text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
দখলের কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাটের সন্ধ্যা নদী। পয়সারহাট বন্দর ও সেতুর দুই পাশেই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে নির্মাণ করেছেন পাকা স্থাপনা ও ঘের। এতে সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি নদী হারিয়েছে নাব্য। সাত বছর ধরে ঢাকা-পয়সারহাট লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।নদী কমিশন থেকে নদীর দখলদারদের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশনা থাকলেও আগৈলঝাড়ায় সন্ধ্যা নদীর দখলদার ব্যক্তিদের তালিকা সম্পন্ন করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারী মাসুদ ফকির নদী দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি সন্ধ্যা নদী দখল করেননি। ওই জায়গা তাঁদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি।স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যা নদীর আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট এলাকায় ১০০ বছর আগে গড়ে উঠে বরিশালের অন্যতম বড় বন্দর। নদীর তীর ঘেঁষে দুই পাড়ে এখানে হাজার খানেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে পয়সারহাট-ঢাকা চারটি বড় লঞ্চ চলাচল করত। নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় সাত বছর ধরে ঢাকা-পয়সারহাট লঞ্চ চলাচল বন্ধ। ফলে বিপাকে পড়েছেন পয়সারহাট বন্দরের ব্যবসায়ীরা।স্থানীয় লোকজন জানান, এক সময় সন্ধ্যা নদী খুবই খরস্রোতা ও প্রশস্ত ছিল। অনেক গভীর ছিল সন্ধ্যার পয়সারহাট এলাকা। এ নদীকে ঘিরেই পয়সারহাট বন্দর জমে উঠেছিল। বর্তমানে সন্ধ্যা নদীর পয়সারহাট এলাকার প্রশস্ততা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামের গাউস বক্তিয়ার, আব্দুর জব্বার তালুকদার, আবুল সিকদার, তাঁর ছেলে কাওছার হোসেন, মাসুদ ফকিরসহ ১০-১২ জন প্রভাবশালী নদীর বিভিন্ন স্থান দখল করেছেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে দখল করায় দিনদিন নদীটি ছোট হয়ে আসছে। পয়সারহাট সেতুর গোড়ায় পূর্বপাশ থেকে উত্তর দিকে মাসুদ ফকির সন্ধ্যা নদীর পাড় দখল করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে গাছ লাগানো ও মাছ চাষের জন্য ঘের তৈরি করছেন। সন্ধ্যা নদীর বাগধা বাজার এলাকায় পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।পয়সারহাট বন্দরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন সিকদার ও মেহেদী হাসান বলেন, এক সময় নদীতে বড় বড় লঞ্চ চলত। এখন উজিরপুরের বৈঠাঘাটা টার্মিনালে লঞ্চ ভিড়ে। সেখান থেকে ট্রলারে করে মালামাল পয়সারহাট বন্দরে আনতে হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, দখলের কারণে নদীটি দিনদিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নদীটি নাব্য হারানোর কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নদীটি খনন ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে তাঁরা স্থানীয় সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান।পয়সারহাট বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল খালেক চৌকিদার বলেন, 'দখল ও নাব্য হারানোর কারণে নদীটি মরে যাওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ঘাটে লঞ্চ না আসায় ট্রলারে করে বৈঠাঘাটা থেকে মালপত্র পরিবহনে প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।'অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাসুদ ফকির বলেন, 'আমাদের রেকর্ডীয় জায়গায় মাটি কেটে ঘের তৈরি করা হয়েছে। আমরা নদীর জায়গা দখল করিনি।'আবুল সিকদার বলেন, 'নদীর পাশে ইট-বালু ট্রলার থেকে নামিয়ে রাখা হচ্ছে কয়েক দিনের জন্য। তারপর আবার বিক্রি হয়ে গেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে তো আর নদী দখল করা হয় না। মালপত্র রাখার জন্য নদীর পাশে একটি জায়গা সমান করা হয়েছে মাত্র।'কাওছার হোসেন বলেন, 'চর পড়ে নদী ছোট হয়ে গেছে। সেখানে আমরা দখল করব কেন।'বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল দাস বলেন, 'কোনো কোনো দখলদার জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করার চেষ্টা করেন। আমি উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাকে রেকর্ড না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। তারপরও কেউ কেউ রেকর্ড করে নিয়েছেন। নদী দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।'আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম বলেন, 'হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। যে কোনো নদী পরিমাপ করে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দখলদারের তালিকা করা সঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে সন্ধ্যা নদী পরিমাপ করে দখলদারের তালিকা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করে নদী দখলমুক্ত করা হবে।' | 6 |
নারায়ণগঞ্জ বন্দরের মদনগঞ্জে অলকানন্দা ফুলের চাষ করে নজর কেড়েছেন কলাগাছিয়ার বাসিন্দা মনির হোসেন (৪৩)। প্রায় ১৫ বছর তিনি ফুলের চাষ করছেন। চার সদস্যের সংসার এই ফুলের ওপরেই নির্ভরশীল। বর্তমানে ৬০ শতাংশ জমিতে ফুলের চাষ করছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র ফুলচাষি মনির।সরেজমিনে দেখা যায়, হলুদ অলকানন্দা ফুলে পুরো বাগান অপরূপ সৌন্দর্যের খেলা করছে। বাগানজুড়ে ফুলের সুঘ্রাণ। আর ফুলের বাগানের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য তো আছেই। বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয় বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদী গ্রামে। কিন্তু শহর অঞ্চলের ভেতর ফুলের চাষ স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময়কর।মনির হোসেন বলেন, 'আমার বাবা ছিলেন চাল মিলের ব্যবসায়ী। আমি পনেরো বছর ধরে শখ করে ফুলের চাষ শুরু করি। আমার বাড়ি সাবদীতে, কিন্তু এই মদনগঞ্জ এলাকায় আমি জমি লিজ নিয়ে ফুলের চাষ করি। জমির মালিক এতেই খুশি। তবে করোনায় আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। আগে দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা আয় হতো। এখন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করতে কষ্ট হয়ে যায়। গত বছর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ পাই। সেই ঋণের টাকা দিয়ে এই বাগান করেছি। পুরো বাগানে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তারপরেও খুব বেশি লাভ আসছে না। কারণ ফুলের দাম পড়ে গেছে।'ফুলের দাম সম্পর্কে মনির হোসেন বলেন, 'আমি একটি প্যাকেটে ৩০টি ফুল নেই। তারপর শাহবাগের বিভিন্ন দোকানে, ৩০/২০/১৫ এই দরে প্রতি প্যাকেট বিক্রি করি। তারপর ফুল নেওয়ার জন্য সিএনজিতে যাতায়াত করি। সব মিলিয়ে খুব বেশি লাভ থাকে না। ফুলের দাম যদি বাড়ত, তাহলে একটু লাভবান হতে পারতাম। ফেব্রুয়ারি আর ডিসেম্বরেই কিছুটা ফুলের দাম বাড়ে। বাকি সময় খুব একটা দাম আসে না। আমরা যারা ১২ মাস ফুলের চাষ করি, তারা বেশ টানাটানির ভেতরেই সংসার চালাই।'মনির হোসেন আরও বলেন, 'কৃষি অফিস থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ না দিলে এবার বাগান করতে পারতাম না। কৃষি অফিস থেকে বলেছে যখন পারব অল্প অল্প করে ঋণ পরিশোধ করতে। কিন্তু সংসারই তো ঠিকমতো চলছে না। ঋণ শোধ করব কীভাবে? সামনে শীত আসলে গাঁদা ফুল লাগাব। সেখানে ভালো লাভ আসবে আশা করি। আর এলাকার মানুষও অনেক ভালো। একমাত্র ফুলের বাগান হলেও কেউ ফুল চুরি করে না। পাড়া-মহল্লার ছেলেরাও বিরক্ত করে না। আর এ জন্যই ফুল চাষ করে শান্তিতে আছি।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা বলেন, 'আমরা মূলত মাঠপর্যায়ে কৃষি নিয়ে কার করি। বন্দরে বড় একটি ফুলচাষিদের অংশ রয়েছে, তাঁদের জন্য আমরা আলাদাভাবে সহায়তা করে থাকি। কিছুদিন পূর্বেও গাজীপুর এবং যশোরে বন্দরের ফুলচাষিদের নিয়ে কর্মশালা করা হয়েছে। জাইকা থেকে আরেকটি প্রশিক্ষণের অনুদান এসেছে। সেখানেও আমরা অর্ধেক সাধারণ কৃষি এবং বাকি অর্ধেক ফুলচাষিদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। সব মিলিয়ে ফুলচাষিদের জন্য আমাদের সহায়তার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।' | 6 |
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেনির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবারও তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তবে, বিকেলে শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের দেড় ঘন্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর পরই বেলা সাড়ে ৪টা-পৌনে ৫টার দিকে ছাত্রীদের আন্দোলনের নেত্রী অনুশকা রায় তাদের কর্মসূচী স্থগিতের ঘোষনা দেন। গত তিনদিনের স্কুলের শিক্ষাথীদের আন্দোলনের নেত্রী অনুশকা রায় ঘোষণা করেন, আমরা আন্দোলন স্থগিত করছি, শুক্রবার থেকে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেব। তিনি বলেন, আমাদের অধিকাংশ দাবী স্কুল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছেন। বাকী দাবীগুলো মেনে নেয়ার ব্যাপারে আমাদের আশ্বাস দেয়া হয়েছে এবং সময়ও লাগবে। শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আনুশকা রায় সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার থেকে পরীক্ষা ও ক্লাসে ফিরে যেতে সব শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানান আনুশকা। আনুশকা রায় বলেন, আমাদের দাবি প্রায় সবগুলো মেনে নেয়া হয়েছে। তবে আমাদের ছয় দফার মধ্যে ১ ও ৫ দফা তদন্তের বিষয় স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। এগুলো মন্ত্রণালয় ও সরকারের ব্যাপার, তদন্তের ব্যাপার। তবে ২, ৩, ৪ ও ৬ দফা স্কুল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। এজন্য সময় দিতে হবে। মোবাইল পাওয়ার অভিযোগে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়া এবং স্কুলে ডেকে নিয়ে বাবা-মাকে অপমানের পর গত সোমবার আত্মহত্যা করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারী। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে আসছিল শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। যা তিন দিন ধরে চলছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সকাল থেকেই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা স্কুলের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান করে আসছিল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরাও মূল ফটকে অবস্থান বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে গভর্নিং বডির পদত্যাগ এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেয় আন্দোলনকারীরা। এরপরই দুপুর দেড়টার দিকে স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সাংবাদিকদের মাধ্যমে অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হলে পদত্যাগ করতেও রাজি আছেন বলে জানান তিনি। অরিত্রীর মৃত্যুর পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় অতিদ্রুত তৎপর হয়ে তদন্ত কমিটি গঠন, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত ও এমপিও বাতিল করে। | 1 |
উৎসবমুখর পরিবেশে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ও চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ২ ইউপির ২৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে চর জব্বর ইউপির আবদুল্লাহ মিয়ার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দিনের শুরুতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে। তবে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। ভোট দিতে আসা মিনু বালা মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তিনি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়েও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আবদুল জলিলও একই কথা বলেন। জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৫০৫ জন পুলিশ সদস্য, আনসার বাহিনীর ৫৫৯ জন, র্যাবের ৩৭ জন এবং বিজিবির ৬০ জন সদস্যসহ সব মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১৬১ জন সদস্য নিয়োজিত আছেন। | 6 |
ঢাকা: লকডাউন নিয়ে সরকারের কাগজে-কলমে নির্দেশনার সঙ্গে মাঠে কোনো মিল নেই বলে জানিয়েছেন করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।আজ সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক এ উপাচার্য আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বিধিনিষেধ, লকডাউন কিছুই তো বুঝতেছিনা। এখন তো বিধিনিষেধে গণপরিবহণ ছাড়া সবই খোলা, জুলাই মাসের ১ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত কঠোর লকডাউনে অফিস আদালতও বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে লকডাউনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। আর্মি কী কাজ করবে সেটা কিন্তু বলেনি। এতোদিন যত লকডাউন হয়েছে চাপাইনবাগঞ্জের লকডাউন ছাড়া বাকিগুলো কার্যকর হয়নি। সঠিকভাবে লকডাউন করতে পারলে এর সুফল পাওয়া যেত। সরকার কাগজে-কলমে যে নির্দেশনা দিচ্ছে, মাঠে গেলে সরকারের নির্দেশনার কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না।'ডা. নজরুল ইসলাম ১ থেকে ৭ জুলাইয়ের কঠোর লকডাউনের বিষয়ে বলেন, 'বিগত সময়ের লকডাউনের আলোকে এই লকডাউন কেমন হবে জানি না। তবে লকডাউন দেখার পরে হয়তো মূল্যায়ন করতে পারবো। লকডাউনের সময় হিসেবে সাত দিন অনেক কম হয়ে গেছে। ১৫ দিনের টানা লকডাউন দিলে ভালো ফল পাওয়া যেত। করোনা মোকাবিলায় সরকারকে আরও কৌশলী হতে হবে, লকডাউন আরও কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্রমণ ঠেকাতে হবে।' | 6 |
দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান বিদেশি নাগরিক হয়ে কীভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ রোববার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে ব্রিফিংকালে বিএনপি মহাসচিবের কাছে এ প্রশ্ন রাখেন।বিএনপির নেতারা অর্থ পাচারের কথা বলে 'ধান ভানতে শিবের গীত' গেয়ে চলেছেন বলে দাবি করেন কাদের। তিনি দলটির মহাসচিবের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, 'তারেক রহমানের মতো একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কত টাকা বিনিয়োগ করলে বিদেশি নাগরিকত্ব পাওয়া যায়?'তারেক রহমান বিনিয়োগকৃত টাকা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমেই বিদেশে পাচার করেছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। বিএনপির নেতাদের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য প্রসঙ্গে কাদের বলেন, 'জিয়াউর রহমান হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে কোন গণতন্ত্র রক্ষা করেছিলেন?'জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হিসেবে অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা, ১৯৭৭ সালে বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, '৭৯ সালে সংসদ নির্বাচন, '৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ প্রতিটি নির্বাচনই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, 'বেগম জিয়ার ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০০৬ সালে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটারসহ নির্বাচনের প্রচেষ্টা কোন গণতন্ত্র?'নির্বাচনকালে বিএনপি কর্তৃক সন্ত্রাস, ভোটকেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে সিল মারা, প্রতিপক্ষ নেতা-কর্মীদের হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্মম নির্যাতন, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া কি বিএনপির গণতন্ত্রের নমুনা বলে প্রশ্ন করেন কাদের। তিনি বলেন, 'বিএনপি এ দেশের ইতিহাসে যে ঘৃণ্য নজির সৃষ্টি করেছে, দেশের মানুষ তা এখনো ভুলে যায়নি।'বিএনপির শেখানো তথাকথিত গণতন্ত্রের পথে এ দেশের মানুষ আর হাঁটতে চায় না বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।কাদের বলেন, 'গঠনতন্ত্র থেকে যে দল (বিএনপি) দুর্নীতিবিরোধী সাত ধারা বাতিল করে দুর্নীতিবাজদের দলে বিচরণের পথ উন্মুক্ত করে, তারাই আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল, তারাই দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক।'এর আগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নবনিযুক্ত সচিব আমিন উল্লাহ নুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
নড়াইল শহর সংলগ্ন সীমাখালী এলাকার বাসচালক লিয়াকত সিকদার (৫২) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পলাশ মোল্লাসহ (৪৪) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়।গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিরা হলেন সীমাখালী গ্রামের রুবেল শেখ (৩০) এবং একই গ্রামের গোপীনাথ গুহ গোপী (৩০)। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে গত সোমবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো অস্ত্র আসামি পলাশ মোল্লার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে সাংবাদিকদের সামনে আসামিদের হাজির করা হয়নি।এর আগে এ মামলার অপর আসামি সীমাখালী গ্রামের নাসিম সিকদারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশ সুপার আরও জানান, তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী আসমা খাতুন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাঁর স্বামী লিয়াকত সিকদারকে হত্যা করেছে আসামিরা। এ হত্যাকাণ্ডে ১৭ জনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। | 6 |
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার চারা রোপণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবীর।উপজেলা সদরের গোপীনাথপুর মাঠের কৃষক আবু বকর আলীর জমিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে চারা রোপণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।এ সময় জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবির বলেন, দেশে শিল্পায়নের ফলে ক্রমেই কৃষিজমি কমে যাচ্ছে অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার অনস্বীকার্য। এরই ধারাবাহিকতায় কলারোয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় উপজেলাতে প্রথম রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান রোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কৃষির বিপুল সম্ভাবনাময় ধান রোপণের নতুন এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষক নিজেই খুব অল্প খরচে ধান রোপণ করতে পারবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা অঞ্চলের ডিডি কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম বলেন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন দিয়ে যেকোনো মানুষ নিজেই তার জমিতে ধান রোপণ করতে পারবে। ধানের চারা রোপণের মেশিনটির বাজার মূল্য তিন লাখ টাকা কিন্তু কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকেরা ক্রয় করলে সরকার ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেবে। কৃষকেরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ক্রয়ের আবেদন করলে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এ মেশিনটি ক্রয় করতে পারবে।কৃষক আবু বকর বলেন, অন্য সময় এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ করতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হত। কিন্তু মেশিনের মাধ্যমে মাত্র ৮০ টাকা খরচে ১ বিঘা জমিতে খুব সহজেই ধান রোপণ করতে পেরে আনন্দিত। এ জন্য তিনি কৃষি বিভাগ ও কৃষিমন্ত্রী সহ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, 'এ বছর ১৫০ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক রাইস ট্রান্সপ্লান্টের মেশিনের মাধ্যমে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার মতো সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া ৬৭ জন চাষির মাঝে সাড়ে ৪ টন ইউরিয়া, সাড়ে ৩ টন টিএসপি ও ২.৫ টন পটাশ সার বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে।' | 6 |
বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে এখনও ফুটবল মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিস্ময়কর তার ফিটনেস। ঠিক যেন ২০-২২ বছরের তরুণদের মতো। আগামী মাসেই পর্তুগিজ মহাতারকা ৩৭ বছর পূর্ণ করবেন। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরার পর ১৪ গোল করেছেন। সারাবিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের প্রশ্ন, কত বছর বয়সে থামবেন সিআর সেভেন? এবার পর্তুগিজ তারকা নিজেই বিষয়টি খোলাসা করে বললেন। 'ইএসপিএন ব্রাজিল'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘস্থায়িত্ব শীর্ষস্থানের ফুটবলে ভালো করা চালিয়ে যাওয়া যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে আমার ক্ষেত্রে, সেটা দেখাতে পেরে আমি খুবই খুশি। শারীরিক দিক থেকে নিজেকে ৩০ বছরের মনে হয় আমার। আমি নিজের শরীর ও মনের খুব যত্ন নিই। ৩৩ বছরে এসে শিখেছি, আপনি চাইলে আপনার শরীর সেটিতে সায় দেবে, কিন্তু মূল যুদ্ধটা মনের সঙ্গে। ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে যাওয়ার পর ৩৪ বছর বয়সী রোনালদোর ফিটনেস দেখে মুগ্ধ হয়েছিল জুভেন্টাসের চিকিৎসক দল। তাদের মনে হয়েছিল, রোনালদোর ফিটনেস বিশের ঘরে থাকা ফুটবলারের মতো। সিআর সেভেন আরও বলেন, 'যখন অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন শীর্ষ মানে থাকার লক্ষ্যে স্থির থাকাটাই কঠিন কাজ। আর গত কয়েক বছরে সেটিই করছি। আমি এখন এমন মানসিকতা নিয়েই কাজ করছি, সেখানেই মনোযোগ দিচ্ছি। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে রোনালদো বলেন, আমি জানি, আমার শরীর ভালোমতোই এটা সামাল দেবে কারণ, আমি শরীরকে শ্রদ্ধা করি এবং শরীর কী বলছে, সেটার গুরুত্ব দেই। জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত থাকা জরুরি, সেটি ভালো হোক বা খারাপ। যখন আপনি মাটিতে পড়ে যাবেন, তখন আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি থাকতে হবে। আমি খুশি, আমি এখানে থাকতে চাই এবং দেখতে চাই কী হয়। আমি দেখতে চাই, আমি ৪০, ৪১ বা ৪২ বছরেও খেলতে পারি কি না। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এখন দিনের লক্ষ্য হলো মুহূর্তটা উপভোগ করা। | 12 |
একদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের পর এক ব্যতিক্রম পরিবেশ দেখা গেল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান শিবিরে। ৩০ ডিসেম্বর রাতে শহরের রাইফেল ক্লাবে গিয়ে দেখা যায় নেতাকর্মী সমর্থকরা শুধু কাঁদছেন আর চোখ মুছছেন। খোদ শামীম ওসমানও কান্না ধরে রাখতে পারেননি। আওয়ামী লীগ নেতা শাহ নিজাম শামীম ওসামনের পা ধরে দোয়া চেয়ে কাঁদছিলেন। পা ছাড়ছিলেন না তিনি। ওই সময় শামীম ওসমানও কেঁদে ফেললেন। জয়ের পর বক্তব্যে নেতাকর্মীরা আশা করেছিল বিজয় মিছিল করার দিক নির্দেশনা দিবেন শামীম ওসমান। কিন্তু ঘটলো উল্টো। নেতাকর্মী-সমর্থক উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, আজকের জয় বঙ্গবন্ধু ও তার যোগ্যা কন্যা আমার মাতৃতুল্য শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের জয় হয়েছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ কোন বিএনপি নেতাদের ওপর বাড়াবাড়ি করবেন না। তাদেরকে ভালোবাসুন। কারণ ভালোবাসা ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া যায় না। আমি যেন না শুনি আমার কোন নেতাকর্মী-সমর্থক কোন বিএনপি নেতাকর্মীর সাথে বাড়াবাড়ি করেছে। আমি জনপ্রতিনিধি, আামি সবার। এ আদর্শ আমার নেত্রীর। শামীম ওসমান আরও বলেন, বিগত দিনে আমরা ভালোবেসেই শক্রর মন জয় করেছি। আমাদের মিল কারখানা ভাংচুর করা হয়েছিল। গবাদিপশুকে জীবন্ত আগুনে জ্বালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হামলাকারীদের ভালোবেসেই মন জয় করেছি। সেই ভালোবাসায় নারায়ণগঞ্জে গত তিন মাসে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। এটার স্বাক্ষী তো আপনারাই। করার মত অনেক কিছুই ছিল। তাই আমাদের এসব বাদ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমার অনেক স্বপ্ন। আপনাদের কাছে ওয়াদা করে ফেলেছি। নারায়ণগঞ্জ মেডিকেল কলেজ উন্নত হাসপাতাল ও উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করব। আপানাদের ওয়াদা পূরণ করতে হবে। বিডি-প্রতিদিন/০১ জানুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব | 6 |
রাজশাহীর চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, প্রকৌশলী, সুপারভাইজার কিংবা যারা উন্নয়নকাজ তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে আছেন তাঁদের যেকোনো মূল্যে কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে। এক রাস্তা কয়েক বছর পর পুনরায় নির্মাণ করা যাবে না। বরং সে টাকা দিয়ে অন্য আরেকটা নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য কাজগুলো যেন মানসম্মত হয় সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে।গতকাল রোববার চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১০টি রাস্তা ও ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর এবং নতুন ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, এটি শোকের মাস। এ মাসে আমরা জাতির পিতা ও তাঁর স্ত্রী-পুত্রসহ পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে হারিয়েছিলাম। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এই দেশকে সোনার বাংলা গড়ার। বঙ্গবন্ধুর আত্না তখনই শান্তি পাবে, যখন দেশের ১৬ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। আজ শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, জাতির পিতা ২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি করেছিলেন। আর তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে ৪০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারিকরণ করেছেন। আমার বিশ্বাস এই মুহূর্তে দেশে কোন বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। কারণ এই সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগ উপযোগী করতে চান। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা দেশের ১৫ ভাগ মানুষকে টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা রয়েছে, এখন থেকে প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সবশেষে তিনি জনগণকে বৈশিক করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত মাস্ক পরার আহবান জানান।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরার সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন চারঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়তি রানী কৈরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পৌর মেয়র একরামুল হক প্রমুখ।দিনব্যাপী চারঘাটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে সব উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর ও উদ্বোধন করেন তার নির্মাণ ব্যয় ১৮ কোটি ৭০ কোটি লাখ টাকা। | 6 |
মুক্তিযুদ্ধ শব্দটিকে বিতর্কিত করার অধিকার তাদেরকে কে দিল? আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। ইউটিউবে ওদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ছবি দেখার পর বিদেশে মানুষ কী বলবে? মুক্তিযুদ্ধা শব্দ যোগ করে কোন সন্ত্রাসী সংগঠন চলতে পারে না। অবশ্যই ওদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ শব্দ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পৃক্ত। এই পবিত্র শব্দকে কলঙ্কিত করার অধিকার কারও নেই। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অর্থ রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করা। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব | 2 |
অবৈধ পথে ইউরোপে যাত্রা করে লিবিয়ায় দালালদের হাতে বন্দী মাদারীপুরের ২৮ তরুণ। দালালেরা মুক্তিপণের জন্য তাঁদের জিম্মি করে নির্যাতন চালাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। ওই দালাল চক্রের সঙ্গে কালকিনি উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরহাদ মাতুব্বর জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, তিনি টাকা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত নন। ভুক্তভোগীরা দালালদের টাকা দেওয়ার সময় তিনি শুধু সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান গুনে গুনে নিচ্ছেন টাকা। ভুক্তভোগী তরুণদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ মাস আগে উপজেলার ২৮ তরুণকে অবৈধ পথে ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখান ফরহাদ মাতুব্বর। এ জন্য প্রত্যেকের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়। সেই অনুযায়ী প্রথমে সাড়ে চার লাখ টাকা দিতে হয়। লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পৌঁছানোর পর নেওয়া হবে বাকি সাড়ে চার লাখ। চুক্তি অনুসারে টাকা নিয়ে ২৮ তরুণকে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে চুক্তির বাকি সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করা হয়। টাকা দেওয়ার পর তাঁদের লিবিয়ার দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে দালালদের কাছে বন্দী ওই ২৮ তরুণের কাছে আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। তরুণদের অনেকে দালালদের টাকা দিয়েও মুক্তি পাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিবিয়ায় বন্দী ২৮ জনের মধ্যে ৭ জনই ওই ইউপি চেয়ারম্যানের নিজ এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা হলেন সালাম ব্যাপারীর ছেলে মেহেদী ব্যাপারী (২০), মোক্তার ব্যাপারীর ছেলে সাগর ব্যাপারী (১৯), করিম সরদারের ছেলে বনি সরদার (২২), আলী ঘরামির ছেলে ফয়সাল ঘরামি (১৯), আমির ঘরামির ছেলে এনামুল ঘরামি (১৮), আদালি ঘরামির ছেলে সোহেল ঘরামি (২৩) ও সৈকত ঘরামি (২০)। এ ছাড়া উপজেলার জনারদন্দি এলাকার আদেলউদ্দিন সরদারের ছেলে আহাদ সরদার, কবির সরদারের ছেলে হাসান সরদারসহ আরও ১৯ জন তরুণ দালালদের কাছে বন্দী আছেন। গোপালপুর এলাকার ভ্যানচালক মোক্তার ব্যাপারীর একমাত্র ছেলে সাগর ব্যাপারী তাঁর মা রেহানা বেগমের সঙ্গে সর্বশেষ ২০ দিন আগে কথা বলেন। মায়ের সঙ্গে ছেলের শেষ কথা ছিল, 'মা, তোমরা আমারে উদ্ধার কর, ওরা আমারে মাইরা ফালাইবে। যা টাকা চায়, ওদের দিয়া দাও।' সাগরের বাবা মোক্তার হোসেন বলেন, 'সাগরের মুখে শেষ কথা শোনার পর থেকে আমাগো মাথায় আকাশ ভাইঙ্গা পড়ছে। কিছুই ভালো লাগছে না। চেয়ারম্যানের কাছে আমরা কয়েকজন মিইলা গেছি। চেয়ারম্যান আমাগো লগে দেখা করেন না। কথাও বলেন না। ফোন দিলে ছেলেকে আর পাব না বলে ভয় দেখায়।' ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন আলী ঘরামি। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে ফয়সালের সঙ্গে এক মাস ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। ছেলের কোনো খবর পাচ্ছেন না তাঁরা। চেয়ারম্যান শুধু বলেন, তাঁরা সবাই ভালো আছে। কিন্তু ছেলের সঙ্গে তাঁদের কথা বলিয়ে দিচ্ছেন না। মানব পাচার নিয়ে কথা হয় কালকিনি পৌরসভার মেয়র এস এম হানিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদের মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি শুনেছি। তাঁর মাধ্যমে ২৮ তরুণ লিবিয়ায় গেছেন। এর মধ্যে কয়েকজন আমার পৌরসভার বাসিন্দা। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।' অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ মাতুব্বর মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, 'রাসেল, সরোয়ার, ফারুক নামের বেশ কয়েকজন দালাল ওই ছেলেদের লিবিয়ায় নিয়ে গেছেন। আমি তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নই। এলাকার লোকজন আমাকে জানানোর কারণে টাকা দেওয়ার সময় আমি শুধু সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এখন যাঁরা আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করছেন, তাঁদের সঙ্গে আমি কোনো কিছুতে জড়িত নই। তাঁরা মিথ্যা বলছেন।' ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে ভিডিও তাঁর নয় বলে দাবি করেন তিনি। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিপংকর তঞ্চ্যাঙ্গা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। তাঁরা সহযোগিতা চাইলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আশফাক প্রথম আলোকে বলেন, ভুক্তভোগী ২৮ জনের অনেকেই পুলিশের সঙ্গে মানব পাচারের বিষয়টি আলাপ করেছেন। তাঁরা মামলা করতে চান, আবার চান না। মামলা করতে তাঁরা কিছুটা ভয়ও পান। তাঁরা মনে করেন, মামলা হলে তাঁদের ছেলেকে লিবিয়ার দালালেরা মেরে ফেলবেন। দালালেরাও ভয় দেখান। এটিও সত্য। তবে বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে আছে। ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। | 6 |
=ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ডিএনসিসি এলাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার আগেই মশার ওষুধ ছিটানো হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যেকটা শ্রেণিকক্ষে স্প্রে ও ফগিং করা, খেলার মাঠসহ ছাদ এবং চারপাশ পরিষ্কার করা হবে। টয়লেট বা অন্য কোথাও পানি জমে থাকলে লার্ভিসাইডিং করা হবে। শুক্রবার রাজধানীর উত্তরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলামান বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
আগামী ৩০ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায়মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীরবিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্যদিন ধার্য করেছেন আদালত। শুক্রবার মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুইয়া। গত বুধবার রাষ্ট্রবিরোধী, উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে নেত্রকোণা থেকে আটক করে র্যাব। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
মধুপুরের সুনামগঞ্জ গারোবাজার পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুস সাত্তার এতে সভাপতিত্ব করেন। বিদায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ গারো বাজার পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. ছানোয়ার হোসেন, বর্তমান প্রধান শিক্ষক সোলায়মান সেলিম, সুনামগঞ্জ দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মো. আব্দুস সালাম, শিক্ষানুরাগী শেখ রুবেল হোসেন, মো. আবুল হাসান, শিক্ষক শামছুন নাহার, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার ও পূনর্গঠন উদ্যোগ 'বিল্ড ব্যাক বেটারের' জন্য একটি উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় অববাহিকা ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতা করার জন্য আমাদের অবশ্যই ভালো অনুশীলন, জ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বিত শক্তির বিনিময় ঘটাতে হবে এবং আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় অববাহিকা ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। শনিবারজাপানের কুমামোটো শহরে 'টেকসই উন্নয়নের জন্য পানি-সর্বোত্তম ব্যবহার এবং পরবর্তী প্রজন্ম' প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী পানি সম্মেলনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বারোপ করেন। পানিকে জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, 'টেকসই উন্নয়ন এবং শান্তির সংস্কৃতির প্রচারের জন্য এটি মৌলিক।' চলমান কোভিড-১৯ মহামারি থেকে 'ভালোভাবে পুনরুদ্ধারের' জন্য আমাদের সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজিতে পানি সম্পর্কিত বিষয়সহ পানির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো পূরণ করার জন্য তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঋণী। তিনি বলেন, 'আমাদের যুবকদের অবশ্যই ক্ষমতায়িত করতে হবে যাতে তারা দক্ষ ও টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক পানি ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিতে পারে।' ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি পানি সংক্রান্ত জাতিসংঘ উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য ছিলেন। তখন 'কল টু অ্যাকসন' পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। আগামী বছরে ওয়াটার অ্যাকসন দশকের মধ্য-মেয়াদি পর্যালোচনা আমাদের অ্যাকসন এজেন্ডা বাস্তবায়নে একটি প্লাটফরম প্রদান করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, 'কুমামোটো ঘোষণা সেই প্রক্রিয়ায় একটি কার্যকর অবদান রাখবে।' এই লক্ষ্যে বাংলাদেশে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, তার সরকার পানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমগ্র সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। দেশের ৮৫ শতাংশর বেশী মানুষের নিরাপদ পানীয় জল এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে। সূত্র: বাসস। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
আবাসিক হল খুলে দিয়ে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া ও করোনাকালে বেতন-ফি মওকুফের দাবিতে ছাত্র সমাবেশ করেছে বাসদ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরি জয়ের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক শোভন রহমানের সঞ্চালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নানারকম মন্দ কাজে জড়িয়ে পরছে বলে মন্তব্য করে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান। এ ছাড়াও আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা বলেন।সমাবেশে আল কাদেরি জয় বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে তা আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে নাকি অরাজকতা তৈরি হবে। আর এই অরাজকতা ঠেকাতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য চাননি। তিনি সরকারের পেটুয়া বাহিনী ছাত্রলীগের সহায়তা চেয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে যে আন্দোলন হবে সেটাকে সরকার ভয় পাচ্ছে। এ কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। আমরা অতি দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়াসহ করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ফি মওকুফের দাবি জানাচ্ছি।'এ ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স, ঢাকা মহানগর ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, ছাত্র ফ্রন্ট ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব কান্তি রায় প্রমুখ। | 1 |
মসজিদের পাশে ক্লাবের অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ করতে গিয়ে খুন হন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী। এমনটাই জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত পলাতক আসামি আশীষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীকে গ্রেফতারের পর রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাতে র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১০ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে আশীষকে গ্রেফতার করে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব। সংস্থাটি বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কারণসহ সোহেল হত্যায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন আশীষ। র্যাব বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে আশীষ বলেন, বনানীর আবেদীন টাওয়ারের অষ্টম তলায় অবস্থিত ট্রাম্পস ক্লাবের পাশে ছিল বনানী জামে মসজিদ। সোহেল চৌধুরী মসজিদ কমিটিকে সাথে নিয়ে ক্লাবের অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধে বারবার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। মসজিদ কমিটিকে সাথে নিয়ে সোহেল চৌধুরীর প্রতিবাদের কারণে ক্লাব মালিক বান্টি ও আশীষের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত আসে। একই কারণে আজিজ মোহাম্মদের স্বার্থেও আঘাত লাগে। ক্লাবটি বন্ধের চেষ্টা করায় বান্টি, আশীষ, আজিজ, তৎকালীন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের চক্ষুশূলে পরিণত হন সোহেল চৌধুরী। ১৯৯৮ সালের ২৪ জুলাই আজিজের সাথে সোহেল চৌধুরীর তর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আজিজ ক্ষুব্ধ হয়ে সোহেলের ওপর প্রতিশোধ নিতে বান্টি ও আশীষকে অনুরোধ জানান। র্যাবের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে আশীষ বলেন, জনসমক্ষে আজিজকে অপমান করায় সোহেলের ওপর প্রতিশোধ নিতে তিনি (আশীষ) ও বান্টি একটি পরিকল্পনা করেন। ক্লাবে ইমনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তখন বান্টি, আশীষ ও আজিজ শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিয়ে সোহেলকে হত্যার প্রস্তাব দেন। ইমন এ প্রস্তাবে রাজি হন। পরে ইমন এ হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন। ১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। ২০০১ সালে ৩০ নভেম্বর এ মামলায় অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামি আদনান সিদ্দিকী ২০০৩ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করেন। আগে দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে রায় দেন। গত ২৮ মার্চ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারিক আদালত। | 6 |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস এ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মে এক পত্রে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। অভিনন্দন জানিয়ে লেখা পত্রের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক পত্রে এ ধন্যবাদ জানান তিনি। মমতা ব্যানার্জি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ উন্নয়ন, শান্তি, ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা এবং শক্তিশালী করার পক্ষে রায় প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিকভাবে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব, একই সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ আবেগ ও অনুভূতির সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
আফগানিস্তানের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ডুরান্ড লাইনে কোনো বেড়া দিতে অনুমতি দিবে না তালেবান কর্তৃপক্ষ। বুধবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে তোলো নিউজ। বুধবার তোলো নিউজকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত বাহিনীর প্রধান মৌলভি সানাউল্লাহ সানজিন বলেন, আমরা আর ডুরান্ড লাইনে কোনো বেড়া দিতে অনুমতি দিব না। তা এ বেষ্টনী যেকোনো ধরনের হোক না কেন তা নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। আগে যে বেড়া দেয়া হয়েছে, তা তারা (পাকিস্তান) দিয়ে ফেলেছেন( এটা নিয়ে আর কিছু করার নেই)। কিন্তু, নতুন করে আফগান সীমান্তে কোনো বেড়া দেয়া যাবে না। এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ডুরান্ড লাইনে বেড়া নির্মাণের বিষয়ে কূটনীতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান তার ডুরান্ড লাইনে সীমান্ত বেষ্টনী নির্মাণ অব্যাহত রাখবে। এরপরই আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত বাহিনীর প্রধান এমন মন্তব্য দেন। এদিকে পাকিস্তান সীমান্তে ডুরান্ড লাইন অঞ্চলে দেশটির সীমান্ত বেষ্টনী নির্মাণে বাধা দিতে ৩০টির বেশী ঘাঁটি বা চৌকি নির্মাণ করেছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বলখি বলেন, ইসলামী আমিরাত (তালেবান কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত আফগান সরকার) বিশ্বাস করে যে ভালো প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, আলোচনা বৈঠক ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ে কথা হবে। তালেবান কর্তৃপক্ষ আরো বলেছে, পাকিস্তান সীমান্তে ডুরান্ড লাইন অঞ্চলে দেশটির সীমান্ত বেষ্টনী নির্মাণের পর উভয় দেশের মানুষ অভিযোগ করেছেন যে তারা এখন আর চলাচল ও যোগাযোগ করতে পারছেন না। ডুরান্ড লাইন অঞ্চলে বাস করা এক ব্যক্তি মতিউল্লাহ মোমান্দ বলেছেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের পর আমরা আমাদের ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও গোত্রগুলো থেকে বিছিন্ন হয়ে গেছি। সূত্র : তোলো নিউজ | 3 |
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর নার্গীস আক্তার (৪০) ও ময়না বেগম (৫৫) নামে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। মৃত নার্গীস আক্তার উপজেলার যন্ত্রাইল গ্রামের ইমান আলীর স্ত্রী এবং ময়না বেগম পার্শ্ববর্তী আজিজপুর গ্রামের জামাল খানের স্ত্রী বলে জানা গেছে। শুক্রবার দুপুর ১টায় উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা চকের একটি পুকুর থেকে মরদেহ দু'টি উদ্ধার করা হয়। নিহত নার্গীসের বড় ছেলে তানভীর আহম্মেদের অভিযোগ তার মা নার্গীস আক্তার ও মায়ের বান্ধবী ময়না বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান জানান, শুক্রবার দুপুরে শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা চকের একটি পুকুরে এক নারী পানি আনতে গিয়ে দুই নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসীকে জানায়। পরে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে মরদেহ দু'টি উদ্ধার করে। তিনি আরো জানান, পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে কয়েকদিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দু'টি মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকীর প্রাক্কালে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার এক বার্তায় বিলাওয়াল বলেন, একজন কন্যা, বোন, স্ত্রী, মা হিসেবে বেনজির ভুট্টোর ভূমিকা ইসলামি বিশ্বে অনুসরণীয়। বিলাওয়াল আরও বলেন, বেনজির ভুট্টো আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। তবে তাঁর শক্তিতেই গণতান্ত্রিক দলগুলো এক হয়ে রয়েছে। বেনজির দলের নেতা ও সদস্যদের জন্য গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবেন। ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর বেনজিরকে হত্যার পর পিপিপির চেয়ারম্যান হন বিলাওয়াল। বেনজিরের স্মরণে তিনি বলেন, পাকিস্তানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি পেতে ও দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে বেনজির ভূমিকা রেখেছেন। বেনজির নারী কৃষকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। তিনি ফার্স্ট উইমেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন। নারীদের জন্য পুলিশ স্টেশন তৈরি করেছেন। পাকিস্তানের জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় বেনজির ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান বিলাওয়াল। তিনি দরিদ্র নাগরিক, তরুণ, শিশু ও নারীদের জন্য কাজ করেছেন। বিলাওয়াল দলের কর্মীদের সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যোগ দিতে আহ্বান জানান। | 3 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন, সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন মানেই হচ্ছে সহিংসতা। বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা করলে পরিবহন মালিক শ্রমিকরাও বাস পোড়ানোর ভয়ে বন্ধ করে দেয়। আজ বুধবার (৩ মার্চ) ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির নবনির্বাচিত সদস্যদের পরিচিতি ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভায় একথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, বিএনপির নেতিবাচক ও অপরাজনীতিতে দেশের চলমান উন্নয়ন ধারাই শুধু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের বিকাশধারা। উপকমিটিতে নাম লিখিয়ে কেউ চাঁদাবাজি অথবা ক্ষমতার দাপট দেখালে সাথে সাথে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে। জন্মলগ্ন থেকে বিএনপি গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে গণতন্ত্র হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আসছে। তারা এখনও সেই ধারাবাহিকতাই চর্চা করে চলেছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, জনগণ আশা করেছিলো নির্বাচন ও আন্দোলনে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে তোষণ ও পোষণ করা ত্যাগ করবে,কিন্তু তারা তা না করে উল্টো গাঁটছড়া বেঁধে আছে। স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে সখ্যতা রেখে স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী পালন মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের সাথে রসিকতা আর তামাশা ছাড়া কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন দেশের জনগণই বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বানিয়েছেন আর শেখ হাসিনাকে করেছেন বিশ্বের সেরা তিনজনের একজন সেরা রাষ্ট্রপ্রধান। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে, এবিষয়ে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সত্য নয়। আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত এধরণের কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি,এমনকি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী কোন সভায়ও এধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দী, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী,স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপাসহ উপকমিটির সদস্যরা। এর আগে তিনি ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির নবনির্বাচিত সদস্যরা। | 6 |
চুয়াডাঙ্গা পৌরশহরে শামসুল শেখ (৬০) নামের এক বৃদ্ধর ঘাড়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। গত রোববার শামসুলের নাতনি কামনা খাতুন নানাকে খুনের ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ জানায়, শামসুল শেখের নাতনি কামনা বিয়ের পর রাশেদ নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। কিছুদিন আগে কামনার সঙ্গে স্বামীর বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে কামনা নানা ও নানির সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে প্রেমের বিষয়ে জানতে পারেন শামসুল। তিনি কামনাকে বকাবকি করেন। এ জন্য প্রেমিক রাশেদকে নিয়ে নানাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। গত ২৯ নভেম্বর সোমবার রাত ১২টার দিকে শামসুল বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকার সময় একটি বিষভর্তি ইনজেকশন নিয়ে সেখানে হাজির হন রাশেদ। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি শামসুল শেখের পা চেপে ধরেন ও কামনা ইনজেকশনটি নানার ঘাড়ে পুশ করেন। এ সময় শামসুল শেখের ঘুম ভেঙে গেলে তিনি রাশেদকে পালাতে দেখেন। অন্ধকার থাকায় রাশেদকে তাঁর নাতজামাই জাহিদ ভেবে চিৎকার করেন। উদ্ধার করে শামসুলকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ ডিসেম্বর মারা যান।ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ইনজেকশনের মাধ্যমে ঘাড়ে বিষ প্রয়োগ করে শামসুলকে হত্যা মামলার পর থেকেই সদর থানা-পুলিশের টিম ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করেছিল। এরই মধ্যে একটি সূত্র ধরে কামনাকে আটক করা হয়। পরে তাঁর প্রেমিক রাশেদকেও আটক করা হয়। | 6 |
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর বাইমাইল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।নিহতেরা হলেন, কুমিল্লা জেলার বশীর হোসেন মোল্লার ছেলে আব্দুল আজিজ মোল্লা (২৫) ও ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটের লাবুর ছেলে অপূর্ব নিখিল (২৯)।গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সিদ্দিক জানান, মঙ্গলবার দুপুরে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে দুই বন্ধু গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে কালিয়াকৈরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মহানগরীর বাইমাইল এলাকায় পৌঁছানোর পর মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা উভয়ে মহাসড়কে পড়ে যান। এ সময় মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।আবু সিদ্দিক আরও জানান, নিহতদের মধ্যে আব্দুল আজিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং অপরজন একটি বেসরকারি কলেজে অধ্যয়ন করার পাশাপাশি পার্টটাইম জব করতেন। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আবেদনের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রূপাসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আসামিদের ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেন। কারাগারে যাওয়া অন্য পাঁচ আসামি হলেন- রূপার সহযোগী আল আমিন রনি, আজাদ, রাকিবুল হাসান, নাহিদ হাসান ও রাজু আহমেদ। গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুর, কাকরাইল ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর রমনা থানায় হওয়া প্রশ্ন ফাঁসের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। | 6 |
রাজশাহী নগরীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মার চর থেকে বুদ বুদ করে অবিরাম উঠছে গ্যাস। ম্যাচ মারলেই জ্বলছে আগুন।বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। তারা সেই আগুনে চা তৈরি করেও পান করেছেন।পদ্মার চরে গ্যাস উঠতে দেখে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর টি-বাঁধ এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন (৩৫) জানান, চরের তিন-চারটি স্থানে বুদ বুদ করে তরল দ্রব্য বের হতে থাকে। গ্যাসের মত গন্ধ হওয়ায় তারা আগুন জানিয়ে পরীক্ষা করেন।শ্রীরামপুর এলাকার পাতান আলী (৫০) জানান, প্রায় এক যুগ আগে এ এলাকায় একইভাবে বুদ বুদ করে অবিরাম গ্যাস উঠছিল। সে সময় সেখানে পাইপ বসানো হলে মুখ দিয়ে গ্যাস বের হত। তবে বর্ষার পর ওই এলাকায় চর পড়ে গেলে পরে আর দেখা যায়নি। এবারে বর্ষায় সেই চর কেটে যাওয়ায় আবারো গ্যাস বের হচ্ছে।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, 'বিষয়টা আমিও শুনেছি। এটা কোন খনির নয়, বায়োজেনিক গ্যাস। অতীতে গাছপালা, কচুরিপানা বা জীবাশ্ম পচে যাওয়ায় কিছু গ্যাস জমা হয়। সেই গ্যাসই উঠে আসছে। এর পরিমাণ খুব সামান্য। তবে এতে পাইপ লাগিয়ে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করা ঠিক নয়। আগুন দিলে যেকোন সময় বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।'এ ব্যপারে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি (পিজিসিএল) রাজশাহীর ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।রাজশাহী জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
| 6 |
মুজিববর্ষ ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পল্লীমা সংসদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পল্লীমা গ্রীণের উদ্যোগে 'পল্লীমা গ্রীণ স্বর্ণপদক ২০২১' প্রদান এবং সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রতিষ্ঠানটির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ইভেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিজিএমই-এর সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, পল্লীমা সংসদের সভাপতি আসাদুর রহমান নাসিম এবং পল্লীমা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মু. হাফিজুর রহমান ময়না অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পল্লীমা গ্রীণের চেয়ারম্যান ও পল্লীমা সংদের সহ-সভাপতি ম. লুতফর রহমান। পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খানকে 'পল্লীমা গ্রীণ স্বর্ণপদক ২০২১' দেওয়া হবে। পল্লীমা গ্রীণ পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবদানকে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে ২০১৫ সাল থেকে পল্লীমা গ্রীণ স্বর্ণপদক দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে কৃষক ও কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, প্রকৃতিপ্রেমিক প্রয়াত দ্বিজেন শর্মা, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু এবং সোনালী ব্যাগ উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমেদ খানকে পল্লীমা গ্রীণ স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে। | 6 |
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে রাস্তায় পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তিনটি শিশুসহ একটি গাড়ির অন্তত ১১ আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ রোববার কর্মকর্তারা এমনটি জানিয়েছেন।কর্মকর্তারা জানান, শনিবার বাডঘিস প্রদেশে ঘটনাটি ঘটেছে। বোমাটি পেতে রাখার জন্য তাঁরা তালেবান বিদ্রোহীদের দায়ী করেছেন। তবে এই হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।বাডঘিস প্রদেশের কর্মকর্তা খোদাদাদ তায়েব জানান, বাসটিতে বোমা আঘাত করার পর সেটি উপত্যকা থেকে নিচে পড়ে যায়।চলতি সপ্তাহে একের পর এক যাত্রীবাহী বাসকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে যাত্রীবাহী বাসে দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে তালেবান বিদ্রোহীরা।১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণা আসার পর থেকে আফগানিস্তানজুড়ে সহিংসতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। | 3 |
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পরকোর্ট ইউনিয়ন থেকে ফারজানা আক্তার সোহানা (২০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে পূর্ব সোসালিয়ার ছোট শেখের বাড়ি থেকে নিহতের মরদেহের উদ্ধার করে পুলিশ।নিহত ফারজানা আক্তার সোহানা ওই বাড়ির সোহাগ শেখের মেয়ে। পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে মোবাইলে বিয়ে হয় ফারজানা আক্তার সোহানার। বিয়ের পর থেকে প্রবাসী স্বামী দেশে না আসায় শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হয়নি তাঁর। গত এক বছর ধরে বাবার বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন সোহানা। মঙ্গলবার সকালের কোনো এক সময় বাবার পরিবারের লোকজনের অজান্তে নিজের কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেন তিনি। পরে বিষয়টি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।চাটখিল থানর ওসি আবুল খায়ের জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে। | 6 |
দক্ষিণ চীন সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত অংশ যাতে চীনের হাতে না পড়ে, এই লক্ষ্যে উদ্ধার অভিযান প্রচণ্ড গতিতে চালাচ্ছে মার্কিনিরা। এর আগে গত সোমবার নিয়মিত মহড়া শেষে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ কার্ল ভিনসনে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়ে সাগরে পড়ে যায় বিমানটি। তবে তার আগে পাইলট বিমানটি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। এই ঘটনায় পাইলট ও যুদ্ধ জাহাজে থাকা ছয় নাবিক আহত হয়েছেন বলেন জানায় মার্কিন নৌবাহিনী। বুধবার মার্কিন সপ্তম বহরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট নিকোলাস লিঙ্গো সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, 'ইউএসএস কার্ল ভিনসনে দুর্ঘটনায় পড়া এফ-৩৫সি বিমানটি উদ্ধারের জন্য মার্কিন নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযানের ব্যবস্থা করছে।' তবে দক্ষিণ চীন সাগরের কোথায় যুদ্ধবিমানটি পড়েছে, তা জানায়নি মার্কিন নৌবাহিনী। এই বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, পুরো সমুদ্র সীমা দাবির মতোই চীন এই যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত অংশ দাবি করে বসতে পারে। হাওয়াইয়ে মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের জয়েন্ট ইন্টিলিজেন্স সেন্টারের সাবেক অভিযান বিষয়ক পরিচালক কার্ল সুস্টার সিএনএনকে বলেন, 'চীন তার সাবমেরিন ও গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানকারী সাবমিজারেবলসের সাহায্যে এই যুদ্ধবিমানের খোঁজ ও জরিপ করতে পারে।' চীন ৩৩ লাখ বর্গ কিলোমিটার (১৩ লাখ বর্গ মাইল) আয়তনের দক্ষিণ চীন সাগরের পুরোটাই নিজের বলে দাবি করে আসছে। চীনা নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড ওই অঞ্চলে তাদের বিপুল উপস্থিতি বজায় রেখেছে। একইসাথে দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন দ্বীপে সামরিক স্থাপনা নির্মাণ ও সৈন্য মোতায়েন করে আসছে দেশটি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করছে এবং 'ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল মুক্ত রাখতে' এই অঞ্চলে সামরিক অবস্থান নিয়েছে। সূত্র : সিএনএন | 3 |
অঞ্জন দত্ত সরাসরি লাইভে যোগ দিয়েই উপস্থাপিকাকে বলেন, 'তোমার কি কোনো প্রশ্ন আছে, নাকি আমি শুরু করব? অঞ্জন দত্তের মুখে আলো কম। তাঁর হাতে একটি জ্বলন্ত সিগারেট। সেই চিরচেনা কথার ধরনে শুরু হয় অঞ্জন দত্তের প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টার আড্ডা। তিনি কলকাতা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের সরাসরি চলচ্চিত্র আড্ডায় যুক্ত হন।এই আড্ডায় উঠে আসে, ভালোভাবে বাংলা বলতে না পারা ছেলেটি কীভাবে কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্রে অঞ্জন দত্ত হয়ে ওঠেন সেই গল্প। আলোচনাজুড়ে ঘুরেফিরে আসে বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক কুমার ঘটক, মৃণাল সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, গৌতম ঘোষ, অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষসহ দেশের মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও স্থান পান আলোচনায়। অঞ্জন দত্ত একাধারে গায়ক, থিয়েটারশিল্পী, অভিনেতা ও পরিচালক। অতীত ও বর্তমান চলচ্চিত্রের তরুণ নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমাদের অতীত নির্মাতা এবং তরুণ নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের পার্থক্য আরব সাগরের মতো, প্যাসিফিক ওশানের মতো অনেক বড় পার্থক্য। এই সময়ের নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করলে মনে হয়, চাকরি করতে এসেছি। কারণ, তাদের মধ্যে সেই প্যাশনটা নেই। অনেক নির্মাতা স্ক্রিপ্টই পড়ে না।' এই সময় তিনি আমাদের দর্শকের রুচি উন্নত করার কথা বলেন। দর্শকদের ভালো ছবি চাইতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দর্শক জনপ্রিয়তার পেছনে দৌড়ালে সিনেমা মারা যাবে। দর্শক চাইলে ভালো ছবি হবে। ভালো ছবি এখন না চললে কি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে চলবে? চাঁদে ভালো ছবি চলবে? ভালো ছবির পাশে দর্শককে দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়াতে হবে। আমি জানি, কত অল্প টাকায় বাংলাদেশে টিভির জন্য নাটক হয়। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।' বর্তমান দর্শক বেশি ঝুঁকছে থ্রিলারের দিকে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, 'সিরিয়াল কিলিং, খুনোখুনি, মারামারি, ড্রাগস-এই থ্রিলারের দিকে এখন দর্শক, নির্মাতা ছুটছেন। এটাই কি ভবিষ্যতের সিনেমা? এখন যদি সবাই লগ্নি করার আগে থেকেই চিন্তা করে, দর্শক এই, ওই ছবি দেখছে, এগুলো বানালে টাকা ফিরে আসবে; তাহলে আমরা নতুন ধারা এবং নতুনভাবে চিন্তা করা থেকে পিছিয়ে আসব।' তরুণ নির্মাতাদের সম্পর্কে বলেন, 'প্রথমত, যেকোনো ধরনের মানুষ চেনার ক্ষমতা থাকতে হবে, সেই চোখ থাকতে হবে। সিনেমার প্রযুক্তির জ্ঞান, সম্পাদনা, ক্যামেরার কাজ জানতে হবে। প্রচুর সাহিত্য জ্ঞান থাকতে হবে। যেটা করতে চাই, সেটা করার অদম্য ইচ্ছা থাকতে হবে। ফরমায়েশি কাজ করলে হবে না। লোকে চাইছে বলে কিছু বানালে হবে না। তুমি নিজে যেটা ধারণ করো, সেটা করো। সেই জন্য প্রচুর বই পড়তে হবে, একটা ভালো সিনেমা বারবার দেখতে হবে, অজস্র পেইন্টিং দেখতে হবে।' এই সময় তিনি অধিকাংশ তরুণ নির্মাতার কাছে প্রশ্ন রাখেন, 'আপনারা এই যে একটা গল্প বলতে যাচ্ছেন, সেটা কেন? স্ক্রিপ্টটা কেন করছেন? অনেকেই বলবে আমার ভালো লেগেছে। তোমার তো রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়ার ভালো লাগে। সেটা কখনো উত্তর হতে পারে না। নির্মাণের জন্য তোমার ভেতর থেকে অদম্য টান থাকতে হবে। সে জন্য দেশ-বিদেশের সিনেমা দেখো। নির্মাতার দায়টা বুঝতে শেখো।' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের এই আড্ডায় দর্শকদের প্রশ্ন থেকে এই নির্মাতার কাছে জানতে চাওয়া হয় বিভিন্ন প্রশ্ন। একজন দর্শক বর্তমান ওয়েব সিরিজের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে অঞ্জন দত্ত বলেন, 'নেটফ্লিক্স থেকে শুরু করে ৭০ ভাগ অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের ওয়েব সিরিজ গার্বেজ। রাজ্যের সব গার্বেজ দর্শক দেখছে। বড় বড় অনলাইন স্ট্রিমিংগুলোতে সত্যজিৎ রায়, বার্গম্যানের মতো ক্ল্যাসিক্যাল নির্মাতার তেমন কোনো ছবি নেই কেন? সব অস্কারের ছবি দিয়ে ভরা। অথচ এই গার্বেজই নাকি ভবিষ্যতের ফরম্যাট। এর কটা ভালো বলব? ওয়েব সিরিজের সবই খারাপ। তবে ৩০ ভাগ মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ। নেটফ্লিক্স, আমাজনসহ অন্যদের দায়িত্ব নিয়ে ভালো কাজ প্রচার করতে হবে।' বাংলাদেশের মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর 'টেলিভিশন' ছবির তিনি খুবই প্রশংসা করেন। জানান বাংলাদেশের সঙ্গে কলকাতার যৌথ ছবি বেশি করে নির্মাণের কথা। সেটা করলে দুই বাংলার দর্শকের কাছে ভালো ছবি পৌঁছানো যাবে। দুই বাংলা মিলে এই ছবির বড় একটা দর্শক তৈরি হবে। তাহলে ভালো ছবি বেঁচে থাকবে। তবে প্রযোজকদের ইন্টারফেয়ার করতে দেওয়া যাবে না। সত্যজিৎ রায়ের 'শাখা প্রশাখা' ছবিতে অঞ্জন দত্তের অভিনয়ের কথা ছিল। সেই ছবিতে অভিনয় নিয়ে তিনি বলেন, '"শাখা প্রশাখা" ছবির সময় তিনি একটি চরিত্র আমাকে দিয়ে করানোর কথা ভেবেছিলেন। সেটা জেনে আমি তো প্রচণ্ড উত্তেজিত। তারপর নানান কারণে সেটা হয়নি। আমার চরিত্রটি পরে রঞ্জিত মল্লিক করেছিল। আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে শুনে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছিলাম। ওই সময়ে আমি মৃণাল বাবুর কাছে এসে কান্নাকাটি করেছিলাম।' শুরুতেই অঞ্জন দত্ত দার্জিলিংয়ে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়ার সময়ে ছবি দেখার গল্প শোনান। সেই সময়ে তাঁর দেশ-বিদেশের নানা ক্ল্যাসিক্যাল সিনেমার সঙ্গে পরিচয় ঘটে। তখন থেকেই তিনি হতে চান একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা। পরে কলকাতায় এসে বিভিন্নভাবে সিনেমায় জড়াতে চেষ্টা করেন। তারপর মৃণাল সেনের 'কলকাতা ৭১' ছবিটি তাঁর মনে খুবই দাগ কাটে। চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রথম সুযোগ হয় ১৯৮০ সালে মৃণাল সেনের ছবিতে অভিনয়ের। তখন থেকেই তিনি নির্মাণের কাজগুলো সেটের নির্মাতা, ক্যামেরাম্যান, লাইটম্যান, সম্পাদক এবং ছবির সেটের অন্য কলাকুশলীদের কাছ থেকে শিখতে থাকেন। পরে তিনি মঞ্চ, গান এবং পরিচালনার সঙ্গে জড়িয়ে যান। বর্তমানে গান না করা নিয়ে তিনি জানান, 'যত দিন মানুষ গান টাকা খরচ করে দেখবে না তত দিন নতুন গান নিয়ে আসব না।' | 2 |
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ইরাকের কিংবদন্তি ফুটবলার আহমেদ রাধি (৫৬)। রবিবার (২১ জুন) দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল করে জাতীয় বীর বনে গিয়েছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ইরাকের একমাত্র গোল সেটিই। জানা যায়, করোনা পরিক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়ায় গত সপ্তাহে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ছাড়েন তিনি। তবে এর কয়েকঘণ্টা পর ফের অসুস্থ হওয়ায় আবারো হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রাধিকে। রাধির নেতৃত্বে ইরাক ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে জয় লাভ করেছিল গালফ ফুটবলের শিরোপা। এ সময় তিনি এশিয়ার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাবও লাভ করেন। | 12 |
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান জানান, বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এসব অভিযানে ২৫২৪ ইয়াবা, এক কেজি ৪০৮ গ্রাম হেরোইন, ৬১ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৪টি মামলা করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। | 6 |
ভারতে পাচারকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন ৭৩ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের বারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. মনিরুল ইসলাম (৫০)। মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার বজ্র বক্স বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন বিজিবি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে একটি স্বর্ণ চোরাচালানে চক্র বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার ভারতে পাচার করবে। এই খবর পাওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা কলারোয়া থানার বজ্র বক্স বাজার এলাকার আশেপাশে নজরদারি জোরদার করে। রাতে মেজর রেজার নেতৃত্বে বিশেষ টহলদল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস থেকে ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বজ্রবাক্স বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য মনিরুল ইসলামকে আটক করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করলে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ১কেজি ১৬৬ গ্রাম ওজনের দশটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য ৭৩ লাখ টাকা। স্বর্ণ চোরাকারবারী মনিরুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর থানার মুড়াকাটির ঘরচালা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. আমজাদ হোসেন। মনিরুল কে কলারোয়া থানায় সোপর্দ করার হয়েছে। | 6 |
করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দরিদ্র দেশগুলোর পরিস্থিতি উন্নয়নে ৯ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সংস্থাটি এমন ঘোষণা দেয়। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) এটিই সবচেয়ে বড় আর্থিক সহায়তা। বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিষ্ঠান ৭৪টি দেশকে আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। এই দেশগুলোর মধ্যে অধিকাংশই আফ্রিকা অঞ্চলের। খবর এএফপির। বিশ্বব্যাংক বলেছে, মহামারিসহ ভবিষ্যতের যেকোনো সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহায্য করবে এ তহবিল। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থের দুই হাজার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে উচ্চ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো থেকে। এ ছাড়া পুঁজিবাজার ও বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকেও এসেছে অর্থ। দরিদ্র দেশগুলোর করোনা সংকট মোকাবিলায় একে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস। | 3 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সহযোগী সংগঠনগুলোর ঘোষিত কমিটির বিষয়ে যে কোনো অভিযোগ-আপত্তি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বুধবার সকালে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে একথা বলেন। কমিটির কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের কাঠামোর আওতায় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতাকর্মীরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ সংক্রান্ত অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দিতে পারবেন। তিন বলেন, ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করবে। শীঘ্রই জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন যাচাই-বাছাই চলছে। বিএনপি নেতারা নির্বাচনী পরিবেশ নেই বলে যে অভিযোগ করছেন সেই প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের তাদের সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেসময়ে নির্বাচন মানেই ছিল সংঘাত আর প্রাণহানি, স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ঘটেছে অসংখ্য জীবনহানির মতো ঘটনা। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এখন দেশের কোথাও নির্বাচনী সংঘাত নেই। তিনি বলেন, বিএনপি উদ্দেশ্যমূলক নিষ্ক্রিয়তা দেখায়। তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যে তাদের ভোটাররাও কেন্দ্রে আসে না, আর ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য বিএনপির অপকৌশল কাজ করে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তাদের নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার অপকৌশল জনগণ বুঝে ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। | 9 |
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় একজন মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি করোনা উপসর্গে মারা যান বলে হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে মোট রোগী ছিল ৫৫ জন। নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭ জন।এর আগে গতকাল জেলার ৩৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৪৯ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। | 6 |
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৩০ বছর আগে নির্মিত একটি সেতু বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। জরাজীর্ণ সেতুটির ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন শত শত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের পশ্চিম বাগধা ও কালারবাড়ি গ্রাম-সংলগ্ন খালের ওপর ত্রিশ বছর আগে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের ৮ বছর পরেই এটির সিমেন্টের তৈরি পাটাতন ধসে যায়। এতে করে সেতুটি মরণফাঁদে পরিণত হয়। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে এটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুটি অচলাবস্থার কারণে চলাচলের একদম অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের শত শত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিকল্প কোনো যাতায়াতের পথ না থাকায়, মরণফাঁদ জেনেও সেতু দিয়ে পার হচ্ছেন গ্রামবাসীসহ শিশু ও বৃদ্ধরা।সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুপাশের সিমেন্টের তৈরি পাটাতন ধসে একপাশ খালের মধ্যে হেলে পড়েছে। সেতুর পাটাতনগুলো ভেঙে যাওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল ও ভ্যান যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেতু পার হচ্ছেন এলাকাবাসী।পশ্চিম বাগধা গ্রামের বাসিন্দা কাওছার মোল্লা বলেন, 'পাটাতন ধসে যাওয়ার পর সেতুটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে কোনোরকমে পার হচ্ছেন স্থানীয়রা।'জয়রামপট্টি গ্রামের বাসিন্দা মিন্টু মিয়া জানান, সেতুটিতে মানুষ উঠলে কখনো ডানে অথবা কখনো বামে কাত হয়ে যায়। অথচ সেতুটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো মাথাব্যথা নেই। কয়েক বছর ধরে শুনছি সেতুটি মেরামত করা হবে। কিন্তু মেরামত কবে হবে তা কেউই বলতে পারে না।স্থানীয় ইউপি সদস্য রুস্তম মিয়া বলেন, 'সেতুটি সংস্কার করা হলে বাগধা, আমবৌলা, জয়রামপট্টি ও পার্শ্ববর্তী কোটালীপাড়া এলাকার মানুষসহ আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। সেতুটি যাতে দ্রুত সংস্কার করা যায় সে বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করব।'বাগধা ইউপির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি বলেন, 'পশ্চিম বাগধা কালারবাড়ি গ্রামের পাশে অবস্থিত খালের ওপর ওই সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।'এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শিবলু কর্মকার বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির অবস্থা খুবই বেহাল। সেতুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
স্বাধীনতার পর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। চলমান সংকট সামাল দিতে শ্রীলঙ্কায় সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ছাড়া মন্ত্রিসভার ২৬ সদস্যের সবাই ইতোমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও। এদিকে ধারাবাহিকভাবে দরপতন হওয়ায় দেশটির শেয়ারবাজারের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'জাতীয় এই জরুরি মুহূর্তে সকল নাগরিক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার সময় এসেছে। পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী সমস্ত রাজনৈতিক দলকে জাতীয় এ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে একতাবদ্ধ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।' এর আগে গোতাবায়া রাজাপাকসেকে সর্বদলীয় অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন দেশটির সাবেক শিল্পমন্ত্রী উইমাল উইরাওয়ানসা। রোববার দেশটির পার্লামেন্টের ১১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই প্রস্তাব দেন তিনি। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কম। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় জ্বালানিসহ অন্য পণ্য আমদানির মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না দেশটি। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থান থাকছেন। তাই কারফিউ উপেক্ষা করে রাস্তায় রাস্তায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। এমন দুরবস্থার মধ্যে লঙ্কান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অজিথ নিভারদ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি টুইট করেন, 'মন্ত্রিসভার সবার পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।' এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দেশটির বেশ কিছু হাসপাতাল সার্জারি বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি সড়কবাতিও জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রব্যমূল্যোরর উর্ধ্বগতি। শ্রীলঙ্কার পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশটিতে খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। | 3 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ। রবিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকালে নগরীর জামালখান, আন্দরকিল্লা, লালদিঘি, চকবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবিদের কাছে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রণির নেতৃত্বে নৌকা মার্কায় ভোট ও দোয়া কামনা করছেন নেতাকর্মীরা। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির নির্দেশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ভোট ও দোয়া চান কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে। এ সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রণি, যুগ্ম সম্পাদক আমির আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম চৌধুরী, যুবলীগের সভাপতি সোলায়মান তালুকদারসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হচ্ছে। নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে জানান, জামালপুরের ডিসিকে ওএসডি করার প্রক্রিয়া চলছে। রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চার মিনিট ৫৮ সেকেন্ড ও ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যাতে জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবীরকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে। তবে জেলা প্রশাসক ঘটনাটি অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি। দু-এক দিনের মধ্যে এটি সমাধান হবে। এদিকে রোববার অফিস খুললে বিষয়টি তদন্তের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি তদন্ত দল জামালপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। তবে শুক্রবার সকাল থেকে ওই আইডিতে ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার আগেই তা ভাইরাল হয়। | 6 |
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ভোলাগঞ্জ-কলাবাড়ি-দয়ারবাজার সড়কে উন্নয়নকাজ চলছে। তবে সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেছে, কলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সড়কের মাঝে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়ে গেছে। এটি না সরিয়ে সড়কের উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরানোর কারণে চলাচলকারী যানবাহনের দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলাগঞ্জ-কলাবাড়ি-দয়ারবাজার সড়ক সংস্কারে ১৪ কোটি ৪৬ লাখ ১ হাজার ৬১৪ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ধলাই ব্রিজ থেকে দয়ারবাজারের পূর্ব পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার ৭৫ মিটার আরসিসি রাস্তার কাজ চলছে। কলাবাড়ি এলাকায় ওই সড়কের মাঝখানে একটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করলেও বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করেই সড়ক পাকা করার কাজ চলছে। এতে সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা নিরাপত্তার খাতিরে অবিলম্বে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ করে সড়ক পাকা করার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমিনুল হক এবং মেসার্স এম রহমানের (জেভি) কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। তবে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাস্তার মাঝখানের বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য বিদ্যুৎ অফিস ও এলজিইডি অফিসকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।কলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুল আলীম বলেন, 'দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। তবে বিদ্যুতের পিলারটি এখনই সরানো উচিত। আর না হয় যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। দুর্ঘটনার মাধ্যমে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকবে।'কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহ্ আলম বলেন, নির্মাণাধীন রাস্তার মাঝখানের খুঁটি অপসারণের জন্য পল্লি বিদ্যুতের কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএমকে জানানো হয়েছে। যথাসময়ে খুঁটি অপসারণ করেই রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।কোম্পানীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি চৌধুরী বলেন, 'এলজিইডি অফিস এ বিষয়ে আমাদের কোনো চিঠি দেয়নি। স্থানীয় একজন আমাদের কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো তিনি সরকারি ফি আদায় করেননি। সরকারি ফি আদায় করলে আমরা বিদ্যুতের এই খুঁটি সরিয়ে দেব।' | 6 |
মধু খেতে ভালোবাসে না, এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। কারণ, পুষ্টিগুণের তালিকায় প্রথম সারিতেই থাকবে মধুর নাম। এটি শরীরের জন্য উপকারী এবং নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। মৌমাছির চাক থেকে সংগ্রহ করা ষোলো আনা খাঁটি মধুর স্বাদ থাকে আলাদা। মধুর বিভিন্ন ধরনের ওপর নির্ভর করে এর স্বাদও হয় ভিন্ন। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে মধুর পুষ্টিগুণ কমে যায় অনেকাংশে। তাই মধু সংরক্ষণ করার জন্য চাই সচেতনতা। বিভিন্ন ধরনের মধু থাকলেও তার সংরক্ষণের উপায় একই। বাজারে বিভিন্ন ধরনের খোলা মধু পাওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মধু সংরক্ষণ করা হয় অপরিষ্কার হাতে। রাখা হয় অস্বাস্থ্যকর পাত্র ও নোংরা পরিবেশে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতি করে বেশি। আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মধুর পরিবর্তে চিনি বা গুড়ের শিরা বোতলে ভরে বিক্রি করছেন মধু হিসেবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই খাঁটি মধু চেনার উপায় না জানায় প্রায়ই সম্মুখীন হন বিড়ম্বনার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুষ্টিবিদ ইশরাত জাহান জানান, মধু কিনে অনেকেই প্রতারিত হন। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন মধুটি খাঁটি বা আসল মধু? মধু কেনার সময় ব্র্যান্ডের মধুই কেনা উচিত। খোলা মধুতে ক্ষতিকর অনেক উপকরণ মেশানো হয় এবং এর শুদ্ধতা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। এর ফলে ক্রেতাকে সহজেই প্রতারিত করা যায়। কিন্তু বোতলজাত বিশ্বস্ত ও ভালো কোম্পানির মধু কিনে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক অনেক কম থাকে। কারণ, বোতলজাত মধুতে ক্ষতিকারক কোনো উপকরণ মেশানোর সুযোগ নেই। এসব মধু সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ করা বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে। এ ছাড়া খাঁটি মধু চেনার উপায় জানা থাকা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতি থেকে বাঁচতে জেনে নিতে হবে খাঁটি মধু চেনার সাধারণ কিছু উপায়, যেমন মধুতে কখনো কটু গন্ধ থাকবে না। খাঁটি মধুর গন্ধ হবে মিষ্টি ও আকর্ষণীয়। মধুর স্বাদ হবে মিষ্টি, এতে কোনো ঝাঁজালো ভাব থাকবে না। স্বভাবতই বিশুদ্ধ মধু বহুদিন ধরে রেখে দিলে জমে যেতে পারে, একে ক্রিস্টালাইজেশন বলা হয়। এ ক্ষেত্রে বোতলসহ গরম পানিতে বা রোদে কিছুক্ষণ রাখলেই মধু আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। গ্লাসে বা বাটিতে খানিকটা পানি নিয়ে তার মধ্যে এক চামচ মধু দিতে হবে। যদি মধু পানির সঙ্গে সহজেই মিশে যায়, তাহলে বুঝবেন যে এটা অবশ্যই নকল। আসল মধুর ঘনত্ব পানির চেয়ে অনেক বেশি, তাই তা সহজে পানিতে মিশবে না। এমনকি ভালোভাবে নাড়া না দিলে মধু পানিতে মিশবে না। মধু সংরক্ষণ করতে হবে বায়ুরোধী পাত্রে। আর পাত্রটি রাখতে হবে ঠান্ডা এবং শুকনো জায়গায়। নিম্নমানের প্লাস্টিকের বোতলে রাখলে মধুর 'অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল' উপাদান হারিয়ে মধু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই মধুকে বায়ুরোধী কাচের পাত্রে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে ভালো। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে প্রতিনিয়ত বাজারে বিভিন্ন অখ্যাত বা নতুন ব্র্যান্ডের মধু পাওয়া যাচ্ছে। তবে খাঁটি ও সেরা মানের মধু চেনার বিড়ম্বনায় না থেকে ক্রেতারা ভরসা রাখতে পারেন দীর্ঘদিনের পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর ওপর। কারণ, এসব মধু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত ও পরীক্ষিত হয়ে থাকে। গ্লোবাল সিন্ডিকেট স্টাডির ২০১৯ ও ২০২০ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মোড়কজাত মধুর তালিকায় ডাবর হানি বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে। | 4 |
মেষ(২১ মার্চ-২০ এপ্রিল)প্রিয়জনের কোনো সাফল্যের খবর মনকে প্রফুল্ল করে তুলবে। লেনদেন শুভ। পাওনা আদায়েও অগ্রগতি হবে। ব্যবসায়ে লাভের পাল্লাই ভারী থাকবে। দূরের যাত্রা শুভ।বৃষ (২১ এপ্রিল-২১ মে)ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে আপনার সুনাম বৃদ্ধি পেতে পারে। পাওনা আদায়ে অন্যের সহযোগিতা পেতে পারেন। প্রেমে সাফল্যের সম্ভাবনা আছে।মিথুন(২২ মে-২১ জুন)কর্মস্থলে আপনার ওপর বসের সুনজর পড়তে পারে। আজ আপনার অর্থভাগ্য বিশেষ শুভ। প্রেমিক-প্রেমিকার মনের আকাশে জমে থাকা কালো মেঘ আজ দূর হতে পারে। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি পাবেন।কর্কট(২২ জুন-২২ জুলাই)ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদনের জন্য দিনটি শুভ। চাকরিতে কারও কারও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। কোনো অসম প্রেমের সূচনা হতে পারে। সৃজনশীল কাজের জন্য সম্মাননা পেতে পারেন।সিংহ(২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট)কর্মস্থলে আজ আপনার কর্মদক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হতে পারে। যেকোনো চুক্তি সম্পাদনের জন্য দিনটি শুভ। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য আজ সুখবর আছে। হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে পেতে পারেন। দূরের যাত্রা শুভ।কন্যা(২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর)দিনটি শুরু হতে পারে প্রিয়জনের কাছ থেকে পাওয়া সুখবর দিয়ে। পাওনা আদায়ে কুশলী হোন। বিদেশযাত্রায় সুযোগ আসতে পারে। প্রেমে সাফল্য পাবেন।তুলা (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর)ব্যবসায়ে ঝুঁকি গ্রহণ করে লাভবান হতে পারেন। আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। চাকরিতে শুভ পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। রোমান্স ও বিনোদন শুভ।বৃশ্চিক (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর)গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাফল্যের দেখা পেতে পারেন। বেকারদের জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। পাওনা আদায়ে কুশলী হোন। আর্থিক লেনদেন শুভ। প্রেমে সাফল্য পেতে পারেন।ধনু (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর)চাকরিতে আরোপিত শাস্তি মওকুফের সম্ভাবনা আছে। প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হতে পারে। পাওনা আদায়ে অগ্রগতি হবে। মামলার রায় আপনার পক্ষে যেতে পারে।মকর (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি)ব্যবসায়িক লেনদেনে স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে। বেকারদের অনেকেই আজ নতুন কাজের সন্ধান পাবেন। বিদেশযাত্রায় আত্মীয়ের সহায়তা পেতে পারেন। প্রেমে সাফল্যের দেখা পাবেন।কুম্ভ(২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি)আর্থিক বিষয়ে কোনো সুখবর পেতে পারেন। পাওনা আদায়ে প্রভাবশালী কারও সহযোগিতা পেতে পারেন। সৃজনশীল পেশায় সুনাম ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পাবেন।মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)ব্যবসায়িক ভ্রমণ ফলপ্রসূ হতে পারে। আজ কারও প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিতে হতে পারে। মামলা-মোকদ্দমা থেকে দূরে থাকুন। পাওনা আদায়ে অগ্রগতি হবে। ব্যর্থ প্রেমের সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। | 6 |
মহান স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে গিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতিসৌধে বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের শিক্ষকদের মধ্যে এ হাতাহাতি হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের শিক্ষক ইউনিটের শিক্ষকরা ফুল দিতে বেদীতে ওঠতে গেলে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর সেখানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রঘোষিত কমিটির শিক্ষকরা গেলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। দুই পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক এ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে সিনিয়র শিক্ষকদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে এসে মানববন্ধন করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের শিক্ষকরা। এ সময় তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তপন কুমার জোদ্দার বলেন, 'জাতীয় দিবসে বিশৃঙ্খলা হোক এটা আমরা কখনো চাইনি। কিন্তু অপরপক্ষ আমাদের কাছ থেকে ফুলের ডালি নিয়ে ভেঙে দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।' বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন বলেন, 'এটা তাদের পূর্বপরিকল্পনা ছিল। তারা জুনিয়র শিক্ষকরা সিনিয়র শিক্ষকদের অসম্মান করেছেন। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।' বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'তারা চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সমাঝোতা করা সম্ভব।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 1 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আর ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫৮৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৩৪৫ জনের দেহে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৩২ জনে। রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ১৫৯ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৬ লাখ ২ হাজার ৫৫০ জন। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৩৮ হাজার ২৪৭টি। পরীক্ষা করা হয় ৩৮ হাজার ৮২১টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২১.৫০%। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, ১৪ জন নারী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১৪ জন। চট্টগ্রামে ৪, রাজশাহীতে ১, খুলনায় ৪, সিলেটে ১, রংপুরে ৩ ও ময়মনসিংহে ২ জন মারা গেছেন। | 6 |
সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার বেলা পৌনে তিনটার দিকে তিনি উপাচার্য ভবন থেকে বের হয়ে ডিনদের এক সভায় যাওয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তার দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করেই উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালান। এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাঁকে আগলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে নিয়ে যান। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁকে দেখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য স্লোগান দিয়ে পথ অবরোধ করেছিলেন। উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষক এখন আইসিটি ভবনের ভেতরে আছেন। বাইরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, আজ বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও প্রক্টর আলমগীর কবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। এ সময় তাঁরা ছাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে এক সপ্তাহ সময় চান। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা 'ভুয়া, ভুয়া' শব্দ করে শিক্ষকদের আশ্বাস প্রত্যাখান করে তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা চান। এমন অবস্থায় শিক্ষকেরা কর্মসূচিস্থল ত্যাগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শিক্ষকেরা স্থান ত্যাগের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়ে তাঁদের পেছন পেছন হাঁটতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের 'চেতনা ৭১'-এর সামনে থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের দিকে এগোতে থাকেন। এ সময় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ডিনদের এক সভায় অংশ নেওয়ার জন্য নিচে নামলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁর পথ অবরোধ করেন। তখন আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাঁকে আগলে আইসিটি ভবনে নিয়ে যান। বিকেল সোয়া চারটার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আইসিটি ভবনের সদর দরজায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন মুঠোফোনে প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন, উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে না নেওয়ার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। শিক্ষক সমিতিসহ সব বিভাগের প্রধানেরা কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সব দাবি মানার আশ্বাস দেন। তখন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন। এরপর উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। উপাচার্যকে রক্ষা করতে গিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হামলায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আহত হয়েছেন। এতে তাঁরা খুবই মর্মাহত। এর আগে আজ সকাল পৌনে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের অর্ধশতাধিক ছাত্রী তিন দফা দাবিতে গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রধান রাস্তা 'কিলো সড়ক' অবরোধ করে তিন দফা দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ চেয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অনেক ছাত্রী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী এ আন্দোলনে যোগ দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন করছেন হলের ছাত্রীরা। | 6 |
করোনাকালে কর কমানোর বাজেট মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবী ও অতি ধনীদের জন্য করুণার সুখবর। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর সম্প্রসারণ সরকারের আন্তরিকতারই প্রকাশ। তবে যে গুটিকয়েক বিষয় বিতর্কের প্রসঙ্গ হয়ে উঠেছে, তার একটি 'সাদাটাকা-কালোটাকা। এ টালমাটাল জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও বিশ্বজনীন অস্থিরতার সময়ে আমরা কৌতুক করার মানসিকতায় নেই। তা সত্ত্বেও কালোটাকার কথায় প্রথমই মনে যে স্লোগানটি এসেছে তা হলো-'ব্ল্যাক মানি ম্যাটার্স'। পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এখন ফুঁসে আছে। বাজেট বা করোনার মতো খবরের আগে আসছে কালো জীবনের খবর। ভবিষ্যতের জন্য যা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়, বরং বিপদসংকেত। আমাদের দেশের শেয়ারবাজারের নীতিনির্ধারকেরা প্রতিবছর বাজেটের আগে একটি প্রস্তাবনা বা দাবিনামা পেশ করেন। সরকার বাহাদূর যে দলেরই হোক না কেন, এসব প্রস্তাবনা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে। কারণ, শেয়ারবাজার ভালো বা চাঙা করার প্রতিশ্রুতি নেতারা সব সময়ই দিয়েছেন। এই প্রস্তাবের তালিকায় বছর, সময় বা শাসক দলের প্রাথমিক নীতির তোয়াক্কা না করে যা থাকে, তার একটি হলো কালোটাকা শেয়ারবাজারে আসার অবাধ সুযোগ করে দেওয়া। কারণ, ব্ল্যাক মানি ম্যাটার্স। কালোটাকা যত কালোই হোক, তার মূল্য আছে। তবে এ কথা সত্য, প্রথমত কালোটাকা আগমনে শুভেচ্ছা স্বাগতমের কোনো সম্মান নেই। দেশে-বিদেশে সত্যিকারের বিনিয়োগকারীদের এটি হাসায় আর ভয় দেখায়। দেশে যে কালোটাকা আছে, এ সংবাদটাই আমাদের জাতীয় ভাবমূর্তির জন্য খারাপ। আমাদের মতো যারা সরকারকে ফিবছর ঠিকঠাক কর দিয়ে থাকে, তাদের জন্য এটি একটি চপেটাঘাত। যথাসময়ে আমি কর দেব ২৫ শতাংশ হারে। আর যিনি দেননি বা পরে দিলে এ করহার ১০ শতাংশ। হায় সেলুকাস! কালোটাকার উৎস কাগজে-কলমে না থাকায় আমি আমার বক্তব্য প্রমাণ করতে পারব না, তবে এটুকু বলতে পারি, এগুলো চুরি-ডাকাতির টাকা। কিন্তু এ চুরি-ডাকাতির বিচার না করে দেওয়া হচ্ছে পুরস্কার। স্বাধীনতার পর দেওয়া বেশ কয়েকবার কালোকে সাদা করার প্রস্তাব এলেও বাজারে এসেছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ রংবদলের প্রস্তাব খুব বেশি উৎসাহিত করেনি কালোটাকার মালিকদের। কালোটাকাকে সাদা করা সুযোগ শেয়ারবাজারে দেওয়া হলেও তা বাজারের কোনোই উন্নতি হবে না। শেয়ারবাজারের জন্য দরকার দৃশ্যমান সেতু, মেট্রোর মতো শক্তিশালী অবকাঠামো। যেগুলো আমাদের বন্ড মার্কেট চালু করবে। ডেরিভেটিবস নিয়ে আসবে। কৃষককে বাজার অর্থনীতির আওতায় আনতে এমন দৃশ্যমান অবকাঠামো দরকার। আমরা বাঙালিরা দেশের জন্য রক্ত দিতে পারি, কিন্তু কর দিতে রাজি নই। কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ বিতরণ করুন। তাতে শুধু শেয়ারবাজার নয়, দেশ ও দশের উপকার হবে। ওয়ালি উল মারুফ মতিন,ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মসলিন ক্যাপিটাল | 0 |
চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা ও কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে মেং ওয়ানঝুকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কানাডা। কিন্তু আদালত তার বিরুদ্ধে করা মামলার চূড়ান্ত রায় না দিলে সেটা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মেং ওয়ানঝুকে হস্তান্তরের জন্য বারবার কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। তারা হুওয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের কাছে প্রযুক্তি বিক্রি করার দায়ে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় ওঠাতে চায়। গত বছরের ডিসেম্বরে হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেং ঝেনফাইয়ের মেয়ে মেং ওয়ানঝুকে ভ্যাঙ্কুবার বিমানবন্দর থেকে আটক করে কানাডা। যুক্তরাষ্ট্রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি ওয়ানঝুকে আটক করে। কেননা যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডার মধ্যে প্রত্যার্পণ বিষয়ক চুক্তি আছে। চীন বলছে, মেং ওয়ানঝুর বিরুদ্ধে যে মামলাটি আছে তা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে প্রত্যার্পণ বিষয়ক যে চুক্তি আছে তার অপব্যবহার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেন, 'প্রত্যার্পণ বিষয়ক শুনানিটি হতে যাচ্ছে একটি রাজনৈতিক ঘটনা।' তবে কানাডার আদালতে চীনা এ শীর্ষ নির্বাহীর হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে কয়েক মাস এমনকী বছরও লেগে যেতে পারে। চীনের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের শীর্ষ এই কর্মকর্তাকে আটকের ঘটনায় বাণিজ্য যুদ্ধের দুই বৈরি প্রতিপক্ষ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন মামলা দায়ের করেছে। যদি মামলার শুনানিতে ওয়ানঝুকে হস্তান্তরের যৌক্তিকতা মনঃপুত হয় তাহলে বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিতে পারেন। কানাডার বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, 'প্রত্যার্পণ চুক্তি অনুযায়ী আদালতের শুনানিতে কারো বিচার হয় না। কাউকে দোষী সাব্যস্ত কিংবা নিষ্পাপ বলেও রায় দেয়া হয় না। অন্য কোনো দেশে বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিকে হস্তান্তরের আগে কানাডার আদালতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে হয়।' | 3 |
নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকিতে করা মামলার তদন্তভার পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার মামলাটি ধানমন্ডি থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি- ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ ও ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক দীপুকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে হাজী সেলিম ও ইরফান সেলিমের পক্ষে গতকাল পুরান ঢাকার একদল ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাদের দাবি, ইরফান সেলিম গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুরান ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্য 'ব্যাহত হচ্ছে'। দুপুরে পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। গত রোববার রাতে ধানমন্ডিতে হাজী সেলিমের 'সংসদ সদস্য' লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার ইরফান সেলিমসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়। এদিন পুরান ঢাকার দেবী দাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ইরফানকে মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহারের অপরাধে দেড় বছর এবং জাহিদকে ওয়াকিটকি ব্যবহারের জন্য ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ধানমন্ডি থানার মামলায় বুধবার ইরফান সেলিম ও জাহিদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর আগের দিন হাজী সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা দীপুকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। ধানমন্ডি থানায় রেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। গ্রেপ্তারের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান সমকালকে জানান, ইরফান, জাহিদ ও দীপুকে গতকালই মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ধানমন্ডি থানার মামলা ছাড়াও অস্ত্র ও মাদক আইনে ইরফানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে চকবাজার থানায়। এ মামলার বাদী র্যাব। এ মামলায় ইরফান ও জাহিদকে সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে রিমান্ড আবেদন পাঠায় চকবাজার থানা পুলিশ। 'হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার': হাজী সেলিমের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেব। তিনি বলেন, হাজী সেলিম পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের সুখে-দুঃখে সব সময় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজী সেলিমকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত বলেও প্রচার করা হচ্ছে। এতে পুরান ঢাকার ব্যবসা দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি তিনবার সংসদ সদস্য থাকাকালে তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাজী সেলিম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার খবর প্রকাশ বা প্রচার না করতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন তিনি। | 6 |
শরীয়তপুরে নদীভাঙন রোধে কীর্তিনাশার ডান ও বাম তীররক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় নড়িয়া উপজেলার লঞ্চঘাট এলাকায় নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।বাঁধটি নির্মিত হলে কীর্তিনাশার তীরবর্তী শরীয়তপুরের ৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার ১২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ কীর্তিনাশার ডান ও বাম তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাউবো। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।পাউবো সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের সদর ও নড়িয়া উপজেলার ওপর দিয়ে কীর্তিনাশা নদী প্রবাহিত হয়েছে। ১২০ মিটার প্রশস্ত পদ্মার শাখানদী হিসেবে নড়িয়ায় এর উৎপত্তিস্থল। ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদী মাদারীপুরের কালকিনির রাজারচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে গিয়ে মিশেছে। নদীর দুই পারে জেলা সদরের ৪টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, নড়িয়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা ও মাদারীপুরের ১টি ইউনিয়ন অবস্থিত।নদীর তীরে শরীয়তপুর ও নড়িয়া পৌরসভা, আঙ্গারিয়া বন্দর, ভোজেশ্বর বন্দর, কোটাপাড়া, আড়িগাঁও, মুন্সিরহাট, নড়িয়া বাজারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ২ সহস্রাধিক বসতবাড়ি রয়েছে। ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে নদীর তীর ঘেঁষে। প্রায় ২০ বছর ধরে এই জনপদের মানুষ নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। প্রতিবছর গড়ে ২ শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের কবলে পড়ে গৃহহীন হয়ে পড়ে। কীর্তিনাশা নদীর ভাঙনরোধে ২০১৯ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠায় পাউবো। ৩১৯ কোটি টাকার এ প্রকল্পের আওতায় মোট ২২টি প্যাকেজে ১১ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে ২২টি প্যাকেজের মধ্যে ৭টির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আরও ৮টি প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ৭টি প্যাকেজের টেন্ডারপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'শরীয়তপুরের নদীভাঙন ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কীর্তিনাশা নদীর উভয় পাশে বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পাকা সড়ক ও বসতি রয়েছে। বাঁধটি নির্মাণ করা হলে এই অঞ্চলে অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।'সকালে প্রকল্প এলাকায় আসেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাউবোর ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান সিকদার, নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব, নড়িয়া পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে এনামুল হক শামীম জানান, পদ্মা নদীর ভাঙন মোকাবিলায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ শেষের পথে। গত ৩ বছরে এই জনপদের একটি বসতিও নদীগর্ভে বিলীন হয়নি। এখন কীর্তিনাশা নদীর ভাঙন রোধে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। | 6 |
করোনায় প্রাণ হারালেন আরো এক চিকিৎসক রাজধানীর ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন। এ নিয়ে বাংলাদেশে করোনায় পাঁচ চিকিৎসকের মৃত্যু হলো। বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. মো. তিনি। জানা গেছ, ১৪ দিন ধরে আইসিইউতে ছিলেন ডা. মহিউদ্দিন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার তাকে ভেন্টিলেশনে নেয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। ২৪ দিন আগে তার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর নিয়ে আট বছর আগে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজে যোগ দেন অধ্যাপক মহিউদ্দিন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। | 6 |
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, "জেলখানার কয়েদিরাও খাবার পায়, পানি পায়। খাবার বন্ধ করে দেওয়া, ভিসির বাংলো কিংবা ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া বা কেটে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা, এগুলো আন্দোলনের অংশ হতে পারে না, এগুলো প্রতিহিংসামূলক।" সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব তিনি এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, "ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট আমরাও করেছি। কিন্তু আমরা কখনো বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি নাই। আজকে শুনলাম, ভিসির বাংলোতে পানি প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভিসির জন্য খাবার পাঠানো হয়েছিলো সে খাবারও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।" তিনি বলেন, "আমি ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুরোধ জানাবো, রাজনৈতিক ক্রীড়াঙ্গন হিসেবে তাদেরকে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। আমি আশা করবো, এর একটি যৌক্তিক সমাধান হবে।" হাছান মাহমুদ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান এবং সন্তানের মতো। তাদের দাবিদাওয়ার প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন নানা দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছি।" আরও পড়ুন-শাবি উপাচার্যকে খাবার দিতে গিয়ে ব্যর্থ প্রক্টোরিয়াল টিম এর আগে ২৩ জানুয়ারি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে "অযৌক্তিক" বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, "এমন দাবি সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।" মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, "অতি উৎসাহী হয়ে যদি কোনো অযৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করা হয় এবং কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যতীত, এমন অযৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়।" আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের "একেবারেই অনমনীয়" উল্লেখ করে তিনি বলেন, "একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলার বিষয় থাকে, একজন উপাচার্যকে চাইলেই চলে যেতে বলতে পারি না। এই আন্দোলন সমীচীন নয়। এটা বুঝতে হবে।" এদিকে আন্দোলন শিক্ষার্থীদের একজন বলেছেন, "ভিসি আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। আমরা তার কাছে সমস্যার সমাধানের জন্য গিয়েছি, তিনি আমাদের পুলিশের মার খাওয়ায়, গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ফোটে। আপইনি কি এরকম কারও অধীনে থাকতে চাইবেন? ভিসি হিসেবে আমরা তাকে চাই না।" প্রসঙ্গত, দিন দশেক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রভোস্টের দুর্ব্যবহার এবং হলে বিছানা সংকট ও খাওয়ার সমস্যা সমাধানের দাবিতে প্রভোস্ট জাফরিন আহমদ লিজার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে লিজা পদত্যাগ করলেও বর্তমানে তা ভিসি পদত্যাগের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়া ছাত্রীদের উপর হামলা করার অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর। পরে ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের বেধড়ক পিটুনি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটার পর থেকে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি। | 6 |
পোষ্য কুকুরকে 'উড়িয়ে' দেয় দিল্লির এক ইউটিউবার। কুকুরের পিঠে বেশ কয়েকটি হাইড্রোজেন বেলুন বেঁধে দিলে সেটি ভেসে যায় আকাশে। এমন কাণ্ড করার দায়ে সেই ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই ইউটিউবার গৌরবজোন নামের এক ইউটিউব চ্যানেলে সেই ভিডিয়ো আপলোড করেন। ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই পশুদের প্রতি নৃশংস আচরণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। উল্লেখ্য, বহু দেশেই কুকুরের পিঠে বেলুন বেঁধে তাকে ওড়ানোর ভিডিয়ো ট্রেন্ড করা হয়েছে। এতে প্রচুর ভিইউ আসে। তাই হয়ত সেই ট্রেন্ড অনুসরণ করতেই এই ভিডিয়ো শুট করেন গৌরব। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যায়, ইউটিউবার গৌরব তার পোষ্য কুকুরকে নিয়ে একটি পার্কে রয়েছেন। সেখানেই কুকুরটির পিঠে বেশ কয়েকটি রঙ-বেরঙের বেলুন বেঁধে দিয়েছেন তিনি। এরপর বেলুনে বাঁধা দড়ি টেনে কুকুরটিকে উপরে তুলতে দেখা যায় গৌরবকে। ওই অবস্থায় কুকুরটিকে কিছুক্ষণ দৌড় করান গৌরব। ভিডিয়োতে সেই সময় গৌরবকে বলতে শোনা যায়, কুকুরটি দৌড়লেই উড়তে শুরু করবে। কিন্তু তাতেও কুকুরটি না ওড়ায় গৌরব বলেন, আরও দুটি বেলুন বেঁধে দিলে কুকুরটি উড়বে। তার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই কুকুরটিকে শূন্যে ভাসতে দেখা যায়। এই ভিডিয়ো ইউটিউবে আপলোড করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই গৌরবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় দিল্লির মালব্য নগর থানায়। গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গৌরবের বিরুদ্ধে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আইন এবং পশু সুরক্ষা আইনের অধীনে মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন গৌরব। জানান, ভিডিয়োটি তিনি ডিলিট করে দিয়েছেন। পোষ্যে কুকুরের সঙ্গে এহেন আচরণ করার আগে তিনি তার সুরক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ইউটিউবার। পাশাপাশি তিনি মেনে নেন, বিদেশি ভিডিয়ো দেখে এহেন ভিডিয়ো বানানোর কথা তার মাথায় আসে। | 5 |
আগের ম্যাচের মতোই দুর্দান্ত সূচনা, শুরুতেই ভালো কিছুর আভাস। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন।ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করলেও ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবালের জুটি বাংলাদেশকে উপহার দেয় ৪৫ রান। এই জুটি যেভাবে খেলছিলো তাতে বড় কিছুর আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু তাদের বিদায়ে শুধু আফসোসই বেড়েছে দর্শকদের। দারুণ খেলতে থাকা সৌম্য নবম ওভারে কিউই পেসার ম্যাট হেনিরর বলে বোল্ড হয়ে যান। ২৫ বলে ২৫ রান করেছেন সৌম্য, তার ইনিংসে ছিলো ৩টি চারের মার। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও দারুণ শুরু করে ইনিংসাটাকে বড় করতে পারেননি সৌম্য। আজও তাই। সৌম্যর বিদায়ের পর তামিম ইকবালের সাথে জুটি বেধেছেন সাকিব আল হাসান। আগের ম্যাচে ৭৫ রানের ইনিংস খেলা সাকিব আজ শুরু করেছেন দেখেশুনে। তবে তামিম ইকবালও এদিন ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। দলীয় ৬০ রানে তিনি আউট হন ব্যক্তিগত ২৪ রানের মাথায়। তাকে ফিরিয়েছেন ফার্গুসন। ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। আর বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, তিনি টসে জিতলেও ফিল্ডিং নিতেন। উভয় দলের এটি দ্বিতীয় ম্যাচ। উভয়ে নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে। আজ উভয় দলের লক্ষ্য পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে যাওয়া। উভয় দলই আগের ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রেখেছে। বিশ্বকাপে এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ ম্যাচ খেলে সবগুলোতে হেরেছে টাইগাররা। তবে দেশের মাটিতে তাদের বেশ কয়েকটি সিরিজে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। | 12 |
সালমান শাহর অকালমৃত্যুর দায় নিতে মোটেই রাজি নন তার ডজনখানেক ছবির নায়িকা শাবনূর। তিনি মনে করেন, 'মিডিয়ায় কাজ করলে গুজব হয়। সেটি এখনকার তারকাদের মধ্যেও হয়। পত্রপত্রিকায় তারকাদের মধ্যকার প্রেম ও বিয়ে নিয়ে গুজব তো এখনও ছাপা হচ্ছে। সে সময়ও এমন ছাপা হতো। সেই গুজবের বিষয় টেনে এনে সামিরা এতদিন পর এভাবে কথা বলবে সেটি বিশ্বাস হচ্ছে না।' অস্ট্রেলিয়া থেকে ফোনে সমকালকে এভাবেই বললেন এক সময়ের জনপ্রিয় এই নায়িকা। শাবনূর মনে করেন, 'সামিরা (সালমান শাহর স্ত্রী) মানুষের কাছ থেকে নানান কথা শুনে হয়তো এসব বলছেন। কানকথা শুনে কারও ওপর দায় চাপানো ঠিক নয়। সামিরার উচিত মানুষের কথা না শুনে নিজের কথা শোনা।' পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানান এক সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই নায়িকা। তিনি বলেন, 'এই প্রতিবেদন নিয়ে আমি কিছুই জানতাম না। মিডিয়ার বরাতেই এটি জেনেছি। আমি জেনেই বা কী করব। এই ইস্যুতে তো আমি তেমন কেউ না। লড়াই চলছিল সালমান শাহর মা আর সামিরার মধ্যে। এখানে আমাকে টানার তো কথা নয়।' তবে তিনি বলেন, 'টানার কথা না থাকলেও টানা হচ্ছে। শুধু টানাই নয়, পিবিআইর প্রতিবেদনে সালমান শাহ শাবনূরের সম্পর্কের কথাও বলা হয়েছে।' গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুরহস্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে পিবিআই। সেখানে বলা হয়- খুন নয়, আত্মহত্যা করেছেন সালমান। পিবিআইর প্রতিবেদনে সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের 'অতি অন্তরঙ্গ' সম্পর্ককেও আত্মহত্যার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাও একই রকম দাবি করেছেন। তবে শাবনূর সমকালকে বলেন, 'সামিরা একবার বলেছে, আমার ভুলের জন্য আমাকে সরি বলতে। আবার এক গণমাধ্যমে পড়লাম- সে বলেছে, আমাকে সালমানের কানের কাছে মুখ নিয়ে কথা বলতে দেখে তার খারাপ লাগত। তার বাসায় গিয়ে সালমানকে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকতাম, বেশি মিশতাম সেটি তার ভালো লাগত না।। এসব কথার মাধ্যমে সে কী বোঝাতে চাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। তবে আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, সালমান আমার কো-আর্টিস্ট ছিল, ভাইবোনের মতো সম্পর্ক ছিল। সামিরাও সেটি জানত। শুধু সামিরা নয়, সালমানের মাও তো সেটি জানতেন।' সামিরার এখনকার বক্তব্যগুলো শাবনূর ভিন্নভাবে দেখতে চান। তিনি বলেন, 'সামিরা যদি কোনো কারণ ছাড়া দায় আমার ওপর চাপাতে চায়, আমি ভাবব সেটি সে নিজের গা বাঁচানোর জন্য করছে। নিজের ভালোর জন্য আরেকজন নিরীহ মানুষকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করছে।' | 2 |
দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে পরাজিত এক প্রার্থীর সমর্থকেরা খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো ভেঙে দিয়েছে। এতে কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় অর্ধলাখ মানুষ।ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বেলগাছি এলাকায়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে আবু সাঈদ খাঁন রঞ্জু (টিউবওয়েল প্রতীক) ও নুরুন্নবী মণ্ডল হিটলার (মোরগ প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আবু সাঈদ খাঁন রঞ্জু পরাজিত হন। গত শুক্রবার গভীর রাতে তার সমর্থকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাঁকোটি ভেঙে ফেলেন।সরেজমিনে দেখা যায়, খালের ওপর নির্মিত সাঁকোটি ভেঙে ফেলায় চলাচলে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার চর কল্যাণী, চরবেলগাছী, চরবিনোদপুর ও বেলগাছি গ্রামের মানুষ।অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচনে পরাজিত রঞ্জু বলেন, 'এ ধরনের কাজ করার জন্য আমি কাউকে নির্দেশ দিইনি। আমি অপরাধীদের বিচার দাবি করছি।'স্থানীয় ব্যবসায়ী শামীম রেজা বলেন, 'সাঁকোটি যাঁরা ভেঙেছে তাঁদের বিচার করতে হবে। এখন আমাদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে শহরে যেতে হচ্ছে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, 'সাঁকো ভেঙে ফেলার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি অবগত হয়েছে। তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।'খালটির ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, গ্রাম-গঞ্জে যেখানেই বাঁশের সাঁকো রয়েছে সেখানে পাকা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওই জায়গায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন। তাঁর গন্তব্য মতিঝিল। অন্য সময়ে একটু প্রতিযোগিতা হলেও বাসে উঠতে পারেন, কিন্তু আজ ভিন্ন চিত্র। সড়কে কোনো পরিবহন নেই। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল একমাত্র ভরসা। বাস না থাকার সুযোগে তারাও ভাড়া চাইছেন কয়েক গুণ। শরিফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বাস বন্ধ, অফিসে যাওয়ার কোনো উপায় পাচ্ছি না। অফিস তো বুঝবে না রাস্তায় বাস নেই। সপ্তাহের প্রথম দিন অফিসে যেতেই হবে।'শরিফ বলেন, বাধ্য হয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হবে। অন্যথায় চাকরি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। কেউ আমাদেরটা দেখে না।জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীসহ সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামীরা। আর এই সুযোগে রাস্তায় চলাচল করা রিকশাসহ প্রতিটি বাহন আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া।আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বগতির কারণে ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ডিজেল-কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। গত বুধবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন দাম ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে, যা ওই দিন রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়।ডিজেল-কেরোসিনের দাম বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিনই পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।ধর্মঘটের প্রথম দুই দিন সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি সরকার। আজ গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য বৈঠক ডেকেছে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিআরটিএ।গতকাল শনিবার সকালে মন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসভবনে মালিক সমিতির কয়েকজন নেতা বৈঠকে করেন। মন্ত্রী নেতাদের কথা শোনেন এবং আশ্বাস দেন। তবে তেলের দাম ও ভাড়া সমন্বয় না করা পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার না করার নীতিগত সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন নেতারা। | 6 |
বাজারে পাটের দাম চড়া, কিন্তু তার সুফল পাচ্ছেন না যশোরের পাটচাষিরা। কারণ তাঁদের হাতে এখন কোনো পাঠ নেই। চাষিরা গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তাঁদের খেতের পাট বিক্রি করে দেন। তখন প্রতি মণ কাঁচা পাটের দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এখন যশোরের বাজারে সেই পাট ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যশোরের অভয়নগর উপজেলার রামসরা গ্রামের পাটচাষি নিত্যানন্দ বৈরাগী জানান, গত মৌসুমে এক বিঘা জমিতে চাষ করে ১৩ মণ পাট পেয়েছিলেন। সেই পাট তিনি গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে প্রতি মণ বিক্রি করেন ৩ হাজার টাকার কম দামে। এখন তাঁর ঘরে বিক্রি করার মতো কোনো পাট নেই। তাই বাজারে দাম বাড়লেও তার কোনো সুফল তিনি পাননি। একই কথা জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের পাটচাষি শামীম হোসেনেরও। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, গত মৌসুমের শুরুতে জুলাই-আগস্ট মাসে জেলার বিভিন্ন বাজারে মান ভেদে পাটের প্রতি মণের দাম ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। আর গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ওঠে সাড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে সাড়ে ৫ হাজার থেকে পৌনে ৬ হাজার টাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে। যশোরের অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়ার বেসরকারি পাটকল রোমান জুট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, 'গত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে বন্যা হয়েছিল। এ জন্য অনেক খেতের পাট মরে যায়। এতে পাটের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। তা ছাড়া রপ্তানি বেড়েছে কাঁচা পাটের। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সর্বশেষ আমরা ৬ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে পাট কিনেছি।' জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে (২০২০) জেলায় ২৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছিল ২৩ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে। ২০১৯ সালের তুলনায় জেলায় আবাদ বেড়েছে পাটের। ওই বছর আবাদ হয়েছিল ২০ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে।বাঘারপাড়া উপজেলার পাট ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁচা পাটের দাম সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ওঠে গিয়েছিল। বর্তমানে তা কিছুটা কমে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। তবে বেশির ভাগ পাট ব্যবসায়ী বলছেন, বর্তমানে কৃষকের হাতে পাট নেই বললেই চলে। এ কারণে বাজারে দাম বাড়লেও তার সুফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। বরং মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দেশ-বিদেশে পাটের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে বাজারে কাঁচা পাটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। অথচ চার বছর আগে ২০১৬ সালে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১৭ সালে তা নেমে আসে ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টরে। যদিও ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল আরও বেশি। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। | 0 |
দক্ষিণ আফ্রিকার মাউসবেরী এলাকায় একটি বিপনি বিতানে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে শরীয়তপুরের দুই যুবককে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা, চলছে শোকের মাতম। নিহতদের মধ্যে উজ্জ্বলের জানুয়ারিতে বাড়িতে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের পিঁড়িতে বসার সেই স্বপ্ন কেড়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকার সন্ত্রাসীরা। নিহত যুবকরা হলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিসার ইউনিয়নের কাইচকুড়ি গ্রামের মৃত শহর আলী মাঝির ছেলে উজ্জ্বল মাঝি (৩২) ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের কাপাশপাড়া গ্রামের আলম মোল্লা (৩৪)। নিহত আলম মোল্লার হানিফা (৩) নামে এক ছেলে ও হাফসা (৬) নামে এক মেয়ে রয়েছে। প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। স্বজনরা লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী প্রবাসী ও নিহতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাইচকুড়ি গ্রামের উজ্জ্বল মাঝি ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতে যান। সেখানে তিনি একটি বিপনি বিতান খুলে বসেন। গত ১০ বছরে তিনি চারটি বিপনি বিতান খোলেন। গত রবিবার মাউসবেরী এলাকার বিপনি বিতানে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা উজ্জলের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এসময় তারা ওই দোকানের শ্রমিক নড়িয়া উপজেলার আলম মোল্লাকেও গুলি করে হত্যা করে। তখন সন্ত্রাসীদের এলোপাথারি গুলিতে ওই প্রতিষ্ঠানের ক্রেতা কালরড নামে এক দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এসময় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। নিহত উজ্জ্বলের বোন জামাই সুলতান মাহমুদ বলেন, এক যুগ ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন আমার শ্যালক উজ্জ্বল মাঝি। জানুয়ারিতে বাড়িতে এসে বিয়ের পিড়িতে বসার কথা ছিল তার। এর জন্য পছন্দ মতো মেয়ে দেখে আংটি ও কাবিন করে রাখা হয়েছে। কিন্তু সন্ত্রাসীর গুলি কেড়ে নিয়েছে সেই স্বপ্ন। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত যেন লাশ আনার ব্যবস্থা করা হয় বাংলাদেশে। আলম মোল্লার চাচাতো চাচা ফোরহাদ হোসেন বলেন, আলম দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে একটি দোকানে চাকরি করতেন। ওই দোকানটিতে পাঁচজন কমর্চারী ছিল। রবিবার রাতে কিছু সন্ত্রাসী দোকানে ঢুকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা এলোপাথারিভাবে গুলি করতে থাকে। এসময় আলম গুলিবৃদ্ধ হয়ে মারা যায়। তিনি বলেন, আলম এর তিন বোন, এক ভাই। ওর মা অনেক আগেই মারা গেছেন। আর বৃদ্ধ বাবা বিছনায় পরে আছেন। তাদের কিছু ফসলি জমি ছিল। সেই জমি বিক্রি করে ও ঋণ করে পরিবার আলমকে দেড় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাতে পাঠায়। আলম মোল্লার স্ত্রী রুমা আক্তার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে মেয়ে কাকে বাবা বলে ডাকবে? আমার সংসার কিভাবে চলবে? এদিকে উজ্জ্বল মাঝির বড় ভাই মারুফ মাঝি বলেন, উজ্জল প্রায় ১১ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে দোকান চালায়। কয়েক দিন ধরে সেখানকার চাঁদাবাজরা তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দেওয়ায় উজ্জ্বলকে দোকানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে সন্ত্রাসীর গুলিতে শরীয়তপুরের দুই ব্যক্তি নিহতের সংবাদ লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু সরকারিভাবে কোনোন খবর আমাদের কাছে আসেনি। নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
'হীরক রাজার দেশে' মনে আছে? কেউ একটু এদিক-ওদিক হলেই হীরক রাজা তাকে পাঠিয়ে দিতেন যন্তর-মন্তরে। সেখানে ছিল মিস্তষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র। আর এই যন্ত্রে একবার মাথা দিলে মস্তিষ্কের জটিল অলিগলিতে কী যেন কী হয়ে যেত। বিজ্ঞানীরা এখন জানাচ্ছেন, এমন এক যন্ত্র হাতে চলে এসেছে, যা মস্তিষ্কে বসানো যাবে তাকে ঠিকঠাক করার জন্য। তাঁরা আশা করছেন এর মাধ্যমে ভয়াবহ বিষণ্নতায় (ডিপ্রেশন) আক্রান্তদের জাগিয়ে তোলা যাবে, মুক্ত করা যাবে।আধুনিককালের এই মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্রকে বলা হচ্ছে ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন (ডিবিএস)। মস্তিষ্কের সেই বৈদ্যুতিক সংকেতগুলোকে এটি লক্ষ্যবস্তু করে, যা এর কার্যক্ষমতাকে ফিরিয়ে আনে। ১৫ মাস পরীক্ষার পর উচ্চমাত্রার বিষণ্নতার চিকিৎসায় এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে সাফল্যও এসেছে। এই সাফল্য সারা বিশ্বের বিষণ্নতায় আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের চিকিৎসায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা বিশ্বে ভয়াবহ বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২৮ কোটির কম নয়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অবসন্ন ভাব, হতাশা, উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আগ্রহের ভীষণ অভাব এবং এই সব মিলিয়ে জীবনকে অর্থহীন বলে মনে করা। এ ধরনের ব্যক্তিরা জীবন উপভোগের কোনো পথই খুঁজে পান না। নানাভাবেই এর চিকিৎসা করা হয়। নিয়মিত কাউন্সেলিং থেকে শুরু করে ওষুধ গ্রহণ-সবই রয়েছে এই চিকিৎসার অঙ্গ হিসেবে। কিন্তু এত কিছু করেও অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় বিষণ্নতায় ভোগাটাই সারা জীবনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়। এ থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় এত দিন ধরে খোঁজা হচ্ছিল। এখন বিজ্ঞানীরা সেই সুখবরই দিলেন। তাঁরা জানালেন-এমন ঘাঁটি গেড়ে থাকা বিষণ্নতার চিকিৎসাও সম্ভব। আর তা এই আধুনিক মস্তিষ্ক প্রক্ষালনের মাধ্যমে। আর এই প্রক্ষালন করবে ডিবিএস।যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ফ্রান্সেসকোর (ইউসিএসএফ) একদল বিজ্ঞানী বিষণ্নতা মোকাবিলায় নতুন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা মস্তিষ্কে এমন একটি বস্তু সংযোজনে সফল হয়েছে, যা পেসমেকারের মতো কাজ করবে। এখন পর্যন্ত এটি একজন রোগীর ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে, যেখানে সাফল্য পাওয়া গেছে।কীভাবে কাজ করে এই ডিবিএস? ইউসিএসএফ ওয়েইল ইনস্টিটিউট ফর নিউরোসায়েন্সেসের মনরোগবিদ্যার অধ্যাপক ড. অ্যান্ড্রু ক্রিস্টাল বলেন, চিকিৎসা-সাধ্যের বাইরে থাকা বিষণ্নতা নিরাময়ে আমরা একটি নতুন চেষ্টা চালাই। এ প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কে একটি বস্তু স্থাপন করা হয়, যাকে পেসমেকার বলা যেতে পারে। এই পেসমেকার মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোকে চিহ্নিত করে, যেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে থাকা বিষণ্নতার লক্ষণগুলোর সঙ্গে যুক্ত। মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোর বৈদ্যুতিক সংকেতগুলোকে চিহ্নিত করাটাই প্রথম কাজ। এবার আসে দ্বিতীয় কাজ। এই পর্যায়ে বিষণ্নতা দূরের জন্য বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠানো হয়। অর্থাৎ, উদ্দীপনা ও উৎসাহ তৈরি এবং আনন্দের অনুভূতিগুলোকে জাগিয়ে তোলার জন্য সংকেত পাঠানো হয়।কী এই ডিবিএস? এতে থাকে দুটি ইলেকট্রোড। এর একটি বিষণ্নতার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের বিভিন্ন সংকেত শনাক্তের কাজ করে। অন্যটি ঠিক বিপরীত সংকেত উৎপন্ন করে মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করতে সচেষ্ট থাকে।ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষণ্নতা মস্তিষ্কের বিভিন্ন এলাকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ডিবিএসের সুবিধা হলো এটি বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যেকোনো সংকেতকে শনাক্ত করে তা নিরসনে কাজ করে। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি প্রয়োজন ছাড়া সক্রিয় হয় না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি বিষণ্নতা থেকে মুক্তি পেতে এই পেসমেকার লাগানোর পর যদি সুস্থ হয়ে যান, তবে মস্তিষ্কের ভেতরে পেসমেকারটি থাকলেও, তা অক্রিয় অবস্থায় থাকবে। আবার কয়েক বছর পর যদি তিনি আবার বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন, তবে এই ডিবিএস আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে।ইউসিএসএফের গবেষকেরা জানান, তাঁদের পরীক্ষাধীন রোগীর নাম সারাহ। সারাহ অবশ্য ছদ্মনাম। চিকিৎসার পর সারাহ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, 'মনে হচ্ছিল জীবনটা শেষ। ভীষণ ডিপ্রেসড ছিলাম। এটা কোনো জীবনই ছিল না। এই চিকিৎসা আমাকে জীবনটা ফিরিয়ে দিয়েছে।'আরও পড়ুন:জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব ফেলছে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে১৫ অদ্ভুত ও বিপজ্জনক মানসিক রোগ৯২ শতাংশ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পায় নামহামারিতে ২০-২৫% তরুণ উচ্চ উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগছেক্রাশের ভাবনায় নাওয়া খাওয়া বন্ধ, ৫% মার্কিন ভুগছে এই রোগে | 4 |
চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রচার জমে উঠেছে। ভোটারদের বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। এতে এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এরই সঙ্গে ভোটের দিনের পরিস্থিতি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আশঙ্কাও বাড়ছে।গত মঙ্গলবার সরেজমিন পৌরসভা এলাকা ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। আশঙ্কার কারণ হিসেবে একাধিক প্রার্থী ও ভোটারেরা বলছেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে বহিরাগত লোকজন প্রচার চালাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করে জানান, গন্ডামারা, চাম্বল, শেখেরখীল, বৈলছড়ী, সরলসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বহিরাগত লোকজন কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থীদের প্রচারে অংশগ্রহণ করছেন। এ নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তোফাইল বিন হোসাইন বলেন, 'নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতার পক্ষে আমি নই। আমি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। নির্বাচনের দিন পৌরসভাবাসী আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবেন, এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে।'স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন, 'পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে বহিরাগত ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পৌরবাসী। আমি প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলে আবেদন জানাই, পৌরসভা নির্বাচনের দিন ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।'বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, 'পৌরসভার ভোটের দিনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের পৌরসভা ত্যাগ করতে হবে। পৌর নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।'বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, 'পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শিগগিরই পৌরসভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।'এদিকে ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবারে বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।প্রশিক্ষণে ১২ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৯২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১৮৩ জন পোলিং অফিসার অংশ নেন।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়সাল আলম বলেন, 'প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী এবং পোলিং অফিসারদের এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।'আগামী ১৬ জানুয়ারি বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। ১১টি ভোট কেন্দ্রে ৮৪টি কক্ষে ২৬ হাজার ৯৮০ জন ভোটার ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। | 6 |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা ভোট, আর উত্তরপ্রদেশের পঞ্চায়েত। রাম মন্দিরের শহর অযোধ্যায় এবার কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি। বাদ গেল না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্রে বারাণসীও। শেষ খবর অনুযায়ী, ভোট গণনা চলছে এখনো। তবে সমাজবাদী পার্টির দাবি, গেরুয়াশিবিরের থেকে অনেক বেশি আসনে জিতেছে তারাই। পশ্চিমবঙ্গের মতোই করোনা সংক্রমণের মাঝে ভোট হয়েছে উত্তরপ্রদেশেও। যোগী রাজ্যে চার স্তরের পঞ্চায়েত নির্বাচন শেষ হয় ২৯ এপ্রিল। এই ভোটে আবার সরাসরি দলীয় প্রতীকে লড়তে পারেন না প্রার্থীরা। ঘুরপথে প্রার্থীদের সমর্থন জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। জানা গেছে, রোববার থেকে গণনা শুরু হলেও সব আসনের ফল ঘোষণা হয়নি এখনো। তাহলে? প্রধানমন্ত্রীর লোকসভা কেন্দ্রে বারাণসীতে পঞ্চায়েত স্তরে আসন সংখ্যা ৪০। সমাজবাদী পার্টির দাবি, মাত্র সাত আসনে এগিয়ে বিজেপি! একই পরিস্থিতি অযোধ্যায়ও। সেখানে ৪০ আসনের মধ্যে ছয়টিতে এগিয়ে বিজেপি। আর ২৪টি আসনে এগিয়ে সমাজবাদী পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরা। গত বছর এই অযোধ্যায় মহাধুমধাম করে রামমন্দিরের 'ভূমি পুজন' করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। অনুষ্ঠানের হাজির ছিলেন বিজেপির তাবড় তাবড় নেতাও। অথচ ওই অযোধ্যায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে কার্যত ধরাশায়ী হতে হলো বিজেপিও। যদিও উত্তরপ্রদেশের বাকি অংশে গেরুয়াশিবিরের ফল ভালোই হতে চলেছে গেরুয়াশিবিরে। সূত্র : জি নিউজ | 3 |
ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের টিকা জরুরি অনুমোদনের পর তার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আনভিসা গতকাল রোববার দেশটিতে দুটি টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। একটি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা, অন্যটি চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেকের 'করোনাভ্যাক' টিকা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আনভিসার বোর্ড সর্বসম্মতভাবে টিকা দুটির অনুমোদন দেয়। অনুমোদনের পরপরই টিকাদান কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। দেশটিতে প্রথম টিকা পেয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী সাও পাওলোর নার্স মনিকা কালাজানস। তাঁকে 'করোনাভ্যাক' টিকা দেওয়া হয়। ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদুয়ার্দো পাজুয়েলো বলেছেন, সরকার সোমবার থেকে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে টিকা সরবরাহ শুরু করবে। বুধবার থেকে দেশজুড়ে টিকাদান শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রাজিল দিনে ১০ লাখ লোককে টিকা দিতে সক্ষম বলে জানান তিনি। করোনায় বিশ্বে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ব্রাজিলের অবস্থান তৃতীয়। ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ব্রাজিলের ওপর রয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাজিলে প্রায় ৮৫ লাখ মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন ২ লাখ মানুষ। সফলভাবে গণটিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল বিশ্বে একসময় ব্রাজিলের নাম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। কিন্তু করোনার টিকাদান শুরুর ক্ষেত্রে দেশটি পিছিয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশটির সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে দ্রুত করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে তৎপর হয় ব্রাজিল সরকার। ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পেতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করে ব্রাজিল। এমনকি এই টিকার একটি চালান দ্রুত পেতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতিমধ্যে ভারত থেকে ২০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার চালান এখনো হাতে পায়নি ব্রাজিল। তারা এই টিকার চালান পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের প্রাইভেট হেলথ ক্লিনিকের একটি সংগঠন ভারত থেকে ভারত বায়োটেকের 'কোভ্যাক্সিন' টিকা কিনতে উদ্যোগী হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ভ্যাকসিন ক্লিনিকস (এবিসিভিএসি) নামের সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা ভারত বায়োটেকের কাছ থেকে ৫০ লাখ ডোজ টিকা কিনতে আগ্রহী। অন্যদিকে ব্রাজিলে চীনা করোনাভ্যাক টিকা উৎপাদন করছে দেশটির ভুটানটান ইনস্টিটিউট। ব্রাজিলে চালানো এই টিকার পরীক্ষায় প্রায় ৫০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখা গেছে। টিকার কার্যকারিতার ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা ৫০ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ব্রাজিলে চালানো পরীক্ষায় করোনাভ্যাকের টিকা সেই ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রাই অর্জন করেছে। ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো শুরু থেকেই করোনার ভয়াবহতাকে অবজ্ঞা করে আসছিলেন। এমনকি তিনি করোনার টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন। | 3 |
পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া বিদেশি পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। আজ শুক্রবার সৌদি সরকার এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়। আগামী ১ আগস্ট থেকে এই ঘোষণা কার্যকর হবে। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস বিদেশি পর্যটকদের জন্য সৌদির দরজা বন্ধ রয়েছে। এখন সৌদি আরব পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া বিদেশি পর্যটকদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে যাচ্ছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি পর্যটকদের জন্য সৌদির দরজা খুলে দেওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়। তবে যেসব বিদেশি পর্যটকদের সৌদি সরকার অনুমোদিত টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া আছে, তাঁরাই কেবল দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন। সৌদি আরব ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার অনুমোদন দিয়েছে। যার অর্থ হলো-এই সব টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া বিদেশি পর্যটকেরা সৌদি আরব ভ্রমণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনও করতে হবে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া বিদেশি পর্যটকদের সৌদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা করোনার পিসিআর পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। এ ছাড়া সৌদি আরবের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। তবে ওমরাহ পালনের ক্ষেত্রে বিদেশি মুসল্লিদের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি সৌদি আরব। জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে সৌদি আরব পর্যটনশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই খাতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে রিয়াদ। ২০১৯ সাল থেকে সৌদি আরব পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ পর্যটন ভিসা দিয়েছে সৌদি আরব। তবে করোনা মহামারির কারণে গত বছর দেশটি তার সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করে। তখন থেকে থমকে আছে পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া। করোনা মহামারির মধ্যে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বাইরের দেশ থেকে সৌদি আরবে এসে মুসল্লিদের পবিত্র হজ পালন বন্ধ রেখেছে সৌদি আরব। গতবারের মতো এবারও শুধু সৌদির নাগরিক ও দেশটিতে অবস্থানরত মুসল্লিরা হজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এ বছর সীমিত পরিসরের এই হজ পালন করতে মুসল্লিদের কিছু শর্ত মেনে চলতে হয়। করোনার টিকার দুটি ডোজ নেওয়া ব্যক্তিরাই শুধু হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া এক ডোজ নেওয়ার পর অন্তত ১৪ দিন পার করা অথবা যাঁরা করোনার সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পর টিকা নিয়েছেন, তাঁরাও হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২৩ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় সংক্রমিত হয়ে দেশটিতে ৮ হাজার ২১৩ জন মারা গেছেন। টিকাদানের ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে সৌদি আরব। দেশটির সাড়ে ৩ কোটি বাসিন্দার মধ্যে টিকা পেয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখের মতো মানুষ। | 3 |
নাটোরের লালপুরের পদ্মার চরাঞ্চল বন্যায় ডুবে যাওয়ায় কয়েক হাজার গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। চরম খাদ্য সংকট, চিকিৎসা ও বাসস্থান সমস্যায় ডাঙায় আশ্রয় নিয়েছে মহিষের পাল।লালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দুড়দুড়িয়া, বিলমাড়িয়া, লালপুর ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় আড়াই শতাধিক খামারির ৪ হাজারের বেশি মহিষ রয়েছে। বন্যার কারণে এসব মহিষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। খামারিদের বাঁচাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান সূত্র। খামারি কামাল উদ্দিন জানান, তাঁর খামারে ৪৫টি মহিষ রয়েছে। পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল মহিষ চারণের একমাত্র জায়গা। বন্যায় পদ্মার চর ডুবে যাওয়ায় মহিষের খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মহিষের খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন খামারিরা।খামারি কামরুল ইসলাম বলেন, বন্যায় সব ডুবে যাওয়ায় আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে পড়েছি। গবাদিপশুর খাবারেরও সংকট দেখা দিয়েছে। ভেটেরিনারি সার্জন মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বন্যাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে মহিষ পালনে খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সেবা দেওয়া হচ্ছে।লালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমারী খাতুন বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় খামারের মহিষকে টিকার আওতায় আনা হবে। গবাদিপশুর খাদ্য সংকটে কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। | 6 |
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিয়মরক্ষার ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে শেষবারের মতো ভারতের অধিনায়কত্ব করছেন বিরাট কোহলি। এই ম্যাচটিই ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ ম্যাচ। তবে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে ভারতের অধিনায়কত্ব করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। আর টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় দলের উত্তরসূরি হিসেবে যে রোহিত শর্মাকেই তার পছন্দ, সেটিও বুঝিয়ে দিলেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 12 |
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, ইউক্রেন রুশপন্থী সরকার গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। রাশিয়া দেশটিতে সামরিক অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ দখল করার বদলে সেখানে তাদের সপক্ষের একটি পুতুল সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।আজ রোববার এক বিবৃতিতে এই দাবি করে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট দপ্তর জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় সম্ভাব্য সরকার প্রধান হিসেবে ইউক্রেনের সাবেক এমপি ইয়েভেন মোরায়েভকে বিবেচনা করা হচ্ছে।তবে, যুক্তারাজ্যের এই দাবি নাকচ করে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোরায়েভ নিজেকে এখনো রাশিয়ার অবরোধের শিকার ইউক্রেনের নাগরিক উল্লেখ করে বলেন, 'এ বিষয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই।'যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বিবৃতিতে ইউক্রেনের চার সাবেক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, 'আমাদের কাছে তথ্য আছে যে, রাশিয়ার গোয়েন্দা বিভাগ ইউক্রেনের বেশ কয়েকজন সাবেক রাজনীতিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। তাঁদের মধ্যে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী সেরহি আরবুজভ, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আন্দ্রে ক্লুয়েভ, ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্টে ইয়ানুকোভিচের চিফ অব স্টাফ ভ্লাদিমির সিভকোভিচ, দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের সাবেক প্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিকোলা আজারভ অন্যতম।'ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার এমন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন যারা বর্তমানে ইউক্রেন অভিযান পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত।'ইউক্রেন অভিযান পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে রোববার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের প্রতি 'যুদ্ধে উসকানির সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ার' আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তাসংস্থা তাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এসব বিভ্রান্তিকর তথ্যই অ্যাংলো-স্যাক্সন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর হস্তক্ষেপে ইউক্রেনে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রমাণ।ওই প্রতিবেদনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তাস আরও বলে, 'আমরা ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি এমন উসকানিমূলক অর্থহীন বক্তব্য না দিয়ে তাতার-মঙ্গল জাতির ইতিহাস ভালো করে পাঠ করার আহ্বান জানাই।'এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য সিএনএনের প্রতিনিধি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব লিজ ট্রাস জানিয়েছেন, প্রকাশিত এসব তথ্য ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার তৎপরতাকে দিবালোকের মতো স্পষ্ট করে দিয়েছে এবং ক্রেমলিনের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আলোকপাত করেছে। | 3 |
ডিজিটাল সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম এবং রাইড-শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান "পাঠাও"-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাহিম আহমেদ। সোমবার (১ নভেম্বর) সংস্থাটি জানিয়েছে, এই নিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তিনি পাঠাও-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াসের স্থলাভিষিক্ত হলেন। গত বছরে পাঠাওয়ের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়েছে এবং আর্থিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে রেকর্ড হারে। পাঠাও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেবা নেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন ৩ লাখ চালক ও ডেলিভারি এজেন্ট। সংযুক্ত আছে প্রায় ৩০ হাজার মার্চেন্ট ও ১০ হাজারের বেশি খাবার দোকান। নবনিযুক্ত সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, "পাঠাও এমন একটি প্রতিষ্ঠান যারা লাখ লাখ ভোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দৈনিক উপার্জনকারীর জীবনে পরিবর্তন এনেছে। সামনের দিনগুলোতে পাঠাওয়ের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগাতে দ্রুত এগোতে হবে, দৃঢ় মনোযোগ দিতে হবে এবং দিন বদলাতে হবে। পাঠাওয়ের অসাধারণ উদ্যমী এই টিমের নেতৃত্ব পেয়ে আমি উচ্ছ্বসিত এবং কৃতজ্ঞ।" এর আগে ২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে ফাহিম পাঠাওয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিদিনের কার্যক্রমের তদারকি করছেন। মহামারির সংকটকালীন সময়ে ডিজিটাল সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কোম্পানির জন্য নতুন কৌশল উদ্ভাবন এবং বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, "ডিজিটাল কমার্স খাতের জন্য ফিনটেক-নির্ভর নতুন প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে পাঠাও। এর মাধ্যমে ক্রেতারা আরও বেশি সেবা নিতে পারবে আর জেনে বুঝে খরচ করতে পারবে, বাণিজ্যের গতি বাড়বে আর ব্যবসায়ীদের প্রবৃদ্ধি হবে এবং মধ্যবিত্তের আয়ের পথ আরও সুগম হবে। আমাদের যাত্রা তো সবে শুরু।" তার পূর্বসূরী হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস পাঠাওয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে বহাল থাকবেন। পাশাপাশি তিনি কোম্পানিটির সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, "পাঠাও প্রতিষ্ঠা করা আমার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ছয় বছর পর এখনই সময় নতুন নেতৃত্বের, কোম্পানির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ফাহিমের চেয়ে ভালো আর কেউ নেই। পাঠাওয়ের অনন্য প্রতিভাবান ও উদ্ভাবনী দলের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি ধন্য। আমি নিশ্চিত যে এই দলের সৃজনশীলতা ফাহিমের নেতৃত্বে আরও বিকশিত হবে।" ফাহিম আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের মিডলবারি কলেজ থেকে উচ্চতর পড়াশুনা সম্পন্ন করেন। অর্থায়ন ও বিনিয়োগখাতে বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পাঠাওয়ে যোগদানের আগে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান "এসইএএফ"-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের প্রথম "মিড-মার্কেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড"-এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। | 6 |
পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান অবৈধ সম্পদের মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছেন। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান রোববার মিজানের আগাম জামিনের আবেদনের অনুলিপি হাতে পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা এবং তার স্ত্রীসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন এই মামলা দয়ের করেন দুদকের পরিচালক মনজুর মোরশেদ। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা -১ এ দায়ের করা এ মামলায় তিন কোটি সাত লাখ ৫ হাজার ২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। ডিআইজি মিজানুর রহমানের পাশাপাশি তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান এবং ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় ডিআইজি মিজানুর রহমানকে। এর চার মাস পর তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক; এক হাত ঘুরে সেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। সেই অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ডিআইজি মিজান গত ৮ জুন দাবি করেন, দুদক কর্মকর্তা বাছির তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এর পক্ষে তাদের কথপোকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপ একটি টেলিভিশনকে দেন তিনি। ওই অডিও প্রচার হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। এই পরিস্থিতিতে তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক। মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে মঞ্জুর মোরশেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। মঞ্জুর মোরশেদের আবেদনে ডিআইজি মিজানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। পরে দুদকের অনুমোদন নিয়ে মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই দুদক কর্মকর্তা। মিজানের দেশত্যাগে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। এদিকে মামলা হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে ডিআইজি মিজানকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ডিআইজি মিজানকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না- এই প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গত ২৬ জুন সাংবাদিকদের বলেন, 'ওয়ারেন্ট ইস্যু হলেই... মানে সে সারেন্ডার করবে কিংবা গ্রেপ্তার হবে।' | 6 |
মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে আগ্নেয়গিরি মাউন্ট নিরাগংগোর অগ্ন্যুৎপাতে বাস্ত্যুচ্যুত হয়েছে প্রায় চার লাখ ১৬ হাজার মানুষ। রোববার জাতিসঙ্ঘের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় বিষয়ক দফতর (ওসিএইচএ) থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ মে দ্বিতীয় দফায় এক ভূমিকম্পের ফলে কাছাকাছি থাকা গোমা শহরের বাসিন্দাদের আবার সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও শহরের বাসিন্দারা ধীরে ধীরে আবার তাদের বাড়িতে ফিরছেন। এর আগে গত ২২ মার্চ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা সীমানায় মাউন্ট নিরাগংগোতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় ৩০ জনের বেশি লোক নিহত এবং বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ধ্বংস হয়। ২০০২ সালে মাউন্ট নিরাগংগোর এমনই এক অগ্ন্যুৎপাতে গোমায় ও চারপাশের গ্রামে দুই শ' ৫০ জন নিহত হয়। এছাড়া অগ্ন্যুৎপাতে বাস্তুচ্যুত হয় এক লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি | 3 |
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ফেরিডুবির ঘটনায় পণ্যবাহী ট্রাক উদ্ধার অভিযানে শনিবার সকালে যুক্ত হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহান সমকালকে জানান, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম দুর্ঘটনাস্থলে এসেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রুস্তম উদ্ধার কাজে যোগ দেবে। তিনি আরও জানান, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ডুবে যাওয়া রো রো ফেরি আমানত শাহ র ভেতর থেকে পণ্যবাহী ট্রাক উদ্ধার অভিযান চতুর্থ দিনের মতো শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা টানা তিনদিন উদ্ধার কাজ করে যাচ্ছে। শনিবার সকালে উদ্ধার কাজে যোগ দিচ্ছে আরেক উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম । বুধবার প্রথম দিনের উদ্ধার অভিযানে একটি মোটরসাইকেল ও চারটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার অভিযানে পাঁচটি যানবাহন উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার তৃতীয় দিনের উদ্ধার অভিযানে আরও চারটি যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৩টি যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে। ২৭ অক্টোবর সকাল পৌঁনে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের ৫ নম্বর পন্টুনের প্রথম পকেটে আমানত শাহ নামের রো রো ফেরি যানবাহন আনলোড করতে গিয়ে ডান দিকে কাঁত হয়ে একাংশ ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার পর ফেরি থাকা ১৪টি পণ্য বোঝাই ট্রাক পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে উদ্ধার কাজে অংশ নেয় স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। | 6 |
লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জে বাস থেকে নামিয়ে এক নারীকে (২২) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার সকালে এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাসের হেলপার আজাদ উদ্দিন ও উপজেলার কাজীরখিল এলাকার এমরান হোসেনের নাম উল্লেখসহ একজনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে এ মামলা করা হয়।গতকাল শুক্রবার রাতে ওই নারী এ ঘটনার শিকার হন বলে জানা গেছে।এ দিকে গত রাতেই আটক বাসের হেলপার আজাদ উদ্দিনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক।ওসি এমদাদুল হক বলেন, 'ওই নারীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত এমরান হোসেনসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তারকৃত আজাদ হোসেনকে আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। ভুক্তভোগীকে তাঁর মামার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাসের হেলপার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।'পুলিশ বলছে, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে চাটখিল থেকে নোয়াখালীর সোনাপুরে যাওয়ার জন্য ওই নারী জননী নামের একটি বাসে ওঠেন। ভুলক্রমে রামগঞ্জের সোনাপুর নামক স্থানে ওই নারীকে নামিয়ে দেয়। পরে ঘটনাটি ওই বাসচালক ও হেলপারকে জানালে তারা ওই নারীকে নোয়াখালীগামী অন্য একটি গাড়িতে তুলে দেওয়ার কথা বলে আবার গাড়িতে উঠে বসতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই এমরান হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগী গাড়ি থেকে ওই নারীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাস টার্মিনালের পেছনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে এ কথা জানতে পেরে বাজারের নৈশপ্রহরী শাহজাহান মিয়াসহ অন্যরা এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত এমরান হোসেনসহ অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয়।এদিকে বাস টার্মিনালের প্রহরী শাহজাহান মিয়া ঘটনাস্থলেই মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার আগে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসক।রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গুনময় পোদ্দার জানান, শাহজাহান মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার আগে মৃত্যু হয়েছে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান বলে ধারণা করা হয়। | 6 |
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত বাংলাদেশি এক তরুণের জীবন বাঁচাতে বছর দুয়েক আগে রক্তের স্টেম সেল দান করেছিলেন এক ভারতীয়। অবশেষে উভয়ের মধ্যে আবেগময়ী সাক্ষাৎ হলো। একে অপরকে কাছে পেয়ে দুই তরুণই বাকরুদ্ধ
হয়ে পড়েন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা জানায়, বাংলাদেশের ২২ বছর বয়সী অতনু কিশোর ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তার জীবন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। তাকে কয়েক দফা কেমোথেরাপি নিতে হয়। এ দেশের চিকিৎসকরা অতনুকে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
শেষে তার পরিবার তাকে নিয়ে যান কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে পেডিয়াট্রিক হেমাটো অনকোলজি অ্যান্ড সেলুলার থেরাপি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রেগু কে এসের কাছে। বেঁচে থাকার জন্য তার জরুরিভিত্তিতে স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন ছিল। এক পর্যায়ে তার দাতা হিসেবে আবির্ভূত হন ২৯ বছর বয়সী কিশোর দেব। টাটা মেডিকেলে অতনুর স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট হয়। দুই বছর পর সেখানেই প্রথমবারের মতো দেখা হয় তাদের।
অতনু ও কিশোরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজটি করে দেয় ডিকেএমএস বিএমএসটি ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া। এটি বেঙ্গালুরুভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা, যা ব্লাড ক্যান্সার এবং
বিরল রক্তের রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিবেদিত। তারা ৬০ হাজারেরও বেশি সম্ভাব্য দাতা থেকে ম্যাচিং স্টেম সেল খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে।
আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসারে, রক্তের স্টেম সেল দাতা এবং প্রাপক উভয়ের পরিচয় দুই বছরের জন্য গোপন রাখা হয়। এর পরে তারা আগ্রহ দেখালে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
কিশোর বলেন, তিনি ২০১৭ সালে সম্ভাব্য দাতা হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন। নিবন্ধনের এক বছর পরে তার রক্তের সঙ্গে ব্লাড ক্যান্সার রোগী অতনুর রক্ত মিলে যায়। কিন্তু এতদিন তিনি তার পরিচয় জানতেন না। তাই অতনুকে কাছে পেয়ে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। কারও জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কিশোরের ভাষায়, 'আজ মনে হয় আমার জীবন পরিপূূর্ণতা পেয়েছে।'
কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডা. মাম্মিন চান্ডি বলেন, বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ হাজার রোগীর জন্য অপরিচিত লোকের ব্লাড স্টেম সেল খুঁজতে হয়। ভারতে অনেক লোক খুঁজেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এজন্য মানুষকে ডিকেএমএস বিএমএসটির মতো প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছায় ব্লাড স্টেম সেল দানে নিবন্ধনে এগিয়ে আসতে হবে। | 6 |
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ভোট প্রদান করেছেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় এখলাছুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে যান। এ সময় ভোট প্রদান শেষে রেজাউল করিম চৌধুরী ভোট সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নেবেন বলে জানান। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা ব্যক্ত করে বলেন, 'ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিচ্ছেন। কোথাও কাউকে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে না। আশা করি, আমি জয়লাভ করবো।' অনেক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে এজেন্ট দেওয়ার মতো লোক খুঁজে পাচ্ছে না। কোনো কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্টকে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হয়নি। তারা যদি কোনো অভিযোগ করে থাকেন, সেটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।' সকাল পৌনে ৯টায় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় এখলাছুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান রেজাউল করিম চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রেজাউল ও নাছির। | 6 |
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে পিএসজি। ইউরোপ সেরা হওয়ার আশায় উন্মুখ হয়ে থাকা ফরাসি ক্লাবটিতে আছে একঝাঁক তারকা ফুটবলার। ইউরোপ সেরা হতে নতুন করে এ মৌসুমে ক্লাবটি দলে ভিড়িয়েছে লিওনেল মেসিকে। দলে আগে থেকেই বিশ্বকাপ জয়ী কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে আছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার।এতসব তারকা নিয়েও মাঠে ছন্নছাড়া দেখাচ্ছে পিএসজিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের ম্যাচ রাঙাতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি। জ্বলে উঠতে পারেননি এমবাপ্পে-নেইমাররাও। মেসি যোগ দেওয়ার পর প্রথমবার শুরুর একাদশে ছিলেন মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে ত্রয়ী। আর এতে ফুটবলপ্রেমীদের তিনজনকে একসঙ্গে মাঠে নামতে দেখার আগ্রহের অবসানও ঘটে।তবে তিনজনের কেউই গোলের দেখা পাননি। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে কথা বলতে হয়েছে পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনোকে। ৪৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কোচ বলেছেন, 'ওদের একসঙ্গে জ্বলে উঠতে সময় লাগবে। আরও অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। আমি আগেই বলেছি, আমরা এখনো একটা দল হয়ে উঠতে পারিনি। গুছিয়ে উঠতে সময় লাগবে।'লিগ ওয়ানে শুরুটা ভালো হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে হতাশা দিয়েই অভিযান শুরু করল পিএসজি। ভুল শুধরে সামনে আরও ভালো কথা জানিয়েছেন পচেত্তিনো। বলেছেন, 'আমাদের আরও ধারাবাহিক ও সাবলীল হতে হবে। এই ম্যাচে অনেক বেশি ভুল করেছি আমরা। তবে এত কিছুর পরও আমি ফুটবলারদের নিয়ে সন্তুষ্ট। আমাদের স্থির থেকে কাজ করে যেতে হবে।'আগামী ২০ সেপ্টেম্বর লিগ ওয়ানের ম্যাচে মাঠে নামবে পিএসজি। | 12 |
চারঘাট উপজেলাসহ রাজশাহীর বেশ কিছু এলাকা খরা প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকায় পানির অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। এ জন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের সেচ সুবিধার জন্য ২০১৮ সালে জেলার চারঘাট, বাঘা ও পবা উপজেলায় নির্মাণ করা হয় সৌরবিদ্যুৎ চালিত ২০টি পাতকুয়া (ডাগওয়েল)। কিন্তু এসব পাতকুয়া থেকে সাধারণ কৃষকেরা কোনো সেচ সুবিধা পাচ্ছে না।রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর প্রান্তিক কৃষকের সেচ সুবিধার জন্য ২০১৮ সালে প্রকল্প হাতে নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের নাম 'রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট ও পবা উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প'। সেই বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া ওই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সৌর বিদুৎচালিত ২০টি পাতকুয়ার নির্মাণ করা হয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায়।আরও জানা যায়, জেলার চারঘাট উপজেলায় ৫টি, পবায় ১১ টি, পুঠিয়ায় ২টি ও বাঘায় ২টি পাতকুয়া স্থাপন করা হয়েছে। ২০টি পাতকুয়া নির্মাণ খরচ ২ কোটি ৬০ লাখ হিসাবে প্রতিটি পাতকুয়ার জন্য খরচ হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। প্রতিটি পাতকুয়া সাড়ে ৫ হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারবে।বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, পাতকুয়াগুলো ভূ-উপরিস্থ পানির সংরক্ষণ, সেচ কাজে ব্যবহার ও ভূ-গর্ভস্থ পানির রিচার্জ বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।কিন্তু সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চারঘাট উপজেলার সব কটি পাতকুয়া কৃষকের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ। প্রতিটি পাতকুয়া থেকে দু-একজনের বেশি সুবিধা পাচ্ছে না। সুবিধাভোগী কৃষকদের নিয়ে পাতকুয়া কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। এলাকার প্রভাবশালীরা নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে পাতকুয়াগুলো মাছ চাষসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে।গত শনিবার সকালে চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়নের বাসুপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকেরা বোরো ধানসহ নানা রকম সবজিতে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন। অথচ এসব খেতের পাশেই রয়েছে পাতকুয়া। সেসব পাতকুয়া থেকে কৃষকদের জমিতে সেচ না দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত (এনামুক হক) ব্যক্তির পুকুরে মাছ চাষের জন্য পানি দেওয়া হচ্ছে।এ সময় কথা হয় স্থানীয় বোরো চাষি মো. নুরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'এই পাতকুয়াগুলো করে শুধু শুধু টাকা অপচয়। আমাদের এলাকার দুইটা পাতকুয়া এনামুল হক ও হাসিব উদ্দীন নামের দুই ভাইয়ের দখলে। তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। এখানে পাতকুয়া সংশ্লিষ্ট কৃষক কমিটিও গঠন হয়নি। আমরা টাকা খরচ করেও জমিতে সেচ দিতে পারছি না। তাঁরা পাতকুয়ার পানি দিয়ে মাছ চাষ করছেন। কোনো কৃষক এই পাতকুয়ার সেচ সুবিধা পাচ্ছে না।'কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাতকুয়া দেখভালের দায়িত্বে থাকা এনামুল হক বলেন, 'সরকার থেকে পাতকুয়া আমাকে দিয়েছে। আমার ভাইকে একটা দিয়েছে। নিজের প্রয়োজন মেটানোর পর অন্য কৃষকদের পানি দেব। এটাই নিয়ম। পুকুরে মাছ চাষ করি। এ জন্য পানি দিতে হয়। কৃষকদের নিয়ে এখনো কমিটি করিনি। তবে কৃষকদের সেচ সমস্যা হলে সমাধান করা হয়।'কৃষকদের সেচ সমস্যা ও পাতকুয়ার বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) তৌফিকুর রহমান বলেন, 'পাতকুয়াগুলো কৃষকের সেচ সুবিধার জন্যই স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু কৃষকেরা যদি সেচ সুবিধা না পায়, তবে তা দুঃখজনক। যেহেতু এটা বরেন্দ্র দেখভাল করে, এ জন্য আমাদের করণীয় কিছু নেই।'বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চারঘাট ও পুঠিয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আল-মামুনুর রশীদ বলেন, পাতকুয়া সরকারি সম্পদ। এর সুবিধা ভোগ করবে পার্শ্ববর্তী সব কৃষক। পুকুরে মাছ চাষ করতে পাতকুয়ার পানি দিচ্ছে, এমনটা জানা ছিল না। পাতকুয়াকে কেউ যদি নিজের ব্যক্তিগত জিনিস মনে করে অপব্যবহার করেন, তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পাতকুয়া হলো ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্ন পর্যন্ত গোলাকার আকৃতিতে মাটি খনন করে চারপাশ থেকে চুয়ানো পানি ধরে রাখার আধার। পাতকুয়া হাজার বছরের পুরনো একটি প্রযুক্তি যা ব্যবহার করে মানুষ তার জীবন ধারণের জন্য বালতির সঙ্গে রশি বেঁধে পানি উত্তোলন করে তা খাবার ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করত। | 6 |
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ৬টা ৩০ মিনিটে দেশটির ২৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিক্রমাসিংহেকে শপথ পড়ান লঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। লঙ্কানদের আশা, নতুন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠবে শ্রীলঙ্কা। দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেও একই আশা করছেন। বিক্রমাসিংহেকে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে আবারও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান গোতাবায়া। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে জানানো শুভেচ্ছা বার্তায় এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ানোর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তাকে অভিনন্দন জানান গোতাবায়া রাজাপাকসে। এসময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সাথে 'শ্রীলঙ্কাকে আবারও শক্তিশালী করতে' একসাথে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি। গোতাবায়া রাজাপাকসে তার টুইটে লিখেন, শ্রীলঙ্কার নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে আমার শুভেচ্ছা। তিনি অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন সময়ের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার চ্যালেঞ্জিং কাজটি গ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছেন। আমি শ্রীলঙ্কাকে আবার শক্তিশালী করতে তার সাথে একসাথে কাজ করার জন্য উন্মুখ। গত সোমবার বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। তার পদত্যাগের ফলে পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরপর মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে বিরোধীদল সামাজি জানা বালাবউইগেয়ায়ার (এসজেবি) নেতা সাজিথ প্রেমাদাসাকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সাজিথ জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলেই কেবল তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। এরপর বুধবার রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেন গোতাবায়া। এ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় গোতাবায়া রাজাপাকসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। এরপরই শোনা যায় শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এই ইউএনপি নেতা। এর আগেও লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঁচবার দায়িত্ব পালন করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন এই ইউএনপি নেতা। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে শপথ গ্রহণ করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। শপথ গ্রহণের পর ওয়ালুকারমা মন্দিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখান থেকে ফিরে এসে ধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন তিনি। | 3 |
হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রবিবার হকি ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে পাঁচ সহ-সভাপতি আলোচনায় বসে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাজেদ এ আদেল গণমাধ্যমকে বলেন, ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আমরা পাঁচ সহ-সভাপতি বসেছিলাম। সেখানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিডি প্রতিদিনি/কালাম | 12 |
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেরাগ আলী বেপারীকান্দী এলাকায় অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তানিম মৃধা (২২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারীকান্দী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তানিম মৃধা উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামের সামসুদ্দিন মৃধার ছেলে। তার বাবা কক্সবাজারে কাপড়ের ফেরি করেন। দুই ভাই তিন বোনের ভিতর তানিম বড়। তিনি নড়িয়া বাজারের ইবনেসিনা মেডিকেল হল ফার্মেসির কর্মচারী। তানিম এ বছর ফার্মাসিস্ট পাশ করেছেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২-এর 'সামদাদো জাপানিজ কুইজিন' নামের একটি রেস্তোরাঁয় শাকিলের মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
পৈত্রিক নিবাস ময়মনসিংহ হলেও ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন শাকিল। তিনি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পান। এর চার বছর পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) করা হয়। তিনি ২০১৪ সাল থেকে অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন।
বিকেলে গুলশানেরর ওই রেস্তোরাঁর সামনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, 'শাকিলের মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। আগামীকাল বুধবার তার ময়নাতদন্ত করা হবে। পরে সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা হবে। সেখান থেকে মরদেহ তার বাড়ি ময়মনসিংহের বাগমারায় নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।'
আইনজীবী-শিক্ষক দম্পতির সন্তান শাকিল ময়মনসিংহ জেলা স্কুল ও আনন্দমোহন কলেজে পড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি।
সাবেক এই ছাত্রনেতা নিয়মিত কবিতা লিখতেন। 'খেরোখাতার পাতা থেকে' ও 'মন খারাপের গাড়ী' নামে তার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
| 6 |
যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশে তেমন কোনো শিল্পকারখানা ছিল না। এরপর স্বাধীন দেশে অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন উদ্যোক্তারা। সেসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সীমিত থাকলেও, আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের সব ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বেড়েছে মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও জিডিপিসহ অর্থনীতির প্রায় সব সূচক। হাতের নাগালে ইন্টারনেট। যার সুফল ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী।স্বাধীনতার পর উদ্যোক্তাদের মধ্যে যাঁরা সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হন, তাঁদের প্রচেষ্টায় একসময় এই দেশে ভারী শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। পাশাপাশি আসতে থাকে বিদেশি বিনিয়োগ। পরবর্তী সময়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে তৈরি পোশাক খাতে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেয়। শিল্প উৎপাদনের জন্য সরকার এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে ৯৮টির অনুমোদন পেয়েছে। ৩০টি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কয়েকটিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। সেখানে কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলে যুদ্ধবিধস্ত তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে এখন উন্নয়নের সিঁড়িতে বাংলাদেশ।দেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চারপাশে নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। একদিকে যেমন পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্টোরেল, এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্পকারখানা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে লাখ লাখ মানুষের।এ ব্যাপারে বাংলাদশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য হলো অধিক পরিমাণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি আর উৎপাদন বৃদ্ধি। বিশেষ করে ফেনীর সোনাগাজী, চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ডকে ঘিরে ৩৩ হাজার একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর'। এটি হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর কাজের সুযোগ পাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।ইউসুফ হারুন আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে রীতিমতো শিল্পবিপ্লব ঘটবে। বদলে যাবে দেশের অর্থনীতির চেহারা। কর্মসংস্থান হবে কোটি মানুষের। ইতিমধ্যে বিদেশিদের মধ্যে ভারত, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, জার্মান, হংকং, সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশ বিনিয়োগ শুরু করেছে।বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন পাস করা হয় ২০১০ সালে। তবে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। ৯৮টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির কাজ জোরেশোরে চলছে। ১৩টি অঞ্চলে কিছু ইউনিট উৎপাদন শুরু করেছে। এই ১৩টিতে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।আশির দশকে ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে যাত্রা শুরু করেছিল। এটা ছিল সীমিত এলাকায় শিল্পায়নের জন্য। পরে তিন দশকে ইপিজেডগুলো রপ্তানি আয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটোনোর ক্ষেত্রে ইপিজেডগুলোর ভূমিকা রাখার সুযোগ কম। পরে শ্রমঘন, উচ্চ উৎপাদনশীলতা ও অধিক মূল্য সংযোজনকারী শিল্প স্থাপনের দিকে নজর দেয় সরকার। এ কারণে দেশজুড়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন সংসদে অনুমোদন করা হয়। উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'দেশের উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অর্থনেতিক অঞ্চল বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আর বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। কৃষিজমি নষ্ট না করে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে সরকার। সেখানে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির জন্য এবং বাড়তি ঝামেলা এড়াতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদান কর হয়। সম্প্রতি আমরা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন করেছি। সেখানে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব পাওয়া গেছে।' | 6 |
কক্সবাজারের কাছে নিজের এলাকায় বঙ্গোপসাগরে সার্ফিং শুরু করার সময় মোহাম্মদ আলমগীর লক্ষ্য করেন, বাংলাদেশে 'সার্ফার' খুবই বিরল। শুধু সার্ফারই নয়, 'সার্ফবোর্ড'ও বিরল। এই অবস্থায় আলমগীর তার এক বন্ধুর কাছ থেকে পুরনো একটি সার্ফবোর্ড ধার নেন, যেটি আলমগীরের ওই বন্ধু পেয়েছিলেন হাওয়াইয়ের ওয়াহিয়াওয়া থেকে আসা এক পর্যটকের কাছ থেকে।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে ধীরে ধীরে 'সার্ফি' জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ২৪ বছর বয়সী আলমগীর এখন বাণিজ্যিকভাবে 'সার্ফবোর্ড' তৈরির পরিকল্পনা করছেন। আর এই সার্ফবোর্ড তিনি তৈরি করতে চান ফেলে দেওয়া উপকরণ পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে।
আলমগীর বর্তমানে যুক্তরাজ্যের 'রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোর্ড ইনস্টিটিউশন' (আরএনএলআই) ও বাংলাদেশের 'সেন্টার ফর দ্য প্রিভেনটেশন অব ইনজুরি অ্যান্ড রিসার্চ' পরিচালিত যৌথ প্রকল্প 'সি-সেফ'-এর হয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে 'লাইফগার্ড' বা 'জীবন রক্ষক' হিসেবে কাজ করছেন। পরিত্যক্ত উপকরণ থেকে সার্ফবোর্ড তৈরির ধারণাটি তার মাথায় প্রথম আসে লাইফগার্ড হিসেবে তার সহকর্মীদের ব্যবহৃত 'রেসকিউ বেল্ট' বা উদ্ধারকারী বেল্ট দেখে, যা তারা তৈরি করেছিলেন মাছ ধরার জাল ভাসিয়ে রাখার উপকরণ থেকে।
আলমগীর তার প্রথম নমুনা বোর্ডটি তৈরির সময় অনুপ্রাণিত হন আরএনএলআই-এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসম্পূর্ণ হলুদ একটি লাইফবোর্ড থেকে, যা যুক্তরাজ্যজুড়ে সমুদ্রসৈকতে ব্যবহার করেন লাইফগার্ডরা। নমুনা বোর্ডটি আলমগীর তৈরি করেন পরিত্যক্ত 'ফোম' ব্যবহার করে। একটি ধারালো গ্রিন্ডার মেশিনের সাহায্যে তিনি প্রথমে ফোমটিকে আরএনএলআই-এর সার্ফবোর্ডের আকৃতি দেন। তবে ফোমটি কাজ করছিল না; অধিক মাত্রায় পানি শোষণ করায় এটি ডুবে যাচ্ছিল। এরপর তিনি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেন পাট। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
এরপর তিনি একটু ভিন্নধর্মী ফোম ব্যবহার করে চেষ্টা চালান, যে ফোম থাইল্যান্ড থেকে ঢাকায় রফতানি করা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র প্যাকেট করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই কাজের জন্য নিজের বাড়িতে তিনি একটি কর্মশালা গড়ে তোলেন। এরপর নিজের ফোনে ডাউনলোড করা ইউটিউব ভিডিও দেখে তিনি শিখতে পারেন- বোর্ডেটিকে সঠিক আকৃতি দিতে এবং এতে স্থিতিশীলতা আনতে কীভাবে এক টুকরা কাঠকে বোর্ডের মাঝ বরাবর লাগাতে হবে।
চিংড়ি ব্যবসায়ীর ছেলে অনেকদিন ধরেই কক্সবাজারের প্রধান সৈকতে 'জীবন রক্ষক' হিসেবে কাজ করছেন। পরিত্যক্ত উপকরণ দিয়ে বানানো নিজের 'রেসকিউ বোর্ড' দিয়ে আলমগীর এ যাবৎ ২০ জনের জীবন বাঁচিয়েছেন।
এই রেসকিউ বোর্ডে ব্যবহৃত ফোম ছাড়া অন্য অংশগুলো স্থানীয়ভাবেই সংগ্রহ করেন আলমগীর। এতে তিনি ব্যবহার করেন 'ফাইবার গ্লাস' বা বিশেষ এক ধরনের প্লাস্টিক, যা জেলেরা তাদের নৌকা মেরামতে ব্যবহার করেন। আর এই ফাইবার গ্লাস ব্যবহার করায় আলমগীরের বানানো বোর্ডটি হয় পানিরোধী। রেসকিউ বোর্ডটি বানাতে আলমগীরের খরচ পড়ে প্রায় ১৬০ পাউন্ড বা ১৫ হাজার ৯০০ টাকা, যেখানে আরএনএলআই-এর একটি রেসকিউ বোর্ড তৈরিতে খরচ পড়ে এক হাজার পাউন্ড বা ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা।
আলমগীর জানান, ভবিষ্যতে আরও কম খরচে এ ধরনের বোর্ড বানাতে পারবেন তিনি।
তিনি এ পর্যন্ত দুটি রেসকিউ বোর্ড ও আটটি সার্ফবোর্ড তৈরি করেছেন। আর নিজের এই প্রচেষ্টাকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করতে এখন বিনিয়োগকারী খুঁজছেন আলমগীর। গার্ডিয়ান অবলম্বনে।
| 6 |
চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ৭ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে এক ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৬ ইউপিতে আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।এই ৬ ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জন্য মাঠে রয়েছেন ১১ বিদ্রোহী প্রার্থী। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছায়ে তাঁদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে উপজেলা নির্বাচন কমিশন।৬ ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু ছালেহ, বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা মফিজুর রহমান।বরকলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফেরদাউছ ইসলাম খাঁন, বিদ্রোহী প্রার্থী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, তাঁর ছেলে যুবলীগ নেতা মো. আরাফাত রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম চৌধুরী।বরমায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ মো. গউস মিল্টন, যুবলীগ নেতা মো. খোরশেদ আলম।বৈলতলীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম সায়েম, বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ারুল মোস্তফা চৌধুরী দুলাল।হাশিমপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. খোরশেদ বিন ইসহাক, বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীরুল ইসলাম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা চৌধুরী আমীর মো. সাইফুদ্দীন, তাঁর ভাই চৌধুরী আমীর, মো. ফোরকান।ধোপাছড়িতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আবদুল আলীম, বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, 'আগামী ১৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' | 6 |
প্রকৃতির লীলাভূমি বাংলাদেশের মতো এমন ঋতুবৈচিত্র্য পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে দেখা যায় না। সবুজে ভরা বন-জঙ্গল, গাছপালা, লতাপাতা, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়-এ যেন স্রষ্টার অফুরন্ত দান, এক আশীর্বাদ। প্রকৃতির এমন আশীর্বাদময় চোখজুড়ানো সবুজভূমি যেন পর্যটকদের আহ্বান জানায়। সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকেরা এই আহ্বানে কতখানি সাড়া দেবেন, সেটা অবশ্য নির্ভর করে কিছু বিষয়ের ওপর।ইকোট্যুরিজমবাংলাদেশের প্রকৃতি, মাটি ও লোকালয়ের সাধারণ মানুষের আন্তরিকতা-এককথায় বলতে গেলে ভরপুর। আনন্দ ও অকৃত্রিম সুখপিপাসু পর্যকটদের যা আকর্ষণ করে। আমার চল্লিশ বছরের আমেরিকার পর্যটনশিল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, ইকোট্যুরিজম বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণদ্বার উন্মুক্ত করে রেখেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশে ইকোট্যুরিজম সেমিনারে যাওয়ার সুবাদে আমি দেখেছি ওই সব দেশের ঐতিহ্যবাহী সুভেনিয়র, ঘর সাজানোর তৈজসপত্র বা হোম ডেকোর ট্যুরিস্টরা কিনে নিয়ে যান স্মৃতি হিসেবে। বাংলাদেশও এই সুযোগ নিতে পারে। এটা বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে। যেসব দেশ ইকোট্যুরিজমে এগিয়ে, তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টির ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ইকোট্যুরিজমটি পরিবেশন করতে হবে।হাওর ট্যুরিজমবাংলাদেশে বিশাল বিশাল সব হাওর রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে হাওর এলাকার বিস্তীর্ণ জলরাশি পানিতে থইথই করে। টাঙ্গুয়ার হাওর, নিকলী হাওর, নলুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওরসহ কত যে হাওর রয়েছে এ দেশে! এসব হাওর অনায়াসে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে।অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমরোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে। পাহাড়, সমুদ্র, নদী ঘিরে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম গড়ে তুলতে পারলে দেশে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে ব্যাপকভাবে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে পাহাড় রয়েছে। আর তিন হাজার ফুটের বেশি উচ্চতার পাহাড় রয়েছে ১২টি। এসব পাহাড় ঘিরে হাইকিং, ট্র্যাকিং, ক্লাইম্বিং, মাউন্টেনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ছাড়া অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে তীব্র খরস্রোতা পাহাড়ি নদীতেও।রিলিজিয়াস ট্যুরিজমবাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধসভ্যতার অনেক মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও পুরোনো সভ্যতার নিদর্শন আছে। এসব সুপ্রাচীন নিদর্শন পৃথিবীর অনেক দেশেই বিরল। এশিয়ারই বিভিন্ন দেশ সঠিক পরিকল্পনা ও প্রচারণার মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে রিলিজিয়াস ট্যুরিজমের মাধ্যমে। এই সুযোগ বাংলাদেশও নিতে পারে অনায়াসে।ওয়াইল্ড লাইফ ট্যুরিজমসুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে রয়েছে বিশাল বুনো অঞ্চল। আর এই বুনো অঞ্চলকে আফ্রিকান দেশগুলোর ওপেন সাফারির আদলে করা গেলে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে, ওয়াইল্ড লাইফ ট্যুরিজমের অপার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশেও।ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমনদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য খাল-বিল, ছোট ছোট নদী-নালা, জলাশয়, দিঘি। এগুলোর সৌন্দর্য ও প্রাচুর্য কাজে লাগিয়ে প্রকৃতির এই আশীর্বাদকে সম্ভাবনাময় ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজম গড়ে তোলা যেতে পারে। যেমনভাবে ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমে এগিয়ে রয়েছে কেরালা, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, পশ্চিমবঙ্গ ও শ্রীলঙ্কা।মাইস ট্যুরিজমমিটিংস, ইনসেনটিভ, কনভেনশন ও এক্সিবিশন- এসব মিলে সংক্ষেপে মাইস। আন্তর্জাতিক মেলা, প্রদর্শনী, আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ, রাষ্ট্রীয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটনই হচ্ছে মাইস ট্যুরিজম। ব্যবসাকেন্দ্রিক পর্যটনের এ নতুন ধারাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনশিল্পে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ভরপুর, সেখানে মাইস ট্যুরিজমের সম্ভাবনা অনেক বেশি। পর্যটন করপোরেশন ও প্রাইভেট ট্যুর কোম্পানিগুলো চুক্তি করে বাংলাদেশে মাইস ট্যুরিজম সম্প্রসারণ করতে পারে।পর্যটনশিল্পের চ্যালেঞ্জবিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, হোটেল রিসোর্টের সেবার মান, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করতে হবে। কারণ দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পর্যটকদের কেবল মুগ্ধই করবে না, বাংলাদেশের জনপ্রিয় খাবারগুলোকে আন্তর্জাতিক ফুড মার্কেটে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিতও করবে।ইংরেজিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষায় পর্যটন ট্যুর গাইড প্রকাশ করা দরকার। আর দরকার দেশে একটা আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। দেশি বা প্রবাসীদের নিয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে হতে পারে এ বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে গবেষণা, আধুনিক ট্যুরিজম, ট্রেন্ড, আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি, খাদ্য ও বিদেশি টুরিস্টদের উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য তরুণ-তরুণীদের ট্যুর গাইডের ট্রেনিং কোর্স থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতের ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রির জন্য ও প্রবাসে ট্যুরিজম মার্কেটের জন্যও কোর্স থাকবে।বিপণন ও প্রচারপৃথিবীর যে দেশ বিপণন ও প্রচারে যত এগিয়ে, সেই দেশে পর্যটকের আনাগোনা তত বেশি। তবে বিপণন ও প্রচার হতে হবে সৃজনশীল এবং উপস্থাপনা হতে হবে ব্যতিক্রম। ইকোট্যুরিজমের আন্তর্জাতিক প্রচারে আমাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যৌথ সমন্বয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির ভালো দিকগুলো আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনায় বিভিন্ন ভাষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দূতাবাসের মাধ্যমে প্রচার করতে পারে। বাংলাদেশের প্যানোরামা ক্রিয়েটরের ডকুমেন্টারিকে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, খাদ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তারা খুব সুন্দর করে উপস্থাপনা করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের। পর্যটন করপোরেশন এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। প্যানোরামা ক্রিয়েটরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং করে ওই সব দেশের ভাষা অনুযায়ী আমাদের দূতাবাসগুলো ওই দেশের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে কাজ করতে পারে। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য নিয়ে ফুড ফেস্টিভ্যাল করতে পারে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নদী-হাওর-বাঁওড়, সংস্কৃতি, নৃত্য, গান, খাদ্য সম্পর্কে ইকোট্যুরিজমের পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, আন্তমহাদেশীয় ক্রুজশিপ ও রেলওয়েতে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা বাংলাদেশকে জানতে পারবেন। আর সবচেয়ে জরুরি যা দরকার, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশে পর্যটনের জন্য একটা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং তৈরি করা। এ জন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে বেছে নিতে পারে বাংলাদেশ। এটা ক্রিয়েটিভ ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারও করতে হবে।এই সবকিছু সঠিকভাবে ও সময়মতো কার্যকর করলেই তবে আমরা প্রচুর পর্যটক আকর্ষণ করতে পারব। | 6 |
ডিএনএ নমুনা দিতে এসে ফুপির কোলে বসে স্বভাবসুলভ খেলছিল ফাইজা রহমান। কখনো সামনে থাকা কলম নিয়ে আঁকা আঁকি করছিল। কখনো ফুপির হাত ধরে হাসছিল। বাবার অন্তিত পরিণতি সম্পর্কে এখনো যে জানার বয়স হয়নি শিশুটির। একটু পরেই নমুনা হিসেবে তার মুখের লালা নেওয়া হয়। এটাতেও মজা পাচ্ছিল সে। পাশে দাঁড়িয়ে তখন চোখের জল ফেলছিলেন ফাইজার মা ইস্ফাহান সুলতানা।ফাইজার বাবা আবদুস সোবহান সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যে ডিপোতে শনিবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে। বাকিরা একটু বেশিই দগ্ধ হওয়ায় তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি। তাঁদের মধ্যে আবদুস সোবহানও আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি তাঁদের স্বজনদের নমুনা নেওয়া হচ্ছ।ডিপোতে আগুন জ্বলছে এখনো, আরও এক মরদেহ উদ্ধারআবদুস সোবহানের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোবহানের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেখানে কোনো খোঁজ মেলেনি সোবহানের। এরপর আজ ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন তাঁরা। ফাইজারের পাশাপাশি নমুনা নেওয়া হয় তার ফুপি উম্মে কুলসুমেরও।২০১৩ সাল থেকে আইসিডি দপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন আবদুস সোবহান। আড়াই বছর আগে ইস্ফাহান সুলতানাকে বিয়ে করেন বাঁশখালীর নাপোড়ার সোবহান।স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা বলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইস্ফাহান সুলতানা বলেন, 'শনিবার রাতে ভিডিও কলে সে আগুনের ঘটনা দেখাচ্ছিল আমাকে। আমি তাঁকে বারবার বলছিলাম দূরে সরে যেতে। সে বলছিল নিরাপদ দূরত্বেই আছে। কিন্তু ভিডিওকলে কথা চলতে চলতেই হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর থেমে যায় কথা। বন্ধ হয়ে যায় ফোনও। তারপর আর খোঁজ পাইনি স্বামীর।'সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: উল্লাপাড়ার এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিখোঁজইস্ফাহান সুলতানা আরও বলেন, 'স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে চমেক হাসপাতালে আসি। সেখানেও তাঁর কোনো খোঁজ পাইনি। এখন নমুনা দিতে এলাম।'শুধু সোবহান নয়, আজ বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের নিহত ও নিখোঁজদের শনাক্ত করতে আজ সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নমুনা নেওয়ার কাজ শুরু করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ।সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ সম্পর্কিত সবশেষ খবর পেতে - এখানেক্লিককরুনএ সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিআইডি) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, 'এখনো যাদের মরদেহ পরিবার পায়নি তাদের পরিবারের দুজনের কাছ থেকে নমুনা নেওয়া হচ্ছে।'এই সম্পর্কিত সর্বশেষ:সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণে মৃত্যু বেড়ে ৩৪সীতাকুণ্ডে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনীসীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে আছেন ফায়ার সার্ভিসের ৫ কর্মীকারও হাত উড়ে গেছে, কারও শরীরের অর্ধেকই পোড়াঅগ্নিদগ্ধদের রক্ত দিতে মধ্যরাতে হাসপাতালে ছুটলেন চবির শত শত শিক্ষার্থীভোর পাঁচটাতেও জ্বলছিল ডিপো, পুড়েছে ৫০০ কনটেইনার | 6 |
ভারতের হায়দরাবাদের খাম্মাম জেলায় একটি অলৌকিক ঘটনা সামনে এসেছে। জানা যায়, একজন গর্ভবতী নারী কোমায় চলে গিয়েছিলেন, এবং ডাক্তাররা তার সন্তানকে বাঁচাতে তার অপারেশন করতে বাধ্য হয়েছিল। পরে তার সদ্যোজাত শিশুর কান্না তাকে কোমা থেকে ফিরিয়ে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে ভদ্রাচলম সরকারি হাসপাতালে। টেকুলাবরুগাঁও কোটাওয়ারাম মন্ডলের বাসিন্দা নাগমণির ৪ ফেব্রুয়ারি প্রসব হওয়ার কথা ছিল। তবে, রক্তচাপের ওষুধ ব্যবহার করার কারণে তার শ্বাসকষ্ট হয়েছিল যার কারণে তাকে প্রাথমিকভাবে কর্তালাগুত্তার সিএইচসি কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে ভদ্রাচলম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর ভদ্রাচলম হাসপাতালে ভর্তির সাথে সাথেই কোমায় চলে যান তিনি। হাসপাতালের ডাক্তারদের অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও, নারীটি তার চেতনা ফিরে পাননি। অন্যদিকে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ডা. কোটিরেড্ডি এবং ডা. পালিয়া ভদ্রাচলম হাসপাতাল সুপার রামকৃষ্ণের অনুমতি নিয়ে শিশুটিকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। যার জেরে তার স্বামী সত্যনারায়ণ এবং তার ভাই নাগেশ্বর রাওয়ের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়ার পর, ডা. রামকৃষ্ণনের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের একটি দল গর্ভবতী নারীর সন্তান প্রসবের জন্য অপারেশন করেন। আর এরপরেই নবজাতক শিশুর কান্না অলৌকিকভাবে নারীটিকে তার কোমা থেকে নিয়ে এসেছে। সদ্যোজাত শিশুর কান্না শুনে তার জ্ঞান ফিরে পাওয়ার ঘটনায় চিকিৎসকরাও অবাক হয়ে যান। তাকে অবিলম্বে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই ভালো আছে।সূত্র : পুবের কলম | 3 |
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ২৭ দিন পর আবার দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। আজ রোববার সকাল নয়টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এসে কাজ শুরু করেন উপাচার্য। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকে উপাচার্য নানা দাপ্তরিক কাজ তদারক করছেন। বিকেলের দিকে কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন ২৫ দিন পর আধা ঘণ্টার জন্য কার্যালয়ে এলেও কোনো দাপ্তরিক কাজ করেননি। সে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপাচার্যকে নির্দেশনা দেন। গত ১৩ জানুয়ারি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কয়েক শ ছাত্রী। ১৬ জানুয়ারি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে। তাঁদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পরে এই আন্দোলন উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। প্রথম ছয় দিনে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ১৯ জানুয়ারি বেলা তিনটা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। ২৬ জানুয়ারি সকালে অনশনস্থলে গিয়ে লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এ অবস্থায় শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী সিলেটে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি ও আট দফা প্রস্তাবনা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির বিষয়টি তিনি আচার্যকে জানাবেন। বাকি দাবিগুলো দ্রুত পূরণে তিনি চেষ্টা করবেন। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। পরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি পূরণে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস পাওয়ায় চলমান আন্দোলন কর্মসূচি আপাতত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর গত ১৬ জানুয়ারি পুলিশের গুলি ও লাঠিপেটার ঘটনাকে 'অনাকাঙ্ক্ষিত' অভিহিত করে ২৮ দিন পর দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন উপাচার্য। ছাত্রলীগের স্মারকলিপি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যায়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আজ সকাল ১০টার দিকে উপাচার্যের কাছে সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। স্মারকলিপি দেওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুষ্ঠু ও পাঠদানের যথোপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে তাঁরা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে অতি দ্রুত ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া; দ্রুত অনলাইন ও অফলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা; ১৬ জানুয়ারি পুলিশি হামলায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা; হলের ডাইনিং ও ক্যানটিন খুলে দেওয়া; ডাইনিং, ক্যানটিন ও ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের গুণগত মান বৃদ্ধি ও দাম কমানো; পর্যাপ্ত আধুনিক ফুডকোর্টের ব্যবস্থা করা; নির্মাণাধীন ফুডকোর্টের কাজ শেষ করা, দেয়াললিখন মোছাসহ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিষয়ে দাবি জানানো হয়। | 6 |
পণ্যবাহী নৌ-যানকে সুনামগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে আসার পথে ২৬টি স্পটে চাঁদা দিতে হয় । এছাড়া পদে পদে রয়েছে বিভিন্ন রকম হয়রানি। চাঁদাবাজির পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে । নৌপথে এসব অপরাধ বন্ধে নৌ-পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। রোববার বিকলে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে একটি পণ্যবাহী নৌ-যানকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে আসতে কমপক্ষে ২৬টি স্পটে চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা না দিলেই নির্যাতনের শিকার হতে হয়। যেসব শ্রমিকদের ঘাম ও রক্ত পানি করা পয়সায় নৌ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বেতন ভাতা হয় তাদের সামনেই নৌ-শ্রমিকদের রক্ত পানির সাথে মিশে যায় আর নদীতে কর্মরত প্রশাসনিক নিরব দর্শকের মতো তাকিয়ে দেখে। শ্রমিকরা তাদের সাহায্য চাইলে নানা বাহানায় এড়িয়ে যান নদী পথে কর্মরতরা। তিনি বলেন, নদীপথে ইজারাদার নামধারী সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি, শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও ডাকাতি বন্ধ না হলে নৌ-যান শ্রমিকদের কঠোর আন্দোলনের বিকল্প থাকবে না। অবিলম্বে নদী পথে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ডাকাতি শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করা না হলে শ্রমিকদের কর্ম বিরতি পালনসহ সারাদেশে নদীপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ করতে বাধ্য হবো। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন জেলা শাখার সভাপতি সরদার আলমগীর মাস্টারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমীক লীগের সহ-সভাপতি ও বিআইডব্লিউটিসির নেতা এসএম মনজুর আহাম্মেদ, বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টার, জেলা যুব শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী লিটন প্রমুখ। | 6 |
৩১ বছর বয়সে মারা গেলেন ব্রিটিশ উদ্যোক্তা ও ইউটিউব তারকা জামাল এডওয়ার্ড। জামালের প্রতিষ্ঠানের বরাতে এ তথ্য জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তিনি এসবিটিভির প্রতিষ্ঠাতা। এটি অনলাইনভিত্তিক মিউজিক প্ল্যাটফর্ম। যা ডেব, এড শিরান ও স্কেপটার মতো তারকাদের ক্যারিয়ার শুরুর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। এজে ট্রেসি প্রথম অনলাইনে জামালের স্মরণে টুইট করেন। তিনি লেখেন, 'রিপ জামাল এডওয়ার্ড, পশ্চিম লন্ডনের কিংবদন্তি।' তার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিকে র্যাপ ও গ্রাইম সঙ্গীতের জনপ্রিয় ব্রিটিশ তারকারা জামালকে স্মরণ করছেন। র্যাপার লেসুর জামালের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে এক টুইটে লেখেন, এ মৃত্যু 'হৃদয়বিদারক'। তিনি আরও লেখেন, সে আমাকে আমার প্রতিভা বিকশতি করার জন্য সুযোগের পর সুযোগ দিয়েছে। আমাদের তার নাম ও ব্র্যান্ডকে স্মরণীয় করে রাখা প্রয়োজন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এক টুইটে লেখেন, ব্রিটিশ সঙ্গীত ও বিনোদন জগত 'তার উজ্জ্বল এক তারকাকে হারাল'। এডওয়ার্ডের জন্ম ইংল্যান্ডের লুটন শহরে। ২০১৪ সালে সঙ্গীতের জন্য এমবিই নিযুক্ত হন। এ ছাড়া তিনি প্রিন্স ট্রাস্টের দূত ছিলেন। | 3 |
অনিয়মের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খাইরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সংস্থাটির উপপরিচালক আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ বিভাগ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, এম খাইরুজ্জামান ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হাইকমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হাইকমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৯১৩ টাকা আত্মসাৎ করেন। আত্মসাতের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটির বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।তদন্তে শিক্ষা ভাতা বাবদ ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৮ টাকা, ভ্রমণ না করে ৪টি ভাউচারের মাধ্যমে অগ্রিম হিসেবে ১০ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৫ টাকা, চিলড্রেন এয়ার প্যাসেজ বাবদ ২ লাখ ৮৪ হাজার ১৪৫ টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এসি মেরামত, স্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয়, ড্রাইভারকে অধিকাল ভাতা বাবদ, মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহার, এন্টারটেইনমেন্ট, টেলিফোন ও ফ্যাক্স, বৈদেশিক ভাতা, গিফট ও এন্টারটেইনমেন্ট, জমি ক্রয়সহ সর্বমোট ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৯১৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি।এর পর, গত ৫ এপ্রিল সাবেক এই হাইকমিশনারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয় দুদক। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার উপপরিচালক আনোয়ারুল হক দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা ১ এ মামলা দায়ের করেন।বাংলাদেশের অনুরোধে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাবেক হাইকমিশনার এম খাইরুজ্জামানকে মালয়েশিয়া পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে আদালত তাঁকে ছেড়ে দিতে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এক যুগের বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন তিনি। | 6 |
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় নেতারা বঙ্গভবনে যান। জানা যায়, নতুন কোনো প্রস্তাব দেবে না আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটি গঠন এবং তাদের দেয়া নাম যাচাই-বাছাই করে ইসি গঠনকে গণতান্ত্রিক পন্থা হিসেবে দেখছে দলটি। সার্চ কমিটিতেও অধ্যাপক, সাংবিধানিক পদধারী আপিল বিভাগের একজন বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, একজন নারী সদস্যকে রাখার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব রাখবেন তারা। তবে বিশেষ কোনো নাম প্রস্তাব করা হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ৩ উপধারায় বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সব সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। সে অনুযায়ী ইসি গঠনেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করবেন রাষ্ট্রপতি। তাই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে বিশেষ কোনো প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তাও দেখছে না দলটি। তবে সংলাপে অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য ভোরের কাগজকে বলেন, এবারো সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া গতবারের মতোই হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারককে আহ্বায়ক করে এই কমিটিতে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) থাকতে পারেন। এছাড়া কমিটিতে দুজন বিশিষ্ট নাগরিকও থাকবেন, এর মধ্যে একজন নারী। এদিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭টি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির ডাকে সাড়া দিয়ে বঙ্গভবনে গিয়ে সংলাপে অংশ নিয়েছে। সংলাপে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে দলীয় প্রস্তাব তুলে ধরেছে। কোন কোন দল সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বললেও কোন কোন দল আবার আইন প্রণয়ন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। আর বিএনপিসহ সাতটি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নেয়নি। এই সাত দলের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), এলডিপি, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিএনপি। জাসদ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, ন্যাপসহ ১৭টি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে। আজ সোমবার আওয়ামী লীগ সর্বশেষ রাজনৈতিক দল হিসেবে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেবে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান। প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। আগে রাষ্ট্রপতি সরাসরি ইসি গঠন করে দিতেন। কিন্তু বিগত দুটি ইসি সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সার্চ কমিটির সদস্যদের সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদের বিপরীতে ২ ব্যক্তির নাম সুপারিশ করা হয়। রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্য থেকে এক জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ৪ জনকে কমিশনার নিয়োগ দেন। | 6 |
রেলওয়েতে মন্ত্রীপত্নীর খবরদারি কাণ্ডে তোলপাড় চলছে। বিয়ের পরই রেলওয়েতে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, প্রকল্পে ভাগ বসানোতেও এখন আলোচনায় মন্ত্রীর দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনি এবং তার স্বজনদের নাম। মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের অগোচরে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রেলের কর্মকর্তাদের ফোন করে অনৈতিক তদবিরের খবরও মিলেছে। পঞ্চগড়ের এমপি সুজনের বর্তমান স্ত্রী মনির বাবার বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুরে। ঈশ্বরদীতে বড় বোনের বাসায় তার ঘন ঘন যাতায়াত রয়েছে। এই সুযোগে মনির আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠরা মিলে রেলে গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট। রেল ভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেলভবনে মন্ত্রী সুজনের কাছে তদবিরে আসা একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নারী নেত্রী আলাপচারিতায় মন্ত্রীর স্ত্রী নিলুফার জাহানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুললে সুজন আবেগপ্রবন হয়ে পড়েন। এরমধ্যে এক পর্যায়ে তারা মন্ত্রীকে ফের জীবন সঙ্গিনী খুজতে বলেন। তাদের মধ্যে একজন মন্ত্রীকে বলেন, তাদের খোঁজে একজন ভাল নারী আছেন। তার আগে বিয়ে হয়েছিল, পরে ডিভোর্স হয়েছে। মন্ত্রী প্রসঙ্গ এড়াতে চাইলেও নারী নেত্রীরা তাকে চেপে ধরেন। এভাবে কয়েকদিন আলাপচারিতার পর একরাতে মনিকে নিয়ে যাওয়া হয় মন্ত্রীর সরকারি বাসায়। কথা বলে বিয়েতে সায় দেন সুজন। এরপর বাজে বিয়ের সানাই। পরে বিয়ের আয়োজকরা রেল ভবনে যাতায়াত কমালেও বাসায় আসা-যাওয়া বাড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। রেলেওয়ের একাধিক কর্মচারী জানান, মনি ও তার আত্মীয়স্বজনদের তদবির বাণিজ্য চলছে কয়েক মাস ধরে। কেবল বিনা টিকেটে ভ্রমণই নয়, প্রভাব খাটিয়ে ট্রেনের টিকেট ও কামরা নেয়া, ঠিকাদারি কাজ, জমির ইজারা, পদোন্নতি, বদলি, নিয়োগ সব কাজেই এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। এর মধ্যে মনি, মিলন, লাবণ্য, রেজা, জোবায়েরসহ ১০ সদস্যের 'ভাবি সিন্ডিকেট' সবার পরিচিত। প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকদের কাছে কাজ চাওয়া, কেনাকাটা, ঠিকাদারি সব কাজেই নিচ্ছে কমিশন। পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে চাপ আসে এ সিন্ডিকেটের সদস্যদের পক্ষ থেকে। নির্দেশ না মানলে বদলি বা বরখাস্তের হুমকি দেয়া হয়। এই সুযোগে অনেক কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। রংপুর, যশোর, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বিমানবন্দর, কমলাপুর রেলস্টেশন, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন ষ্টেশনে কর্মরত একাধিক সদস্য জানান, রেলমন্ত্রীর স্ত্রী ও স্বজনরা প্রায়ই কর্মকর্তাদের রুমে গিয়ে টিকেট, প্রকল্পের কাজের তদবির করেন। রেল ভবনেও তাদের যাতায়াত রয়েছে। অনেক প্রকল্প পরিচালক তাদের তৎপরতায় বিরক্ত। রেল ভবনের কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের মন্ত্রীর বাসায় যাতায়াত রয়েছে তারা প্রায়ই তদবিরের 'চিরকুট' পান। প্রসঙ্গত, মন্ত্রীর স্ত্রীর নির্দেশে রেল কর্মকর্তাকে বরখাস্তের ঘটনার পর তাদের তদবির বাণিজ্য নিয়ে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। স্ত্রীকাণ্ডে 'বিব্রত' রেলমন্ত্রী তার আত্মীয় পরিচয়ে কেউ বাড়তি বা অনৈতিক সুবিধা চাইলে পুলিশে সোপর্দ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং আত্মীয়স্বজনদের পরিচয় বা রেফারেন্সে কোনো প্রকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করতে নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। গত রবিবার রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনা জারি করা হয়। | 6 |
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মা নদীতে দুইটি ডিঙি নৌকা ডুবিতে চারজন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরো নয়জন অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার সকাল নদী সংলগ্ন সাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের জামালপুর থেকে ইঞ্জিল চালিত করিমনে কুমারখালীর ঘোষপুর এসে দুইটি ডোঙা নৌকায় পদ্মা নদী পাড় হয়ে উলু ঘাস কাটতে চরে যাচ্ছিল ১৩ দিনমজুর। একটি নৌকায় ছিল নয়জন ও অপর নৌকায় চারজন। নদীর কুল থেকে একটু দূরে যেতেই প্রবল স্রোতে নৌকা দুটি ডুবে যায়। এরপর নয়জন সাঁতার দিয়ে নদীর কুলে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে চারজন। | 6 |
সন্দ্বীপে আমার গ্রাম থেকে পরিচিত জনৈক পল্লিচিকিৎসক মুঠোফোনে জানতে চাইলেন, তাঁরা কি নামের আগে আর ডাক্তার লিখতে পারবেন না! কণ্ঠে ছিল উদ্বেগ ও হতাশা, সমাজে মানহানির ভীতি। ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে জানতে পারি, সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ একটি মামলায় রায় দিয়ে বলেছেন, কেবল এমবিবিএস চিকিৎসকেরা নামের আগে ডাক্তার (ডা.) ব্যবহার করতে পারবেন। সংবাদটি আমাকেও খানিকটা মর্মাহত করেছিল। রায়টির অনুলিপি সংগ্রহের পর পাঠ করে দেখলাম, মামলাটি খারিজ হয়েছে এবং এমবিবিএস ছাড়া আর কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবেন না মর্মে কোনো আদেশ হয়নি। তবে মাননীয় আদালত সরকারের বিবেচনার জন্য রায়ের শেষাংশে কিছু পরামর্শ রেখেছেন। মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৮০-তে এমবিবিএস চিকিৎসকেরা ব্যতীত আর কেউ নামের আগে ডা. সম্ভাষণ বা পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না মর্মে কোনো বিধান ছিল না। ২০১০ সালের নতুনভাবে প্রতিস্থাপিত আইনের ২৯(১) ধারায় একটি বিধান করা হয়েছে। ন্যূনতম এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি না থাকলে কেউ নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। বিধানটি কেবল অ্যালোপ্যাথি ধারার চিকিৎসকদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে মনে হচ্ছে। চিকিৎসকদের নামের আগে লিখিত বা ব্যবহৃত ডাক্তার (ডা.) শব্দটি মূলত পদবি নয়, সৌজন্যপূর্ণ বা সম্মানসূচক সম্ভাষণ। হোমিও, হেকিমি, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজি ইত্যাদি চিকিৎসাশাস্ত্রের চিকিৎসকেরা ডা. সম্ভাষণ ব্যবহার করলে তা প্রায়োগিক অর্থে অশুদ্ধ হবে না। ফিজিক্যাল মেডিসিন, ফিজিওথেরাপি ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাশাস্ত্র। তাঁরাও চিকিৎসক এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকেন। নামের আগে তাঁদের ডা. ব্যবহার করতে বাধা থাকার কথা নয়। ডিগ্রিপ্রাপ্ত পশুচিকিৎসকেরা নামের আগে ডা. লিখতে পারবেন কি না, ভেটেরিনারি প্র্যাকটিশনার্স অরডিন্যান্স, ১৯৮২-তে তার উল্লেখ নেই। সরকারস্বীকৃত স্বল্পমেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করে হাজার হাজার পল্লিচিকিৎসক গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা সবাই নামের আগে ডা. লেখেন কি না, জানা নেই। তবে অনেকেই লেখেন। গ্রামদেশে সাধারণ মানুষ তাঁদের 'ডাক্তার সাব' বলেই সম্বোধন করে থাকেন। হেকিমি, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসাব্যবস্থা ইউনানি অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক প্র্যাকটিশনার্স অরডিন্যান্স, ১৯৮২ দ্বারা স্বীকৃত ও নিয়ন্ত্রিত। অধ্যাদেশের ৩৪(২) ধারায় হেকিমি, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজি চিকিৎসার পেশাজীবীদের নামের আগে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যবহারিক দিক থেকে বিধানটি যৌক্তিক। ইউনানি পদ্ধতির চিকিৎসকদের হেকিম এবং আয়ুর্বেদিক পদ্ধতির চিকিৎসকদের কবিরাজ বলা হয়। চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের সম্ভাব্য বিভ্রান্তি অপনোদনে এটি সহায়ক হয়। হেকিমি, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজি তথা ট্রেডিশনাল মেডিসিন ও চিকিৎসা হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত। তাই এসব চিকিৎসাব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের হেয়জ্ঞান করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাশাস্ত্র এবং চিকিৎসাব্যবস্থাও আইন দ্বারা স্বীকৃত ও নিয়ন্ত্রিত। হোমিও চিকিৎসকদের আইনের বিভিন্ন স্থানে 'মেডিকেল অফিসার', 'ফিজিশিয়ান' বলা হয়েছে। কিন্তু হোমিও চিকিৎসকেরা নামের আগে কী বিশেষণ বা সম্ভাষণ ব্যবহার করবেন, সেটা বলা হয়নি। হোমিওপ্যাথি, হেকিমি, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজি ইত্যাদি চিকিৎসাব্যবস্থা শত শত বছর ধরে আইনসিদ্ধভাবেই প্রচলিত রয়েছে। তাঁদেরও মানুষ ডাক্তার, কবিরাজ, হেকিম, ইত্যাদি নামে সম্বোধন করে থাকে। চিকিৎসাপ্রার্থী কোনো মানুষকে এটা নিয়ে বাধ্য করা যাবে না যে তিনি কোন পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। ইংরেজি ডা. শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে চিকিৎসক। যেকোনো শাখার চিকিৎসক নামের পূর্বে ডা. লিখে আইনি বাধ্যবাধকতাসহ নামের শেষে তাঁর চিকিৎসাশাস্ত্রের ধরন এবং তদ্বিষয়ে অর্জিত একাডেমিক যোগ্যতা যেমন, অ্যালোপ্যাথি-সংশ্লিষ্ট এমবিবিএস, এফআরসিএস, এমএস, মেডিসিন, সার্জারি ইত্যাদি উল্লেখ করে থাকলে জনগণ বিভ্রান্ত না হয়ে নিজ নিজ পছন্দমতো চিকিৎসক নির্বাচন করতে পারবেন। এমনকি হোমিও, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ধারার চিকিৎসকেরাও নামের পূর্বে ডা. লিখে বন্ধনীতে শাখা উল্লেখপূর্বক আইনি বাধ্যবাধকতাসহ নামের শেষে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাশাস্ত্রের নাম এবং অনুরূপ শাস্ত্রে অর্জিত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি উল্লেখ করে থাকলে অভিন্ন 'ডা.' সম্ভাষণসহ নিজ নিজ ধারার চিকিৎসাপেশা চর্চা করতে পারেন। নামের আগে 'ডা.' পদবি অপেক্ষা নামের শেষে বর্ণিত যোগ্যতা অধিক গুরুত্ব বহন করে। নামের পূর্বে সম্ভাষণ ব্যবহার মূলত রীতি, আইনি আবশ্যকতা নয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারকগণের নামের পূর্বে সম্মানসূচক 'বিচারপতি' সম্ভাষণ ব্যবহার করা হয়। এটি দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠিত রীতি। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত আইনের সংজ্ঞামতে, প্রতিষ্ঠিত রীতিও আইন। নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিজ্ঞ বা 'ইয়োর অনার' এবং উচ্চ আদালতের বিচারকদের 'মাই লর্ড' সম্বোধন করার একটা রেওয়াজ প্রচলিত আছে। রাষ্ট্রপতি পদবির পূর্বে 'মহামান্য' এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীগণের পদবির পূর্বে 'মাননীয়' সম্ভাষণ ব্যবহারের সাংবিধানিক বা সংবিধিবদ্ধ কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিষয়টি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রীতি। 'মহামান্য' সম্ভাষণের ইংরেজি প্রতিশব্দ নেই। অনেকে পদস্থ আমলাদের পদবির শেষে মহোদয় সম্বোধন করেন। অতি বিনয়ী অনেকে আবার আগে মাননীয় ও পরে মহোদয় সম্বোধন করেন। রাষ্ট্রদূতগণ নামের পূর্বে মান্যবর ( এক্সিলেন্সি) সম্ভাষণ ব্যবহার করেন। আইনগত ভিত্তি না থাকলেও এটিও দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক রীতি। সম্ভাষণের বিষয়টির আবার আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে মি. প্রেসিডেন্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে মি. প্রাইম মিনিস্টার সম্বোধন করলে তাঁরা রুষ্ট হবেন না। কারণ, উন্নত সেসব দেশে সেটাই শোভন রীতি। অধুনা নতুন কিছু কিছু রীতি সৃষ্টির প্রয়াস লক্ষণীয়। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ শ্রেণিভেদ ও অহং সত্তার উন্নততর প্রজাতির প্রতিফলনের স্বার্থে নামের আগে অ্যাম্বাসেডর, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। অবসরপ্রাপ্ত লেখেন না। ফলে বুঝতে বেগ পেতে হয়, তিনি কি অবসরপ্রাপ্ত না কর্মরত। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা নামের পূর্বে সামরিক পদবি ব্যবহার করে বন্ধনীর মধ্যে 'অব.' ব্যবহার করেন। এটি শুদ্ধ পদ্ধতি। এটিও প্রতিষ্ঠিত রীতি। তবে, এখানেও সমাজের বিশেষ সুবিধাভোগীদের শ্রেণিসচেতনতার প্রতিফলন লক্ষণীয়। সংবিধানে বিঘোষিত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, কর্মের সম্মান ও সাম্যবাদের রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী এমন মনস্তত্ত্ব পরিত্যাজ্য। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অদ্ব্যর্থক ভাষায় সেদিন বললেন, আমলাদের 'স্যার', 'ম্যাডাম' সম্বোধনের কোনো রীতি নেই। সহমত পোষণ করে আমি বলব, রীতি আছে, আইন নেই। এমন সব সম্ভাষণ আত্মম্ভরিতা সৃষ্টি করে। অনেক সময় অসংযত দম্ভ থেকে আমলারা অশিষ্ট আচরণ করেন। ২০১৯ সালের ১৭ মে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এসি (ল্যান্ড) সঞ্চিতা কর্মকার 'স্যার' সম্বোধন না করায় এক নিরক্ষর দরিদ্র মাছবিক্রেতার মাছের ডুলা, মাছসহ লাথি মেরে পাশের ড্রেনে ফেলে দিয়েছিলেন। চলতি বছরের জুলাই মাসের কোনো একদিন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের ইউএনওকে 'স্যার' সম্বোধন না করে 'আপা' সম্বোধন করায় জনৈক ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছিল। মিডিয়ায় পরিবেশিত সংবাদ থেকে বিষয়টি জেনেছিলাম। অর্থ, বিত্ত, সম্পদ ও পেশাগত পদমর্যাদার ভিত্তিতে শ্রেণিভেদ বা বিভাজন স্পষ্টিকরণ কি খুবই প্রয়োজনীয়? কর্ম দিয়েই মানুষের পরিচয় প্রতিফলিত হতে পারে। কথায় বলে, 'বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়।' কাজী হাবিবুল আউয়াল সাবেক সিনিয়র সচিব | 8 |
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে কাজাখস্তানে। বিক্ষোভের মুখে সরকার পতনের পরও বিক্ষোভ থামেনি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী। সঙ্গে যোগ দিয়েছে রুশ সেনারাও। জনবহুল আলমাতি শহরের থমথমে পরিস্থিতি আর জনশূন্য রাস্তায় পড়ে থাকা আগুনে পোড়া গাড়ি দেখে মনে হতে পারে এ যেন এক পরিত্যক্ত নগরী।সম্প্রতি আলমাতি শহর ঘুরে দেখেছেন বিবিসির সাংবাদিক আবদুল আজিজ। তিনি জানান, শহরটির বাতাসে এখনো ভাসছে পোড়া যানবাহনের গন্ধ। মূল সড়কগুলো জনশূন্য, অলিগলিতেও মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। সেনাবাহিনী এবং পুলিশ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো অবরোধ করে রেখেছে।আলমাতির বেশির ভাগ ব্যাংক এবং দোকানপাট লুটপাট হয়ে গেছে, যা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে সময় লাগবে। হামলা চালানো হয়েছে ওই এলাকার অনেক মিডিয়া ভবনে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মেয়রের কার্যালয়।বিবিসি বলছে, গত শুক্রবার আলমাতি শহরে কোনো বিক্ষোভ দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন স্থান থেকে এখনো গুলি এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তাঁরা সবাই চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।মধ্যবয়সী এক নারী বিবিসিকে বলেন, শুরু থেকেই সরকারের আরও শক্ত হওয়া উচিত ছিল। তারা যদি প্রথমেই শক্তি প্রয়োগ করত, তাহলে এই সহিংসতা ঘটত না।তবে ক্ষোভ-সহিংসতার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহানুভূতিও ছিল। অনেক বিক্ষোভকারী দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছেন, যেখানে জীবনযাপনের ব্যয় বেশি হলেও আয়ের সুযোগ কম।এদিকে সুপারমার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় আলমাতির বাসিন্দারা এখন খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। কিছু দোকান খোলা থাকলেও সেখানে নেওয়া হচ্ছে শুধু নগদ টাকা। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ থাকায় টাকা তোলারও ব্যবস্থা নেই। এর আগে কখনোই এত বড় মাত্রার বিক্ষোভ দেখেনি কাজাখস্তান। আর যে গতিতে এই বিক্ষোভ ছড়িয়েছে, তা-ও ছিল অবিশ্বাস্য। এই বিক্ষোভ শুধু জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নয়, এর পেছনে অন্য রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।বিশ্ব প্রতিক্রিয়াকাজাখস্তানের অস্থিরতা প্রতিবেশী রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে পশ্চিমা শক্তিগুলোরও। শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের অংশ হিসেবে মিত্র কাজাখস্তানে প্রায় আড়াই হাজার সেনা পাঠিয়েছে রাশিয়া। তবে মস্কোকে কাজাখের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।কাজাখস্তানের রাজনৈতিক নেতা ও বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত বুধবার সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ আহ্বান জানান।পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথা উল্লেখ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কাজাখেস্তানে রুশ সেনা মোতায়েন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ওয়াশিংটন। | 6 |
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।জরিমানা করা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আলাউদ্দীন। তিনি নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ওই প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা মিছিল বের করেন। দেয়ালে পোস্টারও লাগিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।২৮ নভেম্বর মহম্মদপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। | 6 |
ভারতের সেনাবাহিনী ইয়েতির পায়ের ছাপ পাওয়ার যে দাবি করেছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক হাস্যরস - এমনকি নানা ধরণের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও করা হচ্ছে। টুইটারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফলোয়ার আছে প্রায় ষাট লাখ। সেই টুইটারেই এক বার্তায় সোমবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে তারা 'পৌরাণিক জন্তু ইয়েতির রহস্যজনক পায়ের ছাপ' আবিষ্কার করেছেন হিমালয় অঞ্চলে মাকালু বেজক্যাম্পে। ইয়েতি, রহস্যময় হিসেবে বর্ণিত এমন একটি প্রাণী, দক্ষিণ এশিয়ার ফোকলোরে যার উল্লেখ প্রায়ই দেখা যায়। ইয়েতির অস্তিত্বের বিষয়ে অবশ্য কোনো প্রমাণ নেই, কিন্তু যে মিথ প্রচলিত আছে ইয়েতিকে নিয়ে তা এ অঞ্চলে অত্যন্ত শক্তিশালী। এখন ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে সেই 'ইয়েতির পায়ের ছাপে'র ছবি শেয়ার করছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বরফে বড় আকারের পায়ের ছাপ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পর্বতারোহী একটি দল এর আবিষ্কারক। যদিও কথিত পায়ের ছাপটি আবিষ্কৃত হয়েছে গত ৯ এপ্রিল, কিন্তু তা প্রকাশ করা হয়েছে পরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসা নানা অবিশ্বাসের প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী অবশ্য বলেছে, ইয়েতির বিষয়ে যে প্রমাণ পাওয়া গেছে সেটির ছবি তুলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দেয়া হয়েছিলো। ইয়েতি, যা অনেকের কাছে তুষার মানব হিসেবেও পরিচিত, সেই দানব আকৃতির সৃষ্টি হিমালয়ের উপর স্তরে বাস করে বলে বিশ্বাস অনেকের। সামজিক মাধ্যমে হাস্যরস নেপাল, ভুটান এবং ভারতে ইয়েতি বা ইয়েতির পায়ের ছাপ নিয়ে অনেক গল্পও প্রচলিত রয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবির পর এ নিয়ে ব্যাপক হাস্যরস শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ডেভেন সেইলর নামে একজন টুইট করে বলেছেন ,"এমন হাস্যকর কিছু এভাবে প্রকাশের আগে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন ছিলো"। হরিত নামের একজন লিখেছেন, "চরম হতাশাজনক বিষয় যে আর্মি এক ধরণের বোকামি মিথ বাস্তবে প্রচার করছে। তোমাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করি"। অঙ্কিত পাণ্ডা লিখেছেন, "হয় আমি জোকসটা মিস করেছি। না হলে ভারতীয় আর্মি ইয়েতির প্রমাণ হিসেবে যা বিশ্বাস করে তাই দাবি করেছে"। কনিষ্ক সামোতা লিখেছেন, "এবং আমি বড় পায়ের ছাপ চিহ্নিত করেছি সিঙ্গাপুরে গত রবিবার। কি কাকতালীয় ব্যাপার"। সাথে তিনি দিয়েছেন একজনের পায়ের ছাপ ও জুতাসহ পায়ের ছবি। আসিফি কারজিকার একটি বড় আকারের মুখোশ পড়া একটি ছবি দিয়ে বলেছেন, 'সে ভোট দেয়ার জন্য শহরে প্রবেশ করেছে'। আবার টুইটারে ভারতীয় বাহিনী যে পোস্ট দিয়েছে তার নিচে একজন ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, "এখন সেখানে একটি মন্দির নির্মাণ করা উচিত"। হারা নামের একজন লিখেছেন, "সম্ভবত তারা র্যাম্প মডেল ফ্যাশন শোতে হাঁটছিলো ... একজনের পা আরেকজনের সামনে"। ইয়েতি রহস্য উদঘাটনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০১১ সালে 'ইয়েতির আঙ্গুল'-এর ডিএনএ নেপাল থেকে লন্ডনে নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরে জানা যায় সেটি আসলে মানুষের হাড়। ২০১৩ সালে অক্সফোর্ডের একজন গবেষক ইয়েতির চুলের ওপর গবেষণা করে প্রমাণ পান যে এটা আসলে শ্বেত ভল্লুকের (পোলার বিয়ার) চুল ছিল।সূত্র : বিবিসি | 3 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.