content
stringlengths
0
129k
আনাস বিন মালিক رضي الله عنهم বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم কখনো টেবিলে বসে বা একাকী প্লেটে কিছু খান নি
তিনি আমৃত্যু চিকন, ভালভাবে ভাজা রুটি কখনো খান নি ( সহীহ বুখারী )
ছাত্ররা ঘুমের সময় কমাবে এতদূর পর্যন্ত যেন শরীর - মনের ক্ষতি না হয়
আট ঘন্টার বেশী তার ঘুমানো উচিত না
সারাদিনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় এটি ও যদি সম্ভব হয় সে আরো কম ঘুমাবে
আস যারলুমি رضي الله عنهم বলেন: আল হাসান বিন যিয়াদ আশি বছর বয়সে পড়াশোনা শুরু করেন
এর পরের চল্লিশ বছর তিনি সারা রাত বিছানায় ঘুমান নি
মুহাম্মদ বিন আল হাসান আশ সায়বানী (রহঃ) রাতে একদমই ঘুমাতেন না
তিনি নিজের সামনে অনেক বই রাখতেন
যদি কোন বই পড়তে পড়তে বিরক্তি বোধ করতেন, তাহলে অন্য বই নিয়ে পড়তে শুরু করতেন
তিনি সামনে পানি রাখতেন ঘুম তাড়ানোর জন্য, বলতেন: ঘুম আসে গরম থেকে আর একজন শীতল পানি দিয়ে ঘুম তাড়াবে
আবু হুরায়রা رضي الله عنهم বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ ঘুমাতে যায়, তখন শয়তান তার ঘাড়ে তিনটি বাঁধন দেয় এই বলতে বলতে যে -তোমার সামনে অনেক লম্বা রাত রয়েছে, তাই ঘুমাতে থাকো
কেউ যখন জেগে উঠে আল্লাহর নাম নেয়, তখন একটি বাঁধন ঢিলা হয়
সে যদি উযু করে, তখন দুইটি বাঁধন ঢিলা হয়
সে যদি সালাত আদায় করে তাহলে সব বাঁধন ঢিলা হয়ে যায় ও সকালে সে ভাল মেজাজে থাকে ও কাজ করতে পারে
তা না হলে সে খারাপ মেজাজে থাকে ও সকালে অলসতা বোধ করবে ( বুখারী ও মুসলিম )
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ رضي الله عنهم বলেন, এক লোকের কথা বলা হয়েছিল যে সকাল হওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়েছিল
রাসূল صلى الله عليه وسلم এ নিয়ে বলেছেন, এমন মানুষের কানে শয়তান পেশাব করে ( বুখারী ও মুসলিম )
আল্লাহ সঠিক পথের মানুষদের প্রশংসা করেছেন, তারা ভাল কাজ করে বলে উল্লেখ করেছেন - সেটা হলো তারা রাতে কম ঘুমায় ( সূরা যারিয়াত; ৫১: ১৫-১৯ )
ইবনে কাসির رضي الله عنهم বলেন, আল্লাহ যে বলেছেন " তাদের রব যে সম্পদ দান করেছেন, তারা তা উপভোগ করবে " - যেহেতু তারা সঠিক পথের মানুষ ছিল,তারা বেহেশতে রবের দেয়া সব ধরণের আনন্দ, রহমত ভোগ করছে
আল্লাহর এই কথা ' অবশ্যই তারা ছিল ' বোঝাচ্ছে দুনিয়ার জীবনের কথা
তারা ' ভাল কাজ করে ' বলতে বোঝানো হয়েছে যা সূরা হাক্কাতেও বলা হয়েছে " পানাহার করো তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে ( ৬৯: ২৪ )
আল্লাহ বলেছেন তারা কী ভাল কাজ করতো - 'রাতে তারা কম ঘুমাতো '
ইবনে জারীর আল বাসরী বলেন: তারা ইবাদতের জন্য রাত জাগে ও ' খুব কমই ঘুমায় '
আল হাসান আল বাসরী (রহঃ) বলেন: তারা রাত জেগে ইবাদত করে ও খুব অল্প সময় ঘুমায়
এরপর সামর্থ্য থাকলে তারা ইসতিগফার করে ভোর হওয়া পর্যন্ত
আশ সাদী رضي الله عنهم বলেন, তারা ভাল কাজ করতো, খুব কম বিশ্রাম নিত ও ঘুমাতো
রাতে বেশীরভাগ সময় তারা রবের প্রতি মনোযোগী থাকে - সেটা হয় সালাত, নয়তো কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দুআ, আল্লাহর কাছে বিনীত হওয়া ইত্যাদি
শেষ রাতে তারা আল্লাহর কাছে মাফ চায় যেন তারা সকাল না হওয়া পর্যন্ত ইবাদত করে যেতে পারে
এরপর তারা রাতের ইবাদত শেষ করে ইসতিগফার করে - ইসতিগফার হলো পাপের জন্য তওবাহ করা
যে জ্ঞানের সন্ধান করছে, বেশী ঘুম তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য না
তারা এ থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকবেন
তারা চিন্তাশীল ও নিবেদিতপ্রাণ হবেন
যত ভাল কাজই তারা করুন না কেন, তাতে তারা সন্তুষ্ট হবেন না যতক্ষণ না বেহেশতে যেতে পারছেন
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে
আন -নাওয়ায়ী বলেন, কেউ কিছু বলতে চাইলে সেটাই বলবে যা ভাল, প্রশংসার যোগ্য; ফরয বা যা বলতে সুপারিশ করা হয়েছে
এমন কিছু সে বলবে না যা বলা নিষেধ, অপছন্দীয় বা বলার অনুমতি আছে - তবে এসবই এক
এসব ক্ষেত্রে যা বলার অনুমতি আছে সেটা বলবে না এই ভয় থেকে যে, তা হয়তো নিষিদ্ধ বা অপছন্দীয় কথাবার্তার দিকে নিয়ে যাবে - এমনটি ঘটে
উপরের হাদীসের আলোকে ইমাম শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, তুমি যদি কিছু বলতে চাও, তবে আগে চিন্তা করো
যদি মনে করো এতে কোন ক্ষতি নেই, তাহলে তা বলো
যদি মনে করো এটা বললে ক্ষতি হবে, তাহলে চুপ থাকো
ইবনে হাজার رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم অল্প কথায় এই হাদীসে অনেক কিছু বুঝিয়েছেন
কথা হয় ভাল বা খারাপ বা এই দুইয়ের যে কোন একটির দিকে হেলে থাকে
ভাল কথার অন্তর্ভূক্ত হলো যা ফরয বা সুপারিশ মুলক
রাসূল صلى الله عليه وسلم এটা বলতে বা যে কথা এদিকে নিয়ে যাবে তা বলার অনুমতি দিয়েছেন, যদিও এটা অনেক রকমের হয়
খারাপ কথা বা যা খারাপ কথার দিকে নিয়ে যাবে, তা বলতে রাসূল صلى الله عليه وسلم মানা করেছেন
ইবনে আল বার رضي الله عنهم বলেন, জ্ঞানীরা যে সব পরীক্ষার মুখোমুখি হোন তার একটি হলো, তিনি শোনার চেয়ে কথা বলতে বেশী পছন্দ করেন
ইয়াযিদ বিন আবু হাবিব বলেন: শোনা হলো নিরাপদ ও তা একজনের জ্ঞান বাড়ায়
যে শুনে সে বক্তার অংশীদার
কথা হলো দ্বিধা ও প্রতারণা, বাহুল্য ও অভাববোধের সমন্বয়
যে কথা বলে সে ফিতনার অপেক্ষায় থাকে; যে শুনে সে ক্ষমার অপেক্ষায় আছে
আবু আদ যিয়াল বলেন: চুপ করে থাকতে শিখো যেভাবে তুমি কথা বলতে শিখেছো, কেননা যদি কথা তোমাকে পরিচালিত করে, তবে নীরবতা তোমাকে বাঁচাবে
চুপ থাকলে তুমি দুইটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করবে: তোমার থেকে যারা বেশী জ্ঞানী তাদের থেকে তুমি জ্ঞান নিতে পারবে; আর তোমার থেকে যে অজ্ঞ, তার অজ্ঞতা তুমি নেবে না
ভাল কথা বলা সওয়াবের কাজ ও নীরবতা থেকে উত্তম
কেননা, নীরবতা সবচেয়ে ভাল জিনিষ যা দিতে পারে তা হলো নিরাপত্তা আর ভাল কথা বললে তুমি অতিরিক্ত কিছু পাবে
বলা হয় - ভাল কথা যে বলে সে জয়ী হলো; যে চুপ থাকে সে নিরাপদ থাকলো
জ্ঞান নিয়ে কথা বলা সবচেয়ে ভাল কাজগুলির অন্তর্ভূক্ত
এটি যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের একই স্তরের - যদি তা অজ্ঞতা দূর, আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও যা বলা হয়েছে তার যথার্থ মানে আবিষ্কারের জন্য করা হয়
সালমান رضي الله عنهم এর কাছে এক লোক এসে বললো: আমাকে উপদেশ দিন
তিনি বললেন, কথা বলবে না
লোকটি বললো: যে মানুষের মধ্যে থাকে, তার জন্য কথা না বলা অসম্ভব
সালমান رضي الله عنهم জবাব দিলেন, তাহলে তুমি যখন কথা বলবে,তখন যা ঠিক তাই বলবে
তা নইলে চুপ থাকবে
লোকটি বললো, আরো কিছু বলুন
সালমান رضي الله عنهم বললেন, রাগ করবে না
লোকটি জানালো, আপনি আমাকে বলছেন রাগ না করতে কিন্তু আমি মাঝেমাঝে খুব রেগে যাই আর কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারি না
সালমান رضي الله عنهم বললেন, তাহলে যখন তুমি রাগ করো, কমপক্ষে তোমার জিহবা ও হাতকে সংযত রেখো
লোকটি বললো, আমাকে আরো বলুন
সালমান رضي الله عنهم বললেন, মানুষের সাথে মিশবে না
লোকটি বললো, মানুষের মধ্যে যে বাস করে, সে তাদের সাথে মিশতে বাধ্য
সালমান رضي الله عنهم জবাব দিলেন, তাহলে তুমি ওদের সাথে মেশার সময় সত্য বলবে ও কথা দিলে কথা রাখবে
আবু হারান আত তারমী বলেন, এটা বলা হয় যে মানুষ কোথায় তার পা রাখছে, সেটা থেকেও সে বেশী সতর্ক হবে সে কী বলছে তা নিয়ে
এটা এজন্য যে, জিহবা ও অতিরিক্ত কথা বিশ্বাসীদের জন্য বিপদজনক
জিহবার ফাঁদ অনেক ও এসব হচ্ছে মৃত্যুফাঁদ
এর যে কোন একটি সারাজীবন ধরে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট বিপদজনক
তবে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে পরীক্ষা করেন অশুভ থেকে কল্যাণকে আলাদা করার জন্য
জিহবার পাপ :
ইবনে কুদামাহ رضي الله عنهم বলেন , জিহবার পাপ অনেক
এই পাপ মানুষের মন থেকে তার স্বভাবে বিকশিত হয়
এই বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো চুপ থাকা
আবু আদ দারদা رضي الله عنهم বলেন , মুখের চেয়ে তোমার কান বেশী ব্যবহার করো
তোমাকে কান দেয়া হয়েছে দুইটি ও মুখ দেয়া হয়েছে একটি যেন তুমি কথা যা বলো , তার থেকে বেশী শুনো
মাখলাদ বিন আল হুসাইন বলেন , ৫০ বছরে আমি এমন একটা কথাও বলি নি যাতে অনুতাপ করতে হয়
জিহবার পাপগুলি হলো :
এমন কিছু নিয়ে কথা বলা যার সাথে ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই :
যে সময়কে মুল্য দেয় , সে এমন কিছুতে তা নষ্ট করবে না , যা তার কোন উপকারে আসবে না
এই উপলব্ধি একজনকে তার জিহবাকে সংযত করতে বাধ্য করে
যে এসব অনর্থক কাজে সময় অপচয় করে ও আল্লাহর স্মরণ থেকে নিজেকে দূরে রাখে , তার তুলনা হলো - দামী রত্ন কেনার সামর্থ্য থাকার পরেও কাদামাটি কেনা - এটা জীবনের একটা বড় ক্ষতি
লুকমান رضي الله عنهم কে প্রশ্ন করা হয়েছিল , আপনি কিভাবে এত জ্ঞানী হলেন ? তিনি বলেছিলেন , আমার যা দরকার নেই , তা আমি চাই না ; যার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই সে বিষয়ে আমি কথা বলি না
বলা হয় যে লুকমান رضي الله عنهم একবার দাউদ আলাইহিস সালামের কাছে গিয়েছিলেন
তিনি তখন বর্মগুলি গুছিয়ে রাখছিলেন
লুকমান رضي الله عنهم অবাক হয়ে তা তাকিয়ে দেখলেন
তার জানতে ইচ্ছা হচ্ছিলো এ নিয়ে কিন্ত্ত তার প্রজ্ঞা তাকে বাধা দিল
দাউদ আলাইহিস সালাম বর্ম পরে বললেন , যুদ্ধের জন্য এটা কেমন চমৎকার ?
লুকমান رضي الله عنهم বললেন , নীরবতা আসে জ্ঞান থেকে আর খুব কম মানুষই এর চর্চা করে
মিথ্যা বলা :
মিথ্যা অনেক রকমের
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , অবশ্যই দাস এমন একটা মাত্র কথা বলতে পারে যা তাকে আগুনের এত নীচে ফেলবে , যেটার গভীরতা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব যত , ততটুকু ( বর্ণনায় ইমাম বুখারী ,ইমাম মুসলিম ; সূত্র আবু হুরায়রা )
এর সাথে তুলনীয় আরেকটি বিষয় হলো : কেউ কারো সাথে তর্ক করতেই থাকে এজন্য যে , অন্যের দোষ সবার সামনে তুলে ধরবে ও সবার মনোযোগ নিজের দিকে আকর্ষণ করবে
একজন তার জিহবা দিয়ে যা খারাপ তা করতে মানা করবে ও স্পষ্ট বোঝাবে কোনটা ভাল