content
stringlengths
0
129k
কিন্তু মরুভূমি নয়
আশপাশে কেউ নেই
যতদূর দৃষ্টি যায় সীমাহীন শূন্যতাই চোখে পড়ে
এই কি মঙ্গল? রাজা আমাকে কেন ডেকেছেন এখানে? কাউকে তো দেখছি না
'ওয়েলকাম সানি!' হঠাৎ একটা ভারী কণ্ঠের আওয়াজ শুনে ডান দিকে তাকালাম
আরে! আমার পাশে তো একটা বড় টিটি এসে দাঁড়িয়েছে
মানুষের মতো দেখতে একজন বেরিয়ে এলো
আমার দিকে তাকিয়ে বললো, মঙ্গলে তোমাকে স্বাগত, সানি
- ধন্যবাদ, কিন্তু আপনি আমার নাম...
রাজা জিউ (জুপিটারের রাজা) তোমার নাম বলেছিলেন
জুপিটার থেকে তো ঘুরে এসেছো শুনেছি
ভাবলাম আমাদের গ্রহটাও তোমার দেখা হোক
- আপনি কি মঙ্গলের রাজা?
- না আমি রাজার প্রতিনিধি
আমার নাম জিম
- ওহ, তো আপনিই কি আমাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন?
বলেই টিটির দিকে ফিরল জিম
একটা দরজা খুলে গেলো
ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন জুপিটারের রাজা জিউ, নিশি এবং আরও কয়জন
- তুমি এসেছো তাহলে
ভালোই হলো
খুশি হলাম
- আমারও ভালো লাগছে যে আপনারা এসেছেন
কিন্তু আমাকে কেন ডেকেছেন সেটা বুঝতে পারছি না
- একটু পরেই জানতে পারবে
জিম আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল, আমার সাথে এসো সবাই
জিমের কথামতো আমরা তার সাথে চললাম
কিছুক্ষণ পর আমরা একটা বড় হলরুমে এসে পৌঁছলাম
দূর থেকে এটা দেখিনি আমি
সবাই গোল হয়ে বসে আছে
শান্ত চুপচাপ
কেউ কোনো শব্দ করছে না
অধীর আগ্রহে সবার সাথে আমিও অপেক্ষা করছি কিছু একটার জন্য
কিন্তু কী সেটা আমি জানি না
আমার চোখ বারবার জিমের দিকে চলে যাচ্ছে
একে দেখতে একদম মানুষের মতো
শুধু কথাবার্তাগুলো একটু অন্যরকম
গলার স্বরও আমাদের মতোই
নিশি বা রাজা জিউদের মতো নয়
কী জানি মঙ্গলের প্রাণীগুলো বোধ হয় এরকমই! কিন্তু জিম নামটা মাথায় ঘুরছে
জিম...জিম...হ্যাঁ! জিম নামে তো আমার এক আঙ্কেল আছেন
বারো বছর ধরে আমেরিকায় থাকেন
ধুর এসব কী ভাবছি! জিম আঙ্কেলের ছবি তো আমি দেখেছি
তিনি এখানে আসবেন কী করে?
হঠাৎ একটা সাইরেন বেজে উঠলো
অমনি পুরো হল ধোঁয়ায় ভরে গেলো
কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার মাথা ঘুরতে শুরু করলো
বুঝতে পারলাম মেঝেতে পড়ে যাচ্ছি
জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি একটা ঘরের দেয়ালে পিঠ ঠেকে বসে আছি
আমার জ্ঞান ফিরেছে দেখে, মুখ ঢাকা দু'জন এলিয়েন এগিয়ে এলো
পরস্পর মুখ চাওয়া চাওয়ি করে মাথা নাড়লো
তারপর টেবিল থেকে একটা স্যুপের বাটি নিয়ে আমার হাতে দিলো
যন্ত্রের মতো করে বলল, 'খেয়ে নাও
ক্ষিধে ছিল তাই খেয়ে নিলাম
খাওয়ার পর অনেক সতেজ লাগলো
বাটিটা রেখে দেয়ার পর দু'জন মুখের আবরণ সরাল
এরা আর কেউ নয়
জিউ আর নিশি
অদ্ভুত! তারা এভাবে মুখ ঢেখে ছিল কেন?
এটা বলার জন্য মুখ খুলতে যাব তখনই রাজা ধমকে উঠলো
'চুপ! একদম মুখ খোলার চেষ্টা করবে না
আমি অবাক হয়ে নিশির দিকে তাকালাম
দেখলাম সেও আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছে
চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে
- তোমরা এমন করছো কেন?
- আরে? বলেছি না কোন কথা বলবি না?
- খুব শখ হয়েছিল না ভিনগ্রহ ভ্রমণের? নিশি ভয়ঙ্কর চোখে তাকিয়ে বলল
বুঝলাম কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে
রাজা এবার চিৎকার করে বললেন,
আমরা আসতে বললাম, অমনি চলে এলি? হা হা হা কী ভেবেছিলি? আমরা তোকে সত্যি সত্যি বন্ধু বানিয়েছি? তোর মতো একটা মানুষের বাচ্চাকে বন্ধু বানাব আমরা?? হা হা হা
আমি বললাম, তোমরা এভাবে কথা বলছো কেন? আমি তো একবারও ভিনগ্রহে আসতে চাইনি
তোমরাই আমাকে জুপিটারে নিয়ে গিয়েছিলে
তারপর আবার এখানে ডাকলে
- হ্যাঁ আমরাই ডেকেছি
তোর কী ধারণা, আমরা তোকে ভালোবেসে ডেকেছি? বোকা!
- আমরা তোকে নিজের স্বার্থেই ডেকেছি
দু'জনের হাসির শব্দে আমার কানে তালা লেগে যাচ্ছে
দু'হাতে কান ঢেকে মনে মনে বললাম, আল্লাহ আমি তো বলেছিলাম, আমার মঙ্গলভ্রমণ যেন মঙ্গলময় হয়, এরকম হচ্ছে কেন?
- এই শোন! এসেই যখন পড়েছিস, কী আর করবি? থাকবি এখানে
পৃথিবীতে আর ফিরতে পারবি না
নিশি মুখ বাঁকিয়ে বলল
আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললাম, 'জুপিটারে যখন গিয়েছিলাম তখন তোমরা এমন ব্যবহার করোনি
হঠাৎ পাল্টে গেলে
-ওটা ফাঁদ ছিলো, ফাঁদ
বুঝলি? তখন যদি ভালো ব্যবহার না করতাম, তাহলে কি আজ আমাদের কথায় চলে আসতি? তোর মস্তিষ্ক আমরা হ্যাক করেছি
চাইলেও আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারবি না
- যথেষ্ট হয়েছে! চিৎকার করে বললাম আমি
তোমরা যা বলবে তাই আমি মেনে নেব, এটা হয় না
পৃথিবীতে আমি ফিরে যাবই
তোমাদের মতো বিশ্বাসঘাতকদের হাতে বলি হবো না আমি
ভুলে যেও না, আমি মানুষ
সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতে আমরাই সৃষ্টির সেরা
আর সেটা এমনি এমনি নয়
মানবীয় গুণ ও বিশ্বাসের কাছে এখনো তোমরা পরাজিত হতে বাধ্য
- খবরদার! সৃষ্টিকর্তাকে এখানে জড়াবে না
এটা তোর আর আমাদের ঝামেলা
- আমি কোন ঝামেলা সৃষ্টি করিনি
তোমরাই করছো
- অনেক হয়েছে নিশি
নিয়ে যাও ওকে