content
stringlengths
0
129k
সেখান থেকে লায়নিজমের হাতছানি
আমি আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এলাম
নিজেকে উজার করে মানবসেবায় উৎসর্গ করার একটি প্লাটফর্ম পেলাম
আর সেটি হচ্ছে . ক্যামব্রিয়ান ও লায়নিজমের মাধ্যমে এভাবেই আমি মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করে যেতে চাই
আর্তমানব সেবার কাজে যে লায়ন ব্যক্তিত্ব আমাকে সামনে দিকে চলার পথ তৈরি করে দিয়েছেন
তিনি আর কেউ নন
তিনি আমার সহযোদ্ধা লায়ন এম কে বাশার পিএমজেএফ
তিনি লায়ন অঙ্গনে আমার পথিকৃত
পথ চলার দিকনির্দেশক
তাঁর কাছে আমি ঋণী
আমার নিজ ক্লাব, আমার লায়ন নেতৃবৃন্দ, যারা আমার প্রিয় সহযোগী ছিলেন তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ
বি ক্যাঃ লায়ন জেলায় প্রত্যেক গভর্নর তার এক বছরের কার্যসূচি সম্পাদনের অভিপ্রায়ে একটি ঈধষষ দিয়ে থাকেন
আমরা জানি, আপনার হচ্ছে অর্থাৎ সবার জন্য শিক্ষা
এর উদ্দেশ্য কী?
লায়ন সেলিমা রওশনঃ প্রাক্তন লায়ন গভর্নর এম কে বাশার কল দিয়েছিলেন বা সবার জন্য শিক্ষা
তাঁকে অনুসরণ করে তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য আমিও ডাক দিয়েছি | এর মাধ্যমে আমি দুঃস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করতে চাই
যেসব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, যেমন গ্রাম বা বস্তি এলাকায় নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল না থাকলে সেখানে লিও'রা বিনা বেতনে স্কুল চালু করবে
শিক্ষা কোনো ব্যক্তি, মানুষ বা শ্রেণির জন্য সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা শুধু পুঁথিগত কিংবা পরীক্ষায় পাসের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়
শিক্ষা যেমনি সামাজিকভাবে হয়ে থাকে, শিক্ষকদের মাধ্যমে হয়ে থাকে, ঠিক তেমনি পরিবার থেকেও মানুষ শিক্ষা নিয়ে থাকে
আমাদের দেশে বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার ৭৪.৭০ শতাংশ
একটি জাতি তখনই পুরোপুরি আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে, যখন তার শিক্ষিতের হার ১০০% হবে
এখন এই ১০০% শিক্ষিতের হারের জন্য আমাদের সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে হবে না
কারণ সরকারের পক্ষে দ্বারে দ্বারে গিয়ে সবাইকে শিক্ষিত করে তোলা সম্ভব নয়
যদি আমরা একজন আরেকজনকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকি, তাহলে তা সম্ভব হবে
তাই আমি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি
বি ক্যাঃ লায়নরা দানে নয়, সেবায় বিশ্বাসী
এর অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা কী?
লায়ন সেলিমা রওশনঃ লায়নিজমের মূল মন্ত্রই হচ্ছে মানুষের সেবা করা
লায়নরা দান করে না, সেবার হাত প্রসারিত করে
সমাজের অসহায় মানুষগুলোকে কিছুটা সহায়তা দিয়ে আমরা জীবনযুদ্ধে তাদের পাশে দাঁড়াই
আমরা আমাদের সাহায্যের হাত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও প্রসারিত করতে চাই
আমরা আমাদের সাথে সাথে তাদেরকেও এগিয়ে নিতে চাই
আমরা হাত বাড়াতে চাই সেসব হাতের দিকে, যাদের মায়াভরা একটি সহৃদয় হাত দরকার
আমরা অকাতরে আমাদের মায়া বিলাতে চাই
প্রথম নারী ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর হিসেবে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানবসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবো ভেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও ভীষণভাবে গর্বিত
বি ক্যাঃ দুর্যোগপূর্ণ এ সময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আর্ত-মানবতার সেবায় আপনার কার্যক্রমগুলো কী কী?
লায়ন সেলিমা রওশনঃ লায়নরা বিভিন্ন জায়গায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করে থাকে
লায়ন্সে অক্টোবরকে হিসেবে ধরা হয়
সেলক্ষ্যে অক্টোবর সার্ভিস মাসে আমরা ইতোমধ্যে ৮টি ক্যাম্প সম্পন্ন করেছি এবং সেখানে প্রচুর পরিমাণে পেসেন্ট অংশগ্রহণ করেছে
আমরা চক্ষু রোগীদের বিনামূল্যে চশমা ডিস্ট্রিবউিশন করেছি
নতুন লায়ন ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে এই করোনা মহামারীকালীন সময়ে বেশি সার্ভিস দেওয়ার জন্য মাসব্যাপি সেবা কার্যক্রম চালিয়েছি
ডিস্ট্রিক্টের ৮১টি ক্লাব নিজ উদ্যোগে, নিজ এরিয়াতে সেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে
চাইল্ডহুড ক্যান্সার, ট্রি প্ল্যান্টেশন, আই ট্রিটমেন্ট, ডায়াবেটিক ট্রিটমেন্ট, এনভায়রনমেন্ট এর সবগুলো সেক্টর নিয়েই কাজ করছে আমাদের ডিস্ট্রিক্ট
এছাড়া যেখানে সেবার প্রয়োজন, সেখানেই কাজ করে যাবে লায়নরা
বি ক্যাঃ ডিজিটাল এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের যুগে তরুণ প্রজন্ম এর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে আমরা আতংকিত
এই বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখবেন? সেই সঙ্গে এর প্রতিকারই বা কী?
লায়ন সেলিমা রওশনঃ নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুশিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলার উপর সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে
সামগ্রিক দিক দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে
পাঠ্যশিক্ষার হার বাড়ছে দিন দিন
প্রতিবছর লক্ষাধিক সাধারণ গ্র্যাজুয়েট, প্রকৌশলী, চিকিৎসকসহ নানা বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত মানুষ আমাদের সমাজে যোগ হচ্ছেন
কিন্তু শিক্ষিত মানুষের এ সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র শিক্ষার আসল সুফল পাচ্ছে কি! একদিকে বাড়ছে শিক্ষার হার ও শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা, অন্যদিকে সমাজে বাড়ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়, হচ্ছে নৈতিকতার অধঃপতন
প্রকৃত শিক্ষার আলো, অনাচার, মাদক ও অবক্ষয় থেকে তরুণ প্রজন্মকে এবং সমাজকে কলুষিতমুক্ত করতে পারে
অনৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোতে তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা
একটি সমাজের ইতিবাচক বিকাশের জন্য প্রয়োজন আদর্শ ও মনুষ্যত্ব বোধসম্পন্ন মানুষের
একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়ারও পূর্বশর্ত হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ
দেশে শিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে সন্দেহ নেই; কিন্তু নৈতিক, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ তৈরি হচ্ছে না
ফলে নৈতিক ও মানবিক বোধ-বিবেচনা বর্জিত কোমলমতি শিশু, কিশোর ও যুবসমাজ জড়িয়ে পড়ছে মাদকাসক্তি, অনাচারসহ মারাত্মক নানা অপরাধমূলক কাজে
পেশাজীবী ও কর্মজীবী মানুষ নির্দ্বিধায় ঘুষ-দুর্নীতির মতো অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে
বাংলাদেশে পুঁথিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হার বাড়ছে
তবে প্রসার হচ্ছে না সুশিক্ষার
সুশিক্ষা বলতে মানবিক নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা
সুশিক্ষা হলো সেই শিক্ষা, যে শিক্ষা শিক্ষার্থীকে নৈতিক, মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ মূল্যবোধসম্পন্ন করে তোলে
মানুষকে মিথ্যা, অন্যায় ও অসৎ পথ পরিহার করতে শেখায়
আর কুশিক্ষা মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে ফেলে
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও শিক্ষার জন্য বৃহত্তর পরিসর রয়েছে
এ শিক্ষা স্থান ও সময় নিরপেক্ষ
বি ক্যাঃ এখন আর একান্নবতী পরিবার নেই বললেই চলে
একটি ছোট্ট পারিবারিক গন্ডির ভেতর আমাদের শিশু ও কিশোররা বড় হচ্ছে
এদের ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার বিষয় আপনার সুচিন্তিত অভিমত কী?
লায়ন সেলিমা রওশনঃ একটি শিশুর শিক্ষার সূচনা হয় তার পরিবার থেকেই
প্রাথমিকভাবে শিশুদের নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার পাঠ তার পরিবারের মাধ্যমেই শুরু হয়
সত্য বলা, কর্তব্যবোধ ও শৃঙ্খলাপরায়ণতা, সৎকাজ করা, অনৈতিক ও মূল্যবোধ গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রদর্শন, আত্মত্যাগের মনোভাব, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা, সর্বোপরি দেশপ্রেম ও সমাজ-রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ ইত্যাদি বিষয়ে একজন শিশুর প্রাথমিক পাঠ তার পরিবার থেকেই হয়
দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের অধিকাংশ পরিবারেই এখন আর এসব সুনীতির চর্চা হয় না
একজন শিশু বা কিশোরের নৈতিকতা ও সুকুমার বৃত্তির অনুশীলনের ক্ষেত্রে পরিবারের পরই কার্যকর অবদান রাখতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
কিন্তু আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই
বাংলাদেশে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের যে অবক্ষয় বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে
শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি রচিত হয় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে
তাই প্রাথমিক পর্যায়ে যথার্থ শিক্ষা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে শিশুদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসহ সার্বিক দিক দিয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে
নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠনের উপযোগী শিক্ষার ব্যবস্থা অন্তত মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত প্রসারিত করতে হবে
স্লোগানের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার সেই মানবিক স্তরেও পৌঁছে দিতে চাই
বি ক্যাঃ মানব সম্পদ উন্নয়নে মূল ভিত্তি কী হওয়া উচিত? এ জন্য এ সময়ে আমাদের কিভাবে এগুতে হবে
লায়ন সেলিমা রওশনঃ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই হলো সুপ্ত মানবিক গুণাবলির সম্যক বিকাশ
এটি না হলে শিক্ষার উদ্দেশ্যই কেবল ব্যহত হবে না, নৈতিক গুণাবলি, মানবিকবোধ ও চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন মানবসম্পদও তৈরি হবে না
সামাজিক অবক্ষয় রোধ, সমাজ সভ্যতার বিকাশ, সর্বোপরি দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য এরূপ মানবসম্পদের প্রয়োজন এখন সবচেয়ে বেশি
শিক্ষা মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য
তবে যে শিক্ষা মানুষকে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধে তাড়িত করে না, যে শিক্ষা মানুষে মানুষে ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ তৈরি করে, ভালোবাসার পরিবর্তে ঘৃণাকে উসকে দিয়ে সহিংসতার প্রসার ঘটায়, এমন শিক্ষা সুশিক্ষা নয়
আর এ ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষও প্রকৃত নয়, বরং 'তথাকথিত শিক্ষিত'
এরূপ শিক্ষিত মানুষ সমাজ-সংসার ও দেশের জন্য উপকারী নয়, বরং ক্ষতিকর
এরা শিক্ষিত বটে, তবে দুর্জন
আর দুর্জন শিক্ষিত হলেও পরিত্যাজ্য
বাংলাদেশ নামক যে স্বাধীন দেশটি আমরা পেয়েছি, এ দেশ অর্জনে ৩০ লাখ মানুষের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে
এ দেশটিকে টেকসই উন্নতি এবং আত্মমর্যাদার সঙ্গে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে দেশ থেকে দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচার দূর করতে হবে
এর জন্য প্রয়োজন নৈতিক চরিত্র বলে বলীয়ান, মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানবসম্পদের
আর এ কারণেই এখন প্রয়োজন গুণগত ও মানবিক শিক্ষার প্রসারে মনোযোগী হওয়া
বি ক্যাঃ আপনার সমগ্র জীবন কেন্দ্রিভূক্ত শিক্ষাকে নিয়ে
আমাদের দেশের শিক্ষা
যাদের দিয়ে এই শিক্ষা, তারা হলেন-শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক
এদের দিয়ে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে?
লায়ন সেলিমা রওশনঃ শিক্ষা হলো একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, একজন অনুপ্রাণিত ছাত্র এবং একজন উদ্যমী অভিভাবকের মিলিত প্রতিশ্রুতির সমন্বয়
পিতা-মাতা সন্তান জন্ম দেন, একজন শিক্ষক সে সন্তানকে যোগ্যতর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন