text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
কোপা আমেরিকা জয়ের পর ফের আলোচনায় ম্যারাডোনা-মেসির তুলনা। এ বিষয়ে এবার মুখ খুলেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে দিয়েগো সিনাগ্রা। যাকে দিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র হিসেবেও ডাকা হয়। সিনাগ্রার মতে, ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনার বিষয়টিতে মোটেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না মেসি। বিষয়টি তাকে পীড়া দেয়। এরপর প্রয়াত বাবার স্মরণে সিনাগ্রা বলেন, 'অবশ্যই বাবাকে খুব মিস করি। তার কথাগুলো মনে পড়ে। আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি ভালোবাসাই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে।' বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 12 |
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ড্রাম বয়লারের চালকলগুলো (হাসকিং রাইস মিল) বন্ধ হওয়ার পথে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান ও চালের মূল্যের ব্যবধান তো আছেই। সেই সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অটোরাইস মিলের দাপট। নানা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে উপজেলার চাতাল মিলগুলোর মালিকদের দুর্দিন চলছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অটোরাইস মিলের চালের মানের তুলনায় চালকলের তৈরি চাল কিছুটা নিম্ন মানের। এ জন্য চলমান বাজারে তা টিকতে পারছে না। অন্যদিকে বর্তমান ধানের বাজারমূল্যের সঙ্গে চালের দাম সমন্বয়হীনতা আছে। যার কারণে চালকল ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসান দেখা দিচ্ছে।বর্তমান বাজারদরে ধান কিনে চালের বাজারে বিক্রি করতে গেলে ধান ক্রয় ও চালের বিক্রির মধ্যে সমন্বয় না থাকায় লোকসানের কারণে ইতিমধ্যেই উপজেলার অধিকাংশ চালকল বন্ধ হয়ে গেছে। এই চাতালগুলোতে একসময় শ্রমিকদের কর্মচঞ্চলতা দেখা যেত। তবে নানা সংকটে তা বন্ধ হওয়ায় শত শত শ্রমিক কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে অভাব-অনটনে জীবনযাপন করছেন।আদমদীঘি উপজেলার খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকের শুরুতে আদমদীঘি সদর, সান্তাহার, মুরইল, নসরতপুর, কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর এলাকার বেশকিছু জায়গায় চালকলের ব্যবসা শুরু হয়। সেই সময় থেকেই রমরমা ব্যবসা হওয়ার সুবাদে কিছু উদ্যমী ব্যবসায়ী পর্যায়ক্রমে চাতাল তৈরি করেন।এই চাতালগুলোতে যে পরিমাণ চাল উৎপাদন হতো, তা দিয়ে এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ী যেমন তাঁদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে লাভবান হতেন, তেমনি এই চাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছিল শত দরিদ্র নারী-পুরুষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত চাল ব্যবসায়ী ও মালিক-শ্রমিকদের অনেকেই দারিদ্র্য জয় করে পুঁজিপতি বনে গেছেন।বর্তমানে উপজেলায় ১৪টি অটোমেটিক রাইস মিল এবং ১৭৪টি চালকল রয়েছে। অনেক চালকলের মালিক হতাশাই তাঁদের ব্যবসা গুটিয়েছেন। চালের মতো সুনামখ্যাত ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ধাবিত হয়েছেন তাঁরা।উপজেলার একরাম চালকলের স্বত্বাধিকারী চাতাল ব্যবসায়ী একরাম হোসেন মণ্ডল জানান, বর্তমান মৌসুমে চলতি দরে বাজার থেকে ধান কিনে যে পরিমাণ চাল হয়, সে মোতাবেক বাজারে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা; লোকসানের ঘানি টেনে ব্যবসা চালু রাখা কঠিন। এ জন্য চালকলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।একরাম হোসেন মণ্ডল আরও বলেন, 'আমাদের তৈরি চাল আর অটোরাইস মিলের চালের দর প্রকারভেদে প্রতি মণে এক শ থেকে দেড় শ টাকা বেশি। অথচ বাজার থেকে ধান কেনার সময় প্রায় একই দরে কেনা হয়।'উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কে এম গোলাম রব্বানী জানান, অটোরাইস মিলের চালের মানের সঙ্গে সাধারণ চালকলের তৈরি চাল কিছুটা নিম্ন মানের হওয়ায় চলমান বাজারে টিকতে পারছেন না। কিন্তু যাঁরা চালকল ব্যবসায়ী আছেন, বর্তমান ধানের বাজারমূল্যের সঙ্গে চালের দাম সমন্বয়হীনতার কারণে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান দেখা দেয় বলে তিনি জানান। | 6 |
কুষ্টিয়ার খোকসায় পুকুরের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের এক কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার কাদিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ওই শিশুর নাম আসফিয়া। সে ওই এলাকার উজ্জল শেখের একমাত্র মেয়ে।শিশুটির ফুফা জিয়ারুল জানান, সকালে আসফিয়ার মা ও পরিবারের লোকজন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিল। এ সময় শিশুটি সবার অজান্তে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন বাড়ির আশেপাশে খোঁজাখুজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে আসফিয়ার দেহ পুকুরের পানিতে ভেসে ওঠে। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। | 6 |
পহেলা জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এই দুই মাস বেশিরভাগ মাছের প্রজনন মৌসুম থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। এ জন্য ২৪ জুন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য সব পাশ ও পারমিট দেওয়া বন্ধ রেখেছে বন বিভাগ। এর আগে গ গতবছর দুই মাস সুন্দরবনে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সালে সুন্দরবন বন বিভাগ একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। যার অংশ হিসেবে প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের (পূর্ব ও পশ্চিম) সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। এই দুই মাস সুন্দরবনের নদী খালে থাকা বেশির ভাগ মাছের প্রজনন মৌসুম। যার ফলে এ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সুন্দরবনের নদী খালে যেমন মাছ বৃদ্ধি পাবে, তেমনি অন্যান্য প্রাণি, উদ্ভিদসহ সব জীবের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবছর একই সময়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে চোরা শিকারিরা যাতে মেতে না উঠতে পারে সে জন্য বনে টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ২৪ জুন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য জেলেদের পাশ পারমিট দেওয়া বন্ধ রেখেছি। ২৩ তারিখ পর্যন্ত যাদের পাশ-পারমিট দেওয়া হয়েছে তাদেরকে ৩০ জুনের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ৩০ জুনের পরে কাউকে বনের ভেতরে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। | 6 |
নন্দিত দুই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের গান নিয়ে অ্যালবাম করছেন কণ্ঠশিল্পী মেহরীন। কালজয়ী ১০টি রবীন্দ্র ও নজরুলসঙ্গীতে সাজানো তার নতুন অ্যালবামের নাম 'বন্ধুতা'। পপরক ও টেকনো, জ্যাজ, ফিউশনসহ পাশ্চাত্য ঘরানার সঙ্গীতপ্রধান গান করে শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছেন এই কণ্ঠশিল্পী। এর আগে তিনি তার 'সেভেন' অ্যালবামে ফোক গানও গেয়েছেন। কিন্তু এই প্রথম দুই কবির গান নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি অ্যালবাম প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে মেহরীন জানান, সাহিত্য আর সঙ্গীতের অনিন্দ্য সৃষ্টি দিয়ে রবিঠাকুর ও নজরুল আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছেন। যে জন্য কম-বেশি সব শিল্পীর ইচ্ছা হয় এ দুই কবির কোনো না কোনো গান কণ্ঠে তুলে নেওয়ার। মেহরীনও সেই ভালো লাগা থেকে 'বন্ধুতা' অ্যালবামটি করেছেন। তার কথায়, এ অ্যালবামের নির্বাচিত গানগুলো যুগ যুগ ধরে শ্রোতাহৃদয় আন্দোলিত করে আসছে। বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে এতদিন শ্রোতারা যেসব গান শুনে এসেছেন, তারই কিছু গান এবার শুনতে পাবেন মেহরীনের কণ্ঠে। গানগুলোর সঙ্গীতায়োজন করেছেন কলকাতার স্বনামধন্য সঙ্গীত পরিচালক দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায়। অ্যালবামের গানগুলো শ্রোতারা শুনতে পাবেন মেহরীন ডট নেট থেকে। | 2 |
ইতালির রোমে জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রির বেশি বাড়তে না দিতে অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছেন। তবে এ লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। রবিবারের (৩১ অক্টোবর) চূড়ান্ত ঘোষণায় ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরো কার্বন নিঃসরণ অর্জনের প্রতিশ্রুতি নেই। জি-টোয়েন্টি নেতারা এ মর্মে সম্মত হয়েছেন এবং চলতি শতাব্দীর মধ্যভাগে বা তার কাছাকাছি সময়ে নেট জিরোতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি দুই বড় গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ চীন ও সৌদি আরবের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। খবর পলিটিকো, নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ানের। বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস জি-টোয়েন্টির বিবৃতিটিকে দুর্বল এবং 'উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দূরকল্পহীন' বলে সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি বলেছে, জি-টোয়েন্টির নেতারা প্লাসগোতে রবিবার শুরু হওয়া জলবায়ু সম্মেলনের আগে 'সময়ের দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে'। জি-টোয়েন্টি যদি হয় কপ-২৬ এর মহড়া, তবে বলতে হয়, 'বিশ্বনেতারা তাঁদের সংলাপ আওড়াতে ভুলে গেছেন', বলেন এর নির্বাহী পরিচালক জেনিফার মরগান। | 3 |
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তীব্র ঠান্ডার সমস্যায় ভুগছেন তিনি। দুর্গাপূজা চলার সময় বৃষ্টিতে ভিজে পূজামণ্ডপ উদ্বোধন করার কারণে তাঁর ঠান্ডা লেগেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সচরাচর জ্বর হয় না। গত ২০ বছরে তাঁকে জ্বরে ভুগতে হয়নি। গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে বিজয়া সম্মিলনীতে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এবার দুর্গাপূজা চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মমতাকে কাশতে দেখা যায়। এখনো গলা পুরোপুরি ঠিক হয়নি। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গতকাল বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ দিতে শিলিগুড়ি যান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানিয়েছেন, এবার দুর্গাপূজায় ৪৬০টি মণ্ডপ উদ্বোধন করেছেন তিনি। এর মধ্যে ১৫০ থেকে ২০০ পূজামণ্ডপ উদ্বোধনের সময় তাঁকে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। আর বৃষ্টিতে ভেজার পর ঠান্ডা লেগে যায় তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, '২০ বছর আমার কোনো জ্বর হয়নি। কাজ করতে করতে সময় কেটে যাচ্ছে। তাই আমার যখন ঠান্ডা লাগে, তখন একটু বেশিই লাগে। এখন গলা ভাঙা।' | 3 |
আমরা বিভিন্ন সভা-সমিতি, লেখায় বারবার বলে আসছি ভাষা আন্দোলন, ষাটের গণ-আন্দোলন, উনসত্তরের অভ্যুত্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মীদের বড় অবদান রয়েছে। এ সময় ছাত্র-জনতার পাশাপাশি কখনো সামনের সারিতে থেকেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তো সংস্কৃতিকর্মীরা একেবারে সম্মুখসারির যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তো স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সংগীত, নাটক, কথিকা, সংবাদ ইত্যাদি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংস্কৃতিকর্মীদের আশা ছিল দেশ স্বাধীন হলে বা আশির দশকের স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হবে। কিন্তু তেমন কোনো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দেখা গেল না। দলীয় সংকীর্ণতায় ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকল রাজনীতি। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হলো না। যাঁরা সার্বক্ষণিকভাবে শিল্প-সাহিত্যে নিয়োজিত, তাঁদের জন্য কিছুই করল না রাষ্ট্র। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেমন সব সময়ই রাষ্ট্রের কিছু অর্থ থাকে সংস্কৃতি কর্মের জন্য, তারও কোনো ব্যবস্থা নেই। বহু বছর আগে পশ্চিমা বিশ্ব এবং ভারতীয় বিদ্বজ্জন উপলব্ধি করেছিল নাটকে লোকশিক্ষা হয়। সেই চিন্তা থেকেই কিন্তু কিছু দেশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নেই। শিল্প-সাহিত্য সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার অঙ্গ। কারণ, মন্ত্রণালয় থাকা মানেই নিয়ন্ত্রণ করা। আমাদের মতো দেশে এ কাজটি করে থাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং সুযোগ পেলেই স্বজনপ্রীতিতে মেতে ওঠে। বিদেশে সাংস্কৃতিক দল পাঠানোর ক্ষেত্রে, পদক বা অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ঘটনার অবতারণা হয়। মন্ত্রণালয় হিসেবে যেহেতু বাজেটে কম বরাদ্দ, তাই মন্ত্রী, সচিব ও আমলারা এখানে আসতে চান না। তাই বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে ঝাঁপিয়ে পড়ে কিছুটা পুষিয়ে নিতে চান।কয়েক দশক ধরে ঢাকার বাইরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড একেবারেই ঝিমিয়ে পড়েছে। পৃষ্ঠপোষকতার অভাব তীব্র হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিল্পকলা একাডেমি এ কয় বছরই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কবজা করে ফেলেছে। একশ্রেণির শিল্পীর আনুকূল্য দিয়ে দিবসভিত্তিক কর্মকাণ্ড করে দায়িত্ব সারছে। কোনো ধরনের সৃজনশীল কাজকে একেবারেই উৎসাহিত করছে না।এবারে আসি গত দুই বছরের অধিক সময়ের কর্মকাণ্ডে। অধিকাংশ সময়ই কর্মকাণ্ড বন্ধ। মাঝে একবার খুলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে হল ভাড়াটি মওকুফ করা হয়েছিল। আর কোনো কাজে অর্থ বরাদ্দ হয়নি। সামান্য কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল মুষ্টিমেয় শিল্পীর, যে টাকা দিয়ে ১৫ দিনেরও কারও সংসার চলে না, বাড়িভাড়া অন্যান্য খরচ সংকুলান তো দূরের কথা। করোনাকালে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাই একমাত্র ভালো আছেন। অফিস করতে হয় না। মাস গেলে বেতন, বিশেষ সময়ে বোনাস এবং কিছু আমলা-কর্মচারীর দুর্নীতিতে লাখ থেকে কোটি টাকার ব্যবস্থা আছে। তাঁদের পক্ষে একজন শিল্পী-সাহিত্যিকের অবস্থা বোঝার কোনো সদিচ্ছাই নেই। এঁরা নিত্যই ব্যস্ত থাকেন সরকার তোষণে।আমাদের দেশের প্রকাশকদের একটা বড় উৎসব একুশের বইমেলা। উৎসবের সঙ্গে অর্থ সমাগম হয়। কারণ, বাঙালি মুসলমান নিয়মিত বই কেনে না, একুশের বইমেলায় তাদের একটা কেনার সময়।সময়মতো ও পরিপূর্ণভাবে বইমেলা হতে পারল না। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ। লগ্নিকারক প্রকাশকেরা দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন এবং বকেয়া পাওনা দিয়ে কেউ কেউ সর্বস্বান্ত। বিক্রি একেবারেই নেই। এমতাবস্থায় অনেক প্রকাশক দোকানপাট-ব্যবসা বন্ধ করে চলে গেছেন। এই একটি বিষয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকার একান্ত স্বজনপ্রীতির নিরিখে কিছু বই-পুস্তক কিনে থাকে। কিন্তু মননশীল ও সৃজনশীল বইয়ের ব্যাপারে কোনো উৎসাহ নেই। আমলাদের বই-পুস্তকেই তাদের আগ্রহ বেশি। সেখানে একধরনের নোংরা প্রতিযোগিতা চলে। পাঠাগারের বিষয়ে একটা মৃদু উৎসাহ থাকলেও তা স্বজনপ্রীতির কারণে সব উদ্যোগই ভেস্তে যায়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে কলকাতার ইংরেজরা দুটি ছাপার যন্ত্র নিয়ে আসে। তারপর ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমেই সেখানে বহু মুদ্রণযন্ত্র চলে আসে এবং ছাপার বই মানুষের মনোজগতের একটা বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়। সারা পৃথিবীর সব সংবাদ, সাহিত্য কলকাতায় এসে পৌঁছায়। ঘুমন্ত একটা সমাজকে জাগিয়ে তোলার জন্য বইয়ের যে ভূমিকা, তা কল্পনারও অতীত। সেই প্রকাশনা শিল্প যখন বিপন্ন, তখন সরকারের কোনো উদ্যোগ সেখানে দেখা গেল না।শিল্প-সাহিত্য-চিত্রকলা এসবের ত্বরিত কোনো ফলাফল পাওয়া যায় না। এই লগ্নি সুদীর্ঘ দিনের জন্য। সুদীর্ঘ দিন অপেক্ষা করতে হয় সেই ফলাফলের জন্য। আবার শাসকগোষ্ঠী যদি পাঠবিমুখ হয়, শিক্ষা গ্রহণের সময় থেকেই যদি অধিকাংশের পেশিশক্তির প্রতি আসক্তি এসে পড়ে, তাহলে বইয়ের কদর তাদের কাছে থাকবে কী করে?এবারে আসি সাম্প্রতিক বিষয়ের ওপর। কথা ছিল সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোতে সরকার প্রণোদনা দেবে; বিশেষ করে নাট্যদলগুলোর মধ্যে প্রণোদনা দিয়ে নাটকের জন্য হল ভাড়া ও প্রণোদনা দেওয়া হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে হলগুলো খুলে দেওয়া হবে প্রণোদনাসহ। হল বরাদ্দ দেওয়া হলো বটে, কিন্তু প্রণোদনার খবর নেই। মন্ত্রী বললেন, 'আপনারা নাটক করুন, আমরা প্রণোদনা দেব।' তার মানে যে দুটি দল ১৭ সেপ্টেম্বর নাটক করবে, তাদের দেওয়া হবে। কিন্তু সারা দেশ? সারা দেশের বিষয়ে কোনো কথা নেই। এমতাবস্থায় আমরা কেন করব? বিষয়টি হলো, যত দিন পর্যন্ত সবার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তত দিন আমরা কেন করব? এ ধরনের খণ্ডিত প্রস্তাবের প্রতি আনুগত্য দেখাতে আমরা অভ্যস্ত নই।গত দুই-আড়াই বছরে সংগীতশিল্পীরা কোনো উন্মুক্ত স্থানে গান গাইতে পারেননি। বাস্তব সমস্যা। কিন্তু কী করলে এই সমস্যার সমাধান করা যায় সংগীতপিপাসুদের জন্য কী ধরনের আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে ভাবনারও প্রয়োজন। ক্রিকেট যদি দর্শকহীন স্টেডিয়ামে হতে পারে, তাহলে কনসার্ট নয় কেন? বর্তমানে সব বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে গেছে ক্রিকেট। বিপুল অর্থ ব্যয় শুধু একটি ট্র্যাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্যদের কী হবে?সবশেষে আমার প্রশ্ন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আমলা-কর্মচারী, শিল্পকলা একাডেমির কর্তারা কী নিয়ে ব্যস্ত থাকেন রাত-দিন? তাঁরা সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে একটা অর্থবহ সংলাপও করেন না। তাঁদের কাজটা কী?লেখক: নাট্যব্যক্তিত্ব | 8 |
রংপুরের সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেবে। এ হার থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে আগামীতে জয়ী হওয়া যায় সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ কাজ করবে। শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঠানো উকিল নোটিশ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, 'উকিল নোটিশ হচ্ছে একটি আইনি প্রক্রিয়া। আইনের মাধ্যমেই এর জবাব দেওয়া হবে।' এ সময় মন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জনগণের কাছে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেন। সোনালী ব্যাংকের আখাউড়া স্থলবন্দর বুথের কার্যক্রম ৩৬৫ দিন খোলা রাখা উপলক্ষে কাস্টমস এলাকায় জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য এ এস এম শাহরিয়ার মোল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল মো. শাহ আলী, সোনালী ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিজিএম মো. মোখলেছুর রহমান, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আজিজুল হক, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন, স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল ওয়াহাব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আখাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামছুজ্জামান। আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, এখন থেকে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও আখাউড়া স্থলবন্দরের সোনালী ব্যাংকের বুথ খোলা থাকবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ওই বুথে ভ্রমণ কর জমা দিতে পারবেন যাত্রীরা। | 9 |
মোবাইলভিত্তিক রাইড শেয়ারিং অ্যাপস 'পাঠাও'র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ'র জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রবিবার দুপুরে 'মিট হাডসন নুর ইসলামিক সিমেট্রি'তে সমাহিত হন এ তরুণ উদ্যোক্তা। জানায়ায় ফাহিমের পরিবার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাছের বন্ধু ও প্রতিবেশিরা। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে নিজ ফ্ল্যাট থেকে, রাইড শেয়ারিং অ্যাপস পাঠাওয়ের অন্যতম উদ্যোক্তা ফাহিমের খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানানো হয়, খুনের পরেও ফাহিমের ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করে হত্যাকারী। তবে তার আইনজীবীর বক্তব্য টাইরিস নিদোর্ষ হওয়ার কারণেই পুলিশের আত্মসমর্পণ করেছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বোরো ধান চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এতে সকালের শীতকে উপেক্ষা করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোরোর জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের চরকমলাপুর গ্রামে বোরো জমি প্রস্তুত করতে হাল চাষ দিতে দেখা গেছে। কেউ জমির আইলে কোদাল দিয়ে সোজা করছে, অনেকে সার ছিটাচ্ছে। কেউ সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্পের বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছেন। আবার অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে কেউবা বীজতলা থেকে চারা তুলে তা রোপণ করছেন জমিতে।উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে রোপণ ডিসেম্বর থেকে মার্চের ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে। এপ্রিলের মধ্য থেকে জুন পর্যন্ত কর্তন শেষ হবে। এ উপজেলায় ৪ ধাপে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়। এ বছর এখন পর্যন্ত ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চারা রোপণ হয়েছে। আর এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০০ হেক্টর।উপজেলার লতব্দী ইউনয়নের আব্দুল কাদির বলেন, 'ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আমরা এবার বোরো ধান লাগানো কমিয়ে দিয়েছি।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলেন, 'চলতি বোরো মৌসুমে রোপণ নভেম্বর থেকে মার্চের ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে। এপ্রিলের মধ্য থেকে জুন পর্যন্ত কর্তন শেষ হবে। এ উপজেলায় ৪ ধাপে বোরো ধান রোপণ হয়। ইতি মধ্যে ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।' | 6 |
ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যে আধা-সেনার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে পুলিশ। এফআইআর-এ শনিবার নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের হত্যায় জড়িত নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়েছে।জঙ্গিবিরোধী অভিযানে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত না করা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু নাগাল্যান্ড পুলিশ বা সেখানকার স্থানীয় মানুষই নয়, আসাম রাইফেলসের গুলিতে ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্যুতে গোটা দেশই প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। এদিন জাতীয় সংসদেও নাগাল্যান্ড নিয়ে প্রতিবাদমুখর হন বিরোধী দলের সাংসদেরা। তাঁদের অভিযোগ, গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণেই কয়লা খাদানের নিরীহ মজুরদের প্রাণ দিতে হয়েছে। নাগাল্যান্ডে নতুন করে শুরু হয়েছে আর্মস ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট বা আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি। জঙ্গি সন্দেহে শনিবার ১৪ জন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যার পর নাগাল্যান্ডের মুন জেলার পরিস্থিতি এখনো থমথমে। গোটা জেলায় জারি করা হয়েছে সান্ধ্য আইন। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। উত্তেজিত জনতা রোববার সন্ধ্যায় শহরের ভেতর আধা-সেনার একটি ছাউনিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জওয়ানরা আত্মরক্ষার্থে রোববার সন্ধ্যায়ও গুলি চালিয়েছে বলে সেনা সূত্রে বলা হয়েছে।ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগাল্যান্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নেফু রিও এরই মধ্যে গঠন করেছেন বিশেষ তদন্ত দল। সেনাবাহিনীর তরফেও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়েছে, তাঁদের এক জওয়ানও প্রাণ হারিয়েছেন এবং জখম হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। জেলাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর নিরাপত্তা রক্ষী। এরপরও উত্তেজনা রয়েছে গোটা নাগাল্যান্ডে। এদিন নাগা ছাত্র সংস্থার ডাকে মুন জেলায় পালিত হচ্ছে হরতাল।কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব থেকে শুরু করে বিরোধীরা সবাই নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের। এদিনই তৃণমূলের ৫ সদস্যের একটি সংসদীয় দল নাগাল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় তারা পিছিয়ে আসে। | 3 |
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে জাল সনদপত্রসহ সালাহউদ্দিন নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে র্যাব। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার তাড়াটিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে র্যাব-১৪।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিন যাবৎ উপজেলার তাড়াটিয়া বাজারে জেআরএস মেডিকেল হল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নামের একটি দোকানে ভুয়া সনদধারী চিকিৎসক সালাউদ্দিন অভিজ্ঞ ও উচ্চতর চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি সেখানে বিভিন্ন রোগের রোগী দেখেন এবং ব্যবস্থাপত্র দেন। রোগীপ্রতি ২০০ টাকা ভিজিট নিতেন তিনি। ব্যবস্থাপত্রে সালাউদ্দিনের যোগ্যতা লেখা এমবিবিএস (ঢাকা), পিজিটি (মেডিসিন), এফসিপিএস (শেষ পর্ব) চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগে বিশেষ ট্রেনিং প্রাপ্ত।বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্তবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভেবে স্থানীয় রোগীরা তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে ভিড় জমায়। তবে ওই ভুয়া ডাক্তারের কথাবার্তা ও চিকিৎসা দেওয়ার ধরন দেখে স্থানীয় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর শনিবার রাতে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ রোগী সেজে ওই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে যায় এবং হাতেনাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।এ বিষয়ে র্যাব-১৪-এর স্কোয়াড্রন লিডার আশিকুজ্জামান বলেন, ভুয়া ডাক্তার সালাউদ্দিনকে তাড়াটিয়া বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর সঠিক পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তিনি এলোমেলো কথা বলছেন। তাঁর আচরণ সন্দেহজনক। | 6 |
কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যং কাঞ্জরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সাইফুুল ইসলামকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে কাঞ্জরপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের করাসিপাড়া বাঘঘোনা এলাকার মেয়ে কাঞ্জর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় পুকুরে যায়। আগে থেকে উৎপেতে থাকা একই এলাকার নবী হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম তাকে জোরপূর্বক নির্জন পাহাড়ে ধরে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে এ ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষকের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ধর্ষক সাইফুল ইসলামকে আটক করতে সক্ষম হয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ি আইসি এসআই মো. মাহামুদুল হাসান মাহবুব জানান, ধর্ষনের ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইনে একটি মামলা রুজু হয়। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমানের নির্দেশ আমরা সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত সাইফুল ইসলামকে মঙ্গলবার ভোরে কাঞ্জরপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করি। তিনি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুুল ইসলামেরর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন | 6 |
স্বামী বিবেকানন্দ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবির সামনে দাঁড়ালে আমিও এক অদ্ভুত শক্তি পাই। তাই আপনারাও মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ছবির সামনে প্রতিদিন দুই মিনিট দাঁড়ান, জীবনীশক্তি পাবেন। সরকারি অনুষ্ঠান থেকে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশ্যে এমন বক্তব্য দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাসনাবাদের 'ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মন্ডপের মুখ্যমন্ত্রীর এই ছবির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে মুখ্যমন্ত্রীর এই যে ছবি দেখছেন, রোজ সকাল বেলা দুই মিনিট ছবির সামনে দাঁড়ান, আপনি একটা অদ্ভুত শক্তি পাবেন। আমি নিজেও দুইটি ছবির সামনে দাঁড়াই। একটা ছবি স্বামী বিবেকানন্দের, আর অন্যটি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর। এক অদ্ভুত জীবনশক্তি পেয়ে নিজেদেরকে উজ্জীবিত করে ফেলি। যেটাকে বলে রিচার্জ করা। এ প্রসঙ্গে তার যুক্তি, প্রত্যেকের জীবনে কেউ না কেউ আদর্শ থাকেন। আমি একজন প্রশাসনিক প্রধানকে আদর্শ করেছি। এতে সমস্যার কী রয়েছে? একজন সরকারি কর্মকর্তার মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীর গুন গাওয়ার পরই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল সিপিআইএম'এর বক্তব্য সরকারি কর্মকর্তারাও এখন তৃণমূলের দাসে পরিণত হয়েছেন। আসলে এটা না বললে তাদের চাকরি থাকবে না। বিজেপি রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে, একজন জ্যৈষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন! বাংলার সর্বত্রই প্রশাসনিক স্তরে পক্ষপাতিত্বের মনোভাব গ্রাস করেছে। নিজের গদি বাঁচাতে সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীন দলের কাছে মারাত্মক চাপে রয়েছেন। তবে এবারই প্রথম নয়, গত আগস্টেই মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে দেখা গিয়েছিল এক ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তাকে। তা নিয়েও সেসময় বিতর্ক কম হয়নি। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 4 |
করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর এখনো সুস্থ রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন। টিকা নিয়ে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যে আপনারা অন্যদিকে নিয়ে যাবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলি সফু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ। | 6 |
দাম বাড়ায় শরীয়তপুরে সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের অজুহাতে গ্রাহক পর্যায়ে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে গ্যাসনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। ভোক্তা পর্যায়েও দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। তবে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।জানা গেছে, সম্প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। নতুন মূল্য অনুযায়ী খুচরা বাজারে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫১ টাকা। সেই থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হবে ১ হাজার ৩৯১ টাকা, যা আগে ছিল ১২৪০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এই মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শরীয়তপুরের খুচরা বাজারে আগের দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। এ ছাড়া ১৫ কেজি ওজনের গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে চিন্তিত ভোক্তারা।গত শুক্রবার সকাল থেকে জেলা শহরের গ্যাসের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেই গ্যাসের মজুত তুলনামূলক অনেক কম। খালি সিলিন্ডার ট্রাকে তুলছেন শ্রমিকেরা। এক সপ্তাহ আগের দেওয়া চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে গ্যাসের মজুত অনেকাংশেই কমে গেছে। ডিপোতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও খালি ট্রাক নিয়ে ফিরতে হয়েছে বলে অভিযোগ অনেক পাইকারি ব্যবসায়ীর। ফলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।জেলা শহরের রাজগঞ্জ ব্রিজ মোড়ের গ্যাসের পাইকারি সরবরাহকারী মেসার্স প্রভাত ট্রেডার্সের মালিক মো. ইদ্রিস আলী সরদার বলেন, 'সরকার-নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী গ্যাস বিক্রি করছি। তবে বাজারে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদাপত্র পাঠানোর পরও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছে না সরবরাহকারীরা। ট্রাকে খালি সিলিন্ডার পাঠানো হচ্ছে। গ্যাস না পেয়ে তিন দিন অপেক্ষা করে খালি ট্রাক নিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে মারাত্মক লোকসানে পড়তে হচ্ছে।'হাসপাতাল মোড়ের খুচরা গ্যাস ব্যবসায়ী সালাম হাওলাদার বলেন, পাইকারদের থেকে ২০০-২৫০ টাকা অতিরিক্ত খরচে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ফলে আগের মূল্যের চেয়ে ২০০-২৫০ টাকা বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। যার প্রভার ভোক্তাদের ওপর গিয়ে পড়ছে।'সদর রোডের চায়ের দোকানদার মোস্তফা বেপারী বলেন, 'প্রতিটি সিলিন্ডার আগের চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। গরিব মানুষ চা বিক্রি করে সংসার চালাই। গ্যাসের দাম বাড়লেও চায়ের দাম তো বাড়ানো যাচ্ছে না। এভাবে দাম বাড়লে গরিব মানুষ বাঁচব কি করে? এখন তো দেখছি চায়ের দাম না বাড়ালে আমাদের সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে যাবে।'শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনদীপ ঘরাই আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সরকারি নির্দেশনার বাইরে পাইকারি বা খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। বাজারের সব ব্যবসায়ীকে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করতে হবে।' | 6 |
রাশিয়ায় নিজেদের ৫০২টি স্টোরের সবগুলো রবিবার থেকে বন্ধ করে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক পোশাক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জারা। এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্স এ ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে পে-পল তার সার্ভিস সাময়িক বন্ধ করে দিচ্ছে। রাশিয়ায় জারা'র আটটি ব্রান্ডের পোশাকের দোকান আছে। এগুলো হলো- জারা, পুল অ্যান্ড বিয়ার, মাসিমো দুতি, বুশকা, স্ট্রাডিভ্যারিয়াস, ওইশো, জারা হোম এবং উতেরকুয়ে। এসব ব্রান্ডের যেসব স্টোর আছে রাশিয়ায় তার সবটাই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাশিয়ায় শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং তাদের শিপমেন্ট স্থগিত করবে। তবে তা পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না তা এখনও পরিষ্কার নয়। আর অনলাইনে অর্থ লেনদেনকারী কোম্পানি পে-পল রাশিয়ায় তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিয়েছে। তারা রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন মো. আলী। ৮০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ ছেলের কোলে চড়ে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউনিয়নের দেবকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তিনি।গতকাল রোববার চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট দিতে আসেন মো. আলী। তিনি ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না। অনেক কষ্টে জানালেন ভোট দিতে এসেছেন। তাঁর স্বজনের সূত্রে জানা যায়, যৌবনে ১৯৭০ সালের নির্বাচন দেখেছেন তিনি।এদিকে দক্ষিণ দেবকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ৮৭ বছর বয়সী নূর বানু। তিনি বলেন, 'নিজের ভোট নিজেই দিয়েছি।'উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে বয়স্ক নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি। অনেকে লাঠি ভর করে আসছেন, আবার অনেকে কাউকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। তাঁরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুশি।সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ভোটার উপস্থিতি। কেন্দ্রগুলোতে বয়স্কদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।দক্ষিণ দেবকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. সোহরাব হোসেন বলেন, 'মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে। এবার বয়স্কদের উপস্থিতি বেশি।' | 6 |
তারল্য প্রবাহ বাড়াতে পুঁজিবাজারে শিগগিরই ২ শতাংশ বিনিয়োগ বাড়াবে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ যেসব ব্যাংক বিনিয়োগসীমার ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করেনি, তারা শিগগিরই নতুন করে পুঁজিবাজারে ২ শতাংশ হারে বিনিয়োগ করবে। বুধবার (৯ মার্চ) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে বৈঠক করে দেশে পরিচালিত তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান অর্থ কর্মকর্তারা এ প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম এক অডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বৈঠকে পুঁজিবাজারের তারল্য সঙ্কট কাটাতে তিনটি বিষয়ে ব্যাংকগুলোর পক্ষে সিএফও'রা বিএসইসির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সেগুলো হলো- পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ হারে বিনিয়োগের যে সীমা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী যেসব এখনো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে নাই তারা কয়েকদিনের মধ্যে পুঁজিবাজারে ২ শতাংশ হারে বিনিয়োগ বাড়াবে। দ্বিতীয়ত, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য যারা ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ তহবিল গঠন করেছে এবং করে নাই, তারা প্রত্যেকে বিনিয়োগ তহবিল গঠন ও তারল্য সঙ্কট নিরসনে সর্বোচ্চ সামর্থ অনুযায়ী শিগগিরই বিনিয়োগে আসবে। এছাড়া, টায়ার-১ এর অধীনে অতিরিক্ত মূলধন ও টায়ার-২ মূলধন হিসেবে যেসব ব্যাংক পারপেচ্যুয়াল বন্ড অথবা সাব অর্ডিন্যান্ড বন্ডের আবেদন করবে বিএসইসি সুপার ফার্স্ট ট্র্যাকের আওতায় তা অনুমোদন দিবে। এছাড়া যেসব বিষয় ব্যাংকের মূলধন উত্তোলনের সাথে জড়িত, সেসব বিষয়ও বিএসইসি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। | 0 |
চান্দিনায় আগুন লেগে পুড়ে গেছে ১৪টি কক্ষের একটি টিনশেডের বাড়ি। গত শনিবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের ধেরেরা গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করে চান্দিনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।বাড়িটিতে আলী নেওয়াজের তিন ছেলে পরিবার নিয়ে থাকেন। তাঁরা হলেন মো. আতাউল্লাহ জহির, মৌলভী মো. ছফিউল্লাহ ও কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক এমদাদ উল্লাহ।মো. ছফিউল্লাহ জানান, রাত ৩টার দিকে আমাদের বাড়ির একটি কক্ষে আগুন টের পেয়ে তাঁদের ঘুম ভাঙে। ওই কক্ষটিতে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ বা আগুন লাগার মতো কিছুই ছিল না। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাঁরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।খবর পেয়ে চান্দিনা, বরুড়া ও পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁদপুরের কচুয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। তারা ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনেন। ততক্ষণে ঘরের সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।মো. ছফিউল্লাহ আরও বলেন, 'আমরা এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়ে জীবন বাঁচাই। আমাদের ধারণা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কেউ ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার, কাগজপত্র স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, দলিল, শিক্ষা সনদসহ মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে গেছে।'চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা অনয় কুমার ঘোষ বলেন, 'খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভুক্তভোগীদের একটি ঘুর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।'এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, 'এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া নিজেদের দারুণ ফর্ম বজায় রেখেছে। আফ্রিকান সুপার ঈগলখ্যাত নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে এবং নিজেদের খেলাটার আরো ধার বাড়িয়েছে তারা দক্ষিণ আমেরিকার হেভিওয়েট আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অসাধারণ ৩-০ গোলের জয় দিয়ে। রুস্তভ এরিনায় তারা নিজেদের গ্রুপ ডির শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৬ সালের ইউরোতে সেমিফাইনালে খেললেও আইসল্যান্ড কোনোভাবে নিজেদের রাশিয়া বিশ্বকাপে ধরে রেখেছে। পূর্ব ইউরোপের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তারা জয় না পেলে তাদের ২০১৮ বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে। অপর দিকে ক্রোয়েশিয়া নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচে জয় পেয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে এবং বলকান দেশটির বিপক্ষে তারা অনেকটাই নির্ভার থাকবে। শুধু কোনো চমকই ক্রোয়েশিয়াকে গ্রুপ ডির শীর্ষস্থান থেকে সরাতে পারবে। এবং আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র হলে তাদের গ্রুপ সেরা হওয়া নিশ্চিত। দ্বিতীয় পর্বে মডরিচ, রেকিটিচ ও মান্দজুকিচের ক্রোয়েশিয়া ডেনমার্ককে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে পারে। নক আউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ক্রোয়েশিয়ার কোচ ডালিচ তার সেরা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেয়ার ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়ে ফেলেছেন। আইসল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ বেশ ভালোভাবে শুরু করলেও নিজেদের এই ধারা আর ধরে রাখতে পারেনি। মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে রুখে দিলেও আফ্রিকান হেভিওয়েট নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে একই সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে, যেমনটা মেসির আর্জেন্টিনা। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আইসল্যান্ডের আশা খুবই সামান্য। প্রীতি ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে আফ্রিকার নাইজেরিয়ার কাছে পরাজয়টিই ছিল প্রথম পরাজয়। আইসল্যান্ডের হয়ে সব দৃষ্টি থাকবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের হয়ে খেলা জাইলফ সিগুর্ডসনের দিকে। আলফ্রেড ফিনবগাসনও তাদের আরো একজন তারকা, যিনি প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতাসূচক গোলটি করেছিলেন। অপর দিকে ক্রোয়েশিয়ানদের বেশ নির্ভার মনে হচ্ছে। আইসল্যান্ডের হয়ে তাদের আক্রমণভাগের এক ফুটবলার জোহান বার্গ গুডমন্ডসন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নাও খেলতে পারেন ইনজুরির কারণে। তার পরিবর্তে রিরিক গিজলাসন খেলতে পারেন। আইসল্যান্ডের কোচ হেইমির হেলগ্রিমসন দলকে ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলাতে পারেন। ক্রোয়েশিয়ার কোচ নিজের সেরা খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রাখবেন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম একাদশে থাকা মার্সেলো ব্রজবিচকে সম্ভবত খেলাবেন না, ফর্মের কারণে তার পরিবর্তে আন্দ্রেই ক্রামারিচ খেলবেন। ক্রোয়েশিয়ার কোচ আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে ৪-১-৪-১ ফরমেশনে খেলাবেন। আইসল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া একে-অপরের বিপক্ষে রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল এবং আইসল্যান্ড তাতে জয়ী হয়েছিল। এই দুই দেশ ছয়বার একে-অপরের মুখোমুখি হয়েছে। তাতে ক্রোয়েশিয়া চারবার জয়ী, একবার পরাজিত এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। | 12 |
বকের রং কী? কাউকে যদি এ প্রশ্ন করা হয়, তাহলে সে আপনার দিকে অবাক চোখে তাকাবে। মনে করবে, আপনি পাগল নন তো? বক তো সাদা, বক তো ধূসর।কিন্তু আপনি যদি বলেন, আরে না, আমরা যে বকের কথা বলছি, সেটার রং কালো। তাহলে আপনার দিকে সে এমনভাবে তাকাবে, যেন আপনি একজন পাগল।হ্যাঁ, বক কালোও হয়। সে রকম একটি বকের সঙ্গেই আজ পরিচয় করিয়ে দেব। গত সোমবার এমনই একটি কালো বকের সন্ধান মিলেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে।বকটা কোনো ফাঁদে আটকা পড়েনি। ওটা ধরা পড়েছে বড়শিতে। মাছ ধরার জন্য যে বড়শি পাতা ছিল, তাতেই আটকা পড়েছিল এই বিরল প্রজাতির কালো বকটি।খবরটা রটে গেলে শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের ওই জায়গায় ছুটে যান বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল।সোমবার দুপুর ১২টায় বকটি মাছের টোপের বড়শিতে ছিল আহত অবস্থায়। সেটাকে নিয়ে আসা হয় শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে।স্বপন দেব সজলের কাছে শোনা হয় পুরো ঘটনাটা। তিনি বলেন, এক মাছচাষি হাইল হাওরে ফেলে রেখেছিল মাছের টোপ। সেই টোপের মাছ খেতে গিয়ে বড়শিতে ঠোঁক দিয়েছিল কালো বকটা। এরপর সে আর বের করতে পারে না মুখ। বড়শির টানাটানিতে ঠোঁটে আঘাত পায়। এখন বকটিকে চিকিৎসা দিতে হবে।স্বপন দেব প্রথমে বুঝতে পারেননি এটা কালো বক। সেবা ফাউন্ডেশনে এসে বই খুলে দেখেন, এটার পরিচয় দেওয়া আছে কালো বক। এরপর পাখি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন।বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব জানান, এটি কালো রঙের বক, হাওর যখন উন্মুক্ত ছিল, এর পরিসর আরও বড় ছিল। তখন মাঝেমধ্যে এই বক দেখা যেত। তবে এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না। এ পাখিটির বাংলা নাম কালিবক, সিলেটি ভাষায় বা স্থানীয়দের কাছে কালো বগলা নামেও এরা পরিচিত। তিনি জানান, একটু সুস্থ হওয়ার পর বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে পাখিটিকে বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমে অবমুক্ত করা হবে।শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার মিত্র জানান, এটি বর্তমানে সচরাচর দেখা যায় না। তবে এটি এ অঞ্চলেরই পাখি। বিশেষ করে মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলে এদের একসময় প্রচুর দেখা যেত। এরা বিলে থাকতে পছন্দ করে।কালো বক এখন প্রায় দেখাই যায় না, তা নিয়ে যে কথাবার্তা হয় না, তা নয়। অনেকেই এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। পাখিপ্রেমীরা হাওরে, নদীতে, বনে পাখি দেখার আনন্দ পুরোপুরি পেতে চান। কিন্তু বন, হাওর সবই তো ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। তাতে প্রতিদিনই বিপদে পড়ছে প্রাণীরা। মানুষ ধ্বংস করছে প্রাণীদের বাসস্থান। পাখিপ্রেমী খোকন থৌনাউজাম ও সুহেল শ্যাম আক্ষেপ করে বলেন, 'পশুপাখি প্রকৃতির অংশ। এই প্রকৃতিকেই আমরা ধ্বংস করছি।'কালো বকটি মানুষের এসব কথা বোঝে না। আর মানুষ বোঝে না, বন, হাওর, নদীকে প্রাণীদের বসবাসযোগ্য করে তোলার অর্থ। | 7 |
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে মুকুল মিয়া (৩০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। সোমবার বিকেলে আটক ভারতীয় নাগরিক মুকুল মিয়াকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন থানা পুলিশ। এর আগে, সোমবার ভোর ৪টার দিকে ওই উপজেলার বাড়াইপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ভারতীয় এক নাগরিক। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে উপজেলার বাড়াইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় নাগরিক মুকুল মিয়াকে আটক করে সিঙ্গিমারী বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হাতীবান্ধা থানায় মুকুল মিয়াকে সোপর্দ করে বিজিবি। হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় নাগরিক মুকুল মিয়াকে আটক করে থানায় মামলা দেন বিজিবি। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ও একটি বাংলাদেশি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য ৭০২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) অনুমোদন করা হয়। গত সোমবার পর্যন্ত ৭৫টি প্রকল্প গঠন করা হয়েছে। অথচ এর মধ্যে ৩৫টির কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বাকি ৬২৭টি প্রকল্পের কাজ শুরু নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সমীক্ষা কাজ দেরিতে হওয়ায় পিআইসি গঠনেও বিলম্ব হচ্ছে বলে জানায় পাউবো। এদিকে নির্বাচনী ডামাডোলে যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে হাওর বাঁচাও অন্দোলন।বর্তমানে হাওরাঞ্চলে চলছে পুরোদমে বোরো আবাদের প্রস্তুতি। কাকডাকা ভোরে তীব্র শীত উপেক্ষা করেও কৃষকেরা বোরো চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু পুরোদমে ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।২০১৭ সালে অকাল ভয়াবহ বন্যায় বাঁধ ভেঙে জেলার শতভাগ ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর কাবিটা নীতিমালা সংশোধন করা হয়। ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে। অর্থাৎ যার জমি, সে-ই বাঁধের কাজ করাবে।পাউবো সূত্রমতে, ২০১৭ সালের সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী পয়লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাওরে বাঁধের সমীক্ষা কাজ শেষ করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন করতে হবে। কাজ শুরু করার নির্ধারিত সময় ১৫ ডিসেম্বরের। বাঁধের কাজ শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।কিন্তু চলতি বছর পিআইসি গঠন না করেই ৭০২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে কাবিটা বিষয়ক সভায় জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে ৭০২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।এদিকে চলতি বছর নির্বাচনের কারণে বাঁধের কাজ পেছাবে বলে মনে করছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা।হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা জানান, যেসব এলাকায় ফসলরক্ষা বাঁধ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে সেসব এলাকা ধর্মপাশা, শাল্লা, জগন্নাথপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। তাই নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটা প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজ শুরুই করা যায়নি। যে কারণে এখনো কমিটিগুলো গঠিত হয়নি।হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়নি।তিনি আরও বলেন, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি ছিল প্রতিটা প্রকল্পের জরিপ আমাদের দেওয়ার জন্য। এতগুলো প্রকল্প অনুমোদন হয়ে গেল কোনো প্রকার পর্যবেক্ষণ ছাড়াই। প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আপত্তি দেওয়া হবে। কারণ ৭০২টি প্রকল্প এ বছর দরকার হবে না। কারণ হাওরে এ বছর পানি কম এসেছে, গত বছরের অনেক বাঁধই অক্ষত আছে।জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর হাওরে ২ লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ শতাংশ ধান রোপণ করা হয়েছে।সবচেয়ে বেশি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ হয়ে থাকে ধর্মপাশা, শাল্লা, দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলায়। এসব উপজেলায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর ও ৫ জানুয়ারি ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ফসলরক্ষা বাঁধ সময়মতো হলে ফসলের ক্ষতির শঙ্কা থাকবে না জানান কৃষকেরা।জেলা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রঙ্গারচর গ্রামের কৃষক বলেন, 'নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা ব্যস্ত। এ কারণে ঠিকমতো বাঁধের কাজ হচ্ছে না। আমরা চাই দ্রুত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ করা হোক।'একই উপজেলার ফুলভরি গ্রামের কৃষক মাহবুব আলম বলেন, 'ইতিমধ্যে আমরা কৃষিকাজ শুরু করেছি। তবে প্রতিবছরই বাঁধের জন্য দুশ্চিন্তা নিয়েই কাজ করি। নির্বাচন নিয়ে সবাই ব্যস্ত। সময়মতো বাঁধের কাজ শুরু না হলে আমরা ফসল ঘরে তুলতে পারব না। দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।'কাজের বিলম্বের বিষয়ে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. শামসুদ্দোহা বলেন, চলতি বছর হাওরে পানি থাকার কারণে সমীক্ষা কাজও দেরিতে হয়েছে। সমীক্ষা কাজ দেরিতে হওয়ায় পিআইসি গঠনেও বিলম্ব হচ্ছে। তবে উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তারা গণশুনানি করে পিআইসি গঠনের কাজ করে যাচ্ছেন। দ্রুত সব পিআইসি গঠন করে কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি। | 6 |
প্রথমবার ইউরো জয়ের হাতছানি ছিল। ঘরের মাঠে সে স্বপ্ন হাতছাড়া হয়েছে। ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হারতে হয়েছে হ্যারি কেনদের। অতীতের মতো এবারও সেই টাইব্রেকারে আটকে যেতে হল ইংল্যান্ডকে। আর এই হারের পরই ব্রিটিশ মিডিয়া কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের সমালোচনা করেছে অনভিজ্ঞ ফুটবলারদের পেনাল্টিতে ঠেলে দেওয়ার জন্য। আর এরপরই হারের দায় নিয়ে সাউথগেট দলের খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ালেন। সাউথগেটের কথায়, পেনাল্টি কে মারবে সেটা আমার সিদ্ধান্ত ছিল। অনুশীলনে প্রত্যেককে ভাল করে দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তাই কাউকে দোষী বানানো উচিত নয়। আমরা জিতেছি দল হিসেবে, হারের দায়ও আমাদের সবাইকে নিতে হবে। এরপরই সাউথগেটের সংযোজন, প্রত্যেকে চূড়ান্ত হতাশ। তবে ওদের কৃতিত্ব প্রাপ্য। দলকে এত দূর টেনে আনা মুখের কথা নয়। বিপক্ষ দল ভাল খেলেছে। আমরা বল ধরে খেলতে পারিনি। কিন্তু ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। সাউথগেট বলেন, ইউরোর আগে দেশের হয়ে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিলেন সাকা। তাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষ শট মারতে পাঠানো হয়। তার শট আটকে দেন ইতালির গোলরক্ষক ডোনারুমা। সাকাকে দোষ দেওয়া যায় না। সিদ্ধান্তটা আমারই ছিল। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ ইউরো কাপে জার্মানির বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন এই সাউথগেট।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 12 |
'সরকার নয়, বিএনপিই বিকারগ্রস্ত এবং দুষ্কৃতিকারীদের পক্ষে' বলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের বাসভবনে সীমিত পরিসরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য 'জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে সরকার বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং কল্পকাহিনী সাজিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করছে' এর প্রতি সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী একথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'সরকার নয়, বিএনপিই বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং এজন্য নানা উল্টাপাল্টা কথা বলছে। আপনারা দেখেছেন করোনার টিকা নিয়ে তারা কিভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, এখনও সেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।' 'মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, টিকা আসতে ছয়মাস লাগবে, অথচ আগামী মাসেই করোনার টিকা আসছে' উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মহামারি মোকাবিলা করছে এবং একই সঙ্গে মানুষের জীবিকা রক্ষার জন্যও কাজ করে যাচ্ছে। এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, 'বিএনপি সবসময় দুষ্কৃতিকারীদের পক্ষ নেয়। তাদের নিজেদের দলে আগুনসন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী, যারা মানুষ ও মানুষের সহায়-সম্পত্তিতে আগুন দিয়েছে, তারা থাকার কারণেই বিএনপি দুষ্কৃতিকারী-সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেয়। এদিন বক্তব্যের শুরুতেই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জাতির পিতার শহীদ দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামালের ৬৮তম জন্মদিন উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শেখ জামাল ছিলেন দুঃসাহসী অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় কন্যা শেখ রেহানা, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের সঙ্গে শেখ জামালও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাদেরকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অন্তরীণ করে রেখেছিল। সেখান থেকে দু:সাহসিকতার সঙ্গে পালিয়ে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এসময় ড. হাছান শহীদ শেখ জামালকে দেশের একজন দক্ষ সেনা অফিসার হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লং কোর্সের প্রথম ব্যাচের কমিশন্ড অফিসার শেখ জামাল যুগোস্লাভিয়ার মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট অ্যাকাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে ঢাকা সেনানিবাসে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাত্রিতে ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে জাতির পিতা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে শাহাদতবরণকারী শেখ জামালের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য আমরা কায়মনে প্রার্থনা করি। | 6 |
দফায় দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান 'স্বৈরাচারী সরকার' ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে জনস্বার্থকে তাচ্ছিল্য করে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে আসছে। এই মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে দুর্গতির শেষ থাকবে না। আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, গত পরশু (বুধবার) রাতে কেরোসিন ও ডিজেলের দাম শতকরা ২৩ ভাগ বাড়িয়ে প্রতি লিটারের দাম ৬৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর এক দিন যেতে না যেতেই গতকাল (বৃহস্পতিবার) এলপি গ্যাসের দাম ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৯ টাকা থেকে ১ হাজার ৩১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৪ মাসে এলপি গ্যাসের দাম ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ বাড়ানো হলো। গত জুলাই মাসে এর মূল্য ছিল ৮৯১ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে 'চেইন রি-অ্যাকশন' সৃষ্টি করবে। অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক মির্জা ফখরুল বলেন, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপি গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে দুর্গতির শেষ থাকবে না। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবসহ মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষ ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে। এই মূল্যবৃদ্ধির দুর্বিষহ প্রভাব অর্থনীতির সব খাতেই পড়বে।মির্জা ফখরুল বলেন, এমনিতেই বর্তমানে চাল, ডাল, আটা, চিনি, ভোজ্যতেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্য দ্বিগুণ বৃদ্ধিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে এখন ত্রাহি অবস্থা। তাঁরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষি ও শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়বে। বিএনপির মহাসিচব বলেন, প্রকৃতপক্ষে জনগণকেই শক্রপক্ষ বলে মনে করে এই 'গণবিরোধী' আওয়ামী লীগ সরকার। বিবৃতিতে কেরোসিন, ডিজেল, জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। | 9 |
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ শিরিন আহমেদ বলেছেন, সৈনিক লীগের সম্মেলনে ত্যাগীদের মূল্যয়ণ করে সংগঠনকে সুসংগঠিত ও শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করা হবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের ১ম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য সচিব হারুন-উর রশীদ, সদস্য তামজীদ বিন রহমান তূর্য প্রমূখ। শিরিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী পলাতক খুনিদের দেশে ফেরাতে সরকার তৎপরতা চালাচ্ছে। এদের বিচার হলে বাংলাদেশ কলঙ্ক মুক্ত হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানকে স্মরণ করে তার স্ত্রী শিরিন আহমেদ বলেন, মরহুম বজলুর রহমান তিনবার মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আলোকে উদ্ভাসিত রাজনৈতিক দক্ষতায় বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ বহু ক্রান্তিকাল পার করে এসেছে। ভেঙ্গে পড়া, হারিয়ে যাওয়া কিংবা সময়ের কাছে পরাজিত হবার সংগঠন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ নয়। শিরিন বলেন, আমরা খুব শীঘ্রই সম্মেলন করব। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এই সংগঠনকে আরো সুসংগঠিত করে কার্যক্রম চালিয়ে যাব। এছাড়া সংগঠনের জেলা নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভাগীয় মতবিনিময় সভাও আমরা করব। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটি করা হবে। ইতোমধ্যে দপ্তর উপ-কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া সম্মেলনে ১৩টি প্রস্তুত কমিটি করা হবে। কমিটিতে ত্যাগীরাই জায়গা পাবে। সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য সচিব হারুন-উর রশীদ বলেন, সকল বাঁধা প্রতিবন্ধকতা দূর করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দলের পক্ষে সৈনিক লীগের সম্মেলন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ সংগঠনে কোনো দুনীর্তিবাজের জায়গা হবে না। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ অনুসারী নেতাকর্মীরাই সৈনিক লীগের কমিটিতে আসবে। | 6 |
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারইপাড়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের গায়েবি বিল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৬ জুলাই) বিল করতে গেলে গ্রামবাসীরা মিটার রিডার রঞ্জন কুমারকে প্রায় তিনঘণ্টা আটকে রাখে। পরে কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম ইকবাল আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিটার রিডারকে উদ্ধার করেন। সোমবার সকালে উপজেলার বারইপাড়া এলাকায় মিটারের রিডিং লিখতে গেলে তাকে আটকে রাখে স্থানীয়রা। মিটার রিডার রঞ্জন কুমার বিদ্যুৎ বিলের গড়মিলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, মিটার থেকে একরকম লিখে নিয়ে গেছে কিন্তু বিল এসেছে বেশি ইউনিটের। বারইপাড়া এলাকার ২০৫ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলে এমন গায়েবি বিল করা হয়েছে। বারইপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিন জানান, জুন মাসে মিটার রিডিং থেকে ৪৪৭৫ ইউনিট লিখে নিয়ে যায় মিটার রিডার রঞ্জন কুমার। কিন্তু বিলে ৪৫১৫ ইউনিট উল্লেখ করা হয়। এই ৪০ ইউনিট বেশি করে বিলের কাগজ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০৫ জন গ্রাহকের সবারই এমন হয়েছে। বারইপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন জানান, মসজিদের মিটার থেকে ৬৩০ ইউনিট লিখে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিল আসে ৬৫০ ইউনিটের। এভাবে অনেক মানুষের বেশি টাকা গুনতে হয়েছে। মিটার রিডার রঞ্জন কুমার জানান, তিনি তার রেজিষ্ট্রারে মিটারের ইউনিট লিখে নিয়ে বিল প্রস্তুতকারীর কাছে জমা দিয়েছেন। কিন্তু বিলে কেন বেশি করা হলো সেটি তিনি জানেন না। কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিল প্রস্তুতকারী শাহানাজ খাতুন ভুল হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, মিটার রিডার রঞ্জন কুমার জুন মাসে মিটার রিড করতে যায়নি। তিনি নিজের ইচ্ছামত বিল করে দিয়েছেন। কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. কামরুজ্জামান জানান, একটু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। গ্রামবাসীরা অফিসে এসেছিল। বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। | 6 |
দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সোমবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালের নতুন গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল চানখাঁরপুল মোড়ের কাছে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মিছিলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অন্য নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে শ্লোগান দেয়। মিছিল শুরুর প্রাক্কালে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে পথসভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এই অবৈধ সরকার বিএনপি তথা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। যে কারণে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিচ্ছেনা। মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু যত ষড়যন্ত্রই করুক তা সফল হবেনা। কারণ এই দেশের জনগণের হৃদয়ে প্রোথিত জাতীয়তাবাদের শিকড়। তিনি আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেন রিজভী। এরআগে গত শুক্রবার এবং মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে এবং শ্যামলী প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসময় অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, এক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরাতন ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মুক্তি দাবিতে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন। | 9 |
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আবারও হাসপাতালে গেছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। এর আগে ৫টা ১০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসা থেকে রওনা দেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শাফরুল কবির খান সমকালকে এ তথ্য জানান। এর আগে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়া হয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী এবিএম আবদুস সাত্তার সাক্ষরিত ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লেখা চিঠিতে এ বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত ১২ অক্টোবর গুলশানের বাসভবন থেকে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পর গত ৭ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দাঁত, চোখের প্রদাহ, হৃদরোগসহ বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। | 6 |
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মেদ বিন রশিদ আল মাকতুমের মেয়ে রাজকুমারী লতিফা আল মাকতুম গোপনে বেশ কিছু ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, তাঁর বাবা তাঁকে 'বন্দী' করে রেখেছেন। ফলে তাঁর জীবন হুমকির মুখে। পরিবারের 'নির্যাতনের' মুখে ২০১৮ সালে সাগর পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন লতিফা। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে তিনি ধরা পড়ে যান। ওই ঘটনা সারা বিশ্বে আলোচনার জন্ম দেয়। এ ছাড়া আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারী অধিকারের বিষয়টি আবারও সামনে চলে আসে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তাদের বিশেষ অনুষ্ঠান বিবিসি প্যানোরামার হাতে এসেছে ভিডিওগুলো। ভিডিওতে লতিফাকে বলতে শোনা যায়, নৌকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় কমান্ডোরা তাঁকে আটক করেন এবং আবারও আটককেন্দ্রে নিয়ে যান। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর লতিফার বন্ধুরা তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করতে পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ মোহাম্মেদ বিন রশিদ আল মাকতুম সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্টও। তিনি বিশ্বের ধনী শাসকদের একজন। এর আগে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লতিফা পরিবারের যত্নেই নিরাপদে আছেন। আমিরাতের প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে লতিফার ভিডিও বার্তার মিল না থাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সাবেক হাইকমিশনার ও আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসন বলেছেন, লতিফা 'ভয়ানকভাবে প্রতারিত' হচ্ছেন।২০১৮ সালে লতিফার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রবিনসন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, লতিফা 'সমস্যায় রয়েছেন'। লতিফার অবস্থান শনাক্ত এবং বর্তমানে তিনি কী হালে রয়েছেন, তা উদ্ঘাটন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান রবিনসন। তিনি বলেন, 'লতিফার বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। তাই আমি মনে করি, বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।' আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর কয়েক মাস ধরে নিজের ফোনে গোপনে ভিডিওগুলো রেকর্ড করেন লতিফা। শৌচাগারের ভেতরে ভিডিওগুলো রেকর্ড করা হয়। কারণ, একমাত্র শৌচাগারের দরজাই বন্ধ করার সুযোগ রয়েছে। বাসভবনটি কঠোর নিরাপত্তায় মোড়ানো। ভিডিওগুলোর সত্যতা ও সেগুলো ধারণের অবস্থান পরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেছে বিবিসি প্যানোরামা। একটি ভিডিওতে লতিফা বলেন, নৌকা থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় সেনাদের সঙ্গে তিনি লড়াই করেন। অজ্ঞান হওয়ার আগে তিনি লাথি মারেন, একজন আমিরাতি কমান্ডোর হাতে কামড়ও বসিয়ে দেন। পরে তাঁকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হয়। দুবাইয়ে নামার আগ পর্যন্ত তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন। তাঁকে একা আটকে রাখা হয়েছে। চিকিৎসাসেবা এবং আইনি-সহায়তা ছাড়াই একটি বাগানবাড়িতে তিনি বন্দী। বাড়িটির দরজা ও জানাজা খোলা যায় না। পুলিশ বাড়িটি পাহারা দেয়। লতিফাকে আটক ও বন্দী করে রাখার তথ্য বিবিসি প্যানোরামার কাছে প্রকাশ করেছেন তাঁর তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিনা জাহিয়েনেন, মামাতো ভাই মার্কাস এসাবরি ও মানবাধিকারকর্মী ডেভিড হাই। এই তিনজন লতিফাকে মুক্ত করতে সামনে থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁরা বলেছেন, লতিফার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই বার্তাগুলো প্রকাশের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন। এই বার্তাগুলো লতিফা তাঁদের কাছে পাঠিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। | 3 |
ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু এখনো আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। ম্যারাডোনার চিকিৎসা ঘিরে অবহেলার অভিযোগ ছিল। এই অভিযোগে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ছয়জন নার্সকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সোমবার আর্জেন্টিনার প্রসিকিউটররা এই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে একটি বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে এই সাত জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হযেছিল। তদন্তে দেখা গেছে, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলা হয়েছে। মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ম্যারাডোনার ভয়ংকর যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া গেছে। খবর এনডিটিভির। আর্জেন্টিনার ফুটবলের আইকন ম্যারাডোনা মস্তিকে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে অস্ত্রোপচারের কয়েক সপ্তাহ পর ৬০ বছর বয়সে হৃদরোগে মারা যান। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তার দুই সন্তান ব্যক্তিগতচিকিৎসকলিওপোলদো লুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তারা ম্যারাডোনার অপারেশনের পর অবনতিশীল অবস্থাকে দায়ী করেন। যার ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। আর্জেন্টিনার পাবলিক প্রসিকিউটরের দ্বারা পরিচালিত ২০ সদস্যের বিশেষজ্ঞদের তদন্তে উঠে আসে, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় 'অবহেলা ও ঘাটতি' ছিল। চিকিৎসকরা তার বেঁচে থাকাকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞ দল মনে করে- উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পেলে ম্যারাডোনার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল। তদন্তাধীন অন্যরা হলেন- ম্যারাডোনার মনোবিজ্ঞানী আগুস্টিনা কোসাচভ (৩৫), মনোবিজ্ঞানী কার্লোস ডিয়াজ (২৯), নার্স রিকার্ডো আলামিরন (৩৭), ডাহিয়ানা মাদ্রিদ (৩৬), নার্সিং কো-অর্ডিনেটর মেরিয়ানো পেরোনি (৪০) এবং মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর ন্যানসি ফোরলিনি (৫২)। সোমবার থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের জবাব দিতে হবে। প্রসিকিউটরের সামনে একজন একজন করে হাজির হয়ে জবাব দিতে হবে। এছাড়াও অভিযুক্ত সাত জনকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তাদের। | 12 |
আগামী রোববার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও দাখিলসহ সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলার সময় ঢাকা মহানগরের কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যা পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে। আজ শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ডিএমপি জানায়, রোববার সারা দেশে এসএসসি, এসএসসি (ভকেশনাল), দাখিল ও দাখিল (ভকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। | 1 |
ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় স্থানীয় সময় আজ শনিবার দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনে বসছেন আফ্রিকান ইউনিয়নের নেতারা। গত বছর কয়েকটি সদস্যদেশে সামরিক শাসনের উত্থান ও চলমান করোনা মহামারি ছাপিয়ে এই সম্মেলনে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েল ইস্যু। ইসরায়েলকে আফ্রিকান ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র করার জেরে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে ইসরায়েলের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা বাতিল করতে ৫৫ সদস্যের আফ্রিকার এই জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শতেয়াহ। ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিচালিত ইসরায়েলের অপরাধমূলক কার্যক্রমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মোহাম্মদ শতেয়াহ আফ্রিকার নেতাদের প্রতি এমন উদ্যোগ বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্ণবাদী আচরণের পরও ইসরায়েলকে এমন মর্যাদা দেওয়া উচিত নয়। বিতর্কের শুরু গত বছরের মাঝামাঝিতে। ওই সময় আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপারসন মুসা ফাকি মেহমেত ইসরায়েলকে এই জোটের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেন। তখনই আপত্তি জানায় জোটের প্রভাবশালী সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশ। আফ্রিকার বেশির ভাগ দেশ নীতিগতভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি দমন-পীড়নের সমালোচনা করে এসেছে এসব দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা জানায়, প্রয়োজনীয় আলোচনা ছাড়াই ইসরায়েলকে আফ্রিকান জোটের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র করা হয়েছে। এটা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রতি আফ্রিকার সমর্থনের পরিপন্থী। তাই আদ্দিস আবাবা সম্মেলনে ইসরায়েলের পর্যবেক্ষকের মর্যাদা রদ করতে ভোটাভুটি হতে পারে। যদিও শনিবার ফাকি মেহমেত বলেছেন, ইসরায়েলকে পর্যবেক্ষক করা হলেও ফিলিস্তিনি ইস্যুতে আফ্রিকান ইউনিয়নের অবস্থানে বদল ঘটেনি; বরং এই অবস্থান আরও পোক্ত হয়েছে। বিতর্ক ছড়ালেও এটা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে করা হয়েছে। এটা নিয়ে বিরোধে না জড়িয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। করোনা মহামারির আঘাত ও একাধিক সামরিক অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন আফ্রিকান নেতারা। অভ্যুত্থানের জেরে বেসরকারি সরকারকে উৎখাত করায় গত বছর আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বুরকিনা ফাসো, সুদানসহ চারটি দেশের সদস্যপদ স্থগিত করে রাখা হয়েছে। তবে তিন দশকের বেশি সময় চাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইদ্রিস ডেবির মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে দেশটির সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় সমালোচিত হয়েছে এই জোট। এমনকি সম্মেলনের আয়োজক দেশ ইথিওপিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঠেকাতে অসফল হওয়ার অভিযোগও রয়েছে জোটের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আফ্রিকান থিঙ্কট্যাংক আমানি সলোমন দেরসো বলেন, বেশ কিছু আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে এবারের সম্মেলনে আফ্রিকান নেতাদের জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। এর মধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোয় সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি শাসনের আওতায় মানুষের হতাশা সামাল দেওয়াসহ নানা বিষয় রয়েছে। এখন ইসরায়েলের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে থাকা না থাকার প্রসঙ্গটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। | 3 |
ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় রূপনগরে বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।আগুনে বস্তির কয়েকশ' ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। এর আগে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রূপনগরের 'ত' ব্লকের এই বস্তিতে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট প্রথমে কাজ শুরু করে। পরে আরও ১৪টি ইউনিট যোগ হয়ে মোট ২৫টি ইউনিট প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাজু শিকদার সমকালকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত করার পর জানা যাবে।তবে অরক্ষিত গ্যাস সংযোগ অথবা বিদ্যুতের সংযোগ থেকে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। | 6 |
সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে ৬০ জন মারা গেছেন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি। অবৈধভাবে ইউরোপে পাচারকারী এ ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-১। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোকালে সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অনেক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ মে) সকাল ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি। | 6 |
নানা নাটকীয়তার পর জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে জাতীয় একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে উপনেতা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমদ খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত সংসদীয় দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদকে (ময়মনসিংহ-৪) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (২) (১) (ট) অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও এক উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯ মোতাবেক লালমনিরহাট-৩ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে উপনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিলেন। অনেক নাটকীয়তার পর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেবর জিএম কাদেরের পরিবর্তে ভাবি রওশন এরশাদকে ওই পদ দেয়ার জন্য রোববার সন্ধ্যায় স্পিকারের কাছে চিঠি দেয়া হয়। আর জিএম কাদেরকে বিরোধী দলীয় উপনেতা করার জন্য স্পিকারকে অনুরোধ করা হয়। এর আগে রওশন ও জিএম কাদের, দুজনকেই সংসদের বিরোধী দলের নেতা করার জন্য স্পিকারকে পাল্টাপাল্টি চিঠি দেয়া হয়েছিল। জাপার সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ও ফখরুল ইমামসহ কয়েকজন রওশনকে চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত করার জন্য স্পিকার বরাবর চিঠি দেন। এমনকি চেয়ারম্যান হিসেবে রওশনের নাম দিয়ে নির্বাচন কমিশনেও চিঠি পাঠান তারা। অন্যদিকে কাজী ফিরোজ রশীদ,আবু হোসেন বাবলাসহ প্রায় ১৪-১৫ এমপি জিএম কাদেরকে বিরোধী দলীয় নেতা করার তৎপরতায় উঠেপড়ে লাগেন। তাদের পক্ষ থেকেও জিএমক কাদেরকে বিরোধী দলীয় নেতা করার জন্য স্পিকারকে দেন। তবে গত শনিবার সংকট নিরসনে উভয় পক্ষের ৮ নেতা সমঝোতা বৈঠকে মিলিত হন। তিনটি এজেন্ডা নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তা হলো, জাপার নেতৃত্ব, রংপুর নির্বাচনে প্রার্থী ও বিরোধী দলের নেতা নির্বাচন। শনিবার রাতে দলটির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা আন্তঃকোন্দল মিটিয়ে ফেলতে সমর্থ হন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হবেন প্রয়াত এরশাদের ভাই জি এম কাদের এবং বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করবেন এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ।সব মিলিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির বর্তমানে ২৫ জন এমপি আছেন। এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনটিতে বিজয়ী হলে তাদের সদস্য সংখ্যা ২৬ হবে। উল্লেখ্য যে, সংসদের বিরোধী দলের নেতা মন্ত্রী ও উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। | 9 |
খুলনায় প্রায় তিন লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আগামী ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে।এ উপলক্ষে খুলনা মহানগরী ও জেলার নয়টি উপজেলার ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী দুই লাখ ৯২ হাজার ৭৯৩ শিশুকে একটি করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।ক্যাম্পেইন চলাকালে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রত্যেক শিশুকে একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রত্যেক শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ক্যাম্পেইনে শিশুর জন্য মায়ের দুধের গুরুত্ব ও শিশুর ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে পরিমাণ মতো ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হবে।জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের আয়োজনে গতকার মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর স্কুল হেলথ ক্লিনিক সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সভায় এ সব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ।সভাপতির বক্তৃতায় সিভিল সার্জন বলেন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল রাতকানাসহ শিশুর অনেক রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এটি শিশুর শরীরে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। জাতীয়ভাবে ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনার ফলে দেশে রাতকানা রোগের প্রকোপ বর্তমানে নেই বললেই চলে।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ক্যাম্পেইন চলাকালে খুলনা মহানগরী ও জেলার নয়টি উপজেলার এক হাজার ৬৯০টি টিকাদান কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিবেচনা করে এই ক্যাম্পেইনে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা অনুসরণ করা হবে। ভিটামিন 'এ' অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুকে রক্ষা করে, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায় এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করে।ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল ভরা পেটে খাওয়ানো ভালো। এই ক্যাপসুল শিশুর জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি খাওয়ালে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার তেমন কোন ঝুঁকি নেই। ভ্রমণে থাকাকালীন রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটে অবস্থিত কেন্দ্র থেকে শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। তবে ছয় মাসের কম অথবা পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশু, চার মাসের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে এমন শিশু এবং মারাত্মক অসুস্থ শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক জয়ন্ত নাথ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সভায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মো. আনোয়ারা আজিজ, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিশুর জন্য ভিটামিন 'এ' এর প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ শারাফাত হোসাইন। | 6 |
চিত্র নায়িকা পরীমণিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর র্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার (৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে র্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়। এর আগে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নায়িকা পরীমণিকে তাঁর বনানীর বাসা থেকে আটক করে র্যাব।আটককালে নায়িকা পরিমণির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদসহ বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করে র্যাব।অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাবের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযানে নায়িকা পরীমণির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, আইস, এলএসডি এবং মদের খালি বোতল পাওয়া গেছে।র্যাব সদর দপ্তর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের একাধিক সূত্র বুধবার (৪ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং জানায়, পরীমণিকে আটকের ঘটনায় আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।এর আগে গত ৮ জুন রাতে পরীমণি অভিযোগ করেন, ঢাকার অদূরে বিরুলিয়ার ঢাকা বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমি তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার চেষ্টা চালান। ১৩ জুন তিনি নাসির, তুহিন সিদ্দিকী ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন। সেদিনই নাসির ও তুহিনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার পরপরই উত্তরা থেকে নাসির ও তুহিনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বর্তমানে নাসির জামিনে থাকলেও তুহিন কারাগারে রয়েছেন। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ (সিটিটিসি)।গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. আজিজুল হক রানা ওরফে শাহনেওয়াজ ওরফে রুমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খিলক্ষেত থানার খিলক্ষেত বাজার মসজিদের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রানা জঙ্গি মুফতি হান্নানের অন্যতম সহযোগী। গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন পেশার ছদ্মবেশে ছিলেন। তিনি একেক জায়গায় একেক পরিচয় দিতেন। অবশেষে গোয়েন্দা জালে ধরা পড়তে হয়েছে।আজ বুধবার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে জিহাদি বই, দুটি মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়।আসাদুজ্জামান বলেন, '২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজ মাঠে অবস্থিত সভামঞ্চের পাশে মাটির নিচে একটি ৪০ কেজি ওজনের বোমা এবং হেলিপ্যাডের পাশে মাটির নিচে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা পুঁতে রাখা হয়।'তিনি বলেন, 'আমরা তাঁকে দীর্ঘ ২১ বছর পর গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেপ্তার রানা জঙ্গি মুফতি হান্নানের সঙ্গে বোমা পুঁতে রাখার দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে বোমা দুটি উদ্ধারের পর আজিজুল হক রানা কোটালীপাড়া থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।' | 6 |
সার্চ কমিটি নিয়ে নানা ধরনের বির্তকের সৃষ্টি করলেও শেষ মুহূর্তে একটি অজুহাত দেখিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান এমপি। শনিবার দুপুরে মাদারীপুরের চরমুগরিয়া কুমারটেক এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ড্রাইভিং কোর্সের তিনটি গাড়ির উদ্বোধন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি। শাজাহান খান বলেন, বিএনপি এই সার্চ কমিটি নিয়ে যে মন্তব্য করছে তা হাস্যকর। বিএনপি কি মনে করে, তাদের কথা মতো রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। তাহলে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসা দরকার। কিন্তু সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় আসা, সেটা কোনোদিনই হবে না। জনগণ তা করতে দিবে না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট ওবায়দুর রহমান খান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মমসাদ উজ্জামান মিমুনসহ অনেকেই। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
দীর্ঘ দুই দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতার মসনদে বসেছে তালেবান। তালেবান ক্ষমতা দখল করার খবরে নাগরিকদের দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়ে। বিশেষ করে নারীরা ছিলেন সবচেয়ে উদ্বিগ্ন। তবে সকলেই আশ্বস্ত করেছেন সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।সকল সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে এক বিবৃতিতে তালেবান বলেছে, 'সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলো। সকলের উচিত স্বাভাবিকভাবে দৈনন্দিন জীবনের কাজ শুরু করা। কোন ধরনের আতঙ্ক যেন কাজ না করে। যে যেই বিভাগেই আছেন সবাই যার যার কাজে ফিরে যান।'ক্ষমতায় এসে আফগানিস্তানের নতুন সরকারে নারীদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। তালেবানের সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য এনামুল্লাহ সামানগনি বলেন, 'নারীরা পিছিয়ে থাকুক এটি ইসলামিক অ্যামিরেটের চাওয়া নয়। শরীয়াহ আইন মেনেই নারীদের আফগান সরকারের অংশ করা হবে।'উল্লেখ্য, চলতি বছর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আফগানিস্তানের দখল নিতে শুরু করে তালেবান। গত রোববার (১৫ আগস্ট) আশরাফ গনির সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। | 3 |
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দেশেও ফেরার সুযোগ হয়নি পাকিস্তান দলের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে টুর্নামেন্ট শেষ করেই সরাসরি বাংলাদেশে চলে এসেছে বাবর আজমের দল। বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস আর ছন্দ বাংলাদেশের বিপক্ষেও ধরে রাখতে চায় পাকিস্তান।নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ড টানা দুটি সিরিজ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রস্তুতি ছাড়াই বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিল পাকিস্তান। তবে টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রিকেট খেলে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে বাবরের দল। শুরু থেকে দারুণ ঐক্যবদ্ধ দলটি সুপার টুয়েলভ থেকে একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালেও উঠেছিল। শেষ চারের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও বাংলাদেশ থেকে দারুণ ফল নিয়েই ফিরতে চান বাবর।গতকাল বৃহস্পতিবার সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতার কথা উঠে এল বাবরের কথায়। বিশ্বকাপ দল থেকে খুব বেশি কাটাছেঁড়ার আপত্তি পাকিস্তান অধিনায়কের। বললেন, 'বিশ্বকাপ থেকে যে ছন্দ আমরা পেয়েছি, সেটা এখানেও ধরে রাখতে চাই। মূল খেলোয়াড়দের বসিয়ে রাখা যাবে না। এরপর টেস্ট সিরিজও আছে।'বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ঠিক উল্টো চিত্র বাংলাদেশ দলে। নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে দুই ম্যাচ জিতে সুপার টুয়েলভে উঠলেও সেখান থেকে ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে। বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দলেও এসেছে পরিবর্তন। এবার নতুনদের দিয়ে নতুন যুগের সূচনা করতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। তবু বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না বাবর। পাকিস্তান অধিনায়ক বললেন, 'এটা ওদের হোম সিরিজ। হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। কজন ক্রিকেটার নেই। যারা আছে, তারাও কম নয়। বিপিএল খেলে ওরা সবাই। বাংলাদেশকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।'দুই দলের অতীত ইতিহাসও পাকিস্তানের পক্ষেই কথা বলছে। যদিও সর্বশেষ ২০১৫ সালে মিরপুরে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কাছে হেরেছিল শহীদ আফ্রিদির দল। সেবার হারলেও মোট ১৩ বারের দেখায় ১০ বারই জয়ের শেষ হাসি হেসেছে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে বাবর হয়তো সেই ছন্দটাই ধরে রাখতে চাইবেন। | 6 |
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলের ১০ নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। চকরিয়ায় সাত নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন পূর্ববড় ভেওলা ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান সোহেল, পশ্চিম বড় ভেওলায় রবিউল এহেসান লিটন, কৈয়ারবিলে আফজালুর রহমান চৌধুরী, লক্ষ্যারচরে মো. সাইকুল ইসলাম, কোনাখালীতে দিদারুল হক চৌধুরী এবং কাকারা ইউনিয়নের মো. সাহাব উদ্দিন ও ইছমত-ই-এলাহী। এদিকে পেকুয়ায় সাময়িকভাবে বহিষ্কার হওয়া তিনজন হলেন উজানটিয়া ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল করিম, রাজাখালীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছৈয়দ নুর ও পেকুয়ায় সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ছদর উদ্দিন। ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে চকরিয়ার ১০টি ও পেকুয়ার ৬টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ হবে। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রয়েছে। কিন্তু মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলীয় প্রার্থীর নিশ্চিত জয়ের পথ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্রোহীদের দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, যাঁরা সাময়িকভাবে বহিষ্কার হয়েছেন, তাঁরা যদি ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ না করেন, তাহলে তাঁদের দলের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি দলের যেসব নেতা-কর্মী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামছেন না কিংবা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে দৌড়ঝাঁপ করছেন, তাঁদেরও দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কৈয়ারবিল ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জন্নাতুল বকেয়া। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজল উর রহমান চৌধুরী। দল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পরও তিনি মাঠে লড়ছেন। আফজল উর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, জনগণের চাপে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তাই তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। এই ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী মক্কি ইকবাল। গত ইউপি নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি শক্ত অবস্থানে আছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তখনই মক্কি ইকবালকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি আর দলীয় কোনো পদ ফিরে পাননি। | 9 |
সাতক্ষীরা: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সকাল থেকে সাতক্ষীরায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে চলছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীর পানি ৫ থেকে ৬ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপে লেবুনিয়া চেয়ারম্যান বাড়ি চাঁদমুখ ক্লাজবাঁধ নাফিজখাল বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বালি ও মাটির বস্তা দিয়ে তা বন্ধ করতে পেরেছে।পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় গাবুরা আশ্রয় কেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে। বহনযোগ্য সম্পদ নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনেকেই প্রস্তুত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকা আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আনুলিয়া, খাঁজরা এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, কৈখালি, ঈশ্বরীপুর, রমজাননগর, কাশিমারিসহ সুন্দরবন লাগোয়া মুন্সিগঞ্জ হরিনগর এলাকায় মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ এলাকায় তেমন কাউকে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে দেখা যায়নি।সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় জেলায় ১৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও ১৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মজুত রাখা হয়েছে ১৮৩ মেট্রিকটন খাদ্য শস্য; নগদ সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনিতে ৪ হাজার ৮৮ জন সিপিডি স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়েছে পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, উপকূলীয় দুই উপজেলায় ৬৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।তবে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেড়িবাঁধের ৪০টি পয়েন্ট খারাপ অবস্থায় রয়েছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এসব স্থানে ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে।সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস দুপুরে দিকে সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূল অতিক্রম করবে। তখন এটির গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার। তিনি আরও জানান, উপকূলীয় এলাকায় বর্তমানে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলছে।সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন, দুপুর ১টা নাগাদ ভরা জোয়ার ছিল। সে সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট বেশি ছিল পানির উচ্চতা। তবে দুপুরের পর থেকে ভাটার কারণে পানি নামতে শুরু করেছে। | 6 |
যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল ইউরোর স্বাগতিক ফ্রান্স। প্রথমার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলে এগিয়ে ছিল আয়ারল্যান্ড। শত চেষ্টা করেও গোল শোধ করতে পারছিল না স্বাগতিকরা। তবে গ্রিজম্যানের দুই গোলে অবশেষে ইউরোর শেষ আটে উঠল ফ্রান্স।
স্থানীয় সময় রোববার পার্ক অলিম্পিক লিওনাইস স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে ৭৫ সেকেন্ডেই পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। লংকে অবৈধভাবে ট্যাকেল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আইরিশরা।
এরপরই গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠে স্বাগতিকরা। এভরা, পল পগবা, গ্রিজম্যানরা একের পর আক্রমণে ব্যস্ত রাখেন আইরিশ রক্ষণভাগ। তবে এই অর্ধে আর গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আয়ারল্যান্ড।
বিরতির পর প্রথম ১০ মিনিট রক্ষণভাগ আগলে রাখে আয়ারল্যান্ড। তবে গ্রিজম্যানকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। ৫৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে দলকে সমতায় ফেরান অ্যাটলেটিকো স্ট্রাইকার। এর চার মিনিট পরেই আবারও দলকে এগিয়ে দেন গ্রিজম্যান।
তবে খেলার ৬৬ মিনিটে আরেকটি গোল পেতে পারতো স্বাগতিক দল। তবে সে যাত্রায় শেন ড্যাফি পেছন থেকে ফেলে দেন গ্রিজম্যানকে। এর ফলে লালকার্ড দেখেন ড্যাফি। এরপর আর খেলায় ফিরতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। সূত্র: গার্ডিয়ান
| 12 |
মীম কাঁদছে। এই পৃথিবীতে আপন বলতে আর কেউ না থাকার বেদনায় তার এ কান্না। মাত্রই ২৬টি লাশের সারি থেকে মা-বাবা ও দুই বোনের লাশ শনাক্তের দগদগে ক্ষত তৈরি হয়েছে নয় বছরের এ শিশুর বুকে। ব্যাগ আঁকড়ে ডুবতে ডুবতে নিজে বেঁচে গেলেও সর্বনাশা পদ্মায় তার অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তার এ বেদনা, অশ্রু সবাইকে স্পর্শ করেছে। তার সামনে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা, প্রশ্ন খুঁজে পান না সাংবাদিকেরা।দাদার মৃত্যুর খবর পেয়ে খুলনার তেরখাদায় যাওয়ার পথে ৩ মে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়িতে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় জীবনের এ মর্মান্তিক বাঁকে এসে দাঁড়াতে হয়েছে নয় বছরের মীমকে। কাঁদতে কাঁদতে মীমের শরীর শিথিল হয়ে আসে, কান্না বন্ধ হয়; আবার ফুঁপিয়ে শুরু হওয়া কান্না বিলাপ পর্যন্ত গিয়ে থামে। কান্না ছাড়া তার আর কী-বা করার আছে?কান্না এমনই। কান্নার কাছে আকবর বাদশা থেকেহরিপদ কেরানি' কারও ভেদ নেই। সত্যিই কি ভেদ নেই? মোঘল সম্রাট আকবর কি সত্যিই কাঁদতেন? সম্রাট আকবর তো ইতিহাসের পাতার আড়ালে লুকিয়েছেন। তাঁর কান্নার হদিস নেওয়া তাই কঠিনই বটে। মহারানি ভিক্টোরিয়ার যুগও গত। তবে আছেন একজন। মহারানি এলিজাবেথ। আচ্ছা ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ কি কাঁদেন? এত দিন এই প্রশ্নের উত্তর অজানা ছিল। ডিউক অব এডিনবার্গ প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে রানির অশ্রুসিক্ত চোখ বিশ্বকে এই প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দিল। রানির দুচোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই ছবির ক্যাপশন লিখেছেন, 'আজ কোনো প্রটোকল নেই, রানি কাঁদছেন।'এই কান্না স্বামী হারানোর, সাত দশকের জীবনসঙ্গীর বিদায়ের। এ অশ্রু এক বিশ্বস্ত সঙ্গীর সাহচর্য হারানোর বেদনার। এ কান্না এমন মর্মবেদনার, যা থামিয়ে রাখতে ৭৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী কোনো সংখ্যাই নয়। এ যেন রানির ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিতে উৎপন্ন সব পানি চোখ থেকে উপচে পড়ার প্রতিজ্ঞার ফল। ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবার্গ প্রিন্স ফিলিপ গত ৯ এপ্রিল মারা গেলেন, ১৭ এপ্রিল হলো তাঁর শেষকৃত্য। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্ভবত প্রথমবারের মতো রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে কাঁদতে দেখল বিশ্ব। ফিলিপের সঙ্গে রানির বহু হাস্যোজ্জ্বল ছবির পাশে রানির এ অশ্রুসজল চোখ যে কারও মনে ধাক্কা দেয়। একইসঙ্গে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়-কান্না সর্বজনীন; সবাই কাঁদে।অশ্রু কী?অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী-আবেগ, অসুস্থতা বা ব্যথার কারণে চোখ থেকে প্রবাহিত নোনতা তরলের ফোঁটাকে অশ্রু বলে। আর স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট বিজ্ঞানবর্তিকা বলছে-অশ্রু হচ্ছে পানি, লবণ, কিছু অ্যান্টিবডি ও কিছু অ্যান্টি-মাইক্রোবেয়াল এজেন্টের সংমিশ্রণ, যা মানুষের চোখের ঠিক পাশে থাকা অশ্রু গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।আমেরিকান একাডেমি অব অপথালমোলজি ওয়েবসাইটের ফ্যাক্টস অ্যাবাউট টিয়ারস বলছে, বেসল অশ্রু চোখের কর্নিয়াকে ভেজা ও সুরক্ষিত রাখে। চোখে ধোঁয়া, ধূলিকণা বা অন্যকিছু গেলে, তা ধুয়ে ফেলার জন্য উৎপন্ন হয় রিফ্লেক্স অশ্রু।মানুষ, গরিলা ও হাতির শরীরে আবেগময় অশ্রু নামে আরেক ধরনের অশ্রু পাওয়া যায়। নানা ধরনের মানসিক উত্তেজনা প্রশমনে এ অশ্রু নিঃসৃত হয়। এ অশ্রুতে থাকা বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেস হরমোন ন্যাচারাল পেইন কিলার হিসেবে কাজ করে বলেও উল্লেখ করেছে বিজ্ঞানবর্তিকা।বৈচিত্র্যময় কান্নাকান্নার ধরনে অনেক বৈচিত্র্য আছে। এর মধ্যে মায়া কান্না, চাপা কান্না, বিলাপ করে কান্না, মাতম করে কান্না অন্যতম। অনেকের সামান্য কান্নায় অশ্রুতে চিবুক ভিজে যায়। অনেকে জোরে শব্দ করে বিলাপ করলেও অশ্রুর দেখা মেলে না। কারও কান্নায় শব্দহীন অশ্রু ঝরে, কেউ আবার জনসম্মুখে না কেঁদে একাকী বালিশ ভেজায়।কে কতবার কাঁদে, তা নিয়েও আছে গবেষণা। আলজেইমার্স রিসার্চ সেন্টারের বর্তমান পরিচালক উইলিয়াম ফ্রে ১৯৮০ সালে এ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। মার্কিন এই প্রাণরসায়নবিদ তাঁর গবেষণায় দেখান, নারীরা মাসে গড়ে ৫ দশমিক ৩ বার কাঁদে। অন্যদিকে পুরুষ কাঁদে মাসে ১ দশমিক ৩ বার। ২০১১ সালে সেইজ জার্নালসে প্রকাশিত এক গবেষণায়ও একই ফল উঠে এসেছে। গবেষণায় দরিদ্র দেশের তুলনায় ধনী দেশের নাগরিকদের কান্নার হার বেশি বলেও তথ্য উঠে আসে।মানুষ কেন কাঁদে?মানুষ নানা কারণে কাঁদতে পারে। নানা কারণে চোখে অশ্রু আসতে পারে। শারীরিক ব্যথা, মানসিক দুঃখ, ক্রোধ বা ভয়ে অনেকে কাঁদেন। অনেকর সুখ প্রকাশের মাধ্যমও অশ্রু। বাংলা চলচ্চিত্রে নায়কের সাফল্যে তাঁর মায়ের উক্তি, 'আজ তোর বাবা বেঁচে থাকলে' বলে কেঁদে ফেলার দৃশ্যও কোনো বানোয়াট বিষয় নয়। বাস্তব জীবনেও এমন দৃশ্য দেখা যায়। ফল প্রকাশের দিন জিপিএ ৫ পেয়ে মাকে জড়িয়ে কান্নার দৃশ্যও উঠে আসছে পত্রিকার পাতায়। আমাদের নিজের জীবনেও এমন ঘটনা হয়তো অনুপস্থিত নয়।এই যেমন মন ভাঙায় বেশ কয়েকবারই কেঁদেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তাহুরা তাবাসসুম (২৩)। কখনো খুশি, আবার কখনো হতাশা থেকে তাঁর অশ্রু ঝরেছে। তবে কান্না তাঁর মনের নেতিবাচকতা দূর করে মন ফ্রেশ করেছে; সুন্দর করে নতুন চিন্তা করতে সহায়তা করেছে।আবার একাকীত্ব বা দুর্ভাবনাও হতে পারে কান্নার কারণ। নতুন চাকরির দ্বিতীয় মাসে করোনা আক্রান্ত হন নাবিউল বাপ্পি (২৮)। কিছুদিন আগে পিতৃবিয়োগ, অফিসে যেতে না পারা, অসুস্থতা, ঘর থেকে বের হতে না পারা মিলে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর কান্না চলে আসে। কান্না শেষে হাত-মুখ ধুয়ে এলে নিজেকে ভারমুক্ত মনে হয়েছে বলে তিনি জানান।আবার অন্যের জন্য নয়, মেহেরুন নাহার মেঘলা (২৫) কাঁদেন একান্তই নিজের জন্য। এতে চাপ কমে, চোখ পরিষ্কার হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কান্না পেলে কাঁদাই উপকারী বলে মনে করেন এ তরুণী। আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আসমা ইসলাম (২৪) কাঁদেন রাগ, অভিমান, দুঃসংবাদের জেরে। বললেন, কান্না আমাকে মানসিক স্থিতিশীলতা দিয়েছে, ভারাক্রান্ত মনে স্বস্তি জুগিয়েছে, সহজে কষ্ট ভুলতে সহায়তা করেছে।' মূলত মনের ভাব প্রকাশের জন্যই মানুষ কাঁদে। পরিস্থিতি অনুযায়ী অনেক সময় অনিচ্ছায়ও কান্না চলে আসে। হেলথলাইন ডটকমে কান্নার ছয়টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে-* অন্যের সহায়তা পেতে কান্না বেশ সহায়ক। ২০১৩ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায়-কেঁদে সাহায্য চাওয়া লোকেদের সাহায্য পাওয়ার হার বেশি।* রোগের যন্ত্রণা কমাতে কান্না সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, কান্নায় শরীরে এন্ডোরফিনস ও অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়। এসব উপাদান মানসিক কষ্টের পাশাপাশি শারীরিক কষ্ট দূর করতে সহায়তা করে। দীর্ঘস্থায়ী ও সাময়িক রোগের যন্ত্রণায় কান্না সাময়িক স্বস্তি দেয়।* সামাজিক বন্ধনের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা আছে। একজনকে কাঁদতে দেখলে অনেকে তার পাশে দাঁড়ায়; কান্নার কারণ জানতে চায়। এতে সমাজের মানুষের মধ্যে অর্থপূর্ণ সংযোগ সৃষ্টি হতে পারে।* কোনো অনুভূতি চরম আকার ধারণ করলে, তা থেকে মুক্তির জন্য মানুষ কাঁদে। দুঃখ, অপরাধবোধ, উদ্বেগ, প্রেম, আনন্দ, কৃতজ্ঞতার মতো বহু আবেগ এমন চরম আকার ধারণ করতে পারে।* মানুষ অনেক সময় অন্যের অনুভূতির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। একে সহানুভূতি, সমানুভূতি বলা যায়। এ ধারণার মূল কথা হলো অন্যের পরিস্থিতি দেখে বা ওই পরিস্থিতিতে নিজেকে চিন্তা করেও কান্না আসতে পারে। মৃতের বাড়িতে প্রতিবেশীর কান্না এর একটি উদাহরণ।* দাবি আদায়ের জন্য অনেকে কাঁদেন। পরিবারের সদস্যদের অনেক দাবি সহজে পূরণ না হলে কেঁদে দাবি আদায়, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জনগণের কাছে কান্নাবিজড়িত আহ্বান, সৃষ্টিকর্তার কাছে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে অপরাধের ক্ষমা ও নতুন কিছু চাওয়া এর উদাহরণ। 'না কাঁদলে মা-ও দুধ দেয় না' তো প্রবাদই হয়ে গেছে।কান্নাতন্ত্রপুরুষতান্ত্রিক দেশে পুরুষদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়-কান্না পুরুষের জন্য নয়। ছেলেরা আছাড় খেয়ে পড়ে গেলে 'এটুকু ব্যাথায় পুরুষ মানুষের কী হয়', বলে কান্না থামানোর রেওয়াজও বেশ প্রচলিত। ছোটবেলা থেকে এই ধারণা মনে গেঁথে যাওয়ায় পরবর্তী জীবনেও এর প্রভাব থাকে। হয়তো তাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া কর্তাকেও কাঁদতে দেখা যায় না।বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা যায়, দরিদ্র দেশের তুলনায় ধনী দেশের লোকেদের কান্নার প্রবণতা বেশি। এর পেছনেও আছে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা। ধনী দেশের চেয়ে দরিদ্র দেশের নাগরিকেরা সহজেই মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে বলে এমন হয়। কান্না কি শেখানোর বিষয়?২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিবিসি বাংলার এক ভিডিও প্রতিবেদনে দেখানো হয়, প্রথাগতভাবে জাপানিদের কান্না নিষিদ্ধ। ছোটবেলা থেকে তাদের না কাঁদতে শেখানো হয়। এটি হয়তো শ্রেষ্ঠত্বের ধারণারই প্রতীক। কিন্তু দেশটির মনোবিদ ও কান্নার প্রশিক্ষক (ক্রায়িং থেরাপিস্ট) হিদেফুমি ইওশিদা মনে করেন, এটা ঠিক নয়। তাঁর মতে, না কাঁদতে পারাটা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কান্না মানুষকে চাপা যন্ত্রণা থেকে সান্ত্বনা দেয়, মন ভালো করে। মানুষের যত অনুভূতি আছে, তার মধ্যে কান্না আসল সত্তাকে বের করে আনে। তাই মানুষকে কান্না করা শেখাতে সেমিনার করছেন ইওশিদা। গত আট বছরে তাঁর প্রচেষ্টায় প্রায় ৫০ হাজার লোকের চোখে পানি এসেছে। মানুষকে কাঁদাতে তিনি সিনেমা, প্রাকৃতিক দৃশ্য, চিঠি ও বই ব্যবহার করেন।কান্না পেলে কাঁদুনআবেগ ও ভালো থাকা নিয়ে গবেষণা করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন নেদারল্যান্ডসের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিঞ্জারহয়েটস। তাঁর মতে, সাধারণভাবে অনেক মনোবিদই মনে করেন কান্না দমিয়ে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তিনি গবেষণা করে দেখেছেন, 'বেশির ভাগ লোকই মনে করেন কান্না মনকে হালকা করে। তবে কারও কাছে তাঁর সর্বশেষ কান্নার কারণ জানতে চাইলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মন খারাপ হয়ে যায়।' | 4 |
ইউক্রেনের লুহানস্ক ও ডোনেটস্ক অঞ্চলকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। এরপর ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। এরই মধ্যে সোমবার ৩৩তম দিনে গড়িয়েছে রাশিয়ার অভিযান। বিগত ৩২ দিনে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরী দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে এখনও পর্যন্ত অনেক শহরে শক্তপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা মিত্রদের সহায়তা নিয়ে মতামত দিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কি বলেন, জার্মানি বেড়ার উপর রয়েছে। এ কারণে তারাও ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার সাথে তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা অর্থনীতির বিষয়টি নিয়ে ভাবছে এবং পরিস্থিতি দেখছে। তারা মাঝে সাহায্যও করেছে। আমি মনে করি তারা চেষ্টা করছে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার। অন্যদিকে ব্রিটেনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, "যুক্তরাজ্যের বরিস জনসন অস্ত্র পাঠাতে অনেক বেশি আন্তরিক। হ্যাঁ। সত্যি বলতে, জনসন এমন একজন নেতা যিনি আরও বেশি সাহায্য করছেন। অন্যান্য দেশগুলোর নেতারা ফলাফল কী হবে সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখায়। এক্ষেত্রে, জনসন একটি উদাহরণ।" জেলেনস্কি বলে, "ব্রিটেন অবশ্যই আমাদের পাশে আছে। তারা ভারসাম্যমূলক আচরণ করছে না। আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্রিটেন কোনও বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করছে না।" তিনি বলেন, "ব্রিটেন চায় ইউক্রেন জিতুক আর রাশিয়া হেরে যাক। কিন্তু ব্রিটেন যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হোক সেটা চায় কি না তা বলতে আমি প্রস্তুত নই।" সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
অনুশীলন শেষ করে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করতে হাগলি ওভাল স্টেডিয়াম সংলগ্ন মসজিদ আল নুরে যাচ্ছিলেন দলের খেলোয়াড়রা। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় মসজিদে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ-ছয় মিনিট সময় বেশি ব্যয় করে ফেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর এই পাঁচ মিনিটই যেনো বাঁচিয়ে দিয়েছে পুরো বাংলাদেশ দলকে। কেননা পাঁচ মিনিট আগে সংবাদ সম্মেলন শেষ করলে হয়তো মসজিদে আগেই যাওয়া হতো। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে বেশি সময় লেগে যাওয়ায় মসজিদে পৌঁছতে প্রায় ১টা ৪০ মিনিট হয়ে যায়। আর এতেই যেনো বেঁচে যান তামিম, মুশফিক, তাইজুল, মিরাজরা। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে 'দেরি' হয়ে যাওয়ায় বাস থেকে নেমেই তড়িঘড়ি করে মসজিদের পথে পা বাড়ান মুশফিক- তামিমরা। পথিমধ্যে তাদের আটকে দেন বাসের পাশেই গাড়িতে থাকা আহত এক নারী। তিনি মুশফিক-তামিমদের বারণ করেন সামনের দিকে যেতে। ওই নারীই জানান, ওই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে আর আশপাশের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। এমন দুঃসংবাদে ক্রিকেটাররা প্রথমে নিজেদের টিম বাসে অবস্থান নিলেও ওই জায়গায় কোনো নিরাপত্তা কর্মী বা নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় কাউকে দেখতে পাননি। তাই উপস্থিত বুদ্ধিতে বাস থেকে হাগলি পার্কের মধ্য দিয়ে আবার মাঠে ফিরে আসেন সবাই। প্রাণে বেঁচে যান বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। পরে স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে কিছুক্ষণ অবস্থান করে সবাই মিলে চলে যান টিম হোটেলে। সেখানে আগেই ছিলেন দলের কোচিং স্টাফরা। এমন ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইতিমধ্যে তামিম ইকবাল নিজের টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, 'পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।' বাংলাদেশ দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম তার টুইটে বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ্! ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা থেকে আল্লাহ্ আজ আমাদের বাঁচিয়ে দিলেন। আমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান। কখনোই এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।' | 12 |
শুধু ক্লাসে প্রথম হলেই চলবে না, শিক্ষার পাশাপাশি দীক্ষাও অর্জন করতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'মানবিক মানুষ হতে হবে। মানুষের বিপদে এগিয়ে যেতে হবে।' শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হলিক্রস কলেজের হলরুমে হলিক্রস কলেজ কর্তৃক আয়োজিত 'ফোর্থ ইন্ট্রা কলেজ বিজনেস ফেস্টিভ্যাল-২০২২'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আতিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের তাঁর জীবনের গল্প শোনান। মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, 'জীবনে সফল হতে হলে পদে পদে অনেক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।' মেয়র আরও বলেন, 'সুশিক্ষিত হয়ে সত্যিকার মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজে সম্পৃক্ত হতে হবে। এতে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যেকোনো অবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারা যায়।' বক্তৃতা শেষে বিজনেস ফেস্টিভ্যালে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে হলিক্রস কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার শিখা গোমেজসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় জেলের জালে বিশাল আকৃতির বাঘাইড় ও কাতলা মাছ ধরা পড়েছে। শনিবার ভোরে দৌলতদিয়া ঘাটের অদূরে পদ্মা-যমুনা মোহনায় ২৭ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের বাঘাইড় ও ১৫ কেজি ওজনের কাতলা মাছ দু'টি ধরা পড়ে। দৌলতদিয়ার শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তের মালিক শাজাহান মিয়া জানান, শনিবার ভোরে পদ্মা-যমুনা মোহনায় জাল ফেলে স্থানীয় জেলে আব্দুর রহমান। এ সময় তার জালে বাঘাইড় মাছটি ধরা পরে। মাছটিকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় আনলে এক নজর দেখার জন্য ভীড় করেন স্থানীরা। পরে আড়তে ডাকের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা কেজি দরে ২৭ হাজার টাকায় মাছটি কেনা হয়। শাজাহান মিয়া বলেন, একই সময়ে পদ্মা নদী থেকে ১৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরা পড়ে আব্দুর রহমানের জালে। কাতলা মাছটিকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে মোট ২৪ হাজার টাকায় কিনে নেন তিনি। | 6 |
ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চল বর্তমান বিশ্বের সার্বিক নিরাপত্তা পটভূমিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল ও জটিল। কৌশলগত দিক থেকে এই অঞ্চল ক্রমেই ভূ-রাজনীতির অন্যতম নির্ধারক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এই অঞ্চলের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে গত কয়েক দশকে কোটি মানুষের জীবনমানের উন্নতি সাধিত হয়েছে। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতাও দৃশ্যমান হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চলমান উন্নয়নের স্বার্থে এই অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে কৌশলগত আস্থা স্থাপন ও বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে স্থলবাহিনীসমূহের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রতীয়মান হয়। স্থলবাহিনী, বিশেষভাবে সীমান্তসংলগ্ন দেশগুলোর বাহিনীর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলা সহজ; কিন্তু সীমান্তবিরোধ, রাষ্ট্রবহির্ভূত সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড, আন্তদেশীয় অপতৎপরতা, ফৌজদারি অপরাধসহ নানা বাস্তব কারণে তা অত্যন্ত কঠিন। সহযোগিতা বা তথ্য বিনিময়ের ঘাটতির কারণে সৃষ্ট সামাজিক নৈরাজ্য, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের প্রভাব এক দেশের সীমানা পেরিয়ে সন্নিহিত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রায় চার বছর বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে আমার এ অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নেওয়ার পর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ মিয়ানমার নাগরিকের মানবিক কর্মতৎপরতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত হই। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক জীবনে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গা নামে পরিচিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকেরা এখন বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টি করছে এবং দ্রুত বাংলাদেশ ও সন্নিহিত অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিক্ষুব্ধ ও বেকার রোহিঙ্গাদের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। জীবিকার জন্য আন্তদেশীয় মানব পাচার, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, সীমান্তবর্তী অপরাধ ইত্যাদির মতো অপরাধেও তারা যুক্ত হয়ে যেতে পারে। বর্তমান যুগে নিরাপত্তার বিষয়টি সংকীর্ণ সংজ্ঞায় সীমিত নয়। বিশ্বায়নের এ যুগে কোনো জাতিই নিরাপত্তাহীনতার বহুমুখী হুমকি এড়াতে পারে না। বর্তমানে বিশ্ব নিরাপত্তা চিত্রের নানা বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়, যেমন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, আন্তদেশীয় অপরাধ, সাইবার হুমকি, শক্তি ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, বেআইনি অভিবাসন ইত্যাদি। নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত বেড়ে জনগণের সমগ্র জীবনে ছড়িয়ে তা পুরো সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে এবং জাতীয় সীমান্তরেখা পেরিয়ে যায়। তাই বলা যায়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতিরাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিষয়টি পরস্পর সম্পর্কিত ও অবিচ্ছিন্ন। রাজনৈতিক, সামরিক, পরিবেশগত ও মানবিক-নিরাপত্তার সবকিছুই সম্পর্কিত ও পরস্পর নির্ভরশীল। প্রথাগত বা অপ্রথাগত যা-ই হোক না কেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রধান নিরাপত্তা হুমকিকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। এর রাষ্ট্রীয় সীমানা নেই। এ সমস্যার সমাধান কেউ একা করতেও পারবে না। আগে কখনো এ-জাতীয় সংকট নিরসনে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রয়োজন পড়েনি। সামরিক বাহিনী জাতীয় ক্ষমতার অন্যতম মৌলিক উপাদান বলে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকাই প্রধান। একে অন্যের বিরুদ্ধে সমরশক্তি প্রয়োগ করে তা অর্জন করা যাবে না; বরং প্রয়োজন হবে পারস্পরিক সহায়তা, জ্ঞানের ও দক্ষতা বিনিময় এবং সমঝোতা। বাংলাদেশ পরিস্থিতিপররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কিছু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে উৎসারিত। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার নীতি মান্য করবে, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না, সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করবে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং জাতিসংঘ সনদে উল্লিখিত নীতিমালার প্রতি সম্মান দেখাবে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, 'সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়'। এটিই বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। আমরা তা আক্ষরিক ও চেতনাগত অর্থে মেনে চলছি। শ্রদ্ধাশীল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ব্যাপারে এটিই অন্যদের আশ্বস্ত করে। ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা: ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার স্থল ও সমুদ্রসীমা। মোট সীমান্তের ৯৪ শতাংশই ভারতের সঙ্গে। বাকি ২৭১ কিলোমিটার মিয়ানমারের সঙ্গে। এর মধ্যে ৬৩ কিলোমিটার নাফ নদী বরাবর এবং ২০৮ কিলোমিটার পার্বত্য অঞ্চলে। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের কোনো সীমান্তবিরোধ নেই। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সমাধান: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্তসংশ্লিষ্ট বিষয় তিনটি-ছিটমহল, বেদখল ও ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটারের ছোট এলাকায় অমীমাংসিত সীমান্ত। বৃহৎ সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত ১৯৭৪ সালে স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি ২০১১ সালে সংশোধিত এবং ২০১৫ সালের ৬ জুন বাস্তবায়িত হয়। ছিটমহল বিনিময়: বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি এবং ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ছিল। স্থলসীমান্ত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উভয় দেশ ছিটমহলগুলো বিনিময় করে। যে দেশে যে ছিটমহল, সেখানকার অধিবাসীদের সে দেশের নাগরিক হিসেবে থেকে যাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। ভূমিবিরোধের অবসান: কোনো একটি দেশের ভূমি অন্য দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা অবৈধ ভূমি দখলের পর্যায়ে পড়ে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ রকম ভূমির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার একর। উভয় দেশ তার আপস-মীমাংসা করেছে। অচিহ্নিত স্থলসীমান্ত: ভারত-বাংলাদেশের ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত অচিহ্নিত ছিল। এর মধ্যে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, বাকি ২ কিলোমিটার শিগগিরই করা হবে। স্থলসীমান্ত বাস্তবায়ন: স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ৬০ বছর ধরে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ছিটমহলবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো পাওয়ার সুযোগ মিলেছে। রাষ্ট্রগুলো কী করে আত্মমর্যাদা অটুট রেখে এবং নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষা করে অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান করতে পারে, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন তার নজির।সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিবিধ চ্যালেঞ্জ: সীমান্ত এলাকা সছিদ্র হওয়ায় আমাদের সীমান্তরক্ষীদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তা ছাড়া, সীমান্ত এলাকা আর্থসামাজিকভাবে অনুন্নত। এসব এলাকার মানুষ সাধারণত শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ কারণে তারা বেআইনি ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের প্রকৃতি, ভাষা ও সংস্কৃতির অভিন্নতা তাদের আন্তদেশীয় অপরাধের দিকে পরিচালিত করে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তোলে।সীমান্তবর্তী বহির্দেশীয় বিদ্রোহী দল: আমাদের সীমান্তের খুব কাছাকাছি প্রতিবেশী দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী রয়েছে। সে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী তাড়া করলে তারা সীমান্তরক্ষীদের অলক্ষ্যে দুর্গম ও অগম্য সীমান্ত দিয়ে আমাদের দেশে ঢুকে যাওয়ার সুযোগ নিতে পারে। তারা নিজ দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কেরও টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। মাদক চোরাচালান: বাংলাদেশের অবস্থান তিনটি প্রধান মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চলের মাঝখানে। পূর্ব দিকে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, উত্তরে গোল্ডেন ওয়েজ এবং পশ্চিমে ভারতের ওপারে গোল্ডেন ক্রিসেন্ট। এই তিন অঞ্চলের নৈকট্য মাদক চোরাচালানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সম্প্রতি জীবিকার জন্য মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। অস্ত্র-গোলাবারুদের অবৈধ ব্যবসা: গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ওয়েজ ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের মাঝখানে থাকায় বাংলাদেশ আন্তদেশীয় জঙ্গি ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালানের রুট হিসেবে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। মানব পাচার: মানব পাচার এক বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশও তা থেকে মুক্ত নয়। সীমান্ত দিয়ে বেআইনি মানব পাচার, বিশেষত নারী ও শিশু পাচার সামাজিক সমস্যা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নারী ও শিশুরা এখন মানব পাচারকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। বেআইনি সীমান্ত বাণিজ্য: সীমান্তরক্ষীদের কাছে সীমান্ত চোরাচালান সবচেয়ে নৈমিত্তিক ইস্যু। বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারত ও মিয়ানমার থেকে প্রধানত গবাদিপশু ও কাপড়চোপড়ের মতো পণ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাংলাদেশে চোরাচালান হয়ে আসে। আরেক মূল্যবান চোরাচালানকারী পণ্য হলো স্বর্ণ। এটি ব্যবহৃত হয় অবৈধ ব্যবসার মূল্য পরিশোধ বাবদ। সীমান্তবর্তী এলাকার মাধ্যমে জাল মুদ্রার বিস্তার আরেক উদ্বেগের বিষয়। এটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দ্বন্দ্ব-সংঘাত হ্রাসে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাসার্বভৌমত্ব ও দেশের অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা: সীমান্তবর্তী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা আস্থা তৈরি ও সংঘাত এড়ানোর পূর্বশর্ত। আমাদের কথা ও কাজে তা প্রতিফলিত। বাংলাদেশ এমন কিছু করে না, যা অন্য দেশের জন্য উসকানিমূলক বলে মনে হতে পারে। ভারত, মিয়ানমারসহ কোনো দেশের জঙ্গি, চরমপন্থী, সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের এ ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের দেশে সন্ত্রাস সৃষ্টির সুযোগ বাংলাদেশ দেয় না। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের (বিএসএফ) অনুরোধে আমরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী নির্মূলে কাজ করি। মিয়ানমারে আছে আরাকান আর্মির মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মিয়ানমারের বিজিপির অনুরোধ পেলে আমাদের বাহিনী বিশেষ যৌথ অপারেশন পরিচালনা করে থাকে এবং এর ফলাফল ও অগ্রগতি আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধানকে জানিয়ে দিই। এতে আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় টেকসই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি: বর্তমান বিশ্বে জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের চরম হুমকি মোকাবিলা করছে। বিশ্বসম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্বে এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি মেনে বাংলাদেশ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নানাভাবে যুদ্ধ করে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার আন্তযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে ভারতের শীর্ষ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) নেতা অনুপ চেটিয়াকে বাংলাদেশ ভারতের কাছে হস্তান্তর করে। অনুপ্রবেশের দায়ে ঢাকায় তিনি ১৮ বছর বন্দী ছিলেন। সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান: আমাদের কথায় ও কর্মেই প্রতিফলিত যে বাংলাদেশ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নও সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমাদের অবস্থানকে তুলে ধরে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তি আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি আমাদের দৃঢ়বিশ্বাসের আরেক দৃষ্টান্ত। সমুদ্র আইনের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ২০১২ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা সমস্যার রায় দিয়েছেন এবং ২০১৪ সালের ৭ জুলাই স্থায়ী সালিসি আদালত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা সমস্যার রায় দিয়েছেন। বর্তমান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেও আমাদের অবস্থান শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। বহু স্তরে যোগাযোগ স্থাপন: ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের চমৎকার যোগাযোগের সম্পর্ক রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে তা ছিল না। বিজিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমি অবিলম্বে মিয়ানমার সফর করি এবং একাত্তরে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমার বিজিপির প্রধানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাই। আমার মিয়ানমার সফর দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী প্রধানদ্বয়ের সভার পর উভয় দেশের বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বিবার্ষিক বৈঠক এখনো অব্যাহত আছে। সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে ত্রৈমাসিক বৈঠক ছাড়াও প্রয়োজন পড়লেই বৈঠক হচ্ছে। তথ্য বিনিময়: বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সুফল বয়ে এনেছে। সীমান্তরক্ষীদের বিভিন্ন কমান্ড পর্যায়ে তথ্য বিনিময়, চোরাচালান রোধ, মানব পাচার, বিদ্রোহী, জঙ্গি ও অপরাধী দমনে সাফল্য নিশ্চিত করেছে; সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাস, ভুল-বোঝাবুঝির অবসান এবং আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা ভারতের অভ্যন্তরে চোরাচালান ও মানব পাচারের কোনো তথ্য পেলে তা বিএসএফকে জানাই। এতে তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। আমরা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বিএসএফের সহায়তায় ভারতের অভ্যন্তর থেকে উদ্ধারও করে থাকি। এটা দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের পারস্পরিক আস্থা বাড়িয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গেও আমরা এ ধরনের তথ্য বিনিময় করার চেষ্টা করে চলেছি। সীমান্তে সমন্বিত পাহারার ব্যবস্থা২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা স্বাক্ষরিত হয়। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সীমান্তের অবৈধ কার্যকলাপ ও অপরাধ দমন এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এর লক্ষ্য। এই পরিকল্পনার নির্দেশিকা অনুযায়ী বিশেষ নজরদারির জন্য একটি যৌথ টিম সীমান্তজুড়ে ৩৬৬টি ঝুঁকিবহুল জায়গার তালিকা চূড়ান্ত করেছে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সমন্বিত প্রহরার কাজ করছে এবং চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। মিয়ানমারে সীমান্তরক্ষী পুলিশের সঙ্গেও সম্প্রতি এ ধরনের নজরদারি শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপে আন্তদেশীয় অপরাধ দমন এবং ভুল-বোঝাবুঝির অবসানের মতো ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে পুনঃপুন বৈঠক অনুষ্ঠান: প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত বা প্রয়োজনীয় সীমান্ত সম্মেলন অথবা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ ধরনের বৈঠক সীমান্ত সমস্যা নিরসনের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর পর্যায়ে সমঝোতা ও আস্থা তৈরি করছে। আস্থা সৃষ্টির বিভিন্ন পদক্ষেপ: আস্থা সৃষ্টির পদক্ষেপ হিসেবে শুভেচ্ছা বিনিময়, এমনকি কোনো ইস্যু ছাড়াই ব্যাটালিয়ন ও কোম্পানি পর্যায়ে পুনঃপুন সৌজন্য সভা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার আস্থা সৃষ্টি করছে। পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ বিনিময়, শুটিং প্রতিযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত সেমিনার এবং পরিবারকল্যাণ সমিতি, স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের সফরের আয়োজন করা হচ্ছে। বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে বিজিবির জটিল রোগী ভারতে বিএসএফের হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। বিজিবির মহাপরিচালক থাকাকালে প্রধান অতিথি হিসেবে আমি বিএসএফের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট ভারতের মধ্যপ্রদেশের টেকানপুর বিএসএফ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করি। ভারত-বাংলাদেশ মডেল অনুসরণ করে আস্থা সৃষ্টির পদক্ষেপ হিসেবে আমরা মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গেও সফর বিনিময় ও খেলাধুলার আয়োজন করছি। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদান: প্রায় ১১ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে রোহিঙ্গারা ৬ হাজার ৫০০ একর ভূমির ওপর গড়ে তোলা ৩১টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের আশ্রয়, জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য, পানীয় সরবরাহ ও মানসিক আঘাত ব্যবস্থাপনার কাজ করছে। তাদের ক্যাম্পের নিরাপত্তা বিধান এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করছে। ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা উপদ্রুত সমুদ্র উপকূলবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুর্যোগের ঝুঁকি লাঘবে কাজ করছে। ইউএনএইচসিআর, আইওএম ও অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থা এবং দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থার মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে। এসব মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনেও সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মিয়ানমারের সঙ্গে তথ্য বিনিময়: মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আমরা সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছি। কৌশলগত পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াও বিভিন্ন পথে আমাদের উদ্বেগের কথা মিয়ানমারকে জানিয়ে দিয়েছি। এ ধরনের যোগাযোগ স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখা এবং ভুল-বোঝাবুঝির অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে স্টাফ টক আয়োজন: পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রথম স্টাফ টক অনুষ্ঠিত হয়। আমরা এখন মিয়ানমারে দ্বিতীয় স্টাফ টকের জন্য আলোচনা করছি। উচ্চপর্যায়ের সফর: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান আমাকে আগামী ডিসেম্বরে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমিও মিয়ানমার কমান্ডার ইন চিফ ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। উত্তেজনা হ্রাসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে যুক্ত করা: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের জন্য অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে বিশ্বসম্প্রদায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশার সত্যিকার চিত্র এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারে। কিছু প্রস্তাবপারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা: পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি কথায় ও কাজে শ্রদ্ধাবোধ থাকলে আমাদের অঞ্চল নিরাপদ ও স্থিতিশীল থাকবে। কৌশলগত আস্থা নির্মাণ: প্রভেদ কমানোর লক্ষ্যে আঞ্চলিক স্থলবাহিনীর মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা কৌশলগত আস্থা নির্মাণে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের মধ্যে তথ্যবিনিময়: বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস, ভুল-বোঝাবুঝির অবসান এবং বিশ্বাস ও আস্থা সৃষ্টির জন্য তথ্যবিনিময় আবশ্যক। জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান, সেনাপ্রধান এবং সীমান্তরক্ষীপ্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক আয়োজন করা দরকার। এতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও আন্তদেশীয় অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার হবে। সমন্বিত সীমান্ত প্রহরা: সমন্বিত সীমান্ত প্রহরা মাঠপর্যায়ে কর্মরত রক্ষীদের মধ্যে বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করবে। বিশ্বাস ও আস্থার উন্নয়ন: বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন ও যৌথ অনুশীলন দুই দেশের রক্ষীদের মধ্যে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে। পর্যাপ্ত সহযোগিতামূলক সম্পর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের স্থলবাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ বিনিময়ের পরিকল্পনা নেওয়া যায়। সক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রযুক্তি ও ডিফেন্স আর্টিকেল বিনিময়, জ্ঞান বিনিময়, বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন, 'যুদ্ধ ছাড়া অন্যান্য কর্মকাণ্ডে' বর্ধিত সহযোগিতা এ অঞ্চলের সেনাবাহিনীগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখবে। উপসংহারআমরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এক পৃথিবীতে বসবাস করছি। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা অন্যের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা যথাসম্ভব টেকসই হওয়া দরকার। আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ভিত্তিতে আমাদের এই ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চল সময়ের বিবর্তনে বিকশিত হয়ে সমুদ্র ও আকাশপথে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্ভবপর করেছে। ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের স্থলবাহিনীগুলোর মধ্যে আস্থার প্রতিষ্ঠা এ অঞ্চলকে নিরাপদ রাখবে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। [ থাইল্যান্ডে ইন্দো-প্রশান্ত সেনাপ্রধান সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধ ] জেনারেল আজিজ আহমেদ: বিএসপি, বিজিবিএম, পিজিবিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসিজি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান | 8 |
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে মোতেরা স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে। এরপরই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। চাপের মুখে পড়ে সাফাই গাইল কেন্দ্রীয় সরকার। জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র স্টেডিয়ামের নামই করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর নামে। তবে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের নাম রয়েছে সর্দার বল্লভভাই পটেলের নামেই। খবর: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ আমদাবাদের নবনির্মিত স্টেডিয়ামের উদ্বোধনের পর তুমুল সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কংগ্রেস ও বিজেপি-বিরোধী দল, একে সর্দার বল্লভভাই পটেলের 'অপমান' হিসেবেই তুলে ধরেন। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর পরে বিরোধীদের সমালোচনা করে জানান, কেন এতদিন ধরে সর্দার পটেলের নামাঙ্কিত বিশালাকায় মূর্তি নিয়ে একটাও কথা বলেননি সোনিয়া গান্ধী বা রাহুল। জাভড়েকর আরও জানান, সোনিয়া বা রাহুল কেউই আজ পর্যন্ত সর্দার পটেলের মূর্তি দেখতে যাননি। সেখানে সর্দার পটেলের অপমান করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে কথা বলা তাঁদের মানায় না। | 3 |
ছাত্রলীগের কমিটিতে বিবাহিত খুঁজতে করা হবে বলে জানিয়ছেন সংগঠনের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরব্যাপক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো। ছাত্রলীগের সম্মেলনের এক বছর পর সোমবার ৩০২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে চলছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, তা গড়িয়েছে মারামারিতেও। বিক্ষুব্ধদের মধ্য থেকে অভিযোগ উঠেছে, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বিবাহিত ও অছাত্রদের কমিটিতে নেয়া হয়েছে। অপর একটি অভিযোগে বলা হয়, অন্তত ১০ জনের নাম এসেছে, যারা বিবাহিত। তারা হলেন নবগঠিত কমিটির সহ সভাপতি সোহানী হাসান তিথি, সাদিক খান, আবু সাঈদ, এস এম আতিক হাসান, ইশাত কাসফিয়া ইরা, উপ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক রুশি চৌধুরী, উপ-গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হুদা সুমন, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আফরিন লাবণী, সহ সম্পাদক সামিহা সরকার, আনজুম আরা অনু। ফেইসবুকে বিভিন্ন জনের বিয়ের তথ্য ফাঁস করছেন কমিটিতে পদ না পাওয়া বা কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে অসন্তুষ্ট নেতাদের সমর্থকরা। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না। তারপরও বিবাহিতদের স্থান পাওয়ায় অভিযোগের আঙুল এখন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর দিকে। মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে সরকার সমর্থক সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এলে সাংবাদিকরা এই অভিযোগ নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। শোভন শুরুতে এই অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। 'বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ফেইক আইডি খুলে ছবি বানিয়ে অনেক কিছু করা যায়, সম্ভব।' তারপরও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে নেওয়ার কথা জানিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, 'যেহেতু বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এসেছে, আমরা এই বিষয়ে ছাত্রলীগের যে সাবেক নেতৃবৃন্দ আছে তাদের দ্বারা সমন্বয় করে একটি কমিটি গঠন করে দেব। যদি সত্যি এগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।' কী ব্যবস্থা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সেই পদ শূন্য ঘোষণা হলে সেখানে আমরা যোগ্যতা অনুযায়ী পূরণ করব।' রাব্বানী বলেন, 'আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দেব এবং সবার প্রতি আহ্বান জানাব, যাদের অভিযোগ আছে তারা তদন্ত কমিটির কাছে আপনাদের দালিলিক তথ্য উপস্থাপন করুন। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন পাবলিকলি প্রকাশ করব।' পদ না পেয়ে বিক্ষুব্ধদের আশ্বস্ত করে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বলেন, 'কিছুদিন পর এই কমিটি বর্ধিত করে যোগ্যদের নিয়ে আসা হবে।' | 6 |
ফাল্গুন বিদায় নিচ্ছে। ক্রমেই প্রখর হচ্ছে রোদ। দমকা হাওয়ায় গাছপালার শাখা থেকে ঝরে পড়ছে হলুদ পাতার রাশি। সেসব শুকনো পাতা মাড়িয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলায় আসার দিনও ফুরিয়ে আসছে। গতকাল সোমবার মেলার নিরিবিলি প্রাঙ্গণে একধরনের মৌনতা জাল বুনেছে। সচরাচর যেমন বহু লোকের কথাবার্তায় উচ্চকিত থাকে মেলার মাঠ, তেমনটা ছিল না, কারণ মানুষজনের উপস্থিতিই ছিল খুব কম। অনেক স্টলের সামনে, এমনকি কোনো কোনো সারিতে সন্ধ্যাবেলায়ও লোক দেখা যায়নি। ছোট বা মাঝারি স্টলের বিক্রয়কর্মীরা বসে ছিলেন নিশ্চুপ। আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে মেলা। প্রায় ফাঁকা স্টলের সামনে কথা হলো সমগ্র প্রকাশনের প্রকাশক শওকত আলীর সঙ্গে। তিনি বললেন, অনেক ছোট প্রকাশক ভালো বই, গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করে। কিন্তু বড় প্রকাশকদের সঙ্গে তারা প্রতিযোগিতায় আসতে পারে না, বইগুলো পাঠকের কাছে যায় না। ক্রেতারা জাঁকজমকপূর্ণ চারদিক খোলা প্যাভিলিয়নেই ভিড় জমান। সে কারণে এক বা দুই ইউনিটের ছোট স্টলগুলো এমন করে বিন্যাস করা দরকার যেন সেগুলো ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় হয়। মেলার কলেবর কেবল বড় হলেই হবে না, তা পাঠকবান্ধব হতে হবে। সমগ্র এবার এনেছে কবি জুলফিকার মতিনের কাব্যসংগ্রহ, সুপর্ণা এলিস গমেজের নারীবিষয়ক কবিতা সব নারীতেই মা, পিন্টু ভৌমিকের গল্প গৃহকোণে আগুন আভাস। এবারের মেলায় স্টলের বিন্যাস নিয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উত্তর দিকের প্যাভিলিয়নের পরের প্রথম সারির স্টলগুলোকে মনে হয় মেলার শেষ সীমানা। কিন্তু এরপরও তিন-চার সারি স্টল রয়েছে। এই স্টলগুলো দর্শনার্থীদের সহজ দৃষ্টিতে আসে না। নতুন বই গতকাল মেলায় তথ্যকেন্দ্রে নতুন বইয়ের নাম জমা পড়েছে ৭৬টি। প্রথমা নতুন এনেছে সুফিয়া খাতুনের আত্মজীবনী জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে। এটি একজন বিদুষী নারীর সংগ্রামী জীবনালেখ্য। রক্ষণশীল পরিবারের অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে একজন নারী কীভাবে উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ও স্বনির্ভর করে গড়ে তুললেন, হলেন সংসারজীবনে স্বামীর সহযোগী, সন্তানদের সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন, তারই কাহিনি লিপিবদ্ধ করেছেন সুফিয়া খাতুন। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের বাইরেও সমকালীন সমাজজীবনের নানা চিত্রও পাওয়া যাবে বইটিতে। এ ছাড়া গতকাল প্রথমার স্টলে রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী অনূদিত হুয়ান পাবলো বিইয়ালোবোসের পাতালপুরীতে মচ্ছব বইটি ভালো চলেছে। অন্য নতুন বইয়ের মধ্যে ঐতিহ্য এনেছে পিয়াস মজিদের কাব্যগ্রন্থ এইসব মকারি, মেঘনা পাবলিকেশন এনেছে চায়না পারভীনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। ক্রীড়াবিদ কায়সার হামিদ ও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বইটির মোড়ক উন্মোচন করেছেন। পাঠক সমাবেশ এনেছে মোরশেদ শফিউল হাসানের গবেষণাগ্রন্থ শেখ মুজিবের স্মৃতিকথা: নিবিড় পাঠ ও বিশ্লেষণ, পেন্সিল এনেছে আসিফ কবীরের গল্পগ্রন্থ নাগরিক গল্প, স্বপ্ন ৭১'এনেছে ড. এম আল-মামুনের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি সাদা আলোর মানুষ, অবসর এনেছে মলয় পাঁড়ে অনূদিত নোবেলজয়ী আবদুলরাজাক গুরনাহ-এর উপন্যাস প্যারাডাইস, বাতিঘর এনেছে সুনীতিভূষণ কানুনগোর প্রবন্ধ বাংলায় বৈষ্ণব আন্দোলন, রাশেদ খান মেননের আত্মজীবনী এক জীবন প্রথম পর্ব। | 6 |
এসব এ ময়লা-আবর্জনা গড়িয়ে পড়ছে নদীতে। এতে করে একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে নদী, তেমনি প্রতিদিন নদীতে গোসল করতে আসা শত শত লোক আবর্জনার গন্ধে দুর্ভোগে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিম্নবিত্ত শ্রেণিসহ অন্যদের গোসল ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য এই নদীর পানির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে হচ্ছে। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর ঘাটের দুই পাশেই রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এর মধ্যেই নদীতে নেমে নারী-পুরুষেরা গোসল করাসহ কাপড়চোপড় ধোয়ার কাজ করছেন।নদীতে গোসল করতে আসা হিরন নামের এক নারী বলেন, এই এলাকার ধনী লোকের স্ত্রীরা বোরকা পরে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা পলিথিনে এনে এখানে ফেলে যায়। আর এতে করে ময়লার দুর্গন্ধে এ ঘাটে গোসল করা অনেক কষ্টকর হচ্ছে। তারপরও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এসব ময়লা-আবর্জনার মধ্যেই গোসলের কাজ সারতে হচ্ছে।নদীতে গোসল করতে আসা বাজারের ব্যবসায়ী হাসান মিয়া জানান, বাজারের অনেক ব্যবসায়ী এখানে এনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান। নদীর পাড়ে ময়লা ফেলার কারণে এর দুর্গন্ধে নদীর পাশ দিয়ে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না। নাকমুখ চেপে ধরে হাঁটতে হচ্ছে নদীর পাড়ে।নদীর ঘাট এলাকার বাসিন্দা সবিতা রানী ঘোষ বলেন, 'সবাই এখানে এসে ময়লা ফেলে যায়। আমরা নিষেধ করলেও শোনে না। কিন্তু নদীর পাড়ে ময়লা ফেলার কারণে এর দুর্গন্ধে আমাদের জীবন বিষিয়ে উঠছে। এ ছাড়া অনেক লোকজন এসে দিনের বেলায় এখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাবও করে থাকেন, আমরা মানা করলেও শুনছে না। আবার রাতের আঁধারে অনেকে এসে এখানে পায়খানা করে যায়। সব মিলিয়ে নদীর ঘাটের এ ময়লা-আবর্জনায় আমরা আশপাশের লোকজন চরম দুর্ভোগে আছি।'সবিতা রানী ঘোষ আরও বলেন, নদীর ঘাটে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোমনা পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'বাজারের ও বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার জন্য কাচারিকান্দিতে আমাদের নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনই বাজার ও বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহ করে কাচারিকান্দিতে ময়লার স্তূপে ফেলছে।' | 6 |
আমার একজন বন্ধু আছেন, যিনি কিনা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী মারমা সম্প্রদায়ের। একদিন কথা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবার নাম জীবন চৌধুরী। তত দিনে জেনে গেছি, এটি মারমা সম্প্রদায়ের নাম হতে পারে না। কীভাবে তাঁর বাবার নাম জীবন চৌধুরী হলো, তার ভেতরকার গল্প জানার আগ্রহ তৈরি হলো। তাঁকে জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল, তাঁর বাবা যখন প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হতে গিয়েছিলেন, তখন স্কুলের শিক্ষক তাঁর নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি তাঁর মারমা ভাষায় রাখা নামটি বললেন। সেই স্কুলের বাঙালি শিক্ষক সাফ বলে দিয়েছিলেন, তিনি ওই সব নাম ধরে কাউকে ডাকতে পারবেন না। তখন সেই শিক্ষকই তাঁর বাবার নাম বদলে নতুন নাম রেখেছিলেন জীবন চৌধুরী। এর মাধ্যমেই নিজ ভাষায় নিজের নামের অধিকার হারিয়েছিলেন তাঁর বাবা। বাঙালি শিক্ষকের দেওয়া বাংলা নামের খোলসেই ছিলেন সারা জীবন। এখনো শুধু জীবন চৌধুরীই নন, অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব ভাষার নামের সঙ্গে একটি করে বাংলা নাম নিজেরাই রেখে দেয়। ভাষাগত সমস্যার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক স্কুল থেকে ঝরে পড়তে হয়েছিল আশির দশকে। বেশির ভাগ শিক্ষকই বাঙালি ছিলেন। সে ক্ষেত্রে পড়ার মাধ্যম বাংলা হওয়ায় তা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য সমস্যা তৈরি করত এবং সৃষ্টি হতো ভুল-বোঝাবুঝির। যেমন চাকমা ভাষায় 'আপনি' শব্দটি নেই। সেই ভাষায় সবাইকে 'তুই' বলে সম্বোধন করা হয়। নিজের মাতৃভাষায় কথা বলা বাচ্চারা স্কুলে শিক্ষককে 'তুই' করে সম্বোধন করত। সেখানেই ঘটত বিপত্তি। শিক্ষকেরা এটিকে 'বেয়াদবি' হিসেবে ধরে নিতেন এবং খেপে গিয়ে মারধর শুরু করতেন। সেই মারধরের ভয়ে 'আদিবাসী' শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করত। আজ ৯ আগস্ট। বিশ্ব 'আদিবাসী' দিবস। 'আদিবাসী ভাষা চর্চা এবং সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন' স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিনটি। ১৯৪৮ সাল থেকে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছিলেন এ দেশের সূর্যসন্তানেরা। সেই ভাষা আন্দোলনের বীজই মহিরুহ হয়ে নিয়ে গেছে এ দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে। অথচ সেই স্বাধীন বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীদের ভাষা রক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের দ্বৈততা ও উদাসীনতা দৃশ্যমান। যদিও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর ২৩ নম্বর ধারাটিতে বলা আছে, 'দেশের আদিবাসীসহ সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সংস্কৃতি ও ভাষার বিকাশ ঘটানোর কথা' এবং একই শিক্ষানীতির দ্বিতীয় অধ্যায়ে (প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা) 'আদিবাসী শিশু' শিরোনামের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে, সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য আদিবাসী শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করা হবে।' সেটিরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে পাঁচটি ভাষায় প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের কর্মসূচিও চলছে। তবে যেটি এখন পর্যন্ত চালু হয়নি, তা হলো ওই সম্প্রদায় থেকে শিক্ষক নিয়োগ, যাঁরা মাতৃভাষায় শিক্ষাদান করতে পারবেন। একদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, অন্যদিকে ক্রমাগত প্রতিদিনকার জীবনযাপনে চাপের মুখে পড়ছে তাদের মাতৃভাষাও। এমনকি পরিবর্তিত হচ্ছে এলাকার নামও। যেমন ইতিমধ্যেই খাগড়াছড়ি সদরে ত্রিপুরা অধ্যুষিত এলাকা খাগড়াপুরের নাম হয়ে গেছে ইসলামপুর, বেবোন ছড়া হয়ে গেছে ভাইবোন ছড়া, উত্তোদাছড়ি হয়েছে রসুলপুর, পা-অং কার্বারী পাড়া হয়েছে ফাতেমা নগর। কী প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তনগুলো হচ্ছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্র নীরব। ভাষাবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট এথনোলগের মতে, বর্তমান পৃথিবীতে আনুমানিক ৭ হাজার ৯৭টি ভাষা বেঁচে আছে। এর মধ্যে ২ হাজার ভাষায় কথা বলা লোকের সংখ্যা ১ হাজারের কম। এ ছাড়া মোট ভাষার মাত্র অর্ধেকের আছে লিখিত রূপ। এসব ভাষায় ব্যবহার করা হয় ৪৬ ধরনের বর্ণমালা। বাকিগুলো শুধু মৌখিকভাবেই চর্চিত আছে। ভাষা হারিয়ে যেতে পারে নানা কারণে। যুদ্ধবিগ্রহ বা আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট ভাষাভাষী জনসংখ্যার অস্তিত্ব বিপন্ন হলে ভাষা হারিয়ে যায়। আবার কোনো জাতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ও আগ্রাসনের কারণেও ভাষার ক্রমবিলুপ্তি ঘটতে পারে। বৃহত্তর সংস্কৃতির আগ্রাসন ও বিশ্বায়নের প্রবল দাপটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। ইউনেসকোর মতে, এ শতাব্দীতে পৃথিবীতে অর্ধেকের বেশি ভাষা বেঁচে থাকবে না। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাকেন্দ্রিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী আগামী ২১১৫ সালে পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে মাত্র ৬০০টি ভাষা। আর কঠিন বাস্তবতা হলো, প্রতি ১৪ দিনে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটি করে ভাষা। তবে নিজেদের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন এ দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা। নিজেরাই নিজ ভাষায় প্রকাশ করছেন সাহিত্য পত্রিকা, লিটলম্যাগসহ অন্যান্য গল্প ও কবিতার বই। চাকমা ভাষায় বের হয় আলাম, হুচসহ আরও কয়েকটি সাহিত্য পত্রিকা; মণিপুরি ভাষায় পৌরী এবং গারো ভাষায় বের হয় থকবিরিম নামের সাহিত্য পত্রিকা। বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি থেকে বের হয় জানিরা। বেশ কিছুদিন আগে একটি মুঠোফোন কোম্পানির ভাষার মাসের বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার চর্চা এবং সেটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা কবি ও একজন কথাসাহিত্যিক বলেছেন, 'মানুষ বেঁচে থাকে ভাষায়, আর ভাষা বেঁচে থাকে সাহিত্যে।' তাই বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলো বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষার মানুষের। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলোর ব্যাপ্তি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলে তাদের ভাষার চর্চা ও রক্ষায় বড় রকমের ভূমিকা থাকবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বাংলাদেশে প্রচলিত আইন ও নীতিমালায় আছে। শুধু জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করলেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আমরা বিশ্বাস করি, সংখ্যালঘুর ভাষা রক্ষায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষীর দায়িত্ব অনেক বেশি। জোবাইদা নাসরীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক [] | 8 |
আনুষ্কা শর্মা ও বিরাট কোহলি তাদের মেয়ে ভামিকাকে নিয়ে রয়েছেন ইংল্যান্ডে। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই সেখানে রয়েছেন তারা। লন্ডন ট্রিপ থেকে নিজের ফ্রেশ ছবি শেয়ার করলেন অভিনেত্রী আনুষ্কা। শনিবার দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। যেখানে ফাকা রাস্তায় পোজ দিতে দেখা গেছে অভি্নেত্রীকে। নিয়ন রঙের ছটায় স্নান করছিলেন তিনি। সাদা শার্টের সঙ্গে নীল জিনস এবং প্রিন্টেড ব্লেজারে ধরা দেন আনুষ্কা। পোশাকের সঙ্গে সাদা স্নিকার্স এবং কালো ব্যাগ ক্যারি করেছেন তিনি। ছবিগুলি শেয়ার করে, তিনি একটি বেগুনি হৃদয়ের ইমোজি যোগ করেছেন, যা ছবির সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলেছে। ছবিতে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রীর সহকর্মী, বন্ধু এবং অনুরাগীরা। ধনশ্রী চাহাল, পৃথ্বী আশ্বিন সহ আরও অনেককে ছবিতে প্রশংসা করতে দেখা গেছে। লন্ডন সফরে স্ত্রী আনুষ্কা শর্মা রয়েছেন ক্রিকেটার স্বামী বিরাট কোহলির সঙ্গে। সেখানে স্ত্রীর সঙ্গে ভুরিভোজের জন্য এক রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করেছিলেন তারকা দম্পতি। পরে অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট টিমের অন্যান্য সদস্যরাও হাজির ছিল তাদের সঙ্গে রেস্তোরাঁতে। ট্রেন্ডিল কিচেনের সেফ রিষিম সচদেবা রেস্তোরাঁয় ভারতীয় দলের আগমনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। | 2 |
মুলাদীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা ঝাড়ু মিছিল করেছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় সদর রোডের বেলতলা এলাকায় এই মিছিল করা হয়। বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেন।গত ১৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মুলাদী উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা জানতে পেরে শুক্রবার মিছিল করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পদবঞ্চিত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক প্রার্থী মো. সোয়েব সিকদার, সদস্যসচিব প্রার্থী নজরুল ইসলাম সিকদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্যসচিব প্রার্থী মাসুদ খান রিকু প্রমুখ। | 6 |
মনোবিজ্ঞানী তাজুল ইসলাম যখন অর্ধেক পানির একটা গ্লাস নিয়ে সবার সামনে এলেন, উপস্থিত বেশির ভাগ মানুষই মনে মনে হাসলেন। বেদনা, অসহায়ত্ব কিংবা জীবনের প্রচণ্ড চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, সেই বিষয়ে আজ দেশের প্রতিষ্ঠিত কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন এই মনোবিজ্ঞানী।সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, ডাক্তার, সাংবাদিক, বিচারকসহ নানা পেশার মানুষ আজকের শ্রোতা। সেই কারণেই তাজুল সাহেব যখন একটা গ্লাসে অর্ধেক পানি হাতে নিলেন, বেশির ভাগই ধারণা করলেন, এই মনোবিজ্ঞানী জিজ্ঞাসা করবেন-গ্লাসটা অর্ধেক খালি, না অর্ধেক পূর্ণ? কিন্তু বাস্তবের প্রশ্নটা শুনে সবাই চমকে গেলেন।মনোবিজ্ঞানী তাজুল ভিন্ন এক প্রশ্ন করে বসলেন সবাইকে। জানতে চাইলেন, এই গ্লাসের ওজন কত? উপস্থিত বেশির ভাগই উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন এমন কেউ একজন বললেন, ২৫০ গ্রাম। আরেকজন বললেন ৩০০ গ্রাম। এভাবে একেকজন একেকটা উত্তর দিলেন।সবার উত্তর শুনে মনোবিজ্ঞানী স্মিত হেসে বললেন, আসলে এই গ্লাসের ওজন কোনো ব্যাপার নয়। কারণ, সেটি নির্ধারণ করবে আপনি কতক্ষণ ধরে সেটি ধরে থাকবেন, তার ওপর!উত্তরটা সবার মাথার ওপর দিয়ে গেল। প্রশ্নভরা দৃষ্টিতে উপস্থিত সবাই তাকিয়ে থাকলেন মনোবিজ্ঞানীর দিকে।এরপর ব্যাখ্যা শুরু করলেন মনোবিজ্ঞানী। তিনি বলতে শুরু করলেন, ধরুন, আপনি এক মিনিট গ্লাসটা ধরে থাকলেন। আপনার কাছে তখন মনেই হবে না, এই গ্লাসের কোনো ওজন আছে। বরং আপনি গ্লাসটা হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে এর-ওর সঙ্গে গল্প করতে পারবেন। নানা কাজও করতে পারবেন। নানান ভাবনা ভাবতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনাকে টানা এক ঘণ্টা এই গ্লাস ধরে রাখতে হয়, আপনার আঙুলগুলো ব্যথা হয়ে যাবে। আপনি প্রচণ্ড বিরক্ত হবেন। আর যদি সেটা ছয় ঘণ্টা ধরে রাখতে হয়, কিংবা ১২ ঘণ্টা! আপনার যন্ত্রণা তখন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে!ততক্ষণে সবাই ভাবতে শুরু করেছে, আসলেই তো তাই। ১২ ঘণ্টা ধরে কীভাবে একটা গ্লাস ধরে রাখা যায়!মনোবিজ্ঞানী বলে চলেছেন, যদি ২৪ ঘণ্টা আপনাকে ধরে রাখতে হয় গ্লাসটা, তাহলে আপনার পুরো শরীরই অসাড় হয়ে যাবে। আচ্ছা, আপনাকে যদি বলা হয়, এক সপ্তাহ ধরে রাখতে হবে। কিংবা এক মাস। কেউ কেউ তখন পাগল হয়ে আত্মহত্যার কথাও ভাবতে পারেন।আর যদি বলা হয় আজীবন ধরে থাকতে হবে! পুরো পৃথিবীই তখন আপনার কাছে অর্থহীন মনে হবে। এমনকি বেঁচে থাকাও। অথচ, ভেবে দেখুন, গ্লাসটির ওজন এক বিন্দু বাড়েনি, কমেওনি। আসলে আপনি কতক্ষণ ধরে ছিলেন, সেটার ওপর নির্ভর করেছে এটা কত ভারী! মানুষের জীবনের কষ্ট, যন্ত্রণা, বেদনা, চাপও ঠিক তেমন।মনোবিজ্ঞানী বলে চলেছেন, মানুষের জীবনে যত কষ্টই থাকুক কিংবা যত চাপ, সেটি আসলে কতটা ভারী হবে, তা নির্ভর করে কতক্ষণ আপনি সেটা বহন করে যাচ্ছেন। কাজেই সুস্থভাবে বাঁচতে চাইলে এসব চাপ মুহূর্তের মধ্যে জীবন থেকে বাদ দিন। মুহূর্তের মধ্যে না পারলে সময় নিন। যত দ্রুতসম্ভব ঝেড়ে ফেলুন। কারণ, যত সময় আপনি সেটা নিয়ে ভাববেন, যত সময় সেটা ধরে থাকবেন, আপনার জীবন ততই যন্ত্রণাময় হয়ে উঠবে। একসময় আপনি এই যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারবেন না। কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারবেন না। আপনার পুরো জীবন তখন অসাড় হয়ে যাবে।আশা করছি, আমার এই লেখাটার অর্থ বুঝেছেন। বছর সাতেক আগে আমি ইন্টারনেটে ইংরেজিতে ছোট্ট একটা লেখা পেয়েছিলাম। যার মূল কথা: কোনো যন্ত্রণা আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। আসলে মনোবিজ্ঞান নিয়ে আমার পড়াশোনা নেই বললেই চলে। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি বোধ হয় মানুষের দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা বুঝতে পারি বা অন্তত বোঝার চেষ্টা করি। সেই কারণেই এই লেখাটা লিখি। ছয় বছর আগে। যার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষকে বোঝানো, নিজেকে বোঝানো-যন্ত্রণা বা চাপ আঁকড়ে থাকতে নেই। আমাদের নগরজীবনে এমনিতে নানা সংকট। এর মধ্যে গত বছর থেকে করোনা মহামারি চলছে। অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। মানসিক চাপ নানান ভাবে আমাদের ঘিরে ধরেছে। তাই মনে হলো এই কথাগুলো লিখি।একটু ভেবে দেখেন, আপনার আমার প্রত্যেকের জীবনে অনেক যন্ত্রণা, অনেক কষ্ট আছে। কারও ব্যক্তিজীবনের কষ্ট, কারও পারিবারিক, কেউ চাকরি খুঁজছেন, কেউ চাকরি নিয়ে হতাশ, কেউ চাকরি ছেড়ে দিতে চাইছেন, কাউকে আবার চাকরি ছেড়ে দিতে চাইছে, কারও আবার সামাজিক বা পারিবারিক নানা সংকট। আসলে সংকট বা চাপ ছাড়া কারও জীবন নেই।মনে রাখবেন, যা হওয়ার তা হবেই। কাজেই যা হওয়ার তা হোক। নিজে কোনো কিছু জটিল না করে সরল পথে চলুন। পারলে আরেকজনের বিপদে পাশে থাকুন। মানবিক হোন। আর জীবনের কষ্ট বা চাপের সেই গ্লাসটা চলুন নামিয়ে রাখি। যত দ্রুত এই চাপটা নামাতে পারবেন ততই স্বস্তি। ভালো থাকুন সবাই। ভালো থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ।লেখক সংবাদকর্মী | 8 |
ক্যারিবীয় সফরে নিল ম্যাকেঞ্জি তামিম-মুশফিকদের ব্যাটিং পরামর্শকের দায়িত্ব নেন। ওই ওয়ানডে এবং টি২০ সিরিজে পুরো বাংলাদেশ তো বটেই, দারুণ খেলেছেন তামিম ইকবাল। আর এই দারুণ খেলার পেছনে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ওপেনার। তামিম বলেন, 'যখন আপনি কোনো খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাবেন, আপনার মাথায় অনেক নেতিবাচক চিন্তা আসবে। এই সময় নিজের দিকে মনোযোগ দেওয়া খুব কঠিন। আপনার শক্তির জায়গা কী সেটাই আপনি ভুলে যাবেন। মনোযোগ এবং শক্তির দিকটা ধরতে পারলেই দ্রুত সাফল্য পাওয়া সম্ভব।' বাংলাদেশের ব্যাটিং পরামর্শকের মতো কেউ তখন খুব দরকারি হয়ে ওঠেন- এমনমন্তব্য করে বাঁ-হাতি ওপেনার বলেন, 'আপনার খারাপ সময়ে এমন কাউকে দরকার যে আপনার শক্তির জায়গাগুলো মনে করিয়ে দেবে। আর তার জন্য ম্যাকেঞ্জির মতো কাউকে ড্রেসিং রুমে দরকার আছে।' দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাকেঞ্জি প্রোটিয়াদের হয়ে ১৪২ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। শ্রীলংকার থিলান সামারাভিরার পরে বাংলাদেশ দলেরব্যাটিং পরামর্শকেরদায়িত্ব নেওয়াম্যাকেঞ্জির সঙ্গে চুক্তি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নতুন এই পরামর্শক পেয়ে উচ্ছ্বসিত বলে জানান তামিম। তার মতে, ম্যাকেঞ্জিকে পেয়ে তিনি আগের তুলনায় ৫-১০ শতাংশ ভালো ব্যাটিং করেছেন। তামিম ইকবাল মনে করেন, টেস্ট সিরিজে বাজেভাবে হারের পর ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির উপস্থিতি দলকে বদলে দেয়। তামিম জানান, 'আমরা টেস্টে আরও ভালো খেলতে পারতাম। তবে ওয়ানডে সিরিজে মাশরাফি ভাইয়ের উপস্থিতি দলের ঘুরে দাঁড়াতে বড় অবদার রেখেছে। তিনি আমাদের কারোও হয়ে মাঠে ব্যাট বা বল করে দেন না। কিন্তু ড্রেসিং রুমের আবহে বড় পরিবর্তন আনেন। দলের মধ্যে তিনি ইতিবাচক একটি সুর আনেন। যা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।' | 12 |
এক সময়ের আলোচিত নায়িকা সুমনা জনা। ৪০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করা এই নায়িকা চলচ্চিত্রকে বিদায় জানিয়ে পাড়ি জমান আমেরিকায়। বর্তমানে সেখানে স্বামী-সন্তান নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও মাঝেমধ্যেই দেশে আসেন। সম্প্রতি ঢাকায় এসে জনা সাবেক স্বামী চিত্রনায়ক শাকিল খানের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তার অভিযোগ, 'শাকিল তার আর আমার একমাত্র সন্তান আরিয়ান খানের দায়িত্ব নেননি। তার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে অর্থাৎ ২০০৩ থেকে আরিয়ান আমার সঙ্গেই আছে। ওর বয়স এখন ১৮।' জনা বলেন, 'প্রতিবেশীদের মতো মাঝেমধ্যে খবর নেয়। যেমন তার যখন বিয়ে হয়নি তখন সে নিয়মিতআসতো। ওর বয়স সাত-আট বছর তখন প্রতিবার ঈদে ওকে (আরিয়ান) নিয়ে শপিংয়ে যেত। এরপর ২০১৮ সালেও এসেছিল। তখন ও বাবাকে ঠিকমত চেনেও না। ও যেতে চায়নি। তারপরে মা জোর করে পাঠিয়েছেন।' উল্লেখ্য, ২০০২ সালে 'হৃদয়ের বাঁশী' সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে নায়িকা জনার। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম এ সিনেমায় তিনি নায়ক হিসেবে পান শাকিল খানকে। সে বছরই তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। যদিও পরের বছরই তাদের বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারেরই সাক্ষী হয়ে আছে তাদের একমাত্র সন্তান আরিয়ান। পরে ২০০৯ সালে জুবায়ের হোসেইন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হন নায়িকা জনা। অন্যদিকে, শাকিল খান চলচ্চিত্র ছেড়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। তিনি তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখে আছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও সিনেমা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। সর্বশেষ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তিনি কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যদিও তিনি নির্বাচনে হেরে গেছেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের মূল ভাবনা ও নির্দেশনায় আবারো মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে পুতুলনাট্য 'মুক্তি আলোয় আলোয় ... আই অ্যাম দ্য লাইট'. আগামী রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এটি মঞ্চায়িত হবে। শৈশব থেকে নির্যাতনের শিকার এক কিশোরীর (রত্না) জীবনের গল্প অবলম্বনে নাটকটি রচিত হয়েছে। রত্না বাংলাদেশ হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দলের একজন সদস্য। পুতুলনাট্যটির চিত্রনাট্য ও সংগীত পরিচালনা করেছেন এজাজ ফারাহ এবং এটি পরিবেশনায় পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) চিকিৎসারত একদল হার না মানা তরুণ-তরুণী। নওশাবা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই হুইলচেয়ার যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করেছি। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, তেমনি তারা যে শিল্পসমাজেও নিজেদের প্রতিভা ফুটিয়ে তুলতে পারে- সেটাই পুতুলনাট্যটির মাধ্যমে বাস্তবে রূপায়িত করবেন আমাদের হুইলচেয়ার পাপেট শিল্পীরা। সিআরপি'র অনুপ্রেরণায় পুতুলনাট্য 'মুক্তি আলোয় আলোয়...আই অ্যাম দ্য লাইট' আয়োজন করছে- টুগেদার উই ক্যান। এতে সহযোগিতা করবে- ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইএমকে সেন্টার, সিআরপি ও ব্রিটিশ কাউন্সিল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। | 2 |
কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আগামী দুই বছর পর নির্বাচন। এ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারবিরোধী দল নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা নানা ধরনের মিথ্যাচার করছে। আমি মনে করি, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, নানা কারণে দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। বিএনপির পায়ের নিচে মাটি নেই। তারা যদি মনে করে এই দ্রব্যমূল্যের সামান্য কিছু ঊর্ধ্বগতির জন্য দেশে একটা অরাজকতা সৃষ্টি করবে, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। এমনটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে মহিলা আওয়ামী লীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের দুঃখ-কষ্টে সবসময় মানুষের পাশে আছে। আমরা আজকে টিসিবির মাধ্যমে দেশের এক কোটি মানুষকে স্বল্পমূল্যে জিনিসপত্র দিচ্ছি। আমাদের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। দেশে কোনো হাহাকার হবে না, তারা কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। মন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন করবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নির্বাচনকে সহযোগিতা করা। যারা দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চায়, দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তাদের রাজনৈতিকভাবে আমরা মোকাবেলা করবো। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাফিয়া খাতুন।সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক। বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আালমগীরসহ নেতারা। | 6 |
'কার সাথে পাঁচ বছর প্রেম করলাম সেটাই বুঝলাম না। এতোটা ভালোবেসে যাকে বিয়ে করলাম সেই কিনা এখন অবহেলা করছে। মনে হচ্ছে আমাকে পাওয়ার পর সাগরের চাওয়া শেষ হয়ে গেছে।' বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে নিজের দাম্পত্য অবস্থান সম্পর্কে অনেকটা আক্ষেপ করে এমনটাই বললেন মডেল ও অভিনেত্রী শম্পা। ২০০৭ সালে একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলের রিয়্যালিটি শো'র মাধ্যমে রূপালী জগতে আলোচনায় আসেন সাগর ও শম্পা। এরপর বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র, নাটক ও মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেন তারা। এরপর বাধা পড়েন প্রেম-প্রণয়ে। এ ধারাবাহিকতায় গত বছর আগস্টে বিয়ের পীড়িতে বসেন সাগর ও শম্পা। কিন্তু বছর গড়াতে না গড়াতেই বিচ্ছেদের সুর বেজে উঠল তাদের সংসারে। গত ডিসেম্বর থেকে আলাদা থাকছেন তারা। এমনকি সাগরকে পাঠানো হয়েছে ডিভোর্সের নোটিশও। ডিসেম্বরে পাঠালেন আর এখনও জবাব পাননি, এমন প্রশ্নের উত্তরে শম্পা বলেন, 'আমিও সাগরের কাছে এটা আশা করিনি। এখন মনে হচ্ছে সে নিজেই চাইছিলো সম্পর্কটা এরকম পর্যায়ে গড়াক। তার সঙ্গে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আচরণ পেয়েছি প্রেমিকের, পাইনি দায়িত্ববোধ একজন স্বামীর। বিয়ের কিছুদিনের মাথায় আমরা যে যার বাড়িতে থাকতে শুরু করি। এমনকি লোক চক্ষুর আড়াল হতে আমি চলে যাই ময়মনসিংহে। শেষ পর্যন্ত সংসারকে আর টিকিয়ে রাখতে পারলাম না।' শম্পা আরও বলেন, 'ডিসেম্বরে আইনী নোটিশ পাঠালেও অনেকেই জানতেন না। আত্মীয়স্বজনরাও বুঝতে পারেননি আমাদের মাঝে কি হচ্ছে। ওই যে বললাম চেষ্টা করেছি মানিয়ে নিতে। হয়তো পারলাম না। সব মিলিয়ে বিচ্ছেদটা মনে হয় হয়েই যাবে। তবে এতটুকু বলতে পারি সাগরকে এখনও আমি ভালোবাসি।' সাগর যদি ফের মানিয়ে নিতে চায় তাহলে কি ফিরে যাবেন তার ঘরে? এমনটা জানতে চাইলে শম্পা বলেন, 'এটা মনে হয় আর হবে না। তাছাড়া ওর যদি ইচ্ছা থাকতো তাহলে এতদিন দেরি না করে অন্তত কিছুটা জানাতে পারত। অথচ নোটিশের জবাব না দিয়ে টেলিফোন যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে। এবার আপনারাই বলুন সে কি আর ফিরবে।' এদিকে, বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সাগর বলেন, ডিভোর্স লেটার পাওয়ার পর পরই শম্পাকে অনুরোধ করেছি সে যেন এটা প্রত্যাহার করে। কারণ এটি তার পাঠানো নোটিশ। জবাব দেওয়ার কিছু নেই। ইচ্ছে ছিল সে যেন তা প্রত্যাহার করে আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। হয়তো সংসারের এই জীবন যুদ্ধে হেরে গেলাম। তবে শম্পা যদি চায় নোটিশটি প্রত্যাহার করে আমার কাছে আসতে পারে। বাকিটা এখন তার ওপর ছেড়ে দিলাম।
বিডি-প্রতিদিন/২০ মার্চ, ২০১৬/মাহবুব | 2 |
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে দেশবাসীকে একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে পুরুলিয়ায় সোমবার মিছিল শুরুর আগে বিজেপিকে নিশানা করে এ বার্তা দেন তিনি। মমতা বলেন, 'এনআরসির নামে দেশ থেকে মানুষকে বিতাড়িত করার চক্রান্ত করছে বিজেপি। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি। জোট বাঁধুন, তৈরি হন। সারাদেশে বিজেপিকে একা করে দিন।' খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। পুরুলিয়ায় মিছিল শুরুর আগে মমতা বলেন, 'নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ জারি থাকবে। এই আন্দোলন গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন। কাউকে তাড়ানোর অধিকার বিজেপির নেই। দেশের সব জায়গায় এই আন্দোলন হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তাই তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা আজ বিপদের মুখে।' প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় প্রথম থেকেই সোচ্চার তৃণমূল সুপ্রিমো। ৩ জানুয়ারি শিলিগুড়িতে একই ইস্যুতে পথে নামার কথা রয়েছে মমতার। এর আগে কলকাতায় চারটি ও হাওড়া থেকে কলকাতার ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত নাগরিকত্ব আইন-এনআরসি বিরোধী মিছিল করেছে তৃণমূল। দলনেত্রীর নির্দেশে প্রতিটি জেলা, বিধানসভা ও ব্লকে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে পদযাত্রা হয়েছে। | 3 |
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সদরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১০ দিন আগের এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকালে ওই ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় রুবেল দাশ (২৫) নামে এক তরুণকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব মিল্কী বলেন, 'গত ২৪ মার্চ আনোয়ারা সদরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে তাদের পাশের বাসার বাসিন্দা রুবেল দাশ জোর করে ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। রবেলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।' স্থানীয়রা জানান, ঘটনা জানাজানি হলে রুবেল স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ওই শিশুর বাবা রাজি না হয়ে মামলা করেন। | 6 |
বলিউড অভিনেতা ও পরিচালক মহেশ মাঞ্জরেকার ক্যান্সারমুক্ত হয়েছিলেন। "অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ" সিনেমার শুটিং এর শেষের দিকে এসে জানতে পারেন তিনি মূত্রাশয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত। এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পরে তার ৩৫ কেজি ওজন কমেছে। বর্তমানে তিনি ক্যান্সারমুক্ত। সম্প্রতি সালমান খান ও আয়ুষ শর্মা অভিনীত "অন্তিম" ছবির ট্রেলারও প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। ছবির কাজ শেষ করে সার্জারি করান তিনি। মহেশ বলেন, "আমি ভাগ্যবান যে কেমোথেরাপি আমাকে প্রভাবিত করেনি। শুটিংয়ের সময়তেই আমার কেমো চলছিল। তারপর সার্জারি করা হয়। হয়তো কাজের প্রতি ভালোবাসাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছিল শুটিং চালিয়ে নিয়ে যেতে। আমি ততটা ভয় পাইনি। বরং, ভাবতাম এমন অনেকে আছে যারা ক্যান্সারকে হারিয়ে দিয়েছে।" মহেশ মাঞ্জরেকার -"কাঁটে", "দাবাং", "মুসাফির", "জিন্দা", "স্লামডগ মিলিওনেয়ার", "বাস্তব"-র মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ট্রেলারে লঞ্চ অনুষ্ঠানেই নিজের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়া নিয়ে কথা বলেন তিনি। এসময় সালমান খান বলেন, "শুটিংয়ের সময় আমাদের কাউকে কিছু জানাননি তিনি। কাজ শেষ করে অপারেশন করিয়ে নেন।" | 2 |
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মসজিদে আগুন, নারীর শ্লীলতাহানি, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নুরুল ইসলাম। আজ রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব বলেন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে উগ্রবাদীরা কয়েক দিন ধরে মুসলিমদের ওপর লাগাতার হামলা ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পবিত্র মসজিদও। বিবৃতিতে বলা হয়, উগ্রবাদীরা গত কয়েক দিনে ১৬টি মসজিদে কমপক্ষে ২৭টি হামলা চালিয়েছে। ৩টি মসজিদে আগুন দিয়েছে। এ ছাড়া তারা মুসলিমদের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর করেছে এবং মুসলিম নারীদের শ্লীলতাহানি করেছে। এত কিছুর পরও কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি-শাসিত ত্রিপুরা রাজ্যের প্রশাসন নিষ্ক্রিয় রয়েছে। একের পর এক হামলার ঘটনার পরও সংখ্যালঘু মুসলিমদের রক্ষায় চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। বিবৃতিতে নুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনোরকম ছোটখাটো হামলা হলেও ভারতের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সরকার পর্যন্ত উঠেপড়ে লাগে। কিন্তু নিজ দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর এভাবে লাগাতার নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও এসব দমনে কোনো ভূমিকা রাখছে না। তিনি বলেন, ভারত সরকারকে অবিলম্বে মুসলিমদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হেফাজতের মহাসচিব জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে ভারতের নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। | 9 |
রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলার সাক্ষী এমপি পুত্র বখতিয়ার আলম রনির গাড়িচালক ইমরান ফকির আদালতে দুই রকম জবানবন্দি দিয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা মাহানগর হাকিম আদালতের বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় বলেছেন, হঠাৎ তিনি (রনি) কিছু না বলে পিস্তল বের করে ৪/৫ রাউন্ড গুলি করে। আমি কিছুই বুঝতে পারি নাই। তার কিছুক্ষণ পর রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেলে আমি টান দিয়ে চলে যাই। কিন্তু রবিবার সাক্ষী দিতে এসে ইমরান ফকির জবানবন্দিতে বলেন, সোনারাঁও হোটেল থেকে মগবজার মোড় ঘুরে বাংলামোটরের দিকে যাই। আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম। এক সাইডে রাস্তা বন্ধ ছিল। রনি সাহেব আমার পাশের ছিটে বসা ছিল। সামনে একটা ট্রাক ছিল। রনি সাহেবের হাতে পিস্তল ছিল। আমি পিস্তলের আওয়াজ পাই। পরে আমি গাড়ি চালিয়ে চলে যাই। রবিবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ সালাউদ্দিন সাক্ষীর এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে সামান্য যানজটে পড়ে উত্তেজিত হয়ে প্রাডো গাড়ি থেকে নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি। এ ঘটনায় আহত হন অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম। পরে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপরে নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে ১৫ এপ্রিল রাতে রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ঘটনার তদন্ত করে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক দীপক কুমার দাস। বিডি-প্রতিদিন/০৮ অক্টোবর, ২০১৭/মাহবুব | 6 |
অভিমানে ছাত্রলীগ ছাড়ছেন রাজশাহী মহানগরের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। রকি কুমার ঘোষ লিখেছেন, 'সময় এসেছে হটে (সরে) দাঁড়ানোর। গত সোমবার ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান হয়নি রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের এই নেতার।এর প্রতিক্রিয়ায়তিনি ফেসবুকে লেখেন, 'এখন যেভাবে রাজনীতির পরিবেশ অতিবাহিত হচ্ছে তাতে রাজনীতি করাই ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।' রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগে তার এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজীবের অবদান উল্লেখ করে রকি লেখেন, 'ধীরে ধীরে সংগঠনটি সার্কাসে পরিণত হচ্ছে। তাই সম্মান থাকতে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়াই ভালো হবে মনে হয়। নেতাদের দালালি করে বড় হয়ে লাভ কী! বরং একজন সৎ কর্মী হয়ে বেঁচে থাকা অনেক সন্মানের!' এ স্ট্যাটাস দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রকি কুমার ঘোষ বলেন, 'ছাত্রলীগে এখন যেটা চলছে সেটা কোনো রাজনীতিই নয়। রাজনীতির অংশও নয়। তবে এটা শুধু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটাই অনেকটা এ রকম।' তিনি বলেন, 'ছাত্রলীগ করবে তারা যারা সবার আগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে আর সবার শেষে বের হবে। কিন্তু তা কি হচ্ছে? নতুন মুখ দিয়ে কমিটি। বিতর্কিতরা কমিটিতে। আর যারা ত্যাগী নেতা তাদের জায়গা নেই।' 'আমাদের রাজশাহীর কথাই ধরুন, এখানে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের নাতনি অর্ণা জামান আছেন, তাকেও কমিটিতে রাখা হয়নি এবার। পুরো বিভাগে ছাত্রলীগ করা বড় বড় নেতা আছে। তাদের কোনো মূল্যায়ন নেই। এটা রাজনীতি হতে পারে না।' ছাত্রলীগ ছাড়ার প্রশ্নে রকি বলেন, 'একটা সময় তো ছাত্রলীগ ছাড়তেই হবে। আমি মনে করি, এখনই উপযুক্ত সময়। ছাত্রলীগ ছেড়ে অন্য সংগঠন করব। যুবলীগ আছে, স্বেচ্ছাসেবকলীগ আছে। আমাদের অভিভাবক নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আছেন, তিনি যেটাতে জায়গা দেবেন সেটা করব। যতদিন জায়গা না দিবেন, অপেক্ষা করব।' বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, 'উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশে নতুন শিল্প বিপ্লব ঘটাতে হবে। আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। এ জন্য দেশে কৃষির পাশাপাশি শিল্প খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে হবে।' শুক্রবার ঢাকায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফরহাদ হোসেন বলেন, দেশের শিল্পখাতের আরও উন্নয়ন ঘটাতে হলে অধিক পরিমাণে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। দেশে অনেক কর্মক্ষম যুবক ও তরুণ রয়েছে। তাদেরকে খুঁজে বের করে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই নতুন নতুন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে। বিসিককে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেপ্রতিমন্ত্রীবলেন, 'আমরা যেসব পণ্য আমদানি করি সেগুলো বাংলাদেশেই উৎপাদন করতে হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এ বিষয়ে বিসিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।' তিনি এ সময় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। বিসিকের চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল হালিম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। | 6 |
ভারতের পুনে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্ডিয়ান সিনেমা বিভাগে প্রতিযোগিতা করছে সিনেমা 'আ হলি কন্সপাইরেসি'। সিনেমায় প্রধান তিনটি চরিত্রের একটিতে অভিনয় করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মূকাভিনেতা পার্থপ্রতিম মজুমদার। সিনেমাটিতে তাঁর অন্য দুই সহ-অভিনেতা ছিলেন ভারতের খ্যাতিমান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরউদ্দিন শাহ। সম্প্রতি পুনে উৎসবে সিনেমাটির দুটি প্রদর্শনী হয়। দর্শকদের সাড়ায় উচ্ছ্বসিত তিনি। উৎসবটি শেষ হবে বৃহস্পতিবার। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে পারেননি পার্থপ্রতিম মজুমদার। তবে সিনেমাটি দর্শক খুবই পছন্দ করেছেন, সেই খবর সিনেমাটির পরিচালক শৈবাল মিত্রের কাছ থেকে শুনেছেন এ অভিনেতা। ফ্রান্স থেকে ফোনে পার্থপ্রতিম মজুমদার বলেন, 'সিনেমাটির ভারতের প্রিমিয়ার আমাদের জন্য অনেকটাই বিশেষ ছিল। সিনেমাটির গভীর অর্থ রয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো সিনেমাটি ভারতে নিষিদ্ধও হতে পারে। কিন্তু এই বছর সিনেমাটি ভারতের সেন্সর বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট পেয়েছে। অবশেষে সিনেমা ভারতের দর্শকেরা দেখেছেন। শুনেছি, সিনেমার দুটি প্রদর্শনীই হাউসফুল ছিল। এমনকি সিনেমা শেষ হওয়ার পরেও দেড় মিনিট ধরে দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে প্রশংসা করেছেন। নির্মাতার কাছ থেকে শুনে বেশ ভালো লেগেছে। উৎসবে উপস্থিত থাকতে পারলে হয়তো আরও ভালো লাগত।' পশ্চিমবঙ্গের হিল্লোলগঞ্জের একটি চার্চের পাদরি প্যাস্টর হেড়ম্বচন্দ্র। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন পার্থপ্রতিম মজুমদার। যিনি আদিবাসী এলাকার মানুষের মধ্যে ধর্মের বাণী ছড়িয়ে দেন। ঘটনাক্রমে সিনেমায় প্রকৃতির নানা প্রসঙ্গ আসে। গল্পে নতুন মোড় নেয়। সাম্প্রদায়িকতা, অসহিষ্ণুতা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতিবাদ নিয়ে সিনেমাটিতে যোগ হয় নতুন চরিত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরউদ্দিন শাহ। পার্থপ্রতিম মজুমদার বলেন, 'ভারতবর্ষের দুই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেতার সঙ্গে স্ক্রিন ভাগ করে নিয়েছি এবং একই সঙ্গে একটা উচ্চমানের ক্ল্যাসিক ফিল্মে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। দারুণ এই সিনেমাটি একদিন উপমহাদেশের ফিল্ম আর্কাইভে স্থান পাবে বলে আমার বিশ্বাস।' কলকাতার শান্তিনিকেতন থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে আড্ডা হতো সিনেমাটির পরিচালক শৈবাল মিত্র, পরিচালক ব্রাত্য বসু, শান্তনু ঘোষসহ অনেক অভিনেতা ও গুণী ব্যক্তিদের সঙ্গে। এভাবের একদিন শৈবাল মিত্র তাঁকে সিনেমায় জন্য প্রস্তাব দেন। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পার্থপ্রতিম মজুমদার বলেন, 'একদিন সন্ধ্যায় হাওড়ার পাশের একটি চার্চে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি দৃশ্যের শুটিং ছিল। তাঁর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ অনেক বড় পাওয়া। শুটিংয়ে সেদিন তিনি আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, আমার বাড়িতে এসো। আমি কিন্তু আর বাঁচব না। তখন আমি বলেছিলাম, ডাবিং এবং শান্তিনিকেতনের একটি কাজ শেষেই আমাকে ফ্রান্সে যেতে হবে। সময় পেলে অবশ্যই আপনার বাসায় গিয়ে দেখা করে আসব। দিনটি ছিল ২০১৯ সালের ২১ মে। বিদায় নেওয়া সময় তিনি আবার বলেছিলেন, আর দেখা না দেখা হলে এটাই আমাদের শেষ দেখা, ভালো থেকো। পরে দ্রুত কাজ শেষে করেও সময়ের অভাবে আমাদের আর দেখা হয়নি। ঘটনাটা এখনো আমাকে কষ্ট দেয়।' বিখ্যাত আমেরিকান নাটক 'ইনহেরিট দ্য উইন্ড' অবলম্বনে সিনেমাটির গল্প। পার্থপ্রতিম মজুমদার জানালেন, সিনেমাটি আগামী বছর মার্চে ভারতে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাবে। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই মূকাভিনয়শিল্পী ২০১১ সালে ফরাসি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সেরা সম্মান 'নাইট' উপাধি লাভ করেন। মূকাভিনয়ের পাশাপাশি তিনি মঞ্চ ও বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশে পরিচিত হয়ে ওঠে মূকাভিনয়। | 2 |
বলিউডের পার্টিগুলো ভণ্ডামিতে ভরা বলে মন্তব্য করেছেন শক্তিমান অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। এই জন্য তিনি খুব একটা পর্টিগুলোতে যাননা বলেও জানিয়েছেন। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী বলেন,'বলিউডের পার্টিগুলোতে প্রাণের ভীষণ অভাব। তাছাড়া মিথ্যা ব্যাপারস্যাপার এবং ভণ্ডামিতে ভরা, যা আমার একেবারেই পছন্দ না' পর্দায় যেমন সাধারণ অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনেও নওয়াজ ঠিক তেমনই বলে জানান। শোআপ পছন্দ নয় তার। পছন্দ নয় মিথ্যে সম্পর্কও। এ অভিনেতা বলেন, 'পর্দায় আমার অভিনীত চরিত্রগুলির মতো বাস্তবেও ভীষণ সাধারণ আমি। তাই বলিউডের ঝাঁ চকচকে পার্টির মধ্যে থাকার তুলনায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে বেশি ভালো লাগে আমার। তাই কাজের বাইরে তাদের সাথেই বেশি সময় কাটাই।' নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইম জনায়, ভণ্ডামি ব্যাপারটাকে তিনি কখনোই বরদাশত করতে পারেন না। আর ঠিক এই কারণেই বলিউডের পার্টিতে হাজির হতে অনীহা তার। | 2 |
চীনে চলমান 'শূন্য কোভিড' নীতির কারণে বিপাকে পড়েছে দেশটিতে থাকা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো। দেশটিতে করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউন চলায় সেখানে ব্যবসা চালানো বড় বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো বড় ব্যবসায়িক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীনের সাংহাইসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে কয়েক সপ্তাহ ধরে লকডাউন চলছে। এতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যাপক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এমনিতেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে ক্ষতির শিকার হওয়া কোম্পানিগুলো নিজেদের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর সঙ্গে চীনের করোনা পরিস্থিতি তাদের বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি শহরে পূর্ণ বা সীমিত পরিসরের লকডাউন চলছে। এতে ছোট তো বটেই বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্কিনকেয়ার খাতের বহুজাতিক কোম্পানি এসটি লডার (ইএল) এরই মধ্যে নিজেদের পূর্বঘোষিত আয়-প্রাক্কলনে কলম দাগাতে বাধ্য হয়েছে। তারা জানিয়েছে, চলতি বছর যে আয় হবে বলে তারা ভেবেছিল, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তেমনটি তারা করতে পারবে না। আগে চলতি বছরে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ হবে বলে তারা জানালেও নতুন প্রাক্কলনে এ প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৯ শতাংশ হবে বলে তারা জানিয়েছে।চীন বৈশ্বিক বাজারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বর্তমান পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়িক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না মার্কেট রিসার্চ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেন ক্যাভেন্ডার সিএনএনকে বলেন, 'পছন্দ করুন, আর না করুন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হলে আপনাকে মানতেই হবে যে, চীন বিশ্বের বৃহত্তম বাজার। আর এটিই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎপাদন ক্ষেত্রও। আপনার পণ্যের সরবরাহ চেইনের একটি বড় অংশই এই দেশটির নিয়ন্ত্রণে।'চীনের সাংহাইয়ে লকডাউন চলছে ছয় সপ্তাহ ধরে। ফলে কোটি মানুষ এখন আক্ষরিক অর্থেই ঘরবন্দী হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষ অনুমতি না মিললে ঘর থেকে বের হতে পারছে না সাংহাইবাসী। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যবসার ওপর। অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হলেও এর ব্যবসাকেন্দ্রগুলো এখন নীরব বলা যায়। গত এক মাসে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই দেশের অর্থনীতিতে বড় মন্দা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ভোক্তাদের ব্যয় শুধু নয় কর্মসংস্থানও সংকুচিত হয়েছে।কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তো এতটাই সংকটে পড়েছে যে, তারা এমনকি পূর্বাভাস দেওয়ার পর্যায়েও নেই। সিএনএনের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে স্টারবাকস আগামী ছয় মাসের জন্য তাদের যাবতীয় অর্থনৈতিক নির্দেশনা রদ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাওয়ার্ড শুলজ বলেছেন, 'এই সময়ে এটিই একমাত্র দায়িত্বশীল অবস্থান। চীনের পরিস্থিতি অভাবনীয়। চলতি বছর দেশটিতে আমাদের ব্যবসা পরিস্থিতি কেমন হবে, তা আগে থেকে অনুমানের কোনো ক্ষমতাই আমাদের নেই।'একই কথা জানিয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড গুচি ও বোটেগা ভেনেটাও। তারাও বলছে, চীনে তাদের প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা সম্পর্কে আগে থেকে অনুমানের কোনো সুযোগ নেই। এখন শুধু অপেক্ষা করা যেতে পারে।চীনকে কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোও বড় সংকটের মধ্যে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের উৎপাদন কারখানা চীনের বাইরে সরিয়ে নিয়েছিল, তারা এখন কিছুটা স্বস্তির শ্বাস ফেলছে। যদিও ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানই কম-বেশি চীনের কোভিড নীতির কারণে বিপাকে রয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল এরই মধ্যে জানিয়েছে, তারা বড় ধরনের লোকসানে পড়তে পারে। কারণ হিসেবে তারা চীনের কোভিড-নীতির কথাই বলেছে। চলতি প্রান্তিকে শুধু সরবরাহ চেইনে হওয়া সংকটের কারণেই তাদের ৪০০ থেকে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের লোকসান হতে পারে।গত মাসে একই রকম বার্তা এসেছিল আরেক প্রযুক্তি মুঘল মাইক্রোসফটের কাছ থেকে। তারা জানিয়েছিল, চীনে উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় তাদের সারফেস ল্যাপটপ ও এক্সবক্স কনসোলের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে, যা চলতি প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয়ে বড় প্রভাব ফেলবে। শুধু মাইক্রোসফট নয়, বিশ্বের সেরা কম্পিউটার ব্র্যান্ডগুলোর কারখানা বলতে হবে চীনকে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এখন সংকটে রয়েছে। বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। সম্প্রতি ফক্সওয়াগন ও টয়োটার উৎপাদন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা অন্তত এর সাক্ষ্যই বহন করছে।টুইটার কেনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা ইলন মাস্কের কোম্পানি টেসলাও যাচ্ছে একই বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত সপ্তাহে জানায়, টানা কয়েক সপ্তাহ বন্ধ রাখার পর চীনে নিজেদের কারখানা আবার চালু করে টেসলা। কিন্তু দেশটিতে চলা লকডাউন ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহ সংকটের কারণে তা আবার বন্ধ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে টেসলার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।চীন সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা শূন্য কোভিড-নীতিতে অটল। | 0 |
উপকরণ: লইট্টা মাছের শুঁটকি ১০-১২টি, বেগুন ২টি, আলু ২টি (লম্বা করে কাটা), পেঁয়াজ ২টি (কুঁচি), রসুন অর্ধেকটা (কিছু কুঁচি, কিছু আস্ত), তেল ১ টেবিল চামচের ৩ ভাগের ১ ভাগ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনিয়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, জিরাবাটা ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো ও ঝোলের জন্য পানি পরিমাণমতো। প্রণালি: লইট্টা মাছের শুঁটকি ভালো করে পরিষ্কার করে কেটে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর চুলায় পাত্র বসিয়ে দিয়ে ওপরের উপকরণ দিয়ে মশলা কষিয়ে নিন। এর মধ্যে শুঁটকি ঢেলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ২-৩ মিনিট রান্না করে নিতে হবে। ঢাকনা খুলে এতে আলু দিন, কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। কষানো হলে বেগুন দিয়ে আবার ১-২ মিনিট রান্না করেন। পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে লবণ চেখে নামিয়ে নিন। উপকরণ: লইট্টা শুঁটকি ১০টি, সারা রাত ধরে ভেজানো বিউলির ডাল সিকি কাপ, টমেটো ২টি, তেল সিকি কাপ, মরিচ ১ চা-চামচ, মিষ্টি মরিচ ৩ টেবিল চামচ, ধনিয়াগুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদ ১ চা-চামচ, রসুন ১টা বড় আস্ত (কিছু কুঁচি করা), পেঁয়াজকুচি ২টি, লবণ স্বাদমতো ও কাঁচা মরিচ ৫-৬টি। প্রণালি: প্রথমে শুঁটকি ভলো করে পরিষ্কার করে কেটে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। চুলায় হাঁড়ি বসিয়ে পাত্রে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুন ২-৩ মিনিট হালকা রান্না করে নিতে হবে। পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে এর সঙ্গে শুঁটকিসহ ওপরের সব উপকরণ কষিয়ে নিতে হবে ৫-৬ মিনিট। কষানো হয়ে গেলে ঝোলের পানি দিয়ে ঢেকে দিন। আরও ৭-৮ মিনিট রান্না করুন। লবণ চেখে নামিয়ে নিন। | 4 |
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই টি-২০ সিরিজ জয় লাভ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। ম্যাচ শেষে এক অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, কোচসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচেও টাইগাররা সে ধারাবাহিকতা ধরে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। আশা করছি, পারফরম্যান্সের এ ধারাবাহিকতা সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে বজায় রাখতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন অপ্রতিরোধ্য শক্তি। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সার্বিক সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করছি। | 12 |
টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি তিন সংস্করণেই অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পেল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) ৫ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারায় বাংলাদেশ। এর আগে ৪ বার টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সবকয়টি ম্যাচই ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আর প্রত্যেকবারই বাংলাদেশ হেরেছিল। এদিন, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান করে বাংলাদেশ। সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে নাসুম আহমেদের স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ১০৮ রানে অলআউট হয় অজিরা। এর ফলে, অজিদের ২৩ রানে হারিয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। একই সঙ্গে টাইগাররা পেল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয়। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া দলকে হারানোর ব্যাপারে একটাই চাওয়া ছিল যেন আমরা জয় পাই। কাল আমি দোয়াও করছিলাম যে, আল্লাহ এখনও আমরা একটা ম্যাচও জিতিনি, যেন এবার জিততে পারি। তো সবাই মিলে চেষ্টা করেছি, আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি। সবার ইচ্ছা ছিল ভালো কিছু একটা করে দেখানোর। ওই ইচ্ছের কারণে আমরা সফল হয়েছি। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 12 |
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা ও পৌর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শাহরিয়ার ফয়সালকে আহ্বায়ক ও আরিফুর রহমান মিস্টারকে সদস্যসচিব করে উপজেলা এবং মাহিদুল ইসলাম রিপন মিয়াজিকে আহ্বায়ক ও মাজহারুল ইসলাম বিপ্লবকে সদস্যসচিব করে পৌর কমিটি গঠন করা হয়।গত বুধবার রাতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।এ ছাড়া উপজেলা কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আবুল কালাম শুভ চৌধুরী, জহির হোসেন, আলী হোসেন, ফারুক উদ্দিন বাবর, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, রুবেল রানা, চৌধুরী রোকন, বিল্লাল হোসেন, মিলন পাঠান।পৌর কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন হিরণ মিয়াজি, নাঈম হোসেন, আবুল খায়ের, কাউছার আলম শাহীন, রিপন পাটওয়ারী, ইব্রাহীম মুসা, রহিম পাটওয়ারী, মাসুম বিল্লাহ, জাহাঙ্গীর হোসেন। দুটি কমিটিই ৩১ সদস্যের।নবগঠিত কমিটির উপজেলা আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার ফয়সাল বলেন, 'দলের দুর্দিনে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলে দায়িত্ব পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আগামী দিনগুলোতে অতীতের মতো দলকে আরও সুসংগঠিত করতে পারব বলে আত্মবিশ্বাসী। প্রাথমিকভাবে দলের সব ইউনিয়নকে গুছিয়ে আগামী আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখভাগে থাকাই আমার প্রধান লক্ষ্য।' | 6 |
রাজধানীর লালবাগের স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার বিপরীত পাশে ছুরিকাঘাতে কবির হোসেন (১৮) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। তিনি সুপার স্টার টিস্যু কোম্পানিতে চাকরি করেন।আজ বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।আহত কবির হোসেনের সহকর্মী মো. হান্নান জানান, তাঁদের বাসা আজিমপুর নিউ পল্টন লাইন এলাকায়। তাঁরা সুপার স্টার টিস্যু কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির কাজ করে।হান্নান আরও জানান, রাতে এতিমখানার বিপরীত পাশে যাত্রীছাউনির নিচে মোবাইল দিয়ে টাকার হিসেব করছিল কবির। যাত্রী ছাউনির নিচে কয়েকজন ছেলে আড্ডা দিচ্ছিল। পরে সেখান থেকে এক ছেলে বলে এখানে কী করছিস। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কবিরের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এ সময় বাধা দিলে কবিরের ডান পায়ের উড়ুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।হান্নান জানান, তাঁরা পাঁচজন ছেলে ছিল। তবে সবাই টোকাই প্রকৃতির। যাত্রী ছাউনির নিচে নেশা করে তারা।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতের ডান পায়ের উড়ুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে। জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে।লালবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাহবুব হোসেন বলেন, 'এক যুবকের ছুরিকাঘাতের ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।' | 6 |
নারী দশভূজা। কখনো মাতৃরূপে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠেন তো কখনো কালীরূপে অশুভের বিনাশ করেন। একই অঙ্গে নানা রূপে নারী। আজও কন্যা ভ্রুণহত্যার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার মাঝেও নারীরা সমাজে নিজের অস্তিত্ব, গুরুত্ব ও ক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন প্রতিপদে। আর সেই নারীদের অদম্য সাহস এবং জীবনশক্তিকে বিশেষ সম্মান জানাল গুগল। ডুডলের মাধ্যমে তুলে ধরা হল সমাজে নারীর বিভিন্ন ভূমিকাকে। আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে নারীদিবস। আর সেই উপলক্ষেই নতুন রূপে সেজে উঠেছে গুগল ডুডল। জনপ্রিয় এই সার্চ ইঞ্জিনে আজ ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়বে বিভিন্ন বেশে নারীদের মুখ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিষেশে নারীদের সম্মান দিচ্ছে ডুডল। এরপরই চালু হবে একটি ইলাস্ট্রেটরের ভিডিও। যেখানে কখনো মায়ের ভূমিকায় তো কখনো ল্যাবে গবেষকের ভূমিকায় ধরা দিয়েছে মেয়েরা। নারীরা পারেন না, এমন কোনো কাজ নেই এ সমাজে। ওয়াইল্ড লাইভ ফটোগ্রাফি থেকে, ডাক্তারি-প্রতিক্ষেত্রেই তিনি অনন্যা। সেই বার্তাই যেন দিচ্ছে গুগলের ডুডল। ইলাস্ট্রেশনটি তৈরি করেছেন থোকা মিয়ার। গুগল ডুডলের পেজটিতে লেখা হয়েছে, "আজ আন্তর্জাতিক নারীদিবস। এই বিশেষ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ভাষাভাষির নারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, কাজ ও সংস্কৃতি তুলে ধরেছে ডুডল। একজন মা থেকে মোটরসাইকেল সারাইকর্মীর ভূমিকাতেও অবতীর্ণ তিনি। কীভাবে পরিবার সামলেও তারা বহির্বিশ্বে অপরিহার্য হয়ে ওঠেন, এই ইলাস্ট্রেশন সে কাহিনিই ব্যক্ত করে।" তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও নানা উৎসব কিংবা ঐতিহাসিক দিনে সেজে উঠেছে ডুডল। স্বাধীনতা দিবস কিংবা গান্ধীজয়ন্তী, হোলিসহ নানা দিনে বদলে ফেলা হয় গুগল ডুডলকে। আবার বিখ্যাত কোনো ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানিয়েও একাধিকবার সেজেছে ডুডল। নারীদিবসেও তার ব্যতিক্রম হল না। খবর সংবাদ প্রতিদিনের। | 11 |
হৃতিক রোশনের প্রেমে হাবুডুব খাচ্ছেন বলিউডের আরেক তারকা অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা। হৃতিককে নাকি খুব ভালো লাগে সোনাক্ষীর। তার প্রেমে পড়ার কথাও জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী। সম্প্রতি দাবাং থ্রি-র প্রমোশনে হাজির হয়ে এ কথা বলেন শত্রুঘ্ন সিনহার মেয়ে। সেখানেই তিনি জানান, পরবর্তী সিনেমায় হৃত্বিক রোশনের সঙ্গে অভিনয় করতে চান তিনি। হৃত্বিকের সঙ্গই রোমান্স করতে চান বলে জানান সোনাক্ষী। শুধু তাই নয়, বলিউডে ক্যাটরিনা কাইফকেই তার সবচেয়ে মোহময়ী অভিনেত্রী বলে মনে হয় বলেও জানান তিনি। জিনিউজের প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। সালমান খানের এই সিনেমায় চুলবুল পান্ডের স্ত্রী রাজ্জোর ভূমিকায় দেখা যাব সোনাক্ষীকে। ২০১০ সালে দাবাং-এর হাত ধরেই বলিউডে অভিষেক ঘটে সোনাক্ষীর।আসছে ২০ ডিসেম্বর মুক্ত পাচ্ছে দাবাং থ্রি। এদিকে সালমান খান প্রযোজিত 'নোটবুক' ছবিতে অভিষেক ঘটে মজাহির ইকবাল। শোনা যাচ্ছে, সোনাক্ষী নাকি জাহিরের সঙ্গেই চুটিয়ে প্রেম করছেন। দীর্ঘদিন একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন বলে এমন খবর রটেছে। | 2 |
নিউইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কোমো কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের আইন লঙ্ঘন করে অনেক মহিলাকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে নিউইয়র্কের অ্যার্টনি জেনারেল কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়। যদিও এইসব অভিযোগ তিনি জোরালভাবে অস্বীকার করেছেন। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার এবং কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড-এর মনোভাবে সায় দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আমি মনে করি তার পদত্যাগ করা উচিৎ। লেটিসিয়া জেমস বলেন, কোমো রাজ্য সরকারের ১১ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মচারীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিলেন, এমন অভিযোগ রয়েছে। জেমস বলেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোমো আচরণে একটি 'ভয়ের পরিবেশ' তৈরি করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন, স্পর্শ করা, আলিঙ্গন করা এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য। অ্যার্টনি জেনারেল আরো বলেন, তদন্তে দেখা গেছে যে ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর তার বিষয়ে অভিযোগ করার কারণে কমপক্ষে একজন সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন। সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা | 3 |
গোপালগঞ্জে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চোখে গুলি লেগে গুরুতর আহত মিঠুন (২৫) নামে একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল ইউনিয়নের পার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের সময় ওই এলাকার বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ১১ জনসহ মোট ১৪ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্য গুলিবিদ্ধরা হলেন- মিরাজ শেখ (৫২), হেমায়েত মোল্লা (৫০), তুহিন মোল্লা (৩০), সুজন মোল্লা (২৮), মো: বুলবুল মোল্লা (২৬), মাসুদ মোল্লা (৩০), নাসির মোল্লা (৪০), রবিউল মোল্লা (৩৫), ছাবের মোল্লা (২২), রমজান মোল্লা (২৮), তুষার মোল্লা (২০), মশিউর শেখ (৩৫), রাসেল শেখ (২০) ও উজ্জ্বল শেখ (১৮)। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে শুকতাইল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান রানা মোল্লা ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ আবেদ আলীর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে রানা চেয়ারম্যানের সমর্থক মুরাদ শেখ ও তার ছেলে রিয়াজ শেখকে আবেদ আলীর সমর্থকরা মারপিট করে। এতে মুরাদ শেখের হাত ভেঙ্গে যায়। তারই জেরে দু'পক্ষের লোকজন মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় গুলিবর্ষণ (ছররা গুলি) ও বাড়িঘরে হামলা এবং ভাংচুর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৭টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। গোপালগঞ্জে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র কুমার বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ১৪ জনের মধ্যে ১১ জন গুলিবিদ্ধ। এদের শরীরে ছড়া গুলি পাওয়া গেছে। গুলিবিদ্ধ একজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শেখ আবেদ আলীর সমর্থকরা গুলিবর্ষণ করেছে এমন অভিযোগ করে হাসপাতালে ভর্তি গুলিবিদ্ধ নাসির মোল্লা (৪০) জানান, গুলিবিদ্ধ আরো চারজন বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ শেখ জানান, 'বর্তমান চেয়ারম্যান রানা মোল্লা চেয়ারম্যান হওয়ার পর খেকেই এলাকায় দলবাজি শুরু করে দিয়ে গ্রামের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন।' তিনি আরো জানান, এলাকায় এই দ্বন্দ্ব মিটানোর জন্য একাধিকবার বর্তমান চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করলেও তিনি সাড়া দেননি। সংঘর্ষ চলাকালে ২/৩টি বাড়িতে ভাংচুর এবং একটি বড় দোকানে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি। এদিকে মুঠোফোনে কথা না বলে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করে কথা বলবেন বলে জানান চেয়ারম্যান রানা মোল্লা। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পাল বলেন, শুকতাইল ইউনিয়নের পার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। | 6 |
দিনাজপুর-১ আসনের সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেছেন, যখনই দেশে উন্নয়ন হয়, তখনই ষড়যন্ত্র হয়। এ দল কখনো চোরাপথ বা অন্ধকার পথ দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে জেলা-উপজেলায় সম্মেলন হচ্ছে।গত মঙ্গলবার বিকেলে বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ এসব কথা বলেন।পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সেলিম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নুর ইসলাম নুর, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইয়াছিন আলী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম।সাংসদ আরও বলেন, সারা বিশ্ব উন্নয়ন দেখলেও দেশের একটি শ্রেণি তা দেখে না, তারা অন্ধ। বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে অনেকের সহ্য হচ্ছে না। যখনই দেশে উন্নয়ন হয়, তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আর শেখ হাসিনার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। | 6 |
পাকিস্তানে বিয়ের আসর থেকে প্রথমে বরকে ধাওয়া, আর তারপর বেধড়ক মারধর করেছেন হবু শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। বিয়ের কিছুক্ষণ আগে বিয়ে বাড়িতে তার আগের এক স্ত্রী হাজির হয়ে, তার আরো দুটি স্ত্রী আছে- এমন তথ্য দেওয়ার পর পরই বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে ধাওয়া করে। খবর বিবিসির আসিফ রফিক সিদ্দিকী নামে ওই ব্যক্তিকে মারধর করার সময় তার শার্ট ও প্যান্ট ছিঁড়ে যায়। মারধরের এক পর্যায়ে একটি থেমে থাকা বাসের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন আসিফ। পরে তাকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী। পাকিস্তানে বহুবিবাহ আইনত অবৈধ নয়। একজন পুরুষ চারটি পর্যন্ত বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে নতুন বিয়ে করার আগে তাকে আগের স্ত্রীদের অনুমতি নিতে হয়। তবে আসিফ সেই শর্ত মানেননি। করাচিতে নতুন বিয়ের অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত ব্যক্তির আগের স্ত্রী এসে হাজির হওয়ার পরই তার নতুন স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা প্রথমবার আগের স্ত্রীদের সম্পর্কে জানতে পারে। বিয়ের এক ভিডিওতে দেখা যায় যে, নতুন স্ত্রীর এক আত্মীয় এসে বিয়েতে উপস্থিত হওয়া সাবেক স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করে, "কী হয়েছে বোন?" আর এক মুহূর্ত দেরি না করেই আসল কথা বলে ফেলেন মাদিহা সিদ্দিকী নামে ওই নারী। তিনি বলেন, আসিফ আমার স্বামী আর এই শিশুর বাবা। উনি আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি তিন দিনের জন্য হায়দ্রাবাদ যাচ্ছেন। পরে ওই নারীকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে তিনি তার আরো আত্মীয়দেরও পরিচয় দেন। মাদিহা সিদ্দিকী বলেন, করাচির ফেডারেল উর্দু ইউনিভার্সিটিতে কাজ করতেন আসিফ। সেখানে দেখা হওয়ার পর ২০১৬ সালে তারা বিয়ে করেন। এরপর ২০১৮ সালে লুকিয়ে আসিফ আরো একটি বিয়ে করেন জেহরা আশরাফ নামের এক নারীকে। ওই নারী করাচিতে জিন্নাহ উইমেনস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। স্বামীর নতুন বউয়ের পাঠানো একটি ক্ষুদে বার্তা দেখে ওই বিয়ে সম্পর্কে জানতে পারেন মাহিদা। তিনি বলেন, আসিফ রফিক সিদ্দিকী প্রথমে ওই স্ত্রী থাকার কথা অস্বীকার করেন, কিন্তু পরে দ্বিতীয় বিয়ের কথা স্বীকার করেন। আর জেহরা আশরাফই এবার মাদিহাকে আসিফের তৃতীয় এই বিয়ের খবর জানান। পুলিশ জানায়, সবকিছু জেনে তৃতীয় স্ত্রীর আত্মীয়রা আসিফের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাকে বেধড়ক মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়- কিন্তু স্ত্রীর আত্মীয়রা তাকে অনুসরণ করেন এবং তার বেরিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করেন। এক পর্যায়ে আসিফ বেরিয়ে আসলে আবার তার ওপর চড়াও হন তারা এবং তখন তিনি একটি থেমে থাকা বাসের নিচে লুকিয়ে পড়েন। ওই ঘটনার এক ভিডিওতে শোনা যায় যে, কেউ তাকে হুমকি দিয়ে বলছে, "বেরিয়ে আয় তা নাহলে আমরা বাসে আগুন ধরিয়ে দেবো।" ভয় পেয়ে আসিফ চিৎকার করে বলেন, "এক মিনিটি, এক মিনিট," পরে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসেন। তৈমুরিহা পুলিশ স্টেশনের প্রধান রাও নাজিম বিবিসিকে বলেন, এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এটা একটা পারিবারিক বিষয়, আর তাই এটার সমাধান করতে হলে পারিবারিক আদালতেই অভিযোগ দায়ের করতে হবে। | 3 |
সাত দফার দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা শুরু হয়েছে। নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দুপুর দুই টায় এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই সমাবেশে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। ইতোমধ্যে সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে নেতা-কর্মীরা আশে-পাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। সমাবেশে ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছেন সমাবেশের সভাপতি ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। ড. কামাল হোসেনও কিছুক্ষণের মধ্যে উপস্থিত হবেন বলে জানিয়েছেন নেতারা। এছাড়া কাদের সিদ্দিকী ও আসম আব্দুর রবসহ অন্যান্য নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায়, মঞ্চের সামনের জায়গা বিএনপির নেতাকর্মীতে পরিপূর্ণ। তাঁদের উজ্জীবিত রাখতে সংগীত পরিবেশন করছেন জাসাসের শিল্পীরা। জনসভা থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঘোষণা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সোমবার রাতে জোটের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের চেম্বারে ওই ব্রিফ হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে জনসভায় নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপরও নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি শীর্ষ নেতাদের কে উৎসাহিত করেছে। | 9 |
স্বাস্থ্যবিধি অমান্য এবং বিনা কারণে ঘোরাঘুরির অপরাধে ভোলায় নয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬৬ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জেল-জরিমানা করেন।জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে নয়টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬২টি মামলায় মোট ৭০ জন ব্যক্তির মধ্যে ৬৬ জনকে ৫৭ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভোলা সদরে তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫টি মামলায় ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং একজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। দৌলতখানে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ মামলায় ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনকে ৮ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা এবং তিনজনকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।বোরহানউদ্দিনে দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৩ জনকে ১৪ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।লালমোহনে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ জনকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তজুমদ্দিনে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজনকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। চরফ্যাশনে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪ মামলায় ৬ জনকে ১ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।কঠোর বিধিনিষেধের ৮ম দিনে শহরে জনসমাগম ঠেকাতে শক্ত অবস্থানে ছিল প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং বিনা কারণে ঘোরাফেরার কারণে জেল-জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া পুলিশের চেকপোস্ট অব্যাহত রয়েছে।ভোলার জেলা প্রশাসক তৌফিক ইলাহি চৌধুরী বলেন, 'কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে জেলার ৭ উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শহরের প্রবেশদ্বার ও বহির্গমন পথে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে আমাদের কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে। সরকারি পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে।'উল্লেখ্য, ভোলায় ১ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩০৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৩৭টি মামলায় ২ হাজার ৪৭৮ জনকে ২১ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা এবং ১১৪ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। | 6 |
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও জস বাটলার-দুটি নাম একসঙ্গে শুনলে কোন স্মৃতিটা ভেসে ওঠে সবার আগে? কী আবার, ২০১৯ আইপিএলে পাঞ্জাব-রাজস্থান ম্যাচের সেই 'মানকাড আউট' বিতর্ক! নন-স্ট্রাইকে দাঁড়িয়ে থাকা জস বাটলারকে বিতর্কিতভাবে রানআউট করেছিলেন পাঞ্জাব স্পিনার অশ্বিন। তিনি বল ছাড়ার আগেই নন-স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বাটলার। ক্রিকেটীয় চেতনাকে কাঁচকলা দেখিয়ে ইংলিশ ব্যাটসম্যানকে রানআউট করতে এতটুকু হাত কাঁপেনি অশ্বিনের। আউটটি দেখতে দৃষ্টিকটু লাগলেও ক্রিকেটের আইনে তা বেআইনি বলার উপায় নেই। কিন্তু ম্যাচ জেতার জন্য অশ্বিনের 'নগ্ন' চেষ্টা অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর কথা হয় এবং বিষয়টি মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) পর্যন্তও গড়ায়। অশ্বিন-বাটলারও নিজেদের অবস্থানে অটল থেকে তর্কে মেতেছেন। কিন্তু আইপিএল এক মজার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আর তার নিলাম 'শত্রু'কেও বন্ধু বানিয়ে ফেলে। অশ্বিন ও বাটলারের কথাই ধরুন, আইপিএলের আগামী মৌসুম থেকে দুজন খেলবেন সতীর্থ হিসেবে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে। কাল আইপিএল নিলামের প্রথম দিনে অশ্বিনকে পাঁচ কোটি রুপিতে কিনে নেয় রাজস্থান। এরপরই ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগের টুইট, 'হা হা, অশ্বিন রাজস্থানে। বাটলারের সঙ্গে যোগসাজশ করে তার মানকাড আউট করা দেখতে ভালোই লাগবে।' " ." | | ../ রাজস্থান রয়্যালসের পক্ষ থেকেও অশ্বিন-বাটলারের মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপনে টুইট করা হয়।অশ্বিনের একটি ভিডিও বার্তাও কাল পোস্ট করা হয় রাজস্থানের টুইটার অ্যাকাউন্টে। ভারতীয় স্পিনার ভিডিও বার্তায় বলেছেন, 'সবাই কেমন আছেন? দিনের আগের ভাগে রাজস্থান আমাকে দলে টেনেছে। খুবই ভালো লাগছে। ২০১৮ সালেও তারা খুব চেষ্টা করেছিল আমাকে নেওয়ার জন্য...যুজির (যুজবেন্দ্র চাহাল) সঙ্গে বল করতে মুখিয়ে আছি। অনেক মজা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জসের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করতে পারব।' রাজস্থানের প্রধান নির্বাহী জ্যাক লাস ম্যাক্রাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিলামের আগে বাটলারের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছেন তাঁরা। অশ্বিনকে কেনার আগ্রহে বাটলার নাকি বাধা হয়ে দাঁড়াননি, 'জসের সঙ্গে আমরা নিলামের আগে কথা বলেছি। পছন্দের খেলোয়াড়দের নামগুলো জানিয়েছি তাকে। সত্যি বলতে, সে ওই ঘটনা নিয়ে কোনো কথাই বলেনি। আমিই বরং তাকে ঘটনাটা মনে করিয়ে জানতে চাই, কোনো সমস্যা আছে কি না। সে বলেছে, সব ঠিক আছে। কোনো সমস্যা নেই।' , - | | ../ অশ্বিনকেও রাজস্থানে বরণ করে নিয়েছেন বাটলার। আজ তাঁর একটি ভিডিও বার্তা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়। বাটলার সেখানে বলেছেন, 'অ্যাশ, আমি জস বলছি। ভেবো না, আমি ক্রিজের ভেতরেই আছি। রাজস্থানের গোলাপি জার্সিতে তোমাকে দেখার তর সইছে না। একইসঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় আছি।' | 12 |
সড়ক দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) ভোরে বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্ব পাড় থেকে রাবনা বাইপাস পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি সরাতে সময় লাগায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেই যানজট বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশ পর্যন্ত এসেছে। তবে যানজট ছাড়তে শুরু করায় শিগগিরই মহাসড়কের অবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু সেতু থানার ওসি। | 6 |
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় লকডাউনের বিরুদ্ধে আজও বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বেলা ১১টার দিকে নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করতে থাকেন। রবিবারও ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও নীলক্ষেত, মিরপুর, উত্তরার দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে মিছিল ও সমাবেশ করেন। এই সময় তারা 'লকডাউন মানি না' বলে স্লোগান দেন। এই সময়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। নিউমার্কেটের একজন ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, "আমরা ব্যবসায়ীদের সারা বছরের ব্যবসা হয় এই সময়ে, ঈদের আগের দুই মাসে। গত বছর আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এবারও যদি এই সময় মার্কেট বন্ধ থাকে, তাহলে তো আমাদের পথে বসে যেতে হবে।" তিনি দাবি করেন, যেভাবে বিশেষ বিবেচনায় শিল্প-কারখানা চালু রাখা হয়েছে, সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক। সূত্র: বিবিসি বাংলা বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৪১৪ জনে। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯৮০ জনের। এতে মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৫১ জনে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ২২১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯৮০ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩১২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ১১ হাজার ৪৭৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২১ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে নারী ১৪ জন এবং পুরুষ ৭ জন। এ সময় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন, রাজশাহীতে ২, খুলনায় ১, সিলেটে ৩ ও ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিন জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। | 6 |
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে বাড়ছে পরিবহন ও ঘরমুখো মানুষের চাপ। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার নেই কোনো বালাই। লঞ্চ, ফেরি, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে মানুষ। গাড়ির মধ্যে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও উঠা-নামার সময় একেবারেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি। একজনের সঙ্গে আরেকজনের শরীর লাগিয়ে হুড়মুড় করে বাসে উঠানামা করছেন। এতে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলার যাত্রী যাতায়াত করছেন। যাত্রীরা ঢাকা থেকে যেমন গ্রামের দিকে যাচ্ছে তেমনি গ্রাম থেকেও ঢাকার দিকে ফিরছে। ফলে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের ভীড় দিন দিন বেড়েই চলছে। ফলে আরিচা-কাজিরহাট এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে মারাত্মক করোনা ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, লকডাউন শিথিলের পর আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে যাত্রীর ভীড়। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসের ভীড় দেখা গেছে। শুক্রবার সকালের দিকে ফেরি ঘাট এলাকা থেকে সড়কেও যানবাহনের লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে আরিচা ঘাটে গত শুক্রবার সকালে ঘাটে আসা পণ্যবাহী ট্রাক শনিবার দুপুরেও ফেরি পার হতে পারেনি। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের যাত্রীদেরকেও ফেরি পারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে ঘাটে আটকে পড়া যাত্রী এবং যানবাহন শ্রমিকদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় আসার কারণে সেখানে পশুবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য গাড়ির দীর্ঘ সারি রয়েছে। ট্রাক চালক হাফিজুর রহমান জানান, পাবনা যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা থেকে গত বুধবার আরিচা ঘাটে আসি। কিন্তু শুক্রবার দুপুরেও ফেরি পার হতে পারিনি। ট্রাক চালক মজিদ মিয়া বলেন, ঢাকা থেকে পাবনা যাওয়ার উদ্দ্যেশ্যে সিমেন্ট বোঝাই করে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আরিচা ঘাটে আসেন। কিন্তু শনিবার বেলা আড়াইটাতেও তিনি ফেরি পার হতে পারেননি। যাত্রীবাহী যানবাহন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পারাপার করায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ফেরি পারের জন্য দিনের পর দিন ঘাটেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে খাদ্য সংকটসহ নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। ট্রাক চালক তারেক মিয়া বলেন, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে দিন দিন যানাবাহনের চাপ বাড়ছে। যানবাহনের তুলনায় ফেরি কম হওয়ায় এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আরশ্বাদ উল্লাহ জানান, করোনা একটি সংক্রামক রোগ। এ রোগ একজন থেকে আরেকজনের দেহে অতি সহজে সংক্রামিত হয়। তাই সকলকে নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাচল করার পরামর্শ দেন তিনি। বিভিন্ন চ্যানেলে আরিচা-কাজিরহাট এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে যেভাবে যাত্রীদের ভীড় দেখা যাচ্ছে , এভাবে যাত্রীদের যাতায়াত অব্যাহত থাকলে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। বিআইডব্লিউটিসি'র ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, দৌলতদিয়া প্রান্তে ঢাকাগামী গরুবোঝাই ট্রাকের চাপ দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি অন্যান্য গাড়ির চাপও রয়েছে। এরপর সামনে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের যাতায়াত বাড়ছে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি কোন সমস্যা হবে না। | 6 |
গাড়ির বর্তমান বাজার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্র বাণিজ্য প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন উত্তরা মোটরসের ব্যবসা পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান নাঈমুর রহমান। প্রথম আলো: বাংলাদেশের গাড়ির বাজারের বর্তমান অবস্থা কী? ১০ বছর পর বাজারটি কত বড় হবে বলে মনে করছেন। নাঈমুর রহমান: দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গাড়ি একটি অতি প্রয়োজনীয় বাহন। স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে চান সামর্থ্যবান সবাই। সামর্থ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে কেউ কেউ নতুন গাড়ি, কেউ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ব্যক্তিগত গাড়ি আমদানি হয় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৯ হাজারে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো চালু হলে গাড়ির চাহিদা আরও অনেক বাড়বে। আগামী ১০ বছরে গাড়ির বাজার দ্বিগুণের বেশি বড় হবে বলে আমার ধারণা। প্রথম আলো: দেশে গাড়ি উৎপাদন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বাস্তবে গাড়ি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত? নাঈমুর রহমান: দেশের অর্থনীতি বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পনির্ভর। এখনই উপযুক্ত সময় অর্থনীতির পোশাকনির্ভরতা কমানো। এদিকে প্রতিবছর দেশে গাড়ি আমদানি উল্লেখযোগ্য হরে বাড়ছে। গাড়ির বাজারের পুরোটাই এখন আমদানিনির্ভর। তাতে প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা গাড়ি আমদানিতে খরচ হচ্ছে। এ দেশে সহজে কম খরচে শ্রম পাওয়া যায়, তাই দেশে গাড়ি উৎপাদন করলে তাতে উৎপাদন খরচ কম হবে। সে কারণে আমি মনে করি আমাদের গাড়ি উৎপাদনের দিকে যাওয়া উচিত। প্রথম আলো: দেশে গাড়ির দাম অনেক বেশি। এ জন্য ব্যবসায়ীরা উচ্চ শুল্ককে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কেন আমদানি শুল্ক কমাচ্ছে না সরকার। নাঈমুর রহমান: বেশি শুল্কের কারণেই মূলত গাড়ির দাম বেড়ে যায়। একটা সময় দেশে গাড়িকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গাড়ি এখন বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনীয়তা। এমন বাস্তবতায় সরকারের উচিত গাড়ির শুল্কায়নের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা। শুল্ক কমিয়ে গাড়িকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা দরকার। প্রথম আলো: বিশ্বের বড় বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে ঝুঁকছে। এমন পরিস্থিতিতে গাড়ি আমদানি ও উৎপাদনে বাংলাদেশের নীতি কী হওয়া প্রয়োজন? নাঈমুর রহমান: বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার ক্রমে বাড়ছে। বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার খুব না বাড়লেও হাইব্রিড গাড়ির জনপ্রিয়তা বেশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের কারণেই হাইব্রিড গাড়ির জনপ্রিয়তা বহু গুণে বেড়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তাও এ দেশে বাড়বে বলে ধারণা করা যায়। | 0 |
কারাগারে মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় খুলনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকালে খুলনা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারওয়ার আহমেদ এ রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোশারেফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার বি এম নূরুজ্জামান বলেছেন, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের একজন পরিদর্শক মামলার বাদী হয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগারে মৃত্যু হয় ৫৩ বছর বয়সী লেখক মুশতাক আহমেদের। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমকে নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির সমর্থন নিয়ে তিনি ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র হয়েছিলেন। এ কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাঁকে নিয়ে আলোচনায় সরব।গত শনিবার ঢাকার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মোহাম্মদ মনজুর আলম। গতকাল রোববার সেই ফরম পূরণ করে আবার জমা দেওয়া হয়। তিনি চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মনজুর আলম চট্টগ্রাম সিটি মেয়র নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি তাঁর 'গুরু' আওয়ামী লীগের এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে আলোচনায় এসেছিলেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার অনেক পরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনোনীত হন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি আবার বিএনপির সমর্থনে প্রার্থী হন। একপর্যায়ে নির্বাচনের দিন সকালে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মনজুর আলম।সিটি নির্বাচন বর্জনের পর মনজুর আলমকে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে উৎসাহ জুগিয়েছেন প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কাট্টলী এলাকায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে পাশাপাশি বসেছিলেন প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মনজুর আলম। এরপরই চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে মনজুরকে আওয়ামী লীগে ফেরাতে আগ্রহী মহিউদ্দিন।গত বছরের ডিসেম্বরে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর মনজুর আলমও নীরব হয়ে পড়েন। গত শনিবার আওয়ামী লীগের ফরম কেনার পর চট্টগ্রামে রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবার চলে আসেন তিনি।চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক সংগঠন। যে কেউ ফরম কিনতে পারেন। কিন্তু মনোনয়ন কে পাবেন, তা দলের মনোনয়ন বোর্ড নির্ধারণ করবে।মেয়র নাছির আরও বলেন, '১-১১-এর সময় মনজুর আলমের ভূমিকা সম্পর্কে অনেকে জানেন। তিনি তিন-চারবার রাজনীতির গতি পরিবর্তন করেছেন। এখন আওয়ামী লীগের ফরম কিনেছেন।'চট্টগ্রাম নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, '২০১৫ সালে নির্বাচন বর্জনের পরই মনজুর আলমকে বিএনপি বহিষ্কার করে। তিনি আসলে আওয়ামী লীগের লোক। নিজ ঘরে আবার ফিরে গেছেন।' চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ আফছারুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, 'মনজুর আলম আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন কি না জানি না। কিন্তু ৩০ হাজার টাকা থাকলে এবং নির্বাচনী এলাকার নাম উল্লেখ করলে যে কেউ আওয়ামী লীগের ফরম কিনতে পারেন। মনজুর আলমও সেভাবে ফরম কিনেছেন।' এসব বক্তব্যের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, 'আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকেই দলটির সঙ্গে আমার বাপ-দাদা সম্পৃক্ত ছিলেন। আমিও আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীকে আওয়ামী লীগের কোন জায়গায় যোগ দিতে হয়? আমার ভাতিজাও এখন আওয়ামী লীগের এমপি।' মনজুর আলম বলেন, 'আমি সমাজসেবা করে আসছি। এমপি হলে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় মানুষের সেবার পরিধি বাড়ানো যায়। এ জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছি। বাকিটুকু নেত্রী (শেখ হাসিনা) দেখবেন।' | 9 |
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, করোনা আতঙ্কে বঙ্গবন্ধুর মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বিসিবি কর্তৃক আয়োজিত বিশ্ব একাদশ বনাম এশিয়া একাদশের মধ্যকার বিশেষ দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ এবং কনসার্ট আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পাপন বলেন, সারা বিশ্বে এখন করোনা আতঙ্ক। তাই ২১ ও ২২ মার্চ যে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে তাতে বিদেশি খেলোয়ারদের আসা-যাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রশ্নও উঠেছে বেশ কিছু। এদিকে ১৮ তারিখে এআর রহমানের যে কনসার্ট ছিল তা পিছানো হয়েছে। কারণ, এখন কনসার্টটি করলে ছোট পরিসরে করতে হবে। আমরা চাচ্ছি পড়ে বড় আকরেই কনসার্টটি করবো। সব দিক বিবেচনা করে খেলা ও কনসার্ট পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। | 12 |
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিকভাবে তোড়জোড় শুরু করেছে বিএনপি। জাতিসংঘের রাজনীতি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পর দলটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘ। ওয়াশিংটনের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গত শুক্রবার প্রথম আলোর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিকে ই-মেইলে বলেন, 'কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়। বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের বৈঠকটি তারই অংশ।' তবে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈঠক সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ওই মুখপাত্র বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা জাতিসংঘ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় বিএনপির নেতাদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন বেড়ে যাওয়া, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়াসহ সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের নানান দৃষ্টান্ত তাঁরা তুলে ধরেছেন। সরকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতির কীভাবে অবনতি ঘটিয়েছে, সেটও বলেছেন তাঁরা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বৈঠক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে শুক্রবার একটি প্রাতরাশ বৈঠক করেন বিএনপির নেতারা। এতে বেশ কিছু গবেষণা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসব সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, কাউন্সিল ফর ফরেন রিলেশনস, উইলসন সেন্টার, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউশন (এনডিআই), ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই), ইউএস চেম্বার অব কমার্স, ফ্রিডম হাউস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। জাতিসংঘ সদর দপ্তর, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আলোচনা এবং ওয়াশিংটনের প্রাতরাশ বৈঠকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর যোগ দেন মির্জা ফখরুলের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি গতকাল শনিবার লন্ডনে পৌঁছেছে।আরও পড়ুন: আসনভিত্তিক কমিটি করবে আ.লীগ | 9 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.