content
stringlengths
0
129k
তাই কিভাবে ফেরেশতা এমন জায়গায় ঢুকবে? ইবনে জামাহ رضي الله عنه বলেন: জ্ঞানের পথের ছাত্র তার মনকে নৈতিক ত্রুটি, প্রতারণা, হিংসা ও খারাপ স্বভাব থেকে মুক্ত রাখবে যাতে সে জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তা মনে রাখতে পারে, কোন বিষয়ের বিস্তারিত অর্থ ও জ্ঞানের গোপন সম্পদ আবিষ্কার করতে পারে
অনেকে যেমনটি বলেন - জ্ঞান হলো গোপন ইবাদত, মনের উপাসনা ও আল্লাহকে কাছে পাবার আত্মিক উপায়
নোংরা ও নাপাকী থেকে মুক্ত না হলে বাহ্যিক ইন্দ্রিয়সমূহের ইবাদত কবুল হয় না; তেমনি মনের ইবাদত জ্ঞান অর্জন করা সহজ হবে না যদি সে নীচু, ঘৃণ্য স্বভাব ও আচরণ থেকে মুক্ত না হয়
যদি তুমি তোমার মনকে জ্ঞানের জন্য পরিষ্কার রাখো, এর কল্যাণ স্পষ্ট বোঝা যাবে - ঠিক যেমন এক টুকরো জমি চাষের পর ফলনশীল হয়
হাদীসে বলা হয়েছে: অবশ্যই দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে
যদি সেটা ভাল থাকে, তবে বাকী শরীর ভাল থাকবে
যদি এটা নষ্ট হয়, তবে বাকী দেহ নষ্ট হবে
অবশ্যই এটা হলো মন বা অন্তর ( ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম ও ইবনে হিববানের বর্ণিত একটি বড় হাদীসের অংশ এটি )
কোন আলোর জন্য এমন মনের ভিতরে ঢোকা নিষেধ, যেখানে সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত আল্লাহ যা ঘৃণা করেন তা থাকে
ইবনে আল কাইয়্যুম رضي الله عنهم বলেন: পাপ এই দুনিয়ায় দেহ - মনে কুৎসিত, নিন্দনীয় ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে; আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না এসবের প্রভাব পরকালে কী হবে
যার উপর এই প্রভাব পড়ে, সে জ্ঞান অর্জন করতে পারে না; কেননা জ্ঞান হলো এমন এক আলো যা আল্লাহ মনের ভিতরে রেখে দেন ও পাপ তা বের করে দেয়
যখন আশ - শাফেয়ী (রঃ) পড়ে শোনাবার জন্য ইমাম মালেক (রঃ) এর সামনে বসেন, তখন শাফেয়ীর বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান, বোঝা ও উপলব্ধি করার ক্ষমতা দেখে ইমাম (রঃ) অভিভূত হোন
তিনি বলেন: আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার মনের ভিতরে আল্লাহ আলো দিয়েছেন
তাই পাপের অন্ধকার দিয়ে এই আলো মন থেকে বের করে দিও না
ইমাম শাফীয়ি (রঃ) বলেন, আমি ওয়াকির কাছে মনে রাখার ব্যপারে আমার দূর্বলতা নিয়ে অভিযোগ করলাম
তিনি উপদেশ দেন পাপ ত্যাগ করতে ও বলেন: জেনে রাখো -
জ্ঞান হলো রহমত ও আল্লাহর রহমত পাপীদের কাছে পৌঁছায় না ( বর্ণনায় ইবনে আল জাওরী رضي الله عنهم (রহঃ)
আবু আবদুল্লাহ বিন আল জালা বলেন: আমি এক খ্রিষ্টান বালকের দিকে তাকিয়ে ছিলাম যার চেহারা ছিল খুব সুন্দর
আবু আবদুল্লাহ আল কলযী আমাকে বললেন: তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম: চাচা, আপনি কি এই সুন্দর চেহারা দেখছেন না? এত সুন্দর মুখ কিভাবে আগুনে শাস্তি পাবে? তিনি আমার বুকে ধাক্কা দিয়ে বললেন, তোমার এই কাজের পরিণাম একদিন তুমি পাবেই
এই ঘটনার চল্লিশ বছর পর শাস্তিটা পেলাম - আমি কুরআন ভুলে গেলাম
আবু আল আদিয়ান বলেন: আমি আমার শিক্ষক আবু বকর আদ দাককারের সাথে ছিলাম
সেখানে এমন একটা কিছু ঘটলো যা ঠিক ছিল না - আমি তা তাকিয়ে দেখলাম
তিনি এটা খেয়াল করে বললেন: বৎস, এই তাকানোর পরিণাম তুমি ভোগ করবে, যদিও তা অনেক পরে হয়
বিশ বছর পার হয়ে গেল অপেক্ষায় - খারাপ কিছু ঘটলো না
এক রাতে আমি এ নিয়ে চিন্তা করে ঘুমাতে গেলাম
জেগে উঠে বুঝলাম আমি পুরো কুরআন ভুলে গিয়েছি
আবু হামিদ رضي الله عنهم বলেন, যদি তুমি বলতে চাও - কিন্তু আমি তো এমন অনেক ছাত্র দেখেছি যাদের আদব ভাল না কিন্তু তারা যথেষ্ট জ্ঞানী - এই দুইয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য
এই ছাত্র প্রকৃত, দরকারী জ্ঞান যা তাকে পরকালে কল্যাণ ও সুখ এনে দেবে - তার থেকে অনেক দূরে রয়েছে
জ্ঞান অর্জনের প্রথম ধাপ থেকে তার কাছে এটা স্পষ্ট যে পাপ হলো প্রাণঘাতি ও ধ্বংসাত্মক বিষ
তুমি কি এমন কাউকে কখনো দেখেছ যে প্রাণঘাতি বিষের স্পর্শে আসতে চাচ্ছে? এটা জেনেও যে তা বিষ? তুমি যা দেখেছো তা হলো তারা বানিয়ে বানিয়ে কথা বলছে যা তাদের মন অস্বীকার করছে; আর একে কোন ভাবেই জ্ঞান বলে না
ইবনে মাসউদ رضي الله عنهم বলেন: জ্ঞান কোন ধারাবাহিক বর্ণনা না, বরং এটা আলো যা মনের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়
অনেকে বলেন - জ্ঞান হলো ভয় যেমনটি আল্লাহ বলেন: অবশ্যই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই তাঁকে ভয় করে ( সূরা ফাতির; ৩৫: ২৮ )
কেউ কেউ এ নিয়ে বলেন: আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য জ্ঞানের সন্ধান করেছিলাম
আর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য হতে চায় নি
তাই জ্ঞান আমাদের থেকে চলে গেল ও তার আসল পরিচয় আমাদের কাছে প্রকাশ করলো না
তাই তুমি যদি বলো, আমি একদল জ্ঞানী ও বিচারকদের দেখেছি যারা খুবই মেধাবী ও জ্ঞানীদের মধ্যে যাদেরকে সবচেয়ে সফল বিবেচনা করা হয় কিন্তু নিন্দনীয় আচরণ থেকে তারা মুক্ত নয়; তবে আমরা বলবো: যদি তুমি প্রকৃত জ্ঞান কী তা বুঝতে পারো ও পরকাল সম্পর্কে জানতে পারো, তাহলে তোমার কাছে এটা স্পষ্ট হবে যে তাদের মনকে যা আচ্ছন্ন করে রেখেছে, ত...
বরং সেটাই প্রকৃত কল্যাণকর জ্ঞান যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য,মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য আমল করা হয়
মনের পবিত্রতা ও দেহের অঙ্গের শরীয়াহ আইনের প্রতি সমর্পণকে ঘিরে এসব কিছু আবর্তিত হয়
তাই শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে আত্মিক ও বাহ্যিক দুই অবস্থার দিকেই যা হবে সুন্নাতপন্থী; যাতে আল্লাহ তার জন্য জ্ঞানের আলো ও সম্পদ উন্মুক্ত করে দেন
এসব হলো আল্লাহর অকৃপণ দান যা তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দেন ও আল্লাহ হলেন অফুরন্ত দানের মালিক
...
31, 2011
:
31, 2011
জ্ঞানের দিকে পুরো মনোযোগ দিতে হবে ও সব বাধা দূর করতে হবে:
ইবনে আল কাইয়্যুম رضي الله عنهم বলেন: তুমি কী পাচ্ছো তা নির্ভর করে অভ্যাস ত্যাগ ও অন্য কিছুর সাথে একাত্ম হওয়ার উপর
কিছু নিয়ম চালু আছে যাতে মানুষ অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছে ও এসব রীতিকে শরীয়াহর স্তরে বসিয়েছে, বরং কিছু ক্ষেত্রে এসব রীতিকে শরীয়াহ থেকে বেশী সম্মান দেয়া হয়
যারা এসব মানতে চান না, তাদেরকে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়; এমনো হয় এদেরকে কাফির, বেদাআত সৃষ্টিকারী বা পথভ্রষ্ট বলা হয়
প্রচলিত এসব নিয়মের জন্য এরা রাসুল صلى الله عليه وسلم এর নিয়মকে মেরে ফেলে ও নিজেদের নিয়মকে রাসুল صلى الله عليه وسلم এর অংশীদার বানায়
এদের কাছে সেটাই ভাল যা তাদের নিয়ম মেনে চলে ও তাই খারাপ যা এসবের বিরোধী
এসব অভ্যাস ও রীতিকে আদমের সন্তানদের বিভিন্ন দল গ্রহণ করেছে যেমন রাজা, নেতা, বিচারক, সুফি, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ
একদম ছোট থাকতেই একজনকে এসব শেখানো হয়; বৃদ্ধরা এসব শিখেই বড় হয়েছে - এসব রীতিকে সুন্নাহ হিসাবে পালন করা হয়
বরং যারা এসব পালন করে, তারা এসব অভ্যাসকে সুন্নতের থেকেও বেশী গুরুত্ব দেয়
যে এসব প্রচলিত অভ্যাস দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, সে আসলে খুবই হতভাগ্য - এর শেষ ঘটে কুরআন ও সুন্নাহ ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে
এদের কাছে সেটাই ভাল যা তাদের রীতি অনুসারে চলে ও তাই খারাপ যা এসবের বিরোধী
এসব অভ্যাস ও রীতিকে আদমের সন্তানদের বিভিন্ন দল গ্রহণ করেছে যেমন রাজা, নেতা, বিচারক, সুফি, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ
আল্লাহর পথে যাওয়ার সময় শরীয়াহ বিরোধী বাহ্যিক ও আত্মিক নানা বাধা মনের ক্ষতি করে
এসব তিনটি বাধা হলো: শিরক, বেদাত ও পাপ
শিরকের বাধা দূর করার জন্য তাওহীদকে অবলম্বন করতে হবে
বেদআতের বাধা দূর করতে সুন্নাহ মেনে চলতে হবে; প্রকৃত তওবার মধ্য দিয়ে পাপের বাধা সরাতে হবে
আল্লাহ ও পরকালের পথে দাস যাত্রা শুরু না করা পর্যন্ত এসব বাধা তার কাছে স্পষ্ট হয় না
বাধাগুলি লক্ষ্য করার পরে একজন বুঝতে পারে কিভাবে এসব তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছিল
আল্লাহর পথে রওনা না হলে একজন ওভাবেই থেকে যাবে, এসব বাধার গোপন প্রভাব বুঝতে পারবে না
এই তিনটি বাধা থেকে দূরে যাওয়ার জন্য যে শক্তি দরকার, তার জন্য উচ্চতর লক্ষ্য ঠিক করতে হবে
তা না হলে এসবের সাথে সম্পর্ক শেষ করা সম্ভব না
মন এমন কিছু ছাড়তে চায় না, যা সে পছন্দ করে
ব্যতিক্রম হলো যা ত্যাগ করা হচ্ছে তার বদলে আরো বেশী পছন্দের ও গূরুত্বপূর্ণ কিছু যদি পাওয়া যায়
যা সে চায় তার সাথে সম্পর্ক যত জোড়ালো হবে, অন্য কিছুর সাথে সম্পর্ক তত দূর্বল হবে
ইবনে আল কাইয়্যুম رضي الله عنهم বলেন, লক্ষ্যে যেতে হলে দরকার বাজে অভ্যাসগুলি বাদ দেয়া; অন্যান্য কিছুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অন্য বাধাগুলি পার হওয়া
এসব নির্ভর করবে বৃহত্তর লক্ষ্যের সাথে আপনার সম্পর্ক কতটুকু শক্তিশালী তার উপর
লক্ষ্যের প্রতি আপনার ইচ্ছা যত প্রবল হবে, সেটার জন্য কোন কিছু ত্যাগ করা তত সহজ হবে
আপনার মনে হবে আপনি যা চান তা যেন পেয়ে গিয়েছেন
লক্ষ্যস্থলে যাওয়াটা মনে হবে অল্প কিছুদিনের ব্যপার, ত্যাগ যা করতে হবে তা খুবই সামান্য
বদঅভ্যাসগুলি হলো মরিচীকার মতো যেমনটি আল ইমাম আহমদ رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন: যদি কেউ মৃত্যুর কথা ভাবে, তবে এই দুনিয়ার সবকিছুই গূরুত্বহীন হয়ে পড়ে
যে জ্ঞানের চর্চাকারী, তার আকাংখা থাকবে মৃত্যুর পরের জীবন ও আল্লাহর জন্য
সেজন্য এই লক্ষ্যস্থলের জন্য প্রবল একাত্মতা তার মনে থাকতে হবে
এই দুনিয়ার ভোগ -বিলাস ও চাকচিক্য থেকে দূরে থাকার মতো ব্যস্ততার জন্য জ্ঞান চর্চা যথেষ্ট আর বাকী দিন যা আছে তা খুবই অল্প
আল আশহাত আবু আর- রাবি বর্ণনা করেন: সুহবাহ তাকে বলেন - তুমি তোমার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলে ও তুমি হয়েছো ধনী ও সফল
আমি হাদীসের সাথে ছিলাম ও হয়েছি গরীব
সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সুববাহ বলেছেন: যে হাদীস নিয়ে পড়াশোনা করবে, সে গরীব হবে
আমি এতটাই গরীব হয়ে পড়ি যে আমার মায়ের একটি পট সাত দিনারে বিক্রি করি
আয যুবায়ের বিন আবু বকর বলেন: আমাকে নিয়ে আমার ভাতিজি বলে, আমাদের পরিবারে চাচা তার স্ত্রীর সাথে সবচেয়ে ভাল ব্যবহার করেন
চাচা দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করেন নি বা দাসী কেনেন নি
আমি বললাম: আমার স্ত্রী বলেন, এসব বই থেকে তিন সতীন তার জন্য কম যন্ত্রণাদায়ক হতো
আবু তাহান বলেন: সুহবাহ তার নিজের অবস্থার বর্ণনা করেছেন ও যারা হাদীসের ছাত্র তাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন
যারা হাদীস চর্চা করে তাদের সময় এর পিছনেই চলে যায়; তাই তারা নিজের ও পরিবারের জন্য আয় করতে পারে না
ফলে তারা অন্যের উপর বোঝা হয়ে যায় - এটা সহীহ হাদীসে যা আদেশ করা হয়েছে তার বিরোধী
সুববাহের কথা থেকে এই মানে করা ঠিক হবে না যে, বেশী অর্থ রোজগার করতে না পারায় তিনি দু:খ পেতেন
তিনি ছিলেন মহৎ ও নির্লোভ চরিত্রের অধিকারী - এতটাই তিনি নির্লোভ ছিলেন যে একবার আল - মাহদী তাকে ত্রিশ হাজার দিরহাম উপহার দিলে সুহহাব সাথেসাথে তা গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেন
তার কথা থেকে এটাও মনে করা ঠিক হবে না যে, তিনি মানুষকে হাদীস চর্চা থেকে বিরত থাকতে বলতেন
বরং তিনি হাদীস চর্চার পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের জন্য ছাত্রদের উৎসাহ দিতেন
সুফিয়ান বিন উয়াহনাহ বলেন: এসব কালির পাত্র যে মানুষের ঘরে ঢুকে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য জীবন কঠিন হয়ে যায়
আত - তাহহান বলেন: কালির পাত্র বলতে এখানে হাদীসের চর্চাকারীরা যে কালি তাদের সাথে রাখেন যেন যখন যা হাদীস তারা শুনতে পান, তা লিখে রাখতে পারেন সেটা বোঝানো হয়েছে
সুফিয়ান সওরী (রহঃ) বুঝিয়েছেন হাদীসের ছাত্রদের বেশীরভাগই লেখা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে পরিবারের জন্য আয় করতে পারেন না
ফলে তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা অভাবের মধ্যে থাকে
কালির পাত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্যই এদের এই কঠিন অবস্থা