content
stringlengths
0
129k
অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য কর
আর একথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক, একথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে
নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য
সন্তান-সন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়
যা কিছু আসমান সমূহ ও যমীনে রয়েছে সবই তার
আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট
সূরা নিসা,৪:১৭১
উপরে যীশু সম্পর্কে আবারও কতিপয় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়া হচ্ছে যার পারস্পরিক কোন মিল নেই
১. যীশু মরিয়মের পূত্র, ২. যীশু আল্লাহর রসুল, ৩. যীশু আল্লাহর বানী, ৪. যীশু আল্লাহর রূহ
যীশু যদি নিজেই আল্লাহর বানী ও আল্লাহর রূহ হয় তাহলে সে আল্লাহর রসূল কেমনে হয় ? আল্লাহর রসূল হলো একজন মানুষ যার কাছে আল্লাহ কোন ফিরিস্তা মারফত বানী পাঠায় বা অনেক সময় সরাসরি নিজে কথা বলেম যেমন-ইব্রাহিম, মূসা
পক্ষান্তরে যীশু নিজে যেটা বলত সেটাই আল্লাহর বানী যা ইঞ্জিল কিতাবে লিখিত আছে যাকে সকল মুসলমান আসমানি কিতাব বলেও জানে, যীশুর কাছে কোনদিন কোন ফিরিস্তা এসে বানী দিয়ে যায় নি
এ যদি হয় কোরান বর্ণিত যীশু তাহলে যীশু আসলে কে ? মরিয়মের গর্ভে দৃশ্যত জন্মগ্রহন করেছিল বলে তাকে মরিয়মের পুত্র ধরা যেতে পারে
কিন্তু আল্লাহর রসুল কোনমতেই নয়
তার অর্থ মোহাম্মদ জানতেনই না আসলে যীশু কে, লোক মুখে শোনা কথার ওপর ভরসা করে তিনি যীশু সম্পর্কে নানা রকম পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে গেছেন মাত্র
মোহাম্মদ নিজেই আবার কোরানে যীশুকে পাপহীন বলে ঘোষণা করেছেন যেমন-
সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব
সূরা মারিয়াম,১৯:১৯
এখানে পবিত্র বলতে বুঝায় পাপ হীন
কোরানে আর কাউকেই পবিত্র বলা হয় নি
এমন কি মোহাম্মদকেও নয়
ঠিক তেমনি ভাবে বহু হাদিসেও একই কথা বলেছেন মোহাম্মদ-
সাইদ বিন মুসাইব বর্ণিত- আমি নবীকে বলতে শুনেছি যে আদম সন্তানদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে জন্মের সময় শয়তান ছুয়ে দেয় না আর এ কারনে সে চিৎকার করে কেঁদে উঠে
ব্যতিক্রম শুধু মরিয়ম আর তনয় ঈশা
সহি বুখারী, বই-৫৫, হাদিস-৬৪১
আবু হুরায়রা বর্ণিত- আমি আল্লাহর নবীকে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন যে আদম সন্তানদের এমন কেউ নেই যার জন্ম গ্রহনের সময় শয়তান তাকে ছুয়ে না দেয় ব্যতিক্রম শুধু মরিয়ম ও তার পূত্র
সহি মুসলিম, বই -৩০, হাদিস-৫৮৩৮
ঠিক উক্ত হাদিস আছে , বুখারির বই নং-৫৪, হাদিস -৫০৬ , সহি মুসলিম , বই -৩০ , হাদিস-৫৮৩৭ এবং বই-৩৩, হাদিস-৬৪২৯ তে
পক্ষান্তরে, অন্য সকল নবী সম্পর্কে মোহাম্মদের কোরান কি বলেছে দেখা যাক-
আদ ম: সবাই জানি পাপের কারনে আদম ও হাওয়া বেহেস্ত থেকে দুনিয়াতে বিতাড়িত হয়েছিল
(সূরা, আরাফ-২২-২৩)
ইব্রাহিম: যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন
আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন
সুরা আশ শোরা, ২৬: ৮১-৮২ (মক্কায় অবতীর্ণ)
মূসা: তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি
অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন
নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু
সূরা আল কাসাস, ২৮:১৬
মোহাম্মদ: জেনে রাখুন, হে মোহাম্মদ, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই
ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে
আল্লাহ, তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত
সূরা মোহাম্মদ, ৪৭: ১৯ (মদিনায় অবতীর্ণ)
তার মানে বোঝা গেল একমাত্র যীশু ছাড়া সবাই কম বেশী পাপী ও ভূল কাজ করেছে
আর তাই তারা তাদের ঈশ্বর বা আল্লাহর কাছে মাফ চায়
যীশু জীবনে কোন পাপ কাজ করে নি
এরকম সম্পূর্ণ পাপ হীন হতে পারে কে ?
কোরান হাদিস থেকে যীশু সম্পর্কে যা জানা গেল তা হলো-
১. যীশুর জন্ম অলৌকিক, একজন কুমারী মাতা থেকে, ২. যীশু হলো আল্লাহর রুহ, ৩. যীশু হলো আল্লাহর বানী, ৪. যীশু হলো চির পবিত্র তথা নিষ্পাপ, ৫. যীশুকে শয়তান স্পর্শ করতে পারে নি, ৬. যীশু কখনো ভুল করে নি, ৭. যীশু মৃতকে জীবন দান করতে পারত , যে ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে
এত সব গুনের অধিকারী হওয়া একমাত্র কার পক্ষে সম্ভব ? একমাত্র আল্লাহ বা ঈশ্বরের পক্ষেই সম্ভব
এতগুলো বিষয় স্বীকার করেও মোহাম্মদ তার কোরানে বলছেন যীশু নাকি একজন নবী মাত্র
এর চাইতে আজগুবি ও হাস্যকর আর কিছু হতে পারে ? অথচ অন্য কোন নবির এর একটা গুণও ছিল না
মূসা নবি কিছু অলৌকিক ঘটনা দেখাতে পারলেও মৃতকে জীবন দিতে পারত না
প্রশ্ন হতে পারে , উক্ত বিষয় স্বীকার তাহলে করলেন কেন মোহাম্মদ? উত্তর বুঝতে কষ্ট হয় না
আগেই বলেছি খৃষ্টানদের কাছ থেকে শুনে শুনে মোহাম্মদ তার কোরানে যীশু সম্পর্কে বানী প্রচার করেছেন, সেটা করতে গিয়ে কোন কথার কি গুঢ় অর্থ হবে তা উপলব্ধি করতে পারেন নি তাৎক্ষনিকভাবে
ঠিক একারনেই খৃষ্টানদের কাছে তো বটেই ইহুদীদের কাছেও মোহাম্মদের কোরানের বানীকে খুবই অদ্ভুত ও উদ্ভট মনে হতে থাকে ও তারা আরও বেশী নিশ্চিত হতে থাকে যে মোহাম্মদ কোন মতেই নবী তো দুরের কথা একজন শুভ গুণ সম্পন্ন মানুষও নয়
তাই তারা যতই মোহাম্মদকে প্রশ্ন করতে থাকে ততই মোহাম্মদ রাগান্বিত হতে থাকেন আর তাদেরকে উদ্দেশ্য করে নানা রকম ভয় ভীতিকর আয়াত নাজিল করতে থাকেন
উদ্দেশ্য একটাই - তাদের মুখ বন্দ করা
মোহাম্মদ যে দোষে আর দশজন মানুষের মতই তা কিন্তু তিনি নিজেই স্বীকার করে গেছেন যেমন-
, , : ' ( ) : , . , : , ( ) . ( , 032, 6293)
' ( ) : , . , , . ( , 032, 6290)
. ( ). ' ( ) : , ; . ! - . : , ? : ' ( ) , , () . - ' ( ). : , ? : ' , . : , ? : ( ) . ' ( ) : , ' . : , , , , () . ( , 032, 6297)
উক্ত গুণাগুনের অধিকারী হওয়ায় এটা বুঝতে কষ্ট হয় না যে যীশুই স্বয়ং ঈশ্বর- কোরান হাদিস অনুযায়ী
অর্থাৎ কোরান হাদিসের বিবরন অনুযায়ীই যীশুর সাথে মোহাম্মদের কোন তুলনাই হয় না
তাদের দুজনের একটা তুলনা দেয়া যায়-
১.যীশু কোন বিয়ে করেন নি, মোহাম্মদ ১৩ বিয়ে করা ছাড়াও বহু দাসীর সাথে সেক্স করেছেন, ৬ বছরের আয়শা ও নিজ পালিত পূত্রবধু জয়নাবকে পর্যন্ত বিয়ে করেছেন
২.যীশু মৃতকে জীবনদান সহ বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন, মোহাম্মদ তার কিছুই করেন নি
৩.যীশু ক্ষমতার জন্য যুদ্ধ করেন নি, মোহাম্মদ শুধু ক্ষমতাই নয় লুটের মাল পাওয়ার জন্য নিরাপরাধ জনপদ আক্রমন করে নির্বিচারে নরহত্যা করেছেন
৪. যীশুকে না মানলে বলেননি তাকে হত্যা করতে, মোহাম্মদকে না মানলে তাদেরকে আক্রমন করে হয় হত্যা না হয় জিজিয়া কর দিয়ে হীন করতে বলেছেন
৫.যীশু বলেছেন ক্ষমা করতে, মোহাম্মদ বলেছেন প্রতিশোধ নিতে
৬. যীশুর নিজের কথাই ছিল ঐশী বানী, মোহাম্মদের কাছে এক ফিরিস্তা বানী নিয়ে আসত
৭. যীশুর কাছে শয়তান ভিড়তে পারে নি, মোহাম্মদের কাছে শয়তান বানী দিয়ে গেছিল যা মোহাম্মদ বুঝতে পারেন নি
৮.যীশু ছিলেন নিষ্পাপ, মোহাম্মদ নিষ্পাপ ছিলেন না
৯. যীশুর বেঁচে থাকার জন্য গণিমতের মাল ও বন্দীনি নারী দরকার পড়েনি, মোহাম্মদের তা ব্যপকভাবে দরকার পড়েছে
সেখানে মোহাম্মদ কিভাবে সর্বশ্রেষ্ট মানব ও নবী হয় আর তার শিক্ষা কিভাবে সর্বশ্রেষ্ট শিক্ষা হয় ? এ যদি হয় বাস্তব অবস্থা তাহলে কার মর্যাদা বেশী , যীশুর নাকি মোহাম্মদের? শয়তান সবাইকেই স্পর্শ করেছে , একমাত্র করতে পারেনি মরিয়ম ও তার পূত্র যীশুকে
কেন? কারন শয়তানের ক্ষমতা নেই ঈশ্বরের গায়ে হাত দেয়ার
মরিয়ম ও কি তাহলে ঈশ্বর? না , তবে যেহেতু ঈশ্বর তার দেহ আশ্রয় করেই দুনিয়াতে আগমন করবে তাই তাকেও ঈশ্বর শয়তানের আওতা বহির্ভুত রেখেছে
ঈশ্বর তো আর একজন শয়তান কর্তৃক দুষিত মানুষের দেহ কে আশ্রয় করে দুনিয়াতে আগমন করতে পারে না
আর ইঞ্জিল কিতাবে তো বলা হয়েছে-
আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি- ইব্রাহীম জন্মাবার আগে থেকেই আমি আছি
আমি তাদেরকে অনন্ত জীবন দান করি, তাদের কখনো বিনাশ হবে , কেউ তাদেরকে আমার হাত থেকে কেড়ে নিতে পারবে না
আমার পিতা যিনি তাদেরকে আমার হাতে দিয়েছেন, তিনি সকলের চেয়ে মহান, আর কেউ তাদেরকে আমার পিতার হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে না, আমি ও আমার পিতা, এক
যোহন, ১০:২৮-৩০
উপরোক্ত বর্ণনায় কি বোঝা যায়? নিজেকে যীশু ঈশ্বরের পূত্র বলে পরিচয় দিলেও আসলে সে কে ? বর্তমানেও কিন্তু সাধারণ মানুষ যারা বিষয়ের গভীরতা বুঝতে ব্যর্থ তারা ঠিক একই ভাবে মোহাম্মদের মত ধারণা পোষণ করে থাকে
তাই মোহাম্মদের মত তারা খৃষ্টানদের ত্রিত্ববাদকে এ বলে অপব্যখ্যা করে যে এটা হলো তিন টা ঈশ্বর
অথচ ঈশ্বর তার গুণাগুণ দুনিয়ার মানুষের কাছে প্রকাশ করতে গেলে তার এ ধরণের বহু রূপ পরিগ্রহ করাটাই হতে পারে সবচাইতে যৌক্তিক ব্যখ্যা
এটা খৃষ্টানিটির সমস্যা নয়, যারা বিষয়টি অনুধাবন করার চেষ্টা করে নি তাদের সমস্যা
হিন্দু ধর্মের বিষয়টিও তাই , বাইরে থেকে স্থূল দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে তারা বোধ হয় মূর্তি পুজো করছে কিন্তু গভীরে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করলে দেখা যায় মোটেই সেটা তা নয়
খৃষ্টানরা তাদের গীর্জায় যীশুর ক্রুশবিদ্ধ মূর্তি গড়ে তার মধ্যে জীবন্ত ঈশ্বরের কল্পনা করে তার কাছে মাথা নত করে
হিন্দুরা তাদের ঈশ্বর বা দেব দেবীর মূর্তি গড়ে তার মধ্যে জীবন্ত ঈশ্বর বা দেব দেবীর কল্পনা করে তার সামনে মাথা নত করে
অর্থাৎ তারা কখনো মনে করে না যে কোন নিরেট জড় বস্তুর কাছে তারা মাথা নত করছে
পক্ষান্তরে মুসলমানরা কাছ অথবা দুর থেকে স্রেফ কাবা ঘর ও তার মধ্যে অবস্থিত কাল পাথরের কাছেই শুধুমাত্র মাথা নত করে , কোনমতেই আল্লাহ বা ঈশ্বরের কাছে নয়, কারন তাদের আল্লাহ উক্ত কাবা ঘর বা কাল পাথরের মধ্যে নেই
তফাত হলো - খৃষ্টান বা হিন্দুরা তাদের গীর্জা বা মন্দিরের মধ্যে তাদের যীশু বা দেব দেবীর মূর্তি গড়ে তার সামনে মাথা নত করে আর তা করতে দেখলে আপাত : দৃষ্টিতে মনে হয় যেন তারা জড় মূর্তির নিকট মাথা নত করছে, পক্ষান্তরে মুসলমানরা তাদের মসজিদে সবাই এক কাতারে দাড়িয়ে দুরে মক্কায় অবস্থিত কাবা নামক জড় ঘর ও তার মধ্যে অবস্থিত জড়...
ঠিক সেকারনেই মানুষ মুসলমানদের নামায পড়তে দেখলে বুঝতে পারে না আসলে তারা কার কাছে মাথা নত করছে
মুসলমানরা নিজেরাও বিশ্বাস করে তারা আল্লাহর কাছে মাথা নত করছে , কিন্তু আসলেই কি তারা তাদের আল্লাহর কাছে মাথা নত করছে ? বিষয়টা কি মুসলমানরা কখনো গভীর ভাবে ভেবে দেখেছে?
তাহলে প্রশ্ন হলো - কারা মূর্তি পূজো বা জড় বস্তুর পুজো করে ? মুসলমানরা নাকি অমুসলিমরা ? সত্য ধর্ম হওয়ার সম্ভাবনা কোন ধর্মের বেশী , যারা জীবন্ত ঈশ্বরের কল্পনা ( যেহেতু ঈশ্বর সর্বত্রই বিরাজমান) ক'রে তার সামনে মাথা নত করে তাদেরটা, নাকি যারা স্রেফ জড় পদার্থের কাছে মাথা নত করে তাদেরটা ? মানুষের আর কতদিন লাগবে সেটা বুঝতে ?
বি:দ্র: অনেকে মনে করতে পারে শুধুমাত্র ইসলামকে ভূয়া প্রমানের জন্যেই এ লেখা
আসলে তা নয়, ইসলাম অন্য ধর্মগুলোকে যে দোষে আক্রমন করে ,আর নিজেকে দোষমুক্ত দাবী করে , সেটা যে যথার্থ নয় বরং ইসলাম নিজেই যে ১০০% উক্ত দোষে দোষী সেটা বুঝানোর জন্যই অন্য ধর্মের কিছুটা বিস্তারিত ব্যখ্যা দেয়া হয়েছে
তফাত হলো অন্য ধর্মের পৌত্তলিকতার একটা ব্যখ্যা আছে, ইসলামের কোন ব্যখ্যাই নেই
বাংলা কোরান
বাংলা কোরান