text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বসে পর্নোগ্রাফি দেখা সংসদ সদস্য নিল প্যারিশ অবশেষে নিজের অপরাধ স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল শনিবার অভিযুক্ত নিল প্যারিশ বলেন, 'তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তার মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি দেখেছিলেন।' এরপরই তিনি পদত্যাগেরঘোষণা দেন। খবর সিএনএনও বিবিসির। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনারের কাছে প্যারিশ স্বীকার করেছেন, দুইবার ওই কাজ করেছেন তিনি। যদিও আগে তদন্তের মুখেনিল প্যারিশ বলেছিলেন, "ভুল করে' পর্নো ওয়েবসাইট খুলে থাকতে পারে। তদন্ত চললেও এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন তিনি।" বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারী পার্কে বেড়াতে নিয়ে যাবার কথা বলে এক গার্মেন্টসকর্মীকে গণধর্ষণের মামলায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১-এর সদস্যরা। শনিবার র্যাব-১'র স্পেশালাইজ কোম্পানি পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ এস এম মাঈদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতের নাম মো: নাজমুল হাসান (৩০)। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইন্দ্রপুর এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। র্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার জানান, শ্রীপুরের এক গার্মেন্টসকর্মীকে গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো: নাজমুল হাসান স্থানীয় ইন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থান করছে, শুক্রবার রাতে এ গোপন খবর পেয়ে র্যাব-১ এর সদস্যরা ইন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে নাজমুলকে গ্রেফতার করে। তাকে শ্রীপুর থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, সাতক্ষীরা জেলা সদরের উত্তর কটিয়া বৌবাজার এলাকার ওই ভিকটিম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় নর্দান পোশাক কারাখানায় অপারেটর পদে চাকরি করেন। প্রায় তিন মাস আগে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরার পথে তার সাথে পরিচয় হয় বাসের হেলপার সাগরের। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মাঝে মোবাইলে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব হয়। গত ২৭ জুন বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ভিকটিমকে পার্কের ১নং গেটের পাশে ইন্দ্রপুর এলাকায় মৃত আব্দুর রহিমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের বাসায় নিয়ে যায় সাগর। সেখানে বাড়ির একটি কক্ষে আটকে ওই পোশাককর্মীকে গণধর্ষণ করে সাগর ও তার দুই সহযোগী বাবু এবং নাজমুল। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভিকটিম। পুলিশ এ মামলার প্রধান আসামি রাজবাড়ী সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের কলিম উদ্দিন শেখের ছেলে সাগর শেখকে (৩০) গ্রেফতার করে। তবে মামলার অপর আসামিরা পলাতক থাকে। এবার গ্রেফতার হলেন আরেক আসামি। | 6 |
অনুমতি ছাড়া ছেলে আরশ রহমানের খতনা করায় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মডেল মারিয়া মিম। গতকাল শনিবার রাতে তিনি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, জিডি নম্বর ৮১৮। এই জিডির বিষয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন অভিনেতা সিদ্দিক। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, 'বাবা হিসেবে ছেলের সুন্নতে খতনা করানো আমার দায়িত্ব। খতনা করানো ইসলাম ধর্মের একটা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এই সুন্নত পালনের জন্য যদি আমার জেল বা ফাঁস হয় হোক। কোন আপত্তি থাকবে না। আমি বললাম, কী হইছে? সিদ্দিক বলল, ওরে তো সুন্নতে খতনা করালাম। ওহ, মাই গড, আমি জানতে পারব না, ওরা আমার বাচ্চাকে নিয়ে যা খুশি করতে পারে না। সুন্নতে খতনা করায়ে দিল! এটা তো একটা ক্রাইম বলেও লেখেন তিনি। ফেসবুক হ্যান্ডেলে মারিয়া মিম আরও লিখেছেন, 'যেখানে কোর্ট অর্ডার বাচ্চা মর্নিংয়ে যাবে এবং ইভিনিংয়ে চলে আসবে, জাস্ট থাকবে কিছুক্ষণ। আর সেখানে সে এত বড় ডিসিশন নিয়ে নেবে উইদাউট মাই পারমিশন?' উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ মে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্পেনের নাগরিক মারিয়া মিমকে বিয়ে করেন সিদ্দিক। ২০১৩ সালের ২৫ জুন তারা পুত্রসন্তানের বাবা-মা হন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে সন্তান আরশ রহমান মা ও বাবার কাছে আদালতের নিয়মেই থাকছিল। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রামার (পঞ্চম গ্রেড) পদের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) ওয়েবসাইটে এ সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সিনিয়র প্রোগ্রামার পদে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রধান কার্যালয়, আগারগাঁও, ঢাকায় ওই দিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য নতুন করে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হবে না। লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হবে। প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পিএসসির ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। প্রার্থীদের কোভিড-১৯-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে পরীক্ষাকক্ষে ঢুকতে দেওয়া হবে না। | 1 |
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একজন যদি 'বাদশা' হন আরও একজন তবে 'বাবা'। দু'জনের জনপ্রিয়তা এবং অনুরাগীর সংখ্যা সর্বজনবিদিত। বুঝতেই পারছেন কথা হচ্ছে শাহরুখ খান এবং সঞ্জয় দত্ত-কে নিয়েই। এবার জানা গেল পর্দায় রীতিমতো জুটি বেঁধে হাজির হতে চলেছেন এই দুই তারকা। বোম্বে টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনও অতিথিশিল্পী হিসেবে নয় বরং নতুন এই ছবিতে প্রধান দুই ভূমিকাতেই থাকছেন শাহরুখ এবং 'সঞ্জু'। ছবির নাম আপাতত ঠিক হয়েছে 'রাখী'। খবর হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। এর আগে বড়পর্দায় এই দুই তারকাকে এক-আধবার একসঙ্গে দেখা গেলেও তা নেহাতই ছিল কয়েক মুহূর্তের জন্য। বলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন 'রাখী'-র ক্ষেত্রে এই ছবিটা আলাদা। গোটা ছবিজুড়েই থাকবেন এই দুই মহারথী। হিন্দি ছাড়াও একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে এই ছবি। এর আগে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া 'ওম শান্তি ওম' ছবিতে ' দিওয়াঙ্গি' গানে শাহরুখের সঙ্গে কয়েক মুহূর্তের জন্য পর্দায় হাজির হয়েছিলেন সঞ্জয়। এরপর ২০১১ সালে শাহরুখ প্রযোজিত ও অভিনীত 'রা ওয়ান' ছবিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে ফের একবার পর্দায় হাজির হয়েছিলেন 'বাবা'। সেই ছবিতে অবশ্য তাঁকে খলনায়কের ভূমিকাতেই দেখা গেছিল। তবে দু'জনের এত বছরের ফিল্মি কেরিয়ারে অন স্ক্রিনে অল্প সময়ের জন্য তাঁদের দেখা গেলেও এমনটা ভাবার মোটেও কোনও কারণ নেই যে 'রিয়েল লাইফ'-এ তাঁদের সম্পর্ক খারাপ। শাহরুখ-সঞ্জয় ঘনিষ্ঠ মাত্রই জানেন 'অফ স্ক্রিন' কী ভীষণ বন্ধুত্ব তাঁদের। এতটাই যে শাহরুখের প্রযোজিত 'রা ওয়ান' এবং 'ওম শান্তি ওম'-এ অভিনয় করার জন্য একটি টাকাও পারিশ্রমিক নেননি সঞ্জয়। শেষমেশ শাহরুখ অবশ্য জোর করে একটি বহুমূল্য স্পোর্টস বাইক উপহার দিলে সেটা আর না করেননি 'সঞ্জু'। এছাড়াও একাধিকবার বিভিন্ন ফিল্মি পার্টি ও অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গেছে এই দুই তারকাকে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও 'কিং খান' এর কথার ফাঁকে উঠে এসেছে সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর দুর্দান্ত বন্ধুত্বের কথা। তাই বলাই বাহুল্য 'রাখী'-র কথা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে গোটা বলিউড। দ্রকদের মধ্যেও ধীরে ধীরে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। জোর গুঞ্জন, ভায়াকম ১৮ সংস্থার প্রযোজনায় তৈরি হতে চলেছে এই ছবি। যদিও ওই ছবি নির্মাতা সংস্থা কিংবা শাহরুখ বা সঞ্জয়ের তরফে 'রাখী'-র ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য ভেসে আসেনি। এইমুহূর্তে শাহরুখ ব্যস্ত রয়েছে 'পাঠান' ছবির শুটিংয়ে। অন্যদিকে চলতি বছরের শেষদিকেই মুক্তি পাবে সঞ্জয় অভিনীত 'কেজিএফ ২'। | 2 |
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুডস লিমিটেডের কারখানা নির্মাণের সময় ভবন আইন মানা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান। অগ্নিকাণ্ড পরিদর্শনে গিয়ে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি এ কথা বলেন।জিল্লুর রহমান বলেন, কার্যক্রম শুরুর আগে হাশেম ফুডস ভবন সম্পর্কিত যে তথ্য দিয়েছিল, তার কোনোটিই মানা হয়নি। এ ধরনের একটি ভবনে কোনো কারখানা স্থাপন করতে কমপক্ষে চারটি সিঁড়ির প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সেটা দেখতে পাইনি।'ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উদ্ধারকাজ এখনো চলমান জানিয়ে পরিচালক হলেন, 'আমাদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তল্লাশি কার্যক্রম এখনো চলছে। আজ বিকেল নাগাদ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তারপর আগামীকাল থেকে আমরা তদন্ত কমিটির কাজ শুরু করে দেব।'আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জিল্লুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রতিটি ফ্লোরে কেমিক্যাল থাকার কারণে ভিন্ন ভিন্নভাবে আগুনের ভয়াবহতা সৃষ্টি হয়।জিল্লুর রহমান আরও বলেন, যে ৪৯টি মরদেহ পাওয়া গেছে, তা একটি ফ্লোর থেকেই পাওয়া গেছে। তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ কি না, তা তদন্ত করে জানা যাবে বলেও জানিয়েছেন এই পরিচালক।আরও পড়ুনসুরক্ষায় খরচ করতে চান না মালিকেরা৫২ জনের মৃত্যু: দম্ভ না দায় কোনটা নেব?মায়ের মৃত্যুর খবর কীভাবে মেয়েকে দেব?অগ্নিকাণ্ড থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না | 6 |
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) রাজশাহীর শাখাপ্রধান আব্দুল মোত্তালিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ রোববার (০২ জানুয়ারি) আইসিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন গাজী এক অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।আইসিবির সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সম্প্রতি অর্জিত ছুটি (ইএল) নিয়ে জেলে গিয়েছিলেন। দুর্নীতির মামলায় তিনি জেলে গেলেও বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। এ নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর আজকের পত্রিকায় 'অর্জিত ছুটি নিয়ে কারাগারে' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।ছুটি নিয়ে জেলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ২৬ ডিসেম্বর আব্দুল মোত্তালিব বলেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কোন অসুবিধা দেখলে পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থা নেবে। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে কথা বলার কিছু নেই। সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে কথা বলার জন্য রোববার রাতে ফোন করা হলে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।এরই মাঝে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপিটি পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি শুধু খোরাকি ভাতা পাবেন। আদেশে আব্দুল মোত্তালিবকে প্রধান আইসিবির কার্যালয়ের ডিসিপ্লিন, প্রিভেন্স ও আপিল বিভাগে অবিলম্বে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অর্জিত ছুটি নিয়ে কারাগারেসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কানোপাড়া সাজুরিয়া গ্রামের মৎস্যচাষি আব্দুল বারিক মণ্ডলের নামে ২০১১ সালে আইসিবি থেকে ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে নথিপত্র জাল করে প্রথম কিস্তির ২৭ লাখ টাকা তুলে নেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মঙ্গলপাড়া গোবিন্দপাড়া গ্রামের গোলাম মোর্শেদ হক। এ কাজে সহায়তার অভিযোগ ওঠে রাজশাহী শাখা প্রধান আব্দুল মোত্তালিব ও প্রধান কার্যালয়ের এজিএম আহম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বারিক। মামলাটি তদন্ত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম। তিনি ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পলাতক থাকেন মোত্তালিব। অবশেষে মামলার নির্ধারিত দিন গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি রাজশাহী বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। ২৮ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত তাঁকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন।আব্দুল মোত্তালিব যেদিন কারাগারে যান, সেদিনও তিনি হাজিরা খাতায় সই করেছেন। দিনটি ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। আব্দুল মোত্তালিব রোববার অর্থাৎ ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ দিনের অর্জিত ছুটির আবেদন দেন। ১৪ সেপ্টেম্বর এ আবেদন দেন তিনি। ছুটির আবেদনে পৈতৃক জমিজমা ভাগ-বাঁটোয়ারা, খাজনা পরিশোধ এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ পারিবারিক কাজে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।গ্রামে না গিয়ে তিনি আদালতের মাধ্যমে গিয়েছিলে কারাগারে। মোত্তালিব যেদিন জেলে যান, সেদিন থেকেই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি দিব্যি অফিস করছিলেন। জেলে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানতেও দেননি। | 6 |
উইকেট স্পিনবান্ধব। রান তুলতে হলে ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যের পরীক্ষা দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আফগান ব্যাটসম্যানরা তাদের ১ম ইনিংসের শুরুটা করেন বেশ সতর্কতার সঙ্গেই। তবে যতই সাবধানী শুরু করুক না কেন, তাইজুল যেন শুরুতেই দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেয়ার পণ করেই মাঠে নেমেছিলেন বৃহস্পতিবার। ম্যাচের ত্রয়োদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে আফগান ওপেনার ইনসানউল্লাহ জানাতকে বোল্ড করেন তাইজুল। আর আউট করেই মেতে উঠেন উল্লাসে। উইকেটটি পাওয়ার পর যেন অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় একটু বেশিই উল্লাস করেছেন তিনি। সেটাই তো স্বাভাবিক। কারণ ইনসানউল্লাহ জানাতের উইকেট শিকারের মধ্য দিয়েই যে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। টাইগার বোলারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে কম ম্যাচে শততম উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্য নিয়েই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলতে নামেন তাইজুল ইসলাম। মাইলফলক ছোঁয়ার রেকর্ডটা সহজ। প্রয়োজন ছিল মাত্র একটি উইকেট। আর দিনের শুরুতেই ইনসানউল্লাহকে বোল্ড করে কাক্সিক্ষত সেই ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন বাঁ-হাতি এই টাইগার স্পিনার। সে সঙ্গে দ্রুততম সময়ে শততম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা বাংলাদেশি বোলারের রেকর্ডটিও নিজের করে নিলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তাইজুল পেছনে ফেলেছেন বিশ্বসেরা টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। ১০০ উইকেটে পেতে সাকিবকে খেলতে হয়েছিল ২৮টি ম্যাচ। আর তাইজুল ক্যারিয়ারের ২৫তম ম্যাচেই ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন। তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টে ১০০ উইকেট পেলেন তিনি। তাইজুলের আগে এই কীর্তি গড়েছেন সাকিব ও মোহাম্মদ রফিক। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম ১০০ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব মোহাম্মদ রফিকের। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করে উইকেট শিকারের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন কিংবদন্তি এই স্পিনার। রফিক তার টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেন ৩৩ ম্যাচে ১০০ উইকেট নিয়ে। এদিকে উইকেট শিকারের দিক দিয়ে বৃহস্পতিবারই রফিককে পেছনে ফেলেছেন তাইজুল। বৃহস্পতিবার ম্যাচের প্রথম দিনে ৫ উইকেটে ২৭১ রান তুলে রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান। এদিন ইনসানউল্লাহ জানাতের পর আরেক আফগান ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানের উইকেটও শিকার করেন তাইজুল। যা তার ক্যারিয়ারের ১০১তম উইকেট। টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি টাইগার বোলারদের তালিকায় এখন শীর্ষে আছেন সাকিব। ৫৬ টেস্টে তার উইকেট ২০৫টি। আর রফিককে টপকে বৃহস্পতিবার তালিকার দ্বিতীয় স্থানটি দখল করেছেন তাইজুল ইসলাম। বিশ্ব ক্রিকেটে দ্রুততম ১০০ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি ইংল্যান্ডের জর্জ লোম্যানের দখলে। মাত্র ১৬ টেস্টেই শততম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই ইংলিশ পেসার। তিনি এই রেকর্ড গড়েন ১৮৯৬ সালে। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার চার্লি টার্নার। ১০০ উইকেট পেতে তাকে খেলতে হয়েছিল মাত্র ১৭টি টেস্ট। | 12 |
বরগুনার আমতলী ও তালতলীর ১২ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় বর্তমানে তা একটি ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ২ লাখ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া গত এক বছর ধরে সড়কে ভারী যানবাহন ও পরিবহন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে তালতলী উপজেলা শহরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে এ সড়ক নির্মাণ করা উদ্যোগ নেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। এটি মানিকঝুড়ি থেকে সোনাকাটা পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়ক। ওই বছর মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৩ সালে কচুপাত্রা থেকে সোনাকাটা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক হেরিনবন করা হয়। পরে ২০০৮ সালে ওই সড়কটি পাকাকরণ করা হয়। ভেঙে যাওয়ায় পুনরায় ২০১৬ সালে ওই সড়কটি সংস্কার করা হয়।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা বীজ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের প্রতি ১০ মিটার পরপর বড় বড় খানাখন্দ রয়েছে। গর্তে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন এক ছোট পুকুর। অনেক স্থানে ছোট গাড়ি আটকে যাচ্ছে। এতে প্রায়ই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।স্থানীয়রা জানান, সড়ক সংস্কারে ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করেছেন। এতে সড়ক সংস্কারের তিন বছরের মাথায় ওই সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হয়। এদিকে মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সড়কটি ২০১৯ সালে সংস্কার করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। সড়ক সংস্কারের এক বছরের মাথায় ১২ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে ডোবায় পরিণত হয়। বর্তমানে সড়কটি বেহাল দশায় পড়ে আছে। বৃষ্টি এলেই সড়কের খানাখন্দ পানি জমে ছোট পুকুরে পরিণত হয়। ওই সড়ক দিয়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ, ঢাকা ও তালতলীগামী পরিবহন বাস, তালতলী আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কাভার ভ্যান, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাহেন্দ্র, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সহস্রাধিক গাড়ি চলাচল করে। বর্তমানে ওই সড়ক দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে উপজেলাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেহাল সড়কের কারণে গত এক বছর ধরে পরিবহন গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, গত দুই বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কেউ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। দ্রুত সড়ক সংস্কার করে চলাচলের পথ সুগম করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মাহবুবুর বহমান জাফর বিশ্বাস বলেন, দুই বছর ধরে সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পরেছে দুই উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ। মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সড়কে হাজারো খানাখন্দ। দ্রুত সড়ক সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের পথ সুগম করার দাবি জানান তিনি।তারিকাটা গ্রামের বাসচালক মিজানুর রহমান ও মজিবুর রহমান বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে গত এক বছর ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।তালতলী উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম পাটোয়ারি বলেন, সড়কে নয় এ যেন এক ছোট পুকুর। ১২ কিলোমিটার সড়কে অন্তত ৫০টি স্থানে ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে। অভিভাবকহীন এ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাই।আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সড়ক সংস্কারের জন্য বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রকল্প জমা দিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এসকে আরিফুল ইসলাম বলেন, সড়কের প্রাক্কলন তৈরি করে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে। | 6 |
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে নগরীতে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। যানজটে দীর্ঘ সময় রাস্তায় বসে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। একদিকে তীব্র যানজট আরেকদিকে অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন প্রয়োজনে রাস্তায় বের হওয়া মানুষেরা।আজ রোববার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে এ অবস্থা দেখা গেছে। ফার্মগেট থেকে মহাখালী, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরগামী পরিবহনগুলোকে বিমানবন্দর এলাকায় যানজটে আটকে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। এ ছাড়া রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, কুড়িলসহ আশপাশের এলাকার সড়কগুলোতেও ছিল যানজট।জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সমাবেশ থাকায় এ এলাকাতেও তীব্র যানজট দেখা গেছে। প্রেসক্লাব থেকে পল্টন হয়ে ফকিরাপুল পর্যন্ত একদম রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। একইভাবে পল্টন থেকে জিপিও মোড় হয়ে মতিঝিল এবং আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন সড়কেও সৃষ্টি হয়েছে যানজট।বাস চালকেরা জানান, এই সড়কগুলোতে যানজট এমনিতেও থাকে। তবে আজকে বিএনপির সমাবেশের কারণে জট একটু বেশি।ইউলুপ-ইউটার্নে কী লাভ হয়েছে ঢাকারসুপ্রিম কোর্টের সামনে বাস চালক রবিউল জানান, এক ঘণ্টারও বেশি সময় এক জায়গায় আটকে আছি। প্রেসক্লাবে সমাবেশের কারণে গাড়িগুলো বামে যাইতে পারছে না। তাই নিরুপায় হয়ে এখানে বসে আছি।এদিকে তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষেরাও। বেসরকারি চাকরি করেন হুমাইরা আক্তার। শাহবাগ থেকে এসেছেন বনানী। তিনি জানান, সকালে ৯টায় গাড়িতে উঠেছেন, যানজটের কবলে গাড়ির গতি কমেছে। ফলে অফিসে প্রায় ১ ঘণ্টা দেরিতে আসতে হয়েছে। দুই ঘণ্টা বাসে বসে থাকার পরে দশটার দিকে সে তার অফিসে পৌঁছেছে।যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসীর অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। তেজগাঁও এলাকার মো. আজিজ নামে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী জানান, কয়েক দিন ধরে রাস্তায় যানজট বাড়ছে। সে জন্য অফিসে যেতে দেরি হচ্ছে। আজও রাস্তায় প্রচন্ড যানজট। গাড়ি চলেই না। তাই অনেকটা পথ হেঁটেই অফিসে যেতে হচ্ছে।যানজট নিরসনে ৫ সিদ্ধান্তযানজটের কারণ জানতে চাইলে পল্টন মোড়ে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট কাওসার টিটু আজকের পত্রিকা'কে বলেন, 'ঢাকায় ত এমনিতেই প্রচুর যানজট থাকে। তার ওপর বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সভা সমাবেশের কারণে তা আরও বাড়ছে।' | 6 |
আইপিডিসি ফিন্যান্স লিমিটেড লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস বিভাগে লোকবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। পদের নাম এক্সিকিউটিভ (ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস)। পূর্ণকালীন এ পদের কর্মস্থল রাজধানী ঢাকা। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যাংক ও ইজারা-সংক্রান্ত ধারণা থাকতে হবে। ডাটা বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। মাল্টিটাস্কিং ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য এখানে ক্লিক করুন। বেতন নির্ধারণ হবে আলোচনা সাপেক্ষে। কোম্পানির নীতিমালা অনুসারে অন্যান্য সুবিধাও পাবেন কেউ এক্সিকিউটিভ (ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস) পদে চাকরি পেলে। | 1 |
ইউডি পিনেডা। কলম্বিয়া তোলপাড় ২৮ বছরের এই নারীকে নিয়ে। ১৩ জানুয়ারি মুক্তি পাবে তার প্রথম পর্নছবি। পিনেডার ভাষায়, 'আর্টিস্টিক পর্নফিল্ম'। কিন্তু এই পিনেডার অতীত কিন্তু একেবারেই অন্যরকম। সেই ইতিহাসের পাতাগুলোতেই চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। দশ বছর বয়সেই তিনি কনভেন্ট স্কুলে পাড়ি দিয়েছিলেন সন্ন্যাসিনী হবেন বলে। ইউডির কথায়, ''কনভেন্ট স্কুলে জীবনটা খুব আনন্দের সঙ্গেই কাটাচ্ছিলাম।'' জীবন যখন আনন্দেই কাটছিল, তখন আবার আট বছর কনভেন্ট স্কুলে থাকার পর মত পরিবর্তন কেন? কলম্বিয়ার শহর মেডেল্লিনে চলে আসেন তিনি। 'নেসলে' কোম্পানিতে চাকরিও জোগাড় করে ফেলেন। কিন্তু ইউডির মন বলছিল এক, আর তিনি দিনের পর দিন করে যাচ্ছিলেন অন্যকিছু। এক দিকে প্রেম। আর এক দিকে চাকরি জীবন। সব মিলিয়ে টালমাটাল জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে যাচ্ছিলেন ইউডি। হঠাৎই খবর পান জুয়ান বুস্টোস নামের এক ভদ্রলোক মডেলের খোঁজ করছেন নিজের অ্যাডাল্ট ওয়েব পোর্টালের জন্য। খবর পাওয়া মাত্রই, জুয়ান বুস্টোসের দলে নাম লিখিয়ে নেন ইউডি। ইউডির কথায়, ''আমি বেশ কিছু অডিশন দিয়েছিলাম। তার পর জুয়ান বুস্টোসের নজরে আসি। অডিশন শেষ হওয়া মাত্র উনি আমাকে ফাইনাল করেন।'' কিন্তু কোথায় সন্ন্যাসিনী হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন, সেখান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে পর্নস্টার? পরিষ্কার ভাবে ইউডি বললেন, ''প্রথম প্রথম একটু খারাপ লাগছিল। কিন্তু এখন বেশ ভালই লাগছে। যখন চার্চে যাই তখনও আমার খুব ভাল লাগে। '' তবে এমনতর জীবিকা বদলের ইচ্ছে ইউডির মুখ থেকে শুনে রেগে গিয়েছিলেন তার কনভেন্ট স্কুলের শিক্ষিকারাও। ইউডির কথা অনুযায়ী, বহু বাধার দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কারও কোনো বারণ শোনেননি অভিনেত্রী। নবাগতা এই পর্নস্টার তার নতুন এই ক্যারিয়ারকে বলছেন, 'শালীন এবং শৈল্পিক।' আর বললেন, 'পর্ন ছবিতে অভিনয় করার মধ্যে আমি খারাপ কিছুই দেখি না।' কনভেন্ট স্কুলের গণ্ডির মধ্যে বেড়ে ওঠা। তাই ইউডির প্রথম ছবির থিম ওই কনভেন্ট নিয়েই। আর ছবিটির প্রযোজনা এবং পরিবেশনা করবেন 'ব্যাংব্রোস'। বিডি-প্রতিদিন/ আব্দুল্লাহ তাফসীর | 5 |
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) খালেদা জিয়া ছাত্রী হলের গ্রিল কেটে ও অন্তত ৯টি কক্ষের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় এ চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। চুরির ঘটনা কবে ঘটেছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি হল কর্তৃপক্ষ। রবিবার সকালে খালেদা জিয়া ছাত্রী হলের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন ও ইবি থানা পুলিশ। চুরি হওয়া কক্ষের কয়েক জন আবাসিক ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের রুমে সনদ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ফ্যান, জামা-কাপড়, ট্রাঙ্ক, বই, রাইসকুকারসহ রান্নার আসবাবপত্র ছিল। তবে হলে না থাকায় ঠিক কি কি চুরি হয়েছে তা সঠিক ভবে বলতে পারেননি তারা। এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল বলেন, তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে কী হারিয়েছে তা মেয়েদের সঙ্গে কথা না বললে বোঝা যাচ্ছে না। হল কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 1 |
সিলেট নগরীর শিবগঞ্জে নিজ দলের ক্যাডারদের ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগকর্মী জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম (২২) খুনের ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কোন মামলাও দায়ের করা হয়নি। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, মাসুম খুনের ঘটনায় থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন | 6 |
সমাধান ছাড়াই শেষ হলো রুশ-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা। সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় এ বৈঠক শুরু হয়েছিলো।খবর বিবিসির বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দ্বিতীয়বার আলোচনায় বসার জন্য দুই পক্ষই এখন পরামর্শ করতে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে। কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষ ফের বৈঠকে বসতে পারে। আজকের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বেলারুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির মাকেই। বৈঠকে তিনি দুই দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, 'আপনারা পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করতে পারেন।' এ বৈঠকের আগে শান্তি আলোচনা নিয়ে কেউই খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে অথবা রাশিয়া তাদের আক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর আগে গণমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, দুটি প্রধান দাবি নিয়ে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। সেই দাবি দুটি হলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার সব সেনা প্রত্যাহার। তবে ইউক্রেনের এ দাবিগুলোর বিষয়ে রাশিয়ার সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। এদিকে আজ পঞ্চম দিনের মতো কিয়েভ ছাড়াও ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলা ও রকেট হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এর মধ্যে রাশিয়ার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর বেলারুশের গোমেল-এ আলোচনায় বসেন দুই দেশের নেতারা। বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসি রেজনিকোভ ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিকোলা তোচিৎসকি অংশ নেন। অন্যদিকে রাশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেকসান্দার ফোমিন এবং বেলারুশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বোরিস গ্রিজলোভ উপস্থিত ছিলেন। তাদের আলোচনা চলার মধ্যেই খারকিভে রাশিয়ার রকেট হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। | 3 |
রাজধানীর একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাবরিনা মল্লিকা স্পৃহা। বিভিন্ন ছুটিতে তার ক্লাসের বন্ধুরা যখন পরিবারের সঙ্গে শহরের বাইরে বেড়াতে যায়, সে তখন যায় বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে। কারণ, মা-বাবার বিচ্ছেদের পর মায়ের কাছে থাকছে সে, আর ষোলো বছরের বড় ভাই থাকছে বাবার সঙ্গে। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর স্মৃতিটাও ভুলতে বসেছে স্পৃহা।স্পৃহার মা তামান্না বিভা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আজকের পত্রিকাকে এই নারী জানান, তিন বছর আগে তাঁদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। সদা হাস্যোজ্জ্বল স্পৃহার মধ্যে এর পর থেকেই খিটখিটে স্বভাব লক্ষ্য করছেন তিনি। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী আর বন্ধুদের বিভিন্ন প্রশ্ন এড়াতে বিকেলে খেলতেও বের হয় না সে। পরীক্ষার ফলও খারাপ হতে শুরু করেছে।মা-বাবা আর দাদা-দাদির সঙ্গে যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠেছে রাহেল আমীন। এখন সে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। বছর দুয়েক আগে দাদা-দাদির বাড়ি ছেড়ে আলাদা বাসায় থাকতে শুরু করেন রাহেলের মা-বাবা। এর পর থেকেই মনমরা হয়ে থাকছে সে। রাহেলের বাবা তাশরিক আমীন জানান, 'ও একেবারেই একা হয়ে পড়েছে। এটা আমরা বুঝি। কিন্তু বাস্তবতাও তো ভাবতে হবে।'সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার হচ্ছে। বিয়েবিচ্ছেদের কারণে একক পরিবারও ভেঙে যাচ্ছে। পরিবারব্যবস্থায় এই ভাঙনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিশুর মনোজগতে। পারিবারিক ভাঙনের কারণে স্পৃহা, রাহেলের মতো হাজারো শিশু তাদের স্বাভাবিক শৈশব হারাচ্ছে।এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজির অধ্যাপক মেহজাবীন হক জানান, পরিবারে ভাঙনের কারণে শিশুদের মাঝে দুঃখবোধ, মনমরা ভাব, হারানোর অনুভূতি কাজ করে। সেই সঙ্গে তাদের ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে দেখা যায়। তারা নিজেদের পরিত্যক্ত ও অবাঞ্ছিত ভাবে।সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২০-এর চেয়ে ২০২১ সালে বিচ্ছেদের পরিমাণ বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি।ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০১৯ সালে তালাকের আবেদন জমা পড়েছিল ৬ হাজার ১৪৪টি। পরের বছর এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ১৬৮-তে। আর গত বছর সেটা ৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়। দক্ষিণ সিটিতেও ২০২১ সালে বিচ্ছেদ আবেদনের পরিমাণ ছিল ৭ হাজারের বেশি।শুধু ঢাকাতে নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশেই বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ২০২১ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ সালে বিচ্ছেদের হার নারীদের মধ্যে ছিল প্রতি এক হাজারের মধ্যে ১ দশমিক ৬ জন। ২০২০ সালে এসে সেটা ২ দশমিক ৭-এ পৌঁছেছে।পরিবারব্যবস্থার এমন ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ১৫ মে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য 'পরিবার এবং নগরায়ণ'। ১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। পরিবারের সব সদস্যের একসঙ্গে জীবন কাটানোকে উৎসাহিত করতে জাতিসংঘ এ উদ্যোগ নেয়।মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নগরায়ণের ফলে পরিবারগুলো ভাঙছে। নারীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, পরকীয়া এবং আত্মনির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বিয়েবিচ্ছেদ বাড়ছে।মানবাধিকারকর্মী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সিনিয়র আইনজীবী দীপ্তি সিকদার বলেন, 'পারিবারিক নির্যাতন আর বিয়েবিচ্ছেদ দুটো একই সূত্রে গাঁথা। করোনাকালে আমরা দেখেছি, পারিবারিক নির্যাতন অনেক বেড়েছে। এ সময় বিচ্ছেদও কিন্তু অনেকটাই বেড়েছে। আমাদের নানি-দাদি বা মা-খালাদের সময়ে মেয়েরা যতটা মানসিক কিংবা শারীরিক নির্যাতন সহ্য করে সংসার চালিয়ে গেছে, স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান অবস্থায় একজন আত্মনির্ভরশীল মেয়ে সেটা সহ্য করবে না। পর্নোগ্রাফি সহজলভ্য হওয়াও বিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়ার আরেকটা কারণ।'সমাজবিজ্ঞানীর দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারের ভাঙনের কারণ ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিপ্রা সরকার বলেন, 'বিশ্বায়ন, নগরায়ণ ও আধুনিকায়নের প্রভাব আমাদের সামাজিক এবং পারিবারিক জীবনেও পড়ছে। যার ফলে আমাদের যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে অণু পরিবার হচ্ছে। অণু পরিবারে বড় হওয়া শিশুরা একটা গণ্ডিবদ্ধ জীবনে অভ্যস্ত হয়। এই শিশুরাই আবার যখন মা-বাবার বিচ্ছেদ দেখে, তখন তারা আরও বেশি নিজেদের গুটিয়ে নেয়। পরিবার সম্পর্কে তাদের মধ্যে একটা নেতিবাচক ধারণা জন্মায়।'বিচ্ছেদের কারণ যেটাই হোক না কেন, এর নেতিবাচক প্রভাব শিশুদের ওপরই পড়ছে সবচেয়ে বেশি। এ জন্য ভাঙনের প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে মা-বাবাসহ পরিবারের সব সদস্যকে নমনীয় হওয়ার কথা বলছেন শিশু অধিকারকর্মী এবং মনোবিদেরা।বেসরকারি সংগঠন 'শিশুরাই সব'-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার এ বিষয়ে বলেন, মা-বাবার সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা প্রত্যেক সন্তানের জন্যই মঙ্গলজনক। কিন্তু এটা নিশ্চিত করা না গেলে এবং বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে উঠলে সন্তানকে বিচ্ছেদের ব্যাপারটি যতটা সম্ভব বুঝিয়ে বলা দরকার। বিচ্ছেদ নিয়ে তাদের অনুভূতিটাও প্রকাশ করতে দেওয়া দরকার। | 6 |
সুন্দরবনের একটি অজগর সাপ বাগেরহাটের মোংলায়একটি বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার করেছেবন বিভাগের সদস্যরা। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোরাবুরবুড়িয়া গ্রামের বিধান হালদারের বাড়িতে হাঁসের খোপ থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। অজগরটি ৬ কেজি ওজনের। লম্বায় ৮ ফুট। সাপটিকে উদ্ধার করার আগেই ৫টি হাঁস খেয়ে ফেলেছে। দুপুরে সুন্দরবনের কাটাখালী ফাঁড়ি সংলগ্ন বনে অজগর সাপটি অবমুক্ত করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
রাতের আঁধারে চারদিকে সুনসান। সড়কে যানবাহন নেই। দোকানপাটে তালা ঝুলিয়ে দোকানিরা বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে গভীর রাতেও জমে উঠেছে একটি বাজার! ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম কেনাবেচা। রাতে রংপুর শহরের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকায় গেলেই মধ্যরাতের এই বাজারের দেখা মেলে। রাত ১০টার দিবে সুপার মার্কেটের পাশে ট্রাফিক মোড়ে সবজির পসরা সাজান ব্যবসায়ীরা। কৈলাশরঞ্জন স্কুলের মোড় পর্যন্ত সবজির দোকান চলে যায়। রাত ১টা পর্যন্ত এ বাজারে কেনাবেচা চলে। বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা প্রায় সবাই আশপাশের বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দা। মূলত কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতেই মানুষ এখানে বাজার করতে আসেন। আবার অনেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এখান থেকে বাজার করে নিয়ে যান। এ বাজারের নিয়মিত ক্রেতা মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, এখানে প্রকারভেদে সবজি গড়ে পাঁচ টাকা কম মূল্যে পাওয়া যায়। আলু, করলাসহ ছয় ধরনের সবজি কিনলে সব মিলিয়ে ৩০ টাকা কম পড়ে। ওই টাকা দিয়ে খোলাবাজার থেকে এক কেজি আটা কেনা যায়। শহরের মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা সোনা মিয়া নবাবগঞ্জ বাজারে একটি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। সারাদিন দোকানে কাজ করার কারণে দিনের বেলা বাজার করা সম্ভব হয় না। তাই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় রাতে এখান থেকে বাজার করেন তিনি। সোনা মিয়া বলেন, 'রাতের এ বাজারে কোনো ঠকবাজি হয় না। দামও কম। সবজিও টাটকা পাওয়া যায়।' গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন পেশার মানুষ এখান থেকে সবজি কিনছেন। অনেকেই সড়কের পাশে বাজার দেখে যাত্রা থামিয়ে কেনাকাটা করছেন। বিক্রেতারা জানান, পবিত্র রমজান মাসে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া যায় বলে এখানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। প্রায় ১২ বছর ধরে এ বাজারে সবজি বিক্রি করছেন সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের পালিচড়া এলাকার আজহারুল ইসরাম। তিনি বলেন, 'গৃহস্তের জমি থাকি টাটকা শাক তুলে এনে দিনোত দিনোত পাড়ামহল্লায় ঘুরে বেড়াই। আর আর রাইতোত এই রাস্তার পাশোত আসিয়া শাক বিক্রি করছি। প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা বিক্রি হয়।' আশরাফুল ইসলাম নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, 'সিটি বাজারোত ব্যবসা করার মতো হামার পুঁজি নাই। আর তাই এটে বসা। এটে বসি ব্যবসা করতে কোনো টোলও দেওয়া লাগে না, যা মাল আনি, তা শেষ হয়া যায়।' বিক্রেতারা জানান, রংপুর শহরের আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে চাষিদের উৎপাদিত সবজি তাঁরা সংগ্রহ করে এনে এ বাজারে বিক্রি করেন। পাশাপাশি নগরের সিটি বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও তাঁরা সবজি কিনে এখানে বিক্রি করেন। নগরের সিটি বাজারের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, রাতের এ বাজারে প্রকারভেদে সবজি গড়ে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। লাল ও পুঁইশাকের আঁটি সিটি বাজারের তুলনায় থেকে ৫ টাকা কমে ১৫ টাকা, ৬০ টাকার বেগুন ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা, ২০ টাকার একফালি মিষ্টিকুমড়া ১০ টাকায়, ৮০ টাকার সজনে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। | 6 |
গ্রামীণ কাঁচা সড়ক। ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কের দুই প্রান্তে দুটি ব্রিজ ও একটি স্লুইচগেট। নির্মাণের পর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এলাকাবাসী স্বস্তির নিশ্বাস নিলেও ২০১৭ সালের বন্যায় তা ভোগান্তিতে রূপ নেয়। একটি ব্রিজসহ স্লুইচগেট উল্টে যায়। আর সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে আরও একটি ব্রিজ। সেই থেকে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে দুই ইউনিয়নের লাখো মানুষ।কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোঘলবাসা ইউনিয়নের চরসিতাইঝাড়-নয়ারহাট সড়কে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় এই সড়কে দুটি সেতু নির্মাণের পর স্থানীয় লোকজন এক সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারেনি। সংস্কারের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এমনকি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে পরিদর্শন করা হলেও পাঁচ বছরেও জনভোগান্তি দূর হয়নি।সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোঘলবাসা ইউনিয়নের চরসিতাইঝাড় মৌজায় কোবেদের বাড়ির পূর্ব পাশে ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ ব্যয় পরিশোধ করে অধিদপ্তর। একই সড়কের পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের আরও একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও সেটির চূড়ান্ত বিল পরিশোধের পূর্বেই বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটি ভেঙে যায় এবং পশ্চিম প্রান্তের ব্রিজের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে পুরো সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অধিদপ্তর থেকে পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেলেও পরে সড়ক ও ব্রিজ সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেই থেকে যোগাযোগ বিড়ম্বনায় ওই এলাকার লাখো মানুষ। চর সিতাইঝাড় গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর জানান, ব্রিজ নির্মাণের পর কোনো সুবিধাই নিতে পারেনি স্থানীয় জনগণ। ব্রিজের সংযোগ সড়ক না থাকায় বন্যার সময় তো বটেই, শুকনো মৌসুমেও তারা ওই সড়কে চলাচল করতে পারে না। স্বাভাবিক যাতায়াতসহ পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয় লোকজন।আবু বকর বলেন, 'এমন ব্রিজ বানাইছে যে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হইছে। বানের পানিত রাস্তাও ভাঙছে, ব্রিজও ভাঙি আছে। দুই পাকে ব্রিজ ভাঙি আছে আর মাঝের সড়ক ভালো। হামার কষ্ট কাইয়ো দেখেও না, বোঝেও না।'ব্রিজের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত চর কৃষ্ণপুরের বল্টুর মোড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, চর সিতাইঝাড় মৌজার ওই সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষায় নদীতে পানি থাকলে নৌপথে পণ্য পরিবহন করতে পারলেও শুকনো মৌসুমে চলাচলে বিড়ম্বনা বেড়ে যায়। এতে করে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে পণ্যমূল্যের ওপর এর প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া চরাঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য পরিবহনে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাত্রাপুর কিংবা পাঁচগাছী হয়ে শহরে যেতে হয়। এতে ভোগান্তি ও খরচ আরও বেড়ে যায়।মোঘলবাসা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী জানান, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নসহ মোঘলবাসা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে শহরে যাতায়াতে দূরত্ব কম হয়। কিন্তু সড়কের দুই প্রান্তে দুটি ব্রিজ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ায় বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যাতায়াতে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।আইয়ুব আলী বলেন, 'ব্রিজ দুটি নির্মাণের পর সাত দিনও ওই সড়কে মানুষ যাতায়াত করতে পারেনি। এর মধ্যে ২০১৭ সালের বন্যায় ব্রিজসহ সড়ক ভেঙে যায়। লাখো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হলেও সড়কটি সংস্কারে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।'যোগাযোগ করা হলে সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান ওই এলাকার জনভোগান্তির কথা স্বীকার করে জানান, সে সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনগণের চলাচলের সুবিধার কথা চিন্তা করে ওই সড়কে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও বন্যার পানির কারণে তা ভেস্তে যায়। বন্যাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় পরে আর সেগুলো মেরামত করা হয়নি। ফলে জনগণ ভোগান্তিতে রয়েছে।মো. ফিজানুর রহমান বলেন 'কয়েক বছর ধরে স্থানীয়রা ভোগান্তি সহ্য করলেও নানা কারণে আমরা সড়কটি মেরামত করতে পারিনি। চলতি বছর টিআর-কাবিখা প্রকল্প থেকে সড়কটি সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।'এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'ভেঙে যাওয়া ব্রিজটির স্থলে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণসহ সড়কটি জনগণের চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেব।'সড়কটি ব্যবহারের উপযোগী করার ব্যাপারে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে তা জানতে চাইলে সদর উপজেলার নবনিযুক্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেদুল হাসান বলেন, 'আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আপনার কাছেই প্রথম জানলাম। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে প্রকল্পের সংস্থান সাপেক্ষে আমরা সংস্কারের উদ্যোগ নেব।' | 6 |
ঈদের ছুটি শেষে আবারও রাজধানীতে ফিরছেন মানুষজন। তাই বগুড়ার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার যান। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের মহাস্থান ও মোকামতলা বাসস্ট্যান্ডে রয়েছে ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। অনেকে আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের টিকিট পাচ্ছেন না।শিবগঞ্জের রহবল এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত যুবক সোহেল রানা হিরু বলেন, দুই ঘণ্টা যাবৎ শ্যামলী, এনা, এস আর পরিবহনসহ বিভিন্ন কাউন্টারে ঘুরছি। ৫০০ টাকার ভাড়া কেউ চাচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকা আবার কেউ চাচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা।একই উপজেলার আব্দুর রহিম পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে ফিরছেন ঢাকায়। কিন্তু মানসম্মত বাস পাচ্ছেন না তিনি। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের ভালো গাড়ি যেমন হানিফ, শ্যামলী এসআর ইত্যাদির কাউন্টারে গেলে সেখানকার লোক বললেন আজকের টিকিট নেই। আবার একটু পরে অন্য একজন এক সিটের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ টাকা চাচ্ছেন।বাসস্ট্যান্ডে হাতে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আপেল মাহমুদ নামে এক যুবক বলেন, নিম্নমানের কিছু বাসে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা প্রতি সিটের ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। সেই বাসে গেলে তো নিরাপত্তা নাই। কোথায় নেমে দেবে কে জানে? শুধু তাই নয়, যে যেভাবে খুশি কয়েক গুন বেশি দাম চেয়ে বসছেন।কাউন্টার কর্তৃপক্ষ বলছেন, যাত্রীর চাপ বেশি হওয়ায় টিকিট পেতে প্রতিযোগিতা চলছে। তাই যাত্রীরাই বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকিট নিচ্ছে।শ্যামলী কাউন্টারের অনন্ত নামে এক ব্যক্তি বলেন, বাড়তি ভাড়া যাত্রীরাই দিতে চাচ্ছেন। আমরা জোর করে নিচ্ছি না। | 6 |
ঢাকা: নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ 'মানি হেইস্ট'-এর পঞ্চম এবং শেষ সিজনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন ভক্তরা। প্রোডাকশনের কাজ শেষের পথে। 'মানি হেইস্ট'-এ জনপ্রিয় 'প্রফেসর' চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলভারো মর্তে। আলোচিত এই চরিত্রটিকে এবার বিদায় জানালেন অভিনেতা।ইনস্টাগ্রামে আলভারো মর্তে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তাকে গাড়িতে বসে থাকতে দেখা গেছে। 'মানি হেইস্ট'-এর শুটিং সেটকে চূড়ান্ত বিদায় জানিয়ে ফেরার পথে করা সেই ভিডিওতে অভিনেতা কিছু না বললেও তার অভিব্যক্তি এবং ফিরে তাকানোই বলে দিয়েছে সব কিছু।ক্যাপশনে অভিনেতা লিখেছেন, 'শেষবারের মতো সেট ছাড়ছি, কোনো শব্দের প্রয়োজন নেই। এত কিছু এবং সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ। ভক্তদেরকে, পুরো টিমকে, নেটফ্লিক্স এবং প্রফেসরের সঙ্গে কাটানো ভাল সময়গুলোকে মিস করবো।'আলভারো মর্তের এই পোস্ট ভরে গেছে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায়। 'মানি হেইস্ট'র অন্য তারকারাও জানিয়েছেন তাঁদের অনুভূতির কথা। 'মানি হেইস্ট'-এর চতুর্থ সিজন এসেছিল গত বছরের এপ্রিলে। তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে চতুর্থ সিজনটি।'মানি হেইস্ট' গ্যাংটির ভাগ্যে কী আছে, তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু করেছে ভক্তরা। 'বিশেষ করে চতুর্থ সিজনে ক্লিফ হ্যাঙ্গার প্রফেসরের আস্তানাটি পুলিশ চিনিয়ে দেয়ার পর কী হবে তা জানতে উদগ্রীব হয়ে আছে ভক্তরা।আলভারো মর্তে আভাস দিয়েছেন, 'প্রফেসর' চরিত্রটি হয়তো আবার তার আগের জীবনের একাকীত্বে ফিরে যাবেন। তবে আগেই কিছু নিশ্চিতভাবে অনুমান করা যাচ্ছে না। পঞ্চম সিজন মুক্তি পেলেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। | 2 |
রাশিয়ার নির্মাণ, গৃহায়ণ ও ইউটিলিটি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছে। ওয়েবসাইটটি হ্যাক করা পর সেটিতে ইউক্রেনীয় ভাষায় "গ্লোরি টু ইউক্রেন" সাইটটি ইন্টারনেটে সার্চ করার জন্য একটি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'রিয়া' রবিবার গভীর রাতে মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, সাইটটি ডাউন হয়ে গিয়েছিল। তবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সব ডেটা সুরক্ষিত রয়েছে। রিয়া জানিয়েছে, অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হয়েছে যে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীদের ডেটা জনসম্মুখে প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে যে, রিয়া অন্যান্য গণমাধ্যম বলতে কোন মিডিয়া আউটলেটগুলোর প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে তা রয়টার্সের পক্ষে স্বাধীনভাবে জানা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে তাঁরা মারা যান। হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতদের মধ্যে দুজনের বাড়ি রাজশাহী এবং একজনের বাড়ি নওগাঁয়। রাজশাহীর দুজন করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন। তাঁদের নমুনা পরীক্ষা হয়নি। নওগাঁর রোগী মারা গেছেন করোনা পজিটিভ অবস্থায়। মৃত তিনজনই ছিলেন পুরুষ।শুক্রবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন পাঁচজন রোগী ভর্তি হয়েছেন করোনা ইউনিটে। আর ছাড়পত্র পেয়েছেন চারজন। শুক্রবার সকালে মোট রোগী ছিলেন ৩৯ জন।এর মধ্যে রাজশাহীর ২১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাতজন, নাটোর ও পাবনার চারজন করে এবং চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও নওগাঁর একজন করে রোগী ছিলেন।জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ২৫৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। | 6 |
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশ হচ্ছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যে বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে প্রতিবছর লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকেই উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। কারণ দেশটির উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।যুক্তরাজ্যে ১৩০টি নিবন্ধিত উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৫টি, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ২০টি ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রয়েছে ৫টি। তবে এখানে পড়াশোনা করা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। তাই এখানকার ইউনিভার্সিটিগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নানান স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে তেমনি একটি স্কলারশিপ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি। বাংলাদেশসহ সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে অবস্থিত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। 'থিংক বিগ' স্কলারশিপের আওতায় শিক্ষার্থীদের স্নাতকে মেধার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড প্রদান করা হবে। স্নাতকের মেয়াদ তিন বছর এবং স্নাতকোত্তরের মেয়াদ এক বছর।যেসব বিষয়ে আবেদন করা যাবে:সামাজিক বিজ্ঞান; আইন; কলা; প্রকৌশল; স্বাস্থ্যবিজ্ঞান; জীববিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত যে কোনো বিষয়।তবে শুধু মেডিসিন, ডেন্টিস্ট্রি ও ভেটেরিনারি সায়েন্স বিষয়ে স্কলারশিপ পাওয়া যাবে না।সুযোগ-সুবিধাসমূহ:স্নাতকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড প্রদান করা হবে, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ ২১ হাজার টাকা।স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার পাউন্ড প্রদান করা হবে,বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকা।বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে পড়ার সুযোগ। আবেদনফি লাগবে না।আবেদনের যোগ্যতা:যুক্তরাজ্যের বাইরের নাগরিক হতে হবে।ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটিতে মেডিসিন, ডেন্টিস্ট্রি ও ভেটেরিনারি সায়েন্স বাদে যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন।স্নাতকের জন্য উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলধারী হতে হবে।স্নাতকোত্তরের জন্য স্নাতকে ভালো ফলধারী হতে হবে।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:পাসপোর্টজন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটজাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে)এসএসসির সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট ও টেস্টিমোনিয়ালএইচএসসির ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট ও টেস্টিমোনিয়ালপাসপোর্ট সাইজের ছবিস্টেটমেন্ট অব পারপাস লেটারলেটার অব মোটিভেশনলেটার অব রিকমেন্ডেশনওয়েবসাইট: ..আবেদনের শেষ সময়:২৮ মার্চ, ২০২২মুসাররাত আবির | 6 |
কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে মাদক-অস্ত্রসহ ছয় মামলার আসামি মোহাম্মদ হাবিব প্রকাশ মগুকে হাতকড়া পরা অবস্থায় ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার স্বজনরা। এ ঘটনায় সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দুল ইসলামসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই সময় হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন টেকনাফ মডেল থানার এসআই মহিউদ্দিন,রফিকুল ইসলাম রাফি ও নাজির হোসেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে মাদক -অস্ত্রসহ ছয় মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবির পাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে মগুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তিনি আরো বলেন, রাতে আসামির বসত বাড়ির সামনে থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ৪৪ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক জনপ্রতিনিধিসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আসামিদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া আসামি হাবিবকে পুনরায় গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন | 6 |
দুদকের দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া আলোচিত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিচার শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম আদালতে। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বর্তমানে কারাগারে বন্দী আছেন। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে চার্জ গঠন শেষে বিচার কাজ শুরুর আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জ গঠনের তারিখ ছিল। আদালত শুনানি শেষে বিচারিক কার্যক্রম শুরু আদেশ দেন। প্রদীপের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন বিচারক। আগামী ১৭ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসময় প্রদীপ কুমার দাশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ ঈসমাইল হোসেনের আদালতে মামলাটির শুনানি হয়েছিল। তখন আদালত চার্জ গঠন ও জামিন শুনানির জন্য রেখেছিল। এর আগে গত ২২ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে প্রদীপের মামলার চার্জ গঠন পিছিয়েছিল। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকা জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি। এরপর ১ সেপ্টেম্বর আসামি প্রদীপের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্রের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর আজ (বুধবার) অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বছরের ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় একই বছরের ৫ আগস্ট টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন নিহতের বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস। সেই মামলায় ওসি প্রদীপ এখন কারাগারে আছেন। সূত্র : ইউএনবি | 6 |
দেশের বড় বড় অপরাধী যখন-তখন বিদেশে যেতে পারেন। কিন্তু একজন লাল পাসপোর্টধারী হিসেবে দেশের বাইরে যাওয়ার সময় এবং আসার সময় বারবার হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ শনিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা বলেন।রুমিন ফারহানা বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পরে একটা লাল পাসপোর্ট পেয়েছিলাম। এরপর পৃথিবীর বহু দেশের বিমানবন্দরে যথেষ্ট সম্মান আমি পেয়েছি। শুধু বাংলাদেশ আসা-যাওয়ার সময় হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।' এ সময় স্পিকার তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার পয়েন্টটা নোটেড।'রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধান রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর নাগরিকের চুক্তি। এতে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে। নাগরিক হিসেবে কী মৌলিক অধিকার পাব সেটা বলা আছে। আমার দুর্ভাগ্য গত সাত-আট বছর ধরে যতবারই আমি দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট থাকা সত্ত্বেও আমাকে বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। যদিও বা দুই একবার সুযোগ পেয়েছি। আমাকে তার আগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দর থানায় আটকে রাখা হয়েছে। আমার পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আড়াই-তিন ঘণ্টা পরে ফিরে আসার পরে ফ্লাইটের সময় থাকলে যেতে পেরেছি। না হলে পারি নাই। বাংলাদেশে আসবার সময়ও এক ধরনের হেনস্তার শিকার গত সাত আট বছর ধরে হচ্ছি।'বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ২০১৭ সালে আমার করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, আমাকে কোনো রকমের বাধা দেওয়া যাবে না। স্পষ্টত নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আজ অবধি যখনই আমি বিদেশে যাওয়া চেষ্টা করি, তখন একইভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কার নির্দেশে, কোন অধিদপ্তরের কারণে? তা আমাকে কোনোদিন দেখানো হয়নি।রুমিন বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ। আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ। আমাদের সংবিধান এমনভাবে লিখিত যেখানে আইন বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের একটা ওভারল্যাপ হবেই। ৭০ ধারা যত দিন আছে, তত দিন কোনো কার্যকর আইন বিভাগ পাব এই আশা করি না। সরকারে যেই থাকুক না কেন? এই সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত। সেই অবস্থায় বিচার বিভাগ স্বচ্ছতা ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে রাষ্ট্রের নাগরিকদের টিকে থাকা প্রায়ই অসম্ভব। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিচার বিভাগের অনেক প্রশ্ন রয়েছে।কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ খুব স্পষ্ট রায় দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়ের পক্ষে রায় দেয়। সেই জায়গায় বিচার বিভাগের রায়কে প্রশাসন একেবারে অগ্রাহ্য করলে রাষ্ট্র টিকে থাকবে কি করে? নাগরিকেরা তাদের অধিকার কি করে ভোগ করবে? বহু বড় বড় অপরাধী যখন খুশি তখন দেশ থেকে চলে যান। তারা দেশে ফিরে আসেন। তাদের নামে মামলা হয়। তারা পালিয়ে যান। আদালত খুঁজে পায় না। তাঁরা কিন্তু ঠিকই বিদেশে চলে যান। তাদের ক্ষেত্রে তো কোনো বাধা দেখি না। বিরোধী দলে একজন কর্মীর ক্ষেত্রে কেন এই ধরনের বাধার মুখোমুখি বারবার হতে হয় জানতে চান এই সংসদ সদস্য। | 6 |
বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ'র (বিডিইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর। বিশ্বসেরা গবেষকদের নিয়ে প্রকাশিত এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স ২০২১ এ বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান লাভ করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা বিশ্বের ২০৬ দেশের ১৩ হাজার ৫৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত লক্ষাধিক বিজ্ঞানীর সাইটেশন এবং অন্যান্য ইনডেক্সের ভিত্তিতে এই র্যাংকিং তালিকা প্রকাশ করেছে এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স নামেআন্তর্জাতিক খ্যাতনামা সংস্থা। এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স ২০২১ এ বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান লাভ করায় উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ পরিবার। বুধবার বিকেলেএই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 1 |
ভারোত্তোলনের মতো কাজ, সেটিও কিনা এক পায়ে। এ-ও কি সম্ভব! শরীরের ভারসাম্য ধরে রেখে ১৬৬ কেজি ভার ওপরে তুলেই কিছুক্ষণের জন্য ডান পা শূন্যে তুলে রাখেন লি ফাবিন। আর সেটিও কিনা অলিম্পিকের মতো বিশ্বমঞ্চে। এই কৌশলেই গতকাল সোনা জিতেছেন চীনের এই ভারোত্তোলক।ইতিহাসের পঞ্চম ভারোত্তোলক হিসেবে চতুর্থ সোনাজয়ের নজির গড়া চীনের লি ফাবিনের এটাই যে ট্রেডমার্ক স্টাইল, যার সাক্ষী হয়ে থাকল এবারের টোকিও অলিম্পিক। রবিবার প্রথম ক্লিন অ্যান্ড জার্কে পুরুষদের ৬১ কেজি বিভাগে ১৬৬ কেজি তোলেন চীনা ভারোত্তোলক। ভার তোলার পর কিছুক্ষণের জন্য ডান পা শূন্যে তুলতে গিয়ে প্রায় ভারসাম্য হারিয়েই ফেলছিলেন ফাবিন। তবে সোনা জিততে সেটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।ভারোত্তোলনে যেটি 'ফ্লেমিঙ্গো লিফট' নামে পরিচিত, সেই কৌশলেই কাল সোনা জিতে ফাবিন তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। লি ফাবিনের এই কাণ্ড দেখে দর্শক হাসতে থাকেন। ভার নামিয়ে তিনি নিজেও হাসেন। অভিনব কৌশলে সোনা জেতা ২৮ বছর বয়সী এই ভারোত্তোলক অন্যদেরও একটি সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘরে বসে কেউ এই চেষ্টা করবেন না। অন্যদের সতর্কবার্তা দেওয়ার একটাই কারণ, কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ। আর ফাবিন তো হুট করেই এমনটা করেননি। কঠোর অনুশীলনের পরেই এই ঝুঁকি নিয়ে সফল হয়েছেন।এর আগে ২০১৭ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও একই 'স্টাইল' দেখিয়েছিলেন ফাবিন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, 'আমি প্রায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছিলাম। তবে প্রশিক্ষণের সময় আমি এটা অনুশীলন করছিলাম। আমি জানি, এটা দর্শকদের বিনোদন দেয়। তবে এ রকমটা করতে আমি বারণ করব। কারণ এতে গুরুতর চোটের আশঙ্কা থাকে। আমার শারীরিক কাঠামো ভালো এবং এটার ওপর আমি অনেক খেটেছি।' | 12 |
অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সারাহ বেগম কবরী মৃত্যুর আগে তার গুলশানের বাড়িটি নিয়ে নানা শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এখন তার ছোট ছেলে শাকের ওসমান চিশতী বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। কবরীর সেই বাড়িতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কয়েকজন লোক প্রবেশ করে। বহিরাগত লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ৯৯৯- এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন কবরীপুত্র শাকের। পুলিশ এসে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে। পরে পুলিশের পরামর্শে পরদিন গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাকের। জিডিতে শাকেরর অভিযোগ, 'গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আমার বাসার সিঁড়িতে কিছু মানুষের আনাগোনার আওয়াজ পাই। সিসি ক্যামেরায় দেখি, গ্রাউন্ড ফ্লোরের সব বাতি নেভানো। সিঁড়িতে পায়ের আওয়াজ পেয়ে ইন্টারকমে ফোন করি। কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ড ফোন না ধরায় আমার সন্দেহ বাড়তে থাকে। এরপর ২০ মিনিটের মাথায় রাত ২টা ৫০ মিনিটে ক্যামেরায় দেখি তিন ব্যক্তি মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছেন, পরে একটি মোটরসাইকেলে করে তারা চলে যান। পরে আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে দায়িত্বরত পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি। আনুমানিক রাত সোয়া তিনটায় পুলিশ আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার সিকিউরিটি গার্ড সব লাইট জ্বালিয়ে দেন।' গার্ড জানান, 'বাসার কেয়ারটেকার সহিদুল ইসলামের কথায় তিনি লাইট নিভিয়েছিলেন।' এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, গত মঙ্গলবার কবরী ম্যাডামের ছেলের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাদের গুলশান লেক রোডের বাড়িতে যাই। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাই। সহিদুল ও সিকিউরিটি গার্ড যে লাইট নিভিয়েছিলেন, তার প্রমাণও তাৎক্ষণিকভাবে পেয়েছি। আমরা আরও তদন্ত করছি। শাকের চিশতী বলেন, তার মা বেঁচে থাকা অবস্থায় এই বাড়ি নিয়ে একটি চক্র নানা ষড়যন্ত্র করেছিল। মাকে লাঞ্ছিত ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ওরা ভেবেছে, মা এখন আর নেই। এখন সহজে বাড়িটি দখল করতে পারবে! দেশে তো আইন-আদালত সব আছে। | 2 |
শেষ পর্যন্ত আশঙ্কা সত্যি হল। চোটের জন্য ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) থেকে বার্মিংহ্যামে শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে জো রুটদের বিরুদ্ধে কিউয়িদের দায়িত্ব সামলাবেন টম ল্যাথাম। আগামী ১৮-২২ জুন সাউদাম্পটনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-নিউজিল্যান্ড। ফলে কেন উইলিয়ামসনের এই চোট নিয়ে চিন্তিত কিউয়ি শিবির। এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে কিউয়ি অধিনায়ক টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কিউয় কোচ আগেই জানিয়েছিলেন, লর্ডসে প্রথম টেস্টে খেলা ফাস্ট বোলারদের এজবাস্টনে বিশ্রাম দেওয়া হবে। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফেরা নিশ্চিত ট্রেন্ট বোল্টের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের কথা মাথায় রেখেই টিম সাউদি, নেল ওয়্যাগনা, কাইল জেমিসন এবং কলিন ডি' গ্র্যান্ডহোমের মধ্যে একাধিক ফাস্ট বোলারকে বাইরে রেখে এজবাস্টনে নামবে নিউজিল্যান্ড। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 12 |
ভারতের বিপক্ষে ওভাল টেস্টের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অ্যালিস্টার কুক। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছয়জন রান সংগ্রাহকের একজন হলেন কুক। মাত্র ৩৩ বছর বয়সী ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গত এক বছরে নয়টি টেস্ট ম্যাচে গড়ে ১৮.৬২ রান করেছেন। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় তিনি কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে কুক বলেন, গত কয়েক মাস ধরে আমি চিন্তা ভাবনা করেই ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিদায় নেয়া কষ্টকর হলেও আমি হাসিমুখেই বিদায় নেয়ার চেষ্ঠা করব। আমি যা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি তার চেয়ে অনেক বেশি অর্জন করেছি। দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ডের বিখ্যাত সব খেলোয়াড়দের সাথে খেলেছি। ২০০৬ সালে ২১ বছর বয়সে নাগপুরে তার টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ড ২০ বছর পর অ্যাশেজ জয়ের সময় প্লেয়ার অব দা সিরিজ হয়েছিলেন কুক। ২০১২ সালে ভারতের বিরুদ্ধে জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। টেস্ট-এ কুকের ১২ হাজার ২৫৪ রান ও ৩২ টি টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে। যা ইংল্যান্ডের অন্য কোন খেলোয়াড়ের নেই। যাই হোক, কুক তার বর্ণাঢ্যময় ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে যা দিয়েছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। | 12 |
ভারতীয় দল যখন ইংল্যান্ডে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে, তখন ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা খেলেন শিখর ধাওয়ান। এই ভারতীয় ওপেনারের স্ত্রী আয়েশা মুখার্জি তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিবাহবিচ্ছেদের খবর জানিয়েছেন। ৯ বছর একসঙ্গে থাকার পর ঘর ভাঙল শিখর-আয়েশা দম্পতির।২০১২ সালে মেলবোর্নে ঘটা করে বিয়ে হয়েছিল আয়েশা-ধাওয়ানের। ৯ বছরের সংসারজীবনে এক পুত্রসন্তানও আছে। নিজেদের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক পোস্ট করে আয়েশা লিখেছেন, 'আমার একসময় মনে হতো বিচ্ছেদ খুব খারাপ একটা শব্দ। তবে দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর আর তা মনে হচ্ছে না। প্রথমবার যখন বিয়ে ভেঙেছিল, তখন আমি বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি বোধ হয় কিছু ভুল করে ফেলেছি। নিজেকে স্বার্থপর মনে হচ্ছিল। মনে হয়েছিল বাবা-মায়ের সম্মান নষ্ট করছি। বিচ্ছেদ এতটাই খারাপ শব্দ বলে মনে হতো তখন।'শিখর ধাওয়ান ও আয়েশা মুখার্জির মধ্যে প্রথম পরিচয় হয়েছিল হরভজন সিংয়ের মাধ্যমে। পরে সেটি রূপ নিয়েছিল প্রণয়ে। বিয়েতে অবশ্য শিখরের পরিবারের সম্মতি ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত পরিবারকে রাজি করালেও ৯ বছরের বেশি স্থায়ী হলো না এই সম্পর্ক। বিবাহবিচ্ছেদ সম্পর্কে শিখর ধাওয়ান এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। কেন তাঁদের বিচ্ছেদ হলো স্পষ্ট নয় সেটিও।আয়েশার বাবা বাঙালি, মা ব্রিটিশ। তাঁর যখন আট বছর বয়স, তখন তাঁদের পরিবার দিল্লি থেকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে চলে যায়। শিখরের সঙ্গে বিয়ের আগে অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রথম গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন আয়েশা। ১০ বছরের দাম্পত্যে দুই সন্তানেরও জন্ম হয় সেই ঘরে। এরপর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে জুটি বাঁধেন শিখরের সঙ্গে। | 12 |
দেড় যুগের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা কিলার আব্বাসের অপরাধসংক্রান্ত সব তথ্য তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। আব্বাসকে কারাগারে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ২০০৩ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করা হয়। সব মামলায়ই তিনি খালাস পান। বর্তমানে একটি ডাকাতি মামলা বিচারাধীন। | 6 |
শৈত্যপ্রবাহ কেটে যেতে শুরু করলেও মধ্য মাঘে লাগাতার বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ। বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে শুক্রবার ভোর থেকেই চলছে লাগাতার বৃষ্টি। ছুটির দিনেও কাজের সন্ধানে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে। শুক্রবারসকাল ১১টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক দেবল কুমার মৈত্র জানান, ভোর সাড়ে চারটায় বৃষ্টি শুরু হয়। তখন ১.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সকাল ৭ টা ২০ মিনিট থেকে আবার শুরু হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ১০.৮ মিলিমিটার এবং ১১ টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, 'সারাদিন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আকাশের মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা আবারও কমবে। তখন শীত বাড়বে।' উত্তরের জেলা পঞ্চগড়েও বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বলেন, 'শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর হিম শীতল বাতাসে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে ' বৃষ্টির কারণে জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কাজে যোগ দিতে পারেননি খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে কৃষি শ্রমিক আর রিকশা- ভ্যানচালকদের দুর্ভোগ বেশি দেখা গেছে। শহরের সড়ক, মহাসড়কেও মানুষের চলাচল কমে গেছে। | 6 |
রাস্তাঘাটে চলার সময় আপনার চোখের সামনে হঠাৎ করে কেউ খিঁচুনি দিতে দিতে পড়ে যেতে পারেন। খিঁচুনি আক্রান্ত ব্যক্তিকে চারদিক দিয়ে ঘিরে রেখে টোটকা দিতে প্রায়ই দেখা যায়। কেউ কেউ এসে নাকের কাছে দুর্গন্ধযুক্ত জুতা ধরে ভাবেন এখনই ভালো হয়ে যাবেন খিঁচুনি আক্রান্ত লোকটি। এগুলো একেবারে ভুল ধারণা।খিঁচুনির সময় যা বিবেচনায় রাখবেনখিঁচুনি যেমন শুরু হয়, তেমনি থেমেও যায় আপনা থেকে।খিঁচুনি বন্ধে চামড়ার জুতা শোঁকালে কোনো উন্নতি না হয়ে উল্টো জুতার ময়লা নাক, মুখ দিয়ে ঢুকতে পারে। তাই জুতা বা অন্য কিছু শোঁকানো যাবে না।খিঁচুনির সময় দাঁতে দাঁত লেগে গিয়ে জিহ্বা কেটে যেতে পারে। দাঁত খোলার জন্য মুখে লোহার আংটা বা আঙুল দেওয়া যাবে না। দুটোই ভয়াবহ হতে পারে। লোহার আংটা রোগীর পেটের মধ্যে যেতে পারে। আর দুই পাটি দাঁতের মধ্যে আঙুল পড়লে তা কেটে যেতে পারে।খিঁচুনি আক্রান্ত ব্যক্তিকে জোর করে ধরে খিঁচুনি বন্ধ করার চেষ্টা করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময় পর এমনিতেই তা বন্ধ হয়ে যাবে।খিঁচুনি আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে ধারালো বস্তু, পানি, আগুন, ব্যস্ত রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। খোলামেলা জায়গায় রেখে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘিরে রাখা যাবে না।খিঁচুনি যত সময় হয়, ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। খিঁচুনি থেমে গেলে ব্যক্তিকে যেকোনো পাশে কাত করে দিতে হবে। এতে করে মুখে জমা লালা বের হয়ে যাবে। চিৎ করে রাখলে লালা ফুসফুসে যেতে পারে।খিঁচুনি থেমে যাওয়ার পরও ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক হতে সময় লাগে। তাই এ সময় কেউ একজন পাশে থাকতে হবে।৫ মিনিটের বেশি খিঁচুনি হলে বা বারবার হতে থাকলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।লেখক: কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট, ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঢাকা | 4 |
চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে রাশিয়া ও ইউক্রেন সীমান্তে। উত্তেজনা কমাতে রাশিয়া কিছু সেনা প্রত্যাহারের কথাও জানায়। তবে সেই ঘোষণায় ভরসা রাখতে নারাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মুখে সেনা প্রত্যাহারের কথা বললেও রাশিয়া যেকোনও সময় ইউক্রেনের উপরে হামলা চালাতে পারে বলে বুধবার আবারও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ করা হল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মকর্তা বুধবার রাতে বলেন, "রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে সেনা ফেরাচ্ছে। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি, সেই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।" প্রসঙ্গত, মস্কোর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আইগর কোনাশেনকভ জানান, দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রদেশের সেনা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট মহড়া শেষ হওয়ায় তারা ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাশিয়ার ওই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও, ন্যাটো জোটের প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, "এই বার্তা কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে বাস্তবে রাশিয়া সেনা না সরানো পর্যন্ত ভরসা করা যায় না।"
বস্তুত, রাশিয়া যেকোনও সময় ইউক্রেনের উপর হামলা চালাতে পারে বলে বুধবার আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাইডেনও। তিনি বলেন, "রাশিয়া যে সত্যিই সীমান্ত থেকে কিছুটা সেনা সরিয়েছে, তার প্রমাণ কিন্তু আমরা পাইনি। বরং বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রুশ সেনা ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া এমন জায়গায় রয়েছে, যা এখনও যথেষ্ট ভয়ের। এখনও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে হামলার।" সেই সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, "রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা চালায়, তার ফল ভোগার জন্যও তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা এখনও চাই কূটনৈতিক পথেই এর মীমাংসা হোক।" ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এক বার্তায় বলেন, "সেনা সরানোর যে প্রতিশ্রুতি রাশিয়া দিয়েছিল, বাস্তবে তার কোনও প্রমাণ এখনও আমরা পাইনি।" সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
বয়স ৯০-এর কাছাকাছি। দুই পায়ে নেই শক্তি, এমনকি চোখেও নেই দৃষ্টি। এমন সব প্রতিবন্ধকতা নিয়েও পিছপা হননি ভোট দিতে। ভোট কেন্দ্রেভোট দিতে এসেছেন প্রতিবেশীদের সহযোগিতায়।মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের কমলাপুরে বাড়ি এই প্রবীণের। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে আটটায় তিনি স্থানীয় কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন ভোট দিতে। ভ্যানে করে স্ত্রী নছিরন বেগম নিয়ে তিনি আসেন ওই ভোটকেন্দ্র।আফাজ মিয়া বলেন, 'বয়স চার কুড়ির বেশি। আসছে মাঘে চার কুরির সঙ্গে যোগ হবে দশ। চোখে দেখতে পারি না। পা দুটো অচল অনেক দিন। কিন্তু ভোট তো দিতে হবে। ভোট দিলি মনে হয় আমার সম্মান আছে। আমারে মানুষ গোনে!'আফাজ মিয়া ভোট দেন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'দুজনই বয়সী হয়ে গেছি। ঠিকমতো চোখে দেখতে পাই না। বাড়ি ছোট ছেলের কাছে থাকি। এই ভোটের সময় কত মানুষ সালাম নেয়। কথা দিই, তাই ভোট দিতি আইছি। কথা তো রাকতি হবি।' | 6 |
রাজধানীর একটিবেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেনকে। ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫৮ বছর বয়সী এ গায়ক কয়েক বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন। মঙ্গলবার (৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে গায়কের স্ত্রী নুসরাত জাহান জানান, সকালের দিকে অসুস্থতাবোধ করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 2 |
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক হাজার কেজি আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গতকালরবিবারেরএক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস প্রোটোকল অফিসার, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রোটকল অফিসার এই উপহার গ্রহণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
নদীর কথা, গ্রামের সব কথা বলা হয়নি, একজীবনে হবেও না। এতসব স্মৃতি আছে! নদী ও গ্রামের কথা লিখেছি মাঝে মাঝে। গ্রামে যে আমি অনেক দিন থেকেছি তা নয়। আর গ্রাম বলতে আমার মনে ছাপ ফেলে আছে নানাবাড়ি কালোয়া-এ কথা আমি এতবার বলেছি, আরও বলতে ইচ্ছে করে। রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহের পাশেই কালোয়া।ছোটবেলায় নানাবাড়িতেই যাওয়া হতো বেশি। দাদাবাড়ি পান্টি। পান্টি গ্রামে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়টিতে ছিলাম। পান্টি আমার মনে দাগ ফেলেনি। তাই গ্রাম বলতেই নানাবাড়ির বিরাট পরিচ্ছন্ন উঠোন। দক্ষিণে গোলাপবাগান। পশ্চিমে চার চালার সামনে পাতাবাহারের বাগান। বাড়ির উত্তরে শীতল কুয়াতলা। সারিবাঁধা সুপারিগাছ। আরও পশ্চিমে নানির হেঁশেল। হেঁশেলের পেছনে ঘন বাঁশবাগান। তার আইল ধরে সরু পথরেখা চলে গেছে আরও সব জঙ্গলের মধ্য দিয়ে আমাদের আমবাগান পেরিয়ে বাজারের দিকে। এমন জঙ্গল আর বাঁশবাগান শুধু সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালী'তে দেখেছি।বাড়ি থেকে উত্তরে পদ্মা নদীর দূরত্ব ছিল ৪০০-৫০০ গজের মতো। ছোটবেলাকার পদ্মা নদী ছিল আমার কাছে সমুদ্রসম। ওপারের কিছুই দেখা যেত না। শুনতাম, ওপারে পাবনা। আমরা ছোটরা সারা দিন খেলাধুলা করতাম। নদীর কিনারা ঘেঁষে একটি আমগাছ ছিল। সেই আমগাছকে ঘিরেই আমাদের যাবতীয় খেলাধুলা। ডাকাবুকো সাহসীরা গাছে উঠে বসে থাকত।দুপুরে খালাদের সঙ্গে নদীতে নাইতে যেতাম দলবেঁধে। আমার খালারা অতীব রূপবতী ছিলেন। আমি সবার ছোট ছিলাম বলে খালাদের কাছে খুব আদর পেতাম। তারা শুধু রূপবতীই ছিলেন না, শিক্ষিতও ছিলেন। অনেকগুলো খালা ছিল আমার। খালাদের পিঠে চেপে সাঁতার শিখেছি পদ্মায়!একবার ভেসে গিয়েছিলাম স্রোতে। খুব বিপজ্জনক স্মৃতিও মনে পড়ছে-পদ্মার তীব্র একরোখা জলধারার ভয়ংকর আক্রোশ মাঝে মাঝে আমাদের ছোটদের টেনে নিয়ে যেতে চাইত। এ জন্য খালারা চোখের আড়াল করতেন না। একবার আমার এক খেলার সঙ্গী কৃষ্ণা, কী কারণে আমাকে আচমকা ঠেলে দিয়েছিল, সবার অলক্ষ্যেই আমি ভেসে চলেছিলাম। বেশ দূরে আরেকটি ঘাটের এক নারী আমাকে উদ্ধার করেছিলেন। ফলে নারী জাতির প্রতি অভিমান যেমন আছে, কৃতজ্ঞতাও কম নেই।খালারা যখন নদীর ঘাটে যেতেন, তখন বেশির ভাগ সময়ই সুনসান থাকত ঘাট। গ্রামের পুরুষদের সারা দিন নদীর আশপাশেই দেখতাম না খুব একটা। তাঁরা সন্ধ্যায় নদীর ধারে গিয়ে বসতেন। আমরা ছোটরা একটু দূরে গিয়ে জটলা করতাম। বড়রা আমাদের কিছু বলতেন না। এখন মনে পড়ে, বিকেলে সূর্য হেলে পড়লে আমি বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে যেতাম। নিজেকে ওদের থেকে আলাদা করে নদীর ডান দিকের বাঁকটায় ঝোপের কিনারে গিয়ে বসতাম। আকাশ রঙের বন্যায় ভেসে যেত। কত যে রং। বিশাল নদীর ওপর আকাশটাই অন্যরকম। আকাশটা কী বিশাল ক্যানভাস! অমন আকাশ আর দেখিনি। ভারমিলিয়ন, রেড, ক্রিমসন, ইয়েলো, লেমন, অকার, স্কাই ব্লু, লেক ব্লু, কোবাল্ট, পার্পেল-কী রং ছিল না! আর এসব রঙের রিফ্লেকশন বিশাল নদীর বুকের ওপর পড়ত। মজার ব্যাপার হলো, রিফ্লেকশন নদীর পানির কাঁপুনিতে ভেঙে ভেঙে পড়ত যখন-তখন, তা দেখার মতো অপূর্ব একটি দৃশ্য হতো। আমার সমস্ত মুগ্ধতা নিয়ে আমি তাকিয়ে থাকতাম। আকাশ-নদী একাকার হয়ে যেত। এবং আকাশ ও নদী মিলেমিশে মার্ক রথকোর উজ্জ্বল ভাইব্রেন্ট অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিংয়ের রূপ পেত। এখন মনে হয়, ওই যে আমি ঝোপের পাশে গিয়ে নদীর কিনারায় বসতাম, তা নেহাত নদীর সঙ্গে কথা বলার জন্য। নদী ও আকাশকে একলা করে পেতাম বলে আমার ভালো লাগত। নদী আর আকাশের কম বিপুল বিস্তার!নদী নানান সময়ে নানা রকম শব্দে আমার সঙ্গে ভাব জমানোর চেষ্টা করত। তখন আমাদের ছোটদের এক খেলা ছিল নদীর ডান দিকের বাঁক ফিরে কয়টা পালের নৌকা আসে তা ধরে ফেলার। যে বেশি আর আগে দেখে ফেলত, তারই জিত হতো। এক পালের নৌকা, দুই পালের নৌকা, তিন পাল, এমনকি চার পালের নৌকা-কত যে নৌকা আসত-যেত তার ইয়ত্তা নেই। কত রকমের যে নৌকা, তাদের কত রকমের যে গড়ন-জেলে নৌকা, ডিঙি নৌকা, পানসি নৌকা, গয়নার নৌকা। মালবোঝাই নৌকা দেখলে মনে হতো অতি কষ্টে জলের ওপর ভেসে আছে, একটা চড়ুই পাখি বসলেই যেন-বা ডুবে যাবে! এসব নৌকার দাঁড় থাকত স্টিমারের রাডারের মতো বিশাল। তার মস্ত হাতল ধরে স্থির বসে থাকত দাঁড়ি, নিশ্চিন্তে ভাটিয়ালি গান গাইতে গাইতে মিলিয়ে যেত দূরে। তার উদাস বেদনার সুর হাওয়ায় ভাসত, আমি আনমনা হয়ে যেতাম।বড় বড় নৌকা শুধু মাঝিমাল্লাদের দাঁড়-বইঠার জোরে চলত না! দু-তিনজন গুণটানা মাল্লা লম্বা শক্ত দড়ির 'গুণ' ছোট বাঁশের চোঙে বেঁধে কাঁধে নিয়ে নদীর কিনারা ধরে ধরে সেটা টেনে চলত। মাঝিদের দাঁড়-বইঠার ঠেলা আর গুণের সমবেত টান-এই দুইয়ের শক্তিতে নৌকা এগিয়ে যেত। এই গুণটানা মাঝিরাও গান গাইত সমস্বরে। তারা পরস্পর ছড়াও কাটত! দিনের একটি সময়ে দূর দিয়ে স্টিমার যেত। স্টিমারের চিমনির ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ত আর বিস্ময় নিয়ে দেখতাম। কী ভালো যে লাগত! হঠাৎ কোনো কোনো দিন পানসি নৌকা থেকে ঘুঙুর, সারেঙ্গির ধ্বনি নদীর ঢেউ তুলে ভেসে আসত। খুব রহস্যময় মনে হতো সেই নৌকাগুলো, তার কূল-কিনারা করতে পারতাম না। কিন্তু মনে একটা তোলপাড় হতো। কেন হতো? জানি না।লেখক: শিল্পী | 8 |
করোনা দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি না করতে পাবনা সদর উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স। এ সময় ত্রাণকার্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করেন তিনি। পরে সদর উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানকে ত্রাণকার্যে দুর্নীতি না করার শপথও করান এমপি। বৃহস্পতিবার পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় করনীয় নির্ধারনে এক জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের আহবানে সামাজিক ও শারীরীক দুরত্ব মেনে এমন ব্যতিক্রমী শপথে অংশ নেন জনপ্রতিনিধিরা। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনসহ সদর উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ করে ত্রাণ কার্যক্রম সততার সঙ্গে পরিচালনার অঙ্গীকার করেন। এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, করোনার এই দুঃসময়ে ত্রাণ যারা আত্মসাৎ করবেন তাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। কোন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সামান্য দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী করোনার এই দুর্যোগে অসহায় কর্মহীন মানুষের জন্য খাদ্য উপহার পাঠিয়েছেন। এ খাবার কেউ আত্মসাৎ করলে তাকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। আজীবনের জন্য তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। পাবনা সদর উপজেলার কোন জনপ্রতিনিধির নামে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আশা করছি আজকের শপথের কথা মনে রেখে তারা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে ত্রাণ কার্যক্রম চালাবেন। | 6 |
বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখায় সম্মত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ৪র্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে এই ঐকমত্য প্রকাশ করেন। স্থানীয় হোটেল সোয়ালটী ক্রাউন প্লাজায় আজ বিকেলে বৈঠক অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে দুই নেতাকে উদ্ধৃত করে বলেন, তারা বলেছেন, আমরা আমাদের দুই দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখতে চাই। প্রেস সচিব বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের এই বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। দুই নেতা সাত-জাতি গ্রুপের ভবিষ্যৎ নিয়েও উচ্চাশা প্রকাশ করেন। প্রেস সচিব তাদের উদ্ধৃত করে করে বলেন, তারা বলেছেন, আমরা আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাই এবং এতে বিমসটেকের সকল সদস্য-দেশ লাভবান হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় হায়াত রিজেন্সি হোটেলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির দেয়া নৈশভোজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য বিমসটেক নেতৃবৃন্দ যোগ দেন।-বাসস বিডি প্রতিদিন/৩০ আগস্ট ২০১৮/আরাফাত | 6 |
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের শহরতলীর পূর্বগঙ্গাবর্দী নামক স্থানে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। আর এ ঘটনায় আহত হয় আরো দুজন। তাদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। দূর্ঘটনার পর থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সকল ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মোঃ নুরুল আলম দুলাল জানান, শনিবার ভোরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের শহরতলীর পূর্বগঙ্গাবদী এলাকায় ঢাকাগামী বনফুল পরিবহনের একটি বাস মাগুরাগামী একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছে। আর এ ঘটনায় আহত হয় আরো দুজন। আমরা ঘটনাস্থলে এসে আহত দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছি। তিনি বলেন এদের মধ্যে নিহত ট্রাকের ড্রাইভার মাগুরা ইসলামের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় এখনো জানাযায়নি। এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সকল ধরনের যানচলাচল বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটিতে ঘড় ফেরা মানুষের চরম দূভোর্গের মধ্যে পড়তে হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে রাস্তার উপর পরে থাকা বাস-ট্রাককে সরানোর কাজ শুরু করেছে পুলিশের ব্রেকার। | 6 |
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সময় অনুযায়ী রমজান মাসে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত লেনদেন হবে। অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলবে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত। আজ বুধবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন ডিপার্টমেন্টের এক সার্কুলারে এ সময়সূচি জানানো হয়। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে। সাধারণ সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয়। ব্যাংকের অফিস সময় থাকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। তবে প্রতি বছরের রমজান মাসে অফিস ও লেনদেন সময়সূচিতে পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রমজান মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি পূর্বাস্থায় ফিরে আসবে বলে সার্কুলারে বলা হয়েছে। | 0 |
খালেদা জিয়া জনগণের পার্লামেন্টে খুনিদের বসায় বলে সংসদে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের খুনিদেরকে জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি দিয়ে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। খালেদা জিয়া তার থেকে আরও একধাপ উপরে যেয়ে জনগণের পার্লামেন্টে একজন খুনিকে এনে বসায়। বুধবার (১ সেপ্টম্বর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনে অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুতে আনিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। পরে অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুতে আনিত শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে জানান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফকে হারিয়ে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে। কিস্তু দুভার্গ্যের বিষয় হলো তিনি যে এলাকা থেকে নির্বাচন করতেন সেই চান্দিনা এলাকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি কর্ণেল রশীদের বাড়ি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে যে নির্বাচন করেছিল। যে নির্বাচনে দেশের সকল রাজনৈতিক দল বয়কট করেছিল। একটা ভোটারবিহীন নির্বাচন। সারা বাংলাদেশে সেনাবাহিনী নামিয়ে দিয়ে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে সেই নির্বাচনটা করা হয়। সেই নির্বাচনে ওই চান্দিনা থেকে কর্ণেল রশীদকে সংসদ সদস্য করে সংসদে নিয়ে আসে এবং বিরোধী দলের নেতার আসনে বসান খালেদা জিয়া। দুইজনকে সংসদে এনেছিলেন। একজন হচ্ছে মেজর হুদা, তাকে চুয়াডাঙ্গা থেকে, আর চান্দিনা থেকে কর্ণেল রশীদকে। সংসদ নেতা আরও অধ্যাপক আলী আশরাফ সম্পর্কে বলেন, ৭ম সংসদে তিনি (আলী আশরাফ) ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন কমিটিতে কখনো সভাপতি কখনো সদস্য হিসেবে অত্যান্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। উনার সাথে আমার দেখা হয়েছিল '৭৫ এর পর, যখন আমি ১৯৮০ সালে লন্ডনে। তিনি সব সময় '১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের যেমন প্রতিবাদও করেছেন আবার ৩ নভেম্বর যে হত্যাকাণ্ড তার বিরোধীতা করেছে আর সেখানে তিনি সাক্ষীও দিয়েছেন খুনিদের বিরুদ্ধে। প্রয়াত আলী আশরাফের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করীম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের, মশিউর রহমান রাঙা, কাজী ফিরোজ রশীদ প্রমুখ। তারা অধ্যাপক আলী আশরাফের জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণ করেন। এর ফরে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে গৃহিত হয়। | 6 |
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা জেসিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মুর্শিদা বেগম জয়িতা হয়েছেন। পরিবারের সকল কাজকর্ম, নিজের পড়াশোনাসহ সবকিছু সামাল দিয়ে অবশেষে তিনি শিক্ষকতা করে জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন।গত বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়া দিবসে তালা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের সঞ্চলনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস তাঁকে এ পুরস্কারে ভুষিত করেন।মুর্শিদা পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইফুল্লাহ মোড়লের স্ত্রী।মুর্শিদা বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এসএসসি পাস করার পর তাঁর বিয়ে হয়। সংসারের সবকিছু সামাল দেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা করে বিএ ও বিএড পাশ করি। এরপর জেসিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষীকার দায়িত্ব পালন করছি। বেগম রোকেয়া দিবসে শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরস্কার পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। | 6 |
দোয়ারাবাজার উপজেলায় নরসিংপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সুপার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ১১ অক্টোবর দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপার নিয়োগে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ করেন মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম। অভিযোগের প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত হয়নি।লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নরসিংপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসার সুপার নিয়োগে মানা হয়নি কোনো নিয়ম। নিয়োগ কমিটি ছাড়াই নরসিংপুর দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান সুপার মাওলানা সাদিকুর রহমান নিয়োগ কমিটির স্বাক্ষর জাল করে নিজের নিয়োগ নিজেই দিয়েছেন। বর্তমান সুপার এর আগেও মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কারাভোগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেই অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।অভিযোগে নরসিংপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান সুপার নিয়োগ এবং মাদ্রাসার সার্বিক বিষয়ের তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান সুপার মাওলানা সাদিকুর রহমান বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই মাদ্রাসা আমার হাতেই গড়া। ২৫ বছর বিনা বেতনে এই মাদ্রাসায় চাকরি করেছি। নিজের পৈতৃক সম্পত্তি এই মাদ্রাসায় দান করেছি। এখানে একটি গ্রুপ রয়েছে, তাঁরা আমার ও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই উঠেপড়ে লেগেছে। আমার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ। সরকারি নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী হয়েছে।'এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, 'একটি অভিযোগ পেয়েছি। এখনো তদন্ত হয়নি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
এবারের মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা স্টেট গভর্ণর ডগলাস ডুসি সারা স্টেটে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই স্টেটের সর্ববৃহৎ ফিনিক্স সিটির মেয়র কেট গায়েগোরও একই ঘোষণায় বহুজাতিক সমাজের প্রতিটি সদস্যকে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, আরিজোনা স্টেট হাউজ এবং আরো কয়েকটি সিটির পক্ষ থেকেও দিবসটি উদযাপনে আনুষ্ঠানিক আহ্বান এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম বৃহত্তম এই ফিনিক্স সিটিতে ৫ সহস্রাধিক প্রবাসী বাস করলেও বাঙালি সংস্কৃতির সাথে সকলেই নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছেন বহু বছর থেকে। তাদের সন্তানরাও অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এই ধারাবাহিকতায় মূলধারায়ও কদর বাড়ছে প্রবাসীদের। এলাকার সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ৩৯ জনের সমন্বয়ে এবারের একুশে উদযাপন কমিটির আহ্বয়ক মাহবুব রেজা রহিম জানান, অতীতের সবকিছুকে ছাপিয়ে যাবে স্টেট প্রশাসন থেকে প্রক্লেমেশন পাওয়ায়। ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ফিনিক্সের কর্মসূচি ঘিরে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা নাগাদ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শন এবং মাতৃভাষা দিবসের আলোকে সভা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে ৩৩১ এস কুপার রোডে অবস্থিত 'ফার্স্ট ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চ অব গিলবার্ট' এ। সেখানে বাঙালি সংস্কৃতির পরিপূরক খাদ্য ও পণ্যের স্টলও থাকবে বলে জানান ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব রেজা রহিম। রহিম উল্লেখ করেন, সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনকারী রিপাবলিকান নেতা জন ম্যাককেইন বেঁচে থাকতে অর্থাৎ ২০১৬ সালে আমাদের ভাষা দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে এসেছিলেন। সেই স্মৃতি সকলকে তাড়িত করে শহীদ দিবসের কর্মসূচি এলেই। বহু বছর পর এবারও স্টেট গভর্ণর, সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরা সশরীরে আসতে না পারলেও ভার্চুয়ালে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করছি। মাহবুব বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এবারের কর্মসূচিতে প্রবাস প্রজন্মের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 4 |
বগুড়া ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা শপথ নিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে বগুড়ায় তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিন আহমদ।
এদিকে শপথ গ্রহণ শেষে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়ার পথে বগুড়া পৌরসভার দুই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন-বগুড়া ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা তৌহিদুল ইসলাম বিটু ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার জাসাসের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার পশারি হিরু।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুইজন নাশকতা মামলার আসামি।
বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বগুড়ার ৯টি পৌরসভার ৯ মেয়রের মধ্যে ৮ জন এবং নওগাঁর দুই পৌরসভার নবনির্বাচিত দুই মেয়র উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বগুড়ার জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া জেলার ১২ পৌরসভার মধ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর ৯টিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এগুলো হলো- বগুড়া, কাহালু, সারিয়াকান্দি, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ, ধুনট, সান্তাহার, গাবতলী ও শেরপুর।
| 6 |
ঘরে চায়নিজ টি-সেট থাকলে সেটা কালেভদ্রে ব্যবহার করা হয়। মেহমান এলে বা বিশেষ অনুষ্ঠান থাকলে ট্রেতে শোভা পায় চিনামাটির টিপট-সেট। সারা বিশ্বে চীনাদের তৈরি এই টি-সেটের অনেক কদর রয়েছে। ইতিহাসে বহুবার এর নকশায় পরিবর্তন এসেছে। এতে ফুটে ওঠে লোকগাথা, ঐতিহ্য ও প্রচলিত গল্প। চিনামাটির টি-সেট ইউরোপে জনপ্রিয় হয় সতেরো শতাব্দীতে।এখন চার ধরনের চিনামাটির টি-সেট পাওয়া যায়। এর মধ্যে সেলাডন টি-সেট দেখতে হয় হালকা সবুজ রঙের। সাদা ও কালো রঙেও পাওয়া যায়। কিছু চিনামাটির টি-সেটে আবার অন্য রংও করা হয়। তবে বেশি জনপ্রিয় সাদা চিনামাটির টি-সেট। এতে চায়ের রং আকর্ষণীয়ভাবে ফুটে ওঠে।সেলাডন টি-সেটে সাধারণত গ্রিন টি পান করা হয়। এর উপরিভাগ মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে থাকে। কালো টি-সেটের আবিষ্কার হয় টি ফাইট খেলাকে ঘিরে। প্রাচীন চীনে হতো এ খেলা। নানা রঙের হয়ে থাকে সেগুলো। এগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় নীল ও সাদার সংমিশ্রণে তৈরি টি-পট। | 6 |
ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। মঙ্গলবার দুপুরে জাপার পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা কার্ডটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছায়।জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী সচিব অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব এবং জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রটোকল অফিসার আবু জাফর রাজুর কাছে ঈদের শুভেচ্ছা কার্ডটি পৌঁছে দেন। | 9 |
সিনেমা হল কম 'যশ' দেয়নি যশরাজ ফিল্মসকে। তাই দুর্দিনে দায় মেটাতে নেমেছে বলিউডের এই তুখোড় প্রযোজন প্রতিষ্ঠান। এবার তারা দাঁড়াল মাল্টিপ্লেক্সের পাশে। খুলে দিয়েছে নিজেদের সিনেমার ঝুলি। বক্সঅফিসে ধুন্ধুমার চলা সিনেমাগুলো আবার সিনেমা হলে আসবে। উদ্দেশ্য, এই দুর্যোগকালেও দর্শক যেন আসেন আগের মতোই। একটা দীর্ঘ সময় পর খুলছে ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহ। কিন্তু এই সংকটকালে দর্শক কতটা আসবেন? এমন আশঙ্কায় প্রেক্ষাগৃহ মালিকেরা। তাঁদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল প্রতিষ্ঠানটি। ভারতীয় চেইন মাল্টিপ্লেক্স পিভিআর সিনেমাস, আইনক্স ও সিনেপলিসকে যশরাজ ফিল্মস দিচ্ছে তাদের সব আইকনিক ও ক্ল্যাসিক ছবি। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অক্টোবর মাসেই খুলেছে প্রেক্ষাগৃহ। করোনাভাইরাসের কারণে ছয় মাস বন্ধ ছিল সিনেমা হল। মুম্বাইয়ে খুলছে ৫ নভেম্বর থেকে। যশরাজ ফিল্মসের এই আয়োজনে দেখা যাবে কাভি কাভি, সিলসিলা, ডিডিএলজে, দিল তো পাগল হ্যায়, বীর জারা, বান্টি অউর বাবলি, রব নে বানাদি জোড়ি, এক তা টাইগার, যব তক হ্যায় জান, সুলতান, মরদানি ইত্যাদি সিনেমা। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির টুইটার পেজ থেকে এ বিষয়ে একটি পোস্টও করা হয়েছে। দীপাবলিকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের আয়োজন। চলবে ১২ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। নাম দেওয়া হয়েছে যশরাজ ফিল্মস বিগ স্ক্রিন সেলিব্রেশন। এই ছবিগুলোর টিকিটের দামও রাখা হয়েছে অল্প, মাত্র ৫০ রুপি। যশরাজ ফিল্মস ছবি প্রদর্শনীর বিনিময়ে কোনো অর্থ নেবে না। তাদের ভাষ্য, হলে দর্শক ফিরিয়ে আনতেই সিনেমা হলের পাশে দাঁড়াচ্ছে তারা। | 2 |
'এম্পটি স্পেস' মঞ্চ নাটকের একটি নতুন দল। গেল বছর ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দর্শকের সামনে এল দলটি। সেদিন সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হয় দলটির প্রথম নাটক 'এ নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট'। পরদিন নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী। আজ বুধবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মঞ্চে নাটকটির তৃতীয় প্রদর্শনী হবে। সাইমন জাকারিয়ার লেখা নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নূর জামান। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন কবি, যিনি পূর্ণিমা রাতে সমাধিতে ফোটা ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা হন, গেয়ে ওঠেন গান। সে রকম এক রাতে তাঁর গানে রোমিও আর জুলিয়েট এসে হাজির হন। কবি জুলিয়েটকে জানিয়ে দেন, রোমিও আসলে জুলিয়েটের আগে ভালোবাসতেন রোজালিনকে। তাকে দেখার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে রাতের এক ভোজসভায় যান তিনি। সেখানেই জুলিয়েটের রূপে মুগ্ধ হয়ে রোমিও ভুলে যান রোজালিনকে। প্রেম হয় রোমিও-জুলিয়েটের। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সাহায্য চান ফাদার ফ্রায়ারের। ফাদার গোপনে রোমিও-জুলিয়েটের বিয়ে দিয়েছিলেন। সত্য প্রকাশ না করে তিনি আবার প্যারিসের সঙ্গে জুলিয়েটের বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন। নিজের এ গোপন কর্মকে আড়াল করতে জুলিয়েটকে আত্মহত্যায় বাধ্য করেছিলেন ফাদার। কবি সেটাও মনে করিয়ে দেন। কবির এসব কাণ্ডে ফাদার আহ্বান জানান উইলিয়াম শেক্সপিয়ারকে। কবি শেক্সপিয়ারকেও ছাড়েননি। প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে শেক্সপিয়ারের দ্য ট্র্যাজেডি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট নাটকের গঠন ভেঙে দেন। নাট্যকার সাইমন জাকারিয়া বলেন, 'দর্শকের চিন্তাকে নতুনভাবে উসকে দিতে এবং চেনাজানা বিষয়ের অচেনা ও অনাবিষ্কৃত পাঠ নির্মাণ করতে দুই যুগ আগে এই নাটকটি লিখি। এর প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে আমাদের জীবন, সময় ও প্রকৃতি জড়িত। আমার বিবেচনায় এই নাটকের চরিত্রগুলো এখনো বর্তমান। তাঁরা প্রকাশ্যে বলেন এক কিন্তু গোপনে করেন আরেক। যেমন রোমিওর কথা ধরা যাক। তাঁর ধ্যান-জ্ঞানে ছিলেন রোজালিন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি রোজালিনের থেকে মুখ ফিরিয়ে জুলিয়েটের প্রেমে মেতে ওঠেন, জুলিয়েট জানতেও পারেন না হঠাৎ তিনি যে পুরুষের প্রেমে মাতোয়ারা হয়েছেন, সে পুরুষ তাঁকে ভালোবাসতে ভোজসভায় আসেননি, তিনি এসেছিলেন রোজালিনকে ভালোবেসে।' নাট্যকার সাইমন বলেন, এ নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট' নাটকটি রচনার প্রায় দুই যুগ অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু ঢাকার কোনো নাট্য সংগঠন নাটকটি মঞ্চায়ন করার সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি। তিনি মনে করেন, এই নাটকের চিন্তাটি নতুন ও অভিনব। হয়তো সে কারণেই এত দিনে এই নাটকের চিন্তাকে ঢাকার প্রতিষ্ঠিত কোনো নাট্য সংগঠন গ্রহণ করতে সক্ষম হয়নি। নতুন চিন্তার এই নাটক শেষ পর্যন্ত ঢাকার মঞ্চে প্রথমবারের মতো উপস্থাপনে উদ্যোগী হয়েছে এম্পটি স্পেস। এ নাটকে অভিনয় করছেন গোলাম শাহরিয়ার, ফকির বিপ্লব, লোবা আহমেদ, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস ও নূর জামান। | 2 |
দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিাস অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে 'ভিসি বাসভবন'ঘেরাও করে রেখেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে অবরোধটি শুরু হয়ে সর্বশেষ সংবাদ পর্যন্ত (রাত ৯টা) চলমান আছে। আন্দোলনকারীরা বলছে, ভিসির অপসারণ বা পদত্যাগের পর্যন্ত তারা অবরোধ চালিয়ে যাবে। এদিকে ভিসির বাসভবনের সামনে ভিসির নিরাপত্তার জন্য প্রতিরক্ষা বুহ্য তৈরী করেছে ভিসিপন্থী শিক্ষকরা। তারা বলছে আন্দোলনকারীরা যতক্ষণ থাকবে তারাও ভিসির নিরাপত্তায় সেখানে অবস্থান করবেন। তবে ভিসির নিরাপত্তার জন্য প্রায় একমাস ধরে পুলিশ অবস্থান করছে। বর্তমানেও প্রায় ৩০-৪০জন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছে ক্যাম্পাসে। অবরোধের বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ বলেন,'দুর্নীতিবাজ ভিসি তার পদে থাকার অধিকার নেই। আমরা তাকে সময়সীমা বেঁধে দেয়ার পরেও তিনি পদত্যাগ করেননি। ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা তার বাসভবনের সামনে থেকে বিন্দুমাত্র সরে দাঁড়াব না। ভিসি তার বাসভবন থেকে বের হতে হলে আমাদেরকে মাড়িয়ে বের হতে হবে। আর অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার বাসভবন থেকে বের হলে তিনি আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থাকবেন না।' এর আগে সন্ধ্যায় তারা পুরাতন রেজিস্ট্রারের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে ভিসির বাসভবন অবরোধ করতে আসে তারা। ভিসি বাসভবনের সামনে শতাধিক আন্দোলনকারী এবং ভিসিপন্থী শিক্ষক বুহ্য ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান করছেন। | 6 |
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি, আবুধাবির শাসক, শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের কাছে পাঠানো আলাদা চিঠিতে শোক প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে পাঠানো শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও আপনার মাধ্যমে রাজপরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্য এবং আমিরাতের ভাইদের শোক ও দুঃখের এ সংকটময় মুহূর্তে আন্তরিক সমবেদনা জানাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একজন মহান বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন এবং বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের একজন অভিভাবক ছিলেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আমরা তার চির শান্তির জন্য প্রার্থনা করি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন। শোকাহত রাজপরিবারের সদস্যদের এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণ অপূরণীয় ক্ষতি বহন করার সাহস ও সহনশীলতা দান করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের কাছে পাঠানো আরেকটি শোক বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি এবং আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে রাজপরিবারের শোকাহত সদস্যদের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের কাছে আমাদের গভীর সমবেদনা এবং আন্তরিক সহানুভূতি জানাই। শেখ হাসিনা বলেন, শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন গতিশীল এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের জন্য এবং একে একটি সমৃদ্ধ ও অগ্রগামী জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে তার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বাংলাদেশ-সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে তার অবদানকে স্বীকার করছি। আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রয়াত শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের চির শান্তির এবং তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করছি। শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহ রাজপরিবারের শোকাহত সদস্যদের এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে এ অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার সাহস ও শক্তি দান করুন। -বাসস। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
করোনার ডেলটা ধরনের চোখ রাঙানিতেই গোটা বিশ্ব নাজেহাল। এর মধ্যে নতুন করে হাজির হয়েছে ডেলটা প্লাস। এরই মধ্যে ভারতের মহারাষ্ট্রের এই ধরনে আক্রান্ত ৪৫ জন শনাক্ত হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির মহারাষ্ট্র রাজ্যে গতকাল রোববার পর্যন্ত ৪৫ জন ডেলটা প্লাস ধরনে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে। রাজ্যটির জালগাঁও জেলায় সর্বোচ্চ ১৩ জন শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া রত্নগিরিতে ১১, মুম্বাইয়ে ৬, থানে ৫ ও পুনেতে ৩ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ।রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, করোনার এই ধরনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছে জালগাঁও জেলায়। সংগৃহীত নমুনাগুলোর জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পর এর ৮০ শতাংশই ডেলটা প্লাস ধরন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।করোনার ডেলটা ধরন মহারাষ্ট্রকে বেশ ভুগিয়েছে। এর মধ্যেই এবার ডেলটা প্লাস ধরন শঙ্কা তৈরি করেছে নতুন করে।এ বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেন, কোভিড এখনো এখানেই আছে। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ বিদায় নিলেও করোনা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। সবাইকে অবশ্যই কোভিড সতর্কতা মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, এই ভাইরাস প্রতিনিয়ত নিজের রূপ বদলাচ্ছে। এর মধ্যে ডেলটা ধরন খুব দ্রুত ছড়ায়।মহারাষ্ট্রের পুনে, আহমেদনগর, সোলাপুর, সাংলি, সাতারা, রত্নগিরিসহ কয়েকটি জেলা ডেলটা প্লাসের ঝুঁকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে উদ্ধব ঠাকরে বলেন, এই জেলাগুলোর প্রশাসনের দায়িত্ব তাই অনেক বেশি।প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার ৫ হাজার ৫০৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে। নতুন মৃত্যু হয়েছে ১৫১ জনের। এই নিয়ে রাজ্যটিতে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৬৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৮-এ। আর মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৬-এ। | 3 |
ন্যাশনাল ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির ডাকা সভা হচ্ছে না। বিভিন্ন ঋণ অনিয়ম ও মেয়াদ শেষের পরও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্বে থাকা নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তড়িঘড়ি নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছিলেন ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও সাংসদ পারভীন হক সিকদার, যা আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ সভার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককেও জানানো হয়েছিল। তবে গতকাল হঠাৎ করেই সেই সভা বাতিল করা হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। ২৬ ডিসেম্বরের পর কোনো পর্ষদ সভায় ঋণ অনুমোদন না হলেও বিতরণ ঠিকই অব্যাহত আছে। এ ছাড়া প্রায় এক বছর ধরে নির্বাহী কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাংকটির বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পদক্ষেপ নিলে পারভীন হক সিকদার জরুরি ভিত্তিতে নির্বাহী কমিটির সভা ডাকার জন্য চিঠি দেন। গত মঙ্গলবার পারভীন হক সিকদার ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ সৈয়দ আবদুল বারিকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি ও প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ব্যাংকটির বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে অনলাইনে নির্বাহী কমিটির সভা ডাকার নির্দেশ দিচ্ছি। সভা আয়োজনে কোনোভাবে ব্যর্থ হওয়া যাবে না।' একই সঙ্গে যেসব অভিযোগ এসেছে এবং জানুয়ারির পর অনুমোদন ছাড়া যেসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পারভীন হক সিকদার। প্রসঙ্গত, শাহ সৈয়দ আবদুল বারির মেয়াদও গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে গেছে। এরপরও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি আগামী সোমবার নির্বাহী কমিটির সভা হবে, জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটির সভায় যোগ দেন। তবে গতকাল হঠাৎ করে জানায়, সেই সভা বাতিল করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর মূলত তাঁর ছেলেরা ব্যাংকটি পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন ব্যাংকটির কিছু শীর্ষ কর্মকর্তাও। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ব্যাংক দেশের প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক, যার ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি। | 0 |
পাকিস্তানের মিনাওয়ালিতে বিশাল জনসমাবেশ করতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই দলের চেয়ারম্যান ইমরান খান। শুক্রবার তিনি এ জনসমাবেশ করবেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে জিও নিউজ। পাকিস্তানে শাহবাজ শরিফের সরকারেরে বিরুদ্ধে আরো চাপ প্রয়োগ করার জন্য মিনাওয়ালিতে বিশাল জনসমাবেশ করতে যাচ্ছেন ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করতে তিনি এ সমাবেশ করছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিটিআই দলের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও বার্তায় ইমরান খান বলেন, শুক্রবার মাগরিবের নামাজের আগে তিনি মিনাওয়ালিতে জনসমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা সরকার ও সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের থেকে পাকিস্তানকে মুক্তি দিতে তিনি যে আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছেন তার একটি অংশ হলো মিনাওয়ালি জনসমাবেশ। ইমরান খান আরো বলেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করার আগে তিনি মিনাওয়ালির জনগণকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে চান। এ কারণেই তিনি মিনাওয়ালির জনগণের কাছে এসেছেন। সূত্র : জিও নিউজ | 3 |
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম চার টি-টোয়েন্টিতে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রতি ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও সিরিজ জেতায় সেটি সেভাবে সামনে আসেনি। তবে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হারের পর আজ শেষ টি-টোয়েন্টিতে একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।বাংলাদেশের টপ অর্ডার পুরো সিরিজজুড়েই ছিল ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে চার টি-টোয়েন্টিতে ১২ রান করা সৌম্য সরকারের আত্মবিশ্বাস আছে একেবারেই তলানিতে। আজ বাঁহাতি ওপেনারকে একাদশের বাইরে দেখলে তাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যদিও তামিম-লিটন না থাকায় বিকল্প ওপেনারের সংকট রয়েছে। শুধু এই এক যুক্তিতেই সৌম্যকে একাদশে রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।তবে সিরিজ শুরুর আগে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো প্রয়োজন পড়লে মোহাম্মদ মিঠুনকে ওপেনিংয়ে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আজ ওপেনিংয়ে তাই নাঈমের সঙ্গে মিঠুনকে দেখলে সেটি অস্বাভাবিক কিছু হবে না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজের আগের সর্বশেষ বাংলাদেশ খেলেছিল ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বেঙ্গালুরুতে সেই টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়েই নেমে ২৩ রান করেছিলেন মিঠুন।জিম্বাবুয়েতে অভিষেক সিরিজেই দুর্দান্ত খেলা শামীম হোসেন পাটোয়ারীও সুবিধা করতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। প্রথম চার টি-টোয়েন্টিতে একাদশের বাইরে থাকা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন একটা সুযোগ পেতেই পারেন।শেষ ম্যাচে সাকিব আল হাসানকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে, এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল কাল। এমনকি এও গুঞ্জন ছড়ায়, আজ শেষ ম্যাচ না খেলেই সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন। কাল অবশ্য বিসিবির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সিরিজ শেষ করেই সাকিব ছুটি কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন পরিবারের কাছে। | 12 |
ময়মনসিংহের ফুলপুরে মহান মে দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার র্যালিটি উপজেলা পরিষদ গেট থেকে শুরু হয়ে এম শামসুল হক চত্বর, আঞ্জুমান সুপার মার্কেট ও বাসস্ট্যান্ডসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে মটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন, দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন, ময়মনসিংহ জেলা মিশুক, বেবি ট্যাক্সি, ট্যাক্সি ক্যাব ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নসহ সর্বস্তরের শ্রমিক জনতা অংশ নেয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সাকিব আল হাসান মাঠে নামা মানেই যেন নতুন রেকর্ড আর মাইলফলকের হাতছানি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁহাতি অলরাউন্ডারের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক, যা যেকোনো বোলারের কাছে হতে পারে স্বপ্নের।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এখন সাকিব (৪১)। তিনি পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদিকে (৩৯)।আগের ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে সর্বোচ্চ উইকেটের তালিকায় আফ্রিদিকে ছুঁয়েছিলেন সাকিব। আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে পাথুম নিসাঙ্কাকে বোল্ড করে আফ্রিদিকে ছাড়িয়ে যান এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। একই ওভারে ফেরান আভিস্কা ফার্নান্দোকেও।আফ্রিদি অনেক আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন। সাকিবের সামনে এখন শুধুই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পালা। | 12 |
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে বলেছেন, পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ শুরুর আগে সকাল থেকে খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন? এমন ট্র্যাজেডির দিন কেন তাকে ২৪ ঘণ্টা লুকিয়ে থাকতে হলো? এ রহস্য উদ্ঘাটিত হলে কারণও বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেছেন, কেঁচো খুঁড়তে গেলে বিষধর সাপ বেরিয়ে আসবে। ফেনী সার্কিট হাউসে মঙ্গলবার সকালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার এস. এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার (পিপিএম), ফেনীর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন প্রমুখ। ওবায়দুল কাদের বলেন, খাগড়াছড়ি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৩০০ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হয়েছে। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পদ্মা সেতুর কাজ ৬৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কাঁচপুর সেতুর উদ্বোধন করবেন। জুন মাসে শেষ হবে মেঘনা ও গোমতি দ্বিতীয় সেতুর কাজ। তখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত হবে। তিনি বলেন, ফেনী, নোয়াখালী ও লাকসাম হয়ে কুমিল্লা পর্যন্ত চার লেন রাস্তা করা হবে। ফেনীর লালপুলেও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ও যুক্তফ্রন্ট খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে। নীতিনির্ধারণে দুর্বল হওয়ায় বিএনপি জনসমর্থন হারাচ্ছে। তিনি বলেন, গত ২৮ বছর ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হলে অনেক নেতার সৃষ্টি হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচন হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। এতে সরকারের হস্তক্ষেপের কিছু নেই। এ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে সরকারের কিছু যায় আসে না। | 9 |
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে গোটা বিশ্বই। ভাইরাসটি প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদে লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধের কবলে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশ। এই সময় মহামারীর কারণে ভয়াবহ সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ সংকটে পড়েন বিশ্বের গাড়ি, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতারা। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই সংকট চরমে পৌঁছেছিল। সংক্রমণ প্রতিরোধে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় এ সংকট তীব্র হয়। এমনও হয়েছে যে বিলাসবহুল গাড়ি তৈরির সব প্রস্তুতি থাকার পরও কেবল চিপ সংকটে তা শেষ পর্যন্ত তৈরি করা যায়নি। চিপ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে ইলেকট্রনিক পণ্যেরও। এমন পরিস্থিতিতে চিপ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাই এ-সংক্রান্ত নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। মূলত চিপস নিয়ে আমেরিকা ও চীন নির্ভরতা কমাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ইইউ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, "আমরা 'ইউরোপিয়ান চিপ আইন' নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। এর লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মিলে একটি অত্যাধুনিক চিপ ইকোসিস্টেম তৈরি করা। যার মধ্যে থাকবে স্থানীয়ভাবে চিপ উৎপাদনের ব্যবস্থাও। যার মাধ্যমে ইইউ'র বাজারে চিপ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। উল্লেখ্র, করোনা মহামারীর ঝুঁকি থেকে পুনরুদ্ধারের কর্মযজ্ঞে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবচেয়ে বড় যে সমস্যার মুখে পড়ে সেটি হল চিপ সংকট। সে কারণেই এ সমস্যার সমাধান করতে মরিয়া তারা। তবে চিপ উৎপাদনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামনে কিছু বাধাও রয়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ধাতু, যা কেবল চীনসহ কয়েকটি দেশে পাওয়া যায়, সেটির সহজলভ্যতাও নিশ্চিত করতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। আবার যে প্রতিষ্ঠানগুলো চিপ উৎপাদন করবে, তাদেরও বিনিয়োগে যথাযথ আগ্রহ থাকতে হবে। তারা যদি ঠিকমতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারে, তাহলে ব্যবসা লাভজনক হবে না। তাই সব দিক বিবেচনা করেই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিজেদের সংকট মোকাবেলায় মাঠে নামতে হবে। সূত্র: পলিটিকো বিডি প্রতিদিন/কালাম | 11 |
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী
বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী বছর
ম্যানচেস্টার, নারিতা, কলম্বো, মালে এবং নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার
প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ
এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মদিনা রুটে ফ্লাইট উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নতুন এ রুটে বিমান ঢাকা থেকে মদিনায় সপ্তাহে
তিন দিন- শনি, সোম ও বুধবার এবং চট্টগ্রাম থেকে মদিনায় বৃহস্পতিবার একটি
করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিমানের যে সম্ভাবনাময়
বাজার রয়েছে, তাকে দখল করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেযারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) ইনামুল বারী,
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর
রহমান ও বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিইও) মোকাব্বির হোসেন।
| 6 |
চুয়াডাঙ্গা জেলায় নতুন করে আরও একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক নারী। এ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ জনে। একজন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, আজ মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় নতুন করে একজনকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি গ্রামের বাসিন্দা। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 4 |
জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের গুপ্তচর ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রোববার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ''বাংলাদেশের প্রথম সরকার হলো মুজিবনগর সরকার। এই সরকার যখন শপথ নেয়, তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। এর ফলে তিনি শপথ নিতে পারেননি। কিন্তু তার নেতৃত্বেই সরকার গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এই সরকারের অধীনেই পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।'' তিনি বলেন, ''মুজিবনগর সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জিয়াউর রহমান এই সরকারের অধীনেই একজন চাকুরে ছিলেন এবং ৪০০ টাকা বেতন পেতেন। অন্যান্য সেক্টর কমান্ডাররাও একই বেতন পেতেন। মুজিবনগর সরকারের অধীনে আরও নানা দপ্তরে ধীরে ধীরে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারাও বেতন পেতেন।'' ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছেন কি-না, সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তিনি পাকিস্তানিদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন দলিল-দস্তাবেজ এমনটিই বলে। প্রকৃতপক্ষে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাস অর্থাৎ নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বেতন নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ''আজকে তার (জিয়াউর রহমান) প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি মুজিবনগর দিবস পালন করে না। অথচ জিয়াউর রহমান এই সরকারের একজন চাকুরে ছিলেন। মুজিবনগর দিবস পালন না করা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে অস্বীকার করার সামিল।'' | 9 |
প্রখ্যাত নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানশালি পরিচালিত 'গাঙ্গুবাই কাঠিয়াবাড়ি' ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। এরইমধ্যে বানশালির নতুন আরেকটি প্রজেক্টের কাজ হাতে নিয়েছেন আলিয়া। বানশালির 'হীরা মন্ডি' নামের ওয়েব সিরিজে দেখা যাবে আলিয়াকে। 'হীরা মন্ডি'কে চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মাণ করতে চেয়েছেন বানশালি। এখন ওয়েব সিরিজ হিসেবে নির্মাণ করছেন তিনি। 'গাঙ্গুবাই কাঠিয়াবাড়ি'র মতো 'হীরা মন্ডি'তেও আলিয়াকে দেখা যাবে যৌনকর্মীর চরিত্রে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
এবারের ঈদে পাবনার ঈশ্বরদী বেনারসি বাজার বেচাকেনায় জমজমাট হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী বেনারসি-কাতান শাড়ির চাহিদা থাকায় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় তাঁতিদের চোখে এখন ঘুম নেই। গভীর রাত অবধি জেগে তারা তৈরি করছেন নতুন ডিজাইনের আকর্ষণীয় বেনারসি কাতান শাড়ি ও সালোয়ার।জানা যায়, ঈশ্বরদী শহরের ফতেমোহাম্মদপুরে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বেনারসি বাজার। এখানকার প্রায় প্রতিটি ঘরের তাঁতিরা বেনারসি-কাতান শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে এবারের ঈদে বেনারসি বাজারে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় ও চাহিদা পেয়েছে বেনারসি মসলিন শাড়ি ও বেনারসি মখমলের লেহেঙ্গা।তাঁতি ও তাঁত মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার দেশ ও দেশের বাইরের বেশ কয়েকটি নতুন ডিজাইনের শাড়ির চাহিদা তৈরি হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে এসব নতুন শাড়ির মধ্যে বেনারসি মসলিন শাড়ি, বেনারসি স্টোন ওয়ার্ক শাড়ি ও মখমলের লেহেঙ্গার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া নতুন ডিজাইনে তৈরি শাড়ির মধ্যে বেনারসি জামদানি ১ থেকে ৪ হাজার, জুট ও নেট জামদানি ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার, ওপারা কাতান শাড়ি সাড়ে ৭ থেকে ১০ হাজার, বিয়ের বেনারসি ৪ থেকে ১২ হাজার টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ঈদে নতুন ডিজাইনের মধ্যে মখমলের লেহেঙ্গা ও বেনারসি মসলিন বাজারে বেশ প্রভাব ফেলেছে। প্রকারভেদে এসব লেহেঙ্গা ও শাড়ি সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খুচরা বিক্রি হচ্ছে।ফতেমোহাম্মদপুর গাউছিয়া মার্কেটে নিউ বেনারসি পল্লি শোরুমের মালিক আসিফ আলী জানান, করোনার পর এবারের ঈদে তাদের মোটামুটি ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। ঈদে নেট লেহেঙ্গা ব্যাপক চাহিদা ফেলেছে। এ ছাড়া এখানকার শাড়ি কাপড় রাজধানী ঢাকা বঙ্গবাজার, ইসলামপুর, মিরপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক চাহিদা মিটাচ্ছে। অনেকে আবার এখানকার কাপড় দেশের বাইরেও পাঠাচ্ছেন।এ বিষয়ে তাঁতের জ্যেষ্ঠ মালিক জাভেদ বেনারসি জানান, এবার ঈদে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ ও চাহিদা রয়েছে বেনারসি মসলিন শাড়ি যা সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের তৈরি। এটি নরম ও ওজনে হালকা। দামও খুব বেশি নয়। অভিজাত ঘরের রমণীরা এ শাড়ি পছন্দ করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।তাঁত মালিকেরা জানান, গেল দুই বছর করোনার কারণে তারা ব্যবসা করতে পারেননি। এবার তারা আশাবাদী। বেচাকেনা ভালো হলে কিছুটা হলে লাভের মুখ দেখবেন তারা। | 6 |
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অফ লিংকনের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং এবং ইউনিভার্সিটি অফ লিংকনের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর নিল জাস্টার নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ লিংকনের আমন্ত্রণে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাংয়ের বিশ্ববিদ্যালয়টি সফরকালে এই চুক্তি সাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ব্যাচেলরস অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিগ্রি শুরু করা শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপসহ তাদের ডিগ্রি ইউনিভার্সিটি অফ লিংকনে শেষ করতে পারবেন। এছাড়াও এই চুক্তি অনুযায়ী, যৌথ গবেষণা ও পাবলিকেশন্স এর অগ্রগতি, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে দক্ষতা বিনিময়; প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যৌথ উদ্যোগের সুযোগ এবং যৌথভাবে পিএইচডি ডিগ্রি তত্ত্বাবধায়ন করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি এক অপরকে সহায়তা করবে। সেই সাথে, এই চুক্তির ফলে ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের শিক্ষকদের সহায়তা করবে ইউনিভার্সিটি অফ লিংকন। উল্লেখ্য, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়টি সফর করেছেন। সফরকালে প্রফেসর চ্যাং বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টোফার আইসগ্রাবার ও ঊর্ধ্বতন একাডেমিক কর্মকর্তাদের সাথে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেন্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া নর্থস্টেট ইউনিভার্সিটির মতো খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথেও একাডেমিকক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 1 |
ফ্রান্স এবার অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে আলজেরিয়া, মরক্কো ও তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে। এসব দেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের ফ্রান্সের ভিসা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমানুয়েল মাক্রোঁর সরকার। খবর ডয়চে ভেলের। জানা গেছে, মাগরেব অঞ্চলের দেশ তিনটি 'অবৈধ অভিবাসন-প্রত্যাশীদের' ফেরানোর বিষয়ে অসহযোগিতা করায় ফ্রান্স সরকারের এই সিদ্ধান্ত। ফ্রান্স সরকারের অভিযোগ, ফরাসি আদালত আলজেরিয়া, মরক্কো আর তিউনিশিয়া থেকে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের অভিবাসনের আবেদন খারিজ করার পরও সেসব দেশ তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেয় না। বরং সেসব দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতেও অস্বীকার করা হয়। সম্প্রতি ফ্রান্সের ডানপন্থি দলগুলো অভিবাসন সংক্রান্ত আইন কঠোর করার দাবি তুলেছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
'বৃষ্টিকে অবশ্যই ঝরিতে হইবে, বালিকারা অবশ্যই বিবাহ করিবে, এই সমস্ত ঘটনা প্রতিরোধ-অযোগ্য, তাহাদিগকে যাইতে দাও।' চীনারা প্রবাদ দিয়া, কবিতা দিয়া কথা কহিতে ভালোবাসে। এই যে উক্তিটি, বৃষ্টিকে অবশ্যই ঝরিতে হইবে...ইহা মাও সে তুংয়ের। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্শাল লিন বিয়াওয়ের সহিত মাও সে তুংয়ের শত্রুতা দেখা দিল। লিনের ছেলে মাওকে হত্যা করিবার জন্য কাঁচা প্লট সাজাইল। শেষে লিন বিমানে উঠিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে পলাইতে শুরু করিলেন। চৌ এন লাই বলিলেন মাওকে, বিমানটা উড়াইয়া দিই, অর্ডার দিন। মাও তখন এই দার্শনিক প্রবাদটা বলিয়াছিলেন। বৃষ্টি ঝরিবেই, বালিকারা বিবাহ করিবেই, লিন পলাইয়া যাইবেই, যাইতে দাও। সে ১৯৭১ সালের কথা। মাও তাহার শত্রু মার্শাল লিনকে যাইতে দিয়াছিলেন কি না জানি না। কারণ, এই বিমানটি মঙ্গোলিয়ার কাছে গিয়া বিধ্বস্ত হয়! বলা হইয়া থাকে, বিমানটির তেল ফুরাইয়া গিয়াছিল। এই প্রবাদটি অদ্য, ১৮ নভেম্বর ২০২১, প্রথম আলো কাগজটি হাতে লইয়া পাঠ করিতে করিতে মনে পড়িয়া গেল। প্রবাদটি নির্ভুলভাবে চয়ন করিবার জন্য শ্রীনাথ রাঘবনের ১৯৭১ বইটা শেলফ হইতে পাড়িয়া আনিলাম। আসলেই বৃষ্টি পড়িবেই, উহাকে পড়িতে দাও, বালিকারা বিবাহ করিবেই। তাহাদিগকে বিবাহ করিতে দাও। মাও সে তুং কি বাল্যবিবাহের কথা কহিয়াছিলেন? আমার মনে হয় না। বড় হইলে, বিবাহের বয়স হইলে বালিকারা বিবাহ করিবে, হয়তো তাহা বলিয়াছিলেন। আমাদের দেশে আমরা নানান উন্নয়ন সূচকে ভালো করিতেছি, টিকা দিয়াছি, মাতৃমৃত্যু-শিশুমৃত্যু কমাইয়া আনিয়াছি, স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন করিতেছি, শুধু বাল্যবিবাহ কমাইতে পারিতেছি না। কেন পারিতেছি না, তাহার নানা কারণ আছে, গবেষকেরা তাহা আমাদের জানাইতেছেন। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল জরিপে বলা হইতেছে, পারিবারিক সুনাম হারাইবার ভয়, শিশুমেয়েকে একা রাখিয়া যাইবার ভয়, যৌন হয়রানি-ধর্ষণের ভয় হইতেও বাল্যবিবাহ হয়। ইহার সহিত আছে দারিদ্র্য। একটা বালিকাকে খাওয়াইয়া-পরাইয়া স্কুলে পাঠাইয়া দিবার খরচ নির্বাহের চাইতে তাহাকে বিবাহ দিয়া দেওয়া পিতা-মাতার জন্য সহজ। যাহা হউক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কিমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি বলিয়াছেন, ছেলে ও মেয়েরা পরস্পরের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ বোধ করিয়া পলাইয়া বিবাহ করে, ইহা বাল্যবিবাহের একটি বড় কারণ। ব্যাখ্যাও আছে, পৃথিবীর অন্য দেশে ছেলেমেয়েরা বিবাহ না করিয়াই চাহিদা মিটাইতে পারে, বাংলাদেশে তাহা করা অসম্ভব। আমরা এই সমস্ত কথাবার্তার মধ্যে কোনো ফোড়ন কাটিব না। কারণ, বৃষ্টি পড়িবেই, বালিকারা বিবাহ করিবেই, মাও সে তুং ক্ষমতায় থাকিবেই, লিনের প্লেন ভাঙিয়া পড়িবেই। কার্টুনিস্ট কিশোর মামলা করিয়াছিলেন নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে। গ্রেপ্তার দেখাইবার আগে তাঁহাকে ধরিয়া অজ্ঞাত স্থানে লওয়া হয়, আর তাঁহার উপরে নির্যাতন চালানো হয়, এই আছিল অভিযোগ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করিয়াছে। তাহারা বলিয়াছে, কিশোরকে তুলিয়া লইয়া যাইবার কিংবা অজ্ঞাত স্থানে রাখিয়া নির্যাতন করিবার কোনো সাক্ষ্য ও প্রমাণ তাহারা পায় নাই। সংশ্লিষ্ট র্যাব কর্মকর্তাকে পিবিআই জেরা করিয়াছে, তিনি বলিয়াছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাঁহাকে কোনো গোপন স্থানে লইয়া যাওয়াও হয় নাই, কোনো রকমের নির্যাতনও করা হয় নাই। পিবিআই প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, বাদী কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ দেখাইতে পারে নাই। বৃষ্টি পড়িবেই, বালিকারা বিবাহ করিবেই, লিন পলাইয়া যাইবেই, আমাদের কী বলিবার আছে। রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষণ প্রমাণিত হয় নাই, আসামিরা নির্দোষ, সেই মামলার লিখিত রায়ে বিচারক আর ধর্ষণ ঘটনার ৭২ ঘণ্টার পর মামলা না লইতে পুলিশকে সুপারিশ করেন নাই। যদিও ইতিমধ্যে এই বিচারককে বিচারকার্য হইতে সরাইয়া রাখা হইয়াছে। বৃষ্টি পড়িবেই, অভিযোগ প্রমাণিত না হইলে আসামিরা ছাড়া পাইবেই, আমাদের কী করিবার আছে? সদ্য গঠিত গণ অধিকার পরিষদের নেতা রেজা কিবরিয়া আর ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক মওলানা ভাসানীর টাঙ্গাইলের সমাধিস্থলে গেলে হামলার শিকার হন। রেজা কিবরিয়ার মাথায় ইটের আঘাতও লাগে। এই বিষয়ে ছাত্রলীগের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শ্রদ্ধা জানাইতে আসিয়া রেজা কিবরিয়াদের দল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপরে হামলা চালান। তখন ছাত্রলীগ তাহা প্রতিরোধ করে মাত্র। ফটোতে দেখা যাইতেছে, পুলিশের ট্রাকে আশ্রয় লইয়াছেন গণ অধিকার পরিষদের নেতারা, আর ট্রাকের দিকে আঘাত হানিতে বড় বড় লাঠি উদ্যত করা হইয়াছে...কে কাহাকে আক্রমণ করিতেছে, কে বা প্রতিরোধ করিতেছে...এই সমস্ত লইয়াও আমাদের কিছুই বলিবার নাই। কারণ, বৃষ্টি পড়িবেই, আপেল গাছ হইতে নিচেই নামিবে, বালিকারা বড় হইলে বিবাহ করিবেই, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন আগে আক্রান্ত হইবে এবং পরে প্রতিরোধ করিবে... গতকালের প্রথম আলোর প্রধান খবর হইল: বেশি ভাড়া আদায় চলিতেছেই...যাত্রী-শ্রমিক হাতাহাতি হইতেছে, যাহা ইচ্ছা তাহা ভাড়া চাওয়া হইতেছে। আর বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হক বলিতেছেন, ঢাকার বিশৃঙ্খল বাসসেবার সুফল যাঁহারা পান, তাঁহারা নেতৃত্বে আছেন। তাঁহাদিগকে নিয়ন্ত্রণ করা বিআরটিএর কম্মো নহে। ঢাকার বাসমালিকেরা বা বাস ব্যবসার সুবিধাভোগীরা নেতৃত্বেও থাকিবেন, এই রূপই চলিবে, চলিতে দাও। রাজশাহীর খবর: ইয়াবাসহ পুলিশের এএসআইকে আটক করিয়াছে বিজিবি। সাদাপোশাকে এক পুলিশ সদস্য ৪০০ ইয়াবা বড়িসহ মোটরবাইকযোগে যাইতেছিলেন। বিজিবির ক্যাম্পের পাশে তঁাহাকে থামানো হয়। ৪০০টি ইয়াবা পাওয়া গেলে তঁাহাকে আটক করা হয়! এইবার মাও সে তুংয়ের প্রবাদ কোনরূপে বলিব বুঝিতেছি না। ইয়াবা লইয়া মোটরবাইকচালকেরা যাইবেই, তাহাদিগকে যাইতে দাও, নাকি ইয়াবা পাওয়া গেলে বিজিবি আটক করিবেই, তাহাদিগকে আটক করিতে দাও! একটি সুখবরও আছে প্রথম আলোয়। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঘুষ সাধায় ব্যবসায়ীকে পুলিশে দিলেন এসি ল্যান্ড। আমরা জানি, নাই নাই করিয়াও আমাদের দেশে এখনো সৎ মানুষ আছেন, সংখ্যায় অতি অল্প, কিন্তু আছেন। এসি ল্যান্ড সাখাওয়াত জামিল তাঁহাদের একজন, আমরা বিশ্বাস করি, তাঁহাকে সালাম জানাই। ঘুষদাতা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে বড় বেশি পীড়াপীড়ি করিয়াছিলেন। এসি ল্যান্ড তাঁহাকে পুলিশে সোপর্দ করেন। এখন আশঙ্কা হইল, এই এসি ল্যান্ড প্রমাণ করিতে পারিবেন তো যে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁহাকে ঘুষ সাধিতে আসিয়াছিলেন! তাহা না হইলে অভিযুক্ত কিন্তু ছাড়া পাইয়া যাইবেন! যাহা হউক না কেন, আমরা সাধারণ নাগরিক, এই সমস্ত ভাবিয়া মাথার চুল ছিঁড়িয়া মাথায় আগেভাগে টাক ফেলিবার আমাদের প্রয়োজনটাই-বা কী! বৃষ্টি পড়িবে, বাতাস বহিবে, পাকা ফল বৃন্তচ্যুত হইবে, বালিকারা বিবাহ করিবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাঝেমধ্যে জিতিবে, বাকিগুলাতে হারিবে, তেলের দাম বাড়িবে, জিনিসপত্রের দাম কোনো দিনও কমিবে না, বাসে যাত্রী আর কন্ডাক্টর বচসা করিবে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মারামারি-খুনোখুনির জন্য বিএনপিও দায়ী থাকিবে, ঢাকার রাস্তায় ভিক্ষুকের আধিক্য হইবে... আমাদের কিছুই করিবার নাই। কিছুই কি করিবার নাই? অন্তত বাল্যবিবাহ-শিশুবিবাহ রোধ করিবার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা কি আমরা করিব না? আমরা যদি খাওয়ার স্যালাইন জনপ্রিয় করিতে পারিয়া থাকি, যদি টিকা দিতে পারিয়া থাকি, যদি স্যানিটেশনে অগ্রগতি করিতে পারি, ইহা কেন পারিব না? প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠার শিরোনাম: জনসচেতনতা ও প্রচারে কমে বাল্যবিবাহ। তাহা হইলে আসুন, প্রচার করি। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে কিসিঞ্জার নিউইয়র্কে চীনের প্রতিনিধি হুয়াং হুয়াকে বলিয়াছিলেন-চীন আক্রমণ করুক ভারতকে। চীন তাহাতে রাজি হয় নাই। হুয়াং হুয়া প্রবাদ বলিয়াছিলেন। যদি পূর্বে অন্ধকার নামে তাহা হইলে পশ্চিমে আলো আসিবে, যদি উত্তরে তমসা নামে, তবে দক্ষিণে আলো আসিবে। অদৃষ্টবাদীর মতো প্রবাদ বলা ছাড়া আর কী করিব? আনিসুলহকপ্রথমআলোরসহযোগীসম্পাদকওসাহিত্যিক | 8 |
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রতিমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, 'আমার মুখ ভীষণ খারাপ।'মুরাদ হাসানের সাক্ষাৎকারের সাড়ে তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'শোনেন, আমি একজন মেম্বার অব পার্লামেন্ট (সাংসদ), আমি একজন প্রতিমন্ত্রী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বানাইছে, আমার মুখ ভীষণ খারাপ। আপনি ওই যে আমাদের সিআরআইতে যারা কাজ করে না, ওদেরকে বলবেন, মুরাদ ভাইয়ের মুখ কেমন খারাপ রে? ওরা বলবে যে, ভাই, আশপাশে যাইয়েন না, কানের পর্দা ফাটায় ফেলবে।'তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জায়মা রহমানের (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে) মতো...এই ধরনের ...কে বাংলাদেশে আইন্যা নেতৃত্ব করাবে বিএনপি-এই স্বপ্ন বাংলার মাটিতে হবে না।'তারেক রহমান প্রসঙ্গে মুরাদ হাসান বলেন, 'এইড্যা, এই তো মানুষের জাতই না। ওর সম্পর্কে আমি এটাই বলব, বেজন্মা।' তিনি আরও বলেন, 'ওর (তারেক রহমান) সম্পর্কে বলার ভাষা, মানসিকতা, রুচি, ইচ্ছা কোনোটাই আমার নাই। এটারে বাংলাদেশে আসলে, শুনেন ভাই, আমার ইচ্ছা-ওর কানে-কপালে একটা চটকানা-যেমন আর্মিরা দিছিল না, মনে আছে? ওর কিন্তু মাজা ব্যাঁকা, ও সোজা হয়ে হাঁটতে পারে না।'এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৪-এ ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা, আমাদের আম্মা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল জাতীয় নেতাকে হত্যা করার জন্য এই তারেক রহমান বেগম জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল উপর্যুপরি, ডজনের পর ডজন গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল, ভুলে যাইনি আমরা।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা কথা বললে বিএনপি, বেগম জিয়ার গায়ে কাপড় থাকবে না। কাপড়চোপড় থাকবে না কারও গায়ে।' | 6 |
ঢাকা: বাজেট নিয়ে মানুষের আগ্রহ কতটা? সোজা কথায় অত হিসাব-নিকাশ তাঁরা বোঝেন না। তাঁরা শুধু বোঝেন, নুনটা, তেলটা আর চালটার দাম কমলো নাকি বাড়ল। তাই আজকে যে জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের দিন সে খোঁজ নেই অনেকের কাছেই। এমনকি আব্দুল হাই (৫৫) বেশ পুরোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলেও জাতীয় বাজেটে আগ্রহ নেই তাঁর। দক্ষিণ বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজারে এসেছিলেন চাল-ডাল কিনতে।আজ তো সংসদে বাজেট, খোঁজ আছে? মোটরসাইকেলে বসা অবস্থাতেই বললেন, নাহ! আসলে! মুখে সংকোচের হাসি। খোঁজ নাই কেন? কারণ, করোনা নিয়া সবাই ব্যস্ত, দেহেন না? কেমনে সুস্থ থাহন যাইবো হেই চিন্তা কইরাই তো কুল পাই না!অর্থমন্ত্রী তো বলেছেন এবারের বাজেট সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য। আপনি কি বলেন? নাহ্! মন্ত্রীর আশ্বাসে বিশ্বাস নেই আব্দুল হাইয়ের। রাজনীতিকদের ওপর থেকেই আস্থা উঠে গেছে তাঁর।'যেইভাবে দেশ চালাইতাছে দেহেন না? যে অবস্থা চলছে, সাধারণ মানুষ, গরিবের কোন উপায় আছে? জিনিসপত্রের দাম যে অবস্থা! তেল-টেল যা আছে সবই তো এক অবস্থা। ব্যবসা-বাণিজ্য আছে কিছু? দেশে খালি শিল্পপতি আর সরকার সচ্ছল।'জিনিসপত্রের দাম বাড়লে মানুষ অভিযোগ-আন্দোলন করে না কেন? আব্দুল হাই বলেন, সরকারের ভয়ে, মামলা-মোকদ্দমার ভয়ে। বিস্তর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কথা কইলেই তো বিভিন্ন ইস্যু দিয়া জেলে ভইরা থোয়। আপনেরা তো বোঝেন-ই। সরকারের লগে পারার তো কোন রাস্তা নাই। কথা বললেই বিপদ। এইভাবে যে কয়দিন চলে।২০২০-২১ সালের বাজেটের কেমন বাস্তবায়ন দেখলেন? আব্দুল হাই ইতিবাচক কিছুই দেখছেন না। বছরজুড়ে সংবাদমাধ্যমে দুর্নীতি লুটপাটের খবর দেখতে দেখতে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে গেছে-সব গেছে সরকারি লোকেদের পেটে!'তাতো দেখছেনই। কুটি কুটি (কোটি) টাকা কীভাবে আত্মসাৎ-লুটপাট করছে। সরকারের লোকেরা এই তো করতাছে, আর কি করতাছে? গরিব দিনে দিনে বাড়তাছেগা, সাধারণ মানুষ গরিব হইয়া যাইতাছেগা। যারা রাজনীতি করতাছে আর যারা আমলা তাঁরাই তো দ্যাশ বিদাশে বাড়িঘর করতাছে। আর সাধারণ মানুষ জায়গা জমি বেইচ্যা খাইতাছে, পেশা বদলাইতাছে।'তাহলে এবারের বাজেটে কি একুটও আশা দেখছেন না আব্দুল হাই? তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, হ্যাহ! সরকার যদি ঠিক না থাহে, মন্ত্রী মিনিস্টার যদি চোর থাহে, বাজেট জনগণের পক্ষে কেমনে আইবো? সরকার যদি চোর না আটকাইতে পারে সাধারণ মানুষ কিছু পাইবো? দেহেন নাই-করোনার মধ্যে কত রহমের সাহায্য আইছে। দেহেন মানুষ পাইছেনি। বিভিন্ন খবরে তো আইতাছে। মেডিকেলে দেহেন না? কুটি কুটি (কোটি) টাকা আত্মসাৎ করে; কানাডায় বাড়ি করে, ওইহানে বাড়ি করে। একজন মহিলা সচিপ (সচিব) কি করছে দেহেন নাই? একজন সাংবাদিক প্রতিবাদ করতে গেছে, হ্যারে (তাঁকে) জেলে ভইরা থুইয়া দেছে। বড়, সিনিয়র সাংবাদিকরেই যদি জেলে ভইরা রাহে, আমরা সাধারণ মানুষ কী?চোখেমুখে ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে সোজা টান দেন আব্দুল হাই। এ নিয়ে আর কথা বলার মতো প্রবৃত্তি যেন নেই তাঁর! | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা জ্যাক স্যুলিভান তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদের প্রতি তিউনিসিয়াকে শিগগির 'গণতন্ত্রের পথে' ফেরানোর জন্য রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার প্রেসিডেন্ট সাইদের সাথে দীর্ঘ এক ঘণ্টার ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান বলে হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে স্যুলিভান তিউনিসিয়ার অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিগগির সরকার গঠনের সাথে সাথে নির্বাচিত পার্লামেন্টের যথাসময়ে কার্যকর হওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তার গুরুত্বের কথা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে মৌলিক অধিকার, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসনের প্রতি প্রতিজ্ঞাভিত্তিক তিউনিসিয়ার গণতন্ত্রের প্রতি তার সমর্থন রয়েছে বলে জানান স্যুলিভান। ফোনালাপের বিষয়ে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এদিকে শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদের প্রতি দেশের রাজনৈতিক সংকটকে জটিলতার দিকে নিয়ে যাওয়া এড়াতে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে তিউনিসিয়ার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আননাহদা। বিবৃতিতে বলা হয়, 'ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য ও কার্যকর উপায় নয়। এর ফলে শুধু দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবিচারই বাড়বে।' আননাহদা বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার ও সাংবিধানিক বৈধতার শর্ত পূরণের সাথে সাথে সংকটের সমাধানে সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানায়। এর আগে ২৫ জুলাই করোনা পরিস্থিতিতে দেশটিতে সৃষ্ট দুর্যোগে আকস্মিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর রাতে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ দুই বছর আগে নির্বাচিত পার্লামেন্ট ৩০ দিনের জন্য স্থগিত, প্রধানমন্ত্রী হিশাম মাশিশিকে বরখাস্ত ও নিজের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা নেয়ার ঘোষণা দিয়ে আদেশ জারি করেন। তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক দলগুলো এই আদেশকে 'সাংবিধানিক অভ্যুত্থান' বলে অভিযোগ করছে। প্রেসিডেন্টের আদেশের জেরে ২৬ জুলাই দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আননাহদার প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার রশিদ গানুশিসহ দলীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও সমর্থকরা রাজধানী তিউনিসে পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদের সমর্থকরাও পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হয়। এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেন প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ। একইসাথে তিনজনের বেশি লোককে প্রকাশ্যে জমায়েত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন তিনি। সূত্র : আলজাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি | 3 |
ঘূর্ণিঝড় 'তাউটে' -এর দাপটে এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৯ জন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মুম্বই বিমানবন্দর। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করেছেন। দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছোনোর কাজ যাতে দ্রুত করা যায়, সেজন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু মহারাষ্ট্র নয়, গুজরাট, গোয়া, কর্নাটক, কেরালার উপকূলবর্তী এলাকাও লণ্ডভণ্ড করেছে ঘূর্ণিঝড় 'তাউটে'। তবে গুজরাট উপকূলে আছড়ে পড়ার পর শক্তি হারাল 'তাউটে'। ইতিমধ্যে তা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় তা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে 'তাউটে'-এর দাপটে মঙ্গলবারও উপকূলবর্তী গুজরাট এবং দক্ষিণ রাজস্থানের একাধিক জায়গায় দিনভর বৃষ্টি হবে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। মৌসম ভবনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার রাত নয় টা নাগাদ দিউ ও উনার মধ্যে গুজরাত উপকূলের সৌরাষ্ট্রে আছড়ে পড়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'তাউটে'। সেই সময় ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকে ঝড়। শেষ পর্যন্ত স্থলভূমিতে প্রবেশের প্রক্রিয়া রাত ১২ টা নাগাদ শেষ হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, 'তাউটে'-র প্রভাবে গুজরাতের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে। প্রবল বৃষ্টি হয়। ঝড়ের দাপটে জুনাগড়, আমরেলি এবং ভাবনগর জেলায় উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি। স্থানীয় বিধায়করা জানিয়েছেন, ওই জেলাগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ধসে পড়েছে। বিভিন্ন প্রান্তে নেই বিদ্যুৎ। গুজরাতের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (রেভিনিউ) পঙ্কজ কুমার জানিয়েছেন, আপাতত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। যদিও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাদের বক্তব্য, মঙ্গলবার সকালের পরই ক্ষয়ক্ষতির আসল ছবিটা বোঝা যাবে। কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সর্বত্র পৌঁছানো দুষ্কর হয়ে উঠেছে। স্থলভূমিতে প্রবেশের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়লেও 'তাউটে'-র ভালোমতো দাপট থাকবে। গুজরাত উপকূলের আমরেলি, ভাবনগর, বোতাড়ের মতো জায়গায় ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কখনও কখনও ঝড়ের বেগ পৌঁছে যেতে পারে ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটারে। দিউ, গির, সোমনাথ, জুনাগড়, সুরেন্দ্রনগর, রাজকোটের মতো জায়গায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। মৌসম ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় থাকবে 'তাউটে'। তারপর ধীরে ধীরে তা দক্ষিণ রাজস্থানের উপর নিম্নচাপে পরিণত হবে। 'তাউটে' -র প্রভাবে গুজরাত এবং দক্ষিণ রাজস্থানের একাধিক জেলার অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলবে। কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।
| 3 |
টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রোববার এই রায় দেয়। গত বৃহস্পতিবার এমপি রানার জামিন সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষ হয়।এর আগেগত ৮ মেটাঙ্গাইল-৩ আসনেরসংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন চার মাসের জন্য স্থগিত করেনসুপ্রিম কোর্টেরআপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ মামলা ছয় মাসের জন্য নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়।পরে্এমপি রানা গত ১৫ অক্টোবর তার জামিন বিষয়ে আদেশ সংশোধন চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৯ অক্টোবর আপিল বিভাগ এমপিরানার জামিন স্থগিতের আদেশ চলমান থাকবে জানিয়েএ সংক্রান্ত হাইকোর্টোর রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন।২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ শহরের কলেজপাড়ায় নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন উপপরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ (পিপিএম) হত্যাকাণ্ডে এ সাংসদের 'সম্পৃক্ততার প্রমাণ' পান।দীর্ঘ দিন তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক গোলাম মাহফীজুর রহমান। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর এমপি রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
| 6 |
সারোগেসির মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেয়ের জন্ম দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর মার্কিন গীতিকার ও সঙ্গীতশিল্পী নিক জোনাস। লস অ্যাঞ্জেলসেই মেয়ের দেখাশোনা করছেন তারা। প্রিয়াঙ্কার মা মধু চোপড়া সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রিয়াঙ্কা-নিকের মেয়ের স্বাস্থ্যের বিষয়টি খেয়াল রেখে এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে এখনও নাতনির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তিনি। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। ইন্সটাগ্রামের এক সেশনে প্রিয়াঙ্কার মা বলেন, নাতনিকে আমি এখনও দেখিনি। সে লস অ্যাঞ্জেলসে আর আমি ভারতে। মাঝেমধ্যে আমরা ফেসটাইম করি। আমার মনে হয় মেয়েটি বেশ হাসিখুশি। এখন এর বেশি আর কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। আপাতত মধু চোপড়া নাতনির দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, না বলতে নেই কখনও। ভারত তার মাতৃভূমি, সে নিশ্চয়ই ভারতে আসবে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস জানুয়ারিতে সারোগেসির মাধ্যমে জনক-জননী হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করেন। তবে সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে সে বিষয়ে তারা কিছু জানাননি। তবে এর কিছুদিন প্রিয়াঙ্কার এক স্বজন জানিয়েছিলেন, তারা মেয়েসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সামনে প্রিয়াঙ্কার 'জি লে জারা' সিনেমার শুটিং রয়েছে। তাই খুব দ্রুত তিনি ভারতে আসবেন বলে আশা করছেন তার মা। | 2 |
ভিন্ন মতের কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা প্রতিহিংসা বশত চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নিকৃষ্ট পথ বেছে নিয়েছেন। নির্বাচন বিষয়ে আমার ভিন্নধর্মী অবস্থানের কারণে সিইসি আমার চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন।'আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন।এ আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে মাহবুব তালুকদারকে একজন 'রোগাক্রান্ত ব্যক্তি' বলে উল্লেখ করেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, 'তিনি (মাহবুব তালুকদার) কখনো আইসিইউতে, কখনো সিসিইউতে থাকেন। সিঙ্গাপুরে ট্রিটমেন্ট (চিকিৎসা) করেছেন, ভারতে ট্রিটমেন্ট করেছেন। বছরে প্রায় ৩০-৪০ লাখ টাকার ট্রিটমেন্ট করেন, এটা নির্বাচন কমিশন বহন করে থাকে।'এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ পাল্টা বিবৃতি দিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।বিবৃতিতে মাহবুব তালুকদার বলেন, 'গত ২৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নির্বাচন ভবনে প্রেস কনফারেন্স করে আমার চিকিৎসার ব্যয় বছরে ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি অবশ্য খরচের প্রকৃত হিসেব প্রদান করেননি। তিনি আমাকে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি বলে উল্লেখ করে বলেছেন, আমি কখনো আইসিইউতে কখনো সিসিইউতে থাকি। কিন্তু ইচ্ছা করলেই কেউ আইসিইউ বা সিসিইউতে থাকতে পারে না।'নির্বাচন কমিশনার হওয়ার সময় থেকেই প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত জানিয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, 'ক্যানসার ক্রমাগত শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। আমি সিঙ্গাপুর ও ভারতের চেন্নাইয়ে ক্যানসারের চিকিৎসা করিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালের চার জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড দুই দফা শারীরিক পরীক্ষা করে সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমোদন দিয়েছেন।'নির্বাচন কমিশনারদের চিকিৎসাবিধি অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে উল্লেখ করে ইসি মাহবুব তালুকদার বলেন, 'তবে গত দুই বছরে আমি চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে বিদেশে যাইনি। বরং এই দুই বছরে চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ নিজের খরচে আমি আমেরিকা গিয়েছি। বর্তমানে কর্মরত নির্বাচন কমিশনারেরা এবং অবসরপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনাররা সবাই প্রাপ্যতা ও বিধি অনুযায়ী কমিশন থেকে চিকিৎসার খরচ নিয়ে থাকেন। কেএম নূরুল হুদা নিজেও নির্বাচন কমিশন থেকে চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়েছেন।'মাহবুব তালুকদার বলেন, 'নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অসুখের যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া আমার মৌলিক অধিকার। চিকিৎসার কারণেই আমি এখন পর্যন্ত বেঁচে আছি।' | 6 |
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব এবএিম রুহুল আমিন হাওলাদার। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এমপিও দেখা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে। ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ২টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তারা সিঙ্গাপুরের স্কটস রেসিডেন্সে আন্তরিক পরিবেশে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ওবায়দুল কাদেরের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনের অনেক সোনালি অধ্যায় নিয়ে কথা হয়েছে আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে। তিনি বলেন, অসুস্থ্যতার মাঝেও ওবায়দুল কাদের প্রতিটি মুহূর্ত দেশ ও দেশের মানুষের কথা ভাবছেন। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে ওবায়দুল কাদের আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। খুব দ্রুতই তিনি আবারো দেশের স্বার্থে অবদান রাখতে সমর্থ হবেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনে দেশবাসীর দোয়া আর ভালোবাসায় ওবায়দুল কাদের বেঁচে থাকবেন আরো অনেক বছর। দেশ ও দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ওবায়দুল কাদের যে অবদান রেখেছেন সেজন্যই এদেশের মানুষ আজীবন কৃতজ্ঞচিত্তে ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতা ও দীর্ঘজীবনের জন্য দোয়া করবেন। এসময় মিসেস ওবায়দুল কাদেরও উপস্থিত ছিলেন।সূত্র : প্রেস বিজ্ঞপ্তি | 9 |
রোববার সকালে ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের তারাকান্দা উপজেলার গোপালপুর বাজারে একটি পুরোনো প্রাইভেটকার অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। গাড়িটি পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী ও টহল পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে গাড়ির দরজা খুলে দেখা যায়, প্রাইভেট কারের যাত্রী আসনে তিনটি গরু। পুলিশ গাড়ি ও তিনটি গরু থানায় নিয়ে যায়। তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, 'ধারণা করা হচ্ছে চুরি করা তিনটি গরু গাড়ি করে নিয়ে যাওয়ার পথে গাড়ির চাকা অকেজো হয়। কিন্তু ভোরের আলোয় চতুর্দিক আলোকিত হয়ে যাওয়ায় হয়তো গাড়ি মেরামতের সময় না পাওয়ায় গাড়ি ও গরু রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। গরুর মালিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।' | 6 |
আগস্ট মাস বাঙালির কাছে শোক ও বেদনার মাস। বাঙালি হিসেবে আমরা যাঁদের নিয়ে গর্ব করি, গৌরব করি, তাঁদের কয়েকজনকে আমরা আগস্ট মাসেই হারিয়েছি। বাঙালিকে বিশ্বজনের কাছে পরিচিত ও সম্মানীয় করে তুলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি বাঙালিকে অসীম কান্নার সাগরে ভাসিয়ে শেষযাত্রায় শামিল হয়েছিলেন আগস্ট মাসেই।দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, গানের কবি, গজলের কবি কাজী নজরুল ইসলামের চিরবিদায়ের মাসও এটাই। 'আত্মঘাতী বাঙালি' লিখে খ্যাতি-অখ্যাতি কুড়ানো নীরদ সি চৌধুরীর মৃত্যুও আগস্টেই। সাম্প্রতিক কালের বাংলা কবিতার প্রধান কবি শামসুর রাহমানের চলে যাওয়ার মাসও আগস্ট। চিন্তায় ও মননে আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন-এমন আরও কতজন বাঙালিকেও আমরা এ মাসেই হারিয়েছি।সবচেয়ে বড় কথা, এই আগস্টেই আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আগস্ট তাই শোকের সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতার মাসও। বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা ছিল একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিকল্পনা। তাঁকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা, নানা অপবাদ-অভিযোগে হেয় করা, ছোট করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের ধারা থেকে উল্টো পথে চালিত করার অপচেষ্টা শুরু হয়।কারা ছিল ওই ঘাতক চক্র? ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ যেমন লক্ষ লক্ষ শহীদের জন্ম দিয়েছে, তেমনি বেঈমানও রয়েছে। এখানে রাজাকার-আলবদরও হয়েছে। এসব পরগাছার শিকড় তুলে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। কেউ কেউ আবার অতি বিপ্লবের নামে তলে তলে ষড়যন্ত্র করছে। ...বঙ্গবন্ধু শত্রু চিহ্নিত করেছিলেন ঠিকই। 'পরগাছার শিকড় পুড়িয়ে দেওয়ার' কথা বললেও সে লক্ষ্যে খুব বেশি দূর অগ্রসর হননি কিংবা হতে পারেননি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত হৃদয়বান মানুষ। তিনি মানবিক সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বেও ছিলেন না। কোনো বাঙালির হাতের অস্ত্র থেকে ছোড়া গুলি তাঁর বক্ষভেদ করবে-এটা ছিল তাঁর কল্পনারও অতীত।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। ঘোরতর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্যও ছিল তাঁর বুক উজাড় করা ভালোবাসা। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজাকারবৃত্তির কারণে চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী, খুলনার আব্দুস সবুর খান কারাগারে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে খাবার যেত ঠিকই। রাজনৈতিকভাবে বিরোধী আত্মগোপনে থাকা মোহাম্মদ তোয়াহার বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎ পেতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু তাঁকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে যে প্রতিহিংসার রাজনীতির সূত্রপাত হয়, তা আর বন্ধ হচ্ছে না। রাজনীতিতে উদারতা ও কঠোরতার যে সমন্বয় দরকার, বঙ্গবন্ধু তা করেননি।তিনি ছিলেন কেবলই উদার, মানবিক এবং সংবেদনশীল। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর রাজনৈতিক ব্রত থেকে তিনি বিচ্যুত হননি। সদ্যস্বাধীন দেশে গরিবের হক কেড়ে খাওয়া 'চাটার দল'-এর বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'স্বাধীনতা অর্জন করা যেমন কষ্টকর, তা রক্ষা করা তার চাইতেও কঠিন। দেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।'বাঙালির জাতিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক আগেই লিখেছেন: 'আসলে আমরা অক্ষম, দুর্বল ও হীনের যা ধর্ম, তাই অবলম্বন করি। সব বড়কেই, সব মহানকেই টেনে ধুলোয় নামিয়ে ধূলিসাৎ করলেই আমাদের আনন্দ। সবাইকে অবিশ্বাস ও হেয় করতে পারলেই আমাদের উল্লাস। এ দুর্ভাগা দেশে কোনো দিক দিয়ে যাঁরা বড় হয়েছেন, যেমন করেই হোক, তাঁদের ছোট প্রমাণ করতে না পারলে আমাদের স্বস্তি নেই।'অক্ষম, দুর্বল ও হীনের ধর্ম অনুসরণ করে যাঁরা পঁচাত্তর-পরবর্তী টানা ২১ বছর ক্রমাগত শেখ মুজিবকে ছোট করার অপচেষ্টা করেছেন, তাঁরা যে সফল হতে পারেননি-তা এখন স্পষ্ট। হাত দিয়ে সূর্যের আলো আড়াল করা যায় না। কোনো কাল্পনিক প্রতিপক্ষ দাঁড় করিয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে আড়াল করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুকে ছোট করতে গিয়ে কেউ বড় হতে পারবেন না। আবার তাঁকে অতিমানব হিসেবে প্রমাণ করার জন্য অহেতুক ঘাম ঝরানোরও কোনো প্রয়োজন নেই। হুকুম বা ফরমাশ দিয়ে লেখা ইতিহাস স্থায়ী হয় না। বঙ্গবন্ধু নিজেই ইতিহাসের নির্মাতা। তিনি বাঙালি জাতিসত্তার প্রথম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন।আর ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা যুগ যুগ ধরেই হয়েছে। ক্ষমতার রাজনীতির মোহে অন্ধ হয়ে কেউ কেউ ইতিহাস দখলের অপচেষ্টা করেননি তা নয়, তবে ইতিহাস কাউকে মার্জনা করে না। আগস্ট মাস এলে, বিশেষ করে ১৫ আগস্ট আমরা ঘটা করে শোক পালন করি, মুজিববন্দনায় মেতে উঠি। এর কতটুকু আন্তরিক আর কতটা লোক দেখানো, সে প্রশ্ন অবশ্যই তোলা যায়। মুজিবকে প্রকৃত অর্থে হৃদয়ে ধারণ করার জন্য যে পরিমাণ আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন, তার ছিটেফোঁটাও অনেকের মধ্যে দেখা যায় না।স্বার্থপরতার প্রতিযোগিতা, দুর্বৃত্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, ঔদ্ধত্যপনার মাধ্যমে মানুষের মন বিষিয়ে তোলা-এর কোনোটাই কি মুজিব-অনুরাগের সঙ্গে যায়? কোনটা সত্য-শোকের মাসের মাতম, নাকি বছরজুড়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকা? মানুষ ঠকানো, ধান্দাবাজি, খুনোখুনি, ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ যারা করে, তারা কী করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী হয়?একদিকে মুজিববন্দনা আর অন্যদিকে নীতিহীনতা চলতে থাকলে মানুষের মধ্যে যে বিরূপতা তৈরি হবে, তা দূর করা কিন্তু সহজ হবে না। তাই এখন শোকের মাসে সবচেয়ে বেশি দরকার আত্মশাসন, আত্মশোধন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতেও বিভিন্ন সময়ে নানা ক্ষেত্রে যেসব অপরাধকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়, তাকে খাটো করে দেখে বা ক্ষমতার রাজনীতিতে এমন হয়েই থাকে বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা সমর্থনযোগ্য নয়। ভবিষ্যতের জন্য এসব ঘটনা উদাহরণ হয়ে থাকবে এবং মুজিববিরোধী তথা আওয়ামী লীগবিরোধীরা এগুলো সুবিধামতো ব্যবহার করবে এবং তা আওয়ামী লীগের গায়ে কাঁটা হয়ে বিঁধবে।নানা ধরনের অপরাধমূলক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে কী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয়, তা গভীরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে ভোট চাইতে গেলে জবাবদিহি করতে হতে পারে। গত দুটি নির্বাচনে যেভাবে বা যে কৌশলে বৈতরণি পার হওয়া সম্ভব হয়েছে, পরের নির্বাচনে তা তো না-ও হতে পারে! মনে রাখতে হবে, মানুষ শুধু উন্নয়ন দেখে ভোট দেয় না, দেয়নি, দেবেও না। আর কর্তৃত্ববাদী শাসন না চাইলে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাইলে, মানুষকে তাঁর ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিকল্প নেই।মানুষ ভোটের আগে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের অনেক কিছুই বিবেচনায় নিয়ে থাকে। মানুষ নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো যেমন দেখে, তেমনি দেখে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত বিনয়, দেখে সদাচারও। আপনি যদি বিনয়ী না হন, আপনি যদি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন, তাহলে শুধু উন্নয়ন-মাদুলি আপনাকে তীরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে না। তখন গ্রহণ করতে হবে ছল-চাতুরী এবং শঠতার পথ। কিন্তু চালাকি করে মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না।তাই, আগস্ট মাসজুড়ে শুধু লোক দেখানো আয়োজনে নিমগ্নতা নয়, মুজিব-অধ্যয়নও চালাতে হবে আন্তরিকভাবে। তাঁকে জানা-বোঝার জন্য তাঁর লেখা তিনটি বই এখন সহজেই পাওয়া যায়। টুঙ্গিপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের পুত্র খোকা-শেখ মুজিব কীভাবে মুজিব ভাই থেকে বঙ্গবন্ধু এবং তারপর মানুষের হৃদয়মন্দিরে ঠাঁই করে জাতির পিতা হয়ে উঠলেন; সেটা না জেনে, ঠগবাজ হওয়া যাবে, মুজিব-আদর্শের অনুসারী হওয়া যাবে না।করুণ ও বেদনাময় আগস্ট মাসের সূচনালগ্নে মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।লেখক: সহকারী সম্পাদক, আজকের পত্রিকা | 8 |
ঘনিয়ে আসছে ক্রিকেটের মহারণের দিন। বাকি নেই দুই মাসও। আগামী ৩০ মে ক্রিকেটের তীর্থ ভূমি ইংল্যান্ডে বসবে বিশ্বকাপের ১২তম আসর। আইসিসি'র বেঁধে দেয়া ২৩ এপ্রিলের মধ্যে ঘোষণা করতে হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল। সব ঠিক থাকলে ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করবে। এপ্রিল থেকে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে থাকবে বাংলাদেশ। এরপর বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস সফরে থাকবেন টাইগাররা। সে হিসেবে প্রায় তিন মাস সফরে থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই সময়ে ক্রিকেটাররা চাইলে তাদের খাবারের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারটি মাথায় রেখে একজন বাবুর্চি পাঠাবে ক্রিকেট বোর্ড। আকরাম খান বলেন, 'ব্রিটেনে বাংলা খাবারে সমস্যা নেই। এরপরও খেলোয়াড়রা চাইলে বাবুর্চি পাঠাবো আমরা' এদিকে জানা গেছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই কোহলি-ধোনিদের জন্য বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে একজন বাবুর্চি পাঠাবে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
রাজধানীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন ইবনে মিজান রনি (৫০) নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে মতিঝিলের গোপীবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাত ৯টার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৩ এর যৌথ একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, তিনটি সিমকার্ড ও প্রতারণামূলক এসএমএসের আট পাতা স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার মিজানের বাড়ি চাঁদপুরে। বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতের্যাবজানায়, গত বছরের ২২ নভেম্বর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তরে আনসার পদে চাকরির জন্য একটি সুপারিশ পাঠানো হয়। এটিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষরটি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, ওই আবেদনটি প্রকৃতপক্ষে গ্রেপ্তার মিজানের। তিনি অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজান জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে সরকারের উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা, আমলা ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির তদবির বাণিজ্য করে প্রতারণা করেছেন। র্যাবএও জানায়, সিডিএমএস রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মিজান একজন পেশাদার প্রতারক। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধের সাতটি মামলা বিচারাধীন। এছাড়া এ ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। | 6 |
মাত্র কয়েকদিন বাকি ঈদুল আজহার। এ উপলক্ষে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইরের গরুর খামারিরা। এরই মধ্যে দেখা মিলেছে উপজেলায় একাধিক বড় গরু। এরমধ্যে ২৫ মণ ওজনের ফ্রিজিয়ান জাতের এ গরুটির নাম রাখা হয়েছে ''সিমবা''। বিশাল আকৃতির এ গরুটির মালিক চর আজিমপুর গ্রামে অবস্থিত ডেইরি ফার্ম ''কাইবেল বাংলাদেশ লিমিটেডের'' স্বত্ত্বাধিকারী আবিদ রেজা খাঁন। তিনি জানান, কোরবানীর উদ্দেশ্যেই ষাঁড়টি লালন-পালন করে বড় করেছেন। জঙ্গলের যুবরাজ শক্তিশালী সিংহের সাথে তুলনা করে নাম দিয়েছেন 'সিমবা'। নিজের খামার থেকেই গরুটি বিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আবিদ খাঁন। আবিদ রেজা খাঁন জানান, শখের বশে তিনি চর আজিমপুরে একটি ডেইরী ফার্ম করেছেন। কালো রঙের মধ্যে সাদা ডোরাকাটা 'সিমবা' নিজের খামারেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ষাঁড়টি লম্বায় সাড়ে ৮ ফুট। ওজন সাড়ে ৯০০ কেজি (প্রায় ২৫ মণ)। তিনি আরও জানান, নিয়ম মেনে গরুটিকে খাবার খাওয়ানো ও পরিচর্যা করা হয়। গম, খেসারির ভূসি, খৈল, জৈব সারের তৈরি কাঁচা ঘাস ও খড়ের মতো প্রাকৃতিক খাবারই দেয়া হয় সিমবাকে। চার দাঁতের এ ষাঁড়টির জন্ম ২০১৮ সালের ২৪ জুন। গরুটি তিনি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে আগ্রহী। কেউ যদি তার খামার থেকে গরুটি কিনতে চান তাহলে ০১৩০৫৮৪৬৬২৬ মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। সিংগাইর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক আহাম্মদ বলেন, ষাঁড়টি লালন-পালনের বিষয়ে আমি নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছি। আবিদ খাঁন সাহেব তার নিজের ডেইরী ফার্মে তৈরী জৈব সার ব্যবহার করে উৎপাদিত ঘাসসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটিকে বড় করেছেন। করোনাকালীন এ সময়ে ষাঁড়টির ন্যায্য মুল্য পাবেন বলেও প্রত্যাশা করেন। | 6 |
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে সিলেট জেলার বাম গণতান্ত্রিক জোট।আজ রোববার সন্ধ্যায় বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলার সমন্বয়ক ও ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার সভাপতি কমরেড সিরাজ আহমদ, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহ্বায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলার সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাছান, বাসদ জেলা সমন্বয়ক কমরেড আবু জাফর এক সংবাদ বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান।বিবৃতিতে বাম জোটের নেতারা বলেন, শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার আন্দোলনে পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমরা। ক্যাম্পাসে যেভাবে গুলি, টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে, তাতে আমরা হতভম্ব হয়েছি। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে এই পুলিশি হামলার বিচার করেছেন নেতারা।আরও পড়ুন:শাবিপ্রবিতে ছাত্রীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেলশাবিপ্রবির উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষার্থীরাশাবিপ্রবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা | 6 |
আদালতের নির্দেশে খুলনা জিআরপি থানার সাসপেন্ড ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড হয়েছে। বুধবার বিকেলে খুলনা জিআরপি থানায় এ মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে পিবিআইতে পাঠানো হবে বলে জিআরপি থানা
পুলিশ জানিয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে গত সোমবার দুপুরে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন
দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ ধর্ষণ মামলা দায়েরের আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন
আমলে নিয়ে পরে খুলনা জিআরপি থানায় মামলা রেকর্ড ও পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
দেন। মামলায় ওসি উছমান গণি পাঠান, ঘটনার রাতের ডিউটি অফিসার ও থানার তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তবে ওসি ছাড়া অন্যদের নাম নেই। মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার
পথে রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা কোনো কারণ ছাড়াই তাকে আটক করে। এরপর রাতে ওসি
লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে। পরে রাত দেড়টার দিকে ওসি চোখ বেঁধে তাকে থানার
একটি কক্ষে নিয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টায় তাকে তিনবার ওসি ধর্ষণ করে। মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, ওসি ওই
কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ডিউটি অফিসার তাকে ধর্ষণ করে। ডিউটি অফিসারের
পর তিন কনস্টেবল পর্যায়ক্রমে ওই কক্ষে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে
পাঁচ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। মামলার বাদী ওই নারী গত ২৮ আগস্ট খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হন। | 6 |
আগামীকাল থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টে অবকাশকালীন সময় বিচারকাজ পরিচালনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে ১০টি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে এসব বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ৪টি একক বেঞ্চ রয়েছে।সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে দেয়া প্রধান বিচারপতির আদেশে বলা হয়, আগামীকাল ৩ অক্টোবর রোববার থেকে ১৮ অক্টোবর সোমবার পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন করা হলো। যেসব বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে ফৌজদারি সংক্রান্ত মামলা, বিচারপতি এফ. আর. এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দেওয়ানি সংক্রান্ত মামলা, বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে ফৌজদারি সংক্রান্ত মামলা, বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে দুদক ও মানি লন্ডারিংয়ের আইনে আনা ফৌজদারি ও রিট, বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে রিট পিটিশন, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলী সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে ফৌজদারি সংক্রান্ত মামলা শুনানি ও নিস্পত্তি করবেন। এ ছাড়া বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে দেওয়ানি সংক্রান্ত, বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চে ফৌজদারি সংক্রান্ত, বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান এবং বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর একক বেঞ্চে আদিম অধিক্ষেত্রাধীন ও দেওয়ানি বিষয় সংক্রান্ত মামলা শুনানি ও নিস্পত্তি করবেন। সূত্র : বাসস | 6 |
ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলায় নিহত ও বেঁচে যাওয়া মানুষদের জন্য তাঁর প্রার্থনা সব সময় থাকবে। একই সঙ্গে শনিবার তিনি ওই হামলার পর পুনর্গঠনে একত্র হওয়া সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ কথা জানানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দেওয়া এক বার্তায় রানি বলেন, 'হামলার শিকার, বেঁচে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পরিবার ও পুরো জাতির পক্ষ থেকে প্রার্থনা থাকবে। এর পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজে যুক্ত ব্যক্তি ও উদ্ধারকর্মীদের জন্যও প্রার্থনা। ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকায় আমার প্রথম যাওয়ার বিষয়টি স্মৃতিতে উঠে আসছে। এটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমরা অনেক জাতি, বিশ্বাস এবং পটভূমি থেকে নিহতদের সম্মান করি এবং পুনর্গঠনে একত্র হওয়া সম্প্রদায়কে তাদের সহনশীলতা ও দৃঢ় প্রচেষ্টার জন্য শ্রদ্ধা জানাই।' বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ৯/১১-এর দুই দশক পূর্তিতে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তিনি তাতে বলেছেন, 'দুর্বৃত্তরা পশ্চিমা মূল্যবোধ ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এখন ২০ বছরের দৃষ্টিকোণ দিয়ে বলতে পারি যে তারা (জিহাদিরা) স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রে আমাদের বিশ্বাসকে নাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।' জনসন আরও বলেন, 'আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আমাদের কাছ থেকে যাদের কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মনে রাখার দৃঢ় সংকল্পকে শক্তিশালী করবে। সন্ত্রাসবাদের ব্যর্থতা এবং আমাদের মধ্যে বন্ধনের দৃঢ়তা প্রদর্শন করবে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার ২০তম বার্ষিকীতে নিহত প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ওই দিনের তিনটি হামলাস্থল পরিদর্শন করবেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন নিউইয়র্ক সিটিতে যাবেন। | 3 |
গাজীপুর মহানগরের বাসন এলাকা থেকে একটি মিপশ্চার মেশিন মাওনায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক হাজার ৩০০ টাকায় চালক সেলিম সরদারের পিকআপ ভাড়া নেয় শামীম ও মারুফ নামে দু'জন। বাসনের বারবৈকা মধ্যপাড়া এলাকায় পাকা রাস্তার পাশে একটি বাগানের ভেতর পরিত্যক্ত জায়গায় নেওয়া হয় পিকআপচালক সেলিমকে। সেখানে ওতপেতে থাকে আমিনুল, এনামুলসহ তাদের অন্য সহযোগীরা। একপর্যায়ে সেলিমকে পিকআপ থেকে নামিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে ওই পিকআপটি নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ৩১ আগস্ট রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন পুলিশ সেলিম সরদারের লাশ উদ্ধার করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। নিহত সেলিম সরদার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পশ্চিম উদয় নগরের শাহ জামাল সরদারের ছেলে। তিনি মহানগরের জয়দেবপুর ফুয়াং গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে নিজের পিকআপ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) রেজওয়ান আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে রোববার জানান, পিকআপচালক সেলিম সরদার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত সাতটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলো- হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দৌলতপুরের আবদুল বাসেদের ছেলে মারুফ হোসেন, চারিগাঁও গ্রামের রমিজ আলীর ছেলে আবদুল আহাদ, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সানন্দাখালী গ্রামের হারেস আলীর ছেলে এনামুল, শেরপুরের টিকারচর এলাকার মোতালেবের ছেলে আমিনুল ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের রফিজ মণ্ডলের ছেলে শামীম। তারা সবাই গাজীপুর মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ডাকাতি ও ছিনতাই কাজ করে আসছিল। তাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আরও পিকআপ ছিনতাই করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকার, সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, বাসন থানার ওসি মালেক খসরু খান। | 6 |
২০১৯ সাল জনসংখ্যা ও উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের (আইসিপিডি) ২৫ বছর পূর্তির বছর। এ বিবেচনায় এ বছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে-'জনসংখ্যা ও উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ২৫ বছর: প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন'। ১৯৯৪ সালের ৫-১৩ সেপ্টেম্বর মিসরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর ১৭৯টি দেশ এবং ১১ হাজার অংশগ্রহণকারী জনসংখ্যা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত যে কর্মসূচি চূড়ান্ত করে, তার কেন্দ্রে রয়েছে অধিকার ও উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবার পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব প্রদান করা হয়, যা জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি-পরিকল্পনায় সংযুক্ত হয়। ফলে আইসিপিডি-জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ে জনসংখ্যার গুণগত দিক ও অধিকারের বিষয়টি প্রথমবারের মতো বিশেষ গুরুত্ব পায়। জনসংখ্যা ও উন্নয়নবিষয়ক যুগান্তকারী এ সম্মেলনের ২৫ বছর পূর্তিতে আমাদের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে দরকার প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন। লক্ষণীয় যে আইসিপিডি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যেমন সরকারের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ (২০১৮), মাথাপিছু দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়ে এখন ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ (বিবিএস ২০১৬)। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা (১৫-৫৯ বছর) এখন সবচেয়ে বেশি (৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ, এসভিআরএস ২০১৮) আর নির্ভরশীলতার হার এখন সবচেয়ে কম। ফলে জনমিতির লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগের সময়কাল পার করছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ের সমতার ক্ষেত্রে রয়েছে লক্ষণীয় সাফল্য। পাঁচ বছরের নিচে বয়সীদের ক্ষেত্রে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৩৮-এ নেমে এসেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালের মোট প্রজনন হার ৩ দশমিক ৪ থেকে ২ দশমিক ৩-এ এসেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে । দেশের মানুষের গড় আয়ু এখন উন্নীত হয়েছে ৭২ দশমিক ৩ বছরে। এসব অগ্রগতির পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জ কিংবা অসম উন্নয়নও লক্ষণীয়। যুবগোষ্ঠী ও দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। বেকারত্বের হারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আয়বৈষম্যে কোনো উন্নতি হয়নি, বরং বেড়েছে। প্রাথমিক স্কুলে ঝরে পড়ে ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ আর মাধ্যমিকে ৬৯ শতাংশ (২০১৮, ইউএনডিপি)। দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে (৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ-ইউএনডিপি, ২০১৮)। জলবায়ুর পরিবর্তন বা পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে শহরে স্থানান্তরিত হচ্ছে মানুষ। নগরজীবনে উদ্ভূত হচ্ছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। এখানে নারী, কিশোর-কিশোরী ও যুবগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এখনো দেশে বাল্যবিবাহের হার ৫৯ শতাংশ (ইউএনএফপিএ ২০১৯)। কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণের হার অনেক বেশি (৩১ শতাংশ-বিডিএইচএস ২০১৪, যা ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ শতাংশ)। ২০১১ ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের তথ্যানুযায়ী, প্রজনন হার হ্রাসে কোনো অগ্রগতি হয়নি, ২ দশমিক ৩-এ আটকে আছে। জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহারের হারেও নেই অগ্রগতি (৬২ শতাংশ, বিডিএইচএস ২০১৪)। জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৭-১৮ সালের বিডিএইচএস জরিপেও রয়েছে তা অপরিবর্তিত। ১৫-৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অপূর্ণ চাহিদার হার ১২ শতাংশ হলেও ১৫-১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে তা বেশি (১৭ শতাংশ)। তার ওপর 'জাতীয় জনসংখ্যা নীতি ২০১২' অনুযায়ী, এ-সংক্রান্ত জনসংখ্যা নীতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি। আর সরকারের বাংলাদেশ রূপকল্প (২০১০-২১), সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০)-এসব নীতি-কর্মকৌশলে রয়েছে অসামঞ্জস্যতা। এ ছাড়া এখনো বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেশি। সেই সঙ্গে অসংক্রামক ব্যাধিতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জনসংখ্যার বয়স কাঠামোতে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তনে জনমিতির লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগ থাকলেও তা নির্ভর করছে সৃষ্ট এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করার ওপর। আমাদের গবেষণাকর্ম বলছে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার এ সম্ভাবনা রয়েছে ২০৪০ সাল পর্যন্ত। গবেষণা সূত্রে জানা যায়, দেশে এখন প্রতিবছর ২১ লাখ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী জনসংখ্যায় যোগ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (২০১৬) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫-২৪ বছর বয়সী যুবগোষ্ঠীর ৪০ দশমিক ৩ শতাংশই শিক্ষা, চাকরি অথবা প্রশিক্ষণের কোনোটিতেই নেই। জনসংখ্যা নীতির বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ। পরিষদ গত ৯ বছরে এ-সংক্রান্ত কোনো সভা করেনি। তার ওপর ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে জানা যায়, 'দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়' স্লোগানের পরিবর্তন করে 'ছেলে হোক, মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট' স্লোগান ব্যবহারের তাগিদ। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এ স্লোগান পরিবর্তনের বিষয়টি কতটুকু যুক্তিযুক্ত হয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব, শ্রমবাজারে নারীদের কম অংশগ্রহণ, কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় স্থানীয় ও পরিবর্তিত বিশ্ববাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া। শুধু বাল্যবিবাহের কারণেই অর্ধেকের বেশি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন হবে আমাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ছাড়াও আমাদের দরকার পরিবার পরিকল্পনা করা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার নিশ্চিতকরণ ও নারীর ক্ষমতায়ন। আইসিপিডিতে এসব বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে 'উন্নত' দেশের কাতারে পৌঁছাতে হলে সরকারকে আইসিপিডি সম্মেলন পরবর্তী অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ মূল্যায়ন করে এখনই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন ইস্যুগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনাতে সমন্বয় ও একীকরণ করতে হবে । ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান [] | 8 |
ভোলার লালমোহনে মাহেন্দ্রের ধাক্কায় অটোরিকশ থেকে ছিটকে পড়ে আনিসুল হক করাতি (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লালমোহন-মঙ্গল সিকদার সড়কের সাজি চৌমুহনী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।জানা যায়, নিহত আনিসুল হক উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দা।নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আনিসুল হক সন্ধ্যার দিকে অটোরিকশাযোগে লালমোহন থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী মাহেন্দ্র পেছন থেকে অটোরিকাশাকে ধাক্কা দিলে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কারো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় ১৫ আগস্ট। তার আগে ১৪ আগস্ট দিনটি ছিল ইভেন্টফুল, মানে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছিল ওই দিন। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা জিনিস পরিষ্কার, যা আমি অনেকবার বলেছি বা লিখেছি। ১৫ আগস্ট এক দিনে ঘটেনি। এর পেছনে আরও ষড়যন্ত্র ছিল, সেটা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এবং তাতে কারা কারা জড়িত আর সেটা কীভাবে হতে পারে, তা যাঁরা জেনেছেন, বলারও চেষ্টা করেছেন।মুশকিল হচ্ছে, দেশের মানুষের ওপর বঙ্গবন্ধুর খুব বেশি আস্থা ছিল। তিনি মনে করতেন, জাতির পিতাকে কেন কেউ হত্যা করবে? ১৪ আগস্টে ঘটনাটা হচ্ছে এ রকম, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু যাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাতে সমাবর্তন বক্তৃতা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন, 'আমি এক্সটেম্পোর বক্তৃতা করব, তোমরা শুধু পয়েন্টগুলো লিখে দেবে। কার্ডে মোটা মোটা অক্ষরে লিখে দেবে, যেন আমার দেখতে সুবিধা হয়।'সন্ধ্যায় গণভবনে এলেন মোকাম্মেল হক, তিনি তখন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা সচিব। তারপর এলেন ম্যাক স্যার, মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, তিনি তখন শিক্ষামন্ত্রী। পরদিন কী হবে না-হবে, তার বিবরণ একটার পর একটা লেখা হচ্ছিল। এ ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে ছিলেন মাহবুব তালুকদার। তিনি তখন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারি। তিনি আমার সহকারী ছিলেন। উনি বঙ্গভবনে আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করতেন। পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু যখন রাষ্ট্রপতি হলেন, তখন তিনি এখানে চলে এলেন।যা হোক, সবাই মিলে পয়েন্টগুলো লেখা হতে লাগল।এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু মাঝে আমাকে ডাকলেন, 'আসো এখানে।' আমিও তখন পয়েন্টগুলো তৈরি করতে নোট নিচ্ছিলাম। আমি মাহবুব তালুকদারকে বললাম, 'তুমি নোটগুলো নাও, আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে আসি।'ইতিমধ্যে একটা টেলিফোন এল। ভারতীয় একটা হেলিকপ্টার বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, সেটা নোয়াখালীর রামগতির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। বাজারে গুজব যে নিচে থেকে গুলি করে হেলিকপ্টারটিকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এখন এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করা এবং কীভাবে এটাকে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে, সেটা ঠিক করা দরকার। এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার না, এটা খোদ যিনি রাষ্ট্রপতি এবং জাতির পিতা, তাঁর অনুমোদন দরকার। আমি প্রথমে ঘটনা জানার চেষ্টা করলাম। তখনকার দিনের বিমানবাহিনীর উপপ্রধান খাদেমুল বাশার আমাদের স্কুলের বন্ধু। আমি বাশারকে টেলিফোন করলাম ঘটনাটা আসলে কী, তা জানতে। বাশার আমাকে জানাল, 'ভারতীয় হেলিকপ্টার যাচ্ছিল। রামগতিতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে গেছে। হেলিকপ্টারে যারা ছিল, তাদের লাশ ভারতে হস্তান্তর করার কাজ চলছে।'আমি এটা জেনে বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলাম। বললাম, 'স্যার এ রকম ঘটনা।'তিনি বললেন, 'আমি জেনেছি।' তারপর বললেন, 'আমরা কী করব নিউজটা নিয়ে?'এ কথা জিজ্ঞেস করার কারণ হলো, তখন দেশে জরুরি অবস্থা জারি আছে। তাই এ রকম খবর দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন এবং কীভাবে যাবে, সেটাও ঠিক করা দরকার। আমি বললাম, 'এই নিউজটা কি যাবে?'এখানে বঙ্গবন্ধুর যে নির্দেশনা, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বললেন, 'দেখো, ঘটনা চেপে যেও না। জানিয়ে দাও, যা ঘটেছে। এতে আমাদের তো কিছু করার নেই। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা লাশ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করছি।'আমি বঙ্গবন্ধুর ঘর থেকে চলে এসে নিজের জায়গায় বসেছি। লিখছি, এ সময় ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ফোন এল: 'আপনারা নিউজটা দিচ্ছেন কি?'বললাম, 'আমরা দিচ্ছি।''দিচ্ছেন? এ সিদ্ধান্তটা কোন পর্যায়ের?'আমার তখন একটু মনে হলো, এভাবে তিনি প্রশ্ন করছেন কেন? বললাম, 'সর্বোচ্চ পর্যায়ের।'ভারতের উদ্বেগের কারণ ছিল। তাদের দেশেও তখন জরুরি অবস্থা চলছিল। এ রকমভাবে বাংলাদেশে তাদের একটা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে, তাতে এত সৈন্য মারা পড়েছে, এই কৈফিয়ত তাদের দিতে হবে তো।যাই হোক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুর টেলিফোন করেছিলেন নিউজটা কীভাবে যাচ্ছে জানার জন্য। আমি তাঁকে বললাম, 'আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটা হচ্ছে বিএসএস আরেকটা পিআইডি। দু জায়গায়ই বলে দেওয়া হয়েছে। আপনাকে জানাবে।'এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু এসে আবার বললেন, 'তোমরা সমাবর্তনের পয়েন্টসগুলো লেখো। পয়েন্টগুলো লেখা হলে তুমি রাতে জানাবে।'আমরা যখন ওটা তৈরি করেছি, ওই দিন আবার গণভবনে একটা ডিনার ছিল। তখনকার দিনে ডিনার-টিনার এখনকার মতো করা যেত না। আমরা ১০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে এই ডিনারের আয়োজন করেছিলাম মশিউর রহমান, ফরাসউদ্দিন আর মনোয়ার হোসেনের বিদেশযাত্রা উপলক্ষে। তাঁরা হার্ভার্ড আর এমআইটিতে যাচ্ছিলেন ডক্টরেট করার জন্য। তাঁদের বিদায় জানানোর জন্য এই ডিনার। আমাদের সচিব যিনি ছিলেন, একজন হলেন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার সেক্রেটারি আবদুস সাত্তার আরেকজন সচিব আবদুর রহিম। তাঁরা বললেন, ডিনারে থাকতে পারবেন না। তাঁদের গুলশানে এক বাড়িতে দাওয়াত আছে, সেখানে যেতে হবে।আমি বললাম, 'ঠিক আছে।'এরপর বাড়িতে চলে এসেছি। হাতে লিখতে হচ্ছে, তাই সময় লাগছিল। বাসায় বসে পয়েন্টগুলো লিখছি কার্ডে মোটা মোটা অক্ষরে।এর মধ্যে রাত ১২টার পর বঙ্গবন্ধু টেলিফোন করেছেন, 'কাল সকালে তাড়াড়াড়ি এসো। আমি এস্কটেম্পোর বক্তৃতা দেব।' বিভিন্ন সময়ে আগেও বলেছেন, সেদিন সন্ধ্যায়ও বলেছেন, রাত ১২টার দিকেও বললেন, 'একসময় ঢাকা ইউনিভার্সিটি আমাকে বহিষ্কার করেছিল। এরপর আমি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাইনি।'বললেন, 'আমার অনেক রাজনীতির কথাও বলার আছে ওখানে।' বঙ্গবন্ধুর পয়েন্টসগুলোর মধ্যে খুব ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার ছিল। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু ম্যাক স্যারকে বলে দিয়েছিলেন, 'এই বাংলাদেশে লেখাপড়া হয় কিন্তু গবেষণা হয় না। গবেষণার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দীর নামে।'আমাকে বললেন, 'পয়েন্টগুলো ভালোভাবে লিখছ তো?'বললাম, 'হ্যাঁ।'বললেন, 'কাল সকাল সকাল চলে আসবে। এগুলো একবার দেখব। তারপর ইউনিভার্সিটিতে যাব।' সকালে যখন গোলাগুলির শব্দ শুনলাম, তখন প্রথমে ধারণা হয়েছিল, নকশালরা গোলমাল করছে কিংবা সিরাজ শিকদারের লোকজন গোলমাল শুরু করেছে। যখন রেডিওতে ঘোষণা হয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সবাই ভেঙে পড়েছে।বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাত ১২টার দিকে সেটাই ছিল আমার শেষ কথা।পরে যখন অনেক সময় ভেবেছি, ঘটনাটা শুধু এভাবে ঘটল? কয়েকজন বহিষ্কৃত সেনাসদস্য কি তা ঘটাতে পারে? তা তো হতে পারে না। ঘটনার পেছনে কী কী ছিল?কয়েকটা ঘটনা মনে পড়ল। একবার বঙ্গবন্ধু একটা ইংরেজিতে টাইপ করা চিঠি দিয়ে বললেন, 'এটা নাও।'নিলাম।'তোমার কাছে রাখো।'আমি ওটা পড়তে গিয়ে দেখি, একটা ইয়ং অফিসার্স নামে টাইপ করা। তাতে সিনিয়র অফিসারদের কে কী চরিত্রের লোক, তার ব্যাখ্যা করা আছে। বঙ্গবন্ধু বললেন, 'আমি জানি। এদের প্রত্যেকের চরিত্র জানি। ওটা রেখে দাও।'আমি এগুলো বাড়ি নিয়ে যাইনি। অফিসেই ছিল। ১৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তাই কী হয়েছে সেই চিঠিটার, তা আর জানা হয়নি।১৫ আগস্ট সকালে আমার মেয়েরা স্কুলে যাবে বলে তৈরি হচ্ছিল। ঘটনা শোনার পর আমি লাল টেলিফোনে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করলাম। যাঁরা বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা, নিরাপত্তার জন্য তথ্য সংগ্রহ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাঁদের টেলিফোন করেছি। এঁদের নাম এখন আর বলব না। তাঁরা মারা গেছেন।প্রধম যাঁকে ফোন করলাম, তাঁদের একজন বললেন, 'হ্যাঁ, তাই তো শুনছি। কিন্তু আমি তো কিছু বলতে পারব না।'গোযেন্দা বিভাগের প্রধান বলেছেন, 'শুনছি। দেখি।'ফরাসউদ্দিন সে সময় বঙ্গবন্ধুর প্রাইভেট সেক্রেটারি-২ ছিল। ওকে ফোন করলাম। ফরাস প্রথম উৎসাহের সঙ্গে জানাল, 'একদল লোক অভ্যুত্থান করার চেষ্টা করেছিল। জামিল ভাই (কর্নেল জামিল) ওদিকে চলে গেছেন। ৩২ নম্বরের দিকে। আমিও ওখানে যাচ্ছি।'আমিও উৎসাহিত হলাম। ভাবলাম, অভ্যুত্থার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।কিন্তু পরে তো জানলাম, জামিল সাহেবকে ওখানেই সোবহানবাগ মসজিদের কাছে মেরে ফেলেছে। ফরাসকে পিটিয়েছে, তারপর বের করে দিয়েছে। আমি যখন ফরাসের কাছে পরে গেলাম, বুঝলাম, খুব ঝুঁকিপূর্ণভাবেই সে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিল। একজন বুরোক্র্যাট বা আমলা হিসেবে সে এতটা সাহসের পরিচয় দেবে, সেটা ভাবিনি।সকালে ছোট ভাই বাচ্চুসহ বের হলাম। দেখতে চাইছিলাম, রাস্তায় লোকজন বের হয় কিনা। মোহাম্মদপুরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। মোদাব্বের সাহেবের রাড়ির কাছে গিয়ে শুনলাম বিহারিরা বলছে 'এ লোগ ভাগ রাহা হায়।' ওদের তাড়া করলাম। তখন দেখলাম, গাড়িতে কালো পোশাকের সৈন্য দল। বুঝলাম, আর বাইরে থাকা যায় না।এর মধ্যে এসপি মাহবুবের একটা ফোন এল। লাল টেলিফোনে। তিনি আসলে ফোন করতে চেয়েছিলেনরক্ষীবাহিনীর সেকেন্ড ম্যান আর্মির কর্নেলকে। তিনিও মুক্তিযোদ্ধা। লাল টেলিফোন তাঁর কাছে যাওয়ার কথা। এসেছে আমার কাছে। মাহবুব বলছে, 'আমি চেষ্টা করছি। দেখি কাকে কাকে অর্গানাইজ করতে পারি।'এসপি মাহবুব তাঁর মতো করে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পেরে ওঠেননি।বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ ফোন করেছিল। এনায়েতুল্লাহ খান খুব উৎসাহ নিয়ে ফোন করে বলেছে, 'ইয়ং অফিসাররা দারুণ কাজ করে ফেলল। আপনার চিন্তা নেই, থাকেন।'ফয়েজ আহমদ ফোন করে বললেন,' ঘটনা খুব গোলমেলে, সাবধানে থাকবেন।'আর কেউ ফোন করেনি। আমি কিছু কিছু ফোন করেছি। যাঁদের জানার কথা, তাঁরা সবাই এমনভাবে কথাবার্তা বলেছেন যে মনে হয়েছে এঁরা প্যাসিভলি বা জেনেশুনে এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করেছেন।এখন কয়েকটি কথা মনে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর দিক থেকে কতগুলো জিনিস বলব। এ রকম ঘটনা তো জানার বা আলোচনা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কেউ কেউ কি আগে থেকেই জানত?১৫ আগস্টের ঘটনার আগে জুন মাসের একটা ঘটনার কথা মনে পড়ল। ৭ জুন বাকশালের একটা সরকারি ঘোষণা হলো। এখন যেখানে ডিএফপি অফিস, সেখানে আগে ছিল একটা অফিস, যেখানে আওয়ামী লীগ অফিস করল। বৃষ্টির মধ্যে সেখানে হাজারে হাজারে মানুষ দল বেঁধে বাকশালে জয়েন করতে এসেছিল। কাজ শেষ করে বঙ্গবন্ধু বাড়ি চলে এলেন। সঙ্গে এলাম আমি, হানিফ আর মহিউদ্দিন। বাড়িতে এসে বঙ্গবন্ধু তিনতলায় বসতেন। ওখানে বসে বারান্দামতো যে জায়গাটা আছে, সেখানে আলোচনা করতেন। আমি বঙ্গবন্ধুকে সেখানে রেখে নিচে এসে দেখি জিয়াউর রহমান বসে আছেন। বললাম, 'আরে আপনি এখানে!'জিয়াউর রহমান বললেন, 'দেখেন তো তোয়াব সায়েব। বাকশালে আমার নাম নেই। এটা কী রকম কথা। আমি কেন বাকশালে থাকব না?'বললাম, 'দেখা করবেন?'বললেন, 'হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুকে বলার জন্য এসেছি।'বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে বললাম, 'স্যার, জিয়াউর রহমান এসে বসে আছেন।'বঙ্গবন্ধু বললেন, 'নিয়ে আস তারে।'আমি জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে দিয়ে চলে এসেছি।ব্যাপার হচ্ছে, পরবর্তীকালে বিভিন্ন ডকুমেন্ট আমি পড়েছি। তাদের মধ্যে একজনের কথা পড়েছি, যিনি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে। চট্টগ্রামের একজন। জুলাই মাসের দিকে জিয়াউর রহমানকে জিডিআরের (তখনকার পূর্ব জার্মানি) অ্যামবাসেডর করে পাঠানোর কথা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান এক মাস সময় চেয়েছেন। বিভিন্ন লেখায় এ বিষয়টা দেখেছি। এক মাস সময়। তখন জুন মাস। ঘটনাগুলো মেলালেই বোঝাই যায়।১৫ আগস্ট-সংক্রান্ত দুটো বাক্য স্মরণীয় হয়ে থাকা উচিত। একটা হলো, একজন বঙ্গবন্ধুকে বলছেন 'আপনি পালাতে পারেন নাকি দেখেন।'বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার খবর পেয়ে বলা আরেকটা বাক্য, 'সো হোয়াট? ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার।'সব বাদ দিলাম। অসাংবিধানিকভাবে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে! সে কথাটাই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। | 5 |
পিরোজপুরে সন্তানের হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন নিহতের বাবা-মা, পরিবার ও এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাইনখালী গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত রুমান হোসেনের বাবা রফিকুল ইসলাম ফকির, মা রেকসোনা ফকির, ভাই লিমন ফকির, শাশুড়ি লাইলী বেগম, চাচা শহিদুল ইসলাম ফকির, ইউপি সদস্য হাসান হাওলাদারসহ আরও অনেকে।ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শংকরপাশা ইউনিয়নের বাইনখালী গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার, আলতাফ হাওলাদারের ছেলে বাচ্চু হাওলাদার, ইমাম হাওলাদার, আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে আল-আমিন হাওলাদার, শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে সাইমন হাওলাদার ও তাদের সহযোগীরা নিহত রুমানকে ডিভাইন গ্রুপে কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর আর্থিক ও পারিবারিক সামান্য কিছু বিষয় নিয়ে তাঁর কর্মস্থলে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তবে এ ঘটনায় যশোর জেলার চৌগাছা থানায় মামলা না নেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে সাজানো হয়েছে।এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।উল্লেখ্য, গত রোববার ভোরে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাইনখালী গ্রামের রফিকুল ইসলাম ফকিরের ছেলে রুমান হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। | 6 |
হালুয়াঘাট উপজেলায় কৃষক দলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নে এই সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে প্রান্তিক পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আ. সাত্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবদুল আজিজ খান। এ সময় দলের উপজেলা পর্যায়ের সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে ধারা ও কৈচাপুর ইউনিয়নে কর্মী সম্মেলন করেছে কৃষক দল। | 6 |
চলতি বছরের প্রথম পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার (১৬ মে)। দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপ, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ অংশ, দক্ষিণ আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক এবং অ্যান্টার্কটিকাসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। আজ শনিবার জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, 'দিনের বেলায় এই চন্দ্রগ্রহণ হওয়ায় বাংলাদেশে তা দেখা যাবে না। তবে সৌরজাগতিক এ ঘটনা সবার জন্য শিক্ষণীয়।' উল্লেখ্য, চাঁদ যেমন পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে তেমন পৃথিবীও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এভাবে একটা সময় চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে এক সরলরেখায় আসে। যখন এই সরলরেখায় পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়ার জন্য চাঁদে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে চাঁদকে তখন কিছু সময়ের জন্য দেখা যায় না। অর্থাৎ পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো দর্শকের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন একে সংক্ষেপে চন্দ্রগ্রহণ বলে। এই সময় পৃথিবী, সূর্যকে আংশিক ঢেকে নিলে পৃথিবীর জন্য চাঁদকে আংশিক দেখা যায় না, একে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ বলে। আর পৃথিবী সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে নিলে পৃথিবীর জন্য চাঁদকে পুরোপুরি দেখা যায় না, একে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বলে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
কিছুদিন আগে মৌলবাদ নিয়ে একটি বিশেষ কবিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিতর্কের মুখে পড়েন ভারতের কবি শ্রীজাত। এই ইস্যুতে শ্রীজাতকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে মিছিল আহ্বান করেন আরেক কবি ও ঔপন্যাসিক মন্দাক্রান্তা সেন।
ওই বিশেষ পোস্টটিতে বুধবার সকালে 'রাজা দাস' নামের একটি প্রোফাইল থেকে একটি অকল্পনীয় অশ্লীল মন্তব্য করা হয়। দেওয়া হয় গণধর্ষণের হুমকি।
কবি মন্দাক্রান্তাকে গণধর্ষণের হুমকির ঘটনায় নিন্দার ঝড় নাগরিক সমাজে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন নাগরিক কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়।
| 3 |
কাফনের কাপড় পরে ভোটের মাঠে প্রচারণা চালিয়েছিলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন সরদার। তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তিনি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগর হাওলাদারকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলাউদ্দিন সরদার চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৯৫৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের নাগর হাওলাদার পেয়েছেন ২ হাজার ৩৭০ ভোট।আলাউদ্দিন সরদার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে ভোটের মাঠে লড়াই করেন। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ছিলেন। পরে অবশ্য তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।এ ছাড়া কুতুবা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া, বড় মানিকা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত জসিম উদ্দিন হায়দার, হাসান নগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত আবেদ চৌধুরী, কাচিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুর রব কাজী, দেউলা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) অ্যাডভোকেট এ কে এম আসাদুজ্জামান বাবুল ও টগবী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।বোরহানউদ্দিন উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ গতকাল রোববার রাতে তাদের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। | 6 |
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে তাঁরা মারা যান। এর আগেরও ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।আজ সকালে হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে নতুন ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীর ৩ জন, নওগাঁর ১ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও পাবনার ২ জন করে মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে রাজশাহীর ২ জন এবং নাটোর ও পাবনার ১ জন করে করোনা পজিটিভ ছিলেন। নওগাঁর আরেকজন করোনা নেগেটিভ হলেও শারীরিক নানা জটিলতায় করোনা ইউনিটে মারা গেছেন। বাকি পাঁচজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান।মৃতদের মধ্যে ১০ জনের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩১-৪০ বছর বয়সের মধ্যে একজন নারী; ৪১-৫০ বছরের মধ্যে একজন করে নারী ও পুরুষ; ৫১-৬০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুজন নারী এবং ষাটোর্ধ্ব দুজন করে নারী ও পুরুষ ছিলেন। এ পর্যন্ত চলতি মাসে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।আজ সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৫৭ জন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন ৮৪ জন। এ ছাড়া করোনা নেগেটিভ হলেও শারীরিক নানা জটিলতায় করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন আরও ৪৮ জন রোগী।হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট রোগীর সংখ্যা ২৮৯ জন। তাঁদের মধ্যে রাজশাহীর ১৩০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৪ জন, নাটোরের ৪৪ জন, নওগাঁর ২৩ জন, পাবনার ৪৪ জন, কুষ্টিয়ার ছয়জন, মেহেরপুরের দুজন এবং চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর ও টাঙ্গাইলের একজন করে রোগী ভর্তি ছিলেন।সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল র্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং আরটি-পিসিআর মিলে জেলায় মোট ৭০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৮০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে সংক্রমণের হার ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর শুধু দুটি আরটি-পিসিআর ল্যাবে সংক্রমণের হার ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। | 6 |
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে বঙ্গবন্ধু কর্নার এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কর্নার এর শুভ উদ্বোধন করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। শনিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উদ্বোধন শেষে বঙ্গবন্ধু কর্নার পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। ওই সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী, উপাধ্যক্ষ ডা. হাবিবুল্লাহ সরকার, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামীম ইয়াজদানী, স্বাচিপ রামেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান খান বাদশা, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এফএমএ জাহিদ, রামেক শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ডা. মনন কান্তি দাস ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ইমরান হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.