content
stringlengths
0
129k
তার সব কাজ , সাফল্য নষ্ট হয়ে যাবে
এগুলি অপচয় কেননা এসব তার কোন কাজে আসবে না
এ হচ্ছে সত্যের বিপরীত
এমন লোকদের মেনে চলতে আল্লাহ মানা করেছেন
তাই একজন তার শিক্ষক ও নেতার আদর্শ কী তা খেয়াল করবে
যদি এসব দোষ তাদের থাকে , তবে সে তাদেরকে এড়িয়ে চলবে
যদি সে এমন কাউকে পায় যে সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করে , সুন্নাহ মেনে চলে ও যার আমল নষ্ট হয় নি , সে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হবে
জীবিত ও মৃত মানুষের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো আল্লাহর স্মরণ
যে তার রবকে স্মরণ করে ও যে তা করে না , তারা হলো জীবিত ও মৃত মানুষের মতো
শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ رضي الله عنهم বলেন : অনেক সময় আমি একটি আয়াতের বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাই
তখন আমি আল্লাহকে বলি , আমি যেন আয়াতের সঠিক মানে বুঝতে পারি
আমি এভাবে বলি : হে আদম আলাইহিস সালাম ও ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শিক্ষক , আমাকে শেখান
আমি কোন পরিত্যক্ত মসজিদে যাই , সিজদা করি ও আল্লাহকে বলি : হে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শিক্ষক , আমাকে শেখান
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন , যে তার প্রভুকে স্মরণ করে ও যে তা করে না , তারা হলো জীবিত ও মৃত মানুষের মতো
( বর্ণনায় আবু মুসা আল আশারী رضي الله عنهم ; বুখারী হাদীস )
ইমাম মুসলিম رضي الله عنهم বলেন , যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় ও যে ঘরে তা করা হয় না , সে দুইটি হলো জীবিত ও মৃত মানুষের ঘরের মতো
আশ সাওকানি رضي الله عنهم বলেন , আল্লাহর যিকিরের চমৎকার সৌন্দর্য ও পবিত্র মাহাত্ম্য এই রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে
এটা দেখায় , আল্লাহকে যে ভুলে থাকে , যদিও সে আক্ষরিক অর্থে জীবিত , আসলে সে বেঁচে নেই
বরং সে মরা মানুষের মতো
জীবিত মানুষ যেভাবে আল্লাহর আদেশ মেনে চলে , মৃত মানুষ তা করতে পারে না
এই হাদীসে যা আছে তা কুরআনের আয়াতেও বলা হয়েছে :
যে মৃত ছিল , যাকে আমি পরে জীবিত করেছি ......( সুরা আল আনাম ; ৬ : ১২২ )
এর মানে অবিশ্বাসীরা মরা মানুষের মতো আর ইসলামের পথে পরিচালিত হওয়া মানে জীবন
আল- বুখারী তার বইতে একটি অধ্যায় লিখেছেন এই শিরোনামে : আল্লাহর যিকিরের মাহাত্ম্য
এই অধ্যায়ে তিনি উপরে আবু মুসা ও আবু হুরায়রার উল্লেখ করা হাদীসের কথা লিখেছেন
এতে বলা আছে , রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন : আল্লাহর কিছু ফিরিশতা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় তাদের খোঁজে , যারা আল্লাহর যিকির করে
যদি তারা এমন কাউকে পায় , তারা তখন অন্য ফিরিশতাদের ডাক দিয়ে বলে - আসো , তুমি যাদেরকে খুঁজে বেড়াচ্ছো তাদেরকে দেখে যাও
তখন আকাশ পর্যন্ত ডানা মেলে দিয়ে ফিরিশতারা যিকিরকারীকে ঘিরে ধরে
তাদের রব প্রশ্ন করেন যদিও তিনি তাদের থেকে বেশী জানেন - আমার দাসরা কী বলছে ?
ফিরিশতারা জবাব দেয় : তারা বলে সুবহান আল্লাহ , আল্লাহু আকবর ও আলহামদুলিল্লাহ
আল্লাহ তখন বলেন : ওরা কি আমাকে দেখেছে ? ফিরিশতারা বলে : না , আপনার শপথ , তারা আপনাকে দেখে নি
আল্লাহ বলেন : যদি তারা আমাকে দেখতো তাহলে তারা কী করতো ?
ফিরিশতারা জবাব দেয় : যদি তারা আপনাকে দেখতো , তাহলে তারা আরো আন্তরিকভাবে আপনার ইবাদত করতো , আরো বেশী করে আপনার প্রশংসা করতো এবং সৃষ্ট কোন
কিছুর মতো হওয়া থেকে আপনার মুক্ত থাকার বিষয়টি আরো বেশী বেশী করে ঘোষণা করতো
আল্লাহ বলবেন : তারা আমার কাছে কী চায় ? ফিরিশতাদের জবাব : তারা বেহেশত চায়
আল্লাহ বলেন : তারা কি সেটা দেখেছে ? ফিরিশতারা বলে , না , ও প্রভু , আপনার শপথ
তারা বেহেশত দেখে নি
আল্লাহ বলেন : যদি তারা এটা দেখতো তাহলে তারা কী করতো ?
ফিরিশতারা বলে : যদি তারা তা দেখতো , তাহলে আরো বেশী করে তারা এটা চাইতো , বেহেশত পাওয়ার আগ্রহ অনেক বেশী হতো
আল্লাহ বলেন : তারা কী থেকে আশ্রয় চায় ? ফিরিশতারা বলে : তারা আগুন থেকে আপনার আশ্রয় চায়
আল্লাহ বলেন , তারা কী এটা দেখেছে ? ফিরিশতারা বলে , না , ও আল্লাহ
তারা এটা দেখে নি
আল্লাহ বলেন : যদি তারা এটা দেখতো তাহলে কী হতো ?
ফিরিশতারা বলে : যদি তারা তা দেখতো , তাহলে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে যেত আর এ আগুনকে খুবই ভয় পেত
তখন আল্লাহ বলবেন , আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করলাম যে এদেরকে মাফ করা হলো
একজন ফিরিশতা তখন বলবে : সেখানে এমন একজন লোক ছিল যে এদের মতো ছিল না
বরং সে তার কোন এক দরকারে সেখানে গিয়েছিল
আল্লাহ বলবেন : এরা এমন মানুষ যাদের সাথীরা দু:খিত হবে না ( সহীহ বুখারী )
আল হাফিয ইবনে হাযার رضي الله عنهم বলেন : আল্লাহকে স্মরণ করার মানে হলো যে সব শব্দ বলতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে তা বলা ও এই যিকির সবসময় করা
যেমন , এগুলি বলা : সুবহান আল্লাহ ( সব মহিমা আল্লাহর ) ; আলহামদুলিল্লাহ ( সব প্রশংসা আল্লাহর ) ; লা ইলাহা ইল্লাললাহ ( নেই কোন রব আল্লাহ ছাড়া ) ; আল্লাহু আকবর ( আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ) , লা হাওলা ওয়ালা কুয়াআতা ইল্লা বিল্লাহ ( আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা নেই ) , বিসমিল্লাহ ( আল্লাহর নামে শুরু ) , হাসবুনা আল্লাহ ওয়া নিমা...
এসবের পাশাপাশি আল্লাহর ক্ষমা চাইতেই হবে ও এই দুনিয়া এবং পরকালের জন্য কল্যাণ চাইতে হবে
আল্লাহ যা করতে আদেশ বা উৎসাহ দিয়েছেন যেমন কুরআন তেলাওয়াত , হাদীস পড়া , জ্ঞান চর্চা , নফল ইবাদত ইত্যাদি আল্লাহকে স্মরণ করার অন্তর্ভূক্ত
যিকির অনেক সময় জিহবা দিয়ে শুধু করা হয় - যা বলা হচ্ছে তার মানে না জেনেও , আল্লাহর নাম বলার জন্য যিকিরকারী পুরষ্কার পাবে
তবে মানে জেনে নিয়ে যিকির করা ও শুধু জিহবা না বরং মন থেকেও সে সব বললে তা বেশী ভাল
আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করা হয় যে সব শব্দ দিয়ে ও আল্লাহর কোন দোষ - ত্রুটি আছে এমন কথা অস্বীকার করা হয় যা দিয়ে - সে সব বুঝে বলা বেশী ভাল
যদি যিকিরকারী সঠিক কোন কাজ যেমন ইবাদত , জিহাদ এসবের মধ্যে যিকির করে , তবে তা যিকিরের মাহাত্ম্য বাড়ায়
যদি যিকিরকারী আল্লাহর দিকে পুরোপুরি চলে যায় ও আন্তরিক থাকে সে যা করছে তাতে , তাহলে সেটা সবচেয়ে ভাল ও প্রায় পরিপূর্ণ একটি কাজ
ইমাম মুসলিম رضي الله عنهم এর বর্ণিত হাদীস : যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় ও যে ঘরে তা করা হয় না , সে দুটি হলো যেন জীবিত ও মৃত মানুষের ঘর
ইবনে হাজার এ নিয়ে বলেন , এখানে আসলে ঘরে যারা থাকে তাদের কথা বোঝানো হয়েছে , ঘরের কথা বলা হয় নি
কোন ঘর জীবিত না মৃত মানে তার বাসিন্দারা বেঁচে আছে না মারা গিয়েছে
যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে , তার সম্পর্কে রাসুল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , সে এমন একজন , যার বাইরের দিক জীবনের আলো দিয়ে সুন্দর ও ভিতরের দিক সুন্দর জ্ঞানের আলো দিয়ে - এ বেঁচে আছে
যে আল্লাহর যিকির করে না , সে সবদিক থেকে ধ্বংস হয়েছে
আরো বলা হয়েছে , জীবিত ও মৃত মানুষের মতো মানে হলো যে বেঁচে আছে সে বন্ধুদের ক্ষতি করতে পারে যা মৃত মানুষ পারে না
যারা যিকিরকে দৃঢ়ভাবে ধরেছে , তারা জ্ঞানী
তারা এমন যেন খাড়া পাহাড়ের পাশ দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যায় ও যেখানে যেতে চায় সেদিকে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়
যিকির ছাড়া চলার চেষ্টা করলে তাদের পা ধীরগতির হয়ে যাবে , মনে মরিচা ধরবে ও তারা পথ হারিয়ে ফেলবে - যেমনটি বলা হয় - যদি আমরা অসুস্থ হই , যিকির দিয়ে নিজেদের চিকিৎসা করি
যদি এক মুহুর্তের জন্যও যিকির থেকে বিরত হই , তাহলে আমরা হতাশায় ভুগি
...
9 ...
10, 2012
:
10, 2012
৫. খাওয়া, ঘুম ও কথা - যত কম তত ভাল:
আমরা আগে এ নিয়ে আলোচনা করেছি যে ছাত্ররা অবশ্যই কম খাবে ও যা হালাল তা খাবে
পেটের লোভ থেকে মুক্তি পাবার উপায় হলো অল্পতে খুশী থাকা
একজন ধীরে ধীরে তার খাওয়া কমাবে যেন পরিমিত পর্যায়ে সে আসতে পারবে - মধ্যম পন্থাই সেরা
সে এই পরিমাণ খাবে যেন শক্তি বজায় থাকে ও ইবাদত ঠিকমতো করতে পারে
সে অনাহারেও থাকবে না আবার ভরপেটও খাবে না
তখন সে সুস্থ থাকবে, তার আকাংখা উঁচু স্তরে যাবে ও বিবেক পরিষ্কার থাকবে
সে যদি পরিমিত মাত্রার চেয়ে বেশী খায়, তাহলে সে বেশী ঘুমাবে ও তার বুদ্ধিমত্তা নীচু স্তরে থাকবে
খাওয়া হালাল হওয়াটা সব মুসলমানের জন্য দরকার, বিশেষ করে যারা জ্ঞানের সন্ধানে আছে তাদের জন্য আরো বেশী দরকার
কেননা, এরা হলো হালাল - হারামের জ্ঞানের সুরক্ষিত স্থান
আমরা আগেই বলেছি খাওয়া ও পানীয়ের বিষয়ে কিভাবে সাবধান হওয়া উচিত
রাসূল صلى الله عليه وسلم কিভাবে একটি খেজুর খেতে গিয়েও খান নি এই ভেবে যে, হয়তো সেটি দানের আর দান গ্রহণ নবী صلى الله عليه وسلم এর জন্য বৈধ ছিল না
খাওয়া নিয়ে বেশী চিন্তা করার সময় নেই যে ছাত্রের, সে মোটা হবে না
বরং জ্ঞানের প্রতি অনুরাগে সে খাওয়ার কথা ভুলে থাকবে
শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কখনো খাবার চাইতেন না
তিনি জ্ঞান চর্চায় এতটাই মগ্ন থাকতেন যে খাবার দেয়া হলে অনেক সময় তা পড়ে থাকতো
মাঝেমাঝে তিনি সেখান থেকে অল্প কিছু নিয়ে খেতেন
তিনি কখনো এই দুনিয়ার ভোগ - বিলাস - আনন্দ নিয়ে কিছু বলতেন না বা এসব কিছু চাইতেন না
বরং তার সব ভাবনা ও কথাবার্তা ছিল পরকালকে নিয়ে এবং কিভাবে আল্লাহর আরো ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে যাওয়া যায় সেটা নিয়ে
আন নুমান বিন বাসির বলেন, উমর বিন আল খাত্তাব رضي الله عنهم বলেছিলেন কিভাবে মানুষ অভাবের সাথে লড়াই করতো
রাসূল صلى الله عليه وسلم একবার সারাদিন অনাহারে কষ্ট পান - নীচু মানের কোন খেজুরও তিনি সেদিন খেতে পারেন নি ( সহীহ মুসলিম )
আবু হুরায়রা رضي الله عنهم একবার একদল মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা ভেড়ার ভাজা মাংস খাচ্ছিলো
তারা তাকে দাওয়াত দিলে আবু হুরায়রা রাজী হলেন না
তিনি বললেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم এই দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন পেট ভরে এমন কি রুটি না খেয়েই ( সহীহ বুখারী )