text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
মিল্কিওয়ে ছায়াপথের বাইরে প্রথমবারের মতো কোনো গ্রহের লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সূর্যের চারদিকে যেমন গ্রহগুলো ঘোরে, সেভাবে বিভিন্ন নক্ষত্র ঘিরে ঘুরতে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার গ্রহ এর আগে শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সেগুলোর সবই মিল্কিওয়ে ছায়াপথে দেখা গেছে। মেসিয়ের ৫১ গ্যালাক্সিতে থাকা এই সম্ভাব্য গ্রহটিকে আবিষ্কার করেছে নাসার চান্দ্রা এক্সরে টেলিস্কোপ। মেসিয়ার ৫১ নক্ষত্রপুঞ্জকে এর প্যাচানো আকৃতির জন্য ওয়ার্লপুল বা ঘূর্ণি ছায়াপথ বলেও বর্ণনা করা হয়। আমরা যে নক্ষত্রপুঞ্জে রয়েছি, সেই মিল্কিওয়ে ছায়াপথ থেকে এটির দূরত্ব দুই কোটি আশি লাখ আলোকবর্ষ। (অর্থাৎ আলো যে গতিতে ভ্রমণ করে, সেই গতিতে গেলে এই গ্রহটিতে পৌঁছতে দুই কোটি আশি লাখ বছর সময় লাগবে।) নক্ষত্র থেকে আলো বিকিরিত হতে থাকে। কিন্তু যখন কোনো নক্ষত্রের সামনে দিয়ে গ্রহ প্রদক্ষিণ করে, তখন সেই আলোর কিছু অংশ ঢেকে যায়, সেটির এক্স-রে রশ্মি বিকরণ বাধাগ্রস্ত হয়। তখন সেটির সামনে থাকা গ্রহটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়, যা টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এর আগে হাজার হাজার গ্রহ শনাক্ত করা হয়েছে। হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ইন কেমব্রিজের ড. ডি স্টেফানো বিবিসিকে বলেছেন, ''আমরা যে পদ্ধতিতে কাজ করছি, এটাই হল এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ছায়াপথে থাকা গ্রহ-নক্ষত্র খুঁজে বের করার কার্যকর উপায়।'' জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন, তা থেকে ধারণা করছেন যে, এই সম্ভাব্য গ্রহটির আকার হবে শনি গ্রহের মতো। যে নিউট্রন স্টার বা ব্ল্যাক হোল ঘিরে এটি ঘুরছে, সেটির সঙ্গে দূরত্ব সূর্য থেকে শনির দূরত্বের প্রায় দ্বিগুণ। তবে গবেষকরা স্বীকার করছেন, এই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে তাদের আরও তথ্য-উপাত্ত দরকার। এক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো, বিশাল কক্ষপথের কারণে যে নক্ষত্র বা ব্ল্যাকহোল ঘিরে এটি ঘুরছে, আবার সেটির সামনে প্রায় ৭০ বছর সময় লাগে যাবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই আবিষ্কারের একটি ফলোআপ পর্যবেক্ষণ করার আপাতত উপায় নেই। বিজ্ঞানীরা এটাও বিবেচনায় রেখেছেন যে, আলোর বিকিরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে যে, হয়তো কোনো গ্যাস ও ধুলোর মেঘ সেটির সামনে পড়তে পারে, যা এক্স-রে রশ্মি বিকরণে বাধা দিয়েছে। যদিও সেই সম্ভাবনা খুবই কম বলে তারা মনে করেন। কারণ যেভাবে আলোর বিকিরণ কমে গেছে, সেটি কোনো গ্যাসের আস্তরণের কারণে হয়েছে বলে তারা মনে করেন না। গবেষকদের একজন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির জুলিয়া বার্নটসন বলছেন, ''আমরা জানি যে আমরা একটি উত্তেজনাপূর্ণ এবং সাহসী দাবি করেছি। আমরা আশা করবো, অন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটা সতর্কতার সঙ্গে দেখবেন।'' তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, আমাদের পক্ষে শক্ত যুক্তি আছে। বিজ্ঞান যেভাবে কাজ করে, আমরা সেভাবেই কাজ করেছি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান সংকট দূর করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নব নিযুক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার উপর যে দায়িত্বটি দিয়েছেন আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যাতে সেই কাজটি সম্মান ও ইজ্জত সাথে শেষ করতে পারি। স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির দায় সরকারের একার নয়। এধরনের দুর্নীতি রুখতে হলে, ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে সৎ হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। গণমাধ্যমকর্মীর উদ্দেশ্যে নতুন মহাপরিচালক বলেন, আপনারা যারা মিডিয়াতে কাজ করেন তাদের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। সরকারের অগ্রগতি বলেন, ভুল বলেন, ত্রুটি বলেন সব কিছুই আপনারা জনগণকে জানান। করোনার এই মহামারির সময়ে আপনারা সরকারের পাশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দাঁড়াবেন। আমাদের কাজের সমালোচনা করবেন। ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন। সেই সাথে আমি বলবো যেটুকু অগ্রগতি ও ভালো কাজ সেটুকুও তুলে ধরবেন। এ সময় অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার নব নিযুক্ত পরিচালক ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, ঢাকা বিভাগের পরিচালক ডা. হাসান ইমাম, অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 4 |
ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে প্রায় এক দশক আগে করা একটি একটি মামলায় ৯ কোটি ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে টেক জায়ান্ট মেটার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফেসবুককে। সে সময় ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, লগ আউটের পর প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের ফেসবুকে কর্মকাণ্ড ট্র্যাক করত।এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক প্রস্তাব গত সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসের ডিস্ট্রিক্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ফেসবুক অবৈধভাবে যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছে সেগুলোও মুছে ফেলতে বলা হয়েছে ওই প্রস্তাবে।ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ফেডারেল ও স্টেটের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করে ব্যবহারকারীদের কুকি সংরক্ষণ করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন কয়েকজন ব্যবহারকারী। ওই অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে শেয়ার করা বাইরের কোনো ওয়েবসাইটের লিংকের পোস্টে 'লাইক' বাটন চাপলে ফেসবুক কুকি সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীদের ব্রাউজ হিস্টোরিকে কম্পাইল করে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করত।২০১৭ সালে ওই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও ২০২০ সালের এপ্রিলে মামলাটি আবারও ফেডারেল কোর্টে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের পক্ষ থেকে মামলার পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে বলা হয়, ব্যবহারকারীদের নিজেদের অভিযোগ প্রমাণের সুযোগ দেওয়া উচিত।ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এমন অভিযোগও উঠেছিল বেশ কয়েকবার। তবে, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত এমন অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।প্রযুক্তিসম্পর্কিত আরও পড়ুন:মেটাভার্সে ডিজনিকে এগিয়ে নিতে আসছে নতুন সিইওটেক্সাসে মামলা খেল ফেসবুকআরও ৫৪টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করল ভারতভুয়া উইন্ডোজ-১১ ইনস্টলে ম্যালওয়্যারওয়েস্টার্ন ডিজিটালের কারখানায় দূষণটেলিগ্রামের ৬৪টি চ্যানেল ব্লক করেছে জার্মানিচিপ উৎপাদনে ২০২১ সালে বাজার দাপিয়েছে চীনসোশ্যাল মিডিয়া আসক্তিরোধে মার্কিন আইনশঙ্কায় ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকমেসেঞ্জারে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভয়েস রেকর্ড | 11 |
সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে আটকাপড়া অভিবাসীদের অভিবাসন যাত্রার সময় জীবন বাঁচাতে এবং ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অবশ্যই বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে। আজ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরামের (আইএমআরএফ) সাধারণ বিতর্ক পর্বে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। কোনও পরিস্থিতিতে যাতে অভিবাসীদের জোর করে ফেরত পাঠানো না হয় সে বিষয়ে ট্রানজিট এবং গন্তব্যের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জলবায়ুজনিত অভিবাসনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদী ভাঙন বা খরার কারণে লাখ লাখ বাস্তচ্যুত মানুষের দুর্দশাকে অভিবাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন এই উভয় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রাখতে হবে। সাধারণ বিতর্ক পর্বে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। প্রতিমন্ত্রী মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরামে বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ডোমিনিকার পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রী ড. ভিন্স হেন্ডারসন এবং ইউরোপীয় কমিশনের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার মিসেস ইলভা জোহানসন এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকসমূহে প্রতিমন্ত্রী ২০২৩-২৫ মেয়াদের জন্য মানবাধিকার কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থীতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। একটি অগ্রগতি ঘোষণা গ্রহণের মাধ্যমে ফোরাম আজ শেষ হবে। -বাসস। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 9 |
আগুন লাগার পর অভিযান-১০ লঞ্চটি দ্রুত সুগন্ধা নদীর নিকটবর্তী তীরে ভেড়ানো হলে এত মৃত্যু ঘটত না বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা মত দিয়েছেন। রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) ঘটনাস্থলে গিয়ে সুগন্ধা নদীর পাড় এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি ঘুরে দেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন অভিযান-১০ লঞ্চের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। সুগন্ধা নদীতে ঝালকাঠির গাবখানের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চটিতে বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ৩টার দিকে আগুন ধরে যায়। এ আগুন লাগার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।হাসপাতালে আহত অবস্থায় ৮০ জনের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির কাজ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তদন্ত কাজ শেষ করতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।তিনি আরও বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার পরে দ্রুত লঞ্চটি নোঙ্গর করে পাড়ে থামালে এত লোক মারা যেত না। কিন্তু সেটি না করায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। লঞ্চে রাত ৩টার দিকে যখন আগুনের সূত্রপাত হয়, বেশিরভাগ যাত্রীই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। লঞ্চটি ওই অবস্থায় অনেকটা পথ চালিয়ে নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে নদীর মধ্যে পুরো লঞ্চে আগুন ধরে যায়। জিল্লুর রহমান জানান, এই লঞ্চের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা তেমন কার্যকর ছিল না এবং যারা দায়িত্বে ছিল তারা এটা ম্যানেজ করতে পারেনি। আমরা যখন আগুন নেভাতে আসি, তখন দেখতে পাই পুরো লঞ্চে আগুন জ্বলছে। ফায়ার পাম্প ও হোসপাইপের ব্যবস্থা ঠিকঠাক থাকলে নদীতে কোনো নৌযানে আগুন লাগলে তা নেভানো সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযান-১০ লঞ্চের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। এদিকে রোববার দুপুরে বরিশাল বিআইডব্লিটিএ কর্মকর্তাদের একটি দলও ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে ভিড়িয়ে রাখা অভিযান-১০ লঞ্চটি ঘুরে দেখেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বরিশাল নৌযানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাহারুল আমীন বলেন, লঞ্চটিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। ঢাকা বরিশাল রুটের সব লঞ্চেই ওপরে বিলাসবহুল ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু ইঞ্জিন রুমে নিরাপত্তার জন্য কিছুই থাকে না। এদিকে সুগন্ধা নদীতে নিখোঁজদের সন্ধানে তৃতীয় দিনের তল্লাশি অভিযান চলছে। তবে নতুন করে কারও মরদেহ পাওয়া যায়নি। এখনও নদী তীরে অনেকে স্বজনদের খোঁজে ভিড় করছেন। তাদের দাবি, এখনও প্রায় অর্ধশত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রবিবার সকাল থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত সুগন্ধা নদীর দিয়াকুলসহ আশপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহে লঞ্চঘাট এলাকায় একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। এ কন্ট্রোল রুমে নিখোঁজের স্বজনদের দেওয়া তথ্যে সদর থানা পুলিশ ৪৭ জনের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এদিকে স্বজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঝালকাঠি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি নিখোঁজ ৫১ জনের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসএইচ | 6 |
মহান মে দিবস উপলক্ষে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বৃহষ্পতিবার (৩০ এপ্রিল ) এক বিবৃতিতে বলেছেন চলমান বৈশ্বিক মহামারী শাসক ও শোষকদের জুলুমের চেহারা উন্মোচিত করেছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা পৃথিবীতে মালিক শ্রেণি শ্রমিক শোষণের হাতিয়ার হিসেবে নয়া উদারনীতিবাদকে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। একদিকে মুনাফার চাপে শ্রমিককে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে। তারা বলেন, এই মে দিবসে বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন 'সকলের জন্য নিরাপদ ও বিনামূল্যে ভ্যাকসিন এবং শ্রমিকের স্বাস্থ্য মুনাফার উর্ধে' এই স্লোগানকে সামনে এনেছে। বাংলাদেশের বিপ্লবী শ্রমিক শ্রেণিও মুনাফার নিগড় থেকে মানুষের জীবন মুক্তি পাবে এমন দিনের স্বপ্ন দেখে। শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার দৃঢ় শপথ নেয়ার মধ্য দিয়েই পালিত হবেমহান মে দিবস। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে দাবি জানান, শ্রম আইনের ৩২৪ ধারাঅনুসরণ করে মহামারীকালে ছয়মাস সকল লে-অফ, ছাটাই, চাকুরিচ্যুতি নিষিদ্ধ ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ করতে হবে। একই সাথে শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতনের চল্লিশ শতাংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। বিবৃতিতে শ্রমিকদের প্রতি মহামারীকালীন সময়ে ছাটাই ওলে-অফনিষিদ্ধ; শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্যমজুরি, রেশনিং, বাসস্থান, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার এবং গণতান্ত্রিক শ্রমআইনের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করার আহ্ববান জানানো হয়। আগামীকাল মহান মে দিবসে ঢাকার পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের সামনে গার্মেন্ট টিইউসি কেন্দ্রীয়ভাবে পতাকা উত্তোলন ও দাবি উত্থাপন কর্মসূচী পালন করবে। একই সাথে সকল শিল্প এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে মে দিবস পালিত হবে। | 6 |
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বড়াল নদের দিয়াড়-রহিমানপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন রশি টেনে নৌকায় পারাপার হয় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নদীর দুই পারের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।এলাকায় শিক্ষার আলো অনেক আগেই পৌঁছে গেছে। নদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি বাজার, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ ঘনবসতিপূর্ণ দুটি গ্রাম। দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, একটি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটসহ তিনটি গ্রাম। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নদ পারাপারে খেয়ানৌকাটিই একমাত্র ভরসা। আবার এলাকার উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ নিয়ে কৃষকেরা পড়ছেন নানা বিপাকে।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একাধিকবার সেতুটি নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মাপা হলেও কোনো কাজ হয়নি। নদ পারাপারের জন্য আগে বাঁশের সাঁকো ছিল, বর্তমানে রয়েছে একটি খেয়ানৌকা। তবে সেই নৌকার মাঝি সব সময় থাকেন না। কখনো মাঝির স্ত্রী লোক পারাপার করেন, আবার কখনো যাত্রীরা নিজ দায়িত্বেই নৌকায় পার হন। এই আনানেওয়ার জন্য এপার-ওপার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নাইলনের মোটা রশি, যার মধ্যে দেওয়া হয়েছে রডের রিং। যাতে রশি দ্রুত আশা-যাওয়া করতে পারে। যাত্রীরা সেই রশি টেনে নদ পার হন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই রশি টেনেই খেয়ানৌকায় পারাপার হয়।বাজিতপুর গ্রামের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোকসানা খাতুন বলেন, প্রতিদিন নৌকায় নদ পার হয়ে তকিনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে স্রোত থাকায় নদের মধ্যে গেলে ভয় লাগে। আবার মাঝি না থাকলে অনেক সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে ক্লাসও মিস হয়ে যায়। এই ঘাটে একটি সেতু হলে তাদের অনেক সুবিধা হবে।মাঝি আব্দুল হান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কয়েক গ্রামের মানুষের সামান্য সহযোগিতায় যাত্রীদের পারাপার করে আসছেন, কিন্তু এখন এই আয় দিয়ে তাঁর আর সংসার চলছে না। জীবিকার তাগিদে তাই মাঝেমধ্যে অন্য কাজ করতে গিয়ে নিয়মিত ঘাটে থাকতে পারেন না।তকিনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. হাবিবুল্লা বলেন, নৌকায় নদ পারাপার হতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এখন যে খেয়ানৌকায় পারাপার করা হচ্ছে, সেটিও কয়েক বছরের পুরোনো হওয়ায় ফাঁকফোকর দিয়ে নৌকার ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে সবাইকে। এখানে একটি সেতু হলে সব মানুষের উপকার হতো।নদের দক্ষিণ পারের বাসিন্দা অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন বলেন, মানুষের স্থায়ী দুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেছেন। একটি ব্রিজের অভাবে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ পাঁচ গ্রামের মানুষকে। তবে দীর্ঘদিন ধরে শুধু শোনাই যাচ্ছে সেতুটির অনুমোদন হয়েছে। কয়েকবার মাপা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তাই তিনি সেখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনা করে ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ওই সেতুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলেই সেখানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। | 6 |
এই প্রথম একসঙ্গে একই মাঠে হাসলেন মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে গোল দিলেন তারা। আর তাতেই ম্লান লরিয়েঁ। এই ত্রয়ীর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে লিগ ওয়ানে লরিয়েঁকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। খবর ইএসপিএনের। রবিবার (৩ এপ্রিল) রাতে ঘরের মাঠে ম্যাচটি ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেছে মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল। দুইটি করে গোল করেন এমবাপ্পে আর নেইমার। আরেকটি গোল করেন মেসি। গোটা ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করেছেন দুটি। তা দেখাদেখি নেইমারও জোড়া গোল করলেন। তবে গোলের হিসাবে পিছিয়ে থাকলেন মেসি। কিন্তু এটাইবা কম কীসে। একই মাঠে এই ফুটবলত্রয়ীর একসঙ্গে গোলের অনুঘটক হিসেবে আরও অনেক ঘটনাই কাজ করেছে। লরিয়েঁ এক গোল করায় পিএসজির এই তিন তারকা গোল করার শক্তি ও সাহস দেখিয়েছেন। | 12 |
নওগাঁর আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছানাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি চাষের জলাশয় থেকে আহরণ করা প্রায় আড়াই লাখ টাকার মাছ জব্দ করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বিশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাছ আহরণকারী জেলে, ম্যানেজারসহ ১২ জনকে আটক করে ছয়জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১৫ দিনের জেল এবং অন্য ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সোমবার ওই জলাশয়ের মাছচাষি তোফাজ্জল হোসেন খান জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করেছেন। ইএনওর জলাশয়ের কর্তৃত্ব নেওয়ার তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়াত ডা. রেবতী কান্ত সান্যালের ভাতিজা বীরেন্দ্রনাথ সান্যালের পক্ষে তোফাজ্জল হোসেন জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ চারজনকে বিবাদী করে ২০১৯ সালের ৪ জুলাই আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালত ওই বছরের ১৮ জুলাই উভয়পক্ষের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এরই একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে তোফাজ্জল হোসেন ওই জলাশয় থেকে মাছ আহরণ করেন। শুক্রবার সকালে বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় ইউএনও তার লোকজন এবং পুলিশ নিয়ে মাছগুলো জব্দ দেখিয়ে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় ছয়জনকে জেল দেওয়া হয়। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রয়াত ডা. রেবতী কান্ত সান্যাল ও তার ভাতিজা বীরেন্দ্রনাথ সান্যালের কাছ থেকে ক্রয়, লিজ এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে ৮ একর ৫৯ শতক ওই জলাশয়ের আইনগত মালিক আমি। অথচ ইউএনও ওই জমি সরকারি কাজে ব্যবহার করার নামে আমাকে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আদালত অবমাননা, মাছ লুট ও অন্যায়ভাবে জেল দেওয়ার অভিযোগে ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজমুল আলম দেওয়ান বলেন, মাছ চাষসহ জলাশয়ের ভোগদখল চলাকালে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নালিশি সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এ অবস্থায় ইউএনও আদালতের আদেশ অমান্য করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, মাছ জব্দ, জেলেদের আটকসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নিজেই রায় দিয়েছেন। তার এ কাজ এখতিয়ারবহির্ভূত। এ ব্যাপারে ইউএনও ছানাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জলাশয়ের ওপর স্থিতাবস্থা থাকায় এবং রাতের আঁধারে মাছ আহরণের কারণে মাছ জব্দসহ আটক ব্যক্তিদের জেল দেওয়া হয়েছে, যা আইনসম্মতভাবেই করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অমান্য করা হয়নি। | 6 |
সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিই (এডিপি) মূল উন্নয়ন বাজেট। আমাদের সরকার প্রধানের (প্রধানমন্ত্রী) নিবিড় তদারকির কারণে চলতি অর্থবছরে ৬২ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বৈদেশিক সহায়তা আসছে আরএডিপিতে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা। ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অর্থব্যয় কাঙ্ক্ষিত হয়নি। কাঙ্ক্ষিত হলে আরো বাড়তো বলে জানান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নাজিয়া সালমা কনফারেন্স হলে 'ইফেকটিভ পার্টনারশিপ উইথ মিডিয়া ফর সাসটেনেবল গ্রাজ্যুয়েশন' শীর্ষক কর্মশালায় সচিব একথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, ইআরডির যুগ্ম সচিব আব্দুল বাকি, ডিজেএফবি'ৎর সভাপতি হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রমুখ। ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমদে বলেন, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বেড়েছে। এখন বাংলাদেশকে সবাই ঋণ দিতে চায়। আমাদের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে ২০২১ সালের মধ্যে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে তা বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অর্জন করেছে। 'শর্তগুলো হলো- ১. মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার; বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার মার্কিন ডলার। ২. দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া; বাংলাদেশ এটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করেছে। ৩. অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর না হওয়ার মাত্রা ৩০ শতাংশের নিচে থাকা; বাংলাদেশে তা ২৫ শতাংশ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন দেশ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা জরুরি। যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আছে।' তিনি বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে জাতিসংঘের ইকোনমিক ও সোশ্যাল কাউন্সিল। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। আমাদের চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করতে হবে। সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এই দেশ সবার। সবার উচিত সরকার প্রধানকে সহযোগিতা করা। পাইপ লাইনে অনেক টাকা আছে। এটা উন্নয়নের জন্য ভালো। বৈদেশিক সহায়তা কমেনি, বরং বেড়েই চলেছে। ইআরডি সচিব হিসেবে শেষ কর্মদিবসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মনোয়ার আহমেদ বলেন, ২০০৯ সালে যেখানে বৈদেশিক সহায়তা ৩ বিলিয়ন ডলার ছিল, বর্তমানে তা ৭ বিলিয়ন ডলার ক্রস করেছে। সবাইকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। এমনভাবে রিপোর্ট করতে হবে যেন দেশের মুখ দেশে-বিদেশে উজ্জ্বল হয়। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন 'ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ' (ডিজেএফবি) এর জন্য এ কর্মশালার আয়োজন করে ইআরডি। | 0 |
মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর থেকেই চরম অস্থীতিশীল হয়ে পড়েছে আফগানিস্তান। দেশটিতে বর্তমানে তীব্র লড়াই চলছে আফগান সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানের মধ্যে। এরই মধ্যে দেশটির ৩৪টি প্রদেশের ৯টিই তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সর্বশেষ গজনি শহরে প্রবেশ করেছে তারা। সেখানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের তীব্র লড়াই চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, প্রতিদিনই কোনও না কোনও প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে তালেবান। এতে দেশটিতে আতঙ্কে আছেন সাধারণ নাগরিকরা। এই ক্যাম্পেইনে "স্যাংশন পাকিস্তান", "স্টপ প্রক্সি ওয়ার", "স্টপ সাপোর্টিং" টেরোরিস্ট গ্রুপ হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন আফগান নাগরিকরা। ৭০ হাজারের বেশি ফেসবুক ও টুইটার ব্যবকারী এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। আফগানিস্তানের সরকারি আমলা, রাজনীতিবিদ, খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব সবাই নিজ নিজ ফেসবুক, টুইটারের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরোধিতা করে প্রচারণা করছে। তালেবানের সাথে আফগান বাহিনীর লড়াইয়ে ডুরান্ড লাইনকে দোষারোপ করছেন আফগানরা। তাদের মতে, শুধুমাত্র সন্ত্রীদের নিরাপদ জায়গায়ই দিচ্ছে না পাকিস্তান, সেই সাথে অনেক সন্ত্রাসীও পাঠাচ্ছে দেশটিতে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আসন্ন গোয়া বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর দলের কোনো প্রকার ভুল বের করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এটাই তাঁর দল আম আদমি পার্টির সততা এবং অতীত কৃতকর্মের সনদ। আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল এ কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে কেজরিওয়াল ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে সরকারি নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের দায়ে অভিযুক্ত করে বলেন, মানুষ তাঁর দল আম আদমি পার্টিকে ভোট দিলে সবার জন্য 'সুযোগের সমতা' নিশ্চিত করবে।দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সব দলই বলে 'আমাদের দলই সেরা'; কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এ সময় তিনি গোয়ার তরুণ-যুবাদের দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠনের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করে বলেন, 'আমরা এটা দিল্লিতে করে দেখিয়েছি।...আমার এবং মণীশ সিসোদিয়ার (দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী) বাসায় পুলিশ-সিবিআই রেইড করেছে। কমিশন তৈরি করে আমাদের ৪০০ নথিপত্র পরীক্ষা করিয়েছে। কিন্তু তারা কোনো ফাঁকফোকর খুঁজে পায়নি।''এটাই প্রমাণ করে, আম আদমি পার্টি আন্তরিক এবং সৎ দল'-যোগ করেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, 'ওয়াদা করছি, গোয়ায় সরকার গঠনের সুযোগ দিলে আমরা একটি সৎ সরকার গঠন করব।' | 3 |
ঢাকা: ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নায়িকা নুসরাত জাহান ও নিখিল জৈন। ধর্ম আলাদা, কিন্তু তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি এই জুটির প্রেমকাহিনিতে। এরপর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেই তুরস্কে জমকালো বিয়ে করেছিলেন এই জুটি। তবে বছর যেতে না-যেতেই প্রেম ও বিয়ের এমন পরিণতি হবে! কে জানত?১৯ জুন নুসরাত-নিখিলের বিয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। তবে দুজন আছেন দুই মেরুতে। চলতি বছরের শুরু থেকেই নিখিলের সঙ্গে নুসরাতের দাম্পত্য বিচ্ছেদের পাশাপাশি যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে। সেই গুঞ্জন সম্প্রতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। গত সপ্তাহেই প্রকাশ্যে আসে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নুসরাত। ভারতীয় অনেক গণমাধ্যম দাবি করছে নুসরাত ইতিমধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা। এই গুঞ্জন নিয়ে সংবাদমাধ্যম থেকে সোশ্যাল মিডিয়া- সর্বত্রই চলছে নানা কাটাছেঁড়া। তবে এই গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলছেন না নুসরাত জাহান। অথচ ইনস্টাগ্রামে একের পর এক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়ে চলেছেন তৃণমূল সাংসদ। কেন নীরব নুসরাত? কেন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন না তিনি? যেখানে নিখিল খুব পরিষ্কারভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, 'ছয় মাস ধরে আলাদা নুসরাতের থেকে। তাই ওই সন্তান তাঁর নয়।' নিখিল জৈনকে নিয়ে মুখ খুলেছেন নুসরাতও, বললেন, ওটা নাকি বিয়ে নয়! বুধবার নিখিলের সঙ্গে বিচ্ছেদের চর্চা নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন। তিনি বলেন, 'তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে ওই বিয়েটা অবৈধ। তার ওপর এটা যেহেতু হিন্দু-মুসলিম বিয়ে, সেক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে এই বিয়েতে স্বীকৃতি দরকার। সেটা হয়নি। ফলে এটা বিয়েই নয়।'আইনের চোখে এটা বিয়েই নয়, বরং একটা রিলেশনশিপ বা বলা যায় লিভ ইন রিলেশনশিপ। তাই ডিভোর্সের প্রশ্নটাই ওঠে না। আমরা বহুদিন আগেই আলাদা হয়ে গিয়েছি। তবে আমি এই নিয়ে কিছু বলতে চাইনি। কারণ আমার ব্যক্তিগত জীবনটা আমি ব্যক্তিগতই রাখতে চেয়েছিলাম। তাই আমি কী করছি, সেটা ওই বিচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে নির্ভরশীল নয়। আমাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের বা অন্য যে কারোর প্রশ্ন তোলাটা সাজে না। এই বিয়েটা আইনসম্মত নয়, বৈধ এবং কার্যকর নয়।নুসরাত জাহান, অভিনেত্রী২০১৯ সালের ১৯ ও ২০ জুন তুরস্কে রীতি মেনে বিয়ের পর্ব (যদিও নুসরাত এই বিয়ে অস্বীকার করলেন) সেরেছিলেন নুসরাত-নিখিল। কলকাতার এক সাত তারা হোটেলে বসেছিল এই জুটির গ্র্যান্ড রিসেপশন। | 2 |
লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বাড়াতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারাহানা। মঙ্গলবার সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। সংরক্ষিত আসনের বিএনপির এই এমপি বলেন, সরকারের দিক থেকে বাজেট একেবারে ঠিক আছে। ক্ষমতায় থাকতে যাকে প্রয়োজন তার জন্যই তো বাজেট হবে। জনগণের ম্যান্ডেট লাগলে জনগণকে খুশি করতে হবে। আর যদি প্রয়োজন হয় ব্যবসায়ী আর আমলা, তাহলে তাদের জন্যই বাজেট হবে; হয়েছেও সেটা। তিনি বলেন, করোনার লকডাউনের মধ্যে গতবছর অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে লোক হাসিয়েছিলেন। এবার তিনি দাবি করছেন ৭ দশমিক ২ শতাংশের কথা। যদিও বিশ্বব্যাংকের মতে এটি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। প্রবৃদ্ধি মানেই যে সু-সরকার, সুশাসন বা জনগণের সরকার তা নয়। তার প্রমাণ ১৯৬৮ এবং ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খানের আমলে পূর্ব পাকিস্তানের দুটি উল্লেখযোগ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৪৮ এবং ১০ দশমকি ৯৫ শতাংশ। রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেটে বলা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্যখাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কেবলই বাড়ছে। ২০১২ সাল থেকে চিকিৎসায় ব্যক্তিগত খরচ ৬০ শতাংশ থেকে ক্রমাগত বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে। বাকি ২৮ শতাংশের পুরোটাও সরকারের ব্যয় নয়, এর একটা বড় অংশ এনজিও থেকে আসে। প্রতি বছর স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে দারিদ্রসীমার নিচে চলে যায় ৬৬ লাখ মানুষ। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এখনো ভারত থেকে তিন কোটি টিকা পাওয়ার গল্প করছেন। অথচ ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই বছর শেষ হবার আগে তারা কোন রকম টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। যদিও টিকার দাম আগেই চুকানো হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতোই তিন লাখ টাকা রাখা হয়েছে। করোনার মধ্যেই সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী এবং সন্তানদের অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস, ইন্টারনেট ডেটা, 'ইলেকট্রনিক গ্যাজেট' কেনা ইত্যাদি খাতে খরচ অনেক বেড়েছে। নানা দফায় গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও। সহজে শনাক্ত করা যায় বলে চাকুরীজীবী মধ্যবিত্তদেরই আয়করের প্রধান টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ট্রাস্ট আইনের অধীনে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আয়কর বসানো বেআইনি এনং এটা আখেরে ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি এর ওপর ধার্য হয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে। রুমিন ফারাহানা বলেন, সর্বোপরি সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে বাজেটে যেটুকু বরাদ্দ হয় সেটুকুর উপকারও জনগণের কাছে পৌঁছে না। লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত। একটা সরকারের চরিত্রের উপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরা রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারিত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। | 6 |
নতুন গানের অ্যালবাম 'এক্সপেরিমেন্ট এক্স' নিয়ে এলেন একসময়ের জনপ্রিয় গায়িকা তিশমা। বছরের শেষ দিনে তিনি প্রকাশ করেছেন অ্যালবামটি। ১০ বছর আগে ঠিক এই দিনে নিজের সুর ও সংগীতে প্রথম অ্যালবাম 'এক্সপেরিমেন্ট' প্রকাশ করেছিলেন তিশমা। গায়িকা জানিয়েছেন, নতুন অ্যালবামের গানগুলো শোনা যাবে তাঁর নিজস্ব ওয়েবসাইট, আইটিউনস, আমাজন, স্পটিফাই, রিভার্বনেশনসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।১৭তম এই অ্যালবামের সুর ও সংগীত করেছেন তিশমা নিজেই। নিজের তাঁর সুর-সংগীতে এটি গায়িকার নবম অ্যালবাম। তিশমা বলেন, '১০-কে রোমান হরফে এক্স লেখা হয়। প্রথম অ্যালবামটি প্রকাশের ঠিক ১০ বছর পর এটি নিয়ে এলাম। এতে গানও আছে ১০টি। অ্যালবামের নাম তাই এক্সপেরিমেন্ট এক্স।'এক্স আদ্যক্ষর দিয়ে এর আগে 'এক্সফ্যাক্টর', 'এক্সপেরিমেন্ট', 'এক্সপেরিমেন্ট রিলোডেড' ও 'এক্স' শিরোনামে একক অ্যালবাম করেছিলেন তিশা।২০০২ সালে 'তারা' অ্যালবাম দিয়ে মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেন তিশমা। অল্পদিনেই ছড়িয়ে যায় তাঁর নাম। কিন্তু একসময় ধীরে ধীরে মিডিয়া থেকে আড়াল হতে থাকেন তিনি।তিশমা বলেন, 'আমি সব সময় নীরবেই কাজ করি। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে জানাই না। দুই বছর ধরে এই অ্যালবামের কাজ করেছি। গানগুলো রক, আর অ্যান্ড বি, হিপহপ ও হার্ড রক ঘরানার।' | 6 |
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে যেসব ইউপিতে ভোট হবে, তার একটি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়ন। এ ইউপিতে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে জোয়াগ ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আওয়ালের ছেলে মিজানুর রহমান খানকে হত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়। কর্মীদের উদ্দেশ তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'মাইর খেয়ে আসা যাবে না, মাইর দিয়ে আসতে হবে। তার জন্য যদি ১০টা মার্ডারও করা লাগে, তা-ই করবেন। আমি বাকিটা দেখব ইনশাল্লাহ।'পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ৫ জানুয়ারি। এই নির্বাচনে প্রচার শেষ হবে ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে। দেশের যেসব ইউপিতে ওই দিন ভোট হবে, সেগুলো এরই মধ্যে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। চান্দিনার জোয়াগ ইউনিয়নে স্থানীয় ও দলীয় সূত্র বলেছে, এই ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল আওয়ালের ছেলে মিজানুর রহমান খান ওই হুমকি দেন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোয়াগ ইউনিয়নের পাঁচপুকুর গ্রামের এক উঠান বৈঠকে। ওই দিন রাত ১০টার পরই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বৈঠকে মিজানুরের বাবা আব্দুল আওয়ালও উপস্থিত ছিলেন। মিজানুরের সহিংসতায় এমন উসকানি ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দেওয়া হুমকি জোয়াগ ইউনিয়নবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ফেসবুকে এর সমালোচনা ও নিন্দা জানাচ্ছেন।অবশ্য আব্দুল আওয়াল ছেলের এমন বক্তব্যের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, 'এসব কথা কে কখন বলেছে আমি শুনিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।'ভিডিওতে আরও দেখা যায়, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ছেলে মিজানুর নিজের কর্মিবাহিনীর উদ্দেশে আরও বলেছেন, 'আমি ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছি, যদি আমার লোকদের এক ফোঁটা রক্ত ঝরে, আপনি ১০ ফোঁটা রক্ত নিয়ে আসবেন। বাকিটা আমি দেখব ইনশাল্লাহ। ছাড় দেওয়া যাবে না, এক চুল পরিমাণও ছাড় দিব না। মিজান কী জিনিস এখনো জোয়াগের অনেক মানুষ জানে না। জানা উচিত, যখন নমিনেশন নিয়ে আসছি, তখন থেকেই জানা উচিত।'এ ব্যাপারে জোয়াগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সওদাগর আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি অসুস্থ, বাড়িতেই আছি। ভিডিওটি আমিও দেখেছি, কিন্তু বিস্তারিত জানি না। আর মিজান আওয়ামী লীগের কেউ না। তাঁর বাবা আওয়ামী লীগের প্রার্থী।'চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, 'ভিডিওটি আমি দেখিনি। যদি এমন বক্তব্য কেউ দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আইন অমান্য করেছেন, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।' | 6 |
বাবা যেখানে গোলের জন্য হাহাকার করে বেড়াচ্ছেন, সেখানে সন্তান করলেন চার গোল। ফুটবল বিশ্বের সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ছেলের কথা বলা হচ্ছে। ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের (অ-৯) এক ম্যাচে লুসেন্তোর বিপক্ষে চার গোল করেছেন পুলসিনির হয়ে খেলতে নামা আট বছর বয়সী জুনিয়র রোনালদো। আর ওই ম্যাচে ৭-১ গোলে জয় পায় তার দল পুলসিনি। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চলমান মৌসুমে জুভেন্টাসে এসেছেন রোনালদো। সিরি'আ লিগে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে কোনো গোলই করতে পারেননি তিনি। | 12 |
গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙনে দুই শতাধিক পরিবারের বাড়ি-ঘর, বসতভিটা, শতাধিক বিঘা আবাদি জমি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে স্কুল, বাজার, শত শত একর আবাদি জমি, জনজীবনসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন কবলিত এলাকা রক্ষা করার চেষ্টা করছে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড।আজ রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন ধরে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি তীব্র স্রোত সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সির হাট, গোবিন্দি ও ভরতখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ উল্যা মাঝি পাড়া পয়েন্টে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।গত ১৫ দিনের অব্যাহত ভাঙনে মুন্সির হাট এলাকার দুই শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি, বসতভিটা, আবাদি জমি বেশ কিছু গাছ পালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।গৃহহারা পরিবার গুলির মধ্যে কেহ পার্শ্ববর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই আবার অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট জানান, তার ইউনিয়নের মুন্সির হাট, গোবিন্দি, হাটবাড়ী গ্রামে নদী ভাঙনে ২ শতাধিক পরিবারের বাড়ি-ঘর বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া মুন্সির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সির হাট বাজার, ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি, আবাদি জমিও গাছ-পালা সহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাই করিম রেজা জানান, ভাঙন রোধে ঠিকাদারের মাধ্যমে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। | 6 |
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় কবর থেকে ১৩টি কঙ্কাল চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। গত সোমবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের সরকার পাড়া ও দলুয়া দিঘি গোরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।এদিকে, ঘটনা জানাজানি হলে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোলেমান আলী, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী ও পরিদর্শক (তদন্ত) আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় এক শিশু কবরের মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পায়। বিষয়টি জানার পর অনেকেই তাঁদের স্বজনদের কবর দেখার জন্য গোরস্থানে যান। গিয়ে একে একে ১৩টি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখেন তাঁরা। মৃত এক ব্যক্তির স্বজনেরা নিজ উদ্যোগে কবরের মাটি ও বাঁশ সরিয়ে কঙ্কাল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়।দলুয়া এলাকার মকছেদ আলী বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। এমন ঘটনা এই এলাকায় প্রথম। এমন হলে আমরা কি করব? একজন মানুষ মরণের পরও নিরাপদ নয়!'চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রধান বলেন, 'বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে যাই। এমন ঘটনা আমাদের এলাকায় বিরল।'বোদা থানার ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।'ইউএনও সোলেমান আলী বলেন, 'যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর, সে কারণে গোরস্থান কমিটিকে আইনের সহায়তা নিতে হবে। পরবর্তীতে আদালত কোনো নির্দেশ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
বৈদেশিক কর্মসংস্থানে দালালের দৌরাত্ম্য ও প্রতারণা রোধে আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে ন্যূনতম প্রতারণাও মানবপাচারের শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানব পাচারের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে রেমিট্যান্সের উপর নির্ভরশীল এবং দিন দিন রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েই চলছে। রবিবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ভবনের বিজয় ৭১ অডিটোরিয়ামে মন্ত্রণালয় ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) কর্তৃক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য আয়োজিত 'শ্রম অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধ দমনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা' শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। এতে আরো বক্তব্য দেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো'র মহাপরিচালক মো. শামছুল আলম, আইওএম মিশন প্রধান গিওর্গি গিগাউরি, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নাজীবুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান। এ কর্মশালায় ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৩২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আরও ৫৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
দাকোপের পূর্ব বাজুয়ায় মালেঙ্গা খালে সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করছেন এলাকার হাজারো মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।সরেজমিনে পূর্ব বাজুয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সঞ্চয় গাইনের বাড়ি সংলগ্ন মালেঙ্গা খালের দুই পাশে প্রায় হাজারো লোকের বসবাস। তাঁদের চলাচলের একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের একটি নড়বড়ে সাঁকো। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন গ্রামবাসী।এলাকাবাসী বহুদিন ধরে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু আজও সেতু নির্মাণের কোনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা কয়েক মাস পর পর নিজ খরচে সাঁকোটি মেরামত করে আসছেন। প্রায় ২৫০-৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের এ সাঁকোটি যেন গ্রামবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্থানীয়রা জানান, এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে ওই খাল পেরিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় অধিবাসীরা যাতায়াত করে আসছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মাঠের ফসল নিয়ে কৃষকরা এ সাঁকো পার হয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে। সাঁকোটির পাশে রয়েছে পূর্ব বাজুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামিয়া মাদ্রাসাসহ, এতিমখানা ও মসজিদ। ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা এ নড়বড়ে সাঁকো পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ ছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে আনা-নেওয়ার সময় বিপাকে পড়েতে হয় স্বজনদের। এই ভোগান্তি দুর করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।কথা হয় নিহার কনা গাইন নামের ৮০ বছর বয়সের এক বৃদ্ধের সঙ্গে তিনি সাঁকো পার হওয়ার সময় বলেন, 'আমাদের এই ভোগান্তি কেউ দেখতে আসেন না। এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে জানিনা। কতবার কত লোক এসে মাপজোক দেয়। কিন্তু কোনো কাজ হয় না বাবা।'দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র অসীম ও হৃদয় বলে, 'এত বড় সাঁকো পার হতে ভয় করে। একটা ব্রিজ হলে দৌড়ে স্কুলে যেতে পারতাম।'স্থানীয় ইউপি সদস্য বিশ্বজিৎ মন্ডল জানান, এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে এই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। এতে গ্রামবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। এখানে একটি সেতু নির্মাণ খুবই জরুরি।বাজুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মানস কুমার রায় জানান, বাঁশের সাঁকোর স্থানে সরকারি অর্থায়নে একটি সেতু নির্মাণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে।এ ব্যাপারে দাকোপ উপজেলা প্রকৌশলী ননী গোপাল জানান, সাঁকোটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার আন্দোলনে নেমেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে তুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের গাফলতির বিরুদ্ধে এ আন্দোলন নামেন তারা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নানান প্রক্রিয়ায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী, আলাওল ও এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্যকেও বেশ কয়েকবার জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ধরনের কর্ণপাত করেননি। এছাড়াও আমরা এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল পর্যন্ত করেছি, তারপরেও তারা কোনো ধরনের সমাধানের চেষ্টা করেননি। তাই আমরা শেষে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছি। বিক্ষোভকারীরা জানান, অ্যালোটমেন্টের মাধ্যমে সিট পেয়েছি, কিন্তু হলে গিয়ে দেখি আমার সিটে অন্যজন থাকছে। বছর শেষে সিটের ফিসও আমাকে দিতে হচ্ছে। আমরা একমাস ধরে বরাদ্দকৃত সিট নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে বলে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের গাফিলতির কারণে আমরা আমাদের বরাদ্দকৃত সিটে থাকতে পারছি না। যতদিন আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হবে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। এসময় তারা আরও বলেন, প্রশাসন যদি অস্ত্রধারীদের ভয় পায় তাহলে আমাদের অবগত করুক। বিষয়টা আমরাই দেখবো। প্রশাসনকে সময় দেয়া হয়েছিল। সেই সময় শেষ, আমাদেরও সময় শেষ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। বিশ্বিবদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম বলেন, তারা একটা লিস্ট দিয়েছে, সেটা আমরা যাচাই বাছাই করে দেখছি। তারপর আমরা একটা সিদ্ধান্ত দিব। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 1 |
আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মুর্খ আখ্যায়িত করে করে ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দিয়েছে সে পতিপক্ষ সম্পর্কে কোন ধারণাই রাখে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী অজ্ঞ বলেই আমাকে বহিরাগত বলে। এলাকার যে উন্নয়ন আমি করেছি আগামী ১৭ অক্টোবর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ এলাকায় ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় শনির আখরা এলাকার চব্বিশ ফিট থেকে গণসংযোগ শুরু করে জিয়া স্বরণী, গ্যাস রোড, জনতা বাগ চৌরাস্তা মোড়, জনতাবাগ জোড়া খাম্বা রোড দিয়ে রায়েরবাগ বিশ্বরোডে উঠলে পুলিশি বাঁধায় প্রচারণা শেষ করতে বাধ্য হন বিএনপি প্রার্থী। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি এই এলাকার মাটির সন্তান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এই এলাকার সন্তান না। এমনকি সে এখনও এই এলাকাতে বাস করেন না, গেন্ডারিয়া থাকে। তার প্রধান নির্বাচনী অফিস মীর হাজিরবাগ সেটাও এই এলাকাতে না। আমার নির্বাচনী অফিস এই এলাকায় এবং আমার নিজের বাড়িতে। আর নির্বাচনী অফিস অন্যের ঠিকানায়। এ সময় ভয়ভীতি উপক্ষো করে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রচারণাকালে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ভান্ডারী, সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন সর্দার, সহ-সম্পাদক মাসুম দেওয়ান, সাঈদ আহমেদ শাহিন উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।আজ রোববার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।নওফেল বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিলেন, তারা ক্ষমতায় আসার পর তালেবান নেতাদের সঙ্গে মিটিং করেছিলেন। আগের বার যখন তালেবান ক্ষমতায় আসল, তখন আফগানিস্তানে বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠী সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে যায়। এদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খুন করার জন্য পরিকল্পনা শুরু করে।শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে কনক সারওয়ার, ডেভিড বার্গম্যানসহ যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের প্রতিহত করার জন্য রাজপথে প্রতিবাদের পাশাপাশি অনলাইনে সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে।শিক্ষা উপমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট অনলাইনে সোচ্চার হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। অবশ্যই আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করব, তবে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে বিএনপি-জামাতের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মীরা দাঁতভাঙা জবাব দেবেন। | 9 |
ইনস্টাগ্রামে ফিরেছেন জেইন মালিক। নতুন বছরে নিজের নতুন লুক প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এ সঙ্গীতশিল্পী। আজ শনিবারএকটি সেলফি পোস্ট করেছেন তিনি। নতুন বছরে ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পীরএটিই প্রথম পোস্ট। সেলফিতে দাড়ি-গোঁফে মুখ ঢাকা জেইনের, চোখে সানগ্লাস, পরনে কালো লেদার জ্যাকেট। সচরাচর এমন লুকে দেখা যায় না জেইনকে। ছবিটি পোস্টের ১০ ঘণ্টার মধ্যেই তাতে ৪৮ লাখের বেশি লাইক পড়েছে। সাবেক প্রেমিকা গিগি হাদিদের মা ইয়োলান্দার সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর পর জেইনকিছুটা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। জেইনের বিরুদ্ধে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন তার ইয়োলান্দা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেইন। সূত্র : পিপল সাময়িকী বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
ইউরোপে মধ্যপাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে বাধ্য হতে পারে রাশিয়া। উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) একই ধরনের পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো।গত সোমবার রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রেবকভের এই সতর্কবার্তা নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। চলমান পরিস্থিতিকে তিন দশক আগে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে 'সবচেয়ে খারাপ অবস্থা' হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতির মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলার আশঙ্কায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সম্প্রতি ন্যাটোর মাধ্যমে পূর্ব ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায় ওয়াশিংটন।এর প্রতিক্রিয়ায় রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ)' নামক স্থগিত থাকা একটি চুক্তিতে পশ্চিমারা যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পদক্ষেপ নিতে (পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন) বাধ্য হবে রাশিয়া। ইউক্রেন ইস্যুতে উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তেই মূলত এই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইছে মস্কো।সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ-কে রেবকভ বলেছেন, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান না হলে, রাশিয়াকে তা সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সামরিক উপায়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করবে। অর্থাৎ পরবর্তী ধাপ হবে সংঘর্ষের।১৯৮৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের মধ্যে স্বাক্ষরিত আইএনএফ চুক্তির অধীনে ইউরোপে মধ্যপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ২০১৯ সালে আইএনএফ থেকে বেরিয়ে যায় ওয়াশিংটন।পুতিন-জনসনরুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে বলেছেন যে ন্যাটো সামরিক জোটের সদস্যরা ইউক্রেনে তৎপরতা বাড়িয়ে মূলত রাশিয়াকে হুমকি দিচ্ছে, জানিয়েছে ক্রেমলিন।এদিকে মার্কিন গোয়েন্দাদের এক মূল্যায়ন বলছে, রাশিয়া আগামী বছরের শুরুর দিকে কমপক্ষে ১ লাখ ৭৫ হাজার সৈন্য মোতায়েনের মাধ্যমে প্রতিবেশী ইউক্রেনের ওপর বহুমুখী আক্রমণের পরিকল্পনা করতে পারে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে ক্রেমলিন বলছে, পশ্চিমাদের 'রাশিয়াফোবিয়া' আঁকড়ে ধরেছে।তবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের 'অস্থিতিশীল পদক্ষেপ' একটি কৌশলগত ভুল হবে এবং এর পরিণতি 'ভয়াবহ' হবে বলে ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করেছেন জনসন। | 6 |
অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদী-সন্ত্রাসীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জারি করা সতর্কতায় যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদী-সন্ত্রাসীদের হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল চরমপন্থার উত্থান ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র এখন বাইরের সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের চেয়ে দেশের ভেতরে গড়ে ওঠা শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী-সন্ত্রাসীদের নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে বুলেটিন প্রকাশ করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। বুলেটিনে বলা হয়, আগামী সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হলো। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হতো। ন্যাশনাল টেররিস্ট অ্যাডভাইজারি সিস্টেম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকির কোনো তথ্য পেলেই এমন সতর্কতা জারি করা হতো। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলায় আশঙ্কায়ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হতো। এসব সতর্কবার্তায় নানা রঙের উল্লেখ থাকত। যেমন লাল রঙের সতর্কবার্তা দিয়ে গুরুতর হামলার আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হতো। ২০১১ সালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য 'ন্যাশনাল টেররিস্ট অ্যাডভাইজারি সিস্টেম' চালু করে। গতকাল বুধবার দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়, কিছু অভ্যন্তরীণ হিংস্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির মিথ্যা দাবি ঘিরে সংগঠিত হচ্ছে। এই গোষ্ঠী সংহিতার পথ অবলম্বন করতে চাইছে। তারা ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। চরমপন্থী এই গোষ্ঠী তাদের উগ্রবাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট। তারা মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ এই সন্ত্রাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা যেকোনো সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা মহামারি মোকাবিলা, গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল, পুলিশি তৎপরতা, নাগরিক আন্দোলন, বর্ণবিদ্বেষ, অভিবাসনবিরোধিতা-এসব নিয়ে একটি মহলের চরমপন্থী মনোভাব ও উগ্রবাদী তৎপরতার উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার সময় উগ্রবাদী-চরমপন্থীদের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। এর জের ধরে ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাস তাদের আরও এমন তৎপরতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। উগ্রবাদী-চরমপন্থীরা বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর প্রয়াস নিচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়। উগ্রবাদীরা প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তাঁর প্রশাসনকে স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর অনুসারী এই চরমপন্থীরা ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের স্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই চরমপন্থী গোষ্ঠী অভিবাসনের কঠোর বিরোধী। তারা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী। ট্রাম্পের নির্বাচনে জালিয়াতির মিথ্যা দাবি বিশ্বাস করে তারা। এসব উগ্রবাদী রক্ষণশীলরা এখনো বিশ্বাস করে, ট্রাম্প নির্বাচনে হারেননি। জালিয়াতি করে তাঁর জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন যে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন, এমন কথা তারা বিশ্বাস করে না। ট্রাম্পের এই উগ্র সমর্থকেরাই ৬ জানুয়ারি মার্কিন আইনসভা ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা চালায়। তারা ট্রাম্পের পক্ষ হয়ে ইলেক্টোরাল ভোটের ফলাফল পাল্টে দিতে চেয়েছিল। তবে এই উগ্রবাদীরা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়। আহত হয় অনেকে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, আমেরিকার সব জনগণ জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি দায়িত্বের সমান অংশীদার। যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ হামলার ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকতে বলেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। ৬ জানুয়ারির আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শ্বেতাঙ্গ রক্ষণশীল সংগঠন 'প্রাউড বয়েজ'-এর নেতা এনরিখ টেরিও। মিয়ামির আদালতে তাঁর বিচার শুরু হয়েছে। আদালতে সরকারপক্ষের উপস্থাপিত নথিতে দেখা যায়, টেরিও একসময় এফবিআইয়ের তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এ নিয়ে টেরিওকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছেন, আগের কোনো কিছুই এখন আর তাঁর মনে পড়ছে না। যদিও টেরিওর সঙ্গে আলাপের জের ধরে ১৩ জন শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীকে গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হয়েছে। | 3 |
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, সেপ্টেম্বরে খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে খুলবে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে সেপ্টেম্বরেই দেশের সব খুলে দেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে সরকার। বুধবার (১১ আগস্ট) মিন্টো রোডের বাসভবনে এ কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এছাড়া এখনই অটোপাসের চিন্তা নয়, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নভেম্বর -ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর আগে আরও দুই দফায় প্রস্তুতি নিয়েও করানোর সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি। জানা যায়, সরকারি পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রায় সবাই করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। অপরদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ৬৩ হাজার ২২২ শিক্ষক ও কর্মচারীর মধ্যে দুই লাখ ৭৮ হাজার ৪২৬ জনই ইতোমধ্যে টিকার আওতায় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষকের মধ্যে ভ্যাকসিন নিয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ এবং ৬ হাজার ৭২ জন দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ পর্যন্ত গত ১৭ মাসে দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়ানো হয়। করোনা সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সবশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান সাধারণ ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। | 6 |
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় 'বীর নিবাস' পাচ্ছে ১০ অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে এরই মধ্যে এসব ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আর্থসামাজিক অবস্থা উন্নয়নে সরকার পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার অসচ্ছল ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারি পাকা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার মণ্ডতোষ ইউনিয়নে পাঁচটি, অষ্টমনীষা ইউনিয়নে তিনটি ও পাড় ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে দুটিসহ মোট ১০টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে।উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১০টি বীর নিবাস নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিটি ঘরের আয়তন ৭৩২ বর্গফুট। প্রতিটি একতলা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ টাকা।'এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সরকার দেশের অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা ভেবে তাঁদের জন্য পাকা ঘর নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ উপজেলার ১০ জন অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য পাকা ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। কাজের গুণমান ঠিক রাখতে তদারক করা হচ্ছে।' | 6 |
নরসিংদীর মনোহরদীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১১-এর হাতে আটক কাউন্সিলরের নামে থানায় মামলা হয়েছে। জাকির হোসেন বাবুল (৫০) নামে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গত শনিবার রাতে মনোহরদী থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। এর আগে বিকেলে পৌর এলাকার আকন্দবাড়ী জামে মসজিদের সামনে থেকে তাঁকে আটক করা হয়। র্যাব-১১ নরসিংদীর ক্যাম্প কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌহিদুল মবিন খাঁন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।গ্রেপ্তার জাকির হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি মনোহরদী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি।র্যাব-১১ নরসিংদী সিপিএসসি সূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলর জাকির হোসেন এলাকার মেয়ে এবং গৃহবধূদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। বুধবার সকাল ৮টায় পৌর এলাকার এক সাবেক ইমামের স্ত্রীকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করেন এবং বিচার দাবি করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পের নজরে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে প্রাথমিকভাবে বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় শনিবার জাকির হোসেনকে আটক করে র্যাব-১১।মো. তৌহিদুল মবিন খাঁন বলেন, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আরও মেয়ে এবং গৃহবধূদের যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন। আসামিকে শনিবার রাতে মনোহরদী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।মনোহরদী থানার ওসি আনিচুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী আহসান উল্লাহ বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন। | 6 |
স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ছয় মাস পর চট্টগ্রামে এলেন মামলার বাদী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীতে পৌঁছেই তিনি দেখা করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদ্য পদোন্নতি পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনারের দায়িত্ব পাওয়া মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে। তাদের মধ্যে আড়াই ঘণ্টা কথা হলেও গণমাধ্যমের কাছে এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি বাবুল আক্তার। এ ছাড়া তার চট্টগ্রামে আসা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাননি মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউই।
অতিরিক্ত উপকমিশনার কামরুজ্জামান বলেন, 'মামলার বাদী হিসেবে বাবুল আক্তার কথা বলেছেন।'
সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় বাবুল আক্তার তার কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
কী বিষয়ে কথা হয়েছে জানতে চাইলে কামরুজ্জামান বলেন, 'বাবুল আক্তার তার স্ত্রী হত্যা মামলার বাদী। মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।'
এ বিষয়ে বাবুল আক্তারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
চলতি বছরের ৫ জুন ভোরে নগরীতে নৃশংসভাবে খুন হন পুলিশ সুপার পদ থেকে সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। স্ত্রী হারানোর পর নানা নাটকীয়তার মধ্যে পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া সাবেক এসপি বাবুল আক্তার গত ১ নভেম্বর থেকে ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।
এদিকে ছয় মাসের বেশি সময় পার হলেও মিতু খুনের রহস্য এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। থমকে আছে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রমও। ধরা পড়েনি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কুশীলব মুছাও। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম আসা কালুও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে। এ দুই খুনিকে ধরতে পরিচালিত হচ্ছে না কোনো অভিযানও। নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার তদন্তে গঠিত পাঁচটি তদন্তসহায়ক দলও।
| 6 |
নরসিংদীর ঘোড়াশালে লেভেল ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় এক প্রাইভেটকার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রাইভেটকারের চালকসহ আরও ৫ যাত্রী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ঘোড়াশাল চামড়াবো এলাকার রেলস্টেশনের লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মো. ইউসুফ আলী (৩০) শিবপুর উপজেলার দত্তেরগাঁও এলাকার বাসিন্দা। আহত বাকিরা হলেন দত্তেরগাঁও এলাকার মোকাররম মিয়া (২৬), মাহবুব মিয়া, মো. রেদুয়ান (৯), মো. আবদুল্লাহ (১২) এবং পলাশের চরসিন্দুর এলাকার আল আমিন মিয়া (৪৩)।প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে কেউ দায়িত্বে ছিলেন না। তাই প্রাইভেটকারটি রেললাইনে উঠে পড়ে এবং এই দুর্ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেস ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করছিল। এই সময় স্টেশনের পূর্ব পাশের ক্রসিং পার হচ্ছিল একটি প্রাইভেটকার। একপর্যায়ে ট্রেনটি ধাক্কা দিলে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে প্রাইভেটকারটি। এ সময় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংটিতে দুর্ঘটনা রোধে ঘোড়াশাল পৌরসভা থেকে অস্থায়ীভাবে রতন ও কবির হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার সময় রতন গেটকিপারের দায়িত্বে থাকার কথা, কিন্তু তিনি সেই মুহূর্তে সেখানে অবস্থান না করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ইমায়েদুল জাহেদী বলেন, 'প্রাইভেটকারে থাকা ছয়জনের একজন বিদেশগামী ছিলেন, যিনি আহত আছেন। শিবপুরের নিজ বাড়ি থেকে সবাই ওই ব্যক্তিকে নিয়ে ঘোড়াশাল রেলক্রসিং হয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন প্রাইভেটকারে করে। মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। রেলক্রসিংটি অরক্ষিত ছিল। | 6 |
চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দিন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিনাত হুদাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল তারিখ পেছানো হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন নির্বাচনে বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী, জিএস প্রার্থী ঢাবির জহুরুল হক হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আনিসুর রহমান, জিএস প্রার্থী ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবীবা বেনজীর ও রোকেয়া হল সংসদের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শেখ মৌসুমী। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব | 1 |
সদ্য শেষ হওয়া ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, যে নির্বাচনে ওয়ান থার্ড ভোটার উপস্থিত নেই, সেই নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে টোটালি ব্যর্থ এবং অযোগ্য। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সরে যাওয়া উচিত। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একদশ সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে মঙ্গলবার অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ আরও বলেন, এই ইসির আমল ছাড়া অতীতে কোনো সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বা জাতীয় নির্বাচনে ৫০ ভাগের কম ভোটের নজির নেই। সংবিধান যখন প্রণয়ন করা হয়েছিল বাংলাদেশের কোথাও নির্বাচনে ৩০ ভাগের কম ভোটার উপস্থিতি ৩০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ছিল না। থাকলে তখন সেখানে সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হত, ৩০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি আরো বলেন, এই সরকার এবং ইসি ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। 'অযোগ্য অপদার্থ' নির্বাচন কমিশনের এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সরে যাওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশন এ অবস্থা থেকে অবিলম্বে আমাদের মুক্তি দিবে বলে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করি। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব | 6 |
বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার সকালে নির্বাচন অফিসারের কাছে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. দুলাল সরদার এ অভিযোগ করেন। অভিযোগ উঠেছে একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. ছাদেক হোসেন খানের বিরুদ্ধে।অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের টিউবওয়েল মার্কা ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী ও বর্তমান মেম্বার ছাদেক হোসেন খান গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মোসা. শাহেদা বেগমকে ভোট কিনতে টাকা দেন। এ সংবাদ ফুটবল প্রতীকের ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকেরা জানতে পেয়ে শাহেদা বেগমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় শাহেদা বেগম ভোট কেনার কথা স্বীকার করেন।ইউপি সদস্য প্রার্থী ছাদেক হোসেন খান বলেন, 'টাকার বিনিময়ে আমার কোনো সমর্থক কারও কাছে ভোট চাননি। জনসমর্থন দেখে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।'উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'ভোট কেনার অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী মো. ছাদেক হোসেন খানকে ডাকা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
২১ বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে বার্সেলোনা ছেড়ে দিলেন লিওনেল মেসি। অথচ এত দিন শোনা যাচ্ছিল, নিজের পারিশ্রমিক প্রায় অর্ধেক করে বার্সাতে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে মৌখিকভাবে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।সব ঠিক পথেই এগোচ্ছিল, জল্পনা সত্ত্বেও নিজের পারিশ্রমিক অর্ধেক করেও বার্সেলোনার সাথে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজিও হয়ে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কথা ছিল কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারিভাবে মেসির নতুন চুক্তির কথা ঘোষণা করা হবে। তবে হঠাৎই ভোলবদল। মার্কার রিপোর্ট অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মেসির এজেন্টদের সাথে মধ্যাহ্নভোজে আলোচনায় বসে বার্সা বোর্ড। এই আলোচনা সভার পরেই মেসির সাথে চুক্তি বাড়ানোর কথাবার্তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। বার্সালোনা ক্লাবের তরফেও সরকারিভাবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির ক্লাব ছাড়ার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে কাতালোনিয়ার ক্লাব জানায়, 'বার্সেলোনা ও মেসির মধ্যে নতুন চুক্তির বিষয়ে কথাবার্তা পাকা হয়ে গেলেও এবং দুই তরফই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহী হওয়া সত্ত্বেও লা লিগার আর্থিক এবং পরিকাঠামোগত বাধার দরুণ এই চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব নয়। ফলস্বরূপ মেসি বার্সেলোনাতে থাকছেন না। খেলোয়াড় এবং ক্লাব, দুই তরফের ইচ্ছা থাকলেও এই ফলাফলে উভয় পক্ষই হতাশ।' বার্সেলোনার তরফে মেসিকে তার ব্যক্তিগত এবং খেলোয়াড় জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ক্লাবে তার অবদানের জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। আর্জেন্টিনা থেকে বালক হিসেবে বার্সেলোনাতে যোগ দিয়ে যে রূপকথা শুরু হয়েছিল, ২১ বছর পর অবশেষে তার পরিসমাপ্তি ঘটল। মেসি বার্সা ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন না এবং ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করবেন- এই প্রতিশ্রুতিতেই বার্সার প্রেসিডেন্ট পদে লড়েছিলেন হুয়ান লাপোর্তা। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দল ছাড়ায় সমর্থকদের প্রবল রোষের মুখে পড়তে হবে লাপোর্তাকে, এমনকি তাকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকেও ইস্তাফা দিতে হতে পারে জল্পনা। বিশ্বের একাধিক শীর্ষস্তরের ক্লাব ৩৪ বছর বয়সী জাদুকরকে সই করাতে মুখিয়ে রয়েছে। প্যারিস সাঁ-জাঁ, ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, দুই দলের সাথেই বহু দিন ধরে মেসির নাম জড়িয়েছে। অবশেষে মতান্তরে ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কোন দলে সই করেন এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
বর্তমান বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসবিশ্বের ১৬২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ১৭১ জনের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৯৮ জন। এর মধ্যে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। তবে সুস্থ হয়েছেন ২৩ জন। সোমবার তিনি আমিরাতে বসবাসরত সকল নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমিরাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য মজুদ রয়েছে, আল্লাহর নিয়ামত জ্বালানি রয়েছে এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া আমিরাত সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে সকল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আপনারা সবাই মনোবল শক্ত রাখুন, সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।' বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় গোপনেচতুর্থ শ্রেণির এক মেয়ের বিয়ের আয়োজন করে পরিবার। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে এই বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে বর, কাজী এবং আয়োজকদের জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার উপজেলার মহেষপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়িতে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাহালু পৌর এলাকার সাঘাটিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে (১৩) তার ফুফার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পরিবার। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বরপক্ষ মহেষপুর গ্রামে যায়। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাছুদুর রহমান। এতে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পায় ওই কিশোরী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাহালু সদর ইউনিয়নের কাজী আব্দুল গফুরকে ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বর নওগাঁ সদর উপজেলার খয়রাবাদ গ্রামের বেলাল মন্ডলের ছেলে মোমিন মন্ডলকে (৩০) ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও কনের ফুফা রফিকুল ইসলামকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়াও কনের ফুফু রফিকুলের স্ত্রী খালেদা বেগমকে ৪ হাজার টাকা, বরের দুলাভাই জাহাঙ্গীর আলমকে ৩ হাজার টাকা, বরের দাদা আনিছুর রহমানকে ৩ হাজার টাকা ও বরের জেঠা সেকেন্দারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কাহালু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গুলবাহার খাতুন, রেজাউল করিম ও আল আমিন প্রমুখ। কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাছুদুর রহমান বলেন, গোপনে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাই। বিয়ে বন্ধ করে দেই। বাল্যবিয়ের বন্দোবস্ত করায় তাদেরকে জেল-জরিমানা করা হয়। | 6 |
আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, পদ্মা সেতুর নাম পদ্মা নদীর নামেই রাখা হবে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের কারও নামেই এ নাম রাখা হবে না।এর আগে গত ১৭ মে (মঙ্গলবার) পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের তারিখ শেখ হাসিনাই নির্ধারণ করবেন। এ নিয়ে দলীয় একেক নেতা একেক তারিখ না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।স্বপ্নের পদ্মা সেতুসম্পর্কে সবশেষ খবর পেতে - এখানেক্লিককরুনপদ্মা সেতু প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। গত এপ্রিলের শুরুতে পাওয়া পদ্মা সেতুর অগ্রগতির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ছিল ৯২ শতাংশ। ওই সময় নদীশাসনের কাজ শেষ হয়েছিল ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া মূল সেতুর কার্পেটিং কাজ হয়েছিল ৬৬ শতাংশ। গ্যাস পাইপলাইনের কাজের অগ্রগতি ছিল ৯৯ শতাংশ এবং ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের কাজের অগ্রগতি ছিল ৭৯ শতাংশ।পদ্মা সেতুসম্পর্কিত আরও পড়ুন:পদ্মা সেতু, স্যাটেলাইট ও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রীপদ্মা পাড়ে স্বপ্ন জয়ের প্রস্তুতিপদ্মা সেতু শাস্তি প্রয়োগের কোনো স্থাপনা নয়: আ স ম রববিএনপি-জামায়াত দেশকে শ্রীলঙ্কার অবস্থায় দেখতে চায়: হানিফসর্বজনীন পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে অপপ্রচারকারীদের ক্ষমা চাওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রীনগরের আয়তন বৃদ্ধির প্রস্তাবপদ্মা সেতু নিয়ে টিকটকে অপপ্রচার, তরুণ গ্রেপ্তার | 6 |
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভুল চিকিৎসায় চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার শ্যামলীপাড়ায় অবস্থিত জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে মালিকপক্ষ পলাতক রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে শিশুটির পরিবারের লোকজন ক্লিনিকে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে এসেছে পুলিশ।শিশুর মা সুমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, 'আমার মেয়ে সুমনার পিঠে ফোড়া ওঠায় গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে আমার ভাইকে নিয়ে ফোড়া অপারেশনের জন্য স্থানীয় জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক আহসানুল হকের কাছে যাই। সেখানে চিকিৎসক আমার মেয়েকে দেখে রক্ত পরীক্ষাসহ নানা ধরনের পরীক্ষা করতে দেয়। পরে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক আহসানুল হক সুমনার পিঠে পরপর পাঁচটি ইনজেকশন প্রয়োগ করে। এ সময় আমার মেয়ে চিৎকার করে বলে, ''মা আমি আর বাঁচব না''। তারপরই আমার মেয়ের খিঁচুনি শুরু হয় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।' শিশু সুমনার মামা মুনিয়া মিয়া বলেন, 'আমার ভাগনিকে নিয়ে যখন ক্লিনিকে গেলাম, তখন চিকিৎসক তাকে দেখে অপারেশনের কথা জানান এবং কিছু ওষুধ আনতে বলেন। এরপর সুমনাকে জোর করে পরপর পাঁচটা ইনজেকশন প্রয়োগ করে বলেন, একটু ঠান্ডা হলে নিয়ে আসবেন, ফোড়া কেটে বের করে দেওয়া হবে। এরপর সুমনার খিঁচুনি শুরু হয়। তখন অক্সিজেন দেওয়ার জন্য তাকে একটা রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বলেন সুমনার অপারেশনের জন্য আপনাদের একটা সই লাগবে। ডাক্তার এই কথা বলে আমাদের কাছ থেকে জোর করে সই নিয়ে নেন। পরে আমাদের আর রুমের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। আমরা এই চিকিৎসকের শাস্তি চাই।'এ বিষয়ে স্থানীয় জোমেলা বেগম বলেন, 'সুমনা সুস্থভাবে হেঁটে বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু ক্লিনিকে যাওয়ার পর ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় তাকে লাশ হয়ে বাসায় ফিরতে হয়। আমরা এই কসাই চিকিৎসকের বিচার চাই।'এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
পবিত্র রমজান মাসের শবে কদর উপলক্ষে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে মাংস ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে না পারে সেই জন্য অভিযান পরিচালনা করেছেন টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. এরফানুল হক চৌধুরী। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন, মডেল থানার এসআই নুরে আলম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে টেকনাফ পৌর এলাকার বাস স্টেশন এবং উপরের বাজারের বিভিন্ন মাংসের দোকানকে গরু ও মহিষের ৭০০ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
ওরা ১২ জন, চারজন নারী ও আটজন পুরুষ। কিন্তু একটা মাত্র চেয়ার। তাঁদের সবার দৃষ্টি এখন এই রাজকীয় চেয়ারটির দিকে, সবাই এটি নিজের দখলে নিতে চান। সবাই দেশপ্রেমিক। দেশের মঙ্গল করতে, দেশবাসীকে আরাম, আয়েশ আর স্বস্তিতে রাখতে তাঁরা সবাই অন্তঃপ্রাণ।আগামী ১০ ও ২৪ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের দ্বাদশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফ্রান্সের নির্বাচনী ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে অংশ নেবেন তাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী। মোট ১২ জন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর মধ্য থেকে প্রথম দফায় ১০ এপ্রিল সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত দুজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য বাছাই করবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ফরাসি নাগরিক-ভোটার। ইতিমধ্যে সরকারি খরচে প্রতিটি ভোটারের ঠিকানায় সব প্রার্থীর ছবি এবং পরিচিতিসহ চার পাতার নির্বাচনী ইশতেহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।চেয়ার বলার চেয়ে 'মসনদ' বলাই ভালো। কারণ যে ব্যক্তি এই আসনে উপবেশন করার জন্য দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে নির্বাচিত হবেন, তিনি হবেন দেশটির পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের নবম প্রেসিডেন্ট। দেশের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্যারিসের এলিজে প্রাসাদের বাসিন্দা হবেন গুনে গুনে পাঁচ বছরের জন্য। বলে রাখা ভালো, ফ্রান্সে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।পাঁচ বছর আগে ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ জন। এবার একজন বেশি। কয়েকটি নতুন মুখ ছাড়া এবারের নির্বাচনেও ঘুরেফিরে সেই পুরোনো প্রার্থীরাই আবারও নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। সেবার নির্বাচিত হয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সের মধ্যপন্থী প্রার্থী ইমানুয়েল মাখোঁ। অনেকটা ভাগ্যচক্রে তিনি ফরাসি রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন। এর আগে প্রায় ৪৫ বছর ধরে ক্ষমতার পালাবদল ডান ও বামদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কম্যুনিস্ট, পরিবেশবাদী আর কট্টরপন্থীরা তাতে মোটেই নাক গলাতে পারেনি। সে বছর ইমানুয়েল মাখোঁ বাম ও ডানপন্থী প্রার্থীদের পরাজিত করেন। পরে দ্বিতীয় দফায় ভোটে পরাজিত করেন কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী মারিন লো পেনকে। দ্বিতীয় দফায় মাখোঁ পেয়েছিলেন ৬৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মারিন লো পেনের ভাগ্যে জুটেছিল ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট।এ বছর সনাতন বাম ও ডানদের মধ্য থেকে প্রার্থী হয়েছেন দুজন নারী। সোশ্যালিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন প্যারিস নগরীর মেয়র ৬২ বছর বয়সী অ্যান হিডালগো। আর রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ভ্যালেরি পেক্রেস, তাঁর বয়স ৫৪ বছর। বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, দুজনেই ১০ এপ্রিল প্রথম দফায় অনেক ব্যবধানে নির্বাচনের ময়দান থেকে বিদায় নেবেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, তাঁরা দুজনেই অনেকটা বাম ও ডান রাজনীতির মুখ রাখতেই ভোটের লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছেন।কট্টর বামপন্থীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন 'জাগ্রত ফ্রান্স' অর্থাৎ 'লা ফ্রন্সঁ আনসুমিজ' দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জঁ লুক মেলনশোঁ। অভিবাসীবান্ধব বলে কিছু ভোট নিজের দিকে টানতে পারলেও ২০ শতাংশের বেশি ভোট তাঁর বাক্সে পড়বে না বলে জরিপকারীদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।জরিপে অনেকটা এগিয়ে আছেন কট্টর ডানপন্থী দল, জাতীয় জমায়েতের প্রার্থী ৫৩ বছর বয়সী ম্যাডাম মারিন লো পেন। জরিপে দেখা যাচ্ছে যে তিনি প্রথম ধাপে ২০ শতাংশের বেশি ভোট পাবেন। মারিন লো পেন মুসলিম অভিবাসীদের কট্টর বিরোধী। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ফ্রান্সকে বের করে আনবেন বলে যে আস্ফালন শুরু করেছিলেন, তা থেকে অনেকটাই তিনি সরে এসেছেন। এদিকে কট্টর ডানপন্থীদের মধ্যে আরও বেশি মাত্রায় কট্টর প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ৬৩ বছর বয়সী এরিক জেমুর। তিনি ১০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেতে পারেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। নির্বাচনের প্রথম ধাপে বাদবাকি ছয়জন প্রার্থীকে ১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ ভোট কুড়াতেই গলদঘর্ম হতে হবে বলেও জানা গেছে জরিপ থেকে।সব জরিপে সব প্রার্থী থেকে অনেকটা ব্যবধানে এগিয়ে আছেন 'এগিয়ে চলো' আন্দোলনের নেতা ৪৪ বছর বয়সী বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে মাখোঁর। গত মেয়াদে ইমানুয়েল মাখোঁ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে 'হলুদ কোর্তা' খ্যাত সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়। এর পরই শুরু হয় কোভিড-১৯ অতিমারি। তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে বেশ কিছু প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠেন। ফ্রান্সে বেকারের সংখ্যা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ শতাংশ থেকে নিচের দিকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন মাখোঁ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন। মাখোঁ অর্থনীতি ভালো বোঝেন। একসময় তিনি দেশটির জাঁদরেল অর্থমন্ত্রী ছিলেন। এদিকে পরাশক্তি রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে তা রোধে বৈদেশিক রাজনীতিতেও তিনি সরব ছিলেন এবং এখনো রয়েছেন। উল্লেখ্য, এ বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আগামী ছয় মাসের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।যাঁরা খুব কাছে থেকে ভোটারদের মতিগতি বোঝার চেষ্টা করছেন তাঁদের মতে, এবারও ২৪ এপ্রিল চূড়ান্ত ধাপে লড়াই হবে মধ্যপন্থী ইমানুয়েল মাখোঁ ও কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন লো পেনের মধ্যে। দ্বিতীয়বারের মতো ইমানুয়েল মাখোঁ ফরাসি প্রেসিডেন্টের জন্য রক্ষিত আসনে আসীন হতে যাচ্ছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে সেই সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।তার পরও কথা থাকে। জনমত জরিপ থেকে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া গেলেও তা যে সব সময় সঠিক হবে এটা ভাবা সংগত নয়। আর গণতন্ত্রে জনগণই যখন সব ক্ষমতার উৎস, তখন আমাদের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আর সেই ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে যে প্রশ্নটির উত্তর, তা হলো, শেষ হাসি কে হাসবেন?লেখক: ফ্রান্সপ্রবাসী লেখকবিশ্লেষণ সম্পর্কিত পড়ুন:ফ্রান্সে কি কট্টরবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছেপাকিস্তানের রাজনৈতিক বিপর্যয় কি প্রতিবেশী দেশে প্রভাব ফেলবেযুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংক কি অকার্যকর হয়ে পড়ছেবুদ্ধির অভাবে হারছেন ইমরানইউক্রেন যুদ্ধের 'আফগানাইজেশন' এড়ানোর কৌশলে রাশিয়াবিরোধীদের বাউন্সারে ইমরানের হুক, ছক্কা নাকি আউট | 3 |
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হত্যা করতে আফগানিস্তান থেকে একজন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের মন্ত্রী ফায়াজ চোহান। শনিবার পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) নেতা জানান, আফগানিস্তান থেকে ভাড়া করা ওই সন্ত্রাসীর নাম 'কোচি'। খবর পাকিস্তানের জিও টিভির। ফায়াজ চোহান বলেন, "কিছু লোক ইমরান খানকে হত্যার জন্য একজন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করেছে। আমার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত আছে। কিছু মানুষ আফগানিস্তানের 'কোচি' নামের একজন সন্ত্রাসীকে নির্দেশ দিয়েছে পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ইমরান খানকে হত্যা করতে।" বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
ইয়াবা পাচারের অনেক খবর প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমে। তবে এরকমটি শোনা যায়নি আগে কখনো।ইয়াবা পাচারের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে বেসরকারি হেলিকপ্টারকে। এ খবর পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, কক্সবাজার থেকে হেলিকপ্টারে করে মাদক চোরাচালানের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে। যেহেতু হেলিকপ্টারের যাত্রীদের তেমন কোনো নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে যেতে হয় না এবং পণ্য পরিবহনের সময় স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা নেই, তাই এত দিন ব্যাপারটি কারও নজরে আসেনি। এ তথ্য জানার পর বুধবার সকালে সচিবালয়ে বেসরকারি আটটি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারের মালিক ও তাদের প্রতিনিধি, বিমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়। মাদক পরিবহন প্রতিরোধে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মাদক পরিবহন হচ্ছে। স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী এ সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্য হেলিকপ্টার মালিকদের ডেকেছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি।' স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকেও মাদক পরিবহন প্রতিরোধে হেলিকপ্টার ব্যবহারে সতর্কতা জারি করতে বলা হয়। বিমান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এত দিন তাঁরা খবর পেয়েছেন, অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানে যাত্রীদের দিয়ে মাদক আনা-নেওয়া করা হয়। কিন্তু এখন খবর আসছে তারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করছে। এ অভিযোগ যারা ভাড়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে তাদের ক্ষেত্রে। বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, হেলিকপ্টার ওড়ার ছয় ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগই নেন না। | 9 |
তাঁর একেকটা গগনচুম্বী ছক্কা পুরো স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা ছক্কাটিও এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। ২০১৩ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বলটিকে উইকেট থেকে ১৫৮ মিটার দূরের এক জঙ্গলে পাঠানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছিল। কিন্তু কেউ প্রমাণ করতে পারেননি।শহীদ আফ্রিদি আসলে এমনই। টাইমিং নয়; শক্তি দিয়েই সবকিছু জয় করেছেন তিনি। তাঁর দানবীয় শক্তিকে এবার কাজে লাগাতে চাইছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সেটির জন্য সৃষ্টি করছে নতুন পদ।জাতীয় দলের জন্য দুজন নতুন কোচ চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে রমিজ রাজার পিসিবি। এর একটি হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি), আরেকটি পাওয়ার হিটিং! ক্রিকেটে ব্যাটিং কোচের পদ অনেক আগে সৃষ্টি হলেও পাওয়ার বা হার্ড হিটিংয়ের জন্য আলাদা কোনো পরামর্শক এবারই প্রথম নিয়োগ পেতে চলেছেন। বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও মারকুটে অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি হতে যাচ্ছেন দেশটির নতুন পাওয়ার হিটিং কোচ।করাচিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন আফ্রিদি। জানিয়েছেন, বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি তাঁকে। ৪৪ বছর বয়সী তারকা বলেছেন, 'পাওয়ার হিটিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য কেউ আমাকে এখনো প্রস্তাব দেয়নি বা কারও সঙ্গে কথা হয়নি। সুযোগ এলে অবশ্যই ভেবে দেখব, আপনাদেরকেও জানাব।'আগামী ২৭ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সপ্তম আসর। আফ্রিদি এবার খেলবেন কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে। আগেই জানিয়েছেন, পিএসএলে এটিই তাঁর মৌসুম। এবার সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে খেলবেন তিনি। অধিনায়কের ব্যাপারে আফ্রিদির ভাষ্য, 'ও মাঝে মাঝে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। আমি ওকে সাহস দেব ও শান্ত রাখার চেষ্টা করব।'তিন সংস্করণ মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭৬টি ছক্কা মেরেছেন আফ্রিদি। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। | 12 |
দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্তের পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব। একের পর এক দেশে ছড়াচ্ছে করোনার এই নতুন ধরন। করোনার এই নতুন ধরন থেকে সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৪টি দেশ আফ্রিকা ও এর আশপাশের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধজ্ঞা জারি করেছে। আজ সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, করোনার অতিসংক্রামক ধরন ডেলটার চেয়েও বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা ওমিক্রনের।এদিকে গতকাল রোববার এক বক্তব্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির সমালোচনা করে বলেছেন, 'এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কেবল এই দেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে। এছাড়া মহামারি মোকাবিলা এবং কাটিয়ে উঠতে আমাদের সক্ষমতাকেও এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খাটো করা হয়েছে।' উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন এই ধরন প্রথম শনাক্ত হয়। গত দুই সপ্তাহে দেশটির গৌতেং প্রদেশে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। প্রাথমিকভাবে করোনার নতুন এ ধরনটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয় বি.১. ১.৫২৯। পরে গত শুক্রবার এর নাম দেওয়া হয় 'ওমিক্রন'। | 3 |
যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে গণমাধ্যমে মাসখানেকের বেশি সময় ধরে তুমুল আলোচনা চলছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে ছাত্রলীগের ছোট নেতাদের কোটি টাকা কমিশন পাওয়ার পর বড় নেতাদের বড় অঙ্কের 'ন্যায্য পাওনা' দাবির টেলিফোন ফাঁস হওয়া থেকে সম্ভবত এসব আলোচনার শুরু। এরপর এল হাজার হাজার কোটি টাকার টেন্ডার বাগানো এবং ক্যাসিনোর কারবারে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের অঢেল বিত্তবৈভব অর্জনের কথা। টেন্ডার এবং ক্যাসিনোর মতো পরিবহন ব্যবসাতেও যে উন্নতির গতি প্রায় রকেটের সমান, তা-ও এবার প্রমাণিত হয়েছে। এসব চোখধাঁধানো উন্নতি কীভাবে অস্বীকার করা যাবে? কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এতটা সমৃদ্ধি ঘটে থাকলে মূল দলের নেতারা সবাই কি সাধু-সন্তের মতো সংযম সাধনা করেছেন? তাঁরা কেন আলোচনায় নেই? এখন পর্যন্ত যাঁরা আটক হয়েছেন, তাঁদের কেউ কেউ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, অনেকেই নির্বাচনে মনোনয়নের লড়াইয়ে ছিলেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন করাই তাঁদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। বলা চলে, তাঁদের এই টাকার পেছনে দৌড়ানোর অন্যতম একটি কারণ নির্বাচন। গত মাসের ২৯ তারিখে 'সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের চেয়ে ব্যয় বেশি বিএনপির, সবচেয়ে বেশি ব্যয় ইসলামী আন্দোলনের' শিরোনামে প্রথম আলোতেই একটি খবর প্রকাশিত হয়। খবরটিতে নির্বাচন কমিশনের সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে বলা হয় যে রাজনৈতিক দলগুলো গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের যেসব হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছে তাতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩৮ টাকা আর বিএনপির ১ কোটি ১১ লাখ ৩৯ হাজার ১২০ টাকা। সবচেয়ে বেশি ২ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার ২১২ টাকা ব্যয় করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আর ওয়ার্কার্স পার্টির ব্যয় ১ কোটি ১৪ লাখ। প্রতিবেদনটির শিরোনামে অবশ্য বোঝার কোনো উপায় নেই যে বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন জোটের বড় শরিক আওয়ামী লীগের চেয়ে ছোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি খরচের বেলায় বেশি উদার। কথিত খেটে খাওয়া মানুষের দলের এই উন্নতিও কম অর্জন নয়। তবে প্রধান প্রধান দলের নির্বাচনী ব্যয়ে অবিশ্বাস্য সংযম বা কৃচ্ছ্রতা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতিধারার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন কোনো প্রশ্ন কেউ করেছেন বলে এখনো শুনিনি। অথচ রাজনৈতিক দলের নেতাদের ব্যক্তিগত জৌলুশ ও দুহাত খুলে খরচ করার যে স্বভাব আমরা নিত্যদিন প্রত্যক্ষ করি, তার সঙ্গে এই নির্বাচনী ব্যয়ের ছবিটা কোনোভাবেই মেলানো যায় না। নির্বাচনী ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বোঝার জন্য অতীতের হিসাবে নজর দিলে বিস্ময় আরও বাড়ে। ২০১৪-এর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন এ ক্ষেত্রে খুব একটা প্রাসঙ্গিক নয়, কেননা ক্ষমতাসীনেরা ছাড়া প্রধান দলগুলোর প্রায় সব কটিই সে নির্বাচন বর্জন করেছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি এ ক্ষেত্রে বেশ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত শেষ ওই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট প্রথম আলোয় প্রকাশিত 'গত নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করেছে বিএনপি' শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি ২৫৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং দলীয়ভাবে মোট ব্যয় করেছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর আওয়ামী লীগ ২৬৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে খরচ করেছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৪ টাকা। এই দুটি নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পাশাপাশি রাখলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির খরচ হয়েছে আগের নির্বাচনের তুলনায় ৪ ভাগের ১ ভাগ। আর আওয়ামী লীগের ৩ ভাগের ১ ভাগ। গত ১০ বছরে জীবনযাত্রায় ব্যয় বা জিনিসপত্রের দাম কোনো বছরেই আগের বছরের তুলনায় কম ছিল না। আমরা কোনো ধরনের মন্দার মুখোমুখি হইনি। বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার গড়ে ৫ শতাংশের মতো ছিল। অর্থনীতির সূচকগুলো যথার্থ হলে রাজনৈতিক দলের প্রচার ব্যয় বাড়া ছাড়া কমার কথা নয়। এ রকম বাস্তবতায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এ রকম অবিশ্বাস্য ব্যয় সংকোচনের ব্যাখ্যা কী? অবশ্য, আইন করে প্রচারের পরিধি এবং ধরন বদলে দেওয়া হলে হয়তো ব্যয় কিছুটা কমতে পারত। যেমনটি কমেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায়-যখন রঙিন পোস্টার ও ব্যানার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮-এর নির্বাচনে প্রচারের ধরন-ধারণে আইনগত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নির্বাচনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে এ বিষয়ে সর্বশেষ সংশোধনী আনা হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেই সংশোধনী অনুযায়ী, ২০০ আসনের ওপরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দল সর্বোচ্চ সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে। ১০০-এর বেশি ও ২০০-এর কম আসনের জন্য এই ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা আছে তিন কোটি টাকা। আর ১০০ আসনের নিচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দল সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা ব্যয় করতে পারবে। স্পষ্টতই, আইনে নির্ধারিত সীমায় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এসব দল খরচের ক্ষেত্রে চরম সংযম দেখিয়েছে। সংযমের এই প্রতিযোগিতায় ক্ষমতাসীন দল নিশ্চয়ই বিশ্বে নতুন নজির গড়ে রোল মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে। নির্বাচনী আইনে কমিশনের এসব ব্যয় যাচাই করে দেখার কথা। কিন্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনই একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আইনে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্নে অসত্য তথ্য দেওয়ার দায়ে প্রার্থীর অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। কিন্তু কখনো কারও দণ্ড হয়নি। দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো অনেক দূরের কথা। নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনায় কমিশনের অযোগ্যতা, দলীয় পক্ষপাত ও নানা ধরনের অনৈতিক আচরণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বিস্তর। কিন্তু সমালোচনার পরিধি সেখানেই সীমিত রাখা মোটেও কাজের কথা নয়। সমস্যার গোড়ায় আছে রাজনৈতিক দলের আচরণ এবং সেখানে পরিবর্তনের কথা না বললে এ রকম অবিশ্বাস্য নজির আরও অনেকবারই আমাদের দেখতে হবে। ২. নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সম্প্রতি বিপদে পড়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের ছোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন। ১০ বছর ক্ষমতার ভাগীদার হলেও দলটির মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অনেকেরই ভাগ্যে খুব একটা হেরফের হয়নি। যাঁরা সাংসদ হয়েছেন, তাঁদের আয়রোজগারে উন্নতি হয়েছে, সম্পদ বেড়েছে, রোশনাই বেড়েছে। দেশের অর্থনীতিতে যেমন বৈষম্য প্রকট হয়েছে, এই বামপন্থী দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও তেমনটিই ঘটেছে। বৈষম্য অসন্তোষের জন্ম দেয় এবং দলীয় কংগ্রেসের আগে তা এখন এতটাই তীব্র হয়েছে যে ভিন্নমত এবং ক্ষোভ আর দলের মধ্যে সীমিত থাকেনি। এসব উপদলীয় দ্বন্দ্ব-বিবাদের মধ্যে নিজের অবস্থানকে সংহত করতে তিনি যে ক্ষোভ-অসন্তোষের গতিমুখটা ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন, তা বেশ কিছুদিন ধরেই বোঝা যাচ্ছিল। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনটি যে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল সে কথা তিনি এর আগে যখন সংসদেই বলেছিলেন, তখনই ওই কৌশলের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, এমন কথার মধ্যে সুবিধাবাদিতার সাক্ষ্য মেলে। ৩০ ডিসেম্বর যে জনগণ ভোট দিতে পারেনি, নিজেকে তার সাক্ষী দাবি করে মিস্টার মেনন ১৯ অক্টোবর বরিশালে বললেন যে মানুষ এরপর উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদেও ভোট দিতে পারেনি। অতীতে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংগ্রাম করার কথা জানিয়ে তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকোচনের অভিযোগও করেছেন। নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে না পারার সাক্ষী হওয়ার পরও সাংসদ হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়া বা সেই পদ আঁকড়ে থাকার বিষয়টি তাই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন-সম্পর্কিত এই ভিন্নমতের মেঠো বক্তৃতায় দলের ভেতরে লাভবান হওয়ার আশা থাকলেও তাঁর মহাজোট ও সরকার যে তা ভালোভাবে নেবে না, সেটা সম্ভবত তিনি বুঝতে পারেননি। ফলে ঢাকায় ফেরার পরই শুরু হয় তাঁর একের পর এক গোলমেলে ব্যাখ্যা। ব্যাপারটা এখন 'হ্যাঁ-কিন্তু-না-কিন্তু' (বিবিসির ইয়া বাট নো বাট কমেডি সিরিজ)-এর মতো রঙ্গব্যঙ্গে পরিণত হয়েছে। তবে ১৪ দল তাঁর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়ায় এখন নিশ্চয়ই তিনি বুঝতে পারছেন কী নিষ্ঠুর এই ভিন্নমত দমন! প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা ভালো, বিপদে পড়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর দোষ চাপানোর অভ্যাসটা রাজনীতিকদের ত্যাগ করা প্রয়োজন। স্মার্টফোন এবং মোবাইল সাংবাদিকতার যুগে ভুলভাবে উদ্ধৃত করার অজুহাতটা খুবই আত্মঘাতী। কামাল আহমেদ: সাংবাদিক | 8 |
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজশাহী ও রংপুরে বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ছয়টি বাস ছাড়ল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ রোববার সকাল ৬টায় ক্যাম্পাস এবং কুষ্টিয়ার কাস্টম মোড় থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাস যাত্রা শুরু করে।জানা যায়, লকডাউনে আটকে পড়া ও পবিত্র ঈদুল আজহায় শিক্ষার্থীদের ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের নিজ বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি করে ছয়টি বাস দেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুল। আজ সকাল ৬টায় ক্যাম্পাস এবং কুষ্টিয়ার কাস্টম মোড় থেকে বাসগুলো ছেড়ে যায়। কুষ্টিয়াতে ও ঝিনাইদহে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা কাস্টম মোড় ও ক্যাম্পাস থেকে বাসে উঠে। তিনটি করে বাস রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে যাবে। শিক্ষার্থীরা বলেন, লকডাউনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। নিজ শহরে ক্যাম্পাসের বাস দিয়ে যেতে পারব এটাই আমাদের কাছে পরম পাওয়া। ঈদ যাত্রা নিরাপদ করার জন্য সংশ্লিষ্টের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুল ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্বিতীয় দফায় আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছয়টি বাস রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদে রাখতে আমরা সার্বক্ষণিক বাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করি আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে সক্ষম হব।উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবার প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের নিজ বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। | 1 |
মাগুরা সদর উপজেলার কছুন্দি এলাকায় বাসের ধাক্কায় ইঞ্জিনচালিত দেশীয় যান লাটাচালক ইমদাদুল শেখ (২২) নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও দুই জন। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চাকলাদার পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে যাত্রীবাহী একটি লাটাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন লাটাচালক ইমদাদুলসহ তিন আরোহী। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ইমদাদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আহতদের ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ঘাতক বাসটি জব্দ করলেও পলাতক রয়েছেন চালক। | 6 |
৮ জুলাই। ঢাকার মুগদা এলাকার রিকশাচালকদের মিছিলে আবদুল হামিদ ছিলেন বেশ বিক্ষুব্ধ। চিৎকার করে বলছিলেন, 'সরকারের কাছে একটাই দাবি, যেভাবে রাস্তাটা আগে খোলা ছিল, সেইভাবে দিলে পরে আমরা সরকারের কাছে আর কোনো কিচ্ছু চাই না। আমাদের গাড়িটা যদি বন্ধ করে দেয়, তাইলে কীভাবে ঘরভাড়া দিব, কীভাবে পোলা-মাইয়া লেখাপড়া করাব? কীভাবে আমরা কী করব?' কুড়িগ্রামের চিলমারীর আবু হানিফের বেটা তিনি। হানিফ নৌকা চালাতেন চিলমারী বন্দরে। নগরপিতার চোখে নাগরিক বদভ্যাস রাজধানীতে যানজট কমানো এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা আনতে গাবতলী থেকে আজিমপুর, সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ ও কুড়িল থেকে খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত রিকশা নিষিদ্ধ করে দুই সিটি করপোরেশন। ৭ জুলাই এক মেয়র বলেন, 'রিকশা বন্ধ হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। স্কুলগামী শিশুদের বহনকারী ভ্যানগুলো চলাচল করতে পারবে।' সেটি হয়নি। স্কুলভ্যান নিয়েও পুলিশ টানাটানি করেছে, শিশুদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। সেসব ছবি দেখেছে জনগণ। রোদ-বৃষ্টি-বিপদে রিকশাচালককেই পাই আমরা সবার আগে। ৭ জুলাইয়ের ভাষণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, 'আমাদের হাঁটার অভ্যাস করা উচিত। সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে। এ শহরের শৃঙ্খলার জন্যও ভালো হবে।' জি, এই সুন্দর গতিশীল নগরে নাগরিকদের বদভ্যাস আছে। তাঁরা নগরপিতা-অভিভাবক। তাঁরা ভিআইপি গতিতে গাড়িতে চড়ে ঘুরে অলস নগরবাসীকে বদভ্যাস সংশোধনের নসিহত করতেই পারেন। যাঁদের গাড়ি নেই, যাঁরা খানাখন্দ-ভিড় ঠেলে, বাসে ঝুলে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করেন, তাঁরা জানেন, এ শহরে জীবন মানে যন্ত্রণা। নগরপিতারা জানেন না। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জীবনের সঙ্গে তাঁদের হয় নাকো দেখা। রিজিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রিকশাশ্রমিকেরা শেষ পর্যন্ত ৮ জুলাই সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর সায়েদাবাদ জনপদ মোড় থেকে মুগদা, মানিকনগর ও খিলগাঁও এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রিকশাচালকদের এই বিক্ষোভে এলিট মহলের রাজনীতিকদের কাউকে দেখা যায়নি। রিকশা কেউ শখ করে চালায় না। সব জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে গেলে জীবিকা-বিপন্নরা শহরে আসেন রিকশা চালাতে। তাঁদের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও আছেন। আছেন শিক্ষার্থীদের টাকার জোগানদার পিতারা। অনেক শিক্ষক তাঁর ছাত্রের রিকশা চালনার খবরে চমকে ওঠেন কিংবা বিব্রত হন। আমাদের কোনো কোনো ছাত্র চুপিসারে রিকশা চালিয়ে নিজের খরচ চালান, ভাইবোনদের খরচ জোগান। এটাই এখন বাস্তবতা। অনেক পরিবর্তন আর উন্নয়নের পর সেই করুণ-কঠিন বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই আর বদলায়নি। রিকশা কি যানজটের একমাত্র কারণ? নিউ এলিফ্যান্ট রোডের দোকানপাট মঙ্গলবার বন্ধ থাকে। সেদিন ওই রাস্তায় গেলে মনে হবে, আজ এত ফাঁকা কেন? কেউ কি আবার হরতাল ডাকল নাকি? রাস্তার গা ঘেঁষে, ওপরে আর ফুটপাতে দোকানপাট, মালপত্র রাখা বন্ধ করলে ৬৫ শতাংশ যানজট উধাও হয়ে যাবে। ঢাকার রাস্তায় আড়াই লাখ ব্যক্তিগত গাড়ি চলে। প্রতিবছর গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রাইভেট কারের লাইসেন্স দিচ্ছে বিআরটিএ। মাত্র ৬ শতাংশ যাত্রী বহন করে রাস্তার ৭৬ শতাংশ জায়গা দখল করে থাকে এসব প্রাইভেট কার (ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল জরিপ, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। নবাবপুর রোডের যানজট দূর করার জন্য অনেক মানুষের চৌদ্দপুরুষের ভিটাবাড়ি উচ্ছেদ করে পুরান ঢাকার বুক চিরে নর্থ সাউথ রোড বানানো হয়েছিল। কথা ছিল, এই রাস্তায় কোনো দোকানপাট বসবে না। রিকশার আলাদা লেন থাকবে-শুরুতে তা-ই হয়েছিল। আমরা আরমানিটোলা থেকে সহজেই চলে আসতাম গুলিস্তান। সেই সুখ বড়জোর ছয় মাস ছিল। দোকান থেকে মার্কেট হলো, রিকশার লেন হাপিস হয়ে গেল ব্যবসা আর টাকার কাছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে রিকশাচালকদের অবদান বলা হয়, আমাদের মুখ থুবড়ে পড়া কৃষি এখনো চলছে রিকশাচালকদের পয়সায়। তাঁদের রোজগারের টাকায় অলাভজনক কৃষির ভর্তুকি চলে। কেনা হয় সেচের পানি, সার, লাঙল, বীজ, কীটনাশক, জমির 'কোট' (মালিকের আগাম পাওনা)। আর শেষ পর্যন্ত থাকে লোকসানের ঋণ। আমরা নোংরা নগরে বসে তাই শাকসবজি আর চাল-ডালের মুখ দেখতে পাই। হালের মোবাইল মানি ট্রান্সফারের নিকাশ দেখলেই বোঝা যাবে, রিকশাশ্রমিকেরা কী হারে টাকা পাঠিয়ে বাঁচিয়ে রাখছেন গ্রামের অর্থনীতি। আমরা বিদেশি রেমিট্যান্সের হিসাব রাখি কিন্তু নগরগুলো থেকে গ্রামে পাঠানো টাকার খবর রাখি না। উদাস অর্থনীতিবিদেরা চেষ্টা করতে পারেন এই হিসাব মেলানোর। রিকশা কেন টার্গেট? একাত্তরের দখলদার পাকিস্তানিরা ঘুমিয়ে থাকা রিকশাশ্রমিকদের আগে মেরেছিল। তাদের কাছে খবর ছিল, কোনো কিছু হারানোর ভয় না থাকা এই মানুষগুলো মিছিলে নামেন সহজে। সংগঠিত হতে তাঁদের সময় লাগে না। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসের রিকশাচালক হাড্ডি খিজিরকে পাই উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের এক অবিস্মরণীয় চরিত্রে। একাত্তরে কতিপয় রিকশাচালককে খুন করে তারা ভেবেছিল কেল্লা ফতে। তা হয়নি। সেদিন বেঁচে যাওয়া অনেক শ্রমিক বাড়ি না ফিরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, স্বাধীন দেশে তাঁদের সুদিন আসবে, জীবন বাঁচবে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস কোনো দিন লেখা হলে এ কথার সত্যতা মিলবে। সুদিন ঠিকই এসেছে কিন্তু সবার জন্য নয়। জীবিকা-বিপন্ন রিকশাশ্রমিকদের জন্য তো নয়ই। ঢাকার রাস্তা পরিষ্কার রাখার প্রথম বাধা হিসেবে ধরা হচ্ছে রিকশাচালকদের। কারণ তাঁদের পক্ষে দাঁড়ানোর কেউ নেই। তাঁরা গাছের ডালে ঝুলে থাকা সবচেয়ে কাছের ফল, তাই তাঁদের টুঁটি চেপে ধরা সহজ। তাঁদের প্রতিবাদ প্রতিরোধের রূপ নিলে অনেক 'প্রগতিশীলও' দাঁড়াবে না তাঁদের পাশে। না খেয়ে, না দেয়ে কদিন তাঁরা পুলিশের ধরপাকড় সামলে টিকে থাকতে পারবেন এই 'শত্রু নগরীতে'? যারা রাস্তার ৭৬ শতাংশ জায়গা দখল করে মাত্র ৬ শতাংশ যাত্রী বহন করে, তারা উঁচু ডালের ফল। রাস্তার পাশে দোকান আর প্রতিষ্ঠান, যারা ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ স্থবিরতার জন্য দায়ী, তারাও থাকে মগডালে। কে ছোঁবে তাদের। রিকশা থামলে যদি রাস্তা পরিষ্কার হতো, তবে কথিত ভিআইপি রোডে বসে কেন গাড়ির এসি ছেড়ে আমরা গান শুনি 'গাড়ি চলে না চলে না চলে না রে গাড়ি চলে না'! গওহার নঈম ওয়ারা: লেখক ও গবেষক . | 8 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জমি থেকে ধানের আঁটি আনা-নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামে অনিতপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. নায়েব উল্লাহ পাশের শ্রীঘর গ্রামের বাসিন্দা। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতাল চত্বর থেকে নূর আলম নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আশুরাইল গ্রামের বাসিন্দা জালাল মিয়া হাওর থেকে ধান কেটে নৌকায় করে অনিতপুরের চরে আসেন। এ সময় শ্রীঘর গ্রামের জুনাইদ মিয়ার একটি ট্রাক চরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি কাছে যান। এরপর ট্রাকে ধান বাড়িতে নিতে জুনাইদের সঙ্গে দর কষাকষি করেন তিনি। ৫০০ টাকায় ধান নিতে রাজি হন জুনাইদ। কিন্তু পাঁচ মিনিট পর জুনাইদ যাবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হলে জুনাইদ আহত হন। তাঁদের মারামারির বিষয়টি দুই গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষে শিশুসহ দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে জুনাইদের পক্ষের ১৩ জন এবং জালাল মিয়ার পক্ষের ১৭ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর শ্রীঘর গ্রামের মো. নায়েব উল্লাহ (৪০) নামের একজন মারা যান। তিনি জুনাইদের পক্ষের লোক ছিলেন।শ্রীঘর গ্রামের আহতরা হলেন মারজিয়া, মোছা. ছালমা বেগম, আব্দুল করিম, মহসিন মিয়া, জুবাইদ মিয়া, এনামুল হক, মিয়ান মিয়া, আরজান মিয়া, মো. দিপু, দানা মিয়া, আরমান মিয়া, মহসিন মিয়া, শফিকুল মিয়া।আশুরাইলের পক্ষের আহত যাদের নাম জানা গেছে তাঁরা হলেন, কাঙ্গাল মিয়া, নিজাম মিয়া, করিম মিয়া, সোহাগ মিয়া, শরীফ মিয়া, খেলু মিয়া, আজাজুল মিয়া ও আতিক মিয়া।এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নূর আলম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। নুর আলম আশুরইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার গুনিয়াউক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক।বুড়িশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইকবাল চৌধুরী বলেন, 'দুই পক্ষের সংঘর্ষে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে গিয়ে সংঘর্ষ থামাই। তবে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি।'নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, 'হাওর থেকে ধানের আঁটি বাড়িতে নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংর্ঘষ হয়। আহত একজন নায়েব উল্লাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় মামলা করেনি।' | 6 |
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য ছাড়া দেশে সব আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীবাহী ফ্লাইট আসা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে শনিবার (২১ মার্চ )মধ্যরাত থেকে বন্ধ হয়ে যায় ১০ দেশের আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট অবতরণ। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে 'বিলম্বিত' বলে মনে করছেন অনেকে। বাকি ৪ গন্তব্য নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তারা। শনিবার (২১ মার্চ) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানায়, দেশে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তাররোধে ২১ মার্চ দিনগত রাত ১২টা থেকে ৩১ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর এবং ভারত থেকে কোনো নিয়মিত আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক উড়োজাহাজকে নামার অনুমতি দেয়া হবে না। তবে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন, থাইল্যান্ড ও হংকংয়ের (ক্যাথে প্যাসিফিক) ফ্লাইট আসতে পারবে। আর সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুধু যুক্তরাজ্য থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নামতে পারবে। এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বেবিচক বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাকি চারটি গন্তব্যকে উন্মুক্ত রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার ক্ষেত্রে ওই দেশগুলো মোটামুটি নিরাপদ মনে করা হচ্ছে এবং রুটগুলো চালু রাখার মতো প্রয়োজনীয়তাও এখন রয়েছে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে সেগুলোও বন্ধ করে দেয়া হবে। ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত দেরিতে হলো কী না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেরি হয়তো হয়েছে। কিন্তু আমাদের আরো সর্তকতার প্রয়োজন ছিল। যদি আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা লোকজনকে আগে থাকতেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা যেত তবে রুট বন্ধেরও প্রয়োজন দেখা দিত না। এ প্রসঙ্গে জীবাণু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সরোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় দুই মাস আগেই আমরা সতর্ক হতে পারতাম। এক হিসেবে দেখা গেছে, গত ১৭ দিনে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই ৯ হাজার বিদেশফেরত যাত্রী এসেছেন। তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ থাকলেও এতক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। ফ্লাইট বন্ধ, কোয়ারেন্টাইনসহ নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আগেই নেয়া উচিত ছিল। যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ডসহ আক্রান্ত দেশগুলোকে সরকার কেন নিরাপদ মনে করছে তা-ও বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কারণ বিদেশফেরত যাত্রীরা নিয়ম মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকলে বিপর্যয় আরো বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এদিকে, বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করার কথা আবারো উল্লেখ করে গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, সরকারের স্থির সিদ্ধান্ত, যেই প্রবাস থেকে আসুক না কেন, তার ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন। সেটা হোম কোয়ারেন্টাইন হোক আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন হোক। কেউ এ আদেশ অমান্য করলে দেশবাসী যেন স্থানীয় প্রশাসনকে তা জানিয়ে দেন। যারা বিদেশ থেকে ফিরছেন, তাদের হাতে আমরা কালি দিয়ে একটি অমোচনীয় দাগ দিয়ে দিচ্ছি। যাতে তাদের সহজেই চিহ্নিত করা যায়। কোয়ারেন্টাইন করার ফলে চীন সফল হয়েছে। আমরা সে দৃষ্টান্ত মানতে চাই। প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপাতত বাংলাদেশ সফর থেকে বিরত থাকুন। যদি ভিসার মেয়াদ শেষও হয়ে যায়, তবে তা নবায়ন করা হবে। এজন্য ভয়ের কোনো কারণ নেই। | 6 |
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে কিছু বলার নেই। কারণ ইসি গঠন মূল সমস্যা নয়। এটি হচ্ছে ভোট চুরির প্রক্রিয়া। ইসি হলো ভোট চোরের সহযোগী সংগঠন। সুতরাং, আসল চোরকে ধরতে হবে। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হলে ইসি গঠনের তামাশা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বাস্তবতা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আমীর খসরু আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন- 'আমাদের টাকা নেই, টেকনোলজি (প্রযুক্তি) নেই।' অথচ সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন- 'দেশে টাকা রাখার জায়গা নেই।' এরপরও তো উন্নয়নের নামে মেগা চুরির প্রতিযোগিতা চলছে। তারা দেশের মানুষের টাকা লুটে নিচ্ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলের মাধ্যমে, সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল বাড়িয়ে জনগণের সব টাকা লুটে নিচ্ছে। তাদের উন্নয়নের নমুনা হচ্ছে টিসিবির পণ্য কেনার জন্য ট্রাকের পেছনে ছুটতে ছুটতে হয়রান হচ্ছে জনগণ। তিনি বলেন, দেশের মানুষের নয়, উন্নয়ন তো হচ্ছে শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। তহবিল ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এবার দেশ বাঁচাতে সবাইকে মিলে চোর ধরতে হবে। ইতোমধ্যে বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এবার চোর ও তাদের উচ্ছিষ্টভোগীরা যাবে একদিকে এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী যারা তারা যাবে আরেক দিকে। বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মুহাম্মদ নেছারুল হক এবং ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান। | 9 |
নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা মীর সাব্বির এবার নির্মাণ করছেন সিনেমা। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই সিনেমার নাম 'রাত জাগা ফুল'। ছবিটিতে একটি গানে কণ্ঠ দিলেন কলকাতার জনপ্রিয় গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী। খবরটি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন মীর সাব্বির। গানটির শিরোনাম 'দিন বদলের দিন শুরু'। সম্প্রতি কলকাতা থেকে গানটিতে কণ্ঠ দেন তিনি। মীর সাব্বিরের কথায় গানটি সুর করেছেন কলকাতার তমাল চক্রবর্তী। গানটি সম্পর্কে মীর সাব্বির বলেন, 'নচিকেতার মতো বড় মাপের একজন শিল্পী আমার সিনেমায় গান গেয়ে দিচ্ছেন এ জন্য তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। গানটি লিখেছি আমি, যাতে এক ধরনের সচেতনতার কথা বলা হয়েছে। দর্শকরা গানটিতে শিক্ষামূলক বার্তা পাবেন।' 'রাত জাগা ফুল' ছবির সঙ্গীতায়োজন করছেন ইমন চৌধুরী। এর আগে মীর সাব্বিরের কথায় ছবিটির টাইটেল গানে কণ্ঠ দেন ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম। এই গানটিরও সুর-সংগীত করেছেন ইমন চৌধুরী। সিনেমাটির সহকারী প্রযোজক হিসেবে আছে মীর সাব্বিরেরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'ফুলঝুড়ি মিডিয়া লিমিটেড'। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির, দিলারা জামান, আবুল হায়াত, শর্মিলী আহমেদ, ফজলুর রহমান বাবু, ডা. এজাজুল ইসলাম, নাজনীন চুমকী, জয়রাজ, আবু হোরায়রা তানভীর, ঐশী প্রমুখ। সিনেমাটির কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য করেছেন মীর সাব্বির। এরইমধ্যে সিনেমাটির শুটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান পরিচালক। এখন চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। মীর সাব্বির বলেন, 'খুব চেষ্টা করেছিলাম ছবিটি চলতি বছরেই মুক্তি দিতে। কিন্তু করোনার কারণে সেটা সম্ভব হলো না। তবে সব ঠিক থাকলে নতুন বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা করছি।' | 2 |
ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিদেশে পাচারে জড়িত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলো- মোহাম্মদ মকবুল হোসেন, পারভেজ মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন, সাদি হাসান ও মাইনুদ্দীন ইসলাম পান্না। তাদের কাছে পাওয়া গেছে ৪৮৪টি পাসপোর্ট ও ৮৬টি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ অন্যান্য জাল কাগজপত্র। সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার শারমিন জাহান জানান, ফতুল্লা মডেল থানার মানব পাচার প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গত ২ ডিসেম্বর ফকিরাপুল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা জাল কাগজপত্র তৈরি করে গ্রামের সহজ-সরল তরুণীদের বিদেশে পাচার করে আসছিল। ওই তরুণীরা বিদেশে গিয়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সিআইডি সূত্র জানায়, ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ৩০ বছর বয়স দেখিয়ে জাল কাগজপত্রের সাহায্যে সৌদি আরবে পাঠায় ফকিরাপুলের এম.এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। সেখানে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই কিশোরী দেশে ফিরে আসে। এ ঘটনায় তার খালা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় এম.এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মকবুল হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও দালাল তৈয়ব পলাতক রয়েছে। পল্টন থানায় দায়ের করা মানব পাচারের আরেক মামলায় গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় তারা মানব পাচারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এরইমধ্যে সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা দু'জন ভুক্তভোগী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, পল্টন থানায় মামলার তদন্তে দেখা যায়, জব্দ করা পাসপোর্টের ঠিকানা ও বয়সের তথ্যে গরমিল আছে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল ছিল। এ মামলার প্রধান আসামি মকবুল হোসেন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ কিশোরী-তরুণীদের যৌনকর্মী হিসেবে বিদেশে পাচার করে আসছিল। | 6 |
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আগামীতে নির্দিষ্ট স্থানেই পশু কোরবানি দিতে হবে, নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে অন্য কোথাও পশু কোরবানি দেয়া যাবেনা। বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানের নগর ভবনে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসরণ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ডিএনসিসি মেয়র বলেন, এবার কোরবানীর প্রথম দিনেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় তিন লক্ষাধিক পশু কোরবানি করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২৭২টি নির্ধারিত স্থানে মাত্র ৪ হাজার ১শত ৪১টি পশু কোরবানি করা হয়েছে। আতিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহায় যত্রতত্র পশু কোরবানি করা থেকে বিরত রাখার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রয়োজনে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলরসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার ১২ ঘন্টারও কম সময়ে রাত ১২ টার মধ্যেই ডিএনসিসির সমগ্র এলাকায় কোরবানি ১ম দিনের ১১ হাজার ৯ শত ৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্যের শতভাগ অপসারণ করা হয়েছে। ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় এবছর কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কাজে সর্বমোট ১১ হাজার ৫ শত ৮ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়াও কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্বারা যাতে নগরীর কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি না হয় সেজন্য নগরবাসীর মাঝে যথাসময়ে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার বর্জ্য ব্যাগ, পরীক্ষামূলকভাবে পরিবেশসম্মত ও পঁচনশীল আরও ২০ হাজার বায়ো ডিগ্রেডেবল ব্যাগ, ৫০ মেট্রিক টন ব্লিচিং পাউডার এবং ৫ লিটার আয়তনের ১ হাজার ৫ ক্যান স্যাভলন বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। | 6 |
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ও আকচা ইউনিয়নের শুক নদীর তীরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার উৎসব। এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন আশপাশের গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। চলবে আরও চার থেকে পাঁচ দিন।গতকাল মঙ্গলবার বুড়ির বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বুড়ির বাঁধ এলাকায় জড়ো হতে থাকের মানুষ। কারও কাঁধে পলো, আবার কারও হাতে ঠেলা জাল, বাদাই জাল, খেয়াজাল, টানা জালসহ মাছ ধরার নানান উপকরণ। তাদের বেশির ভাগই শৌখিন মাছ শিকারি। যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম নেই তারাও বসে নেই। খালি হাত দিয়েই কাঁদার মধ্যে মাছ খুঁজছেন। আর নদীর পাড়ে হাজারো মানুষ ভিড় জমিয়েছেন মাছ ধরা দেখতে। অনেকে মাছ না ধরলেও বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের করতালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন।উৎসবে অংশ নিতে আসা জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামের স্কুলপড়ুয়া ফজলে রাব্বি জানান, পলো দিয়ে মাছ ধরতে ভালো লাগে। স্কুল বন্ধ তাই বড়দের সঙ্গে মাছ ধরার উৎসবে যোগ দিয়েছি। বোয়াল, শোল, মৃগেল, কাতলাসহ বিভিন্ন মিঠাপানির মাছ পাওয়া গেছে বলে জানায় সে।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালিদুজ্জামান বলেন, ৫০ একর এলাকাজুড়ে সুক নদীর ওপর নির্মিত বুড়ির বাঁধ মৎস্য অভয়াশ্রম। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এই বাঁধের পানি। তখন জনসাধারণের জন্য মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়। এ বাঁধে দেশীয় প্রজাতির প্রচুর মাছ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি। | 6 |
রাশিয়ার কারাবন্দী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করেছেন মস্কোর একটি আদালত। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল বুধবার মস্কোর ওই আদালত এক আদেশে নাভালনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনকে 'উগ্রবাদী' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। আদালতের আদেশের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁর নেটওয়ার্কের আঞ্চলিক অফিস ও দুর্নীতিবিরোধী ফাউন্ডেশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের এক মুখপাত্র আদালতের বাইরে বলেন, নাভালনির সংগঠনগুলো যে তথ্য প্রচার করে, তা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও শত্রুতায় উসকানি দেয় বলে দেখা গেছে। শুধু তা-ই নয়, তারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করে। আদালতের এ আদেশের ফলে নাভালনির রাজনৈতিক সংগঠনের হয়ে কর্মীরা তাঁদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সাজা হিসেবে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। কেউ যদি প্রকাশ্যে নাভালনির রাজনৈতিক নেটওয়ার্ককে সমর্থন করেন, তাহলে তিনি দেশটির নির্বাচনে নিষিদ্ধ হতে পারেন। আদালতের আদেশের পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাভালনি। তিনি পিছু হটবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, তাঁর সমর্থকদের এখন তাঁদের কাজের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। এদিকে নাভালনি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। ৪৪ বছর বয়সী নাভালনি রাশিয়ার একজন সুপরিচিত বিরোধী নেতা। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। নাভালনি বর্তমানে রাশিয়ার কারাগারে আছেন। ক্রেমলিনের হুমকি উপেক্ষা করে গত ১৭ জানুয়ারি জার্মানি থেকে দেশে ফেরেন নাভালনি। বিমানবন্দরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থ আত্মসাতের পুরোনো একটি মামলায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে নাভালনিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ দণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন নাভালনি। নাভালনিকে গত বছরের আগস্টে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সময় তিনি সাইবেরিয়ার টমসক শহর থেকে উড়োজাহাজে করে মস্কোয় ফিরছিলেন। যাত্রাপথে উড়োজাহাজেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ সাইবেরিয়ার ওমস্কে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বরে জার্মানি জানায়, নাভালনিকে রাশিয়ান নার্ভ এজেন্ট 'নোভিচক' প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞরাও একই কথা বলেন। বিষ প্রয়োগের জন্য সরাসরি পুতিনকে দায়ী করেন নাভালনি। তবে পুতিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বানে ক্রেমলিন কর্ণপাত করেনি। | 3 |
ভারতের আসাম, মেঘালয় প্রদেশের বন্যার পানি ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় চতুর্থবার বন্যা হয়েছে। এছাড়া কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র নদ, জিঞ্জিরাম, ধরনী, সোনাভরি ও হলহলি নদীর পানি বেড়ে গেছে। এতে উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। অপরদিকে রোপা আমন, মাসকলাই ও শাকসবজিসহ প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রৌমারী উপজেলার ৬ ইউনিয়নের জহনিরকুড়া, আমবাড়ী, বড়াইবাড়ী, চুলিয়ারচর, ওকড়াকান্দা, চান্দারচর, চরইজলামারী, ঝাউবাড়ি, ভুন্দুরচর, বেহুলারচর, মোল্লারচর, কাউনিয়ারচর, খনজনমারা, বাঞ্ছারচর, মিয়ারচর গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে চড়া দামে চারা ধান কিনে ক্ষেতে রোপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্ট ছিল রৌমারীর কৃষকের। সে আশায় গুড়েবালী ঢেলে দিল অসময়ের আশ্বিনের বন্যা। তার আগের বন্যায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার প্রণোদনা হিসেবে বিনা মূল্যে ধানের চারা, ধান বীজ, মাসকলাই ও শাকসবজির বীজ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের রোপা-আমনের লক্ষমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৪০ হেক্টর, মাসকলাই ৪০ হেক্টর ও শাকসবজি ৩০ হেক্টর। দ্বিতীয় দফা বন্যায় শহর রক্ষা বাঁধ জলিলের বাড়ী নামকস্থানে ভেঙে যায়। এছাড়া খনজনমারা বেড়িবাঁধের তিনটি, ঝগড়ারচর বেড়িবাঁধের দুইটি, সাহেবের আলগা বেড়িবাঁধের দুইটি স্থানে গত বন্যা ভেঙে যায়। বেড়িবাঁধগুলো মেরামত না করায় সহজে বন্যার পানি প্রবেশ করছে নিম্নাঞ্চল এলাকায়। উপজেলার সদর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি ৩ বিঘা জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছি। সার পানি দেয়ায় ফসলও ভালোই হয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নদীগুলো সংযোগ থাকায় পাহাড়ি ঢলে ও অল্প বৃষ্টিতেই আমাদের জমির ফসল তলিয়ে গেছে। খনজনমারা গ্রামের মজাহারুল ইসলাম বলেন, খুব কষ্ট করে আমন ধান লাগাইছি। তাও আবার বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গরু বাছুর নিয়া বিপাকে আছি। রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু জানান, দফায় দফায় বন্যা আসায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, নতুন করে বন্যা আসায় ৫ শত ৫০ হেক্টর রোপা আমন, মাসকলাই ৪০ হেক্টর ও শাকসবজি ২০ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। তাড়াতাড়ি পানি নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, দফায় দফায় বন্যায় রৌমারীতে রাস্তাঘাট ও কৃষকের ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতির তালিকা করে বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছি। | 6 |
সাতই মার্চের সেই বিখ্যাত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুইয়ের কথাই বলেছিলেন; 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'। তখন এবং যুদ্ধের পরেও এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হয়নি। কিন্তু পার্থক্য নিশ্চয়ই ছিল। নইলে পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে সংবিধানে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তাতে 'মুক্তি' সরিয়ে নিয়ে সে জায়গায় 'স্বাধীনতা' বসানো হলো কেন, কেন প্রয়োজন পড়ল এই সংশোধনের? স্মরণ করা যাক, আমাদের আদি সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতে-এক নম্বর অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছিল, 'আমরা বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি।' ১৯৭৮-এ জারি করা এক ফরমানের বলে সংবিধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রস্তাবনার ওপরে লেখা হয়েছে, 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' এবং প্রথম অনুচ্ছেদের যেখানে ছিল 'জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম'-এর কথা, সেখানে তো বদল করে প্রতিস্থাপন করে হয়েছে 'জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ'। শুধু তা-ই নয়, এরপর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে যেখানে অঙ্গীকারের কথা আছে সেখানেও 'জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম' কেটে বসানো হয়েছে 'জাতীয় স্বাধীনতার যুদ্ধ'।সেই সঙ্গে যোগ করা হয়েছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার কথা এবং বাদ দেওয়া হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা। আদি সংবিধানে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ছিল এবং তার স্থান ছিল জাতীয়তাবাদের পরেই; অর্থাৎ প্রথম অঙ্গীকার জাতীয়তাবাদের, দ্বিতীয় অঙ্গীকার সমাজতন্ত্রের। সংশোধনীতে সমাজতন্ত্র বাদ দেওয়া হয়নি সত্য, কিন্তু তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সর্বশেষে এবং সমাজতন্ত্র বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা-ও বলে দেওয়া হয়েছে। সমাজতন্ত্র অর্থ 'অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার'। আদিতে নাগরিকদের জাতীয়তাবাদ ছিল বাঙালি, সংশোধনের ফলে তা দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি। সংবিধানের দুটি পাঠ ছিল-একটি বাংলা, অপরটি ইংরেজি; বলা হয়েছিল অর্থের ব্যাপারে দুই পাঠের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে বাংলা পাঠই গ্রাহ্য হবে। ১৯৭৮-এর সংশোধনীতে বলা হয়েছে, বিরোধের ক্ষেত্রে ইংরেজি পাঠই প্রাধান্য পাবে। সংশোধনীগুলো মোটেই পরস্পরবিচ্ছিন্ন নয়; তারা একটি অভিন্ন চিন্তাধারার প্রতিফলন বটে। ওই চিন্তাধারার বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে আছে একেবারে সূচনাতেই, প্রস্তাবনার সংশোধনীতেই যেখানে 'জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম'কে রূপান্তরিত করা হয়েছে 'জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধে'। ব্যাপারটা যত নিরীহ মনে হয়, তত নিরীহ নয়। যুদ্ধ একাত্তরের ব্যাপার বটে, কিন্তু সংগ্রামের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ, সংগ্রাম একাত্তরে শুরু হয়নি, শেষও হয়নি। ১৯৭৮-এ যাঁরা রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত তাঁরা যুদ্ধটাকেই দেখতে চেয়েছেন। সংগ্রামকে উপেক্ষা করে। যুদ্ধে তাঁরা ছিলেন, সংগ্রামে ছিলেন না। আর মুক্তি ও স্বাধীনতা যে এক নয়, তা-ও তাঁরা খেয়াল করেছেন। মুক্তি অনেক ব্যাপক ও গভীর ব্যাপার। স্বাধীনতা বলতে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বোঝানো সম্ভব, কিন্তু মুক্তি বলতে বোঝাবে সার্বিক মুক্তি। হ্যাঁ, স্বাধীনতার জন্য লড়াই হয়েছে একাত্তরে। অবশ্যই। পাকিস্তানি রাষ্ট্রের অধীনতা থেকে বের হয়ে এসে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি। কিন্তু সেটা একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। অথবা বলা যায়, মূল লক্ষ্য ছিল অনেক বিস্তৃত। সেটা ছিল জনগণের মুক্তি। যে জন্য রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে জাতীয়তাবাদের পাশাপাশি সমাজতন্ত্রের উল্লেখ করতে হয়েছে, বলতে হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের কথা। অঙ্গীকার করতে হয়েছে এ চারটি মূলনীতি প্রতিষ্ঠার। রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা প্রয়োজন ছিল ওই সর্বাত্মক লক্ষ্যে পৌঁছার জন্যই। স্বাধীনতা প্রথম পদক্ষেপ, মুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য। সংগ্রাম ছিল মুক্তির।মুক্তির জন্য সংগ্রামটা দীর্ঘকালের। এ লড়াইয়ে নানা মানুষ এসেছে, সংগঠন এসে যোগ দিয়েছে। সবার ভূমিকা সমান নয়। নানা মাত্রার ও মাপের। কিন্তু সব স্রোত মিলেই বৃহৎ ধারাটি তৈরি। হঠাৎ করে অভ্যুত্থান ঘটেনি। ভুঁইফোড় নয়। একাত্তরে শুরু নয়, শেষও নয়। মুক্তির সংগ্রাম এখনো চলছে এবং চলবে।শেষ যে হয়নি তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ তো ওই সংশোধনগুলো। ওগুলোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে সংগ্রামের লক্ষ্যকে অস্পষ্ট করে দেওয়া। মানুষকে ঠেলে দেওয়া পেছনে। মুক্তির সংগ্রামকে চিহ্নিত করা একটি সামরিক যুদ্ধ হিসেবে। মুক্তির সার্বিক যুদ্ধে একাত্তরের মুখোমুখি লড়াই একটা অত্যন্ত বড় মাপের ঘটনা, অত বড় ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি, কিন্তু সেটা একমাত্র ঘটনা নয়। প্রথমও নয়। এ দেশের মানুষ মুক্তির জন্য সংগ্রাম অনেক কাল ধরে করে এসেছে। প্রচার করা হয়েছিল যে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা তাকে মুক্তি দেবে। কিন্তু দিল না। তাই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এক বছরও পূর্ণ হয়নি, তার আগেই নতুন আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন।সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে ঘোষণাপত্র দিয়েছিল, তাতে স্বাধীনতার কথা থাকার কথা নয়। নেইও। সেখানে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি আছে। বলা হয়েছে, পাকিস্তান হবে একটি প্রজাতন্ত্র, যার প্রতিটি ইউনিট ছয় দফার ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। ঘোষণাপত্রে ধর্মনিরপেক্ষতারও উল্লেখ ছিল না; বরং বলা হয়েছিল, 'পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না।' সমাজতন্ত্রও ছিল না। বলা হয়েছিল, অর্থনৈতিক কর্মসূচির লক্ষ্য হবে ন্যায় ও সমতাভিত্তিক একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। এসব বক্তব্য জিয়াউর রহমান আনীত সাংবিধানিক সংশোধনগুলো থেকে দূরে নয়; কাছাকাছি। বোঝা যায় ১৯৭০-এ বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। কিন্তু নির্বাচনের পর বদলে গেছে সবকিছু। যা ছিল অস্পষ্ট ইচ্ছা, তা রূপ নিয়েছে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে। যে আকাঙ্ক্ষাকে ভয়ভীতি, পীড়ন-নিপীড়ন, লোভ-আশা দিয়ে অবদমিত করে রাখা হয়েছিল, তা সবেগে বের হয়ে এসেছে। ছয় দফা পরিণত হয়েছে এক দফায়। সেই এক দফা হলো রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা এবং জাতীয় মুক্তি।মুক্তির-যুদ্ধ ছিল একটা স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রাম। স্বতঃস্ফূর্ততার বহু গুণ ও সীমাবদ্ধতা তার মধ্যে পাওয়া যাবে। প্রধান গুণ হচ্ছে যুদ্ধের শক্তি ও বেগ; প্রধান দুর্বলতা তার সংগঠিত রূপ। যুদ্ধটা সংগঠিত, পরিকল্পিতভাবে শুরু হয়নি। চলেওনি। বিপরীতে পাকিস্তানিরা ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও সুসজ্জিত। তাদের ছিল বিদেশি শক্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন মিত্র বলতে বাঙালির প্রায় কেউই ছিল না। ভারত যে যুক্ত হয়েছে তা আগের কোনো যোগাযোগের কারণে নয়, ঘটনাপরম্পরায়। একে সে প্রতিবেশী, তার ওপরে ছিল শরণার্থীর বোঝা।এমনকি যারা ছিল নেতৃত্বে সেই আওয়ামী লীগও এ কথা বলেনি যে যুদ্ধ তারা শুরু করেছে। বলেছে, যুদ্ধ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ যে ঐক্যবদ্ধ ছিল, তা-ও নয়। সেখানে যেমন তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন, তেমনি ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমদ। তাজউদ্দীন আপসে বিশ্বাসী ছিলেন না, খন্দকার মোশতাক সব সময়ই আপসের পথ খুঁজছিলেন। কিন্তু তাজউদ্দীনের আশপাশে যাঁরা ছিলেন তাঁরাও সবাই যে তাঁর সঙ্গে ছিলেন; তা নয়। বিরোধ ছিল, যে জন্য মুক্তিবাহিনীর সমান্তরালে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল। খন্দকার মোশতাকরা যে শক্তিহীন ছিলেন না, তা বোঝা গেছে ১৯৭৫-এর নির্মম হত্যাকাণ্ডে। এ-ও তাৎপর্যহীন নয় যে তার আগেই মন্ত্রিসভা থেকে তাজউদ্দীন বাদ পড়ে গেছেন, মোশতাক বাদ পড়েননি। যুদ্ধের সময়ে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি উঠেছিল। সেটা গৃহীত হয়নি। হওয়ার কথাও নয়। ছাড় হিসেবে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছিল, কিন্তু সেই পরিষদের একটির বেশি বৈঠক হয়নি। জাতীয় সরকার গঠনের দাবি স্বাধীনতার পরেও তোলা হয়েছিল। গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে শত্রু কে ছিল? শত্রু ছিল তারাই যারা জাতীয় মুক্তির বিপক্ষে ছিল; অর্থাৎ আলবদর, রাজাকারসহ সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের সমর্থকেরা। দক্ষিণপন্থীরা। শত্রু ছিল তারা যারা মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে মনে করেছে এবং নতুন রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগোতে না দিয়ে পেছন দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছে, বড় পাকিস্তান ভেঙে ছোট পাকিস্তান গড়বে ভেবেছে। ১৯৭৮-এর সাংবিধানিক সংশোধনগুলো দক্ষিণপন্থীদের কাজ। এরশাদের সময়ে পুঁজিবাদের পথকে আরও প্রশস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ধর্ম প্রবর্তন পশ্চাৎগমনেচ্ছুদের আরেকটি বিজয় চিহ্ন। দুঃখজনক হলেও সত্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার বর্তমান সরকারের শাসনামলে ওই সব ফরমানকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করা হয়েছে।জনগণ সংগ্রাম করেছে, কিন্তু মুক্তি পায়নি। রাষ্ট্র এখন কতটা স্বাধীন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা যায়। কিন্তু জাতি যে মুক্ত নয়, সেটা সন্দেহাতীত। জাতি বলতে জনগণকেই বোঝায়। সেই জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার ধারেকাছে নেই। দেশে উন্নতি হয়েছে। কিন্তু উন্নতি মানে বড়জোর ২০ জনের উন্নতি এবং ৮০ জনের অবনতি। ধনী-দরিদ্রের তারতম্য বোঝাতে আকাশ-পাতালের উপমা অগ্রাহ্য নয়। ওই দুই প্রান্তের মধ্যেই বিভিন্ন স্তরের বিন্যাস। কিন্তু মুক্তির সংগ্রাম চলছে। সরবে নয় নীরবে। তাকে চলতেই হবে, নইলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী, দাঁড়ানোর জায়গা কোথায়?লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | 6 |
নেদারল্যান্ডের নতুন মন্ত্রিসভায় ১৪ নারী সদস্য যুক্ত হতে যাচ্ছেন। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। দেশটির চার দলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী ১০ জানুয়ারি শপথ নেবেন। রোববার (২ জানুয়ারি) আসন্ন মন্ত্রীসভায় যুক্ত হতে যাওয়া মন্ত্রীদের তালিকায় দেখা যায়, ২৯ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৪ জনই নারী। নেদারল্যান্ডে গত মার্চে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ২৭১ দিন পর গত ডিসেম্বর মাসে জয় লাভ করা চারটি দল জোট সরকার গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়। নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মার্ক রুট্টে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, তুর্কি বংশোদ্ভূত দিলান ইয়েসিলগোজ জেগেরিয়াস বিচার ও নিরাপত্তামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ৪৩ বছর বয়সী এই নারী শৈশবে নেদারল্যান্ডে যান। মধ্য ডানপন্থী পিপলস পার্টি ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (ভিভিডি) থেকে মনোনীত হয়েছেন তিনি। মার্ক রুট্টেও এ দলেরই নেতা। | 3 |
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা সর্বসম্মতিক্রমে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ড ব্যুরোর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, নিউইয়র্ক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত মরক্কো ও লিথুয়ানিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি। বিশ্বব্যাপী শিশুরা যে সকল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তা মোকাবিলাসহ ২০২০ সালকে ইউনিসেফের জন্য একটি অর্থবহ ও কার্যকর বছরে পরিণত করতে বোর্ড সদস্যগণ সর্বসম্মতিক্রমে তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা রেখেছেন সেজন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। শিশুদের কল্যাণ সাধন,উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষার জন্য এই নির্বাহী বোর্ড নতুন নতুন ধারণা ও কৌশল সৃজনে নিবেদিতভাবে কাজ করবে মর্মে প্রতিশ্রুতির কথা জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে ইউনিসেফ গৃহীত বিভিন্নমূখী পদক্ষেপসমূহের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি সেবা গ্রহণকারী দেশসমূহের প্রাধিকার ও প্রয়োজনভিত্তিক কর্মকান্ডে ইউনিসেফের সেবা আরও নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বিশেষগুরুত্ব প্রদানকরবে মর্মে জানান স্থায়ী প্রতিনিধি। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিএটা ফোর নতুন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তার সূদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে ইউনিসেফ আলোকিত হবে। নতুন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে নির্বাহী বোর্ডের দিকনির্দেশনা ইউনিসেফের কাজকে আরও গতিশীল করবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফোর। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ২০১৯-২০২১ মেয়াদে বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা সম্প্রতি জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তার পূর্বসূরী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ২০১৯ সালে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 4 |
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে অবস্থিত পশ্চিমা দেশের দূতাবাসগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের দিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ফল পেতে কোন দল কোন কেন্দ্র পরিদর্শন করবে, তা সমন্বয়নের ভিত্তিতে ঠিক করা হবে। নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে দূতাবাসগুলো স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের সহায়তা নেয়ার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ওপরেও নজর রাখবে। তবে দূতাবাসগুলোর ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন প্রচলিত অর্থে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষকদের মতো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবেদন দেবেন না। দূতাবাসগুলোর প্রতিবেদন যাবে নিজ নিজ দেশের সদর দফতরে। বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের সাথে সম্পর্কের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব প্রতিবেদন বিবেচনায় নেয়া হবে। চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে না। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে ইইউ সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছিল। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইইউর ১৪৬ জনের পর্যবেক্ষক মিশন ছিল। এ মিশন দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্প মেয়াদে ভাগ হয়ে সারা দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিল। মিশনটি স্থানীয় পর্যবেক্ষকদেরও কাজে লাগিয়েছিল। পেশাদারিত্বের কারণে ইইউর পর্যবেক্ষক মিশনের প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়। এবার ইইউ দু'জন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশী কূটনীতিকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে মতবিনিময় করছেন। বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রতিবেদন ব্রাসেলসে ইইউ সদর দফতরকে দেবে। এবার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাজেট স্বল্পতার কারণে ইইউ পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানো থেকে বিরত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বিদেশী পর্যবেক্ষক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছোট আকারের ১২টি পর্যবেক্ষক দল আসবে। এ ছাড়া স্থানীয় দূতাবাস থেকে ৮ থেকে ১০টি দল ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে। ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলগুলোকে সহায়তা করবে। এনডিআই গত অক্টোবরে পাঁচ সদস্যের প্রাক-মূল্যায়ন দল বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল। চলতি মাসে আরো একটি দল এসেছে। এনডিআইর অংশীদার দ্যা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের (এনফ্রেল) দু'জন আন্তর্জাতিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ঢাকায় আছেন। সংস্থাটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। ব্রিটেন ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অর্থায়ন করবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের বর্জনের মুখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র বা কমনওয়েলথ রাজি হয়নি। এ সময় নির্বাচন কমিশনের শেষ ভরসা ছিল সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন কমিশনের সংগঠন ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (ফেমবোসা)। নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ফেমবোসা থেকে ভারত ও ভুটানের চারজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসেন। এ সংগঠনের অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো অর্থাৎ আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কোনো প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসতে রাজি হয়নি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই নেতিবাচক অবস্থানের কারণে নির্বাচন কমিশন ওই সময় স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এ সময় আট হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৩৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষক অংশ নিতে পারেন। | 9 |
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার গাজীপুরে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বলেছেন, এখন পর্যন্ত কৃষিতে আমাদের অনেক সাফল্য থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। দেশে বর্তমানে মোট জমির প্রায় ৬০ শতাংশই কৃষি কাজের জন্য প্রতিকূল। যার মধ্যে রয়েছে হাওর, লবণাক্ত জমি, পাহাড়াঞ্চল, বরেন্দ্র ভূমি ইত্যাদি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ- দেশের এক ইঞ্চি মাটিও পতিত রাখা যাবে না, চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য এসব প্রতিকূল জমি কৃষির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাই আমাদের বিজ্ঞানীদের এসব প্রতিকূল জমিতে চাষাবাদের উপযোগী নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে 'প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলায় কৃষিতাত্ত্বিক গবেষণা' শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা বুধবার বারি'র সেমিনার কক্ষে শুরু হয়। 'এনএটিপি-২, পিআইইউ-বিএআরসি'র অর্থায়নে আয়োজিত ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নার্সভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩০ জন বিজ্ঞানী অংশ নিয়েছেন। সকালে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএআরসি'র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার আশা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানীরা প্রতিকূল জমিতে চাষাবাদের উপযোগী নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সম্যক জ্ঞান লাভ করবে। বারি'র মহাপরিচালক ড. মো: নাজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারি'র পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. এস. এম. শরিফুজ্জামান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মুল্যায়ন) ড. মো: কামরুল হাসান, পরিচালক (গবেষণা) ড. মো: তারিকুল ইসলাম, বিএআরসি'র পরিচালক (এনএটিপি-২, পিআইইউ-বিএআরসি) ড. মো: হারুনূর রশীদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারি'র কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. দিলোয়ার আহমদ চৌধুরী। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বারি'র বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
মঙ্গলের পাতলা স্তরের কার্বন ডাই অক্সাইড পূর্ণ বায়ুমন্ডল থেকে প্রথমবার শ্বাস নিতে পারার মতো অক্সিজেন তৈরি করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার পারসিভিয়ারেন্স। গত শুক্রবার মঙ্গলে প্রথম ছোট্ট হেলিকপ্টার 'ইনজেনুয়িটি'ওড়ানোর পর এবার পারসিভিয়ারেন্স মিশনে প্রযুক্তির আরেক সাফল্য এলো। বিবিসির তথ্যমতে, এই রোভারে আছে 'মার্স অক্সিজেন ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন এক্সপেরিমেন্ট'বা মোক্সি। যা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অক্সিজেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারিতে ছয় চাকার রোভার মঙ্গলে নামার পর ২০ এপ্রিল অর্থাৎ, মঙ্গলের দিনের হিসাবে ৬০ তম মার্সিয়ান ডে-তেই অক্সিজেন ছেঁকে বের করার পরীক্ষা করে ফেলেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ গ্রাম অক্সিজেন তৈরি হয়েছে। একজন নভোচারীর মঙ্গলে ১০ মিনিট শ্বাস নিতে এই পরিমাণ অক্সিজেন দরকার হয়। মোক্সির সাহায্যে ঘন্টায় ১০ গ্রাম অক্সিজেনও তৈরি করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর মিশনে অক্সিজেন তৈরির আরও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মোক্সি পাঠানোর চিন্তা করছে নাসা। এর ফলে নভোচারীদের চাহিদা মেটাতে পৃথিবী থেকে আর বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন সেখানে বয়ে নিয়ে যেতে হবে না। মঙ্গলের বাতাস ছেঁকেই তৈরি হবে ফুরফুরে অক্সিজেন। এতে শ্বাসবায়ু তো বটেই, রকেটের জ্বালানি নিয়েও আর মাথা ঘামাতে হবে না। মঙ্গলে তৈরি অক্সিজেন দিয়েই রকেটের জ্বালানি তৈরি করা যাবে। আর তেমন হলে মঙ্গল থেকে পৃথিবীতে যাতায়াতও সহজ হয়ে যাবে। ইভূ | 11 |
ফরিদপুরেরআলফাডাঙ্গায় দিনশেষে কাজের মজুরি চাওয়ায় এক কাঠমিস্ত্রীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর গ্রামে প্রশান্ত বিশ্বাস নামে এক মিস্ত্রীর ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রশান্ত বিশ্বাস চারজনকে অভিযুক্ত করে শুক্রবার রাতে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামের কাঠমিস্ত্রী প্রশান্ত কাজ শেষেমজুরির টাকা চাইতে গেলে গৃহকর্তা ওদুদ খানের চার ছেলে- শাহাবুল খান (২৫), মাহাবুল খান (২২), তাতিম খান (১৯) ও হামিম খান (১৬) মিলে বাড়ির মধ্যে থাকা খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার একটি চোঁখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। ওই চোখে তিনি ভাল করে দেখতে পারছেন না। এ ঘটনায় সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্তদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে থাকা তাদের মা জানান, তার ছেলেরাএসব কাজের সঙ্গে জড়িত না। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আলফাডাঙ্গা থানার ওসি রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগপেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মিলোস জেমান গতকাল রোববার দেশটির মধ্য ডানপন্থী জোটের নেতা পেট্র ফিয়ালাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। করোনা পজিটিভ হওয়ায় কাচঘেরা বক্সের ভেতরে অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সারেন প্রেসিডেন্ট মিলোস। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ফিয়ালা পাঁচটি মধ্য ও মধ্য ডানপন্থী দলের একটি ব্লকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ ব্লক গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় পায়। এ জয়ের মধ্য দিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা আন্দ্রেজ বাবিস ও তাঁর মিত্রদের ক্ষমতাচ্যুত করে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ফিয়ালা আগামী মাসের মাঝামাঝি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফিয়ালাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা ছিল গতকাল। করোনা সংক্রমিত হওয়া সত্ত্বেও এ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মিলোস। মিলোস একটি হুইলচেয়ারে করে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন একজন চিকিৎসক। তাঁর পরনে ছিল সুরক্ষাপোশাক। আর মিলোসের মুখে ছিল মাস্ক। মিলোস কাচঘেরা একটি বক্সের ভেতরে বসে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অন্য অসুস্থতায় প্রায় ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন মিলোস। পরে তিনি করোনা সংক্রমিত হন। এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ফিয়ালা বলেছেন, নতুন সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাঁর সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করবে। চেক প্রজাতন্ত্রে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। ফিয়ালা সরকারকে করোনভাইরাসের সংক্রমণের নতুন ঢেউ মোকাবিলা করতে হবে। করোনা মহামারির কারণে দেশটির স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাতের সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ফিয়ালা দেশটির জনগণকে করোনার টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির চিকিৎসাকর্মীদের প্রশংসা করেছেন। | 3 |
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী আলহাজ ডা. মুরাদ হাসান এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব উন্নয়ন হয়েছে তা সবই এখন দেশের মানুষের কাছে দৃশ্যমান। উন্নয়নের সরকার মানেই শেখ হাসিনার সরকার। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির চুরি লুটপাট ও আত্মসাতের রাজনীতির মুখোশ এখন দেশের মানুষের কাছে উন্মোচিত। দেশের মানুষ তাদের কথা ও কাজে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ধ্বংসের রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করছে বিএনপি। খুন, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্র বিএনপিরই জন্মগত দোষ। বিএনপি বাংলাদেশে থেকে পাকিস্তানের এজেন্ট দালালী করে। দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে উসকানি ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বিএনপিই তাদের পুনর্বাসন করেছে। প্রতিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে সেই বিখ্যাত উক্তি 'আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবানা'র উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, 'যত দুর্যোগই আসুক বাংলাদেশ ও দেশের জনগনকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবেনা। রবিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের পঞ্চাশী বাজারে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত মানবিক সহায়তার আওতায় শীতার্ত হত দরিদ্র দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব মাষ্টার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, আওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাপ হোসেন, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান ডালিম, কাউন্সিলর সাখাওয়াত আলম মুকুল, যমুনা সার কারখানা শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুর রহমান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মাষ্টার, পিংনা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, পোগলদিঘা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মনির প্রমুখ। | 6 |
ভারত থেকে চতুর্থ দফায় সিরাজগঞ্জে এলো আরও ২শ' টন তরল মেডিকেল অক্সিজেন। রোববার রাত ১টা ৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ের সয়দাবাদ ষ্টেশনে সরাসরি রেলপথে দশটি কন্টেইনারে এই তরল অক্সিজেন আনা হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লিনডে বাংলাদেশ লিমিটেড'র মাধ্যমে এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৮শ' টন তরল অক্সিজেন এলো। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ের সয়দাবাদ স্টেশনের মাস্টার জানান, সোমবার সকাল ৮টা থেকে থেকে অক্সিজেন খালাস করা হচ্ছে। লিনডে'র আর্ন্তজাতিক ব্যবস্থাপক সুফিয়া আকতার ওয়াহাব বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায় জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহারে সরাসরি ভারত থেকে এ তরল অক্সিজেন সরাসরি রেলপথে আনা হচ্ছে। খালাস করার পর লিনডে'র নিজস্ব গাড়িতে মহাসড়ক দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের নিয়ে যাওয়া হবে। চলমান করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশে চিকিৎসাক্ষেত্রে অক্সিজেন সংকট রয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় এরআগে ৩১ জুলাই ভারত থেকে আমদানি করা তরল মেডিকেল অক্সিজেনের তৃতীয় চালান সিরাজগঞ্জে এসে পৌঁছায়। তার আগে আসে আরও দুটি চালান। | 6 |
টেমস নদীর তীর ঘেঁষে হোটেল, নামও রিভারব্যাঙ্ক পার্ক হোটেল, এখানেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। হোটেল থেকে বেরিয়ে একটু সামনে গেলেই নয়নাভিরাম লন্ডন আই। ওভাল স্টেডিয়াম থেকে হোটেলের দূরত্ব ৫ থেকে ১০ মিনিট। মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনকে। কিছুক্ষণ পর পর ক্রিকেটারদের আসা যাওয়া টিম লবিতে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রুবেল হোসেন যোগ দিলেন আড্ডায়। লন্ডনের আবহাওয়া নিয়ে কিছুক্ষণ খুনসুটির পর গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন লিটন দাস। প্রস্তুতি ম্যাচের চেয়েও বড় প্রস্তুতি বলছেন ত্রিদেশীয় সিরিজকে, সিরিজের প্রস্তুতি পুঁজি করেই বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখবে বলে বিশ্বাস লিটন দাসের। তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ফর্মে আছেন, লিটন দাস কি জায়গা করে নিতে পারবেন? লিটন দাস ওপেনিং পছন্দ করলেও দলের প্রয়োজনে যে কোনো দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত তিনি। দলের অবস্থা সম্পর্কে লিটন ইতিবাচক কথা বলেন। প্রস্তুতি সম্পর্কে আলাদাভাবে কিছু বলেননি, "প্রস্তুতির কোনো ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে, আমরা তিন বিভাগেই কাজ করছি, যখন যে পরিস্থিতি দাঁড়ায় সে অনুযায়ী কাজ করবো।" এছাড়া দলের আর কাউকে তেমন একটা দেখা যায়নি হোটেল লবিতে। সাইফুদ্দিন, আবু জায়েদ রাহীরা এই ছুটির দিনে লন্ডনে থাকা আত্মীয় স্বজনের সাথে সময় কাটান। সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ মিথুনরাও হোটেল থেকে বের হয়ে ঘুরে বেড়ান শহরে। আগামী ২ জুন লন্ডনের ওভালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা।সূত্র : বিবিসি | 12 |
শান্ত-সবুজ লেকের বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছে একটি স্পিডবোট। তাতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে বসে ও দাঁড়িয়ে চার তরুণ-তরুণী। সবাই চিন্তিত। মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। সম্প্রতি এভাবেই ক্যামেরাবন্দি হলেন চার তরুণ অভিনয়শিল্পী-নিপা আহমেদ রিয়েলি, সাঞ্জু জন, সাইফ সাইফুল ও সাজ্জাদ হোসাইন। 'নেটওয়ার্ক' সিরিজে অভিনয় করছেন তাঁরা।কয়েক দিন আগে সিরিজের প্রথম লটের শুটিং হলো রাঙামাটিতে। 'নেটওয়ার্ক' সিরিজটি পরিচালনা করছেন সৈকত নাসির। প্রচারিত হবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আই থিয়েটারে।সৈকত নাসির বলেন, 'বান্দরবানে যেখানে আমরা শুটিং করেছি, সেটা খুব দুর্গম জায়গা। ভয়ে সাধারণত কেউ যায় না সেখানে। পনেরো দিনের শুটিং শেষ হয়েছে। আরো পাঁচ দিনের কাজ বাকি আছে। ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হবে বাকি অংশের শুটিং।' | 2 |
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সাবেক সচিব এ ওয়াই বি আই সিদ্দিকী (বুরহান সিদ্দিকী) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল শনিবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার সময় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ওয়াই বি আই সিদ্দিকী ছিলেন বিএনপি সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী এল কে সিদ্দিকীর ছোট ভাই। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এ ওয়াই বি আই সিদ্দিকী ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০০ সালের জুন মাস পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে তার তৃতীয় চুক্তির মেয়াদ ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। তিনি ২০০৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। তারপরে একাধিক আন্তর্জাতিক পানি গবেষণা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন প্রকল্পের এসএমই এবং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। এ ওয়াই বি আই সিদ্দিকী অবসরে গ্রহণের পর গানের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আধুনিক স্টুডিও। রেহানা সিদ্দিকী ও এ ওয়াই বি আই সিদ্দিকী শিল্পী দম্পতির কণ্ঠে ধারণকৃত বাংলা গানের সুবর্ণ সময়ের ২০০ গানের দু'টি সিডি প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালের ২৪ জুনে। এ ওয়াই বি আই সিদ্দিকীর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের প্রেম, পূজা প্রকৃতি পর্যায়ের ১০০টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল 'অপরূপ তোমার বাণী'। ১৯৮৯-৯০ সালে নামিবিয়ায় যুদ্ধচলাকালে এ ওয়াই বি আই সিদ্দিকী ছিলেন দেশটিতে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার। আর হাইকমিশনার হিসেবে জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা মিশনে প্রধান লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চিকিৎসকরা নিজ কর্মস্থলের বাইরে
প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। যে হাসপাতালে তারা নিযুক্ত থাকবেন,
সেখানেই নির্ধারিত সময়ের পরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার ব্যবস্থা রাখা হবে।
এতে জরুরি প্রয়োজনে ডাক্তারদের হাসপাতালেই পাওয়া যাবে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়
মানিকগঞ্জে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ
প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। শেখ হাসিনার
সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায়
পাঁচ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এম মান্নান একনেকে অনুমোদন
পাওয়া প্রকল্প ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনার বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি
জানান, চিকিৎসকরা গ্রামে যেতে চান না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত। তিনি
ক্ষোভ, অভিমান ও দুঃখের সঙ্গে এ কথাগুলো বলেছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে
করেন, ডাক্তাররা যেখানে চাকরি করেন, সেখানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলে
সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য কিছুটা ভালো হবে। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির ঘটনায় বিভিন্ন মহল
প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সমালোচনা করে। অনেকে মনে করছেন, যতদিন প্রাইভেট
প্র্যাকটিসের সুযোগ রাখা হবে, ততদিন সরকারি হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিত
করা যাবে না। চিকিৎসকদের গ্রামে থাকতে বাধ্য করতে সরকারের পক্ষ থেকে
বিভিন্ন সময়ে সরকারি নির্দেশনা এবং অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর
উদ্যোগও নেওয়া হয়। তবুও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির অভিযোগ
ব্যাপক। চলতি বছরের শুরুর দিকে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের
নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও করা হয়েছিল। সেই রিট আবেদন
শুনানি শেষে হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরিতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের
নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশে সরকারি চিকিৎসক আছেন ৩০ হাজার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ
অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনও ১০ হাজার জনগোষ্ঠীর অনুপাতে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র
২৩ জন। গত ১২ বছরে চিকিৎসা ক্যাডারের সংখ্যা চার গুণ বাড়লেও গ্রামের মানুষ
সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সড়কে
এলোপাতাড়ি যানবাহন রাখা হয়। এ ছাড়া নিয়ম না মেনে গাড়িগুলো সড়কে চলাচল করে।
এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। চার লেনের প্রশস্ত সড়কেও এ সমস্যা হয়। এ
অবস্থায় সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল
কাদেরসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভায়
'খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ' প্রকল্প অনুমোদনের
সময় সড়কের ভিডিও দেখে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। এম এ মান্নান জানান, সড়কে যাতে অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী (ওভারলোডিং) কোনো
যান চলতে না পারে সেদিকে নজরদারি বাড়াতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত
ওজনের বেশি পণ্যবাহী ট্রাক বা লরির কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আমাদের
অর্থনীতির আকার বাড়ছে। এ পর্যায়ে ওভারলোডিং পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
যথাসম্ভব তদারকি জোরদার করে এটি কমিয়ে আনা সম্ভব। এদিকে প্রধানমন্ত্রী দেশে সব মহাসড়কে, চালক ও হেলপারদের (চালকের সহকারী)
জন্য সড়কের পাশে আধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে
বলেছেন। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় চার মহাসড়কের পাশে পণ্যবাহী গাড়ি চালকদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণের
একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশে সব মহাসড়কে
চালক-হেলপারদের জন্য এ সুবিধা রাখা হবে। সরকার শুধু বিশ্রামাগারের জন্য
জায়গা দেবে। দোকান-খাবারের হোটেলসহ অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা করতে
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ দেওয়া হবে। একনেক সভায় বান্দরবানে আলীকদম থেকে পোয়ামুহরী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের একটি
প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ি
এলাকায় ভূমিধস ঠেকাতে সড়কের দু'পাশে গাছ লাগানোর পরামর্শও দিয়েছেন। এদিকে প্রকল্পের ক্ষেত্রে ওভারল্যাপিং যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন
প্রধানমন্ত্রী। একই কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ যেন
একাধিক প্রকল্প না নেয়। চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভবন
নির্মাণের সময় প্রতিটি ভবনে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ
দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো
বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ছাড়া
নোটিশের মাধ্যমেও সংশ্নিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়। একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হলো- বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো
ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণ, বড়তাকিয়া থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ
সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত), উত্তরা এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণের জন্য
ভূমি অধিগ্রহণ, ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন
এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত), সমতল ভূমিতে বসবাসরত
অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে
সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পুকুর পুনর্খনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের
মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচের ব্যবহার, বেগম আমিনা মনসুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং
ইনস্টিটিউট এবং সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা অঙ্গ-২ পর্যায় (আইএফএমসি-২)
প্রকল্প। | 6 |
অপরাধ জগতের বাদশা তিনি। মুম্বাই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ-সহ একাধিক নাশকতার সঙ্গে যুক্ত সেই ওয়ান্টেড ডনকে ছুঁতেও পারেনি ভারতের দুঁদে গোয়েন্দারা। সেই দাউদ ইব্রাহিমকে কাবু করেছে করোনা ভাইরাস। সস্ত্রীক কোভিড পজিটিভ মুম্বই বিস্ফোরণের মাস্টার মাইন্ড। আর তাতেই শোরগোল পড়েছে অপরাধ জগতে। দাউদ ছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়েছে মাফিয়া ডনের এক ব্যক্তিগত দেহরক্ষী এবং কর্মী। যদিও এ বিষয়ে মুখে খোলেনি পাক সরকার। প্রসঙ্গত, দাউদ যে সপরিবারে পাকিস্তানে লুকিয়ে রয়েছে এবং সেখান থেকে অপরাধ জগতের রিমোট কন্ট্রোল হাতে রেখেছে তা আগেই ইসলামাবাদকে তথ্যপ্রমাণসহ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু সে তথ্য বারবার অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। দুবাই-শারজাতেও দাউদের আনাগোনার প্রমাণ হাতে এসেছে ভারতীয় ইন্টেলিজেন্সের। রাডারে থাকলেও কূটনীতির বেড়াজালে বহুবার দাউদ ফস্কেছে ভারতের হাত থেকে। এদিকে, আমেরিকা দাউদকে জঙ্গি তকমা দেওয়ায় পাকিস্তান ছাড়াও কঠিন হয়ে গিয়েছে মাফিয়া ডনের। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ঢালের মতো দাউদকে হামলার হাত থেকে বারবার বাঁচায়। ১৯৯৩ সালে মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন দাউদ ইব্রাহিম। হামলার পরপরই তিনি দেশ ছাড়েন। বর্তমানে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হিসেবেই তিনি পরিচিত। দেশ ছাড়া হলেও তার বাহিনী মুম্বাইয়েই সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। | 3 |
মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলিস্তান যান
তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। জিপিওর উল্টো পাশের ব্যস্ত সড়কে তখন
যাত্রীদের বাসে তুলতে তৎপর বিভিন্ন পরিবহন চালকের সহযোগীরা। অন্যান্য
যাত্রীর ভিড় ঠেলে একটি লোকাল বাসের দিকে এগিয়ে যান তারানা হালিম। উৎসুক
পথচারী, বাসযাত্রীরা তাকে দেখে মোবাইল ফোন নিয়ে এগিয়ে যান সেলফি তোলার
উদ্দেশ্যে। তিনি সবাইকে পাশ কাটিয়ে ৬ নম্বর বাসে চড়েন। বেলা আড়াইটার দিকে
গুলশান পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বাস থেকে নেমেই তিনি জানিয়ে দেন, এখন থেকে কর্মস্থল সচিবালয়ে যাতায়াতে
গণপরিবহনই ব্যবহার করবেন। তবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সময় সরকারি যান
ব্যবহার করবেন। গণপরিবহনে চেপে তারানা হালিমের বামায় ফেরার ছবি এবং ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। যোগাযোগ করা হলে সমকালকে তারানা হালিম বলেন, 'এখন থেকে প্রতিদিনই সাধারণ যাত্রীদের
সঙ্গে গণপরিবহনে চলাচল করব। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকেই এই সিদ্ধান্ত
নেওয়া। সাধারণ জনগণ যদি প্রতিদিন কষ্ট করে তাদের কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে
পারেন, তবে আমরা কেন পারব না? মানুষের কষ্টগুলো কাছে থেকে দেখতেই আমার এমন
সিদ্ধান্ত।' তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ- এমপি-মন্ত্রীরা সড়কপথের যানজটে পড়েন না।
যানজটের ভোগান্তি বোঝেন না। গণপরিবহনে যাতায়াতকারীদের এমন সব অভিযোগ থেকেই
এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া তারা গণপরিবহনে উঠলে বাসচালকরা আস্তে
আস্তে সচেতন হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। পুলিশ প্রটোকল ছাড়াই গুলিস্তান থেকে প্রতিমন্ত্রী যখন বাসে ওঠেন, তখন
বাসটিতে আগে থেকেই থাকা এক নারী তাকে জায়গা ছেড়ে দেন। এ সময় একাধিক যাত্রী
তার সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে গণপরিবহনের যাত্রী হয়ে আলোচনায় এসেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। | 9 |
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী বছর পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই রদবদল হতে চলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বার্তা সংস্থা ইউএনবির পাওয়া তথ্য অনুসারে, মন্ত্রিসভায় কমবেশি নতুন ২৮ মুখ দেখা যাবে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেরও উপস্থিতি থাকছে। বর্তমানে মোদির মন্ত্রিসভায় ৫৩ জন সদস্য রয়েছেন। ২০১৯ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর এটাই মোদি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বর্ধনের উদ্যোগ হতে চলেছে। ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের তিন বিজেপি নেতা, জগন্নাথ সরকার, শান্তনু ঠাকুর এবং এন প্রামাণিকের নাম নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবার কথা শোনা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে গত এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বড় ধরনের পরাজয়ের শিকার হয় মোদির বিজেপি। কেন্দ্রীয় অনেক নেতাসহ স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বেশ কয়েকবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার পরও বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয় বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের পরাজয়ের কথা মাথায় রেখেই আসন্ন পাঁচ রাজ্যের নির্বচান ও সাধারণ নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়ার মাধ্যমে নতুন পরিকল্পনা করছে বিজেপি। ইউএনবি'র পাওয়া তথ্যমতে, সাবেক কংগ্রেস সাংসদ জোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, বিহারের সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি এবং মহারাষ্ট্র রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নারায়ণ রানের নাম নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারে। এছাড়া, মন্ত্রিসভায় বর্ধনের লক্ষ্যে বর্তমান মন্ত্রিসভার পিয়ুস গোয়াল, স্মৃতি ইরানিসহ প্রায় ৯ জন মন্ত্রীকে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব ছাড়তে হতে পারে। দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক রামা শার্মা বর্তমান গুঞ্জন সম্পর্কে ইউএনবিকে বলেন, 'আগামী বছর উত্তরপ্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। এক্ষেত্রে যেকোনো দলের জন্যই উত্তরপ্রদেশ জয় করা জরুরি।' 'উত্তরপ্রদেশ যার, ভারত তার'- এমন কথার প্রচলন আছে উল্লেখ করে রামা শার্মা আরো বলেন, 'যেহেতু উত্তরপ্রদেশে সর্বোচ্চ ৮০টি সংসদীয় আসন আছে, তাই সকলেই উত্তরপ্রদেশের ওপর নজর রাখবে।' সূত্র : ইউএনবি | 3 |
সর্ব্বোচ্চ যাচাই-বাছাই করেই যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। সোমবার যুবলীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের শেখ ফজলে শামস পরশ এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে যুবলীগ নেতাকর্মীদের দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দু'একজনের ব্যক্তিগত দায় সংগঠন নেবে না। যুবলীগ মেধাভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। শেখ পরশ বলেন, আমরা দলে পদবীতে কে কোন পদ পেলো তাতে বিশ্বাস করি না। দেশের জন্য কে কতটুকু দিতে পারলো সেদিকে বিচার করা হবে। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এক কথায় সংগঠনে থেকে কাউকে অনৈতিক কাজ করতে দেওয়া হবে না। এদিন কেন্দ্রীয় যুবলীগের নব গঠিত কমিটির নেতারা টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান তারা। পরে তারা জাতির পিতাসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলে ফাহিম, শেখ সোহেল উদ্দিন, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি, তাজউদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈম, রফিকুল আলম, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার সুমন, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আরমান হক বাবু ও দপ্তর সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ প্রমুখ। | 9 |
টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর বান্দরবান-রুমা সড়ক দিয়ে সরাসরি যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এর আগে গত বুধবার দুপুর দেড়টায় মালবোঝাই ট্রাক যাওয়ার সময় বেইলি সেতুটি ভেঙে পড়ে যায়। এ ঘটনায় চালক আব্দুল গফুর মারা যান।সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবির সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বুধবার দুপুর দেড়টায় মালবোঝাই ট্রাক যাওয়ার সময় বেইলি সেতুটি ভেঙে পড়ে। তখন থেকে বান্দরবান-রুমা সড়কযোগাযোগ বন্ধ ছিল। টানা তিন দিন পর আজ সকালে থেকে যানবাহন চলাচল শুরু করা হয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে ভেঙে যাওয়া সেতুটিও নতুন করে স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।এই সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবির ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামরুল বলেন, বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ার পরদিন থেকে এই জায়গায় বিকল্প রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছিল। মাটি কেটে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলাচল করছে।ওয়ারেন্ট অফিসার আরও বলেন, ভেঙে যাওয়া বেইলি সেতুটি নতুন করে করার জন্য গত মঙ্গলবার থেকে ভেঙে যাওয়া সেতুটি স্ক্রুগুলো খুলে তা সরানোর কাজ চলছে। নতুন বেইলি সেতু তৈরি করার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে করে নির্মাণ সরঞ্জাম আসছে।তাই সামনে পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে নতুন বেইলি সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এর আগে যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প এই রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল।রুমা সদরঘাটে বাসের সাবকাউন্টারের লাইনম্যান লুপ্রু মারমা বলেন, আজ সকাল থেকে গণপরিবহন বাস সার্ভিস নিয়মিত চলছে। | 6 |
'পুষ্পা: দ্য রাইজ' ছবি দিয়ে আরও একবার দর্শকদের মন জিতে নিয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী রাশ্মিকা মান্দানা। কয়েকদিন আগে গুঞ্জন ওঠে, তিনি নাকি দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে প্রেম করছেন। এ বছরই নাকি তারা বিয়েও করতে যাচ্ছেন। তবে বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন বিজয়। রাশ্মিকার সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের খবরের মধ্যেই নতুন খবর এলো ''ডিয়ার কমরেড'' খ্যাত বিজয়ের। ভক্তদের আশা ছিল বিজয়ের এই নতুন খবরে হয়তো জড়িয়ে থাকবে রাশ্মিকার নামটিও। কিন্তু না, রাশ্মিকা নন, বিজয়ের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানির নাম। বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এসব তথ্য। পরিচালক শিবা নির্বানার পরবর্তী ছবির মাধ্যমে বিজয় তার ক্যারিয়ারের ১৯তম সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। এতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করবেন কিয়ারা-বিজয়। আগে অবশ্য এই জুটিকে বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডা। রাশ্মিকা-বিজয় জুটিকে একত্রে দেখা গেছে ''ডিয়ার কমরেড'', ''গীতা গোবিন্দম''-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায়। বিজয় কিছুদিন আগে শেষ করেছেন ''লাইগার'' ছবির শুটিং। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন অনন্যা পাণ্ডে। | 2 |
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সদ্য সমাপ্ত রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা, দেশি বিদেশি মিডিয়া ও সারাদেশের মানুষ দেখেছে নিরপেক্ষ হয়েছে। একমাত্র বিএনপিই বলেছে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। সব কিছু ভিন্ন চোখে দেখা বিএনপির রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের গাজিপুর রোডস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। খবর বাসসেরমন্ত্রী বলেন, যারা রংপুরের অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে কুলষিত করতে চায়, তাদের কথা দেশের মানুষ আর বিশ্বাস করবে না। খালেদা জিয়া পরিবারের বিদেশে রাখা টাকার কথা আজকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে। তার এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করার মামলার বিচারও সমাপ্তির পথে।আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বর্তমান ক্ষমতাশীল সরকারের অধীনেই অংশগ্রহণ করতে হবে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কোন দিন বাংলাদেশে ফিরে আসবে না। আর সহায়ক সরকার বলে কিছু নেই।আগামি যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান দেশটাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধকে নষ্ট করেছে। বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণ আজকে বিশ্ববিখ্যাত ভাষণ। এই ভাষণ জিয়া আমাদের প্রচার করতে দেয় নাই। এটা নিষিদ্ধ করেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তিনি দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন।তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নির্বাচিত করে সংসদে বসিয়েছিলেন। ২০০১ সালে তিনি ক্ষমতা পেয়ে আওয়ামী লীগ ও দেশের মানুষের প্রতি ভয়াবহ অত্যাচার করেছেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি সে সময় ভোলায় এসে বিএনপির অত্যাচার থেকে রেহাই পাননি। তাকে সেদিন জনসভা করতে দেয়নি বিএনপি। এই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে তাদের উপর কোনো প্রতিশোধ নেইনি। কারণ প্রতিহিংসার রাজনীতি আওয়ামী লীগ কখনও করে না।আগামী বছরের মধ্যে ভোলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বর্তমানে শতকরা ৮৩ জন মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে। ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবে। সারা বিশ্ব আজ বাংলাদেশের প্রশংসা করছে। দেশ এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে।এসময় জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, পৌর মেয়র মো: মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
| 9 |
আমি জানতাম তৈরি পোশাক খাত এদেশের অর্থনীতির বড় শক্তি। আর সে খাতের উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতির বড় ভরসার জায়গা। অথচ করোনাভাইরাসের প্রভাব জনিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা শুরু হতে না হতেই প্রথম সাহায্যের জন্য হাত পেতেছে অর্থনীতির এই শক্তিশালী খেলোয়াড়রাই। অর্ডার নাই এই অসহায়ত্ব দেখিয়ে শ্রমিকের বেতন দেয়ার জন্য সরকারের নিকট থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা মাত্র ২% সুদে পেয়ে তারপর ফ্যাক্টরি খোলার তোড়জোড় শুরু হলো। এর মাঝে শ্রমিকদের নিয়ে নির্মম অনেক নাটক দেখেছে আমার মত বোকা দর্শক।
গত ২৬ এপ্রিল থেকে আবার চলছে ফ্যাক্টরি। পোশাক কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিক কাজ করে ৪ থেকে ৭ নং গ্রেডে। ফলে গড়ে একজন শ্রমিকের মূল বেতন দাঁড়ায় মাসে ৮৯০০ টাকার মতো। সরকারের প্রণোদনা পাওয়ার পরেও অনেক ফ্যাক্টরি ঠিকমতো বেতন দেয়নি, আবার ঘোষণা দিয়ে এপ্রিল মাসের বেতন ৬০% দেয়া হয়েছে। এখন বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হবে, মালিকদের নাকি কিছুই করার নাই (সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকা)। অর্থাৎ, মাত্র ২% সুদে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য যতোটুকু অর্থ পাওয়া গেছে তা দেয়ার পর, এক পয়সাও নিজের পকেট থেকে খরচ করতে চান না তারা। এখন এই দুর্দিনে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে না পারলে কিসের শক্তিশালী শিল্পপতি? অর্ডার যদি অর্ধেকও হয়ে যায় তারপরও এত বছর ব্যবসা-বাণিজ্য করে শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন চালানোর মত ক্ষমতা কি তৈরি হয়নি? না হয় নিজের সঞ্চয় থেকে কিছু খরচ হল। লেখক: সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 2 |
আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। সিরিজি বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই মনে করছেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে এ পর্যন্ত টেস্টে ২২ ম্যাচ খেলে ১৭টিতে জয়, ১টি হার ও ৪টিতে ড্র করে শ্রীলংকা। তবে এবারের সিরিজে বাংলাদেশ কঠিন প্রতিপক্ষ মানছেন ম্যাথুজ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ যেকোন দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত দল নিজ ডেরায় ধরাশায়ী করেছিল টাইগাররা। সেই স্মৃতি হয়তো মনে পড়ছে ম্যাথুজের। তাই বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশ-বিদেশে দারুণ পারফরমেন্স করায় বাংলাদেশকে শক্তিশালী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ম্যাথুজ। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ শক্তিশালী দল এবং সাম্প্রতিক সময়ে নিজ মাঠে ও বিদেশে দারুণ পারফর্ম করছে। এই সিরিজে তাদের ঘরের মাঠের সুবিধা আছে। আমাদের বুঝতে হবে এবং তাদের হারানোর জন্য পরিকল্পনা করে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।' নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলেই সিরিজ জিততে পারবেন বলে জানান ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার ম্যাথুজ। তিনি বলেন, 'আমাদের মাঠে নেমে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আমি নিশ্চিত, আমরা তা করতে পারবো এবং সিরিজ জিততে পারবো।' ম্যাথুজ আরও বলেন, ' ঘরের মাঠে খেলবে বাংলাদেশ এবং সম্প্রতি তারা শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে। তবে আমাদের একটি ভালো দল আছে। সিরিজ জিততে আমরা আক্রমনাত্মক খেলবো।' সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলে শ্রীলঙ্কা। দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারে লংকানরা। ২০১৮ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিলো শ্রীলংকা। ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিলো লংকানরা। আর ২০২১ সালের সর্বশেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিলো বাংলাদেশ-শ্রীলংকা। সেটি ছিলো লংকানদের মাটিতে। দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে বাংলাদেশের উপরেই আছে শ্রীলংকা। ৪ ম্যাচ খেলে ২টি করে জয়-হারে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চমস্থানে লঙ্কানরা। আর ৬ ম্যাচে ১ জয় ও ৫ হারে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে আগামাী ১৫ মে থেকে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ঢাকায় ২৩ মে থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। টেস্ট সিরিজের আগে বিকেএসপিতে ১০ ও ১১ মে একটি দু'দিনের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কা। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 12 |
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধা মারা যান। মৃত ওই বৃদ্ধা রাজশাহীর বাসিন্দা। তিনি করোনার উপসর্গে ভুগছিলেন।হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। ছাড়পত্র পেয়েছেন একজন। আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে মোট রোগী ছিলেন ৩১ জন।আগের দিন শুক্রবার জেলার ১৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ১৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ ১২ শতাংশ। | 6 |
বায়ুদূষণে শীর্ষে, শব্দদূষণও ভয়াবহ পর্যায়ে। সব মিলিয়ে বহু আগেই বসবাসের অযোগ্য নগরীর তকমা পেয়েছে রাজধানী ঢাকা। কিন্তু করোনার সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধে দূষণের মাত্রা অনেকাংশে কমে এসেছে যান্ত্রিক এই নগরীতে। প্রাণ ফিরেছে প্রকৃতিতে। মৌসুমি বৃষ্টি ও রাস্তাঘাটে যানবাহনের পাশাপাশি মানুষের চলাচল সীমিত থাকায় দূষিত নগর ফিরে পেয়েছে তার চিরাচরিত নির্মল রূপ।রাজধানীর রমনা পার্ক, ধানমন্ডি লেক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বলধা গার্ডেন, বাহাদুরশাহ পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ওসমানী উদ্যানে গত দুই দিন ঘুরে চোখে পড়েছে সবুজের সমারোহ। গাছগাছালি, লতাগুল্ম যেন দ্যুতি ছড়াচ্ছে নতুন প্রাণের।সুযোগ পেলেই প্রকৃতির কাছে ছুটে যান পুরান ঢাকার বাসিন্দা ফারুখ আহমেদ। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ায় ইট-পাথারের এই শহরে ঋতু বদল টেরই পাওয়া যায় না। লকডাউনের কারণে প্রকৃতি অনেক সতেজ হয়ে উঠেছে।পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের পর অনেক মানুষ ঢাকায় ফেরেনি, শহর এখনো অনেকটা ফাঁকা। বিধিনিষেধের কারণে গণপরিবহন চলাচলও সীমিত রয়েছে। এসব কারণে বায়ুর মান বেড়েছে এবং কমেছে শব্দদূষণ। সতেজ হয়ে উঠছে জীববৈচিত্র্য।এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বায়ুর মান সূচক ছিল ২১। গত ২২ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত গড়ে বায়ুর মান ছিল ২৫ পয়েন্ট। অন্য সময়ে প্রায় প্রতিদিনই ৩০০ থেকে ৩৫০-এর মধ্যে থাকত। বায়ুদূষণের এই মাত্রা ৩০০-এর ওপরে থাকলে মানবদেহের জন্য তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, জুলাই মাসের প্রথমে বায়ুর মান ছিল ১০০-এর ওপরে। মাসের শেষে বায়ুর মান আগের চেয়ে তিন গুণ ভালো হয়েছে। প্রকৃতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। গাছের পাতায় কোনো ধুলোবালু নেই। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার বাতাসে প্রতিদিন ৫০০ মেট্রিক টন ধুলোবালু পড়ত। সেখানে এখন গাছের পাতায় ৫০ মেট্রিক টনও ধুলোবালু নেই।স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়টির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের পরিচালক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, 'তিন কারণে ঢাকার পরিবেশ ভালো রয়েছে। তা হচ্ছে চলমান লকডাউন, ঈদের কারণে শহরে মানুষ কম ও প্রচুর বৃষ্টি। বর্তমানে ঢাকার বায়ু অত্যন্ত নির্মল। প্রকৃতির পরশে ঢাকাবাসী নির্মল বায়ুর এক জাদুকরী সপ্তাহ পার করেছে।'তবে কয়েক দিনের বায়ুর মান নিয়ে স্বস্তির কারণ নেই বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম নাজেম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'গাড়ি কম চললে, কলকারখানা বন্ধ থাকলে বায়ুর মান বাড়বে, শব্দদূষণ কমবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, এটা ঢাকার স্বাভাবিক চিত্র না। বিধিনিষেধ শেষে পরিবেশের অবস্থা আগের মতো হয়ে যাবে।' | 6 |
নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে দেওয়ার একটি প্রস্তাব করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আর এতে জোর আপত্তি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এ সংক্রান্ত চিঠি মঙ্গলবার (১৮ মে) নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর আজ বুধবারই 'বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন'প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তারা এটা ইসির অধীনে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (১৯ মে) বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভায় বসলেও এনিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে পরবর্তীতে 'গভীরভাবে পর্যালোচনা করে'ইসির অবস্থান জানানো হবে। কমিশনের বুধবারের সভায় এ সংক্রান্ত এজেন্ডা ছিল না। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠিটি আমরা পেয়েছি। এ বিষয় নিয়ে এখনও বিস্তারিত পর্যালোচনা করিনি আমরা। পর্যালোচনা করার পরে যদি কিছু বলার থাকে জানাব। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের উদাহরণের আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সুরক্ষা সেবা বিভাগ ওই দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বিবেচিত বিধায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংক্রান্ত দায়িত্ব সুরক্ষা সেবা বিভাগে ন্যস্ত করার লক্ষ্যে 'অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামং ডিফারেন্ট মিনস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশন্স'-এ সুরক্ষা সেবা বিভাগের দায়িত্বসমূহের মধ্যে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন-২০১০ এ 'নির্বাচন কমিশন'এর পরিবর্তে সরকার শব্দ অন্তর্ভুক্তকরণসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সুরক্ষা সেবা বিভাগ কর্তৃক জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল নির্বাচন কমিশন থেকে সুরক্ষা বিভাগে হস্তান্তর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মোকাব্বির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের এরকম একটি প্রস্তাবনা আছে সুরক্ষা সেবা বিভাগকে এ দায়িত্ব দেওয়ার। তবে তার আগে আইন-কানুন বিধি-বিধান ও বিজনেস অব এলোকেশনসহ অনেক কিছু ঠিক করতে হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হবে কি-না জানতে চাইলে সচিব বলেন, না, তা হবে না। লোকবল যারা আছেন, তারাই থাকবেন। এদিকে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ইসির অধীনে জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম যেভাবে চলমান রয়েছে, তা অব্যাহত রেখে দ্রুত কিভাবে সেবা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা এটিকে ইসির অধীনে রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। | 6 |
সেরেনার ২৩তম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জয় হয়েছে আগেই। টেনিসের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২৪টি গ্র্যান্ডস্লামের শিরোপা জয় করা অস্ট্রেলিয়ান নারী টেনিসার মার্গারেট কোর্টের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলার লক্ষ্যে এবার ইউ এস ওপেনে দারুণ লড়াই করেছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস । রেকর্ড গড়ার পথে অনেক দূর মানে সেমিফাইনাল পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তার সেই রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সি বেলারুশ সুন্দরী ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। সেরেনার বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডে ৬-১ সেটে হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ডে ৬-৩, ৬-৩ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকেট বাগিয়ে নেন আজারেঙ্কা। এই ম্যাচটির আগে সেরেনা উইলিয়ামসের বিপক্ষে কোনো গ্র্যান্ডস্লামে জয় তুলে নিতে পারেননি আজারেঙ্কা। এমনকি এই ইউএস ওপেনেই দুইবার ফাইনালে খেলে সেরেনার বিপক্ষে হেরে আজারেঙ্কাকে রানার্সআপ হতে হয়েছে। সেই দুইবার রানার্সআপ হওয়ার প্রতিশোধটা এবার নিয়ে নিলেন আজারেঙ্কা। সেরেনাও হয়তো ভাবেননি তিনি আজারেঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে হেরে যাবেন। কারণ প্রথম রাউন্ডটি তিনি আধিপত্য দেখিয়ে জিতে নিয়েছিলেন। এই নিয়ে আজারেঙ্কার বিপক্ষে ২৩ বার মুখোমুখি হয়ে মাত্র ৫বারের মতো হেরেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। শুক্রবার আজারেঙ্কা ও সেরেনা এই ম্যাচটিতে খেলতে নেমেই একটি বিরল রেকর্ডের মালিক হয়ে গেছেন। আর সেই রেকর্ডটি হলো ইউএস ওপেনে এবারই প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল ম্যাচে দুইজন মা লড়াই করেছেন। সেরেনা গত বছর একটি কন্যা সন্তানের মা হন। অপরদিকে আজারেঙ্কার রয়েছে একটি ছেলে। এদিকে সেরেনাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে ৭ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ডস্লামের ফাইনালে উঠেছেন কয়েকদিন আগে সাউদার্ন ও ওয়েস্টার্ন ওপেনের শিরোপা জয় করা আজারেঙ্কা। আর ৭ বছর পর ফাইনালে ওঠায় বেশ উচ্ছসিত আজারেঙ্কা। যেহেতু তিনি ৭ বছর পর ফাইনালে উঠেছেন তাই এই ৭ নম্বর সংখ্যাটিকে লাকি হিসেবে নিচ্ছেন তিনি। ম্যাচ শেষে এ ব্যাপারে আজারেঙ্কা বলেন, 'সাত বছর হয়ে গেছে!। ৭ সংখ্যাটি আমার প্রিয় একটি সংখ্যা। আমি আশা করি এটি লাকি হিসেবে কাজ করবে। ফাইনালে আসার পথে আমাকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে হারাতে হয়েছে। আজকের দিনটি আমার জন্য বিশেষ একটি দিন। এদিকে আজারেঙ্কার বিপক্ষে রবিবার ফাইনালে মুখোমুখি হবেন জাপানিজ টেনিসার নাওমি ওসাকা। ২০১৮ সালে ইউএস ওপেন জয়ের পর ফের ইউএস ওপেনের টিকেট পেয়েছেন তিনি। ফাইনালে ওঠার পথে ওসাকা হারিয়েছেন আমেরিকান টেনিসার জেনিফার ব্র্যাডিকে। তবে ব্র্যাডির বিপক্ষে জয় তুলে নিতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে ওসাকাকে। সব মিলিয়ে ব্র্যাডিকে ৬-৭ (৭-১), ৩-৬, ৬-৩ সেটে হারিয়েছেন তিনি। | 12 |
ঈদের আগে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের চলতিসহ বকেয়া বেতন ও পূর্ণ উৎসব ভাতা পরিশোধসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে মানববন্ধন করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট। বৃহষ্পতিবার (১৪ মে) ফ্রন্টের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং সারাদেশে জেলায় জেলায় সংক্ষিপ্ত পরিসরে শারীরিক দুরুত্ব বজায় রেখে প্রতীকি অবস্থান ও মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। এসময় বক্তারা ঈদের আগে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের চলতিসহ বকেয়া বেতন ও পূর্ণ উৎসব ভাতা পরিশোধ করা, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সকল শ্রমিকের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ, নগদ সহায়তা ও আর্মী রেটে রেশন নিশ্চিত করার দাবি জানান। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সহ-সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, অর্থ সম্পাদক জুলফিকার আলী, দপ্তর সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের মোট শ্রমজীবী মানুষের ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক যাদের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি দৈনিক কাজভিত্তিক মজুরি চুক্তিতে নিয়োজিত শ্রমিক গত ২৬ মার্চ থেকে অদ্যবধি ৪৯ দিন যাবত লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে চরম অসহায়ত্তের মধ্যে দিনযাপন করছে। সরকার করোনা পরিস্থিতি উত্তোরণে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই প্রণোদনা প্যাকেজে শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ত্রাণের দাবিতে শ্রমিকজীবী মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি বাসা ভাড়া পরিশোধের চাপ ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর ও শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী শ্রমজীবী দিনমজুর মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। তারা বলেন, ১০ দিন পরে মুসলিম ধর্মালম্বিদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ উপলক্ষে সরকার ৫০ লক্ষ শ্রমিককে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদানের ঘোষাণা দিয়েছে অথচ দেশে শুধু অতি দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই ১ কোটি ৯০ লক্ষ যাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেকের কমপক্ষে ৮ হাজার টাকা প্রয়োজন। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা অজুহাতে সরকারী তহবিল থেকে হাজার-হাজার কোটি টাকা সহযোগীতা গ্রহণ করার পরও শিল্প মালিকরা চরম দায়িত্বহীন-অপরাধমূলক আচরণ অব্যাহত রেখেছেন। কর্মস্থলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে কারখানা চালু করার অনুমতি নিয়েও বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত রেখেছে। অনেক কারখানায় এখনও মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি বরং শ্রমিকদের বেতন কাটা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দরা অবিলম্বে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের চলতিসহ বকেয়া বেতন ও পূর্ণ উৎসব ভাতা পরিশোধ, সরকারী নির্দেশনা ভঙ্গকারী মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা , মালিকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধেল দাবি জানান। | 6 |
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অসুস্থ সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহেল সানি'র খোঁজ নিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি গতকাল রাতে ফোন করে সোহেল সানির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাঁর জন্য দোয়া কামনা করেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে নতুন করে ইরানেরপ্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গেবৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে সোমবার ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। খবর এবিসি নিউজ ও টাইমস অব ইসরায়েলের। এদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ করার জন্য ২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, সে চুক্তি থেকে ওয়াশিংটন গত বছর সরে আসার পর থেকে ইরান ও আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ট্রাম্প আরো বলেন, 'আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, ইরান একটি মহৎ জাতি। তবে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে না। বৈঠকে রাজি হওয়ার আগে দু'দেশের ইতিবাচক মনোভাব থাকতে হবে।' সোমবার রুহানি জানান, ইরান উপকৃত হলে যেকারও সঙ্গেই তিনি বৈঠক করতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, 'আমি যদি নিশ্চিত হতে পারি কারও সঙ্গে বৈঠক করলে তা আমার দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং জনগণের সমস্যার সমাধান হবে, তাহলে আমি তা করতে দ্বিধা করব না।' এ বিষয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাংবাদিকদের বলেন, 'আগামী কয়েক সম্পাহের মধ্যে এই বৈঠক বাস্তবায়িত হবে।' বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
প্রিয় আশরাফ ভাই,মানুষ যখন জন্ম নেয়, মৃত্যু তখন তার ছায়াসঙ্গী হয়ে যায়। মৃত্যু তাকে আগলে রাখে, যত দিন না তার ডাক পড়ে অনন্ত আনন্দলোকে।মানুষের চলে যাওয়াটা ভীষণ সত্যি, যেমন বিদায় জানানোটা খুব কষ্টের। তবে আপনাকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের গর্বের শেষ নেই। বিশাল জলরাশিতে খড়কুটো ধরে মানুষ যেমন বাঁচতে চায়, তেমনি আপনার মতো নীরবে থাকা ভালো মানুষকে অবলম্বন করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চায় অগণিত মানুষ। আপনি মিশে থাকেন মানুষের অন্তর্নিহিত অদৃশ্য এক চাওয়ায়।প্রিয় ভাই,রক্তে ভেজা ছোটবেলার পর আপনার সঙ্গে ভালো করে কথা হয় যেদিন, তখন আপনি আম্মা (সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন) এবং সোহেলের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন, আমি অসম্ভব আনন্দ নিয়ে শুনছিলাম আপনার কথা। প্রখর বোধশক্তি, বুদ্ধিদীপ্ত সরস কথাবার্তা আপনার। খুব মজার ছিল আপনার প্রকাশভঙ্গি। আমি একপর্যায়ে বলেই ফেলেছিলাম, আব্বুকে (তাজউদ্দীন আহমদ) তো আমার তেমন দেখার সুযোগ হয়নি, তারপরও সামান্য যতটুকু দেখেছি এবং তঁার বন্ধু, চেনাজানা মানুষের কাছে তাঁর কথা যা শুনি, তাতে মনে হচ্ছে আপনি যেন কথা বলেন অনেকটা তাঁর মতো। গল্পচ্ছলে, উদাহরণ দিয়ে দিয়ে। আব্বুদের সময়ের মানুষ আপনি। আমার কথা শুনে আপনি খানিকটা লজ্জাই পেয়েছিলেন।সোহেলকে আপনি বড় ভাইয়ের স্নেহে বিশেষ একটি স্থান দিয়েছিলেন। আপনাদের দুজনের বোঝাপড়া এবং মানসিক বন্ধন ছিল চমত্কার। কত দ্রুত সবকিছু স্মৃতি হয়ে যায়! প্রিয় ভাই,একটি প্রবাদ আছে, 'তুমি যখন তোমার জন্য কিছু একটা পরিকল্পনা করে রেখেছ, সৃষ্টিকর্তা তখন মুচকি হেসে তোমার জন্য তাঁর পরিকল্পনা করে রেখেছেন।' ২০১২ সালের ঈদুল ফিতর ছিল ২০ আগস্ট। ২২ তারিখ সকালে আমার ঢাকার বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা স্থির করে রাখা। ২১ তারিখ রাত আটটার দিকে কলবেলের শব্দ শুনে দরজা খুলতে গিয়ে হঠাৎ পায়ের স্যান্ডেল উল্টে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে গেল। পরদিন যাওয়া হলো না। হাতে প্লাস্টার। প্রচণ্ড ব্যথা। এর চার দিন পর আমাদের প্রিয় বোন (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, জননেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা), অসাধারণ যঁার চিন্তাশক্তি, কর্মে যিনি অতুলনীয়, সেই বটবৃক্ষ আপা রেহানা আপাকে সঙ্গে নিয়ে আম্মার কাছে বাসায় এলেন। তাজউদ্দীন আহমদের জন্মস্থানের শূন্যতা পূরণ হলো। নিয়ম অনুযায়ী ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম নিতে গিয়ে দেখি, সেখানে আমার পক্ষ থেকে টাকা জমা হয়ে গিয়েছে। সেই সময় আমাদের দলের উপদপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন মৃণালদা (মৃণাল কান্তি দাস, সাংসদ)। আমি তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আশরাফ ভাই টাকা দিয়ে দিয়েছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের রুম থেকে আপনি বের হয়ে এসেছিলেন। আমার লজ্জিত চেহারা দেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, 'আমরা রক্তের ভাইবোন।' আরও দু-চারটি কথা। তারপর থেকে কখনো মনে হয়নি একা। খুব বেশি দেখা-সাক্ষাৎ না হলেও আপনার প্রচ্ছন্ন ছায়া ছিল। দেখা হলে, ফোনে কথা হলে সোহেলের কুশল জানতে চাওয়া ছিল আপনার অবধারিত। ছোট ছোট বাক্যের আপনার সেই কথাগুলো, আজ সব স্মৃতি। প্রিয় ভাই, মন ও কলম আর এক করতে পারছি না। আপনার জন্য কম বললেই বুঝি অনেক বলা হয়। আমার প্রিয় একটি উদ্ধৃতি আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে উদ্ধৃত করছি, যা আজ শুধু আপনার সঙ্গেই যায়। 'কাজ কারও আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, প্রশংসা বা বাহবা শোনার জন্য নয়। জীবনযাপন কাউকে খুশি করা বা প্রভাবিত করে সুবিধা পাওয়ার আশায় নয়। জীবনযাপনে নিজেকে প্রকাশ করো উদার চিত্তে। তোমার উপস্থিতি বোঝানোর জন্য সংগ্রাম কোরো না, বরং এমনভাবে বাঁচো, যেন তুমি না থাকলে তোমার অনুপস্থিতির যে শূন্যতা, তা মানুষ বুঝতে পারে।' সিমিন হোসেন রিমি সাংসদ, লেখক, সমাজকর্মী [] | 8 |
ঢাকা: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬২৬ জন। এ সময় নতুন করে কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৩৬ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জন।আজ সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।এর আগে গতকাল রোববার দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৮২ জনের মৃত্যু এবং একই সময় ৩ হাজার ৬৪১ জন রোগী শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, ১১২ জন, ছিল চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট এবং র্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৫২৮টি সক্রিয় ল্যাবে ২৪ হাজার ৫৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে ৪ হাজার ৬৩৬টি নমুনার ফল। সে হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। যেখানে গতকাল এ হার ছিল ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ২ হাজার ৮২৭ জন রোগী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮২ জন।২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম কোভিড আক্রান্ত শনাক্তের পর দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয় গত বছরের ৮ মার্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রথম মৃত্যুর খবর জানায় ১৮ মার্চ। | 6 |
ভারতে চলমান বিক্ষোভের জেরে ভারত সফর বাতিল করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। একই কারণে ভারতে বিক্ষোভে উত্তাল অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণের বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে দেশের (ভারতের) কিছু অংশে বিক্ষোভ চলছে। উত্তরপূর্ব ভারতে সহিংস বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে আসাম ও ত্রিপুারায়। গোহাটিতে কারফিউ জারিকরাসহ আসামের ১০ জেলায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ। যানবাহনেও হামলার ঘটনা ঘটছে। যদি কারও ওই অঞ্চলে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে তাহলে তাদের উচিত হবে সেখানকার স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে সর্বশেষ অবস্থা জানতে হবে। এছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যেসব নির্দেশনা দেয় তা মানাসহ প্রয়োজনে অন্য সময় ভ্রমণের সময় ঠিক করা। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
'দেশ ও জাতির খবর কী?''সকালে নাশতা। সাড়ে এগারোটার দিকে শিঙাড়া। তারপর দুটোর মধ্যে ভাত।'কিছুটা চুপচাপ অনুভব করলাম চারপাশ। বুঝলাম ঝড় আসার আগে যে নৈঃশব্দ্য ভর করে প্রকৃতিতে, এখন সে অবস্থা চলছে। আমি প্রস্তুত হলাম লেখার অযোগ্য কিছু খিস্তিখেউড় শোনার জন্য। এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড, তিন সেকেন্ডপ্রায় ত্রিশ সেকেন্ড পর আমার দিকে একটি হাত এগিয়ে এল। সেটাতে ধরা কটনবাড।'তুই ইদানীং কানে কম শুনছিস। ভালো করে কান পরিষ্কার কর আমার সামনে।''না মানে, সামনে না করে একটু পরে করি?''না। এখনই করতে হবে।'খুব অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম, বিব্রতও খানিক। আমি জানি, এই মুহূর্তে আমার কান থেকে কী বের হতে পারে। একেকটা কানে কমপক্ষে পাঁচটা কটনবাড খরচ হবে। এসব কাজ একান্তে করাই ভালো। তাই মরিয়া হয়ে বললাম, 'থাক না। না হয় পরেই করি।''সে করতেই পারিস। চাকরি তো করিস খবরের কাগজে। ছাপাখানাকে পাছাখানা শুনে ফেললে চাকরি থাকবে?''ডুড, কেউ আর ছাপাখানা বলে না। বলে, প্রেস।''তোর মতো পোলাপাইনের শোনার ভুলের জন্যই এ রকম হয়েছে।''যাই হোক, যা বলছিলেন বলেন।''বলছিলাম, দেশ ও জাতির খবর কী?''ভেরি গুড। বুদ্ধিবৃত্তিতে জাতি অনেক এগিয়ে গেছে। সমালোচক হয়ে উঠেছে পুরো জাতি। এটা ভালো লক্ষণ।''সমালোচক! আমি তো জানতাম, নিজেরটা খারাপ হয় বলে সবাই পিঠ চুলকায়।'হে হে করে একটু ক্যাবলা হাসি দিই। এ বিষয়টা মিথ্যা নয় মনে হয়। তারপরও বলি, 'না না। সব সময় সেরকম নয়।''তা এখন কী রকম হচ্ছে শুনি। কী নিয়ে সমালোচনা করছ তোমরা চাঁদের দল?''বহু কিছু। এই ধরেন পরীমণি, রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি, এই সব নিয়ে।''পরীমণির ব্যাপারটা বুঝলাম। ওটা নিয়ে তোমরা সত্য কথা মুখ খুলে বলতে পারবা না ব্রো। রবীন্দ্রনাথের বিষয়টা কী কও তো?''বিশাল ব্যাপার। এইটা একটা উপন্যাস। রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস। এটা নিয়ে এক ডাইরেক্টর একটা ওয়েব সিরিজ বানাইছেন। এর পরেই বাঙালি বলে যে জাতিটা আছে, তারা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় ব্যাপক উৎসাহী হয়ে উঠেছে আরকি।''নায়িকা কয়টা' তিনি কানে কানে বললেন। 'বন্ড ব্যাটার মতো নায়ক আছে? আর ওইরকম সিনটিন আছে''ইয়ে মানে, জ্যেঠু, ঠিক তেমন নয়। ধরেন, নায়িকা স্নান করতেছে। ঘোলা কাচের ওপর দিয়া তারে দেখানো হইতেছে। বন্ডের মতন ঠিক''হুর হুর। এইটা নিয়া এত বুদ্ধি খরচ করার মানে কী! হুঁশ। হতাশাজনক ব্যাপার।''ব্যাপারটা ঠিক ওটাও না। ব্যাপারটা হইলো, একদল বাঙালি বলতেয়াছে, তাদের ওপর দাদাগিরি ফলানো হইছে। আর একদল বাঙালি বলতেয়াছে, ও গো এত পাত্তা দেওয়ার কী আছে। এইখানে হইলো সমিস্যা।''দুই দলই বেঙ্গলি!''ইয়েস মাই পূর্বপুরুষ। আবার সমিস্যা আরও আছে।''কী?'যে ডাইরেক্টর এইটা বানাইছেন, সেই ডাইরেক্টররে বিয়া করছেন ঢাকার এক অভিনেত্রী। সেই সূত্রে সেই ডাইরেক্টর আমগো আবার দুলাভাই। মানে জাতীয় ভগ্নিপতি। তো মাইয়ার দল কইতেয়াছে, তিনি আমগো দুলাভাই হইয়াও মেইন ক্যারেক্টারের ক্যারেক্টার নষ্ট করল ক্যান?''ক্যারেক্টারের ক্যারেক্টার নষ্ট!''হে হে হে।''তারপর আসলে হইলোটা কী? হাসপাতাল টাসপাতাল হয় নাই এখনো?''সম্ভবত দুই দলেরই কনস্টিপেশন। কোঁকাইতেছে। আবার কোক শাস্ত্রের প্রভাবও হইতে পারে। কওন যায় না।''তাগো দিক থাইকা কী কওয়া হইলো?''তারা কইতেয়াছে, এই উপন্যাসখানই তো ফালতু। তাও আমগো ডাইরেক্টর বানাইছে বইলা রইক্ষা।''এক কাম কর। তুইও একখান বানায়া ফ্যাল। পরীমণিরে এখন আর নিতে পারবি না মেইন ক্যারেক্টারে। অন্য কাউরে খুঁইজা ল। তারপর বানায়া ফালা, রবীন্দ্রনাথ এইখানে খাইতে আইছিল, খায়াইছেও।' | 5 |
লা লিগার ৩৬তম রাউন্ড শেষেও শিরোপা জয়ের ক্ষীণ আশা ছিল বার্সার। ৩৭তম রাউন্ডে ওই আশাটুকুও মুছে গেল। ঘরের মাঠে রোববার বার্সা ১-২ গোলে হেরেছে সেল্টা ভিগোর কাছে। এ পরাজয়ে শিরোপার রেস থেকে ছিটকে গেল মেসিরা। অন্যদিকে ওসাসুনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৭ বছর পর লা লিগা শিরোপা জয়ের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। আথলেটিক বিলবাওকে ১-০ গোলে হারিয়ে লড়াইয়ে টিকে আছে রিয়াল মাদ্রিদও।৩৭ ম্যাচে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে ৮১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। ৭৬ পয়েন্ট বার্সার, অবস্থান তৃতীয়। শেষ ম্যাচে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন অ্যাটলেটিকো। তবে অ্যাটলেটিকো হারলে, অন্যদিকে নিজেদের ম্যাচে জিততে পারলে শিরোপা জিতবে রিয়াল মাদ্রিদ। ন্যু ক্যাম্পে ২৮ মিনিটে লিড নেয় বার্সা। চমৎকার হেডে বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন লিওনেল মেসি। চলতি আসরে এটি তার ৩০তম গোল, অনেকটা এগিয়ে গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে তিনি। চার মিনিট পর দ্বিগুণ হতে পারতো ব্যবধান। কিন্তু পেনাল্টি স্পটের কাছে পেদ্রির পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বার্সেলোনা অধিনায়ক। ৩৮ মিনিটে সমতায় ফেরে সেল্টা। গোলটি করেন সান্তি মিনা। মিনাকে চ্যালেঞ্জ না জানিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন জেরার্ড পিকে। তার জন্য শট বা বল, কিছুই দেখতে পাননি মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া ছিল বার্সা। কিন্তু হলো উল্টোটা। ৮৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ক্লেমেন্ট ল্যাংলেট। ১০ জনের বার্সার উপর এরপর সুযোগ ভালোই নিয়েছে সেল্টা। ৮৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মিনা। ২-১ গোলের দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেল্টা। | 12 |
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল গ্রামের বৃদ্ধ ও ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি এখন দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত। অসম এ বিয়ের খবরে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। প্রথম অবস্থায় প্রশাসন নিরব থাকলেও বাল্য বিয়ের অভিযোগ এনে কিশোরীর মায়ের আবেদনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। গ্রেফতার করা হয়েছে ৬৫ বছর বয়সী সেই বরকে। প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নাম, সীল, কাবিন ব্যবহার করে বৃদ্ধ ও কিশোরী বিয়ে ও কাবিন সৃষ্টির অভিযোগে লাকসামের আজগরা ইউনিয়নের কাজী সারোয়ার মজুমদারকেও আটক করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাকে কুমিল্লা কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। ওই কাজীর বাড়ি ওই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে। গত ১০ মে রবিবার সামছুল হক কৌশলে ওই কিশোরী নাতনিকে নিয়ে উধাও হয়ে যান। এনিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ১১ মে সোমবার পেরুল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক ও ছাত্রীকে ইউপি কার্যালয়ে হাজির করে বিস্তারিত জানতে চান। ওই সময় সামছুল হক ছাত্রীর প্রাথমিক শিক্ষা সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ ও বিয়ের একটি কাবিননামা উপস্থাপন করেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সনদ ও জন্মনিবন্ধনে তার জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ০২/০২/২০০২ইং। কাবিননামায় দেখা যায়, গত ১০ মে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ড এর নিকাহ রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান সরকারের কার্যালয়ে ৫লাখ টাকা মোহরানায় বই নং ৫৪, পৃষ্ঠা নং ২৮ ও ক্রমিক নং ৪৪০-এ তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। এতে সামছুল হকের জন্মতারিখ ০৩/০১/১৯৫৫ইং উল্লেখ রয়েছে। ১৪ মে বিকালে ছাত্রীর মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে বৃদ্ধ নানা সামছুল হকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২/৩জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় লালমাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে লালমাই থানার এস আই মোশারফ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে উপজেলার পেরুল উত্তরের হরিশ্চর স্কুল সংলগ্ন হাবিব স্যারের ভাড়া বাসা থেকে সামছুল হককে আটক করেন। এ সময় পুলিশ তার হেফাজত থেকে ওই ছাত্রীকেও উদ্ধার করেন। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে কুমিল্লার আমলী আদালত নং ৯ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সামছুর রহমান এর আদালতে ছাত্রীর জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। একই আদালত বৃদ্ধ সামছুল হককে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এদিকে নিজের নাম ব্যবহার করার বিষয়টি জানতে পেরে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডের কাজী মুজিবুর রহমান উল্লেখিত কাবিননামা তার কার্যালয়ে রেজিস্ট্রি হয়নি মর্মে গত ১৪ মে কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার দুপুরে লালমাই থানা পুলিশ কোতয়ালী থানা পুলিশের সহায়তায় লাকসামের আজগরা ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার গোলাম সারোয়ারমজুমদারকে কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, বৃদ্ধ সামছুল হককে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত ভিকটিমের জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নাম, সীল, কাবিন ব্যবহার করে কাবিন সৃষ্টির অভিযোগে গোলাম সারোয়ার মজুমদার নামের একজনকে গ্রেফতার করেছি। তাকে নিয়ে অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
ডাকাতির প্রস্তুতিকালে নাটোরের লালপুর থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক করেছে র্যাব। রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ঈশ্বর পাড়া সিরাজিপুর চৌরাস্তার মোড় এলাকা থেকে আটক করা হয়। সিপিসি-২ (নাটোর), র্যাব-৫ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর সানরিয়া চৌধুরী জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার এবং কোম্পানী উপ-অধিনায়ক অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন এর নেতৃত্বে র্যাবের একটি অপারেশন দল রবিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে লালপুর উপজেলার ঈশ্বর পাড়া সিরাজিপুর চৌরাস্তার মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা পরস্পর যোগসাজসে জব্দকৃত ধারালো হাসুয়া, চাপাতি, চাকু, ক্ষুরসহ দস্যুতা/ছিনতাই সংঘটনের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়েরের পর হস্তান্তর করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। বুধবার দুপুরে চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলের কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোজাহেদুল ইসলাম। বুধবার জেলার চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলের শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করে বেশ কিছু শিক্ষক অনুপস্থিতসহ শিক্ষা কর্মকর্তাদের গাফিলতি চোখে পড়ে। এসব ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করাহবে বলে জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে বক্তারা এই দাবি জানান।বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, 'বুয়েটের ছাত্র আবরারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা দেখেছি ছাত্রলীগ তাঁকে ফিজিক্যালি টর্চার করেছে। কিন্তু কুয়েট শিক্ষক সেলিমের বেলায় কোনো সহিংসতা ঘটেনি। তবে ভাষার মাধ্যমেও 'ভায়োলেন্স' চর্চা করছে ছাত্রলীগ। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করছি।'কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি রঞ্চু আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। | 6 |
চলতি বছরের একেবারে শেষে এসে ঢাকাই ছবির চিত্রনায়িকা তমা মির্জাকে ডিভোর্স দিলেন তার স্বামী হিশাম চিশতি। গত ৭ সেপ্টেম্বর উকিলের মাধ্যমে তমাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। আইন অনুযায়ী ৩ মাসের মধ্যে সব সম্পর্কের জটিলতার নিষ্পত্তি ঘটে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে গেছে তাদের। ২০১৯ সালের ৭ মে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক হিশাম চিশতীকে বিয়ে করেন তমা মির্জা। দুবাইয়ে হানিমুনও করেছিলেন তারা। সেখান থেকে ফেরার পর তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। সেই গুঞ্জন এখন বাস্তব হলো। বিয়ে বিচ্ছেদের খবর আজ বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন হিশাম চিশতী। তিনি বলেন, 'আমি গত ৭ সেপ্টেম্বর উকিলের মাধ্যমে তমাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছি। আইন অনুযায়ী, ৩ মাসের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতার নিষ্পত্তি ঘটে গেছে।' চিত্রনায়িকা তমা মির্জা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমি ডিভোর্সের নোটিশ হাতে পেয়েছি। দুজনে মিলেই সিদ্ধান্ত নেব কী করা যায়।' ২০১০ সালে 'বলো না তুমি আমার' সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় তমা মির্জার। 'নদীজন' সিনেমায় পার্শ্ব-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন তিনি। এরপর থেকে নিয়মিতই কাজ করে যাচ্ছেন তমা। ২০২১ সালে 'খাঁচার ভেতর অচিন পাখি' ওয়েব ফিল্ম দিয়ে আলোচিত হন তমা মির্জা। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 2 |
উপমহাদেশের কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী ও সুরকার বাপ্পি লাহিড়ি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। সঙ্গীত জগতের এই কিংবদন্তীর শেষযাত্রায় পা মিলিয়েছেন বন্ধু-অনুরাগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফুলের চাদরে সাজানো শিল্পীর মরদেহ নিয়ে ভিলে পার্লের পবনহংস শ্মশানের উদ্দেশে রওনা হয় শববাহী গাড়ি। ফুল, মালা, বাপ্পি লাহিড়ির ছবি দিয়ে সাজানো একটি ট্রাকে মহাশ্মশানের উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু এমন দিনেও তার পাশে দেখা যায়নি ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিঠুন চক্রবর্তীকে। বাপ্পি লাহিড়িকে শেষ বিদায় জানাতে যাননি বলিউডের 'ডিস্কো কিং'। বাপ্পি লাহিড়ি আর মিঠুনের বন্ধুত্ব ছিল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এ কথা সবারই জানা। এ দু'জন জুটি গড়ে আশির দশকের ব্লকবাস্টার অনেক ছবি উপহার দিয়েছেন। মিঠুনকে বলিউডের 'ডিস্কো কিং' বানিয়েছেন বাপ্পি লাহিড়িই। সেই মিঠুন কেন বন্ধুর শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়ে সমালোচনা শুরুর আগেই কারণ জানিয়েছেন মিঠুন নিজেই। তিনি জানান, প্রিয় 'বাপিদা'র নিথর দেহ দেখার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। বাপ্পি লাহিড়িকে হাসিমুখ ছাড়া আর কোনও রূপে কল্পনাই করতে পারেন না তিনি। তাই শেষকৃত্যের দিনে হাজির হননি। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন বলেন, "বাপ্পিদা আমার দীর্ঘদিনের সহযোগী। তিনি যেদিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমি বেঙ্গালুরুতে ছিলাম। এ খবরে আমি অনেক শোকাহত হয়েছিলাম। আমি তাকে ওভাবে দেখতে চাইনি। আমি বাপ্পি দাকে যেভাবে চিনি, তাকে মনে রাখতে চাই। আমি তাকে এভাবে দেখতে চাই না। বাপ্পি দা চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবেন। এটাই আমার চিন্তা। মহামারীর সময় যখন আমার বাবা মারা যান, আমি আসতে পারিনি। আমি তাকে এভাবে দেখতে চাইনি। আমরা কেমন ছিলাম, সে জন্য আমি তাকে স্মরণ করতে চেয়েছিলাম। একইভাবে আমি বাপ্পিদাকে স্মরণ করতে চাই আমরা কীভাবে বসতাম। একসঙ্গে গান বানাই, গান শুনি। আমি শুধু তার সঙ্গে ভাল দিনগুলো মনে রাখতে চাই।" প্রসঙ্গত, বলিউডে অন্য ধারার নাচ নিয়ে এসেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তার সে নাচের ধরণ ভালো বুঝতে পারতেন বাপ্পি লাহিড়ি। সিনেমায় মিঠুনের জন্য সেভাবেই গান বানাতেন, কম্পোজ করতেন। আর সিনেপ্রেমীরা মিঠুনের সেসব নাচ গোগ্রাসে গিলত। বাপ্পি-মিঠুন জুটি 'ডিস্কো ড্যান্সার, 'কসম প্যাদা করনে ওয়ালে কি' এবং 'ডান্স ড্যান্স সিনেমা' উপহার দেয়। যেসব ছবির 'আই অ্যাম এ ডিস্কো ড্যান্সার', 'জিমি জিমি জিমি আজা', 'ইয়াদ আ রাহা হ্যায়', 'কাম ক্লোজার' এর মতো গানগুলো আজও সিনেপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া তোলে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.