content stringlengths 0 129k |
|---|
এ ধরণের আরো সমাবেশে অংশ নেয়া যাতে একজন বিশ্বাসী তার ঈমান দৃঢ় করতে পারে - হয় সে নিজে থেকে কল্যাণ লাভ করবে বা সে অন্যের উপকার করবে |
একজন মানুষের কাছে নিজের জন্য এই সময় থাকবে, যাতে সে দুআ , যিকির , নিজের আমল নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা ও মনকে শুদ্ধ করতে পারে |
এসব ব্যপারে অন্য কেউ তার সাথে অংশ নেবে না |
এগুলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাসায় বা অন্য কোথাও করতে হবে যেমনটি তাউস বলেন : বাসায় আশ্রয় নেয়া কত না চমৎকার |
এখানে থাকলে একজন তার দৃষ্টি ও জিহবাকে সংযত রাখতে পারে |
মানুষের সাথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মেলামেশা বা তাদের থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া - এর কোনটাই ঠিক না |
কতটুক মেলামেশা বা বিচ্ছিন্নতা একজনের জন্য দরকার ও তার জন্য ভাল , সেটা ঠিক করতে আরো অনেককিছু জানতে - বুঝতে হবে |
উত্তম হলো অনেকরকম ইবাদতের মধ্য থেকে একজন গূরুত্ব অনুসারে তা বেছে নেবে |
যেমন , কুরআন তেলাওয়াত থেকে সালাত উত্তম , যিকির থেকে কুরআন তেলাওয়াত উত্তম , দুআ থেকে যিকির ভাল |
কখনো সময় বুঝে ইবাদত করা বেছে নিতে হয় যেমন ফজর ও আসরের সালাতের পরে কোন নফল সালাত আদায় না করে কুরআন তেলাওয়াত , যিকির ও দুআ পছন্দনীয় ইবাদত |
অনেক সময় শারীরিক অবস্থান বিবেচনা করে ইবাদত বেছে নিতে হয় |
রুকু ও সিজদাতে কুরআন তেলাওয়াত না করে যিকির ও দুআ করা বৈধ |
তাওয়াফ করার সময় কুরআন তেলাওয়াত করা ঠিক কি না , সেটা নিয়ে মতভেদ আছে |
স্থান বুঝে ইবাদত করতে হয় যেমন আরাফাত , মুজদালিফা , জামারাত , সাফা ও মারওয়ায় সালাত থেকে যিকির ও দুআ করা পছন্দীয় কাজ |
মুসাফিরের জন্য কাবা ঘরে এসে সালাত থেকে তাওয়াফ করা উত্তম ; স্থানীয় বাসিন্দা যারা তাদের জন্য সালাতই উত্তম |
ব্যক্তি ভেদে ইবাদত আলাদা হয় |
যেমন পুরুষদের জন্য হজ্জ থেকে জিহাদ শ্রেষ্ঠ |
নারীদের জন্য হজ্জই হলো জিহাদ |
বিবাহিতা নারীর জন্য পিতার থেকে স্বামীর আনুগত্য করা উত্তম , অন্যদিকে অবিবাহিতা মেয়েদের জন্য পিতার আদেশ মানা কর্তব্য |
সামর্থ্যের উপর ইবাদত কী করা হবে , তা নির্ভর করে |
যা করতে একজন সমর্থ , তাই তার জন্য উত্তম , যেটা করা তার সাধ্যের বাইরে তা করার থেকে - যদিও হয়তো ঐ ইবাদতের গূরুত্ব বেশী |
কিছু মানুষ অতিরিক্ত ইবাদত করতে চায় ও নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে সীমা ছাড়িয়ে ফেলে |
কিছু মানুষ বিশেষ কোন ইবাদতকে নিজেদের জন্য উত্তম মনে করে এবং তাদের চারপাশে যারা থাকে তাদেরকেও তারা সেটা করতে বলে |
আল্লাহ তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم কে কিতাব ও জ্ঞান দিয়ে পাঠিয়েছেন , |
পাঠিয়েছেন তাঁর দাসদের জন্য রহমত ও পথপ্রদর্শক হিসাবে |
যা ভাল তাই করতে মুসলমানদের আদেশ দেয়া হয়েছে ; তাই একজন মুসলমান অবশ্যই অন্যদের ভাল চাইবে |
ইসলামিক জ্ঞানে যারা সমৃদ্ধ ( আল্লাহ তাদের উপর সন্ত্তষ্ট হোন ) - মানুষের সাথে তারা মিশবেন ও তাদেরকে শেখাবেন |
একই সাথে তারা হবেন সবচেয়ে সাবধানী মানুষ , যেন সময়ের অপচয় না হয় |
যার মন মরে গিয়েছে , মেলামেশা তার সাথে করা যাবে না - যেন সে এক ডাকাত ; বরং এমন কারো সাথে মিশতে হবে যে ঈমান বাড়াতে ও নেক আমলে সাহায্য করবে |
ইবনে আল কাইয়াম বলেন : যার মন মরে গিয়েছে , যত দূর সম্ভব তার অনুপস্থিত থাকার সুবিধা গ্রহণ করো |
যদি তোমাকে তাকে সাথে নিয়ে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় , তবে তুমি তাকে বাহ্যিক মনোযোগ দাও ; তোমার মনকে তার থেকে দূরে রাখো ; তোমার ভিতরের সত্ত্বাকে তার থেকে আলাদা রাখো ; তোমার মনোযোগ যেন সে নষ্ট করতে না পারে এমন বিষয় থেকে , যা তোমার মনোযোগ পাওয়ার দাবী রাখে |
যে তোমার কোন কল্যাণ করতে পারবে না , তার সাথে বেশী ব্যস্ত থাকা ; সময় , শক্তি ও মনোযোগ তার পেছনে যেটা নষ্ট হয় - তা তোমার বড় ক্ষতি |
যদি তোমাকে এসব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় - আর তোমাকে অবশ্যই এসব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে - তার সাথে এমন ব্যবহার করো যা আল্লাহ চান - যতদূর সম্ভব তার সাথে ধৈর্যশীল হও |
তোমাদের একসাথে থাকা যেন আল্লাহর কাছে যাওয়ার উপায় হয় , কোন কল্যাণ যেন এ থেকে আসে - ক্ষতি না |
এমনভাবে তার সাথে থাকা যেন , রাস্তায় চলার সময় তোমাকে কেউ থামতে বলেছে ও তাকে তোমার সাথে নিতে বলেছে |
এটা নিশ্চিত করো যে , তুমি তাকে এগিয়ে দেবে এবং সে তোমাকে গন্তব্যে নিয়ে যাবে না |
যদি সে এতে রাজী না হয় ও তার সাথে একসাথে থাকলে তোমার কোন লাভ না হয় , তবে তার জন্য থামবে না ; তাকে বিদায় জানাও ; এমনকী তার দিকে পিছন ফিরে তাকাবেও না যেন সে একজন ডাকাত - আসলে সে যেই হোক না কেন |
তাই তোমার মনকে বাঁচাও , তোমার দিন - রাত কিভাবে কাটাচ্ছো সে নিয়ে সাবধান হও |
তাই ছাত্ররা অবশ্যই সামাজিক মেলামেশা থেকে দূরে থাকবে |
কেননা , এটি সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ কাজগুলির একটি যা সে করতে পারে - বিশেষ করে বিপরীত লিঙ্গের সাথে মেলামেশা ও যারা হালকা বিনোদনে সময় বেশী নষ্ট করে , তাদের বেলায় এটা বেশী প্রযোজ্য |
এরা তোমার সময়কে চুরি করবে অর্থাৎ এরা তোমাকে প্রভাবিত করায় তুমি সময়ের অপচয় করবে |
সামাজিক মেলামেশার ক্ষতির অন্তর্ভূক্ত হলো কোন কল্যাণ ছাড়া জীবন পার করা ; একই সাথে তোমার সম্পদ ও ধর্মীয় অঙ্গীকার ক্ষতিগ্রস্থ হবে , যদি ভুল লোকের সাথে উঠা - বসা করো |
ছাত্ররা তাই মানুষের সাথে বেশী মেলামেশা করবে না |
ব্যতিক্রম হলো যারা তার থেকে উপকার পেতে পারে বা সে তাদের থেকে কোন কল্যাণ লাভ করতে পারে |
যদি কেউ তার বন্ধু হতে চায় যে তার সময় নষ্ট করবে , কোন উপকারে আসবে না বা তার থেকে উপকার লাভ করবে না , লক্ষ্যে যেতে কোন সাহায্য করবে না , তাহলে ছাত্রটির উচিত হবে সম্পর্ক গভীর হওয়ার আগে ভদ্রভাবে এই বন্ধুত্ব শেষ করা |
কেননা বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে সম্পর্ক শেষ করা কঠিন হবে |
জ্ঞানীরা একটি কথা প্রায়ই বলে থাকেন : কিছু নিয়ে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার থেকে , তা নিতে রাজী না হওয়া সহজ কাজ |
যদি তার কোন বন্ধুর দরকার থাকে , তবে সে বন্ধু হবে সঠিক পথের মানুষ , ধার্মিক , সাবধানী , বুদ্ধিমান , কল্যাণকর , বড় কোন দোষ যার মধ্যে নেই , মানিয়ে নিতে পারে , সহজে ঝগড়া করে না , কিছু ভুলে গেলে মনে করিয়ে দেয় , দরকারে সাহায্য করে ও দু:খে সান্ত্বনা দেয় |
ইবনে কুদামাহ رضي الله عنهم বলেন , জেনে রাখো সবাই তোমার বন্ধু হওয়ার যোগ্য না |
তোমার সম্ভাব্য বন্ধুকে যাচাই করে দেখো , তার সেই যোগ্যতা আছে কি না |
তোমার বন্ধু যে হবে তার মধ্যে অবশ্যই নীচের পাঁচটি গুণ থাকবে : - |
১. বুদ্ধিমান হবে |
বোকার সাথে বন্ধুত্বে কোন কল্যাণ নেই , কেননা সে উপকার করতে চাইলেও তোমার কেবল ক্ষতিই করবে |
বুদ্ধিমান বলতে বোঝাচ্ছি সে কোন কিছুর প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারে বা কিছু বোঝালে বোঝে |
২. তার আদব - কায়দা ভাল হবে ও এটা অপরিহার্য গুণ |
যে শুধুই বুদ্ধিমান , সে রাগ বা ইচ্ছার বশ হয় |
ফলে তার বন্ধুত্ব কল্যাণকর নয় |
৩. সে মুনাফিক হবে না |
এমন মানুষ আল্লাহকে ভয় পায় না ও যে আল্লাহকে ভয় করে না , তাকে বিশ্বাস করা যায় না |
৪. সে নতুন কিছু চালু করবে না |
কেননা , তার চালু করা রীতি তোমার উপর খারাপ প্রভাব ফেলার ভয় থাকবে |
৫.দুনিয়াদারির দিকে তার মোহ থাকবে না |
উমর বিন আল খাত্তাব رضي الله عنهم বলেন , তোমার সত্য পথের ভাইদের সাথে লেগে থাকো |
তুমি তাদের সাথে শান্তিতে থাকতে পারবে , কেননা যখন কোন কষ্ট নেই , তখন তাদের সাথে থাকাটা আনন্দময় আর কঠিন সময়ে তুমি তাদের উপর ভরসা করতে পারবে |
তোমার ভাই সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল ধারণা রাখবে যতক্ষণ না সে এমন কিছু নিয়ে আসে , যা তোমাকে সাবধান করবে তার বিষয়ে |
তোমার শত্রুকে এড়িয়ে চলো |
যাকে বিশ্বাস করা যায় না , তার সাথে বন্ধুত্ব করা থেকে সাবধান থাকবে |
যে আল্লাহকে ভয় পায় না , তাকে বিশ্বাস করা যায় না |
যে নীতিহীন , তার সাথে বন্ধুত্ব করবে না |
কেননা , সে তোমাকে নীতিহীনতা শেখাবে ; আর এমন লোকের কাছে তোমার গোপন কথা বলবে না |
গোপন কথা নিয়ে আলোচনা শুধু তার সাথেই করতে পারো , যে আল্লাহকে ভয় পায় |
ইয়াহিয়া বিন মুরাদ বলেন : বন্ধু হচ্ছে সে যাকে তোমার জন্য দুআ করার কথা মনে করিয়ে দিতে হবে না |
তাকে তোষামোদ করা বা মন জয় করার চেষ্টা করতে হবে না এবং তার কাছে কোন কিছু নিয়ে মাফ চাওয়ার দরকার নেই |
ভাইয়ের দাবী : |
তোমাদের সবারই ভাইয়ের উপর নির্দিষ্ট কিছু দাবী আছে |
তার কোন দরকার থাকলে তা সাধ্যমত পূরণ করবে |
কমপক্ষে যা অবশ্যই করতে হবে তা হলো - যখন সে কিছু চাইবে , তখন সাধ্যের মধ্যে হলে হাসিমুখে তার প্রয়োজন মেটাবে |
ভাই চাওয়ার আগেই যদি খেয়াল করে তার প্রয়োজন মেটাও , তবে তা আরো ভাল |
তোমার নিজের যা দরকার , তার উপর যদি ভাইয়ের দরকারকে প্রাধান্য দাও , তাহলে তা সবচেয়ে ভাল |
তার দোষ সম্পর্কে তার সামনে বা আড়ালে কিছু বলবে না - এ নিয়ে নীরব থাকো |
তার সাথে মতভেদ করবে না , ঝগড়া করবে না |
তার গোপন কথা যা সে প্রকাশ হোক চায় না , তা জানতে চাইবে না |
যদি তুমি দেখো সে কোথাও যাচ্ছে , জানতে চাইবে না সে কোথায় যাচ্ছে |
কেননা সে হয়তো তা অন্যকে জানাতে চায় না |
তার গোপন কথা কাউকে বলবে না ; যদিও পরে তার সাথে কখনো ঝগড়া হয় |
তার বন্ধু ও পরিবারের লোকদের অপমান করবে না |
যদি অন্য কেউ তার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলে , সেটা তার কাছে বলবে না |
সে বিরক্ত হবে এমন কিছু তাকে বলবে না , ব্যতিক্রম হলো যদি এমন কিছু হয় যা অবশ্যই বলা উচিত যেমন ভাল কাজের নির্দেশ দেয়া , খারাপ কাজ করতে মানা করা |
এতে তার উপকারই করা হলো |
জেনে রাখো এমন বন্ধু কখনোই পাবে না , যার কোন দোষ নেই |
তাই এমন বন্ধু খুঁজবে যার দোষের থেকে গুণ বেশী |
যদি তুমি নিজের দোষ - গুণ বিচার করার চেয়ে অন্যের সমালোচনা বেশী করো , তাহলে আল্লাহর এই বাণী তোমার জন্য প্রযোজ্য হবে : |
যারা লোকের কাছ থেকে ওজনকালে পুরো মাপে নেয় , কিন্ত্ত যখন তাদের জন্য ওজন করে তখন মাপে কম দেয় (সুরা মুতাফফিফিন ; ৮৩ : ২-৩ ) |
বিনা দরকারে তর্ক - বিতর্ক করা দুই ভাইয়ের মধ্যে ঘৃণা ও হিংসা সৃষ্টির অন্যতম কারণ |
তখন দুই পক্ষই নিজেকে অন্যের থেকে সেরা ও বেশী বুদ্ধিমান প্রমাণ করতে চায় , অন্যের সম্মান নষ্ট করতে চায় |
যে ঝগড়া করা বেছে নেয় , সে তার ভাইকে বোকা ও অযোগ্য প্রমাণ করতে চায় - আর এসবই হলো অন্যের সম্পর্কে মিথ্যা বলা |
এতে মন উত্তেজিত হয় ও একে অন্যকে ঘৃণা করে |
এসব হলো ভ্রাতৃত্ববোধের বিপরীত |
ভ্রাতৃত্ববোধের দাবী হলো যা বলা উচিত না , তা যেমন বলবে না তেমনি, যা বলা উচিত তা বলবে |
এটাই হলো ভ্রাতৃত্ববোধের অধিকার , কেননা যে বোবার বন্ধু হতে চায় , সে কবরস্থানে যাবে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.