content
stringlengths
0
129k
তার থেকে এটা যদি গ্রহণ করা না হয় , তবে সে তর্ক এড়িয়ে যাবে
সে এমন করবে যদি তা ধর্ম নিয়ে কিছু হয়
যদি দুনিয়াদারীর কোন বিষয় হয় , তবে তর্কের কোন কারণ থাকতে পারে না
এই বিষয়ে সফল হতে হলে অহংকারবোধ , যে জন্য অন্যের চোখে আমরা ভাল হতে চাই , তা দূর করতে হবে
তর্ক করার থেকে খারাপ হলো লড়াই আর ঝগড়া করা
যে বিষয়ে জ্ঞান নেই , তা নিয়ে ঝগড়ার কথা এখানে বোঝানো হচ্ছে
যার যুক্তি দেখানোর যোগ্যতা আছে , সেও এটা এড়িয়ে চলবে ; কেননা এটা মনে ক্ষোভ ও হিংসার জন্ম দেয় , রাগ বাড়ায়
ফলে মানুষ একে অন্যকে অসম্মান করে
অতিরিক্ত অলংকারবহুল বাচনভঙ্গী :
এটি তখন প্রযোজ্য যখন অতিরিক্ত অলংকারবহুল কথা আন্তরিকতা ছাড়া বলা হয়
মানুষকে ভাল কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কোন খতীব বা অন্য কারো সুন্দর ভঙ্গীর কথা এর অন্তর্গত না
মূল কথা হলো , বক্তব্য যেন সহজ হয় ও মনকে উদ্বুদ্ধ করে
অশোভন ও মানানসই নয় , এমন কথা বলা :
কেউ যখন মানানসই বা যথাযথ না এমন কথা স্পষ্ট ও সরাসরি বলে - যা অনেক সময় গানের মধ্যে করা হয়
* রসিকতা - যদি সত্য হয় তবে রসিকতা নিষিদ্ধ না ; কেননা রাসূল صلى الله عليه وسلم কখনো কখনো কৌতুক করতেন ও সত্য ছাড়া কিছু বলতেন না
ঠাট্টার ছলে বলা সেই কথা সবসময়ই নীচের শর্ত পূরণ করতো : সত্য বলা ; নারী , শিশু ও দূর্বল পুরুষদের সাথে বলেছিলেন , যাদের মানসিক অবস্থার প্রেক্ষিতে একটু হালকা কথা বলা দরকার ছিল - তিনি সবসময় নয় বরং খুব কমই এটা করেছেন
* কাউকে উপহাস করা ও তার মর্যাদা নষ্ট করা :
কারো দোষ প্রকাশ করে তাকে উপহাস করলে তার সম্মান নষ্ট করা হয়
এটা সরাসরি কোন কথা বা কাজ দিয়ে করা হয় অথবা পরোক্ষভাবে তার দোষ তুলে ধরা হয়
এ দুটোই শরীয়াহতে নিষিদ্ধ
* গোপন কিছু প্রকাশ করা , কথা না রাখা ও মিথ্যা শপথ :
এসব কিছু হারাম - ব্যতিক্রম হলো স্ত্রীর মন রক্ষায় ও যুদ্ধের সময় মিথ্যা বলা যায়
* পরনিন্দা : কারো সম্পর্কে তার অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা যা সে শুনলে পছন্দ করতো না
যেমন , তার কোন শারীরিক খুঁতের বর্ণনা দেয়া যে সে বেশী লম্বা , বেঁটে , মোটা , টাক মাথা , তার চোখ ট্যারা বা সে অন্ধ ইত্যাদি
তার পরিবারকে হেয় করে কিছু বললে যেমন তারা তেমন অভিজাত না ইত্যাদি
তার স্বভাব নিয়ে কিছু বললে যেমন সে বদমেজাজী
তার পোশাক নিয়ে কিছু বলা যেমন সে ময়লা বা কম দামী কাপড় পরে বা মাপমতো কাপড় পরে না ইত্যাদি
এসবের পক্ষে প্রমাণ হলো : রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছে গীবত নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল
তিনি বলেন : এটা হলো তুমি তোমার ভাইকে নিয়ে এমন কথা বললে যা সে পছন্দ করে না
তাকে বলা হলো , যদি এমন হয় যা বলেছি সে তাই ? তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم বললেন , তুমি যা বললে সে যদি তাই হয় , তবে তা গীবত
আর যদি সে তা না , তবে তুমি অপবাদকারী ( বর্ণনায় মুসলিম , দাউদ , তিরমিযী )
কারো মর্যাদা নানাভাবে নষ্ট করা হতে পারে - কথা দিয়ে , চোখের ইশারায় , আঙুল তুলে দেখানো বা লেখার মধ্য দিয়ে - কলম হলো তোমার দুইটি জিহবার একটি
সবচেয়ে জঘন্য গীবত হলো মিথ্যা ধার্মিকদের গীবত
যখন কারো কথা বলা হয় , তারা বলে : আল্লাহকে ধন্যবাদ যে আমরা তার মতো নির্লজ্জ না বা আল্লাহ আমাদের মাফ করুন
এটা এজন্য যে তারা অন্য মানুষের সম্মান নষ্ট করার পাশাপাশি নিজেদের নিয়ে অহংকার করছে
এদের মধ্যে কেউ এমনো দুআ করে : আহা , এই বেচারা অনেক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে
আল্লাহ তাকে ও আমাদেরকে মাফ করুন
এভাবে সে মনের আসল ভাব লুকিয়ে রাখে
জেনে রাখো , যে গীবত শুনে সেও গীবতকারীর সাথী হলো
যদি সে গীবতের বিরুদ্ধে কিছু না বলে তবে সে এই পাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারলো না
যদি সে গীবতকারীর সামনে প্রতিবাদ করতে ভয় পায় , তবে কমপক্ষে সে মন থেকে গীবতকে ঘৃণা করবে
সম্ভব হলে সে ঐ জায়গা থেকে চলে যাবে বা আলোচনার বিষয় বদলে ফেলবে
কারো গোপন কথার প্রচার :
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , মানুষের গোপন কথা যে ফাঁস করে , সে বেহেশতে যাবে না ( বর্ণনায় হুদাফা )
এতে একের বেশী মানুষ জড়িত হয়ে পড়ে
কেননা তুমি কাউকে বললে ,অমুক তোমাকে নিয়ে এই কথা বলেছে - তখন এটা শুধু এর মধ্যে সীমিত থাকে না
বরং এটা এমন বিষয় ফাঁস করে , যা হওয়া উচিত ছিল না
এটা হতে পারে কথা বা কোন কাজ
এমন কী , তুমি যদি দেখো কেউ তার নিজের টাকা গর্তে ঢুকিয়ে রাখছে আর তুমি সেটা অন্যকে বলো , সেটা হবে কথা লাগানো
এ ধরণের কথা যে শুনবে - অমুক তোমার সম্পর্কে এই কথা বলেছে বা তোমার বিরুদ্ধে এই করেছে , তার উচিত হবে নীচের ছয়টি কাজ করা
১. যা শুনবে তা বিশ্বাস না করা
কেননা , যে কথা লাগায় সে পাপী ও তার কথা অস্বীকার করতে হবে
২. সে তাকে উপদেশ দিবে ও এই কাজ করতে মানা করবে
৩. সে আল্লাহর জন্য এই পাপীকে ঘৃণা করবে ; কেননা আল্লাহ একে ঘৃণা করেন
৪. একজন তার অনুপস্থিত ভাই সম্পর্কে খারাপ কোন ধারণা করবে না
৫. সে গোয়েন্দগিরি করবে না
৬. অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না ; কেননা আল্লাহ বলেন : তোমরা একে অপরের গোপনীয় তথ্য খুঁজবে না ( সুরা হুজুরাত , ৪৯ : ১২ )
সে অন্যকে যা করতে মানা করেছে , সেটা সে নিজেও করবে না ; এর মানে সে যা শুনেছে তা অন্য কাউকে বলে বেড়াবে না
দুইটি জিহবা থাকা :
এটি ঘটে তখনই যখন , দু'জন শত্রুর মধ্যে একের কথা কেউ অন্যজনকে লাগায়
তাদের কারো কাছে গিয়ে সেটাই বলে, যা সে শুনতে চায় অথবা যাকে সাহায্য করবে বলে কথা দেয় বা সামনাসামনি তার প্রশংসা করে , কিন্ত্ত অন্য পক্ষের সামনে তার সম্মান নষ্ট করে কথা বলে
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , সবচেয়ে খারাপ লোক হলো দুই মুখের লোকেরা যারা কারো কাছে একরকম চেহারা নিয়ে যায় ,আবার অন্যের কাছে অন্যভাবে যায় ( বর্ণনায় আবু হুরায়রা ; বুখারী ও মুসলিম শরীফ , দাউদ )
মানুষের প্রশংসা করা :
যে প্রশংসা করে ও যার প্রশংসা করা হয় , তাদের দুজনেরই ক্ষতি হয়
যে প্রশংসা করে তার পাপ হলো , সে যা বলে তা সত্য নাও হতে পারে ও তা নিশ্চিত করা যায় না
যেমন , সে বললো অমুক দুনিয়াদারির ভোগ - বিলাস থেকে দূরে থাকে
প্রশংসা করতে গিয়ে মাত্রা ছাড়িয়ে সে এমন কথা বলতে পারে, যা মিথ্যার পর্যায়ে চলে যায়
সে যার সম্পর্কে বলছে সে হয়তো তিরস্কারের যোগ্য
যার প্রশংসা করা হয় , সে অহংকারী বা উদ্ধত হয়ে উঠতে পারে
এ দুটিই খুব ক্ষতিকর
এটা হয় কেউ যদি ধর্ম বিশেষ করে মহান আল্লাহ সম্পর্কে মারাত্মক কোন ভুল করে ফেলে
তাই ছাত্ররা জিহবা সংযত করবে , সময় বাঁচাবে , সত্য নিয়ে ব্যস্ত থাকবে , সামান্য বিষয়ে সময় নষ্ট করবে না , গঠণমূলক কিছু না করে জীবনটা অনর্থক পার করবে না
সেই সঠিক পথে পরিচালিত হয় যাকে আল্লাহ পথ দেখান
...
1 ...
29, 2013
:
29, 2013
অত্যন্ত উপকারী, প্রয়োজন প্রয়োগ ও প্রচার
...
29, 2013
:
29, 2013
৬. সঠিক বন্ধু বেছে নেয়া ও সামাজিকতা কমানো :
মানুষের সাথে মেলামেশা ও নির্জনতায় থাকা নিয়ে সবসময় মতভেদ দেখা দিয়েছে
কারো মত হচ্ছে মানুষের সাথে সবসময় মেলামেশা করা উচিত ; কারো মত হলো মানুষের ভীড় থেকে সবসময় নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে - যে যার মত নিয়ে খুশী
শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ رضي الله عنهم এই বিতর্ক নিয়ে বলেন : মানুষের সাথে মেলামেশা কখনো বাধ্যতামূলক , কখনো তা করতে সুপারিশ করা
একজন কখনো কখনো অন্য মানুষের সাথে মিশতে বাধ্য , অন্য সময়ে সে তাদের থেকে দূরে থাকতেও পারবে
ভাল কাজে ও ধর্মীয় ব্যপারে মানুষকে ভাল কাজে উৎসাহ দেয়ার জন্য তাদের সাথে মিশতে হয়
আবার কোন খারাপ কাজে সাহায্য করার জন্য তাদের সাথে মেলামেশা করা যাবে না
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত , ঈদ ও জুমআহ সালাত , চন্দ্রগ্রহণ , সূর্যগ্রহণের সময়কার সালাত , ইসতিকার সালাত (বৃষ্টির জন্য দুআ ) ইত্যাদি ইবাদত যা সবাই মিলে করে , সেগুলিতে অংশ নিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم আদেশ দিয়েছেন
একইভাবে হজ্জের সময় মানুষের সাথে মেলামেশা , অবিশ্বাসীদের সাথে যেমন খাওয়ারিয ও বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধের সময় অংশগ্রহণ যদিও নেতা ও তার অনুসারীরা দূর্নীতিগ্রস্থ হয়