text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, আইনও হয়েছে। প্রশ্ন হলো বিশ্বের বহু দেশেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইন আছে। কিন্তু ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে? এর কারণ খুঁজতে হবে। এ নিয়ে 'গবেষণা' করতে হবে। একইসঙ্গে ধর্ষকের ফাঁসির আইনে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুফতি ফয়জুল বললেন, 'জানি না কত পুরুষ এই ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুমার নামাজের আগে থেকেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জড়ো হতে থাকেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। নারীর প্রতি বর্বরতা ও সিলেটে পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলে আসেন দলটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির বলেন, কেউ কেউ মনে করে খোলামেলা পোশাক ধর্ষণের জন্য দায়ী নয়। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। টকশো হচ্ছে। আমি মনে করি সরকারি উদ্যোগে একদল মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ করা হবে যারা গবেষণা করে বের করবেন কেন ধর্ষণ হয়। সেটা উদঘাটন করে করে পথটাকে বন্ধ করতে হবে। যদি নারীর পোশাক পুরুষদের উত্তেজিত না করে, তবে পোশাক দায়ী নয়। মনোবিজ্ঞানীরা যদি বলেন পোশাকই পুরুষকে উত্তেজিত করছে, তা হলে পোশাকই দায়ী। মুহাম্মদ ফয়জুল করীম আরও বলেন, 'আমার মায়া লাগে, আপনি একজনকে বাঘের মুখে ঠেলে দেবেন, আর বাঘকে বলবেন খবরদার কিছু করবে না। এটা ইনসাফ হতে পারে না। বরং বাঘ থেকে দূরে থেকে বাঁচতে হবে। ধর্ষণের আইন হয়েছে। আমি অনুরোধ করব অপপ্রয়োগ যেন না হয়। 'ধর্ষণ বন্ধে ইসলাম কী বলছে সে বিষয়ে গবেষণা করা উচিত এবং ইসলামি আইন প্রণয়ন করা উচিত। এ ছাড়া ধর্ষণ বন্ধ হবে না। চুরি-খুনের বিরুদ্ধে আইন নেই? চুরি বা খুন বন্ধ হয়েছে? এটা বন্ধ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত চরিত্র গঠন না করবেন।' বললেন মুফতি ফয়জুল। বিক্ষোভে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, কেএম আতিকুর রহমান, এম. হাছিবুল ইসলাম, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, ঢাকা জেলা সেক্রেটারী শাহাদাত হোসাইন, হুমায়ুন কবির, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, মাওলানা এইচএম সাইফুল ইসলাম, মাওলানা বাছির মাহমুদ প্রমুখ।
6
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে নায়ালা পরিবারে নতুন অতিথির আগমন ঘটেছে। সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠালগ্নে দুইটি নায়ালা আনা হয়েছিল। সম্প্রতি পার্কে একটি নায়ালা শাবকের জন্ম হয়। লুকিয়ে থাকায় জন্মের বেশ কিছু দিন পর দেখা মেলে এই শাবকের। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান। সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, নায়ালা দক্ষিণ- পূর্ব আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলের প্রাণী। একে সর্পিল শিংযুক্ত হরিণ বলেও অভিহিত করা হয়। লাজুক প্রকৃতির হওয়ায় সচরাচর এ প্রাণীটির দেখা মেলে না। ঘন বনজঙ্গল ও ঝোপঝাড়ের ভিতর নির্জনে অবস্থান করা এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তবে আহারের জন্য নিস্তব্ধ সময়ই এরা বেছে নেয়। সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে নায়ালার বিচরণ। সম্প্রতি পার্কেও জেব্রা বেষ্টনীর সঙ্গে এ শাবক ও তার মাকে দেখা যায়। কাছে যেতে না পারায় এখনো জন্ম নেওয়া শাবকের লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি। ঘন বন ও ঝোপঝাড়ে থাকার কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় এ প্রাণীর শাবক জন্মের পর। শিয়াল ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর আক্রমণে মারা যাওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেও বেঁচে থাকে এ প্রাণী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, দেশি ও বিদেশি নানা প্রাণীর সমাহার এখন আমাদের সাফারি পার্কে। দর্শনার্থীদের বিনোদন ও অজানা প্রাণীর সঙ্গে পরিচয়ের এক দ্বার খুলে দিয়েছে এই পার্ক। বিদেশি প্রাণী নায়ালা থেকে ইতোপূর্বে একটি শাবকের জন্ম হলেও শিয়ালের আক্রমণে সে মারা যায়। এবার জন্ম নেওয়া এ প্রাণীটি নিজস্ব নিরাপত্তায় বড় হচ্ছে। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
7
বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে পয়েন্ট টেবিলে তলানিতে পড়ে আছে খুলনা টাইটান্স। কোন ম্যাচেই তারা ঠিক ঠাক সমন্বয় করতে পারছে না। এক ম্যাচে নাজমুল শান্ত বাদ তো পরের ম্যাচে আবার দলে। বাদ পড়ছেন স্টারলিং তো টেইলর দলে। মালিঙ্গাকে দলে নিয়েছেন। আবার বসিয়েও রেখেছেন। দল না জেতায় তাদের সমন্বয়ে এমন হতশ্রী দশা দলের। গেলবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুরের অবস্থাও ভালো নয়। প্রায় একই দল নিয়ে খেলছে তারা। তবে টেবিলে পাঁচে তারা। ঢাকা পর্বে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে খুলনা ১৮১ রানের লক্ষ্য দিয়েছে তাদের। জিততে হলে বড় এই লক্ষ্য শক্ত ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে টপকাতে হবে তাদের। রংপুরের বিপক্ষে ব্যাট হাতে এ ম্যাচেও শুরুটা ভালো হয়নি খুলনার। দলের ২৯ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারায় তারা। এরপর টেইলর এবং নাজমুল শান্ত দলকে ভালো জুটি দেন। টেইলর নিজের ২০ বলে ৩২ রানে দলের ৭৮ রানের মাথায় ফেরেন। এরপর আসরে এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ব্যর্থ তরুণ ব্যাটস্যম্যান নাজমুল শান্ত এ ম্যাচে কিছু রান পান। তিনি তিন ছক্কা এবং দুই চারে ২৫ বলে ৪৮ রান করে ফিরে যান। এছাড়া মাহমুদুল্লাহ দলের হয়ে ২৯ এবং ডেভিড উইসি ১৫ বলে তিন চার ও দুই ছয়ে ৩৫ রান করলে ভালো সংগ্রহ পায় টাইটান্স। রংপুরের ভরসা স্থানীয় বোলারে। অন্যতম ভরসা মাশরাফি। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। তবে অন্যরা ছিলেন খরুচে। ফরহাদ রেজা যেমন ৪ ওভারে চারটি উইকেট পেয়েছেন তবে রান দিয়েছেন ৩২। বাকিরা ওভার প্রতি প্রায় ১০ করে রান খাওয়ায় ভালো সংগ্রহ পেয়ে যায় খুলনা।
12
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের পরিবারকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপজেলার সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা অফিস প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের হাতীবান্ধা উপজেলা আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান সোহেলের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন বাচ্চু, পুলিশ সুপার তাপস সরকার, হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম, হাতীবান্ধা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জব্বার প্রমুখ।এ দিকে কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিজয়ের ৫০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ভবন চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মা-বাবাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় ৭৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে চাঁদর, লুঙ্গি, কম্বল ও খাবার প্যাকেট দেওয়া হয়।এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক এম এ মতিন। সম্মাননা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল কুমার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, সাবেক কমান্ডর ফয়জার রহমানসহ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা।এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উলিপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৫০ বার তোপধ্বনি, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, একাত্তরের গণকবর ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল কুমার বলেন, 'রক্তের বদলে আমাদের বিজয়ের ৫০ বছরপূর্তির দিন। সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও তাঁদের পরিবারকে সম্মাননা দিতে পেরে আমরা গর্বিত।'
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ৩৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুনশিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বুধবার এই তারিখ ঘোষণা করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ সূত্র জানায়, তিনটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ১২ জুন। সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯ মে এবং ২০টি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিতে ১৯ জুন, ২৬ জুন এবং ৩ ও ১০ জুলাই ভর্তি পরীক্ষা হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ৬, ১৮ ও ২০ জুন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ৬ জুন থেকে শুরু হবে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ২৬-২৭ ফেব্রুয়ারি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ৪ ও ৫ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ জুন পরীক্ষা হবে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ এপ্রিল এবং ডেন্টাল কলেজে ৩০ এপ্রিল, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ জুন ভর্তি পরীক্ষা হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
1
গেল মার্চের ১৫ তারিখে বলিউড অভিনেতা ইরফান খানের 'বিরল রোগ' ধরা পড়ে। এই অসুস্থতার কথা শুনে লাখো ভক্ত তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। ওই মাসেই জানা যায়, চিকিৎসার জন্য মার্কিন মুল্লুকে পাড়ি দিয়েছেন ইরফান। সেখানে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরফান লম্বা এক পোস্ট দেন। এরপর থেকে তার সম্পর্কে আর তেমন কিছু জানা যায়নি। 'টাইমস নাউ' বলছে, রোববার বিনোদন সাংবাদিক উমর সাধু ইরফানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে একটি টুইট করেন। টুইটে তিনি লেখেন, ইরফানের শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতি হয়েছে। তিনি ক্যানসারের শেষ পর্যায় রয়েছেন। যদিও পরে ওমর সাধু তার সেই পোস্ট মুছে দেন। ইরফানের পরিবারের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ইরফানের অসুস্থতার কারণে বিশাল ভরদ্বাজের আসন্ন ছবির শুটিং পিছিয়ে গেছে। এ ছবিতে ইরফানের বিপরীতে অভিনয় করবেন দিপীকা পাডুকোন। এদিকে, ইরফান অভিনীত 'ব্ল্যাকমেইল' ছবিটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
2
একবার এক লোককে জমিদার জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'খাওয়াদাওয়া কেমন চলছে?' লোকটি জবাব দিলেন, শজনের ডাঁটার চচ্চড়ি, কলাগাছের থোড়ের ঝোল, ডাল আর মিষ্টিকুমড়ার বড়া। জমিদার বললেন, এর আগেও তো ওই একই কথা শুনেছি। লোকটি বললেন, 'ওই হলো, থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়।'কোনো অবস্থা যখন আগে-পরে একই রকম এবং বৈচিত্র্যহীন, তখন তাকে থোড় বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোড় বলাই যায়। পরিবর্তন ও বৈচিত্র্যের ভেতর দিয়ে অগ্রগতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের রাষ্ট্র। ১০ কোটির বেশি ভোটার। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি। এখানে অন্তত ১০ হাজার মানুষ আছেন, যাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য। ৩০০ বা ৩৫০ আসনের অন্তত ১০টি পার্লামেন্ট গঠনের মতো যোগ্য মানুষ এ দেশে রয়েছেন এবং জনগণের প্রত্যাশা, একটি সংসদের চেয়ে আরেকটি সংসদ আরও দক্ষ ও শক্তিশালী হবে। শক্তিশালী সংসদ হলেই শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে এবং শক্তিশালী মন্ত্রিসভাই দক্ষ সরকার ও সুশাসন দিতে পারে। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তনশীল; একটি সরকার যে আরেকটি সরকারের চেয়ে ভালো হবে, প্রগতিশীল হবে, দক্ষ হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রের সুবিধা এখানে যে অদক্ষ সরকারকে আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ারও সুযোগ থাকে।সবার আগে যে জিনিসটি দরকার তা হলো, যিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রার্থী হবেন, তাঁকে জানতে হবে-আমি যে সংসদের একজন সদস্য হতে যাচ্ছি, আমার কাজটা কী হবে? সেখানে গিয়ে তিনি কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা তিনি যেমন জানেন, তেমনি তাঁর ভোটাররাও অধিকাংশই জানেন। সেখানে গেলে কোটি টাকার গাড়ি ডিউটি ফ্রি কেনা যায়, বিপুল বেতন-ভাতা পাওয়া যায়, যা জনগণের টাকায় দেওয়া হয়, বিপুল সয়-সম্পত্তি থাকলেও রাজউকের একটি প্লটপ্রাপ্তিও অবধারিত। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বস্তুত সবকিছুর ওপর খবরদারির ক্ষমতা তো আছেই।নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনের সময়োপযোগী সংশোধন একটি কাজ সাংসদের; কিন্তু তার বাইরে জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই সবচেয়ে বড় কাজ। সে জন্য নিজের ঘরসংসার, ব্যবসা-বাণিজ্য, সর্দিকাশি হলে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, লন্ডন, নিউইয়র্কে যাওয়া ইত্যাদি নিয়ে কম ব্যস্ত থাকলে ভালো। আমরা তাঁকেই সহস্র সালাম জানাব, যিনি নিজে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা তাঁর এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা জেলা সদর হাসপাতালে করিয়ে থাকেন। কয়েক বছর আগে আমি একজন সাংসদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাঁর এলাকার উপজেলা হাসপাতালের কয়জন চিকিৎসক আছেন এবং ঘাটতি কয়জনের। কথা বলে বুঝতে পারলাম, তিনি হাসপাতালটির ভেতরে কখনো ঢোকেননি। পার্লামেন্ট হলো জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ বিতর্কের জায়গা। যুক্তিযুক্ত বিতর্ক করার যোগ্যতা যাঁর যত বেশি, সাংসদ হওয়ার যোগ্যতা তাঁর তত বেশি। ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষক এবং সংবাদকর্মীদের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকলেও চলবে, কিন্তু সংসদের ভেতরে সদস্যদের মূর্তির মতো বসে থাকলে চলবে না। বোবা বা কালার ভান ধরে বসে থাকলেও হবে না। দলের বিরুদ্ধে না গিয়েও জনস্বার্থে দলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা চাই। তা যদি না করেন, তাহলে ভোটারদের সঙ্গে নিমকহারামি করা হবে। দলের নেতার আনুগত্য স্বীকার করেই তাঁর ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার সৎসাহস থাকা চাই। সামনে তোয়াজ করে আড়ালে নেতার সমালোচনা করা খুবই নীচতা, চুগলখোরি জিনিসটি বাঙালিরই বৈশিষ্ট্য। অন্যান্য জাতি যা বলার সামনাসামনি বলে, আড়ালে গিবত গায় না। গিবতকারীকেও দোষ দেওয়া যাবে না। কারণ, চাটুকারিতা ও খোশামোদিকে প্রশ্রয় দিলে গিবত গাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না। বশংবদ কিছু লোকের মিলনমেলা হলে তাকে আর পার্লামেন্ট বলা যায় না। তার দ্বারা জনগণের কোনো উপকার হয় না। ভারতের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান হীরেন মুখোপাধ্যায়ের কাছে শুনেছি, বিধানসভার নেতা বিধানচন্দ্র রায় বলতেন তাঁর বন্ধুপুত্র বিরোধী দলের জ্যোতি বসু সম্পর্কে, জ্যোতি আরও বলুক। লোকসভায় সমাজবাদী নেতা ড. রামমনোহর লোহিয়া সরকারের তীব্র সমালোচনা করতেন। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু গালে হাত দিয়ে বসে শুনতেন। স্পিকার তাঁকে থামিয়ে দিতেন না। দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ আর গোষ্ঠী ও ব্যক্তির স্বার্থ দুই জিনিস। বিপুলসংখ্যক বশংবদ ব্যক্তিকে নিয়ে মস্ত বড় একটা মন্ত্রিসভা গঠন করলেই ভালো সরকার হয় না। বাংলার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত সংসদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক। অবিভক্ত বিশাল বাংলা। মন্ত্রিসভা মাত্র ১১ জনের। তার মধ্যে খাজা নাজিমুদ্দিন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, সৈয়দ নওশের আলী ছিলেন; হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিলেন পাঁচজন-নলিনী রঞ্জন সরকার (অর্থ), শ্রীশচন্দ্র নন্দী, বিপি সিংহ রায়, মুকুন্দ বিহারী মল্লিক প্রমুখ। খুব ভালো চালিয়েছেন সরকার। দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী স্যার খাজা নাজিমুদ্দিনের। তাঁর মন্ত্রিসভা ছিল ১৩ জনের। হিন্দু নেতারা অর্থ দপ্তর চেয়েছিলেন। বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা তুলসী গোস্বামীকে অর্থ মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়। তমিজুদ্দিন খানকে শিক্ষা। নবাব মোশাররফ হোসেনকে আইন। জমিদারি প্রথা ছিল। তারক মুখার্জি চেয়ে নিয়েছিলেন রাজস্ব। সোহরাওয়ার্দী সিভিল সাপ্লাই নিয়ে বহু মুসলমান যুবককে চাকরি দেন। ছয়জন হিন্দু মন্ত্রীর মধ্যে ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল (সমবায়), প্রেমহরি বর্মণ (বন ও আবগারি), পুলিন মল্লিক (প্রচার)। ঋণ সালিসি বোর্ড আইনটি নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভাই চূড়ান্ত করে, পাস করে ফজলুল হকের সরকার। নাম হয় তাঁর। তবে সরকার একটি ধারাবাহিকতা। একই সংসদ একাধিক মন্ত্রিসভা উপহার দিতে পারে। বিশেষ করে কোয়ালিশন সরকারগুলোর ক্ষেত্রেই তেমনটি বেশি দেখা যায়। গত পাঁচটি সংসদে দেখা গেছে, জনস্বার্থ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে অল্প, খিস্তিখেউর হয়েছে বেশি। সংসদ যেন ইতিহাসের ক্লাস। সাংসদেরা কেউ ইতিহাসের প্রফেসর, কেউ ইতিহাসের ছাত্র। পার্লামেন্টে ইতিহাস নিয়েও আলোচনা হবে। তবে সে ইতিহাসের বিষয়বস্তু যদি হয় পাল ও সেন যুগ নিয়ে কিংবা হোসেন শাহি রাজত্ব নিয়ে, তাহলে ভালো। যে কালপর্বটি কিছুদিন আগেই মানুষের চোখে দেখা, তা নিয়ে বাক্যব্যয় ও অর্থব্যয় স্রেফ অপচয় ছাড়া কিছু নয়। জনপ্রতিনিধিদের মুখে ওসব মানুষ শুনতে চায় না। পাতানো মামু যেমন মামা নয়, পাতানো বিরোধী দলও বিরোধী দল নয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারের অতিগুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান বিরোধী দলের নেতাই হয়ে থাকেন। গত ২৭ বছরে এই কমিটির তৎপরতা সম্পর্কে মানুষ বিশেষ অবগত নয়। রাষ্ট্রের টাকাকড়ি মুড়িমুড়কির মতো খরচ হচ্ছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের অফিসের রিপোর্ট নিয়ে সংসদে কবে আলোচনা হয়েছে, তা জনগণ জানে না। মোগল সামন্তবাদী শাসনব্যবস্থার পর ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকেরা যে প্রশাসনকাঠামো রেখে গেছে, তাতে কোনো নির্বাচিত সংসদ ছাড়াও রাষ্ট্র চলবে। তা বিভিন্ন সামরিক শাসনের সময় দেখা গেছে। কিন্তু তাতে বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী, ভাষাভাষী, ধর্ম, বর্ণের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষিত হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তা দিতে পারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত সংসদ। সুতরাং ত্যক্তবিরক্ত বাংলাদেশের মানুষের এখন একটাই চাওয়া, তা হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা তেমন একটি সংসদ গঠিত হবে। তার বাইরে জোড়াতালি দিয়ে কিছু হলে জনগণের হতাশার সীমা থাকবে না। মানুষ থোড় বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোড় চায় না। সৈয়দ আবুল মকসুদ লেখক ও গবেষক
8
নুহাশ হুমায়ুন। নির্মাতা। করোনা প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষায় তার গল্পভাবনা ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে সচেতনতামূলক ওয়েব সিরিজ 'বিচ্ছুজ'। এই প্রযোজনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে করোনা প্রাদুর্ভাব নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের ভাবনা কেন করলেন? এই সময়ে সবাইকে বাসায় বন্দী থাকতে হচ্ছে। কিন্তু এমন দূর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিতে আমারও ইচ্ছা করছে। কিন্তু বাইরে যাওয়ার তো কোনও উপায় নেই। তাই ভাবলাম মানুষকে সচেতন করার জন্য কোনও একটা উপায় বের করতে হবে। যেহেতু শিল্পমাধ্যমে কাজ করি, তাই শিল্পের ভাষায় সচেতনতার বার্তা দিতে চেয়েছি। এরমধ্যে দেশজুড়ে মানুষ ও বিভিন্ন কমিউনিটিকে সহায়তায় অনলাইনে ও মাঠপর্যায়ে সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজনে গত মার্চে ওয়াটারএইড ফাইটকরোনাইউনাইটেড ক্যাম্পেইন চালু করে। এ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবেই 'বিচ্ছুজ' নির্মাণের প্রস্তাব এলো। পাশাপাশি পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে নির্মাতা হওয়া ছাড়াও 'ইয়ুথ ফর এসডিজি ৬' প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা হিসেবে থাকার কারণে এ প্রকল্পটি আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা নিয়ে আছে। তাই এইধরনের ভিন্নধর্মী কাজের প্রস্তাব আমাকে ভীষনভাবে আর্কষন করে। এর গল্প কিভাবে সাজানো হয়েছে? সচেতনতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশেষ করে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব বোঝানো দুরূহ এমন চার বন্ধুকে ঘিরে এ ওয়েব সিরিজের গল্প। এখানে 'বন্ধু' নামের পাপেট এ চার বন্ধুর স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করে। এ সিরিজের চারটি চরিত্র রূপায়ণ করেছে টোকাই থিয়েটারের সদস্যরা এবং 'বন্ধু' চরিত্রে কণ্ঠদান করেছে প্রীতম হাসান। এ পাঁচ চরিত্রের নানা কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে সিরিজের গল্প এগিয়েছে যেখানে দর্শক দেখতে পাবেন, এ চরিত্রগুলো কীভাবে হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও বিদ্যমান নানা ট্যাবুর মধ্য দিয়ে হাতধোয়ার গুরুত্ব বোঝে। কিন্তু 'পাপেট' নির্ভর প্রযোজনা মিডিয়া অঙ্গনে খুব একটা প্রচলিত নয়, তবুও এই মাধ্যমকে বেছে নেয়ার কারন কী? টিভিতে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন দেখতে পাই। কিন্তু আমার কাছে এই ধরনের বেশীরভাগ আয়োজনে একঘেয়ে মনে হয়েছে। গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে কিছু করার চেষ্টা থেকে 'বিচ্চুজ' নির্মান করেছি। তাছাড়া এখন তরুন প্রজন্মের চাহিদা বদলেছে। তরুণদের মধ্যে কোনো কিছু করার অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদেরকে আগে বুঝতে হবে। শুধুমাত্র ঢালাও ভাবে সচেতনতার বার্তা দিয়ে প্রত্যাশা করা যাবে না তারা এটা বিশ্বাস করবে বা নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে তুলবে। বর্তমানের তরুণরা কী করা উচিত, এটা শোনার চেয়ে উপলব্ধির ব্যাপারে বেশি মনোযোগী। আমাদের তাদের ভাষাতেই তাদেরকে বলতে হবে, সেটা হোক শুনতে বিল্পবী, অপ্রচলিত কিংবা অপ্রত্যাশিত। বাসায় আছেন। সময় কিভাবে কাঁটছে? বাসাতেও কাজ নিয়েই ব্যস্ত আছি। বেশ কিছু সচেতনতামূলক কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। সেগুলোর জন্য পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।
2
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, 'নিছক একটা পতাকা, একটা জাতীয় সঙ্গীত আর একটা মানচিত্র পাওয়া মানেই স্বাধীনতা নয়। আর এজন্য এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। বাহাত্তরের সংবিধানে রাষ্ট্রের চারটি মূলনীতির কথা বলা হয়েছে। স্বাধীনতার আগে যেগুলোর অভাব অনুভব করেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তার সহযোগীরা। সে প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ৭টার দিকে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান মিলনায়তনে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ ও শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলন' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল বলেন, এখনও একশ্রেণির মানুষ স্বাধীনতা ও দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। ধর্মান্ধ ও স্বার্থান্বেষী কিছু লোক তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী মহানগর শাখা আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ভাষাসংগ্রামী আবুল হোসেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট একরামুল হক, শাজাহান আলী বরজাহান, প্রশান্ত কুমার শাকা, দিলীপ কুমার ঘোষ, শাহ আলম বাদশা, আয়েশা ইসলাম মুন্নি, সাইমা খাতুন বিথি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর শাখা নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল।
6
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, খন্দকার মাহবুব হোসেনের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন। দুই-একদিন পর তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
সদ্য সমাপ্ত বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। ওই দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন চেয়েছে দলটি। সিলেটসহ তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে বিএনপি আগামী বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গাজীপুর ও খুলনার মতো এই তিন সিটিতে ভোট চুরি বা কারচুপি নয়, ভোট ডাকাতির 'মহোৎসব' হয়েছে। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে তামাশায় পরিণত করা হয়েছে। গতকাল রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। এর মধ্যে রাজশাহী ও বরিশালে আওয়ামী লীগ-মনোনীত মেয়র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আর সিলেটের ফল ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে বিএনপি-মনোনীত মেয়র প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সিলেট সিটি নির্বাচন বিষয়ে বিএনপির মতামত জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সিলেটের ফলাফল ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি। মির্জা ফখরুল সিলেটে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে নিন্দা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিন সিটি নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার সারা দেশের জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবদুস সালাম ও আমান উল্লাহ আমান।
9
দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা (ভিসি) শিক্ষার্থীদের সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। গতকাল জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের কারও কারও কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তা, আচার-আচরণ দুঃখজনক। ভাব দেখে মনে হচ্ছে, কতিপয় ভিসি সাহেবরা ছাত্রছাত্রীদের সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার মিশনে নেমেছেন, এটা দুঃখজনক। এ ব্যাপারে সরকারের নজর দেওয়া সরকার।'ভবিষ্যৎ পথ চলার জন্য স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করা দরকার বলে মন্তব্য করে ইনু বলেন, 'সংবিধান পর্যালোচনা ও সংস্কার করা দরকার। সে জন্যই সংবিধান পর্যালোচনার জন্য সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করছি।'সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক হানাহানির প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের এই সাংসদ বলেন, 'সাম্প্রতিক ইউপি নির্বাচনে যে রক্তারক্তি-খুনোখুনি হয়েছে, তার দায় প্রশাসন এবং পুলিশ এড়াতে পারে না। তাদের এই দায় নেওয়া উচিত এবং সংশোধন হওয়া উচিত।'জাসদ সভাপতি আরও বলেন, 'জেএমবি-জামায়াত-জঙ্গিরা হচ্ছে মাঠের অ্যাক্টর। জামায়াত হচ্ছে ডিরেক্টর। বিএনপি হচ্ছে প্রোডিউসার। সুতরাং এরা পাক রুহানি শক্তি দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত। জেনেটিক্যালি সম্পর্কযুক্ত। তিন পক্ষকেই দমন ও বিদায় জানানো উচিত।'
6
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ): হরিরামপুরের ঝিটকা বাজারে পাইকারি আড়তে ৪-৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মরিচ। হতাশায় অনেক কৃষক মরিচ বিক্রি না করে ফেলেও দিয়েছেন। এর আগে গত মাসে ১৫-২০ টাকা দরে মরিচ বিক্রি হয়। এতে খরচের টাকা কোনো রকম উঠছিল। এখন তো সেটিও হচ্ছে না।সরেজমিনে ঝিটকা বাজার ঘুরে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক ঠিকমতো মরিচ তুলতে না পারছেন না। যেটুকু তুলতে পারছেন তার দাম পাচ্ছেন না। অনেকে জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন, কিন্তু এভাবে ফসলের দাম না পেলে চাষাবাদ বন্ধ করে দিতে হবে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর হরিরামপুরে ১ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। উপজেলার বাল্লা, গালা আর গোপীনাথপুর ইউনিয়নে মরিচের বেশি চাষ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছে উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নে।উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের বাস্তা এলাকার মরিচচাষি শাহজাহান জানান, ১০ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। মাসখানেক আগে ১৫-২০ টাকা দরে মরিচ বিক্রি করলও এখন ৫ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি মরিচ তুলতেই খরচ হচ্ছে ৫ টাকা। প্রতিদিন ২০০-২৫০ কেজি মরিচ বিক্রি করতে পারেন তিনি। কিন্তু দাম না থাকায় খরচের টাকাই ঠিকমতো ওঠে না।ঝিটকা বাজারের প্রদীপ সরকার নামের এক মরিচ বিক্রেতা জানান, ৪০ কেজি মরিচ ২ টাকা করে বিক্রি করেছেন। কিন্তু মরিচ তুলতে ৫ টাকা আর পরিবহন খরচ ২ টাকাসহ কেজিতে ৭ টাকা খরচ পড়েছে তাঁর। এতে অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল গাফফার মুঠোফোনে জানান, এ বছর হরিরামপুরে ১ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। আমাদের উপজেলায় মরিচের উৎপাদন অনেকগুণ বেড়েছে। কিন্তু দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। যদি সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের দিকে নজর দেওয়া হয়, তাহলে আমরা এ সমস্যা থেকে উতরাতে পারব বলেও জানান তিনি।
6
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে বাসিন্দারা সরে যেতে চাইলে বাধা দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানায় বিবিসি। খবরে বলা হয়, কিয়েভের যেসব বাসিন্দা শহর ছেড়ে ভাসিলকিভের যেতে চান তাদের বাধা দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার সময় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ এ প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকরা শহর ছাড়তে চাইলে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে না। দ্বিতীয়বারের মতো রাশিয়া কিয়েভ থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার প্রস্তাব দিল। এর আগে সোমবার কোনাশেনকভ একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি সে সময় বলেছিলেন, ভাসিলকিভের দিকে যাওয়ার পথ 'খোলা ও নিরাপদ'। কিন্তু আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ ভাসিলকিভ শহরেই মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ করছে রাশিয়া। এর আগে কিয়েভ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যেতে বলেছিল রাশিয়া। এ হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর মঙ্গলবার কিয়েভে হামলা চালায় মস্কো। গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে 'সামরিক অভিযানের' ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকে দেশজুড়ে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।
3
থানার দরজা কখনো বন্ধ হয় না। স্বাভাবিকভাবে পুলিশের সাপ্তাহিক ছুটি বলতে কিছু নেই। ঈদ, পূজা, পার্বণে যে ছুটি মেলে, তা-ও সবার ভাগ্যে জোটে না। বছরে দু-একবার ছুটি পেলেও শেষ পর্যন্ত তা ভোগ করা যায় না-এমন নজিরও আছে। বছরের পর বছর এভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হয় পুলিশ সদস্যদের। তাঁদের এসব কষ্টের কথা কেউ জানে না।ছুটি নিয়ে বাহিনীর সদস্যদের এই হতাশার কথা উঠে এসেছে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের একটি জরিপে। ছুটি নিয়ে কষ্ট আর হতাশা যে শুধু নিচের পদে, তা নয়। এএসপি, এসপি বা আরও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের কাছ থেকেও এমন হতাশার কথা শোনা গেছে।পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার এআইজি সোহেল রানা এ জন্য মূলত করোনা পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের সেবায় পুলিশ নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। অনেকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ এভাবেই কাজ করে যাচ্ছে।সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি যেভাবেই ব্যাখ্যা করুন না কেন, কাজের চাপে তাঁরা যে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন, সে কথা সবাই স্বীকার করেছেন। এই তো গত ঈদুল আজহার দিন সকালে নিজের রাইফেলের গুলিতে মেহেরপুরে পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলাম আত্মহত্যা করলেন। তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন নিজেও পুলিশ।তিনি দাবি করেন, কর্মব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় তাঁর মধ্যে হতাশা ছিল। ছিল পারিবারিক জটিলতাও। আবার গত ১৫ জুলাই রাঙামাটিতে নিজের বন্দুকের গুলিতে পুলিশ সদস্য কাইয়ুম সরকার আত্মহত্যা করলেন। তিনি নানাবিধ পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের বাসভবনে দায়িত্বরত এক পুলিশ কনস্টেবল 'নিজের অস্ত্রের গুলিতে' নিহত হলেন। মানসিক কোনো চাপ বা সমস্যা থেকে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে জানালেন পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির রমনা বিভাগের এক সহকারী পরিদর্শক বলেন, পরিবারের কেউ অসুস্থ হলেও ছুটি মিলছে না। দরখাস্ত নিয়ে পিছে পিছে ঘুরতে হয়। এতে মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।'বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের মতামত ২০২০' শিরোনামে একটি জরিপ চালিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর। রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন, পার্বত্য অঞ্চল ও বিশেষায়িত ইউনিটের কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদবির ৪৪১ জন পুলিশ সদস্য এই জরিপে অংশ নেন। জরিপে একাধিক প্রশ্নের মধ্যে একটি ছিল: ছুটি পাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হন? এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ১৮৪ জন ছুটি নিয়ে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আর ১৫২ জন বলেছেন, ছুটি নিতে চাইলে ঘুষ দিতে হয়। না হলে ছুটির দরখাস্ত ওইভাবেই পড়ে থাকে।জরিপে অংশগ্রহণ করা পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, ছুটির কথা বললেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খারাপ আচরণ করেন। নানা অজুহাতে ছুটির প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। দরখাস্ত হাতে নিয়ে ফেলে রাখেন। টাকা না দিলে ছুটি বন্ধ করে দেন।গত ঈদুল আজহার তিন দিন আগে ছুটির দরখাস্ত হাতে নিয়ে পুলিশ সুপারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। করোনাকালে তাঁর ৮৫ বছর বয়সী মা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। সংশয়ে আছেন কখন কী হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ছুটি মিলেছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর মতো এমন অনেকে ছুটি না পেয়ে গুমরে কেঁদেছেন।বগুড়া জেলা পুলিশের নন্দীগ্রাম সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাজিউর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'পুলিশের চাকরিটাই এমন। জেনে বুঝেই এসেছি। চাইলেও ছুটি মেলে না। নেই কোনো সাপ্তাহিক ছুটিও।'অনেক পুলিশ সদস্যের আক্ষেপ, সরকারি চাকরিতে অবসরে যাওয়ার সময় ন্যূনতম এক বছরের ছুটি জমা থাকতে হয়। কিন্তু পুলিশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অবসর নেওয়ার আগে প্রায় সবারই অর্জিত ছুটি দেড় থেকে দুই বছরে গিয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত ছুটির বিনিময়ে তাঁরা কোনো সুবিধাও পান না।সদস্যদের ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা ইউনিটপ্রধানরা মোট ফোর্সের ২০ শতাংশ সদস্যকে ছুটি দিতে পারি। কিন্তু করোনাকালে সব ছুটি বন্ধ আছে।'ছুটি দিতে টাকা নেওয়া হয়-এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির কমিশনার বলেন, মহানগর এলাকায় এই সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। তবে প্রত্যন্ত থানা এলাকায় এটা হতে পারে।পুলিশের ছুটি ও হতাশার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, অনেক সময় কাজের চাপ থাকে। কিছু বাধ্যবাধকতাও থাকে। সবকিছুই হয় জনগণের নিরাপত্তার কারণে। হয়তো সে কারণেই গণহারে ছুটি দেওয়ার সুযোগ কম। তাই বলে সপ্তাহে এক দিনও ছুটি পাবে না, তা হয় না।
6
লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে সোমবার রাতে দু'পক্ষেই বেশ কয়েকজন সেনা হতাহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা যেন হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে গেছে। চীন এবং ভারতের মধ্যে বড় ধরণের সম্মুখ লড়াই হয়েছিল একবারই, ১৯৬২ সালে। ওই যুদ্ধের পর বিগত দশকগুলোতে এশিয়ার এই দুটি দেশ বিপুল সমরাস্ত্র সম্ভার গড়ে তুলেছে, পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে বৈরিতাও বেড়ে চলেছে। দুটি দেশেরই বিপুল অস্ত্রসম্ভার রয়েছে এবং এসব অস্ত্রশস্ত্র বেশ আধুনিক। গত ২০ বছর ধরে দুটি দেশ শুধু নিজেরাই সমরাস্ত্র তৈরি করেনি, একই সঙ্গে অস্ত্র আমদানিও করেছে। বিশেষ করে ভারত পরপর পাঁচ বছর বিশ্বের সবচাইতে বেশি অস্ত্র আমদানিকারক দেশের স্থান দখল করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইসরায়েল থেকে তারা অনেক অত্যাধুনিক অস্ত্র এনেছে। তারা নিজেরাও বিদেশি প্রযুক্তি এনে নিজেরা অস্ত্র তৈরি করেছে। একইভাবে চীন রাশিয়া থেকে কিছু অস্ত্র কিনেছে, কিন্তু বেশিরভাগ অস্ত্র তারা এখন নিজেরা উৎপাদন করে। এক নজরে চীনের সামরিক শক্তি: সামরিক শক্তির ব়্যাঙ্কিংয়ে ভারতের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরে, অর্থাৎ এ তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে দেশটি। চীনের সেনাসদস্য রয়েছে মোট ২১ লাখ ২৩ হাজার। রিজার্ভ সৈন্য ৫ লাখ ১০ হাজার চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট ২ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার তাদের এয়ারক্রাফট রয়েছে ৩ হাজার ২১০টি। চীনের যুদ্ধজাহাজ রয়েছে ৭৭৭টি, ভারতের ২৮৫টি। চীনের রয়েছে ১ হাজার ২৩২টি যুদ্ধবিমান চীনের হেলিকপ্টার ৯১১টি চীনের ট্যাংক রয়েছে ৩ হাজার ৫০০টি চীনের সাঁজোয়া যানবাহনের সংখ্যা ৩৩ হাজার চীনের স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি রয়েছে ৩ হাজার ৮০০টি চীনের ফিল্ড আর্টিলারি ৩ হাজার ৮০০টি চীনের রকেট প্রজেক্টর ২ হাজার ৬৫০টি চীনের সাবমেরিন সংখ্যা ৭৪টি চীনের বিমানবাহী জাহাজ রয়েছে দু'টি চীনের ৩৬টি ডেস্ট্রয়ার রয়েছে। চীনের ফ্রিগেট সংখ্যা ৫২টি চীনের রণতরি ৫০টি চীনের মোট ৫০৭টি বিমানবন্দর রয়েছে চীনেরর নৌবন্দর ও টার্মিনাল রয়েছে ২২টি।
3
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপি দেশের মানুষের কোনো কল্যাণ করতে পারবে না। ক্ষমতায় থাকতে একটা ভালো কাজ করেছে-সেটা তারা আজ দেখাতে পারে না। তাই ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে ব্যস্ত। বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই, বর্তমান সরকারকে সহায়তা না করেন, অন্তত নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। সোমবার রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে মাহবুব-উল আলম হানিফ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষনেতারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই যাচ্ছেন। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সুযোগ পেলেই মিথ্যাচার করেন। এই করোনার সময়ও তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন, মিথ্যাচার করছেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে করোনার ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। অথচ বিএনপি নেতারা বলেন, এক সপ্তাহে না-কী এক কোটি লোককে টিকা দেওয়া যায় না। দেশে টিকা মজুদ আছে এবং এক সপ্তাহে প্রতিটি ইউনিয়নে পাঁচ হাজার জনকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এক কোটিরও বেশি ব্যক্তি টিকার আওতায় আসবেন। হানিফ বলেন, মির্জা ফখরুলরা সরকারের কোনো উন্নয়ন দেখেন না। ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হচ্ছে, পায়রা বন্দর হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন চব্বিশ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অজস্র উন্নয়ন হচ্ছে। এগুলোর কোনোটাই বিএনপির চোখে পড়ে না। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু লকডাউনই করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। টিকা নেওয়ার পাশাপাশি সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যারা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে ও কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন-আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য একেএম রহমত উল্লাহ এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি প্রমুখ।
6
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চাঞ্চল্যকর নারদা দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার চার নেতাকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আজ শুক্রবার আদালত এ আদেশ দেন। শর্ত সাপেক্ষে এ জামিন দেওয়া হয়েছে। সেটি হলো, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এ মামলা বা এর আগের মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কথা বলতে পারবেন না এ চার নেতা। আর দুই লাখ রুপির ব্যক্তিগত বন্ড সাপেক্ষে তাঁদের জামিন দেওয়া হয়েছে। নারদা দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গের ওই চার নেতা হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও বিধায়ক সুব্রত মুখোপাধ্যায়; তৃণমূল নেতা, কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমান মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম; সাবেক মন্ত্রী ও নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমান বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়। ১৭ মে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থাৎ ১২ দিন পর এ চার নেতা মুক্তি পাচ্ছেন। যদিও গ্রেপ্তারের পর ১৭ মে রাতেই জামিন পান ওই চার নেতা। কিন্তু পরে ওই রাতেই সিবিআই জামিন বাতিলের আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট জামিন বাতিল করেন। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে ওই চার নেতার জামিন শুনানি হয়। কিন্তু ওই শুনানিতে তাঁরা দুজন ভিন্ন মত দেন। ফলে তাঁদের জামিন ঝুলে যায়। পরে আরেক শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতকে বলেন, জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করতে অবিলম্বে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হোক। অন্যথায় তৃতীয় বিচারপতির কাছে পাঠানো হোক মামলাটি। পরে আদালত পাঁচ সদস্যের নতুন বেঞ্চ গঠন করেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের নেতৃত্বে নতুন বেঞ্চে স্থান পান বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি সৌমেন সেন। এ বেঞ্চেই শুনানি হয়। কিন্তু এর বিরোধিতা করে সিবিআই। সিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই মামলাটি যায় সুপ্রিম কোর্টে। কন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলার শুনানি শেষে ২৫ মে তা গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেন কলকাতা হাইকোর্টে। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট আজ এ জামিন আদেশ দিলেন।২০১৬ সালের মার্চে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূলের ১৩ নেতা-মন্ত্রীর ঘুষ নেওয়ার এক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৭ সালে মার্চে এ নারদা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তের ভার দেওয়া হয় ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে। সে মামলায় আসামি করা হয় পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন চার মন্ত্রীসহ সাংসদ, বিধায়ক ও অন্য তৃণমূল নেতাদের।
3
করোনাভাইরাসের মহামারির ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রপ্তানি আয়ের বর্তমান ধারা বজায় রাখার লক্ষ্যে ইউরোপে তৈরি পোশাকের বাজার ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি এর পাশাপাশি বাজার খুঁজতে ইউরোপে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইউরোপের ১২টি দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় এ আহ্বান জানান। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপে নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে সেখানে কর্মরত রাষ্ট্রদূতদের অনুরোধ জানান। তিনি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিজ নিজ দেশের সরকার ও প্রবাসীদের অবহিত করার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দেন। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়েও রাষ্ট্রদূতদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সরকার করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে পেরেছে। দেশের অর্থনীতিতে সাময়িকভাবে যে চাপের সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ১২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের হাতে নগদ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। আব্দুল মোমেন বলেন, দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএলওর নির্দেশনা মেনে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৫ লাখ পিস পিপিই রপ্তানি করা হয়েছে। দেশের ওষুধশিল্পের অভাবনীয় উন্নতির ফলে করোনা চিকিৎসায় বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদন ও রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া বিজিএমইর সভাপতি রুবানা হক সংযুক্ত ছিলেন। রুবানা হক তৈরি পোশাকশিল্পের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেন এবং তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূতেরা সব ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে বিজিএমইর সভাপতিকে আশ্বস্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, সুইডেন, বেলজিয়াম, গ্রিস, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, জার্মান, সুইজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতেরা অংশ নেন।
0
জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলিউড স্টার সোনাক্ষী সিনহার বিরুদ্ধে। প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। রবিবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। জানা গেছে, দিল্লির এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ৩৭ লাখ টাকা নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেখানে তিনি যাননি। ইভেন্ট প্ল্যানার প্রোমোদ শর্মা এমন অভিযোগ এনেছেন সোনাক্ষী সিনহার বিরুদ্ধে। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে হাজির না হওয়ায় তার কাছে টাকা ফেরত চাওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন সোনাক্ষীর ম্যানেজার। একাধিকবার "দাবাং" অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো লাভ না হওয়ায় থানায় প্রতারণার অভিযোগ জানানো হয়। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধিকবার ডাকার পরেও গরহাজির থাকায় আদালতের পক্ষ থেকে সোনাক্ষীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অন্যদিকে, প্রতিবেদন অনুসারে সোনাক্ষী নিজের বয়ান দিতে ইতোমধ্যে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে হাজির হয়েছেন। শিগগিরই কথা বলবেন তার আইনজীবী। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই "দাবাং" ট্যুর শেষে সালমান খান, পূজা হেগড়ে, দিশা পাটানি ও অন্যান্যদের সঙ্গে দেশে ফেরেন অভিনেত্রী। কাজের সূত্রে এরপর তাকে দেখা যাবে হুমা কুরেশির সঙ্গে "ডবল এক্সেল" ছবিতে। রীতেশের সঙ্গে "কাকুদা"-তেও দেখা মিলবে তার।
2
বিটকয়েন মাইনিংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় 'খেলোয়াড়' ছিল চীন। তবে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ সেন্টার ফর অলটারনেটিভ ফাইন্যান্সের তথ্য বলছে, সে জায়গা এবার দখলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত সব ধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় লেনদেন নিষিদ্ধ করায় শীর্ষ অবস্থান হারাল চীন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত মে মাসের শেষ দিকে বিটকয়েনসহ সব ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও মাইনিং (নতুন ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা তৈরি) বন্ধে উদ্যোগ নেয়। এরপর এই খাত একরকম ধ্বংস হয়ে যায়। মাইনিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন, কেউ কেউ বিদেশেও পাড়ি জমাতে শুরু করেন। বৈশ্বিক বিটকয়েন নেটওয়ার্কে যুক্ত কোনো দেশের কম্পিউটারগুলোর সম্মিলিত প্রসেসিং ক্ষমতাকে 'হ্যাশ রেট' বলা হয়। ২০১৯ সালে বিশ্বে চীনের হ্যাশ রেট ছিল ৭৫ শতাংশ। এমনকি গত মে মাসেও ৪৪ শতাংশ ছিল, যা গত জুলাই নাগাদ শূন্যে নেমে আসে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মাইনাররা এই সুযোগে এগিয়ে যায়। বিটকয়েন মাইনিংয়ে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও উত্তর আমেরিকা ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে মনোযোগী হয়ে ওঠে। আর মাইনিংয়ে যুক্ত বড় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চীন ত্যাগ করতে শুরু করে। এতে মাইনিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক হ্যাশ রেটের ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল দেশটির দখলে। এরপর কাজাখস্তান ও রাশিয়ার অবস্থান। নতুন বিটকয়েন তৈরির প্রক্রিয়ার নাম মাইনিং। সচরাচর বিশ্বের নানা প্রান্তের ডেটা সেন্টারগুলোতে উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটারে কাজটি করা হয়। জটিল গাণিতিক ধাঁধার সমাধান দিতে হয়, যার জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিশ্বের অনেক দেশের সরকারই বিটকয়েন মাইনিংয়ে চীনের মতো এতটা খড়্গহস্ত হয়নি। অনেক দেশ তো স্বাগতও জানিয়েছে। আর সেখানে গত মাসে আরও কঠিন নিয়ম আরোপ করে চীন। সব ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন নিষিদ্ধ করে। চীনে বিটকয়েন মাইনিংয়ে যাঁরা হাত পাকিয়েছেন, তাঁদের হতাশা যেন যাচ্ছেই না। একসময়ের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিটকয়েন মাইনিংপুল 'এফটুপুল'-এর প্রতিষ্ঠাতা মাও শিহাং বলেন, 'একজন ভেটেরান হিসেবে আমি আজকের এই অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করি।'
0
একুশ, বাঙালির দৃঢ় চেতনার ইঙ্গিত বহন করে। একুশে ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষকে শিখিয়েছে আত্মত্যাগের মন্ত্র, যা যুগে যুগে জাতির প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ভাষা আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে এসেছে এদেশের স্বাধীনতা। শুধু বাঙালি নয়, বিশ্বের প্রতিটি জাতির মাতৃভাষার প্রতি মর্যাদা, স্বাধিকার, স্বাধীনতার সংগ্রামে দুর্জয় অনুপ্রেরণা সৃষ্টির দীপ্তিতে দিগন্ত উদ্ভাসিত করেছে একুশে ফেব্রুয়ারি। মহান এ চেতনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে দেশবিখ্যাত দুটি ভাস্কর্য। একটি শহীদ মিনার, অন্যটি অমর একুশে ভাস্কর্য।তিন স্তম্ভে শহীদ মিনারজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে এটির নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক মফিজউদ্দিন আহমদ আলবেরুনী হলের সামনে একটি ছোট্ট শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। পরে ১৯৮৫ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম কামালউদ্দিন শহীদ মিনারটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে স্থানান্তর করেন। স্থানান্তরিত তিন ফুট উঁচু স্তম্ভবিশিষ্ট ত্রিকোণ আকৃতির মিনারটি ছিল আকারে ছোট। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০০৪ সালে উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান দাবি বাস্তবায়নে তৎপর হন। ২০০৬ সালে আগের স্থানে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন উপাচার্য মুস্তাহিদ।১৯৫২ সালকে সব জাতীয় অর্জনের ভিত্তি বিবেচনা করে এর ভিত্তি মঞ্চের ব্যাস রাখা হয়েছে ৫২ ফুট। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানিয়ে উন্মুক্ত আকাশগামী স্তম্ভ তিনটির উচ্চতা রাখা হয়েছে ৭১ ফুট। দেশ বিভাগের পর আমাদের জাতীয় জীবনের স্বাধীনতা অভিমুখী নানা আন্দোলনে তাৎপর্যমণ্ডিত ৮টি বছর ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালকে ভিত্তি হিসেবে নিয়ে মঞ্চে ব্যবহার করা হয়েছে ৮টি সিঁড়ি, যা ধারাবাহিক মুক্তিসংগ্রামের প্রতীক। স্তম্ভ তিনটি তাৎপর্যমণ্ডিত তিনটি বিষয়কে নির্দেশ করে। প্রথমটি বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, দ্বিতীয়টি মাটি-মানুষ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলন সংগ্রাম। এবং তৃতীয়টি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। এ অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকর্মের নকশা করেছেন স্থপতি রবিউল হুসাইন।অমর একুশ: মায়ের হাতে সন্তানের লাশজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনা উদ্দীপ্তকারী স্থাপনা 'অমর একুশে'। এটি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার অন্যতম একটি প্রতীক। মায়ের কোলে সন্তানের লাশ, পাশে স্লোগানরত যুবক। মায়ের ঊর্ধ্বমুখী দৃষ্টি আর যুবকের মুষ্টিবদ্ধ হাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় পরাধীনতার শিকল ভাঙার গল্প। ১৯৯১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদ ভাষা আন্দোলনের এই স্মারক ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন।ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে কংক্রিটে সংগ্রামী রূপ দিয়েছেন শিল্পী জাহানারা পারভিন। ৬ দফাসহ মুক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্তরকে নির্দেশ করে ৬টি সিঁড়ি। ভাস্কর্যটির পাদদেশে পলাশ ফুলের গাছ স্বাধীনতার আগমনকে জানান দেয়।দীর্ঘ ২৭ বছর পর, ২০১৮ সালে ভাষাশহীদদের স্মরণে নির্মিত 'অমর একুশে' ভাস্কর্য সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়। সঙ্গে ভাস্কর্যটির নাম 'অমর একুশে' থেকে 'অমর একুশ' করা হয়।জাহাঙ্গীরনগরের সবুজে ঢাকা রাস্তার পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে নির্মল প্রাকৃতিক জলাশয়। জলাশয়গুলোর লাল শাপলাশোভিত পানিতে অতিথি পাখির কিচিরমিচির কলতান মুগ্ধ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের। কিন্তু ইতিহাস সচেতন নাগরিকের কাছে এই সৌন্দর্য অনেকাংশেই তুলে ধরে 'শহীদ মিনার' ও 'অমর একুশ'।
1
অবশেষে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ৩ নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় বাইডেনকে গতকাল মঙ্গলবার অভিনন্দন জানান পুতিন। তিনি বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়ে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে ক্রেমলিন একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সব ক্ষেত্রে বাইডেনের সাফল্য কামনা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বাইডেনকে অভিনন্দন বার্তায় পুতিন বলেছেন, 'আমার পক্ষ থেকে আমি সহযোগিতা ও যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত।' পুতিন বলেছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ দায়দায়িত্ব রয়েছে। পুতিনের আশা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দুই দেশ তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হবে। বাইডেনকে অভিনন্দন জানাতে বিলম্ব করা বড় মাপের বিশ্বনেতাদের মধ্যে পুতিন অন্যতম। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংও বাইডেনকে অভিনন্দন জানাতে বিলম্ব করছিলেন। তবে গত মাসের শেষ দিকে তিনি বাইডেনকে অভিনন্দন জানান। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনপদ্ধতির দ্বিতীয় ধাপে ইলেকটোরাল কলেজের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই ভোটেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন জয়ী হন। বাইডেন ৩০৬টি ও ট্রাম্প ২৩২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে কোনো প্রার্থীকে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে হয়। বাইডেন তার চেয়ে অনেক বেশি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেলেন। ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে বাইডেনের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁকে অভিনন্দন জানালেন পুতিন। তার আগে মস্কোর একাধিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নির্বাচনপদ্ধতি জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতায় আনতে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে অভিযোগ আছে। এবারের নির্বাচনে ট্রাম্প হারলেও এখন পর্যন্ত তিনি পরাজয় মেনে নেননি।
3
ঢাকা: আকাশের গায়ে বসে মেঘেরাও হয়তো উপভোগ করছিল মিজানুর রহমানের ব্যাটিং! তারা যেন অপেক্ষা করছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নের এই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির জন্য। মিজান তিন অঙ্ক ছুঁতেই তাই হুড়মুড়িয়ে মেঘেরা বৃষ্টি হয়ে ঝরল বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে।ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) শুরু থেকেই তারকা ক্রিকেটারদের ছাপিয়ে দারুণ খেলছেন জাতীয় দল থেকে দূরে থাকা খেলোয়াড়েরা। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মিজানুর রহমান। আজ শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে এসে ২৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান এগিয়ে থাকলেন সেঞ্চুরির দিক দিয়েও। সুপার লিগে উঠতে না পারা ব্রাদার্স ইউনিয়নের এই ব্যাটসম্যানের ব্যাটেই ডিপিএলে এবারের মৌসুম দেখল প্রথম শতক।যদিও শেখ জামাল-ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। খেলা থামার আগে ব্যাটিং করতে নেমে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ১৭ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৩৩ রান। ১৭ ওভারের পঞ্চম বলে সালাউদ্দিন শাকিলের বলে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান মিজানুর। পরের বলে জাহিদুজ্জামান আউট হতেই নামে বৃষ্টি। এরপর তো খেলাই বন্ধ হয়ে যায়।৬৫ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে মিজানুর ১৩ বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কাও মেরেছেন তিনটি। এই সেঞ্চুরির মধ্যে দিয়েই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে লিগে ৪০০ রানের মাইলফলকও পেরিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। ১১ ম্যাচে করেছেন ৪১৮ রান। প্রথম ১০ ম্যাচেই তিনটি ফিফটি ছিল মিজানুরের। আজ নবম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরিও পেয়ে গেলেন।
12
টাঙ্গাইলের পর এবার পাবনায় করোনার টিকা না দিয়ে এক মেডিকেল ছাত্রীর দেহে 'খালি' সিরিঞ্জ পুশ করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শহরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হান্নান অভিযোগ করেন, তার মেয়ে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের শেষবর্ষের ছাত্রী সাবা মারিয়াম অন্তিকা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে মেডিকেল স্টুডেন্ট কোঠায় করোনার টিকা নিতে যান। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নার্স তাকে খালি সিরিঞ্জ দিয়ে শরীরে সুচ ফুটানোর চেষ্টা করেন। এতে তার শরীর থেকে রক্ত বের হয়। ওই মেডিকেল ছাত্রী ভ্যাকসিন না দিয়ে খালি সিরিঞ্জ ঢুকানোর প্রতিবাদ করলে কর্তব্যরত নার্স ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরে তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে শহরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. কে এম আবু জাফর বলেন, 'এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি। তবে লিখিত অভিযোগ দিলে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি বলেন, 'প্রতিদিন দুজন করে ভ্যাকসিন প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের চিহিৃত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।' পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, 'এ বিষয়ে খুব শিগগির তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
দ্রুত খাবার গরম করার জন্য মাইক্রোওয়েভ ওভেনের জুড়ি নেই। ঝটপট রান্নার জন্যও এটি ব্যবহৃত হয়। ঘরে থাকা এ যন্ত্রটি ভালো রাখতে কিছু বিষয় জেনে রাখুন।মাইক্রোওয়েভ ওভেন ভালো রাখতে সব সময় পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন। ওভেনের বাইরের দিকটাও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছতে হবে।প্রয়োজনে সাবান পানিতে স্পঞ্জ ডুবিয়ে পানি ঝরিয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনটি ভালো করে মুছে নিন। এতে জমে থাকা তেল, চর্বি ও দাগ দূর হয়ে যাবে।না জেনে যেকোনো বাটি ওভেনে দেওয়া যাবে না। ওভেনপ্রুফ বাটি ব্যবহার করতে হবে। পাইরেক্সের বাটি ও গোল কাচের বাটিতে খাবার গরম করা যাবে। তবে প্লাস্টিকের বাটি ব্যবহার করার আগে দেখে নিতে হবে সেটি ওভেনপ্রুফ কি না।অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো খাবার ওভেনে ঢোকাবেন না। এতে আগুন লেগে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।খাবার থেকে বিভিন্ন গন্ধ ওভেনে ছড়িয়ে যায়। দুর্গন্ধ দূর করতে একটি পাত্রে পানি ও লেবুর খোসা নিয়ে কয়েক মিনিট গরম করুন। লেবুর খোসা থেকে ছড়ানো ঘ্রাণে দুর্গন্ধ দূর হবে।বাইরে যদি অনেক ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাহলে ওভেন একদমই ব্যবহার করবেন না। এ সময় ভোল্টেজ কম কিংবা বেশি থাকে। এ সময় মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করলে এর ক্ষতি হতে পারে।খাবার বা রান্নার কাজ না থাকলে খালি মাইক্রোওয়েভ ওভেন চালু করবেন না। ওভেন ভালো রাখতে প্লাগ পয়েন্ট থেকে প্লাগ খুলে রাখুন।বছরে অন্তত একবার মেকানিক ডেকে মাইক্রোওয়েভটির অবস্থা চেক করান। প্রয়োজনে যে কোম্পানির মাইক্রোওয়েভ কিনেছেন, সেই কোম্পানির লোক ডাকতে পারেন।সূত্র: পটেনটাস
6
বান্দরবান সদর উপজেলায় সপ্তম ধাপে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুটিতেই বিনা ভোটে দুজন চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য ও ২টি সংরক্ষিত ইউপি নারী সদস্য পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় তাঁরাও বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পথে।তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি তিনটি ইউপিতে ভোট হবে। গত ১২ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদান শেষ হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই হবে। ২৩ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৪ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনে বান্দরবান সদর ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত অংসা হ্লা ছাড়া কেউ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া জামছড়ি ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাচঙৈ মারমা গত রোববার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত ক্যসিংশৈ মারমা একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।গতকাল সোমবার সদর উপজেলা রিটার্নিং ও নির্বাচন কর্মকর্তা পরান্টু চাকমা বলেন, সদর ও জামছড়ি ইউপিতে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তাই তাঁরাই চেয়ারম্যান হওয়ার পথে। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখের আগে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত বলার সুযোগ নেই।এদিকে রাজবিলা ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ক্যঅং প্রু মারমা ছাড়াও দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন তপন মারমা ও মংক্যচিং মারমা। তবে গতকাল জেলা সদরে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার গুঞ্জন শোনা গেছে। বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, তিনিও লোকমুখে শুনেছেন রাজবিলা ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন, তবে তিনি নিশ্চিত নন।উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, রাজবিলা ইউপির সাধারণ সদস্য পদে ২, ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ২ নম্বর ওয়ার্ডে; জামছড়ি ইউপিতে সাধারণ সদস্য পদে ৫, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২৩ জানুয়ারি প্রত্যাহার শেষে এসব সদস্যকে বিনা ভোটে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
6
বলিউডে নাম লেখানো কাল্কি কোয়েচলিনের শুরুটা মোটেও সুবিধার ছিলো না। পারিবারিকভাবে কোনও সাপোর্ট না থাকায় নানা ধরনের অপমান কিংবা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল কাল্কিকে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল যৌন হেনস্থা। বারবার এই ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল কাল্কিকে। বলিউডে এসেই কাজ পাননি, বহুপথ পাড়ি দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন তিনি। অন্তঃসত্ত্বা কাল্কি সম্প্রতি এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, আমার কাছে আট-নয় মাস কোনও কাজ ছিল না। কেউ আমাকে অভিনয়ের জন্য সিনেমাতে নিতেই চাইত না। তারপর ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানিতে অভিনয় করি আমি। আমাকে সরাসরি কেউ যৌন হেনস্থা করেননি, কিন্তু অন্যভাবে করেছে কিংবা করার চেষ্টা করেছে। একজন প্রযোজক আমাকে বলেছিলেন একরাত তার সঙ্গে কাটাতে। আমি তাকে মুখের উপর না বলে দিই। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
2
গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালে কলকাতার আলিপুরের বেসরকারি হাসপাতাল উডল্যান্ডসে তাকে ভর্তি করানো হয়। এদিন সকালে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে তার শারীরিক পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়েছে । দীর্ঘ দিন ধরেই রক্তাল্পতার সমস্যায় ভুগছিলেন অভিনেত্রী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। শরীরে সোডিয়াম ,পটাশিয়ামের মাত্রাও বেশ কমে গেছে। এ ছাড়া আরও কিছু শারীরিক জটিলতাও আছে অভিনেত্রীর। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, আপাতত মাধবী মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। অভিনেত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানান, কোভিডের জন্য এত দিন হাসপাতালে এনে ঠিক মতো পরীক্ষা করানো যায়নি তাকে। কিন্তু হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরে পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাধবীর মেয়ে মিমি ভট্টাচার্য সমকালকে বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন মাকে হাসপাতালে চেকআপ করানো হয়নি। ফলে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আপাতত মা সুস্থ আছেন। ডাক্তার বলেছেন, চিন্তার কোনো কারণ নেই।৮০ বছর বয়সী মাধবী মুখোপাধ্যায় দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন । এর মধ্যে '২২শে শ্রাবণ', 'সুবর্ণরেখা', 'মহানগর', 'কাপুরুষ','চারুলতা', 'শঙ্খবেলা'এর মতো উল্লেখযোগ্য ছবি রয়েছে। ঋত্বিক ঘটক, তপন সিনহা, সত্যজিৎ রায়ের মতো কিংবদন্তি পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন সম্মানজনক 'বঙ্গবিভূষণ' পুরস্কার।
2
মানিকগঞ্জের ঘিওরে হাইড্রোলিক ট্রলির চলাচলে সড়ক বেহাল হয়ে গেছে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। বেহাল সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব ট্রলিতে সাধারণত মাটি পরিবহন করায় সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার। ধুলা ও ট্রলির শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন উপজেলাবাসী।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ঘিওর সদর, পয়লা, বানিয়াজুরী ও সিংজুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টরকে ট্রলি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন এসব এলাকার বিভিন্ন সড়কে কয়েক শ বার ট্রলি চলাচল করে। এসব ট্রলি সড়কে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল করে। ফলে উপজেলার কুস্তা ও পঞ্চ রাস্তা হয়ে মাইলাগী, বাইলজুরি, সিংজুরী পর্যন্ত সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি ও নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে খালি জায়গা ভরাট এবং বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই প্রতিদিন মাটিবোঝাই বহু ট্রলি সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। ট্রলিগুলোর বেপরোয়া চলাচলে ধুলাবালু উড়ে রাস্তার পাশে থাকা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির ভেতরে ঢুকে। তবে ট্রলি চলাচল বন্ধ ও সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো সাড়া মেলেনি বলে দাবি এলাকাবাসীর।সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চরবাইলজুরী গ্রামের মৃত নুরুল হকের বাড়ির পেছনের রাস্তাটি খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।অন্যদিকে, মাঘের বৃষ্টিতে সড়কের ধুলা পরিণত হয়েছে কাদায়। কর্দমাক্ত সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের এমন দুরবস্থায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।উপজেলার সিংজুরী এলাকার বাসিন্দা ফারুক উদ্দিন বলেন, সারা রাস্তায় ভালোভাবেই যাওয়া যায়, কিন্তু ভাঙা অংশে এলে আমাদের ভয় করে। কখন যেন গাড়ি উল্টে যায়। কিছুদিন আগেই এখানে ভালো ছিল। ট্রলি দিয়ে অনবরত বালু বোঝাই করে আসা-যাওয়ার কারণে বড় ধরনের খানাখন্দ হয়েছে। বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে যায়।'আবদুল ওয়াহাব নামের এক পথচারী বলেন, 'ধুলাবালুর কারণে মুখে রুমাল দিয়ে চলতে হয়। ট্রলির মালিকেরা প্রভাবশালী। তাঁদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।'ট্রলিচালক মো. রমজান আলী বলেন, 'এই গাড়ি নিয়ে পণ্য পরিবহন করার সময় পুলিশ আটক করে। লুকিয়ে চালাই।'মো. শামসুল মিয়া নামের অপর এক ট্রলিচালক বলেন, 'আমরা ভাড়ায় মাটি বহন করি। যাঁরা মাটির ঠিকাদার ও যাঁদের কাজে মাটি বহন করি, তাঁরা সব ঝামেলা ম্যানেজ করেন। ঝামেলা যাতে না হয়, আমরা ভাড়া নেওয়ার আগেই তাঁদের বলে নিই।'বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল শাখা) মো. নূরুজ্জামান বলেন, 'এসব ট্রলির কোনো নিবন্ধন নেই। অবৈধ এসব যানে পণ্য পরিবহনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধু কৃষিপণ্য ও কৃষিকাজে ব্যবহার করার অনুমোদন রয়েছে।'ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোহছেন উদ্দিন বলেন, 'ট্রলিতে মাটি পরিবহনের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
বড় হুমকির খবর আছে এমন সতর্কতা দিয়ে ইমরান খানকে লাহোরের জনসভায় সরাসরি উপস্থিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল বুধবার লাহোরের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার আতিয়াব সুলতান এই পরামর্শ দেন। তিনি ইমরান খানকে আজ বৃহস্পতিবারের সভায় ভার্চুয়াল ভাষণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ১৩ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। প্রশাসনেরসতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, 'নিরাপত্তা অ্যাজেন্সির কাছ থেকে বড় রকমেরহুমকির খবর পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে ইমরান খানকে তার জনসভায় সশরীরে উপস্থিত না থেকে এলইডি পর্দায় ভার্চুয়াল ভাষণ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।' তবে পিটিআই বলছে, তাদের জনসভা নিয়ে সরকারের এতো চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সূত্র: ডন বিডি প্রতিদিন/নাজমুল
3
'আমি কখনও ভাবতে পারিনি আমার রচনাবলি প্রকাশ হতে পারে। কারণ আমার কতটি বই আছে, সেটাও জানা ছিল না। আমি বই লিখি কাজের ফাঁকে। কখনও সমসাময়িক বিষয় নিয়েও লিখি। এগুলোই পরে বই আকারে প্রকাশ পায়।' শনিবার বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার রচনাবলির পাঠ উন্মোচনকালে এ কথা বলে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত তার সব বই নিয়ে দশ খণ্ডের 'আবুল মাল আবদুল মুহিত রচনাবলি' প্রকাশ করেছে উৎস প্রকাশন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎস প্রকাশনের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা সেলিম। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, "চলতি বইমেলায় ইউপিএল থেকে আমার 'বাংলার ইতিহাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ থেকে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ) এবং চন্দ্রাবতী একাডেমি থেকে ছেলেবেলার গল্প নিয়ে 'সোনালী দিনগুলি' প্রকাশ হবে। সে জন্য আমি বলতে পারি, এ রচনাবলি আরও বড় হবে।" ড. আনিসুজ্জামান বলেন, 'বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় লিখে তিনি সব শ্রেণীর মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি দেশকেও তুলে ধরেছেন। সমকালীন জীবন-যাপন, অর্থনীতির পাশাপাশি অতীতের অনেক অজানা বিষয় তার লেখার মাধ্যমে উঠে এসেছে।' শামসুজ্জামান খান বলেন, 'আমি বিস্মিত, সারাজীবন ব্যস্ত থাকা এ মানুষ এতগুলো বই কীভাবে লিখলেন! তিনি নিজের অনন্য সাধারণ কর্মচঞ্চলতার মধ্যেই বইগুলো লিখেছেন। বাংলাদেশকে জানতে ও চিনতে হলে তার বইগুলো পড়তে হবে।' কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, 'অর্থমন্ত্রী রচনাবলির ভূমিকায় লিখেছেন, তিনি লেখক নন। কিন্তু আমি মনে করি, তিনি নেশায় ও পেশায় লেখক। তার লেখার প্রকাশগুণ অসাধারণ ও সহজবোধ্য। ফলে খুব সহজেই তার লেখা পাঠককে টানে।' অর্থমন্ত্রীর রচনাবলি বইমেলায় উৎস প্রকাশনের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। দশ খণ্ডের রচনাবলির দাম রাখা হয়েছে ১০ হাজার টাকা।
6
সাকিব আল হাসান লিওনেল মেসির বড় ভক্ত। সাকিব আগেই চেয়েছিলেন, মেসি বার্সেলোনা ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা পিএসজিতে যাক। তখন গুঞ্জন ওঠলেও শেষ পর্যন্ত মেসি বার্সাতেই থেকে যান। তবে এবার ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে লিওনেল মেসি ছাড়লেন তার প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনা। ১০ আগস্ট দুই বছরের চুক্তিতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে নাম লেখান তিনি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করছেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার এবং সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। পিএসজিতে যোগ দেওয়ায় অনেকে মেসির কঠোর সমালোচনা করেছেন। এটা ভালো লাগেনি সাকিবের কাছে। সম্প্রতি এক লাইভ অনুষ্ঠানে মাগুরার এই ক্রিকেটার বলেন, 'আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততেই পিএসজিতে গিয়ে থাকতে পারেন মেসি। তার মতো খেলোয়াড়কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার কোনো মানে হয় না। তারপরও আমি বলবো, ওর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।' সাকিব আরো বলেন, 'মেসি নিজের ক্যারিয়ারের জন্য হয়তো আরেকটা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চায়। এটা হয়তো বার্সালোনার হয়ে জিততে পারবে বলে মনে করেনি। হয়তো সে চিন্তা করেছে পিএসজির হয়ে জেতা সম্ভব হবে। এজন্য দলটাকে বেছে নিয়েছে।'
12
পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন গুজবে গলা কাটা, বস্তাওয়ালা কিংবা ছেলেধরা ভেবে মনু মিয়াকে (৪০) বেধরক মারধর করেছে স্থানীয় জনতা। আজ বৃহস্পতিবার চাঁদপুর সদরের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার মনু মিয়া লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দুলু মিয়া। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মনু মিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাউসার জানায়, চাঁদপুর সদরের বালিয়া ইউনিয়নের ইচলী কলোনি এলাকায় একজন ব্যক্তি ভিক্ষা করার জন্য প্রবেশ করে। পরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে ছেলেধরা ভেবে মারধর করতে করতে চাঁদপুর-রায়পুর সড়ক সংলগ্ন কাদির গাজী মার্কেটের কাছে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তিনি জানান, লোকজন যেভাবে তাকে মারধর শুরু করেছিল আরেকটু দেরি হলে মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক দিলিপ কুমার জানান, সকালে গাছতলা এলাকা থেকে ৯৯৯ তে ফোন করে ছেলে ধরা আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। পরে আমরা গিয়ে উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তার বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে চাঁদপুর জেলার একাধিকস্থানে এ ধরনের ঘটনায় চাঁদপুর পুলিশ মিডিয়া সেলে একটি বিবৃতি দিয়েছেন পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির। বিবৃতিতে তিনি বলেন, কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে মর্মে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়াচ্ছেন। এ ধারাবাাহিকতায় চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী কিংবা ভবঘুরে নারী পুরুষদের আটক করে গণপিটুনি দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনা চাঁদপুর পুলিশ বিভাগের নজরে এসেছে। যারা এর পেছনে আছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
6
সবুজে মেতেছেন শিল্পা শেঠি ছেলে ভিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে সবুজে মেতেছেন শিল্পা। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শিল্পা তাঁর ছেলেকে শেখাচ্ছেন কীভাবে নিজ বাগানের সবজি তুলতে হয়। শিল্পার বাগানে হচ্ছে বেগুন, মরিচ, কামরাঙা আর বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাক। একরাশ খুশি নিয়ে তিনি বলেছেন, ছোট্ট চারা গাছগুলো যখন ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে তা তাঁকে নিজ সন্তানের বেড়ে ওঠার মতো আনন্দ দেয়। বাগানে টুইঙ্কেলের ভালোবাসার বীজ মুম্বাইয়ে সাগরের পাড় ঘেঁষে টুইঙ্কেল খান্না ও অক্ষয় কুমারের বাড়ি। সেই বাড়ির আঙিনায় এক টুকরো বাগান গড়েছেন টুইঙ্কেল। সঙ্গী ছিল তাঁর দুই সন্তান আরভ ও নিতারা। অক্ষয়-পত্নী ইনস্টাগ্রামে এক ছবি পোস্ট করে তাঁর এই একফালি সবুজের কথা জানিয়েছেন। টুইঙ্কেল বলেছেন, এই বাগানে তিনি তাঁর সন্তানদের ভালোবাসার বীজ বপন করেছেন। আর তারাই নিজ হাতে গাছেদের পরিচর্যা করছে। জ্যাকি শ্রফের 'গাছ লাগাও' লকডাউনে মুম্বাই থেকে দূরে পুনের এক ফার্ম হাউসে ছিলেন জ্যাকি শ্রফ। বলিউডের এই প্রবীণ অভিনেতাও মেতে উঠেছিলেন চাষবাসের কাজে। তিনি মজার ছলে এই অভিযানের নাম দিয়েছিলেন, 'পেড় লাগাও বীরু (গাছ লাগাও)।' জ্যাকি এই অভিযানের মধ্যে সবাইকে আবেদন জানিয়েছেন, আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে বেশি বেশি গাছ লাগানোর জন্য। জুহি চাওলার জৈব কৃষি লকডাউনে জুহি রীতিমতো জৈব কৃষক হয়ে উঠেছেন। মুম্বাইয়ে নিজের বাসায় তিনি মেতেছেন জৈব (অরগানিক) পদ্ধতিতে নানা শাকসবজির ফলনে। জুহি ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, 'আমার নতুন কাজ'। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দেখা গেছে জুহি নিজের হাতে টমেটোগাছ লাগাচ্ছেন। ধনেপাতা আর মেথির চারা লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। মিলিন্দ সুমনের গ্রিনহাউস মিলিন্দ মানে ফিটনেস। তাঁর ফিটনেস সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। তবে এবার এই সুপারমডেল তথা অভিনেতা অন্যভাবে সবাইকে প্রেরণা দিলেন। লকডাউনে তিনি তাঁর শরীরচর্চা মোটেও বন্ধ রাখেননি। পাশাপাশি পুরো সময়টা সবুজে ডুবে ছিলেন মিলিন্দ। তাঁর বাসায় তিনি গড়ে তুললেন 'গ্রিনহাউস'। বেগুন, শসা, ঝিঙা, লাউ সবকিছুই ভরপুর মিলিন্দের এই বাগিচায়। নিজের বাগানের তরমুজকে ডাম্বেল বানিয়ে তিনি এখন শরীরচর্চা করছেন। মিলিন্দ জানালেন, স্ত্রী অঙ্কিতার জন্যই নাকি এই এক টুকরো সবুজের জন্ম।
2
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা তুরস্ক করছে তার প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্ক হুমকি দিয়ে বলেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো এ কাজে সমর্থন না দিলে আঙ্কারা ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য নিজের সীমান্ত খুলে দেবে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপতাইয়্যেব এরদোগান শনিবার ইস্তাম্বুলে এক বক্তৃতায় এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি দাবি করেন, তুর্কি সেনাবাহিনী সিরিয়ার ভেতর থেকে তুরস্কে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটি 'নিরাপদ অঞ্চল' গঠনের চেষ্টা করছে এবং ইউরোপীয়দেরকে এ প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানাতে হবে। কুর্দি গেরিলাদের দমনের নামে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্ক যে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে আন্তর্জাতিক সমাজ তার তীব্র বিরোধিতা করেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলছেন, তার সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজকে সমর্থন জানাতে হবে। গত ৯ অক্টোবর থেকে তুর্কি বাহিনী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আগ্রাসন চালায়। কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ এবং তুর্কি-সিরিয়া সীমান্ত থেকে কুর্দি গেরিলাদের উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে আঙ্কারা ওই সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। অবশ্য টানা নয়দিনের আগ্রাসনের পর ১৮ অক্টোবর সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তুর্কি বাহিনী। পরে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর সীমান্ত থেকে কুর্দি গেরিলাদের সরে যাওয়ার শর্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় তুরস্ক। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিনা মূল্যে অক্সিজেনের সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ী ওবায়দুল্লাহ মাহমুদ জুয়েল। করোনা আক্রান্ত রোগীসহ অন্যান্য রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারে জুয়েলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কুশিয়ারা সাজঘর থেকে নিতে পারবেন।তাঁর কাছে অক্সিজেনের তিনটি সিলিন্ডার রয়েছে। অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলে আবার সিলিন্ডারে ভরে দেওয়া হবে রোগীদের। উপজেলার যেকোনো এলাকার অসুস্থ রোগীদের এ সেবা দেওয়া হবে বিনা মূল্যে।ওবায়দুল্লাহ বলেন, 'অনেক হতদরিদ্র মানুষ আছেন। যাঁরা টাকার অভাবে হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। তাঁদের জন্য আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। চাহিদা বাড়লে সিলিন্ডারের সংখ্যা আরও বাড়াব। ফোন করলে বা আমার দোকানে এসে অসুস্থ রোগীর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যেতে পারবেন যে কেউ।'জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে তিনি ০১৭৫৩-১১৭৯৯৭ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছেন।
6
পীরগঞ্জের দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। গত শনিবার রাতে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ইউপি নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপে উপজেলার বড় আলমপুর ও মিঠিপুর ইউনিয়নে নির্বাচন হবে।দলীয় সূত্র জানায়, বড় আলমপুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সাতজন আবেদন করেন। এর মধ্যে দলের নেতা মোদাব্বেরুল ইসলাম সাজুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।অপরদিকে মিঠিপুরে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পেতে ১৩ জন আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম ফারুক আহমেদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।মোদাব্বেরুল ইসলাম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।'পীরগঞ্জের ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর নির্বাচন হয়। এতে নৌকা প্রতীকে আট এবং দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আরও তিনটি ইউনিয়নে এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।
6
জাতিসঙ্ঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) - ২০১৯ এ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের 'শরণার্থী' হিসাবে আখ্যায়িত করায় তাতে আপত্তি জানিয়েছে সরকার। রোহিঙ্গাদের আর্থিক সহায়তার জন্য জেআরপি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের 'জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের অধিবাসী' হিসাবে চিহ্নিত করে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সালের আর্থিক চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি করা জেআরপিতে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে এলে 'শরণার্থী' শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশ বলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত আশ্রয়দানকারী দেশ কার মর্যাদা কী হবে তা ঘোষণা না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আগ বাড়িয়ে কেউ তাদের মর্যাদা ঘোষণা করতে পারে না। আর ঢাকা আশ্রিত রোহিঙ্গাদের 'জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের অধিবাসী' হিসেবেই বিবেচনা করে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু এদের জন্য চাহিদা মোতাবেক সহায়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েকটি জেআরপি দেখলেই তা বোঝা যায়। নতুন জেআরপিতে চলতি বছর রোহিঙ্গা ও উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৯২ কোটি পাঁট লাখ মার্কিন ডলার চাহিদা প্রাক্কলন করেছে জাতিসঙ্ঘ। আগের জেআরপির মতো এবারও খাদ্যনিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গণহত্যার হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করেছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ গণহত্যার হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করেছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, অন্যথায় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এটি হত সবচেয়ে বড় গণহত্যা, যা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের জন্য অপমানজনক ও মর্যাদাহানীকর হত। গতকাল হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে মানবাধিকার বিষয়ক একটি সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো। ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখন ১২ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। তাই বিপুল ভোটে বাংলাদেশ আবারো জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আশ্বর্য হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের দ্রুত রাখাইনে ফেরত পাঠানো প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করে মিয়ানমার মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে, আর এর সুরাহা তাদেরই করতে হবে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সঙ্কটের সমাধান মিয়ানমারে খুঁজতে হবে, বাংলাদেশে নয়। এই গভীর সঙ্কট থেকে উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট চলতে থাকলে জঙ্গিবাদ উৎসাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ড. মোমেন বলেন, আর তা কেবল মিয়ানমার বা বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকীর কারণে হয়ে দাড়াবে। পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেকের ধারণা দূর্বল। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসঙ্ঘে দিয়েছিলেন। মিয়ানমারের আস্থাভাজন চীন, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের তত্ত্বাবধানে এই নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
9
ঈদুল আজহা ও অন্যান্য ছুটিতে গত ৮দিন ধরে বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়েপুরোদমেপণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার ভারত থেকে টমেটো, চীনা বাদাম সহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক দেশে প্রবেশের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়। বন্দরের বাংলা হিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল হোসেন রাজ সমকালকে জানান, গত ১২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস সহ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১০ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সকল ধরণের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরফলে ৮দিন ধরে এই বন্দরের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। রোববার থেকে এ কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। কামাল হোসেন রাজ বলেন, 'রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারত থেকে পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করলে পুরোদমে বন্দরের সকল কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্যতা।'
6
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউন ও ঘরে অবস্থান করার নির্দেশনা পালন করা হচ্ছে। এটা করোনা প্রতিরোধে কার্যকর হলেও আরেকটি মরণঘাতি ব্যাধি এইডস্ এর জন্য বিপরীত ফলাফল বয়ে আনবে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। মহামারি বিশেষজ্ঞ ট্রাভিস সানচি জানান হাজারের উপরে আইচআইভি শনাক্ত করার সেন্টার বন্ধ থাকায় অনেকে টেস্ট করাতে পারছে না। প্রতিদিন এমন প্রতিটি সেন্টারে ৫০ জনের বেশি মানুষ পরীক্ষ করাতেন। তবে অনিরাপদ যৌন মিলনের ফলে এ সময়ে এ রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। যাদের আইচআইভি পজেটিভ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন ১ হাজার মানুষের মেধ্যে একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিশেষজ্ঞ।
3
চেম্বার বলতে সহজেই মানুষজন ডাক্তার কিংবা আইনজীবিদের পরামর্শ কেন্দ্রকে ধরে নেয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা আইনজীবিরা তাদের নিজ নিজ চেম্বার খুলে রোগীদের চিকিৎসা অথবা আইনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে এবং তাৎক্ষণিক পুলিশি সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে "এএসপি'র চেম্বার" স্থাপন করেছেন। এখন থেকে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে স্থাপিত এএসপি'র চেম্বারে সপ্তাহে একদিন অফিস করবেন। সেখানে তিনি প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ শুনে আইনি পরামর্শ দিবেন প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি রবিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাহুবল উপজেলা মিরপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশিং কেন্দ্রে "এএসপি'র চেম্বার" এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। এএসপি'র চেম্বার-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে মিরপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার ও এএসপি'র চেম্বারের উদ্ভাবক পারভেজন আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রান্তিক অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষজনের মনের অভিযোগগুলো শুনতেই আমার নতুন এই প্রয়াস। যারা থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করতে সংকোচ করেন বা ভয় পান তাদেরকে আইনী পরামর্শ ও সহযোগিতা করতেই ইউনিয়ন পর্যায়ে এএসপি'র চেম্বার স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে সহজ উপায়ে গরিব ও অসহায় মানুষজন আমার কাছে আসতে পারবেন এবং তাদের মনের দুঃখের কথাগুলো বলতে পারবেন। মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন লিয়াকতের সভাপতিত্বে ও মিরপুর বিট পুলিশিং কেন্দ্রের অফিসার ফুয়াদ আহমেদ এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাহুবল কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মোঃ আসকার আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি সদস্য আব্দুল কদ্দুছ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল গফফার মিলাদ, বাহুবল মডেল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. শামছুদ্দিন, ইউপি সদস্য শামীম আহমেদ, মোতাব্বির হোসেন প্রমুখ।
6
সয়াবিন তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এরই মধ্যে সয়াবিনের ভালো ফলনে খুশি বরিশালের হিজলা উপজেলার কৃষকেরা। কিন্তু বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে সয়াবিন। ফলে আধা পাকা-পাকা সয়াবিন ঘরে তুলতে পারেননি অনেক কৃষক।জানা গেছে, উপজেলার কৃষকের বেসরকারি সংস্থাসহ নানান জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। ফসল তোলার পরে ঋণ শোধ করার আশা ছিল তাঁদের। ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।সরেজমিনে দেখা গেছে, হিজলা উপজেলার মেমানিয়া, হরিনাথপুর, হিজলা গৌরব্দী ও ধুলখোলা ইউনিয়নে এ বছর প্রায় সাড়ে ৬ হাজার একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেন চাষিরা। সয়াবিনের ফলনও তুলনামূলক ভালো হয়। গত এক সপ্তাহে হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়া ও অতি বৃষ্টির কারণে সয়াবিন খেত তলিয়ে যায়।হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়নের বিশর গ্রামের আব্দুস ছত্তার বলেন, 'অনেক জায়গায় পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট হয়ে গেছে। পানি নেমে যেতে না পারায় আমাদের পাকা-আধা পাকা সয়াবিন ডুবে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে চাষিরা কিছুটা হলেও রক্ষা পেত।'হিজলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব আজাদ আল জনি বলেন, 'ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল কবিরাজ বলেন, 'ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাহায্য করা হবে। খেতে জলাবদ্ধতার কারণ খুঁজে বের করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
ইসলাম প্রকৃতির ধর্ম, শরিয়ত হলো মানবিক বিধান। একজন মানুষকে বিশ্বাসী মুমিন ও অনুগত মুসলিম হতে হলে কিছু প্রাথমিক মৌলিক গুণ অর্জন করতে হবে। প্রাকৃতিক গুণাবলির মাধ্যমে মানুষ অন্য সব সৃষ্ট জীব ও প্রাণিকুল থেকে আলাদা। মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক চেতনায় মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। গুণ বলতে সাধারণত সৎ গুণ ও সুকুমারবৃত্তিকেই বোঝায়। গুণাবলি দ্বারাই মানুষের ব্যক্তিত্ব নির্ধারিত হয়। ইসলাম ব্যক্তির বিশ্বাস ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করে। আমল তথা কর্ম বা আচরণ বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। মানুষ তার প্রাপ্ত বা অর্জিত জ্ঞান ও বিশ্বাসের আলোকেই বস্তু ও ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ করে থাকে। ইসলামের লক্ষ্য হলো স্রষ্টা ও সৃষ্টির সঙ্গে তার প্রাপ্য অধিকার অনুযায়ী যথাযথ আচরণ বা কর্ম সম্পাদন করা। মুমিন ও মুসলিম হলো সত্য বিশ্বাসী ও বিশেষ সৎ গুণাবলির অধিকারী ব্যক্তি। মানুষের প্রাকৃতিক রিপু হলো কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ, মাৎসর্য। অনিয়ন্ত্রিত ষড়্রিপু সুকুমারবৃত্তির শত্রু। জীবনযুদ্ধে প্রতিনিয়ত এসবের সঙ্গে হরদম সংঘাত চলতে থাকে। এসবের সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারবিধি হলো শরিয়ত বা ইসলামি বিধান। প্রাকৃতিক গুণাবলির সঠিক ব্যবহারেই জীবনের সফলতা এবং এর ভুল ব্যবহারই ব্যর্থতা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, 'মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।' (সুরা-১০৩ আসর, আয়াত: ১-৩)। মানবচরিত্রের উৎকর্ষ সাধনই নবী-রাসুল প্রেরণের মূল লক্ষ্য। এ মহান লক্ষ্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)- কে পাঠিয়েছেন মানবতার উৎকর্ষের পূর্ণতা প্রদানের জন্য। তিনি বলেন, 'আমাকে পাঠানো হয়েছে সুন্দর চরিত্রের পূর্ণতা প্রদানের জন্য।' (মুসলিম ও তিরমিজি)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন, '(হে মুহাম্মদ সা.) নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।' (সুরা-৬৮ কলম, আয়াত: ৪)। মানুষ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। মানব সৃষ্টির আগে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলেছিলেন, 'আমি দুনিয়াতে খলিফা স্থলাভিষিক্ত করব।' (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ৩০)। প্রেরিত প্রতিনিধির দায়িত্ব হলো প্রেরণকারী মালিকের পক্ষে তার কর্ম সম্পাদন করা। এ জন্য তার মধ্যে সে গুণাবলি থাকতে হবে। কোরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আল্লাহর রং! তদপেক্ষা উত্তম আর কোনো রং হতে পারে?' (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৩৮)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও।' আল্লাহর রং ও গুণ হলো তাঁর নিরানব্বইটি গুণবাচক নাম। আল্লাহ তাআলা চান মানুষ সেসব গুণ অর্জন করুক এবং মানুষের মধ্যে এসব গুণ বিকশিত হোক, সমাজে এসব গুণের চর্চা হোক। ইসলাম হলো সত্য বিশ্বাস, শ্রেষ্ঠ দর্শন, উত্তম আদর্শ, সৎ গুণাবলি ও কল্যাণ কর্মের নাম। জন্মসূত্র, বংশ, অঞ্চল, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও পেশা-এসব পরিচয় ইসলামে গৌণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী হতে, অতঃপর তোমাদিগকে বিভিন্ন শাখা ও গোত্রে বিভাজন করেছি; যাতে তোমরা পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের সেই বেশি সম্মানিত যে বেশি তাকওয়াবান।' (সুরা-৪৯ হুজুরাত, আয়াত: ১৩)। হজরত নূহ (আ.) এর ঔরসজাত সন্তানও অবিশ্বাসের কারণে এবং সৎ গুণের অভাবে নবীপুত্র হয়েও মুক্তি পাননি। আল-কোরআনের বর্ণনা, 'নুহ (আ.) তাঁর রবকে আহ্বান করে বললেন, "নিশ্চয় সে আমার পুত্র-আমার আহল আর আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য এবং আপনি সকল বিচারকের শ্রেষ্ঠ বিচারক।" (আল্লাহ) বললেন, হে নুহ! নিশ্চয় সে আপনার আহল (অনুসারী) নয়, কারণ তার কর্ম সঠিক নয়।' (সুরা-১১ হুদ, আয়াত: ৪৬)। ইসলামি বিশ্বাসে প্রয়োজনীয় গুণাবলির অধিকারী হলে সে সুফলপ্রাপ্ত হবে; নচেৎ বংশমর্যাদা তাকে সফলতা দিতে পারবে না, বরং সত্য বিশ্বাস, সততা, উত্তম আদর্শ ও সৎকর্মের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কোরআন মাজিদে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে, 'আল্লাহ যখন ইব্রাহিম (আ.)-এর বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিলেন এবং তিনি তা সুসম্পন্ন করলেন; (আল্লাহ) বললেন, নিশ্চয় আমি আপনাকে মানুষের ইমাম (নেতা) বানাব। তিনি বললেন, আমার বংশধরেরাও কি এই দায়িত্ব পাবে? (আল্লাহ) বললেন, জালিমরা আমার প্রতিশ্রুতি পাবে না।' (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১২৪)। ইসলামের বিধান মানুষের জন্য। তাই মুসলিম হতে হলে প্রথমে মানুষ হতে হবে আর মানুষ হতে হলে মানবীয় গুণাবলি ও মানবিক মূল্যবোধের অধিকারী হতে হবে। মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক []
10
জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী গাইবান্ধায় দুটি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বুধবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এএসএম তাসকিনুল হক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় রাজীবকে ৩০ মার্চ ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রাজীব গান্ধী। তিনি আরও জানান, রাজীব ২০১৫ সালের ২ জুন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পল্লী চিকিৎসক মাহাবুবর রহমান ডিপটিকে গুলি করে হত্যা ও ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই সাঘাটা উপজেলার বসন্তেরপাড়া গ্রামে ফজলে রাব্বী নামে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এক জেএমবি সদস্যকে গুলি করে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এছাড়া রাজিব গান্ধী উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন। উল্লেখ্য রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীকে গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম রাঘবপুর ভূতমারা গ্রামের মাওলানা ওসমান গণি মণ্ডলের ছেলে
6
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ ও দশম অধিবেশনের প্রথম দিনে 'ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড' বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে সংসদে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২০' সহ ৯টি বিল ও বিলের রিপোর্ট উত্থাপিত হয়। গত ৮ নভেম্বর শুরু হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদের এ বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনে নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা 'ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে সংসদে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২০' বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে তা পরীক্ষা করে ৭ দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলটি দুএকদিনের মধ্যে পাস করা হবে বলে জানা গেছে। এর আগে সংসদের বৈঠকে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। কোনো অধ্যাদেশ জারির পর সংসদের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপনের বিধান রয়েছে। গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০০০' জারি করেন। দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এবং ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবির মধ্যে সরকার এই পদক্ষেপ নেয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় তখন আইন সংশোধনের পর তা অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়। এছাড়া এ বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি 'মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বিল ২০২০' সংসদে উত্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ইবতেদায়ি, দাখিল, আলীম শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, কর্মসম্পাদন, নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বিল-২০২০ পাস করা বিশেষ প্রয়োজন। বিলটি অধিক পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল 'মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধনী) আইন ২০২০' সংসদে উত্থাপন করেন। আবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ' মৎস্য ও মৎস্যপণ্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিল-২০২০' এবং 'সামুদ্রিক মৎস্য বিল -২০২০' এর রিপোর্ট উত্থাপন করেন। আবার বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী 'আকাশ পথে বিমান পরিবহন মন্ট্রিল কনভেনশন বিল ২০২০' এর রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করেন। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ 'কোম্পানি আইন ২য় সংশোধনী বিল-২০২'০ এর রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার বিলগুলো ৭ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষা করে সংসদে উপস্থাপনের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠান। এরপর ৯ নভেম্বর থেকে অদ্যাবধি প্রায় সবগুলো বিল চূড়ান্ত করতে কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং বিলগুলোর রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা গেছে। এ বিলগুলো চলতি অধিবেশনের শেষার্ধে সংসদে পাস করা হবে বলে আইন শাখা জানিয়েছে।
6
মিনার রাতে বাসায় ফিরল বেশ অস্বস্তি নিয়ে। রাতের খাবারের পর থেকে পেটের মধ্যে কেমন করছে। মনে হচ্ছে, পেট ফুলে উঠছে। বাসায় ফিরে মাকে বলায় মা আদাকুচিতে সামান্য লবণ মাখিয়ে খেতে বললেন। মিনার ফ্রেশ হয়ে এসে বসল টিভিতে খবর দেখার জন্য। এর ফাঁকে একটু করে আদা চিবাতে লাগল। টিভি দেখা শেষে ঘুমাতে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করল, ওর পেটে আর কোনো সমস্যা নেই। আদা খেতে খেতে কোন সময় যেন ওর পেটের মধ্যে হওয়া সব অস্বস্তি দূর হয়ে গেছে। লেখাটা পড়ে অবাক লাগছে তাই না? আসলেই কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আদা খুবই উপকারী। মূলত আমরা জানি, আদা রান্নার কাজে মসলা হিসেবে যুক্ত হয়ে খাবারকে সুস্বাদু করে। এই আদা প্রচুর পুষ্টিগুণসম্পন্ন। প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় আছে ৮০ ক্যালরি, স্নেহ পদার্থ ০.৮ গ্রাম, সম্পৃক্ত চর্বি ০.২ গ্রাম, পলি স্যাচুরেটেড চর্বি ০.২ গ্রাম, মনো আনস্যাচুরেটেড চর্বি ০.২ গ্রাম, সোডিয়াম ১৩ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৪১৫ মিলিগ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৮ গ্রাম, আঁশ ২ গ্রাম, সুগার ১.৭ গ্রাম, প্রোটিন ১.৮ গ্রাম, ভিটামিন সি ৮%, ভিটামিন বি-৬ ১০%, ক্যালসিয়াম ১%, আয়রন ৩%, ম্যাগনেশিয়াম ১০%। আদায় কোনো কোলেস্টেরল নেই। আদায় রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায় ৪০০-এর বেশি। এর মধ্যে গবেষকেরা এর 'জিনজেরল কম্পাউন্ড'-এর পুষ্টিগত ভূমিকাকে মুখ্য হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন। এই উপাদানটি আদার স্বাদ ও গন্ধের জন্য দায়ী। এই জিনজেরলে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ক্ষমতা, যা মানবদেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে। এবার দেখে নেওয়া যাক মানুষের শরীরের কোন কোন সমস্যাকে দূর করে আদা আমাদের সুস্থ রাখতে পারে। ১. পেটের খারাপ প্রশমিত করে আদার কিছু রাসায়নিক উপাদান আছে, যা পাকস্থলীর ব্যথা নিরসন করে ও খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। গর্ভবতী নারীদের গর্ভের শুরুর দিকে যে 'মর্নিং সিকনেস' হয়, সেটা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাঁচা আদা মুখে রেখে অল্প অল্প করে চিবিয়ে খেতে বলা হয়। এতে বমি বমি ভাব দূর হয়। অস্ত্রোপচারের পর ও ক্যানসারের রোগীদের কেমোথেরাপি দেওয়ার পর অনেকেরই বমির ভাব হয়। এই বমির ভাব দূর করতেও আদা খেতে বলা হয়। আদা বদহজম দূর করে পাকস্থলীকে দ্রুত খালি করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার খাওয়ার কিছু আগে এক টুকরা আদা খেয়ে নিলে আর বদহজম হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এটা অনেকটা খাওয়ার ২০ মিনিট আগে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার মতো। আদা খেলেই যদি সেই উপকার পাওয়া যায়, তবে আর ওষুধ কেন? এতে তো কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই ওষুধের মতো। ২. প্রদাহ দূর করে অস্থিসন্ধির সমস্যা বা যেকোনো জয়েন্ট ড্যামেজের কারণে যে চরম বেদনাদায়ক সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলো হলো রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অস্টিও আর্থ্রাইটিস। এসব ব্যথা থেকে উপশম পাওয়ার জন্য সম্পূরক চিকিৎসা বা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে আদা ব্যবহার করা হয় এর প্রদাহরোধী গুণের কারণে। ৩. রক্তের শর্করা কমায় খাদ্যে আদার উপস্থিতি বাড়ালে রক্তের শর্করার পরিমাণ কমানো সম্ভব। এতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীকে যদি ১২ সপ্তাহ ধরে ১ হাজার ৬০০ মিলিগ্রাম আদা খাওয়ানো হয়, তাহলে তার ইনসুলিন সেনসিটিভ বাড়ে, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে, সার্বিক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। প্রতিদিন ২ গ্রাম করে আদা ওষুধ হিসেবে খেলে দেখা যায় অনেক টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর ফাস্টিংয়ে ব্লাড সুগার কমে আসে। এটা টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সুখবরই বটে। ৪. ক্যানসারের ঝুঁকি কমাবে আদা উদ্ভিদের মূল বা কাণ্ড অনেক ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধক অস্ত্র হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। সে রকমই আদার মধ্যে থাকা জিনজেরল ক্যানসার সেলের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে। আদা বিশেষ করে খাদ্যনালির ক্যানসার প্রতিরোধী ভূমিকায় অনন্য। কারণ, এই জিনজেরল একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা পাকস্থলীতে সৃষ্টি হওয়া প্রাত্যহিক ক্ষতকে সারিয়ে দিয়ে ক্যানসার সেলের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে। এই অ্যান্টি-অক্সিডেশনের ফলে মানবশরীরে বার্ধক্যের গতিও মন্থর হয়। ৫. মাসিকের ব্যথা কমায় মাসিকের সময় অনেকের পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এর জন্য অনেক সময় ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হয়। আদা খেলে মাসিকের কারণে হওয়া ব্যথা কমে। মাসিকের ব্যথার সঙ্গে পেটে গ্যাসের সমস্যাও হয়। আদা খেলে দুই সমস্যাই দূর হওয়া সম্ভব। ৬. সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগা উপশম ও প্রতিরোধে আদা ঠান্ডা লাগলে আমরা সাধারণত কমলা, লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সি-জাতীয় ফল খেতে বলে থাকি। এ ক্ষেত্রে আদার রসও কম ভূমিকা রাখে না। উদ্ভিদের মূলের একটি গুণ হচ্ছে শরীর গরম করা। ঠান্ডা লাগায় আদা খেলে শরীর গরম হয়, শরীরে ঘামের সৃষ্টি হয়, এর ফলে শরীর থেকে ঠান্ডাজনিত সংক্রমণ দূর হয়। বিষয়টি ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো। কাশি হলে সকালবেলা খালি পেটে এক টুকরা আদা, এক চামচ মধু ও চার-পাঁচটি তুলসীপাতা একসঙ্গে চিবিয়ে আস্তে আস্তে রসটা খেলে কিছুক্ষণ পর কফ উঠতে শুরু করে, তাতে আরাম বোধ হয়। এটি নিয়মিত কিছুদিন খেলে ঠান্ডাজনিত কাশি সেরে যাবে, এটি পরীক্ষিত। ৭. রোগ প্রতিরোধে আদা আদার জিনজেরল দেহের যেকোনো ইনফেকশনকে প্রতিহত করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আদা রেসপিরেটরি সেংশাল ভাইরাস প্রতিহত করে ঠান্ডা লাগা থেকে সৃষ্ট শ্বাসনালির সংক্রমণ ও ঠান্ডাজনিত লক্ষণগুলোকে প্রতিরোধ করে। তাই দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন নিয়ম করে সামান্য আদা খেলে অনেক অসুস্থতাকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাবারে আদার বিবিধ ব্যবহার অনেক উপায়ে আদা খাওয়া যায়। কেনার সময় টাটকা আদা দেখে কেনা উচিত। শুকনা পরিষ্কার গুঁড়া আদার তুলনায় এই টাটকা সতেজ রসাল আদায় জিনজেরল ভালো পাওয়া যায়। আদার জমিন মসৃণ হলে ভালো। কোঁচকানো বা এবড়োখেবড়ো কি না, সেটা দেখে আদা কেনা উচিত। কেনার পর ভালোভাবে ধুয়ে ওপরের বাদামি ছাল ছিলে নিয়ে কেটে বা বেটে যেমন খুশি ব্যবহার করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ছিলে রাখা আদা বেশিক্ষণ বাইরে রাখা যাবে না। বাইরের তাপমাত্রার কারণে ছেলা আদা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ছেলা আদা তাৎক্ষণিক প্রয়োজন না হলে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে হবে। মাছ বা মাংস মেরিনেট করা বা রান্নায়, সালাদে, স্যুপে, বিভিন্ন রকম স্মুদি তৈরিতে, চা তৈরিতে, বিভিন্ন রকম ডিটক্স ওয়াটার বানাতে, মুড়ি-চানাচুর মাখানোতে, আচার, চাটনি তৈরিতে, চিউইং জিনজার বানাতে আদা ব্যবহার করা যায়।বাজারে টাটকা আদা ছাড়াও আদার গুঁড়া পাওয়া যায় মসলা হিসেবে। কাঁচা আদা ও গুঁড়া আদার মধ্যে স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য আছে। তবে যত উপকারই করুক না কেন, মাত্রাতিরিক্ত আদা খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। কাদের আদা কম খাওয়া উচিত বিশেষজ্ঞরা বলেন, আদা যকৃৎকে উদ্দীপিত করে পিত্তরস তৈরিতে, যা পিত্তথলি বা গলব্লাডারে জমা হয়। যাঁদের গলব্লাডারে পাথর আছে, তাঁদের অতিরিক্ত আদা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। শেষ করছি আদার সাতকাহন। সেই সঙ্গে শেয়ার করছি আদা দিয়ে তৈরি কিছু অসাধারণ রেসিপি। স্টিমড জিনজার চিকেন উপকরণচিকেন উইংস ৬ পিচ (২ টুকরা করে কাটা মোট ১২ টুকরা), পুরোনো আদা ১০ সেন্টিমিটার (পানি ছাড়া আধা বাটা), আধা ইঞ্চি করে কাটা গ্রিন অনিয়ন বা পেঁয়াজ কলি আধা কাপ, সয়াসস ২ টেবিল চামচ, ফিশ সস ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, সাদা তেল ৩ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপের ৪ ভাগের ৩ ভাগ। প্রণালি ১. স্টিম করার পাত্রে চিকেন উইংসগুলো সয়াসস, ফিশ সস দিয়ে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা মেরিনেট করুন। ২. একটি প্যানে তেল দিয়ে গরম হলে আদাবাটা দিয়ে ১ মিনিট কষে নিন। লবণ দিয়ে অল্প আঁচে নেড়ে নেড়ে কষাতে থাকুন। ৩-৪ মিনিট পর কষানো আদায় গ্রিন অনিয়ন দিয়ে নেড়েচেড়ে ভাঁজে মিশিয়ে নিন। ৩. মেরিনেট করা চিকেন উইংসের ওপর গরম পানি ঢেলে দিন। তার ওপর কষানো আদা ও গ্রিন অনিয়ন বিছিয়ে দিন। এবার এই বাটিটা স্টিমে দিয়ে ১৫ মিনিট স্টিম করুন। ৪. ১৫ মিনিট পর চুলা নিভিয়ে ঢাকনা খুলে নিজের পছন্দমতো কাঁচা মরিচ বিছিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ঢেকে রাখুন। এবার খেয়ে দেখুন কেমন হলো একেবারেই মসলা ছাড়া রান্না এই রেসিপি! গরম গরম ভাতের সঙ্গে খেতে কিন্তু দারুণ লাগবে। আমার আদার তৈরি দ্বিতীয় রেসিপি হচ্ছে মলিদা। গরমকালে বা রোজার সময় এই পানীয় শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে ও পেট ঠান্ডা রাখে। উপকরণঠান্ডা পানি ১ লিটার, পানিতে ১ ঘণ্টা ভেজানো চিড়া/মুড়ি ২০০ গ্রাম, নারকেল কোরানো ২০০ গ্রাম, টেলে ভাজা জিরা ১৫ গ্রাম, আদাকুচি ২০ গ্রাম, বিট লবণ স্বাদমতো, চিনি স্বাদমতো। প্রস্তুত প্রণালি সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে মসৃণ করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ঘ্রাণের জন্য ৫-৬টি পুদিনাপাতাও যোগ করা যেতে পারে। লেখক: পুষ্টি ও খাদ্য পরামর্শবিদ
4
অতিবৃষ্টিতে চার কিলোমিটার পাকা সড়কের শতাধিক স্থান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে ২০টি স্থানে সড়কের একাংশ ধসে গেছে খালের পেটে। আর একটি স্থানে ৫মিটার সড়ক ধসে সড়কটি দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে যানোহন চলাচল। এতে পথচারীদের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, সড়কের পাশে অপরিকল্পিত ভাবে খাল খনন করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বগুড়ার ধুনট উপজেলার পেঁচিবাড়ি গ্রাম থেকে চাঁনদিয়াড় পর্যন্ত ওই সড়কটি নির্মাণে সরকার প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এলজিইডি'র ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জানান, পেঁচিবাড়ি গ্রাম থেকে চাঁনদিয়াড় পর্যন্ত চার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কটি ২০১১ সালে পাকা করা হয়। পরবর্তিতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে সংস্কার কাজও করা হয়। এতে ওই সড়কটির পিছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ২ কোটি টাকা। পেঁচিবাড়ী গ্রামের নির্মল দাস বলেন, সড়কটির পাশ দিয়ে এঁকে বেঁকে রয়েছে একটি খাল। আশির দশকের পর থেকে ওই খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে খালটি কোনো কাজে আসছে না। অথচ গত বছরের শেষের দিকে অপরিকল্পিত ভাবে খালটি পুণঃখনন কাজ শুরু করা হয়। খাল খননের সময় পাকা সড়কের পাশে জায়গা রাখা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই খাল খননে কাজ শেষ করা হয়েছে। খনন কাজের সরকারের প্রায় ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিগত দু'মাসের অতিবৃষ্টিতে চার কিলোমিটার ওই সড়কের শাতাধিক স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ২০টি স্থানে সড়ের অংশ বিশেষ ধসে খালের পেটে বিলীন হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে ওই সড়কের ঘোষপাড়া এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া পেঁচিবাড়ি বাজারের দক্ষিণে সড়কের প্রায় ৫মিটার দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে। জালশুকা গ্রামের ইজিবাইক চালক আল আমিন বলেন, পেঁচিবাড়ি গ্রামের দক্ষিণে সড়কটি দ্বিখন্ডিত হওয়ায় যানবহন চলাচল বন্ধ হয়েগেছে। এ কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরাসরি গাড়ী চলাচল করতে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এলজিইডি'র ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, এই খালটি পুনঃখননের আগে পাকা সড়কটি টিকে ছিল। কিন্ত অপরিকল্পিত ভাবে খননের পর পাকা সড়ক ধসে খালে পড়ছে। খাল খনন করতে গিয়ে পাকা সড়কের পাশে জায়গা রাখা হয়নি। এ কারণে পাকা সড়কটি রক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রবল বর্ষনে সড়ক ভেঙে দ্বিখন্ডিত হওয়া স্থানে জরুরী ভাবে মেরামত করা হবে।
6
আজ শনিবার সকালে ১৬ জন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।৭৬তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস বার্ষিকী উদযাপনের দিনে একদিকে জনগণের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সেনাবাহিনী। অপরদিকে চলছে গণতন্ত্রপন্থী সাধারণ নাগরিককে হত্যা।এ নিয়ে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর সামরিক জান্তার গুলিতে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন।আজ সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং জাতির উদ্দেশে বলেছেন, দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র সংহত করার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাবে সেনাবাহিনী।সেই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করলে সরাসরি মাথা ও পিঠে গুলি করা হবে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।সামরিক জেনারেলরা সশস্ত্র দিবস উদযাপন করার আগে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৩২০ জন সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশের মাথায় গুলি লেগেছে। ফলে তাঁদের ইচ্ছা করে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ ভোরে ইয়াঙ্গুনের ডালা শহরতলীতে একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ করলে সেখানেই চারজনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া সেখানে আরও ১০ জন আহত হন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন জেলায় নিহত চারজনের মধ্যে একজন স্থানীয় অনুর্ধ্ব-২১ ফুটবল দলের খেলোয়াড়।এছাড়া লাশিও শহরে নিহত হয়েছেন চার জন। বাগো এলাকাতেও প্রাণ হারিয়েছেন চার বিক্ষোভকারী। আর একজন মারা গেছেন উত্তর-পূর্ব শহর হোপিনে।ক্ষমতাচ্যুত সরকারের এমপিদের জান্তাবিরোধী গ্রুপ সিআরপিএসের মুখপাত্র ডা. সাসা বলেন, 'আজ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য লজ্জার দিন'।এদিকে জান্তা সরকারের প্রধান সশস্ত্র বাহিনী দিবসের ভাষণে কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করে নির্বাচন দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই ভাষণে জান্তা সরকারপ্রধান বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার্থে সেনাবাহিনী সারাদেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করবে। জনগণকে রক্ষা ও দেশে শান্তি ফিয়িয়ে আনতে কাজ করবে সেনাবাহিনী।তিনি বলেন, আগের মর্মান্তিক মৃত্যুগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিৎ। বিক্ষোভে গেলে আপনার মাথায় বা পিঠে গুলি লাগতে পারে!
3
গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ রেল স্টেশনে ময়মনসিংহগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ও দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ সময় তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার কাওরাইদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাওরাইদ রেল স্টেশনের মাস্টার আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।স্টেশনমাস্টার জানান, ঢাকা থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১টা ১২ মিনিটে শ্রীপুর স্টেশন ত্যাগ করে কাওরাইদ অভিমুখে যাত্রা করে। ট্রেনটি কাওরাইদ স্টেশনে পৌঁছার আগেই ইঞ্জিন ও দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। কাওরাইদ রেললাইন স্টেশন এলাকায় স্লিপার খুলে রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। মেরামতকারীরা (গ্যাং সদস্যরা) লাইনের নিচের কাঠ সরিয়ে ফেলেন। বিষয়টি কাওরাইদ স্টেশনমাস্টারকে অবহিত করেননি তাঁরা। অন্যদিকে মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ২ নম্বর লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেন স্টেশনে কর্মরত মাস্টার। পরে ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের আগেই একটি ইঞ্জিন ও দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন সামান্য আহত হন। রেল স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে যানচলাচল স্বাভাবিক আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, 'ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা আমাদের অবহিত না করে স্লিপার খুলে কাজ করার কারণে দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছে ট্রেন।'গফরগাঁও থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা পি ডব্লিউ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রেললাইনের সংস্কারের জন্য কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টারকে অবহিত করা হয়েছে।কিন্তু স্টেশনমাস্টার এ বিষয়ে জানেন না বলে জানিয়েছেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'সেটি তাঁর বিষয়। আমি লিখিতভাবে জানিয়ে কাজ শুরু করেছি।'
6
মাস্ক-পিপিই কেলেঙ্কারির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীরর নেতৃত্বে একটি টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য। এর আগে নির্ধারিত সময়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন। দুদক সূত্র জানায়, গত ৬ আগস্ট এক তলবি নোটিশে দেয়া হয়। নোটিশে মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে আবুল কালাম আজাদকে রেকর্ডপত্রসহ বক্তব্য দিতে হাজির হতে বলা হয়। আর বিশেষ বাহক মারফত পাঠানো ওই নোটিশ তার বনানীর ৫ নম্বর রোডের বাসায় পাঠানো হয়েছিল। মাস্ক-পিপিই ক্রয় দুর্নীতির অনুসন্ধানে এর আগে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) ছয় কর্মকর্তাসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। যদিও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজির হননি এলান করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন ও মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সিএমএসডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১০ জুন অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, সিএমএসডির ৯০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল রিজেন্ট হাসপাতাল দুর্নীতির একটি অনুসন্ধানে স্বাস্থ্যের ডিজিকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে।
6
নাটোরের লালপুরে ফোন করলেই ২৪ ঘণ্টা সেবায় বাড়ির দোরগোড়ায় হাজির হতো অ্যাম্বুলেন্স। দূরত্ব অনুসারে পরিবহন খরচ নির্ধারিত হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। ভাড়ার টাকায় চালকের বেতন-মেরামত খরচ বাদে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা হতো। কম খরচে দ্রুত সেবা পাওয়ায় একে বলা হয় 'গরিবের অ্যাম্বুলেন্স'।কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় আর চলে না 'গরিবের অ্যাম্বুলেন্স'। নাটোরের লালপুর উপজেলার ১০টি 'ইউনিয়ন কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স' অচল হয়ে যাওয়ায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের রোগীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দ্বিতীয় লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট এলজিএসপি-২ প্রকল্পের আওতায় একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক 'কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স' হিসেবে দেওয়া হয়। প্রতিটিতে ব্যয় হয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। তা উদ্বোধন করেন তৎকালীন নাটোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. খলিলুর রহমান।সরেজমিনে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ও চালকের বাড়ির আঙিনায় পড়ে আছে বিকল অ্যাম্বুলেন্সগুলো। অযত্নে চাকাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দিনমজুর আকবর আলী বলেন, তাঁর বর্তমানে আয়-উপার্জন নেই। রোগ-শোকে মরে যাচ্ছেন তিনি। গরিবের অ্যাম্বুলেন্স চলাকালীন অল্প খরচে হাসপাতালে আসতে পারতেন তিনি।হাসপাতালে আসা আরেক রোগী মো. হাদম আলী (৬২) বলেন, আগে রাতে কেউ অসুস্থ হলে গ্রামের মানুষের ভরসা ছিল এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো। এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।নাজমা খাতুন (৬৬) বলেন, হঠাৎ তিনি গত মাসে অসুস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু আশপাশের মানুষ অনেক চেষ্টা করেও গাড়ি আনতে পারেননি। গ্রামীণ রাস্তা হওয়ায় বড় গাড়ি আসে না। তাই তাঁর ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।লালপুরের অ্যাম্বুলেন্সের চালক দফাদার এস্কেন্দার আলী বলেন, সচল অবস্থায় গরিব রোগীদের সেবা দিতে মনে অনেক আনন্দ লাগত।বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় বিকলহয়ে আছে।লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, অ্যাম্বুলেন্সগুলো সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে দেওয়া ছিল। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে সেগুলো চলাচল উপযোগী করা হবে।
6
সন্জীদা খাতুনের তখন শরণার্থী দশা। মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তিনিকেতনে পেয়েছিলেন রিসার্চ ফেলোশিপ। তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে তখন সেখানে বাস করছেন।মাসে পেতেন পাঁচ শ টাকা। সেই টাকায় টিকে থাকা ছিল কষ্টের। আশি টাকা দিতে হতো বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল কুড়ি টাকা। চারজনের খাবার খরচের কথা ভাবলে আর কিছু করার উপায় ছিল না। ছাত্রদের কিচেন থেকে দুটি 'মিল' এনে খাওয়া হতো। বাড়ির উত্তর-পূর্ব সীমানা ঘেঁষে ময়লা ফেলার যে গর্তটা ছিল,তাতে বেশ কিছু ভাত ফেলে দেওয়া হতো।কারণ, তরকারির অভাবে শুধু সাদা ভাত খাওয়া যেত না। যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, ওই বাড়ির মালিক একদিন এসে অবস্থা দেখে বুঝে গেলেন ব্যাপারটা।তখন থেকে তিনি কখনো বাড়ির বাগানের করলা, কিংবা বাজার থেকে একটা ফুলকপি বা দুটো শিম কাপড়ের আড়ালে লুকিয়ে দিয়ে যেতেন। সেটাই কেরোসিন স্টোভে আবার রান্না করতে হতো। এ কাজ করতে গেলে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠত।পুজোর ছুটিতে কিচেনের রান্না বন্ধ থাকায় পুরো রান্নাই বাড়িতে করা শুরু হলো। তাতে সন্তানদের তৃপ্ত মুখ দেখে এরপর থেকে বাড়ির রান্নাই বহাল রইল।১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে শোনা গেল যুদ্ধের সমাপ্তি অত্যাসন্ন, পৃথিবীর নতুন এক দেশের জন্ম আসন্ন, এক প্রতিবেশী-কন্যা আবদার জানাল, 'স্বাধীনতা আসছে, মিষ্টি খাওয়াতে হবে কিন্তু!'শুনে মুখ শুকিয়ে গেল সন্জীদা খাতুনের। হাতের যে অবস্থা, তাতে মিষ্টি খাওয়াবেন কী করে! আতপ চাল আধভাঙা করে, তাই দিয়ে ঝরঝরে ভাত রেঁধে জর্দার রং দিয়ে জ্বাল দেওয়া চিনির রসে ফেলে শুকিয়ে নিয়ে তৈরি করেছিলেন গোবিন্দভোগ। ছোট আকারের গুলি বানিয়েছিলেন। বিজয়ের দিন যারা এসেছিল, তাদের হাতে তা তুলে দিয়েছিলেন।সূত্র: সন্জীদা খাতুন, স্বাধীনতার অভিযাত্রা, পৃষ্ঠা ১৫৭-১৫৯
2
যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনে খালি গায়ে মাথায় পশুর শিং ও চামড়া পরা সেই হামলাকারীকে শনিবার গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল এজেন্ট। হামলার সময় প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির ভাষণ দেওয়ার ডেস্ক তুলে নেওয়া ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশুর শিং ও চামড়া পরে হামলায় অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জ্যাক অ্যাঞ্জেলি। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের এই ব্যক্তি কিউ শামান নামেও পরিচিত। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তির নাম অ্যাডাম ক্রিশ্চান জনসন। উগ্র ডানপন্থী কিউঅ্যানন তত্ত্বের বিশ্বাসীরা মনে করেন, শয়তানের উপাসক ও শিশু নিপীড়ক একটি গোপন সংগঠন বিশ্বব্যাপী তৎপরতা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গোপন সংগঠনের বিরুদ্ধে একাই লড়ে যাচ্ছেন। এই লড়াই চালিয়ে যেতে ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকা দরকার। গত অক্টোবরে অ্যারিজোনা রিপাবলিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যাক অ্যাঞ্জেলি জানিয়েছিলেন, তিনি মাথায় শিং ও চামড়া পরেন শুধু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। এতে তাঁর কিউঅ্যানন তত্ত্ব প্রচারে সুবিধা হয়। জ্যাক অ্যাঞ্জেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়েই তিনি ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসির সমাবেশে এসেছিলেন। ক্যাপিটল ভবনে নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় বিশেষভাবে কয়েকজনের ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়। তাঁদের মধ্যে অ্যাঞ্জেলি ও জনসন রয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনে (ইউএস ক্যাপিটল) হামলা চালান। যৌথ অধিবেশন চলাকালে হামলাকারীরা নিরাপত্তার বেড়াজাল ছিঁড়ে হুড়মুড় করে ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তাঁরা ক্যাপিটল ভবন তছনছ করেন। এই হামলায় ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত ব্যক্তি।
3
স্মৃতিরা তাড়িয়ে বেড়ায়।ভাষার মাসে স্মৃতিরা আমাদের নিয়ে যায় ঘুমজাগানিয়া প্রভাতফেরির মিছিলে। মফস্বল শহরের সেই স্মৃতিময় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...'। ভোরবেলা নগ্ন পায়ে সবার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে উদাত্ত গলায় গান গেয়ে ঘুম ভাঙানো। ছাত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের কী এক উত্তেজনা! আমরাও এর জন্য কয়েক দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিতাম। শিল্পীদের মহড়ার জন্য আনা-নেওয়া, মহড়ায় অংশ নেওয়া-এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকা। শুধু প্রভাতফেরির গান নয়, শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে আরও কিছু কর্মসূচি থাকত। আলোচনা সভা, কখনো কখনো র্যালি, শহীদ স্মরণে গীতি-আলেখ্য, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ইত্যাদি। আর প্রভাতফেরিতে শিল্পীরা কাঁধে ঝুলিয়ে বা ঘোড়ার গাড়িতে কিংবা রিকশায় রেখে হারমোনিয়াম বাজিয়ে সুর তুলতেন। সামনে থাকত কালো কাপড়ের ওপর সাদা হরফে লেখা ব্যানার। বুকে কালো কাপড়ের ব্যাজ পিন বা সেফটিপিন দিয়ে শার্ট, পাঞ্জাবি কিংবা শাড়িতে সেঁটে দেওয়া হতো। কারও কারও হাতে ধরা থাকত ফেস্টুন বা প্ল্যাকার্ড। অল্প বয়সের ছেলেমেয়েরা প্রভাতফেরিতে এসে যোগ দিত, ধীরে ধীরে মিছিল বড় হয়ে উঠত। সবাই সমস্বরে গাইত, 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...'। নগরের লোকজন জেগে উঠত, নিজেদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে শুনত সেই উদাত্ত কণ্ঠের গানের সুর, সেই গানের সুর শুনে আবেগ মথিত কারও কারও গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠত। ছাত্রসংগঠন এবং সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলো সাংবাৎসরিক এই সব কাজের জন্য ছিল নিবেদিত। পাড়ায় পাড়ায়, এলাকায় এলাকায় এই সব তৎপরতা এখন হয়তো কমে গেছে, কোথাও কোথাও এগুলো বিলুপ্তপ্রায়। কোথায় হারিয়ে গেল সেই প্রভাতফেরি!শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য একটা সময় ছিল বিভিন্ন জনের বাড়ির আঙিনায় ফুলের বাগান থেকে ফুল সংগ্রহের প্রচলন; বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অনেকেই শহীদ দিবসের আগের রাতে ফুল সংগ্রহ করত। কেউ কেউ উৎসাহ ভরে বাগান থেকে ছেলেমেয়েদের ফুল দিতেন শহীদ মিনারে দেওয়ার জন্য। আবার কোনো কোনো বাগানের মালিক ফুল না দেওয়ার জন্য রাতভর পাহারা বসাতেন। সেকালে তো ফুল আজকের দিনের মতো দোকানে বিক্রি হতো না। নিজেদের বাড়ির আঙিনা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগান থেকে সংগ্রহ করে ব্যক্তি উদ্যোগে ফুল দেওয়ার বড় রকমের প্রচলন ছিল। বাগানের মালিরা কারও কারও জন্য ফুলের স্তবক কিংবা ফুল দিয়ে চক্রাকার ডালি সাজাতেন। তার মাঝে লেখা থাকত 'শহীদ স্মরণে', 'শহীদ স্মৃতি অমর হোক', 'শহীদ স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি', 'ভাষাশহীদদের অমর স্মৃতিতে...' ইত্যাদি। ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষ ও সাধারণ মানুষ হাতে কয়েকটি ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে নগ্ন পায়ে ভাবগম্ভীর পরিবেশে উপস্থিত হতো শহীদদের স্মৃতিতে প্রাণের অর্ঘ্য নিবেদন করতে। আজও এই ধারা বজায় আছে। তবে ফুলের বৈচিত্র্য, দেশি-বিদেশি ফুলের সমাহার বেড়েছে আজকের বাজার-সংস্কৃতির বদৌলতে। আগে বাগান থেকে পাওয়া যেত গোলাপ, গাঁদা, গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা ইত্যাদি এবং বাড়িঘরের আশপাশ থেকে মিলত শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, রক্তকরবী-এসব ফুল।একুশের সংকলন বলে আমরা প্রথমেই যা বুঝি তা হলো, একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের স্মরণে প্রকাশিত সাহিত্য সংকলন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, সেই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু রাখার প্রতিশ্রুতিতে প্রকাশিত হয় সাহিত্য সংকলন। ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল প্রথম সংকলন, যার সম্পাদনার কাজটি করেছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। এই সংকলনে স্থান পেয়েছিল একুশের প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, ইতিহাস ইত্যাদি। এটির প্রকাশক ছিলেন ভাষাসৈনিক মোহাম্মদ সুলতান। এই সংকলনের প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন আমিনুল ইসলাম আর রেখাচিত্র এঁকেছিলেন মুর্তজা বশীর। এই ধারায় সারা দেশেই সাহিত্য সংকলন বের হওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়।১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের কথা মনে করতে পারি সহজেই। আমার মনে পড়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সময়টা ছিল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তরুণসমাজ তখন বেশ তৎপর ছিল। ষাটের দশকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি সারা দেশকে তোলপাড় করে তুলত। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পুরো দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তরুণসমাজ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এদিকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আসতেই এই তরুণেরা উদ্দীপ্ত হতো। ছাত্রসংগঠন, সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে একুশে উপলক্ষে সাহিত্য সংকলন বের করার প্রচেষ্টা ছিল। সাহিত্যামোদী তরুণেরা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি সংগ্রহ করার জন্য পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিত এবং ব্যক্তিগতভাবে লেখা জোগাড় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত। এসব প্রকাশনার ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ সংস্থান করাও ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। মফস্বল শহরে এই বিষয়গুলোয় ছিল আরও বড় প্রতিবন্ধকতা। এসব মোকাবিলা করে, শেষ পর্যন্ত লেখা জোগাড় করে তাড়াহুড়োর মধ্যে যে কাজটি চলে তা হলো, প্রেসের কাজ। প্রেসে লেখা কম্পোজের সঙ্গে সঙ্গে প্রুফ রিডিংয়ের তৎপরতা চলে অবিশ্বাস্য গতিতে। সে সঙ্গে প্রচ্ছদের কাজ। প্রচ্ছদ আঁকাজোকার কাজ করেন স্বনামধন্য শিল্পীরা। তাঁদের কাছ থেকে প্রচ্ছদের ডিজাইন এবং ভেতরকার অলংকরণের কাজ শেষ হলে চলে ব্লক তৈরির পালা। মুদ্রণের কাজ শেষ হতো ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে। যাঁরা লেখা দিতেন, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, সেই প্রকাশিত লেখা নিজের চোখে দেখার আগ্রহ এবং উৎসাহ থাকত যারপরনাই। এই প্রকাশনাগুলোর বেশির ভাগ বিনা মূল্যে বিলি করা হতো যার যার প্রিয় প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে। কারও কারও কাছ থেকে দুই-চার টাকা বিনিময় হিসেবে নেওয়া হতো। আমার যত দূর মনে পড়ে, অনেক তরুণ লেখক এই সব সংকলনে লেখা প্রকাশ করে পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্য লেখক হয়ে উঠেছেন। মফস্বল থেকে উঠে আসা অনেকে একুশের সংকলনে লেখা ছাপিয়ে লেখক হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিয়েছেন। তবে নতুন লেখকদের ঝোঁক থাকত কয়েকজন বিখ্যাত লেখকের লেখা পাওয়ার জন্য যেন তাঁদের লেখার পাশাপাশি নতুনদের লেখা ছাপা হয়, তাতে তাঁদের লেখা মানসম্পন্ন বলে মনে হবে এবং তাঁদের লেখক পরিচিতি পোক্ত হবে। বড় বড় সংস্থা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে যে স্মরণিকা বের হতো, সেগুলো বেশির ভাগ স্বনামধন্যদের লেখা-সমৃদ্ধ হয়ে বের হতো। এই সব প্রকাশনার ব্যাপক জনপ্রিয়তা লক্ষ করা যায়। অনেকে একুশের সংকলন সংগ্রহ করে রাখতেন। আমি নিজে একসময় এই সব সংকলন সংগ্রহ করতাম আগ্রহভরে।লিটল ম্যাগাজিনের মাধ্যমে নতুন লেখক সৃষ্টির একটি প্রবণতা আমরা আগেও লক্ষ করেছি। একুশের প্রকাশনা এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতীয়মান হয়। পাশ্চাত্যের ভাবধারায় বঙ্গদেশে লিটল ম্যাগাজিন প্রবর্তন করেছিলেন প্রমথ চৌধুরী বহুকাল আগে, সম্ভবত ১৯১৪ সালে সবুজপত্র প্রকাশনার মাধ্যমে। সেই ট্র্যাডিশন চালু আছে দীর্ঘকাল। বাংলাদেশে মাহবুব উল আলম চৌধুরী ও সুচরিতা চৌধুরীর সম্পাদনায় 'চট্টগ্রাম' প্রকাশিত হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এই ম্যাগাজিনের কথা স্মরণীয় হয়ে আছে। ষাটের দশকেও এই ধারা যেভাবে সাহিত্য আন্দোলনে শক্তি জুগিয়েছে, সত্তরের দশকে তার রেশ কিছুটা কমলেও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ চলে আসে এবং একটা সময় সাপ্তাহিক-পাক্ষিক পত্রিকাগুলো লিটল ম্যাগাজিনের জায়গাটা কবজা করে ফেলে।আজও একুশের সংকলনের জন্য মন কাঁদে। মনে হয় একুশের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এর চেয়ে বড় আর কী আছে? সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে নতুন করে ই-সাহিত্য একুশের স্মৃতিকে জাগ্রত রাখবে-অন্তত সেই প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি।মো. গোলাম রহমানসম্পাদক, আজকের পত্রিকা
6
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডে আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে এ অভিযোগ করে তিনি বলেন,এই বোর্ডের মাধ্যমে যথাযথ চিকিৎসা ও তার শারীরিক অবস্থা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে না। তিনি এ সময় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার 'তথ্য প্রমাণ' তুলে ধরে রিজভী বলেন, বোর্ডের অন্যতম সদস্য ডা. আবু জাফর চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রার্থী। তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপর সদস্য ডা. হারিসুল হক আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের বিএসএমএমইউর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া অধ্যাপক তারেক রেজা আলী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। সুতরাং সরকার চিকিৎসক বাছাইয়ে পেশাগত দক্ষতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের মৌখিক বার্তা অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির জন্য খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ৫ জন চিকিৎসকের নাম দলের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু বোর্ডে তাদের রাখা হয়নি। এটা সরকারের বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নির্বাহী কমিটির সদস্য অর্পনা রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
9
শীতের শুরুতে চাঁদপুরের মতলবে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চলছে জমজমাট পিঠা বিক্রি। প্রতিবছরের এই সময়টাতেই পিঠা তৈরির ব্যস্ততা চোখে পড়ে। এই পিঠা বিক্রি করেই চলে অনেকের সংসার। অনেক মৌসুমি পিঠা ব্যবসায়ীরা কিছুটা লাভের আশায় শুধু এই সময়টাতেই পিঠা তৈরি করে বিক্রি করে থাকেন। পুরো শীত জুড়েই চলে পিঠা বিক্রির ধুম।ভ্রাম্যমাণ এসব পিঠার দোকানগুলোতে পাওয়া যায় ভাপা, চিতই, ডিম চিতই, পাটিসাপটাসহ আরও অনেক রকমের পিঠা। এছাড়াও চিতই পিঠার সঙ্গে খাওয়ার জন্য থাকে শুঁটকি, মরিচ, ধনে পাতা, সরিষা, চিংড়িসহ আরও নানান পদের ভর্তা। একেক ধরনের পিঠার দাম একেক রকম।মতলব বাজারের এক পিঠা ব্যবসায়ী বলেন, 'এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে অন্য বছরের মতো বিক্রি নেই। চালের দাম বেশি। চালের দাম কিছুটা কম থাকলে ভালো হতো। তাহলে পিঠা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যেত। এখন লাভের পরিমাণ খুবই কম।' তিনি জানান, চিতই পিঠা আকার ভেদে ১০-১৫ টাকা, ডিম পিঠা ২০ টাকা, ভাপা পিঠা ১০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
6
রাজশাহী মহানগরের মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী ১২৬ জনের ভাতা বন্ধ হয়ে গেল। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁদের ছাড়া অন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফেব্রুয়ারি মাসের ভাতা দুই দিন আগে এসেছে। এর সঙ্গে বন্ধ হলো কবি ও অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নূর কুতুবুল আলমের ভাতাও। তাঁদের দাবি, স্থানীয় রাজনীতির শিকার তাঁরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য ৩৩ ধরনের প্রমাণ প্রয়োজন পড়ে। এর মধ্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশও প্রয়োজন। কিন্তু রাজশাহী মহানগরের ৫৫২ জন ভাতাভোগীর মধ্যে ১৬০ জনের ব্যাপারে জামুকার সুপারিশ ছিল না। পরবর্তী সময়ে সেটি ধরা পড়লে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে তালিকা অনুযায়ী রাজশাহী মহানগরের ১৬০ জন বিতর্কিত বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৩৪ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে নিয়মিতকরণের জন্য সরাসরি সুপারিশ করা হয়। বাদ পড়েন বাকি ১২৬ জন। সরাসরি যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের মধ্যে ৮৩ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয় এবং আবেদন জমা না দেওয়া ও কমিটির সামনে হাজির না হওয়ায় ২৭ জনকে গেজেটে নিয়মিতকরণে সুপারিশ করা হয়নি। বাকিদের মধ্যে সাতজন অন্য এলাকার হওয়ায় এবং একজন বিজিবি সদস্যের বিষয়ে আদালতে রিট আবেদন থাকায় জামুকা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়। গত বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে যাচাই-বাছাই করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা জামুকায় পাঠানো হয়। রাজশাহীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হক। সদস্য ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুর রহমান, মীর ইকবাল ও চৌধুরী এস মনিরুল ইসলাম। ১২৬ জন ভাতাভোগীর নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপারিশ না করার প্রতিবাদে গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁদের পক্ষ থেকে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। সেখানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ রজব আলী বক্তব্য দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর বাবার নাম সুপারিশ না করার বিষয়টি তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন। এর এক বছর পর বিতর্কিত ১২৬ জনের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হলো। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আবদুল জলিল প্রথম আলোকে বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটিতে তাঁদের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শুধু সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেছেন। মূল যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ১২৬ জনের ভাতা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ভাতা আসে। ওই ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপক তাঁকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভাতা বন্ধ হওয়া কবি ও অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা স্থানীয় রাজনীতির শিকার। তিনি যদি বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়েন, তাহলে তো মুক্তিযুদ্ধই থাকে না। তিনি বলেন, ভাতা কেড়ে নিলেও তাঁদের কাছ থেকে কেউ মুক্তিযুদ্ধ কেড়ে নিতে পারবে না। সার্বিক মুক্তির জন্য তাঁরা এখনো মুক্তিযুদ্ধই করে যাচ্ছেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এ যুদ্ধ চলতেই থাকবে বলে জানান তিনি। গত বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নূর কুতুবুল আলম মান্নান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ২০১২ সাল থেকে তিনি ভাতা পান। এটা যদি না দেয়, না দেবে। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তিনি শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের সঙ্গে ছিলেন। ভাতা বন্ধ হওয়ার পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বাবার ভাতা বন্ধ হওয়ার পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ রজব আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
6
ভারতে করোনা প্রতিরোধে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন শুরু করেছে রাজ্যগুলি। ওড়িশা ইতিমধ্যেই বাড়িয়ে দিয়েছে লকডাউনের সময়সীমা। এরই মধ্যে চিকিৎসক, নার্স ও করোনা আক্রান্তদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসছেন অনেক বলিউড তারকারাই । এ তালিকায় এবার নাম লেখালেন সোনু সোদও। জি নিউজের প্রতিবেদন বলছে, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা করতে যে চিকিৎসক, নার্সরা দিনরাত কাজ করছেন তাদের জন্য মুম্বাইতে নিজের হোটেলের দরজা খুলে দিলেন সোনু। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসক-নার্সরা মুম্বাইতে রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা করছেন। কেউ কেউ সময়ের অভাবে বাড়ি ফিরে ন্যূনতম অবসরও নিতে পারছেন না। ওইসব চিকিৎসক এবং নার্সরা যাতে বিশ্রাম করতে পারেন, সেই কারণে তাদের জন্য নিজের হোটেলের দরজা খুলে দিয়েছেন দাবাং অভিনেতা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসক এবং নার্সরা যাতে তার হোটেলে হাজির হয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলে জানান বলিউডের এই অভিনেতা।
2
বিজ্ঞাননির্ভর এ যুগে ব্যবসা নির্ভর পৃথিবী সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে ব্যবসায়িক কলাকৌশল উন্নীতকরণে। উন্নতির ধারার সাথে তাল মিলিয়ে সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান এবং নতুন স্ট্যাট্রেজি নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজন পরিশ্রমী ও উদ্যমী কর্মী। শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়িক দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়ানোর চর্চা শিক্ষাজীবন থেকেই শুরু হয়। আর এ চর্চাকে আকর্ষণীয় করার জন্য ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব দ্বিতীয়বার সফলভাবে আয়োজন করেছে 'ব্রিফকেস ২.০-একটি আন্তঃইউনিভার্সিটি ৩৬০ বিজনেস স্ট্র্যাটেজি কম্পিটিশন।' তাদের এ সফল উদ্যোগের সহায়ক ছিলেন দেশের অন্যতম অনলাইন শপিং প্লাটফর্ম 'দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেড'। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বন্ধ নেই শিক্ষার চর্চা। সংকটপূর্ণ এ কালে গৃহবন্দী সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের মাথায় ঘুরতে থাকা চমৎকার ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানগুলো কাজে লাগানোর জন্য ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব 'ব্রিফকেস-২.০' সম্পূর্ণ অন্য ধারায় অনলাইন-বেসড রাউন্ডের মাধ্যমে আয়োজন করেছেন। রেজিষ্ট্রেশনকৃত ৫১৫ টিম নিয়ে কম্পিটিশনটির প্রাথমিক রাউন্ড শুরু করে। বাছাইকৃত ৫০টি টিম প্রাথমিক কেস সলভিং রাউন্ড শেষ করে জায়গা করে নেয় সেমিফাইনাল রাউন্ডে। ৫ দিন ব্যাপি 'দারাজ' ফেসবুক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ফাইনালের দিকে অগ্রসর হয় ১০টি টিম। ১০ জুলাই,২০২০ তারিখে সেরা নির্বাচিত ১০ টি টিমের মধ্যে কেসসলভিং ও ভিডিও প্রেসেন্টেশনের হাড্ডাহাড্ডি ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। কঠোর লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে ব্রিফকেস ২.০ পায় তাদের চ্যাম্পিয়ন। তিনটি টিমকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় টিম - । দ্বিতীয় স্থান ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে টিম ও টিম । ফলাফল ঘোষণার পর চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানার্সআপ ও দ্বিতীয় রানার্সআপ টিমের হাতে তুলে দেওয়া হয় যথাক্রমে ২৫,০০০ টাকা, ১৫,০০০ টাকা ও ১০,০০০ টাকার প্রাইজমানি। এছাড়াও চমৎকার এই আয়োজনের ইয়ুথ কন্টেন্ট পার্টনার হিসাবে ছিল তরুণ, রেডিও পার্টনার রেডিও টুডে, কভারেজ পার্টনার জাগো এফএম, অনলাইন মিডিয়া পার্টনার সমকাল, ইংলিশ অনলাইন মিডিয়া পার্টনার ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং নলেজ পার্টনার হিসেবে ছিল আইসিই বিজনেস টাইমস। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
6
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংসদের বিরুদ্ধে। তবু নির্বাচনে জিতেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। তাঁর অভিযোগ, সম্পর্কে চাচা হওয়ায় বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেছেন সাংসদ। জানতে চাইলে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল বলেন, এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। অবশ্য, ধানের শীষের প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এ এফ এম তারেক বলেন, 'ভাতিজা রাজীর সব লোক আমার পক্ষে থাকলে ধানের শীষই বিজয়ী হতো। ওর ফাইভ পারসেন্ট লোক আমার পক্ষে ছিল। আগামী নির্বাচনে ওরে (সাংসদ রাজী) বিপদে ফেলতে এসব কথা ছড়াচ্ছে।' নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে গত ৩ ডিসেম্বর মারা যান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। শূন্য পদে গত রোববার উপনির্বাচন হয়। মোট ভোট ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০২টি। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪০টি। নৌকার প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ৯৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পান। ধানের শীষের তারেক পেয়েছেন ৫৯ হাজার ১৪২ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী আজাদ গতকাল সোমবার চান্দিনা সড়কের নির্বাচনী কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা করেন। এতে তিনি বলেন, উপনির্বাচনে তাঁর পক্ষে ছিলেন না দলীয় সাংসদ রাজী, তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মী ও বেশির ভাগ ইউপি চেয়ারম্যান। তবু নৌকা বিজয়ী হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, 'আমাদের কিছু লোক ওদিকে (ধানের শীষে) চলে গেছেন। কী কারণে গেছেন, বলতে চাই না। কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানও দলের প্রার্থীর পক্ষে গুরুত্বসহকারে কাজ করেননি। আর পৌর এলাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল। ফলে ভোট কম পেয়েছি।'
9
বিলের নাম গহনাবনা। রাজশাহীর পবায়। বিলের ঠিক মধ্যখানে বেশ গভীর। সে গভীর পানিতেই পদ্ম ফুটেছে। পদ্মপাতার ফাঁকে ফাঁকে মাথা তুলেছে সাদা পাপড়িতে গোলাপি রং মেশানো চোখ ধাঁধানো পদ্মফুল। অসংখ্য কলি এখানে-সেখানে, পাপড়ি মেলে ফুটবে বলে অপেক্ষা করছে। কোথাও কোথাও বদ্ধ ফানেল আকৃতির পদ্মফল, এ-ওর গায়ে ঢলে পড়ছে।ডিঙি নৌকায় করে বিলের মাঝে ঢুকে পড়ি। দাঁড়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে কান খাড়া করে গহনাবনার বিচিত্র বর্ণের পক্ষীকুল। সে পদ্মপাতার বুকে পা ছড়িয়ে হেঁটে যায় কালিম, জলময়ূর, ডাহুক আর কানি বক। এ যাত্রায় আমার চোখ ধাঁধায় কালিম। পাতার বুকের রঙের সঙ্গে অনেকটা মিলে যায় তার পিঠের পালকের রং। তার গায়ের রং তো আর একটা নয়। গাঢ় নীল থেকে ক্রমান্বয়ে হালকা, লেজের দিকটা খানিক সাদা। লম্বা নীল গলায় লাল টকটকে মুখ, কপাল আর মাথাও লাল। পায়ের নখর অনেক দূর ছড়িয়ে থাকে। পদ্মপাতায়, কচুরিপানায় দেহের ভর ছড়িয়ে দিয়ে ভেসে থাকতে জানে। এক পাতা থেকে আরেক পাতায় লাফিয়ে লাফিয়ে ছোটে। রঙিন ফুলবনে রঙিন পাখি। মুগ্ধ হয়ে সে সৌন্দর্য দেখতে হয়।জুলাই-আগস্টের এই সময়টা এদের ডিম দেওয়া আর বাচ্চা ফোটানোর সময়। জলে ভাসা পদ্মবনের ঝোপে একটুখানি খড়কুটো জমিয়ে তার মধ্যেই ডিম পাড়ে। তিন-চারটা ডিম দিয়ে পালাক্রমে পুরুষ আর স্ত্রী পাখি তা ফোটায়। দুদিন বাদেই বাচ্চারাও বাবা-মায়ের সঙ্গে পাতায় পাতায় দৌড়ে বেড়ায়। কোথাও বড় শব্দ হলে, আক্রমণের আশঙ্কা দেখলে বড়রা উড়ে যায়, বাচ্চারা চুপটি মেরে পাতার নিচে লুকিয়ে যায়, খুঁজে পাওয়া যায় না।বাসা বাঁধলে এরা তার আশপাশেই স্বল্প দূরত্বে থেকে যায়, মানুষজন একেবারে কাছে চলে গেলেও সহজে বাসা ফেলে উড়ে যেতে চায় না। বিরক্ত হলে মুখে কর্কশ আওয়াজ তোলে।ঘোর বর্ষার দিনে গহনাবনা বিলে যাই। এই সময়ে বৃষ্টি এই আসে এই যায়। ভাগ্যিস এক ফাঁকে খানিক রোদ ফুটল পুবের আকাশে, নইলে আর ছবি তোলা হতো না। ডিঙি থেকে কালিমের বাসা আর তার মাঝে চারটা ডিম দেখলাম। বেশ বড় আকারের মুরগির ডিমের মতো। বিরক্ত হবে সেই ভয়ে আর খুব কাছে যাইনি। মা কালিমের ছবি তুললাম। একটুও উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। ডিমের নিরাপত্তার কথা ভেবেই হয়তো যায়নি।অনেক জলাভূমিতেই কালিম আর দেখা যায় না। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া আর চাষাবাদের পরিধি বাড়ায় এ রকম জলজ প্রাণীর আবাস কমে যাচ্ছে দ্রুত। এদের নিরাপদ চারণক্ষেত্রের আরও বিস্তার ঘটুক, ভারসাম্যে আর বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হোক আমাদের প্রকৃতি।লেখক: পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা
6
রাজধানীর মালিবাগে বাসের ধাক্কায় দুই পোশাককর্মী নিহতের জেরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার পর থেকে রামপুরা-মালিবাগ সড়ক অবরোধ করে তারা। বিক্ষুব্ধ গার্মেন্টস কর্মীদের থামাতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাস্তা অবরোধ করে রাখায় মূল সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছে কর্মমুখী মানুষ। দুপুর দেড়টার দিকে চৌধুরীপাড়ার আয়েশা সিদ্দিকা জামে মসজিদের সামনে গাজীপুরগামী বাস সু-প্রভাত বাসের চাপায় মারা যান দুই গার্মেন্টস কর্মী। নিহতরা হলেন- নাহিদ পারভীন পলি (২২) ও মিম (১৬)। তারা এম এইচ গার্মেন্টসের শ্রমিক। পলির বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় এবং মিমের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায়। তারা ঢাকার মগবাজারের পূর্ব নয়াটোলায় ভাড়া থাকতেন। বিডি প্রতিদিন/১ জানুয়ারি ২০১৯/আরাফাত
6
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেফতার শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে একদল শিক্ষার্থী। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বেইলি রোডে প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এ বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের। পোস্টার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করা শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে,শিক্ষক হাসনা হেনাকে মুক্তি না দিলে রোববার থেকে ক্লাস বর্জন করা হবে। এর আগে একই দাবিতে শুক্রবারও বিক্ষোভ হয়েছে। 'ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রীবৃন্দ' ব্যানারে এতে বতর্মান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন বেশ কিছু সাবেক ছাত্রীও। গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন। নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে বেইলি রোডে ভিকারুননিসার ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার রাতে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় পল্টন থানায় ওই মামলা করেন তার বাবা। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে হওয়া মামলায় শিক্ষা ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আরা এবং হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়। বুধবারও চলে আন্দোলন। এসময় অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। বিকেলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয় তারা। পরে সন্ধ্যায় ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় ওই তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়। এদিন দুপুরে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সারাংশ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মানসিকভাবে অরিত্রিকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ জন্য কমিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এর মধ্যে বুধবার রাতেই রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয় শিক্ষক হাসনা হেনাকে। বৃহস্পতিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থী তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করে। তারা ক্লাস পরীক্ষায় ফেরার শর্ত হিসেবে অধ্যক্ষকে অরিত্রির বাবা-মায়ের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়াসহ বেশ কিছু দাবি জানায়। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি গভর্নিং বডির সভাপতি সাংবাদিকদের সামনে অরিত্রির বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, প্রয়োজনে তিনি পদত্যাগ করবেন।
6
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা ঘর নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। সোমবার (৫ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল ফাতেহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে ওএসডি করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সোমবার রাতে ইউএনওকে ওএসডির খবরে আমতলী সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। জানা গেছে, মো. আসাদুজ্জামান গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর আমতলীতে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে দ্বিতীয় ধাপে আমতলীর হতদরিদ্রদের ৩৫০টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই প্রকল্পের ঘরপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। ঘরপ্রতি বরাদ্দে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা থাকলেও তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ করেন। এছাড়া তার কার্যালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. এনামুল হক বাদশার নিজ গ্রাম হরিদ্রবাড়িয়ায়ায় টাকার বিনিময়ে ধনাট্য ব্যক্তিদের ৩০টি ঘর বরাদ্দ দেন ইউএনও। ইউএনও ঘর বরাদ্দের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অনেকগুলো পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন নজরে আসে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের। এ ঘটনায় তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই তদন্ত কমিটি ঘরের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও টাকার বিনিময়ে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ঘর দেয়ার সত্যতা পায়। এরপর বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান ওই প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়ে দেন। ওই প্রতিবেদনের আলোকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল ফাতেহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে আমতলীর ইউওনও মো. আসাদুজ্জামানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।
6
বছেরর প্রায় দ্বার প্রান্তে এসে বেশ আলোচনায় আছেন 'ডার্টি পিকচার' খ্যাত অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু 'তুমহারি সুলু' সিনেমা। এই সিনেমা বহুদিন পর সাফল্যের মুখ দেখিয়েছে তাকে। কিন্তু অনস্ক্রিন কাণ্ডকারখানার জন্যই বিপাকে পড়েছেন বিদ্যা বালান।জানা গেছে, সিনেমায় কাশির ওষুধের নাম উল্লেখ করার জন্য অভিনেত্রীকে নোটিশ পাঠাতে চলেছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ()। আর এটিকে কাশির ওষুধের বিজ্ঞাপন বলে মনে করা হচ্ছে। টোরেক্স কাফ সিরাপের নাম ব্যবহার আগেও করতে দেখা গিয়েছে বিদ্যাকে। ছবির মধ্যে একটি দৃশ্যে নাম উল্লেখ করে কাশির ওষুধটি ব্যবহার করা হয় এবং বলা হয় যে, এই ওষুধ খেলে কাশি থেকে মুক্তি মিলবে।এমন বিজ্ঞাপন তো আগেও হয়েছে সিনেমায়। তাহলে বিদ্যাকে নোটিশ পাঠানোর কথা কেন ভাবছে এফডিএ?'তুমহারি সুলু' ছবির দৃশ্যবিজ্ঞাপনে বিদ্যা কাশির ওষুধের স্তুতি করেছেন বটে কিন্তু তার সঙ্গে এ কথা বলেননি যে কেবলমাত্র ডাক্তারের পরামর্শেই ওষুধটি গ্রহণ করা উচিত। যে কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই ওষুধ সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত। আর এ বিষয়টি টোরেক্সের মতো কাফ সিরাপের বিজ্ঞাপনে অবশ্যই তুলে ধরা উচিত।একজন দায়িত্বশীল অভিনেত্রী হিসেবে বিদ্যার এ কথা মনে রাখা উচিত ছিল। উচিত ছিল ছবির প্রযোজক-পরিচালকদেরও। কিন্তু তা করা হয়নি। এ নিয়ে এফডিএ-তে অভিযোগ জানান ডা. তুষার জগতাপ নামে এক সমাজকর্মী।সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যাকে নোটিশ পাঠাতে চলেছে এফডিএ। এদিকে নায়িকার ২০ কোটির ছবি ইতোমধ্যে ৪৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে। আর তাতে বেশ খুশি বিদ্যা। তবে ওষুধের বিজ্ঞাপনের বিষয়ে মখু খুলেননি তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
2
ত্রিশাল পৌর শহরের মূল সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বিকল্প পথে বেশি দূরত্ব পেরিয়ে যাতায়াত করছে অনেক যানবাহন। বছরের পর বছর তৈরি হওয়া গর্তে সড়ক এমন বেহাল। অথচ উপজেলায় পৌর শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। পায়ে হেঁটে চলাচলকারীর সংখ্যাও অনেক। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এমন বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।সংশ্লিষ্ট সূত্রে এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের পৌর অংশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়কের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটারে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ।এর মধ্যে কয়েকটি স্থান যেন ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। সেখানে প্রায়ই ছোট যানবাহন উল্টে আহত হচ্ছেন যাত্রী ও চলাচলকারীরা। ফলে ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে পৌর শহরে প্রবেশ করছে ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের অনেক যানবাহন।ওই সড়ক দিয়ে বাইসাইকেলে নিয়মিত যাতায়াত করা শিক্ষার্থী ইমরান হেসেন বলেন, 'আমরা কয়েক বছর ধরে কষ্ট ভোগ করছি। এখন রাস্তার ধারে গোডাউনগুলো থাকায় বায়ুদূষণ চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। খাদ্য কণা মিশ্রিত ধূলিকণা চোখে গিয়ে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সঙ্গে উদ্ভট গন্ধ তো রয়েছেই।' তিনি দ্রুত নালা ব্যবস্থাসহ রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানান।সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের প্রায় সব জায়গায়ই ছোট-বড় খানাখন্দ রয়েছে। তবে পৌরসভার চরপাড়া অংশের চড়ইতলা মসজিদের নিকটে ও থানার সামনে হতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে হাঁটুসমান পানি জমে থাকছে।এদিকে পৌর গরু হাঁটা থেকে পোড়াবাড়ী রোডের বেশ কিছু অংশে সড়কের ধারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য খাদ্যের গোডাউন ও বিক্রয় কেন্দ্র। এসব গোডাউন ও বিক্রয়কেন্দ্রগুলোয় নিয়মিত খৈল, কোড়া, ভুসি, আটা, ময়দা, মিটবন, ভুট্টা, শুঁটকিসহ নানা ধরনের পণ্য মজুত ও ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। এসব সামগ্রী যানবাহনে ওঠা-নামা করতে গিয়ে রাস্তায় পড়ছে। এতে রাস্তায় জমছে এসব পণ্য মিশ্রিত কাদামাটি। এতে শুকনো মৌসুমে হচ্ছে বায়ুদূষণ। আর বর্ষা মৌসুমে থাকছে কর্দমাক্ত।পথচারী সুমন বলেন, 'রাস্তার পাশে কোনো নালা ব্যবস্থা নাই। কোথাও কোথাও থাকলেও সেটি পানি নিষ্কাশনে যথেষ্ট কার্যকরী নয়। পানি জমে থাকায় খানাখন্দগুলো বড় হচ্ছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে হাঁটতে গেলেও কাদাপানি মাতে হয়। এটা আমাদের জন্য যথেষ্ট লজ্জার।'অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমাদের ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এই এক কিলোমিটারের খানাখন্দের জন্য অনেক কষ্ট পোহাতে হয়। সব সময় ভয়ে থাকি কখন গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হই।'অপর চালক শিমুল বলেন, 'আমি দুর্ঘটনার ভয়ে দেড় কিলোমিটার ঘুরে যায়। আমাদের দুঃখ, দুর্দশা দেখার কেউ নেই।'সড়কের এমন বেহাল দশার বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, দুই বছর আগে টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ করা সম্ভব হইনি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল ত্রিশাল পৌরসভার মূল সড়ক পরিদর্শন করে গেছেন। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।ত্রিশাল পৌরসভার প্যানেল মেয়র রাশিদুল হাসান বিপ্লব বলেন, 'সড়কটি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে গেছেন। আগামী জানুয়ারিতে টেন্ডার হবে।'
6
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিলের জন্য আগামী ১৮ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার মামলার চার্জশিট দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু র্যাব তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম ফের এ দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে ৩৯ মাসেও আসেনি এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার চার্জশিট। হত্যাকাণ্ডের গত ৫২ মাসেও প্রতিবেদনটি দাখিল করতে পারেনি র্যাবের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানার মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। এর চারদিন পর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হিসেবে এর তদন্তভার ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে হত্যা মামলাটির তদন্তভার র্যাবের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
6
জর্ডানের প্রথম নারী পাইলট হিসেবে প্লেন নিয়ে আকাশে উড়তে যাচ্ছেন দ্বিতীয় প্রিন্সেস সালমা বিনতে আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, জর্ডানের রাজধানী আম্মানে পাইলট প্রশিক্ষণ শেষ করার পরে প্রিন্সেস সালমা বিনতে আবদুল্লাহকে প্রথম নারী পাইলট হিসেবে সম্মানিত করেন দেশটির দ্বিতীয় রাজা আবদুল্লাহ। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
3
সিলেট সিক্সার্সের দেয়া কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নামলো রাজশাহী কিংস। সন্ধ্যায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারতি ওভারে ১৮৯ রান করে সিলেট। নিকোলাস পুরান ও সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে এই বড় স্কোর গড়ে তারা। ৩১ বলে ছয় ছক্কা ও ছয় বাউন্ডারিতে অনবদ্য ৭৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন পুরান। আর সাব্বির ৩৯ বলে চারটি বাউন্ডারি ও দুটি ছক্কায় করেন ৪৫ রান। এছাড়া ২৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন আফিফ হোসেন। রাজশাহীর কামরুল ইসলাম রাব্বি দুটি উইকেট শিকার করেন। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে রাজশাহী। সাজঘরে ফিরেছেন জাকির হোসেন্। দলের সংগ্রহ এখন ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৪ রান। দুটি দলই পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে আছে। রাজশাহী আছে পঞ্চম স্থানে। দশ ম্যাচে পাঁচটি জয় নিয়ে দশ পয়েন্ট তাদের। আর পরের স্থানে সিলেট। দশ ম্যাচের চারটিতে জিতে পয়েন্ট আট। রাজশাহী কিংস একাদশ : মেহেদি হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান, জাকির হাসান, সৌম্য সরকার, আরাফাত সানি, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শাহরিয়ার নাফীস, ক্রিস্টিয়ান জঙ্কার, লরি ইভান্স, রায়ান টেন দোয়েশ্চেত ও জনসন চালর্স। সিলেট একাদশ : অলক কাপালি (অধিনায়ক), সোহেল তানভীর, মোহাম্মদ নাওয়াজ, নিকোলাস পুরান, জেসন রয়, লিটন দাস, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, আফিফ হোসেন, এবাদত হোসেন ও নাবিল সামাদ।
12
ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে পাকিস্তান সরকার সব ধরনের বিলাসী পণ্য এবং অত্যাবশ্যক নয়- এমন সবকিছু আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। তারা আশা করছে, এতে মাসে ছয় বিলিয়ন ডলার রক্ষা পাবে। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-এনের নেতৃত্বাধীন সরকার বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেন, ফেডারেল সরকার বিলাসসামগ্রী এবং অত্যাবশ্যক নয়, এমন পণ্য আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তিনি বলেন, এখন জরুরি পরিস্থিতি চলছে। পাকিস্তানিদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার আলোকে আত্মত্যাগ করতে হবে। এতে বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর দ্রুত প্রভাব ফেলবে। নিষেধাজ্ঞার ফলে মাসে ছয় বিলিয়ন ডলার রক্ষা পাবে। মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেন, সরকার আমদানি হ্রাস করার দিকে নজর দিয়েছে। এ কারণে রফতানিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। এটা স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদনকারীদের সহায়তা করবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে শাহবাজ শরিফ দিনরাত কাজ করছেন। তিনি বলেন, যেসব পণ্য আমদানি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সাজসজ্জার আইটেম, বিলাসবহুল গাড়ি। সূত্র : ডন ও নিউজ ইন্টারন্যাশনাল
3
আবুধাবির যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন যায়েদ তালেবান নেতাদের হত্যা করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন। এজন্য তিনি গোপন কর্মসূচি চালুর কথা বলেছেন। গত ১২ জানুয়ারি রাজধানী আবুধাবিতে পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকের সময় শেখ যায়েদ এ প্রস্তাব দেন। তালেবানের সঙ্গে মার্কিন সরকারের বৈঠকের বিষয়ে আরব আমিরাত যখন বিরোধিতা করছে তখন তিনি এ প্রস্তাব দেন। লন্ডনভিত্তিক মিডলইস্ট আই বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়েছে। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা ১৪ হাজার সেনা প্রত্যাহার করতে চায়। তালেবানের সঙ্গে আলোচনা ওয়াশিংটনের সামনে সে পথ খুলে দেবে বলে আশা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কিন্তু শেখ যায়েদ বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলে "পশ্চাৎপদ, দাড়িওয়ালা দুষ্টু লোকদের" হাতে পড়বে আফগানিস্তান। এর বদলে তিনি তালেবান নেতাদের হত্যা করার জন্য ভাড়াটে যোগাড় করার প্রস্তাব দেন। এতে তালেবান দুর্বল হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তালেবান নেতাদের হত্যা করা হলে চলমান সংলাপে মার্কিন সরকার ভালো অবস্থানে থাকবে বলেও শেখ যায়েদ উল্লেখ করেন। বিডি প্রতিদিন/২২ মার্চ ২০১৯/আরাফাত
3
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সাংগ্রাইয়ের মঙ্গল শোভাযাত্রা দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে উৎসব উদ্যাপন মাধ্যমে পালন শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টায় রোয়াংছড়ি উৎসব উদ্যাপন পরিষদ কমিটির উদ্যোগে রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় জেতবন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ হতে শুরু হয়ে রোয়াংছড়ি বাজার, রোয়াংছড়ি পাড়া হয়ে একই স্থানে সাংগ্রাইংয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষ হয়েছে।মাহাঃ সাংগ্রাইং পোয়ে ২০২২ উপলক্ষে রোয়াংছড়ি উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক মংখিসাই মারমা সভাপতিত্বে র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চহাইমং মারমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ক্যাসাইনু মারমা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাহ্লামং মারমা, ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা, মেম্বার অংশৈচিং, মংহাইনু মারমা।এ সময়ে ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামসহ নিজ নিজ পোশাক পরিধান করে দেড় শতাধিক মানুষ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।রোয়াংছড়ি উৎসব পরিষদ কমিটির সদস্যসচিব উমংনু মারমা বলেন '১৩৮৩-৪ সাক্করই কো ক্রোছোবারে, মাহা সাংগ্রাইং পোয়েঃ অংম্রাংবাজি' স্লোগানে ৫ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে র্যালি ও আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ স্নান, রাতে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব, ১৫ এপ্রিল (শুক্রবার) বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, ১৬ এপ্রিল (শনিবার) ঐতিহ্যবাহী মৈত্রী পানি বর্ষণ, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ১৭ এপ্রিল (রোববার) বিহারে ধর্ম দেশনা ও উৎসর্গ দিয়ে মারমাদের সাংগ্রাইং পোয়ে শেষ করবে।প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান চহাইমং মারমা বলেন, 'পয়লা বৈশাখ ও শুভ নববর্ষে প্রতিটি পাহাড়ের জনগোষ্ঠীরা নিজ নিজ উৎসব পালন করবে। বিজু, বৈষু, বৈসাবি, সাংগ্রাইংয়ের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই।'
6
মুম্বাইতে এক শ্বাসরুদ্ধ ফাইনালের সাক্ষী থাকলেন ফুটবল সমর্থকরা। এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিল চীন। এই নিয়ে নবমবার শিরোপা জিতে নজির গড়ল তারা। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টে ভারতীয় দল করোনাতে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তারা আর তাদের অভিযান সম্পূর্ণ করতে পারেনি। বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে সাজঘরে গিয়েছিল কোরিয়া। সেই সময়ে মনে হয়েছিল, কোরিয়া হয়তো তাদের ইতিহাসে প্রথমবার মহিলা এশিয়ান কাপের শিরোপা জিততে চলেছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা একেবারে নাটকীয়ভাবে বদলে দেয় চীনের নারী ফুটবলাররা। বিরতির পরে চীনের হয়ে ট্যাঙ্গ জিয়ালি, ঝ্যাঙ্গ লিনইয়ান এবং জিয়াও ইউয়ি গোল করে এক অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন। ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে ৩-২ ফলে ফাইনালে জিততে সক্ষম হয় চীনের নারী দল। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
12
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ফলাফল পাওয়ার পর হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মো. হাবিবুর রহমান (৩৮) নামে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে মারা যান তিনি।মৃত হাবিবুর রহমান দুর্গাপুর উপজেলার ৫ নম্বর বাকলজোড়া ইউনিয়নের গাবাউতা গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে।এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুর্গাপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ৫ নম্বর বাকলজোড়া ইউনিয়ন থেকে হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চেয়ারম্যান পদে ওই ইউনিয়ন থেকে ৩ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।নির্বাচনে পরাজিত হলেও আশানুরূপ ভোট না পাওয়া নিয়ে কষ্টে আজ সকাল থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। এ সময় পরিবারের লোকজন তাঁকে দ্রুত দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।দুর্গাপুর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
6
ঢাকা সফররত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বৈদেশিক বিষয় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিজয় চাতওয়ালার সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, বৈঠকে বিজয় চাতওয়ালা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক যোগাযোগ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ ততটা নেই। এটা বাড়ানো দরকার। আওয়ামী লীগ ও বিজেপির মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বিজয় এ দুই দলের তরুণ ও নারী সদস্যদের সফর বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের কৃষ্টি-সংস্কৃতির অনেক মিল। ফলে দলের সঙ্গে দলের যোগাযোগ বাড়লে দুই দেশের মানুষই উপকৃত হবে। আওয়ামী লীগের নেতারাও এসব বিষয়ে একমত পোষণ করেন জানিয়ে দলীয় সূত্র বলছে, সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশসহ চারটি রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয়ে দলটিকে অভিনন্দন জানান আওয়ামী লীগের নেতারা। অন্যদিকে সফররত বিজেপি নেতা করোনা মহামারি মোকাবিলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও কাজী জাফরউল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীও উপস্থিত ছিলেন। পরে সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের একটি প্রতিনিধিদল বিজেপি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সেখানে দ্বিপক্ষীয় ও সমসাময়িক নানা বিষয় আলোচনা হবে বলে জোট সূত্র জানিয়েছে।
9
দ্বিতীয় বারের পরীক্ষাতেও আক্রান্ত দুই ব্যক্তির নমুনায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাদের যে কোন সময় ছেড়ে দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, দেশে নতুন করে কেউ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে দু'জন পুরুষ ও একজন নারী। বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক জানান, আক্রান্ত তিনজনের নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দু'জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় পুনরায় তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। ওই সময়ও যদি রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার পর তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে।
4
নিখোঁজের তিন দিন পার হলেও এখনো নিখোঁজ রাজধানীর পল্লবী এলাকার কলেজপড়ুয়া তিন শিক্ষার্থী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই তিন শিক্ষার্থী বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের তিন দিন পার হলেও তাদের খোঁজ এখনো পায়নি পুলিশ। পুলিশ ও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ তারা কোনো মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছে। তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পল্লবী থানা পুলিশ চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে। নিখোঁজ কাজী দিলখুশ জান্নাত নিসার মা মাহমুদা আক্তার পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগে তিনজনকে অভিযুক্ত করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন তরিকুল, রকিবুল ও জিনিয়া (তরুণী)। এর মধ্যে জিনিয়া টিকটকে পরিচিত মুখ বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজিব খান বলেন, বৃহস্পতিবার পল্লবীর ১১ নম্বর প্যারিস রোডের সি -ব্লক ১৮ নম্বর লাইন এলাকা থেকে ওই তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। নিখোঁজ কাজী দিলখুশ জান্নাত নিসার মা মাহমুদা আক্তার পল্লবী থানায় শুক্রবার একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগের পর তরিকুল, রকিবুল অয়ন ও জিনিয়াকে আজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা থানায় নিয়ে এসেছি। মাহমুদা আক্তারের অভিযোগটি এখন মামলা আকারে রুজু হচ্ছে। নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর সন্ধান বিষয়ে সজিব খান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে তারা কোথায় গিয়েছে বা আছে তার সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তাদের খোঁজে বের করতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। এদিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, একটি মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা ওই তিন শিক্ষার্থীকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে নিখোঁজ করেছে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তারা শিক্ষার্থী নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, স্কুল সার্টিফিকেট ও মূল্যবান সামগ্রী সঙ্গে করে নিয়ে গেছে। মানবপাচারকারী চক্রটির সঙ্গে পুলিশের হেফাজতে থাকা রকিবুল, তরিকুল, অয়ন ও জিনিয়া জড়িত বলেও ওই তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
বগুড়ার শিবগঞ্জের বিহার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী শোভাযাত্রায় হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন। এই মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪০-৪৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিদের বেশির ভাগই যুবলীগ ও কৃষক লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী বলে দাবি করেছেন নৌকার মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী ও বিহার ইউনিয়নের যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মহিদুল ইসলাম নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নেতাকর্মীসহ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের শোলাগাড়ি এলাকায় উঠান বৈঠকে যাচ্ছিলেন। এ সময় চানপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার পথ রোধ করে হামলা করেন। আসামিরা এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে মহিদুল ইসলামকে রামদা দিয়ে হত্যাচেষ্টা চালান হামলাকারীরা। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সাব্বির হোসেন (২৩) ও শামীম হোসেন (২৮) নামের দুই কর্মীকে হামলাকারীরা ছুরিকাঘাত করেন। জানতে চাইলে মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ তা মেনে নিতে না পেরে মাঠ ফাঁকা করতে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছেন। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী শোভাযাত্রায় হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
9
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় একটি পিকনিকের বাস আগুনে পুড়ে গেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নূর আলী পেট্রলপাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সিগারেটের আগুন থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রাজু ক্যাডেট একাডেমির ৪৯ শিক্ষার্থী একটি বাস নিয়ে নাটোরের লালপুর উপজেলার গ্রিনভ্যালি পার্কে পিকনিকে এসেছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে বাসটি নূর আলী পেট্রলপাম্পের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ বাসের ভেতরে আগুন ধরে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে চালক বাসটি থামালে শিক্ষার্থীরা হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে আগুনে বাসের ভেতরের আসন ও অন্যান্য জিনিস পুড়ে যায়। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিগারেটের আগুন থেকে বাসের ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বাসের পেছনের আসনে বসে কয়েক শিক্ষার্থী ধূমপান করছিল। ওই আসনের নিচেই সাউন্ডবক্সের ব্যাটারি ছিল। অসাবধানতাবশত সিগারেটের আগুন ব্যাটারিতে পড়লে সেখানে আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক ঘণ্টা চেষ্টা করে চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। ওই ৪৯ জন শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাজু ক্যাডেট একাডেমির সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
6
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ি সীমান্ত দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলার গোলকগঞ্জ থানার কেদার ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা সকাল ৯টার দিকে ৪৮নং গেট খুলে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ওই নারী আসতে না চাইলে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার১০১৯ এর সাব পিলার ৩ কাছ দিয়ে বিএসএসএফ তাকে মারধর করে পার করে দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে সীমান্তে কাজ করা কৃষক এবং স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং বিজিবিকে খবর দেয়। এসময় ওই নারী কাঁটাতারের বাইরে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে বিজিবি এসে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালে কয়েক ঘণ্টা পর সারা দেয় বিএসএফ। বিজিব জানায়, পতাকা বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফ কেদার ক্যাম্পের এসি ধর্মেন্দ্র রায় এবং বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেনকুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির কেদার কোম্পানি কমান্ডার আবদুস সবুর। আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১০১৯ এর সাব পিলার ৩ এর শূণ্য রেখায় অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে ওই নারীকে বাংলাদেশি বলে দাবি করে বিএসএফ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবির কেদার কোম্পানি কমান্ডার আব্দুস সবুর বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই হচ্ছে। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।
6
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা বিঘ্নিত করার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দেশটি বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খবর বাসসের। এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'আফগানিস্তানের জনসাধারণের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহসহ মানবিক সহায়তার দীর্ঘ মেয়াদি সুবিধা চরম সংকটপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের সহায়তা কোনভাবে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।' এতে আরো বলা হয়, 'আফগানিস্তানে মাসের পর মাস ধরে সহিংসতা চলায় দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কোভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশটিতে ইতোমধ্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।' এমন পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও বেসামরিক নাগরিক, স্বাস্থ্য কর্মী, রোগি ও চিকিৎসা স্থাপনা রক্ষার ব্যাপারে সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত ২৬ টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয় এবং এ সময়ে মধ্যে বিভিন্ন হামলায় ১২ স্বাস্থ্য সেবা কর্মী নিহত হন। এ ধরনের স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন 'বড় চ্যালেঞ্জ' হয়ে দাঁড়িয়েছে। তালেবান জঙ্গিরা উল্কার গতিতে একের পর এক আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে নেয়ায় দেশটির সরকারের দ্রুত পতন ঘটে। এমন কি আমেরিকান সৈন্য চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বেধে দেয়া সময়সীমা ৩১ আগস্টের আগেই আফগান সরকারের পতন ঘটলো। কাবুলের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক দাতা দেশ আফগানিস্তানের নতুন শাসনের ব্যাপারে নজরদারি বজায় রেখেছে। সেখানে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানকে কঠোর হস্তে দেশ শাসন করতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তালেবান শাসকরা মানবাধিকার বিশেষ করে নারীদের প্রতি সম্মান জানাবে ওয়াশিংটন এমনটাই আশা করে। জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন মঙ্গলবার জানায়, তারা আপাতত আফগানিস্তানে উন্নয়ন সহায়তা পাঠানো বন্ধ করে দেবে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ও বিশ্বব্যাংক উভয় প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানের ব্যাপরে নীরব থাকলেও তারা দেশটিতে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে। ডব্লিউএইচও'র বিবৃতিতে বলা হয়, তারা আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এতে আরো বলা হয়, আগের যেকোন সময়ের তুলনায় এখন সবচেয়ে বেশি আফগান জনগণের সহায়তা প্রয়োজন।
3
'অঘটন' শব্দটা বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তদের গায়ে জ্বলুনি চড়াচ্ছে। ভিনদেশি ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমের 'আপসেট' শব্দটা আমরা নিতে পারছি না। দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেরা ক্রিকেট খেলেই হারিয়েছে বাংলাদেশ টাইগাররা। এটা বিশ্বকাপের আপসেট কেন হবে? তবে শুধু আপসেট নয় বাংলাদেশের ভাগ্যে 'কলার খোসা' বিশেষণও জুটেছে এবং জুটছে। এবার ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ সমীহ দেখিয়ে 'ডাক হর্স' কিংবা শক্ত প্রতিপক্ষ বলছে বটে। তবে বিশ্বকাপে এখনও তা প্রমাণ সাপেক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতে তাই আত্মতুষ্টি ছিল না টাইগারদের। এমনকি তিন মোড়লের (অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড) এক দলকে হারালেও 'ডাক হর্স' বিশেষণ প্রমাণ হবে না। বরং লিগ পর্বের শেষ পর্যন্ত সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে সাকিব-মাশরাফিদের। তবেই হয়তো এই অঘটন কিংবা কলার খোসা তকমা গা থেকে খসবে। ২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো গেছে। এবার টানা তিন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে লন্ডনের ১৬০ বছরের পুরনো বিগ বেনের ঘণ্টা আরেকবার কাঁপিয়ে দেওয়ার পালা। নয়তো সাকিবের পর মাশরাফি, তারপরে হয়তো অন্য কারো নেতৃত্বে বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ। বড় দলকে হারালে তখনও নাক উঁচ ভিন্নদেশি সংবাদ কর্মীর মুখে শুনতে হবে, 'আবারও অঘটন কিনা।' মাশরাফির মতোই বিরক্তি ভরা মুখে উত্তর দিতে হবে, 'প্রত্যাশা মতোই জিতেছি আমরা।' বাংলাদেশ এ নিয়ে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ২০০৩ বিশ্বকাপে কোন জয় পায়নি। বাকি পাঁচ বিশ্বকাপেই 'বড়' দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগাররা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানকে হারায়। ওই পাকিস্তানই পরে ফাইনালে খেলে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় পায় টাইগাররা। ২০১১ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। কিন্তু জয়গুলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মৃতিপটে লেখা হলেও প্রতিপক্ষের কাছে অঘটনা। ইংল্যান্ড পেসার ডেভিড উইলি যেমন শনিবারের ম্যাচের আগে বললেন, গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারটা ছিল অঘটন। তবে এবার হারলে অঘটন হবে না। শুধু বিশ্বকাপ ভালো করে নয় বরং অন্য অনেক জায়গায় 'শোষিত' হবার জবাবও দিতে হবে টাইগারদের। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে ইংল্যান্ডই ১৬বার খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ভারত ২০১৭ সালে মাত্র এক টেস্টের সিরিজের জন্য আমন্ত্রণ করে বাংলাদেশ। 'লোকসান' হবে বলে গত বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে টেস্ট খেলতে আমন্ত্রণ জানায়নি বাংলাদেশকে। অথচ ২০১৫ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়রদের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। ইংল্যান্ডকে ঘরের মাঠে টেস্ট-ওয়ানডে ম্যাচে হারিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো গেছে। তারপরও বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণের জন্য বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা এশিয়া কাপের দিকে চেয়ে থাকতে হয় টাইগারদের। সাকিব তাই প্রোটিয়াদের হারানোর পরে বলেন, 'এই বিশ্বকাপে আমাদের অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। মানুষ যাই বলুক, প্রতিপক্ষ আমাদের শক্তি সম্পর্কে ভালোই জানে।' বাংলাদেশ ২০০৭ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতকে গ্রুপ পর্বে হারিয়ে বিদায় করে দেয়। এবার প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল বাংলাদেশ। তবে সেই জয় আর এই জয়ের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য আছে। সাকিবের মতে, 'দেশের ক্রিকেট ১২ বছর এগিয়ে গেছে।' জয়টা মাশরাফি, সাকিব, তামিম, এবং মুশফিকের ১২ বছরের ক্রিকেট অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণতা পেয়েছে। সেই দৃড়তা বাকি ম্যাচগুলোতেও দেখাতে হবে টাইগারদের। প্রমাণ করতে হবে, এবার অঘটন নয় প্রতিপক্ষকে পরাভূত করতেই বিশ্বকাপে এসেছে টাইগাররা।
12
সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।আজ শুক্রবার দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আগামী ৭ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সপ্তম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
9
ফিটনেস নবায়ন লাইসেন্স ছাড়া যানবাহনে তেল বা গ্যাস না দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। সেই সাথে আদালত ফিটনেস না থাকা প্রায় চার লাখ যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন করতে আরও দুই মাস সময় দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) হাইকোর্টে এক প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানায়, আদালতের বেঁধে দেয়া দুই মাস সময়ে প্রায় ৫ লাখ গাড়ির মধ্যে মাত্র ৮৯ হাজার ২৬৯টি গাড়ির ফিটনেস মালিকরা নবায়ন করেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক। হাইকোর্ট গত ২৩ জুলাই এক আদেশে লাইসেন্স থাকা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করতে মালিকদের দুই মাস সময় দেয়। ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি সম্পন্ন করতে বলা হয়। এ সময়ের পর আর কোনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না উল্লেখ করে হাইকোর্ট এ আদেশটি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে বিআরটিএকে নির্দেশও দিয়েছিল। এর আগে, ২৪ জুন আদালতে জমা দেয়া বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকাসহ সারা দেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ লাখ ৬১ হাজার ১১৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৮, রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২৪০, রংপুর বিভাগে ৬ হাজার ৫৬৮, খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৬৮, সিলেট বিভাগে ৪৪ হাজার ৮০৫ এবং বরিশাল বিভাগে ৫ হাজার ৩৩৮টি গাড়ি মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন রয়েছে।
0
কলকাতার বর্ষীয়াণ অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায় আর নেই। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। প্রবীণ এ অভিনেতার প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। তার মৃত্যুতে শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন মাধবী মুখোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। জিনিউজের প্রতিবেদন বলছে, সম্প্রতি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে অভিনেতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেসময় বেশকিছুদিন ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন তিনি। তখনই তার সুগারের সমস্যা ও ক্যান্সারের চিকিৎসার কথা জানা গিয়েছিল। তবে সেসময় কিছুটা সুস্থ থাকায় হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে যান তিনি। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সাল থেকে সংসার, সীমান্তে, রাজা, হারমোনিয়াম, প্রতিমা, দেবদাস, শেষ বিচার, স্বামী স্ত্রী, ন্যায় অন্যায়, মালঞ্চ, হেমন্তের পাখি, অগ্নিপথ, সপ্তসুর সহ অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সন্তু মুখোপাধ্যায়। বাংলা ছবির জগতে তিনি এক অত্যন্ত পরিচিত মুখ।
2
খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকেরা গত কয়েক দিন ধরে বকেয়া পরিশোধ ও দ্রুত পাটকল চালুর দাবিতে রাজপথে মিছিল ও সমাবেশ করছেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বেলা ১১টার দিকে খুলনা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে শ্রমিক কৃষক ছাত্র জনতা ঐক্য পরিষদ। এ সময় তাঁরা ঈদের আগে পাওনা না দিলে এবং দ্রুত মিল চালুর উদ্যোগ না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।জানা গেছে, ২০২০ সালের জুলাই মাসে সারা দেশের মতো খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল বন্ধ করা হয়। ওই সময় দ্রুত শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং মিল চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়। মিলের ৪২ হাজার ১৩০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩৭ হাজার ২৩০ শ্রমিক পাওনা পেলেও এখন পর্যন্ত পাওনা পাননি ৪ হাজার ৯০০ শ্রমিক। কারও আংশিক কারও সঞ্চয়পত্রের টাকা বাকি রয়েছে। পাওনা টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শ্রমিকেরা।এ ব্যাপারে খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, 'মিল বন্ধ হয়েছে প্রায় দুই বছর ধরে। আমি এখনো পাওনার জন্য অপেক্ষা করছি। জানি না কবে টাকা পাব।'দিলরুবা আক্তার বলেন, 'বকেয়া টাকা এখনো পাইনি। আমার স্বামী অসুস্থ। টাকার অভাবে স্বামীকে ডাক্তারের কাছে নিতে পারি না। এরপর আবার চলছে রোজা, সামনে ঈদ। কীভাবে কি করব ভেবে পাচ্ছি না।'এদিকে ঈদের আগে বকেয়ার দাবি গত কিছুদিন ধরে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ, সমন্বয়ক পাটকল রক্ষায় শ্রমিক কৃষক ছাত্র জনতা ঐক্য পরিষদ এবং কারাখানা কমিটির পক্ষ থেকে মানববন্ধন, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ঈদের আগে বকেয়া পরিশোধ ও দ্রুত মিল চালু না করলে ঈদের পর থেকে রাজপথে লাগাতার কর্মসূচির দেওয়া হবে বলে কর্মসূচি থেকে নেোরা জানিয়েছেন।এ ব্যাপারে খুলনা পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, মিল বন্ধের সময় দ্রুত চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে পাওনা পরিশোধের কথা। কিন্তু গত ২২ মাসেও প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ হয়নি। এ ছাড়া খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের অস্থায়ী শ্রমিকদের পাওনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যা দুঃখজনক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ঈদের পূর্বে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা না হয় তবে ঈদের পরে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে।গতকাল বেলা ১১টায় খুলনা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সমন্বয়ক রুহুল আমিন। এ সময় রুহুল আমিন বলেন, মিল বন্ধ হয়েছে প্রায় দুই বছর। অথচ এখনো সব শ্রমিকের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার বকেয়া পরিশোধের দাবি জানানো হচ্ছে। ঈদের আগে পরিশোধ করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে শ্রমিকেরা। দ্রুত মিলগুলোর চালুরও দাবি জানান এই নেতা।খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মিজানুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে মিলের ৪২ হাজার ১৩০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩৭ হাজার ২৩০ শ্রমিক পাওনা পেয়েছেন। ৪ হাজার ৯০০ শ্রমিকের পাওনা বাকি রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বানান ভুল, মামলাসহ বিভিন্ন কারণে তারা এখনো সম্পূর্ণ টাকা পাননি। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত সমস্যা সমাধানের। প্রায় প্রতিদিনই কারও না কারও পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া দৌলতপুর ও খালিশপুর মিলের অস্থায়ী শ্রমিকদের পাওনার বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
6
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে সুপেয়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। যে সব নলকূপে পানি উঠছে সেখান থেকে পানি সংগ্রহে লম্বা সারি পড়ে যাচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছরের অর্ধেক সময় পানিবেষ্টিত অষ্টগ্রাম উপজেলায় কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। এ সময় ৭০-৮৫ ভাগ অগভীর নলকূপ ও বেশ কিছু গভীর নলকূপেও পানি ওঠে না। এ সময় খাবার পানি ও গৃহস্থালি কাজের পানি সংগ্রহে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।অন্যদিকে বিনা মূল্যে বিতরণ করা প্রায় ৬৫ ভাগ গভীর নলকূপ বাড়ি মালিকেরা নিজেদের বাড়ি বা বেষ্টনী দিয়ে ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ খাবার পানি নিতে পারে না।উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক ও বোরো সেচে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় সুপেয় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। যে কারণে প্রায় ৬০ ভাগ অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। তবে, গভীর নলকূপের পানি না ওঠার কোনো তথ্য জানা নেই বলে দায়িত্বশীলেরা জানান।ইটনা উপজেলা সদর ইউনিয়নের হালিমা খাতুন বলেন, কী কমু বুঝি না, সারা বছর পানিতে থাকে। ফাল্গুন-চৈত্র মাস এলে নলকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। খাবার ও গোসলের পানির অভাবে অশান্তি লাগে।অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের রোজিনা খাতুন বলেন, 'পানির দেশে পানির অভাব, এটা বিশ্বাস করার মতো না। কিন্তু এটাই সত্যি। আমরা খাবার পানি ও ঘরের কাজে পানির কষ্ট করি।'অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, উপজেলার অধিকাংশ নলকূপ ও মোটরে পানি উঠছে না। এমনকি ৭০০ ফুট গভীর নলকূপেও পানি ওঠে না। খাবার পানির সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। আরও বেশি গভীর নলকূপ স্থাপন করতে হবে। সঙ্গে হাওরাঞ্চলের নদী, খাল পুনঃখনন করে কৃষি সেচে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার রোধ করতে হবে।উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু জাকারিয়া বলেন, বৃষ্টিপাত কম হওয়া ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় হাওর অঞ্চলে অনেক অগভীর নলকূপে বর্তমানে পানি উঠছে না। তবে জনস্বাস্থ্যের স্থাপিত গভীর নলকূপগুলো চালু আছে এবং লোকজন এগুলো থেকে পানি সংগ্রহ করছে। হাওরাঞ্চলে গভীর নলকূপের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আরও বেশি পরিমাণে গভীর নলকূপ বরাদ্দ প্রয়োজন।
6
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পালাউর কোরোরে '৭ম আওয়ার ওশান কনফারেন্স'-এর দ্বিতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে। বৈঠকে জন কেরি জলবায়ুঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় উভয় নেতা বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এ কে আব্দুল মোমেন সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের যথেষ্ট সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। জন কেরি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন-সক্ষমতাসহ বেড়িবাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পে মার্কিন সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়ের অংশ হিসেবে সমুদ্রদূষণ রোধে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারেও উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ারস ইউনিটের প্রধান মো. খুরশিদ আলম এবং পালাউয়ে সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এফ এম বোরহান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সম্মেলনের পাশাপাশি পালাউর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুস্তাভ আইতারোর সঙ্গেও বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, ওষুধ, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনা এবং দুই দেশের মধ্যে সদ্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। এ কে আব্দুল মোমেন সকালে সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
6
বিয়ে করেই ঝামেলায় পড়েছেন মডেল-অভিনেত্রী সুবাহ শাহ হুমায়রা। তার স্বামী সংগীতশিল্পী ইলিয়াস হোসেনের এটি তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পরই ইলিয়াসের দ্বিতীয় স্ত্রী কারিন নাজ দাবি করেন, ইলিয়াসের সাথে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর ইলিয়াস ও সুবাহর সম্পর্কে তৈরি হয় জটিলতা। দাম্পত্য জীবনে টানাপড়েন চলছে এই নবদম্পতির। আজ বুধবার ফেসবুকে একটিস্ট্যাটাস দিয়েছেন সুবাহ। তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো : প্রতিটা মেয়েই অনেক স্বপ্ন নিয়ে গায়ে হলুদ করে হাসিখুশিভাবে বিয়ে করে। সংসার করার জন্য বাচ্চা জন্ম দিয়ে মা হওয়ার জন্য। সব মেয়ে হাসিমুখে গরীব স্বামীর সাথে সংসার করতে পারে। কম দামি কাপড় পরে লবণ দিয়ে ভাত খেয়েও অনেক মেয়ে সংসার করে। কিন্তু যখন কোনো স্বামী বেইমানি করে, মিথ্যা কথা বলে অন্য মেয়ের কাছে, বঊয়ের নামে মিথ্যা কথা বলে কথা বলে সম্পর্ক রাখে, যার চরিত্রের ঠিক থাকে না; তার সাথে এটলিস্ট সংসার হয় না, হবেও না। যে নারী লোভী পুরুষ বিদেশে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মেয়েকে ফাঁসিয়ে বেড়ায়; তার সাথে ঘর করা সম্ভব নয়। বোকা ছিলাম, অন্ধের মতো এবারও হয়তো ভালোবেসে বিশ্বাস করে ছিলাম, তাই বিয়ে করেছিলাম। একটাই ভুল আমার, কেন বিয়ে করলাম জানি না- এ ভুলের খেসারত কি এখন মরে গিয়ে দিতে হবে, নাকি বেঁচে থেকেই দেওয়া সম্ভব? আমি অনেক মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি আমি আর কোন কিছু সহ্য করতে পারছি না। আপনারাই বলুন আমার কি করা উচিত? আমার কি বিষ খেয়ে মরা উচিত? নাকি সহ্য করে মেনে নিয়ে থাকা উচিত? না কি করবো বলুন আপনারা... আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান থেকে রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের সময়সীমা তুলে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। এই সময়সীমা কোনো অবস্থায়ই তুলে দেওয়া যাবে না। বরং এই সময়সীমাকে আরও ৫-১০ বছরের জন্য বর্ধিত করা জরুরি। সেটিও পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য রোডম্যাপ থাকা জরুরি। আইন মানতে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সমকাল ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্তির সময়সীমা :চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়' শীর্ষক এক অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউএসএআইডি ও ইউকেএইডের যৌথ অর্থায়নে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিএল) প্রকল্পের 'নারীর জয়ে সবার জয়' ক্যাম্পেইনের আওতায় এই অনলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রারম্ভিক বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, আপনারা জানেন সিরিজ অনলাইন গোলটেবিল বৈঠকের অংশ হিসেবে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এর আগেও আমরা এ নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা চাই নারীর রাজনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে আমাদের দলগুলো ব্যর্থ হয়েছে। আমরা চাই এই সময়সীমা বৃদ্ধি করে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক, যাতে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিশ্চিত হয়। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম সবাইকেই এ নিয়ে কাজ করতে হবে। আইন থেকে সরে আসা নয়, নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করতে হবে নতুন রোডম্যাপ ঘোষণায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সব রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়েই নারী নেতৃত্ব নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে বিএনপি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ও মহাসচিব স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার এলাকা রাজশাহীতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে কেবল ৩৩ শতাংশ নয়, ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন বলেই আজকে অনেক নারী অনেক উচ্চপর্যায়ে আসতে পেরেছেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মেরুদণ্ডহীন এই কমিশনকে কোনো কথা বলে লাভ নেই। নারী নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই মেয়র বলেন, অধিকার আদায় করতে হলে বীরের মতোই করতে হবে। নারীরা এগিয়ে এলে নির্বাচন কমিশন পিছু হঠতে বাধ্য হবে। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সর্বক্ষেত্রে মা-বোনদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনোভাবেই সমাজের মুক্তি সম্ভব নয়। কারণ সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীই হচ্ছে নারী। মায়ের কাছ থেকেই আমরা প্রথম শিক্ষা পাই। তাই মাকে সম্মান করতে হবে, বোনকে সম্মান করতে হবে, স্ত্রীকে সম্মান করতে হবে। সাবেক এই মন্ত্রী ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও ৫ বছর সময় দেওয়ার প্রস্তাব করে বলেন, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কেবল ৩৩ শতাংশ নয়, পর্যায়ক্রমে ৫০ শতাংশে এগিয়ে নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সেই অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে। কেননা রাজনৈতিক দলগুলো মানুষের কল্যাণের জন্যই কাজ করে এবং সেই মানুষের অর্ধেক হচ্ছে নারী। তাই রাজনৈতিক দলগুলো যাতে এটি বাস্তবায়ন করে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেই বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি সোজাসাপ্টা প্রস্তাব দিতে চাই, নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার শর্ত পূরণের সময়সীমা বাড়াতে হবে। কোন কোন কাজ করলে সেটি বাস্তবায়ন হবে, সেটাও ঠিক করে দিতে হবে। তার জন্য একটা রোডম্যাপ তৈরি করা দরকার। তিনি বলেন, শুধু নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও ক্ষমতায়ন করলেই হবে না, নারীর কাজের জন্য পরিবেশও সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেমন উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি পরিবারের পুরুষ সদস্যদেরও সহযোগিতা করতে হবে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিতের শর্ত পূরণের সময়সীমা উঠিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ তাদের একটি স্বেচ্ছাচারী আচরণ। আরপিওর এমন গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনতে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেনি। এর মধ্য দিয়ে তারা সংবিধানও লঙ্ঘন করেছে। কেননা সংবিধানেই নারীর অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকেই চাপ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই খেলাটা বন্ধ করা দরকার। নির্বাচন কমিশনকেও স্বেচ্ছাচারী আচরণ থেকে সরে আসতে হবে। তিনি বলেন, এই সময়সীমা নূ্যনতম আরও ৫ বছর বৃদ্ধি করা দরকার। শ্রেণি শোষণ থেকে বেরিয়ে এসে নারীদের জন্য স্বাপ্নিক জাগরণ গড়ে তুলতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, নারী নেতৃত্ব পূরণের সময়সীমা বাতিল করাটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ২০০৯ সালে ৩৩ শতাংশের আইনটি যখন করা হয়েছিল, সেই সময় থেকে গত ১১ বছরে নারীর ক্ষমতায়ন অনেকটাই এগিয়েছে। আমরা এখন এটাকে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছি। আর তখনই এটা তুলে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা দুঃখজনক। এটি যাতে না হয় সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নারী সংগঠন ও নারী নেতা এবং গণমাধ্যম থেকেও দাবি তুলতে হবে। সচেতনতার পাশাপাশি এক সধরনের চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে নির্বাচন কমিশন ও নীতিনির্ধারকরা এমন উদ্যোগ থেকে সরে আসেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল ক্বাফি রতন বলেন, নব্বইয়ের দশকে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ যা ছিল আজ তা থেকেও অনেকটা পিছিয়েছে। অথচ পুরুষতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতিসহ সামগ্রিকভাবেই নারীদের অংশগ্রহণ জরুরি। এটা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, নির্বাচন কমিশনকে তাদের স্টেকহোল্ডার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসতে হবে। গত ১০ বছরে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টিতে কতটুকু অর্জন হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে হবে। আগামী ১০ বছরের জন্য নতুন করে রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে যাতে সত্যিকার অর্থেই নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই সময়সীমা তুলে দেওয়া যাবে না। এটা কোনো অনুগ্রহ নয়। আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত বলেন, 'নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সেটা সংসদের অধীনে। কাজেই নির্বাচন কমিশনের আইন চূড়ান্তভাবে সংসদেই আসবে। আমরা তো এগিয়েছি, পিছিয়ে যাইনি। কাজেই নারীদের ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটা পুরুষ সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে সংসদেই আমরা ঠিক করব।' বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা বলেন, নারী নেতৃত্বের শর্তপূরণের বিধান বাস্তবায়নের সময়সীমা জাতীয় ক্ষেত্রে পাঁচ বছর এবং তৃণমূলের ক্ষেত্রে আরেকটু বর্ধিত করা যেতে পারে। আর এই আইন বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের মনিটরিং সেল থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও একটি মনিটরিং সেল করে সময় সময় বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে। যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে এগিয়ে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা না বলে এভাবে আরপিও সংশোধন করতে পারে না। তাদের আগে রাজনৈতিক দল ও তাদের নারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলতে হবে। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ড্যানা অলডস বলেন, আরপিওতে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার আইনটি বাস্তবায়নের জন্য কোনো সময়সীমা না রাখার অর্থ হচ্ছে এই বিধানটি তুলে দেওয়ারই শামিল। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ হতাশাজনক ও অপ্রত্যাশিত। এটা সমর্থন করা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোসহ নারী নেতৃত্ব ও সংশ্নিষ্ট সবার উচিত হবে এটা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উপপরিচালক লিপিকা বিশ্বাস তার প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, নারী নেতৃত্বের শর্ত পূরণে দুটি রোডম্যাপ করা যেতে পারে। একটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ পূরণের সময়সীমা এবং আরেকটিতে তৃণমূলের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ পূরণের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। আর আইন না মানলে কী হবে, সেটিও নির্দিষ্ট থাকতে হবে। রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পৃথকভাবে চিঠি দিয়ে এটা জানতে চাইতে পারে, কেন ১০ বছরে নারী নেতৃত্বের শর্ত পূরণ করা যায়নি। আগামীতে কোন দল কত বছরে পূরণ করতে পারবে- সেটাও জানতে চাইতে পারে। এই শোকজের জবাব আসার পরই ইসি সেটা সবাইকে জানিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারে। সমকালের সহকারী সম্পাদক শেখ রোকন বলেন, ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের সময়সীমা তুলে দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি কতটুকু অর্জন হবে তা মোটে পরিস্কার নয়। কাজেই এক্ষেত্রে একটা সময়সীমা থাকতেই হবে। ডিবিসি নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার ইশরাত জাহান উর্মি বলেন, ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব বাস্তবায়নের সময়সীমা কোনো অবস্থায়ই তুলে দেওয়া যাবে না। সবাই মিলে আওয়াজ তুলতে হবে নির্বাচন কমিশন যেন এটা করতে না পারে। অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি লেসলি রিচার্ড, সিনিয়র পরিচালক আমিনুল এহসান, প্রতিনিধি সোনিয়া রহমান এবং ইউএসএআইডির পলিটিক্যাল প্রসেস অ্যাডভাইজর লুবাইন চৌধুরী মাসুম।
6
সাগরে আবার ভাসতে চলেছে 'পাইরেটস অফ দি ক্যারিবিয়ান' ছবির জাহাজ। তবে আগের কোনো পর্বের সঙ্গে মিলই থাকছে না এই ছবিতে। সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে তৈরি হতে যাওয়া 'সুইসাইড স্কোয়াড' ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী মার্গো রবি। রয়টার্সের খবরে জানানো হয়েছে, নারী জলদস্যুদের নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া এই ছবির কাজ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন এই ছবির গল্প লিখেছেন, 'বার্ড অফ প্রে' খ্যাত চিত্রনাট্যকার ক্রিস্টিনা হডসন এবং প্রযোজনা করছেন পাইরেটস ছবির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত চলচ্চিত্র নির্মাতা জেরি ব্রাকহেইমার। গত বছর 'পাইরেটস অফ দি ক্যারিবিয়ান' ছবির যে নতুন পর্ব তৈরির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তবে এই ছবির আয়োজন সেটা থেকে সম্পূর্ণই আলাদা।
2
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন ৩৯৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ২৩ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ হাজার ৬২ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৯৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩৪০ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা, যা দিনের মোট শনাক্তের ৮৫ শতাংশের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের ৩১টি জেলায় কেউ করোনাভাইরাস আক্রান্ত হননি। ষাটোর্ধ্ব যে নারী মারা গেছেন, তিনি ঢাকা বিভাগের। একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবারও দৈনিক শনাক্তের হার দুই শতাংশের উপরে। ১৮ হাজার ৯৩৮টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১০ শতাংশ, যা সোমবার ছিল ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ২৩৪টি নমুনা। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। এ বছর ৩১ অগাস্ট তা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
6
লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য হাসান আল বাগদাদি বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে জড়ালে ইসরায়েল জাহান্নামের আগুনে পতিত হবে।যা তারা কোনো দিন কল্পনাও করেনি। লেবাননের আল-মানার টিভি চ্যানেল আজ সোমবার এ খবর দিয়েছে। হাসান আল বাগদাদি আরও বলেছেন, ইসরায়েলি কমান্ডারেরা অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা বাস্তবতাকেও উপলব্ধি করতে পারে না। এর কারণ হচ্ছে তারা সব সময় হিংসা-বিদ্বেষ ও অপরাধে নিমজ্জিত। ইহুদিবাদীদের এ ধরণের আচরণ তাদের পতনকে আরও তরান্বিত করবে বলে মন্তব্য করেন হিজবুল্লাহর এই নেতা। এছাড়া, সম্প্রতি হিজবুল্লাহর উপ-মহাসচিব শেইখ নায়িম কাসেম বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের মতো যে কোনো যুদ্ধ মোকাবেলার জন্য হিজবুল্লাহ প্রস্তুত রয়েছে। গাজা ও লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, সমন্বয় ও সহযোগিতা অনেক বেড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরান, হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এখন অনেক ভালো পর্যায়ে রয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
3
ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ হাজার ৬৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ১ হাজার ৩২১ জন। আজ বৃহস্পতিবার এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সবশেষ এ তথ্য নিয়ে ভারতে করোনায় সংক্রমিত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮২ হাজার ৭৭৮। মারা যাওয়া মানুষের মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮১। ভারতে টানা ১৭ দিন ধরে ৫ শতাংশের নিচে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। ভারতে এখন পর্যন্ত ৩০ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে গতকাল ৫৮ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়। ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বেশ খানিকটা স্তিমিত হয়ে এলেও মাস দেড়েকের মধ্যে দেশটিতে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। ভারতে সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ ভয়াবহ করে তুলতে পারে করোনার নতুন রূপ 'ডেলটা প্লাস'। গত মার্চের মাঝামাঝিতে ভারতে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। তারপর দেশটিতে সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ে। গত ৭ মে ভারতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য জানানো হয়। গত ৪ এপ্রিল ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটির মাইলফলক ছাড়ায়। ২৩ জুন ছাড়ায় তিন কোটির মাইলফলক। আর গত ২৩ মে করোনায় মৃত্যু তিন লাখের মাইলফলক ছাড়ায়। বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড ভারতের দখলে। গত ২২ এপ্রিলের আগপর্যন্ত এ রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত জানুয়ারিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারত। ভারতের পর ব্রাজিল। আর মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর রয়েছে ভারত। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানলে মাস কয়েক আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করে। এখন সংক্রমণ কমতে থাকায় বিভিন্ন রাজ্য সতর্কতার সঙ্গে বিধিনিষেধ শিথিল করছে। একই সঙ্গে করোনার সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারেও রাজ্যগুলো প্রস্তুত হচ্ছে।
3
নাটোরের সিংড়ায় নৈশপ্রহরী, গাড়িচালকসহ চারজনের নামে কোনো সরকারি বাসভবন বরাদ্দ নেই। তবু তারা সরকারি বাসভবনে থাকেন। এজন্য কোনো ভাড়াও পরিশোধ করেন না। দীর্ঘদিন বিনা ভাড়ায় বসবাসের জন্য সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছেন। এছাড়াও তাদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। জানা যায় ,সিংড়া উপজেলা চত্বরে অবস্থিত প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বসবাসের জন্য থাকা এসব ভবনে র্দীঘদিন ধরে বিনা ভাড়ায় বসবাস করে আসছেন এমনো অভিযোগ আছে কারো কারো বিরুদ্ধে। আবার কারও কারও উপজেলা সংলগ্ন নিজ বাসভবন হওয়ার পরেও নিজ বাসা ভাড়া দিয়ে ফ্রি থাকেন এই সরকারি বাসভবনে। উপজেলা কৃষি অফিসারের গাড়িচালক মো. সেলিম রেজা। তিনি সরকারি বাসভবনের শাপলা ভবনের ৪ নম্বর ইউনিটে প্রায় ৩ বছর যাবৎ বিনা ভাড়ায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. মোতালেব হোসেন। তিনি মাধবী ভবনের ১ নম্বর ইউনিটে ৩ মাস ধরে বসবাস করছেন। ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা, সাবেক উপজেলা টেকনিশিয়ান রফিকুল ইসলাম চামেলি ভবনের ২ নম্বর ইউনিটে গত বছরের জানুয়ারি থেকে বসবাস করছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ট্রেনিং সেন্টারে প্রায় ৬ মাস যাবৎ বাস করছেন বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নৈশপ্রহরী মো. ফজলু। নিয়ম অনুযায়ী, তাদের প্রত্যককে ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে মাসিক ভাড়া পরিশোধ করার কথা। কিন্তু তারা তা করেননি। বিনা ভাড়ায় সেখানে বসবাস করছেন। এতে করে সরকার প্রায় ৩ লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. মোতালেব হোসেন জানান, ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ইউএনও স্যার আমাকে বসবাস করতে দিয়েছে। আমি ডিসেম্বরে চলে যাব। উপজেলা কৃষি অফিসাসের গাড়িচালক মো. সেলিম রেজা'র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বাইরে আছি, এসে কথা বলবো। একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা পরিষদের আবাসিক ভবনগুলো দেখ ভাল ও বরাদ্দ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে হয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষের অবহেলার জন্য বাসা বরাদ্দে অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুধু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নামে বাসা বরাদ্দ রয়েছে। বাকি কর্মচারীরা আবাসিক ভবনগুলোতে বসবাস করলেও তাদের নামে কোনো বাসা বরাদ্দ নেই। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, তাদের কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বাসা ভাড়া পরিশোধ করার জন্য। তারা পরিশোধ না করায় বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাতেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানদের তাদের তাগিদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপরেও যদি তারা ভাড়া পরিশোধ না করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ এতে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসবকে শহরবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনের 'প্রাণ চিনিগুড়া চাল নবান্ন উৎসব'। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত এ উৎসবের কারণে অগ্রহায়ণের বৃহস্পতিবারের সকাল মুখরিত ছিল লোকজ সুর, নৃত্য আর পালাগানে। সঙ্গে ছিল হরেক রকম পিঠা, নাগরদোলা, চরকি। শুধু তাই নয়, জামাই মেলা, পালা গান, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ, নাগরদোলা, পালকি, লাঠি খেলা, সাপ খেলা ও বানর নাচে ভরপুর ছিল। এছাড়াও রয়েছে গ্রাম-বাংলার ঢেকি, কুলা, মাথাল, যাতাকলসহ ঐতিহ্যবাহী নানা প্রদর্শনী। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও উৎসবে ভিন্নতা এনেছে। ফলে যান্ত্রিক শহরের বুকে অগ্রহায়ণের এ নবান্ন উৎসব মানুষের মধ্যে এক স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার উৎসবের প্রথম পর্বে মঞ্চে লোকজসঙ্গীত পরিবেশন করেন কানন বালা সরকার, সরদার রহম উল্লাহ, মীরা মণ্ডল। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে সমস্বর। এইচ আর অনিকের নির্দেশনায় পথনাটক 'আজব বাক্স' মঞ্চস্থ করে চন্দ্রকলা থিয়েটার। প্রাণ চিনিগুড়া চাল নবান্ন উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজুরুল ইসলাম চৌধুরী সুইট। তিনি বলেন, 'পৃথিবীর আদিমতম ও প্রাচীনতম উৎসব হচ্ছে নবান্ন উৎসব। আমরা সেই উৎসবের নাগরিক সংস্করণ করেছি। এই উৎসবের বড় দিকটা হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সুখী-সুন্দর-সমৃদ্ধি ও সাম্যের বাংলাদেশ নির্মাণ করা।' নবান্ন উৎসব, পৌষ মেলা, বসন্ত উৎসবের মতো ঋতুভিত্তিক উৎসবগুলো নানাভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যত বেশি এ উৎসব হবে, আগামী প্রজন্ম শিশুরা সংস্কৃতিবান্ধব হবে, প্রকৃতিবান্ধব হবে। আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে এই উৎসব সহায়ক হবে। দেখা যায়, প্রথম পর্বে মঞ্চে লোকগান শোনার পর নবান্ন উৎসবে আসা নগরবাসীদের একাংশ ছোটদের নিয়ে সরোবরের কোণে নাগরদোলায় চড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা নাগরদোলায় চড়লো, চড়লো চরকিতে। তারপর মালপোয়া, ভাপা, পুলি চিতই-এমন হরেক রকমের পিঠার স্বাদ পেতে বাবা-মায়ের হাত ধরে তারা ঘুরে বেড়িয়েছে স্টলে স্টলে। উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বটি শেষ হয়ে যায় এক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে তখনও উৎসবপ্রাঙ্গণে বায়োস্কোপ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন মো. সুমন। স্কুল ছুটির পর একদল খুদে শিশু ছেঁকে ধরল তাকে। বায়োস্কোপে চোখ রেখে তারা একনজর দেখে নিলো গোটা বাংলাদেশ। প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা এর আগে জানিয়েছেন, কালের বিবর্তনে যে ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, তা এই নবান্ন উৎসবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তারা। প্রাণ চিনিগুড়া চালের চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ শাহান শাহ আজাদ জানান, এদেশের কৃষকের উৎপাদিত এ জাতের ধান থেকে হওয়া চাল এখন শুধু বাংলাদেশে নয়; বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে পাওয়া যাচ্ছে। এ আয়োজনে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিতে পারবেন। উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় ভাগেও ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিকালে উৎসব প্রাঙ্গণে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন খায়রুল ওয়ার্সি, অনিমা মুক্তি গোমেজ, অনিমা রায় ও শ্যামল পাল। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে সুরবিহার। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে গারো কালচারাল একাডেমি। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাসকুর-এ-সাত্তার-কল্লোল ও তামান্না তিথি। এদিন ছিল মানিকগঞ্জের মহুয়ার পালার পরিবেশনা। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে একক সঙ্গীত শোনাবেন আবু বকর সিদ্দিক, আরিফ রহমান, আতাউর রহমান, এস এম মেজবাহউদ্দিন, নবনীতা জাইদ চৌধুরী অনন্যা। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করবে স্ব ভূমি লেখক শিল্পীবৃন্দ। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবে স্পন্দন। একক আবৃত্তি পরিবেশন করবেন আহকাম উল্লাহ, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী। এদিন মানজার চৌধুরী সুইটের নির্দেশনায় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পারফর্ম করবে নাটিকা 'ইতিহাস কথা কও'। উৎসবের শেষ দিন শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হবে তৃতীয় দিনের পরিবেশনা। সেদিন সকালে একক সঙ্গীত শোনাবেন মহাদেব ঘোষ, মামুন জাহিদ খান, সঞ্জয় কবিরাজ, তাহমিনা খন্দকার মুক্তি। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করবে সুর সাগর ললিতকলা একাডেমি। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করবে ঢাকা স্বরকল্পন। পথনাটক 'বৃত্ত' পরিবেশন করবে নাট্যদল। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় উৎসবের সমাপনী পর্বে গান শোনাবেন বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, আব্দুল হালিম, তিমির নন্দী ও ফকির আলমগীর। সেদিন মাগুরা থেকে আসা সমীরণ বাউল ও তার দলের বিশেষ পরিবেশনা থাকবে মঞ্চে। দলীয় নৃত্য পরিবেশনা করবে ধানমন্ডির বুলবুল ললিতকলা একাডেমি।
6
বিদেশে অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানব পাচারের বাংলাদেশি সংসদ সদস্য (এমপি) শহিদ ইসলাম পাপুলকে ২১ দিন কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর। আরবটাইমস অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়। এর আগে গত সোমবার বিদেশে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার নিজের ও স্ত্রী, মেয়ে এবং শ্যালিকার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব হিসাবের লেনদেন স্থগিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রসঙ্গত, জনশক্তি রপ্তানিকারক পাপুলকে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদর শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। পাপুল লক্ষ্মীপুরের এ আসনটিতে ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মূহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপি ঠেকাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করেছিলেন। পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনাও এমপি হন। প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে। পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে কুয়েতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধারণা।
6
ব্যাংক খাতে হুট করে খেলাপি ঋণ বাড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যাংক খাতের জন্য গুরুতর সমস্যা। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্বিগ্ন।বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে গভর্নর ফজলে কবির এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মাসে খেলাপি ঋণ ১৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা বেড়ে গত সেপ্টেম্বর শেষে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা হয়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৬ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। বর্তমানের এ খেলাপি ঋণ মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।বিভিন্ন গণমাধ্যমে অর্থনীতিবিষয়ক রিপোর্টারদের নিয়ে মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধ ব্যবস্থাবিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। বিভিন্ন সেশনে ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান, ইআরএফের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় আলাদা দু'টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফয়সাল আহমদ ও পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ।লীলা রশিদ জানান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আন্তঃব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন চালুর কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে যাবে। আগামী জুন নাগাদ এটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন। এ ছাড়া সব এটিএমে বুথে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।প্যানেল আলোচনায় পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, জালনোট প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে সেরকম একটি আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যেটা এখন মন্ত্রণালয়ে আছে। এই আইন কার্যকর হলে যারা জালনোটের শিকার তাদের যাতে শাস্তি পেতে না হয় সে ধরনের নির্দেশনা থাকবে এবং যারা প্রকৃত জালচক্র তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বার বার জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে না।
0
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদে এনামুয়েল ম্যাক্রোঁ জয়ী হয়েছেন। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিন সহজেই ল্য পেনকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হন। সম্ভাব্য ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তিনি প্রায় ৫৭-৫৮ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হচ্ছেন। আর তার প্রতিপক্ষ ল্য পেন পাচ্ছেন ৪১.৮ ভাগ ভোট। পেন এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করে ব্যর্থ হলেন। সূত্র : আল জাজিরা
3