content stringlengths 0 129k |
|---|
ইবনে জামাহ বলেন: ছাত্ররা জ্ঞানের পথে তাদের তারুণ্য ও সময়কে যতটুকু সম্ভব কাজে লাগাবে |
কালকের জন্য আজকের পড়া ফেলে রাখতে তারা যেন প্ররোচিত না হয় |
প্রতিটি ঘন্টা যা তাদের জীবন থেকে চলে যাচ্ছে তা খুবই মূল্যবান ও তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না |
জ্ঞান অর্জনের পথে যে সব বাধা আছে ও যা তার মনোযোগ নষ্ট করে, সে সবের সাথে সম্পর্ক সাধ্যমতো শেষ করতে হবে |
এর বদলে তার শক্তি ও সামর্থ্যকে জ্ঞান অর্জনের পথে কাজে লাগাতে হবে |
এজন্যই যারা সালাফ তারা পরিবার ও দেশ থেকে দূরে চলে যেতে পছন্দ করতেন |
কেননা, যদি একজনের চিন্তা - ভাবনা অনেক কিছুকে ঘিরে হয়, তাহলে সে জ্ঞানকে আবিষ্কার করতে পারবে না - আল্লাহ মানুষের মনে দুইটি অন্তর দেন নি |
[ অনুবাদকের ব্যাখ্যা: একটি মন জ্ঞান চর্চা করবে, অন্যটি সংসার চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে, এমনটি সম্ভব না ] |
আল খাতীব আল বাগদাদী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন: জ্ঞান তখনই একজনের হয় |
যখন সে তার কারখানা বন্ধ করে, বাগান ধ্বংস করে, বন্ধুদের ত্যাগ করে ও পরিবারের সব সদস্য মারা গিয়েছে বলে তাকে আর কারো জানাযায় যেতে হয় না |
হয়তো একটু বেশী বলা হয়ে গিয়েছে - এখানে মূল কথা হলো জ্ঞানের জন্য একজন তার সব চিন্তা ও মনোযোগকে কাজে লাগাবে |
অন্যকিছুর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা মানে তার উপর যারা নির্ভর করে, তাদের প্রতি দায়িত্বে অবহেলা করা বা আয় না করে অন্যের করুণার উপর নির্ভর করা - যারা হয়তো সাহায্য করবে বা করবে না - তা নয় |
আশ শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন: যার বাসায় খাবার নেই, তার সাথে পরামর্শ করবে না; কেননা সে যুক্তিহীন মানুষ |
জ্ঞানের পথে মনোযোগ নষ্ট করে এমন বিষয়ের সাথে সম্পর্ক না রাখার মানে যা করার দরকার নেই, তাতে সে নিজেকে ব্যস্ত রাখবে না |
আয় করা ও মন এবং শক্তিকে জ্ঞান চর্চায় ব্যবহারে ভারসাম্য রাখতে হবে |
আবু ইউসুফ আল কাজী বলেন: জ্ঞান তোমাকে তার এতটুকুও দেবে না যতক্ষণ না তুমি তাকে তোমার পুরোপুরি দিচ্ছ |
আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন: সেরা দিনার হলো সেটি যা একজন তার পরিবারের জন্য, আল্লাহর পথে পশু ও সাথীদের পিছনে খরচ করে ( বর্ণনায় সাওবান ) |
হাদীস বর্ণনাকারী আবু কিলাবাহ (রহঃ) বলেন: রাসূল صلى الله عليه وسلم পরিবারের কথা আগে বলেছেন |
তার চেয়ে বড় পুরষ্কার আর কে পাবে, যে তার সন্তানদের জন্য খরচ করে ও তাদেরকে সুরক্ষা দেয়? |
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন: আল্লাহর পথে তুমি যা খরচ করো যেমন দাস মুক্তি, গরীবকে দান করা ও পরিবারের ভরণপোষণ, এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় পুরষ্কার পাবে যা তুমি পরিবারের জন্য খরচ করলে ( বর্ণনায় আবু হুরায়রা عنهم رضي الله ) |
খায়তামাহ বলেন, আমরা একদিন আবদুল্লাহ বিন উমরের (রাযিঃ) সাথে ছিলাম |
তার কোষাগারের কর্মচারী সেখানে আসলে তিনি জানতে চান - দাসদের খাবার দিয়েছ? না উত্তর শুনে তিনি বললেন, যাও, ওদের খেতে দাও |
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন: পাপের জন্য এটাই যথেষ্ট যে একজন তার অধীনে যারা আছে তাদেরকে সময়মতো খেতে দেয় নি ( সহীহ মুসলিম ) |
সুফিয়ান আস সাওরীর (রহঃ) কাছে কেউ জ্ঞান অর্জনের জন্য আসলে তিনি তাকে প্রশ্ন করতেন: তোমার কি কোন রোজগার আছে? যদি নিজের খরচ চালানোর মতো ক্ষমতা তার থাকতো, তবেই তিনি তাকে অনুমতি দিতেন তার কাছে শিক্ষা গ্রহণের |
তা না হলে বলতেন, যাও, আগে কিছু রোজগার করো |
এই আলোকে আমরা সালাফদের কথা এভাবে ব্যাখ্যা করবো যে, তারা বেঁচে থাকার জন্য কমপক্ষে যতটুকু দরকার ঠিক সেটাই নিজের ও পরিবারের জন্য চাইতেন |
ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে দুনিয়াদারির অনর্থক কাজে তারা ব্যস্ত হতেন না |
ও সব প্রলোভন থেকে মুক্ত থাকতেন |
সালাফরা জ্ঞানকে এতই ভালবাসতেন যে, সেটা তাদের দুনিয়ার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল |
এ নিয়ে আবু হুরায়রা رضي الله عنهم বলেন, তোমরা বলো আমি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছ থেকে শোনা কথা অনেক বেশী বর্ণনা করেছি |
তোমরা জানতে চাও কেন মুহাজির ও আনসাররা আমার মতো এত বেশী হাদীস বর্ণনা করে নি? |
আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে তাদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো আর আমি রাসুল صلى الله عليه وسلم এর কাছে থাকতাম; আর তারা যা মুখস্ত করতো না, আমি তা মুখস্ত করতাম |
এ সময় যা খেতে পেতাম তাতেই আমি খুশী থাকতাম |
আমার আনসার ভাইয়েরা তাদের সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো আর আমি আস - শুফফার এক গরীব মানুষ সেই হাদীস মুখস্ত করতাম যা তারা ভুলে যেত |
রাসুল صلى الله عليه وسلم বলেছিলেন, " আমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে তার কাপড় গুটিয়ে নেবে না, সে তাই মনে রাখতে পারবে যা আমি বলেছি |
" তাই রাসুল صلى الله عليه وسلم এর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি চাদর মেলে বসে থাকতাম |
যখন তিনি কথা শেষ করতেন, তখন চাদর গুটিয়ে বুকে ধরতাম |
তাই আমি রাসুল صلى الله عليه وسلم এর বলা কথা ভুলি নি ( বর্ণনায় ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম ) |
ক্ষুধা লাগলেও খেতে না গিয়ে রাসুল صلى الله عليه وسلم এর সাথে আমি থাকতাম |
ঐ সময়ে আমি ভাজা রুটি খেতাম না বা রঙীন কাপড় পরতাম না |
কোন নারী - পুরুষ আমাকে খাবার বেড়ে খাওয়ায় নি; আমি পেটে পাথর বেধে রাখতাম আর কাউকে কুরআনের কোন আয়াত শুনাতে বলতাম যদিও তা আমার জানা থাকতো ( বুখারী ) |
ইমাম বুখারী তার বইয়ের সহীহ জ্ঞান অধ্যায়ে আবু হুরায়রার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন |
" লোকে বলে আবু হুরায়রা খুব বেশী হাদীস বলে |
আল্লাহর বইতে যদি এই দুইটি আয়াত না থাকতো, তবে আমি একটি হাদীসও বর্ণনা করতাম না: |
মানুষের জন্য যা আমি কিতাবে বর্ণনা করি, তারপর যারা আমার নাযিল করা সুস্পষ্ট নিদর্শন ও পরিষ্কার পথনির্দেশ গোপন করে, এরাই হচ্ছে সেই লোক যাদের আল্লাহ অভিশাপ দেন, অভিশাপ দেয় অন্যান্য অভিশাপকারীগণও |
তবে যারা ফিরে আসবে ও নিজেদের শুধরে নেবে, খোলাখুলিভাবে তারা ( সে সব সত্য ) কথা প্রকাশ করবে ( যা এতদিন আহলে কিতাবরা গোপন করে এসেছিল ), তারা হবে সেই লোক যাদের উপর আমি দয়া দেখাবো, আমি পরম ক্ষমাকারী, দয়ালু ( সূরা বাকারা ১৫৯ - ১৬০ ) |
অবশ্যই আমাদের মুহাজির ভাইয়েরা ব্যবসা ও আনসার ভাইয়েরা তাদের সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন আর আবু হুরায়রা রাসুল صلى الله عليه وسلم এর সাথেসাথে থাকতেন |
অন্যরা যাতে অংশ নিতো না, তিনি তাতে যোগ দিতেন ও অন্যরা যা মুখস্ত করতো না, তিনি তা মুখস্ত করতেন |
আল হাফিয ইবনে হাজার رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, তিনি ( বুখারী ) তার বইয়ের এই অধ্যায়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) ছাড়া আর কারো কথা বলেন নি |
এর কারণ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীস মুখস্ত করেছেন |
আশ শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন: আবু হুরায়রা رضي الله عنهم তার সময়কালে সবচেয়ে বেশী বর্ণনা মুখস্ত করেছেন |
আবু হুরায়রার জানাযায় দাড়িয়ে ইবনে উমর رضي الله عنهم আল্লাহর করুণা প্রার্থনা করেন এই বলে যে তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কথা মুসলমানদের জন্য মুখস্ত করেছিলেন |
আন নাওয়ায়ী বলেন: তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর সাথে সবসময় থাকতেন; নিজের জন্য যে জীবিকার ব্যবস্থা হতো, তিনি তাতেই সন্তুষ্ট হতেন; টাকা জমানোর দিকে তার কোন আকর্ষণ ছিল না ( সহীহ মুসলিম ) |
রাসূল صلى الله عليه وسلم একবার আবু হুরায়রা (রাযিঃ)কে বলেছিলেন, তুমি কি আমার কাছে গণীমতের মাল নিয়ে জানতে চাইবে না যা অন্য সাহাবীরা জানতে চেয়েছে? আবু হুরায়রার জবাব ছিল, আমি আপনার কাছে তাই জানতে চাই যা আল্লাহ আপনাকে জানিয়েছেন ( বর্ণনায় ইবনে কাসির ) |
আবু হুরায়রা যদিও হজরত মুহাম্মদ صلى الله عليه وسلم এর সাথে বেশীদিন থাকার সুযোগ পান নি, সাহাবীদের মধ্যে তিনিই বেশীরভাগ হাদীস মুখস্ত করে নেন |
মনে করা হয় ত্রিশ বছর বয়সে তিনি ইসলাম কবুল করেন |
এরপর থেকে তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর সাথে সবসময় থাকতেন |
তাই মাত্র তিন বছর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর সাথে থাকার সুযোগ পাওয়ার পরেও তিনি সবচেয়ে হাদীস মুখস্ত ও বর্ণনা করেন |
এটা সম্ভব হয়েছিল কেননা জ্ঞানের ব্যপারে তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক; এ বিষয়ে দুনিয়ার সব বাঁধা তিনি দূর করেছিলেন ও মনকে অন্য সব কিছু থেকে মুক্ত রেখেছিলেন |
জ্ঞানের পথে যা বাধা দেয়, তা থেকে ছাত্রদের দূরে থাকতে হবে; কেননা কারো মনোযোগ যদি এদিক - সেদিক ছড়িয়ে যায়, তবে সে জ্ঞানকে পাবে না |
সালাফরা সবকিছু থেকে জ্ঞানকে বেশী গূরুত্ব দিতেন |
যেমন আল ইমাম আহমদ رضي الله عنهم (রহঃ) চল্লিশের পরে বিয়ে করেন |
আবু বকর আল আম্বারীকে এক দাসী দেয়া হয়েছিল |
সে যখন একবার আম্বারীর কাছে যায়, তখন তিনি একটি বিষয়ে রায় কী হবে তা নিয়ে ভাবছিলেন |
দাসীকে ঘরে ঢুকতে দেখে তিনি বললেন, একে ফেরত পাঠাও |
দাসী জানতে চাইলো তার অপরাধ কী? তিনি বললেন, তোমার জন্য আমার মনোযোগ নষ্ট হয়েছে |
জ্ঞানের চেয়ে তুমি আমার কাছে মূল্যবান না |
আশ শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, কেউ ধনী ও মর্যাদাবান থাকার সময় জ্ঞানের খোঁজ করলে সে সফল হবে না |
বরং যারা বিনীতভাবে কম মর্যাদার স্থানে থেকে জ্ঞানীদের সেবা দেয়, তারা সফল হবে |
মালিক বিন আনাস رضي الله عنهم বলেন, কেউ জ্ঞানের খোঁজ পাবে না যতক্ষণ না সে অভাবের মুখোমুখি হয় ও জ্ঞানকে সবকিছুর উপর গূরুত্ব দেয় |
... |
1, 2012 |
: |
1, 2012 |
কম খাও , সাবধান হও ও সবসময় আল্লাহর যিকির করো : |
ইবনে জামাহ বলেন : জ্ঞান অর্জনের জন্য ও জ্ঞান চর্চার সময় বিরক্তিবোধ না করার সেরা উপায় হলো খুব কম খাও ও হালাল খাবার খাও |
আশ শাফেয়ী رضي الله عنهم বলেন : গত ষোল বছর ধরে আমি পেট ভরে খাই নি |
এর কারণ হলো বেশী খেলে বেশী পানি পান করতে হয় , বেশী ঘুমাতে হয় , সব চেতনাগুলি ধীরে ধীরে তখন ভোঁতা হয়ে যায় ও দেহ অলস হয়ে যায় |
শরীয়াহতে বেশী খাওয়া অপছন্দ করা হয়েছে |
বেশী খেলে শরীরে বিভিন্ন অসুখ দেখা দেয় |
বলা হয়ে থাকে , যা রোগ তুমি দেখো তার বেশীরভাগ হয় খাওয়া ও পান করা থেকে |
কোন আলিম বা আউলিয়া সম্পর্কে এটা জানা যায় নি যে তিনি বেশী খেতেন |
বেশী খাওয়া হলো বুদ্ধিহীন প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য |
একজন মানুষের বুদ্ধিমত্তা হলো তার কাজের উৎস |
এটি খুবই মহান একটি গুণ যাকে ঘৃণ্য একটি বিষয় - অতিরিক্ত খাওয়া দিয়ে ক্ষতি ও নষ্ট করা যেতে পারে না |
অন্য কোন খারাপ দিক যদি নাও থাকে , বেশী খাওয়ার জন্য বেশীবার যে টয়লেটে যেতে হয় - একজন বুদ্ধিমান মানুষের জন্য এই বদঅভ্যাস থেকে দূরে থাকতে শুধু এই কারণই যথেষ্ট |
যে বেশী খাওয়া , পান করা ও বেশী ঘুমের পক্ষে , তার জন্য জ্ঞান অর্জনে সফল হওয়া অসম্ভব |
ইবনে কুদামাহ رضي الله عنهم বলেন : খাওয়ার লোভ সবচেয়ে ক্ষতিকর ও এটাই আদম আলাইহিস সালামকে বেহেশত থেকে বের করে এনেছিল |
খাওয়ার লোভ থেকে আসে শারীরিক সম্পর্ক ও সম্পদের প্রতি আকর্ষণ |
এসব অনেক সমস্যার দিকে নিয়ে যায় |
উকবাহ আর রাশিবী বলেন : আমি আল হাসানের কাছে গেলাম যখন তিনি খাচ্ছিলেন |
তিনি আমাকে তার সাথে খেতে বললে আমি জানাই , আমি ততক্ষণ পর্যন্ত খেয়েছি যখন আর খাওয়া সম্ভব না |
শুনে তিনি বলেন , " সুবহান আল্লাহ |
মুসলমানরা কি এতটা খায় যখন সে আর খেতে না পারে "? |
পরিমিত খাওয়া হচ্ছে তাই যখন কিছু ক্ষুধা থাকতে একজন হাত গুটিয়ে নেয় অর্থাৎ খাওয়া শেষ করে |
এটা দেহকে শক্তিশালী করে ও অসুখকে দূরে রাখে , কেননা এই ব্যক্তি ক্ষুধা না লাগা পর্যন্ত খায় না আর ক্ষুধা থাকতেই খাওয়া শেষ করে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.