text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে তিনি খেলবেন না। সেই ক্রিস গেইলকে আসন্ন ভারত সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও রাখা হলো না দলে। তাকে বাদ দিয়েই বৃহস্পতিবার দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ড। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই দলেরই অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড। ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক শাই হোপ। টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। ভারত সফরে শুরুতে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচ ৬ ডিসেম্বর হায়দরাবাদে। বাকি দুই ম্যাচ হবে তিরুঅনন্তপুরম (৮ ডিসেম্বর) ও মুম্বাইয়ে (১১ ডিসেম্বর)। তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ হবে চেন্নাই (১৫ ডিসেম্বর), বিশাখাপত্তনম (১৮ ডিসেম্বর) ও কটকে (২২ ডিসেম্বর)। টি-টোয়েন্টি দল: ফাবিয়ান অ্যালেন, ব্র্যান্ডন কিং, দীনেশ রামদিন, শেলডন কটরেল, এভিন লুইস, শেরফেন রাদারফোর্ড, শিমরন হেটমায়ার, খ্যারি পিয়ের, লেন্ডল সিমন্স, জেসন হোল্ডার, কায়রন পোলার্ড (অধিনায়ক), হেডেন ওয়ালশ জুনিয়র, কিমো পল, নিকোলাস পুরান, কেসরিক উইলিয়ামস। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 12 |
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, 'শেখ হাসিনার কাছেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নিরাপদ। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ রক্ষার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। তিনি ছিলেন বিধায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। তিনি আছেন বিধায় মুক্তিযোদ্ধারা স্যালুট পাচ্ছেন, নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন। তিনি আছেন বিধায় হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে কেবিন থাকে। সরকারি যানবাহনে মুক্তিযোদ্ধারা বিনা ভাড়ায় চলতে পারেন। তার জন্যই মুক্তিযোদ্ধাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।' আজ শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস ২০২০ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তাদের সকলে মিলে প্রতিহত করতে হবে। তাদের অস্তিত্ব বিনাশ করে দিতে হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোনোভাবে বিকশিত হতে দেওয়া হবে না। এই ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।স্বাধীনতাবিরোধীদের শেকড় এদেশ থেকে উপড়ে ফেলা হবে।' মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে সরকার আছে, আমি আছি। বাংলাদেশ মানে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ মানে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বাংলাদেশ। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বাংলাদেশ মানে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর বাংলাদেশ।' এদিন পিরোজপুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নবনির্মিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেছেন, যেসব অপরাধ ও মামলার কোনো ক্লু থাকে না, ডিবি সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করে। গুলশানে এক কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের বিষয়ে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভিরের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেখানে ক্লুলেসের কিছু নেই। বুধবার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টু রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঘটনাটি হত্যা মামলা হলেও হয়তো ডিবির তদন্তের সুযোগ ছিল। এ কে এম হাফিজ বলেন, মামলায় হয়তো কিছু সাক্ষ্য প্রমাণের দরকার হবে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী অনেক চৌকস অফিসার। আমাদের বিশ্বাস তিনি সঠিক তদন্ত করবেন। | 6 |
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) বক্তব্যকে 'দুঃখজনক' বলে মন্তব্য করেছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। বিএমএ খালেদার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের সুরে কথা বলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির নেতারা।আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, 'খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে থেকে চিকিৎসক আনার যে বিষয়টি বিএমএ বলেছে, সেটা কালক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু না। এর মধ্যে দিয়ে তারা সরকারকে সমর্থন করছে।'ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, আজ মুক্তিযুদ্ধের 'পক্ষে' এবং 'বিপক্ষে' একটি বিভাজন তৈরি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আজ অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসায় দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসকেরা চিকিৎসা করছেন। তাঁরা বলেছেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও সম্ভব নয়। এর বিপক্ষে সরকারি অবস্থান। বিএমএর অবস্থানও একই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।বিএমএর এমন ভূমিকার সমালোচনা করে ড্যাব সভাপতি বলেন, 'আমরা চিকিৎসক সমাজ হিসেবে একটা শপথ নিই যে, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কখনো আমরা মিথ্যা বলব না, অন্যায় করব না, রোগীর স্বার্থে সব সময় কাজ করব। আজ তারা (বিএমএ) সেই শপথ ভঙ্গ করেছে। অসুস্থ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আজ বিএমএ অবস্থান নিয়েছে।' 'লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা বাংলাদেশে হয়, এটা ভুল তথ্য' উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টও হয় না। দুজনকে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছিল। তাদের একজন মারা গেছেন। আরেকজনের অবস্থা খুবই খারাপ। আর এটা শুধু বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা করেননি। দেশের বাইরে থেকে টিম এসে এই কাজ করেছিলেন।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড্যাব সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে খবর দিয়েছেন, তা বিশ্বাসযোগ্য। তাঁরা সঠিক সময়ে মানুষের কাছে তথ্য প্রকাশ করেছেন। এখন সরকার এই ব্যাপারে চাপও অনুভব করছে।দেশের বাইরে থেকে চিকিৎসক আনা এবং বিশেষ পদ্ধতি (টিপস) ভারতে গিয়ে করানো সম্ভব কিনা জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসা, সেটা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সুনির্দিষ্ট কয়েকটি হাসপাতালে আছে। এটা সম্পূর্ণ একটা টিমওয়ার্ক। তিনি বলেন, 'আমরা চিকিৎসক আনলাম। পরে দেখা গেল তিনি বলবেন যে, আমি একা পারব না। তাই যারা বলছেন চিকিৎসা দেশে হতে পারে, সেটা আসলেই ভুল।'সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, 'চিকিৎসা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমানভাবে এগিয়ে গেলেও এখনো বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। এ দেশের চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আশানুরূপ আরোগ্য লাভের পরিবর্তে ধীরে ধীরে অন্তিম পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।'সংবাদ সম্মেলন থেকে মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় ড্যাব। | 6 |
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, 'আমাদের কোথাও কোনো নেগেটিভ গ্রোথ নেই। রফতানি বেড়েছে। রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ভালো।' আজ বৃহস্পতিবার ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে অনলাইন ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। | 9 |
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে আগামীকাল শুক্রবার ২২ গজের যুদ্ধে নামবে তামিম ইকবালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। মাঠে এই বন্ধুর লড়াইটা যে উত্তেজনাপূর্ণ থাকবে- সেটা অনুমেয়। তবে ঢাকার অধিনায়ক সাকিব হলেও, কুমিল্লার অধিনায়ক কিন্তু ইমরুল কায়েস। এর আগে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। আগামীকাল হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। শুরু থেকে ফাইনাল অবধি কেমন ছিল এই দুই দলের যাত্রা? আসরের শুরুটা ভালো হয়েছিল দুই দলেরই। জয় দিয়েই শুরু হয়েছিল তাদের ষষ্ঠ আসরের যাত্রা। ঢাকায় প্রথম ধাপের তিনটি ম্যাচই জিতে ঢাকা। ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল তাদের অবস্থান। কিন্তু এরপর সিলেটে দুটি ম্যাচের একটিতে হারে, অপরটিতে জিতে। তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে কোনো ম্যাচেই জয়ের মুখ দেখেনি তারা। টানা পাঁচটি ম্যাচে হারে। পরে ঢাকায় লিগ-পর্বের শেষ ধাপের শেষ ম্যাচে জিতে প্লে-অফে জায়গা পায়। সেখানে প্রথম চিটাগং ভাইকিংস ও পরে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করে। তবে ঢাকার আগে ফাইনালের টিকেট পায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবারের আসরটি দুর্দান্ত কেটেছে কুমিল্লার। ঢাকায় প্রথম ধাপে তিটির মধ্যে দুটি ম্যাচে জিতেছে তারা। এরপর সিলেটে দুটি ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে। তৃতীয় ধাপে আবার ঢাকায় দুটি ম্যাচের একটিতে জিতেছে। কিন্তু চতুর্থ আর পঞ্চম ধাপে কোনো ম্যাচে হারেনি তামিমরা। ফলে শীর্ষ দল হয়েই প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলে ফাইনালে যায় তারা। দুই দলই এখন নানা পরিকল্পনা আঁটছে একে অপরকে কুপোকাত করতে। ফাইনালটি তাই হাইভোল্টেজ ম্যাচ হবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। বাকিটা কাল মাঠেই দেখা যাবে। | 12 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ইভটিজিংয়ের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রুক্ক মিয়া। আজ বুধবার দুপুরে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক তরুণীকে ইভটিজিং করেন চা বিক্রেতা রুক্ক মিয়া। মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে তার জামার কলার চেপে ধরেন এবং প্রতিবাদ করেন। মেয়েটি জোরগলায় ওই ইভটিজারকে বলেন, 'আপনি বাজে মন্তব্য করেছেন।' কিন্তু রুক্ক মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তরুণীটি রুক্ক মিয়াকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ দৃশ্য দেখে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। ঘটনা শুনে তারাও রুক্ক মিয়াকে চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘটনাস্থলের একটু দূরে টিএসসির সামনে থাকা পুলিশ এসে রুক্ক মিয়াকে উদ্ধার করে। জানা গেছে, রুক্ক মিয়ার বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই থানার মুড়িয়াক গ্রামে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 1 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম এই বৃক্ষ রোপণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জালাল উদ্দিন, মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়ার্দ্দারসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।অপরদিকে, মাগুরা আওয়ামী যুবলীগের আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সরকারি বালক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুমার কণ্ডু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বৃক্ষরোপণ করেন।এ সময় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আহমদ, সাকিব হাসান তুহিন, আশরাফ খানসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বাদ আছর ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। | 6 |
কড়া নাড়ব না বৈদ্যুতিক ঘণ্টিটি বাজাব, তা ভাবতেই মিনিটখানেক কেটে গেল। অকারণে নয়, সময়টার কথা ভেবেই আমার এ দ্বিধা। শীতের পড়ন্ত বিকেল। ইতিমধ্যেই সূর্য এলিয়ে পড়েছে পশ্চিম গগনে।চারদিক সুনসান, শব্দদের নীলডাউন করিয়ে রাখা হয়েছে চারপাশে-নিস্তব্ধতার গন্ধ এসে লাগছে নাকে। আমি ক্ষয়ে যাওয়া, বিবর্ণ হয়ে ওঠা লাল মেঝের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অবশ্য এ পর্যন্ত আসতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বেশ কিছু চিহ্ন মেলাতে হয়েছে মন দিয়ে। যেমন, বড় রাস্তায় রিকশা থেকে নেমে প্রথমেই খুঁজে বের করতে হয়েছে পুরোনো প্রায় ভেঙেপড়া গোল বারান্দাওয়ালা ছাত্রদের মেসবাড়িটি আছে কি না।ওটা পেয়ে স্বস্তিবোধ করেছি, যদিও বাড়িটি প্রায় ধসে পড়েছে। তবু চেনা যায়। একটু এগোতেই রফিকদের বাড়ির সামনের মজা পুকুর। প্রায় ৫০ বছর আগেও এটা মজা পুকুরই ছিল। এখন ছোট হতে হতে ডোবা হয়ে গেছে। ভেঙেপড়া পাড়ে জলের ওপর কলমিলতা আর তার বেগুনি রঙের ফুল, হেলেঞ্চার ঝোপ, এখানে-ওখানে ঢেঁকিশাকের সাপের মতো পেঁচানো শুঁড়। একটা ফড়িং কেবলই উড়ে উড়ে সেই শুঁড়ে বসছে আর সরে যাচ্ছে।শেষ পর্যন্ত কড়াটিই নাড়লাম মৃদুভাবে শুধু এই কারণেই যে, কড়ার শব্দ আমার আঙুলের নিয়ন্ত্রণে, বৈদ্যুতিক ঘণ্টি তো নয়। কিছুক্ষণ বাদে ভেতরে সন্তর্পণে ছিটকিনি খোলার শব্দ পেলাম। খুলে গেল দরজার পাল্লা এবং আমার সামনে দেখতে পেলাম এক ভারি মিষ্টি চেহারার কিশোরীকে। সাপের মতো তার চুলের দুই বেণি দুলছে মাথার দু-পাশে, মুখে একটা ঔৎসুক্য। 'এটা কি রফিকদের বাড়ি?' নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলাম আমি। তার চমকানোটা আমি টের পাই এবং বুঝতে পারি; কিন্তু কী করব আমি? ও ছাড়া যে এ বাড়ির অন্য কোনো পরিচয় আমার জানা নেই। 'দাঁড়ান একটু,' বলেই সে ভেতরে চলে যায়।একটু পরেই ভেতরের ঘরের পর্দা ঠেলে এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন। আমার দিকে এগোতে এগোতে বললেন, 'কাকে চাইছেন?' আমি দ্রুত এদিক-ওদিক তাকাই, কথা খুঁজতে চেষ্টা করি, 'মানে আমি...' ততক্ষণে ভদ্রলোক আমার কাছে চলে এসেছেন। তারপরেই তাঁর উচ্ছ্বসিত বিস্ময়, 'সেলিম ভাই না?' আমি তখনো একটু বিভ্রান্ত দেখে তিনি হেসে বললেন, 'চিনতে পারলেন না তো? আমি শফিক।' এতক্ষণে চেনা গেল তাঁকে-রফিকের সবচেয়ে ছোট ভাই।'আসুন, ভেতরে আসুন,' আমার হাত ধরে শফিকের সাদর আহ্বান। ভেতরে ঢুকি। শীত-বিকেলের রোদ পড়ে এসেছে। ঘরের ভেতরে ধূসর ছায়ার মিহি পর্দা। শফিক বাতি জ্বালে ঘরের। বিবর্ণ আলোয় কক্ষের জরাজীর্ণ অবস্থাই যেন ফুটে ওঠে। 'বসুন, আমি সবাইকে ডাকি,' বলতে বলতে ভেতরের দরজার পর্দা ঠেলে শফিক কক্ষান্তরে চলে যায়।আমি বসি না, চারদিকে পূর্ণ দৃষ্টি মেলে তাকাই। এই ঘর, এর আসবাব আমার চেনা। পড়ন্ত কৈশোরে বহুবার এসেছি এই ঘরে। কাটিয়েছি দীর্ঘ সময়-আড্ডায়, গল্পে, ক্যারম খেলায়। তখন অবশ্য এ ঘরের জৌলুশ ছিল, যৌবন ছিল বলা যায়। চোখ চলে যায় বাঁ-দিকের দেয়ালে-ধূলিধূসরিত কাত হয়ে ঝুলছে প্রায় বিবর্ণ হয়ে যাওয়া কালো ফ্রেমবদ্ধ একটি ছবি। পায়ে পায়ে এগিয়ে যাই। বুঝতে পারি, ওটা রফিকেরই ছবি। হাস্যোজ্জ্বল এক কিশোরের মুখ। কত দিন হলো রফিক চলে গেছে? 'তা প্রায় ৫০ বছর তো হবেই।' 'আপনি কি বড় চাচার বন্ধু?' প্রশ্ন শুনে চমকে পেছনে তাকিয়ে দেখি, ভেতরের দরজার পর্দা ধরে দাঁড়িয়ে আছে সেই কিশোরীটি, যে আমার দরজা খুলে দিয়েছিল।'হ্যাঁ', সহাস্যে বলি আমি, 'একই ক্লাসে পড়তাম আমরা স্কুলে। এসো, এখানে এসে বসো,' নিজে বসতে বসতে তাকে বলি। কাছে এসে দাঁড়াতেই তাকে হাত ধরে পাশে বসাই। টের পাই ছাড়ছে না সে আমার হাত এবং সরাচ্ছে না তার চোখ আমার মুখের ওপর থেকে। বুঝতে পারি, আমার মাঝে সে তার চলে যাওয়া পিতৃব্যকে খুঁজছে। 'বড় চাচাকে আমি দেখিনি,' খুব মৃদুস্বরে নরম গলায় বলে সে।পর্দার দিকে তাকিয়ে দেখি বেশ কটি বালক-বালিকা পর্দার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে প্রচণ্ড কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে। নতুন আসা এক অতিথির প্রতি তাদের ঔৎসুক্যের শেষ নেই। বুঝতে পারি, আমার পরিচয় পৌঁছে গেছে অন্দরে। ঠিক তখনই শফিক ঘরে ঢোকে একজন ভদ্রলোক, কয়েকজন মহিলা ও কিশোর-কিশোরী নিয়ে। বুঝতে পারি, পুরো পরিবার এসে গেছে।'বাহ্, তিতিরের সঙ্গে গল্প শুরু হয়ে গেছে দেখছি-আমার বড় মেয়ে,' হাসিমুখে শফিক বলে। 'শুরু করেছি মাত্র,' বলি আমি। তারপর সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পালা। রফিকের মেজ ভাই তারিককে সহজেই চিনতে পারি-আমাদের দুই ক্লাস নিচে পড়ত সে। 'বলুন তো আমি কে?' দুষ্টু হাসির ঝিলিক তুলে জিজ্ঞেস করেন এক মহিলা। আমি হেসে ফেলি। বলি, 'লিলি। তোমার গালের ওই বিখ্যাত টোলের জন্য তুমি লুকোতে পারবে না কোথাও কখনো।' লিলি রফিকের ছোট বোন। আমার কথায় লালের ছোপ লাগে লিলির গালে।পরিচিত হই পরিবারের বধূদের ও অন্যান্য পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদের সঙ্গে। তারপর গল্প জমে ওঠে। জলখাবার আসে, আসে ধূমায়িত চায়ের পেয়ালা। ওঠে হাস্যরোল। সব গল্পই রফিককে ঘিরে। টের পাই স্মৃতি থেকে উঠে এসে রফিক জীবন্ত হয়ে উঠছে ওর ভাই-বোনদের কাছে, পরিবারের বধূদের কাছে, তাঁদের ছেলে-মেয়েদের কাছে। স্মৃতির সঠিকতা নিয়ে ওর ভাই-বোনেরা বাচ্চাদের মতো ঝগড়া করে, কথা-কাটাকাটি হয়, আমাকে সাক্ষী মানে। অন্যরা গল্প শোনে উদ্গ্রীব হয়ে, উপভোগ করে সাক্ষী মানার ব্যাপারটি, হেসে ওঠে পরিণত বয়সের কয়েকজন মানুষের শিশুদের মতো কলহে।বুঝতে পারি, আমার মাঝখান দিয়ে ওরা পৌঁছে গেছে কিশোর বয়সে চলে যাওয়া ওদের অগ্রজের কাছে। টের পাই, লিলি কিংবা তারিক কথা বলতে বলতে স্পর্শ করছে আমাকে। যেন আমার মধ্য দিয়েই ওরা ছুঁচ্ছে রফিককে। কত গল্প, কত স্মৃতি। তার কিছু আমি জানি, কিছু জানি না। তারপর ধীরে ধীরে গল্প থিতিয়ে আসে, আস্তে আস্তে নিস্তব্ধতা কালো বেড়ালের মতো ঘরের মাঝে তার থাবা ছড়িয়ে দেয়।একসময়ে লিলি কথা কয়ে ওঠে। 'কত বছর পর ভাইয়ার কথা উঠল। কত দিন পর ভাইয়ার কথা বললাম সবাই মিলে। আপনিই তো ভাইয়াকে আবার আমাদের কাছে এনে দিলেন।' জলের ধারা নামে তার চোখে। 'সেলিম ভাই, নিত্যদিনের জীবনে ভাইয়া আমাদের কাছে এখন শুধু একটা ছবি। প্রায়ই মনে থাকে না, আমাদের একটা বড় ভাই ছিল। আপনিই তো আমাদের সেই কবে চলে যাওয়া ভাইয়া,' ভাঙা গলায় বলে শফিক। চেয়ে দেখি চোখ কারও শুকনো নেই-না যারা রফিককে দেখেছে, না যারা তাকে দেখেনি।তারপর কেমন করে জানি আমাদের সবার চোখ অভ্রান্তভাবে চলে যায় দেয়ালের বিবর্ণ হয়ে যাওয়া প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে তোলা রফিকের ছবিটির দিকে। সময়ের রেখা ধরে আমাদের সবার বয়স বেড়েছে; কিন্তু রফিক তো রয়ে গেছে তিতিরের বয়সে। মনে হয়, সেই চির কিশোর মুখের রফিক যেন বলছে, 'কী হে, কেমন আছো সবাই? সবকিছু ঠিকঠাক? এত দিনে মনে পড়ল আমাকে?'কেমন যেন একটা ঠান্ডা নিশ্চুপতা নেমে আসে আমাদের ঘিরে ওই ধূসর সন্ধ্যায়। তার মাঝেও অনুভব করি আমাদের প্রত্যেকের মনের মধ্যে নানান স্মৃতি, নানান না-বলা কথা উঠে আসছে নানাভাবে। 'বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোর এক বছর।' হতে পারে। কিন্তু স্মৃতির আয়ুর কি কোনো সময় আছে, না হতে পারে?লেখক: ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র | 8 |
হেফাজতে ইসলামের তান্ডবে বিএনপি যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তা আজ সবাই জানে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ।তিনি বলেন, 'হেফাজতে ইসলাম সম্প্রতি যে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে, তার শুধু পৃষ্ঠপোষকতাই নয় বরং এসব সহিংস ঘটনায় জড়িত ছিলো বিএনপি।' ওবায়দুল কাদের আজ মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী সড়ক জোন, বিআরটিসি, বিআরটিএ'র কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব মন্তব্য করেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।কোনো দল বা আলেম ওলামা দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা এ তাণ্ডবলীলার সাথে সরাসরি জড়িত, বাড়ি ঘরে হামলা ও আগুন দিয়েছে, তাদের ভিডিও দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে। 'সরকার গণবিচ্ছন্ন হয়ে গেছে' বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, গত তের বছর যাবৎ ধারাবাহিক ব্যর্থতার গ্লানিবোধ থেকে বিএনপি এসব কথা বলেন। প্রকৃতপক্ষে সরকার নয়, বিএনপিই জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত ও গণবিচ্ছিন্ন। বিএনপি এক যুগের বেশি সময় ধরেই আন্দোলনের হাঁক-ডাক দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা শুধু আন্দোলনই নয়, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে নির্লজ্জ ভরাডুবিই প্রমাণ করে, জনগণ থেকে কারা জনবিচ্ছিন্ন। করোনার এ সময়ে রাজনৈতিক বিরুপ মন্তব্য করা সমীচীন নয় জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পারস্পরিক দোষারোপ করা এসময় উচিত নয়। কিন্তু নিত্যদিন বিএনপির মিথ্যাচার ও অন্ধ সমালোচনার জবাব দিতে হয়। তিনি বলেন, জন্মলগ্ন থেকে যে দল অগণতান্ত্রিক পথরেখা ধরে হেঁটেছে তারা আজ গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা সেজেছে এবং সবক দিচ্ছে দেশ ও জাতিকে। বিএনপির গণতন্ত্র মানে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন, মাগুরা, ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচন আর এক কোটি তেইশ লাখ ভুয়া ভোটারের প্রস্তুতি।গণতন্ত্রের পথ ধরে হাঁটছে শেখ হাসিনা, বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে অত্যন্ত আন্তরিক বর্তমান সরকার জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কিন্তু বিএনপি এ পথে বড় বাধা। তাদের অসহযোগিতা এবং বাধার কারণেই গণতন্ত্রের মসৃণ যাত্রা বারবার হোঁচট খেয়েছে। গ্রাহকদের কাছে বিআরটিএ'র গ্রহণযোগ্য করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে হয়রানি আগের তুলনায় কমলেও কিছু কিছু এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করতে হবে। এ সময়ে তিনি বর্ষার আগেই নির্মাণাধীন কাজ এগিয়ে নিতেও সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন। সূত্র : বাসস | 9 |
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে একটি বারে একজনকে গুলি করে হত্যা ও দুইজনকে আহত এবং পাশের বাসার আরেকজনকে হত্যা করার পর নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক বন্দুকধারী। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে জর্ডান উইটমার নামের ২১ বছর বয়সী এক তরুণ এই হতাহতের ঘটনা ঘটায় বলে কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম 'এনবিসি নিউজ'। সেন্টার কাউন্টি করোনার স্কট সায়ার্সের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টেট কলেজের পি.জে. হ্যারিগ্যান'স নামের হোটেল বারটিতে উইটমার ৬২ বছর বয়সী ডিন ডব্লিউ. বিচিকে গুলি করে হত্যা করেন। শুক্রবার পুলিশ জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর দ্বিতীয় জন মারা যান। আহত আরেকজন এদিন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে 'এনবিসি ফিলাডেলফিয়া'র খবরে বলা হয়। উইটমার বারটি থেকে জর্জ ম্যাককোর্মিকের বাসায় গিয়ে তাকে গুলি করে হত্যার পর নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানান স্কট সায়ার্স। উইটমার যাদেরকে হত্যা করেছেন, তাদেরকে চিনতেন কিনা তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে এটাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন স্কট সায়ার্স। এই হত্যাকাণ্ডের কোনও উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্টেট কলেজ পুলিশ চিফ জন গার্ডনার এটাকে 'জঘন্য' ও 'বিব্রতকর' বলে উল্লেখ করেছেন। পি.জে. হ্যারিগ্যান'সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বারটি আগামী সোমবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পেন স্টেট থেকে এর দূরত্ব দুই মাইলেরও কম। | 3 |
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সানুহারে যমুনা লাইন পরিবহনের একটি বাস গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে। নিহত হয়েছে শিশুসহ ১০ জন। আহত হয়েছে ২৫ জন। আজ রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল (শেবাচিম) কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।শেবাচিমে চিকিৎসাধীন যাত্রী আবুল কালাম বলেন, শনিবার রাত ১০টায় বাসটি ঢাকা থেকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের একটি স্থানে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। ঠিক করতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে।আবুল কালাম বলেন, শিমুলিয়া-বাংলাবাজারের ফেরি পার হতে বেজে যায় রাত সাড়ে ৩টা। ফেরি পার হয়ে চালক বেপরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা অনেকবার বললেও তিনি শোনেননি।আবুল কালাম পিরোজপুরের নেছারাবাদ যাওয়ার জন্য সাভার থেকে বাসটিতে উঠেছিলেন। আর ১৫ মিনিট পর তাঁর বরিশালের গড়িয়ারপাড় নামার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনায় হাত-পা ভেঙে গেছে তাঁর।বরিশাল নগরের সদর রোডের বাসিন্দা মিলন দাস (৩৪) যমুনা লাইনের বাসটির যাত্রী ছিলেন। গুরুতর আহত হয়ে শেবাচিমে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, 'তখন ভোররাত। বাইরে অন্ধকার ও বৃষ্টি। অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন ঘুমে। হঠাৎ বিকট আওয়াজ। রাস্তার পাশের গাছে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খেল বাসটি। আমি বাসের মাঝামাঝি জানালার পাশে বসেছিলাম। গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর জানালা ভেঙে ছিটকে বাইরে পড়ে যাই। চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।'বরিশালে গাছের সঙ্গে বাসের ধাক্কা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০এই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের মরদেহ দাফনে ২০ হাজার টাকা ও দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেককে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান। এ ঘটনায় বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুর রহমান খানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার।গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি শেখ বেল্লাল জানান, এ দুর্ঘটনায় যমুনা লাইন পরিবহন উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গাড়ির চালকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। | 6 |
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক নারী পুলিশ সার্জেন্টের বাবা এক পা হারিয়ে এখন মৃত্যুপথযাত্রী। সেই দুর্ঘটনার বিচার চেয়ে কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। কিন্তু থানা-পুলিশ তাঁর মামলা নিচ্ছে না।ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা ওই নারী সার্জেন্টের অভিযোগ, যে গাড়িটি তাঁর বাবাকে চাপা দিয়েছে, সেটির মালিক অনেক প্রভাবশালী। যে কারণে লিখিত অভিযোগ দিলেও বনানী থানা তাঁর মামলা রেকর্ড করেনি। এ ঘটনার ইতিমধ্যে ১০ দিন পেরিয়ে গেছে।নারী সার্জেন্টের এই মামলা না-নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে বনানী থানা, গুলশান বিভাগের উপকমিশনার, এমনকি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আজকের পত্রিকা কথা বলেছে। তাঁরা সবাই এ ঘটনা জানেন। কিন্তু মামলা না-নেওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ কেউ বলতে পারেননি।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের আলোচনা হয়েছে, এটা মীমাংসা করার কথা। তারপরও মামলা করতে চাইলে সেটা করতে পারবেন।দুর্ঘটনাটি হয়েছে ২ ডিসেম্বর রাত ২টার পর। বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি সড়কে মনোরঞ্জন হাজংকে মোটরসাইকেলসহ চাপা দেয় একটি লাল রঙের একটি বিএমডব্লিউ কার। সে সময় গাড়িতে ছিলেন এক নারীসহ তিনজন। ঘটনার রাতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, চেয়ারম্যান বাড়ি ইউলুপের পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন মনোরঞ্জন। স্বাভাবিক নিয়মে চলাচল করছিল যানবাহন। হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার অপর পাশ থেকে এসে তাঁকে চাপা দেয়। গাড়িচাপায় কোমরের নিচের অংশ থেঁতলে যায় মনোরঞ্জনের। চূর্ণ হয়ে যায় মোটরসাইকেলটি। বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ৫-৬ টুকরো হয়ে যায়। ডান পায়ে জখম ছিল গুরুতর। ঘটনার পর বনানী থানা-পুলিশ পথচারীদের সহায়তায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে এবং প্রাইভেট কারে থাকা তিনজনকে আটক করে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে (ডেলটা-৩) কর্মরত সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা মনোরঞ্জন হাজং। ২০০৪ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাবিলদার হিসেবে অবসরে যান তিনি। কয়েক বছর ধরে বনানীর একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন অফিস শেষ করে তিনি বাসায় ফিরছিলেন।মহুয়া হাজং আজকের পত্রিকাকে জানান, অভিযুক্তদের পরিচয় জানার পর ওই রাতেই গাড়িসহ তাঁদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। দুর্ঘটনার পরদিনই (৩ ডিসেম্বর) জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে মহুয়ার বাবার ডান পায়ের হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত কেটে ফেলেন চিকিৎসকেরা।নারী সার্জেন্ট অভিযোগ করেন, এ সময় অন্তত তিন দফায় তিনি বনানী থানায় মামলা করার জন্য গেলেও পুলিশ তাঁর অভিযোগ নেয়নি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার জন্য তিনি থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। ফোনও ধরেননি।রোববার আজকের পত্রিকাকে মহুয়া জানান, সবশেষ গত শনিবার লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ করা হয়নি। রেখে যেতে বলেছেন ওসি। মহুয়া অভিযোগ করেন, মামলা না-নিয়ে ওসি নূরে আযম মিয়া আপাতত তাঁকে বাবার চিকিৎসার দিকে মনোনিবেশ করতে পরামর্শ দিয়েছেন। ওসি বলেছেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া মামলা রেকর্ড করা যাবে না।সার্জেন্টের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বনানীর ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। ঘটনার পর গাড়িসহ অভিযুক্তদের আটক করার পর ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।গাড়িটির নম্বর ধরে আজকের পত্রিকার পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়িটির মালিক আইডিএলসি ফাইন্যান্সিয়াল লিমিটেড। তবে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সাইফ হাসান নামের এক যুবক। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী অন্তরা ও বন্ধু রোয়াদ রহমান। এঁরা সবাই গুলশান-১-এর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।রোববার সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মনোরঞ্জনের তৃতীয় দফা অপারেশনের প্রস্তুতি চলছে। স্বজনেরা জানান, বাঁ পা কেটে ফেলতে হবে বলে চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ছয় ঘণ্টার চেষ্টা করেও সফল হননি চিকিৎসকেরা। কারণ, রোগীর শারীরিক অবস্থা খুবই নাজুক।রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল গণি মোল্যাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, রোগীর অবস্থা মুমূর্ষু। এখন পর্যন্ত তাঁর তিনটি অপারেশন করা হয়েছে। একবার অপারেশনে ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। বাঁ পায়ের অবস্থাও ভালো নয়। সেটাও কেটে ফেলতে হতে পারে।হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সামনে মহুয়া হাজং আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ কয়েক দিনে ওই প্রভাবশালীর দেহরক্ষী (বডিগার্ড) কনস্টেবল মামুন তিনবার এসেছেন হাসপাতালে। নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন মামলা না-করার জন্য। | 6 |
বিশ্বের অন্য লিগগুলোর মতো করোনার কারণে দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস বন্ধ ছিল স্পেনের লা লিগা। তিন মাস পর খেলা শুরু করে খুব দ্রততম সময়ের মধ্যে মৌসুম শেষ করা হয়। আর তাই প্রত্যেক দলকে বিশ্রাম ছাড়াই খুব ঘন ঘন ম্যাচ খেলতে হয়। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের ব্যাপারটি ছিল অন্য দলের চেয়ে আলাদা। কারণ তাদের ঘন ঘন ম্যাচ খেলা ছাড়াও মাথায় ছিল শিরোপা জয়ের বাড়তি চাপ। শেষ পর্যন্ত রিয়াল শিরোপা জিতলেও দুই দলের ওপরই গেছে বড় রকমের ধকল। লা লিগা শেষ হয়ে গেছেই বলেই এখনই বড় রকমের বিশ্রাম পাবেন না তারা। কারণ দুই দলই আবার আগামী মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াইয়ে নেমে যাবে। আর তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে নামার আগে নিজেদের ফুরফুরা করার জন্য ছুটির প্রয়োজন ছিল দুই দলের খেলোয়াড়দেরই। সেই প্রয়োজনীয় ছুটি পেয়েছেন তারা। জানা গেছে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের ১ সপ্তাহের জন্য ছুটি দিয়ে দিয়েছেন কোচ কিকে সেতিন। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত দলের কোনো খেলোয়াড়কে অনুশীলনে আসতে হবে না। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদানও তার শীর্ষদের বেশ কয়েকদিনের জন্য ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। এদিকে ছুটি পেয়েই তা কাজে লাগানো শুরু করে দিয়েছেন মেসিরা। টানা অনেকদিন খেলার পর ফের ছুটি পেয়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বেরিয়ে পড়েছেন। যদিও বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষকে অতি প্রয়োজন ছাড়া এক স্থান থেকে আরেক স্থানে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে বার্সেলোনা মেট্রোপলিটন। কিন্তু সেই অনুরোধ অগ্রাহ্য করে শহর ছেড়ে অন্য শহরে গেছেন তারা। যেহেতু চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে মেসিরা অনুরোধ না শুনে অন্য শহরেই ঘুরতে বেরিয়ে গেছেন। শোনা যাচ্ছে মেসি ও সুয়ারেজ গেছেন ইবিজায়। সেখানে ছুটির সময়গুলো আনন্দে কাটাবেন তারা। ছুটি পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে পরা মেসির আগেরই অভ্যাস। নিজেকে ফুরফুরে রাখতে তিনি যখনই ছুটি পান তখনই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। আর এই পুরনো অভ্যাসের কারণেই করোনাও তাকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। তিনি ঘরে থাকার অনুরোধ না মেনেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়েছেন। | 12 |
ঢালিউডের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক প্রাপ্ত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। ক্যারিয়ারে বেশি কিছু হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তাই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাকে নিয়ে আলোচনা বিস্তর। তেমনই আলোচনায় এই নায়িকার ব্যক্তিগত জীবনও। সম্প্রতি ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে তিনি তার ব্যবসায়ী স্বামী মাহমুদ পারভেজ অপুর থেকে আলাদা হয়ে গেছেন। তাদের ডিভোর্সের ব্যাপারটি এখন প্রক্রিয়াধীন। এরই মাঝে গুঞ্জন, আবারও বিয়ে করেছেন মাহিয়া মাহি। ঢালিউডের অন্দরে এমন গুঞ্জনই চলছে। গত ১১ জুন রাতে বিয়ের কাতান শাড়ি পরে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন নায়িকা। ক্যাপশনে লেখেন, 'আলহামদুলিল্লাহ'। তারই সূত্র ধরে গতকাল (শনিবার) ছড়িয়ে পড়ে তার বিয়ের গুঞ্জন। আসলেই কি নায়িকা মাহি বিয়ে করেছেন? এমন প্রশ্নই ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জানা গেছে, রাকির সরকার নামে এক যুবককে বিয়ে করেছেন মাহিয়া মাহি। রাকিব গাজীপুরের রাজনীতিতে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। তার আরেক পরিচয় তিনি একজন ব্যবসায়ী। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মাহি বা রাকিব কেউই তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেননি। যদিও মাহির ফেসবুক লাইভে পাওয়া গেছে রাকিবকে। তবে মাহিয়া মাহি দাবি করেছেন, বিয়ে নিয়ে যে খবর প্রচার হচ্ছে তা সম্পূর্ণ গুজব। খবরটি একদমই সত্য নয়। রাকিবের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে কিন্তু বিয়ের খবর একেবারে ভুয়া। সে পরিচিত একজন ছাড়া আর কিছু না।' বিয়ের এমন মিথ্যা খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে ভক্তদের অনুরোধও জানিয়েছেন 'পোড়ামন' খ্যাত এই তারকা। এর আগে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি শাহরিয়ার ইসলাম শাওন নামে এক যুবক মাহিকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেন। জানান, তাদের বিয়ে হয়েছে। তারা নাকি এক মাস সংসারও করেছেন। ওই সময় শাওনের সঙ্গে তোলা মাহির বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা মকদ্দমা হয়। তারই মাঝে সিলেটের ব্যবসায়ী অপুকে বিয়ে করেন মাহি। সে সময় মাহির করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নায়িকার সঘোষিত স্বামী শাওন। ২০১৬ সালের ১৬ জুন আদালতে এক লাখ মুচলেকায় তিনি জামিনও পান। এর পরের বছর শাওনকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। তিনি অব্যাহতি পানও। এরপর আর স্বামীর দাবি নিয়ে মাহির সামনে দাঁড়াননি শাওন। | 2 |
কাশ্মীরের উপর থেকে বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে ভারত। সেই ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেয়ার দিন থেকেই সেখানে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল।মঙ্গলবারবিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারেরএকশো দিন পূর্ণ হলো। প্রথম দিকে যেরকম কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল রাস্তায় চলাচলের ওপরে, সেসব শিথিল করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র ১৪৪ ধারায় চারজনের বেশি একসঙ্গে চলাফেরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দোকানপাট, বাজারঘাট সকালে ঘণ্টা তিনেকের জন্য খোলা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ওই তিন ঘণ্টার মধ্যেই কিনতে হয়। অন্যদিকে পর্যটন ব্যবসায় নেমেছে ধস। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও এই ১০০ দিন ধরেই আটক হয়ে আছেন। জারি রয়েছে ১৪৪ ধারাও। ৩৬ লাখ প্রিপেইড মোবাইল এখনও চালু হয় নি, নেই ইন্টারনেটও। তবে চালু হয়েছে ল্যান্ডলাইন ফোন আর পোস্ট পেইড মোবাইল ফোন। ইন্টারনেট চালুর দাবিতে মঙ্গলবারই শ্রীনগরে বিক্ষোভ করেছেন সেখানকার সাংবাদিকরা। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা নেত্রী এমন কি সাবেক মুখ্যমন্ত্রীরাও আটক হয়ে আছেন। একই সঙ্গে বহু কাশ্মীরীও সেখানকার জেলে এবং এবং উত্তর প্রদেশের জেলে আটক রয়েছেন। এই নতুন রুটিনে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মাঝে মাঝেই বিক্ষোভের মাধ্যমে এটা টের পাওয়া যায় যে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ এখনও কমেনি।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় শিশু সন্তানের সামনে জেরিন আখতার (২৭) নামের এক মায়ের মুখে পেট্রল ছুড়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্ত। বর্তমানে ওই নারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। সোমবার সকালে বোরকা পরা এক দুর্বৃত্ত ওই নারীর মুখে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। নগরীর উপকণ্ঠ বানেশ্বর কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জেরিন আখতারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক। জেরিন আখতার বানেশ্বর বাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনাইটেড ব্যাংকের কর্মচারী মিজানুর রহমানের স্ত্রী। তিনি রাজশাহী কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। জেরিন আখতারের স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিনের মতো শিশু সন্তানকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল জেরিন। বানেশ্বর কলেজের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বোরকা পরা এক ব্যক্তি তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে মুখে পেট্রল ছুড়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত জেরিনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা বিষয়টি শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। | 6 |
অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ে বাংলাদেশকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে ভারত।
সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে যৌথ ঘোষণায় এ কথা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তিনি জানান, বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) দেবে ভারত। এছাড়া ভারতের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ে দেশটি বাংলাদেশকে আরও ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে।
এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে সকালে তিনি নয়াদিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছলে সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান নরেন্দ্র মোদি। এ সময় শেখ হাসিনা গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
চার দিনের ঐতিহাসিক সফরে শুক্রবার দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দুপুরে পালামের ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সফরের প্রথম দিনে বিকেলে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাতে তিনি বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর বাসভবনে নৈশভোজে অংশ নেন।
শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
| 6 |
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর আলম তুষার আত্মহত্যা করেননি। তাকে আঘাতের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে এমটাই বলা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টের পরে তানভীর আলম তুষারের বাবা মোহসিন আলী বাদী হয়ে গত ৪ মার্চ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাগাছ থানার ওসি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, , রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মোহসিন আলীর একমাত্র ছেলে তানভীর আলম তুষার। তিনি বেগম রোকেয়াা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অস্টম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। গত বছরের ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তার চাচাতো ভাই সাব্বির আলম তাকে ডাকতে এসে রুমের দরজা বন্ধ দেখেন। পরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তুষারকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তুষারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এর আগে তার ফেসবুক আইডিতে 'ও ছটওঞ ভড়ৎ বাবৎ' লিখে স্ট্যাটাস দেন তুষা। এ ব্যাপারে ওইদিন হারাগাছ থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়। হারাগাছ থানার ওসি রেজাউল করিম ফরেনসিক রিপোর্টে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এঘটনায় তুষারের বাবা অজ্ঞাত নামাদের আসামি করে মামলা করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
পূর্ব ঘোষণা অনুয়ায়ী আজ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে গণপরিবহন চলাচল। ফলে সব বাস-মিনিবাস আসন পূর্ণ করেই যাত্রী পরিবহন করবে। সেই সঙ্গে যাত্রীরা আগের ভাড়ায় চলাচল করবেন। বাড়তি ৬০ শতাংশ ভাড়া আর গুনতে হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ জানান, বাস-মিনিবাস স্বাভাবিকভাবে চলাচলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আমরা পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পরিবহন শ্রমিকদের সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস চলাচলের প্রস্তুতি নিতে বলে দিয়েছি। মালিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বাস চালানোর ব্যবস্থা নেবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে যাত্রীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। গত শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১ সেপ্টম্বর থেকে গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচলের ঘোষণা দেন। তবে কিছু নিয়ম ও শর্ত মেনে বাস চালানোর জন্য মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শর্তের মধ্যে আছে- প্রতি ট্রিপের শুরু ও শেষে গাড়িটি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার, হেলপার, টিকেট বিক্রয়কারীসহ বাসে অবস্থানরত সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাসস্ট্যান্ডে হাত ধোঁয়ার বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আসন সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা এবং দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। সরকারের এসব শর্ত মেনেই বাস চালাবেন বলে বিআরটিএ এর সঙ্গে বৈঠককালে আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরো কিছুদিন অপেক্ষা করে গণপরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল শুরুর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করেই সরকার আসন পূর্ণ করে গণপরিবহন চলাচল অনুমতি দিয়েছে। ফলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছেন। কারণ গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই মানা হয় না। সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওইদিন বলেন, গণপরিবহন পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। নিয়ম ও শর্ত মেনে যানবাহন চালানোর জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। শর্ত না মানলে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারী যানবাহনের চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ৬০ ভাগ বর্ধিত ভাড়া কমিয়ে করোনার আগের অবস্থায় গণপরিবহন চালানোর অনুমতি চেয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। পরে গত ১৯ আগস্ট পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বিআরটিএ বৈঠক করে। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে আরো কয়েক দফা আলোচনার পর আজ থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। | 6 |
গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পাব-এই ভাবনা আমাদের একটা স্বস্তি দিচ্ছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় কি না, সেই প্রশ্ন ভোটের দিন পর্যন্ত ঝুলতে থাকবে। তবে প্রধান দলগুলো যদি নির্বাচনী প্রচারণাকে শান্তিপূর্ণ এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ দিতে পারে, তাহলে ভোটের দিনে অধিকতর ভোটার টানতে তা বড় ভূমিকা রাখবে। একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বললেন, কোনো সাধারণ নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোটার এলেই তাকে ভালো নির্বাচন বলা চলে। তিনি আশাবাদী, আসন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৬০ ভাগ হতে পারে। এ প্রসঙ্গে স্মরণযোগ্য যে ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোটারদের হার ছিল ৫৭.৬৮ ভাগ। ১৯৭৩ সালে এই হার ছিল ৫৪.৯১ শতাংশ। ৪৮ বছরের ব্যবধানে আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা এবং জনসচেতনতার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। আর আমরা এক দিনের গণতন্ত্রকেই উদ্যাপন করছি। আমাদের সংস্কৃতির মন্ত্র হলো, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পায়, তারাই রাজা। অন্যরা ফকির। তাই এখন ৬০ ভাগ ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারি না। অবশ্য এ প্রসঙ্গে আমরা মনে রাখব, প্রচলিত ভোটাভুটিনির্ভর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী একটা দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম বড় প্রমাণ, ভোটাররা ক্রমেই নিরাসক্ত হয়ে পড়ছেন। নব্বইয়ের দশক থেকেই ভোটদানের হার নিম্নমুখী। এটা গণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং পদ্ধতি হিসেবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমস্যা নির্দেশক। সুইডেনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (আইডিইএ), যারা ১৯৯৯ থেকে বিশ্বব্যাপী ভোটের হার পর্যবেক্ষণ করছে, তারা বলছে, ভোটারদের নিম্নহার এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জনগণ ভোট নামের হাতিয়ার দিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণকারী দলগুলোকে বৈধতা দিতে অনাগ্রহী। গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বকারী মূল প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোকে তারা আর স্বীকার করে নিতে চাইছে না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে নাগরিকেরা রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ছেন। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের নাগরিক আন্দোলনের উত্থান ঘটাচ্ছেন। দলহীন অচেনা নাগরিকেরা বড় বড় সফল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই অচেনা মুখগুলোর সঙ্গে চেনা মুখগুলোর ব্যবধান হলো, প্রথমোক্তের সঙ্গে জনগণের পদ্ধতিগত কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু শেষোক্তের সঙ্গে জনগণের পদ্ধতিগত সম্পর্ক আছে। আর সেই সম্পর্ক ইউরোপে যেমন, উন্নত বিশ্বে যেমন, তেমনটা উন্নয়নশীল বা গণতন্ত্রে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোতে নিশ্চয়ই নেই। জবাবদিহির সঙ্গে বৈধতার সম্পর্ক সব থেকে জোরালো। এ কারণে পাশ্চাত্য বহু ধরনের কলাকৌশল বের করেছে। তারা রিকল ব্যবস্থা (কোনো সাংসদের প্রতি অনাস্থা দেখা দিলে নির্দিষ্ট আসনে মধ্যবর্তী নির্বাচন করা) চালু করেছে। গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর গণভোট করছে। তারা ভোটারদের সরাসরি গণতন্ত্রের স্বাদ দিচ্ছে। এসবের মাধ্যমে ওই সব দেশে একটা মিথ ভেঙে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কারণ, অনেক দেশের পেশাদার রাজনীতিকেরা এটা দাবি করতেই পছন্দ করেন যে জনগণ তাঁকে নির্দিষ্ট মেয়াদে শাসক হতে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু কার্যকর গণতন্ত্র তা বলে না। নির্বাচনে দলগুলোর অংশগ্রহণ কিংবা বিপুল ভোটারের উপস্থিতি, এসবের কোনো কিছুই আর প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের পরিপূরক নয়। স্বাধীন গণমাধ্যমের যে দাবি, সেটাও কিন্তু সরকার বা রাষ্ট্রের দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয় নয়। স্বাধীন গণমাধ্যম জনগণকে সরাসরি গণতন্ত্র কিংবা কার্যকর ভোটাধিকারের স্বাদ দিতে পারে। আবার শাসনব্যবস্থা বা কাঠামো এমন হতে পারে যে কোনো ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠী তা তিনি বা তাঁরা যতই ক্ষমতাধর হোন না কেন, চাইলেই অগাধ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত বর্ণবাদী প্রথম আদেশ, যা দিয়ে তিনি কয়েকটি মুসলিম দেশের অভিবাসীদের বহিষ্কার করতে চেয়েছিলেন, তাঁকে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন যিনি, তিনি একজন জেলা জজ মাত্র। সুতরাং আমেরিকার নির্বাচনে ২০১৪ সালে (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নির্বাচন) মাত্র ৪২.৫০ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন বলেই সেটা সেই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাস্থ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড নয়। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে বাংলাদেশের দলগুলো এখনো পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, তাতে বুঁদ হয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মান উন্নত করার কোনো আলোচনা পর্যন্ত শুরু হতে পারছে না। নির্বাচনকালীন বিরোধীদলীয় মোর্চার যত আকুলিবিকুলি এবং সরকারি দলের যত প্রকারের উদ্বেগ-সেটাও ওই এক দিনের ভোটকেন্দ্রিক। এক দিনের গণতন্ত্রের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু চিন্তা করা উচিত। ডামাডোলের মধ্যেই রাজনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো যায়। যেমন একটা শঙ্কা, বিএনপি এলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সাংসদদের অনেকেই মনোনয়ন পাবেন না। শোনা যাচ্ছে, প্রতি তিনজনে একজন বাদ পড়তে পারেন। যদি আইনে একটা পরিবর্তন আনা হয় যে রিকল করা যাবে। তাহলে ক্ষমতাসীন দল গণতান্ত্রিক উপায়ে সাংসদ বদলাতে পারে। এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা দলের হাইকমান্ডের বিবেচনায় বহু আগে অনুপযুক্ত বলে শনাক্ত হয়ে আছেন। কিন্তু উপায় না থাকার কারণে দলকে তাঁদের বোঝা বইতে হচ্ছে। আইডিইএ রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৪ সালে বাংলাদেশ (এর আগের বছরে পাকিস্তান ৫৩.৬২ ভাগ) যখন ৫১.৩৭ ভাগ ভোটারের (সুজনের মতে, ৪০. ০৪ ভাগ) অংশগ্রহণে নির্বাচন করেছে, তখন পরের বছর সুইজারল্যান্ডে নির্বাচন হয়েছে ৪৮.৪০ ভাগ ভোটারের অংশগ্রহণে। এখন কেউ নিশ্চয়ই ভোটারদের উপস্থিতির হার দিয়ে সুইস গণতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের তুলনা করতে বসবেন না। অবশ্য ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের ফলাফলের শুদ্ধতার প্রশ্ন ভুললে চলবে না। আবার এটাও সত্য যে ১৯৬টি দেশের মধ্যে তালিকার তলানিতে থাকা টপ টেনের হাইতি, গাম্বিয়া, মিসর, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল, মালি, পালাউ, জিম্বাবুয়ে ও লিবিয়া ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের নির্বাচনে ১৮ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশের মধ্যে ভোটার প্রত্যক্ষ করেছে। এসব তথ্য নির্দেশ করছে যে শুধু নির্বাচন নামের একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান দিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুণগত মান বা তার কার্যকারিতা যাচাই করা যাবে না। আমরা উল্লিখিত বৈশ্বিক প্রবণতা ও পরিস্থিতি মনে রেখেই উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের পথের দিকে চেয়ে থাকব। বাংলাদেশের যা বাস্তবতা, তাতে বলা যায়, বেশি ভোটারই বেশি বৈধতা নিশ্চিত করবে। কিন্তু মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি কমাতে হবে। যত বেশি নিরাপত্তা, তত বেশি ভোটার বাড়বে। ভালো প্রার্থী যে আসনে, সেখানেও বেশি ভোটার যাবে। আপাতত এবং আরও কয়েকটি নির্বাচন মেয়াদে আমরা গণতন্ত্র বলতে নির্বাচনকেই বুঝব। এই আমাদের নিয়তি। এই বাস্তবতা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি, সেই সম্ভাবনা নিকট ভবিষ্যতে দেখি না। কিন্তু আর সে জন্য দরকার প্রাক্নির্বাচনী মাসগুলোকে কম সহিংস, কম অপরাধপ্রবণ করা। বিরোধী দলকে যত বেশি শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে, তত বেশি ভোটার বাড়বে বলে অনুমান করা যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি সর্বজনীন মন্ত্র আছে, সব পরিস্থিতিতে যথাসম্ভব কম শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। পুলিশ যত বেশি ভালো ও ন্যায্য আচরণ করতে পারবে, তত বেশি নির্বাচনী পরিবেশ উত্তম হবে। প্রতীয়মান হচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি নির্বাচনের মধ্যে তিনটিকে (ষষ্ঠ সংসদ বাদ দিয়ে) আমরা বেশি অবাধ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বলতে পারি। এই তিন নির্বাচনের গড় ভোট দেওয়ার হার ৬৮.৬৬। এক-এগারোর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বাধিক ভোটার সমাগম ঘটে। এটা শতকরা ৮৬.৩৪। এক দশকের ব্যবধানে আসন্ন নির্বাচনটিকে আমরা অংশগ্রহণমূলক অনুমান করতে পারি কিন্তু তাতে ৮০ শতাংশ ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তা সহজে অনুমান করতে পারি না। অনেক শঙ্কা, অনেক দ্বিধা, নির্বাচনে মানুষের ঢল নামবে তো? মিজানুর রহমান খান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক[] | 8 |
প্যারালাইজড মুজিবুর রহমান চলৎশক্তিহীন হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে আছেন। কিন্তু তার খুব ইচ্ছা, ছেলের বউকে নিজের হাতে তুলে নিয়ে আসার। আর ছেলে মিশানের ইচ্ছা যেভাবেই হোক বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। প্রেমিকার ইচ্ছা বিশ্ব ভালোবাসার দিনই তাদের বিয়ে হবে। এমন দিনে বাবা ও প্রেমিকার দু'জনের ইচ্ছাই পূরণ করলেন প্রকৌশলী মহিদুল ইসলাম মিশান। বৃহস্পতিবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বিয়ে করেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার লেবুতলা গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে মিশান। দেড়শ' বরযাত্রী নিয়ে সড়কপথে যশোরের বাঘারপাড়ায় যান তিনি। আর তার বাবা আসেন হেলিকপ্টারে চড়ে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাবার ইচ্ছামতো তার হাতেই তুলে দেওয়া হয় ছেলের বউকে। এক্সিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশান ছয় মাস আগে পারিবারিক পছন্দে বিয়ে করেন যশোরের বাঘারপাড়ার মহিরণ গ্রামের জামসেদ খান চঞ্চলের মেয়ে নাদিরা খান জেমিকে। বিয়ের সময় তেমন আনুষ্ঠানিকতা হয়নি। জেমি বরিশাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া করেন। জেমি জানিয়েছেন, তার পরীক্ষা আর বিশেষ দিনের অপেক্ষার জন্য বিয়ের অনুষ্ঠান করতে দেরি হয়েছে। মিশানের সঙ্গে আলোচনা করেই তারা ভালোবাসা দিবসে অনুষ্ঠানের তারিখ ঠিক করেন। এজন্য তারা ছয় মাস অপেক্ষা করেন। মিশান জানান, তার বাবা যেভাবেই হোক অনুষ্ঠানে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার ইচ্ছা পূরণ করার জন্যই হেলিকপ্টার ভাড়া করা হয়। তারা বরযাত্রী নিয়ে বুধবার বিকেলে রওনা দেন। রাতে যশোরের হোটেল থেকে সকালে কনের বাড়িতে যান। পরের দিন দুপুর ১টার দিকে তার বাবা হেলিকপ্টারে করে বিয়েবাড়িতে পৌঁছান। বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। | 6 |
ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি অভিযোগ এনেছেন, তার ফেসবুকের ইনবক্সে একাধিক অশ্লীল বার্তা পাঠাচ্ছে পার্থ মণ্ডল নামে এক যুবক।
এর প্রতিক্রিয়া শনিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি কন্যা ও কংগ্রেস নেত্রী শমিষ্ঠা।
এতে তিনি জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে পার্থ মণ্ডল নামে 'বিকৃত মস্তিষ্কের' এক ব্যক্তি তাকে অশ্লীল বার্তা পাঠাচ্ছে। প্রথম প্রথম সেগুলো তিনি অবহেলা করতেন।
তিনি বলেন, 'পরে মনে হয়েছে এই ধরনের নীরবতার কারণে ওই ব্যক্তি অন্য নারীদের উত্যক্ত করতে পারে। তাই আর নীরব থাকা সম্ভব হলো না। কেননা এই ধরনের ব্যক্তিদের শুধু অবহেলা বা ব্লক করাই যথেষ্ট নয়।'
এই কংগ্রেস নেত্রী আরও বলেন, 'আমি খুব গভীরভাবে অনুভব করছি এই ধরনের লোকদের জনসম্মুখে আনা উচিত এবং তাদের অপমান করা উচিত। তাই আমি তার পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশটও পোস্ট করলাম।'
এরপরই রাষ্ট্রপতির মেয়ের করা ওই পোস্টে অনেকে মন্তব্যও করেছেন। অনেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একজন লিখেছেন, 'এটা শুরু রাষ্ট্রপতির মেয়েকে নয়, সমগ্র নারী জাতিকে অপমানের সামিল।' আর একজন লিখেছেন, 'ওই ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ কেটে কুকুরে খাওয়ানো উচিত।' সূত্র: জিনিউজ
| 3 |
বড়দিন উপলক্ষে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কর্মীরা বৃহত্তর ম্যানচেস্টারে অবস্থিত তিনটি শিশু হাসপাতালের রোগী ও কর্মীদের বিভিন্ন উপহার পাঠিয়েছেন। রয়্যাল ম্যানচেস্টার শিশু হাসপাতাল, ক্রিস্টি এবং ফ্রান্সিস হাউস চিলড্রেনস হসপাইসে থাকা শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতেই রোনালদোদের এমন আয়োজন।বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে এ বছর (আগের বছরও) ম্যানইউর খেলোয়াড়েরা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে উপহার পাঠাতে পারেননি। কিন্তু এবার তাঁরা শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রিয় মানুষদের উপহার পাঠিয়ে অবাক করে দিয়েছেন। শুধু উপহারই নয়, সামাজিক মাধ্যমে রোনালদো-পগবারা ভক্তদের বড়দিনের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েও চমকে দিচ্ছেন।গত বছর এবং এ বছর হাসপাতালে শিশুদের দেখতে যেতে না পেরে রোনালদোর হৃদয় পুড়েছে। এ বছর তাই তাদের জন্য কিছু করতে পেরে বেশ খুশি সিআর সেভেন, 'এটা খুবই দুঃখের বিষয়, আমরা এ বছর হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করতে পারিনি। এটি এমন একটি জিনিস, যা আমি সত্যিই উপভোগ করেছি শেষবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসে। বাচ্চাদের খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ, এটি দারুণ ব্যাপার। এই ক্রিসমাসের অংশ হতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। আমি খুব খুশি।'ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনির কাছে ভক্তদের মুখের এই হাসির দাম অনেক। আর সেটি যদি হয় বছরের এই বিশেষ সময়ে, তবে তো কথাই নেই। ম্যাকটমিনি বলেন, 'বড়দিন বছরের যেমন একটি বিশেষ সময়। এই সময়টায় পরিবারের মানুষ ও শিশুরা বড়দিনের ভালোবাসা অনুভব করে। একজন ফুটবলার হওয়ার সবচেয়ে ভালো দিক হলো ভক্তদের মুখে হাসি দেখা।' | 12 |
দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ায় সামান্যতম উদাসীনতায় বিপদজনক ভবিষ্যতেরই পূর্ভাবাস জানিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রবিবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর আইডিইবি ভবনে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ আয়োজিত "মুজিববর্ষ ও কোভিড ১৯ মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান। এসময় তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এদেশের জনগণ অতীতে অনেক প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, চলমান করোনা দুর্যোগও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। তিনি এখনই সকলকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মহামারি থেকে রক্ষা পেতে ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ উৎযাপন করে এই প্রাণঘাতী করোনাকে প্রতিরোধ করাই এখন একমাত্র অবলম্বন বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। গতকালও ভারতে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল, ভারত এখন করোনার তাণ্ডবে লন্ডভন্ড। অক্সিজেন উৎপাদনে বিখ্যাত দেশ হওয়া সত্বেও ভারত আজ চরম সংকটে অক্সিজেনের জন্য, সেখানে হাহাকার লেগেই আছে, ফুটপাতও এখন ভারতের শ্মশানঘাটে পরিণত হয়েছে এমতাবস্থায় ওবায়দুল কাদের বলেন, আবারও তৃতীয় ঢেউয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং ভারত থেকে বিপদজনক বার্তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অভিন্ন শত্রু করোনাকে বাদ দিয়ে এখনও দেশে রাজনীতির ব্লেম গেইম চলমান উল্লেখ করে বলেন, যতদোষ কেবল নন্দ ঘোষ শেখ হাসিনা ও তার সরকারের। অথচ বাংলাদেশ এখনও তুলনামূলকভাবে ভালো আছে শেখ হাসিনার মতো সাহসী, দুরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বের কারণে। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করে শেখ হাসিনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হয়েছেন, একথা তার নিন্দুকেরাও স্বীকার করেন। | 6 |
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির দুই প্রার্থী। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন মঙ্গলবার বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হিসেবে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ইশরাক হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাবিথ আউয়ালের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম আর ইশরাক হোসেনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুন বাতেন। এসময় বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে কি না, এটা নিয়ে সন্দেহ আছে। এই সন্দেহ শুধু তাদের একার নয়, সাধারণ জনগণের অনেক প্রশ্ন আছে। তারা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না, ঠিকভাবে ভোট গণণা হবে কি না। এ কথাগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি। তিনি বলেন, অতীতে বিতর্কিত নির্বাচন হয়ে এসেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। অনেক অপরিষ্কার জায়গা আছে। যেখানে প্রযুক্তি এবং তথ্য নিয়েও প্রশ্ন আছে। এগুলো নিয়ে আগামী দিনগুলোতে তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে তারা খুব সিরিয়াস। নির্বাচনে যত সমস্যাই আসুক, সবগুলোকে অতিক্রম করার চেষ্টা করবো। শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন। তার মানে এই নয়, যে ভুলগুলো হতে যাচ্ছে, সেগুলো আগে থেকে মেনে নেব বা জনগণকেও মানতে দেবো। সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে এ দাবিগুলো আবার তুলে ধরছি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ইশরাক সাংবাদিকদের বলেন, এখনো নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলার সময় আসেনি। কিছুদিন পার হলে হলে বলতে পারব। দেশে গণতন্ত্র নেই, ভোটাধিকার নেই, এখন ক্রান্তিকাল চলছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনব। | 9 |
মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাট সরিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরায় মাঝিরকান্দিতে নেওয়া হবে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কার ঘটনায় অফিসার্স ক্লাবে এক বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে।বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এই চ্যানেলে ভালো মানের ফেরি চালাতে হবে দক্ষ মাস্টার দিয়ে। তাছাড়া আবহাওয়া খারাপ থাকলে ফেরি চালানো যাবে না। তারপরেও যদি ফেরিতে দুর্ঘটনা হয়, তার জন্য কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। তখন আর সাময়িক বরখাস্ত নয় সরাসরি চাকরি চলে যাবে-এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সেতু মন্ত্রণালয় সচিব, পদ্মাসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান এবং মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জের ডিসি।শুক্রবার সকালে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-মাদারীপুরের বাংলাবাজার রুটে চলাচল করা 'ফেরি কাকলী' পদ্মাসেতুর ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ফেরির মাস্টার ও হুইল সুকানিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।গত দুই মাসে চার বার সেতুর পিলারে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও গত ২০ জুলাই প্রথম পদ্মাসেতুর ১৬ নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছিল রো রো ফেরি শাহ মখদুমের। দ্বিতীয় দফায় ২৩ জুলাই রো রো ফেরি শাহজালাল ১৭ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এই মাসের ৯ তারিখ সোমবার সন্ধ্যায় রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা লাগে। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) আরারও ১০ পিলারে ফেরি কাকলী ধাক্কা দেয়। | 6 |
পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলেন বলিউডের সাবেক অভিনেত্রী ময়ূরী কাঙ্গো। কিন্তু আর পাঁচজনের মতো তিনিও এসেছিলেন মায়ানগরী মুম্বাইতে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য। তবে ময়ূরীর ফিল্মি ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি। তাই একদিন গ্ল্যামার দুনিয়া ছেড়ে তিনি পা রেখেছিলেন করপোরেট দুনিয়ায়।দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী তখন ময়ূরী কাঙ্গো। পরিচালক সাঈদ আখতার মির্জার নজরে পড়েন তিনি। ময়ূরীর সৌন্দর্য আর পাঁচটা বলিউড নায়িকার চেয়ে অনেকটাই আলাদা ছিল। এক অদ্ভুত সরলতা ছিল তাঁর সৌন্দর্যে। ১৯৯৫ সালে সাঈদ তাঁর ছবি 'নাসিম'-এ ময়ূরীকে প্রথম সুযোগ দেন। প্রথমে একটু ভয় পেয়েছিলেন ময়ূরী। পড়াশোনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে অভিনয় করবেন, সেটা ভেবেই পাচ্ছিলেন না তিনি। পরে অবশ্য সাঈদের প্রস্তাব গ্রহণ করেন ময়ূরী। 'নাসিম' ছবি দেখে চিত্র পরিচালক মহেশ ভাটের বেশ পছন্দ হয় নবাগত ময়ূরীকে। মহেশ তাঁর পরবর্তী ছবি 'পাপা ক্যাহতে হ্যায়'-এর নায়িকা হিসেবে নেন তাঁকে। এই ছবি ময়ূরীকে তারকাখ্যাতি দিয়েছিল। আজও সিনেমাপ্রেমীদের স্মৃতিতে আছেন তিনি মহেশের এই ছবির জন্যই। এরপর তাঁর অভিনীত 'হোগি প্যায়ার কি জিত', 'বেতাবি', 'বাদল' ছবিগুলো মোটামুটি আয় করেছিল। কিন্তু ময়ূরীর বাকি ছবিগুলো বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তাঁকে শেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে তেলেগু ছবি 'ভামসি'-তে। এই ছবিতে তিনি ছাড়া ছিলেন দক্ষিণি তারকা মহেশ বাবু আর নম্রতা শিরোদকর। বেশ কিছু টেলিভিশন ধারাবাহিকে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু এখানেও তিনি সফলতা পাননি। ময়ূরীর কথা অনুযায়ী তাঁর অভিনীত প্রায় ১৬টি ছবি মুক্তি পায়নি। ময়ূরী কানপুর আইআইটিতে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বলিউডে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে এসে এত ভালো সুযোগ তাঁর হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। ছবির জগতে সেভাবে সফলতা না পাওয়ায় একদিন গ্ল্যামার দুনিয়াকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০৩ সালে এনআরআই আদিত্য ঢিল্লনের সঙ্গে ঔরাঙ্গাবাদে গাঁটছড়া বাঁধেন এই বলিউড রূপসী। বিয়ের পর আদিত্যর হাত ধরে সুদূর মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমান ময়ূরী। আর এখানেই তিনি বিপণন ও অর্থায়নের ওপর এমবিএ করেন। শুরু হয় ময়ূরীর নতুন এক জীবন। ২০১২ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় চাকরি করেছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে দেশে ফিরে আসেন ময়ূরী। আর এখানে এসে ফরাসি বিজ্ঞাপন কোম্পানি পারফরমিক্সে কাজ করেন তিনি। ২০১৯ সালে তাঁর জীবনে আসে বড় এক সুযোগ। গুগল ইন্ডিয়ায় যোগ দেন তিনি। গুগল ইন্ডিয়ার প্রধান পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন ময়ূরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দপ্তরের কিছু ঝলক দেখিয়েছেন তিনি। বলিউডের ব্যর্থ নায়িকা ময়ূরী আজ করপোরেট দুনিয়ায় চূড়ান্ত সফলতার কাহিনি লিখেছেন। | 2 |
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে আজ বুধবার পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোর বিপক্ষে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরেও সেমিফাইনালে পৌছে গেছে চেলসি। প্রথম লেগে ২-০ গোলের জয় পেয়েছিল টমাস টুখেলের শির্ষরা। আর তাই দুই লেগ শেষে সেমিতে পৌছে গেছে চেলসি। এর মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অষ্টমবারের মতো সেমিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল তারা। আর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েই রেকর্ড গড়েছে চেলসি। আর সেটি হলো কোন ইংলিশ ক্লাব হিসেবে সর্বোচ্চ আটবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি ফাইনালে খেলা। ম্যাচটিতে পোর্তোর হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন তারেমি। সেটিও ম্যাচের ৯৩ মিনিটের সময়। ফলে এই গোল পোর্তোর আর কোন কাজেই আসেনি। পুরো ম্যাচটিতে চেলসি মাত্র একবার ও পোর্তো দুইবার জাল লক্ষ করে বল শট করতে সমর্থ হয়। পর্তুগিজ জায়ান্ট পোর্তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক আউট পর্বে কোন ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামলেই বাদ পরে যায়। চেলসির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পরে যেন এটিই প্রমাণ হয়েছে। কারন এর আগে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ মৌসুমে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলের বিপক্ষে খেলে নক আউট পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। | 12 |
যারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে নানা রকম হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।মন্ত্রী বলেছেন, 'যারা যারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই। তবে আমার ছোটখাটো বক্তব্য হচ্ছে এই, আমি যে ঘটনাগুলো শুনছি, সে ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে দোষটা বোধহয় আইনের থেকে বহুগুণে বেশি আইন প্রয়োগকারী এবং বিচার ব্যবস্থার মধ্যে। কারণ আমি এখানে যা দেখলাম, শুনলাম তাতে এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সব থেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।'আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভুক্তভোগী ও প্রকৃত অপরাধী' শিরোনামে ভুক্তভোগীদের সম্মেলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেন।আইনটি তৈরির আগে আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া হয়েছিল। সেখানে সাংবাদিকদের একটু ক্ষোভ ছিল। কিন্তু সেটাকে অযৌক্তিক দাবি করে মন্ত্রী বলেন, 'আইনটি সংসদে যাওয়ার পরে পুলিশেরা একটি বিষয়ে আমাকে বললেন। স্যার, কোথাও যখন ঘটনা ঘটবে, আমরা আদালতে গিয়ে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা নিয়ে এসে তারপরে যদি আসামিদের ধরতে যাই তাহলে তো ঘটনা ঘটে শেষ হয়ে যাবে। তখন আমরা কী করব? এমন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে একটি সংশোধনী এসেছিল, সেই সংশোধনী আমি গ্রহণ করেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে। যে, এটি পরিস্থিতি বুঝে সাব ইন্সপেক্টরের ওপরে যারা পুলিশ কর্মকর্তা আছেন, তাঁরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।'নারী ও শিশু নিরাপত্তা আইন, নারী এবং শিশুদের নিরাপত্তার জন্য করা হলেও, এটির সবচেয়ে বেশি অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। তেমনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেরও অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ রাজনৈতিক কারণে করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মোস্তাফা জব্বার।প্রয়োজনে এই আইনে পরিবর্তন আনা হবে ইঙ্গিত দিয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, 'আইন কোনো চিরস্থায়ী দলিল নয়। সংবিধান পর্যন্ত যদি আমরা পরিবর্তন করতে পারি, আইন পরিবর্তন করা কোনো বিষয় না। আইন যদি পরিবর্তন করার দরকার হয়, তাহলে পর্যালোচনা ও অন্যান্য যে বিষয়গুলো করার দরকার আছে, যেতে পারে।'মন্ত্রী বলেন, 'মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় সংঘটিত অপরাধগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রবর্তনের চিন্তাভাবনা এসেছিল। এই আইনের কারণে এমন পরিস্থিতি হবে এমনটা আমি ভাবতেও পারিনি! তখন যদি ভাবতে পারতাম, তাহলে আমি চেষ্টা করতাম যে, এই যে লাইন ধরে তারা বসে আছে...।'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীদের দিকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, 'এটা এক ধরনের সংখ্যালঘু নির্যাতন। এই নির্যাতনগুলো যেন না হতে পারে আইনের দোহাই দিয়ে। এটার জন্য একটা রক্ষাকবচ রাখা যায় কি না সেটার জন্য আমাদের ভাবা উচিত ছিল।'আলোচনা সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।গত বছর দুর্গাপূজার সময় দেশের পূজামণ্ডপ, মন্দিরগুলোতে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন সরকারি বদরুন্নেসা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রোমা সরকার। এর কারণে তাঁকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, 'এই আইনে মামলায় জড়িয়ে আমি চাকরিচ্যুত হয়েছি। এখনো চাকরিতে যোগদান করতে পারছি না। আমি অন্য দেশে গিয়ে উন্নত জীবনযাপন করতে পারতাম। কিন্তু দেশকে ভালোবাসি তাই সেটা করিনি। আমার কাছে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই সমান। রাত আড়াইটায় দরজা ভেঙে আমাকে নিয়ে গেল। আমার সন্তান দুটো ঘুম থেকে উঠে এমন ভয়ানক পরিস্থিতি দেখল! পঁয়ত্রিশ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যখন কোনোভাবেই আমাকে দোষী প্রমাণ করতে পারল না, তখন তারা বলল, একে ছাড়া যাবে না, খুব ঘাউড়া। আমার মামলাটা যেন প্রত্যাহার করা হয়, আমি যেন শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারি। আমার বাচ্চারা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এই দাবি করি।'সম্প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়ে ছাত্রের সঙ্গে তর্কের জেরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটকের পর জেলে যান মুন্সিগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল। তিনি বলেন, 'দেশে স্বাধীনতা নাই, স্কুলে বিজ্ঞান পড়াতে পারি না। পাঠ্যপুস্তকগুলো অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তা দিয়ে ভরে যাচ্ছে। আমি মহানবীকে জ্ঞানীগুণী বলেছিলাম কিন্তু সেটাকে "না" লাগিয়ে দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হয়েছে, শোকজ করা হয়েছে। আমি ১৯ দিন কারাবাসে ছিলাম। আমি কী অপরাধ করেছিলাম? ধর্মের প্রশ্ন তারা টেনেছে, আমি শুধু উত্তর দিয়েছি। আমি এই হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। দেশে সত্যিকারের স্বাধীনতা চাই।'সুনামগঞ্জের ঝুমন দাশ বলেন, 'স্বাধীনতার সপক্ষে কথা বলে, মামুনুল হকের ভাস্কর্য বিরোধী কথার প্রতিবাদ করে আমি ধর্ম অবমাননার মামলা খেয়েছি। এই কারণে আমি জেলেও নিরাপদ ছিলাম না। আমাকে কারাগারে জবাই করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল অন্য ধর্মান্ধ কয়েদিরা!'মোবাইল ফোন অন্য একজন নিয়ে ইসলাম অবমাননার পোস্ট দিয়ে তাঁকে নির্যাতন ও জেল খাটিয়েছে বলে দাবি করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পটুয়াখালীর জয়দেব চন্দ্র শীল। তিনি বলেন, 'আমার ফোন কেউ একজন কথা বলার জন্য নিয়ে সেটা দিয়ে এসব পোস্ট করে। তারপর সেই আবার দলবল নিয়ে এসে আমাকে বেদম প্রহার করে। আমি আমার মেসে মারধরের শিকার হই, থানায় ও কারাগারে অন্য কয়েদিদের মারধরের শিকার হই। আমি নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে গেলেও কারাগারের চিকিৎসকেরা আমাকে চিকিৎসা সেবা দিতেও অস্বীকৃতি জানান।'ভুক্তভোগীদের মধ্যে আরও কথা বলেন কুমিল্লার স্কুলশিক্ষক শংকর দেবনাথ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৎস্যজীবী জশরাজ দাস।অনুষ্ঠানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার এবং নির্যাতন এবং ভোগান্তির শিকার ভুক্তভোগীদের পরিত্রাণের বিষয়ে কথা বলেন বেশ কয়েকজন আলোচক।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন-একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্যারিস্টার তাপস পাল, অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া, কাজল দেবনাথ, এ্যারোমা দত্ত এবং সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। | 6 |
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন সোমবার করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। টিকা নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ছিল আজ সোমবার। আজও দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি চলে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে ছবি দিয়ে লিখেছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার টিকা নিলেন। করোনার টিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিএনপির নেতারা। ২৮ জানুয়ারি করোনার টিকা নিয়ে সরকার দুর্নীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ২ ডলার ৩৩ সেন্ট দিয়ে কেনা টিকা সরকার ৪ ডলার দিয়ে কিনছে। সেখানেও মধ্যস্বত্বভোগী। তাদের নিজস্ব একজন সুবিধাভোগীকে তারা সেই দায়িত্ব অর্পণ করেছে। একই দিনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউশন থেকে আনা করোনার টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ভারতও এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়ের কথা বলেছে। এতই যদি হয়, তাহলে কেন প্রধানমন্ত্রী নিতে (টিকা) পারলেন না? ওবায়দুল কাদের নিতে পারলেন না? কেন একজন নার্সকে দেওয়া হলো? | 9 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেনভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে তাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদুল আযহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের জনগণ ও তার পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা, প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। খবর বাসসের। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ তথ্য জানান। ১০ মিনিট স্থায়ী এই টেলিফোন আলাপে উভয় প্রধানমন্ত্রী দু'দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। | 6 |
'সত্যিকারের নির্বাচন কমিশন' গঠনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় সরকার নয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ রেহানা ও তার ছেলে, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, বিএনপির যারা আছেন এবং আমরা সাধারণ মানুষ যারা আছি, তাদের নিয়ে জাতীয় সরকার করেন। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এমএজি ওসমানীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে 'মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক ও তার প্রভাব' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় স্মরণ মঞ্চ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, 'সরকারের মাথায় কোন ষড়যন্ত্র খেলা করছে তা এখনও স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। তবে একটি না একটি ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে।' নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না বলেন, যারা মনে করেন আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারলে আমরা গণতন্ত্রের স্বাদ পাবো, তাদের মনে রাখতে হবে-এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। উনি (শেখ হাসিনা) ক্ষমতায় থাকলে নির্বাচন কমিশন কেন, প্রধান বিচারপতিরও ক্ষমতা নেই। তিনি (শেখ হাসিনা) যেভাবে চাইবেন সেভাবে হবে।' ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, 'জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতেই জিয়াউর রহমানের কবরস্থান থেকে শুরু করে তার মুক্তিযুদ্ধে অবদান নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত করা হচ্ছে। এর পেছনে দুরভিসন্ধি আছে।' জাতীয় স্মরণ মঞ্চের সভাপতি প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি একেএম আশরাফুল হক প্রমুখ। | 6 |
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯১ জন। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশে। করোনায় এ পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে; শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ জনে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ১২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২১ হাজার ৯৮০টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের দুজন নারী, একজন পুরুষ। ঢাকায় ২ ও চট্টগ্রামে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি বিভাগগুলোতে কোনো মৃত্যু হয়নি। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। গেল বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান। | 4 |
লোডশেডিংয়ের মধ্যে বদলে গেল কনে! অন্ধকারে বউয়ের বোনের গলায় মালা দিলেন পাত্র। পরে জানাজানি হলে বিয়ের আনন্দই মাটি। ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের।ইন্ডিয়া টুডের খবরে জানা যায়, রোববার মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর আসলানা গ্রামে রমেশলাল নামের এক ব্যক্তির দুই কন্যার বিয়ে হয় একই আসরে। স্বভাবতই উপস্থিত ছিলেন আত্মীয় থেকে পাড়া-প্রতিবেশী। কিন্তু আচমকা বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে ঘটে বেজায় বিপত্তি।দুই বোন নিকিতা ও কারিশ্মার বিয়ে হচ্ছিল দুটি আলাদা পরিবারের যুবক দানগওরা ভোলা ও গণেশের সঙ্গে। দুই কনের পরনে ছিল একই ধরনের পোশাক, সাজগোজও একই রকম। পুরোহিত বিয়ের রীতি-রেওয়াজ শুরু করছেন, এমন সময় লোডশেডিং। অন্ধকারেই এক জোড়া কনে ও বরকে আনা হয় বিয়ের মণ্ডপে। মন্ত্রপাঠ, মালাবদলসহ অন্যান্য নিয়মও পালিত হয়। সাত পাকে বাঁধা পড়েন যুগল। তবে বিয়ের আসর আচমকা অন্ধকারে ডুবতেই ভুল কনের গলায় মালা দেন ভুল বর।লোডশেডিংয়ের কারণে ঘটল এমন বিপত্তি; যা নিয়ে পরে হুলুস্থুল কাণ্ড। ঘটনা জানতে পারা যায় অনেক পরে। রীতি রেওয়াজ শেষে বর-বধূ ঘরে ফিরে ঘোমটা খুলতেই চমকে যান উভয়েই। এরপর তিন বাড়িতে শুরু হয় হুলুস্থুল কাণ্ড। তবে দুই জোড়া যুগলই ব্যাপারটা সামলে নেন। তাঁরা জানান, এই বিয়ে নাকচ। নিয়ম মেনে ফের বিয়ে করবেন তাঁরা। পরদিন নিয়ম মেনে আবারও বিয়ে হয় তাঁদের। | 3 |
সন্ত্রাসী হামলায় আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার স্বামী মো. মেজবাউল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। ওয়াহিদাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মো. মেজবাউল হোসেনকে ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াহিদা খানম ও তার স্বামী ৩১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ইউএনওর সরকারি বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তাঁর বাবা ওমর আলীকে (৭০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। পরে সকালে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় ওয়াহিদাকে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি শঙ্কা মুক্ত এবং চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। হামলার ঘটনায় র্যাব দুই যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানায় র্যাব। এর কয়েকদিন পর একই ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. রবিউল ইসলাম কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিউল এই হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এমনটাই গণমাধ্যমে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। | 6 |
বিগ-বি অমিতাভ বচ্চন ও অভিনেতা ইমরান হাশমি অভিনীত সিনেমা 'চেহরে' থেকে অভিনেত্রী কৃতি খারবান্দাকে বাদ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এমন খবরে বেশ তোলপাড় শুরু হয় বলিউডে। 'সিরিয়াল কিসার' খ্যাত অভিনেতা ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনয় করার কথা ছিল কৃতি খারবান্দার। কিন্তু হঠাৎ তার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে তোলপার শুরু হলে চমকপ্রদ তথ্য আসে। কৃতির দাবি, চুমু বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় খুব একটা জরুরি ছিল না ছবির গল্পে। তাও ইমরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য তাকে চাপ দেয়া হয়। এরপরই তিনি বেঁকে বসেন। তাতেই ছবি থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। অভিনেত্রী আরও বলেন, 'ঘনিষ্ঠ ও চুমুর দৃশ্যে অভিনয় করা বা না করা যার যার নিজস্ব ব্যাপার।' কৃতি খারবান্দা বর্তমানে তার 'পাগলপন্থি' ছবির প্রমোশনে ব্যস্ত। এই ছবির শুটিং সেট থেকেই অভিনেতা পুলকিত সম্রাটের সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে গুঞ্জন উঠেছে। কয়েকদিন আগে মুক্তি পায় 'হাউজফুল ফোর'। এ ছবিতে কৃতি বলিউড খিলাড়ি অক্ষয় কুমারের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 2 |
ঢাকা: এই করোনাকালেও থেমে নেই ঐশী। নতুন নতুন সিনেমায় প্লেব্যাক করার পাশাপাশি নিয়মিতই প্রকাশ করছেন নিজের মৌলিক গান। ২০২১ সালে এরইমধ্যে নিজের ইউটিউব চ্যানেল 'ঐশী এক্সপ্রেস' থেকে গায়িকা প্রকাশ করেছেন চারটি গান-'আকাশ কিনতে চাই', 'খুঁজে ফিরি তাই', 'কলবে কলেমা' এবং 'আড়ালে চলো না'। এরইমধ্যে সর্বশেষ 'আড়ালে চলো না' প্রকাশ করেছেন এই সপ্তাহে।এছাড়া জি সিরিজ থেকে 'এতো ব্যথা কেন রে', লেজার ভিশন থেকে 'বাতাস ভরিয়া', ফোকাস মাল্টিমিডিয়া থেকে 'কালা রে' এবং জিপি মিউজিকে প্রকাশিত হয়েছে 'মরে গেলে বুঝবি' শিরোনামে তার আরও চারটি গান।পাশাপাশি নতুন কয়েকটি সিনেমায় প্লে-ব্যাক করেছেন তিনি। ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত 'মুক্তি' সিনেমার টাইটেল সং-এ কণ্ঠ দিয়েছেন। নিরঞ্জন বিশ্বাসের একটি সিনেমা, অপূর্ব রানা'র 'গিভ অ্যান্ড টেক' সিনেমায়ও গেয়েছেন। এছাড়াও ফজলুল কবির তুহিন পরিচালিত সরকারী অনুদানের সিনেমা 'গাঙকুমারী'তেও শোনা যাবে তার কণ্ঠ।২০১৫ সালে 'ঐশী এক্সপ্রেস' অ্যালবাম দিয়ে সংগীতাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেন ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী। এরপর থেকে দিন যত গেছে এই অঙ্গনে ততই নিজের জায়গা পোক্ত করেছেন নোয়াখালীর এই কন্যা। ঐশী এক্সপ্রেস যেন দুরন্ত গতিতে এগিয়েই চলছে!মাত্র ছয় বছরের ক্যারিয়ারে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের কাতারে নাম লিখিয়েছেন ঐশী। কিছুদিন আগেই সেরা গায়িকা হিসেবে ঘরে তুলেছেন প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।ঐশী বলেন, 'একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে আনন্দ এবং উপভোগের জায়গা হলো স্টেজ। কিন্তু করোনার কারণে সেই স্টেজ থেকে অনেক দিন থেকে বাইরে। তারপরও ঘরবন্দি দিনগুলোতে শ্রোতাদের কথা মাথায় রেখে নিয়মিত নতুন গান প্রকাশ করার চেষ্টা করছি। প্লেব্যাকও করছি। আশাকরি আমার নতুন কাজগুলো শ্রোতারা গ্রহণ করবেন।' | 2 |
তিতাসে লঞ্চের ছাদে ডিজে নাচ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ৬ কিশোর আহত হয়েছে এবং নদীতে পড়ে গিয়ে দশ বছর বয়সের শামীম নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে তিতাস নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার দড়িকান্দি ব্রিজের পশ্চিম পাশে তিতাস নদীর ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে।নিহত শামীম শিবপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।এলাকাবাসী জানান, ২০-৩০ জন কিশোর মিলে লঞ্চ ভাড়া এনে পিকনিকে যায়, তারা সবাই উপজেলার শিবপুর গ্রামের।তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লঞ্চটি জব্দ করেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আজ সকালে শিশুটির মরদেহ নদীতে ভেসে উঠেছে।সুধীন চন্দ্র দাস আরও বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে দাবি উঠে তিতাসে এ ধরনের নাচ গান বন্ধের। তাই আমি দুই দিন আগে তিতাস থানার ফেসবুক আইডি থেকে সচেতনতামূলক পোস্টও দিয়েছি যাতে কেউ নদীতে এ ধরনের নাচ গান না করে।তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবু ইউসুফ বলেন রাত আনুমানিক ১০টায় বিদ্যুতায়িত হয়ে ৬ জন কিশোর হাসপাতালে আসে। এদের মধ্যে শেখ ফরিদ মিয়ার ছেলে তানজিদ (২৩), শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. সুজন (১৮) ও আবদুর বারেক মিয়ার ছেলে শাহপরান (২০) এদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি তিনজন হেলাল মিয়ার ছেলে সিয়াম (১৭), আবুল কালামের ছেলে রাহিম (১৭) ও আবু তাহেরের ছেলে তামিম (১৪) এদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। | 6 |
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা হামলা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং আরও একাধিক মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তিনি জঙ্গি সংগঠন হুজি'বির প্রতিষ্ঠাতা আমির।আজ বুধবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মুফতি আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।রমনার বটমূলে বোমা হামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ভৈরবে গ্রেপ্তারএর আগে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি শফিকুল ইসলামকে ১৪ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।প্রসঙ্গত, রমনার বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। হান্নানকে অন্য মামলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই ও মুফতি মাওলানা শফিকুর রহমান। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, মাওলানা সাব্বির, শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা ইয়াহিয়া ও মাওলানা আবু তাহের। | 6 |
মদকে মাদকদ্রব্য আইনের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা কেন অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্নিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আর জে টাওয়ার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড ও রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করীম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। আইনজীবী আহসানুল করীম সাংবাদিকদের বলেন, মদ এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যকে একই সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অনেক মাদকদ্রব্য আছে, যেগুলো আমদানিযোগ্য নয় এবং বহন করা অপরাধ। কিন্তু মদ আমদানি-রপ্তানিযোগ্য পণ্য। সেজন্য যারা ব্যবসা করেন, তাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি হয়। এখন সমস্যা হলো পানযোগ্য অ্যালকোহল এবং নিষিদ্ধ মাদককে একই সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটার জন্য অ্যালকোহল যারা বিক্রি করেন, আমদানি করেন বা রপ্তানি করেন, তাদের জন্য সমস্যা হয়। তার কারণ এগুলোও তখন মাদকদ্রব্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর ফলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে রিট করা হয়েছে। সুতরাং এই আইনকে এক সূত্রে করা বা একই সংজ্ঞায় শ্রেণিভুক্ত করা কেন সংবিধানের ৩১ ও ৪০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। | 6 |
ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে যেন জনস্রোত তৈরি হয়েছে ঢাকার সড়ক, রেল আর নৌপথে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার তাগিদ থাকা অসংখ্য মানুষ রাজধানী ছেড়ে ছুটছেন গন্তব্যে। পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে ঈদুল আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে দুই একদিন আগে থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে নগরবাসী। বৃহস্পতিবার মোটামুটি বেশি চাপ থাকলেও শুক্রবার ভোর থেকে তা বেড়েছে। রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদসহ আরও কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন আর সদরঘাটে এখন শুধু মানুষ আর মানুষ। বাড়তি মানুষের চাপে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। কিছু যানবাহনে সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ভোর থেকে রওনা হয়েছে মানুষ; সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন অনেকে; কেউ কেউ আবার স্ত্রী-সন্তানকে দুই একদিন আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। সকালে দেখা গেছে, গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের বাস রাখার জায়গার বেশ আগেই লোকাল বাস বা অন্য যানগুলোতে এসে থামতে হচ্ছে যাত্রীদের। এরপর কিছুদূর হেঁটে নির্ধারিত গাড়িতে যেতে দেখা গেছে তাদের। সরাসরি পরিবহন ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যাচ্ছে গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া লোকাল বাসে। গাবতলী থেকে যশোর যাচ্ছেন হানিফ মোহাম্মদ নামে ব্যক্তি। একটি লোকাল বাসে মানিকগঞ্জ হয়ে পাটুরিয়া দিয়ে পদ্মা পাড় হয়ে ওপার থেকে আবার লোকাল কোনও গাড়িতে যাবেন তিনি। হানিফ সমকালকে বলেন, টিকিট পাইনি তাই বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে যাচ্ছি; নদী পাড় হয়ে ওপার থেকে আবার বাসে যাব। স্ত্রী ও সন্তানকে বুধবার পাঠিয়ে দিয়েছি। সরাসরি ফরিদপুরগামী একটি বাসের টিকিট কেটে বসে আছেন আরেক যাত্রী। তিনি জানালেন, বাস নির্ধারিত সময়ে ছাড়েনি। তাই বসে আছেন। গাড়ির চাপ বেশি থাকায় একটু দেরি হচ্ছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সকাল থেকেই মানুষের চাপ। বাড়ি যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। ছাড়তে দেরি হচ্ছে ট্রেন। অপেক্ষার যেন শেষ নেই যাত্রীদের। প্রায় সব ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ঘণ্টা দু'এক দেরি করে ছাড়ছে। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় সকাল ৬টা। কিন্তু ট্রেনটি সকাল ১১টার পর এসে কমলাপুর এসে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ট্রেনটির যাত্রী মনোয়ার হাসান সকাল ৯টার দিকে জানান, ভোর থেকে বসে আছেন। কখন গাড়ি ছাড়বে জানেন না তিনি। পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গত কয়েকদিন ধরে মানুষের চাপ মোটামুটি থাকলেও শুক্রবার তা বেড়েছে। ঘরমুখো মানুষে ভরে গেছে সদরঘাট এলাকা। সব পথ যেন মিশেছে এখানে। লঞ্চে নির্ধারিত যাত্রীর চেয়ে বেশি সংখ্যক যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। শুধু যাত্রী বেশি নয়; ভাড়াও বাড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জনগণ এখন আর বিএনপির শব্দ বোমায় কান দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে মর্মান্তিক তামাশা করেছে, তারা কখন কি বলে নিজেরাও জানে না। সোমবার (১৯ জুলাই) দুপুরে ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে তার নিজ দপ্তরে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে সরকারের যে কোনো কাজ কিংবা সাফল্য বিএনপির গায়ে জ্বালা বাড়ায়। তিনিবলেন, বিরোধী দল হিসেবে চরমভাবে ব্যর্থ বিএনপি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নানা রকম বাক্যবাণে কর্মীদের চাঙা রাখার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে অনবরত বিষোদগার করে যাচ্ছে বিএনপি। অথচ জণকল্যাণে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। অবশ্য বিএনপি একটা কাজই অনবরত করে যাচ্ছে, তা হচ্ছে সরকারের অন্ধ সমালোচনা। জনগণ বিএনপির এসব শব্দ বোমায় এখন আর কান দেয় না। শেখ হাসিনা সরকার জনস্বার্থে দিনরাত কাজ করছে এবং করে যাবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাজই হলো সমালোচনা করা এবং তা তারা করতে থাকুক পক্ষান্তরে শেখ হাসিনা সরকার দেশের মানুষকে নিয়ে যখন করোনাবিরোধী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি সুরক্ষিত গৃহকোণ থেকে মিডিয়ায় অব্যাহত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে ও নসিহত করে যাচ্ছে। বিএনপি এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ছেড়ে কথা নির্ভর কনসাল্টেন্সি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 9 |
বাড়াতে বাড়াতে এখন পৌঁছে গেছেন ৪০ ঘণ্টায়, শুরু করেছিলেন ১২ ঘণ্টা দিয়ে। এই ৪০ ঘণ্টায় তিনি কিছু খান না। চিবোন না এক টুকরো খাবার। কেবল পানি আর অন্য কোনো পানীয় এই ৪০ ঘণ্টায় তার সঙ্গী। উপবাসের প্রথম দিনে থাকে চা, কফিও। অবশ্য ৪০ ঘণ্টার এই উপবাসের আগের দিন এবং পরের দিন স্বাস্থ্যকর খাবার খান তিনি। চিকিৎসক বন্ধুর পরামর্শ নিয়েই তিনি এটা করেন। জনপ্রিয় ব্রিটিশ গায়িকা এলি গোল্ডিং সম্প্রতি তার এই উপবাসের কথা সামনে আনলেন। জানালেন এই উপবাস অস্বাস্থ্যকর নয়। বরং স্বাস্থ্যকর। তবে তিনি এও জানিয়েছেন এটা তাদের জন্যই ভাল যাদের ডায়াবেটিস বা এমন কোনও রোগ নেই। কিন্তু কেন এমন কঠিন উপবাস? ৩৩ বছরের এলি জানিয়েছেন, সবই ফিগার ধরে রাখতে করা। শরীরকে সুন্দর রাখতেই তিনি এই উপবাসের পদ্ধতি শুরু করেছেন। এতে তার ফিগার সুন্দর থাকে। এলি আরো জানান, শুধু ফিগার ভাল রাখাই নয়, মাঝেমধ্যে পাকস্থলীকে এমন হালকা রাখলে তা শরীরের পক্ষে ভালো। ব্রিটিশ গায়িকা হিসাবে এলি যথেষ্ট জনপ্রিয় মুখ। তার সৌন্দর্য নিয়েও আলোচনার শেষ নেই। সুন্দরী এই গায়িকা যখনই স্টেজে আসেন হাজার হাজার করতালি গুঞ্জরিত হতে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই তার একটি বিতর্কিত ছবি ইন্টারনেটে হুলস্থূল ফেলে দিয়েছিল। কারণ সেই ছবিতে স্বচ্ছ অন্তর্বাস পড়েছিলেন তিনি। শরীরের সব কিছুই বোঝা যাচ্ছিলো তার। | 2 |
করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও থানার প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মশিউর রহমান নামের একজন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর তার জেরা শেষ হলে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য এ দিন ধার্য করেন। এ মামলায় বাকি আসামিরা হলেন- আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা। আট আসামির মধ্যে সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফকে ভুয়া রিপোর্ট প্রদানে প্রতারণা ও জালিয়াতির মূল হোতা এবং বাকিরা সহযোগী বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। আলোচিত এ মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৩ জুন করোনার ভুয়া সনদ দেয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আরিফুল চৌধুরীসহ ছয় জনকে ও পরবর্তীতে স্ত্রী সাবরিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। আসামিরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই জেকেজি হেলথকেয়ার ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় যার অধিকাংশ ভুয়া। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়া হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। একই বছরের ৫ আগস্ট প্রতারণার মামলায় সাবরিনাসহ আরেক সহযোগীকে যুক্ত করে আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী। পরে ২০ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। এছাড়া ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ বাদেও রাজধানীর মহাখালীর তিতুমীর কলেজে নমুনা সংগ্রহের বুথ বসিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণের নামে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে রয়েছে সাবরিনা-আরিফুলের বিরুদ্ধে। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণসহ এ পর্যন্ত মামলাটিতে মোট ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। | 6 |
শুরু হয়েছে শীত। নভেম্বর মাসে বেড়েছে ঠান্ডা। ডিসেম্বরেও থাকবে পুরোদমে। করোনার প্যানডামিক সময়ে থাকতে হবে বাড়তি সতর্কতায়। শীত মানেই বছরের শেষ আর ঘোরাঘুরির শুরু। যারা সারা বছর ব্যস্ত থাকেন চাকরি কিংবা অন্যান্য কাজের সূত্রে, তাদের অনেকেই বছরের এই শেষ সময়ে ছুটি পেয়ে থাকেন। সেই ছুটিতে ঘোরাঘুরিরও পরিকল্পনা থাকে অনেকের। বেড়াতে যাওয়ার ঠিক আগে তাড়াহুড়োয় সব কিছু ঠিক করে মনে পড়ে না। তবে আপনিও কি ভাবছেন এই শীতে বেড়াতে যাওয়ার সময় কী কী সঙ্গে নিবেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। দরকারি কাগজপত্র: কোথাও বেড়াতে যাওয়ার থাকলে, প্রথমেই কোন কোন কাগজ নিতে হবে, সেগুলি গুছিয়ে নিন। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড তো আছেই, বিদেশ যেতে হলে পাসপোর্ট-ভিসার কাগজও গুছিয়ে নিতে হবে। এখন আবার সঙ্গে দরকার কোভিডের টিকার কার্ড। ওষুধ: জ্বর, পেটের গণ্ডগোল, সর্দি, মাথাব্যথার সাধারণ ওষুধ তো সঙ্গে রাখতেই হবে, এর সঙ্গে নিতে পারেন আরও কয়েকটি ওষুধ। শীতে অনেকের ত্বকে ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ হয়। তার ওষুধ নিতে পারেন। এ ছাড়াও রাখুন ব্যথা কমানোর মলম বা স্প্রে। পোর্টেবল জলের ফিল্টার: বেড়াতে গিয়ে পানির সমস্যায় পড়তে হয় অনেককেই। পোর্টেবল পানির ফিল্টার সঙ্গে রাখলে এই সমস্যা হবে না। যে কোনও জায়গায় পাওয়া যাবে পানি। টয়লেট পেপার: শীতে সব জায়গায় পানি নাও পেতে পারেন। পানি পেলেও ঠান্ডায় তা ব্যবহার করার ইচ্ছা নাও হতে পারে। তাই সঙ্গে অবশ্যই রাখুন টয়লেট পেপার। মশা তাড়ানোর স্প্রে: যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন, সেখানে মশা বা অন্য কীটপতঙ্গের সমস্যা হতে পারে। শীতে এই সমস্যা হবে না এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তাই মশা বা পোকা তাড়ানোর স্প্রে সঙ্গে নিন। ফোনের প্যাকেট: বেড়াতে গিয়ে ফোনটা পানিতে পড়ে যেতেই পারে। তার জন্য সঙ্গে রাখুন পানি আটকানোর মতো মোবাইল ফোনের প্যাকেট। এর বাইরে থেকেই ফোনটি ব্যবহার করা যাবে। আবার পানি পড়ে গেলেও অসুবিধা হবে না। ফ্লাস্ক: বেড়াতে গিয়ে তো আর হোটেলের ঘরে বসে থাকবেন না? বাইরে বেড়াতেই হবে। সেখানে যদি গরম পানি না পান। তাই সঙ্গে রাখুন ছোট ফ্লাস্ক। দরকারে তাতে কিছুটা গরম চা রাখতে পারেন। গরম জামা: শীতে কোথাও বেড়াতে গেলে সঙ্গে গরম জামা রাখতেই হবে। সোয়েটার, মাফলার, টুপি, দস্তানা গুছিয়ে নিন মাথা ঠান্ডা করে। যেখানে যাচ্ছেন সেখানে তাপমাত্রা কেমন থাকবে, আগে থেকে জেনে নিন। জুতো: আপনি যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন, সেখানে বরফ পড়বে কিনা, সেই বুঝে জুতো নিন। পা গরম রাখবে এবং বরফে পিছলেও যাবে না, এমন জুতো নিন। কালোচশমা: শীতে বেড়াতে গেলে অবশ্যই সঙ্গে রাখুন কালোচশমা। বিশেষ করে বরফের জায়গায় গেলে এই চশমা ব্যবহার করতেই হবে। না হলে চোখে সমস্যা হতে পারে। হাল্কা ব্যাগ: শীতে বেড়াতে গেলে গরম জামার কারণে এমনিতেই ব্যাগের ওজন বেড়ে যায়। তার উপর যদি ব্যাগটিই এমন কোনও উপাদানে তৈরি হয়, যেটি খুব ভারী, তা হলে মালপত্রের ওজন অত্যন্ত বেড়ে যায়। এই সময়ে বেড়াতে গেলে হাল্কা ব্যাগে সব কিছু নিতে পারেন। তবে দেখে নেবেন, সেটির ভিতর পানি যেন না ঢোকে। | 4 |
ওয়ানডের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে আফগানিস্তান। আট বারের মোকাবেলায় বাংলাদেশের জয় পাঁচটি। অপরদিকে আফগানদের জয় তিনটি। তবে টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে অবশ্য এগিয়ে আফগানিস্তান। এবার ওয়ানডেতেও সেই ভারসাম্য আনতে চায় সফরকারীরা। জয় দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে প্রত্যয়ী আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহিদি। চট্টগ্রামের ভেন্যু বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই সুবিধাজনক। তবে এই মাঠে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বড় জয়ের স্মৃতিও আছে আফগানদের। আর সেটা একমাত্র টেস্টে। ওয়ানডের আগে আফগান অধিনায়ক স্মৃতি রোমন্থন করলেন। হাসমতউল্লাহ বলেন, 'হ্যা, অবশ্যই মনে আছে (জয়ের ব্যাপারে)। সেই স্মৃতি বেশ ভালো ছিল। আমরা চেষ্টা করছি আবারো জয় দিয়ে এখান থেকে শুরু করা।' আফগানিস্তানের স্পিন অ্যাটাক বেশ। বাংলাদেশের উইকেটও স্পিন সহায়ক। হাসমতউল্লাহ বলেন, 'আমাদের ভালো স্পিন বিভাগ রয়েছে। আবার এখানকার উইকেটও স্পিনের জন্য সহায়ক। আমি খুবই আশাবাদি ভালো কিছু করার ব্যাপারে।' বাংলাদেশের সাবেক কোচ স্টুয়ার্ট ল কাজ করছেন এখন আফগানিস্তানের হয়ে। এখানকার ক্রিকেটার থেকে শুরু করে উইকেট কন্ডিশন সবাই জানা তাদের। লয়ের উপস্থিতি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে আফগানদের। হাসমতউল্লাহ বলেন, 'তিনি অনেক কিছু জানেন এখানকার। গ্রাউন্ডস ও পিচ সম্পর্কে তিনি যা জানেন সব শেয়ার করেছেন আমাদের সাথে। আমরা সেই মোতাবেকই হাঁটছি।' ওয়ানডে সিরিজের জন্য বেশ প্রস্তুতি নিয়েছে আফগানিস্তান। আগেভাগে এসে দলটি ক্যাম্প করেছিল সিলেটে। এই প্রসঙ্গে আফগান অধিনায়ক বলেন, 'জানিয়ে রাখি আমাদের প্রস্তুতি কাতারেই হয়েছে ভালো। তারপর ছয়দিন সিলেটে কাটিয়েছি আমরা। সব মিলিয়ে সিরিজের জন্য ভালোমতোই প্রস্তুত আমরা। আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবো।' ঘরের মাঠে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দুরন্ত। তা ভালোমতোই জানেন হাসমতউল্লাহ। তিনি বলেন, 'পুরো দল সম্পর্কেই আমরা জানি। সবার জন্যই পরিকল্পনা করছি। তারা (বাংলাদেশ) শক্তিশালী যেমন, তেমন তাদের দুর্বলতা সম্পর্কেও জানি আমরা।' বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ১১টায়। | 12 |
করোনাভাইরাসে মৃত্যুশূন্য আরও একটি দিন পার করল রংপুর বিভাগ। এ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। তবে নতুন করে ৫১ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোতাহারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।ডা. মোতাহারুল বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৮৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ০১ শতাংশ।নতুন শনাক্ত ৫১ জনের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের ১৯, পঞ্চগড়ের ১১, কুড়িগ্রামের সাত, রংপুরের পাঁচ, দিনাজপুরের চার, লালমনিরহাটের দুই, নীলফামারীর দুই ও গাইবান্ধার একজন রয়েছেন।বিভাগে এ পর্যন্ত ভাইরাসটির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ২১৮ জন। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৩২২, রংপুরে ২৯০, ঠাকুরগাঁওয়ে ২৪৬, নীলফামারীতে ৮৭, পঞ্চগড়ে ৭৯, কুড়িগ্রামে ৬৬, লালমনিরহাটে ৬৫ ও গাইবান্ধায় ৬৩ জন মারা গেছেন।এখন পর্যন্ত বিভাগের আট জেলা মিলিয়ে মোট ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৩০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নতুন ২৩৩ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৫০ হাজার ৭২৪ জন। | 6 |
আবার এসেছে ১১ জুন। জুন মাসটি নানা কারণে ঐতিহাসিক। ৭ জুন ৬ দফা দিবস, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২৫ জুন পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন। সবগুলো দিবসের কেন্দ্রে আছেন বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা। বিশেষত ২৫ জুনের ঐতিহাসিক ক্ষণটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের জন্য যেমন, তেমনি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বাঁক বদলের দিন হিসেবে স্মরণীয় হতে যাচ্ছে। আর এই অনন্য সাহসী কাজটি সম্পন্ন হওয়ার জন্য জননেত্রীর দূরদৃষ্টিময় নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই নেতৃত্ব দ্রুত সাফল্য নিয়ে এসেছে ১১ জুনের ঘটনার পর। আসলে ২০০৮ সালের ১১ জুন রাজবন্দী শেখ হাসিনার কারামুক্তি এ দেশের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে সেনাসমর্থিত মেয়াদোত্তীর্ণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর এই দিন সাবজেলের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হন তিনি। কারাগারের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ক্রমাগত চাপ, আপসহীন মনোভাব ও অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী করা হলেও শেখ হাসিনার ২০০৭ সালের ৭ মে আমেরিকা থেকে প্রত্যাবর্তন ছিল আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। ওই বছরের ১১ জানুয়ারির পর তাঁর দেশে ফেরার ওপর বিধিনিষেধ জারি করে সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু তাঁকে রাজবন্দী করার পর সে সময় গণমানুষ তাঁর অনুপস্থিতি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিল; দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার চক্রান্ত স্পষ্ট হয়েছিল। তাঁর সাবজেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উদ্বেগ, গ্রেপ্তারের সংবাদ শুনে দেশের বিভিন্ন স্থানে চারজনের মৃত্যুবরণ, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের উৎকণ্ঠা আপামর জনগোষ্ঠীকে বিহ্বল ও বিক্ষুব্ধ করে তোলে। কারণ সে সময় আদালতের চৌকাঠে শেখ হাসিনা ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা; দেশ ও মানুষের জন্য উৎকণ্ঠিত; বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে সত্য কথা উচ্চারণে বড় বেশি সপ্রতিভ। আসলে ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক নাটকীয় ঘটনার জন্ম হয়েছে। সে সময় 'দুদকের' দৌড়ঝাঁপ, 'মাইনাস টু'র কুশীলবদের উচ্চ স্বর ও দাম্ভিকতা, বিচারকদের অসহায়ত্ব আর শেখ হাসিনার জন্য জনগণের বেদনাবোধ অন্যান্য দেশের মানুষকে আলোড়িত করেছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য দেশ-বিদেশে যে জোরালো দাবি উঠেছিল, তা ছিল অভূতপূর্ব। অন্যদিকে দলের সভাপতিকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানসহ অন্য নেতারা বিভিন্নভাবে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেওয়া না হলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। তাঁর খাবারে বিষ মিশিয়ে স্লো পয়জনিংয়ের কারণে ওই সময় কারাগারের অভ্যন্তরে নেত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাঁকে মুক্তি দেওয়ারও দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও রাদওয়ান ববি বিদেশি আইনজীবীদের সহায়তায় মামলা লড়েন এবং নেত্রীর মুক্তির বিষয়ে জনমত গঠন করেন। আওয়ামী লীগের ক্রমাগত চাপ, আপসহীন মনোভাব ও অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ফলে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করা হয়। অবসান ঘটে বিএনপি-জামায়াত ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুঃশাসন কালের। এ কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভার গৌরবান্বিত রাষ্ট্র, যার রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, যিনি একটানা সাড়ে ১৩ বছর ক্ষমতায় আসীন।এই ইতিহাস সবার জানা যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে খুন করার সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া দুই কন্যার সংগ্রামী জীবনে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে দুঃখের কষ্টিপাথরে সহিষ্ণুতার দীক্ষায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন ২০০৭ সালে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়ে। পঁচাত্তর থেকে পঁচানব্বই-দীর্ঘ ২১ বছর পর সম্ভাবনার বাংলাদেশে তিনি হন প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তারপর ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অমানিশার দুর্যোগে প্রাণ বাঁচানোর দুঃসহ স্মৃতি; অর্থাৎ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া জীবন নিয়ে আবার নির্যাতিত জনগণের জন্য রাতদিনের পরিশ্রম-কিন্তু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর সময় হঠাৎ করে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাগারে বন্দী হলেন; শুরু হলো আরেক জীবন। সেই জীবনের স্মৃতি আছে তাঁর রচনায়, 'সবুজ মাঠ পেরিয়ে' গ্রন্থে।কারাগারে বন্দী শেখ হাসিনার অন্তর অপমান ও কষ্টে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তিনি কখনো মনোবল হারাননি। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাঁকে বন্দীকরে সংসদ ভবনের একটি বাড়িকে সাবজেলে পরিণত করা হয়। ওই সাবজেলের ভবনটি ছিল অত্যন্ত ময়লা ও নোংরা। পুরোনো গদি, ছেঁড়া কাপড়-চোপড়, পুরোনো কাগজপত্র সব ছড়ানো। খাটখানা ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। খাবার আসত কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। মাঝে মাঝে খাবার আসতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতো। আর খাবারের মেনুও সস্তা জিনিসে ঠাসা ছিল। দুঃখের দিনে কষ্টের মাঝে পড়ে তিনি জাতির পিতার কথা স্মরণ করতেন। কারণ নিঃসঙ্গ কারাগারে তাঁর একমাত্র সঙ্গী ছিল স্মৃতি। অনেক কথাই তাঁর মনে পড়ত।বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তাঁকে জেলখানায় সেলের ভেতরে রাখা হতো। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন আর দিবস-রজনী কষ্ট সহ্য করে গেছেন। ১৯৭১ সালে বন্দী করে তাঁকে পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি জেলে নেওয়া হয়, সেখানে গ্রীষ্মকালে যেমন প্রচণ্ড গরম, তেমনি শীতের সময় তীব্র শীত। রুটি-ডাল ছাড়া কিছুই পেতেন না খেতে। অথচ ওই খাবার তিনি কখনোই পছন্দ করতেন না। তার পরেও তাঁর মুখ থেকে কোনো দিন কোনো কষ্টের কথা কেউ শোনেননি। নিজের কষ্টের কথা তিনি সব সময় চেপেই রাখতেন। শেখ হাসিনাও সেরকম একজন রাজনীতিবিদ, যিনি অপরের দুঃখে সব সময় কাতর হন।সাবজেলের ওই বাড়ির উত্তর দিকের জানালা দিয়ে গণভবন দেখা যেত। কষ্টের মধ্যেই কারাগারে জানালায় সকাল-বিকেল দাঁড়িয়ে উত্তর দিকে গণভবন দেখতেন, যেখানে তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল অবধি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অবস্থান করেছিলেন। সবুজ মাঠ পেরিয়ে রাস্তায় জনগণের চলাফেরা অবলোকন করতেন। ইচ্ছে হলেই বের হতে পারতেন না। কারণ তিনি তো বন্দী, দোতলায় একদম একা। বাইরে বের হওয়ার স্বাধীনতা নেই। কিন্তু তাঁর মনটা স্বাধীন ছিল, মনের কল্পনায়ই তিনি সবুজ মাঠ পেরিয়ে চলে যেতেন স্বপ্নরাজ্যে। ওই বাড়ির চারদিকে অনেক গাছ ছিল। সেই প্রকৃতির প্রাণময়তা তাঁকে তৃপ্তি দিত। মানসিক চাপ আর দেশ ও জনতার চিন্তার মাঝে স্বস্তি খুঁজে নিতেন।২০০৭ সালে সংসদ ভবনের অন্যান্য বাড়িতে স্পেশাল কোর্ট বসানো হয়েছিল। তারপর একটার পর একটা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে শেখ হাসিনাকে। সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আবিষ্কার হলো, সব চেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ তিনি। তাই প্রথমে দেশের বাইরে রাখার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে বিনা ওয়ারেন্টে টেনে হিঁচড়ে কোর্টে নিয়ে গিয়ে তারপর সাবজেলে ১১ মাস বন্দী করে রাখে। সম্পূর্ণ একাকী নিঃসঙ্গ বন্দিখানায় ছিলেন তিনি।তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর বিচারের নামে প্রহসন চলে। তখন বিচারকেরা তাঁদের বিবেক, চিন্তা, জ্ঞান ও বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে বিচার করতে পারেননি। উচ্চ আদালতে শপথ মোতাবেক বিচারকেরা কাজও করেননি। বিচারকদের ওপর গোয়েন্দাদের চাপ অব্যাহতভাবে ছিল। এ জন্য তাঁকে জামিন দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। ওপরের নির্দেশে মামলার রায় হতো তখন। তিনি তখনকার ক্ষমতাবানদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, যারা আজ ক্ষমতায় তাদেরও ভবিষ্যতে কারাগারে থাকতে হবে না, এই গ্যারান্টি কি পেয়েছে? ক্ষমতার মসনদ ও কারাগার খুব কাছাকাছি।সরকার প্রথমে চাঁদাবাজির মামলা দেয় ৩ কোটি টাকার। যাঁরা চাপে পড়ে মামলা করেছিলেন, তাঁরা ভালো করেই জানতেন তাঁদের কাছে শেখ হাসিনা কোনো দিন চাঁদা চাননি। ওদের তিনি চেনেনও না। তিনি তাঁর জীবনে কোনো দিন কারও কাছে কোনো টাকা চাননি। অথচ মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করার জন্যই যাকে খুশি তাকে দিয়েই যা খুশি তা বলানো হতো। একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল সেই সময়ের প্রশাসন। কারণ তারা জানত নির্বাচন হলে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। তারা জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। শেখ হাসিনার এসব ভাবনা বাস্তব হয়ে উঠেছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে।শেখ হাসিনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসকদের দ্বারা মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও কারাযন্ত্রণার শিকার হয়েছিলেন দুর্ভাগ্যবশত। কারণ স্বাধীন দেশে পাকিস্তানের মতো নিপীড়ক শাসক থাকার কথা ছিল না, দেশও গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছিল। অথচ দেশ-বিদেশে টিকে থাকা বঙ্গবন্ধুবিরোধীরা তখনো সক্রিয়। তা ছাড়া শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের একাধিকবার চেষ্টা চলেছে ১৯৮১ সালের ১৭ মের পর থেকেই, যা ২০২০ পর্যন্ত ২১ বার হিসাবে তথ্য-প্রমাণ সাক্ষ্য দেয়। আগেই বলেছি, সাবজেলে থাকার সময় স্লো পয়জনিংয়ে তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল চাঁদাবাজির। অথচ ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্ষমতাকালে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হলেও কখনো চাঁদাবাজির মামলা করা হয়নি। এ জন্য শেখ হাসিনার মনে হয়েছে, মামলাবাজ জোট সরকার থেকেও বড় আবিষ্কারক ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার জন্য তিনি আন্দোলন করেছিলেন। ৬৮ জন জীবন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনীর হাতে। সেই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যে নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে। চারদলীয় জোটের ভোট কারচুপির নীলনকশা প্রতিহত করার জন্যই আন্দোলন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুসংহত করাও তাঁর মূল টার্গেট ছিল। নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'আন্দোলন করে দাবি পূরণ করলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্গঠন করলাম। যেই দ্রুত নির্বাচনের কথা বললাম, সেই আমি চাঁদাবাজ হয়ে গেলাম, দুর্নীতিবাজ হয়ে গেলাম। আমার স্থান হলো কারাগারে। পাঁচটি বছর চারদলীয় জোট তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে, আমার ও আমার পরিবারের দুর্নীতির কোনো কিছু পায় কিনা, পায় নাই। পেয়েছে ফখরুদ্দীন সরকার।'দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ শেখ হাসিনা জেলে থাকার কারণে তাঁর সন্তান পুতুল-জয়ের পাশে সব সময় থাকতে পারেননি। এই বেদনা তিনি তুলে ধরেছেন নিজের লেখায়। রাজনীতির জন্য পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা বঙ্গবন্ধুর লেখনীতেও আছে। অনুরূপভাবে একজন বন্দী মা কতটা অসহায়, তার বর্ণনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা ২০০৭ সালের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। তার একমাত্র কন্যা পুতুল মা হবেন; থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মা হিসেবে মেয়ের কাছে থাকাটা খুব দরকার। যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও যেতে দেওয়া হয়নি। সেই সময়ের প্রশাসন আটকে দিয়েছিল তাঁর বিদেশভ্রমণ।'সবুজ মাঠ পেরিয়ে' গ্রন্থে এভাবেই তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন কারান্তরালে যাপিত জীবন-যাপন করার মুহূর্তে। তিনি ওই গ্রন্থে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের চুলচেরা ব্যবচ্ছেদ করেছেন। সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চাপে চাঁদাবাজির মামলাগুলো কীভাবে করা হয়েছিল, তা-ও তিনি জানতেন। গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টাকে চিরতরে বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল যারা, তারা গোপনে ষড়যন্ত্র করে মানুষকে সামরিক শাসন উপহার দিতে চেয়েছিল। ২০০৭ সালে প্রথমে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল ঠিকই, কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে দুই বছর পর নির্বাচন হবে। সাধারণ মানুষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। অথচ তখন নতুন নতুন দল গঠন করা হচ্ছে। 'মাইনাস টু' অনুসারে তৃতীয় শক্তির উত্থান প্রত্যাশা করছে শাসকগোষ্ঠী। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের সুদখোর, কালোটাকার মালিকেরা টাকা সাদা করে রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েছে। অন্যদিকে 'দুদক'কে দিয়ে রাজনীতিবিদদের জনগণের কাছে বিতর্কিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার, একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে সিনিয়র রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ৯টি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৬টি-মোট ১৫টি মামলা করা হয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে 'দুদক'কে ব্যবহার করে। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর বিদেশি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে অবৈধভাবে গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ এনে শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে 'দুদক'। ২০০৮ সালের ৫ মে এই মামলায় ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার দায় থেকে অব্যাহতির জন্য শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে হাইকোর্টে বাতিল আবেদন করলে ৭ জুলাই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। এই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত মামলাটি বাতিল ঘোষণা করেন। এভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা সব মামলার পরিসমাপ্তি ঘটে। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উদ্ঘাটিত হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মামলাগুলো করা হয়েছিল। এ জন্য হাইকোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিধিমালার অসংগতি দূর করতে তা সংশোধনেরও নির্দেশনা দিয়েছিলেন।২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার হওয়ার সময় শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে অভিব্যক্ত শেখ হাসিনার সাহসী ও প্রজ্ঞামণ্ডিত উচ্চারণগুলো তখনকার নেতা-কর্মীরা অনুসরণ করেছিলেন। কারণ গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সারা জীবন সংগ্রাম করা একজন কর্মঠ নেতার জন্যই অন্যরা ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল। আর জনগণের দাবির কারণেই ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্ত হন।১১ জুনের প্রভাবে এবং তাঁর সৎ নেতৃত্বের কারণেই নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আজ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অতীতের জেল-জুলুম, হত্যার প্রচেষ্টা এবং হুমকি আর বর্তমানের অপপ্রচারের মধ্যেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে ২০৪১ সালেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে এটা নিশ্চিত। ২০২২ সালে তাঁর কারামুক্তি দিবস উন্নয়ন-বিপ্লবের বিস্ময়কর জয়যাত্রায় পরিপূর্ণ।লেখক: অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় | 8 |
কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রস্তাবিত ১৭টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় ৭২ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গত হবে। কয়েক হাজার টন কয়লা-জাত ছাই, বিষাক্ত পারদ, নাইট্রোজেন অপাইড ও সালফার ডাই অপাইড নির্গতের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতব ও রাসায়নিক দূষণও ঘটবে। এর ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। দেশের প্রধান পর্যটন অঞ্চল কক্সবাজারের অস্তিত্বও বিপন্ন হয়ে পড়বে। শুক্রবার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাপার সভাপতি বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, পরিবেশের মতো স্পর্শকাতর জায়গাগুলো বিনষ্টের দিকেই সরকার এগোতে চাচ্ছে। উন্নয়ন হতে হবে সুপরিকল্পিত এবং পরিবেশ প্রকৃতির ক্ষতি না করে বৃহত্তর জনগনের স্বার্থে। এ দেশকে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দূষণের দেশ হিসেবে দেখতে চাই না। তিনি বলেন, একসময় আমরা কপবাজারকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাকৃতিক স্থানের স্বীকৃতির জন্য প্রচার চালিয়েছি। এখন আমরাই তাকে ধ্বংস করছি। মূল প্রবন্ধে বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, প্রস্তাবিত ১৭টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে কপবাজার ও চট্টগ্রামের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে। ১৭ হাজার ৯৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষম এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন হলে চার দশকের স্থায়িত্বকালে এগুলোর দূষণে এই অঞ্চলের বাসিন্দা ও প্রাণিকূল চরমভাবে বিপন্ন হয়ে পড়বে। বন ও সমুদ্রের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার তার অবস্থানে অনড়। চীন, জাপান এবং ভারত তাদের স্বার্থে বাংলাদেশকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যেন পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্পগুলো এখানে করা যায়। আমরা এ ধরণের উন্নয়ন চাই না। বাপার নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন বলেন, কয়লা ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি তারা উপস্থাপন করেছেন। তা সত্ত্বেও দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা বিষয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এভাবে চলতে থাকলে এসব চুক্তির কি হবে? বাপার কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। দিনমজুর কৃষক ও মৎস্যজীবীদের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। জমি অধিগ্রহণের টাকাও ঘুষ ছাড়া মিলছে না। বাপার মহেশখালী শাখার সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যে উন্নয়নে সুফলের চেয়ে কুফল বেশি সে উন্নয়ন আমরা চাই না। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন, অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, বাপার কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ড. মাহবুব হোসেন, এম এস সিদ্দিকী, ইবনুল সাঈদ রানা প্রমুখ। | 6 |
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের বানাই ভারানী খালের ওপর সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে ওই এলাকার হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ওই এলাকার নারী, বৃদ্ধ ও শিশুশিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী, মাধ্যমিক ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ অসুস্থ মানুষদের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়। এতে শিশুশিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন।জানা গেছে, খালের উত্তর পাড়ে রয়েছে ১২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানাই রাবেয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বানাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বানাই বাজার। দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে বানাই দক্ষিণ, ভায়লাবুনিয়া ও কালিশংকরসহ ৪-৫টি গ্রাম। এসব গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন একমাত্র ভরসার ওই সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেন।বানাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল রহিম বলেন, সেতু না থাকায় স্কুলে যাওয়া-আসার সময় প্রতিদিন সাঁকোর কাছে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এক একজন করে পার হতে হয়। দুপাশে ভিড়ের কারণে অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়। তাড়াতাড়ি পার হতে গিয়ে অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। বই-খাতা নষ্ট হয়।স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহবুব খান জানান, সেতু না থাকায় সাঁকো দিয়ে বানাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারে যাতায়াতের জন্য এলাকাবাসীর অনেক ভোগান্তি হয়। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ছোট ছেলে-মেয়েরা পার হতে পারে না। অনেক সময় সাঁকো পার হতে গেলে খালে পড়ার ভয় থাকে। আমাদের সকলের দাবি কর্তৃপক্ষ যেন খুব দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।বানাই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও বেলায়েত হোসেন বলেন, একটি সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন গ্রামের হাজারো মানুষকে পার হতে হয়। অসুস্থ রোগী ও বৃদ্ধদের নিয়ে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। এছাড়া এসব গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও সুপারি বাজারে নেওয়ার সময় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে একটি সেতু খুব দরকার।স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাসির উদ্দিন জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এলাকাবাসী এখানে একটি সেতুর দাবি করে আসছেন। সবাই প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তবায়ন করে না।১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশীদ বলেন, সাঁকোটি দিয়ে যাতায়াত করতে ওই এলাকার মানুষের অনেক সমস্যা হয়। পরিষদ থেকে সেতু নির্মাণ করা সম্ভব নয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বানাই খালের ওপর সেতুর চাহিদা পাঠানো হবে।উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাদ জগলুল ফারুক জানান, আমাদের আয়রন সেতু নির্মাণ প্রকল্প থেকে ওই খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। | 6 |
আগস্ট মাস এলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনসংগ্রাম, তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা, বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনে তাঁর অসামান্য অবদান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা হয়। তাঁকে সরাসরি যে ঘাতক দল হত্যা করেছে, তাদের কথা সবাই জানলেও নেপথ্যে কার কী ভূমিকা ছিল; কে, কীভাবে ঘাতকদের নৈতিক সহযোগিতা দিয়েছিল এবং কীভাবে কারা স্বাধীনতার পর থেকে অব্যাহতভাবে নানা ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতার মাধ্যমে পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল, সে বিষয়গুলো এখনো পরিষ্কার হয়নি। এসব বিষয়ে হয়নি কোনো বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনেরা তাদের সুবিধামতো তথ্য তৈরি করে প্রচার করেছে। এতে মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, ইতিহাসবিকৃত হয়েছে।ইতিহাসের সত্য সন্ধানে আমাদের আগ্রহ কম। ইতিহাসের নামে কখনো কখনো কল্পগল্পও আমরা বানিয়ে থাকি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হঠাৎ কোনো ঘটনায় হয়নি, কোনো ব্যক্তি হুইসেল বাজিয়েছেন আর মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এবং ধারাবাহিক নানা ছোট-বড় রাজনৈতিক সংগ্রাম। বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিক এই সংগ্রামের প্রধান নেতা বা কান্ডারি অবশ্যই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সঙ্গে তুলনীয় না হলেও আরও অনেক নেতা-কর্মীর শ্রম ও নিষ্ঠার কথাও অস্বীকার করা ঠিক হবে না। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নেতৃত্বের অবস্থানে থাকলেও আরও দু-চারটি দলও কম অবদান রাখেনি। বঙ্গবন্ধুসহ আওয়ামী লীগের অনেকে যেমন জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তেমনি অন্য বাম-প্রগতিশীল দলের নেতারাও জেল-নিগ্রহের বাইরে ছিলেন না। সবার অবদানের কথা একভাবে না হলেও যার যার অবস্থান অনুযায়ী উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। ইতিহাস রচনায় সত্যনিষ্ঠ হয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে একসময় ইতিহাসই আমাদের বিদ্রূপ করবে।এ ভূমিকাটি করা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৬ আগস্টের বক্তৃতার পরিপ্রেক্ষিতে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশের আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, 'আমাদের বাসায় যখন গুলি শুরু হয়, বঙ্গবন্ধু কিন্তু সবাইকে ফোন করেছিলেন। আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে কথা হয়, তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে কথা হয়, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহর সঙ্গে কথা হয়। এ রকম একটা ঘটনার পর আমাদের দল, সমর্থক, মুক্তিযোদ্ধাদের যে ভূমিকা ছিল, তা হয়তো তারা করতে পারেনি। সেনাবাহিনীরও যার যা ভূমিকা ছিল, তারাও সঠিকভাবে তা (পালন) করেনি। এর পেছনের রহস্যটা কী? সেটাই প্রশ্ন।'সত্যি, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৪৬ বছর হতে চলল অথচ এই দীর্ঘ সময় পরেও 'পেছনের রহস্য' উন্মোচিত হলো না। এটা দুঃখজনক এবং এই ব্যর্থতার দায় আমাদের সবার। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ ঘাতকদের বিচার হয়েছে, কয়েকজন ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছেন। কয়েকজন এখনো পলাতক কিংবা অজ্ঞাতবাসে আছেন। অন্তত দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নেপথ্যে ভূমিকা পালনকারীদের খোঁজে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে সরকারে থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। তবে দলের ভূমিকা নিয়ে এত দিন পর দলীয়প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলায় অনেকের কাছেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার কয়েকজন বাদে আর সবাই মোশতাকের মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছিলেন। বিষয়টি মোটেও স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত ছিল না। এখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মোশতাকের সহযোগী হিসেবে তৎকালীন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান জিয়াউর রহমানকে অভিযুক্ত করা হলে বিএনপির পক্ষ থেকে উল্টো বলা হয়, শেখ মুজিবকে আওয়ামী লীগই হত্যা করেছে। এত দিন পর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের তখনকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এ বিষয়ে নতুন আলোচনা এবং বিতর্ক তৈরির পথ সুগম হলো।প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনা কেন দল, দলের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে বক্তৃতা করলেন? এটা যে দলের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে, সেটা দলীয়প্রধান অবশ্যই বোঝেন। তিনি বুঝেশুনে কেন বঙ্গবন্ধু হত্যায় দলের ভূমিকার বিষয়টি সামনে আনলেন? শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে আছেন চার দশক হয়ে গেল। এই দীর্ঘ সময় নিশ্চয়ই তাঁকে ক্ষতবিক্ষত করেছে এই সব প্রশ্ন। যে নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন আছে, তাঁদের নিয়েই তো তিনি চলেছেন। তাঁদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছেন, একাধিকবার মন্ত্রীও বানিয়েছেন। তিনি কি নিরুপায় হয়ে এটা করেছেন, নাকি তাঁদের মনমানসিকতা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছেন? কোনো কারণে কি এখন তাঁর মনে হয়েছে যে পঁচাত্তরে নীরব ভূমিকা পালনকারীরা এখনো দলের জন্য নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠেননি?প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা করার দুদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, 'আমি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগের বাংলাদেশকে দেখেছি। ১৫ আগস্টের পরের ছবিও দেখেছি। আমার ভয় হয় যখন আমি সচিবালয়ের আশপাশে বিলবোর্ড, পোস্টার আর ব্যানারের ছড়াছড়িতে আকাশ পর্যন্ত ঢেকে গেছে-এমন পরিবেশ দেখি। চোখের পলকে ১৫ আগস্ট ঘটে গেল, যাদের দেখতাম নব্য আওয়ামী লীগার সেজে মুজিব কোট পরত, ১৫ আগস্টের পর মুজিব কোট লুকানোর দৃশ্যপটও ভুলিনি। আজ সারা বাংলাদেশের যত্রতত্র অনেকেই বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তুলেছে। যদি হঠাৎ চোখের পলকে কোনো অঘটন ঘটে যায়, তখন কী এসব ম্যুরাল রাখবেন। যাঁরা ম্যুরাল স্থাপন করেছেন তাঁরাই ভেঙে ফেলবেন। এই দৃশ্যপট অনেক দেখেছি।'ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, 'আমি আওয়ামী লীগ করি, আপনারা যদি আমার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার হন, তাহলে দুঃখ লাগে। এখন অনেকেই নব্য আওয়ামী লীগার আমাদের চেয়েও যেন বড় আওয়ামী লীগার। কথায় কথায় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। কিন্তু এটা কী মনের কথা? অনেককেই দেখেছি ১৫ আগস্টের আগে কী বক্তব্য দিয়েছেন। ১৫ আগস্ট ঘটার পর রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেছে। এই ভোল পাল্টানো আওয়ামী লীগারদের আমার প্রয়োজন নেই।'সরকার এবং দলের দুজন শীর্ষ ব্যক্তির এই দুই বক্তৃতা এক করলে মানুষের সামনে বিশেষ কোনো অবস্থা, 'কোনো অঘটন ঘটার' আশঙ্কা কি তৈরি হয়? বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃত্রিম এবং অকৃত্রিম দরদিদের আলাদা করার কাজটি কেন করা হয়নি বা হয় না?শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রেকর্ড সময় ধরে ক্ষমতায় আছে। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিও হচ্ছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধি চোখে পড়ছে দেশের বাইরেও। তার মানে কিন্তু এটা নয় যে যেভাবে চলছে, তার থেকে ভালো চলার কিছু নেই। সরকার এবং সরকারি দলের ভেতরেও অবশ্যই সমস্যা আছে। নানাভাবে তার বিকৃত বহিঃপ্রকাশও ঘটে। দায় এড়ানোর একটি অসুস্থ প্রবণতা প্রায়ই দেখা যায়। আবর্জনা কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রেখে বাইরে থেকে সবকিছু ফিটফাট দেখানোর আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।ভেতরের সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে দেশ আরও ভালো চলবে। দেশে যে আয়বৈষম্য, ধনবৈষম্য বাড়ছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। সরকারে থেকে, সরকারি দলের আশ্রয়ে থেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার তথ্য গোপন করার মতো বিষয় নয়। শুধু কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, উচিত কথা বলার মতো লোকের সংখ্যা যেন দেশে বাড়ে এবং উচিত কথা শুনে গায়ে জ্বলুনি ধরা লোকের সংখ্যা যেন কমতে থাকে। উদারতা এবং সহনশীলতার মাত্রা না বাড়লে দেশের উন্নয়নযাত্রা কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে পরিচালিত রাজনৈতিক দল। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল 'বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো'। মুষ্টিমেয় মানুষের মুখে হাসি থাকলে, বেশি মানুষের জীবন যন্ত্রণাময় হলে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি সঠিক পথে চলছে-বলা যাবে কি? একদিকে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অন্যদিকে প্রতিদিন ঘরে-বাইরে নারী নিগ্রহ-ধর্ষণ-নিপীড়ন-হত্যার খবর মোটেও সামাজিক সুস্থিতির পরিচয়বাহী নয়।আওয়ামী লীগের মধ্যে কারা তাঁর প্রকৃত সুহৃদ, কারা আস্তিনের নিচে ছুরি লুকিয়ে রেখেছে, তা বঙ্গবন্ধুর অজানা ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে যে দলের ভেতরে এবং বাইরে কিছু সন্দেহজনক ভূমিকা চলছিল, সে তথ্যও বঙ্গবন্ধুর জানার বাইরে ছিল না। কিন্তু সবাইকে নিয়ে চলার উদারতার পরিণামে তাঁকে বুকের রক্ত দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভেতরে একটি বড় শুদ্ধি অভিযানের সময় এখন আবার দুয়ারে কড়া নাড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। শেখ হাসিনাও কি সেটা ভেবেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দলের ভূমিকার বিষয়টি সামনে আনলেন?লেখক: সহকারী সম্পাদকআজকের পত্রিকা | 8 |
দৈনিক প্রথম আলোতে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আইটি বিভাগে লোকবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রথম আলো 'সিস্টেম অ্যান্ড নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর' পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এ পদে নিয়োগ পেলে কর্মস্থল হবে ঢাকা। কম্পিউটার সায়েন্স বা প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস হতে হবে এ পদে আবেদন করতে চাইলে। লিনাক্স বা উইন্ডোজ ম্যানেজমেন্টে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ভিএমওয়্যার, সিস্কো নেটওয়ার্ক ও ফায়ারওয়াল বিষয়েও জ্ঞান থাকতে হবে। থাকতে হবে যোগাযোগ দক্ষতাও। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১০ জুন। | 1 |
যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ঠাঁই এ ক্যাম্পাসে হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা। তারা বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পেশিশক্তিধরের ক্যাম্পাস নয়, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস। এখানে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। শনিবার বিকেলে গণপদযাত্রা ও সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইকবাল কবির, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, শামসুন্নাহার হল সংসদের ভিপি তাসনিম আফরোজ ইমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পদযাত্রা শেষে সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার চালিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। যে ক্যাম্পাসে ছাত্রদের নির্বাচিত ভিপি নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিভাবে নিরাপদ থাকবে সেটি প্রশ্নের বিষয়। ফলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সন্ত্রাসী ও দখলদারিত্বকে প্রশ্রয় দিয়ে চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বক্তারা। এর আগে শুক্রবার দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব ও সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে ১২টি ছাত্র সংগঠন মিলে 'সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য' গঠন করা হয়। সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মাক্সবাদী), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, নাগরিক ছাত্র ঐক্য, স্বতন্ত্র জোট ও ছাত্র গণমঞ্চ। | 6 |
পাখি দেখতে আমরা সবাই ভালোবাসি। কী সুন্দর রঙিন পালক! নীল আকাশে উড়ে বেড়ানোর সময় তাদের গায়ে লাগে সোনালি রোদ। তোমারও ইচ্ছে করে তেমন করে উড়তে? মানুষের পক্ষে আকাশে ওড়া সম্ভব না হলেও পাখিদের বিচিত্র গল্প শুনতে তোমার ভালো লাগবে।বইমেলায় নতুন বই এসেছে পাখি নিয়ে। লিখেছেন আমাদের দেশের বরেণ্য পাখিবিশারদ ইনাম আল হক। বইটির নাম 'রূপসী বাংলার পাখি'। ইনাম আল হক মানেই পাখির গল্প, পাখির সঙ্গে পরিবেশ আর তোমারও গল্প। বউ কথা কও, পাপিয়া, শালিক, দোয়েল, কোকিল, টিয়া, ঘুঘু, ময়না, শকুন, ইগল, ডাহুক, ময়ূর, শঙ্খচিল, বুলবুল, লক্ষ্মীপ্যাঁচা এই পাখিগুলো আমাদের কীভাবে উপকার করে, জানো?যে মাছের রোগ হয় সেগুলোই ধরে ধরে খায় কুরা ইগল। তাই সুস্থ মাছের মধ্যে রোগ ছড়ায় না। মাছ ছাড়াও সাপ, ইঁদুর, গিরগিটি কিংবা ব্যাঙও খায় কুরা ঈগল।গাছের ডালে কখনো হলুদ রঙের পাখি দেখেছ? কালো ও হলুদ রঙের পাখিটির নাম হলো বেনেবউ। এরা বর্ষাকালে ডাকে। দোয়েল পাখি তো অনেক দেখো, কখনো খেয়াল করেছ কি, এটা নিজেদের ডানা খুলে আবার বন্ধ করে একটা খেলা খেলে। এই খেলা তুমি দেখলে তুমিও মজা পাবে।মেছো প্যাঁচা কত দিন বাঁচে? ৩০ বছর। জেনে মজা পাবে, এ পাখিটি যুগ যুগ ধরে একই জায়গায় থাকে। শ্যামা ঘুঘুর ঠোঁট টুকটুকে লাল। এই পাখি কিন্তু বাঁশঝাড় থেকেই খাবার পায়, বাঁশঝাড়ের খাবার ছাড়া তারা বাঁচতেও পারবে না।বইটি প্রকাশ করেছে টুনটুনি প্রকাশন। দাম ৩০০ টাকা। | 6 |
১৬ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার সকাল থেকে পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন পুনরায় শুরু হয়েছে। এরফলে খনি এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। পাথর উত্তোলনর জন্য অতি প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট না থাকায় গত ১২ মার্চ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু দাউদ মুহম্মদ ফরিদুজ্জামান ও মহাব্যবস্থাপক (ইউজিওএন্ডএম) মো. আবু তালেব ফারাজী জানান- শনিবার অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে এসে পৌঁছায় এবং রবিবার সকাল থেকে পাথর উৎপাদন শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। থাইল্যান্ড থেকে ২৪২ মে.টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আনা হচ্ছে। তিনদফায় তা দেশে আসবে। প্রথমদফার ৮৮ টন গত শনিবার আসে। ৩১ মার্চ আরও ৮৮ টন নিয়ে আরেকটি জাহাজ থাইল্যান্ড থেকে ছাড়ার কথা রয়েছে। এরপর ৬৬ টন নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসবে। তবে এপ্রিল মাসেই ২৪২ টনই খনিতে আসবে বলে তারা জানান। উল্লেখ্য, খনি ভুগর্ভে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর কাটা হয়। বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ডেটোনেটর, কট, জেলসহ বছরে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়। বিদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানী করা হয়। লেবাননের বৈরুদ ইনসিডেন্টের পর থেকে বিশ্বব্যাপী অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সংকট দেখা দেয়। তার উপর কোভিড-১৯ কারণে জাহাজ পাওয়া যায় না। জাহাজ পাওয়া গেলে কনটেইনার পাওয়া যায় না। বিপদজনক পদার্থ হওয়ায় বিশেষ ধরণের কনটেনারে তা পরিবহন করতে হয়। | 6 |
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে ১৪ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মধ্য পারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। অজগরটির ওজন ১৫ কেজি বলে জানান স্থানীয়রা। এদিকে উদ্ধারের পর সুরেশ মালাকার নামের স্থানীয় এক সাপুড়ে অজগরটি নিয়ে যান। এ বিষয়ে বন বিভাগ কিছুই জানে না।পারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবুল হাশেম জানান, স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্কুলের পাশে অজগরটি দেখতে পান। পরে এলাকাবাসী স্থানীয় সাপুড়ে সুরেশ মালাকারকে খবর দিলে তিনি এসে সাপটি তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, 'মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় একজন আমাকে অজগর পাওয়ার কথাটি ফোনে জানান। এলাকাটি ইছামতি রেঞ্জের আওতাধীন হওয়ায় সেখানে যোগাযোগ করতে বলেছি।'ইছামতি রেঞ্জ কর্মকর্তা খসরুল আলম বলেন, 'অজগর উদ্ধারের বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। আমি খবর নিচ্ছি।' | 6 |
করোনাভাইরাসের ডেলটা ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৪৭ জন কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় এনেছে চীন। দেড় বছর আগে চীনেই প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটে। কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে তা মহামারির আকার নিলেও চীন এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়। তবে সম্প্রতি দেশটিতে আবার করোর ডেলটা ধরনের সংক্রমণ বাড়ছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় নানজিং শহরে ডেলটা ধরন শনাক্ত হয়। এরপর দেশটির ৩১টি প্রদেশের অর্ধেক এলাকায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে এক হাজারেরও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় চীন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-কঠোর লকডাউন, গণহারে করোনা পরীক্ষা, কোয়ারেন্টিন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যেসব কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁরা শাস্তির মুখে পড়েছেন। শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে স্থানীয় সরকারের প্রধান, স্বাস্থ্য কমিশনার, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশনের (সিসিডিআই) বিবৃতি অনুযায়ী, জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিংয়ের ১৫ কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নানজিং লুকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই বিমানবন্দর থেকেই পুনরায় চীনে ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের রুটিন পরীক্ষা করার সময় গত ২০ জুলাই বিমানবন্দরের ৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর আগে ১০ জুলাই রাশিয়া থেকে আসা একটি বিমানের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিমানবন্দরের তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। এদের মধ্যে দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া নানজিংয়ের ভাইস মেয়রকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি, প্রয়োজনে তাঁকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নানজিংয়ের পার্শ্ববর্তী ইয়াংজু শহরটি করোনাভাইরাসের নতুন হটস্পটে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার সেখানে ৩৯৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ এবং ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় গত রোববার ইয়াংজুর ডিসিপ্লিনারি কমিশন ছয়জন কর্মকর্তাকে সতর্ক করে এবং আরও দুজনের সমালোচনা করে। গণহারে পরীক্ষাকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার কারণে অনেকের শরীরের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। | 3 |
গ্রাম্য সালিসে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় বিচার না করে উল্টো অপমান করায় এক গৃহবধূ (৪৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মনিরামপুরে।এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধূর স্বামী ৫ জনের নামে মামলা করেছেন। পুলিশ সালিসে বসা মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ফকিরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।জানা গেছে, গত সোমবার নিজ বাড়িতে বিষপানে আত্মহত্যা করেন ওই গৃহবধূ। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ তাঁর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। ওই গৃহবধূর তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।এদিকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার সালিস করার অভিযোগে চারজনকে মামলার আসামি হয়েছে। তাঁরা হলেন মনোহরপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ফকির, ওই ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গোলাম মোস্তফা ও মনোহরপুর গ্রামের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক আবুল সরদারসহ চারজন। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।আর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে ইউপি সদস্য সিরাজুল ফকিরের চাচাতো ভাই মিজানুর ফকিরের বিরুদ্ধে। পুলিশ সিরাজুল ফকির ও আবুল সরদারকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে। তাঁদের বাড়ি মনোহরপুরের কাচারিবাড়িতে।এর আগে গত সোমবার রাতে সিরাজুল ফকির, আবুল সরদার ও আসাদুজ্জামান আসাদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয় থানা-পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ আসাদুজ্জামান আসাদকে ছেড়ে দেয়।জানা গেছে, গত শনিবার রাতে মনোহরপুর ঋষিপল্লির বাসিন্দা ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান মিজানুর ফকির। পরের দিন রোববার ওই নারী স্বামীকে নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে যান। অভিযোগপত্র লেখার পর তাঁর স্বামীর কাছে এলাকা থেকে ফোন করেন মনোহরপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল ফকির। সিরাজুল ফকির ধর্ষণের চেষ্টায় অভিযুক্ত মিজানুর ফকিরের চাচাতো ভাই। তাঁরা ওই দম্পতিকে এলাকায় ডেকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের কথা বলে অভিযোগপত্র ছিঁড়ে ফেলেন।মামলার আসামি বলেন, 'আমরা ফিরে গেলে অভিযুক্ত মিজানুর ফকিরকে ছাড়া রোববার রাতে সালিসে বসেন সিরাজুল, মোস্তফা ও আবুল সরদারসহ কয়েকজন। সালিসে তাঁরা পূর্ণিমাকে অপমানজনক নানা কথা বলেন। অভিযুক্ত মিজানুর উপস্থিত না থাকায় পরে সালিসে কোনো সুরাহা হয়নি।'ঘটনাটি জানাজানি হলে পরের দিন এলাকায় হইচই পড়ে যায়। বিচার না পেয়ে সোমবার সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করেন পূর্ণিমা। পরে তাঁকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিলে তিনি গৃহবধূকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে পুলিশ তাঁর মরদেহ হেফাজতে নেয়।গ্রেপ্তার সিরাজুল ফকিরের স্ত্রী দিলরুবা খাতুন বলেন, 'আমার স্বামী টানা দুই বারের ইউপি সদস্য। তিনি মনোহরপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান। খুব ঠান্ডা প্রকৃতির মানুষ তিনি। অভিযুক্ত মিজানুর আমার স্বামীর চাচাতো ভাই। ঘটনার পর থেকে মিজানুর পলাতক। সেদিনের সালিসে আমার স্বামী যেতে চাননি। মিজানুরের ছেলে আল আমীন এসে হাত-পা জড়িয়ে ধরে আমার স্বামীকে সালিসে নিয়েছে। আমার স্বামী এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।'এদিকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দলিত পরিষদের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার বিচারের দাবিতে আজ বুধবার মানববন্ধনের কথা জানিয়েছেন দলিত পরিষদের মনিরামপুর উপজেলা সভাপতি শিবনাথ দাস।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেহালপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুজ্জামান বলেন, 'ধর্ষণচেষ্টা এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন। আটক সিরাজুল ইসলাম ফকির ও আবুল সরদারকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।' | 6 |
মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল আরও বেড়েছে। জেলা সম্মেলনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে উপজেলাগুলোর ইউনিয়ন কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে জেলা সদরের বিরাজমান দুই গ্রুপের নেতাদের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন নতুন করে বিবাদের জন্ম দিয়েছে। এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীয় সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সাংসদ শাজাহান খান। অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সাংসদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।শাজাহান খানপন্থিরা এরই মধ্যে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিতে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে তাড়াহুড়া করে সম্মেলন করেছেন। অপর দিকে বাহাউদ্দিন নাছিম ও জেলা আওয়ামী লীগের বৃহৎ অংশ মিলে ৭টি ইউনিয়নের কমিটি গঠন করেছেন। এভাবে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। এতে তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।মাদারীপুর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, জেলা সম্মেলনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সদর, রাজৈর, কালকিনি, ডাসার ও শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিকে বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শাজাহান খানপন্থি হিসেবে পরিচিত মাদারীপুর সদরের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন সেলিম গত সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শাজাহান খানের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান খানের (বিদ্রোহী প্রার্থী) পক্ষে কাজ করায় জেলায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে সহসভাপতি ইউসুফ আলী চোকদারকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। অপরদিকে দলের সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যু হওয়ায় সহ-সম্পাদক মো. মস্তফা কবিরাজকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলার নির্দেশনা অনুযায়ী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত ৭টি ইউনিয়নে সম্মেলন করে কমিটি ঘোষণা করেছে। অপরদিকে শাজাহান খানপন্থি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম ও এজাজুর রহমান আকন সমর্থকদের দিয়ে তড়িঘড়ি করে এ পর্যন্ত ১২টি ইউনিয়নে সম্মেলন করিয়েছেন। তবে এখনো তাঁরা কমিটি ঘোষণা করেননি।এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে জানান, 'যেহেতু জেলা সংগঠনের লিখিত নির্দেশে ইউনিয়ন কমিটি গঠনের বৈধ ক্ষমতাপ্রাপ্ত এবং সম্মেলনে জেলার নেতারা সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন, তাই তাদের সম্মেলন কমিটি বৈধ। অন্যদিকে কেবল শাজাহান খানের সমর্থন নিয়ে যারা সম্মেলন করছে তারা অবৈধ।'এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, 'শাজাহান খান দলের বাইরে তার নিজস্ব কিছু লোক নিয়ে আবার সেই আগের মতো তৃণমূলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। দলের সাংগঠনিক সমস্যা সমাধান না করে সমস্যা সৃষ্টি করাই তার কাজ। দল ঐক্যবদ্ধ হয় তা সে (শাজাহান খান) চায় না।'এ ব্যাপারে শাজাহান খানকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকাতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যক্তিগত সচিব সৈয়দ মমসাউজ্জামান মিমুন। শাজাহানপন্থি আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম জানান, 'আমাদের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তো এখনো আমাদের বাদ দেননি। আর জেলা আওয়ামী লীগই তো মেয়াদ উত্তীর্ণ, তারা কীভাবে আমাদের বাদ দেয়। আমরা গঠনতন্ত্র অনুসারে কমিটি করছি।' | 6 |
ফ্যাশনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে লাইফস্টাইলেও। ঘরের সাজেও আসছে অনেক পরিবর্তন। চলতি বছরে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে ঘরের ফার্নিচারের। ঘরের প্রতিটি কোণকে সাজাতে এর বিকল্প নেই। ফার্নিচারের কথা বললেই সবচেয়ে উপযোগী হিসেবে ধরা হয় কাঠের আসবাব। একটা সময় কাঠের আসবাবের বিকল্প যেন কিছুই চিন্তা করা যেত না। কিন্তু সে বিষয়টি পুরোপুরি ঘুচিয়ে দিয়েছে চলতি বছরের ধারা। এ বছর সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে প্রসেস উড বা আর্টিফিশিয়াল কাঠ। অন্যদিকে পরিবর্তন এসেছে ফার্নিচারের ডিজাইন এবং নকশাতেও। একদম সাদামাটা ডিজাইনের মাধ্যমে আধুনিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত ছিল ফার্নিচার ব্র্যান্ডগুলো। ফার্নিচারে রঙিন ফেব্রিকের ব্যবহার ছিল এবার লক্ষ্য করার মতো। আগের মতো এখন আর ফলের ডিজাইন বা বেশি কারুকার্য ব্যবহার হচ্ছে না। সোফাতে এসেছে ফিউশন। একসময় পাঁচটি বসবার জায়গা নিয়ে একটি সেট। সেটি অবশ্যই হবে একই ডিজাইনের। এ বিষয়টি থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে বর্তমান প্রজন্ম। অনেক ক্ষেত্রে সোফার জায়গা দখল নিয়েছে ডিভান। ঘর সব সময় থাকবে পরিপাটি এবং গোছানো। তাই ফার্নিচারের আধিক্য অনেকেই এড়িয়ে গেছে এই বছরটিতে। ফার্নিচারের কাঠের ব্যবহার অনেকটাই কমিয়েছে। অন্যদিকে হয়েছে আগের থেকে বেশি টেকসই। ছোট ঘরকে খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিতে আসবাবগুলোতে আনা হয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বসবার ঘরের সোফাকে অনেকভাবে পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে এসব নতুন ধারার ফার্নিচার। তাই একজন অতিথি এলে খুব সহজে সোফাকে বানিয়ে ফেলতে পারবেন খাট। ছোট ছোট এসব পরিবর্তন ফার্নিচার জগতকে নিয়ে গেছে অন্যমাত্রায়, যা এই বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল। শোবার ঘরের ফার্নিচারের মধ্যে খাটগুলোতে আগের মতো বাহারি কারুকার্য নেই। তবে ডিজাইনে এসেছে নতুনত্ব। এসব ডিজাইন যে কারও নজড় কাড়তে বাধ্য। জাজিম এবং ম্যাট্রেসের ব্যবহারোপযোগী করে বানানো হয় এখনকার বেশিরভাগ খাট। এ বছর বেশি চলেছে তুলনামূলকভাবে নিচু ধাঁচের খাটগুলো। এখন এসব আসবাব তৈরিতে মনোযোগী হচ্ছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনররা। ফলে ভিন্নতা আসতে বাধ্য। কোথাও কোথাও দেখা মিলেছে প্রাচ্যাত্যের রূপও। কিং সাইজের খাটের চাহিদা এখন অনেকটাই কম। বেড়েছে ডাবল এবং সেমি বেড। শিশুদের উপযোগী করেও এখন তৈরি হচ্ছে খাট, যা আগে কখনোই চিন্তাই করা যেত না। কাঠের ব্যবহার অবশ্যই হচ্ছে, তবে তা আধুনিক উপায়ে। এসব আসবাবেও ব্যবহার হচ্ছে রেইনট্রি, মেহগনি, কড়ই, সেগুন, গজারি, জাম, আম ও কাঁঠাল প্রভৃতি কাঠ। তবে কাঠের বিকল্প হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে মালয়েশিয়ান প্রসেস উড। এই প্রসেস উডের মধ্যে রয়েছে পার্টিক্যাল বোর্ড, ভিনিয়ার্ড বোর্ড, এমডিএফ বোর্ড, প্লাই বোর্ড। শোভা বাড়াতে বা ঠিক রাখতে শোবার ঘরের ফার্নিচারগুলো সাধারণত একই রঙের রাখা হয়। সেক্ষেত্রেও প্রাধান্য পাচ্ছে একদম সাদাসিধে। নিজেদের বাড়ি বা ফ্ল্যাট হলে অনেকেই করছেন ওয়াল ক্যাবিনেট। এতে বাড়তি জায়াগা নষ্ট হচ্ছে না, উপরন্তু বৃদ্ধি পাচ্ছে সৌন্দর্য। খাটের পাশে এখন ইজি চেয়ার। বাড়তি জায়গা থাকলে ছিমছাম একটি রিডিং কর্নার। এ ঘরটিতে প্রাধান্য পাচ্ছে এখন গাঢ় রঙের ফার্নিচার। ডাইনিং টেবিলগুলোতে এসেছে অনেক পরিবর্তন। গত বছরে অনেক বেশি প্রাধান্য ছিল গ্লাসের ব্যবহার। এবারও কিছুটা আছে। কিন্তু একটু ভিন্নভাবে ফিরে এসেছে পুরো কাঠের টেবিল। এতে ব্যবহার হয়েছে একদম পলিশ কাঠ। চেয়ারগুলোতে যুক্ত হয়েছে ফোমের ব্যবহার। ছোট পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবার চার ও ছয় সিটের ডাইনিং টেবিল বেশি এসেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রায় দশ বছর আগের সেই বেঞ্চ আবার ফিরে এসেছে আধুনিক আঙ্গিকে। ছয় সিটের ডাইনিং টেবিলে এখন তিন পাশে থাকছে চারটি চেয়ার। আর অন্য পাশে দেওয়া হচ্ছে বেঞ্চ। তবে এতে যুক্ত হয়েছে বাড়তি ফোম। ডাইনিংয়ের পাশাপাশি আরও একটি টেবিল যুক্ত হয়েছে। ঠিক ধরেছেন টি টেবিল। সোফার সঙ্গে থাকা টি টেবিল হয়। এটা চায়ের আড্ডার জন্য করা হয়েছে। ঘরের যে কোনো একটি ফাঁকা জায়গাতে এ টেবিলটি এখন শোভা পাচ্ছে। সাধারণত ছোট একটা গোলটেবিলের সঙ্গে চার চেয়ার বা টুল দিয়ে তৈরি হয় এটি। অনেকে আবার সোফার সঙ্গে থাকা টি টেবিলটি পরিবর্তন করে বানিয়ে ফেলেন নতুন এই আসবাবটি। ছোট আরামদায়ক টুলে বসে চায়ের আড্ডা দেওয়া টি টেবিলটা এ বছরের একটি নতুন সংযোজন ছিল। ফার্নিচারের মধ্যে এই বছর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সোফাতে। যে যেভাবে পেরেছে ড্রইং রুমটাকে আলাদা করার চেষ্টা করেছে। কেউ একদমই নিচু সোফা, কেউ বা ডিভান আবার কেউ রেখেছে শুধু টুল। অনেকে শুধু কুশন, ফোম আর সেন্টার টেবিল দিয়েই সাজিয়ে তুলেছে তার বসবার ঘরটি। ডিভান বা সোফাতে এবার ব্যবহার হয়েছে এক রঙা ফেব্রিক্স। সময়ের প্রয়োজনে এসব নতুন নতুন ফার্নিচার নিয়ে এসেছে আমাদের দেশি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের মধ্যে রয়েছে হাতিল, আকতার, ব্রাদার্স, নাভানা, ডেলটা, নাবিলা, নিউ এথেনটিক, পারটেক্স, অটবি, নাদিয়া, উড মার্কস, গ্রিন ফার্নিচার, উডি রিজন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ফার্নিচারের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার দেখিয়ে এ বছর তাক লাগিয়েছে ইশো। হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ৩১ বছর ধরে ফার্নিচার নিয়ে কাজ করছে হাতিল। একটা সময় খুব ভারী এবং মোটা কাঠের ফার্নিচারের বেশ চল ছিল। এখন সেগুলো একেবারে বিলীনের পথে। এখন স্লিম ফার্নিচার বেশি মানানসই। এ বছর ফার্নিচারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এখানেই। শুধু হাতিল নয়, সব দেশি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানই এই বিষয়টি লক্ষ্য রেখে আসবাব তৈরি করছে। | 4 |
ইরাকের বাগদাদ, মসুল, আল-আনবার, বাবেল, সালাহউদ্দিন ও দিয়ালা এলাকার ৩০০ নেতা ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সাথে স্বাক্ষরিত ইবরাহীমি চুক্তিতে ইরাককে যোগদানের জন্য উত্তর ইরাকের ইরবিলে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানান তারা। অপরদিকে বিভিন্ন ইরাকি রাজনৈতিক জোট এই আহ্বানের নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের খবর অনুসারে, ইরাকি কর্তৃপক্ষকে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আহ্বান জানিয়েছে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের ৩০০ নেতা। এসব ইরাকি নেতারা ইবরাহীমি চুক্তিতে অংশ নিয়ে ইসরাইলের সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপনে আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরাইলি টিভি চ্যানেলের দেয়া তথ্যানুসারে, ইরাকি নেতাদের ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরলোকগত সাবেক ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শিমন পেরেসের ছেলে কেমি পেরেস। ইরাকি নেতাদের এ সংবাদ সম্মেলন চলার সময় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কুর্দি সেনারা। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে ইরাকি নেতাদের এমন আহ্বানের প্রশংসা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওই সংবাদ সম্মেলনে হিব্রুতে বিবৃতি দেন কেমি পেরেস। এ সময় তিনি শান্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। এদিকে ওই সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ায়ির লাপিদ বলেন, এখন আমরা এমন সব বিষয় নিয়ে আশান্বিত হচ্ছি যা নিয়ে আগে কখনো ভাবিনি। অপরদিকে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে ইরাকি নেতাদের এমন আহ্বানের নিন্দা করেছেন দেশটির শিয়া ও সুন্নী সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক নেতাদের একটি জোট। এ সময় শিয়া উইজডম অ্যালায়েন্সের প্রধান আম্মার আল হাকিম বলেন, আমরা ওই সংবাদ সম্মেলন, ইরাকি নেতাদের সমাবেশ আর ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আহ্বানের নিন্দা করছি। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ওই আহ্বানকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি বলে, ফিলিস্তিন ইস্যু হলো আরব ও মুসলিমদের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের জোট ফিলিস্তিনিদেরকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে। আমরা আবারো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি। আমরা ফিলিস্তিনিদের ন্যায় দাবি ও হৃত অধিকার ফিরে পাওয়ার সংগ্রামকে সমর্থন করি। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর | 3 |
রেকর্ড মুনাফার পর রেকর্ড লভ্যাংশের খবরে শেয়ারবাজারে গতকাল মঙ্গলবার দাপুটে অবস্থানে ছিল লাফার্জহোলসিমের শেয়ার। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি লেনদেনেও উঠে এসেছে শীর্ষ পর্যায়ে। ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল লাফার্জহোলসিম। গত সোমবার পরিচালনা পর্ষদের সভা থেকে ২০২১ সালের জন্য কোম্পানিটি রেকর্ড ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। যার পুরোটাই নগদ। পাশাপাশি গত বছরের আয় ও মুনাফার তথ্যও প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটেও এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তাতে দিনের শুরু থেকে কোম্পানিটি লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে। দিন শেষে কোম্পানিটির প্রায় ৯১ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়। আর প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় সোয়া ৬ শতাংশ বা ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকা ৭০ পয়সায়। ২০০৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর এবারই সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক এই কোম্পানি। লাফার্জহোলসিম সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে এ দেশে উৎপাদন শুরুর পর গত বছরই কোম্পানিটি সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে। গত বছর কোম্পানিটি কর-পরবর্তী ৩৮৮ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছে। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে মুনাফা ছিল ২৩৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে লাফার্জহোলসিমের মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ। রেকর্ড মুনাফা ও রেকর্ড লভ্যাংশের খবরে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরুর একপর্যায়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বা সাড়ে ৭ টাকা বেড়ে সাড়ে ৮৩ টাকায় উঠে যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি দাম ধরে রাখতে পারেনি কোম্পানিটি। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভালো কোম্পানির ভালো লভ্যাংশের খবরে ওই শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াটা স্বাভাবিক। এটি বাজারের জন্য ইতিবাচকও। যার প্রভাব গতকাল সূচকেও দেখা গেছে। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে গতকাল শেয়ারবাজারের সব খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন বেড়েছে সিমেন্ট খাতের। এ খাতের সম্মিলিত লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ৩৭৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫ কোটি টাকায়। সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত লেনদেনের ৯৬ শতাংশ বা ৯১ কোটি টাকা ছিল এককভাবে লাফার্জহোলসিমের। লাফার্জের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির দিনে শেয়ারবাজারে সূচকেরও বড় উত্থান হয়েছে। ঢাকার বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ৭১ পয়েন্ট বা ১ শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে। দিন শেষে ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩৮ কোটি টাকা বেশি। | 0 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দ্বিতীয় ধাপের ১৩টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আচরণবিধি না মানায় ১১৩ মামলা দায়ের করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১১৩ টাকা জরিমানা আদায় করেছে প্রশাসন। নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হালিমা খাতুন শুক্রবার সমকালকে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দ্বিতীয় ধাপের ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করতে উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের মাধ্যমে আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে কঠোরভাবে। এরই ধারবাহিকতায় গত এক সপ্তাহে নাসিরনগরের ১৩টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি ৩১(১) অনুসারে ৭৬ টি মামলায় ৭৬ জন প্রার্থীকে ৪ লাখ ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ধারা ৬৬ দশমিক ৭২ এবং ৯২(১) অনুযায়ী ৬২ মামলায় ৬২ জনকে ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধিতে পোস্টার লাগানো বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া আছে। যেমন কারও দেওয়ালে পোস্টার লাগানো যাবে না। পোস্টারের মাপ অনুযায়ী সঠিকভাবে পোস্টার লাগানো, পোস্টার ঝুলিয়ে দিতে হবে, বিলবোর্ড লাগানো যাবেনা। জনদুর্ভোগ হয় এমন সভা সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা না মানার কারণে ১৩টি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের এ অর্থদণ্ড করা হয় বলে জানান ইউএনও হালিমা। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি ৩১(১) অনুসারে ২৯ অক্টোবর ৯ মামলায় ৯ জনকে ৪৫ হাজার টাকা, ৩০ অক্টোবর ১৩ মামলায় ১৩ জনকে ৬৫ হাজার, ৩১ অক্টোবর ১২ মামলায় ১২ জনকে ৬৯ হাজার, ১ নভেম্বর ১৩ মামলায় ১৩ জনকে ৭১ হাজার, ২ নভেম্বর ১০ মামলায় ১০ জনকে ৫০ হাজার, ৩ নভেম্বর ১০ মামলায় ১০ জনকে ৫০ হাজার ও ৪ নভেম্বর ৯ মামলায় ৯ জনকে ৫৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ধারা ৬৬ দশমিক ৭২ এবং ৯২(১) অনুযায়ী ৬২ মামলায় ৬২ জনকে ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হালিমা খাতুনের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজকুমার বিশ্বাস ও সহকারী কমিশনার ভূমি মেহেদি হাসান খান শাওন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ অর্থদণ্ড প্রদান করেন। ইউএনও হালিমা খাতুন বলেন, 'গত ৭ দিনে শুধু জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু আগামীতে আচরণবিধি ভঙ্গকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
সংলাপ বলবেন নায়ক-নায়িকা। কিন্তু এ দুজনকে ঘিরে সক্রিয় থাকেন একগুচ্ছ মানুষ। ক্যামেরার মনিটরে কেউ, বুম হাতে কেউ, কেউ লাইট সহকারী, কেউবা ট্রলিতে। একটি শুটিং ইউনিট মানে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা। কিন্তু করোনায় শুটিং করতে গিয়ে দেখা গেল, বুম ধরার লোক নেই। অভিনয়শিল্পীদের সামনে টুলে ফেলে রাখা হয়েছে মাইক্রোফোন। করোনায় শুটিং ইউনিটের এ রকম অনেক কলাকুশলী কমতে শুরু করেছে। যাবতীয় শর্ত মেনে ১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ছোট পর্দার অনুষ্ঠানের জন্য শুটিং। ঝুঁকি কমাতে নির্মাতারা শুটিং ইউনিটের সদস্যসংখ্যা কমিয়ে আনছেন। অনেক নির্মাতা প্রয়োজনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ শিল্পী এবং কলাকুশলী নিয়ে কাজ শুরু করছেন। এতে নাট্যাঙ্গনে বেকারত্ব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।শুটিং শুরু হওয়া চারটি ইউনিটে খবর নিয়ে জানা গেছে, কেউ একজন ক্যামেরা সহকারী নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। সেটে নেই মেকআপম্যান বা ট্রলিচালক, প্রয়োজন না হলে প্রধান চরিত্রের বাইরে তেমন কোনো শিল্পীকে ডাকাও হচ্ছে না সেখানে। এমনকি ইউনিটে নেই কোনো বয়স্ক শিল্পী। কমে যাচ্ছে পরিচালকের সহকারীর সংখ্যাও। একটি নাটকে যেখানে ৩০ জনের বেশি কলাকুশলী নিয়ে কাজ হতো, সেই সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৯ থেকে ১০। একই অবস্থা বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও। বিজ্ঞাপন নির্মাতা আদনান আল-রাজীব বলেন, 'আগে আমাদের শুটিং ইউনিটে লোক থাকত ৮০ থেকে ১০০ জন। সেই সংখ্যা এখন ঠেকবে ২০ থেকে ২৫। লোকসংখ্যা কমিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী সপ্তাহে শুটিংয়ে নামার পরিকল্পনা আছে। কারণ, এক বছরের মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন আসবে না। সতর্কতার সঙ্গে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।'করোনার পর গল্পে আসছে পরিবর্তন। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অল্প শিল্পী নিয়ে কীভাবে শুটিং করা যায়, সেই চেষ্টা করছেন সবাই। এতে দুই থেকে তিনজন অভিনয়শিল্পী দিয়েই নাটক তৈরি করছেন নির্মাতারা। উত্তরায় প্রিয় প্রতিবেশী নামের একটি ধারাবাহিকের সেট থেকে নির্মাতা আবু হায়াত বলেন, 'আমাদের টিমে শিল্পী থেকে শুরু করে মোট সদস্য ১০ জন। কম্বাইন্ড দৃশ্য রাখিনি। গ্যাদারিং করে ঝুঁকি নিয়ে শুটিং করতে চাই না।' অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম বলেন, 'শিল্পীদের বেকারত্ব নিয়ে চিন্তিত। সবাই ছোট টিম নিয়ে কাজ করছেন। প্রচুর শিল্পী বেকার হয়ে যাবেন। যাঁরা কাজ পাচ্ছেন না, তাঁরা একদমই পাবেন না। নির্দিষ্ট কিছু শিল্পীর ওপর চাপ পড়বে। কিন্তু এটা করা নির্মাতাদের উচিত হবে না।'ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, 'আমি নিজেও কম্প্রোমাইজ করে শুটিং করি না। শিল্পী, কলাকুশলী, নাট্যকারদের মতো নির্মাতাদেরও কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।'বেকারত্বের ঝুঁকিতে আছেন মেকআপশিল্পীরা। অনেক তারকা নিজেই বাসা থেকে মেকআপ নিয়ে আসছেন। মেকআপম্যান সমিতির সভাপতি বাবুল জানান, 'ইউনিটে মেকআপম্যান, মেকআপ সহকারী রাখা হচ্ছে না। আমাদের দুর্ভাগ্য।'পরিস্থিতি নিয়ে নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ বলেন, 'বেকারত্ব নিয়ে আমরা মহাসংকটে পড়ে গেলাম। এখন সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কূলকিনারা দেখতে পাচ্ছি না।'সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, করোনায় গল্প বলার ধরন বদলাতে হবে। কেবল ঘরকেন্দ্রিক গল্পের নাটক থেকে দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। বেকারত্বের পাশাপাশি এ-ও এক নতুন সংকট। | 2 |
দেশের সবচেয়ে লম্বা মানুষ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সুবেল হোসেনের (২৬) চিকিৎসা সহযোগিতায় তার পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া আরো কিছু ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও সুবেলের খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সাংসদ সরওয়ার জাহান বাদশার নির্দেশে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার লম্বা মানব সুবেল হোসেনের বাড়িতে যান। এ সময় তারা অসুস্থ সুবেলের চিকিৎসার জন্য নগদ কিছু অর্থ প্রদান করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করে প্রশাসন। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সুবেলের সঙ্গে দেখা করে তার চিকিৎসার ব্যাপারে পরিবারকে সহযোগিতার কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কিছু উপহার দেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়টির ফ্রন্ট ডেস্ক অফিসার হাসান আল মাহমুদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন- প্রীতম মজুমদার, শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান। রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জহুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সুবেলের ব্যাপারে জানার পরই তার বাড়িতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি টিম পাঠিয়েছি। তার চিকিৎসার কাগজপত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি। প্রফেসর ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি এরই মধ্যে ভারতের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে তার চিকিৎসার কাগজপত্র পাঠিয়েছি। দেশ ও দেশের বাইরে তার চিকিৎসার ব্যাপারে ধারাবাহিক ও কার্যকর সহযোগিতা প্রদানের ব্যাপারে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় তার সীমিত সাধ্যের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এ ছাড়া আরো কিছু সামার্থ্যবান ব্যক্তি, বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও দেশের সবচেয়ে লম্বা মানব সুবেল হোসেনের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দীর্ঘ মানব কক্সবাজারের রামু উপজেলার জিন্নাত আলী সম্প্রতি মারা যাওয়ার পর দৌলতপুর উপজেলার সুবেল হোসেনই সম্ভবত এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে লম্বা মানুষ। সুবেল উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামের কৃষক ইউনুস আলীর ছেলে। ব্রেন টিউমার ও পা ফোলাসহ আরো কিছু রোগে ভুগছেন এই লম্বা মানব। অস্বাভাবিক উচ্চতা ও অসুস্থতার কারণে তাকে লাঠি ভর দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। ঠিকমতো সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারেন না তিনি। অর্থাভাবে থাকা দেশের দীর্ঘ মানব সুবেলকে নিয়ে সম্প্রতি ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হলে বিষয়টি প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের নজরে আসে। | 6 |
৭৪তম জন্মদিনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যতদিন বেঁচে আছি সম্মানের সঙ্গে যেন বাঁচতে পারি। আমার কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষের যেন উপকারই হয়, মানুষ যেন ভালো থাকে, সেই কাজটুকু যেন করতে পারি। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
রাজধানীর আবাহনী মাঠের সামনে ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে শুক্রবার মধ্য রাতে উল্টে যায় সিমেন্টবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার (বোতল গাড়ি)। এতে কেউ কেউ হতাহত না হলেও প্রায় ১৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে ওই সড়কে। এ কারণে দিনভর তীব্র যানজট ছিল সাত মসজিদ সড়কে। প্রিমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানির বাল্ক ক্যারিয়ারটি (ঢাকা মেট্রো-শ-১১-২৯১৮) গাবতলীর দিকে যাচ্ছিল। গাড়ি উল্টে যাওয়ায় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আশ্রাফ উদ্দিন সমকালকে জানিয়েছেন, রাত দুইটার দিকে গাড়ি ধানমন্ডির স্টার কাবারের সামনে পৌঁছালে পাশের গলি থেকে একটি প্রাইভেটকার মূল সড়কে চলে আসে। প্রাইভেটকারকে বাঁচাতে গিয়ে বাল্ক ক্যারিয়ারটি ডান দিকে টার্ন নেয়। গাড়িটি গতি সামলাতে না পেরে রাস্তার বিপরীত লেনে চলে আসে। সেখানে পুলিশের গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন ছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সবাই বেঁচে গেছেন। কিন্তু বাল্ক ক্যারিয়ারটি ভারসাম্য রাখতে না পেরে রাস্তায় উল্টো যায়। চালক সামান্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে প্রিমিয়ার সিমেন্টের কর্মকর্তারা থাকলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি। তবে সূত্র জানিয়েছে, ১৮ টন মাল পরিবহনে সক্ষম বাল্ক ক্যারিয়ারটিতে ২৫ টন খোলা সিমেন্ট ছিল। শনিবার সকাল থেকে একটি ক্রেন দিয়ে ক্যারিয়ারটিকে টেনে তোলার চেষ্টা করে লাভ হয়নি। পরে দুইটি ক্রেন দিয়ে তোলা হয়। আশ্রাফ উদ্দিন জানান, শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গাড়িটি সরানোর পর যান চলাচল শুরু হয়েছে। | 6 |
সংগঠন পরিপন্থী কাজ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামরুল হোসেনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ আলতাফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংগঠন পরিপন্থী কাজ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এ নিয়ে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ৩ জনসহ মোট চারজনকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।সূত্রে জানা গেছে, ১১ নভেম্বর নির্বাচনের দিন করেরহাট ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের রশিদিয়া এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামরুল হোসেনের নেতৃত্বে ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ অন্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে স্টাইকিং ফোর্সসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় কামরুলকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৭০/৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়।অব্যাহতির বিষয়ে কামরুল হোসেন বলেন, 'দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি মেনে নিয়েছি। এ বিষয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।'উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, 'কেউ দায়িত্বে থাকলে, তাঁকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দলের ভাবমূর্তি, শৃঙ্খলা, নীতি আদর্শ পরিপন্থী কাজ করলে, তাঁর বিরুদ্ধে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। কারণ ব্যক্তির চেয়ে দল বড়।'জানা গেছে, এর আগে মিরসরাই ৯ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ দিদারকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। | 6 |
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আর সেটা দুই দলের জন্যই। সেই ফেরাটা চ্যাম্পিয়নের মতোই করলো অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে শুক্রবার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে বৃষ্টি আইনে ২০ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৪৯ রান করে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন ওপেনার বেন ম্যাকডারমট। ৪১ বলের ইনিংসে তিনি হাঁকান দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। মারকুইস স্টয়নিস ১৭ বলে করেন ৩০ রান। ১৮ বলে ২৩ রান করেন জশ ইংলিস। বল হাতে শ্রীলঙ্কার হয়ে হাসারাঙ্গা তিনটি, দুশমন্থ, বিনুরা ও চামিকা নেন দুটি করে উইকেট। বৃষ্টির কারণে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯ ওভারে ১৪৩ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা থামে ৮ উইকেটে ১২২ রানে। দলের হয়ে ফিফটির দেখা পাননি কেউ। সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন পাথুন নিশাঙ্কা। ১৬ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন দিনেশ চান্দিমাল। আসালাঙ্কা ১৬ ও হাসারাঙ্গা ১৩ রান করেন। বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আগুন ঝড়ান পেসার জশ হ্যাজলউড। ৪ ওভারে ১২ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। অ্যাডাম জাম্পা নেন ৩ উইকেট। প্যাট কামিন্স নেন একটি উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন অজি স্পিনার জাম্পা। ৫ ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। আগামী রোববার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। | 12 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিকূল অর্থনৈতিক, প্রতিবেশ ও নিরাপত্তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো লক্ষে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা রুজুর বিষয়েও সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, প্রতিবেশ এবং নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী এই বিশ্বে ওআইসিকে এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী আজ পবিত্র মক্কা নগরীতে ১৪ তম ওআইসি সম্মেলনে এশীয় গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন। সম্মেলনের এবারের শিরোনাম 'মক্কা আল মোকাররমা শীর্ষসম্মেলন: ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে'। তিনি বলেন, ওআইসি'র নিজস্ব সমস্যাগুলো মোকাবেলার সক্ষমতা থাকা উচিত কেননা এটির বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ কৌশলগত সম্পদ এবং এর সিংহভাগ তরুণ-যুবক রয়েছে ।শেখ হাসিনা এ সময় আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমেই জবাবদিহিতা এবং ন্যায় বিচারের প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের আইনগত অধিকার নিশ্চিতের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার পথ তৈরী হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই প্রক্রিয়াকে এতদূর এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা গাম্বিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আবেদন জানাচ্ছি এই মামলা রুজুর বিষয়ে স্বেচ্ছা তহবিল সংগ্রহ এবং কারিগরি সহযোগিতার জন্য।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্বেও বাংলাদেশ মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ বোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় প্রদান করেছে।'কিন্তু তাঁদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত-কেননা উত্তর রাখাইন রাজ্যে এসব রোহিঙ্গাদের ফেরার জন্য যে ধরনের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন তা সৃষ্টিতে মিয়ানমার তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ধারবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যেভাবে বাংলাদেশ করেছে, আসুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সে ধরনেরই একটি জিরো টলারোন্স নীতি গ্রহণ করি, সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসীদের দলকে যেকোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং উগ্রপন্থা বাস্তবায়নে বাধা দেই এবং জোটবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাই।'এই প্রসংগে তিনি সন্ত্রাস বন্ধে রিয়াদ সম্মেলনে ঘোষিত মুসলিম বিশ্বের জন্য প্রদত্ত তাঁর ৪ দফা নীতির কথা স্মরণ করেন।যার মধ্যে রয়েছে-অস্ত্রের জোগান বন্ধ করা, সন্ত্রাসের জন্য অর্থায়ন বন্ধ করা, মুসলিম উন্মাহর মধ্যকার বিভাজন দূর করা এবং সংলাপের মাধ্যমে যে কোন প্রকার দ্বন্দের শান্তিপূর্ণ সমাধান। ২১শ শতকের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য ওআইসির উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা খুবই আশা জাগানিয়া যে, নিজেকে ২১ শতকের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ওআইসি উন্নয়ন এবং সংস্কারের অতি প্রয়োজনীয় পথ গ্রহণ করেছে ।তিনি একইসঙ্গে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ইসলামের মূল দর্শনকে মূল্য দেওয়াসহ সংগঠন, সমতা এবং ন্যায় বিচার সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা:) নির্দেশিত পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন।সূত্র : বাসস | 9 |
সদ্যই ২১ বছর পার করেছে আমির খান অভিনীত 'লগান'। তা সত্ত্বেও ছবি নিয়ে আলোচনার কোনও শেষ নেই। আর হবে নাই বা কেন? অস্কারের দোরগোড়ায় পৌঁছেও গিয়েছিল ছবিটি। যদিও তা একটুর জন্য হাতছাড়া হয়। এবার এই কালজয়ী ছবির মুকুটে জুড়তে চলেছে নয়া পালক। কারণ, খুব শীঘ্রই 'দ্য ওয়েস্ট এন্ড থিয়েটারে' দেখানো হতে পারে ছবিটি। তবে আমিরের প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ শাসনকালে রানি ভিক্টোরিয়ার আমলের প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবি 'লগান'। আশুতোষ গোয়াড়েকর পরিচালিত এই ছবিটি আমির খান প্রোডাকশনের প্রথম ছবি। শোনা যাচ্ছে, লন্ডনের প্রথম সারির একাধিক প্রযোজক সংস্থা 'লগান' ছবির স্বত্ত্বও চেয়েছে। উল্লেখ্য, 'দ্য ওয়েস্ট এন্ড থিয়েটার' ব্রডওয়ে শো'র সমতুল্য। গোটা বিশ্বে জনপ্রিয় থিয়েটার। খবর সংবাদ প্রতিদিনের। ২০০১ সালে ১৫ জুন বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল 'লগান'। বুধবারই ছবিটি ২১ বছর পার করেছে। 'লাল সিং চাড্ডা'র প্রোমোশনে ব্যস্ত থাকলেও আমির খানের বাসভবন মারিনাতে পার্টির আয়োজন করা হয়। জুম কলে আড্ডায় মাতেন ছবির কলাকুশলীরা। এ আর রহমান সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। গ্রেসি সিং ছবির শুটিংয়ের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করেন। দর্শক এবং ছবির কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী। | 2 |
ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে একযাত্রীকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওয়ারীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ মামলা করা হয়েছে।জানা গেছে, রাজধানীর নবাবপুরের একটি ইলেকট্রনিকসের দোকানে কাজ করতেন ডেমরার ইরফান (৪৮)। কর্মস্থলে যাওয়া জন্য বাসে উঠেছিলেন তিনি। বাসটি নবাবপুরে পৌঁছার আগে ভাড়া নিয়ে সহকারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওয়ারীর জয়কালী মন্দির মোড়ে চলন্ত গাড়ি থেকে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন ওই সহকারী। গুরুতর অবস্থায় ইরফানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেকে ছুটে আসেন ইরফানের স্বজনেরা। তাঁর বড় ভাই রায়হান জানান, নাবাবপুর নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাসের সহকারীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে তাঁকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইরফান ছিলেন তৃতীয়। তাঁর স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।ইরফানের সহকর্মী আব্দুল কাদের আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'নবাবপুরে কর্মস্থলে আসার পথে গ্রীনবাংলা বাসের সহকারীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ইরফানের তর্ক হয়। একপর্যায়ে বাসের সহকারী তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে গুরুতর আহত হন। পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইরফান মারা যান।'ওয়ারী থানার ওসি কবির হোসেন হাওলাদার বলেন, 'গ্রীনবাংলা বাসের চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। বাসের সহকারী মোজাম্মেলকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।'ওসি আরও বলেন, 'ইরফানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। গ্রীনবাংলা বাস থেকে জয়কালী মন্দির মোড়ে এলে ভাড়া নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে বাসের সহকারী মোজাম্মেল তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।' | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব তথ্য জানাতে সরকার একটি মিডিয়া সেন্টার চালু করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। রোববার সচিবালয়ে নিজের দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। তারানা হালিম জানান, রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকেই মিডিয়া সেন্টার চালু করা হবে। ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মিডিয়া সেন্টার থেকে গণমাধ্যমকর্মী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তিনি জানান, এই মিডিয়া সেন্টার সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। সেখানে তিন শিফটে সাতজন করে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটের তথ্য সংগ্রহের পর এই মিডিয়া সেন্টারে তা ডিজিটালি ডিসপ্লে করা হবে। তারানা হালিম জানান, বিভিন্ন দূতাবাসে চিঠি দিয়ে তাদেরকে এই মিডিয়া সেন্টারের বিষয়ে অবহিত করা হবে, যাতে তারাও সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়া বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সহায়তায় ঢাকা বিমানবন্দরে আগামী ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য অধিদফতরের একটি বুথ থাকবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভোটের ফলাফল জানাতে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে ৩০ মিনিট পর পর অথবা প্রয়োজনে বিশেষ বুলেটিন প্রচার করা হবে। এদিকে ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এছাড়া সরকারের গুজব শনাক্তকরণ ও অবহিতকরণ সেলও সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে জানিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন তিন শিফটে নয় জন করে এই সেলে দায়িত্ব পালন করবেন। | 6 |
নরসিংদীর রায়পুরার মির্জাপুর ইউনিয়নের সাধুনগর গ্রামের একটি কালভার্টের মধ্যবর্তী অংশ ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। বেশ কয়েক জায়গায় রড বের হয়ে আছে। দুই পাশের রেলিং ভাঙা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কালভার্টটি আড়াই থেকে তিন বছর ধরে ভাঙে গেলেও মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন কালভার্টের গর্তে ঘটছে দুর্ঘটনা। তাঁদের দাবি দ্রুত কালভার্টটি মেরামত বা আবার নতুন করে নির্মাণ করা হোক। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন বলছে, কালভার্টটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, পিরিচকান্দি বাজার, মেরাতলি, আনারাবাদ মাঠ হয়ে সাধুনগরের পথে রয়েছে এই কালভার্ট। এই কালভার্টের মধ্যে রয়েছে বড় এক গর্ত। কালভার্টটির কয়েক ফুট জায়গা জুড়ে রড বেড় হয়ে গেছে। দুই পাশের রেলিং ভাঙা। এ পথ দিয়ে নারায়ণপুর, জয়নগর, মহেশপুর, আশরাফপুর মানিকনগর, আলগী, সাপমারা, আনারাবাদ, ঠাকুরবাড়ি, সাধুনগর, পিরিচকান্দি, মেরাতলিসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই থেকে তিন বছর আগে কালভার্টের মাঝামাঝি অংশ ভেঙে বড় গর্ত হয়ে গেছে। গর্তটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল করছেন এলাকাবাসী।আবদুল গফুর বলেন, কিছুদিন আগে একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি ওই গর্তে পড়ে যায়। তাঁকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী। রাতের আঁধারে বা দিনের বেলায় একটু অসাবধান হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা।'স্থানীয় কৃষক আলী আকবর বলেন, 'এই পথে আমাদের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়ায় করতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এই কালভার্ট এড়াতে গেলে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হয়। এতে সময়ও বেশি লাগে, টাকাও বেশি খরচ হয়। যে কোনো সময় এই গর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে কালভার্টটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হোক।৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রতন মিয়া বলেন, 'ভাঙা কালভার্টে চলাচল করতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলা পরিষদে কালভার্টটি পুনর্নির্মাণের জন্য আবেদন করেছি।'উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, 'ওই কালভার্টটি পুনর্নির্মাণের আবেদন পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।' | 6 |
ঢাকা: পাকিস্তানে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। আজ সোমবার সকালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকি জেলার দাহারকি শহরের কাছে আজ সোমবার সকালে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৩০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন।রেলওয়ে বিভাগের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, করাচি থেকে সারগোধা যাওয়ার পথে লাইনচ্যুত হয় মিল্লাত এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেন। লাইনচ্যুত হওয়ার পর রাওয়ালপিন্ডি থেকে আসা স্যার সাঈদ এক্সপ্রেস নামের ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। রায়তি রেলস্টেশনের কাছে সংঘর্ষের এ ঘটনাটি ঘটে।খবর পেয়ে উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন।ঘোটকি জেলার এসএসপি উমর তুফাইল বলেন, ১৫ থেকে ২০ জনের মতো যাত্রী এখনো মিল্লাত এক্সপ্রেসের ধ্বংসস্তূপে আটকে আছেন। তাঁরা বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। তাঁদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।ঘোটকি, ধারকি, ওবারো এবং মিরপুর ম্যাথেলোর হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ডাক্তার এবং হাসপাতাল কর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে ডেকে আনা হয়েছে।ঘোটকির ডেপুটি কমিশনার উসমান আবদুল্লাহ বলেন, উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ১৩ থেকে ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ছয় থেকে আটটি বগি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনো ভেতরে অনেকেই আটকে আছেন। | 3 |
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘিতে ৩০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি কাতলা মাছ ধরা পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বাপ্পি সরদার নামের এক ব্যক্তির বড়শিতে এটি ধরা পড়ে। মাছটি বর্তমানে দীঘির জলেই জিইয়ে রাখা হয়েছে।বাপ্পি সরদার জানান, তাঁর বাড়ি বরগুনার কলেজ রোড এলাকায়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাসাগর দীঘিতে টিকিট কিনে মাছ শিকারে অংশ নেন তিনিসহ তাঁর কয়েক বন্ধু। রাত ১১টার দিকে তিনি টের পান তাঁর বড়শিতে বড় ধরনের একটি মাছ আটকা পড়েছে। এরপর প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় মাছটি তুলতে সক্ষম হন তিনি। খবর পেয়ে দীঘির পাড়ে হাজির হন তাঁর বন্ধুরা। পরে তাঁদের সহায়তায় মাছটি কিনারে তোলা হয়। এরপর দেখতে পান বড় আকৃতির একটি কাতলা মাছ। মাছটির আনুমানিক ওজন ৩০ কেজির ওপরে।আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই দিনের মাছ ধরার সময়সীমা শেষ হলে এলাকায় গিয়ে মাছটি তুলে কেটে বন্ধুদের মধ্যে ভাগ করে নেবেন বলে জানান তিনি।প্রত্যক্ষদর্শী তপন লাল লস্কর জানান, মাছটি বড়শিতে আটকে যাওয়ার খবর পেয়েই সবাই দীঘির পাড়ে চলে আসেন। মাছটি তীরে তোলার পর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল সবার মধ্যে। গত বছর ২৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরা পড়ে।স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপ্পি সরদার বলেন, 'এত বড় কাতলা মাছ আর কখনো আমার বড়শিতে আটকা পড়েনি। মাছটি বড়শিতে বিঁধার পর থেকেই পুরো দিঘি এলাকায় বেশ হইচই লেগে যায়। আমরাও মাছটি তীরে তোলার আগ পর্যন্ত এক অকল্পনীয় সময় কেটেছে। আর তীরে তোলার পর মাছটি দেখে খুবই আনন্দিত লাগছে।' | 6 |
বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, রেমিটেন্সের প্রভাবে রিজার্ভের যে রেকর্ড হচ্ছে তা প্রবাসী ভাই- বোনদের অর্জন, প্রবাসীদের ধন্যবাদ। এতে এই দেশ, তারা নিজেরা এবং তাদের পরিবার লাভবান হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী গত বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত দুই মাসে রেমিটেন্স প্রায় ৫০ ভাগ বেড়েছে। এটা একটি অবিশ্বাস্য বিষয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, সরকার রেমিটেন্সের উপর বাজেটে সামান্য সহায়তা দিয়েছে। আর এ কারণেই রেমিটেন্সের এই উস্ফলন। এখন বৈধপথে রেমিটেন্স আসছে, প্রবাসীরা সাদা টাকার মালিক হচ্ছেন, জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বাড়ছে। প্রায় ১৮শ' কোটি টাকার ১০টি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা সংযুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ভার্চুয়াল বৈঠকে ১০টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই একের পরে এক রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ। প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে করেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর দিনের শুরুতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৯৪০ কোটি ডলারে। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ তিন লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে (ডলার ৮৪ টাকা ধরে)। প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরে মজুত এই বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে প্রায় সাড়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এছাড়া গত অর্থবছর রেমিটেন্সের ওপর ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকেই বেধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়তে থাকে। চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এরপর থেকেই বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়তে থাকে। ১০ ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন : বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় ১০টি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৯৫ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ২২ টাকা। উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-সার ক্রয় সংক্রান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি, সেতু বিভাগের ঢাকা এলিভেটেট এক্সপ্রেস সংক্রান্ত ১টি, পুলিশের জন্য ৯টি আবাসিক টাওয়ার নির্মাণ, মোংলা বন্দর ড্রেজিং, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত দুটি এবং এলএনজি আমদানি সংক্রান্ত ১টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। | 0 |
করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে একাধিক বলিউড তারকা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে দীপিকা পাড়ুকোনও ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এই বলিউড নায়িকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি করোনাকালের দিনগুলোর কথা শুনিয়েছেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় দীপিকা তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। তখন তিনি শুধু নন, তাঁর বাবা প্রকাশ, মা উজালা, বোন আনীষাসহ পরিবারের সবাই কোভিডে আক্রান্ত হন। কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরের দিনগুলো প্রসঙ্গে দীপিকা বলেন, 'কোভিডের পর আমার জীবন পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। আমাকে দেখে তখন চেনা মুশকিল ছিল। আমার মনে হয়, ওষুধের কারণে আমার ওজন বেড়ে গিয়েছিল। আর কোভিড সত্যিই বড় অদ্ভুত। শরীরে একধরনের অনুভূতি হয়, আর মনে অন্য রকম অনুভব। আমি কোভিডে যখন আক্রান্ত ছিলাম, তখন তা-ও ঠিক ছিলাম। কিন্তু কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর টানা দুই মাস আমি কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলাম। এর কারণ, আমার মন ঠিকমতো কাজ করছিল না। ওই সময়টা আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল।' করোনার কারণে প্রথম বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে দীপিকা বলেন, 'আমার মনে হয়, প্রথম বিধিনিষেধ অন্য রকম ছিল। তখন আমরা সবাই ভাবতে বসেছিলাম যে এবার কী হবে। আমরা কীভাবে কোভিডের সঙ্গে লড়ব। কিন্তু দ্বিতীয় লকডাউন অন্য রকম ছিল।' বলিউডের 'মাস্তানি গার্ল' জানান, প্রথম বিধিনিষেধে স্বামী রণবীর সিংয়ের সঙ্গ দারুণ উপভোগ করেছিলেন তিনি। তিনি বলেন, 'প্রথমবার লকডাউনের কারণে রণবীরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম। আমরা একসঙ্গে খুব মজা করেছি। আমরা একে অপরের সঙ্গ ভীষণ উপভোগ করেছিলাম।' দীপিকাকে আগামী দিনে 'গহেরাইয়া' ছবিতে দেখা যাবে। শকুন বাত্রা পরিচালিত এই ছবিতে দীপিকা ছাড়া সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী ও অনন্যা পান্ডে আছেন। | 2 |
রক্তে চিনির বাড়তি মাত্রা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে দিতে শুরু করে। বংশগত এই রোগের কারণে হৃৎপিণ্ড, চোখ, কিডনি, স্নায়ুর পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের মুখগহ্বরের অন্যতম প্রধান সমস্যা মুখের লালা শুকিয়ে যাওয়া। মেডিকেল সায়েন্সে একে বলে জেরোস্টেমিয়া বা হাইপোস্যালাইভেশন।ডায়াবেটিস কমানোর উপায়স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের মুখের লালাগ্রন্থি থেকে অনবরত লালা নিঃসরণ হয়। এই লালা মুখে জমে থাকা খাবারের টুকরো ও জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। লালা নিঃসরণ কমে গেলে মুখে জীবাণুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ফলস্বরূপ দাঁতের গোড়ায় ও মাড়িতে বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি খুব বেড়ে যায়। মুখের লালা নিঃসরণ কমে গেলে জিভ ও মুখ শুকিয়ে যায়।এ ক্ষেত্রে বারবার পানি পানের পাশাপাশি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। রোগ থেকে রক্ষা পেতে মাড়ি ও দাঁতের বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার। নিয়ম করে দুবার সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করার পাশাপাশি ডেন্টাল ফ্লসিং করা জরুরি।ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সার্বিক সচেতনতাডেন্টাল সার্জনের পরামর্শে মাউথওয়াশ দিয়ে ভালো করে কুলকুচি করতে হবে। ডায়াবেটিসের রোগীদের পেরিওডেন্টাল ডিজিজের ঝুঁকি খুব বেশি থাকে। দাঁতের গোড়া বা মাড়িতে নানা সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।সে কারণে হাড়ে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে মাড়ির নিচে থাকা হাড় ক্ষয়ে গিয়ে দাঁত আলগা হয়ে যায়। এতে দাঁত ও মাড়ির মাঝখানে পকেট তৈরি হয়ে খাবার জমে ডেন্টাল ক্যারেজ হয়। তবে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিসে মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন-কেক, জ্যাম জেলি, পেস্ট্রি, চকোলেট খাওয়া উচিত নয়। এসব খাবার খেলে সঙ্গে সঙ্গে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। দাঁতের ফাঁকে যেন খাবার আটকে না থাকে। মুখের মধ্যে জমে থাকা খাবারে জীবাণু যে অ্যাসিড তৈরি করে, তা দাঁতের ওপরের শক্ত আবরণ এনামেলকে ক্ষয় করে, ফলে দাঁতে সেনসিটিভিটি শুরু হয়।কৃত্রিম অগ্ন্যাশয়: ডায়াবেটিস মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনামনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস থাকলে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিসের রোগীরা দাঁতে অসুবিধা হলেও ব্যথা টের পান না। আর এ কারণেই বছরে দুবার ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে চেকআপ করালে ছোটখাটো সমস্যা হলেও রোগ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করালে ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। মুখের লালা নিঃসরণ কমে গেলে কফি, অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত চা পান করলে সমস্যা বেড়ে যায়। ধূমপানসহ যেকোনো তামাক একেবারেই বাদ দিতে হবে। অনেক সময় চিনিমুক্ত চুইংগাম ব্যবহার করলে মুখের লালা নিঃসরণ কিছুটা বাড়ে।লেখক: চিফ কনসালট্যান্ট (ডেন্টাল ইউনিট), আল-হেলাল স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকাআরও পড়ুন:ব্যথাহীন ডায়াবেটিস পরীক্ষার উপায় বের করলেন বিজ্ঞানীরাডায়াবেটিক ফুট হলেডায়াবেটিস | 4 |
সরকারের সমালোচনা করে টুইট করায় কুয়েতের বিশিষ্ট কবি ও রাজনৈতিক কর্মী জামাল আল-সায়েরকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়। সম্প্রতি উপসাগরীয় দেশটিতে সরকার ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে উত্তেজনায় রাজনৈতিক সংকট দানা বেঁধে উঠেছে। জামাল আল-সায়ের কুয়েতে ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর ভাইপো ও আইনজীবী মুহানান্দ আল-সায়ের বলেছেন, জামাল আল-সায়েরের বিরুদ্ধে কুয়েতের আমিরকে অপমান; ভুয়া খবর ছড়ানো, যাতে রাষ্ট্রের সম্মান ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং মুঠোফোনের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মুহানান্দ আরও বলেন, গত সোমবার রাস্তায় তিনটি পুলিশের গাড়ি জামাল আল-সায়েরের পথ আটকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে কুয়েতের সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।দেশটির সরকার ও পার্লামেন্টে নিয়মিত বিরোধে মন্ত্রিপরিষদের রদবদল ঘটেছে এবং পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার ফলে বিনিয়োগ ও পুনর্গঠনের বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে এখনো দেশটির আমির শেখ নাওয়াফ আল-আহমেদ আল-সাবাহর কথাই চূড়ান্ত। কিন্তু কুয়েতই একমাত্র দেশ, যেখানে নির্বাচিত পার্লামেন্টকে আইন ও মন্ত্রীদের বিষয়ে ভোট দেওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। পার্লামেন্ট থেকে দেশটির প্রধামন্ত্রী রাজপরিবারের সদস্য শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতে সফলতা আসেনি। গত ২৮ জুন জামাল আল-সায়ের কুয়েতের আমির ও যুবরাজ বরাবর টুইট করে বলেন, 'পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। আপনারাই পার্লামেন্ট ও জনগণের ইচ্ছাকে অবমাননা করে সরকারকে সংবিধান লঙ্ঘন ও বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ দিয়েছেন।'জামাল আল-সায়েরকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি দেশটির সংসদ সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দেশটির বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা আবদুল আজিচ আল-সাকাবি বলেন, 'সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, এমন কোনো পুলিশি রাজ্যে পরিণত হব না আমরা। স্বাধীনতা খর্ব, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে গিয়ে মাফিয়া ও গ্যাং স্টাইল অনুসরণের বিষয়টিও আমরা গ্রহণ করব না।' | 3 |
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের ৯ পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের সরকারি চাকরির নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। সরাসরি বা ডাকযোগে আবেদনপত্র পাঠানো যাবে। ১. পদের নাম: প্রোডাকশন ম্যানেজারপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: দুই বছরের অভিজ্ঞতাসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।বেতন স্কেল: ২৩,০০০-৫৫,৪৭০ টাকা ২. পদের নাম: প্রশিক্ষক গ্রেড-৩পদসংখ্যা: ১০ (ফুটবল ২ জন, বাস্কেটবল ১ জন, সাঁতার ২ জন, ক্রিকেট ১ জন, অ্যাথলেটিকস ২ জন, হকি ১ জন, আর্চারি ১ জন)যোগ্যতা: খেলাধুলার প্রশিক্ষণে ডিপ্লোমা।বেতন স্কেল: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা ৩. পদের নাম: আলোকচিত্রশিল্পীপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: আলোকচিত্রে চার বছরের অভিজ্ঞতাসহ এইচএসসি পাস।বেতন স্কেল: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা ৪. পদের নাম: উপসহকারী সম্পাদকপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: স্নাতক ডিগ্রি। সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।বেতন স্কেল: ১২,৫০০-৩০,২৩০ টাকা ৫. পদের নাম: সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটরপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: এইচএসসি পাস। কম্পিউটার টাইপিংয়ে গতি বাংলায় ২৫ ও ইংরেজিতে ৫০ শব্দ থাকতে হবে।বেতন স্কেল: ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা ৬. পদের নাম: স্টোর কিপারপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: এইচএসসি পাস।বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা ৭. পদের নাম: প্রুফ রিডারপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: এসএসসি পাসবেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা। ৮. পদের নাম: ইমামপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: জামাতে উলা কোরআন হাফেজদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা। ৯. পদের নাম: মালিপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: ফুলের বাগান বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা যেভাবে আবেদনজাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনের নির্ধারিত ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে সম্প্রতি তোলা তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সংযুক্ত করতে হবে। আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা: সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ৬২/৩ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। খামের ওপর পদের নাম ও জেলা উল্লেখ করতে হবে। আবেদন ফিপ্রতিটি পদের জন্য যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট/ পে-অর্ডার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুকূলে জমা দিয়ে রশিদ আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২। | 1 |
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে তাড়াহুড়ো করবে না রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, তালেবানের সরকারকে মেনে নেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মস্কো। তিনি আরো বলেন,তালেবান তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের পর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের দফতরের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আফগানিস্তান থেকে রাশিয়ায় মাদক চোরাচালান বৃদ্ধি ও সন্ত্রাসীদের প্রবেশের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তালেবানের সাথে এখনই আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। গত ১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতন ঘটে। এর মধ্যদিয়ে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনেরও সমাপ্তি হয়। তবে চূড়ান্তভাবে তালেবানের আচরণ কেমন হবে তা এখনো অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। সূত্র : পার্সটুডে | 3 |
'বর্তমান সরকার ও দেশবিরোধী প্রচারণায়' বিএনপি-জামায়াত যেসব লবিস্টের সঙ্গে চুক্তি করেছে, সেই সব চুক্তির কপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বিদেশি লবিস্টের সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছে, সেসব চুক্তির কপি আমরা আজই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠাব। শাহরিয়ার আলম বলেন, এই চুক্তি করতে বিদেশে যে অর্থ তারা পাঠিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তাতে অনুমোদন রয়েছে কিনা- তা যাচাই করতে পারে। একইসঙ্গে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হয়। নির্বাচন কমিশনে বিএনপি-জামায়াত এই অর্থের হিসাব দিয়েছে কিনা, কমিশনও নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত বিদেশি লবিস্ট নিয়োগে ৮টি চুক্তি করেছে। এর মধ্যে তিনটি চুক্তি করেছে বিএনপি। এই তিন চুক্তিতে বিএনপি ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বিএনপি অফিসের ঠিকানাও চুক্তির কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া নেই। তবে চুক্তির কপিতে তাদের নাম রয়েছে। শাহরিয়ার আলম বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে তারা চুক্তি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এসব চুক্তির অনুমোদন রয়েছে। তবে এই চুক্তির অর্থ কীভাবে এলো, আমরা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই। এর আগে সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিএনপি-জামায়াতের লবিস্ট নিয়োগে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। | 6 |
২০১৫ সাল থেকে প্রেম করছেন বলিউডে অভিনেতা বিক্রান্ত আর শীতল ঠাকুর। ২০১৯ সালে বাগদান সেরে একটা লম্বা বিরতি। করোনাও কারণ হতে পারে। এবার গত ভালোবাসা দিবসে গোপনে সেরে ফেললেন আইনি বিয়ে। আজ হচ্ছে সামাজিক বিয়ে। মুম্বাইতে বসছে সেই বিয়ের আসর।তারকাদের বিয়ে মানেই একটা জমকালো ব্যাপার। কিন্তু বিক্রান্ত-শীতলের বিয়েটা যেন গোপনেই হয়ে যাচ্ছে! তাঁদের কাছের একটি সূত্র বলছে, 'দুই তারকাই পছন্দ করেন লো প্রোফাইল বিয়ে। তবে সম্পর্ক নিয়ে লুকোছাপা করেননি কখনোই। এমনকি আজও বিয়ের পরে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেবেন।' ইতিমধ্যে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার 'দেশি গার্ল'-এ হবু বর ও কনের নাচ এখন ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 'মির্জাপুর'খ্যাত অভিনেতা প্রেমিকাকে দেখে লজ্জায় লাল। গায়েহলুদের জন্য হলুদ লেহেঙ্গা পরেছেন কনে শীতল ঠাকুর। বিয়েতে একদমই কাছের মানুষদের নিমন্ত্রণ করেছেন বিক্রান্ত ও শীতল। দুই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত থাকবেন বিয়েতে। কয়েক দিন আগে বিক্রান্ত আর শীতল তাঁদের নতুন বাড়িতে থাকা শুরু করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেতা বলেছেন, 'এত দিন আমরা একটা সুটকেসে থাকতাম। এবার একটু বড় জায়গায় গিয়ে দম ফেলতে পারব। একটা ডাইনিং টেবিল রাখার জায়গা হয়েছে। যেখানে বসে মুখোমুখি কথা বলতে পারব। সমুদ্রমুখী ব্যালকনি আছে, যেখান থেকে আমার পছন্দের ভিউ দেখতে পাব।' 'ব্রোকেন বাট বিউটিফুল' ওয়েব সিরিজে একসঙ্গে কাজ করেছেন বিক্রান্ত আর শীতল। সেখানেই বাস্তবের স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। 'লাভ হোস্টেল'-এর কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা ছিল এত দিন। এবার শেষ তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসা। ট্রেলার ইতিমধ্যেই প্রশংসা পেয়েছে। এই সিনেমায় বিক্রান্তকে দেখা যাবে সানিয়া মলহোত্রা আর ববি দেওলের সঙ্গে। এটি মুক্তি পাবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। | 2 |
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরায় একটি নৌকা, ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৪ হাজার মিটার সুতার জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে নৌকাসহ জাল ট্রলারে তুলে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।জানা যায়, কাপ্তাই লেকে মৎস্য প্রজনের জন্য গত ১ মে থেকে তিন মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক। এর মাঝেও জেলেদের মাছ ধরা অব্যাহত থাকায় লেকের কুতুবছড়ি, কেংরাছড়ি, হরিনছড়াসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় প্রশাসন। কাপ্তাই বিএফডিসি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ আলম এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।মো. মাসুদ আলম জানান, বন্ধকালীন সময়ে কিছু অসাধু মৎস্য শিকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লেকে মাছ ধরছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের ২৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান। সন্ত্রাসবাদ এবং ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তেহরান। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নয় কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার তারা হলেন, জর্জ ডব্লিউ ক্যাসি জুনিয়র, মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ এবং ইরাকে মাল্টি ন্যাশনাল ফোর্সের কমান্ডিং জেনারেল জোসেফ ভোটেল, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাটর্নি রুডি গিলিয়ানি। এছাড়াও ফিলিস্তিন-লেবাননে থাকা বর্তমান এবং সাবেক কয়েক মার্কিন কূটনীতিক রয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ১৫ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা ট্রাম্প এবং ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে জড়িত ছিলেন। | 3 |
তারুণ্যের স্টেজ ফর ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রচার সম্পাদক পদে সাংবাদিক এনামুল হক মনিকে মনোনীত করা হয়েছে। রোববার স্টেজ ফর ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইলিয়াস হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে এনামুল মনি বলেন, 'আমাকে স্টেজ ফর ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের প্রচার সম্পাদক মনোনীত করায় সম্মানিত সভাপতি কণ্ঠশিল্পী ইলিয়াস হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মঈন আল হেলাল ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব।' এনামুল হক মনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার বাড়ি যশোরের নাভারণ ইউনিয়নে। তরুণ এই সাংবাদিক দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করার পর এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। | 6 |
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ সম্পর্কিত সব বিষয় দেখাশোনার জন্য সাবহানাজ রশীদ দিয়া নামের এক বাংলাদেশি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তিনি কনটেন্ট বিষয়ক যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের কাজ করবেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে ফেসবুকের আঞ্চলিক সদর দপ্তর সিঙ্গাপুরের কর্মকর্তাদের ডিজিটাল বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সব প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা ফেসবুকের দায়িত্ব। ফেসবুককে রিসেলার নিয়োগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কর দিতে প্রতিনিধি নিয়োগ এবং বাংলা ভাষার সঠিক অনুবাদেরও বিষয়েও তাগিদ দেন মন্ত্রী। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শেফায়েত হোসেন জানান, গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে ওই সাবহানাজ কে নিয়োগ দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তিনি বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স দেখাশোনা করবেন। ফেসবুকে আরেকজন বাঙালি কর্মকর্তা আছেন। তবে বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স দেখাশোনার জন্য এবারই প্রথম একজন নিয়োগ পেলেন। সাবহানাজ রশীদ দিয়া বাংলাদেশে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি জমান। সেখানে একটি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। টুইটার এবং গুগলে কাজ করার তার বেশ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার নিজেরও এনজিও ছিল, সেখানে ১০ বছর প্রধান ছিলেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা। অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন- ফেসবুকের হেড অব সেফটি বিক্রম সেনগ, ফেসবুক পাবলিক পলিসি বিষয়ক পরিচালক অশ্বিনী রানা, ফেসবুকের নবনিযুক্ত বাংলাদেশ বিষয়ক কর্মকর্তা সাবনাজ রশিদ দিয়া এবং ফেসবুক মোবাইল পার্টনার বিভাগের ইরাম ইকবাল, বিটিআরসির মহাপরিচালক (ইঅ্যান্ডও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (ট্যাক্স পলিসি) আলমগীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। | 6 |
গ্রেটা থুনবারি, স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরোসহ কয়েকজন বিশ্ব নেতার কারণে কপ-২৬ সম্মেলন গণমাধ্যমের আকর্ষণ বেশি পেয়েছে। তবে ১৯৭ দেশ পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা বুঝতে গভীর ভাবনা এবং অবিশ্বাস্য সহনশীলতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কিছু দেশ কোন অঞ্চল বা দেশের সঙ্গে জোট গঠন করছে তারও বিরাট প্রভাব রয়েছে।এ সম্মেলনের সাফল্য-ব্যর্থতায় বড় প্রভাব ফেলবে এমন উল্লেখযোগ্য ৫ জনের ভূমিকার ওপর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে এ তালিকায় রয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চীনের বিশেষ দূত শি জেনহুয়া, সৌদির আলোচক আয়মান শাসলি, যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী অলোক শর্মা এবং স্পেনের তেরেসা লিবেরা।শেখ হাসিনা কথা বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে থাকা ৪৮টি দেশের একটি গ্রুপ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের পক্ষ থেকে।শেখ হাসিনা একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবং সরাসরি কথা বলেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের জলজ্যান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত বছর বাংলাদেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে যায়। বন্যার কারণে এক মিলিয়ন ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এ থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন।কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ ড. জেন অ্যালান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো লোকেরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে একটি মানবিক চিত্র তুলে ধরেছেন। যা এসব দেশে অন্যান্য দেশের সহায়তার পথ প্রসারিত করবে।'ড. অ্যালান বলেন, দরিদ্রতম দেশগুলির তালিকায় থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকি এবং স্বল্পোন্নত দেশের পক্ষে আলোচনা প্রসঙ্গে কথা বলছে। এতে এসব দেশের অর্থনীতির ওপর একটি বড় প্রভাব পড়বে। ৪৮ দেশের জোটের একটি শক্তিশালী নৈতিক কণ্ঠস্বর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্তগুলো ঐকমত্য হয়ে নেওয়া হয়। প্রগতিশীল সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁরা জাতিসংঘের মাধ্যমে একটি ভালো সহায়তা পেরে পারে।'শেখ হাসিনার দলের অংশ হিসেবে কাজ করা একজন বাংলাদেশি আলোচক কামরুল চৌধুরীর মতে, দুর্বল দেশগুলো সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে গ্লাসগোতে আসছে। তাঁর মতে, 'এখনো এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রতিকূল জলবায়ুর প্রভাবের বিপরীতে টিকে আছে। ধনী দেশগুলোকেই নির্গমন কমিয়ে প্যারিসের নিয়মগুলি মেনে চললে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অর্থায়ন বাড়ালে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা সম্ভব।' | 6 |
বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কা দলের মধ্যে ক্রিকেট আর নেই। শেষ কয়েক মাস ধরে খুব খারপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা দল। লাসিথ মালিঙ্গার অধিনায়কত্বে টানা ৯ ম্যাচ হেরেছে শ্রীলঙ্কা। এরপর বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে তাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। সেই কারণেই মালিঙ্গা ইঙ্গিত দিলেন অবসরের। অভিজ্ঞ পেসারের এই ইঙ্গিত ছড়িয়ে পড়তেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আগের বারের বিশ্বকাপে শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন দিমুথ করুণারত্নে। এ বারের বিশ্বকাপে দ্বীপরাষ্ট্রের অধিনায়ক তিনিই। মাঝের চার বছরে ওয়ানডে দলেই জায়গা হয়নি করুণারত্নের। বিশ্বকাপ দিয়েই প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে করুণারত্নের। তাও আবার অধিনায়ক হয়ে। ওয়ানডেতে না খেললেও করুণারত্নে গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। করুণারত্নের নেতৃত্বে টেস্ট সিরিজে জেতে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু মালিঙ্গার নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে নাকানিচুবানি খায়। তখনই দেয়াললিখন স্পষ্ট হয়ে যায়, মালিঙ্গার হাতে নেতৃত্বের ব্যাটন থাকবে না। গত দু'বছরে মালিঙ্গা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, দীনেশ চান্দিমাল, থিসারা পেরেরার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের দল বাছতে বসে নির্বাচকরা করুণারত্নেকেই ক্যাপ্টেন বেছে দেন। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পেসার। করুণারত্নের নেতা হওয়ার খবর তার কানে পৌঁছতেই শ্রীলঙ্কার পেসার অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত একপ্রকার নিয়েই ফেলেন। অধিনায়ক নির্বাচন করতে বসার ঠিক আগে শ্রীলঙ্কার মুখ্য নির্বাচক মালিঙ্গাকে ফোন করেন। দ্বীপরাষ্ট্রের বোলারের কাছে তিনি জানতে চান, অধিনায়ক না হলে তিনি বিশ্বকাপে খেলবেন কি না। মুখ্য নির্বাচকের সঙ্গে কথা বলার এক ঘণ্টা পরেই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেসেজ করেন মালিঙ্গা। সেখানে তিনি লেখেন, ''মাঠে আমাদের আর হয়তো দেখা হবে না। আমার পাশে যারা ছিলেন, ঈশ্বর তাদের মঙ্গল করুন।'' মালিঙ্গার অবসরের ইঙ্গিতের খবর প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কান বোর্ডের এক কর্তা জানান, ''কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে মালিঙ্গা তা স্পষ্ট নয়। মনে হচ্ছে ও নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইছে। তবে মালিঙ্গার বোঝা উচিত, দেশের হয়ে খেলা নেতৃত্বের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১৩টিতেই শ্রীলঙ্কা হেরেছে মালিঙ্গার নেতৃত্বে।'' মালিঙ্গাকে নিয়ে এখন চর্চা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে | 12 |
আজ থেকে শুরু হয়েছে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। ফলে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন। তবে ঈদ শেষে বৃহস্পতিবার যাঁরা বাস ও লঞ্চে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন, শুক্রবার সকালে তাঁরা রাজধানীতে পৌঁছেছেন। কিন্তু গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহন না থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীতে ফেরত যাত্রীরা।শুক্রবার বিধিনিষেধের প্রথম দিন ও সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় রাজধানী কিছুটা ফাঁকা। তবে সকালে যেসব যাত্রী ঢাকা ফিরেছেন তাঁদের পদচারণে মুখরিত ছিল রাজধানীর সড়ক।রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল থেকে নামার পরে বেশির ভাগ যাত্রী হেঁটেই নিজ নিজ গন্তব্য যাচ্ছেন। যানবাহন না পেয়ে অসংখ্য মানুষ হেঁটে কুড়িল বিশ্বরোড, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। এসব মানুষ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চে করে সদরঘাটে এসেছিলেন।এমনিতেই বন্ধ গণপরিবহন। তার ওপর পর্যাপ্ত রিকশা না পাওয়াই অনেকেই ভ্যানে করে যাচ্ছেন গন্তব্যে। এর মধ্যে নারী-শিশুরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। সদরঘাট থেকে দীর্ঘ পথ কেউ কেউ হেঁটে এসেছেন বলে জানিয়েছেন। বড় বড় ব্যাগ মাথায় নিয়ে ছুটছেন মানুষ। ঢাকাফেরত সবারই চোখেমুখে ছিল ভোগান্তি।শরিফুল হাসান নামের এক যাত্রী বরিশাল থেকে ঢাকা এসেছেন, যাবেন আব্দুল্লাহপুর। রামপুরা এলাকায় তাঁর সঙ্গে কথা হলে আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, 'বরিশাল থেকে লঞ্চে এসে সদরঘাট টার্মিনালে পৌঁছেছি ভোর চারটার দিকে। নামার পরে কোনো যানবাহন না পেয়ে মালিবাগ পর্যন্ত হেঁটে এসেছি। এরপর একটি ভ্যানে রামপুরা এলাম, ভাড়া নিল ২০০ টাকা। এখন রামপুরা থেকে আব্দুল্লাহপুর কীভাবে যাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। অনেক ভোগান্তিতে পড়েছি।'দক্ষিণাঞ্চল থেকে ফেরা আরেক যাত্রী নাজনীন আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'পিরোজপুর থেকে লঞ্চে করে ঢাকায় ভালোমতোই আসতে পেরেছি। সমস্যাটা হয়েছে সদরঘাট থেকে ঢাকার মধ্যে যাওয়ার জন্য কোনো ধরনের যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গন্তব্যে যেতে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে আমাকে। এমনিতেই আমার ছোট বাচ্চা, ব্যাগপত্র নিয়ে কীভাবে যাব। যে দু-একটা রিকশা পাওয়া যাচ্ছে ভাড়া চাচ্ছে তিন গুণ। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেওয়ার অধিকার সরকারের নেই।'ঈদের এক দিন পরেই বিধিনিষেধ দেওয়ার কারণে ঢাকায় ফেরা বেশির ভাগ যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ হিসেবে যাত্রীরা বলছেন, ঈদের পরের দিন যারা ঢাকা আসতে রওনা হয়েছেন স্বাভাবিকভাবেই পরের দিন সকালে পৌঁছাবেন। সুতরাং তাঁরা কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবেন, সেটা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। সিএনজিচালিত অটো, রিকশা কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উপায় না দেখে হেঁটেই রওনা দিয়েছেন।তবে কিছু যাত্রী করোনার মধ্যেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে পেরে ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। তাই ঢাকায় ফেরার পথের এই ভোগান্তিকে মেনে নিয়েছেন। ঢাকাফেরত যাত্রীরা বলছেন, জীবন-জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ফিরতে হচ্ছে।এদিকে একই অবস্থা গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায়। দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো সকালে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার পরে ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা। যানবাহন না থাকায় হেঁটেই গন্তব্যে রওনা দিতে হচ্ছে তাঁদেরও। তবে রাজধানীর সড়কে রিকশার তুলনায় ভ্যানের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।কঠোর বিধিনিষেধে শুরুর প্রথম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আগের মতো বসানো হয়েছে পুলিশ চেকপোস্ট। তবে ঢাকা ফেরা এসব সাধারণ মানুষদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোথাও কোনো ধরনের বাধা দিতে দেখা যায়নি। যে যাঁর মতো করে গন্তব্যে ফিরছেন। | 6 |
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহায়তায় পল্লি চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টদের নিয়ে দুদিনব্যাপী পুষ্টি বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে মোল্লাহাট উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ মন্ডল।উন্নয়ন সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘের (জেজেএস) উদ্যোগে 'পুষ্টি উন্নয়নে অংশগ্রহণমূলক সমন্বিত প্রকল্প' (ক্রেইন)-এর আওতায় ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের নেতৃত্বে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে জেজেএসের নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট আব্দুল মোতালেব এবং উপজেলা সমন্বয়কারী নব কুমার সাহা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের পুষ্টি বিষয়ক মৌলিক ধারণা অর্জনপূর্বক দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তবে যে যে ধরনের চিকিৎসা দেওয়া অংশগ্রহণকারীদের পক্ষে সম্ভব নয় সে ক্ষেত্রে উক্ত রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস প্রশিক্ষণার্থী পল্লি চিকিৎসকদের শ্যাম শিশু শনাক্তকরণ এবং তাদের দ্রুততার সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের শ্যাম ইউনিট এ ভর্তি ও তাদের চিকিৎসার আওতায় আনার আহ্বান জানান।প্রশিক্ষণে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে ২১ জন পল্লি চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য, অপুষ্টিতে করণীয়, প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীর যত্ন ও চিকিৎসা বিষয়ে সম্যক ধারণা অর্জন করতে সক্ষম হবেন বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে কোস্টাল কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় চারটি উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির সার্বিক উন্নয়নে এই প্রকল্প হচ্ছে। উপজেলা চারটি হলো-মোল্লাহাট, কচুয়া, মোংলা ও শরণখোলা। | 6 |
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ফিল্মি স্টাইলে তাণ্ডব চালিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং। তুচ্ছ ঘটনায় আলমগীর হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তির উপর হামলা করে নির্যাতন করা হয়। রাস্তা বন্ধ করে কিশোর গ্যাংয়ের সাত আটজন সদস্য মিলে দুই দফায় তাকে বেধড়ক মারধর করে। তার জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রায় বিশ পচিশ মিনিট যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে চাষাঢ়ার বিজয়স্তম্ভের নিকটবর্তী পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রিপারেটরী স্কুলের মধ্যবর্তী বঙ্গবন্ধু সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আলমগীর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি শহরের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার রবিনের বাড়ির ভাড়াটে। এ ঘটনার পর আশপাশের লোকজন আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে সদরের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে সদর মডেল থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় সেখানে রাত এগারোটা পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করে। আহত আলমগীর হোসেনের ছোট ভাই জাহাংগীর হোসেন বলেন, হামলাকারিরা আমার ভাইয়ের কানে বেশ কয়েকটি লাথি দিয়েছে। যার কারণে ভাই শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। কানে কিছুই শুনছেন না। ভাইয়ের উপর হামলাকারি কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার ও ন্যায় বিচার দাবি করেন তিনি। ঘটনাস্থলে যাওয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক পরিমল বলেন, খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের গ্রেফতার করতে মাছুয়াপাড়া ও আমলাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু কাউকে পাইনি। তবে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা তাদের গ্রেফতার করতে চেষ্টা করছি। তিনি আরো বলেন, অনিকের ব্যাপারে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে খোঁজ খবর নিয়েছি। তার মা ইয়াবার ব্যবসা করে বলে পঞ্চায়েত কমিটি তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করায় বর্তমান ঠিকানা কেউ বলতে পারছে না। তবে আমরা তাকে গ্রেফতার করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাত আটটার দিকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে মোবাইল চোর আখ্যা দিয়ে শান্ত নামে শনির আখড়া এলাকার এক যুবককে প্রকাশ্যে মার ধরসহ এমন ফিল্মি স্টাইলে তান্ডব চালায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
জিম্বাবুয়েকে সিরিজের প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে হারিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল তথা আইসিসি মেনস ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এলো আফগানিস্তান। তারা পিছনে ফেলে দেয় ভারতকে। একই দিনে নেদারল্যান্ডসকে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ উঠে আসে সুপার লিগ টেবিলের চার নম্বরে। ক্যারিবিয়ানরাও টপকে যায় টিম ইন্ডিয়াকে। সুতরাং, লিগ টেবিলে ভারতকে পিছিয়ে যেতে হয় দু'ধাপ। পিছতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকেও। আগের মতোই লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। আপাতত দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড। ভারত পাঁচ নম্বরে নেমে যায়। অস্ট্রেলিয়া পিছলে যায় ষষ্ঠ স্থানে। আইসিসি মেনস ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগ টেবিল১. বাংলাদেশ : ১৮ ম্যাচে ১২০ পয়েন্ট।২. ইংল্যান্ড : ১৫ ম্যাচে ৯৫ পয়েন্ট।৩. আফগানিস্তান : ১০ ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট।৪. ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৮ ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট।৫. ভারত : ১২ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট।৬. অস্ট্রেলিয়া : ১২ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট।৭. আয়ারল্যান্ড : ১৮ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট।৮. শ্রীলঙ্কা : ১৮ ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট।৯. নিউজিল্যান্ড : ৬ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট।১০. পাকিস্তান : ১২ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট।১১. দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৩ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট।১২. জিম্বাবুয়ে : ১৩ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট।১৩. নেদারল্যান্ডস : ১৩ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট।সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে ২৩তম ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেল ক্রিকেটপ্রেমীরা। এবারের আসরে প্রথম সেঞ্চুরি করলেন রাজশাহী কিংসের ইংলিশ ব্যাটসম্যান লরি ইভান্স। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে এই শতরান করেন তিনি। মাত্র ৬১ বলে আটটি চার ও ছয়টি ছক্কায় নিজের শতক পূর্ণ করেন তিনি। এর আগের ম্যাচগুলোতে বলার মতো কোনো স্কোরই করতে পারেননি ইভান্স। কিন্তু কেন তাঁকে দলে রাখা হয়, আজ প্রমাণ করে দিলেন তিনি। টসে হেরে শাহরিয়ার নাফীসের সঙ্গে ব্যাটিং ওপেন করতে নেমেছিলেন। মাত্র ৭ রানে সঙ্গীকে হারান তিনি। দলীয় ১৩ রানে অধিনায়ক মিরাজ ও ২৮ রানে মার্শাল আইয়ুব ফিরে গেলে বিপদে পড়ে যায় রাজশাহী। ততক্ষণে পাওয়ার প্লের ছয় ওভারের খেলা শেষ। এরপর চতুর্থ উইকেটে আরেক অভিজ্ঞ নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডেসকাটের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। এরপর পুরো ইনিংসে আর একটি উইকেটও পড়েনি। প্রতি ওভারে ১০ রানের ওপরে রান করে বাকি ১৪ ওভারে অবিচ্ছিন্ন ১৪৮ রান করেন দুজনে। ৪১ বলে দুটি চার আর তিন ছক্কায় ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন ডেসকাট। ইনিংসের শেষ ওভারে থিসারা পেরেরার করা দ্বিতীয় বলে এক রান নিয়ে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইভান্স। ওভারের শেষ বলটি সীমানা ছাড়া করলে ৬২ বল থেকে অপরাজিত ১০৪ রানে থামে ইভান্সের ইনিংস। শুরুতে ধুঁকতে থাকা রাজশাহীও পেয়ে যায় ১৭৬ রানের লড়াকু পুঁজি। ইভান্সের এই সেঞ্চুরি এবারের আসরে প্রথম হলেও বিপিএলের ইতিহাসে ত্রয়োদশ। এর আগের পাঁচটি আসরে মোট ১২টি সেঞ্চুরি দেখেছে বিপিএলের দর্শক। সর্বাধিক পাঁচটি সেঞ্চুরি করে তালিকার সবার ওপরে আছেন ক্যারিবিয়ান জায়ান্ট ক্রিস গেইল। অন্যদের মধ্যে ক্যারিবিয়ান ডুইন স্মিথ, এভিন লুইস ও জনসন চার্লস, পাকিস্তানি আহমেদ শেহজাদ এবং বাংলাদেশের শাহরিরার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল ও সাব্বির রহমান একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন। | 12 |
শুরু হয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলাম। আজ শনিবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের এই মেগা অকশন চলবে রবিবার রাত পর্যন্ত।এবারের আইপিএলে ৫কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছেন রবিচন্দন অশ্বিন। নিলামে সর্বপ্রথম উঠে আসে ভারতের বাঁহাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ানের নাম। তাকে কিনে নেয় প্রীতি জিনতার পাঞ্জাব কিংস। এরপর নিলামে তোলা হয় রবিচন্দন অশ্বিনকে। তাকে দলে নিতে প্রথমে দর কষে দিল্লি। এরপর মাঠে নামে রাজস্থান। শেষ পর্যন্ত রবিচন্দন অশ্বিনকে ৫ কোটি রুপিতে কিনে নেয় রাজস্থান রয়ালস। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 12 |
চলচ্চিত্র সমালোচক আমি নই, আমার কাজ নির্মাণ, সমালোচনা নয়। কিন্তু কোনো কাজ ভালো লেগে গেলে তা নিয়ে দুই-একটা কথা বলা যেতেই পারে। সম্প্রতি দেশে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'শিমু' নিয়ে নিজের কিছু সহজ-সরল অনুভূতির কথা লিখছি। এটিকে চলচ্চিত্র সমালোচনা হিসেবে গণ্য না করাই সমীচীন হবে। 'শিমু'র নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের আগের দুটি কাজ 'মেহেরজান' ও 'আন্ডার কন্সট্রাকশন' আমার দেখা, সুতরাং তার কাজ সম্পর্কে পূর্ব ধারণা রয়েছে। আগেই বলে নিচ্ছি যেকোনো ধরনের টার্গেট নিয়ে বানানো ছবির সততা নিয়ে আমার একধরনের খচখচানি কাজ করে- তা বক্স অফিস কাঁপানো হোক অথবা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। 'শিমু' দেখতে কোনো আগাম অনুমান নিয়ে যাইনি, অযথা এত চাপ নিয়ে কী হবে! ছবি শুরু হয় সেলাই মেশিনের ক্লোজ শট দিয়ে। প্রত্যাশিত শট, উত্তেজিত হবার কিছু নেই। সুতরাং নির্লিপ্ত মন নিয়ে দেখতে শুরু করলাম। সাধারণত সাদামাটা ফটোগ্রাফির সিনেমা আমায় খুব একটা টানে না। এ ক্ষেত্রে নিজেও খানিকটা গৎবাঁধা, কারণ আমার কাজের ধারা কিছুটা স্যুরিয়ালিস্টিক, কিছুটা মেটাফিজিক্যাল। এর বাইরেও জগতে দুর্দান্ত সিনেমা হয়। যাই হোক, ছবি শুরু হওয়ার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমি মগ্ন হয়ে গল্পের মধ্যে ঢুকে গেছি। হলভর্তি পিনপতন নীরবতা, খচখচ করে পপকর্ন চিবানোর শব্দও নেই! এ কী কাণ্ড, কোথায় ছবির পরতে পরতে খুঁত ধরার চেষ্টা করে নিজেকে বোদ্ধা হিসেবে বাহবা দেব, তা না সাধারণ দর্শকের মতো বুঁদ হয়ে গেলাম! মন থেকে সংকেত চলে এলো- ভালো একটা ছবি দেখতে চলেছি। অনেকেই হয়তো বলবেন প্রেডিক্টেবল গল্প। হ্যাঁ, প্রেডিক্টেবল হলে ক্ষতি কোথায়? এটা কী ক্রাইম থ্রিলার, যে খুনি কে সেটা আগে জেনে গেলে মজা শেষ! যাই বলেন আর তাই বলেন শেকসপিয়ার থেকে রবীন্দ্রনাথ, কে প্রেডিক্টেবল নন? তারপরও কেন পাতার পর পাতা পড়তেই থাকি আমরা? জাদুকরিটা ওখানেই, স্বকীয় প্রকাশভঙ্গি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা- এই দুটো জিনিস থাকলে আর বেশি কিছু লাগে না। শিমু এ কারণেই একজন নির্মাতার পরিণত প্রয়াস বলে মনে হয়। এতটা মেদহীন বাংলা ছবি শেষ কবে দেখেছি মনে নেই। পরিচালক কোন দর্শনগত পটভূমিতে অথবা কোন পরিকল্পনায় ছবিটি বানিয়েছেন, তা তিনিই ভালো জানেন। এই ছবির সব থেকে লক্ষণীয় বিষয় অভিনয় ছাড়া অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট [ফটোগ্রাফি, আবহ সংগীত, শিল্প নির্দেশনা] আলাদা করে মনোযোগ কাড়ে না। এ কারণেই শিমুকে অনেক পরিণত ছবি বলে মনে হয়। তবে টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে যদি কথা বলতেই হয় তাহলে এটির প্রোডাকশন ডিজাইন এবং সম্পাদনা পরিণত। 'শিমু' চরিত্রে রূপদানকারী রিকিতা নন্দিনী শিমু থেকে শুরু করে তার সহকর্মী চরিত্রে রূপদানকারী নভেরা রহমান, দীপান্বিতা মার্টিন, পারভীন পারু- সবাই এতটাই অনবদ্য ছিল, যে কাকে রেখে কার কথা বলি। ভারতীয় অভিনয় শিল্পী শাহানা গোস্বামীর জন্য তার চরিত্রটা অত্যন্ত সহজ ছিল, তিনি এই চরিত্রে যে ভালো করবেন তা স্বাভাবিক। শতাব্দী ওয়াদুদ শক্তিমান অভিনেতা, তার কথাও বলার অপেক্ষা রাখে না। মোস্তফা মনোয়ারও ভালো করেছেন। তাদের কাউকেই মনে হয়নি অভিনয় করছেন, মনে হয়েছে বাস্তবেই সমস্ত ঘটনা ঘটছে।
অভিনয়ই এ ছবির প্রাণ। অপেক্ষাকৃত অগভীর দর্শক এটিকে ডকুড্রামা বলে ভুল মূল্যায়ন করে বসতে পারেন। শিমু লার্জার দ্যান লাইফ ঘরানার ছবি নয়, জীবনঘনিষ্ঠ ছবি, কোথাও অতি নাটকীয়তা নেই। দম বন্ধ করে প্রতিটি চরিত্রের অসহায়ত্ব অনুভব করতে করতে এক সময়ে নিজেও এই ছবির অংশ হয়ে ওঠা যায়। এর ফটোগ্রাফি, শিল্প নির্দেশনা এবং আবহ সংগীতকে সাদামাটা বলেছি যে, এখানেও অবমূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সাদামাটার অর্থ আক্ষরিক অর্থেই সাদামাটা নয়- আড়ম্বরহীন, নির্মেদ এবং পরিণত উপস্থাপনা। ছবির কাঠামো দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে একবারের জন্যও সামান্য পরিবর্তিত হয়নি। এমনকি একটি মাত্র দৃশ্যে শিমুকে তার স্বামীর সঙ্গে বাইরে বেড়াতে দেখা যায়, সেটাও কড়াইল বস্তিসংলগ্ন খাল। সিনেমা বলেই একটা দৃষ্টিনন্দন জায়গায় নায়ক-নায়িকার প্রেম, কারণে-অকারণে ড্রোন উড়িয়ে এরিয়াল শট। সে পথে হাঁটেননি পরিচালক। থেকেছেন বিষয়বস্তু এবং বাস্তবতার ভেতরে। শিমু দেখে মনে হয়েছে এটি একটি দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং অধ্যাবসায়ের ছবি। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়েও যে আলাদা কাজ করা হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। প্রতিটি চরিত্রকে মনে হয়েছে এই বস্তিই তাদের বাস্তব ঠিকানা। চলচ্চিত্র নিয়ে আলাপ করতে বসে হুবহু গল্প ছেপে দেওয়া খুবই বাজে এবং অদরকারি একটা কাজ। তাই গল্পের পথে হাঁটলাম না। তবে ট্রেড ইউনিয়ন, মালিক পক্ষ, শ্রমিক পক্ষ নিয়ে বলতে চাই। আদতে মালিক পক্ষ দিন শেষে মালিক পক্ষই, ম্যানেজার-সুপারভাইজাররাও নিপীড়িতের দলেই, দিন শেষে তারাও বেতনভুক্ত দাস। ম্যানেজার বা সুপারভাইজাররা মোটা দাগে ভিলেন হিসেবে উপস্থাপিত না হয়ে তাদের মন্দ দিকের পাশাপাশি চরিত্রের অসহায়ত্বগুলোও যদি দেখানো হতো, তাহলে চলচ্চিত্রটা আরও বেশি নির্মোহ হতে পারত। গার্মেন্টস কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে এনজিও কেন এত আগ্রহী, তাদের স্বার্থটাই বা কোথায়, তা জানতে পারলে ভালো হতো। শিমুর গল্প একটা শক্ত গাঁথুনির ওপরে বেড়ে উঠতে উঠতে শেষটা বড্ড তাড়াহুড়া মনে হয়েছে। শিমু নারীশক্তির ছবিও বলা যায়। নারীদের নিয়ে নারীদের নির্মাণ। নায়ক-খলনায়কের সিনেমার এই দেশে শিমু জীবনঘনিষ্ঠ এক ছবি। শ্রমিকের সংগ্রাম, বঞ্চনা, উত্থানের পটভূমির ছবির ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে ঝুঁকি থাকে, অথচ মহাকাল এ ধরনের সৃষ্টিকেই মনে রাখে। | 5 |
জয়পুরহাটের কালাইয়ে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় কাটছে চাষিদের। এবার চড়া দামে সার ও বীজ কেনার পরও এই আলু চাষেই আগামী দিনের স্বপ্ন বুনছেন তাঁরা।কৃষকেরা জানান, আলুর ভালো দাম না পেলে এই পেশা থেকে বিমুখ হয়ে পড়বেন তাঁরা।কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলায় আলু রোপণ শেষ হবে। তা ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে জমিতে হাল চাষের খরচ। এত কিছুর পরও বাম্পার ফলনের আশায় এখন তাঁরা আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ আলু রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন।উপজেলার পুনট পূর্বপাড়ার আলুচাষি মশিউর রহমান বলেন, এবার আলু চাষে খরচ খুব বেশি পড়ছে। কেননা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে সার ও বীজ কিনতে হয়েছে চড়া দামে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য খরচও বেশি পড়ছে।পাঁচগ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, 'এ বছর ৩ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি ৫ হাজার টাকা বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে। এত কিছুর পরও লাভের আশায় আলু রোপণ করেছি। তবে আলুর ভালো দাম না পেলে আমরা এই পেশা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ব।'উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ১০০ হেক্টর জমি। লক্ষ্য অর্জনে কৃষকেরা এবার উন্নত জাতের এবং দেশি জাতের আলু চাষ করছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান বলেন, কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে উপজেলাতে উঠান বৈঠক, মাঠসভা, প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া বেশ ভালো। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবারও উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হবে। | 6 |
বড়পর্দায় আসছে ভারতের বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদের জীবনী। লালু প্রসাদের দলের নাম রাষ্ট্রীয় জনতা দল, যার প্রতীক হলো লণ্ঠন। প্রতীকী চিহ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ছবির নাম রাখা হয়েছে, 'ল্যানটার্ন'। লালুর জীবন বর্ণময়। সেই জীবনের নানা ওঠাপড়ার গল্পই বলবে ওই ছবি। শুধু রাজনৈতিক জীবনই নয়, ওই বর্ষীয়ান নেতার ব্যক্তিগত জীবনও তুলে ধরা হবে ওই ছবিতে, এমনটাই জানাচ্ছেন ভোজপুরী অভিনেতা যশ কুমার। লালুর নাম ভূমিকায় দেখা যাবে তাকেই। লালুর স্ত্রী রাবড়ি দেবীর ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে স্মৃতি সিংহকে। বিহার এবং গুজরাতের বিভিন্ন জায়গায় ওই ছবির শুটিং হবে বলে জানা গিয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাবে এই ছবি। | 2 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.