text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
নিউজিল্যান্ডকে শোচনীয়ভাবে হারিয়ে ওয়ান ডে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পাকিস্তান জয় পায় ৫৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে। শাহিন শাহ আফ্রিদির দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ড প্রথমে করেছিল ৯ উইকেটে ২০৯ রান। জবাবে পাকিস্তান ৪০.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয়।নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এই জয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। টি২০ ক্রিকেটে দলটির বিরুদ্ধে পাকিস্তান জিতে চললেও ওয়ানডে ক্রিকেটে তা পারছিল না। কিউইদের কাছে পাকিস্তান টানা ১২টি ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল। এমন এক অবস্থায় শুক্রবার সহজ জয় তুলে নিলো পাকিস্তান। এর ফলে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা প্রতিষ্ঠিত হলো। এর আগে টি২০ সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান। ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হেসেখেলেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। ফার্গুসনের বল হেলমেটে আঘাত করলে মাঠ ছেড়ে হাসপাতালে যেতে হয় পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম উল হককে। খেলা শেষে পিসিবির তরফ থেকে জানানো হয় ইমাম শঙ্কামুক্ত আছেন। ইমাম হাসপাতালের বিছানায় গেলেও তাঁর অসমাপ্ত কাজটা ঠিকঠাক করেছেন ফখর জামান ও বাবর আজমেরা। মূলত এই জুটির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। ২৯তম ওভারে ফার্গুসনের জোড়া আঘাতে খেলায় ফেরার আভাস দেয় নিউজিল্যান্ড। দলীয় ১৫৫ রানে ফার্গুসনের বলে ফখর জামান আউট হন ব্যক্তিগত ৮৮ রানে। স্কোরবোর্ডে আর ১ রান যোগ হতেই একই ওভারে আউট হন বাবর আজম। সাজঘরে ফেরার আগে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তানের এই টপ অর্ডার। ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে ৩৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নেয়া শাহিন আফ্রিদির হাতে। এর আগে আরেক আফ্রিদি পাকিস্তানের জয়ের ভিত গড়ে দেন। অভিষেকের পর থেকেই একের পর এক নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে চলছেন পাকিস্তানের নতুন পেস বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি। শুক্রবার আবুধাবিতে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার দারুণ বোলিংয়ে আগে ব্যাট করে ২০৯ রানের বেশি করেতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। রস টেইলরের অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসটি বাদ দিলে এই এদিন শাহিন আফ্রিদির সামনে রীতিমতো মুখথুবড়ে পড়েছে কিউইরা। এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৫ রানের মধ্যেই ২ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে একপ্রান্ত আগলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে লড়াই করেন রস টেলর। তবে অন্যপ্রান্তে আর কেউ দাঁড়াতে পারেনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান এসেছে হেনরি নিকোলসের ব্যাট থেকে। রস টেলর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৮৬ রানে। তবে তিনিও যে খুব একটা স্বচ্ছন্দে খেলেছেন তা নয়, এই রান করতে বল খেলতে হয়েছে ১২০টি। তবে তার ব্যাট কথা না বললে হয়তো লজ্জাজন স্কোরের মুখোমুখি হতে হতো দলকে।শাহিন আফ্রিদি ৩৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ২ উইকেট নিয়েছেন হাসান আলী। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও শাহিন নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।
12
মেঘনায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৭ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৯৪ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৬২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত রোববার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল।চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ৮ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৩ জন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ৬ জন রয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।ইউপিগুলোর মধ্যে রাধানগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবদুল বাতেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আহছানউল্লা ও স্বতন্ত্র মুজিবুর রহমান মো. আনিছ মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে জমা দিয়েছেন ২৭ জন।মানিকার চর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া, মোসা. সাবিনা ইয়াসমিন তাজ, মো. রবিন মিয়া ও মো. হারুন অর রশিদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে জমা দিয়েছেন ৩৩ জন।চন্দনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আহসান উল্যাহ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির হোসেন ও স্বতন্ত্র সেলিম সরকার রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৮ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৫২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. লতিফ সরকার, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মাঈনুদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির ও মো. আরিফ প্রধান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১৬ জন এবং সদস্য পদে ২৩ জন লড়ছেন।বড়কান্দা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল কাসেম, স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী মো. শফিকুল হক, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. ফারুক হোসেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহসীন মিয়া, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৯ জন, সদস্য ৩১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
6
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা যাঁরা পড়েছেন, তাঁদের অনেকেই জানেন, 'ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি' নামে তাঁর একটি কবিতা আছে। গুজরাটের বন্যার সময় বন্যা পরিস্থিতি দেখার জন্য ইন্দিরা হেলিকপ্টারে করে অকুস্থলে গিয়েছিলেন। সে সময় ইন্দিরার মুখ ফসকে 'বাহ্ কী সুন্দর!'-জাতীয় কোনো বাক্য বেরিয়ে যেতে পারে-এমনই ভাবনা ছিল কবিতাটায়।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নিজেও একবার হেলিকপ্টারে করে বন্যা দেখতে গিয়েছিলেন। হেলিকপ্টারের ওপর থেকে বন্যা দেখলে অসাধারণ লাগে। ছবির মতো মনে হয় চারপাশটা। ওপর থেকে দেখলে বন্যাকবলিত মানুষের যে দুঃখ-কষ্ট আছে, তা বোঝা যায় না। পানির ওপর ভেসে আছে গাছ, ছোট ছোট ঘর মাথা তুলে আছে-এসব দেখে মন ভরে যায়।ফলে ইন্দিরা গান্ধীরও সে রকম অনুভূতি হয়েছিল কি না, সেটাই ছিল প্রশ্ন।কবিতাটিতে একটি পঙ্ক্তি এরকম: 'তোমার শুকনো ঠোঁট, কত দিন সেখানে চুম্বনের দাগ পড়েনিচোখের নিচে গভীর কালো ক্লান্তি...'কবি আসলে 'চুম্বনের দাগ পড়েনি' দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন, মেজাজটা খুব তিরিক্ষি হয়ে থাকে প্রধানমন্ত্রীর। বাংলা বলে রক্ষে। এ কবিতার ইংরেজি অনুবাদ ছাপা হলে সেই পত্রিকা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। দিল্লির এক ম্যাগাজিনেও কবিতাটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ পায়।মজার ব্যাপার হলো, ইন্দিরা গান্ধী একটি লিটল ম্যাগাজিনের প্রদর্শনী উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে এক তরুণ সেই ম্যাগাজিন ইন্দিরার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, 'ম্যাডাম, পড়ুন।' ইন্দিরা পুরোটাই পড়লেন। পড়ে মন্তব্য করলেন, 'নটি, ভেরি নটি।' কিন্তু এই কবিতা লেখার জন্য ইন্দিরার দিক থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কোনো শাস্তি হয়নি।সূত্র: সাজ্জাদ শরিফ, আলাপে ঝালাতে, পৃষ্ঠা.৩৭-৩৮
2
বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না এক সময়কার ফুটবলের মহাতারকা ম্যারাডোনার। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারজুড়েই বিতর্ক তার নিত্যসঙ্গী। এবার সেই বিতর্কের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। কিউবায় নাকি আরও তার তিন সন্তান রয়েছে। তাদের আইনি স্বীকৃতি দিতে কিউবায় যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। ম্যারাডোনার আইনজীবী আর্জেন্টাইন মিডিয়াকে এমনটাই জানিয়েছেন। বর্তমানে মেক্সিকান ক্লাব দোরাদোস দে সিনালোয়ার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনরত ৫৮ বছর বয়সী ম্যারাডোনা ভিন্ন ভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। পাঁচ সন্তানের জনকও হয়েছেন তিনি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও তিন নাম। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও তাদের সরাসরি কখনো দেখেননি ম্যারাডোনা। তবে কিউবার আইন অনুযায়ী সন্তানদের পরিচয় দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন এই বিশ্বসেরা ফুটবল তারকা। সন্তানদের নিজের ডাকনাম ব্যবহার করার অনুমতিও দিতে চান তিনি। মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত হতে ২০০০ সাল থেকে টানা ৪ বছর কিউবার রাজধানী হাভানায় কাটান ম্যারাডোনা। মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের জন্য পরিচিত কিউবা। তাছাড়া তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও লাতিন আমেরিকার মধ্যে সেরা। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলার সময় কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে ম্যারাডোনার। এমনকি কিউবার বিপ্লবী নেতার মুখের একটি ট্যাটুও আঁকা আছে তার শরীরে। সেসময় ম্যারাডোনাকে উৎসাহ দিতে প্রায়ই নিজের কাছে ডেকে নিতেন কাস্ত্রো এবং দুজনে মিলে রাজনীতি ও ফুটবল নিয়ে নানান আলোচনাও করতেন। কিউবায় বেশ স্বাধীন জীবন কাটিয়েছেন ম্যারাডোনা। কোনো মিডিয়া তার পিছু লাগতো সেসময়। ফলে অনায়াসে রাতের হাভানা বেশ সহজেই উপভোগ করতেন তিনি। হাভানার নামী নাইট ক্লাবে ছিল তার অবাধ যাতায়াত। বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় তিনি তখন মুক্ত বিহঙ্গ। প্রায়ই তাকে কিউবান নারীদের সঙ্গে দেখা যেতো। কিউবায় ম্যারাডোনার একাধিক সন্তান থাকার ইঙ্গিত দিয়ে গত বছর এক সাক্ষাৎকারে মোর্লা বলেছিলেন, 'আমি কিউবা নিয়ে ভয়ে আছি। আমি আশা করি, একজন (সন্তান)... তিনি সেখানে অনেকদিন ছিলেন। তিনি একা ছিলেন আর ব্যবহারও ছিল বাজে।' বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অংশ- 'সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ' বিশেষ অঙ্গীকার আমার গ্রাম-আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশু কল্যাণপুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল মেগা প্রজেক্টসমূহের দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়নগণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা দারিদ্র্য নির্মূল সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আধুনিক কৃষি-ব্যবস্থা-লক্ষ্য যান্ত্রিকীকরণ দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ব্লু-ইকোনমি-সমুদ্রসম্পদ উন্নয়ন নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণ টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আগামী পাঁচ বছরের (২০১৯-২৩) লক্ষ্য ও পরিকল্পনা ৩.১ গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদগণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার সাথে রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবনের সবক্ষেত্রে উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতির রাজনৈতিক অর্থনৈতিক তথা সার্বিক মুক্তির লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ গত প্রায় সাত দশক যাবৎ বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে চলেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বারবার বাংলার জনগণ সামরিক ও স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধু-কন্যার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে-এগিয়ে চলছে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ নির্বাচন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা তাদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে নির্বাচনী-ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমানে জাতীয় চার নীতির অন্যতম নীতি গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার পথকে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মাধ্যমে রোধ করার সাধ্য কারও নেই। সাফল্য ও অর্জন বিগত ১০ বছরে জাতীয় সংসদই ছিল সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। প্রয়োজনীয় নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা এবং যথাযথ বাজেট বরাদ্দ ও জনবল নিয়ে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী এবং বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সকল দল ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সার্চ কমিটি দ্বারা স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ কিংবা জন্মস্থানভিত্তিক সকল বৈষম্য নিরসনে কাজ করছে। রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করা, বিদ্বেষ দূরীকরণ, তৃতীয় লিঙ্গসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিকরণ, নাগরিক অধিকার ও সুবিধা জনগণের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কর্মতৎপরতা চলছে। তথ্য অধিকার আইন, স্বাধীন তথ্য কমিশন, ৪৪টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, অসংখ্য কমিউনিটি রেডিও, অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দেশব্যাপী ইন্টারনেট সুবিধা আজ অবাধ তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি করে মানুষের তথ্যঅধিকার নিশ্চিত করেছে, যা অভূতপূর্ব। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, চাহিদা প্রকাশ ও প্রাপ্তি এবং এর সুরক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন গণমাধ্যম, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে স্থায়ী কমিটিসমূহের সক্রিয় দায়িত্ব পালন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীবর্গের প্রশ্নোত্তর পর্বে নিয়মিত অংশগ্রহণ, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা, সরকার ও বিরোধী দলের সংসদে গঠনমূলক দায়িত্ব পালন, অশ্লীল ও অগ্রহণযোগ্য এবং অসংসদীয় আচরণ থেকে সংসদকে মুক্ত রাখা হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কমনওয়েলথ রাষ্ট্রসমূহের সকল জাতীয় ও স্থানীয় সংসদের স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ)-এর চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং দশম জাতীয়সংসদের অন্যতম সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বিশ্বের সকল সংসদের স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের দশম সংসদ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিগণতান্ত্রিক বিশ্বের অবিচল আস্থার এ এক অভূতপূর্ব নিদর্শন। সকল ধরনের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন এবং সকল দলের অংশগ্রহণের ভিতর দিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হবে এবং সংবিধান হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দলিল। ৩.২ আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা আইনের শাসনের মূল বক্তব্যই হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান; কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।এই নীতির আরেকটি অর্থ হচ্ছে- কেবলমাত্র সংবিধান ও নির্বাচিত সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনসমূহের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে একটা দীর্ঘ সময় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশ পরিচালিত হওয়ায় আইনের শাসন ভূ-লুণ্ঠিত হয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। এ যাবত তিন মেয়াদে সরকারে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। সাফল্য ও অর্জন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতেসাংবিধানিক সুরক্ষাকরণের বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(ক) ও ৭(খ), অনুচ্ছেদ ১৫০ ও চতুর্থ তফসিলের বিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংবিধানের বাইরে বা সংবিধান পরিপন্থী কোনো অবৈধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরবর্তীতে সেটিকে বৈধতা দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিচারক নিয়োগের পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, বিচারকদের জন্য যৌক্তিক বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ, তৃণমূল মানুষের বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানে গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা, বিরোধ নিরসনে বিকল্প পদ্ধতির(এডিআর) ব্যবহার, আইনি সহায়তার জন্য জেলায় জেলায় লিগ্যাল এইড প্রতিষ্ঠা, বিচারকদের উন্নততর প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করার মধ্যদিয়ে বিচার বিভাগের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। অবৈধ ক্ষমতা দখলদারেরা আইনের শাসনের পথ রুদ্ধ করে দিতে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিয়েছে, এমনকি পুরস্কৃতও করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দায়মুক্তির এ অপসংস্কৃতি রোধ করেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দণ্ডিত যারা আটক ছিলেন তাদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় ও সাহায্য-সহায়তা লাভের সুযোগ-সুবিধা অবারিতকরা হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে। সার্বজনীন মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ৩.৩ দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন মানসম্মত সেবা প্রদানের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১-এর উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্যসমূহ অর্জনে একটি দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। সরকারের প্রচেষ্টা, তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ফলে সরকারি দপ্তরে কাজের দক্ষতা ও পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে অহেতুক কালক্ষেপণ এবং কাজের জটিলতা হ্রাসে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধারাকে অগ্রসর করে নিতে হবে। সাফল্য ও অর্জন ইতোমধ্যে প্রশাসনের সর্বস্তরে ই-গভর্নেন্স চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত করা হয়েছে। সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে 'তথ্য অধিকার আইন-২০০৯' কার্যকর করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মবৃত্তে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির মাপকাঠি শুধু জ্যেষ্ঠতা নয়; যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ এবং জনগণ ও সংবিধানের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এজন্য জনপ্রশাসন সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং কার্যকর করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উন্নত কাজের পরিবেশ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সৎভাবে সম্মানজনক জীবন ধারণের জন্য মূল্যস্ফীতির নিরিখে বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে ২০০৯ ও ২০১৫ সালে দুবার প্রায় সাড়ে তিন গুণ (৩৪৪ শতাংশ পর্যন্ত) বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা ব্যাংক থেকে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন; পাঁচ ধাপে এই পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে (৩০ জুলাই ২০১৮ প্রজ্ঞাপন)। উপসচিব পদমর্যাদা পর্যন্ত সামরিক ও অসামরিক সকল কর্মচারী গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা সুদবিহীন ঋণ পাবেন এবং পরিচালনা বাবদ পাবেন মাসিক ৫০ হাজার টাকা। শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী প্রজাতন্ত্রের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মাসিক পেনশন পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। যারা এককালীন পেনশনের অর্থ উত্তোলন করেছেন, তাদের ১৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর পেনশন সুবিধা পুনঃস্থাপনের আদেশ জারি করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবংতাদের পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক গণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়েতোলার কাজ অব্যাহত থাকবে। নিশ্চিত করা হবে প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সেবাপরায়ণতা। প্রশাসনের দায়িত্ব হবে নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্বাহী নির্দেশাবলি বাস্তবায়ন। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সর্বপ্রকার হয়রানির অবসান ঘটানোর কাজ অব্যাহত থাকবে। বিশেষভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা স্তর কঠোরভাবে সংকুচিত করা হবে। নিয়মানুবর্তী এবং জনগণের সেবক হিসেবে প্রশাসনকে গড়ে তোলার কাজ অগ্রসর করে নেওয়া হবে। ৩.৪ জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে পূর্বে জনমনে এক ধরনের ভীতি বিরাজ করত। সেটা দূর করে একটি জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবন-জীবিকা সুরক্ষার পূর্বশর্ত হলো- স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এরই ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে।সাফল্য ও অর্জন ২০০৯ সালের জনসংখ্যার সাথে পুলিশের অনুপাত ১:১৩৫৫ হতে বর্তমানে ১:৮০১-এ দাঁড়িয়েছে। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, রংপুর রেঞ্জ, রংপুর আরআরএফ,ময়মনসিংহ রেঞ্জ, দুটি র্যাব ব্যাটালিয়ন, সাইবার পুলিশ এবং গাজীপুর ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-সহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশরক্ষার্থে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করা হয়। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে গার্মেন্ট সেক্টরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ ইন্সপেক্টরদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে। তারা বছরে একবার এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাতা পাচ্ছেন। কারারক্ষী, কোস্টগার্ড এবং আনসার-এর দশম গ্রেড ও নিম্নপদের কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। বিগত ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর হতে দেশে উগ্র এবং জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। সরকারের দৃঢ় অবস্থানের ফলে জঙ্গি অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। সুন্দরবনের দস্যুবাহিনীসমূহের আত্মসমর্পণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের এক যুগান্তকারী মাইলফলক। সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে এবং বহু সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশকে জনবান্ধব করার লক্ষ্যে যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তার জন্য '৯৯৯' সেবা চালুকরা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণের জন্য 'পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট' ও 'কমিউনিটি ব্যাংক' গঠন করা হয়েছে। আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাসিক ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নিয়োগ করা হবে। সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কারের কাজ আগামীতে অব্যাহত থাকবে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কাজ চলমান থাকবে। সেবা প্রদানের জন্য দ্রুত সাড়াদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যানবাহন সরঞ্জামাদি সরবরাহ, সন্ত্রাস ও সাইবার অপরাধ দমনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, প্রয়োজনীয়ভূমি ও অবকাঠামোর সংস্থান, প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সদস্যদের কল্যাণমূলক কার্যের পরিধি বিস্তারে কৌশলগত পরিকল্পনার আলোকে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ৩.৫ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক ব্যাধি। পেশিশক্তির ব্যবহার ও অপরাধের শিকড় হচ্ছে দুর্নীতি। যার ফলে রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবনে অবক্ষয় বা পচন শুরু হয় এবং অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন প্রভৃতি কোনো ক্ষেত্রেই ইস্পিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও আইনের প্রয়োগ মুখ্য হলেও তা শুধু সরকারের দায় নয়, জনগণেরও দায় রয়েছে। আমরা মনে করি, দুর্নীতি দমনে প্রয়োজন সরকার ও জনগণের সমন্বিত পদক্ষেপ।সাফল্য ও অর্জন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে জনগণ এর সুফল ভোগ করছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কার্যপরিচালনা করার জন্য সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ জনগণ যাতে সহজে দাখিল করতে পারে, সেজন্য দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে 'অভিযোগ গ্রহণ বাক্স' স্থাপন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন চাহিদা নিরূপণ করে সরকারের নিকট বাজেট বরাদ্দ চেয়ে থাকে এবং কমিশনের চাহিদা মোতাবেক সরকার বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে অর্থায়ন করে আসছে।লক্ষ্য ও পরিকল্পনা দুর্নীতি দমন কমিশনকে কর্ম পরিবেশ ও দক্ষতার দিক থেকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা হবে। সেক্ষেত্রে দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এবং প্রায়োগিক ব্যবহারে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে। ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালো টাকা, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজি ও পেশিশক্তি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ৩.৬ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূল সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক মানবতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও প্রগতির পথে অন্তরায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পূর্বাপর পরাজয়ের প্রতিশোধ ও ক্ষমতা দখল করতে সন্ত্রাস-সহিংসতা, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিএনপি-জামাত জোট আমলে 'সন্ত্রাসী রাষ্ট্র' হিসেবে আমরা নিন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তুদেশ এখন জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বসমাজে প্রশংসিত। সাফল্য ও অর্জন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে বিশেষভাবে জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনে প্রশংসিত হয়েছে। উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং জঙ্গিবাদের হাত থেকে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তানিশ্চিত করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ সম্পন্ন ও তা বানচালের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। অবৈধ অস্ত্র আমদানি, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, বেচাকেনা ও ব্যবহার কঠোর হস্তে দমনকরা হচ্ছে। দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক রোধকল্পে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকবিরোধী প্রতিবাদ, তৎপরতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা আগামীতে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান থাকবে। সন্ত্রাসী-গডফাদারদের এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি অর্থায়নে সংশোধনাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের জন্যআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। ৩.৭ স্থানীয় সরকার : জনগণের ক্ষমতায়নতৃণমূলের জনসাধারণের নানামুখী চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কার্যকর স্থানীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। দারিদ্র্য নিরসন ও বৈষম্য হ্রাস করে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দরকার স্বায়ত্তশাসিত কার্যকর ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার। ইতোমধ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করেইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে, দেওয়া হয়েছে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন, ক্ষমতা ও দায়িত্ব। এই প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করে নিতে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ৩.৮ সামষ্টিক অর্থনীতি : উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ২০০৭-০৮ সালে বৈশ্বিক মন্দা, অর্থনৈতিক শ্লথ ও সংকট পরবর্তী একটি কঠিন সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বিগত সময়ে বিএনপি-জামাত জোটের দুঃশাসন এবং ১/১১ সরকারের জোরজবরদস্তি ও অবিমৃশ্যকারী পদক্ষেপের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বন্ধ্যত্ব এবং দুই মেয়াদে ১০ বছর বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে বর্তমানে উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে সাফল্য ও অর্জন, তা দেশের ইতিহাসে অনন্য এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এই ধারাকে অগ্রসর করে নেওয়াই আগামী দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ থেকে স্বাধীনতার ৭০ বছর ২০৪১ বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে উন্নয়নের সূচকগুলোর বিস্ময়কর অগ্রগতি এবং আপামর মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নতি গণমনে আত্মবিশ্বাস ও সাহস এমন পর্যায়ে উন্নীতকরেছে যে, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে রূপান্তর সম্ভব। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লক্ষ্য অর্জন করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাধীনতার ৭০ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারি কৌশল ও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এই পরিকল্পনায় অঙ্গীকার অনুয়ায়ী ২০১৯-২৩ সময়কালের লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মসূচির সাথে সাথে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রাকে এমনভাবে সমন্বয় করা হবে, যাতে দেশ ধারাবাহিকভাবে সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য অভিমুখে অগ্রসর হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ পালনকালে হবে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৩০ সালে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় হবে ৫ হাজার ৪৭৯ ডলারেরও বেশি। এই পরিকল্পনায় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সার্বিক দারিদ্র্যের হার শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০৪১, অর্থাৎ ২০ বছর বাংলাদেশকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ১০ শতাংশ ধরে রাখতে হবে। গত অর্থবছরে ৭.৮৬ শতাংশের প্রবৃদ্ধির হার প্রমাণ করে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বিনিয়োগের হার জিডিপি-র ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো সেবা সরবরাহ করতে হবে। রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ব্যাংক ও বীমা খাতের সেবা সম্প্রসারণ, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ ও গভীরতা এবং পুঁজিপণ্য সরবরাহ ও বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। ইতোমধ্যে চীনা কনসোর্টিয়াম ঢাকা পুঁজিবাজারে কৌশলগত বিনিয়োগ করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ার এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের লেনদেন দ্রুত নিষ্পন্ন করা হবে। দেশব্যাপী বিনিয়োগ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগোপযোগী করতে কারিগরি শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে অধিকতর বিনিয়োগ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রাধিকার পাবে।তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রসারিত করা হবে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে মেধা ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বাস্তবতার নিরীখে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় 'যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র' স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি এই কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে 'তরুণ কর্মসংস্থান কেন্দ্র' হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ২০২৩ সাল নাগাদ অতিরিক্ত ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। এছাড়া উক্ত সময়ে নতুনভাবে ১ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হবে। তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় গড়ে তোলা হবে একটি করে 'যুব বিনোদন কেন্দ্র' যেখানে থাকবে বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সুবিধা, মিনি সিনেমা হল, লাইব্রেরি, মাল্টিমিডিয়া সেন্টার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্নার, মিনি থিয়েটার ইত্যাদি। স্বল্প খরচে তরুণদের কাছে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে 'ইয়ুথ প্ল্যান' চালু করা হবে। উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও জঙ্গিবাদের প্রথম লক্ষ্য যুবসমাজকে আকৃষ্ট করা। এই যুবসমাজ যাতে আদর্শিক ভ্রান্তিতে মোহাবিষ্ট হয়ে জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত না হয়, সেজন্য কাউন্সিলিং এবং তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশকে ত্বরান্বিত করা হবে। ৩.১২ নারীর ক্ষমতায়ন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংবিধানের ১০ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ' এবং রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। প্রসূতি মায়েদের জন্য ছয় মাসের ছুটি এবং পিতার সাথে মাতার নাম লেখার নীতি প্রভৃতি সব আওয়ামী লীগেরই অবদান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে কর্মের সব পরিসরে নারীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। ৩.১৩ দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস দারিদ্য বিমোচন বিদেশি শাসন ও শোষণের ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দারিদ্র্য একবিংশ শতকের উপযোগী আলোকোজ্জ্বল সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে অন্তরায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সামরিক স্বৈরশাসনের আমলে 'মানি ইজ নো প্রবলেম' নীতি জাতির পিতার স্বপ্ন 'দুঃখী মানুষের মুখেহাসি ফোটানোর' পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ শাসনামলে জাতি দারিদ্র্য বিমোচনে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছিল। কিন্তু আবারও পথভ্রষ্ট হয় জাতি। বিগত ১০ বছরে জাতি আজ অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। বর্তমানের সাফল্য ও অর্জনের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আগামী দিনগুলোতে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। বৈষম্য হ্রাস ধনী-দরিদ্র ও শহর-গ্রাম পর্যায়ে আয় বৈষম্য হ্রাস করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ অঙ্গীকারাবদ্ধ। ইশতেহার ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আলোকোজ্জ্বল পথে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার ১০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। আমরা গত ১০ বছরে পরপর দুই মেয়াদে নিরলস পরিশ্রম করে কাজ করে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি। আপনাদের নিরঙ্কুশ সমর্থন ও সহযোগিতায় ২০০৮ সালে ভোট ও ভাতের অধিকার সম্বলিত 'দিনবদলের সনদ' এবং ২০১৪ সালের 'শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে' এগিয়ে যাবার অঙ্গীকার পূরণ করতে পেরেছি। এ কৃতিত্ব কেবল আপনাদের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের নয়, এর গর্বিত অংশীদার আপনারা, এদেশের আপামর জনগণ। এ-জন্য আপনাদের জানাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আমাদের পবিত্রসংবিধান অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। আশা করি, আমাদের পরিশ্রম ও উন্নয়ন কাজের প্রতি সুবিবেচনা করে দেশের সামগ্রিক কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের স্বার্থে আগামী পাঁচ বছরের জন্য জনগণ পুনরায় আওয়ামী লীগের পক্ষে রায় দেবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সচেষ্ট থেকেছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মহাযজ্ঞে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশ্ববাসীর চোখে উন্নয়নের এক অভূতপূর্ব রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সৃষ্টি হয়েছে সরকার, আওয়ামী লীগ ও জনতার পবিত্র মেলবন্ধন, যাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত করতে হবে। জাতিসংঘসহ বিশ্ব পরিমণ্ডলে উন্নয়ন-অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছু পায়। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির সকল লুক্কায়িত সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে জনগণের দল আওয়ামী লীগ। তরুণ প্রজন্মসহ দেশবাসীর সাথে আমরা অতীতেও ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আপনাদের মহান রায় প্রার্থনা করছি। এরই মধ্যে ২০২০-২১ সালে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও তারই সূচিত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ৫০ বছর উদযাপন করব। এই মহান কর্মকাণ্ডে আপনারা অতীতের মতোই জোরালো সমর্থন দিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন- এই কামনা করছি। উন্নত বাংলাদেশ আমাদের প্রত্যয়, দেশপ্রেম আমাদের চেতনা, জনসেবা আমাদের কর্তব্য। আমাদের অগাধ বিশ্বাস সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি সুবিচার ও সুবিবেচনা করে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে আপনারা আরেকবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দেশ সেবার সুযোগ দেবেন। এ পর্যন্ত আমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যে প্রভূত অগ্রগতি সাধন করতে পেরেছি, তা যাতে আরও টেকসই, সুসংহত করে প্রতিটি মানুষের নাগালের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া যায় সে-জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরে এসে আমরা সবাইকে নিয়ে আমাদের সকল আরব্ধ কাজ সমাপ্ত করতে চাই।
6
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে হটাতে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলো ঐক্য করার পরিবর্তে দিন দিন নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়াচ্ছে।সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যেতে নারাজ তৃণমূল। বরং দেশের বৃহত্তম বিরোধী দলকেই তাঁদের সঙ্গে জোট করার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মমতা ব্যানার্জির প্রস্তাব অবশ্য আমলে নেয়নি কংগ্রেস। এমন পরিস্থিতিতে এবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন মমতা।আজ মঙ্গলবার গোয়ায় সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের গোপন সমঝোতার কথা তুলে ধরেছেন মমতা ব্যানার্জি। মমতার অভিযোগ, কংগ্রেস নিজে বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু করছে না। আবার অন্য কেউ কিছু করলে বাধা দিচ্ছে। কংগ্রেস পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, , কংগ্রেসকে দুর্বল করে বিজেপির সরকার টিকিয়ে রাখতেই তৃণমূল ষড়যন্ত্র করছে।মমতা বলেন, সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের গোপন সমঝোতার জন্যই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গঠন করেন। মমতা জানিয়েছেন, গোয়া থেকে ফিরে তিনি আসাম ও মেঘালয় সফরে যাবেন। আগামী দিনে ত্রিপুরাতেও সভা করবেন। গোটা দেশ থেকেই তাঁর কাছে ডাক আসছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।কংগ্রেস অবশ্য পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে মমতার উদ্দেশ্য নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেছেন, কংগ্রেসকে দুর্বল করে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাইছেন মমতা। বিনিময়ে বিজেপি তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে নীরব রয়েছে। তাঁর মতে, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী জোট অবাস্তব পরিকল্পনা।
3
সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ্-কে নিজের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ্ এর আগে ২০১৪ সালে তার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ সোমবার রওশন এরশাদের সহকারী একান্ত সচিব এম মামুন হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, টোটাল গ্যাস, এশিয়া স্যাটেলাইট, হংকং টেলিকম, জেনারেল অ্যাটমিকস ইত্যাদি বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করেছেন গোলাম মসিহ। তিনি ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ক প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। গোলাম মসীহ্ জুলাই ২০১৫ হতে জুলাই ২০২০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ওআইসি'র স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
6
মানিকগঞ্জ শহরের একটি ফ্ল্যাট থেকে সানজিদা আক্তার ওরফে রূপা (২৫) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার রাত আটটার দিকে শহরের উত্তর সেওতা এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে সানজিদার স্বামী শহীদুল ইসলাম পলাতক। গৃহবধূর স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুক ও দাম্পত্য কলহের জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পরে তাঁর স্বামী পালিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। নিহত সানজিদা টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বনগ্রাম এলাকার শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। উত্তর সেওতা এলাকার একটি বাসার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ওই দম্পতি থাকতেন। তাঁদের লাবিব হোসেন নামের তিন বছরের একটি সন্তান আছে। পুলিশ ও গৃহবধূর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার বছর আগে নাগরপুরের বনগ্রাম এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে শহীদুল ইসলামের সঙ্গে পাশের মাহমুদনগর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে সানজিদার বিয়ে হয়। তাঁরা মানিকগঞ্জের উত্তর সেওতা এলাকার জনৈক নূরুল ইসলামের বাসার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শহীদুল মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ওষুধের দোকান চালাতেন। আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই ফ্ল্যাট থেকে খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় সানজিদার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সানজিদার ভাই মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেল পাঁচটার দিকে শহীদুলের ভগ্নিপতি নাসির হোসেন তাঁকে মুঠোফোনে জানান, তাঁর বোন আত্মহত্যা করেছেন। সন্ধ্যায় এসে তাঁর বোনের লাশ ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। মনিরুলের অভিযোগ, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে স্বর্ণালংকার, আসবাবসহ গৃহস্থালির জিনিস নেন শহীদুল। বিয়ের দুই বছর পর তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে সানজিদাকে মারধরও করতেন। তাঁর বোনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর খাটের ওপরে ফেলে রাখেন। পরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার প্রচার করেন। ওই দম্পতির পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা খাদেজা আক্তার জানান, আজ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শহীদুল তাঁর কক্ষে এসে বলেন, সানজিদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর শহীদুলের সঙ্গে ওই কক্ষে গিয়ে দেখতে পান, সানজিদার লাশ খাটের ওপরে পড়ে আছে। এ ঘটনার পর থেকে শহীদুল ইসলাম পলাতক। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহাসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। প্রাথমিক তদন্ত শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ভাস্কর সাহা বলেন, ওই গৃহবধূর লাশ জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর গৃহবধূর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
6
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভেগাই হালদার পাবলিক অ্যাকাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ওই স্কুলের কক্ষের ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই শিক্ষকের নাম রনজিৎ বাড়ৈ। তিনি বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রনজিৎ বাড়ৈয়ের দাবি, পাওনা টাকা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের স্ত্রী সাজেদা বেগম তাঁকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছেন। জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাবদ আগৈলঝাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুন আর রশিদকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ওই টাকা তুলে রনজিৎ বাড়ৈকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু রনজিৎ বাড়ৈ ওই টাকা প্রধান শিক্ষক হারুনকে না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেন। পরে রনজিৎ বাড়ৈকে একাধিকবার ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। তবে তিনি নানা টালবাহানা করে টাকা ফেরত দেননি। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে রনজিৎ বাড়ৈ একাধিকবার অশালীন আচরণ করেছেন। পরে হারুন আর রশিদের চাপে একপর্যায়ে তিনি স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। এখন রনজিৎ টাকা ফেরত না দেওয়ায় তিনি নিজের ধার পরিশোধ করতে পারছেন না। মিজানুর রহমান বলেন, 'সম্প্রতি পাওনাদার স্বজনেরা টাকা চেয়ে চাপ দিলে আমার স্ত্রী অপমানিত বোধ করে রেগে যান। আজ সকালে আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে স্কুলে আসেন। পরে আমরা দুজন রনজিৎ বাড়ৈর কাছে টাকা ফেরত চাই। টাকা চাওয়া নিয়ে আমার সঙ্গে রনজিৎ বাড়ৈর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রনজিৎ অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।' অভিযোগ সম্পর্কে সাজেদা বেগম বলেন, 'বারবার ওয়াদা দেওয়া সত্ত্বেও রনজিৎ টাকা দিচ্ছে না। এতে আমার পরিবার অপমানিত হয়েছে। যে কারণে রাগের মাথায় তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছি। কিন্তু লোহার রড নিয়ে মারার অভিযোগ সত্য নয়।' পাওনা টাকার বিষয়ে রনজিৎ বাড়ৈ বলেন, তাঁর সঙ্গে মিজানুর রহমানের আর্থিক লেনদেন রয়েছে। তবে বিভিন্ন সমস্যায় কারণে তিনি টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক। সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সীমা সরকার, জগদীশ মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রনজিৎ বাড়ৈ টাকা নিয়ে সময়মতো ফেরত দেননি। অন্যভাবে এটার বিচার করা যেত। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী স্কুলে ঢুকে রনজিৎ বাড়ৈর ওপর হামলার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সরদার বলেন, 'আমি বিষয়টি শুনেছি। দু-এক দিনের মধ্যে সভা ডেকে সমস্যার সমাধান করা হবে।' উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ তাঁর কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
শেখ রাসেলের জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে এই শ্রদ্ধা নিবেদন জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেত্রীবৃন্দরা।
6
অপহরণ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান আর্থার ফ্রেজার তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় রামাফোসার বিরুদ্ধে ৪০ লাখ ডলার চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী আর্থার ফ্রেজারকে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার ঘনিষ্ঠ বলে ধারণা করা হয়।তবে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে রামাফোসা জানিয়েছেন, 'তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অপরাধী কর্মকাণ্ডের কোনো ভিত্তি নেই।'তবে, অনেকের ধারণা সিরিল রামাফোসার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্ব পরিবর্তনে দৌড়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী তার অংশ হতে পারে। আগামী ডিসেম্বরে দলটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে।দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ বিভাগ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, 'একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে তদন্তসহ যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার গোয়েন্দা সংস্থা স্টেট সিকিউরিটি এজেন্সির (এসএসএ) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে আর্থার ফ্রেজার। তিনি বলেছে, মামলার প্রমাণ হিসেবে তিনি পুলিশের কাছে ছবি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ভিডিও ফুটেজ হস্তান্তর করেছেন।'
3
জঙ্গিবাদের 'পৃষ্ঠপোষক' বিএনপিকে জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা আওয়ামী লীগের কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, গণতন্ত্রবিরোধী সেই অশুভ শক্তি বিএনপিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সেটা আগামী নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হবে।' বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'তাদের কাজেকর্মে প্রমাণ হয়েছে তারা জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক। মুক্তিযুদ্ধের মুখোশ পড়ে তারা নির্বাচন আসে। তারা মুক্তিযুদ্ধের আর্দশ লালন ও পালন করে না।' মন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি আজ দিশেহারা ও বেপরোয়া। গত নয় বছরে নয় মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেনি। জনগণ তাদের নেতিবাচক রাজনীতির সাথে নেই। তাদের আন্দোলনের ডাকে জনগণ সারা দেয়নি। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়- দেখতে দেখতে নয় বছর। আন্দোলন হবে কোন বছর? বিএনপির আন্দোলনে মরা গাঙ্গে জোয়ার আসে না। বিএনপি হচ্ছে এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। ঘরে বসে প্রেস বিফিংয়ে মিথ্যাচারের ভাঙা রের্কড বাজায়।' দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজাপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'বিএনপির নেত্রী দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়েছে। আর বিএনপি বলে- সরকার তাকে জেলে পাঠিয়েছে। এটা কি সরকারের আদেশ না আদালতের আদেশ? তাহলে তাদের আন্দোলন কাদের বিরুদ্ধে? আদালতের বিরুদ্ধে তারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। এখন বিএনপি বলে- বিএনপিকে নাকি সরকার দেউলিয়া করে ফেলেছে। আমি বলবো- নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপি দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিএনপিকে দেউলিয়া করতে হবে না। আত্মঘাতী, নেতিবাচক রাজনীতি করে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আগুন দিয়ে যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তারা কি গণতন্ত্র বিশ্বাস করে? এরা ক্ষমতায় এলে এদের হাতে মানুষ কি নিরাপদ? এটা মুক্তিযুদ্ধের দেশ। তাই বিএনপির হাতে দেশ নিরাপদ নয়।' ওবায়দুল কাদের বলেন, 'দেশ বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। কর্মীরা হলো আওয়ামী লীগের প্রাণ। কর্মীরা বাঁচলে আওয়ামী লীগ বাঁচবে। দলের দুর্যোগের সময় এই কর্মীরাই দলকে বাঁচিয়ে রাখে।' টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে কর্মিসভায় অন্যদের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামছুর নাহার চাঁপা, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, ছানায়ার হোসেন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভায় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
9
হালকা কুয়াশা ভেজা অগ্রহায়ণের সকাল জানান দিচ্ছে শীতের। গ্রামাঞ্চলে একটু একটু করে বাড়ছে শীত। বাড়ছে লেপ-তোশকের কদর। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে তাই লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা।গত মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লেপ-তোশকের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে কারিগরদের ব্যস্ততা। এসব দোকানে সাজানো আছে নানান আকারের তৈরি লেপ-তোশক। সেই সঙ্গে লেপ তোশক তৈরিও হচ্ছে।এ সময় কথা হয় লেপ-তোশক ব্যবসায়ী ও কারিগর রহমত উল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'গত বছর করোনা ছিল। চাহিদা থাকলেও বিক্রি কম হয়েছে। তবে এ বছরের শীতের শুরু থেকেই বিক্রি বাড়ছে। আশা করছি পৌষ ও মাঘ মাসে আমাদের আশানুরূপ বিক্রি বাড়বে।'লেপ তৈরি করতে আসা হাসান মিয়া বলেন, 'কম্বল গায়ে দিলে লেপের মত আরাম লাগে না। তাই ১ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে কার্পাস তুলা একটি লেপের অর্ডার দিয়েছি।'স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর একটি সিঙ্গেল লেপ বানাতে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, সেমি-ডাবল লেপ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং ডাবল লেপ তৈরিতে ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর তোশক তৈরিতে খরচ নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।বাজিতপুর বাজারে লেপ-তোশক কারিগর জুলু মিয়া বলেন, এটি একটি সিজনাল ব্যবসা। বছরের তিন মাস কাজ থাকে। বাকি সময় তেমন কাজ থাকে না। তখন অন্য করতে হয়।
6
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জামিন পেয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র এম এ মান্নান। ফলে তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার মান্নানের জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। আদালত তিন মাসের জন্য মান্নানের জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ রানা ও আবু হানিফ। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। তিন মাসের জামিন পাওয়ায় অধ্যাপক মান্নানের জামিনে মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন মাসুদ রানা। তিনি জানান, জামিনাদেশের পাশাপাশি আদালত তাকে স্থায়ী জামিন প্রশ্নে চার সপ্তাহের রুলও জারি করেছেন। সিটি করপোরেশনের ত্রাণ ও দরিদ্র তহবিলে ১ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার ১৩২ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৬ টাকা ব্যয় করা হয়। ব্যাংক হিসেবের মাধ্যমে যথাযথভাবে এই ব্যয় করা হয়নি বলে গত ১৩ জুন দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলম জয়দেবপুর থানায় এ মামলা করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ওই মামলায় ১৯ জুন মেয়র মান্নানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র মান্নান প্রথম দফায় গ্রেফতার হন। পরে তাকে ২২টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সেসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভের পর চলতি বছর ২ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর ১৫ এপ্রিল তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কারাগারে থাকা মান্নানকে গত ১৮ এপ্রিল মেয়র পদ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে লাইজু আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই কিশোরীর বাবা সানু মিয়া ও কিশোরীর মামা মাজু মিয়া। সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আহমেদের আমলি আদালতে দু'জন এ জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. কবির হোসেন। ২৩ জুন নিখোঁজ হয় লাইজু। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত ২৭ জুন উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের লম্বাহাটির একটি খাল থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় লাইজুর মা সাহেদা বেগম অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে লাইজুর বাবা সানু মিয়া ও মামা মাজু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। সোমবার তারা লাইজুকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. কবির হোসেন সমকালকে বলেন, লাইজুর বাবা সানু মিয়া ও লাইজুর মামা মাজু মিয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে লাইজুর মামা মাজু মিয়া জানান, লাইজুর স্বভাব চরিত্র ভালো ছিল না। বিভিন্ন ছেলেদের সাথে শারীরিক মেলামেশা করতো। গত ২২ জুন মাজু মিয়ার বাড়ির পাশে একটি পাটক্ষেতে এক যুবকের সাথে মেলামেশা করতে দেখেন তিনি। তখন বিষয়টি লাইজুর বাবা সানুকে জানান মাজু। পরে ২৩ জুন সানু ও মাজু পরিকল্পনা করেন লাইজুকে হত্যা করার। ২৩ জুন রাতে মাজুর বাড়ির পাশে একটি খালের কাছে নিয়ে গিয়ে লাইজুর গলায় থাকা ওড়না পেচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তারা দু'জন। এরপর লাশ পাশের একটি খালের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন জানান, স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এবং লাশের অবস্থার আলোকে প্রাথমিকভাবে আমাদের সন্দেহ হয় এটি হত্যাকাণ্ড। পরে নিহতের পরিবারের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তারা হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
6
হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০২১-২০২৫) নির্বাচনে ২৭ পদে ৩৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গত রোববার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।এর মধ্যে সহসভাপতির চার পদে পাঁচজন, সাধারণ সম্পাদক পদে দুজন, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে দুজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দুই পদে তিনজন, কোষাধ্যক্ষ পদে দুজন, নির্বাহী সদস্য (১৪ পদ) ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের (২ পদ) ১৬ পদে ২০ জন।ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৬ ও ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। মনোনয়নপত্র বাছাই ও বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ২ নভেম্বর। প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল ৩ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ৭ নভেম্বর ও ভোটগ্রহণ ১০ নভেম্বর। হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়াম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ হবে।
6
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশগুলো যার যার মতো করে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে কোনো দেশে লকডাউন, কোনো দেশে শাটডাউন করা হয়। কেউ কেউ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে বাইরে থেকে মানুষের প্রবেশ ঠেকায়। দেশের ভেতরে চলাচল-মেলামেশায় আরোপ করা হয় নানান বিধিনিষেধ। এসব করে একটা পর্যায় পর্যন্ত ঠেকানো গেছে ভাইরাস। এখন দেওয়া হচ্ছে টিকা। কিন্তু বিশ্ব থেকে করোনা কত দিনে নির্মূল করা যাবে, তা এখনো কেউ জানে না। তাই সাবধানতা মেনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। এর মধ্যে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে 'টিকা পাসপোর্ট'। ধারণাটি নতুন এবং এর কিছু বিরূপ প্রভাবও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা টিক নেওয়া মানুষেরাই এই টিকা পাসপোর্ট পাচ্ছেন বা পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বের শতাধিক দেশে এখনো পর্যন্ত একটি মানুষও টিকা পায়নি। তাঁদের কী হবে? আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে, চীন, ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা পর্যটনের মতো করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক খাত পুনরুজ্জীবিত করতে নিজেদের মতো করে টিকা পাসপোর্টের প্রচলন করেছে। যাঁরা করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন, তাঁদের একধরনের সনদ দেওয়া হচ্ছে। এতে ওই ব্যক্তিরা অবাধে দেশে ও দেশের বাইরে চলাচলের সুযোগ পাবেন। তবে সংশয়বাদীরা সতর্ক করে বলছেন, টিকা পাসপোর্টের নতুন ধারণা গ্রহণ করার আগে এর সম্ভাব্য সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাবের বিষয় বিবেচনা করা দরকার। বিস্তৃত অর্থে টিকা পাসপোর্টকে ছোট্ট একটি নথি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যার মাধ্যমে কেউ কোভিড-১৯-এর টিকা নিয়েছেন, সে বিষয়টিকে প্রমাণ করা যাবে। এটি সই করা ও স্ট্যাম্পসংবলিত সনদ বা মুঠোফোনের কিউআর কোডও হতে পারে। যথাযথ কর্তৃপক্ষই এটি দেবে। যুক্তরাজ্যের নফিল্ড কাউন্সিল অন বায়োথিক্সের চেয়ার ডেভ আর্চার্ড আল-জাজিরাকে বলেন, বিদেশে ভ্রমণ থেকে শুরু করে নাট্যশালা ও রেস্তোরাঁয় ঢোকার মতো নানা ক্ষেত্রে টিকা পাসপোর্ট কাজে লাগানো যেতে পারে। টিকা নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করার এমন পদ্ধতি নিয়োগদানের ক্ষেত্রে 'বৈষম্যমূলক' পরিস্থিতি বা 'দ্বিস্তরবিশিষ্ট সমাজ'-ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করে দেন ডেভ আর্চার্ড। তিনি বলেন, বিশেষত ওই সব ক্ষেত্রে এই অবস্থা তৈরি হতে পারে, যেখানে কাউকে উন্মুক্ত স্থানে প্রবেশ করা বা দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য কিছু সামাজিক রীতির অংশ হিসেবে নথিভুক্তিকরণ প্রয়োজন হয়। করোনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ গণহারে টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। করোনাকালে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্বাভাবিক করতে সীমান্তগুলো আবার নিরাপদে খুলে দেওয়া এবং কঠোর লকডাউন কর্মসূচির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া অর্থনীতিকে গতিশীল করার একটি সম্ভাবনাময় কৌশল হয়ে উঠেছে টিকা পাসপোর্ট। তত্ত্বগতভাবে, টিকা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে, অর্থাৎ টিকা পাসপোর্ট এ মহামারি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে টিকা নেওয়া পর্যটকদের সার্বজনীনভাবে স্বাগত জানাতে পারে বিভিন্ন দেশ। পাশাপাশি সংক্রমণের আতঙ্ক কাটিয়ে বিশেষত পর্যটনের মতো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলো পুরোপুরি খুলে দিতে পারে দেশগুলো। বাস্তবে নতুন পাসপোর্ট (টিকা গ্রহণের সনদ) কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তা ছাড়া এ ব্যবস্থায় বৈষম্য বেড়ে যাওয়া, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও এমনকি কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ আছে। নিজস্ব ধাঁচে টিকা পাসপোর্ট বা সনদের ব্যবহার এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছে কিছু দেশ। যদিও এই ধারণা নিয়ে কোনো বৈশ্বিক ঐকমত্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ ইসরায়েলের কথা বলা যায়। দেশটি গ্রিন পাস নামে সরকার অনুমোদিত টিকা পাসপোর্ট চালু করেছে। এই সনদের মাধ্যমে সেখানকার লোকজন প্রমাণ দেখাতে পারছেন যে তাঁরা কোভিড-১৯ প্রতিরোধে টিকা নিয়েছেন ও তাঁরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে যথেষ্ট সক্ষমতার অধিকারী। এই পাসপোর্টের মেয়াদ ছয় মাস। টিকা পাসপোর্টধারীরা করোনা বিধিনিষেধের আওতায় থাকা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনেকটাই বাধাহীনভাবে অংশ নিতে পারছেন। যেমন তাঁরা ব্যায়ামাগার, রেস্তোরাঁ বা নাট্যশালায় যেতে পারছেন। বিদেশে যাওয়ার সুযোগ ও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাও এড়াতে পারছেন। টিকা পাসপোর্ট চালুর মাধ্যমে ইসরায়েল গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে একটি চুক্তিতেও এসেছে। এর অধীন টিকার সনদধারী ব্যক্তিরা এ তিন দেশের মধ্যে অবাধে যাতায়াত করার সুযোগ পাচ্ছেন। একই রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে চীন ও বাহরাইন। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও সুইডেন এমন কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
3
নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন কীভাবে দেশ ছেড়েছেন, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জানাতে গতকাল রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ। এর আগে গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।গতকাল শুনানিতে আদালত দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, 'আসামি দেশত্যাগ করে চলে গেলেন আর আপনারা নীরব দর্শক হয়ে দেখছেন? যেখানে দুদক, বিএফআইইউ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, তারপরও তিনি কীভাবে পালিয়ে যান? মামলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আছে, তদন্ত হচ্ছে, তারপরও কীভাবে তিনি দেশত্যাগ করলেন?'তখন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, 'আমরা কাজ করছি।' আদালত বলেন, 'বুঝলাম তো আপনারা কাজ করছেন, তাহলে গেল কী করে? কী পদক্ষেপ নিলেন?' দুদকের আইনজীবী বলেন, এটা নিয়ে অফিসের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কথা না বলে কিছু বলতে পারব না।আদালত বলেন, 'অনেক কাজ করতেছেন, এটা তো মুখে বললেই হবে না। পালানো তো থামাতে পারছি না। আমরা যদি এখন এসব বিষয়ে লক্ষ না রাখি, তাহলে তো দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা চাই আমাদের অর্থনীতি ভালো থাকুক, দেশের উন্নয়ন হোক, মানুষ যাতে ডাল-ভাত আনন্দের সঙ্গে খেতে পারে। এভাবে টাকা যদি বাইরে চলে যায়, তাহলে দেশের মানুষ কীভাবে সুন্দর জীবনযাপন করবে? এগুলো আমাদের দেখতে হবে। এটা দেখা দুদকের প্রধান দায়িত্ব। জনগণের ঘাম ও শ্রমের টাকা, প্রবাসীরা কত কষ্ট করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। সেই টাকা যদি এভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যায়, এটা মারাত্মক বিষয়।'
6
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে। এ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা চাই। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রদর্শনীতে নগরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের আশাব্যঞ্জক সাড়া মিলেছে। অনেকেই এদিন গিয়েছেন কীভাবে ইভিএমে ভোট দিতে হয় জানতে। সিইসি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান- আপনারা আসুন, আপনাদের মধ্যে যদি কোনো প্রযুক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি থাকেন তাকে নিয়ে আসুন; পরীক্ষা করুন। আমাদের যদি কোনো ভুলভ্রান্তি থাকে তা শুধরে দিন। তবে ইভিএম থেকে পিছিয়ে যাওয়ার আর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে এখনই শুরু করতে হবে। ভুল হলে প্রশ্ন থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে, আবার এগিয়ে যেতে হবে। আবার ভুল হবে, আবার সামনে যাব। প্রযুক্তি এক জায়গায় থেমে থাকে না, প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ইভিএমকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে ভোটের অধিকার দেওয়ার চেষ্টা করব। সিইসি বলেন, ভোটাররা যদি খুশি থাকেন, আমরাও খুশি। ভোটাররা যদি নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারেন, আমরা নিশ্চিন্ত। ইভিএমের অনুকূলে আইন ও বিধি প্রণয়ন হয়েছে। ইভিএমে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে সব ধরনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো গোয়ালা তার দইকে খারাপ বলে না, একইভাবে (ইভিএম ব্যবহার) আমরাও খারাপ বলি না। আপনারা খেয়ে দেখেন, যদি খারাপ হয় তাহলে কেউ খাবেন না। তখন আমরা এমনিতেই ফেলে দেব। আরেক নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, নির্বাচন কমিশনে শপথ নিয়ে এসেছি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য। এখানে কারও কোনো সন্দেহের ক্ষেত্র আছে বলে মনে করি না। যদি আইনগুলো ঠিকমত প্রয়োগ করি এবং সবাই যদি আইন মেনে চলি তাহলে যে কোনো বিতর্কের ঊর্ধ্বে ওঠা সম্ভব। মুক্ত আলোচনায় ইসির উদ্দেশে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইভিএম বিষয়ে আপনারা রাজনৈতিক দলগুলোকে আবার ডাকেন। প্রয়োজনে ধরে নিয়ে আসুন। তাদের দেখান। এই যন্ত্রে ভোট দিতে যাদের হাতের আঙুলের ছাপ মিলবে না, তাদের বিষয়টি ভোট গ্রহণের সময় বিবেচনা করতে হবে বলে মত দেন তিনি। এ বিষয়ে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলাতে সময় লাগলে প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ নির্ধারিত সময়ের পরও বাড়ানো হবে। কারণ ফলাফল পেতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক মিনিট। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইভিএম নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার উপস্থিত ছিলেন না। তিনি শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে ভিন্নমত দিয়ে আসছেন। এদিকে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইভিএম প্রদর্শনীতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে উৎসুক ভোটারদের। মাগুরার মহম্মদপুরের চরপাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মান্নান জানান, তিনি থাকেন পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে। ইভিএম প্রদর্শনীর কথা শুনে এসেছেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি জানান, প্রক্রিয়াটা খারাপ না। জালিয়াতির কোনো সুযোগ দেখছেন না। এভাবে ভোট দিতেও খুব মজা।
6
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমকক্ষ কেউ নেই। বঙ্গবন্ধু লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছেন এবং তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। এখানে কারও অংশীদারিত্বের সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কেউ কোনো প্রকার অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের সদ্য ঘোষিত মধ্যনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেপ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত গণসংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর খাদ্য ঘাটতি পূরণ, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সারাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এই প্রকল্পের কারণে হাওরাঞ্চলে অনেক অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। মধ্যনগর বাজারে উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ আয়োজিত গণসংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও মধ্যনগর থানা যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদের পরিচালনায় বক্তব্য দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান, স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, রেজাউল করিম শামীম, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখত, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন, মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম ফারুকী প্রমুখ।
6
'মনোলীনা' ছিল প্রতিভা বসুর প্রথম উপন্যাস। এটি লেখা হয়েছিল বসুমতী সাহিত্য মন্দিরের সুবোধ মজুমদারের অনুরোধে। অনুরোধটা অবশ্য ছিল এ রকম-বুদ্ধদেব বসু আর প্রতিভা বসু দুজন মিলে লিখলেন একটি প্রেমের উপন্যাস। অর্থাৎ প্রতিভা বসুর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, বুদ্ধদেবের সঙ্গে প্রতিভার নামটাও থাকবে। আর আসলে তো পুরোটাই লিখে দেবেন বুদ্ধদেব, তেমনটাই ছিল সুবোধ মজুমদারের ধারণা।কিন্তু সেই সময়টা ছিল বৈরী। সন্তানের জন্ম হয়েছে, তার পেছনে সময় দিতে হচ্ছে। আর বুদ্ধদেব ব্যস্ত নিজের কাজে। প্রতিভা তখন মায়ের কাছে এসেছেন ঢাকায়। বুদ্ধদেবকে ফিরে যেতে হয়েছে কলকাতায়। এ রকম একটা সময়ে প্রস্তাবটা এসেছিল। যেহেতু এই দুর্দিনে টাকাপয়সা পাওয়া যাবে, তাই বুদ্ধদেব বললেন, 'যা মনে হয় লেখো, যতটুকু পারো লেখো, কষ্ট করে কিচ্ছু কোরো না। আমি এত ব্যস্ত যে কিছুতেই হাত দিতে পারছি না। অথচ টাকার প্রয়োজনে সম্মত না হয়েও পারছি না।'বুদ্ধদেবের অনুরোধটা ভালো লাগল প্রতিভার। তিনি লিখতে বসলেন। যত দিনে কলকাতায় ফিরে এলেন, তত দিনে বই লেখা প্রায় শেষ। সেই পাণ্ডুলিপি পড়ে বুদ্ধদেব প্রশংসার সাগরে ভাসিয়ে দিলেন প্রতিভাকে। বললেন, 'তুমি তো শেষ করে এনেছ বইটা। তোমার লেখায় আমি কোথায় আমার লেখা ঢোকাব? বরং আর একটা বই লেখা যাবে, যেটা সত্যি সত্যি অর্ধেক তোমার, অর্ধেক আমার।'কিন্তু এই বই ছাপবে কে? বইটির বিষয়বস্তু ছিল বিবাহিত মেয়ের স্বামী বর্তমানেও প্রেমে পড়ে পুনর্বিবাহ। শেষ পর্যন্ত বইটি ছাপা হয়েছিল বুদ্ধদেব বসুর কবিতা ভবন প্রকাশনা সংস্থা থেকে। কবিতা পত্রিকার পাশাপাশি বুদ্ধদেবের এই প্রকাশনা সংস্থাও ছিল। বলা ভালো, এই প্রতিষ্ঠান থেকেই জীবনানন্দ দাশের 'ধূসর পাণ্ডুলিপি', সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'পদাতিক', সময় সেনের 'কয়েকটি কবিতা' বের হয়েছিল।সূত্র: প্রতিভা বসু, জীবনের জলছবি, পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
2
ক্যাম্পাসের গাছ থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখন উত্তাল। আম পাড়ার কারণে এক ছাত্রকে তাঁর স্ত্রীর সামনে এক সহকারী প্রক্টর থাপ্পড় মেরেছেন। এ ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিবাদে ঘোষণা দিয়ে শনিবার ক্যাম্পাসের সব গাছ থেকে তারা আরও আম পেড়েছেন। ছাত্রদের দাবি, আম পাড়া তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। প্রতিবাদ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ক্যাম্পাস থেকে আম পাড়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাসান আলী নামে এক ছাত্রকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে পাঠানো হাসান আলীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, হাসান একই বিভাগের ছাত্রী ও তার স্ত্রী এবং বাসা মালিকের ছােট্ট মেয়েকে নিয়ে ক্যাম্পাসের ঘুরতে যান। পরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব হলের সামনে আম পাড়তে গাছে উঠেন এবং ৮/১০টি আম সংগ্রহ করেন। এ সময় আরিফুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে হাসানকে গাছ থেকে নেমে আসতে বলেন। গাছ থেকে নেমে ওই ছাত্র শিক্ষককে না চিনতে পেরে 'ভাই' বলে সম্বোধন করেন এবং ছাত্র হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। তিনি তখন ওই ছাত্রকে বলেন 'ছাত্র হইছিস তাে কি হয়েছে! আমসহ সামনে দাড়া! তাের ছবি উঠাব' বলে শাসান। পরে ভুক্তভোগী ভুল স্বীকার করা সত্ত্বেও সহকারী প্রক্টর বলেন 'ক্যাম্পাস কি অরাজকতা পাইছিস! তােদের কারণে ক্যাম্পাসে কিছু থাকে না।' একপর্যায়ে আরিফ ভুক্তভোগীকে সজোরে থাপ্পড় দেন এবং ওই হলে তাদের আটকে রাখেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি হাসান ও বাকি দুজনকে ছেড়ে দেন। হাসান আলী বলেন, 'নিজের ক্যাম্পাসের গাছ থেকে আম পাড়ায় থাপ্পড় খেতে হলো। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই লাঞ্ছনার বিচার চাই।' সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলাম বলেন, 'আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সামনে অপরাধ দেখলে চুপ থাকবো না। সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো প্রটেক্ট করার।' এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে আম পাড়া কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র হাবিবুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিবাদ স্বরূপ দুুপুরের দিকে ক্যাম্পাসে যান এবং তিন-চারজন মিলে ১০ থেকে ১২টি আম পাড়েন। হাবিবুল আরও বলেন, আম পাড়াটা মূলত উদ্দেশ্যে নয়, প্রতিবাদটাই মুখ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আগামীকাল সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।'
5
তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে দেশে ভোজ্যতেলের দাম দ্রুত সময়ের মধ্যে কিছুটা কমে আসবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।আজ শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, 'গত ৪০ বছরে সারা বিশ্বে ভোজ্যতেলের দাম যে পরিমাণ বাড়েনি, সম্প্রতি তার চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। সরকার ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমার মনে হয় দ্রুত সময়ের মধ্যে তেলের দাম কিছুটা কমে আসবে।'মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা পরিষদের নির্বাচনের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, 'নতুন নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে। আমার বিশ্বাস, তাদের প্রথম কাজ হিসেবে শিগগিরই জেলা পরিষদের নির্বাচন দেবে।'বিশেষ বর্ধিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হান্নান রতন, সদস্য মো. শাহ আলম, কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল কাউছার ভূইয়া, কসবা পৌরসভার মেয়র গোলাম হাক্কানী প্রমুখ।
6
সোনামণির ছোট্ট ঘরটা সুন্দর করে সাজিয়ে তুলুন। যেন ঘরের ভেতর ঢুকলেই সে শান্তি পায়। বিশেষ করে আসবাবগুলো রাখুন তার মনের মতো।তার বিছানা যদি হয় বাংক বেড, তাহলেও কিন্তু মন্দ হয় না। আপনার যদি দুটো সন্তান থাকে তাহলে দুজনের জন্য বাংক বেড রাখা যেতেই পারে। এতে ঘরের জায়গা বাঁচবে। দেখতেও ভালো লাগবে। শিশুর ঘরে স্টিল, লোহা, কাচ ও ভারী ধাতব কিছু রাখবেন না। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।শিশুরা ছোটাছুটি, লাফালাফি করতে ভালোবাসে। তাই শিশুর ঘরের ভেতর গাদাগাদি করে আসবাব রাখবেন না। ঘরের ভেতর সে যেন খেলাধুলা করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন।শিশুর ঘরের জন্য কম উচ্চতার আসবাব কিনুন। এতে সে সহজেই খেলনা, বইপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতে নিতে পারবে।শিশুর খেলনা গুছিয়ে রাখার জন্য র্যাক কিংবা ঝুড়ি কিনতে পারেন। কিনতে পারেন ছোট আলমারি।সন্তানের লেখাপড়ার জন্য এবং ঘরের জায়গা বাঁচানোর জন্য ঘরে ফোল্ডিং টেবিল কিনতে পারেন। পড়াশোনার পর সেটি ভাঁজ করে একপাশে রাখা যাবে। আরএফএল, বেস্ট বাই ইত্যাদিতে শিশুদের উপযোগী ফোল্ডিং টেবিল পাওয়া যায়।খেলতে গিয়ে শিশুরা যেন ব্যথা না পায়, সে জন্য ঘরের ভেতর কার্পেট বিছাতে পারেন। তাতে ব্যথা পাওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে।
6
দুর্নীতি দমন করা খুব সহজ কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্রাব) লেখক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'আমি যখন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু করার চেষ্টা করেছি। দুর্নীতিবিষয়ক রিপোর্ট করার জন্য মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড চালু করেছি। তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অতি সহজে দুর্নীতি চলে যাবে-এমনটি কিন্তু ঠিক নয়। দুর্নীতি দমন করা খুব একটা সহজ কাজ নয়।'ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্রাবের সদস্যদের মধ্যে যাঁদের সৃজনশীল সাহিত্যের বই প্রকাশিত হয়েছে, এমন ২১ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পোস্টের প্রধান সম্পাদক শরীফ শাহাব উদ্দিন বলেন, 'আমি সাহিত্যের ছাত্র হয়েও ১০ বছর ধরে বই লিখব করে লিখতে পারছি না। কিন্তু আপনারা যাঁরা ক্রাইম রিপোর্টার হয়েও বই লিখছেন, তাঁদের আমি স্বাগত জানাই।'ক্রাবের সভাপতি মিজান মালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফসহ অন্যরা।
6
সাবমেরিন থেকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে আবারও আলোচনা হতে পারে বলে জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিসাইল উৎক্ষেপণ করলো দেশটি। বুধবার উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বিবিসির। মিসাইলটি একটি পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। চলতি বছরে এ নিয়ে ১১তম বার মিসাইল উৎক্ষেপণ করলো উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিসাইলটি ওনসান বন্দরের কাছাকাছি কোনো এক জায়গা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। তারপর ভূমি থেকে ৯১০ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে ৪৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে মিসাইলটি জাপান সাগরে পতিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়া এখন থেকে তার সীমানার বাইরের বহু দূর থেকেও এই ধরনের মিসাইল উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সুরক্ষার ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
3
ঢাকা: পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় বসে এখন থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান দেখা যাবে। সরকারি এই সম্প্রচার মাধ্যম তাঁদের অ্যাপ চালু করেছে।আজ বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিটিভির অ্যাপের উদ্বোধন করেন।এসময় সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, 'পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে এখন বিটিভি দেখা যাবে। মানুষের এখন ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। এখন সময় করে আর প্রতিদিন টিভির সামনে সবাই বসতে পারেন না। সবার হাতেই এখন মোবাইল ফোন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিটিভি অ্যাপ চালু করেছে, এটি প্রশাংসার দাবি রাখে।'ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্র এবং ১৪টি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বর্তমানে বিটিভির সম্প্রচার কার্যক্রম চলছে। আরও ছয়টি বিভাগীয় শহরে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিটিভির ছয়টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।এক প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ঈদের পরে লকডাউন বাড়বে কিনা সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানাবে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দিনের পর দিন লকডাউন দিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।বিটিভির মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন বলেন, বিটিভিকে আরও বেশি মানুষের কাছে নিতে এই অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
6
মাগুরায় পাটের দাম কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন সোনালি আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে। এক সপ্তাহ হলো পাট বিক্রি করতে পারছেন না তাঁরা।মাগুরা পাটের বড় আড়তদার এবং পাইকারি হাট নতুন বাজার এলাকা। সেখানের ব্যবসায়ীরা জানান, পাটের দাম এখন কমের দিকে। যেখানে পাট কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ী থেকে তাঁরা কিনেছেন ৩৪০০ টাকা মন। গত এক সপ্তাহ ধরে দাম কমে গেছে মণ প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।জেলা পাট সমিতির সহসভাপতি উদয় শংকর সাহা বলেন, পাট যারা জেলা থেকে কেনেন তাঁর প্রায় বেশির ভাগ রপ্তানি হয়। ইউক্রেন, পোল্যান্ড এবং রাশিয়াতে পাটের চাহিদা অনেক। আমাদের মাগুরা থেকে প্রতি মৌসুমে ব্যাপক হারে পাট ক্রয় করেন বড় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা গত এক সপ্তাহ ধরে পাট কিনতে চাইছেন না।এই ব্যবসায়ী জানান, বড় ব্যবসায়ীরা যারা মাগুরা থেকে ট্রাক ভরে পাট কিনতেন তারা এখন আর কিনছেন না। যদিও বা কেউ কিনতে চাইছে কিন্তু দাম মণে ৫০০ টাকা কম দিচ্ছেন। ফলে এক সপ্তাহে কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি গুনতে হয়েছে।নতুন বাজার এলাকায় প্রধান সড়কে পাশে এসব পাইকার আড়তে পাট পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পুরো এলাকায় যেখানে পাট কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকার কথা সেখানে কিছু ভ্যানে করে প্রান্তিক কৃষকেরা পাট বিক্রি করতে দেখা গেছে। এমনই একজন কৃষক শাহজাহার শিকদার। ভ্যান নিজে চালিয়ে শহরে এসেছেন পাট বিক্রি করতে।মাগুরা ভুসি মাল ও পাট সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, সমিতির প্রতিটি ব্যবসায়ীর দিন যাচ্ছে খারাপ। পাট বিক্রি বলা যায় অনেকটাই কম। এর জন্য আমরা বেশ কিছু বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁরা বলেছেন পাট দেশের বাইরে তেমন একটা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইউরোপে। এর মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়াতে কিন্তু পাটের চাহিদা অনেক। সেখানে তো যুদ্ধ চলছে। তাই পাট এই প্রান্তিক জায়গা থেকে বিক্রি হচ্ছে না। যা হচ্ছে তাতে দাম খারাপ। প্রতি মনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ক্ষতি গুনতে হচ্ছে আমাদের।কৃষি অধিদপ্তের উপ-পরিচালক ড. হায়াৎ মাহমুদ জানান, বিশ্বের কয়েকটি দেশে আমাদের পাট যায়। এই মুহুর্তে পাটের দাম কম কেন সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।
6
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তাহিরপুর উপজেলার পাশাপাশি মধ্যনগর উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাদামখেত। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাদামখেত তলিয়ে যাওয়ায় জমিতেই পচে নষ্ট হচ্ছে বাদাম।উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে গেছে বাদামখেত। অনেক জমিতেই বাদাম পচে নষ্ট হচ্ছে। ডুবে থাকা ফসল বাঁচানোর চেষ্টায় খেত থেকে বাদাম তুলছেন কৃষকেরা।বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের কৃষকেরা জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢোকায় বাদাম চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ইউনিয়নের বেরবেরিয়া হাওরের উঁচু অংশে প্রতিবছর কৃষকেরা বাদাম চাষ করেন। বেশি দামে বাদামের বীজ কিনে চাষ করেছিলেন কৃষকেরা কিন্তু হাওরে পানি ঢোকায় তাঁদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।বাদামচাষি মোস্তফা মিয়া বলেন, '৮ হাজার টাকা মণ বীজ কিনে জমিতে বাদামের চাষ করি। সব এখন পানির নিচে। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি, এখন মহাজনের টাকা কীভাবে দেব এই চিন্তায় আছি।'তাঁরা আরও জানান, ধারদেনা করে তাঁরা বাদামের চাষ করেন। এখন বাদাম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে বসার মতো অবস্থা হয়েছে তাঁদের। ৮ হাজার টাকা দরে এক মণ বাদামবীজ কিনতে হয়েছে। ধানের পাশাপাশি বাদামও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে তাঁদের।কৃষক নূরজাহান বেগম বলেন, 'বাদাম তলাইয়া কোমরপানি হইয়া গেছে। কত টেহা-পয়সা খরচ কইরা বাদাম করছি। দেড় কেয়ার জমির বাদাম পানির নিচে তলাইয়া গেছে। যেটুকু উঠাইছি, তাও রইদের (রোদ) অভাবে নষ্ট হইতাছে।'উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় পাঁচ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করেন কৃষকেরা। পাহাড়ি ঢলে প্রাথমিকভাবে দুই উপজেলায় আধা হেক্টর বাদামখেত নষ্ট হয়ে গেছে।বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, 'কৃষকেরা ধান চাষের পাশাপাশি বাদামও চাষ করেছিলেন। পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর অংশের নজরখালী বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওরের মধ্যনগর অংশে ধানের পাশাপাশি বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী অংশটি মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলা সমন্বয় করে এখানে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক। তাহলে ক্ষয়ক্ষতি থেকে এই এলাকার জনগণ বেঁচে যাবে।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, 'ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরা পুঞ্জিতে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে উপজেলায় বেশ কয়েকটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বাদামচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছি। সরকারিভাবে ভুক্তভোগীদের জন্য প্রণোদনা এলে তা যথা সময়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।'
6
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে চলমান বিক্ষোভকে লক্ষ্য করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের গুলি চালানোর ভিডিও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয় ভারতজুড়ে। এবার বিক্ষোভকারীদের ভিড় থেকে গুলি চালানো হয়েছে দাবি করে পাল্টা ছবি প্রকাশ করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ওই ছবি মেরঠের বিক্ষোভের বলে দাবি করা হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। পুলিশ দাবি করেছে, গত ১৯ থেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিএএ ও এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভ এমন আকার ধারণ করেছিল যে, তারা গুলি চালাতে বাধ্য হন। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ যে ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে ভিড়ের মধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েক জনকে দেখা গেছে। নীল পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে হাতে বন্দুক উঁচিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে, কালো জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তি হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রয়েছেন। পুলিশের দাবি, ওই ছবি গত শুক্রবারের। বিক্ষোভকারীদের 'হিংসাত্মক' কার্যকলাপের কথা বলতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মা বলেন, '২১টি জেলাজুড়ে বিক্ষোভের জেরে ২৮৮ জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। এর মধ্যে ৬২ জন পুলিশকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।' সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই অগ্নিগর্ভ উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকা। সিএএ ও এনআরসি-র বিরোধিতায় রাস্তায় নেমে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এর মধ্যে শুধুমাত্র মেরঠেই মারা গেছেন ছয়জন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও তা প্রাথমিকভাবে অস্বীকার করেছিল রাজ্যটির পুলিশ। সম্প্রতি বিজনৌরে বিক্ষোভে গুলিতে এক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় গুলি চালানোর কথা স্বীকার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
3
রাত পোহালেই মাঠে গড়াবে বহুল প্রত্যাশিত বিপিএলের অষ্টম আসরের ফাইনাল। রেকর্ড তৃতীয় শিরোপার লক্ষ্য কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের, আর ফরচুন বরিশালের লক্ষ্য প্রথম শিরোপা। কে জিতবে এবারের বিপিএল শিরোপা? আজ শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হয়ে গেলো বিপিএল ট্রফি নিয়ে দুই দলের অধিনায়কের ফটোসেশন। কিন্তু ফটোসেশনে আসেননি বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার বদলি উপস্থিত ছিলেন সহ-অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। অন্যদিকে, কুমিল্লার নিয়মিত অধিনায়ক ইমরুল কায়েসই ফটোসেশনে অংশ নিয়েছেন। জানা গেছে, পেটের পীড়ায় ভুগছেন নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তাই সহ-অধিনায়ক হিসেবেই ফটোসেশনে এসেছিলেন সোহান। তবে ফাইনালে সাকিবের নেতৃত্বেই মাঠে নামতে চায় বরিশাল। আগামীকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে। গ্রুপপর্বের দেখায় দুই দলই জয় পেয়েছিল একবার করে। কিন্তু প্রথম কোয়ালিফায়ারে সাকিবের বরিশালের কাছে ১০ রানে হারে ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা। অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলের শিরোপা জিতেছেন সাকিব-ইমরুল দুজনেই। তাই এই মঞ্চ তাদের নতুন নয়। কীভাবে ফাইনালে স্নায়ু শীতল রাখতে হয়, তা দুই ক্যাপ্টেনই জানে। ফরচুন বরিশালের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন জানালেন, জিতবে সেই, যার নার্ভ থাকবে শক্ত। তার মতে, ফাইনাল হলো স্নায়ুক্ষয়ী খেলার জায়গা। এখানে সেই জয় পায়, যার স্নায়ু খেলার মাঠে শক্ত থাকে বেশি। খেলার মাঠে ভেঙে পড়লে হারতে হবে ম্যাচ। এবারের বিপিএলের সবচেয়ে তারকাবহুল দুটি দল হলো কুমিল্লা ও বরিশাল। মূলত ভালো মানের বিদেশি ক্রিকেটার এনে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়িয়েছে এ দুদলই। সেইসঙ্গে দেশীয়দের কম্বিনেশনেও সেরা ছিল এ দুটি দল। সে হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা দুটি দলই উঠেছে শিরোপা মঞ্চে। ক্রিস গেইল, ডোয়াইন ব্রাভো, মুজিব উর রহমান, মঈন আলী, ফাফ ডু প্লেসি, সুনিল নারিনদের মতো ক্রিকেটারেরা বিশ্ব টি-টোয়েন্টি লিগ মাতিয়ে বেড়ান। এ খেলোয়াড়েরাই এবার কুমিল্লা ও বরিশালের হয়ে মাতাবেন ফাইনাল ম্যাচ। বরিশাল কোচ সুজন বলেন, 'কুমিল্লা খুব শক্তিশালী দল। তবে মনস্তাত্ত্বিকভাবে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে বরিশাল। প্রথম কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লাকে হারিয়েই ফাইনালে ওঠে বরিশাল। এই জয় মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে বরিশালকে। তবে খেলাটা যেহেতু মাঠের, জয় পেতে মাঠের খেলাতেই হারাতে হবে প্রতিপক্ষকে।'
12
সারাদিনই টিকটক ভিডিওতে ব্যস্ত থাকতেন ভারতের চুঁচুড়া ভগবতীডাঙায় এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ মন্ডলের স্ত্রী প্রতিমা মন্ডল, তাদের একটি পাঁচ বছরের মেয়েও রয়েছে। তার প্রোফাইলের নাম ছিল জাসমিন। মাত্র ৯ মাসেই ৪ লাখ ২৮ হাজার ফলোয়ার জাসমিনের। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় ভারতে। পরে তার খোঁজ পাওয়ার পর একের পর এক ঘটনা খোলাসা হচ্ছে। এবার ভাসুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে সুর চড়ালেন টিকটকখ্যাত হুগলির এই গৃহবধূ। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তার স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগে সরব হলেন তিনি। তার অভিযোগ, পরিবারের অন্যদের সহায়তায় ভাসুর ধর্ষণ করতে চেয়েছিল, এই ভয়েই বন্ধুর সাথে বাড়ি ছাড়ি। তারা প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ গৃহবধূর। অসহায় অবস্থায় ভারতীয় পুলিশের কাছে তিনি সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন। জানা যায়, টিকটক ভিডিও করে দিন দিন বাড়ছিল তার ফলোয়ারের সংখ্যা। বাড়ছিল পরিচিতিও। সেই পরিচিতির জন্যই দিল্লিতে ব়্যাম্প শোয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন টিকটকে জাসমিন নামে পরিচিত ওই গৃহবধূ। গত ৩১ ডিসেম্বর চুঁচুড়ার ভগবতীডাঙার বাসিন্দা ওই গৃহবধূ দিল্লিতে সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই রওনা দিয়েছিলেন। এরপরই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে গৃহবধূর স্বামী চুঁচুড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ এর আগেও একাধিকবার স্বামী সন্তানকে রেখে ঘর ছেড়েছিলেন ওই গৃহবধূ। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
বর্তমান সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণেই দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের সব সম্পদ লুট করেছে আওয়ামী লীগ। মির্জা ফখরুল বলেন, সমগ্র বাংলাদেশের অপছন্দের নাম আওয়ামী লীগ। তাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনেই সংকট নিরসন সম্ভব। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকারের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে যে আগুন লাগিয়েছে সরকার তাতে জ্বলছে সব মানুষ, সকলের মুক্তির জন্য সরকারকে হটাতে হবে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
নির্দলীয় হলেও আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের কারণে সিলেটে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য আগামী ২৩ নভেম্বর বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠেয় জনসভাটি স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ওই নির্বাচনের তফসিল রোববার ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া এই তথ্য জানিয়ে আরও বলেছেন, জনসভা স্থগিত হলেও সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে নবগঠিত সদর দপ্তর ১১ পদাতিক ব্রিগেডের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, রশিদুল আলম, ড. আবদুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ওই জনসভার ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি সার্বিক প্রস্তুতি ছিল শেষ পর্যায়ে। এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় শেখ হাসিনার সিলেট সফরকে সামনে রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগে চাঙ্গাভাব দেখা দেয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে সিলেটের চার নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বড় বড় ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটানো হয়। এখন জনসভা স্থগিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা বৈঠকে বসছেন। জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে সিলেটে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও সাতটি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। এখন এ বিষয়ে কী হবে তা জানা যায়নি। এদিকে, রোববার ধানমণ্ডির ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েক নেতা জানিয়েছেন, নিবিড় জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থী বাছাই করা হবে। এ জন্য তিনটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। জরিপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সততা, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা এবং অসদাচরণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিটি জেলা থেকে ১৫টি ওয়ার্ডে ১৫ জন সাধারণ এবং সংরক্ষিত ৫টি ওয়ার্ডে ৫ জন নারী সদস্যের নাম সুপারিশ করে দলীয় সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। এই তালিকা পাওয়ার পর দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।
6
'মনে করো, কাল বলে কিছু নেই/ আজই সেই শেষ দিন/ যা বলার আছে বলে দাও/ জানোই তো মন খুলে সব বলা কত কঠিন/ মনে করো, আজই শেষ দিন'- এ কথাগুলোই বলছেন সংগীতশিল্পী তাহসান খান ও টিনা। কিন্তু তা এসেছে গানের সুরে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নতুন গানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। গানটির নাম 'শেষ দিন'। আজ বুধবার সিডি চয়েসের ইউটিউব চ্যানেলে এটি অবমুক্ত করা হয়েছে। ২০১৮ সালের প্রথমদিকে তৈরি হয়েছিল ভালোবাসার গানটি। মূলত ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করেই এটি গেয়েছেন তাহসান ও টিনা। মাঝের সময়টাতে নির্মিত হয়েছে একটি ব্যয়বহুল ভিডিও। অবশেষে এটি প্রকাশিত হলো। গানটি প্রসঙ্গে তাহসানের ভাষ্য, কথাগুলো অসাধারণ। এটিই এ গানের মূল শক্তি। এছাড়াও, সুর যেহেতু নিজে করেছি; তাই এ বিষয়ে কথা বলবো না। মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টে সাজিদ বরাবরই ভালো। আমার সঙ্গে টিনাও দারুণ গেয়েছেন। বাকিটা শ্রোতারা বলবেন। এ প্রসঙ্গে কণ্ঠশিল্পী টিনা বললেন, শাস্ত্রীয় সংগীত নিয়ে মূলত আমার পড়াশোনা। আমার প্রথম অ্যালবামে এর প্রভাব ছিলো। এরপর থেকে আমি চাচ্ছিলাম পরবর্তী গানগুলোতে আরও অন্যরকম হোক। এই গানটিতে সেই চেষ্টাই করা হয়েছে। সঙ্গে আছে তাহসান ভাইয়ের অসাধারণ গায়কী। এদিকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিডি চয়েসের কর্ণধার জহিরুল ইসলাম সোহেল বলেন, বলা যায়, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে এটি আমাদের বড় প্রকল্প। সুর-সংগীত-গাওয়া সবই খুব সুন্দরভাবে হয়েছে। আশা করি আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সাড়া পাব। বিডি প্রতিদিন/১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/আরাফাত
2
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান-১০ নামের লঞ্চে আগুন ধরে গেলে যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সদর উপজেলার দিয়াকুল গ্রামের রুবেল শরিফ (২৬)। তিনি দুটি শিশুকে লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের পাশ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। ওই দুই শিশুর পাশে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় কেউ কাছে যাওয়ার সাহস করছিলেন না। তবে নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে তাদের উদ্ধার করেন এই সাহসী যুবক। প্রথম আলো কথা বলেছে তাঁর সঙ্গে। প্রথম আলো: উদ্ধারকাজে নেমে আগুনের তাপে আপনার মুখমণ্ডলের অনেকটা কালচে হয়ে গেছে। পোড়ার ভয় আছে জেনেও জীবনের ঝুঁকি নিলেন। শিশু দুটিকে উদ্ধার করলেন... রুবেল শরিফ: শিশু দুটির পোড়া শরীর দেখে মায়া লাগছিল। তাই নিজের জীবনের কথা ভাবিনি। তবে চোখের সামনে আরও কয়েকটি শিশুকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। সেই দৃশ্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। প্রথম আলো: কীভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করলেন? রুবেল শরিফ: বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে আমাদের নদীর পাড়ের বাড়িতে বসেই অভিযান-১০ লঞ্চ থেকে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পাই। নদীর পাড়ে বাঁধা একটি ট্রলার নিয়ে লঞ্চের ১০০ গজের ভেতরে যাই। কিন্তু আগুনের তীব্রতার কারণে লঞ্চে ওঠা কঠিন ছিল। এ সময় প্রায় তিন শ যাত্রী জীবন বাঁচাতে লঞ্চ থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়েন। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মিলে তাঁদের বিভিন্ন ট্রলারে উঠিয়ে নিরাপদে তীরে নিয়ে যাই। ইঞ্জিন রুমের কাছে গিয়ে দেখি, দুটি শিশু জলন্ত ইঞ্জিন রুমের পাশে দাঁড়িয়ে বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছে। শিশু দুটির পাশে কিছু গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় ট্রলারে থাকা অন্যরা ভয়ে সেখান থেকে চলে যেতে চাইল। কিন্তু শিশু দুটির জন্য আমার মায়া হলো। পরে সেখান থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু দুটিকে ট্রলারে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। একই সময় দ্বিতীয় তলায় কয়েকটি শিশুকে আগুনের তাপে দুর্বল হয়ে নদীতে পড়ে যেতে দেখেছি। ওদের ওঠাতে গিয়ে খুঁজে পাইনি। লঞ্চের আরও কিছু নারী-শিশুকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে যেতে দেখলেও তাঁদের বাঁচাতে পারিনি। আগুনের তাপে লঞ্চের কাছে যাওয়া অসম্ভব ছিল। সেদিনের এসব দুঃসহ স্মৃতি আমাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। তবে সান্ত্বনা এটুকুই যে বেঁচে যাওয়া শিশু দুটি তাদের স্বজনের কাছে ফিরে গেছে। আমারও একটি ছেলে আছে।
8
ঢাকার ধামরাইয়ে একটি তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ধানতারা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ সকালে সাড়ে নয়টার দিকে টিনশেডের ওই তুলার গোডাউনে আগুন দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। প্রাথমিকভাবে তাঁরা নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানানো হলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, সেটা এখনো জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
6
২০২১ সালের বুকার পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার লেখক ড্যামন গ্যালগাট। তার উপন্যাস 'দ্য প্রমিস'-এর জন্য তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগেও দুই বার তার নাম শর্টলিস্টেড হয়েছিল। ২০০৩ ও ২০১০-এ। কিন্তু তখন তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি। এবার হলো। বুকার পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড। ড্যামন বলেছেন, 'পুরস্কার পেয়ে আমি স্তম্ভিত। এই জায়গায় পৌঁছাতে আমার অনেক সময় লাগল। এখন আমার মনে হয়, আমি এর যোগ্য নই।' তিনি বলেন, এই পুরস্কার তিনি আফ্রিকার সব লেখককে উৎসর্গ করলেন। এই সুন্দর মহাদেশ থেকে যেসব গল্প লেখা হয়েছে, তার সবার তরফে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন। তার সর্বশেষ উপন্যাসে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি শ্বেতাঙ্গ কৃষক পরিবারের গল্প বলেছেন ড্যামন। চার দশক ধরে তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় আছে। সেই পরিবারের নারীর মৃত্যুকালীন ইচ্ছা বা প্রতিশ্রুতি ছিল, তাদের সম্পত্তি থেকে একটা বাড়ি একটি কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে উপহার দিতে হবে। যে নারী সারাজীবন ধরে শ্বেতাঙ্গ পরিবারে কাজ করেছেন। কিন্তু মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করা নিয়ে সন্তানদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হলো। ড্যামন বলেছেন, বর্ণবিদ্বেষী রাষ্ট্রের পতন হয়েছে। কিন্তু মানসিকতায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো আছে। এটাই তার উপন্যাসের মূল তত্ত্ব। আইন করে বর্ণবাদ নিষিদ্ধ। কিন্তু অর্থনীতি তাদের সেই জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে, যেখানে তারা আগে ছিল। সূত্র : ডয়চে ভেলে বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
3
লাহোর হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে পাকিস্তান পাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হামজা শাহবাজ। তিনি পাঞ্জাবের ২১তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। হামজা শাহবাজের শপথ পড়ান পাকিস্তান পার্লামেন্টের স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ। পার্লামেন্টের স্পিকার কর্তৃক শপথ পড়ানোর এ বিষয়টিতে আদেশ দিয়েছিল লাহোর হাইকোর্ট। এর আগে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের জন্যও হস্তক্ষেপ করে লাহোরের এ উচ্চ আদালত। শুক্রবার হামজা শাহবাজ তার শপথ গ্রহণের বিষয়ে তৃতীয়বারের মতো লাহোর হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। এর আগে ১৬ এপ্রিল তারিখে পাঞ্জাব প্রাদেশিক পার্লামেন্টে ১৯৭ ভোট পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন হামজা শাহবাজ। কিন্তু, হামজা শাহবাজের শপথ গ্রহণের বিষয়টি বিভিন্ন কারণে বিলম্বিত হচ্ছিল। এদিকে পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হামজা শাহবাজ শপথ নেয়ার কিছুক্ষণ আগে উসমান বুজদারের পদত্যাগ বাতিল করেন ওই প্রদেশের গভর্নর উমর চিমা। এ বিষয়ে পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর উমর চিমা বলেন, কিছু সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা কারণে উসমান বুজদারের পদত্যাগ বাতিল করা হয়েছে। সূত্র : জিও নিউজ
3
নওগাঁয় পিকআপের চাপায় ডান পা হারানো কিশোর নিলয়কেও (১৪) বাঁচানো গেল না। শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নিলয় শহরের মাস্টারপাড়া মহল্লার আফতাব হোসেনের ছেলে ও নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালযের নবম শ্রেণির ছাত্র। এর আগে বিকেলে শহরের বাইপাস সড়কে দুর্ঘটনায় পড়ে ডান পা হাঁটুর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নিলয়ের। একই ঘটনায় রাকিব হোসেন (১৫) ও সাদমান হোসেন (১৫) নামে আরও দুই কিশোর গুরতর আহত হয়েছে। আহতদের বাড়িও একই এলাকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিলয়সহ তিন বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। শহরের বাইপাস ব্রিজ এলাকা থেকে শান্তাহারের দিকে যাবার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে তারা সড়কে ছিটকে পড়ে। এ সময় নিলয়ের ডান পা পিকআপের চাপায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর অন্য দুজন গুরুতর আহত হয়। ওসি জানান, দুর্ঘটনার স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নিলয়কে রাজশাহীতে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল ও পিকআপটিকে জব্দ করেছে পুলিশ।
6
আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজে ব্যস্ত সারাদেশের চার শতাধিক প্রিন্টিং প্রেস। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে এসব বই তুলে দেবে সরকার। ২০২০ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের চার কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ১৯৮ ছাত্রছাত্রী বছরের প্রথম দিনেই হাতে পাবে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৩৮ কপি পাঠ্যবই। এসব বই ছাপতে লাগবে ৮৮ হাজার টন কাগজ। বই মুদ্রণের এ কাজে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। বরাবরের মতোই আগামী বছরের পহেলা জানুয়ারি শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে সারাদেশে উদযাপিত হবে পাঠ্যপুস্তক উৎসব। ওই দিন শিশুরা খালি হাতে স্কুলে গিয়ে নতুন ক্লাসে উঠে ঝকঝকে বই নিয়ে ফিরবে বাড়িতে। বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে সময়মতো তাদের হাতে বই তুলে দিতে। গভীর রাতেও প্রিন্টিং প্রেসগুলোর মেশিনের আওয়াজ পাচ্ছেন আশপাশের মানুষ। সারাদেশের প্রায় ৪০০ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে (প্রিন্টিং প্রেস) রাত জেগে ৯৮ হাজার কর্মী পাঠ্যবই ছাপা, কাটিং ও বাইন্ডিংয়ের কাজে জড়িত হয়েছেন। এসব বই ছেপে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছে ১৬ হাজার ৪০০ ট্রাক। দেশজুড়ে পাঠ্যবই মুদ্রণ ও পরিবহন কাজের তদারক করছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ২২টি টিমের ৬৬ কর্মকর্তা। এর বাইরেও এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম, এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম মিলিয়ে আরও ২১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী এই মহাযজ্ঞে শ্রম দিচ্ছেন। আর তিন মাস পরেই ফুরোবে শিক্ষার্থীদের প্রতীক্ষার পালা। ২০২০ সালের পহেলা জানুয়ারি নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে তারা হাতে পাবে ঝকঝকে নতুন পাঠ্যবই। নতুন বইয়ের সোঁদা গন্ধে মাতোয়ারা শিশুরা উল্লাস করে ফিরবে বাড়িতে। তাদের জন্য সাড়ে ৩৫ কোটি পাঠ্যবই ছাপতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে এনসিটিবি। তিন কোটি বই এরই মধ্যে ছাপা হয়ে পৌঁছে গেছে জেলা ও উপজেলায়। বাকি বই ছাপার কাজ চলছে দুর্বার গতিতে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, সব বই ছাপার কাজ পুরোদমে চলছে। তিন কোটি বই চলে গেছে মাঠ পর্যায়ে। বাকিগুলোও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছাপা হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৫-২০ দিন পর প্রতিদিন এক কোটি করে বই পৌঁছতে শুরু করবে উপজেলা পর্যায়ে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই সব বই ছাপার কাজ শেষ হবে। কয়েকটি প্রেস ঘুরে দেখা গেছে, মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। অতীতের যে কোনো বর্ষের তুলনায় অনেক বেশি পরিকল্পিতভাবে ও সাফল্যের সঙ্গে এবার সময়মতো সব বই মুদ্রণ সম্ভব হচ্ছে বলে জানান এনসিটিবির কর্মকর্তারা। মানসম্মত বই ছাপতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এনসিটিবি। সংস্থার চেয়ারম্যান, সদস্য ও অন্য কর্মকর্তারা নিয়মিত সারাদেশের ছাপাখানা পরিদর্শন করছেন। কোথাও কোনো বিচ্যুতির খবর পেলেই ত্রুটি সারাতে ছুটে যাচ্ছেন। এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, 'এবার বইয়ের মান আরও ভালো হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে এরই মধ্যে সরবরাহ শুরু হয়েছে। মান রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।' এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, বইয়ে কাগজের মানের পাশাপাশি এবার বাঁধাইকেও গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ্য করা হচ্ছে। বই বিতরণের পর প্রচুর অভিযোগ আসে, বইয়ের আঠা উঠে বই খুলে যায়। কারণ বাজারে ৯০০ টাকা কেজির গ্লু যেমন আছে, আবার দেড়শ' টাকা কেজির গ্লুও আছে। তাই এবার মুদ্রণকারীদের ভালো মানের গ্লু ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) মীর্জা তারিক হিকমত বলেন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপতে সরকারের ৯২৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার দাখিল স্তরের বই ছাপতে খরচ হবে ৪৬৯ কোটি টাকা। মাধ্যমিক স্তরের প্রায় আট কোটি বইয়ের কাগজ কিনে দেওয়া হয় এনসিটিবি থেকে। এতে আরও ব্যয় হবে ১৯৭ কোটি টাকা। আর প্রাথমিক স্তরের বই ছাপতে খরচ হবে ২৬৪ কোটি টাকা। কোন স্তরে কত বই : এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৩২ লাখ ৭২ হাজার ১৮৬ কোমলমতি ছাত্রছাত্রীর জন্য ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৬ কপি বই ছয়টি লটে ছাপানো হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) দুই কোটি চার লাখ ৪১ হাজার ৫৯৫ ছাত্রছাত্রী পাবে ৯ কোটি ৮৫ লাখ পাঁচ হাজার ৪৮০ কপি বই। এগুলো ছাপানো হচ্ছে ৯৮টি লটে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৯৭ হাজার ৫৭২ শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির জন্য পাঁচটি ভাষায় রচিত দুই লাখ ৩০ হাজার ১০৩ কপি বই ছাপানো হচ্ছে একটি লটে। ইবতেদায়ি (মাদ্রাসার প্রাথমিক) স্তরের ৩২ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৫ শিশুর জন্য দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। এর সঙ্গে সারাদেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৭৫০ শিক্ষার্থীর জন্য ছাপানো হচ্ছে ৯ হাজার ৫০৪টি বই। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়া এসব বইয়ের কাগজ ছাপাখানার মালিকরাই কিনে সরবরাহ করবেন। মাধ্যমিক স্তরে মোট ছাপা হচ্ছে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯ কপি বই। এর মধ্যে এনসিটিবি সাত কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৩৭ কপি বইয়ের কাগজ কিনে দিয়েছে। এসব বইয়ের জন্য সংস্থাটি প্রায় ২১ হাজার ৯০০ টন কাগজ কিনে ছাপাখানাগুলোকে সরবরাহ করেছে। বাকি ১৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৮ কপি বইয়ের কাগজ ছাপাখানার মালিকরাই কিনে সরবরাহ করছেন। এর বাইরে কারিগরি স্তরের জন্য ১৬ লাখ তিন হাজার ৪১১ কপি বই, এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ২৭ লাখ ছয় হাজার ২৮ কপি ও দাখিল ভোকেশনাল স্তরের জন্য এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম জানান, ৩২০টি লটে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপার কাগজ কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। আর একই স্তরের ৩৪০টি লটের বই ছাপার কাগজ কিনে ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করেছে এনসিটিবি নিজে। মোট ২৫৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ পেয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৪০ লটের প্রায় ৫০ শতাংশ বই ছেপে নির্দিষ্ট উপজেলাগুলোতে সরবরাহ করেছেন মুদ্রণকারীরা। এ ছাড়া প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ পেয়েছে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান এবং প্রাক-প্রাথমিক বই ছাপার কাজ পেয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠান। প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত ৭ আগস্ট চুক্তিপত্রে সই করেছেন এনসিটিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এই প্রতিষ্ঠানটিও ছাপার কাজ শুরু করেছে। এবার এনসিটিবির পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে 'ব্যুরো ভেরী টাস'। প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণের জন্য থার্ড পার্টি ইন্সপেকশনের দায়িত্ব পেয়েছে 'কন্টিনেন্টাল' নামের প্রতিষ্ঠান। খরচ কমেছে ১০০ কোটি টাকা : এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) মীর্জা তারিক হিকমত জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে এবারের দরপত্র থেকে তুলনামূলক কম দরে কাজ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ কমেছে। তবে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রাথমিক স্তরে এ বছর দেশের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ পায়নি। এর আগে টানা চার-পাঁচ বছর বিদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বই মুদ্র্রণের কাজ পেয়েছিল। তবে দেশীয় ছাপাখানা শিল্পের সক্ষমতা ও দক্ষতা বেড়ে যাওয়ায় এবার সব কাজ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই পেয়েছে। বই মুদ্রণের কাজ পাওয়া মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গত ১৮ আগস্ট থেকে চুক্তিপত্রে সই করছে এনসিটিবি। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের বইয়ের চুক্তিপত্র সইয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শেষ হবে। তিনি জানান, এই স্তরের বইয়ের দরপত্র পুনঃআহ্বান করতে হয় বলে একটু দেরি হয়ে গেছে। তবে সবাই-ই নির্ধারিত সময়ে বই হাতে পাবে। ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকার ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের সঙ্গে নতুন বছরের শুরুতেই সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করে আসছে। চলতি ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট ২৯৬ কোটি সাত লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতিবছর সরকারের বিশাল এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করছে, যা সারাবিশ্বে নজরকাড়া সুনাম বয়ে এনেছে।
6
দশমিনায় মহিষের গুঁতোয় মালিক মো. নিজাম মাতুব্বরসহ (২৮) কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার আলীপুরার গুলবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতের মধ্যে মালিকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দশমিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর পুলিশ ও বন বিভাগের সহায়তায় এলাকাবাসী ফাঁদ পেতে মহিষটি ধরতে সক্ষম হয়।এ বিষয়ে মহিষের মালিক বলেন, আমি মহিষ কেনাবেচার ব্যবসা করি। গত সোমবার বাউফলের কালাইয়া বাজার থেকে লাখ টাকায় একটি মহিষ কিনে পরদিন মঙ্গলবার গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাই। এ সময় মহিষটি ছুটে যায়। পরে গতকাল সকালে উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের গুলবুনিয়া গ্রামে মহিষটির সন্ধান পেয়ে উদ্ধার করতে গেলে আমি আহত হই। এ সময় মহিষের তাণ্ডবে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।'আলীপুরা ইউপির সদস্য মো. আফজাল বলেন, গলাচিপা ও দশমিনায় মহিষের দুই দিনের তাণ্ডবে ১০ জন আহত হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর পুলিশ ও বন বিভাগের সহায়তায় কয়েকজন এলাকাবাসী ফাঁদ পেতে মহিষটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।এ নিয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, পুলিশ, বন বিভাগ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় মহিষটি উদ্ধার করা হয়েছে।
6
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় এক কিশোরীকে (১৫) দলবেধে ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় শনিবার সকালে কিশোরীর মা কমলগঞ্জ থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার তিন যুবক হলো- পশ্চিম বালিগাঁও গ্রামের আজাদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া ও ওরফে বাবু মিয়া (১৮), বটতল গ্রামের আকরাম উল্যার ছেলে আব্দুল মুমিন (২০) ও সিএনজি চালক ধলাইপার গ্রামের আদিল চৌধুরীর ছেলে জাহিদ হাসান ওরফে সোহাগ মিয়া (১৯)। পুলিশ ও কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ পৌরসভার ভানুগাছ বাজার এলাকার ওই কিশোরী (১৫) একটি বাসায় কাজ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরে ফিরছিল। পথে ওই তিন বখাটে যুবক তাকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিকশায় তুলে একটি ধানক্ষেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাত ৯টায় কিশোরীকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিশোরীর বক্তব্য অনুযায়ী ওই তিন যুবককে শুক্রবার রাত ২টায় তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষিতা কিশোরীর মা পারুল বেগম শনিবার সকালে কমলগঞ্জ থানায় তিনজনের নামোল্লেখ করে একট ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. মোক্তাদির হোসেন পিপিএম জানান, গ্রেফতার তিন যুবককে মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
6
দাকোপে ২৪৬ শিশুর মাঝে বড়দিনের উপহার বিতরণ করা হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে উপজেলার বাজুয়া ইউনিয়নে বাজুয়া চার্চ অব দা নাজ্যারীণের সহযোগিতায় শিশুদের মাঝে বড় দিনের এ উপহার সামগ্রী (শার্ট, প্যান্ট ও কেডস) বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষ্যে চার্চ রেভা জন মণ্ডলের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গেন্ডারিয়া ঝরনা সরকার। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ৮ নম্বর বাজুয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মানস কুমার রায়।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গিরা কোনো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা বাহিনী সেটা জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে ৯ জঙ্গি মারা গেছে। একজন পালিয়েছে এবং একজন ধরা পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একদল ধর্মান্ধ শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মানুষ হত্যায় মেতে উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে সন্ত্রাসীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করে আসছে। এই সন্ত্রাসের কাছে মাথানত করবো না। জনগণের মধ্যে জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। সারা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এদেরকে নির্মূল করবো। বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলা, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার হামলার ঘটনা উল্লেখ করে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। মানুষ খুন ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম ধর্মের নামে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামকে কলুষিত করে। এরা ইসলামের বন্ধু নয়, শত্রু। জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করতে তিনি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন। জনগণকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করতেও জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এ সমস্যা একক প্রশাসনিক প্রচেষ্টায় মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এটা সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সারাদেশে জঙ্গিবাদবিরোধী ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে, এটিকে কাজে লাগাতে হবে। জেলা প্রশাসক-বিভাগীয় কমিশনারদের নিজ নিজ এলাকায় চলমান জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠনের কাজে মূল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে জনপ্রশাসনকে সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়ে তোলা, যেখানে জনগণের সেবা সুনিশ্চিত হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা এগিয়ে যাওয়ার এ ধারা আরো বহুদুর নিয়ে যেতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
6
এফডিসিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনভর চলবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোট গ্রহণ। যে নির্বাচনে মুখোমুখি দুই প্যানেলের তারকা অভিনয় শিল্পীরা। আর দুই প্যানেলের নেতৃত্বে প্রধান দুজনের একজন পর্দার কালজয়ী নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এবং অন্যজন বাংলা সিনেমার প্রতিষ্ঠিত ভিলেন মিশা সওদাগর। আগামী দুই বছরের জন্য চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্ব দিতে সভাপতি হিসেবে শিল্পীরা কাকে বেছে নেবেন, পর্দার নায়ককে নাকি ভিলেনকে? এমনই প্রশ্ন এখন সবার মনে। যদিও দুজনই তাদের নিজ নিজ প্যানেল নিয়ে ভীষণ আশাবাদী। নির্বাচনে প্রধান সঙ্গী হিসেবে ইলিয়াস কাঞ্চন পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও চিত্রনায়িকা নিপুনকে। অন্যদিকে গেল দুই বারের মতো এবারও মিশা সওদাগরের প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন যারা সভাপতি- ইলিয়াস কাঞ্চন, সহ-সভাপতি- চিত্রনায়ক রিয়াজ ও ডি এ তায়েব। সাধারণ সম্পাদক- নিপুণ, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন সাইমন সাদিক। সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনূর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক আরমান, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক ইমন, কোষাধ্যক্ষ পদে আজাদ খান। কার্যকরী পরিষদের সদস্য হলেন- অমিত হাসান, ফেরদৌস আহমেদ, শাকিল খান, নানা শাহ, আফজাল শরীফ, সাংকো পাঞ্জা, জেসমীন, কেয়া, পরী মনি, গাঙ্গুয়া ও সীমান্ত। মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন যারা সভাপতি: মিশা সওদাগর। সহ-সভাপতি: মনোয়ার হোসেন ডিপজল-রুবেল। সাধারণ সম্পাদক: জায়েদ খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত, সাংগঠনিক সম্পাদক আলেকজান্ডার বো, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জয় চৌধুরী, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জে কে আলমগীর, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক জাকির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ফারহান। কার্যকরী পরিষদের সদস্য: রোজিনা, অঞ্জনা, সুচরিতা, অরুনা বিশ্বাস, মৌসুমী, আসিফ ইকবাল, বাপ্পারাজ, আলীরাজ ও নাদের খান। শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন পীরজাদা হারুন। দুজন সদস্য হলেন বি এইচ নিশান ও বজলুর রাশীদ চৌধুরী। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান, আপিল বোর্ডের সদস্য হিসেবে আছেন মোহাম্মদ হোসেন জেমী ও মোহাম্মদ হোসেন। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। মিশা-জায়েদ ও কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল ছাড়াও এবারের নির্বাচনে আছেন দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এবার মোট ভোটার ৪২৮ জন।
2
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিগগিরই একটি ডেঙ্গুমুক্ত নগর উপহার দেয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে এজন্য নগরবাসীরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় আজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা বা প্রজনণস্থল শনাক্তকরণ ও ধ্বংসকরণে পক্ষকালব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। গত দুই-তিন বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, 'এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা হলেও বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। এমনকি আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিও নয়।' তিনি বলেন, গত বছর চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব ছিলো, এবার নেই। তবে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। সেটা আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে নেই। মেয়র জানান, আজ থেকে আমাদের ৫৭টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে। সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে কোথাও এডিস মশার লার্ভা পেলে তা ধ্বংস করে দিয়ে আসবে। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করবে। তিনি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকেও ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, মশার কোনো স্থান নেই। এক জায়গার মশা আরেক জায়গায় চলে যায়। নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার বাসা-বাড়ির পরিত্যাক্ত টায়ার, ফুলের টব,এসির আউটারে জমে থাকা পানি পরিস্কার করুন। কোনো জায়গায় পাঁচদিনের বেশি পানি জমতে দেবেন না। কেননা পাঁচদিনের বেশি পানি জমে থাকলে এডিস মশার বংশ বিস্তারের সম্ভাবনা থাকে। তাই একটু সচেতনতা আপনার প্রিয়জনের জীবনকে রক্ষা করতে পারবে। মেয়র নির্মাণাধীন নৌ বাহিনীর তথ্যকেন্দ্র ভবনে ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করে বিশেষ এ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন। তিনি শিক্ষার্থী ও দোকানীদের হাতে লিফলেট বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ মো. সালাহউদ্দীন, কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কাজল, হাসিবুর রহমান মানিকসহ অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
5
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল তাদের বাংলাদেশ অফিসে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি রংপুরে কর্মী নিয়োগ দেবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। পদের নাম: মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন স্পেশালিস্টপ্রজেক্ট: স্কোর প্রজেক্টপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পপুলেশন সায়েন্স/ অর্থনীতি/ পরিসংখ্যান বা এ ধরনের বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এসপিএসএসের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রার্থীদের সেলফ মোটিভেটেড হতে হবে। চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক (২০২২ সালের মে পর্যন্ত, তবে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনা আছে)কর্মস্থল: রংপুরবেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: মাসিক বেতন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এ ছাড়া সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও জীবনবিমা দেওয়া হবে। যেভাবে আবেদনআগ্রহী প্রার্থীদের প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের চাকরি-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের এই লিংকে গিয়ে নিয়োগ ও আবেদনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া জেনে নিতে হবে। এরপর -এ ক্লিক করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
1
কুমিল্লার চান্দিনায় মো. নাছির উদ্দিন (২৬) নামে এক নৈশপ্রহরীরখণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।সোমবার সকালে উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের নাওতলা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত নাছির উপজেলার নাওতলা গ্রামের রবি উল্লার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত নাছির নাওতলা সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা পার্শ্ববর্তী বাচ্চু চেয়ারম্যান মার্কেটের নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।রোববার দিবাগত রাতে নাছির তার দায়িত্বপালন করছিলেন। ভোরে নাছিরের বাবা দোকানের সামনে এসে রক্ত দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চারদিক খুঁজতে গিয়ে মহাসড়কের পাশে নাছিরের খণ্ডিত লাশ দেখতে পান। পুলিশে খবর দিলে তারাঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা কম্বলসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল ফয়সল বলেন, খণ্ডিত লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না। রক্তমাখা কম্বল, শরীরের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অংশসহ বিভিন্ন আলামত আমরা উদ্ধার করেছি।
6
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডে (বিএসসিসিএল) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে এ নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ০৪ মার্চ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদের বিবরণ: উপ-মহাব্যবস্থাপককর্মস্থল: ঝিংলজা, কক্সবাজারশিক্ষাগত যোগ্যতা: এমএসসি/এমএস/এমবিএঅভিজ্ঞতা: টেলিকম/ডাটাকম ও সাবমেরিন কেবল সার্ভিসে কাজের অভিজ্ঞতাচাকরির ধরন: ফুল টাইমবেতন: ১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়াও কোম্পানির অন্যান্য সুবিধা।বয়স: অনূর্ধ্ব ৫০ বছর। বয়সের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদনের নিয়মআগ্রহীরা .. থেকে ডাউনলোড করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার অবশ্যই 'বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল লিমিটেড'-এর অনুকূলে প্রদান করতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ০৪ মার্চ ২০২১
1
রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ তলা ভবনের ১৪ তলায় ডি-ব্লকে আগুন লেগেছে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুসের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ইউনিটের প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রোগীরা নিরাপদ রয়েছে। বৈদ্যুতিক তার থেকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে এরশাদ হোসেন জানান, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সদর দপ্তর থেকে তিনটি এবং পলাশী থেকে দুটি ইউনিটসহ মোট পাঁচটি ইউনিট অগ্নি নির্বাপনে কাজ করে।
6
মধুচন্দ্রিমায় মধুরেণ সমাপয়েত তো হলই না বরং সম্পর্কের যবনিকা পতনের উপক্রম। হানিমুনের মাঝেই স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ আনেন পুনম পাণ্ডে। ফলে গোয়া পুলিশ গ্রেপ্তার করে স্যাম বম্বেকে। কী হয়েছিল সেই রাতে? বিস্তারিত জানালেন অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারে পুনম জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে স্যাম বম্বের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন পুনমের। শুরু থেকেই অত্যাচার করতেন স্যাম। বিয়ে করলে সমস্ত কিছু ঠিক হয়ে যাবে। এমনটা ভেবেই সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ বিয়ে করেছিলেন পুনম। কিন্তু পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় গোয়ায় মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পর। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে অত্যাচার চরমে পৌঁছায়। পুনমের দাবি, তিনি পুলিশকে ডাকেননি। হোটেলের ঘর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে কর্মীরাই গোয়া পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। স্যাম নাকি নৃশংসভাবে পুনমকে মারধর করছিলেন। পুনমের মুখের একপাশ ফুলে গিয়েছিল। পরে মেডিকেল পরীক্ষার পর পুনম জানতে পারেন স্যামের মারের চোটে তাঁর ব্রেন হেমারেজ হয়ে গিয়েছে। আপাতত ঠিক আছেন বলেই জানিয়েছেন পুনম। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের বিবাহিত জীবন থেকে মুক্তি চান পুনম পাণ্ডে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, অর্থ এবং সম্পত্তির লোভে পুনম স্যাম বম্বেকে বিয়ে করেছেন। এমন খবরে পুনম জানান, তিনি নন বরং স্যাম তাঁর ভিডিও বেচে রোজগার করেন। এখন নাকি পুনমের কাছে অভিযোগ ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কান্নাকাটিও করছেন। কিন্তু পুনম এই দুঃস্বপ্নের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে বদ্ধ পরিকর। আবারো নিজের সিঙ্গলহুডে ফিরে এই অভিনেত্রী ভক্তদের উপহার দিতে চান নিজের ভিডিও।
2
বিএনপি দেশের গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় বিএনপিকে লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে নির্বাচনে আসারও আহ্বান জানান তিনি।আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের দলের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপকমিটির আয়োজনে ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'ফখরুল সাহেব, আপনারা ছিলেন ঋণ খেলাপি। গণতন্ত্রের কথা বলে, এদের কোনো শরম নেই! এ দেশের গণতন্ত্রের কাঠামো, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার ধ্বংস করেছে এই বিএনপি। তাদের প্রতিষ্ঠাতা সংবিধানের সেনা আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান, সকল প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়।'আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আসুন লড়াই করি, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে আসুন।'আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, 'পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেভাবে নির্বাচন হবে। নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার করার জন্য দরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। তখন সরকারে কোনো ভূমিকা থাকবে না। সরকার শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচনে, নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন সহযোগিতা দেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন সবকিছুই থাকবে নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে, সরকারে অধীনে কিছুই থাকবে না। সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে সরব ভূমিকাই হচ্ছে নির্বাচন কমিশন।'বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, 'আসলে শেষ পর্যন্ত গাধা ঘোলা করে পানি খায়। আপনারা আসবেন একটু পানি ঘোলা করে। এতসবের দরকার কী? আসুন লড়াই করি। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হই। প্রস্তুতি আপনাদের আছে, লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে আসুন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।'আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক সামসুন্নাহার চাঁপা, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায়, কেন্দ্রীয় সদস্য সানজিদা খানম প্রমুখ।
9
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মায়ের সামনে মরিয়ম খাতুন (৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের বৈশাখী তেলপাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু মরিয়ম উপজেলার কুল্যাপাড়া এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে।বৈশাখী তেলপাম্প এলাকার নৈশপ্রহরী আব্দুল কাদের জানান, মা-বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিল শিশু মরিয়ম। পথিমধ্যে তেলপাম্প এলাকায় একটি দোকানে বসে নাশতা করছিলেন তাঁরা। নাশতা শেষে চলে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিশু মরিয়মকে পিষ্ট করে। এ সময় ঘটনাস্থলেই শিশু মরিয়মের মৃত্যু হয়।এ দিকে, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের একই স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া।
6
রাজশাহীর বাঘায় জমে উঠেছে শতবর্ষী পাটের হাট। উপজেলার শত বছরের প্রাচীন দিঘা হাট পাট বিক্রির জন্য সুপরিচিত। মৌসুম এলেই যেন এই হাটে পাট বাজারজাতকরণ জমে ওঠে। চলতি মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। জেলার চার উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে উৎপাদিত ও আশপাশের জেলার পাট বাজারজাতকরণ হচ্ছে এ হাটে।বাজারে ভালো দাম থাকায় উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। উৎপাদন খরচ বাদে মণপ্রতি পাটে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে কৃষকদের। এমন দাম থাকলে ভবিষ্যতে পাটের আবাদ বাড়বে বলে মনে করছেন কৃষকেরা।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বড়াল নদের শাখা মৃতপ্রায় চন্দনা নদীর তীরে জেলার ২০০ বছরের বেশি প্রাচীন দিঘার পাটের হাট ছেয়ে গেছে বিক্রি উপযোগী নানা অঞ্চল থেকে আসা সোনালি আঁশে। কৃষক-পাইকার-ক্রেতাদের হাঁক-ডাকে জমে উঠেছে বেচাকেনা। সপ্তাহে প্রতি রোববার আর বুধবারে হাট বসে। বর্তমানে প্রতি হাটে দেড় হাজার থেকে ২ হাজার মণ পাট কেনাবেচা হচ্ছে।রাজশাহী জেলার চারঘাট, বানেশ্বর ও পুঠিয়া এবং নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া ও লালপুরসহ এ অঞ্চলের উৎপাদিত পাট কেনাবেচা হয় এই হাটে। হাটবারে ভোর থেকে শুরু হয় বেচাকেনা। গত কয়েক বছর ধরে পাটের দর কম থাকলেও গত বছর পাটের ভালো দাম পেয়েছেন পাটচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এবারও বেড়েছে পাটের চাহিদা ও দাম।মণপ্রতি কৃষকদের খরচ হয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। উৎপাদন খরচ পুষিয়ে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা লাভ হচ্ছে কৃষকদের। বেশি দামে পাট বিক্রি করতে পারায় খুশি তারা।হাটের কৃষক-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে পাট। এবার প্রতি মণে তুলনামূলক বেড়েছে হাজারের বেশি টাকা।রুস্তম আলী নামের আরেক কৃষক বলেন, এ বছর এক একর জমিতে পাট লাগিয়েছেন তিনি। তাঁর ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। ৪০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছেন। আরও কিছু পাট আছে।উপজেলার দিঘা হাট কমিটির সভাপতি ফজলুর রশিদ বলেন, দিঘার হাটে এ বছর আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার মণ পাটের কেনাবেচা হতে পারে। গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ ট্রাক পাট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি হচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ বলেন, উপজেলায় ৩ হাজার ৭ শ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে পাট। নিজ উপজেলাসহ আশপাশের জেলায় এ বছর পাটের আবাদ ও উৎপাদন ভালো হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আর বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকেরাও খুশি। উপজেলায় দিঘা পাটের হাট এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পাটের হাট হিসেবে খ্যাত। পাটের বাজার সম্প্রসারণে সরকার থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাট থেকে তৈরি চটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে পাটের ব্যবহার বাড়বে, ব্যবহার বাড়লে বাজারমূল্যও বাড়বে। বাজারমূল্য বাড়লে কৃষকেরা লাভবান হবে।
6
করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ছয় মাস পরেও গুরুতরভাবে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি হালকা উপসর্গ থাকা করোনায় আক্রান্তদেরও রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী বিএমজেতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমনটি বলা হয়েছে।গবেষণাটিতে সুইডেনের জাতীয় রেজিস্ট্রি থেকে প্রায় ১০ লাখ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য নেওয়া হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিরা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে সংক্রমিত হয়।গবেষণায় দেখা যায়, করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ছয় মাস পরেও ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তিন মাস পর ভেনাস থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে সাধারণত পায়ে রক্ত জমাট বাঁধে।গবেষণায় আরও দেখা যায়, করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি ৩৩ গুণ বেশি। আর ভেনাস থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫ গুণ বেশি।গবেষকেরা বলছেন, করোনায় যাঁরা গুরুতর উপসর্গে ভুগছিলেন বা করোনা আক্রান্ত যেসব ব্যক্তি আগের থেকেই হাঁপানি, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারের মতো রোগে ভুগছিলেন, তাদের রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেশি ছিল। পাশাপাশি যাঁরা হালকা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হননি, তাঁরাও রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিতে ছিলেন।গবেষণায় বলা হয়, করোনার প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনায় আক্রান্তদের রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কম ছিল। গবেষকেরা বলছেন, টিকা এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও ভালো চিকিৎসার কারণে এই ঝুঁকি কমে গেছে।এই গবেষণায় জড়িত না থাকলেও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা একটি প্রবন্ধে বলেছেন, গবেষণাটি হালকা উপসর্গের করোনার জটিলতার বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়।
4
বগুড়ায় আওয়ামী লীগের ১৪ জন নেতা-কর্মীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অব্যাহতি পাওয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে শেরপুর উপজেলার দুই ইউনিয়নের পাঁচজন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ৯ জন রয়েছেন।আজ সোমবার রাতে জেলা আ. লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্দেশক্রমে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর সুপারিশও করা হয়েছে।এছাড়াও দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর সুপারিশসহ অনুরোধ করা হয়েছে।অব্যাহতি পাওয়া নেতা-কর্মীরা হলেন শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রঞ্জু এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান। বিশালপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, আওয়ামী লীগ কর্মী সাধন চন্দ্র এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রাফিউল ইসলাম বাবু। শিবগঞ্জ উপজেলার পিরব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক ও দলের কর্মী আশিক মাহমুদ মিলটন। আটমূল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী বেলাল হোসেন। ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা আবু জাফর মন্ডল এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ তোতা। বিহার ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল মতিন। দেউলী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা আব্দুল হাই, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন টুটুল এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মর্তুজা।জানতে চাইলে জেলা আ. লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল বলেন, নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ১৪ জনকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এই তালিকা আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর সুপারিশ করা হয়েছে।
6
চরম ভোগান্তি উপেক্ষা করেও সকাল থেকে রাজধানীর পথে পথে মানুষের ভিড় বেড়েছে। ঘরমুখো মানুষদের নিয়ে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া যানবাহনের চাপে সড়কেও যানজট বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর, সাইনবোর্ড, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ, টঙ্গী, গাজীপুর, এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আমিনবাজার ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ ঢাকা ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীর বাসিন্দারা গাবতলীতে এসে ভিড় করেছে। মাহমুদুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, তিনি সকাল ছয়টায় গাবতলীতে এসেছেন যশোরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সকাল ৯ টা পর্যন্ত কোনো যানবাহনে উঠতে পারেননি। মাইক্রোবাস পাটুরিয়া যাচ্ছে, ১২শ থেকে দেড় হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছে। সুযোগ পেয়ে ছোট পরিবহনগুলোর চালকরা ভাড়া অনেক বেশি নিচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের চালকরা বেপরোয়াভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। রাজবাড়ীর যাত্রী মোশারফ মিয়া জানান, ঘর থেকে বের হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি। ঢাকায় একটি দোকানের সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। লকডাউনের কারণে দোকান বন্ধ থাকবে। এখন পর্যন্ত বেতন-বোনাস পাননি। তাই ভোগান্তি উপেক্ষা করেই গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। এদিকে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক, পিকআপ ভ্যানে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। ২০/২৫ জন যাত্রী একত্রিত হয়ে ট্রাক বা পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে রওয়ানা দিচ্ছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স এবং ইজিবাইকেও আমিন বাজার এলাকা থেকে লোকজনকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। সুযোগ পেয়ে অনেক পণ্যবাহী ট্রাক চালক কিছু কিছু যাত্রীদের ট্রাকে তুলে নিচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে ৫০০ টাকার ভাড়া দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। গাজীপুরের চন্দ্রা ও বাইপাইল এলাকায় ঘরমুখো মানুষের সকাল থেকেই ভিড় লেগে ছিল। এসব এলাকা থেকে লোকাল বাস- মিনিবাসগুলো এখন স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দূরপাল্লার গণপরিবহন হিসেবে যাত্রী পরিবহন করছে। তাছাড়া পিকআপ মিনি ট্রাকগুলো টাংগাইল ভুয়াপুর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার দিকে যাত্রা করেছে। উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকা থেকেও একই ভাবে লোকজন ঢাকা ছাড়ছে। সকালের দিকে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে কয়েকটি দূরপাল্লার বাস যাত্রী নিয়ে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুরের দিকে ছেড়ে গেছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সাভারের বাইপাইল থেকে ভুয়াপুর পর্যন্ত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ট্রাকে ভাড়া নেয়া হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষই বেশি ঢাকা ছাড়ছেন বলে বিভিন্ন জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে। এদিকে যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড ও কাচপুর এলাকায় সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। একইসঙ্গে সড়কগুলো যানবাহনে পরিপূর্ণ। এখান থেকে মাইক্রোবাসে নরসিংদী পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা। সোমবার ঢাকা ছাড়ার এই পয়েন্ট থেকেই এক হাজার টাকার ভাড়া মঙ্গলবার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অপরদিকে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজ এলাকাতেও ঢাকা ছেড়ে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আজও ঢাকা ছেড়ে যাওয়া এবং দেশের অন্যান্য স্থান থেকে আসা যানবাহনের চাপে দেশের প্রধান দুই ফেরিঘাট শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকাল থেকেই শত শত যানবাহন দুই পারে ফেরির জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
6
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন পরিবর্তন করার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।বড়াইগ্রাম ইউপিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিন আলী। তাঁর পরিবর্তে সংগঠনের সভাপতি এস এম মাসুদ রানা মান্নানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি উঠেছে।গতকাল সকালে উপজেলা খিদিরপুর গ্রামে দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগের তিন শতাধিক নেতা-কর্মী মিছিল করেন। মাসুদ রানা মান্নানকে নৌকার প্রার্থী করার দাবিতে তাঁরা নানা স্লোগান দেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদ রানা মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যাঁরা দলের দুর্দিনে পাশে ছিলেন, তাঁদের মনোনয়ন দিয়ে পুরস্কৃত করবেন। কিন্তু এ ইউপি নির্বাচনে যাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি একজন নব্য-আওয়ামী লীগার। তিনি দলের দুর্দিনে ছিলেন না।উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল কুদ্দুস মিয়াজী বলেন, যেহেতু গতবার ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মমিন আলী বিজয়ী হয়েছেন, সেহেতু তাঁর নাম এক নম্বরে পাঠানো হয়েছে। দুই নম্বরে পাঠানো হয়েছে মাসুদ রানা মান্নানের নাম। গতবার নির্বাচনে যখন মমিন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন এবং তাঁকে যখন দলের ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন তাঁকে নব্য বলা হয়নি। এখন নির্বাচনের সময় তাঁরা নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন না পেয়ে মমিনকে নব্য বলছেন।নৌকার প্রার্থী মমিন আলী বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ২০১১ ও ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, দলের দুর্দিনে তিনি পাশে থেকেছেন। তা ছাড়া সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁকে ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
6
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় বিআরটিসির দুটি বাসের বেপরোয়া প্রতিযোগিতায় ট্রলির সঙ্গে ধাক্কায় ট্রলির ৪ জন আরোহী আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ভান্ডারিয়া-বরিশাল বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের ভান্ডারিয়া কলেজ মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ভান্ডারিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ৪ জনকে উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।আহতদের মধ্যে ইউসুফ আকন (৬০) নামের একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।অপর আহতরা হলেন, সেলিম (২৫), জাকির হোসেন (৩৫, কবির জোমাদ্দার (৫০)। আহতরা সকলেই উপজেলার তেলিখালি ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ভান্ডারিয়া-বরিশাল বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে বরিশালগামী বিআরটিসির দুটি বাস প্রতিযোগিতা করে চলছিল। এ সময় একটি বাস অপরটিকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা টিনবাহী ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রলিটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ট্রলির চালকসহ চারজন আহত হন।ভান্ডারিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. পারভেজ আহমেদ বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং আহত সকলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।'এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, 'এ ঘটনায় বিআরটিসির একটি বাস জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।'
6
তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন শুরুর আগে সহিংসতায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে দুই ছাত্রলীগকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে ওই ইউনিয়নের জাতীয় পার্টি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ মনোননীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওই দুই কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেদী হাসান রুবেল (২৬) নামে আরেক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত দুই জনকেই প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং পরে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা হলেন, হাফিজাবাদ ইউনিয়নের দলুয়াপাড়া এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে মো. সাগর (২০) এবং একই এলাকার মনতাজ আলীর ছেলে মো. লায়ন (২২)। আটক ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান রুবেল একই ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার ফারাজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাতে মেহেদী হাসান রুবেলসহ লাঙ্গল প্রতীকের কয়েকজন দলুয়াপাড়া এলাকার আইনুল ইসলামের বাড়িতে যান। এ সময় দলুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও নৌকা প্রতীকের কর্মী সাগর ও লায়নের সঙ্গে তাদের তর্ক এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে লায়ন ও সাগরের গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. কাওসার আহমেদ বলেন, দুজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সদর থানা পুলিশে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক জনকে আটক করা হয়েছে। রাতেই পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
6
মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, সাইবার দুনিয়ায় সন্দেহজনক তৎপরতা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগে রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার জবাবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ ঘোষণা দেন।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ কূটনীতিককে রাশিয়া ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে ।গত ১৩ এপ্রিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে 'গঠনমূলক' ফোনালাপের সময় বাইডেন এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পুতিনকে সতর্ক করেছিলেন।এ নিয়ে একটি বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ সুবুদ্ধি প্রদর্শন করার সময় এখন এসেছে যে এবং মুখোমুখি লড়াই থেকে নিজেদের ফিয়ে নেওয়ার। এমনটি না হলে মার্কিনিদের ওপর একাধিক বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করা হবে।এর আগে মার্কিন হোয়াইট হাউস থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, 'রাশিয়ার ক্ষতিকর বৈদেশিক কর্মকাণ্ড' প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত বছরের বিস্তৃত 'সোলারউইন্ড' হ্যাকিংয়ের পেছনে রুশ গোয়েন্দাদের হাত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগও রয়েছে মস্কোর বিরুদ্ধে।এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিয়া বলেছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
3
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম।গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. অনিমেষ সরকার। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।নির্বাচিত অন্যরা হলেন সহসভাপতি অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হাওলাদার, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহসান হাবিব এবং সদস্য সহকারী অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল বাকী, অধ্যাপক মো. সেকেন্দার আলী, সহযোগী অধ্যাপক ড. মির্জা নাজমুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক মো. হাম্মাদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল ও সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মো. মুন্না।এবারের নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে দুটি প্যানেল থেকে মোট ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতি বছর নির্বাচনে তিনটি প্যানেল অংশ নিলেও এবার আওয়ামীপন্থী মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে অংশ নেননি বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্যানেলের শিক্ষকেরা।
6
ট্রাম্পকে সমর্থন করার কারণে ২২ বছরের সংসারে বিচ্ছেদ ঘটেছে। স্বামী বিল ম্যাকর্মিককে ছেড়ে চলে গেছেন তার স্ত্রী গেইলি ম্যাকর্মিক। খবরটি প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, গেইলির স্বামী বিল ম্যাকর্মিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ডনাল্ড ট্রাম্পকে। এ নিয়ে তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তা শুনে ফেলেন স্ত্রী গেইলি। এতে তিনি এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে, ২২ বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার ছেড়ে চলে যান। গেইলি ম্যাকর্মিক একজন ডেমোক্রেট সমর্থনকারী। গেইলি বলেন, আমার মনে হচ্ছিলো আমি এতদিন ধরে নিজেকে বোকা বানাচ্ছিলাম। এই ঘটনাটা আমার ও তার (বিল) মধ্যে এমন সব দিক উন্মোচিত করেছে, যা আমি আগে কখনোই দেখি নি। গেইলি বলতে থাকেন, আমি বুঝতে পারলাম, আমি এমন অনেক জিনিস মেনে নিয়েছি যেগুলো আমি আগে কখনোই মেনে নিতাম না। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, সবাই ভাবছে আমাদের নতুন প্রেসিডেন্ট একজন হিরো। কিন্তু আমি মনে করি তিনি একজন ফুলবাবু। গেইলি ম্যাকর্মিক তার দীর্ঘ ২২ বছরের সংসার জীবন ও স্বামীকে ছেড়ে চলে গেছেন এবং নতুনভাবে সবকিছু শুরু করার চিন্তা করছেন।
3
ঢাকা: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর সংঘর্ষ-পীড়িত উত্তরাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের হামলায় কমপক্ষে ১১ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া হামলার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ৪ পুলিশ সদস্য। দেশটির সরকারের বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এসব তথ্য জানিয়েছে।আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বুরকিনা ফাসোর নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ওউসেইনি কমপাউরি জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলীয় ইয়িরগোউ শহরে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়িরগোউ শহরে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।কমপাউরি আরও বলেন, 'হামলার পর নিখোঁজ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে ও অভিযুক্তদের ধরতে সম্মিলিত অভিযান চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী।'এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।২০১৫ সাল থেকে সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর একের পর এক হামলা মোকাবিলায় রীতিমতো সংগ্রাম করছে বুরকিনা ফাসো। সশস্ত্র এসব গোষ্ঠীগুলোর বেশির ভাগই জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দা এবং আইএস'র সঙ্গে সম্পৃক্ত।দেশটিতে এখন পর্যন্ত উগ্রবাদী এসব গোষ্ঠীর হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০১৫ সালে দেশটির উত্তরে অবস্থিত মালি সীমান্তে প্রথম হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এরপর সারা দেশেই একের পর এক হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র মানবিক সংকটের।এর আগে চলতি বছরের জুনে দেশটির উত্তরাঞ্চলের সলহান গ্রামে হামলা চালিয়ে ১৩৮ জনকে হত্যা করা হয়। যদিও স্থানীয় সূত্রে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ বলে জানানো হয়।জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে সহিংসতায় ১২ লাখ মানুষ তাঁদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
3
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, সার ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমনের লক্ষ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রণোদনা ও ভর্তুকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার।অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে তিনি ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ প্রাথমিকভাবে ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেন, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৫৩ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ফলে আগামী বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবাদ বরাদ্দ বাড়ছে ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।বিশ্ববাজারে করোনা পরিস্থিতি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের প্রসঙ্গ টেনে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সরকারের ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ প্রাক্কলন ছিল ৫৩ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি তেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের ভর্তুকি বাবদ সরকারের ব্যয় বাড়ছে।' ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ বেড়ে ৬৬ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, '২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দ আরও বেড়ে ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৯০ শতাংশ।'দাম কমতে পারে যেসব পণ্যেরআ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাস ও সারের মূল্যের সাম্প্রতিক যে গতিপ্রকৃতি তাতে ভর্তুকি ব্যয় আরও ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা আগামী অর্থবছরের বাজেট ব্যবস্থাপনার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।'জাতীয় বাজেট সম্পর্কে জানতে: এখানেক্লিককরুনউল্লেখ্য, ২০২২-২৩ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।এই সম্পর্কিত পড়ুন:বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৮১ হাজার ৪৪ কোটি টাকাদাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যেরজরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ হাজার মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তাবাজেটে ঘাটতি বেড়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকাআমরা কি 'ফাঁপা' অর্থনীতিতেই আস্থা রাখছি?মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জনারীর জন্য কেমন বাজেট প্রয়োজনবড় অঙ্কের কঠিন বাজেট আসছে
0
সারা বিশ্বের মতো ভারতেও কমছে করোনার প্রকোপ। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে জনজীবন। তবে এরই মধ্যে পাওয়া গেল খারাপ খবর। করোনায় আক্রান্ত জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেতা কমল হাসান। কিছুদিন আগেই আমেরিকা থেকে ফিরেছিলেন তিনি। নিজস্ব পোশাকের ব্র্যান্ড 'কমলস হাউজ অব খদ্দর' এর যাত্রা শুরু করতেই যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন তিনি। সে দেশ থেকে ফেরার পর সামান্য সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এবার একটি তামিলে করা টুইটে নিজের করোনা পজিটিভ হওয়ার কথা জানিয়েছেন কমল হাসান।সোমবার ২২ নভেম্বরে দুপুরে এই দক্ষিণী সুপারস্টারের টুইট থেকেই জানা যায় সর্দি কাশির পর করোনা পরীক্ষা করলে ফলাফল পজিটিভ এসেছে তাঁর। বর্তমানে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে রয়েছেন তিনি। পুরোপুরি কোয়ারেনটিন অবস্থায়। টুইট শেষে কমল সবার উদ্দেশে লিখেছেন, 'মানুষের একটা কথা বুঝতে হবে। করোনা এখনও বিদায় নেয়নি। সচেতন থাকতেই হবে।' দেশে ফিরেই লোকেশ কানাগারাজের পরিচালনায় 'বিক্রম' ছবির শুটিং শুরু করার কথা ছিল তাঁর। ইতিমধ্যেই এই ছবির তিন লটের শুটিং করেছেন এই অভিনেতা। এই লটের শুটিং করলেই শেষ হতো ছবি। এখন বলাই যায়, আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেল 'বিক্রম' এর শুটিং। ছবিতে কমল ছাড়াও দেখা যাবে দক্ষিণী তারকা বিজয় সেতুপতি-কে।
2
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন ইলিশ ধরা, বিক্রি, বিপণন, মজুত ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। গত সোমবার মধ্যরাত থেকে জেলেরা নৌকা আর জাল নিয়ে পদ্মায় রুপালি ইলিশের খোঁজে নামেন। কিন্তু ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরেন তাঁরা।সরেজমিনে দেখা যায়, নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে জাল ফেলে ইলিশ মাছ না পাওয়ায় হতাশ জেলেরা। উপজেলার গৌরীপুর, লক্ষ্মীপুর, বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া পদ্মার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, রাতভর নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলে খালি হাতে জেলেরা ফিরছেন পাড়ে। জালে ধরা পড়েছে মাত্র কয়েকটি জাটকা ইলিশ।এ বিষয়ে নবীনগর গ্রামের জেলে জহুরুল ইসলাম বলেন, 'গত কয়েক বছরে পদ্মায় ইলিশের এমন আকাল দেখা যায়নি। এর আগে নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ জালে ধরা পড়েছে। মা ইলিশের পেটে ডিম ভর্তি দেখা গেছে। কিন্তু এ বছর কোনো কিছুর দেখা মিলছে না।'ওই গ্রামের আরেক জেলে কামরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরেও এই সময় ইলিশ পাওয়া গেছে। কিন্তু এবার আর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য মাছও পাওয়া যাচ্ছে কম। তিনি ও তাঁদের গ্রামের জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরেননি কিন্তু এখন খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।মহারাজপুর গ্রামের জেলে মোসলেম উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার রাতে থেকে তাঁরা নদীতে জাল ফেলেন। এ কয়েক দিন তাঁরা প্রায় খালি হাতে ফিরছেন। জাটকাসহ মাত্র কয়েকটা ইলিশ পেয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় অনেক কষ্টে দিন পার করেছেন। ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন। এখনো এ রকম চলতে থাকলে পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা দায় হয়ে যাবে।লালপুর বাজারের ক্রেতা শামসুল ইসলাম বলেন, 'বাজারে আমাদের পদ্মা নদীর ইলিশ নেই। শুধু আমদানি করা কিছু ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।'মাছের আড়তদার রুস্তম আলী বলেন, প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞার পর বাজারে প্রচুর পদ্মার ইলিশ আসে। এবার ছোট ছোট কিছু ইলিশ এসেছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে সাগরের ইলিশ বাজারে আসবে।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা বলেন, সাগর থেকে মা ইলিশ স্রোতে উজানে ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে। এবার পদ্মায় নাব্য কমে যাওয়ায় তেমন স্রোত নেই, যার ফলে পদ্মা নদীতে এ সময় ইলিশের উপস্থিতি কম বলে মনে হচ্ছে।আবু সামা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের তিনটি অভিযানে প্রায় ৪০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত জাটকা গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি নাটোর-১ আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুল জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেন।
6
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩০ জনে। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ভোর রাতে ও সকাল ১০ টার দিকে এই দুই জনের মৃত্যু হয়। মৃত ব্যাক্তিরা হলেন, গাংনী উপজেলার মটমুরা গ্রামের আব্দুল হান্নান (৬৫) ও সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের তাহেরা খাতুন (৬০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মকলেছুর রহমান পলাশ। পলাশ জানান, ভোররাতে আব্দুল হান্নান ও সকাল দশটার দিকে তাহেরা খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৩৫ জন।
6
মাঝে মাঝে দু-একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা উঠে এলেও জার্মান সমাজ যে এখনো অনেক মানবিক, সব মানুষের জন্যই যথেষ্ট উদার তা আবার বোঝা গেল টেসা গানসারার এবং নাইকে স্লাভিকের জয়ে। জেনে নিন বিজয়ী দুই ট্র্যান্সজেন্ডার নারীর গল্প। জার্মানিতে সমকামিতা আইনি স্বীকৃতি পায় ১৯৬৯ সালে। সে বছরই সমকামিতাকে 'অপরাধ' বিবেচনা না করার পক্ষে রায় দেয় আদালত। এখন জার্মানিতে সম লিঙ্গের মানুষদের বিয়েও আইনসিদ্ধ। ২০১৭ সালে আদালত সম লিঙ্গের কাউকে জীবনসঙ্গী করতে আগ্রহীদের এ অধিকার দেয়। তবে বাভারিয়া এবং নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়ার ভোটাররা সব মানুষের অধিকারের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল। তাই বাভারিয়া থেকে টেজা গানসারার আর নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া থেকে নাইকে স্লাভিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দুজনই গ্রিন পার্টির সদস্য। জার্মানিতে এই প্রথম কোনো ট্র্যান্সজেন্ডার নারী সংসদ সদস্য হলেন। এর আগে ক্রিস্টিয়ান শেঙ্ক নামের একজন বুন্ডেসটাগের সদস্য হলেও সংসদের মেয়াদ শেষেই নিজেকে তিনি পুরুষ 'ঘোষণা' করেন। রবিবারের নির্বাচনে গ্রিন পার্টি তৃতীয় সফল দল হিসেবে উঠে আসে। ২০১৭ সালে যারা মাত্র ৮.৯ ভাগ ভোট পেয়েছিল সেই দল কি না, এবার পেয়েছে ১৪.৯ ভাগ ভোট। দলের এবং নিজের সাফল্যে গানসারার খুব খুশি। রয়টার্সকে তিনি বলেন, 'এটা সবুজদের জন্য এবং ট্র্যান্সজেন্ডারদের অধিকার আন্দোলনের জন্য বড় এক ঐতিহাসিক জয়।' ৪৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ ভোটযুদ্ধে আগেও জিতেছেন। ২০১৩ সালে বাভারিয়ার আঞ্চলিক সংসদের সদস্য হয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনে জেতার আনন্দ ইন্সটাগ্রামে স্লাভিক প্রকাশ করেছেন এভাবে, 'এ তো রীতিমতো পাগলামো! আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না। তবে সত্যি কথা হলো, এক ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে আমি পরবর্তী বুন্ডেসটাগের সদস্য হতে চলেছি।' সূত্র : ডয়চে ভেলে বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
3
কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের নালায় চলছে কাদামাটি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। গতকাল সোমবার এ কাজ তদারকি করেন সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। তিনি বলেন, 'আশা করি, এ বছর জলাবদ্ধতা হবে না।'সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪২২টি নালা পরিষ্কার ও ১০টি ভরাট হওয়া খাল খননকাজ শুরু করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। এ সময়ের মধ্যেই অনেকগুলো নালা পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকিগুলো পরিষ্কারের কাজ চলছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে নালা দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।নালা ও খাল পরিষ্কারের অংশ হিসেবে গতকাল নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাপ্তান বাজার ব্যাপারী পুকুর পাড়নালা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড রাজগঞ্জ লুতু ভূঁইয়া জুয়েলার্সের পেছনের নালা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামতলা স্কুল গলির নালা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড অশোকতলা বিসিক মোড় এবং রেললাইনের পাশে নালা, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ঠাকুরপাড়া ফজিলাতুন্নেছা মডার্ন স্কুলের সামনের নালা, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কান্দিরপাড় টাউন হল এবং দীপিকা সিনেমা হলের সামনের নালা, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ চর্থা বড় পুকুর প্রাইমারি স্কুলের পশ্চিম দিকের গলির নালা, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড টিক্কাচর নালা, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড পাথুরিয়া পাড়া কবর স্থানের সামনের নালা, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড নুরপুর চৌহমুনী নালা, ২১ নম্বর ওয়ার্ড শাকতলা নালা এবং মডার্ন হাসপাতালের সামনে খালসহ নগরীর বিভিন্ন নালা ও খালের মাটি ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ চলছে।নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, 'গেল বছর জাঙ্গালিয়া কান্দিখালটি ভরাট থাকায় তা দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারেনি। এ কারণে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। আশা করি, এ বছর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে সিটি করপোরেশন।'রেসকোর্স এলাকার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. সেলিম মির্জা বলেন, 'নগরী থেকে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার সব খাল ও নালা পরিষ্কার করলেই আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে না।'কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক মো. ইকরাম হোসেন ইকু বলেন, নগরীর ২৭ ওয়ার্ডে নালা ও খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান চলছে। এর মধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ডের নালা পরিষ্কারের কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোতে কাজ চলছে। দুই/একদিনের মধ্যে আরও কিছু ওয়ার্ডের নালা পরিষ্কারের কাজ শেষ হবে। নগরীর সব নালা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এ কাজ চলমান থাকবে।মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, '১৩ বছর ধরে আমি নালা ও খাল পরিষ্কারে সরাসরি তদারকি করে আসছি যাতে নগরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়। গত বছর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কাজ করতে গিয়ে নগরী থেকে পানি বের হওয়ার প্রধান খাল কান্দি খালটি ভরাট করে ফেলে। এই কারণে নগরীর কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আশা করি, এ বছর এমন হবে না। সব খাল খনন ও নালা পরিষ্কার করা হচ্ছে। পরিপূর্ণ কাজ যাতে হয় সে জন্য শ্রমিকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কাজের তদারকি করছি।'
6
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ওপর দেওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে দেশটির প্রিন্সিপাল ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার জন ফিনারকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান । আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে এক বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তিনি এ অনুরোধ করেন।বৈঠকে উপদেষ্টা জন ফিনার গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের দৃঢ়তার স্বীকৃতি দেন। এ সময় সালমান এফ রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে গত ১৪ বছরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও মানব উন্নয়নে অসাধারণ সাফল্য সম্পর্কে মার্কিন উপদেষ্টাকে অবহিত করেন এবং এ অর্জনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।জন ফিনার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অসাধারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা স্বীকার করেন। ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন। তিনি সুশাসন, শ্রম এবং মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।সালমান এফ রহমান বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের দেশে শ্রম ও মানবাধিকারের ক্রমাগত উন্নতির জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে মার্কিন উপদেষ্টার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। পাশাপাশি তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা ও রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।
6
সব শেষ রক্তক্ষরণের পরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন আর রক্তক্ষরণ না হওয়ায় তাঁর অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আগের মতোই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। গতকাল সোমবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজকের পত্রিকাকে এ কথা বলেন।জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আয়োজিত এক পেশাজীবী সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'জনগণ বেরিয়ে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ আরও বেশি বেরিয়ে আসবে। এর মাধ্যমে নিঃসন্দেহে আমরা একটি আন্দোলন করতে পারব। যে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা এ সরকারকে বাধ্য করতে পারব খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে। পুলিশের নির্যাতনের পরেও বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন শুরু করেছে।'সরকার পতনের মাধ্যমে বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আমরা ঘরে বসে আঙুল চুষব, আর ঘাস খাব? শিগগিরই দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন নিশ্চিত করে আমরা তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করব।'বিএনপির মিছিলসাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে এদিন বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি। মিছিলের নেতৃত্ব দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কাকরাইল মোড় থেকে শান্তিনগর হয়ে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি শেষ হয়।এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা তাঁর সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, যে আইনে খালেদা জিয়াকে সাজামুক্ত করা হয়েছে, সে আইনে বলা আছে শর্ত দেওয়া যাবে, শর্ত মুক্তও করা যাবে। আমাদের হাইকোর্ট দেখানো হচ্ছে। সহজভাবে শুধু শর্তটা তুলে দিয়ে একটা সংশোধনী দিলেই খালেদা জিয়া যেখানে ইচ্ছা চিকিৎসা নিতে পারবেন।সাদা দলের মানববন্ধনসাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। অন্যথায় প্রতিহিংসার রাজনীতির ফলাফল ভালো কিছু বয়ে আনবে না বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
6
অভাব-অনটনের ইমরানের বেড়ে ওঠা। পরিবারে কখনো দুবেলা ভালোমন্দ খাওয়া জোটেনি। তবে খেয়ে-না খেয়ে নিজের স্বপ্নের ঠিকানা খুঁজে নিতে ভুল করেননি ইমরান হক। অসম্ভবকে সম্ভব করে এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন প্রত্যন্ত এলাকার মেধাবী এই শিক্ষার্থী।ইমরানের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলা সাকোয়া ইউনিয়নের খেরবাড়ী গ্রামে। বাবা পেশায় ভ্যানচালক, মা কাজ করেন খেত-খামার ও অন্যের বাড়িতে। তাঁদের পাঁচ সদস্যের পরিবার। ছেলে মেধাবী বলে মা-বাবা কখনো ছেলেকে তাঁদের কষ্ট বুঝতে দেননি। ছেলের কথা চিন্তা করে অনবরত কাজ করে গেছেন। রোদ-বৃষ্টিতে কঠোর পরিশ্রম করে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ দিয়েছেন। বাবা-মায়ের এই কষ্টের দাম দিলেন ইমরান। ২০২২ সালে ৩৯২৫তম স্থান অধিকার করে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন মানিকগঞ্জ কর্নেল আব্দুল মালেক মেডিকেল কলেজে।ছোটবেলা থেকে পড়ালেখার প্রতি ইমরানের ছিল প্রচণ্ড আগ্রহ। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে অর্জন করেছেন সাফল্য। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়ে ভর্তি হন সাকোয়া উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানে এসএসসিতে পান গোল্ডেন জিপিএ। এসএসসি পাস করার পরে ছেলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে কষ্টের মধ্যেও ভর্তি করান রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখানে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ না পেলেও জিপিএ-৫ পান ইমরান। এরপর মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন মাথায় নিয়ে যান রাজধানী ঢাকায়। খেয়ে-না খেয়ে বর্ণ নামের একটি কোচিং সেন্টারে পড়ালেখা করতে থাকেন। তাঁর মেধার কথা শুনে কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁর কোচিং ফি নেননি। কোচিংয়ের পাশাপাশি পরিবারের কষ্টের কথা চিন্তা করে প্রাইভেট পড়াতে শুরু করেন। অবশেষে প্রদীপ জ্বলল। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন ইমরান। কিন্তু আলোর চারপাশ যে ইমরানের অন্ধকার। কঠিন এই পথ পাড়ি দিতে খরচ করতে হবে প্রচুর টাকা।ইমরানের বাবা-মা তাঁদের ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। ভ্যান চালিয়ে আর খেতে কাজ করে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারবেন কি না, জানেন না। ভর্তির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই যেন আনন্দের পাশাপাশি কুরে খাচ্ছে পিতা আইজউদ্দীন ও মা আঞ্জয়ারাকে। পরিবারে ইমরান ছাড়াও রয়েছে আরও দুই কন্যাসন্তান। এর মধ্যে মেজো মেয়ে অষ্টম, ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।এ বিষয়ে মা আঞ্জয়ারা বলেন, 'ছোটবেলা থেকে আমাদের অসুখ-বিসুখ হলে ছেলে বলত, একদিন তোমাদের কষ্টের আমি মূল্য দেব। ডাক্তার হয়ে তোমাদের ও এলাকার মানুষের কাজে আসব। ছেলের কথা ছেলে রেখেছে। কিন্তু ডাক্তারিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আমাদের চিন্তা বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। কী করে তার পড়ালেখার খরচ চালাব তা জানি না।'ছেলের সাফল্যে বাবা আইজউদ্দীন বলেন, 'কষ্ট ছিল, কিন্তু ছেলের পড়ালেখার আগ্রহ দেখে দেনা করে হলেও পড়ালেখার খরচ দিয়েছি। কখনো ছেলেকে কষ্টের সাগরে ভাসতে দিইনি।'সাকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোমাইয়া আক্তার বলে, 'ইমরান ভাই আমাদের স্কুলের গর্ব। পরিবারে অসচ্ছলতা থাকলেও তিনি তাঁর গন্তব্যে ঠিকই পৌঁছেছেন। আমরাও ইমরান ভাইয়ের মতো ডাক্তার হতে চাই।'মেধাবী শিক্ষার্থী ইমরানের সাফল্যে এলাকাবাসী আব্দুল আজিজ জানান, ছোটবেলা থেকে ইমরান অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। ইমরানের পড়ালেখার জন্য তাঁর বাবা-মা অনেক কষ্ট করেন। আজ তাদের কষ্ট সার্থক হলেও তাদের বড় চিন্তা অভাব-অনটন।সাকোয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়েদ মঞ্জুরুল হাসান সুজা বলেন, 'এই বিদ্যালয়ে পড়ার সময় মেধার কথা চিন্তা করে তাঁর পড়ালেখার সমস্ত খরচ মওকুফ করা হয়েছিল। ইমরানের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত খুশি।'
6
দলের নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিষ্ঠুর দমননীতি ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করে বিরোধী নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা সরকারের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আওয়ামী সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়। যে কারণে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যেও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের কারাবন্দী করতে এখন আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে।আজ রোববার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল-কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জামাল হোসাইন তালুকদারকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এই বিবৃতি দেন।শনিবার রাতে খুলনার বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন জামাল হোসাইন তালুকদার। বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবি জানান ফখরুল।মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের উদাসীনতা, ব্যর্থতা ও ভ্রান্ত নীতির কারণে দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টিকা ও চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ অকাতরে মৃত্যুবরণ করছে। সরকারের অপরিকল্পিত লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। খাদ্য ও অর্থ কষ্টে মানুষ অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছে। নিদারুণ কষ্টে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অনৈতিক সরকার বিরামহীন গতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনি তৈরি করে মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করছে। জামাল হোসাইন তালুকদারকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নেতা কর্মীদের ওপর বর্তমান অবৈধ সরকারের চলমান নির্যাতনেরই ধারাবাহিকতা। সরকার মানুষের মর্যাদা, মানবতা ও নাগরিক স্বাধীনতাকে পদদলিত করছে শুধুমাত্র একদলীয় কর্তৃত্ব চিরস্থায়ী করার জন্যই।'
9
নরসিংদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচটি কোচিং সেন্টারসহ আটটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের৩টি ইউনিট ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের ব্রাক্ষন্দী বালুরমাঠ সংলগ্ন কোচিং সেন্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ভারতীয় চালবাহী ট্রাকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জগবন্ধু রায় নামে এক ভারতীয় ট্রাক চালক অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। রোববার দুপুরে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ভেতরে ইয়ার্ডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।ঘটনার পরপরই জগবন্ধু রায় নামে ওই ভারতীর চালককে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বাড়ি ভারতের দার্জিলিং জেলার ঢুপগুড়ি এলাকায়।বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, ৩৪ মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভারতীয় ওই ট্রাকটি আনলোডের অপেক্ষায় স্থলবন্দরে আটকে ছিল। তীব্র তাপ দাহে দুপুরে ওই ট্রাকের ইঞ্জিনের ভেতরে কেরোসিনের গ্যাস স্টোভে রান্না করার জন্য দিয়াশলাইয়ের (ম্যাচের) কাঠিতে আগুন জানাচ্ছিলেন একজন। এ সময় দিয়াশলাইয়ের কাঠি ভেঙে নিচে পড়ে যায় এবং ট্রাকের কেবিনে ভেতরে আগুন লাগে। আকস্মিক ভাবে ট্রাকের আগুন লাগায় ট্রাকের ভেতরে থাকা ট্রাক চালক জগবন্ধু রায় অগ্নিদগ্ধ হয়। ট্রাকের ইঞ্জিন ভস্মীভূত ও ট্রাকের ওপরে থাকা চালের বস্তায় আগুন লাগে। আগুনে প্রায় ২০ বস্তা চালের আংশিক পুড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ইঞ্জিনের ভেতরে থেকে কোনো রকম ভাবে ট্রাকের চালককে পার্শ্ববর্তী চালকেরা উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিক ভাবে তাঁকে ভারতে পাঠিয়ে দেন। পরে তেঁতুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে। এ বিষয়ে আমদানিকারক মেসার্স পুলোক এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ পুলক জানান, সিএন্ডএফ এজেন্ট সিলেক্টেড ট্রেডার্সের হাফিজুর রহমানের মাধ্যমে ভারত থেকে ১০০ টন চাল আমদানি করেছেন। ৩৪ মেট্রিক টনের ৩টি ভারতীয় ট্রাকে করে এসব চাল নিয়ে আসা হয়। গত বুধবার দুটি ভারতীয় ট্রাক বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়। অপর একটি ট্রাক না আসায় ওই দুটি ট্রাকের চাল আনলোড করা হয়নি। আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট ট্রাক থেকে চাল আনলোড করতে চাইলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেড কর্তৃপক্ষ অপর আরেকটি ট্রাক না আসা পর্যন্ত ট্রাক থেকে চাল আনলোড করতে দেয়নি। তীব্র গরমে দুপুরে আকস্মিক ভাবে ট্রাকে আগুন লেগে যায়। স্থলবন্দরের অবহেলা অবস্থাপনায় এবং তাদের ভুলে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানান তিনি। ট্রাকগুলো আনলোড করা হলে এমন ঘটনা ঘটতো না।এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার মো. আব্দুল্লাহ জানান, কেরোসিন স্টোভে ভাত রান্না করার সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্রাকের চালকের থাকা ক্যাবিনে শর্টসার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় সময়মতো মালগুলো আনলোড করা হয়েছে। বন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তেমনভাবে না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
6
লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দলবদল ঘিরে নতুন মৌসুমের পুরো দলবদলের বাজারটাই ছিল চমক আর বিস্ময়ে ভরা। কিলিয়ান এমবাপ্পের দলবদল নিয়েও কম নাটকীয়তা হয়নি! ফরাসি তারকা অবশ্য শেষ পর্যন্ত পিএসজিতেই থেকে গেছেন। তবে দলবদলের বাজারে একেবারে শেষ ঘণ্টায় আরও একবার চমক! বার্সেলোনা ছেড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদে ফিরলেন আতোয়াঁন গ্রিজমান।গ্রিজমানকে এক বছরের ধারে আতলেতিকোতে ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে বার্সা। তবে দুই পক্ষই চাইলে আরও একটি মৌসুম আতলেতিকোর সঙ্গে চুক্তি বাড়ানো হতে পারে গ্রিজমানের। ২০১৪-১৫ সালে আতলেতিকোতে যোগ দিয়ে ২৫৭টি ম্যাচ খেলেছিলেন গ্রিজমান। সঙ্গে একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ, একটি ইউরোপা লিগ ও উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।চার বছর আতলেতিকোতে দাপটের সঙ্গে খেলে ২০১৯ সালে বার্সায় যোগ দেন গ্রিজমান। তবে কাতালান ক্লাবটিতে এসে আগের সেই ছন্দটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন গ্রিজমান। এবার তাই দিয়েগো সিমিওনের অধীনে পুরোনো ক্লাবে নিজের চেনা ছন্দে ফেরার পালা গ্রিজমানের। এদিকে বার্সা গ্রিজমানের বদলি হিসাবে লুক ডি'ইয়ং-কে সেভিয়া থেকে সই করেছে।
12
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্যের সমালোচনা করার কারণে মিশরের একটি মসজিদের ইমামকে আটক করা হয়েছে। দেশটির ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ 'আহমাদ হাম্মাম' নামের ওই ইমামকে আটক করা হয়েছে। মিশরের উত্তরাঞ্চলীয় আলেক্সান্দ্রিয়া প্রদেশের একটি মসজিদের ইমামতি করেন আহমাদ হাম্মাম। তিনি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এ খবর পেয়ে ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইমাম হাম্মামকে আটক করে বিচার বিভাগের হাতে তুলে দিয়েছে মিশরের পুলিশ। মিশরে এমন সময় মসজিদের একজন ইমামকে আটক করা হলো যখন সারাবিশ্বের আলেম সমাজ ও ধর্মীয় নেতারা তাদের দ্বীনি দায়িত্ব অনুভূতি থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্য সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে যাচ্ছেন। সূত্র : পার্সটুডে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারে কেরানীগঞ্জের কারাগারে আদালত স্থাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা রিট আবেদনের শুনানি ১০ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ মঙ্গলবার আংশিক শুনানি শেষে মুলতবি করেন। আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ সময় খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। পরে মওদুদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আরও কিছু তথ্য জানতে চেয়েছেন। সেগুলো এই আবেদনের সঙ্গে সম্পূরক হিসেবে আগামী ১০ জুন দাখিল করা হবে। সে পর্যন্ত শুনানি মুলতবি থাকবে। শুনানিতে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, 'কেরানীগঞ্জ ঢাকা মহানগর এলাকার মধ্যে নয়। এটা মেট্রোপলিটন আদালতের এখতিয়ারের বাইরে। এটা অন্য সেশন ডিভিশন (অন্য অধিক্ষেত্র)। আর আইন অনুযায়ী মামলার বিচার হতে হবে উন্মুক্ত আদালতে।' এ সময় আদালত বলেন, 'এর আগে ওনার মামলার বিচার তো আরেকটি কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হয়েছে, সে সময় কারাগারে আদালত স্থাপনের ক্ষেত্রে আপনারা কোন পদক্ষেপ ছিল কিনা সে বিষয়গুলো জানা দরকার। এরপর আদালত শুনানি ১০ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেন। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখানে মহানগর আদালতের কোনো বিষয় নেই, এটা ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের মামলা। সুতরাং মহানগর আদালতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার যে কোনো জায়গায় আদালত বসাতে পারে। তাদের কোনো যুক্তি এখানে চলবে না। পরে এ জে মোহাম্মদ আলীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি ১০ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেন।
6
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে সৃষ্ট যুদ্ধে ৩৫ লাখ শরণার্থী দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। সোমবার জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক জরিপে এই তথ্য জানানো হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ২৬ দিনে মোট ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার দুই শ' ৪৫ ইউক্রেনীয় নাগরিক প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে পোল্যান্ডে সর্বোচ্চ ২১ লাখ ১৩ হাজার পাঁচ শ' ৫৪ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। অপরদিকে রোমানিয়ায় পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার তিন শ' আটজন, মলদোভায় তিন লাখ ৬৭ হাজার নয় শ' ১৩ জন, হাঙ্গেরিতে তিন লাখ ১৭ হাজার আট শ' ৬৩ জন, স্লোভাকিয়ায় দুই লাখ ৫৩ হাজার পাঁচ শ' ৯২ জন, রাশিয়ায় দুই লাখ ৫২ হাজার তিন শ' ৭৬ জন ও বেলারুশে চার হাজার তিন শ' আটজন শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর জেরে ২১ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহীদের দুই রাষ্ট্র 'দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক' ও 'লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক'কে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তি রক্ষায় ওই অঞ্চলে সৈন্য পাঠায় রাশিয়া। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সহায়তার লক্ষ্যে রুশ স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযানের নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে পুতিন 'বিশেষ সামরিক অভিযান' হিসেবে বর্ণনা করছেন। ইউক্রেনকে 'বেসামরিকীকরণ' ও 'নাৎসিমুক্ত' করার জন্যই তিনি এই অভিযান চালিয়েছেন বলে দাবি করছেন। সূত্র : সিএনএন
3
একাধিক হলিউড ছবি ও সিরিজে অভিনয় করছেন শিল্পী প্রীতম আহমেদ। গত এক বছরে সনি পিকচার্স, স্কাই টিভি, অ্যাপল টিভি, বিবিসি প্রোডাকশন, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, আমাজন ও নেটফ্লিক্স-এর মোট ৫টি ছবি এবং ৮টি সিরিজে কাজ করেছেন এই সংগীতশিল্পী, যার বেশির ভাগই প্রকাশ হতে থাকবে ২০২২ সাল থেকে। কিছু ছবিতে অডিও প্রোডাকশনের কাজ করেছেন, কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। এরই মধ্যে ব্রিটিশ অ্যাক্টর ও পারফর্মার হিসেবে এনলিস্টেড হয়েছেন।ব্রিটিশ রাজপরিবার নিয়ে নেটফ্লিক্সের 'দ্য ক্রাউন' ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রীতম। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রীতম বলেন, 'এক পর্বে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি আমি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের এই সিরিজে কাজ করা অবশ্যই গর্বের বিষয়। তা ছাড়া, সনি পিকচার্সের মতো পৃথিবীর প্রথম শ্রেণির প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি শিল্পীর চুক্তিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করাটাও বড় একটি বিষয়। তবে সবচেয়ে ভালো লাগা বিষয়টি হলো, বাংলাদেশের পোশাক ও দেশের নামটি বিশ্বজুড়ে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছি।'প্রীতম এখন ব্যস্ত সনি পিকচার্স প্রযোজিত একটি শিশুতোষ ছবির শুটিংয়ে। বাজেট ৩৬ মিলিয়ন ডলার। ছবির মূল চরিত্রগুলোয় শিশুরাই, অভিভাবক হিসেবে প্রীতমসহ অভিনয় করছেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ড উইনার এমা স্টোন, এমা থমসনসহ অনেকে।হলিউডের আরও কয়েকটি কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন প্রীতম। এই সুযোগগুলো কীভাবে আসছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রীতম বলেন, 'লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটিতে বিএ অনার্স পড়ছি এখন। আমার ইউনিভার্সিটির ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের বন্ধুদের মাধ্যমেই ব্রিটিশ ছবির কাস্টিং ডিরেক্টরদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তাঁরা আমার জন্য উপযুক্ত চরিত্রে অভিনয়ের অডিশনে ডাকেন।'২০১৬ থেকে নিয়মিত লন্ডনে বসবাস করছেন এই সংগীতশিল্পী। সেখানে সংগীতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। উচ্চশিক্ষা নিয়ে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতের শিক্ষক হতে চান প্রীতম।
2
চাঁপাইবাবগঞ্জে শুষ্ক মৌসুমে মহানন্দা নদীতে পানি না থাকায় জেগে ওঠা নদীর বুকে গড়ে উঠেছে ফসলের মাঠ। যেদিকে চোখ যায়, দেখা মিলবে পাকা বা আধাপাকা ধান ক্ষেত। খরায় ধান ক্ষেতে পানি দেওয়ার জন্য বসানো হয়েছে সেচ পাম্প। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের খালঘাট থেকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর সেতু সংলগ্ন তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীত ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কম থাকায় মহানন্দা নদীর পাড়ে কৃষকরা বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করেছেন। উৎপাদিত ফসলে বাড়তি আয় করে কৃষকরা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এছাড়া খরা মৌসুমে নদীটি শুকিয়ে মরুভূমির রূপ নেয়। এসময় নদীর বুকে ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলাদি চাষাবাদ করা হয়ে থাকে সেচের মাধ্যমে। তাই সব সময় নদীর পানি ধরে রেখে চাষাবাদসহ মাছের উৎপাদন বাড়াতে মহানন্দা নদীতে রাবার-ড্যাম নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২৩ সালের ৩০ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ শেষ হলে আর নদীর বুকে চর জাগবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ময়েজ উদ্দিন জানান, পানি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাবার ড্যাম প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। রাবার ড্যামের কাজ সম্পন্ন হলে ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহানন্দা নদীতে সারাবছর পানি থাকবে। এছাড়া বছরজুড়ে দেশী মাছ আহরণ ও কৃষি জমিতে চাষাবাদ করা যাবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, 'কী প্রস্তাব দিয়েছে জানি না; কিন্তু আমরা বিএনপির সব চাওয়া-পাওয়া বুঝি। বিএনপি এমন ইসি চায়, যারা তাদের আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।' মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ এমন কথা বলেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এমএ জলিলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মোস্তাক ভাসানী, আওয়ামী লীগ নেতা এমএ করিম প্রমুখ। হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া না দিয়ে অতীতের ভুল বুঝতে পেরেছে বিএনপি। তাই এখন বারবার অনুনয়-বিনয় করছে। তারা বলছে, আমরা আলোচনায় বসতে চাই, একটু সুযোগ দিন।' বিএনপিকে উদ্দেশ করে হাছান মাহমুদ বলেন, 'ইসি গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, বিএনপিকে তা মেনে নেওয়ার হলফনামা দিতে হবে।' তিনি বলেন, 'সংবিধান অনুযায়ী ইসি গঠনের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির রয়েছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে বর্তমান কমিশন গঠন করেছেন।' হাছান মাহমুদ বলেন, 'বিএনপির পক্ষ থেকে ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব গেছে। দেরিতে হলেও প্রক্রিয়াটি অনুধাবন করার জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ। প্রস্তাবে কী আছে জানি না। তবে বিএনপির সব প্রস্তাবের সারমর্ম হচ্ছে, এমন একটি নির্বাচন চাই, যেটি খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারে।' প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, এটি নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। বিমানের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, কলা-কুশলীদের নিয়ে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তা যথেষ্ট নয়। সরকারকে অনুরোধ জানাব, অন্য একটি সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।
9
বিএনপি দেশে আরও একটি এক-এগারোর স্বপ্নে বিভোর বলে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশে আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মনে হয় না। আজ সোমবার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন কাদের।কাদের বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়, তবে তা ব্যালটের মাধ্যমে নয়, ভিন্ন কোনো অগণতান্ত্রিক এবং চোরাগলি পথে।আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের বক্তব্য আত্মঘাতী প্রবণতা ছাড়া আর কিছুই নয়।নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে বিএনপি এখনো পুরোনো ধূসর পথে হাঁটছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকৃতপক্ষে সময় ও স্রোতের মত নির্বাচনও বসে থাকবে না। নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হবে না, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।যারা গুজব ও অপপ্রচারকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছে তাদের চেহারা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে কাদের বলেন, বিএনপি নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে আটকা পড়েছে, তাইতো তারা এখন উভয়সংকটে,-না পারছে আন্দোলন জমাতে, না পারছে নির্বাচনে যেতে।আওয়ামী লীগ নয়, প্রাকৃত অর্থে বিএনপিই এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে, তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন এমনটা মনে করে ওবায়দুল কাদের বলেন তাই তারা নির্বাচনকে ভয় পায় এবং তাদের আন্দোলনের কথা শুনলে মানুষ হাসে।বিএনপি ষড়যন্ত্র ও গুজব নির্ভর, তাদের রাজপথে কোন অস্তিত্ব নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন তাদের অস্তিত্ব শুধু ফেসবুক আর অনলাইনে।ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন এসব কি বিএনপির দেউলিয়াত্বের লক্ষণ নয়?আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল থেকে নাম প্রেরণের ক্ষেত্রে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে তা জমা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিছু কিছু স্থানে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।কাদের বলেন, তৃণমূল একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিষদের মনোনয়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা তারপর জেলা হয়ে কেন্দ্রে নামের সুপারিশ আসে।ওবায়দুল কাদের এর আগে নাম তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোনোরূপ স্বজনপ্রীতি ও লোভের বশবর্তী না হয়ে এবং প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য গোপন না করে নাম প্রেরণের জন্য দলীয় ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
9
পটেশ্বরী ওরফে পটুর ঠাকুরমা পটল তোলার পর শ্রাদ্ধের ফর্দ করতে সে গেল পুরোহিত ফটিকলালের কাছে। ফটিকলাল মিষ্টি করে বলল, 'লিস্টি করে দিচ্ছি। লেখো-চাল ১০ সের, ডাল ৫ সের, ঘি ৫ সের, খড়ম এক জোড়া, কম্বল একটি...' পটু বলল, 'ঠাম্মার শ্রাদ্ধে কম্বল লাগবে কেন?' ফটিকলাল বলল, 'আঃ হরি! তোমার ঠাম্মা এখন আছে কই জানো?' -জানি, স্বর্গে। -আহ হা, স্বর্গে তো বটেই, স্বর্গের কোন এরিয়াতে তা জানো? -না তো! কোথায়? -চন্দ্রে। সেইখানে মারাত্মক ঠান্ডা। কম্বলের অভাবে বুড়ি ঠকঠকায়ে কাঁপতাছে। চন্দ্রে তোমার ঠাম্মা জমি কেনার বায়না করছে। বাড়ি তুলবে। কিন্তু টাকার অভাবে জমি কিনতে পারতেছে না। শ্রাদ্ধের সাথে চন্দ্রে তার কাছে কিছু টাকাও পাঠায়ে দিয়ো।' পটু অবিশ্বাসের সুরে বলল: -সে কথা তুমি জানলে কী করে? ফটিকলাল বলল:-আমার ঠাকুরদা চন্দ্রের সব জমির এজেন্ট। তিনিই খবর দিয়েছেন।-কী করে খবর পাঠাল?-পত্রিকায় দেখো নাই? রুশ বিজ্ঞানীরা লাইকা নামের একটা কুত্তা পাঠাইছিল। আমার ঠাকুরদাদা তারে দেইখা 'বুলু রে! বুলু রে!' কইরা কাইন্দা উঠছিল। তাই দেইখ্যা যমরাজের মনে খুব দুঃখু হইল। যমরাজ আমার ঠাকুরদারে ডাক দিয়ে কইলেন, 'পরান রে! দুঃখু করিস না। পৃথিবীর মানুষ শিগগিরই দলে দলে চন্দ্রে আসবে। তুই চন্দ্রের জমির এজেন্ট হ। পৃথিবীর পাবলিক আইলে তাগো কাছ থিকা নগদ টাকা নিবি আর জমি দিবি।-তারপর?-তারপর ঠাকুর দাদা লাইকা মারফত রাশিয়ার কাছে খবর পাঠাইছে। রাশিয়ার লোক আমার কাছে খবর পাঠাইছে।সব শুনে পটু তার ঠাকুরমার জন্য জমি কেনার টাকা আনতে গেল। পটুর কাছে এই খবর শুনে আশি বছরের বদন খুড়া চাঁদের জমি কেনার জন্য এসে হাজির। বদন খুড়া বললেন,-বাবা ফোকোট লাল!-খুড়া, আমার নাম ফটিকলাল।-ওই হলো, একই কথা। তা শুনলাম তুমি নাকি চাঁদের জমির তেজারতি ব্যবসা শুরু করেছ?-আজ্ঞে, করেছি। জমির দাম খুব সস্তা। মাত্র ৫০ টাকা কাঠা।-মাত্র ৫০ টাকা কাঠা! বাবা ফোকোটলাল...-আজ্ঞে, আমার নাম ফটিকলাল!-অই হলো, তা তুমি আমার জন্য বিঘে কুড়ি জমির ব্যবস্থা করে দাও। এই নাও বায়নার ৫০০ টাকা। আর হ্যাঁ, চাঁদে জমি তো কিনছি, কিন্তু সেখানে যাব কী করে?-ক্যান, ডবল ডেকার বাঁশে করে যাইবা।-সেকি! বাস চালু হবে নাকি? কবে থেকে? -বেশি দেরি নাই। তোমার তো বয়েস ৮০ হইলো। আর কয়টা দিন পরই তোমার বাড়িতে ডবল ডেকার বাঁশ যাইব। ওই বাঁশের হর্ন হইলো 'হরিবোল'। তুমি বাঁশে উঠলেই সবাই তোমারে 'হরি হরি বোল! হো...রি. . বোল!' কইয়া চান্দে পাঠাইয়া দিবো। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গল্প অডিও কৌতুক হিসেবে বাজারে এসেছিল অর্ধশতাব্দী আগে। সেই গল্প তখন স্রেফ গল্পই ছিল। কিন্তু তার বছর দশেক পরই, মানে আশির দশকেই তা তপন সিংহের ছবির মতো 'গল্প হলেও সত্যি' হয়ে গেল। আক্ষরিক অর্থে আমেরিকার এক ফটিকলাল 'চান্দের জমির তেজারতি' খুলে বসলেন। চাঁদের জমি প্লট আকারে বিক্রি করা শুরু করলেন। এরপর ৪০ বছর কেটেছে। এখন কাস্টমার হিসেবে নতুন যুগের পটেশ্বরী-বদনখুড়ার অভাব নাই। দেদার বিক্রি হচ্ছে চাঁদের জমি। দুনিয়ার অগুনতি খদ্দেরের মধ্যে এম ডি অসীম নামের এক যুবক যোগ হয়েছেন। তাঁর বাড়ি খুলনায়। বিবাহবার্ষিকীতে তিনি তাঁর স্ত্রী ইসরাত টুম্পাকে হাউস করে চাঁদে জমি কিনে দিয়েছেন। তিনি জমিটা কিনেছেন অনলাইনে, লুনারএমব্যাসি ডটকম নামের একটা কোম্পানি থেকে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকের নাম ডেনিস হোপ। তাঁর বাড়ি আমেরিকায়। অসীমের জমির দাম পড়েছে ৪৫ ডলার। এর আগে সাতক্ষীরার দুই তরুণ এস এম শাহীন আলম এবং শেখ শাকিল হোসেনও একই কোম্পানি থেকে জমি কিনেছেন। এই তিনজনের কাছেই 'চাঁদের মালিক' ডেনিস হোপ বিক্রয় চুক্তিনামা, কেনা জমির স্যাটেলাইট ছবি, দাগ নম্বর, মৌজা-পর্চাসহ সব কাগজপত্র 'মিউটেশন'সহ পাঠিয়ে দিয়েছেন। অসীমের স্ত্রী ইসরাত টুম্পা জমির দলিল পেয়ে বিরাট খুশি। তিনি বলেছেন, দলিল পেয়ে তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি চাঁদে চলে গেছেন। এই নিয়ে খবরের কাগজ ও টেলিভিশনে খবর বেরিয়েছে। বিস্তর ঠাট্টা-মশকরা হচ্ছে ফেসবুকে। কিন্তু ৪০ বছর ধরে এসব ঠাট্টা গায়েই মাখাননি 'জমির মালিক' ডেনিস হোপ। তিনি এই-সেই করে চার দশক ধরে সিরিয়াসলি চাঁদের জমি বেচে যাচ্ছেন। সারা দুনিয়ার বদন খুড়ারা জমি কিনছেন। তাঁদের হাতে দলিলের সঙ্গে একটি করে চাঁদের মানচিত্র ধরিয়ে দেন হোপ। তাতে তাঁরা বুঝতে পারেন, ঠিক কোন জায়গার জমিটা তাঁরা কিনলেন। এ পর্যন্ত ৬০ লাখের বেশি লোকের কাছে চাঁদের ৬১.১ কোটি একর জমি বিক্রি করেছেন হোপ। একেক এরিয়ার জমির দাম একেক রকম। সবচেয়ে কম দামি জমি একরপ্রতি ২৪.৯৯ ডলার। সবচেয়ে দামি জমি একরপ্রতি ৫০০ ডলার। হোপ জানিয়েছেন, চাঁদের সবচেয়ে বৃহদাকৃতি জমির অংশটিতে ৫৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৪০ একর জায়গা আছে। সেই জায়গা কেনার মতো একটা ভালো 'পার্টি' খুঁজছেন তিনি।হোপের সংস্থার নাম লুনার এমব্যাসি। হোপ নিজেই তার সিইও। এই সিইও-র মানে কিন্তু 'চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার' নয়, এর অর্থ হলো 'সেলেশ্চিয়াল এক্সিকিউটিভ অফিসার' তথা 'মহাজাগতিক নির্বাহী কর্মকর্তা'। জাতিসংঘ ১৯৬৭ সালে বলেছিল, কোনো রাষ্ট্র ভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহের মালিক হতে পারবে না। কিন্তু কোনো ব্যক্তি এই দাবি করতে পারবেন না, এমন কথাও বলা নেই। সেই যুক্তিতে হোপ চাঁদের মালিকানা দাবি করে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছিলেন। জাতিসংঘ তার জবাব দেয়নি। জাতিসংঘের মৌনতাকে সম্মতি ধরে নিয়ে তিনি চাঁদের জমি বেচা শুরু করেছিলেন। ১৯৮০ সাল থেকে এই ৪১ বছর ধরে চলছে হোপের চাঁদের জমির ব্যবসা। হোপ আর তাঁর কাস্টমারদের কেনাবেচা নিয়ে লোকে আগে হাসাহাসি করত। কিন্তু এখন হোপের দাবি অনেককেই ভাবাচ্ছে। আইনজ্ঞরা এখন বলছেন, এইভাবে চাঁদের জমি বিক্রি বৈধ না। কারণ, সরকার ছাড়া জমি বেচা যায় না। এরপর হোপ নিজেই চাঁদের নামে সরকার গড়েছেন। সেই সরকারের নাম গ্যালাকটিক ইনডিপেনডেন্ট গভর্নমেন্ট। তিনি নিজে সেই সরকারের প্রেসিডেন্ট। ২০০৯ সালে হোপের সরকারের স্বীকৃতিপত্রে সই করেছিলেন হিলারি ক্লিনটন। সরকার থাকলে সংবিধান লাগে, দরকার নিজস্ব মুদ্রা, পতাকা, প্রতীকসহ আরও অনেক কিছু। হোপ সেই সবই বানিয়েছেন। তাঁর সরকারের নিজস্ব মুদ্রা আছে। নিজের আইনকানুনও আছে। নেভাদায় লুনার এমব্যাসির মূল কার্যালয়। সব মিলিয়ে ডজনখানেক কর্মী কাজ করেন সেখানে। আরও মারাত্মক কথা হলো, হোপ শুধু চাঁদে থেমে নেই। এখন তিনি বুধ, মঙ্গল, শুক্র, প্লুটো গ্রহের জমিও বেচা শুরু করেছেন। হোপের এই মহাজাগতিক তেজারতির পুরোটাই কি ধাপ্পাবাজি? একটা ধাপ্পাবাজি এইভাবে চার যুগ ধরে চলতে পারে? বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে ভংচং বুঝিয়ে তাদের পকেটের পয়সা এত সহজেই নিয়ে আসা যায়? না। যায় না। আসলে ডেনিস হোপ নামের ওই মার্কিন ভদ্রলোক অত্যন্ত প্রতিভাধর একজন বিপণনশিল্পী। তিনি খদ্দেরদের সঙ্গে আগাগোড়া সততার সঙ্গে এক ইল্যুশনের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি একবারও তাঁর কাস্টমারকে ফটিকলালের মতো বলেননি, 'চাঁদে যাওয়ার জন্য ডবল ডেকার বাঁশের ব্যবস্থা আছে।' তিনি শুধু কাস্টমারকে একটা ধারণা দিয়ে গেছেন। একধরনের জাদুবাস্তবতা মাখা কল্পনা তিনি দলিল-পরচার মতো স্পর্শযোগ্য বস্তুর মধ্য দিয়ে ফেরি করে আসছেন। তিনি কী বিক্রি করছেন, তা যেমন তিনি জানেন, তাঁর খদ্দেররা কী কিনছেন, তা-ও তাঁরা জানেন। এর মধ্যে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ টাইপের অসততা নেই। কেনাবেচার পুরো প্রক্রিয়াটি হয় স্বচ্ছতা ও সততার মধ্য দিয়ে। সেই সততার টেলিস্কোপে চোখ রেখে খদ্দের যখন কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদে চোখ রাখে, তখন চাঁদের জমিকে তাঁর নিজেরই জমি মনে হয়। তাঁর চোখে চাঁদের বুড়ির বয়েস ষোলোতে নেমে আসে। সারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক[]
8
বেসরকারি হাসপাতালে টিকা দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো: আব্দুল মান্নান। শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা প্রতিরোধী টিকা দান কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আবদুল মান্নান বলেন, এখন পর্যন্ত টিকা গ্রহনের জন্য প্রায় ১৪ লাখ নিবন্ধন করেছে। দেশে টিকা কার্যক্রমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফলে সুষ্ঠুভাবেই চলছে কোভিড টিকা কার্যক্রম। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। টিকা নিতে সর্বোচ্চ ৫ মিনিট সময় লাগছে। টিকার প্রাপ্তি নিয়ে কোনো সংশয় নেই। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রবীণদের জন্য বিশেষ ভাবে স্পট রেজিষ্ট্রেশন শিগগিরই চালু হতে পারে। ৩৫ লাখ টিকা দেয়ার পর পরিসংখ্যান যাচাই করবে। তখন গ্রামের মানুষদের উপস্থিতি কম হলে আগ্রহ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হবে।
6
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি অপরাজনীতি থেকে ফিরে না এলে আগুনের লেলিহান শিখায় তাদের রাজনীতির অপমৃত্যু ঘটবে। তিনি বলেন, 'বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচনে একের পর এক ব্যর্থ হয়ে জনগণের উপর প্রতিশোধ নিতে আবারো আগুনসন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তারা নির্লজ্জভাবে বলে বেড়ায় যে, তারা নাকি আগুনসন্ত্রাসে বিশ্বাসী নয়। দেশের মানুষ জানে এদেশে পেট্রোল বোমা আর আগুন সন্ত্রাসের জনক হচ্ছে বিএনপি।' সোমবার সদ্যপ্রয়াত নোয়াখালীর কবিরহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক মফিজ উল্লা বিকমের স্মরণে আয়োজিত স্মরণ সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সংসদ ভবনের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্মরণ সভায় যুক্ত হন তিনি। তিনি বলেন, গানপাউডার দিয়ে মানুষ পোড়ানো বিএনপির অপরাজনীতির ধারাবাহিকতা। ২০১৩- ১৪ সালের আগুনসন্ত্রাস তার প্রমাণ। দেশের শান্তি ও স্বস্তি নষ্ট করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিএনপি গুজব, অপপ্রচার আর আগুনসন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অর্থের উৎসেরও সন্ধান করা হচ্ছে। যারা অর্থ যোগান দিচ্ছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পদ এবং মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে আর দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে এজেন্ট দিতে পারে না, তারা নির্বাচনে হেরে প্রতিবাদ করাটা লজ্জা ছাড়া আর কিছু নয়। সেতুমন্ত্রী বলেন, নোয়াখালীর বিভিন্ন উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার উদার দৃষ্টিবঙ্গী পোষণ করে। ইতিমধ্যেই সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গ্রহণ করা হয়েছে নানা পদক্ষেপ। ফেনী, চৌমুহনী-সোনাপুর সড়ক চারলেনের কাজ চলমান আছে। চৌমুহনী হতে কুমিল্লা পর্যন্ত চারলেনের নির্মাণ কাজ চলছে। কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন রুমির সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান প্রমুখ।
9
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব ছেড়ে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দল মুলতান সুলতানের সহকারী কোচ ও বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ওটিস গিবসন। বুধবার মুলতান সুলতান ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করে। যেখানে বাংলাদেশি পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনকে তাদের কোচ হিসেবে পরিচয় করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বোলিং কোচ হিসেবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যোগ দিয়েছিলেন ওটিস গিবসন। দুই বছরের মেয়াদ শেষে আর চুক্তি বাড়াচ্ছেন না তিনি। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
12
রাজশাহী নগরীর হাদির মোড়ের বাসিন্দা গৃহিণী ফাতেমা আক্তার। কোনও সন্তান না থাকায় স্বামী-স্ত্রী দু'জন মিলেই তাদের সংসার। গত মাসের শেষের দিকে তার শ্বাসকষ্ট আর কাশি দেখা দেয়। রামেক হাসপাতালে শয্যা সংকটের খবর শুনে সিদ্ধান্ত নেন বাড়িতেই চিকিৎসা নেওয়ার। সংগ্রহে রাখেন একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারও। তবে হঠাৎ করেই গত ৪ জুন শ্বাসকষ্ট তীব্র হওয়ায় মেপে দেখেন; অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তখনই শুরু হয় ছোটাছুটি। এমন পরিস্থিতিতে মুহূর্তেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের একমাত্র সদস্য তার স্বামী আফজাল হোসেন। মোবাইল ফোনে তিনি সহযোগিতা চান শহীদ জামিল ব্রিগেডের। আফজাল হোসেন বলেন, 'পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমার বাড়ির ঠিক সামনের বাড়ির এক কলেজপড়ুয়া ছোটভাইকে ফোন দেই। তাকে জানাতেই সে আমাকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে জানায়, এতে ফোন দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারে কথা বলতে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে ফোন দেই। কল রিসিভের পর জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে জানালে ওপার থেকে বলা হল, 'আপনি হাসপাতাল যাওয়ার প্রস্তুতি নিন, আমরা আসছি।' করোনা মহামারীর বর্তমান সময়ে আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে। একাধিক হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটে রোগী মারা যাওয়ার খবরও নতুন নয়। কঠোর লকডাউনের জন্য গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় অক্সিজেনের পাশাপাশি রোগীদের জরুরি প্রয়োজনের খাতায় যুক্ত হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। জরুরি ভিত্তিতে এ দুই সেবা তাৎক্ষণিকভাবে না পেলে যেকোনও সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের বিপদ। এমন পরিস্থিতিতে করোনাক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রথমে রাজশাহী নগরী ও পরে জেলায় ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগের নজির গড়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'শহীদ জামিল ব্রিগেড'। সংগঠনটির সদস্যরা একটি ফোন পেলেই বিনামূল্যে রোগীর বাড়ি অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে। রোগীকে জরুরিভাবে হাসপাতালে নিতে চালু রেখেছে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। প্রায় দেড় মাস ধরে রাজশাহীতে ঝড়-বৃষ্টি এবং মধ্যরাতের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তারা দিয়ে চলেছেন এই মানবিক সেবা। শুধুমাত্র রাজশাহী শহরে কোভিড মোকাবিলায় গত ৫ জুন ৫০ জন তরুণ-যুবকদের সমন্বয়ে 'শহীদ জামিল ব্রিগেড' গঠন করা হয়। প্রায় দুই মাস ধরে মহানগর এলাকায় শুধুমাত্র একটি ফোনকলে মানুষের বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন সংগঠনটির সদস্যরা। সম্প্রতি জেলার গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে গেলে ব্রিগেডের সেবা প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৫ জুলাই গ্রামের মানুষের জন্য বিনামূল্যে আরও একটি অ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধন করেন ব্রিগেড কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে যুক্ত করা হয় ফ্রি অক্সিজেন সেবাও। এখন প্রায় প্রতিদিন রাজশাহী নগর ও জেলায় অক্সিজেন-অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করে যাচ্ছে 'শহীদ জামিল ব্রিগেড'। শহীদ জামিল ব্রিগেডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, 'বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। শহর ছাড়িয়ে গ্রাম অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শয্যা সংকট। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া একটি দূরহ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষে এই দায়িত্ব এককভাবে পালন করা অনেক কঠিন। সরকারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে জনগণের সেবা এবং মানবিক দায়িত্ব পালন করা উচিত। সে কারণেই আমরা জামিল ব্রিগেড গঠন করেছি।' বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় দুর্নীতির কাণ্ডে জড়িত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের জামিনের মেয়াদ আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দেন।সকালে আবুল কালাম আজাদ আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন স্থায়ী করার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। গত ৭ অক্টোবর একই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। ওইদিন শুনানি শেষে আদালত ২ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। মামলার এজাহারে স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি ডা. আবুল কালাম আজাদের নাম না থাকলেও তদন্তে তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় পরে চার্জশিটে তাকেও আসামি করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।অন্য পাঁচ আসামি হলেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম।এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্বারক সাক্ষর ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে তিন হাজার ৯৩৯ জন রোগীর করোনা নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করান।এতে আরও বলা হয়, যেখান থেকে অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগী প্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা হিসেবে এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হয়। এছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক-নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরা হয়।মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ / ৪২০ / ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
6
জীববৈচিত্র্যে ঘেরা সাগরতলের বহু কিছু আমাদের অজানা। সাগরতলের সেই 'রহস্যময়' জগৎকে জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকেরা। সেই চেষ্টায় মিলেছে দারুণ এক সাফল্য। সম্প্রতি গবেষকেরা সাগরতলে মাছের বিশাল এক আবাসস্থলের সন্ধান পেয়েছেন। তাঁরা একে ইউরোপের দেশ মাল্টার (৩১৬ বর্গকিলোমিটার) প্রায় সমান বলছেন। মাছের এই বিশাল আবাসের সন্ধান পাওয়া গেছে অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা ওয়েডেল সাগরে। ওই আবাসে প্রায় ছয় কোটি মাছের বাস। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়, আইসফিশ বা বরফ অঞ্চলের মাছের অনন্য এই আবাসকে বিশ্বের বৃহত্তম বলে মনে করা হচ্ছে। স্বচ্ছ খুলির আইসফিশ একমাত্র মেরুদণ্ডী প্রাণী, যেগুলোর লোহিত রক্তকণিকা নেই। এত কম তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার জন্য এ মাছের স্বচ্ছ রক্তে একটি জমাট প্রতিরোধী প্রোটিন তৈরি হয়। গত বছর জার্মান মেরু গবেষণা জাহাজ পোলারস্টার্নে থাকা গবেষকেরা মাছের এই প্রজননক্ষেত্র আবিষ্কার করেন। জাহাজ থেকে গাড়ির সমান আকৃতির ক্যামেরা ব্যবহার করে সমুদ্রের নিচের ছবি ধারণ করেছিলেন গবেষকেরা। তাঁরা এ সময় কর্দমাক্ত সমুদ্রতলে পাথরের বৃত্তের মধ্যে মাছের প্রজননক্ষেত্র দেখে বিস্মিত হন। গত বৃহস্পতিবার কারেন্ট বায়োলজি শীর্ষক সাময়িকীতে গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পার্সার বলেন, 'আমার দেড় দশকের সমুদ্রবিজ্ঞানী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতায় এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। আমরা এই ছবি, মৎস্য গবেষকদের কাছে পাঠিয়েছি। তাঁরা বলেছেন, এ ঘটনা অনন্য।' গবেষকেরা বলছেন, মাছের এই আবাসস্থলে প্রতি তিন বর্গমিটারের মধ্যে একটি বাসা আছে। প্রতিটি বাসা প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার গভীর ও ৭৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের। প্রতিটি বাসায় গড়ে ১ হাজার ৭৩৫টি ডিম আছে।
3
করোনার ভয়াবহতায় দেশে যখন কঠোর লকডাউন তখন একটি ছবি সবার নজরে আসে। করোনায় আক্রান্ত মাকে নিয়ে এক ছেলের ছুটে চলা। তার পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আজকের চিত্রটা স্বস্তির। সেই মা এখন সুস্থ। হাতপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। মাকে নিয়ে তাই বাড়ি ফিরছেন ছেলে। সেই মোটরসাইকেলে করেই মাকে নিয়ে তার ফেরার ছবি আজও ফেসবুকে ভাইরাল। অনেকে আজকের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করছেন। আজকের দুটি ছবির একটিতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের সামনে বিজয় চিহ্ন 'ভি'দেখাচ্ছেন ছেলে। মাঝে মা। পাশে আরেক ছেলে। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে করে মাকে নিয়ে যাচ্ছেন ছেলে। ছেলের হাতে এখানেও ভি চিহ্ন। মাঝে মা, দুই পাশে দুই ছেলে দেখাচ্ছেন বিজয় চিহ্ন 'ভি' ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, গত ১৭ এপ্রিল তার মা রেহানা পারভীনের অক্সিজেন সেচুরেশন ৭০ এ নেমে যায়। ওই সময় তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। গত কয়েক দিনের চিকিৎসায় তার মা শারীরিকভাবে সুস্থ হয়। গতকাল তার মায়ের ফুঁসফুঁসে অক্সিজেন সেচুরেশন ৯৬ হয়। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তাই তাকে নিয়ে নলছিটি পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ি যান তিনি। মাকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার প্রক্কালে বিজয় সূচক 'ভি' চিহ্ন দেখান ব্যাংকার জিয়াউল হাসান টিটু। শের-ই বাংলা মেডিকেলের করোনা তথ্য সংরক্ষক জাকারিয়া খান স্বপন জানান, করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী রেহানা পারভীনের ফুঁসফুঁসের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তার দ্বিতীয় দফা করোনা নমূনা পরীক্ষা হয়নি। অর্থাৎ তিনি করোনা পজেটিভ থেকে এখনও নেগেটিভ হননি। এ অবস্থায় আজ সকালে তার ছেলে স্বেচ্ছায় মুচলেকা দিয়ে মাকে নিয়ে গেছেন। এতে তার মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ/হিমেল
6
বিশ্বের শীর্ষ দশটি জনবহুল দেশের একটি হওয়ার পরও বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কু ডংইউ। তিনি বলেন 'আমরা বাংলাদেশ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি, কারণ তাদের সমাধানগুলো সাশ্রয়ী এবং বাস্তবায়ন সহজ।' ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান এফএও'র স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে গত শুক্রবার (২৮ মে) আন্তর্জাতিক সংস্থাটির মহাপরিচালক এ মন্তব্য করেন। এ সময় শামীম আহসান এফএও-এর স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার জন্য এবং বাংলাদেশের অর্জন সম্পর্কে তাঁর উচ্চ ধারণার জন্য এফএও প্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ অনুষ্ঠানটি জুম প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ৪০ বছরের বেশি সময়ে বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণে, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি পরিবেশ, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং বিশেষ করে করোনা মহামারীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এফএও-এর প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা স্থায়ী প্রতিনিধি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের কৃষিখাতের রূপান্তরিত পরিকল্পনায় এফএও-এর সক্রিয় সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানান। পাশাপাশি এন্টি-মাইক্রোবিয়াল রেসিসট্যান্স বিষয়ক একক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে কো-চেয়ার হিসেবে মনোনয়নের সুপারিশ করায় মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান শামীম আহসান। এ সময় প্রথমবারের মত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এফএও আঞ্চলিক সম্মেলনে (৮-১১ মার্চ ২০২২) অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সফরের জন্য মহাপরিচালককে আমন্ত্রণ জানালে সাদরে গ্রহণ করেন।
6
নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ৩৮ সহযোগীর বিরুদ্ধে সোমবার রাতে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নূর মোহাম্মদ রহীমের করা অভিযোগটি মামলা (মামলা নং- ২৫) হিসেবে রুজু করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
১৬ জেলে নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মৎস্যঘাটের একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৪জুলাই) বিকেলে মেঘনার মনপুরা এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ১৬ জেলে নিয়ে একটি জেলে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। স্থানীয় জেলেরা জানান মনপুরা উপজেলার চরপিয়াল সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটলেও ৪ঘণ্টা পর দুর্ঘটনাকবলিত ওই ট্রলারসহ সকল জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। উদ্ধারকৃত জেলেরা হলেন, ট্রলার মালিক আবু সাইদ গাজি (৪৫), মাঝি আরজু (৫০), জেলে আরিফ (২৮), সাগর(২৫), সিরাজ (৪০), আবুল বারী (৫০), আখতার বকশি (৩০), শরিফ (২৫), সোহেল (৫০), গফুর (৩০), জাকির (২৫), আলতাফ (২৫), আলাউদ্দিন (৩০), আল আমিন (৩০), সুফিয়ান (২০) ও নাসির (২৫)। এরা সকলেই চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা। চরফ্যাশন উপজেলার আবু সাইদ গাজীর এ ট্রলার চরপিয়াল সংলগ্ন মেঘনায় দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে মাছ শিকার করার সময় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে ভোলা দক্ষিণ চরমানিকা ও মনপুরার কোস্টগার্ডের দুটি দল স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ডুবে যাওয়া ট্রলারসহ ১৬ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। ওই ট্রলারের মালিক আবু সাঈদ চরফ্যাশন সামরাজ মৎস্যঘাটের হাজি জয়নালের মৎস্য আড়তে মাছ বিক্রি করে বলে সূত্রে জানা গেছে। কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন্স অফিসার লেফটেন্যান্ট শাফকাত জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। তবে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ডুবে যাওয়া ট্রলারের সকল জেলেকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা জীবিত উদ্ধার করেছে বলেও জানান তিনি। চর মানিকা কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এম জমির হোসেন (সিপিও) বলেন, খবর পেয়ে চরফ্যাশন ও মনপুরার কোস্টগার্ডের দুটি ইউনিট ঘটনাস্তহল থেকে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের আত্মীয় স্বজন দের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। চরফ্যাশনের স্থানীয় জেলেরা সন্ধ্যায় ভাটার সময় ওই ট্রলারটি উদ্ধার করে ইতিমধ্যে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।
6
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে মেট্রোরেল সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডে নিয়োগ পাবেন ১৩০ জন। আবেদন করতে হবে ডাকযোগে। আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২১ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আগ্রহী ব্যক্তিকে ://../ এই ঠিকানা থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট তথ্য পূরণ করে পাঠাতে হবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড, প্রবাসী কল্যাণ ভবন, লেভেল ১৪, ৭১-৭২ পুরানা এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডেন, ঢাকা-১০০০ এই ঠিকানায়। পরীক্ষার ফি বাবদ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের অনুকূলে ৫০০ টাকার পে-অর্ডার/ ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায়। এরপর পে-অর্ডার/ ব্যাংক ড্রাফটের মূল কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। খামের ওপর বাম দিকে গ্রুপের নাম, পোস্ট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নম্বর উল্লেখ করতে হবে। হাতে হাতে কোনো দরখাস্ত দাখিল করা যাবে না। প্রার্থীকে নিজের বর্তমান ঠিকানা স্পষ্টভাবে ৯/৪ ইঞ্চি সাইজের খামের ওপর লিখে বা টাইপ করে তাতে ১০ টাকা মূল্যমানের অব্যবহৃত ডাকটিকিট লাগিয়ে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
1
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অভিযোগ করাটা এখন অনেকেরই একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ শনিবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ার এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অনলাইন জুম অ্যাপে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, করোনাকালীন সংকটকালে দেশের স্বাস্থ্যখাত যখন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত তখন টিআইবি দেশের স্বাস্থ্যখাতকে নিয়ে একটি অসত্য রিপোর্ট তুলে ধরেছে। টিআইবি'র রিপোর্টটি আগাগোড়াই ভুল তথ্য সংবলিত। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
তালেবান কাবুলে প্রবেশ করতেই আফগানিস্তান ছাড়েন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তিনি তালেবানকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। রক্তপাত এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। দেশ ছাড়ার সময় চারটি গাড়ি ও একটি হেলিকপ্টার ভর্তি নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়েছেন আশরাফ গনি। বার্তা সংস্থা আরআইএ'কে এ তথ্য জানিয়েছেন কাবুলের রুশ দূতাবাসের এক মুখপাত্র নিকিতা ইশচেঙ্কো। মুখপাত্র নিকিতা ইশচেঙ্কো বলেন, গনি যেভাবে আফগানিস্তান থেকে পালিয়েছেন তা (বিদায়ী) শাসকগোষ্ঠীর পতনের সবচেয়ে স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য। চারটি গাড়ি ছিল নগদ অর্থে ভর্তি, তারা এগুলোর আরেকটি অংশ হেলিকপ্টারে তুলতে চেয়েছিল, কিন্তু পুরোটা ধরেনি। কিছু অর্থ রাস্তায় পড়ে ছিল। আফগানিস্তানে এখন কোনো সরকার নেই, তালেবানের দখলদারিত্বে ভীত হয়ে হাজার হাজার আফগান ছাড়ছেন। সোমবার বিবিসি জানায়, আফগানিস্তানের সরকার ভেঙে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি উজবেকিস্তানে চলে গেছেন। তালেবানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে নেতৃত্বদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
''জ্বালোরে জ্বালো আগুন জ্বালো, স্বৈরাচারের গদিতে আগুন জ্বালাও এক সঙ্গে'' ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মিছিলের অগ্রভাগে থেকে এভাবেই স্লোগান দিতেন ছাত্রলীগ নেতা সেলিম । শুধু কি স্লোগান? ছাত্রলীগ করতে গিয়ে বিরোধী দলের নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন অনেকবার। অথচ পেটের দায়ে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা এখন দিনমজুর। তার নাম সেলিম খন্দকার। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বাউতলা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম নূরুল হক খন্দকার ওরফে দারগা আলী। ১৯৯০ সালে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ওই সময়ে সীমান্ত এলাকার এক অজপাড়াগাঁ থেকে শহরে ছুটে এসে মিছিল, মিটিং অংশগ্রহণ করতেন। এই সক্রিয় কর্মকাণ্ডের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সে দলের মধ্যে এক জনপ্রিয় কর্মী হয়ে উঠেন। পরে সে কাউন্সিলে মোগড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়। ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন সেলিম উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় হয়ে উঠে। তাছাড়া তার নিজ এলাকা ছাড়াও মোগড়াবাজারসহ আশ-পাশের এলাকায় এরশাদ সরকার বিরোধী সব আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। অথচ পেটের দায়ে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা এখন দিনমজুরের কাজ করছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানের সংসার চালাতে গিয়ে কখনো নির্মাণ শ্রমিক, কখনো মালামাল লোড-আনলোড, আবার কখনো ইটভাটার শ্রমিকের কাজ করে পরিবারের খাবার জোগাড় করছেন। তার থাকার ঘর নেই। দু'চালা একটি ভাঙা টিনের ঘর। বৃষ্টি হলে টিনের চাল দিয়ে ঘরে পানি ঢুকে। সেই ঘরেই কোনো রকমে পরিবার নিয়ে দিন যাপন করছেন সেলিম। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেলিম খন্দকার বলেন, গরীব কৃষকের ঘরে জন্ম নেওয়ায় ইচ্ছাশক্তি থাকার পরও লেখাপড়া বেশি করতে পারিনি। একটি দু'চালা টিনের ঘরে কোনো রকমে পরিবার নিয়ে থাকি। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। যেদিন কাজ থাকে সেদিন আহার জোটে। আর যেদিন কাজ থাকে না সেদিন উপোস থাকতে হয়। তাছাড়া এখন বয়স হয়েছে। বেশি পরিশ্রমের কাজ করতে কষ্ট হয়। আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। হাত পাততে লজ্জা লাগে। যদি ভালো একটি কাজ পাই তাহলে পরিবার নিয়ে অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারবো। তৎকালীন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এন এস কবির পলাশ বলেন, দুর্দিনে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে রাজনীতি করেছে অবশ্যই তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। দলের নেতাদের কাছে আমি আহবান জানাব তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন বেগ শাপলু বলেন, তিনি একজন পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতা। আমাদের অভিভাবক আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুল হককে আমরা বিষয়টি অবগত করবো। তার থাকার কোনো ঘর নেই। দেখি আমরা তার জন্য একটি পাকা ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে পারি কিনা। তার জন্য ভালো একটি কর্মসংস্থান করে দিতেও আমরা চেষ্টা করবো।
6