content stringlengths 0 129k |
|---|
এই প্রতিসাম্যের ভাঙ্গন কিভাবে ঘটতে পারে সেটাই ১৯৬৪ সালে কয়েকটি জগদ্বিখ্যাত পেপারের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছিলেন পিটার হিগ্স, জেরাল্ড গৌরালিঙ্ক, রিচার্ড হ্যাগেন, টম কিব্বল, রবার্ট ব্রাউট এবং ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলার্টের মত বিজ্ঞানীরা |
সেসব পেপারের মধ্যে রয়েছে রবার্ট ব্রাউট এবং ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলার্টের , জেরাল্ড গৌরালিঙ্ক, রিচার্ড হ্যাগেন এবং টম কিব্বল-এর লেখা , পিটার হিগসের অন্যতম |
সেই সব বিখ্যাত পেপার সার্ণে কাঁচের জারে ঢুকিয়ে দর্শনার্থীদের দেখার ব্যবস্থা করেছে সার্ন কর্তৃপক্ষ |
এতদিন জানতাম জীববিজ্ঞানীরা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস মানুষের মাথা, কিডনী ফরমালিনে ডুবিয়ে জারে রাখার ব্যবস্থা করেন, সার্নের পদার্থবিজ্ঞানীরাও যে জার ব্যবহারে কম যান না তা সেখানে না গেলে জানাই হত না |
আমি জারে উঁকি দিয়ে তুলতে সমর্থ হলাম সেই বিখ্যাত পেপারগুলোর একটা ছবি - |
সে যাক, এখন আমরা দেখি কিভাবে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের সাহায্যে প্রোটন-প্রোটন সংঘর্ষের মাধ্যমে হিগ্স কণার উপস্থিতির কথা জানা গেল |
আগেই বলেছি হিগসের সমুদ্র যদি থেকে থাকে আর সেই সমুদ্র যদি হিগ্স কণাদের দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা দিলে সেখান থেক কিছু কণা বেরিয়ে আসতে পারে |
আটলান্টিক মহাসাগরের নীচে প্রচণ্ড গতিতে দুটো সাবমেরিনের সংঘর্ষ হলে যেমন কিছু পানি ছিটকে চলে আসে উপরে, আর তা দেখে আমরা বুঝি নিশ্চয় পানির নীচে কিছু একটা ঘটেছে |
ঠিক তেমনি ব্যাপার হবে হিগ্স মহাসাগরের ক্ষেত্রেও |
হিগ্স কণা পেতে হলে প্রচণ্ড গতিতে হিগসের সমুদ্রকে ধাক্কা দিতে হবে |
এমন জোরে ধাক্কা দেওয়ার ক্ষমতা এই পৃথিবীতে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার ছাড়া আর কারো নেই |
সেখানে প্রোটনকে আলোর গতির ৯৯.৯৯৯৯৯৯ শতাংশ গতিতে ত্বরান্বিত করা হয় |
আর এভাবে দু দিক থেকে প্রোটনের সাথে প্রোটনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটানোর মাধ্যমে মৌলিক কণা তৈরি করা হয় |
শিক্ষানবিস তার সুবর্ণরেখা ব্লগে সুন্দর একটা উপমা দিয়েছিলো |
"গ্লাস মেঝেতে ফেললে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, যত জোড়ে ফেলা হবে তত বেশি টুকরো হবে |
তেমনি প্রোটনের সাথে প্রোটনের যত শক্তিশালী সংঘর্ষ ঘটানো হবে তত মৌলিক কণার সন্ধান পাওয়া যাবে" |
সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করলেন বিজ্ঞানীরা |
লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে সংঘর্ষের মাধ্যমে ১৪ ট্রিলিয়ন ইলেকট্রন ভোল্টের শক্তি উৎপন্ন হয়, আর সেই শক্তির ধাক্কায় উপপারমানবিক কণিকারা ( ) দিগ্বিদিক হারিয়ে ছুটতে থাকে যত্র তত্র |
সেগুলো আবার ধরা পরে যন্ত্রদানবের ডিটেক্টরগুলোতে |
এভাবেই আটলাস আর সিএমএস ডিটেকটরে ধরা পড়ল মহামান্যবর হিগসের অস্তিত্ব |
হিগসের শক্তি অবশ্য তাত্ত্বিকভাবে হিসাব করা হয়েছিল অনেক আগেই |
গতবছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই বিজ্ঞানীরা জানতেন হিগ্স কণা যদি থেকে থাকে তবে সেটার ভর থাকবে ১১৪ থেকে ১৩১ বিলিয়ন ইলেকট্রন-ভোল্ট (যেটাকে নতুন এককে গিগা ইলেকট্রন-ভোল্ট বা জিইভি বলা হয়) এর মাঝামাঝি জায়গায় |
বিজ্ঞানীদের অনুমান মিথ্যে হয়নি |
প্রোটন নিয়ে গুঁতোগুঁতির ফলাফল সনাক্ত করতে গিয়ে এমন একটা কণা পাওয়া গেল যার শক্তি ১২৫ গিগা ইলেকট্রন-ভোল্টের কাছাকাছি |
হিগ্স কণার যা যা বৈশিষ্ট্য থাকার কথা তা এই ফলাফলের সাথে মিলে যায় (যদিও এটি হিগ্স না হয়ে সম্পূর্ণ নতুন কণিকা হবার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না) |
অধিকাংশ বিজ্ঞানীরাই মনে করেন নীচের ছবিতে ১২৫ জিইভি-র কাছাকাছি যে ঢিপি চোখে পড়ছে সেটা হিগ্স কণার জন্যই হয়েছে |
- . . . . 126.5 . (কৃতজ্ঞতা শিক্ষানবিস). |
এবং এটাই হিগস কণার প্রথম পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ |
সত্যেন বোসের অবদান - পেছন ফিরে দেখা |
প্রবন্ধের এই অংশটা লেখার সাথে একেবারেই সঙ্গতিহীন মনে হবে |
তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণে কিছু অপ্রিয় কথা বলতেই হচ্ছে |
বাঙালি জাতির হুজুগ-প্রিয়তার কথা বোধ হয় সর্বজনবিদিত |
এমনিতে বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারে কারো কোন মাথা ব্যথা আছে এমন নয়, চিরায়ত-ভাবে হাসিনা-খালেদা-রাজাকার-ধর্ম ইত্যাদির বাইরে চিন্তা বা দৃষ্টি খুব একটা অগ্রসর হতে দেখা না গেলেও হিগ্স বোসন কণা নিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড় হবার সাথে সাথে বাঙালি হুজুগের আগুনে যেন ঘি পড়ল |
ঈশ্বর কণা তত্ত্বের আবিষ্কারের পিতা হিসেবে 'সত্যেন বোস'কে আখ্যায়িত করে গগনবিদারী কান্নাকাটির ধূম পড়ে গেল |
কেউ কেউ আরো কিছুটা অগ্রসর হয়ে বলতে শুরু করলেন - সার্নের খ্রিষ্টান -ইয়াহুদি-নাসারা সায়েন্টিস্টরা নাকি বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন বোসের গবেষণা মেরে দিয়ে তাকেই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে |
এমনি একটি লেখা আমার নজরে এলো একটি ব্লগে - |
লেখার শিরোনাম - বা ঈশ্বর কণা ত্বত্বের আবিষ্কারের পিতা সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে এভাবে ভুলে গেল বিজ্ঞানীরা!! |
লেখায় লেখকের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য - |
হিগসের উল্লেখিত ওই কণার চরিত্র সম্পর্কে প্রথম আলোকপাত করেছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু |
দুই বিজ্ঞানীর নামে কণাটির নাম দেওয়া হয় হিগ্স-বোসন |
বা ঈশ্বর কণার তত্বীয় ধারণাটা মূলত আসে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং আলবার্ট আইনস্টাইন এর যৌথ গবেষণা পত্র থেকে |
জার্মানির বিখ্যাত জার্নাল ' ' তে এটা প্রকাশিত হয় |
আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে এই ধারণা মূলত আসে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাছ থেকে |
... এটাই এখন আলোচিত ও বিখ্যাত 'বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব' হিসেবে |
লেখার নীচে মন্তব্য-কারীদের কিছু মন্তব্যের নমুনা - |
শুধু ব্লগ-আর্টিকেল হলেও না হয় কথা ছিলো, অনলাইন, অফ লাইন সব পত্রিকার সম্পাদকীয় কিংবা কলামেও এ ধরণের হাজারো ভুল অনুমানের ছড়াছড়ি |
যেমন, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম নামের পত্রিকাটিতে নতুন বিতর্কে 'ঈশ্বরকণা' শিরোনামের কলামে সাব্বিন হাসান, আইসিটি এডিটর আমাদের জানিয়েছেন - |
...পিটার হিগসের সঙ্গে উপমহাদেশের ভারতীয় বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এ কণার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা দেন |
এ দুই বিজ্ঞানীর নাম থেকেই 'হিগস-বোসন' কণা তত্ত্বের সৃষ্টি |
আজ 'ঈশ্বরকণা' নামে পরিচিত |
আবেগে শুধু এরাই নয়, হয়তো বাঁধ ভাসিয়েছেন অনেক মুক্তমনাও |
আমার শুভানুধ্যায়ী বন্ধু আছেন, চিন্তায় চেতনায় মুক্তমনা |
দিন দুনিয়ার খোঁজ খবর ভালই রাখেন |
তিনি পর্যন্ত হিগ্স নিয়ে মিডিয়া তোলপাড় শুরু হবার কয়দিন পরে তিনি আমায় একটি লিঙ্ক পাঠালেন - ' ,' |
অবশ্য কেউ কোন লিঙ্ক পাঠানো মানেই যে লেখকের বক্তব্যের সাথে তিনি সহমত হবেন তা নয়, আর তাছাড়া এ লেখাটা অবশ্য উপরের বাংলা-ব্লগ লেখকের মত এলেবেলে নয়, কিন্তু মোটা-দাগে বক্তব্য একই |
বোসন কণার সাথে সত্যেন বোসের নাম মিলেমিশে আছে |
যেহেতু এখন 'গড পার্টিকেল' পাওয়া গেছে তাই তিনিই 'ফাদার অব গড পার্টিকেল' |
ইউরোপিয়ানরা তাকে ভুলে গেছে, সঠিকভাবে সম্মানিত করেন নাই |
এখন বাঙালি আবেগের ঘোলা পানিতে সেন্টুওয়ায়ালা মাছ শিকার করতে আমাদের আলু-পত্রিকা নামবে না, তা কি হয় নাকি! ০৫-০৭-২০১২ তারিখে তারা অনলাইন ডেস্কের বরাত দিয়ে প্রথম আলো শিরোনাম করেছে -'উপেক্ষিত বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু' |
এই অভিযোগগুলো সঠিক না ভুল তা জানলে হলে পদার্থবিজ্ঞানে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অবদানের কথা আমাদের ঠিকমত জানতে হবে |
আমার আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী বইয়ে সত্যেন বোসকে নিয়ে পরিশিষ্টে কিছু কথা লিখেছিলাম, সেগুলো পুনরাবৃত্ত করলে হয়তো ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে |
তখন আক্ষরিক অর্থেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'স্বর্ণযুগ' |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের একটি ছোট্ট কক্ষে বসে এ বিভাগের তরুণ শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বসু (সত্যেন বোস হিসেবে পরিচিত) প্ল্যাঙ্ক বিকিরণ তত্ত্বের সংখ্যায়নিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একটি নতুন সংখ্যায়নের জন্ম দেন যা পরবর্তীকালে 'বোস-আইনস্টাইন সংখ্যায়ন' (- ) নামে বিশ্বে পরিচিত হয় |
যেসব কণিকা সমষ্টি এই সংখ্যায়ন মেনে চলে ওদের ধর্ম হলো ভর শূন্য অথবা সীমিত, স্পিন শূন্য বা পূর্ণসংখ্যক- আর এদেরকে এখন বলা হয় বোসন |
বলা বাহুল্য বোসের নামেই এই নামকরণ |
সত্যেন বোস সেসময় দুটি অনুমিতির ভিত্তিতে এই সংখ্যায়ন মাত্র ৪-পৃষ্ঠার এক প্রবন্ধে উপস্থাপন করেন: |
১. আলোক কণিকাসমূহ (ফোটন) পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ অপার্থক্যযোগ্য |
২. এদের দশাস্থানকে নূন্যতম 3 আয়তন বিশিষ্ট অসংখ্য কোষে বিভক্ত - -এ কল্পনা করা যায় |
বোস এ প্রবন্ধটি আইনস্টাইনের কাছে প্রেরণ করেছিলেন তাঁর মন্তব্যের জন্য এবং প্রবন্ধটি প্রকাশযোগ্য হলে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে জার্মানীর কোন গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন (৪ঠা জুন, ১৯২৪): |
"...আপনি লক্ষ্য করবেন, আমি প্ল্যাঙ্কের সূত্রের সহগটি চিরায়ত তাড়িত চৌম্বকতত্ত্ব ব্যবহার না করে নির্ধারণের চেষ্টা করেছি কেবলমাত্র দশাস্থানের ক্ষুদ্রতম আয়তনকে যহ ধরা যায় এই অনুমিতি থেকে |
যথোপযুক্ত জার্মান ভাষা না জানায় প্রবন্ধটি ভাষান্তরিত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় |
আপনি এটি যদি প্রকাশযোগ্য মনে করেন, তবে সাইটশ্রিফট ফুর ফিজিকে (. u ) প্রকাশের ব্যবস্থা করলে বাধিত হব |
আইনস্টাইন কর্ত্তৃক স্বয়ং অনুদিত প্রবন্ধটি " " শিরনামে প্রকাশিত হয় (. u , 24, 178, 1924) |
আইনস্টাইন প্রবন্ধটির শেষে একটি পাদটীকা সংযোজন করেছিলেন যা আজও বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসু পাঠককে চমৎকৃত করে- |
"আমার মতে বোস কর্তৃক প্ল্যাঙ্ক সূত্র নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রধাপ |
এখানে ব্যবহৃত পদ্ধতি আদর্শ গ্যাসের কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রয়োগ করা যায়, যা আমি অন্যত্র বর্ণনা করব |
তা প্ল্যাঙ্ক সূত্র আহরণে কি সে অসঙ্গতি যা নতুনভাবে নির্ধারণ করতে গিয়ে বোস কোয়ান্টাম সংখ্যায়নের জন্ম দান করেছিলেন? এ ব্যাপারে আমাদের আরেকটু পেছনের দিকে যেতে হবে |
১৯০৪ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক তত্ত্বীয়ভাবে 'কৃষ্ণকায়া বিকিরণের' সূত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা পরীক্ষণের ও পর্যবেক্ষণের সাথে সুন্দরভাবে মিলে যায় |
এতদিন সনাতনী তাড়িত-চৌম্বক তত্ত্বের ভিত্তিতে এই বিকিরণের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না |
এই সূত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তিনি দেখলেন যে আলো তাড়িত-চৌম্বক তরঙ্গ হলেও কোন পরমাণু বা অণু কর্তৃক বিশোষণ বা নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় এই তাড়িত-চৌম্বক শক্তি অবিরত ধারায় শোষিত বা নিঃসৃত না হয়ে গুচ্ছে গুচ্ছে শোষিত বা নিঃসৃত হয় |
এখান থেকেই কোয়ান্টাম তত্ত্বের জন্মমুহূর্ত হিসেব করা যেতে পারে |
পরিস্থিতিটা বিবেচনা করা যাক, প্ল্যাঙ্কের দৃষ্টিতে, একটি কৃষ্ণ-বিবরের গাত্র থেকে ক্রমাগত প্ল্যাঙ্ক কল্পিত স্পন্দকসমূহ কর্তৃক গুচ্ছ তাড়িত-চৌম্বক শক্তি শোষিত এবং নিঃসৃত হচ্ছে; ফলে বিবরের অভ্যন্তরস্থ বিকিরণ একটি তাপীয় সুস্থিতিতে রয়েছে এবং এই বিকিরণ তাড়িত-চৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে বিবর অভ্যন্তরে স্থির-তরঙ্গ প্যাটার্ন রচনা করছ... |
প্ল্যাঙ্ক তার স্পন্দক নিঃসৃত বিকিরণ শক্তির গড় মান নির্ধারণ করলেন এবং কম্পাঙ্ক বিস্তারে স্থির তরঙ্গের প্যাটার্ন থেকে কম্পনের প্রকার সংখ্যা বের করলেন |
এই প্রকার সংখ্যাকে গড় নিঃসৃত শক্তি দিয়ে গুণ করলেই বেরিয়ে আসে প্ল্যাঙ্কের বিকিরণসূত্র |
সুতরাং দেখা যাচ্ছে শোষণ ও নিঃসরণকালে বিকিরণকে গুচ্ছ গুচ্ছ শক্তি কণিকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে , অন্যদিকে বিবর অভ্যন্তরে একে তরঙ্গ রূপে বিবেচনা করা হচ্ছে |
এটিই হলো সত্যেন বোসের দৃষ্টিতে প্ল্যাঙ্কের নির্ধারণ পদ্ধতির অসঙ্গতি; অবশ্য এ অসঙ্গতি আইনস্টাইনের চোখেও ধরা পড়েছিল |
সত্যেন বোসের কৃতিত্ব হলো বিশুদ্ধ ফোটন কণিকার বন্টণবিন্যাসের সংখ্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে প্ল্যাঙ্কের সূত্রের প্রতিষ্ঠা করলেন যা প্ল্যাঙ্কের অসঙ্গতি হতে সম্পূর্ণ মুক্ত |
এ প্রবন্ধটি সম্পর্কে আইনস্টাইন তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সত্যেন বোসকে লেখা একটি চিঠিতে : |
"আমি আপনার প্রবন্ধটি অনুবাদ করে সাইটশ্রিফট ফুর ফিজি'কে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছি |
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অবদান বলে মনে করি যা আমাকে খুশি করেছে |
আপনিই প্রথম 'উৎপাদকটিকে' কোয়ান্টামতত্ত্ব থেকে নির্ধারণ করেছেন, অবশ্য পোলারায়ন উৎপাদক সম্বন্ধে যুক্তি অতটা শক্তিশালী নয় |
এটি প্রকৃতপক্ষেই একটি উৎকৃষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণা |
সত্যেন বোস আহৃত সংখ্যায়নকে বোস-আইনস্টাইন সংখ্যায়ন বলা হয় কেন? এর উত্তরে বলা যায় যে, বোস সংখ্যায়ন ফোটনের জন্য প্রযোজ্য, যার স্থির ভর শূন্য এ ধরণের কণিকার জন্য বোস এ সূত্রটি উদ্ভাবন করেছিলেন |
অন্যদিকে আইনস্টাইন বোস পদ্ধতিকে ভরযুক্ত কোয়ান্টাম গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে বোসের সূত্রকে সাধারণীকরণ পর্যায়ে উন্নীত করেন, যা তিনি বোসের পত্রের পাদটীকায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন |
বোস সংখ্যায়নের আবিষ্কারের পর তা পদার্থবিদ্যার নানা শাখার ব্যবহৃত হচ্ছে বা হয়েছে |
বোসের বণ্টন বিন্যাসের মৌলিক সূত্রকে জড় কণিকার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে আইনস্টাইন দেখিয়েছেন যে কোয়ান্টাম গ্যাসের আচরণ অতি শীতল তাপমাত্রায় বিস্ময়কর হতে পারে- যার অনিবার্য পরিণতি হলো 'বোস-আইনস্টাইন ঘনীভবন' |
এই ভবিষ্যদ্বাণী পদার্থবিদ্যায় এক চমকপ্রদ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিল |
সত্যেন বোস কর্তৃক কোয়ান্টাম সংখ্যায়নের কাজটি কত গভীর তাৎপর্যময় ছিল বোস নিজেই সে সময় তা বুঝতে পারেননি |
তার মন্তব্য:"আমার ধারণাই ছিল না যে আমি যা করেছি তা নতুন কিছু |
" তবে ১৯২৫ সালে বার্লিনে আইনস্টাইনের সান্নিধ্যে এলে সত্যেন বোস তাঁর কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.