content stringlengths 0 129k |
|---|
ডকুমেন্টেড হয়ে থাকার মত লেখা |
বলেছেন: |
জুন 19, 2020; 4:17 অপরাহ্ন এ |
. . |
বলেছেন: |
জুন 20, 2020; 2:00 অপরাহ্ন এ |
ছোটমামা .... |
বলেছেন: |
জুন 20, 2020; 9:30 অপরাহ্ন এ |
শিবশঙ্কর, খুব সুন্দর লিখেছ |
এত অল্পকথায় সত্যজিৎ রায়ের অলংকরণ নিয়ে এমন লেখা তোমার পরিমিতিবোধের পরিচয় বহন করে, তোমার অলংকরণে যা সহজেই ফুটে ওঠে |
ছোটদের দৌড়াদৌড়ি কলকাকলিতে কান ঝালাপালা হওয়াই স্বাভাবিক |
কিন্তু তা না-হয়ে ইদানিং চিত্রটা অনেক বদলে গেছে |
সবুজ ঘাসের উপর কচিকাঁচাদের দূরন্তপনা এখন আর চোখে পড়ে কই? মাঠজুড়ে ছুটে বেড়ানো, দৌড়াদৌড়ি করা শিশু-কিশোরদের এখন দেখা মিলে না বললেই চলে |
কবি যথার্থ বলেছেন-'আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা/ তোমাদের যুগে এই বয়সেই লেখাপড়া করো মেলা |
' 'অ্যাক্টিভ হেলদি গ্লোবাল অ্যালায়েন্স'-এর রিপোট বলছে, ডিজিটাল যাপন ক্রমশ বদলে দিচ্ছে শৈশবের সংজ্ঞা |
সার্বিক জীবনযাপনে নগরায়ণের প্রভাব যত গাঢ় হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মন এবং স্বাস্থ্য |
খেলাধুলায় শরীর ও মন ভালো থাকে |
এই আপ্তবাক্যটি এখন আর কাজ দিচ্ছে না |
কারণ এখনকার শিশু, কিশোর-কিশোরীরা খেলার প্রতি তেমন আকৃষ্ট নয় |
স্কুলগুলোতে শিক্ষার অন্যান্য সিলেবাসের সাথে নামকাওয়াস্তে খেলাধুলা কথাটি যুক্ত থাকলেও সেটুকুও হচ্ছে না |
ডিজিটাল মাধ্যমকেই ছোটোরা নিজেদের বিনোদনের সঙ্গী করে নিয়েছে |
তাদের আসক্তি বাড়ছে ডিজিটাল দুনিয়ার উপর |
এতে শৈশব আর থাকল কই? খেলা তো দূরের কথা, তারা খেলার নাম পর্যন্ত জানে না |
চল্লিশ বছর আগের কথা |
তখনকার দিনে শিশু-কিশোররা তাদের পড়াশোনা ঠিক রেখে নানান রকম খেলা খেলত |
এসব খেলাগুলো ছিল গুল্লি খেলা (মার্বেল), দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, লাটিম, ডাংগুলি প্রর্ভতি |
বর্তমানে বড়দের ইচ্ছায় পারিপার্শ্বিক প্রতিযোগিতায় ছোটোদের আঙ্গুল কম্পিউটারের কী বোর্ডে |
কম্পিউটারের গেম, ভিডিও গেম, ইন্টারনেট, গেম-এর আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে হাডুডু, জোড়-বেজোড়, লুডু, ফুলন ফুলন, কানামাছি, টুংডাং, চোর-পুলিশ, যদু-মদু-রাম-শ্যাম প্রভৃতি খেলা |
তারা ভুলে যাচ্ছে আমাদের অতীত ঐতিহ্য-সংস্কৃতি |
সে সময়ে হাফপ্যান্ট পরা ছেলেদের মধ্যে একটি আকর্ষণীয় এবং জমজমাট খেলা ছিল গুল্লিখেলা |
আমাদের গ্রামের আট-নয় বছরের ছেলে নরোত্তম ছিল সেরা গুল্লি খেলোয়াড় |
তাকে খেলায় হারোনোর মতো তিন গাঁয়ে কেউ ছিল না |
যাকে বলে বেস্ট খেলোয়াড় |
সব সময় তার জামার পকেটে, হাফপ্যান্টের পকেটে এমনকি থলিতেও থাকত শত শত মার্বেল |
সকালে বা বিকালে পড়ার ফাঁকে একটু সুযোগ পেলেই সে বেড়িয়ে পড়ত মার্বেল নিয়ে |
কয়েকজনকে ডেকে নিজে থেকেই শুরু করে দিত খেলা |
ফলে অন্যেরাও খেলায় অংশগ্রহণ করত স্বতঃস্ফুর্তভাবে |
এই খেলা নানা ধরনের এবং নিয়মও বিভিন্ন রকমের |
কোনো খেলার নাম থুড়ি, কোথাও দানা (দাইন), আবার কোথাও এর নাম পইট |
ছোটোবেলায় ছেলেদের কাছে ওই খেলাকেই সব থেকে বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে হত |
রাস্তার পাশে বা ফাঁকা মাঠে মাটিতে একটি ছোটো গর্ত করা হত |
একটু দূরে মাটিতে একটি দাগ আঁকা হত কাঠি দিয়ে |
ওই দাগে পা রেখে মার্বেল আস্তে করে ছোড়া হত গর্তের দিকে |
যার মার্বেল গর্তের কাছে গিয়ে থামবে কিংবা গর্তে পড়বে সে হবে 'সেরা' |
দু'জন বা কয়েকজনের মধ্যে সব থেকে আগে মার্বেল মারা সুযোগ পাবে সে |
আগেই ঠিক থাকত ক'টা করে মার্বেল দিয়ে দাইন হবে |
সবার কাছ থেকে কথামত মার্বেল নিয়ে, সব মার্বেল এক হাতে মুঠ করে, ওই দাগটিতে পা রেখে সামনের দিকে মার্বেলগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় |
যেদিকে মার্বেল ছড়িয়ে দেওয়া হয় ওই দিকেও একটি দাগ দেওয়া থাকে |
প্রতিটি মার্বেল সেই দাগ অতিক্রম করতে হবে |
একটা মার্বেলও দাগের ভিতরে দিকে থাকলে সে খেলার সুযোগ হারাবে |
মার্বেল ছড়িয়ে দেওয়ার পর দাগে পা রেখে ছড়িয়ে দেওয়া মার্বেলের যে কোনো অন্য একটি মার্বেল দিয়ে আঘাত করতে হবে |
ঠিকঠাক করতে পারলে দানে সব মার্বেল তার |
কিন্তু একটি মার্বেল দিয়ে অন্য মার্বেলে লাগলেই আঘাত করার পর তৃতীয় মার্বেলে লাগলেই 'ডন' অর্থাৎ যে মেরেছে তার সুযোগ শেষ |
এরপর নিয়মমত অন্যের পালা |
যে ঠিকভাবে মারতে পারবে দানের সব গুলি তার |
অবশ্য সহজে কেউ যেন জিততে না-পারে সেজন্য দাগের কাছাকাছি মার্বেলের গায়ে অন্য একটি মার্বেল রেখে গার্ড বা আড়াল করার সুযোগও রয়েছে |
এক্ষেত্রে অন্য মার্বেল দিয়ে দানের মার্বেলে আঘাত করা সময় কয়েকটি মার্বেলে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে দেওয়া হয় |
মার্বেল দিয়ে আরও অনেক রকম খেলা আছে |
গাপ্পি, পইট- এমন নানা নাম |
ছোটোদের গুল্লি খেলায শামিল হত পাড়ার বড়রাও |
তারা ভিড় করে খেলা দেখতেন, উৎসাহ ও পরামর্শ দিতেন |
ছোটোদের খেলার আঁচ অনুভব করতেন তারাও |
খেলা নিয়ে ঝগড়া-বিবাদও সামাল দিতেন তারা |
এভাবেই গড়ে উঠত বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলাবোধ |
একজোট হয়ে কিছু করার মানসিকতা |
খেলা এবং জেতার মানসিকতা ছোটোদের ছোটো থেকেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মত করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে |
ছোটোদের মনমাতানো খুব সহজ খেলা 'লতা না মাথা' 'জোড়-বেজোড়' |
একটি পয়সার একদিকে থাকত অশোকস্তম্ভ, এই দিকটি হল মাথা |
অন্যদিকে লেখা থাকে কত পয়সা, এটা লতা |
খেলার নিয়ম হল, পয়সাটি হাতে নিয়ে আলতো করে চেপে হাত ঝাঁকাতে হবে |
তাতে বোঝা যাবে না দু'হাতের মাঝে পয়সাটি কীভাবে আছে |
এই অবস্থায় বলতে হবে লতা না শাথা |
পয়সার উপর থেকে হাত সরিয়ে নিলেই বোঝা যাবে মাথা উপরে না লতা উপরে |
বিপক্ষ যদি উত্তর দেয় মাথা এবং হাত সরিয়ে যদি দেখা যায় মাথা উপরের দিকে আছে জিত তার |
এরপর অন্যজনের পালা |
এই খেলার সাথে জড়িয়ে আছে তখনকার বহু স্মৃতি |
অনেক বছর আগে তামার রঙের ২০ পয়সা ছিল |
লতা না মাথার খেলার জন্য ময়লা হয়ে যাওয়া ২০ পয়সা মাটিতে রেখে পায়ের গোড়ালি দিয়ে ঘষে ঘষে চকচক করা হত |
এই পয়সাটি এখন আর দেখাই যায় না |
তবে অনেকেই আছেন যারা একটু অন্যরকম |
তারা এখনও শখের ২০ পয়সাটি বুকে ধরে শৈশবের স্মৃতিপ্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন |
জোড়-বেজোড় একটি সহজ এবং খুবই মজার খেলা |
এই খেলাটি হত সিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি কিংবা তেঁতুলের বিচি দিয়ে |
খেলাটি দ'জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল |
একজন কয়েকটি বিচি হাতে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় রাখত আর অন্যজন বলতে হত জোড় না বেজোড় |
কথামত জোড় বা বেজোড় বলতে পারলে দানে যতগুলো বিচি ধরা আছে সবগুলোই পাবে সে |
আর যদি সে ঠিকঠাক বলতে না-পারে তাহলে দাইনের হিসাবমত গুনে গুনে সমসংখ্যক বিচি তাকে দিতে হত |
আর একটি মজার খেলা নাম কুতকুত |
এই খেলাটি সাধারণত মেয়েরাই খেলত বেশি |
অনেক সময় মেয়েরা সংখ্যায় কম হলে ছেলেরাও তাদের সাথে খেলার সুযোগ পেত |
অবসর হলেই বিকালবেলা যে বাড়ির উঠোনটি বড়, সেই বাড়ির উঠোনেই খেলার ব্যবস্থা হত |
'ঝাড় দেওয়া পরিষ্কার উঠোনের মাটিতে কাঠি দিয়ে আঁকা হয় একটি আয়তক্ষেত্র |
মাঝে একটি লম্বা টান দিয়ে ঘরটিকে সমান দু'ভাগ করা হয় |
এরপর আড়াআড়ি কাঠি দিয়ে দাগ দিয়ে আয়তক্ষেত্রটিকে মোট ছয় ভাগ করা হয় |
খেলা শুরু হয় ঘরের ডানদিক থেকে |
মাটির ভাঙা পাতিলের ছোট্ট এক টুকরোকে ডানদিকের প্রথম ঘরে রাখতে হয় |
এরপর এক পা ভাঁজ করে রেখে আর এক পায়ে পাতিলের টুকরোটি পায়ের আলতো টোকায় দ্বিতীয় ঘরে ঠেলতে হয় |
এরপর নিজেকেও এক লাফে যেতে হবে পরের ঘরে |
আর মুখে বলতে হবে কুতকুত কুতকুত কুুতকুত |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.