text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পক্ষে নতুন এক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন। তিনি শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে এ ব্যাখ্যা দেন। জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে পম্পেও বলেন, ইরানের এই জেনারেলকে হত্যা করার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের বিপদ অনেকাংশে কমে গেছে। তিনি ইরানকে 'সন্ত্রাসবাদের সমর্থক বিশ্বের এ নম্বর দেশ' হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় 'ইহুদি-বিদ্বেষী' দেশ হচ্ছে ইরান। ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানি পম্পেও এমন সময় এ ব্যাখ্যা দিলেন যখন গত ৩ জানুয়ারি জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্বের চারটি দেশের দূতাবাসে আসন্ন হামলা ঠেকাতে ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। কিন্তু ওই চার দেশের নাম কখনোই জানায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। গত ৩ জানুয়ারি ভোররাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে সন্ত্রাসী ও দখলদার মার্কিন সেনারা। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে সফরকারী দল। ওপেনার আলেক্স কেরিকে সাজঘরে ফেরত পাঠান স্পিনার মেহেদী হাসান। ২.৩ ওভারে মেহেদীর বলকে ছক্কা বানাতে চেয়েছিলেন কেরি। কিন্তু ব্যাটে বলে সেই সমন্বয় হয়নি। ক্যাচ উঠে যায় শর্ট লং অফে। আর তা খুব সহজেই তালুবন্দী করেন নাসুম আহমেদ। ১১ বলে ১১ রান করে ফেরত যান গত ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পাওয়া কেরি। পরে মোস্তাফিজের দুর্দান্ত স্লোয়ার কাটারে অসহায় বোল্ড হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার জশ ফিলিপ। ৫.৪ ওভারে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করতে স্লোয়ার ছাড়েন মোস্তাফিজ। তাতে পুরো ধন্দে পড়ে যান ফিলিপ। পুল করতে গিয়ে হয়ে যান বোল্ড। ১৪ বরে ১০ রান করে তিনি ফিরেন সাজঘরে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৬ রান।
12
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ বাছাইপর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার রাতে (আজ বুধবার) বেলারুশকে ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বেলজিয়াম। ম্যাচটিতে রোমেলু লুকাকু ও কেভিন ডি ব্রুইনের মতো তারকা খেলোয়াড়দের খেলাননি বেলজিয়ামের কোচ। কিন্তু এতে তাদের ক্ষতি তো হয়নি বরং অন্য খেলোয়াড়রা উৎসবে মেতে বিশাল ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে। ম্যাচটিতে বেলজিয়ামের হয়ে জোড়া গোল করেন ভানাকেন ও ত্রোসাড। আর একটি করে গোল করেন বাতসোয়ি, দোকু, প্রায়েট ও বেন্তেকে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে গ্রুপ ই তে খেলা বেলজিয়াম ৩টি ম্যাচে অংশ নিয়ে দুটি ম্যাচে জয় ও একটি ম্যাচে ড্র করেছে। ফলে তিন ম্যাচ শেষে সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে তারা।
12
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশের লেমুয়া বাজার সংলগ্ন ভাঙ্গার তাকিয়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী শ্যামলী বাসের চাপায় সিএনজি অটোরিক্সার দুই নারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরো দুইজন আহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, শ্যামলী পরিবহনের চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া বাজার সংলগ্ন ভাঙ্গার তাকিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে একটি সিএনজি অটোরিক্সা পেছনে ঘুরতে গেলে পেছন থেকে আসা বাসটি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- সিএনজি অটোরিক্সা চালক ফেনী শহরের মধুপুর গ্রামের মৃত আবদুল জাব্বারের ছেলে রুহুল আমিন (৫২), যাত্রী শাহাদাত হোসেন, বেলাল হোসেন, নাসির উদ্দিন, সালমা আক্তার, নাসিমা আক্তারের নাম জানা গেছে। তারা সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর গ্রামের রঘুনাথপুর গ্রামের নতুন বাড়ির বাসিন্দা। সিএনজিযোগে ফেনী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় ঘাতক বাসটি জব্দ করতে পারলেও চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ফেনীর পুলিশ সুপার এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার দুর্ঘটনার ৬জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. নাজমুল হাসান জানান, আহত দুইজনকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান ও সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি নিহতদের প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার ও আহতদের প্রত্যকের ৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।
6
অভয়নগরে ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দেয়ায় ৪ প্রতারককে আটক করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার মাগুরাবাজার থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর জেলার আলুকদিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৪০), খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার পাবলা এলাকার নুরমোহাম্মদের ছেলে শাহাদত হোসেন (৩৫), খুলনার গোয়ালখালি এলাকার বাবর আলীর ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৫), একই এলাকার আব্দুর রহমানের কন্যা ইতি খাতুন (২২)। পুলিশ এসময় একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করে। পুলিশ ও এলাকাবাসি জানায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় ৪ জন লোক একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ ২৩-৪৩২৯) যোগে উপজেলার মাগুরা বাজারে এসে আব্দুল মজিদ বিশ্বাসের রাইসমিলে যায়। তারা ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র দেখতে চায়। কাগজপত্র দেখালে তারা বলে কাগজ সঠিক নাই মিলে আবর্জনা রয়েছে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। আব্দুল মজিদ টাকা দিতে গড়িমসি করতে থাকে। এরপর ওই ৪ জনের মধ্যে একজন মজিদ বিশ্বাসকে আলাদা ডেকে নিয়ে বলে আমি স্যারকে ম্যানেজ করবো আপনি স্যারকে খামে করে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। তখন আব্দুল মজিদের সন্দেহ হয়। আব্দুল মজিদ একটু কৌশলে সময় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে খবর নিয়ে জানতে পারে কোন ভ্রাম্যমান আদালত বসেনি। বিষয়টি আচ করতে পেরে তারা গাড়িতে উঠে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এসময় এলাকার লোকজন তাদের ধাওয়া করে মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামের মধ্যে তাদের ধরে ফেলে এবং ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ রাতে তাদের ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, আটককৃতরা গত ২৩ আগষ্ট উপজেলার প্রেমবাগ এলাকায় মুরাদ হোসেন ও মতিয়ার রহমানের মিষ্টির দোকানে এসে ২ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়। আজ (মঙ্গলবার) মাগুরা বাজারে এসে ম্যাজিষ্ট্রেট সেজে প্রতারণা করতে গেলে এলাকাবাসি তাদের আটক করে। খবর পেয়ে আমরা মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের থানায় নিয়ে আসি। তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের কাছ থেকে অখ্যাত বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভির পরিচয়পত্র, বুম, অকিটকি, সিল প্যাড উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় তাদের নামে মামলা হয়েছে।
6
ঢাকা: ইসরায়েল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। ক্ষমতা গ্রহণের পর দেওয়া ভাষণে গতকাল রোববার তিনি এমনটি বলেন।ভাষণে বেনেট জানান, সব জনগণের জন্য কাজ করবেন তিনি। বেনেট বলেন, এটা শোকের দিন নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের পরিবর্তন হয়। এখানেও তেমনটি ঘটেছে।ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে রোববার ১২০ আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর পক্ষে পড়ে ৫৯ ভোট। আর নতুন জোট সরকার গড়ার পক্ষে পড়ে ৬০টি ভোট।জানা গেছে, নাফতালি বেনেট ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর পরবর্তী দুই বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন মধ্যপন্থী ইয়াশ আতিদ পার্টির ইয়ার লাপিদ।ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিরা ইসরায়েলের নতুন সরকারকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।এ নিয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, এটি ইসরায়েলের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের অবস্থান সব সময় পরিষ্কার। আমরা ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী সীমান্ত চাই এবং ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই যেটির রাজধানী হবে জেরুজালেম।ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছেন, ইসরায়েল দখলকৃত একটি অঞ্চল। আমাদের অধিকার ফিরে পেতে আমাদের বল প্রয়োগ করতে হবে।ইসরায়েলের নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রী (প্রথম মেয়াদ) নাফতালি বেনেট, প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ (দ্বিতীয় মেয়াদ) এবং নতুন সরকারের সকল মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।প্রসঙ্গত, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০০৯ সাল থেকে টানা ১২ বছর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে দুর্নীতিসহ নানা কারণে ইসরায়েলিদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে থাকে। দুই বছরে মোট চারটি পার্লামেন্ট নির্বাচনে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হন তিনি। তাঁকে হটাতে জোট বেঁধে নামে বাম, ডান ও মধ্যপন্থী দলগুলো।
3
'চোখের সামনেই মা ও ছোট ভাইকে কুপিয়ে মেরেছে প্রতিবেশি মোখলেছ। প্রথমে ছোট ভাই হানিফকে কুপিয়ে মারে। ভাইকে বাঁচাতে গেলে মাকেও কুপিয়ে মারে।' এভাবে মা-ভাই খুনের ঘটনা বলতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ক্যান্সারে বাবাকে হারানো অসহায় নিপা। কুমিল্লার দেবিদ্বারে বুধবার উন্মত্ত ঘাতক মোখলেছের ধারালো দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন নিপার মা আনোয়ারা বেগম আনু (৪০) ও ১২ বছরের ছোট ভাই হানিফ মুন্সিসহ চারজন। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হয় মাদকাসক্ত রিকশাচালক মোখলেছ। দেবিদ্বার উপজেলার রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মোখলেছ ওই গ্রামের মর্তুজা আলীর ছেলে। তার হাতে নিহত অন্য দু'জন হলেন একই গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৬) ও তার মা মাজেদা বেগম (৫৫)। রাধানগর গ্রামে নিপাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা- ভাইকে হারিয়ে গগনবিদারী আর্তনাদ করতে করতে একপর্যায়ে মূর্ছা যাচ্ছেন নিপা আক্তার। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। মূর্ছা ভাঙলে ঘরে থাকা মা ও ভাইয়ের পরনের কাপড়ের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। একটু পরপর চিৎকার করে বলছেন, আপনারা আমার মা ও ভাইকে ফিরিয়ে দিন, আমাদের তো দেখার আর কেউ রইল না। মাসখানেক আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান নিপার বাবা শাহ আলম। এরপর থেকে অবিবাহিত এক মেয়ে নিপা এবং ছোট দুই ছেলে হানিফ ও আলমকে নিয়ে কোনো রকমে দিন চলছিল আনোয়ারা বেগমের। বিল থেকে মাছ ধরে চালাচ্ছিলেন সংসার। কিন্তু এখন ঘাতকের কোপে তাকেও চলে যেতে হলো। নিহত আনোয়ারার স্বজনরা জানান, তিন মেয়ে বিয়ে দিলেও ছোট মেয়ে নিপার এখনও বিয়ে দেওয়া বাকি। আনোয়ারার বাড়ির ভিটে-মাটি ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি নেই। এখন মেয়ে নিপার কী হবে, কে দেখবে তাকে? অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন: মা-ছেলেসহ প্রকাশ্যে চারজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় রাধানগর গ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স থেকে ১৬ পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এ সময় তিনি নিহতদের স্বজনকে সান্ত্বনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
6
ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে গতকাল বুধবার (২২ ডিসেম্বর) মধ্যরাত থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ফেরি চলচাল বন্ধ থাকার কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিপারের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক যানবাহন। দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে ৮কিলোমিটার এলাকাজুরে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ফেরপারের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, এই মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজবাড়ী কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ফেরিপারের অপেক্ষায় রয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
6
সিরিয়া ইস্যুতে বৈঠক করতে ইরানে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। সিরিয়া সংকট সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার জন্য তিন নেতার মধ্যে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ইরানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ডেইলি সাবাহ। ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক তাবরিজ শহরে এ বৈঠক হবে। সিরিয়া যুদ্ধের সাড়ে সাত বছরের মধ্যে বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইদলিব শহরের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে তিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার সোচি শহরে এবং তুরস্কের রাজধানী আংকারায় বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠক থেকে তিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এছাড়া, সিরিয়ায় টেকসই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়েও তিন নেতা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গত বছরের ২২ নভেম্বর রাশিয়ার সোচি শহরে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রুহানি সিরিয়া ও ইরাকে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পরাজয়ের প্রশংসা করেন তবে সিরিয়ায় সম্পূর্ণভাবে এ গোষ্ঠীর পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
3
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কলেজছাত্র রাহাত হাওলাদার হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি রায়হান ওরফে রনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ নভেম্বর) গভীর রাতে মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাথরঘাটা থেকে রনিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার রনি টিয়ারখালী গ্রামের বাহাদুর খানের ছেলে।রাহাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন এজাহারনামীয় এবং দুজন সন্দেহভাজন আসামি। রনি ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত বাকি পাঁচ আসামি হলেন উপজেলার দক্ষিণ গুলিসাখালী গ্রামের মহারাজ মালের ছেলে শাওন মাল (১৭), আলী ফরাজীর ছেলে আসাদুল ফরাজী (১১), দুর্গাপুর গ্রামের রুহুল আমিন মোল্লার ছেলে নাদিম মোল্লা (১৭) এবং সন্দেহভাজন চুন্নু মিয়া ও সেন্টু।মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল জানান, গ্রেপ্তার রনিকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে উপজেলার টিয়ারখালী আ. মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শেখ রাসেল স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে শুভ তার বন্ধুদের নিয়ে গুলিসাখালী আসার পথে পূর্বশত্রুতার জেরে মহারাজ মৃধবাড়ি নামক স্থানে শুভর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। শুভকে বাঁচাতে তাঁর বন্ধুরা এগিয়ে এলে দেশীয় অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে রাহাত, সানাউল, আরিফ ও আ. লতিফ আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাহাত হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
6
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আছেন বলেই এখনো আওয়ামী লীগ আছে। তিনি না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাঁর বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।মির্জা ফখরুল বলেন, 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি আছেন বলেই এখনো গণতন্ত্রের সংগ্রাম চলছে। তিনি আছেন বলেই আমাদের শত্রুরা এখনো সীমান্তে ভয় পায়। আর এখনো আওয়ামী লীগ যে আছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে আছেন, বেঁচে আছেন বলেই আছে। তা না হলে আওয়ামী লীগ থাকবে না।'সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'পরিষ্কার করে সরকারের কাছে বলতে চাই, আর বিলম্ব করবেন না। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন এবং তাঁকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এই দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। ক্ষমতা থেকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। সেই আন্দোলনই হবে এই সরকারের পতনের আন্দোলন।'মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য এই মুহূর্তে আমরা তাঁর মুক্তি চাই এবং তাঁকে বিদেশে পাঠানোর জন্য দাঁড়াতে চাই।''দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসেননি' মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া রাজপথে জনগণের সঙ্গে থেকে দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই, সংগ্রাম করেছেন। ২০০৮ থেকে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে এখনো তিনি কারা নির্যাতন ভোগ করছেন। বাংলাদেশে কজন নেতা আছেন, যাঁরা এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
9
ভোজ্যতেলের সংকট পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই আবার অস্থির হয়ে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাটুরিয়া হাটে কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতারা এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।বিক্রেতাদের দাবি, আমদানি না হলে পাগলা ঘোড়ার মতো পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে। ক্রেতারা মনে করেন হাট-বাজারের মনিটরিং সেল না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া হাটে গিয়ে দেখা গেছে, পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে দাম বেশি হওয়ায় খালি ব্যাগ হাতে নিয়ে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রেতারা। গত সপ্তাহে ৩০-৩৫ টাকায় ১ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন তাঁরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজের দাম হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।আরেক ব্যবসায়ী হৃদয় সাহা বলেন, 'বাজারে ভারতের পেঁয়াজ আমদানি না থাকায় দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। পেঁয়াজের আমদানি না হলে দাম আরও বাড়বে।'হাটে আসা ক্রেতা রহিম ও খালেকুজ্জামান হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করেন, বড় বড় আড়তদারের কারসাজিতে হুটহাট পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। পাইকার এবং ডিলারেরা যেভাবে তেলসংকট তৈরি করেছিলেন, ঠিক একইভাবে হাটে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।সাটুরিয়ার ইউএনও শারমিন আরা এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'হাট-বাজার মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
6
স্বাধীনতাযুদ্ধে ছাত্রদের অবদান নিঃসন্দেহে অনেক বড়। কিন্তু বায়াত্তরের পর ছাত্র ও তরুণসমাজের স্বপ্ন, সাধ্য এবং প্রাপ্তিতে বিস্তর ফারাক হতে থাকে। এ ছাড়া তরুণসমাজের একটি বড় অংশ র্যাডিক্যাল রাজনীতির চোরাবালিতে পা দেয়।একবার আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে নিয়ে ফেবুতে আমরা এক বিতর্কে জড়িয়েছিলাম। তক্কাতক্কি আমাদের প্রিয়, কিন্তু কাউকে তক্কে অসম্মান করার আমি ঘোর বিরোধী। কোনো মানুষ বা কোনো সময়কে মূল্যায়ন করা খুব সহজ কাজ নয়, কারণ এত সব সূক্ষ্ম উপাদান সম্পর্কে সজাগ থাকতে হয় যে কোনো মূল্যায়নই শেষ বিচারে চূড়ান্ত নয়। অবশ্যই আপেক্ষিক।সেই তক্কাতক্কির সূত্র ধরে ড. মোরশেদ শফিউল হাসান একটি উত্তর-মন্তব্য দিয়েছিলেন। সেটা আমার মাথার মধ্যে বেশ কিছুদিন আমাকে ভাবাচ্ছে। তাঁর মন্তব্যটি ছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র 'আলোকিত' মানুষ গড়ছে, কিন্তু তরুণসমাজকে বিরাজনীতিকরণের শিকার করার প্রক্রিয়াকে সাহায্যও করছে। মন্তব্যটি আপাতভাবে খুব সাধারণ মনে হলেও এটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার অবকাশ রয়েছে। ছাত্রদের রাজনীতিবিবর্জিত করার প্রকল্প কাদের নেওয়া এবং কীভাবে রাষ্ট্র তাতে মূল ভূমিকা গ্রহণ করে এবং কেন করে, সে বিষয়ে আমাদের সমাজবিজ্ঞানীরা গত ৪০ বছরে খুব গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন কি না, জানি না। নিজে সাহিত্যের ছাত্র হলেও মোরশেদ ভাই গত চল্লিশ বছর সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়েই তাঁর গবেষণা ও লেখালেখি বেশি করেছেন।বাংলাদেশের চিন্তাচর্চা নিয়ে তাঁর অসাধারণ গ্রন্থটি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লেখার জগতে অনেক দিন মাইলস্টোন হয়ে থাকবে মনে হয়। সমাজের রাজনৈতিক খুব কম ক্রাইসিস আছে, যা নিয়ে তিনি লেখেননি। একটা সময় সরকারি চাকরি করার জন্য হাসান শফি নামে লিখেছেন কড়া রাজনীতি বিষয়ে, হোক সে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম বা 'আল্লাহ হাফেজ' বা 'খোদা হাফেজের' মতো শব্দাবলির ব্যবহার। এগুলো যে একেবারেই ছোট বিষয় নয়, তা বোঝা যায় তাঁর গত চল্লিশ বছরের লেখায়।কিন্তু ছাত্রদের রাজনীতি করার বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্ব দাবি করে। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে এবং সাংবাদিকদের লেখায় দেখা যায় যে আমাদের ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা অসাধারণ। বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনে যে ছাত্ররা জীবনদান করেছেন, তাঁরা প্রায় সবাই এসেছিলেন গ্রামের কৃষক পরিবার থেকে। বাষট্টি সালের শিক্ষা আন্দোলনের চিত্রও তা-ই। উনসত্তরে গণ-আন্দোলন তো আগুন হয়ে লেলিহান রূপ নিয়েছিল ছাত্রদের জন্যই। পুরো ষাটের দশকের উত্তাল আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন সেই সব ছাত্র, যাঁরা অধিকাংশই এসেছিলেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত কৃষক পরিবার থেকে। সমাজবদলের স্বপ্ন তাঁদের বন্দুকের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। তাঁরা বুক উঁচিয়ে দেন বারুদের সামনে। এই সব ছাত্রনেতার বেশভূষা, তাঁদের জীবনাচরণ, তাঁদের অর্থ ব্যয়ের ধরন, চলাফেরা এমনকি তাঁদের প্রণয়-জীবনের ধরন বা প্রকৃতি নিয়ে তেমন গবেষণা হয়নি। কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ জনগণের তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মমতা ছিল, তাঁদের মধ্য দিয়ে জনগণ সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখত। ছাত্ররা কি তাঁদের সেই সম্মান নিজেরা হারিয়েছেন, নাকি তাঁদের সেই সম্মান বঞ্চিতকরণের দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁদের এর শিকার করা হয়েছে? এই প্রশ্ন আজও ভালো করে তলিয়ে দেখা হয়নি। স্বাধীনতাযুদ্ধে ছাত্রদের অবদান নিঃসন্দেহে অনেক বড়। কিন্তু বায়াত্তরের পর ছাত্র ও তরুণসমাজের স্বপ্ন, সাধ্য এবং প্রাপ্তিতে বিস্তর ফারাক হতে থাকে। এছাড়াতরুণসমাজের একটি বড় অংশ র্যাডিক্যাল রাজনীতির চোরাবালিতে পা দেয়। তরুণদের চরিত্রের একটা দিক হলো তাঁরা নেশা খোঁজেন, স্বপ্নের নেশা, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নেশা, সফলতার নেশা, প্রেমের নেশা। এর কোনোটাকেই যদি আঁকড়ে থাকতে না পারেন, তাহলে নিজেকে প্রলম্বিত ধ্বংসের নেশায় ডুবিয়ে দিতে চান। সে সময় একদল চতুর ক্ষমতাবান তরুণদের ভিন্ন নেশায় ব্যবহার করে। যেটা মধ্য সত্তরের পরে আমাদের রাজনীতিতে ভয়াবহভাবে সক্রিয় হয়। এটা করার মূল ভূমিকায় ছিল রাষ্ট্র নিজে। পঞ্চাশ ও ষাটের ছাত্রসমাজ ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিপক্ষ। তাঁদের পরনে ছিল ছেঁড়া পায়জামা-পাঞ্জাবি, বুকে ছিল দুর্দমনীয় বল, মাথায় ছিল সমাজবদলের স্বপ্ন। রাষ্ট্রকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে চোয়ালকে শক্ত রেখেছিলেন সর্বদা। তাঁদের সহজে কেনা যেত না। রাষ্ট্র যে মাঝে মাঝে চেষ্টা করেনি, তা নয়। পারেনি।এরপর পঁচাত্তর আমাদের সমাজকে আমূল বদলে দিল। জেনারেল জিয়া পাকাপোক্তভাবে ক্ষমতা নেওয়ার পর মারাত্মক কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, যার সুদূরপ্রসারী ফলাফল নিয়ে আমাদের রাজনীতিকেরা বা সমাজবিজ্ঞানীরা তখন খুব বেশি ভাবেননি। তার মধ্যে একটি হলো ছাত্ররাজনীতিকে দলীয় রাজনীতির অংশ হিসেবে আইন করা। দেশের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে জেনারেল জিয়া বঙ্গভবনে যে গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্তটি নেন, সেখানে পাঁচজন উপাচার্য এর পক্ষে মত দেন, একমাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ছাড়া। একমাত্র তিনিই বিপক্ষে মত দেন। শুরু হলো ছাত্রদল গড়ার প্রক্রিয়া এবং তা মূল দল বিএনপির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিরুপায় ছিল রাষ্ট্রক্ষমতার কাছে।বায়ান্ন থেকে একাত্তর সাল পর্যন্ত যে ছাত্ররা ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে মিছিলে থাকতেন সারা দিন, তাঁদের সন্তানেরা আটাত্তরের পরে মোটরসাইকেলের ওপর, গলায় সোনার চেইন, গায়ে বিদেশি টি-শার্ট বোতামহারা ও পরনে রেংলার জিনসের প্যান্ট। মাথাভর্তি বাতাসে উড্ডীন ঘন চুল, কখনো কখনো রোকেয়া বা শাসুন্নাহার হল থেকে প্রণয়িনীকে তুলে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে দ্রুতবেগে চন্দ্রিমা উদ্যান অথবা শেরাটনের বারে গিয়ে বিয়ার সেবন। অর্থের জোগান আসত রাষ্ট্রের একটি এজেন্সি থেকে। এই প্রথম আমাদের সমাজে তরুণসমাজকে নিয়ন্ত্রণের ভার নিল রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা। আমাদের রাজনীতির কোনো কোনো বন্ধু সূর্য সেন বা মুহসীন হলের বা অন্যান্য হলের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে অছাত্র বহিরাগত পান্ডা এনে জড়ো করে। তাদের অস্ত্রের জোগান দিল রাষ্ট্র। আরও ট্র্যাজেডির ব্যাপার হলো আমাদের বিবেকবান শিক্ষকেরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে সাদা দল, নীল দলের রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত রইলেন। আশির শেষ দিকে ছাত্রদের একটা অংশ ঝিলিক দিয়ে উঠেছিল এরশাদ হটাও আন্দোলনে, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেই ঝিলিক নিভে যায়। পুরো ছাত্রসমাজ রাজনৈতিক দলের কর্মচারীতে রূপ নেয়। যে দল ক্ষমতায় যায়, সেই দলের ছাত্ররা তখন ঠিকাদারি করে। মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে ছাত্রনেতারা গাড়ি ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে টহল দেন।দুই বা তিন দলের ছাত্র-কর্মচারীর বাইরে যে লাখ লাখ তরুণ, তাদের সামনে তো কোনো স্বপ্ন নেই, তারা কোথায় যাবে। দেশের অসম শিক্ষাব্যবস্থা, ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যমের বিস্তর ফারাক, শহর ও গ্রামের স্কুলের বিবর্ধমান দূরত্ব শুধু তাদের ভাগ্যকেই আলাদা করে দিচ্ছে না, সমাজের মানচিত্রটাকেই দ্রুতগতিতে অস্বাস্থ্যকর দুশ্চিকিৎস্য ব্যাধিতে নিমজ্জিত করছে। এর শেষ কোথায়, তা যেমন রাজনীতিকদের ভাবনায় নেই, আমাদের চিন্তকসমাজও খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে হয় না।মুষ্টিমেয় ধনিকশ্রেণির সন্তানেরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন, কেউ কেউ ফিরে এসে বাবার বিশাল ব্যবসার হাল ধরছেন। চকচকে, ঝকঝকে পোশাকে বিদেশি গাড়িতে হাওয়া খাচ্ছে, বারুদের মতো তুবড়ি ছোটাচ্ছে মুখে ইংরেজিতে, আর লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ বেকার, স্বপ্নহীন, ভালোবাসাহীন, হৃদয়হীন গভীর বিষণ্নতার শিকার।ষাট ছিল মোহাম্মদ ফরহাদ, রাশেদ খান মেনন, মতিয়া চৌধুরী, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমদের মাদকতায় আচ্ছন্ন তরুণসমাজ, ঘুণেধরা সমাজকে ভেঙে অন্য এক সমাজ গড়ার চিন্তায় বিভোর। ঠিক পঞ্চাশ বছর পর সেই সব উজ্জ্বল নেতা প্রায় সবাই প্রতিষ্ঠানের দোসর। ষাটে শুধু আমাদের ক্যাম্পাসগুলোতেই নয়, ইউরোপে রেজিস দেব্রে, তারিক আলি, কোহেন বেন্দিকট বিপ্লবের আগুন জ্বালানোর চেষ্টায় রত, চে গুয়েভারাকে মার্কিন সেনাদের হাত থেকে ছিনিয়ে আনতে বলিভিয়ার জঙ্গলে রেজিস দেব্রে ও তারিক আলি। পূর্ব বাংলার সব ক্যাম্পাসে ছাত্রসমাজ দুরাচারী পাক-শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলছে, যা স্বাধীনতাযুদ্ধে গিয়ে পরিণতি পায়।সেই অপরাজেয় ছাত্রসমাজকে কী করে রাষ্ট্রের এজেন্সি দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে বিরাজনীতিকরণের করুণ শিকারে পরিণত করে-তা নতুন করে গবেষণা করা প্রয়োজন। মনে পড়ে ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন কবি রফিক আজাদ। একদিন তিনি দায়িত্ব দেন আজকের বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ড. মনিরুল ইসলাম খান ও আমার মতো একেবারেই ছাত্ররাজনীতির বাইরের তরুণকে এ বিষয়ে একটি প্রচ্ছদ কাহিনি লিখতে। রোববারের সেই প্রচ্ছদ কাহিনির একটি অংশ, বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির চারিত্রিক বিবর্তন নিয়ে লিখেছিলেন মুনীর, আর ষাটের ইউরোপের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে লিখেছিলাম আমি। দীর্ঘ সেই প্রচ্ছদ কাহিনিটি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। আশির গোড়ায় সেই লেখায় আমরা বোঝার চেষ্টা করেছিলাম কীভাবে আমাদের ছাত্রসমাজ একটি অরাজনৈতিক সমাজে পরিণত হতে যাচ্ছে এবং তার ফলাফল কী দাঁড়াতে পারে।ইদানীং প্রায়ই আমার ভাবনা হয়, কিছুটা উদ্বেগও আমাদের বিবর্ণ, স্বপ্নহীন তরুণসমাজের জন্য।
6
বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান কিছুটা পুনর্বিন্যাস হচ্ছে। জনসমাগম এড়াতে ১৭ মার্চ প্যারেড গ্রাউন্ডে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে না এবং বিদেশি অতিথিরা এই মুহূর্তে আসছেন না। রোববার রাতে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানমুজিববর্ষউদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল অবদুল নাসের চৌধুরী। ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বলেন, করোনা ইস্যুতে জনস্বার্থের কারণে ১৭ তারিখের প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠান হবে না। বিদেশি অতিথিরাও এই মুহূর্তেআসবেন না। প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠান পরবর্তীতে আয়োজন করা হবে। তখন বিদেশি অতিথিরা অংশগ্রহণ করবেন। তিনি জানান, মুজিববর্ষের ১৭ মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে তবে প্যারেড গ্রাউন্ডে বড় আকারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে না। এছাড়া বছর জুড়ে চলবে বাকি অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি। সোমবার মুজিববর্ষের পুনর্বিন্যস্ত অনুষ্ঠান সূচি বৈঠক করে জানানো হবে।
6
এক বিত্তবান ব্যক্তি দাঁত ব্যথায় কাতর হয়ে বিদেশে গিয়ে দন্ত চিকিৎসার মনস্থির করলেন। বন্ধুর পরামর্শে তিনি গেলেন চীনে। চীনা ডেন্টিস্ট দেখেশুনে বললেন, ঠিক আছে। আপনার বেশ কয়েকটি দাঁত তুলে ফেলতে হবে। প্রতি দাঁত তোলার খরচ ১০ হাজার টাকা।ভদ্রলোক একটু বিস্মিত হলেন। বললেন, 'এত টাকা কেন? আমাদের দেশে তো এক শ টাকা দিলেই দাঁত তুলে দেয়।'ডেন্টিস্ট বললেন, 'আমাদের দেশে দাঁত তোলা খুব কঠিন কাজ।'-কেন, কঠিন কেন?-আমরা দাঁত তুলি কান দিয়ে।ডেন্টিস্টের কথা শুনে দাঁতের রোগী তো হতবাক। 'কান দিয়ে দাঁত তোলা হয় কেন?'খুব স্বাভাবিক কণ্ঠে ডেন্টিস্ট বলেন, 'আমাদের দেশে মুখ খোলা নিষেধ। বেআইনি।'খ. ইংল্যান্ড সফরকালে রানির সঙ্গে চা খেতে খেতে আলাপ করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। একপর্যায়ে বুশ রানির কাছে তাঁর নেতৃত্বের দর্শন জানতে চান।রানি বলেন, 'নিজের চারপাশে বুদ্ধিমান লোক রাখা।'বুশের জিজ্ঞাসা, 'বুদ্ধিমান কারা সেটা কীভাবে বোঝেন?'রানির তাৎক্ষণিক জবাব, 'উপযুক্ত প্রশ্নের মাধ্যমে আমি তা বুঝতে পারি।'বুশ আরও পরিষ্কার হতে চাইলে রানি টনি ব্লেয়ারকে ফোন করে বলেন, 'মি. ব্লেয়ার, বলুন তো, আপনার বাবার একজন সন্তান, মায়েরও তাই। কিন্তু সেই সন্তান আপনার ভাই বা বোন নয়। তিনি কে?''এটা আমি নিজে ম্যাম', টনি ব্লেয়ারের চটপট উত্তর।রানি ব্লেয়ারকে ধন্যবাদ দিয়ে বললেন, 'সঠিক জবাব।'বুশ রানিকে ধন্যবাদ জানালেন এবং বললেন, 'আমি নিশ্চয়ই এটা কাজে লাগাব।'ওয়াশিংটনে ফিরে বুশ পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জেসে হেমসকে ডেকে বললেন, 'সিনেটর, আপনি কি আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন?'-অবশ্যই স্যার। প্রশ্ন করুন।বুশ বললেন, 'আপনার বাবার এক সন্তান আছে, মায়েরও তাই। কিন্তু সেই সন্তান আপনার ভাই বা বোন নন। তিনি কে?'হেমস কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, 'আমি কি আরও একটু সময় পেতে পারি?'বুশ তাঁকে সময় দিলেন।হেমস দ্রুত সিনিয়র সিনেটরদের নিয়ে জরুরি সভায় বসলেন এবং একই প্রশ্ন করলেন। কিন্তু কেউ উত্তর দিতে পারল না। হেমস নিরুপায় হয়ে কলিন পাওয়েলকে ফোন করে ওই প্রশ্নটি করতেই পাওয়েল সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলেন, 'আরে বোকা, এটা তো আমি নিজে।'হেমস স্বস্তি পেলেন এবং বুশের কাছে ছুটে গিয়ে বললেন, 'স্যার, আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো, তিনি হচ্ছেন কলিন পাওয়েল।'বুশ বিরক্ত হয়ে বললেন, 'ভুল উত্তর, গাধা কোথাকার। সঠিক উত্তর হলো, টনি ব্লেয়ার।'গ. আমেরিকা, রাশিয়া ও আফগানিস্তানের তিন যুবক নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিল। আমেরিকার যুবকটি তাঁর গায়ের ফারকোটটি নদীতে ফেলে দিয়ে বলল, এটা আমাদের দেশে প্রচুর পাওয়া যায়।রাশিয়ার যুবকটি তার ব্যাগ থেকে একটি ভোদকার বোতল বের করে এক ঢোক গিলে নদীতে ফেলে দিয়ে বলল, এটা আমাদের দেশে প্রচুর আছে।সবশেষে আফগান যুবকটি তার মাথার পাগড়ি খুলে আমেরিকার যুবকটিকে বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে বলল, আমাদের দেশে এটার অভাব নেই।ঘ. তখন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে আছে। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে গোপনীয়তার নীতি কঠোরভাবে মেনে চলা হতো। তথ্য প্রচারে ছিল নানা বিধিনিষেধ। তখন এক জার্মান যুবক চাকরি পেয়ে সাইবেরিয়া যায়। সে জানত, তার সব চিঠি সেন্সর হবে। তাই তার বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করল। বন্ধুকে বলল, 'যদি নীল কালিতে চিঠি লিখি তাহলে বুঝবি ঘটনা সত্য। আর যদি লাল কালিতে লিখি, তাহলে বুঝবি মিথ্যা।'এক মাস পর বন্ধু চিঠি পেল, তাতে নীল কালিতে লেখা: এইখানে সবকিছু ভালো। দোকান সব সময় সব জিনিসপত্রে ভরা থাকে। খাবারদাবারের কোনো অভাব নেই। বিশাল বিশাল সব অ্যাপার্টমেন্ট। রুম হিটিংয়ের চমৎকার ব্যবস্থা। সিনেমা হলে পশ্চিমা ছবি দেখায়। মেয়েরা সব অপূর্ব সুন্দরী। ইচ্ছে করলেই প্রেম করা যায়। এখানে সমস্যা শুধু একটাই, লাল কালি কিনতে পাওয়া যায় না।
6
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপির অভ্যাস নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেওয়া, বিতর্কিত করা। শুক্রবার ভোলা পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে পুলিশ প্রশাসনের আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বিএনপির সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'খুলনা সিটি নির্বাচন সম্পর্কে কোনো পত্রপত্রিকায় কোনো প্রশ্ন তোলেনি। যাঁরা পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাঁরাও কোনো প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু বিতর্ক করা বিএনপির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, নির্বাচন হলেই বলে নির্বাচন ভালো হয়নি। অথচ আমাদের আমলেই বিএনপির নেতা মওদুদ, জমির উদ্দিন সরকার উপনির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গাইবান্ধায় নির্বাচন হয়েছে, বিরোধী দল জিতেছে, রংপুরে নির্বাচন হয়েছে বিরোধী দল জিতেছে। আমরা কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করি না এবং গাজীপুরেও করব না। সঠিক নির্বাচন হবে। অথচ বিএনপির আমলে আমরা নির্বাচিত হতে পারিনি।' তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'যথাসময়ে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সে নির্বাচন পরিচালনা করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনও অত্যন্ত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের বিকল্প কিছু নেই। আমরা চাই সব দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। যারা করবে না, তারা ভুল করবে।' বাংলাদেশ এখন স্যাটেলাইট ক্লাবের সদস্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক। গৃহবিবাদের কারণে কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে। সেগুলো শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে। আপনারা মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অভিযান চালাবেন। পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পুলিশ প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে। পুলিশ অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনও পুলিশ প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করবে। পুলিশ সুপার মোকতার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সাংসদ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক প্রমুখ।
9
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠেয় 'রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ২৫তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন' (কপ-২৫) এ যোগ দিতে রোববার তিন দিনের সরকারি সফরে স্পেনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। খবর বাসসের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের ২৫তম বার্ষিক সম্মেলন (ইউএনএফসিসিসি) ২-১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিলির সভাপতিত্বে এবং স্পেনের সার্বিক সহযোগিতায় মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট রোববার সকাল সোয়া ১০টায় মাদ্রিদের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে। বিমানটির স্পেনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মাদ্রিদ টোরেজন বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে মাদ্রিদের হোটেল ভিলা ম্যাগনায় নিয়ে যাওয়া হবে। স্পেন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এ হোটেলে অবস্থান করবেন। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী স্পেনের সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু ফিরিয়া দা মাদ্রিদে 'কপ-২৫' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরে, তিনি কপ-২৫ এর ওয়ার্কিং সেশনে যোগ দেবেন এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করবেন এবং পুনরায় অপরাহ্ণে ওয়ার্কিং সেশনে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেড্রো সানচেজের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। সোমবার সন্ধ্যায় রাজ প্রাসাদে স্পেনের রাজা এবং রানী আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি। তিন দিনের সরকারি সফর শেষে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশের পথে রওনা হবেন। ঢাকার স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে বিমানটির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। ২৫তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন যা কপ-২৫ নামে পরিচিত, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের ২৫তম বার্ষিক সম্মেলন (ইউএনএফসিসিসি) কে অর্ন্তভুক্ত করবে কিয়োটো প্রটোকলের (সিএমপি১৫) পক্ষের ১৫তম সভা এবং প্যারিস চুক্তির পক্ষে পক্ষগুলোর দ্বিতীয় সভা (সিএমএ২)। সম্মেলনের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন চিলির পরিবেশমন্ত্রী মিজ ক্যারোলিনা স্মিদভ জালদিভার। এই সম্মেলনটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়ার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছর পোল্যান্ডের 'সিওপি ২৪' এ প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন নির্দেশিকাগুলো সম্পর্কে চুক্তি অনুসরণ করে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো প্যারিস জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় সম্পন্ন করা। সম্মেলনটির এ বছর নভেম্বর মাসে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু পরিকল্পনা শুরুর আগেই নবনির্বাচিত সভাপতি জেইর বোলসোনারো অর্থনৈতিক কারণ দেখিয়ে স্বাগতিক হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে চিলি এগিয়ে আসে এবং নতুন স্বাগতিক দেশ হয়। কিন্তু বৈঠকের আগে সামাজিক অস্থিরতা ২০১৯ এর অক্টোবরের শেষের দিকে ওই দেশটিকেও স্বাগতিক হওয়া থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। তখন জাতিসংঘ, চিলি এবং স্পেনের মধ্যকার পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে শেষের দেশ স্পেন এর স্বাগতিক হয়।
6
ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনাসহ দেশের ৩৩টি নদীর পানি বাড়ছে। একে একে সারিঘাট, গোয়াইনঘাট, সুরমা, ধনু নদ ও খালিয়াজুরির হাওরের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে গেছে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বন্যা হতে পারে। বৈশাখের আগমন ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি। কোথাও কোথাও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশের উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচলে হচ্ছে ভারী বৃষ্টি। সিলেটও মাঝারি বৃষ্টি চলছে। দেশের ৩৯টি নদ-নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করে সরকারের বন্যা পূর্বাবাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ৩৩টি নদীর পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার ধনু নদের পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ৯১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল শনিবার থেকে ৫ দশমিক ১০ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার ধনু নদে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতে চার জেলায় নদনদীর পানি আরও কিছু স্থানে দ্রুত বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার বিশেষ সতর্কতার পূর্বাভাস দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বন্যার ঝুঁকির মধ্যে থাকা বোরো ধান ৮০ শতাংশ পাকলে দ্রুত সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. শাহ কামাল। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, হাওরে বন্যা হবে এটা অনেকটা নিশ্চিত। তবে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো ঠিকমতো কাজ করলে আপাতত কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে বন্যার আশঙ্কা নেই। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর অঞ্চলসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
6
রংপুর আদালতপাড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রোববার রাতে কোতোয়ালি থানায় দু'টি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে, ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আদালত চত্বরে সোমবার আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা দোষীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, কোর্ট চত্বরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস বাদী হয়ে ২৩ বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, এসআই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ দুই মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মইনুল হোসেনকে রোববার কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় অন্য মামলায় জামিন নিতে আসা বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে খালেদা জিয়ার পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ হয়। এদিকে, এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিচার দাবিতে সোমবার দুপুরে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক, সদস্য অ্যাডভোকেট দিলশাদ ইসলাম মুকুল, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম তুহিন, আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল জলিল, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা কোর্ট চত্বরে হামলা চালিয়ে আদালতের পবিত্রতা নষ্ট করেছে। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
6
মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক হতে হলে পরোপকারী হতে হবে। একজন অন্যজনের বিপদে এগিয়ে আসা, পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মী হওয়া, শুধু নিজের সুখের জন্য ব্যস্ত না হয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করাই মনুষ্যত্ব। পরোপকার মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের অলংকার। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, 'তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজে বাধা দেবে।' (সুরা-৩ আলে-ইমরান, আয়াত: ১১০)। এ বিষয়ে বিশ্বনবী (সা.) বলেন, 'তোমরা জগদ্বাসীর প্রতি সদয় হও, তাহলে আসমানের মালিক আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি সদয় হবেন।' (তিরমিজি: ১৮৪৭)। মানুষের সদ্গুণাবলির অন্যতম হচ্ছে পরোপকার। একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া জীবন যাপন করা কঠিন। যখন কোনো সমাজে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা হ্রাস পায়, সে সমাজের মানুষ সব দিক দিয়েই পিছিয়ে পড়ে। সে সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, শান্তি বিলুপ্ত হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা তিরোহিত হয়। ইসলাম সহানুভূতির ধর্ম। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা ইসলামের অন্যতম বিষয়। রাসুলে কারিম (সা.) বলেছেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। তাই পরোপকারের চেতনায় কোনো শ্রেণিভেদ নেই। বড়-ছোট, ধনী-গরিব, আত্মীয়-অনাত্মীয়, স্বজাতি-বিজাতি, মুসলিম-অমুসলিম এসব ব্যবধানের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামের শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মুমিন মিলেমিশে থাকে। তার মধ্যে ভালো কিছু নেই, যে মিলেমিশে থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।' (আল-মুজামুল আওসাত: ৫৭৮৭)। পরোপকারী হতে হলে অনেক ধনসম্পদের মালিক হতে হবে এমন নয়। প্রত্যেক মানুষই তার নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরোপকারী হতে পারে। পরোপকার নির্দিষ্ট সীমারেখায় আবদ্ধ নয়; ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে এবং শারীরিক, আর্থিক ও মানসিক কর্মকাণ্ডে এর পরিধি পরিব্যাপ্ত ও বিস্তৃত। পরোপকার মানুষকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করে। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব মনীষী স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন পরহিতৈষী। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম ওহিপ্রাপ্তির পর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে খাদিজা (রা.)-কে বললেন, 'আমাকে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে দাও, আমি আমার জীবনের আশঙ্কা করছি।' তখন খাদিজা (রা.) নবীজি (সা.)-কে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, 'আল্লাহ কখনোই আপনার অমঙ্গল করবেন না। কারণ, আপনি আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করেন, গরিব-দুঃখীর জন্য কাজ করেন, অসহায়-এতিমের ভার বহন করেন, তাদের কল্যাণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।' (বুখারি: ৪৫৭)। পরোপকারে নিজেরও কল্যাণ সাধিত হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, 'অবশ্যই দান-সদকা মানুষের হায়াত বৃদ্ধি করে। অপমৃত্যু থেকে বাঁচায় এবং অহমিকা দূর করে।' (আল-মুজামুল কাবীর: ১৩৫০৮)। অনাথ-অসহায় ও অনাহারির কষ্টে সমব্যথী হতে আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে রোজা ফরজ করেছেন। নিঃস্ব ও অভাবীর অভাব মোচনে জাকাত ফরজ ও সাদাকুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। দান-সদকা ও অন্যের জন্য খরচে উদ্বুদ্ধ করে অনেক আয়াত নাজিল করেছেন। আল-কোরআনে রয়েছে, 'কে আছে যে আল্লাহকে কর্জে হাসানা উত্তম ঋণ দেবে, তাহলে তিনি তার জন্য একে বর্ধিত করে দেবেন এবং তার জন্য সম্মানজনক প্রতিদানও রয়েছে।' (সুরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত: ১১)। কোরআন কারিমে রয়েছে, 'আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও তাদের সম্পদ খরিদ করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে, এর বিনিময়ে।' (সুরা-৯ তাওবা, আয়াত: ১১১)। 'নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, যে ক্ষেত্রে তারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদের প্রতিদান বর্ধিত করা হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।' (সুরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত: ১৮)। প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সমস্যাগুলোর একটি সমাধান করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।' (মুসলিম: ২৬৯৯)। মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব []
10
মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। ফুটবলের নতুন মৌসুমের জন্য অনেকটা নতুনভাবে শুরু করছে সাইফ। নতুন কোচ ও নতুন বিদেশি ফুটবলার নিয়েছে তারা। বেলজিয়ামের হাইপ্রোফাইল কোচ পল পুটের সঙ্গে সোমবার চুক্তি করেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। গাম্বিয়া, বুরোকিনা ফাসো, জর্ডান, কেনিয়া ও গিনি জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন পল পুট। কোচ হিসেবে জাতীয় দল এবং ক্লাব পর্যায়ে বেশ সাফল্য রয়েছে তার। ২০১৩ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা কোচও হয়েছিলেন তিনি। এরকম একজন হাইপ্রোফাইল কোচকে নিয়োগ দিতে পেরে বেশ খুশি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, 'আমার খুবই ভাগ্যবান যে, পলের মতো একজন কোচ পেয়েছি।' জর্ডানের কোচ থাকার সময় বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলতে বাংলাদেশে এসেছিলেন পল পুট। সাইফের মতো তরুণ একটি দলের দায়িত্ব পেয়ে রোমাঞ্চিত তিনি, 'বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি খুবই খুশি। এখানে আমার অতীত সুখকর স্মৃতি আছে। আমি বিশ্বাস করি, সাইফের এ তরুণ দলকে নিয়ে ভালো কিছু করতে পারব।'
12
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে শিক্ষার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যেহেতু ছাত্রলীগের মূলনীতিতেই আছে শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি। তাই ছাত্রলীগ কর্মীদের-শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।' প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়েজিত পুনর্মিলনী এবং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের শিক্ষা অর্জনে বেশি সময় ব্যয় করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'তোমাদেরকে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে প্রগতির মধ্য দিয়ে।' তিনি আরও বলেন, 'আর ওই মাদকাসক্তি বা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে হবে। আর এ পথে যারা যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব, এতে কোনো সন্দেহ নেই।' প্রধানমন্ত্রী এ সময় একজন শিক্ষার্থীর জীবনকে দেশ ও জাতির জন্য অনেক মূল্যবান আখ্যায়িত করে বলেন, 'তারা দেশ ও জাতিকে অনেক কিছু দিতে পারবে। কিন্তু নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে, এটা কখনও হয় না। হতে দেয়া যায় না।' শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'যখন খালেদা জিয়া হুমকি দিল-আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে তার ছাত্রদলই যথেষ্ট, তখন আমি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে কাগজ, কলম, বই তুলে দিয়ে বলেছিলাম-ওটা পথ না; পথ হচ্ছে শিক্ষার পথ। আমরা বাংলাদেশকে নিরক্ষরতামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে-ছাত্রলীগ কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায়, গ্রামে, মহল্লায় কোন অক্ষরজ্ঞানহীন লোক আছে কিনা তার খোঁজ নিতে হবে এবং নিরক্ষরকে অক্ষর জ্ঞান দিতে হবে। এজন্য সবাইকেই একযোগে কাজ করতে হবে যেন বাংলাদেশকে আমরা দ্রুত নিরক্ষরতামুক্ত করতে পারি।' সমাবেশে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পক্ষে বক্তৃতা করেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রজ ও সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাইফুর রহমান সোহাগ সভায় সভাপত্বি করেন ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের বর্তমান ছাত্রসমাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, ১৪ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৩টায় সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান। তার আগমনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকাটি নবীন-প্রবীণ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে পায়রা উড়িয়ে পুনর্মিলনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পুনর্মিলনীর থিম সং রবীন্দ্রসঙ্গীত 'পুরনো সেই দিনের কথা' পরিবেশিত হয়। দেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রগতিকে 'আলোর পথের যাত্রা' অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তার ভাষণে বলেন, 'আলোর পথের যাত্রা-আমরা শুরু করেছি। দেশকে প্রগতির পথে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এই অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায় সেজন্য ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে নিজেকে তৈরি করতে হবে। কেননা এই দেশ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় একদিন তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ উঠে আসবে।' 'সে সময় যেন আর কোন কারণে পিছনে ফিরতে না হয়। আমরা যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি', যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তৃতার শুরুতে নিজেকে ছাত্রলীগের একজন কর্মী আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি এই ছাত্রলীগের নেতা নয়, একজন কর্মী ছিলাম এবং এখনও কর্মীই আছি।' তিনি বলেন, 'ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস-বলেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার কারণ ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছিল এমন একটি সময়ে যখন আমাদের এই মাতৃভাষা বাংলাকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করে বাংলাকে বাদ দেবার ঘোষণা যখন পাকিস্তানি শাসকরা দিল, তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন ছাত্র। তিনি তখন ছাত্রলীগ সংগঠন গড়ে তোলেন এবং রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে মর্যাদা দেয়ার জন্য ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন।' আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, '৪ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা হয় আর ১১ মার্চ ভাষার জন্য প্রথম আন্দোলনের কোন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচি থেকে হরতালের ডাক দেয়া হলে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রনেতা সেদিন গ্রেফতার হন।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মধ্যদিয়েই ছাত্রলীগের জন্ম। আর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই বাঙালির প্রতিটি অর্জনের সাথে ছাত্রলীগের ইতিহাস জড়িত রয়েছে। প্রতিটি অর্জনের সাথে ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে।' শেখ হাসিনা বলেন, 'দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামেই অগ্রসেনানীই ছিল ছাত্রলীগ। জাতির পিতা যখন যেটা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিতেন তখন সেই বিষয়ে তিনি ছাত্রলীগকেই সর্বপ্রথম নির্দেশ দিতেন, তারাই মাঠে যেত। কি শ্লোগান হবে, জাতির পিতা তা বলে দিতেন। ছাত্রলীগ সেটা মাঠে নিয়ে যেত।' এভাবেই প্রত্যেকটি সংগ্রামে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
6
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনামের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ভিয়েতনামের শিল্প ও নির্মাণ খাতে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ওই দুই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। চলতি সপ্তাহে দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। ভিয়েতনামের গণমাধ্যমে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে ছয় মাসে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২০২১-এর প্রথমার্ধে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে শক্তিশালী পুনরুদ্ধারও দেখা যায়। ২০২০ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় মোট আমদানি-রপ্তানি টার্নওভার ৩২ শতাংশ বেড়েছে, ৩১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে পণ্য ও সেবা খুচরা বিক্রির অবস্থা এখনো তেমন ভালো হয়নি। লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব কর্মসূচি নেওয়ায় এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এটি কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। পর্যটন খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছরের এক সময়ের চেয়ে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমেছে ১৮ শতাংশ। অর্থনৈতিক গতিশীলতার জন্য কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি বলছেন বিশ্লেষকেরা। করোনা মোকাবিলায় ভিয়েতনামের সাফল্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তবে গত এপ্রিলে হঠাৎ করেই করোনা সংক্রমণ বেড়ে যায় দেশটিতে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৬ শতাংশ ভিয়েতনাম সরকারের। মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্য ৭০০ ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএ) পূর্বাভাস ২০২১ সালে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে ভিয়েতনামের।
0
সিরিয়ার কুর্দিদের ওপর সামরিক হামলা চালালে তুরস্কের অর্থনীতি 'ধ্বংস' করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার কুর্দিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্কে বিরাজমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি রোববার এই হুমকি দেন বলে খবর দিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে কাজ করছে সিরিয়ার কুর্দিরা। গত মাসে ট্রাম্প আকস্মিকভাবে সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে সেখানে পরবর্তী কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তুরস্ক কুর্দিদের আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প টুইটারে লেখেন, 'দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করছি। একইসঙ্গে আইএসের খিলাফতের সামান্য অবশিষ্ট অংশের ওপর জোরদার হামলা চলছে বিভিন্ন দিক থেকে।' তিনি বলেন, 'যদি তারা আবার উঠে দাঁড়ায়, তাহলে কাছাকাছি ঘাঁটি থেকে আবার তাদের ওপর আক্রমণ করা হবে। কুর্দিদের আঘাত করলে ধ্বংস করে দেয়া হবে তুরস্ককে।' 'একইভাবে আমরা চাইব যে, কুর্দিরা যেন তুরস্ককে খেপিয়ে না তোলে,' যোগ করেন ট্রাম্প। তিনি ওই অঞ্চলে ৩০ কিলোমিটার একটি 'সেফ জোন' বা নিরাপদ এলাকা তৈরির কথাও জানিয়েছেন। তবে, এটি কোথায় তৈরি করা হবে, এর খরচ কে দেবে এবং কারা এটা চালাবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানাননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলায় তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের সমালোচনা করে আসছে। কুর্দিশ পিপলস প্রটেকশন ইউনিটস বা ওয়াইপিজিকে তুরস্ককে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন বিবেচনা করে। কিন্তু, এটি আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহযোগী দল। সামরিক সরঞ্জাম ফিরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। কিন্তু, সেখানে মোতায়েন দুই হাজার মার্কিন সৈন্যকে ঠিক কখন থেকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, সেটি নিরাপত্তার খাতিরে গোপন রাখা হয়েছে। আবার হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, তারা আইএসের ওপর তাদের চাপ বজায় রাখবে।
3
ছবি মুক্তি পেয়েছে মাত্র দুটি। অথচ দুটি ছবি সম্বল করেই অনেকের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছেন সারা আলী খান। সেই সুবাদে সারাকে নিয়ে নতুন ছবির কথা ভাবাও শুরু করেছেন বেশ কয়েক নির্মাতা। 'কেদারনাথ' ও 'সিম্বা' ছবিতে তার সাবলীল অভিনয় নিয়েও প্রশংসা শোনা গেছে বলিউড চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের কাছে। এখানেই শেষ নয়, বরুণ ধাওয়ান, ইমতিয়াজ আলীর মতো নামি নির্মাতাদেরও নজর এখন সারার দিকে। এই দুই নির্মাতার পাশাপাশি কন্নান আইয়ারও চাইছেন তার নতুন ছবিতে সারাকে চুক্তিবদ্ধ করতে। কিন্তু কোন নির্মাতার ছবিটি হবে তৃতীয় ছবি- সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি সারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, করণ জোহরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধর্ম প্রডাকশনের নতুন ছবিতে দেখা যাবে সারা আলী খানকে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রযোজক ও অভিনেত্রী কেউ মুখ খোলেননি। খবর যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে, তা পরিচালক কন্নান আইয়ারের বরাত দিয়ে। এই নির্মাতার কথায় স্পষ্ট, সারা থাকছেন তার ছবিতে। কারণ এ ছবির প্রযোজক করণ জোহরও সেটি চাইছেন। রোহিত শেঠি পরিচালিত 'সিম্বা' ছবিতে সারার অনিন্দ্য অভিনয় এবং ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের দিকটি ভেবেই করণ চাইছেন, সারা থাকুক তার নতুন ছবিতে। 'সিম্বা' ছবির সহ-প্রযোজকও ছিলেন করণ সেই সুবাদে করণের সঙ্গে সারার সম্পর্কটাও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সারা কোন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করবেন- তা এখনও স্পষ্ট করে জানাননি। তার কথায়, বরুণ ধাওয়ান, ইমতিয়াজ আলী ও কন্নান আইয়ার আমাকে নিয়ে ছবি নির্মাণের কথা ভাবছেন জেনে ভালো লাগছে। তাদের কাউকে ফেরাতে চাই না। তবে গল্প ও চরিত্র ভালো লাগার পাশাপাশি সিডিউল অনুযায়ী কাজ করব। এতে যে কারও ছবিই হতে পারে আমার তৃতীয় ছবি।
2
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বেড়াতে আসা আরব আমিরাতের নাগরিক ব্যবসায়ী আলী আহামেদ ও স্থানীয় দুই দুবাই প্রবাসীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকাসহ বিমানের টিকিট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছেকোম্পানীগঞ্জ থানার দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রবাসী ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফাতেমা বেগম এবং তার বড় ভাই দেলোয়ার আনসারকে ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপারে কাছে অভিযোগ জানানোর পর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের খাঁন পাড়া এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম তার বড় ভাই দেলোয়ার আনসার ও স্বামীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের সাজ্জা সিটিতে ওই দেশের নাগরিক আলী আহামেদের (৬০) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছেন। ফাতেমা বেগম ও তার স্বজন শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা চলতি মাসের প্রথম দিকে দেশে আসার সময় তাদের কফিল (মালিক) আলী আহামেদও বাংলাদেশ ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সে অনুযায়ী গত ৩ নভেম্বর ফাতেমা বেগম ও তার পরিবারের সঙ্গে আলী আহামেদ কোম্পানীগঞ্জে বেড়াতে আসেন। সেখানে তারা একটি বাড়ি ভাড়া নেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ফাতেমা বেগমের বাসায় গিয়ে তারা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছেন বলে আলী আহামেদের লাল পাসপোর্ট ও তাদের বিমানের ফিরতি টিকিট দেখতে চানকোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই জাকির হোসেন। এরপর এসআই জাকির তাদের বিমানের টিকিট নিয়ে যান এবং থানায় দেখা করতে বলেন। এ ঘটনার ৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকেফাতেমা বেগমের বাসায় যান কোম্পানীগঞ্জথানার আরেক এসআই শিশির। ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এসআই শিশির ঘরে ঢুকে আরব আমিরাতের নাগরিক আলী আহামেদ ও তাকে জড়িয়ে অশালীন কথা বলেন। এক পর্যায়ে তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। পরে শিশিরকে ১২ হাজার টাকা দিলে তিনি চলে যান। এরপর বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জানালে তিনি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী মো. আবদুর রহিমকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নিদের্শ দেন। ফাতেমা বেগম ও শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কারণে এসআই শিশির ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শুক্রবার সকাল থেকে দফায় দফায় ফাতেমা বেগমের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে এবং মুঠোফোনে তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেন। তা না হলে ফাতেমা বেগম ও তার স্বজনদের মাদক এবং ডাকাতি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এই অবস্থায় বিদেশি এই নাগরিক নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। ফাতেমা বেগম বলেন, বিদেশি মেহমান নিয়ে দেশে এসেছি। আগামী ডিসেম্বর আমাদের দুবাই ফিরে যাবার কথা রয়েছে। কিন্তু পুলিশের অব্যাহত হুমকি ও নির্যাতনের ভয়ে ২-১ দিনের মধ্যেই দুবাই ফিরে যাব। এই ব্যাপারে এসআই জাকির হোসেন ২টি বিমান টিকিট নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা বৈধ না অবৈধভাবে দেশে এসেছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য টিকিটগুলো নিয়েছেন। তবে এসআই শিশির ওই বাসায় যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কোনো টাকা নেননি বা তাদের কোনো ধরনের হুমকি দেননি বলে দাবি করেন। জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সদর সার্কেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে প্রবাসী ওই পরিবারকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য লিখিত আকারে জানানোর জন্য বলেছি। তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওএমএস ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন এলিজা বেগম। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে থাকেন তিনি। গত কয়েক দিন এখানে এসেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। কথায় কথায় বললেন, 'এখানে ১টা বাজলেই চাল শেষ হয়া যায়। আইজ যদি চাল না পাই তাইলে বাইরে থেইকা কেনার সামর্থ্য আমার নাই।' দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এলিজার মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই খোলাবাজারে বিক্রি বা ওপেন মার্কেট সেলের (ওএমএস) চাল-আটা কিনে থাকেন। কিন্তু সঠিক তদারকি করতে না পারায় গত ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা মহানগরে ২০টি ওএমএস ট্রাকসেলের ১০টিতে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বাকি ১০টি ট্রাকসেলের মধ্যে পাঁচটির প্রতিটিতে তিন টন আতপ ও এক টন আটা দেওয়া হচ্ছে। আতপ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস না থাকায় অনেকেই চাল না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। ওএমএস ক্রেতা নাজিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কয়েক দিন ধরে সকাল ১০টার আগে লাইনে না দাঁড়ালে চাল পাওয়া যায় না। ২০২১-২২ অর্থবছরে ওএমএসের জন্য দেড় লাখ টন চাল ও দুই লাখ ৬৩ হাজার ১৫৮ টন আটা বরাদ্দ রয়েছে। এ বছর শুরু থেকে টানা ওএমএস ও বিশেষ ওএমএস দেওয়া হয়েছে। এতে বছরের ছয় মাস যেতেই বরাদ্দের প্রায় ৮০ ভাগ চাল শেষ হয়ে গেছে। আটা বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৫ ভাগ। তদারকিতে নেই অগ্রগতি: এমন অবস্থায় ওএমএসের চাল ও আটা বিতরণ কার্যক্রম তদারকির জন্য ৬ ডিসেম্বর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবদের নেতৃত্বে টিম গঠন করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, একই রেশনিং এলাকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয় করে অতিরিক্ত সচিবরা নির্দেশিত এলাকায় ওএমএস দোকান মনিটরিং করবেন। মনিটরিং করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবেন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এর পরও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. সালমা মমতাজ গতকাল রোববার সমকালকে জানান, কমিটি মাত্র গঠিত হয়েছে। অধস্তন কর্মকর্তারা এখনও কোনো প্রতিবেদন দেননি। গত ১২ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর ময়ূর ভিলা বেড়িবাঁধ এলাকায় দায়িত্বরত উপ-খাদ্য পরিদর্শক আব্দুর রহমান সমকালকে বলেন, 'তিন টন চাল ও এক টন আটা সর্বোচ্চ ৮৫০ জন মানুষকে দেওয়া যাবে। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ! লাইন থাকছে না, নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।' তিনি বলেন, 'গতকালও অনেকে ওএমএসের চাল-আটা পাননি। এর পরিমাণ বাড়ানো দরকার।' যা বলছেন খাদ্যমন্ত্রী: এ প্রসঙ্গে সাধন চন্দ্র মজুমদার সমকালকে বলেন, ভালোভাবে তদারকির জন্য ওএমএসের ট্রাক বন্ধ রেখেছি। চাহিদা বাড়লে প্রয়োজনে আবার চালু করা হবে। আতপ চালের বিষয়ে তিনি বলেন, আতপ চাল বিক্রি না করলে নষ্ট হয়ে যাবে। শীতে অনেকে এ চাল দিয়ে পিঠা খেতে পারবে। খাদ্যমন্ত্রী জানান, ওএমএস বরাদ্দের পরিমাণ দ্বিগুণ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে। দক্ষ তদারকির জন্য টিমও গঠন করা হয়েছে। রাজধানীতে আটজন তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে সাতজনকে বদলি করা হয়েছে। কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। 'ওএমএস বাড়াতে হবে': সবুজবাগ এলাকার ডিলার আরাফাত ফেরদৌস খান জানান, আগে তিনি তার দোকানে দেড় টন চাল ও দেড় টন আটা পেতেন। এখন পাচ্ছেন এক টন চাল ও এক টন আটা। মোহাম্মদপুর এলাকার ডিলার আব্দুল হালিম বলেন, এ এলাকায় ১২টি পয়েন্টে ১২টি ট্রাক ছিল। ট্রাক কমানোর ফলে প্রতি সপ্তাহে সব পয়েন্টে ট্রাক থাকে না। খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বদরুল হাসান বলেন, 'এত বড় সিটিতে ওএমএসের ১০টি ট্রাক দিয়ে লাখ লাখ গরিব মানুষকে সহায়তা করা সম্ভব নয়। ৫০টির বেশি ট্রাক চালু রাখা প্রয়োজন।' সদ্য বদলি হওয়া প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ঢাকা রেশনিংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান বলেন, ওএমএস কেন কমিয়েছে জানি না। এটা খাদ্য বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে হয়নি। ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন কুমার দাস বলেন, রাজধানীতে ওএমএসের কলেবর বাড়ানো হলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। গরিব মানুষের জন্য এটা খুবই কাজে দিচ্ছে।
0
করোনাভাইরাসের পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসতে আর করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। তবে যাত্রীদের টিকা নেওয়ার প্রমাণ সঙ্গে রাখতে হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ৮ মার্চ এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের সদস্য চৌধুরী এম জিয়াউল কবিরের সই করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত যেকোনো টিকার পূর্ণ ডোজ যাঁরা নিয়েছেন, তাঁদের বাংলাদেশে আসতে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে না। এ ছাড়া ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদেরও করোনা পরীক্ষা করাতে হবে না। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনা মানতে হবে। বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব যাত্রী শুধু করোনার এক ডোজ টিকা নিয়েছেন বা কোনো টিকাই নেননি, তাঁদের বাংলাদেশে আসতে হলে যাত্রার আগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ সনদ নিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতেও আর করোনা পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। যাত্রীরা যে দেশে যাবেন, সে দেশের নির্দেশনা অনুসরণ করবেন। বেবিচক জানিয়েছে, টিকা নেওয়া বা না নেওয়া কোনো যাত্রীর মধ্যে করোনার লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা গেলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে করোনা পরীক্ষা করাবে। সে পরীক্ষায় ফল পজিটিভ এলে তাঁকে নিজ খরচে সরকার-নির্ধারিত হোটেলে সাত দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। নির্দেশনায় এয়ারলাইনসগুলোকে বলা হয়েছে, ফ্লাইটে করোনায় আক্রান্ত যাত্রী পাওয়া গেলে তাঁর বসার জন্য উড়োজাহাজে শেষের সারির সব সিট খালি রাখতে হবে। যেসব বড় উড়োজাহাজ ৩০০ বা এর কম যাত্রী ধারণে সক্ষম, সেগুলোয় ৯৫ শতাংশের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। যেসব উড়োজাহাজ ৩০০ জনের বেশি যাত্রী ধারণে সক্ষম, সেগুলোয় ৯০ শতাংশের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না।
6
মাদক-কাণ্ডে ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাবা শাহরুখ খানের স্পেন যাওয়া আপাতত স্থগিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। অন্যদিকে মা গৌরী খানেরও একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অংশ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আপাতত সেটিও স্থগিত রাখা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শুটিং করতে শাহরুখ খানের স্পেনে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তাঁর 'পাঠান' নামের একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা। ছবির একটি গানে শাহরুখ খানের সঙ্গে বলিউডের আরেক অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনেরও অংশ নেওয়ার কথা। কিন্তু ছেলে আরিয়ান খানের মাদক মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত তিনি দেশের বাইরে যাচ্ছেন না, এমনটাই জানা গেছে। চলচ্চিত্রের প্রোডাকশন হাউস সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে 'পাঠান' চলচ্চিত্রের জন্য যাঁরা স্পেন অবস্থান করছেন, দেরির জন্য তাঁদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে শুটিং বাতিল করা হবে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। স্পেনে 'পাঠান' চলচ্চিত্রের গানের শুটিংয়ের জন্য শাহরুখ খান ও দীপিকার সঙ্গে দেড় শ নৃত্যশিল্পীর বিশাল ইউনিটের অংশ নেওয়ার কথা। এ ছাড়া একটি মারামারি দৃশ্যের জন্য জার্মানি থেকে রেস ড্রাইভারও স্পেনে ডেকে আনা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জান যায়, ছেলেকে ছাড়াতে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন শাহরুখ খান। ভারতের বিখ্যাত আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন বলিউড বাদশা। শাহরুখ খান প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছেন। গতকাল শনিবার রাতে মুম্বাই থেকে গোয়াগামী একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেন ভারতের এনসিবির কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে মাদক পার্টি চলছিল। আটক ১০ জনের মধ্যে শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানও আছেন। এনসিবি কর্মকর্তারা প্রমোদতরির সেই পার্টিতে নিষিদ্ধ মাদক ব্যবহৃত হবে বলে খবর পেয়ে ছদ্মবেশে হানা দেন। এনসিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রমোদতরির সেই পার্টিতে জামাকাপড়ে সেলাই করে, মেয়েদের ব্যাগের হাতলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল মাদক। শাহরুখপুত্রের লেন্স রাখার বাক্স থেকেও নাকি মাদক উদ্ধার করেন এনসিবির কর্মকর্তারা। আরিয়ানকে আটক করার পর ১৬ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (এনসিবি)। ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, আরিয়ান খান পার্টিতে মাদক নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অনুশোচনা করে জানিয়েছেন, মাদক নিয়ে ভুল করেছেন তিনি। আরিয়ান দাবি করেছেন, এর আগে কখনো এমন কিছু গ্রহণ করেননি তিনি। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জে জে হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
2
কিশোরগঞ্জে পালিত হয়েছে বিশ্ব যক্ষা দিবস। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন ও নাটাবের সহযোগিতায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এদিন সকালে শোভাযাত্রাটি কিশোরগঞ্জ-২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে হাসপাতালের সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. হেলাল উদ্দিন। সভায় আলোচকরা বলেন, বিগত ২০০০ সালের পর থেকে ৬ কোটি মানুষকে যক্ষ্মা থেকে বাঁচানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মা নির্মূলে কাজ করা হচ্ছে। তারা আরও বলেন, যক্ষ্মা একটি নীরব ঘাতক। প্রতি লাখে ২০১ জন যক্ষ্মা রোগী পাওয়া যায়। একজন রোগী ১০ জনের মাঝেরোগ ছড়াতে পারে। তাই সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতাই পারে এ থেকে বাঁচাতে। কর্মসূচিতে চিকিৎসক, নার্স, সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
রাজশাহীর বাগমারায় পৃথক অভিযানে গাঁজা ও চোরাই মদ সহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাতে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।বাগমারা থানার (ওসি) তদন্ত আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা গনিপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর উপজাতি পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৬১০ লিটার চোরাই মদসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হরিপদ (৫৩), শ্রীচন্দ্র (২৩), শান্তি রানী (৪৮), বাবুল হোসেন (৩৮) এবং আব্দুল জলিল (৫২)। অপরদিকে তাহেরপুর এবং যোগীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ৫০ গ্রাম গাঁজা সহ আল-আমিন ইসলাম (২২)। অন্যদিকে আব্দুর রউফ (২৪) এবং সাগর (২০) কে ২০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
6
জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এবার বাজেটে সরকার স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য যথেষ্ট সচেতন। আজ সোমবার দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে এসব কথা বলেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে সবাইকে সরকারঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনায় আক্রান্ত ও শনাক্তের হার বাড়ার একমাত্র কারণ অসচেতনতা। সবাই সচেতনতা দেখাতে পারলে করোনা থেকে বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করা যাবে। ভ্যাকসিন নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। এটা না করলে নিজেরাও ঝুঁকির মধ্যে চলে যাব। অন্যকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেব। টিকা কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, চীন-রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কথা-বার্তা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকাই সরকার দেশের জনগণের জন্য আনবে। অনুমোদনহীন কোনো টিকা বাংলাদেশ সরকার আনতে পারে না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত রহমান, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সবুজার সিদ্দিক সাগর, সাধারণ সম্পাদক রমা কান্ত রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস, বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
সাংবাদিকদের অকারণে ছাঁটাই না করার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আজ সোমবার সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ের সময় প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ মন্ত্রিসভা বৈঠকে উঠতে যাচ্ছে, এরই মধ্যে স্বনামধন্য পত্রিকায় ছাঁটাই চলছে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না -জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি যেটি বলব, সাংবাদিকরা এ পেশায় না গিয়ে অন্য পেশায় গেলে কিন্তু সেই পেশা অনেক নিরাপদ ছিল। অন্যান্য নিরাপদ পেশায় আরও ভালো বেতনে যারা কাজ করছেন তাদের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্যতা রাখেন সাংবাদিকরা। এ জন্য আমি অনুরোধ জানাবো, অকারণে যেন কাউকে এভাবে ছাঁটাই করা না হয়। সমস্ত পত্রিকা ও টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে সেটাই আমার অনুরোধ থাকবে।' এ বার্তা দেওয়ার জন্য সম্পাদক কিংবা টেলিভিশন মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন কি না -এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, 'এ ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকের সঙ্গে ইতোমধ্যেই কথা বলেছি। আমি সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলবো। যাতে এ ব্যাপারে সমন্বিতভাবে আরও উদ্যোগ নেওয়া যায়, সে জন্য আমি কথা বলবো।' তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা অনলাইনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করেছি। যে অনলাইনগুলোর তদন্ত হয়েছে, আর কিছু অনলাইন আছে তদন্তের খুব একটা প্রয়োজন নাই। কারণ, এগুলো প্রতিষ্ঠিত অনলাইন হিসাবে কাজ করছে। সেগুলোর নিবন্ধন আমরা খুব সহসা দিয়ে দেব।' আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, 'গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। সেই দর্পণে দৃষ্টি নিপাত করে সরকারও অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আবার অনেক সিদ্ধান্ত বদলায়। তাই সাংবাদিকরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মনে রাখতে হবে কোনো একটি সংবাদ সমাজে কী প্রভাবে ফেলতে পারে- এটি আমাদের মাথায় রাখতে হবে।' তিনি আরো বলেন, 'আমাদের দেশে অনেক সময় খারাপ খবরগুলো প্রাধান্য পায়। অবশ্যই খারাপ সংবাদগুলো পরিবেশন করতে হবে, সমালোচনাও থাকতে হবে। একই সঙ্গে ভালো সংবাদগুলোও পরিবেশিত হওয়া প্রয়োজন।' মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার, বিএসআরএফ-এর সভাপতি তপন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
6
যশোরের অভয়নগরে বোমা বিস্ফোরণে শফিকুল ইসলাম শপ্পা (৩৬) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত শপ্পা নিজ ঘরে বোমা তৈরির সময় এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানা গেছে।সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকার নওয়াপাড়ার রাজঘাট কার্পেটিং বাজার এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ধারালো রামদা এবং বিস্ফোরিত বোমার স্প্লিন্টার উদ্ধার করেছে।পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজঘাট কার্পেটিং বাজার নামক এলাকার ইব্রাহীম মোল্লার ছেলে শপ্পা। তিনি বোমা তৈরির একজন কারিগর। সোমবার মাঝরাতে শপ্পার ঘরে বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। বিস্ফোরণে তাঁর একটি হাতের তিনটি আঙুল, চোখ, মুখমণ্ডল ও বুক ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে দুই পা মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থারর অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শামীম হাসান জানান, এই ব্যক্তির নামে থানায় ইতিপূর্বে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের মামলা আছে। বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে এটা হতে পারে। এই বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
6
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার ৪ পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেড হলে সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা স্মারক দেয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এডিশনাল ডিআইজি ও এপিবিএন বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট আওরঙ্গজেব মাহবুব।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে সভায় একাত্তরের রণাঙ্গনে সাহসী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ বীর সদস্য যথাক্রমে এএসআই ভুপেন ত্রিপুরা, কনস্টেবল নুরুল ইসলাম, কনস্টেবল কাবিল মিয়া এবং কনস্টেবল অংকিউ মগকে ফুল, নগদ অর্থ এবং পরিধেয় দিয়ে সম্মান জানানো হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিনিয়া চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)-এর সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সুদর্শন দত্ত।এ সময় মঞ্চে অতিথি হিশেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. এইচ. এরশাদ, এ. এস. ডপ. (ডিএসবি) চৌধুরী মো. তানভীর, সদর থানার ওসি মুহাম্মদ রশিদ এবং ডিআইআইও (ওয়ান) আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
6
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলচাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের। উৎপাদন খরচ কম আর লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই আগ্রহী হন সূর্যমুখী ফুল চাষে। উপজেলা কৃষি অফিসও কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, সূর্যমুখী গুণগত মানের ভোজ্যতেল ফসল। মাঠে সূর্যমুখী অবস্থা খুবই ভালো। হেক্টর প্রতি প্রায় ২০০০ কেজি বীজ পাওয়া যাবে।উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালে প্রথমবারের মত নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ৫ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়। এর বীজ থেকে ভোজ্যতেল এবং গাছ থেকে জ্বালানির চাহিদা মেটায় এ অঞ্চলের মানুষ। ২০২২ সালে ফুল চাষের পরিমাণ বেড়ে ১৪ একরে পৌঁছেছে। কৃষকেরা উপযুক্ত লাভ পেলে এই এলাকায় আরও অনেক বেশি জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হবে। উপজেলার নিশ্চিন্তপুর, পিরিজপুর, বারঘর, সাহতার হাটশিরা, রায়পুরের কর্ণপুর এলাকায় কৃষকেরা সূর্যমুখী চাষ হয়।বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, সূর্যমুখী গুণগত মানের ভোজ্যতেল ফসল। বারহাট্টায় মাঠে সূর্যমুখী দ্বিতীয়বারের মতো আবাদ হয়েছে। এখন মাঠে সূর্যমুখী অবস্থা খুবই ভালো। হেক্টর প্রতি প্রায় ২০০০ কেজি বীজ পাওয়া যায়। সাধারণত ঘানিতে এই বীজ ভাঙে তেল তৈরি করা হয়। ইহার তেল খুবই পুষ্টিমান সম্পন্ন। বাজারে দামও অনেক বেশি। তাই এই ফসল চাষ করে সহজেই কৃষকেরা লাভবান হবে বলে আশা করছি। শুরুতে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, বাজার ব্যবস্থাপনায় একটু ইতস্তবোধ করলেও খুব দ্রুতই এর আবাদ বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তা ছাড়া সৌন্দর্যময় এই ফুল মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। তিনি আরও বলেন, কৃষিবান্ধব সরকারের কৃষি পুনর্বাসনের আওতায় সূর্যমুখী বীজ কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। ফসলের বৈচিত্র্য আনতে নতুন ফসল তথা সূর্যমুখী ইতিমধ্যে বারহাট্টা অঞ্চলের মানুষের মনে জায়গা নিয়েছে।উপজেলার কর্ণপুরের কৃষক রমজান জানান, সূর্যমুখীর বীজ লাগানোর পর আমি দেখতে পাচ্ছি এটা খুব ভালো লাভজনক একটা ফসল। তেল বিক্রি করলে আমি সাত থেকে আট হাজার টাকার তেল বিক্রি করতে পারবো। আমাদের কৃষি অফিস থেকে ডেকে নিয়ে এক কেজি বীজ দিয়েছে। আমি ৯ শতাংশ জমিতে তার চাষ করেছি। যদি ভালো আবাদ হয় তবে পরবর্তীতে বেশি জমিতে চাষ করবো।'এলাকার কৃষকেরা বলছেন, অন্য ফসলের চেয়ে কম খরচ আর লাভ বেশি হওয়ায় খুশি তারা। ভবিষ্যতে এই ফুল চাষে আগ্রহও প্রকাশ করছেন অনেক চাষি। দর্শনার্থীরা জানান, 'ফুলটা দেখতে খুব সুন্দর।
6
ফেনীতে জেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে শহরের তাকিয়া রোডে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির নেতারা জেলায় ১৪৪ ধারা জারির ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান। বক্তারা বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সারাদেশে যখন সভা-সমাবেশ-বিক্ষোভ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার আবারও মারমুখী আচরণ শুরু করেছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, ফেনীতে বিএনপি যেন সমাবেশ করতে না পারে, সে জন্য সরকারি দলের একটি অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে ওই একই স্থানে একই দিনের একই সময়ে পাল্টা সভা আহ্বান করা অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক। অজুহাত হিসেবে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে প্রশাসন শহরে ১৪৪ ধারা জারি ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। এতে মানুষের কণ্ঠ সাময়িকভাবে রোধ করা গেলেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক বেলাল আহম্মদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান। এ ছাড়া জেলা যুবদল ও ছাত্রদল শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে প্রতিবাদ মিছিল করে। ফেনীতে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা বিএনপিকে সভা করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পুরোনো মুন্সিরহাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশ করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তাঁরা। পরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে মঙ্গলবার দুপুর থেকে শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের ওয়াপদা মাঠে সমাবেশের অনুমতি পান তাঁরা। কিন্তু সাবেক সাংসদ জয়নাল হাজারীর মৃত্যু ও জানাজার জন্য মঙ্গলবারের সমাবেশ স্থগিত করে সেটা বুধবার করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবারও সভার অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু একই মাঠে একই সময়ে যুবলীগ সভা আহ্বান করে। তারাও প্রশাসনের কাছে ওই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চায়। তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল রাতেই জেলা প্রশাসন শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। এরপর রাত একটার পর ওয়াপদা মাঠে বিএনপির সভার জন্য নির্মাণ করা মঞ্চ পুলিশ খুলে নিয়ে যায়। জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান বলেন, বিএনপিকে গতকাল সমাবেশ করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ কারণে তারা সমাবেশ স্থগিত করে সেটি আজ করার জন্য অনুমতি চেয়ে আবার আবেদন করেন। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে ওই আবেদনের পক্ষে মতামত পাওয়া যায়নি। একই দিন একই সময়ে জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে ওয়াপদা মাঠে সভা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। এ কারণে আইনশৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে শহরে আজ সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি এবং সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন ওয়াপদা মাঠে বিএনপির সভার জন্য নির্মাণ করা মঞ্চ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এটি সত্য নয়।
9
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর সরকারি এফ ইউ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, করোনাকালীন স্কুল বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। গত সেপ্টেম্বরে স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১২ মাসের বেতন, পরীক্ষার ফি ও সেশন ফিসহ অতিরিক্ত টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো টাকা দাবি করছেন।সরেজমিনের গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় আক্কেলপুর সরকারি এফ ইউ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকজন অভিভাবক বাড়তি টাকা নেওয়ার কারণ জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে এসেছেন। তবে ওই সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ও অন্যান্য পাওনাদি আদায় বিবরণীতে দেখা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মোট ৫৯০ টাকা, সপ্তম শ্রেণির ৯৫০ টাকা, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সর্বমোট ৯৮৫ টাকা বিদ্যালয়ের ডাচ বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, 'ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বিদ্যালয়ের কাছের দু-একজন শিক্ষক নিয়ে সব কাজ করেন। কোনো কাজের হিসাব দেন না।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, 'বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে না। কিছু অভিভাবক না বুঝেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।'
6
'গাঙচিল' সিনেমার শুটিংয়ে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ঢাকায় ফিরেছেন। মঙ্গলবার সকালে তারা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরেন। গুরুতর আহত না হলেও শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেতলে গেছে দুজনের।সোমবার পর্যন্ত তারা বিছানা থেকেই উঠতে পারছিলেন না।এজন্য শুটিং বন্ধ রাখা হয়েছিল। রবিবারের মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় পূর্ণিমার কাঁধে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছেন। আর নায়ক ফেরদৌস বাঁ পায়ের হাঁটুতে চোট পেয়েছে।থেতলে গেছে তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গা। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছবির প্রধান দুই অভিনয়শিল্পী ফেরদৌস ও পূর্ণিমার আহত হওয়ার ঘটনায় সাময়িকভাবে শুটিং বন্ধ করে দেন পরিচালক।
2
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জেলার আশুগঞ্জ ও নবীনগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, আশুগঞ্জ উপজেলার বড়তল্লা গ্রামে ঘরের মটরপাম্পের কাজ করতে গিয়ে রেহান উদ্দিন (৫০) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। তিনি বড়তল্লা গ্রামের মৃত আব্দুল হাফিজের ছেলে। অপরদিকে, সকালে নবীনগর পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামে ঘরের ময়লা পরিষ্কার করার সময় শাহানা বেগম (৫০) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শাহানা বেগম ওই গ্রামের মোনায়েম মিয়ার স্ত্রী। আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ময়নাল হোসেন ও নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনোজিত রায় বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আসেনি।
6
স্ত্রী-কন্যাসহ করোনামুক্ত হলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এম এম হারুন অর রশিদ। করোনামুক্ত হয়ে তিনি নিজেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন। করোনাকে মোকাবেলা করতে আমরা সাহস হারাইনি। বাসায় থেকে ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়েছি। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেয়েছি। খেয়েছি এন্টিবায়োটিক 'এজিথ্রেমাইসিন' (৫দিন, দৈনিক ১টা করে) প্রতিদিন ১টি করে ভিটামিন ডি (২০০০ এমজি), দু'বেলা ২টি করে জিঙ্ক ট্যাবলেট (৬০ এমজি করে) এবং পানিতে গুলিয়ে প্রতিদিন ১ টি করে ভিটামিন সি ()। আমাদের জ্বর ছিল। ছিল কাশি এবং ছিল খাবারে অরুচি। সামান্য শ্বাসকষ্ট হলেও হাসপাতালে যেতে হবে। শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা বাসায় সম্ভব না। আল্লাহর রহমতে আমাদের ৩ জনের মধ্যে কারোরই শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়া ছিল না। আমি আমার ব্লাডসুগার কন্ট্রোলে রেখেছি। ব্যায়াম করেছি এবং রৌদ্র গায়ে মেখেছি। প্রচুর প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করেছি। সব সময় গরম পানি খেয়েছি এবং খাচ্ছি। গরমপানি দিয়ে দিনে ৩/৪ বার গড়গড়া করেছি। নানা উপাচার মিশিয়ে নাকেমুখে গরমপানির ভাপ নিয়েছি। আমার স্ত্রী নাহীদ সুলতানা নিজের কোভিড-১৯ অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে একেবারে একা (আমাদের বাসায় কাজের লোক নেই ২৫ মার্চ থেকে) আমাদের সেবাযত্ন করেছে, করছে। নানা ধরনের মিশ্রণ, ক্বাথ বানিয়ে আমাদের খাওয়াচ্ছে। লেবুপানি, ফল, ফলের জুস, তুলসীপাতা, আদা, কালোজিরা, মধু, ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাইয়ে সে আমাদের এবং রাখতে যা যা করা সম্ভব করেছে, করছে। পরিষ্কার রাখছে ঘরবাড়ি। কী কী করেছি, খেয়েছি- এসব বললাম এ কারণে যে এসব টোটকা অন্যদের কাজে লাগতে পারে। আমাদের একমাত্র কন্যা নিকিতা নন্দিনী নিজে কোভিড-১৯ রোগী হয়েও বাসার অনেক কাজ করেছে। ঘরদোর জীবানুমুক্ত রেখেছে। দেশে এবং বিদেশে বসবাসকারী আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর রেখেছেন। খাবার ও ওষুধ পাঠিয়েছেন। সাহস জুগিয়েছেন। পরিচিত ও অপরিচিত ডাক্তাররা টেলিফোনে আমাদের খোঁজখবর রেখেছেন। পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে আমার দুই শ্যালক ডা. শাহরিয়ার কবীর তুষার এবং ডা. কাওছার (লিয়ন) বলতে গেলে ঘন্টায় ঘন্টায় আমাদের খবর নিয়েছে। ডা. তুষার বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে আমাদের চিকিৎসার সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করেছে। যথাসময়ে অতি নিষ্ঠার সাথে আমাদের কোভিড-১৯ টেস্ট, ১ম ও ২য় ফলোআপ টেস্ট করে আমাদেরকে করোনামুক্ত সনদ দিয়েছে। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই সবাইকে। আমাদের বন্ধু রানা'র এ অনেক বিষয় হয়েছে। রানার পুরো নাম এবং পরিচয় আর একদিন বলা যাবে।" বিডি প্রতিদিন/কালাম
4
নারায়ণগঞ্জের এক প্রতিবাদ সমাবেশে আওয়ামী লীগকে 'স্বাধীনতাবিরোধী দল' হিসেবে উল্লেখ করায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে জাহাঙ্গীর আলমকে। তবে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আসলে তিনি বলতে চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ 'স্বাধীনতার সপক্ষের' দল। কিন্তু ভুল করে 'স্বাধীনতাবিরোধী দল' বলে ফেলেছেন। এ ব্যাপারে ক্ষমা চেয়ে তিনি গণমাধ্যমে লিখিত বিবৃতি দেওয়ার পরও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল স্বাক্ষরিত চিঠিতে জাহাঙ্গীর আলমকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদককে। তবে জেলা কমিটির একজন নেতাকে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সরাসরি পদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন কি-না, তা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারাই প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক নেতা সমকালকে বলেন, 'কোনো নেতাকে তার কোনো ভুল বা অপকর্মের জন্য দল থেকে অব্যাহতি দিতে হলে তাকে আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। তার জবাব সন্তোষজনক না হলে তাকে দল থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে কেন্দ্রে চিঠি দিতে হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি ওই নেতার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।' সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত জাহাঙ্গীর আলমের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে বক্তব্য রাখার অপরাধে আপনাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। গত ২১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে আপনার দেওয়া বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য।' প্রসঙ্গত, ২১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজের নামফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগকে 'স্বাধীনতাবিরোধী দল' হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একদিন পর ২৩ নভেম্বর বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে গণমাধ্যমে লিখিত বিবৃতি দেন। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম জানান, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির কোনো চিঠি তিনি হাতে পাননি। কী কারণে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, তাও তার জানা নেই। তবে ২১ নভেম্বর বিকেলে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি অসাবধানতাবশত আওয়ামী লীগ 'স্বাধীনতার সপক্ষের দল' বলার বদলে 'স্বাধীনতাবিরোধী দল' বলে ফেলেছিলেন। তার এ অনিচ্ছাকৃত ভুলকে পুঁজি করে জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল বলেন, 'জাহাঙ্গীর আলমকে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।' জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
9
রংপুর নগরীর অদূরে নিসবেতগঞ্জ ঘাঘট নদের পাশে কয়েকদিন হলো আস্তানা গেড়েছেন বেদে সম্প্রদায়ের একটি দল। ৪৩ জনের এই দলথাকেন ২৩টি ঝুপড়িতে। দলে ২২ জন পুরুষ, নারী-শিশু মিলে রয়েছেন ২১ জন। নওগাঁ থেকে এসেছেন। বহরে শিশু রয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন। কদিন থেকে রংপুরে থাকলেও তেমন একটা আয় হয়নি। তাই সকলের চোখে মুখে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া। কথা হয় বহরের সর্দার মো. মিনহাজুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো মানুষ সাপের খেলা দেখেন না। টোটকা ওষুধও কেউ কেনেন না। তাই তাদের আয় কমে গেছে। তারপরেও বাপ-দাদার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই পথের ধারে খোলাস্থানে ডেরা গেড়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। পেটের দায়ে অনেকেরই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি বলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্থায়ীভাবে কোথাও থাকা হয় না বলে ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগে নৌকায় একস্থান থেকে আরেক স্থানে যেতাম। এখন বাসে চলাচল করতে হয়। ফলে আমাদের নদীর ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। বহরে বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে, বেদে-বেদিনীদের দাম্পত্য জীবনে একাধিক সন্তান রয়েছে। তারা জন্ম নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে আগ্রহী নন। কথাবার্তার একপর্যায়ে বেদেরা স্বামী হিসেবে কেমন, এমন প্রশ্নের উত্তরে যা বোঝা গেল তা হলো, যারা অলস স্বামী, তারাই বেদেনীদের কাছে উত্তম স্বামী। বেদেনীরা আধুনিক এই যুগেও মনে করেন স্ত্রীরা কাজ করে স্বামীকে খাওয়াবেন। স্বামী কোনো কাজ করবেন না। তবে অনেক স্বামীই স্ত্রীদের সাথে কাজ করে সংসারে সাহায্য করছেন। বহরে থাকা কাকলি, আরজিনাসহ কয়েকজন জানালেন তাদের কষ্টের কথা। তারা বলেন, আমারা যেখানেই যাই না কেনওই স্থানের কোনো জনপ্রতিনিধি অথবা কোনো রাজনীতিবিদ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন না। তারা বলেন, রংপুরে এখন শীত পড়েছে। গরম কাপড়ের অভাবে আমরা কষ্টে রয়েছি। প্রাচীন ধ্যান-ধারণা এখনো বদলাতে না পারলেও আধুনিকতার কিছুটা ছোয়া লেগেছে বহরে। তা বোঝা গেল একটি ডেরার সোলার লাইট দেখে। রাতের অন্ধকার দূর করতে তাদের অনেকেই সোলার লাইট ব্যবহার করছেন। তবে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব ঋতুতেই তাদের প্লাস্টিক কিংবা চটের ডেরায় বাস করতে হয়। তবে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে তারা সাভার, মুন্সিগঞ্জের মূল ডেরায় ফিরে যান। সে সময় বিয়ে শাদিসহ বিভিন্ন উৎসব পালন করেন। ইতিহাস লেখক জোবায়ের আলী বলেন, বেদেদের সাধারণত ৮টি গোত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই গোত্রগুলো হলো মালবেদে, সাপুড়িয়া, বাজিকর, সান্দার, টোলা, মিরশিকারী, বরিয়াল সান্দা ও গাইন বেদে। বেদেরা সাধারণত কার্তিক মাসের ৫ তারিখ থেকে অগ্রহায়ণের ১৫ তারিখ মূল ডেরায় ফিরে যান। তবে তারা যেখানেই যাক না কেন, গোত্র প্রেমের কারণে সারা দেশের বেদে সম্প্রদায়ের সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
5
করোনা মহামারীর প্রভাব কমতে থাকায় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরছে। এছাড়া টিকাপ্রাপ্তদের জন্য বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলতে শুরু করায় বিমানশিল্পেও তেলের চাহিদা বাড়ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার দাম বৃদ্ধি। এ বছর ইউরোপে গ্যাসের পাইকারি দাম তিন গুণের বেশি বেড়েছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গ্যাস ও কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি তেল ও ডিজেল ব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে চাহিদা বাড়তে থাকায় তেলের দাম বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্যের তিনটি প্রধান বেঞ্চমার্কের একটি ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সোমবার ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৬ ডলার হয়েছে, যা ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। আরেক বেঞ্চমার্ক উত্তর আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইর দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় সাড়ে ৮৩ ডলার হয়েছে, যা ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ইউরোপের দেশগুলোর আবহাওয়া ঠাণ্ডা হতে থাকায় তেলের চাহিদা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন নিউইয়র্কের বিদেশী মুদ্রা বিনিময় কোম্পামি ওয়েন্ডার কর্মকর্তা অ্যাডওয়ার্ড ময়া। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের পরিবর্তে তেল ব্যবহারের কারণে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে তেলের ব্যবহার বেড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে চার লাখ ব্যারেল হতে পারে বলে মনে করছেন এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা। 'জ্বালানি দারিদ্র্য'তেল, গ্যাসের দাম বাড়ায় ইউরোপের ২৭ লাখের বেশি মানুষ এবারের শীতে তাদের ঘর পর্যাপ্ত গরম রাখতে পারবেন না বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইউরোপিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শ্রম বিষয়ক কমিশনার নিকোলাস শ্মিত রোববার বলেছেন, এবারের শীতে ইউরোপে 'জ্বালানি দারিদ্র্যের' সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, শীতে ঘর গরম রাখতে না পারা অনেক মানুষ ইউরোপে আছে। এবার সেটা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন শ্মিত। এই অবস্থায় ইউরোপের সরকারগুলোকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জার্মানি গত সপ্তাহে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর কর প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়েছে। আর ফ্রান্স নিম্ন আয়ের মানুষদের ঘর গরম রাখার খরচ মেটাতে ১০০ ইউরো দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে
3
শেয়ারবাজারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অদাবিকৃত বা অবণ্টিত লভ্যাংশ 'স্থিতিশীল তহবিলে' জমা করা নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে রশি-টানাটানি শুরু হয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অবণ্টিত লভ্যাংশ শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য গঠিত তহবিলে ফেরত আনতে চায়। এ জন্য নতুন করে আইনি বিধানও করেছে সংস্থাটি। আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত লভ্যাংশ তহবিলে জমা করা যাবে না। দুই সংস্থার এমন অবস্থানের খেসারত দিতে হচ্ছে মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। কারণ, তাদের অর্থ নিয়েই দুই সংস্থার টানাটানি চলছে। দুই খাতের দুই সংস্থার যখন এ ইস্যুতে দুই মেরুতে অবস্থান, তখন সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে। ভিন্ন ভিন্ন আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি পরিচালিত হলেও দুই সংস্থারই দেখভালের দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীর। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, দুই সংস্থা সমন্বয় করে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই সরকারের সিদ্ধান্ত। নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরস্পরবিরোধী এ অবস্থান নতুন কিছু নয়। অতীতে অসংখ্যবার এর নজির দেখা গেছে। গত আগস্টেও বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনা ঘিরে দুই সংস্থার সমন্বয়হীনতার বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে প্রতিদিন প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেয়। সেই সঙ্গে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ খতিয়ে দেখতে ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনও শুরু করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই ব্যবস্থার পর শেয়ারবাজারে যাতে পতন না হয়, সে জন্য শেয়ারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ঋণসীমার আওতা বাড়িয়ে সূচকের ৮ হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত উন্নীত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই সংস্থার পরস্পরবিরোধী অবস্থান তার মাধ্যমে আবারও প্রকাশ্যে আসে। এরপর সম্প্রতি দুই সংস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় সমন্বয় বৈঠক। ওই বৈঠকের কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। এরপর ধারণা করা হয়েছিল, দুই সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার অবসান ঘটবে। কিন্তু সর্বশেষ গত সোমবার অনুষ্ঠিত সভায় আবারও অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে দুই সংস্থার দুই অবস্থানের খবর সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী অদাবিকৃত লভ্যাংশের অর্থ শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতায় গঠিত তহবিলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এ ধরনের অর্থ তহবিলে জমা দিয়েছে, তা-ও ফেরত আনার কথা বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, এ টাকা বিনিয়োগকারীর। শেয়ারবাজারের তহবিলেই এ অর্থ স্থানান্তর করা যুক্তিযুক্ত। প্রশ্ন জাগতে পারে, এ অবণ্টিত বা অদাবিকৃত লভ্যাংশর অর্থের মালিক আসলে কারা। এককথায় উত্তর, কিছুসংখ্যক বিনিয়োগকারী। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এ লভ্যাংশের দাবি করছেন না। যেমন করে ব্যাংকে বছরের পর বছর অদাবিকৃত আমানত পড়ে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলোতেও দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে আছে অদাবিকৃত লভ্যাংশ। যার একটি অংশ আছে শেয়ারে, আরেকটি অংশ নগদ অর্থে। অনেক কোম্পানি এরই মধ্যে এ অর্থের অপব্যবহার করেছেন। এমন এক প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় একটি তহবিল করার উদ্যোগ নেয়। অনেক কোম্পানি এরই মধ্যে ওই তহবিলে অবণ্টিত লভ্যাংশের অর্থ জমা দিয়েছে। এমন একপর্যায়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অদাবিকৃত লভ্যাংশের অর্থ শেয়ারবাজারের তহবিলে জমা না করতে। মাঝপথে এসে কেন এ বাধা? ব্যাংক কোম্পানি আইনের যে ধারার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অবণ্টিত লভ্যাংশ শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমার ক্ষেত্রে 'না' করছে, আইনের সেই ধারায় বলা আছে ভিন্ন কথা। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো আমানতের ওপর প্রদেয় ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ), বোনাস, লাভ বা পরিশোধযোগ্য অন্য কোনো অর্থ যে তারিখে প্রদান বা দাবিযোগ্য, সেই তারিখ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত পরিশোধ না হয় বা দাবি করা না হয়, তাহলে ওই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করতে হবে। তাই শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লভ্যাংশ কখনো আমানতের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয় না। লভ্যাংশ দেওয়া হয় মুনাফা থেকে। যার দাবিদার শেয়ারধারীরা। তাই শেয়ারধারীদের অর্থের নিরাপত্তাবিধান করা শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ। যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত, সেগুলোর বিষয়েই কেবল নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ-ও বলছেন, ব্যাংকের আমানতকারীদের অদাবিকৃত টাকা একটি নির্দিষ্ট সময় পর বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়। তেমনি শেয়ারবাজারের কোম্পানিতে পড়ে থাকা অদাবিকৃত লভ্যাংশ শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার গঠিত তহবিলে জমার বিধান করা হয়েছে। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরস্পরবিরোধী অবস্থান আবারও সংস্থা দুটির সমন্বয়হীনতাকে সামনে তুলে ধরেছে। বারবার দুই সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হলেও সমন্বয়হীনতা দিন দিন প্রকট হয়ে সামনে দেখা দিচ্ছে। কিন্তু দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশ্য এ সমন্বয়হীনতা কারও কাম্য নয়। বরং দুই সংস্থার উচিত আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। তাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি সাধারণের আস্থা যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে মানমর্যাদা। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজার ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান, সেটিও সমাধান দরকার। সেই সমাধান শুধু মুখে মুখে নয়, দরকার কার্যক্ষেত্রে। তাহলে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকবিদ্বেষী হবেন না, তেমনি শেয়ারবাজার মানেই 'খারাপ'-ব্যাংকারদের এমন মানসিকতারও অবসান দরকার। সবার আগে দুই সংস্থাকেই আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষা করতে হবে। একসঙ্গে মিলেও সেটি করা যায়।
0
শাকিব খানের বলয় থেকে বের হয়ে শবনম বুবলী প্রথম অভিনয় করেন নিরবের সঙ্গে 'ক্যাসিনো' চলচ্চিত্রে। এরপর তাঁকে দেখা গেছে জিয়াউল রোশানের সঙ্গেও। এরই মধ্যে বুবলী ও রোশান জুটির 'চোখ' চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে। কাজ করছেন দুটি চলচ্চিত্রের। গতকাল রোববার গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় তাঁরা দুজন চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নতুন আরেকটি চলচ্চিত্রে। 'প্রেম পুরান' নামের এই এই চলচ্চিত্র যৌথভাবে পরিচালনা করবেন মাসুদ মহিউদ্দিন ও মাহমুদ হাসান শিকদার। নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে রোশান ভীষণ উচ্ছ্বসিত। গল্পটি তাঁর বেশ মনে ধরেছে বলেও জানালেন। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে রোশান বলেন, 'কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে আমি যে কয়টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি, তার মধ্যে এই প্রথম কোনো গল্প আমাকে ভীষণ নাড়া দিয়েছে। গল্প পড়েই মনে হচ্ছে, অভিনয়জীবনে নতুন কিছু একটা যুক্ত হচ্ছে। শুধু এইটুকুই বলব, যেকোনো অভিনয়শিল্পীর জন্য এমন গল্পে কাজ করতে পারাটা আনন্দের।' ছয় বছর আগে ওয়াজেদ আলীর 'রক্ত' চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডে নিজের উপস্থিত জানান দেন জিয়াউল রোশান। একই বছর শাকিব খানের বিপরীতে জুটি হয়ে চলচ্চিত্রের পর্দায় অভিষেক ঘটে সংবাদপাঠিকা শবনম বুবলীর। শামীম আহমেদের 'বসগিরি' দিয়ে শুরু করে শাকিবের সঙ্গে টানা ১১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। শাকিব-বুবলী সর্বশেষ জুটি হয়ে অভিনয় করেন তপু খানের 'লিডার: আমিই বাংলাদেশ' চলচ্চিত্রে। দুজনেই ক্যারিয়ারের পাঁচ বছরের মাথায় এসে আসিফ ইকবালের 'চোখ' চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে চলচ্চিত্রে জুটি হন। এরপর তাঁরা শুটিং করছেন 'রিভেঞ্জ' ও 'মায়া: দ্য লাভ' চলচ্চিত্রের। বুবলীর সঙ্গে আবারও নতুন চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে রোশান বলেন, 'পরিচালক ও প্রযোজকেরা আমাদের দুজনকে নিয়ে ছবি বানাতে আগ্রহী হচ্ছেন। আমারও মনে হচ্ছে, বুবলীর সঙ্গে আমার চমৎকার একটা বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, যা কাজের ক্ষেত্রে খুবই আরামদায়ক। বুবলীর সময়জ্ঞান ও সিরিয়াসনেস আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। একজন সহশিল্পী যখন যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে আন্তরিক থাকেন, তখন কাজ করেও বেশ ভালো লাগে।'গত বছরের মে মাসেই বুবলী প্রথম আলোকে বলেছিলেন, রোশানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। বছর পার না হতেই বুবলীর সঙ্গে একের পর চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি সেই ইঙ্গিতই করছে। এর মধ্যে তিনটি চলচ্চিত্রে কাজ করা হয়েছে দুজনের। সহশিল্পী রোশান প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, 'খুব ভালো কাজ করেন রোশান। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একজন অভিনয়শিল্পী। কারণ, ওর মধ্যে কাজ করার আগ্রহটা প্রবল। সব মিলিয়ে এই ছবিটি নিয়ে আমি বেশ ইতিবাচক।' বুবলী বলেন, 'প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন সব চরিত্রে দেখার প্রবল আগ্রহ থেকে "প্রেম পুরান" চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। বছরের শুরুতেই "টান" চলচ্চিত্র দিয়ে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা আমাকে একেবারে অন্য রকমভাবে পেয়েছে। এই চলচ্চিত্র আমার ক্যারিয়ারে আরও ভিন্নমাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্বাস করছি।' পরিচালক হাসান শিকদার জানান, আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ছবিটির শুটিং শুরু হবে।
2
আজ বাংলাদেশের আকাশে কোথাও ১৪৪৩ হিজরি সালের শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে এ বছর রজব মাস ৩০ দিনে হবে। যে কারণে আগামী শনিবার থেকে (৫ মার্চ) পবিত্র শাবান মাস গণনা করা হবে। সে অনুযায়ী ১৪ শাবান (১৮ মার্চ) শুক্রবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত উদযাপিত হবে। শবে বরাতের পরের দিন বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি। এবার এ ছুটি পড়েছে ১৯ মার্চ (শনিবার)। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।
6
দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও এক পরিচালক পদত্যাগ করেছেন।তারা হলেন, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এম. ওয়াহিদুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ ও পরিচালক ব্যারিস্টার ফাহিমুল হক।বৃহস্পতিবার রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তারা পদত্যাগ করেন।অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে চাপে থাকা ওয়াহিদুল হক আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন না।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সভায় যেতে পারেন নি।আর পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি সমকালকে বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন।উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ওয়াহিদুল হক আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন সেলিম আহমেদ। ব্যাংক কোম্পানি আইনে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের একজন পরিচালক দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ছয় বছর থাকতে পারেন।
0
ফেনীতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ কাউসার (১৯) মারা গেছেন। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কাউসার সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভোয়াগ গ্রামের ব্যবসায়ী একরামুল হক সবুজের বড় ছেলে। গত ১৬ অক্টোবর কাউসার ফেনী বড় মসজিদে নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় মাথা ও মুখে গুলিবিদ্ধ হন। বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সোনাগাজীর নিজ বাড়িতে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে তার অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে তাকে ঢাকায় ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহতের চাচা আতাউল ইসলাম জানান, ওই দিন দোকানের মালামাল কিনতে কাউসার বিকেলে ফেনী এসেছিল। মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বের হওয়ার পর সংঘর্ষের সময় গুলিতে আহত হয়। সে বাবার সঙ্গে ব্যবসা দেখাশুনা করতো। শুক্রবার রাতে তার লাশ ঢাকা থেকে সোনাগাজী পৌর শহরের কাশ্মির বাজার সড়কের ভাই ভাই মঞ্জিলের বাসায় আনা হলে কান্নার রোল পড়ে যায়। মা-বাবা পরিবারের বড় ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। শনিবার সকালে সোনাগাজী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ।
6
সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সম্বলিত ২৭২টি অডিও-ভিডিও'র ফেসবুক লিঙ্ক চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর মধ্যে ১৫টি বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার (৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিটিআরসি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুরাদ হাসানের অশ্লীল অডিও-ভিডিও ইউটিউবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি মুছে ফেলা হয়েছে। ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে অন্যান্য অশ্লীল অডিও-ভিডিও অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) পদত্যাগপত্র দেওয়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিক এ আদেশ দিয়েছিলেন। এর জন্য পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে কথা বলতে বলেছেন আদালত। এ বিষয়ে অগ্রগতি বুধবার (৮ ডিসেম্বর) আদালতকে জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে বলা হয়েছিল। অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে পত্র পাঠান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। রাতে সেটি গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর এ বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রকাশিত গেজেট বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এ পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য ও এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে অশালীন ফোনালাপ ফাঁসের পর তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অশালীন ভাষায় ঘায়েল করার এই চেষ্টার পর প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। নারী নেত্রীরাও এর সমালোচনা করেন। তিনি এই ধরনের বক্তব্য দিয়েও কীভাবে মন্ত্রিসভায় থাকেন, সেই প্রশ্ন তোলে বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠন। পরে ড. মুরাদ হাসানকে মঙ্গলবারের মধ্যে পদত্যাগ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
6
পাঁচ বছর বয়সী চাচাতো বোনকে মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত আসামি শাহাদাত হোসেন (২২)। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে যে, হত্যার পর পুনরায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন।আজ সোমবার সকালে ওসি বলেন, আসামি শাহাদাত স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করার পর নিজের বাবার আড়ত দেখাশোনা করত। এর পাশাপাশি বাড়িতে তাঁর একটি মুরগির খামার ছিল।১৬৪ ধারায় জবানবন্দির বরাত দিয়ে ওসি বলেন, গ্রেপ্তারের পর গতকাল রোববার বিকেলে আসামি শাহাদাত হোসেনকে জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করানো হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক নবনীতা গুহ ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করে শাহাদাত জানান, শিশু বোনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে কু-নজর ছিল তাঁর (চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন)। এরই সূত্র ধরে গত ২৪ মার্চ দুপুরে বোনকে বাড়ির উঠান থেকে তুলে নিজের ঘরে নিয়ে যায় শাহাদাত। পরে জোরপূর্বক শিশুটির মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে একটি পলিথিনে মুড়িয়ে বস্তাবন্দী করে মরদেহটি পার্শ্ববর্তী বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয় শাহাদাত। পুরো ঘটনা সে একাই ঘটিয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন।শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যা, চাচাতো ভাই গ্রেপ্তারগ্রেপ্তারের পর শাহাদাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে আসমার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে আসমার মরদেহ তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে আসামি শাহাদাতকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এদিকে, গতকাল বিকেলে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় হত্যাকারী শাহাদাত হোসেনের ফাঁসির দাবিতে মেঘা গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্টুডেন্টস ডেভেলপমেন্ট ফোরাম। এতে নিহতের স্বজন, স্থানীয় এলাকাবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
6
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শহীদুল ইসলাম শহীদ (৫৮) নামে নব নির্বাচিতএককাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। শপথ নেওয়ার মাত্র পাঁচদিনের মধ্যেকাউন্সিলরেরমৃত্যু হওয়ায় শোক বইছে এলাকায়। রোববার পৌরসভার নতুন সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন শহীদুল। গত ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনে টানা পঞ্চমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৭ সালে পৌরসভা সৃষ্টির পর থেকে তিনি সব নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসছিলেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে শপথ গ্রহণ করেন শহীদুল। তিনি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন। নিহতের ভগ্নিপতি ফেরদৌস কোরাইশী টিটু বলেন, রাত ১২টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করলে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয় তাকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তার আকস্মিক মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
6
কলাপাড়ায় টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী সালমা বেগমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। শোভাযাত্রা ও কর্মী-সমর্থকদের জন্য ভূরিভোজের আয়োজন করায় এ অভিযোগ উঠে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকালে তিন শতাধিক নারী ও পুরুষ কর্মী-সমর্থককে নিয়ে শোভাযাত্রা করেন সালমা বেগম। এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে সংরক্ষিত ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সালমা বেগম নিজ বাড়িতে শতাধিক কর্মী-সমর্থককে ভূরিভোজ করিয়ে শোভাযাত্রা বের হন। মহড়ার ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তিনি এবং তাঁর স্বামী নজরুল ইসলাম শতাধিক কর্মী নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িতে গিয়ে কুশলাদি বিনিময় করে ভোট প্রার্থনা করছেন।এ বিষয়ে সালমা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম মহড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'শোভাযাত্রা নয়, পরিচিত হওয়ার জন্য আত্মীয়স্বজন নিয়ে বের হয়েছিলাম।'উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, 'এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
পীরগঞ্জে নানা আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার পীরগঞ্জ মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে।উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। সেই সঙ্গে পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়।এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায়। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মণ্ডল, পৌর মেয়র এ এস এম তাজিমুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মণ্ডল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র, সাপ্তাহিক বজ্রকথা পত্রিকার সম্পাদক সুলতান আহমেদ সোনা প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।পীরগঞ্জ থানা শত্রুমুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরদিন ৭ ডিসেম্বর হাজারো মানুষ বিজয় মিছিলে অংশ নেন। তাই ৭ ডিসেম্বরকে পীরগঞ্জ থানা শত্রুমুক্ত হওয়ার দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।তখনকার প্রত্যক্ষদর্শী প্রবীণদের মতে, পাকিস্তানি সেনাদের আস্তানা ছিল থানা সদরে। ভারতীয় মিত্রবাহিনীর ট্যাংক বহর দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত পার হয়ে ৬ ডিসেম্বর বিকেলে ছুটে আসে। মিত্রবাহিনীর সদস্যরা খালাশপীর, কাদিরাবাদ ও ত্রি-মোহনী সেতুর আশপাশে অবস্থান নিয়ে সূর্যাস্তের পূর্বেই পাক সেনাদের আস্তানার ওপর গোলাবর্ষণ শুরু করেন।রাত গভীর হলে একসময় ছত্রভঙ্গ হয়ে পাক সেনারা পিছু হটতে শুরু করেন। দ্বিধাবিভক্ত হয়ে তাঁদের একটি অংশ রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বড়দগাহ এলাকায় মিত্রবাহিনীর অপর অংশের কাছে বাধাপ্রাপ্ত হয়। অপর অংশটি গাড়িবহর নিয়ে মহাসড়ক ধরে বগুড়া সেনানিবাসের উদ্দেশ্ে পালিয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন একটি অংশ জীবনের ভয়ে অস্ত্র ও পোশাক খুলে হেঁটে মিঠিপুর এলাকায় পালায়। সেখানে তাঁরা জনগণের হাতে ধরা পড়ে নাজেহাল হয়। শেষে গভীর রাতে ট্যাংক বহর নিয়ে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা বিজয়ের বেশে পীরগঞ্জ থানা সদরে প্রবেশ করেন।
6
পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীতে রয়েছে তীব্র স্রোত। অপরদিকে নৌ-পথে স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে পুরোনো ফেরিগুলো যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ছে। ফলে নদীতে চাহিদার তুলনায় কম ফেরি চলাচল করছে। ঘাট পারাপারে অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ যাত্রীবাহী বাস। এতে ঘাটে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট।আজ রোববার সরেজমিনে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট (৩ নম্বর ঘাট) থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাংলাদেশ হ্যাচারি ছাড়িয়ে গেছে যানবাহনের সারি। প্রায় ৪ কিলোমিটার লম্বা এই সারিতে বেশির ভাগই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী গাড়ি রয়েছে।ঘাট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত রয়েছে। ফলে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ভিড়তে সময় বেশি লাগছে। দৌলতদিয়া থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যাওয়ার সময় স্রোত কমবেশি অনুকূলে থাকছে। ফলে ফেরি পৌঁছে যাচ্ছে ২০-২৫ মিনিটেই। কিন্তু পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ায় আসার সময় বিপত্তি ঘটছে। তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে সময় বেশি লাগছে। আবার স্রোতের কারণে ঘাটে ভিড়তে গিয়েও বেগ পেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৪৫ থেকে ৫৫ মিনিট পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। বিশেষ করে এই নৌপথের অধিকাংশ ফেরির বয়স অনেক বেশি। ফলে ইঞ্জিনের শক্তি কম। এ কারণে সমস্যা বাড়ছে।দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট টার্নিং এলাকায় সিরিয়ালে থাকা জাহিদ হাসান বলেন, বরগুনা থেকে পিকআপভ্যানে করে পরিবারসহ আসবাবপত্র নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। পাঁচ ঘণ্টা সিরিয়ালে থেকে এখনো প্রায় ১০০ গাড়ির পেছনে আছি। ফেরিতে কখন উঠবেন তাও বলতে পারছি না। কাগজের কার্টুন বোঝাই একটি ট্রাক যশোর থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার জন্য ঘাটে এসেছে। ট্রাকটি নিয়ে চালক ইদ্রিস শেখ গতকাল শনিবার সকালে যশোর থেকে রওনা হন। দুপুরে গোয়ালন্দ মোড়ে এসে পৌঁছালেও দীর্ঘ যানজটের কারণে আজ সকালে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় আসে ট্রাকটি।অনেক গাড়ি গোয়ালন্দ মোড়ে দুই-তিন দিন ধরে আটকে থাকার পর ঘাটে আসছে। কিন্তু মোমিন শেখ নামে এক ট্রাক চালক দ্রুত তাঁর যান নিয়ে ঘাটে আসে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ট্রাকটির সামনে কয়েকটি জরুরি সেবাদানকারী গাড়ি ছিল। সেগুলোর পেছন ধরে কয়েকটি গাড়ি এগোতে শুরু করে। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই জরুরি গাড়িগুলোর পেছন ধরে তাড়াতাড়ি চলে এসেছি। তা না হলে হয়তো আরও এক দিন গোয়ালন্দ মোড়ে আটকে থাকতে হতো।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ট্রাফিক সুপারিন্টেন্ডেন্ট শওকত আলী বলেন, এই নৌপথের ১৮টি ফেরির মধ্যে ২টি ফেরি ছাড়া অধিকাংশ ফেরির বয়স অনেক বেশি। এসব ফেরির ইঞ্জিনগুলো অনেক দুর্বল। ফলে স্রোতের বিপরীতে চলতে মাঝেমধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। অপরদিকে ১৮ টির মধ্যে ২টি ফেরি বিকল হয়ে পড়েছে।শওকত আলী আরও বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি সাড়তে সেগুলো পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানায় রাখা হয়েছে। ফেরি স্বল্পতা ও তীব্র স্রোতের কারণে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া বাংলাবাজার-শিমুলিয়া পথে এখন ফেরি চলাচল বন্ধ। এতে ওই নৌপথের অধিকাংশ গাড়ি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ব্যবহার করায় ঘাটে গাড়ির চাপ বেশি।
6
করোনা বিশ্বজুড়ে এক আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশেও দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা। কিন্তু এই করোনা ভাইরাসকে উপেক্ষা করে ঢাকা থেকে বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ। আজ সোমবার (১৮ মে) শিমুলিয়া কাঠালবাড়ি ফেরিঘাট এমনটাই দেখো গেছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেঙে বাড়ির যাওয়ার জন্য শিমুলিয়া কাঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে নদী পার হয়ে ভ্যান, পিকআপ, মটরযানে একটু একটু করে পথ পারি দিচ্ছে তারা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে অধিক হারে। যা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। কোনো ভাবেই যেনো ঘরে বেধে রাখা যাচ্ছে না তাদের। এদিকে ঢাকাতেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে নয় হাজার ৮৫৫ জন। যা অন্যান্য শহর গুলো থেকে সর্বাধিক। জ্যামিতিক হারে রাজধানীতও বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। যেখানে এখনো নিরাপদে রয়েছে বহু গ্রাম। তাই আতঙ্ক নিয়েও বাড়ির পথে পারি জমাচ্ছেন তারা। করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে অফিস-আদালত। এতে বেশি বিপাকে পরেছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও অসহায় মানুষ। খাবারের খোঁজে ঘর থেকে বাহির হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অফিস বন্ধ থাকায় পাচ্ছে না মাসিক বেতন। ঘর ভাড়া পরিশোধের জন্য বারবার নোটিশ দেয়া হচ্ছে বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে। তাই অনেকে পরিবার গুটিয়ে চিলে যাচ্ছে গ্রামের বাড়িতে। যেখানে অন্তত ঘর ভাড়া থেকে বাঁচতে পারবে তারা। আবার অনেকে লকডাউনের জন্য অনেকদিন দেখা করতে পারেনি তাদের বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোনদের সেঙ্গে। তাই আত্মার টানেও বাড়ি পথে ছুটছেন তারা। দেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৮৭০ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৫৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৫৮৫ জন। উল্লেখ্য, করোনার বিস্তার রোধে ২৬ মার্চের আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব ধরণের গণযোগাযোগ। এছাড়াও সরকার থেকে ঘোষিত সাধারণ ছুটি বাড়ি করা হয়েছে ৩০ মে পর্যন্ত। বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তা সেপ্টেম্বরের আগে খোলা হবে না বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
6
হংকংয়ের হ্যানসন রোবটিকসের বানানো যন্ত্রমানবী সোফিয়ার আদলে একটি রোবট বানিয়েছেন ভারতের একজন শিক্ষক। 'শালু' নামের এ রোবটের বৈশিষ্ট্য, এটি একাধারে ৪৭টি ভাষায় কথা বলতে পারে। এটি বানাতে খরচও কম হয়েছে। ওই শিক্ষকের নাম দীনেশ প্যাটেল। তিনি মুম্বাই আইআইটির কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক। বসবাস করেন উত্তর প্রদেশের জৈনপুর জেলার রাজমালপুর গ্রামে। রোবটটিকে অনায়াসে স্কুলশিক্ষক কিংবা অফিসে অভ্যর্থনাকারীর কাজে ব্যবহার করা যাবে। দীনেশ জানান, ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে শালুকে বানানো হয়েছে। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, কার্ডবোর্ড, কাঠের টুকরা, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে এটা বানাতে। খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার রুপি। এখন এটির সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্র: আইএএনএস বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
5
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (নাসিক) মেয়র পদে বিজয়ী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে দলের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসনের ভোটের বড় ব্যবধানের নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখবে বিএনপি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দৃশ্যত নির্বাচনটা ফেয়ার হলেও ফলটা আনফেয়ার। এ ফল অপ্রত্যাশিত, বিশ্বাসযোগ্য নয়। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে ভোটের যে ব্যবধান, তা অত্যন্ত অবিশ্বাস্য। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের দলের কাউন্সির প্রার্থী পাস করেছেন বেশি। সেক্ষেত্রে মেয়রের ফলটা গেল কোথায়? শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের কাছে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের মূল্যায়ন তুলে ধরে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, 'এরশাদ মিডিয়া ক্যু করছেন।' আমি উনার সুরেই বলতে চাই, এ ফলটাও মিডিয়া ক্যু। নাসিক নির্বাচনের ফলটা কীভাবে তৈরি হলো, কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যম প্রচার ও প্রকাশ করল- আমাকে সেই আলামতই খুঁজতে হবে। যেহেতু জবাবদিহিতার ব্যাপার আছে, তাই এটা বের করা এখন আমার দায়িত্ব।' নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফল মানছেন কি-না জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, ওই যে বলে না, ফুল ফুটুক বা না-ই ফুটুক আজ বসন্ত। আমরা মানি বা না মানি আইভী মেয়র। কিন্তু আমাদের প্রশ্নগুলো তো থেকেই যাবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরদের নানা মার্কায় ভোট পড়েছে; তাদের ভোটও তো দলের ভোট। তাহলে তাদের তো ধানের শীষে ভোট দিতে কখনোই কৃপণতা করার কারণ নেই। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরুর পর পরই বিভিন্ন মিডিয়া অসমর্থিতভাবে ফলগুলো দেয়। মিডিয়া সব সময় অফিসিয়ালি ঘোষণার যে ফল পায় তা-ই প্রকাশ করে। কিন্তু এ নিবার্চনে অসমর্থিত ফলগুলোই শেষ পর্যন্ত দেখা গেল সমর্থিত। কম-বেশিও হয়নি। ভোট গণনার জন্য যারা ভেতরে ছিলেন, কৌশলটা তাদের। মিডিয়ার দোষ নেই; তারা একটি ভিত্তির ওপর অসমর্থিত ফল প্রচার করেছে। তিনি বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। ফলে যে সংখ্যা দেখানো হয়েছে; ওই সংখ্যক ভোটার যদি ভোট দেন, তাহলে সকাল থেকে কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড় থাকার কথা; কিন্তু তা ছিল না। স্থানীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছিল কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তৃণমূলে সাংগঠনিক দুর্বলতা সকল দলেই থাকে। সেটা আমাদের নির্বাচনে প্রভাব ফেলে না। কারণ কেন্দ্রীয় নেতারা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের প্রার্থী এগিয়ে ছিল। জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোটের সমন্বয় কমিটিতে তাদের কেউ ছিল না। দৃশ্যত জামায়াতকে আমাদের সঙ্গে প্রচারে দেখা যায়নি।
9
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করার মামলায় প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী রওশন আরাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গতকাল বুধবার তাঁদের আদালতে তোলা হয় বলে জানান আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম।এর আগে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ছয়জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন নিহত রহিমার ছেলে আব্দুর রহিম।গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়ি আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের দুরারকুটি কলোনি এলাকায়।পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে সাইফুল ইসলাম বাড়ির পাশে একটি গালামালের দোকান করতেন। প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের স্ত্রী রহিমা বেগমের কাছ থেকে কিছুদিনের জন্য ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পাওনা টাকা চাইলে রহিমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেদম মারধর করলে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।আদিতমারী থানা ওসি মোক্তারুল ইসলাম হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলামসহ তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
6
রাজধানীর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তারের আদালতে এই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য আবদুর রব, ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন, জামায়াতের সুরা সদস্য ইয়াসিন আরাফাত, সেক্রেটারি জেনারেলের গাড়িচালক মনিরুল ইসলাম ও জামায়াতের কর্মী আব্দুল কালাম। এদিন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা দেশের জননিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করাসহ ব্যক্তিসত্তা ও প্রজাতন্ত্রের সম্পর্কের ক্ষতিসাধনসহ শেখ হাসিনার সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর গতকাল রাতেই রাজধানীর ভাটারা থানায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
9
পীরগঞ্জে বজ্রপাতে শম্পা খাতুন নামে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার অনন্তপুর বুর্জপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। সে উপজেলার কলোনি বাজার বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত।নিহত শম্পা উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের অনন্তপুর বুর্জপাড়া গ্রামেরসাজু মিয়ার মেয়ে।জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই পীরগঞ্জে বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে শম্পা বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে যায়। এ সময় বজ্রপাত হলে তার পুরো শরীর ঝলসে যায়। ঘটনার পর পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে আনার সময় সে মারা যায়। খবরটি উপজেলা প্রশাসন জানার পর শম্পার পরিবারকে সরকারিভাবে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।চৈত্রকোল ইউপির চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সবুজ বলেন, বজ্রপাত সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আমিও শম্পার পরিবারকে সহযোগিতা করব।উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রানী রায় বলেন, বজ্রপাতে নিহতের খবর পেয়ে পিআইও'র মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
6
আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১১ অক্টোবর মহা ষষ্টির মাধ্যমে শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর মহা দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হবে। তাই এখন চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। অনেক ব্যস্ততার মধ্যে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা।দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। তাই দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য এখন থেকেই দিনক্ষণ গোনার পালা শুরু করেছে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। তবে এ বছরেও করোনার প্রভাবে সীমিত আকারে পূজা-অর্চনা করবে বলে জানান আয়োজকেরা।এবার দিনাজপুর জেলায় মোট ১ হাজার ২৮৬টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ দিনাজপুর জেলা নেতারা জানান। তাঁরা জানান, সংখ্যাটা এখনো ঠিক হয়নি। এ সপ্তাহের মধ্যে জানা যাবে।এদিকে, দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই মানুষের মাঝে দেখা দিচ্ছে পূজার প্রস্তুতি। তৈরি হচ্ছে গেট, আর মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। প্রতিমা তৈরির কাজও চলছে জোরেশোরে। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে তুলির আঁচড়ের কাজ।দিনাজপুরের বিরল উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র রায় বলেন, এবারে বিরল উপজেলায় ৯৪টি দুর্গামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রত্যেকটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক কর্মযোগ্য শুরু হবে।প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা জানিয়ে বিরল কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের মালাকর প্রদীপ কুমার পাল বলেন, দুর্গাপূজা এলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। টানা ২০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে একটা প্রতিমা তৈরি করতে। বর্তমানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন প্রতিমাগুলো ফিনিশিং দেওয়ার পালা।দিনাজপুর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় বলেন, এবার পূজামণ্ডপগুলো সাজানো হচ্ছে অপূর্ব সাজে। ভিন্নতা আছে গতবারের চেয়ে। ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলো খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। জেলা দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপজেলায় পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোকে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।এদিকে, করোনা সংক্রমণ কমে গেলেও পূজায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ। তিনি বলেন, যদিও করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী, তারপরেও স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে সংক্রমণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাইরে সব সময় মাস্ক পরিধানের ওপর জোর দেন তিনি।
6
খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটায় ট্রাক ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) আহত হয়েছেন আরো তিনজন। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে আড়ংঘাটার বাইপাস সড়কের মোস্তফার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা (৩৩), প্রাইভেটকার চালক মো. রফিকুল ইসলাম (২৮)। নিহত রফিকুল ইসলামের বাড়ি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার গোবরা গ্রামে। আহতরা হলেন কেশবপুর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), উপপরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন (২৭) ও কেশবপুর এলাকার রাসেল রানা (২৮)। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আড়ংঘাটা থানার ওসি কাজী রেজাউল হক জানান, রাত ৯টার দিকে খুলনা বাইপাস সড়কে মহানগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে আপিল গেটগামী পাটবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে খুলনাগামী একটি প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের চালক রফিকুল ইসলাম নিহত ও ট্রাকের চালকসহ চারজন আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহেল রানা মারা যান। আহতদের মধ্যে ওসি আনোয়ার হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তিনি মাথায় ও ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন। তার কলারবোন ভেঙে গেছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) দিদার আহমেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে নিহত ও আহতদের দেখতে যান।
6
'রাজনীতি' ছবিটি দিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন প্রকাশ ঝা। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অর্জুন রামপাল, রণবীর কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফসহ একঝাঁক তারকাকে দেখা গিয়েছিল। পরিচালক এবার ইঙ্গিত দিয়েছেন 'রাজনীতি ২' নিয়ে পরিকল্পনা করছেন তিনি। প্রকাশ ঝা বর্তমানে 'আশ্রম' ওয়েব সিরিজের তৃতীয় মরসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রকাশ ঝা বলেছেন, "আমি বরাবরই নতুন বিষয়গুলো পর্দায় তুলে ধরতে পছন্দ করি। ছবির চিত্রনাট্য যখন লেখা হয়েছিল সেই সময়ের তুলনায় রাজনীতির মাঠে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাই নতুন ছবির গল্প পরিবর্তন হতে পারে, যদিও আমি নিশ্চিত নই। সেখানে নতুন অনেক বিষয় আছে যেগুলো নিয়ে আমি কাজ করছি।" বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
দুর্নীতির দায়ে বদরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের নকল নবিশ মনিরুল ইসলাম মুন্না ও হাফিজুর রহমান চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তবে প্রতি দলিলে ১ হাজার ২০০ টাকা করে ঘুষ আদায় অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবরেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান কাজীর পক্ষে নকলনবিশ আনোয়ার ও অফিস পিয়ন মোস্তফার মাধ্যমে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা রেজিস্ট্রারকে দিয়ে মনিরুল ও হাফিজুরকে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তাঁরা অফিসের পিয়ন, মোহরার ও অফিস সহকারীকে সাংবাদিকের ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ করতে দেন না। এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে অফিস চত্বরে দোকান বসিয়ে টাকা আদায় করতেন। মনিরুল দলিলের নম্বর বসার সময়ে জমি গ্রহীতার কাছ থেকে টাকা নিতেন।তবে দুজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে জানান, সাবরেজিস্ট্রার নিজের অপকর্ম ঢাকতে তাঁদের চাকরিচ্যুত করার ব্যবস্থা করেন। মনিরুল বলেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে নিবন্ধক অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বরাবর একটি অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে স্বাক্ষর ছিল মতিয়ার নামে একজনের। তিনি অফিসের সব কর্মচারী ও নকল নবিশের পক্ষে ওই অভিযোগ দায়ের করেন। তবে মতিয়ার নামে অফিসে কেউ নেই। এটি একটি উড়ন্ত চিঠি। সেটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন রংপুরের পীরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার খালেদা সুলতানা।'মনিরুল আরও বলেন, 'শুধু সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে নিতাম। আদায়ের তিন ভাগের দুই ভাগ টাকা সাবরেজিস্ট্রার নিতেন। তা ছাড়া অন্য অভিযোগগুলো ছিল মিথ্যা। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তো আগে সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি।'এদিকে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রতি দলিলে ১ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় চালিয়ে যাচ্ছেন সাবরেজিস্ট্রার। এ সুযোগে দলিল লেখক সমিতির নেতারা ২ থেকে ৪ হাজার টাকা জমি গ্রহীতার কাছ থেকে সমিতির নামে আদায় করছেন। এসব টাকা দলিল লেখকের মাধ্যমে নেওয়া হয়।নাম প্রকাশ না করে একজন দলিল লেখক বলেন, 'আমাদের দলিল লেখার সময় বাড়তি টাকা দলিল গ্রহীতার কাছ থেকে নিতে হয়। কারণ সাবরেজিস্ট্রার এবং সমিতির নেতাদের দিতে হয়। সাবরেজিস্ট্রারের নামে টাকা নকলনবিশ আনোয়ার আমাদের কাছ থেকে আদায় করেন।'আনোয়ারের কাজ হলো বলাম বই লেখা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, আনোয়ার ও পিয়ন মোস্তফা দলিল লেখকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা আদায় করছেন। এ বিষয়ে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।গত বুধবার আমরুলবাড়ি গ্রামের নুর আলম ৮০ হাজার টাকার একটি দলিল করেন। দলিলে চালানসহ তাঁর সর্বোচ্চ খরচ হওয়ার কথা ৬ হাজার টাকা। কিন্তু দলিল লেখক মমদেল বাশার তাঁর কাছ থেকে নেন ৯ হাজার টাকা।দলিল লেখককে বাড়তি টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নুর আলম বলেন, 'অফিসোত বলে খরচ লাগে। এই কথা বলে দলিল লেখক বেশি টাকা নিয়েছেন।'এ বিষয়ে দলিল লেখক মমদেল বলেন, 'পার্টিকে হিসাব দিয়ে টাকা নিয়েছি। টাকা নেওয়ার আগে দুই জায়গায় শুনে আমার কাছে এসেছে।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, 'অফিস খরচ কবলা দলিলে সাবরেজিস্ট্রারকে ১ হাজার ৪৪০ টাকা দিয়েছি।'দুই দলিল লেখক জানান, টাকা না দিলে দলিল পার করার সময়ে লেখককে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এই টাকার ভাগ পান অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে ওপর পর্যন্ত। এ কারণে সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে লাভ হয় না।যোগাযোগ করা হলে বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আহসানুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন, 'সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আমার কাছেও আসে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।'তবে সাবরেজিস্ট্রার মিজানুর দাবি করেন, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেন না। কিছু লোক তাঁর পেছনে লেগেছে।এ নিয়ে জানতে চাইলে রংপর জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম প্রামানিক বলেন, 'অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছেন মহাপরিদর্শক নিবন্ধক। এখানে কারও হাত নেই। তবে সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাইনি।'
6
করোনায় সংক্রমিত ও মৃতদের অধিকাংশই রাজধানীর বাইরের হওয়ায় গ্রামের মানুষদের টিকার আওতায় আনতে একের পর পরিকল্পনা করে আসছিল সরকার। কিন্তু তিন দফা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পরও টিকার স্বল্পতা ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকায় সীমিত করা হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী গণটিকার ক্যাম্পেইন।নতুন পরিকল্পনায় ছয় দিন নয়, টিকা দেওয়া হবে এক দিন। ৭ আগস্ট সারা দেশে ৩২ লাখের বেশি টিকা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরপর টিকাপ্রাপ্তির ভিত্তিতে ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে ১৪ আগস্ট শুরু হবে গণটিকার পুরো কর্মযজ্ঞ। টিকা কার্যক্রমের সার্বিক দিক নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক আজ শুক্রবার বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা ছিল এক কোটির বেশি টিকা দেওয়ার। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে টিকা এলেও ছয় দিনে কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেশন করার মতো টিকার মজুত নেই। তাই সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। আপাতত শনিবার নিবন্ধনের ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া গ্রাম পর্যায়ে যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে এবং যাঁরা বয়সোর্ধ্ব, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন।প্রতিটি কেন্দ্রে ২০০ জনকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৮টি পৌরসভা ও ১২টি সিটি করপোরেশন আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে, ইউনিয়নপ্রতি তিনটি বুথ থাকবে। কেন্দ্রগুলো হবে স্কুল। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী কোথাও কোথাও হাসপাতালেও হতে পারে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দ হওয়া টিকা আজ ভোরের দিকে বিভাগীয় ও জেলা শহরে পৌঁছবে। টিকাদানের দিন সকালে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, আপাতত ৭ আগস্ট টিকার ক্যাম্পেইন হবে। টিকার স্বল্পতা দূর হলে ও সবকিছু ঠিক হলে ১৪ আগস্ট থেকে পুনরায় টিকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'টিকার পরিমাণ যে খুব বেশি তা কিন্তু নয়। একসঙ্গে ভালো পরিমাণ টিকা আসছে না। এখন আমাদের একসঙ্গে চারটা টিকা দিতে হচ্ছে। এটিও জটিলতার একটা কারণ। অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না, ফাইজার ও সিনোফার্মের প্রথম ডোজের পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজও দেওয়া হচ্ছে। শুধু দিলেই তো হবে না। সবকিছুর হিসাব করতে হবে।'মাঠের চিত্রের ওপর ভিত্তি করে বারবার পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হচ্ছে জানিয়ে খুরশীদ আলম বলেন, 'সিটি করপোরেশনে নতুন করে টিকাকেন্দ্র বাড়ানো হবে না। প্রধান সমস্যা পরিবহনে। সব টিকা সবখানে নেওয়া যাচ্ছে না। মডার্নার যে পরিমাণ টিকা আছে, সেগুলো যদি গ্রাম পর্যন্ত নেওয়া যেত তাহলে দিতে পারতাম। কিন্তু নেওয়া যাচ্ছে না।'তালিকার বিষয়ে খুরশীদ আলম বলেন, 'যাঁরা একেবারে অচল তাঁরা এনআইডি নিয়ে গেলেই হবে। কিন্তু আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলে দিচ্ছি ইউনিয়নে যে পরিমাণ লোককে টিকা দেওয়া হবে সেই তালিকা যেন আগেভাগেই করা হয়। নতুবা গন্ডগোল বেঁধে যাবে। সবাই টিকা দিতে আসবে।'
6
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং বাজার এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে সিকদারপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আটক সৈয়দ হোসেন মামুন উপজেলা পরিষদের প্রধান সহকারী (সিএ) পদে কর্মরত রয়েছেন। র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার বিল্লাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, র্যাব-১৫ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের সিকদারপাড়া বাজারস্থ ভাই ভাই মার্কেটের মেসার্স মাস্টার জহির অ্যান্ড সন্স ট্রেডার্সে এ অভিযান চালায়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টাকালে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত ব্যক্তিদের হেফাজতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিএমএর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সাবেক এই এমপির করোনায় আক্রান্তের কথা জানানো হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার রাতে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেন দেয়া হয়। বর্তমানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রয়েছে। তার ডায়াবেটিকস রয়েছে। বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
4
এলিমিনিটর ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ওপেনার ইয়াসির আলি সাজঘরে ফিরলেও রানের চাকা সচল আছে চিটাগং ভাইকিংস। অপর ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্ট বাউন্ডারির ঝড় তুলে দ্রুত রান তুলে দিয়েছেন দলের। এক ওভারে তো বাউন্ডারির হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। তবে দ্রুত রান তোলার চক্করে পড়ে ৩৬ এ রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন। ২৭ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। তার বিদায়ের পর ক্রিজে থাকা সাদমান ইসলামের সাথে জুটি বেঁধেছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরেছেন। এখন দলের সংগ্রহ ৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান। দুপুর দেড়টায় ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। আজ যারা হারবে আসর থেকে বাদ পড়বে তারা। তাই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নেমেছে দুই দল। শক্তিমত্তার দিক দিয়ে এগিয়ে চিটাগং ভাইকিংসই। কারণ লিগ পর্বে সাত ম্যাচ জিতে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফ পর্বে খেলছে তারা। আর ঢাকা খেলছে ১২ পয়েন্ট নিয়ে। ফলে এখানে ভাইকিংসই এগিয়ে। লিগ পর্বে দুই দলের মধ্যে দু'বার লড়াই হয়েছে। তাতে দু'বারই জিতেছে চিটাগং ভাইকিংস। মুশফিকের রহীমের দলটি অন্তত ঢাকার সাথে লড়াইয়ে ফ্রন্টফুটে। চিটাগং ভাইকিংস একাদশ : মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), ইয়াসির আলী, মোসাদ্দেক হোসেন, আবু জায়েদ, খালেদ আহমেদ, নাইম হাসান, সাদমান ইসলাম, রবি ফ্রালিঙ্ক, হাদুস ভিলিজোন, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, দাসুন শানাকা। ঢাকা ডায়নামাইটস একাদশ : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নুরুল হাসান, রুবেল হোসেন, শুভাগত হোম, রনি তালুকদার, কাজি অনিক, মাহমুদুল হাসান, আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ড, সুনীল নারাইন ও উপুল থারাঙ্গা।
12
বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন আপনাকে সহযোগীতা করছেন কি না, তাকে প্রচারণায় দৃশ্যমান দেখছি না এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, তিনি (সাঈদ খোকন) এখনো মেয়র আছেন। সুতরাং আচরণ-বিধি লঙ্ঘণ করে কোনোকিছু আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে তিনি সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে তিনি হয়তো মনে একটু কষ্ট পেয়েছেন। সেটা স্বাভাবিক। সবার ক্ষেত্রেই সেটা হতে পারে। কিন্তু আমরা দলগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক আছি। সবস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএসসিসির ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে ১২ তম দিনের নির্বাচনী গণসযোগের শুরুতেই এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, এডভোকেট সানজিদা খানম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহীসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে রাজধানীর বৃহৎ অংশে আমরা প্রচারণা সম্পন্ন করতে পেরেছি। যেসব এলাকায় গিয়েছি গণসংযোগে ঢাকাবাসীর বিপুল সাড়া পেয়েছি। নির্বাচনে আমরা যে উন্নয়নের রুপরেখা দিয়েছি, তারা আমাদের নির্বাচনী রুপরেখা সাদরে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকাবাসী অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। আমাদের প্রাণের ঢাকাকে উন্নত নগরী গড়ার লক্ষ্যে আমরা একটি নবসূচনা, নবযাত্রা শুরু করব ইনশাল্লাহ। আমাদের এ যাত্রায় মানুষ দলমত নির্বিশেষে উন্নত ঢাকার পক্ষে রায় দেবে। বিএনপি বলছে, তাদের পক্ষে গণজেয়ার শুরু হয়েছে, এর মাধ্যমে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটাকে তারা গণতান্ত্রিক মুক্তির আন্দোলনের পর্যায়ে নিয়ে যাবে- এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন, এমন এক প্রশ্নের জবাবে ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির নির্বাচন হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচনে ঢাকাবাসী তাদের যোগ্য ও দক্ষ সেবক নির্বাচিত করবেন। কিন্তু আমাদের প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী এ নির্বাচনকে ঢাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য নয়, তারা এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ হিসেবে। কিন্তু আমরা এ নির্বাচনকে নিয়েছি ঢাকাবাসীর উন্নয়ন হিসেবে। তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে। এরপর তিনি পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, কোতয়ালী, গেণ্ডারিয়া, ইসলামপুর, সদরঘাট এলাকায় পায়ে হেঁটে নৌকার পক্ষে গণসংযোগ চালান।
6
নোয়াখালীতে ইন্টারনেট সেবায় সরকারি নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও গ্রাহকেরা ভালো গতি পাচ্ছেন না। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাঁরা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৬ জুন সরকারি ঘোষিত 'এক দেশ এক রেট' ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন না নোয়াখালীর গ্রাহকেরা। ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এমবিপিএস হিসেবে যে টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার যথাযথ সেবা নেই।ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কয়েকজন গ্রাহক বলেন, ৫ এমবিপিএস গতির জন্য তাঁরা ৭০০ টাকা দিচ্ছেন। কিন্তু নির্ধারিত গতির ইন্টারনেট পাচ্ছেন না। একটি ৫০ এমবির ভিডিও ডাউনলোড করতে বেশ সময় নিচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকেরা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে বারবার বললেও সমাধান হচ্ছে না। বরং তাঁদের কম্পিউটারে সমস্যা আছে বলে মন্তব্য করছেন ব্যবসায়ীরা।সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ এমবিপিএস গতির জন্য ৫০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস গতির জন্য ৮০০ ও ২০ এমবিপিএস-এর জন্য ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দেখা যায়, জেলার বেশির ভাগ গ্রাহক ব্যবহার করছেন ৫ এমবিপিএস ও ১০ এমবিপিএস। ২০ এমবিপিএস গতির গ্রাহক হাতেগোনা।৫ ও ১০ এমবিপিএস গতি ব্যবহারকারীরা জানান, ৫ এমবিপিএস ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ৩ এমবিপিএস পাচ্ছেন। তাও নিয়মিত নয়, মাঝে মাঝে। একই অবস্থা ১০ এমবিপিএস ব্যবহারকারীদেরও। ৫ ও ১০ এমবিপিএস গতির টাকা নেওয়া হলেও স্পিড দেওয়া হচ্ছে তার অর্ধেক।জেলার কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী একাধিক গ্রাহক বলেন, সরকারি নির্দেশনার আগে তাঁরা ৫ এমবিপিএস গতির জন্য ৮০০-১০০০ টাকা দিয়েছেন। এখন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা হলেও, ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছ থেকে নিচ্ছেন ৭০০-৮০০ টাকা। কিন্তু সে হিসেবে ইন্টারনেটের গতি অনেক কম।জেলা শহর মাইজদীর কিছু ব্যবসায়ী সরকারি নির্দেশনা মানলেও, বেশির ভাগ উপজেলা শহরের ব্রডব্যান্ড ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা মানছেন না।নোয়াখালী ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যবসার সঙ্গে ৬০ জনের বেশি ব্যবসায়ী যুক্ত আছেন। এঁদের মধ্যে বড়জোর দুই শতাংশের সরকারি নির্দিষ্ট দপ্তরের লাইসেন্স আছে। অন্যরা নিজেদের ইচ্ছামতো টাকা নিচ্ছেন এবং সেবা দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সমিতি ও সাধারণ গ্রাহকেরা।নাম প্রকাশ না করা শর্তে জেলা পর্যায়ের একাধিক ব্রডব্যান্ড ব্যবসায়ী বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী গতি দিতে গেলে ব্যবসা করা কোনোভাবে সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি, ঢাকা থেকে প্রতি এমবিপিএস নিতে তাঁদের খরচ হচ্ছে ৯০ টাকা। আবার তা হাউসে পৌঁছে দিতে খরচ হচ্ছে আরও ৫০ টাকা, সব মিলিয়ে প্রতি এমবিপিএস গতি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত খরচ হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। এ ক্ষেত্রে ৫ এমবিপিএস গতিতে ব্যবসায়ীর প্রায় সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এ জন্য ব্যবসায়ীরা সরকারের ওই নির্দেশনাকে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
6
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত আছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)। গত ২২ জুন থেকে এরশাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আছে এরশাদ। গত বৃহস্পতিবার থেকে এরশাদকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এরশাদের শারীরিক অবস্থা গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে ব্রিফ করেন কাদের। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে আজ জি এম কাদের বলেন, গত দুই দিন ধরে এরশাদকে ডায়ালাইসিস (হেমো ডায়া ফিল্টারেশন এবং হেমো পারফিউশন) দেওয়া হচ্ছে। এতে এরশাদের শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় পানি বের করা হচ্ছে এবং ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কাদের বলেন 'চিকিৎসকেরা আশাবাদী, অত্যাধুনিক চিকিৎসায় এরশাদ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে তাঁর অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।' গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, সিএমএইচের চিকিৎসকেরা এরশাদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সকল রিপোর্ট সিঙ্গাপুরে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা এরশাদকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন। কাদের বলেন, কৃত্রিম ভাবে এরশাদের শ্বাস-প্রশ্বাস চলেছে, তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে কৃত্রিম সাপোর্ট খুলে ফেলা হবে। সারা দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় গতকাল ধর্মপ্রাণ মানুষ এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা করেছেন। এ জন্য কাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানান। কাদের বলেন, গতকাল শুক্রবার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চিকিৎসায় রক্ত প্রয়োজন-এমন সংবাদে হাজারো মানুষ সিএমএইচে উপস্থিত হয়েছেন। তারা চিকিৎসকদের কাছে তাদের নাম-ঠিকানা দিয়ে এসেছেন। এরশাদকে রক্ত দিতে সাধারণ মানুষ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছেন। যারা রক্ত দিয়েছেন এবং রক্ত দিতে চেয়েছেন তাদের কাছেও কৃতজ্ঞতা জানান জি এম কাদের। এ ব্রিফিংয়ের সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, আজম খান, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, আলমগীর সিকদার লোটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
9
মনে করুন আপনি মাত্র পড়তে বসেছেন। ঘণ্টাখানেক পড়াশোনা করার পর মনে হলো অনেক পড়ে ফেলেছেন, এবার একটু পাঁচ মিনিটের জন্য ফোনটা ঘেঁটে আসা যাক। কিন্তু এই পাঁচ মিনিট যে কীভাবে চোখের পলকে ৪০ মিনিট হয়ে যায়, তা আপনি ঘুণাক্ষরেও টের পান না। বর্তমানে আমরা আমাদের স্মার্টফোনটা ছাড়া একটুও থাকতে পারি না। কিন্তু এই আসক্তি কাটিয়ে না উঠলে তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটাবে। তাই মনোযোগ ধরে রাখতে কার্যকরী ৬টি অ্যাপ নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। মনোযোগ বৃদ্ধি করতে দেরি না করে ওপরের অ্যাপগুলো ব্যবহার করা শুরু করে দিন!ফ্রিডমশুধু অ্যাপ না, ব্রাউজারও অনেক সময় আমাদের সময় নষ্ট করে। আর ফ্রিডম হলো এমন একটি অ্যাপ নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম, অ্যাপ, এমনকি ব্রাউজার থেকেও আপনাকে ব্লক করে রাখে। এ অ্যাপটি বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস যেমন অ্যান্ড্রয়েড, ম্যাক, উইন্ডোজ, আইওএসে ব্যবহার করা যায়।হোকাস ফোকাসএমন অনেক অ্যাপ আছে, যেগুলোর নোটিফিকেশন আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। কিন্তু হোকাস ফোকাসের কাজ হলো অব্যবহৃত অ্যাপগুলোকে লুকিয়ে রাখা। যাতে সেগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়ে অকারণে আপনাকে বিরক্ত না করে। তবে নোটিফিকেশন সে কখন লুকিয়ে রাখবে তা আপনার ওপর নির্ভর করে। আপনি চাইলে সে সঙ্গে সঙ্গেই নোটিফিকেশনগুলো সরিয়ে ফেলবে, অথবা নির্দিষ্ট সময় পর সরাবে।ফরেস্টফরেস্ট খুবই একটি অসাধারণ অ্যাপ। অধ্যবসায় রচনা নিশ্চয়ই পড়েছেন? এ অ্যাপটি আপনাকে অধ্যবসায় শেখাবে। অ্যাপটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গে এক ভার্চুয়াল গাছ বেড়ে উঠতে শুরু করে। কথা হচ্ছে, গাছটা বেড়ে উঠবে কী করে? খুব সহজ, আপনার অধ্যবসায়কে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে শুধু গাছ না, বন বেড়ে উঠবে। এটি যখন কাজ করবে, তখন আপনাকে মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ফোন ব্যবহার করলেই গাছটি মরে যাবে।পান্ডা ফোকাস মোডএটি এমন একটি অ্যাপ, যা আপনার ব্রাউজারে নতুন উইন্ডো খুলতে গেলেই আপনাকে আপনার বাকি থাকা কাজের একটি তালিকা দেখাবে। আর এই ফেলে রাখা কাজের তালিকা দেখলেই আপনার মনোযোগ কাজের দিকে চলে যাবে।ব্রেইন.এফএমব্রেইন.এফএম বিভিন্ন ধরনের সুমধুর শব্দ উৎপন্ন করে থাকে। সুমধুর শব্দ মানুষকে মনোযোগী হতে সাহায্য করে। আর কাজের প্রতি একঘেয়েমি দূর করে। এ ছাড়া শ্রুতিমধুর সংগীত বিভিন্নভাবে আপনার আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। তবে এখানে সংগীতগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে।এই অ্যাপে থাকা বিভিন্ন চ্যানেল আপনাকে বিভিন্ন কাজ করতে সাহায্য করবে। যেমন কাজ করা, ঘুমানো, পড়াশোনার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সংগীত।সেলফ কন্ট্রোলএই অ্যাপটা আপনাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। অন্য অ্যাপগুলো যেমন বন্ধ করা যায়, এ অ্যাপটি বন্ধ করা যায় না। অনেকটা জোরপূর্বক কাজ করিয়ে নেওয়ার মতো। অ্যাপটি ডিলিট করে ফেললে অথবা কম্পিউটার বন্ধ করলেও এটি চলতে থাকে। এটি বন্ধ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে অ্যাপটির সময়সীমা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। অ্যাপটি এভাবেই কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও মনোযোগ নিশ্চিত করে।
6
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামী নেতাদের গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার সেক্রেটারী ডঃ রেজাউল করিমকে অপহরণ, খুলনা মহানগরী শাখা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান সিরিনা দৌলত ও রাজবাড়ী জেলার পাংশা পৌরসভা শাখা জামায়াতের আমীর কাজী ফরহাদ জামিল রুপুকে গত ২১ ডিসেম্বর রাতে পুলিশের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান শনিবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, "সরকার নির্বাচন বানচালের যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে তার অংশ হিসেবেই জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার সেক্রেটারী ডঃ রেজাউল করিমকে অপহরণ করা হয়েছে এবং উপরে উল্লেখিত নেতাদের পুলিশ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। আমি এ সব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের অপহরণ, গুম, গ্রেফতার এবং জাতীয় সংসদ সদস্য পদ প্রার্থীদের ব্যাপকভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার দ্বারা জাতি পরিস্কারভাবে বুঝতে পারছে যে, দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। সরকার ও সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করার পরিবর্তে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অবৈধ এবং বেআইনি কার্যকলাপে দেশের জনগণ উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। ডঃ রেজাউল করিমকে তার গাড়ির ড্রাইভারসহ ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭:২০ টায় অপহরণ করে নিখোঁজ করে রাখা হয়েছে। তিনি কোথায় ও কিভাবে আছে তার পরিবার-পরিজন তা জানেন না। তার পরিবার-পরিজন ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ তার জন্য গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়ার পরেও তার কোনো সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় কিভাবে আছেন তা অনুসন্ধান করে তাকে তার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, অবিলম্বে গুম, অপহরণ, হত্যা, হামলা, মামলা বন্ধ করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দলের গ্রেফতারকৃত সকল নেতা-কর্মীকে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"বিজ্ঞপ্তি
9
সিরাজদিখানের বেঁদে পরিবারগুলো এখন অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। গাঁয়ের পথে ঝুড়ি মাথায় কিংবা কাঁধে লম্বা ব্যাগ ঝুলানো বেঁদে পরিবারের সদস্যদের আগের মতো চুড়ি-ফিতা এক কথায় লেসফিতা বিক্রি করতে দেখা যায় না। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ব্যস্ত এ সময়ে মানুষ আর আগের মতো জড়ো হয়ে সাপ খেলা দেখার সময় পায় না। সিরাজদিখান উপজেলার বেঁদে পল্লীতে এবারও আগের মতই নিরানন্দ ঈদ চলছে। যেখানে কোনো রকমে দুমুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে আছে এ অঞ্চলের বেঁদেরা। তালতালা ৬০ টি এবং সিরাজদিখান বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদীতে ভাসমান ৪০ টি বেঁদে পরিবারের অর্থাভাবে কোরবানি দেয়া আর হয়ে ওঠে না কখনো। তাই ঈদের দিন অন্য সব দিনের মতোই মনে হয় তাদের কাছে। বেঁদে পরিবারের শিশু-কিশোরদের মাঝে ঈদ নিয়ে হৈচৈ নেই। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বিগত সময়ের মতো এখন আর বেঁদে পরিবারের শিশু-কিশোরদের আতশবাজি করতে দেখা যায় না। ঈদের আনন্দ এখন মনে ধরে না বেঁদেদের শিশুদের মধ্যে। উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে মালখানগর ইউনিয়নের তালতলা বাজারের পেছনে ইছামতি নদীতে ভাসমান ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় বর্তমানে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে ৬০টি বেদে পরিবারত এবং সিরাজদিখান বাজার সংলগ্ন ৪০টি পরিবার তবে ৩ শতাধিক বেদে ভোটার হয়েছেন বলে জানান,তালতালা বেদে সর্দার মিনহাজ উদ্দিন ।সিরাজদিখান বাজারে ঝোলা কাঁধে বের হওয়া বেদে পরিবারের সদস্য মরজিনা বেগম (৫৫) বলেন, 'আমাদের কাছ থেইক্কা মানুষ আগে চুড়ি-ফিতা কিনলেও এখন বাড়ির বউ-ঝিরা হাট-বাজারে গিয়া কিনে। এ ছাড়া যেহানে সেহানে ডাক্তার থাকায় আমাগো কাছ থেকে শিঙা ও তাবিজ কেউ নেয় না।' সিরাজদিখানের তালতলা এলাকায় বসবাসকারী বেঁদে পরিবারের সদস্যরা জানান, নারীদের আগের মতো গ্রামে-গঞ্জে চুড়ি-ফিতা বিক্রি, শিঙ্গা লাগানো, তাবিজ বিক্রি কিংবা সাপ খেলা দেখানো পেশায় উপার্জন নেই বললেই চলে। তবে বিভিন্ন গ্রামীণ মেলায় ছোট ছোট দোকান বসিয়ে খেলনা থেকে শুরু করে মাটির তৈরি সামগ্রী, চুড়ি, ফিতা, নেলপলিশ, বিক্রি করে এখনও কিছুটা উপার্জন হয় তাদের। পুরুষরা মাছ ধরে নারীদের পাশাপাশি কিছুটা উপার্জন করেন। এতে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন তারা। কেউ কেউ আবার গ্রাম গঞ্জে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বোন, ননদের বিয়ে দেয়ার টাকা জোড়ান দিতে সাহায্যের জন্য বের হয়ে পড়েন। তালতালা বেদে পল্লীর সর্দার মিনহাজ উদ্দিন বলেন, 'এলাকার ভোটার হওয়ার পরেও সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা হতে বঞ্চিত আমরা। তাদের দাবি দেশের সকল নাগরিকদের মতো তাদেরকেও সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়া হোক। অনেক কর্মকর্তা সাংবাদিক আসে খোজ নেয়, কেউ ছবি নেয়। শুনি সরকার আমাদের জন্য অনেক কিছু করবে কিন্তু কিছুই তো হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, আমাদের কোন যায়গা নাই। সরকারি ভাবে আমাদের যায়গা দিলে আমরা নৌকা থেকে মাটিতে বসবাস করতে পারব।' সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুন নাহার জানান, বেঁদেদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাদানের চেষ্টা চলছে। সরকারি সব সুযোগ-সুবিধাই তাদের পর্যায়ক্রমে দেয়া হচ্ছে।
6
দুরারোগ্য ক্যান্সারে এক পা হারিয়েও দমে যাননি যুক্তরাষ্ট্রের নারী জ্যাকি হান্ট-ব্রোয়ের্সমা। কৃত্রিম পা নিয়েই রীতিমতো দৌঁড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, রেকর্ড গড়তে টানা ১০২ দিনে ১০২টি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন জ্যাকি। এজন্য বিশ্ব রেকর্ডের খাতায় নাম উঠেছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে জ্যাকি হান্টের বাড়ি। গত বৃহস্পতিবার ছিল তার জীবনের বিশেষ দিন। এদিন তিনি ২৬ দশমিক ২ মাইল দৌঁড়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি টানা ১০২ দিন দৌঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করেছেন। খবর জি নিউজের। টানা ১০২ দিনে ১০২টি ম্যারাথনে দৌঁড়ে জ্যাকি অ্যালিসা ক্লার্কের রেকর্ড ভেঙেছেন। ২০২০ সালে ক্লার্ক টানা ৯৫টি ম্যারাথনে দৌঁড়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। জ্যাকি হান্টের এ কাজ সহজ ছিল না। ২০০১ সালে দুরারোগ্য ক্যানসারে ভুগে একটি পা হারাতে হয়েছিল তাকে। এরপর শরীরে কৃত্রিম পা জুড়ে নেন তিনি। শুরু করেন অনুশীলনও। এক সাক্ষাৎকারে জ্যাকি বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর আমাকে বলা হয়েছিল, আর কখনোই দৌঁড়াতে পারব না আমি। কিন্তু আমি দৌঁড় বন্ধ করতে চাইনি। আমি আবার ট্র্যাকে ফিরতে চেয়েছি। বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চেয়েছি। এই ইচ্ছা আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে।
3
ছোট শহরের প্রতিবাদী নারী চরিত্র-ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এটাই ছিল ভূমি পেডনেকারের ধরন। 'দম লাগা কে হাইশা', 'টয়লেট: এক প্রেম কথা' বা 'শুভ মঙ্গল সাবধান'-এই ধারা থেকে ভূমি যে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছেন, তা ঠিক নয়। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিসর বাড়িয়েছেন। 'পতি পত্নী অওর ওহ'তে গ্ল্যামারাস চরিত্র করেছেন, পাশাপাশি 'সোনচিড়িয়া'র মতো পুরুষপ্রধান ছবিতে নিজের উপস্থিতি দিয়ে নজর কেড়েছেন।ভূমির নতুন সিনেমা 'বাধাই দো'। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত 'বাধাই হো'র সিক্যুয়াল এই সিনেমা। হর্ষবর্ধন কুলকার্নি পরিচালিত 'বাধাই দো' মুক্তি পাবে ১১ ফেব্রুয়ারি।এ সিনেমায় প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন রাজকুমার ও ভূমি। রাজকুমার রাওকে এক পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। চরিত্রের নাম শার্দূল। অন্যদিকে ভূমিকে দেখা যাবে স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষকের চরিত্রে। তাঁর চরিত্রের নাম সুমি। 'বাধাই দো' সিনেমার গল্প অনুযায়ী, নায়ক-নায়িকা দুজনেই সমকামী। সমাজের চোখে ধুলো দিতে দুই সমকামী বিয়ে করতে চায় একে অপরকে। বিয়ের পর নিজেদের পার্টনারের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যে সিনেমাটির ট্রেলার সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা তৈরি করেছে।এক সাক্ষাৎকারে ভূমি জানিয়েছেন এমন চরিত্র বেছে নেওয়ার কারণ, 'এটা এমন এক চরিত্র, যা দেখে অনেক মানুষের চোখ খুলে যেতে পারে, ভুল ভাঙতে পারে। আমি সব সময়ই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের অপেক্ষায় থাকি। মানুষ কবে সিনেমাটি দেখবে সেই অপেক্ষায় আছি।' এ বছর ভূমি অভিনীত ছয়টি সিনেমা মুক্তি পাবে।
6
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চায় না। গত দেড় বছরে শিক্ষা খাতে যে ঘাটতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সশরীরে ক্লাস করাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন টিকা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে ,তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর আফতাবনগরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রীডা. দীপু মনি বলেন, 'আমাদের আরও অনেক বেশি সজাগ থাকতে হবে। করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। গত দেড় বছরে শিক্ষা খাতে যে ঘাটতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সশরীরে ক্লাস করাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেকই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে যেভাবে চলছে, তাতে শিক্ষা খাতের সমস্যাটাই বেশি হবে। সন্তানদের কথা মাথায় রেখে আমরা প্রত্যেকেই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।'অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, '২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে রূপান্তর হব। ২১০০ সালে বাংলাদেশকে একটি বদ্বীপ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও আপনারা জানেন। আমরা আমাদের এই দেশ কারও দানে কিংবা কোনো সালিসে বসে পাইনি। আমরা যুদ্ধ করে, রক্ত জরিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। শিক্ষা নিয়ে আমরা যে এগোব, আমাদের অনেকগুলো লক্ষ্য আছে। আমাদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আছে, সেখানে আমাদের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ চারদিকে নানা প্রযুক্তি আছে, সেগুলোর জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। আগের বিপ্লবগুলোকে আমরা ধরতে পারিনি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে আমাদের ধরতেই হবে। আমাদের নতুন কাজের জন্য তৈরি হতে হবে, যার জন্য আমাদের প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে।'
1
ঢাকার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। আজ বুধবার নারায়ণগঞ্জে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এম ভি ইকরাম জাহাজ পরিদর্শন শেষে ধোলাইখালে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে একটি গোষ্ঠীর বিরোধিতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা জানান। এম ভি ইকরাম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, নৌ-কমান্ডো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের সাক্ষ্য এম ভি ইকরাম জাহাজকে আন্তর্জাতিকমানের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে। এজন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ এবং ডিজাইন করার জন্য কারিগরি টিম গঠন করা হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন সরকার সংরক্ষণ করবে। এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক উপস্থিত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
9
সময়টা ভালো যাচ্ছে না মুশফিকুর রহিমের। শেষ ছয় ইনিংসের একটিতেও ফিফটির দেখা পাননি দেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হয়েছেন। তবে মুশফিককে নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নন মুমিনুল হক। আজ সংবাদ সম্মেলনেও টেস্ট অধিনায়ক জানালেন দ্রুতই রানে ফিরবেন মুশফিক।২০১৭ সালের পর টেস্টে সেঞ্চুরি পাননি মুশফিক। সেবার ভারত সফরে সবশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট খেলা এই ব্যাটারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো নয়। মুমিনুল অবশ্য আশা হারাচ্ছেন না, 'ওনাকে (মুশফিক) নিয়ে কোনো চিন্তাই করি না। উনি বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটার। তিনটা ডাবল সেঞ্চুরি আছে। উনি অবশ্যই দ্রুত রানে ফিরবে।'অধিনায়কও মুমিনুলও ভুগছেন রান খরায়। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে ৮৮ রানের ইনিংস খেললেও এরপর থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। কাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট সামনে রেখে মুমিনুল অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তিনি বললেন, 'আমি নিজেকে নিয়েও চিন্তিত নই। আগে কি হয়েছে তা নিয়ে না ভেবে সামনের ম্যাচে কি হবে সেটার দিকে তাকাচ্ছি।'
12
সাবেক স্বামী ব্র্যাড পিটের কাছের বন্ধু ও হলিউড অভিনেতা কলিন ফ্যারেলের প্রেমে মজেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এর আগে মডেল কেলি এমসিনামারার সঙ্গে প্রেম করতেন ফ্যারেল। তবে দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক নেই। আর এই দুই বছরে জোলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ফ্যারেলের। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিচ্ছেদ হয়েছে ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি জুটির। এরপর ব্র্যাড পিটের সঙ্গে অনেকের প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেলেও, জোলির ব্যাপারে এই প্রথম এমনটা শোনা গেল। সন্তানদের নিয়ে এখনো আইনি লড়াই চলছে তাদের মাঝে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
2
মমতাজ বেগম (২৬)। প্রত্যাবাসনের ছাড়পত্র পাওয়া এই নারী সাক্ষাৎকার দিয়ে বুথ কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে। বাড়ি মংডু গজবিল এলাকায়। এ সময় তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে মিয়ানমারে যাব কিনা? জবাবে 'না' বলেছি। কেন যাবেন না জানতে চাইলে বলেন, ফেলে আসা সহায়-সম্বল, নাগরিকত্ব ও গণহত্যার বিচার পেলে যাওয়ার কথা বলেছি। তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্বামী শামসুল আলমের কোলে থাকা ৩ মাসের ফুটফুটে সন্তান মোহাম্মদ রুমেনকে দেখিয়ে বলেন, কেমন করে মিয়ানমার ফিরে যাই বলুন, প্রত্যাবাসনের তালিকায় স্বামী ও সন্তানের নাম নেই। তাদের ছাড়া সেখানে কার সঙ্গে জীবন সংসার করব? ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী তার এলাকাতেই প্রথম হামলা চালিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি, সেখানে কি আবার মরতে যাব? এটি কখনোই হতে পারে। সেখানে এখনো আমাদের যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এদিকে ২২ আগস্ট থেকে ১৩ দিন বন্ধের পর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে প্রত্যাবাসনের ছাড়পত্র পাওয়া রোহিঙ্গাদের আবারও কক্সবাজারের টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। এতে তালিকাভুক্তদের মধ্যে মাত্র ৩৩ পরিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এবং বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) প্রতিনিধিদের কাছে তাদের মতামত জানিয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করে আরআরআরসির প্রতিনিধি, জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালেদ হোসেন বলেন, প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্ত এসব রোহিঙ্গারা তাদের মতামত জানিয়েছেন। তাদের মতামত একটি ফরমে লিপিবদ্ধ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। তবে প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা সব রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকারের জন্য আনা যায়নি, যোগ করেন সরকারি এই কর্মকর্তা। এর আগে গত ২০, ২১ ও ২২ আগস্ট টেকনাফের শালবাগান শরণার্থী শিবিরে তৈরি করা বিশেষ বুথে ইউএনএইচসিআর এবং আরআরআরসির কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসনে তালিকাভুক্ত ৩৩৯টি পরিবারের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২২ আগস্ট ৩ হাজার ৫৪০টি পরিবারের প্রত্যাবাসন হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত তারিখে রোহিঙ্গাদের অনিহার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্বিতীয় বারের মত স্থগিত হয়ে যায়। প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্তদের মধ্যে শুধু শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে ৯৩৩ পরিবারের ৩ হাজার ৪৫০ জনের নাম রয়েছে। প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হলে রোহিঙ্গারা আগের সুরে ফিরে আসে। এর আগের সাক্ষাৎকারেও রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং গণহত্যাকারীদের বিচার চেয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেদের ফেলে আসা সম্পত্তির অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ চায় রাখাইন রাজ্য ত্যাগে বাধ্য হওয়া এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী। সাক্ষাৎকার দিতে আসা আরেক রোহিঙ্গা সোনা আলী (৩০) বলেন, ইউএনএইচসিআর আর ক্যাম্প ইনর্চাজের প্রতিনিধিরা ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে বলেছি, আমি এখন মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি নেই। কেননা সেদেশে মানুষ হত্যার বিচার করে না সরকার। জীবনের নিরাপত্তা এবং আমার ভিটে মাটি ফিরে না পেলে কেন যাব?" প্রশ্ন রাখেন তিনি। প্রত্যাবাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, শালবাগান রোহিঙ্গা শিবির ছাড়াও নতুন করে আগামী সপ্তাহে লেদা রোহিঙ্গার শিবিরে ২৪ ও ২৫ নম্বর ক্যাম্পের প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। তবে যেসব রোহিঙ্গারা সাক্ষাৎকার দিয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ শর্তবিহীন মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হয়নি।
6
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৩ ব্রিটিশ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় তাদের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেন স্বজনরা। সরকারী সূত্রে সঠিক কোন পরিসংখ্যান প্রকাশিত না হলেও স্যোশাল মিডিয়ার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ব্রিটেনে এ পর্যন্ত ৩০ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। লুটনের সফল ব্যবসায়ী দীবুল আহমদের বয়স আনুমানিক ৫৪। তার দেশের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউপির ভাংগী গ্রামে। তিনি যুক্তরাজ্যে ও বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। এই মৃত্যুর ঘটনায় পুরো দক্ষিণ সুরমা বাকরুদ্ধ। দেশে থাকা স্বজনদের মধ্যে চলছে কান্নার রোল। যুক্তরাজ্যের লুটন কমিউনিটিতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের হাইডের বাসিন্দা আলহাজ্ব মো. আকিকুর রহমান। তিনি শনিবার রাতে টেইমসাইড জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। আকিকুর রহমানের দেশের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কুবাজপুর গ্রামে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল
4
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতরা। সোমবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়ে তারা এ দাবি জানান। উপ-কমিটির চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমিরের সভাপতিত্বে ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমপাদক ড: শাম্মি আহমেদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করায় ছিল এই হামলার মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও চীনসহ ৫০টি দেশের কূটনীতিক ও দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই ব্রিফিংয়ে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতরা উপস্থিত ছিলেন। আহত ড: রুমা বলেন, ১৪ বছর পরেও স্প্লিন্টারের আঘাতের ভয়ঙ্কর ব্যাথা সহ্য করতে হয় প্রতিনিয়ত। ডাক্তাররা বলেছেন বাম পা চিরতরে হারাতে হতে পারে। আরেক আহত সেলিম বলেন, মৃত্যুর আগে তারেক রহমানসহ ২১ আগস্টের সকল হামলাকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখে যেতে চাই। এটাই শেষ ইচ্ছা। আহতদের মুখে ২১ আগস্ট হামলা ঘটনার হৃদয় বিদারক বর্ণনা শুনে কূটনীতিকরাসহ উপস্থিত সবাই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেনেন্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড: দীপু মনি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড: শাম্মি আহমেদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান নিজের বক্তৃতায় বর্ণনা করেন ২১ আগস্টের ভয়াল স্মৃতি। তুলে ধরেন কিভাবে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার তদন্তকে ব্যাহত করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, রায় নিয়ে খুশি হলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের ফাঁসির আদেশ না হওয়ায়। ড: শাম্মি আহমেদ ২১ আগস্টের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে উপস্থিত কূটনীতিকদের সহায়তা কামনা করেন।
6
ফিলিস্তিনি ছয় মানবাধিকার সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইসরাইলের নিন্দায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের বিবৃতির দাবি করেছে ২৮৮ মার্কিন নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার সংস্থা। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের কাছে লেখা চিঠিতে এই দাবি করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, মানবাধিকারের বিস্তার ও প্রতিরক্ষার চেষ্টাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা কর্তৃত্ববাদী সরকারের ভয়াবহ, বহুল ব্যবহৃত কৌশল। এতে বলা হয়, 'এই পদক্ষেপ ইসরাইলি সরকারের মানবাধিকারের ওপর স্পষ্ট হামলা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনের ওপর বিরল আক্রমণ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ইসরাইলের বন্ধ, বেআইনি ঘোষণা, বিচ্ছিন্ন করা ও ভীতর করার পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতির জন্য আপনার কাছে দাবি করছি।' চিঠিতে আরো জানানো হয়, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থার প্রতি হুমকি সকল দেশেই সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রতিও হুমকি। মানবাধিকার ও মানবাধিকার রক্ষাকারীদের প্রতিরক্ষায় ইসরাইলের অন্যায় পদক্ষেপের জবাবদিহি সকল দেশের আদায় করা আবশ্যক। এর আগে গত ২২ অক্টোবর ইসরাইরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি ছয় খ্যাতনামা মানবাধিকার সংস্থাকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তুর্ভুক্ত করে। ইসরাইলের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় নতুন যুক্ত হওয়া এই সংস্থাগুলো হচ্ছে, আল-হক, আদামির, ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন, দ্য বিসান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, দ্য ইউনিয়ন অব প্যালেস্টেনিয়ান উইম্যানস কমিটি ও দ্য ইউনিয়ন অব অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্ক কমিটি। সূত্র : ওয়াফা নিউজ এজেন্সি
3
বাউল শাহ আব্দুল করিমের লেখা ও সুরে জে কে মজলিশের সংগীতায়োজনে ফোক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী সালমা। তার সঙ্গে গেয়েছেন চৌধুরী কামাল। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) 'প্রাণনাথ-২' গানটি প্রকাশিত হয়েছে সিকে অ্যান্ড মিউজিকের ব্যানারে। এর আগে এই জুটি 'প্রাণনাথ ছাড়িয়া যাইওনা বন্ধুরে' গানটিতে কণ্ঠ দেন। গানটির সংগীত আয়োজন করেছিলেন বাপ্পা মজুমদার। তাদের সেই গান সবার মন জয় করে নিয়েছে। এবার তারা 'প্রাণনাথ-২' নিয়ে হাজির। এ গান সম্পর্কে জে কে মজলিশ বলেন, এটি খুবই শ্রুতিমধুর একটি গান। কিংবদন্তি শাহ আব্দুল করিমের গানে কাজ করার অনুভূতিই অন্য রকম। চৌধুরী কামাল এবং সালামের গায়কী গানটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। চৌধুরী কামাল বলেন, গানটি নিয়ে আমরা সবাই খুব আশাবাদী। সালমা বলেন, গানটি শোনার পর আমার প্রতি শ্রোতাদের ভালোবাসা আর একটু বেড়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
2
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত তিনটি পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পদে পাঁচজন নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন যে কেউ। আগ্রহী প্রার্থীদের অফিস চলাকালে ডাকযোগে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। পদের নাম: সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদসংখ্যা: ১ যোগ্যতা: প্রার্থীকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অথবা সরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা সরকারি ইনস্টিটিউট থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী হতে হবে এবং শিক্ষা জীবনের সব পর্যায়ে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/ শ্রেণি/ সমমানের জিপিএ/ সিজিপিএ থাকতে হবে। যেকোনো সরকারি/ আধা সরকারি/ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান/ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী হতে হবে এবং সরকারি/ আধা সরকারি/ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান/ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কমপক্ষে চার বছরের কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বয়স: সর্বোচ্চ ৩০ বছর। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদসংখ্যা: ৩ যোগ্যতা: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। কম্পিউটার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। বাংলা ও ইংরেজিতে কম্পিউটার টাইপিংয়ে প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ৪০ ও ৫০ শব্দের গতি থাকতে হবে। বয়স: সর্বোচ্চ ৩০ বছর। বেতন স্কেল: ১২,৫০০-৩০,২৩০ টাকা পদের নাম: অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডেটা প্রসেসর পদসংখ্যা: ১ যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। বাংলা ও ইংরেজিতে কম্পিউটার টাইপিংয়ে প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ৩০ ও ৪০ শব্দের গতি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বয়স: সর্বোচ্চ ৩০ বছর। যেভাবে আবেদন: সহকারী প্রকৌশলী পদের জন্য প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম এই ... ওয়েবসাইট থেকে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে। কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডেটা প্রসেসর পদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্তসহ রেজিস্ট্রার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বরাবর নিজ হাতে লিখিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা: রেজিস্ট্রার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কোটবাড়ী, কুমিল্লা। আবেদন ফি: সহকারী প্রকৌশলী পদের জন্য পরীক্ষা ফি বাবদ ৮০০ টাকা এবং বাকি পদগুলোর জন্য ৫০০ টাকা জনতা ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনতা ব্যাংক শাখার ঠিকানায় ব্যাংক ড্রাফট/ পে-অর্ডার করতে হবে। ব্যাংক ড্রাফট/ পে-অর্ডারের রশিদ আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
1
করোনাভাইরাসের নতুন উপধরন আরও বেশি সংক্রামক হতে পারে, যে কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম একথা বলেছেন। অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, "ওমিক্রনের নতুন যে ভ্যারিয়েন্টটি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে, তারও একটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বের ৫৭টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই সাব-ভ্যারিয়েন্টটি কিন্তু আগের তুলনায় বেশি সংক্রামক হতে পারে। বেশি সংক্রমক হলে ক্ষতি করার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। কাজেই আমাদের আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। রোগীর সংখ্যা কোনোভাবেই যাতে না বাড়ে সে জন্য আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। সংখ্যার বিচারে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।" ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, "করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের ভেতরে কারা ভ্যাকসিন পেয়েছেন এবং কারা ভ্যাকসিন পাননি সেই সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা অনেক দিন ধরেই চলছে। জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত মোট যে মৃত্যু আমরা দেখেছি, তাতে প্রায় ৭৩% মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি এবং মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকিরা ভ্যাকসিন পেয়েছেন। প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন পেয়েছিলেন ১৮ জন এবং দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৬১ জন। সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। ১৯ জন মারা গেছেন এখানে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৫১ জন মারা গেছেন। শতকরা হিসেবে যা ৪৩% বেশি। হাসপাতালগুলোতে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।"
6
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল অনুশীলনে নেমেই মজার এক ভঙ্গিতে ছবি তুললেন রুবেল হোসেন। বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ পেসারের সুখী সুখী চেহারাটা দেখে কে বলবে, টানা দুটি সিরিজে তাঁর বসেই কেটেছে!কদিন আগে রুবেল আড্ডাচ্ছলে বলছিলেন, 'জীবনটা অনেক ছোট। চেষ্টা করছি সব সময়ই সুখে থাকার।' ৩১ বছর বয়সী বাংলাদেশ পেসারের দার্শনিক কথা নতুন নয়। ফেসবুকে তাঁর পোস্টগুলো বলে দেয়, বয়সের সঙ্গে ভাবনায় অনেক পরিণতবোধ এসেছে। মাঝে মধ্যে বেশ রসাত্মক পোস্টও দেন। দুদিন আগে হোটেলে সতীর্থ লিটন দাস আর মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে ছবি দিয়ে গাইবান্ধার যুবক শ্যামল দত্তের সৌজন্যে ভাইরাল হওয়া সংলাপটা আওড়ালেন, 'হ্যাভ আ রিলাক্স, চিল রে মামা চিল!'রুবেল চাইলেও কি 'রিল্যাক্স' থাকতে পারছেন? নিউজিল্যান্ড সিরিজেও দলের যে বোলিং আক্রমণ, তাঁকে একাদশের বাইরেই থাকতে হতে পারে। বোলারদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ পর্যন্ত বললেন, 'শরিফুল চারটা ম্যাচেই (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম চার ম্যাচ) ভালো বোলিং করেছে। মোস্তাফিজ দুর্দান্ত। তাসকিন দারুণ বোলিং করেছে। রুবেল আছে। সাইফউদ্দিন সুযোগ পেয়েই কাজে লাগিয়েছে। তাদের মধ্যে দারুণ প্রতিযোগিতা চলছে।'মাশরাফি বিন মর্তুজার পর রুবেলকে ভাবা হচ্ছিল বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের অন্যতম নেতা হিসেবে। এই মুহূর্তে নেতা দূরের বিষয়, সেরা একাদশে জায়গা পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁর। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যখন আরেকটি সিরিজ শুরুর অপেক্ষায়, তখনো রুবেলের ভাগ্যে ভিন্ন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।অথচ এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বাংলাদেশের সেরা বোলার রুবেলই। কিউইদের বিপক্ষে এই সংস্করণে ৪ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। সেই রুবেল এখন যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। স্কোয়াডের সঙ্গে থাকলেও সেরা একাদশে সুযোগ মিলছে না অভিজ্ঞ পেসারের। রুবেল সর্বশেষ খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই-গত এপ্রিলে।গত ১ এপ্রিল অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে সেরা একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন রুবেল। ২ ওভার বোলিং করে ৩৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। ওভারপ্রতি দিয়েছেন ১৬.৫০ রান। এরপর জিম্বাবুয়ে আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজজয়ী দলে থাকলেও একাদশে জায়গা মেলেনি রুবেলের।এক দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে রুবেল টি-টোয়েন্টি খেলছেন ২৮টি। উইকেটের সংখ্যা ২৮টি। ইকোনমি রেট ৯-এর ওপরে। এই সংস্করণে এখনো নিজেকে অপরিহার্য না করে তুলতে পারলেও রুবেল-প্রসঙ্গ আসছেই প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড বলেই। সাদা বলে কিউইদের বিপক্ষে পরিসংখ্যান কখনোই মলিন ছিল না রুবেলের। কিন্তু দেশের মাঠে আবার সেই নিউজিল্যান্ডকে পেলেও পরিসংখ্যান এবার খুব বেশি সহায়তা করতে পারছে না অভিজ্ঞ পেসারকে।রুবেল অবশ্য ছোট্ট জীবনে এত ভাবতে চান না। তিনি এখন 'রিল্যাক্স'-দর্শনে বিশ্বাসী!
12
আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকায় তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা। এ সময় বেশি দামে পণ্য বিক্রিসহ কয়েকটি অপরাধে ৩টি দোকানকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।গতকাল রোববার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম ইসলাম এ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেন।অভিযানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং তালিকা হালনাগাদ না থাকায় মেসার্স সাইফুল স্টোরকে পাঁচ হাজার টাকা, দৃশ্যমান মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্যর দাম বেশি রাখায় মেসার্স সিটি চালের আড়তকে চার হাজার টাকা এবং মেসার্স চৌধুরী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবদুর রহিম ও জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাতে কেউ পণ্যের অযাচিত দাম বাড়িয়ে বিক্রি না করতে পারেন। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে। অভিযানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা হালনাগাদ না করা ও দৃশ্যমান মূল্যতালিকা থেকে বেশি দাম রাখায় তিনটি দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে।
6
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে জামানত হারানো সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী আর নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আর কখনো নির্বাচনে আসব না। তবে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে পাশে থাকব।' নির্বাচনের এক দিন পর গতকাল রোববার রাতে শফি আহমদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান। তাঁর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সচিব রাজু আহমদ গণমাধ্যমে বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন। যোগাযোগ করলে রাজু আহমদ প্রথম আলোকে জানান, শফি আহমদ চৌধুরীর বিবৃতিটি নির্বাচন-পরবর্তী একটি প্রতিক্রিয়া। শফি আহমদ চৌধুরী দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কৃত হন। সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা গেলে এ আসনে উপনির্বাচন হয় গত শনিবার। নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদে থাকা এবং এই আসনে দুবারের বিজয়ী বিএনপির সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান (নৌকা) ৯০ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল) পান ২৪ হাজার ৭৫২ ভোট। আর শফি আহমদ চৌধুরী পান ৫ হাজার ১৩৫ ভোট। বিবৃতিতে শফি আহমদ চৌধুরী তাঁর নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এবার দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে 'স্থানীয় জনসাধারণের চাপ' বলে উল্লেখ করেন শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, 'স্থানীয় জনসাধারণের চাপে এবারে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে যেখানেই গেছি, সেখানেই হাজারো মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু ভোটের ফলাফলে আমি হতবাক। এবার ইভিএমে ভোট হওয়ায় অনেক কেন্দ্রে আমার ভোটাররা অভিযোগ করেন যে তাঁরা ফিঙ্গার দেওয়ার পর কে বা কারা তাঁদের ভোট কনফার্ম করে দেয়, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ।' বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও নির্বাচনী এলাকার কর্মী-সমর্থকদের দোষারোপ করেন শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, 'এই আসনের বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাকে কোনো প্রকার সহযোগিতা না করে উল্টো তাঁরা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, যা বিএনপির রাজনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে আমি দীর্ঘদিন এই দলের পেছনে অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়েছি। যার সাক্ষী এ অঞ্চলের মানুষ।' উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া তাঁর জীবনের শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে বিবৃতির শেষে শফি চৌধুরী বলেন, 'আর কখনো নির্বাচনে আসব না। তবে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে মানুষের পাশে থাকব।'
9
আজ কথা বলছি বাবাকে নিয়ে। একজন সন্তানের ভাগ্যে কতদিন তার পিতার স্নেহ বরাদ্দ রয়েছে এর কোনো সঠিক উত্তর দেওয়া কঠিন। এর হিসাব একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউই বলতে পারেন না। তারপরও আমার মনে হয়, এমনকি এই ভুবন থেকে পিতার প্রত্যাবর্তনের পরও তার স্নেহের অদৃশ্য এক পরশে সন্তান সদা আবৃত থাকে। এ পৃথিবীতে অনেক সন্তান মাতৃগর্ভে থাকাকালেই পিতৃহীন হয়। এই সন্তান জন্মের পর কোনোদিন তার বাবাকে ডাকতে পারে না। পিতৃস্নেহের অপার স্বাদ থেকে হয় বঞ্চিত। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) একজন পিতৃস্নেহ বঞ্চিত মানুষ। তার জন্মের আগেই তার পিতা আবদুল্লাহ মারা যান। আমরা যারা পিতৃস্নেহ পেয়েছি তারা অবশ্যই অত্যন্ত ভাগ্যবান। শুধু পিতৃস্নেহ বলে কথা নয়, পিতার বিশুদ্ধ শিক্ষা ও সাহচর্যে বেড়ে ওঠা প্রত্যেক সন্তান তার জীবনের পরিণত বয়স পর্যন্ত পিতার পরোক্ষ আশিসপুষ্ট পরশ অনুভব করে। পিতার দৈনন্দিন কার্যক্রম, জীবনচর্চা এবং অভ্যাস বা শখ সবকিছুই সন্তানকে প্রভাবিত করে। আজ আমার পরম প্রিয় বাবার নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালে ২৮ আগস্ট তিনি এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোক গমন করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমার বাবা ডা. আখ্লাকুল হোসাইন আহমেদ। তিনি ছিলেন এক অনন্য স্বাধীনতা সংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বেড়ে ওঠা এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার শুদ্ধ মানুষ। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে দেখেছি তিনটি বিষয়ের প্রতি তার খুব আগ্রহ ছিল। বলা যায় তিনটিই ছিল তার 'হবি' বা শখের বিষয়। একটি হলো বাগান পরিচর্যা করা, পড়াশোনার পাশাপাশি ডায়েরি লেখা, অপরটি হলো পাখি শিকার করা। মনে আছে, শীতকালে আমাদের নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল অনেক পরিযায়ী পাখির ছোটাছুটিতে মুখর থাকত। দেখেছি বাবা প্রায়ই ভোরবেলা ফজরের নামাজের পর বন্দুক নিয়ে পাখি শিকারে বের হতেন। এই পাখি শিকারে আমি বহুবার বাবার সঙ্গী হয়েছি। পাখি শিকার অনেকটা নেশার মতো। পরবর্তীকালে বাবার এই অভ্যাসটি আমাকেও প্রভাবিত করেছিল। তবে পরিযায়ী পাখি শিকার আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বাবা কোনোদিন আর পাখি শিকারে যাননি। আইনের প্রতি ছিল তার অগাধ শ্রদ্ধা। আমাদের বাসায় গোলাপের বাগান ছিল। এই বাগান পরিচর্যা বাবা নিজ হাতেই করতেন। আমরা বড় দু'ভাই ও চাচাতো ভাই আমরা তিনজন তার সঙ্গে বাগান পরিচর্যায় সহায়তা করতাম। বাগানে গোলাপের পাশাপাশি আরও কিছু ফুলের গাছ ছিল। মৌসুমি ফুল ছাড়াও প্রায় সারা বছরই বাগানে রঙ্গন ফুল শোভা পেত। বছরের একটি সময়ে বাবা বলতেন যে, এখন গাছগুলো 'প্রিউনিং' করতে হবে। এই শব্দটি বাবার মুখে প্রথম শুনি। কিন্তু শব্দটির মানে জানতাম না। জানতে চাইলে বাবা বুঝিয়ে দেন, গাছের অপ্রয়োজনীয় অংশ ঝেড়ে ফেলা বা ছেঁটে ফেলাটাকেই 'প্রিউনিং' বলে। বাবার অনেক কথাই আজ মনের মাঝে ঘুরছে। বাবার আরেকটি বিশেষ শখের কথা আগেই উল্লেখ করেছি। সেটি হলো নিয়মিত তার ডায়েরি লেখা। সম্প্রতি দেখি বাবার অনেক ডায়েরি স্তূপীকৃত হয়ে বাসায় রয়েছে। ওগুলোতে একটু হাত রাখি। চোখ বুলাতে থাকি। অনেক ডায়েরি। এর পৃষ্ঠা উল্টাতে গিয়ে দেখি ডায়েরিতে হরেক রকমের লেখা। কোথাও নিজস্ব কথা লেখা আছে। কোনো পাতায় বড় কোনো মনীষীর কথা উদ্ধৃত করা আছে। আবার কোনো কোনো পাতায় পত্রিকায় প্রকাশিত জাতীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লিখে রেখেছেন নিজ হাতে। তিনি যেহেতু, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন সেজন্য অধিকাংশ লেখাতেই তার রাজনৈতিক আদর্শের প্রভাব খুব স্পষ্ট। ডায়েরির বহু জায়গাতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক কবিতা ও গান উদ্ধৃত করা আছে। বাবা একজন একনিষ্ঠ রবীন্দ্র অনুরাগী মানুষ ছিলেন। ১৯৮২ সালের একটি পুরোনো ডায়েরিতে বাবার একটি লেখা আমাকে বেশ আলোড়িত করে। বেশ ক'বার লেখাটি পড়ি। লেখাটি কত তারিখে লিখেছেন তার কোনো উল্লেখ নেই। তবে ১৯৮২ সালের একটি পুরোনো ডায়েরিতে তিনি এ লেখাটি লিখেছেন। লেখাটি সম্ভবত ১৯৯০ সালের পরে কোনো এক সময়ে লিখিত। লেখাটি ছিল এ রকম: "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলা হয় 'আলমা মাটার' বা 'জ্ঞানদাত্রী মাতা'। জ্ঞানদাত্রী মাতা দেন পৃথিবীতে জানার ও শেখার সুযোগ আর জন্মদাত্রী মাতা দেন পৃথিবীতে আসার সুযোগ। মানুষের সন্তান কিন্তু মানুষ হয়ে জন্মায় না, সে মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা বা বীজ নিয়ে জন্মায় মাত্র। কিন্তু শিক্ষাই মানুষের সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলে। সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তুলতে না পারলে অন্য সব কিছুই প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন। শিক্ষকদের বলা হয় শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় পিতা, জন্মদাতা পিতা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখায়। শিক্ষক দেখায় জ্ঞানের আলো। যে পিতা তার সন্তানদের অভুক্ত রেখে আহার করে সে পিতা নামের অযোগ্য। সেই রকম, যে শিক্ষক তার ছাত্রদের জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত রেখে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে সে শিক্ষকও শিক্ষকতা পেশার উপযুক্ত নয়।" এই বিশুদ্ধ বচনগুলো অন্য কারও বক্তব্য থেকে বাবা তার ডায়েরিতে উদ্ধৃত করেছেন কিনা তা ডায়েরিতে উল্লেখ নেই। আবার বক্তব্যটি আমার বাবার নিজের কিনা সেটিও আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তার নিজেরও হতে পারে। তবে লেখাটির মাঝে নিহিত বক্তব্য আমার বাবা যে ধারণ করতেন বা তিনি ওই কথাগুলোর সঙ্গে সহমত পোষণ করতেন সেটিই প্রতিফলিত হয়েছে বাবার ডায়েরিতে তার হাতে লেখা এই কথাগুলোর মাঝে। বাবার সন্তান হিসেবে আমার মনে হয়েছে এই কথাগুলো কেবল কোনো কথা নয়- এগুলো চিরন্তন সত্য, যা একজন সন্তানের জীবনকে করতে পারে আলোকিত। বাবা নিজের সন্তানের লেখাপড়ার যেমন খোঁজ নিতেন, তেমনিভাবে এলাকার একজন মুরব্বি হিসেবে দলমত, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে অন্যদের সন্তানদের লেখাপড়ারও খোঁজ রাখতেন। আমাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফলে বাবা যেমন আনন্দিত হতেন, ঠিক তেমনি এলাকার অন্য কোনো পিতার সন্তানের ভালো ফলাফলেও তিনি একই রকম আনন্দবোধ করতেন। ভালো ফলাফলকারী ছেলেমেয়েদের উৎসাহ প্রদানের জন্য তাদের তিনি কলম, বই বা প্রাইজবন্ড উপহার দিতেন। এটা ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস যেটির উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা। আমরা তিন ভাই। বাবার আদর্শ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনুশীলন করছি কিনা তা জানি না। তবে চেষ্টা করি তিনি আমাদের সামনে যে আদর্শ ও জীবন ভাবনা রেখে গেছেন তা আমাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচার করতে। সমাজ যেন সত্য ও বিশুদ্ধ ভাবনায় জেগে থাকে। আজ আমার প্রিয় বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আর দৃঢ়ভাবে অকপটে বলতে চাই, আমার বাবা যে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বিজ্ঞানমনস্ক মানবিক মানসিকতা পোষণ করতেন আমরা যেন সেই মানসিকতা মননে ধারণ করে সমাজ প্রগতির জন্য কাজ করে যেতে পারি। তবেই সন্তান হিসেবে আমাদের প্রতি বাবার স্নেহ চিরকাল সবুজ হয়ে রইবে। বিচারপতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ, ঢাকা
8
মনিরামপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (১০ টাকার) মার্চ মাসের চাল পাননি হরিদাসকাটি ইউনিয়নের উপকারভোগীরা। তালিকা সংশোধনের নামে ১ হাজার ৬৫ জনের চাল পরিবেশকদের (ডিলার) গুদামে আটকে রাখা হয়েছে। কবে এ চাল বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে গত বুধবার ওই ইউনিয়নের দুজন পরিবেশক চাল বিতরণ করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও চেয়ারম্যানের বাধার মুখে পড়ে বিতরণ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর গত রোববার একই অবস্থার মুখে পড়েন অপর এক পরিবেশক। ফলে চাল নিতে এসে ফিরে গেছেন ৫-৬ শ উপকারভোগী। চাল না পেয়ে বিপাকে আছেন জলাবদ্ধ এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা।উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হরিদাসকাটি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩৩৬ জন উপকারভোগী রয়েছেন। যারা ২০১৬ সাল থেকে ৩০০ টাকা মূল্যে মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বছরে ৫ বার ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে আসছেন। গত বছর খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরামর্শে সাবেক চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাড়ে ৫৮টি কার্ড বাতিল করে নতুনদের তালিকায় যুক্ত করেন। নতুন তালিকাভুক্তরা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরের চাল পেয়েছেন।এদিকে নভেম্বরের নির্বাচনে ওই ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলমগীর কবির লিটন। চলতি মাসে তিনি ৪৪৫ জনকে বাদ দিয়ে নতুন নাম প্রস্তাব করেছেন। সে তালিকা যাচাই-বাছাই করে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত চাল বিতরণ বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে।স্থানীয়রা বলছেন, হরিদাসকাটি ইউনিয়নটি জলাবদ্ধ এলাকা। ভবদহের জলাবদ্ধতার কারণে এখানকার মাঠঘাটে পানি জমে থাকায় অধিকাংশ গ্রামে ধান চাষ হয় না। ১০ টাকার চাল এ অঞ্চলের মানুষের অনেক উপকারে আসছিল। তালিকা সংশোধনের নামে এতসংখ্যক মানুষের চাল আটকে রাখা ঠিক হয়নি। যাদের নাম বাদ দিয়ে নতুন ৪৪৫ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো বাদ রেখে বাকি লোকের চাল দেওয়ার দাবি তাঁদের।হরিদাসকাটি ইউপির কুচলিয়া গ্রামের উপকারভোগী করুনা বিশ্বাস বলেন, 'এ মাসের চাল দেয়নি। পানিতে তলিয়ে থাকায় আমাদের গ্রামে ধান চাষ হয় না। খুব কষ্টে আছি আমরা।'নেবুগাতী গ্রামের ভদ্রকান্ত বলেন, 'জমি চাষ তো আর করা যায় না! চা বেচে ৫ জনের সংসার চলে। ১০ টাকার চালের কার্ডে ভালোই উপকার হচ্ছিল। কিন্তু এ মাসের চাল দেলে না।'খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পরিবেশক সবুজ হোসেন বলেন, 'গত রোববারে চাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। ২০০-২৫০ জন লোক এসেছিল। খাদ্য কর্মকর্তা জানতে পেরে বিতরণ বন্ধ রাখতে বলেছেন।'পরিবেশক শাহিন হোসেন বলেন, 'ইউএনওর অনুমতি নিয়ে গত বুধবার চাল দিচ্ছিলাম। ১৪ জনকে দেওয়ার পর এক ইউপি সদস্য এসে বললেন, বিতরণ বন্ধ রাখতে। পরে লোকজন ফিরে গেছে।'পরিবেশক মানিক হোসেন বলেন, 'গত মঙ্গলবার রাতে খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফোন করে চাল বিতরণের জন্য বলেছেন। লোকজন খবর দিয়ে বুধবারে চাল বিক্রি করছিলাম। ৫৭ জনকে দেওয়ার পর চেয়ারম্যান বললেন, বন্ধ রাখতে। তালিকা সংশোধন না করা পর্যন্ত বিতরণ বন্ধ রাখতে বলেছে।'উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইন্দ্রোজিৎ সাহা বলেন, 'হরিদাসকাটির বর্তমান চেয়ারম্যান এক সপ্তাহ আগে ৪৪৫টি কার্ড সংশোধনের জন্য তালিকা জমা দিয়েছে, যা তদন্ত করে চূড়ান্ত করা হবে।'ইন্দ্রোজিৎ সাহা বলেন, 'চাল আটকে গরিব মানুষগুলোকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি। এ জন্য ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে আমি চাল দিতে পরিবেশকদের বলে দিয়েছি। তখন চেয়ারম্যান এসে বিতরণ বন্ধ রাখতে বলেন।'উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরও বলেন, 'চেয়ারম্যান বাধা দেওয়ার পর ইউএনও আমাকে বলেছেন, চাল দেওয়া বন্ধ রাখতে। সব কার্ড সংগ্রহ করে তালিকা বাছাই না করা পর্যন্ত চাল বিতরণ বন্ধ রাখা থাকবে।'হরিদাসকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির লিটন বলেন, 'পরিবেশকেরা নতুন কার্ড করার নামে গরিব অসহায় মানুষদের কাছ থেকে টাকা খেয়েছেন। তা ছাড়া অনেকে এ চাল নিয়ে ঘেরে মাছেরে খাওয়ান, যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের থেকে গরিব লোক দেখে নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার ইউএনও সৈয়দ জাকির হাসানের নম্বরে কল করা হয়েছে। তিনি ফোন ধরেননি।
6
আওয়ামী লীগের আগের দুই সরকারের মন্ত্রিসভায় শরিক দলের একাধিক সদস্য ছিলেন। যে কারণে ধরে নেওয়া হয়েছিল এবারও থাকবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ঘোষিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী তালিকায় শরিক দলের কোনো নেতার নাম নেই। আজ বিকেল চারটার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম পড়ে শোনান। ৪৭ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী রয়েছেন। ৪৭ জনের সবাই আওয়ামী লীগের। ২০০৮ সালের মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন পর্যায়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছিলেন জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জি এম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নু, জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া। ২০১৪ সরকারেও হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, মশিউর রহমান রাঙ্গা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সদ্য ঘোষিত নতুন মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বা ১৪ দলীয় জোটের কোনো শরিক দলের কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। এমনকি সরকারি দলের প্রবীণ নেতারা এই তালিকায় নেই। আজ যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, এদের বেশির ভাগই নতুন মুখ। যদিও দু-একজন ছাড়া বাকিরা সাংসদ হিসেবে সংসদে একাধিকবার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সচিব শফিউল আলম জানিয়েছেন, কাল সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে।আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকার পক্ষের ধারণা ছিল বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি এক শ এর কাছাকাছি আসন পাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা মাত্র পাঁচটি আসন পেয়েছে। দলটি নির্বাচিত সাংসদেরা শপথ নেয়নি এবং সংসদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কারণে সরকার পক্ষ সংসদকে প্রাণবন্ত করতে শরিকদের বিরোধী দলের সারিতে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
9
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গয়হাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল হাই (৪৫)। তিনি গয়হাটা গ্রামের মো. জকুমুদ্দিনের ছেলে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি কোনো উপায় না দেখে নিজেকে বাঁচাতে দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে আহত আব্দুল হাইকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্বার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আহত আব্দুল হাই জানান, ব্যবসায়ী সোহেলের দোকানে বসে কথা বলার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার উপর হামলা করে। একপর্যায়ে নিজেকে বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দেন তিনি। নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মারামারির বিষয়টি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, প্রিয়া সাহার সম্পত্তি নিয়ে যাওয়া বা তার ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অসত্য। তিনি বলেন, 'পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দেশের সকল হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকলকে অবহিত করতে চাই আমার এলাকায় কোনভাবেই কোন অসম্প্রীতি হয়নি, ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রিয়া সাহার কোনো সম্পত্তি কেউ নিয়ে যাওয়া বা তার ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অসত্য। মুসলিম মৌলবাদীরা ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন, তাও অসত্য।' সচিবালয়ে আজ তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে পিরোজপুর জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় সকলে প্রিয়া সাহার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমার এলাকায় কোনো মৌলবাদীদের অবস্থান নেই। আমার এলাকায় হিন্দু-মুসলিমের সম্প্রীতি, সহাবস্থান একটি অপূর্ব নিদর্শন সৃষ্টি করেছে। এটা হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমাদের সম্প্রীতির জায়গা অনেক বড়। কাজেই প্রিয়া সাহার বক্তব্যে কোনো মানুষ যেনো বিভ্রান্ত না হন বা কেউ যেন ফায়দা লুটে নিতে পারেন।' মন্ত্রী বলেন, 'স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে এবং একই ইউনিয়নের অধিবাসী হিসেবে দেশবাসীকে অবহিত করতে চাই, প্রিয়া সাহা পিরোজপুর-১ আসনের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চর বানিয়ারি গ্রামে বসবাস করেন না এবং এ গ্রামে তার নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বা বাড়ি-ঘর নেই। এ গ্রামে তার বাবা ও ভাইদের সম্পত্তি রয়েছে। তাদের বাড়িতে কেউ থাকেন না।' তিনি বলেন, একটি পরিত্যক্ত ঘরে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রিয়া সাহার ভাই জগদীশ বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস নাজিরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সে অভিযোগে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, এমনকি কাউকে সন্দেহও করেননি। সেই এজাহারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠী বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ এ জাতীয় ঘটনা ঘটিয়েছে এমন শঙ্কার কথা বলা হয়নি। এ মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে। এছাড়াও মন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'এ এলাকায় বলেশ্বর নদীতে চর জেগে উঠায় বলেশ্বরের দুই পারের লোকেদের মধ্যে সরকারি খাস জমির দাবি করা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় জগদীশ বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস বাদী। তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় শ্রেণির লোকদের আসামি করেছেন'। নিজ নির্বাচনী এলাকায় একজন হিন্দুও কোনভাবে গুম হয়েছেন কিনা, প্রিয়া সাহার অভিযোগের কোন সত্যতা আছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের আহ্বান জানান মন্ত্রী।সূত্র : বাসস
9
চট্টগ্রাম নগরীর ট্রাস্ট ব্যাংকের একটি শাখায় ঢুকে দুই দুর্বৃত্ত ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ব্যাংকের নথিপত্রে আগুন দিয়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাত ২টায় নগরীতে ব্যাংকটির হালিশহর শাখায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ঘটনার বর্ণনা এভাবেই দেওয়া হয়েছে।হালিশহর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, মঙ্গলবার সকালে ব্যাংকের কর্মকর্তারা অফিসে গিয়ে দেখেন বিভিন্ন আসবাব ও নথিপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। স্টোর রুমে বেশকিছু কাগজপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। তখন থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ২টার দিকে দু'জন সেখানে প্রবেশ করেন। ভবনের দোতলায় ব্যাংকের কার্যালয়ের ১২ ইঞ্চি দূরত্বে আরেকটি ভবনের ছাদ আছে। সেই ছাদ থেকে ব্যাংকের টয়লেটের জানালার গ্রিল ফাঁক করে দুজন ব্যাংকের ভেতরে ঢোকেন। এসময় তাঁরা বিভিন্ন টেবিলের ড্রয়ার খুলে কাগজপত্র উল্টেপাল্টে দেখেন। টেবিলের ওপর থেকে নথিপত্র এলোমেলো ফেলে রাখেন। এরপর স্টোররুমে প্রবেশ করে নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী নিচ তলায় থাকায় তাঁরা বিষয়টি টের পাননি।আল মামুন আরও বলেন, এ ঘটনায় যে দু'জন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
6
মার্কিন গানের দল জোনাস ব্রাদার্সের "দ্য রিমেম্বার দিস" ট্যুরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড বোলের মঞ্চে একসঙ্গে পারফর্ম করছিলেন নিক জোনাস, জো জোনাস এবং কেভিন জোনাস। স্বামী নিক জোনাসের হয়ে গলা ফাটাতে সেখানে হাজির হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সোফি টার্নারও সেখানে জো জোনাসকে উৎসাহ যোগাতে হাজির হয়েছিলেন। আর সেখানেই সাক্ষাত হলো দুই মুলুকের এই দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়। জোনাস ভাইদের কনসার্টে উপস্থিত থাকা ভক্তদের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কা এবং সোফিকে একসঙ্গে কনসার্ট উপভোগ করতে দেখা গিয়েছে। অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রিয়াঙ্কাকে তার বন্ধু ক্যাভানাফ জেমসের সঙ্গে আলাপ করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রিয়াঙ্কা যোগ দেন সোফির সঙ্গেই। কনসার্টের সময় প্রিয়াঙ্কাকে দেখে তার উদ্দেশে চিৎকার করে নিক বলেন, "আমার সুন্দরী স্ত্রী এখানে এসেছে, চিয়ার্স বেবি।" প্রিয়াঙ্কাও প্রত্যুত্তরে নিকের উদ্দেশে উড়ন্ত চুম্বন ছুঁড়ে দেন। ছবিভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনসার্টের ছবি প্রকাশ করে জোনাস ভাইদের সমর্থন জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, "তোমার জন্য আমি গর্বিত নিক জোনাস। রিমেম্বার দিস ট্যুরের সমাপ্তির জন্য অভিনন্দন জো জোনাস, কেভিন জোনাস এবং জোনাস ব্রাদার্সকে!" সোফিকে এর আগেও জোনাস ব্রাদার্সের কয়েকটি কনসার্টে দেখা গেছে। এই মাসের শুরুতে তিনি বোস্টনের কনসার্টের ছবি শেয়ার করেন। এদিকে, প্রিয়াঙ্কা দ্রুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফর করেছেন বলে মনে হচ্ছে। আসন্ন অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও সিরিজ "সিটাডেল" এর জন্য গত কয়েকদিন ধরে স্পেনে অবস্থান করছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। এই ভিডিও সিরিজে "গেম অব থ্রোনস" এবং "ইটারনালস" খ্যাত তারকা রিচার্ড ম্যাডেনকেও দেখা যাবে। "অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম" পরিচালকদ্বয় রুশো ব্রাদার্স এই প্রকল্পের নির্বাহী প্রযোজক। ভিডিও সিরিজের কাজে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় অবস্থানরত প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন নিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্পেনে এই দম্পতির একসঙ্গে কাটানো সময়ের ছবি দেখা গিয়েছে।
2
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে 'ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু' করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে খুনি রাশেদ চৌধুরীর নথি তলব করেছে দেশটির আদালত। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের প্রতিক্রিয়া জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ১৫ বছর আগে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা রাশেদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ ব্যাপারে মার্কিন সাময়িকী পলিটিকো স্থানীয় সময় শুক্রবার জানিয়েছে, রাশেদকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় দানের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির আইন বিভাগ। এ প্রক্রিয়ার শুরুর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় হারাতে পারেন বঙ্গবন্ধুর এই খুনি। আর এমন ঘটলে, তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘ প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হতে পারে বলে পলিটিকো ইঙ্গিত দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের তরফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বারের এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাশেদ চৌধুরীর আইনজীবী মার্ক ভ্যান ডার হাউট।এ ব্যাপারে ওই আইনজীবী পলিটিকোকে বলেন, ২০০৫ সালে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন মঞ্জুরের সময় বিল বার তার অসন্তুষ্টির কথা না জানিয়ে এখন আবার এই মামলা পুনরায় শুরু করতে চাইছেন। এর কোনো কারণ থাকতে পারে না। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সেক্রামেন্টো থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের শহর কনকর্ডের হ্যাকলবেরি ড্রাইভে বসবাস করছেন বলে জানা যায়। তবে দীর্ঘদিন তাকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না। বারবার স্থান বদল করে ২০১৫ সাল থেকে তিনি কনকর্ডে বসবাস করছেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, ইলিনয় এবং মিসৌরিসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বসবাস করেছেন। জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি বাড়ির মালিক রাশেদ চৌধুরী। যার একটি কনকর্ডে এবং অন্যটি সেক্রামেন্টোতে। ২০১৫ সালে কনকর্ডে প্রায় চার লাখ ষাট হাজার ডলার দিয়ে কেনা বাড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি দশ লাখ টাকা। ওয়ালনাট ক্রিকে ২০১৬ সালে তিনি প্রায় দশ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বাড়িটি কিনেন। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১১ কোটি চার লাখ টাকা।রাশেদ চৌধুরীর দুই ছেলে রূপম জে চৌধুরী এবং সুনাম এম চৌধুরী। তার দুই ছেলেও তাদের পরিবার নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন। রাশেদ চৌধুরী'র বড় ছেলে রূপম চৌধুরী ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিকে থাকেন। তার স্ত্রী কাজল এন ইসলাম এবং তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন রাশেদ চৌধুরী। তার প্রায় দশ বছর পর অভিবাসন আদালত তার আশ্রয় আবেদন মঞ্জুর করেন। যদিও, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ডিএইচএস'র পক্ষ থেকে বলা হয় আশ্রয় আবেদনকারী নিজদেশে সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত, তাই সে আশ্রয় পাওয়ার অযোগ্য।পঁচাত্তরে পরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার পর ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাশেদ চৌধুরী জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তিনি কেনিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান ও ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাজ করেন।আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালের জুলাইয়ে বঙ্গবন্ধুর এ খুনিকে চাকরি থেকে অব্যহতি দিয়ে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি দেশে না ফিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো চলে যান। রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর এই বিচারের কাগজপত্র চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ১২ নভেম্বর ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করার পথ সুগম করে। তারপর বিচারের আয়োজন করা হয়। ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দণ্ডিত আসামিদের বিরুদ্ধে রেডএলার্ট জারি করে বাংলাদেশের পুলিশ। নানান আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারিতে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যেসব খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তারা হলেন- সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক রহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), শাহরিয়ার রশিদ খান এবং একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার) ও সাবেক মেজর বজলুল হুদা। ঢাকা ও ব্যাংককের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের পর বজলুল হুদাকে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে দেয়। দণ্ডিত আরেক খুনি আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে ২০০১ সালের ২ জুন মারা যান। সব শেষ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হলেন ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। গত ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে তিনটায় রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ১২ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করে সরকার। পলাতক অন্য পাঁচ খুনি হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। এদের মধ্যে কানাডায় নূর চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রাশেদ চৌধুরী। মোসলেম উদ্দিন জার্মানিতে ও শরিফুল হক ডালিম স্পেনে আছে। তবে খন্দকার আবদুর রশিদ কোন দেশে অবস্থান করছেন তার সঠিক তথ্য কারো জানা নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক দল ক্ষমতালোভী সেনা কর্মকর্তার হাতে সপরিবারে হত্যার শিকার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় তার দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।
4
বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা প্রতিটি নির্বাচনের সময় নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে বিগত দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল একপ্রকারের যুদ্ধ। হালে এ চ্যালেঞ্জ আরও বড় আকার ধারণ করেছে-গুরুত্বপূর্ণ এবং সার্বিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে, যার আইনি দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের। এ চ্যালেঞ্জে নতুন নতুন উপাদান ও আঙ্গিক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মাঠের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। প্রার্থীর ও রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন ও প্রচারণাকে নিজের আয়ত্তে আনতে নানা ধরনের কায়দা। কাজেই বাংলাদেশে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায়, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশনকে পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্বাচনের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে হয়। প্রতিটি নির্বাচনে যেসব চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনকে মোকাবিলা করতে হয়, সেগুলো কমিশনের জন্য যথেষ্ট চিন্তার খোরাক জুগিয়ে থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে হয়, যা এই উপমহাদেশে বর্তমানে বিরল। বলা হয়, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন-পরিবর্ধন চলমান প্রক্রিয়া। কাজেই এ প্রক্রিয়াতে পরিবর্তন চলমান রাখতে হয়। এদিক থেকে ভারতের নির্বাচন কমিশন অনেক এগিয়ে, বিশেষ করে কারিগরি সংযোজনার দিক থেকে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ( ) অনেক সুবিন্যস্ত। একসময় ভারতের কিছু কিছু রাজ্যে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নৈরাজ্যজনক ছিল। সেখান থেকে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন বহুদূরে এসেছে। এসব কথা উত্থাপনের উদ্দেশ্য হালে অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যবস্থাপনার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ-অভিজ্ঞতার আলোকে আলোচনা ও সুপারিশ করার প্রয়াস। নির্বাচন কমিশনের সামনে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যাপক অভিজ্ঞতা আমার স্মৃতিপটে ভাস্বর হয়ে রয়েছে। ২০১০ সালে ওই শহরের নির্বাচনে বাংলাদেশে প্রথম একজন নারী কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে দারুণ সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ব্যাপক প্রতিকূলতার মধ্যে প্রশংসনীয় ও অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে সব বাধা অতিক্রম করেছিলেন। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন এবারও সহজ হওয়ার নয়। অবশ্য যদি সব বড় দল অংশগ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশন ধন্যবাদ পেতে পারে ঢাকার নির্বাচনে উন্নত প্রযুক্তির ইভিএম ব্যবহারের জন্য, যদিও দুটি জায়গায় আজও উন্নতির লক্ষ্যে আমার মতামত রয়েছে। এর একটি ভিডিপি-সংক্রান্ত এবং অপরটি প্রার্থীর তথ্য প্রোগ্রামিংয়ের সময় প্রার্থী অথবা দলের আইটি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি দলে অন্তর্ভুক্তির। ঢাকার নির্বাচনে ইভিএম না হলে ভোটার উপস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া যেত না। ইভিএমের যাঁরা বিরোধিতা করছেন, ইভিএম না থাকলে এবার তাঁদের জামানতের টাকা ফিরে পাওয়া বোধ হয় দুষ্কর হতো। জামানত হারানো প্রার্থী বা দলের জন্য শুভ ইঙ্গিত বহন করে না। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের যতসংখ্যক প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন, ততসংখ্যক বোধ হয় অতীতে কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি। এবার ইভিএমের মাধ্যমে যে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে তা যান্ত্রিক নয়, বরং দলীয় সমর্থকদের বিভিন্ন ধরনের অসৎ উপায় অবলম্বন করার কারণে। অভিযোগ রয়েছে যে ভোটার শনাক্ত করার পর ব্যালট ইউনিট কার্যকর হওয়ার পর হয় অন্য কেউ নির্ধারিত প্রতীকে ভোট দিয়েছেন অথবা ভোটারকে বাধ্য করেছেন তাঁর পছন্দের বাইরে ভোট প্রদানে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এটা ইভিএমের দ্বারা কারচুপি নয় ( ), বরং স্বভাবত অসৎ মানুষের দ্বারা কারচুপি ( )। তবে একটা সত্য মানতেই হবে যে পাঁচ মিনিটে ১০০ ব্যালট স্টাফিং থেকে এই মেশিন ব্যবহারে ভোট ব্যবস্থা রেহাই পেয়েছে এবং ভোটের হার বাড়িয়ে দেখানো সম্ভব হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ইভিএম ব্যবহার চালু রাখাই বাঞ্ছনীয়। তাতে অন্তত জাল ভোটে ব্যালটবাক্স ভরানো (স্টাফিং) থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা মুক্ত থাকবে। এই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল হয়েছে ভিন্নভাবে তিন স্তরে-মহল্লা পাহারা, ভোটকেন্দ্র পাহারা এবং বুথে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়াতে বাধ্য করা। এসবের প্রতিকার নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করতে পারেনি। প্রকাশ্যে ভোটকেন্দ্র পাহারা ও দখল-পাল্টা দখলের ঘোষণা দেওয়া আইনের পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি মৌখিক সতর্ককরণও করা হয়নি। কেন্দ্রের বাইরে সরকারি দলের ব্যাপক উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের শঙ্কিত করেছে। এর বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশন এবং কমিশন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ব্যবস্থা নেননি বা নিতে পারেননি। ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের তথ্য ও ভোটার নম্বর দিয়ে সাহায্য করার কাজটি দলগুলোর করা উচিত নয়। ভারতের মতো আমাদের নির্বাচন কমিশনেরও উচিত নিজেদের আওতায় কেন্দ্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা। এই পর্যবেক্ষকেরা ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের স্লিপ দেবেন। এ পদ্ধতি গ্রহণ করলে কেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন দলের বিশেষ প্রতিনিধিদের প্রয়োজন কম হবে। কেন্দ্র নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোটারদের ভয়ভীতি কমবে। ভোটার স্লিপ প্রদানের কাজটি নির্বাচন কমিশনের আওতায় করতে যেসব ব্যক্তি ভোটার নিবন্ধনের সঙ্গে নিয়োজিত ছিলেন, তাঁদেরই নিয়োজিত করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পরীক্ষামূলকভাবে দেখতে পারে। এ ব্যবস্থায় কেন্দ্রের বাইরে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি কম হতে পারে। প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল দিতে ভোটারদের বাধ্য করার রেওয়াজ হালের কিছু নির্বাচন থেকে শুরু হয়ে এখন একধরনের বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ কারণে প্রতিপক্ষের এজেন্টকে বের করার অভিযোগ অহরহ পাওয়া যায়। আমি মনে করি, যেহেতু ইভিএম প্রকৃত ভোটার শনাক্ত করতে পারে, তাই বুথে শুধু ভোটার এবং ভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত এজেন্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা উচিত। কোনো ধরনের ব্যত্যয়ের জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তারাই দায়ী থাকবেন। আসছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এটা পাইলট আকারে পরীক্ষা করা যেতে পারে। ডিজিটাল গণনা ও একীভূত করার সময় গণনা এজেন্ট নিয়োগ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হবে গণনা পর্যবেক্ষণ ও স্বপক্ষের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরকৃত রেজাল্টপত্র বুঝে নেওয়া। তার মানে, দুই রকমের এজেন্ট তৈরি করা: বুথ এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্ট। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বয়স প্রায় ৫০ বছর হতে যাচ্ছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ তেমনটা হয়নি। মাত্র এক যুগ আগে ডিজিটাল ভোটার তালিকা হয়েছে। এর সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ইভিএমের ব্যবহার সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো ভোট গ্রহণের জন্য গোপন কক্ষের কোনো উপকরণে নির্বাচন কমিশন আধুনিকতা আনতে পারেনি। গোপন কক্ষ তৈরির দায়িত্ব প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়। তাঁরা যে যাঁর মতো বিভিন্ন সাইজের কাপড় ব্যবহার করে তা তৈরি করেন। আমার মনে হয়, এই কক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ভোটারের ভোট প্রদানের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য। আন্তর্জাতিক মানের টেবিল এবং প্রাইভেসি স্ক্রিন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা উচিত। প্রাইভেসি স্ক্রিনের উচ্চতা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে একজন ভোটারের কাঁধ থেকে ওপরে দৃশ্যমান থাকে এবং যাতে সিসিটিভি ব্যবহারে দৃশ্যমান হয়। নির্বাচন কমিশন পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ব্যবহার শুরু করতে পারে। অতীতে পাইলট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ভোট গ্রহণকে প্রভাবমুক্ত করতে এবং ইভিএমের সুফল পেতে হলে ভোটকেন্দ্র ও তার আশপাশে কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া যাবে না। এখানে নির্বাচন কমিশনকে অনমনীয় হতেই হবে। অন্যথায় কোনো আধুনিক প্রযুক্তিতে ভোট গ্রহণ প্রভাবমুক্ত রাখা যাবে না। একই সঙ্গে ইভিএম চালনার ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তার এক শতাংশ অপশনের অবসান করতে হবে। কারণ, ঢাকা সিটি করপোরেশনের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রদান করা হয়, যার সংখ্যা ছিল ৩২টি ভোট। শুধু একজন নন, পরিচিত একাধিক কর্মকর্তা এমনটাই বলেছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অন্য উপায় খুঁজতে হবে। একটি নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং প্রভাবমুক্তভাবে অনুষ্ঠিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এ দায়িত্বের অংশীদার আরও অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী। দল ও প্রার্থীদের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এ দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন বলতে শুধু কমিশনারই নন, মাঠপর্যায়ের সব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিগত নির্বাচনগুলোতে দল, প্রার্থী এবং মাঠপর্যায়ের নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সিংহভাগের আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচন সহায়ক ছিল না। যত দিন পর্যন্ত এসব শরিক সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহায়তা না করবেন এবং কমিশন শক্ত অবস্থানে না থাকতে পারবে, তত দিন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। ড. এম সাখাওয়াত হোসেন: নির্বাচন বিশ্লেষক, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং এসআইপিজির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (এনএসইউ) []
8