content
stringlengths
0
129k
অবশ্য বেশী কম খেলে শরীর দূর্বল হয়ে যেতে পারে
কিছু মানুষ এত কম খেতো যে তারা তাদের কর্তব্য পালনের মতো সুস্থ থাকতো না
না জেনে তারা মনে করতো এটা ভাল অভ্যাস কিন্ত্ত আসলে তা না
যারা ক্ষুধার্ত থাকতে উৎসাহ দিয়েছেন ও এই অবস্থার প্রশংসা করেছেন তারা পরিমিত খাওয়ার কথা বলেছেন যা উপরে বলা হয়েছে
এসব কিছু করা হয় সাবধানতা থেকে
সাবধানতা হলো আল্লাহর পথে যাত্রাস্থল
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন একজন মানুষের ধর্ম তখন নিখুঁত হয় যখন যে বিষয়ের সাথে তার সম্পর্ক নেই , অন্যের সেসব বিষয়ে সে অহেতুক নিজেকে জড়িত করে না
বিনা দরকারে কোন বিষয়ে কথা বলা , কোন কিছুর দিকে তাকানো , শোনা , ধরা , সেদিকে যাওয়া বা তা নিয়ে চিন্তা - ভাবনা করা , দৈহিক বা মানসিকভাবে সে বিষয়ের সাথে নিজেকে জড়ানো - এসব কিছু এই হাদীসের আওতায় আসবে
ইবরাহীম বিন আদহাম বলেন : সাবধানতা হলো যা সন্দেহজনক তা ত্যাগ করা
যা তোমার সাথে সম্পর্কযুক্ত না এমন কিছু ত্যাগ করা মানে যাতে তোমার দরকার নেই , সেটাও ত্যাগ করা
সাবধানতার সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ দিক হলো যাতে সন্দেহ আছে তা থেকে দূরে থাকা
যে সন্দেহযুক্ত বিষয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে , সে পাপের সাথেও নিজেকে জড়িয়ে ফেলবে
পাপ হচ্ছে সীমানা যা আল্লাহ স্থাপন করেছেন
যে এই সীমানার কাছে ঘোরাফেরা করবে , সে সেই সীমানা পার হয়ে যাবে ( ইমাম বুখারী , ইমাম মুসলিম )
আল বাগহাওয়ী বলেন : সাবধানতার বিষয়টি যখন আসে ,তখন এই হাদীসটি খুবই গূরুত্বপূর্ণ
এটা শেখায় যে কেউ যদি বুঝতে না পারে কোনকিছু বৈধ না অবৈধ , তবে সাবধানী ব্যক্তি তা থেকে দূরে থাকবে
কেননা সে যদি তা ত্যাগ না করে , সন্দেহযুক্ত বিষয় নিয়ে এগিয়ে যায় ও এটাকে অভ্যাসে বানিয়ে ফেলে , তবে তা তাকে সেখানে নিয়ে যাবে যা হারাম
বেশীরভাগ সন্দেহপূর্ণ বিষয়কে দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়
প্রথম শ্রেণী হলো সেটা যা হালাল না হারাম তা নিয়ে কোন সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না
এই না থাকাটাই নিশ্চিত করছে যে একজন এ থেকে দূরে থাকবে
দ্বিতীয় শ্রেণী হলো তা যার সূত্র আছে ও স্পষ্ট ভিত্তি আছে বলার জন্য যে এটা হালাল বা হারাম
তাই এ বিষয়ে যা স্পষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত , তা একজন মেনে নেবে
এ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত মতের বাইরে চলে যাওয়া উচিত হবে না ,যদি না তার এ নিয়ে নিশ্চিত কোন জ্ঞান থাকে
যেমন কোন মানুষ যদি সন্দেহ করে যে উযু আছে কি নেই , তবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সে ইবাদত করবে
এছাড়াও যদি কেউ মরুভূমিতে এমন পানি পায় যা পাক্ কি না তাতে সে নিশ্চিত নয় , তবে পানির বিষয়ে যে মূল নীতিগুলি আছে সে তাতে দৃঢ় থাকবে ও শয়তানের কূ-মন্ত্রণায় পড়বে না
ইবনে হাযার رضي الله عنهم বলেন , কোনটা হালাল তা স্পষ্ট , কোনটা হারাম তা স্পষ্ট ; এটা বোঝায় যে নিয়ম তিন ভাগে বিভক্ত
কেননা , প্রতিটি বিষয়ের জন্য ধর্মগ্রন্থে হয় স্পষ্ট নির্দেশনা আছে সেটার গূরুত্ব বিষয়ে ও তা করতে হবে সে নিয়ে অথবা স্পষ্ট আদেশ আছে যে এটা ক্ষতিকর , এর মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা যাবে না অথবা এই দুই ধরণের কোন বক্তব্য নেই
তাই প্রথমটি স্পষ্টতই হালাল ও দ্বিতীয়টি স্পষ্টতই হারাম
তাই রাসূল صلى الله عليه وسلم যখন বলেন , " কোনটা হালাল তা স্পষ্ট ", তখন তিনি বুঝিয়েছেন এতে অতিরিক্ত কোন ব্যাখ্যার দরকার নেই ও এটা সবার জানা
তৃতীয় ভাগটি হলো অস্পষ্ট
যারা সতর্ক থাকতে পছন্দ করে তারা এটাকে ভয় পায় কেননা তারা জানে না এটা হালাল না হারাম
এক্ষেত্রে সে এটা এড়িয়ে চলবে
কেননা , যদি এটা হারাম হয় তবে সে নিরাপদ থাকলো
আর যদি হালাল হয় , তবে ভাল নিয়তে এটা না করার জন্য সে পুরষ্কার পাবে
তাই জ্ঞানের সন্ধানীরা জীবনের সব ক্ষেত্রে সাবধান থাকবে
খাবার , পানীয় , কাপড় ও আবাস যেন হালাল হয় সেদিকে তারা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবে
সে ও তার পরিবারের সদস্যদের যা যা দরকার হয় , সেসব বিষয়ে এই সাবধান থাকার মত সে প্রয়োগ করবে যেন তার মন আলোকিত হতে পারে
এভাবে সে জ্ঞানের আলো পেতে নিজেকে অভ্যস্থ করবে এবং এ থেকে কল্যাণ পাবে
যা সব হালাল , সেসবের প্রতিও সে বেশী বেশী ঝুঁকে পড়বে না যদি সে সাবধান থাকে ও সে সবে তার দরকার না থাকে
সে হালাল জিনিষও বেশী বেশী উপভোগ করবে না
বরং সে উচ্চতর স্তরের খোঁজ করবে ও অতীতের সঠিক পথের জ্ঞানীদের অনুসরণ করবে
তারা যা হালাল ছিল সে বিষয়েও সাবধানতা অবলম্বন করতেন
ছাত্ররা যাকে সবচেয়ে বেশী অনুসরণ করার চেষ্টা করবে তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم
রাসূল صلى الله عليه وسلم রাস্তায় পড়ে থাকা কোন একটি খেজুরও খেতেন না এই ভয়ে যে যদি এটা দানের হয়ে থাকে ; যদিও এমনটি না হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক
জ্ঞানের সন্ধানকারীরা অবশ্যই এসব অনুসরণ করবে ; তারা যদি সাবধানতা অবলম্বন না করে তবে কারা তা করবে ? আনাস رضي الله عنهم বলেন : রাসূল صلى الله عليه وسلم রাস্তায় একটি খেজুর দেখতে পান যা গাছ থেকে পড়েছিল
তিনি বলেন : এটা হয়তো দানের হতে পারে
তা না হলে আমি এটা খেতাম ( বুখারী , মুসলিম )
আবু হুরায়রা رضي الله عنهم বলেন : রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , আমি আমার পরিবারের কাছে গেলাম ও আমার বিছানায় একটি খেজুর দেখতে পেলাম
আমি সেটা সেটা মুখের কাছে আনলাম খাওয়ার জন্য , তারপর ভয় পেলাম যে এটা দানের হতে পারে
তাই আমি তা নামিয়ে রাখলাম
ইবনে হাজার বলেন : এখানে রাসূল صلى الله عليه وسلم নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে তিনি খেজুর বিছানায় পেয়েছিলেন
তারপরেও তিনি সাবধানতা হিসাবে সেটা খান নি
আন নাওয়ায়ী বলেন , এই হাদীস সাবধানতার একটি উদাহরণ
খেজুরটি খাওয়া হারাম ছিল না এই সন্দেহ করে যে এটি দানের হতে পারে ; বরং এটি সাবধানতা থেকে করা হয়েছে ( মুসলিম)
যিকির করা :
সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ যে বিষয়ে ছাত্ররা বিশেষভাবে সাবধান থাকবে তা হলো , সব পরিস্থিতিতে আল্লাহকে মনে করা বা যিকির করা
একজন যা চায় তা পাওয়ার সেরা উপায় হলো আল্লাহর যিকির
যে এই পথ থেকে ফিরে যায় , সে অবশ্যই সব কল্যাণ থেকে দূরে থাকলো ও সঠিক পথ থেকে সরে গেল
যে এই পথে পরিচালিত হলো সে সত্যিই হেদায়েতপ্রাপ্ত ও সেরা নেতা এবং পথপ্রদর্শক দিয়ে পরিচালিত
ইবনে আল কাইয়াম বলেন : আল্লাহর দিকে ছুটে যাওয়া , তাঁর উপর নির্ভর করা , তাঁর প্রতি সন্ত্তষ্ট থাকা , আল্লাহর জন্য ভালবাসায় মন পূর্ণ করা , সবসময় যিকির করা , আল্লাহকে জানার আনন্দ - এ সব কিছুর পুরষ্কার সাথেসাথে পাওয়া যায়
এ হলো দুনিয়ার বেহেশত ও এমন একটি জীবন যার সাথে রাজা - বাদশাহর জীবনও তুলনা করা যায় না
আমি শুনেছি শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ رضي الله عنهم বলেন : অবশ্যই এই দুনিয়ায় একটি বেহেশত আছে
যে এখানে ঢুকবে না , সে পরকালের বেহেশতও ঢুকতে পারবে না
একবার তিনি আমাকে বলেন : শত্রুরা আমার কী করবে ? আমার বেহেশত ও বাগান আমার বুকের ভিতরে
আমি যেখানেই যাই না কেন , এই দুইটি আমার সাথে থাকে
বন্দী জীবন হলো আল্লাহর সাথে আমার একান্ত সান্নিধ্য , আমার নিহত হওয়া হলো শহীদের মৃত্যু ও দেশ থেকে নির্বাসন হলো আমার সফর
আল্লাহ জানেন , আমি শেখ ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ رضي الله عنهم এর মতো
এমন পবিত্র জীবনের অধিকারী আর কাউকে পাই নি যদিও তিনি কঠিন সব বিপদ , অত্যন্ত দু:খ - কষ্টের মধ্যে বন্দী ও খুন হওয়ার আশংকার মধ্যে ছিলেন
এত সব কিছুর মধ্যে তিনি পাক - পবিত্র জীবনযাপন করতেন ; দৃঢ় ও উদার মনের ছিলেন ; আধ্যাত্মিকভাবে সুখী আত্মা ও আলোকিত চেহারার অধিকারী ছিলেন
যখন আমরা ভয় পেতাম , মনে খারাপ চিন্তা আসতো , মনে হতো দুনিয়া শ্বাসরোধ করে দিচ্ছে আমাদের - তখন আমরা তার কাছে ছুটে যেতাম
শুধু তাকে দেখে ও তার কথা শুনেই ভয় , দু:চিন্তা দূর হয়ে আমরা আশ্বস্ত হতাম
সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর সাথে সাক্ষাতের আগেই দাসদের জন্য এই দুনিয়ায় বেহেশত দেখার অনুমতি দিয়েছেন ও সেই বেহেশতের দরজা খুলে দিয়েছেন ; এর স্বাদ ও আনন্দের ভাগ দিয়েছেন যার জন্য দাস তার শক্তি , সামর্থ্য উৎসর্গ করেছিল
কিছু জ্ঞানী মানুষ বলেন যদি রাজারা ও তাদের ছেলেরা জানতো আমরা কী অভিজ্ঞতা লাভ করছি , তাহলে তা পাওয়ার জন্য তরবারী নিয়ে আমাদের সাথে লড়াই করতো
আরেকজন বলেন : সেই মানুষ বন্ঞ্চিত , যারা এই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল সবচেয়ে উপভোগ্য জিনিষটির স্বাদ না পেয়ে
তাকে প্রশ্ন করা হলো সেটা কী ? তিনি বললেন , আল্লাহর ভালবাসা , তাঁকে জানা ও তাঁকে মনে করা
ভালবাসা , জ্ঞান ও সবসময় যিকির করা ; তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়া , তাঁর স্মরণে শান্তি লাভ , ভালবাসা , ভয় , আশা , নির্ভরতা ও মনোযোগ - সবই আল্লাহর জন্য ; এই দুনিয়ার বেহেশত ও তার আনন্দের সাথে এখানকার অন্য আনন্দের তুলনা হয় না
যারা আল্লাহকে ভালবাসে , তাদের জন্য এটা চোখের শান্তি এবং যারা তাকে জানে তাদের জন্য এটাই সত্যিকারের জীবন
ইবনে আল কাইয়াম বলেন : আমি শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহর সাথে একদিন ছিলাম যখন তিনি ফজরের সালাত পড়ছিলেন
এরপর তিনি যিকির করতে থাকেন দুপুরের আগে পর্যন্ত
আমার দিকে ফিরে তিনি বললেন , এটাই আমার খাবার
যদি আমি এটা না পাই , তবে আমি মুক্তি পাবো না
একবার তিনি আমাকে বলেছিলেন : আমি যিকির থেকে কখনোই বিরত হই না
ব্যতিক্রম হলো , এই ইচ্ছা নিয়ে আমি মাঝেমাঝে বিশ্রাম নেই যাতে শক্তি সঞ্চয় করে আরো বেশী যিকির করতে পারি
তামা , রূপা ইত্যাদিতে যেমন মরিচা পড়ে , তেমনি মনেও মরিচা ধরে
একে উজ্জ্বল করতে হয় যিকির দিয়ে
মনকে চকচকে আয়নার মতো পরিষ্কার করে যিকির
মনকে যদি খালি রাখো , এটায় আবারো মরিচা ধরবে
যদি আল্লাহকে স্মরণ করো , এটা আবারো চকচকে হবে
মনে মরিচা পড়ে দুইটি কারণে : অসাবধানতা ও পাপ
তওবা ও যিকিরে এই মরিচা দূর হয়
তাই যে বেশী অসাবধান , তার মনে বেশী মরিচা ধরে
যার মনে মরিচা ধরে , সে আর কোনকিছুর আসল চেহারা দেখতে পায় না
তাই সে মিথ্যাকে সত্য দেখবে আর সত্যকে মিথ্যা জানবে
তাই যদি মরিচা বাড়ে আর মনকে অন্ধকার করে ফেলে , তাহলে তার বোঝার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে
সে আর সত্যকে সত্য বলে মানতে পারবে না ; মিথ্যাকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করবে না
এটা হচ্ছে মনের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি
এ সবকিছু আসে অসাবধানতা থেকে ও নফসের ইচ্ছামতো চললে অর্থাৎ মনের ইচ্ছার বশ হলে
তখন মনের আলো নিভে যায় ও মন অন্ধ হয়
' তুমি তার আনুগত্য করবে না যার মনকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছি , যে তার খেয়াল - খুশীর অনুসরণ করে ও যার কাজ সীমা লংঘন করে ' ( সুরা কাহফ ; ১৮ : ২৮)
তাই আল্লাহর কোন দাস যদি কাউকে অনুসরণ করতে চায় , তাহলে সে দেখবে - এ কি তাদের মধ্যে যারা আল্লাহকে স্মরণ করে , না কি এ অসাবধানীদের দলে ? এ কি নিজের খেয়ালখুশীতে চলে না ওহী মেনে চলে ? তাই সে যদি নিজের নফসকে গূরুত্ব দেয় ও অসাবধানীদের দলের হয় , তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্থ