text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সাত কিশোর আসামিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বুধবার তারা এ কেন্দ্রে এসে পৌঁছায় বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। আসামিদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় মঙ্গলবার বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজী তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বরগুনা কারাগার থেকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো কিশোর আসামিরা হচ্ছে- রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), ওলিউল্লাহ ওরফে অলি (১৬), জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন (১৭), তানভীর হোসেন (১৭), নাজমুল হাসান (১৪), আরিয়ান হোসেন শ্রাবন (১৬) এবং রাতুল শিকদার জয় (১৬)। যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ৭ কিশোরকে যশোরে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে ৬ জনকে আনা হয়। এর আগে আরো একজনকে এখানে পাঠানো হয়। গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
6
প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, তার সরকার আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ধকল কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানি জনগণকে নতিস্বীকারে বাধ্য করা যাবে না। প্রেসিডেন্ট রুহানি মঙ্গলবার তেহরানে এক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান অত্যন্ত বিচক্ষণ পদক্ষেপ নেয়ার কারণে আমেরিকা চড়া মূল্য দিয়ে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে। ২০১৫ সালে আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার কথা উল্লেখ করে তিনি এসব কথা বলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা নিজেই চড়া মূল্য দিয়েছে। মার্কিন সরকার 'মনস্তাত্ত্বিক' ও 'রাজনৈতিক' যুদ্ধ চালিয়ে ইরানি জনগণের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারবে না। ওই সমঝোতার ভিত্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে কিছুটা সীমাবদ্ধতা আরোপ করার বিনিময়ে পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে একতরফাভাবে বের করে নিয়ে ইরানের ওপর পরমাণু কর্মসূচিকেন্দ্রিক নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালের ঘোষণা দেন। এ সম্পর্কে আজ রুহানি আরো বলেন, আমেরিকা ভেবেছিল ইরানও সঙ্গে সঙ্গে এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবে এবং এর পরিণতিতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করার সুযোগ উন্মুক্ত হবে। কিন্তু ইরান বিচক্ষণতার সঙ্গে আমেরিকার সে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
3
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জমি থেকে ধানের আঁটি আনা-নেয়া নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওযার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের নারী ও শিশুসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের অনিতপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত এক পক্ষের লোকদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল চত্বর থেকে নূর আলম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক নূর আলম আশুরইল গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি গুনিয়াউক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জালাল মিয়া হাওর থেকে ধান কেটে নৌকায় করে অনিতপুরের চরে আসেন। এ সময় শ্রীঘর গ্রামের জুনাইদ মিয়ার একটি ট্রাক চরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জালাল কাছে যান। জালালের ধান বাড়িতে নিতে জুনাইদের সাথে দরকষাকষি করেন। পাঁচ শ' টাকা দিয়ে ধান নিতে রাজি হয় জুনাইদ। পাঁচ মিনিট পর জুনাইদ যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। জানা যায়, এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে তর্কবির্তক শুরু হয়। একপর্যায়ে দু'জনের মধ্যে হাতাহাতি হলে জুনাইদ আহত হন। পরে দু'জনের মারামারির বিষয়টি দু'গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামায়। সংঘর্ষে শিশুসহ দু'পক্ষের ৩০ জন আহত হয়। শ্রীঘর গ্রামের আহতরা হলো মারজিয়া মোছা, ছালমা বেগম, আব্দুল করিম, মহসিন মিয়া, জুবাইদ মিয়া, এনামুল হক, মিয়ান মিয়া, আরজান মিয়া, মো: দিপু, দানা মিয়া, আরমান মিয়া, মহসিন মিয়া, শফিকুল মিয়া। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, হাওর থেকে ধানের আঁটি বাড়িতে নেয়া নিয়ে দু'পক্ষের সংর্ঘষ হয়েছে। এদের মধ্যে আহত নায়েব উল্লাহ হাসপাতালে মারা যান। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।
6
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে জান্তা সরকারের ক্ষমতা দখলের এক বছর পূর্তি হলো ১ ফেব্রুয়ারি। সেই সময়টায় দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুন ছিল গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভ-মিছিলে উত্তাল। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রথম দিকে জান্তা সরকার সংযত আচরণ করলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা সহিংস হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নির্বিচার লাঠিপেটা, গ্রেপ্তার, স্নাইপার কুকুর ব্যবহার, এমনকি খুব কাছ থেকে গুলি করা শুরু করে। বিক্ষোভের তথ্যচিত্র তৈরি করতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মিয়ানমারজুড়ে ছুটে বেড়িয়েছেন খিত থিত। ইয়াঙ্গুনের কাছেই সানচাউং-এর এক ঘিঞ্জি গলিতে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে অল্পের জন্য পুলিশের হাতে ধরা পড়া থেকে বেঁচে যান তিনি। ওই ঘটনার পর কাছের একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন খিত। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে বের হয়ে হোটেল লাগোয়া একটি ভবনের ছাদে চলে যান। দেখতে পান, পুলিশ এক বিক্ষোভকারীকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছে। আর ওই বিক্ষোভকারী তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন। খিত বলেন, সেই সময় দিনের চেয়ে রাতটা তুলনামূলক ভালো ছিল। কারণ, অন্ধকার কেটে গেলেই সেনারা পাড়ায় পাড়ায় টহল দিত। কাউকে সন্দেহ হলে বাড়ি ঢুকে ধরে নিয়ে আসত। তিনি আরও বলেন, 'তখন সত্যিই খুব আতঙ্কের সময় ছিল। ওই সময়ে আমি ঘুমাতে পারতাম না। সারাক্ষণ মনে হতো, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারি।' অভ্যুত্থানের পর আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন খিত থিত। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় পালিয়ে গিয়ে বিকল্প সরকার নামে পরিচিত এনইউজির সামরিক শাখা-পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)-এ যোগ দেন। কিন্তু ইয়াঙ্গুনেই থেকে যান খিত। আশা ছিল, ধীরে ধীরে শহরের অবস্থা ভালো হবে, আর তখন লেখনীর মাধ্যমে তা বিশ্ববাসীকে জানাবেন তিনি। কিন্তু দিনে দিনে সাবেক এ রাজধানীর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। একপর্যায়ে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রত্যন্ত এলাকায় নিজের গ্রামে চলে যান। খিতের প্রতিবেশীরা তাঁর সাংবাদিক পরিচয় জানত। তাঁদের কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাঁর বিষয়টি বলে দিতে পারে বলে উদ্বিগ্ন ছিলেন। হঠাৎ করে জান্তা সরকারের কেউ যদি তাঁর খোঁজে আসে তখন কী হবে? এটা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বসে পরিকল্পনাও করেন। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নেন, এমন পরিস্থিতিতে পড়লে পেছনের জানালা দিয়ে পালিয়ে মঠে লুকিয়ে থাকবেন। এ নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তা আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কেটে যায় কয়েক সপ্তাহ। একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন খিত। বলেন, 'আমি বেশ দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম। এটি খুব কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। আমি কোনো দিন অন্য দেশে পাড়ি দিয়ে পরিবারকে ছেড়ে আসার কথা ভাবিনি। সবচেয়ে বড় কথা, আমি একধরনের অপরাধবোধে ভুগছি। কারণ, আমার বন্ধুরা জঙ্গলে থেকে দেশের জন্য লড়ছে, আর আমি শুধু নিজের কথা ভেবেছি।' খিত আরও বলেন, 'উড়োজাহাজে ওঠার পর একধরনের স্বস্তি কাজ করলেও মনটা ছিল বিষণ্ন। কারণ আমি জানি না, কবে ফিরতে পারব।' নিজের মধ্যে অপরাধবোধ এতটাই কাজ করছিল যে লজ্জায় দেশ ছাড়ার কথাটুকু তিনি বন্ধুদের জানাতে পারছিলেন না। এরই মধ্যে কেটে গেছে ৯ মাস। খিতের মতোই অভিজ্ঞতা মিয়ানমারের আরেক নাগরিক জন মং লুইনের। সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়ার আগপর্যন্ত কয়েক মাস তিনি লুকিয়ে ছিলেন। সারাক্ষণ মনে হয়েছে এই বুঝি গ্রেপ্তার হলেন। মং বলেন, 'আমি অপরাধবোধে ভুগি। কারণ, মনে হচ্ছে আমি স্বার্থপর। দেশ ছাড়ার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। এ সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লেগেছে। কিন্তু নিরাপদে দেশে ছাড়তে পারলেও স্বস্তি পাচ্ছি না কিছুতে।' গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে অনেকের জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। অর্থনৈতিক খাতে ধস নেমেছে। গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক আভাস দিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র ১ শতাংশ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার মিশেল ব্যাশেলেটের মতে, এ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দার মুখে জান্তা 'মানুষের জীবনের প্রতি চরম নির্মমতা' দেখিয়েছে। এর মধ্যে আছে সাংবাদিক নির্যাতন, গ্রামবাসীকে নিশানা করে ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালানো, ঘনবসতি এলাকায় বিমান হামলা ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা। মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে দেশজুড়ে অগুনতি সশস্ত্র হামলায় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের সঠিক হিসাব নেই। অপরদিকে জাতিসংঘের হিসাবে গত এক বছরে মিয়ানমারে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অপরদিকে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে খিত এবং মং-এর মতো অনেকে প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড বা ভারতে গেছেন। অন্যরা সুবিধামতো অন্যান্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার ভয় এবং আয়রোজগারের নিশ্চয়তার অভাবে দেশে ফিরতে তেমন আগ্রহী নন তাঁরা। দেশত্যাগী আরেকজন নিকি ডায়মন্ড। অভ্যুত্থানের আগে মিয়ানমারে একজন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের পর প্রথমে ইয়াঙ্গুন ছাড়েন তিনি। পরে মিয়ানমারই ছেড়ে যান। জান্তা সরকারের ধরপাকড়ের তালিকায় নিকির নাম ছিল। জান্তার নিপীড়ন থেকে বাঁচতে তিনি এখন সপরিবার জার্মানিতে আছেন। পিএইচডির গবেষণা করছেন। নিকিরও ভাষ্য, মিয়ানমার ছাড়ার সময় ভীষণ মন খারাপ ছিল তাঁর। কিন্তু 'বেঁচে থাকার অপরাধবোধে' ভুগছেন তিনি। কারণ জানতে চাইলে বলেন, 'আমরা তো দেশ ছেড়ে আসতে পেরেছি; কিন্তু অন্যরা এখনো সেখানেই রয়ে গেছেন।' তাঁর মতে, যাঁরাই দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের দায়িত্ব দেশে যা হচ্ছে তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। সবাই সশস্ত্র অধিকারকর্মী হবেন না। অনেকে আছেন, যাঁরা শহরে থেকে অহিংস বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে তাঁদের থাকার স্থান পরিবর্তনের জন্য অর্থসহায়তা প্রয়োজন। তাঁদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তবে দেশ ছাড়ার পরও সাম্প্রতিক সময়ে নিক নিজের অপরাধবোধ কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। তিনি মনে করেন, দেশে কী ঘটছে সে সম্পর্কে একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে সহায়তা করতে পারেন। সম্প্রতি দেশ ছাড়ার বিষয়টি বন্ধুদের জানিয়েছেন তিনি। বলেন, 'আমি নিরাপদে আছি জানতে পেরে তারা খুশি হয়েছে। আমি এতটা আশা করিনি।' নিকের মতো খিতও আশাবাদী। বলেন, 'বিদেশে বসে একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি যা করতে পারি তা হলো, পুরো বিশ্বের কাছে মিয়ানমারের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা। শেষ পর্যন্ত যা-ই করি না কেন, আমার দেশের জন্য সর্বোচ্চটুকু করব। আশা করি, আমার এ কাজ ক্ষমতা থেকে জান্তাকে সরাতে এতটুকু হলেও সহায়তা করবে।' আল-জাজিরার ইংরেজি প্রতিবেদন থেকে অনুবাদ করেছেন লিপি রানী সাহা
3
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৯,৩৯৫ জন, পাশের হার ৫৯.৭৭%। রবিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ২টায় ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরাতন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান। ডা. মাহমুদ হাসান জানান, এবারের ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৫৩,০৮২ জন। পরীক্ষায় পাশ করেছেন ৩৯৩৯৫ জন। পরীক্ষায় পাশের হার ৫৯.৭৭%। ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। উত্তীর্ণদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ২৫,৬৪৬ জন, শতকরা হিসেবে যা ৫২.৮৪%। অন্যদিকে, ছেলেদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩,৭৪৯ জন। এছাড়া, সরকারি ডেন্টাল কলেজে সুযোগ পাওয়া ছেলের সংখ্যা ২৫৭ জন (৪৭.১৬%) এবং মেয়ের সংখ্যা ২৮৮ জন (৫২.৮৪%)। নাসরিন সুলতানা ইভা নামে এক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৯৪.৫ নম্বর পেয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯১.৭৫ নম্বর পেয়েছেন এক ছেলে শিক্ষার্থী। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি ডেন্টাল কলেজে সুযোগপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর ২৮৫ এবং সর্বনিম্ন নম্বর ২৭৯.৫। উপজাতী কোটায় সর্বোচ্চ ২৮২ এবং সর্বনিম্ন নম্বর ২৬৪.৭৫। শুক্রবার (২২ এপ্রিল) ১২টি কেন্দ্রের ২৬টি ভেন্যুতে ৬৫,৯০৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে আসন সংখ্যা ১,৯৫০টি। সরকারি ডেন্টাল কলেজে আসন ৫৪৫টি আর বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা ১,৪০৫টি। সরকারি ডেন্টালে প্রতিটি আসনের বিপরীতে ১২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
6
'শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড' এর লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। করোনা সংকটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক যুবদের অনন্য মানবিক অবদানের স্বীকৃতি দিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে'শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড'(জাতীয় ও আন্তর্জাতিক) দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশ থেকে ১০০ জন যুব ও যুব সংগঠনকে পুরস্কৃত করা হবে। যার মধ্য থেকে সেরা ১০ জনকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া ছাড়াও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করা হবে। পহেলা নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর রেজিস্ট্রেশন চলবে।রেজিস্ট্রেশন লিঙ্ক: ://../-/
6
মানব মস্তিষ্কে এমন কিছু নির্দিষ্ট নিউরনের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা যা কেবল গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সময়ই উদ্দীপিত হয়। জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয় ও টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে 'কারেন্ট বায়োলজি' সাময়িকীতে।ওই গবেষণার বরাত দিয়ে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স ডেইলিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব মস্তিষ্কে এমন কিছু নিউরন আছে যা কেবল নির্দিষ্টভাবে পাটিগণিতের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কাজ করে। এমনকি হিসাব করার ক্ষেত্রে শব্দ বা প্রতীক যাই লেখা হোক নিউরনগুলো একইভাবে সাড়া দেয়।জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয় ও টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ পরিচালনায় বন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের মৃগীরোগবিদ্যা বিভাগের ৫ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ রোগীর ওপর ওই গবেষণা চালানো হয়।সাধারণত মৃগীরোগীর ক্ষেত্রে 'খিঁচুনির নির্দেশনা' সব সময় মস্তিষ্কের একই এলাকা থেকে সৃষ্টি হয়। ওই এলাকাটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে চিকিৎসকেরা রোগীদের মস্তিষ্কে বেশ কয়েকটি ইলেক্ট্রোড বসান। মস্তিষ্কের কার্যক্রম শনাক্ত করতে টেম্পোরাল লোবে ইলেকট্রোডগুলো বসানো হয়। এরপর তাঁদের সবাইকে বেশ কিছু গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে গবেষকেরা দেখতে পান, যোগের ক্ষেত্রে যেসব নিউরন ব্যবহৃত হয়, বিয়োগ করতে গেলে ব্যবহৃত হয় একেবারে আলাদা কিছু নিউরন।বন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মৃগীরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক দলের তত্ত্বাবধায়ক ফ্লোরিয়ান মরম্যান বলেন, 'আমরা দেখেছি যে বিয়োগের সময় যোগ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত নিউরনের চেয়ে আলাদা নিউরন ব্যবহৃত হয়েছে।'ওই গবেষক দলের আরেক সদস্য এসথার কুটার বলেন, 'বিষয়টি কেবল এমন নয় যে, একগুচ্ছ নিউরন কেবল গাণিতিক চিহ্ন যেমন যোগ (+) বা আরেকগুচ্ছ নিউরন কেবল বিয়োগ (-) চিহ্নের বিষয়ে উদ্দীপিত হয় বরং এই চিহ্নগুলো যখন শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয় তখনো নিউরনগুলো একইভাবে উদ্দীপিত হয়।'এই গবেষণা থেকে আরও দেখা যায়, নির্দিষ্ট ওই নিউরনগুলো কেবল গাণিতিক নির্দেশকে 'এনকোড' করে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে।গবেষক দলের তত্ত্বাবধায়ক টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্দ্রে নেইডার বলেন, 'বানরের ওপর চালানো পরীক্ষাগুলো থেকে জানি যে, নির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়মের জন্য তাদের মস্তিষ্কেও আলাদা আলাদা নিউরন রয়েছে। তবে মানুষের মস্তিষ্কও এমন কি না এ বিষয়ে খুব কমই তথ্য ছিল।'তিনি জানান, গবেষকেরা এই গবেষণায় মানব মস্তিষ্কের যেসব অংশ পর্যবেক্ষণ করেছেন তার মধ্যে একটি হলো প্যারাহিপোক্যাম্পাল করটেক্স। সেখানে গবেষকেরা এমন কিছু নিউরন খুঁজে পেয়েছেন যা যোগ বা বিয়োগের সময় বিশেষভাবে সক্রিয় হয়। যোগ বা বিয়োগ যাই হোক আলাদা কাজের সময় নিউরনগুলো পর্যায়ক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠে।গবেষকেরা মস্তিষ্কের এমন পরিবর্তনশীল ভূমিকাকে 'গতিশীল কোডিং' বলে আখ্যা দিয়েছেন। অধ্যাপক মরম্যান বলেন, 'এই গবেষণা মানব মস্তিষ্কের সাংকেতিক দক্ষতা বিশেষ করে গণনার বিষয়টি বোঝার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।'গবেষণায় অর্থায়ন করেছে জার্মান রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও ভক্সওয়াগেন ফাউন্ডেশন।
11
শিকারের আশায় বসে ছিল বিড়ালটি। হঠাৎ চোখে পড়ল ইঁদুর। বাগে আনতে সময়ও লাগল না বেশি। চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ থেকে বিড়ালের ইঁদুর শিকারের ছবি পাঠিয়েছেন সৌরভ দাশ।
5
সৌদি আরবের একটি খাবারের দোকানে সহকর্মী ইয়েমেনের নাগরিকের হাতে বাংলাদেশি এক যুবক খুন হয়েছেন। তার নাম তুহিন আহমেদ (২১)। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার এই ঘটনা ঘটে। পরে সৌদি পুলিশ ইয়েমেনের ওই যুবককে আটক করেছে। তুহিন নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রমজানপুর গ্রামের মৃত তারেক উদ্দিনের ছেলে। সৌদির ওই দোকানে কাজ করা অন্য কর্মীদের বরাতে তুহিনের স্বজনরা জানিয়েছেন, সততা ও কাজে আন্তরিকতার কারণে দোকান মালিকের আস্থাভাজন হয়ে উঠেন তুহিন। এই নিয়ে দোকানের অন্য কর্মীরা তুহিনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে চার কর্মচারী একসঙ্গে খেতে বসলে সহকর্মী ইয়েমেনের ওই যুবকের সঙ্গে তুহিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই যুবক তুহিনের নাকে ও বুকে ঘুষি মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তুহিনের পরিবারের বরাতে দিয়ে ইউপি সদস্য রাসেল আহমেদ জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর জীবিকার প্রয়োজনে তার মা সৌদি আরব যান। বছর দেড়েক আগে বড় ছেলে তুহিনকেও সৌদি আরব নিয়ে যান তার মা। এই ব্যাপারে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নোমান আহমেদ বলেন, তুহিনের মরদেহ দেশে আনা হবে কি না সেটা তার মা সিদ্ধান্ত নেবেন। দেশে আনতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
4
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্সেলো কুইরোগা। সেখানে করোনা পরীক্ষায় তিনি পজিটিভ হয়েছেন। ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ দিকে কুইরোগা জানান, তিনি নিউইয়র্কে ১৪ দিন নিভৃতবাসে থাকছেন। দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন না। এর আগে অন্য দেশ থেকে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সফর বাতিল করেছেন বলেও জানান তিনি। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কুইরোগা ব্রাজিলের চতুর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চলতি বছরের শুরুর দিকে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কুইরোগার করোনা আক্রান্তের বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে এও জানান, জাতিসংঘ সদর দফতরে 'কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং প্রটোকল' রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
4
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত কার্যালয় (ইউএনওডিসি) কর্তৃক প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ভিবিএসএস ফর বোর্ডিং টিম কোর্সের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলো। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি এ তথ্য জানান। লে. কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি বলেন, গত ২১ নভেম্বর হতে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কোর্সে প্রশিক্ষক হিসেবে রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ৩ জন প্রশিক্ষক দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৪ জন কর্মকর্তা ও ১২ জন নাবিকের সমন্বয়ে এই কোর্স সমাপনীর ব্যাবহারিক প্রশিক্ষণ পরিদর্শন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে সার্টিফিকেট প্রদান করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। তিনি আরও বলেন, ওই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড সদস্যরা উপকূলীয় অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা এবং মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান আগের তুলনায় আরও সুচারুরূপে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে মর্মে আশা করা যায়। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার আরিয়ান শ্রাবণের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৮ জুলাই) বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী এ রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শ্রাবণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তাকে কখন কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ। রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, গ্রেফতার শ্রাবণকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালত শ্রাবণের পাঁচ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।
6
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানা 'ছায়ানীড়' ভবনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানের পর সেখানে নানা রকম বোমা ও বিস্ফোরক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে শিশু নারী পুরুষসহ পাঁচ জন নিহত হন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা সমকালকে বলেন, 'এটি পুলিশের একটি সফল অভিযান। এ অভিযানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় তিনশ' সদস্য অংশ নিয়েছেন।' জঙ্গিরা রাতে নয়টি ও সকালে তিনটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে অভিযান শুরু করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের স্পেশাল উইপনস অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াট), বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল,ক্রাইম টেররিজম ইউনিট ও জেলা পুলিশের সদস্যরা। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে বের করে আনা হয় আটকেপড়া বাসিন্দাদের। এরপর বাসায় প্রবেশ করে সোয়াটের সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তবে ভবনের সিঁড়িতে জঙ্গি নারীর পড়ে থাকা মরদেহে সুইসাইডাল ভেস্ট (বেল্ট) ও গ্রেনেড থাকায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জঙ্গিরা আত্মহননের আগে ভবনের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী পাইপবোমা ও গ্রেনেড ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। এসব সংগ্রহ করে নিষ্ক্রিয় করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২টি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ প্রসঙ্গে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, 'অতীতে জঙ্গিরা এত শক্তিশালী বোমার ব্যবহার করেনি। ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের এই বোমার বিস্ফোরণ তারা যদি কোনো জনবহুল এলাকায় ঘটাত, তাহলে ৫০ গজের মধ্যে থাকা সবাই মারা যেত। এ সীমানার বাইরে থাকা বাকিরা গুরুতর আহত হতো।' তিনি আরও বলেন, 'এ বাড়িতে অপারেশনের আগে আমাদের কাছে তথ্য ছিল- এখানে বোমা বানাতে দক্ষ দু'জন আছে। সে কারণে পুলিশের সোয়াট টিমের প্রবেশে সময় লেগেছে।' পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ভেতরে তিন চার রকমের শক্তিশালী বোমা পাওয়া গেছে। ভবনের প্রবেশপথে প্রধান ফটকের কাছে একটি বড় বোমা, বাঁ পাশের প্রথম কক্ষে তোশকের ওপর একটি বড় বোমা, ঘরের দরজার ডান দিকে একটি পাইপ বোমা, ১২ সেট জেল এক্সপ্লোসিভ ও একটি ছোট বোমা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একটি ব্যাগে পাইপের টুকরো, সুইচ, ব্লাস্টিংস ক্যাপ ও একটি কার্টনের ভেতরে লিকুইড এক্সপ্লোসিভ ছিল। বিস্ফোরক বোঝাই দুটি সুইসাইডাল ভেস্টসহ চারটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেন কর্মকর্তারা। ওই বাসায় যে সরঞ্জাম পাওয়া গেছে তা দিয়ে অন্তত ৪০টি বোমা বানানো সম্ভব বলে জানান তারা।
6
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। ইরানের ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় বুধবার একথা বলেছেন আমেরিকার প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ই. মাইকেল জোন্স। তিনি বলেন, ইসরায়েলি লবি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে দিতে চায় কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ তা চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি লবি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ বাধাতে চাইছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এসবই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ; তারা ইরানের সঙ্গে সরসারি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খােমেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আছে তবে যুদ্ধ হবে না। যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা হবে না; তারা পরাজিত হবে। বিডি প্রতিদিন/১৬ মে ২০১৯/আরাফাত
3
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিনজনের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাং হেলাল উদ্দিনের আদালত রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার উখিয়া থানা পুলিশ আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড মঞ্জুর করা গ্রেফতার তিনজন রোহিঙ্গা হলেন কুতুপালং ক্যাম্প-১ এর ডি-৮ ব্লকের আব্দুল মাবুদের ছেলে মোহাম্মদ রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন, একই ক্যাম্পের বি-ব্লকের ফজল হকের ছেলে মোহাম্মদ আনাছ ও নুর ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদ। এর আগে মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইলিয়াস নামে এক রোহিঙ্গা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ২ জন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা স্বীকার করেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ১৯ জন রোহিঙ্গা অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে গ্রেফতার আজিজুল হক ও মো: ইলিয়াসসহ ৫ জন আগ্নেয়াস্ত্রধারী ছিল। গ্রেফতার আজিজুল হক ও মো: ইলিয়াসের দেয়া তথ্যমতে গ্রেফতার করা হয় রিমান্ড আবেদন করা গ্রেফতার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রশিদ, মোহাম্মদ আনাচ ও নুর মোহাম্মদকে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট-ওয়েস্ট ডি-ব্লকে নিজ অফিসে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
6
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের প্রতি 'পূর্ণ সমর্থন' জানিয়ে সব শিক্ষার্থীকে ঘরে ফেরার আহ্বান জানালেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আজ রোববার এক বিবৃতিতে এরশাদ এ আহ্বান জানান। এরশাদ তাঁর বিবৃতিতে বলেন, 'নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি আমি পূর্ণ সমর্থন জানাই। এই দাবি এ দেশের মানুষের প্রাণের দাবি। এই দাবি আদায়ে আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা রাজপথে নেমে যে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে যেভাবে দাবি আদায় করে নিয়েছে, তার জন্য তাদের অভিনন্দন।' সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে কালবিলম্ব না করে যে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।' এরশাদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'এখন শিক্ষার্থীদের আমি অবিলম্বে রাজপথ ছেড়ে ঘরে এবং ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। কারণ, এরপরও তারা রাজপথে অবস্থান করলে কারও জন্য মঙ্গলকর কিছু হবে না। একই সঙ্গে এই ছাত্র আন্দোলনকে পুঁজি করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করতে না পারে, তার জন্য সব মহলকে আমি সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।' জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, 'শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে যা করেছে, তা যথেষ্ট। আমার বিশ্বাস, এই নতুন প্রজন্ম আগামী দিনে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে। এখন দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসের পর আর তাদের রাস্তায় থাকা এবং যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজ করা ঠিক হবে না। ছাত্রছাত্রীরা অনেক শিক্ষা দিয়েছে। এখন যার যে কাজ, তাকেই তা করতে দিতে হবে।' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাউর হওয়া গুজব সম্পর্কে এরশাদ শিক্ষার্থীদের বলেন, 'কোনোভাবে এই আন্দোলন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হলে মূল আন্দোলনের মাহাত্ম্য বিলীন হবে। ইতিমধ্যে আমরা একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতার উসকানিমূলক বক্তব্য শুনেছি, অনেক গুজব শুনেছি। সুতরাং শিক্ষার্থীদের সেসব উসকানি বা গুজবে কান দিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া ঠিক হবে না। যেকোনো আন্দোলন যখন তার আওতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা হঠকারিতায় রূপ নেয়। সেটা মূল আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।' অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, 'আমাদের সন্তানরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে যা করতে পেরেছে-তা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং এই মাহাত্ম্য বজায় থাকতেই তারা ক্লাসে ফিরে যাবে। আমি অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানাই-আপনারা আপনাদের সন্তানকে ঘরে ফিরিয়ে নিন এবং তাদের ক্লাসে পাঠিয়ে দিন। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানাই-আপনারা আপনাদের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনুন। এই ছাত্র আন্দোলনকে অজুহাত করে-যে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে-তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্যও আমি আহ্বান জানাচ্ছি।'
9
শোনা যায় দুই জন মেয়ে নাকি কখনই ভাল বন্ধু হহতে পারে না। আর তারা যদি হন সুপার মডেল কিংবা অভিনেত্রী তাহলে তো তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব কল্পনাও করা যায় না। আপনি যদি এরকম চিন্তা করে থেকে থাকেন তাহলে আপনি ভুল করছেন। সত্যটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভীণ্ণ। অন্তত বলিউড পাড়ার নায়িকাদের সাথে ব্যাপারটা একদমই ব্যাতিক্রম। রণবীর কাপুরের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে ক্যাটরিনা কাইফের। এ খবর এখন পুরানো হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন খবর হল চোখে নাকি অন্ধকার দেখছেন ক্যাটরিনা কাইফ। রণবীর কাপুরের জন্য কেঁদে ভাসাচ্ছেন না তিনি। বরং আরেক সুপার স্টার প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জন্য নাকি মন কাঁদছে তাঁর। শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দুই নায়িকা অনেক ভাল বন্ধুও বটে। সম্প্রতি আলিয়া ভাট ও পরিণীতি চোপড়ার সঙ্গে মার্কিন অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন ক্যাটরিনা। জানা গেছে আমেরিকা থেকে ফিরে এসেও তাদের এই বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। কয়েক দিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিয়াঙ্কাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন ক্যাটরিনা। উত্তরে ক্যাটরিনার প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়েছেন এই আবেদনময়ী নায়িকা বিডি-প্রতিদিন/২ অক্টোবর, ২০১৬/তাফসীর
2
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১২ দিন ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে এলেন জাপানি ধনকুবের ইউসাকু মায়েজাওয়া। সোমবার কাজাখস্তানের জেজকাজগান শহরে তিনি অবতরণ করেন। তিনি ছাড়াও তার ভ্রমণসঙ্গী ইয়োজো হিরানো ও রাশিয়ার মহাকাশচারী আলেক্সান্দার মিসুরকিন পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। ২০২৩ সালে ইলোন মাস্কের স্পেস এক্সের বিশেষ ফ্লাইটে চাঁদের চারপাশে পরিভ্রমণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহাকাশে পরীক্ষামূলক সফর হিসেবে তিনি এই ভ্রমণে গিয়েছিলেন। খবর রয়টার্সের। এর আগে চলতি মাসের ৮ ডিসেম্বর কাজাখস্তানের বায়কোনুর রকেট বেজ থেকে মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে ৪৬ বছর বয়সী এই ফ্যাশন ব্যবসায়ী ও শিল্পসংগ্রাহ মহাকাশযানে চড়েন। মায়েজাওয়া রাশিয়ার রোজকসমস স্পেস এজেন্সির সুয়ুজ মহাকাশযানে চড়ে এই মহাকাশযাত্রায় যান। এর মধ্য দিয়ে গত এক দশকে প্রথম কোনো ব্যক্তি হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ভ্রমণ করলেন। মহাকাশ স্টেশনে গিয়ে তিনি তার সোস্যাল মিডিয়ার ফলোয়ারদের বিভিন্ন ছবি দিয়ে বিনোদিত করেছেন। যেমন তিনি দেখিয়েছেন জিরো গ্রেভিটিতে কিভাবে চা বানাতে হয়। বিভিন্ন ভিডিও পাঠিয়েছেন। ২০২৩ সালে মায়েজাওয়ার প্রথম প্রাইভেট যাত্রী হিসেবে স্পেসএক্সের ফ্লাইটে চাঁদে যাওয়ার কথা রয়েছে। আর এর মধ্যে দিয়ে জেফ বেজোসের 'ব্লু অরিজিন'-এর মতো মহাকাশ কোম্পানিগুলো ধনী ভ্রমণকারীদের স্পেস স্টেশনে পাঠানোর ব্যবসার নতুন যুগের সৃষ্টি হবে।
3
নিজ জন্মস্থান বগুড়ার ডাক্তারদের ব্যবহারের জন্য ২০০ পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের উইকেট কীপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সামির হোসেন মিশু ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকফ্রেনজিকে জানান, মুশফিকের দেয়া পিপিই ও অন্যান্য সামগ্রী তারা হাতে পেয়েছেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ রুখতে জীবন বাজি রেখে লড়ছে সবাই। ব্যাতিক্রম নয় বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের ডাক্তাররা। ইতোমধ্যেই কয়েকজন ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছেন এ মরণভাইরাসে। একজন মারাও গেছেন। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দরকার ডাক্তারদের। আর প্রয়োজনীয় মুহূর্তে তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন ক্রিকেটার মুশফিকুর। বগুড়ার ডাক্তারদের ২০০টি পিপিই, ২০০টি হ্যান্ড গ্লাভস ও ২০০টি মাস্ক দিয়েছেন। যারা বগুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছেন। এ প্রসঙ্গে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বলেন, 'আমি যাদেরকে সম্ভব হয়েছে ইতোমধ্যেই দিয়ে দিয়েছি। তবে এখনো সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারিনি। যেহেতু পিপিইগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠাতে হবে। আশা করছি শিগগিরই সেগুলো তাদের কাছে পৌঁছে যাবে।' এদিকে, মুশফিক নিজেও জনগণকে সতর্ক করছেন। বাংলা নববর্ষে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ভিডিও বার্তায় বলেন, আসসালামু আলাইকুম, আশা করছি আপনারা সবাই ভালো থাকার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রথমেই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি সবাইকে এবং আশা করছি আপনারা সবাই যারা এই নববর্ষ পালন করতে ইচ্ছুক তারা বাসায় বসেই পালন করছেন। আপনারা জানেন, আমাদের দেশ তথা পুরো বিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আমি সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব এবং আমাদের ডাক্তার নার্স, ক্লিনার্স, কর্মচারীসহ যারা প্রত্যক্ষভাবে প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন যাতে আমরা আপনারা নিরাপদে থাকতে পারি। তাদেরকে মনের ভিতর থেকে আমি সালাম জানাচ্ছি এবং অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি নিশ্চিত মহান আল্লাহ তাআলা আপনাদের ত্যাগ দেখছেন এবং এর পুরস্কার আপনারা অবশ্যই পাবেন। আমি ইনশাল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে সবসময় চেষ্টা করছি সবাইকে সাহায্য করার এবং আমি আহ্বান করছি আজকের এই দিনে যে যেভাবে পারুন সবাই সহযোগিতা করুন। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র আপনি এবং আপনার ফ্যামিলি ভালো থাকলে চলবে না। আপনার আশেপাশের মানুষ তথা পুরো দেশের মানুষ যেন সুস্থ থাকতে পারে এবং তাদের যেন খাবারের অভাবে দিন না পার করতে হয় সেটা দেখার দায়িত্ব আমার আপনার সবার। আসুন আমরা সবাই ঘরে থাকি। কিন্তু যেভাবে পারি আমরা সাহায্য করার চেষ্টা করি। একমাত্র আমাদের সকলের প্রচেষ্টাই পারে এই কঠিন মুহূর্তটাকে তাড়াতাড়ি প্রতিরোধ করতে। এমনকি কারো যদি সামর্থ্য না থাকে প্লিজ আপনারা নামাজ কালাম পড়ে, রোজা রেখে আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেন যেন এই কঠিন সময়টা আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাড়াতাড়ি পার করতে সাহায্য করেন। স্বাস্থ্যসেবা-পরিচ্ছনতাকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীরা প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে দিন-রাত এক হয়ে লড়ছেন। তাদের এই ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।
12
ভারতে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন মানুষ হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন।২ মিনিট ৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ভারতের ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারকারীদের অনেকেই পোস্ট করে দাবি করছেন, গঙ্গা নদীর পাড়ে আজান দিয়ে নির্জন ওই জায়গাটি দখল করছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা। গঙ্গার তীরে একটি অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে পরে সেটিকে স্থায়ী আবাসে রূপান্তরিত করাই তাদের লক্ষ্য। অবশ্য হিন্দি ভাষায় লেখা পোস্টগুলোর কোনোটিতেই স্পষ্ট করা হয়নি, ভিডিওতে দেখা যাওয়া এলাকাটি গঙ্গা পাড়ের কোন এলাকায় অবস্থিত।কেউ কেউ লিখেছেন, পৃথিবীর পরবর্তী যুদ্ধ হবে পানির জন্য, তাই মুসলিমরা পানির তীরেই দখলে নেমেছেন। গঙ্গা নদীর তীর দখলের এই পরিকল্পনার বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো ধারণাই নেই।ফেসবুকের পোস্টগুলো দেখুন এখানে।টুইটারের পোস্টগুলো দেখুন এখানে। ফ্যাক্টচেকভিডিওটি থেকে আলাদা কয়েকটি ফ্রেমের ক্লিপ নিয়ে গুগল ক্রমের ইনভিড এক্সটেনশন ব্যবহার করে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, ভিডিওটি ডেইলি আজকের নিউজ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২০ সালের ২৫ মে আপলোড করা হয়। ওই ভিডিওর শিরোনামে লেখা হয়, 'হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের জামাত আদায়। এক অন্যরকম ঈদ পালন করলেন আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রার মানুষ।'ভিডিওর ক্যাপশনের সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধান করলে সেসময় প্রকাশিত বেশ কিছু সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২০ সালের ২৫ মে প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে নদীর বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় খুলনার কয়রা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। আম্পানের ফলে ওই উপজেলার ৮০ ভাগ এলাকাই পানিতে তলিয়ে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে ১২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ২১টি স্থানে ৪০ কিলোমিটারের বেশি অংশ ভেঙে যায়। ঈদের দিন সকালে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। কাজের ফাঁকে বেলা ১১টার দিকে ২ নম্বর কয়রা গ্রামের লোকজন পানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ আদায় করেন।যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে একই দিন এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আপলোড করা হয়। ভারতে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি যে কয়রার ওই ঘটনারই, ওই প্রতিবেদন দেখে সে ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হওয়া যায়।সিদ্ধান্তভারতে ভাইরাল হওয়া উসকানিমূলক ভিডিওটি পুরোনো। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ও ভারতে ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানলে খুলনার কয়রা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা বাঁধ নির্মাণে লেগে পড়েন। ওই কাজের ফাঁকেই ঈদের নামাজ আদায় করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
6
সেনসাস অর্থাৎ লোক গণনার কার্যক্রম ৩১ অক্টোবর শেষ হচ্ছে। বছরব্যাপি এই কার্যক্রমে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকল্পে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। করোনার কারণে কিছুটা ব্যাহত হলেও অনলাইনে সব সময় তা অব্যাহত রয়েছে। শেষ ধাক্কা হিসেবে গতকাল বিকেলে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় সেনসাসের লোকজনকে দেখা যায়। মূল আয়োজনে ছিলেন কমিউনিটি লিডার ফাহাদ সোলায়মান, মাজেদা এ উদ্দিন, আহনাফ আলম প্রমুখ। ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রেশনের জন্যে সিটিজেনদের উদ্বুদ্ধ করার এ কার্যক্রমের মধ্যমণি ছিলেন স্থানীয় স্টেট এ্যাসেম্বলীওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ। তিনি বিভিন্ন ভাষার মানুষের সাথে আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। সে সময় সেনসাসের একটি প্রচারপত্রের প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের সংবাদদাতা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কমিউনিটির প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিমধ্যেই খ্যাতি অর্জনকারি ক্যাটালিনা ক্রুজ বলেন, '১৩ ভাষায় সেনসাসের প্রচারপত্র বিলি হয়েছে। এরমধ্যে বাংলা নেই কিংবা সেনসাসের ব্যাপারে দেয়া হটলাইনেও বাংলায় কথা বলার সুযোগ নেই। এর কারণ হচ্ছে অধিকসংখ্যক বাংলাদেশী-অভিবাসী ১০ বছর আগের সেনসাস কিংবা বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দেননি। তাই, সামনের নির্বাচনে যেন তারা অনেক বেশী সংখ্যায় ভোট দেন অথবা চলমান সেনসাসে অংশ নিতে যেন দ্বিধা না করেন। তাহলেই ১০ বছর পর যে সেনসাস হবে সেখানে বাংলা ভাষাকেও যুক্ত করতে বাধ্য হবে ফেডারেল প্রশাসন।' উল্লেখ্য, এই রেজিস্ট্রেশন কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সে সময় সেনসাসে অংশগ্রহণেও আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেকের মধ্যে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, প্রতি ১০ বছর অন্তর সেনসাস অনুষ্ঠিত হয় ফেডারেল তহবিল বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারণের জন্যে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকাও পুনর্গঠিত হয়ে থাকে। এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা এবং উন্নয়নের বাজেটও নির্দ্ধারণ করা হয় লোকসংখ্যার ভিত্তিতে। আরো উল্লেখ্য, ২৫ অক্টোবর থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আগাম ব্যালট নিয়ে ভোট দেয়া যাবে। তাই ৩ নভেম্বরের ভীড় এড়াতে অথবা করোনা সংক্রমণের ভীতি থেকে দূরে থাকার সুবিধার্থে আগেই সকলকে ভোট প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন নিউইয়র্ক বোর্ড অব ইলেকশনের কর্মকর্তা মাজেদা এ উদ্দিন। এ সময় টেবিল-চেয়ার বসিয়ে ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রেশনের ফরম পূরণে প্রবাসীদের সহযোগিতা করতে দেখা যায় তরুণ ডেমক্র্যাট আহনাফ আলম, মিসেস শাহানাকে। এর একদিন পর সোমবার বিকেলে ব্রুকলীনে আরেকটি ভোটার-রেজিস্ট্রেশনের ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় মাজেদা এ উদ্দিনের সার্বিক সমন্বয়ে। সেখানেও বিপুলসংখ্যক প্রবাসী নিজেদেরকে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন ছিল ৯ অক্টোবর। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
4
বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে হরিশংকরপুর ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুুজ্জামান ফরিদকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে একটি ধর্ষণ মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে হাজির হলে বিচারিক আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযোগে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে শহরতলীর কোরাপাড়া বটতলার এক ব্যক্তির সাথে ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর হিসেবে বসবাস করলেও পরে বিয়ে অস্বীকার করে লোকটি। বিষয়টি সমাধানের জন্য এক পর্যায়ে পূর্ব পরিচিত চেয়ারম্যান ফরিদের সাথে আলাপ করেন নারী। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে চেয়ারম্যান গত ১৫ এপ্রিল নরহরিদ্রা গ্রামে তার বাড়িতে ডেকে নেন। ওই নারীর ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন বিকালে তিনি ফরিদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে দুইতলার একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং নেশা জাতীয় কিছু সেবন করিয়ে জোরপূর্বক ফরিদ ও তার খালাতো ভাই নজরুল ইসলাম মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরন জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেই মামলা গ্রহণ করেছেন। কেন আমি ফরিদের বিরুদ্ধে এসব করতে যাব। কেন আমি তার বিরুদ্ধে এসব করতে যাব। বিডি প্রতিদিন/এএ
6
দোল পূর্ণিমা মেলা ঘিরে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথধাম মন্দিরে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল নামে। হেঁটে সমতল ভূমি থেকে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ বেয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরের চন্দ্রনাথধাম মন্দিরে গত শুক্রবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত দলবেঁধে উঠতে দেখা গেছে সনাতন ধর্মানুসারীদের।পুণ্যার্থীরা ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা হেঁটে ওপরে ওঠার পর পুণ্য লাভের আশায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথধাম মন্দিরে থাকা শিবলিঙ্গে ডাবের পানি, দুধ ঢেলে প্রার্থনা করেছেন। পুজো শেষে তাঁরা একে অপরের কপাল ও মুখে আবিরের রং মাখিয়ে দিয়ে হোলি খেলায় মেতে ওঠেন।মেলার আয়োজকরা জানান, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে দিনব্যাপী আয়োজিত দোল পূর্ণিমা মেলা ও হোলি উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। এবারের দোল পূর্ণিমা মেলায় ধারণার চেয়ে বেশি পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে।সরেজমিন দেখা গেছে, তিন দিনের বন্ধে এবারের দোল পূর্ণিমা মেলায় অনেক পূর্ণ্যার্থী এসেছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। আবার অনেকে এসেছেন দেশের বাইরে থেকেও। আগত পুণ্যার্থীদের মধ্যে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা লাঠিতে ভর দিয়ে; আর মা-বাবারা তাঁদের শিশুদের কোলে, কাঁধে নিয়ে সমানতালে উঠছেন চন্দ্রনাথধামে। চন্দ্রনাথধাম দর্শনের পাশাপাশি পুণ্যার্থীরা মেলা ঘিরে এক কিলোমিটারজুড়ে নানা ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসা দোকান থেকে করছেন কেনাকাটা।মেলায় আগতদের নিয়ে মেলা কমিটির উদ্যোগে প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি মন্দিরে মন্দিরে পূজা, হোমযজ্ঞ, ধর্মীয় গান প্রতিযোগিতা, গীতা পাঠসহ বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে দেখা গেছে।সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক জানান, মেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত ৭০ জন সদস্য দিনব্যাপী দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে দোল পূর্ণিমা মেলা।
6
সাভারের আশুলিয়ায় স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর সোনা মিয়া মার্কেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রোববার গভীর রাতে একই এলাকার নাসির নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার স্বামীকে একটি কক্ষে আটক রাখা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নরসিংহপুর এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম (২৩), একই এলাকার আজাদ হোসেন (২৫), রানা সরকার (২৯), কোণাপাড়া এলাকার রবিউল শেখ (২১),রুবেল (২৩) ও ঘোষবাগ এলাকার সাগর হোসেন (২৫)। তবে রজব নামে জড়িত একজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আশুলিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই ) ফজিকুল ইসলাম বলেন, রোববার সন্ধ্যায় নরসিংহপুর সোনা মিয়া মার্কেট এলাকায় বন্ধুর বাড়িতে গার্মেন্টকর্মী স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যায় তার স্বামী। এ সময় ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য তাহের মৃধার ম্যানেজার রজন, তার সঙ্গী রবিউলসহ সাতজন ওই দম্পতিকে আটকে তারা স্বামী-স্ত্রী কি না, সে ব্যাপারে জানতে চায়।' ওসি আরও বলেন,'পরে সোনা মিয়া মার্কেট এলাকার নাসিরের বাড়িতে স্বামী ও স্ত্রীকে পৃথক কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় রাজনসহ তার সঙ্গীরা গভীর রাত পর্যন্ত গার্মেন্টকর্মী ওই নারীকে একটি কক্ষে আটকে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের নিকট মুঠোফোনে ওই দম্পতির মুক্তিপণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবি করে ধর্ষণকারীরা।' এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করা হলে মুক্তিপণের টাকা প্রদানের শর্তে ফাঁদ পাতে পুলিশ। পরে রোববার গভীর রাতে সোনা মিয়া মার্কেট এলাকায় রবিউল ও রুবেল মুক্তিপণের টাকা নিতে আসলে তাদের হাতেনাতে আটক করে হয়। পরে আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে সোনা মিয়া মার্কেট সংলগ্ন ইয়াপুর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাহের মৃধার অফিস থেকে এ ঘটনায় জড়িত আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
6
আর কোনো রক্তপাত ছাড়াই ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সতর্ক করে তিনি বলেছেন, এই সংকটের কারণে বড় বিপদের মুখে রয়েছে বিশ্ব। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মহাসচিব এ কথা বলেন। বিবিসির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউক্রেন সংকট নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেন গুতেরেস। সেখানে তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে যে সংঘাতের মুখোমুখি হইনি, এমনই এক সংঘাত এড়াতে এখনই সংযম, ন্যায়সংগত আচরণ এবং উত্তেজনা কমানো প্রয়োজন। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ইউক্রেনে সংঘাত বাড়লে বিশ্বে এমন সংকট দেখা দেবে, যা বহু বছর দেখা যায়নি। তিনি বলেন, 'এখন সময় এসেছে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটার এবং সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফিরে আসার।' জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, আর কোনো রক্তপাত ছাড়াই এই সংকট সমাধানে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তিনি।
3
দেশে এখন অদৃশ্য ও দৃশ্যমান দুইটি শত্রু বিরাজমান উল্লেখ করেআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকওবায়দুল কাদের বলেন, অদৃশ্য শত্রু হচ্ছে করোনা আর দৃশ্যমান শত্রু বিএনপি। তিনি বলেন,বিএনপির নেতিবাচক ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি অদৃশ্য শত্রু করোনার চেয়েও ভয়ংকর। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। কাদের বলেন, গণতন্ত্রের বুলি মুখে নিয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির লালন-পালনকারী দল বিএনপি। বিএনপিকে মুখোশের আড়ালে বহুরূপী দানব বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষ থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে, তাই বলে কেউ কাউকে শত্রু ভাবা ঠিক নয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধীদল উন্নয়নের সহযাত্রী, কিন্তু বিএনপি নিজেরা তাদের কর্কট রূপ প্রমাণ করেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগকে বিএনপি শত্রু মনে করে বলেই ৭৫'এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার নীলনকশায় জড়িত এবং সুবিধাভোগী তারা। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে শত্রু মনে করে বলেই ২১ আগস্ট প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল বিএনপি। বিএনপি নিরপরাধ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারে, সম্পদ নষ্ট করে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে জনগণের সম্পদ লুন্ঠন করে বিএনপি। বিএনপি জনআতংকে ভুগছে তাই তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, তারা ক্ষমতার হ্যালুসিনেশনে ভুগছে। তাই দেশের উন্নয়ন এবং উত্তরণ তাদের গায়ের জ্বালা বাড়ায়। ইতিহাস বলে বিএনপি যাদের বন্ধু তাদের শত্রুর দরকার নেই। এদেশের সমৃদ্ধি নয়, ধ্বংসই বিএনপির মনোবাসনা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যাদের ক্ষমতা লিপ্সার কাছে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ভূলুণ্ঠিত হয়, যারা জনগণের কাছে যাওয়ার নৈতিক মনোবল হারিয়ে বিদেশি শক্তির দ্বারে ধরণা দেয়, তারা আওয়ামী লীগের ক্ষতি সাধনের জন্য দেশ ও জাতির যেকোন ক্ষতি করতেও প্রস্তুত। একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দল হিসেবে ইতোমধ্যে ইতিহাসের কাঠগড়ায় বিএনপির বিচার শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের মনে করেন, রাজপথ আর ভোটার বাক্স তার প্রমাণ। মিথ্যাচার আর প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে বিএনপির জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে ঠেকেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বর্ষণ নয়, তর্জন-গর্জনেই ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের অর্জন সীমাবদ্ধ। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
9
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন আশা প্রকাশ করেছেন, তার দল ৩০০ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেতে যাচ্ছে। রিপাবলিকান অঞ্চল অ্যারিজোনা ও জর্জিয়াতে দুই দশকেরও বেশি সময় পর ডেমোক্রেটরা ঐতিহাসিকভাবে জিতবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। খবর বিবিসির। করোনাভাইরাস মহামারি, অর্থনৈতিক মন্দা ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বলেন, 'এরকম কঠিন লড়াইয়ের নির্বাচনের পর উত্তেজনা তীব্র থাকে। কিন্তু আমাদের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে। দলীয় সমস্যা নিয়ে যুদ্ধ করার সময় আমাদের নেই।' করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বাইডেন বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমেরিকানদের 'ক্ষোভ ও চক্রান্ত ত্যাগ' করার আহ্বান জানিয়ে জো বাইডেন। পেনসিলভানিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ভোটের ব্যবধান বাড়তে থাকায় ডেলাওয়ারে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, 'আমরা ৭ কোটি ৪০ লাখের বেশি ভোট পেয়েছি যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আর কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পাননি।' চূড়ান্তভাবে বিজয়ের ঘোষণা না দিলেও তার দল 'পুরো জাতির সমর্থনে পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা' অর্জন করতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাইডেন। শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময়) ইলেক্টোরাল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। এখন পর্যন্ত দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও গার্ডিয়ানের মতে, বাইডেন পেয়েছেন ২৬৪ ইলেক্টোরাল ভোট আর রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪ ইলেক্টোরাল ভোট। এছাড়া ভোট গণনার শেষ দিকে থাকা জর্জিয়া, নেভাদা, অ্যারিজোনা,পেনসিলভানিয়ায়ও এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। এই চার অঙ্গরাজ্যের সবকটিতে জিতলে তার ইলেক্টোরাল ভোট হবে ৩১৭।
3
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টি-২০ জয়ই প্রধান টার্গেট বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আফগানদের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় প্রথম টি-২০ সিরিজটি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি সাকিব। এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে আজ ভারতের দেরাদুনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ দলপতি। সিরিজ নিয়ে সাকিব বলেন, 'আমাদের প্রধান টার্গেট সিরিজ জয়। আমরা সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।' টি-২০ ফরম্যাটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সেটি ছিলো ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। তাই এবারই প্রথমবারের মতে টি-২০ সিরিজে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। আসন্ন সিরিজের জন্য ইতোমধ্যে ভারতের দেরাদুনে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। তবে সাকিবকে ছাড়া। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টি-২০ ক্রিকেটের এগারতম আসর করে ক'দিন আগে দেশে ফিরেন সাকিব। তাই দলের সাথে দেরাদুনে যেতে পারেননি তিনি। আজই দেরাদুনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন সাকিব। যাবার আগে আসন্ন সিরিজ নিয়ে সাকিব বলেন, 'আমরা চেষ্টা করবো ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার। প্রথম ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা ভালো শুরু করতে পারি তবে পরের দু'ম্যাচ আমাদের জন্য খুব সহজ হয়ে যাবে।' টি-২০ র্যাংকিং-এ অষ্টম স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দু'ধাপ পিছিয়ে দশম স্থানে বাংলাদেশ। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে টি-২০ ফরম্যাটে ভালো ক্রিকেট খেলছে আফগানরা। তারপরও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি সাকিব, 'আমরা ভালো খেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো এবং সিরিজ জয়ের জন্যই মাঠে নামবো।' বাম পায়ের আঙ্গুলে চোট পেয়ে আসন্ন টি-২০ সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। সিরিজ শুরুর আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেল টাইগাররা। এমনটা মানছেন সাকিব নিজেও। তিনি বলেন, 'স্বাভাবিকভাবেই একটু সমস্যা হবে। আমাদের দলের সেরা টি-টোয়েন্টি বোলার সে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের জন্য কঠিন। এটা কিন্তু আরেকটা সুযোগ অন্য বোলারদের, অন্য আরেকজন খেলোয়াড়ের জন্য। যার জন্য সুযোগটি হবে সে যেন ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে।' মোস্তাফিজুরের পরিবর্তে টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশ দলে অন্তুর্ভুক্ত হয়েছেন পেসার আবুল হাসান রাজু। আগে থেকে স্ট্যান্ডবাই তালিকায় নাম ছিলো তার। রাজুর সাথে মূল দলে পেসার হিসেবে আরো আছেন রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি ও আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি । ভারতের দেরাদুনে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৩ জুন থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ। একই ভেন্যুতে পরের দু'টি টি-২০ হবে যথাক্রমে ৫ ও ৭ জুন।আগামী ১৪ জুন ব্যাঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের অভিষেকের টেস্টের আগে ভালোভাবে প্রস্তুত হবার সুযোগ পেল আফগানিস্তান।
12
ঢাকা টেস্টে বল হাতে আজ শুরুটা ভালো করতে পারেনি টাইগার বোলাররা। আর সেই সুযোগে বেশ দাপটেই খেলেছে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। এমনকি মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত ব্র্যাথওয়েট ও মোসলে মিলে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন। বিরতি থেকে ফিরে তারা দুজন ভালো শুরুর আভাস দিচ্ছিলেন। তবে তার আগেই উইন্ডিজদের রানের লাগাম টেনে ধরেন টাইগার পেসার আবু জায়েদ রাহী। তিনি মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে এসে খুব বেশি সময় ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের। আবু জায়েদ রাহী ৩৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শেন মোসলেকে ৭ রানে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান। এরপর বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরো চাপে ফেলে দেন সৌম্য সরকার। তিনি ৪১তম ওভারের প্রথম বলে ক্যারিবীয় অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েটকে আউট করেন। তিনি সাজঘরে ফেরার আগে ৪৭ রান করেন। এর আগে দিনের শুরুতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট এবং ক্যাম্পবেল দুর্দান্ত জুটি দাঁড় করায়। উদ্বোধনী জুটিতেই এই দুই ব্যাটসম্যান দলীয় অর্ধশতক এনে দেন। জুটি যখন আরও বড় হচ্ছিলো ঠিক তখনই প্রথম আঘাত হানেন টাইগার বোলার তাইজুল ইসলাম। ইনিংসের ২০তম ওভারের ৪র্থ বলে এলবির ফাদে ফেলে ক্যাম্পবেলকে (৩৬) সাজঘরে পাঠান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৯ রান। উইকেটে আছেন, বোনার ১১ ও মায়ার্স ৪ রান।
12
আমাদের ভয়াবহ বাস্তবতা হচ্ছে আমরা কোনো বছর এসব বন্যা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। যাঁরা নদী কিংবা বন্যা ব্যবস্থাপনাবিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তাঁদের কাউকেই বন্যায় বাঁধের রাস্তায় ঠাঁই নিতে হয় না। তাঁদের নয় মাস ধরে গুছিয়ে তোলা সংসার প্রতিবছর বন্যার তিন মাসে ধ্বংস হয় না। তাঁরা বন্যার্তদের করুণ জীবন উপলব্ধি করে বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেন না। নীতিনির্ধারকেরা থাকেন বাস্তবতা থেকে যোজন যোজন দূরে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবছর দেশের সব জেলায় দুর্যোগকালীন কিছু সহায়তা দিয়ে থাকে। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। যে জেলায় বন্যা, খরা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা কোনো দুর্যোগ হয়নি, সে জেলার জন্যও যত মেট্রিক টন চাল, আবার যে জেলার চার ভাগের তিন ভাগ পানির নিচে, তিন দফায় অন্তত মাসখানেক ডুবে থাকবে, সে জেলার জন্যও সেই বরাদ্দ। বন্যার্ত জেলাগুলোর জন্য কিছু বাড়তি ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। করোনায় যারা সবচেয়ে দুস্থ ছিল বন্যার আঘাতও তাদের জন্যই সবচেয়ে বেশি। যেহেতু বেসরকারি সহায়তা এ বছর নেই বললেই চলে, তাই সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে অনেক গুণ। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর প্রতি সরকারি-বেসরকারি-ব্যক্তিগত অবহেলা চূড়ান্ত পর্যায়ের। প্রতিবছর লাখ লাখ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। কত সম্পদ যে নষ্ট হয় তার ইয়াত্তা নেই। নদীর তলদেশ ভরাট হয়, যা পরের বছর বন্যাকে আরও ত্বরান্বিত করে। অথচ এসব থেকে উত্তরণের চেষ্টা অত্যন্ত ক্ষীণ। নদীতীরবর্তী বন্যাপ্রবণ এলাকায় একটি কথা প্রচলিত আছে 'বছরে নয় মাসের স্বপ্ন-সঞ্চয় তিন মাসে বন্যায় খায়'। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলাসহ কয়েকটি নদ-নদীর পানি রংপুর অঞ্চলের বন্যার প্রধান কারণ। নদীগুলোর দুপাড়ে প্রতিবছর একাধিকবার বন্যা হয়। উজান থেকে নদীতে প্রচুর পলি আসে। বন্যায় দুপাড় ভাঙা মাটিগুলো নদীর বুকে জমা হয়। শুষ্ক নদীর বুকজুড়ে মেশিন দিয়ে বিভিন্ন রকম শস্য চাষ করার কারণে তলদেশ শক্ত হয়। ফলে পানির স্রোতে নদী গভীর হতে পারছে না। ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করার কারণে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় তিস্তার ৭০ কিলোমিটার নদী পানিহীন পড়ে থাকে। হঠাৎ করে যখন ভারত পানি ছেড়ে দেয়, তখন অকস্মাৎ বন্যা দেখা দেয়। নদীতীরবর্তী অনেক স্থানেই নদীর তলদেশের চেয়ে পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমিই নিচু। লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর ডাউয়াবাড়ি গ্রামের নদীকর্মী ছাদেকুল ইসলাম বলেন, 'নদীর তলদেশ আমাদের সমতল জমির চেয়ে অনেক উঁচু। ফলে নদীতে পানি আসার সাথে সাথেই সমতল ভূমি প্লাবিত হয়।' এ অবস্থা তো এক দিনে হয়নি। বছরের পর বছর ধরে পলি জমে জমে এই অবস্থা হয়েছে। আজ থেকে ৫০ বছর আগে আমাদের দেশের নদীগুলোর যে গভীরতা ছিল তা তো মানুষের খনন করা নয়। পানি প্রবাহের বেগ নদীর তলদেশ প্রাকৃতিকভাবে খনন করার কাজ করে। পানির বেগ কমে গেলে পলি জমে যায়। এক-দেড় কিলোমিটার প্রস্থের তিস্তা এখন ১০ কিলোমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রস্থ হওয়ার পরও পানি বহন করতে পারে না। তাহলে গভীরতা কত কমে গেছে সহজে অনুমান করা যায়। কয়েক বছর আগে এক বন্যায় তিস্তা ব্যারাজে গিয়েছিলাম। সেখানেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মচারী বলছিলেন, 'এখানে যত পানি দেখছেন পানি এত নয়। হেঁটে পার হওয়া যাবে। শুষ্ক মৌসুমে দেখেছি তলদেশ অনেক উঁচু।' গত সোমবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে তিস্তা নদীতে গিয়েছিলাম। সেখানেও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, নদীতে যত পানি দেখছেন, তত নয়। গভীরতা খুব অল্প। শুধু তিস্তা নয়, প্রায় সব নদীরই একই অবস্থা। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, ফুলকামার, গঙ্গাধর, গদাধর, দুধকুমারসহ সব নদীরই একই অবস্থা। নদীরক্ষা বাঁধের নামে অনেকগুলো শাখা নদীর মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে শাখা নদী আর পানি বহন করতে পারছে না। যেমন আগে তিস্তা নদীর শাখা ছিল ঘাঘট ও মানাস। এখন এ দুটো নদীর মুখ বন্ধ করে দেওয়া আছে। ধরলা নদীর শাখা ছিল অর্জুনের ডারা, পাঁচগাছির ছড়া। এখন এ দুটোরও মুখ বন্ধ। নদী যেহেতু পানি ধারণ করতে পারে না, তাই বাঁধ ভেঙে অথবা পাড় উছলে বন্যা ডেকে নিয়ে আসে। কত অযত্নের ফল যে আমাদের বন্যা তা বলে শেষ করা যাবে না। নদীরক্ষা বাঁধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমতলের পানি নদীতে কীভাবে প্রবেশ করবে তার ব্যবস্থা নেই। জয়পুরহাটের পাশ দিয়ে তুলসীগঙ্গা প্রবাহিত হয়েছে। নদীটি খনন করা হয়েছে কয়েক বছর আগে। নদীর মাটি দুপাশে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পানি নদীতে প্রবেশের পথ রাখা হয়নি বলে সেখানে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। রংপুরের খোকসা ঘাঘট নদ খনন করার পর দুপাশে বালু তুলে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে ফসল ডুবে যাচ্ছিল। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা সেই পাড় কেটে ফসল রক্ষা করেছেন। আমাদের নদীরক্ষা বাঁধের সঙ্গে অনেকগুলো স্লুইসগেট ছিল সেগুলো এখন কার্যত অচল। বন্যা কখনোই হবে না এ কথা বলা কঠিন। কিন্তু বন্যা যে আমাদের নিজেদের কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে এ কথা স্বীকার না করলে বন্যা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো পথ নেই। আমাদের অনেক নদীর প্রস্থ বেড়েছে। পূর্বে এগুলো প্রস্থে এত বড় ছিল না। প্রস্থে বেড়েছে শুনলে মনে হতে পারে নদী বড় হয়েছে। প্রকৃত অর্থে নদী প্রস্থ বেড়ে শক্তি অনেকটাই খুইয়েছে। আর এর প্রধান কারণ আমরাই। নদীর জন্য গভীরতা প্রয়োজন। প্রস্থে বৃদ্ধি নয়। সরকারিভাবে কখনোই বন্যা দূর করারও যেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তেমনি বন্যায় কী কী প্রয়োজন, সেই তালিকাও করা হয়নি। বন্যার্তদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা অপ্রতুল। গবাদিপশুর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। বীজতলা ডুবে গেলে বীজ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে না। সড়ক ভেঙে গেলে অবহেলিত জনপদের ভেঙে যাওয়া সড়ক কিংবা বাঁধ ঠিক করতে বছরের পর বছর লেগে যায়। বন্যার্ত শিক্ষার্থীদের কথা আমলে নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় না। চরাঞ্চলের জন্য বিশেষ অর্থ-শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা এ সময়ে সীমাহীন কষ্টে দিন যাপন করেন। প্রখ্যাত কথাশিল্পী দেবেশ রায় তিস্তাপুরাণ উপন্যাসে লিখেছেন, 'নদীকে তুমি মনে না রাখলে, নদী তোমাকে মনে রাখে। নদী ভুলে তুমি যদি পথে পা দাও, নদী তাহলে তোমার পথে উঠে আসবে।' আমরা আমাদের নদীকে মনে না রাখার কারণেই আজ নদী আমাদের পথে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতেও যদি আমরা নদীর কথা মনে না রাখি তাহলে আরও অনেক বড় খেসারত দিতে হবে। তুহিন ওয়াদুদ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক এবং নদী রক্ষাবিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক।[]
8
তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল গড়া ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শিশু-কিশোরদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্টেপ অ্যাহেড বাংলাদেশ এবং আইওএমের (আইটি অ্যান্ড এডুকেশন) আয়োজনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভা মিলনায়তনে বিনা মূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধন করা হয়।কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আজ বুধবার সকালে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টু, কুলাউড়া উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার সেলিম বাবু, সফি আহমদ চৌধুরী জুয়েল প্রমুখ।অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে স্টেপ অ্যাহেড বাংলাদেশের এ ধরনের সমাজসেবামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির পক্ষে ওয়াসিক আহনাফ চৌধুরী, আদিব আহনাফ চৌধুরী এবং আইওএমের শাকিল চৌধুরী।উল্লেখ্য, স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিজেদের গড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্টেপ অ্যাহেড বাংলাদেশ। এটি সমাজের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় কুলাউড়া উপজেলায় বিনা মূল্যে এ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়।
6
পাইকগাছায় ৯ নং চাঁদখালী ইউনিয়নের উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ইট উঠে অন্তত ৫০টি স্থান গর্তে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ কিলোমিটার ইটের সলিং করা এ রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।সরেজমিনে জানা যায়, চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়ের আবাদ গ্রাম ও চৌমুনী বাজারের যাওয়ার প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তাটি ইটের সোলিং উঠে ও নদীতে ভেঙে ৫০টি ছোট বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। অনুপযোগী হয়ে পড়েছে চলাচলের। এতে ভ্যানসহ যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে। এ রাস্তাটি চৌমুহনী বাজার সহ পার্শ্ববর্তী লস্কর ইউনিয়নের প্রায় ৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম।স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আক্কাজ আলী ঢালি বলেন, চলতি বছরে মুজিব বর্ষের আবাসন ঘরের মালামাল সরবরাহে ট্রলি ও নসিমন চলার কারণে এ রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। পরে আর সংস্কার করা হয়নি। গড়ের আবাদ গ্রামের আফজাল সরদার বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কোনো ভূমিকা না থাকায় রাস্তার সংস্কার হয়নি।রাস্তা দিয়ে মালামাল বহনে নসিমন, অটো ভ্যান চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমান ইউপি সদস্য নজরুল সরদার বলেন, আমি ৯ নং ওয়ার্ডে সবেমাত্র পাস করেছি। তবে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। আমি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল এ রাস্তাটি করার জন্য।চাঁদখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাদা আবু ইলিয়াস বলেন, নির্বাচনের সময় আমি ওই রাস্তা দিয়ে এলাকায় গিয়েছিলাম ২ কিলোমিটার পথ যেতে প্রায় আধঘণ্টা সময় লেগেছিল। তখন আমি এলাকাবাসীকে বলে ছিলাম পাস করার পর রাস্তাটি আমি করে দিব। এখন বাজেট আসলেই রাস্তার কাজ শুরু করব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, রাস্তাটি এত খারাপ আমার জানা ছিল না। আমি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
6
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে হস্তান্তরে করা এক আপিল আবেদনে জয়ী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ শুক্রবার যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালতের রায় অ্যাসাঞ্জের বিপক্ষে গেছে। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা প্রবল হলো। আদালতের রায় কার্যকর হলে শিগগিরই অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। তবে এ রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারবেন অ্যাসাঞ্জ। ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বলেছেন অ্যাসাঞ্জের বাগদত্তা স্টেলা মরিস। যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন নথি ফাঁস করে হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ দেশটিতে প্রচলিত গুপ্তচরবৃত্তির আইনে করা মামলার আসামি। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের একটি নিম্ন আদালত এক দশক আগে গোপন মার্কিন সামরিক নথি প্রকাশের জন্য অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তখন আদালত বলেন, অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো যাবে না। তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে। তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যকে বলা হয়, যদি তারা অ্যাসাঞ্জকে হস্তান্তরে সম্মত হয়, তবে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর জন্মভূমি অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো মার্কিন কারাগারে সাজা ভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া তাঁকে কলোরাডোর উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট এডিএক্স কারাগারে রাখা হবে না। এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা। যুক্তরাজ্যের নিম্ন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে পরে উচ্চ আদালতে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর উচ্চ আদালতের বিচারক টিমোথি হলরয়েড বলেন, আদালত আপিলের অনুমোদন দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণের জন্য যে শর্ত ও প্যাকেজের নিশ্চয়তা দিচ্ছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। অবশ্য উচ্চ আদালতের এ রায়ের পরও অ্যাসাঞ্জকে এখনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে না। এ আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যেতে পারে। অ্যাসাঞ্জের বাগদত্তা স্টেলা মরিস বলেন, তাঁরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, যে দেশ অ্যাসাঞ্জকে হত্যা করতে চেয়েছিল, সেখানে অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণ করতে চাওয়াটা কতটা যৌক্তিক? অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী মার্ক সামারস এর আগে বলেছিলেন, মার্কিন প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অ্যাসাঞ্জের প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগ্রহ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে অপহরণ করার ও তাঁকে বিষ দেওয়ার পূর্বপরিকল্পনা করেছিল বলে জানা যায়। উচ্চ আদালতের রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না অ্যাসাঞ্জ। তিনি আড়াই বছর ধরে লন্ডনের বেলমার্স কারাগারে রয়েছেন।
3
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮ কেজি ওজনের স্বর্ণবারসহ আব্দুল আজিজ আকন্দ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টম হাউজ (ডিসিএইচ)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আজিজ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের কর্মী। বুধবার রাত ৮টায় ক্যাটারিং সার্ভিসের গেটের সামনে থেকেই তাকে আটক করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বারগুলো লুকানো ছিল। সানোয়ারুল কবির আরও জানান, এরপর দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিমানের ক্যাটারিং অফিসের গেটের সামনে কাস্টমসের দুইজন ব্যক্তি নজরদারিতে থাকেন। রাত ৮টার দিকে আব্দুল আজিজ বিমানের ক্যাটারিং অফিসের গেটের সামনে এলে এনএসআই-এর সহযোগিতায় কাস্টমস কর্মকর্তারা আব্দুল আজিজকে আটক করেন। তার কাছ থেকে জব্দ স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ স্বর্ণ দুবাইফেরত একটি বিমানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। এরপর আব্দুল আজিজের মাধ্যমে এই স্বর্ণ পাচার হওয়ার কথা ছিল। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
আইপিএলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে লড়াই জমিয়ে দিলো পাঞ্জাব কিংস। ৩ বল বাকি থাকতেই জয়ের কড়ি জোগাড় করে নেয় প্রীতি জিন্টার দল। ম্যাচের নায়ক অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৫ রান। কিন্তু বেঙ্কটেশের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে লোকেশ ৬৭ রানে আউট হয়ে যান। পরের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন শাহরুখ খান। কিন্তু রাহুল ত্রিপাঠির তালু ফস্কে ছক্কা হওয়ায় ম্যাচও বেরিয়ে যায় নাইটদের হাত থেকে। এই জয়ের সুবাদে টেবিলে পঞ্চম স্থানে উঠে এলো পাঞ্জাব কিংস (১০ পয়েন্ট)। আর ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থ স্থানে কেকেআর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৭০ রান তোলেন মায়াঙ্ক-রাহুল জুটি। স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী পাঞ্জাবকে প্রথম ধাক্কা দেন মায়াঙ্ককে (৪০) আউট করে। নিকোলাস পুরান শুরুতে জীবন পেয়ে যোগ করেন ১২ রান। মার্করামের ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। এরপর তিন রানে আউট হন দীপক হুদা। তবে বাকি কাজ করেন রাহুল ও শাহরুখ খান। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেয় পাঞ্জাব। কারণ, দুবাইয়ে পরে ব্যাট করলে সুবিধা পাওয়া যায়। কেকেআরকে প্রথম ধাক্কা দেন পেসার অর্শদীপ সিং। স্যুইংয়ে পরাস্ত করে তিনি বোল্ড করেন শুভমান গিলকে (৭)। যদিও প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলেন বেঙ্কটেশ আয়ার ও রাহুল ত্রিপাঠি জুটি। আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে কেকেআরের দুরন্ত কামব্যাকের অন্যতম কারিগর এই দুই ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ৭২ রান। তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, কেকেআরের স্কোর হয়তো দু'শ'র কাছে পৌঁছে যাবে। ঠিক তখনই রবি বিষ্ণোইয়ের স্পিনে পরাস্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন ত্রিপাঠি (৩৪)। তবে ৪৯ বলে বেঙ্কির সংগ্রহ ৬৭। বাঁহাতি তরুণ যোদ্ধার কাঁধে ভর করেই কেকেআর প্রথমে ব্যাট করে তোলে ৭ উইকেটে ১৬৫ রান। আবির্ভাব টুর্নামেন্টে মাত্র পাঁচটি ম্যাচে বেঙ্কটেশ পৌঁছে গিয়েছেন ১৯২ রানে। গড় ৬৪। দু'টি হাফ-সেঞ্চুরিও হাঁকিয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানটি। তার মধ্যে দ্বিতীয় অর্ধশতরানটি এলো শুক্রবার পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে। যদিও সেটা কাজে লাগল না। সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন ক্যাপ্টেন মরগ্যান (২)। একেবারেই ছন্দে নেই তিনি। ১২ ম্যাচে ১০৯ রান। গড় ১০.৯০। স্বাভাবিকভাবেই নেতৃত্ব বদলের পাশাপাশি মরগ্যানকে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠতে শুরু করেছে। নীতীশ রানার সংগ্রহ ১৮ বলে ৩১। চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারলেন না আন্দ্রে রাসেল। চোটের তালিকায় নবসংযোজন লকি ফার্গুসন। তাঁর বদলে এদিন খেলেন টিম সেইফার্ট। যিনি ২ করে রান আউট হন। দীনেশ কার্তিকের সংগ্রহ ১১ বলে ১১ রান। নারিন ৩ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ দু'ওভারে কোনও বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেনি কেকেআর। যোগ হয়েছে মাত্র দু'রান। এক্ষেত্রে অবশ্য প্রশংসা করতেই হবে পাঞ্জাবের তরুণ বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিংয়ের। এই ম্যাচে তার শিকার কেকেআরের তিন ব্যাটসম্যান। দু'টি উইকেট তুলে নেন রবি বিষ্ণোই।সূত্র : বর্তমান
12
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত মাইন উদ্দিন রাজু (২৭) উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৌদ্দনিগো বাড়ির সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক এবং কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ তাকে বসুরহাট পৌরসভা ভবন সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাজুকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্ট, বিস্ফোরক, দাঙ্গাহাঙ্গামাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। পরে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
6
এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস (অ্যাপসা) পুরস্কার জিতল আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত 'রেহানা মরিয়ম নূর'। সেই সঙ্গে এই ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বাঁধন। বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্ট শহরে বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) অ্যাপসা বিজয়ীদের তালিকা ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় ২৫টি এশিয়া প্যাসিফিক দেশের মোট ৩৮টি ছবি মনোনয়ন তালিকায় ছিল এবার। এর মধ্যে যৌথভাবে 'জুরি গ্র্যান্ড প্রাইজ (উৎসবের দ্বিতীয় পুরস্কার) জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশের সাদ এবং অস্ট্রেলিয়ার সিনেমা 'দ্য ড্রোভারস ওয়াইফ: দ্য লিজেন্ড অব মলি জনসন'। সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে জাপানি নির্মাতা হামাগুসির আলোচিত ছবি 'ড্রাইভ মাই কার'।এ বছর সেরা অভিনেত্রী বিভাগে ৫ জন মনোনীত হয়েছিল। রেহানা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। বাঁধন ছাড়া এ বছর সেরা অভিনেত্রীর দৌড়ে ছিলেন 'এশিয়া' সিনেমার জন্য ইসরায়েলের আলেনা ওয়াইভি, 'জাস্টিস অব বানি কিং' এর জন্য নিউজিল্যান্ডের এসি ডেভিস, 'দ্য ড্রোভারস ওয়াইফ: দ্য লিজেন্ড অব মলি জনসন' এর জন্য অস্ট্রেলিয়ার লিয়া পারসেল এবং 'স্কেয়ারক্রো' সিনেমার জন্য রাশিয়ান ভ্যালেন্টিনা রোমানোভা। আগামীকাল শুক্রবার (১২ নভেম্বর) দেশের ১০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের 'রেহানা মরিয়ম নূর'। আগের দিন এমন প্রাপ্তিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ছবির অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনসহ পুরো টিম।বাংলাদেশের প্রথম ছবি হিসেবে ৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের 'আনসার্টেন রিগার্ড' বিভাগে অংশ নেয় 'রেহানা মরিয়ম নূর'। এরপর প্রদর্শিত হয়েছে মেলবোর্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও। বুসান ছাড়াও দেখানো হয়েছে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট অব লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।
2
বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যার উদ্দেশ্য হল, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বন্ধ এবং নিরুৎসাহিত করা। অভিজিৎকে হত্যার দায়ে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড ও অপর আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার রায়ে একথা বলেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের দেওয়া রায়ে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস এবং আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই সাথে এদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া এই মামলার আরেক আসামি শফিউর রহমান ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় জনের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক। আলোচিত হত্যাকাণ্ডের এই রায়ে আদালত বলেন, অভিজিত রায় একজন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার ছিলেন। বাংলা একাডেমির বই মেলায় বিজ্ঞানমনস্ক লেখকদের আড্ডায় অংশ গ্রহণ করে ফেরার পথে আক্রমনের স্বীকার হন। নাস্তিকতার অভিযোগ এনে নিষিদ্ধ সাংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা অর্থাৎ অত্র মামলার অভিযুক্তরাসহ মূল হামলাকারীরা সাংগঠনিকভাবে অভিজিত রায়কে নৃশংসভাবে হত্যা করে। স্বাধীনভাবে লেখালেখি ও মত প্রকাশের জন্য অভিজিত রায়কে নিজের জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হয়। অভিজিত রায়কে হত্যার উদ্দেশ্য হল জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বন্ধ এবং নিরুৎসাহিত করা যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বাধীনভাবে লেখালেখি ও মত প্রকাশ না করতে পারে। এই মামলায় রাষ্ট্রপরে কৌঁসুলি ছিলেন আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকির। আর আসামিপে ছিলেন আইনজীবী মোসলেহ উদ্দিন জসীম, খায়রুল ইসলাম লিটন ও নজরুল ইসলাম। বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১৫ সালে বইমেলা উপলে তারা দেশে আসেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ থেকে ফেরার পথে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। সন্ত্রাসীর চাপাতির আঘাতে নিহত হন অভিজিৎ। সেসময় তার স্ত্রী বন্যা গুরুতর আহত হন এবং হাতের একটি আঙুল কাটা পড়ে। ঘটনার পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান তিনি। বর্বরোচিত ওই ঘটনার পর অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় (প্রয়াত) বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। সে মামলার তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। এরপর ওই অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। দুই পরে যুক্ততর্ক শুনানি শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আদালত এই মামলার রায়ের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন। সে অনুযায়ী আদালত আলোচিত হত্যাকাণ্ডটির রায় ঘোষণা করেন।
6
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়ন যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমান হোসেন শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ। পরিবারের দাবি তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে।এদিকে গতকাল রোববার সকালে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধারে দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।নিখোঁজ ইমান হোসেনের ছোট ভাই মো. আকতার হোসেন আজকের পত্রিকা বলেন, 'কারও সঙ্গে তাঁর কোনো দ্বন্দ্ব কিংবা বিরোধ নেই। কে বা কারা বা কোন উদ্দেশ্যে তাঁকে অপহরণ করেছে, তা জানি না। তাঁর অক্ষত উদ্ধার চাই।'আকতার হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে বাজার থেকে ফেরার আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার বিষয়ে কথা বলেন। কেনাকাটা সেরে বাড়িতে রওনা দিলেও সকাল পর্যন্ত ঘরে আসেননি তিনি। তাঁর মোবাইলে ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে খোঁজ-খবর নিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সকালে বাজারে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে একটি জঙ্গলে মোটরসাইকেল দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহনূর আলম নিখোঁজের বিষয়ে বলেন, 'পারিবারিকভাবে বিষয়টি অবহিত হয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গভীরভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনো নিখোঁজ ব্যক্তির পক্ষে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।'এদিকে যুবলীগ নেতার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর বাড়ি বড়বিলে আত্মীয়-স্বজন ও রাজনৈতিক নেতারা ছুটে যান। এ সময় তাঁর চাচা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান ফারুক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন সবাইকে সান্ত্বনা দেন।পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের জেলা কমিটির সহসভাপতি মো. মোকতাদের হোসেন এক বিজ্ঞপ্তিতে ইমান হোসেনকে উদ্ধারে দাবি জানান।
6
ভোলার লালমোহনে ৩২ বছর পলাতক থাকার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সিরাজকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়ন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সিরাজ ওই ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের কালা মিয়া চৌকিদারবাড়ির আবদুর রউফের ছেলে।জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স সিরাজের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সিরাজ চট্টগ্রামের জিআর-৯৯৫/ ১৯৮৯ সালের অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, সিরাজকে আজ ভোলা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
6
মঙ্গলবার প্রকাশ হয়েছে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জীবনীগ্রন্থ 'আনফিনিশড'। শৈশব থেকে এ পর্যন্ত নিজের জীবনের প্রতিটি ঘটনা এ বইয়ে বর্ণনা করেছেন। কঠোর পরিশ্রম আর গভীর মনোযোগই ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরেলিতে জন্ম নেওয়া প্রিয়াঙ্কাকে বিশ্বতারকায় পরিণত করেছে। পেশাগত সাফল্যের কথা ছাড়াও প্রিয়াঙ্কা এ বইয়ে বর্ণনা করেছেন ব্যক্তিগত মজার অভিজ্ঞতাগুলোও। লিখেছেন তার প্রেম ও প্রেমিকের কথাও। একবার তিনি তার প্রেমিককে নিজ কক্ষের আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যেন তার মাসি দেখে না ফেলেন। এ কথাও লিখেছেন অকপটে। সে সময় তিনি তার মাসি ও অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে থাকতেন। তখন একটি ছেলের প্রেমে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'বব'। প্রিয়াঙ্কা বইয়ে এ প্রেমের বিবরণ দিতে গিয়ে লিখেছেন, তিনি যখন দশম শ্রেণিতে পড়তেন এবং ইন্ডিয়ানাপলিস শহরে থাকতেন কিরণ মাসির সঙ্গে। বিদ্যালয়ে ববের সঙ্গে তার দেখা হয়। ববের মুখাবয়ব ও প্রেমময়তা তাঁর হৃদয় জয় করে নেয়। এমনকি ববকে একটি চেইনও উপহার দেন প্রিয়াঙ্কা। বিদ্যালয়ে হাত ধরে হেঁটেছেন ববের সঙ্গে। বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। বইয়ে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, একদিন তিনি ও বব ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। এ সময় ববের হাত ধরে ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন, জানালার বাইরে কে একজন আসছে। পরে দেখলেন, তার মাসি সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন। এ অবস্থায় হতচকিত হয়ে যান প্রিয়াঙ্কা। তখন দুপুর ২টা বাজে। এমন সময় তার মাসি সচরাচর ফেরেন না। ঘর থেকে ববের বের হওয়ারও উপায় ছিল না। তো কী করবেন প্রিয়াঙ্কা? তিনি দৌড়ে তার কক্ষে ঢুকলেন এবং ববকে আলমারিতে লুকিয়ে রাখলেন। অবশ্য ধরা পড়ে যান প্রিয়াঙ্কা। মাসি তার মাকে কল করেন এবং বলেন, মুখের ওপর প্রিয়াঙ্কার মিথ্যা বলা তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। প্রিয়াঙ্কার আলমারির ভেতর এক ছেলে ছিল! এমন নানা মজার স্মৃতি লিখেছেন প্রিয়াঙ্কা। বই হাতে পাওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা খুব উৎফুল্ল। এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সাবেক এ বিশ্বসুন্দরীর আত্মজীবনী।
2
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আপস করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক অধিকার নেই বলেই দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন পথ তৈরির কথাও বলেন তিনি। রাজধানীর তোপখানায় বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে মান্না এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনপদ্ধতি বাতিলের দাবি পরিষদ এই সভার আয়োজন করে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন প্রসঙ্গে সভায় মান্না বলেন, এই আইন হচ্ছে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন পথ তৈরি করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। এই সরকার জনগণের সব অধিকার হরণ করছে। বর্তমান সরকার থাকলে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজন আন্দোলন। শাসক দলগুলো নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রেখে গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলে। রাজনৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নিবন্ধন আইন বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক দল নিবন্ধ আইনকে কালো আইন হিসেবে উল্লেখ করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক এই আইনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা করছে। সংবিধান প্রদত্ত অধিকার আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার এই চেষ্টা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনপদ্ধতি বাতিলের দাবি পরিষদের আহ্বায়ক ও সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন-অর-রশিদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।
9
হেলিকপ্টারে করে ভেনেজুয়েলাসংলগ্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে মারকেজ। হঠাৎই শুরু হয় গোলাগুলি। গুলির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইভান ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি আজ শনিবার জানিয়েছে, ঘটনাটি গতকাল শুক্রবারের। প্রেসিডেন্ট ইভান নিজেই একটি ভিডিও বার্তায় এ ঘটনার কথা জানিয়েছেন। ওই সময় তিনি কলম্বিয়ার নর্তে দে সান্তান্দের প্রদেশে ভেনেজুয়েলাসংলগ্ন সীমান্ত এলাকার সিকুতা শহরে গিয়েছিলেন। এ সময় কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রাদেশিক গভর্নর তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সফরকালে গুলির মুখে পড়ে প্রেসিডেন্ট ইভানকে বহনকারী হেলিকপ্টার। এ ঘটনায় হেলিকপ্টারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অক্ষত আছেন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সফরসঙ্গীরা, জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইভানের একজন মুখপাত্র। আর প্রেসিডেন্ট ইভান এ ঘটনাকে 'কাপুরুষোচিত হামলা' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, 'আমি এ ধরনের সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদে ভীত নই।' টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট ইভান বলেন, 'আমাদের দেশ বেশ শক্তিশালী এবং কলম্বিয়া এমন হুমকিকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে। এ হামলার পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।' কলম্বিয়ার সীমান্ত এলাকার ওই প্রদেশ বামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভূমি ও সম্পদ বণ্টনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ১৯৬৪ সাল থেকে লড়ছে সংগঠনটি। কলম্বিয়া সরকার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। তবে প্রেসিডেন্ট ইভানকে বহনকারী হেলিকপ্টারে হামলার পেছনে এ সংগঠন যুক্ত কি না, তা এখনো জানা যায়নি। চলতি মাসের শুরুতে স্থানীয় একটি সেনাঘাঁটিতে গাড়িবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে দুজন সামরিক উপদেষ্টাসহ মোট ৩৬ জন আহত হন। তবে এ হামলার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি।
3
কিশোরগঞ্জের ভৈরর উপজেলার চণ্ডিবের গ্রামে নিজ ঘর থেকে মাহবুবুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় ছুরিকাহত অবস্থায় স্ত্রী রোকসানা বেগমকে (৩০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। নিহত মাহবুবুর রহমান ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ের লোকেশেটে কর্মরত। বুধবার রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে আসেন। তিন সন্তানের জনক তিনি। ভৈরব বাজারে বসবাসকারী নিহতের ছোট বোন মাহমুদা হক জানান, বাড়ির প্রধান ফটক, বারান্দার গ্রীল মজবুত লোহা দিয়ে তৈরি। রুমের দরজায় শক্ত লোহার তালা ভেঙে বাহির থেকে কেউ ঢুকলে শব্দ হতো। প্রতিবেশীরা সেই শব্দ শুনতে পেতেন। এমনকি পাশের রুমে ঘুমিয়ে থাকা তার সন্তানরাও কোনো শব্দ শুনতে পাননি। তিনি ঘটনাটি রহস্যজনক উল্লেখ করে বিষয়টি তলিয়ে দেখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি দাবি জানান। প্রতিবেশী আব্দুল হান্নান জানান, তারা কোনো হট্টগোল বা কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পাননি। খবর পেয়ে পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীন জানান, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে এখনই সেটা বলা যাচ্ছে না। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা/এনায়েত করিম
6
স্বপ্নের মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ২০ টাকা, আর সর্বোচ্চ ৯০ টাকা ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সূত্র। ডিটিসিএ'র নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নীলিমা আখতার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'মেট্রোরেলের ভাড়া হিসেবে আমরা একটি প্রস্তাব তৈরি করেছি। সেখানে মেট্রোরেলে চড়লেই সর্বনিম্ন ২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৯০ টাকা ভাড়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে, ভাড়া এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।' সূত্র জানায়, মেট্রোরেলে ওঠার পর সর্বনিম্ন ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে ২ স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারবেন একজন যাত্রী। পরবর্তী প্রতি স্টেশনে যেতে বাড়তি ১০ টাকা করে ভাড়া দেওয়া লাগবে। উত্তরার ৩টি স্টেশন ছাড়া অন্য সব স্টেশনের প্রতিটির মধ্যে দূরত্ব ১ কিলোমিটার বা তার কম। ফলে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া প্রায় ১০ টাকা হবে।আর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত একজন যাত্রীর ৯০ টাকা ভাড়া হবে। মেট্রোরেলের ভাড়া পরিশোধে থাকছে স্মার্ট কার্ড টিকিটিং ব্যবস্থা। এতে দুই ধরনের টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। একটা হচ্ছে স্থায়ী কার্ড। এই কার্ড রিচার্জ করে পুরো বছর বা মাসে যাতায়াত করা যাবে। এ কার্ড কিনতে ২০০ টাকা দিতে হবে। এরপর ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যাবে। আর অন্যটি হবে সাময়িক কার্ড, যা প্রতি যাত্রায় দেওয়া হবে।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিমানের কো-পাইলট পৃথুলা রশীদও। আর এই ফ্লাইটটি ছিল তার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইটটিও ছিল কাঠমান্ডুতেই। যদিও পৃথুলার পাইলট হওয়া পরিবারের অনেকেই পছন্দ করেনি। জীবনের শঙ্কা রয়েছে এমন একটা পেশায় যে তিনি যোগ দেবেন এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন পৃথুলার খালাতো বোন তাসমিন রহমান অমি। তিনি বলেন, "ও জয়েন করার পর থেকেই আমরা এই ঝুঁকির বিষয়টা জানতাম। কিন্তু বেসিক্যালি, ও নিজে এই পেশায় যেতে চেয়েছিল।'' তিনি বলেন, পৃথুলা রশীদ ছিলেন খুবই কোমল প্রাণের মানুষ। বাসায় খরগোশ, মাছ পুষতেন। রাস্তার কুকুরদের জন্য তার ছিল অসীম মায়া। একবার একটি কুকুরের শ্বাসকষ্ট দেখে বাবার ইনহেলার দিয়ে চিকিৎসা করেন। অপি আরও বলেন, একবার এক চড়ুই পাখি ডানা ভেঙে বাসায় এসে পড়েছিল। অনেক যত্ন নিয়ে তিনি সেই পাখির শুশ্রূষা করেন। কিন্তু পাখিটি শেষ পর্যন্ত বাঁচেনি। এই শোকে পৃথুলা দুই-তিন দিন ভাল করে খাওয়া দাওয়া করতে পারেননি বলেও তিনি জানিয়েছেন। "সে ছিল এমন এক মানুষ যার উপস্থিতি আপনার মনে ভাল করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট," বলছিলেন তিনি," আপনার মন খুব খারাপ, কিন্তু ও এমন একটা কিছু করবে, বা এমন একটা কিছু বলবে, যাতে আপনার একদম মন ভাল হয়ে যাবে।" বিডি-প্রতিদিন/১৫ মার্চ, ২০১৮/মাহবুব
6
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ায় ২১ বছর বয়সী নাতির সঙ্গে ৫৫ বছর বয়সী দাদির বিয়ে হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল (৬ সেপ্টেম্বর) সোমবার রাতে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে ৫ লাখ টাকা কাবিনে তাঁদের বিয়ে হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।বিয়ে করা দাদি-নাতি হলেন, ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ফারুক হোসেন (২১) ও একই গ্রামের মৃত ছামির উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন আক্তার (৫৫)।স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে ফারুক হোসেনের সঙ্গে চাচাতো দাদি শিরিন আক্তারকে আপত্তিজনক অবস্থায় ধরে ফেলেন শিরিন আক্তারের ছেলে এনামুল মিয়া। বিষয়টি হাতেনাতে ধরার পর এনামুল মিয়া এলাকার লোকজন ডেকে বিষয়টি জানান।পরদিন শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিসে বসে নাতি ফারুক হোসেনের সঙ্গে দাদি শিরিন আক্তারের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ার পরেই নাতি পালিয়ে যান। তারপর এলাকাবাসীরা দাদি শিরিনকে ওই ফারুক মিয়ার বাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন।একদিন পালিয়ে থাকার পর রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ফারুক বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ওই দিন আবারও স্থানীয়রা সালিসের মাধ্যমে সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) নাতি ফারুক হোসেনের সঙ্গে দাদি শিরিন আক্তারের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ৫ লাখ টাকা কাবিনে দাদির সঙ্গে নাতির বিয়ে হয়।দাদি-নাতির বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়হিত ইউনিয়নের বিয়ের রেজিস্ট্রি কাজে নিয়োজিত কাজী মোহাম্মদ নুরুল্লাহ বলেন, নওপাড়া গ্রামে পাঁচ লাখ টাকার দেনমোহরে তাঁদের বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ে পড়াতে গিয়ে জানতে পেরেছি, নতুন দম্পতি সম্পর্কে দাদি-নাতি।আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে ওই গ্রামে গিয়ে নতুন দম্পতিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তরুণের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার ইউপি সদস্য খাইরুল ইসলামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিসের মাধ্যমে জোর করে এই বিয়ে দেন। এই বিয়েতে ওই নারী রাজি ছিলেন না।এ বিষয়ে ১১ নং বড়হিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। বিয়ে হয়েছে কিনা তাও বলতে পারব না। কারণ আমি বেশ কয়েক দিন যাবৎ অসুস্থ।'এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, 'দাদি-নাতির বিয়ের বিষয়ে আমি অবগত নই।'
6
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘ সময় নীরব ছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। কদিন আগে গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই নীরবতা ভেঙেছেন ফার্গি। ইংলিশ ফুটবলের এই মহিরুহ কথা বলেছেন হাসপাতালের কঠিন দিনগুলো নিয়ে। কথা বলেছেন বর্তমান সময়ের ফুটবলের খুঁটিনাটি এবং সর্বশেষ ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রসঙ্গে। তারই চুম্বকাংশ আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।এই সপ্তাহটা আপনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের একটি। ঠিক তিন বছর আগে হাসপাতালে ভয়ংকর সময়টার কথা কতটা মনে পড়ে?স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন: এটা খুবই ভয়ংকর স্মৃতি, যেটা আমি ভুলে যেতে চাইব। ওই সময় নিজেকে খুবই একা মনে হয়েছে।শুনেছি আপনি নাকি কথাই বলতে পারছিলেন না? ফার্গুসন: এটাই আমার সবচেয়ে চিন্তার ব্যাপার ছিল। ১০ দিন কোনো কথা বলতে পারিনি। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ব্যাপারটা ঘটেছিল। আমার প্রচণ্ড ভয় হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, জীবনে আর কথা বলতে পারব না। ডাক্তাররা পুরো সমর্থন দিয়ে গেছেন। তবু আমার মনে হচ্ছিল, সবাই আমার সঙ্গে মিথ্যা বলছে।আপনার ছেলে জেসন বলছিল, আপনি নাকি কথা বলতে না পারার চেয়েও স্মৃতিশক্তি নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিলেন?ফার্গি: হ্যাঁ, জেসন সত্যিই বলেছে। আমি ভাবছিলাম স্মরণশক্তি হারিয়ে গেলে বেঁচে থেকে কী করব? এটা আমার জন্য আরও কঠিন হতো।কীভাবে বুঝতে পারলেন স্মরণশক্তি ঠিকঠাক কাজ করছে? ফার্গি: ক্যাথি (ফার্গির স্ত্রী) আর জেসন প্রথমে আমাকে জিজ্ঞেস করে, কোথায় বেড়ে উঠেছি? জেসন আমাকে ঠিক রাখতে মজা করে জিজ্ঞেস করেছিল, বাবা, মায়ের সঙ্গে তোমার বাগদানের তারিখ মনে আছে? আমি ঠিকঠাক উত্তর দিয়েছিলাম।আপনার স্মরণশক্তি কতটা শক্তিশালী, কয়েকটা লেখা পড়ে জেনেছি। এটা বললেও অত্যুক্তি হবে না, আপনার স্মরণশক্তি নিয়ে কয়েকটা বই লেখা যাবে। জেসন বলছিল, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পরে আপনার স্মরণশক্তি আর দশজন সাধারণ মানুষের চেয়ে শক্তিশালী ছিল।ফার্গি: জেসন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, বাবা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তোমার কোচিং ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটা কে করেছিল? মনে আছে তোমার? সত্যি বলতে এই প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দেওয়ার পর হাসপাতালে প্রথমবার নিজেকে দারুণ আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল।উত্তরটা কীভাবে দিয়েছিলেন বা কে প্রথম গোল করেছিল যদি আমাদেরও বলতেন।ফার্গি: জেসনকে উত্তরটা দিয়েছিলাম এভাবে, জন সিভেব্যাক। ১৯৮৬ সালের ২২ নভেম্বর কিউপিআরের বিপক্ষে জন প্রথম গোলটা করেছিল। জন ইউনাইটেডে ফুলব্যাক হিসেবে এসেছিল। তখন ওকে খুব পছন্দ করতাম। দুর্দান্ত খেলত।সেই দুঃসহ সময়টা তিন বছরে কতটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন?ফার্গি: পরিবারের সবাই আমাকে সময় দিয়েছে। হাসিখুশি রেখেছে। এখন আমি সুস্থ আছি।স্মরণশক্তি আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রসঙ্গ যেহেতু এসেছে। মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই যে, খেলা চলার সময় আপনি ডাগআউটে খুব কম বসতেন। উদ্যম, ছুটোছুটি কখনো দেখিনি আপনার মাঝে। এখনকার সময়ের কোচদের সঙ্গে পার্থক্যটা কোথায় দেখেন?ফার্গি: নিজেকে কারও সঙ্গে তুলনা করি না। একেক কোচের একেক রকম ধরন থাকে। কোচ হিসেবে আমি সব সময় আমার স্মরণশক্তির ওপর নির্ভর করেছি। আমি বুঝি না খেলা চলার সময় এখনকার কিছু কোচ কেন নোট নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন! আমি কখনোই এটা করিনি। আপনি নোট নিচ্ছেন আর ওদিকে একটা গোল হয়ে গেল। এটা আমি মেনে নিতে পারি না। আমি ছেলেদের প্রতিটি সেকেন্ডের খেলা মনোযোগ দিয়ে দেখতে চাইতাম।ইউরোপিয়ান সুপার লিগের ব্যাপারটা কীভাবে দেখেন? ফার্গি: এটা খুবই দুঃখজনক। কখনো ভাবিনি এমন কিছু দেখে যেতে হবে। ফুটবলের চিরায়ত সৌন্দর্যের পথে অন্তরায় হবে সুপার লিগ। আপনি সব সময় বড় দলগুলোর খেলা দেখতে চাইবেন না। ফুটবলের সৌন্দর্য বড় দলের সঙ্গে ছোট দলের লড়াই।২৭ বছর ধরে ম্যানইউর দায়িত্ব সামলেছেন। টাচলাইন থেকে দলের খেলা দেখা কতটা মিস করেন? ফার্গি: জীবনের কিছু ব্যাপার থাকে। যেগুলো কখনোই ভুলে যেতে চাইবেন না। সব সময় মনে করে সুখানুভূতি নিতে চাইবেন। ইউনাইটেডের টাচলাইন আমার কাছে ঠিক সে রকম। জীবনের চক্রের মতো এটা আমি মেনে নিয়েছি।
12
থাইল্যান্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার কয়েক হাজার গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী ব্যাংককের একটি বড় জংশন কয়েক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। তাঁরা অভ্যুত্থান প্রতিরোধ কৌশলের মহড়া হিসেবে এ প্রতিবাদ করেন। রাবারের হাঁস নিয়ে রাস্তায় নামেন তাঁরা। হলুদ রাবার হাঁস আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে দেশটিতে। এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। থাইল্যান্ডে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন সংবিধানের দাবিতে কয়েক মাস ধরে তীব্র বিক্ষোভ হচ্ছে। তাঁরা দেশটির প্রায় অস্পৃশ্য রাজতন্ত্রের পুনর্গঠন ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচার পদত্যাগ দাবি করছেন। ২০১৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন প্রায়ুত। বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে এ সপ্তাহে মার্শাল ল জারি বা নিজে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যাংককের একটি অফিসের কর্মকর্তা নাতালি (৩২) বলেন, সর্বশেষ অভ্যুত্থান থাইল্যান্ডের জন্য ধ্বংসাত্মক ছিল এবং দেশ যাতে আর সে পথে না যেতে পারে, সে জন্য সতর্ক থাকা উচিত। নাতালি বলেন, 'থাইল্যান্ড ও ব্যাংককে নতুন এ সমস্যার মুহূর্তে আমি প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের জন্য নতুন নির্বাচন চাই, যাতে জনগণের কথা শোনার মতো নতুন সরকার পাওয়া যায়।' গতকাল শুক্রবারের বিক্ষোভকে আন্দোলনকারীরা অভ্যুত্থানপ্রতিরোধী মহড়া বলছেন। থাইল্যান্ডের সেনাপ্রধান নরঙ্গফান জিত্তেওয়াতা অভ্যুত্থানের গুজব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আরেকটি অভ্যুত্থানের আশঙ্কাকে শূন্যের চেয়ে কম বলেছেন তিনি। থাইল্যান্ডে গত সপ্তাহে সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধ ও বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিক্ষোভ দমাতে বিতর্কিত একটি আইন আবার চালু করছে দেশটি। এ আইনের আওতায় রাজা বা রাজপরিবারের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ছয় নেতার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হতে পারে।
3
গোলাম মোহাম্মদ ও শামসুজ্জামান জামালের আশা ছিল, তাঁরা সংসদ সদস্য হবেন। সেই আশা পূরণ করতে জাতীয় সংসদের ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে নির্বাচনে অংশও নিয়েছিলেন দুজন। কিন্তু জিততে পারেননি। তবে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্নে এখনো তাঁরা বিভোর। অবশেষে তাঁরা এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন। গৌরীপুরের মাওহা ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন গোলাম মোহাম্মদ। তিনি গৌরীপুর উপজেলা জাকের পার্টির সহসভাপতি। তবে ইউপি নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আলোচিত অপর প্রার্থী শামসুজ্জামান জামাল সহনাটি ইউপিতে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জাকের পার্টির প্রার্থী হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ ময়মনসিংহ-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দুবারই তিনি পরাজিত হন। ২০০৩ সালে গোলাম মোহাম্মদ সহনাটি ইউপি নির্বাচনেও চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। গোলাম মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, 'জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করার মানসিকতা থেকেই নির্বাচন করে আসছি। এবার নির্বাচনে অবস্থা ভালো। স্থানীয় চাপে এবার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি, তাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কোনো কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রভাব দেখাচ্ছেন। তবে এ ব্যাপারে আমি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছি।' এদিকে সহনাটি ইউপির প্রার্থী শামসুজ্জামান জামাল প্রথম আলোকে জানান, ২০১৬ সালে তিনি ময়মনসিংহ-৩ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। এবার নির্বাচনের পরিবেশ ভালো হওয়ায় নিজের জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী। চতুর্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১০ ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
9
মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রামের অন্যতম স্থপতি, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৯ অক্টোবর। ১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফরহাদ ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড়ের বোদায় জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী ছাত্র মোহাম্মদ ফরহাদ মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে প্রথম সারির নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার জেল, জুলুম, হুলিয়া, নির্যাতন ভোগ করেন। ৩৫ বছরের ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়া-এরশাদের আমলে কারাবরণসহ দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর আত্মগোপন বা কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৫৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের কুখ্যাত নিরাপত্তা আইনে বিনা বিচারে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়। ১৯৫৫ সালে ১৭ বছর বয়সে মোহাম্মদ ফরহাদ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ফরহাদ ১৯৫৯ সাল থেকে গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করতে থাকেন। ১৯৬২ সাল থেকে প্রায় এক বছর হুলিয়া মাথায় নিয়ে গোপনে ছাত্র গণআন্দোলন সংগঠন ও শ্রমিক শ্রেণীর পার্টির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফরহাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর প্রধান সংগঠক ছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর সামরিক শাসনবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য তথা ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গড়া, জাতীয় দাবি ৫ দফা প্রণয়ন ও যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম ফরহাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আগামীকাল মোহাম্মদ ফরহাদের মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সকল জেলা, উপজেলা ও শাখা সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান। মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই মহান নেতার স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে শনিবার (৯ অক্টোবর) সকাল আটটায় বনানী কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে সিপিবিসহ বিভিন্ন দল-সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে। ফরহাদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কাল বিকেল চারটায় মুক্তিভবনে এবং মিরপুর ১০নং গোল চক্কর ওয়াই এম সি স্কুল অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
6
ঢাকার গুলশানে উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ কবরস্থানে আছর নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে সেখানে দাফন করা হয়। এর আগে, বিকেল ৪টায় তার মরদেহ ঢাকা থেকে কুমিল্লা বাগিচাগাঁওয়ে বড় বোনের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কুমিল্লায় পৌছার পর মুনিয়ার বড় বোন ইসরাত জাহান তানিয়া জানান, মুনিয়া ডায়রি লিখতেন। সেখান থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি কি আত্মহত্যা, নাকি হত্যা সেটি তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। নিহতের বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ জানান, দীর্ঘদিন নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলেও মুনিয়া আত্মহত্যা করতে পারে এটা মনে হয় না। ঘটনাটি রহস্যজনক বলেই মনে হয়। সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। গতমাসে ওই বাসা ভাড়া নেন তিনি। তার ওই বাসায় এক শিল্পপতি প্রায়ই যাতায়াত করতেন। পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর রাতে শিল্পপতিকে আসামি করে মামলা করেন মুনিয়ার বড় বোন।
6
ড. এম তারিক আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। তিনি দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটির সদস্য। নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোশতাক আহমেদ । প্রথম আলো: প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হচ্ছে, কিন্তু এই সময়ে এর প্রয়োজন হলো কেন? এম তারিক আহসান: নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে জাতীয় ও বৈশ্বিক বেশ কিছু কারণ আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন করতে হবে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো অর্জন করার জন্য কিছু পরিকল্পনাও আছে। আবার দীর্ঘ মেয়াদে বদ্বীপ (ডেলটা) পরিকল্পনা আছে। অতীতের পথচলার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষাক্রমের সঙ্গে যোগসূত্র থাকা প্রয়োজন। আবার আমরা জনমিতির সুফল পেতে চাই। সামনের পৃথিবীতে হয়তো বিদ্যমান চাকরির বাজারের অনেক পেশাই হারিয়ে যাবে। নতুন অনেক পেশা আসবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে কাজের ধরন পরিবর্তন হয়ে যাবে। তাই এখানে আর মুখস্থনির্ভর শিক্ষা সঠিকভাবে কাজ করছে না। কাজের পরিধি ও ধরনে যে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে জনমিতির সুফল কাজে লাগিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক ধারা বজায় রাখতে হবে। না হয় লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা সম্ভব নয়। এগুলো মোটাদাগে জাতীয় প্রেক্ষাপট। আবার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যদি বলি, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে মাথায় রেখে সারা পৃথিবী এখন দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১১ সালে যোগ্যতার যে ধারণা ছিল, এখন তার বেশির ভাগই পরিমার্জিত হয়েছে। এখন পারদর্শিতার ওপর জোর দেওয়া জরুরি। শুধু মুখস্থনির্ভরতা জ্ঞান অর্জন করিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের জন্য তৈরি করা যাচ্ছে না। এগুলোর সঙ্গে নতুনভাবে যোগ হয়েছে করোনা পরিস্থিতি। এই অতিমারির কারণে ভাবিয়ে তুলছে, আমরা অতীতে যেভাবে চলেছি, তার অনেক কিছুই কাজ করছে না। এ জন্য বিকল্প ধারায় যেতে হবে। আমাদের আশপাশের দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখব, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করেছে। পৃথিবীর ১০২টি দেশের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫১টি দেশ শিক্ষাক্রম পরিমার্জনা করে পারদর্শিতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের দিকে যাচ্ছে। এসব জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষাক্রমও পরিমার্জন করে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। প্রথম আলো: বিদ্যমান শিক্ষাক্রম কি যথেষ্ট নয়? বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কেউ কেউ বলছেন, এটিও ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষায় অনেক ইতিবাচক প্রভাব পড়ত, কিন্তু ঠিকমতো বাস্তবায়িত হয়নি, আপনার মত কী? এম তারিক আহসান: প্রথম কথা হলো, আগের শিক্ষাক্রম খারাপ বলে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়, তা কিন্তু নয়। দ্বিতীয়ত, আজ থেকে ৯-১০ বছরে আগের যে বাস্তবতায় ২০১২ সালে বিদ্যমান শিক্ষাক্রমটি হয়েছিল, এখনকার পরিস্থিতি এক নয়, পরিস্থিতি বদলে গেছে। আবার তখন যোগ্যতার ধারণা ছিল অনেকটা কী শিখল, সেটার ওপর। কিন্তু গত ৯-১০ বছরের চর্চায় দেখা গেছে, আসলে কী শিখল বা শিখনফল অর্জন করল, সেটির মধ্যে যদি পারদর্শিতার বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে উঠে না আসে এবং প্রয়োগমুখী দক্ষতা তৈরি না হয়, তাহলে সেই শিখন কাজে লাগবে না। সেটি জীবনমুখীও হয় না। এই ধারণাগত পরিবর্তনের জন্যও নতুন শিক্ষাক্রম দরকার ছিল।জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) ২০১৭ সাল থেকে তিনটি গবেষণা হয়েছে। তাতে বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের কিছু চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়নে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা এসেছে। শিখনের প্রক্রিয়া এবং মূল্যায়নের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। আবার মুখস্থনির্ভরতা ও পরীক্ষানির্ভরতা কমানো যাচ্ছিল না। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে করা একটি ধারাবাহিক গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ প্রাথমিক শিক্ষার্থী যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না এবং যোগ্যতা অর্জনের ধারা বছর অনুযায়ী নিম্নমুখী। এসব গবেষণার মাধ্যমেও নতুন শিক্ষাক্রম তৈরির প্রয়োজনীয়তা বোঝা গেছে। নতুন শিক্ষাক্রমের মূল বৈষম্য কী, বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য কোথায়? এম তারিক আহসান: এই প্রথম প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা প্রণয়ন করা হলো। আগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষাক্রম আলাদাভাবে হতো। আগে এক স্তর থেকে আরেক স্তরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতো। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীর শিখন ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আবার দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে অভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে সবাইকে অভিন্ন বিষয় পড়ানো হবে। এখনকার মতো নবম শ্রেণিতে গিয়ে বিভাগ বিভাজন হবে না। এটি হবে একেবারে একাদশ শ্রেণিতে (উচ্চমাধ্যমিক) গিয়ে। শিখন শেখানোর প্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের পরিবর্তন থাকছে। আগে মুখস্থনির্ভরতা ছিল, এবার সেটা আর থাকবে না। বর্তমান মূল্যায়ন ব্যবস্থাটি পরীক্ষানির্ভর। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীর যোগ্যতার পারদর্শিতা যাচাই করা হবে। এতে শিখনকালীন ধারাবাহিক মূল্যায়নই বেশি হবে। পরীক্ষানির্ভরতা কমবে। নতুন শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণির আগে পাবলিক পরীক্ষা না থাকার কথা বলা হয়েছে, এর মানে কি পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাবে? বিষয়টি স্পষ্ট করে বলবেন কি? এম তারিক আহসান: শিক্ষাক্রমের যে রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে, তাতে এ ধরনের (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি) পাবলিক পরীক্ষার কোনো প্রস্তাবনা নেই। আমরা বলেছি, শিখনকালীন মূল্যায়ন (ধারাবহিক মূল্যায়ন) ও সামষ্টিক মূল্যায়নকে (পরীক্ষা) একত্র করে শিক্ষার্থীর যোগ্যতার পারদর্শিতাকে পরিমাপ করব। সেই হিসেবে এ ধরনের পাবলিক পরীক্ষার কোনো অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। তাই আমি বলব, শিক্ষাক্রমের রূপরেখা অনুযায়ী ২০২৩ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং জেএসসি পরীক্ষা বাদ দেওয়া উচিত। তবে এই পরীক্ষার বিষয়টির জন্য যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন, তাই সরকারকে এসব পরীক্ষা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিগগিরই নেওয়া উচিত। এর আগেও তো একবার এ ধরনের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়েছিল, বিশেষ করে প্রাথমিকে, কিন্তু বাস্তবায়ন হলো না কেন? এম তারিক আহসান: পরিকল্পনাজনিত বিষয়টিতে সঠিকভাবে গুরুত্ব না দিলে অনেক সময় দেখা যায়, বড় ও সুন্দর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের দিকে যায় না। তাই এ ধরনের পরিবর্তনে বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় জোর দিতে হয়। এ জন্য শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সঙ্গে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পরিকল্পনাও একই সঙ্গে প্রণয়ন প্রয়োজন। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, নতুন শিক্ষাক্রম অনেক ভালো, কিন্তু বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ হবে, আপনি কি মনে করেন? এম তারিক আহসান: যেকোনো পরিবর্তন আনতে হলে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন অপরিহার্য, এটি আমরা সবাই মানি। এখানে উল্লেখ্য, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজটি হঠাৎ করে আসেনি। পাঁচ বছরের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি এসেছে। এটি করতে গিয়ে প্রাক্প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত হলো, এই প্রথম কোনো শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনাটি বড় অংশজুড়ে আছে। সেখানে বলা আছে, ২০২২ সাল থেকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২০২৭ সালে গিয়ে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তা পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত হবে। এ লম্বা সময়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন স্তরে এটি বাস্তবায়িত হবে। বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাব্যবস্থা-সবাইকে কীভাবে একই সঙ্গে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো যায়, সেটি মাথায় রেখে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি করা হয়েছে। তৃতীয়ত বাস্তবায়ন যখন হচ্ছে, তখন পুরো ব্যবস্থাটি তৈরি করা দরকার। এখানেও শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে কীভাবে ধীরে ধীরে তৈরি করা হবে, সেসব বিষয়ে বড় ধরনের সুপারিশ আছে। আগেই বলেছি, এ শিক্ষাক্রমের বড় শক্তি হলো, পাঁচ বছর প্রস্তুতি নিয়ে করা হয়েছে। এ জন্য কতগুলো গবেষণার ফল হাতে আছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিষয়ে প্রাথমিকে দুই বছর পরীক্ষামূলকভাবে দেখাও হয়েছে। এখন এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে। আমরা অতীতে শিক্ষার অনেক ভালো সিদ্ধান্ত ঠিকমতো বাস্তবায়ন হতে দেখি না, যেমন জাতীয় শিক্ষানীতি, সৃজনশীল শিক্ষা, কারণ কী? এম. তারিক আহসান: পরিকল্পনা যদি সামগ্রিক না হয়, তাহলেই হোঁচট খাওয়ার ভয়টি বেশি থাকে। বিভিন্ন উপাদানকে মালা গাঁথার মতো করে কাজটি করতে হয়। না হয় মালা সুন্দর হবে না। সেটি করতে না পারলেই বাস্তবায়নে ঝুঁকি তৈরি হয়। বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট অংশে পরিবর্তন আনলে আসলে তার সুফল পাওয়া যায় না। আগামী বছর থেকে প্রথম শ্রেণি ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে, এর মানে এখনই নতুন বই লিখতে হবে। কিন্তু এত অল্প সময়ে গুণগত মানসম্পন্ন পাঠ্যবই লেখা কি সম্ভব? এম তারিক আহসান: খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আসলেই এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জকে বিবেচনায় রেখে এনসিটিবিসহ যাঁরা এই শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা সবাই বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন। পাঁচ বছরের প্রস্তুতি বই তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। এটি বড় শক্তি। বইয়ে আগের মতো মুখস্থনির্ভরতা বিষয় থাকবে না। বইগুলো হবে 'রিসোর্স বুক ও ওয়ার্কবুক'। বই শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে ধারণা দেবে এবং সেগুলো থেকে কীভাবে জ্ঞান অর্জন করে তা প্রয়োগ করতে হয়, সেই ধারণাও দেবে। ফলে বই তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত হবে না। এর সঙ্গে থাকবে সমৃদ্ধ 'শিক্ষক গাইড'। এই শিক্ষক গাইডের মাধ্যমে ধারণা দেওয়া হবে, কীভাবে সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অর্জনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আশা করা যাচ্ছে, বই তৈরিতে সমস্যা হবে না। তবে পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও চিন্তায় আছে। সেটি হলো, যদি খুব বেশি চ্যালেঞ্জ হয়, তাহলে ধাপে ধাপে বই দেওয়া। সেই চিন্তাও আছে, হয়তো প্রথম ছয় মাসে কতটুকু শিখবে, সেই পরিমাণ বইয়ের বিষয়বস্তু প্রথমে দেওয়া এবং পরবর্তীকালে বাকি অংশ দেওয়া। আর আগামী বছর তো পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত কিছুসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে, ফলে বই নিয়ে কোনো অসুবিধা হবে না বলেই মনে করি। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে কী কী করা উচিত। একেবারে সুনির্দিষ্টভাবে বলবেন কি? এম তারিক আহসান: প্রথমেই বলব, শিক্ষাক্রম রূপরেখায় যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে অনুসরণ করে বিস্তারিত শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, শিক্ষক গাইডসহ অন্যান্য উপকরণ এবং সেই সঙ্গে পাঠ্যবই তৈরির কাজে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে টিমওয়ার্ক করতে হবে। এটি বিচ্ছিন্নভাবে করতে গেলে আবারও ব্যবধান তৈরির ভয় রয়েছে। দ্বিতীয়ত শিখন-শেখানোর প্রক্রিয়াগুলো ধীরে ধীরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার মানুষকে অবগত করা যেতে পারে। শিক্ষক প্রশিক্ষণের যে মহাপরিকল্পনার সুপারিশ করা হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা দরকার। যেহেতু এটি বড় ধরনের পরিবর্তন, তাই এটি সম্পর্কে মানুষকে জানানো খুব জরুরি। পাবলিক পরীক্ষা কমানোর উদ্যোগ এখনই শুরু করতে হবে। সর্বোপরি বাস্তবায়ন পরিকল্পনাগুলো ঠিকমতো ও সময়মতো বাস্তবায়ন করতে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ। এম তারিক আহসান: আপনাকেও ধন্যবাদ।
8
চীনে জন্মহার বাড়াতে সন্তান গ্রহণের নীতি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে চীনে দম্পতিরা তিন সন্তান নিতে পারবেন। সরকার চাইছে দেশটিতে জন্মহার বাড়াতে। তবে আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা মুডিস ইনভেস্টর সার্ভিস আজ সোমবার বলেছে, এই নীতি গ্রহণের ফলে চীনে জন্মহারে নাটকীয় কোনো বদল আসার সম্ভাবনা কম। এর আগে ৩১ মে চীন ঘোষণা দেয়, এখন থেকে দম্পতিরা তিনটি সন্তান নিতে পারবেন। চীন সরকার দেশটিতে আদমশুমারি চালিয়ে জানতে পেরেছে, দ্রুত দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এরপর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে কঠোর পরিবার পরিকল্পনা নীতির মধ্য দিয়ে গেছে চীন। ৪০ বছর ধরে দেশটিতে এক সন্তান নীতি ছিল। এ নীতি থেকে ২০১৬ সালে বেরিয়ে আসে চীন। এরপর থেকে দম্পতিরা দুটি সন্তান নিতে পারতেন। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও জনশক্তির কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে তিন সন্তান নীতি গ্রহণ করা হয়। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পার্টির পলিটব্যুরোর বৈঠকের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। কিন্তু এ প্রসঙ্গে মুডিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের এ নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে এশিয়ায় বয়স্ক ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদিও চীন জন্মহার বাড়ানোর জন্য এ নীতি গ্রহণ করেছে, কিন্তু এতে জন্মহারে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অর্থাৎ এর অর্থ হলো, বয়স্ক মানুষ বৃদ্ধির যে হার, তা থেকে এখনই বেরিয়ে যেতে পারবে না চীন।
3
টস জিতে ফিল্ডিং নেয়াটা যেন নিয়মে পরিণত হয়ে গিয়েছে চিটাগং ভাইকিংসের। গত ম্যাচেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ফলাফলটা ছিল ভয়াবহ। ৭২ রানের বড় ব্যবধানে রংপুর রাইডার্সের কাছে হারে তারা। আজও টস জিতে রাজশাহী কিংসকে ব্যাট করতে পাঠায় রংপুরের মতো তারাও বড় স্কোর গড়ে। ফলাফল হার। ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে ইনিংস শেষ হয় ১৯১ রানে। সাত রানে হারে চিটাগং ভাইকিংস। এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচে হারের পরও শীর্ষস্থান অক্ষুন্ন রয়েছে তাদের। রাজশাহীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে শুরুতেই ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্টকে হারায় চিটাগং। সাত রানেই সাজঘরে ফিরেন তিনি। কিন্তু আরেক ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ চার-ছক্কার ঝড় তুলে দ্রুত দলের সংগ্রহ বাড়িয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় তার সঙ্গী হিসেবে ছিলেন ইয়াসির আলি। ২২ বলে শেহজাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ যখন ৪৯ রান, তখন রাজশাহীর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়ে মাঠ ছাড়েন। ১ রানের জন্য আফসোস রয়ে গেলো শেহজাদেরে। তবে তার সঙ্গী ইয়াসির কিন্তু ঠিকই হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেছেন। ৩৮ বলে সাতটি বাউন্ডারি ও দুটি ছক্কায় ৫৮ রান করে আরাফাত সানির বলে ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ২০ বলে ২২ রান করে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে সাজঘরে ফিরেন। সিকান্দার রাজা ১৫ বলে ২৯ রান করেন। শেষ ওভারে চিটাগংয়ের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। কিন্তু প্রথম বলেই সাজঘরে ফিরে যান রাজা। এরপর টেলএন্ডারদের পক্ষে আর 'আনলাকি থার্টিন'কে লাকি করে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সাত রানে হার মানতে হয় চিটাগংকে। সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করে মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে সন্ধ্যায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রাজশাহী কিংস। শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে তাদের। ৫ ওভারেই ৫০ রান তুলে নেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও জনসন চার্লস। ৫ বাউন্ডারির ২৬ রান তুলে বিদায় নেন সৌম্য। তবে অর্ধশত করেই সাজঘরে ফিরেন অপর ওপেনার চার্লস। এরপর লোরি ইভান্স ৩৬ ও ক্রিশ্চিয়ান জোংকারের ৩৭ রানের সুবাদে ১৯৮ রানের বড় স্কোর গড়ে রাজশাহী। চিটাগংয়ের খালেদ আহমেদ সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন।
12
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণায় উৎসাহ বাড়াতে এবার আরও ৭৭ গবেষককে অনুদান হিসেবে ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছে খুবি কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার বিকেলে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষকদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে গবেষকদের হাতে চেক তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাহমুদ হোসেন।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২২ জন পিএইচডি, ৫ জন এমফিল এবং ৫০ জন মাস্টার্স প্রোগ্রামে গবেষণা অনুদান পেয়েছেন।চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, 'গবেষণা ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। গবেষণা ছাড়া একটি দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো অবস্থানে এগিয়ে নিতে গবেষণা বাড়ানো জরুরি।' তিনি আরও বলেন, গবেষণার আগ্রহ থাকলেও অনেক সময় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং ভালো তত্ত্বাবধায়কের অভাবে অনেক সময় গবেষণা শেষ করা সম্ভব হয় না। এ অনুদান গবেষকদের মাঝে উৎসাহ জোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উপাচার্য সবাইকে গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার জন্য আহ্বান জানান এবং গবেষণার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে গবেষণার অর্থ আরও বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সহউপাচার্য ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন ড. এ আর এম মোস্তাফিজার রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন চারুকলা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ।অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে বক্তব্য দেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ও পিএইচডি গবেষক মোল্লা আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডিনদের স্ব স্ব স্কুলের গবেষণা অনুদানপ্রাপ্তদের পরিচয় করিয়ে দেন। গবেষণা অনুদান দেওয়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক ও অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।এর আগে চলতি বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২ গবেষককে ২ কোটি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
6
ঢাকা: দেহতাত্ত্বিকেরা বলেন-'যা নেই ভাণ্ডে, তা নেই ব্রহ্মাণ্ডে।' কথাটা একটু হেঁয়ালিপূর্ণ নিশ্চিতভাবে। কিন্তু এই হেঁয়ালির জটগুলো খুলতে শুরু করলেই নড়চড়ে বসতে হয়। এই যেমন আজকের দিনের সবচেয়ে আলোচিত করোনাভাইরাসের টিকা বা ভ্যাকসিন, তার যে কর্মপন্থা, তার মূল নির্দেশনা আদতে আছে দেহের ভেতরেই।মানুষের দেহ এমন এক দুর্গ, যেখানে বাইরে থেকে আসা যেকোনো কিছুকেই সন্দেহের চোখে দেখা হয়; চেষ্টা করা হয় প্রতিহতের। কিন্তু যদি এমন কোনো শত্রু এসে ঢুকে পড়ে, যার সম্পর্কে আগে থেকে জানা-বোঝা নেই, তবে পড়তে হয় বিপাকে। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই হয়েছে। পাহারাদারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই ভাইরাস ঢুকে পড়েছে মূল দেহ-দুর্গে। শুধু ঢুকেই ক্ষান্ত হয়নি সে। অতি ধুরন্ধর এই ভাইরাস প্রতিনিয়ত নিজেকে বদলে নিয়ে নাকাল করছে দেহের ভেতরে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের।কথা হলো এই প্রহরী বা নিরাপত্তারক্ষী আদতে কারা? রক্তের মধ্যেই আছে এই পাহারাদারেরা। এই রক্তের কাজকর্ম অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা নানা বাহিনীর মতোই। এর মধ্যে থাকা তিন ধরনের কোষের কাজ একেবারে নির্দিষ্ট। এই তিন ধরনের কোষ হচ্ছে শ্বেত রক্তকণিকা, লোহিত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা। এর মধ্যে শ্বেত রক্তকণিকাকে নিখাদ সৈনিক বলা যায়। শরীরকে বহিঃশত্রু থেকে রক্ষা করাই তার একমাত্র ব্রত। আর লোহিত রক্তকণিকাকে বলা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেই দল, যে খাবারসহ নানা রসদ সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে। শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ থেকে শুরু করে শরীরের জন্য অতি জরুরি কিছু উপাদান বহনের কাজটি এই রক্তকণিকা করে। বাকি থাকে অণুচক্রিকা। এই রক্তকণিকা হচ্ছে সেই জরুরি সেবা ইউনিট, যে ক্ষত সারাতে এবং শরীরের শুশ্রূষা দিতে নিযুক্ত থাকে সব সময়।করোনাভাইরাস থেকে শুরু করে যেকোনো ভাইরাস বা জীবাণু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যে মুখ্য ভূমিকাটি রাখে, সে হলো শ্বেত রক্তকণিকা। এই শ্বেত রক্তকণিকারও আবার আছে নানা প্রকারভেদ। এগুলো হলো নিউট্রোফিল, লিম্ফোসাইট, ইওসিনোফিল, মনোসাইট ও ব্যাসোফিল। এদের একেকজনের দক্ষতা একেক রকম। এদের লড়াইয়ের কৌশলও আলাদা। অনেকটা ওই যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সেনা সমাবেশের মতো বিষয়।স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের তথ্যমতে, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাককে নিকেশ করার দায়িত্বটি নিউট্রোফিলের ওপর। বাইরে থেকে কোনো শত্রু শরীরে প্রবেশ করতে চাইলে শ্বেত রক্তকণিকার এই অগণিত সেনা সমাবেশকে ডিঙিয়েই যেতে হবে। এর পরেই রয়েছে লিম্ফোসাইটের প্রাচীর। এরা অ্যান্টিবডি তৈরি করে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ সম্ভাব্য সব ক্ষতিকর কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করে। রয়েছে ইওসিনোফিলের মতো অভিজ্ঞ কোষেরা, যারা বিভিন্ন অণুজীব ও ক্যানসার কোষকে হত্যা করে। বাকি থাকল মনোসাইট ও ব্যাসোফিল। শ্বেতকণিকায় থাকা পাঁচ ধরনের কোষের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ আয়ুষ্কাল রয়েছে মনোসাইটের। এরা মুখ্যত ব্যাকটেরিয়া প্রতিহতে কাজ করে। আর ব্যাসোফিল মূলত সেই ঘণ্টাবাদক, যে যেকোনো বহিঃশত্রুর অণুপ্রবেশ টের পেলেই নিজের সবটা শক্তি দিয়ে সতর্ক সংকেতটি বাজায়।তাহলে এই যে শরীর, তা এই বাইরের দুনিয়া থেকে আলাদা হলো কী প্রকারে? এই শরীরে ভেতরে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও কাজ করে চেনা পৃথিবীর অন্যসব নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো করেই। বিভিন্ন ধরনের শ্বেত রক্তকোষ বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্বেত রক্তকণার লিম্ফোসাইট কোষগুলোই সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। সঙ্গে মনোসাইট ও নিউট্রোফিলসের ব্যস্ততাও কম নয়। এই মূল পাঁচ ধরনের কোষের মধ্যে কিছু কোষ আবার বহিঃশত্রুকে একেবারে গিলে ফেলতে ভালোবাসে। এরা হলো ম্যাক্রোফাজ। জীবাণুর সঙ্গে লড়াই-টড়াই নয়, ম্যাক্রাফাজ জীবাণুকে একেবারে গিলে ফেলে। এখানেই ক্ষান্ত হয় না তারা। জীবাণুর একটি উপাদানকে রক্তে ছড়িয়ে দেয় ম্যাক্রোফাজ, যাকে বলা হয় অ্যান্টিজেন। শরীর অ্যান্টিজেনকে বিপজ্জনক বিবেচনা করে এর বিপক্ষে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার জন্য অ্যান্টিবডিগুলোকে সক্রিয় করে তোলে। আর এই সক্রিয় করার কাজটি করে বি লিম্ফোসাইট। রক্তে ছড়িয়ে পড়া অ্যান্টিজেনকে ধ্বংসের জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে বি-লিম্ফোসাইট। এই কাজ যখন চলে, ঠিক তখন গোটা দেহে সাঁড়াশি অভিযান চালায় টি-লিম্ফোসাইট। এটি এরই মধ্যে আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলে।আমরা কখন কোনো একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কাবু হই? এর উত্তর খুব সোজা। এই বি-লিম্ফোসাইট ও টি-লিম্ফোসাইট কোষগুলো যদি অ্যান্টিজেন ও ভাইরাসের কারণে আক্রান্ত কোষগুলোকে চিনতে না পারে, তবেই আমরা কাবু হই। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও ঠিক এ ঘটনাই ঘটেছে। অধিকাংশ মানুষের শরীরের সুরক্ষা প্রাচীরকে ফাঁকি দিতে পেরেছে এই নতুন করোনাভাইরাস। ফলে শরীরের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা কোষগুলোকে এখন প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। এই প্রশিক্ষণের কাজটি করার জন্যই আনা হচ্ছে ভ্যাকসিন।ভ্যাকসিন বা টিকা কীভাবে কাজ করে?প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে দেওয়ার জন্য একেক ধরনের ভ্যাকসিন একেকভাবে কাজ করে। তবে সব ধরনের ভ্যাকসিন একটি সাধারণ কাজ করে। সেই সাধারণ কাজটি হলো- ভ্যাকসিন শরীরে মেমোরি টি-লিম্ফোসাইট ও মেমরি বি-লিম্ফোাসাইট কোষ তৈরি করে রাখে। ফলে ভাইরাসটির বিপক্ষে ভবিষ্যতে কীভাবে লড়াই করতে হবে, তা শরীরের জানা থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকা নেওয়ার পর শরীরের টি-লিম্ফোসাইট ও বি-লিম্ফোসাইট তৈরি করার জন্য কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। ফলে করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার কিছু আগে বা কিছু পরেও করোনা হতে পারে। কারণ ভ্যাকসিন শরীরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে দেওয়ার মতো যথেষ্ট সময় তখনো পায়নি। অনেক সময় প্রতিরক্ষা তৈরির সময় কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে। যেমন জ্বর হতে পারে। এটা নির্দেশ করে যে শরীরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। তাই টিকা নেওয়ার পর গা-ব্যথা বা জ্বর হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কত ধরনের ভ্যাকসিন?কর্মপদ্ধতি ভেদে ভ্যাকসিন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত চার ধরনের ভ্যাকসিন এসেছে। গোটা বিশ্বে করোনা টিকাগুলোর মধ্যে ভেক্টর ভ্যাকসিনই এখন সবচেয়ে বেশি অনুমোদন পেয়েছে এবং প্রয়োগও হচ্ছে।ভেক্টর ভ্যাকসিনএ ধরনের ভ্যাকসিন বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের রূপান্তরিত ধরন ধারণ করে। কোভিড-১৯ রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল এই মডিফায়েড ভার্সনের ভাইরাসের শেলের মধ্যে থাকে। একে বলা হয় ভাইরাল ভেক্টর। সিডিসি বলছে, টিকা গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই ভাইরাল ভেক্টর আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এটি শরীরের এক-একটি কোষের কোষীয় জৈব প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়ে এবং কোভিড-১৯ সৃষ্টিকারী স্পাইক প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিন কোষটির গায়ে লেবেল আকারে যুক্ত হয়ে যায়। এই চিহ্ন দেখে শরীরের প্রতিরক্ষা কোষগুলো একে বহিঃশত্রু হিসেবে বিবেচনা করে। এই প্রোটিনগুলোকে ধ্বংসের জন্য শরীর টি-লিম্ফোসাইট ও বি-লিম্ফোসাইট তৈরি করে।এই স্মৃতি ভ্যাকসিনের মাধ্যমে পেয়ে শরীরে তৈরি হয় মেমোরি টি-লিম্ফোসাইট ও মেমোরি বি-লিম্ফোসাইট কোষ। ফলে ভবিষ্যতে যখন স্পাইক প্রোটিনসমৃদ্ধ কোভিড-১৯ ভাইরাস আক্রমণ করে, তখন এই কোষগুলো তা প্রতিহত করে।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা, রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি, জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি টিকা- এ সবগুলোই ভাইরাল ভেক্টর ধরনের।এদিকে চীনের সিনোফার্মের তৈরি সিনোভ্যাক টিকাটি মূলত মৃত ভাইরাসের সমষ্টি। শরীরে মৃত ভাইরাস ঢুকিয়ে এর তথ্যটি নিরাপত্তারক্ষীদের জানা দেওয়া হয়। ভারতের ভারত বায়োটেক কোম্পানির তৈরি কোভ্যাকসিনও মৃত ভাইরাস ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোও আদতে ভাইরাল ভেক্টর ধরনের ভ্যাকসিন।এমআরএনএ ভ্যাকসিনমেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ ভ্যাকসিন প্রযুক্তি তুলনামূলক বেশ নতুন। ফাইজার এবং মডার্নার তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনই প্রথম এমআরএনএ প্রযুক্তির ভ্যাকসিন হিসেবে মানুষের শরীরে প্রয়োগের অনুমোদন পেয়েছে।এমআরএনএ ভ্যাকসিন নিলে এটি কোষের মধ্যে ঢুকে চাতুরি করে শরীরকে নির্দোষ বা নিরীহ স্পাইক প্রোটিন তৈরি করতে উৎসাহিত করে। এই প্রোটিন কোষের গায়ে লেবেল আকারে থাকে। প্রতিরক্ষা কোষগুলো তখন একে বহিরাগত পদার্থ (ফরেন বডি) হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই প্রোটিনগুলোকে ধ্বংসের জন্য শরীর টি-লিম্ফোসাইট ও বি-লিম্ফোসাইট তৈরি করে। যেহেতু কোষটির গায়ে লেবেল আকারে প্রোটিনগুলো থাকে, তাই টি-লিম্ফোসাইট ও বি-লিম্ফোসাইট সংশ্লিষ্ট কোষটিকে ধ্বংস করে। এই কার্যক্রমের স্মৃতি আবার মেমোরি টি-লিম্ফোসাইট ও মেমোরি বি-লিম্ফোসাইট কোষে সংরক্ষিত থাকে, যা ভাইরাসটির পরবর্তী সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না এবং বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের বঙ্গটেক এমআরএনএ প্রযুক্তির ভ্যাকসিন।প্রোটিন সাব-ইউনিট ভ্যাকসিনএই ভ্যাকসিন ভাইরাসের সেই প্রোটিন দিয়ে তৈরি, যা কোনো ক্ষতি করে না। টিকার মধ্য দিয়ে শরীরে এই প্রোটিন ঢুকে যায়। তখন শরীর সিদ্ধান্ত নেয় এই প্রোটিন শরীরে থাকা যাবে না। ফলে শরীর টি-লিম্ফোসাইট ও অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই টি-লিম্ফোসাইট ও অ্যান্টিবডি ভবিষ্যতে করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে প্রতিরক্ষা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের নোভাভ্যাক্স হচ্ছে প্রোটিনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ভ্যাকসিন। সানোফি-গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের যৌথ উদ্যোগে আরেকটি প্রোটিনভিত্তিক ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে।তবুও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবেনিজেকে ও অন্যকে কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত রাখতে ভ্যাকসিনেশন অনেকগুলো উপায়ের একটি। টিকা নিলেও ভিড় এড়ানো, নিয়মিত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, এই কোভিড-১৯ বিষয়টি এখনো নতুন। মানুষ গবেষণার মাধ্যমে প্রতিনিয়তই শিখছে এই রোগটির বিষয়ে। তাই টিকা নেওয়ার পরও সব ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।বিভিন্ন নতুন ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন কাজ করে কি?আরএনএ কোড, ভাইরাসের জেনেটিক কোড, প্রোটিনের কোড- এই পুরো ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়ায় সম্মিলিতভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে ভাইরাস ধ্বংসে ভূমিকা রাখে। মিউটেশনের কারণে ভাইরাসের জেনেটিক কোড বা সিকোয়েন্সে পরিবর্তন হয়। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়া তখন ব্যাহত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভাইরাসটির বিপক্ষে টিকার কার্যকারিতা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনটি একেবারেই অকার্যকর হয়ে পড়ে।
11
নির্বাচনে চুরি করার চেষ্টা করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হারলেও হোয়াইট হাউজ ছাড়বেন না এমন অভিযোগ ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের। তেমন কিছু হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেখানে বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দলের বাইডেন। করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার না হলেও দুজনের কথার লড়াই চলছে বেশ ভালোভাবে। মেতে ট্রাম্পের নির্বাচন সংক্রান্ত এক মন্তব্য নিয়ে ৭৭ বছর বয়সী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, 'এই মানুষ বলেছিলেন, মেইল ইন ব্যালটে জালিয়াতি হবে।' এমনকি ট্রাম্প নির্বাচনে না জিতলেও হোয়াইট হাউজেই থেকে যাবেন এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাইডেন। শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে স্বস্তিই দিলেন, 'আচ্ছা আমি যদি না জিতি, আমি যদি না-ই জিতি। আমি কী বলতে চাচ্ছি আপনারা জানেন, জীবন চলে যাবে। অন্য কিছু করব।' বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ক্রমশই জটিল আকার ধারণ করছে। এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিতে আপত্তি জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) কাছে অভিযোগ করেছে ভারত। খবর এনডিটিভির। সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত আইসিএও নির্দেশিকা অনুসারে ওভারফ্লাইট ছাড়পত্র চাওয়া হয়, এবং অন্যান্য দেশগুলি স্বচ্ছন্দে এই আবেদন মঞ্জুর করে এবং ভারতের পক্ষ থেকেই এ জাতীয় ওভারফ্লাইট ছাড়পত্র অব্যাহত রাখা হয়। কিন্তু পাকিস্তানের এই অস্বীকৃতি নিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি রোববার ঘোষণা করেন, ইসলামাবাদ নরেন্দ্র মোদির বিমান চলাচলের বিষয়ে পাক-আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য নয়াদিল্লির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, ভারতের হাইকমিশনার অজয় বিসারিয়াকে লিখিতভাবে ইসলামাবাদ এই সিদ্ধান্ত জানাবে। পাকিস্তান এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বিমানকে তাদের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের ইউরোপ সফরের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও অস্বীকার করেছিল দেশটি। বালাকোটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বোমা ফেলার পর থেকেই পাকিস্তান ভারতের জন্যে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। গত ২৭ মার্চ নয়াদিল্লি, ব্যাংকক এবং কুয়ালালামপুর ছাড়া সমস্ত বিমানের জন্য পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা খুলে দেয়। এরপর ১৫ মে পাকিস্তান ভারতীয় বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ায়। কিন্তু ১৬ জুলাই সমস্ত অসামরিক বিমান চলাচলের জন্য আকাশসীমা পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয় পাকিস্তান। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে বাতিল করে রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার ঘোষণার পর থেকেই পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
3
হৃতিক রোশনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আর মাধবন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণী সুপারস্টার জানিয়েছেন যে, তিনি সবধরনের ছবিতে অভিনয় করতে চান। ঠিক হৃতিক রোশন যেমন ভার্সেটাইল অভিনেতা, তেমনই। এমনকী, 'সুপার ৩০' অভিনেতার মতো শারীরিকভাবে ফিটও হতে চাইছেন মাধবন, যাতে কিনা বলিউডসুন্দরী ক্যাটরিনা কাইফের বিপরীতে হিরোর চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন।'বিক্রম বেদা' ছবিতে হৃতিক রোশনের লুক প্রকাশ হওয়ার পরেই মাধবন তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অভিনেতা জানান, আমি বরাবরই হৃতিকের প্রশংসা করি। আমরা প্রায় একই সময়ে ফিল্মি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। আর ও দেখতে এখনও গ্রীক গডের মতোই। অ্যাকশন দৃশ্যেও চমৎকার। কিন্তু শুধু চাইলেই তো আমি আর এরকম সব ছবিতে অভিনয় করতে পারি না। ক্যাটরিনার বিপরীতে অভিনয় করতে হলে আমাকে হৃতিকের মতো ফিট হতে হবে। পাশাপাশি মাধবন জানান যে, তিনি তাঁর আসল জায়গায় জোর দেন। ছবির স্ক্রিপ্ট, গল্প এবং তাঁর চরিত্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ১০ জানুয়ারি নিজের জন্মদিনে 'বিক্রম বেদা'র লুক প্রকাশ করেছিলেন হৃতিক। তামিল ছবি 'বিক্রম বেধা'র হিন্দি রিমেক এটা। আসল ছবিতে বিক্রমের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মাধবন। তবে হিন্দি রিমেকে এই চরিত্রে দেখা যাবে সাইফ আলি খানকে। আর হৃতিক অভিনয় করেছেন 'বেদা'র চরিত্রে, তামিল ছবিতে যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয় সেতুপতি।হৃতিকের সেই লুক দেখেই মাধবন বলেছিলেন, 'আরে এই তো বেদা। আমি এই ছবি দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। দারুণ হৃতিক রোশন।'
2
২০২১ সাল নানা ঘটনায় দেশ-বিদেশে আলোচিত-সমালোচিত ছিল কুমিল্লা। বর্ষসেরা চরিত্র ছিল গদা ইকবাল। এ চরিত্রটি সাড়া ফেলেছিল দেশ ছেড়ে দেশের বাইরেও। এর পাশাপাশি একজন জনপ্রিয় কাউন্সিলর ও তাঁর এক সহযোগীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা। আর অমানবিকতার পাশাপাশি কিছু মানবিকতার ঘটনা ঘিরে আছে বিদায়ী বছরে।বর্ষসেরা চরিত্র গদা ইকবাল: গত ১৩ অক্টোবর সকালে কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির পাড়ে শারদীয় দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ থেকে পবিত্র কোরআন শরিফ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে দেশব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় এক শ মামলায় আসামি হয়েছেন কয়েক হাজার। ২১ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। পূজামণ্ডপে কুরআন রেখে হনুমানের গদা নিয়ে বের হয়ে আসার পর থেকেই স্থানীয়দের কাছে তিনি গদা ইকবাল নামে পরিচিত।কুসিক কাউন্সিলরসহ জোড়া খুন: প্রকাশ্যে গুলি করে কুমিল্লা সিটি কাউন্সিলর সোহেলসহ সহযোগী হরিপদ সাহাকে ২২ নভেম্বর বিকেলে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম গত ২ ডিসেম্বর এবং এর আগে ৩০ নভেম্বর গভীর রাতে ৩ নম্বর আসামি সাব্বির হোসেন ও ৫ নম্বর আসামি সাজন পুলিশের সঙ্গে পৃথক 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হন।কুমিল্লা বিভাগ: ২১ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে আরও দুটি বিভাগ হবে। কুমিল্লা বিভাগ হবে মেঘনা নামে। এর পরপরই কুমিল্লার আলোচিত বিষয় হয়ে উঠে বিভাগ ঘোষণার বিষয়টি। তবে বিভাগের নাম নিয়ে শুরু হয় নানান জনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কুমিল্লা নামেই বিভাগ চায় কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লা নামে বিভাগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানান তাঁরা।কুসিকের বড় প্রকল্প: কুমিল্লার বিভিন্ন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় খুশি নগরবাসী। ৭ ডিসেম্বর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে ১৫ তলা বিশিষ্ট আধুনিক নগরভবন, হাতির ঝিলের আদলে করা হবে পুরোনো গোমতী নদীকে, ৬ তলা বিশিষ্ট দুটি সেবক কলোনিসহ নানা উন্নয়ন, আধুনিকায়নে এক ধাপ এগিয়ে যাবে কুমিল্লা নগরী।ঝড়ে পড়ল ৬০ হাজার শিক্ষার্থী: মহামারি করোনার প্রভাবে ২০২১ সালে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ঝড়ে পড়ল ৬০ হাজার শিক্ষার্থী।করোনায় গেল ৯৫৪ প্রাণ: মহামারি করোনায় কুমিল্লায় প্রাণ গেল ৯৫৪ জনের। এ পর্যন্ত করোনায় ৩৯ হাজার ১১৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত। সুস্থ হয়েছেন ৩৭ হাজার ৯১০ জন।যাঁদের হারিয়েছি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সাংসদ সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু ১৪ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। এ আসনের সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস মারা গেছেন ২৭ মার্চ। ৩০ জুলাই চান্দিনা আসনের সাংসদ অধ্যাপক আলী আশ্রাফ মারা যান। ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেত মজুমদার মারা গেছেন। ১৬ নভেম্বর জেলা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধুর সহচর অধ্যক্ষ আফজল খান মারা গেছেন।
6
জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক শেষে যৌথ ভাবে এমনটাই দাবি করলেন বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার জন্য সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক শেষে বিরোধীদের হয়ে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, আমাদের পাঁচটি দাবি ছিল। অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিধানসভা নির্বাচন করাতে হবে, সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীরের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লাহ্, ওমর আবদুল্লাহ্ ও মেহবুবা মুফতি উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। এ ছাড়া কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারাও হাজির ছিলেন। বৈঠকে সব বিরোধী দল বিধানসভা নির্বাচনের আগে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন।
3
উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে আরও ১০ লাখ ভ্যাকসিন দিচ্ছে চীন। আর এ মাসেই জাপান কোভ্যাক্সের আওতায় ২৯ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এসব জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
6
দলছুট বন্যহাতিকে বনে ফেরাতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মো. রহমত উল্লাহ (২৮) নামে বনবিভাগের এক ভিলেজার নিহত হয়েছেন। এ সময় ওই বন্যহাতি বেশকিছু বাড়ি ভাংচুর ছাড়াও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে দলছুট বন্যহাতিটি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভেওলা মানিকচর (বিএমচর) ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকার খিলছাদকে এ তাণ্ডব চালায়। এদিকে দলছুট বন্যহাতিকে বনে ফেরাতে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ ও বনবিটের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চকরিয়া থানা পুলিশের পৃথক টিম কাজ করছে। নিহত মো. রহমত আলী ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রিংভং ছগিরশাহকাটা এলাকার আবদুস সালামের ছেলে। তিনি ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের অধীনে ভিলেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হান্নান বলেন, ভোররাতের দিকে একটি দলছুট বন্যহাতি বিএমচরের পাহাড়িয়া পাড়ার সবজি ক্ষেতে অবস্থান করছিল। সকালে কৃষকরা মাঠে গেলে বন্যহাতিকে দেখতে পায়। এসময় স্থানীয় উৎসুক জনতা এলাকায় হাতি এসেছে খবর পেয়ে ভিড় করে। পরে খবর পেয়ে সাফারি পার্ক, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ ও বনবিটের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। এসময় দলছুট বন্যহাতিকে তাড়ানোর জন্য বনবিভাগের ভিলেজার রহমত আলী খড়ে আগুন লাগিয়ে ওই হাতির দিকে নিক্ষেপ করে। পরে হাতিটি ফিরে এসে ভিলেজার রহমতকে পা দিয়ে পিষ্ট করে আহত করে। বনবিভাগ ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিএমচরের বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমদ রাজিব বলেন, দলছুট বন্যহাতিটি সকাল থেকে এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের কর্মকর্তা মো.মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তা ও ভিলেজারদের নিয়ে হাতিটিকে বনে ফেরাতে গেলে পায়ে পিষ্ট হয়ে বনবিভাগের ভিলেজার রহমত আলী মারা যায়। হাতিকে বনে ফেরাতে এখনও চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
6
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) খেলায় হারজিত নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এক চা দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মো. ফারুক (৩৭)। এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন জেসমিন আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন।গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার আমান বাজার জয়নাব ক্লাবের পশ্চিম পাশের নাজিম কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, নিহত ফারুক পরিবার নিয়ে কলোনিতে ভাড়া থাকতেন। তার বাবার নাম কোরবান আলী ফোকাস বাচ্চু। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায়।ঘটনার খবর পেয়ে মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মইনুদ্দিন চিশতী নামে একজনকে আটক করেছে মডেল থানা-পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, আইপিএল খেলার হারজিত নিয়ে মঙ্গলবার রাতে চা দোকানি ফারুকের সঙ্গে ফয়সালের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ফয়সাল দলবল নিয়ে প্রথমে ফারুকের চা দোকানে এবং পরবর্তীতে বাসায় হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের হাতে থাকা লাঠিসোঁটা ও তাদের উপর্যুপরি কিল ঘুষির আঘাতে ফারুক ও তার বোন জেসমিন আহত হয়। আহত অবস্থায় ফারুককে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী হাটহাজারী থানা উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'গত মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে ১টার মধ্যে আমান বাজারের জয়নাব ক্লাবের পশ্চিম পাশে নাজিম কলোনির ভাড়া বাসায় ফয়সাল ও ফারুক নামের দুই যুবকের মধ্যে মারামারি হয়। মূলত আইপিএল খেলা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার মূল হোতা ফয়সাল এখনো গ্রেপ্তার হননি।'আজ বুধবার বিকেলে হাটহাজারী মডেল থানা ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক মো. বেলাল আজকের পত্রিকাকে জানান, নিহত ফারুকের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি।নিহত ফারুকের মা সুরমা বেগম বলেন, 'আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করছি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করব।'হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'ক্রিকেট (আইপিএল) খেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ফারুক নামে চা দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলা তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
বর্তমান সংসদে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর এবং এক নায়কতন্ত্র কায়েম হয়েছে, এখানে বিরোধী দলের কোনো কথা বা সুপারিশ গ্রহণ করা হয় না, বিরোধী দলের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। সরকার যা চায় সে হিসেবে পার্লামেন্টের কার্যক্রম চলে বলে মন্তব্য করেছেন একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জি এম কাদের। আজ সোমবার (১৭ মে) ভোরের কাগজকে তিনি এ মন্তব্য করেন। জিএম কাদের বলেন, বাজেট দিচ্ছে সরকার কিন্তু এখানে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। এমনকি বাজেট নিয়ে আলোচনায় আমরা কিছু প্রস্তাব করি বা সুপারিশ করি, তা গ্রহণও করা হয়না। তাছাড়া সংসদে আইন পাশের ক্ষেত্রেও আমরা কিছু সংশোধনী দিলে তাও নেয়া হয়না। বর্তমানে সংসদ একেবারে একক শাসনতন্ত্র অনুযায়ী চলে, একক কর্তৃত্ববাদ, সেখানে অন্য কোনো দলের মতামত গ্রহণ করা হয় না, আমরা বিরোধী দলে থেকে নামকে ওয়াস্তে সংসদে চিৎকার চেচাঁমেচি করি, কোনো লাভ হয় না। তাছাড়া সংবিধানেও সরকার প্রধানকে সর্বময় ক্ষমতা দিয়েছে, তাই আমরা বিরোধী দলের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। আমরা নামকে ওয়াস্তে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করি। তাছাড়া আমাদের সংসদে কথা বলার সুযোগও কম, আবার যা বলা হয়, তা যথাযথ হলেও গ্রহণ করা হয় না। সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কোনো মর্যাদা বা মতামত বা কোনো বিষয়ে আলোচনার কোন সুযোগ নেই।
6
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে ধরতে পাকিস্তানের আরও কমপক্ষে ১২ বছর সময় লাগবে। এ ছাড়া, শিক্ষা, মাতৃমৃত্যু হ্রাস, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ভারত থেকে এগিয়ে রয়েছে। দারিদ্র্যমোচন ও উন্নয়নে বাংলাদেশের এ সাফল্য সারা পৃথিবীতেই প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ১২ শতাংশে নামিয়ে আনতে কাজ করছে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) 'প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেট' নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট খুবই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। এবারের বাজেটে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন প্রদানে নিশ্চিয়তাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়েছে যাতে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি হয় এবং গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান করা যায়। কৃষি আধুনিকীকরণ ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এক্ষেত্রে সরকার নানামুখী ভুর্তকি দিচ্ছে। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি না পেলে প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে কোন সমস্যা হবে না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও বিরোধী দল হিসেবে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে পরাজিত করে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন হয়। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
বলিউডে সালমান খানকে বলা হয় 'হিট মেশিন'। সেই সালমান খান এবার ব্যাট হাতে ক্রিকেট মাঠেও চমক দেখালেন। বাঁ হাতে ব্যাট উঁচিয়ে অফ সাইড ও লেগ সাইড দু'দিক দিয়েই মাঠের বাইরে বল পাঠাচ্ছেন তিনি। 'ভাইজান' বলে কথা। তার ব্যাট যে ছক্কা হাঁকাবে, এটাই স্বাভাবিক। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, এখন প্রযোজক আলি আব্বাস জাফরের সিনেমা 'ভারত' নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি 'ভারত'-এর শুটিংয়ের ইউনিটির লোকজনের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় বলিউডের এই সুপারস্টারকে। সেই খেলার ভিডিও সোমবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন সালমান খান নিজেই। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রথম ডেলিভারিতেই বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন তিনি। তার পরের বলগুলিও গেল মাঠের বাইরে। তবে ভিডিয়োটি কিছুটা হলেও একপেশে। সেখানে শুধুই সালমানকে ব্যাট করতে দেখা যাচ্ছে। আসলে পুরো ঘটনায় তিনিই হিরো। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সালমান খান অভিনীত 'ভারত' ছবিটি এ বছরের ৫ জুন মুক্তি পাবে।
2
আগামী বছরের মধ্যেই নেত্রকোনার খালিয়াজুরী কীর্ত্তনখোলা বাঁধের ৭ কিলোমিটার অংশ স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার। বুধবার দুপুরে জেলার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীর কীর্ত্তনখোলা বেরিবাঁধের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের নানা প্রশ্নের উত্তরে একথা জানান কবির বিন আনোয়ার। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিন সরকার, জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফ এম মোবারক আলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকতসহ হাওর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা। নেত্রকোনা হাওর পরিদর্শন শেষে বিকেলে পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সোনার থাল হাওর পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার। এর আগে, সকালে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পর্যবেক্ষণমূলক মতবিনিময় সভা করেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিন নৌপথে বিলাসবহুল পর্যটকবাহী জাহাজ 'বে ওয়ান' আবার যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট থেকে রাত ১১টায় বে ওয়ান সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আগামীকাল শনিবার সেন্ট মার্টিন থেকে ফিরবে। চট্টগ্রাম থেকে সেন্ট মার্টিনে যাওয়া-আসাসহ ভাড়া জনপ্রতি সর্বনিম্ন চার হাজার টাকা। দুই থেকে চারজন থাকার বিলাসবহুল কেবিনের সর্বোচ্চ ভাড়া ৬০ হাজার টাকা। কাউন্টার ও অনলাইনে পাওয়া যাবে টিকিট। আগামী মাস থেকে সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময়সূচি ঠিক করে রেখেছে জাহাজটি পরিচালনাকারী কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। পর্যটন মৌসুমে জাহাজটির আবার সমুদ্রযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাটে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ বলেন, গত ডিসেম্বরে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিন রুটে বে ওয়ান চালু হয়। তবে করোনা মহামারির কারণে গত মার্চে চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এখন নতুন উদ্যমে চালু হলেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জাহাজটি পরিচালনায় এক দিনের জ্বালানি খরচ ২১ লাখ টাকা। আবদুর রশিদ বলেন, 'সরকার সহায়তা করলে বে ওয়ানের ১০ গুণ বড় জাহাজ এনে হাজিদের আনা-নেওয়া করতে পারব। আগে এক মাস লাগত হজে যেতে। এখন আট দিনে জেদ্দা পৌঁছাতে সম্ভব। জাহাজে হাজিদের কষ্ট হবে না। বিমানের চেয়ে জাহাজে পরিসর বেশি।' অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাহাজটি চলাচল বন্ধ থাকার সময় আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। জাহাজটিতে ১ হাজার ৮০০ আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘণ্টায় ১৮ থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম জাহাজটি। পর্যটকদের যে কেউ চাইলে আসা-যাওয়ার বা এক পথের টিকিট বুকিং দিতে পারবেন। ভাড়ার নতুন তালিকা অনুযায়ী, ইকোনমি ক্লাস চেয়ারে একবার যাওয়া বা আসার ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা। আসা-যাওয়া মিলে ভাড়া চার হাজার টাকা। বিজনেস ক্লাসে এক পথের ভাড়া ৩ হাজার টাকা, আসা-যাওয়া মিলে ভাড়া ৫ হাজার ৪০০ টাকা। বাংকার বেডের এক পথের ভাড়া ৪ হাজার ৪০০ টাকা, আসা-যাওয়া মিলে ৮ হাজার টাকা। ওপেন ডেকের এক পথে ৪ হাজার, আসা-যাওয়ার ভাড়া ৬ হাজার ৫০০ টাকা। আসা-যাওয়া মিলে দুজনের ভিআইপি কেবিন ৪০ হাজার টাকা, রয়্যাল কেবিন ৫৫ হাজার টাকা, ভিভিআইপি কেবিন ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৪ জনের ভিআইপি প্রেসিডেনশিয়াল প্লাস কেবিন বা ফ্যামিলি বাংকার কেবিন ৬০ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
0
চলতি মাস সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন-এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত 'ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ' শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানামুখি উদ্যোগ এবং জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে এ মাসের পর থেকে আমাদের দেশে এডিস মশা এবং ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, মশা নিধনে সরকার শুধু সিজন আসলেই কাজ শুরু করে এমন অভিযোগ ঠিক নয়। সরকার সারা বছর ধরেই মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। 'জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর, মশা নিধন বছর ভর' এই নীতি অনুসরণ করে মশার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসেই সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সভা করে স্ব স্ব দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া হয়। এর পর সবাই অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। এ ব্যাপারে কারো অবহেলা করার সুযোগ নেই। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে কেউ যদি সহযোগিতার জন্য আবেদন করেন তাহলে সেটি অবশ্যই বিবেচনায় নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই অত্যন্ত বেদনাদায়ক যা আমাদেরকে মর্মাহত করে। আমরা কেউ এ ধরণের মৃত্যু চাইনা। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে যারা মারা গেছেন তাদের কোন পরিবার সহযোগিতা চাইলে সেটা আমলে নেয়া হবে। মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নকর্মীরা নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে অর্থ উত্তোলন করছেন প্রশ্নের উত্তরে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য সুপারভাইজার বা পরিদর্শক অথবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে নিয়োগ করার জন্য সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে এবং তারা তা করছে। কেউ যদি এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৃত্যু নিয়ে তথ্য বিভ্রাট তৈরি হচ্ছে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে যারা আক্রান্ত অথবা মৃত্যুবরণ করছেন তাদের তথ্য নিয়মিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হচ্ছে। একাধিক উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করায় শুধু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নাকি অন্য কোন কারণে মারা গেছেন এগুলো আইইডিসিআর থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়তো একটু সময় লাগতেছে, কিন্তু সব হাসপাতাল থেকে সঠিক তথ্য আসতেছে। মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কাজ করবে কিন্তু জনসম্পৃক্ততা লাগবেই। সবার অংশগ্রহণ ছাড়া যেকোনো কিছু মোকাবেলা করাই অসম্ভব। তাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এর থেকে উত্তরণ দুরূহ হবে না। আমি আশা করি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু থেকে নগরবাসী মুক্তি পাবে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিতর্কে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদ প্রদান।
6
কমপক্ষে ৩ বার, ১০ বার, ২৫ বার অথবা ৫০ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন এমন তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা জানিয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গোলাম দস্তদগীর গাজী বীরপ্রতীক। তিনি স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'তারা মানবিক বীর। রক্তদানের মাধ্যমে নীরবে তারা দেশের মানুষের উপকার করে যাচ্ছেন। তাদের ত্যাগের এই মানবিক দিকটা অনেক বড়, অনেক মহৎ।' এ সময় স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের হাতে সনদপত্র, বিশেষ আইডি কার্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। রক্তদাতাদের উৎসাহ দিয়ে গোলাম দস্তগীর গাজী আরও বলেন, 'রক্তদান শুরু করাটা একটা অভ্যাসের ব্যাপার। অভ্যাস হয়ে গেলে নিয়মিত রক্তদান মানবিক কাজের চমৎকার একটি মাধ্যম হয়ে যায়। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সেবামূলক কাজের পাশাপাশি রক্তদানের মাধ্যমে সেই প্ল্যাটফর্মই তৈরি করে দিচ্ছে। তারা আসলে দেশের জন্যেই কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের কল্যাণেই কাজ করে যাচ্ছে। এভাবেই সবার সহযোগিতায় আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।' অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের পক্ষে অনুভূতি বর্ণনা করেন নাজিয়া ফারহানা অনন্যা। আর নিয়মিত রক্তগ্রহীতাদের মধ্য থেকে অনুভূতির কথা জানান থ্যালাসেমিয়া রোগী রাকিবুল ইসলাম রুশো। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক (মোটিভেশন) এম রেজাউল হাসান। সভাপতিত্ব করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী। উল্লেখ্য, দেশে প্রতিবছর প্রায় আট লাখ ব্যাগ নিরাপদ ও সুস্থ রক্তের চাহিদা রয়েছে। রক্ত ঘাটতির বিপুল এ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই ১৯৯৬ সাল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কোয়ান্টাম। গত দুই দশকের প্রচেষ্টায় ১৩ লক্ষাধিক মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।
6
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনকে সহায়তায় সিলেটে নিয়মিত টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। সিলেট সেনানিবাসের (১৭ ইনফেন্টি ডিভিশন) টহল দল বিভাগের চার জেলায় প্রতিদিন টহল দিচ্ছে। এ সময় জনগণকে ঘরে থাকতে উদ্ভুদ্ধ করার পাশাপাশি হ্যান্ড মাইকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনও করা হচ্ছে। এসব কাজের পাশাপাশি সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জীবানুনাশকও ছিটাচ্ছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার সিলেট সেনানিবাসের উদ্যোগে নগরীর রেলওয়ে স্টেশন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় বিশেষ গাড়ির সাহায্যে জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সিলেট সেনানিবাস সূত্র জানিয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গণমাধ্যমে তথ্যদাতা কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মো. মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৮টা সশস্ত্র বাহিনীর টিম নগরীসহ সিলেট জেলার সব উপজেলায় টহল দিচ্ছে। সিলেট বিভাগের বাকি তিন জেলা ও উপজেলাগুলোতেও সেনাবাহিনীর টিম টহল দিচ্ছে। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সেনাবাহিনীর ১৫টি টিম সিলেট জেলায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। টহল দেওয়ার সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা হ্যান্ড মাইকের সাহায্যে কোন ধরণের গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শও দিচ্ছেন সেনা সদস্যরা। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় নানাধরণের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের অনেক এলাকায় লোকজন চা পান, আযান ও উলুধ্বনি দেন।
6
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, 'আগামী মাসগুলো বিএনপির জন্য পরীক্ষা। এখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার সমঝোতায় না আসলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোনো বিকল্প থাকবে না।' জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করে 'জিয়া নাগরিক ফোরাম'। মওদুদ আহমদ বলেন, 'একদিকে সরকার বলছে দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই দ্বিমুখী নীতির কারণেই খালেদা জিয়ার কারামুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি মুক্তি পাবেন। মুক্ত হয়ে জনগণের মাঝে আসবেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাংলাদেশে কোন সাধারণ নির্বাচন হবে না, হতে পারে না। কারণ এই নির্বাচন কখনোই দেশের মানুষ মেনে নেবে না।' তিনি আরও বলেন, 'যদি সরকার যদি মনে করেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করবেন। তাহলে তারা দিবাস্বপ্ন দেখছেন। এই স্বপ্ন কোনো দিন বাস্তবায়িত হবে না। সবকিছুরই একটা সীমা আছে। এই সরকার সেই সীমা পেরিয়ে গেছে।' সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দেশের জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে বলে দাবি করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, 'জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হলে বিএনপি জোট ও আওয়ামী লীগ জোটের আসন তফাৎ হবে ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিএনপি জোট ৭৫ শতাংশ আর আওয়ামী লীগ জোট ২৫ শতাংশ। এটাই হলো সত্যিকারের বর্তমান জনমত।' খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে দল ভাঙার সরকারের স্বপ্নপূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়ার কারাবন্দির কারণে তারা (সরকার) যে আশাটা করেছিল সেই আশাভঙ্গ হয়েছে। উনি (খালেদা জিয়া) বেরিয়ে আসুক আর কারাবন্দি থাকুক বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকবে। এই ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব সারাদেশে নেতা-কর্মীদের সংঘবদ্ধ করবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে।' তিনি বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ করে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভের উৎসব করা হয়েছে। যেখানে গণতন্ত্র নাই, সেখানে উন্নয়নশীলতা অর্থহীন। এর কোনো অর্থ বাংলাদেশের মানুষের কাছে নেই। কারণ যেদেশে বিচার, আইনের শাসন, নির্বাচিত সংসদ, গণতান্ত্রিক অধিকার থাকে না। যে দেশে বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে কারাবন্দি অবস্থায় রাখা হয়, সেদেশে উন্নয়নশীলতার ব্যাপারে দেশের মানুষ মোটেও সম্পৃক্ত হতে চায় না। তারা এই উন্নয়নশীলতার কোনো সুফল পায়নি এবং পাবে না।' সংগঠনটির সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ারের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
9
ইসরাইলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে সাময়িক বরখাস্ত হলেন যুক্তরাজ্যের ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর ব্যারিস্টার নাজির আহমদ। তিনি লন্ডন নিউহাম কাউন্সিলের লিটল ইলফোর্ড ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। 'ইসরাইল জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করার চেষ্টা করছে' বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে দেশটির অনেক রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি ইসরাইল বিরোধী মন্তব্য করে বরখাস্ত হয়েছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর ও ২৩ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গ্রাফিটি শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি ইসরাইলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন। যা জুইস নিউজে ও নিউহাম রেকর্ডারে রিপোর্ট করা হয়েছে। পোস্টের প্রায় ২ বছর পর ইংল্যান্ডে আইন পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সিলেটের এই কৃতিসন্তানকে বহিষ্কার করা হলো। প্রসঙ্গত, তিনি ২০১৮ সালে লিটল ইলফোর্ড ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ডেপুটি মেয়র নাজির আহমদ আইন পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য ফ্রিডম অফ দ্যা সিটি অব লন্ডন সম্মানের ভূষিত হন।
3
নেত্রকোণার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামে ঘর বিক্রির হিড়িক পড়েছে। সরকারি নিয়মনীতি না মেনে স্বচ্ছল ব্যাক্তিদের নামে গুচ্ছ গ্রামের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় তারা নিজস্ব লোকজনের কাছে ঘর বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনার অবদান, গৃহহীনদের বাসস্থান গুচ্ছ গ্রাম এর দ্বিতীয় পর্যায়(সিভিআরপি) ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়েনর ৫০ টি ভূমিহীন পরিবারের বাসস্থান নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এক শ্রেনির সুবিধাবাদী মহল নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে নিজেদের নামে ঘর বরাদ্দ নেয়। এখন টাকার বিনিময়ে সেই বরাদ্দকৃত ঘরগুলো ভূমিহীন পরিবারের কাছে বিক্রি করছে। সোমবার সরজমিনে গুচ্ছ গ্রামে গেলে গুচ্ছ গ্রাম কমিটির লোকজনসহ বসবাসকারী বাসিন্দারা জানান, হাসনপুর গ্রামের শামছু মিয়ার নামের বরাদ্দকৃত ঘর ৩০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন দেওসহিলা গ্রামের বেদেনা আক্তার। আবার ওই ঘর একই গ্রামের অলির নিকট ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় বেদেনা আক্তার। ফতেপুর রামগোপালপুরের পলাশ তার নামে বরাদ্দকৃত ঘর আলমশ্রী গ্রামের মৃত খালেকের স্ত্রী পুতুলা আক্তারের নিকট ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে, পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের স্বজল মিয়ার নামে বরাদ্দকৃত ঘর মূসা মিয়ার নিকট ২০ হাজার টাকায়, হাসনপুর গ্রামের হাসেম মিয়ার নামে বরাদ্দকৃত ঘর আলমশ্রী গ্রামের রিপনের নিকট ৪৪ হাজার টাকায়, ফতেপুর কুড়িবাড়ির রবিকুলের নামে বরাদ্দকৃত ঘর পশ্চিম ফতেপুরের উজ্জলের নিকট ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। যারা ক্রয় করেছে বর্তমানে তারাই ঘরে বসবাস করছে। আরো অনেক ঘর বিক্রির পায়তারা চলছে। সংশ্লিষ্টদের নজরদারীর অভাবে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে গুচ্ছগ্রামবাসীদের অভিমত। এ ছাড়া পান্জু মিয়া ও গুচ্ছ গ্রাম কমিটির ক্যাশিয়ার খাইরুল ইসলাম নিজেদের ইচ্ছে মতো গুচ্ছ গ্রামের রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখলে নিয়ে আধা পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করেছে। যা দেখে অন্য লোকজনও দোকান ঘর নির্মাণ করার পায়তারা করছে। এ সময় আলমশ্রী গ্রামের মৃত খালেকের স্ত্রী পতুলা আক্তার জানান, আমার কোনো জায়গা জমি না থাকায় রামগোপালপুর গ্রামের পলাশের কাছ থেকে গুচ্ছ গ্রামের ঘরটি ৩৫ হাজার টাকায় কিনে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। দোকান ঘর নির্মাণকারী পান্জু মিয়া ও খাইরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলেই পাকা করে দোকান ঘর নির্মাণ করেছি। ফতেপুর ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকমর্তা সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি গুচ্ছ গ্রাম নিয়ে বসে থাকি না। যদি কেহ জায়গা দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করে থাকে তা ভেঙ্গে দেয়া হবে। ঘর বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুচ্ছ গ্রামের ঘর বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই তবে যারা আধা পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করেছে তারা গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, গুচ্ছ গ্রামের ঘর বিক্রি করার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি কেহ বিক্রি করে থাকে প্রমাণিত হলে তার বরাদ্দ বাতিল হবে। সরকারি জায়গা দোকান ঘর নির্মাণ করা যাবে না। আমি এখনই এর যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
6
শনিবার দিনের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনাল অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে সুযোগ একেবারে হাতছাড়া হয়ে যায়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে শেষ চারে যাবে তারাও। তবে তাদেরকে জিততে হবে বড় ব্যবধানে। কারণ তিন দলের সমান ৮ পয়েন্ট হলেও নিট রান রেটে পিছিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। সে কথা মাথা রেখেই শনিবার রাতে শারজায় টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তান্ডব চালান প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংলিশ বোলারদের মধ্য মইল আলী ও আদিল রশিদ ১টি করে উইকেট তুলে নেন। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ১৯০ রান। এর আগে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথম ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি প্রোটিয়াদের। দলের সংগ্রহে ১৫ রান হতেই মঈন আলীর বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার রিজা হেন্ড্রিকস। তিনি ৮ বলে খেলে মাত্র ২ রান করেন। দ্বিতীয় উইকেটে নেমে রাসি ভ্যান ডার ড্যাসেন আরেক ওপেনার কুইন্টন ডি ককের সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন। দুই জনে মিলে প্রথমে ধরে খেললে, পরে মারমুখী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। তাদের ৭১ রানের জুটি ভাঙে ইনিংসের ১১.২ ওভারে। ইংলিশদের দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন লেগ স্পিনার আদিল রশিদ। ডি কক ২৭ বলে ৪ চারের মারে ৩৪ রান করে বাউন্ডারিতে তুলে মারতে গিয়ে লং অনে জেসন রয়ের তালুবন্দি হন। তবে তার বিদায়ে ম্যাচের গতিপথের কোনো সমস্যা হয়নি। ড্যাসেন ও এইডেন মারকারাম বরং হাত খুলেই তান্ডব চালাতে থাকেন। ১৩তম ওভারে দলীয় সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১০০ রানের ঘরে। চার ছয়ে ইংলিশ বোলারদের ব্যস্ত রেখে ফিফটি তুলে নেন ব্যান ডার ড্যাসেন। সেমিতে যেতে হলে বড় ব্যবধানে যেতে হবে, সে কথা মাথায় রেখেই ফিফটির পর আরো বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন ডাসেন। অপরপ্রান্তে তান্ডব চালাতে থাকেন মারকারামও। ইনিংসের ১৬তম ওভারে দুই ব্যাটসম্যান মিলে ক্রিস ওকসকে ৩টি ছক্কা হাঁকান। ইংলিশ অধিনায়ক মরগান একের পর এক বোলারের হাতে বল তুলে দিয়েও সাফল্যের দেখা পাচ্ছিলেন না। আগের ওভারে ২১ রান খরচার পর ১৭তম ওভারে মার্ক উড এসে দেন ১১ রান। তাতে ১৫০ জমা পড়ে প্রোটিয়াদের স্কোরবোর্ডে।
12
প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর লাখ লাখ গ্রাহক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। একইভাবে গ্রাহকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিনসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের কম দামে পণ্য কেনার ফাঁদে পড়া গ্রাহকদের এখন একটাই দাবি, যেকোনো মূল্যে তাঁরা টাকা কিংবা পণ্য ফেরত চান। কিন্তু কীভাবে তাঁরা টাকা ফেরত পাবেন, সে ব্যাপারে আইনজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, প্রতারিত গ্রাহকদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি-দুই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই আইনি প্রক্রিয়ায় টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। লোভনীয় দামে পণ্য কেনার ফাঁদে আটকে যাওয়া শত শত গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রতারক কোম্পানির সম্পত্তি ক্রোকের পর তা বিক্রি করার নতুন বিধান তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, 'প্রতারণার মাধ্যমে যেসব কোম্পানি মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকায় অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে, সেসব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে মানুষের টাকা মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিলে সবচেয়ে ভালো হবে। প্রতারক কোম্পানির সম্পত্তি ক্রোক করে তা বিক্রির জন্য আলাদা বিধান করা উচিত। বিদ্যমান আইনে কোনো মামলার আসামি দণ্ডিত হওয়ার পর সম্পত্তি ক্রোকের বিধান রয়েছে। কিন্তু ওই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।' প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল এবং তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিন। বর্তমানে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর আগে ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-অরেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া মেহজাবিনসহ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা গত ১৭ আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। ইভ্যালির গ্রাহকদের কীভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ প্রথম আলোকে বলেন, ইভ্যালি তো অস্বীকার করছে না যে তারা টাকা নেয়নি কিংবা টাকা ফেরত পাবেন না। রাসেল ও তাঁর স্ত্রী যদি জামিনে ছাড়া পান, তারপর নিশ্চয় তাঁরা গ্রাহকের টাকা কিংবা পণ্য ফেরত দেবেন। অবশ্য গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে ই-অরেঞ্জের উদ্যোক্তা সোনিয়া মেহজাবিনের আইনজীবী মামুনুর রশীদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দায় মেহজাবিন কিংবা তাঁর স্বামীর নয়। গত এপ্রিল মাসে বীথি আক্তার নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রতিষ্ঠানটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর আগেও যুবক, ডেসটিনি কিংবা ইউনিপেটুইউর মতো প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় ফাঁদে আটকা পড়ে হাজার হাজার গ্রাহক টাকা খুইয়েছেন, কিন্তু কেউই তাঁদের টাকা ফেরত পাননি। বেশি লাভের আশায় টাকা বিনিয়োগ করে পথে বসে গেছেন অনেক গ্রাহক।এসব ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ এবং ব্যক্তির পক্ষ থেকেও ফৌজদারি মামলা হয়েছে। সেসব মামলার বেশির ভাগ বিচারাধীন। অবশ্য ইউনিপেটুইউর ২৫৫ জন গ্রাহক টাকা আদায়ের জন্য ইউনিপেটুইউর চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামানসহ ১৫ জনকে বিবাদী করে ২০১৮ সালে ঢাকায় দেওয়ানি আদালতে 'মানি মোকদ্দমা' করেন। এই মামলার বিচার চলমান। বর্তমানে ই-অরেঞ্জ, ইভ্যালিসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কম দামে পণ্য বিক্রির লোভনীয় ফাঁদে যাঁরা আটকে গেছেন, সেসব গ্রাহকের কথা চিন্তা করে সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহকেরা প্রতারিত হয়ে টাকা না পাওয়াটা দুঃখজনক। সরকারের উচিত, যেসব কোম্পানি গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া উচিত রাষ্ট্রের। যাকে মানুষ টাকা দিল, তার যদি সম্পত্তি থাকে, সেটা ক্রোক করে বিক্রি করে যতটুকু সম্ভব গ্রাহককে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, 'অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' একজন গ্রাহক প্রতারিত হয়ে টাকা খোয়ালে, বিদ্যমান ফৌজদারি আইন অনুযায়ী থানা কিংবা আদালতে বিচার চেয়ে ফৌজদারি মামলা করতে পারেন। মামলার পর অভিযুক্তের সম্পদ দেখভালের জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের বিধান রয়েছে। বিচার শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তি দণ্ডিত হলে আদালত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। এর বাইরে প্রতারিত গ্রাহক বিদ্যমান দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী টাকা আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতে 'মানি মোকদ্দমা' দায়ের করতে পারেন। ব্যক্তির পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এটি কার্যকর আইনি পদক্ষেপ বলে জানান আইনজ্ঞরা। অবশ্য কোনো কোম্পানি কিংবা ব্যক্তি যদি পাওনাদারকে চেক দেন, আর সেই চেক যদি ডিজঅনার (চেক প্রত্যাখ্যান) হয়, সে ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টে এই মামলা করতে হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, 'কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারিত হন, তিনি ফৌজদারি আইনের পাশাপাশি দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী টাকা আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতে মানি মোকদ্দমা করতে পারেন। বাদী যদি তাঁর দাবি আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তাহলে আদালত বাদীর পক্ষে ডিক্রি দেন।'অবশ্য অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মনে করেন, মানি মোকদ্দমা নিষ্পত্তি একটা লম্বা আইনি প্রক্রিয়া। বাদী মামলা করলে বিবাদীপক্ষ সব সময় তৎপর থাকেন, কীভাবে মামলা ঝুলিয়ে রাখা যায়। তবে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে 'মানি মোকদ্দমা'ই একমাত্র আইনি সমাধান। সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক টাকা আদায়ের জন্য কোম্পানি কিংবা অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে পারেন। এটি কার্যকর আইনি পদক্ষেপ। অতি মুনাফার ফাঁদে ফেলে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যুবক, ইউনিপেটুইউ এবং ডেসটিনির বিরুদ্ধে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। ইউনিপেটুইউ নামে প্রতিষ্ঠানটি ১০ মাসে বিনিয়োগের দ্বিগুণ গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার ফাঁদ পাতে। স্বর্ণে বিনিয়োগ করার স্কিমও নেয়। হাজার হাজার গ্রাহক এ ফাঁদে পা দেন। এ ঘটনায় ইউনিপেটুইউর চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে একটি ফৌজদারি মামলা ঢাকার আদালতে নিষ্পত্তি হয় ২০১৯ সালে। ওই মামলায় ইউনিপেটুইউর চেয়ারম্যানসহ ছয় কর্মকর্তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ২ হাজার ৭০২ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এ ছাড়া ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রফিকুলসহ ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয় রাজধানীর কলাবাগান থানায়। দুই মামলায় মোট ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। মামলা দুটি ঢাকার আদালতে বিচারাধীন। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, এমডি রফিকুল আমীন। অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি বা যুবক। ২০০৫ সালে যুবকের প্রতারণামূলক কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকলে তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অবৈধ ব্যাংকিংয়ের অভিযোগে তখন যুবকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর এক দফা সময় বাড়িয়ে ২০০৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যুবককে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এ টাকা গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে অর্থ মন্ত্রণালয়, নাকি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, তা নিয়ে কেটে যায় কয়েক বছর। অবশ্য ঘটনার এত বছরেও ৩ লাখ ৪ হাজার গ্রাহক তাঁদের পাওয়া ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ফেরত পাননি। গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হলেও ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা টাকা ফেরত না পেয়ে দিনের পর দিন হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল প্রথম আলোকে বলেন, 'চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার জন্য গ্রেপ্তার করা বা না করা, এটি কোনো বিষয় নয়। যদি কেউ অপরাধী হয়ে থাকেন, তিনি আইনের আওতায় আসবেন। কিন্তু প্রচলিত নিয়ম অনুসারে যদি কেউ অন্যায় করে থাকেন, তাহলে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সবচেয়ে বড় স্পর্শকাতর বিষয় হলো, কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো, আইনের আওতায় তাঁকে আনা হলো, তারপর আইন তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকল। এর মাঝখানে লাখ লাখ গ্রাহক টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, তাঁরা পথে বসে গেলেন। প্রথম দিকে একজন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে, তাঁর কাছে যেসব সম্পদ আছে, সেগুলো রক্ষা করে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সেটিই বিবেচ্য বিষয়।' ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ মোশাররফ হোসেন কাজল আরও বলেন, 'আমাদের দেশে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয় না। গ্রাহকের স্বার্থ যদি সংরক্ষণ না করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অতীতে এ রকম গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমন লম্বা তালিকা রয়েছে। গ্রাহক কীভাবে টাকা ফেরত পাবেন, তাঁদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য অবিলম্বে এই সব প্রতিষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা উচিত এবং প্রতিষ্ঠানগুলো চলমান রাখা দরকার। গ্রাহকের স্বার্থ যাতে সংরক্ষিত হয়, সে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত রাষ্ট্রের।'
0
রংপুরের পীরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন পরিতোষ সরকার। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার পীরগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক ফজলে এলাহীর কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে এ দায় স্বীকার করেন তিনি।আজ মঙ্গলবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরিতোষ সরকারকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে বিকেলে তাঁকে আদালতে তোলা হয়। আসামি পরিতোষ সরকার ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।এর আগে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে সহিংসতার ঘটনা উসকে দেওয়ার অভিযোগে পরিতোষ সরকারকে সোমবার রাতে জয়পুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করে রংপুর জেলা পুলিশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা (তথ্যপ্রযুক্তি) আইনে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।আদালত পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামি তাঁর দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। প্রথমে তাঁকে কিশোর দাবি করা হলেও পুলিশ প্রমাণ করেছে পরিতোষের বয়স ১৯ বছর। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।উল্লেখ্য, গত রোববার (১৭ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে উগ্রবাদীরা। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুইটি মামলা হয়েছে। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া যুবক পরিতোষ সরকারসহ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে ৩৮ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।আরও পড়ুন:পীরগঞ্জে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্টদাতা পরিতোষ জয়পুরহাটে গ্রেপ্তার
6
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। ৭৯ বছর বয়স্ক এই নারী নগরীর বাসিন্দা। তবে তার শরীরে করোনাভাইরাসের কোন লক্ষণ ছিল না। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই নারী শ্বাসকষ্ট, কিডনী ও ডায়াবেটিস রোগে ভোগছিলেন। সোমবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এই নারী প্রথমে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তাররা চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সোমবার দুপুরে তাকে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় রোগী মারা গেলেন। এর আগে করোনার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসী এক নারী মারা যান। তবে মারা যাওয়ার পর পরীক্ষা করে আইইডিসিআর জানায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। গত রোববার রাতে প্রথমবারের মত সিলেটে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। প্রথমে তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও পরীক্ষায় পজিটিভ জানার পর তাকে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এজন্য নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকা লকডাউন করা হযেছে।
6
গল্পটা শিশুদের। এক সাদা হাতি একটা ছোট্ট ফুলকে বাঁচানোর জন্য বনের পশুদের সঙ্গে লড়াই করে। হাতিটা ফুলটাকে শুঁড়ের মধ্যে আগলে রেখে ছোটে। দানবেরা অমরত্বের লোভে ফুলটি পুড়িয়ে সুবাস বানাতে চায়। কিন্তু হাতিটি তাদের বোঝায়, এটা নিছক ফুল নয়, এর ভেতর রয়েছে আস্ত একটা জগৎ। সেই জগতে আছে অজস্র শিশুর এক পৃথিবী। তখন বনের রাজা জিরাফ বলে, প্রমাণ দাও যে তারা আছে? কী প্রমাণ দেবে সরল হাতিটি আর তার শুঁড়ে আগলে রাখা ফুল-জগতের অদৃশ্য বাসিন্দারা? বন্দী হাতি তখন ফুলের ভেতর খবর পাঠায়, 'তোমরা চিত্কার করো, তোমরা শব্দ করে জানাও যে তোমরা আছো!' ফুলের জগতে তখন বিরাট আলোড়ন জাগে। সবাই ঘরবাড়ি ছেড়ে নেমে আসে মাঠে-রাস্তায়। যার যা কিছু আছে তা বাজায়। একসঙ্গে গলা ফাটিয়ে চিত্কার করে বলে, 'ও মানুষেরা, তোমরা কি শুনছ যে আমরা আছি?' আমাদের শিশুদের মনেও এ রকম চিৎকার বাজছিল অনেক দিন। তারাও বলতে চাইছিল, আমরা ভালো নেই। বড়রা শুনতে পাইনি। আমরা তাদের চিনতে পারিনি। আমরা শুধু দেখেছি কিশোর গ্যাংদের, দেখেছি শুধু কিশোর অপরাধ, তাদের মধ্যে দেখিনি বড় সম্ভাবনা। তাদের মনের গভীরে সুন্দর এক বাংলাদেশের কুঁড়ি আমরা অনেকে দেখতে চাইনি। আমরা তাদের বসিয়ে রেখেছিলাম মোবাইল হাতে, টেলিভিশনের সামনে কিংবা ফেলে রেখেছিলাম পড়ার টেবিলে। আমরা শুধু দেখেছি ঐশীর খুনি হওয়া। আরও অনেক ঐশীর আবেগ সুস্থ পথ পেতে আঁকুপাঁকু করেছে, কিন্তু সেই পথ আমরা দেখাতে পারিনি। মুক্তির জন্য ছটফট করা কোমল প্রাণের জ্বালা আমরা বড়রা, বিজ্ঞরা, ব্যক্তিগত স্বার্থের গিঁটে বাঁধা মানুষেরা টের পাইনি। আমরা তখন ছিলাম মগ্ন... আমরা তাদের শাসন করেছি, শৃঙ্খলা শিখিয়েছি, বলেছি 'তোমরা বোঝ না'। ঘরে ও বাইরে, মিডিয়া ও ময়দানে তাদের নসিহত করেছি। তাদের কথা না শুনে শোনাতে চেয়েছি সেসব নীতিকথা, যা আমরাই বিশ্বাস করি না। সে বিশ্বাস থাকলে তো শিশুদের পথে নামার আগে আমরাই কিছু একটা করতাম। ওরা কিন্তু ঠিকই বিশ্বাস করেছিল আমাদের। বিশ্বাস করেছিল বাবা-মাকে, বিশ্বাস করেছিল শিক্ষকদের, হয়তো বিশ্বাস করেছিল শাসকদেরও। আমরা অনেকেই যে কথায় এক আর কাজে আরেক, আমাদের অনেকের নসিহতই যে মুখস্থ বুলি-তা তারা ভাবেনি। বরং আমাদেরই দেওয়া শিক্ষাটা তারা মনে গেঁথে নিয়েছিল। একের পর এক শিক্ষার্থীরা যখন বাসের চাকায় পিষ্ট হচ্ছিল, তখন তারা অবাক হয়েছে। ভেবেছে কোথায় সেই শিক্ষা, পইপই করে তাদের মানতে বলা আইনগুলো কোথায়? কোথায় রাস্তার শিক্ষক পুলিশ? কোথায় রাষ্ট্রের শিক্ষক সাংসদ-নেতারা? কোথায় জাতির বিবেক? কাউকে পায়নি তারা এত দিন। তাই নিজেরাই নেমে পড়েছে রাস্তায়। এবং আশ্চর্য! আইনের শাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে তারা আন্দোলনের গাড়িটাকে কোনো এক মন্ত্রীর মতো উল্টো পথে নিয়ে যায়নি। নৈরাজ্য করেনি। হিংসা করেনি কাউকে, বেয়াদবি করেনি কারও সঙ্গে। রাস্তায় নেমে শিশুরা আমাদের দেওয়া শিক্ষাটাকে সুন্দর করে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। ভোঁতা মনটাকে কোমল আঙুলের ছোঁয়ায় সজীব করার চেষ্টা করল। আমাদের শেখানো আইন-আদব-আহ্বান মোতাবেকই তারা রাস্তা চালাতে চেয়েছে। গত কয়েক বছরের মতো বড়দের করা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মডেলকে অস্বীকার করে, রাজনীতির বড়দের অন্যায়-দুর্নীতির মডেল বাতিল করে তারা রাস্তায় নীতি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। একটা দেশ যতটা অগণতান্ত্রিক, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দুর্বৃত্তশাসিত, সে দেশের রাস্তায় ততটা নৈরাজ্য, দুর্নীতি এবং দুঃশাসন চলতে দেখা যায়। এক নৈতিক ঝাঁকুনি দিয়ে গেছে কিশোর আন্দোলনের লড়াকুরা। রাস্তায় মার খেয়ে, রক্তাক্ত হয়ে তারা জানিয়ে গেছে এই দেশে সুবিচার নেই, নীতির শাসন নেই, পরিবহন খাতের মাফিয়াদের মতোই এই ব্যবস্থা বেপরোয়া। একে সুস্থ না করলে আমরা জীবনবাদী বাংলাদেশ পাব না। দেশটা হয়ে উঠবে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের লীলাভূমি। এই বার্তা তারা শুধু সতেরো কোটি বাংলাদেশিকেই জানায়নি, জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বকেই। বাংলাদেশের এসওএস (সেইভ আওয়ার সোউল) বার্তাটা জানাতে হলো সমাজের পরিবারের সবচেয়ে কোমল নিষ্পাপ ও দুর্বল অংশটাকেই। কারণ, উটপাখিরা গর্তে মুখ লুকিয়ে ছিল। তারা যে রাষ্ট্র মেরামতের ডাক তুলেছিল, সেই কাজ বলপ্রয়োগে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকেরা হঠাৎ উদাসীন হয়ে গেছেন। গোড়াতেও শিশুমনের ধিকিধিকি দুঃখটা আমরা চিনতে না পেরে তাদের 'ফার্মের মুরগি' ভেবেছি, মোবাইল ফোনাসক্ত প্রজন্ম ভেবেছি, বিচ্ছিন্ন প্রজন্ম ভেবেছি। তাদের পাশে যখন সবচেয়ে বেশি দাঁড়ানো দরকার, তখনো সন্তোষজনকভাবে আমরা তাদের আগলে রাখতে পারিনি। নিরাপত্তা দিতে পারিনি। কারও পদত্যাগের ডাকেও নাহয় না-ই বা সাড়া দিলাম। নতুন পরিবহন আইনের ফাঁক ও ফাঁকি নিয়েও নাহয় কথা না-ই বললাম। ছাত্রছাত্রীদের রক্তাক্ত ছবিগুলোকেও নাহয় ভুলে গেলাম। কিন্তু তারা যে ক্লাসে ফিরল, যে পরিবারে ফিরল, যে সড়ক ধরে আবার তারা চলতে লাগল, সেসব কি সুস্থ ও নিরাপদ হলো? সব শিক্ষাঙ্গনকে শিশুবান্ধব আলোকিত বিদ্যালয় কি আমরা বানানো শুরু করব? আমরা কি পরিবারগুলোকে শিশুর বিকাশের মুক্তাঙ্গন বানাতে চাইব? আমরা কি শিশু-কিশোরদের মাঠের খেলাধুলার সুযোগ দিতে পারব? আমরা কি সবুজ পরিবেশ দিতে পারব তাদের? আমরা কি দেশটাকে সবার জন্য নিরাপদ করতে পারব? সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাও কি একশ্রেণির মাফিয়া মালিক চক্র বা নেশাখোর অযোগ্য চালকমুক্ত হবে? খেয়াল করুন, তারা কিন্তু শুধু রাস্তা নয়, সব ক্ষেত্রেই মানবিকতা চেয়েছে, তারা চেয়েছে ন্যায়বিচার। তাদের স্লোগান 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস'। আমরা কি সবার প্রতি সুবিচার প্রতিষ্ঠার কাজ করতে পারব? নাকি আবারও আমরা তাদের ব্যর্থ করে দেব? ভাবব, সব ঠিক আছে! বড়দের শহর ঢাকা আবার ফিরে যাবে বড়দের তৈরি করা সংকটের চক্রে? জাতির অভিভাবকেরা কি শিশুদের থেকে সঠিক শিক্ষাটা নিলেন? ফারুক ওয়াসিফ প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক []
8
পিরোজপুরের কাউখালীতে মসজিদে গভীর নলকূপ বসানোকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে উপজেলার চর-বাসুরী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ভাই সোহেল ও জুয়েলকে আটক করেছে পুলিশ।গুরুতর আহতদের কাউখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন চর বাসুরি গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে মো. মিলন হোসেন (২৮), মো. আলম হাওলাদার (৩৪), মো. ফোরকান হোসেন হাওলাদার (৩৮) এবং একই গ্রামের মহিদুল (৪২), মুন্না হাওলাদার ( ১২), বেলাল হোসেন (৩৮), জাহানারা বেগম (৩৭), মুন্নি বেগম (৩০), সোহেল হোসেন (২৮) ও ফজলু হোসেন (৫৫)। এদের মধ্যে সোহেল হোসেনকে পুলিশ প্রহরায় কাউখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।কাউখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মো. বনি আমিন বলেন, 'সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে কাউখালী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারী দুই ভাই সোহেল ও জুয়েলকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।'
6
রাজধানীরবনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের যথাযথ কারণ অনুসন্ধানেইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবারআইইবির সাবেক প্রেসিডেন্টপ্রকৌশলী মো. নুরুল হুদাকে আহ্বায়ক এবং আইইবির সহকারী সাধারণসম্পাদক (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারকে সদস্যসচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয় বলেআইইবিরএক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-আইইবির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্যপ্রকৌশলী হামিদুল হক, প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মুনাজ আহমেদ নুর, আইইবিরসিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান,আইইবির যন্ত্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. আব্দুররশিদ সরকার, আইইবির তড়িৎকৌশল বিভাগের সদস্য ড. প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত ওকেমিক্যাল কৌশল বিভাগের সদস্য ড. প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত খাঁন। তবেতদন্তের স্বার্থেকমিটি চাইলে সদস্য সংখ্যা বাড়াতে পারবে। এই কমিটিকে বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়াভবন এবং তৎসংলগ্ন আশপাশ সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসংগ্রহ এবং প্রকৌশল ও কারিগরি বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অগ্নিকাণ্ডের যথাযথ কারণ অনুসন্ধান ও সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনআগামী ৭ দিনের মধ্যে আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকারমনজুর মোর্শেদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত,বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পরে আরও ১২টি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়। ২১টি ইউনিটের চেষ্টায় পৌনে ৬ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বিমানবাহিনীর পাঁচটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। বহুতল ভবনের ছাদে আটকা পড়া অনেককে উদ্ধার করে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার। এ ছাড়া আগুন নেভাতে হেলিকপ্টার থেকে এফ আর টাওয়ারে পানিও ফেলা হয়। আগুন নিভে যাওয়ার পর ভবনটির ভেতরে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয় বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। তবে শুক্রবার সকালেপুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মুশতাক হোসেন নিশ্চিত করেন, ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৫। এর মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
6
২০২১-২০২২ সালের জন্য সরকারের বিনামূল্যে দেওয়া বই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে ময়মনসিংহের ত্রিশালের এক মাদ্রাসা সুপারকে শোকজ করা হয়েছে। গত শনিবার উপজেলার হদ্দের ভিটা দাখিল মাদ্রাসায় ওই মাদ্রাসা সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আয়্যুব আলীর নির্দেশে পাঁচ বস্তা বই বিক্রি করছিলেন দপ্তরী ফারুক হোসেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপারকে শোকজ করেছে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান আনাম। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এ বছর ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরিত্যক্ত বই বিক্রি করতে পারব। তবে মাদ্রাসার সুপার যে কাজ করেছে তা দুঃখজনক। এ বিষয়ে সোমবার তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তার জবারের পর আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। গোডাউনে ২০২১ সালের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় দুই হাজার ও ২২ সালের শতাধিক বই বিক্রির জন্য বস্তাবন্দি করা ছিল। এছাড়াও ২০২২ সালের প্রায় দুই হাজার বই ছিল। মাদ্রাসার দপ্তরী ফারুক হোসেন জানান, শনিবার সকালে মাদ্রাসায় এসে আমাদের বই বস্তাবন্দী করে মাপামাপি করতে বলে মাদ্রাসার সুপার। জানতে চাইলে তিনি বলেন এই বইগুলো বেড়ে গেছে তাই বিক্রি করে দেব। এজন্য আমরা পাঁচ বস্তা বই বিক্রির জন্য রেডি করি। স্থানীয় এলাকাবাসী নাজিম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ও ফরহাদ হোসেন জানান, বই বিক্রিতে আমরা বাধা দিলে গোডাউনে তালা লাগিয়ে মোবাইল কানে নিয়ে পালিয়ে যায় সুপার। পরে আমরা গোডাউনে আরেকটি তালা লাগিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দেই। তবে এসমব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত) সুপার আয়্যুব আলী বলেন, আমি বই বিক্রির জন্য বস্তাবন্দী করিনি বরং বইগুলো অন্যত্র রাখার জন্য গোছাচ্ছিলাম। ২২ সালের এত বই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার জন্য বই বিতরণ করা হয়নি। এজন্যই এত বই স্টকে রয়ে গেছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে পিংক সিটির পাশের ছয়তলা একটি ভবনের নিচতলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করেন। এরপর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ৬ তলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম সদর দফতরের ডিউটি অফিসার মাহমুদুল হাসানগণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভিডিওটি নেশাত আনজুমের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
6
কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বের টানা তিনটি ম্যাচে জয় তুলে নেয়ার পর আজ সোমবার (২৮ জুন) ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। এই ড্রয়ে কোপার পয়েন্ট টেবিলে সেলেসাওদের কোন পরিবর্তন হয়নি। তারা গ্রুপ 'বি'তে শীর্ষস্থানেই রয়েছে, তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে সমান গোল করে টানা ১১টি ম্যাচে জয় তুলে নেয়ার পর ১২তম ম্যাচে গিয়ে আজ ড্রয়ের স্বাদ পেতে হয়েছে নেইমারদের। ম্যাচটিতে ৩৭ মিনিটের সময় কর্ণার কিক থেকে গোল করে ব্রাজিলকে প্রথমে এগিয়ে নেন ইদার মিলিতাও। কিন্তু ৫৭ মিনিটের সময় ইকুয়েডরের মিনা গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এ ড্রয়ের কারনে কোয়ার্টার ফাইনালে চতুর্থ হয়ে জায়গা করে নিয়েছে ইকুয়েডর। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডর শেষ আটেে লড়াইয়ে হয় আর্জেন্টিনা অথবা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলবে। কারণ গ্রুপ 'এ'থেকে আজ নির্ধারণ হবে শীর্ষে থাকবে কোন দল।
12
স্বপ্নেও ভাবিনি ইটের পাকা বাড়িতে ঘুমাতে পারব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। কথাগুলো আবেগে আপ্লুত হয়ে বলছিলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সহজপুর গ্রামের সুবল মুরমু। মুজিববর্ষ উপলক্ষে পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাঁওতাল পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দিনাজপুরের খানসামায় ১০টি পরিবারকে 'আধা পাকা ইটের বাড়ি' উপহার হিসেবে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খানসামা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাঁওতাল পরিবারগুলো এমন বাড়ি পেয়ে আনন্দিত। ইউএনও খানসামার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দ অনুযায়ী খানসামার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে পাঁচটি, সহজপুর গ্রামে তিনটি, পূর্ব ও পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামে দুটি মিলে মোট ১০টি সুন্দর ডিজাইনের সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে সিলিংসহ চৌচালা রঙিন টিনের ছাউনির দুইটি রং করা পাকা ঘর। মেঝে পাকা করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরে একটি দরজা ও দুইটি করে জানালা। ঘরের একপাশে করা হয়েছে টয়লেট, টিউবওয়েল এবং অপরপাশে একটি পাকা বারান্দা ও সিঁড়ি। এই প্রকল্পে ১০টি বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ টাকা। জীবনমান উন্নয়নে তাদের নতুন ১০টি পাকা বাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ। যেমন:- স্কুল ব্যাগ, খাতা, ড্রয়িং পেন্সিল, জ্যামিতি বক্স, রেইন কোট এবং সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের জন্য ক্রীড়াসামগ্রী আর বাদ্যযন্ত্র। এ ছাড়া শীতবস্ত্র, স্বাস্থ্য উপকরণ, আসবাবপত্র, বাইসাইকেল প্রদান ও কর্মসংস্থানের জন্য ঝুট কাপড় থেকে পাপোশ তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষিবিদ আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনামতে প্রতিটি গৃহহীনের গৃহের সংস্থান করার অংশ হিসেবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে প্রকৃত দরিদ্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পরিবার বাছাই করা হয়েছে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িগুলো তৈরি করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সর্বদা পাশে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
শুদ্ধসংগীতের দুই দিনব্যাপী উৎসব শুরু হলো ছায়ানটের আয়োজনে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম অধিবেশনের সূচনা হয়। শুদ্ধসংগীতের এই উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের তবলাশিক্ষাগুরু মদন গোপাল দাস ও রাগসংগীতের শিক্ষক সতীন্দ্রনাথ হালদারকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এই দুই গুণী প্রবীণ শিক্ষকের অবদান তুলে ধরেন ছায়ানটের সভাপতি সংগীতজ্ঞ সনজীদা খাতুন। তিনি বলেন, ছায়ানটের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬৩ সালের পয়লা বৈশাখে। তার অল্প কিছুদিন পর তবলাশিক্ষক হিসেবে মদনগোপাল দাস যোগ দেন। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে ছায়ানটে তবলাশিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করে বহু কৃতি ছাত্র ও ছাত্রীকে গড়ে তুলেছেন। অন্যদিকে সতীন্দ্রনাথ হালদার রাগসংগীতের শিক্ষক হিসেবে ছায়ানটে ২৫ বছরের বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন। তিনিও বহু ছাত্রছাত্রীকে রাগসংগীতের সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট করেছেন। তাঁর সূত্রে অনেকেই রাগসংগীত শিক্ষা করেছেন। এই দুই গুণী শিক্ষককে এবারের উৎসব উৎসর্গ করতে পেরে ছায়ানট আনন্দিত। প্রথম অধিবেশনের পরিবেশনার শুরু হয়েছিল সম্মেলক কণ্ঠে ভূপালী রাগের খেয়াল দিয়ে। প্রথম অধিবেশনের সব পরিবেশনাই ছিল কণ্ঠসংগীতের। সম্মেলকের পর শ্রী রাগে ধ্রুপদ গেয়ে শোনান অভিজিৎ কুণ্ডু। ইমন রাগে খেয়াল গেয়েছেন স্বয়ম সৌকর্য। খায়রুল আনাম শাকিল গয়েছেন শুদ্ধ কল্যাণে, দীপ্র নিশান্ত গেয়েছেন রাগ কৌশিকধ্বনি। শেখর মণ্ডল গেয়েছে রাগেশ্রী রাগে। বাগেশ্রীতে গেয়েছেন অনিন্দিতা সাহা। মালকোষ শুনিয়েছেন দেবাশীষ শর্মা এবং শেষে ছিল রেজওয়ান আলীর পরিবেশনা। এ আয়োজন শেষ হয় রাত সাড়ে ১০টায়। সঙ্গত করেছেন তবলায় প্রশান্ত ভৌমিক ও ইফতেখার আলম, হারমোনিয়ামে বিজনচন্দ্র মিস্ত্রী, মিনহাজুল হাসান, ইমন ও টিংকু শীল। কাল শুক্রবার সমাপনী দিনে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে সকাল ৯টায়, চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এতে থাকবে কণ্ঠসংগীত, বেহালা ও বাঁশিবাদন। তৃতীয় তথা শেষ অধিবেশন শুরু হবে বিকেল চারটায়। এতে কণ্ঠসংগীত ছাড়া থাকবে তবল লহরা ও সেতারবাদন। শুদ্ধসংগীতের অনুরাগীদের জন্য উৎসব উন্মুক্ত।
2
নিউ ক্যালেডোনিয়া উপকূলে বুধবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূপৃষ্ঠের স্বল্প গভীরে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৭.৫। এতে সুনামি সতর্কতা জারি এবং লোকজনকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একথা জানায়। খবর এএফপি'র।প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, এ অঞ্চলে সুনামি ঢেউ 'পর্যবেক্ষণ' করা হচ্ছে। তবে কোথায় সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। কেন্দ্র জানায়, সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউয়ের আঘাত হানার সম্ভাবনা থাকায় নিউ ক্যালেডোনিয়ার বাসিন্দাদের দ্রুত বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।তবে নিউ ক্যালেডোনিয়া ও পার্শ্ববর্তী ভানুয়াতুর লোকজন জানায়, তাদের কাছে ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি। ভানুয়াতুতে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কীকরণের সাইরেন বাজানো হয়নি।ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নউমিয়ার ৩ শ' কিলোমিটার পূর্বে। এদিকে নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ ভূমিকম্পের পর একই ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।ভূমিকম্পের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি।
3
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা বঙ্গবন্ধু স্কুলের রাস্তার পাশ থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। নবজাতকটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। রোববার (২০ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত ওই নবজাতকের মা-বাবার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এক দম্পতি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে ওই নবজাতকের পাশে থাকা সখিপুর থানার চরবাঘা ইউনিয়নের দেয়ারা চৌকিদার কান্দি গ্রামের বাবুল ব্যাপারীর স্ত্রী আছিয়া বেগম নামে এক নারী সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধু স্কুলের পাশে রক্ষা ব্যাপারীর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি পাথরের ওপর নবজাতকটি পড়ে থাকতে দেখি। শিশুটি দেখতে এলাকার মানুষ ভিড় জমায়। ঠাণ্ডায় শিশুটি কাঁপতে ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমার চার ছেলে, মেয়ে নেই তাই মেয়েটিকে মেয়ে মতো লালন পালন করতে চাই। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাবুল ব্যাপারী-আছিয়া বেগম শিশুটির দায়িত্ব নিতে চান। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, নবজাতকটি মেয়ে। তার বয়স দুই দিন হতে পারে। ওজন দেড় কেজি। শিশুটি এখন পর্যন্ত ভালো আছে। তার ঠান্ডাজনিত একটু সমস্যা হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, ভেদরগঞ্জে পাওয়া এক নবজাতককে শনিবার বিকেলে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডা. জহিরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ঠান্ডাজনিত একটু সমস্যা আছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম রশিদুল বারী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি সুস্থ আছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আল নাসীফ বলেন, যেহেতু নবজাতকটির অভিভাবক শনাক্ত করা যায়নি। তাই সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
6
'প্রশাসনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তার বিশেষ কোন গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছেন। প্রশাসন আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন। তারা পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।'বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস এ বক্তব্য দিয়েছেন। বরিশালে ইউএন'র বাসভবনে হামলা পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য দেন।বুধবার রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, 'নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মীরা রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়েছিল। এ সময় সদর উপজেলা ইউএনও মুনিবুর রহমান বেড়িয়ে এসে দম্ভোক্তি দেখিয়ে তাঁদের এ কাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে মেয়রের নির্দেশে সেখানে যান নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু। ইউএনও তাঁদের সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে তিনি নিজেই গুলি ছোড়া শুরু করেন। হাসান মাহমুদ বাবুকে ইউএনও টেনে হিঁচড়ে তাঁর বাসভবনের মধ্যে নিয়ে আটকে রাখেন।'খবর পেয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলেও আনসার সদস্যরা গুলি করতে থাকেন। পরে পুলিশ এসেও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের বেধড়ক পেটায়।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বুধবার রাতের ঘটনায় ৬০ জনের বেশি নেতা কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। পুলিশ হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে অবস্থান নেওয়ায় আহতরা আত্মগোপনে রয়েছেন। মিথ্যা দুটি মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে বাসায় বাসায় অভিযান চালানো হচ্ছে।পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আইনি আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা পরে দেখবেন। একটি সরকারি দপ্তরে রাতে পরিচ্ছন্ন কাজ করতে যাওয়া প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়মই হচ্ছে রাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো। সিটি করপোরেশনের কাজে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গ তোলা হলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, তারাও সিটি করপোরেশনের চাকরিজীবী।সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নাইমুল ইসলাম লিটু বক্তৃতা করেন।
6
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে যারা বঙ্গবন্ধুকেই অস্বীকার করে, তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা নিছক হত্যাকাণ্ড নয়, এর পেছনে গভীর দুরভিসন্ধি ছিল। শুধু বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা থেকে সরানো নয়, এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই একাত্তরের পরাজিত দেশি-বিদেশি অপশক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে; কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মকে ঠিক ইতিহাস জানাতে জিয়াউর রহমানসহ এই হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি। রোববার রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণের পর পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের রিপোর্টে লিখেছিল, 'চতুর শেখ মুজিব কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতাই ঘোষণা করে দিলেন। কিন্তু তাকিয়ে দেখা ছাড়া আমাদের কিছুই করার ছিল না। বঙ্গবন্ধুর এক ডাকে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালি নিজের প্রাণকে হাতের মুঠোয় নিয়ে যুদ্ধে গেছে।' ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত পাড়ি দিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনেছেন, বাঙালি জাতিসত্তার উন্মেষের পর প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র গড়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর সে কারণেই তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, বিটিভির মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক আহমদ কামরুজ্জমান, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহিন ইসলাম এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়া। কবিতা আবৃত্তি করেন ড. শাহাদত হোসেন নিপু ও তামান্না তিথি। প্রদর্শিত হয় প্রামাণ্যচিত্র 'চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু'। শুরুতেই অতিথিদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও ধর্মভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন মন্ত্রী।
6
খুলনায় তেলবাহী ট্রেনের তিনটি ট্যাংক ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোড সংলগ্ন আলমনগর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ওয়াগনের চাকাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেল লাইনটি শুধুমাত্র তেলবাহী ট্রেন চলাচলের জন্য হওয়ায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন খুলনা রেলওয়ে ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। শব্দ শুনে রেললাইনের কাছে যেতে দেখা যায় ট্রেনের তিনটি বগি পড়ে রয়েছে। পরে পুলিশ ও রেলওয়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীরা আসেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে এখানকার বসবাসকারীরা।রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের কিম্যান আনিসুল ইসলাম বলেন, আজ বিকেল ৫টার দিকে খুলনা জংশন থেকে তেল লোড করার জন্য পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর দিকে একটি তেলবাহী এমটি ট্রেন যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কদমতলা এলাকায় আসলে লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। কিছু দূর যেতেই আলমনগর এলাকায় বিটিও ৪০০১২,৪০০৪৬ ও ৪০০৮৪ এই তিনটি ট্যাংক ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। ফলে চাকা ভেঙে যায় ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়।রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেকানিক্যাল ট্রেন এক্সামিনার শামীম আহমেদ বলেন, আলমনগর এলাকায় ট্যাংক ওয়াগনের তিনটি লাইনচ্যুত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ট্রেনের চাকা, ব্রেকিং আইটেম, গাড়ির সোলভাসহ আন্ডারগিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াগন উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন আসছে। রিলিফ ট্রেন এসে ওয়াগানগুলো উদ্ধার করবে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
6
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দুই সপ্তাহে অনলাইনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮টি পশু বেচাকেনা হয়েছে। ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৫ লাখ ১ হাজার ৬৭২ টাকায় পশুগুলো বেচাকেনা হয়েছে। ২ থেকে ১৫ জুলাই সময়ের হিসাব তুলে ধরে এসব তথ্য জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। অধিদপ্তর জানায়, কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য বর্তমানে অনলাইনের সংখ্যা ১ হাজার ৭৬৮। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ৬০২টি আর বেসরকারি উদ্যোগে ১ হাজার ১৬৬টি। এসব অনলাইন বাজারে ১৪ দিনে ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৬৯২টি কোরবানিযোগ্য পশুর তথ্য আপলোড করা হয়েছে। শুক্রবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) দেবাশীষ দাশ প্রথম আলোকে বলেন, 'গত বছর প্রথম অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছিল। ওই বছর অনলাইনে ৮৭ হাজার পশু বিক্রি হয়েছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত অনলাইনে যে পরিমাণ কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে, তার থেকে বেশি প্রত্যাশা ছিল। তবে গত বছরের থেকে এ বছর ভালো করেছি। আমাদের প্রত্যাশা, সামনে কোরবানির বড় অংশই অনলাইনে বেচাকেনা চলবে।' স্থায়ী পশুর হাটে ১৫ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুহাট চালু রাখার সুপারিশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। দেবাশীষ দাশ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৫ জুলাই পশুহাট বসা শুরু হয়েছে। হয়তো এখন অনলাইনে পশু বিক্রির প্রবণতা কিছুটা কমে যাবে। তারপরও যাঁরা হাটে যেতে চান না, তাঁদের জন্য অনলাইন অবারিত হয়ে থাকল। ১৫ জুলাই ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩২টি কোরবানির পশুর তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। ওই দিন বিক্রি হয়েছে ২৪ হাজার ৭৫টি পশু। ১৫৩ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যে পশুগুলো বিক্রি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫। এর মধ্যে গরু-মহিষ ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার, ছাগল-ভেড়া ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার এবং অন্যান্য ৪ হাজার ৭৬৫টি। ২০২০ সালে দেশের খামারি ও কৃষকেরা প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ গবাদিপশু প্রস্তুত রেখেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩টি পশু কোরবানি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
0
ফজলে মাহমুদ একাই যা একটু লড়লেন। বাকিরা কেউই দলের প্রয়োজন মেটাতে পারলেন না। চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাজশাহী কিংসকে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে অলক কাপালির নেতৃত্বে খেলা সিলেট সিক্সার্স। লক্ষ্য ছিল বেশ বড়, ১৮১ রানের। ১৬ রানের মধ্যে লরি ইভান্স (১) আর মুমিনুল হককে (৫) হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। এরপর রায়ান টেন ডেসকাট (১২) আর জাকির হাসানও (১৬) বেশিদূর এগোতে পারেননি। একটা প্রান্ত ধরে লড়ে যাচ্ছিলেন ফজলে মাহমুদ। ৪১ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৫০ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখান মোহাম্মদ নেওয়াজ। ওই ওভারেই রাজশাহীর আরেক ভরসা ক্রিশ্চিয়ান জঙ্কারকে (১) তুলে নেন পাকিস্তানি স্পিনার। ৮৮ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারানো রাজশাহী আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। সিকুগে প্রসন্ন ২ আর মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ১ রানেই আউট হয়ে গেলে বড় পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। ইনিংসের ১০ বল বাকি থাকতে দলটি অলআউট হয় ১০৪ রানে। সিলেট সিক্সার্সের সোহেল তানভীর মাত্র ১৭ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট। ২২ রানে ৩টি উইকেট নেন নেওয়াজ। এছাড়া তাসকিন আর অলক কাপালিও পান ২টি করে উইকেট। এর আগে প্রথমে ব্যাটিং করে ১৮০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল সিলেট। অথচ জেসন রয় ও লিটন দাসের ব্যাটে ঝড়ো সূচনার পরে মনে হচ্ছিলো অনায়াসেই ২০০ পার করে ফেলবে তারা। তবে রাজশাহীর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সেটি করতে পারেনি সিলেট। টসে হেরে রাজশাহী অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী। প্রথম ওভারেই ১টি করে চার-ছক্কার মারে ১৪ রান নিয়ে নেন লিটন দাস। তবে পরের ওভারেই আরেক ওপেনার সাব্বির রহমানকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন আরাফাত সানি। ঠিক পরের ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমানের শিকারের পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। আউট হওয়ার আগে ৩ চার ও ১ ছক্কার মারে ১৩ বলে ২৪ রান করেন তিনি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঝড় তোলেন এ ম্যাচেই প্রথম খেলতে নামা জেসন রয়। দুজন মিলে মাত্র ৩৬ বলে যোগ করেন ৬২ রান। এর মধ্যে ২৮ বলে ৪২ রানই আসে জেসনের ব্যাট থেকে। দশম ওভারের শেষ বলে জেসন আউট হওয়ার সময় সিলেটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেট ৯৬ রান। ৪ চার ও ২ ছক্কার মারে নিজের ইনিংস সাজান জেসন রয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ব্যাট করলেও আজকের ম্যাচে ব্যাটে-বলে করতে পারছিলেন না আফিফ। ৩ চার ও ১ ছক্কা হাঁকালেও ২৮ রান করতে ২৯ বল খরচ করে ফেলেন তিনি। ধীর ইনিংস খেলে ২ ছক্কার মারে ১৮ বলে ১৯ রান করেন নিকলাস পুরান। তবে শেষ দিকে মোহাম্মদ নওয়াজ ৭ বলে ১১, অলক কাপালি ১৪ বলে ১৬ এবং সোহেল তানভীর ১০ বলে ২৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেললে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানে গিয়ে থামে সিলেটের ইনিংস। রাজশাহীর পক্ষে বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমান নেন ২ উইকেট। এছাড়া কামরুল ইসলাম রাব্বি, সেকুগে প্রসন্ন, আরাফাত সানি ও রায়ান টেন ডেসকাট ১টি করে উইকেট নেন।
12
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার এ ঘটনায় আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে। তবে ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে রোববার সকাল ১১টা থেকে 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কর্মবিরতি, পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট এক ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে আন্দোলনকারী প্রথম বর্ষের এক ছাত্র মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার ১১ দিন পার হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। গতকাল সকাল ১০টায় তিন দফার দাবিতে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসার কথা ছিল। মারধরের ওই দুই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় বসবেন না বলে জানান আন্দোলনকারীরা। লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম সাইমুম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর'-এর সংগঠক ও জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডল বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪১তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক শিক্ষার্থী জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক জব্বার হল সংলগ্ন একটি খাবারের দোকানে সাইমুমের সঙ্গে অভিষেকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সাইমুম বলেন, 'আমি প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি এর যথাযথ বিচার চাই।' এ বিষয়ে অভিষেক মণ্ডল বলেন, 'আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে সে এ সময় উদ্যত আচরণ করে। তখন আমাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।' বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, 'এটা ব্যক্তি পর্যায়ের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সংযোগ নেই।' বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, 'অভিযুক্ত যেহেতু সাবেক শিক্ষার্থী। তাই প্রশাসন এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।' এদিকে এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বৈঠকে বসেন। আলোচনা শেষে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। এ সময় তিনি বলেন, 'আজকের ঘটনার বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আর আল বেরুনী হলের ঘটনা আমি জানতাম না। এ বিষয়ে সন্ধ্যায় শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' এদিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাইমুমের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার। বিজ্ঞপ্তিতে তারা হামলাকারীদের বিচার ও অবৈধ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।
6
রংপুরের হারাগাছ এলাকার নতুন বাজার পাকার মাথা এলাকায় পুলিশের নির্যাতনে তাজুল ইসলাম নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা হারাগাছ থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় দুটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, তাজুল ইসলাম একজন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে সোমবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সে মারা যায়। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলার পর রাত ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে তাজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মারুফ হোসেন (ডিসি ক্রাইম) সাংবাদিকদের বলেন, "মৃত তাজুল ইসলাম একজন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলে সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। এরপরও ময়নাতদন্ত করে প্রতিবেদন পাবার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সুবিধাবাদী উচ্ছৃঙ্খল লোক থানায় হামলা করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। এসব ঘটনায় থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।" তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তাজুল ইসলাম মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ী নয়। তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করে হত্যা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেন তারা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আফজাল বলেন, "আমার সামনে পুলিশ তাজুলকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করে এবং আমাদের সামনেই সে মারা গেল। অথচ এখন বলছে সে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। এটা পুরোপুরি বানোয়াট এবং মিথ্যা।" অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী সোহরাব হোসেন জানান, বাজারে প্রকাশ্য তাজুলকে আটক করে মারধর করে এখন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তারা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করার দাবি জানান। এদিকে গভীর রাতে পরিস্থিতি শান্ত হবার পর পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে নয়াবাজারসহ আশেপাশের এলাকার বাড়ি ঘর থেকে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। অধিকাংশ বাড়ি পুরুষশূন্য। পুলিশ নিরীহ লোকদের তাদের করা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
6
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক যুবক খুন হয়েছে। নিহতের নাম ঠিকানা জানা যায়নি। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবক) রাত ৯ টার দিকে প্রিন্স হোটেলের সামনে বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে পথচারীরা প্রথমে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত পৌনে ১১টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া রাকিব ও হৃদয় নামে দুই যুবক জানান, ওই ব্যক্তি প্রিন্স হোটেলের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল। তখন আশেপাশের লোকজন সবাই বলাবলি করছে তাকে ছিনতাইকারীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে। ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাইসাইকেল চালিয়ে প্রিন্স হোটেলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া জানান, উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, তাকে ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের নাম ঠিকানা এখনো জানা যায়নি। নিহতের পকেট থেকে একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে একটি পেনড্রাইভ ও কিছু টাকাপয়সা পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তার কাছে কোন মোবাইল পাওয়া যায়নি।
6
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক ডিলারের বিরুদ্ধে চালের ৪৩৬টি কার্ড আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ডিলারের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের নির্দেশে কার্ড জমা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চেয়ারম্যান এ কাজ করতে পারেন না। এটা অপরাধ। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ডিলারের নাম আলাউদ্দিন শেখ। তিনি সাদিপুর গ্রামের মৃত মহসিন শেখের ছেলে। তাঁর ডিলার পয়েন্ট সাদিপুর বাজার এলাকায়।খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, চরসাদিপুর ইউনিয়নে দুই ডিলারের মাধ্যমে ৮৭৭টি কার্ড নবায়ন হয়েছে। তার মধ্যে ক্রমিক ১ থেকে ৪৪০ পর্যন্ত কার্ডে চাল বিক্রির ডিলার আব্দুর গাফফার। আর বাকি ৪৩৭টি কার্ডের ডিলার আলাউদ্দিন শেখ।ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে ৩০০ টাকায় কার্ডপ্রতি ৩০ কেজি চাল বিক্রি করেন ডিলার। ১৬ ও ১৭ এপ্রিল সাদিপুর বাজারে চাল বিক্রি করেন ডিলার আলাউদ্দিন। প্রতিবার টাকা দিয়ে চালের সঙ্গে গ্রাহককে কার্ড ফেরত দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সব কার্ড নিয়ে নেন তিনি। এখনো তা ফেরত দেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে গোবিন্দপুর গ্রামের দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, '১৬ এপ্রিল চাল আনতে গিয়েছিলাম। ৩০০ টাকা দিয়ে ৩০ কেজি চাল কিনেছি। প্রতিবার চালের সঙ্গে কার্ড ফেরত দিলেও এবার কেড়ে নিছে ডিলার। কবে ফেরত দেবে তা-ও কিছু বলেনি।'একই গ্রামের মো. আরমান প্রামাণিকের ছেলে আছলাম প্রামাণিক বলেন, 'গরিব মানুষ। সরকার কার্ড দিছিল। অল্প টাকায় চাল কিনে খেতাম। এবার কার্ড কাড়ে নিছে। আর হয়তো এ চাল খাওয়া হবে না।'রুপালী খাতুন নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, 'কিছু কলো না, শুধু কার্ড রাখে দিল। আমি গরিব মানুষ। কার্ড কেন রেখে দিল? এই চাল না পাইলে আমার সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যাবে।'সাদিপুর গ্রামের গৃহিণী জেসমিন বলেন, 'মেম্বর-চেয়ারম্যানের কাছে ঘুরেঘুরে কার্ড করিছিলাম। তা-ও তো এবার কেড়ে নিল ডিলার। ফেরত দিল না। খুব কষ্ট লাগছে, কার্ডের জন্য।'ডিলার আলাউদ্দিন শেখ বলেন, 'আমার আন্ডারে ৪৩৭টি কার্ড আছে। ১৬ ও ১৭ এপ্রিল চাল বিক্রি করিছি। কিন্তু এবার চালের সঙ্গে কার্ড ফেরত দেওয়া হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কার্ড রেখে দিয়েছি। পরে ফেরত দেওয়া হবে।' তিনি আরও বলেন, 'আমি একজন বড় কাপড়ের ব্যবসায়ী। এসব ছোট-খাট চালের ব্যবসা করার ইচ্ছা নেই।'চরসাদিপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. মেসের আলী বলেন, 'কার্ড যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডিলারকে জমা নেওয়ার কথা বলেছিলাম। পরে ভুল বুঝতে পেরে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আস্তে আস্তে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এতে আবার অপরাধ কি?'এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদামের নিয়ন্ত্রক মো. এরশাদ আলী বলেন, 'জানতে পেরেছি, চেয়ারম্যানের নির্দেশে ডিলার কার্ড নিয়েছেন। ফেরতও দিচ্ছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান এ কাজ করতে পারেন না। এটা অপরাধ। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডলের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
6
। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তথ্য সংগ্রহকারীদের দেওয়া ভুল তথ্যের কারণে সরকারি খাতায় তিনি এখন 'মৃত'। নিজের বয়স্ক ভাতা ফিরে পাওয়ার আশায় ১০৭ বছর বয়সে এসে প্রায় এক বছর ধরে এই বৃদ্ধ নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে সরকারি অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। যাঁরা তাঁকে 'জীবিত' বলে প্রত্যয়ন করবেন, তাঁরাও জানেন, তাঁদেরই ভুলের কারণে বেঁচে থেকেও তিনি 'মৃত'। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তাঁকে 'বাঁচানো' সময়সাপেক্ষ হয়ে গেছে। ভুল করেছেন সমীক্ষা কর্মীরা, আর এখন সেই ভুলের যিনি শিকার হয়েছেন, তাঁকেই বলা হচ্ছে, 'যথাযথ প্রক্রিয়ায়' ভুল শোধরানোর আবেদন করলে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন। লোকমান হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-৭৬১৮৩৭৬৩৩৫৫২৬। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে মারা গেছেন। মৃত ছেলের স্ত্রীর সংসারে তিনি থাকেন। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা ভাতা পাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ করে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও তাঁর ভাতার কার্ডটি আর চালু হয়নি। প্রায় এক বছর পর এসে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, 'ভুক্তভোগী আবেদন করলে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।' ভুল যদি নিমেষেই হতে পারে, সংশোধন এত সময়সাপেক্ষ কেন? আর এই ধরনের ভুলের জন্য তথ্য সংগ্রহকারীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা-ও বিরাট প্রশ্ন। শুধু লোকমান নন, তথ্য হালনাগাদকারীদের এই ধরনের ভুলে দেশে বহু মানুষ এভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। সুতরাং এই ভুলকে আর ভুল বলার সুযোগ থাকছে না। এটি সরাসরি অপরাধ। সরকারের দিক থেকে যখন 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' স্লোগান সামনে আনা হচ্ছে, তখন এসব ঘটনা সরকারের সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। যাঁদের 'ভুল' জলজ্যান্ত 'থাকা'কে 'না থাকা' করে দিচ্ছে এবং সহায়-সম্বলহীন মানুষকে জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে ফেলে দিচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণসহ প্রাপ্য ভাতা ফিরিয়ে দিয়ে সেই 'ভুল' সংশোধন করা জরুরি।
8