text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এ কথা জানান তিনি। তিনি লিখেছেন, 'শনিবার থেকে জ্বর ছিল। গতকাল সোমবার টেস্ট করে জানলাম আমার করোনা পজিটিভ। আমার জন্য দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবো।'
4
হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। জুনায়েদ বাবুনগরী বিরোধীরা এ সভার আয়োজক। সভা নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও পাল্টা কমিটি গঠনের মতো পদক্ষেপে যাচ্ছেন না তারা। আয়োজকদের একজন মাওলানা আলতাফ হোসাইন সমকালকে বলেছেন, শুধুই আলোচনা সভা হবে। কমিটি গঠনের মতো কোনো বিষয় নেই। কারা থাকছেন আলোচনা সভায়- এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, দেশের সব শীর্ষস্থানীয় আলেমদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দেখা যাক কারা কারা আসেন। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতের নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলছে আহমদ শফীর জীবদ্দশা থেকে। তিনি মৃত্যুর একদিন আগে আন্দোলনের মুখে হেফাজতের কেন্দ্র হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ ছাড়েন। মাদ্রাসা থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করেন ছেলে আনাস মাদানী ও তার সমর্থক দুই শিক্ষককে। আহমদ শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রক হন। গত নভেম্বরে বিশেষ সম্মেলনে হেফাজতেরও আমির হন। আনাসা মাদানী ও তার সমর্থকদের বাদ দেওয়া হয় কমিটি থেকে। যারা নিজেদের আহমদ শফীর অনুসারী বলে দাবি করেন। তারা আহমদ শফীর মৃত্যুর জন্য বাবুনগরীকে দায়ী করে মামলা করেছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই) বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে দায়ী করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। আলতাফ হোসেন সমকালকে বলেছেন, জুনায়েদ বাবুনগরী এবং তার সমর্থক হেফাজত নেতাদের বৃহস্পতিবারের সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অতিথি করার প্রতিবাদে গত মার্চে রাস্তায় নামে হেফাজত। স্বাধীনতা দিবসে সহিংসতার পর বিক্ষোভ ও হরতালের ডাক দেয় সংগঠনটি। এসব কর্মসূচিতে সরকারি হিসেবে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। হেফাজতের অর্ধ শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ বহু কর্মী সমর্থক সহিংসতা তান্ডবের মামলায় গ্রেফতার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৫ এপ্রিল ২০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ৭ জুন জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব করে ৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের প্রায় সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার অভিযোগে কারাগারে যাওয়া নানা কেলেঙ্কারিতে বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকসহ কাউকে কমিটিতে রাখা হয়নি। আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ মাদানীকে সহকারী মহাসচিব পদ দেওয়া হলেও আনাস মাদানী ও তার কোনো সমর্থককে কমিটিতে নেওয়া হয়নি। এ কমিটি প্রত্যাখান করে পাল্টা কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। কমিটি ঘোষণার সপ্তাহখানেক আগে থেকে তারা এ হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন। তবে কমিটি গঠনের পর আনাস মাদানী ও তার সমর্থকদের আগের মতো কঠোর অবস্থানে দেখা যায়নি। এসব বিষয়ে জানতে হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাইনুদ্দিন রুহি বিস্তারিত বলেননি। পাল্টা কমিটি গঠনের হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা তার কথাতেই স্পষ্ট হয়। তিনি বলেছেন, আলোচনা সভা হবে। এসে দেখুন আর কী কী হয়।
6
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৌশলগত জয় হলো ইউক্রেনের। কিয়েভ পতনের যে আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধের ৩২ দিনের মাথায় তা ভুল প্রমাণিত হলো। ইউক্রেন সরকার তো পড়েইনি, বরং হুংকার দিয়ে যুদ্ধজয়ের দাবি করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনে হামলার লক্ষ্য পূরণ হওয়ার দাবি করলেও পরিকল্পনা বদলে মস্কোর হঠাৎ পিছু হটার ঘোষণা জেলেনস্কির দাবিকেই সত্য প্রমাণ করছে। ক্রেমলিনের দাবি, তাদের লক্ষ্য এখন দোনবাসের দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া। রুশ সেনারা সেখানেই জড়ো হচ্ছেন। বিষয়টিকে উপযুক্ত প্রতিঘাত করে পিছু হটতে বাধ্য করার শামিল মনে করছেন জেলেনস্কি। রাশিয়া এমন সময় পিছু হটার ঘোষণা দিল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ড সফর করছেন। এ ঘোষণার পর পোলিশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় বাইডেনের মুখে চওড়া হাসি দেখা গেছে। কৌশলগত জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে পোল্যান্ডে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেস্কি রেজনিকভ। ইউক্রেনে রুশ হামলার আগে-পরের প্রেক্ষাপট থেকে পরিস্কার- এই যুদ্ধে প্রধান ছায়াশক্তি হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন শুরু থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিনকে হামলার জন্য বিপর্যয়কর পরিণতির যে হুমকি দিয়েছিলেন, তাতে প্রাথমিকভাবে সফলও তিনি। ন্যাটোর দুর্বল অস্তিত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা চাপা দিয়ে ন্যাটোর অপরিহার্যতা প্রমাণ করতে পেরেছেন বাইডেন। গতকাল পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রজেজ ডুডা ও বাইডেন বৈঠক করেছেন। সেখানে ডুডা পোল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে তার দেশের জনগণের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তখন বাইডেন তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, সদস্যদের যৌথ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ। ন্যাটোর এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একটি সদস্য আক্রান্ত হওয়া মানে পুরো ন্যাটো আক্রান্ত হওয়া। আক্রান্ত দেশকে রক্ষা করা ন্যাটোর দায়িত্ব। ইউক্রেনে হামলাকে রাশিয়া কখনও 'যুদ্ধ' বলে উল্লেখ করেনি। পুতিনের ভাষায়, এটি বিশেষ সামরিক অভিযান। এর লক্ষ্য ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ করা, নব্যনাৎসিমুক্ত করা ও রুশভাষীদের অস্তিত্ব রক্ষা করা। প্রথম পর্বের অভিযান সমাপ্তির ঘোষণায় রুশ জেনারেল সের্গেই রুদস্কোয় দাবি করেছেন, তারা ইউক্রেনের অধিকাংশ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছেন। মস্কোর এই অবস্থানকে কৌশলগত পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, আলজাজিরাসহ পশ্চিমা সব গণমাধ্যম। রাশিয়ার স্থল ও বিমান হামলায় ইউক্রেনের ছোট-বড় অনেক শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রুশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন শহর থেকে পিছু হটে দোনবাসের দিকে ধাবিত হলেও কোথাও কোথাও দু'পক্ষের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। গতকালও লাভিভে তিনটি বড় বিস্ম্ফোরণ হয়েছে। মারিউপোল, খারকিভ ও খেরসন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কিয়েভের পতন না হলেও এসব গুরুত্বপূর্ণ নগর এখনও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মারিউপোলে থেমে থেমে গোলা হামলা হচ্ছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেন নিয়ে মস্কোর যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল, সেখানে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। রাশিয়ার প্রথম পর্বের যুদ্ধ শেষের ঘোষণার মানে হলো- এমন একটি পৃথক রেখা তৈরি করা, যার মাধ্যমে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়া-সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে আলাদা করে রাখবে। ইউক্রেনে এখন কী করবে রাশিয়া: কিয়েভের চারপাশ থেকে রুশ সেনারা পিছু হটলেও রাশিয়া যে কিয়েভ দখলের আশা ছেড়ে দিয়েছে, সেটি এখনই বলা যাবে না। কারও নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধে রাশিয়ার সাতজন জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ফলে দেশটির অনেক ইউনিটের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, 'রাশিয়া বুঝতে শুরু করেছে, একই সঙ্গে অনেক দিকে চালানো তাদের এই অভিযান সফল হবে না।' রাশিয়া ১০টির মতো নতুন কৌশলগত ব্যাটালিয়ন গ্রুপ তৈরি করেছে, সেগুলো এখন দোনবাসের পথে রয়েছে। দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের যেসব এলাকায় দখল বাকি রয়েছে, এখন রুশ সেনাদের হয়তো সেখানে নতুন অভিযান চালাতে দেখা যাবে। ফলে তারা খারকিভ এবং ইজিয়ামের দিকে থাকা বাহিনীগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে। রাশিয়া যদি শেষ পর্যন্ত আজভ সাগরের পাশে মারিউপোলের সমুদ্রবন্দর দখল করে নিতে পারে, তাহলে তাদের অন্য বাহিনীগুলো সহজে উত্তরের দিকে অগ্রসর হতে পারবে। তখন হয়তো তারা ইউক্রেনের বাহিনীকে ঘিরে ফেলতে পারবে। তবে তাদের এই লক্ষ্য এখন পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মনে হচ্ছে। মস্কো এখন হয়তো ভাবতে শুরু করতে পারে- তারা বরং একেকটা এলাকা আলাদা আলাদা করে দখল করবে। সেটি করতে হলে তাদের অস্ত্র বা গোলাবারুদের ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে, বিশেষ করে বিমানবাহিনীর ওপরে। একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, 'আমার বিশ্বাস, পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সামর্থ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দেবে। 'শান্তিচুক্তি ছাড়া সংঘাত বন্ধ করা অসম্ভব': ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, শিগগির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন তিনি। এই যুদ্ধ বন্ধে তিনি দু'পক্ষের মধ্যে টেকসই শান্তিচুক্তির পক্ষে কাজ করে যাবেন। একই ধরনের আশার কথা শুনিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। পুতিনকে 'কসাই' বললেন বাইডেন: যুদ্ধাপরাধী তকমা দেওয়ার পর এবার পুতিনকে 'কসাই' বললেন বাইডেন। পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে শরণার্থীদের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকরা জানতে চান, পুতিন সম্পর্কে এখন তার ধারণা কী? উত্তরে বলেন, তিনি একজন কসাই।
3
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান ইস্যুতে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এবার সেই নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মস্কো। শুক্রবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জানা গেছে, রাশিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধের তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার ২২৮ জনের নাম রয়েছে, আর নিউজিল্যান্ডের রয়েছে ১৩০ জনের নাম। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অদূর ভবিষ্যতে নতুন ঘোষণা দেওয়া হবে। তাতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। রাশিয়ার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব জাগিয়ে তুলতে যারা সাহায্য করছে, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র দফতর। সূত্র: রয়টার্স বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
নোয়াখালী শহরের দক্ষিণে উপকূলীয় জনপদ সুবর্ণচর। ধান-সবজি আর মাছে ভরপুর এই গ্রামে উৎসব পার্বণে আন্দনের সীমা থাকে না। নিরিবলি গ্রাম ঈদের আগে কোলাহলে ভরে উঠে। গ্রামের মেঠোপথে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে নাড়ির টানে মানুষ ছুটে যান। এই সময়টাতে গ্রামীণ অর্থনীতিও বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠে। সাজ সাজ রব তৈরি হয়। গ্রামের কাপড়ের দোকান ও মুদির দোকানগুলোতে থাকে প্রচুর ভিড়। কিন্তু এবারের ঈদ সুবর্ণচরের মানুষের জন্য খুশি নিয়ে আসেনি। বুধবার ছুটি কাটিয়ে সুবর্ণচর থেকে ঢাকায় ফিরেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সলিম উল্যাহ। গ্রামের বিবর্ণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঈদে ঘর থেকেও বের হয়নি। মানুষের মনে এবার আনন্দ ছিল না। গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন খুবই খারাপ। ফলে ঈদের আনন্দ কাউকে স্পর্শ করেনি। শুধু সুবর্ণচর নয় করোনা মহামারির কারণে ঈদে এবার দেশের কোনো গ্রামেই আনন্দ ছিল না। দুই মাস ধরে মানুষের কাজ নেই। তাদের হাতে টাকাপয়সাও নেই। যারা গ্রামে ঈদ করতে এসেছেন তারাও অজানা এক আতঙ্কে কারও সঙ্গে মিশতে পারেননি না। ঈদগাহে এবার সবাই একসঙ্গে নামাজও পড়তে পারেনি। সুবর্ণচরে সতর্কতার অংশ হিসেবে অনেকে বাড়িতেই পারিবারিক আবহে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। মুসুল্লিরা মসজিদে না গিয়ে বাড়ির উঠানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামাজ পড়েছেন। এভাবে অনেক গ্রামেই বাড়িতে নামাজ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মানুষ সব বিভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলিও করতে পারেনি। গত শ বছরের ইতিহাসে ঈদকে এমন জাকজমকহীন ও জৌলুশহীন হতে দেখা যায়নি। সুবর্ণচরের স্থানীয় সাংবাদিক কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদে আমেজ নেই। ঈদ করতে ঢাকা থেকে লোকজনও কম আসছে। মানুষের মনে আনন্দের চেয়ে শঙ্কাই বেশি। কারণ দীর্ঘদিন গ্রামীণ এই জনপদ করোনামুক্ত থাকলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এখানে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। করোনাভাইরাসে কোন ফাঁকতালে গ্রামে-গঞ্জে ঢুকে পড়ে সেই ভয়ে মানুষ ঈদ করতে পারেনি। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজকর্ম বন্ধ থাকায় কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে মানুষের মনে আনন্দ নেই। একই কথা বলছিলেন ঢাকার অদূরের কেরানীগঞ্জের কাঠালতলী গ্রামের বাসিন্দা জুলহাস উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতি বছর গ্রামে ঈদের বন্যা বয়ে যায়। পাড়ায় ছোট ছোট দোকান বসে। মাঠে মাঠে খেলাধুলা হয়। মানুষ এই বাড়ি, ওই বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এবার পুরো গ্রামের মানুষের মন বিষন্ন। ঈদে জামাকাপড় ও সেমাই-চিনি তো দূরের কথা ভাতও খেতে পারছে না মানুষ। কর্মহীন মানুষের কাছে এবার ঈদ মানেই একরাশ দুঃখ। ঢাকা থেকে গ্রামে যাওয়া বেসরকারি চাকরিরজীবী আব্দুল হালিম বলেন, শহরের বাসায় কেউ না থাকায় ঠেকায় পড়ে গ্রামে এসেছি। কিন্তু গ্রামে আসার পর থেকে সবাই সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে। সবাই আমাদের দেখে দূরে সরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি করোনা নিয়ে গ্রামে এসেছি। এই এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। এদিকে নিরানন্দ ঈদ কাটিয়ে ফের করোনা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সড়কগুলোতেও যাত্রীর চাপ বেড়ে গেছে।
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের ফোনালাপের একটি অডিও ক্লিপ সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ফাঁস হয়। যেখানে ভিপি নুরকে জনৈক ব্যক্তির কাছে তদবির এবং প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে। ফোনালাপটি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে ফোনালাপকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আংশিকভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নুর। ফাঁস হওয়া ফোনালাপের একটি কণ্ঠ যে তারই, তা ইতোমধ্যে স্বীকারও করেছেন ভিপি নুর। বিষয়টি পরিষ্কার করতে ভিপি নুর মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) রাতেই ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার ফোনালাপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আংশিকভাবে প্রচার করা হয়েছে। ফোনালাপের প্রথম অংশে নুরুকে জনৈক এক প্রকল্প কর্মকর্তার কাছে তার এক আত্মীয়ের ১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বিষয়ে তদবির করতে শোনা গেছে। এ অংশের বিষয়ে ভিপি নুর ফেসবুক লাইভে বলেন, আমার এক আন্টি অনেক আগে থেকেই কন্সট্রাকশনের বিজনেস করেন। এলাকায় আমার মামার ছেলে মারা যাওয়ায় আন্টি গিয়েছিলেন। তার একটি প্রকল্পে ১৩ কোটি টাকার মসজিদ নির্মাণের কাজ ছিল। ওই কাজের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়ার লাস্ট তারিখের আগের দিন আন্টি আমাকে ফোন দেন, পরিচিত কারো মাধ্যমে যাদের লাইসেন্স আছে তাদের মাধ্যমে যেন ব্যাংক গ্যারান্টি করে রাখি। যেহেতু লাস্ট দিন, তখন আমি আমার পরিচিত এক ভাইকে ফোন দিয়ে বলি কাজটি করতে পারবে কি-না, যেহেতু তিনি কন্ডাক্টর। এই ছিল আলাপ।' ফোনালাপের দ্বিতীয় অংশে শোনা যায়, ভিপি নুর একজন প্রবাসীর সাথে কথা বলছেন। কথোপকথনে প্রবাসী ওই বাংলাদেশি বলেন, আমি কিছু টাকা-পয়সা উঠিয়ে পাঠাতে চাচ্ছি। আমি জানি তোমাদের খুব টাকা-পয়সার দরকার। এ সময় ভিপি নুর বলেন, যতটুকু সৎ থাকা যায় চেষ্টা করছি। তখন ওই প্রবাসী টাকা পাঠানোর জন্য ভিপি নুরের কাছে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য চান। এরপর ভিপি নুর বলেন, আপনি বলছেন, ঠিক আছে-খুশি হয়েছি। এ সময় হোয়াটসঅ্যাপে কল দিচ্ছি বলেও জানান ওই প্রবাসী। অডিওতে আরও শোনা গেছে, ওই ব্যক্তি ভিপি নুরকে ইমেইল অ্যাড্রেসসহ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠাতে বলেছেন। এ অংশের ব্যাখ্যায় ভিপি নুর বলেন, আমাকে যদি ছাত্রলীগের কেউ ফোন দিয়ে বলে ভাই কেমন আছেন? তারপর যদি বলে আমি আপনাকে হেল্প করতে চাই। আমি আপনাকে টাকা পাঠাব। আপনার মেইল এড্রেস দেন, নাম -ঠিকানা দেন। আমি সেখানে কী বলছি সেটার রিপ্লাইও শোনা লাগবে। তার অংশটুকু শুনেই জাস্টিফাই করা যাবে না। আমার অংশটুকুও তো শুনতে হবে। আমি ডাকসু ভিপি আমারও বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসে। একটা লোক ফোন দিয়ে বলছিল আমি আপনাকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আমি তাকে বলে দিছি আমরা অপরিচিত কারও কাছ থেকে সহযোগিতা নেব না। যদি প্রয়োজন হয় আমরা আপনাকে জানাবো। আমার উত্তরটা ছিল এটা। কিন্তু সেখানে তারা এটা যোগ করেনি।' নিজের ফোনালাপ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার কারণে ওই সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদলিপি ও উকিল নোটিশ পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি।
6
দিনাজপুরের খানসামা-পাকেরহাট সড়কে বেলান নদীর গতিপথ বন্ধ করে নির্মিত বিকল্প রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় চরম ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাটি। গত একদিনের বৃষ্টিতে নদীর উপর নির্মিত বিকল্প রাস্তা ভেঙে যাওয়ার ফলে পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াতকারীরা ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগে পড়ে। প্রয়োজনের তাগিদে পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াতকারীরা প্রায় ২ কিলোমিটার বেশি ঘুরে পাকেরহাট জাকির মার্কেট হয়ে নিউ পাকেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মোড় দিয়ে ভান্ডারদহ, বালাডাঙ্গী, ডাঙ্গপাড়া, খামারপাড়া, হোসেনপুর, সহজপুর ও খানসামাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলায় যাচ্ছেন। কয়েকজন পথচারী ও ভ্যান চালক জানায়, খানসামা উপজেলার মধ্যে পাকেরহাট একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাট। এখানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও অবস্থিত। হাটে প্রতিনিয়ত কাঁচামালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাবেচার জন্য উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসতে হয়। অতি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, পানির গতি প্রবাহ বন্ধ না করে বিকল্প রাস্তা হিসেবে কাঠের সাঁকো নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লকডাউন দেওয়া হলেও সরকারের এখন এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক। তিনি বলেছেন, "আমরা আমাদের দেশে লকডাউন চাচ্ছি না।" মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সবাইকে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। দেশে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নেই, কিন্তু করোনাভাইরাস তো আছে! ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট থেকেও যদি আমরা রক্ষা পেতে চাই, আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে- যে কাজটি আমরা করছি না। ইউরোপের অনেকগুলো দেশ লকডাউন দিয়েছে। আমরা আমাদের দেশে লকডাউন চাচ্ছি না" আরও পড়ুন- কার্ড দেখালেই বুস্টার ডোজ পাবেন ষাটোর্ধ্বরা বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "মানুষ যেন বেপরোয়াভাবে না ঘুরে বেড়ায়; কিন্তু সেটা হচ্ছে, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানগুলো কীভাবে হয়? কক্সবাজারে লাখ লাখ মানুষ যাচ্ছে, কেউ মাস্ক পরছে না। বিয়ে হচ্ছে, কেউ মাস্ক পরছে না। তাহলে সংক্রমণ বাড়ার সুযোগ তো রয়েছে! আমরা এ বিষয়ে দুঃখিত।" ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "এখনও আমাদের দেশে সেভাবে ওমিক্রন ছড়ায়নি। নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে যেসব কাজ করতে হবে, সেদিকে আমাদের মনোযোগ বেশি। বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং জোরদার করা হয়েছে। অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্ডারে একই ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব হাসপাতালে রোগী বেশি আছে, সেখানে জিনোম সিকোয়েন্স করা হচ্ছে। ওমিক্রম কারও শরীরে থেকে থাকলে তা শনাক্ত করা যাবে।" টিকার জন্য নিবন্ধনে ব্যবহৃত সুরক্ষা অ্যাপ হালনাগাদ হওয়ার পরে সারা দেশে বুস্টার ডোজ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, "সব জায়গায় বুস্টার ডোজ দিতে হলে আমাদের সুরক্ষা অ্যাপের হালনাগাদের প্রয়োজন রয়েছে। আইসিটি মন্ত্রণালয়কে আমরা জানিয়েছি, তারা কাজ করছে। আইসিটি মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে, এ মাসের শেষের দিকে তারা কাজটা সম্পন্ন করতে পারবে। তারপর আমাদের বুস্টার ডোজের কার্যক্রম পূর্ণ গতি লাভ করবে।"
6
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার একের পর এক ম্যাজিক দেখিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মী, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে গণসংযোগ করে রীতিমত সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সকাল থেকে বন্দরের ২৫নং ওয়ার্ডের কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের সামনে থেকে এ গণসংযোগ শুরু হয়। এতে সর্বদলের, সর্বস্ত্ররের ভোটার ও সাধারণ মানুষরা অংশ নেন। তারা সকলে তৈমূর আলম খন্দকারের 'হাতি মার্কা'র পক্ষে ভোট চেয়ে মিছিল করেন এবং সকলের কাছে দোয়া চান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি নুর উদ্দিন, সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী নাহিসুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, পেশাজীবী, নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
ইতিহাসে প্রথমবার ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পূর্ব উপকূলজুড়ে আঘাত হানা এই তুষারঝড় গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আবহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যেই পাঁচটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং এসব এলাকায় শক্তিশালী ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার থেকে রবিবার (৩০ জানুয়ারি) পর্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তুষারঝড় কবলিত এলাকাগুলোতে প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার। তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের কিছু কিছু এলাকা যে পরিমাণ বরফে ঢেকে যেতে পারে সেটি হবে অভূতপূর্ব। এছাড়া উপকূলবর্তী ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রবিবারজুড়ে খুব ঠাণ্ডা তাপমাত্রা বজায় থাকতে পারে। নরইস্টার নামে পরিচিত এই তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন এলাকা ২ ফুট (৬১ সেন্টিমিটার) বরফে ঢেকে যেতে পারে। এছাড়া নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অনেক এলাকা ইতোমধ্যেই প্রায় ২ ফুট (৬০ সেন্টিমিটার) বরফে ঢেকে গেছে। বলা হচ্ছে, নিউ ইংল্যান্ড অঙ্গরাজ্য দুই ফুটেরও বেশি গভীর বরফের নিচে ঢাকা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়টি ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্য থেকে মেইন অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। নিরাপত্তার জন্য বাসিন্দাদের রাস্তায় বের না হতেও সতর্ক করা হয়েছে। ঝড়ের কয়েক ঘণ্টা আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের আবহওয়া দফতর ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানায়, এই তুষারঝড়ের তীব্রতা এতো দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাবে যে পূর্ব উপকূলজুড়ে বম্বোজেনেসিস পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ের ঠাণ্ডা বাতাস যখন সমুদ্রের উষ্ণ বাতাসের সঙ্গে মিশে বায়ুমণ্ডলের চাপ দ্রুতগতিতে হ্রাস করে তখন সেই পরিস্থিতিকে বলা হয় বম্বোজেনেসিস। বলা হয়েছে, এর ফলে ভয়ঙ্কর ধরনের সাইক্লোনের সৃষ্টি হতে পারে যা 'বোম্ব সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত। বোস্টনের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস মানুষকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতেই মানুষকে ঘর থেকে বের হওয়া বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করা উচিত। সংস্থাটির ভাষায়, আপনাকে যদি বাইরে ভ্রমণে যেতেই হয় তাহলে শীতের মধ্যে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে এমন জিনিস সঙ্গে রাখুন। রাস্তায় কোথাও আটকা পড়লে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করতে হবে। এর আগে ২০০৩ সালে এরকম এক ঝড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে ৭০ সেন্টিমিটার পুরু রেকর্ড পরিমাণ বরফ পড়েছিল। আগের তুলনায় বাতাসের গতি আরও তীব্র হবে এবং সেটি ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রায় পৌঁছানোরও সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া ও তুষারঝড়ের কারণে ঝড়কবলিত মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ফ্লাইট সম্পর্কিত তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত ৫ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। এছাড়া সব মিলিয়ে মোট সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে যাত্রা করেছে।
3
আজ ১৬ মে ২০২২, সোমবার। টিভিতে এই মুহূর্তে চলছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা। এদিকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) আজ একটি ম্যাচ আছে। এই দিন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) একটি ম্যাচ আছে।ক্রিকেটবাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কাচট্টগ্রাম টেস্ট, ২য় দিনসকাল ১০টাসরাসরি, গাজী টিভিও টি স্পোর্টসইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগদিল্লি-পাঞ্জাবরাত ৮টাসরাসরি, স্টার স্পোর্টস ১,গাজী টিভি ও টি স্পোর্টসফুটবলইংলিশ প্রিমিয়ার লিগনিউক্যাসল-আর্সেনালরাত ১টাসরাসরি, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২
12
৬১টি দেশের ওপর ভ্রমণ বিধিনিষেধ শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই দেশগুলোর মধ্যে নেই যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের বেশির ভাগ যাত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ব্যাপারে এখনো বিধিনিষেধ রয়েছে। করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান চলমান থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের গণস্বাস্থ্য সংস্থা গত সোমবার তাদের ভ্রমণ বিধিনিষেধের তালিকা হালনাগাদ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। লেভেল-৪-এ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। লেভেল-৩ ভুক্ত দেশগুলো কোনো টিকাদান কর্মসূচি সম্পূর্ণ করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবে। লেভেল-৩ ভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালির মতো দেশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণকারীরা যুক্তরাজ্যে যেতে পারেন, তবে তাঁদের নিজস্ব কোয়ারেন্টিন মানতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাকেন্দ্র (সিডিসি) এই তালিকা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্য লেভেল-৩-এ থাকলেও গত মার্চে প্রবর্তিত প্রেসিডেন্টের ডিক্রি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, এমন যাঁরা ১৪ দিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, তাঁরা বিশেষ ছাড়পত্র প্রয়োগ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। সিডিসি জানিয়েছে, যেসব দেশের কোভিড পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, শনাক্তের হার কমেছে, সেসব দেশের মানুষ এখন যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন। আগামী সপ্তাহে নতুন করে আরও কিছু দেশের ভ্রমণ বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবারের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়া দেশগুলোর তালিকায় আরও আছে ইকুয়েডর, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, মেক্সিকো, রাশিয়া, সুইজারল্যান্ড, জর্ডান, ডেনমার্ক, তুরস্ক, ইউক্রেন, হন্ডুরাস, হাঙ্গেরি, জাপানের মতো দেশগুলো।
0
বালু নিয়ে যাওয়ার সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল পৌর এলাকায় মৎস্য খামারের সামনে বিকল হয়ে পড়ে একটি ট্রাক। এরপর বালুভর্তি ট্রাকটি মেরামতের সময় হেলে পড়লে ট্রাকের চাপায় মুন্না মিয়া (২০) নামের এক মেকানিকের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও একজন।গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নান্দাইল মৎস্য খামারের বিপরীত পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মুন্না পার্শ্ববর্তী তাড়াইল উপজেলার তেলিয়াটি গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে। আহত মো. আমিনুল ইসলাম নান্দাইল সদর ইউনিয়নের ভাটি সাভার গ্রামের আস্তর আলীর ছেলে।স্থানীয়রা জানান, দুই দিন ধরে বালুভর্তি ট্রাক বিকল হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো ছিল। এরপর নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে মেকানিক মুন্নাকে নিয়ে ট্রাক মেরামত শুরু করেন এর চালক। মেরামতের একপর্যায়ে ট্রাক হেলে পড়লে মুন্না এর নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে মৃত অবস্থায় মুন্নাকে ট্রাকের নিচ থেকে উদ্ধার করে।নান্দাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, 'আমরা খবর পেয়ে ট্রাকের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করি।'নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
6
খুলনা জেলা প্রশাসনের গোপনীয় শাখার সহকারী রবীন্দ্র নাথ সরকারের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার কাজী ম্যানশনের ভাড়া বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের সুধীর সরকারের ছেলে।মৃতের ভাগ্নে অনিন্দ্য মন্ডল বলেন, বাবা নারায়ণ চন্দ্র মন্ডলের ফোন পেয়ে মামা রবীন্দ্রনাথ সরকারের খোঁজ নিতে কাজী ম্যানশনে আসেন। তিনি রাত সাড়ে আটটার দিকে মামার ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ধাক্কা দিতে থাকেন। ভেতর থেকে সাড়া শব্দ না পেয়ে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানানোর পর আবারও দরজা ধাক্কা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দরজা খুলে গেলে মামার মৃত দেহ দেখতে পান। বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসনের মধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।তিনি আরও জানান, মামার হাই প্রেসার ও ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল। কিন্তু ওষুধের মাধ্যমে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে ছিল। কীভাবে তার মৃত্যু হল তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো: হানিফ জানান, সংবাদ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার পুরো শরীর ফুলে উঠেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া কোন কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।বাড়ির মালিক কাজী মাসুদ মনোয়ার জানান, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একটি কক্ষ নিয়ে এ বাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি করতেন। কারও সঙ্গে তার কোন দ্বন্দ্ব ছিল না। অফিস থেকে বাড়ি ফিরতেন, কোথাও কোন আড্ডা দিতেন না বলে তিনি আরও জানিয়েছেন।স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তাঁর মৃত্যুর কারণ বোঝা যাচ্ছে না। আমাদের জানা মতে, তার কোনো শত্রু নেই। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করলে এর রহস্য উদ্ঘাটন হতে পারে।
6
দলের সিদ্ধান্ত না মেনে সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা শফি আহমেদ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। আজ রাতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, 'দলের সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা অমান্য করার প্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন শফি আহমেদ চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। উক্ত নোটিশের জবাবে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য ও সন্তোষজনক হয় নাই বিধায় তাকে বহিস্কারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।' দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় ও স্থানীয় কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। দলের এই সিদ্ধান্তের কারণেই জাতীয় সংসদের সিলেট-৩, লক্ষ্মীপুর-২, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে বিষয়ে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছে দলটি। আগামী ২১ জুন লক্ষ্মীপুর-২ এবং ২৮ জুলাই বাকি তিন শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
ঢাকাস্থ শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী কল্যাণ সমিতির ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট) রিয়ার এডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ড. মো. আশরাফ আলী। গত ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। সহ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড. বেগম শামছুন নাহার শিরীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম রফিকুল ইসলাম রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশেদ, কোষাধ্যক্ষ এবিএম রশিদুজ্জামান রিপন, আইন সম্পাদক মুহা. শ্বাসত মনির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মালেক মল্লিক। বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতি তার বক্তব্য সকলের অংশগ্রহণে শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী কল্যাণ সমিতিকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়ার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও সার্টিফায়েড কপি জমা না দেওয়ায় র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমকে আগামী ১ ডিসেম্বর তলব করেছেন হাইকোর্ট। মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার
6
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর স্পিডবোটের ধাক্কায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। বুধবার (৭ জুলাই) ওই বৃদ্ধের লাশ নদীতে ভেসে উঠে। নিহত বদিউজ্জামান একজন ফেরিওয়ালা ছিলেন। এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (৬ জুলাই) স্পিডবোটের ধাক্কায় নৌকা ডুবে একজন বৃদ্ধ নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তি দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের মাতারগাঁও গ্রামে বাড়ি। দিরাই থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জগদল ইউনিয়নের শাহপরান বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত হ্যারাচ্যাপ্টি নদীতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন শাহপরান বাজার থেকে নিজের ছোট নৌকাযোগে একা বাড়ি ফিরছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জগদল ইউনিয়নের রায়বাঙ্গালী আটপুরিয়া গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী গোলাম রব্বানী তার বেপরোয়া গতির স্পিডবোট ওই নৌকার উপরে তুলে দিলে বদিউজ্জামানসহ নৌকাটি তলিয়ে যায়। ওই দিন খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বদিউজ্জামানকে উদ্ধারের চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হন। পরে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার লাশ নদীতে ভেসে উঠে। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, বুধবার সকালে খবর পেয়েছি স্পিডবোটের ধাক্কায় নিখোঁজ হওয়া বদিউজ্জামানের লাশ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে আটক করতে চেষ্টা চলছে।
6
চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওন-দুজনের মূল পরিচয় তাঁরা অভিনয়শিল্পী। কিন্তু অভিনয়ের বাইরে গানেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন তাঁরা। চঞ্চলের কণ্ঠে একাধিক গান এর আগে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শাওনের গানও পছন্দ করেন শ্রোতারা।এ দুই শিল্পী একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন গত বছর। গেয়েছিলেন 'যুবতী রাধে'। দুই শিল্পীর পরিবেশনা প্রশংসিত হয়। ইউটিউব ও ফেসবুকে দ্রুতই গানটির ভিউ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে কপিরাইট ইস্যুতে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক।'সরলপুর' ব্যান্ড দাবি করে, গানটি তাদের কপিরাইট করা। আপত্তির মুখে চঞ্চল ও শাওনের কণ্ঠে ধারণকৃত গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয় পরিবেশক প্রতিষ্ঠান।গানটি সরিয়ে ফেলায় খুব কষ্ট পেয়েছিলেন চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওন। পৃথক বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছিলেন সে কথা। তবে প্রথম গানের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে আবারও এক হয়েছেন তাঁরা। কণ্ঠ দিয়েছেন দ্বৈত গানে। এবারও তাঁদের কণ্ঠে উঠে এসেছে লোকগান। গেয়েছেন হাসন রাজার কালজয়ী গান 'নিশা লাগিল রে'। সংগীত আয়োজনে আছেন পার্থ বড়ুয়া।প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'আইপিডিসি আমাদের গান'-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ আগেই গানটির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন চঞ্চল চৌধুরী ও শাওন। এরই মধ্যে সব কাজ শেষ করে মুক্তির জন্য প্রস্তুত।নতুন এ গান নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওন। দুই দিন আগে পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করে শাওন জানিয়েছিলেন, নতুন কিছু আসছে। আর চঞ্চল বলেছেন, 'সর্বতঃ মঙ্গল রাধে বিনোদিনী রাই-এর পর আসছে নতুন গান। এবারের ঈদে। যথারীতি পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে।' ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশ পাবে গানটি। শ্রোতাদের জন্য তাই এবার পার্থ বড়ুয়া-চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওন ত্রয়ীর ঈদ উপহার 'নিশা লাগিল রে'।
2
রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন ই বিগান। বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে অবস্থিত স্মৃতি জাদুঘরটি পরিদর্শনে যান তিনি। জাদুঘর পরিদর্শনকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিগান। একইসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটরস বুকে লেখেন, স্বাধীনতার ৫০ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মতো এমন বন্ধু পেয়ে গর্বিত যুক্তরাষ্ট্র। আমরা আশা করি, আগামী ৫০ বছর এবং এর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, স্বনির্ভর ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবে। এ সময় তাকে পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখান বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর এন আই খান। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
6
মৌলভীবাজারে দায়িত্বরত অবস্থায় বাসচাপায় পুলিশের এক সদস্য নিহতের ঘটনায় জালালাবাদ পরিবহনের চালক রহিম উদ্দিনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে নগরীর রহমতপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রহিম উদ্দিন ওই এলাকার কাজিমুদ্দিনের ছেলে।জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম আজ সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৪ দিকে জালালাবাদ পরিবহনের সিলেটগামী একটি নৈশকোচ বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৌলভীবাজার সদরের শেরপুর পয়েন্টে দায়িত্বরত তিন পুলিশ সদস্যকে চাপা দেয়। এতে রাকিব আলী রানা নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন কামরানুর রহমান ও আনিস আহমেদ নামে আরও দুই পুলিশ সদস্য। তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।এই ঘটনার পর মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতা চায়। এরপর জালালবাদ পরিবহনের চালক রহিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চালক রহিম উদ্দিনকে মৌলভীবাজার সদর থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি।
6
নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন মিলনায়তনে এই দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শরিফ উদ্দিন। নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন তালুকদার টগরের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, পিবিআই'র পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট মো. আনোয়ারুল হক এবং সকল বিচারকগণ। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
6
দায়িত্ব পালন করে থানায় ফিরে কিছুটা অসুস্থতা বোধ করছিলেন পুলিশের উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মো. সেলিম। দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামছিলেন নিচে। এর মধ্যে অসতর্কতাবশত নিজের পিস্তল থেকে বের হয়ে যায় গুলি। গুলির বিকট শব্দে জ্ঞান হারান সেলিম। বরিশালের কোতোয়ালি থানায় গতকাল শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। ঘটনার সময় থানায় অবস্থানরত এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এএসআই সেলিম ডিউটি শেষ করে থানায় ফেরেন। এরপর তিনি থানার দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি বেয়ে নিচতলায় নামার সময় আকস্মিক গুলি ছোঁড়ার বিকট শব্দ শুনে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে গিয়ে সেলিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শারমিন সুলতানা বলেন, এএসআই সেলিম আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। এ জন্য তাঁকে ছুটি নিয়ে চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য বলা হয়েছিল। দোতলার সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এ সময় যেকোনোভাবে তাঁর সঙ্গে থাকা পিস্তল থেকে গুলি বের হয়ে যায়। শব্দ পেয়ে সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এসি জানান, কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি (পিস্তল) লোড করা ছিল। মূলত অসতর্কতার কারণে সেটি থেকে মিস ফায়ার হয়েছে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) ফজলুল করিম বলেন, 'আমরা মনে করছি এটা মিসফায়ার। ওই পুলিশ সদস্য আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এ জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ে যাওয়ার সময় তাঁর কাছ থাকা পিস্তলটি পড়ে গিয়ে মিসফায়ার হয়েছে। এতে বিকট শব্দ হওয়ায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে কারও শরীরে কোনো গুলি লাগেনি।' কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম আজ রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, এএসআই সেলিম বর্তমানে সুস্থ আছেন। মূলত উচ্চ রক্তচাপ আর বিকট শব্দে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটের (পুরুষ) রেজিস্ট্রার নাজমুল আহসান বলেছেন, এএসআই সেলিম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
6
সরকার এখন নির্বাচনকে হাস্যরসে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নাসিমন ভবনের কার্যালয়ের মাঠে '৩০ ডিসেম্বর ভোটাধিকার হরণ দিবস' উপলক্ষে কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।আবুল হাশেম বক্কর বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ছাড়া সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনো নির্বাচন কমিশনই করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছেন, তার কোনো ক্ষমতা নেই পরিবর্তন করার।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিয়া ভোলা, আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুন জামান প্রমুখ।
6
অবস্থা এখন এমনই দাঁড়িয়েছে। যেটাই বেছে নেবেন, দুর্গতি অবশ্যম্ভাবী। খারাপের মধ্যেই বাছাই করতে হবে। এবার সিদ্ধান্ত আপনাদের। বাছবেন কোনটি? এমন পরিস্থিতিকে আখ্যা দিতে বাংলায় বেশ ভালো একটি প্রবাদ আছে, শাঁখের করাত। এই করাতে ধার সর্বত্র। তাই যেদিকেই যান ক্ষতবিক্ষত হতেই হবে। সেই ধার চলে আসতে পারে চাপাতি বা দা-তে। সেগুলো খড়্গ হয়ে নেমে আসতে পারে আপনার ঘাড়ে-গলায়। তবে ভাববেন না যে আপনি একা! অনেকেই আছে এদিক-সেদিক। কেউ হয়তো তাকিয়ে দেখছে অপলকে, কেউ চালু করেছে ক্যামেরা। এভাবেই আপনার মৃত্যু ইন্টারনেটে অক্ষয় রূপ ধারণ করবে। কিছুদিন হইচই হবে। ওই যা হয় আর কি! আগেও হয়েছে ঢের। একদিন সবাই আপনার নাম-পরিচয়-অবয়ব ভুলে যাবে, আপনার নিহত হওয়ার 'আকর্ষণীয়' ভিডিও মোবাইল থেকে মুছে যাবে। কারণ, তত দিনে চলে আসবে নতুন ভিডিও, নতুন মৃত্যু। হয়তো আগের দিন যিনি ভিডিও করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুই ধারণ হবে ক্যামেরায়। এক বন্ধুর সৌজন্যে কিছুদিন আগে একটি শর্টফিল্ম দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। ভারতীয় নির্মাতা গৌরব শর্মার লেখা ও পরিচালনায় ছবিটির নাম 'দ্যাট ম্যান ইন দ্য পিকচার'। একটি অনলাইন স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটে দেখা যায় ছবিটি। ১৮ মিনিটের এই ছবির মূল কাহিনি একজন মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষকে কেন্দ্র করে লেখা। রাস্তায় ঘটে যাওয়া একটি অপরাধ নিরাপদ দূরত্বে থেকে অবলোকন করেছিল সে। ভয় পেয়েই তাতে জড়াতে চায়নি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করেনি। কিন্তু লোকটির নির্বিবাদে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকার সেই দৃশ্য ধরা পড়ে যায় এক সিসিটিভি ক্যামেরায়। তবে তাতে তাকে চেনা যায়নি। আর যায় কোথায়! গণমাধ্যম সেই ছবি প্রকাশ করে 'সাধারণ' নাগরিকের 'নির্লিপ্ত' আচরণের সমালোচনায় মেতে ওঠে। ওই ব্যক্তিও পুড়তে থাকে অনুশোচনায়। শেষে নিজের বিপদেও একই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। শুধু আক্রান্তের জায়গায় ছিল ছবির মূল চরিত্র এবং প্রতিবাদ না করে নির্বিবাদে পালিয়ে যাওয়ার তালিকায় দেখা যায় আরেক 'সাধারণ' নাগরিককে! এ দেশেও পরিস্থিতি ভিন্ন নয়। এখানেও রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন ভবনে নানা আকারের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পাওয়া যায়। অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা জানানোই এসব ক্যামেরার কাজ। তাতে অপরাধ ও অপরাধী সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। কিন্তু অপরাধের প্রতিকার কী হয়? হয় না। যদি হতো তবে ব্লগার-অ্যাকটিভিস্ট হত্যার বিচারও এত দিনে হতো। হয়নি। একজন অপরাধী যখন দেখছে, বইমেলা চলার সময় এত মানুষের মধ্যেও কাউকে কুপিয়ে জান নিকেশ করে সদর্পে বেরিয়ে যাওয়া যায়, তখন আর ভয় কীসের! তাই নির্ভীক চিত্তে চলে দা-তে শাণ দেওয়া। ঝকঝকে রোদে চকচকে ছুরি-দা নিয়ে চলে হামলা। আর তাতে কারও জীবনে পড়ে দাড়ি, আর কারও ফেসবুকে লাইক বাড়ে তাড়াতাড়ি। বরগুনায় বুধবার সকালে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে রিফাত শরিফকে। স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। পেশাগত কারণেই এই ঘটনার ভিডিও পুরোটা দেখতে হয়েছে। সে এক যন্ত্রণা বটে! মুখ দিয়ে হয়তো বেরিয়ে পড়ে, 'কেউ এগিয়ে এল না?' আয়েশারও অভিযোগ, কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্তু এগোবে কে? এই অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক সমাজের সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতা। নির্বিবাদে জীবন কাটানোই এখন মূলমন্ত্র, তাতে কারও মাথা কাটা গেলে যাক। আমার গর্দান টিকে থাকলেই হলো, সেই বেঁচে যাওয়া মস্তিষ্কই চালাবে ছিদ্রান্বেষণ! তা না হলে যে নিজের দোষ ঢাকা দেওয়া যাবে না। ঘটনাও যে একটি ঘটেছে, তা তো নয়। এমন অসংখ্য ঘটনা হরহামেশা ঘটছে। চলতি মাসেই নরসিংদীতে ফুলন রানী বর্মণ নামের এত তরুণীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার সকালে তিনি মারা গেছেন। আবার বুধবার ভোরেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিউটি আক্তার নামের সংরক্ষিত নারী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বিউটি সকালে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন, সেখানেই হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসব নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া হয়নি। কারণ, নিষ্ঠুরতার মাপকাঠিতে মেপে সর্বোচ্চটাতেই মানুষ গুরুত্ব দিয়েছে। সুতরাং জনসাধারণের 'মনোযোগ' পেতে মৃত্যু হতে হবে চমক-জাগানিয়া, শিহরণযোগ্য। তবেই ভার্চ্যুয়াল জগতে ঝড় উঠবে, শুরু হবে আলোচনা। জবাই ও কোপ নিয়ে উর্দু ভাষার বিখ্যাত গল্পকার সাদত হাসান মান্টো একটি দাঙ্গাবিষয়ক গল্প লিখেছিলেন। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত মান্টোর গল্পগ্রন্থ 'সিয়াহ হাশিয়ে'-তে গল্পটি আছে। তাতে দেখা যায়, জবাই আর কোপ দিয়ে হত্যার বর্ণনা দিচ্ছে দুই ব্যক্তি। একজন আরেকজনকে জানাচ্ছিল ধীরে ধীরে পোঁচ দিয়ে জবাই করার 'বীরত্ব'। তাতেই মেজাজ খিঁচড়ে যায় আরেকজনের, কারণ তার মতে-কোপ দিয়ে ধড় আলাদা করা বেশি ভালো। তাই জবাই করায় মজা পাওয়া ব্যক্তির গলা এক কোপে আলাদা করে দেয় সে। দেশভাগের সময়কার দাঙ্গার নৃশংসতা এখনো দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে আরও তীব্রভাবে। আগে নৃশংসতার কাহিনির সঙ্গে পাল্লা দিত মানবিকতার গল্পও। ভয় পেলেও কেউ না কেউ দাঁড়াত আক্রান্তের পাশে। আর এ যুগে হাত দিয়ে কোপ ঠেকানোর ব্যর্থ চেষ্টা একা করে যায় আক্রমণের শিকার ব্যক্তি। ভয়ে কুঁচকে যাওয়া আমরা আঙুল টিপি মোবাইল স্ক্রিনে, শেয়ার করি হামলার ভিডিও। এর চেয়ে বেশি কিছু করতেও আমাদের বাধা সেই 'ভয়', প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণটা না আবার খোয়াতে হয়! আর তাই বিনয় মজুমদারের লেখা কবিতার ভাষায় বলতে গেলে, '...এত স্বাভাবিকভাবে সবই ব্যর্থ-ব্যর্থ, শান্ত, ধীর।' (ফিরে এসো, চাকা) অর্ণব সান্যাল: সাংবাদিক [] আরও পড়ুন :নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কী বিচার চাইব জবাই নাকি কোপ-পছন্দ কোনটা? রিফাত হত্যার আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে রেড অ্যালার্ট বহু অভিযোগ নিয়েও দাপিয়ে বেড়াত ওরা বরিশালে আটক চার যুবককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ বরগুনায় রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ 'রিফাতের শরীরে ছিল অসংখ্য আঘাত'
8
বাছাইপর্বে ছেলেদের রিকার্ভ ইভেন্টে কম-বেশি ভালো করেছিলেন বাংলাদেশের চার তিরন্দাজ। এলিমিনেশন রাউন্ডে আসতেই বাদ পড়ে গেলেন দুজন। এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং স্টেজ-১ টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে অবশ্য জায়গা করে নিয়েছেন রোমান সানা ও হাকিম আহমেদ রুবেল।ছেলেদের রিকার্ভ এককে ৩২ তিরন্দাজের মধ্যে ৬৫৩ স্কোর করে সপ্তম হয়েছিলেন রোমান। ৬৪৪ স্কোর করে সাগর ইসলাম নবম, ৬৪৩ স্কোরে রামকৃষ্ণ সাহা ১১ ও ৬৩৬ স্কোরে রুবেল হয়েছিলেন ১৫তম।হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এলিমিনেশন রাউন্ড থেকে বাদ পড়ে গেছেন সাগর ও রামকৃষ্ণ সাহা। ফিলিপাইনের নাইজেল গার্সিয়াকে ৬-৪ সেটে হারিয়েছেন রোমান। থাইল্যান্ডের পান্থকর্ন চাইসিলিপের বিপক্ষে সরাসরি ৬-০ সেটে জিতেছেন রুবেল।আগামী পরশু বৃহস্পতিবার ইরানের শাবানি রেজার বিপক্ষে খেলবেন রোমান সানা। রুবেল খেলবেন কাজাখস্তানের সানজার মুসায়েভের বিপক্ষে।একই দিনে নারীদের কম্পাউন্ড ইভেন্টেও শেষ ষোলোতে উঠেছেন বাংলাদেশের দুই তিরন্দাজ রোকসানা আক্তার ও শ্যামলী রায়। ১৪২-১৪০ স্কোরে সিঙ্গাপুরের লি ম্যাডেলিনকে হারিয়েছেন রোকসানা। মালয়েশিয়ার কায়ালভিলিকে ১৪০-১৩৮ স্কোরে হারিয়েছেন শ্যামলী।
12
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, রাষ্ট্রীয় শক্তির গভীরে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপশাসন বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেআইনি কাজে ব্যবহারের ফলে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপশাসনের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারলে শুধু বড় বিপর্যয় নয়, ক্রমাগতভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পথে ধাবিত হবে। হত্যা, গুম এবং নিধন করার সংস্কৃতির সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী ফলাফল হচ্ছে মেজর সিনহা। করোনা মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ, লণ্ডভণ্ড স্বাস্থ্যব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কয়েক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের অভাব ও নিরন্ন মানুষের হাহাকারে এক নজিরবিহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতির ভাষণে এ মন্তব্য করেন আ স ম রব। করোনা মহামারী সংকট মোকাবেলায় সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে যে লণ্ডভণ্ড অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে আধুনিক বিশ্বে বিরল। জনগণের মূল্যবান সম্পদ 'জীবন' সুরক্ষা দিতে সরকারের কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং প্রতিদিনের মৃত্যুসংখ্যাকে সরকার সফল হিসেবে বিবেচনায় নিচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা ৬ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ হতদরিদ্র হয়ে পড়েছে বলার পর ও সরকার অর্থনীতিতে সফল হিসেবে আত্মপ্রচার করছে। নির্বাচন বিহীন সরকার, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন ব্যবস্থা এবং জনবিচ্ছিন্ন সরকারের কারণে আঞ্চলিক পরাশক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ নিচ্ছে। সরকার আর্থসামাজিক কোন সংকট নিরসন করতে পারছে না। ফলে গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থান জনবিস্ফোরণ প্রতিহত করতে প্রতিমুহূর্তে ভিন্নমতকে বল প্রয়োগে স্তব্ধ করছে অন্যদিকে পরাশক্তির বলয়ের মাঝে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকছে। ক্ষমতার বৈধতার নৈতিক সংকট দুর্নীতি ও অপশাসনের ফলে রাষ্ট্র বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন বিদ্যমান শাসন কাঠামো আমূল পরিবর্তন করে স্বাধীন দেশের উপযোগী নতুন শাসন কাঠামোর প্রবর্তন করা। জনগণের অংশগ্রহণ ভিত্তিক অর্থাৎ শ্রম কর্ম পেশার জনগণের রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার মধ্য দিয়েই এক নতুন রাজনৈতিক মডেল প্রবর্তিত হবে। যা বিদ্যমান নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তে নৈতিক মানবিক এক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত হবে। জেএসডির স্থায়ী কমিটির মুলতবি সভায় বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, স্থায়ী কমিটির সদস্য সা কা ম আনিসুর রহমান খান, মো. সিরাজ মিয়া, তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, এডভোকেট আব্দুল হাই, এডভোকেট আব্দুর রহমান মাস্টার ও আব্দুল জলিল চৌধুরী। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ১০ বছরেও শেষ হয়নি মামলার তদন্ত। তবে খুব শিগগির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে র্যাব। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ শুক্রবার দুপুরে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, 'আপনারা জানেন র্যাব যখন কোনো মামলার তদন্ত করে, তখন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তদন্ত করার চেষ্টা করে। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য থাকে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন আমাদের তদন্তের মাধ্যমে সাজা না পায়।'র্যাব কর্মকর্তা বলেন, 'সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পর র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। র্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই মামলা তদন্ত করছে। এই মামলার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ডিবি, সিআইডি, সাংবাদিক ভাই-বোনেরাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা কাজ করেছে, তাদের কাছে যা তথ্য-উপাত্ত ছিল আমরা সবকিছুর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ১৬০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি।'সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ফের নতুন তারিখর্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, 'এই ঘটনায় যে সকল আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে র্যাব ও সরকার এতটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে, মামলার বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিদেশেও পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আমরা বিভিন্ন তথ্য পেয়েছি। সেগুলো পর্যালোচনা করছি। আমরা এখনো তদন্ত চলমান রেখেছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। আমাদের একটাই কথা-আমরা চাইব না কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন দোষী সাব্যস্ত হয়।'কবে এই দ্রুত সময় শেষ হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, 'এই মামলার অনেক আলামত ডিএনএসহ বিদেশে পাঠাতে হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট পেতে সময় লেগেছে। সেগুলো পর্যালোচনা করছি। আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে সব দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন। এতেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। পাশাপাশি আমরা টাইম টু টাইম মামলার অগ্রগতি আদালতে জানিয়েছি। ফলে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। তদন্ত চলমান রয়েছে। আশা করি, শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।'সাগর-রুনি হত্যা: ৮৪ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখএই ধরনের মামলা তদন্তে র্যাবের সক্ষমতা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, 'এ বিষয়টি এমন না। র্যাব অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত করেছে। চট্টগ্রামে মাদক ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব পালন করেছে। আর যখন আদালত র্যাবকে মামলার তদন্ত দেন, তখনই র্যাব কাজ করে। সম্প্রতি বিভিন্ন মামলার তদন্ত করার জন্য বাদীপক্ষ র্যাবের তদন্তের আবেদন করে। মানুষের এই আস্থা রয়েছে বলেই বিভিন্ন মামলার তদন্তভার আদালতের মাধ্যমে র্যাব পায়।'
6
ঠাকুরগাঁও শহরের আলোচিত স্কুলশিক্ষক শান্তনা রায় মিলি চক্রবতী হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিএনপি নেতাসহ দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।আজ বৃহস্পতিবার রাতে মিলির ছেলে অর্ক রায় রাহুল (২৮) ও সাবেক ছাত্রদল নেতা বর্তমান বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম সোহাগকে (৪০) হেফাজতে নেয় সিআইডি।মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক। সিআইডির এই কর্মকতা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জেলা শহরের কালিবাড়ি মোড় থেকে সোহাগকে এবং মোহাম্মদ আলী সড়কের নিজ বাড়ি থেকে রাহুলকে হেফাজতে নেয় সিআইডি।গত ৮ জুলাই সকালে শহরের মোহাম্মদ আলী সড়কে নিজ বাসার পাশে থেকে মিলি চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১০ জুলাই ঠাকুরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। ৪৫ বছর বয়সী মিলি 'প্রারম্ভিক কিন্ডারগার্টেন' নামে একটি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। মিলির স্বামী সমীর কুমার রায় পঞ্চগড় চিনিকলে কর্মরত। শহরের লোটো জুতার দোকানের শো-রুমের মালিক তিনি। এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুই সন্তানেরই বিয়ে হয়েছে। তাঁদের বাড়ি শহরের তাঁতীপাড়ায়।
6
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, 'করোনা (কোভিড-১৯) মহামারি একের পর এক রূপ বদলাচ্ছে। পরবর্তী মহামারি মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।' আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সায়েন্টিফিক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। 'আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিষয় ছিল যে, চিকিৎসকরা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাননি। নার্সরা পিছিয়ে যাননি। দেশ থেকে করোনা এখনো চলে যায়নি, আমাদের সচেতন থাকতে হবে,'- বলেন জাহিদ মালেক। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীকে ১৬ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে তলব করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, আগামী ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টায় দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, সেগুনবাগিচা, ঢাকায় নিম্নস্বাক্ষরকারীর কাছে উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধানকার্যে সহযোগিতা করার নিমিত্ত বক্তব্য প্রদানের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এর আগে অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আফনান আন্নাত কেয়া, সহকারী পরিচালকের সমন্বয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধানকারী টিম নিয়োগ করেছে কমিশন। বিডি প্রতিদিন/এএম
6
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজেদের মতো করে নির্বাচনের মাঠ সাজাচ্ছে। বাংলাদেশে বিএনপি ও খালেদা জিয়া ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না।আজ সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'আমি স্পষ্ট বলতে চাই, নিজেদের পছন্দমতো নির্বাচনের মাঠ সাজালে কোনো কাজ হবে না।' তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে বর্তমান সরকারের সহযোগী এইচ এম এরশাদ বলেছেন দেশে আগাম নির্বাচন হবে। তারই আলামত হিসেবে হয়তো রোববার ২২ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ২৯ জন পুলিশ সুপারকে (এসপি) বদলি করা হয়েছে। দেশের জনগণের মধ্যে একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে, এটা আগাম নির্বাচনের আলামত কি না। রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'আবারও খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে ভোটের পরিকল্পনা করছে সরকার।' তিনি বলেন, দেশের মানুষ খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া কোনো নির্বাচন হলে প্রতিহত করবে। সরকারের অশুভ নীলনকশা কখনো বাস্তবায়ন হতে দেবে না। বিএনপি নেতা রিজভী অভিযোগ করেন, 'খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। তাঁকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।' তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের নেতারা সরকারি খরচে দেশ-বিদেশে ঘুরে ঘুরে নৌকা মার্কায় ভোট চাইছেন। আর বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে না।
9
সম্প্রতি অতিদরিদ্রদের কর্মসৃজন কর্মসূচি (ইজিপিপি) শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পে রোজ হাজিরায় অতিদরিদ্রদের মাটি কেটে গ্রামীণ রাস্তা ঘাট মেরামত করার কথা। কিন্তু এতে দরিদ্রদের বাদ দিয়ে 'মাটি কাটার দল' ভাড়ায় নিয়ে করা হচ্ছে রাস্তা মেরামত। ফলে যাদের জন্য এ প্রকল্প তারাই বাদ থাকছেন। বিফলে যাচ্ছে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বঞ্চিত হচ্ছে সত্যিকারের উপকারভোগীরা।নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অতিদরিদ্রদের কর্মসৃজন কর্মসূচিতে (ইজিপিপি) এমন অনিয়ম পাওয়া গেছে।সরেজমিন উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের জনদপুর পশ্চিমের নতুন মসজিদ হইতে জনদপুর রুবেল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে এমন অনিয়ম দেখা গেছে। এ সময় রাস্তা মেরামতের স্থানে কোনো সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।এ সময় পার্শ্ববর্তী পাবই গ্রামের ১০-১২ জনকে ওই রাস্তায় মাটি কাটতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে ওসমান গনি, জহিরুল ইসলাম ও আসাদ মিয়া জানান, তারা এ রাস্তায় চুক্তি ভিত্তিক মাটি কাটছেন। তাঁরা ১৫ জন মিলে একটি দল গঠন করে শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় মাটি কাটার কাজ করেন। প্রতি হাজার ফিট মাটি ৪ হাজার টাকা দরে এখানে কাটছেন তাঁরা। যদিও তাঁদের দাবি পাঁচ হাজার টাকা ছিল। কিন্তু মেম্বার চার হাজারের বেশি দিতে চাচ্ছেন না। পুরো রাস্তা মেরামত প্রায় শেষের দিকে আর ২-৩ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানান তাঁরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রথম পর্যায়ে সাত ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টিতে গ্রামীণ অবকাঠামো মেরামতের জন্য মোট ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন হয়। এসব প্রকল্পের বরাদ্দ এক কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়নের জনদপুর পশ্চিমের নতুন মসজিদ হইতে জনদপুর রুবেল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে বরাদ্দ ৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।জানা যায়, এ প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইকুল মিয়া। এতে ৪৩ জন অতিদরিদ্র লোক ৪০ দিন কাজ করবেন। তার প্রতিদিন জনপ্রতি চার শ টাকা করে এ টাকা পাবেন। কাজের স্বচ্ছতার জন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজ নিজ মোবাইল নম্বরে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু প্রকল্প সভাপতি ভুয়া উপকারভোগীর তালিকা বানিয়ে নিজের লোকদের নামে মোবাইল সিম তুলে অন্য লোকজন দিয়ে মাটি কেটে অতিদরিদ্রদের টাকা হাতিয়ে নিতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।এলাকাবাসী জানান, এই রাস্তাটায় মেরামতে পুরো অনিয়ম হয়েছে। মানুষের চলাচলের কথা চিন্তা করে এখানে মাটি কাটানো হয়নি। যেনতেনভাবে মাটি ফেলে কাজ শেষ করে মেরামত করা হয়েছে এমন দায় মুক্তি নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে। তারপর এ রাস্তায় কত টাকার মাটি কাটার কথা এসব জানার উপায় তাঁদের নেই। কারণ কাজের পাশে কোনো সাইনবোর্ড নেই। তাঁরা সে কারণে কাউকে কিছু প্রশ্নও করতে পারছেন না। অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।জনদপুর গ্রামের কাজী আলম জানায়, সড়কে মাটি ফেলা হচ্ছে যেনতেনভাবে। বৃষ্টি হলেই এই মাটি ধুয়ে যাবে। পাশে ঢালু করে মাটি ফেলার দরকার ছিল। মেরামতের বরাদ্দের পরিমাণ শুনে তিনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। তাঁর দাবি এই সড়কে খুব বেশি হলে এক লাখ টাকার মাটি কাটা হয়েছে। এর বেশি কোনোভাবেই হবে না। তবে সড়কে তথ্যের সাইনবোর্ড থাকলে তাঁরা এর প্রতিবাদ করতে পারতেন। এসব বন্ধ হওয়া দরকার বলে জানান তিনি।অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইকুল মিয়া কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, 'গ্রামে অতিদরিদ্র লোক পাওয়া যায় না। ফলে মাটি কাটার দল এনে কাজ করাতে হচ্ছে।'এ বিষয়ে সুয়াইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান সেলিম বলেন, 'এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অনিয়মের বিষয়টি আমি দেখব।'উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, এই প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে শুনেছি। সঠিক নিয়মে কাজ না করলে বিল পাবে না। এর আগেও যারা এমনটা করেছে তাঁদের বিল দেওয়া হয়নি।গ্রামে কাজের জন্য অতিদরিদ্র লোক পাওয়া যায় না প্রকল্প সভাপতির এমন বক্তব্য মানতে নারাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহম্মেদ আকুঞ্জি। তিনি বলেন, অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল, উত্তেজনাপূর্ণ ও বিপজ্জনক। দেশের ভেতরে উত্তেজনাকর ও বিপদজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের সংগ্রামে সফলতা আনতে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। এবার আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে। আজ পল্টনস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো: শাহ আলমসহ সাজ্জাদ জহির চন্দন, রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরো বলেন, এ সরকারের কথায় কোনো লাগাম নেই। তিনি বলেন, সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা হরহামেশাই বলছেন তাদের অধীনেই নির্বাচন হবে। কিন্তু তারা এধরণের বক্তব্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করছে। কারণ নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতেই হবে। বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এবং রাজনৈতিক দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। আরো পড়ুন : জনগণের সাথে প্রতারণা করতে নতুন ভিশনের কথা বলা হচ্ছে : সেলিমনিজস্ব প্রতিবেদক, ১৭ আগস্ট ২০১৮ডাকসুর সাবেক ভিপি, যুব ইউনিয়নের প্রথম ঘোষণা পত্র পাঠকারী, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, 'একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বেকারত্ব মুক্ত যৌবনদীপ্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে যে মৌলিক লক্ষ্যগুলোকে সামনে রেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তার বাস্তবায়নের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করার জন্য নতুন নতুন ভিশন ২০২১/৪১ ইত্যাদির কথা বলা হচ্ছে।' আজ বেলা ১১টায় পল্টনস্থ মুক্তিভবনের সামনে সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সেলিম আরো বলেন, কিন্তু যে অধিকারহীন দরিদ্র, কৃষক, শ্রমিক, যুবক মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভিশন ১৯৭১ এর বাস্তবায়নের বাইরে কোনো ভিশন থাকতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে যুব আন্দোলনের বিকল্প নেই। কিশোর বিদ্রোহীরা পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের আন্দোলন করতে গিয়ে, বুঝতে পেরে স্লোগান তুলেছে যে, 'রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার চাই। এই সংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালনে কৃষক-শ্রমিক মেহনতি তরুণ যুবকদের টেনে আনতে হবে।' 'দুর্নীতি-লুটপাট-মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, তারুণ্যের জয়গানে স্বদেশ গড়ি' স্লোগানকে ধারণ করে রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে, আশিকুল ইসলাম জুয়েলের সঞ্চালনায় যুব ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর ১৩তম সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল। এদিকে উদ্বোধনী বক্তব্য হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, 'সাহসী যৌবনে সুন্দর আগামী' স্লোগানকে ধারণ করে আজ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা পরবর্তী কাজ, মাদকমুক্ত সমাজের লক্ষ্যে সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদের সংগ্রামকে অগ্রসর করার কাজে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নই প্রথম দাবি তুলেছে ঘুষ ছাড়া চাকরি চাই, নইলে বেকার ভাতা চাই। এই দাবি আজ যুব সমাজের মাঝে একটি জনপ্রিয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সংগ্রামের ফলস্বরূপ বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উদ্বোধনী সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী জোসেন, আহ্বায়ক রাসেল ইসলাম সুজন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি মুক্তিভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব ঘুরে মুক্তিভবনের সামনে এসে শেষ হয়। বিকালে কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে ১৩তম বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সম্মলনের পর্দা নামবে।
9
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক আবু নাসের মাহমুদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। জানাজাশেষে তাকে রাজধানীর রায়ের বাজার গোবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শোকবার্তায় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেছেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
4
করোনা সংক্রমণ রোধে দেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে দেশব্যাপী সাতদিনের কঠোর লকডাউনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। এতে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের চাপ রয়েছে বেশ। বুধবার (৩০ জুন) সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গমুখী যাত্রীদের ঘাটে আসতে দেখা যায়। সীমিত পরিসরের লকডাউনে পুলিশের চেকপোস্ট উপেক্ষা করে সিএনজিচালিত আটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িযোগে ঘাটে আসছেন মানুষ। এতে ভোগান্তিসহ অধিক ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের। তবে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকায় পদ্মা পাড়ি দিতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না কাউকে। এদিকে, লকডাউনের আগে স্বল্প সংখ্যক ঢাকামুখী যাত্রীরাও আজ বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়ায় ফেরিতে পার হচ্ছেন। তবে ঘাট এলাকা ও ফেরিতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, লকডাউনকে কেন্দ্র করে প্রচুর যাত্রী সকাল থেকে আসছে। আমরা চেষ্টা করছি তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পারাপার হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বশির আহমেদ জানান, কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় ঘাটে মানুষ চাপ রয়েছে। শিমুলিয়া-বাংলবাজার নৌরুটে বর্তমানে মোট ১৫টি ফেরি সচল রয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে কার্যক্রমে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী কমতে পারে। সে সময় অপেক্ষারত যানবাহন পারাপার করা হবে।
6
নিজের স্মৃতি পৃথিবীতে ধরে রাখতে ১৯৪০ সালের ১ জুলাই তৎকালীন চাকমা সার্কেলের রাজা অংশু রায় একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজবাড়ীর সন্নিকটে কর্ণফুলী নদীর তীরে একটি বটগাছ রোপণ করেন। রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে শহীদ মোয়াজ্জেম ঘাঁটির কাপ্তাই লেক সংলগ্ন সুইমিংপুলে ওই গাছটির বয়স ৮১ বছর।গাছটি লাগানোর পর প্রতিদিন শত শত উপজাতীয় লোকজন নৌকাযোগে কর্ণফুলী নদীতে এসে পুণ্য স্নান করে পবিত্র হয়ে এই গাছের নিচে পূজা দিয়ে রাজাকে সাক্ষাৎ দিত। গাছটি ছিল নৃগোষ্ঠীদের কাছে দেবতা স্বরূপ।১৯৫৮ সালে কাপ্তাই বাঁধ দেওয়ার পর রাজার লাগানো গাছটি কর্ণফুলী নদীতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। কথিত আছে 'এক রাতে রাজা অংশু রায় স্বপ্নে দেখেন, গাছটি বাঁচার জন্য তাঁর কাছে আকুতি করছে। পরের দিন ঘুম থেকে উঠে রাজা গাছটিকে ওই স্থান থেকে তুলে বর্তমান স্থানে রোপণ করেন। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত গাছটি ওই এলাকার নৃগোষ্ঠীদের তীর্থস্থান ছিল। পরে কাপ্তাই নৌ ঘাঁটির পরিচর্চায় গাছটি বিশাল সৌন্দর্যময় আকৃতি ধারণ করেছে। কাপ্তাই নৌ ঘাঁটিতে আসা দেশ বিদেশের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক লোকজনও গাছটির সৌন্দর্য উপভোগ করে মুগ্ধ হন।বিভিন্ন ওষধি গুণাবলির জন্য আদিযুগ থেকেই পাহাড়ি অধিবাসীদের কাছে বটগাছ একটি পূজনীয় বৃক্ষ। বট একটি চিরহরিৎ ঘন সবুজ পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষ। এর বাকল মসৃণ ও পুরু। গাছের কাণ্ড গোল। ডালপালা বৃত্তাকারে বিস্তৃত। পাতা ঘন সবুজ ও চকচকে। গাছটি ৪০-৫০ ফুট উচ্চতা ও প্রসারিত শিকড় বিশিষ্ট। শোভাবর্ধক ও ছায়াদানকারী বৃক্ষ হিসেবে এর খ্যাতি রয়েছে। গাছের শাখা হতে অসংখ্য বায়বীয় মূল গজিয়ে নিচের দিকে মাটিতে স্পর্শ করে সহায়ক কাণ্ডের সৃষ্টি করে। এর পত্রফলকের অগ্রভাগ গোলাকার এবং ছোট প্লেটে বিভক্ত।
6
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দামামাতে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন ঘটেছে শেয়ারবাজারে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৯ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের মধ্যে এখন পর্যন্ত এটিই ডিএসইএক্স সূচকের সর্বোচ্চ পতন। এমনিতে কয়েক দিন ধরে শেয়ারবাজারে মন্দাভাব চলছে। বিনিয়োগকারীদের ঋণাত্মক ঋণ হিসাবকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সমন্বয়ের নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে বাজারে একটি গোষ্ঠী সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। সেই আতঙ্কের সঙ্গে গতকাল নতুন করে যুক্ত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তাতেই আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা হুজুগে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। ফলে এদিন বাছবিচার ছাড়া লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারেরই দরপতন ঘটে। শেয়ারবাজারে লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শীর্ষস্থানীয় একাধিক ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক ভর করেছে। এ কারণে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিনিয়োগকারীরা হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দেন। বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারের বড় ধরনের দরপতনের খবরে সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের মতো এ দেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২৬টি বা সাড়ে ৮৬ শতাংশেরই দাম কমেছে। বেড়েছে মাত্র ৩০টি বা ৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম আর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির বা সাড়ে ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম। তবে বড় পতনের দিনে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন ১৬২ কোটি টাকা বেড়ে আবারও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এদিকে শেয়ারবাজারে কয়েক দিন ধরে ঋণাত্মক ঋণ হিসাব নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে। আর কম দামে শেয়ার কিনতে এ শঙ্কাকে একটি গোষ্ঠী কাজে লাগাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণাত্মক ঋণ হিসাবগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারের ৭৫ শতাংশ ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কোনো ঋণাত্মক ঋণ হিসাব নেই। মাত্র ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের হিসাব রয়েছে। তার মধ্যে আবার ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণাত্মক ঋণ বা নেগেটিভ ইক্যুইটি রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ২৭। তাই ঋণাত্মক ঋণ হিসাব সমন্বয় করতে হলে বিপুল শেয়ার বিক্রির যে আতঙ্ক বাজারে তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবভিত্তিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, একটি গোষ্ঠী পুরো বিষয়টি ভালোভাবে পর্যালোচনা না করে ভুলভাবে বাজারে ছড়িয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর সুযোগসন্ধানীরা কম দামে সেসব শেয়ার কিনে নিচ্ছেন। সেই কারণে দেখা গেছে, গতকাল বড় ধরনের পতন হলেও লেনদেন বেড়েছে।
0
পীরগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আটজনের মধ্যে চারজনই বয়সে নবীন। তাঁরা ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।গত ১১ নভেম্বর পীরগঞ্জের ১৫ ইউপির মধ্যে ১০টিতে নির্বাচন হয়। এতে আওয়ামী লীগ থেকে নবীন চারজনসহ আটজন জয়ী হন। নবীনেরা হলেন চৈত্রকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান শাহ, ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, কুমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও পাঁচগাছী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবলু মিয়া। তাঁরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে এবারই প্রথম নির্বাচন করে সফল হয়েছেন।নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আমিনুল বলেন, 'আমি সভাপতি হিসেবে কুমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সব সময়ই যোগাযোগ রক্ষা করেছি। ফলে তারা প্রায় ৪ হাজার বেশি ভোটে আমাকে নির্বাচিত করেছে।'আরেক বিজয়ী প্রার্থী সাদেকুল বলেন, 'আমি নৌকা প্রতীক পাওয়ায় সবাই আমাকে সহায়তা করেছেন। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ছিল ভেন্ডাবাড়ীতে। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ১৬ জন আবেদন করেন। কিন্তু কেউই বিদ্রোহী প্রার্থী হননি। নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করলে রাজনীতির মাঠে তার উত্তম প্রতিদান পাওয়া সম্ভব।'এদিকে উপজেলার বড়দরগা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক এবং মদনখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুল আলম দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন।পরাজয়ের কারণ হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পরাজিত প্রার্থীদেরই দুষছেন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, তাঁরা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং কর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। রাজনীতির মাঠে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন।শামছুল ইসলাম মদনখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাওয়ার সময় বলেছিলেন তিনি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন না। কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মন্জু নির্বাচিত হন। বড়দরগা ইউনিয়নেও একই অবস্থা। সেখানে নুরুল হক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখায় ক্ষুব্ধরা স্বতন্ত্র প্রার্থী মাফিয়া আক্তার শিলাকে নির্বাচিত করেন।
6
নাইজার প্রদেশের কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, রবিবার তেজিনা শহরের একটি মাদ্রাসা থেকে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। কমপক্ষে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। তবে অন্য প্রতিবেদনগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ২০০ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। মুক্তিপন আদায়ের জন্য অপহরণের ঘটনা ওই এলাকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জামফারা স্টেটের জাঙ্গেবে এলাকার একটি আবাসিক স্কুল থেকে প্রায় ৩০০ ছাত্রীকে অপহরণ করেছিল অস্ত্রধারীরা। তাদের বেশিরভাগকেই অবশ্য পরে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। সবশেষ ঘটে যাওয়া ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে দিস ডে নামে একটি খবরের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, অস্ত্রধারীরা মোটরসাইকেলে করে পুরো শহর চষে বেড়ায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। মানুষজন তাদের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে। স্কুলটিতে ছয় বছর থেকে শুরু করে ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ও ছেলে শিশুরা এক সাথে পড়তো। কাদুনায় গ্রিনফিল্ড ইউনিভার্সিটির নারী শিক্ষার্থীদের হোস্টেলের সামনে পাহারায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কর্তৃপক্ষ বলছে যে, হামলায় দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং এতে একজন মারা গেছে। এছাড়া গাড়িতে করে ঘুরছিলেন এমন বেশ কিছু মানুষকেও অপহরন করা হয়েছে। নাইজেরিয়ায় থাকা বিবিসির প্রতিবেদক মায়েনি জোনস বলেন, গত কয়েক মাস ধরে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তেজিনায় এই হামলা এমন দিনে ঘটলো যার আগের দিন প্রতিবেশী কাদুনা প্রদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জনকে মুক্তি দেয়া হলো। তেজিনা কাগারা শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সেখানেও গত ফেব্রুয়ারিতে ২৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। বিবিসির প্রতিবেদক বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্যাঞ্চলে শিক্ষার্থী অপহরণের কমপক্ষে ৬টি ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮০০ এর বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অপহরণ করা হয়। ২০১৪ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চিবক শহরে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম ২৭৬ জন ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনা ঘটার পর বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর কাজ বলে ধারণা রয়েছে।
3
তালের শাসঁ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি খাবার। তালের শাসেঁ রয়েছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান । প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাসেঁ রয়েছে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশই থাকে জলীয় অংশ, ক্যালরি থাকে ২৯, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪ মিলিগ্রাম। এর বেশির ভাগ অংশ জলীয় হওয়ার ফলে শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। আমাদের দেশে তাল সাধারণ ভাদ্র মাসে পেকে থাকে। পাকা তাল দিয়ে পিঠা পায়েস খাওয়ার প্রচলন অনেক আগে থেকেই। এছাড়াও তালের নরম শাসঁ খেতে কমবেশি সবাই পছন্দ করে। জৈষ্ঠ্য মাসে তালের শাসঁ খাওয়ার উপযোগী হয়। জৈষ্ঠ্য মাসের শুরুতেই গাছ থেকে তাল পেড়ে বাজারে বিক্রির ধুম পড়ে যায়। ক্রেতারা তালের শাসঁ কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন তালের শাসঁ কিনতে। দোহার উপজেলার বিভিন্ন বাজার গুলোতে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্রি হচ্ছে তালের শাসঁ। প্রচন্ড গরমের কারনে ইফতারীতে সবার পছন্দ এখন এই তালের শাসঁ। সারাদিন ক্লান্তির পর ইফতারির সময় একটি শাসঁ খেলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। অনান্য খাবারে কমবেশি রাসায়নিক পদার্থ মেশালে তালের শাসঁ শতভাগ ভেজালমুক্ত। তাই সচেতন ভোজন রশিকদের তালের শাসেঁর প্রতি আগ্রহ বেশি। জৈষ্ঠ্য মাসের শুরু দিকে বিক্রি শুরু হয় চলে পুরো একমাস । শুরুতে দাম একটু চড়া থাকলেও ধীরে ধীরে কমে আসে। শুরু দিকে স্বল্প আয়েক মানুষজন শাসঁ না কিনলেও দাম কমার পর সব শ্রেণির মানুষ তালের শাসেঁর স্বাদ নিয়ে থাকেন। এক মাসের জন্য এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে শাসঁ বিক্রির থাকেন। দোহার উপজেলায় তাল গাছ থাকলেও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে অধিকাংশ তাল আসে ফরিদপুর জেলার চরভদ্রশন ও সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। এই দুই উপজেলার মানুষই তাল সংগ্রহ করে নদী পার করে দোহারে নিয়ে এসে বিক্রি করেন বাজারগুলোতে। দোহারের জয়পাড়া তাল শাসেঁর সবচেয়ে বড় বাজার। জয়পাড়া বাজারে অন্তত ৩০ জন তাল বিক্রি করে থাকেন। বিক্রিও হয় বেশ ভাল। ছোট বড় সবারই তালের শাসেঁর প্রতি দুর্বল। এ বিষয়ে কথা হয় চরভদ্রশন উপজেলার চরজৌদ্দা গ্রামের তার বিক্রেতা সিরাজের সাথে। তিনি জানান, বছরের অন্য সময়গুলোতে অন্যান্য পেশার সাথে জড়িত থাকলেও এক মাসের জন্য তালের শাসঁ বিক্রি করে থাকি। এক মাসে আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা হয় বলে জানান তিনি। সদরপুর উপজেলার পিয়াজ খালীর তাল ব্যবসায়ী ফারুক হালদার জানান, দোহারে তালের শাসেঁর চাহিদা অনেক। দামও ভাল পাওয়া যায় আর বিক্রিও সন্তোষজনক তাই গত বিশ বছর ধরে সদরপুর থেকে এখানে এসে তালের শাসঁ বিক্রি করে থাকি। পরিবারের ঈদের কেনাকাটা হবে এই তাল শাসেঁর বিক্রির আয় থেকে।
6
'রুদ্র কালবৈশাখীর মতো জাগো তারুণ্য'-স্লোগানে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দীপশিখা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ঘুড়ি উৎসবে উপজেলা পরিষদ পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ্বর পাল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইব্রাহিম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. ইসরাঈল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি গিয়াস উদ্দিন আহমদ, কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মঈনুর রহমান মনির, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ভিপি দুলাল বর্মণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দীপক রায়, স্বপন কিশোর সরকার, মো. ইমরান, দীপশিখা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি বদরুল আলম নাঈম, সাধারণ সম্পাদক জিসান আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, হাসান তারেক বাপ্পী, প্রশান্ত বিশ্বাস, বিক্রম বাসপুর, জুয়েল আহমেদ, হিমেল, রানা, আপন, নিবিড়, আবির, সাজিদ, অমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
6
মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইন্ডি শেরম্যান বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পলাতক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে আর আফগানিস্তানের কোনও কর্মকর্তা বলে স্বীকার করে না। তিনি বুধবার আফগান পরিস্থিতি সম্পর্কে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন। এরপর সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তালেবান তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল বলে তিনি দেশত্যাগ করেছেন। তালেবান প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল করে গনির সন্ধানে প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়েছে বলেও দাবি করেন আশরাফ গনি। বুধবারের বক্তব্যে শেরম্যান আরও বলেন, আফগান জনগণের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা সত্ত্বেও তালেবান লোকজনকে দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যেতে বাধা দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার (২০ আগস্ট) থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফগানিস্তানে নিজের কনস্যুলেট কর্মীর সংখ্যা দ্বিগুণ করবে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
ভারী তুষারপাতে বিপর্স্ত হয়ে পড়েছে তুরস্কের শহর ইস্তাম্বুল। বরফ পরিষ্কার এবং গুরুতর অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছাতে কাজ করছে দেশটির সেনাবাহিনী। বুধবার ভোর পর্যন্ত আড়াই ফুটের বেশি তুষারপাত রেকর্ড করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া অধিদফতর। এদিকে, প্রায় একদিন স্থগিত থাকার পর ইস্তাম্বুল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের একটি টার্মিনাল সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে। গতিপথ পাল্টানো হচ্ছে অনেক ফ্লাইটের। তাতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার-হাজার যাত্রী। আগামী কয়েকদিনে বহাল থাকবে এই বৈরী আবহাওয়া। সূত্র: আল-জাজিরা বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
বিশ্বকাপের আগে এখানেই খেলেছেন তামিম। দলের মালিক জাভেদ আফ্রিদি তামিমের জন্য ৫ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেছে। জাভেদ তার ফেসবুকে লিখেছেন 'টি২০ বিশ্বকাপে সবোর্চ্চ রান সংগ্রহ করায় তামিমকে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করছি।' পুরস্কারের ঘোষণায় খুশি হয়েছেন তামিম ইকবালও। টুইটারে তামিম লিখেছেন, 'আপনার এই পুরস্কার এবং প্রশংসায় আমি খুবই সম্মানবোধ করছি। অবশ্য সবাই অর্জনের সম্মান দেয় না। আপনার সঙ্গে থাকতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।'
12
বাতাস থেকে সরাসরি কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করবে। এরপর সেটাকে শিলায় রূপান্তরিক করবে। তারপর মাটির নিচে চাপা দেবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে আইসল্যান্ডে। গত বুধবার থেকে প্লান্টটি চালু হয়েছে। প্লান্টটির নাম দেওয়া হয়েছে 'ওরকা'। আইসল্যান্ডের ভাষায় যার অর্থ 'শক্তি'। প্লান্টটি চারটি উইনিটে বিভক্ত। যার প্রতিটি দুটি করে ধাতব বাক্স দিয়ে তৈরি। দেখতে অনেকটা জাহাজের পণ্যবাহী কন্টেইনারের মতো। সূত্র : রয়টার্স বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
3
বয়স জালিয়াতি করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইমামতি করার ঘটনায় জড়িত পেশ ইমাম হাফেজ মিজানুর রহমানের বেতন-ভাতা ফেরত সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা আবেদনটি এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত মঙ্গলবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে এ সব আদেশ দেওয়া হয়।রিটকারী আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস জানান, ২০১২ সালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন হাফেজ মো. মিজানুর রহমান। বর্তমানে জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমামের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সরকারের অডিট বিভাগের এক প্রতিবেদনে, জাতীয় মসজিদের এ ভারপ্রাপ্ত খতিবের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি করে ইমাম পদে নিয়োগ পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।আব্দুল কুদ্দুস আরও জানান, সেখানে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৭৭ সালের ১৬ মে। অথচ মিজানুরের শিক্ষাগত সব সার্টিফিকেটে তার জন্ম সাল ১৯৭৪ সালের ১৬ মে। বয়স তিন বছর কমানোয় তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে নিরীক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ২০১২ সাল থেকে নেওয়া সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করে অধিদপ্তর।এদিকে, এ নিয়োগের অস্বচ্ছতা নিয়ে ২০১৬ সালেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক। তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে। তবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তদন্তে আগ্রহ না দেখিয়ে আবেদনটি পাঁচ বছর ফেলে রাখা হয়।
6
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী ৩ বন্ধু নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৌখালী এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোটরসাইকেলের তিন আরোহী। নিহতরা হলেন-মোংলা পৌর শহরের মোর্শেদ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ফার্নিচার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে বায়জিদ (২২), দোকানের কর্মচারী জাকারিয়া (২০) ও জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাগনে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মো. আসাদের ছেলে সাকিব (২০)। মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র ঘোষ জানান, মোংলা উপজেলার চাঁদপাই পীর মেছেরশাহ'র মাজারের মেলা দেখে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি ফিরছেলেন তারা। পথে মৌখালী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলের আরোহী ৩ বন্ধু ছিটকে পড়ে। পিচের রাস্তায় পড়ে তিনজনেরই মাথা, হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। মারাত্মক আঘাত ও রক্তক্ষরণে মধ্যরাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তারা। পরে পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আফসানা নাঈমা হাসান তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
মাথা গোজার ঠাঁই পেলেন ফরিদপুর শহরের চুনাঘাটা এলাকার অসহায় দরিদ্র নারী মাহফুজা বেগম। জেলা পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নে নারীর জন্য একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি মুদি দোকানও করে দেওয়া হয়েছে তাকে। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে মাহফুজা বেগমের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, রঙিন টিন দিয়ে দুই রুমের একটি ঘর, পাশেই একসঙ্গে রয়েছে রান্নাঘর এবং ওয়াশরুম। ঘরের তার ইবাস্টিন দিয়ে ঘেরা। মূল ঘরে ঢোকার পথে জানালার পাশে রয়েছে একটি কাঁঠাল গাছ। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি আম গাছ রোপণ করা হয়েছে। এ ঘরেই বসবাস করবেন মাহফুজা বেগম ও তার ছেলে শেখ মারুফ। জানা যায়, পৌরসভার চুনাঘাটা এলাকার বাসিন্দা মাহফুজা বেগম (৪৮)। স্বামী আবুল কালাম মারা গেছেন দীর্ঘদিন আগে। শেখ মারুফ নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে তার। ছেলেটির পায়ে সমস্যা থাকায় কোনো কাজ ঠিকমতো করতে পারে না। তিনি প্রথমে বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একসময় সে কাজ বন্ধ হলে নামেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। স্বামীর রেখে যাওয়া মাত্র তিন শতাংশ জমির উপর একটি ছাপরা ঘরে বসবাস করতেন মাহফুজা বেগম। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এই খবর পেয়ে মাহফুজা বেগম পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে তার দুরবস্থার কথা জানালে পুলিশ সুপার তার থাকার জন্য একটি ঘর ও জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি মুদি দোকান করে দেন। জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসার এস আই আনোয়ার হোসেন বলেন, "এসপি স্যারের কাছে মাহফুজা বেগম তার দুরবস্থার কথা জানালে স্যার ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নিতে বলেন। ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে সত্যতা পাওয়া। আসেলই তিনি খুব মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এসপি স্যারকে বিষয়টি অবগত করা হলে স্যারের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের অর্থায়নে ওই নারীর একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়।" তিনি আরও বলেন, "ঘরের পাশাপাশি ওই নারী ও তার ছেলের জীবিকা নির্বাহের জন্য বাড়ির উপরই একটি মুদি দোকান করে দেওয়া হয়েছে।" ঘর পেয়ে খুশি মাহফুজা বেগম। তিনি বলেন, "এর আগে শুনেছিলাম এসপি স্যার মানুষরে অনেক উপকার করেন, এবার নিজেই তার প্রমাণ পেলাম। ঘরটি পেয়ে এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। ঘরের পাশাপাশি স্যার একটি মুদি দোকানও করে দিয়েছেন। সেখান থেকে যা রোজগার হবে তা দিয়ে ভালোভাবে চলতে পারবো।" তিনি আরও বলেন, "এখন আর বৃষ্টির দিনে ঘর দিয়ে পানি পরবে না। শীতেও কষ্ট হবে না। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভালোভাবে জীবনের বাকি দিনগুলো পার করতে পারবো। এসপি স্যার অনেক ভালো একজন মানুষ, স্যারের জন্য দোয়া করি।" ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, "অসহায় মানুষের পাশে সব সময় দাঁড়িয়েছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় অসহায় মাহফুজা বেগমকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে একটি মুদি দোকানও করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থাকবে জেলা পুলিশ।"
6
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। তাদের মিথ্যা ভাষণে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। জনগণ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে রয়েছে।চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের স্মরণে নাগরিক শোকসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আজ বুধবার এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনে প্রবাসী ও মৃত ব্যক্তিরাও ভোট দিয়েছেন-বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এমন অভিযোগের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, এ আসনের মহানগর অংশে ভোটারের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৪ লাখ। তার মধ্যে মোসলেম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মাত্র ৩৬ হাজার ভোট পেয়েছেন। যদি ভোটকেন্দ্র দখল হতো এবং তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী এ ধরনের ভোটাররা ভোট দিত, তাহলে বিজয়ী প্রার্থী ৩৬ হাজার নয় বরং ১ থেকে ২ লাখ ভোট পেতেন। তথ্যমন্ত্রী প্রয়াত জয়নুল আবেদীনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি রাজনীতি করতেন না। কিন্তু তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার বাসায় কেউ গেলে দেখতে পেতেন, একজন রাজনীতিবিদের বাড়িতে যেভাবে সকালবেলা প্রচুর মানুষ দেখা করতে যায়, তাঁর বাড়িতেও সে রকম মানুষের যাতায়াত। তাঁর গ্রামের বাড়িতেও একইভাবে গণমানুষের যাতায়াত ছিল। রাজনীতি না করেও সারা জীবন তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। এ কারণে তিনি এত জনপ্রিয়। চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল প্রকল্প হাতে নেওয়ার জন্য প্রয়াত জয়নুল আবেদীন সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসার সুযোগ না পেলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন জয়নুল আবেদীনের উদ্যোগের কারণে। আজকে বে টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে। শুধু চট্টগ্রামের নয়, বাংলাদেশের বহু উন্নয়ন প্রকল্প তাঁর কারণে গতি পেয়েছে। শোকসভায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, ওয়াসিকা আয়েশা খানম, কানিজ ফাতেমা, সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
9
দখল হয়ে যাওয়া বাপের ভিটা ও জমি ফেরতের দাবিতে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় পড়ে অনশনে বসেছিলেন তিন বোন। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চত্বরে অনশনে বসেন তাঁরা।এরপর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক খাবার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। পুলিশ সুপারের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন ওই তিন বোন।অনশনে বসা তিন বোনের হলেন, রুবি আক্তার (২৭), জেসমিন আক্তার (১৮) ও মোসা. রোজিনা (১৬)। তারা জেলার বামনার গোলাঘাটা গ্রামের মৃত আবদুল রশীদের মেয়ে।বড় বোন রুবি আক্তার জানান, ২০০৩ সালে বাবা আবদুর রশীদ মারা যান। তখন রুবির বয়স মাত্র ৭ বছর। বাবা মারা যাওয়ার এক বছর পর ২০০৪ সালে প্রতিবেশী ও দূরসম্পর্কের খালা হাসিনা বেগমের সঙ্গে চট্টগ্রাম চলে যান রুবি। ওই খালার তত্ত্বাবধানে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা অবস্থায় ২০১৩ সালে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পোশাক কারখানায় কাজ করে বাড়িতে থাকা মা ও ছোট দুই বোনের ভরণ-পোষণ চালান। ২০১৪ সালের শুরুতে ছোট ভাই আল আমিনকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন এবং কাভার্ডভ্যানের সহকারী হিসেবে কাজ দেন। কিন্তু ওই বছরের শেষের দিকে দুর্ঘটনায় ভাই আল-আমিনের মৃত্যু হয়। এর তিন বছর পর ২০১৭ রুবির মা খাদিজা বেগমও মারা যান। বাড়িতে থাকা দুই বোন বোনেরা নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকারই এক আত্মীয়র বাড়িতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যান। মেজ বোন জেসমিন এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী, রুজিনা দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।২০১৯ সালে এলাকায় ফিরে বাড়িতে আসেন রুবি। বাড়িতে গিয়ে দেখেন তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী প্রতিবেশী আবদুল মান্নান, আশরাফ আলী ও শাহজাহান, সামসুজ্জামান দখলে নিয়েছেন। রুবি বলেন, '২০১৯ সালে আমি বাড়িতে ফিরে জমি বুঝে পেতে চাইলে তারা বলে আমাদের জমি নাকি নিলামে তারা কিনে নিয়েছেন। পরে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে জানতে পারি জমির কোনো নিলাম হয়নি।'রুবি আরও বলেন, 'বিষয়টি বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপজেলা চেয়ারম্যান লিটু মৃধা ও বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানকে জানিয়েছি। তাঁরা প্রত্যেকেই জমি বুঝিয়ে দিতে বামনা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলেছি। কিন্তু থানায় ওসি আমাদের পাত্তাই দেয় না। এখন কি করব আমরা। তাই বাধ্য হয়ে অনশনে বসতে হয়েছে। বাবার জমি থাকতেও এখন নিজভূমে পরবাসী। আমরা অসহায় তিন বোন বাবার জমিটুকু ফেরত চাই। আমাদের দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ না পাওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চলবে।'জমি ও বসতি দখল প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে আবদুল মান্নান বলেন, 'ওই জমি আমাদের। কাগজপত্র আছে আমাদের কাছে। ওদের কোনো জমি নাই।'বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক দুপুরের খাবার কিনে নিয়ে এসে তিন বোনের অনশন ভাঙান। এ সময় তিনি তিন বোনকে আশ্বস্ত করেন, জমি যদি তাঁদের হয় তবে ফেরত এনে দিতে যা যা সহযোগিতা দরকার করবেন তিনি। পুলিশ সুপারের আশ্বাসে খাবার খেয়ে অনশন ভাঙেন তিন বোন। পরে পুলিশ সুপার বোনদের নিয়ে তাঁদের বাড়ি বামনার উদ্দেশ্যে রওনা হন।পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ওনাদের বিষয়টি মানবিক। তাঁদের (তিন বোনের) মা-বাবা-ভাই কেউ বেঁচে নেই। আশ্রয়ের জমিটুকুও যদি বেহাত হয়ে থাকে তবে সেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে ওনাদের বাড়িতে যাচ্ছি। কাগজপত্র দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।'
6
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন থাকা জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপম্যান্ট পার্টি (পিজেডি) বলেছে, দেশটিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনমতের কোনো প্রতিফলন হয়নি। রোববার পিজেডির ন্যাশনাল কাউন্সিলের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফলে মরক্কোর রাজনৈতিক মানচিত্র বা ভোটারদের স্বাধীন ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। এতে আরো বলা হয়, আইন পরিবর্তন, ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন ও ভোট কেনার মাধ্যমে নির্বাচন পদ্ধতির 'লঙ্ঘন' করা হয়েছে। মরক্কোর গণতন্ত্রের জন্য এই নির্বাচনের ফলকে 'বাধা' হিসেবে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। পিজেডি বিবৃতিতে আরো জানানয়, অক্টোবরে তারা দলের সাধারণ কংগ্রেসের আয়োজন করবে, যাতে দলীয় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা যায়। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর মরক্কোতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পার্লামেন্টের ৩৯৫ আসনের নির্বাচনে প্রায় ১০ বছর ক্ষমতাসীন পিজেডি মাত্র ১৩টি আসনে জয়লাভ করে। এর আগের পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী দলটির ১২৫টি আসন ছিলো। এর বিপরীতে উদার ধারার ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেনডেন্টস (আরএনআই) ১০২টি, অথেনটিসিটি অ্যান্ড মর্ডানিটি পার্টি (পিএএম) ৮৬টি ও মধ্য-ডানপন্থী ইসতিকলাল পার্টি (পিআই) ৮১টি আসন লাভ করে। নির্বাচনের পর ১০ সেপ্টেম্বর মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ আরএনআই প্রধান আজিজ আখানুশকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানান। মরক্কোতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত, যেখানে বাদশাহ বিস্তৃত ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রীয় বিষয়ে বাদশাহর মতামতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণ নির্বাচনে জয়ী দল থেকেই মরক্কোর বাদশাহ প্রধানমন্ত্রীকে নিযুক্ত করেন। ২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে মরক্কোতেও বিবিধ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে সাধারণ মানুষ। ওই সময় বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের এবং শাসনক্ষেত্রে জনগণের আরো সম্পৃক্ততার আশ্বাস দেন। পরে ওই বছরের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পিজেডি জয়লাভ করে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
3
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন তাকে অনুসরণ করে থাকে ৪০ কোটি ভক্ত। নিজের এমন জনপ্রিয়তায় উচ্ছ্বসিত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গত ছয় মাসে মেসির অনুসারী ৬ কোটি বেড়েছে, ওদিকে রোনালদোর অনুসারী বেড়েছে ৮ কোটির বেশি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রোনালদোর অনুসারী সংখ্যা ৪০ কোটি ৪০ লাখ। ৪০ কোটির মাইলফলক রোনালদো ছুঁয়েছেন ৮ ফেব্রুয়ারি। সেই মাইলফলক স্পর্শ করার আনন্দে আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করেছেন রোনালদো। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিআর সেভেন খ্যাত এই ফুটবলার ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, কী অপূর্ব এই সংখ্যা, ৪০ কোটি। আমি তো এখন 'ভো' শব্দ করতেই পারি। এটা আমার জন্য খুবই চমৎকার মুহূর্ত। আপনারা ছাড়া এমন সম্ভব হতো না। আমার হৃদয়ের গভীর থেকে আপনাদেরকে ভালোবাসা জানাই। আপনারা সব সময় আমার সঙ্গে থাকবেন। আমি আপনাদের সঙ্গে আমার জীবন এবং সবকিছুই ভাগাভাগি করে নেব। আপনারাই এর জন্য যোগ্য মানুষ। আপনাদেরকে ধন্যবাদ।
12
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মদিন উপলক্ষে রাঙামাটিতে দুস্থ নারীদের সেলাই মেশিন ও অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। রাঙামাটি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাঙামাটির অন্যান্য উপজেলায় আরো ৫৫ জন নারীকে সেলাই মেশিনসহ নারী উদ্যোক্তাদের অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
হোম অব ক্রিকেটখ্যাত মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দর্শক ফিরেছে ৬১৮ দিন অর্থাৎ দেড় বছরের বেশি সময় পর। গত শুক্রবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের মধ্য দিয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ফিরেছে দর্শক।খেলা ঘিরে স্টেডিয়াম এলাকায় আগের মতোই উদ্যাপনসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসছেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা। মাঠে বাংলাদেশ দল ভালো খেললে, বিশেষ করে জিতলে খেলোয়াড়, দর্শকদের মতো তাঁদেরও দিন ভালো যায়-বিক্রি ভালো হওয়ায়।মিরপুরে দর্শকেরা সবশেষ গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন গত বছরের ১১ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। কোভিড-১৯ হানার পর হোম সিরিজে দর্শক প্রবেশের অনুমতি মেলেনি। ৬১৮ দিন অপেক্ষার পর সমর্থকদের ফেরার সুযোগ হলো স্টেডিয়ামে। ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের সঙ্গে তিনটি টি-টোয়েন্টি আর দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হয় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। গতকাল শনিবার ছিল দ্বিতীয় ম্যাচ। তৃতীয় ম্যাচ আগামীকাল সোমবার। এরপর প্রথম টেস্ট চট্টগ্রামে আর দ্বিতীয় টেস্ট হবে মিরপুরে।গতকাল শনিবার টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় ম্যাচে স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় উদ্যাপনসামগ্রী নিয়ে বসেছিলেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও মিল্ক ভিটা রোডের আশপাশে পতাকা, রিস্টব্যান্ড, হেডব্যান্ড, জার্সি, খেলনা বাঘের মতো বিভিন্ন উদ্যাপনসামগ্রী বিক্রি করেন তাঁরা।গতকাল দুপুরে স্টেডিয়ামের আশপাশের খাবারের দোকানে দর্শকদের ভিড় ছিল। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন বিক্রি নেই আগের মতো। তাঁরা বলছেন, করোনার আগে মিরপুর মাঠে খেলা ছিল নিয়মিত। বেচাবিক্রিও ছিল ভালো। করোনা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের অর্থনৈতিক দুর্গতি আর দর্শক উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রিবাট্টাও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।বাংলাদেশের জার্সি বিক্রেতা মো. রুবেল বলেন, 'বাংলাদেশ জিতলে আমাদের পেট ভরে। গত শুক্রবার বাংলাদেশ হারায় আজ (শনিবার) কোনো বিক্রি নেই। সারা দিনে দুটি জার্সি বিক্রি করেছি। খেলা দেখতে এসে কিছু না কিনেই দর্শকেরা চলে যাচ্ছেন। সিরিজজুড়েই পতাকা ও জার্সি বিক্রির আশা ছিল। তবে বিক্রিবাট্টা এমন থাকলে টেস্ট খেলার সময় মিরপুরে আসব না।'স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফাহমি পতাকা, জার্সি কিনছিলেন স্টেডিয়ামের ২ নম্বর গেটের সামনে। তিনি জানান, বাংলাদেশ দলের জার্সি পরে খেলা দেখার আনন্দ অন্য রকম। দীর্ঘদিন পর মাঠে আসতে পেরে ভালো লাগছে।সমাগম বাড়ায় স্টেডিয়ামের আশপাশের ছোট ছোট খাবারের দোকান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্টুরেন্ট এবং চায়ের স্টলেও বিক্রি বেড়েছে। এ ছাড়া স্টেডিয়ামের বিপরীতে থাকা ফ্যাশন হাউসগুলোয় কেনাকাটা বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সের গেটে খেলনা বাঘ বিক্রি করেন মোরশেদ ইসলাম। দুপুরে তিনি বলেন, 'প্রথম ম্যাচে মাত্র ২০টা খেলনা বিক্রি করেছি। আজ (শনিবার) এ পর্যন্ত পাঁচটা খেলনাও বিক্রি করতে পারিনি। খেলা শেষে কেউ আর এসব কেনে না। তবে বাংলাদেশ ভালো খেললে বিক্রি বাড়ে।'
6
বাত্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য ইশারা ভাষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর বহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ ধারণ করেছে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন।বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, অপি করিম, তাহসান খান, আরাফাত সুলতানা লতা, বিদ্যা সিনহা মিম, মাসুমা রহমান নাবিলা, মনোজ প্রামাণিক, আফরান নিশো ও গাওসুল আলম শাওনদের মতো মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে দিয়ে ইশারার ভাষায় পুরো ভাষণটিকে ধারণ করা হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রামীণফোন জানায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই অনবদ্য দলিল সব বাঙালিসহ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশের লাখো বাব্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীর মধ্যে এই অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য গ্রামীণফোন একটি ছোট্ট উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের কাছে নিয়ে আসতে গ্রামীণফোন সব সময়ই চেষ্টা করে। এই উদ্যোগও এর ব্যতিক্রম নয়।
0
আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তাসংক্রান্ত সম্ভাব্য আইনের রূপরেখায় একমত হয়েছে মার্কিন সিনেটরদের একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক নির্বিচার গুলিতে হতাহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে তাদের মধ্যে এমন সমঝোতা এল। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার দাবিতে সম্প্রতি আমেরিকার বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বন্দুকধারীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের দুটো ঘটনার পর দেশটিতে এই দাবি নতুন করে জোরদার হয়েছে। এই বিক্ষোভে সমর্থন দেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল
3
আসন্ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন রক্তের সঞ্চালন হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার ফেনী সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী দল। ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে সময়ের চাহিদা মেটাতে ঘোষণাপত্রে গঠনতন্ত্রের প্রয়োজনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।' এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, পুলিশ সুপার রেজাউল হক পিপিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। বিডি-প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল ২০১৬/শরীফ
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু। ২ হাজার ৬৬৪ শব্দের খোলা চিঠিতে এই মুক্তিযোদ্ধা দেশের চলমান পরিস্থিতি, সংকট নিয়ে লিখেছেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঈদুল আজহার দিন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে তাকে দেখতে যেতে বলেছেন। এমনটা করলে দেশের জনগণ খুশি হবে বলেও জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। চিঠিতে ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, 'প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন নাগরিকের খোলা চিঠি।' 'অতীতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এই খোলা চিঠি লিখছি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কেউ না কেউ আমার এই খোলা চিঠিটি আপনার নজরে আনবেন এবং আমি একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্র পাব। প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটাই একজন নাগরিকের আকাঙ্ক্ষা।' প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ডা. জাফরুল্লাহর লেখা চিঠিতে রাজনৈতিক বিষয়াবলীও স্থান পেয়েছে। তিনি লিখেছেন, '২০ বছর ধরে আমি বলে আসছি পুরানা সহকর্মী এবং অন্য সব রাজনীতিবিদদের সঙ্গে নিয়ে আপনাকে অগ্রসর হতে হবে। তাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে সুশাসনের লক্ষ্যে আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু পরিচ্ছন্ন নির্বাচন। কোনো চালাকির নির্বাচন নয়, দিনের নির্বাচন রাতে নয়। হয়তো বা সফলতা আপনার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।' খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ সরকার প্রধানকে লেখেন, 'ঈদের দিন সময় করে সুস্বাস্থ্য কামনা করতে খালেদা জিয়ার বাসস্থানে যান, এতে দেশবাসী খুশি হবে এবং বঙ্গবন্ধু হেসে বলবেন, ভালো করেছিস মা।' গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চালু করতে যাওয়া আইসিইউ হাসপাতাল উদ্বোধনের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জাফরুল্লাহ লেখেন, 'আগামী মাসে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা নিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সুবিধা সমেত করোনার সাধারণ ওয়ার্ড চালু করবে ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। রোগীদের সর্বসাকুল্যে দৈনিক খরচ পড়বে তিন হাজার টাকার অনধিক।' 'আপনি কি এই অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ সুবিধা সমেত জেনারেল ওয়ার্ডের উদ্বোধন করবেন?' চিঠির শেষ দিকে তিনি লেখেন, 'সুস্থ থাকুন, আমলা ও গোয়েন্দাদের থেকে সাবধানে থাকুন, রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছে ডেকে নিন।'
6
প্রতারণা করে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতেন সাদ্দাম (২২)। এই অপকর্ম করে তার মাসে আয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তার রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের হাতে আটকের পর সবকিছু স্বীকার করেছেন তিনি। সাদ্দাম ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ডুমাইন গ্রামের প্রয়াত সাহেদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের বরাট গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বুধবার রাজবাড়ী সদর থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম জানিয়েছেন কীভাবে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। তারা কয়েকজন মিলে এই প্রতারণা করতেন। প্রথমে তারা বিকাশের দোকান থেকে ক্যাশ আউটের নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে ফোন দিয়ে গ্রাহককে বলতেন, 'আপনার নম্বরে ভুলে টাকা গেছে। ফেরত না দিলে অভিযোগ দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। অ্যাকাউন্ট চালু করতে বিকাশ হেড অফিস থেকে আপনাকে ফোন দিয়ে একটি পিন নম্বর চাইবে। তখন পুনরায় আপনার অ্যাকাউন্ট খুলতে তাদের দেওয়া নির্দিষ্ট পিন নম্বরটি বলবেন। তাহলে অ্যাকাউন্ট সচল হয়ে যাবে।' তখন বিকাশ গ্রাহকসহ তারা উভয়েই ওই অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারেন। সে সুযোগে তারা গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। সাদ্দাম আরও জানিয়েছেন, দুই বছর ধরে তারা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তারা মাঠ পর্যায়ের কর্মী। প্রতারণা করে প্রতি মাসে তাদের আয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। যাদের নির্দেশে তারা কাজ করেন, তাদের আয় লাখ লাখ টাকা। মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম জানান, গত ৩১ আগস্ট ইসমাইল নামের তার এক বন্ধু বিকাশে তিন হাজার ৬০ টাকা পাঠায়। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলে, ভুলে আপনার বিকাশ নম্বরে তিন হাজার টাকা চলে গেছে। তখন তিনি নিজের অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখেন কোনো টাকা আসেনি।এরপর ওই প্রতারক বলে, আপনার অ্যাকাউন্ট বিকাশ হেড অফিস থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। পুনরায় চালু করতে অফিস একটি পিন নম্বর চাইবে। তখন আপনি ১১২২৩ নম্বরটি দিলে ওরা আপনার অ্যাকাউন্ট চালু করে দেবে। কিন্তু এ জন্য আপনাকে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে। সে সময় তার অ্যাকাউন্টে দুই হাজার ৭০০ টাকা ছিল। ওই টাকা রক্ষার কথা ভেবে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা ট্রান্সফার করেন। পরে ওই টাকা তিনি আর তুলতে পারেননি। প্রতারক চক্র তুলে নিয়েছে। টাকা উদ্ধারের জন্য তিনি রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরে মামলা করেন। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, একজন ভুক্তভোগীর মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার বিকাশ হেল্প সেন্টারে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ওই টাকা চট্টগ্রাম ও ঝিনাইদহের দুটি নম্বরে ক্যাশআউট করা হয়েছে। পরে এসব স্থানে খোঁজ নিয়ে চক্রের এক সদস্যকে শনাক্ত করেন। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নারুয়ার জঙ্গল বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্য সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার ১০ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ প্রতারণার নেটওয়ার্ক ভাঙতে এবং প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছে। বুধবার সাদ্দামকে রাজবাড়ী আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
6
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শোনেন। কিছুক্ষণ পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, 'সরকারের আবেদন ডিসমিসড করে জামিন বহাল রেখেছেন। সরকারের বাধার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন কঠিন হবে। এখনও তার দু'টি মামলা পেন্ডিং আছে। তবে এর মধ্যে আর কোনও মামলা না দিলে ওই দু'টি (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) মামলায় জামিন পেলে তিনি জেল থেকে বের হবেন।' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 'যদি সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন, তাহলে বিষয়টি আমরা ভেবে দেখবো' এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মাহবুব বলেন, আমি বারবার বলেছি, প্যারোলের বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয়। এখানে খালেদা জিয়া প্যারোলে যাবেন কিনা এবং সরকার প্যারোল দেবেন কিনা এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরা আইনজীবী হিসেবে বলতে পারি চিকিৎসার জন্য প্যারোলে যায়। প্যারোলের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, দেশে, ভারতে, পাকিস্তানে প্যারোলের যাওয়ার নজির রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্যারোলে যাওয়া প্রায়ই দেখা যায়। আমরা চাই তাকে আইনগতভাবে মুক্তি দেওয়া। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা প্যারোলের আবেদন করিনি।। গত ৬ মার্চ এ মামলায় খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে ১৯ মার্চ হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ৩১ মার্চ চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি ৭ এপ্রিল আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার শুনানি হয়। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরো ২০ জন। এ ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি দেখানো হয়।
6
ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় কঠোর ও ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, 'বিশ্বের সবচেয়ে নিষ্ঠুর মানুষদের হাতে নিহত হয়েছেন ইরানের সম্মানিত কমান্ডার, যিনি সাহসীকতার সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে বিশ্বের শয়তান ও দস্যুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।" বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাঙালি জন্মগতভাবে মেধাবী। দেশে ও দেশের বাইরে আমরা মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছি। মেধা বিকাশের অন্যতম উৎস বই। একসময় আমাদের প্রজন্ম বই নিয়ে ব্যস্ত থাকত। এখন বই পড়ার নেশা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে গেছে। এটি সমাজের জন্য একটি বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। রোববার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়োজনে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। সিটি মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সন্তানদের একটি স্মার্টফোন কিনে না দিয়ে বই কিনে দিন। আপনার পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্র, সমাজ এবং অনৈতিক কাজে ব্যস্ত কি-না তদারকি করুন। বর্তমান সরকারের অবদান তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার একটি সৃষ্টিশীল জাতি গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনাদের অনুরোধ জানাব খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আপনারা আইনি লড়াই করুন। চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, প্রকাশক শাহ আলম নিপু, কাউন্সিলর আবিদা আজাদ প্রমুখ। বইমেলায় বলাকা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত লেখক জামাল উদ্দিনের লেখা চট্টগ্রামের লোকসাহিত্য এবং বসন্তের কাবিন নামে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
6
চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন তামিম ইকবাল। ৬৫ বল খেলে ৫ বাউন্ডারিতে সাজানো এই হাফসেঞ্চুরি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৭তম। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৭ জুন মাত্র ২ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি মিস করেছিলেন চলতি বিশ্বকাপে ফর্মের সঙ্গে লড়াই করতে থাকা তামিম।
12
বাসাইল সরকারি জোবেদা রুবেয়া মহিলা কলেজের ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১২টার দিকে কলেজ মিলনায়তনে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা পারভীন সভাপতিত্ব করেন।প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের কিডনি রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এম এ সামাদ। বরেণ্য অতিথি ছিলেন বাসাইল-সখীপুরের সাবেক সাংসদ অনুপম শাহজাহান জয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আমিন শরীফ সুপন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, সাহিত্যিক নাসরিন বেগম।বিশেষ অতিথি ছিলেন বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান নূরেন, বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ প্রমুখ।
6
বগুড়ার শিবগঞ্জের বিহার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী মহিদুল ইসলামের প্রচারণায় হামলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী মতিউর রহমান মতিনের বিরুদ্ধে। হামলায় দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও নৌকা মার্কার তিন সমর্থক আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিহার চানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।হামলায় আহতরা হলেন, নৌকার সমর্থক ভান্ডারিপাড়ার শামীম ও সাব্বির এবং ভাসু বিহার গ্রামের খলিলুর রহমান। আহতরা বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এ ব্যাপারে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ভাসুবিহার সংলগ্ন চানপাড়া গ্রামে প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ মতিনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্তত ৩০/৪০ জন যুবক তাদের ওপর হামলা করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার একদিন আগেই প্রচারণা সভায় প্রকাশ্যে হামলা ও খুনের ঘোষণা দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা মতিন।এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিহার ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতিন জানান, তিনি তার নেতা কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরেছেন। নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন নৌকার প্রার্থী মহিদুল। তিনি আরও বলেন, এর আগে বিভিন্ন জনসভায় মহিদুল আমার লোকজনকে হুমকি দিয়ে আসায় আমরা সন্ধ্যার আগেই প্রোগ্রাম শেষ করি।শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
২০২১, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের অর্জন অসামান্য। ১৯৭১ সালের ৭ কোটি স্বাধীন বাঙালি এখন সংখ্যায় প্রায় ১৭ কোটি বাঙালি বা বাংলাদেশি। যুদ্ধবিধ্বস্ত অতিদরিদ্র বাংলাদেশ এখন বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সম্ভবত ৪০তম, ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫তম অর্থনীতিতে উন্নীত হবে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ১৯৭১-এ স্বাধীনতা অর্জনের পর ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৮ ডলার, সুবর্ণজয়ন্তীকালে তা অন্যূন ৫০ বিলিয়ন (৫ হাজার কোটি) ডলার, তখন দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৭০ ডলার, বর্তমানে ২ হাজার ২২৭ ডলার। বিশ্বের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এক বিশাল ধাঁধা। তাঁরা একে বলেন 'পাজ্ল' বা 'প্যারাডক্স'। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপক হারে দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রক্রিয়ায় সরকারের বলিষ্ঠ তৎপরতার পাশাপাশি গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাকসহ বেশ কিছু এনজিও কয়েক দশকজুড়ে কাজ করেছে এবং তাতে ফলও পাওয়া গেছে। সরকারি নীতিমালার সুযোগ নিয়ে স্বাধীন দেশের উজ্জ্বল তরুণ উদ্যোক্তারা আধুনিক ধারার শিল্প ও বাণিজ্যব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দৃঢ় মঞ্চ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক দশক ধরে (২০০৯-২০) অতি উচ্চ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হার (৬-৮%) বস্তুতই পরম আশ্চর্যের। শুধু কি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি? সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা দিকেই আজ বাংলাদেশের অগ্রগতি অতীব দৃশ্যমান এবং বহুল প্রশংসিত। অন্যদিকে বন্যা, ঝড়, ঝঞ্ঝার দেশ বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ মোকাবিলার পরীক্ষায় বিশ্বের অনুকরণীয় মডেল।এমনকি ২০২০-২১ সালজুড়ে যে মহামারি, কোভিড-১৯, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এই মহামারি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা আরও ভয়ংকর রূপ নিলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতেই পারে, যেমন হচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশেই।দুই.কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫০ বছরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের সাফল্য, আনন্দ উদ্যাপনের বহু কারণ রয়েছে। দেশের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন (বঙ্গবন্ধু সেতু, পদ্মা সেতু ইত্যাদি), বিদ্যুৎ উৎপাদন (এপ্রিল ২০২১-এর প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট), অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি (কৃষি, শিল্প, প্রবাসী আয়, বিভিন্ন সেবা, নির্মাণ), দারিদ্র্য হ্রাসকরণের সাফল্য, নারী প্রগতি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনায় প্রবৃত্ত হচ্ছি না, এসব বিষয়ে অন্যরা লিখবেন বরং আমার একান্ত নিজস্ব কিছু এলাকায় দেশের অর্জন (এবং প্রাসঙ্গিক সীমাবদ্ধতা বা দুর্বলতা) মোটাদাগে উল্লেখ করছি। আমার নিজস্ব এলাকাগুলো হলো শিক্ষা, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সংস্কৃতি ও শিল্পকলা। তবে স্থান সংকুলানের স্বার্থে বর্তমান রচনা শুধু উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা এবং শিল্পকলার মধ্যে সীমিত রাখা হচ্ছে।শিক্ষা, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চতর শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাসহ সকল পর্যায়েই ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সাক্ষরতার হার ১৭ শতাংশ থেকে ৭৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। (অবশ্য এই হার প্রায় শতভাগ হওয়া খুবই সম্ভব ছিল)। বিভিন্ন স্তরে নারী শিক্ষার অগ্রগতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত লিঙ্গসমতা অর্জিত হয়েছে। উচ্চতর পর্যায়েও শিক্ষায় মেয়েদের অগ্রগামিতা প্রশংসনীয়; এমনকি কৃষিশিক্ষার ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তখন নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত, শিক্ষকসংখ্যা তো অতি নগণ্য। বর্তমানে চিত্র খুবই ভিন্ন, কোনো কোনো বিভাগে নারী শিক্ষকের সংখ্যাই বেশি। বাংলাদেশের বহু নারী এখন উন্নত বিশ্বের অনেক প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। দেশের একাধিক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নারী।শিক্ষার সকল স্তরেই সংখ্যাগত বিপ্লব ঘটে গেছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৯৭১ সালের মাত্র ৬ থেকে ২০২১ সালে ১৫০-এর ওপরে। অবশ্য পাশাপাশি অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো কোনো বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মান প্রশংসিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (বর্তমান লেখকের চেয়ারম্যান থাকাকালে) ২০০৯ সালে উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন কর্মসূচি নামক একটি বড় মাপের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এটি পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে ভিন্ন নামে পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কোভিড-১৯ নিয়েও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশংসনীয় গবেষণা করছে।বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক গবেষণার সুযোগ বেড়েছে বিগত পাঁচ দশকে। এ ক্ষেত্রে কৃষি গবেষণা ও ওষুধশিল্পে অগ্রগতির কথা বলা যায়। বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, মৎস্য, মাংস ও দুগ্ধ উৎপাদনে এগিয়ে গেছে, তা বহুলাংশে কৃষি ও প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে গবেষণার উন্নয়নের জন্য সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণাকেন্দ্র সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়েই পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন। এ নিয়ে গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকার বিসিএএস (বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিস)। এই সঙ্গে স্মরণ করা যায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের এক কাতারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরব ভূমিকার কথা। অবশ্য বলা বাহুল্য, শিক্ষাক্ষেত্রে (এবং তা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য), জাতীয় বাজেট ও জিডিপিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ছাড়া শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশে বিগত পাঁচ দশকে শিক্ষাক্ষেত্রে সংখ্যাগত ও গুণগত উন্নতি হলেও অত্যন্ত ক্ষতিকর যে প্রক্রিয়াটি শক্তি অর্জন করেছে, তা হলো সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টিকারী নানা ধারার, নানা পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা। ধর্মভিত্তিক সংকীর্ণ শিক্ষার ব্যাপক প্রসার রীতিমতো উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের সৃষ্টির চেতনার সঙ্গে এমন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বেমানান ও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিকর।বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের সূত্রপাত ভাষা আন্দোলনে। স্বাধীন এই রাষ্ট্রের ভাষা বাংলা। বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ স্বভাবতই বাংলাদেশের ওপর মূলত নির্ভর করবে। সে ক্ষেত্রে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, বাংলা একাডেমি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও পৃষ্ঠপোষকতা তো অবশ্যই অতীব জরুরি। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির অর্জন প্রধানত স্বাধীনতা-উত্তরকালের কৃতিত্ব।শুধু ভাষা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই নয়, বাংলা একাডেমির মাসব্যাপী ফেব্রুয়ারির বইমেলার (সংগত কারণে বর্তমান বছরে মার্চ-এপ্রিলে) তাৎপর্য ও গুরুত্ব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বহুমাত্রিক। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রেরণা এই বইমেলা।শিল্প ও সংস্কৃতি: শিল্পকলা ভাষা, সাহিত্যসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখা বিশেষত শিল্পকলার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা-পরবর্তী পাঁচ দশকে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর শাসনামলের মাত্র সাড়ে তিন বছরে জাতীয় উন্নয়নের প্রায় সব ক্ষেত্রেই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়েছিলেন। এর অন্যতম ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও এর কার্যক্রমে প্রণোদনা দেওয়া। এ কাজে তিনি পাশে পেয়েছিলেন তাঁর অতি আপনজন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে। অনুকূল পরিবেশে অতি দ্রুত সফলতার দিকে এগিয়ে যায় এ দেশের চিত্রকলা ও ভাস্কর্যসহ সব সুকুমার শিল্প ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট শিল্প শাখা। তরুণ মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদে ফ্রান্সে উচ্চতর শিল্পশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ক্রমান্বয়ে একজন সত্যিকারের আন্তর্জাতিক শিল্পীর মর্যাদালাভ করেন, ফ্রান্সের গৌরবজনক পদবি লাভ করেন। শিল্পী মনিরুল ইসলাম একই ভাবে স্পেনের স্বীকৃতি লাভ করেন। জাপানে সম্মানিত হন প্রবীণ শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া ও শিল্পী কাজী গিয়াসউদ্দিন। আরও বেশ কয়েকজন শিল্পী আন্তর্জাতিক শিল্পমঞ্চে কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হন। তা ছাড়া, সম্মিলিতভাবে এ দেশের শিল্পকলা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমি যৌথভাবে দ্বিবার্ষিক এশীয় শিল্পকলা প্রদর্শনী ১৯৮১ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বের শিল্পকলা মঞ্চে অত্যন্ত সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে (বাদ সেধেছে অবশ্য ২০২০ সালের করোনাভাইরাস মহামারি)। একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপনাশিল্প, ফটোগ্রাফি ও ডিজিটাল আর্ট মাধ্যমে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিদর্শন রাখা সহজ কথা নয়। বাংলাদেশের তরুণ শিল্পীরা সম্প্রতি অতি মর্যাদাবান ভেনিস বিয়েনালে নিয়মিত অংশ নিতে পারছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের শিল্পকলায় খুব বড় রকমের সাফল্য এ দেশের নারী শিল্পীদের মেধাবী সৃজনকর্ম।শিল্পকলার উৎকর্ষ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রেখে চলেছে ঢাকা শহরের বেশ কিছু আর্ট গ্যালারি বা শিল্পালয়। এদের মধ্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের গ্যালারির তৎপরতা ও পাশাপাশি অতি উন্নতমানের আর্ট পাবলিকেশনের কথা বলতেই হয়। কায়া, চিত্রকসহ আরও কয়েকটি শিল্পালয় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।শিল্পীসমাজের একটি সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতা বাঙালির জাতীয় জীবনে নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পেরেছে, তা হলো বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাঙালির জাতীয় চরিত্র নির্মাণে এ ধরনের উদ্যোগ ও তৎপরতার বিকল্প নেই। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে করোনার মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতীকী উদ্যাপন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর নেতৃত্বে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রতিকূল পরিবেশে সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু করেছিলেন ছায়ানটের নেতারা।শেষের কথাস্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমার দেশের সাফল্যে আমি আমার বৃদ্ধ বয়সেও প্রচণ্ডভাবে উজ্জীবিত হই, কিন্তু একই সঙ্গে ভয়ানকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হই সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন দিবসেই ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর বিশাল শক্তি প্রদর্শনে ও ভৌত উন্নয়নের ইতিবাচক সাফল্যের পাশাপাশি পরিবেশ, প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনুষঙ্গরূপী ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্যের বাস্তবতায়। এসব সত্ত্বেও আমি মনে করি পাঁচ দশকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও অনেক এগোবে।নজরুল ইসলামশিক্ষাবিদ, নগরবিদ ও শিল্প সমালোচকবিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান
5
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় থাকা ৬৯টি করাতকলের মধ্যে ৬৫টিই অবৈধ। বছরের পর বছর কোনো প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধ উপায়ে চলছে এসব করাতকল। এতে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কাটা পড়ছে গাছ। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।উপজেলা বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, একটি পৌরসভা এবং ১৩টি ইউনিয়নে মোট করাতকলের সংখ্যা ৬৯টি। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় দুটি আর বেরুবাড়ি ইউনিয়নে দুটি ছাড়া অনুমোদন নেই বাকি ৬৫টি করাতকলের। অবৈধ উপায়ে স্থাপিত এসব করাতকলের বিরুদ্ধে চলতি বছরের শুরু থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ৩১টি করাতকলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।এসব অবৈধ করাতকলের মধ্যে নাগেশ্বরী পৌরসভা এলাকায় রয়েছে ১৩ টি। অন্য ৫২টি রয়েছে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে। নদী বিচ্ছিন্ন নারায়ণপুর ইউনিয়নের কোনো হিসাব নেই বন বিভাগের কাছে।এসব করাতকলের মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে লাইসেন্সের জন্য বন বিভাগে ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি। মাঝেমধ্যে তাঁদের মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়। লাইসেন্স পেলে এই জরিমানা আর গুনতে হবে না।কেদার ইউনিয়নের কচাকাটা বাজার এলাকায় স্থাপিত তিনটি করাতকলের মালিক লুৎফর রহমান, মাহাবুবুর রহমান ও খালেদুল ইসলাম জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁদের করাতকলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়। সেখানে প্রত্যেক কলের মালিককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এখন তাঁরা লাইসেন্স জন্য আবেদন করবেন বলে জানান।সন্তোষপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সাপখাওয়া ব্যাপারীহাট এলাকায় স্থাপিত করাতকলের মালিক হযরত আলী জানান, দুই বছর আগে লাইসেন্সের জন্য টাকা পয়সা ও কাগজপত্র জমা দিলেও এখনো লাইসেন্স মেলেনি।একই অভিযোগ করেন নাগেশ্বরী পৌরসভার হলপাড়া এলাকায় স্থাপিত করাতকলের মালিক রিয়াজুল ইসলাম।নাগেশ্বরী উপজেলা বন কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান শাহীন আজকের পত্রিকাকে জানান, এ পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪৫টি করাতকলের আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদন অসম্পূর্ণ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলে লাইসেন্স দেওয়া হবে। লাইসেন্সবিহীন করাতকলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
6
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, স্কাউট আন্দোলন শিশু-কিশোরদের চারিত্রিক গুণাবলী বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লেখাপড়ার পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করার মানসিকতা তৈরিতে স্কাউটিংয়ের ভূমিকা অনন্য। স্কাউটিংই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক, প্রগতিশীল ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে। আজ রোববার (১০ মার্চ) বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী দশম বাংলাদেশ ও তৃতীয় সানসো স্কাউট জাম্বুরী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্কাউটরা নিয়মিত সমাজ সেবামূলক কাজের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও আর্তমানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। বাংলাদেশকে আরো সুন্দর করে গড়ে তুলতে তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও যুবকদের মাদক, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে বিষবাষ্প থেকে নিরাপদ এবং দূরে রাখতে স্কাউটিং ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রায় নেতৃত্বদানের জন্য আগামী প্রজন্মকে স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে স্কাউট নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। স্কাউটদের উদ্দেশ্যে আবদুল হামিদ বলেন, তোমাদের অবস্থান হবে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। অন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেশপ্রেম, দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্য ও মমত্ববোধ সব সময় জাগ্রত রাখতে হবে। নিজেরা ভালো কাজ করবে এবং অন্যদেরও ভালো কাজে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানাবে। আগামীদিনে তোমরাই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমরাই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে। এজন্য তোমাদের যোগ্য ও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। তিনি বলেন, স্কাউট জাম্বুরী শত বছরের রোভারিং চেতনাকে উজ্জ্বীবিত করার পাশাপাশি দেশে রোভার ও স্কাউটিংয়ের সম্প্রাসারণ, ভ্রাতৃত্বরোধ এবং সৌহার্দের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে। বহির্বিশ্বের স্কাউটদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের স্কাউটরা দেশের আর্থ সামজিক উন্নয়নে আরো অবদান রাখবে। অনুষ্ঠানে আর ও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, জাম্বুরীর সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি সভাপতি আক্তারুজ্জামান কবীর প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান হুমায়ুন কবীর, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী হাফিজুল আমিনসহ বাংলাদেশ স্কাউটসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশ-বিদেশ থেকে আগত স্কাউটসরা।
6
নাগরপুরে খেজুর রস থেকে সুস্বাদু গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। শীতের আগমনে বেশ কিছুদিন ধরেই শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ। প্রতি বছরের মতোই এ বছরও রস সংগ্রহের জন্য খেজুরগাছ প্রস্তুতের কাজ চলছে। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের গাছিরা এখন ব্যস্ত রস সংগ্রহে।ভোরের সূর্য ওঠার আগে গাছিরা রস ভর্তি মাটির ভাঁড় গাছ থেকে নামান। পরে মাটির হাঁড়িতে কিংবা টিনের বড় তাওয়ায় জ্বাল দিয়ে গুড়-পাটালি ও লালি তৈরি করেন। নতুন খেজুর রসের গুড় তৈরির পর তা চলে যাচ্ছে বাজারে।রস সংগ্রহ, গুড় তৈরি ও বাজারে বিক্রি করতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গাছিরা। গ্রামের ঘরে ঘরে খেজুর রসের পিঠা, পায়েস, গুড়ের মুড়ি-মুড়কি ও নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়েছে। বাজারে চিনির দাম তুলনামূলক কম হলেও খেজুরের গুড়ের চাহিদা কমেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গাছিরা।রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঢাকাচন্দ্রগাতী গ্রামের মো. রায়হান উদ্দিন (২৮) খেজুরের গুড় তৈরির কাজে চলে এসেছেন নাগরপুরে। একই গ্রামের লিটন ও আনিসকে নিয়ে রায়হান উদ্দিন গুড় তৈরির কাজ করে আসছেন ৮ বছর ধরে।জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মোট ১৫০টি খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে। তা থেকে খেজুরের গুড় ও স্থানীয় ভাষায় মধুরসা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রস্তুত করা প্রতিটি গাছ থেকে সপ্তাহে ৫-৬ কেজি রস সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি গাছ থেকে শুরুতে এক থেকে দুই কেজি করে রস সংগ্রহ হয় ও আস্তে আস্তে তা বাড়ে।প্রথমদিকে প্রতিদিন আনুমানিক পাঁচ কেজি করে খেজুরের গুড় তৈরি হয়। পুরো মৌসুমে প্রতিদিন ১৫ কেজি থেকে ২০ কেজি খেজুরের গুড় ও মধুরসা তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি খেজুরের গুড় ও মধুরসা বাজারে পাইকারদের কাছে ৪০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।গাছি রায়হান উদ্দিন বলেন, বিগত ৮ বছর ধরে তিনি নাগরপুর উপজেলায় নিয়মিত আসেন খেজুর রস থেকে গুড় তৈরির কাজে। এটিই আমার মূল ব্যবসা। বাকি সময় গুলো আমার এলাকায় কৃষি কাজ করি।গাছ মালিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়হান উদ্দিন বলেন, রস থেকে গুড় তৈরির জন্য স্থানীয়দের মোট ১৫০টি গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা আছে। প্রতিটি গাছের জন্য ২০০-২৫০ টাকা বা এক থেকে দুই কেজি গুড় দিতে হয়।আনিস মিয়ার বলেন, খেজুরগাছ তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর থেকেই মূলত রস নামানোর পর্ব শুরু হয়। গাছের মাথার নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশের বানানো দুটি চোখা খুঁটি পোঁতা হয়। সঙ্গে দড়ি বা সুতা বেঁধে মাটির পাত্র ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পাত্রের ভেতর রস পড়ার জন্য বাঁশের তৈরি নালার মতো ভিন্ন একটি খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয় সেই গাছের সঙ্গে। এভাবেই গাছির নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফোটায় ফোটায় ঝরে খেজুর রস।
6
ওষুধ বিক্রির অনুমোদন নিয়ে নিজ বাড়িতেই খুলে বসেছেন ক্লিনিক। সেখানে তিনি একাধারে ডেন্টিস্ট, নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, গ্যাস্ট্রোলোজি, কিডনি ও গাইনি বিশেষজ্ঞ। এমনকি গরু ছাগলের চিকিৎসাও করেন তিনি। এসব অভিযোগে গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুরের ১ নম্বর গেট এলাকায় 'ডে-নাইট' নামের এই ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। অভিযান শেষে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে 'হাতুড়ে চিকিৎসক' ফেরদৌস মিয়াকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ফার্মেসিতে ওষুধের ব্যবসার আড়ালে ক্লিনিক খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন পল্লি চিকিৎসক ফেরদৌস মিয়া। এই খবরে সোমবার দুপুরে ওই ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করেন জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান। তাঁকে সহায়তা করেন সরাইলের স্বাস্থ্য পরিদর্শক গৌরপদ শাখা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোতালেব হোসেন।অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ক্লিনিকের কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি ফার্মেসির মালিক ফেরদৌস মিয়া। তাঁর কাছে পাওয়া যায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও স্যালাইন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ফেরদৌস মিয়াকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়েছি। জরিমানা করার পাশাপাশি ওই ফার্মাসির মালিক এই ধরনের অপরাধ আর করবেন না মর্মে অঙ্গীকার করেছেন। অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে ক্লিনিকের নামে প্রতারণা চলতে পারেন না। জনস্বার্থে আমাদের এ ধরনের অভিযান চলবে।'
6
সৌদি আরবের ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে আটক বা হত্যা করতে অভিযান চালানোর অনুমোদন দেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের দপ্তর ওই প্রতিবেদন নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, 'আমাদের মূল্যায়ন হলো, জামাল খাসোগিকে আটক বা হত্যা করতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অভিযান চালানোর অনুমোদন দেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি আরবে যুবরাজ বিন সালমানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে আমরা এই মূল্যায়নে পৌঁছেছি।' খাসোগি ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর খুন হন। তাঁর লাশ গুম করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে ওয়াশিংটন পোস্ট-এ কলাম লিখতেন তিনি। খাসোগি হত্যার দায়ে সৌদির একটি আদালত দেশটির পাঁচজন নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তাঁদের সাজা কমিয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড করা হয়। সাংবাদিক খাসোগি সৌদি যুবরাজের কট্টর সমালোচক ছিলেন। শুরুতে খাসোগি খুন হওয়ার কথা অস্বীকার করে সৌদি আরব। পরে দেশটির সরকার স্বীকার করে, কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। সৌদি যুবরাজ এই হত্যায় তাঁর সম্পৃক্ততার কথা শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। এদিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগের দিন বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ফোনালাপে সৌদির বাদশাহর কাছে মানবাধিকার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাইডেন। জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পর্শকাতর গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ হতে যাচ্ছে, এটা আগেই জানা গিয়েছিল। প্রতিবেদনে খাসোগি হত্যায় বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসার আভাসও ছিল। বাদশাহ সালমানকে ফোন করার আগে বাইডেন প্রতিবেদনটি পড়েছেন বলে তিনি নিজেই জানান।সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বলেছে, বাদশাহ সালমান ও প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এই অঞ্চলে ইরানের অস্থিতিশীলমূলক কার্যক্রম ও দেশটির সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
3
খাওয়াদাওয়া শেষ করে ঘুমোতে যাব, হঠাৎ বেল বাজল। একবার-দুবার নয়, বেজেই চলেছে। মেয়েকে বললাম, দেখ তো মা, এত রাতে কে এল? মেয়ে বলল, মনে হয় পুলিশ।কটা হবে তখন?রাত ১১-১২টা বা তার বেশি। আমরা এই সময়ে ঘুমোতে যাই।তারপর?মেয়ে দরজা খুলতেই হুড়মুড় করে চার-পাঁচজন ঘরে ঢুকে পড়ল। আমার বাড়িতে প্রায়ই পুলিশ আসে। মনে করলাম, এবারও এল। সবাই সাদা পোশাকে। কারও হাতে কোনো অস্ত্র নেই। কী পরিচয় দিল?সবাই নিজেদের পুলিশ বলেই পরিচয় দিল। তল্লাশি-টল্লাশি না করে বলল, আমাদের সঙ্গে চলেন।প্রশ্ন করলেন না, কোথায় যাবেন?করলাম, তারা বলল কোনো কথা হবে না। যা বলছি শোনেন, যেতে হবে। যে কাপড়ে ছিলাম বের হলাম। বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি গলির মোড়ে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে, তাতে আরও কয়েকজন বসে। আমাকে সেই গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে থাকল। কিছুক্ষণ পর গাড়িটা থামল একটা উঁচু ভবনের পেছনে। দেখি একটু দূরে আরেকটি গাড়ি দাঁড়িয়ে। বলল, ওই গাড়িতে গিয়ে বসেন। সেটা ছিল প্রাইভেট কার। গাড়ির সামনে একজন বসা। পেছনের সিট খালি। আমি গিয়ে সেই গাড়িতে বসতেই গাড়িটা চলতে শুরু করল, পেছনে সেই মাইক্রোবাস। দুটি গাড়ি এসে থামল একটি বস্তির সামনে। আমাকে বলল বস্তির ভেতরে যেতে হবে।গেলেন? আপনার ভয় করেনি?এতক্ষণ কিছু মনে হয়নি। কিন্তু এত রাতে অন্ধকার বস্তি দেখে খুব ভয় হলো। কি-না-কি হয় বুঝতে পারছি না। কিন্তু যুবকেরা আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করছে। তারা আমাকে বস্তির একটি ঘরে নিয়ে গেল। সেখানে চাদর দিয়ে একটি মৃতদেহ ঢাকা। একজন চাদর তুলে বলল, দেখেন তো চিনতে পারেন কি না? মুখটা দেখেই চিনলাম। আরও নিশ্চিত হতে বললাম, ডান হাতটা দেখান। তারা ডান হাত দেখাল।ডান হাতে কী ছিল? ডান হাতের ওপরে একটি নীলাভ জন্মদাগ ছিল। সেটা দেখেই বুঝলাম এটা আমার ছেলের লাশ। আমি ডুকরে কেঁদে উঠে বললাম, এটা আমার ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর। লাশ শনাক্তের পর ওরা আমাকে আর দাঁড়াতে দিল না। আবার সেই গাড়িতে তুলে বাড়ির গেটে নামিয়ে দিয়ে গেল। আর বলে গেল, সবাই আমার ছেলের দলের লোক। এ নিয়ে আমি যেন কোনো বাড়াবাড়ি না করি, থানা-পুলিশ না করি।এ ঘটনা কবেকার? ২০০৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর, সেদিন সোমবার ছিল। এরপর আমি কিছু জানি না, শুনেছি লাশ সেখানেই দাফন করা হয়েছে।কীভাবে আপনার ছেলে মারা গেল, কিছু জানতে পেরেছিলেন?পেয়ারা বেগম বললেন, জাহাঙ্গীরের সবকিছু দেখভাল করত তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিটেল। তাকে বলত দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। সে একদিন রাতে এসে বলল, র্যাবের ধাওয়া খেয়ে মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে তারা আশ্রয় নিয়েছিল। জাহাঙ্গীরের বউ সোনিয়া তখন গর্ভবতী। সেই অবস্থায় টেলিফোনে সোনিয়ার সঙ্গে ঝগড়া হয় জাহাঙ্গীরের। জাহাঙ্গীর খুব উত্তেজিত ছিল। ঝগড়াঝাঁটির একপর্যায়ে নিজের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। ফোনের অন্য প্রান্তে তখন সোনিয়া ছিল। তাকে কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। সেই বাড়িতেই মরে পড়ে ছিল। রাতে দলের লোকেরা তাকে দাফন করতে বস্তিতে নিয়ে যায়।সোনিয়ার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কী হয়েছিল সেদিন?জানব কী করে? কিছুদিন পর মিরপুরে র্যাবের ক্রসফায়ারে নিটেল মারা যায়। তার কয়েক দিন পর সোনিয়া আক্তারকে ডিবির এসি আখতারুজ্জামান রুনু ধরে নিয়ে যায়। সোনিয়া জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেনি। জাহাঙ্গীরের একটি ছেলে আছে, সেই নাতির জন্য খুব মন খারাপ হয়। বলতে বলতে চোখ মুছলেন তিনি।যে নারীর সঙ্গে আমার এই দীর্ঘ কথোপকথন, তাঁর নাম পেয়ারা বেগম। ষাট ছুঁইছুঁই এই নারী মিরপুরের সেনাপল্লী স্কুলের শিক্ষক। যে মৃতদেহের বর্ণনা তিনি দিচ্ছিলেন, সেটা তাঁরই সন্তান রাজধানী কাঁপানো শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীর।পেয়ারা বেগমের সঙ্গে আমার এই কথোপকথন ২০০৫-এর ফেব্রুয়ারিতে, তাঁর ইব্রাহিমপুরের বাড়িতে বসে। পেয়ারা বেগম সন্ত্রাসী সন্তানের মৃত্যুর কথা অনেক দিন চেপে রেখেছিলেন। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি র্যাবের কাছে প্রথম এ ঘটনা স্বীকার করেন।র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক প্রয়াত আনোয়ার ইকবাল আমাকে ডেকে নিয়ে সেই ঘটনা জানিয়েছিলেন। এবার সেই গল্পটা বলি।ওয়ান-ইলেভেন সময়ের পরিচিত নাম ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারী। তিনি তখন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক। আনোয়ারুল ইকবাল আমাকে বললেন, কয়েক দিন আগে বারীর কাছে এসেছিলেন ওই সময়ের পুরস্কারঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের মা পেয়ারা বেগম, তাঁর ভাই ক্যাপ্টেন (অব.) আলমগীর ফেরদৌস ও আলমগীরের স্ত্রী। তাঁরা দাবি করেছেন, কালা জাহাঙ্গীর মারা গেছেন। মা নিজে সন্তানের লাশও দেখেছেন। তিনি আমাকে বললেন, র্যাব বিষয়টি পুরোপুরি আস্থায় নেয়নি। এটা কালা জাহাঙ্গীরকে আড়াল করার কৌশলও হতে পারে। আমি যেন ঘটনাটা যাচাই করে দেখি। আমি এরপর ফজলুল বারীর কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে কালা জাহাঙ্গীরের মায়ের খোঁজে নেমে পড়ি।পেয়ারা বেগম তখনো সেনাপল্লী স্কুলের শিক্ষক। আমি যখন স্কুলে এলাম, তখন টিফিনের বিরতি চলছে। প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে পেয়ারা বেগমের নাম বলতে তিনি পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে দেখে নিয়ে জানতে চাইলেন-আমি পুলিশ না গোয়েন্দা। সাংবাদিক পরিচয় দিতেই বসতে বললেন। এরপর ডেকে দিলেন পেয়ারা বেগমকে।পেয়ারা বেগম খুবই স্বাভাবিক, যা বলি তারই উত্তর দেন। কথায় কথায় তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন তাঁদের ইব্রাহিমপুরের বাড়িতে। তিনি রিকশায় আর আমি পেছনে মোটরসাইকেলে। একটি চারতলা বাড়ির দোতলায় নিয়ে তুললেন। বেল বাজাতে এক তরুণী এসে গেট খুলে দিল। তাঁকে দেখিয়ে বললেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ও রুমা, সবার ছোট। রুমা সালাম দিয়ে সরে গেলেন। একটু পরে তিনি আরেক ছেলেকে ডেকে পাঠালেন। তিনি এসে জানান, তিনি জাহাঙ্গীরের বড় ভাই ক্যাপ্টেন আলমগীর ফেরদৌস। ক্যাপ্টেন আলমগীর তখন সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে কাঠের ব্যবসা করছেন। মা-ছেলে মিলে পুরো ঘটনার বিবরণ দিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো কালা জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে পরিবারটি বেঁচে গেছে। পেয়ারা বেগম বললেন, মিথ্যে অভিযোগে তাঁর বড় ছেলের চাকরি গেছে। সে নাকি জাহাঙ্গীরের জানাজায় অংশ নিয়েছিল।শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ফেরদৌস ওরফে কালা জাহাঙ্গীরের মৃত্যু নিয়ে তখন নানা গুজব। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছিল, কালা জাহাঙ্গীরকে আড়াল করার জন্য এসব রটানো হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করেছিলেন তিনি বিদেশে চলে গেছেন। ওই সময় কালা জাহাঙ্গীরের মাথায় এক ডজন খুনের মামলা আর গোটা বিশেক জিডি। পুরান ঢাকার শহীদ কমিশনারের আশ্রয়ে থেকে তখন একের পর এক খুন করে যাচ্ছিলেন। সে সময় পোস্তগোলার কমিশনার শাহাদত ছিলেন শহীদ কমিশনারের প্রতিপক্ষ।কালা জাহাঙ্গীরের হাত থেকে বাঁচতে তিনি আসিফ নামে আরেক সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি। আদালত চত্বরে মুরগি মিলনকে খুন করার পর উত্তরার রাস্তায় গাড়ির ভেতরে গুলি করে শাহাদতকে খুন করেন কালা জাহাঙ্গীর। কারওয়ান বাজারের সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ। ইব্রাহিমপুরে বেড়ে ওঠা কালা জাহাঙ্গীরকে পুলিশ কখনো ধরতে পারেনি। ছোটবেলার একটি মাত্র ছবি ছাড়া পুলিশের কাছে তাঁর কোনো ছবি ছিল না। সাধারণ কোনো মানুষও তাঁকে চিনত না। তাঁর সব কর্মকাণ্ড ছিল অ্যাকশন সিনেমার গল্পের মতো ভয়ংকর। কালা জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে বের হয়ে ফোন দিলাম ঢাকা রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি ফররুখ আহমেদকে। সিআইডিতে থাকার সুবাদে কালা জাহাঙ্গীরের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতেন। ফররুখ আহমেদ বললেন, তাঁর একাধিক সোর্স জানিয়েছে, কেরানীগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গা ব্রিজের আশপাশে প্রতিপক্ষের গুলিতে কালা জাহাঙ্গীর আহত হয়েছিলেন। দলের লোকজন তাঁর চিকিৎসার জন্য গুলশানের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পুলিশ সে খবর পেয়ে ক্লিনিকে অভিযান চালায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁকে সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পায়নি সিআইডি।কালা জাহাঙ্গীরের মৃত্যু নিয়ে আমি একটি নিউজ করি (৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫, প্রথম আলো)। এরপর শুরু হয় বিতর্ক। পেয়ারা বেগমের বক্তব্য ধরে মিসরের ফারাও রাজা 'তুতানখামেন'-এর কবর আবিষ্কারের মতো করে কালা জাহাঙ্গীরের কবর খুঁজতে নেমে পড়ি আমরা। আমার সঙ্গে বিডিনিউজের সাংবাদিক লিটন হায়দার। আমাদের ভাগ্য ভালো, তুতানখামেনের মতো সেই কবরে কোনো অভিশাপ ছিল না। সে কারণে সহজে পেয়ে যাই। একদিন আমি আর লিটন হায়দার যাই মহাখালীর সাততলা বস্তির পেছনে। সেখানকার লোকেরা আমাদের জানান, একদিন গভীর রাতে জনাবিশেক অস্ত্রধারী যুবক এসে একটি লাশ দাফন করে চলে যায়। তাদের অস্ত্র দেখে ভয় পেয়ে যান তাঁরা। সে কারণে তাঁরা কাউকে বিষয়টি বলেননি। কালা জাহাঙ্গীরের মায়ের বর্ণনার সঙ্গে তাঁদের বিবরণ মিলে যায়।এরপর থেমে যায় কালা জাহাঙ্গীরের নামে সব ধরনের তৎপরতা। কালা জাহাঙ্গীরকে ধরতে ওই সময় সরকার এক লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। কিন্তু পুলিশ তখন তাঁকে ধরেনি। ইব্রাহিমপুরের মশিউর রহমান কচির ভাই আজাদকে খুনের পর কালা জাহাঙ্গীর নিজে জনকণ্ঠ অফিসে ফোন করে সেই খুনের কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, পুলিশ আমাকে ধরলে পাবে পুরস্কারের এক লাখ টাকা, আর না ধরলে প্রতি মাসে পাবে সেই টাকা-তাহলে ধরবে কেন? সত্যিই, শেষ পর্যন্ত অধরা থেকে গিয়েছিলেন ভয়ংকর খুনি কালা জাহাঙ্গীর।আরও পড়ুনআমি তো শীর্ষ সন্ত্রাসীর মা...
6
এইচ সিএল টেকনোলজিস বা (এইচসিএল) ৮ ফেব্রুয়ারি দারুণ সুখবর দিলো নিজেদের কর্মীদের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলল ২০২০ তে তারা এই মাত্রার রাজস্ব উপার্জন করেছে তাই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা নিজেদের সমস্ত কর্মীর জন্য বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮১৩ কোটি টাকার (ভারতীয় মুদ্রায় ৭০০ কোটি রুপি) বিশাল বোনাসের ঘোষণা করেছে কোম্পানি যে বিবৃতি জারি করেছে তাতে গত এক বছরে কর্মীরা যে পরিষেবা দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাতেই কোম্পানি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রত্যেক কর্মী নিজের দশদিনের বেতনের সমান বোনাস পাবে এইচসিএল - আইপিও তৈরির ২০ বছরে এই ঐতিহাসিক মাইলস্টোন পার করে গেল নিজের কর্মীদের সহযোগিতা ছাড়াও নিজেদের নেটওয়ার্ক পার্টনার ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিকেও গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে এইচসিএল টেকনোলজিস জানিয়েছে, 'আমাদের কর্মীরা আমাদের সবচেয়ে দামি সম্পদ অতিমারীর সময়েও আমাদের প্রতি কর্মচারী এইচসিএলে পরিবারের প্রতি নিজেদের অপরিসীম দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে যা অর্গানাইজেশনের বৃদ্ধিতে চাপ দিচ্ছে আমাদের ১৫৯০০০ বেশি কর্মীদের অপরিসীম দায়বদ্ধতা এবং পরিশ্রমের ফসল আমাদের এই বৃদ্ধি তাই আমরা সত্যি সত্যিই চাই নিজেদের কর্মীদের প্রতি এবং তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই -র প্রধান এইচ আর কর্মকর্তা জানিয়েছেন এই কথা নিজের স্পেশাল বোনাস কর্মীদের বেতনের সঙ্গে ২০২১ -র ফেব্রুয়ারি মাসে পাবেন পে-রোলে থাকা ৯০ মিলিয়ন ডলার বেতনের মানুষ এই বোনাস পাবে ফাইনান্সিয়াল ইয়ার ২১ গাইডেন্স এটার প্রভাব বাইরে রাখা হয়েছেসূত্র : নিউজ ১৮
3
বর্তমানে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে। দুর্যোগ মুহূর্তে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী এস. আলম গ্রুপ। দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ পুলিশের নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য ২ হাজার পিস পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সরবরাহ করেছে এস. আলম গ্রুপ। ৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার কার্যালয়ে সিএমপি পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমানের পিপিই হস্তান্তর করেন এস আলম গ্রুপ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আকিজ উদ্দিন। এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ, উপকমিশনার আমির জাফর ও এস আলম গ্রুপের সিনিয়র অফিসার আশিষ কুমার নাথ উপস্থিত ছিলেন। এস আলম গ্রুপের কর্ণধার দেশ বরেণ্য শিল্পপতি মোহাম্মদ সাইফুল আলম মাসুদের দিকনির্দেশনায় এই সহযোগিতামূলক কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
0
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাঁতার শিখতে গিয়ে দুই ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের চর গওহরডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।মৃত দুই শিশু আলিফ (৭) ও জিম (১১) চিতলমারী উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের মিলন মৃধার ছেলেমেয়ে। জিম টুঙ্গিপাড়া উপজেলার চর গওহরডাঙ্গা গ্রামে তার মামা শফিকুল বিশ্বাসের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। ছোট ভাই আলিফ গতকাল সোমবার সেখানে বেড়াতে যায়।জিম ও আলিফের মামা শফিকুল বিশ্বাস জানান, তাঁর ভাগনি জিম তাদের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। এ ছাড়া ভাগনে আলিফ গতকাল গওহরডাঙ্গা বেড়াতে আসে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জিম তার ছোট ভাই আলিফকে সাঁতার শেখাতে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ঘেরে নিয়ে যায়। পরে সাঁতার শিখতে গিয়ে আলিফ পানিতে ডুবে গেলে জিম বাঁচাতে গেলে নিজেও পানিতে ডুবে যায়।শফিকুল বিশ্বাস আরও জানান, তখন ছোট একটি মেয়ে তাদের পানিতে ডুবতে দেখে বাড়িতে খবর দেয়।বাড়ির লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে। মৃত দুই শিশুকে চিতলমারীর কালিগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হবে বলেও জানান শফিকুল।টুঙ্গিপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তন্ময় মণ্ডল বলেন, দুই ভাইবোনের মৃত্যুর বিষয়ে থানাকে তাদের পরিবারের কেউ অবগত করেনি।
6
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পুরাইখলা গ্রামে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছে।শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় মাধবপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামের এক বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টাকালে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে তারা নিহত হন। একজনের নাম হুমায়ুন মিয়া (৪০)। তিনি ওই গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে। অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।স্থানীয়রা জানান, গুনিপুর গ্রামে বেশ কিছু দিন ধরে ডাকাতের উপদ্রব বেড়েছে। শনিবার রাতে পাঁচজনের একটি ডাকাত দল জালাল মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করে।তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন বের হয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
6
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে প্রেমিককে বেঁধে তিন বখাটে যুবক প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সেই ভিডিও উদ্ধার এবং দুই ধর্ষক ও তিন সহযোগীকে আটক করেছে। অন্য দু'জনকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং আটক দুই ধর্ষক এবং ওই মেয়ের ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং সিংগাইর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, সিংগাইর উপজেলার এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীর সাথে পার্শ্ববর্তী হরিরামপুর উপজেলার এক কলেজ ছাত্রের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই যুবক তার প্রেমিকার সাথে দেখা করতে সিংগাইরে যায়। এ সময় এলাকার সাতজন বখাটে যুবক তাকে আটক করে তার মোবাইলে ফোন দিয়ে ওই নারীকে বাড়ির বাইরে ডেকে আনে। পরে ওই প্রেমিককে বেঁধে তিন যুবক প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে এবং অন্য ৪ জন তাদের এই কাজে সহযোগিতা করেন। এই ঘটনাটির ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও দেখে আসামিদেরকে শনাক্ত করা হয়। আসামিদের জেল হাজতে এবং ভিকটিমকে তার পরিবারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। শনিবার ভোরে ওই যুবক তার ভাইকে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত জানালে তিনি পুলিশের হেল্প লাইন ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। বিষয়টি সিংগাইর থানা পুলিশ অবগত হলে শনিবার সকালে তাদের ওই এলাকা থেকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ওই নারী৭ জনের বিরুদ্ধে সিংগাইর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এই মামলার ভিত্তিতে এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন দিপু (১৯), নাজমুল (২১), ফজর আলী (১৮), শিপন খান (১৮) ও নোমাজ আলী (২০)। আরেক ধর্ষক সুজন দেওয়ান (২৮) ও সহযোগী চানুকে (২২) গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ২১ এপ্রিল আটক আসামিদের মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আমলি আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলম ২৩ এপ্রিল মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন এবং আসামিদের জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে আটক দুই ধর্ষক এবং ওই মেয়ের ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে শনিবার বিকেলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসাপাতালে ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হযেছে। দ্রুত মেডিক্যাল রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান। শিশু ধর্ষণচেষ্টা, পুরোহিত আটকযশোর অফিসযশোরে সাড়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে প্রকাশ ব্যানার্জী (৫৪) নামে এক পুরোহিতকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে যশোর শহরতলী বিরামপুর শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র ঠাকুর মন্দির থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক প্রকাশ ব্যানার্জী ওই মন্দিরের পুরোহিত এবং একই এলাকার কালীপদ ব্যানার্জীর ছেলে।যশোর কোতোয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার বলেন, ১৪ এপ্রিল দুপুরে প্রকাশ ব্যানার্জী মন্দিরে পূজা অর্চনা করছিলেন। সেই সময় শিশুরাও উপস্থিত ছিল। একপর্যায়ে প্রকাশ তার প্রতিবেশী সাড়ে ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে মন্দিরের মধ্যে পর্দা টানানো একটি কক্ষে নিয়ে চকলেট দিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ওই শিশুটি চিৎকার করলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ প্রকাশকে আটক করে।
6
বিভেদের ভাইরাসে জাতিকে বিভ্রান্ত না করার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রবিবার (৭ জুন) সকালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার বাসভবন থেকে ব্রিফিংকালে একথা বলেন। যারা ৭ই মার্চ ও ৭ জুন পালন করে না তাদের স্বাধীনতার চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন,এটাই আজকে কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। মুজিবশতবর্ষে এবারের ৭ জুন হওয়ায় এর তাৎপর্য অনেক হভীর, তবে করোনার এই পরিস্থিতিতে এবারকার ৬ দফা দিবস ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে। দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি করোনা মোকাবেলার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদ বলেন, রাজনীতি করার সময় এখন নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি সংকটে সাহসী ও সফল একজন রাষ্ট্রনায়ক। আরেকদিকে মানুষকে বাঁচানো অন্যাদিকে করোনা প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। ঐতিহাসিক ৭ই জুন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ৬ দফা বাঙালির মুক্তির সনদ। ৬ দফা ভিত্তিক ১১ দফা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কারামুক্তি ঘটে, ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি এই ৬ দফাকে স্বাধিকার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও আভিহিত করেন। ৬ দফা স্বাধীনতার পথে স্বাধিকার সংগ্রামের চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হয় এবং ৭ই জুন থেকে ৭ই মার্চ মূলত স্বাধীনতার সংগ্রামে রুপান্তরিত হয়।
6
সিলেট আদালতে নিজ কক্ষে নারী কনস্টেবলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ধরা পড়েছেন সিলেট মহানগর কোর্টের এক পুলিশ পরিদর্শক। আজ বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছেন।অভিযুক্ত প্রদীপ কুমার দাস মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফউল্লাহ তাহের। এ ছাড়া প্রদীপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাতে ছুটিতে থাকা এক নারী কনস্টেবলকে রাতের অন্ধকারে কোর্ট বিল্ডিংয়ে নিজ কক্ষে ডেকে আনেন প্রদীপ কুমার দাস। রাত ৯টার দিকে আদালত পরিদর্শকের কক্ষের দরজা খোলা এবং ভেতরে আলো নেভানো দেখে অন্য পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা কক্ষে ঢুকে আলো জ্বালালে দু'জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়।
6
দীর্ঘদিন পর বৈশাখী টিভি ফোক লাইভে অংশ নেবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বিন্দু কনা। কিছু শেকড় সন্ধানী গান নিয়ে হাজির হবেন তিনি। ১০ সেপ্টেম্বর বৈশাখী ফোক লাইভে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে সরাসরি পারফর্ম করবেন এই শিল্পী। বিন্দু কনা বলেন, আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। এখনো তিনি আমাকে গাইবার শক্তি দিয়েছেন। দর্শকদের কথা মাথায় রেখে তাদের ভালো লাগা কিছু গান গাইব বৈশাখী টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান বৈশাখী ফোক অনুষ্ঠানে। গানগুলো দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। গানগুলো স্রোতাদের ভালো লাগলেই আমার পরম পাওয়া। বিডি প্রতিদিন/এমআই
2
নওগাঁর তাঁত বস্ত্র ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্প মেলার চার লটারি বিক্রেতাকে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টায় উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের পূর্বাশা সিনেমা হলের সামনে লটারি বিক্রির সময় তাদের আটক করা হয়। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রাবণী রায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে টিকিট বিক্রেতা নওগাঁর শোলগাছীর তসলিম উদ্দিনের ছেলে সিদ্দিক হোসেনকে (২৮) পাঁচ দিনের জেল, খলায়জরি এলাকার মৃত শাহিন হোসেনের ছেলে শাহজাহান আলীকে (২৪) সাত দিনের জেল, জয়পুরহাটের ভাতছা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সোহেল হোসেনকে (৩১) সাতদিনের জেল, আদমদীঘির দূর্গাপুর গ্রামের খোকনের ছেলে জাহিদুলকে (৩৩) দুই দিনের জেল এবং প্রত্যককে একশত টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রকিব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রাবণী রায় জানান, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এরপরও যদি কেউ আদমদীঘি উপজেলায় এসব লটারির টিকিট বিক্রি করতে আসে তাহলে আরও কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
যশোরের বারীনগর সবজি মোকামে দাম একেবারে পড়ে গেছে। এতে কৃষকেরা হতাশ। তাঁরা সবজি সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের দাবি জানান। যশোর সদর উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন ৪০ কেজি শিম নিয়ে মোকামে গেলেন। ২ টাকা কেজি দরে সেই শিম বিক্রি করে ৮০ টাকা পেলেন। অথচ খেত থেকে শিম তোলা আর পরিবহনের জন্যই তিনি ১৪০ টাকা খরচ করলেন। আলাউদ্দিন বলেন, 'আমি তিন বিঘাতে শিম চাষ করেছি। ইতিমধ্যে ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ৬০ হাজার টাকার মতো শিম বিক্রি করেছি। এখনো ৪০ হাজার টাকা ঘাটতি আছে। এখনো অন্তত তিন মাস খেতে শিম পাওয়া যাবে। ফলনও খুব ভালো হচ্ছে। কিন্তু দাম না পেলে শিম খেতে রেখে লাভ কী? খেত ভেঙে দিয়ে বোরো ধান চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' গতকাল বৃহস্পতিবার যশোর অঞ্চলের সবজির বৃহত্তম পাইকারি মোকাম বারীনগরে এভাবে আরও অনেক কৃষক আলাউদ্দিনের মতো আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁরা এলাকায় বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপনের দাবি জানান, যাতে দাম কম হলে সবজি সংরক্ষণ করা যায়। সরেজমিনে গতকাল বারীনগর সবজি মোকামে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম ২ থেকে ৩ টাকা, বেগুন ৩ থেকে ৪ টাকা, ফুলকপি ২ টাকা, বাঁধাকপি ২ থেকে ৩ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৮ থেকে ১০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ২৫ টাকা ও পেঁয়াজের কলি ২ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। এদিন ব্যাপারীরা মোকাম থেকে সবজি কিনে ট্রাকে করে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়েছেন। ছোট হৈবতপুর গ্রামের ইজাজুল ইসলাম বলেন, 'এ বছর ৩ বিঘা জমিতে শিম আর ১৩ কাঠায় বেগুন চাষ করেছি। ৯০ কেজির দুই বস্তা শিম নিয়ে হাটে গেলে প্রতি কেজির দাম ওঠে আড়াই টাকা। অথচ খেত থেকে ওই শিম তুলে বস্তায় ভরে হাটে নিতে তার চেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়েছে। তাই দুঃখে শিম বিক্রি করি নাই। যে শ্রমিকেরা ওই শিম খেত থেকে তুলে দিয়েছেন তাঁদের দিয়ে খালি হাতে বাড়িতে ফিরে গেলাম।' তিনি জানান, সার ও কীটনাশকের দোকানে ৬৩ হাজার টাকা দেনা রয়েছে। সবজিখেত ভেঙে দিয়ে নতুন করে বোরো ধান চাষের টাকাও তাঁর হাতে নেই। কৃষকেরা জানান, ১৫ দিন ধরে সবজির মোকামে এ অবস্থা চলছে। বেগুনের দাম কমে এরই মধ্যে দেড় টাকা কেজিতে নেমে গেছে। এখন আর খেতে সবজি রাখা যাচ্ছে না, আবার বাজারে নিলেও দাম কম। জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার ফরিদুর ইসলাম বলেন, ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কৃষকেরা সবজির ভালো দাম পান। এরপর দেড় থেকে দুই মাস সবজির দাম একেবারেই থাকে না। খেত থেকে সবজি তুলে হাটে আনার খরচও তাঁদের ওঠে না। যে কারণে কৃষকেরা গরু-ছাগল দিয়ে খেতের সবজি খাইয়ে দিচ্ছেন। মাসখানেক আগেও এই হাট থেকে সপ্তাহে দুই দিন অন্তত ৫০ ট্রাক করে সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। কিন্তু এখন ৫ থেকে ৬ ট্রাক সবজি যাচ্ছে। ফরিদুর বলেন, 'সবজি উৎপাদনের এই অঞ্চলে বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপনের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। ভালো মানের হিমাগার স্থাপিত হলে কৃষকেরা আলুর মতো সবজিও সংরক্ষণ করতে পারত। এতে পরে তারা ন্যায্যমূল্য পেত। ফলে কৃষকেরা লাভবান হতো। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।' এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও রপ্তানির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাঁধাকপি, পটোল, পেঁপে ও বরবটি রপ্তানি শুরু হয়েছে। শিম, ফুলকপি, বেগুন, টমেটো এসব সবজি রপ্তানির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, 'এ কথা সত্য, খেত থেকে ফসল তুলে বাজারে নেওয়ার খরচই এখন উঠছে না। এতে কৃষকেরা অনেকটা হতাশ হয়ে পড়ছেন। এখন বাজার সৃষ্টি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সরকারকে বেশি দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ, কৃষক হতাশ হয়ে পড়লে উৎপাদনের ধারা ধরে রাখা কঠিন হবে। আমরা বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করছি।' কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় এ বছর ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে।
0
কাঁধের ইনজুরির কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্ট খেলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এমনটাই জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট। কিউই কোচ গ্যারি স্টিড বলেন, 'তৃতীয় টেস্টে উইলিয়ামসন খেলতে পারবে কি-না আমরা এখনো নিশ্চিত নই।' ম্যাচের তৃতীয় দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং-এর সময় গালিতে ফিল্ডিং-এ কাঁধে চোট পান উইলিয়ামসন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিল্ডিং ও পরবর্তীতে ব্যাটিংও করেন তিনি। কিন্তু ব্যাটিং চলাকালীন ব্যাথা অনুভব করেন উইলিয়ামসন। এসময় ক্রিজে বেশ কয়েকবার ফিজিওর চিকিৎসাও নেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত ৭৪ রানে আউট হবার পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিজের কাঁধের স্ক্যান করান উইলিয়ামসন। স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গেছে- উইলিয়ামসনের কাঁধের মাংসপেশিতে 'গ্রেড ওয়ান টিয়ার' ধরা পড়েছে। নিউজিল্যান্ড কোচ স্টিড জানান, 'উইলিয়ামসন ক্রাইস্টচার্চে অনিশ্চিত। তবে দলের সঙ্গে যাবেন তিনি। শেষ টেস্টের আগে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।' স্টিড আরও বলেন, 'উইলিয়ামসন শেষ টেস্ট খেলতে আগ্রহী। তারপরও আমরা কোনো ঝুঁকি নিবো না। কারণ সামনেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার আগে দলের সবাইকে সুস্থ রাখাটা জরুরি।' এদিকে, ওয়েলিংটন টেস্টের শেষ দিন শুরুর আগে সকালে অনুশীলনে হ্যামস্ট্রি ইনজুরিতে পড়েন উইকেটকিপার বিজে ওয়াটলিং। তাই শেষ দিন মাঠে দেখা যায়নি তাকেও। তবে ওয়াটলিং-কে নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নয় নিউজিল্যান্ড। কারন তার ইনজুরিটি খুব বেশি ঝুঁকির নয় বলে জানিয়েছেন কোচ স্টিড।
12
গত দু-একটা লেখায় সংসদের মেয়াদ কত, সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আমরা কিছু আলোচনা করেছি। কিন্তু গোঁজামিল কাটছে না। গোঁজামিল কার, সেই প্রশ্নের উত্তরে পরে আসব। এত দিনে পাঠকমাত্রই জানেন যে সংসদের মেয়াদ পূরণ করতে সংসদকে মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত বহাল থাকতে হবে। অথবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেশে রাষ্ট্রপতি মেয়াদ পূর্তির আগেই সংসদ ভেঙে দিতে পারেন। সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করলে নির্বাচনের দিন-তারিখ এক রকম, আর মেয়াদ পূর্তির আগে সংসদ ভেঙে দিলে নির্বাচনের দিন-তারিখ হবে অন্য রকম। প্রধানমন্ত্রী এই দুই বিকল্পের একটি বেছে নেবেন। আমরা জানি, বর্তমান দশম সংসদ তার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন তফসিল-সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ হচ্ছে এই সংসদ পূর্ণ মেয়াদকাল শেষ করবে, সেই ধারণা থেকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন কমিশন এটা জানল কীভাবে? আমাদের আমজনতার মতো সরকারি দলের মন্ত্রী-নেতাদের বক্তৃতা থেকে নাকি কোনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকারের সংসদ-সচিবালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রভৃতি) কাছ থেকে লিখিত চিঠি বা অন্য কোনো ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে? আমজনতার মতো সংবাদমাধ্যম থেকে 'খবরটি নিশ্চিত করে' তার ভিত্তিতে নাকি উপরোল্লিখিত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্টভাবে তথ্যপ্রাপ্ত হয়ে? বলা বাহুল্য, সরকার বা কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনকে মেয়াদ পূর্তির ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে অবহিত করে থাকলে তার একটা আইনগত পরিণতি হবে; অর্থাৎ এখন ২৮ জানুয়ারির আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেশে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিলে অনেক ধরনের 'বেকায়দা' পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ২. এখন আসি আরেকটি গোঁজামিলের ইস্যুতে। নির্বাচন এবং নির্বাচন-উত্তর সংসদ কখন বসবে, সে ব্যাপারে অতীতে আমরা একবার ঝামেলায় পড়েছিলাম এবং সেই ঝামেলা মেটাতে সংবিধান সংশোধন পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচিত পঞ্চম সংসদের নির্বাচনের পর ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে পাস হওয়া সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে সময়ের গোঁজামিলের কারণে সংসদের সাংবিধানিক বৈধতা অক্ষুণ্ন রাখতে একটা 'জায়েজ' করা বিধান যোগ করতে হয়। দ্বাদশ সংশোধনীতে বলতে হয়েছিল, ওই সংসদটা সংবিধানসম্মত বলে ধরে নেওয়া হবে। সংবিধান না মেনে বা না বুঝে কিছু করা এবং পরে 'জায়েজ করা সংশোধনী' পাস করা আমাদের ভীষণ বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। না জেনে করেছেন নাকি না বুঝে, কোনোটাই হলফ করে বলতে পারব না, তবে নির্বাচন কমিশন ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ স্থির করে একটা ঘোষণা দিয়েছিল ৮ নভেম্বর। তাদের সেই ঘোষণা বা তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে প্রথা অনুযায়ী সম্ভবত ২৫ ডিসেম্বর ফলাফল ঘোষিত হতো। সে ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭২(২) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত ১১তম সংসদের প্রথম অধিবেশন ওই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকত; অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কারণে ২৪ জানুয়ারি ২০১৯-এর মধ্যে ১১তম সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক আবশ্যকতা তৈরি হতো। তখন সমস্যাটা হতো সংবিধানের ১২৩(৩)-এর শর্তাংশে ঘোষিত অন্য একটি বিধানের কারণে। সেখানে বলা আছে, মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে যে সংসদ নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদেরা বহাল থাকা সংসদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শপথ নিতে পারবেন না। তাহলে দাঁড়াচ্ছে কী? একদিকে নতুন সাংসদদের সংসদে বসতে হবে ২৪ জানুয়ারি ২০১৯-এর মধ্যে; অন্যদিকে বিদ্যমান সংসদ বহাল থাকবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। সৃষ্ট গোঁজামিল এড়াতে ১১তম সংসদকে তাদের প্রথম অধিবেশনেই অথবা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরেকটি সংবিধান সংশোধনী করে হয়তো নিজেদের 'জায়েজ' করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত। অথবা অন্য কূটকৌশলের আশ্রয় নেওয়া যেত; যেমন ২০ জানুয়ারি ২০১৯ নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর উপদেশে রাষ্ট্রপতি দশম সংসদ ভেঙে দিয়ে ২৩ বা ২৪ জানুয়ারি ১১তম সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতেন। সেটা করলে অন্য আরেকটি নতুন ঝামেলা তৈরি হতো। কারণ আগেই বলেছি, দশম সংসদ পূর্ণ মেয়াদ বহাল থাকবে সেই সিদ্ধান্ত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অবহিত হয়ে মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন ২৩ ডিসেম্বর তারিখ ঘোষণ করেছিল। একবার সরকার বলবে সংসদ থাকবে পূর্ণ মেয়াদ, আরেকবার সিদ্ধান্ত নেবে ১৫ বা ২০ জানুয়ারি মেয়াদ পূর্তির আগেই সংসদ ভেঙে দেবে-সবই গোঁজামিল। স্পষ্টতই নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৭২(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে ১২৩(৩) অনুচ্ছেদের শর্তাংশ একসঙ্গে পড়ে তাদের করণীয় নির্ধারণ করেনি। ৩. রাজনৈতিক দলগুলো চেয়েছিল নির্বাচন পেছাতে। আর টেলিভিশনে দেখলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, নির্বাচন এক বা দুই মাস পিছিয়ে দিলেও তাঁদের আপত্তি নেই (আশা করি তাঁর বক্তব্যটা আমি সঠিক বুঝতে পেরেছি)। আর নির্বাচন কমিশনার করলেন কী, তাঁদের প্রচণ্ড মহানুভবতায় নির্বাচন পেছালেন সর্বসাকল্যে সাত দিন। সাংবিধানিক গোঁজামিল তো দূর হলো না। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে প্রথা অনুযায়ী আমরা ফলাফল প্রত্যাশা করব ১ জানুয়ারি। ঝুটঝামেলার কারণে দুই-চারটা আসনে নির্বাচন স্থগিত হতে পারে, সেগুলোর ফলাফল বাদ দিয়ে ১ জানুয়ারি ফলাফল ঘোষিত হলে ৭২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১১তম সংসদের প্রথম অধিবেশন হতে হবে ৩০ জানুয়ারি। ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে দশম সংসদের মেয়াদ পূর্তি হওয়ার পর ১ দিন মাঝে রেখে নতুন সংসদকে বসতে হবে ৩০ জানুয়ারি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত নতুন সাংসদদের সংসদ ভবনে হাজির হওয়ার জন্য কী দৌড়ঝাঁপটাই না দিতে হবে। বেচারা সংসদ সচিবালয় পুরোনোদের বিদায় দিয়ে নতুনদের বরণ করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সময় পাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আবার কূটকৌশলের আশ্রয় নিই। নির্বাচন কমিশন হয়তো ফলাফল ঘোষণা হাতে ধরে রাখবে। ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৭ বা ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবে। তাহলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য সময় হয়তো পাওয়া যাবে ৬ বা ৯ ফেব্রুয়ারিতক। গোঁজামিল, কূটকৌশল, জায়েজ করা, ইত্যাদি ইত্যাদিই কি এখন সহজাত অভ্যাসে পরিণত হলো? নাকি তাঁরা জানেন না, বোঝেন না? ৪. গোঁজামিল বা গোঁজামিলের সংখ্যা এড়াতে ৩০ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৫ বা ২০ জানুয়ারি নাগাদ নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা অত্যাবশ্যক। আগেই উল্লেখ করেছি, এত দিন পেছালে সরকারি দলের আপত্তি নেই। ঐক্যফ্রন্টও বলেছে ১ মাস পেছাতে। ছোটখাটো দুই-চারটা দল এদিক-সেদিক দাবি করতেই পারে, কিন্তু নির্বাচনের মাঠে মুখ্য খেলোয়াড় এই দুই পক্ষ। আর নির্বাচন কমিশন নির্বাচন-খেলার আম্পায়ার বা রেফারি। কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষ থাকাই নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচনের তারিখ আরও কিছুদিন পিছিয়ে দিলে আপনাদের প্রতি জনগণের আস্থা অনেক বাড়বে। পরবর্তী সময়ে আপনারা ইতিহাসের সুনজরে থাকবেন। অন্যথায় চিরতরে বদনামের ভাগীদার হবেন, হয়ে থাকবেন গোঁজামিলের নির্বাচন কমিশন। ড. শাহদীন মালিক: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইনের শিক্ষক
8
এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দুই দলই প্রথম রাউন্ড খেলে সুপার টুয়েলভে ওঠে। তবে এক বছরের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ায় পরের বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার টুয়েলভ খেলবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মতো সেই সৌভাগ্য হচ্ছে না শ্রীলঙ্কার। র্যাঙ্কিংয়ের মারপ্যাঁচে ২০২২ বিশ্বকাপেও প্রথম রাউন্ডের বৈতরণি পার হতে হবে লঙ্কানদের।গতকাল সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার এই জয়েই ভাগ্য খোলে বাংলাদেশের। ফলে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটের মধ্যে থাকছে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটে থাকার সুবাদে সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেলবে বাংলাদেশ।বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভ পর্বে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে না পারলেও ঠিকই সেটা করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া! তবে সুপার টুয়েলভ পর্বে দুর্দান্ত খেলে দুই ম্যাচ জিতেও সেই সৌভাগ্য হচ্ছে না শ্রীলঙ্কার।কদিন আগে ২০২২ বিশ্বকাপের দল বাছাইয়ের নতুন নিয়মের কথা জানায় আইসিসি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ও ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত শীর্ষে থাকা ছয় দলকে নিয়ে হবে আগামী বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ। সহজ কথায়, র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেলার সুযোগ পাবে। নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ৯ নম্বরে নেমে গিয়েছিল বাংলাদেশ।তবে কাল অস্ট্রেলিয়ার জয় বাংলাদেশকে আটে তুলে দিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে র্যাঙ্কিংয়ের ১০-এ নেমে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর শ্রীলঙ্কার অবস্থান নবম। যদিও দুই দলের রেটিং পয়েন্ট সমান ২৩২!
12
স্বাধীন হওয়ার পরপরই টের পাওয়া গেল যে পূর্ব বাংলা পাঞ্জাব-শাসিত পাকিস্তানের একটি অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ হতে চলেছে। সে জন্যই দাবি উঠেছে স্বায়ত্তশাসনের এবং ওই দাবিকে যৌক্তিক দিক দিয়ে জোরদার করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে আদি লাহোর প্রস্তাবের। বলা হয়ে থাকে, মুসলিম লীগের নেতাদের স্বার্থান্বেষী ও স্বেচ্ছাচারী আচরণে বিক্ষুব্ধ হয়ে সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশিমপন্থীরাই উদ্যোগ নিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রকৃত প্রস্তাবে তৎপরতাটা সোহরাওয়ার্দীপন্থীদের তুলনায় হাশিমপন্থীদের দিক থেকেই ছিল অধিক উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, সোহরাওয়ার্দী নিজে পূর্ববঙ্গকে নয়, পশ্চিম পাকিস্তানকেই তাঁর কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন; দ্বিতীয়ত, তিনি সেখানে গিয়ে জিন্নাহ-আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি দল গঠন করেছিলেন এবং আশা করছিলেন পূর্ববঙ্গে তার একটি শাখা প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে যে তরুণেরা উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন শামসুল হক, যাঁকে দলের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়; এবং মতাদর্শিকভাবে শামসুল হক ছিলেন আবুল হাশিমের রব্বানিয়াত দর্শনের অনুসারী। নতুন দলের ঘোষণাপত্রটি শামসুল হকই লিখে থাকবেন। কারণ তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে পাকিস্তান খেলাফত বা আল্লাহর প্রতিনিধিত্বমূলক রাষ্ট্র হবে এবং আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতা ও প্রভুত্বের অধিকারী হবে। এটি রব্বানিয়াত দর্শনেরই কথা। তবে 'মূল দাবি' হিসেবে শামসুল হক যে লাহোর প্রস্তাবের কথা বলেছেন, সেটা আরও অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, লাহোর প্রস্তাব 'সর্বকালের সর্ব যুগের সর্ব দেশের যুগপ্রবর্তক ঘটনাবলির ন্যায় একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করিয়াছে।' মনে হচ্ছে উদ্যোগীদের দৃষ্টিতে লাহোর প্রস্তাব ছিল একটি মহাবৈপ্লবিক ঘটনা। তবে, তাঁদের মতে, মুসলিম লীগ নেতৃত্বের অপারগতার দরুন ওই বিপ্লবের লক্ষ্যগুলো অর্জন করা যেহেতু সম্ভব হয়নি, তাই মুসলিম লীগকে 'স্বার্থান্বেষী মুষ্টিমেয় লোকদের পকেট হইতে বাহির করিয়া সত্যিকারের জনগণের মুসলিম লীগ হিসেবে গড়ে তোলা আবশ্যক।' অর্থাৎ কিনা লাহোর প্রস্তাবের বাস্তবায়ন চাই। নতুন সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী, এর আগে যিনি আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন এবং মনেপ্রাণে যিনি লাহোর প্রস্তাবের 'দুই পাকিস্তান' নীতিতে বিশ্বাস করতেন। যে মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়, সেটির আহ্বান করা হয়েছিল ভাসানীর নামেই; যার প্রতিক্রিয়ায় পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক মুসলিম লীগের তদানীন্তন সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিয়া) ও অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে এক বিবৃতিতে জানান যে, 'মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সাহেবের দ্বারা আগামী ২৩শে ও ২৪শে জুন তারিখে মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন নামে যে সভা আহূত হইয়াছে, তাহার সহিত মুসলিম লীগের কোন সম্পর্ক নাই। বস্তুত ইহা দলগত স্বার্থ ও ক্ষমতা লাভের জন্য মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির দ্বারা মুসলমান সংহতি নষ্ট করিয়া পাকিস্তানের স্থায়িত্ব ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আহূত হইয়াছে।'নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রাদেশিক মুসলিম লীগের মতো 'প্রাদেশিক' ছিল না; ছিল লাহোর প্রস্তাবে যে ধারণা ব্যক্ত হয়েছিল, কল্পনার সেই স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের একটি সংগঠন। মওলানা ভাসানী অবশ্য সোহরাওয়ার্দীকে এর সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। সেটা এই লক্ষ্যে যে পাকিস্তানজুড়ে সংগঠনের বিস্তার ঘটলে মুসলিম লীগের বিরোধী শক্তি হিসেবে এর শক্তি বৃদ্ধি পাবে। সোহরাওয়ার্দী তখন থাকতেন লাহোরে, ভাসানী শেখ মুজিবকে লাহোরে পাঠিয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী ও সম্ভব হলে মিয়া ইফতেখার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সেটা ১৯৪৯-এরই ঘটনা। এর পরে ১৯৫২-তে মুজিব আবার পশ্চিম পাকিস্তানে যান; একই উদ্দেশ্যে; সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখা করতে। সোহরাওয়ার্দী তখন তাঁকে জানান যে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পক্ষে পশ্চিমে-গঠিত জিন্নাহ-আওয়ামী মুসলিম লীগের অ্যাফিলিয়েশন নেওয়া দরকার। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে শেখ মুজিব লিখেছেন, 'তিনি বললেন, একটা কনফারেন্স ডাকবো, তার আগে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের এ্যাফিলিয়েশন নেওয়া দরকার।' জবাবে শেখ মুজিব তখন তাঁকে যা বলেছিলেন সেটা এ রকমের:আমি তাঁকে জানালাম, 'আপনি জিন্নাহ আওয়ামী লীগ করেছেন, আমরা নাম পরিবর্তন করতে পারব না। কোনো ব্যক্তির নাম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগ করতে চাই না। দ্বিতীয়ত, আমাদের ম্যানিফেস্টো আছে, গঠনতন্ত্র আছে, তার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। মওলানা সাহেব আমাকে ১৯৪৯ সালে আপনার কাছে পাঠিয়েছিলেন। তখনও তিনি নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ গঠনের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তাঁরও কোনো আপত্তি থাকবে না যদি আপনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের ম্যানিফেস্টো ও গঠনতন্ত্র মেনে নেন। অনেক আপত্তির পর তিনি মানতে রাজি হলেন এবং নিজ হাতে তাঁর সম্মতির কথা লিখে দিলেন।'মুজিব লিখেছেন, 'আমি আর এটাও অনুরোধ করলাম তাঁকে লিখে দিতে যে, উর্দু ও বাংলা দুটোকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে তিনি সমর্থন করেন। কারণ অনেক ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। মুসলিম লীগ ও তথাকথিত প্রগতিশীলরা প্রোপাগান্ডা করছে তাঁর বিরুদ্ধে। [...] তিনি লিখে দিলেন।'অন্যরা তেমনভাবে খেয়াল না করলেও শেখ মুজিব ঠিকই লক্ষ করছিলেন যে, 'পূর্ব বাংলার সম্পদকে কেড়ে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে কত তাড়াতাড়ি গড়া যায়, একদল পশ্চিমা তথাকথিত নেতা ও বড় বড় সরকারি কর্মচারী গোপনে সে কাজ করে চলছিল। তাদের একটা ধারণা ছিল, পূর্ব বাংলা শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে থাকবে না। তাই যত তাড়াতাড়ি পারা যায় পশ্চিম পাকিস্তানকে গড়ে তুলতে হবে।'অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের যে অঙ্গীকার-দুটি স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম পাকিস্তানের, সেটা সব দিক থেকেই অকার্যকর করে তোলা হচ্ছিল। এই উপলব্ধি থেকেই মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে প্রয়োজনে পশ্চিম পাকিস্তানকে আসসালামু আলাইকুম জানানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেখ মুজিব সে সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু ১৯৬৬-তে এসেই তাঁর মনে কোনো সংশয় থাকেনি যে পশ্চিম পাকিস্তানি পুঁজিপতিদের সঙ্গে থাকা যাবে না, যে কথা তিনি তখনকার কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের বলেছিলেন এক গোপন বৈঠকে; ১৯৬১ সালের ডিসেম্বরের দিকে।লাহোর প্রস্তাবের রাজনৈতিক মর্মবস্তুতে অবশ্য আরেকটি জিনিস ছিল, সেটি হলো দ্বিজাতি তত্ত্ব। ভারতবর্ষের মুসলমানরা একটি অভিন্ন ও স্বতন্ত্র জাতি, এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়েই লাহোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল। ধরে নেওয়া হয়েছিল যে জাতীয় সত্তার প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ধর্ম। সেটা যে সত্য নয়, প্রধান ভিত্তি যে ভাষা, সেটা তো অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বের হয়ে এসেছিল বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়েই। সোহরাওয়ার্দী কিন্তু লাহোর প্রস্তাবের ওই মর্মবস্তুটিকে কখনোই খারিজ করে দেননি; জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দ্বিজাতি তত্ত্বকে তিনি সত্য বলে জেনেছেন, যে জন্য পাকিস্তানকে ভাঙা নয়, তাকে রক্ষা করার কাজেই তিনি সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান যখন তাঁকে কারারুদ্ধ করেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান যে অভিযোগ আনা হয়েছিল সেটি হলো, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই, 'বিশেষ করে গত তিন বছর ধরে, তিনি ভেতরের ও বাইরের পাকিস্তানবিরোধীদের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন।' অভিযোগনামার জবাবে জেলখানা থেকেই সোহরাওয়ার্দী যে জোরালো চিঠিটি লিখেছিলেন তাতে তিনি বলেছেন, এই অভিযোগ পড়ে তিনি যারপরনাই মর্মাহত হয়েছেন। কারণ তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, 'মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান হচ্ছে এক ও অবিভাজ্য;' এবং এই বিশ্বাসের দ্বারা তাড়িত হয়েই তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবনকে বিপন্ন করেছেন এবং এখন বার্ধক্যে এসে পৌঁছেছেন। পূর্ব ও পশ্চিমকে একসঙ্গে থাকতে হবে-এই বিশ্বাসের দ্বারা পরিচালিত হয়েই তিনি কাজ করে গেছেন।এরপরও তাঁকে যে পাকিস্তানের ঐক্য-বিনষ্টকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং সেই অভিযোগে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, সেটা কেবল যে দুঃখজনক তা-ই নয়, এর দ্বারা তাঁর যে রাজনৈতিক 'উপযোগিতা' () ছিল তা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। তিনি বলছেন যে, তিনি কখনো পদের জন্য লালায়িত ছিলেন না; কিন্তু তিনি পাকিস্তানের অখণ্ডতা (অবশ্যই এককেন্দ্রিক) রক্ষার জন্য কাজ করতে পারতেন। দুঃখের বিষয় আইয়ুব খান তাঁর সেই উপযোগিতাকে ধ্বংস করে ছেড়েছেন। পাকিস্তানকে তিনি এক জাতির দেশ বলেই মনে করতেন। এখানে আইয়ুব খানের সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল না, উভয়েই পাকিস্তানকে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একত্র রাখতে চেয়েছেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও এমন একটি অবিচ্ছেদ্য পাকিস্তানি জাতিই তৈরি করবেন বলেই ভেবেছিলেন। স্পষ্টতই আইয়ুব খানের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর দ্বন্দ্বটা ছিল ক্ষমতা নিয়ে; আইয়ুব সোহরাওয়ার্দীকে মুক্ত রেখে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না, কারণ তখন সোহরাওয়ার্দীই ছিলেন তাঁর ক্ষমতায় থাকার প্রতি প্রধান চ্যালেঞ্জ; বিশেষ করে এই জন্য যে, সোহরাওয়ার্দীর প্রতি আমেরিকানদের পক্ষপাতিত্ব আইয়ুবের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল বলেই সন্দেহ হচ্ছিল। আইয়ুব অবশ্য সোহরাওয়ার্দীকে বেশি দিন বন্দী করে রাখতে পারেননি, প্রবল জনপ্রতিবাদের মুখে ১৯৬২ সালের জানুয়ারির শেষ দিনে আটক করে আট মাস যেতে না যেতেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার আগে অবশ্য আইয়ুব তাঁর নিজের রচিত সংবিধানটি ঘোষণা করার কাজটি সম্পন্ন করে নিয়েছিলেন; সে সংবিধানে সংখ্যাসাম্য ও এক ইউনিট, দুটোই ছিল।লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
8
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার দিনের শুরুতে মিশন চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন হাইকমিশনার তারেক মোহাম্মদ। এরপর মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। শেষে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এসময় মিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় মিশনে এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশি-বিদেশি ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্যে হাইকমিশনার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার অবদান আর শহীদ ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তিনি বাংলাসহ অন্যান্য মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে বলেন। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনে অসামান্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হাইকমিশনার। বাংলাদেশ ও কেনিয়ার অধিকতর সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আগামীতে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওপর দেশি-বিদেশি শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশজ সংস্কৃতির এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
4
আগামীকাল রোববার বাদ জোহর মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন টেলি সামাদ। এর আগে রোববার সকাল ১১ টায় তার মরদেহ এফডিসি নেওয়া হবে বলে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়দ খান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ এখন রাজারবাগের বাসায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে শনিবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পশ্চিম রাজারবাগের মসজিদে তার প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের বটবৃক্ষ হারালাম। তার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখেছি। এভাবে তিনি চলে যাবেন, তা মানতে পারছি না। তাকে হারানোর ক্ষতি কখনো পূরণ হবে না। শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। টেলি সামাদের মেয়ে সোহেলা সামাদ কাকলী বাংলানিউজকে বিষয়টি জানিয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৪ বছর। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন টেলি সামাদ। এটি তার সিনেমায় ব্যবহৃত নাম। আসল নাম আবদুস সামাদ পরিবর্তন করে সিনেমায় এসে হয়ে টেলি সামাদ নামে পরিচিত হন এ অভিনেতা। ১৯৭৩ সালে নজরুল ইসলাম পরিচালিত 'কার বৌ' সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা করেন সামাদ। এটি তার প্রথম সিনেমা হলেও 'পায়ে চলার পথ' সিনেমার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। চার দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে ছয় শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় এ অভিনেতা। অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও তার দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন। গান গেয়েছেন ৫০টির বেশি সিনেমায় । এছাড়া 'মনা পাগলা' নামের একটি সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনাও করেছেন। টেলি সামাদ পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অনিমেষ আইচের পরিচালনায় তার অভিনীত 'জিরো ডিগ্রী' সিনেমাটি মুক্তি পায়।
2
নওগাঁর বদলগাছীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া নাসিমা বেগম(২৫) নামে এক পোশাক কারখানার শ্রমিকের লাশ দাফনে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। অবশেষে পুলিশ সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার তাজপুর গ্রামের ছোট যমুনা নদীর তীরে দাফন করে। নাসিমা বেগম তাজপুর গ্রামের মাসুদ আলীর মেয়ে। জানা গেছে, নাসিমা বেগম দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। এরপর জ্বর ও সর্দি নিয়ে গত ২৩ মে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে রোববার (৩১মে) দুপুর দেড়টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার অবস্থার আরো অবনতি হতে থাকলে রাতে সাড়ে ৮টায় বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠানো হয়।সেখানে রাত সাড়ে ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে নাসিমা বেগমের মৃত্যু হয়। পরে করোনা পরীক্ষার জন্য মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, এদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় নিহতের মরদেহ গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে বাঁধা ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর রাত ৩ টার দিকে গ্রামে নিয়ে আসা হলে গ্রামবাসী বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করেন। পরে পুলিশের সহযোগীতায় লাশ গ্রামে প্রবেশ করলেও কবর দেওয়ার কোন জায়গা দেয়া হয়নি। এরপর বদলগাছী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ছয়জন পুলিশ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় তাজপুর গ্রামের ছোট যমুনা নদীর তীরে বাঁধের পাশে নিহতের দাফন সম্পন্ন করেন। জানাজার নামাজ পড়ান উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ঈমাম আইয়ুব আলী। এসআই আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে গ্রামবাসীরা বাধা দিয়েছিল। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। গ্রামে কোন কবরস্থান নেই। এমনকি নিহতের বাবার বাড়িভিটা ছাড়া কোন জমি নেই। নিহতের মামার জায়গা থাকলেও তারা দেননি। তিনি বলেন, অবশেষে কেউ জায়গা দিতে রাজি না হওয়ায় আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে কিনে নেওয়ার জন্য গ্রামবাসীর কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এলাকাবাসী রাজী হননি। এরপর বিকল্প জায়গা হিসেবে সরকারি জমিতে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু কবর খুঁড়তে যে কোদাল ও সরঞ্জাম দরকার গ্রামবাসীরা তা দিয়েও আমাদের কোন রকম সহযোগীতা করেননি। অবশেষে পুলিশ সদস্যরাই কবর খুঁড়ে লাশটি নদীর ধারে কবর দিয়েছি। বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাইদুর ইসলাম কেটু বলেন, ওই তরুণী ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি যে করোনায় আক্রান্ত এমন বিষয় গ্রামের কেউ জানতো না। এমনকি নিহতের আত্মীয়-স্বজনরাও না। রাতেই নিহতের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলেছি। নিহতের স্বজনরা তাদের পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করতে দেয়নি। পরে রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় দাফন করেছে পুলিশ। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহা. আবু তাহির বলেন, ওই নারী দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় থাকতেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে তার মৃত্যু হয়। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর ফলাফল জানা যাবে। তবে নিহতের পারিবারিক এবং সরকারি কোন কবরস্থান না থাকায় পুলিশ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজনের মাধ্যমে সরকারি জায়গায় যথাযথ মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
6
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-বিএনপির চার প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত ও সম্পদশালী। উত্তরে দুই দলের প্রার্থীই ব্যবসায়ী, দুজনেরই শতকোটি টাকার ব্যবসায়িক ঋণ আছে। চার প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী দক্ষিণের আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির ইশরাক হোসেন। সবচেয়ে বেশি ঋণ উত্তরের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের। পাঁচ বছরের ব্যবধানে আতিকুলের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাবিথ আউয়ালের আয় ও সম্পদ যেমন বেড়েছে, তেমনি ঋণও বেড়েছে। ফজলে নূর পেশায় আইনজীবী। বাকি তিনজনই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ৩০ জানুয়ারির এ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে আর্থিক অবস্থার এই চিত্র পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এই চার প্রার্থীর হলফনামা পাওয়া গেছে। শতকোটি টাকার সম্পদ তাপসেরশেখ ফজলে নূর তাপস এলএলবিতে স্নাতক এবং ব্যারিস্টার-অ্যাট ল করেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে। হলফনামার তথ্য অনুসারে, তাঁর বছরে মোট আয় ৯ কোটি ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাকি আয় এসেছে কৃষি, ঘর ভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানতসহ অন্যান্য খাত থেকে। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ২ কোটি ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯২ টাকা। এক বছর আগের তুলনায় ফজলে নূরের বার্ষিক আয় সামান্য কমেছে। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১০ কোটি ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬২১ টাকা। তাঁর হাতে নগদ আছে ২৬ কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা। নিজের তিনটি ও স্ত্রীর একটি গাড়ি আছে। সব মিলিয়ে ১০৮ কোটি ৯৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার আছে ৪৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৪ টাকার। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত আছে ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকার। স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ আছে ৯ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৭২৭ টাকার। এক বছরের ব্যবধানে ফজলে নূরের ৪ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে। ২০১৮ সালে তাঁর ১০৪ কোটি ৭১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল। এ ছাড়া নিজের নামে ১২ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। তাঁর স্ত্রীর নামে আছে প্রায় ১৩ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ। ফজলে নূরের দায়দেনার মধ্যে অগ্রিম বাড়ি ভাড়া বাবদ নেওয়া আছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৫০ টাকা। অতীতে তাঁর নামে দুটি মামলা থাকলেও খারিজ হয়ে গেছে। ইশরাকের হাতে নগদ ৩৩ হাজার টাকাদক্ষিণের বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকার প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। তিনি এমএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রিধারী এবং সাদেক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট, বুড়িগঙ্গা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ ও দিগন্ত প্রকৌশলী লিমিটেডের পরিচালক। ডাইনামিক স্টিল কমপ্লেক্সের অংশীদার এবং ট্রান্স ও শিয়ানিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী তিনি। হলফনামা অনুসারে, বিভিন্ন উৎস থেকে ইশরাকের বার্ষিক আয় ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তাঁর বার্ষিক আয় ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছিল ৪৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭ টাকা। এখন সব মিলিয়ে ইশরাকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আছে ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৬ টাকার। তাঁর হাতে নগদ টাকা আছে মাত্র ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৩ টাকা। আছে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত আছে ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকার। একটি অ্যাপার্টমেন্ট, জোয়ার সাহারায় নির্মাণাধীন ভবন এবং কৃষি ও অকৃষি জমি আছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনপ্রার্থীদের মধ্যে বেশি সম্পদ শেখ ফজলে নূর তাপসের কম সম্পদ ইশরাকের ঋণ বেশি আতিকুল ও তাবিথের ইশরাকের ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৪৩ টাকার দায়দেনা আছে। এর মধ্যে তাঁর মায়ের কাছ থেকে ৬১ লাখ ৩৭ হাজার ২২২ টাকা ঋণ নিয়েছেন। আর ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া আছে ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ আছে সাড়ে ৩ লাখ টাকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলা বিচারাধীন আছে। ১৬ প্রতিষ্ঠানের মালিক আতিকের গাড়ি নেইঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। তিনি বিকম পাস। তাঁর আছে ১৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এই ব্যবসায়ীর হাতে নগদ আছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫৩ টাকা। গত এক বছরে আতিকের বার্ষিক আয় বেড়েছে ২০ লাখ টাকা। কৃষি, বাড়ি বা দোকান ভাড়া, ব্যবসার পারিতোষিক, ব্যাংক সুদ ও মৎস্য খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৫ টাকা। স্ত্রীর বার্ষিক আয় ২২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪১ টাকা। আতিকুল ইসলাম সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৬৯ হাজার ৬৯৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক। আর ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার ২৪ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। তাঁর স্ত্রীর ২ কোটি ৯৯ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ, ৩০ ভরি সোনা এবং ৮২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেয়র পদে যখন উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তখন আতিকুলের অস্থাবর সম্পদ ছিল ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯১ হাজার ৩০২ টাকার। স্ত্রীর নামে ছিল ২ কোটি ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ টাকা ও ৩০ ভরি সোনা। এক বছরে এই দম্পতির স্থাবর সম্পদ বাড়েনি বা কমেনি। আতিকুল ইসলাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হওয়ার সুবাদে তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে ৫৯১ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। আয়, সম্পদ, ঋণ সবই বেড়েছে তাবিথেরবিএনপির উত্তরের প্রার্থী ব্যবসায়ী তাবিথ আউয়াল। তিনি ইনফরমেশন সিস্টেমস টেকনোলজির ওপর এমএসসি ডিগ্রি নিয়েছেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর জ্যেষ্ঠ ছেলে তিনি। গত পাঁচ বছরে তাবিথের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আয় ও সম্পদ বেড়েছে। বেড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণও। ২০১৫ সালে যখন তাবিথ মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন, তখন তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল ১৭ টি। এখন ৩৭ টি। বিভিন্ন খাত থেকে তাবিথের বার্ষিক আয় ৪ কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯১ টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে তাঁর বার্ষিক আয় বেড়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তাবিথের ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ৮ হাজার ৩১৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। স্ত্রীর নামে আছে ৪ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ। পাঁচ বছর আগের তুলনায় তাবিথের সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে। তাবিথের হাতে নগদ আছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫১ হাজার ৫৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৪১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৯৫ টাকা। বন্ড ও শেয়ার আছে ১৮ কোটি ৭৩ লাখ লাখ টাকার। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত আছে ৮ কোটি ৯২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আছে একটি লেক্সাস জিপ। তাবিথের স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ৪ একর কৃষিজমি, ১৬ একর অকৃষি জমি, দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি খামার। আয় ও সম্পদের মতো তাবিথের ঋণও বেড়েছে। নিজের ঋণ আছে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর ঋণ আছে ৩০২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পাঁচ বছর আগে তাঁর এ ধরনের ঋণ ছিল ১৭৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। কোনো মামলা নেই। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, এই নির্বাচনে একটি ভালো দিক হলো, দুই প্রধান দলের প্রার্থীরাই উচ্চশিক্ষিত। উচ্চশিক্ষিতরা রাজনীতিতে এলে একধরনের গুণগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকে। এখন নির্বাচনী ব্যবস্থা এমন হয়ে গেছে যে ধন-সম্পদ না থাকলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যায় না। দলের মনোনয়নও পাওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের উচিত প্রার্থীদের ব্যয় বিবরণী খতিয়ে দেখা এবং এ ক্ষেত্রে সংস্কার আনা।
9
বলিউডপাড়ায় কান পাতলে শোনা যাবে 'ইনশা আল্লাহ' ছবিটিকে ঘিরে নতুন নতুন নানা তথ্য। সঞ্জয় লীলা বানসালির এই স্বপ্নের সিনেমাটি আবার নতুন করে আলোচনায় আসছে। এই ছবির নায়িকা হিসেবে আগেই আলিয়া ভাটকে চূড়ান্ত করেছিলেন তিনি। আর আলিয়ার বিপরীতে সালমান খানকে নিতে চেয়েছিলেন। অনেক আগে, 'হাম দিল দে চুকে সানাম' সিনেমার শুটিংয়ের পর সালমানকে দেওয়া কথা রাখার জন্য। ওই ছবির পর থেকেই সঞ্জয় আর সালমানের সম্পর্কের অবনতি হয়। সালমান চেয়েছিলেন, শেষ দৃশ্যে ঐশ্বরিয়া রাই অজয় দেবগনের সঙ্গে নয়, বরং তাঁর সঙ্গে হেঁটে যাবে। তখন সালমান আর ঐশ্বরিয়ার প্রেম চলছিল। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই গল্পে পরিবর্তন আনতে রাজি হননি সঞ্জয়। চিত্রনাট্য অনুযায়ী সালমানকে ছবি শেষ করতে বলেন। আর বলেন যে সালমানকে নিয়ে তিনি আরেকটি ছবি করবেন। কিন্তু সালমান সম্পর্কে যাঁরা খোঁজ রাখেন, তাঁরা জানেন, সালমান যেমন ভালো বন্ধু, তেমনই 'ভালো' শত্রু। সালমান যাঁর পেছে একবার লাগেন, তাঁর ক্যারিয়ার শেষ করে ছাড়েন। গায়ক আরিজিৎ সিং, বিকেক ওবেরয়-এ রকম আরও অসংখ্য উদাহরণ আছে। বিচ্ছেদের পর ঐশ্বরিয়াকেও বেশ কিছু সিনেমা থেকে বাদ দিতে শাহরুখের সঙ্গে বন্ধুত্বকে ব্যবহার করেছিলেন। আর কোনো দিন সঞ্জয়ের ছবিতে কাজ করেননি সালমান। এমনকি ২১ বছর পরেও না! তাই সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে নাকি সালমান খানের পুরোনো 'ঠান্ডা সম্পর্ক' এখনো উষ্ণ হয়নি। সব মিলিয়ে ভেস্তে গেল 'ইনশা আল্লাহ' প্রজেক্ট। শুরু হলো আলিয়াকে নিয়ে বানসালির 'গাঙ্গুবাই কাঠিয়াবাড়ি' সিনেমার কাজ। এবার শোনা যাচ্ছে, বানসালি 'ইনশা আল্লাহ'র জন্য এক নতুন নায়কের সন্ধান পেয়েছেন। আর নায়িকা তো আলিয়া আছেনই। জানা গেছে, এই নামজাদা নির্মাতা হৃতিক রোশনকে এই ছবির মূল চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত করতে চলেছেন। 'ইনশা আল্লাহ'কে নিয়ে হৃতিকের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক কথাবার্তাও হয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, হৃতিকও এই ছবি ঘিরে সমান আগ্রহী বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে 'ইনশা আল্লাহ' ছবির মাধ্যমে বানসালি এক নতুন জুটি উপহার দেবেন। এর আগে আলিয়া আর হৃতিক একসঙ্গে কোনো ছবিতে কাজ করেননি। 'ইনশা আল্লাহ' ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন বানসালি। আলিয়া আর সালমানের জুটির কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। জানা গেছে, বানসালির এই ছবিতে নায়কের বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব হওয়া চাই। তাই তিনি প্রথমে এই ছবির প্রধান চরিত্রে সালমান খানকে নির্বাচন করেছিলেন। এরপর শাহরুখের নামও ওঠে।
2
দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে সেবা দেয়ার জন্য জনগণকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি পুলিশিং চালু করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক। তিনি বলেছেন, 'ভাল কাজ করতে হলে ভাল লোক দরকার। সমাজে যাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই, টাউট-বাটপার, পুলিশের দালাল, থানায় গিয়ে যারা দালালি করে তাদের কমিউনিটি পুলিশে যুক্ত করলে ভাল কাজ পাওয়া যাবে না। তাই বিতর্কিত, টাউট, চোরাচালানি, মাদক ব্যবসায়ীদের কমিউনিটি পুলিশের সদস্য করা যাবে না। রাজনীতিবিদদের মধ্যে যারা ভাল লোক তাদের অবশ্যই কমিউনিটি পুলিশে রাখতে হবে।' বৃহস্পতিবার নগরীর লালদীঘি ময়দানে চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশ সমাবেশ-২০১৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে সভার উদ্বোধন করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজ শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুর আলম মিনা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশের সমন্বয়কারী, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য। আইজিপি আরো বলেন, 'দেশে ২০০ লোকের জন্য একজন পুলিশ সেখানে কমিউনিটি পুলিশিং অত্যন্ত ভালভাবে কাজ করে। আমাদের দেশে ১ হাজার লোকের জন্য একজন পুলিশ কাজ করে। ভারতে ৬৫০ জন লোকের জন্য একজন পুলিশ কাজ করে। কমিউনিটি পুলিশিং জনগণের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে।' কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে একেএম শহীদুল হক বলেন, 'মাদক একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এলাকায় এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সাময়িক আনন্দে বিভোর হওয়া ধনী পরিবারের আধুনিকতা ও হতাশা ছেলেদের মাদক সর্ম্পকে সচেতন করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে মাদক ব্যবসা বন্ধে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশকে মাদক বন্ধে দায়িত্ব নিতে হবে। বাল্যবিয়ে, ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ বন্ধে গণজাগরণ সৃষ্টিতে তাদের কাজ করতে হবে।' সমাবেশের উদ্বোধক মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'কমিউনিটি পুলিশের কোনো সদস্য কাউকে হুমকি দেবেন না। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে সুনাম ক্ষুন্ন হয়। অপরাধ করার চেষ্টা করবেন না। পোশাকের মর্যাদা রাখবেন।' সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরে মাদক ব্যবসা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য চার নারীকে সেলাই মেশিন ও চার জন পুরুষকে রিকশা ভ্যান পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া কমিউনিটি পুলিশকে সাহায্য করার জন্য তিন জনকে সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে সিএমপির সাংস্কৃতিক স্কোয়াড 'পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ' শীর্ষক থিম সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সমাবশে নগরীর ১৬ থানা থেকে মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ উপস্থিত হন। এর আগে সকাল ১০টা থেকে হাতি, ঢোলবাদ্য বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা লালদীঘি ময়দানে আসেন।
6
ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ ভালুকা মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বুধবার ভোররাতে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ির এলাকার খন্দকার পাড়ায় 'বন্দুকযুদ্ধে' জালাল উদ্দিন (৩৫) নামে এক মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। এ সময় জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই জুয়েল ও কনস্টেবল ফজলুল হক গুরতর আহত হন। ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: মাজহারুল ইসলাম 'বন্দুকযুদ্ধে' এক মাদক কারবারি নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিরবাড়ি খন্দকার পাড়ায় মাদক কারবারিদের আস্তানায় থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের পাইলাব গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে মাদক কারবারি জালাল উদ্দিন গুলিতে আহত হন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎস্যক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডিবি'র ওসি আশিকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, চারটি গুলির খোসা, একটি বড় রামদা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে ।
6
রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দেওয়ার মধ্য দিয়ে সমস্ত 'নারী জাতিকে' অপমান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, 'আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছি। এ ধরনের রায় আমরা মেনে নিতে পারি না। বিচারব্যবস্থাকে পুরো দলীয়করণ করে ফেলা হয়েছে।' 'দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান' শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। ৭ নভেম্বর 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালন করে থাকে বিএনপি। সেই উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। মির্জা ফখরুল বলেন, 'রেইনট্রি হোটেলে দুজন শিক্ষার্থী ধর্ষণ হয়েছিল, গতকাল সেই মামলার রায় হয়েছে। আমরা পত্রিকায় দেখেছি, ঘটনা ঘটেছে, আদালত স্বীকার করছে। কিন্তু রায় হচ্ছে বেকসুর খালাস। কারণ হচ্ছে, যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা খুবই ক্ষমতাশালী। আজকে সমস্ত 'নারী জাতিকে' অপমান করে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বন্দুক ঠেকিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।' প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজকের খবরের কাগজ খুললেই দেখবেন রামদা, ছুরি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে। মন্ত্রীরা বলছেন, এটা তেমন কিছু নয়। নির্বাচন কমিশন বলছে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে। সংঘর্ষের দায়দায়িত্ব আমাদের নয়। লজ্জা নাই, শরম নাই। এই বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে তিনি (সিইসি) ধ্বংস করলেন।' এ সবকিছুর মূলে শেখ হাসিনা অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল জানান, শেখ হাসিনা সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে।সবকিছুর মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, খনার বচন আছে-রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজার কষ্ট হয়। এটা আজকে এত মিলে যায়। আজকে এমন হয়েছে, সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার শক্তিও তার নেই। সরকার তেল, কেরোসিন, ডিজেলের দাম বাড়াল। ডিজেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে বাস, ট্রাকের মতো পরিবহন। পাজেরোর মতো ব্যক্তিগত গাড়িতে ডিজেল ব্যবহার হয় না। কেরোসিন ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ। এলপিজিতে উবার চলে। প্রজারা কষ্ট পায়। আর রাজা প্যারিস, লন্ডন, গ্লাসগোতে বক্তব্য দেন। কিন্তু তার মানুষেরা কেমন আছে?যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন ১০০টি গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে সভা ডেকেছেন। সেখানে বাংলাদেশকে না ডাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল জানান, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশ আজকে অগণতান্ত্রিক। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকার এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে রাজকীয় বাসস্থান তৈরি করে দিয়েছেন। কেন? আপনাদের উদ্দেশ্য অন্য রকম। এ দেশে স্থায়ী একটা ইস্যু তৈরি করে রেখে নিজেরা ওখান থেকে ফায়দা লুটতে চান।' ২০ দলীয় জোটের প্রত্যেকের শক্তিকে সুসংহত করতে হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা নিজেরা শক্তিমান হয়েই একসঙ্গে ধাক্কা দিয়ে এই সরকারকে সরাতে পারব। বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল, বিএনপির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। বিএনপিকে নিজের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে তো। বিএনপির ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা। ৫০০-এর অধিক নেতা আমাদের গুম হয়ে আছে। পাঁচ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী খুন হয়েছে। ছোট একটা কিছু হলেই মামলা দিয়ে দেয়। পূজায় হামলা নিয়ে একেকটা মামলায় দুই হাজার করে আসামি করা হয়েছে। বিএনপি ধরছে, আর পুরে দিচ্ছে।' জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, 'প্রত্যেকে নিজ নিজ প্ল্যাটফর্ম থেকে কর্মসূচি দেন, মাঠে নামেন। তারপর আন্দোলন গড়ে উঠবে, আমি এ কথার সঙ্গে একমত নই। আপনারা কর্মসূচি দেন-এ কথা বলে সরে গেলে চলবে না। বিএনপিকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই আন্দোলন দানা বাঁধবে। বিএনপির ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, 'রাজনীতিতে ঐক্যে পৌঁছানো অনেক বড় বিষয়। আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে এ সংগ্রাম বিএনপির একার নয়, সবার। কর্মসূচি দেন, মাঠে নামেন, আমরাও মাঠে নামছি।' বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির জানান, বিনা ভোটের সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে একটা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ সরকারের অধীন কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এ সরকারকে ফাঁকা মাঠে আর গোল করতেও দেওয়া হবে না।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাগপার সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাদাত। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। এ ছাড়া জাগপার কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।
9
প্রথম যা কিছু, তার সবটুকুই ভীষণ আলাদা, ভীষণ অন্যরকম। তেমন এক ঘটনাই দশ বছর আগে ঘটেছিল, ২০১১-১২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেশিরোপার দেখা পেয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। সেই থেকেই ইপিএলে সিটিজেনদের আধিপত্যের শুরু। আর সেই প্রথমে জড়িয়ে আছে যার নাম, তাকে তো ভালোবেসে অমরত্ব দেওয়াই যায়। ৯৩ মিনিট ২০ সেকেন্ডে সার্জিও আগুয়েরোর করা গোলেই ইতিহাস হয়েছিল। ৪৪ বছরের সাধনা পেয়েছিল পূর্ণতার জল। সেবার জার্সি খুলে মাথার ওপর ঘোরাতে ঘোরাতে মাঠময় দৌঁড়েছিলেন আগুয়েরো, তার সেই গোলের ১০ বছর পূর্তিতে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এসময় তিনি বলেন, 'এটা আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত।' তার দাবি, সেই গোল উদযাপনেরে মুহূর্তই তার জীবনের মোড় পাল্টে দিয়েছে। সিটির হয়ে ৩৯০ ম্যাচে ২৬০ গোল ও ৭৩ গোল সহায়তা করেছেন আগুয়েরো, জয় করেছেন১৫টি শিরোপা। সূত্র:বিবিসি বিডি প্রতিদিন/নাজমুল
12
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের (দৌলতপুর) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দীন আহমেদ। আক্রান্ত হওয়ার প্রায় ২৫ দিন পর শনিবার রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ৯৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। সাবেক এই সাংসদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই শরীফ রেজা খোকন। এর আগে গত ৮ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফাজ উদ্দীন আহমেদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম আলো। শরীফ রেজা খোকন জানান, স্ত্রীসহ আফাজ উদ্দীন আহমেদ করোনা পজিটিভ হলে গত ২৩ জুলাই দুজনকেই চিকিৎসার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছিল। আফাজ উদ্দীনের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ৮ জুলাই তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম মারা যান। স্ত্রীর মারা যাওয়ার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। তিনি জানান, ১৩ জুলাই আফাজ উদ্দীনকে স্কয়ার হাসপাতালে স্থানাস্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চলছিল। অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাওয়ায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে এলাকায় তার মৃত্যুর গুঞ্জন চলছিল। রাত পৌনে ২টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারি আফাজ উদ্দীন আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দলের সাধারণসম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা খোঁজখবর রাখছিলেন। আফাজ উদ্দীন আহমেদ ১৯৭৯ সাল থেকে একটানা দীর্ঘ ২৩ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৩ সালে থেকে সভাপতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দশম সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও নিজ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। পরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় টিকেট পাননি। তার ছোট ছেলে অ্যাডভোকেট এজাজ আহমেদ মামুন বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগের এই নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসেছে। তার মৃত্যুতে দৌলতপুর আসনের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার জামিল জুয়েল, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল কবীর স্বপনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েছেন।
6
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সেনা নির্যাতনে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের ফেলে আসা গ্রাম ও জমিজমায় ঘাঁটি তৈরি করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নতুন এক গবেষণার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে তারা স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানতে পেরেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, এই জানুয়ারি মাসে রোহিঙ্গাদের গ্রামে বহু বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। নতুন করে সারি সারি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও একই ধরনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন মুখপাত্র এটিকে সেনাবাহিনী দ্বারা ভূমি গ্রাস বলে উল্লেখ করেছেন।মিয়ানমারের সরকার অ্যামনেস্টির অভিযোগ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেনি। গত বছরের আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানে নির্যাতন শুরুর পর থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। বিডি প্রতিদিন/১২ মার্চ, ২০১৮/ফারজানা
3
ঢাকা: ফোনে এসএমএস পেয়ে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে আজ মঙ্গলবার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে আসেন শামীম হোসাইন (৫২)। কিন্তু ফেরত যেতে হয়েছে তাকে। হাসপাতাল থেকে বলা হয়, টিকার মজুত শেষ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হতাশ শামীম। তিনি বলেন, গতকাল সোমবার দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে আমার ফোনে একটি এসএমএস আসে। সে অনুযায়ী হাসপাতালে এলে বলা হয় টিকা নেই। তাহলে কেন আসতে বলা হলো?এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক অসীথ কুমার নাথ আজকের পত্রিকাকে বলেন, দ্বিতীয় ডোজের টিকা এখন প্রায় শেষের দিকে। যতটুকু আছে, একেবারে সম্মুখযোদ্ধা ছাড়া দিতে নিষেধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাই আমরা চাইলেও দিতে পারছি না। যারা বার্তা পেয়েও ফিরে গেছেন তাদের কাছে আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি। নতুন করে আর কাউকে বার্তা দেওয়া হবে না।টিকা নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এসে একইভাবে ফিরে যেতে হয়েছে নাজুমল ইসলাম অভিকে (৪৭)। পরপর দুদিন এসে তিনি দেখেন নোটিশ দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।অভির মতো অনেকে আজ এই হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন। অনেকে এসএমএস না পেলেও নির্দিষ্ট সময় হওয়ায় নিজ থেকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে টিকা নিতে আসছেন। কিন্তু টিকা সংকটে এরই মধ্যে অনেক কেন্দ্রেই কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কবে টিকা পাবেন কিংবা এসএমএস দিয়ে পরে জানানো হবে কি-না এসবের কিছুই জানেন না তারা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মজুত থাকা টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কিছু টিকা আছে, যা বিশেষ ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে বলে জানান হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, যেহেতু আমাদের হাতে টিকা নেই, তাই কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতসহ অন্যদেশ থেকে সরকার টিকা আনার চেষ্টা করছে, আসলে দেওয়া হবে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দুই ডোজ মিলে ৯৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৫ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯১২ জন প্রথম ডোজ নিলেও দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন মাত্র ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার ২৩ জন। ফলে অপেক্ষমাণ ২১ লাখ। আর মজুত আছে পাঁচ লাখের কিছু বেশি। ফলে ১৪ লাখের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া অনিশ্চিত।
6
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য আজ থেকে ফরম বিক্রি শুরু করছে দলটি। সকাল ১০টায় ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা) এই ফরম বিক্রির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম ক্রয় করতে জমা দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা। আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে বলে দলের দফতর সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রতি ৬ আসনে একজন করে সংরক্ষিত মহিলা এমপি নির্বাচিত করার বিধান রয়েছে। ৪৩টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৫০০ নারী নেত্রী তুলে ধরছেন দলের জন্য নিজের নানা অবদান, ত্যাগ, তিতিক্ষার বর্ণনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট আসন পেয়েছে ২৫৭টি। সে হিসেবে আওয়ামী লীগ সংরক্ষিত আসন পায় ৪৩টি আসন। জাতীয় পার্টি ২২ এমপির বিপরীতে আসন পায় ৪টি। মহাজোটের অন্যান্য দলের ৬টি বা তার বেশি আসন না পাওয়ায় এককভাবে কেউ সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপির মনোনয়ন দিতে পারবেন না। সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6