text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
গুঞ্জনটা কদিন ধরেই চলছিল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সঙ্গে চুক্তি নিয়ে দূরত্ব বেড়েছে প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের। বোর্ড থেকে স্বল্প মেয়াদি চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে একমত হতে পারছিলেন না ল্যাঙ্গার। ফল, অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।ল্যাঙ্গারের পদত্যাগ মানতে পারছেন না অস্ট্রেলিয়ার সাবেকেরা। তাঁর এক সময়ের সতীর্থ রিকি পন্টিং-স্টিভ ওয়াহরা যারপরনাই হতাশ ব্যাপারটা নিয়ে। তিনবার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক পন্টিং এবিসি রেডিওকে বলেছেন, 'আমি প্রকৃতপক্ষেই মনে করি, এটা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য বেদনার দিন। গত ছয় মাসে জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং টিম পেইনের বিষয়টি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যেভাবে সামলেছে, তাতে ঘাটতি ছিল। পুরো বিষয়টিই বিব্রতকর। ল্যাঙ্গার গত তিন-চার বছরে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটাই হয়তো তাকে তার স্বপ্নের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ।'পন্টিংয়ের মতোই ক্ষোভ ঝরেছে ওয়াহর কণ্ঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। যাতে লেখা, 'বিকাশ-রূপান্তর-ঐক্য-নতুন চাহিদা। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, অনেক গুঞ্জন আছে, কিন্তু কেন জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে আর কোচ হিসেবে যোগ্য মনে করা হচ্ছিল না, সেটা স্পষ্ট নয়। কেউ কি জানে না, অস্ট্রেলিয়া দলটি কীভাবে বিকশিত হলো এবং জনগণের কাছে আবারও প্রিয় হয়ে উঠল। সেই সঙ্গে বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল হওয়ার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।'ল্যাঙ্গারের দায়িত্ব ছাড়ার পর অবশ্য নতুন কোচের নাম ঘোষণা করতে সময় নেয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ল্যাঙ্গারের সিনিয়র সহকারী হিসেবে অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডকে।
12
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ তার নিজ এলাকা পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। একই আসন থেকে মন্ত্রীর মেয়ে ও জামাতাও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। তারাও এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ ঘটনায় ভূমিমন্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে এলো। কয়েক বছর আগে ঈশ্বরদীর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহে কমিশন বাণিজ্য নিয়ে বিতর্ক এবং ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে মন্ত্রীর জামাতা পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু প্রকাশ্যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ওই সময় ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে। পরে হামলা-পাল্টা হামলা, মারামারি, ভাংচুর এবং বেশ কয়েকটি মামলাও হয়। মাঝে পরিবেশ কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তাদের দ্বন্দ্ব আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রোববার পর্যন্ত পাবনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে ভূমিমন্ত্রীর মেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহজেবিন শিরিন পিয়া এবং তার স্বামী ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্টুও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটি ও রাজশাহী বিভাগের মনোনয়নপত্র বিক্রির দায়িত্বে থাকা আবদুল বাছেদ গালিব সমকালকে জানান, পিয়া একাই দুটি মনোনয়নপত্র কিনেছেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সত্যতা স্বীকার করেছেন পিয়া ও মিন্টু। অন্যদিকে ভূমিমন্ত্রীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব বশির আহমেদ বকুল। এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি 'অত্যন্ত বিব্রত' বলে মন্তব্য করেন। এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি। এ ছাড়া পাবনা-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন সাবেক এমপি পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম লিটন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস, পৌর আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান স্বপন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আলীম, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলাম রবি ও ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক মালিথা প্রমুখ।
6
আগৈলঝাড়া (বরিশাল): বরিশালের মুলাদি উপজেলা থেকে নিখোঁজ নুরবানু (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে বরিশালের আগৈলঝাড়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের নয় মাস পর গত শনিবার রাত ৯টায় আগৈলঝাড়ার বাকাল বাজারের নওপাড়া স্ট্যান্ড থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।জানা যায়, নয় মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন নুরবানু। নিখোঁজের পর স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে গত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়া বাকাল বাজারের নওপাড়া স্ট্যান্ডে শিউলী স্টোরে তাঁকে বসে থাকতে দেখেন বাকাল গ্রামের ফজলু তালুকদারের ছেলে আলাউল তালুকদার, শাহিন ব্যাপারীর ছেলে সাঈদ হাসান রাতুল ও রুবেন ব্যাপারীর ছেলে জেমস ব্যাপারী। বাড়ি কোথায়-জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর বাড়ি মুলাদি উপজেলার তেরচর গ্রামে।আলাউল তালুকদার বলেন, ওই বৃদ্ধাকে দেখতে পেয়ে আমরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে জানাই। পরে আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সমীরণ হালদার জানান, পুলিশ এই বৃদ্ধাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তাঁকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিলেন বলেও জানান চিকিৎসক।এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক মিলটন জানান, মুলাদি থেকে নিখোঁজ ওই বৃদ্ধার পরিচয়ে জানা যায়, তাঁর নাম নুরবানু এবং স্বামীর নাম জলিল কবিরাজ। পরে পুলিশ ওই বৃদ্ধার ছেলে সেকেন্দার কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা নিখোঁজ মাকে নিয়ে আগৈলঝাড়ায় চলে যান।
6
ড্র করলেই মিলবে বিশ্বকাপের টিকেট- এমন সমীকরণের ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় পর্তুগাল। পরে ব্যবধান ধরে রাখতে না পারলেও লক্ষ্য পূরণের পথেই ছিল তারা। শেষ মুহূর্তের গোলে তাদের স্তব্ধ করে দিল সার্বিয়া। নাটকীয় জয়ে দলটি নিশ্চিত করল কাতার বিশ্বকাপে খেলা। লিসবনে রবিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে 'এ' গ্রুপের শেষ রাউন্ডে ২-১ গোলে জিতেছে সার্বিয়া। খবর ইএসপিএন ও হিন্দুস্তান টাইমসের। আট ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে সার্বিয়া সরাসরি ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা পর্তুগালের আশা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তবে বিশ্ব মঞ্চে খেলতে হলে তাদের পার হতে হবে প্লে-অফের কঠিন বৈতরণী। প্রথম দেখায় গত মার্চে সার্বিয়ার মাঠে ২-২ ড্র করেছিল পর্তুগাল, এবার ঘরের মাঠে হেরেই গেল তারা। দলের সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। দুই দিন আগে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করা পর্তুগাল দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায়। ডি-বক্সের বাইরে আলগা বল পেয়ে বের্নার্দো সিলভা পাস দেন রেনাতো সানচেসকে। ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন লিলের এই মিডফিল্ডার। ত্রয়োদশ মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত সার্বিয়া, কিন্তু বাঁধ সাধে দুর্ভাগ্য। স্ট্রাইকার দুসান ভ্লাহোভিচের শট দূরের পোস্টে লাগে। পরের মিনিটে প্রথম সুযোগ পান রোনালদো। দূর থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ডের শট ঠেকান গোলরক্ষক। একটু পর তার ফ্রি-কিক উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ৩৩তম মিনিটে সমতা ফেরায় সার্বিয়া। এই গোলে দায় আছে পর্তুগিজ গোলরক্ষক রুই পাত্রিসিওর। ডি-বক্সের মাথা থেকে দুসান তাদিচের শট দানিলো পেরেইরার গায়ে লেগে পাত্রিসিওর হাত ছুঁয়ে গোললাইন পেরিয়ে যায়। বিরতির আগে পর্তুগালের জালে বল পাঠান ভ্লাহোভিচ। তবে অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে পর্তুগালের ওপর চাপ বাড়ায় সার্বিয়া। ৮৩তম মিনিটে আলেক্সান্দার মিত্রোভিচের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে তিনিই উচ্ছ্বাসে ভাসান দলকে। সতীর্থের ক্রসে দূরের পোস্টে হেডেই মহামূল্যবান গোলটি করেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা এই স্রাইকার। হতাশায় নুয়ে পড়েন রোনালদোরা। গ্রুপে পরের তিনটি স্থানে থাকা রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড (৯), লুক্সেমবার্গ (৯) ও আজারবাইজানের বিশ্বকাপে খেলার আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই। ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে ১০ গ্রুপের শীর্ষ ১০ দল সরাসরি পাবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের টিকেট। ১০ গ্রুপের রানার্সআপ ও নেশন্স লিগের সেরা দুই গ্রুপ জয়ী মিলে ১২ দলের প্লে-অফে ইউরোপ থেকে আরও তিনটি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে খেলার।
12
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সব পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, "সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতেও ব্যর্থ হয়েছে।" শনিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা আয়োজিত পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী গণ-অনশন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। গণ-অনশন কর্মসূচি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ইউটিলিটি সার্ভিসের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েক শতাধিক নেতা-কর্মী এ কর্মসূচিতে যোগ দেন। আরও পড়ুন: জোটের অনশনে এসে যুবদলের হাতে মার খেলো জামায়াত কর্মীরা! মির্জা ফখরুল এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শাখার আহ্বায়কসহ জ্যৈষ্ঠ নেতারা অংশ নেন। মির্জা ফখরুল বলেন, "রমজান সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। কিন্তু এই সরকার কি করছে? সরকার ও তাদের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লাগামহীন লোভের কারণেই সব কিছুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।" দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।
9
করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ৩৭০ শয্যার 'করোনা সেন্টার' চালু হচ্ছে। শরিবার (৪ জুলাই) এই সেন্টার চালু হবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ৩৭০ শয্যার মধ্যে 'কেবিন ব্লকে' শয্যার সংখ্যা ২৫০টি এবং 'বেতার ভবনে' শয্যার সংখ্যা ১২০টি। 'কেবিন ব্লকে' ২৫০ শয্যার মধ্যে ইমার্জেন্সি রোগীদের জন্য রয়েছে ২৪টি শয্যা এবং আইসিইউ শয্যা সংখ্যা হল ১৫টি। কেবিন ব্লকে 'সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট' স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও হাইফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা, নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেটর স্থাপন করার কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিটি শয্যায় রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপোর্টসহ অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধাসমূহ। ইতোমধ্যে করোনা সেন্টার চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়-য়ার সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্সসহ সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
4
কুমিল্লায় সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হারুনুর রশীদ নামে পরাজিত এক চেয়ারম্যান প্রার্থী। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার-বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী কংশনগর এলাকায় ওই প্রার্থীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।সম্প্রতি হারুনুর রশিদ দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়ন থেকে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলামের সঙ্গে পরাজিত হন। নুরুল ইসলাম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বাবা।হারুনুর রশিদের স্বজনেরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে সালাউদ্দিন, আলমগীর, বাচন, পলাশসহ একদল সন্ত্রাসী মনির হোসেন নামে হারুনুর রশিদের এক সমর্থককে মারধর করে। এ ঘটনায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে রাতে থানায় যান হারুনুর রশিদ। এতেই ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সড়কে ওত পেতে থাকেন। পরে রাত ১টার দিকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে দেবিদ্বার-বুড়িচং সীমান্তবর্তী কংশনগর এলাকায় পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। এ সময় তাঁকে সিএনজি থেকে নামিয়ে হাত-পা বেঁধে হাতের দুটি আঙুল তুলে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া মাথাসহ পুরো শরীরে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশের সহায়তায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে।চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীর থেকে বিপুল পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। হাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পুরো শরীর ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কুমেক হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।হামলার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হাশেম বলেন, 'থানা থেকে বের হওয়ার পরপরই একটি মোটরসাইকেল আমাদের অটোরিকশাকে নজরদারি করছিল। পরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কংশনগর হয়ে ফুলতলী এলাকায় প্রবেশদ্বারে কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার আমাদের অটোরিকশাকে ঘিরে ফেলে। এ সময় হারুনুর রশীদকে ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। হামলায় ১৪-১৫ জন জড়িত থাকলেও আমি মাসুদ, সালাউদ্দিন, আলমগীর, বাচন, পলাশ ও রুবেলকে চিনতে পেরেছি। আর বাকিরা মুখোশ পরিহিত থাকায় কাউকে চিনতে পারিনি।'এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, 'খবর পেয়ে আমি দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় হামলার শিকার হারুনুর রশিদকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। ঘটনাটি ঘটেছে বুড়িচং উপজেলার কংশনগর এলাকায়। আমি এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি ও দেবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।'
6
'গাংগুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি'র ছবির শুটিং শেষ করলেন খুব বেশি দিন হয়নি। কিন্তু এতেও মন ভরেনি। আবার সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে কাজ করার জন্য অস্থির হয়ে আছেন আলিয়া ভাট। ছোট্ট কোনো চরিত্র হলেও চলবে। এমনকি এ জন্য কোনো পারিশ্রমিকও নিতে চান না। বলা যায়, এ ব্যাপারে নাছোড়বান্দা আলিয়া। বলিউডের প্রায় সব নায়িকাই সঞ্জয় লীলা বানসালির ছবিতে কাজ করতে উৎসাহী। আলিয়াও ব্যতিক্রম নন। বানসালির 'গাংগুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি' ছবির নায়িকা হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছেন। এই ছবিতে আলিয়ার সঙ্গে কাজ করে বানসালি সন্তুষ্ট। আর আলিয়াও তাঁর সঙ্গে কাজ করে লোভে পড়ে গেছেন। বানসালির সঙ্গে আরও কাজ করতে চান। বিশেষ করে বানসালির আগামী সিরিজ 'হীরামন্ডি'তে কাজ করার তাঁর খুব ইচ্ছা। জানা গেছে, 'হীরামন্ডি' সিরিজে ছোট একটা চরিত্রে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার জন্য বানসালিকে অনুরোধ করেছেন আলিয়া। বলেছেন, 'আমাকে "হীরামন্ডি"তে যেকোনো চরিত্র দিতে পারেন। তা সে যেকোনো চরিত্র। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করে দেব।' ধারণা করা হচ্ছে, আলিয়ার এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবেন না বানসালি। 'হীরামন্ডি'তে এই বলিউড নায়িকাকে ছোট একটা চরিত্রে দেখা যেতে পারে। অবশ্য বিনা মূল্যে না, যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। কেননা, 'হীরামন্ডি' সিরিজের প্রযোজক নেটফ্লিক্স। আর তাই বানসালির এই সিরিজের অভিনয়শিল্পীদের যথাযথ পারিশ্রমিক দেবে নেটফ্লিক্স। গতকাল বানসালির প্রযোজনা সংস্থা তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে 'হীরামন্ডি'র পোস্টার শেয়ার করেছে। তারা লিখেছে, 'একটা কাব্য আপনাদের অপেক্ষায় আছে। সঞ্জয় লীলা বানসালির "হীরামন্ডি" সবাইকে রোমাঞ্চিত করবে।' ৭ পর্বের সিরিজটির প্রথম পর্ব পরিচালনা করবেন বানসালি। বাকি পর্বগুলোর পরিচালক বিভু পুরী। সিরিজটি লাহোরের যৌনপল্লি আর সেখানকার সংস্কৃতির ওপর তৈরি হবে। সিরিজের মূল চরিত্রে দেখা যাবে সোনাক্ষী সিনহা, হুমা কুরেশি, নির্মিত কাউর, মনীষা কৈরালা আর সায়নী গুপ্তকে। সিরিজে সোনাক্ষী আর হুমাকে যৌনকর্মীর চরিত্রে দেখা যেতে পারে। বানসালি গতকাল ভারতীয় সিনেমার জগতে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ করলেন। এই পরিচালক 'ব্ল্যাক', 'খামোশি', 'হম দিল দে চুকে সনম', 'দেবদাস', 'পদ্মাবত', 'সাওরিয়া', 'রামলীলা', 'বাজিরাও মস্তানি'র মতো ছবি পরিচালনা করেছেন।
2
আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে প্রিন্সেস ডায়ানা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটফ্লিক্সের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি ডকুমেন্টারি ও ভিডিও ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। যা নিয়ে হইচই পড়ে গেছে নেট-দুনিয়ায়। এতে বিদ্বেষের বন্যা বয়ে গেছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের বিরুদ্ধে। যার থেকে রেহাই পাননি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, যুবরাজ চার্লস ও তার স্ত্রী ক্যামিলা পার্কারও। যার প্রেক্ষিতে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজপরিবার। ওই ভিডিওতে ডায়ানাকে বলতে শোনা গেছে, 'একটি পার্সেল খুলে দেখি তার মধ্যে রয়েছে একটা ব্রেসলেট। শুনি চার্লস সেটা উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছিলেন ওর প্রেমিকা ক্যামিলা পার্কার বোলসকে। সেটা দেখেই আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়ি।' ভিডিও এর আরেকটি অংশে ডায়ানাকে বলতে শোনা গেছে, 'ও (চার্লস) যেন আমার মাথাটাই সে দিন কেটে ফেলেছিল। এত রেগে গিয়েছিলাম সে দিন। কতটা ঠকে গেছি ভেবে ঠান্ডায় যেন জমে গিয়েছিলাম। অবশ হয়ে পড়েছিলাম।' শুধু ডায়ানার বক্তব্যই নয় ভিডিও ও ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে চার্লস-ডায়ানার ভেঙে যাওয়া দাম্পত্য নিয়ে সমালোচকদের মন্তব্যও। সেখানে অনেকেই কোনও রাখঢাক না রেখে ওই দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার জন্য ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপ ও রাজপরিবারের অনেকসদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাকে কী ভাবে ঠকানো হয়েছিল, ভিডিওতে তারও বর্ণনা দিতে শোনা গেছে ডায়ানাকে। ডায়ানা বলেছেন, 'ক্যামিলা আমাকে বলল ও চার্লসের সঙ্গে শিকারে যেতে চায়। আমি কিছু না বুঝেই ওদের অনুমতি দিয়েছিলাম। ক্যামিলাকে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলাম। ভাবিনি পরে আমাকে ঠকতে হবে।' চার্লসকে বিয়ে করার আগে যে তিনি অন্য রকমও ভেবেছিলেন, ভিডিও ও ডকুমেন্টারিতে সে কথাও কবুল করতে দেখা গেছে ডায়ানাকে। তিনি বলেছেন, 'আমি বোনদের বলেছিলাম ওকে (চার্লস) বিয়ে করাটা বোধহয় আমার উচিত হচ্ছে না।' সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ডকুমেন্টারি আর ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু হয়ে যায় নেটিজেনদের। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, যুবরাজ চার্লস ও তার স্ত্রী ক্যামিলা পার্কার কেউই রেহাই পাননি সেই বিষোদ্গারের হাত থেকে। সূত্র: আনন্দবাজার। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব প্রয়াত জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু গুরুতর অসুস্থ থাকার সময় থেকে গুঞ্জনটা শুরু হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পরপরই তা আরও বেড়েছে। তবে দলীয়ভাবে এর উত্তর মেলেনি যে জাপার নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন? এই দৌড়ে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যানের পছন্দের লোকই মনোনয়ন পাবেন, তা নিশ্চিত।তবে এ নিয়ে জাপার চেয়ারম্যানের ওপর চাপ আছে। দলের অনেক নেতাই এ বিষয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে বলছেন।না হলে এ কারণে আবার দলে ভাঙনের সৃষ্টি হতে পারে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ অক্টোবর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। খালি পদটির দায়িত্ব নিতে এরই মধ্যে জাপার অনেক সিনিয়র নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি এই পদের বিপরীতে তরুণ এক নেতারও নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তাঁদের মধ্যে আছেন দলের সাবেক দুই মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মসিউর রহমান রাঙ্গা। এরশাদের আমলে দুই নেতাই এ দায়িত্ব পালন করেছেন। মসিউর রহমান রাঙ্গা এরশাদ পরিবারের সদস্য।বাবলু মহাসচিব হওয়ার আগে এই পদের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন রাঙ্গা। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদসহ আরও অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। অভিজ্ঞ এবং সিনিয়র নেতাদের পাশে জায়গা পেয়েছেন দলটির অতিরিক্ত মহাসচিব (রংপুর বিভাগ) ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। বয়সে তরুণ এই নেতা এরই মধ্যে দলের সব স্তরে আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছেন। জাতীয় সংসদেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হিসেবেও ভালো ভূমিকা রাখছেন। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের মহাসচিব নিয়োগের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে চেয়ারম্যানকে।জাপার ভাইস চেয়ারম্যান শাফিন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এই বিষয়ে চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। পার্টিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উজ্জীবিত করতে পারেন, এমন কেউ হলে পার্টির জন্য ভালো হবে।' দলটির বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা আজকের পত্রিকাকে জানান, মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে থাকা নেতাদের মধ্যে অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে আছেন রুহুল আমিন হাওলাদার ও মসিউর রহমান রাঙ্গা। তাঁরা দুজনই আগে এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে হাওলাদারের বিষয়ে চেয়ারম্যানের বিরূপ মনোভাব এখনো আছে। তাঁকে অন্তত তিনি এই পদে বসাবেন না, সেটা অনেকটাই পরিষ্কার।অন্যদিকে কৌশলগত কারণে নিজের ভাগনে রাঙ্গাকে সরিয়ে বাবলুকে মহাসচিবের দায়িত্বে বসিয়েছিলেন কাদের। তাঁকেও এই পদে ফেরানোর সম্ভাবনা আপাতত নেই। বাকি দুজনের মধ্যে একজন ফিরোজ রশীদ আরেকজন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এই দুজনের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও বয়সের দিক থেকে ফিরোজ রশীদ এগিয়ে থাকলেও পার্টিতে তরুণ এবং প্রতিশ্রুতিশীল নেতা হিসেবে আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছেন শামীম।তবে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলছেন, এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটা নিয়ে তাড়াহুড়া করারও কিছু নেই। সময়মতো গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে শামীম হায়দার পাটোয়ারীই মহাসচিব হচ্ছেন, বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসার আগেই বিরোধিতা করছে দলের একটি পক্ষ। গত সোমবার বিকেলে ধানমন্ডির কলাবাগানে ফিরোজ রশীদের বাসায় তাঁরা এই বিষয়ে আলোচনা করেন। সেখানে ফিরোজ রশীদ, মসিউর রহমান রাঙ্গা, রুহুল আমিন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন নেতা বৈঠক করেন।এ প্রসঙ্গে মসিউর রহমান রাঙ্গা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এটা সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নিলে দল ভাঙনের মুখে পড়বে।' শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, 'এখন পর্যন্ত মহাসচিব নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। চেয়ারম্যান যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই হবে। আর পার্টি আমাকে দায়িত্ব দিলে তা আমি মেনে নেব, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব।'
9
খুন-গুমের অভিযোগে করা মামলার ৫ বছর পর নিখোঁজ রকিবুজ্জামান রিপনকে জীবিত উদ্ধার করেছে পিবিআই। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তারিক হাসানের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। রকিবুজ্জামান রিপন মহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের গোভীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে রকিবুজ্জামান রিপনের সাথে গাংনী হাটবোয়ালি গ্রামের আকবর আলীর মেয়ে শ্যামলী খাতুনের বিয়ে হয়। পারিবারিক অশান্তির কারণে বিয়ের কিছুদিন পর থেকে সে শ্বশুর বাড়ি হাটবোয়ালি গ্রামে বসবাস করতো। এরপর ২০১৭ সালে হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে রিপন নিরুদ্দেশ হয়। এর পর রিপনের বাবা মনিরুল ইসলাম ২০১৮ সালে ১০ ডিসেম্বর সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩৬৪/১০৯ পেনেল কোড ধারায় ছেলের বৌ শ্যামলি খাতুন, বেয়াই আকবর আলী, বিয়ান সুফিরন ও তক্কেল আলীর নামে মামলা করে। রিপোনের স্ত্রী শ্যামেলী খাতুন বলেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারীর ৯ তারিখে আমাদের বিয়ে হয়। এর কিছুদিন পর থেকে সে আমাকে নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে বসবাস করতো। আমাদের ঘরে একটি কণ্যা সন্তানের জন্ম হয়। ২০১৭ সালের ১৫ এপ্রিল আমাকে কিছু না জানিয়ে সে চলে যায়। এরপর থেকে সে আর আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। আমার শ্বশুর শাশুড়িকে বিষয়টি আমি জানাই। তখন তারা আমাকে বলে তাদের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিলে তারা আমাকে নিয়ে আসবে। তাদের ছেলে আমার সাথে সংসার করবে। কিন্তু আমার বাবার সে টাকা দেবার সামর্থ নেই। আমার বাবা একজন দিনমজুর। এর কিছুদিন পর আমাদের বাড়ি পুলিশ যায়। পুলিশ আমাদের জানায় আমাদের নামে আমার স্বামীকে খুন করে গুমের অভিযোগ আছে। এরপরে পুলিশ তদন্তে করে রিপোর্ট দেয় সে আত্মগোপনে আছে। এরপর আদালত পিবিআইকে তদন্ত দেয়। তারা তদন্ত করে। আমি আর আমার মা বহু হয়রানির শিকার হয়েছি। আদালতের কাছে আমার দাবি আমার হয়রানির বিচার ও আমার সন্তানের নিশ্চিত ভবিশ্যতের ব্যবস্থা যেন হয়। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর আগে একটা বৌ ছিলো আমরা জানতাম না। তা ছাড়া সে নেশা করতো ও নারীর উপর আশক্ত ছিলো। আমি এগুলোতে বাধা দিলে আমাদের মধ্যে বিরোধ হয়। কুষ্টিয়া পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. শহীদ আবু সরোয়ার লিখিত প্রেস বিফিংএ বলেন, ভিকটিম রিপন কৌশলে মো. শরিফুল ইসলাম ছদ্ম নাম ধারণ করে গত ২০২০ সালের ১০ মার্চ গাইবান্ধা জেলার শিমিলা আক্তার নামে এক নারীকে বিবাহ করে । এছাড়া সে ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড ইলেকট্রিক্যাল পদে চাকুরি করছিলো। দীঘ ৫ বছর পর প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিপনকে সুস্থ ও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল
6
গাঁজা সেবন নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে শেখ আকাশ (২০) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর মধ্যপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।নিহত আকাশ ওই গ্রামের শেখবাড়ির উত্তরপাড়ার হুমায়ুনের ছেলে। তিনি চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।হাসপাতাল ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার একটি স্কুলের সামনে আকাশ গাঁজা সেবন করেন এমন অভিযোগে তাঁর সঙ্গে উত্তরপাড়ার রিফাতের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টির মীমাংসা করে দেন। সেই সঙ্গে তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন।পরে বিকেলে সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আকাশ বন্ধুদের নিয়ে খেলা দেখতে যান। খেলা শেষে মধ্যপাড়া এলাকায় আড্ডা দেওয়ার সময় রিফাত ও তাঁর সহযোগীরা আকাশের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। এ সময় আকাশের বুকে ও মাথায় ছুরিকাঘাত করেন রিফাত। স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় আকাশকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন ফায়েজ (১৬), আরমান (২০), রাকিব (১৪) ও মাসুম (১৭)। তাঁদের বাড়ি একই ইউনিয়নে। আহতদের ২৫০ শয্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আকাশের মাথা-বুকে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
6
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এই সাত দিনে অন্তত ১০ লাখ মানুষ ইউক্রেন থেকে শরণার্থী হয়ে পাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সপ্তাহে ইউক্রেনের শরণার্থীর সংখ্যা ২০১৫ সালের শরণার্থীসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।এদিকে এক টুইটার বার্তায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেছেন, মাত্র সাত দিনেই আমরা ১০ লাখ মানুষকে ইউক্রেনের পাশের দেশগুলোতে পালিয়ে যেতে দেখলাম। দয়া করে আপনারা বন্ধুক নামিয়ে ফেলুন, যাতে করে জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রদান করা যায়।কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে কমপক্ষে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হবে এবং তাদের জন্য ত্রাণের প্রয়োজন হবে বলে ভবিষ্যদদ্বাণী করেছে জাতিসংঘ।
3
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তটা অবশেষে নিয়েই ফেললেন স্টিভেন জেরার্ড। কিছুদিন ধরেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুজব উঠছিল। আরও খেলবেন, নাকি কোচিংয়ে মনোনিবেশ করবেন, তা জানতে উদ্বেগ ছিল সমর্থকরা। অবশেষে বুট তুলে রাখার সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল এই অধিনায়ক। ২০১৪ বিশ্বকাপের পরেই জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এবার ক্লাব ফুটবলেও ইতি টানলেন তিনি। অবসরের কারণ জানাতে গিয়ে জেরার্ড বলেন, 'সময় শেষ হয়ে আসছিল বুঝতেই পারছিলাম। শরীর জবাব দিচ্ছিল, ব্যথা-যন্ত্রণা নিয়মিত লেগেই ছিল। গত কয়েক বছর ধরে বুঝতে পারছিলাম গতিও কমে যাচ্ছে। দলকে যা দিতে পারতাম, সেটা আর পারছিলাম না। ক্রমশ হতাশা গ্রাস করছিল।' ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিরুদ্ধে ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৮ তে লিভারপুলের হয়ে অভিষেক হয় জেরার্ডের। তারপর দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি ক্লাব ছেড়ে যাননি। ৭১০টা ম্যাচ খেলেছেন লিভারপুলের হয়ে, রয়েছে ১২০টা গোল। দীর্ঘ ১৩ বছরের অধিনায়কত্বে ৮টি বড় ট্রফি জিতেছেন, যার মধ্যে সব থেকে স্মরণীয় ২০০৫ সালে ইস্তানবুলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, যে ম্যাচে মিলানের বিরুদ্ধে তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও সেই তিন গোল শোধ করে টাইব্রেকারে জেতে লিভারপুল। তবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ একবারও না জিততে পারাটাই জেরার্ডের সব থেকে বড় আক্ষেপ হয়ে থাকবে। মিডফিল্ডে তার দাপট দেখে একসময় প্রত্যেকটি ক্লাব তাকে সই করতে উঠেপড়ে লেগেছিল। রিইয়াল মাদ্রিদসহ অনেক ক্লাব তাকে 'ব্ল্যাঙ্ক চেক'ও দেয়। কিন্তু রেডসদের প্রতি দায়বদ্ধ জেরার্ড শত প্রলোভনেও ক্লাব ছাড়েননি। জাতীয় দলের হয়ে ১১৪টা ম্যাচে রয়েছে ২১টা গোল। ২০১৫ তে লিভারপুল ছেড়ে আমেরিকার লস এঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে যোগ দেওয়ার পরে ৩৪টা ম্যাচে ৫ গোল করেছেন। অবসরের পরেই এদিন বিশাল বিবৃতিতে লিভারপুলের সমস্ত সদস্য-সমর্থক, ইংল্যান্ড জাতীয় দল এবং গ্যালাক্সিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গেই তার পরিবারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ভবিষ্যৎ কী, সে-ব্যাপারে খোলসা করেননি। আপাতত লিভারপুল একাডেমীতেই ছোটদের কোচিং করাবেন। বিডি-প্রতিদিন/২৫ নভেম্বর, ২০১৬/তাফসীর-১৫
12
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশবাসীকে আমরা উন্নত ভবিষ্যৎ উপহার দেবো। উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আরও যাবো।তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সমুন্নত রেখে আমরা সোনার বাংলা গড়বো। আওয়ামী লীগকে আরো সুসংগঠিত করবো। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করতে পারবো। বাংলাদেশকে আমরা একটা 'বেটার ফিউচার' উপহার দেবো।'ওবায়দুল কাদের আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন।পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতারা দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও কূটনীতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমাদের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ ও আমাদের পার্টির নেতা-কর্মীসহ সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।' আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'সকাল থেকেই অঝোর বৃষ্টি হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও আপনারা এসেছেন। এবার মুসলিম বিশ্বসহ ইউরোপ-আমেরিকা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ প্রায় সব দেশের কূটনীতিকরা এখানে এসেছিলেন। আমরা আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। পার্টির নবনির্মিত কার্যালয়ে তাদের স্বাগত জানিয়েছি। ঈদযাত্রা নিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা হয়েছে। এবারকার মতো এত স্বস্তিতে মানুষ কখনো ঘরে ফিরতে পারেনি। এবার একটা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং নিরাপদে মানুষ বাড়িতে ফিরে গেছে। আমি আশা করি এবং বিশ্বাস করি ঈদের পরও তারা স্বস্তিতেই কর্মস্থলে ফিরে আসবেন এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটা উন্নত, সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেবো। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আমাদের চলার পথ জাতীয় সম্মেলনও খুব দূরে নয়। দলকে আরও সুসংগঠিত, আরও স্ট্রিমলাইন, আরো স্ট্রংগার আরও মর্ডান করবো। একটা শক্তিশালী টিমওয়ার্ক গঠন করবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। শুভেচ্ছা বিনিময় অনষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খাঁন কামাল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দফতর ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ মহানগর আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।সূত্র : বাসস
9
ফের সারা বিশ্বে চোখ রাঙাচ্ছে মহামারি করোনাভাইরাস। বিশ্বজুড়ে ফের বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু। করোনা রোধে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে থাইল্যান্ডে। দেশটির রাজধানী ব্যাংককসহ নয়টি প্রদেশে জারি থাকবে এই কারফিউ।সোমবার (১২ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই কারফিউ প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার (৯ জুলাই) এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেয় দেশটির করোনাভাইরাস টাস্কফোর্স।ঘোষণায় বলা হয়, কারফিউ চলাকালীন খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া যাবে না। খোলা রাখা যাবে সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ইলেকট্রনিকস স্টোর। তবে তা কারফিউ চলাকালীন বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া অন্য সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। রাত ৯টা থেকে বন্ধ থাকবে সব গণপরিবহন। একত্রে পাঁচজনের বেশি মানুষ জড়ো হতে পারবে না।দেশটিতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শুক্রবার নতুন করে ৯ হাজার ২৭৬ জন সংক্রমিত হয়েছে। মারা গেছে ৭২ জন।
3
রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপু হত্যার ঘটনায় একজন শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে রবিবার (২৭ মার্চ )দুপুর আড়াইটায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক ওই তরুণ মূলত ভাড়াটে খুনি। মতিঝিল এলাকার বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠ এই তরুণসহ অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন এই হত্যাকাণ্ডে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব শুরু হলে তাদের টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানতে পেরেছেন, তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও ফ্রিডম মানিকের ঘনিষ্ঠ এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ক্যাডার বাহিনীর সদস্য। এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের ব্যবহার করা হয়। মতিঝিল এলাকায় তাদের মতো অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী রয়েছে। এর আগে তাদের হাতে আরো অনেকে খুন হন। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুকের সামনে ব্যাগ আর হেলমেট পরা এক যুবক মোটরসাইকেল থেকে নেমেই মাইক্রোবাসের সামনের সিটে বসা টিপুর গাড়িতে গুলি চালান। গুলিতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। টিপুকে লক্ষ্য করে দ্রুত গুলি চালিয়ে সড়কের অন্য পাশ দিয়ে পালিয়ে যান ওই যুবক। তখন সড়কে টিপুর গাড়ির বিপরীত পাশের মার্কেট বন্ধ ছিল। রাস্তাও ছিল ফাঁকা। ফলে গুলির পরপরই দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হন খুনি। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার স্বামী জাহিদুল ইসলাম টিপু ১০ বছর ধরে বৃহত্তর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যও ছিলেন। মতিঝিল কাঁচা বাজার এলাকায় গ্র্যান্ড সুলতান নামে আমাদের একটি রেস্টুরেন্টে আছে। আমার স্বামী রেস্টুরেন্ট দেখাশোনা করতেন। ১০ বছর ধরে বৃহত্তর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন দলীয়ভাবে কোনো দল ছিল। গত ৪-৫ দিন আগে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী আমার স্বামীকে ফোনে হত্যার হুমকি দেয়। প্রতিদিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্না মাইক্রোবাস নিয়ে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মতিঝিল এজিবি কলোনির গ্র্যান্ড সুলতান নামে একটি রেস্টুরেন্ট কাজ শেষে বাসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে রাত আনুমানিক সোয়া দশটার দিকে মানামা ভবনস্থ বাটার দোকানের সামনে অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি গুলি করে এবং গুলিতে গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে যায়। আমার স্বামীর গলার ডানপাশে, বুকের বামপাশে, বুকের বামপাশের বগলের কাছাকাছি, পেটের মধ্যে নাভির নিচে, বামকাঁধের ওপর, পিঠের বামপাশের মাঝামাঝি স্থানে, পিঠের বামপাশে কোমর বরাবর, পিঠের ডানপাশের কোমরের ওপর একাধিক স্থানে মারাত্মক জখম হয়। দুষ্কৃতিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করার সময় প্রীতি নামে এক পথচারী নিহত হয়। আহত হয় টিপুর চালক মনির হোসেন মুন্না। বর্তমানে আমার স্বামী ও নিহত ছাত্রীর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। উল্লেখিত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মর্জি হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শোরুমের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফরান প্রীতি নামের এক কলেজছাত্রীও নিহত হন। তবে ওই কলেজছাত্রী সন্ত্রাসীদের গুলিতে, নাকি অন্য কারো গুলিতে নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া টিপুর গাড়িচালক মুন্নাও গুলিবিদ্ধ হন।
6
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মধ্যরাতে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে আটকের ১৮ দিন পর মঙ্গলবার নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধান পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নাটোর জেলা কারাগারে দেখা মিলেছে নিখোঁজ থাকা দুই যুবকের। নাটোর জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার তোফায়েল আহম্মেদ বলেছেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাগাতিপাড়া থানায় দায়ের করা (মামলা নং ১৪) একটি হত্যা মামলায় আটক দেখানোর পর এই দুই যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর আদালত চত্বরে নিখোঁজ মাজেদুল মন্ডলের (৩০) পিতা বাগাতিপাড়া উপজেলার বেগুনিয়া গ্রামের খোদাবক্স মন্ডল ও তার বড় ছেলে রেজাউল করিম বলেন, গত ৫ অক্টোবর শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে থাকা আট-দশ জন লোক মাজেদুল মন্ডলকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। 'ওসি স্যার কথা বলবেন' এমন কথা বলে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে তারা মাজেদুলকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। একই সময় একই এলাকার লিটন ওরফে ডনকেও তুলে নেয় সাদা পোশাকধারী পুলিশ। এরপর থেকে বাগাতিপাড়া থানা, নাটোরের র্যাব ও ডিবি অফিস এবং পুলিশ সুপার কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ১৮দিনেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সকল অফিস থেকেই মাজেদুল ও লিটনকে আটকের কথা অস্বীকার করা হয়। মাজেদুলের পিতা খোদাবক্স আরও অভিযোগ করেন, ছেলের খোঁজ না পেয়ে তিনি বাগাতিপাড়া থানায় একটি জিডি করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহন করেনি। ওসি বার বার বলেছে, "আপনার ছেলে যেখানে আছে ভালো আছে"। দুই যুবককে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে তুলে নেয়ার ঘটনার পর বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মাজেদুলের পরিবারের লোকজন থানায় এসেছিলেন। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। মঙ্গলবার ঢাকার আইন ও শালিস কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত করতে নাটোরে আসেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকসহ নাটোর জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার তোফায়েল আহম্মেদের দফতরে যান। চালককে হত্যা করে ভ্যান রিকশা ছিনতাই মামলায় আটক দেখিয়ে এই দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তখন তাদেরকে জানানো হয়। বাগাতিপাড়া থানা থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এই দুই যুবককে আটক বা খোঁজ পাওয়ার বিষয়ে কিছু জানা নেই বলা হলেও বিকেলে তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর বাগাতিপাড়া থানায় দায়ের করা ১৪ নম্বর মামলায় আটক দেখানোর কথা বলা হয়। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই প্রশান্ত কুমার বলেছেন, গত ২১ অক্টোবর মালঞ্চি স্টেশন এলাকা থেকে মাজেদুল মন্ডল ও লিটন ওরফে ডনকে আটক করা হয় এবং পরের দিন ২২ অক্টোবর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে আটক মাজেদুল মন্ডলের পিতা খোদাবক্স মন্ডল তার ছেলে আটকের ১৮ দিন পর আদালতে সমর্পন ও এর আগে ছেলেকে অমানুষিক নির্যাতন করার বিচার দাবি করেছেন।
3
ঢাকা: ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ ছিটমহল থেকে আর কোনো সহিংসতা সহ্য করবে না ইসরায়েল। গত রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট গাজার হামাস শাসকদের সতর্ক করে এসব কথা বলেন।গাজায় ২০১৪ সালে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত সৈন্যদের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেনেট বলেন, ইসরায়েল তাঁর ধৈর্য হারিয়েছে। হামাসকে ইসরায়েলের ভিন্ন মনোভাবের সঙ্গে সহাবস্থানে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। বেনেট আরও বলেন, 'তাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে আমরা সহিংসতা, বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণ বা কোন পথ ভ্রষ্টতা সহ্য করব না।'এর আগে গাজায় নতুন উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর বেনেট এসব মন্তব্য করেন। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তেজিত দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বিস্ফোরক বেলুন প্রেরণের পর গত সপ্তাহে গাজায় হামাসের জায়গাগুলো লক্ষ্য করে দুটি পৃথক সিরিজ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।গাজা উপত্যকা ও ইসমাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে গাজায় ২৫৬ জন ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলে ১৩ ব্যক্তির প্রাণহানির মধ্য দিয়ে ১১ দিনের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে গত ২১ মে সেখানে এক ধরনের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির সূচনা হয়।
3
আঞ্চলিক তিনটি দলে গোলাগুলিতে কেঁপে উঠেছে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা। শনিবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে বাঘাইছড়ির তালুকদার পাড়া এলাকায় পাহাড়ের আঞ্চলিক ৩ সংগঠন জেএসএস (সন্তু) ও জেএসএস(এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক) দলের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুক যুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় উভয় পক্ষ আনুমানিক ৭০০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। বাঘাইছড়ি থানার ওসি মো: আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলাগুলির প্রচন্ড আওয়াজ আমরা শুনতে পেয়েছি। তবে এখনো কোনো হতাহতের সংবাদ পাইনি। ৯ জানুয়ারী শনিবার বিকালে একটানা গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। ঘটনার পরপরই বিজিবি ও পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। উক্ত গোলাগুলিতে উপজেলা সদরের হাজী পাড়া নূর টাওয়ারের জানালা ও দেওয়ালে ৩টি এবং কাচালং বাজারের ঘাট পাড়ে হাজী আ: শুক্কুল মিয়ার ভবনে ১ টি গুলি বিদ্ধ হয়েছে এবং মুসলিম ব্লক ঈমাম পাড়া জামে মসজিদ চৌমুহনী মার্কেট, মাদ্রাসা পাড়া হাজী পাড়া এলাকায় ছড়িয়ে যায় গুলির খোসা । এনিয়ে স্হানীয়রা দূঃচিন্তায় ও আতংকে ভোগছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমতে জানা যায়, বিবেদমান আঞ্চলিক দলের রক্তক্ষয়ী এমন সংঘষে উপজেলার শান্তি প্রিয় মানুষ এখন বিপদগ্রস্ত। প্রসাশনের নাকের ডোগায় এমন ঘটনা হরহামাশায় ঘটছে, কোন প্রতিকার দেখা যাচ্ছে না। সচেতন মহলের অভিমতে আরো প্রকাশ পায়, এক সময়ের পাহাড়ি বাঙালীর ভেদাবেদ ছিল, দাঙ্গা হাঙ্গামা ছিল এখন উভয়ে শান্তিতে বসবাস করছে। তবে এমন ঘটনায় ভবিষৎ কি হতে চলছে, শান্তির নীড়ে হয়তবা পাহাড়ি বাঙ্গালীর ভেদাবেদ পুনরায় তৈরি হতে পারে বলে বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
6
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের কুলিপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের হামলায় অঞ্জলী বিশ্বাস (৪০) নামে এক গর্ভবতীসহ তিন নারী আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হাফিজার সর্দার নামে এক হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত অঞ্জলী মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য। তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অঞ্জলী জানান, পাশ্ববর্তী চালিমিয়া গ্রামের হাফিজার ও বকশিপুরের মোহন মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সকালে তিনি নিজের বাড়িতে থাকা খামারে মুরগীর খাবার দিচ্ছিলেন। এ সময় হাঠাৎ হাফিজার ও মোহনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিশোঠা নিয়ে ২৫-৩০ জনে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় তিনিসহ তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সুদিপ্তা (১৮) ও প্রতিবেশি মালা রানী মন্ডল (৫৫) আহত হন। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হোসেন জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হাফিজার সর্দার নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে। ইউপি সদস্য অঞ্জলী বিশ্বাস অভিযোগ দায়ের করলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএসের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএস কোর্সের প্রবেশিকা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। রিমোট সেন্সিং এবং জিআইএসের মাধ্যমে দুর্যোগ সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ফসলের বিন্যাস সম্পর্কেও জানা সহজ হয়। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারঘোষিত ২০২১ সালের রূপকল্প ইতোমধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অর্জিত হয়েছে। করোনা মহমারিতেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি উর্ধ্বমুখী আছে। বর্তমানে ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রিমোট সেন্সিং এবং জিআইএস অধ্যয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পৃথিবীর অবারিত সুযোগ কাজে লাগাতে হবে শিক্ষার্থীদের। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার। এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এআইটি) বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর অধ্যাপক জয়শ্রী রায়, গবেষক ও বিজ্ঞানী বীরেন্দ্র বজ্রাচারী, মীর আব্দুল মতিন, রাজেশ বাহাদুর থাপা প্রমুখ।
6
এক ইউক্রেনীয় ধনকুবের সম্প্রতি তার দেশের সামরিক বাহিনীকে নিজের সদ্য নির্মিত প্রাসাদটি বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে বলেছেন। কারণ প্রাসাদটি দখল করে ঘাঁটি তৈরি করে সেখান থেকে কিয়েভে রকেট ছুড়েছিল রাশিয়ান সেনাবাহিনী। আন্দ্রে স্ট্যাভনিটসার নামের এই ধনকুবের ট্রান্সইনভেস্টসার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেন থেকে পালিয়ে তিনি পোল্যান্ডে চলে যান। কিন্তু তার ওই প্রাসাদের সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি ওয়েবক্যামের মাধ্যমে দেখতে পান, রাশিয়ান সেনারা তার প্রাসাদ দখল করেছে এবং সব রকমের সামরিক সরঞ্জাম সেখানে এনে জড়ো করেছে। এসব দেখে তিনি ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে তার ওই প্রাসাদে বোমা ফেলার আহ্বান জানান। খবর এনডিটিভির। এই ধনকুবের 'গুড মর্নিং ব্রিটেইন শো'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এটা আমার জন্য এক ধরনের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি জানান, রাশিয়ান সেনাদের তার বাড়ির চারপাশে ঘুরতে দেখে এবং এটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেখে তিনি 'বিরক্ত' হয়েছেন। তিনি আরও জানান, তিনি পালিয়ে গেলেও তার নিরাপত্তা প্রহরীদের প্রাসাদে রেখে যান। কিন্তু রাশিয়ান সেনারা ওই নিরাপত্তা প্রহরীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং তাদের উলঙ্গ করে নির্যাতন করেছে। এই সময় তিনি দাবি করেন, তার প্রাসাদটি রাশিয়ান সেনারা দখলের পাশাপাশি আশপাশের বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়েছে। আন্দ্রে স্ট্যাভনিটসার বলেন, আমি দেখেছি রাশিয়ান সেনারা অন্য বাড়ি থেকে লুটপাট করে জিনিসপত্র এনে আমার বাড়িতে রাখছে। তাদেরকে সেসব বাড়ি থেকে টিভি, আইপ্যাড, কম্পিউটার এবং মানুষের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ট্রাকে ভরতে দেখেছি। আমি বিরক্ত হয়েছি। আমার বাড়ির ভেতর কিছু লোককে হাঁটতে দেখে আমার খুব খারাপ লাগছিল। আন্দ্রে স্ট্যাভনিটসার ওই অনুষ্ঠানে আরও জানান, তিনি দেখেছেন তার বাড়িতে ১২টি সামরিক যান রাখা হয়েছে। কয়েকটি যানে টর্নেডো রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা স্থাপন করা ছিল। এগুলো ৪০ কিলোমিটার দূরের বস্তুতে আঘাত হানতে পারে। বস্তুত তারা তার বাড়ি থেকে কিয়েভে হামলা চালাচ্ছিল। . . ../ সাক্ষাৎকারটি শেষ করেন তিনি এই বলে যে, ইউক্রেনকে বিজয়ী করতে যতটুকু সাহায্য করা সম্ভব সকটুকু করতে চাই। কারণ আমি মনে করি আমরা ইউরোপের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করছি এবং ওই জার লাথি মেরে আমাদের ভূমি থেকে তাড়ানো আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যা করতে পারতাম এটি তার অল্প মাত্র।
3
সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ প্রায় শেষের দিকে। শেষ মুহূর্তে চলছে টেকসই কাজ। এদিকে বাঁধের কাজে দেরি হলেও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। তাঁরা জানান, বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বাঁধ টেকসই করতে শেষ সময়ে কঠোর তদারক করছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা।পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্রমতে, জেলার ৭২৪টি প্রকল্পের মাটির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। ৯২ শতাংশ বাঁধে মাটির কম্পেকশন, ঘাস লাগানোসহ অন্যান্য কাজও প্রায় শেষের দিকে। চলতি বছর ৭২৪টি প্রকল্পে ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তদারক কমিটি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কঠোর ভূমিকায় পিআইসি সদস্যরা বাঁধের কাজে গাফিলতি সুযোগ পাচ্ছে না বলে মন্তব্য পাউবোর।কৃষকেরা জানান, অন্যান্য বছর মার্চ মাসের শুরুতেই বৃষ্টিপাত হয়। ফলে হাওরের বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় থাকেন কৃষকেরা। চলতি বছর মার্চের মাঝামাঝি সময়েও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন তাঁরা।দিরাই উপজেলার বাদাইল্লা হাওরপারের কৃষক ওয়ালি উল্লাহ বলেন, 'এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বাঁধের মাটির শক্ত হইয়া বইছে। এ ছাড়া বাঁধের ওপর গাছ লাগানো হইছে। আমরা আশা করি, এবার ভালোমতো ফসল ঘরে তুলতে পারব।'গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁধের কাজে টেকসই করার কাজ করছেন পিআইসির সদস্যরা। শেষ মুহূর্তে চলছে বাঁধে মাটির কম্পেকশন ও ঘাস লাগানোর কাজ।পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, বাঁধে মাটির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের আগেই। এ ছাড়ও বাঁধের কম্পেকশনসহ আনুষঙ্গিক যেসব কাজ রয়েছে, তা প্রায় শেষ।এ কর্মকর্তা আরও বলেন, 'বাঁধ টেকসই করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাঁধে এখন আমরা জিও ব্যাগ দিচ্ছি, যাতে বৃষ্টি শুরু হলেও বাঁধের কোনো ক্ষতি না হয়।'এদিকে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ১২ মার্চ পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের সময়সীমা বাড়ানো হয়। ১০ মার্চ থেকে সুনামগঞ্জের প্রতিটি হাওরের বাঁধের কাজের তদারকি বাড়িয়েছে পাউবো।দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন, 'শুরুর দিকে কাজে ঢিলেমি আছিল। তবে বাঁধ টেকসই হওয়ায় এখন আমরা নিশ্চিন্তে আছি।'দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় হাওরের সংখ্যা বেশি। এখানে ফসলের উৎপাদনও ভালো হয়। একমাত্র বাঁধের ওপর নির্ভর করেই কৃষকেরা বোরো চাষাবাদ শুরু করেন।ভাটিধল গ্রামের কৃষক আখলিছ মিয়া বলেন, 'বাঁধের কাজ কয়দিন ধইরা ভালোই চলছে। তবে এমন গতিতে আরও আগে থেকে করলে ভালো হতো। তবে অতিবৃষ্টি হলে বাঁধের ওপর দিয়া পানি চলে এলে তো আমরার আর কিচ্ছু করার থাকবে না।'এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির জেলা সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, বাঁধের কাজ প্রায় শেষ। এখন কয়েকটি স্থানের বাঁধে ঘাস লাগানোর বাকি আছে।
6
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে গাইবান্ধা পৌর এলাকাসহ চারটি উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ এবং বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এদিকে গত দু'দিনে সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের গোদারহাট এলাকার সোহাগ (৫) নামে এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে ও সাঘাটার কুন্ডুপাড়ায় উজ্জল কুমার (১৫) নামে এক কিশোর সাপের দংশনে মারা গেছে। অন্যদিকে ত্রিমোহিনী থেকে বোনারপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারও লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কদমের তল থেকে ফকিরপাড়া পর্যন্ত এবং গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-সাঘাটা সড়ক, গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়ক, গাইবান্ধা-বোনারপাড়া সড়ক এখনও হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। ফলে সড়কগুলোতে সকল প্রকার যানবাহন ও পথচারিদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে গাইবান্ধা শহরের পিকে বিশ্বাস রোড, সান্দার পট্টি রোড, স্টেশন রোডের কাচারী বাজার থেকে পুরাতন জেলখানা পর্যন্ত, ভিএইড রোড, ডেভিড কোম্পানিপাড়ার ২টি সড়ক, মুন্সিপাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক, মধ্যপাড়া, ব্রিজ রোড কালিবাড়িপাড়া সড়ক, কুটিপাড়া সড়ক, পূর্বপাড়া সড়ক, একোয়ার স্টেটপাড়া সড়ক, বানিয়ারজান সড়ক, পুলিশ লাইন সংলগ্ন সড়কে হাঁটু পানি। গাইবান্ধা শহরের অধিকাংশ এলাকার বসতবাড়িতে পানি ওঠায় মানুষদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। পানিবন্দি মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। শহর সংলগ্ন বেশকিছু বাধ ভেঙে যাওযায় বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। তবে জেলা রোভারের উদ্যোগে এবং সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা আশ্রিতদের মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইনসহ বিভিন্ন ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গত এলাকার ৪ উপজেলার প্রতিটির জন্য ৪৫ মেট্রিক টন চাল নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন জানান, এখন পর্যন্ত কোন সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে। পৌর এলাকার বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে মেয়রের পক্ষ থেকে দু'বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে খিচুরি ও শুকনো খাবার। এছাড়াও জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, স্যালাইনও সরবরাহ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন ডা. এবিএম হানিফ জানান, ১১০টি মেডিকেল টিম জেলার বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পাশাপাশি পৌরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি কেন্দ্রে জরুরি ওষুধপত্রসহ বন্যা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক কর্মরত রয়েছে।
6
খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি পদে এস এম জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে হাসান আহমেদ মোল্লা নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার ১০টি পদে ভোট গ্রহণ হয়। সভাপতিসহ ৯টি পদের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচিতরা হলেন- সহসভাপতি (সম্পাদক) তরিকুল ইসলাম, সহসভাপতি (ঢাকা) মোস্তফা জামাল পপলু ও সহসভাপতি (স্থানীয়) মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ, যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, সহকারী সম্পাদক (স্থানীয়) মাকসুদ আলী ও এসএম নুর হাসান জনি, সহকারী সম্পাদক (ঢাকা) পদে মাহবুবুর রহমান মুন্না। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- এসএম নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, মোস্তফা সরোয়ার, আনিস উদ্দিন, শেখ মাহমুদ হাসান সোহেল, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, মো. শাহ আলম, আমিরুল ইসলাম ও সোহেল মাহমুদ।
6
পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ও বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট। ইউপিগুলোয় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন ঘিরে গ্রামে গ্রামে বইছে উৎসবের আমেজ।সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মাবেষ্টিত শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ও বন্দরখোলা ইউপিতে নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বইছে উৎসবমুখর আমেজ। ভোটারদের মন জয়ের জন্য কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে প্রার্থীরা ছুটছেন ঘরে ঘরে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।ভোটারেরা জানান, 'নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে এক ধরনের উৎসব বিরাজ করছে। বাজারের চায়ের দোকানে ভিড় লেগেই আছে। নির্বাচনী আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত সময় কাটছে সাধারণ ভোটারদের।'উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালবাড়ী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৪ জন এবং বন্দরখোলা ইউপিতে ৭ জন। প্রার্থীদের মধ্যে কাঁঠালবাড়ি ইউপিতে ইলিয়াছ আকন (হাতপাখা), মোতাহার হোসেন ব্যাপারী (মোটরসাইকেল), মোহসেন উদ্দিন (আনারস) ও সেলিম হাওলাদার (চশমা) প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।বন্দরখোলা ইউপিতে আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার (হাতপাখা) আব্দুর রহমান খান (ঘোড়া), নিজাম উদ্দিন আহমেদ (অটোরিকশা), মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম (টেলিফোন), মোহাম্মদ নবেল শিকদার (আনারস), ফয়জল খান (চশমা) ও মিজানুর রশিদ শিকদার (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।শিবচরের ইউএনও আসাদুজ্জামান জানান, 'প্রশাসন নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
বিদেশে পাচার হয়ে যাওয় অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ আবারও লুটপাটের জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে বলে তার দাবি। রবিবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক আলোচনায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এই আলোচনার আয়োজন করে। বর্তমান সরকার তথা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ এনে মির্জা ফখরুল বলেন, 'বাংলাদেশের সমস্ত সম্পদগুলোকে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। পত্রিকায় দেখলাম, জানিনা কি হবে শেষপর্যন্ত, এই যে পাচার করা অর্থ, তারা নাকি (সরকার) ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে। আরেক শয়তানি শুরু করেছে। অর্থাৎ তারা নিজেরা যে টাকা পাচার করেছে, সেগুলো ফিরিয়ে এনে বৈধ করবে। অর্থাৎ তারা দেশের সম্পদ লুট করে আবারও তারা ফিরিয়ে নিয়ে এসে লুটপাটের সুযোগ করে দেবে।
6
সার্ভারে সংরক্ষিত ডাটাবেজ থেকে বিপুল সংখ্যক জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন তথ্য গায়েব হওয়ার বিষয়ে সরকারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো: মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। রুলে জন্ম ও মৃত্যু সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে জনসাধারণের ভোগান্তি রোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও খামখেয়ালিপনা এবং সংশ্লিষ্ট সার্ভার থেকে বিপুল সংখ্যক তথ্য গায়েব হয়ে যাওয়ার পরও তদন্তের উদ্যোগ না নেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। একই সাথে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০১৮ এর রুল-১৯ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল, পরিকল্পনা-পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং আইন বিভাগের যুগ্ম সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মো: তানভীর আহমেদ। তিনি জানান, রুল দেয়ার পাশাপাশি আদালত বিবাদীদেরকে জন্ম ও মৃত্যুর যে বিশাল পরিমাণ ডাটা সার্ভার থেকে গায়েব হয়েছে সেগুলো তদন্তপূর্বক আগামী এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। এর আগে আইনজীবী তানভীর আহমেদ এ বিষয়ে গত ৪ এপ্রিল আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন। নোটিশে গত ১২ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে 'জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে নাগরিকেরা' এবং গত ৪ ফেব্রুয়ারি 'জন্মসনদ: বাংলাদেশে কয়েক কোটি মানুষের জন্মনিবন্ধন তথ্য সার্ভারেই নেই' শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, '২০০৪ সালে জন্মনিবন্ধন আইন করা হয়, কার্যকর হয় ২০০৬ সালে। পাসপোর্ট ইস্যু, বিবাহ নিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেয়া, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক। শুরুতে হাতে লেখা সনদ দেয়া হতো। এরপর ২০১০ সালের শেষ দিকে এসে তা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিবন্ধকদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য সরকার আলাদা বরাদ্দও দেয়। কিন্তু সে সময় সব তথ্য ডিজিটাল করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জনবসতি বেশি এমন এলাকাগুলো, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে তথ্য হালানাগাদ পুরোপুরি হয়নি।' অপর প্রতিবেদনে বলা হয়, 'বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন আগে জন্ম নিবন্ধন করে সনদ নিয়েছেন এমন কয়েক কোটি মানুষকে এখন সম্পূর্ণ নতুন করে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করাতে হবে, কারণ তাদের আগের নিবন্ধন গায়েব হয়ে গেছে। এসব ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন অনলাইনে আপডেট করা হয়নি এবং এখন নতুন সার্ভারে আর পুরনো তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি স্কুল শিক্ষার্থীদের একটি বিরাট অংশের আবার একাধিক অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ঘটনাও বেরিয়ে এসেছে যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র : বাসস
6
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা তৈরির জন্য ২০১২ সালে র্যামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন। এবার তিনি পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের 'আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার'। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশ্বের মোট ১২ জন নারীর মধ্যে রিজওয়ানা হাসানের নাম সবার প্রথমে রয়েছে। জলাশয় ভরাট করে আবাসন তৈরি, পলিথিনের ব্যবহার, পাহাড় কাটা, বন ধ্বংসসহ নানা ক্ষেত্রে যেখানেই পরিবেশের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে বা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সেখানেই তিনি পরিবেশ রক্ষায় আইনিভাবে এগিয়ে এসেছেন। দেশের পরিবেশ নিয়ে আজ বুধবার বিকেলে তিনি কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সমকালের স্টাফ রিপোর্টারজাহিদুর রহমান। সমকাল: আপনাকে পুরস্কৃত করে তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পরিবেশ বিষয়ে আপনার সাহসিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের ভালো পরিবেশ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আপনি কি তাই মনে করেন? সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: বাংলাদেশে পরিবেশের উন্নয়নের কারণে দুটি স্বীকৃতি আসেনি। এ স্বীকৃতি এসেছে মূলত পরিবেশ বিষয়টিকে বাংলাদেশে একটি এজেন্ডা করার কারণে। এটার পক্ষে বাংলাদেশে বেশকিছু রায় পাওয়া গেছে। এ জন্য না যে, রায়ের ফলে সবকিছু উন্নত হয়ে গেছে। তবে পরিবেশ রক্ষা ছাড়া যে উন্নয়ন টেকসই করা সম্ভব নয়- তার স্বীকৃতি এসেছে। পরিবেশের অধিকার যে জীবনের অধিকারের অংশ- এই স্বীকৃতি এসেছে। এই স্বীকৃতিগুলো আনার ক্ষেত্রে একটা আপসহীন অবস্থান আমরা কয়েকজন নিয়েছি, সেটার পুরস্কার এসেছে। আমাদের আন্দোলনের ফলে জাহাজভাঙা বিধিমালা হয়েছে, শালবনের ৪৪ হাজার বনভূমি ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে নদীরক্ষায় দখলদার উচ্ছেদের মামলায় সোনারগাঁও ইকোনমিক জোন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, ট্যানারি স্থানান্তরিত হয়েছে। এ প্রক্রিয়াটা শুরুর পর্যায়ে যে আপসহীনতার ফলে মানুষের পরিবেশগত অধিকারের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে, সেটিরই মূল্যায়ন করা হয়েছে। সমকাল: পরিবেশ রক্ষায় বাধা কোথায়? সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: পরিবেশকে যারা ধ্বংস করে তাদের প্রচুর অর্থের জোর আছে। রাজনীতি, ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে যারা থাকেন তাদের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে এই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। ভূমিদস্যু শব্দটি সরকার মুখে উচ্চারণ করলেও কোনো সরকারই একটা ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জলাশয় ভরাটকে বাস্তবতা মেনে নিয়ে বর্তমান সরকার তার আগের আমলে আইন পাস করলেও একটি জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সরকার ও নীতিনির্ধারকরা আইন, পরিবেশ রক্ষায় সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় না নিয়ে ন্যস্ত স্বার্থগোষ্ঠী কীভাবে উপকৃত হবে সেটিই বিবেচনায় নেয়। ন্যস্ত স্বার্থগোষ্ঠীর উপকারের সঙ্গে আবার সরকারের নীতিনির্ধারকদের উপকারের বিষয়ও জড়িত থাকে। যখন বিষয়টি হয়ে যায় ভূমি দখল কিংবা টাকা ভাগাভাগির, তখন আইন তো আর্থিকভাবে লাভবান করছে না। পরিবেশের উন্নয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। সমকাল: আপনি বলছেন দখল ও অর্থ ভাগাভাগির বিষয়। আপনি দীর্ঘদিন পরিবেশ আন্দোলন করছেন, কিন্তু পরিবেশের রক্ষায় প্রাথমিক বিষয় শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ থেকে তো আমরা এখনও মুক্ত হতে পারিনি। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: পরপর তিন বছর ঢাকা বায়ুদূষণে এক নম্বরে আছে। এ বিষয়ে আমাকে কেন মামলা করতে হবে? আপনাকে কেন লিখতে হবে? সরকার যেহেতু বিষয়টি জানে, সরকারের যদি নূ্যনতম বিবেচনায় থাকে, জনস্বার্থে বিষয়টি সরকারেই তো উচিত ব্যবস্থা নেওয়া। ঢাকা যে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর ঘোষণা করা হয়েছে- সংসদে এটা নিয়ে একটি বিতর্ক শুনেছেন কখনও? বায়ুদূষণ নিয়ে আমরা এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত খুব ভালো কিছু আদেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে সবাইকে ক্রমাগত বলতে হবে, তারপর হয়তো সরকার শুনবে। সমকাল: ঢাকার এই বাতাস, পানি, মাটিতে আপনি কেমন আছেন? সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: ঢাকা শহর আমার জন্য একটা দমবন্ধ এলাকার মতো। তারপরও আমি ঢাকাকে ভালোবাসি। ঢাকাতে আমি বাঁচার মতো কোনো পরিবেশই পাই না। কারণ পৃথিবীর অবসবাসযোগ্য তালিকায় দ্বিতীয়তে আছি আমরা। কিন্তু আমি এই নগর ছেড়ে চলে যেতে চাই না। এখানে বসবাস করেই পরিবর্তনটা আনতে চাই। আমরা যদি রণে ভঙ্গ দিয়ে দিই তাহলে লুটেপুটে খাবে অনেকে। ঢাকা শহর তো ভূমিদস্যুদের জন্য খনি, এই শহর যদি তাদের হাতে তুলে দিয়ে যাই তাহলে তারা এটাকে ভাগাভাগি করে খেয়ে ফেলবে। সুতরাং, আমরা তা হতে দিতে পারি না। সমকাল: পরিবেশ আন্দোলনে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আর কতদিন? সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান:পরিবেশ ধ্বংস করে যে উন্নয়ন সেটাকে আমি উন্নয়ন মানি না। কারণ এ দেশের মানুষের জীবন জীবিকা নির্ভর করে বায়ু পানি, মাটি আর বনের ওপর। এটাকে ধ্বংস করে যে উন্নয়ন সেটিকে আমি উন্নয়ন মনে করি না। আমি মনে করি উন্নয়নকে পরিবেশের সাথে সহনশীল করে উন্নয়ন করা সম্ভব। এতে হয়তো জিডিপি কমবে, তবে কিন্তু আপনার শহর সবচেয়ে অবসবাসযোগ্য নগরী হবে না। পরিবেশ ধ্বংসের কারণে কিন্তু জিডিপি কমে যাচ্ছে। আজ পুরস্কার পাওয়ার কারণে আপনারা অনেকেই অভিনন্দন জানাচ্ছেন, আবার একটা জায়গা থেকে আমাকে সাইবার বুলিংও করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি মনে করে কারও স্বার্থে আঘাত দিলে সে ভয় দেখাতে চায়। সে আপনাকে কেন ভয় দেখাতে চায়, কারণ সে আপনাকে ভয় পায়। সে ভয় না পেলে অন্যকে ভয় দেখাবে না। এ ভয় থেকেই সে এ সমস্ত কাজ করে। আমি জানি আমি কার ভয়ের জায়গা, আমার সেখান থেকে পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। আমার নিজের কাজ নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহ নেই। এ কাজ জনগণ, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের নীতি আইন সংবিধান সব যে আমার কাজের অনুকূলে সেটি আমি নিশ্চিতভাবে জানি। জনমানুষের প্রত্যাশা আমি জানি। আমি নিশ্চিত পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে উন্নয়নের অধিকারও এ দেশের জনগণ পাবেন না। যে উন্নয়ন হবে পরিবেশ ধ্বংস করে, মুষ্টিমেয় জনগণ তার সুবিধা পাবে। আমি দেশ থেকে চলে গেলে অনেক আগেই যেতে পারতাম। রণে ভঙ্গ দিতে হলে অনেক আগেই দিতে পারতাম। এখনও যেহেতু দিইনি, আশাকরি ভবিষ্যতেও দেব না। আমি এ মুহূর্তে নিয়োজিত আছি- আমার পরে যাতে এ কাজগুলো অন্যরা করতে পারেন। সেই নেতৃত্ব উন্নয়নের কাজ করছি।
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার আসামিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার সকালে বিজয়নগর থানার সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গাউস মেম্বার, নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ওতার স্বামী ছাড়াও গ্রামের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর নির্যাতিতা নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দু'জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
সোনাগাজীতে মুজিববর্ষে আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর দেওয়ার নামে চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ না নেওয়ায় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে বুধবার আদালত চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মিস মামলার আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বিশ্নেষণে দেখা যায়- সংবাদে বর্ণিত আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন বর্তমান সরকারের আশ্রায়ণ প্রকল্পের মতো মহতি উদ্যোগে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার করে নিরীহ গরিব মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতার এমন কর্মকাণ্ড ফৌজধারি কার্যবিধি অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বিচারক আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে পত্রিকায় প্রকাশিত ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও কল রেকর্ড যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে সোনাগাজী মডেল থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি, তবে লিখিত আদেশ পাইনি। আদেশ পেলে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমকালে গত ২০ আগস্ট 'ঘর দেওয়ার নামে চাঁদাবাজি' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ প্রকাশের পর কপি সংযুক্ত করে চাঁদাবাজির শিকার দিনমজুর নুরুল আফসার সবুজ গত সোমবার সোনাগাজীর ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও এএম জহিরুল হায়াত জানান, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সকল অনুষ্ঠান বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২৯ মার্চ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে 'ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব হান্ড্রেড' শীর্ষক কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিলো। যেখানে পারফর্ম করেছিলেন প্রখ্যাত সংগীত তারকা এ আর রহমান। এ আর রহমানের পারফর্ম নিয়ে শ্রোতা ও দর্শকরা খুশি হলেও, নারাজ হয়েছে কেউ কেউ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের শিল্পীদের রেখে কেনো অন্য দেশের শিল্পীদের আনতে হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। বুধবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন আসিফ আকবর। যেখানে তিনি লিখেছেন, "কথা প্যাঁচিয়ে বলার অভ্যাসটা সলিডভাবে রপ্ত করতে পারিনি, তাই সরাসরিই লিখে জানাচ্ছি। বাংলাদেশ আমার মত অধম এক গায়ককে জন্ম দিয়েছে। আমার প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক অনেক অনেক বেশী, আলহামদুলিল্লাহ। কোটি মানুষের ভীড়ে নিজেকে এভাবে দেখবো কখনো কল্পনাও করিনি। তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ হে জন্মভূমি- আমার প্রানের বাংলাদেশ।" "একুশ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে ষোল বছর এদেশে ওপেন এয়ার কনসার্ট করতে পারি না। অনুমতি নিতে নিতে উপযোগিতা ফুরিয়ে গেছে, পারছি না মনকে বোঝাতে, অপমানিত হতে চাই না আর। প্রতিদিন শো নিয়ে কথা বলা মানুষদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে ফেলেছি অলরেডি। অনেক আলাপ হয়, শো আর হয় না। আমি আমার দল- দি এ টিম এর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞ, তারা চৌদ্দ বছর আশায় বুক বেঁধে আছে ভাইয়ার শো আবার একদিন শুরু হবে ভেবে। তোমাদের কাছে ক্ষমা চাই বয়'জ, আমি বুঝতে দেরি করে ফেলেছি। এদেশে কোন ধরনের মঞ্চেই আপাতত গান গাওয়া হবেনা আমার, তোমরাও মুক্ত হয়ে যাও শপথ থেকে। পাসপোর্ট প্রাপ্তি এবং সহি ইমিগ্রেশন ফর্মালিটিজ সম্পন্ন সাপেক্ষে দেশের বাইরে গান গাওয়ার কিছুটা সুযোগের আশঙ্কা এখনো টিমটিম করে জ্বলছে। যদি এটাও না হয় - তাহলে আমি নিজেকে কুইট করে নিলাম, কারো বিরক্তির কোন কারণ হতে চাইনা।" আসিফ আরও লিখেছেন, "মাইক্রোফোন আমার ড্রাগ, দর্শক শ্রোতা আমার আসল শক্তি, বেঁচে থাকার সুতীব্র আকর্ষণ। এগুলো অবশ্য অনেকদিন ধরে শুধুই গল্প। সব আশার আলো ঘৃণার বাষ্পে উড়ে গেছে। শুধুমাত্র রেকর্ডিং করে যাবো নিজের মত, ব্যস্ত থাকবো নিজেকে নিয়ে। পেশাদার শো কিংবা রেডিও টিভি পত্রিকা পারিবারিক আড্ডা সামাজিক অনুষ্ঠানে আর এক লাইন গান গাওয়ার জন্য অনুরোধ করে কেউ বিব্রত হবেন না, আমার কাছ থেকেও না শোনার জন্য অপেক্ষা করবেন না দয়া করে। আপনাদের ভালবাসার কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ আমি, আমৃত্যু এই প্রাপ্ত সম্মানকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করবো। যদি বেঁচে থাকি, সুস্থ্য থাকি, মনে শান্তি পাই, পরিবেশ ফিরে আসে - আবার ফিরবো আগুনের মত উত্তাপ নিয়ে ইনশাআল্লাহ। সবাই ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন সুন্দর থাকুন।"
2
কয়েক দশক ধরে ইবোলা আবির্ভূত হয়েছে মানুষের জন্য বড় আতঙ্ক হিসেবে। কারণ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে গেছেন এমন লোকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সম্প্রতি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে বিজ্ঞানীরা ইবোলার চিকিৎসায় সাফল্য পাবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের গবেষণা বলছে, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে ৯০ শতাংশ আক্রান্ত রোগীই বেঁচে যেতে পারেন। কঙ্গোতে ইবোলা রেসপন্স এর সমন্বয়ক প্রফেসর জিয়ান জ্যাকুয়াস মুয়েম্বে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলেছেন, এই রোগ হয়তো খুব শিগগিরই 'প্রতিরোধ ও চিকিৎসাযোগ্য' হবে এবং তিনি এ পরীক্ষাকে 'বছরের সবচেয়ে বড় খবর' হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। এই গবেষণাটি কঙ্গোতে হয়েছে, যেখানে গত আগস্ট থেকে ইবোলায় মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত এক হাজার আটশ। চারটি ঔষধ ব্যবহার করে পরীক্ষাটি শুরু হয় গত নভেম্বরে। ৭০০ ব্যক্তিকে বাছাই করা হয় চিকিৎসার পরীক্ষার জন্য। এর মধ্যে প্রথম ৪৯৯ জন যে ঔষধ দিয়ে আরোগ্য লাভ করেছেন তা এখন নিশ্চিত। ড: মুয়েম্বে বলছেন দুটি ঔষধ যেগুলো ল্যাবরেটরিতে আরইজিএন-ইবি৩ ও এমএবি১১৪ নামে পরিচিত -সেগুলো ইবোলার বিরুদ্ধে খুবই সক্রিয়। মূলত চিকিৎসার ধরণটা হলো এমন, যেখানে ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়। আরইজিএন-ইবি৩ যেসব রোগীদের প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের মৃত্যুর হার কমে ২৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে চিকিৎসা না করলে মৃতের হার ৬০-৭০ শতাংশ। ড: মুয়েম্বে বলছেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ ইবোলার কোনো চিকিৎসা নেই, কোনো টিকা নেই। যাদের এন্টিবডিসহ ইনজেকশন দেয়া হয়েছে তারা এক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো বোধ করতে শুরু করেন। এটা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে একটি চিকিৎসা। কিন্তু এটা কোনো টিকা নয় এবং রোগীরাও সারা জীবনের জন্য সুরক্ষিত নয়। তার আশা আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে এই পরীক্ষা নিরীক্ষার চূড়ান্ত ফল জানা যাবে। মিস্টার মুয়েম্বে ১৯৭৬ সালে যে দলটি ইবোলা চিহ্নিত করেছিলো সেই দলের একজন সদস্য। তিনি বলছেন নতুন আবিষ্কার রোগটির বিস্তার বন্ধ করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এর প্রভাব হবে অসাধারণ। কারণ মানুষজন ইবোলার প্রতিরোধে চিকিৎসাই নিচ্ছিল না। মানুষ চিকিৎসা কেন্দ্রকে মৃত্যুকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছিলো। এখন যদি দেখে যে মানুষ চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে ও সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরছে তাহলে তারা আর রোগীকে লুকিয়ে রাখবে না। বরং হাসপাতালে নিয়ে আসবে। তাই রোগটির বিস্তার বন্ধ করার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: বিবিসি বাংলা বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
3
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছেন ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। আজ সোমবার বিকেল ৫টায় ৭ মার্চ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন।এসময় ভারতের হাইকমিশনার বলেছেন, 'পদ্মা সেতুর ফলে ভারত-বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হব। কিছু পণ্য কলকাতা ও আগরতলায় বিক্রি করতে পারবে।'অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম এমপি, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, অতিরিক্ত প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ. কে এম মাহবুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শৈয়দা শামসাদ বেগম, এসিল্যান্ড ভূমি কর্মকর্তা সুভাশিষ চাকমা, বাঞ্ছারামপুরমডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু আহমেদ, প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এম এ আউয়াল, উজানচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাদিদ আল রহমান জনি, পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়া প্রমুখ।
6
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে আটক মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঘুমধুম সীমান্তের বাংলাদেশ-মিয়ানমার ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ পয়েন্ট দিয়ে তাকে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার বিজিবি-৩৪ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির ভাল্লুকখাইয়া সীমান্তের হাতিছড়া এলাকা থেকে গত ২৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের ওই সেনা সদস্যকে আটক করা হয়। তার নাম অং বো বো থিন। আটকের সময় তার পরনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পোশাক ছিল উল্লেখ করে বিজিবি কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই সেনা সদস্য জানিয়েছেন তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এলআইবি-২৮৭ ব্যাটালিয়নের সদস্য। রাখাইনের বান্ডুলা ৫০নং ক্যাম্পে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলে তাকে আটক করা হয়। লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ আরও জানান, রোববার বিজিবি ও বিজিপির বৈঠকে ৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১১ ব্যাটালিয়েনের লে. কর্নেল আসাদুজ্জামান। মিয়ানমারের বিজিপির ১২ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিপির ১নং সেক্টরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিং তং। বৈঠকে দু' দেশের সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
6
মালয়েশিয়ার সরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে একজন নারী পরিচালক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ নির্দেশনা কার্যকর করতে হবে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে। অন্য সব প্রতিষ্ঠানে এটি কার্যকর করার সময়সীমা ২০২৩ সালের ১ জুন। শুক্রবার আগামী বছরের জন্য জাতীয় ব্যয় পরিকল্পনা প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী জাফরুল আবদুল আজিজ। তখন তিনি এমন ঘোষণা দেন। পরিচালনা বোর্ডে বৈচিত্র্য থাকলে তাফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সে জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই সরকারের এমন সিদ্ধান্তে খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন। ওমেন্স সেন্টার ফর চেঞ্জ-এর প্রোগ্রাম পরিচালক ক্যারেন লাইয়ের মতে, দেশের ৭০ জন মন্ত্রীর মধ্যে নারী আছেন মাত্র ৯ জন। পার্লামেন্ট এবং রাজ্য পরিষদগুলোতে নারীরা অনেক বেশি পিছিয়ে আছে। এসবেও পরিবর্তন আনতে হবে কারণ তা মানুষকে প্রভাবিত করে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
3
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়ে করা একটি খবরের স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত। খবরের শিরোনামে ছিল "পদ্মা সেতু কি ওনাদের পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে বানানো হয়েছে?"। এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মোহাম্মদ এ আরাফাত তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার স্ট্যাটাসটি নিচে হুবুহু তুলে ধরা হলো: "পদ্মা সেতু কি ওনাদের পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে বানানো হয়েছে?" -এই বক্তব্যটি শুধু ফখরুল নয়, ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও তাদের দলের অন্ধ সমর্থকগোষ্ঠীও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই একই কথা বলে বেড়াচ্ছে। বিশ্বের কোনো দেশেই, কোনো সরকারই পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। এটি ক্লাস এইটে পড়া একজন ছোট্ট বাচ্চাও জানে। তাহলে এই প্রশ্ন উঠাচ্ছে কেন ফখরুল ও তাদের সমর্থনপুষ্ট ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী? কারণ, তারা শত চেষ্টা করেও যখন পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন আটকাতে পারেনি, তাই তারা ঈর্ষান্বিত। ঈর্ষার এক ধরনের জ্বালা আছে, এই জ্বালা আগুনের চেয়েও কঠিন। সেই ঈর্ষার জ্বালায় জ্বলছে তারা। এই জন্যই এসব আবোল তাবোল কথা বের হচ্ছে তাদের মুখ ও মগজ থেকে। ফখরুল ও তাদের সমর্থনপুষ্ট ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে বলতে চাই, টাকা দেশের জনগণের কিন্তু নেতৃত্ব শেখ হাসিনার। শুধু টাকা থাকলেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না। তার সাথে লাগে সাহস, পরিকল্পনা, দূরদর্শিতা এবং সঠিক নেতৃত্ব। বিএনপি-জামায়াত আমলে জনগণের হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল বিদ্যুৎ খাতে কিন্তু এক পর্যায়ে দেখা গেল টাকাও নাই, বিদ্যুৎও নাই! এই তো ছিল তাদের অবস্থা। পদ্মা সেতুকে ঘিরে যত দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছে, আপনারা নিজেরা যত ষড়যন্ত্র করেছেন, লক্ষ কোটি টাকা থাকলেও এই সেতু বাস্তবায়ন ছিল রীতিমতো অসম্ভব। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, সাহস, দূরদর্শিতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ, কারো কাছ থেকে কোন ঋণ ছাড়াই, নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বানাতে পেরেছে। একটা জিনিস মাথায় রাখবেন জনাব ফখরুল, শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, সাহস, দূরদর্শিতা, সঠিক পরিকল্পনা নেয়ার ক্ষমতা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের গুণগুলো কিন্তু তার পিতার কাছ থেকে পাওয়া। এগুলো কিন্তু তার পৈতৃক সম্পত্তি। এক অর্থে, পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার পৈতৃক সম্পত্তি দিয়েই বানানো হয়েছে। আপনারা যদি পদ্মা সেতু বানাতে বাধা না দিতেন, দেশের বিরুদ্ধে বিদেশী ষড়যন্ত্রের বিপক্ষে দেশের পক্ষে দাঁড়াতেন, সরকারকে জনগণের পক্ষে সহযোগিতা করতেন তাহলে আজ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনে সবাই মিলে আনন্দ করা যেত। কিন্তু আপনারাই পদ্মা সেতুকে শেখ হাসিনার পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত করছেন। কারণ, আপনাদের সকল বাধা, ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা দেশের টাকায় পদ্মা সেতু বানিয়ে ফেলেছেন। তাই আজ শেখ হাসিনার সমর্থকদের এবং দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের জন্য আনন্দটা একটু বেশিই। দুঃখিত জনাব ফখরুল, এই আনন্দ আপনার নয়, এই আনন্দ শেখ হাসিনার, এই আনন্দ আমাদের।
6
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল এলাকার বহুল আকাঙ্ক্ষিত লাঘাটা নদী পুনঃখননের কাজ তিন বছরে কমলগঞ্জ উপজেলার অংশ সম্পন্ন হয়েছে। খনন কাজের পর নদীর বাঁধের ওপর রোপিত হয়েছে বিভিন্ন গাছের চারা। বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পেয়েছেন কৃষকেরা। তবে লাঘাটা নদীতে পতিত ছড়া ও খালের মুখে কালভার্ট না থাকায় স্থাপিত পানির পাইপ প্রবল স্রোতে দেবে যাচ্ছে। এতে নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর নদী খনন শুরু হয়। ২০১৮ সালে লাঘাটা নদী খননের জন্য সার্ভে কাজ সম্পন্ন করা হয়। নানা বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে ১১ দশমিক ৮০০ মিটার ও ১২ দশমিক ৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ দশমিক ৬৩০ মিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএএসআই অ্যান্ড ইশরাত এন্টারপ্রাইজ জয়েন ভেঞ্চার ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নিম্নাঞ্চল এলাকা ও পতনউষার, শমশেরনগর এলাকায় অপর ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠান ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর পুনঃখনন কাজ করে।এ বিষয়ে কৃষকেরা জানান, প্রতি বছর ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের শমসেরনগর, পতনঊষার, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কৃষকেরা। তাঁরা বোরো, আউশ, আমন, সবজি খেত হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এ থেকে উত্তরণের জন্য পানি নিষ্কাশনে লাঘাটা নদী খনন ও সংস্কারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে দাবি জানান এলাকাবাসীরা।লাঘাটা নদীকে ঘিরে উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমসেরনগর ও পতনঊষার, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের কৃষকেরা কৃষি চাষাবাদ ও প্রাকৃতিক মাছ আহরণ করেন। কৃষি ও মাছ আহরণের মধ্য দিয়ে অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। দীর্ঘদিন ধরে লাঘাটা নদী ভরাট, ঝোপজঙ্গল, পলিবালি জমে সংকুচিত হয়ে খালে পরিণত হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। এতে জলাবদ্ধতায় ধানি জমি ও সবজি খেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় কৃষকদের।মৌলভীবাজার কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতা রমজান আলী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে ইউএনও, জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ও সভা সমাবেশ করেছি। লাঘাটায় পুনঃখনন হওয়ায় কৃষকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে ছড়া ও খালের মুখে কালভার্ট স্থাপন না করে অপরিকল্পিতভাবে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রতিটি পাইপ দেবে যাচ্ছে এবং বাঁধের ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব স্থানে কালভার্ট স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, গত বছর থেকে সরকারি উদ্যোগে নদীর খনন কাজ শুরু করা হয়। কাজ শেষ হওয়ায় এলাকার মানুষের উপকারে আসবে। তবে পাইপ দেবে যাওয়ার বিষয়টি পরিদর্শন করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
6
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডব ও চালিঘাট গ্রামে প্রায় দুই যুগ ধরে চলমান দুই পক্ষের দ্বন্দের অবসান হয়েছে । গ্রামবাসিরা আর সংঘাত নয়,শান্তি চাই বলে মিলেমিশে বসবাস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নড়াইল ও লোহাগড়ার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই গ্রামের দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে এই সম্প্রীতির বন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জানা গেছে, উপজেলার গন্ডব ও চালিঘাট গ্রামে ধীর্ঘ দুই যুগ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ সংঘাত চলে আসছিল। বর্তমানে এক পক্ষের নেতত্বে রয়েছে নড়াইল জেলা পরিষদের সদদ্য সুলতান মাহমুদ বিপ্লব আর অন্যপক্ষে মিরাজ মোল্যা। গত শুক্রবার গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয় এবং ২০ টি বাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেছে এবং ওই এলাকার চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবার সংঘাতসহ খুন জখম হতে পারে এ আশংকায় পুলিশ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গতকাল বুধবার বিকালে চালিঘাট ব্রীজের উপর ওই দুই গ্রামের লোকসহ প্রতিবেশী গ্রামবাসীদের নিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন উপলক্ষে এক শান্তি সমাবেশ করে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত মো. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দীন পিপি এম,বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার পিতা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দীন, সহ-সভাপতি ফয়জুল হক রোম, সম্পাদক সৈয়দ মসিউর রহমান, ইউপিচেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, জাহিদুল ইসলাম কালু, আকতার হোসেন, কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রিজাউল ইসলাম, সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ। পরে অতিথিবৃন্দ উভয় দলের মাতব্বরদের নিয়ে হাতে হাত মিলিয়ে ও কোলাকুলি করিয়ে দেয় এবং একসাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার আহববান করেন।
6
রাজশাহী সদর হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বাজেটও এসেছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে থাকছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা এবং আইসিইউ বেড থাকবে ১৫টি। রবিবার (৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী হাসপাতালের করোনা নিয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমনটা জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদনের পর সদর হাসপাতালের রিপিয়ারিং কাজ শুরু হয়েছে। আরো ২ থেকে আড়াই মাসের মধ্যে সদর হাসপাতালটি ব্যবহার করা যাবে। ব্রিগেডিয়ার শামীম জানান, রামেক হাসপাতালে গ্রামের রোগীরা আসছে শেষ সময়ে। তাদের মধ্যে সচেতনতা কম। করোনায় কী করণীয়- এ ব্যাপারে তাদের আইডিয়ার ঘাটতি রয়েছে যথেষ্ট। তবে এখন গ্রামের মানুষও সচেতন হচ্ছে। আশা করা যায়, শিগগিরই করোনা সংক্রমণ কমে আসবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রামেক পরিচালক জানান, রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরছেন বাড়ি। এছাড়া হাসপাতালটিতে বৃদ্ধি করা হচ্ছে চিকিৎসার পরিধি। বর্তমানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডও প্রস্তত করোনা রোগীদের চিকিৎসায়। সেখানে ৫০টি অক্সিজেনের লাইন সংযুক্ত করা হয়েছে। করোনা রোগীকে বাইরে থেকে মাস্ক কেনা লাগবে না। তাদের জন্য হাসপাতাল থেকেই মাস্ক সরবারহ করা হবে। নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১২ জন। আগেরদিন ১৩ জন মারা যান। তবে সর্বশেষ মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে ১০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে উপসর্গে। আর নেগেটিভ থেকেও মারা গেছেন একজন। বাকি একজনের প্রাণ গেছে করোনা পজেটিভ অবস্থায়। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ৬ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন। এছাড়া নওগাঁ, নাটোর ও পাবনার রয়েছেন একজন করে তিনজন। এদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন ৭৭ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৪ জন। রামেকের করোনা ইউনিটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪৮৫। এদের মধ্যে ২১৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে বর্তমানে মোট বেড সংখ্যা ৪০৫।
6
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাহে বলেন, আফগানিস্তানের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে আমেরিকাকে বিশ্বাস করা যায় না। তারা যেখানে যায় সেখানেই কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি। খবর-পার্সটুডের। তিনি বলেন, আমেরিকা প্রমাণ করেছে নিজ স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই তারা বোঝে না এবং মিত্রদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আফগানিস্তানকে ক্ষয়ক্ষতি ও দারিদ্র ছাড়া আর কিছুই আমেরিকা দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরান সব সময় আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় চেষ্টা চালিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। তবে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবাধিকারের দাবিদার শক্তিগুলোর নীরবতায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খাতিবজাদে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঈদগাহের অদূরে পুলিশের ওপর হামলাকারী আবির রহমানের বিষয়ে এলাকাবাসী তেমন কিছু জানে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ত্রিবিদ্যা গ্রামে আবির রহমানের তথ্য সংগ্রহ করতে যায় পুলিশ। সেখান থেকে ফিরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। ওসি জানান, আবির রহমান ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় ৪ নম্বর রোড, ব্লক ডিতে তাদের বাসা। আবির ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করতেন। এলাকায় আবিরদের পরিবারে কেউ থাকেন না। তাদের সম্পর্কে এলাকাবাসী তেমন কিছু জানে না। তবে স্থানীয়রা জানান, সিরাজুল ইসলাম মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। তার ভাইদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধও ছিল। সিরাজুল ইসলাম বিয়ের পর পরই ঢাকায় চলে যান। ওখানেই তার সন্তনদের জন্ম হয়। ত্রিবিদ্যা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে ঠিকাদারি ব্যবসার সুবাদে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় বাড়ি করে বসবাস করে আসছেন। বিয়ের পর পরই ঢাকায় চলে যাওয়ায় ওখানেই তার এক কন্যা ও চার পুত্রের জন্ম হয়। সিরাজুল ইসলাম জমি সংক্রান্ত কাজে মাঝে মধ্যে গ্রামে এলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা গ্রামে আসতেন না। আবিরদের গ্রামের বাড়ি 'মুন্সি বাড়ি' নামে পরিচিত। আবিরের চাচাতো ভাই অহিদুর রহমান জানান, আবিরদের সঙ্গে তাদের খুব একটা যোগাযোগ নেই। চাচা সিরাজুল ইসলাম মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতেন। বাড়িতে পুলিশ আসার পর তারা জানতে পারেন আবির শোলাকিয়ায় হামলা চালাতে গিয়ে মারা গেছে। তিনি আরও জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে আবির সবার ছোট। বড় ভাই আশিকুর রহমান (৩২) ও মেঝো ভাই আরিফুর রহমান (২৬) অস্ট্রেলিয়া থাকেন। আর সেজো ভাই আসিব রহমান বাবার সঙ্গে পল্লীবিদ্যুতের ঠিকাদারি করেন। উল্লেখ্য, ঈদের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জের শোলকিয়ায় ঈদগাহ ময়দানের কাছে এক চেক পয়েন্টে পুলিশের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের বেশি কিছুক্ষণ গুলি বিনিময় হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবির রহমান। পুলিশ বলছে, আবির হামলাকারীদের একজন। শোলাকিয়ায় হামলার এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য ও এক হামলাকারীসহ চারজন নিহত হন।
6
হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিছক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণ করে। অন্য কিছু না। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখছে। আমি শুধু দেশবাসীর দোয়া চাই। হাঙ্গেরি সফর সম্পর্কে জানাতে শনিবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। গত রোববার হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ 'রাঙা প্রভাত'-এ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে তুর্কমেনিস্তানেরর আশখাবাতে বিমানটি জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি সারানোর পর একই ফ্লাইটে হাঙ্গেরি যান প্রধানমন্ত্রী। এতে দেশটির রাজধানী বুদাপেস্ট যেতে প্রধানমন্ত্রীর চার ঘণ্টা বিলম্ব হয়। নতুন বিমান কেনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বিমান কেনার বিলাসিতার সময় আসেনি। বিমান কারো ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হয় না। সাধারণ মানুষের জন্য কেনা হয়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনের ঝুকি নিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমি দেশে এসেছি। ঝুকির মধ্যেই আছি। এভাবে চলতে থাকবো।
6
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে লোকজন নিয়ে মিছিল করার দায়ে এক মেম্বার প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।সোমবার রাত ৮টার পর এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রার্থী হলেন ছোট ভাকলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রহমান। সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রফিকুল ইসলাম এ অর্থদণ্ড দেন। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার রাত ৯ টার দিকে বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
6
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। দেশটিতে প্রতিদিন বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর মিছিল। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতজুড়ে করোনায় মারা গেছে ৩ হাজার ৪৯৮ জন। এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে, ভারতজুড়ে এক দিনে অর্থ্যাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫২ জন রোগী। আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভারতজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ৩ হাজার ৬৪৫ জন। এই সময়ে শনাক্ত হয় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২৭৩ জন রোগী। করোনায় ভারতজুড়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৮ হাজার ৩৩০ জনের। শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৬ জনে। ভারতে এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মহারাষ্ট্র। এই রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগী ৬৬ হাজার ১৫৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭৭১ জনের। এরপর আক্রান্ত বেশি কেরালা ও কর্ণাটকে। আর মৃতের হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দিল্লি, তৃতীয় কর্ণাটক। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১৯২টি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত বছরের ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
3
আফগানিস্তান থেকে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী চূড়ান্তভাবে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু এখন তারা কোনো একটা অজুহাত দেখিয়ে এ অঞ্চলে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীকে 'ঠাঁই' না দিতে আফগানিস্তানের প্রতিবেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এ আহ্বান জানান। আফগানিস্তান নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়োজিত একটি সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বক্তব্য দেন শীর্ষ এই রুশ কূটনীতিক। তেহরানে আয়োজিত সম্মেলনে ইরান, চীন, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমিনিস্তান, উজবেকিস্তানও অংশ নেয়। সম্মেলনে আফগানিস্তানের প্রতিবেশীদের একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয় রাশিয়া। মস্কোর বার্তার মূল কথা-আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর এখন তারা কোনো অজুহাত দেখিয়ে এ অঞ্চলের কোনো দেশে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করতে পারে। তারা এমন আবদার করলে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলো যেন তা নাকচ করে দেয়। তারা যেন মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীকে কোনোভাবে ঠাঁই না দেয়। সের্গেই লাভরভ বলেন, 'মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সামরিক উপস্থিতিকে অনুমোদন না দেওয়ার জন্য আমরা আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই।' মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগান ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়ার পর এখন আবার এ অঞ্চলে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আফগানিস্তান থেকে মধ্য এশিয়ায় সন্ত্রাসী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে ক্রেমলিন উদ্বিগ্ন। মস্কোর আশঙ্কা, এ বিষয়কে একটা অজুহাত হিসেবে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলে, বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল-এমন এলাকায় পা রাখার কথা ভাবতে পারে পশ্চিমারা। সের্গেই লাভরভ বলেন, আফগানিস্তান থেকে অভিবাসীদের প্রবাহ রোধ ও নিয়ন্ত্রণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধী ও সন্ত্রাসীরা ইতিমধ্যে শরণার্থীর ছদ্মবেশে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোয় ঢোকার চেষ্টা করছে। তাজিকিস্তানে রাশিয়া তার বৃহত্তম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে আসছে। তাজিকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তাজিকিস্তানের সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বাড়িয়েছে রাশিয়া।
3
রাজধানীর শ্যামলীতে বিল পরিশোধ করতে না পারায় যমজ দুই শিশুকে চিকিৎসা না দিয়ে 'আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল' থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় মালিক গোলাম সারওয়ারকে আটক করেছে র্যাব। র্যাবের পরিচালক, আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে আজ বিকেলে ব্রিফিং করবেন র্যাবের পরিচালক, আইন ও গণমাধ্যম শাখা।গতকাল শিশুদের মা আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, 'ঠান্ডাজনিত কারণে ৩১ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করি ছয় মাস বয়সী দুই শিশু আব্দুল্লাহ ও আহমেদকে। গত রোববার সেখান থেকে বলা হয় তাদের এনআইসিইউতে নিতে হবে। সেখানে এনআইসিইউতে সিট পাওয়া যাচ্ছিল না। সাভারে ফিরে যাওয়ার পথে এক অ্যাম্বুলেন্সচালক সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে আমাকে কৌশলে আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতালে শিশু দুটি চিকিৎসা নিচ্ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয় দিন ভর্তি দেখিয়ে আমাদের কাছে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা দাবি করে।'আয়েশা বেগম বলেন, 'এরই মধ্যে কয়েকবারে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। আর দিতে পারিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাত-পায়ে ধরেও লাভ হয়নি।গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে আমাদের জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মী শাহিনকে দিয়ে দুই শিশুসহ আমাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। হাসপাতালে আনার আগেই আহমেদ মারা যায়।'আয়েশা বেগম জানান, শিশুদের বাবা দুই মাস আগে সৌদি গেছেন। সেখান থেকে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ধার করে টাকা পাঠিয়েছিলেন। সব টাকাই হাসপাতালে দিতে হয়েছে। তাদের বড় ছেলে পাঁচ বছর বয়সী আরব আলী কুমিল্লায় নানার কাছে থাকে।তাঁদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। বর্তমানে থাকেন সাভারে।
6
কক্সবাজারের পর্যটন স্পট হিমছড়ির পাহাড়ে উঠতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে আলিফ (১২) নামে এক কিশোর পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর পর্যটক ঢাকার গাজীপুরের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
দেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৩ সালে। স্বভাবতই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এতে সাফল্যের কৌশল নির্ধারণকেই এখন প্রাধান্য দেবে। বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক প্রতিনিধিরাও ২০১৮ সালের নির্বাচনের সূত্র টেনে সবার জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা বজায় রেখেই ২০২৩ সালের নির্বাচন চাইছেন। পাশাপাশি অরাজনৈতিক পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচনের পক্ষে জোরালো মতামত রয়েছে। সম্ভবত ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি বিশ্বস্ত বিশিষ্টজনেরাও বিব্রত বোধ করেন এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথাই ভাবেন। এসবই সংগত ভাবনা। নির্বাচনী ব্যবস্থা যে ভোটারদের আস্থা প্রায় হারিয়েছে, তার লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সদ্য সমাপ্ত ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের উপনির্বাচন। এতে ৩৬ হাজার ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ ভোট দিয়েছেন; প্রার্থী ছিলেন ২১ জন। ফলাফলে দেখা গেল ভোট এমনভাবে বিভক্ত হয়েছে যে জয়ী প্রার্থীও জামানত রক্ষা করতে পারেননি। ভোটারদের অংশগ্রহণে অনীহা এবং মাত্র ৭৬৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়ে বিজয়ী হওয়া গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটা হাস্যকর লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অতএব আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে ভাবা সংগত এবং জরুরি। প্রায় ভোটারবিহীন নির্বাচন, জামানত খুইয়ে বিজয় বা অদৃশ্য কারসাজিতে ভোট বাক্স পূরণ হওয়ার মতো ঘটনা কেবল নির্বাচন কমিশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, যেহেতু এর গঠন থেকে কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারেরই একক দায়িত্ব থাকছে, তাই তারাও দায় এড়াতে পারে না। সবটা মিলিয়ে পরিস্থিতি গণতন্ত্রের অনুকূল নয়, এটা সত্য। অনেকেই গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে পারস্পরিক বিয়োগযোগ্য মনে করছেন। অর্থাৎ উন্নয়ন চাইলে গণতন্ত্রকে বাদ না দিলেও নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। কেননা, তাঁদের আশঙ্কা, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতা হারালে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে। বিএনপির পূর্ববর্তী শাসনামলের অব্যবস্থা ও দুর্নীতির কথা এ প্রসঙ্গে ওঠাই স্বাভাবিক। তবে আদতে ব্যাপক দুর্নীতি ও কিছু অব্যবস্থার মধ্যেও বর্তমান আমলে উন্নয়ন বেগবান রয়েছে, সামাজিক সূচকগুলোয় উন্নতি ঘটেছে, বড় বড় প্রকল্প দৃশ্যমান হচ্ছে, সমাজের দরিদ্র মানুষের অনুকূলে অনেক কার্যক্রমও সফল হচ্ছে। এ-ও সত্য, করোনা অতিমারিতে যখন বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ে হিমশিম খাচ্ছিল, তখনো বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। টিকা ব্যবস্থাপনা ও করোনা চিকিৎসার প্রাথমিক দুর্বলতা বর্তমান সরকার কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। মানুষের সাধারণ সরল ভাষ্যটি বস্তুত অপরীক্ষিত ধারণানির্ভর, তারপরও এটি সত্য হলেও আদর্শ বাস্তবতা নয়। আমাদের সেই বাস্তবতাতেই পৌঁছাতে হবে, যা যুগপৎ উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে ধারণ করতে সক্ষম। গণতন্ত্রের মডেল আমরা পেয়েছি এককালের শাসক ব্রিটেনের কাছ থেকে। পশ্চিম ইউরোপের যেসব দেশে গণতন্ত্র দীর্ঘকাল ধরে চলমান এবং ধীরে ধীরে আইনের শাসন, মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠাসহ কাঠামোগত ভিত্তি পেয়েছে, তাদের রাজনৈতিক উত্তরণের ইতিহাস একটা ধারণা স্পষ্ট করে। এই রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের কাজ কোনো হুকুম বা সরাসরি আইনে হয়নি, সামাজিক অঙ্গনে এর ধারাবাহিক পূর্বপ্রস্তুতি অনেক দীর্ঘ। ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের ম্যাগনাকার্টার কথা একবার ভাবুন। তখনই রাষ্ট্র ও চার্চের বিভাজন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথাও উল্লেখিত হয়েছে। অবশ্য তখনো এসব ছিল অভিজাত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর পরবর্তী দু-তিন শতকে পশ্চিম ইউরোপের কোনো কোনো দেশে খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের বিস্তার ঘটলে তারা সম্পদ-শক্তিতে সমৃদ্ধ হতে থাকে। তখন সম্পদ ও জ্ঞানে শক্তিশালী মানুষের আবির্ভাবও ঘটেছে স্বাভাবিকভাবে। আমরা ধর্মসংস্কারক, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীদের দেখা পেতে শুরু করি। এভাবে রেনেসাঁস, এনলাইটেনমেন্ট ও রিফরমেশনের ভেতর দিয়ে তাঁদের সমাজে ইহজাগতিক জীবনচেতনা ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার-কুসংস্কার থেকে অনেকাংশে মুক্তি লাভ করে। অবশ্যই এসবও প্রথমে ঘটেছে অভিজাত শ্রেণির মধ্যে, তবে যুক্ত হয়েছে নব্য সম্পদশালী গোষ্ঠী, আগ্রহী হয়ে উঠেছিল নতুন সৃষ্ট কারিগর ও কর্মিশ্রেণি। ভূমিদাসেরাও মুক্তিপ্রত্যাশী হয়ে উঠেছিল স্বভাবতই। এ কারণে দীর্ঘ সময় এ অঞ্চলে নানামুখী দ্বন্দ্ব-সংঘাত হয়েছে, আবার কখনো আপসহীন অবস্থান রক্তক্ষয়ী পরিণতি পেয়েছে, ক্ষমতার বা আধিপত্য বিস্তারের লড়াই অনেক সময় রণাঙ্গনেই নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এসবের সামষ্টিক ফল হলো সমাজের নবায়ন, রূপান্তর। ব্রিটেনের অলিভার ক্রমওয়েলের ভূমিকা এবং ১৬৮৮ সাল নাগাদ পার্লামেন্টের সঙ্গে রাজার ক্ষমতা বণ্টনের আপস গণতন্ত্রের অগ্রগতি নিশ্চিত করেছিল। এর পরের বড় দুটি ঘটনা ঘটল অষ্টাদশ শতাব্দীতে-শিল্পবিপ্লব ও ফরাসি বিপ্লব। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের বোধ আধুনিক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় পদক্ষেপ। ফরাসি বিপ্লব ব্যর্থ হলেও তার চেতনার স্ফুলিঙ্গ দিন দিন তেজি হয়েছে। কারণ, পশ্চিম ইউরোপের মানুষ ক্রমে স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চেতনায় সমৃদ্ধ হয়েছে। ইউরোপের বাইরে উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি ইউরোপীয় অভিবাসীরাই-অবশ্যই নির্মমভাবে স্থানীয় আদিবাসীদের উৎখাত করেই-ঘটিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসও একই। আর বাকি তিন মহাদেশ-দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকা ওদের ঔপনিবেশিক অধিকারে গেছে, দাসত্বের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে আর নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ, সংস্কৃতি, জীবনবিকাশ-সবই লুণ্ঠিত, ক্ষয়িত হয়েছে। পাশ্চাত্যে ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে বাকি বিশ্বে গণতন্ত্র এখনো শক্তিশালী নয়। স্বাধীন ভারতে গণতন্ত্রচর্চার ৭৫ বছর পরও এর দুঃখজনক পরিণতি ঘটেছে অগণতান্ত্রিক ধর্মান্ধ (হিন্দুত্ববাদী) শক্তির উত্থান ও ক্রমবর্ধমান শক্তি সঞ্চয়ে। কামাল পাশার আধুনিক তুরস্কও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গোঁড়াপন্থীদের হাতেই গেছে। মিসর বা আলজেরিয়ায় মুক্ত নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডই বিজয়ী হয়। আফগানিস্তানে দুই দশকের আধুনিকায়নের যে চেষ্টা, তা বাইরের খোলসটুকু ছিল। মজ্জায় তালেবানি মানস অটুট থেকেছে। ইন্দোনেশিয়াও তার ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতিচর্চার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছে বলে মনে হয় না। দেখা গেছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা বা শাসকের পরিবর্তন সহজ। স্বাধীনতার জাদুকরি মন্ত্রে জনপ্রিয় গণজোয়ার ঘটিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে বহু প্রাণ বলি দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনও সম্ভব। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এর চেয়ে ঢের কঠিন। কারণ, এর জন্য সমাজকে পরিবর্তন ও উন্নয়ন করতে হয়। এটা একটি ধারাবাহিক ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আরও অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও সে কাজ হয়নি; বরং আমাদের সমাজে ইদানীং যেটুকু রূপান্তর ঘটেছে বা নবতর ভাবধারা ও চিন্তার ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তাতে কট্টর ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও ভোগবাদিতার এক মিশ্রণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারের পক্ষে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব, কিন্তু সমাজবাস্তবতার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়; বরং আশঙ্কা আছে নতুন প্রবণতার অন্ধ জোয়ারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারানো সমাজ কোন দিকে ঝোঁকে, তা নিয়ে। বায়ান্ন থেকে একাত্তরে অর্জিত চেতনা এবং ২০০৭ সাল থেকে আংশিকভাবে পুনরুজ্জীবিত সেই চেতনাকে নির্বাচন ঝুঁকিতে ফেলবে কি না, তা স্পষ্ট করার দায় বিএনপির। সে কাজ কিন্তু আরব্ধ রয়ে গেছে। তাহলে কি ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন ও রকিবউদ্দীন-নূরুল হুদার মতো কমিশন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে? না, সেটাও কাজের কথা নয়। কিন্তু ক্ষমতা নিয়ে যুযুধান দুটি রাজনৈতিক দল তো ক্ষমতা ধরে রাখার ও ফিরে পাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টার মধ্যে এ বিষয়ে সমাধান দিতে পারবে না। বিশিষ্টজন বা নাগরিক সমাজকেও বুঝতে হবে গণতন্ত্র বা আইনের শাসন এবং নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল কিছু সুষ্ঠু নির্বাচনে সীমাবদ্ধ নয়, জ্ঞানচর্চার মুক্ত বাতাবরণ তৈরি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিবৃতি বা টক শো দিয়েও অর্জিত হওয়ার বিষয় নয়। ভাবনার চর্চা ও চেতনার প্রবাহ রুদ্ধ হওয়ায় সামগ্রিকভাবে সমাজে চিন্তা, রুচি ও নৈতিকতার অবক্ষয় প্রকট। ফলে বিত্তশালীদের ভিড় বাড়লেও রাজনৈতিক দলও আদতে দেউলিয়া। এ অবস্থায় কেবল সুষ্ঠু নির্বাচনে সমাধান খোঁজা বাতুলতা। যথার্থ নির্বাচন কমিশন গঠনের বা সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব মেনেও বলব, তারও চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজে বুদ্ধি বা চিন্তার মুক্তির কাজ করা, সমাজমানসের রূপান্তরের লক্ষ্যে সংস্কার ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং নতুন চিন্তার পক্ষে কাজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এসব কাজ আরব্ধ থাকলে সুষ্ঠু গণতন্ত্রেও ক্ষমতা অগণতান্ত্রিক শক্তির হাতেই জমা হয়, তা শোধরানো আরও কঠিন। পূর্ব ইউরোপে এই পরিণতি আমরা দেখছি। ভারত, পাকিস্তান, তুরস্কে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। শিক্ষা নিতে হবে ইতিহাস ও বাস্তবতা থেকে। আবুল মোমেন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক
8
ফেনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেল জীবন ও এর প্রেক্ষাপট নিয়ে নাটক 'বন্দী নম্বর-৭৩' মঞ্চায়িত হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলো রুমে নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি এর আয়োজন করে।মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত জাতির পিতার জীবনীর ওপর দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি মঞ্চনাটক নির্মিত হয়। তারই অংশ হিসেবে ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর জেল জীবন ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নাটকটি নির্মাণ করা হয়। নাটকটিতে অভিনয় করেন ফেনীর রেপার্টরি নাট্যদলের ২৩ কর্মী। সুফি সুফিয়ানের রচনায় নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন নাসির উদ্দিন সাইমুম। নাটকের প্রধান উপদেষ্টা জেলা প্রশাসক মো. আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান। সমন্বয়কারী ছিলেন জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এস. এম. টি কামরান হাসান।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গোলাম জাকারিয়া নাটকটি মঞ্চায়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাকসুদুর রহমান, সাংবাদিক বখতেয়ার মুন্না, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সমর দেবনাথ, কবি ও সংগঠক ইকবাল চৌধুরী, প্রবীণ সংগীত শিল্পী শান্তি চৌধুরী, নাট্যশিল্পী নারায়ণ নাগ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সমরজিৎ দাশ টুটুল, বাপ্পী পোদ্দার, হুমায়ুন মজুমদার, কবি উত্তম দেবনাথ, রাজীব সরোয়ারসহ স্থানীয় নাট্যকর্মী, সাংস্কৃতিককর্মী ও সংগঠকসহ শতাধিক দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন।নির্দেশক নাসির উদ্দিন সাইমুম বলেন 'আমরা নাটকটি শিল্পসম্মত করার জন্য চেষ্টা করেছি। "বন্দী নম্বর-৭৩" এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের হৃদয়ের মধ্যে গভীরভাবে রেখাপাত করেছেন। তিনি আমাদের হৃদয়ে জাগরুক হয়ে থাকবেন।'
6
টানা দুই হারে সেমিফাইনালে যাওয়া কঠিন করে তুলেছে ভারত। টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জেতা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই বিরাট কোহলির দলের। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস ভাগ্যে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। দুই ওপেনারের দারুণ শুরুর পর শেষ পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়ে ২১০ রানে থেমেছে বিশ্বকাপের ফেবারিটরা।আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে হঠাৎ বদল আনায় সমালোচনা হয়েছিল কোহলির দলের। তবে আজ লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ফিরে আসেন সেই ম্যাচে তিনে নামা রোহিত শর্মা। কিউইদের বিপক্ষে রাহুলের সঙ্গী ঈশান কিষানকে এদিন একাদশে রাখেনি ভারত। কিষানের সঙ্গে একাদশে জায়গা মেলেনি বরুণ চক্রবর্তীরও। এই দুজনের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন সূর্যকুমার যাদব আর রবিচন্দ্রন আশ্বিন।একাদশে অদল-বদলের সঙ্গে ওপেনিংয়েও দুই ম্যাচ পর দারুণ শুরু পায় ভারত। ইনিংসের শুরুতে তুলনামূলক ধীরে খেলা রোহিত এদিন শুরু থেকেই রানের পেছনে ছুটেছেন। রান তোলায় রোহিতের চেয়ে বরং পিছিয়ে ছিলেন রাহুল। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ভারতের রান তাই-৫৩। শুরুতে রোহিতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলায় পিছিয়ে থাকলেও সময়ের সঙ্গে রানের গতি বাড়িয়েছেন রাহুলও।১২তম ওভারে দুজনের জুটি সেঞ্চুরি ছুঁয়ে। একই ওভারে ৩৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রোহিত। পরের ওভারের প্রথম বলে গুলবাদিন নাঈবকে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন রাহুলও। তবে বল খেলেন রোহিতের চেয়ে চারটি কম। দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে বোলিংয়ে লাইন-লেংথ হারিয়েছেন টুর্নামেন্টে দারুণ খেলতে থাকা আফগান বোলাররা। প্রথম উইকেটের দেখা পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয় ১৫ তম ওভার পর্যন্ত। পেসার করিম জানাতের বলে মোহাম্মদ নাবিকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রোহিত (৭৪)।রোহিতের বিদায়ের পর দ্রুত রান তুলতে তিনে উঠে আসেন ঋষভ পন্ত। ১৩ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে সেটার প্রতিদানও দিয়েছেন এই উইকেট-কিপার ব্যাটার। তবে আফগান বোলারদের ওপর আসল ছড়ি ঘুরিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। নাঈবের বলে রাহুলের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন এই পান্ডিয়া। ভারতের ২১০ রানের বড় সংগ্রহের পথে তিনি খেলেন ১৩ বলে ৩৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ম্যাচ জেতার জন্য আফগানদের এখন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান তাড়া করতে হবে।
12
সহজ লক্ষ্যটা কঠিন হয়ে দাড়ালো বাংলাদেশের জন্য। ফলাফল ২ রানে পরাজয়। অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে চলে গেলো ভারত। জয়ের আশা দেখিয়েও তীরে এসে তরী ডোবালো বাংলাদেশ। ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ কারা হবে এর জন্য কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ শুক্রবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচের জয়ী দলই ফাইনালে ভারতের মোকাবেলা করবে। সকালে টস জিতে ব্যাট করতে নামে ভারত। শুরুতেই সাজঘরে ফিরে ওপেনার দেবদূত পারিকাল। এরপর যশভি জসওয়াল, অনুজ রাওয়াতের সাথে জুটি বেধে দলকে কিছুটা এগিয়ে নিলে আবারো আঘাত হানে বাংলাদেশ। ভারতেক চেপে ধরে যুবারা। ৮ রানেই ৪ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরায় রিশাদ-তৌহিদরা। ৭৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। কিছুটা বিরতির পর ভারতীয় শিবিরে আঘাত হানে যুবা টাইগাররা। ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে ভারতের। মিনহাজুর রহমানের বলে সাজঘরে ফিরেন আয়ুশ বাদুনি। জশভি জসওয়াল সাজঘরে ফেরার পর সামির চৌধুরীকে সঙ্গী করে দলের সংগ্রহ অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় এই জুটি ভাঙলেন মিনহাজুর। ২৮ রানে মাঠ ছাড়েন বাদুনি। এরপর জোড়া আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। সাজঘরে ফিরেন সামির চৌধুরী ও হারিশ তেগি। নির্ধারিত ওভারের তিন বল বাকি থাকতেই ১৭২ রানে সব উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম। দুটি করে উইকেট নেন রিশাদ হোসেন, তৌহিদ হূদয় ও মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী। এরপর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিন্তু শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ২১ রানেই সাজঘরে ফিরে ওপেনিং জুটি। এরপর দলকে কিছু দুর এগিয়ে নিয়ে যান মাহমুদুল হাসান ও তৌহিদ হূদয়। ৪২ রানে এই জুটির ভাঙন ধরান দেসাই। আট রান পর ফিরে যান তৌহিদও। দলের এই বেহাল অবস্থায় হাল ধরে দুই তরুণ শামিম হোসেন ও আকবর আলী। এই জুটিই দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু আকবরের সাজঘরে ফেরার পর সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। কিছুক্ষণ পর মাঠ ছাড়েন শামিমও। এরপর একে একে আরো তিনজন। ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২ রানের হার নিয়ে এশিয়াকাপ থেকে বিদায় নেয় যুবারা।
12
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ডা. আকতার হোসেন বাবু (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউতে) তাঁর মৃত্যু হয়।গত ২৪ জানুয়ারি পুঠিয়া উপজেলার নন্দনগাছী সড়কের মুক্তিযোদ্ধা মোড় এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ডা. আকতার হোসেন। এর পর থেকে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই আজ সকাল ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।এ চিকিৎসকের ভাতিজা মুন্না ইসলাম আগুন জানান, তাঁর চাচা ডা. আকতার হোসেন বাবু গত ২৪ জানুয়ারির দুর্ঘটনায় মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। এ সময় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকেরা তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান।আকতার হোসেন বাংলাদেশ প্যারা মেডিকেল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া পুঠিয়া উপজেলার নওপাড়া বাজারে চেম্বার খুলে নিয়মিত রোগী দেখতেন। তাঁর বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার মোহাম্মাদপুর গ্রামে।
6
চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় একটি ভোজ্যতেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগ্রাবাদে সাগরিকা স্টেডিয়ামের কাছে জাসমির ভোজ্যতেল কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক (মিডিয়া সেল) শাহজাহান শিকদার বিষয়টি নিশ্চিক করেছেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহাতের খবর পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণও জানা যায়নি।
6
ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত আদালতে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে 'আত্মহত্যার চেষ্টা' করেছেন। মঙ্গলবার আদালত প্রাঙ্গণে গ্যাস লাইটার দিয়ে নিজের লুঙ্গিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মো. ফারুক হোসাইনের আদালতে সাত দিনে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের। এর আগে একই আদালত পৃথক দুইটি চাঁদাবাজি মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, ফরিদপুর সদর আসনের সাংসদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বদরপুরস্থ বাড়িতে চুরির ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন বরকতকে আসামি করে আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের জন সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত একদিনে মঞ্জুর করেন। অপরদিকে ইমতিয়াজ হাসান রুবলেকে দুলাল লস্করের দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাকেও একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এদিকে মঙ্গলবার আদালতে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সাজ্জাদ হোসেন গ্যাস লাইটার দিয়ে নিজের লুঙ্গিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। নব নির্মিত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চারতলায় এ ঘটনা ঘটে। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ দ্রুত বিষয়টি দেখে ফেলে এবং আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় বরকতের লুঙ্গির কিছু অংশ পুড়ে গেলেও তার শরীরের কোন ক্ষতি হয়নি। ঘটনার সত্যাতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে রাতে জেলা আ.লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে গত ৭ জুন রাতে সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলা মামলার আসামি হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ শহর সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় আসামিদের জিম্মা থেকে পাঁচটি পিস্তল, ৯১ রাউন্ড গুলি, দুটি শর্টগান, ১৮০টি কার্তুজ, তিন হাজার ডলার, ৯৮ হাজার রুপি ও ২৯ লাখ টাকা, ৬০ হাজার কেজি চাল, ছয় বোতল বিদেশি মদ, ৬৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
6
করোনা সংক্রমণ বাড়লেও ক্লাস বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সিনেম্যাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২১ অনুষ্ঠানে একথা বলে তিনি। মন্ত্রী আরো বলেন, দুই বছরের ঘাটতি একশিক্ষা বর্ষেই পোষানো সম্ভব নয়। আর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই হবে। সকল বিষয় মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণে রেখেছে তাই যদি সংক্রমণ বাড়তে থাকে তাহলে ক্লাস কমানো বা বন্ধ করে দিতে পারেও বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন
9
ঢাকা: রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেসে যে ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছে সেটিতে গ্যাসের সংযোগ ছিল না বলে জানিয়েছে জাতীয় গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। রোববার রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিতাসের কর্মকর্তা মহিবুল হক আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।মহিবুল হক বলেন, আবাসিক ভবন বাণিজ্যিক হিসাবে ব্যবহার করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আগেই ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। তিতাসের জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ হয়নি। তবে সিলিন্ডারে জমা গ্যাসে বিস্ফোরণ হতে পারে।এদিকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ঢাকা দক্ষিণ) মো. কামরুজ্জামানও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছি। ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট, এসির বিস্ফোরণ কিংবা জেনারেটরের বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে অন্য কোনো কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে কি-না সেটা তদন্তের পর জানা যাবে।রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের শরমা হাউসে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুমের অপারেটর মো. ফরহাদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।
6
ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া পীরের বাড়ি থেকে ফেরার পথে মাদারীপুরের কলাবাড়িতে ট্রাকের ধাক্কায় ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে পড়ে এর ১০ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে ৪০ জন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের কলাবাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া পীরের বাড়ি থেকে মুরিদানদের নিয়ে ফিরছিল মাদারীপুরের একটি লোকাল বাস। সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় এলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি কলাবাড়ি ব্রিজের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আরো তিন জন। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন। নিহত ও আহতদের প্রায় সবাই মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ কামরুল হাসান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। বাসের নিচে আরো লাশ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আরো পড়ুন : চট্টগ্রামে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৮চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ আটজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। নিহত দুই নারী মা-মেয়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় চুনতির জাঙ্গালিয়া নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা রিলাক্স পরিবহনের একটি চেয়ার কোচ চুনতি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে চকরিয়াগামী একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ আটজন নিহত হন। চুনতি পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, বুধবার রাত পৌনে ১টার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে কক্সবাজারের চকরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকক্ষের অপারেটর শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি থেকে গ্যাস বের হতে থাকলে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গাড়িটি অপসারণ করে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
6
মিয়ানমারের রাষ্ট্র ক্ষমতা সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চি কে গ্রেফতার করায় কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তৃপ্তির ঢেকুর উঠেছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা মনে করছেন মিয়ানমারে সেনা বাহিনী কতৃক রোহিঙ্গাদের উপর বর্বরোচিত নির্যাতনের সময় স্ট্যাট কাউন্সিল ও এনএলডি নেত্রী অংসান সু চি সেনা বাহিনীর পক্ষ নিয়েছে। এখন তারাই সু চি কে আটক করেছে। এ মুহূর্তে কক্সবাজারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের এরচে আনন্দের কিছু নেই এমনটি জানিয়েছেন টেকনাফের নয়া পাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা সৈয়দ উল্লাহ ও মো: জোবায়ের। তারা বলছেন, যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গা মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়েছে। কি সেনা শাসন বা গণতান্ত্রিক শাসন বলেন। বিগত অং সান সু চির সময়ের শাসনামলেও এর পরিবর্তন ঘটেনি বরং অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। ফলে ২০১৭ সালে ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে সীমান্ত পেড়িয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এখন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরে যাওয়ার সামান্য সম্ভাবনা আরো প্রকট হলো এমনটি জানালেন ভয়েস অব রোহিঙ্গা নামের সংগঠনের মুখপাত্র মো. রেজোয়ান। তিনি বলেন, মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্হা প্রকৃতপক্ষে সেনা নিয়ন্ত্রিত। সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ যতদিন থাকবে ততদিন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দুরাশা। এসএইচ
6
ছোট থেকে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে এবং শ্রীদেবীর সঙ্গে বাবা বনি কাপুরের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে অর্জুন কাপুরকে। সেই সময়ে মানসিক অবসাদের কারণে শরীরের ওজনও বেড়ে গিয়েছিল তার। কিন্তু সেই অর্জুন ৫০ কিলো ওজন ঝরিয়ে প্রথম ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। পরিণীতি চোপড়ার সঙ্গে 'ইশকজাদে'। সেই সময়ে নিজের ভিতরে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিলেন অর্জুন। তারপর আবারও চড়াই উৎরাই। একাধিক ছবি ব্যর্থ হয় তার। নতুন করে অবসাদে চলে যান তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা তুলে ধরলেন বনি-পূত্র। তিনি বলেন, "যখন 'হাফ গার্লফ্রেন্ড' করি, সেটা মোটামুটি সাফল্যের মুখ দেখে। তারপর 'মুবারাকাঁ'। খানিক ব্যবসা করলেও ছবিটি কারও ভাল লাগেনি। আবার নিজের ওজন কমানোর দিকে নজর দিই। প্রবল পরিশ্রম করতে থাকি। কিন্তু নিজের যত্ন, মনের যত্ন করতে ভুলে যাই।" কিন্তু তার মানসিক অবসাদের অবসান ঘটে করোনার সময়। তিনি সেই সময় থেকে নিজেকে ভালবাসতে শুরু করেন। একের পর এক ছবি করতে করতে নিজেকে ভুলে যাচ্ছিলেন অর্জুন। মালাইকা অরোরার প্রেমিকের কথায়, "এখন আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে সেই জায়গাতে আছি, ঠিক যেমনটা ছিলাম আমার প্রথম ছবির সময়ে। আনন্দে আছি। আমি জানি, নিজের মনের যত্ন নেওয়ার পরে আমি ভাল কাজ করব। আমি ভাল অভিনয় করব। এ ব্যাপারে নিশ্চিত আমি।" মোহিত সুরির পরবর্তী ছবি 'ভিলেন ২'-তে অভিনয় করবেন অর্জুন। তাছাড়া আসমান ভরদ্বাজের 'কুত্তে' ছবির চুক্তিতেও সই করেছেন অভিনেতা এবং অজয় বহেলের 'লেডিকিলার'-এ নায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
2
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জেলাওয়ারি স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি কার্যক্রম সমন্বয় করতে সচিবদের দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সরকারি দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এতে রাজনীতিবিদের কর্তৃত্ব ম্লান হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দায়িত্ব দেওয়া হলেও সচিবদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট জেলায় যাননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এখন আমাদের জেলায় জেলায় দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মানুষ মনে করে আমরা যা দেই এগুলো দেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। অথচ প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিন্তু দেননি। আমার নিজের জেলা ভোলায় যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি এখন পর্যন্ত এলাকায় যাননি। এটা কিন্তু ঠিক নয়। এটা একটা রাজনৈতিক সরকার। রাজনীতিবিদদের যে একটা কর্তৃত্ব বা কাজ সেটা কিন্তু ম্লান হয়ে যায়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকার। যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি করে তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান যেখানে আছে সেখানে থাকা উচিত। আমাদের জেলায় একজন সচিব যাবেন। তাকে গ্রহণ করবো, বরণ করে নেব এটা ঠিক আছে। কিন্তু যারা একদিনের জন্যও যান না। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমাদের মতো লোক আমরাতারা যাবেন ফোন করবেন তারপর ইত্যাদিএগুলো আমি বললাম না। সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন ফেরাউনের সময়ও আমলা ছিল। তিনিও একজন আমলা ছিলেন। আমরা যেসব কথাবার্তা বলি মানুষ এসব পছন্দ করে না। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম)-এ এমপিরা সচিবদের উপরে। বিষয়টি খেয়াল করতে হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকবেন। বিএনপির বন্ধুরা আছেন, দুঃখ পাবেন না। জাতির পিতা হত্যার পরে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেব। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেটি করেছিলেন। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। তিনি বলেন, করোনা সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। আমাদের দুর্ভাগ্যআমরা যারা জাতীয় সংসদ সদস্য এখানে উপস্থিত। এমন একজনও নাই যিনি নিজস্ব অর্থায়নে বা যে কোনোভাবে গরিব-দুখী মানুষের পাশে দাঁড়াননি। সবাই দাঁড়িয়েছেন, আমরাও দাঁড়িয়েছি।
6
'ঘরকুনো' না হলেও ঘরের বিভিন্ন কোনা সাজাতে আর পরিষ্কার রাখতে কোনো না কোনো ভাবনা নিশ্চয়ই ভাবতে হয়। ঘরের কোণ সাজাতে কর্নার শোকেস ব্যবহার করতে পারেন। কোণের দেয়ালে কর্নার র্যাক ঝুলিয়ে দিতে পারেন। স্নানঘরের দেয়ালেও এ ধরনের র্যাক ঝোলানো হয়। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত র্যাক বা শোকেস বানাতে পারেন। বসার ঘরে ঠাঁই পাক বই, শোপিস; শোবার ঘরে বই, ফুলদানি বা ড্রেসিং টেবিলের সামগ্রী; খাবার ঘরে বাসনপত্র, শিশুর ঘরে খেলনা আর টুকিটাকি। রান্নাঘরের কোণের র্যাকে নানা উপকরণ, স্নানঘরে প্রসাধনী আর গাছপালা। ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতার সবচেয়ে জটিল কাজ হলো বিভিন্ন খাঁজকাটা নকশা আর ফাঁকফোকর পরিষ্কার রাখা। প্রতিদিন যত্ন না নিলে ময়লা স্থায়ীভাবে বসে যায়। যত্ন নেওয়ার নিয়ম নকশার খাঁজ, দেয়ালসজ্জার পেছনের অংশ, জানালা-দরজার কোণ আর এগুলোর স্লাইডিং ফ্রেমের ভেতরের অংশ পরিষ্কারের সুবিধাজনক আকারের ব্রাশ ব্যবহার করুন। এরপর ব্রাশ বা পুরোনো কাপড় ভিজিয়েও এসব জায়গা পরিষ্কার করতে পারেন, তাতে ময়লা উড়ে অন্যদিকে যায় না। ধুলা-ময়লাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমে। কাঠের আসবাব ভেজালে ঘন ঘন বার্নিশ করতে হয়, তবে সুস্বাস্থ্যের জন্য এটুকু মেনেই নিন। পরিষ্কারের সময় বাড়ির অন্য সদস্য, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের অন্য ঘরে রেখে যে ঘরে কাজ করছেন, সেই ঘরটা আটকে নিন। নিজে মাস্ক পরুন। আসবাব সরানো গেলে প্রতিদিনই সরিয়ে পেছনটা পরিষ্কার করুন। কোথাও চামড়া, রেক্সিন প্রভৃতি স্থায়ীভাবে আটকানো থাকলে (যেমন খাটের মাথার দিক বা সোফা), কিংবা ধুলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো কিছু থাকলে সপ্তাহে অন্তত ১ দিন ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সাহায্য নিন। নকশাদার কুশন কভার প্রয়োজনবোধে ড্রাই ওয়াশ করুন।ঘরের কোণ সাজাতেতাসমিয়া জান্নাত বলেন, আয়তাকার ঘর সবচেয়ে সুন্দর। আয়তাকার না হলে বিভিন্ন কোণের সৃষ্টি হতে পারে, যা সৌন্দর্য ব্যাহত করতে পারে। তবে সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করলে এই কোণই সোন্দর্যের প্রধান অংশ হতে পারে। বসার ঘরের কোণেই আনা যায় প্রকৃতিকে। কোণের মেঝে ও দেয়ালের খানিকটা অংশে কৃত্রিম ঘাস রাখতে পারেন। নানা মাপ ও ধরনের গাছ রাখতে (পাহাড়ি খাঁজের মতো ঝুলিয়েও) পারেন, যা অন্দরেই বেঁচে থাকে। কৃত্রিম ঝরনা, পাথর, পাখির বাসা, পাহাড়ি আমেজ। কিংবা রৌদ্রোজ্জ্বল গ্রাম। থিম অনুযায়ী আলোর ব্যবস্থা রাখুন, সময়ের সঙ্গে আলো বদলে যাবে-এমনও হতে পারে। রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের প্রধান ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলসান নাসরীন চৌধুরী জানালেন, ঘরের কোণকে কাজে লাগাতে সেখানে ল্যাম্পশেড রাখা যায়। স্ট্যান্ড ল্যাম্প কিংবা ঝোলানো ল্যাম্পশেড হতে পারে, ৩টি ল্যাম্পশেড ধাপে ধাপে, ৬ ইঞ্চির তফাতে। স্ট্যান্ড ল্যাম্প হলে সাড়ে ৬ ফুট, ৬ ফুট আর সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার। ঝোলানো ল্যাম্পশেড হলে ছাদ থেকে দেড় ফুট, দুই ফুট আর আড়াই ফুট দূরত্বে। ল্যাম্পশেডের নিচে মাটির শোপিস, অন্দরের উপযোগী গাছ রাখতে পারেন। জেনে নিন আরও উপায় বসার ঘরে বাঁকানো সোফা রাখলে কোণটাও কাজে লাগে। সোজা সোফা রাখলে কোণটুকুতে একটা তিন কোনা বসার জায়গা করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোণের ওপরের অংশে কাচের র্যাক করতে পারেন (অন্তত ৭ ফুট উচ্চতায়, এ উচ্চতায় রাখলে মাথায়ও লাগবে না, আবার ভেতরের জিনিসগুলো দেখাও যাবে)। শোবার ঘরের কোণে নিচু টেবিল, মোড়া বা রিভলভিং চেয়ার রেখে আরাম করতে পারেন। পড়ালেখার ব্যবস্থা থাকতে পারে। গাছপালা ও গান শোনার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। কিংবা পোশাক পরিবর্তনের জায়গাও করতে পারেন। কোণের মাপ বুঝে শোপিস রাখতে পারেন। মাটি বা টেরাকোটার হতে পারে। ঝোলানো পাত্রে গাছ রাখুন। বারান্দার কোণে গাছ ও কৃত্রিম ঘাস রাখতে পারেন। ঘরের কোণ সাজাতে যা-ই রাখুন, ঘরের বাকি সবকিছুর সঙ্গে তা যেন মানানসই হয়।
4
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর দেশি প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম ঘের দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। দেশি প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত নুনেরটেক এলাকায় মাছ ও জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস করা হচ্ছে অবাধে।নুনেরটেক এলাকার জেলেদের অভিযোগ, শম্ভুপুরা ইউনিয়নের গজারিয়া থেকে বিশনন্দি পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট নদীর বুক জুড়ে চারদিকে ঘের দিয়ে নিষিদ্ধ জাল ফেলে পোনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করে যাচ্ছেন। এভাবে মাছ শিকারের ফলে মাছসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এমনকি এদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পোনা মাছও।সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বুক জুড়ে সোনারগাঁ অংশের শম্ভুপুরা এলাকা থেকে নুনেরটেক পর্যন্ত কয়েকশত ঘের দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঘের দেওয়া হয়েছে মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত নুনেরটেক ও আনন্দবাজার এলাকায়। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের প্রশ্রয়ে গত তিন বছর ধরে এখানে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা নদীর এসব ঘের পরিচালনা করে থাকেন।নুনেরটেক গ্রামের বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলেন, 'আমি নদীতে চারটি ঘের দিয়েছি। এখান থেকে যে আয় হবে তাঁর অংশ কিছু লোককে দিতে হবে। তা ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপহার হিসেবে মাছ দিতে হবে। এভাবেই আমরা প্রতি বছর ঘের দিই, এতে মৎস্য আইন লঙ্ঘন হয় কি না আমার জানা নেই।'সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুকবুল হোসেন বলেন, 'একটি ঘের থেকে কমপক্ষে ১০-১৫ লাখ টাকার মাছ পাওয়া যায়। লাভের ৫০ ভাগ নেতাদের দিতে হয় আর ৫০ ভাগ টাকা যারা ঘের দেন তাঁরা ভাগাভাগি করে নেন। এ হিসেবে প্রতি বছর কার্তিক, পৌষ ও মাঘ মাসে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।'উপজেলার জ্যৈষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জেসমীন আক্তার বলেন, 'মৎস্য আইন লঙ্ঘন করে যে সব ব্যক্তিরা নদীতে ঘের দিয়ে মাছ শিকার করছেন তাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবল না থাকায় নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।'
6
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য প্যারোলে যাওয়ার কোন সিদ্ধান্ত দেননি। তাই এ বিষয়ে নতুন কিছু আবিষ্কারের কিছু নেই। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের (একাংশ) বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৮ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা থেকে দূরে থাকতে হবে। তা না হলে জনগণ বিভ্রান্ত হয়। আর জনগণ বিভ্রান্ত হলে সেটার ফল খুব ভালো দেখা যায় না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে হবে। এটা কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। নোংরা রাজনীতিতে এখন ভালো মানুষরা টিকতে পারছে না। একটি দল সচেষ্টভাবে রাজনীতিকে কলুষিত করে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে। তারা তাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী নয়। চিরদিন থাকে না। মানুষ, সমাজ, সময় পাল্টায় কিন্তু সত্য কোনদিন পাল্টায় না। সেই সত্যকে, ন্যায় বিচারকে প্রতিষ্ঠিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিজয়কে ছিনিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্র আর খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি সবকিছুই এমন একটা শ্রেণির পুরোপুরি দখলে চলে গেছে, যারা দেশের জনগণের আকাংখা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ধূলিসাত করে দিয়েছে। তিনি বলেন, কেউ এই অবস্থার পরিবর্তন করে দিয়ে যাবে না। তাদের চেয়ার তাদেরকেই দখল করতে হবে। সেজন্য সত্য কথা নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। জনগণের বিকল্প নেই। ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে এম এ আজিজ, কামাল উদ্দিন সবুজ, আবদুস শহিদ, আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মুন্সি আবদুল মান্নান, ইলিয়াস খানসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
9
পাইকগাছায় কপিলমুনির একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।পাইকগাছা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আসাদুল ইসলাম জানান, উপজেলার সলুয়া গ্রামের নফেল মোড়লের ছেলে আছাদুল মোড়ল (৩৫) প্রতিদিনের মতো শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ খেতে পরিচর্যার জন্য যান। একপর্যায়ে খেতের পূর্ব পাশের ডোবায় উপুড় করা অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিয়ে প্রতিবেশীদের জানান।এরপর প্রথমে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে বেলা পৌনে ১১টার দিকে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল আলীম ও পরে ১২টার দিকে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। নিহত যুবকের বয়স ৩০ এর বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়।উদ্ধারের সময় লাশের গায়ে কালো গেঞ্জি ছিল। এ সময় লাশের অদূরে পড়ে থাকা একটি জুতা, চানাচুর, বিস্কুট, শ্যাম্পুর পকেট ও টিস্যুর খালি প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখে তা আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বা কয়েকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে সেখানে নিয়ে হত্যা শেষে লাশ ওই ডোবায় ফেলে রেখে গেছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান মো: কওছার আলী জোয়ারদার জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেছেন। এ সময় তিনি আরও জানান, তিনি বা এলাকার কেউ লাশটি শনাক্ত করতে পারেননি। সর্বশেষ তাকে কে বা কারা এবং কি উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে এমনকি লাশের পরিচয় উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
6
অবৈধ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যানার অপসারণে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ অভিযানে সাইনবোর্ড না ভাঙতে বিভিন্ন মহল থেকে ফোন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরখানে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের সময় এ কথা জানান তিনি। এসময় সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড স্থাপনে ব্যবসায়ীদের কর দেওয়ার জন্য ফের আহ্বান জানান আতিক। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া অভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, গতকাল আমরা বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। আমার কাছে ফোন এসেছে, আমার সাইনবোর্ডটা ভাঙবেন না, মেয়র সাহেব আমার এ বিলবোর্ডটা ভাঙবেন না। আমরা কিন্তু কারও কথা শুনছি না। রাস্তায় যদি বালু পড়ে থাকে, সিমেন্ট পড়ে থাকে, আমরা কিন্ত নিলামে দিচ্ছে। এ শহরের একজন অভিভাবক আছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আপনারা নির্বাচিত করেছেন। তাই আমি বলতে চাই, এ শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে, জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে। একনেক থেকে অনুমোদন পাওয়া ৪ হাজার ২৫ কোটি টাকা দিয়ে ডিএনসিসিতে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন করা হবে বলেও জানান আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাস খানেক আগে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে প্রকল্প উঠেছিল একনেকে। এ প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৪০২৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। এ অনুদান দিয়ে এসব এলাকার উন্নয়ন হবে। এলাকার রাস্তা চওড়া হবে। এসব এলাকায় ১৩টি খাল রয়েছে। সেগুলো দখল হয়ে গেছে। খালগুলো উদ্ধার করা হবে। খালের দুপাশে আমরা 'ওয়াক ওয়ে' করে দেব। মানুষ হাঁটবে সেখানে। নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ডিএনসিসির লোকবল নিয়ে পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান মেয়র। আতিক বলেন, ওয়ার্ডগুলোর আবাসিক ভবন এবং সেগুলোর বাসিন্দাদের এখনই হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় আনা হবে না। তবে যেসব বাণিজ্যিক ভবন বা হোল্ডিং আছে, সেগুলোকে করের আওতায় আনা হবে।
6
বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার বাবা গোলাম মুর্তজা স্বপন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আগের থেকে কিছুটা ভালো। ১১ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সিএমএইচ'র ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে তাকে। এর আগে ওইদিন সন্ধ্যায় গোলাম মুর্তজা স্বপন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে নড়াইল সদর হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক তার নিজ বাড়িতে (মাশরাফির বাড়ি) গিয়ে চিকিৎসা দেন।তিনি মার্সেল পেইনে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর নেয়া হয় । নড়াইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মশিউর রহমান বাবু সিএমএইচে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে তার অবস্থা আগের থেকে কিছুটা ভালো। শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে যশোর সিএমএইচ-এ আনা হয়েছে।
12
ইউক্রেনের হোস্তোমেল শহরের মেয়র গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। সোমবার (৭ মার্চ) এক ফেসবুক পোস্টে শহর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। পোস্টে বলা হয়, মেয়র ইউরি ইলিচ প্রাইলিপকো খাবার ও ওষুধ বিতরণ করছিলেন। এ সময় অপর দুজনসহ তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বাকি দুজনের পরিচয় ফেসবুকে জানানো হয়নি। রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে আসতে থাকা রাশিয়ার বিশাল সেনাবহরের অগ্রভাগ এখন হোস্তোমেলের পাশের শহর ইরপিনে কাছে চলে এসেছে। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ইরপিন, হোস্তোমেল ও ওই অঞ্চলের আরেক শহর বুচায় রুশ বাহিনীর সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাদের লড়াই চলছে। হোস্তোমেল শহর কর্তৃপক্ষ বলেছে, মেয়রকে কেউ রুশ সেনাদের গোলাগুলির মধ্যে যেতে বলেনি। তিনি হোস্তোমেলের জন্য, নিজেদের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। একজন নায়কের মতো তার মৃত্যু হয়েছে। হোস্তোমেলের অবস্থান কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমে। এই শহরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি রয়েছে। ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর প্রথম দিকে বিমানঘাঁটি দখলে নেন রুশ সেনারা। পরে কয়েক দফায় তাদের সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাদের লড়াই হয়।
3
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে আইনি বাধা ও তার ভিত্তি নিয়ে পর্যালোচনা করছে তার দল। এ বিষয়ে দল সমর্থিত আইনজীবী ছাড়াও অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে দলটির শীর্ষ নেতারা কথা বলছেন। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন -এরকম নজিরও খুঁজছে দলটি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিএনপি ঢাকায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের আবেদন নাকচ হওয়ার পর এ উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। সোমবার (১০ মে) একটি গণমাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন ঢাকায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে একইসাথে বিদেশে নেওয়ার জন্য আইনগত বা অন্য কোন উপায় আছে কি না-তা খতিয়ে দেখে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, আমরা তো জোর করে তাঁকে বিদেশে নিয়ে যেতে পারবো না। সরকার না করে দিয়েছে। সুতরাং আমরা চেষ্টা করবো, এখানেই তাঁকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। একই সময় অন্য কোনো অপশন আছে কীনা-আইনগত বা অন্য কোনো উপায়, সেটাও আমরা দেখবো। বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্যান্য অপশনগুলো আমরা ভেবে দেখবো এবং সেগুলো আমরা আমাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। বিএনপি নেতারা মনে করেন, সরকারের এখতিয়ারে থাকার পরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হলো না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর ও বলেন, দেশের সব মানুষই আশা করেছিল, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের এই অবনতির কথা ভেবে সরকার মানবিক কারণে হলেও তাঁকে বাইরে যাওয়ার অনুমতিটা দেবে। দুঃখজনক হলো, এরা (সরকার) একটা ধারণা দিয়েছিল যে, আমরা মানবিক কারণে এটা দেখবো। কিন্তু শেষমুহূর্তে তারা আইনের কথা বলে এটা নাকচ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত নোংরা একটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু আইনে পরিস্কার বলা আছে যে, এটা সরকার দিতে পারে, যেকোনভাবে দিতে পারে।
6
ইউক্রেন বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গতকাল স্থানীয় সময় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন জানিয়েছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে রাশিয়াকে 'ভয়ানক মূল্য' দিতে হবে এবং ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক মূল্য গুনতে হবে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনে মার্কিন সৈন্য পাঠানোর ভাবনা কখনোই তাঁর মাথায় ছিল না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাড়াতে পূর্বের দেশগুলোতে মার্কিন ও ন্যাটো সেনা মোতায়েন জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাইডেন বলেন, 'এটা নিশ্চিত যে, ইউক্রেনে কোনো আঁচড় পড়লে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।' উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বাইডেন ও পুতিনের মধ্যে দুই ঘণ্টা ফোনালাপ হয়েছে। বাইডেন বলেছেন, ফোনালাপে ইউক্রেনে অনুপ্রবেশের বিষয়ে রাশিয়াকে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, ইউক্রেনে অনুপ্রবেশ করলে রাশিয়ার অবস্থা শোচনীয় হবে।
3
মাদারীপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম লিংকন (৩০) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন রানা (৩০) ও মুমিন (১৪) নামের দুইজন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কের খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচক এলাকায় বুধবার রাত ৮টার দিকে দুই মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ৩ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তিন। পরে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে রাত ১১টার দিকে লিংকন মারা যান। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কাজ শেষে সদর উপজেলার মঠেরবাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে মাদারীপুর শহরে ফিরছিলেন লিংকন। পথে খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচক এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন লিংকনসহ তিনজন। পরে হাসপাতালে মারা যান তিনি। ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল দুটি জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
ঢাকা: 'পাহাসল' () ও 'পাহাপুই' () নামে দুটি শব্দ আছে। বোঝার কোনো কারণ নেই যে শব্দ দুটি ছাতার প্রতিশব্দ। 'সল' মানে সূর্য আর 'পুই' অর্থ বৃষ্টি। রোদ আর বৃষ্টি থেকে যেটি আমাদের রক্ষা করে সেটিই ছাতা। ছাতা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'ছত্র' শব্দটি থেকে। এর একটি অর্থ 'রাজচিহ্ন'। আর ইংরেজি 'আম্ব্রেলা' শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক 'ওম্বরিও' শব্দটি থেকে, যার অর্থ বৃষ্টি। যা হোক, ছাতা মানে যা রোদ আর বৃষ্টি ঠেকিয়ে আমাদের ভেজা ও ঘামের হাত থেকে রক্ষা করে।চলছে বর্ষাকাল। যেকোনো সময় 'বলা নেই কওয়া নেই' ঝরঝর করে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে বৃষ্টি। আবার খটখটে রোদে ঘেমেনেয়ে অস্থির করেও তুলতে পারে। বর্ষাকালে ছাতা আমাদের দুই অবস্থা থেকেই রক্ষা করে। তাই ব্রিটিশদের মতো ঘরের বাইরে বের হলেই সঙ্গে রাখুন একটি ছাতা, তা কাঠের ডাঁটার বা স্টিলের ডাঁটার যাই হোক না কেন। একটা সময় ছিল, যখন সবাই শুধু কাঠের ডাঁটার কালো কাপড়ে ছাওয়া ছাতাই ব্যবহার করত। এখন যুগ বদলেছে, নানা রঙের নানা ঢঙের ছাতা এখন বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু যখন-তখন বৃষ্টি মোকাবিলায় আপনার চাই টেকসই একটি ছাতা, সঙ্গে ফ্যাশনেবল হলে তো কথাই নেই। ছাতার নাম-দামকালো কাপড়ের বাংলা ছাতা ছোট-বড় দুই সাইজের পাওয়া যায়। আকৃতি ভেদে এগুলোর দাম ১৫০-৮০০ টাকার মধ্যে। অটো টিপ ও ম্যানুয়াল ছাতাগুলোর আকৃতি ও ফোল্ড ভেদে দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।শিশুদের জন্য ছাতাশিশুদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের ছাতা পাওয়া যায় ১২০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের আকৃষ্ট করার জন্য শিশুদের ছাতাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নকশা করা থাকে। কোনো কোনোগুলোর সঙ্গে থাকে হুইসেল। সাধারণত রঙিন হয়ে থাকে শিশুদের ছাতা।কোথায় পাবেনযেকোনো বড় বাজারেই ছাতা কিনতে পাওয়া যায়। প্রতিটি শহরেই রয়েছে ব্র্যান্ডেড ছাতার শোরুম।যা মনে রাখবেনযে ছাতাটি আপনি কিনছেন তার কাপড় ভালোভাবে পানি রোধ করতে পারে কি না ভালো করে দেখতে হবে। ছাতার হাতলের অংশটি অবশ্যই টেকসই এবং মজবুত হতে হবে। যদি টিপ বাটনের ছাতা কিনতে চান, তাহলে ছাতার টিপ বাটনটা ঠিকমতো কাজ করে কি না, টেকসই কি না, সেটি যাচাই করে নিতে হবে। ছাতার প্রতিটি রড ঠিকমতো লাগানো আছে কি না, তা বারবার খুলে বন্ধ করে দেখে নিতে হবে। লোহার শিকের সঙ্গে ছাতার কাপড়ের সেলাই ঠিকমতো আটকানো আছে কি না সেটা দেখতে হবে। কারণ এখান থেকেই মূলত ছাতার প্রথম সমস্যা তৈরি হয়। প্যাকেটের ভেতরে ছাতা থাকলে কেনার সময় খুলে দেখে নিতে হবে। মেয়েদের ফ্যাশনেবল ছাতায় অনেক সময় পুঁতি কিংবা জরির নকশা করা থাকে। কেনার সময় খেয়াল করতে হবে, বৃষ্টিতে ভিজলে সেগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে কি না। এমন ছাতা কিনতে হবে, যাতে আপনার পুরো শরীর ঢেকে যায়। একটু বাতাসে যেন তা উল্টে না যায়। ছাতা বন্ধ করার সময় ছাতার প্রতিটি অংশ ঠিকভাবে ভাঁজ করে গুছিয়ে নিতে হবে, তা না হলে লোহার রডগুলো ভেঙে যেতে পারে।
4
বিআরটিসির বাসে সরকার হাফ ভাড়া নেওয়ার চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, 'বিআরটিএকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের বাসে ছাত্রদের জন্য একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে। কিন্তু বিআরটিসি একা করলেই তো সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা আশা করি, মালিক সমিতিও বসে একটি যৌক্তিক সমাধান চিন্তা করবেন। আপনাদের আমি এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য অনুরোধ করছি।'আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও কাউন্সিল অধিবেশন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান এমপি, সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীসহ বিভাগীয় পর্যায়ের পরিবহন নেতারা।শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছুদিন থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন। বিভিন্ন জায়গায় তারা আজও অবরোধ করেছে। হাফ ভাড়ার বিষয়ে আজ বিআরটিতে একটি বৈঠক হবে। সেখানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্য কর্মকর্তারা বিআরটিএতে বসেবেন। যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ যেহেতু মালিক সমিতির কোনো প্রতিনিধি থাকতে পারছেন না, তাই আগামী শনিবার বিআরটিএতে মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আবারও বসবে বিআরটিএ।বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ক সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, 'মালিক সমিতির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাস ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। আমরা দেখছি, ঢাকা শহরের বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে সরকারের ওপর সমালোচনার তির আসছে। মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে সরকার ভাড়া বাড়িয়েছে-এসব কথা শোনা যাচ্ছে। এখানে আমাদের ছোট করবেন না এবং জনগণের কাছে আপনারাও ছোট হবেন না। যারা সরকারের নির্দেশনা মানছে না তাদের অবশ্যই মানতে হবে। জনস্বার্থে আমাদের আরও কঠোর হতে হবে।'সড়ক পরিবহন আইনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, 'সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধনীতে জনস্বার্থের বিষয়ে কঠোরতা কিছুই কমবে না। ভুলত্রুটি যা হয়েছে সেগুলো সংশোধন করে আগামী জানুয়ারির সংসদ অধিবেশনে পাস করা হবে। এছাড়া আগামী ২৭ নভেম্বর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন মহাসড়ক বিল পাস করতে যাচ্ছি আমরা।'এর আগে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জানান, বেসরকারি পরিবহন খাতে বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেওয়ার কোনো প্রভিশন (বিধান) নেই।
6
'বুকে ব্যথা'। সদ্য বিয়ে ঠিক মেয়ের এমন 'অসুস্থতায়' চিন্তিত বাবা-মা। নিয়ে এলেন চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক হার্টের কয়েকটি টেস্ট করেও কোনো রোগ শনাক্ত করতে পারেননি। কিন্তু তরুণীর সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসক জানতে পারলেন 'আসল রোগ'। মূলত তরুণী তার প্রেমিককে বিয়ে করতে অসুস্থতার ভান করেছিলেন। বিষয়টি জানারপর ক্ষিপ্ত হন তরুণীর বাবা। কিন্তু তরুণী তার দাবিতে অনড়। তরুণীর বাবাকে অনেক বুঝিয়ে অবশেষে রাজি করানোহয়। এরপর হাসপাতালেই তাদের বিয়ের আয়োজন। এতে সহযোগিতা করেন হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা। ঘটনা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডের 'মা হাসপাতালে' তাদের বিয়ে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, 'বুকে ব্যথা' হওয়ায় বুধবার দুপুরেসিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং এলাকার মো. ইউসুফের মেয়ে খাদিজাকে (১৮) 'মা হাসপাতালে' ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসা হয়। সঙ্গে ছিলেন তার মা-বাবা। হাসপাতালটির ডিউটিরত ডাক্তার মাহফুজ তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তার হার্টের কয়েকটি টেস্ট করান। কিন্তু সবকিছু স্বাভাবিক এলে তিনি নিশ্চিত হন, তরুণীর কোনো রোগনেই। তবে খাদিজাকে দেখে চিকিৎসকের সন্দেহ হয়। তিনি বুঝতে পারেন খাদিজা কোনো কারণে ভান ধরেছেন। তখন চিকিৎসকমাহফুজ খাদিজার প্রেমিককে কল করে তার প্রেমিকার অবস্থা অনেক খারাপ জানিয়ে তাকে আসতে বলেন। ছেলে আসতে রাজি হলে তিনি মেয়ের বাবাকে বিষয়টি জানান। বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে তার মেয়েকে বাড়িতে উঠতে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। কিন্তু খাদিজা বিয়ের দাবিতে অনড় সিদ্ধান্তের কথা ব্যক্ত করেন। একপর্যায়ে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। অনেক বুঝানোর পর বিয়ের কার্যক্রম শুরু করেন মেয়ের বাবা। তখন ছেলের পক্ষ থেকে ছেলের দুলাভাই আর খালা উপস্থিত হন। পরবর্তীতে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের সহযোগিতায় সুন্দরভাবেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর-কনেদুজনেই গার্মেন্টসকর্মী। বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে 'মা হাসপাতালের' রিসিপশনের দায়িত্বে থাকা মো. সোহাগ বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তাদের বিয়ে হয়। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম ভোট হারাতে চায় না শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এ রাজ্যে মুসলিম ভোটের বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে ভোট দেয় বলে মনে কর হয়। বিজেপি এবার এ ভোটে ভাগ বসাতে চায়। তবে মমতা ভোট ধরে রাখতে মাঠে নেমে পড়েছেন। বিহার রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে আসাউদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলেমিন বা মিম পাঁচটি বিধানসভা আসনে জয়ী হয়েছে। উজ্জীবিত মিম পশ্চিমবঙ্গেও মাঠে নেমে পড়েছে। বিহার সীমান্তসংলগ্ন উত্তর দিনাজপুর, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এলাকায় ইতিমধ্যে শক্তিশালী হয়ে উঠছে মিম। এতে উদ্বেগ বেড়েছে মমতা শিবিরে। পশ্চিমবঙ্গের ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী এত দিন তৃণমূলকে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। তাঁর ভাইপো পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী এবার নতুন দল গড়ে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ৪৪টি আসনে প্রার্থী দিতে চান তিনি। এতে মমতার অস্বস্তি আরও বেড়েছে। উদ্বেগ কমাতে মমতা গতকাল রাজ্য সচিবালয় নবান্নে ত্বহা সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আসন্ন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন তাঁরা। ত্বহা সিদ্দিকী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৮০টিতে মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার দাবি করেছেন। এ রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার হার ২৭ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোট ভাগ হওয়ার শঙ্কা ছড়িয়েছে তৃণমূলে। বিজেপির সেটাই চাওয়া। ভোটের রাজনীতিতে তাতে বিজেপির লাভ। বিজেপি টার্গেট করেছে মুসলিম ভোটকে। বিজেপির নেতারা প্রচারে নেমেছেন। আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। গত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জয়ী হয়। তারা স্বপ্ন দেখছে পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় যাওয়ার। বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার এক নেতা বলেছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৭টি আসনে মুসলিম প্রার্থী দিতে পারে। তৃণমূল বলছে, ক্ষমতায় ফের আসবে তারাই। মমতা হ্যাটট্রিক করবেন। বিজেপির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাবে না। রাজ্যের মানুষ ধর্মান্ধ বিজেপিকে ভোট দেবে না। রাজ্যের মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে লালিত।
3
জন্মের পর থেকেই পেট ফোলা ছিল শিশুটির। এক্স-রে করানো হলে দেখা যায়, দুই বছর দুই মাস বয়সী শিশুর পেটে আরেকটি ভ্রূণের অবয়ব। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) শিশু সার্জারি বিভাগে সফল অপারেশন হয় শিশুটির।শিশুটির বাবা মো. জুনাইদ হোসাইন রিকশাচালক। বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জে। জুনাইদ আজকের পত্রিকাকে জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিলে তাঁর সন্তান মুরসালিনের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই পেট ফোলা ছিল। যতই দিন যাচ্ছিল পেট বড় হচ্ছিল। মাঝেমধ্যে পেটে ব্যথা অনুভব করত। ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মে চমেকে নিয়ে আসা হয় তাকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে জানান, শিশুটির পেটে বড় আকারের টিউমার আছে। কিন্তু পরে দেখা যায় পেটে অদ্ভুত মাংসপিণ্ড।চিকিৎসকেরা জানান, এ ধরনের রোগী বাংলাদেশে বিরল। চমেকের যে শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার করা হয়, সেখানে চার বছরের মধ্যে এটিসহ মাত্র দুটি শিশু পেয়েছেন তাঁরা। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায়ই অন্য একটি ভ্রূণ তার পেটে ঢুকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয়, 'ফেটাস ইন ফেটু। বাংলায় বলা যায় 'ভ্রূণের ভেতর ভ্রূণ'। শিশুটির অস্ত্রোপচার করেছেন চমেকের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব খাস্তগির ও সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এ মুশফিকুর রহমান।গতকাল অপারেশন শেষে শিশুটির পেট থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের একটি টিউমার আকৃতির মাংসপিণ্ড বের করা হয়। দেখতে অনেকটা শিশুর মতো। কিছু অঙ্গ স্পষ্ট বোঝা যায়, কিছু অস্পষ্ট।ওয়ার্ডের একজন সেবিকার অপারেশন থিয়েটার থেকে মোবাইলে ধারণকৃত ভ্রূণটির ছবিতে দেখা যায়, অসম মাথায় কিছু কালো চুল, আঙুল এবং কিছু নাড়িভুঁড়ি।ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'করোনার মহামারির সময়ে এ রকম একটি জটিল অপারেশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন চমেকের পরিচালক। তাঁর প্রচেষ্টায় আমরা সফল অপারেশনটি করতে সক্ষম হয়েছি।'তিনি আরও বলেন, 'শিশুটির মায়ের পেটে দুটি ভ্রূণ একসঙ্গে ছিল। পেটে থাকা অবস্থায়ই একটি ভ্রূণ আরেকটির পেটে ঢুকে যায়। ফলে একটি শিশু স্বাভাবিকভাবে ভূমিষ্ঠ হয়, আর তার পেটে আরেকটি ভ্রূণ রয়ে যায়। শিশুটি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে শিশুটি বাড়ি ফিরতে পারবে।'
6
করোনার টিকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চট্টগ্রামের প্রবাসী শ্রমিকরা। টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিতের দাবিতে মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা। পরে তিন দফা দাবিতে কার্যালয়ের কর্মকর্তার হাতে স্মারকলিপি দেন প্রবাসীরা। দাবিগুলো হলো- সুরক্ষা অ্যাপ চালু করে প্রবাসীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসার ভিত্তিতে নিবন্ধন এবং জরুরি ভিত্তিতে দুই ডোজ টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা। প্রবাসীরা জানান, করোনার টিকাদান কার্যক্রমে বিদেশগামী প্রবাসীদের তিন নম্বরে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিন দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে ঘুরছেন তারা। টিকার বিষয়ে কোনো সমাধান মিলছে না। জটিলতা ছাড়া করোনার টিকা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। প্রবাসী ইয়াসিন চৌধুরী, রেজাউল করিম, মো. নেওয়াজ ও নুরুল আজিম জানান, ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন তারা। টিকা না দেওয়ায় বিদেশে কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। দ্বিতীয় দফা টিকাদান শুরু হওয়ার পর টিকা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারা। সেখান থেকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গেলে তারা জানান, জনশক্তি কার্যালয় অনুমতি দিলে কর্তৃপক্ষ তাদের টিকা দিতে পারবে। পরে তারা জনশক্তি কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে বলা হচ্ছে, নিবন্ধনের পর মিলবে টিকা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরছেন তারা। তবুও কোনো দিশা মিলছে না। চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের উপপরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, 'একটি ভুল বার্তা পেয়ে প্রবাসীরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তারা চলে গেছেন। বিষয়টি হচ্ছে- সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের পর প্রবাসীরা টিকা পাবেন। এখন নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এটি চালু না হওয়া পর্যন্ত প্রবাসীদের অপেক্ষা করতে হবে। সুরক্ষা অ্যাপ চালু হলেই প্রবাসীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিবন্ধন করে টিকা নিতে পারবেন। এতে জনশক্তি কার্যালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।'
6
লশকর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদকে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের দুটি মামলায় ৩১ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন পাকিস্তানের একটি আদালত। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার জন্য এ লশকর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করে থাকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। ৭ এপ্রিল এ সাজা দেন আদালত। খবর আলজাজিরার। আদালতের তথ্যে দেখা যায়, এ দুই মামলায় সাঈদ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সাঈদের আইনজীবী নাসিরুদ্দিন নায়য়ার বলেন, সাম্প্রতিক সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন সাঈদ। সর্বশেষ ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার হন সাঈদ। এর আগে দশকজুড়ে সাঈদকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করার পর আবার ছেড়েও দেওয়া হয়েছিল। মুম্বাই হামলাসহ সশস্ত্র অভিযানে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা বারবার অস্বীকার করেছেন তিনি। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের একটি মামলায় ২০২০ সালে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এখন তিনি সে সাজা ভোগ করছেন।
3
হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে এক গৃহবধূকে (২৪) গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার স্বামী সোহেলসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।আজ বুধবার বিকেলে নির্যাতিতা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ সময় ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-নিঝুম দ্বীপের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাকসুদুল হকের ছেলে মো. হকসাব (৩৩), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাইফুল হকের ছেলে রাশেদ উদ্দিন (২৫), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এনায়েত মাঝির ছেলে মো. আকতার হোসেন (৩৪) ও ভুক্তভোগীর স্বামী নিঝুম দ্বীপ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তাজুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ কাজ করার সুবাদে চট্টগ্রামে থাকতেন। গতকাল মঙ্গলবার নিজ এলাকা নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার জন্য তাঁর দুই বছরের বাচ্চাকে নিয়ে ট্রলারে করে রওনা দেন। তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বন্দরটিলাঘাটে পৌঁছালে একটি ভাড়া চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাঁরা স্বামী সোহেলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলটি গতিরোধ করে তাঁকে নামিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তাঁকে আটকে রেখে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সোহেল, হক সাব, রাশেদ, আক্তারসহ ৭ জন পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় ওই নির্যাতিতার মুখের বাঁধন খুলে গেলে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তাঁর স্বামী সোহেলকে গ্রেপ্তার করেন। কিন্তু বাকিরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে নিঝুম দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সৌরজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূকে উদ্ধার করেন।স্থানীয়রা বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হকসাব, রাশেদ ও আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নির্যাতিতা ওই নারী সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী। গত কয়েক দিন ধরে সোহেল তালাক নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে ওই নির্যাতিতাকে। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটিয়েছেন সোহেল।হাতিয়া থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্যাতিত নারীকে তাঁর বাচ্চাসহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।ওসি আরও বলেন, মামলায় এজাহারভুক্ত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে নির্যাতিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।
6
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাত নিয়মিত ব্যাপার হলেও, সীমান্তে আরেক প্রতিবেশী চীন থেকে বরাবরের মতোই সাবধান ভারত। চীনের বিরুদ্ধে সীমান্তে কোনো গুলিই খরচ করতে হয় না ভারতের। তবে গত কয়েকদিন ধরেই চীনের সাথে ভারতের সীমান্তে চলছে উত্তেজনা। এর মধ্যেই সীমান্তে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে চীন ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমনটাই মনে করছে ভারত। ভারত ও চীন সীমান্তের একটি উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। ওই চিত্রে দেখা যায়, তিব্বতের গারি গুনশা বিমান ঘাঁটিতে বড় মাপের নির্মাণকাজ চালাচ্ছে চীন। ওই ছবির বিশ্লেষণে ভারতের দাবি, লাদাখের প্যাংগং লেক থেকে ২০০ কিমি দূরে গারি গুনশা ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রেখেছে চিন। গারি গুনশার গত ৬ এপ্রিলের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তখনও ততোটা নির্মাণকাজের চিহ্ন নেই। কিন্তু তার পর ২১ মে পাঠানো একটি ছবি অনেকটাই ব্যতিক্রম। মাস দেড়েকের মধ্যে গারি গুনশায় যে বিপুল নির্মাণ হয়েছে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ওই ছবি দেখে। ভারতের গবেষণায় গারি গুনশা বিমান ঘাঁটিতে জে ১১ অথবা জে ১৬ মডেলের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। ২০১৯-এর ডিসেম্বরে গারি গুনশায় প্রথম যুদ্ধবিমানের অস্তিত্ব টের পায় ভারতীয় উপগ্রহ। ভারত-চিন সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধের প্রস্তুতি রাখতে সেনাকে নির্দেশ দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট চিনফিং। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ''সেনাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে হবে। সেজন্য সামগ্রিক প্রশিক্ষণ জরুরি।'' ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর, উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে প্রায় হাজার দশেক সেনা মোতায়েন করেছে চিন। ভৌগলিক দিক থেকে গারি গুনশা বিমান ঘাঁটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখান থেকে সামরিক ও অসামরিক ২ ধরনের বিমানই উঠানামা করে। এই মুহূর্তে ভারত-চীন সীমান্তের তিনটি সেক্টরেই উত্তেজনা জারি রয়েছে। গত ৫ মে থেকে পশ্চিম ভাগ বা ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) সংঘাত চলছে। 'ফিঙ্গার থ্রি' ও 'ফিঙ্গার ফোর'-এর মধ্যে রাস্তা তৈরির কাজে চিন প্রথম আপত্তি তোলে। একই সঙ্গে গালওয়ান উপত্যকার সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তার কাজেও বেজিংয়ের আপত্তি রয়েছে। ৫ মে রাতে পূর্ব লাদাখের প্যাংগং লেকের কাছে চিন ভারতীয় সেনার নজরদারি বাহিনীকে বাধা দেয়। পাশাপাশি পূর্ব ভাগে বা ইস্টার্ন সেক্টরের উত্তর সিকিমেও এ মাসের শুরুতে দুই সেনাবাহিনীর সংঘাত বাধে।
3
ভারতে করোনাভাইরাস নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে এসে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেল একজনের। করোনাভাইরাস পজিটিভ ওই কিশোরীকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টায় হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে মায়ের সঙ্গে ভারত থেকে দেশে ফেরে তনুশ্রী রানী দাস (১৬)। সে বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানার নসরতপুর বাজারের সব্যচি দাসের মেয়ে। গত বছরের ২৬ নভেম্বর যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তনুশ্রী মা তৃষ্ণা রানী দাসের সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়।হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার দাস বলেন, 'আজ বিকেলের দিকে তনুশ্রী রানী দাস নামের এক কিশোরী ও তার মা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনার আরটিপিসিআর পরীক্ষা করে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে ভারত থেকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেন। এ সময় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে কর্তব্যরত মেডিকেল টিম তাঁদের পুনরায় অ্যান্টিজেন টেস্ট করে। এ সময় তনুশ্রীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। তবে তার মায়ের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।ডা. শ্যামল কুমার বলেন, 'যেহেতু মা তার সংস্পর্শেই ছিল তাই আমরা মা ও মেয়ে দুজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন সেন্টারে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রেখেছি।ওই কিশোরী ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না জানতে চাইলে ডা. শ্যামল কুমার বলেন, 'শুধু করোনা পজিটিভ বা নেগেটিভ কি না এটি আমাদের দ্বারা নির্ণয় করা সম্ভব। কিন্তু ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের মধ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন কিংবা ডেলটা ধরন কি না এটি নির্ণয়ের জন্য জেনেটিক পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সেটি ঢাকা ছাড়া সম্ভব নয়। অবশ্য এটি নির্ধারণের কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি।'এ নিয়ে সম্প্রতি হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের মধ্যে তিনজন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেন।
6
কথিত 'বড় ভাইয়ের' নির্দেশে ব্লগার নিলাদ্রী চ্যাটার্জি নিলয় ও লেখক প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয়। শুক্রবার রাতে রাজধানী থেকে আটক জঙ্গি খায়রুল ইসলাম ওরফে ফাহিমের কাজ ছিল দীপন-নিলয়কে অনুসরণ করা। তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা। ফাহিম আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্য। তিনি সংগঠনের পুরো আইটি শাখাটি দেখাশোনা করতেন। শনিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। এই কথিত 'বড় ভাই' আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান সাসপেন্ডেন্ট মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া ওরফে ইসতিয়াক বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্য খায়রুল ওরফে ফাহিমকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) পুলিশ। বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের পর সংগঠনের বরাদ দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার সংক্রান্ত বিভিন্ন পোষ্ট করতো জঙ্গি সদস্য এই খায়রুল ইসলাম। যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ব্লগার নীলয় ও প্রকাশক দীপনকে হত্যা করার প্রায় ৫ মাস আগে থেকেই তাদের বিষয়ে সকল তথ্য সংগ্রহ করে সংগঠনের কথিত 'বড় ভাই' মেজর জিয়াকে দেখানো হয়। এরপর থেকে খাইরুলের প্রধান কাজ ছিল ব্লগার নিলয় ও প্রকাশক দীপনকে ফলো করা। তাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড ও চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করা। তার সঙ্গে আরও ৪/৫ জন কাজ করে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, যারা ধর্ম বিষয়ে বিভিন্ন উস্কানিমূলক লেখালেখি করে এবং বিভিন্ন প্রবন্ধ প্রকাশ করে, মূলত তাদের তালিকা তৈরি করাই ছিলো খায়রুলের কাজ। আর এসব তালিকা সে মেজর জিয়াকে দিতো। নির্দেশনা পেলে তা অনুসন্ধান করতো তারা। ২০১৩ সালে আরেক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরে সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে কর্মী হিসেবে যোগদান করে। চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর কথিত বড় ভাই মেজর জিয়ার সঙ্গে ঢাকার আশপাশ এলাকায় তার দেখা হয়েছিলো বলেও গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় ফাহিম। আইটি বিষয়ে পারদর্শী হওয়ায় সংগঠনের আইটি সেকশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ অাগস্ট ঢাকার গোড়ানে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা ব্লগার নিলয়কে। এরপর ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ
6
বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংগীতের অর্কেস্ট্রা ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে।ইউটিউবে সার্চ দিলে পৃথিবীর অনেকগুলো দেশের জাতীয় সংগীতের অর্কেস্ট্রা ভার্সন খুঁজে পাওয়া যাবে, কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের এমন কোনো ভার্সন খুঁজে পাওয়া যায়নি । অবশেষে সেই উদ্যোগটা নিয়েছেন সুস্মিতা আনিস। ইউরোপের স্বনামধন্য বেশ কিছু অর্কেস্ট্রা আর্টিস্টকে নিয়ে প্রায় দীর্ঘ এক বছর প্রচেষ্টার পর তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের এই অর্কেস্ট্রা ভার্সন। জাতীয় সংগীতের আদি ও অকৃত্রিম ভার্সনটিকে পুরোপুরি অনুসরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। খেয়াল রাখা হয়েছে, কোনো ধরনের বিকৃতি বা পরিবর্তন যেন না আসে কোথাও। সুস্মিতা আনিস বলেন, 'জাতীয় সংংগীত আমাদের কাছে অন্যরকম এক আবেগের নাম। সেই অনুভূতি যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে সম্পূর্ণভাবে। ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে পাহাড় থেকে সাগর, জঙ্গল থেকে গ্রামের মেঠোপথ-সর্বত্র পৌঁছে গেছে আমাদের ক্যামেরা। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে পুরো বাংলাদেশের রূপ ও ষড়ঋতুকেও। 'আমার সোনার বাংলা' আমাদের অস্তিত্বের পরিচয়, আমাদের শেকড়ের উপস্থিতি, আমাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।'এবার বিশ্বমঞ্চে বাজুক আমাদের জাতীয় সংগীতের অর্কেস্ট্রা ভার্সন, সগৌরবে।ইউটিউবে দেখুন:
2
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এবং সাধারণ সদস্যদের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার ৩২৯ জন প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৭ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৭৪ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২১৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। আর ২৯ নভেম্বর ছিল প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই। গত ৬ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত ৮ জন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ৪ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ২৫ জন সাধারণ সদস্যসহ মোট ৩৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ৭ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৩৭ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৭৪ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২১৮ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।এ প্রসঙ্গে ভৈরব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, আগামী ২৬ ডিসেম্বর ভৈরবে ভোটগ্রহণ হবে। ৭টি ইউপিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৭০টি। ভোট সুষ্ঠু ও অবাধ করতে নির্বাচন অফিসের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
6
জুনিয়র এনটিআর নয়, মহেশ বাবুকে বেশি পছন্দ। ট্যুইটারে 'আস্ক মীরা সেশনে' এমনই জানিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বোন মীরা। সেজন্য তাকে ধর্ষণ এবং খুনের হুমকি দেয়া হলো। খবর জি ২৪ ঘণ্টা। জানা গেছে, আস্ক মীরা সেশনে মহেশ বাবুকে বেশি পছন্দ বলে জানিয়েছিলেন মীরা চোপড়া। তার জেরেই জুনিয়র এনটিআর-এর ভক্তরা যখন মীরাকে খুন এবং ধর্ষণের হুমকি দেন, তখন তার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন পিগির বোন। এই ধরনের ভক্ত জোগাড় করে কি কখনও আসলে তারকা হওয়া যায় বলে প্রশ্ন তোলেন মীরা। পাপাশাশি যারা মীরাকে অপমান করতে শুরু করেন অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে, তাঁদের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমের দ্বারস্থও হন অভিনেত্রী। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।
2
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় একটি বাঁশবাগান থেকে এক স্কুলছাত্রীর (১১) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মেয়েটি নিখোঁজ ছিল। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হাট শ্রীকোল এলাকার উত্তর পাড়ায় কুমার নদের পাশের বাঁশবাগানে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। নিহত ছাত্রীর নাম রোজিনা আক্তার (১১)। সে হাট শ্রীকোল গ্রামের উত্তর পাড়ার মিক্কিস শেখ ও ছমিরন বেগমের মেয়ে। মিক্কিস শেখ ঢাকায় সবজি বিক্রি করেন। মেয়েটি শ্রীকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। নিহতের মা ছমিরন বেগম জানান, গতকাল বেলা তিনটা থেকে মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁরা আশপাশে সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেছেন। কিন্তু পাওয়া যায়নি। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আজ বেলা ১১টার দিকে শুনি ওই বাঁশবাগানে আমার মনির লাশ পড়ে আছে। আমরা ছুটে গিয়ে দেখি, হাত-পা গোটানো ছিল। আমার মেয়েকে কারা যেন মেরে ফেলছে।' নিহতের বড় ভাই রাজু শেখ বলেন, 'বোনকে গতকাল বেলা আড়াইটায় বাড়ির পাশে দেখেছি। এরপর রসুনের জমিতে যেতে শুনেছি, মা তাকে পাঠিয়েছিল। এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে কেউ ধরে নিয়ে যেতে পারে বলে আমার ধারণা। এভাবে তাকে পাওয়া যাবে, আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।' দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল বিকেল থেকে মেয়েটি নিখোঁজ ছিল। জেলা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআইয়ের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মেয়েটির গলায় কাটা দাগ আছে। আশা করছেন শিগগিরই এ হত্যারহস্য উন্মোচন করা যাবে।
6
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পর পেরিয়েছে তিন দিন। অবশেষে এই কিংবদন্তির নিথর দেহ থাইল্যান্ড থেকে আজ ফিরছে অস্ট্রেলিয়ায়। থাইল্যান্ডের কোহ-সামুইয়ে তিন বন্ধুকে নিয়ে ছুটি কাটাতে গিয়ে আকস্মিক হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ওয়ার্ন। সর্বশেষ ময়নাতদন্তেও স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে তাঁর।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে থাইল্যান্ড পুলিশ ওয়ার্নের স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গতকাল সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওয়ার্নের পরিবারকেও সেটা জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ওয়ার্নের পরিবার।থাই ডেপুটি ন্যাশনাল পুলিশের মুখপাত্র কিসানা পাথানাচরন এক বিবৃতিতে জানান, আজ (গতকাল) তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়েছেন। যেখানে চিকিৎসকদের মতামত, স্বাভাবিক কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওয়ার্নের। তদন্তকারী এই রিপোর্টের সারসংক্ষেপ দাঁড় করাবেন।
6
সংগঠনে গতি আনতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রলীগের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ও নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহীদের ১০ দিনের মধ্যে সশরীরে জীবনবৃত্তান্ত দিতে বলা হয়েছে।
6
ভারতের শাসক টিপু সুলতানের হাতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরাজয় মুহূর্ত উপজীব্য করে আঁকা একটি চিত্রকর্ম নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। বুধবার (৩০ মার্চ) লন্ডনে নিলাম প্রতিষ্ঠান সদবি চিত্রকর্মটি নিলামে তোলে। চিত্রকর্মটির প্রাথমিক মূল্য ৩ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড ধরা হলেও সবশেষ ৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়।বিবিসি জানায়, চিত্রকর্মটিতে ১৭৮০ সালে মহীশুরের সুলতান হায়দার আলি ও তাঁর পুত্র টিপু সুলতানের বাহিনীর সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর যুদ্ধ তুলে ধরা হয়েছে; যা পল্লীপুরের যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত। এই যুদ্ধে টিপু সুলতানের হাতে কোম্পানির পরাজয় ঘটে। ৩২ ফুট লম্বা চিত্রকর্মটিতে দেখা যায়, একদিকে হাতির পিঠে চড়ে সৈন্যদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিপু সুলতান। অন্যদিকে তাঁর সৈন্যরা কোম্পানির সৈন্যদের চারদিক দিয়ে ঘিরে আক্রমণ করছে। ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর 'দ্য অ্যানার্কি' বইয়ে টিপু সুলতানের সঙ্গে যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওই পরাজয়কে উপমহাদেশে 'উপনিবেশবাদের সর্বশ্রেষ্ঠ পরাজয়' বলে অভিহিত করেন।১৭৮৪ সালে পল্লীপুর যুদ্ধকে উপজীব্য করে চিত্রকর্ম আঁকার নির্দেশ দেন টিপু সুলতান। মহীশুরের তৎকালীন রাজধানী শ্রীরঙ্গপট্টমে রাজপ্রাসাদের দেয়ালে ও বিভিন্ন প্রাচীরে এগুলো আঁকা হয়। এ ছাড়া এ যুদ্ধ নিয়ে কাগজের ওপরও কিছু চিত্রকর্ম আঁকা হয়। ওই চিত্রকর্মগুলোর একটি ২০১০ সালে নিলামে তোলা হয় এবং এটি কাতারের 'মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট'-এর সংগ্রহে নেওয়া হয়।অসাধারণ দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা, কৌশলপূর্ণ রাজ্য পরিচালনা ও অসাধারণ সমর নৈপুণ্যের জন্য ইতিহাসে টিপু সুলতান 'মহীশুরের বাঘ' নামে খ্যাত। যদিও ১৭৯৯ সালে ব্রিটিশদের কাছেই পরাজিত ও নিহত হন টিপু সুলতান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন এই মহান শাসক।
3
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দোকানপাট ও খড়ের গাদায় আগুন দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার বোয়ালিয়া বাজারে পাগলা ও কুমারগাঁতী গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- পাগলা গ্রামের মানিক (২৫), রাসেল (২৬), শাহিন আলম (২২), হুমায়ন আহমেদ (২২), জিহাদ (১৬), অনিক (১৬), রানা (১৬), শাহিন (২২), কুমারগাঁতী গ্রামের বরাদ আলী (৪০), আলম (৩৬), সিয়াম (২০) ও গোলাম (৩৫)। বড়হর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম নান্নু জানান, মঙ্গলবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমারগাঁতী ও পাগলা গ্রামের যুবকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। উভয়পক্ষের মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ নিরসন হয়। বিষয়টি নিয়ে বিকেলে শালিসি বৈঠকের কথা ছিল। বুধবার সকালে আবারও উভয়পক্ষের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ইট-পাটকেলের আঘাতে ১০/১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। উল্লাপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কওশিক আহম্মেদ বলেন, সকালে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উসকানি দিতে কয়েকটি খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
6
বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে চাঁদের বুকে পতাকা স্থাপন করেছে চীন। চীনের জাতীয় মহাকাশ সংস্থার প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, পাঁচ তারকাযুক্ত লাল পতাকাটি বায়ুহীন চাঁদের পৃষ্ঠের ওপরে স্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫০ বছরের বেশি সময় আগে চাঁদে তাদের পতাকা স্থাপনের পর চীন এই সাফল্য পেল। খবর বিবিসির। বৃহস্পতিবার পাথরের নমুনা নিয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠ ছাড়ার আগে মহাকাশযান চ্যাঙ্গি-৫ পতাকা স্থাপনের ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দি করে। চীনের আগের দুটি চন্দ্র মিশনে পতাকা নিয়ে গেলেও তা সেখানে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র অ্যাপোলো-১১ মিশন নিয়ে চাঁদে প্রথম পতাকা স্থাপন করে। পরে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মিশনে দেশটি পাঁচটি পতাকা চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থাপন করে। ২০১২ সালের স্যাটেলাইট ছবির বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, তাদের পাঁচটি পতাকা তখনও চাঁদে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দাঁড়িয়ে থাকলেও সূর্যের তাপে ওই পতাকাগুলোর রং জ্বলে যেতে পারে। চীনের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস বলেছে, চীনের এই পতাকা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো মিশনের 'উত্তেজনা ও অনুপ্রেরণার' কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। চীনের পতাকাটি দুই মিটার চওড়া ও ৯০ সেন্টিমিটার লম্বা। এর ওজন প্রায় এক কেজি। শীত থেকে এটিকে রক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। গত সাত বছরে এ নিয়ে চীন তৃতীয়বারের মতো চাঁদে সফল অভিযান পরিচালনা করল। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর চীনের পাঠানো মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান সফলভাবে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে।
3
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা এখনো পাকা করা হয়নি। শীত মৌসুমে এই রাস্তায় কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাস্তাটি উপজেলার ধলা ইউনিয়নের সেকান্দরনগর নয়াপাড়া বাজারের মোড় থেকে একটি কাঁচা রাস্তা সাদেক ভান্ডারির বাড়ি হয়ে বান্ডীবাড়ি পর্যন্ত। এই রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় মাইজপাড়া, হালুয়াপাড়া, খানসামাপাড়া, বিয়েপাড়া, নয়াপাড়া, পাথারিয়াপাড়া, গজেন্দ্রপুর, চাঁনপুরের বসবাসকারী প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। এসব গ্রামবাসীর দাবি দ্রুত এই রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো রাস্তায় ছোট-বড় অনেক গর্ত। রাস্তাটিতে শুকনো মৌসুমে এসব গর্তে অনেক ঝাঁকুনি খেয়ে যান চলাচল করলেও বর্ষা মৌসুমে তা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ, এসব গর্তে পানি জমে যায়। তা ছাড়া, বর্ষায় এই পথ এতটাই কর্দমাক্ত হয় যে তখন যান চলাচল তো দূরে থাক, হেঁটেও চলাচল করা যায় না। স্থানীয় কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত শস্য জমি থেকে বাড়িতে ও বাজারে পরিবহন করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি গ্রামের রাস্তা পাকা করা হলেও এই রাস্তা এখনো পাকা করা হচ্ছে না। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রতিবছরই আশ্বাস দেন। কিন্তু কাজের কাজ হয় না।ওই এলাকার নয়াপাড়ার আলী হোসেন, তরিকুল ইসলাম, ভান্ডীবাড়ির রায়হান, পাঁচধার ফজলুর রহমান, মাইজপাড়ার সিরাজ মেম্বার, খানসামাপাড়ার হালান ও পাথারিয়াপাড়ার ফজলুর সবার মুখে একই কথা। এই এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।এ ব্যাপারে ধলা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আফরোজ আলম ঝিনুক বলেন, 'এই রাস্তার কারণে আশপাশের জনসাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই। আমি সবেমাত্র নির্বাচিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এখনো শপথ নিইনি। শপথ গ্রহণের পর এই রাস্তা জনগণের চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রথম কাজ।'প্রকৌশলী জোবায়ের হোসেন বলেন, 'আমি গত রোববার দায়িত্ব নিয়েছি। এখনই এই সড়কের ব্যাপারে তেমন কিছু বলতে পারছি না। তবে আমার আগের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক রাস্তা পাকা করার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়ে গেছেন। হয়তো ওই প্রস্তাবনায় এই রাস্তাটিও থাকতে পারে। আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।'
6
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আগামী ১৯ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচিগুলো মধ্যে রয়েছে, ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ অর্পণ করবেন। ওই দিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দৈনিক সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র ও পোস্টার প্রকাশ করা হবে। বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় বিকাল ৩টায় ভার্চূয়াল আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ পেশাজীবী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শহীদ জিয়ার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শন এবং ড্যাবসহ চিকিৎসকদের সংগঠন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করবে। পাশাপাশি সারা দেশে বিভিন্ন পর্যায়ের ইউনিট নিজেদের সুবিধানুযায়ী জিয়ার জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে উদ্যোগ নেবে। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান ও সাবেক মেয়রের পরস্পরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতির দমন কমিশন নিশ্চুপ কেন তা জানতে চেয়েছেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের মেগা মেগা দুর্নীতির মহাসাগর থেকে ছিটেফোঁটা চিত্র দুই-একজনের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। সাঈদ খোকন বলছেন, মেয়র তাপস শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন। অপরদিকে মেয়র তাপস বলছেন, শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন সাঈদ খোকন। দুই জনই রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে একে অপরেরে দুর্নীতি, লুটপাটের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। তবে এটি স্পষ্ট দুজনই লুটেরা, দুজনই দুর্নীতিবাজ। এখন দুদক তামাশা দেখবেন না পদক্ষেপ নেবেন?
6
ঈদে বিশেষ 'ঘরে বসে শোনাব গান' অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রথম আলো। এ আয়োজনে আজ রাত সাড়ে ১০টায় প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে গান শোনাবে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ফিডব্যাক। কাল ঈদের দ্বিতীয় দিন রাতে গান শোনাবেন দুই ভাই হৃদয় খান ও প্রত্যয় খান। করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী ঘরের ভেতর দিন কাটাচ্ছেন মানুষ। তাঁদের বিষণ্নতা দূর করতে পারে কিছু ভালো গান। এ উদ্দেশ্যে প্রথম আলো আয়োজন করেছে বিশেষ গানের অনুষ্ঠান 'ঘরে বসে শোনাব গান'। নিজ নিজ ঘরে বসে গান গেয়ে শ্রোতাদের মন ভালো করছেন বাংলাদেশের শিল্পীরা। জানা গেছে আজ ফিডব্যাক শোনাবে 'চিঠি', 'মৌসুমি', 'পথ হারা পথিক' ও 'উদাসী এই মনে' গানগুলো। কাল ঈদের দ্বিতীয় দিন রাতে হৃদয় খান ও তাঁর ভাই প্রত্যয় খান শোনাবেন তাঁর 'হৃদয় মিক্সড টু' অ্যালবামের গান 'অবুঝ মন' এবং 'হৃদয় মিক্সড ওয়ান'-এর গান 'ভেবে ভেবে'। এই প্রথম ছোট ভাই প্রত্যয়ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গান করছেন। প্রত্যয় গাইবেন নতুন গান 'মাঝে মাঝে' এবং 'চেয়ে দেখো'। লকডাউনে ঘরবন্দী মানুষের মন ভালো করে দিতে এক দিন পরপর এ আয়োজন করেছিল প্রথম আলো। পাঠক-দর্শকের অভাবনীয় সাড়ায় চাঁদরাত থেকে ঈদের তিন দিন বিশেষ এ আয়োজন করা হয়েছে। 'ঘরে বসে শোনাব গান' অনুষ্ঠানে ইতিমধ্যে গান করেছেন শিল্পী আনুশেহ, তানভির আলম সজীব, রাহুল আনন্দ, প্রিয়াঙ্কা গোপ, কনক আদিত্য, ইমরান, কোনাল, পিন্টু ঘোষ, পুলক, পারভেজ, ঐশী, কিশোর, দিনাত জাহান মুন্নী, এস আই টুটুল, অদিতি মহসিন, বেলাল খান, সাব্বির, রন্টি দাস, হায়দার হোসেন, ডিরকস্টার শুভ, হৈমন্তী রক্ষিত দাশ, ইউসুফ আহমেদ খান ও অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ফেসবুক লাইভের পর গানগুলো শোনা যাবে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলেও।
2
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষাসৈনিক, সাবেক এমপি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর খোন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় মুক্তাগাছার নন্দীবাড়িতে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বুধবার বেলা ১১টায় মুক্তাগাছার নন্দীবাড়ীতে স্টেডিয়াম মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু এমপি ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
শরণখোলা থেকে এক নিরুপায় মুক্তিযোদ্ধা অনেক রাতে ফোন করে জানালেন, পানির জন্য এমন হাহাকার তিনি আগে কখনো দেখেননি। তিনি বলছিলেন, তাঁদের এত কষ্ট, তারপরও আমরা কেন তাঁদের নিয়ে লিখি না। লিখলে কি পানীয় জলের অভাব দূর হবে? কেউ কি পড়বেন? পানির কষ্টের কথা পড়ার জন্য, লেখা ছাপার জন্য কর্তারা কেন অপেক্ষা করেন? জানি, এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তারপরও জানতে মন চায়। বাগেরহাটের শরণখোলায় টিউবওয়েল চলে না। মাটির নিচেও লবণজল। হয় আকাশের জল, না হয় পুকুরের পানি-এই ব্যবস্থা সেখানে চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। পুকুরের পানি হাতকলের মাধ্যমে উঠিয়ে ইট-বালুর ট্যাংকে রেখে পানি নিরাপদ করা হয়। এটাকে ছেলেমেয়ে-প্রবীণ সবাই বলে, পিএসএফ (পন্ড স্যানড ফিল্টার)। নিরাপদ পানীয় জল সংগ্রহের জনপ্রিয় আর সাশ্রয়ী এই ব্যবস্থা আমাদের উপকূলের প্রায় সব জেলা-উপজেলায় আছে। তবে ব্যবস্থাপনার কারণে অধিকাংশই অকেজো থাকে সারা বছর। তবে এ বছরের হিসাব অন্য রকম-বৃষ্টি একেবারেই নেই, তাই পুকুরে পানি নেই। ফলে পিএসএফগুলো চলছে না। গত বছরের মার্চ মাসে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনাকালে কষ্টেসৃষ্টে খাবার জোগানো গেলেও পানীয় জল মিলছে না দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের। শরণখোলায় পানি ব্যবসায়ীরা এখন ১০ লিটার পানি বিক্রি করছেন ৪০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি লিটার ৪ টাকা। অথচ লাভ রেখেও প্রতি লিটার পানি ১ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। শরণখোলার সাউথখালীর বগিতে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এই সাশ্রয়ী দরে পানি বিতরণের কাজ করছে। রায়েন্দায় (উপজেলা সদর এলাকা) আরেকটি সংগঠন বাড়ি বাড়ি পানি পৌঁছে দিচ্ছে প্রতি লিটার ২ টাকা দরে। রিভার্স অসমোসিস প্রক্রিয়ায় খাল-নালার লবণাক্ত পানিকে লবণমুক্ত করে এরা মানুষকে পানের পানি দিচ্ছে। পানের পানির বাইরেও নানা কাজে আমাদের লবণমুক্ত পানির প্রয়োজন হয়। এমনকি গবাদি প্রাণীও লবণাক্ত পানিতে অভ্যস্ত নয়। পানিসংকটের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে লবণমুক্ত পানির ব্যবহার সীমিত করে ফেলছে। অনেকে মাত্র ২ কলস বা বড়জোর ১০ লিটার পানি দিয়ে গোটা পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান অনুযায়ী একজন মানুষের এক দিনে পানের জন্য প্রয়োজন ৩ লিটার পানি। পরিবারে ৫ জন সদস্য থাকলে শুধু পানের জন্যই লাগবে ১৫ লিটার পানি। এই হিসাবের বাইরে আছে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য, রান্নাবান্নার জন্য মানসম্মত পানি। সেই হিসাবে পাঁচজনের একটা পরিবারে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ থেকে ৭৫ লিটার নিরাপদ পানির প্রয়োজন। বলা বাহুল্য, সেই কপাল দক্ষিণের মানুষের নেই। মাত্রাতিরিক্ত হারে লবণাক্ত পানি পান করা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। গবেষকেরা এখনো গবেষণা জারি রেখেছেন। আইসিডিডিআরবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজসহ আরও অনেক জানা-অজানা প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালে এ রকম এক গবেষণার ফলাফল জানাতে গিয়ে ইম্পিরিয়াল কলেজের সাবসারফেস হাইড্রোলজির রিডার অ্যাড্রিয়ান বাটলার বলেছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু উপকূলের মানুষ কিছু ক্ষেত্রে এর ২০০ গুণ লবণ খায়। বেশি লবণ খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক রয়েছে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি উপকূলের মানুষ কম লবণাক্ত পানি (যেমন বৃষ্টির পানি) পান করে, তাহলে তাদের রক্তচাপ কমিয়ে আনা সম্ভব। আমরা জানি, খাওয়ার পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা গর্ভবতী মায়েদের উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির মূল কারণ। উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-একলাম্পসিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আছে। সাত মাসের বৃষ্টির এই দেশে উপকূলবাসী ভালো করেই জানে তাদের জন্য বৃষ্টির পানিই সহজ আর নিরাপদ। গবেষকদের উপসংহারও তাই। তবে তাঁদের বাতলানো ঢঙে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে তা ব্যবহার করার খরচ অনেক সময় সাধারণের নাগালের বাইরে থাকে যায়। কিন্তু কমিউনিটি বা সামাজিক ব্যবস্থাপনায় এটা সম্ভব। শরণখোলার রায়েন্দাবাজারের কাছে ছোট্ট সামাজিক সংগঠন অগ্রদূত ক্লাব সেটা করে দেখিয়েছে। ২০০৭ সালে সিডরের পর এলাকার এটাই ছিল একমাত্র নিরাপদ পানির উৎস। সেই উৎস এবার শুকিয়ে গেছে। তাদের এক বিঘা জমির পুকুরে পানি নেই। অগ্রদূত ক্লাবের আইয়ুব জানালেন, এত দিন তিনি সবাইকে পানি দিয়েছেন, এখন তাঁদেরই পানির জন্য ট্যাঁকের পয়সা নিয়ে ছুটতে হচ্ছে দিগ্বিদিক। মিষ্টি বা সামান্য লবণাক্ত পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহমান নদীগুলোতেও লবণের মাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শরণখোলার ভোলা নদী শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলেও বলেশ্বর নদের তেজ এখনো আছে। বলেশ্বর নদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরগুনা, পিরোজপুর, শরণখোলা হয়ে ১৪৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সুন্দরবন ডিঙিয়ে সাগরে মিশেছে। বলেশ্বরের মিষ্টি পানির একটা প্রধান উৎস ছিল মধুমতী নদী। মধুমতী নাজিরপুর উপজেলার ঝনঝনিয়া থেকে পিরোজপুর হয়ে বলেশ্বরে মিশেছে। ফারাক্কার কারণে মধুমতী, গড়াই আর তাদের মা নদী পদ্মা এখন হাড়-জিরজিরে পানিপ্রবাহ মাত্র। তাই জোয়ারে আসা সাগরের নোনাপানি আবার ভাটার সময় সাগরে ফিরিয়ে দেওয়ার শক্তি নদীগুলো হারিয়ে ফেলেছে। তারপরও বলেশ্বরের উজানে দেশের ভেতরে নানা রকমের বাঁধ দিয়ে মিঠাপানি আটকানো হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর বলেশ্বর নদে হঠাৎ লবণাক্ততা বেড়ে গিয়েছিল। পরে দেখা যায়, শাখানদী দিয়ে উজানের পানি আসায় বাধা তৈরি হওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। ওই বাধা সেবার অপসারণ করার পর পানির লবণাক্ততা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে এ বছর আবার সেই অবস্থা ফিরে এসেছে। সম্প্রতি উজানের আরও অনেক নদীতে লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার খবর আসছে। কীর্তনখোলার পানিতে স্বাভাবিকের চেয়ে চার গুণ বেশি মাত্রার লবণ পাওয়া গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের সহকারী বায়োকেমিস্ট মুনতাসির রহমানের উদ্ধৃতিতে দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় এসেছে, নদীর চরকাউয়া, লঞ্চঘাট ও দপদপিয়া পয়েন্টে গত ৭ মার্চ পানি পরীক্ষা করে ইলেকট্রিক্যাল কন্ডাকটিভিটি (ইসি) পাওয়া গেছে ১৩৬০ মাইক্রো সিমেন্স পার সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মাইক্রো সিমেন্স পার সেন্টিমিটার পাওয়া যেত। সাধারণত ইসি ১২০০ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়ে থাকে। অনেক আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শরণখোলায় পুকুরভিত্তিক ১৮টি পানি পরিশোধনব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। উপজেলা কমপ্লেক্সেরটা চালু হলেও বাকিগুলোর খবর নেই। কোথাও বিদ্যুৎ-সংযোগের অপেক্ষায় আবার কোথাও অপেক্ষার কারণ জানা নেই। 'ন্যানোফিল্টার' বসে গেছে অনেক জায়গায় কিন্তু চালু হচ্ছে না। বাংলাবাজার বা দমকল অফিস লাগোয়া প্ল্যান্ট দুটি অবিলম্বে চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ। প্রকল্প দুটির লাগোয়া পুকুরগুলো বড় হওয়ায় এখন যথেষ্ট পানি আছে। খাতা-কলমে শরণখোলা উপজেলায় ষাটের বেশি খাসপুকুর আছে। এর অর্ধেকও যদি পুনরুদ্ধার করে স্বয়ংক্রিয় (যা ন্যানোফিল্টার নামে পরিচিত) পরিশোধনের আওতায় আনা যায়, তাহলে পানীয় জলের অন্তত আকাল থাকবে না। এগুলোতে বিদ্যুৎ নয়, বরং সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় এটাই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত। রিভার্স অসমোসিস প্রক্রিয়ায় যাঁরা পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা করেছেন, তাঁদের উৎপাদন ও বণ্টনে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এসব সহযোগিতার লক্ষ্য হবে মান নিয়ন্ত্রণ ও সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রাখা। চিন্তা করতে হবে গৃহভিত্তিক বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সহজ-সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া নিয়েও। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যার আলোচনার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, আমরা নিজেরাও নদীর স্বার্থ মানছি কি না। দেশের ভেতরেও নদীর পানি প্রত্যাহারে আমাদের পরিকল্পনায় নদী যেন বঞ্চিত না হয়। নদী যেন সারা বছর সাগরের দেখা পায়। গওহার নঈম ওয়ারা লেখক ও গবেষক[]
8
শেরপুর জেলার সর্বত্র বোরো রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠে মাঠে চলছে এখন ক্ষেতে সেচ দেওয়া,ক্ষেত চাষ,ক্ষেত তৈরী, বীজ উত্তোলন ও চারা রোপনের ধুম। পৌষ মাসের কনকনে শীত উপেক্ষা করে বোরো রোপনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলায় ৮৯ হাজার ৬৫৮ হেক্টোর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯২ মেট্রিকটন চাল। এ জেলার কৃষকরা যাতে বোরো ফসল আনায়াসে ঘরে তুলতে পারেন এ বিষয়ে সরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে পূর্ব প্রস্তুতি। তেল,বিদ্যুৎ,সার সংকট যেনো না হয় সে সম্পর্কেও রয়েছে সরকারিভাবে নজরদারি। বোরো আবাদ ঘরে তুলতে ৩২হাজার মেক্ট্রিকটন সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয়। তা মজুদ রয়েছে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। এ ছাড়া উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জিত হওয়ার স্বার্থে বোরো ধানে রোগ-বালাই দমনের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে নানা প্রকারের প্রশিক্ষণ। শেরপুর জেলার খামার বাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আশরাফ উদ্দীন বলেন, শেরপুরে এ বছর যে পরিমাণ জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা না দেয় তবে আবাদ ও উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
6
অর্থ আত্মসাতের দায়ে নোয়াখালীতে হাসান মোহাম্মদ রাসেদ নামে এক কর্মকর্তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে সাড়ে ২২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ দণ্ড প্রদান করেন।দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেদ ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার গজারিয়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। তিনি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ফেনী শাখার কর্মকর্তা (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামি রাসেদ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ফেনী শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় গ্রাহকের ১৭ লাখ টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপক রিজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাখায় অর্থ আত্মসাতের আরও একাধিক মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।নোয়াখালী দুদকের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাশেম বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল ফেনী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এ জন্য আসামি হাসান মোহাম্মদ রাসেদকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড ও ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
6