা২৪ বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগকারী প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাসের বিস্তারিত পরিচয় মিলেছে। তিনি বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গতবছর তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আট সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। এই ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিউবার্ট গোমেজ এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাস গুপ্ত। এছাড়া 'শারি' নামে বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে একটি এনজিও'র পরিচালক প্রিয়া সাহা। এর পাশাপাশি তিনি 'দলিত কণ্ঠ' নামের একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ওই পত্রিকায় প্রিয়া সাহার পুরো নাম দেওয়া হয়েছে 'প্রিয় বালা বিশ্বাস'। সেখানে বয়স দেখানো হয়েছে ৫৪ বছর। পিতার নাম- মৃত নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। এই পত্রিকার ঘোষণাপত্রে দেখা যায়, চলতি বছরের ১২ জুন ঢাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ রসুল পত্রিকাটি প্রকাশের ঘোষণাপত্র প্রদান করেন। ঘোষণাপত্রে শনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন অ্যাডভোকেট আল আমিন রিজভী। প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাসের পৈত্রিক নিবাস পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চরবানিয়ারী গ্রামে এবং শ্বশুরবাড়ি যশোরে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি), থাকতেন রোকেয়া হলে।ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রিয়ার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুদকের সদর দফতরে উপপরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন। তার দুই মেয়ে প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা ও ঐশ্বর্য লক্ষ্মী সাহা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজে ধর্মীয় নীপিড়নের শিকার হওয়া ১৯টি দেশের ২৭ জন ব্যক্তির সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎকালে প্রিয়া নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বলেন, 'স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বিলীন হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। সেখানে এখনো ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।' তিনি আরো বলেন, 'আমি আমার বাড়ি-ঘর হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমিজমা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তারা (সরকার) কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এখন পর্যন্ত।' এ সময় ট্রাম্প ওই নারীকে প্রশ্ন করেন, 'কারা জমি দখল করেছে, করা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?' ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে ওই নারী বলেন, 'তারা মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এবং তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।' ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে এমন মিথ্যাচারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
6
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদকে শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে কার্যকর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় ঝাড়ু ও জুতার মালা নিয়ে কেরানীগঞ্জ কারাগারের বাইরে সাধারণ জনগণের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে মাজেদের লাশ দাফন নিয়ে ঝামেলা পড়েছে মাজেদের পরিবার। লাশ দাফনে স্থানীয়দের কঠোর আপত্তি থাকায় ভোলার প্রশাসন কোন প্রকার ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হলো। তাই মাজেদের লাশ শশুরবাড়ী নারায়নগন্জের সোনারগায়ে দাফন করা হবে।
6
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের এই বেঞ্চ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন। আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক। রায়ে খালেদা জিয়াকে সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। বিচারিক আদালতের দেওয়া ওই সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে গত বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন খালেদা জিয়া। এর গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে দেওয়া জরিমানার আদেশ স্থগিত করে বিচারিক আদালতে থাকা মামলাটির নথি তলব করেন হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে নথি পাঠাতে বলা হয়। বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি গত ২০ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন তাঁর আইনজীবীরা। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
9
বিশ্বস্রষ্টা, বিশ্বপ্রভু মহান আল্লাহ তাআলা বিশ্বশান্তির জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে দুনিয়ায় পাঠালেন। বিশ্বজাহান আনন্দে গেয়ে উঠল, 'বালাগাল উলা বি কামা-লি হি, কাশাফাদ দুজা বি জামা-লি হি; হাছুনাত জামিউ খিছ-লি হি, ছল্লু আলাইহি ওয়া আ-লি হি' (সবার ওপরে আসন যাঁর; তাঁর রূপের ঝলকে কেটেছে আঁধার, সকল কিছুই সুন্দর তাঁর; দরুদ তাঁকে ও তাঁর পরিবার)। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ধরাধামে আগমন করলেন পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে। রবি মানে বসন্তকাল। আরবি বর্ষপঞ্জি বা হিজরি সনের তৃতীয় মাস হলো 'রবিউল আউয়াল'। আরবি বসন্তের মাস দুটি হলো 'আর রবিউল আউয়াল' অর্থ প্রথম বসন্ত ও 'আর রবিউস সানি' বা 'আল রবিউল আখার' (আর রবিউল আখির) অর্থ দ্বিতীয় বসন্ত বা শেষ বসন্ত। রবি শব্দের মূল অর্থ চতুষ্কোণ। এ ছাড়া রবি শব্দটি শক্তি, শৌর্যবীর্য, উচ্চতা, উন্নতি, স্থিত হওয়া, উপনীত হওয়া, আবাস, নিবাস অর্থে ব্যবহৃত হয়। (লিসানুল আরব, পৃষ্ঠা: ১১৩-১২৩)। আল্লাহ তাআলা ভালোবেসে সৃষ্টি করলেন বিশ্বনিখিল। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখতে চান। তাই স্বীয় ভালোবাসার প্রতিবিম্বরূপে প্রেরণ করলেন প্রিয় হাবিব (সা.) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শ আখেরি নবী ও সর্বশেষ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে। তিনি ইনসানে কামিল বা পরিপূর্ণ মানব। মানবীয় অবয়বে আল্লাহর গুণাবলির সর্বোচ্চ সমাহার ঘটেছিল মহানবী (সা.)-এর মধ্যে। তাঁর জীবন ছিল জীবন্ত কোরআন। তাঁর শুভাগমনে ইসলামের পরিপূর্ণতা ঘটেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আল্লাহর রং! আর আল্লাহর রং অপেক্ষা অধিকতর সুন্দর রং কী হতে পারে? আমরা তাঁরই ইবাদতকারী অনুগত বান্দা।' (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৩৮)। প্রকৃতির ধর্ম, মানবধর্ম, ভালোবাসা ও প্রেমের ধর্ম, মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের পূর্ণতাদানের জন্যই মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাব। কোরআনের ভাষায়, 'তিনি তাঁহার রাসুলকে পথনির্দেশ ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন অপর সকল ধর্মের ওপর উহাকে জয়যুক্ত করার জন্য। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।' (সুরা-৪৮ ফাতহ, আয়াত: ২৮)। মহানবীর সুমহান আদর্শ ও চরিত্র বলেই ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটেছে। 'অবশ্যই আপনি মহান চরিত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অধিষ্ঠিত।' (সুরা-৬৮ কলম, আয়াত: ৪)। 'অবশ্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট এক রাসুল এসেছেন, তোমাদিগকে যা বিপন্ন করে, তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক, তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী। তিনি মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনি বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ বা উপাস্য তথা ইবাদতের উপযুক্ত মাবুদ নেই। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং তিনি মহান আরশের অধিপতি (সুরা-৯ তাওবাহ, আয়াত: ১২৮-১২৯)।' প্রিয় নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা মুমিনের ইমান, সুন্নাতের অনুসরণই ভালোবাসার প্রমাণ। কোরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, '(হে রাসুল!) আপনি বলুন, "যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো; ফলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন, তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সুরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ৩১)।'" ইসলামের শিক্ষা, 'প্রতিবাদের শ্রেষ্ঠ পন্থা উত্তম আচরণ'। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'মন্দের প্রতিবাদ করো উত্তম দ্বারা, তারা যা বলে আমি সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত (সুরা-২৩ মুমিনুন, আয়াত: ৯৬)।' 'ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত করো উৎকৃষ্ট দ্বারা, ফলে তোমার সহিত যার শত্রুতা রয়েছে, সে-ও তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে যাবে (সুরা-৪১ ফুচ্ছিলাত, আয়াত: ৩৪)।' হিংসা-বিদ্বেষ ও কলুষমুক্ত অন্তর নবীজি (সা.)-এর মহান সুন্নাত সর্বোত্তম আদর্শ। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে (আদর করে) বলেছেন, "হে আমার প্রিয় সন্তান! যদি তুমি পারো তবে সকাল-সন্ধ্যা রাত-দিন এভাবে অতিবাহিত করো যেন তোমার অন্তরে কারও জন্য কোনো (গিশ্শ) হিংসা-বিদ্বেষ না থাকে, তবে তা-ই করো।" তিনি আরও বলেন, "এটা আমার অন্যতম সুন্নাত আদর্শ। আর যারা আমার সুন্নাত আদর্শকে (আমলের মাধ্যমে) ভালোবাসবে, তারা প্রকৃত আমাকেই ভালোবাসে; আর যারা আমাকে ভালোবাসে তারা আমার সঙ্গেই জান্নাতে থাকবে।" (তিরমিজি: ২৭২৬)।' মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম []
10
গত বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি ভারতের পূর্ব লাদাখের ভারত-চীন নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গালওয়ান ভ্যালিতে চীন ও ভারতের সেনাদের মধ্যে নিরস্ত্র সংঘর্ষ ঘটেছিল। ওই সংঘর্ষে ভারতের অন্তত ২০ জন সৈনিক মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার পর পুরো লাদাখ সীমান্ত ও উত্তর-পূর্বের অরুণাচল পর্যন্ত ভারী অস্ত্রসহ দুই পক্ষই সৈন্য মোতায়েন করেছে। এ নিয়ে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের সূচনা করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনীতির এই নতুন সমীকরণের আঁচ চীনের তিব্বতসংলগ্ন নেপাল, ভুটান এমনকি বাংলাদেশেও লেগেছে। বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারত আর চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে, কিন্তু নেপালের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। নেপাল ক্রমেই চীনের ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে এবং নেপালকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যত চীন ও ভারতের রশি টানাটানি শুরু হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে নেপাল-চীন সম্পর্ক সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে রয়েছে। নেপাল চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) সঙ্গে যেমন যুক্ত, তেমনি আলাদাভাবে ট্রান্স-হিমালয়ান বহুমুখী যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গেও সংযুক্ত হয়েছে। এতে চীনের সঙ্গে নেপালের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। এর মধ্যেই নেপাল নতুন মানচিত্র প্রকাশ করায় তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়। নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তনের প্রাক্কালেও চীন-ভারতের দৌড়ঝাঁপ লক্ষণীয় ছিল। এককথায় চীন-ভারতের ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ও সামরিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে এক নাজুক অবস্থায় রেখেছে। কয়েক বছর ধরেই ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টায় ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এ উদ্যোগ গতি পায়। এর মধ্য দিয়েই ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং ভূকৌশলগত প্রতিযোগিতার ঘূর্ণিপাকে প্রবেশ করে। ইন্দো-প্যাসিফিক জোট এই অঞ্চলে একটি চীনবিরোধী সামরিক জোট। এই জোটে ভারতের যোগদানের পর থেকে চীন-ভারতের সম্পর্কের দ্রুতগতিতে অবনতি হতে থাকে। যার কিছু বহিঃপ্রকাশ ঘটে পূর্ব লাদাখ সীমান্ত সংঘর্ষ ও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। উপমহাদেশের নতুন এই উত্তেজনাকে ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের সময়ে সৃষ্ট উত্তেজনার চেয়েও গভীর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উপমহাদেশের এই উত্তেজনার পেছনে কাজ করছে এ অঞ্চলকে ঘিরে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান। ট্রাম্প প্রশাসনের চীনবিরোধী আগ্রাসী নীতির প্রেক্ষাপটেই উপমহাদেশে এই নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় এবং ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হয়েছিল যে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে হয়তো চীন নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমন হতে পারে। কিন্তু সে 'আশার গুড়ে বালি' মনে হচ্ছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অনুমোদনের পর 'তিব্বত পলিসি অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যাক্ট ২০২০-এ (টিপিএসএ) স্বাক্ষর করে বিল পাস করেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে রাখা হয়েছে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। টিপিএসএ-২০২০-এর মূল বিষয় হলো ভারতের ধর্মশালায় অবস্থিত স্বাধীন তিব্বত সরকারপ্রধান ও ধর্মীয় প্রধান ১৪তম দালাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন ও তিব্বতের রাজধানী লামাতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট স্থাপন। চীন এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে কনস্যুলেট খোলার অনুমতি দেয়নি। অপর দিকে চীন নিজের মতো করে তিব্বতে ইতিমধ্যে ১১তম লামা নির্বাচন করেছে। ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক লাখ তিব্বতির কাছে যা গ্রহণযোগ্য হয়নি। এই তিব্বতিরা ১৯৫৯ সালে তিব্বতে চীনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের পর ১৪তম দালাই লামার সঙ্গে ভারতে অবস্থান করছেন। স্মরণযোগ্য যে ১৯৫৯ সালে তিব্বতের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টার পর দালাই লামার ভারতে আশ্রয়ের প্রেক্ষাপটেই ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে ভারত পরাজিত হয় এবং আকসাই চীন চীনের দখলে চলে যায়। সেই যুদ্ধের পর থেকে চীন তিব্বতের সঙ্গে ভারতের যে বর্তমান সীমান্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে না। যুক্তরাষ্ট্রের হালের বিলটিতে বলা হয়েছে যে তিব্বতের ধর্মীয় অঙ্গনে চীনের হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র মানবে না এবং কনস্যুলেট স্থাপন করতে না দিলে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন শহরে কনস্যুলেট স্থাপনের অনুমোদন দেবে না। অপর দিকে চীনের, বিশেষ করে তিব্বতে চীনের শীর্ষ নেতাদেরসহ অন্যদের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে। চীন-ভারত উত্তেজনার মধ্যে এই বিলের ওপর ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এ অঞ্চলে নতুন করে তৎপর হতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৯ পর্যন্ত তিব্বতের অভ্যন্তরে সিআইএ এবং ভারতের আইবির অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড এবং অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার দৃষ্টান্ত বিবেচনায় নিয়ে অনেকে ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যার আশঙ্কা করছেন। ১৯৫০ সালে তিব্বতকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে যুক্ত করার পর থেকে তিব্বতের বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরি করে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ১৯৫০ সালেই প্রথমে যোগাযোগ স্থাপন করে বর্তমান দালাই লামার অগ্রজ গিয়ালো থনডাপের সঙ্গে। ওই সময়ে ভারতের কালিমপং শহরে সিআইএর গোপন অপারেশন আস্তানা স্থাপিত হয় এবং সেখান থেকেই তিব্বতে গোপন অভিযান চলে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয় ভারতের আইবি। ওই সময় থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার উত্তরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত রানওয়ে (যা বর্তমানে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর) সিআইএ ব্যবহার করে। এখান থেকে তিব্বতের কথিত বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকা বিভিন্ন দ্বীপে। এদেরকে পরে নেপাল-তিব্বতসংলগ্ন মাসটাং নামে গোপন আস্তানা থেকে তিব্বতের অভ্যন্তরে পাঠানো হতো। লক্ষণীয় হলো ওই সময়ে তিব্বতে সিআইএ-আইবি পরিচালিত গোপন অভিযান সেন্ট সার্কাস এবং সেন্ট বারনাম নামক অভিযানে উপমহাদেশের তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছে-ভারত-নেপাল ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান। এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৫৯ সালে তিব্বতে চীনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা হয়, কিন্তু তারা চীনের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। চীন সর্বশক্তি দিয়ে এ অভ্যুত্থান দমন করে। প্রায় ৪০ হাজার তিব্বতি দালাই লামার নেতৃত্বে ভারতের ধর্মশালায় সরকার গঠন করে তিব্বতের স্বাধীনতার দাবি তোলে। এ প্রেক্ষাপটেই ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধে ভারত পরাজিত হয়। যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণে সিআইএকে এ অঞ্চল ত্যাগ করতে হয়। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির চেষ্টায় পাকিস্তান কুর্মিটোলায় সিআইএর কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে চীনের বিরুদ্ধে তিব্বতে গোপন কোনো তৎপরতা শুরু করলে তাতে ভারত সহযোগিতা করবে বলে অনেকেই ধারণা করেন। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ অঞ্চলের দুই দেশ নেপাল ও ভুটানকে কতখানি দলে টানতে পারবে, তা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। করোনা মহামারি-পরবর্তী বিশ্বে চীন অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে বহু এগিয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে এগোনো কতটা সমীচীন হবে, তা নিয়ে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। করোনা-পরবর্তী ভারতের অর্থনীতির সামনে দিনগুলোতে বেহাল থাকবে বলে মনে করেন ওই দেশের বিজ্ঞজনেরা। কাজেই ভারতের পক্ষে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতেরই ক্ষতি হবে। যাহোক, দৃশ্যপটে মনে হয় চীন-ভারত উত্তেজনায় তিব্বত নতুন মাত্রা হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দেশ বাংলাদেশ যাতে এই ঘূর্ণির বাইরে থাকতে পারে, সেদিকেই আমাদের ভূরাজনীতির বিশেষজ্ঞদের নজর রাখতে হবে। ড. এম সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচন বিশ্লেষক, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং এসআইপিজির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (এনএসইউ) []
8
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, 'জিয়াউর রহমান পথে পথে হেঁটেছেন, খাল খনন করেছেন, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, তাই তিনি রাজাদের রাজা ছিলেন। তিনি সফল রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গণে কবিতা, গানের মাধ্যমে অনেক কিছু করার আছে। কারণ, সাংস্কৃতিক অঙ্গণের কোনো সীমারেখা নেই। তাই জিয়াউর রহমানের আর্দশ অনুসরণ করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়েই গণমুখী আন্দোলনেই সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে হবে।' আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় জহুর হোসেন চৌধুরী হলে 'মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি, বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৮৬তম জন্মবার্ষিকী' উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের আয়োজনে আলোচনা সভা ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য লে. কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ খান বলেন, 'শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অনুস্মরণীয় হয়ে থাকবে।' বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মেগাস্টার চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, 'শহীদ জিয়ার চোখ, মুখ, মুভমেন্ট দেশপ্রেমের কথা বলে, মানুষকে পথ-প্রদর্শনের কথা বলে। জিয়াউর রহমান অবশ্যই আমাদের জন্য অনুকরণীয়।' বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু বলেন, 'জিয়াউর রহমান না জন্মিলে দেশ স্বাধীন হতো না। তাকে অনুসরণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আমরা সফল হবো।' এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক সংগীত পরিচালক ইথুন বাবু, মো. ফেরদৌস ফকির, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন, সদস্য মাকসুদুর রহমান টিপু, রফিকুল ইসলাম স্বপন, শাহ মো. বিল্লাল হোসেন, নাসির উদ্দিন মিলন, শিহাব খান, আশরাফুল ইসলাম দিপু, শফিকুল হাসান রতন, জাসাস নেতা মিজান ভান্ডারী, আব্দুল মালেক মুন্সি, মিজানুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন থেকে তেলোয়াত, এরপর জাসাসের সদস্য কণ্ঠশিল্পী শাহীনুর আবেদীন ও তার দলের শিল্পীদের বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশনা এবং জাসাস আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সংগীত পরিচালক ইথুন বাবু, অ্যাডভোকেট ফরহাদ হোসেন নিয়ন, সদস্য এ বি এম সোহেল রশিদ, এনামুল হক জুয়েল, মিজানুর রহমান, জাসাস নেতা কণ্ঠশিল্পী পরান প্রমুখদের লেখা গান, কবিতা পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাসাস সদস্য মো. নাহিদ উল্লাহ চৌধুরী, এম আই মিঠু, তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, সায়মন তারিক, জাসাস নেতা আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মালেক সাগর, ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6