content stringlengths 0 129k |
|---|
আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে মাফ চাই |
আমাদের আত্মার অকল্যাণ ও কাজের ভুল থেকে আল্লাহর আশ্রয় আমরা প্রার্থনা করি |
আল্লাহ্ যাকে পথ দেখান, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না |
আর আল্লাহ্ যাকে হেদায়াত করেন না, কেউ তাকে পথ দেখাতে পারে না |
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া কেউ উপাসনার যোগ্য নয়, আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর দাস ও রাসূল |
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থ ভাবে ভয় করো ও আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না |
" (সূরা আলে ইমরান: ১০২) |
"হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর |
যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও যিনি তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি তাদের দু'জন থেকে অনেক নর-নারী ছড়িয়ে দেন; আর আল্লাহকে ভয় কর; যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার (ও পাওনা) দাবী কর এবং সতর্ক থাক আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে |
নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন |
" (সূরা আন্-নিসা: :১) |
হে মুমিনগণ ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল |
তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন |
এবং তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করবেন |
যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে |
( সূরা আল - আহযাব; ৩৩: ৭০-৭১ ) |
নিশ্চয়ই সব কথার মধ্যে আল্লাহর কথাই সবচেয়ে সত্য ও রাসূল صلى الله عليه وسلم সবচেয়ে সুন্দরভাবে আমাদের পথ দেখিয়েছেন |
সবচেয়ে খারাপ কাজ হলো বিদআত ও সব বিদআত পথভ্রষ্ট; আর সব পথভ্রষ্টতা নিয়ে যায় দোযখের আগুনের দিকে |
জ্ঞান হলো মনের ইবাদত, জীবনের রহস্য ও শক্তির উৎস |
যিনি জ্ঞান অনুসন্ধান করছেন তার জন্য এটা অবশ্য কর্তব্য যে, জ্ঞান বিষয়ক যে সব আদবকায়দা আছে, তা তিনি জেনে নেবেন ও এই আদব শিখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন |
তা না হলে তিনি যাবেন একদিকে, জ্ঞান যাবে অন্যদিকে যেমনটি বলা হয়ে থাকে - জ্ঞান যায় পূর্বে, সে যায় পশ্চিমে - পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যে কতই না দূরত্ব |
একজনকে বুঝতে হবে এসব আদব অন্য সব আচরণের মত না |
যে ইচ্ছা হলো তা করলাম, ইচ্ছা না হলে এই আদব শিখলাম না |
এসব আদব একই স্তরের না বরং কিছু কিছু আদব শেখা সবার জন্যই বাধ্যতামূলক - তা সে যেখানেই থাকুক না কেন বা ছাত্র - অছাত্র যেই হোক না কেন |
শরীয়াহ সম্পর্কে জানার লক্ষ্য হলো নিখুঁত ও স্পষ্টভাবে মনোভাব প্রকাশ করতে শেখা |
নিজের মনোভাব স্পষ্ট ও নিখুঁত প্রকাশের লক্ষ্য হলো আল্লাহকে সবার থেকে আলাদা করা |
ও শুধু তাঁরই ইবাদত করা |
তাই জ্ঞানের সন্ধান করার উদ্দেশ্য হলো |
আল্লাহ যিনি সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত তাঁকে আর সবার থেকে আলাদা করা |
ও একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করা - এটি তখনই ভালভাবে একজন বুঝতে পারে যখন সে জ্ঞানের প্রতি সুবিচার করে - তা সে ছাত্র বা শিক্ষক যেই হোক না কেন |
যে জ্ঞানের সন্ধান করছে তার থেকে আদব তাই আলাদা নয়, কেননা এই আদব কায়দার অন্তর্ভুক্ত হলো ধর্মের মূলনীতি |
ধর্মীয় আদর্শের সাথে মতবিরোধে যাওয়ার বিলাসিতা একজন করতে পারে না বা এটাকে গুরুত্ব না দেয়ার কোন উপায় নেই |
জ্ঞান চর্চাকারীর জন্য আদব শেখা তাই সবসময়ই বাধ্যতামূলক ও আল্লাহ হলেন সাহায্যের উৎস ও তাঁর উপরেই আমরা ভরসা রাখি |
... |
29, 2011 |
: |
29, 2011 |
ছাত্রদের জন্য যে সব আদব কায়দা জানা বাধ্যতামূলক সেসব হলো: |
জ্ঞানের সন্ধান করার সময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিয়্যত করতে হবে: |
আবু হামিদ আল গাযযালী (রঃ) বলেন: নিয়্যত, ইরাদা ও ক্বাসদ - এগুলি আলাদা পরিভাষা হলেও এদের মানে এক |
এগুলি মনের অবস্থা বর্ণনা করে |
মন দু'টি জিনিষের উৎস - জ্ঞান ও কাজ |
প্রথমে আসে জ্ঞান, কেননা এটা হলো স্তম্ভ ও শর্ত |
এরপর কাজ তার অনুসরণ করে, কেননা কাজ হলো জ্ঞানের শাখা |
জ্ঞান, ইচ্ছা ও সামর্থ্য - এগুলি ছাড়া কোন কাজ হয় না |
তার মানে, সেই বিষয়ে জানতে হবে, সেটা করার ইচ্ছা মনে থাকতে হবে |
মানুষ এমন ভাবে সৃষ্ট হয়েছে, যাতে সে মাঝেমাঝে এমন কাজ করে, যা তার মন চায়, আবার এমন কাজও সে করে, যার সাথে মনের ইচ্ছার সংঘর্ষ হয় |
এই অবস্থায় সে তাই করবে, যা তার জন্য ভাল; যা ক্ষতিকর সেটা থেকে সে দূরে থাকবে |
এজন্য তার জানা থাকতে হবে, কী তার জন্য কল্যাণকর, আর কী তার ক্ষতি করবে |
যে আগুন দেখতে পাচ্ছে না, সে আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে না |
তাই আল্লাহ হেদায়েত ও জ্ঞান সৃষ্টি করেছেন, এগুলি পাওয়ার উপায় ঠিক করে দিয়েছেন - সেগুলি হলো আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ইন্দ্রিয় সমূহ |
কোন কিছু করার জন্য একজনের মনে কোন লক্ষ্য থাকবে যা তাকে উদ্দীপিত করবে |
কারো মনে কোন লক্ষ্য থাকলে তা তাকে কোন কাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় |
সে তখন লক্ষ্য পূরণের জন্য তার শক্তি ও সামর্থ্যকে কাজে লাগায় |
অর্থাৎ কোন কাজ করে |
আল্লাহ এমন কোন কাজ গ্রহণ করেন না, যা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়নি |
রাসূল صلى الله عليه وسلم নিয়্যতের গুরুত্ব সম্পর্কে ও যা একজনের কাজকে নষ্ট করে ফেলতে পারে, তা থেকে নিয়্যত শুদ্ধ রাখার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে বলেছেন |
রাসূল صلى الله عليه وسلم যা বলেছেন তার মানে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করেছে, সে আল্লাহর কাছ থেকে পুরষ্কার পাবে |
আর যে দুনিয়ার সম্পদ বা কোন নারীর জন্য হিজরত করে, তবে সেই হিজরতের জন্য পরকালে কোন পুরষ্কার থাকবে না |
শরীয়াহতে এটা সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্য ছাড়া কোন ইবাদত করা হলে তা আল্লাহ গ্রহণ করেন না |
খলিফা উমর رضي الله عنهم একদিন মিম্বারে দাড়িয়ে বলেন: রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন: অবশ্যই কাজের ফলাফল নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল; একজন মানুষ তাই পাবে যা সে নিয়্যত করে |
তাই যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর জন্য হিজরত করে, তার হিজরত এদেরই জন্য আর যে হিজরত করে দুনিয়াতে কোন লাভের জন্য বা কোন নারীকে বিয়ের জন্য, তার হিজরত সেজন্যই ( বর্ণনায় ইমাম বুখারী, সূত্র আলকামাহ বিন ওয়াকাস আল লায়থি) |
আন - নওয়াবি (রহঃ) বলেন: এই হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে মুসলমানরা একমত - এর সূত্র নির্ভরযোগ্য ও এই এক হাদিসের মধ্যে অনেক কল্যাণ আছে |
আশ - শাফেয়ী ও অন্যান্যরা বলেন: ইসলামের চার ভাগের এক ভাগ আছে এই একটি হাদিসে |
আবদুর রাহমান বিন মাহদী ও অন্যান্যরা বলেন: যে বই লিখে তার জন্য এটা অপরিহার্য যে সে এই হাদিস দিয়ে বইটি শুরু করবে - এটা ছাত্রদেরকে শুদ্ধভাবে আবারও নিয়্যত করার কথা মনে করাবে |
আল - বুখারী (রঃ)ও আরো অনেকে তাদের বইয়ের শুরুতে এই হাদিসের উল্লেখ করতেন |
বুখারী (রঃ) তার বইয়ের সাত জায়গায় এই হাদিসের উল্লেখ করেন |
বেশীরভাগ ইসলামিক চিন্তাবিদ, ভাষাবিদ ও আইনবিদ মনে করেন যে ' অবশ্যই ' শব্দটি এটাই নিশ্চিত করে যা বলা হয়েছে ও অন্যকিছুকে প্রত্যাখ্যান করে - এর মানে নিয়্যতের উপর কাজ নির্ভরশীল ও নিয়্যত সঠিক না হলে সে কাজের ফলাফল শূন্য |
কুরআন ও হাদিসে এর অনেক প্রমাণ আছে |
যেমন সূরা ক্বাহফে আল্লাহ বলেন, |
বলুন: আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ; আমার প্রতি ওহী নাযিল হয় যে, তোমাদের মাবুদ হলেন এক |
তাই যে তার মাবুদের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন ভাল কাজ করে |
এবং তার মাবুদের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে |
( ১৮: ১১০ ) |
তাদেরকে এছাড়া কোন আদেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে ( সূরা বায়্যিনা: ৯৮:৫ ) |
এক লোক রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছে জানতে চাইলো: কেউ যদি পুরষ্কার ও সম্মানের আশায় যুদ্ধ করে, তবে সে কী পাবে? রাসূল صلى الله عليه وسلم উত্তর দিলেন, কিছু না |
লোকটি তিনবার প্রশ্ন করলো, রাসূল صلى الله عليه وسلم তিনবার একই উত্তর দিলেন |
তারপর বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন কাজ গ্রহণ করেন না যদি সেটা আন্তরিকতার সাথে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা না হয় ( হাদিস বর্ণনায় আবু উমামাহ ) |
রাসূল صلى الله عليه وسلم জানান, আল্লাহ বলেছেন: আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ - আমার কোন অংশীদারের দরকার নেই |
তাই কেউ যদি কোন কাজ করে যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করেছে, তবে আমি তার থেকে মুক্ত ও যাকে সে আমার অংশীদার বানিয়েছে, তার জন্য ওকে ছেড়ে দেব ( বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা ) |
তাই যে কোন কাজে আল্লাহর জন্য নিয়ত করা জরুরী |
ইবনে আল কাইয়্যুম বলেন: ঠিক যেমনটি উনি একমাত্র উপাস্য কোন অংশীদার ছাড়া, এটি অপরিহার্য যে উপাসনা হবে শুধু তাঁরই জন্য |
তাই যেভাবে উনি উপাস্য হিসাবে একক, ইবাদতের জন্যও সবার থেকে তাঁকে আলাদা করতে হবে |
সৎ কাজ হচ্ছে তাই যা রিয়া বা লোক দেখানো না ও সুন্নতপন্থী |
সুলায়মান বিন আবদুল্লাহ رضي الله عنهم বলেন: কোন কাজ গ্রহণ হওয়ার জন্য দুইটি স্তম্ভের দরকার - তা সঠিক হতে হবে ও আন্তরিকতার সাথে করতে হবে |
সৎ কাজ হচ্ছে তাই যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মানানসই যেমনটি কুরআনে আদেশ দেয়া হয়েছে: সে যেন ভাল কাজ করে ( সূরা কাহফ; ১৮: ১১০ ) |
আন্তরিক কাজ সেটাই যা গোপন ও প্রকাশ্য শিরক থেকে মুক্ত যেমনটি আল্লাহ বলেন: এবং তার মাবুদের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে ( সূরা কাহফ; ১৮: ১১০) |
যে জ্ঞানের সন্ধান করছে, সে তার নিয়্যতকে শুদ্ধ করবে - " আর জ্ঞানের সন্ধানের সময় সঠিক নিয়্যত হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা ও সেজন্য কাজ করা, তাঁর শরীয়তকে জীবন দান বা শরীয়াহ আইনের প্রচলন ঘটানো, নিজের মনকে আলোকিত ও আত্মিক জগতকে সুন্দর করা, কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা ও আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দ... |
সুফিয়ান আস সাওরী (রহঃ) বলেন, নিয়্যত সংশোধনের মতো কঠিন চেষ্টা অন্য কোন কাজে আমাকে কখনো করতে হয় নি |
এই দুনিয়ায় কোন কিছু পাওয়ার লোভে অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ কোন পদ লাভ, সম্মান ও টাকা - পয়সা বৃদ্ধি বা আশেপাশের মানুষের চোখে জ্ঞানী ও মহান ব্যক্তির মর্যাদা লাভ, জ্ঞানী - গুণী - সম্মানিত ব্যক্তিদের আসরে যাওয়ার সুযোগ অর্জন ইত্যাদির জন্য একজন জ্ঞান চর্চা করবে না |
তাহলে তা হবে খারাপের সাথে ভালোর বদল |
আবু ইউসুফ رضي الله عنهم(রহঃ)বলেন, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের জ্ঞান দিয়ে আল্লাহকে খুজো |
জ্ঞানের সন্ধানে আমি বিনীত না হয়ে কোথাও কখনো বসি নি আর সে জায়গা থেকে সবার চেয়ে বেশী জ্ঞান অর্জন করেই আমি উঠেছি |
সবার থেকে আমি সেরা তা দেখানোর আশায় কখনো কোথাও বসি নি - নিজে থেকে তা প্রকাশ পেয়ে গেলে তা আলাদা কথা |
জ্ঞান হলো ইবাদতের কাজ ও আল্লাহর কাছে যাওয়ার একটি উপায় |
তাই এই ইবাদতে আপনার নিয়্যত যদি খাঁটি হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে, বিশুদ্ধ করা হবে ও কল্যাণকর হবে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.