content stringlengths 0 129k |
|---|
যেমন রূপ তেমন গুন যেন কোনটারই কোন অভাব নাই |
বাড়িতে প্রায়ই বিয়ের জন্য ঘটক আসে কিন্তু প্রিয়তার বাবা রাজি নন, মেয়েকে শিক্ষিত না করে বিয়ে দিবেন না |
মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে, মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান... |
প্রিয়তার কাছেও কম প্রপোজাল আসে নি সেই ক্লাস টেন থেকেই প্রেমের অনেক চিঠি পেয়েছে |
কলেজের ফ্রেন্ড, সিনিয়র ভাই এমনকি আশেপাশের এলাকার ছেলেরা ও প্রিয়তার প্রেমে পাগল প্রায় |
প্রিয়তার বান্ধবীদের দিয়ে অনেকেই অনেকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে, চিঠি লিখে পাঠিয়েছে কিন্তু প্রিয়তা গ্রহণ করে নি |
প্রিয়তা নিজেও অনেকবার ইভটিসিং এর স্বীকার হয়েছে তবে কাউকে কখনো বকা দেয়া বা রাগ দেখিয়ে খারাপ ব্যবহার করে নি বরং সবাই কে বুঝিয়ে চুপচাপ নিজের মতো চলেছে |
বাড়ি থেকে বের হলেই রাস্তায় নানা বাজে কথা শুনতে হয়েছে, প্রেম পত্র পেয়েছে সে কাউকে পাত্তা না দিয়ে বিষয় গুলো এড়িয়ে গেছে |
প্রিয়তা মনে করে বিয়ে জীবনে একবার ই হবে আর কার সাথে হবে তা মহান আল্লাহ আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন |
কার ভবিষৎতে কি হবে তা কেউ বলতে পারবে না আল্লাহ যার কপালে যা লিখে রেখেছেন তাই ই হবে |
প্রেম ভালোবাসা হল পবিত্র জিনিস যা যে কোন মানুষকে দেয়া যায় না |
আর বিয়ের আগে এসব প্রেম ভালোবাসা সবই মূল্যহীন আর তাই এসব প্রেম বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই... |
একদিন কলেজে যাওয়ার পথে পাশের গ্রামের এক বখাটে ছেলে সোহেল তার সাথে গুন্ডা মতন কিছু পোলাপান নিয়ে প্রিয়তাকে বাজে বাজে কথা বলে, টিস করতে থাকে |
এই ছেলেগুলো কে প্রায়ই রাস্তায় মেয়েদের উত্যক্ত করতে দেখা যায় |
এমনকি এর আগেও সোহেল প্রিয়তাকে ডিসটার্ব করেছে, প্রেমের চিঠি দিয়েছে |
এসব জানার পরও প্রিয়তা কিছু বলে নি |
সবটা সহ্য করছে |
কিন্তু আজ অনেক বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলছে |
এদের প্রতিবাদ না করলে এরা অমানুষ ই থেকে যাবে |
দিন দিন মেয়েদেরকে ইভটিসিং এর স্বীকার হতে হবে |
তাই নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে প্রিয়তা তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কটু কথা বলে, সোহেলকে অপমান করে তার গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে তার প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় |
তাদেরকে মানুষ হতে বলে, মেয়েদেরকে যোগ্য সম্মান দিতে বলে সেখান থেকে চলে যায় |
বন্ধুদের সামনে প্রিয়তার থাপ্পড় আর প্রেমের প্রত্যাখ্যান কিছুতেই মেনে নিতে পারে না সোহেল |
বাসায় ফিরে রাগে-ক্ষোভে ফুলতে থাকে আর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে |
কিভাবে প্রিয়তার ক্ষতি করবে, কিভাবে ওকে শাস্তি দিবে এসব নিয়ে ভাবতে থাকে |
সোহেল চেয়ারম্যানের ছেলে হলেও তার স্বভাব খারাপ |
মেয়েদের উত্যক্ত করা, মদ-গাজা খাওয়া সহ অনেক বাজে বাজে কাজ করে বেড়ায় |
এলাকার প্রভাবশালী লোকের ছেলে বলে তাকে কেউ কিছু বলে না, তার সমস্ত অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় বলেই সে আজ মেয়েদের নিয়ে এত বাজে কথা বলার সাহস পেয়েছে |
সবাই মিলে প্রতিবাদ করলে রাস্তাঘাটে চলার পথে আজকে মেয়েরা এভাবে ইভটিসিং এর স্বীকার হতো না, জীবন নাশের ভয় পেত না |
বাড়ি ফিরে প্রিয়তা বার বার সেই ঘটনার কথা মনে করছে আর ভাবছে কাজটা ঠিক হল কি না |
ছেলেটা তো ভালো না যদি ওর কোন ক্ষতি করে দেয়? তবে এই ঘটনার পর সোহেলের একটা উচিৎ শিক্ষার দরকার ছিল |
যা হয়েছে ঠিক হয়েছে ভবিষৎতে আর এমন কাজ করার সাহস পাবে না |
মেয়েদের কে টিস্ করার আগে ২ বার ভাববে, সারাজীবন মনে রাখবে এই অপমানের কথা |
যাই হোক এই ঘটনার পর সে শুধরে যাবে এটাই আশা করে প্রিয়তা |
সামনে এইচ এস সি পরীক্ষা, এই সব কথা না ভেবে পরীক্ষা নিয়ে প্রিয়তা বেশ চিন্তিত |
পরীক্ষায় যেভাবেই হোক ভাল রেজাল্ট করতে হবে |
বাবার অনেক ইচ্ছা প্রিয়তা কে ঘিরে, সেই ইচ্ছা তাকেই পূরণ করতে হবে |
একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরহেজগারী মানুষ হতে হবে |
প্রিয়তার পড়ালেখা, নামাজ কালাম আর হাতের কাজ নিয়ে ব্যস্ততায় কাটে সারাদিন |
বেশ কিছুদিন পর প্রিয়তা ও তার বান্ধবীরা মিলে কিছু নোট সংগ্রহ করবে বলে কলেজে গিয়েছে |
সবাই একসাথে ক্যান্টিনে বসে পড়ালেখা নিয়ে আলোচনা করছে এমন সময় হঠাৎ একটা ছেলে এসে প্রিয়তাকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ ফুলের তোড়া সহ একটা চিঠি হাতে দিয়ে চলে যায় |
প্রিয়তা অবাক, চেনা নাই জানা নাই কোথা থেকে যে আসে এগুলা বলে বিষয় টি এড়িয়ে যায় |
বুঝতে পারে আবারও কেউ তাকে প্রপোজাল পাঠিয়েছে কিন্তু তাতে তার কি সে চিঠিটা খুলেও দেখে না |
টেবিলে রেখেই ওখান থেকে উঠে চলে যায় |
এদিকে নিলয় আঁড়াল থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবটা দেখে আর রাগে কষ্ট পেতে থাকে |
নিলয় এই গ্রামের ই ছেলে |
অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র |
ছেলে হিসেবে খারাপ না একই কলেজে পড়ার সুবিধার্থে প্রিয়তাকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করতো |
কিন্তু কখনও বলতে পারে নি |
ভার্সিটিতে এসে সামনাসামনি প্রপোজ করবে এমনটাই ইচ্ছা ছিল কিন্তু প্রিয়তাকে অনেকেই ডিসটার্ব করে, প্রেমপত্র পাঠায় তাই আর দেরি না করে নিলয় তার ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেয় |
কিন্তু নিলয় ব্যর্থ হয় প্রিয়তা জানতেও পারে না তার মনের কথা |
নিলয় আসলেই খুব ভাল ছেলে |
আর ৫-১০ টা ছেলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা |
সহজ সরল আর বিনয়ী |
রাস্তায় মাঝে মধ্যে প্রিয়তার সাথে দেখা হলেও মুখ ফুঁটে বলে নি কখনো |
চুপচাপ মাথা নিচু করে চলে যেত |
মেয়েদের কে একটু লজ্জা পায় বলতে গেলে |
কিন্তু ভালোবাসা আর ধরে রাখতে পারে না শেষ পর্যন্ত প্রিয়তাকে জানিয়েই দেয় |
আজকের এই ঘটনা নিলয়কে অনেক বেশি যন্ত্রনা দিচ্ছে |
চিঠিটা অন্তত একবার পড়তে পারতো প্রিয়তা |
হ্যাঁ অথবা না বলে দিতে পারতো |
কিন্তু তা না করে চিঠিটা রেখে চলে গেলো |
সে তার ভালোবাসার কথা জানতেও পারল না, নিলয়ের অনুভূতি বুঝলোই না |
কিন্তু না আর এভাবে থাকা যায় না এবার সামনাসামনি গিয়ে প্রিয়তাকে সব কথা খুলে বলতেই হবে |
এরপর যখন দেখা হবে তখন ই সে প্রিয়তাকে প্রপোজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল সেদিনের পর থেকে নিলয় প্রিয়তাকে তার মনের কথা বলার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে |
রাস্তায় প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকে একবার প্রিয়তার সাথে কথা বলবে বলে |
কিন্তু না বেশ কিছুদিন কেটে গেলো প্রিয়তার দেখা পায় না নিলয় |
খুব অস্থিরতায় এভাবে আরও কয়েকটা দিন চলে গেলো |
একদিন ক্লাস থেকে ফেরার পথে রাস্তায় হঠাৎ প্রিয়তার সাথে দেখা হয়ে যায় নিলয়ের |
সাহস করে প্রিয়তাকে ডেকে বলে... |
নিলয় : প্রিয়তা একটু সময় দিতে পারবে ? তোমার সাথে কিছু কথা ছিল ? |
প্রিয়তা : জ্বি বলেন তবে বেশি সময় দিতে পারব না বাসায় গিয়ে নামাজ আদায় করতে হবে |
নিলয় : কেমন আছো প্রিয়তা ? তোমার কি শরীর খারাপ ? |
প্রিয়তা : না তো আমি একদম সুস্থ , ভাল আছি |
হঠাৎ এমন কেন মনে হলো ? |
নিলয় : না আসলে অনেক দিন পর তোমাকে দেখলাম তাই আর কি |
কোথায় ছিলে এতদিন ? |
প্রিয়তা : আপনি কি এতদিন আমাকে ফলো করেছেন ? আমার জন্য এখানে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন নাকি প্রতিদিন ? |
নিলয় : প্রিয়তা অনেক দিন ধরেই ভাবছি তোমাকে একটা কথা বলব কিন্তু তুমি কি ভাবে নিবে, কি মনে করবে আমাকে তাই সাহস করে বলতে পারছি না |
বেশ কয়েকদিন তোমাকে খুঁজেছি কোথাও পাই নি |
তাই আজ আর তোমাকে না আটকিয়ে থাকতে পারলাম না |
প্রিয়তা : ঠিক আছে বলেন কি কথা ! |
নিলয় : ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তা |
অনেক দিন আগে থেকেই পছন্দ করি কিন্তু বলতে পারি নাই |
সেদিন তোমাকে ওই গোলাপ ফুল আর চিঠি আমি পাঠিয়েছিলাম যা তুমি পড়েও দেখ নি |
আর এইজন্যই আমি আজ তোমার সামনে দাঁড়িয়ে বলছি বিয়ে করবে আমাকে ? খুব ভালোবাসি, বিয়ে করতে চাই তোমাকে |
প্রিয়তা : দেখেন আমি প্রেম ভালোবাসা বিশ্বাস করি না |
আর কখনো এসব হবেও না |
তবে কাউকে না কাউকে তো বিয়ে করতে হবে |
আমাকে বিয়ে করতে চান ঠিক আছে আমার বাবাকে প্রস্তাব পাঠান |
কিন্তু তার আগে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, কোরআন পাঠ করেন |
আমি যতদূর জানি আপনি এখনো রোজা রাখতে পারেন না |
নামাজ আদায় করেন না |
সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেন, ক্রিকেট খেলেন |
আগে নিজেকে পরিবর্তন করেন, সময়মত ইবাদাত করেন , সৎ পথে উপার্জন করেন তারপর ভেবে দেখব জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন আপনি? আজ আসি অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে |
প্রিয়তার চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে বাসায় এসে রুমে গিয়েই শুয়ে পড়ল নিলয় |
শুয়ে শুয়ে প্রিয়তার কথাগুলো ভাবছে |
আসলেই তো ঠিকই বলেছে আগে নিজেকে সৎ হতে হবে, আল্লাহর ইবাদাত করে তার দেখানো পথে চলতে হবে |
তবেই তো ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হবে |
প্রিয়তার পরিবার ছেলে হিসেবে মেনে নিবে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.