text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে আগামী বছর মার্চে দক্ষিণ আফ্রকা সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) আজ রাতে তাদের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।বিশ্বকাপ সুপার লিগের আওতাধীন ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৮ মার্চ। রঙিন পোশাকের শেষ দুই ম্যাচ ২০ ও ২৩ মার্চ।আর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত সিরিজটি মাঠে গড়াবে ৩০ মার্চ। সফরের শেষ টেস্ট শুরু ৭ এপ্রিল।তবে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করলেও ভেন্যুর নাম জানায়নি প্রোটিয়া বোর্ড।দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে ও টেস্টে কোনো সুখস্মৃতি নেই বাংলাদেশের। জ্যাক ক্যালিস, গ্রায়েম স্মিথ, এবি ডি ভিলিয়ার্সদের দেশে কখনোই দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পাননি মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা।এ নিয়ে ষষ্ঠবার দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আগের পাঁচটি সফরের তিনটি ছিল ২০০২,২০০৮ ও ২০১৭ সালে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। আর ২০০৩ সালে ওয়ানডে ও ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নেলসন ম্যান্ডেলার দেশে পা রেখেছিল বাংলাদেশ দল।বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সূচিম্যাচ তারিখপ্রথম ওয়ানডে ১৮ মার্চ ২০২২দ্বিতীয় ওয়ানডে ২০ মার্চ ২০২২তৃতীয় ওয়ানডে ২৩ মার্চ ২০২২প্রথম টেস্ট ৩০ মার্চ-১ এপ্রিল ২০২২দ্বিতীয় টেস্ট ৭-১১ এপ্রিল ২০২২ | 12 |
মালয়েশিয়ার সদ্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউনাইটেড ইন্ডিজেনাস পার্টির প্রধান মুহিদ্দীন ইয়াসিনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির রাজা। এর মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘ নাটকীয়তার অবসান ঘটল। আগামীকাল রবিবার (১ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় মুহিদ্দীন ইয়াসিন মালয়েশিয়ার অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। আজ শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) উভয় পক্ষের সম্মতিতে মালয়েশিয়ার রাজা (সর্বোচ্চ নেতা) ইয়াং-ডি-পারতুয়ান আগং আল সুলতান আবদুল্লাহ রিয়াতউদ্দীন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহ এ ঘোষণাদেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে ডা. মাহাথির মোহাম্মদ। পদত্যাগ ঘোষণা দেয়ার পর সেদিন বিকেলে মাহাথির মালয়েশিয়ার রাজার সাথে সাক্ষাৎ করেন। মালয়েশিয়ার রাজা (সর্বোচ্চ নেতা) ইয়াং-ডি-পারতুয়ান আগং মাহাথিরের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও তাকে অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ডা. মাহাথির মোহাম্মদ জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশন ভাষণে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে আপাতত আলাদা রাখতে হবে। যদি অনুমতি দেয়া হয় তবে আমি একটি নির্দলীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব যা কোনও পক্ষকেই সমর্থন করে না। শুধু জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়া হবে, এটাই আমি করার চেষ্টা করব।
বিডি প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ | 3 |
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তালেবানদের সাথে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ ঘানি। সোমবার তিনি আগামী তিন মাসের জন্য এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সোমবার থেকে এটি কার্যকর হবে। রোববার আফগানিস্তানের ৯৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন আফগান প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ আগামী তিন মাসের জন্য বহাল থাকবে, যদি তালেবানরা এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। মোহাম্মদ আশরাফ ঘানি বলেন, আফগান সমাজ ও বিশ্বজুড়ে ইসলামি পন্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তানে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।২১ নভেম্বর নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর জন্মদিন। এই দিনকে বিশেষ সম্মানের সাথে পালন করা হয়। এর আগে ঈদ উপলক্ষ্যে অস্ত্রবিরতির ডাক দেয় তালেবানরা। এ নিয়ে বহু জল্পনা-কল্পনার পর দৃশ্যত রবিবার সেই ডাকে সাড়া দিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট। এর আগে গত ঈদুল ফিতরেও অস্ত্রবিরতিতে আসে আফগান সরকার ও তালেবান। ওই সময় তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদের ছুটির দিনগুলোতে তারা কার্যক্রম বন্ধ রাখবে। তখন অস্ত্রবিরতি চলাকালে সেনাবাহিনী ও তালেবান যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ ঈদ উদযাপনের বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি প্রকাশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি দুই বাহিনীর সদস্যদের কোলাকুলিরও খবর দেয়। | 3 |
সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। গতকাল বুধবার ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিক্যাব) আয়োজনে 'ডিক্যাব টকে' অংশ নিয়ে এ আশা প্রকাশ করেন তিনি।ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, 'বাংলাদেশে কেমন নির্বাচন হবে, তা কোনো বিদেশি বলে দেবে না। তবে বন্ধু হিসেবে আমরা আশা করি, সবার অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে এ দেশের সংবিধানে বলা আছে।'রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিকসন বলেন, 'রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে আছে। মিয়ানমারকে তাদের জনগণকে ফিরিয়ে নিতে হবে।' সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারে সরকার পরিবর্তনের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে তাঁর পরামর্শ হলো, মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যুক্তরাজ্য আশাবাদী। এ সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান হাইকমিশনার ডিকসন। তবে রোহিঙ্গা শিবিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।যুক্তরাজ্যে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক অপরাধী যুক্তরাজ্যে পলাতক অবস্থায়ও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিকসন বলেন, 'যুক্তরাজ্যে বসে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, বিদ্বেষ ছড়ায়-এমন বক্তব্য দিলে তা আমাদের আইনে তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। যেকোনো অপরাধীকে ফেরত পেতে হলে ব্রিটিশ কোর্টে মামলা করতে হবে।' আদালতের নির্দেশেই কেবল তা সম্ভব বলে জানান তিনি।আসন্ন জলবায়ু বিষয়ক কপ সম্মেলন প্রসঙ্গে ডিকসন বলেন, 'এই সম্মেলনে বিশ্বনেতারা জলবায়ু পরিবর্তন এড়াতে যে চারটি লক্ষ্য রয়েছে তা অর্জনে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন, আমি এটাই আশা করি।' আর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। | 6 |
অকারণেই বারবার প্রস্রাব পেলে কিংবা একটু পেটে চাপ পড়লেই যদি প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তবে তা একটি রোগ। লজ্জায় সমস্যা লুকিয়ে রাখবেন না। মূত্রথলির এই অসুখে সাবধান থাকার পরামর্শ ইউরোলজিস্টদের। কিছুতেই প্রস্রাবের বেগ চাপতে পারেন না। অপ্রত্যাশিতভাবে বারবার এমন হতে থাকে। যার ঠেলায় কোথাও যেতে পারেন না। প্রথমে তেমন গা করেননি। ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়তে শুরু করল। তখন চিকিৎসকের কাছে গেলে ধরা পড়ে, ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার। খবর সংবাদ প্রতিদিনের। কী এই সমস্যা? এই অসুখে দেখা যায়, ব্লাডার বা মূত্রথলির পেশি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে যায়, প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে থাকে। ফলে একজনের বারবার প্রস্রাব পেতে থাকে। যেমন হয়েছিল তপতী দেবীর। অনেকের আবার মূত্রথলি থেকে মূত্র লিকও হতে পারে। কেন হয়? মূত্রথলির এই সমস্যার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কেন এমন হচ্ছে সেটা চিহ্নিত করা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। অনেক রকম সমস্যা এর জন্য দায়ী হতে পারে। ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন- মূত্রথলিতে বা কিডনিতে ইনফেকশন হলে তা থেকে এমন সমস্যা হতে পারে। আউটফ্লো অবস্ট্রাকশন- বিশেষত পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন হয়। প্রস্টেটের সমস্যা থেকে ব্লাডারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিউরো বা স্নায়ুজনিত সমস্যা- যাদের পারকিনসনস ডিজিজ, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের সমস্যা রয়েছে অথবা যাদের একবার স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডারের সমস্যা দেখা দেয়। দায়ী কিছু ওষুধ- উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (ল্যাসিক্স, ডাইয়ুরেটিক্স) টানা খেলে তা থেকে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া মদ্যপান কিংবা কফি বেশি পান করলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কাদের ভয় বেশি? মহিলা কিংবা পুরুষ সকলের ক্ষেত্রেই এমন হতে পারে। বিশেষ করে, যে সকল মহিলার মেনোপজ হয়ে গিয়েছে তাদের রিস্ক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। আর পুরুষদের, যাদের প্রস্টেটের অসুখ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে মূত্রথলির এমন সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। লক্ষণ থাকলে ইউরিন কালচার, ব্লাডার ক্ল্যান, সিস্টোস্কোপি, ইউরো ডায়নামিক টেস্টিং করে ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার রোগ নির্ণয় করা হয়। শুরুতেই সাবধান হোন ১. মূত্রথলির এমন সমস্যা হলে শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে যান। ২. যতটা সম্ভব কফি কিংবা ক্যাফিন জাতীয় পানীয় বর্জন করুন। ৩. কার্বোনেটেড ড্রিংক, মিষ্টি জাতীয় পানীয়, মশলাদার খাবার, অ্যাসিডিক ফুড ডায়েট থেকে বাদ দিন। ৪. ওজন বেশি থাকলে তা কমাতে হবে। ৫. পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ করুন। ৬. এতে পেলভিক বা মূত্রনালির পেশির জোর বৃদ্ধি পায়। ৭. সারাদিনে সময় ধরে বাথরুমে যাওয়ার অভ্যাস করুন। ৮. যাদের বারবার প্রস্রাব হয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, তারা একটা ডায়েরি মেনটেইন করুন। তাহলে চিকিৎসা করতে, সমস্যা চিহ্নিত করতে অনেক সুবিধা হবে। ৯. এইগুলি মেনে চলার পাশাপাশি সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবেই। বিশেষ কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলির দ্বারা এই অসুখ কিডনি কিংবা তোলা সম্ভব। | 4 |
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো এগিয়ে নিতে এ সপ্তাহে একটি যৌথ সংযোগ কার্যালয় খুলতে যাচ্ছে। বুধবার সিউল একথা জানিয়েছে। সিউলের পুর্নএকত্রীকরণ মন্ত্রণালয় জানায়, অফিসটি দু'দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ কেন্দ্রে পরিণত হবে। পাশিপাশি এর মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত হবে। জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকে তারা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে এরপর উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে খুব একটা বেশি কিছু করছে না এই অভিযোগ করে ট্রাম্প গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও'র পিয়ংইয়ং সফর বাতিল করেন। গত মাসেই এই অফিসটি খোলার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু কূটনৈতিক অচলাবস্থায় এটি বিলম্বিত হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে কিমের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার কুটনৈতিকের সাথে বৈঠকের পর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। ট্রাম্পকে কিম তাদের দুই নেতার মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনের ব্যাপারে চিঠি লিখলে ট্রাম্প তা সাদরে গ্রহণ করেন। সিউল জানিয়েছে, শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই এই অফিসে কাজ শুরু হবে। অনুষ্ঠানে পুর্নএকত্রীকরণমন্ত্রী চো মিউং জিয়োন ও উত্তর কোরীয় মন্ত্রী রি সন গোউন অংশ নেবেন। এই সংযোগ কার্যালয়ে উভয়দেশের ২০ জন করে কর্মকর্তা থাকবেন। | 3 |
ব্রিটেনে রাজকীয় পদক প্রদানে ফিক্সিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এমন কেলেঙ্কারির খবর ফাঁস করেছে ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস ও মেইল। এ নিয়ে বিতর্কের জেরে ব্রিটিশ রাজপুত্র চার্লসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী মাইকেল ফাউসেট পদত্যাগ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের অনুদানের বিনিময়ে মাহফুজ মারেই মুবারক বিন মাহফুজ নামের এক সৌদি ধনকুবেরকে ব্রিটেনের রাজকীয় পদক সিবিই পেতে সহযোগিতা করেছেন মাইকেল ফাউসেট। মাহফুজ মারেই মুবারক বিন মাহফুজ ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে চার্লসের হাত থেকে সিবিই পদক গ্রহণ করেন। ব্রিটেনে রাজকীয় অনুষ্ঠানের একটা আনুষ্ঠানিক তালিকা থেকে। সেখানে মাহফুজের পুরস্কারের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। এ পুরস্কার পেতে দেড় মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি অর্থ খরচ করেছিলেন। পদকে কেলেঙ্কারির বিষয়টি নিয়ে চার্লস ফাউন্ডেশন তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। সূত্র : বিবিসি বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
সম্প্রতি আমাদের দেশে করোনাভাইরাস এর তান্ডব বেড়েই চলেছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের আতঙ্কে ভুগছে দেশের মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি যে সুনাম অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এ সুনাম দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন ছড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। 'করোনাযোদ্ধা' হিসেবে মো. জাহিদ আহসান রাসেলের প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা (ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন)। এমনকি 'করোনাযোদ্ধা' স্বীকৃতি দিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে একটি সনদও দিয়েছেন মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করা এ সংগঠনটি। এছাড়াও আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব পিস কর্তৃক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ২০২০-২১ এর জন্য ফেলো মনোনীত হয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। করোনা ভাইরাসের কারণে স্তব্ধ হয়ে আছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশের অবস্থাও একই। তবে করোনাভাইরাসে সবকিছু থেমে গেলেও থামেননি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি ছুটে চলেছেন। কর্মহীন হয়ে পড়া গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কখনও সরকারি ত্রাণ, কখনও ব্যক্তিগত সাহায্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। এমন কি মানুষের ঘরে ঘরেও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন সরকারের এই প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশমতে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ক্রীড়াবিদের জন্য ১ কোটি টাকা প্রদান করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ের অসহায় ক্রীড়াবিদদের সাহায্যের জন্য আরো ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছেন অর্থমন্ত্রণালয় থেকে। নিজে ঝুঁকির মধ্যে থেকেও করোনার এ আপদকালীন পরিস্থিতিতে দিন-রাত অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার গানম্যান করোনা পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তারপরও দমে যাননি জাহিদ আহসান রাসেল। | 12 |
বাবর আজমের চেয়েও বিখ্যাত ক্রিকেটাররা পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিতেছেন শিরোপা। কিন্তু কোনো শিরোপা না জিতেও বাবর আজম নিজের নাম তুললেন পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে। তিনিই প্রথম অধিনায়ক, যার নেতৃত্বে বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়েছে পাকিস্তান।দুবাইয়ে গতকাল বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ১০ উইকেটে হারানোর দিনে পাকিস্তানকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাবর। বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলে ভারতকে আটকে রাখলেন ১৫১ রানে। রান তাড়ায় মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে জেতালেন ম্যাচ। নিজে করলেন অপরাজিত ৬৮ রান। আর গ্যালারিতে বসে ছেলের এই কীর্তি দেখলেন বাবা আজম সিদ্দিকী।ম্যাচ শেষে আজম সিদ্দিকীকে ঘিরে উল্লাস করেছেন পাকিস্তানি সমর্থকেরা। মাজহার আরশাদ নামের এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের ভিডিওতে ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা গেছে ম্যাচে ছেলের পারফরম্যান্স দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি গর্বিত পিতা।মাজহার আরশাদ তার টুইটারে সেই ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, 'ইনি বাবর আজমের বাবা। ছেলেকে নিয়ে দারুণ খুশি। ২০১২ সালে তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। বাবর আজমের তখনো অভিষেক হয়নি। তিনি আমায় বলেছিলেন একবার শুধু অভিষেক হতে দাও। দেখবে এর পর থেকে পুরো মাঠ বাবরের।'শুধু মাঠেই নয়, ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুমেও বাবর ছিলেন যোগ্য অধিনায়ক। এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ড্রেসিং রুমে সতীর্থদের উদ্দেশে বাবর বলছেন, 'দেখুন, ভারতের বিপক্ষে জিতেছি বলে আমাদের পরের ম্যাচগুলোতে আরাম করা চলবে না। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-সব বিভাগেই আমাদের শতভাগটাই দিতে হবে। আমরা একটা দল হয়ে জিতেছি। আমাদের পরিবারের সঙ্গে আমরা আনন্দ করতেই পারি। তাই বলে বেশি উত্তেজিত হওয়া চলবে না। সবাইকে অনুরোধ করছি পরের ম্যাচে আমরা যেন মনোযোগ না হারাই।' | 12 |
মিষ্টি কুমড়া চাষ করে সুদিনের স্বপ্ন দেখছেন বগুড়ার আজিজার রহমান। বিঘা প্রতি এক হাজার টাকা লগ্নি করে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন ২০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে তিনি আয় করেছেন প্রায় ১৬ হাজার টাকা। আজিজারের মত আরো সহস্র মিষ্টি কুমড়া চাষি এখন সুদিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এবার বাম্পার ফলনে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় মিষ্টি কুমড়ার চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের কদিম পাড়ার কৃষক আজিজার রহমান জানান, তার একবিঘা জমিতে প্রায় ১০০ মন মিষ্টি কুমড়ার ফলন পেয়েছে। পাইকাররা তার নিকট থেকে একশ' কুমড়া ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা দরে ক্রয় করেন। তার ১ বিঘা জমিতে ১০০০ মিষ্টি কুমড়ার ফলন হয়ে থাকে। প্রতিটি কুমড়া ৪ কেজি হলে ৪ হাজার কেজি মিষ্টি কুমড়ার ফলন হচ্ছে। সেই অনুপাতে প্রতি বিঘায় ১০০ মন মিষ্টি কুমড়ার ফলন পায় আজিজার। তিনি আরও জানান, তার নিজস্ব ১ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে লাভের টাকা দিয়ে সে এখন আরও ৪ বিঘা পত্তন নিয়েছে। সেই জমিতে ধান, আলু, কুমড়া, শশা চাষ করেন। আজিজারের মিষ্টি কুমড়া চাষ দেখে ওই এলাকার মানুষ মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছেন। মিষ্টি কুমড়া চাষ করে গ্রামের কৃষকদের হাটে হাটে নিয়ে ঘুরতে হয় না। শহরে ব্যবসায়ীরা গ্রামে গিয়ে মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহ করে বাজারজাত করছে। তার মিষ্টি কুমড়ার ভাল ফলন দেখে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চাষবাস শুরু করেছে। আজিজার জানান, তিনি বেশি সময় দিতে পারেন না। তার স্ত্রী ও কন্যা এই মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত দেখভাল করেন। বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, রবি ও খরিপ মৌসুমে বগুড়ায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়ে থাকে। এ থেকে ১ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হয়। মিষ্টি কুমড়া চাষ এখন লাভজনক সবজি। অন্য ফসলে যত বেশি শ্রম দিতে হয় এখানে তেমন সেচ, বীজ ও কীটনাশক দিতে হয় না। যৎসামান্য খরচেই এই কুমড়া চাষ করা যায় বলে চাষিরা লাভবান হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি খরচ পড়ে প্রায় ১ হাজার টাকা। তিনি জানান, অনেক কৃষকই আলুর সাথে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে থাকে। একই জমি থেকে আলু উত্তোলন করার পর মিষ্টি কুমড়া উত্তোলন করে থাকে। বগুড়ার পুষ্টি কর্মকর্তা সিনহা আজাদ জানান, ১ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ায় ৩৩৯ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়া এতে ভিটামিন এ ও বি পাওযা যায়। মিষ্টি কুমড়ায় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং চোখের জ্যোতি বাড়ায়। এ ছাড়া আঙ্গুলের নখ সুন্দর রাখে। বগুড়ার মহাস্থান হাটের মিষ্টি কুমড়ার পাইকারি ব্যবসায়ি ইমাম হোসেন জানান, ঢাকা, সিলেট ও চট্রগ্রামে মিষ্টি কুমড়ার চাহিদা আছে। বগুড়ার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়ার আলাদা স্বাদ থাকায় চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। বগুড়ার চাষিদের কাছ থেকে মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহ করে ট্রাকে লোড দিয়ে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে মিষ্টি কুমড়া নিয়ে থাকে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় দুই মাস নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এতে বেকার ভোলার লালমোহন উপজেলার জেলেরা ঋণের টাকা শোধ করতে পড়েছেন বিপাকে। বাধ্য হয়ে লুকিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ে গুনছেন জরিমানা। ভোগ করছেন কারাদণ্ড। এদিকে নিষেধাজ্ঞা ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও পুনর্বাসনের চাল পাননি জেলেরা। ফলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি নিষেধাজ্ঞার সময় বন্ধ রাখতে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জেলেদের। তবে উপজেলা মৎস্য অফিসের দাবি, জেলেরা লিখিত দিলে ব্যবস্থা নেবে। আর জেলেদের পুনর্বাসনের চাল ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে গেছে। দ্রুতই তাঁরা চাল পাবেন।উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে মাছ ধরায় এ পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে দুজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনজন 'অপ্রাপ্তবয়স্ক' হওয়ায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।উপজেলার গজারিয়া খাল গোড়া মৎস্যঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অলস সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা। কেউ জাল বুনছেন আবার কেউবা নৌকা-ট্রলার মেরামত করছেন।জেলে আবদুল মোকশেদ বলেন, 'মাছ ধরা বন্ধ। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কীভাবে সংসার চালাব, সে চিন্তায় দিশেহারা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কিস্তির টাকাও দিতে পারছি না। দুই মাসের জন্য কিস্তি আদায় বন্ধ হলে আমাদের জন্য ভালো হতো।'মো. ইয়াছিন বলেন, 'আমরা নদীর কাজ জানি, অন্য কাজ জানি না। তাই কেউ অন্য কাজেও নিতে চান না। খেতখামারেও কাজ পাচ্ছি না। একদিকে আয়-রোজগার বন্ধ, অন্যদিকে ঋণের দেনায় জর্জরিত। সব মিলিয়ে চরম বিপাকে। পুনর্বাসনের চালও পাচ্ছি না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে পেটের দায়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। ধরা পড়লে কারাভোগ করছেন, জরিমানা গুনছেন।'গজারিয়া খাল গোড়া মৎস্যঘাটের জেলে মো. মনির জানান, মাছ ধরে যে আয় হতো, তা দিয়ে সংসার চলত। মাছ ধরা বন্ধের সময় চাল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো সেই চাল পাইনি। কবে পাব তা-ও জানি না।'গজারিয়া খাল গোড়া মৎস্যঘাটের আড়তদার খোকন মাতব্বর জানান, এ ঘাটে এক হাজারের বেশি জেলে রয়েছে। সবাই দেনায় জর্জরিত। তাঁদের মতো আড়তদারদেরও ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ বলেন, 'উপজেলার নিবন্ধিত ২৩ হাজার জেলের মধ্যে ১১ হাজারের জন্য ৮০ কেজি করে চাল এসেছে। চাল ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত তা বিতরণের জন্য বলা হয়েছে।'এদিকে লালমোহনে ৫০ হাজারের বেশি জেলে থাকলেও নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন ২৩ হাজার। বাকি ১২ হাজার জেলে চাল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। | 6 |
বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। গ্রামীণ মেলা, লোকজ উৎসব, হালখাতা আর রমনার বটমূলের উৎসব এখন আপামর বাঙালির হৃদয়ের উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালির সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্যের ধারক-বাহক এই নববর্ষ। বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি একদিনে তৈরি হয়নি। হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য মিলেমিশে তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় আবরণের বাইরে গিয়ে রূপ পেয়েছে সর্বজনীন। বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ এক অর্থে বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মের নামে যা চলছে, তা আমাদের ব্যথিত করছে, ক্ষুব্ধ করছে। বিজ্ঞান প্রমাণনির্ভর আর ধর্ম বিশ্বাসনির্ভর, এই কথা বলার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে ধর্মানুভ,তিতে আঘাতের নামে জেলে যেতে হয়েছে কিংবা ড. লতা সমাদ্দারকে টিপ পরার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে যা আমাদের জন্য উদ্বেগের। শিক্ষক আমোদিনী পালের ঘটনাটিও আমাদের বিস্মিত করেছে। এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিমুখতা, ইতিহাস চর্চার অভাব, বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবের কারণে এসব হয়রানি বাড়ছে। যা আমাদের ভাবিত করে তুলেছে। বাঙালিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। অপশক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। অতীতে যেভাবে বড় বড় ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সুস্থ সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে, বর্তমানেও সেভাবে প্রতিহত করতে হবে। মানুষকে প্রতিবাদী হতে হবে। ঘটনার পেছনে লুকায়িত মুখোশগুলো খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। বাঙালিকে রুখে দাঁড়াতে হবে ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে, অপশক্তির বিরুদ্ধে, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে বাঙালি সংস্কৃতিই আমাদের পথ দেখাবে। রামেন্দু মজুমদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব | 6 |
নাটোরের তেবাড়িয়া হাটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। রবিবার বিকেলে শহরতলীর তেবাড়িয়া হাটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন-আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল প্রামাণিক (৬৫), তার স্ত্রী সফুরা বেগম (৫০), পুত্রবধূ পুরনি বেগম (২২), কেয়া বেগম (২১), ছেলে সুজন প্রামাণিক (২৮) ও বাসার কেয়ারটেকার আনোয়ার (৫০)। আহতদের চিকিৎসার জন্য নাটোর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকেলে বেশ কয়েকজন লোক বাসায় প্রবেশ করে হামলা এবং ভাঙচুর করে। আমাদের না পেয়ে আমার অসুস্থ বাবা-মাসহ বাসার নারীদের মারধর করা হয়। আমার বাসায় তারা লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা র্স্বণালংকার নিয়ে চলে যায়। নাজমুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রবিবার বিকেলে প্রতিপক্ষ বাবুল মেম্বরের ছেলে সুজন তাকে মারধর করে। এতে আমাদের সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় বাড়িঘরে হামলা বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। নাটোর থানার ওসি জাঙ্গাঙ্গীর আলম জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কিছু বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তেবাড়িয়া এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে সোহেল, মিজানুর রহমানের ছেলে নোহান, মৃত নাজমুল সরকারের ছেলে নয়ন ও হুগোলবাড়িয়া এলাকার বাবুল প্রামাণিকের ছেলে রতনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান নাটোর থানার এই ওসি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলীতে গণধর্ষণের শিকার সেই নারীর (৪০) খোঁজ-খবর নিতে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের (বোয়াফ) একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সকালে ভোটকেন্দ্রে তর্কাতর্কি করায় রাতে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে ওই নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বোয়াফের সভাপতি সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের নেতৃত্বে তদন্ত টিমের সদস্যরা চরজুবলী গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসাপাতালে গিয়ে নির্যাতিতা ওই নারীর মুখে ঘটনার বিস্তারিত শুনেন তদন্ত টিমের সদস্যরা। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার পরিচালনা কমিটির সদস্য ইয়াদিয়া জামান। বোয়াফের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় জানান, তারা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করতে এসেছেন। এ ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি বিস্তারিত জেনে ঢাকায় একটি প্রেস কনফারেন্স আমাদের সুপারিশ সরকারকে অবহিত করব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জাতীয় মহিলা সংস্থার পরিচালনা কমিটির সদস্য ইরাদিয়া জামান জানান, তারা ভিকটিম নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তার দেয়া তথ্য মতে ঘটনার সময় থাকা অনেক আসামি এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। তারা বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে কিভাবে নির্যাতিতা নারীসহ তার পরিবারকে আইনগত সহযোগিতা দেয়া যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন। তিনি আশা করেন অপরাধীদের কঠিন শাস্তি হবে। | 6 |
করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সংক্রমণ ঠেকানোর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এর আগে পরপর তিনটি অধিবেশনে সংসদে প্রবেশ করতে পারেননি সাংবাদিকরা। নতুন করে এ আদেশ পরিবর্তন করা হয়েছে। 'বিশেষ অধিবেশনে' সংবাদ সংগ্রহে সংসদ ভবনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন সাংবাদিকরা। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে হবে। ফলাফল নেগেটিভ আসলেই মিলবে সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের অনুমতি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার পরিচালক তারেক মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৬ তারিখ সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। যাদের ফলাফল পজিটিভ আসবে তারা বিশেষ অধিবেশনের খবর সংগ্রহ করতে সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন। সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে এই টেস্ট করানো হবে। তিনি জানান, প্রতি গণমাধ্যম থেকে একজন করে সাংবাদিককে কোভিড-১৯ টেস্ট করার জন্য ৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত থাকতে হবে। ৮ নভেম্বর কোভিড-১৯ পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া হবে। একদিনেই নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া সাংবাদিকদের ৯ নভেম্বরের অধিবেশন কাভার করার সংসদ পাস দেয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। আগামী ৮ নভেম্বর এ অধিবেশন শুরু হবে। তবে ৯ নভেম্বর এতে স্মারক বক্তৃতা দেবেন রাষ্ট্রপতি। ওইদিন সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। | 6 |
টাঙ্গাইলের মধুপুরে পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মধুরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রুপালি ফিলিং স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহত পুরুষের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় এবং শিশু ও নারীর বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক কামাল বলেন, মধুপুরগামী পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে জামালপুরগামী সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও তার মাসহ তিনজন নিহত হন। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের পরিচয় শনাক্তে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি তারিক কামাল। | 6 |
আফগানিস্তানের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিগগির খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা এমনটি জানিয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।আফগান সংবাদমাধ্যম টিওএলও নিউজ জানিয়েছে, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়ে এ তথ্য দিয়েছেন তালেবান সরকারের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী আবদুল বাকি হাক্কানি। গত আগস্ট মাসে তালেবান আফগানিস্তানের দখলে নেওয়ার পর তাঁকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।আব্দুল বাকি হাক্কানি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্নের কাজ চলছে এবং ইসলামিক আমিরাতের সব বিশ্ববিদ্যালয় শিগগির খুলে দেওয়া হবে। এরপর শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।টিওএলও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আগস্ট মাসে তালেবানের ক্ষমতাগ্রহণের পর আফগানিস্তানের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। তবে এর কিছুদিন পরই দেশটির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু হয়। তালেবান সরকারের সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইউনিয়নের একটি চুক্তির পর সেগুলো কার্যক্রম শুরু করেছিল।তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রায় দুই মাস পার হতে চললেও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়াসহ শিক্ষা কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শুরু করতে পারেনি তালেবান। এটি নিয়ে দেশের মধ্যে সমালোচনাও হচ্ছে।কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র অমিদ মৌলভি জাদা বলছেন, আমরা দেখছি যে তালেবান বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো পরিকল্পনাই চূড়ান্ত হয়নি।'এদিকে আজ শুক্রবার নারীদের জন্য স্কুল ও কলেজ বন্ধ করার প্রতিবাদে কাবুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন নারীরা। কাবুলের শিক্ষকেরা বলছেন, স্কুল ওো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করায় আফগানিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ক্ষতি হতে পারে। | 3 |
অবকাশকালীন সময়ে ১১টি বেঞ্চে সুপ্রিম কোর্টে ডেথ রেফারেন্সে ও জেল আপিলের শুনানির জন্য মোট ৫২টি মামলা তালিকায় রাখা হয়েছে। আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আগামী ২০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আদালত অবকাশকালীন ছুটিতে থাকবে। গত বুধবার মৃত্যুদণ্ড কনফারমেশন ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য মামলাগুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১১টি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। পরে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে তখন ওই সার্কুলার জারি করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. বজলুর রহমান। মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য গঠিত প্রতিটি বেঞ্চে দুজন করে বিচারপতিকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মাদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি সরদার মোহাম্মাদ রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে একটি বেঞ্চে পাঁচটি মামলা, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি কে এম জাহিদ হাসান সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে পাঁচটি মামলা, বিচারপতি রেজাউল হাসান ও বিচারপতি কাজী এবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে চারটি মামলা, বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চে পাঁচটি মামলা এবং বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ চারটি মামলার বিচার কাজ চলবে। অন্য হাইকোর্ট বেঞ্চগুলোর মধ্যে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে একটি বেঞ্চে পাঁচটি, বিচারপতি মোহাম্মাদ উল্লাহ ও বিচারপতি মো. আতোয়ার হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে চারটি, বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে বেঞ্চে পাঁচটি, বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বিত বেঞ্চে পাঁচটি, বিচারপতি মো. মোস্তাফিফুর রহমান ও বিচারপতি মুহাম্মাদ মাহবুব-উল ইসলামের বেঞ্চে পাঁচটি এবং বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি মোহাম্মাদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে পাঁচটি মামলাসহ মোট ১১টি হাইকোর্ট বেঞ্চে ৫২ টি মামলার রুল ও আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি কাজ পরিচালনা করা হবে। | 6 |
রাত ২টার সময় রান্নাঘরে থালা বাসনের আওয়াজ পেয়ে ছুটে গিয়ে যে দৃশ্য দেখলেন তা দেখে ভিরমি খাওয়ার অবস্থা এক নারীর। করণীয় না বুঝতে পেরে নিজের মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও করে রাখেন। সেই ভিডিওটি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই জনপ্রিয় হয়েছে মুহূর্তে। ভিডিওতে দেখা গেছে, রান্নাঘরের দেয়াল ভেঙে ঢুকেছে একটি হাতি। শুড় দিয়ে চলছে খাবারের সন্ধান। এরপর ড্রয়ার খুলে নিজেই বের করে মুখে ঢুকিয়ে দিল চালের প্যাকেট। এই ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডে। থাইল্যান্ডের বুনচুয় গ্রামের কাছাকাছি এক জাতীয় উদ্যানে হাতিটিকে দেখা যায়। মাঝে মাঝে গ্রাম পরিদর্শনেও বেরোন এই গজরাজ। স্থানীয় বাজারেও যান মাঝে মাঝে। এদিকে, এই ঘটনায় মাথায় হাত বাড়ির মালিকের। জানা গেছে, হাতির এ কাণ্ডে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার থাই বাথের, যা বাংলাদেশী টাকায় এক লাখ ৩৪ হাজার টাকার মতো। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান . , , | 3 |
আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুরের নাম ট্রেন্ডিং তালিকায় নেই এমন দিন বোধহয় ইদানীংকালের মধ্যে একটিও যায়নি। সংবাদ সংস্থা ডিএনএ'র রিপোর্ট অনুযায়ী, আলিয়া এবং রণবীরের নাকি ইতিমধ্যেই এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। তবে আলিয়া বা রণবীর কেউই এই সংক্রান্ত প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি। রিপোর্টে প্রকাশিত, রণবীর কাপুর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আগে হাঁটু গেড়ে বসে আলিয়াকে প্রোপোজ করেন সুইজারল্যান্ডের সেন্ট মরিসে। তারপর তারা একটি বড় পার্টির আয়োজন করেছিলেন এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান উপলক্ষে। রণবীরের হাবভাব দেখে আলিয়া ভাট লজ্জায় একেবারে লাল হয়ে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে আলিয়া ভাট বলেছিলেন, "আজকে ভালোবাসার রাত, আমার জীবনের বিশেষ মানুষটির জন্য, আই লাভ ইউ রণবীর।" আলিয়া ভাট এবং রণবীর কাপুরকে একসঙ্গে 'ব্রহ্মাস্ত্র' সিনেমায় দেখা যাবে। সেখানে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, ডিম্পল কপাডিয়া, মৌনি রায় এবং আক্কিনেনি নাগার্জুন। সূত্র: এনডিটিভি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
বরগুনার পাথরঘাটায় ৯ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে হরিণঘাটা ইকোপার্ক পর্যটন কেন্দ্রে অবমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাপটি হরিণঘাটা ইকোপার্কে অবমুক্ত করা হয়।এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রূহিতা গ্রামের মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদসংলগ্ন খেজুরগাছ থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকারী দলের সদস্য মো. জাকির মুন্সি বলেন, 'রূহিতা মুন্সিবাড়ি মসজিদের সামনে একটি খেজুরগাছ থেকে খেজুর পাড়ছিল কয়েক শিশু। এমন সময় গাছের মাথায় সাপটি নড়াচড়া শুরু করে। পরে শিশুরা চিৎকার দিলে স্থানীয়রা আমাকে খবর দেয়। পরে আমি গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে ট্যুরিস্টদের নিয়ে কাজ করা পরিবেশকর্মী আরিফ রহমানকে জানাই। পরে আরিফ রহমানের মাধ্যমে বন বিভাগকে অবহিত করে অবমুক্ত করা হয়।বন বিভাগের পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, 'সাপটি উদ্ধার করার পর হরিণঘাটা বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।' | 6 |
জানুয়ারির দলবদলে উসমান দেম্বেলেকে নিয়ে বার্সেলোনার অশান্তি এখনো পুরোনো হয়নি। নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে দেম্বেলেকে দল ছাড়তে বলার কথাও শোনা গিয়েছিল তখন। মাস না পেরোতেই অবশ্য দুই পক্ষের সুর নরম, দলের প্রয়োজনে তাঁকে খেলাতে আপত্তি নেই বার্সা কোচ জাভি হার্নান্দেজের।মৌসুমে এখন পর্যন্ত যাচ্ছেতাই অবস্থা বার্সার। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে আগেই বিদায় নিয়েছে, ছিটকে গেছে কোপা দেল-রে'র লড়াই থেকেও। লা লিগারও সেরা চারে নেই স্পেনের সফলতম ক্লাবটি। আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়ে থাকতে তাদের এখন খেলতে হচ্ছে ইউরোপা লিগে। দলের এই কঠিন সময়ে আগামীকাল লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে দেম্বেলেকে খেলানোর ব্যাপারে একমতে পৌঁছেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।দেম্বেলেকে খেলানোর ব্যাপারে বার্সা কোচ জাভি বলেছেন, 'আমরা এখনো দেম্বেলের ব্যাপারে কোনো সমাধান পাইনি। এক মাস আগে পরিস্থিতি একরকম ছিল, এখন অন্যরকম। সে ক্লাব ও দলের অংশ, তার সঙ্গে একটি চুক্তি রয়েছে। সভাপতি, বোর্ড ও টেকনিক্যাল সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেমনটা আমরা আগেও বলেছিলাম, চুক্তি নবায়ন করুক বা ক্লাব ছাড়ুক, সে এখনো দলের অংশ। তাকে না খেলিয়ে আমরা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারতে পারি না।'আগামী জুনে বার্সার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে দেম্বেলের। যদিও অনেক দিন থেকেই তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তির চেষ্টা করে যাচ্ছে ক্লাবটি। তাতে অবশ্য লাভ হয়নি। দ্বিগুণ বেতন চাইছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে ক্লাবের দুরবস্থায় তাঁর বেতন কমাতে চায় বার্সা। কিন্তু তাতে রাজি হচ্ছেন না দেম্বেলে। | 12 |
এখন আমরা রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করছি। ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করছি। পৃথিবীর নানা প্রান্তে সবাই নিজেদের যেভাবে রক্ষা করছে, আমাদেরও সে পথেই হাঁটতে হবে। আমাদের সবার মধ্যে জনসচেতনতা আরও অনেক বাড়াতে হবে। পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এলাকায় এলাকায় মাইকিং করাটাও উপকারে আসবে। আমরা সামাজিক দূরত্বের কথা বলছি, এটা তো আসলে শারীরিক দূরত্ব। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে এই শারীরিক দূরত্বই হচ্ছে প্রধান ওষুধ। আমাদের কারোরই এখন আর অক্ষমতা, ভুলভ্রান্তি, দোষত্রুটি ধরার সময় নাই। এরই মধ্যে আমাদের যা হওয়ার হয়েছে, এটাকে প্রতিরোধ করতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। করোনাভাইরাস এমন একটি অদৃশ্য শত্রু, যার কারণে একটি পরিবার, একটি কমিউনিটি, একটি এলাকা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিবেশী এবং সর্বোপরি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একজন করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তি যদি নিয়ম অমান্য করেন, তাহলে যাঁরা ১৪ দিন করে ঘরে থাকছি, তাঁদের পরিশ্রম বৃথা যাবে। এই একজনের জন্য আরও ১৪ দিন ঘরে আটকে থাকতে হবে। নিয়ম অমান্য করার কারণে ১৪ দিনের সময়টা দীর্ঘায়িত হবেই। ১৪ দিনের ঘরে থাকায় যত না কষ্ট হবে, তখন তার চেয়ে বড় ভোগান্তিতে আমাদের পড়তে হবে। আলটিমেটাম পরের অধ্যায়গুলো আরও ভয়ংকর। আমাদের অর্থনৈতিক সংকটটা সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করবে। এই অথর্নৈতিক সংকট বিভিন্ন সেক্টরে হবে। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। ওরা কাউকে কিছু বলতেও পারে না, সইতেও পারে না। আমাদের সেক্টর নিয়ে তো ভাবতেই পারছি না। একটা বছর কী যে হবে। এই এক বছর সারভাইভ করা কতটা ডিফিকাল্ট হবে...। এখন বিশ্বায়নের যুগ। সারা পৃথিবীতে কিছু হলে, আমরা যেহেতু সেই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, তার আঁচ আমাদের গায়েও লাগবে। ওটাই হবে দীর্ঘ যুদ্ধ। ওটাতে টিকে থাকাটা ভয়াবহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। যেকোনো রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তিকে দিনের পর দিন সাহায্য সহযোগিতা করে বাঁচাতে পারে না। করোনার কারণে আমরা এমনও দেখব, যাঁর ক্ষমতা আছে কিন্তু যখন চাকরিচ্যুত হবেন, এতে করে হতাশা বাড়বে। হতাশার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বেন। এটা কিন্তু একটা বিরাট ক্ষতি। অনেক ছেলেমেয়ে ক্লাস করতে পারছে না। এক বছরের একটা ধাক্কার মধ্যে পড়ে যাবে। অভিভাবকেরা সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে টেনশনে পড়বেন। এই যে একটা বছর পিছিয়ে যাওয়া, এটা অনেক বড় ক্ষতি। আছে আরও অনেক ধরনের ক্রাইসিস। সব ক্রাইসিস হিসেব করলে, কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে কম না। যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের বিমান হামলা করার আগে একটু হলেও খবর পাওয়া যায়, দেখা যায়। কিন্তু করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধটা অদৃশ্য। ভয়াবহ শক্তি, কিন্তু কেউ খালি চোখে দেখছি না। এটা থেকে সামলে নেওয়া সত্যিই বেশ কঠিন। তবে আমরা বীরের জাতি, যুদ্ধ জাতি। ঐতিহাসিকভাবে হয়তো আমরা ঝড়ঝাপটা, বন্যা, খরা, যুদ্ধ অনেক কিছুর মুখোমুখি হয়েছি। তার পরও বারবার যুদ্ধ করলে একটা সময় মানসিক শক্তি থাকে না। আর এটা তো এমন যুদ্ধ, প্রতিপক্ষকে দেখাই যায় না। আমি তো যুদ্ধ দেখেছি। কিন্তু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে যেভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখছি, তা বিপজ্জনক।আমরা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের পিলাডেলপিয়াতে। আর আমি উত্তরায় ছেলেকে নিয়ে আছি। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ঘরে। বাচ্চার দেখাশোনা, খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা সবই আমাকে করতে হচ্ছে। আছে পুরো বাড়ি ঠিক রাখা, বাজার সদাই আছে কি না। আমার বাড়িতেও কয়েকজন ফিক্সড কাজের লোক আছে। ওদের পরিবার আছে-তাদের খোঁজখবর রাখা, যা আমার স্ত্রী করত। একটা বাড়ির যে সংকট দেখি, যখন দেশের বিষয়টা আসে, বিশ্বের কথা বাদই দিলাম- কেমন যেন লাগে।আমাদের যে পেশা এটা হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে শেষের দিককার চাহিদা। প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়ার পর মানুষ বিনোদন নিয়ে ভাবে। সুতরাং আমরা, কবে যে মানুষ গান শোনার পর্যায়ে যাবে, তা এই মুহূর্তে ভাবতে পারছি না। সবশেষে বলতে চাই, মানসিক বল রাখা উচিত। পৃথিবীতে যা-ই আসুক না কেন, তার মোকাবিলা তো করতেই হবে। আমি বলব, মৃত্যুই সবচেয়ে বড় সত্য, কিন্তু মরার আগে যাতে না মরি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চারদিকে তৈরি হয়েছে সংকট। এই সংকটের মধ্যে অনেক সংগঠন নানাভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি বিত্তবানদের কাছে আহ্বান জানাব, আপনারাও নিজ থেকে এগিয়ে আসুন। সবাই সবার পাশে দাঁড়ান। সবাই মিলে আমাদের দেশটাকে বাঁচাতে হবে।আর একটি কথা, বেশি বেশি টেস্ট করাতে হবে। টেস্ট টেস্ট এবং টেস্ট-এটা যত বেশি হবে, ততই ভালো। একই সঙ্গে করোনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু নতুন শব্দের সঙ্গে বিশ্বের সবার মতো বাংলাদেশিরাও পরিচিত হয়েছে। শব্দগুলো হচ্ছে কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, সোশ্যাল ডিসটান্স, লকডাউন। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের এসব শব্দের অর্থ বুঝতেই কষ্ট হয়। আমি বলব আমাদের দেশের উপযোগী করে কিছু শব্দ কিংবা একদম আঞ্চলিকরূপে মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে পারলে ভালো হয়। এতে বেশির ভাগ মানুষ সহজে ব্যাপারগুলো বুঝতে পারত। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা কিন্তু আমরা কেউ উপলব্ধি করতে পারছি না। এর ভয়াবহতা যে কত মারাত্মক, তা সবার মাথায় যদি সহজে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, সহজেই নিস্তার পেতে পারব। | 2 |
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে লড়তে আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। নানার অভিযোগের কারণে বির্তক এড়াতে বদিকে বাদ দিয়ে এবার তার স্ত্রীকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। শাহিন আক্তার উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম চৌধুরী ঠান্ডা মিয়ার মেয়ে। মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শাহিন আক্তারের সঙ্গে ছিলেন, কক্সবাজার-৪ উখিয়া-টেকনাফ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও তার স্বামী আবদুর রহমান বদি, উখিয়া উপজেলা আ. লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল, উখিয়া মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিগার সুলতানা। মননোয়নপত্র জমা দেওয়ার পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শাহীন আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত। এ উন্নয়ন সুবিধা ভোগ করছে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ। তাই ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। প্রসঙ্গত, শাহীন আক্তার ২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় তিনি ৬৭৬ ভোট পেয়েছিলেন। | 6 |
জার্মান সংসদ সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার বেক্সিমকো ইন্ডাসট্রিয়াল পার্ক পরিদর্শন করেছেন। এসময় জার্মান দূতাবাস এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে ছিলেন। বেক্সিমকো গ্রুপ চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান এবং সিইও অ্যান্ড গ্রুপ ডিরেক্টর সৈয়দ নাভিদ হোসেইন তাদেরকে স্বাগত জানান।প্রতিনিধি দলে ছিলেন জার্মান সংসদ সদস্য গ্যাব্রিয়েল কার্টজমার্ক, বেট্টিনা স্টার্ক ও টবেজ ফ্লুগার।তারা ইন্ডাসট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত বেক্সিমকোর সব টেক্সটাইলস ও অ্যাপারেলস কারখানা ঘুরে দেখেন।৩৫০ একর আয়তনের বেক্সিমকো ইন্ডাসট্রিয়াল পার্কে ৪০ হাজার কর্মী কাজ করেন। এদের মধ্যে ৫০০ কর্মী আছেন, যারা শারীরিকভাবে কিছুটা অক্ষম। জিআইজেডের সহযোগিতায় বেক্সিমকো তাদের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে কর্মীতে উন্নীত করেছে।বেক্সিমকোর টেক্সটাইলস ইউনিটগুলোর উৎপাদিত পণ্যের ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে কেলভিন ক্লেইন, জারা, মার্ক অ্যান্ড স্পেনসার, নেক্সট, সি অ্যান্ড এ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি | 0 |
গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এর পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে চলছে বিক্ষোভ-সংঘাত। অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত আগস্টে নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন তিনি। এ ঘটনার পর দেশটিতে তীব্র গণ-আন্দোলন শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দমন-পীড়ন শুরু করে সেনাবাহিনী, সম্প্রতি যা আরও বেড়েছে।গতকাল বুধবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির সামরিক জান্তাবিরোধী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) বরাতে সংবাদমাধ্যম রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, গত সোমবার সাগাইং অঞ্চলে মিয়ানমার সেনারা অভিযান শুরু করার পর পিডিএফের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ৩০ বার্মিজ সেনা নিহত হন।পিডিএফের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, 'সংঘর্ষের সময় পেল শহরের বাইরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গাড়িবহর ল্যান্ডমাইনের কবলে পড়ে এবং একজন কমান্ডারসহ সরকারি বাহিনীর ৩০ সেনা নিহত হন।'পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকারের হাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ১৬৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭ হাজারের বেশি মানুষকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে।এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর মধ্যে ১৩২টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের বর্ণনাসামরিক অভ্যুত্থানের আগমুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ত বলেছেন, অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টা আগে সেনাবাহিনী তাকে জোর করে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিল এবং পদত্যাগ না করলে তাঁর মারাত্মক ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিল। গত মঙ্গলবার এক মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে উইন মিন্ত এসব কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।আলজাজিরা বলছে, এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে কোনো অভ্যুত্থান হয়নি এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আইনগতভাবে দেশটির ক্ষমতা জেনারেলদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন বলে সেনাবাহিনীর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করলেন উইন মিন্ত।মিয়ানমারের সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান মঙ্গলবার রাজধানী নেপিদোতে আদালতকে বলেছেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি দুই ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা তাঁর কাছে এসে অসুস্থতার কথা বলে তাকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। কিন্তু উইন মিন্ত পদত্যাগে রাজি না হওয়ায়, পরে তাঁর জায়গায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ত সয়েকে মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট করা হয়, যিনি ওই সময় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন এবং পরে জেনারেলদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন।এর আগে গত সেপ্টম্বরে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলাকালীন দেশটির ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা চিন রাজ্যের থান্তলাং শহরের বেশির ভাগ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। শহরটিতে বাস করা অন্তত ১০ হাজার মানুষের অধিকাংশই পালিয়ে আশ্রয় নেন ভারতের মিজোরাম রাজ্যসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলেও।থান্তলাং বা অন্যান্য শহর থেকে পালিয়ে যারা ভারতসহ প্রতিবেশি বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়ার আশায় রয়েছেন, তাদের বিষয়ে জান্তা সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে আশ্রয়প্রার্থীরাও বর্তমানে দুর্বিষহ দিন পার করছেন জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন মানবাধিকার বিভিন্ন সংস্থা। | 6 |
সেশনজট নিরসনের জন্য ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পূর্ব নির্ধারিত শীতকালীন ছুটি বাতিল করা হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। গতকাল বুধবার দুপুরে উপাচার্য ড. ছাদেকুল আরেফিনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি একাডেমিক কাউন্সিলের ৩৭তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান একাডেমিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও গতিশীলতা রক্ষায় শীতকালীন ছুটি বাতিল করা হয় বলে জানিয়েছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবামা অঙ্গরাজ্যে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রোববার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অ্যালবামার তুসকালোসা বিমানবন্দরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর বিবিসির
খবরে বলা হয়, এক দন্ত সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর তিন দম্পতি মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের অক্সফোর্ডে ফিরে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই তিন দম্পতির মৃত্যু হয়।
ওই তিন দম্পতির মধ্যে এক দম্পতির পাঁচটি ছেলেমেয়ে অপর দুই দম্পতির তিনটি করে ছেলেমেয়ে রয়েছে। যারা কেউই ওই বিমানে ছিল না।
বিধ্বস্ত হওয়ার অল্প সময় আগে উড়োজাহাজটি থেকে একটি বিপদ সঙ্কেত পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
| 3 |
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মারা গেছেন ১২ জন। এ সময় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৫২৫ জনের। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার করোনায় মারা যান ১০ জন। সেদিন করোনা শনাক্ত হয় ৪৪৩ জনের। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩৬ হাজার ১০৭ জন। আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৭২৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫১২ জন। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মারা গেছেন ৮ হাজার ১৪৯ জন। | 6 |
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলকে সংহত করতে মোহাম্মদ নাসিমের ভূমিকা ছিল অনন্য। তার মৃত্যু দেশ, রাজনীতি ও একই সাথে আওয়ামী লীগের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।' রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়ে ঢাকায় সরাসরি বনানী কবরস্থানে মোহাম্মদ নাসিমের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান বলেন, 'আমাদের নেতা সবার শ্রদ্ধাভাজন জাতীয় চারনেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলীর সুযোগ্য পুত্র মোহাম্মদ নাসিম যে শুধু আমাদের দলের নেতা বা সাবেক মন্ত্রী ছিলেন, তা নয়, তিনি দেশের একজন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং তার মৃত্যু দেশ, রাজনীতি ও একইসাথে আওয়ামী লীগের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার মৃত্যুতে আমরা একজন একনিষ্ঠ কর্মী, নেতা ও আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনকে হারিয়েছি।' তথ্যমন্ত্রী এ সময় সদ্যপ্রয়াত ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আপনারা জানেন, গতরাতে হঠাৎ করে আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ইন্তেকাল করেছেন। প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহকে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, 'তিনি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে এসেছেন ও দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুও আমাদের দেশ ও দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।' প্রকৃতপক্ষে একইদিনে আমরা আমাদের দু'জন নেতাকে হারালাম, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এ বেদনা ঢেকে রাখা সম্ভব নয়, বলেন ড. হাছান। শোকাভিভূত চিত্তে তথ্যমন্ত্রী এ সময় স্বাস্থ্যসচিবের সদ্যপ্রয়াত স্ত্রী এবং সম্প্রতি মৃত্যুবরণকারী সকলের আত্মার শান্তি কামনা করেন। | 9 |
ডেমক্র্যাট প্রার্থী যো বাইডেন জয়ী হলে রিপাবলিকান পার্টির সকল সিনেটরই ২০ জানুয়ারিতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে পূর্ণ সমর্থন দেবেন। এমনকি, বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানেও যোগদান করবেন। নির্বাচনে পরাজিত হলে ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না বলে আগের দিনের মন্তব্য খন্ডন করে বৃহস্পতিবার ইউএস সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রিপাবলিকান-নেতা মীচ ম্যাককনেল এক টুইটে বলেন, '৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী অবশ্যই শপথ নেবেন ২০ জানুয়ারি। ১৭৯২ সাল থেকে চার বছর অন্তর অনুুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী ব্যক্তি হোয়াইট হাউজে অধিষ্ঠিত হবার জন্যে শপথ গ্রহণ করার এ রেওয়াজ চলে আসছে। সে অনুযায়ী সামনের জানুয়ারিতেও তা অনুষ্ঠানে আমরা বদ্ধপরিকর।' রিপাবলিকান পার্টির অপর সিনেটর বেন স্যাসে বলেন, 'প্রেসিডেন্ট পাগলের মত কথা বলেছেন। আমরা সব সময়েই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আসছি। তা কোনভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না।' আরেক সিনেটর কেভিন ক্র্যামার বলেন, 'বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানে অভ্যস্ত ট্রাম্পের সর্বশেষ এ উক্তির যোন যুক্তি পাওয়া যাবে না। আমেরিকানরা এমন কথায় কান দেবে না।' ট্রাম্পের উদ্ভট কথাবার্তা নিয়ে ডেমক্র্যাটরাও উদ্বিগ্ন। এতদিন গোপনে দলীয় লোকজনের সাথে ট্রাম্প যা বলেছেন, সেটি এখন প্রকাশ্যে এসেছে বলে ডেমক্র্যাটরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবেলার জন্যে। ট্রাম্পের এহেন মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে যদি সাংবিধানিক সংকট দেখা দেয় তবে তা কীভাবে প্রতিহত করা যাবে-তা নিয়ে দলীয় নীতি-নির্ধারকরা বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। 'সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটিই পন্থা রয়েছে, আর তা হচ্ছে ভোটারের রায়কে সম্মান জানানো। এ অবস্থায়ও যদি শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অনুষ্ঠান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা হয়, ফলাফল মানতে না চান, তাহলে আমাদেরকে সবদিকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনভাবেই জনগণের রায় ছিনতাই হতে দেয়া যাবে না। তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে'-বলেছেন ডেমক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জেমি বি রাস্কিন। অপরদিকে, কানেকটিকাটের সিনেটর (ডেমক্র্যাট)ক্রিস মারফি বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এ নিয়ে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে সকলে একযোগে কাজের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন সে সময়। রিপাবলিকানরা কখনোই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সাপোর্ট দেবেন না বলে তার কাছে উল্লেখ করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন (ডেমক্র্যাট) বলেছেন, 'স্বৈরাচারেরা সচরাচর ষড়যন্ত্রের কথা ঘোষণা করে না। কিন্তু ট্রাম্প আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের রাজা হতে চান। কিন্তু আমাদের গণতন্ত্রে তো তেমন রেওয়াজ নেই। সবকিছু নির্ভর করে ডেমক্র্যাট, রিপাবলিকান আর স্বতন্ত্র পার্টির সিদ্ধান্তের ওপর। আমেরিকার জনসাধারণের মতামতের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে, সেটিই আমাদের গণতন্ত্র।' এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর সাবেক ৪৮৯ জেনারেল, এডমিরাল, সিনিয়র সামরিক অফিসার, রাষ্ট্রদূত, জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যো বাইডেনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, 'বাইডেন হচ্ছেন নীতিবান, অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত এবং দায়িত্বশীল নেতা যিনি আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে সচেষ্ট'।
এক খোলা চিঠিতে তারা বলেছেন, বাইডেনের প্রশংসা করার মত চারিত্রিক গুণাবলী, প্রাজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্বকে কল্যাণ আর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার মত যোগ্যতা রয়েছে।
বাইডেনকে সমর্থনকারিগণের মধ্যে রয়েছেন ২২ জন অবসরপ্রাপ্ত ফোর-স্টার জেনারেল। জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং সিনিয়র বুশের আমলে উচ্চপদে দায়িত্ব পালনকারিরাও বাইডেনের পক্ষে মাঠে নামলেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 4 |
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শনিরআখড়া ব্রিজ ধরে হেঁটে রাজধানীর দিকে ঢুকছে শত শত মানুষ। যাদের ভাগ্য ভালো, তাদের কেউ রিকশা কিংবা ভ্যানে চলছে। অনেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে যাচ্ছে। সবার কাঁধে-হাতেই ব্যাগ। মানুষের ভিড়ে লকডাউনের বিধিনিষেধ মানাতে স্থাপিত পুলিশের অস্থায়ী চেকপোস্টগুলোও অকার্যকর হয়ে পড়ে ওই সড়কে। গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে শুরু করে শনিরআখড়া-সাইনবোর্ড মোড় পর্যন্ত এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। তবে সংশ্নিষ্টরা জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল অভিন্ন চিত্র। যাত্রাবাড়ীতে রাজধানীর অন্যতম ওই প্রবেশপথের মতো একই দৃশ্য এর অদূরে পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকাতেও। রাজধানীর অন্যান্য প্রবেশপথ- বাবুবাজার ব্রিজ, গাবতলী আর আব্দুল্লাহপুরের দৃশ্যও ভিন্ন কিছু ছিল না। এসব পথ হয়ে যে যেভাবে পারছে রাজধানীতে ঢুকেছে। সরেজমিন মিলেছে এমন চিত্র। পোস্তগোলা ব্রিজের অদূরে ধলপুর এলাকায় শিশু কোলে নিয়ে হাঁটছিলেন শারমিন আক্তার। তার হাতেও কাপড়ের ব্যাগ। পাশাপাশি ছিলেন তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন। ৮ বছর বয়সী ছেলের হাত ধরে হাঁটছিলেন তিনি। তার কাঁধে ঝুলছিল ব্যাগ। লকডাউনের মধ্যেও কোথা থেকে এলেন- জানতে চাইলে শারমিন বলছিলেন, স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে গিয়েছিলেন। কিন্তু গার্মেন্ট খুলে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে ঢাকায় ফিরতে হলো। শারমিনের স্বামী তোফাজ্জল একটু রেগে গিয়ে বললেন, 'চাকরি গেলে আপনি দেবেন? কত ভোগান্তি আর কষ্ট করে ঢাকা আসতে হয়েছে, তা আমরা ছাড়া কেউ জানে না।' তিনি বলেন, ভোরে একরকম যুদ্ধ করে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাট থেকে ফেরিতে উঠতে পেরেছিলেন। শিমুলিয়ায় নেমে হাজার হাজার মানুষ দেখলেন। কীভাবে ঢাকায় আসবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত জনপ্রতি ৫০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশায় পোস্তগোলা পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। সেখান থেকে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার বাসায় যেতে কোনো বাহন না পেয়ে হাঁটা শুরু করেছেন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে। যাত্রাবাড়ী মোড়ে কথা হয় ঢাকায় ফেরা আরও কয়েক তরুণের সঙ্গে। তারা সবাই আশুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন কারখানার কর্মী। তাদেরই একজন মানিক ছৈয়াল বলছিলেন, শরীয়তপুরের সখিপুর থেকে তারা এসেছেন। ট্রলারে জনপ্রতি ৪০০ টাকা দিয়ে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন। সেখান থেকে কয়েক দফা অটোরিকশা বদল করে ঢাকায় ঢুকতে পেরেছেন। তার ভাষ্য, বহু দিন ধরে বেকার। কারখানা চালু হওয়ায় ঢাকায় চলে এসেছেন। তবে কারখানা এলাকায় পৌঁছতেই পকেট খালি হয়ে যাবে। পোস্তগোলা এলাকায় চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশের শ্যামপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার কাজী রোমানা নাসরিন সমকালকে বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় শনিবার সকাল থেকেই পোস্তগোলা ব্রিজ হয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে কারখানার শ্রমিকরা ঢাকায় প্রবেশ করছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাহনে যে যেভাবে পারছে, রাজধানীতে প্রবেশ করছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে চেকপোস্টগুলোতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে নয়াবাজার পর্যন্ত শত শত লোককে হেঁটে যেতে দেখা যায়। কেউ কেউ রিকশা বা ভ্যান দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল। নয়াবাজার এলাকার সিরাজউদ্দৌলা পার্কের সামনে কথা হয় আলমাস হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তারাও বলছিলেন গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী থেকে ঢাকায় আসা পর্যন্ত তাদের ভোগান্তির কথা। ফেরি পার হয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ৯ জনে মিলে একটি মাইক্রোবাসে কেরানীগঞ্জে পৌঁছতে পারলেও এর পর থেকে হাঁটা শুরু করেন। আলমাস জানান, তারা সবাই টঙ্গী যাবেন। কিন্তু ঢাকায় ঢুকে কোনো বাহন পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন। পথে কোনো বাহন পেলে তাদের সুবিধা হবে। শিমুলিয়া ঘাট থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত অন্তত চারটি জায়গায় পুলিশ আটকালেও কারখানার শ্রমিক বলার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় দায়িত্বে থাকা পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার ইলিয়াছ হোসেন সমকালকে বলেন, ঈদের পর থেকে চলা লকডাউনের মধ্যে শনিবার ঢাকায় অসংখ্য লোক ঢুকেছে। সবাই শিল্পকারখানার শ্রমিক হওয়ায় তাদের আইনের আওতায় নেওয়া হয়নি। শুধু স্বাস্থ্যবিধি মানাতে এবং মাস্ক পরতে অনেককে সতর্ক করা হয়েছে। বেড়েছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল: ২৩ জুলাই শুরু হওয়া চলমান লকডাউনে এতদিন রাজধানীতে অ্যাপস বা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চলাচল কম থাকলেও গতকাল শনিবার কোনো রাখঢাকই ছিল না। রাজধানীর সড়কগুলোতে প্রায় সব মোটরসাইকেলের পেছনে ছিল যাত্রী। তবে ভাড়া আকাশছোঁয়া। গতকাল বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিজি প্রেসের সামনে চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা একটি মোটরসাইকেল আটক করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চালক মো. জসিম জানান, আরোহী তার চাচাতো ভাই। পরে ওই মোটরসাইকেলের আরোহী মো. আকাশকে জিজ্ঞাসা করলে দু'জনের তথ্যে গরমিল পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ চালককে মামলা দিয়ে ছেড়ে দেয়। আকাশ জানান, তিনি টঙ্গীর একটি চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানার কর্মী। কুমিল্লার রামচন্দ্রপুর থেকে নানা বাহনে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় আসেন। সেখান থেকে টঙ্গী যেতে ১২শ টাকায় ভাড়া মোটরসাইকেলে চড়েন। তার জন্য এ ভাড়া বেশি হলেও বাধ্য হয়েই যাচ্ছেন। ওই চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী সার্জেন্ট উজ্জ্বল হোসেন সমকালকে বলেন, লকডাউনের অন্য দিনগুলোর তুলনায় শনিবার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চলাচল বেড়েছে। প্রায় সব যাত্রীই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক। তবে চালকরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে চেকপোস্ট পার হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। লাগামহীন রিকশা ভাড়া: চলমান লকডাউনে এতদিন রাজধানীতে রিকশার চেয়ে যাত্রীসংখ্যা ছিল কম। এ জন্য কোনো কোনো এলাকায় রিকশা ভাড়াও ছিল কম। তবে গতকাল শনিবার রাজধানীতে শত শত মানুষ প্রবেশ করায় রিকশা ভাড়া বেড়েছে। চাহিদা থাকায় মর্জিমাফিক ভাড়া আদায় করেছে চালকরা। গতকাল বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় কথা হয় কয়েক রিকশাচালকের সঙ্গে। তারা বলছিলেন, এদিন যাত্রীর অভাব ছিল না। তবে বেশিরভাগ যাত্রীই দূরে যেতে চাচ্ছেন। মনির হোসেন নামে এক চালক বলছিলেন, সকালে তিনি ধলপুর থেকে দুই যাত্রী নিয়ে ৮০০ টাকা ভাড়ায় মোহাম্মদপুরের কাঁচাবাজার এলাকায় গেছেন। অন্যান্য দিন কত ভাড়া নিতেন, জানতে চাইলে ওই চালক বলেন, অন্য কোনোদিনে ৪-৫শ টাকা হলেই চলে যেতেন। এদিকে বিভিন্ন সড়কে রিকশার সঙ্গে গতকাল ভ্যানেও যাত্রীদের যেতে দেখা গেছে। কয়েক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সাধারণত ভ্যানে পণ্য পরিবহন করলেও বেশি ভাড়া পাওয়ায় যাত্রী নিচ্ছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গতকাল ঢাকায় মানুষের চলাচল বেশি থাকলেও প্রাইভেটকার চলাচল আগের মতোই ছিল। তবে আজ রোববার থেকে শিল্পকারখানা চালু হওয়ায় এদিন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বাড়বে বলে তাদের অনুমান। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিভিন্ন ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা রিকশা, অটোরিকশা বা হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র বাহনের চলাচল বাড়লেও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল বাড়েনি। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়, শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করায় ৪৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা দিতে হয়েছে ২০২ জনকে। এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগ ৪৪০টি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেছেন, শনিবার ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে কার্যত বিধিনিষেধ মানানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিধিনিষেধ মানাতে কড়াকড়ি করলে অন্তত কয়েক হাজার মানুষকে আইনের আওতায় নিতে হতো। তবে কারখানার শ্রমিকদের বিষয়ে পুলিশ ছিল মানবিক। | 6 |
ইয়েমেনে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আজ রবিবার দেশটির বন্দর নগরী এডেনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ হামলার ঘটনায় এখনো কেউ দায় স্বীকার করেনি। জানা গেছে, এডেনের গভর্নর আহমেদ লামলাস ও কৃষিমন্ত্রী সালেম আল সুক্রাত্রির গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে, হামলায় তাদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। সূত্র : রয়টার্স। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবিস্থত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। শুরুতেই রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন রাষ্টদূত মসয়ূদ মান্নান এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান শাহনাজ গাজী। এরপর দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনাকালে রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১, মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান এবং বহির্বিশ্বের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করে সময়োপযোগী, সাহসী এবং প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পথকে সুগম করেছিল। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, পৃথিবীর বহু দেশের জনগণই স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। কিন্ত এতো স্বল্প সময়ে আমরা যে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছি তার পিছনে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্ব। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে, বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতা পেয়েছিলাম, যিনি আমাদের দিয়েছেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, গর্বিত পরিচয় এবং সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন ও উদ্যম। এরপর রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলদেশের উত্তরোত্তর অগ্রগতির কথা তুলে ধরে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সবশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুজিবনগর সরকারের নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহনের দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে আসছে। দুই দিন আগে আসা গাড়ি দুই দিন পর পার হচ্ছে। এতে রাস্তাতেই চালক ও সহযোগীদের রাত কেটে যাচ্ছে। ঘাটস্বল্পতা ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। তবে এ সমস্যার সমাধান দ্রুত শেষ হবে না বলেও জানান তাঁরা।আজ সোমবার সকালে ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় রয়েছে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। মাঝেমধ্যে যানবাহনের সারি ৫-৬ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। তবে এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। গণপরিবহনগুলোকে (বাস) ফেরি পেতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগলেও প্রতিটা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ১ থেকে ২ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে গাড়িতেই নির্ঘুম রাত কেটে যাচ্ছে চালক ও সহযোগীদের। অপরদিকে, মহাসড়কের পাশে খাওয়াদাওয়া ও টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা। গাড়ি ছেড়ে বাইরে অন্য কোথাও যেতেও পারছেন না।যশোর থেকে তুলাভর্তি কাভার্ড ভ্যান (ট্রাক) নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন চালক নবাব আলী। তিনি জানান, গত শনিবার সন্ধ্যার পর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড়ে এসে সিরিয়ালে আটকা পড়েন। সেখান থেকে গতকাল রোববার ভোরে ঘাটে এসে আজ বেলা দেড়টার দিকে ঘাট থেকে ১ কিলোমিটার দূরে ছিলেন তিনি। প্রায় ২ দিন সিরিয়ালে থেকেও ফেরির দেখা পাননি। এখনো ফেরি পেতে আরও ৭-৮ ঘণ্টা লাগবে বলে জানান তিনি।বেনাপোল থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ট্রাকের চালক হুসাইন খান বলেন, 'গতকাল সন্ধ্যায় ঘাট এলাকায় এসেছি। ঘাট এলাকার লঞ্চ ঘাট টার্নিং পর্যন্ত পৌঁছতে প্রায় এক দিন সময় লেগেছে।'ট্রাকচালক আরও বলেন, 'এটা কোনো ব্যবস্থা হলো! এখন আর কুলাতে পারছি না। ফেরিতে উঠতে আর কয় ঘণ্টা সময় লাগবে সেটাই ভাবছি। আমার পেছনে আরও ৫ শতাধিক ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান আটকে আছে। ফেরি অনেক দেরিতে ঘাটে আসতেছে। ৩০-৪০ মিনিট পর গাড়ি কচ্ছপ গতিতে আগাচ্ছে। দ্রুত ঘাট ও ফেরি বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।'ফেরিঘাট সড়কের পুলিশ বক্সের সামনে যানজটে আটকা চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা পূর্বাশা পরিবহনের চালক জিয়া ইসলাম বলেন, 'কিছুদিন আগেও ঘাটে এসে কোনো যানজট না পেয়েই ফেরিতে উঠতে পারতাম। ট্রাকের সিরিয়াল এবং গণপরিবহনের সিরিয়াল আলাদা থাকত। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি ট্রাকের সিরিয়াল আলাদা থাকলেও দুই লাইন করে বাসের সঙ্গেই ট্রাকের সিরিয়াল করা হচ্ছে। এতে করে যাত্রীরা সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।' বরিশাল থেকে সাকুরা পরিবহনে আসা আশরাফুল আলম নামে এক যাত্রী বলেন, 'মাঝেমধ্যেই ঢাকা যেতে এই রুট ব্যবহার করি। আগে বাসের লাইনে কোনো ট্রাক দেখতাম না। কিন্তু আজ বাসের লাইনে ট্রাক দেখে অবাক হচ্ছি।'গোল্ডেন লাইনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম বলেন, আগে বাস এবং ট্রাকের আলাদা সিরিয়াল থাকত। কিন্তু এখন তা আর থাকে না। এতে করে যাত্রীদের আলাদা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়ার ৭টি ঘাটের মধ্যে চালু রয়েছে ৪টি। বাকি ১ ও ২ নম্বর ঘাট দুই বছর আগে নদীভাঙনের কবলে পড়ায় এখনো চালু হয়নি। এর সঙ্গে নতুন করে নাব্যতা সংকটের কারণে ৬ নম্বর ঘাটটি এক মাস থেকে বন্ধ আছে। বাকি ৪টি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও একটি ঘাট রো রো ফেরির জন্য প্রস্তুত করা হবে। সেই সঙ্গে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ওই নৌপথের গাড়ি এই নৌপথ দিয়ে পারাপার হচ্ছে। এসব কারণে বাড়তি চাপ থাকছে।ব্যবস্থাপক আরও বলেন, একটি বড় পন্টুন বসলে সমস্যা কিছুটা কমবে। দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে ছোটবড় মোট ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। | 6 |
প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ নাসিম যখন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে জীবন বাঁচাতে লড়ছেন তখন আমাদের কেউ কেউ বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন কেন, মিডিয়ায় সেই প্রশ্ন তুলেছি। এমনকি তাকে বাঁচানোর যখন কোনো আশাই দেখছেন না এদেশের চিকিৎসকরা, তখন মোহাম্মদ নাসিমের স্বজনেরা গভীর আবেগে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করা যায় কিনা সেই প্রায় অসম্ভব চেষ্টা করেছিলেন, তখনও আমরা কেউ কেউ নিন্দা সূচক প্রশ্ন তুলেছি। আমি এই অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থী। বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী মোর্শেদ খান যখন সস্ত্রীক চার্টার করা উড়োজাহাজে যুক্তরাজ্যে গেলেন চিকিৎসার জন্য, তখন আমরা কেউ কেউ এই চার্টার করে যাওয়া নিয়ে নিন্দা সমালোচনা করেছি। বিশ্বব্যাপী যখন প্রায় সকল উড়োজাহাজ কোম্পানি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে, তেমন সময়ে উড়োজাহাজ চার্টার করা যেকোনো সঙ্গতিসম্পন্ন মানুষের কেবল সঠিক সিদ্ধান্তই নয়, অধিকারও বটে। সাংবাদিকদের এই ভুলের জন্য আমি দুঃখিত। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে গৃহীতা সিদ্ধান্ত নিয়ে মধ্যম পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে যেমন কোনো সদুত্তর পওয়া যায় না তেমনি কখন কাকে, কী প্রশ্ন করতে হয় সে সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা প্রকট প্রকাশ হয়। আমাদের এই দীনতা লজ্জাজনক। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 2 |
কিছুদিন আগেই যাত্রা শুরু হয়েছে অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টিএম রেকর্ডসের। দেশের সংগীতাঙ্গনে বছরজুড়ে বড় চমক উপহার দেবে, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তেমনই এক খবর নিয়ে এল টিএম রেকর্ডস।প্রকাশ করল 'দুষ্টু পোলাপাইন' নামে নতুন গান। আর এই গানে মডেল হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওন। গতকাল প্রকাশ পেয়েছে মিউজিক ভিডিওর প্রোমো। তাপসের কথা, সুর ও সংগীতে 'দুষ্টু পোলাপাইন' গানটি গেয়েছেন ঐশী। গানের ভিডিওর দৃশ্য ধারণ হয়েছে মুম্বাইয়ে। নির্মাণ করেছেন বলিউডের বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার ও নির্মাতা আদিল শেখ। প্রযোজনা করেছেন ফারজানা মুন্নী। | 2 |
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল আগামী ২০ এপ্রিল। কিন্তু করোনার কারণে স্থগিত করে দিতে হয়েছে এই নির্বাচন। তাই নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কারণ বাফুফের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ এপ্রিল। ফলে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা ছিল বাফুফের সামনে। তাছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্বাচন করার জন্য বাফুফেকে একটি নির্দেশনা দিয়েছে ফিফা। এব্যপারে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ' চিঠিতে ফিফা জানিয়েছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই যেন আমরা সাধারণ সভা ও নির্বাচন সেরে ফেলি। কারণ নির্বাচন কবে হবে তা নির্ভর করছে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তার উপর'। যেহেতু বাফুফে নির্বাচন স্থগিত করেছে সেহেতু ফিফার কাছ থেকে এর অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। গতকাল ফিফার কাছ থেকে সেই অনুমোদনটি পাওয়া গেছে। এর ফলে এখন বাফুফের সামনে ৩০ এপ্রিলের পর নির্বাচন করতে কোনো বাধা থাকলো না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুব দ্রতই নির্বাচনের আয়োজন করবে বাংলাদেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। | 12 |
নানা কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গতকাল শুক্রবার পালিত হয়েছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই দিবস। সারা দেশের মতো মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জেও দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।সিরাজদিখান: মুন্সিগঞ্জের হাসাড়া হাইওয়ে থানা-পুলিশের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০টি সাইনবোর্ড স্থাপন, যানবাহনের চালক ও হেলপারদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ, ব্যানার প্রদর্শনী, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করা হয়েছে।টঙ্গিবাড়ী: টঙ্গিবাড়ীতে গতকাল বিকেলে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) টঙ্গিবাড়ী উপজেলা শাখার আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা করা হয়। র্যালিটি উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে টঙ্গিবাড়ী বাজার ঘুরে থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে বেতকা ক্লাবে নিসচা টঙ্গিবাড়ী শাখার সভাপতি এম জামাল হোসেন মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।লৌহজং: নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) লৌহজং উপজেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার বেলা ১১টায় শিমুলিয়া মোড়ে একটি পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে একটি র্যালি শিমুলিয়া মোড় হয়ে চন্দ্রেরবাড়ী বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন পদ্মা উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসাইন, সংগঠনটির উপজেলা শাখার সভাপতি হাজী আব্দুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ঢালী প্রমুখ।সিদ্ধিরগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানা-পুলিশ ও হাইওয়ে শিমরাইল ক্যাম্প পুলিশের উদ্যোগে পৃথকভাবে আলোচনা সভা, র্যালি ও গাড়ি চালকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। | 6 |
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সাড়ম্বরে বই উৎসবে জানানো হয় শিগগির শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে। অথচ দেড় মাস পার হলেও এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেনি মাধ্যমিকের সব বই। কেউ পেয়েছে একটি, কেউ তিনটি, কেউবা আবার ৭টি। করোনা সংক্রমণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এতে বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীর অধিকাংশই নিয়মিত পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা প্রায় শতভাগ বই পেলেও মাদ্রাসার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো বই বিতরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।একই কথা জানান কাহারোল উপজেলার পূর্ব সরঞ্জা দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. তমিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি বাদে সবকটি শ্রেণির বই পাওয়া গেছে।' জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল বারী জানান, কিছু বই ঘাটতি রয়েছে, তবে অধিকাংশ বই উপজেলাগুলোতে পৌঁছে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।জেলা শহরের সেন্ট ফিলিপস উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা মো. আবু তালেব জানান, বছরের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আমার ছেলে কোনো বই পায়নি। পুরোনো বই সংগ্রহ করে ছেলেকে দিয়েছি। নতুন বই হাতে পেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু এখনো বই হাতে না পাওয়াটা দুঃখজনক।' ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সিস্টার সন্ধ্যা পিউরিফিকেশন মাধ্যমিক শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি রয়েছে জানিয়ে বলেন, স্কুল খোলা থাকলে আমরা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা দিয়ে পড়াশোনাটা চালিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।'পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় (১ম থেকে ৫ম শ্রেণি) মোট শিক্ষার্থী ১০ হাজার ৮০০ জন, বইয়ের চাহিদা ৭৭ হাজার, ইতিমধ্যে ৪৮ হাজার ৮০০ বই বিতরণ করা হয়েছে, বাকি আছে ২৮ হাজার ২০০ বই। মাদ্রাসা দাখিল শাখায় মোট শিক্ষার্থী ৯ হাজার ৩০০ জন, আর বইয়ের চাহিদা এক লাখ ৪৪ হাজার। ইতিমধ্যে এক লাখ ১২ হাজার বই বিতরণ করা হয়েছে, আর বাকি আছে ২৮ হাজার ২০০ বই। উপজেলার ৬৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ৩৪ হাজার ৮০০ জন, আর বইয়ের চাহিদা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৪০টি। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ৯০০টি বই।এ ছাড়া জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৫৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৯টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ বই পৌঁছানোর কথা বলা হলেও প্রায় সব উপজেলাতেই বইয়ের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি সর্বাধিক।নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, ষষ্ঠ ছাড়া অন্য সব শ্রেণির বই বিতরণ শেষ পর্যায়ে। তবে উপজেলায় ষষ্ঠ শ্রেণির একমাত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছাড়া কোনো বই সরবরাহ করা হয়নি। | 6 |
নোয়াখালীর ভাসানচর দ্বীপে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মাঝেমধ্যেই পালিয়ে আসছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তাদের মধ্যে আবার বেশির ভাগই নারী ও শিশু। ঝুঁকি নিয়ে রাতের আঁধারে পালাতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। এরই মধ্যে পুলিশের হাতে বেশ কয়েকজন ধরা পড়েছে। আবার কক্সবাজার ক্যাম্পেও ফিরে এসেছেন অনেকে। তবে ভাসানচর থেকে এ পর্যন্ত কত রোহিঙ্গা পালিয়েছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।ভাসানচরে বর্তমানে ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। কক্সবাজারের তুলনায় উন্নত বাসস্থান আর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই এই আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু কক্সবাজার থেকে স্থানান্তরের পর থেকেই দল বেঁধে ভাসানচর ছাড়তে শুরু করেছেন রোহিঙ্গারা।ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ধারণা, সেখান থেকে পালানো রোহিঙ্গার সংখ্যা কয়েকশ। গত জুলাইয়ে সন্দ্বীপে আটক হওয়া রোহিঙ্গা তরুণী মিনিয়া ইমতিয়াজের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, 'আমাদের সঙ্গে আরও ৩০-৪০ জন ছিল। তারা কক্সবাজার পার হয়ে গেছে। বোটওয়ালা নোয়াখালীতে নামানোর কথা বলে আমাদের এখানে (সন্দ্বীপ) নামিয়ে চলে গেছে। আমরা ভাসানচর থেকে নোয়াখালীতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিজনে ৩০ হাজার টাকা করে দালালকে দিয়েছি। আমাদের পরিবারের সদস্যরা কুতুপালং ক্যাম্প থেকে বিকাশে দালালদের কাছে টাকা পাঠিয়েছিল।'ভাসানচর দ্বীপে উন্নত সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও কেন পালিয়ে আসছেন, জানতে চাইলে ওই রোহিঙ্গা তরুণী বলেন, 'পরিবার ছাড়া সেখানে থাকাটা ভীষণ কষ্টের। ভাসানচরে আমাদের অনেক সমস্যা। মা-বাবা নাই। আমরা একা ছিলাম। আমরা অনেক কষ্টে ছিলাম সেখানে। খাওয়া দাওয়ার কষ্ট ছিল।'কোন রুটে, কীভাবে পালাচ্ছেন রোহিঙ্গারাপালিয়ে আসা রোহিঙ্গা এবং ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত স্থানীয় মাছ ধরা ট্রলার বা ছোটখাট নৌযানে করেই পালানোর ঘটনা ঘটছে।কক্সবাজারে ফেরা এক নারীর বিবরণ অনুযায়ী, ভাসানচর থেকে প্রথমে লুকিয়ে মাছধরা নৌকায় তাঁরা নোয়াখালী পৌঁছান। সেখান থেকে বাসে করে চট্টগ্রাম হয়ে তাঁদের গন্তব্য ছিল কক্সবাজার। সর্বশেষ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ভাসানচর থেকে এই রুটে পালানোর সময় একাধিক গ্রুপ এরই মধ্যে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসার পথে অসংলগ্ন আচরণ দেখে স্থানীয় জনগণ রোহিঙ্গাদের ধরে সন্দ্বীপ থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।সন্দ্বীপ থানার ওসি বশির আহমেদ খান জানান, এ রকম ঘটনা প্রায় প্রতি মাসে ঘটছে। ভাসানচর থেকে বোটে করে দালালের মাধ্যমে তাঁরা চলে আসছেন। তাঁরা সবাই কক্সবাজারে ক্যাম্পে ফেরত যেতে চান। এ ছাড়া হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই বেশ কয়েকবার রোহিঙ্গাদের আটক করা হয়েছে।ভাসানচরে থেকে কেন পালাচ্ছেন রোহিঙ্গারাউন্নত সুযোগ সুবিধার কথা বলা হলেও রোহিঙ্গাদের মধ্যে এই প্রবণতা তৈরি হলো সেটি বোঝার জন্য ভাসানচরে অবস্থানরত কয়েজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। এতে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের পাচার করতে একটি দালাল চক্র তৈরি হয়ে গেছে। তারা স্থানীয় মাছ ধরা নৌকার মাঝিদের সঙ্গে যোগসাজশে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন রুটে পালাতে সহায়তা করছে। বিদেশে যাওয়ার লোভে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশ নেওয়ার নাম করে অনেক নারী-শিশুকে পাচার করে দিচ্ছে দালাল চক্র। এ পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ শর মতো এভাবে ভাসান চর ছেড়েছেন। বেশির ভাগই মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা জানান, ভাসানচর থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটা অংশ আয় রোজগার কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া অনেকে মা-বাবা পরিবার-পরিজন কক্সবাজারে থাকার কারণে সেখানে ফিরে যেতে চাচ্ছেন। আবার একটা শ্রেণি আছে যারা দ্বীপের মধ্যে নিজেদের বন্দী বলে মনে করছেন।ওই ব্যক্তি আরও জানান, কিছু লোক আছে মা-বাবা ছাড়া এখানে এসেছে। কেউ আবার বেকার, পড়াশোনা জানা কিন্তু কোনো কাজ পাচ্ছে না। এসব কারণেই তাঁরা হতাশ হয়ে পড়ছেন এবং এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।ভাসানচর থানার ওসি এবং সেখানে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরাও রোহিঙ্গাদের পালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এ পর্যন্ত কত সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়েছেন সেটি সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি।রোহিঙ্গারা যেন পালাতে না পারে, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাসানচরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট গভীর রাতে ভাসানচর থেকে নৌকায় যোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২১টি শিশুসহ ৪১ জন রোহিঙ্গা ছিল। ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার হয়। এ পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টিই শিশু।খাদ্যাভ্যাস ও শিক্ষা সংকট শিশুদেরএক রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মিয়ানমার থাকাকালীন কখনো কাঁকড়া খায়নি। কিন্তু এখানে এসে কাঁকড়া খেতে মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখান সব খাবার খেতে পারে না। বাধ্য হয়ে খেতে হয়।ভাসানচরের আরেক রোহিঙ্গা শিশু বলে, মিয়ানমার থাকতে সে স্কুলে পড়ত। এখানে সে এখন একটি মক্তবে পড়াশোনা করে। ভাসানচরে প্রায় ৪ হাজার শিশু থাকলেও ১৮০টি শিশু প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে। এদের বয়স ৫-১১ বছরের মধ্যে।বাড়ছে অপরাধ প্রবণতারোহিঙ্গা যুবকদের কাজ দেওয়ার নাম করে অনেকে তাদের দিয়ে অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড করাচ্ছে। গত মাসে সন্দ্বীপে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি এবং তাঁর সঙ্গে আরও একজন চার মাস যাবত সন্দ্বীপে বসবাস করছেন। সন্দ্বীপে হাসান নামের এক যুবক তাঁদের কাজ দেওয়ার নাম করে নিয়ে আসে। তাদের দিয়ে ইয়াবা, গাঁজা এবং অস্ত্র ব্যবসা করানো হচ্ছে। | 6 |
কুমিল্লার তিতাসে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মাহবুবুর রহমান ওরফে টারজান (২৫) উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের শাহ আলম ভূঁইয়ার ছেলে। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ওই গ্রামের পুরাতন সরকারবাড়ি মসজিদ-সংলগ্ন আজারুলের মুদির দোকানে চুরির ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দেয়। এতে তিনি আহত হন। পরে তাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের আজারুল সরকারের মুদি দোকানের চালের টিন কেটে মঙ্গলবার রাতে ভেতরে প্রবেশ করে টারজান। ওই দোকানের পাশের বাড়ির তৌফিকুল ইসলাম বিষয়টি দেখতে পেয়ে ফোনে দোকানি আজারুলকে বিষয়টি জানান। তাৎক্ষণিক আজারুলসহ কয়েকজন ছুটে এসে দোকানের সাটার খুলে প্রবেশ করে দেখেন টারজান শুয়ে আছে। এ সময় হৈ চৈ শুরু হলে এলাকাবাসী এসে টার্জানকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত টারজানকে তার পরিচিত কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার বিষয়ে জানতে বুধবার সন্ধ্যায় দোকানি আজহারুল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। জিয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আশরাফ জানান, হাসপাতাল ও থানা থেকে আমাকে ফোন করেছিল। আমি দুইজন ইউপি সদস্যকে পাঠিয়েছিলাম সেখানে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, বুধবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। আমরা এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। | 6 |
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেনআওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকালে রাজধানীর জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন স্কয়ারে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ নূর হোসেনের সংগঠন যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ১৯৮৭ সালের এই দিনেস্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেনূর হোসেন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
এই ছোট লেখাটা শুরু করেছিলাম ৩১ অক্টোবর আর শেষ করতে করতে গড়াল পয়লা নভেম্বর পর্যন্ত। সময় একটু বেশি লাগায় চোখে পড়ল এই দুদিনই অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর আর পয়লা নভেম্বর সরকারিভাবে ঘোষিত বিশেষ দিবস ছিল। বছরের অনেক দিনই সরকারের উদ্যোগে 'বিশেষ দিবস' হিসেবে পালিত হয়। এই দিবসগুলোর অনেকগুলোতেই সংবাদপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ অনেকের বিশেষ বাণী প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। সরকারি আয়োজনে অনুষ্ঠানও হয়। অন্তত কুড়ি বছর ধরে চেষ্টা করেও ৪ নভেম্বর সরকারিভাবে 'সংবিধান দিবস'-এর ঘোষণা বা মর্যাদা পাচ্ছে না। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদের ভাষায়, 'আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।' সেই সময় গণপরিষদে উপস্থিত ৩৮৬ জন সদস্য স্বহস্তে সংবিধানের মূল কপিতে স্বাক্ষর করেন। তাঁদের স্বাক্ষরসংবলিত একটা কপি শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষিত আছে। সেই কপিটিতে প্রথম স্বাক্ষর হিসেবে যে নাম লেখা আছে, সেটা শেখ মুজিবুর রহমান। ঘটনাচক্রে গতকাল ৪ নভেম্বর ছিল প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সংবিধানে বাক্স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছিল ৩৯ অনুচ্ছেদে। ওই অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা অবারিত এবং নিরঙ্কুশ। বাক্ ও সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, অপরাধে প্ররোচনা প্রভৃতির ব্যাপারে আইন প্রণয়ন করে বাক্ ও সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা সীমিত করা যাবে। এই 'সীমিত করা যাবে'-এর সুযোগ নিয়ে আইনের মাধ্যমে বাক্স্বাধীনতা এতটাই খর্ব করা হয়েছে যে এখন অনেক বিষয়ে স্তুতি বা ভীষণ প্রশংসা করা ছাড়া আর কোনো ধরনের মতপ্রকাশ করতে গেলে কেরানীগঞ্জ বা কাশিমপুরে দীর্ঘস্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রকট হয়ে যায়। সংবাদপত্রের অভিজ্ঞ সম্পাদকদের মাথায় তো চুল থাকার কথা নয়। কী ছাপানো যাবে, আর কী যাবে না, প্রতিদিন সেই দুশ্চিন্তায় তাঁদের মাথার চুল নিশ্চয়ই বিলুপ্তির পথে। আর অনেকেই ভুলতে বসেছেন যে বাক্স্বাধীনতা ছাড়া উন্নতি, গণতন্ত্র বা আইনের শাসন-কোনোটিই সত্যিকার অর্থে সম্ভব নয়। অবশ্য যাঁরা বাক্স্বাধীনতা খর্ব করেন, তাঁরা কখনোই এটা মানতে রাজি নন। ২. ১৯৭২ সালে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছিল, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতিসহ নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব চলে যায় রাষ্ট্রপতির হাতে। আর বর্তমান অবস্থা হলো রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নিয়োগ, বদলি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করবেন। অর্থাৎ, ১৯৭২ সালের সংবিধান বিচার বিভাগকে পৃথক্করণের মাধ্যমে যে স্বাধীনতার বিধান করেছিল, সেটাতে আজও আমরা ফিরে যেতে পারিনি। অর্থাৎ সরকার বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অনাগ্রহী। তাই আমাদের আইনের শাসন সীমিতই থেকে যাচ্ছে। সংবিধানে বিচারপতি নিয়োগসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে, যা এখনো হয়নি। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২(১) (গ) অনুযায়ী প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা) আইন, ২০১৮ প্রণীত হয়েছে। নিম্ন আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করবেন একমাত্র সুপ্রিম কোর্ট, এইটাই দুনিয়ার রীতি, অন্তত গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনের দেশে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগে আইন ছাড়া আর নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হলেও সরকারের হাতে রেখে যতই বলুন না কেন যে আমরা কাউকে ছাড় দেব না বা দেশে আইনের শাসন আছে, সেটাতে কাজ হবে না। শুধু মুখের কথায় গণতন্ত্র ও আইনের শাসন হয় না। বরং ঘাটতি যত বেশি, সরকারি লোকজন চেঁচায় ততটা তারস্বরে। ৩. সংবিধান ধূসর হচ্ছে বলেই চারদিকে অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা বাড়ছে। বলা বাহুল্য, মৃত্যুদণ্ড দিয়ে যাঁরা এর সমাধানের কথা ভাবেন, তাঁরা স্পষ্টতই আইন, অপরাধ, শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড প্রভৃতিসংক্রান্ত গোটা পাঁচেক বইও হয়তো পড়েননি। মনে রাখতে হবে, বাক্স্বাধীনতা যত খর্ব হবে, বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে যত বেশি পক্ষপাতিত্ব থাকবে আর শাস্তির প্রকটতা যত বাড়বে, তত বেশি সমাজটা অস্থির ও দয়ামায়াহীন হয়ে পড়বে। মানুষ এখন গণপিটুনিতে হত্যা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, মৃতদেহ পুড়িয়েও দিচ্ছে। গণধর্ষণ নিত্যনৈমিত্তিক অপরাধে পরিণত হয়ে যাচ্ছে, যদিও গণধর্ষণে মৃত্যু হলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আছে বহু বছর ধরে। একটা সভ্য, ক্রম অগ্রসরমাণ, উদার, সহনশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধানে অনেকগুলি যথার্থ বিধান আছে সেই ১৯৭২ সাল থেকে। সংবিধান প্রণীত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনায় এবং সম্ভবত একই কারণে স্বাধীনতার এক বছরের মাথায় আমরা সংবিধান পেয়েছিলাম। ভারতের লেগেছিল প্রায় ৪ বছর, আর পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন করতে লেগে গিয়েছিল ৯টি বছর। সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যাধিক্যে এটা স্পষ্ট যে সংবিধান তার গুরুত্ব হারিয়েছে, কেননা এমন ধারণা করা নিশ্চয়ই অযৌক্তিক হবে না যে বেশির ভাগ সাংসদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের স্ব স্ব ব্যাংক ব্যালান্স। একইভাবে, সংবিধানের প্রদত্ত নাগরিকের সবচেয়ে মূল্যবান রক্ষাকবচ দেওয়া আছে ৩৫ অনুচ্ছেদে। কিন্তু ফৌজদারি বিচারে রিমান্ডে আর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সবচেয়ে বেশি অবজ্ঞার শিকার হচ্ছে এই ৩৫ অনুচ্ছেদ। এভাবে অপরাধ দমানো যাবে না, অপরাধ দমাতে হলে সংবিধানের প্রতিটি অক্ষরের গুরুত্ব বুঝে তা মানতে হবে-চৌকিদার, কনস্টেবল থেকে অনেক ওপরের মহল পর্যন্ত। বহু বছর ধরে আশায় ছিলাম, এত ভালো একটা সংবিধানকে আমরা ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে উদ্যাপন করব, অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। আজকের লেখাটা হয়তো সেই ক্লান্তিরই বহিঃপ্রকাশ। ড. শাহদীন মালিক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী | 8 |
ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য খুলে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে তৈরি কারতারপুর করিডোর। আগামী ৯ নভেম্বর উদ্বোধন করা হবে করতারপুর করিডোর। এ করিডর ব্যবহারে ভারতীয় শিখদের ভিসা বহন করতে হবে না। এর মাধ্যমে পাকিস্তানে গুরু নানকের বিশ্রামস্থলে যেতে পারবেন এদেশের শিখ ধর্মালম্বী মানুুুুষ। তবে পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্সের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বুধবার জানিয়েছেন, করতারপুর করিডোর ব্যবহারে ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীদের অবশ্যই ভ্রমণের অনুমতি কিংবা পাসপোর্ট ভিত্তিক পরিচয় পত্র লাগবে। এই গুরুদ্বার পাকিস্তানে পাঞ্জাব প্রদেশের নরওয়াল জেলায় রাভি নদীর পারে অবস্থিত। ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার ভেতরে। এখানে গুরু নানক দেব ১৮ বছর কাটিয়েছিলেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
শেষ টি-টোয়েন্টিতে গতকাল সোমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ বলে রুদ্ধশ্বাস এক জয় পেয়েছে পাকিস্তান। টানা তিন জয়ে বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করেছে বাবর আজমের দল। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এবারই প্রথম হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহদের তিক্ততার রেকর্ডটাই পাকিস্তানের জন্য মধুর হয়ে এসেছে। একে তো প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই, তার ওপর ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য মধুরই বটে!কদিন আগে নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে তিন বা ততোধিক ম্যাচের সিরিজে কিউইদের নিয়ে প্রতিপক্ষকে মোট ছয়বার ধবলধোলাইয়ের স্বাদ দিয়েছে ভারত। গতকাল বাংলাদেশকে হারিয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে পাকিস্তান। এই সংস্করণে প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ সাতবার ধবলধোলাইয়ের রেকর্ড এখন পাকিস্তানের।ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়ে পাকিস্তানের প্রথম এই মিশন শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্যারিবিয়ানদের ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান। এটা সহ পাকিস্তানের কাছে সর্বোচ্চ দুবার ধবলধোলাই হয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। ২০১৮ সালে নিজেদের মাটিতে তাদের এই স্বাদ দিয়েছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের কাছে উইন্ডিজের মতো ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে আর সর্বশেষ বাংলাদেশ।এক বছরে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি তিনবার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছে পাকিস্তান। ২০১৮ সালে আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আর নিজেদের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় তারা। পাকিস্তান পেছনে ফেলা ভারত প্রতিপক্ষকে ছয়বার হোয়াইটওয়াশ করে ২০১৬-২০২১ টানা ছয় বছরে।ধবলধোলাইয়ের এই রেকর্ডে ভারতের প্রথম শিকার অস্ট্রেলিয়া। ২০১৬ সালে অজিদের তাদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। দুইবার করে ভারতের ধবলধোলাইয়ের শিকার হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড। | 12 |
টেক জায়ান্ট অ্যামাজনের ডিভাইস অ্যালেক্সার প্রথম ভারতীয় সেলেব্রিটি ভয়েস হিসেবে শোনা যাবে অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠস্বর। সোমবার অ্যামাজনের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। অ্যামাজনের সঙ্গে নতুন এই গাঁটছড়া প্রসঙ্গে প্রখ্যাত অভিনেতা বলেছেন, 'টেকনোলজি সব সময়ে আমাকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ দিয়েছে। ছবি, টিভি শো, পডকাস্ট আর এখন এই ভয়েস টেকনোলজি। এর মাধ্যমে দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আরও কাছে পৌঁছতে পারব। তাদের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ রাখতে পারব।' অ্যামাজনের এ অভিযানে অমিতাভই প্রথম নন। ২০১৯ সালে স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের সঙ্গে প্রথম জোট গড়েছিল অ্যামাজন। তবে তার স্বর শুধু আমেরিকাতেই শোনা যায়। অমিতাভের কণ্ঠে শোনা যাবে জোকস, আবহাওয়ার আপডেট, কবিতাএবং প্রেরণাদায়ক বাণী। আগামী বছর থেকে এ ফিচার পাওয়া যাবে অ্যালেক্সার ডিভাইসে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 2 |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন বেশির ভাগের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আজ সোমবার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবুল কালাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, এখানে ভর্তি ১৫ জনের মধ্যে চারজন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। একজনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাতে লাগা আগুনের ফলে একটি কনটেইনারে রাসায়নিক থাকায় রাত পৌনে ১১টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। এতে এখন পর্যন্ত ৪১ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। নিহতদের অধিকাংশের পরিচয় এখনো মেলেনি। সেই পরিচয় নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেলের সামনে চলছে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ পরিবারের ৩০ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএর নমুনা সংগ্রহে চুল, রক্ত ও লালা নেয়া হচ্ছে স্বজনদের। তবে মরদেহগুলোর পরিচয় জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১ মাস। এই সময়ে মরদেহগুলো ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে মরদেহগুলো। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 6 |
ভারতীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে যে সিইও সবচেয়ে বেশি বেতন পান তিনি কোনো ম্যানেজমেন্ট পাশ করা স্মার্ট তরুণ নন। তিনি একজন বৃদ্ধ। আর সেই বৃদ্ধের বয়স ৯৪ বছর । গত আর্থিক বছরে এই বৃদ্ধের বেতন ছিল ২১ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া এই বৃদ্ধের নাম ধর্মপাল গুলাটি। ধর্মপালকে কিন্তু আপনি নিজেও কিন্তু অনেকবার দেখেছেন। টেলিভিশনে ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে মশলার বিজ্ঞাপনে যে এক পাগড়ি পরা বৃদ্ধ বসে খাবারের গুণাগুণ বিচার করেন, তিনিই হলেন ধর্মপাল। ব্যবসার খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন পর্যন্ত, সব কিছুতেই সক্রিয় এই ধর্মপাল। এমনকি ধর্মপালের ছবি থাকে এর সব মশলার প্যাকেটেও। ভারতীয় মশলার বাজারে এখন এক নম্বর হল এভারেস্ট। তারপরেই । প্রতিদিন বিক্রি হয় কয়েকশ কোটি প্যাকেট। প্রায় ৬০টি প্রোডাক্টের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে -এর দেগ্গি মির্চ, চাট মশলা আর চানা মশলার। এর এক শতক হতে বাকি আর দু'বছর। তবে সংস্থাকে আরও কয়েক শতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার ছেলে এবং ছয় মেয়ের সঙ্গে সমান সক্রিয় ৯৪ বছরের চির তরুণ এই ধর্মপাল| সূত্র: বাংলালাইভ
বিডি-প্রতিদিন/ ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-৬ | 5 |
মাদারীপুর শহরের শান্তিনগর এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আমান সরদার (২৪) নামে এক যুবককে শনিবার দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আমানের বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আমান সরদার বৃহস্পাতবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে ধর্ষণের চেষ্টার অপমান সহ্য করতে না পেরে রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ঐ স্কুলছাত্রী। শহরের শান্তিনগর এলাকার জলিল চৌকিদারের ছেলে মাদকাশক্ত আমান একই এলাকার ঐ স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন থেকে উত্যক্ত করে আসছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্কুলছাত্রী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আমান জোরপূর্বক রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত গ্যারেজে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং মারধর করে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় চার বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উপজেলা ও পৌর শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলার ছাত্রলীগের মোহাম্মদ আবু সাঈদকে আহ্বায়ক করে ৫১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে এহসান আহমেদকে আহ্বায়ক করে ৪১ সদস্যের নবীনগর পৌর কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রলীগ।গত শনিবার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে ছয়জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. নাসির উল্লাহ, মোহাম্মদ নাজিম হোসেন, সাকিব মাহমুদ, কবির আহমেদ, মোবারক হোসেন ও আবদুল্লাহ আল তুষার।অন্যদিকে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট পৌর ছাত্রলীগের কমিটিতে আটজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সামির আহমেদ সাইদুল, সাইফুল ইসলাম সাফু, সাথিক হাসান তপু, আকরাম আহমেদ, হিমেল পিয়াস রণী, শুভ আহমেদ রাজু, তানভীর রহমান ও সোহান মিয়া।এদিকে দুটি কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর শনিবার সকালে ওই দুই কমিটির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, করোনার কারণে কমিটি দিতে এত দেরি হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হলে, এই কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।তিনি বলেন, যারা আহ্বায়ক কমিটিতে যুক্ত হতে পারেননি, তাদের আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য কমিটি উপহার দেব ইনশা আল্লাহ। এই কমিটি ভবিষ্যতে নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হাসান রুবেল বলেন, সবার সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের মতামত নিয়েই কমিটির অনুমোদন দিয়েছি। আর এই কমিটি ৯০ দিনের জন্য দেওয়া হয়েছে, এইটা আহ্বায়ক কমিটি বা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও বলতে পারেন। এরপরও কারও অসন্তোষ কিংবা ক্ষোভ থাকলে সামনে যে সম্মেলন হবে সেখানে নিশ্চয় তাঁরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে কমিটিতে আসতে পারবেন।তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন কমিটি ছিল না। তাই অনেকটা মানবিক দিক বিবেচনা করে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। | 6 |
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশ্নের উত্তর সরবরাহকারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও কাকরাইল এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার, বিপিএম (বার)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, মাহবুবা নাসরীন রুপা, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ইয়ার ডিভাইস ৬টি, মাস্টার কার্ড মোবাইল সিম হোন্ডার ৬টি, ব্যাংকের চেক ৫টি, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৭টি, স্মার্ট ফোন ১০টি, বাটন মোবাইল ৬টি, প্রবেশপত্র ১৮টি ও চলমান পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ৩ সেট জব্দ করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ সিজিএ অফিসের সরকারি কর্মকর্তা এবং মাহবুবা নাসরীন রুপা বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অধীন ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ৫৫০টি অডিটর পদে নিয়োগের জন্য শুক্রবার ৭০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, পূর্বে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া কতিপয় ব্যক্তি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল অ্যাপস এবং ব্যক্তি পরিবর্তন করে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, উত্তর/সমাধান সরবরাহসহ অসদুপায় অবলম্বন করতে পারে। তিনি বলেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ কাকরাইলে অবস্থিত নিউ শাহিন হোটেল থেকে অসাধু উপায় অবলম্বনকারী দুইজন পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যমতে কাফরুল থানার সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ডিভাইস, প্রশ্নপত্র এবং উত্তর পত্রের খসড়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি পুলিশের অপর দল বিজিপ্রেস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী এবং অন্যতম পরিকল্পনাকারী মাহবুবা নাসরীন রুপাকে নগদ টাকা, ডিজিটাল ডিভাইসসহ গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে অপর আসামিদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ, নাহিদ হাসান, আল আমিন সিদ্দিকী ইতোপূর্বেও প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ২০১৩, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে গ্রেফতার হয়েছিল। গ্রেফতার ব্যক্তিরা অন্যদের যোগসাজশে বিভিন্ন সোশ্যাল অ্যাপস ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা হল থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে। হলের বাইরে ওয়ানস্টপ সমাধান কেন্দ্র বসিয়ে স্মার্ট ওয়াচ, ইয়ার ডিভাইস, মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে উত্তর সরবরাহ করার কাজ করে থাকে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা ইতোপূর্বে বিভিন্ন ব্যাংক, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধিদফতর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন, হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়, জ্বালানি অধিদফতর, সমবায় অধিদফতর, খাদ্য অধিদফতর, সাধারণ বীমা করপোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উত্তরপত্র সরবরাহ করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের স্বীকার করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সূত্র : ডিএমপি নিউজ | 6 |
নেইমার এখন আকাশে উড়ছেন। বাস্তবে হয় তো না, তবে অনুভূতি অনেকটাই তেমন। ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রথম দুই ম্যাচেই জিতেছে ব্রাজিল। পেরুর বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন, দেশের হয়ে গোলের হিসেবে ছাপিয়েও গেছেন রোনালদোকে। এই রোনালদোই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, আকাশে উড়তে। এদিকে নেইমারকে আকাশ থেকে মাটিতে নামানোর চেষ্টা করছেন বেরসিক পেরু ডিফেন্ডার কার্লোস জামব্রানো। গত কোপা আমেরিকা ফাইনালে পেরুর মুখোমুখি হয়ে জিতেছিল ব্রাজিল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আবারও ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে হারল পেরু। শুধু কী হার, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পেরুর কার্লোস কাসেদা ও জামব্রানো। ব্রাজিলের স্ট্রাইকার রিচার্লিসনকে কনুই মেরেই শাস্তি জামব্রানোর, কাসেদা লাল কার্ড দেখেন রেফারির সঙ্গে তর্ক করে। বোকা জুনিয়র্সের এ ডিফেন্ডার নেইমারের ফুটবল প্রতিভা মেনে নিলেও তাঁকে স্রেফ ধুয়ে দিয়েছেন। টিভি অনুষ্ঠান 'লা বান্দা দেল চিনো'তে জামব্রানো বলেন, 'সত্যি বলতে নেইমার অসাধারণ ফুটবলার। বিশ্বের অন্যতম সেরা। তবে আমি মনে করি সে বিরাট ভাঁড়। গত বিশ্বকাপ ফুটবলেই কথা উঠেছিল, মাঠে নেইমার ফাউলের খোঁজ করে থাকেন। মানে, প্রতিপক্ষ তিল পরিমাণ ফাউল করলে শরীরী অঙ্গভঙ্গি দিয়ে সেটা তাল বানিয়ে ফেলেন-এমন অভিযোগ তখন উঠেছিল। জামব্রানোর ইঙ্গিত সেদিকেই, 'মাঠে নিজের খেলা নিয়ে সচেতন থাকে নেইমার। সে খুব ভালো ফুটবলার তবে ন্যূনতম ফাউলেরও খোঁজ করে থাকে।' ব্রাজিল-পেরু ম্যাচের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'পেনাল্টি পেতে সে বক্সে অন্তত চার-পাঁচবার ইচ্ছে করেই পড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত দুটো পেনাল্টিতে গোলও তুলে নিয়েছে। যদিও তা (পেনাল্টি) ছিল না।' পেরুর বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। জামব্রানো মনে করেন, দলটার নাম ব্রাজিল বলেই সেই ম্যাচে অফিশিয়ালরা কারণে-অকারণে ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, 'এটা ব্রাজিল, অফিশিয়ালরা তাই (ফাউলের পর) তাৎক্ষণিকভাবে ভিএআর-এর সাহায্য নেন। খেলা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক যাই হোক না কেন, অফিশিয়ালরা ফুটেজগুলো পর্যলোচনা করেছেন, কারণ এটা ব্রাজিল।' জামব্রানো নেইমারের সমালোচনা করলেও ব্রাজিলিয়ান তারকা কিন্তু বেশ ভালোই প্রশংসিত হচ্ছেন দেশের হয়ে হ্যাট্রটিকের পর। ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা (৬৪)। এ পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন রোনালদোকে (৬২)। ৭৭ গোল নিয়ে শীর্ষে পেলে। | 12 |
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ছুটির ফাঁদে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ৫ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন বন্দরে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগের দিন ৪ অক্টোবর শুক্রবার হওয়ায় টানা পাঁচ দিন বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ৫ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা চার দিন পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। আগের দিন, অর্থাৎ ৪ অক্টোবর শুক্রবার হওয়ায় সেদিনও ছুটি থাকবে। ছুটি শেষে ৯ অক্টোবর থেকে যথারীতি আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে। তবে আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের বৈধ যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে। মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন বা গান্ধীজয়ন্তী উপলক্ষে আজ বুধবারও আখাউড়া স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার যথারীতি বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। | 0 |
সাভারে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেলিম পালোয়ান (২৮) নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এঘটনায় এখনো পলাতক রয়েছে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি কিশোর গ্যাং সদস্য মিজানুর রহমান। সেলিম পালোয়ান সাভার পৌরসভার পালপাড়া এলাকার হাফেজ পালোয়ানের ছেলে। বুধবার সকালে মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আটক করা হয় তাকে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সময় সেলিম পালোয়ান সরাসরি মিজানুর রহমানের সাথে স্কুল ছাত্রীকে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্যদের সন্ধানে অভিযান চলছে। আজ দুপুরে আটক আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন দক্ষিণ সুদানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাশার। তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা টেনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। টেনি দেশটির একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খবর রয়টার্সের। সোমবার (১৮ মে) তার কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মন্ত্রীর কার্যালয়ের 'একাধিক স্টাফ ও দেহরক্ষীর' কোভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ এসেছে। মার্শার টেলিভিশন বার্তায় বলেছেন, নিজের বাসায় ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকবেন তিনি। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ৩৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত ও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী জুবার একটি ক্যাম্পের বাইরে দুজনের কোভিড-১৯ হয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে হাজার হাজার লোক থাকায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো করোনা মহামারির বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও নিয়মিত হাত ধোয়া সেখানে কঠিন বলে জানায় তারা। | 3 |
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিঝুম দ্বীপ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন নোয়াখালী-৬ আসনের সাংসদ আয়েশা ফেরদাউশ। রাত্রিযাপনের জন্য উঠেছিলেন ঈশিতা ইকো রিসোর্টে। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন রিসোর্টের সামনে। এক এক করে সবাই বিদায় নেওয়ার পর বনের একটি হরিণ এসে দাঁড়াল রিসোর্টের প্রধান ফটকে। তা শুনে সাংসদ নিজেই এসে দাঁড়ান রিসোর্টের নিচে। সাংসদকে দেখে হরিণটি এগিয়ে এসে ঠিক তাঁর সামনে দাঁড়ায়। আবেগ আপ্লুত হয়ে হরিণটির গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন আয়েশা ফেরদাউশ। এরপর বাজার থেকে চিপস কিনে খাইয়ে সেটিকে বিদায় দেন।এ সময় পাশে থাকা নেতা-কর্মীদের অনেকে এই ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেন। যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। আজ রোববার সকালে ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংসদের আসার সংবাদ পেয়ে অনেক লোকের ভিড় হয় রিসোর্টের সামনে। স্বাভাবিকভাবে লোকজনের সমাগম থাকলে সেখানে হরিণের উপস্থিতি থাকে না। কিন্তু আজকের ঘটনাটি ব্যতিক্রম। অনেক লোকের মধ্যেও হরিণটি রিসোর্টের প্রধান ফটকে এসে দাঁড়াল। এ সময় পরিবার নিয়ে রিসোর্টে অবস্থান নেন আয়েশা ফেরদাউশ। সাংসদ হরিণটি দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।এ ব্যাপারে আয়েশা ফেরদাউশ বলেন, 'নিঝুম দ্বীপ একমাত্র জায়গা যেখানে বনের হরিণকে একেবারে কাছে থেকে দেখা যায়। হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়। এই দ্বীপে বনের মধ্যে অসংখ্য হরিণ রয়েছে। মাঝেমধ্যে কিছু হরিণ লোকালয়ে চলে আসে। এর মধ্যে একটি হরিণ আমাদের রিসোর্টের সামনে চলে আসে। পরিবারের লোকজনসহ আমরা হরিণটির সাথে কিছু সময় কাটিয়েছি।'ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আফছার দিনাজ জানান, গত শুক্রবার সকালে নিঝুম দ্বীপ সফরে আসেন হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী, সাংসদ আয়েশা ফেরদাউশ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী। আগামী কয়েক দিন তাঁরা নিঝুম দ্বীপে অবস্থান করবেন। অবস্থানকালে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি মতবিনিময় সভায় তাঁদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। | 6 |
পীরগাছায় দিন দিন বেড়েই চলছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার উপজেলা শহরে কয়েক শ মানুষ সাহায্যের আশায় ভিড় করছেন।সরকারিভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম থাকলেও পীরগাছায় এ কর্মসূচি চোখে পড়েনি। ভিক্ষুকেরা প্রতিদিনই হাটবাজারগুলোতে জড়ো হচ্ছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও বাজারে প্রতিদিন ভিক্ষা করতে আসেন নানা বয়সী নারী-পুরুষ। তাঁরা অন্যান্য দিনের চেয়ে শুক্রবার পীরগাছা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশাপাশি পারুল ইউনিয়নের দেউতি, কৈকুড়ী ইউনিয়নের চৌধুরাণী বাজার, তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ভোলানাথ ও নেকমামুদ বাজার, ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানাহাট এবং অন্নদানগর ইউনিয়নের বাজার জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদের সামনে ভিড় করছেন।কোনো মুসল্লি নামাজ শেষে বের হলেই তাঁর দিকে ছুটে যান সাহায্যপ্রার্থীরা। গুটিকয়েক মুসল্লি ভিক্ষা দিলেও বিড়ম্বনায় পড়ছেন অন্য মুসল্লিরা।কথা হয় মর্জিনা বেগম নামে এক ভিক্ষুকের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'স্বামী নেই। সন্তানেরা খাবার দেয় না। তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করি। সরকার বয়স্ক এবং বিধবা ভাতা দিলেও ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর দেওয়ায় আমাদের ভিক্ষা করতে হচ্ছে।'আরেক ভিক্ষুক জরিনা বেগম জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা করে দুপুরে মসজিদের সামনে আসেন। সব মিলিয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা সংগ্রহ হলেই চলে যান।পাওটানা হাটের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও মাসুদ রানা বলেন, আশপাশের উপজেলা থেকেও ভিক্ষুকেরা পীরগাছায় আসছেন। আগে যেখানে সারা দিনে দোকানে ১০ জনের মতো সাহায্য নিতে আসতেন, এখন তা ৩০ জনে পৌঁছেছে। তাঁরা এমন অনুনয়-বিনয় করছেন যে ভিক্ষা না দিয়ে পারছেন না। আবার লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকায় অনেকেই ভিক্ষা দিচ্ছেন না। ফলে তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, 'এ রকম কোনো প্রকল্প চালু আছে কি না, জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। ভিক্ষুক পুনর্বাসনে সরকারি নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মজনুকে সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মজনুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিতে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তাকে হাজির করে এ রিমান্ড চাওয়া হয় ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বুধবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে মজনুকে রাজধানীর শ্যাওড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার তরুণীর বাবা গত সোমবার ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুর্মিটোলা নামার পর তাকে ফুটপাতের ঝোপে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় বান্ধবীর বাসায় যান। সেখান থেকে বান্ধবীসহ অন্য সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। | 6 |
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বিভিন্ন হাওরে অবাধে চলছে কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে মৎস্য নিধন। এতে নষ্ট হচ্ছে হাওরের বাস্তুতন্ত্র। ব্যাহত হচ্ছে অনেক দেশি মাছের প্রজনন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন নিষিদ্ধ জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরছেন জেলেরা। কিন্তু নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ নিধন রোধে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে জেলা মৎস্য অফিস বলছে, প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের শাস্তি দিচ্ছেন। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার একাধিক হাওর ঘুরে দেখা গেছে, পানিতে জেলে ও মৌসুমি জেলেরা কারেন্ট জাল, চায়না দোয়ারি (ম্যাজিক জাল) ও ভীম জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরছেন। এ সব জালের ব্যবহার চরমভাবেক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ। নষ্ট হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। ব্যাহত হচ্ছে দেশীয় মাছসহ জলাশয়ে থাকা অন্যান্য প্রাণীদের প্রজনন। তাই সরকারিভাবে এসব জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ।স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তাই বেশি মাছের জন্য বাধ্য হয়ে এসব জাল ব্যবহার করছেন তাঁরা। অন্যদিকে মৌসুমি জেলেরা বলছেন, এখন বোরো ধান কাটা শেষ। বাড়িতে অলস বসে না থেকে তাঁরা জাল নিয়ে হাওরে যান। এতে পরিবারের খাবারের পাশাপাশি, মাছ বিক্রি করে কিছুটা আয়ও হয়। অনেকে জানেন না এসব জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।জেলে কামাল মিয়া (২৮) বলেন, 'কি করমু কন্ কাজ করে তো খেতে হবে। যেটা দিয়ে সহজে বেশি মাছ ধরন যায়, সেইটাই করি। ম্যাজিক জাল নিষেধ হইলে কারখানা বন্ধ করলেই তো আমরা পাই না। যারা জাল তৈরি করে হেরারে আগে ধরুক।'মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমি মাসিক সমন্বয় সভায় কথা বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব নিষিদ্ধ জাল জব্দ করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'এ নিয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিপন কুমার পাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে আমরা প্রশিক্ষণ ও নানামুখী প্রচার করছি। বিশেষ সময়ে জেলেদের জীবিকার জন্য প্রণোদনা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জেলে ও সাধারণ মানুষ মিলেমিশে সচেতন হতে হবে। প্রশাসন বিভিন্ন স্থানেভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের শাস্তি দিচ্ছেন। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। | 6 |
নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:বরিশাল: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কোতোয়ালি বিএনপির নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবের হাট বাজারে বেলা ১১টায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন। কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চুর সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান নান্টু, জেলা বিএনপির সদস্য নাজিম উদ্দিন পান্না, কোতোয়ালি বিএনপির সহসভাপতি নুরুল আমিন প্রমুখ।মুলাদী: তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মুলাদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সকাল ১০টায় উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে মুলাদী পৌরসভার সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। পরে বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছত্তার খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুলাদী পৌর বিএনপির সভাপতি আ. রব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান শরীফ প্রমুখ।বাবুগঞ্জ: গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার রহমতপুর বাজার থেকে মিছিল বের করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। এর নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম প্রিন্স। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন সাত মাইল বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা বিএনপির সভাপতি কচি তালুকদারের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। সমাবেশে বক্তৃতা দেন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক ফকির, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল সরদার প্রমুখ।হিজলা: শনিবার সকাল ৮টায় বিএনপির ৩টি গ্রুপ আলাদা আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে। উপজেলা সদর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন অপু চৌধুরী, আলী আহমেদ হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলম রাজু, যুবদলের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন খোকন। অপরদিকে বরজালিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর বাজারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল গাফফার তালুকদারের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এ ছাড়া বরজালিয়া ইউনিয়নের খুন্না বাজার সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন উপজেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মো. মনির হোসেন।বানারীপাড়া: শনিবার সকাল ১০টায় বানারীপাড়া বন্দর বাজার বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করা হয়। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ আলম মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা প্রমুখ। অপরদিকে একই দাবিতে বিএনপির আরেক গ্রুপ সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহামুদ মাহাবুবের নেতৃত্বে বন্দর বাজারে মিছিল করেন। মিছিলের এক পর্যায় বানারীপাড়া থানা-পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।উজিরপুর: শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলা বিএনপির স্থায়ী কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজেদ তালুকদার মন্নানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন খান, সহসভাপতি মো. আলাউদ্দিন প্রমুখ। | 6 |
ব্রাহ্মণপাড়ায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত বাংলামতি ধান-৫০-এর ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর দক্ষিণপাড়া ব্লকে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।মাঠ দিবসে দুলালপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলামের জমিতে উৎপাদিত বাংলামতি ধান-৫০ কেটে পরিমাপ করে জানানো হয় প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধানে সাত টন ফলন হয়েছে।মাঠ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুবুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোসা. নাঈমা হক আঁখি।এতে স্থানীয় কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম, শানু মিয়া, রফিকুল ইসলাম, আক্তার হোসেন, হোসেন মিয়া, এনামুল হকসহ এলাকার কৃষক-কিষানিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা এই ধানের চাষ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। | 6 |
মুষ্টিমেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, দরপত্র এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট কোনো ঠিকাদার বা বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ না পায়। নতুন ঠিকাদার যাতে কাজ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। এক ঠিকাদারের একাধিক কাজ পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের অনেক প্রকল্পে বিশেষত নির্মাণ প্রকল্পে দেরি হয়ে যায়। এই দেরির একটা কারণ হলো এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেকগুলো কাজ পেয়ে থাকে। মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কে কতগুলো কাজ পেয়েছে, কাজ সময়মতো শেষ করেছে কি না, কোন সময় শেষ করেছে-এসবের একটা তালিকা সব মন্ত্রণালয় তৈরি করবে এবং তা প্রকাশ করতে হবে। চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবে। এর দুটি উদ্দেশ্য; একটা হলো আমাদের নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে নির্মাণ কাজের জন্য, মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত থাকব না। দ্বিতীয়ত সময়মতো আমাদের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সড়কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব আরো বলেন, রাস্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাস্তাকে টেকসই এবং ভালো রাখার জন্য রাস্তার পাশে জলাধার কিংবা বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। বিশেষত হাইওয়ের পাশে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষত যারা লং ড্রাইভ করেন বা দীর্ঘসময় ধরে রাস্তায় থাকেন তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের 'খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ' প্রকল্পেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে যারা জলবায়ু উদ্বাস্তু কিংবা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করতে হবে। তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওখানে যে আবাসন তৈরি হয়েছে, সেই আবাসনে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। তালিকাভুক্তদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এমনও হতে পারে সরকারি আবাসন তৈরি হয়েছে দেখে অন্যান্য জায়গা থেকে লোকজন এসে সেখানে আবাসনের জন্য চেষ্টা করতে পারে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের 'আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (২য় পর্যায়)' প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব বলেন, আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, অন্যান্য রেজিস্ট্রেশন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ করছে। এটার যেন একটা সমন্বিত কাঠামো দাঁড়ায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটা নিয়ে কাজ করছে। এনআইডি রেজিস্ট্রেশন, সবার আইডেন্টিটি যেন থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ভোটার তালিকা নয়। যেখানে এ কাজটা সমন্বিত হয়, সবার জন্য সুবিধার হয় এবং কার্যকরভাবে করা যায়, সেরকম একটা প্রতিষ্ঠানে এটা ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন। ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, করোনা ভ্যাকসিনের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমনন্ত্রী। এক্ষেত্রে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, শুধু ভ্যাকসিন সংগ্রহই নয়, এর যথাযথ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে এবং বেশি পরিমাণ মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। যাতে সঠিকভাবে পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রয়োগ করা যায়। এজন্য যারা ভাকসিন প্রয়োগ করবেন তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়া ভ্যাকসিনের কারণে যেসব বর্জ্য উৎপাদন হবে (তুলা, সিরিঞ্জ ইত্যাদি) সেগুলো যথাযথভাবে অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে। কেননা এটি একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসের ভ্যাকসিন। এভাবেই করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলা করতে হবে। | 6 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে এটা প্রমাণ হয়ে গেছে, যেটা আমরা বরাবরই বলে আসছি যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িতে নিজ বাসার সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, এখন নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নাই। কয়েকদিন ধরে দেখছি, আমাদের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা হয়েছে। সারাদেশে প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ প্রশ্রয়ে এসব কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে কিছুদিন আগে যখন এসেছিলাম তখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ মোটামুটি ভালো ছিল। গতকাল রাতে আসার পর দেখি, প্রকাশ্যে বড় বড় রামদা নিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ আছে, তাদের সঙ্গে পুলিশের লোকজনও থাকছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রশাসন প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে মিটিং করে বলেছে, সরকারের বিপক্ষে কোনো কাজ করা যাবে না। বিরোধীদল মাঠে প্রচার-প্রচারণা করতে নামতে পারছে না। আমার নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওকে আওয়ামী লীগ টার্গেট করে নেমেছে। আওয়ামী লীগের এমপি রমেশ বাহিনী নিজেদের কাপড়ের অফিস পুড়িয়ে দিয়ে বিএনপির ওপর অভিযোগ দিচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটা সাম্প্রদায়িক বিষয় আনার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, গতকালও ঠাকুরগাঁওয়ে আমার স্ত্রী ও মেয়ের ওপর হামলা হয়েছে। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করবো। কারণ আমরা দেখিয়ে দিতে চাই যে, এই দেশে দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এ সময় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলমসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার উদ্দেশ্য সৈয়দপুর বিমান বন্দরের পথে রওনা হন। | 6 |
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (অপারেশন) সাঈদ তারিকুল হাসান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাঈদ তারিকুল হাসান বান্দরবানে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি মা, স্ত্রী আজুবা সুলতানা, দুই কন্যা তাসনিয়া আনজুম ও ওয়াদিয়া আরওয়া, এক ভাই, এক বোনসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সাঈদ তারিকুল হাসান ১৯৭৫ সালের ২৭ নভেম্বর দিনাজপুর সদর থানাধীন মুদিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্লানিং, ইউএন অ্যাফেয়ার্স, কমিউনিটি পুলিশিং এবং সর্বশেষ অপারেশন্স উইংয়ের এআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করা সাঈদ পেশাগত কৃতিত্ব ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পদকে ভূষিত হন। চারবার আইজিপি ব্যাজ পেয়েছেন তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। | 6 |
মুসলিম নারীদের ছবি দিয়ে তাদের 'বিক্রি' করা হচ্ছে, এমন বিজ্ঞাপন দেয়া 'বুল্লি বাই' অ্যাপ বন্ধের পর এবার এর নির্মাতাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতের আসাম থেকে নীরাজ বিষ্ণোই নামের ওই অভিযুক্ত অ্যাপ নির্মাতাকে গ্রেফতার করা হয়। যতিও ওই নির্মাতা কোনো ভুল করেননি বলে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। খবর এনডিটিভির। জানা গেছে, অ্যাপটির ডেভেলপার এবং যিনি এর টুইটার হ্যান্ডেলে ছবি ও বিষয়বস্তু শেয়ারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। বুল্লি বাই নামে এই অ্যাপটি একটি ওপেন সোর্স অ্যাপ, যা গিটহাব নামে একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অপারেট করত। মামলা হওয়ার পর গিটহাব কর্তৃপক্ষ এর কন্টেন্ট নামিয়ে দিয়েছে। গত কয়েক মাসের মধ্যে ভারতে মুসলমান নারীদের অনলাইনে 'নিলাম' বা 'বিক্রি'র মত হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। জানা যায়, বিষ্ণোই ভোপালের একটি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাকে দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে এ মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগের তিনজনকে মুম্বাই পুলিশের সাইবার টিম গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন মৈনাক রাওয়াল (২১) শ্বেতা সিং (১৯) এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র বিশাল কুমার। মুম্বাই পুলিশ বলছে, শ্বেতা সিং এ চক্রের মূলহোতা। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার আরও পাঁচ আসামির পৃথক দুটি আপিল নামঞ্জুর করে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রেখেছেন সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গত বুধবার সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এই আদেশ দেন।আপিল করা সাজাপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন জাবিদ রায়হান লাকী, আলতাফ হোসেন, সাহেব আলী, টাইগার খোকন ওরফে বেড়ে খোকন ও ট্রলি সাইফুল। আইনজীবী সূত্র জানায়, এই পাঁচজনের মধ্যে জাবিদ রায়হান লাকী একটি ক্রিমিনাল আপিল (নম্বর ৪৯/২১) এবং বাকি চারজন অপর ক্রিমিনাল আপিলটি (নম্বর ৪২/২১) করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। শুনানি শেষে আদালত বুধবার আদেশে আপিল দুটি নামঞ্জুর করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট কলারোয়ায় ধর্ষণের শিকার একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর ১২টার দিকে তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে যশোর যাওয়ার পথে কলারোয়া বাজারে বিএনপি অফিসের সামনে তাঁর গাড়িবহরে হামলা হয়। এ ঘটনায় ১৯ বছর আগে করা মামলার রায় হয় চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি। রায়ে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত মামলার ৫০ জন আসামির সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। | 6 |
ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাইদ আল সাইদের মৃত্যুতে ওমান দূতাবাসে গিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান ভোরের কাগজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। শায়রুল বলেন, ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাইদ আল সাইদের মৃত্যুতে ওমান দূতাবাসে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় মহা-সচিব শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি'র নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা খান ও ওমানের রাষ্ট্র দুত উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি। | 6 |
মহামারী করোনার ভয়াল তাণ্ডবে বিপর্যস্ত বিশ্ব। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা ইতালির। দেশটিতে এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৮২০ জনের। বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ইতালিতেই সবচেয়ে বেশি। রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দেশটির চিকিৎসক ও নার্সরা। সেবা দিতে গিয়ে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। মৃত্যুও হয়েছে অনেক ডাক্তার-নার্সের। তবে এবার রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক নার্স যা করলেন সেটা অকল্পনীয়। ডেনিয়েলা ট্রেজি (৩৪) নামের ঐ নার্স ইতালির সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত এলাকা লোম্বার্দি অঞ্চলের একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময় থেকে তিনি একেবারে সামনে থেকে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
ভিক্টর গোমেজের সঙ্গে আমার জানাশোনা অনেক দিনের। তিনি কাজ করতেন ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ বা সিসিডিবি নামের একটি এনজিওতে। ভিক্টর একদিন অফিসে এসে আমাকে গ্রিন রোডের একটি বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলেন। যাব যাব করে বিচ্ছিরি ফরমায়েশি কাজে আটকে গেলাম সেদিন। গেলাম পরের দিন। বাড়ির নিচতলার এক ফ্ল্যাটে গিয়ে কলবেল বাজাতেই মাঝবয়সী এক নারী এসে দরজা খুলে দিলেন। ভিক্টরের সঙ্গে আমাকে দেখে ড্রয়িংরুমে বসতে বললেন। মনে হলো, আমার আসার কথা বাড়ির লোকেরা আগে থেকেই জানতেন।একটু পর ড্রয়িংরুমে এলেন এক বয়স্ক নারী। ভিক্টর পরিচয় করিয়ে দিলেন, 'উনি থ্যালমা গোমেজ'। তাঁর বাম হাতে ধরা নীল রঙের একটি চিঠির খাম। খামটি আমার হাতে দিতে দিতে বললেন, 'এই চিঠি আমার জীবনটাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। সাত দিন ধরে খেতে ও ঘুমাতে পারছি না। আমার ছেলেমেয়েরা বিদেশে, তারাও অস্থির।'চিঠিটা হাতে নিয়ে দেখি বিদেশ থেকে আসা। খামের ওপরে প্রেরকের ঠিকানা বলতে লেখা, হিলি গোমেজ, লন্ডন। প্রাপকের নামের জায়গায় 'থ্যালমা গোমেজ, হাসনাবাদ, নবাবগঞ্জ, খালপাড়, ঢাকা' লেখা। খামের ওপরে ডান দিকে বাহরাইনের ডাকটিকিট লাগানো। ভেতরে হ্যাট পরা এক বৃদ্ধের পোস্টকার্ড সাইজের রঙিন ছবি, ছবির উল্টো দিকে 'হিলি গোমেজ' নাম সই করা। তার পাশে থ্যালমা গোমেজের নাম। বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা, 'আমি তোমাকে ভুলিনি, আমি ফিরে এসেছি, আজ জীবিত থাকলেও নেই।' আরেক পাশে ছোট করে চারটি নাম লেখা-শান্তি, দিলীপ, বাদল ও করুণা।স্ত্রী-সন্তানদেরও মিথ্যা বলতেন হান্নানছবিটা হাতে নিয়ে বৃদ্ধার কাছে জানতে চাইলাম, উনি কে। আমার মুখের কথা শেষ না হতেই বৃদ্ধা বললেন, আমার স্বামী। ৪৩ বছর আগে এক ব্রিটিশ জাহাজসমেত নিখোঁজ হন জাপানের কোনো এক বন্দর থেকে। এত বছরেও তাঁর কোনো খোঁজ ছিল না। কয়েক দিন আগে এই চিঠি এসেছে। আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, এই ছবি দেখে চিনতে পারলেন? জবাব তৈরিই ছিল। বললেন, ঠোঁট ও কানের লতি দেখে চিনেছি। পাশে অন্য চারটি নাম কার? 'এগুলো আমার ছেলেমেয়ের নাম।' আমার সামনে সোফায় বসা ভিক্টর এসব শুনতে শুনতে বললেন, চিঠিটা আসার পর পুরো পরিবার আনন্দ-বেদনায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তারা এখন কী করবে বুঝতে পারছে না।থ্যালমা বললেন, চিঠিটা ২২ জানুয়ারি (২০০০ সাল) নবাবগঞ্জের ঠিকানায় এসেছে। এরপর তিনি চিঠিটি নিয়ে গ্রিন রোডে মেয়ের বাসায় আসেন। এটা তাঁর ছোট মেয়ে করুণার বাসা। থ্যালমা বললেন, চিঠি পাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছে, এত দিন নিখোঁজ লোকটি বেঁচে আছেন, হয়তো তাঁর কোনো বন্ধু বাহরাইন থেকে চিঠিটা ডাকে ছেড়ে দিয়েছেন। এটুকু বলতেই তাঁর গলা ধরে আসে।সিমিকে কী জবাব দেবেন সুইডেন আসলামআমি থ্যালমার মুখের দিকে তাকাই। তাঁর চোখে দুকূল ভাসানো ভালোবাসা। বয়সের ভারে চামড়া ভেতরে আশ্রয় নেওয়া চোখের নিচে বিন্দু বিন্দু পানি। এই অবস্থায় কাউকে প্রশ্ন করা সহজ নয়। তবু কীভাবে শুরু করব, ভাবতে ভাবতে বললাম, গোমেজ সাহেব কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন? প্রশ্নটা ছুড়ে দিয়েই মনে হলো, মাটিতে ঠিক কোপটি পড়েছে। রোদ পেয়ে অমনি দলে দলে বেরিয়ে আসছে পুরোনো সব স্মৃতি।থ্যালমা বলতে শুরু করলেন। নবাবগঞ্জের হাসনাবাদ খালপাড়ের যে গ্রামে তাঁরা থাকতেন, ৪৪ বছর আগে সে গ্রাম থেকে বেরিয়েছিলেন দুরন্ত যুবক হিলি গোমেজ। পেশায় জাহাজের নাবিক। ঘুরে বেড়াতেন বন্দর থেকে বন্দরে। সাগরে বেড়ানোর নেশা তাঁকে পেয়ে বসেছিল কৈশোর থেকেই। সে কারণে শখ করে জাহাজে চাকরি নিয়েছিলেন।স্বামী-স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে তাঁদের সুখের সংসার। বড় মেয়ে শান্তির বয়স তখন ১০। দ্বিতীয় ছেলে দিলীপ ৬, আর বাদল ৪ বছর। ছোট মেয়ে করুণার জন্ম ১৯৫৬ সালের মে মাসে।হিলি গোমেজ তখন ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বুলার্ড কিং অ্যান্ড কোম্পানির একটি জাহাজে চাকরি করতেন। আমটাটা, আমটালি, আমব্রেলা ও আমবার্ড নামে চারটি জাহাজ ছিল এই কোম্পানির। হিলি গোমেজ জাহাজে থাকা অবস্থায় জানতে পারেন করুণার জন্মের খবর। খবর শুনে তাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন বাবা। কোম্পানির জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এলে ক্যাপ্টেনকে না বলেই সোজা হাসনাবাদের বাড়িতে চলে আসেন তিনি।চড়া উত্তেজনার নিরুত্তাপ সমাপ্তি১৯৫৬ সালের ১৬ জুন রাতে স্টিমারযোগে মইনট ঘাট (বর্তমানে বিলুপ্ত) হয়ে বাড়িতে আসেন হিলি গোমেজ। বাড়িতে এসে মেয়েকে একনজর দেখে সে রাতেই আবার চলে যান। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তাঁদের জাহাজ যায় করাচি বন্দরে, সেখান থেকে জাপানে। জাপানের কোনো এক বন্দর থেকে জাহাজটি ছাড়ার ৮ দিন পর সেটি নিখোঁজ হয়।থ্যালমা সেই ঘটনা জানতে পারেন দেড় মাস পর। জাহাজ কর্তৃপক্ষ তাঁর বাসায় চিঠি দিয়ে জানায়, বন্দর থেকে ছাড়ার পর জাহাজটি নিখোঁজ হয়। ক্রুসহ জাহাজে লোক ছিলেন ২৮৪ জন। দুর্ঘটনায় পড়ার আগে জাহাজ থেকে 'এসওএস' বার্তা পাওয়ার পর কাছের বন্দর থেকে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু জাহাজের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।চিঠিতে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছিল, বিশাল আয়তনের এই জাহাজ ডুবতে কমপক্ষে ১২ দিন লাগার কথা। কিন্তু তারা জাহাজটির কাউকেই খুঁজে পায়নি। এই জাহাজে কাজ করতেন তাঁদের গ্রামের আরেক যুবক সনাতন। শেষ মুহূর্তে ডাক্তারি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাঁকে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ফিরে এসে জানান, জাহাজটি বন্দর ছেড়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে ক্যাপ্টেন জাহাজ পরিদর্শনে এসে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল দেখে অসম্মতি জানান। তিনি বলেন, এ জাহাজের মালামাল না কমালে গভীর সাগরে ডুবে যেতে পারে। কিন্তু জাহাজ কর্তৃপক্ষ তাঁর কথা না শুনে নতুন ক্যাপ্টেন নিয়োগ করেন। জাহাজের প্রথম ক্যাপ্টেন সে সময় হিলিকে এ জাহাজে যেতে নিষেধ করেন, কিন্তু হিলি তাঁর কথা শোনেননি।রঙিন জীবন অন্ধকারেই শেষথ্যালমা বললেন, এ ঘটনা ১৯৫৬ সালের। এরপর দীর্ঘ সময় জাহাজ ও নাবিকদের আর কোনো খোঁজ তিনি পাননি। সর্বশেষ করাচি বন্দর থেকে হিলি তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন। জাহাজে চাকরি করার সময় কোম্পানি প্রতি মাসে ৭০ টাকা করে তাঁদের বাড়ির ঠিকানায় পাঠাত। হিলি নিখোঁজ হওয়ার তিন মাস পর তা-ও বন্ধ হয়ে যায়।থ্যালমা বলেন, হিলি নিখোঁজ হওয়ার পর চার সন্তান নিয়ে পানিতে পড়েন তিনি। অভাব-অনটন তখন নিত্যসঙ্গী। খরচ চালাতে না পেরে দুই সন্তান শান্তি ও দিলীপকে অনাথ আশ্রমে পাঠান। একজন মিশনারি ফাদার তাঁদের দেখাশোনা করেন। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন, কিন্তু কোম্পানি তাঁকে জানিয়ে দেয়, যুদ্ধে জাহাজ বিধ্বস্ত না হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান নেই। এভাবে দিন চলে যায়।রাষ্ট্রের মদদেই তাঁর উত্থান নিজের দোষে পতনথ্যালমার অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হতে হতে চার সন্তান বড় হয়। বড় ছেলে দিলীপ আমেরিকায় ভালো চাকরি করেন। বাদল চাকরি করেন ওমানের মাসকট বিমানবন্দরে। বড় মেয়ে শান্তি স্বামীর সঙ্গে মুম্বাইবাসী। সেদিনের এক মাসের কন্যা করুণাও মাঝবয়সী নারী। থ্যালমার বয়সও কম হয়নি, তিনি তখন ৭২-এ। চোখে ভালো দেখতে না পেলেও ছবিতে একপলক দেখেই স্বামীকে চিনতে পারেন।থ্যালমার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০০ সালের ২৫ জানুয়ারি, মঙ্গলবার। সেদিন করুণা আমাকে বলেছিলেন, বাবাকে নিজের চোখে না দেখলেও তাঁর সব গল্প মুখস্থ। শুনেছেন, বাবা তাঁর বড় মেয়ে শান্তির জন্য বিভিন্ন বন্দর থেকে ডাকে কেক পাঠাতেন। সেই কেকের মধ্যে লুকানো থাকত কানের দুল বা নাকফুলের মতো উপহার। কেকটা মুখে দিলেই বেরিয়ে আসত উপহার। সেই উপহার পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলতেন শান্তিদি। করুণা বারবার বললেন, আমি যেন ভালো করে একটা রিপোর্ট করি, যাতে বাবা ফিরে আসেন।হিলি গোমেজের সেই রিপোর্ট জনকণ্ঠে ছাপা হয়েছিল ২০০০ সালের ২৬ জানুয়ারি, বুধবার। এরপর অনেক দিন আর থ্যালমা বা করুণার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। ভিক্টরও অন্য চাকরি নিয়ে বিদেশে চলে যান। বছর তিনেক পরে করুণাদের বাড়ির রাস্তা দিয়ে ধানমন্ডির প্রোব ম্যাগাজিনে যাচ্ছিলাম। কী মনে হলো, করুণাদের ফ্ল্যাটে কলবেল বাজালাম। দরজা খুললেন অন্য এক নারী। জিজ্ঞেস করতেই বললেন, করুণারা নেই, তাঁরা এ বাসার নতুন ভাড়াটে। করুণার মায়ের কথা শুনে বললেন, পাশের ভাড়াটেরা তাঁকে বলেছেন, নিখোঁজ স্বামীর ফিরে আসার প্রতীক্ষায় করুণার মা সারাক্ষণ বারান্দায় বসে থাকতেন, রাতেও। সহজে বিছানায় যেতেন না। একদিন ভোরবেলা তাঁকে বারান্দায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।রহস্যঘেরা, চমকে মোড়া ধনকুবেরএই নারীর কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। অফিসে এসে পুরোনো রিপোর্টটা আবার বের করলাম। রিপোর্টে আছে, হিলির জাহাজটা দুর্ঘটনায় পড়েছিল ১৯৫৬ সালে, থ্যালমা আমাকে সেটাই বলেছিলেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখলাম, বুলার্ড কিং অ্যান্ড কোম্পানি নামে ব্রিটিশ একটি প্রতিষ্ঠান আছে। সেই কোম্পানির একটি জাহাজের নামও ছিল আমটাটা ()। টর্পেডোর আঘাতে সেটা ডুবে যায় ১৯৪২ সালে, ১৯৫৬ সালে নয়। ৪২ থেকে ৫৬-তে তো অনেক ফারাক। মনে একটু খটকা লাগল। লেখাটা শেষ করার আগে মার্কিন গল্পকার মারজরি কিনান রাউলিংসের 'আ মাদার ইন ম্যানভিল' গল্পটা মনে পড়ে গেল। অনাথ আশ্রমের বেড়ে ওঠা বালক জেরি সারাক্ষণ তার মায়ের কথা বলত। পাহাড়ের ওপারে মা থাকে, জন্মদিনে মা তাকে উপহার পাঠাত। কিন্তু এতিমখানায় বড় হওয়া জেরির আসলে কেউই ছিল না। মায়ের সঙ্গে তার বসবাস ছিল শুধু কল্পনাতে।আমার মনেও ধন্দ। থ্যালমার চিঠির গল্প জেরির মতো নয় তো? সত্যিই কি এত বছর পরে হিলি সেই চিঠি লিখেছিলেন? নাকি অন্য কিছু?আসলে মানুষের জীবনের গল্প বড় অদ্ভুত, সে গল্প হয়তো কখনো মেলে, কখনো মেলে না।আরও পড়ুন:ক্ষমা করবেন জ্যোতিকাবালাফাঁসির সেল থেকে ফিরে আসাভেস্তে যাওয়া এক 'আষাঢ়ে গল্প'পিচ্চি হান্নানকে দিয়েই 'হাতেখড়ি' র্যাবেরবোকা বানানোর কারিগরনবজাতকের সূত্রে মিলল বাংলা ভাইয়ের খোঁজআমি তো শীর্ষ সন্ত্রাসীর মা...কই শহীদ হলেন না যেকর্নেলের সঙ্গে শেষ ফোনালাপমুরগি মিলনের সম্পদ অন্যের হাতেসোনার খোঁজে আদার ব্যাপারীতিনি অধরাই থেকে গেলেননিশ্চিন্তে দেশ ছাড়লেন টোকাই সাগরআতঙ্কের নাম মেজর জিয়া৪০০ কিমি হাঁটার সেই দুঃসহ গল্পরঙিন জীবন অন্ধকারেই শেষ১০১টা খুন করতে চেয়েছিলেন তিনি | 6 |
রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার একটি ভবনে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন অপারেটর এনামুল হক সমকালকে জানান, শনিবার সকাল৯টা ১০ মিনিটেচেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলায়আগুন লাগার খবর পান তারা। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ১৪ টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান তিনি। ছয়তলা ওই ভবনে আনন্দ টিভির কার্যালয় রয়েছে। ভবনটির নিচতলায় ক্রেস্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমিকনের কার্যালয়। ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচারে থাকা একটি বেসরকারি চ্যানেলকে ওই ভবনের একজন কর্মী বলেছেন, ভবনের তৃতীয় তলায় কেমিকেলের গোডাউন রয়েছে। তার ধারণা, শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ভবনে কোনো কর্মী কর্মরত ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। এসময় বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টরা। মহাখালী থেকে বনানীগামী সড়কের এক পাশ বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বরিশাল ও সিলেটে নতুন দুটি বিমান বাহিনী ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমার বিশ্বাস, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সক্ষমতা বাড়বে।রোববার 'রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০১৭' উপলক্ষে যশোর বিমানবাহিনীর শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিমানবাহিনীর নতুন কমিশন লাভকারী সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তোমরা বাংলার আকাশ মুক্ত রাখবে। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এই নীতিতে আমরা কাজ করছি। মনে রাখবে, ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। নিজেদের কখনই সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাববে না। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সব সময় চেষ্টা করবে।তিনি বলেন, বিমান বাহিনীর একাডেমি থেকে তোমরা যে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছো, কর্মজীবনে তার যথাযথ অনুশীলন ও প্রয়োগের জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকবে। সততা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। তোমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলবে যাতে দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাযথ ভুমিকা পালন করতে পারো। প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষার গুরুদায়িত্ব পালনে আজ থেকে তোমরা অংশীদার। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় বঙ্গবন্ধু প্রণীত এই নীতির আলোকে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।তিনি আরও বলেন, 'দেশে-বিদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ অবদান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। দেশপ্রেমের মঞ্চে উজ্জীবিত হয়ে এবং পবিত্র সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তোমরা সংকল্পবদ্ধ থাকবে। ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা অর্জনে তোমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।'বিমান বাহিনীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি শক্তিশালী এবং প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক কৌশলগত দিক বিবেচনায় রেখে তিনি একটি আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।তিনি বলেন, ১৯৭৫-এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে কেউ কোন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিগ-২৯ জঙ্গী বিমান, বড় পরিসরের সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার সংযোজন করার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি 'ফোর্সেস গোল-২০৩০' প্রণয়ন করি। এই গোলের আলোকে আমরা ইতোমধ্যে বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেছি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার। প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দিক থেকে বিমান বাহিনী অচিরেই অত্যাধুনিক, পেশাদার ও চৌকস বিমান বাহিনী হিসেবে দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন।
| 6 |
শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় 'ফণী'র ছোবল থেকে রক্ষা পেল পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। শুক্রবার মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে শক্তি আরো হারিয়ে ফেলে ফণী। খড়গপুর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে দাপট দেখালেও, তেমন ঝড়-ঝাপটার মুখে পড়তে হয়নি কলকাতাকে। মুষলধারায় বৃষ্টি আর সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়েছে। তবে ফণীর তাণ্ডব থেকে কলকাতা অনেকটা রেহাই পেলেও, দিঘায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা গেছে। তবে ওড়িশায় যে তাণ্ডব চালিয়েছে ফণী, পশ্চিমবঙ্গে সে অর্থে কোনো দাপট দেখা যায়নি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গে ঢোকে ফণী। পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে আরো দুর্বল হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়। ফণীর প্রভাবে গতকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে। শনিবার সকালেও সেই ছবিটা বদলায়নি। তবে চিন্তার আর কোনো কারণ নেই। ফণী বাংলা ঘুরে ক্রমশ বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। ফণীর আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা হিসেবে গতকাল দুপুর ৩টা থেকে বন্ধ করা হয়েছিল কলকাতা বিমানবন্দর। আজ সকাল ৮টা নাগাদ খোলার কথা বিমানবন্দর। এদিকে, ফণীর জেরে আজ কম সংখ্যক মেট্রো চালাচ্ছে কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি গতকাল দুপুরের পর থেকেই শহরের বিভিন্ন শপিং মলের ঝাঁপ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আজ দুপুরের পর থেকে সেগুলো খোলার কথা। এদিকে, গতকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে কলকাতা, হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছে বলে খবর। | 3 |
এখনও খুব একটা সুবিধে করে উঠতে পারেননি বলিউডে। একটু একটু করে আগাচ্ছেন চাঙ্কি পান্ডে কন্যা। স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার টু দিয়ে বলিউড যাত্রা শুরু। এখন কাজ করছেন খালিপেলি ছবিতে ইশান খাট্টারের সঙ্গে। এরই মধ্যে তাঁকে নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে বলি পাড়ায়। এবার বলিউড বেবো কারিনা কাপুরখানকে নিয়ে কথা বলে ফের আলোচনায় এলেন অনন্যা পান্ডে। সম্প্রতি তরুণ এই উঠতি নায়িকার কাছে ভারতীয় গণমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা প্রশ্ন করে বলিউডের গসিপ র্গালকে? আর তাতেই প্রথম নামটিই আসে কারিনা কাপুর খানের। অনন্যা বলেন, 'আমি মনে করি কারিনা কাপুর খান, করণ জোহর ও রণবীর কাপুর হলো বলিউডের গসিপ গার্ল। এটাই সবাই বলছে। তারা সবকিছু জানে। তো আমি মনে করি, এই তিনজনই হতে পারেন গসিপ গার্ল।' শুধু তা-ই নয়, গত মার্চ মাসে কপিল শর্মা শোতে সূর্যবংশী ছবি নিয়ে কথা বলতে এসেছিলেন করণ জোহর এবং অক্ষয় কুমার। সেখানে অক্ষয় ও করণ বলেন, কারিনা হলো বলিউডের গল্পের রানি। অক্ষয় বলেন, সে সবকিছুই জানে সঠিকভাবে।করণ বলেন, 'আমি বলি কি, মুম্বাই পুলিশ তো তাহলে ওকে নিতে পারে। আমি মনে করি, তার সিসিটিভির ব্যবসা আছে। মানে সে মানুষের বাড়িতে সিসিটিভি লাগিয়ে রেখেছে। আর সব নিয়ন্ত্রণ আছে তার কাছে। কে কখন কোথায় যায়? কী করে। এমন কোনো ছোটখাটো খবরও বলিউডের নেই, যা কারিনার জানা নেই।' শুধু তা-ই নয়, পরিচালক রোহিত শেঠিও এক পা এগিয়ে এলেন কারিনার সুনাম বলতে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'অবশ্যই এটা কারিনা। আমার নিজের অভিজ্ঞতা আছে। চেন্নাই এক্সপ্রেস ছবির জন্য আমি শাহরুখ খানের সঙ্গে মিটিং করলাম রাতে। কেউ এ খবর জানে না। আমি ভাবছি, শুধু করণ এটা জানে। পরের দিন সকালে আমি কারিনার বাসায় গেলাম। সে বলল, কী, শাহরুখের সঙ্গে মিটিং হলো? কসম করে বলছি।' যা-ই হোক কারিনা যে বলিউডের অঘোষিত সাংবাদিক, তা প্রমাণ হয়েছে অনেকবার। ভারতজুড়ে এখন লকডাউন, বাড়িতেই আছেন কারিনা কাপুর। তাঁর শেষ ছবি ছিল ইরফান খানের সঙ্গে আংরেজি মিডিয়াম। ফের দেখা যাবে আমির খানের সঙ্গে লাল সিং চাড্ডা ছবিতে। | 2 |
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টে মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এক গোয়েন্দা নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইউক্রেন আক্রমণে বিপুলসহ প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। আগামী বছরের শুরুতে সম্ভাব্য এই আক্রমণের জন্য এক লাখ ৭৫ হাজার সৈন্য প্রস্তুত করছে দেশটি। অবশেষে এই খবরের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, বিশেষ অপারেশনের মাধ্যমে ইউক্রেনের আশেপাশের পরিস্থিতি খারাপ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা রাশিয়ার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। অপর এক সূত্রে গণমাধ্যমটি দাবি করেছে, বর্তমানে ইউক্রেন সীমান্তে চার এলাকায় রাশিয়া সৈন্য মোতায়েন করছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন চালানোকে 'প্রচণ্ড কঠিন' করে তুলতে বিবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর কোল ঘেঁষে পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকায় শুরু হয়েছিলো ধোপা পরিবারের বসবাস। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ধোপা পেশাকে ধরে রেখেছেন তিন-চার প্রজন্ম। প্রায় দুইশ বছর ধরে টিকে থাকা এ পেশা এখনও আপন ঐতিহ্যে চলছে কাঠের কয়লা আর পিতলের ইস্ত্রিতে। তবে কাঠের কয়লার মেশিন এখন বিলুপ্তির পথে। কাপ্তান বাজার এলাকার মো. শাহিন মনে করেন, আদালত সংলগ্ন ডেলনি হাউজে জমিদারদের বসবাস ছিলো। মোগলটুলি ফারুকী হাউজে নওয়াব স্যার কে.জি.এম. ফারুকী থাকতেন। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকার জমিদাররা কুমিল্লা শহরমুখী ছিলেন। তাদের প্রয়োজনে তারা ধোপা, নাপিত, জেলে, কামারদের থাকা ও কাজের ব্যবস্থা করে দিতেন। ধোপার কাজ করার জন্য প্রচুর পানির দরকার। গোমতী নদীর পানিতে তার ধোয়ার কাজটি করতেন। তাই গোমতী পাড় পুরাতন চৌধুরীপাড়ায় তাদের বসবাস। যুগের পর যুগ এখানে এ পেশা টিকে থাকার কারণ এটি আবাসিক এলাকা। প্রায় পাঁচ দশক এ পেশায় আছেন শ্যামলা রানী দাস। এ নারী বাসা থেকেই কাজ করেন। তিনি বলেন, "এ পেশায় দেশ স্বাধীনের পর থেকে আছি। আমার স্বামী বালু লাল দাস, শ্বশুর চন্দ্র লাল দাস, দাদা শ্বশুরও এ পেশায় ছিলেন। এখন আমার ছেলে শিমুল চন্দ্র দাস একই পেশায় আছে। আমি যে কয়লার আয়রন মেশিনটা ব্যবহার করি এটি শ্বশুরের। করাচী থেকে আনা হয়েছে, যা ডাবল সিংহ মার্কা পিতলের মেশিন। এটি এখন পাওয়া যায় না। চট্টগ্রাম থেকে পিতলের আয়রন মেশিন পাওয়া যায় বেশী দিনে টিকে না।" মোকেশ চন্দ্র দাস বলেন, "ছোটকাল থেকেই এ পেশায় জড়িত। আমার বড় ভাই সন্তুশ চন্দ্র দাসও এ কাজ করেন। বাবা বুলবুল চন্দ্র দাস, দাদা গৌবিন্দ্র চন্দ্র দাসও এ পেশায় ছিলেন। প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা আয় হয়।" এ বিষয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগে প্রধান নূর মোহাম্মদ হারেছী বলেন, "একটি পেশা টিকে থাকে সমাজের চাহিদার উপর। পূর্বে ধোপা পেশায় যারা ছিলেন বেশীর ভাগই সনাতন ধর্মলম্বী। তারা পূর্ব পুরুষদের কাজকে ধরে রাখা ঐতিহ্য বা পুণ্য মনে করেন।" এ প্রসঙ্গে সমাজ সেবা অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক জেডএম মিজানুর রহমান জানান, ধোপা, কামার, তাঁতি, জেলে এ জাতীয় পেশায় যারা আছেন তাদের চাহিদা সম্পন্ন বা দলিত সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। | 6 |
যদি কোনো মন্ত্রণালয় তার বরাদ্দ অর্থ খরচ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেই অব্যয়িত অর্থ অন্যকোনো মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যয় করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এর প্রতিরোধে অধিকতর জনসচেতনতা সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এমএ মান্নান, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), সাবের হোসেন চৌধুরী, হাফিজ আহমদ মজুমদার, মোরশেদ আলম, রওশন আরা মান্নান এবং আদিবা আনজুম মিতা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে করোনা ভাইরানের বিষয়ে আলোচনায় বলা হয়, করোনা ভাইরাসের মত মরণ ব্যাধি যেনো ছড়াতে না পারে সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া যেসব মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত থাকে সেই অব্যবহৃত অর্থ ফেরত নিয়ে যে মন্ত্রণালয়সমূহে পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতার অভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হচ্ছে। তাদেরকে দেবার বিষয়টি বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া বৈঠকে কমিটির সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রস্তাবমতে সাংসারিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত নারী সমাজের অবদানকে জিডিপি'তে অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা করেন। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়াধীন হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসহ অন্যান্য বিমান বন্দরের উন্নয়নের জন্য গৃহীত প্রকল্পসমূহের বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটি জানতে চান। এসময় পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব, আইএমইডি এর সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়েছে। গত কয়েক দিনে এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। অবস্থা জটিল না হলে কেউ করোনা পরীক্ষা করাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।স্থানীয় চিকিৎসক ও ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন অনেকে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় লেগেই আছে। যার বেশির ভাগই জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগী। ঋতু পরিবর্তনের ফলে মৌসুমের এ সময়ে এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি হলেও করোনা উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের করোনা পরীক্ষা করার জন্য বলছেন চিকিৎসকেরা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গড়ে প্রতিদিন ৪০০-৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি। এত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ অন্যদের। চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগই নারী ও শিশু। চিকিৎসকেরা তাঁদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। করোনার উপসর্গ থাকা বিশেষ করে গলা ও শরীর ব্যথা,৩-৪ দিন ধরে জ্বর না কমাসহ শ্বাসকষ্ট থাকা রোগীদের করোনা পরীক্ষার জন্য বলা হচ্ছে। হাসপাতালটিতে ওষুধের কোনো সংকট নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।সরেজমিনে আজ বুধবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের দীর্ঘ লাইন। যার বেশির ভাগই নারী ও শিশু। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।হাসপাতালে আসা শাহেদ নামে একজন বলেন, 'আমার মা জাহেরা খাতুন (৭৫) গত কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ নিতে হাসপাতালে এসেছি।'এদিকে পৌর সদর বাজারের সব কটি ওষুধের দোকানেই ভিড় চোখে পড়েছে। কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগই এসেছেন জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের ওষুধ নিতে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, প্রথমে তাঁর জ্বর ও সর্দি হয়েছে। পরে পরিবারের অন্যরাও আক্রান্ত হয়েছে। করোনার ভয়ে পরীক্ষায় করাননি। বাড়িতে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে সবাই সুস্থ হয়েছেন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন শাহনাজ বলেন, পুরো দেশজুড়েই করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এখানেও জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। করোনার উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করানোর জন্য বলে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ওষুধের কোনো সংকট নেই বলেও তিনি দাবি করেন। | 6 |
ছুটিছাটায় পর্যটকদের ভিড়ে এখন উপচে পড়ে সিলেট। রবীন্দ্রকথিত সেই 'নির্বাসিতা', 'সুন্দরী শ্রীভূমি' এখন আর নির্বাসিতা নয়। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো অক্ষুণ্ন। একসময় জাফলং, মাধবকুণ্ড আর চা-বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্যই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে এসেছেন পর্যটকেরা। এখন দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই। বিছনাকান্দি, রাতারগুল, লালাখাল, সাদা পাথর, টাঙ্গুয়ার হাওর, সিরাজ লেক, শিমুল বাগান-আরও কত কী। প্রকৃতির আপন খেয়ালেই গড়ে উঠেছে এসব জায়গা। এর জন্য কোনো ধরনের প্রকল্প-পরিকল্পনার দরকার পড়েনি। আসার আগে এসব জায়গার কথা জেনে নেন বলেই শহরে বিরতি নিয়ে কাঙ্ক্ষিত স্থান দেখার জন্য ছুটে যান পর্যটকেরা। আগে থেকে যে জায়গাগুলোর কথা জানেন, সেখানেই যে যেতে চাইবেন পর্যটকেরা, তা তো স্বাভাবিক। কিন্তু কথা হলো, এসব পরিচিত স্থানের বাইরে সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্ন-পুরাকীর্তি, স্থাপত্য, ভূপ্রকৃতি এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পর্যটকদের জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না? এ ছাড়া পর্যটকেরা প্রতিদিন যেসব স্থানে যাচ্ছেন, সেখানেও তাদের যাতায়াত ও অবস্থান নিরাপদ ও স্বস্তিকর কি না, তা নিয়ে কি আজও যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে? পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য ফরাসিরা কত কিছু যে করে, তার বর্ণনা রয়েছে সতীনাথ ভাদুড়ীর 'একটি সত্যি ভ্রমণকাহিনি' বইয়ে, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র 'হাউ ডাজ ওয়ান কুক বিনস' বইয়েও রয়েছে এক বিড়ম্বিত পর্যটকের কথা। অন্যরা যেখানে পর্যটকদের নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, সে ক্ষেত্রে বাঙালিদের অবস্থান বিপরীত মেরুতে। অনেক কিছু সহজেই পেয়ে যাই বলে তা কাজে না লাগিয়ে আমরা আরও ধ্বংস করি। অথচ উপযুক্ত পরিকল্পনার সাহায্যে দর্শনীয় স্থানকে ঐতিহ্য ও পরিবেশের অনুকূলে রেখে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসংবলিত যেসব স্থান এখনো অচিহ্নিত, সেগুলোকে পরিচিত করে প্রচার চালালে পর্যটকদের যেমন আকৃষ্ট করা সম্ভব, তেমনই স্থানীয় ইতিহাসের প্রাথমিক কাজগুলোও এতে সম্পাদিত হয়ে যায়। পাশাপাশি দরকার এই অঞ্চলের লোকশিল্প ও লোকসাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। যেসব পর্যটক জাফলং, লালাখাল, বিছনাকান্দি যান, তারা হয়তো সেসব জায়গার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বড়জোর জৈন্তা রাজবাড়ি ও সেখানকার ডলমেন ও মেগালিথিকগুচ্ছ দেখেই ফিরে আসেন। কিন্তু ভ্রমণে সহজেই যুক্ত হতে পারে বড়দেউল, মোকামবাড়ি, চাঙ্গিল ও খাসিয়াহাটির মেগালিথিকগুচ্ছ দেখার পরিকল্পনাও। যেহেতু এ অঞ্চলের বহু কিছু এখনো অনাবিষ্কৃত, তাই পর্যটকের অনুসন্ধানী চোখ হয়তো সমাজ-ইতিহাসের নতুন কোনো উপাদান আবিষ্কার করতে পারে। মেগালিথিক নিয়ে গবেষণা হয়েছে, এখনো হচ্ছে, কিন্তু প্রাচীন জৈন্তা রাজ্যের রাজধানী নর্থিয়াংপুঞ্জির রাজপ্রাসাদের এক পরিচারিকার বীরপুত্র উ ফালিঙ্কিকে কেন্দ্র করে ছাতারূপে ডলমেন বা মেগালিথিক পাথর বহনের যে কিংবদন্তি প্রচলিত, সেটি তো গ্রিক বীরদের কিংবদন্তিগুলোর চেয়ে কোনো কম নয়। এ ছাড়া চারিকাটার দুধরাজার বাড়ি ও ফালজুরের ইয়াং রাজার বাড়ির কথা না হয় আপাতত অনুল্লিখিতই থাকল। সিলেট-তামাবিল সড়কে অবস্থিত দরবস্ত বাজার থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বড়চতুল গ্রামে রয়েছে দুই শ বছরের বেশি প্রাচীন স্থাপত্যকীর্তি সোনাধনের বাড়ি। এই সেই সোনাধন লস্কর, যাকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে রাজবাড়ির প্রেমকাহিনিধর্মী গীতিকা 'সোনাধনের গীত'। শ্রীধর বানিয়ারচিত ও ঐতিহাসিক রাজমোহন নাথকর্তৃক সংগৃহীত একসময়কার বিপুল জনপ্রিয় এই গীতিকাটি গাইতে তিন রাত লাগত। মিথ্যা অভিযোগে প্রাণদণ্ডের আদেশপ্রাপ্ত কোনো এক লক্ষ্মীকে পালানোর সুযোগ দেওয়ায় সোনাধন লস্করের বাবা খাধন লস্করকে রাজা বিজয় সিংহ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। গীতের আখ্যান অনুযায়ী, ৯২০ জন মিস্ত্রির শ্রমে নির্মিত বাড়িটি এখনো বর্তমান। বাড়ির শতাধিক একর এখন বেহাত, কিন্তু প্রাসাদের কাঠামো আগাছাবেষ্টিত হলেও আজও অবিকৃত। প্রাসাদটি সংস্কার করে এখনো এই জায়গায় তৈরি হতে পারে একটি কালচারাল কমপ্লেক্স, যেখানে 'সোনাধনের গীত'সহ অন্যান্য সিলেট গীতিকা, পালাগান, লোকনাট্য, লোকগান, খাসিয়া সংস্কৃতির অনুষ্ঠান পরিবেশনের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও লোক-সাংস্কৃতিক উপাদান সংগ্রহ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পর্যটকেরা অন্যান্য স্থান দেখে ফেরার পথে শেষবিকেলে ঐতিহ্যবহ অনুষ্ঠান উপভোগ করে দেখে আসতে পারেন এ অঞ্চলের নিজস্ব কীর্তিগুলোকেও। এখানে আরও থাকতে পারে স্থানীয় ইতিহাসের নিজস্ব লাইব্রেরি এবং লোকশিল্পসহ এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জিনিস বিক্রয়ের ব্যবস্থাও। সিলেট-তামাবিল সড়কে সারি নদীর সেতু পার হলেই দেখা যায় একটি প্রাচীন বিশ্রামাগার বা পান্থশালা, যেটিকে 'রাজার ঘর', বা 'রাজাদের উপাসনালয়' বলেও সম্বোধন করা হয়। জৈন্তার রাজা দ্বিতীয় রামসিংহ ১৭৯৮ সালে পুবদিকের ৪০০ মিটার উঁচু পাহাড়ে যখন 'ঢুপি মঠ' প্রতিষ্ঠা করেন, তখন একই সঙ্গে এই বিশ্রামাগারও তৈরি করেন। সেখানে শিবমূর্তি স্থাপন করে রামেশ্বর মন্দির, পাথরনির্মিত ষাঁড়, প্রবেশদ্বার, পুকুর, ইঁদারা এবং আরেকটি বিশ্রামাগারও প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে অনেক কিছু ধ্বংস হলেও এখনো জায়গাটি সংস্কার করলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।পর্যটকদের অন্যান্য আগ্রহের জায়গা হলো টাঙ্গুয়ার হাওর, সিরাজ লেক ও শিমুল বাগান। জায়গাগুলো দেখতে আসা পর্যটকদের মধ্যে কেউ কেউ আসা-যাওয়ার পথে দেখে যান হাসন রাজার বাড়িটিও। কিন্তু এখনো নিকটস্থ সিলেটের প্রাচীন লাউর রাজ্যকে দর্শক-পর্যটকদের সামনে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কাজ শুরু করেছে, বেরিয়ে আসবে প্রাচীন ইতিহাসের অজানা তথ্য ও কাহিনি, ভবিষ্যতে জায়গাটি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়াবে বলে আমাদের ধারণা। এ ছাড়া যেসব হাওরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে অসংখ্য কিচ্ছা, পালা, গীতিকা, লোকগান-সেই সব শোনানোর ও দেখানোর কোনো উদ্যোগ আজও নেওয়া হয়নি। রাধারমণ দত্ত, হাসন রাজা, কামাল উদ্দিন, শাহ আবদুল করিম, দুর্বিন শাহর মতো সাধক-কবিরা তো হাওরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেরই সন্তান, তাই তাঁদের গান ও লোক আঙ্গিকের পরিবেশনা থাকলে পর্যটকেরা যেমন ঋদ্ধ হবেন, তেমনই উপকৃত হবেন হাওরাঞ্চলে দরিদ্র শিল্পী-গায়কেরাও। হাওরের পরিবেশ রক্ষার জন্য একাধিক সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসনীয়, এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ও তৎপরতা অব্যাহত থাকলে আমাদের স্থানীয় ও জাতীয় সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হবে। মোস্তাক আহমাদ দীন লেখক, গবেষক এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক | 8 |
ছুটির দিন, তাছাড়া ঈদুল ফিতরও কাছে চলে এসেছে; অনেকেই তাই গতকাল শুক্রবার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন কেনাকাটার। কিন্তু বাদ সাধল কালবৈশাখী। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি ভোগান্তি ডেকে আনে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য। তবে বৃষ্টি মাথায় নিয়েও গতকাল ক্রেতারা ভিড় করেছিলেন বিভিন্ন বিপণিবিতানে। অভিজাত বিপণিবিতান, পাড়া-মহল্লার বুটিক হাউস থেকে শুরু করে নামিদামি ব্র্যান্ডের আউটলেট- সবখানেই ছিল ঈদের কেনাকাটার আমেজ। কিন্তু জমেনি নিম্ন আয়ের মানুষের ফুটপাতের বাজার। গতকাল বিকেল ৩টার দিক থেকে মেঘ জমতে থাকে ঢাকার আকাশে। খানিকক্ষণ পর শুরু হয় দমকা হাওয়া আর ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিতে বৈশাখী গরমে বিপর্যস্ত নাগরিকরা প্রশান্তি পেলেও দুর্ভোগের শিকার হন ঈদবাজারগামী ক্রেতারা। বিপাকে পড়েন ইফতার বিক্রেতারাও। এদিকে বৃষ্টি সন্ধ্যার পরও থেমে থেমে হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। যদিও থেমে থাকেনি প্রিয়জনের জন্য ঈদের কেনাকাটা। সরেজমিন রাজধানীর মিরপুর বেনারসি পল্লি, উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, রাজউক সেন্টার, মাসকট প্লাজা এবং যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, আধুনিক সব পোশাকের পসরা সাজানো হয়েছে ঈদ উপলক্ষে। নারী-পুরুষ-শিশুদের সাজসজ্জার সব ধরনের পণ্য রয়েছে বিভিন্ন মার্কেটে। রয়েছে ইলেকট্রনিকস এবং গৃহস্থালি পণ্যও। যমুনা ফিউচার পার্কের বেশিরভাগ দোকানে দেশজ ভাবনায় তৈরি মেয়েদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আড়ং, ইনফিনিটি, সেইলর, স্বদেশী, কে-ক্র্যাফট, বিশ্ব রঙ, ইয়েলো, রঙ বাংলাদেশ, লা রিভ, এসটাসি, নবরূপা, মেট্রো, ক্যাটস আই, জেন্টল পার্কের মতো ব্র্যান্ডের শপগুলোয়ও দেখা যাচ্ছে ভীষণ ভিড়। এখানে লেভেল ওয়ানের আশু এন্টারপ্রাইজের মালিক রেজাউল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীরই ক্ষতি হয়েছে। তবে এ বছর করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে বিনিয়োগ করেছেন। বিক্রিও আশানুরূপ।' ইনফিনিটির বিক্রয়কর্মী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, 'রমজানের শুরু থেকেই এবার ক্রেতার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। আর ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বিক্রিও বাড়ছে ততই। চাঁদ রাতেও ভালো বিক্রি হবে।' অনেকে শপিং করতে এসেছেন দলবেঁধে, সারাদিনের জন্য। ইফতারের পর রাতের খাবারও সেরেছেন যমুনা ফিউচার পার্কের ফুড কোর্টেই। তাদের একজন উত্তরার সজীবুল হক বলেন, 'শিক্ষাজীবন শেষ করে অনেক বছর হলো চাকরি করছি। ঈদ বা যে কোনো উৎসবে এখনও বন্ধুদের উপহার দিতে পছন্দ করি। তবে গত দুবছর দেওয়া হয়নি। এবার বন্ধুদের জন্য উপহার হিসেবে পাঞ্জাবি কিংবা পারফিউম কিনেছি।' তিনি অভিযোগ করলেন, 'এবারের ঈদে অন্য বছরের তুলনায় কালেকশন ভালো থাকলেও দাম অনেক বেশি। দরকষাকষি করেও সাধ্যের মধ্যে আসছে না।' এখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, মেয়েদের পোশাকের মধ্যে কাপ্তান, সারারা, গারারা, পাথর থ্রিপিস সেট, শাড়ি, স্কার্ট, লন, কুর্তি, থ্রিপিস, টুপিসের চাহিদা এবারও সবচেয়ে বেশি। বরাবরের মতো ছেলেদের পোশাক হিসেবে এবারও পাঞ্জাবি-পায়জামা, শার্ট, প্যান্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ দোকানে মেয়েদের এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে দুই হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, ফতুয়ার দাম এক হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। গতকাল দুপুরে বসুন্ধরা সিটিতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির দিনেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই সেখানে। বিশেষ করে প্লাস পয়েন্ট, ইজি, ওয়েস্টিন, আড়ং, দর্জিবাড়ী, ইয়েলো, রিচম্যান ও এসটাসি কর্নারে। এ ছাড়া মেয়েদের ড্রেস শাড়ি ও কসমেটিকসের দোকানেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়। মৌচাক মার্কেট ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতায় ঠাসা। যাদের মধ্যে আবার নারী ক্রেতাই বেশি। এখানেও দেশি পোশাকের পাশাপাশি আমদানি করা পোশাকের ছড়াছড়ি দেখা গেল। তবে বিভিন্ন পোশাকের দাম নাগালের মধ্যেই। কাকরাইলের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটিতে গতকাল সকাল থেকেই ছিল ক্রেতাদের ভিড়। এ মার্কেট মূলত পাকিস্তানি ও ভারতীয় সালোয়ার-কামিজে বৈচিত্র্যময় কাজের জন্য জনপ্রিয়। এখানকার সালোয়ার-কামিজে জয়সিল্ক্ক, টিস্যু কাপড়ের ব্যবহার বেশি। এখানে থ্রিপিস কিনতে আসা ইসমত আরা বলেন, 'রামপুরা থেকে দুপুরে রওনা হয়েছিলাম। পথেই বৃষ্টি শুরু হলো। আধভেজা হয়ে গেছি। কিন্তু রোজা শেষের দিকে। তাই আজই কেনাকাটা যতটা পারা যায়, শেষ করব।' রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দোকান মালিক ও কর্মীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনায় দু'জন নিহত ও শতাধিক আহতের ঘটনায় এখনও আতঙ্কে আছেন অনেকেই। তাই গতকালও আশানুরূপ বিক্রি হয়নি এ মার্কেটে। উপচে পড়া ভিড়ও ছিল না। এইচডি ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড লাইফস্টাইল শোরুমের স্বত্বাধিকারী আহসান ফারুক বলেন, ছুটির দিনগুলোতে বিক্রি বেশি হয়। দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকে না। অথচ এ ঘটনায় এখনও মানুষ আতঙ্কিত। একই কথা বললেন ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী সিল্ক সেন্টারের কর্ণধার ওয়াসিম ফারুক। ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে বিভিন্ন ট্রাডিশনাল শাড়ি পাওয়া যায়। দেড় হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায় এসব শাড়ি। বেনারসি সিল্ক্ক ও পিউর তসর মেলে ১৭ হাজার টাকার ভেতর। নিউমার্কেটের দুই নম্বর গেট সংলগ্ন এক দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ হাসান বলেন, 'যেমনটা আশা করছিলাম, তেমনটা বিক্রি হয়নি। তবে স্বস্তির ব্যাপার হলো, সকাল থেকেই ক্রেতারা আসছেন।' ফুটপাতের ব্যবসা: রাজধানীর মিরপুর ১০, ফার্মগেট, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকানে এখন সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ে। কিন্তু গতকাল দুপুরের পর ছাড়া-ছাড়া বৃষ্টিতে ফুটপাতের কেনাবেচা আর জমেনি। গুলিস্তানের জুতার দোকানের ব্যবসায়ী আলামিন বললেন, 'এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে বিক্রি ভালো হলেও দুপুরের পর বৃষ্টিতে অনেকটাই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।' মৌচাক মার্কেটের সামনে ছেলেদের প্যান্ট বিক্রি করেন মিয়া হোসেন। তিনি বলেন, 'গত ১০ বছর ধরে এখানে প্যান্ট বিক্রি করি। গত দুবছরের লোকসানে ব্যবসা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলাম। এবার নতুন করে বিনিয়োগ করেছি। কেনাবেচাও হচ্ছে ভালো।' জমে উঠেছে ঈদমেলা: রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গতকাল জমেছিল ঈদমেলা। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মাইডাস সেন্টারের ১২ তলায় চলছে বারুণী মেলা। মেলার আয়োজক সুস্মিতা বসাক জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে মেলা। এ মেলায় অংশ নিয়েছেন মূলত নারী উদ্যোক্তারা। দেশীয় পণ্যের এই মেলায় পাওয়া যাচ্ছে নানা ডিজাইনের নানা বয়সীদের পোশাক, হাতে তৈরি গহনা, ঘর সাজানোর পণ্য, খাবার ইত্যাদি। আজ শনিবার শেষ হবে দু'দিনের এ মেলা। 'বাই সেল ৯৬৯৮' গ্রুপের আয়োজনে ডব্লিউভিএ অডিটোরিয়ামেও চলছে ঈদমেলা। সেটিও শেষ হবে আজ। এ ছাড়া মাইডাস সেন্টারে আজ শনিবার দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করেছে 'হার পাওয়ারফুল স্টোরি'। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ মেলায় থাকবে পোশাক, খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের ৩৩টি স্টল। | 6 |
চট্টগ্রাম বন্দরে বিপি শিট ঘোষণা দেওয়া একটি চালানের বিপরীতে আসা ২২ কন্টেইনারে পাওয়া গেছে নকল কয়েল।
সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে কায়িক পরীক্ষায় করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাস্টমসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা।
বন্দরের সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল থেকে কনটেইনারগুলো জব্দ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের এআইআর শাখার কর্মকর্তা মো. মোস্তাফা জামান সমকালকে বলেন, 'বিপি শিট ঘোষণায় ২২ কন্টেইনার পণ্য বন্দরে আনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্যাপ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল। সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল কুইক সার্ভিস কন্টেইনারগুলো খালাসের জন্য কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। ডেলিভারির পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার কন্টেইনারগুলোর কায়িক পরীক্ষা করে বিপি শিটের বদলে নকল কয়েলের সন্ধান পাওয়া যায়।'
আরো পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
| 6 |
ঝিনাইদহে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশীদ, আরএমও ডা. সাব্বির হায়দার, ডা. জাকির হোসেন, ডা. আলা উদ্দিন, ডা. আ স ম আব্দুর রহমান, ডা. আনায়ারুল ইসলাম, ডা. মর্ফিয়া খাতুন, ডা. আশরাফুজ্জামান, ডা. আব্দুল্লাহী কাফি, ডা. আব্দুল কাদের, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জীবন কুমার বিশ্বাস ও শ্রমিকলীগ নেতা আক্কাস আলীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। এছাড়া চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝিনাইদহেরমানুষের যেন কোনো ঘাটতি না থাকে এবং এই হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী অন্য হাসপাতালে রেফার্ড না করা হয়, সেদিকে ডাক্তারদের লক্ষ রাখার অনুরোধ করেন তিনি। মতবিনিময় শেষে এমপি সমি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেন এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে পায়ে হেঁটে মানুষকে সচেতনকরার পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ করেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
১৩ ঘন্টায় মাত্র ৯০ বার ফোন সাবেক প্রেমিককে। সেই অপরাধে প্রেমিকার বিরুদ্ধে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার জরিমানা করল অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় আদালত। জোদি তালবত, ২০ বছরের এই তরুণী অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমান সংস্থার কর্মী। দু'বছর আগেই তার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় প্রেমিকের। কিন্তু তারপরও অনবরত তিনি ফোন করতেন প্রেমিককে। মাঝেমধ্যেই হুমকি দিতেন। এরপরই তার সাবেক প্রেমিক স্থানীয় থানায় মানহানির মামলা করেন। জোদি অবশ্য পুলিশকে জানিয়েছেন, যা করেছেন তার জন্য দুঃখিত। কিন্তু তিনি নিজের জীবনে এগিয়ে যেতে চান এবং অন্তত একবার হলেও সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলতে চান।
বিডি-প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ | 5 |
বাইরের ধুলাবালু, রোদের তাপ ও বয়স বাড়ার কারণে ত্বকেরও বয়স বাড়ে। চেহারার সৌন্দর্য ধীরে ধীরে ম্লান হতে থাকে এবং ত্বক কুঁচকে যেতে থাকে। তবে যদি ত্বকের প্রতি যত্নশীল হন, তাহলে এসব সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন। ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে সতেজ করতে সিরাম ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা যেমন বাড়বে, তেমনি ত্বকের তারুণ্য বজায় থাকবে।সিরাম হলো পানিজাতীয় একটি উপাদান, যেখানে প্রচুর পরিমাণে নিউট্রিয়েন্টস ইনগ্রিডিয়েন্টস, অর্থাৎ পুষ্টিকর উপাদান থাকে। এটি ত্বক পরিষ্কারের পরে ব্যবহার করতে হয়। সিরাম ব্যবহারের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়। এটি ব্যবহার করলে ত্বক সুস্থ থাকে। ত্বকের তারুণ্য বজায় থাকে। ত্বকের ফাইন লাইন, চোখের নিচের কালো দাগ, বলিরেখা, ব্রণ দূর করে সিরাম।সিরাম কেনার আগেসিরাম ব্যবহার করতে হয় ত্বকের ধরন বুঝে। আগে জানুন আপনার ত্বক কোন প্রকৃতির। আপনি ত্বকে কী পরিবর্তন আনতে চান, সেটিও ভাবুন। এরপর সিরাম ব্যবহার করুন।ভিটামিন সিভিটামিন সি-সমৃদ্ধ সিরাম ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে ত্বকের লাবণ্য বাড়াতেও কাজ করে এজাতীয় সিরাম। এটি ত্বকের পোরস, চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চাইলে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ সিরাম কিনুন। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টবয়স ধরে রাখতে কাজ করে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যেসব সিরামে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, সেসব সিরাম ব্যবহার করলে ত্বকের বয়স বাড়ে না। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মানসিক চাপ, বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এ ছাড়া ত্বককে স্বাস্থ্যবান রাখতেও সাহায্য করে।রেটিনলযাঁদের ত্বক ব্রণপ্রবণ, তাঁরা রেটিনলযুক্ত সিরাম কিনুন। রেটিনলসমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করলে ফাইন লাইন ও চোখের নিচের কালো দাগ দূর হয়।হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযাঁদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাঁরা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ সিরাম কিনুন। এই অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ত্বক ভালো রাখে।প্রদাহরোধী উপাদানআপনার ত্বক যদি অতিসংবেদনশীল হয়, তাহলে প্রদাহরোধী উপাদানসমৃদ্ধ সিরাম কিনুন।এ উপাদানটি ত্বকের লালচে ভাব, প্রদাহ ইত্যাদি দূর করবে। সিরামের পাত্রের গায়ে জিঙ্ক, আর্নিকা ও অ্যালোভেরা ইত্যাদি লেখা আছে কি না, তা-ও দেখে নিন।সিরাম ব্যবহারসিরাম সাধারণত রাতে ব্যবহার করতে হয়। যেসব সিরামের প্রধান উপকরণ অ্যাসিড ও রেটিনল, সেসব সিরাম অবশ্যই রাতে ব্যবহার করবেন। এক-দুই ফোঁটা সিরাম আপনার পুরো ত্বকে মাখার জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া প্রতিটি সিরামের গায়ে লেখা থাকে সেটি দিনে কয়বার ব্যবহার করতে হবে।সূত্র: ফেমিনা | 4 |
পারিবারিক বিবাদের জেরে আড়াই বছর আগে মাকে খুন করেছে ছোট ছেলে। পরে দেহ পুঁতে রাখা হয় বাড়িতেইঘরের মেঝেতে। মঙ্গলবার ছোট ছেলের স্ত্রীর কথায় ফাঁস হয়ে গেল সেই খুনের কথা। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বর্ধমানের হাঁটুদেওয়ান পীরতলা ক্যানেলপার এলাকায়। এ ঘটনায় নিহত সুকুরানা বিবির ছোট ছেলে শেখ শহিদুল ওরফে নয়নকে আটক করা হয়েছে। বুধবার আদালতের নির্দেশ নিয়ে দেহ উদ্ধার করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে বছর দুয়েক আগে নয়নের বিয়ে হয় পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের এরুয়ার গ্রামে। কিন্তু মাস চারেক আগে পারিবারিক অশান্তির জেরে নয়নের স্ত্রী সুকুরানা বাপের বাড়ি চলে যান তার সাত মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে। সোমবার কিসমত এবং তার স্ত্রী মিলি বিবি ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি এরুয়ার গ্রামে যান ছোট বউকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন্তু সুকুরানা বাড়ি ফিরতে অস্বীকার করেন। কিসমতের দাবি, 'ছোট বউমার কাছে জানতে পারি তাদের পারিবারিক অশান্তির কথা। মাকে খুনের কথা সুকুরানার কাছে স্বীকার করে ভাই। নয়ন তার স্ত্রীকে বলেছে, মাকে ভারী বস্তু দিয়ে মাথার পেছনে মেরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।ভাই তার স্ত্রীকেও খুন করে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। মাকে খুন করার মাস ছয়েক পর ওর বিয়ে হয়েছিল। মা বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে যাতায়াত করত। তাই নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে অশান্তি হয়েছে বহু বার। সে কারণেই রাগে খুন করেছে বলে মনে হয়। আমরা চাই ওর শাস্তি হোক।' তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নয়ন পেশায় গাড়িচালক। সে মাঝেমাঝে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলত। মাকে খুনের পর গর্ত খুঁড়ে দেহ পুঁতে দিয়েছিল নয়ন। তার পর পাকা মেঝেও তৈরি করে সে। মাকে 'শ্রদ্ধা' জানাতে ওই ঘরে নিয়মিত ধূপও জ্বালাত নয়ন। পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 3 |
কাজের চাপে পিষ্ট শহুরে মানুষ দুদণ্ড শান্তি খুঁজতে পার্কে কিংবা বাগানে ঘুরতে যান। সবুজের মাঝে চোখ জুড়িয়ে, নির্মল বাতাসে প্রাণভরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে তরতাজা করে ফেরেন। এ জন্য নগর-পরিকল্পনায় কর্মব্যস্ত মানুষকে প্রশান্তি দিতে ছোট-বড় পার্ক কিংবা বাগান বানানোর কথা বলা হয়। তবে এমন একটি বাগান রয়েছে, যেখানে গেলে মানুষের মনে প্রশান্তির বদলে আতঙ্ক ভর করবে। সেখানে সামান্য অসতর্ক চলাফেরা যে কারও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অবাক করা এই বাগান রয়েছে যুক্তরাজ্যের নর্দামবারল্যান্ডে। সেখানকার জনপ্রিয় একটি বাগান আলনউইক গার্ডেন। তারই একটি অংশের নাম দ্য পয়জন গার্ডেন বা বিষের বাগান। সেখানে রয়েছে বিষাক্ত সব গাছের অনন্য এক সংগ্রহ। অনলাইন সংবাদমাধ্যম রিপাবলিকওয়ার্ল্ডডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালো রঙের বড় একটি লোহার ফটক পেরিয়ে ঢুকতে হয় বাগানটিতে। ফটকের ওপরে বড় হরফে লেখা রয়েছে-দ্য পয়জন গার্ডেন। ভেতরের সারি সারি নানা প্রজাতির গাছ যে কারও চোখ জুড়াবে। তবে পুরোটা সময় সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, শতাধিক প্রজাতির এসব গাছের কোনোটির পাতা, কোনোটির ডাল বিষাক্ত। সেগুলো ছুঁয়ে দেখা মানা। এমনকি কোনো কোনো প্রজাতির পাতা কিংবা ফুলের সুবাস শুঁকতে গেলেও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিষাক্ত গাছের এই বাগানের যাত্রা শুরু। ডাচেস অব নর্দামবারল্যান্ডের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে এটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে রয়েছে দুষ্প্রাপ্য হেমলক থেকে শুরু করে রিসিনাস কোমুনিস, ফক্সগ্লোভ, ব্রুগমানসিয়া, লাবুরনামসহ শতাধিক প্রজাতির বিষাক্ত গাছ। ঝুঁকি থাকলেও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে বিশেষ এই বাগান। প্রতিদিন বিষের এই রাজ্যে ভিড় জমায় অনেক মানুষ। | 3 |
বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত আব্দুর রশীদ (৪২) নামে সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি শেরপুরের খানপুরের এলাকায়। তিনি খুলনা সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল মুখমাত্র জাহাঙ্গীর আলম। খুলনা সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. বদিউজ্জামান বলেন, আব্দুর রশীদ ২০১৭ সালে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তারপর থেকেই তিনি স্ত্রী ও এক শিশু বাচ্চা নিয়ে খুলনা শহরেই থাকতেন। কোরবানি ঈদের দুইদিন আগে তিনি বগুড়ায় যান। আর সেখানে যাওয়ার পর তার করোনা আক্রান্তের খবর পাই। তিনি অকালে এভাবে চলে যাবেন ভাবতেই পারিনি। হাসপাতাল মুখমাত্র জাহাঙ্গীর আলম জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে আব্দুর রশীদ ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভর্তি হন। তীব্র শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। | 6 |
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের অন্যতম পুরোনো দল। এই দলের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই দল টানা ১১ বছর ক্ষমতায় আছে। এর আগেও নব্বই-পরবর্তী সময়ে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল। সব মিলিয়ে এটি খুবই অভিজ্ঞ একটি রাজনৈতিক দল, যার বিস্তৃতি তৃণমূল পর্যন্ত। স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেওয়া এই দলের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এই দলের নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অর্থনৈতিক অর্জনও প্রশংসনীয়। তবে দীর্ঘ এই পথচলায় সরকার ও দল মিলেমিশে গেছে। সরকারকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাই সরকারের ভালো-মন্দের দায়দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়। সরকারপ্রধান ও দলের প্রধান একই ব্যক্তি হলে এমন অসুবিধা হয়। আবার দলের নেতারাই সরকারে থাকেন। সব মিলিয়ে দল ও সরকারের চেহারাটা একই রকম মনে হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এ জন্য সরকার ও দলের মধ্যে একটা পার্থক্য থাকে। একজন নাগরিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা হচ্ছে, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারাই নেতৃত্বে থাকবেন। এখানেই আওয়ামী লীগকে হোঁচট খেতে দেখছি। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নেতা-কর্মীর নৈতিক স্খলনের কথা বলেছেন। এত বছর ক্ষমতায় থাকায় দুর্নীতির নানা অভিযোগ আসছে। প্রধানমন্ত্রী কিছু পদক্ষেপ নিলেও দুর্নীতির শিকড় এতটাই গভীরে যে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী একাই সবকিছু করছেন। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান সুশাসন নিশ্চিত করতে কোনো রকম সহায়তা করতে পারছে না। এমন অনেক উদাহরণ তৈরি হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও যানবাহনের অবস্থাটা দেখেন। এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী আছে? সরকার সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটি আইন করল। জনগুরুত্বপূর্ণ সেই আইন বাস্তবায়ন করতে পারল না। সরকার ও সরকারি দলকে জিম্মি করে ফেলা হলো। এর ফলে আইন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারল না। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে গেছে। এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা খুবই জরুরি। নির্বাচন কমিশনে যা ঘটছে, তা কখনোই ঘটেনি। নিয়োগসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে অন্য কমিশনারদের মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ। এ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতি দিয়েছে। কমিশনের অবস্থাটা এখন দেশে-বিদেশে সবাই জানে। তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানার রাজনীতি করতে হবে। দেশের তরুণেরা কিন্তু রাজনীতিবিমুখ হচ্ছে। ছাত্রলীগের রাজনীতির ওপর প্রধানমন্ত্রী কতটা নাখোশ, সম্প্রতি তা দেখা গেল। মেধাবীরা আগে ছাত্ররাজনীতিতে আসত। সেই ধারাটা বন্ধ হয়ে গেল। তরুণদের ছাত্ররাজনীতি অপছন্দের বড় কারণ লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি। ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই। এই প্রজন্মের বেশির ভাগই রাজনীতি নিয়ে ভাবে না। রাজনীতির প্রতি তাদের চরম অনীহা দেখতে পাই। তাদের চেষ্টা এখানে ১০-১২ বছর পড়াশোনা করেই বিদেশে চলে যাওয়া। যদিও শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, তাদের কাজের সুযোগও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আগামী বছরগুলোতে বিশাল দায়িত্ব আওয়ামী লীগের ওপর। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব ছাড়া সামনে এগোনোর সুযোগ খুবই কম। অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, মানবসম্পদের সূচকে অগ্রগতি আছে। কিন্তু এগুলো তো ধরে রাখতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মোহ করা। এটা করতে পারলে অনেক কঠিন কাজই সহজ হয়ে যাবে। ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন: সাবেক নির্বাচন কমিশনার | 9 |
নিখোজ হওয়া জেলেদের বেশির ভাগ পরিবার কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন। দু:চিন্তায় দিন কাটায় জেলে পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের দাবি, এতদিনেও খোঁজ দিতে পারেনি প্রশাসন। পাননি কোন ক্ষতিপূরণ। তবে জেলেদের সঠিক কোন তথ্য না থাকলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে তালিকা তৈরির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গেল ৫ বছরে প্রায় দেড় শতাধিক জেলে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতির সোনালী গ্রামের আমির হোসেন। একটি জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে ছেলে শরীফ হোসেনের ছবি নিয়ে কাঁদছে। পরিবারের ১৮ সদস্যকে হারিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরাও পাগল প্রায়। কি করবে, কোথায় যাবে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন সহায়তা পাননি। আমির হোসেন জানান, পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হারিয়েছে মেঘনায়। ২০১৮ সালের ২১ জুলাই মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাসহ নিখোঁজ হন তারা। এক সঙ্গে এতজন উপার্জনক্ষমকে হারিয়ে দুবছরেও উঠে দাঁড়াতে পারেননি। এদিকে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ মাছ শিকারে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন একই এলাকার আলমগীর মাঝি। স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে অনাহারে দিন কাটান স্ত্রী লাকি বেগম। একই অবস্থায় সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার মেজর আলী ও আবুল কাশেমসহ শতাধিক জেলে নিখোঁজ। প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে লক্ষ্মীপুরের জেলে পরিবারগুলো হারাচ্ছে স্বজন। জেলের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুযোর্গে মারা যাওয়া জেলেদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল গনি, হুমায়ন কবির,জসিম উদ্দিন, মোসলেহ উদ্দিন ও পারভেজ খাঁনসহ অনেকেই জানান, জীবিকার টানে প্রাকৃতিক দুযোর্গের মধ্যে মাছ শিকার গিয়ে প্রতিবছর নিখোঁজ হন একের পর এক জেলে। জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ ছৈয়াল জানান, গেল পাঁচ বছরে নিখোঁজ জেলের সংখ্যা দেড়শতরেও বেশি। পরিবারগুলো এখনো প্রিয়জনের অপেক্ষায় আছে। রামগতি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মোমিন জানান, নিখোঁজদের কোনো তথ্য। তবে তালিকা তৈরি কাজ শুরু হবে। তালিকা পেলে দেয়া হবে ক্ষতিপূরণ। মৎস্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, জেলার সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর মিলিয়ে মোট জেলের সংখ্যা ৫২ হাজার। | 6 |
করোনা মহামারির কারণে টানা বন্ধের সময় বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। বেসরকারি একটি সংস্থার জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।করোনা সংক্রমণ বাড়ায় গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। টানা দেড় বছর বন্ধ থাকায় ঝরে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে এ উপজেলার শতাধিক ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। কিছু ছাত্র প্রবাসে চলে গেছে। আর প্রাথমিক-মাধ্যমিকে পড়ুয়া প্রায় ১২ ভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে না। তবে কিছুদিন গেলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা শিক্ষকদের।বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্তরের কত ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে, তা নিয়ে জরিপ চালাচ্ছে একটি বেসরকারি সংস্থা। আপাতত তাদের হিসাব অনুযায়ী এই দুই স্তরের প্রায় ১২ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোমান মিয়া জানান, বিয়ানীবাজারে করোনার আগেই স্বাভাবিকভাবে ঝরে পড়ার হার ছিল ৩ ভাগ। করোনার কারণে তা বেড়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই এক দিন হয়তো আসেনি কোনো কারণে। আবার পরদিন হয়তো উপস্থিত ছিল। নানা কারণে অল্প কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকেরা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং নতুন করে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।পৌরশহরের গৌরীনাথ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল রুমন মিয়া। তার বাবা পৌরশহরে ফেরি করে সবজি বিক্রি করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলায়। করোনার কারণে পৌরশহরে সবজি বিক্রি বন্ধ ছিল। তাই রুমনের বাবা পুরো পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরে গেছেন।বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ার বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ ভাগ শিক্ষার্থী আর আসছে না। পুরো পাঠদান হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মৌলুদুর রহমান বলেন, 'সঠিক জরিপ এখনো পাওয়া না গেলেও ১০ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে বলে অনুমান করছি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি বা টেলিফোনে যোগাযোগ করছেন। তাঁদের সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।' | 6 |
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে সম্প্রতি বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তির ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়াকে পরমাণু শক্তিচালিত অত্যাধুনিক সাবমেরিন বানাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে দেশ দুটি। তবে এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। কারণ, ত্রিদেশীয় জোট গঠন করতে গিয়ে সাবমেরিন বানাতে ফ্রান্সের সঙ্গে করা প্রায় তিন হাজার কোটি পাউন্ডের একটি চুক্তি বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া।'অকাস' নামের এই চুক্তির আওতায় তৈরি সাবমেরিন পেলে দক্ষিণ চীন সাগরে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে অস্ট্রেলিয়া, যা এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রকে। বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি চীন। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মালয়েশিয়া, উত্তর কোরিয়া। সামগ্রিকভাবে ত্রিদেশীয় এই চুক্তি নিয়ে একধরনের কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে দেশগুলোর মধ্যে।এসব ঘটনার জেরে ক্যানবেরা ও ওয়াশিংটন থেকে নিজ রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠানোর পর এবার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিরক্ষা বৈঠকও বাতিল করেছে ফ্রান্স। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পারলে এবং ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেসের মধ্যে চলতি সপ্তাহে লন্ডনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও।ফ্রান্স দাবি করছে, ত্রিদেশীয় চুক্তির আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি মিত্র দেশগুলো। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া বলছে, ২০১৬ সালে প্যারিসের সঙ্গে করা সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ অনেক আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা।এ অবস্থায় কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আলোচনায় বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা চুক্তিকে 'অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক' উল্লেখ করে উত্তর কোরিয়া বলছে, 'অকাস' চুক্তির কারণে উত্তর কোরিয়া কোনো নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে এর পাল্টা জবাব দেবে পিয়ংইয়ং।এদিকে ফ্রান্সের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন চীনবিরোধী সামরিক জোট কোয়াডের সম্মেলনে অংশ নিতেই তাঁর এ সফর। | 3 |
ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার হিসেবে আরও উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রাহকদের জন্য অ্যাপেলের সবচেয়ে অত্যাধুনিক স্মার্টফোন আইফোন-১২ নিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন। চমৎকার নতুন ডিজাইনের আইফোন-১২ তে রয়েছে একেবারে নতুন ক্যামেরা সিস্টেম, বিনোদনের আরও অভিনব অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এজ-টু-এজ সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে, স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সিরামিক শিল্ড ফ্রন্ট কভার এবং অ্যাপলের নিজস্ব ডিজাইনের স্মার্টফোন জগতের দ্রুততম এ১৪ বায়োনিক চিপ। গ্রাহকরা তাদের নির্ধারিত সেলস চ্যানেলের (গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার এবং অনলাইন শপ) মাধ্যমে ১১ ডিসেম্বর থেকে আইফোন-১২ কিনতে পারবেন। সম্পূর্ণ মূল্য তালিকা এবং প্রাপ্তি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিকটস্থ গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে যোগাযোগ অথবা ://./- লিঙ্কটিতে ক্লিক করতে বলা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | 11 |
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আহরণে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ সময় বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ওই সময়ে আহরণ করা হয়েছে ১৬২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির যে ধারা, তাতে অর্থবছরের বাকি সময়ের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা অসম্ভব বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অধিক রাজস্ব আহরণ করায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে নির্ধারণ করে ৪৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সেই হিসাব মোতাবেক অর্থবছরের প্রথম জুলাই মাসে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরিত হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে ৪৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরিত হয়েছে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরিত হয়েছে ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ৩৯ কোটি ২ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরিত হয়েছে ৩৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। নভেম্বর মাসে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আহরিত হয়েছে। হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম নুরুল আলম খান বলেন, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি নির্ধারণ করে দিয়েছে, যার কারণে অর্থবছরের শুরু থেকেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ বেশি হচ্ছে। শুধু নভেম্বর মাসেই গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ রয়েছে ২২ শতাংশ।রাজস্ব কর্মকর্তা আরও বলেন, বন্দরের রাজস্ব আহরণ মূলত বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভর করে। তবে বর্তমানে বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির যে ধারা বিরাজমান রয়েছে, তাতে অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় আলাবামার এক ব্যক্তিকে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল শুক্রবার তাঁকে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম লনি কফম্যান। তাঁর বিরুদ্ধে হামলার দিন মলটভ ককটেইল বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে।কফম্যানসহ এ পর্যন্ত ৩ জন ট্রাম্পের সমর্থক ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাদণ্ড পেলেন। এর আগে ট্রাম্পের দুই সমর্থককে ৬৩ মাস এবং ৫১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এ ছাড়া ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় ১০০ জনের বেশি অভিযুক্তকে স্বল্প সময়ের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায় ঘোষণার সময় মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক কলার-কোটেলি বলেন, তাঁর ট্রাকে একটি ছোট অস্ত্রাগার ছিল, যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত ছিল। আমি এখনো বুঝতে পারি না কেন তিনি এটি করেছিলেন।গত বছরের ৬ জানুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন কফম্যান।২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের হাজার হাজার সমর্থক ক্যাপিটল হিলে হামলা চালিয়ে ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট গণনা বন্ধের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই ভোট গণনার মধ্য দিয়েই ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। | 3 |
আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা, রাজিহার, বাকাল, বাগধা ও রত্নপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা মিলে অপরূপ এক দৃশ্যের। সবুজ প্রকৃতির মাঝে রোদ ঝলমলে জারুলগাছগুলোয় শোভা পাচ্ছে গাঢ় বেগুনি রঙের ফুল। চলার পথে পথিক থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন জারুল ফুলের বেগুনি রঙের আভা।নীলাভ ও গোলাপি দুই রঙের জারুল ফুল বাংলাদেশে থাকলেও বেশির ভাগ জায়গায় নীল রঙের ফুলের গাছটিই বেশি দেখতে পাওয়া যায়।গাছের পাতা সবুজ এবং পুরু ও বেশ প্রশস্ত ধরনের। গাছের শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড শাখা প্রশাখার অগ্রভাগে দণ্ড বোঁটায় অসংখ্য ফুল ফোটে। বোঁটার নিচ থেকে প্রথম ফুল ফোটা শুরু হয়ে বোঁটার সামনের দিকে ধীরে ধীরে ফুল ফোটে।এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ফুল আসে। ফুল ঝরে পড়ার পর ফল পরিপক্ব হতে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগে। গাছ ফুলে ছেয়ে গেলেও চারপাশে তেমন সুগন্ধি ছড়ায় না। তবে এর দৃষ্টিনন্দন রং ও রূপের শোভায় সবারই চোখ আটকে যায়। জারুল ফুল ৫ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া হয়। ফল ডিম্বাকার, শক্ত ও বাদামি। বীজ ১ সেন্টিমিটার চওড়া, পাতলা বাদামি রঙের। বীজে থেকেই এর বংশবৃদ্ধি হয়।জারুল গাছ থেকে কাঠ করতে চাইলে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ বছর সময় লাগে। এর কাঠের রং লালচে ধরনের। জমি চাষের লাঙল, ঘর নির্মাণ, নৌকা ও আসবাবপত্র তৈরিতে এই কাঠ ব্যবহার করা যায়।জারুলকে অনেকে বলেন বাংলার চেরি। গ্রীষ্মে অপূর্ব হয়ে ফোটে এই ফুল।জারুলের রঙে মুগ্ধ হয়ে কবি আহসান হাবীব তাঁর স্বদেশ কবিতায় লিখেছেনমনের মধ্যে যখন খুশিএই ছবিটি আঁকিএক পাশে তার জারুল গাছেদুটি হলুদ পাখি,উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, জারুলের আদি নিবাস শ্রীলঙ্কায় হলেও এটি ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও চীন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জারুল গাছের দেখা মেলে। জারুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওসা। জারুল গাছ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। গ্রীষ্মের শুরুতেই এর ফুল ফোটে এবং শরৎ পর্যন্ত দেখা যায়। জারুল গাছের বীজ, ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালাম হোসেন জানান, জারুল গাছের বিভিন্ন অংশের রয়েছে নানা ভেষজ গুণ। এই গাছের শিকড় সিদ্ধ করে সেই পানি মধুর সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে কাশি ভালো হয়ে যায়। | 6 |
পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) বুধবার দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করেছে। ২০২১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সম্পত্তির তালিকাও রয়েছে এতে। ইসিপির হিসাব অনুযায়ী, শাহবাজ শরিফের সম্পত্তির পরিমাণ ২৪৬ মিলিয়ন রুপি আর লন্ডনে তার সম্পত্তির পরিমাণ ১৩০ মিলিয়ন রুপি। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দুই মিলিয়ন রুপি রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন অ্যাকাউন্ট ফাঁকা। তিনি তার ছেলে সুলেমান শাহবাজের কাছ থেকে ৬৩.৯ মিলিয়ন রুপি ঋণ নিয়েছেন। ইসিপির নথিতে দেখা যাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানের সম্পত্তির পরিমাণ ১৪২.১ মিলিযন ডলার। তিনি জামান পার্ক, মিয়ানওয়ালি ও বাক্কারে কয়েকটি বাড়ির মালিক। তিনি বনি গালায় উপহার হিসেবে ৩০০ কানাল (১ কানালে ৬০৫ গজ) জমির একটি বাড়ি পেয়েছেন। বাড়িটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১.৪ মিলিয়ন রুপি। আর জামান পার্কের বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪৮.৬ মিলিয়ন রুপি। এছাড়া ইমরান কান ইসলামাবাদের গ্র্যান্ড হায়াতে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ১১.৯ মিলিয়ন ডলার আগাম দিয়েছেন। তার স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি বুশরা বিবির পাকপত্তনে ৫২ কানাল জমি রয়েছে। এছাড়া পির ঘানিতে ৩৭৮ কানাল জমি, ওকারায় ২৬৭ কানাল জমি আছে তার। পিপিপির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সম্পত্তির পরিমাণ ৭১৪.২ মিলিয়ন ডলার। তিনি পাকিস্তানে ২০টি সম্পত্তির মালিক। তার ১৬.৬ মিলিয়ন রুপির অস্ত্র এবং ছয়টি গাড়ি আছে। পাকিস্তানের বাইরে তার কোনো সম্পত্তি নেই। পিপিপি চেয়ারপারসন বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির সম্পত্তির পরিমাণ ৬০০ মিলিয়ন রুপি। পাকিস্তানে তার ১৯টি সম্পত্তি রয়েছে। তার ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রতিটিতে ৬৬.৮ মিলিয়ন ডলার করে আছে। বিলাওয়ালের কাছে ১৫০ তোলা স্বর্ণ ও সাতটি ঘড়ি আছে। তিনি দুবাইতে বিনিয়োগ করেছেন। সেখানে তার দুটি বাংলো আছে- একটি উপহার হিসেবে পাওয়া, আরেকটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া।সূত্র : জিও নিউজ ও দি নিউজ ইন্টারন্যাশনাল | 3 |
কদিন আগেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবসর নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মঈন আলী। এবার আর অনির্দিষ্ট নয় স্থায়ীভাবেই অবসরের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।৩৪ বছর বয়সী মঈন টেস্ট খেলেছেন ৬৪টি। সীমিত ওভারের ক্রিকেট আরও দীর্ঘদিন চালিয়ে যেতে আর টেস্ট খেলতে চান না তিনি। সাদা বলের ক্রিকেটেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত। হেড কোচ ক্রিস সিলভারউড ও অধিনায়ক জো রুটকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মঈন। এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আছেন মঈন। খেলছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল চেন্নাই সুপার কিংসে। আইপিএলের পর অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে আছেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। বিশ্বকাপের পর পরই আছে অ্যাশেজ। এদিকে লম্বা সময় ধরে আছেন পরিবারের বাইরে তাই সবকিছু মিলিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন তিনি।টেস্ট থেকে অবসর নিলেও মঈন সাদা বলের ক্রিকেট চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কাউন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটও চালিয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হয়তো খেলবেন প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটও তবে এই ব্যাপারে স্পষ্ট করে তিনি এখনো কিছু বলেননি।দারুণ কিছু মাইলফলক স্পর্শ করেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মঈন। টেস্টে ২০০০ রান আর ১০০ উইকেট নিতে কিংবদন্তি ইয়ান বোথাম, গ্যারি সোবার্স আর ইমরান খানের চেয়ে কম টেস্ট খেলেছেন তিনি। ৬৪ টেস্টে তিন হাজারের কাছাকাছি রান করেছেন আর উইকেট নিয়েছেন ১৯৫টি। আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও একটা সময় তিন নম্বরে ছিলেন মঈন। | 12 |
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পোর্ট অথোরিটি বাস টার্মিনালে ওই বিস্ফোরণে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। বলা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিই হামলাকারী এবং তার জন্ম বাংলাদেশে।নিউইর্য়ক পুলিশের সাবেক কমিশনার বিল ব্রাটন এমএসএনবিসিকে জানান, বোমা হামলাকারীর বয়স ২৭ বছর। তার জন্ম বাংলাদেশে এবং সাত বছর ধরে ব্রুকলিনে থাকেন তিনি। তার সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও দাবি করেন ব্রাটন। তবে এ ব্যাপারে সরকারিভাবে এখনও কিছু বলা হয়নি।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে এনবিসি নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তার ও যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে।পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তি পাইপের মধ্যে ব্যাটারি ঢুকিয়ে তৈরি বোমা বহন করছিলেন। বাস টার্মিনালে হেঁটে যাওয়ার সময় সেটি আংশিক বিস্ফোরিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, লক্ষ্যস্থলে পৌঁছার আগেই বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটে।স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ম্যানহাটনের ৮ অ্যাভিনিউ ও ৪২ স্ট্রিটে ওই বিস্ফোরণের বিষয়ে জোর অনুসন্ধান শুরু করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।
| 3 |
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে 'উদ্দেশ্যমূলকভাবে' মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান।মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তিনি এই কথা বলেন। মজিবুর রহমান আদালতে বলেন, 'উদ্ধার করা কথিত মাদক আসলে কোনো মাদক নয়। পরীমণিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আটক করার জন্য মাদকের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং মহানগর দায়রা জজ আদালতের এ মামলায় জামিন দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।' তিনি বলেন, 'পরীমণি ২৬ দিন ধরে কারাগারে আছেন। তিনি একজন চিত্রনায়িকা। জামিন পেলে তিনি পালিয়ে যাবেন না। যেকোনো শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হোক।' এসময় রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন,' বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এলএসডি, আইস খুব ভয়াবহ মাদক। তার বাসা থেকে ১৮.৫ লিটার মদ পাওয়া গেছে। তার জামিন নামঞ্জুর করা হোক।' উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তাপস পাল সাংবাদিকদের জানান, শুনানি শেষে ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। অন্য মামলা না থাকায় মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন পরীমণির আইনজীবী। পরীমণির জামিননামা পৌঁছে গেছে কাশিমপুর কারাগারে।ওই কারাগারেই রয়েছেন নায়িকা পরীমণি। এরআগে, গত ৪ আগস্ট রাতে ঢাকার বনানীর ১২ নম্বর রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক করে র্যাব। পরদিন তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক আইনে মামলা হয়।জব্দ তালিকায় পরীমণির বাসা থেকে 'মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য' উদ্ধার দেখানো হয়। তিন দফায় সাত দিন রিমান্ডের পর উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে গ্রেপ্তারের ২৬ দিন পর জামিন পেলেন তিনি। এ পর্যায়ে এ মামলায় তিন দফায় সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে পরীমণিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট পরীমণিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। পরদিন পরীমণির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে মহানগর দায়রা জজ আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন রাখেন। এরপর আরেক আবেদনে 'দ্রুত শুনানির' আর্জি জানান তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। এতে সাড়া না পেয়ে গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। সেখানে রুল জারির পাশাপাশি পরীমণির জামিনের আবেদনও করা হয়। পরদিন হাইকোর্ট জামিন না দিয়ে মহানগর আদালতের প্রতি রুল জারি করেন। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে পরীমণির জামিন আবেদনের শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি ২২ আগস্ট পরীমণি জামিন অবেদন করার পর নির্ধারিত শুনানির জন্য দিন রাখার আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চান হাইকোর্ট। ১ সেপ্টেম্বর রুল শুনানির তারিখ রেখে মহানগর দায়রা জজ আদালতকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সেদিন উচ্চ আদালত বলেন, জামিন আবেদনের বিষয়ে নিম্ন আদালত রীতিনীতির বাইরে গিয়ে আদেশ দিয়েছে। ২১ দিন পর শুনানির দিন ঠিক করা আবেদনটি খারিজ করার শামিল। | 6 |
পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কার ঘটনায় ফেরির দুই চালককে (মাস্টার ও সুকানি) দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। শুক্রবার সকালে বাংলাবাজার ঘাট থেকে ২৯টি যানবাহন নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারে আঘাত করে। এ সময় ফেরিতে থাকা যাত্রীরা ছিটকে একে অপরের ওপর পড়ে কমপক্ষে ২০ জন যাত্রী মারাত্মক আহত হন। ওই দিনই বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামানকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রবিবার (২৫ জুলাই) বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, আজ দুপুরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য ফেরি দুই চালককে দায়ী করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। শুক্রবার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ফেরিতে কর্মরত ছয়জনের বক্তব্য নেন। শনিবার খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেন। রবিবার বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেল খরচ কমাতে সংক্ষিপ্ত পথে চলতে গিয়ে পদ্মা সেতুতে আঘাত করে রো রো ফেরি শাহজালাল। স্রোতের অনুকূলে কম গতিতে চালাতে (২৫০ আরপিএম) গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর ১৭ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয় ফেরিটি। অথচ স্রোতের বিপরীতে কিছুটা উপরের দিকে চালিয়ে পদ্মা সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ফাঁক দিয়ে নদী পাড়ি দিলে এ ঘটনা এড়াতে পারতেন ফেরির দুই চালক (মাস্টার ও সুকানি)। সেক্ষেত্রে পথটি দীর্ঘ হতো এবং গতিও বাড়াতে হতো। এতে তেল খরচ হতো বেশি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তেল বাঁচানো। ফেরির আঘাতে সেতুর ১৭ নম্বর পিলারের ক্যাপে কিছুটা স্ক্যাচ পড়েছে। আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবি ফেরিটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ডকইয়ার্ডে নিয়ে মেরামতের আগে এটি চলাচল করতে পারবে না। এদিকে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে কৌশল নেন ফেরির দুই চালক ও অন্যান্য স্টাফরা। সেতুতে আঘাত দেয়ার আগে স্টিয়ারিং কাজ করছিল না বলে তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে দাবি করেন তারা। যদিও তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে স্টিয়ারিং ভালো পাওয়া গেছে। তবে তারা ধীরগতিতে চালানোর কথা স্বীকার করেছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.