text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।
সোমবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক। হাইকোর্টেও যাতে এই রায় বলা থাকে।'
নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকারও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, 'দ্রুত আসামিদের সাজা কার্যকর হোক- এটাই আমরা চাই।'
বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এই রায়ে আমরা আনন্দিত। আমরা খুশি হয়েছি। ৩৫ জন আসামির মধ্যো সবার মৃত্যুয়দণ্ড হলে আরও বেশি খুশি হতাম।'
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওই সময়ের প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে দুটি প্রাইভেটকার থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছয়জনের এবং এর একদিন পর আরেকজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল আরেকটি মামলা করেন। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে ৩৫ জনকে আসামি করে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
এই মামলা সোমবার সকালে রায় ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন।
রায়ে মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাব-১১ এর তৎকালীন অধিনায়ক সাবেক সেনা কর্মকর্তা তারেক সাঈদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। বাকি ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ্ণ্ড দেওয়া হয়।
| 6 |
শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় চট্টগ্রামের জহুর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীরা কেউবা সময় দিচ্ছিলেন পরিবারকে। কেউ কেউ সেরে নিচ্ছিলেন অন্য কাজ। এর মধ্যেই রাত নয়টার দিকে খবর আসে আগুন লেগেছে মার্কেটে। সেই খবরে সব ফেলে হন্যে হয়ে ছুটেও আসেন তাঁরা। কিন্তু তার আগেই সব শেষ! ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ছাই ২৬টি দোকান, সঙ্গে বহু পরিবারের স্বপ্নও।জহুর হকার্স মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা এটি প্রথম নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার পুড়েছে এই মার্কেট। শুক্রবারের আগে ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর ভোররাতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক দোকান পুড়েছিল সেখানে। বারবার অগ্নিকাণ্ডের 'শিকার' জহুর হকার্স মার্কেটের নাম আছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। তবু হুঁশ নেই যেন কারও। সেই আগের মতোই এখনো অপ্রশস্ত সড়ক। নেই পানির ব্যবস্থা।গতকাল শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জহুর হকার্স মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, কিছুটা পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই মার্কেটে সংকীর্ণ রাস্তার দুই পাশে পর পর দোকান। কোথাও মাথার ওপর ঝুলছে খোলা তার। আগুনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যে ঢুকবে, সেই সুযোগ একেবারেই নেই। কোনো দোকানেই নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। আগুন নেভানোর অন্যতম উপকরণ পানির সংস্থানও নেই সেভাবে। ফলে আগুন লাগলে বেশ বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।শুধু জহুর হকার্স মার্কেট নয়, চট্টগ্রাম নগরের আরও ৪১টি বিপণিবিতান আছে অগ্নিঝুঁকিতে। এই ৪২টি মার্কেটের পাশাপাশি আগুনের ঝুঁকিতে আছে ১২টি বস্তির বাসিন্দারাও। অগ্নি-ঝুঁকি থাকা মার্কেটগুলো হচ্ছে কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের অধীন হক মার্কেট, স্বজন সুপার মার্কেট, বখতেয়ার সুপার মার্কেট, নজু মিয়া হাট মার্কেট, বলির হাট মার্কেট; লামার বাজার স্টেশনের অধীন ভেড়া মার্কেট, চালপট্টি, শুঁটকিপট্টি, খাতুনগঞ্জ, আছদগঞ্জ, মিয়া খান পুরোনো জুট মার্কেট ও ওমর আলী মার্কেট। এ ছাড়া বন্দর ফায়ার স্টেশনের অধীন পোর্ট মার্কেট, বড় পুল বাজার, ইসা মিস্ত্রি মার্কেট, ফকিরহাট মার্কেট, নয়াবাজার মার্কেট, ফইল্লাতলি বাজার; ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের অধীন চৌধুরী মার্কেট, কলসি দিঘির পাড় কলোনি, আকমল আলী কলোনি, মহাজন টাওয়ার, রেলওয়ে বস্তি; চন্দনপুরা ফায়ার স্টেশনের অধীন চকভিউ সুপার মার্কেট, কেয়ারি শপিং মল, গুলজার মার্কেট, আলী মার্কেট, মতি টাওয়ার, শাহেন শাহ মার্কেট; নন্দনকানন ফায়ার স্টেশনের অধীন রেয়াজউদ্দিন বাজার, জহুর মার্কেট, টেরিবাজার, তামাকুমণ্ডি লেন, গোলাম রসুল মার্কেট, বাগদাদ ইলেকট্রিক সুপার মার্কেট, হাজি সরু মিয়া মার্কেট, নূপুর মার্কেট; আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের অধীন ঝাউতলা বস্তি, আমবাগান বস্তি, সেগুনবাগান বস্তি, কদমতলী রেলওয়ে বস্তি, সিঙ্গাপুর সমবায় মার্কেট, কর্ণফুলী মার্কেট; বায়েজিদ ফায়ার স্টেশনের অধীন ২ নম্বর গেট এলাকার রেলওয়ে বস্তি, অক্সিজেন এলাকার রেলওয়ে বস্তি, বার্মা কলোনি, ২ নম্বর গেট ড্রাইভার কলোনি, রৌফাবাদ কলোনি, শেরশাহ কলোনি, শেখ ফরিদ মার্কেট, যমুনা সুপার মার্কেট, ষোলশহর সুপার মার্কেট, ইমাম শপিং কমপ্লেক্স এবং চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সও অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে।অগ্নিঝুঁকিতে থাকা এসব মার্কেট ও বস্তিগুলোর অবস্থাও জহুর মার্কেটের মতোই। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা এবং অপ্রশস্ত সড়কের কারণে সেখানেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আছে প্রাণহানির শঙ্কাও।অগ্নি-ঝুঁকিতে থাকা মার্কেটগুলোর প্রায় প্রতিটি দোকানেই আছে অন্তত ১০ লাখ টাকার জিনিসপত্র। এত টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে পারলেও কোনো ব্যবসায়ীই যেন সচেতন নন। বাজারে এখন ১ হাজার টাকা দিয়েও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র পাওয়া যায়। যেটি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যেত। কয়েকটি মার্কেটে ঘুরে কোনো দোকানেই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের দেখা মেলেনি। ফলে আগুন ধরলেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হারাতে হয় সব সম্বল।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিসে যন্ত্রপাতির সংকট নেই। আছে প্রয়োজনীয় কর্মীও। কিন্তু এরপরও সুফল মিলছে কমই। এর অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পানির সংকট, রাস্তার অপ্রতুলতা।ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নিউটন দাশ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এই ৫৪টি মার্কেট ও বস্তির বেশির ভাগই গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। অধিকাংশ মার্কেটের গলি সরু। পানিও পাওয়া যায় না। ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এসব এলাকায় যন্ত্রপাতি নিয়ে দ্রুত পৌঁছানোও কঠিন। 'আমরা ব্যবসায়ীদের প্রায় সময়ই সচেতন করি। কিন্তু সচেতন হন না। কেউ হাজার টাকা দিয়ে একটা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও কেনেন না। অথচ পরে হারান লাখ টাকার জিনিস।' | 6 |
মাদকের বিভিন্ন রুটের ব্যাপারে ভারতকে তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সমুদ্রপথে মাদক পাচারের বিষয়ে প্রতিবেশী দেশটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এনসিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সপ্তম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকাল পৌনে তিনটা পর্যন্ত অনলাইনে ডিজি পর্যায়ের এই বৈঠক হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারতে অবৈধ মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সংস্থার দুই মহাপরিচালক ছাড়াও এতে সংশ্নিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে উভয় পক্ষই সমুদ্রপথকে ব্যবহার করে মাদকের চোরাচালান এবং মাদক সন্ত্রাসীদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন রুট সম্পর্কিত তথ্য বিনিময় করা হয়। এ ছাড়া দুই দেশের রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নীতিমালা ও বিধি-বিধান নিয়ে তথ্য বিনিময় করা হয়। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান অফিসে ওই বৈঠকের পর সংস্থাটির মহাপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের সঙ্গে মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় উভয় দেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অবৈধ মাদকের চোরাচালান ঠেকাতে দুই দেশই ভূমিকা রাখবে।রা মহাপরিচালক বলেন, ইয়াবা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভারতের কিছু অঞ্চল দিয়ে যে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার হয়-সেটিও ভারতের নারকোটিপ কন্ট্রোল ব্যুরোকে অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি মাদক পাচারে সমুদ্রপথ ব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, স্থলপথে কড়াকড়ি হওয়ায় সমুদ্র পথে ইয়াবা পাচার বেড়েছে। ইয়াবার তুলনায় আইস (ক্রিস্টাল মেথ) আরও বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব বিষয়ে দুই দেশই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছে। উভয় দেশেই তা বন্ধে তৎপর রয়েছে। তিনি বলেন, বিগত কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সম্মেলনে ভারতকে তাদের সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিলের কারখানার তালিকা দেওয়া হয়েছিল। ভারত সেগুলো ধ্বংস করেছে বলে আমাদের অবহিত করেছে। মিয়ানমার থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার সঙ্গে আইস নামের মাদক পাচার হয়ে আসার বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে মাদক সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে। গত ডিসেম্বরে দেশটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওই সময়ে তাদের বিষয়গুলো অবহিত করা হয়। তবে তারা যদি ব্যবস্থা নিতো তাহলে হয়তো এভাবে পাচার হওয়া সম্ভব হতো না। | 6 |
দ্বিতীয় দফা সংলাপে দাবি মানা না হলে রোডমার্চ ও সমাবেশ আর তফসিল ঘোষণা না পেছালে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার মতো কর্মসূচিতে যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জনসভা থেকে এ ঘোষণা দেন নেতারা। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথাও বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, 'পদত্যাগ করে ছোট সরকার গড়েন; নয়তো সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে জাতির। তারপর আপনার।' আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এক জনসভার আয়োজন করে। সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচির কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামীকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের দাবি-দাওয়া না মানা হলে ৮ নভেম্বর রোডমার্চ করে ৯ নভেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ করবে এই জোট। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন যদি তফসিল ঘোষণা না পেছায়, তাহলে কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে ঐক্যফ্রন্ট। আজকের সমাবেশে সব বক্তাই খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, 'আজকে আমি শুরুতেই বলি, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করি এবং সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবি করি। যে দেশে বিরোধীদলীয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানানো হবে না, সে দেশে গণতন্ত্র চলতে পারে না।' রাস্তাঘাট বন্ধ করে আজকের সমাবেশে আসতে নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও সমালোচনা করেন কামাল হোসেন। মামলা ও গ্রেপ্তারের হয়রানি বন্ধের দাবিও জানান। নয়তো এর জবাব সরকারকে দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের পদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ঐক্যফ্রন্টের দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না বলে জানান জনসভার প্রধান বক্তা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, 'পদত্যাগ করে ছোট সরকার করেন। নয়তো সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে জাতির। তারপর হবে আপনার।' জনসভায় উপস্থিত জনতার অধিকাংশই ছিল বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের। এখানে অংশ নেয় এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, জাগপা, এনডিপি। এ ছাড়া সোনার বাংলা পার্টি ও বিকল্পধারা থেকে বের হয়ে নতুন গড়া বিকল্পধারাও জনসভায় উপস্থিত ছিল। গতকাল সোমবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয় কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। জনসভায় কাদের সিদ্দিকী বলেন, 'আমি কিন্তু বিএনপিতে যোগ দিইনি। কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি।' বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিজয়ী হতে হলে নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি ভুলে যান। এ ছাড়া খালেদা জিয়া জেলে গিয়ে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তি খালেদা জিয়ার নয়, শেখ হাসিনার দরকার। এ জনসভা থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কথাও বলেন তিনি। দুপুরে থেকেই জনসভায় ছোট ছোট মিছিল নিয়ে কর্মীরা আসতে থাকেন। তাঁদের ব্যানার ও মুখে স্লোগান ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া নিয়ে এবং তারেক রহমানকে নিয়ে। বক্তব্যে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অভিযোগ করেন, জনসভায় আসতে কর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় বাধা ও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলের মধ্যে রেখে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তাঁকে জেলে মরতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া তিনি বলেন, সংসদ বাতিল করে নতুন সরকার হলে সেখানে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। সংসদ বাতিল না হলে রাজপথ প্রকম্পিত করে আন্দোলন করা হবে বলে জানান তিনি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা না মানা হলে আন্দোলনে নামতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সাত দফার সঙ্গে জাতি ঐক্যবদ্ধ। প্রথম সংলাপে সমাধান হয়নি। এবার না হলে আন্দোলন চলবে। সংলাপ ও তফসিল ঘোষণার তারিখ ঠিক করে সরকার পরস্পরবিরোধী অবস্থানে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, সরকার আন্তরিক হলে তার প্রতিফলন হবে। প্রথম সংলাপে ঐক্যফ্রন্ট কিছুই পায়নি। দ্বিতীয় সংলাপে সমঝোতার মাধ্যমে কিছু না হলে মাঠে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। তিনি নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার জন্য বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি কথা বলা প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে প্যারোলে মুক্তি নেননি। এবারও নেবেন না। প্যারোল প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়া নয়, আওয়ামী লীগকে প্যারোল নিয়ে কবরে যেতে হবে। এ ছাড়া বলেন, সাত দফা না মানা হলে দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারবে না। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সুলতান মোহাম্মাদ মনসুর বলেন, ঘরে ঘরে ঐক্য গড়ে উঠবে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যই এ লড়াই। বেলা দেড়টায় শুরু হওয়া এ জনসভা চলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। জনসভায় আরও বক্তব্য দেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ। | 9 |
৪ মাস আগে লটারি জিতে মার্কিন যুক্তরাষ্টের ম্যাসেচুসেটসে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন রবার্ট গুডউইন। লটারি থেকে তিনি জিতেছিলেন এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবার খবরের শিরোনামে এলেন তার স্ত্রী জেনি গুডউইন। লটারির টিকিট কেটে তিনিও জিতেছেন এক মিলিয়ন ডলার। খবর অনুযায়ী, ৪ মাস আগে লটারি টিকিট কাটেন ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা রর্বাট গুডউইন। টিকিটে কাটার পরেই তিনি জিতে নেন এক মিলিয়ন ডলার। কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী সোশ্যাল সাইটে একটি পোস্ট করেন। পোস্ট করে তিনি জানান, তিনিও লটারি টিকিট কেটে এক মিলিয়ান ডলার জিতেছেন। আপাতত নতুন বাড়ি কেনার ইচ্ছা রয়েছে ওই দম্পতির। মার্কিন মুলুকের ওই দম্পতির লটারির টিকিট কেটে টাকা জেতার খবর চাউর হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন দেশেও। ডউইনদের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই তাঁদের 'লাকি কাপল' বলে অ্যাখ্যাও দিয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/ আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর | 5 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আজকে কোম্পানীগঞ্জে অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী ওবায়দুল কাদের সাহেবের সহধর্মিনী। ওবায়দুল কাদের সাহেবের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই কাজগুলো করছেন। আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় ফেনীর অপরাজনীতির হোতা নিজাম হাজারী আর নোয়াখালীর অপরাজনীতির হোতা একরাম চৌধুরী বলে মন্তব্য করেন কাদের মির্জা। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে অভিষেক হলো সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের। পাঁচ দশক ধরে আধুনিক বাংলা গান, দেশাত্মবোধক, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার গান গেয়ে যিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। সংগীতজীবনের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই প্রথম সুর করলেন সারাহ বেগম কবরীর অনুদানের ছবি এই তুমি সেই তুমি চলচ্চিত্রে। ২২ সেপ্টেম্বর রাতে চ্যানেল আই স্টুডিওতে তিনি নিজের সুর করা গানে নিজেই কণ্ঠ দেন। 'দুটি চোখে ছিল কিছু নীরব কথা, তুমি ফোটালে সেই চোখে চঞ্চলতা' গানটি লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। পর্দায় এ গানে ঠোঁট মেলাবেন কবরী নিজেই। সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে পথচলা প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, 'আমি কখনো ভাবতেও পারিনি সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করব। আমার এত কাছের একজন মানুষ কবরী, তিনি যখন প্রস্তাব দিলেন, তখন আগ্রহ তৈরি হলো। শিল্পীদের দিয়ে আমার সুরে গান গাওয়াব, নিশ্চয়ই একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে।' এ প্রসঙ্গে কবরী বলেন, 'সাবিনা ইয়াসমীনকে সুরকার হিসেবে নেওয়ার ভাবনা আমারই। আমি এই ছবির জন্য নতুন নায়ক-নায়িকা খুঁজছিলাম। পাশাপাশি ছবির জন্য একজন সংগীত পরিচালকও খুঁজছিলাম, তখন সাবিনার কথা মনে হলো। পাঁচ দশক ধরে গাইছেন, এখনো সমানভাবে গেয়ে যাচ্ছেন। আমার মনে হয়েছে, সুরকার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। নতুন একটা পথে সাবিনার আবির্ভাব হলো। নতুন কিছু সৃষ্টি হবে আশা করছি।' ছবিতে চারটি গান থাকছে। ছবির গানগুলো লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও কবরী। অনুদানের এ ছবিতে প্রধান চরিত্রে থাকছেন কবরী নিজেই। আর অভিষিক্ত হচ্ছেন নতুন দুজন নায়ক-নায়িকা-রিয়াদ রায়হান ও নিশাত নাওয়ার সালওয়া। সালওয়া 'মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮'-তে প্রথম রানারআপ হয়েছিলেন। দেশে করোনার প্রকোপ শুরুর কয়েক দিন আগে ছবিটির শুটিং শুরু করেছিলেন কবরী। কদিন কাজ করার পরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় আর শুটিং করেননি। ছয় মাস পর গতকাল বুধবার থেকে ঢাকার উত্তরায় আবারও শুটিং শুরু হয়েছে এই তুমি সেই তুমি ছবির। নতুন করে শুটিং শুরুর আগে একটানা বেশ কয়েক দিন অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে মহড়া করেছেন। এই অভিনয়শিল্পী ও পরিচালক কবরী গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, 'বহুদিন পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। একদিকে নিজে অভিনয় করাচ্ছি, অন্যদিকে করছি। শুটিংয়ের সুবিধার জন্য স্টোরিবোর্ড তৈরি করেছি। তাই অভিনয় ও পরিচালনা দুটোই সহজ হয়েছে।' শুটিং সেটে কি স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কবরী বলেন, 'পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা কাজ করছি। ইউনিটের সবাই বেশ সচেতন। কাজটাও শেষ করতে হবে। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। এবার একটানা কাজ করে ছবিটা শেষ করতে চাই।' কবরীর পরিচালনায় গতকালই প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান ছবির নায়িকা সালওয়া। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন, 'যদিও বেশ কয়েক দিন ধরে মহড়া করেছি, তারপরও আগের দিন রাতে খুব ভয়ে ছিলাম। এসএসসি পরীক্ষার আগে যেমন লাগে। আসলে কবরী ম্যাম যা বলছেন, তাই করে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এই ছবির কাজটা আমার জীবনের শিক্ষা হয়ে থাকবে, এইটুকু বুঝতে পারছি।' ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরায় টানা শুটিং চলবে ছবিটির। এই তুমি সেই তুমি ছবির শুটিং শুরুর মধ্য দিয়ে পরিচালনায় দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি ভাঙলেন কবরী। তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমার নাম আয়না, যা ২০০৫ সালে মুক্তি পায় বলে জানান কবরী। এই তুমি সেই তুমি ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন কবরী নিজেই। | 2 |
মহানায়ক উত্তমকুমারকে নিয়ে ছবি বানাচ্ছেন কলকাতার নির্মাতা সৃজিত মুখোপাধ্যায়। উত্তমকুমারের বায়োগ্রাফি নয়। স্বয়ং তিনিই অভিনয় করবেন সৃজিতের ছবিতে। যাঁরা ভাবছেন, যাহ্, তা হয় নাকি! মহানায়কের মৃত্যুর ৪০ বছর কেটে গেছে। এত দিন পর এটা কীভাবে সম্ভব!এখানেই ম্যাজিক দেখাতে চলেছেন সৃজিত। গতকাল উত্তমকুমারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছবির পোস্টার প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। ছবির নাম রাখা হয়েছে 'অতি উত্তম'। এরই মধ্যে নজর কেড়েছে 'অতি উত্তম' ছবির পোস্টার। অবিকল ষাটের দশকের আদলে বানানো এই ছবির পোস্টার দর্শককে নস্টালজিক করবে, সন্দেহ নেই। সৃজিত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দীর্ঘ চার বছর ধরে ছবিটি নিয়ে খাটছেন তিনি। অনেক পরিশ্রমের ফসল 'অতি উত্তম' অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে।'অতি উত্তম' ছবিতে উত্তমকুমারকে ফিরিয়ে আনা হবে প্রযুক্তিবিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে। মহানায়কের ৬২টি ছবি থেকে বিভিন্ন দৃশ্যের ফুটেজ সংগ্রহ করে গ্রাফিক্সের সাহায্যে পর্দায় 'জীবন্ত' করে তোলা হবে। রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের ছবি 'অতি উত্তম' এগোবে এক উত্তম গবেষকের জীবনকে কেন্দ্র করে। যে চরিত্রে অভিনয় করছেন অনিন্দ্য সেনগুপ্ত। আরও থাকছেন লাবণী সরকার, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, উত্তমকুমারের নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। | 2 |
ময়মনসিংহে সিটি করপোরেশনের আংশিক জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চতুর্থবারের মতো বন্ধ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার এ কাজ বন্ধ করা হয়।জানা যায়, ময়মনসিংহের নতুন বাজার রেল ক্রসিং-সংলগ্ন মাকরজানি খালের পাশে সিটি করপোরেশনের আংশিক জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। এর আগেও এ কাজ তিন দফায় বন্ধ করা হয়। কিন্তু পুনরায় আবার নির্মাণকাজ শুরু করায় গতকাল তা চতুর্থবারের মতো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে ভবন মালিক আব্দুর রহিমের উদ্দেশে বলেন, নিয়মনীতি না মেনে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিযানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. জাবেদ ইকবালসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
খুলনা বিভাগে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে করোনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৪০ জনের। এর আগের দিন মঙ্গলবার বিভাগে ৭৫৩ জনের করোনা শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছিল।আজ বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে করোনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় একজন করে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৪০ জনের। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে খুলনা। খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ২০০ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় ১৩২ জন ও যশোরে ১১১ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া বাগেরহাটে ৩৯ জন, সাতক্ষীরায় ৫২ জন, ঝিনাইদহে ৬০ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৭৪ জন, নড়াইলে ২০ জন, মাগুরায় ২২ জন ও মেহেরপুরে ৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৬০ জন।স্বাস্থ্য বিভাগের ওই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, খুলনা বিভাগে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ১০ জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৫২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৫৯ জন। আর মোট মারা গেছেন ৩ হাজার ২১৬ জন। শনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায় জেলাগুলোর মধ্যে খুলনায় ৩০ হাজার ৭১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের সংখ্যায় সবচেয়ে কম মাগুরায় ৪ হাজার ৪৭৯ জন। করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুও হয়েছে খুলনায়। এই জেলায় মারা গেছেন ৮১৩ জন। আর মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে কম সাতক্ষীরায়, ৮৮ জন। | 6 |
কয়েকটি গানে একসঙ্গে ঠোঁট নাড়লেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডব মাশরাফি-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ ওতামিম। নাচের তালে তালে ক্রিকেট তারকাদের এই গানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার রাতে রুবেল হোসেন তার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। তাতে দেখা যায়, 'বাবা কতদিন দেখি না তোমায়' গানটি মাশরাফি গাওয়া শুরু করতেই সাকিব বলে ওঠেন, 'ভাই, কী গান ধরেন এগুলা আমি পারি না।' মাশরাফি বলেন, 'আমিও তো পারি না।' তবুও গাইতে থাকেন তিনি। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের পাঁচ দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফদের রাজধানীর একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টের কোনো খেলা ছিল না শুক্রবার। তাই রাতে একত্রিত হয়ে নিজেদের একঘেয়েমি কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটাররা সবাই টিম হোটেলে বার বি কিউ পার্টিতে মেতে ওঠেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাঁচ তারকামাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক ও রিয়াদ ছিলেনপার্টির মধ্যমণি। তাদের ঘিরে বাকি ক্রিকেটাররাও যোগ দেন এই আনন্দ উৎসবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 12 |
আক্রোশে বাসায় আগুন দিয়ে পাখি পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অভিযুক্ত জালাল সিকদারকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। ঝালকাঠির নলছিটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা সিকদার তাকে ক্ষমা করে দেন। তবে পাখি পুড়িয়ে মারার তথ্য প্রকাশের কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল শিপনের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিপন বলেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে তার কার্যালয়ে যেতে বলেন। একই সঙ্গে ইউএনও পুলিশ পাঠিয়ে জালাল সিকদারকে ধরে নিয়ে যান। ইউএনওর দপ্তরে গিয়ে দেখি জালাল সিকদারের সঙ্গে তার লোকজন। এসময় তাদের কাছে ইউএনও জানতে চাইলে তারা সাফাই স্বাক্ষী দিয়ে জানান, পাখির বাসা বা ছানার গায়ে আগুন দেওয়া হয়নি। ২/১ টি বাসা পিটিয়ে ফেলা হয়েছে। শিপন আরও বলেন, 'এসময় আমার কোন স্বাক্ষী না থাকায় জালাল সিকদারকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। পরে জালাল আহমেদ ও তার লোকজন আমাকে চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এমনকি রোববার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আসার পর তার সামনেই আমাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।' নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হাসান বলেন, 'কতগুলো পাখির ছানা পুড়ে মারা গেছে তা তদন্তের বিষয়। তবে বাবুই পাখির বাসায় আগুন দেওয়া হয়েছে- এটা সত্য। কাপড়ে কেরসিন দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।' নলছিটির উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদার বলেন, 'পাখির বাসায় আগুন দেওয়া বা ছানা পুড়িয়ে মারার ঘটনার কোন স্বাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। পাশাপাশি পাখির বাসা পিটিয়ে ফেলাসহ তার কৃতকর্মের জন্য জালাল সিকদার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তাই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।' ইউএনও বলেন, 'জালাল সিকদার আমাকে বলেছেন, তার প্রচুর ধান খেয়ে ফেলায় মাথা গরম হওয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিষয়টি ক্ষমার যোগ্য মনে করায় তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।' এ বিষয়ে খুলনা বণ্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের পরিদর্শক রাজু আহমেদ বলেন, 'ঝালকাঠির পাখি পুড়িয়ে মারার ঘটনাটি সমকালসহ বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজ খবর নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। ইউএনও যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা অবশ্যই তিনি নিতে পারেন। কিন্তু ঘটনাটি নিকৃষ্ট, এতে কোন সন্দেহ নেই।' উল্লেখ্য, ক্ষেতের ধান খেয়ে ফেলার অভিযোগে গত শুক্রবার নলছিটির ঈশ্বকাঠি গ্রামের জালাল সিকদার তার দোকানের পাশে তাল গাছে থাকা বাবুই পাখির বাসা পুড়িয়ে দেন। এতে ৩০টিরও বেশি বাবুই ছানা পুড়ে মারা যায় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। | 6 |
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের জেটিতে নাব্যতা সংকটের কারণে ভিড়তে পারছে না বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি এসটিএল হারভেস্ট। এতে করে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আমদানিকৃত মালামাল নিয়ে গত তিনদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় অবস্থান করছে জাহাজটি। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ থেকেও বন্দর জেটিতে নাব্যতা সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এমভি এসটিএল হারভেস্ট'র স্থানীয় শিপিং এজেন্ট কিউএনএস'র ম্যানেজার মো. নাজমুল জানান, পানামা পতাকাবাহী জাহাজটি ভারত থেকে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৯০০ মেট্রিকটন মালামাল নিয়ে গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়াতে আসে। ফেয়ারওয়েতে আসার আগের দিন রবিবার জাহাজটি বন্দর জেটিতে আনার জন্য পাইলট বুকিং দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বন্দর জেটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গভীরতা না থাকায় কর্তৃপক্ষ জাহাজটি আনতে পারছেনা। বন্দরের শুধুমাত্র ৯ নম্বর জেটিতে নাব্যতা রয়েছে। সেখানেবর্তমানে আরও একটি জাহাজ রয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখরউদ্দীন মোংলা বন্দর জেটিতে নাব্যতা সংকটের বিষয়ে বলেন, জেটিতে প্রতি বছরই ড্রেজিং করে নাব্যতা সংরক্ষণ করতে হয়। এবারও তা করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতাসৃষ্টি হওযায় ড্রেজিং করতে বিলম্ব হচ্ছে। বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে নাব্যতা রয়েছে, সেখানে ৭ মিটারের জাহাজ ভিড়তে পারছে। বর্তমানে ৯ নম্বর জেটিতে একটি জাহাজও রয়েছে। ওই জাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার পর ফেযারওয়ে বয়া থেকে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আমদানিকৃত মালামাল নিয়ে আসা জাহাজটিকে এনে পণ্য খালাসকরা হবে। বন্দরের ৭ ও ৮ নম্বর জেটিতে ড্রেজিংয়ের জন্য ডাইক (বালু ফেলার স্থান) নির্মাণে বন্দরের নির্ধারিত জায়গা প্রস্তুত করতে গেলে সেখানে অবৈধ ধান ক্ষেতের কারণে ড্রেজিং করতে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি জেটির ড্রেজিং কাজ শেষ হলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এ সমস্যা আর থাকবে না। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
বিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করেছিল। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অগত্যা এবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আনতে চলেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবারই এই নয়া মঞ্চের আত্মপ্রকাশ। নাম রাখা হচ্ছে 'ট্রুথ সোশ্যাল'। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, 'ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ'-এর এক এগজিকিউটিভ একটি পোস্টে এই ঘোষণা করেছেন। গত বছরের অক্টোবরে ট্রাম্প প্রথমবার এই নতুন প্ল্যাটফর্ম আনার কথা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, 'নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আসছে টেক জায়ান্টদের একছত্র অধিকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে। এই প্ল্যাটফর্ম হবে নিরপেক্ষ। সকলে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।' অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে অ্যাপটি পাওয়া যাবে। 'ট্রুথ সোশ্যাল' যে শিগগিরি আসছে, তা জানা যায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড জুনিয়র টুইটারে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেখানে ওই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের ঘোষণাটি দেখা যাচ্ছে। তাতে লেখা ছিল, 'ব্রেকিং : এটাই ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পোস্ট।' ট্রাম্পের ঘোষণা 'তৈরি থাকুন। আপনাদের প্রিয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শিগগিরি সাক্ষাৎ হবে।' এরপর থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। অবশেষে সোমবারই আত্মপ্রকাশ করবে 'ট্রুথ সোশ্যাল'। নির্বাচন-পরবর্তী নজিরবিহীন সহিংসতার সাক্ষী হয়েছিল আমেরিকা। ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলা চালায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা। টুইটার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ওই কথার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এভাবেই টুইটার তাদের নীতি ও তার প্রয়োগের ব্যাপারে স্বচ্ছ থাকতে চায়। যদিও ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পরই ট্রাম্প ফের টুইট করেন তার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই টুইটও মুছে দেয় টুইটার। পরে ফেসবুক থেকেও নির্বাসিত হন ট্রাম্প। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন | 3 |
সারা দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। আগামী সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এদিকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা না করে কতিপয় কোচিং ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে তাদের কোচিং সেন্টার খোলা রেখেছে। পাশাপাশি একাধিক কেজিস্কুল সাইনবোর্ড খুলে রেখে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদিকে সরকারি নিদের্শনা রয়েছে ঘরের বাইরে বের হলেই সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের মাঝে মাস্ক না পরার অনীহা। বিপনীবিতানসহ ওষুধের দোকানের সামনে দূরত্ব বজায় রাখাসহ নো-মাস্ক, নো-সার্ভিস লেখা থাকলেও খোদ ক্রেতা-বিক্রেতারাই তা মানছেন না। কোন দোকানদারই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। পাশাপাশি ক্রেতারাও মাস্ক ব্যবহার না করলেও দেদারসে বেচাকেনা চলছে। আর মাস্ক না পরার পেছনে নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ বলছেন, আসলে এদের শত অনুরোধ করেও মাস্ক পরানো যাবে না। প্রশাসনের কঠোর ভূমিকাই পারে এদের মাস্ক পরাতে বাধ্য করতে। | 6 |
ভোলার লালমোহনের একটি দুর্গম চর শাহজালাল। এখানে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠেনি। এ কারণে শিক্ষার আলো পৌঁছায় না ওই চরের বাসিন্দাদের ঘরে। যে বয়সে শিশুদের বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে এখানকার শিশুরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যায়।লালমোহন উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন তেঁতুলিয়া নদীর তীরঘেঁষা চর শাহজালাল প্রায় ৩০ বছর আগে জেগে ওঠে। ওই চরে শতাধিক পরিবারের বসবাস। যাদের পেশা কৃষি, জেলে বা দিন মজুর। ওই সব পরিবারের শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। সেখানে নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ কারণে শিশুরা পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে না। তারা স্কুলে না গিয়ে নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে যাচ্ছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের একটি দ্বীপ চর শাহজালাল। এই চরটি মানুষ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন চরের মানুষ। ৩০ বছর ধরে চরে বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি। বেশির ভাগ মানুষ অক্ষরজ্ঞান শূন্য। এ ছাড়া উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। অনেকবার চরে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।চরের শিশু মুরাদ ও জুনায়েদ জানায়, তাদের পড়ালেখার ইচ্ছে রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয় না থাকায় তারা পড়ালেখা করতে পারছে না। এখানে বিদ্যালয় থাকলে তারা পড়ালেখার সুযোগ পেত।চরের বাসিন্দা শাহে আলম বলেন, 'চরের ৩০ বছর ধরে বসবাস করছি। এখানে কোনো বিদ্যালয় নেই। তাই আমাদের শিশুরা পড়াশোনা করতে পারছে না।' তিনি বলেন, 'পাশের কচুয়াখালীর চরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে নদী পাড়ি দিয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়া সম্ভব নয়, আমরা এখানে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।' একই কথা জানান চরের বাসিন্দা পিয়ারা বেগম ও কামরুল শেখ।লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান মিলন বলেন, 'বিদ্যালয়বিহীন যেসব গ্রাম রয়েছে, সেখানে বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। আমরা খুব দ্রুত চর শাহজালাল পরিদর্শন করে সেখানে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।' | 6 |
জালিয়াতির মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ঋণের চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলার রায় পড়া শুরু করেছেন বিচারক। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালত রায় পড়া শুরু করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ভাই-ভাতিজা গত ২১ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিচারক রায় প্রস্তুত করতে না পারায় ৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দিন নির্ধারণ করা হয়। তার আগে গত ৫ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিচারক অসুস্থ থাকায় রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়। এসকে সিনহা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়। সিনহার বিরুদ্ধে মামলা: ফাঁসছেন নাজমুল হুদা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ তদন্তের সময় মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- এসকে সিনহা, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী। ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা চলাকালে বিচারপতি এসকে সিনহাসহ চারজন পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে আদালতে কোন আইনজীবী আইনি মোকাবিলা করেননি। পলাতক অপর আসামিরা হলেন, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্তি রায় সিমি। চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এরপর তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদক পরিচালক বেনজীর আহমেদ। | 6 |
অবশেষে তারকা জুটি রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটকে নিয়ে গুঞ্জন আর অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। এপ্রিলেই গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন এই যুগল। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান। দাদা রাজ কাপুরের চেম্বুরের বাড়ি আরকে হাউসেই চার হাত এক হতে চলেছে। এই বাড়িতে বিয়ে হয়েছিল রণবীরের বাবা ঋষি কাপুর ও মা নীতু কাপুরের।বিয়ে নিয়ে দুই পরিবার মুখে কুলুপ আঁটলেও গোপন নেই কিছুই। বিয়ের সম্ভাব্য দিনক্ষণ, ভেন্যু ও অতিথি তালিকার পর এবার জানা গেল রণবীর-আলিয়া কোন রীতিতে বিয়ে করছেন তা-ও। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানা যায়, পাঞ্জাবি রীতিতে বিয়ে করবেন এই তারকা জুটি। ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত পাঞ্জাবি রীতিনীতি মেনে চলবে মেহেন্দি, হলদি ও সংগীতের অনুষ্ঠান। পিংক ভিলার প্রতিবেদনে জানা যায়, আলিয়া বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন মনীশ মালহোত্রা ও সব্যসাচীর ডিজাইন করা পোশাকে। বিয়েতে উপস্থিত থাকবেন দুই পরিবারের সদস্য ও রণবীর-আলিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। এপ্রিলের শেষ দিকে এই দম্পতি তাঁদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। তারকাদের মধ্যে অতিথি তালিকায় আছেন অর্জুন কাপুর, জোয়া আখতার, মনীশ মালহোত্রা, সঞ্জয় লীলা বানসালি, করণ জোহর, বরুণ ধাওয়ান, অয়ন মুখার্জিসহ রণবীর-আলিয়ার কাছের বেশ কয়েকজন। আর কাপুর ও ভাট পরিবারের সদস্যরা তো থাকবেনই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কারিনা কাপুর, রিদ্ধিমা কাপুর, কারিশমা কাপুর, সাইফ আলি খান, সোনি রাজদান, মহেশ ভাট, শাহিন ভাট, পূজা ভাট প্রমুখ।রণবীর-আলিয়া সম্পর্কিত পড়ুন:আলিয়া-রণবীরের ব্যাচেলর পার্টিতে থাকছেন যে তারকারাআলিয়ার জন্মদিনে ব্রহ্মাস্ত্রের ফার্স্ট লুকডিনার ডেটে আলিয়া-রণবীরআমাকে পাগলা কুকুর কামড়ায়নি | 2 |
অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা, নগরের হানাহানি, কাটাকাটি, নীচু শ্রেণির মানুষের দুঃসহ জীবন; আরেকদিকে সমাজের উচ্চ শ্রেণির মানুষের ও শাসক শ্রেণির জীবন। মোহাম্মদপুরের 'কলাকেন্দ্রে' শিল্পী শামসেত তাবরেজীর 'নামের নকশা' শিরোনামে একক চিত্র প্রদর্শনীতে নগরজীবনের এ বিক্ষুব্ধতার প্রকাশ ঘটেছে। এ চিত্র প্রদশর্নীতে শিল্পী শামসেত তাবরেজীর ৬০টি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। শিল্পী মূলত লেখক। ছবি আঁকায় তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। মাসব্যাপী এ চিত্র প্রদর্শনী চলবে আগামী ১১ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীর একটি অংশের ছবিতে তিনি অপরিকল্পিত নগরায়ণকে নিয়ে এসেছেন। সে নগর গড়ে উঠেছে প্রকৃতিকে গ্রাস করে। অথচ এ নগর হওয়ার কথা ছিল হলুদ সরিষা ক্ষেতের মতো রঙিন। কিন্তু বিচ্ছিন্নতা, যানজটে নগর নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের মনের কোমলতা সেখানে নেই। আরেক ছবিতে তিনি এঁকেছেন একদিকে ফসলের মাঠ, আরেকদিকে অন্ধকার সমাজ। এ সমাজ সবুজ ধ্বংস করছে। নদীর নৌকা ও মাছ হারিয়ে যাচ্ছে নগরায়ণের মাধ্যমে। এ শহরে জন্মগ্রহণ করে শিল্পী ৬০ বছর ধরে দেখেছেন শহরের দৃশ্য। দেখেছেন রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা। তিনি পত্রিকার কাগজে ছবি এঁকেছেন। কাগজে রাষ্ট্রের বাজেটের খবর। সেই খবরের কাগজের ওপরে রংতুলি দিয়ে এঁকেছেন উঁচু-নীচু শ্রেণির শোষণ, বাজেট আর উপার্জনের চিত্র। গুণী এ শিল্পী মূলত একজন লেখক। লেখালেখির মাধ্যমে মনের ভাষা প্রকাশ করতেন। যখন তিনি ছবি আঁকা শুরু করেন তখন এ প্রকৃতিতে আসে করোনার থাবা। তিনি তার শিল্পকর্মের মধ্যে করোনার এ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন রংতুলির আঁচড়ে। করোনার কারণে জীবন তার খেই হারিয়েছে। মানুষের নিয়মিত অভ্যাসে পরিবর্তন আসে। মানুষ কাজে যেতে পারে না। খাবার নেই। এখানে-সেখানে পড়ে আছে মৃত মানুষ। তার ছবিতে একটা প্রাণী কোথায় যেন শুয়ে আছে, আরেকদিকে মানবদেহের খণ্ড, একটি বীভৎস নারী। শিল্পী ও গবেষক সিলভিয়া নাজনীন এ শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে বলেন, তাবরেজীর ছবিতে ড্রয়িংয়ের নিয়মাবলি, আলো-ছায়ার ব্যবহার ইত্যাদিসহ কোনো ধরনের একাডেমিক চিহ্ন নেই। আর এটাই তাবরেজীর বৈশিষ্ট্য। | 6 |
গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নতুন খুঁটিতে বিদ্যুতের তার টানানোর সময় একটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে মহানগরীর ব্যস্ততম ভোগড়া বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এক পথচারী ও বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন কাজের দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।আহত সবাইকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আহত পথচারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।আহত পথচারী হলেন গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাসন সড়ক এলাকার হাজী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নাবিকুন্নাহার (৪০)। তিনি কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। আহত অপর দুজন গাজীপুর মহানগরীর কড্ডা এলাকার ইদ্রিসের ছেলে সোহাগ (২৫) ও একই এলাকার কালামের ছেলে সুমন (২৬)। তাঁরা দুজনই বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর অঞ্চলের আঞ্চলিক উপব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, মহানগরীর কড্ডা থেকে ঝাঁজর এলাকায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রতি স্থাপনের কাজ চলছে। এ জন্য ওই প্রকল্পের কাজের ঠিকাদার পুরোনো বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ করে সেখানে নতুন খুঁটি স্থাপন করছেন।জাহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় নতুন খুঁটি প্রতিস্থাপন করা হয়। রোববার ওই খুঁটিতে বিদ্যুতের তার টানার সময় দুজন শ্রমিকসহ একটি খুঁটি মহাসড়কের ওপর ভেঙে পড়ে। এ সময় ওই শ্রমিক ছাড়াও খুঁটির নিচে চাপা পড়ে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন।পল্লী বিদ্যুতের এ কর্মকর্তা বলেন, নতুন যে খুঁটি শনিবার স্থাপন করা হয়েছে তার কম্পেকশন ঠিকমতো হয়েছে কি না বা প্রয়োজনীয় লোড নিতে পারবে কি না, তা যাচাই না করেই লাইন টানার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হলেন গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কোনাবাড়ী অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক কামাল হোসেন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আহতদের পল্লী বিদ্যুতের লোকজন উদ্ধার করে কোনো হাসপাতালে নেয়নি। তাঁদের কোনো সহায়তা করেনি। পরে তাঁরা আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, আহত তিনজনের মধ্যে নারী পথচারী মাথায় ও মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছেন। হাসপাতালে আনার সময় তাঁর জ্ঞান ছিল না। অজ্ঞান অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনকরফিকুল ইসলাম বলেন, অপর দুই আহতের বিভিন্ন জায়গায় হাড় ভেঙে গেছে এবং রক্তাক্ত জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদেরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।গাজীপুর মহানগর পুলিশের বাসন থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মালেক খসরু খান বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এক নারীসহ তিন জন আহত হয়েছেন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছ। এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। | 6 |
ক্যাটরিনা কাইফ-ভিকি কৌশলের বিয়ের পর বেশ মাতামাতি হচ্ছে অঙ্কিতা লোখান্ডে ও ভিকি জেইনের বিয়ে নিয়ে। জানা গেছে, অঙ্কিতাকে মালদ্বীপে এক বিলাসবহুল বাংলো উপহার দিয়েছেন ভিকি। এই বাংলোটির দাম ৫০ কোটি রুপির বেশি বলে জানা গেছে। আর স্বামীকে আট কোটি রুপির প্রমোদতরী কিনে দিয়েছেন অঙ্কিতা। অঙ্কিতা ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ। সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে জুটি বেঁধে 'পবিত্র রিশতা' ধারাবাহিকটি দিয়ে তিনি বেশ জনপ্রিয় হন। এরপর একাধিক ছবিতেও অভিনয় করেছেন অঙ্কিতা। তার স্বামী ভিকি পেশায় ব্যবসায়ী। বেশ কয়েক বছর সুশান্তের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন অঙ্কিতা। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ভিকির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। মুম্বাইয়ের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে ১৪ ডিসেম্বরবিয়ে সেরেছেন ভিকি-অঙ্কিতা। ১১ ডিসেম্বর থেকেই বিয়ের রীতিনীতি পালন শুরু হয় দুই পরিবারের মধ্যে। বেশ জাঁকজমকভাবেই আয়োজন করা হয় হলুদ, মেহেদি ও বাগদান। বিয়ের শেষে আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
করোনার হটস্পট বাগেরহাটের মোংলায় বেড়েই চলেছে করোনার সংক্রমণ। প্রশাসনের তিন সপ্তাহের চলমান কঠোরতম বিধিনিষেধের ১৯তম দিনে এসেও কমছে না করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার মোংলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নতুন করে ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোংলায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সোমবার বাগেরহাট জেলায় ২২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১০২ জন। জেলায় করোনা শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে শত শত মানুষ সংক্রমণ ঝুঁকি মাথায় নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে পৌর শহরের উপর দিয়ে বন্দরের শিল্প এলাকায় যাতায়াত করছেন। চলছে মোংলা-খুলনা মহাসড়কে সকল ধরনের যানবাহন। কোথাও বিধিনিষেধের বালাই নেই। সোমবার বাগেরহাট জেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মোংলায় ৩৬ জন, সদরে ২৭ জন, ফকিরহাটে ১২ জন, রামপাল উপজেলায় ১০ জন, মোরেলগঞ্জে ৯ জন, শরণখোলায় ৬ জন ও মোল্লারহাটে ২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাগেরহাট জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২০৯ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের। এখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন১৪ জন। আর বাকিরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 4 |
পটুয়াখালীতে প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে ঢাকাগামী একটি ডাবল ডেকার যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি সুন্দরবন-৯ ডুব চরে আটকা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে লঞ্চটি ঘাট ছেড়ে যাওয়ার পর একটু দূরে ডুব চরে আটকা পড়ে। এমভি সুন্দরবন-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার মো ইউনুস মিয়া বলেন, লঞ্চে প্রায় ৫০০ যাত্রী রয়েছেন। জোয়ার না আসা পর্যন্ত লঞ্চটি আটকাই থাকবে। জোয়ারে পানি বাড়লে এরপর চর থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে। তখন আবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেব। যাত্রীরা নিরাপদে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। | 6 |
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহব উদ্দিন বলেছেন, সাংবাদিকরা টর্চ লাইটের মতো আলো দিয়ে সমাজের অন্ধকার দূর করেন। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে থেকে দেশকে মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে অসংগতি তুলে ধরে সাংবাদিকরাও সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিয়ম সভায় এসব কথা বলেন তিনি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মৌলভীবাজার জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট এএসএম আজাদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাধাপদ দেব সজল, লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ উদ্দিন। মন্ত্রী জানান, তার মন্ত্রণালয়ও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে রয়েছে। দুর্নীতি রোধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে দেশের উন্নয়নের অভিযাত্রা সহজেই সফল হবে। এ সময় মন্ত্রী মৌলভীবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থতিত শতবর্ষী বন বর্ষিজোড়া ইকো পার্কের উন্নয়নে শিগগির পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান। | 6 |
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তবে কী কথা হয়েছে তা বিস্তারিত বলেননি তিনি। রোববার ইউক্রেনে রাশিয়ান অভিযান নিয়ে দেওয়া লাইভ আপডেটে এই তথ্য জানায় বিবিসি অনলাইন। এর আগে রাশিয়া বলেছিল, ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা করতে রাশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বেলারুশে পৌঁছেছে। এর আগে বেলারুশের মিনস্কে রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, মিনস্কে আলোচনা করা সম্ভব হতো যদি রাশিয়া বেলারুশের ভূমি ব্যবহার না করে ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতো। যদিও তিনি বলেছেন, অন্য কোনো স্থানে আলোচনার জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে রাশিয়ান সেনাদের নির্দেশ দেন। এরপর রাশিয়ান সেনারা তিন দিক থেকে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। ইউক্রেনের সেনারাও প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। | 3 |
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি পুনঃতদন্তের জন্য এবার দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ঢাকা মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা মঙ্গলবার এ আদেশ দিলেও বুধবার তা জানা যায়।
এর ফলে বহুল আলোচিত এ মামলার কার্যক্রম অনেকটা সক্রিয় হলো। এর আগে র্যাবকে দিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ দায়রা জজ আদালতে গেলে তা আটকে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার সমকালকে বলেন, 'সর্বোচ্চ মেধা-বুদ্ধি নিয়োজিত করে এ হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। এক্ষেত্রে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি থাকবে না। '
বিশ বছর আগের আলোচিত হত্যাটি এত দিন পর এই আদেশে কিছুটা আশাবাদী মামলার বাদী সালমানের মা নীলা চৌধুরী এবং তার আইনজীবী মাহফুজ মিয়া।
নীলা চৌধুরী বলেন, 'সময় যতই লাগুক, বিচারকাজ শেষ হবেই। এ আদেশটি অসীম অন্ধকারে আমাদের কাছে একবিন্দু আলো মতো।'
জাতীয় পার্টির এই সাবেক নেত্রী দাবি করেন, 'তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।'
সালমান শাহর হাত ধরে বদলে গিয়েছিল বাংলা সিনেমা। লাইফ স্টাইল থেকে অভিনয় সবকিছু দিয়েই তিনি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। একের পর এক সুপার হিট সিনেমা উপহার দিয়ে যখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে বাংলা সিনেমার এই আইকন। তখন হঠাৎ করেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই নক্ষত্রের পতন। রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন। যা পরবর্তীতে রুপান্তরিত হয় হত্যা মামলায়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসে আত্মহত্যা করেছেন সালমান শাহ। এ নিয়ে রিভিশন দায়ের করেন সালমানের পরিবার। কমরউদ্দিন মারা যাওয়ার পর তার মা নীলা চৌধুরী বাদী হিসেবে আসেন। তিনি আগের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। নীলা চৌধুরী সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মাদ ভাইসহ ১১ জনকে তার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।
অন্যরা হলেন-সামিরার মা লতিফা হক লুসি, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, সহকারী নৃত্যপরিচালক নজরুল শেখ, ডেভিড, আশরাফুল হক ডন, রাবেয়া সুলতানা রুবি, মোস্তাক ওয়াইদ, আবুল হোসেন খান ও গৃহকর্মী মনোয়ারা বেগম।
ঘটনার পর দীর্ঘ সময়ে বেশ কয়েকবার একে আত্মহত্যা বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলেও সালমানের পরিবার বারবারই পুনঃতদন্ত চায়। প্রয়াত এই অভিনেতার ভক্তরাও আদালতে বিক্ষোভ করেন।
প্রায় ২০ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই মৃত্যুর ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা, তা নির্ধারণে মামলাটি ফের আদালতে ওঠে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর পর সালমানের বাবার বাসা থেকে গ্রেফতার হন রিজভী আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বাসায় ঢোকার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন রিজভী। তাতে তিনি বলেন, 'সালমান আত্মহত্যা করেননি। সালমানকে খুন করা হয়েছে।' কেন, কী কারণে, কীভাবে ও কারা সালমানকে হত্যা করেছে, তা সবিস্তারে জবানবন্দিতে বলেছেন রিজভী। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সালমানের বাবার বাসায় ঢোকার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত রিজভীকে ২০০১ সালে দেড় বছর কারাদণ্ড দেন। রিজভী গ্রেফতারের পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।
| 6 |
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারীর মানুষদের সুবিধার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু রয়েছে। এটি করোনায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর এখন চালু হলেও পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছেন না আগ্রহীরা। তবে এখানে আবেদন করা না গেলেও ঢাকা থেকে তা করা যাচ্ছে। ঢাকা থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে একদিকে যেমন বাড়ে দুর্ভোগ, তেমনি খরচ পড়ে বেশি।ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে ২০২০ সালের ৩০ মার্চ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পর্যটন ভিসায় ভারতে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। তবে শর্ত সাপেক্ষে ভারত ও নেপালের শিক্ষার্থীদের পারাপার বহাল ছিল। পরে ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু হয়। সর্বশেষ ৭ এপ্রিল বহুলপ্রত্যাশী পর্যটন ভিসার অনুমতি দেয় সরকার। তাই এখন থেকে ভিসায় বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী রুট উল্লেখ থাকলে এখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন পর্যটকেরা।পর্যটকেরা জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন থেকে ভারতের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, সিকিম, গ্যাংটক, নেপাল ও ভুটান তুলনামূলক কাছে হওয়ায়পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই বন্দর। তবে স্থানীয় ভিসা সেন্টারে আবেদন করতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষ ও পর্যটকেরা।বাংলাবান্ধা এলাকার বাসিন্দা রাজু ইসলাম বলেন, 'আমরা করোনার আগে ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে যাতায়াত করতাম। কিন্তু করোনার কারণে দুই বছর ধরে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ ছিল। এখন সরকার নতুন করে অনুমতি দিলেও আমরা ভিসার আবেদন করতে পারছি না।'একই কথা বলেন পাসপোর্টধারী যাত্রী আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'সরকার দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করলেও আমরা সেবা থেকে বঞ্চিত। ঠাকুরগাঁও ভিসা সেন্টারে গিয়ে ঘুরে আসছি। তাঁরা বলছেন, আপাতত ঠাকুরগাঁও থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করা যাচ্ছে না। কেন যাচ্ছে না, কবে নাগাদ যাবে, তা-ও জানাচ্ছেন না।'এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ইমিগ্রেশনে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়েছে। কমবেশি প্রতিদিনই বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসায় যাত্রী পারাপার হচ্ছে।নতুন পর্যটন ভিসার আবেদন কেন করা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, 'এ বিষয়টি আমি জানি না, আর বলতেও পারছি না। হাইকমিশন বলতে পারবে কী কারণে স্থানীয় ভিসা সেন্টারে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক আছে।'জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, 'করোনা পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় সরকার ইমিগ্রেশনগুলো খুলে দিয়েছে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পারাপার হচ্ছে। তবে ইমিগ্রেশন ব্যবহারকারীরা কেন ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারছেন না, এটা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।' | 6 |
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শেয়ার বাজারের পতনের পর আশঙ্কা ছিলই। সেই আশঙ্কা সত্যি করে শুক্রবার সকালে বিপুল পতনের সাক্ষী থাকল ভারতের শেয়ার বাজার। করোনাভাইরাসের নতুন রূপ নিয়ে তটস্থ সেনসেক্স পড়ল প্রায় এক হাজার ৪০০ পয়েন্ট। প্রায় ৪০০ পয়েন্ট নামল নিফটিও। শুক্রবার বাজার খুলতেই হুড়মুড় করে নামতে থাকে সূচক। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে দাম কমতে থাকে গাড়ি, ব্যাংক, শক্তিক্ষেত্রের শেয়ারের। নিফটির ব্লু চিপ শেয়ারগুলির মধ্যে সবচেয়ে দাম কমে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের। একটা সময় প্রায় ২.৭ শতাংশ নেমে যায় দাম। দাম কমে এইচডিএফসি, এসবিআই, ইনফোসিসের মতো নামী শেয়ারেরও। সকাল ১১টা সেনসেক্স নেমে যায় ১৪০৮ পয়েন্ট। পরে তা সামান্য বাড়লেও বাজারের তেমন একটা উন্নতি হয়নি। এই বিপুল পতনের ফলে বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রায় সাড়ে ছ'লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে যায়।সূত্র : আনন্দবাজার | 3 |
বর্তমানে দক্ষিণী ছবির রিমেক 'বিক্রম ভেদা'র শুটিং নিয়ে ব্যস্ত হৃত্বিক রোশন। এরইমধ্যে খবর বেরিয়ে কৃষ ছবির চতুর্থ কিস্তি নিয়ে। কৃষের আগের পর্বগুলোতে সুপারহিরোর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন হৃত্বিক। চতুর্থ কিস্তিতেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে বলিউডের জনপ্রিয় এ অভিনেতাকে। পরিচালনায় থাকবেন হৃত্বিকের বাবা রাকেশ রোশন। কৃষের নতুন ছবির কাস্টিংসহ প্রস্তুতিপর্বের আনুষাঙ্গিক কাজ আগামী জুনে শুরু হতে পারে। ছবির নায়িকা কে হবেন তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এর আগে কৃষ ছবিতে হৃত্বিকের সঙ্গে দেখা গেছে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও কঙ্গনা রানাউতকে। কৃষ ছবির সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র ইটি টাইমসকে জানিয়েছে, কৃষ ছবির চতুর্থ কিস্তির শুটিং শুরু হতে পারে আগামী বছর। ছবিতে অনেক অ্যাকশন দৃশ্য ও অ্যানিমেশনের কাজ থাকবে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
ভারতের গোয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হলো পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় ও বিতর্কিত ইউটিউবার রোদ্দূর রায়কে। কলকাতা পুলিশ মঙ্গলবার (৭ জুন) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার রোদ্দূর (তিনি নিজের নামের এই বানানই লেখেন) সম্প্রতি একটি ফেসবুক লাইভ করেন। সেখানে তিনি কলকাতার জনপ্রিয় গায়ক রূপঙ্করের পাশাপাশি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। কটূক্তি করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন সম্পর্কেও। ওই ফেসবুক লাইভের বক্তব্য নিয়েই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় গত শনিবার। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নেটমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকের বিরুদ্ধে 'কুরুচিকর মন্তব্য' করেছেন। নিজেকে তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিৎপুর থানায় রোদ্দূরের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ দায়ের করেন ঋজু দত্ত। তিনি রোদ্দূরের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের কাছে তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজুর দায়ের-করা অভিযোগে বলা হয়েছে, রোদ্দূর সাম্প্রতিককালে নেটমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও অভিষেক সম্পর্কে কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি, আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ কলকাতা ও রাজ্যের পুলিশ এবং প্রশাসনকেও। যে বিষয়টি নিয়ে রোদ্দূরের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিকতম অভিযোগ, সেটি তিনি করেছিলেন একটি ফেসবুক লাইভে। গায়ক রূপঙ্কর বাগচি এবং অকালপ্রয়াত গায়ক কেকে সংক্রান্ত বিতর্ক এবং বিতন্ডার প্রেক্ষিতে। কয়েক মিনিটের ওই ফেসবুক লাইভে রোদ্দূর মুখ্যমন্ত্রী মমতা সম্পর্কে বাজারচলতি কিছু অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ। তৃণমূল মুখপাত্র ঋজুর অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, রোদ্দূর নিয়মিত ভাবে এই কাজ করে থাকেন। আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে তিনি রাজ্যকেও অপমান করেন। এর আগেও রোদ্দূরের বিরুদ্ধে লালবাজার-সহ বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সে বারও তাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কুরুচিকর ভাষা প্রয়োগের অভিযোগ ছিল। | 3 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নাট্য দম্পতি রহমত আলী ও ওয়াহিদা মল্লিক জলি। অভিনয়ের বাইরে তারা দুই জনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক। শনিবার (২৭ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক আশিকুর রহমান লিয়ন। তিনি বলেন, "গত ২২ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এই দম্পতি। জলি ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা একটু বেশি খারাপ থাকলেও আজ ভালো আছেন। তিনি আইসোলেশন ইউনিটে আছেন। রহমত স্যারের অবস্থা মোটামুটি ভালো। তার কিডনির সমস্যাও আছে। আশা করি দুজনই সুস্থ হয়ে উঠবেন।" গত ১৭ নভেম্বর ওয়াহিদা মল্লিক জলি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রাথমিক অবস্থায় বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিন রহমত আলীরও পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরে তিনিও হাসপাতালে ভর্তি হন। রহমত আলী ও ওয়াহিদা মল্লিক জলি দু'জনের বাড়ি রাজশাহীতে। | 6 |
ফরিদপুরের সদরপুরে মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ার বসানোর অংশীদারি ব্যবসার নামে এক গৃহবধূর কাছ থেকে সাড়ে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদেশ থেকে স্বামীর পাঠানো সব টাকা খুইয়ে এখন প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। ফরিদপুরের পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কাজ হয়নি। সদরপুর উপজেলার জড়িপের ডাঙ্গী গ্রামের ফাহিমা আক্তার নামে ওই নারী সৌদি প্রবাসী কাজেম খানের স্ত্রী। আর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা জাহিদ হোসেন খানের (৩৫) বাড়ি জমাদ্দার ডাঙ্গী গ্রামে। তিনি সদরপুরের প্রত্যাশা কো-অপারেটিভ ফাইন্যান্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ওই নারীর অভিযোগ, জাহিদ মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ার বসানোর কথা বলে গত বছরের জুনে তার কাছে ১০ শতাংশ জমি ভাড়া চান। এ জন্য তাকে প্রতি মাসে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জাহিদের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে ফাহিমা পরে যৌথ ব্যবসার জন্য তার সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। টাওয়ার বসানোর খরচ হিসেবে পরে কয়েক দফায় ফাহিমার কাছ থেকে সাড়ে ১৫ লাখ টাকা নেন জাহিদ। সৌদি আরব থেকে স্বামীর পাঠানো টাকার পুরোটাই তিনি তুলে দিয়েছেন জাহিদের হাতে। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্যদের জানিয়েছেন উল্লেখ করে ফাহিমা জানান, সম্প্রতি জাহিদ বিষয়টি স্বীকার করে সব টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানান। তবে এখন আবার টাকা না দিয়ে টালবাহানা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, জাহিদের কথা না বুঝে এবং স্বামী-সন্তানদের না জানিয়ে মারাত্মক ভুলটি করেছেন। স্বামীর পাঠানো পুরো টাকাটাই জাহিদ তার কাছ থেকে নানা প্রলোভন ও কৌশলে নিয়ে গেছে। তার সংসারও ভাঙার পথে। তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। এদিকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সদরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান তার অফিসে সালিশ ডাকেন। সেখানে ফাহিমা সাক্ষ্য-প্রমাণসহ উপস্থিত হলেও জাহিদ যাননি। উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, মোবাইল ফোনে ডেকেও জাহিদকে সালিশে আনা যায়নি। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে জাহিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফাহিমা। সদরপুর থানায়ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে জাহিদের দাবি, তার সঙ্গে ফাহিমার কোনো লেনদেন নেই। তাকে হেয় করতে এবং তার সমিতির ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি মহল তার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। সালিশে না যাওয়ার বিষয়ে বলেন, তিনি ফাহিমার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন। আদালতের মাধ্যমেই ফয়সালা করবেন, সালিশের মাধ্যমে নয়। তবে আদালতে অভিযোগের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। ফরিদপুর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, এসপির কাছে ফাহিমার দেওয়া লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত করছেন। | 6 |
ফেনীতে পরিবেশ ও বন বিভাগের বিচারপ্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পৃথকভাবে পরিবেশ ও বন আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিবেশ ও বন আদালত পৃথক করার ফলে জেলায় এ সংক্রান্ত মামলায় গতি সঞ্চার হবে। মামলাগুলো কম সময়ে নিষ্পত্তি করা যাবে।এর আগে ফেনী ও আশপাশের জেলার মানুষকে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি সুবিধা নিতে চট্টগ্রামে যেতে হতো।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পৃথকভাবে পরিবেশ আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় একটি পরিবেশ আপিল আদালত রয়েছে। দ্রুত অগ্রসরমাণ বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়নের ফলে পরিবেশ ও বন বিভাগে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।এ সংক্রান্ত পৃথক আদালত না থাকায় নিয়মিত আদালতে বছরের পর বছর মামলা নিষ্পত্তি না হয়ে এর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এতে সরকার প্রতিটি জেলায় পরিবেশ ও বন আদালত পৃথক্করণের উদ্যোগ নেয়। ফলে পরিবেশ ও বন বিভাগের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতাউল হক এ সংক্রান্ত আদালত পরিচালনার জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনকে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি দেন।এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন জানান, একসময় দেশ ছিল কৃষিনির্ভর। এখন তা দ্রুত শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছে। শিল্পায়ন যত বেশি হবে, পরিবেশের ক্ষতিও তত বেশি হবে। তাই পরিবেশ রক্ষার জন্য পৃথক আদালত চালুর খবর পরিবেশবাদীদের অবশ্যই স্বস্তি দেবে। শাহাদাৎ হোসেন আরও জানান, নিঃসন্দেহে এটা সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ।পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীর পরিদর্শক মো. ফায়জুল কবির জানান, পরিবেশ আইন ২০১০ মোতাবেক যারা দূষণের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত মামলা করতে ফেনীর মানুষকে আগে চট্টগ্রামে যেতে হতো। | 6 |
করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে নানা আশঙ্কা আর আতঙ্ক মোকাবিলা করেই এখন পর্যন্ত আমাদের টিকে থাকতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলানববর্ষ উপলক্ষেজাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৃষ্টির অমোঘ নিয়মে সময় চলে যায়। করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেই আমরা এক বছরের অধিক সময় পার করলাম। গত বছর মার্চের প্রথম সপ্তাহের দিকে আমাদের দেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। নানা আশঙ্কা আর আতঙ্ক গ্রাস করেছিল আমাদের। সেসব মোকাবিলা করেই আমাদের টিকে থাকতে হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের থাবায় আমরা হারিয়েছি আমাদের অনেক প্রিয়জনকে, আপনজনকে। আমি সকলের রুহের মাগরিফরাত এবং আত্মার শান্তি কামনা করছি। স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। আবহমানকাল ধরে বাংলার গ্রাম-গঞ্জে, আনাচে-কানাচে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৬০'র দশকের শেষভাগে ঢাকায় নাগরিক পর্যায়ে ছায়ানটের উদ্যোগে সীমিত আকারে বর্ষবরণ শুরু হয়। আমাদের মহান স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে এই উৎসব নাগরিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। ১৯৮০'র দশকে পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। তিনি বলেন, মূলত আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনসমূহের কর্মী-সমর্থকদের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই অবস্থান। | 6 |
২০১৯ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রাইম ব্যাংক। বুধবার ঢাকায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ব্যাংকের অগ্রগতির বিভিন্ন সূচক সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বিশ্লেষক, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাংবাদিকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহেল আহমেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান চৌধুরী প্রশ্নের জবাব দেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১.৩৭ টাকা, যা ২০১৮ সালের একই মেয়াদে ছিল ১.০৮ টাকা। বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১২২ কোটি টাকা। মুনাফা বৃদ্ধির এই হার ২৭%। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্যাংকের আমানত সেপ্টেম্বর ২০১৯ শেষে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৯ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে প্রদেয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি ব্যবসাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সূচনা বক্তব্যে ব্যাংকের কৌশলগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহেল আহমেদ বলেন, অগ্রগতির যে ধারায় ব্যাংকটি এগিয়ে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিজ্ঞপ্তি | 0 |
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মিয়ানমারের পাঠানো ৭০০ লোকের তালিকা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, 'তালিকাটা এমনভাবে তৈরি করেছে, যাতে মনে হয় তাদের সদিচ্ছার অভাব আছে। অন্য দুরভিসন্ধি আছে। আমার সহকর্মীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, এতে একটা শুভংকরের ফাঁকি আছে। এরা যাতে না যায়, তার জন্য এই তালিকা দেওয়া হয়েছে।' আজ মঙ্গলবার বিকেলে মিয়ানমারের পাঠানো ৭০০ লোকের তালিকা নিয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশকে ৭০০ লোকের তালিকা দেওয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি মিয়ানমারের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে। রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ ফিরে না এলেও হঠাৎ কেন মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতের মতো হঠাৎ প্রত্যাবাসনের আগ্রহের কথা জানিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিয়ানমার তার পুরোনো কৌশল বেছে নিয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকের মত। মিয়ানমারের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ৭০০ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'প্রথমে তারা (মিয়ানমার) বলেছিল ১১ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে। তারপর তারা কমিয়ে কমিয়ে ৭০০ লোকের একটি তালিকা দিয়েছে। কিন্তু তালিকাটা এতই ডিফেক্টিভ (সমস্যায় পরিপূর্ণ)! আমরা তো কাউকে জোর করে পাঠাব না। আমার সহকর্মীরা তালিকটা যাচাই-বাছাই করে দেখেছেন, এক পরিবারে বাবা রয়েছেন, অথচ তাঁর স্ত্রী বা সন্তানেরা ওই তালিকায় নেই। ওরা সবগুলো পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। বিচ্ছিন্ন করার ফলে ওই পরিবারগুলো যাবে বলে মনে হয় না।' স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নীতিতে বাংলাদেশের সমর্থনের উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বলেন, 'মিয়ানমার তালিকাটা পাঠিয়েছে। তারাই বলেছে, এই লোকগুলোকে আমরা নিতে পারি। পরে আমার সহকর্মীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, এতে একটা শুভংকরের ফাঁকি আছে। এরা যাতে না যায়, তার জন্য এই তালিকা দেওয়া হয়েছে। আমরা মিয়ানমারকে বলেছি, পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করবেন না। গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করবেন না। যাঁরা যে গ্রামে আছেন, সেই গ্রামে তাঁদের নিয়ে যান। পুরো পরিবারকে নিয়ে যান। পরিবার না গেলে তারা স্বেচ্ছায় যাবে না।' তবে কি ওই ৭০০ রোহিঙ্গাকে পাঠানো হবে না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এই ৭০০ তো যাবেই না। আমরা তাদের কীভাবে অনুরোধ করি যাবে কি না! মিয়ানমারকে বলেছি, তোমরা এই ব্যাপারে আরও সংবেদনশীল হও।'রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য চীনের মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া থেমে গেছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে চীনের উদ্যোগে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া এখনো চলছে। গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টিন ব্লিঙ্কেন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নৃশংসতাকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান আব্দুল মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের বন্ধুপ্রতীম শক্তিশালী দেশ এই ঘোষণা দেওয়ায় আমাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা গণহত্যা মামলা আরও শক্তিশালী হতে পারে। যদি কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এই ধরনের গণহত্যা করে, তারা শাস্তির আওতার বাইরে থাকবে না। আমরা গণহত্যা চাই না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও গণহত্যা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করার একমাত্র পথ গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়ে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া। এটা আমাদের জন্য সুসংবাদ।' বড় শক্তিধর দেশ যদি চাপ দেয়, তবে এই সমস্যার একটা সমাধান হবে বলে মনে করেন আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, 'আমার বিশ্বাস, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আরও বেশি চাপ দেবে মিয়ানমারের সরকারের ওপর যাতে নিজের লোকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এটা ত্বরান্বিত হলে অনেক খুশি হব। মিয়ানমার তাদের লোকজনকে ফিরিয়ে নিলে অপরাধ কিছুটা কমতে পারে। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকার এই অপকর্ম করেছে। আশা করব, মিয়ানমারের সামরিক সরকার এটা অনুধাবন করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে।' বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মিয়ানমারের নেতৃত্ব। ওই চিঠিগুলোতে মিয়ানমার প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর এবং উন্নত সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। | 6 |
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম। ভুক্তভোগী হাজরাবাড়ী পৌরসভার পশ্চিম ব্রাহ্মণপাড়া মৃত তৈয়র আলীর ছেলে।গত ১২ সেপ্টেম্বর মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উপজেলা প্রশাসনের কাছে বাড়ি ভিটা দখলের লিখিত অভিযোগ দেন শহিদুল ইসলাম। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্মণপাড়ায় খাস ৯ শতাংশ জমি শহিদুল ইসলামের তিন দাদার নামে পত্তন ছিল। ভুক্তভোগীর দাদারা জীবিত থাকতে ওই জমি দখলে ছিল। তাঁদের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী সূত্রে পাওয়ার কথা দাবি করেন শহিদুল ইসলাম। কিন্তু গ্রামের ইসকর ওয়াসিম, ইয়াসিন মমিন এবং মৃত মিছিলের সন্তানেরা জোরপূর্বক তাঁদের জমি দখল করেছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এই সঙ্গে দখলদাররা প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগীর পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি সাক্ষর করে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে তা পাঠিয়ে দেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে নিতে বলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, 'বসত বাড়ি না থাকায় অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। থাকার মতো একটু জমি চাচ্ছি। আমাকে একটি সরকারি ঘর দিলও খুশি।'অভিযুক্ত ওয়াসিম বলেন, 'আমাদের জমিতে আমার দাদা তাঁদের থাকতে দিয়েছিল। তাঁদের জায়গা জমি ছিল না। জমি দখল সূত্রে তাঁদের নামে বি আর এস রেকর্ড হয়। শহিদুলের বাবা আমাদের জমি থেকে নিজ ইচ্ছায় চলে যান।'এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ময়নুল বলেন, 'অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। কোর্ট থেকে পরবর্তী নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে একদল কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার রাতে ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ শেষে পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় তাঁদের কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। আজ সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কাছে ভারত বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর ভাই গুরুদাস ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলোজির কাশ্মীরের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার পরই সেখানে পৌঁছায় পাঞ্জাব পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কলেজের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভাঙচুর চালানো কক্ষ দেখিয়ে লাঞ্ছিত এক কাশ্মীরি শিক্ষার্থী বলেন, 'আমরা এখানে খেলা দেখছিলাম। এখানে পড়তে এসেছি আমরা। আমরাও ভারতীয়। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কী করা হয়েছে দেখুন। আমরা কী ভারতীয় নই? তো মোদি (ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) এখন কী বলবেন?' ঘটনাটি খতিয়ে দেখার ও সেখানকার কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণ জিত সিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি টুইট করেছেন, 'গত রাতে পাঞ্জাবের একটি কলেজে কিছু কাশ্মীরি শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করার কথা শোনাটা পীড়াদায়ক। এই ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য পাঞ্জাব পুলিশকে নির্দেশ দিতে এবং পাঞ্জাবে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরণ জিত সিংজির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।' তবে গত রাতের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আজ সোমবার সকালে পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ একে অপরের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। এর আগে লাঞ্ছিত কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা কিছু ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেন। ফুটেজগুলোতে তাঁদের হোস্টেলের কক্ষে ভাঙা চেয়ার ও বিছানা উল্টে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের অনেকে শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখান। এসব ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। | 3 |
২০১৩ সালের ৫ মে। পুরো ঢাকা শহর হেফাজতে ইসলামের দখলে। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তাদের সমাবেশ থাকলেও দুপুর থেকে তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। হেফাজতের কর্মীরা বায়তুল মোকাররমে বইয়ের দোকান পুড়িয়ে দেন। তাঁরা হুংকার ছাড়েন অপরাজেয় বাংলা গুঁড়িয়ে দেবেন। হাজার হাজার হেফাজত কর্মীর সামনে র্যাব-পুলিশ ছিল অসহায়। শুধু বিএনপি নয়, সরকারের সুহৃদ বলে পরিচিত জাতীয় পার্টিও হেফাজতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল সেদিন। আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। সর্বত্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এই অবস্থায় হেফাজতের উদ্দেশে যেই মানুষটি বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেছিলেন, 'আমাদের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না, রাতের মধ্যেই আপনারা ঘরে ফিরে যাবেন এবং ভবিষ্যতে আপনাদের আর ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না', তিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তাঁর কথায় কাজ হয়েছিল। পরদিন হেফাজতের কর্মীরা ঢাকা শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ হেফাজত সম্পর্কে আপসকামী মনোভাব দেখালেও সেদিন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফ। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলসহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতাকে জেলে নেওয়া হয়। তখন দলের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের হাল ধরেছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিদেশি কূটনীতিক ও ক্ষমতার তৎকালীন কুশীলবদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর বিএনপিতে স্পষ্ট ভাঙন দেখা দিলেও আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছিল মূলত মো. জিল্লুর রহমান, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরফসহ কতিপয় নেতার দৃঢ় অবস্থানের কারণে। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও সৈয়দ আশরাফ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন দলীয় প্রধানের ইচ্ছায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর প্রায় আট বছর এই দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোনো কোটারি গড়ে তোলেননি; উপদলীয় কোন্দলকে কখনো প্রশ্রয় দেননি। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান সৈয়দ আশরাফ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনে বাবার মতোই সুনাম রক্ষা করে গেছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারে যোগ দেন, পরবর্তীকালে দুটি বড় মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সৈয়দ আশরাফ ছিলেন জনপ্রশাসনমন্ত্রীর দায়িত্বে। এই দীর্ঘ সময়ে সৈয়দ আশরাফ পদ-পদবি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন বা জ্ঞাতসারে কাউকে অন্যায় সুবিধা দিয়েছেন, এ রকম অভিযোগ কেউ করতে পারবেন না। কয়েক মাস ধরে দুরারোগ্য ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রীও এক বছর আগে ক্যানসারে মারা যান। সৈয়দ আশরাফের রাজনীতি শুরু ছাত্রজীবন থেকে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার হত্যার পর সৈয়দ আশরাফ যুক্তরাজ্য চলে যান এবং সেখানে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। আমাদের রাজনীতি যখন তীব্র হিংসা-বিদ্বেষে আকীর্ণ এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের যূপকাষ্ঠে বন্দী, তখন সৈয়দ আশরাফ ছিলেন ব্যতিক্রম ও স্ব-স্বভাবে উজ্জ্বল। তিনি আওয়ামী লীগের মতো দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু পদের গরিমা তাঁকে আচ্ছন্ন করেনি। তাঁর ব্যক্তিত্ব পদের চেয়ে বড় ছিল। যেখানে আমাদের রাজনীতিকদের বেশির ভাগ আত্মপ্রচারে উন্মুখ, সেখানেও সৈয়দ আশরাফের প্রচারবিমুখতা লক্ষণীয়। তিনি কখনো কারণে-অকারণে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে বড় নেতা হিসেবে তুলে ধরেননি। সৈয়দ আশরাফ তাঁর সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের যে কথাটি জোর দিয়ে বলতেন, তা হলো রাজনীতি করতে চাইলে দুর্নীতি ছাড়তে হবে। আর দুর্নীতি করলে রাজনীতি ছাড়তে হবে। মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের যেসব নেতা তাঁকে অত্যন্ত সৎ, নির্লোভ চরিত্রের রাজনীতিক হিসেবে অভিহিত করেছেন, তাঁদের কজন সৈয়দ আশরাফের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। মনে আছে, ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি যখন মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, তখন নেতা-কর্মীরা অনেকক্ষণ ধরে উল্লাস প্রকাশ করেন। সভানেত্রী ছাড়া আর কারও বক্তৃতায় এতটা উদ্বেলিত হননি তঁারা। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে তিনি 'অশুভ শক্তির চর, সন্ত্রাসী, মাদকসেবী, অসৎ ও বিতর্কিত ব্যক্তির' যাতে দলে অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে ব্যাপারে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছিলেন। আমাদের রাজনীতিকেরা দলীয় বৃত্তের বাইরের সম্পর্ককে আড়াল করতে পছন্দ করেন। কিন্তু সৈয়দ আশরাফ ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বেশি মূল্য দিতেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব ফার্নান্দো তারানকোর মধ্যস্থতায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের ফাঁকে একসময় সৈয়দ আশরাফ মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে বলেন, 'স্যার, আপনি কি জানেন, আমি আপনার ছাত্র ছিলাম?' মির্জা ফখরুল মনে করতে না পেরে তাঁর দিকে বিস্ময়ের চোখে তাকান। তখন সৈয়দ আশরাফ কিছুটা রহস্য করে বললেন, 'ছাত্রের কথা শিক্ষক মনে না রাখলেও শিক্ষকের কথা ছাত্রকে মনে রাখতে হয়।' মির্জা ফখরুল যখন ঢাকা কলেজের শিক্ষক, তখন সৈয়দ আশরাফ তাঁর ছাত্র ছিলেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যেমন আস্থা ও বিশ্বাস ছিল, তেমনি ছিল গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি ও পেশার মানুষেরও। আবার তাঁর নিস্পৃহতায় তাঁদের মধ্যে হতাশাও কম ছিল না। পেশাগত কারণে ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে যখনই সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তিনি হাসিমুখে কথা বলেছেন। পত্রিকায় কোনো লেখায় তাঁর সমালোচনা থাকলেও বিরূপ মন্তব্য করেননি। বরং রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি তেমন উৎসাহ দেখাতেন না। বলতেন 'আসুন, গল্প করি, আড্ডা দিই। রাজনীতি নিয়ে কথা বলে আড্ডার সময়টা নষ্ট করেন কেন?' তিনি এমনিতেই গণমাধ্যমের সঙ্গে বেশি কথা বলতেন না। শেষ দিকে একেবারেই না। তাহলে কি রাজনীতি সম্পর্কে তিনি অনীহ হয়ে পড়েছিলেন? আজ যাঁরা ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁরা আয়নায় নিজের মুখ দেখলে বুঝতে পারবেন সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্যটা কত বেশি ছিল। সোহরাব হাসান প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি [] | 8 |
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কেজি আইস বা ক্রিস্টাল মেথসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (১৬ অক্টোবর) র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার একজন টেকনাফ আইস সিন্ডিকেটের হোতা খোকন। তাদের কাছ থেকে গুলিসহ একটি বিদেশি অস্ত্রও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে জানান হবে বলে র্যাবের বার্তায় জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ধার এই মাদকের চালানের মধ্যে এটিই বড়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১২.৫ কোটি টাকা। এছাড়াও তাদের কাছ খেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মোবাইল ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এই চক্রটি বিগত প্রায় কয়েক বছর ধরে অবৈধ মাদক ইয়াবার কারবার করে আসছে। সিন্ডিকেটে ২০ থেকে ২৫ জন যুক্ত রয়েছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাধারণ নৌপথ ব্যবহার করে মাদকের চালান দেশে নিয়ে এসে থাকে। চক্রটি ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত। বিগত কয়েক মাস ধরে আইস পাচার করে নিয়ে আসছিলো। ঢাকার উত্তরা, বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তাদের সিন্ডিকেট সদস্য রয়েছে বলে জানায়। আইস বা ক্রিস্টাল মেথে শতভাগ এমফিটামিন থাকায় এটা বিশ্বজুড়েই ভয়ঙ্কর মাদক হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে এই মাদক ধরা পড়ছে। | 6 |
দুর্যোগ মৌসুম এলেই চিন্তায় পড়েন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। এর মধ্যে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অশনি। চোখ রাঙাচ্ছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রতি।আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড় অশনি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার বন্দর থেকে ১ হাজার ১২৫ কিলোমিটার, মোংলা বন্দর থেকে ১ হাজার ১১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ১ হাজার ১৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হওয়ার সময় ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার।ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, আগামী মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ১০ মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। সঙ্গে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।আশ্রয়কেন্দ্রের সংকট এখনই উপকূলের মানুষদের ভাবাচ্ছে। বরিশালের মেঘনা ঘেরা হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জের মতো প্রত্যন্ত উপজেলার অনেক আশ্রয়কেন্দ্র নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি ঝুঁকিতে। এ ধরনের চরবেষ্টিত নতুন বসতিতে ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে রক্ষায় আশ্রয়ের কোনো ব্যবস্থাই নেই।ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বরিশালের উপপরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় ২২৯টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং ৬টি মাটির কেল্লা রয়েছে। কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রের এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।হিজলা উপজেলার দক্ষিণ বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার যে কোনো সময় মেঘনায় হারিয়ে যেতে পারে। এমন অনেক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারই নদী ভাঙনের মুখে রয়েছে হিজলার। আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ে এখানে সাধারণ মানুষের আশ্রয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে এখানকার চারটি বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার আগেই নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় সেখানে ঝড়ঝঞ্ঝায় আশ্রয়স্থলের সংকট দেখা দিয়েছে। এ চারটি হচ্ছে-উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের চর আবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, বড়জালিয়া ইউনিয়নের হিজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, একই ইউনিয়নের মধ্য বড়জালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার এবং ধুলখোলা ইউপির হোগোলটুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার।হিজলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গফফার বলেন, তাঁর উপজেলায় ২৬টি বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের খবরে স্কুলগুলোর তালিকা করে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এরই মধ্যে যেসব ভবন নদীতে চলে গেছে সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলেও আশ্রয় নেওয়া সম্ভব নয়।একই অবস্থা মেহেন্দীগঞ্জর। সেখানকার অনেক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, 'গত বছরের শেষে মধ্য দড়িরচর খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার নদী গর্ভে চলে গেছে। কিছু কিছু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।'উপজেলার চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামশুল আলম মনির বলেন, 'কাজিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার এবং পশ্চিম কাজীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার এক বছর আগে তেঁতুলিয়া নদীতে তলিয়ে গেছে। নদীর পূর্বপারের ৪টি ওয়ার্ড ভেঙে নতুন বসতি হয়েছে। সেখানে ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের বসতি। কিন্তু কোন পাকা বিদ্যালয় কিংবা সাইক্লোন শেল্টার নেই। ওই বসতিতে থাকা একমাত্র উত্তর পশ্চিম কাজিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি টিনের ঘর। এখানে ঝড় এলে আশ্রয় নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।'এ ব্যাপারে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুন্নবী বলেন, 'গোটা মেহেন্দীগঞ্জ নদীভাঙন প্রবণ। আগামী তিন মাস দুর্যোগ মৌসুমে যে কোনো ওয়ার্ড বিলীন হয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অশনি থেকে জনগণকে রক্ষায় বুলেটিন জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে চলছে প্রস্তুতি।' ইউএনও বলেন, 'কোনো কোনো সাইক্লোন শেল্টার নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ। রুকন্দিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ভাঙনের কবলে পড়লে দ্রুত টেন্ডার দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু গোপালপুরের মতো যেখানে নেই সেখানে রাতারাতি সাইক্লোন শেল্টার করা সম্ভব নয়।'একইভাবে নদী ভাঙন কিংবা জরাজীর্ণ পড়ে আছে জেলার মুলাদী, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুরের অনেক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার। ঈদের ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকায় সাইক্লোন শেল্টারগুলো ব্যবহার উপযোগী করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে।ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বরিশালের মাস্ট ক্লাইম্বার (টাওয়ার কর্মী) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বরিশাল জেলায় ২২৯টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং ছয়টি মাটির কেল্লা রয়েছে। এর মধ্যে বাকেরগঞ্জে আশ্রয় কেন্দ্র সর্বোচ্চ ৬৪ টি, মেহেন্দীগঞ্জে ৪৩ টি, হিজলায় ২৬ টি, সদর উপজেলায় ১১ টি, উজিরপুর ১২ টি, বানারীপাড়ায় ১৮ টি, বাবুগঞ্জ ১৩ টি, মুলাদী ১১ টি, গৌরনদী ১৫টি এবং আগৈলঝাড়ায় ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সিটি এলাকায় তাঁদের ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। তবে জেলার ১০ উপজেলায় কোনো স্বেচ্ছাসেবক নেই।বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে পায়রাসহ অন্যান্য সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এটি পায়রা থেকে ১ হাজার ১৪৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। আগামী ১১ মে রাতে ঘূর্ণিঝড় অশনি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।'এই সম্পর্কিত আরও পড়ুন:ঘূর্ণিঝড় 'অশনি' মোকাবিলায় প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ সরকারঘূর্ণিঝড় 'অশনি'তে রূপ নিয়েছে গভীর নিম্নচাপআবারও ঘূর্ণিঝড় 'অশনি'র আশঙ্কা পশ্চিমবঙ্গেঘূর্ণিঝড় 'অশনি' মোকাবিলায় প্রতিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কন্ট্রোল রুম | 6 |
সপ্তম ধাপে অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একটি ভোটও পাননি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালা প্রতীকের সদস্য প্রার্থী রবিউল ইসলাম রানা। নিজে ভোট দিলেও ফলাফল শিটে ভোটের সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে।জানা গেছে, গত সোমবার কুসুম্বা ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে তালা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কুসুম্বা ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রানা। ভোটের দিন কেন্দ্রে নিজের এজেন্টও ছিল। কিন্তু ভোট গণনা করে দেখা যায়, রবিউল একটি ভোটও পাননি।ফলাফল শিটে দেখা যায়, রবিউল ইসলাম রানার তালা প্রতীকে একটি ভোটও পড়েনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ভূপেন চন্দ্র মণ্ডল টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯৩ ভোট, আজিজুল হক মোরগ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮২ ভোট এবং ময়নুল ইসলাম আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩৫ ভোট।রবিউল ইসলাম রানা বলেন, 'আমি, আমার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ আত্মীয়স্বজন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভোট কোথায় গেল? আমার কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের ভোট কোথায় গেল? তাঁরা কেউই কি আমাকে ভোট দেননি? ভালো কথা, তাহলে আমার নিজের ভোটটি গেল কোথায়?'এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন। তবে প্রার্থী চাইলে এ ব্যাপারে আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।' | 6 |
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে নিমতলা নামক স্থানে প্রাইভেটকারের চাপায় অনিক শেখ (২৩) নামে এক তরুণ মারা গেছেন।শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক শেখ উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের বড়ই হাজী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। অনিক শেখের চাচাতো ভাই মো.লোকমান হোসেন জানান, অনিক নিমতলা সিঙ্গার কোম্পানিতে চাকরি করতেন । ডিউটি শেষ করে বাসায় ফেরার পথে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো.আ.বাসেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চালককে আটক করা হয়েছে। প্রাইভেটকার জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। | 6 |
করোনা মহামারির প্রভাবে বদলে গেছে প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন। ২০২০ সালে অনলাইনে কেনাকাটার হার বেড়েছিল ব্যাপকভাবে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স, অনলাইন কোর্স, ভিডিও কনফারেন্সের অ্যাপ জুমের দাপট দেখেছে বিশ্ব। ২০২১ সালেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। নতুন বছরে পা ফেলার আগে চলতি বছর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পাওয়া কিছু প্রযুক্তিপণ্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। জুমআমেরিকান ভিডিও কমিউনিকেশন কোম্পানি জুম যত দ্রুত উত্থান দেখেছে, তার তুলনা হয়তো চলে শুধু রকেটের সঙ্গেই! ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত জুম (অ্যাপটি চালু হয় ২০১৩ সালে) ছিল অচেনা এক সফটওয়্যার কোম্পানি। করোনা মহামারিতে আচমকা সব অফিস-আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জুমের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে অস্বাভাবিক গতিতে। সহজ ইউজার ইন্টারফেসই ছিল এর মূল কারণ। গত বছরের এপ্রিলে জুম জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৩০ কোটি মানুষ তাদের সফটওয়্যার ব্যবহার করে সভা করেছে।জুম অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জুমের আয় ছিল ৭০ কোটি ডলার। এ বছর একই প্রান্তিকে তাদের আয় ৮২ কোটি ডলার। তবে আয় বাড়লেও কমেছে শেয়ারের মূল্য। গত বছর নভেম্বরে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ৫০০ ডলার। কমতে কমতে তা এখন দাঁড়িয়েছে ১৮২ ডলারে। তবু জুমের বার্ষিক মিটিং মিনিট দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়নে। শেয়ারবাজারের কল্যাণে কোম্পানিটির মূলধন এখন ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আগামী বছর অনেক প্রতিষ্ঠানই হয়তো হোম অফিসের বদলে কর্মীদের অফিসে এনে ফেলবে। তখন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও শেয়ারমূল্য দুটোই আরও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনলাইনে ব্যবসাদিন দিন অনলাইনে আমাদের সময় দেওয়ার মাত্রা বেড়েই চলছে। এই পরিবর্তনের ভালো-খারাপ সব দিকই আছে। অনলাইনে সময় কাটানোর প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই নতুন আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। অনলাইন থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেইনারদের আয়ও বেড়েছে। দক্ষ ট্রেইনাররা তাদের কোর্সে বিদেশি শিক্ষার্থীও পাচ্ছেন। টেকেবল, ইউডেমি, স্কিলশেয়ার ও কোর্সেরার ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে উঠছে। টেকেবল থেকে ৪০ হাজার ট্রেইনার আয় করেছেন ১ বিলিয়ন ডলার। কোর্সেরার মূলধন এখন ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। প্ল্যাটফর্মটিতে ৩ হাজারের বেশি কোর্স আছে। শেয়ার মার্কেটের কল্যাণে ইউডেমির মূলধন এখন সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার।এ ছাড়া সামনের দিনে ই-কমার্স ব্যবসার বাজারও আরও ফুলে-ফেঁপে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২২ সালে ই-কমার্স ব্যবসা থেকে আয় হবে ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ব্যবসা বাড়ানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা সক্রিয় থাকবেন, তাঁদের বিক্রি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ বেশি।অনলাইনে খাবার বিক্রি স্বাবলম্বী নারী উদ্যোক্তারাপ্রযুক্তিবিদদের অনুমান, ক্রেতাদের আচরণ ও কেনাকাটার তথ্য বিশ্লেষণে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে আগামী দিনে। দাম ঠিক করা ও পণ্য দেখানোর ক্ষেত্রে বিক্রেতারা এআইয়ের সহায়তা পাবে। অন্যদিকে ক্রেতারা নিজস্ব চাহিদা আরও সহজে বোঝাতে পারবেন বিক্রেতাদের। পূর্বাভাস আছে, ২০২২ সালে মোবাইলের মাধ্যমে ৫০ শতাংশের বেশি অনলাইন কেনাকাটা হবে। ভিআর ও এআর প্রযুক্তির সাহায্যে যেকোনো পণ্য ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল থেকে দেখা যাবে। ফলে পণ্যটি কাজে লাগবে কি না, তা সহজেই বোঝা যাবে। আর ২০২৫ সাল নাগাদ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির হার্ডওয়্যারের বাজার হবে ১০৫ বিলিয়ন ডলারের। নেটফ্লিক্স২৪ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল নেটফ্লিক্স। প্রথম দিকে তারা ডিভিডি ভাড়া দিত। ২০১৩ সালে নেটফ্লিক্স কনটেন্ট বানানোর ব্যবসায় নামে। তাদের প্রথম অরিজিনাল সিরিজ হলো আমেরিকান পলিটিক্যাল ড্রামা 'হাউস অব কার্ডস'।আমেরিকান এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিসটি বর্তমানে ১৯০টি দেশে দেখা যায়। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের গ্রাহকসংখ্যা ছিল ২১ কোটি ৪০ লাখ।মহামারিকালীন লকডাউনের প্রভাবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ কোটি ৪০ লাখ নতুন গ্রাহক জুটেছিল নেটফ্লিক্সের। গ্রাহক বাড়ার এই হার কমার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে নতুন সাবস্ক্রাইবার যুক্ত হয় আরও ৪৪ লাখ।প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন গেম আনল নেটফ্লিক্সওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স স্মার্টফোনের জন্য গেমস নিয়ে আসে এ বছরের নভেম্বরে। 'স্ট্রেঞ্জার থিংস: ১৯৮৪ ', 'স্ট্রেঞ্জার থিংস ৩: দ্য গেম', কার্ড ব্লাস্ট, টিটার আপ, শুটিং হোপসসহ ৫টি গেম এনেছে তারা। নেটফ্লিক্স গ্রাহকেরা বিজ্ঞাপন ছাড়াই গেমগুলো খেলতে পারবে।ডলারের বিপরীতে অনেক দেশের মুদ্রার মান কম হওয়ায় মার্কিনরাই এখন পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বিশ্বস্ত গ্রাহক। নেটফ্লিক্সে মার্কিন গ্রাহকের সংখ্যা বর্তমানে ৭ কোটি ৪০ লাখ। সে তুলনায় ভারতীয় গ্রাহকের সংখ্যা ৪৪ লাখ। অবশ্য এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রাহক ধরতে নিত্যনতুন বাণিজ্যিক কৌশল নিচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মটি। ভারতের বাজার দখলে নিতে সাবস্ক্রিপশন ফি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে নেটফ্লিক্স।এ বছর নেটফ্লিক্সের অরিজিনাল কনটেন্টের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সিরিজ 'স্কুইড গেম'। প্রথম ৪ সপ্তাহে সিরিজটি দেখেন ১৪ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক। সিরিজটি বানাতে খরচ হয় ১৬৮ কোটি টাকা। আর মুনাফা হয় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। মেটাভার্সমার্কিন সায়েন্সফিকশন লেখক নিল স্টিফেনসনের একটি উপন্যাসে প্রথমবার মেটাভার্সের কথা লেখা হয়েছিল। ১৯৯২ সালে কল্পিত সেই জগতের দরজা খুলেছিল 'স্নো ক্র্যাশ' নামের বইয়ের মাধ্যমে। ৩০ বছর পর এসে মানুষের থ্রিডি অবতারের ধারণা বাস্তব রূপ লাভ করছে। আর সেই সুযোগ আনার ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় তুলেছেন মার্ক জাকারবার্গ।বলা হচ্ছে, মেটাভার্সে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ভিডিওর মাধ্যমে ডিজিটাল জীবনযাপন করা যাবে। কেনাকাটা, অফিসের কাজ, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও খেলাধুলা করা যাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। বিশ্বের অপর প্রান্তে চলতে থাকা যেকোনো সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়া যাবে। অর্থাৎ সশরীরে উপস্থিত থাকার প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে।মেটাভার্স তৈরিতে ফেসবুকের তোড়জোড়মেটাভার্স প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রধান শর্ত হলো দ্রুতগতির ইন্টারনেট। মেটার (ফেসবুক) সব ব্যবহারকারীর হাতে দ্রুত গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট পৌঁছালে এই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপ সম্পর্কে ধারণা মিলবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মেটাভার্সের মূল বিষয়গুলোর উন্নয়ন ঘটাতে আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে।মেটাভার্স প্রযুক্তি নিয়ে শুধু ফেসবুক নয়, সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি মাইক্রোসফট, ভিডিও গেম নির্মাতা কোম্পানি এপিক গেমস ও অনলাইন গেইম প্ল্যাটফর্ম রোবোলক্স'ও কাজ করছে।মাইক্রোসফটের প্রযুক্তির নাম হবে ম্যাশ। তাদের নিজস্ব হলোলেন্স (মিক্সড রিয়েলিটি স্মার্টগ্লাস) ব্যবহারকারীকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও অগমেন্টেড রিয়েলিটিতে নিয়ে যাবে। হেডসেট ছাড়াও সাধারণ টু-ডি মনিটর দিয়ে ভার্চুয়াল কর্মক্ষেত্রে সভা করা যাবে। ক্লাউডভিত্তিক ডাইনামিক ৩৬৫ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ড বিভাগ ও মহাকাশে থাকা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনেও ভার্চুয়ালি যাওয়া যাবে।মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তাদের অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে করপোরেট অফিসের কর্মীরা নিজেদের ডিজিটাল অবতার তৈরি করতে পারবেন। অফিসের জন্য তৈরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল যেমন স্প্রেডশিট আদান-প্রদান করা যাবে। এই প্রযুক্তির প্রাথমিক রূপ কেমন হবে, তা আগামী বছরের শেষ ভাগে জানা যাবে।এদিকে ফোর্টনাইট গেম নির্মাতা কোম্পানি এপিক গেমস ইনকরপোরেশনও মেটাভার্স প্রযুক্তির দখল নিতে মরিয়া। কোম্পানিটির সিইও টিম সুইনি জানিয়েছেন, আগামী দশকে মেটাভার্স প্রযুক্তির বাজারমূল্য হবে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরিতে এপিক, রোবোলক্স, মাইক্রোসফট ও ফেসবুকের জন্য আগামী তিন বছর খুব গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক শ কোটি ব্যবহারকারীকে সবাই নিজেদের ছাতার তলে আনতে চাইবে। প্রথম যারা কাজটি করতে পারবে তাদের হাতেই মান নির্ধারণের ভার চলে যাবে। পরিসংখ্যানগত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে ৫০ কোটি ভিআর সেট বিক্রি হতে পারে। মেসেজিং অ্যাপের বাজারএককালে মেসেজিং অ্যাপে শুধু টেক্সট পাঠানো যেত। এখন ভয়েস মেসেজ পাঠানো যায়, চলে ভিডিও চ্যাট। এ ছাড়া গ্রুপ চ্যাটের সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। সারা বিশ্বে ২৭৭ কোটি মানুষ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন। আর ২০২২ সালে এসব অ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৩০০ কোটিতে।মেসেজিং অ্যাপ ওয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। তাদের অ্যাপ ব্যবহার করেন বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষ। এর মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা ৩৯ কোটি। ২০০৯ সালে চালু হওয়া অ্যাপটি এখন পর্যন্ত ৫০০ কোটি বার ডাউনলোড হয়েছে। বিশ্বের ১০০টি দেশে হোয়াটসঅ্যাপ সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপ কোনো বিজ্ঞাপন দেখায় না। তাদের মূল আয়ের উৎস হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস, বিভিন্ন কোম্পানিগুলো এর মূল গ্রাহক। বহুল ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ এনক্রিপ্টেড থাকে। ফলে নিরাপদ থাকতে হোয়াটসঅ্যাপে ভরসা রাখেন অনেকে।কথা বলার কয়েকটি অ্যাপফেসবুক মেসেঞ্জারের ব্যবহারকারী সংখ্যা এখন প্রায় ১৩০ কোটি। তবে ফেসবুক মেসেঞ্জার বা ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা নেই। ২০২২ সালে এই সুবিধা যুক্ত করার কথা দিয়েছিল ফেসবুক। কিন্তু তারা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের আগে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না অ্যাপ দুটিতে।ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক দিয়ে চীনের মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাট আছে তৃতীয় অবস্থানে। তাদের ব্যবহারকারী সংখ্যা ১২৫ কোটি।পরিশেষেপ্রযুক্তি বিশ্ব খুব দ্রুত বদলায়। কোনো কিছুই দীর্ঘদিন টেকে না। গুটিকয়েক প্রযুক্তি কোম্পানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করলেও প্রতিনিয়ত পণ্য ও সেবায় তারা নতুনত্ব এনে চলেছে। আগামী বছরেও নতুন অনেক পণ্য দেখা যাবে। সেবায়ও আসবে পরিবর্তন। বিশ্লেষকদের মতে, মানুষ কী ভাবছে তা নির্ভুলভাবে অনুমান করতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির দাপট বাড়বে সামনের দিনগুলোতে। হয়তো এই পথ ধরেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় আসবে নয়া বিপ্লব!তথ্যসূত্র: ব্যাকলিংকো ডটকম, রয়টার্স, আইজিএন ডটকম, বিজনেস অব অ্যাপস, স্ট্যাটিস্টা ডটকম ও উইডেভস ডটকমসালতামামির অন্যান্য আয়োজন:প্রাগৈতিহাসিক মানবসভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কারের বছর | 11 |
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ইসাহাক আলী (২৮) নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের করনাই এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসাহাক একই ইউনিয়নের করনাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, জাবরহাট বাজারের বিকাশ ব্যবসায়ী ও ভাই ভাই ফটোস্ট্যাটঅ্যান্ড কম্পিউটার এবং কসমেটিকসের মালিক ইসাহাক আলী সোমবার রাতে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় জানান, যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার কারণ জানতে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, 'আমি একজন সচেতন দর্শক। ব্যবসায়ীরা যেসব দাবি করছেন, তা ১০ বছর ধরে দেখে আসছি। আমার মনে হয় না, আমার এ জীবনে এগুলো পুরোপুরি সমাধান হবে। তবে এমন অনেক কিছুই আছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা যায়। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ আরও সহজ করা উচিত।' আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বারের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারি সংস্থাগুলো অহেতুক ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। এনবিআরের অথরিটেরিয়ান (কর্তৃত্ববাদী) মনোভাব পরিহার করতে হবে বলে দাবি করেন তারা। তিনি বলেন, 'এমন অনেক কিছুই আছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা যায়। কিন্তু এক জায়গায় হাত দিতে গেলে ২০ জায়গায় নড়াচড়া হয়। ভয় এতো বেশি মাথায় ওঠে যে, আগায় না।' ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সভাপতিত্বে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আলোচিত চিত্রনায়িকা পরী মনি আগামিকাল বুধবার ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিবেন। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, পরী মনি মাদক মামলায় আগামীকাল ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরা দিবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজিরা দিবেন বলে জানান তিনি। এর আগে মাদক মামলায় গ্রেফতারের ২৭ দিন পর গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত পরী মনিকে নারী, শারীরিক অসুস্থতা ও অভিনেত্রী এই তিনটি বিবেচনায় জামিনের আদেশ দেন। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার এ জামিন মঞ্জুর করা হয়। এর আগে গত ২২ আগস্ট পরীমনির জামিন আবেদন করা হলে শুনানির জন্য আদালত আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু এতো দেরিতে শুনানির দিন রাখায় আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত জামিন শুনানির জন্য উচ্চ আদালতের দারস্থ হন পরী মনির আইনজীবীরা। এরপর ২৬ আগস্ট আসামির জামিন আবেদনের শুনানি এগিয়ে দুই দিনের মধ্যে করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না? তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে গত ২৯ আগস্ট বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ পরীমনির জামিন শুনানি এগিয়ে গতকাল নতুন দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেলে বনানীর বাসায় প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে পরী মনিসহ তিনজনকে দেশি বিদেশি মদের বোলত ও এলএসডি মাদকসহ আটক করা হয়। পরে বনানী থানায় র্যাব বাদী হয়ে পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলায় প্রথম দফায় ৫ আগস্ট চারদিন এবং ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট পরী মনিকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ১৬ আগস্ট তাকে তৃতীয় দফায় ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড চান সিআইডি। একই দিনে জামিন আবেদন করা হলেও রিমান্ড আবেদনের জন্য সেটি আইনগতভাবে বাতিল হয়ে যায়। পরে এ রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯ আগস্ট শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একদিনের রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন না থাকায় পুনরায় কামিমপুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। সেদিন জামিন না চাওয়ায় পরী মনি তার আইনজীবীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর প্রেক্ষিতে পরদিন ২২ আগস্ট তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবীরা। | 2 |
নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবি সংবলিত ফেস্টুন কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমদ বাদী হয়ে অভিযোগ করেন।অভিযোগে জানা যায়, গত বুধবার বিজয় দিবস উপলক্ষে ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবির ফেস্টুন লাগানো হয়। ওই দিন রাতেই দুর্বৃত্তরা ফেস্টুনটি কেটে ফেলে। এ ঘটনায় সেলিম আহমদ বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন।এ প্রসঙ্গে সেলিম আহমদ বলেন, 'গত বুধবার কান্দিগাঁও পয়েন্টে ফেস্টুন লাগাতে গেলে স্থানীয় যুবদল নেতা আলতাব উদ্দিন ওরফে আলতা আমাকে বাধা দেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে আমার ফেস্টুনটি লাগানো হয়। ওই দিনই রাতের আঁধারে কে বা কারা ফেস্টুনটি কেটে ফেলে।'তিনি আরও বলেন, 'ফেস্টুন কাটার বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'নবীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ ডালিম আহমেদ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
গ্রামের মাটিতে পা দিতেই বুকটা হালকা হয়ে যায়। টানা একটা শ্বাস নিলে খুব আরাম লাগে। মনে হয়, নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া কেউ বহুদিন পর নিজের বাড়ির দরজায় ফিরে এসে ডাকছেমা, ও মা।যেকোনো মানুষের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মায়াময় ভূখণ্ড বোধ হয় তাঁর নিজের গ্রাম। আমার গ্রামও আমার কাছে তেমনই, সত্যি যেন নাড়ির টান।রাজশাহীর বাঘা উপজেলার যে গ্রামে আমি জন্মেছি, তার আদি নাম বাজুবাঘা। বাংলাদেশের বেশির ভাগ গ্রাম যেমন হয়, তেমনই। মানুষ বাড়তে বাড়তে গ্রামটাও বড় হয়ে গেল, ভেঙে গেল পাড়ায় পাড়ায়। পাড়া বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে বদলে গেল অনেক কিছু, মানুষও। এখন শহুরে সব সুবিধা সেখানে। নতুন নতুন দালানকোঠা উঠে ফাঁকা জমি ভরে যাচ্ছে।আগে গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা তেমন ভালো ছিল না। শহরে যেতে এক ক্রোশ হেঁটে যেতে হতো। এখন যোগাযোগব্যবস্থা অনেক ভালো। আগে খুব কম বাড়ির শিশুরা স্কুলে যেত। আজকাল স্কুলে যায় না এমন কোনো বাড়ি নেই। মাঝেমধ্যে গ্রামে গেলে দেখি, সৈনিকের মতো লাইন ধরে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। আমি যখন এদের দিকে তাকাই, চোখ পানিতে ভরে আসে। মনে হয় হিরের কুচিরা হেঁটে যায়। সেই আলোয় আমার চোখ ঝলসে ওঠে।আমার গ্রামের পেছনে একটি বড় বিল ছিল, ছিল একটা বটগাছ। বুড়ো বটগাছ কবে ইটভাটার জ্বালানি হয়ে গেল জানি না। বটগাছের পাশে একটা তালগাছ ছিল। মনে মনে আমি এখনো সেই তালগাছের পাশ দিয়ে হাঁটতে থাকি। পৃথিবীর সব মানুষ বোধ হয় সেভাবেই নিজের গ্রামে হেঁটে বেড়ায়।আমাদের গ্রামে সন্ধ্যা হলেই সবাই বাড়ি ফিরত। ছোটবেলায় কোথাও বের হলেই মা বলতেন, বেলা থাকতে থাকতে ফিরে আসিস। যেন যতক্ষণ আলো আছে ততক্ষণই জীবনের লেনদেন। বেলা পড়ে গেলে আবার কাজ কিসের?গ্রামের স্কুলমাঠে আমরা ফুটবল খেলতাম। চাঁদা তুলে একটা বল কিনলেই মৌসুম চলে যেত। ফুটবল আসলে সাম্যবাদের খেলা। এ খেলায় কোনো ধনী-গরিব নেই। শহুরে জীবনে এসে মনে হয়, যে কাদামাঠে ফুটবল খেলেনি, সে দিগন্তের অধিকারও পাবে না।আমাদের বাড়ির পাশে ছিল কচুরিপানায় ভর্তি এক হাজামজা ডোবা। বর্ষা এলে তার ওপর দিয়ে ডাহুক হেঁটে যেত। একবার দেখি, কচুরিপানার ওপরে ডাহুকের বাচ্চা ফুটেছে। নিচে মজা ডোবা আর ওপরে জীবনের জয়গান। মনে হলো, এটা জীবনের অন্য এক পাঠ। আসলে, বর্ষা এলে মায়া আসে, ভালোবাসাও আসে।ছোটবেলায় গ্রামের জীবনে বিকেলে বৃষ্টি হলেই পাতে পড়ত নারকেল-মুড়ি। শুভ্র নারকেলের গায়ে মুক্তার দানার মতো চিনি ছিটিয়ে মুড়িসমেত খাওয়ার মজাই আলাদা। শহুরে জীবনে শেষ কবে নারকেল-মুড়ি খেয়েছি, মনে নেই। এখন ভারী বৃষ্টি হলেই কে যেন কানে এসে ডাকেও ভাই, মুড়ি মুড়কি আছে, খাবি? গ্রাম কোনোভাবেই আমার পিছু ছাড়ে না, বটের আঠার মতো লেপ্টে আছে সর্বাঙ্গে। | 6 |
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) কৃত্রিমভাবে ডিমে তাপ দেওয়ার মাধ্যমে ২৭টি গোখরা সাপের জন্ম হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) ডিমগুলো থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়েছে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণী অধিকার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন "প্রাধিকার" এর তত্ত্বাবধানে সাপগুলোর জন্ম হয়। সদ্য জন্ম নেওয়া গোখরার বাচ্চাগুলো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করার প্রস্তুতি নিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা। এর আগে ২১ অক্টোবর গোখরা সাপের ডিমগুলো উদ্ধার করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ। পরে "প্রাধিকারের" কাছে হস্তান্তর করা হয় ডিমগুলো। ড. সুলতান বলেন, "এগুলো মনোক্লেড কোবরা। যা বাংলায় 'গোখরা সাপ' হিসেবে পরিচিত। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বিষাক্ত সাপ। আমাদের ইনকিউবেটরের হেচিংয়ের ( ইনকিউবেটরের মা্ধ্যমে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটানো) মাত্রা ১০০%।" তিনি আরও বলেন, "গত ২১ অক্টোবর স্থানীয় একটি বাড়ির রান্নাঘরে গোখরা সাপটি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। সাপটি মারা যাওয়ার আগে সদ্য ডিম পেরেছিল মনে হওয়ায়, উৎকণ্ঠা নিয়ে সাপের বাচ্চার সন্ধান চলছিল। তখন একটি গর্তে মেলে ২৭টি ডিম।" প্রাধিকারের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, "উদ্ধারকৃত ২৭টি গোখরার ডিমগুলো কৃত্রিমভাবে ফোটানো সক্ষম হওয়ায় আমরা অনেক আনন্দিত। এটিঅনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। বাচ্চাগুলো শিগগিরই শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হবে।" | 6 |
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যলিসন ব্লেক বলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বারবার হামলার ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে শুধু বিদেশি নয়, সব নাগরিকের মধ্যেই শঙ্কার সৃষ্টি করতে পারে। সরকার নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে-এটা প্রশংসনীয়। কিন্তু বারবার হামলার ঘটনা বন্ধ হবে, এটাই কাম্য।
সোমবার রাজধানীর বারিধারায় নিজ বাসভবনে কূটনৈতিক প্রতিবেকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত 'ডিক্যাব টকে' অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার আরো বলেন, 'হজরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু তারপর এখনও আরো উন্নতি প্রয়োজন। বিশেষ করে একজন যুবক বিমানবন্দরে ঢুকে নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর হামলা চালানোর ঘটনার পর এটা জরুরি যে নিরাপত্তার ব্যাপারে আরও নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো আবারও চালু হতে পারে।'
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ডিক্যাব সভাপতি আঙুর নাহার মন্টি। সঞ্চালনা করেন ডিক্যাব সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমান।
বক্তৃতায় অ্যালিসন ব্লেক বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে যে দৃঢ় বক্তব্য রেখেছেন এবং জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।'
তিনি আরো বলেন, 'হত্যা কিংবা বর্বর সহিংস ঘটনাগুলোর তদন্ত না হলে, দোষীরা শাস্তি না পেলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিই শুধু দুর্বল হয় না, তা আইনের শাসনকেই শেষ করে দেয় এবং এটা শুধু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নয়, দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা সম্পর্কে শঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।'
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আরো বলেন, 'সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বারবার হামলার ঘটনা কখনই কাম্য নয়। এস ঘটনা বন্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আশা করা যায়, এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে।'
তিনি বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে সহনশীলতা ও সমন্বিত সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্যের বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশে ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।'
আরেক প্রশ্নের জবাবে অ্যালিসন ব্লেক বলেন, 'পহেলা জুলাই হলি আর্টিজানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর অভিযান নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তবে সন্ত্রাসবাদ এখন বৈশ্বিক সঙ্কট এবং এর মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যেোগ জরুরি।'
সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি জানান।
গণতন্ত্র ও নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, 'গণতন্ত্র সুসংহত করতে ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাজ্য বিশ্বব্যাপী কাজ করছে; বাংলাদেশের সঙ্গেও কাজ করছে। বিশেষ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত মনে করে যুক্তরাজ্য। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠিত হবে, সেটা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণই ঠিক করবে। এ নিয়ে অন্য কোন দেশের মন্তব্য করা শোভন নয়।'
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান কিভাবে লন্ডনে দীর্ঘদিন বাস করছেন-জানতে চাইলে হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেন, এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করার এখতিয়ার তার নেই।
যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়ে জটিলতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় নীতির আলোকেই ঢাকা থেকে ভিসা কেন্দ্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে এটি ঢাকায় ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।'
তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য আন্তরিক বলে জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
| 6 |
জেলহত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার সকালেপুরান ঢাকায় সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,জেলহত্যা মামলার পলাতক আসামিরা দেশীয় আইনের আওতায় নেই। তাই তাদের ফেরাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন,'আমরা সবাইকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় রয়েছি। তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।' বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি অবস্থায় নিহত হন মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান। সেই থেকে দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিনবঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। | 6 |
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানাধীন বেইলি রোড, শান্তিনগর ও মৌচাক এলাকায় শুক্রবার (২২ মে) অভিযান চালিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে সময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবার বিক্রি ও সরকারি নির্দেশ অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও দোকান খোলা রাখায় আর্টিসানসহ ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ডিএমপি রমনা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শেখ মোহাম্মদ শামীমের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহনাজ হোসেন ফারিবা। ম্যাজিস্ট্রেট মাহনাজ ভোরের কাগজকে বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেশসহ সরা বিশ্বেই দিন-দিন বাড়ছে। তাই করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষ যেন কেনাকাটার অজুহাতে অহেতুক বাইরে ঘোরাফেরা না করতে পারেন তাই জরুরী সেবা ব্যাতীত সবকিছু খোলা রাখার নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তবে এর পরেও দেখা গেছে নির্ধারিত সময়ের পর দোকান ও রেস্তরা খেলা রাখা ছিল। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরী এবং তা বিক্রি করাও হচ্ছিলো, যা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই বেইলীরোডের আর্টিসানকে ২৫ হাজার, কাপড়ের দোকান বাবুইকে ২ হাজার, শান্তিনগরের প্রিমিয়াম সুইটসকে ২৫ হাজার, মৌচাকের আর এফ এলের বেস্ট বাইকে ১০ হাজার, মা রাঁধুনি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ৭ হাজার ৫০০ ও আল হামদান রেস্তোরঁকে ৫ হাজার টাকাসহ মোট ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমাণা করা হয়। এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, রোজার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার নিত্যপণ্যের দোকানগুলো সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর আগে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। | 6 |
তৃতীয় দিনেই জমে উঠেছে লর্ডস টেস্ট। ইংল্যান্ডকে জয়ের জন্য ২৭৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ধাক্কা খেয়েছে বেন স্টোকসের দল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইংলিশদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৬৯ রান ম্যাচ জিততে তাদের প্রয়োজন আরও ২০৮ রান। আর নিউজিল্যান্ডের দরকার ৬ উইকেট।এর আগে ড্যারেল মিচেল আর টম ব্ল্যান্ডেলের ব্যাটে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল নিউজিল্যান্ড। দলীয় ৫৬ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর হাল ধরেন তারা। তাদের দুজনের ১৯৫ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে লড়াইয়ের সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকা মিচেল তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।প্রথমবার লর্ডসে খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছেন মিচেল আর ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি ব্ল্যান্ডেল। ২৫১ রানে এই জুটি ভাঙলে আর বেশি দূর এগোতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। শেষ দিকে ব্রড-আন্ডারসনদের দাপটে ২৮৫ রানে থামে কিউইদের প্রথম ইনিংস।এই টেস্টে পেসাররা দাপট দেখাচ্ছেন প্রথম দিন থেকেই। প্রথম দিনে নিউজিল্যান্ডকে ১৩২ রানে অল আউট করতে ১০ উইকেটই নিয়েছিলেন ইংলিশ পেসাররা। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদেরও সুবিধা করতে দেননি কিউই পেসাররা। ব্রড আন্ডারসনদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবগুলো উইকেটই তুলে নিয়েছেন কিউই পেসাররা। লর্ডস টেস্টে এখন পর্যন্ত উইকেট পড়েছে ৩৪ উইকেট যার ৩২টিই পেসারদের দখলে। | 12 |
সাতক্ষীরা পৌর যুবলীগের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কৃত ও সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের সদস্য তুহিনুর রহমান তুহিনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম জানান, তুহিন সাতক্ষীরা শহরের সংগ্রাম আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে জেন্টস পার্লারের নামে মিনি পতিতালয় গড়ে তুলেছিলেন। গত ৭ অক্টোবর সাতক্ষীরা শহরের সংগ্রাম টাওয়ারে অবস্থিত আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৮ জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় হোটেলটির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কনডম ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, এর পরিপ্রেক্ষিতে মানব পাচার আইনে পুলিশের দায়েরকৃত মামলার আসামি পৌর যুবলীগের সভাপতি পদ থেকে তুহিনুর রহমান তুহিনকে বহিষ্কার কারা হয়। এর পর থেকে তিনি পালাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। | 6 |
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, তালেবানেরও কাবুল সরকারের অংশ হওয়া উচিত। তালেবানের সঙ্গে ব্রিটেন সরকারের কাজ করতে দ্বিধা নেই। অপরদিকে তালেবান নেতা বলেছেন, আল কায়েদার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনকে তালেবান আফগানিস্তানের মাটিতে কখনোই প্রশ্রয় দেবে না। আফগানিস্তানের মাটিতে থেকে কাউকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না!আফগানিস্তান নিয়ে ইঙ্গ-মার্কিন অবস্থান এবং তালেবানের ক্ষমতা দখলের খায়েশ ও আন্তর্জাতিক বৈধতা আদায়ের মরিয়া ভাব এতেই অনেকখানি স্পষ্ট।বাইডেন প্রশাসনকে এরই মধ্যে ভয় দেখাতে শুরু করেছেন বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির নেতারা। ইরাক-আফগান যুদ্ধকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে সেনা প্রত্যাহার জো বাইডেনের বড় ভুল। এতে নতুন করে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মওকা পেয়েছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল তালেবান। তারা সর্বশক্তি দিয়ে মরিয়া হয়ে সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করছেন তালেবান নেতারা।পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তবে আফগানিস্তানের জনগণের ভেতর থেকে সেভাবে তালেবানবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হচ্ছে না। প্রধান শহরগুলোতে কিছু মানুষ বিশেষ করে কাবুলে নারীদের বিক্ষোভ এবং তালেবান শাসন নিয়ে নিজেদের ভীতি ও আশঙ্কার কথা উঠে এলেও সর্বাত্মক বিরোধিতার সুস্পষ্ট প্রকাশ নেই।ফলে তালেবান ফের সরকারে এলে তারা আবার নব্বইয়ের দশকের লৌহ কঠিন শাসনে ফিরে যাবে কি-না, সেটি নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার কতখানি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, সেই হিসাব-নিকাশও চলছে। অনেকে ঝুঁকি না নিয়ে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তেমন ইঙ্গিত মেলেনি।ওদিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুসংহত করতে একের পর এক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে গোপনে প্রকাশ্যে বৈঠক করে যাচ্ছেন তালেবান নেতারা। এরই মধ্যে ইরানের মধ্যস্থতায় কাবুল সরকার ও তালেবানের সঙ্গে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই একটি সমঝোতা বৈঠক হয়ে গেছে। শনিবার (১৭ জুলাই) কাতারের রাজধানী দোহাতে আবার বসেছে তালেবান ও কাবুল সরকার।এর মধ্যে আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রকের আসনে চলে যাচ্ছেন চীন। তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহীন গত ৯ জুলাই সাউথ চায় না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চীনকে তাঁরা বন্ধু হিসেবে দেখছেন। যত দ্রুত সম্ভব আফগানিস্তান পুনর্গঠনে বিনিয়োগের বিষয়ে বেইজিং আলোচনা করবে বলে তাঁদের আশা। আর এর জন্য চীনকে নিরাপত্তার গ্যারান্টিও দিচ্ছেন তারা। সাক্ষাৎকারে সুহাইল দাবি করেছেন, বর্তমানে আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। এসব এলাকায় চীনা বিনিয়োগকারী ও কর্মীরা ফিরতে চাইলে তাঁদের নিরাপত্তা দেবেন তাঁরা। সেই সঙ্গে সুহাইল এও বলেছেন যে, আফগানিস্তানে উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোনো স্থান নেই। আল কায়েদাসহ যেকোনো সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের আফগানিস্তানের মাটিতে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা তাঁরা প্রতিহত করবেন।আফগানিস্তানে এখন সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ চীনের। তামা, কয়লা, লোহা, গ্যাস, কোবাল্ট, পারদ, স্বর্ণ, লিথিয়াম ও থোরিয়ামের মূল্যবান খনিজের সবচেয়ে বড় ভান্ডার আফগানিস্তান। এসব খনিজের অর্থমূল্য দাঁড়ায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারের বেশি।২০১১ সালে চীনের ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আফগানিস্তানে ২৫ বছরের জন্য তিনটি তেলক্ষেত্র খননের ইজারা পেয়েছে। এর অর্থমূল্য ৪০ কোটি ডলার। এসব তেলক্ষেত্রে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল আছে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া লোগার প্রদেশের মেস আইনাকে তামার খনি খননের কাজও পেয়েছে চীনা কোম্পানি। রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এ খনির অবস্থান।চীন দাবি করে আসছে, ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট নামে একটি উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ জিনজিয়াং প্রদেশে অস্থিরতার জন্য দায়ী। এমন গ্রুপের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সন্দেহ করেন। তবে নব্বইয়ের দশকে কিছু উইঘুর গেরিলা হামলার প্রস্তুতি নিতে আফগানিস্তানে গিয়েছিল বলে জানা যায়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এই গ্রুপটিকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় বেজায় ক্ষুব্ধ হয় চীন।এ ব্যাপারে তালেবান মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আফগানিস্তানের মাটিকে অন্য কোনো দেশে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তাঁরা দোহার চুক্তির প্রতি অকুণ্ঠভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দোহা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে। এ চুক্তিই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পথ তৈরি করে।আল কায়েদার ব্যাপারে তালেবানের অবস্থান সম্পর্কে সুহাইল বলেন, আল কায়েদার একটি 'অতীত যুগ' আছে। তাদের আর এ দেশে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তালেবান আল কায়েদাকে পেয়েছে বুরহানুদ্দিন রাব্বানি সরকারের কাছ থেকে। তখনই আল কায়েদা আফগানিস্তানে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সালে তালেবান বুরহানুদ্দিন সরকারকে উচ্ছেদ করে। আমরা আল কায়েদাকে থাকতে দিয়েছিলাম, কারণ তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিন্তু এখন আফগানিস্তানে কোনো আল কায়েদা নেই। আর দোহা শান্তিচুক্তি অনুযায়ী তাঁরা তাদের প্রশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না।উল্লেখ্য, মার্কিন আগ্রাসনের আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল অবধি আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান সরকার। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে বেকায়দায় পড়ে পিছু হটা শুরু করলে সেখানে ঢুকে পড়ে চীন। তালেবানের বক্তব্য অনুযায়ী, চীন তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সম্ভাব্য তালেবান যোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল চীন। কিন্তু তৎকালীন নেতা মোল্লা ওমরের (২০১৩ সালে প্রয়াত) সঙ্গে আলোচনার পর বেশ আশ্বস্ত হয়েছে বেইজিং। (অ্যান্ড্রু স্মল, সিনিয়র ফেলো, জার্মান মার্শাল ফান্ড, এশিয়া প্রোগ্রাম)।ওই সময় চীন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিল। যেখানে আফগানিস্তানের সঙ্গে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।গত বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, আফগানিস্তানে চীন ও পাকিস্তানের জন্য বাস্তবিক কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে চীন আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে, যাতে দেশটিতে গোষ্ঠীগত সংহতি এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এদিকে আফগানিস্তান থেকে এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ সেনা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগান সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ন্যাটো সেনারাও আর নেই। ফলে রাজধানীর দখল আর কতক্ষণ তারা রাখতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও।মার্কিন থিংক ট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফেলো এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাধিহা আফজাল বলেন, তালেবান ও কাবুলে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তি ছাড়াই অন্য রাষ্ট্রগুলোর সেনা প্রত্যাহার একটা ভুল। এই ভুল আফগানিস্তানকে এক প্রকার গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই গৃহযুদ্ধই হয়তো শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের শাসক নির্ধারণ করবে। (ভক্স, ১১ জুলাই, ২০২১)।আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠন করুক বা কোনো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করুক-সেটি সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতখানি হুমকি হয়ে উঠবে তা নিয়ে চিন্তিত মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা। বিষয়টি জো বাইডেনও বারবার বলেছেন। তবে সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'দেখুন, সন্ত্রাসী হুমকির বিষয়টি পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এটি চলে গেছে অন্য কোথাও। ফলে ক্ষমতা পেলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তালেবান পক্ষ থেকে হুমকি তৈরির উদ্বেগটা থেকেই যাচ্ছে।তালেবান মুখপাত্র তাঁর সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, তাতে মনে হয় তালেবান আর আগের মতো সন্ত্রাসবাদে জড়াবে না বা সন্ত্রাসীদের মদদ দেবে না। যদিও মাধিহা আফজাল বলছেন, এটা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। কারণ, তালেবানেরা অপপ্রচার এবং কথায় অলংকার ব্যবহারে ওস্তাদ। এখানে একটা বিষয়ের দিকে সতর্ক নজর দেওয়া উচিত-তালেবান রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দুটি ভাগ আছে। একটি ভাগ জানে কীভাবে অলংকার এবং অপপ্রচারের অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। আর আরেক ভাগ হলো গ্রামীণ তালেবান পদাতিক যোদ্ধা। তাঁরা এখনো সেই নব্বইয়ের দশকের উগ্র রক্ষণশীল তালেবান আদর্শই ধারণ করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন আফগানিস্তানে জিহাদিদের বিজয় হয়েছে। ফলে প্রথম অংশ আন্তরিক হলেও এটি নিয়ে একটা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে।নব্বইয়ের দশকের তালেবানি শাসনের স্মৃতি যাদের এখনো দগদগে, তাঁরা ভয় পাচ্ছেন-আবার নারীদের নিপীড়নের শিকার হতে হবে। তাঁদের বাইরে কাজ করতে দেওয়া হবে না, মেয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হবে। ফলে নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তবে মুখপাত্র সুহাইল বলছেন, মেয়েদের স্কুলে যেতে দেওয়া হবে। তাঁরা যেসব জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন, সেখানে স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে এবং মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন তাঁরা। তিনি বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব স্কুলের শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, কাবুল সরকার সেসব স্কুলের বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।মাধিহা আফজাল বলছেন, এটি বিনা-তর্কে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, তালেবান নেতারা নারী শিক্ষা, নারীদের বাইরে কাজ করা এবং এ ধরনের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিজেরাই স্পষ্ট নন। তাঁরা শুরু থেকেই বলছেন যে, শরিয়তের বিধান অনুযায়ীই তাঁরা সবকিছু করবেন।এখন কথা হলো, তালেবান আন্তরিকতার সঙ্গেই এসব বলছে, নাকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বৈধতা পেতে চালাকি করছে? এসব কথাবার্তা বলে হয়তো তারা শুরুতে বৈধতা আদায় করে নেবে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর আবার নব্বইয়ের দশকে ফিরবে না, সেটির কোনো নিশ্চয়তা আছে কি? তালেবান নেতারা এরই মধ্যে ইরানে গিয়ে প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে। পাকিস্তান সফর করেছে বহুবার। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও তারা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। নব্বইয়ের দশকে যেসব দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল, তার বাইরেও তারা যোগাযোগ করছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে তালেবানের একটি উদারনৈতিক অবস্থান প্রকাশ্যে আসছে। তবে সেটি যদি হয় শুধুই বৈধতা আদায়ের কৌশল, তাহলেই তা বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের টানা রক্তক্ষয় ও অর্থ অপচয়ের সঙ্গে স্নায়ু চাপে এখন ক্লান্ত। বাইডেন প্রশাসন আফগানিস্তানের দায় নেওয়াকে একটা বোঝা মনে করছে। পরোক্ষভাবে তারা বলতে চাইছে, প্রতিবেশী দেশগুলোরও সেখানে একটা দায়িত্ব আছে। নিশ্চিতভাবে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ভারতের দিকে ইঙ্গিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। এক সময় সৌদি আরবের আর্থিক ও মার্কিন সামরিক সহযোগিতায় সোভিয়েত খেদানো তালেবানকে আবার রাশিয়ার কোলেই ঠেলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-এমনটা ভাবা অমূলক নয়।আফগানিস্তানকে ঘিরে এখানে যে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি দানা বেঁধে উঠছে, সেটি সামলানোর মতো ক্ষমতা এসব দেশের একটিরও আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আপাতত যুক্তরাষ্ট্র এখানে নেতৃত্বের আসনে থাকতে স্বস্তিবোধ করছে না বলেই মনে হয়।এ ছাড়া মহামারির কয়েক বছর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তাতে পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি থেকে জো বাইডেনের সহসা বিচ্যুতি হবে আত্মঘাতী। এ বিষয়ে মার্কিন নীতি নির্ধারকেরা নিঃসন্দেহে সচেতন। ফলে আফগানিস্তানে প্রধান ভূমিকা রাখছে রাশিয়া, চীন আর পাকিস্তান। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি ভারত এবার অন্তত আফগানিস্তানে অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক বলেই ধরে নেওয়া যায়। | 3 |
গত আগস্ট মাসে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আলোচনার জন্য দেশটির রাজধানী কাবুল পৌঁছেছে ভারতীয় একটি প্রতিনিধি দল। এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। কাবুলে তালেবানের সিনিয়র সদস্যদের সাথে বৈঠক করবেন তারা। এছাড়া আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার ব্যাপারে তারা একটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তাদের এ সফরের উদ্দেশ্য হলো আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা তদারকি করা। তারা সেখানে ত্রাণ সহায়তার কাজে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সাথেও বৈঠক করবেন। এছাড়া সেখানে বাস্তবায়িত হতে থাকা ভারতের বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও প্রকল্প পরিদর্শনে যেতে পারে প্রতিনিধি দল। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (পিএআই) নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি কাবুল গেছে। পাকিস্তান, আফগানি ও ইরান বিষয়ক যুগ্ম সচিব জে পি সিং এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি এর আগে দোহায় তালেবানের সাথে বৈঠক করেছিলেন। "আফগান জনগণের সাথে ভারতের 'ঐতিহাসিক ও সভ্যতাভিত্তিক' যোগসূত্র রয়েছে এবং সে সূত্রেই তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে," বলেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস | 3 |
ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে এক নেত্রীকে বহিষ্কারের পর এবার তদন্ত কমিটি করেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনের নেতারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জের ধরে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেখানে কী হয়েছিল, সেটা জানার জন্য এই তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি নুসরাত জাহান ও নিশীতা ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে তদন্ত করছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন ছাত্রীকে কক্ষে আটকে নির্যাতনের অভিযোগে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহানকে তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, এক ছাত্রী নিজে লাথি দিয়ে পা কাটার পর তাঁর রগ কেটে দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিক্ষোভের সৃষ্টি করা হয়েছে। আহত ছাত্রী নিজে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এর ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। তিনি নিজেও ছাত্রলীগের নেতা। অথচ ইফফাতকে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিতও করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। এটি তুলে নেওয়ার জন্য সংগঠনেরা নেতা-কর্মীরা দাবি জানাচ্ছেন। জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'ইফফাত শতভাগ নির্দোষ। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিষয়টি এসেছে। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও দেখার পর কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন।' ইফফাত তিন ছাত্রীকে কক্ষে ডেকে নির্যাতন করছিলেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'প্লিজ, আপনারা কোনো প্রশ্ন না করে নিরপরাধ মানুষের পাশে দাঁড়ান।' ওই ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে বলেন, ওই রাতে সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির কক্ষে ছাত্রীদের চিৎকার শুনে ছুটে যান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা খানম। তিনি ওই হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। তবে, তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত। সভাপতির কক্ষে তিন ছাত্রীকে নির্যাতন করা হচ্ছে দেখে তাঁর সঙ্গে মোর্শেদা বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে মোর্শেদা ওই কক্ষের জানালার কাচে লাথি মারেন। এতে তাঁর পা কেটে যায়। পরে ছাত্রীরা ইফফাতকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কেউ কেউ তাঁর কেটে যাওয়া পায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই সেটি ছড়িয়ে যায়। কয়েক হাজার ছাত্র হলের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, ইফফাত প্রায়ই ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালান। তবে এত দিন ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। প্রশাসন তাঁদের আবাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না করায় তাঁরা হলের নেত্রীদের মাধ্যমে ওঠে, তাঁদের কথামতো চলতে বাধ্য হন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মারধরে এই ক্ষোভের বিস্ফোরণ হয়। ইফফাতকে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা শুনেছি সে সময় অনেক গুজব ছড়িয়েছে। অনেকে বলছে মেয়েটি দরজা বা জানালায় লাথি দিয়ে পা কেটে ফেলেছে। কিন্তু সেটাও হয়তো সে লাঞ্ছিত হয়েছে বলেই। আমরা ছাত্রী লাঞ্ছনার বিষয়টিকে আমলে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটি সরকারি দলের নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও ছাড় দেওয়া হয়নি। এটি নজিরবিহীন। তারপরও হল প্রশাসন তদন্ত করছে। অভিযোগ কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা, তা যাচাই করা হচ্ছে।' | 9 |
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ শুক্রবার টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় স্কোর সংগ্রহ করতে পারেনি স্বাগতিকরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬রান সংগ্রহ করে। জিবাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মেধেভে ৫৭ বলে ৭৪ রান করেন। তার ইনিংসে ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কার মার রয়েছে। অপর ব্যাটসম্যানদের ডিয়ন মায়ার্স ২১ বলে ২৬ রান করেন। টাইগার বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ৩টি এবং সাকিব, মেহেদী হাসান উভয়ে একটি করে উইকেট তুলে নেন। জিম্বাবুয়াইন অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন সৌম্য সরকার। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে গতকাল ৮ উইকেটে জিতেছে টাইগাররা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম ম্যাচে ওপেনার সৌম্য সরকার ৪৫ বলে ৫০ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন। এই ওপেনার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর দুর্ভাগ্যবশত রানআউটের শিকার হন। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ১৫২ রানের জবাবে খেলতে নেমে সৌম্য সরকার এবং নাঈম শেখ ধীরেসুস্থে শুরু করলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে টাইগারদের বেগ পেতে হয়নি। ওপেনিং জুটিতে সৌম্য সরকার এবং নাঈম শেখ ১০২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। গতকাল সৌম্য সরকার আউট হলেও অপর প্রান্তে অপরাজিত ছিলেন ওপেনার নাঈম শেখ। তিনি ৫২ বলে ৬৬ রান সংগ্রহ করে। বৃহস্পতিবার টাইগারদের যে দুটো উইকেটের পতন ঘটেছে তা কোন জিম্বাবুয়ের বোলার তুলে নিতে পারেননি। সৌম্য সরকারের মতো অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহরিয়াদ রানআউটের শিকার হন। টাইগাররা ১৮.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে ৮ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েছিল। স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ বাংলাদেশ দল দেশে ফিরবে ২৯ জুলাই। টাইগাররা দেশে ফেরার আগেই বাংলাদেশে প্রবেশ করবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট । টাইগারদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি- টোয়েন্টি সিরিজের অংশ নিবে অজিরা। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৩ আগস্ট। ৪ আগস্ট দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এক দিন বিরতি দিয়ে ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ৭ আগস্ট চতুর্থ এবং পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৯ আগস্ট। | 12 |
বাংলাদেশের জাতীয় স্লোাগান 'জয় বাংলা'র সাথে 'জয় বঙ্গবন্ধু' শব্দযুগল অন্তর্ভুক্ত করতে গেজেট সংশোধনে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশ প্রদানকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করে জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে গেজেট সংশোধন করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে 'জয় বাংলা'র সাথে 'জয় বঙ্গবন্ধু'কে জাতীয় স্লোগানে অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যখনই 'জয় বাংলা' উচ্চারিত হয়েছে, সাথে সাথে 'জয় বঙ্গবন্ধু' উচ্চারিত হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য এ স্লোগান ছিল উৎসাহমূলক। জয় বাংলা আর জয় বঙ্গবন্ধু একটিই স্লোগান; এটি পৃথক কোনো স্লোগান নয়। নোটিশ পাওয়ার পরে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশদাতারা জানান। গত ২ মার্চ 'জয় বাংলা'কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব শফিউল আজিমের স্বাক্ষরিত গত ২ মার্চের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তি, দেশ ও দেশের বাইরে কর্মরত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব জাতীয় দিবস উদযাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বা সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে 'জয় বাংলা' স্লোগান উচ্চারণ করবেন। এছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) শেষে এবং সভা-সেমিনারে বক্তব্যের শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা 'জয় বাংলা' স্লোগান উচ্চারণ করবেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদের করা এক রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলে 'জয় বাংলা'কে কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। রুল শুনানি শেষে ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে 'জয় বাংলা'কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। সূত্র : বাসস | 6 |
সঙ্গীতশিল্পী শফিক তুহিনের মামলায় মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন আরেক সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর। আজ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সোমবার রাতে তেজগাঁও থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলাটি করেন শফিক তুহিন। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে আগেই তোলপাড় চলছিল। মামলার এজাহারে শফিক তুহিন অভিযোগ করেছেন, গত ১ জুন আনুমানিক রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪-এর সার্চ লাইট নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর তার অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেন। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাধুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। পরে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি গত ২ জুন রাত ২টায় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে 'অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা' উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দগ্ধ বা প্রাণহানির কোন ঘটনা না ঘটলেও বাস থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে নারী-পুরুষসহ ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নুরমার দিঘির পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।এ দিকে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর চট্টগ্রামমুখী মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চট্টগ্রামমুখী সড়কে দূর-পাল্লার শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়ক থেকে বাসটি সরিয়ে নিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর যানজট স্বাভাবিক হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রংপুর থেকে ছেড়ে আসা নিউ এডিশন পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের নুরমার দিঘির পাড় এলাকা অতিক্রমকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এ সময় বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেলে ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে থাকেন। এতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে ১০ জন যাত্রী আহত হয়। এ সময় তারা আগুন নেভানোর চেষ্টার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস ও কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। তারা স্থানীয় এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে আধ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোন ঘটনা না ঘটলেও বাসটি ও বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি নাজমুল জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নেভানোর পর দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে যানজট স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি গন্তব্যর উদ্দেশে ছেড়ে গেছে আটকা পড়া যানবাহনগুলো। | 6 |
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে সরকারের বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপন আগামী দুয়েকদিনের মধ্যেই জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. লোকমান হোসেন মিঞা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৫ দফা নির্দেশনার পরদিন তিনি এ কথা বলেন। দেশে ওমিক্রন রোধে গত মঙ্গলবার জারি করা এ নির্দেশনায় সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জনসমাগমে নিরুৎসাহিত করা হয়। বুধবার রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লোকমান হোসেন মিঞা বলেন, 'প্রজ্ঞাপন যেকোনো সময় হতে পারে। বিধিনিষেধ নিয়ে প্রজ্ঞাপন হয়তো আজকে কালকের মধ্যেই পেয়ে যাবেন।' ওই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, বাংলাদেশে পরিস্থিতি বেশ কিছুদিন স্থিতিশীল ছিল। তা হঠাৎ করেই বেড়ে যাচ্ছে। বেড়ে গেলে বুঝতে হবে নতুন কোনো ধরন নিশ্চয়ই এসেছে। আমাদের পাশের দেশ ভারতের অবস্থা ভালো না। যখনই পাশের দেশে কিছু ঘটছে, তার প্রভাব আমাদের দেশে পড়েছে। ধরেই নেওয়া যায় যে এটা (সংক্রমণ) আরও বাড়বে। তিনি বলেন, 'এ মুহূর্তে জনজমায়েত ক্ষতিকারক হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেগুলো চলছে, তা শেষ করে নতুন আর কোনো নির্বাচন দেওয়া ঠিক হবে না।দুয়েকদিনের মধ্যেই মনে হয় নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। আমার মনে হয় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দ্রুত শেষ করে নতুন ঘোষণা না অন্য কিছু নতুনভাবে করাটা ঠিক হবে না।' বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত মঙ্গলবার সাত দিনের মধ্যে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যেখানে যানবাহনে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন এবং সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত করার কথাও রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার ও রেস্তোরাঁয় মানুষের উপস্থিতি ধারণ ক্ষমতার অর্ধেকের মধ্যে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ডেল্টার প্রকোপ কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতির যখন উন্নতি হচ্ছিল, তখন দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা দেয় করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। এটিই এখন দাপট দেখাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। ভারতেও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ওমিক্রন। গত এক সপ্তাহে ১ লাখ ৩০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে, যা গত ১২ সপ্তাহে সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংক্রমণ বাড়ার গতি বাংলাদেশেও একই রকম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৮৯২ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। এর চেয়ে বেশি রোগী এক দিনে শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর, সেদিন ১১৭৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর এসেছিল। ওমিক্রন ডেল্টার চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে বলে উদ্বেগও বেশি। উদ্বেগ আরও বেড়েছে যখন জানা গেছে যে এটি টিকার সুরক্ষাও ভেদ করতে পারছে। | 6 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস তাসখন্দ, উজবেকিস্তান। বৃহস্পতিবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম মহান মুক্তিযুদ্ধে শেখ কামালের অসাধারণ নেতৃত্ব ও অবদানের জন্য তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ কামাল আবাহনী ক্রীড়া চক্র, স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী এবং ঢাকা থিয়েটারের মতো সংগঠন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দেশের প্রথম আধুনিক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান আবাহনী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মঞ্চে তুলতে শেখ কামাল অনুপ্রাণিত করে গেছেন। রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী উম্মুল ফাতেমা, দূতাবাসের ডিসিএম নৃপেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ এবং মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৌশলী গোলাম নোবী এ উপলক্ষে বক্তৃতা করেন এবং শহীদ শেখ কামালের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং মাগফিরাত কামনা করেন। এ কর্মসূচিতে বাঙালি কমিউনিটির সদস্য, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে সকলকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
সারা দেশের মতো বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটে শহীদ বুদ্ধিজীবী পালিত হয়েছে। জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নীরবতা পালন, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, নীরব পদযাত্রা বের করা হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:ধুনট (বগুড়া): ধুনট প্রেসক্লাবের আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। এদিন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বুদ্ধিজীবী স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, আলোচনা সভা ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এসব আয়োজন করা হয়।সারিয়াকান্দি: দিবসটিতে উপজেলা প্রশাসন সকালে উপজেলা চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করে। বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে দুপুর ১টায় গরিব শীতার্ত ২০০ নারীদের শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়।কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ): শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। প্রথমে উপজেলা স্বাধীনতা স্কয়ারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।বেলকুচি: এদিন সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভা হয়।তাড়াশ: উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাউল করিম এতে সভাপতিত্ব করেন।উল্লাপাড়া: উপজেলা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। এ ছাড়া এইচ টি ইমাম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের পাগলা দেওয়ান এবং কড়ই কাদিপুর বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম। পরে উভয় স্থানেই অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।কালাই: উপজেলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্প অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনফুজুর রহমান মিলন।আক্কেলপুর: পৌরসভার পূর্ব আমুট্ট গ্রামের বেলার মাঠে অবস্থিত বধ্যভূমি পাশে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে নীরব পদযাত্রা বের হয় করা হয়। | 6 |
১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর। দিনে মাত্র দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠান নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবার ২৫টি বছর পার করতে যাচ্ছে কেন্দ্রটি। চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ২৫ বছর পূর্তির দিন আগামী রবিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে আনন্দের খবর হচ্ছে, রজতজয়ন্তী উদযাপনের দিন থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টার সম্প্রচারে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করবেন। রজতজয়ন্তী ও ২৪ ঘন্টা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। রজতজয়ন্তী উদযাপনের দিনে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় হবে শোভাযাত্রা, বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মোহাম্মদ মকবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার পরও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দর্শক চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত অনুষ্ঠান হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে এ কেন্দ্র থেকে নির্মিত ও সম্প্রচারিত সব অনুষ্ঠান পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। এবার বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ২৪ ঘণ্টার সম্প্রচার শুরু হচ্ছে। এই কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানো হবে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন এবং ট্যুরিজম সেক্টরের বিকাশে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর দৈনিক ৬ ঘণ্টার কার্যক্রম শুরু করে বিটিভি চট্টগ্রাম। পরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের প্রচেষ্টায় ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ৬ থেকে ৯ ঘণ্টায় এবং ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি ১২ ঘণ্টায় উন্নীত করা হয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে ১৮ ঘণ্টা সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। | 2 |
জীবন থেকে বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির ছয়টি মাস হারিয়ে গেছে। তিনি জানতেই পারেননি কীভাবে কেটেছে সেই দিনগুলো। সম্প্রতি ছয় মাসের স্মৃতি হারানোর ঘটনা জানালেন দিশা পাটানি। 'ভারত' খ্যাত এই অভিনেত্রী ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান ইনজুরির কারণে তার স্মৃতি হারিয়েছিল। ঘটনাটির কথা স্মরণ করে দিশা বলেন, 'আমি আমার জীবনের ছয়টি মাস হারিয়ে ফেলেছি। কারণ আমি ওই সময়ের কিছুই এখন আর মনে করতে পারি না। এর মধ্য দিয়েই আজ আমি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছি।' ২৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী দিশা ৩ বছর আগেই মার্শাল আর্ট অনুশীলন শুরু করেন। ইতোমধ্যে তিনি ব্যায়াম, মিশ্র মার্শাল আর্ট ও পাইলেটসে দক্ষতা অর্জন করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এটা প্রতিদিনই অনুশীলন করতে হয়। লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে যদি আপনার হাড় বা পা ভাঙার মতো বিপত্তি ঘটে, তাহলে বুঝবেন আপনি ঠিক পথেই চলেছেন।' সামাজিক মাধ্যমে যারা দিশা পাটানিকে অনুসরণ করেন, তারা খুব ভালোভাবেই জানেন যে, দিশা কতটা স্বাস্থ্য সচেতন। তিনি প্রায়ই ব্যায়াম ও শারীরিক কসরত করার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে থাকেন। তবে বিপত্তি কাটিয়ে এখন সুস্থ আছেন দিশা। | 2 |
আইসিসি দশকসেরা টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হয়নি কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডেরও কারও জায়গা হয়নি গত এক দশকের সেরা টি-টোয়েন্টি দলে। কিন্তু শুধু পাকিস্তানি না থাকাতেই যেন জ্বলে উঠলেন সাবেক পাকিস্তানি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফ। আইসিসির দশকসেরা একাদশকে বললেন আইপিএলের দশকসেরা একাদশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরাও আইসিসিকে ধুয়ে দিচ্ছেন! গত এক দশকের পারফরম্যান্স বিচার করে ভারতের চার ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ওপেনিংয়ে রোহিত শর্মা, মিডল অর্ডারে বিরাট কোহলি ও অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি আছেন ফিনিশারের দায়িত্বে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া যশপ্রীত বুমরাও আছেন আইসিসির সেরা একাদশে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আছেন ওপেনার ক্রিস গেইল ও অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড। অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ ও গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েলের জায়গা হয়েছে দশকসেরা একাদশে। দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স, আফগানিস্তানের রশিদ খান ও শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গাকে নিয়ে সাজানো আইসিসির দশকসেরা টি-টোয়েন্টি একাদশ। এই দল দেখে রশিদ তাঁর টুইটারে লিখেছেন, 'আইসিসি লিখতে ভুল করেছে। তারা হয়তো আইপিএলের দশকসেরা একাদশ লিখতে ভুলে গেছে।' টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র বাবর আজম দাপট দেখিয়ে খেলছেন। সেটিও দুই-তিন বছর ধরে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা একই কাজ করে আসছেন সেই ২০১০ থেকে। আইসিসির টেস্ট ও ওয়ানডের দশকসেরা একাদশেও নেই কোনো পাকিস্তানি। টেস্টে গত এক দশকে দারুণ পারফরম্যান্স ছিল পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউনুসের। কিন্তু ৩ নম্বরে কেন উইলিয়ামসন, চারে বিরাট কোহলি ও পাঁচে স্টিভ স্মিথকে রাখলে ইউনুসের জন্য জায়গা থাকে না। আর গত এক দশকে পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে ইয়াসির শাহ ছাড়া কেউই দীর্ঘ সময় টিকতে পারেননি। টি-টোয়েন্টি ও টেস্টের মতো ওয়ানডে দলেও কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের জায়গা হয়নি। অ্যালিস্টার কুক (ইংল্যান্ড), ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া), কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড), বিরাট কোহলি-অধিনায়ক (ভারত), স্টিভ স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া), কুমার সাঙ্গাকারা-উইকেটকিপার (শ্রীলঙ্কা), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), রবিচন্দ্রন অশ্বিন (ভারত), ডেল স্টেইন (দক্ষিণ আফ্রিকা), স্টুয়ার্ট ব্রড (ইংল্যান্ড) ও জেমস অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড)। রোহিত শর্মা (ভারত), ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া), বিরাট কোহলি (ভারত), এবি ডি ভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), মহেন্দ্র সিং ধোনি-অধিনায়ক-উইকেটকিপার (ভারত), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া), ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড), ইমরান তাহির (দক্ষিণ আফ্রিকা) ও লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)। রোহিত শর্মা (ভারত), ক্রিস গেইল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া), বিরাট কোহলি (ভারত), এবি ডি ভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অস্ট্রেলিয়া), মহেন্দ্র সিং ধোনি-অধিনায়ক-উইকেটকিপার (ভারত), কাইরন পোলার্ড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), রশিদ খান (আফগানিস্তান), যশপ্রীত বুমরা (ভারত) ও লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)। | 12 |
'সেই ২০১৮ সাল থেকে এখন ২২ সাল শুরু হইলো। হকার এখনো ফুটপাতে বইসা ব্যবসা করে। এত মারামারি, এত কাহিনি। কোনো কিছুই হকারগো ব্যবস্থা কইরা দিতে পারল না। করোনার আগে শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা (ইজিবাইক) ঢোকার সাহস পাইত না। হেই রিকশা এখন পুরা শহরে ঘোরে। রাস্তায় জ্যাম আর ফুটপাতে হকার। শান্তি নাই রাস্তাটায়।'কথাগুলো বলছিলেন যানজটে আটকে থাকা ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক মকবুল হোসেন। প্রায় ১২ বছর রিকশা চালান তিনি। প্যাডেলচালিত রিকশাটি তাঁর নিজের। আগে ভাড়ায় চালাতেন। টাকা জমিয়ে বছর পাঁচেক আগে নিজেই কেনেন। সিটি করপোরেশনে চলাচলের জন্য রেজিস্ট্রেশনও করিয়েছেন। কিন্তু বছর দুয়েক ধরে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে যাত্রী কমেছে তাঁর। শহরের অবস্থা কেমন-জানতে চাওয়ার জবাবে এমনই জবাব আসে মকবুলের কাছ থেকে।মকবুল হোসেন থাকেন ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায়। প্রতিদিন সকাল বেলা দেওভোগ হয়ে চলে আসেন মূল শহরে। আসার পথে বাবুরাইল খাল আর শেখ রাসেল পার্কের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সড়কের অব্যবস্থাপনা দিনে দিনে প্রকট হয়ে উঠছে তাঁর কাছে।যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যান চলাচলের জন্য লেন কয়েক বছর আগে মেনে চলা হলেও এখন ইজিবাইকের কারণে কোনোটিই মানা হচ্ছে না। ধারণক্ষমতার বেশি ইজিবাইক চলায় স্তব্ধ হয়ে থাকে নগরীর যান চলাচল। আর তাতেই আপত্তি মকবুলের মতো অসংখ্য প্যাডেলচালিত রিকশাচালকের।মকবুল জানান, রেজিস্ট্রেশন করে রিকশা নবায়ন করতে হয় তাঁর। অথচ ইজিবাইকচালকদের এসব ঝামেলা নেই। বৈধ রিকশাচালকদের ওপর নানান শর্ত, আর অবৈধরা দিনের পর দিন যাত্রী পারাপার করে বৈধ চালকদের লোকসানের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে রূপ দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ শহরকে। যুক্ত করা হয় বন্দরের কদমরসুল পৌরসভা ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা। প্রশাসক থেকে বেরিয়ে সিটি করপোরেশন যুগে প্রবেশ করে রাতারাতি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও মৌলিক কিছু সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি। রাজউক, সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগসহ একাধিক দপ্তরের মাঝে সমন্বয়হীনতা এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজি নূর উদ্দিন।১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুমন বলেন, সিটি করপোরেশনের কারণে রাস্তাঘাট আগের থেকে সুন্দর ও আধুনিক হয়েছে। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো দুর্বল। ১০ বছরেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় খুব বেশি অবদান রাখতে পারেনি নাসিক। উল্টো এই শহরেই বর্জ্য ফেলা নিয়ে ডিসির বাড়ির সামনে ময়লা রেখে আসা কিংবা হকার নিয়ে মারামারির মতো ঘটনা ঘটেছে। গায়ের জোরে সমস্যার সমাধান যে স্থায়ী হয় না, তা চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছে সবাই।শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, 'শহর হিসেবে যতটুকু উন্নয়ন দরকার তা হয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স যখন ২২ শতাংশ দিই অথচ পান করার মতো পানি পাই না, তখন নাসিকের কাজ নিয়ে আক্ষেপ লাগে। রাতের বেলা ঝাঁকে ঝাঁকে মশা বাড়িঘরে ঢোকে। অবৈধ রিকশার দাপটে হেঁটে চলাচল করা দায়। এগুলো সমাধানে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।'ঠিক এসব ইস্যুতেই সরব হয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতিপক্ষরা। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, 'মানুষ ভোট দেবে সেবা পাওয়ার জন্য। ২২ শতাংশ কর দিয়ে যখন মানুষ পান করার মতো পানি পাবে না, তখন ক্ষোভ জন্মাবেই।' একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুই মেয়র প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাসুম বিল্লাহ ও খেলাফত মজলিশের এ বি এম সিরাজুল মামুন। | 6 |
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ষষ্ঠ সমাবর্তন আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাংসদ মাশরাফি বিন মর্তুজা। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার অনলাইনে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে।আজ শনিবার সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইউল্যাবের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ইমরান রহমান এবং রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল (অব) ফয়জুল ইসলাম।সংবাদ সম্মেলনে রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল (অব) ফয়জুল ইসলাম জানান, সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ৯টি প্রোগ্রাম থেকে ৭৫৪ শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভাপতিত্ব করবেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন।বর্তমান পরিস্থিতিতে সশরীরে সমাবর্তন আয়োজন না করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইউল্যাবের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ইমরান রহমান বলেন, 'সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়টি সরকারকে অনেক আগেই জানানো হয়েছে। আমরা তো আর জানতাম না যে পরিস্থিতি এখনকার মতো হবে। সরকার আমাদের অনলাইনে সমাবর্তনের অনুমতি দিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনলাইনে সমাবর্তন করছি আমরা। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে অনুষ্ঠানকে যতটা প্রাণবন্ত করা যায়।' সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বলে তিনি জানান ।অনলাইনে আয়োজিত এ সমাবর্তন ইউল্যাবের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে (../) সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। | 1 |
ফের বাবা হতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। শনিবার ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে প্রধানমন্ত্রী বরিসের বাবা হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বরিসের স্ত্রী ক্যারি সায়মন্ডস নিজের ইনস্টাগ্রামের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গত বছরের এপ্রিলে ব্রিটিশ এই দম্পতির ঘরে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। দেশটির গণমাধ্যম বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে ক্যারি তার বন্ধুদের বলেছেন, তিনি আবারও গর্ভবতী হওয়ায় অবিশ্বাস্য রকমের সুখ অনুভব করছেন।ক্যারি জানান, 'বড়দিনেই 'রেনবো বেবি' আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এরপরই লেখেন, আরও একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দারুণ লাগছে। একই সঙ্গে আবার একটু নার্ভাসও অনুভব করছেন।চলতি বছরের মে মাসে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন বরিস জনসন ও ক্যারি। ৫৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এর আগেও দু'বার বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু সেসব ঘরে তার কত সন্তান আছে সে বিষয়ে জানাননি তিনি। তবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আইনজীবী ম্যারিনা হুইলারের ঘরে চার সন্তান আছে।যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ২০০ বছরের মধ্যে ৫৭ বছর বয়সী বরিস জনসনই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি দায়িত্বরত অবস্থায় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। | 3 |
বিমান বিধ্বস্তে নিহত ফুটবলারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের ক্লাব শ্যাপোয়েন্সকেই কোপা সুদামেরিকানার চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ দলের এই চরম ক্ষতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্লাব ন্যাসিওনেল তাদের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে কনমেবল কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ার ক্লাবটি জানায়, 'এত ব্যাথা আমরা হৃদয়ে ধারণ করবো কিভাবে! আমরা তো এই শোক বইতে পারছি না। যখন আমাদের কাছে বিমান দুর্ঘটনার খবর আসলো, আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি। এটা এমন এক সংবাদ যা সারা জীবনে আর দ্বিতীয়বার শুনতে চাই না আমরা। আমাদের কাছে ২০১৬ কোপা সুদামেরিকানার চ্যাম্পিয়ন প্রতিপক্ষ দল শাপেকোয়েন্সই।' এই দুর্ঘটনার খবরে দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবল সংস্থা কনমেবল তাদের সব ধরণের প্রতিযোগিতা ও কর্মসূতি আপাতত বন্ধ রেখেছে। বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ | 12 |
সাংসারিক জীবনের খুঁটিনাটির মজার সব ভিডিও করে ইতোমধ্যে নেট দুনিয়ায় আলোচিত হাবিব-নাতালিয়া দম্পতি। তারা নিয়মিত ভ্রমণ, শপিং, রান্না-বান্না, খেলাধুলার ভিডিও আপলোড করেন ফেসবুক ও ইউটিউবে। বাংলাদেশি ছেলে হাবিবকে বিয়ের পর এই প্রথম বাংলাদেশে এলেন বেলারুশের মেয়ে নাতালিয়া। সঙ্গে এসেছে তাদের একমাত্র কন্যা নাদিয়া। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, আবহাওয়া ও লোকজনকে নাতালিয়ার খুবই ভালো লাগছে। এমনটি জানিয়েছেন হাবিব। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে হলুদ শাড়ি পরে বাঙালি বধূ সেজে নাতালিয়ার অনুভূতি, 'অনেক ভালো লাগছে।' হাবিব আরও বলেন, আজ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে আমাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের বাইরের লোকজনও থাকবেন। তবে সে সংখ্যাটা খুবই সীমিত। এ দম্পতি আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবেন। যেভাবে নাতালিয়ার সঙ্গে হাবিবের পরিচত ও বিয়ে : জার্মানির বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ স্টেডিয়ামে কাজ করতে গিয়ে হাবিবের সঙ্গে পরিচয় নাতালিয়ার। এরপর ২০১৭ সালের ৯ জুলাই বিয়ে করেন তারা। বর্তমানে তারা জার্মানির পূর্বাঞ্চলের সাক্সনি অঙ্গরাজ্যের কেমনিজ শহরে থাকেন। হাবিবের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায়। পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১২ সালে জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখে উচ্চশিক্ষার জন্য যান তিনি। বর্তমানে পড়াশোনা শেষে জার্মান একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটিং ফার্মে ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। আর ফার্মাসিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে নাতালিয়া একটি কোম্পানিতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হয়ে ওঠেন যেভাবে: ২০২০ সালের অক্টোবরের শেষে শখের বশেই 'নাতালিয়া অ্যান্ড হাবিব- দ্য মিক্স ম্যাচ ফ্যামিলি' নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ খোলেন তারা। অল্পদিনেই তাদের ইউটিউব চ্যানেলটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের ফেসবুক পেজের ফলোআরের সংখ্যা সাড়ে ২১ লাখ ছাড়িয়েছে। বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক বার্তামূলক ভিডিও, যেমন নারীদের সম্মান ও অধিকার, সাংসারিক কাজে পুরুষদের সহায়তা করা, বাচ্চাদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও তাদের দৈনন্দিন জীবনের পজিটিভ দিকগুলো তুলে ধরেন। ছবি ও ভিডিও: ছায়াছবির সৌজন্যে বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষায় বিভাগের আট জেলায় তাঁরা শনাক্ত হন বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. নাজমা আক্তার।স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ জন, নওগাঁয় ২ জন, নাটোরে ৫ জন, জয়পুরহাটে ৫ জন, বগুড়ায় ৪ জন, সিরাজগঞ্জে ১০ জন ও পাবনায় ২৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।ওই ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে করোনা পজিটিভ অবস্থায় একজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ২৪৪ জন। | 6 |
বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ২৩৩ বোতল ফেনসিডিল ও একটি প্রাইভেট কারসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার বাসুদেবপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (২৪), জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার বীরপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে নাঈম হাসান (২০)।শনিবার সকাল ৮টায় গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নে মহিপুর বাজার মণ্ডল সুপার মার্কেটের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১৩ দিনাজপুর সার্কেল মো. রবিউল ইসলাম আজকের পত্রিকা কে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে মহিপুর বাজার এলাকায় অবস্থান করি। এ সময় জয়পুরহাট থেকে ছেড়ে আসা একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি চালিয়ে দুইটি পাটের বস্তার ভেতর ২৩৩ বোতল ফেনসিডিলসহ মেহেদী হাসান ও নাঈম হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। | 6 |
আজকের পত্রিকা: খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি আসলে কেমন?ড. মিজানুল হক কাজল: খাদ্যনিরাপত্তা বলতে পুষ্টি সংবেদনশীল কৃষিকে বলছি। খাদ্যনিরাপত্তা মানে কেবল ভাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; তার সঙ্গে সামগ্রিক খাদ্যের বৈচিত্র্যকরণের বিষয়টিও জড়িত। এই থিম সামনে রেখে সরকার জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি করেছে। এ নীতির ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে বিতর্ক, সেটি ঘটছে তথ্যের গরমিলের জন্য। আমরা অর্থনীতির দিক থেকে যদি বলি তা হলো সবকিছু নির্ভর করে চাহিদা ও সরবরাহের ওপরে। চাহিদা ও সরবরাহ যদি মিলে যায় তাহলে ভারসাম্য তৈরি হয়। সুতরাং ভারসাম্য থাকলে রাষ্ট্র থেকে ব্যক্তি পর্যায় পর্যন্ত কোনো সমস্যা থাকে না।আজকের পত্রিকা: আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা কতটুকু?ড. মিজানুল হক কাজল: এখন ভারসাম্য নেই বলেই ভারসাম্যহীনতা আছে। এ জন্যই সরকার ভারসাম্য অবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন নীতিমালা তৈরি করে থাকে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে সিরিয়াল ফসলে অবশ্যই আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। আমরা ৩৯ লাখ মেট্রিক টন এ পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। তথ্যটা যেহেতু বিবিএসের, তাই সেটাকেই আমরা গ্রহণ করছি। তথ্যের বিভ্রান্তির কারণে বাজারে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি বলে কিছু নেই। সরকারি গুদামে যদি সাড়ে ১০ লাখ টন খাদ্য মজুত থাকে, তাহলে কখনো সমস্যা হয় না।আজকের পত্রিকা: ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কী করা উচিত?ড. মিজানুল হক কাজল: বছরের প্রথমেই যদি আমরা সাড়ে ১০ লাখ টন মজুত করে ফেলতে পারি, তাহলে খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। সেদিক থেকেই খাদ্য মন্ত্রণালয় বাফার স্টক বা খাদ্য মজুত বাড়ানোর জন্য আমদানি করে থাকে। করোনার কারণে এবার দ্বিগুণ খাদ্য সহায়তা দিতে হয়েছে, এটা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মজুত থেকেই এসেছে। এখন যদি এই খাদ্য মজুতটা না বাড়াতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে খাদ্যনিরাপত্তা সংকটে পড়তে পারে। সে কারণে আমাদের সাড়ে ১০ লাখ টন খাদ্য সব সময় মজুত রাখতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে আপৎকালীন সংকট মোকাবিলা করা যায়, সে জন্যই বাফার স্টক করা দরকার।আজকের পত্রিকা: বিভিন্ন সময়ে বলা হয় আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আসল চিত্রটা কী?ড. মিজানুল হক কাজল: আমাদের খাদ্যের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। প্রতিবছর ১ শতাংশ করে জমি কমার পরও উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। প্রযুক্তি ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বেড়েছে। এখন আমরা বাণিজ্যিক কৃষির দিকে যাচ্ছি। রপ্তানি করছি। আমরা এখন ফুড এগ্রিকালচার চর্চা শুরু করেছি। আমরা খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টিনিরাপত্তার কথা ভাবছি। খাদ্য সচেতন হচ্ছি। শুধু ভাতই যে খাদ্য নয়, এ ব্যাপারে বিকল্পও ভাবছি। এটা স্বয়ংসম্পূর্ণতারই অংশ।আজকের পত্রিকা: দুর্বল ব্যবস্থাপনাই কি খাদ্যনিরাপত্তার বড় বাধা?ড. মিজানুল হক কাজল: আমাদের সবজি উৎপাদন বেড়েছে, ফলের দৈনিক ভোগ বেড়েছে, মাছের উৎপাদন বেড়েছে, এখন বাণিজ্যিক মাছ চাষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, পোলট্রির চাহিদাও আমরা দেশীয়ভাবে পূরণ করতে পারছি। তবে শূন্য শুল্কে পোলট্রি ও ফিশ ফিডে কাঁচামাল আমদানি করে তা নিজেদের চাহিদা পূরণ না করে রপ্তানি করলে শিল্প ব্যাহত হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে, উৎপাদন খরচ বাড়লে খামারিদের খরচ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে, ভোক্তার ওপরে এর চাপ পড়বে। এসব দিক বিবেচনায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তায় এর যথাযথ ব্যবস্থাপনা তৈরি হয়নি।আজকের পত্রিকা: এ অবস্থাকে কীভাবে টেকসই করা যায়?ড. মিজানুল হক কাজল: খাদ্যনিরাপত্তার দিকটি টেকসই করার জন্য প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের কাছে বিভিন্ন ভর্তুকি নিশ্চিতভাবে পৌঁছাতে হবে। যেহেতু আমরা বাণিজ্যিক কৃষি নিয়ে চিন্তা করছি, তারা তো এন্টারপ্রেনার হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না। তারা বাজার প্রতিযোগিতায়ও টিকতে পারবে না। বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে পারলে আমরা যদি এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপ করতে চাই, সে ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাহলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে এবং ভোক্তারাও ন্যায্য মূল্যে পণ্য কিনতে পারবে। এ ছাড়া ভর্তুকি সুবিধা প্রান্তিক কৃষকেরাও যাতে পায়, তা দেখতে হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের যে বিষয়টি সেখানে তাকে প্রযুক্তি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি তার যেন মেরামত করার সক্ষমতা তৈরি হয়, সে ব্যবস্থাও নিতে হবে। | 8 |
হুটহাট প্রেমে পড়ার অভ্যাস (অথবা বদভ্যাস) আছে রণবীর কাপুরের। তাঁর প্রেমিকার তালিকা অনেকের বাজারের ফর্দের চেয়ে লম্বা। সেখানকার সবচেয়ে হাই প্রোফাইল দুই প্রেমিকা হলেন দীপিকা পাড়ুকোন ও ক্যাটরিনা কাইফ। গত প্রায় আড়াই বছর নিজের মনটা তিনি দিয়ে রেখেছেন আলিয়া ভাটকে। করোনা দিনের লকডাউনে একসঙ্গেই আছেন তাঁরা। তবু আগের প্রেমিকাদের মনে পড়ে রণবীরের। মাত্র আট বছর বয়সে প্রথম প্রেমে পড়েছিলেন রণবীর কাপুর। সেই নারী ছিলেন রণবীরের চেয়ে বয়সে অনেক বড়। তিনি ছিলেন রণবীরের স্কুলশিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই দুষ্টু প্রকৃতির রণবীর এবার ছোটবেলার এক দুষ্টুমির কথা ফাঁস করলেন নিজেই। এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দুষ্টুমি করে বেড়াতেন। আর তখন প্রেমেও পড়েছিলেন তিনি। রণবীর প্রেমে পড়েছিলেন তাঁর স্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকাকে। তাঁর পা দেখার জন্য রণবীর বসে থাকতেন টেবিলের নীচে। তাঁদের স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষিকা শাড়ি পরে স্কুলে আসতেন। শুধু ইংরেজির শিক্ষিকা আসতেন স্কার্ট পরে। তিনি ম্যাডামের পা দেখার জন্য টেবিলের তলায় লুকিয়ে থাকতেন। তবে চোরের দশ দিন, আর গেরস্তের এক দিন। সেই দিন ধরা পড়ে গিয়েছিলেন রণবীর। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর মা নীতু কাপুরকে ডেকে পাঠিয়েছিল। ঘটনা শুনে বেশ লজ্জা পেয়েছিলেন নীতু। রণবীর জানান, সেই শিক্ষিকাকে তিনি আজও সেই আগের মতোই ভালোবাসেন। তাই তিনি যেখানেই থাকুন, এই বলিউড অভিনেতার মনের কথাটা নিশ্চয়ই তিনি জানতে পারবেন। এই মুহূর্তে রণবীর কাপুর আলিয়া ভাটের। দুজন দুজনের প্রেমে নিমজ্জিত। তবু তাঁর সেই স্কুলজীবনের ভালো লাগার কথা রণবীর ভোলেননি আজও। | 2 |
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার দুইটি বার (মদের দোকান) থেকে যে কেউ মদ কিনতে পারার অভিযোগ উঠেছে।নিয়মানুযায়ী পারমিট থাকা ব্যক্তিই সেখান থেকে মদ কিনতে পারবেন। তবে সেখান থেকে মদ কিনে ফেরার পথে অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে মামলা এবং সম্মানহানির শিকার হচ্ছেন; এমনটাই জানিয়েছেন ক্রেতারা। তবে পারমিট না-থাকা ব্যক্তির কাছে মদ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বারের ব্যবস্থাপক।বনানী মোড় এলাকার পর্যটন বার থেকে বিভিন্ন সময় মদ কেনেন উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের এক বালু ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, 'আমার পারমিট নেই। বার থেকে মদ কিনতে পারমিট দেখে না। টাকা দিলেই মদ দেয়।'এই ব্যবসায়ী আরও জানান, পারমিট নেই এমন ব্যক্তির কাছে প্রকাশ্যে মদ বিক্রি করলেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয় না। কিন্তু মদ কিনে ফেরার সময় প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। সেবন করার জন্য কিনলেও মাদক ব্যবসায়ীর মামলা দিয়ে আদালতে চালান করে।জানতে চাইলে বগুড়া ধুনট উপজেলার কলাইপাড়া ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠিত এক ব্যবসায়ী বলেন, '২ ডিসেম্বর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের একটি বার থেকে ৯ হাজার টাকায় বিদেশি মদ কিনি। ফেরার পথে শাজাহানপুর উপজেলার ফুলদীঘি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাকে সেই মদসহ গ্রেপ্তার করে। পরদিন থানায় মাদক বিক্রির মামলা দিয়ে আমাকে আদালতে চালান করে।'জানতে চাইলে এক বারের ব্যবস্থাপক ওবায়দুল হক পাঠান মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'পারমিট না-থাকা ব্যক্তির কাছে মদ বিক্রি করা হয় না। বর্তমানে বিদেশি মদ স্টকে নেই। তাই শুধু কেরু (দেশীয় কোম্পানির) মদ বিক্রি করছি। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ঝামেলা করেনি।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মো. মেহেদী হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, শুধু পারমিট থাকা ব্যক্তির কাছে বারগুলো মদ বিক্রি করতে পারবে। অথবা বিদেশি কেউ চাইলে কিনতে পারবেন। এর বাইরে কারও কাছে মদ বিক্রি করা যাবে না।এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসিফ আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন , পারমিট ব্যতীত লোকজনের কাছে মদ বিক্রির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
ইউজিসি স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান এবং মেরিন ফিশারিজ সায়েন্সের অধ্যাপক ড. মো. সাদিকুল ইসলাম। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণা ও প্রকাশনায় অনবদ্য অবদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তাঁদের এ সম্মাননার জন্য মনোনীত করেছে।গত রোববার বিকেলে তাঁরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২০১৮ সালে বন, কৃষি ও পরিবেশ এবং জীববিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে ইউজিসি স্বর্ণপদকের জন্য আবেদন করেন ড. শাহজাহান এবং ড. সাদিকুল। বাছাই প্রক্রিয়া শেষে রোববার ইউজিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের মনোনয়নের বিষয়টি জানানো হয়।ড. মো. শাহজাহান ২০০৪ সালে বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন। অন্যদিকে ড. মো. সাদিকুল ইসলাম ১৯৯৯ সালে বাকৃবিতে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। | 6 |
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমানকে ছাত্রলীগের নেতা ওয়াকিল আহমেদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী।এই তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম আকন্দ। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাকসুদুল করিম।কুবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে 'তুমি' সম্বোধন করায় মারধরতদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন, 'আমরা এখনো তদন্ত শুরু করিনি, আগামী সপ্তাহে বসব, দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা করব।'উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ সন্ধ্যায় 'তুমি' বলে সম্বোধন করার জেরে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াকিল আহমেদ মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমানকে মারধর করেন। | 6 |
দেশ স্বাধীন করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ চাকরির কোটা দিয়ে শোধ হবে না বলে রংপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন বক্তারা।মুজিব শতবর্ষ ও বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল বুধবার রংপুর টাউন হল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা হয়।বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ রংপুর জেলা ও মহানগর কমান্ড কাউন্সিল এ আয়োজন করে। এতে সংগঠনের মহানগর সভাপতি বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম। উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোলায়মান মিয়া।বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক কমান্ডার মোসাদ্দেক হোসেন বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, রংপুর মহানগর কমান্ড কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ মাসে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ কোনোভাবেই শোধ করার মতো না। ভাতা দিয়ে, বাড়ি দিয়ে, চাকরির কোটা দিয়ে এই ঋণ শোধ হবে না। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ উপহার দিয়েছেন। এই জাতি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।প্রস্তুতি সভা: পীরগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ শামসুল আরেফীন সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল হক লিটন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান তানজিনা আফরোজ, পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াজেদ আলী সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সুজা মিয়া প্রমুখ। | 6 |
আগামী মে মাসের শুরুর দিকে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফের উপদেষ্টা ওলেক্সি অ্যারেস্তোভিচ। তাঁর ধারণা, ওই সময়ের মধ্যে প্রতিবেশীকে আক্রমণের মতো যথেষ্ট সক্ষমতা মস্কোর থাকবে না। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদগুলো ফুরিয়ে আসবে তখন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, রুশ বহর ক্রমাগত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কেন্দ্রস্থলের দিকে এগোচ্ছে। শহরটির উপকণ্ঠের বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে হামলা চালিয়েছে তারা। এর মধ্যেই আবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। শুধু অবরুদ্ধ শহর থেকে স্থানীয় লোকজনকে সরিয়ে নিতে মানবিক করিডর স্থাপনের ব্যাপারেই সমঝোতা হতে দেখা গেছে। এমন অবস্থায় যুদ্ধ কবে বন্ধ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে। গতকাল সোমবার রাতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফের উপদেষ্টা ওলেক্সি অ্যারেস্তোভিচকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি বলেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা নির্ভর করছে ক্রেমলিনের রসদ কত দিন থাকবে, তার ওপর। 'আমি মনে করি, তা মে মাস পার হবে না, মে মাসের শুরুর দিকেই তা ঘটবে। এর অনেক আগেই আমাদের একটি শান্তিচুক্তি করা প্রয়োজন। আমরা তা দেখছি। আমি সর্বশেষ সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে কথা বলছি।' বলেন অ্যারেস্তোভিচ। এদিকে গতকাল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়ার সেনারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। ইউক্রেনে এমন প্রতিরোধের মুখে পড়বেন, তা তাঁরা ভাবেননি। তাই অস্ত্র-গোলাবারুদ রেখে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ইউক্রেনকে রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবারও রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ফেসবুকে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় গতকাল (সোমবার) তিনি বলেন, আলোচনা বেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। অবশ্য তিনি আরও বলেন, তবে এখন দেখা যাক, কী হয়। আগামীকালও (মঙ্গলবার) আলোচনা চলবে। | 3 |
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নুপুর আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূ দগ্ধ হয়েছে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। রোববার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধ নুপুরের স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, উত্তর বাড্ডার পূর্বাঞ্চল ১২ নম্বর লেনের ১তলা সুমনের বাসায় ভাড়া থাকেন তারা। দুপুরে বাসায় একাই ছিলো নুপুর। স্বামী প্রাইভেট কার চালক বাসার বাইরে ছিলো। অনেক দিন ধরেই বাসায় গ্যাসের গন্ধ পেতেন। এজন্য তারা বাসাটি পাল্টে পাশের আরেকটি বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আজ নুপুর বাসার জিনিসপত্র গুছাচ্ছিলো। তখন ফ্যানের প্লাগ খোলার সময় সেখান থেকে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট হয়। সেখান থেকে ঘরের ভিতর জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হলে তার স্ত্রী নুপুর দগ্ধ হয়। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান জানান, নুপুরে শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাকে বার্ণ ইউনিটে ভর্তি রাখা হয়েছে। | 6 |
সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গার শ্যামবাজার এলাকায় ময়ূরী -২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিংবার্ড ডুবে মৃত্যু বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ছাড়া আরও অনেক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার হায়াৎ ইবনে সিদ্দক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে ২ জন শিশু ৫ মহিলা ২৩ পুরুষ। একটি ভালো ফলাফল পাওয়ার আগ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি। সোমবার (২৯ জুন) সকাল দশটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ড থেকে ময়ূরী দুই লঞ্চটি মেরামতের পর বুড়িগঙ্গা নদীতে নামানো হয়। ওই সময়ে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের কাটপট্টি ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছিল। ময়ূরী সরাসরি পেছনদিকে মর্নিংবার্ডকে ধাক্কা দিলে সাথে সাথে লঞ্চটি ডুবে যায়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বাকিরা লঞ্চের মধ্যে আটকা পড়ে ডুবে যায়। লঞ্চডুবির পর সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌ বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। সঙ্গে বিপুল সংখ্যাক স্থানীয় মানুষ সহায়তা করছে। তবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে রওয়ানা দেয়া বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ এখানো পৌঁছায়নি। স্থানীয়রা জানান, লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর বেশ কিছু যাত্রী সাতরে নদীর কিনারে উঠতে সক্ষম হয়। তবে বেশিরভাগই উঠতে পারেনি। কতজন উঠতে পারেনি তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো কর্তৃপক্ষ। লঞ্চডুবির পর সেখানে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনীর ডুবুরি এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পরপর তারা লাশ তুলে আনছেন। এভাবে একে একে ইতিমধ্যে ৩০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। | 6 |
কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মাছ শিকারের সময় ধরে নিয়ে যাওয়া নয় বাংলাদেশি জেলেকে দুইদিন পরেও ফেরত দেয়নি মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। এরই সূত্রে বৃহস্পতিবার বিজিপির হাতে আটক বাংলাদেশি জেলেদের বিষয়ে মিয়ানমার কৃতপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান। তিনি জানান, 'মানবিক দিক বিবেচনা করে জেলেদের ছেড়ে দিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে জেলেদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।' গত মঙ্গলবার বিকেলে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে ট্রলারসহ তাদেরকে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি। এতে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলে পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন- মাঝি মো. কালা ওরফে কালাবদা, নুরুল আলম, ইসমাইল হেসেন, সাইফুল ইসলাম, মো. ইলিয়াছ, মো. ইউনুছ আলী, মো. ছলিম উল্লাহ, লালু মিয়া ও কামাল মিয়া। বিজিবি বলছে, দুই বছর আগে ইয়াবা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকারের নিদের্শনায় নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপরও মাঝে মধ্যে নির্দেশ অমান্য করে কিছু জেলে মাছ শিকারে গেলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত রোববার নাফ নদীতে মাছ শিকারে সময় গুলিবিদ্ধ হন বাংলাদেশি মো. ইসলাম। পরের দিন তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় কক্সবাজার হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বিজিপির কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। | 6 |
লা লিগার শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকতে অবশেষে এক স্বস্তির জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। রাতে ভিয়ারিয়ালকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হারায় তারা। তবে এই ম্যাচটিতে জয় পেলেও টেবিলের শীর্ষে থাকা রিয়ালের চেয়ে এখনো ৪ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে আছে মেসিরা। ফলে শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকতে এই জয়টি কাজে দিলেও শেষ পর্যন্ত বার্সা শিরোপা জয় করতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। লা লিগার এই মৌসুমে রিয়াল ও বার্সার ম্যাচ বাকি রয়েছে আরো ৪টি। যদি বার্সাকে শিরোপা জিততে হয় তাহলে তাদের এই ৪টি ম্যাচে জয় পেতেই হবে। এর বিকল্প কোনো কিছুই নেই। অপরদিকে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদের বাকি ৪টি ম্যাচের মধ্যে ২টি ম্যাচেই হারতে হবে। আর রিয়াল এখন যেভাবে এগিয়ে চলছে সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে তা অসম্ভব ব্যপারই। করোনার পর খেলা ফেরার পর রিয়াল ৭টি ম্যাচ খেলে ৭টিতেই জয় তুলে নিয়েছে। তবে আজকের ম্যাচটিতে বার্সার পারফরমেন্স অন্য ম্যাচগুলোর তুলনায় ছিল বেশ ভালো। জয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পারফরমেন্সও নজর কেড়েছে অনেকের। ম্যাচটিতে মেসি কোনো গোল করতে না পারলেও সুয়ারেজ ও গ্রিজম্যানকে দিয়ে গোল করিয়েছেন তিনি। দলের হয়ে অপর একটি গোল করেছেন তরুণ তুর্কি আনসু ফাতি। আর বার্সা তাদের একদম প্রথম গোলটি পায় ভিয়ারিয়ালের পাও তারেসের আত্মঘাতী গোল থেকে। অপরদিকে ভিয়ারিয়ালের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন জেরার্ড মরেনো। | 12 |
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে পদটির যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে যোগ দিতে পারেন যে কেউ। ১ টি পদে (উপ-মহাব্যবস্থাপক) ১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি কোম্পানির বেতন গ্রেড-৩ অনুযায়ী বেতন পাবেন। এ পদে নিয়োগ পেলে মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা এবং কোম্পানির অন্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। পদটির জন্য আবেদন করা যাবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। .. এ সিভি ফরম্যাট আছে, সে অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।অনূর্ধ্ব ৫০ বছরের যে কেউ এ পদে আবেদনর করতে পারবেন। নিয়োগ পেলে কমপক্ষে ৫ বছর বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডে কাজ করতে হবে।আবেদনের যোগ্যতাআবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বয়সসীমার শর্তাবলি জানা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে। আবেদনের নিয়মআগ্রহী প্রার্থীরা আবেদনপত্র পূরণ করে আগামী ১৫-১০-২০২০ তারিখ পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন।বিস্তারিত নিচের বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন | 1 |
কুমারখালী ও খোকসা (কুষ্টিয়া): কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাছ চুরির অভিযোগে চেয়ারম্যানের বাড়িতে জসিম (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার খোকসা ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ওই গ্রামের রওশন আলী শেখের ছেলে।এ ঘটনায় নিহতের ভাই হাসেম শেখ বাদী ওই দিন বিকেলেই খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী বিশ্বাস, তাঁর স্ত্রী জায়েদা, তিন ছেলে তানজির বিশ্বাস, তানভীর বিশ্বাস, জুমেজো বিশ্বাস এবং ভাতিজা সালাউদ্দিনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা (মামলা নম্বর ৬) করেন।মামলার পর পুলিশ চেয়ারম্যানের স্ত্রী জায়েদা ও ভাতিজা সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। চেয়ারম্যানসহ বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রতনপুর বিলে কয়েক বিঘা জমির পুকুরে মাছের চাষ রয়েছে চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর। রাতে মাছ চুরির অভিযোগে জসিমকে ফোন করে ডেকে নেয় চেয়ারম্যানের লোকজন। পরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে পেটানো হয় তাঁকে। জসিমকে পেটানোর খবর জানতে পেরে চেয়ারম্যান বাড়িতে গিয়ে জসিমকে মুমূর্ষু অবস্থায় উঠানে পড়ে থাকতে দেখে তাঁর পরিবার। সেখানে চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের তিন ছেলে, ভাতিজা, পুলিশ ও স্থানীয় কিছু লোকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তাঁরা। এ সময় জসিম শুধু পানি পানি আর মা মা করছিল। গ্রামের এক মহিলা পানি পান করান এবং গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে একটি ভ্যানে জসিমকে অসুস্থ অবস্থায় দড়ি দিয়ে বেঁধে খোকসা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বলে জানান তাঁরা।নিহতের স্ত্রী আছিয়া খাতুন জানান, জসিম রাতে খেলা দেখতে বাড়ির বাইরে যায় এবং রাতেই ফিরে আসেন। এরপর ফজরের আজানের আগ মুহূর্তে খিচুড়ি খাওয়া জন্য একটি ফোন কল আসে। ফোন পেয়ে তিনি বাড়ির বাইরে গিয়ে আর ফেরেননি। এরপর ভোরে শুনতে পায় চেয়ারম্যান ও তাঁর ছেলেরা খুঁটিতে বেঁধে পেটাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীর কারও সঙ্গে কোন ঝামেলা ছিল না। সে মাঝে মাঝে মাছ ধরত। কিন্তু সে চোর নয়।নিহতের ভাই আসলাম আলী শেখ বলেন, ভোর ৫টার দিকে স্থানীয় মেহেদী নামের এক ব্যক্তি তাঁকে ফোনে জসিমকে পেটানোর কথা জানায়। সংবাদ পেয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাই মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় উঠানে পড়ে আছে জসিম। তিনি আরও বলেন, এ সময় আমার ভাই পানি পানি করছিল। এরপর আমি একটু পানি দিই। সে আবারও পানি পানি করছিল। আমি আবারও পানি খাওয়ায়। তখনো যদি আমার ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হতো তাহলে সে বেঁচে যেত।নিহতের আরেক ভাই হাসেম শেখ বলেন, আমি মেম্বর প্রার্থী। আমাকে দাবিয়ে রাখার জন্য চেয়ারম্যান লোকজন দিয়ে ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে আমার ভাইকে মারার প্ল্যান ওদের অনেক আগেই ছিল। চোরের খবর পেয়ে খুব সকালে চেয়ারম্যান বাড়িতে যান রতনপুর গ্রামের মৃত মুন্তাজের ছেলে মুন্নাফ। তিনি বলেন, খবর পেয়ে চেয়ারম্যান বাড়িতে এসে দেখি পুলিশ, চেয়ারম্যানসহ অনেক লোক। আর জসিম মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর চৌকিদার রাকিব কাঁধে তুলে ভ্যানের ওপর নেয় জসিমকে। পরে পুলিশ তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলতে বলে। পরে চৌকিদার আর ভ্যানচালক বেঁধে ফেলে জসিমকে।এ বিষয়ে ভ্যান চালক আবেদ আলী শেখ জানান, চোর দেখতে গিয়েছিলাম সেখানে। পরে ওরা আমার ভ্যানে জসিমকে মুমূর্ষু অবস্থায় তোলে। এ সময় তাঁকে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল।চেয়ারম্যান বাড়িতে দায়িত্ব পালনে যাওয়া খোকসা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমদাত বলেন, আমি চেয়ারম্যান বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সুস্থ অবস্থায় পেয়েছি। ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। কাছে হ্যান্ডকাপ না থাকায় দড়ি দিয়ে বেঁধে ভ্যানযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. প্রেমাংশ ঘোষ বলেন, অজ্ঞান অবস্থায় সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে একজন চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) জসিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করি। চিকিৎসা শুরুর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের মারাত্মক চিহ্ন ছিল।খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, মাছ চুরির সন্দেহে চেয়ারম্যান আইয়ুবের বাড়িতে জসিমকে পিটানো হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খোকসা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার মামলা হয়েছে। চেয়ারম্যানের স্ত্রী জায়েদা ও ভাতিজা সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় কোন চুরির মামলা নেই। | 6 |
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, 'নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষ সমতা আনয়নে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি জটিল বাধা। প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, অভ্যাস, আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রসার জরুরি। উদ্ভাবনী নীতি ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধিক নারী নেতৃত্ব প্রয়োজন। ' ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ ও অস্ট্রিয়ান পার্লামেন্টের সহযোগিতায় সোমবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত উইমেন স্পিকার্স অফ পার্লামেন্ট-এর ১৩তম সম্মেলনে ড. শিরীন শারমিন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, জিম্বাবুয়ের সিনেট প্রেসিডেন্ট ম্যাবেল এম চিনোমনা, ওএসসিই পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির মার্গারেটা সেডারফেল্ট, স্পেনের কংগ্রেস অব ডেপুটিজ-এর প্রেসিডেন্ট মেরিটজেল ব্যাটেট, উরুগুয়ে জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট বিয়াট্রিজ আরজিমন ও মোজাম্বিক অ্যাসেম্বলির স্পিকার স্পেরানকা লরিন্দা ফ্রান্সিসকো নিউয়ান বায়াস। অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
গত ৩০ মে মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিল স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন। ২০১১-এর পরে এই প্রথম আমেরিকার মাটি থেকে মহাকাশে রওনা দেওয়া। অভিযানের আর একটি বিশেষত্ব ছিল, প্রথম বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে মহাকাশ পাড়ি। তবে আসল লক্ষ্য ছিল, রাশিয়ার উপর থেকে নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা। 'স্পেস শাটল'-গুলির মেয়াদ ফুরনোর পর থেকে মহাকাশে মানুষ পাঠাতে হলে রাশিয়ার সয়ুজ মহাকাশযানের উপরে নির্ভর করতে হত নাসাকে। কিন্তু তা ব্যবহারের জন্য আসন-পিছু ৮ কোটি ডলার দিতে হত আমেরিকাকে। এর জন্য দীর্ঘদিন তারা নতুন স্পেসক্রাফ্ট তৈরির চেষ্টা ছিল। 'স্পেসট্যাক্সি' তৈরিতে স্পেসএক্স এবং উড়ান সংস্থা বোয়িংকে ৭০০ কোটি ডলার অর্থসাহায্য দিয়েছিল মার্কিন সরকার। গত বছর ব্যর্থ হয় বোয়িংয়ের প্রচেষ্টা। আশা-ভরসা ছিল স্পেসএক্স। বেনকেনদের নিরাপদে ঘরে ফেরা সেই সাফল্যের খবরও নিয়ে এল। ফিরে এল দুই নভোচারী। পৃথিবীর উদ্দেশে মহাকাশ ছাড়ার আগে যে সন্দেহ ছিল, সেটাই ঘটলো মার্কিন দুই নভোচারীর ভাগ্যে। ঝড়েরর আশঙ্কা মাথায় নিয়েই মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার ক্যাপসুলে উঠেছিলেন তারা। যদিও প্রকৃতি বিরূপ হয়নি। রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট নাগাদ চারটি প্যারাসুটে ভর করে নির্বিঘ্নেই মেক্সিকো উপসাগরে নেমে আসে স্পেসএক্স সংস্থার সেই ক্যাপসুল। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের কন্ট্রোলরুম তখন হাততালিতে ফেটে পড়ছে। চারপাশ থেকে ছুটে আসছে স্পিডবোট। একটু পরেই জাহাজে তুলে নেওয়া হল সেই ক্যাপসুলকে। চার মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন ডগলাস হার্লি এবং বব বেনকেন। ৪৫ বছর পরে এই প্রথম সমুদ্রে নামল মার্কিন মহাকাশ-ক্যাপসুল। গত কাল পর্যন্ত দুই নভোচারীর ফেরা ঘিরে অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ, বাহামার দিক থেকে ধেয়ে আসছে ঝড় 'ইসাইয়াস'। অশান্ত হচ্ছে সমুদ্র। অথচ ফ্লরিডা উপকূলের কাছে সমুদ্রেই নামার কথা 'স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন' স্পেসক্রাফ্টের। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে নভোচারীরা কীভাবে সমুদ্রে নামবেন, কীভাবে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হবে, সব নিয়েই চিন্তায় ছিল নাসা। এক বার এ-ও শোনা গিয়েছিল, ফেরার 'টিকিট' বাতিল করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দু'দিন বাদে ফিরবেন তারা। কিন্তু শেষমেশ আর তা করা হয়নি। মার্কিন সময় অনুযায়ী, আজ ভোরে রওনা দেয় যানটি। মহাকাশ স্টেশনে দুই নভোচারীর সম্মানে 'ফেয়ারওয়েল' অনুষ্ঠান হয়। নাসা টিভিতে দেখানো হয় সেই অনুষ্ঠান। হার্লি বলেন, ''আর একটু পরেই যানে উঠব, তার পর অবতরণ ও জলে ঝাঁপ।'' আরও বলেন, ''দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। বিশেষ করে আবহাওয়ার যা গতিপ্রকৃতি।'' বেনকেনের কথায়, ''অভিযানের সবচেয়ে কঠিন ধাপ উৎক্ষেপণ। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নভোচারীদের নিরাপদে ঘরে ফেরানো।'' নাসা টিভিতে দেখা যায়, বেনকেনের হাতে একটি খেলনা ডায়নোসর। বাবার সঙ্গে প্রিয় খেলনাটিকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল বাচ্চারা। বেনকেন তার ও সঙ্গীর ছেলেমেয়েদের উদ্দেশে বলেন, ''ট্রেমর, দ্য অ্যাপাটোসরাস এ বার বাড়ি ফিরছে। বাবার সঙ্গেই ফিরছে।'' | 3 |
পাকিস্তানি-আমেরিকান জাহিদ কোরেশি আমেরিকার ফেডারেল বেঞ্চের প্রথম মুসলিম বিচারপতি হতে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের মাত্র এক ধাপ নিচে এই ফেডারেল বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার ৮১-১৬ ভোটে মার্কিন সিনেটে কোরেশির নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। কোরেশি নিউ জার্সির মার্কিন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি একই রাজ্যের ম্যাজেস্ট্রেট বিচারক হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি উভয় দলের কাছ থেকেই এই নিয়োগের ব্যাপারে সমর্থন লাভ করেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে বেশি সমর্থন লাভ করেন। নিউ জার্সির সিনেটর বব মেনেনদেজ বলেন, বিচারপতি কোরেশি আমাদের দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। তার কাহিনীতে আমেরিকায় সবকিছু সম্ভব বলে যে কথা রয়েছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে। নিউ জার্সির সিনেটর কোরে বুকার ৪৬ বছর বয়স্ক কোরেশির নিয়োগের সুপারিশ করেছেন। তিনি কোরেশিকে দৃঢ়বিশ্বাসী লোক হিসেবে অভিহিত করে তার দেশপ্রেমেরও প্রশংসা করেন। সেইসাথে তিনি বলেন, তিনি একইসাথে মুসলিমও। নিউ ইয়র্ক সিটিতে পাকিস্তানি এক অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কোরেশি। তবে বেড়ে ওঠেন নিউ জার্সিতে। তিনি রাটগার্স ল স্কুলে পড়াশোনা করেন। তবে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তিনি সামরিক প্রসিকিউটর হিসেবে সামরিক সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তিনি ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ইরাকে নিযুক্ত হন। পরে তিনি সরকারি দুর্নীতি, সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এটর্নি হিসেবে হোমল্যাননড সিকিউরিটি বিভাগে যোগ দেন। কোরেশির নিয়োগে মুসলিম সংগঠনগুলোতে উল্লাস দেখা দিয়েছে।মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি সালাম আল-মারায়াতি নিউ জার্সি নিউজ আউটলেট নর্থজার্সিডটকমকে বলেন, কোরেশি আমেরিকান বিচার বিভাগে মুসলিমদের ভবিষ্যত পথচলার সূচনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, হোয়াইট হাউস আরো বেশি বিচারক নিয়োগ করবে, সিনেট তা অনুমোদন করবে। আমরা আরো আশা করছি, সিনেট নমিনিদের ধর্মীয় লিটমাসে পরীক্ষা করার বাধাগুলো দূর করবে। সূত্র : ডেইলি সাবাহ | 3 |
জাপানিদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার অন্ত নেই। তবে এবার এক জাপানি ব্যবসায়ী যা করলেন তা একদমই অবিশ্বাস্য! ১২০০ গ্রাম ওজনের একটি কাঁকড়া কিনতে তিনি ব্যয় করেছেন ৪৬ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৯ লাখ ৯ হাজার ৬১৫ টাকা! বৃহস্পতিবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে এক নিলাম থেকে রেকর্ড করা দামে এই একটিমাত্র স্নো ক্র্যাব বা তুষার কাঁকড়া কিনে নেন ওই ব্যবসায়ী। আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের টটোরি এলাকায় চলতি সপ্তাহেই শুরু হয়েছে শীতকালীন সামুদ্রিক খাবারের মৌসুম। সেখানে ভিড় জমান রসনাবিলাসী জাপানিরা। ১২০০ গ্রাম ওজনের এই কাঁকড়াটি স্থানীয় যে খুচরা ব্যবসায়ী কিনেছেন, তিনিও নাকি সেটি বড় কোনো রেস্তরাঁয় বিক্রি করে দেবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। যে এলাকায় কাঁকড়াটি নিলাম হয়েছে, সেখানকার স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তার দাবি, এটিই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া কাঁকড়া। এ বিষয়টি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ওঠার আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা। | 3 |
করোনা ভাইরাসের কারনে পদ্মাসেতুর রেলসংযোগ সেতুর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের সহযোগিতা পেলে কাজটি যথাসময়ে শেষ করতে পারব। পদ্মাসেতুতে ১৭শ চায়নার শ্রমিক কাজ করতেন। ছুটিতে গিয়েছিলেন ২৬০ জন। করোনার প্রভাবে বর্তমানে পদ্মাসেতুতে ১৩শ শ্রমিক কাজ করছেন। যারা ছুটিতে গিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে ঢুকতে দিচ্ছে না। একারনে কাজে ধীরগতি। বাংলাদেশের সকল প্রকার পোর্টে থার্মো স্ক্যানারের মনিটর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ এ দেশের নিরাপত্তার জন্য খুবই দরকার। কারণ শুধু চীন নয় যে কোনো স্থান থেকে এ রোগের আগমন ঘটতে পারে। বুধবার কেরানীগঞ্জের জাজিরা এলাকায় চায়না গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এসব কথা বলেন। এদিন পদ্মাসেতুর রেলবিভাগের কাজের অগ্রগতি জানাতে এসে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কেউ জানে না মধ্য প্রাচ্য, কোরিয়া, ইরান, চীন বা ইটালি থেকে এ রোগ নিয়ে বাংলাদেশে আসছে। চীনে করোনাভাইরাস বিশ্ব জুড়ে আক্রান্তের মাত্র ১০ শতাংশ ঘটেছে। বাকি ঘটেছে বিশ্বের ৯০ শতাংশ অন্য দেশে। ঘটনা ও সংখ্যা নিয়ে গুজব রয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ১১০ মিলিয়ন মাস্ক প্রতিদিন তৈরী হচ্ছে চীনে। এটির জন্য প্রভাব পড়েছে। অনেকে নববর্ষে গিয়ে ফিরে আসতে পারেনি। যারা উহান প্রদেশের তারা এখন ফিরে আসছে না। কিন্তু অন্য প্রদেশের কর্মীরা ফিরে আসতে শুরু করেছে। তবে তারা বাংলাদেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এটির প্রভাব পড়েছে। তবে চীন ও বাংলাদেশ হাতে হাত ধরে এগিয়ে চললে এটিতে উতরানো কোনো কঠিন হবে। তিনটি মূল কথা আমি বলতে চাই। প্রথমত চীন করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছে। চীনের প্রকল্প চালু ও বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। তৃতীয়ত আমি বাংলাদেশ সরকার ও মানুষকে বলতে চাই, চীন এ সংকট জয় করবে। আজ নয় কাল নয় এখনই যে কোনো প্রকার বড় সমাবেশ পরিহার করতে হবে। যদি ধর্মীয় রীতি পালন করতে হয় তাহলে মাস্ক পড়া বাধ্যতা করা দরকার। চায়না রেলওয়ে ও পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের পরিচালক ওয়াং কুন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুভার্ব দেখা যাওয়ার পর এ প্রকল্পে কেউ যেন এ রোগে আক্রান্ত না হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিছু কর্মী চীনা নববর্ষ উদ্যাপন করতে নিজ দেশে বেড়াতে গেছে। ছুটি কাটিয়ে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশে ফিরলেও অনেকে চীনে আটকা পড়েছেন। কাজ যোগ দিতে চীন থেকে যাঁরা ফিরেছেন, তাঁদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সেতুর প্রকল্প পরিচালক লিউ জিয়ানহুয়া বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৬৬৬ জন চীনা নাগরিক এ প্রকল্পে কাজ করেন। মূল সেতুর মোট ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩৯টি শেষ হয়েছে। মোট ৪১টির মধ্যে ২৫টি স্প্যান উঠেছে। সর্বোপরি এ প্রকল্পে ৮৫.৬৫ শতাংশ দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ সহযোগীদের কাছ থেকে সাহায্য ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মাওয়া থেকে ভাঙা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ আগামী বছর শেষ হবে। রেলওয়ের পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। করোনাভাইরাসের জন্য কাজের গতি কমে গেছে। কিছু জিনিস চীন থেকে ২৩.৪ শতাংশ কাজের গতি। আর অর্থ খরচ হয়েছে ৩০ শতাংশ। ১৬৯ কিলোমিটার লম্বা রেল লাইনসহ আরো ২০০ কিলোমিটার শাখা লাইন, ১৪টা নতুন স্টেশন তৈরী করা হবে। রেল প্রকল্পে ২৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. কামরুজ্জামান প্রমুখ। | 6 |
সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক রবার্ট ফিস্কের জন্য কোনো জুতসই শব্দ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিধায় বা বিশেষণে ফিস্ককে সীমাবদ্ধ বা আটকে রাখা যাচ্ছে না। ফিস্ক নিজেই এক ইতিহাস। অসম ও অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতা করে ফিস্ক ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছেন। যুদ্ধবাজ ও আধিপত্যবাদীদের মারণাস্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর অস্ত্র ছিল কলম। দখলবাদী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের খেলায় যখন অধিকাংশ গণমাধ্যমই পশ্চিমাদের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করছে, তখন তিনিই ক্ষুরধার প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশ্ন করতে শুরু করেছিলেন। ফিস্ক শক্তিশালী এক হেজিমনির বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। অনেকেই তখন সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বুঁদ আছি। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্যকে মেনে নিয়ে সাংবাদিকতা করছিল অনেকেই। যুগটা ছিল এমবেডেড সাংবাদিকতার রমরমা অবস্থার। মূলধারার বেশির ভাগ দাপুটে গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করে সাংবাদিকতা করছে। মার্কিন সেনার ক্যামোফ্লেজ পরিধান করে ইরাকে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের মজুত নিয়ে নানা গল্প কাহিনি প্রকাশ করছে, ঠিক সেই সময় অনেকটা প্রকৃত সাংবাদিকতার স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রবার্ট ফিস্ক। লেবাননের গৃহযুদ্ধের ওপর প্রতিবেদন করতে ১৯৭৬ সালে বৈরুতে এসেছিলেন। এরপরই তিনি স্থায়ীভাবে বৈরুতে বসবাস করা শুরু করেন। আরবি ভাষাটাও শিখে নেন এর মধ্যে। অনর্গল আরবি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। এটা তাঁকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল। যে কারণে তিনি খুব দ্রুতই বিভিন্ন গোপন তথ্য পেয়ে যেতেন অন্যান্য পশ্চিমা সাংবাদিকের আগে আগেই। আফগানিস্তান থেকে মরক্কো পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তাঁর যোগাযোগ ধারণার চেয়েও শক্তিশালী ছিল। ফিস্ক দুবার আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার হামলার পর প্রথমবার, এরপর ২০০১ সালে ন্যাটো আফগানিস্তানে হামলা শুরু করার পরও তিনি ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য তিনি আফগানিস্তানে প্রবেশ করেন। ওই সময় তিনি আফগান উদ্বাস্তুদের হামলার মুখে পড়েন। ওই হামলা নিয়ে তিনি পরে লিখেছিলেন, 'আফগানদের উত্তেজিত করার কাজটি আমরা আগেই করে রেখেছিলাম বিভিন্নভাবে আফগানিস্তানকে দখল ও অস্ত্রে সজ্জিত করে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা তাদের অস্ত্র দিয়েছি এবং তাদের গৃহযুদ্ধ নিয়ে হাসি-তামাশা করেছি। আবার সভ্যতার লড়াই বলে তাদের ওপর আরেক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করে আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করেছি। এসব হামলা জায়েজ করার জন্য 'কোলেটারাল ডেমেজ' বলে বলে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ভেতরকার তথ্য ফিস্কের লেখনীতে উঠে এসেছে। তিনি সম্ভবত প্রথম ও একমাত্র সাংবাদিক, যিনি লিখেছিলেন, সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন আইএসের যোদ্ধারা আহত হওয়ার পর ইসরায়েলের হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা নিচ্ছে। তুরস্কের সীমান্ত দিয়ে দলে দলে জঙ্গিদের সিরিয়ায় প্রবেশ বা জঙ্গিদের সিরিয়ার তেল বিক্রির তথ্য আমরা তার প্রতিবেদনগুলোতেই পাই। চলমান সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের স্বাধীন ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ করে ফিস্ক পশ্চিমা সরকারগুলোর বয়ানের পাল্টা বয়ান তৈরি করেছেন। এ কারণে ফিস্ক কিন্তু পশ্চিমা সমাজে যথেষ্ট বিতর্কিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তখনকার সরকার যখন মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে ইরাক হামলার আয়োজন করছে, তখন তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক পর্যবেক্ষণ করার জন্য নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। ওই বৈঠক নিয়ে তিনি লেখেন, তৎকালীন মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট কলিন পাওয়েল কীভাবে চুমু ও আলিঙ্গন করে সবাইকে এক অন্যায় যুদ্ধের পক্ষে রাজি করিয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র এভাবেই জেনারেল পাওয়েলের আলিঙ্গনে বাঁধা পড়ে যান বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন। তিনিই প্রথম কয়েকজন সাংবাদিকের মধ্যে একজন, যাঁরা লেবাননের সাবরা ও শাতিলায় গণহত্যার ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। ১৯৮২ সালে সিরিয়া সরকার কর্তৃক হামা শহরে ওপর নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন তিনি। গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে তিনি আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগান দখল, ইরান-ইরাক যুদ্ধ, কসোভোর যুদ্ধ, ন্যাটোর আফগান হামলা, ইরাক হামলা, সিরিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। যুদ্ধ ও আরবের রাজনীতি নিয়ে বই লিখেছেন একাধিক। যুদ্ধ-সাংবাদিকতা করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার ঝুঁকির মধ্যেও পড়েছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের শুরুতে শাত ইল আরব নদীর অববাহিকায় অবস্থান করার সময় ইরাকের ভারী গোলা বর্ষণের আওয়াজে স্থায়ীভাবে তাঁর শ্রবণশক্তি আংশিক নষ্ট হয়ে যায়। নানাবিধ ঝুঁকি ও সমালোচনার মধ্যেও তিনি লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন শেষ দিন পর্যন্ত। মৃত্যু পর্যন্ত ফিস্ক নিয়মিত ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইনডিপেনডেন্টের জন্য প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। ফিস্ক মনে করতেন, প্রশ্ন করাই সাংবাদিকের প্রথম ও প্রধান কাজ। অন্যের বাতলে দেওয়া পথে সাংবাদিকতা হয় না। সাংবাদিকতার নামে যা হয়, তা করার জন্য জনসংযোগ বিভাগ আছে। বর্তমানে জনসংযোগ বিভাগের কাজটিই করে যাচ্ছেন অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মী। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী উদাহরণ হচ্ছেন ফিস্ক। এই ধরনের অবস্থার মধ্যেও যে প্রকৃত সাংবাদিকতা করা সম্ভব, এটা করে দেখিয়েছেন তিনি। ফিস্ক বলতেন, সাংবাদিকেরা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করবে। সব ধরনের কর্তৃপক্ষকেই প্রশ্ন করবে। বিশেষ করে যখন কোনো কর্তৃপক্ষ আমাদের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, তখন প্রশ্ন করা একজন সাংবাদিকের অবশ্যকর্তব্য। ইংল্যান্ডের কেন্টে জন্ম নেওয়া স্মরণীয় এই সাংবাদিক ডাবলিনে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন। তিনি আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ডাবলিনেও তিনি দ্য টাইমসের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তিনি আয়ারল্যান্ডের মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিঙ্গিস শোকবার্তায় বলেছেন, শুধু আয়ারল্যান্ডের প্রজন্মই নয়, সারা বিশ্বের মানুষই তাঁকে মনে রাখবে সংঘাতময় অঞ্চলের প্রকৃত তথ্য তুলে আনার জন্য। একই সঙ্গে তিনি সংঘাতের পেছনের কারণগুলো প্রকাশ্যে নিয়ে আসতেন। সাংবাদিকতার জন্য একাধিক পুরস্কার পাওয়ায় রবার্ট ফিস্ক স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে পারতেন। প্রচলিত ধারার সাংবাদিকতা করতে পারতেন। এখানেই তিনি অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম। তিনি যেসব এলাকায় সাংবাদিকতা করতে গিয়েছিলেন, ওই সব এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে মিশে যেতেন নৈর্ব্যক্তিক সাংবাদিকতার উদ্দেশ্যে। তিনি কখনো আপস করেননি মিথ্যার সঙ্গে। এ কারণে তিনি পশ্চিমা সমাজে সমালোচিত হলেও সারা বিশ্বেই সমাদৃত হয়েছেন। আজকের এই নিও লিবারেল কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসকদের আমলে, সাংবাদিকতার কঠিন সময়ে ফিস্ক ভয়ডরহীন সাংবাদিকতার উদাহরণ। রবার্ট ফিস্ক থেকে অন্যরা অনুপ্রেরণা নিতে পারেন, সাহস অর্জন করতে পারেন। ইতিহাস সাহসীদেরই মনে রাখে, যাঁরা একই সঙ্গে সময় ও সত্যকে ধারণ করতে পারেন। রবার্ট ফিস্ক তেমনই এক সাংবাদিক। ড. মারুফ মল্লিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক | 8 |
১. নুসরাত জাহানের ফিজিওট্র্যাকজন্ম থেকে ডান হাতটি দুর্বল নুসরাত জাহানের। চিকিৎসকেরা বিভিন্ন সময় ব্যায়ামের পরামর্শ দিলেও সেভাবে যত্ন নেওয়া হয়নি। ফলে ডান হাতে আর কিছুই করতে পারেন না তিনি। তবে সেটি কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি নুসরাতের লড়াই-সংগ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করার পর পড়তে যান জার্মানির রাইনওয়াল ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সে। সেখানে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকে মাস্টার্স করলেন ইউজেবিলিটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। 'জার্মানিতে গিয়ে আমি টের পেলাম, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে আমার মতো যাঁদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে বা নানা কারণে যাঁদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করতে সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য একটা কিছু করা যেতে পারে।' ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় নিজের প্রতিষ্ঠান ইন্টারেকটিভ আর্টিফ্যাক্টের অফিসে বসে কথা বলছিলেন নুসরাত। আরও বললেন, 'ভাবলাম কিছু বানাই, যা দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের নাড়াচাড়াজনিত অবস্থার উন্নতি হচ্ছে কি না, সেটা বোঝা যাবে।' ঘাড়ব্যথার কথায় ধরা যাক। কেউ হয়তো তাঁর ঘাড় ঠিকমতো ঘোরাতে পারেন না। এখন চিকিৎসকেরা চিকিৎসা করার সময় মোটামুটি একটি অবস্থান 'ট্রায়াল অ্যান্ড এররের' মাধ্যমে ঠিক করে নেন। তারপর চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা বলতে ওষুধ সেবন এবং শারীরিক ব্যায়াম। নুসরাত ও তাঁর দলবল ফিজিওট্র্যাক নামের এমন একটা ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা একজন ব্যক্তি ঠিক কতটুকু ঘাড় স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাতে পারেন, সেটি বের করে জানিয়ে দিতে পারে। ফিজিওট্র্যাকের আরেকটি সুবিধা হলো, এর সঙ্গে জুড়ে রাখা হয়েছে একটি ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড সিস্টেম। ফলে রোগীর সব তথ্যই সিস্টেমে থাকে এবং তাঁকে মনিটরিং করাও সম্ভব হয়। মাইক্রোসফটের উদ্ভাবিত কিনেটিক ডিভাইস ব্যবহার করে নুসরাত এই 'এমবেডেড সিস্টেম' তৈরি করেছেন। এই ডিভাইসের সঙ্গে একটি ল্যাপটপ সংযুক্ত। সঙ্গে একটি ক্যামেরা আছে, যা মূলত শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের প্রকৃত গতিবিধি পরিমাপ করতে পারে। ক্যামেরা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়ানোর পর এক্স-রে মেশিনের মতো মোশন ক্যামেরা দিয়ে রোগীর শরীর স্ক্যান করা হয়। এভাবে রেফারেন্স কাঠামো পাওয়া যায়। এরপর রোগী ঘাড়, হাতের কনুই, ল্যাম্বার কিংবা হিপ জয়েন্ট, অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নাড়াচাড়া করলে সেটির স্ক্যান ছবি ফিজিওট্র্যাক গ্রহণ করে। এরপর কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে নিখুঁতভাবে নাড়াচাড়ার প্রকৃত অবস্থান জানা যায়। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিনের চিকিৎসক সালেহ আহমদ বললেন, 'অনেক রোগীই চিকিৎসার পর তাঁদের উন্নতি বা অবনতি হচ্ছে কি না, সেটি ঠিকমতো বলতে পারেন না। ফিজিওট্র্যাক চিকিৎসকদের এই ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে। কারণ, এর মাধ্যমে আমরা তাঁর নাড়াচাড়া নিখুঁতভাবে মেপে ফেলতে পারছি। অর্থোপেডিকস, নিউরোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট কিংবা আমার মতো ফিজিক্যাল মেডিসিনের চিকিৎসকদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সহায়ক উদ্ভাবন। শারীরিক অসুস্থতার রোগীদের (বিশেষ করে যাঁদের নাড়াচাড়াজনিত সমস্যা আছে) জন্য এই উদ্ভাবনকে আশীর্বাদই বলা যায়।' জার্মানিতে পড়ার সময় আইসিটি বিভাগের কানেকটিং স্টার্টআপ প্রতিযোগিতায় নিজের ধারণা জমা দেন নুসরাত। ৪৩৭টি ধারণা থেকে নির্বাচিত ১০টি ধারণার একটি হয় সেটি। কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার পার্কের ইউনকিউবেটরে জায়গা পান। চাকরি ছেড়ে দিয়ে নেমে পড়েন নিজের স্বপ্ন নির্মাণে। সেই থেকে প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিনিয়ত এই যন্ত্রের উন্নতি করেছেন। বাংলাদেশে গবেষণানির্ভর কোনো প্রকল্পকে বাস্তবে নিয়ে আসা কঠিন। কেননা, বাজারে গবেষণানির্ভর কোনো পণ্যের প্রচলন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, জানালেন নুসরাত। আইসিটি ডিভিশনের উদ্ভাবনী ফান্ড এবং আইডিয়া প্রকল্প থেকে ৩০ লাখ টাকার অনুদানের জন্য বিবেচিত হয়েছেন। এখনো অবশ্য সবটুকু অনুদানের অর্থ ছাড় হয়নি। এ ছাড়া তাঁর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে দেশীয় ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান বিডি ভেঞ্চার লি.। বিডি ভেঞ্চারের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত হোসেন মনে করেন, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ফিজিওট্র্যাকের ব্যবহার শারীরিক অসুস্থতাজনিত রোগীদের চিকিৎসায় অভাবনীয় উন্নতি করবে। ফিজিওট্র্যাকের গবেষণা ও পরীক্ষণের কাজ শেষ হয়েছে। এই নভেম্বর থেকে এটির বিপণনের কাজ শুরু করেছেন নুসরাত জাহান। তিনিসহ এখন আটজন কাজ করছেন তাঁর প্রতিষ্ঠানে। এই মুহূর্তে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ফিজিওট্র্যাক সরবরাহ করাই বড় চ্যালেঞ্জ তাঁর কাছে। আগামী দিনে শারীরিক অসুস্থ রোগীরা তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শমতো বাসায় ব্যায়াম করছেন কি না, সেটি মনিটরিংয়ের ডিভাইস বানানোর জন্য কাজ করতে চান নুসরাত। ২. তাসনিয়া মতিন ও তাঁর খেয়ালকোনো শহরে গেলেই আমি ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তাদের খোঁজাখুঁজি করি। সিলেটের ডিঙ্গি রেস্তোরাঁয় বসে খবর পেলাম শাবিপ্রবির লোকপ্রশাসনের স্নাতক তাসনিয়া মতিন ও তাঁর 'খেয়ালের'। শহরের পূর্ব শাহি ঈদগাহের আনোয়ারা'স প্যালেসের নিচতলায় ছোট্ট শোরুমে। সেখানে গেলেই মন ভালো হয়ে যায়। ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়েই চমৎকার করে সাজানো। তাসনিয়ার কথায়, 'দোকান সাজানোর খরচ কমানোর জন্য নিজেই লোগো ডিজাইন করেছি। বাসার স্টোররুমে ঘুণে ধরা পুরোনো ওয়ার্ডরোবের তিনটি ড্রয়ারের একটাকে কেটে বসার জন্য দুটো টুল বানিয়েছি, বাকি দুটো ড্রয়ার জোড়া দিয়ে বানিয়েছি জিনিসপত্র ডিসপ্লের জন্য একটা বক্স। ঘুণে ধরা একটা জানালার ফ্রেম কেটে বোর্ড বসিয়ে তার ওপর হুক গেঁথে বানিয়েছি গয়না ঝোলানোর স্ট্যান্ড। আরেকটি জানালার ফ্রেম কেটে বানিয়েছি একটি আয়নার ফ্রেম। জিআইপাইপ থ্রেড কাটিয়ে জোড়া দিয়ে বানিয়েছি হ্যাঙ্গার স্ট্যান্ড।' চারদিকে নজর দিয়ে বুঝলাম, ছোট্ট একটি বাংলাদেশ-সিলেটের মণিপুরি শাড়ি, নারায়ণগঞ্জের জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁতপণ্য, কুমিল্লার বাটিক, ঢাকার ব্লক/স্ক্রিন প্রিন্টের পণ্য। পোশাক ছাড়াও আছে শীতলপাটি, শতরঞ্চি, টেবিল ম্যাট, বিছানার চাদর, কুশন কভার, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, হাতে তৈরি গয়না, হাতে তৈরি নোটবুক। এক কোণে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত লেখকদের বিখ্যাত সব বইও। এ বছরের মে মাসে এই শোরুমে এসেছেন। এর আগে কাটিয়েছেন একই ভবনের দোতলায়। ৬ বছর আগে মাস্টার্স পরীক্ষার পর পরিবারের কথামতো চাকরি খোঁজাতে মন না দিয়ে নিজের জমানো ১৭ হাজার টাকা দিয়ে শুরু। অনলাইনে সিলেটের মণিপুরি শাড়ি বিক্রি। তবে ভয়ে বাসায় বলতে পারেননি, তাই খুব বেশি প্রচারণাও নেই। শুরুতে একটি শাড়ির অর্ডার পেলেও দ্বিতীয় অর্ডারের জন্য তাসনিয়াকে অপেক্ষা করতে হয়েছে পাকা একটি বছর। সেই সময়, ২০১৫-১৬ সালে ফেসবুকে মণিপুরি শাড়ির সমাহার কম থাকাতে দ্রুত বিকশিত হলো খেয়াল। তাসনিয়া ভাবলেন, নিজেকে কেবল ফেসবুক পেজে সীমাবদ্ধ রাখবেন না, শোরুম করবেন। কিন্তু কী বিক্রি করবেন? 'ভাবনায় আসে, সিলেটের ক্রেতাদের জন্য কী নিয়ে কাজ করা যায়। মার্কেট গ্যাপ বিবেচনা করে মনে হলো বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ নিয়ে কাজ করা যায়। নিজের ডিজাইন নিয়ে বিশেষ ব্যাগের ব্যবস্থা করতে পারলাম।' এরপর আরও কিছু যোগ হলো, যা আমরা জেনেছি শুরুতে। নিজের মতো করে একটি অবস্থান তৈরি হলেও খেয়ালকে সফল বলতে নারাজ তাসনিয়া। মাত্র ৫-৬ বছরে একটি উদ্যোগের সফলতা যাচাই করা সম্ভব নয়। তাঁর ধারণা, খেয়াল এখন পর্যন্ত কোনো সফল উদ্যোগ নয়। তবে ব্যবসার সফলতাই সব নয়; একটি ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে এর পেছনের মানুষগুলোর ব্যক্তিগত যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা যে কত বড় 'অর্জন', তা ব্যাংক ব্যালেন্সের হিসাব দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট তাসনিয়া ২০১৭ সালে বিয়ে করেছেন। নিজের কর্মস্থল সিলেটে হলেও শ্বশুরবাড়ি এবং স্বামীর কর্মস্থল সুনামগঞ্জ হওয়ার দুই শহরে আসা-যাওয়ার মধ্যেই তাঁর সংসার। নিজের ছয় বছরের উদ্যোক্তা জীবনের সারমর্ম বললেন এক লাইন-ব্যবসার মোড় ঘুরতে পারে যখন-তখন। হাল না ছেড়ে একটু ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই এর সফলতা। ৩. মাকসুদা খাতুনের শাবাব লেদারস্কুলে পড়ানোর কাজ ছেড়ে বায়িং হাউসে চাকরি নিয়েছেন। স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক এবং এক অংশীদারের সঙ্গে শিল্পের জন্য চামড়ার দস্তানা তৈরি করে জাপানে পাঠান। ভালোই চলছিল। কিন্তু ছয় বছর আগে একদিন সকালে জানা গেল, স্বামীর প্রতিষ্ঠানের ৬৫ লাখ টাকার মালামাল গায়েব হয়ে গেছে! মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লেও নিজে ভেঙে পড়লেন না। কেরানীগঞ্জের জমি আর নাকফুল রেখে বাকি সব গয়না বিক্রি করে দিলেন। ডিপিএস এবং জীবন বিমার পলিসি, ভাঙালেন সবই। খরচ কমানোর জন্য রামপুরা থেকে কাঁচপুরে বাসা নিয়ে গেলেন। প্রতিদিন স্বামীকে অফিসে পাঠিয়ে নিজে হাজির হতে শুরু করলেন হাজারীবাগের ছোট্ট কারখানায়। দিনভর অর্ডারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ান। অবশেষে পাওয়া গেল চার ডজন ওয়ালেটের অর্ডার। 'আমার প্রথম কাজ, যত্ন করে করলাম।' হাজারীবাগে নিজের কারখানা কাম অফিসকক্ষে বললেন চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদক শাবাব লেদারের স্বত্বাধিকারী মাকসুদা খাতুন। 'কিন্তু জানাশোনা ও যোগাযোগ বাড়াতে পারছিলাম না। এরপর খোঁজ পেলাম "চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব'' প্ল্যাটফর্মের। যোগ দিলাম মিরপুরের উদ্যোক্তা হাটে।' সেখানে বেচাকেনা বেশি না হলেও আগ্রহী ক্রেতাদের সামনে নিজের পণ্যের সমাহার তুলে ধরতে পারলেন মাকসুদা। চামড়ার তৈরি লেডিস ও জেন্টস ব্যাগ, বেল্ট, ওয়ালেট, মিনি ব্যাগ, জ্যাকেটে আগ্রহ দেখাল প্রচুর মানুষ। হাট শেষে অনেকেই খুঁজে খুঁজে হাজির হলেন মাকসুদার ছোট্ট কারখানায়। পাওয়া গেল উত্তরবঙ্গের দুইটি বড় চেইন স্টোরের সাপ্লাইয়ের কাজ। ধীরে ধীরে ব্যবসার প্রসার হতে থাকল। অনেক করপোরেট কাস্টমার হাজির হলেন। 'তখন করপোরেট গিফট আইটেমও করতে শুরু করলাম। কিন্তু সবই চামড়ার।' অর্ডার বেড়ে যাওয়ায় কারখানা বড় করতে হলো। ঠিক করলেন, 'কাটিং থেকে ফিনিশিং' সবই নিজের কারখানায় করবেন। নিজেও প্রশিক্ষণ নিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, স্কিটি থেকে। কারখানা বড় করতে শুরু করলেন। কর্মীর সংখ্যা বাড়তে থাকল, নিতে হলো ব্যবস্থাপকও। 'কর্মী ব্যবস্থাপনা নিয়েই বিপদে পড়লাম। আমি কারখানাতে না থাকলে উৎপাদন কমে যায়। আবার কারখানাতে থাকলে অর্ডারের জন্য অফিসে অফিসে যাওয়া কিংবা ঢাকা বা ঢাকার বাইরের মেলাতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না।' এরই মধ্যে বিভিন্নজনের মাধ্যমে দেশের বাইরেও নিজের পণ্য পাঠানো শুরু হলো। এখন তাঁর বানানো চামড়াজাত পণ্য যাচ্ছে জাপান, গ্রিস, সুইজারল্যান্ড, সৌদি আরব ও চীনে। দুই হাতে এত সব কাজ একা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ল মাকসুদার। ২৮ জন সার্বক্ষণিক কর্মী। অর্ডার বেশি থাকলে সমসংখ্যক খণ্ডকালীন কর্মীর ব্যবস্থাপনা, অর্ডার, কারখানা, মেলা করে রাতে মেয়ের দেখভাল। অবশেষে ২০১৮ সালের শেষে স্বামী মোহাম্মদ শোয়াইব হোসেন রাজি হলেন নিজের চাকরি ছেড়ে স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে। এখন দুজন মিলে এগিয়ে নিচ্ছেন শাবাব লেদার। উৎপাদন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা দেখভাল করেন শোয়াইব হোসেন। আর 'ওনার হাতে কারখানা শপে দিয়ে আমি অর্ডার আর মেলার কাজ করি, মার্কেটিং আর বিক্রিটা সামলাই', বললেন মাকসুদা। মেয়ে আফরা হোসেন আর ছেলে আবরার হোসেন শাবাবকে নিয়ে এখন আবার ঢাকাতে বাসা নিয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি বাড়িয়ে নিজের একটি শোরুম করতে চান মাকসুদা। আর বাড়াতে চান আনুষ্ঠানিক রপ্তানি। সবার সহযোগিতা থাকলে স্বপ্ন পূরণ হয়েই যাবে, জন্মমাসে এমন আশার কথা জানালেন উদ্যোক্তা মাকসুদা খাতুন। | 0 |
সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন 'আল্লাহর দলে'র ৯ সদস্যকে নগদ ১৬ হাজার টাকা ও লিফলেটসহ আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতেবুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর শাহপরান থানাধীন আরামবাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ। তিনি জানান,আটক ৯ জন সিলেটে অবস্থান করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তবে কী ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো তা এখনো জানা যায়নি। পরিতোষ ঘোষ বলেন, এদের সঙ্গে কারো যোগসূত্র আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ৯ জনের মধ্যে চাকরিজীবী ও এনজিও কর্মকর্তাও আছেন। | 6 |
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নাটোরের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা মারা যান। তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন।হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন পাঁচজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১১ জন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে মোট রোগী ছিলেন ৪০ জন।এ ছাড়া বৃহস্পতিবার জেলার ২৬২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এতে ২২ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। | 6 |
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট-আইএসের কথিত শীর্ষ অর্থ সরবরাহকারী সামি জসিম আল-জাবুরিকে গ্রেপ্তার করেছে ইরাকের গোয়েন্দা বাহিনী। সোমবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-খাদেমি এ ঘোষণা দেন।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক টুইট বার্তায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে ইরাকের গোয়েন্দা বাহিনী জাবুরিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে কোন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে জাবুরিকে জটিল অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর জসিমসহ কয়েকজন চিহ্নিত আইএস নেতাদের সন্ধানের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ৫০ লাখ ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'নিজেদের দখলকৃত অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর পাশপাশি তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও বিক্রির বিষয়টি তদারকের দায়িত্বে আছেন জাবুরি।'২০১৭ সালে ইরাকে এবং পরের বছর সিরিয়ায় পরাজয়ের পরও হাজার হাজার জঙ্গি সেখানে সক্রিয় রয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। | 3 |
তুরস্ক সীমান্তবর্তী আর্মেনিয়ার ইরিবুনি বিমানঘাঁটিতে কয়েকটি জঙ্গিবিমান এবং পরিবহন হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এ কথা জানিয়েছে। তুরস্ক সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরাভেন এবং ওই ঘাঁটি রাজধানীর কাছেই অবস্থিত। মোতায়েন করা বিমানের মধ্যে চতুর্থ প্রজন্মের চারটি মিগ-২৯ এবং অনেকগুলো অত্যাধুনিক মিগ-২৯ এস বোমারু বিমান রয়েছে। এছাড়া একটি এমআই-৮এমটি হেলিকপ্টারও পাঠানো হয়েছে।
সিরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রুশ খসড়া ইশতেহার নাকচ হওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যে বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ঘোষণা দিল মস্কো। খসড়া ইশতেহারে শিগগির সিরিয়ায় তুর্কি গোলাবর্ষণ এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
বিডি-প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/শরীফ | 3 |
কুমিল্লায় জনপ্রিয় হচ্ছে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ। কুমিল্লার কয়েকটি উপজেলার মধ্যে দেবিদ্বারে পাঁচটি গ্রামে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেবিদ্বার উপজেলার ছেপাড়া গ্রাম। এখানে দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেন তরুণ উদ্যোক্তা আবুল ফয়েজ মুন্সী। ওই এলাকায় তিনি প্রথম ড্রাগন ফলের চাষ করেন। ড্রাগনের বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন মানুষ। তিনি প্রাথমিক কিছু ফল বিক্রিও করেছেন। এখন কিছু গাছে ফল ধরেছে। কিছু গাছে ফুল এসেছে। ফলগুলো সপ্তাহের মধ্যে পরিপক্ক হবে। আবুল ফয়েজ মুন্সী জানান, তিনি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেছেন। চাকরি তাকে টানে না। তাই পৈতৃক জমিতে কৃষি কাজ শুরু করেন। তিনি ড্রাগন, কলা, কুল ও ত্বীন ফল চাষ করছেন। ইউটিউব দেখে তিনি ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন। দুই বিঘা জমিতে ড্রাগনের গাছ লাগিয়েছেন। খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ। এই মাচা ও গাছ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল আসবে। দুই বছরে তার পুঁজি ওঠে যাবে বলে তিনি আশা করেন। দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান বলেন, দেবিদ্বারের ওয়াহেদপুর, মোহাম্মদপুর, ইউসুফপুর মধ্যপাড়া, সাইতলা, ছেপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। কয়েকটিতে ভালো ফলন হয়েছে। আমরা তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ড্রাগন অনেক পুষ্টিকর ফল। এটাকে নিউট্রাল ফলও বলা হয়। সব শারীরিক সমস্যায় এই ফল খাওয়া যায়। কুমিল্লার মাটি এই ফল চাষের উপযোগী। বিশেষ করে যেখানে পানি জমে না সেখানে ড্রাগন চাষ করা যায়। দেবিদ্বার ছাড়া বড় পরিসরে চান্দিনা, বরুড়া, লালমাই ও সদর দক্ষিণে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় অল্প পরিসরে চাষ হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.