content
stringlengths
0
129k
আমিও প্রকারন্তে সরাসরি না হলেও তাদের ভন্ড বলার চেষ্টা করি
আবেগময় কথাবার্তার বাইরে যা শুনতে পারি তা অত্যন্ত জটিল
ধর্মীয় বেশীরভাগ ব্যাখ্যার মত এর কারনও বহুবিধ
বেশীরভাগ ধার্মিকই বিশ্বাস করেন যে কোন কারন বশতঃ তারা ১০০% কোরান মানতে পারছেন না, তবে তারা ব্যাক্তিগতভাবে অবশ্যই চান, এতে কোন খাদ নেই
এখন তারা পারিপার্শ্বিকতার কাছে সাময়িকভাবে পরাজিত
মুসলমানদের ঈমানের ঘাটতি প্রধান কারন
এর সাথে পার্থিব জীবনের লোভ, কাফের নাসারাদের ষড়যন্ত্র এমন বহুবিধ বিষয় আছে
তবে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ইনশাল্লাহ একদিন দুনিয়া জুড়েই ১০০% কোরানিক আইন কায়েম সম্ভব হবে
এখন প্রশ্ন, যারা মন থেকে এমন বিশ্বাস করেন তাদের যৌক্তিকতাবোধ বা বাস্তবতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন করা যায়
কিন্তু নিশ্চিতভাবে কি ভন্ড বলা যায়? আমার তো মনে হয় ভন্ড বলাটা যায় না
কারন, আমি জানি যে তারা বেশীরভাগই আসলেই মন থেকে উপরের কারনগুলি বিশ্বাস করেন
কোরানের যতটুকূ তাদের সাধ্যের মধ্যে পালন করা সম্ভব পালন করেন
"মুসলমান কিন্তু কোরান এবং হাদিসের সব নির্দেশকে সর্বকালীন বলে মনে না করাটা হল সোনার পাথর বাটির মতই অবাস্তব জিনিস
- তত্ত্বীয়ভাবে আমি আর এতে নিশ্চিত নই
আজকাল অনেক ইসলাম প্রিয় ভাইদেরই বড় বড় জ্ঞানগর্ভ লেখা লিখতে দেখি কোরানের মানসুখ আয়াত সম্পর্কে
মানসুখ আয়াত এনাদের মতে হল কোরানের কিছু আয়াত যেগুলি পরে নাজিল হওয়া আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল হয়ে গেছে
এটা মেনে নিলে আর কোরানের সব আয়াত সব যুগে পালন করতে হবে এই মূল নীতি কিভাবে সম্ভব? এই মতবাদের প্রচারকদের মুসলমান ষ্ট্যাটাস বাতিল হয়ে গেছে? আমি জানি না
তবে ইসলাম ডিফেন্ডার ভাইয়েরা অন্তত এনাদের এখনো তেমন কোন অপবাদ দেননি
কোরানে পূর্ণ বিশ্বাস মানেই সব যুগে সব দেশে ১০০% কোরান মেনে চলা? এতেও আমি অতটা নিশ্চিত নই
কোরানেরই কিছু আয়াত ব্যাখ্যা করে এই ধারনায় ভিন্নমত সম্ভব
আমার ব্যাক্তিগত অভিমত, এ ব্যাপারে ধর্মীয় জগতের লোকজন সুষ্পষ্ট বিভ্রান্তির জগতে থাকেন
একদিকে বর্তমান দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা, আরেক দিকে বাল্যকাল থেকে শিখিয়ে দেওয়া কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন ভংগের ভয়াবহ শাস্তির ভয়
দুটোর কোনটাকেই অস্বীকার করতে পারেন না
যারা একটু স্মার্ট তারা ধর্মীয় আয়াত শ্লোকের যুগোপযোগি ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করেন
এতে কিছুটা কাজ হলেও সনাতনপন্থীদের সাথে লেগে যায় সংঘাত
ডীঈষ্ট এবং প্রথাগত ধার্মিকদের পার্থক্য আছে
আপনার চরমপন্থার তত্ত্ব শুধু প্রথাগত ধার্মিকদের জন্য প্রযোজ্য বুঝতে পারলাম, শুধু ঈশ্বর বিশ্বাসে আপনার আপত্তি নেই
তবে তত্ত্বীয় দিক ছাড়া, আবারো বলতে হচ্ছে যে বাস্তব জীবনে অনেক লোকেই নিজেকে জোর গলায় মুসলমান দাবী করেন , কিন্তু ধর্মীয় যেসব আচার আচরনের সমালোচনা করা হয় সেগুলি তারা পালন করেন না
এদের ভন্ড বলা যায় কিনা তা বিতর্কের বিষয় (আগেই কিছু বলেছি), তবে চরমপন্থী বলা যায় না
এদের অমুসলিম বলার অধিকার কারো আছে বলেও আমার জানা নেই
ব্রাইট স্মাইল্ মে 13, 2010 6:19 অপরাহ্ন -
@আদিল মাহমুদ,
এদের ভন্ড বলা যায় কিনা তা বিতর্কের বিষয় (আগেই কিছু বলেছি), তবে চরমপন্থী বলা যায় না
এটা বিতর্কের বিষয় এটা ঠিক
ইসলামী ব্যাংকে যেমন সুদের নাম দেয়া হয়েছে 'মুনাফা', তেমনি 'ভন্ড' শব্দটার ইসলামীক দৃষ্টিভংগীতে গ্রহনযোগ্য অন্য কোন ইতিবাচক নাম দেয়া যেতে পারে
এদেরকে চরমপন্থী বলা যায়না ঠিক, কিন্তু এদেরই চরমপন্থী হওয়ার দিকে ধাবিত হবার সম্ভাবনা বেশী থেকে যায়
আদিল মাহমুদ মে 13, 2010 9:16 অপরাহ্ন
@ব্রাইট স্মাইল্,
বাস্তবিকার পরিপেক্ষিতে সেটাই বেশী লক্ষ্য করা যায়; অস্বীকার করতে পারি না
ইসলামী ব্যাকং প্রসংগটা খুবই ভাল প্রসংগ
আমি এর পক্ষে বিপক্ষে জানতে চাই
ইসলামের বহু কিছুএর সমালোচনা হলেও এর সমালোচনামূলক পূর্নাংগ কোন লেখা আমি এ পর্যন্ত বাংলায় পাইনি
পেলে উপকৃত হব
আমি নিজে সামান্য ওয়েব ঘাটাঘাটি করে যা বুঝেছি তাতে মনে হয়েছে এটা ভন্ডামীরই নামান্তর, সুদকে সুদ না বলে মুনাফা নাম দেওয়া ছাড়া নুতন কিছু বুঝিনি
ইসলাম সমালোচনার এই মোক্ষম অস্ত্র কেউ নিচ্ছেন না কেন জানি না 🙂 , কেউ লিখলে পক্ষেও নিশ্চয়ই কিছু জানা যাবে, কারন আমার অর্থনীতি বা ব্যাকিং এর জ্ঞান খুবই সামান্য, তাই সূদ/মুনাফা হয়ত ঠিক্মত বুঝছি না
আব্দুর রহমান আবিদ মে 8, 2010 9:33 অপরাহ্ন -
যারা যারা মন্তব্য করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ
ধর্ম একটা ফান্ডামেন্টাল বিষয়
তাতে যেহেতু বিশ্বাস করি, সে অর্থে আমিতো ফান্ডামেন্টালিষ্টই
মজার ব্যাপার হলো, আমার লিখিত সুবিশাল আর্টিকলটায় আমি মূলতঃ কন্টেম্পরারী কয়েকটা ধর্মের রেডিক্যাল আইডিয়োলজির উত্থানের ওপরে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি
কেবল কথা প্রসঙ্গে অস্পষ্টভাবেই এটুকু উঠে এসেছে যে, আমি একজন ধার্মিক মুসলমান
আমি অবাক হলাম এটা দেখে যে, এতকিছু বাদ দিয়ে অনেকে এমন সব মন্তব্য করেছেন যে, একজন ধার্মিক মুসলমান হয়ে এমন একটা আর্টিকল লেখাই যেন আমার জন্যে বড় অন্যায় হয়ে গেছে
জানিনা আমি চালাকিটাই বা কি করেছি এখানে
মন্তব্য করার মাঝেও কিন্তু 'একেবারেই সহ্য না করা'র এটিচিউডও প্রকাশ পায়
সেকারনেই মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আমি বোধহয় এই ফোরামটার আবহাওয়াতে একেবারেই উপযুক্ত নই
ভবঘুরে মে 9, 2010 1:20 পূর্বাহ্ন -
@আব্দুর রহমান আবিদ,
আপনি লিখেছেন একুশে ফেব্রুয়ারীর অনুষ্ঠানে যান কিন্তু গান বাজনার অনুষ্ঠানে থাকেন না , আপনার বন্ধু একজন কট্টরপন্থি, সে যখন কোন ধর্মীয় বিষয়ে তর্কবিতর্ক করে আপনি চুপ করে শুনে যান প্রতিউত্তর করেন না তার অর্থ মৌনতা সম্মতির লক্ষন , আপনার দাড়ি আছে ও জোব্বা মার্কা কাপড় পরিধান করেন যা মোহাম্মদ পরতেন যদিও তা ইসলামী পোশাক নয় ...
না ভাই আমরা মনে করি না ধর্ম কোন ফান্ডামেন্টাল বিষয়, আমার ধারনা আধুনিক মনস্ক মানুষও ঠিক তাই মনে করে
তা ছাড়া ফান্ডামেন্টাল যদিও ফান্ডামেন্ট শব্দ থেকে উদ্ভুত , তার পরেও এর অর্থ ব্যপকভাবে পাল্টে গেছে ইদানিং কালে যা আপনি নিজেও জানেন এবং এর আধুনিক অর্থ হলো গোড়াপন্থি বা অন্য কথায় চরম পন্থি
মুক্তমনা আসলে সবার জন্য , আপনি আপনার মত প্রকাশ করবেন আমি আমার , কেউ সেখানে বাধা দেবে না , বরং আপনাদের মত মুখোশধারী উদারপন্থী লোকজন থাকলে আমাদের সুবিধা
তাহলে আমরা আপনাদের সর্বশেষ মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারি
পৃথিবী মে 8, 2010 4:49 অপরাহ্ন -
আমি মনে করি চরমপন্থী হওয়ার পিছনে নিম্মের চারটা কারণ কাজ করতে পারে
১) "প্রগতিশীল" রাজনীতি করার জন্য যারা ধর্মকর্ম ছেড়ে দেয় তারা জেনে বুঝে ধর্মত্যাগ করে কিনা জানি ন
মধ্যবয়সে যখন তাদের মাথায় মরণচিন্তা ঘুরঘুর করা শুরু করে, তখন মানুষের সেই চিরায়ত মৃত্যুভয়টাই তাদের মনে ধর্মানুভূতির পোশাকে আবির্ভূত হয়
যে রক্তগরম করা স্লোগান শুনে বাম রাজনীতি করে আর যে তত্ত্ব বুঝে বাম রাজনীতি করে, তাদের মধ্যে আকাশপাতাল পার্থক্য রয়েছে
প্রথম প্রথম তারা(হুজুগে বামপন্থীরা) ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা্র মধ্যেই ধর্মচর্চা সীমাবদ্ধ রাখে, ধর্মবেত্তারা পরে বিশ্বাসের তেলে আগুন লাগিয়ে দেন
২) মানুষ যখন বিচিত্র কারণে জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন স্বর্গের হুর-পরীদের আবেদন হঠাত করেই মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়
৩) ছোটবেলায় মানুষকে অতিরিক্ত ধর্মশিক্ষা দিয়ে তার স্বাভাবিক চিন্তাক্ষমতা বিনষ্ট করে দিলে তারা পরে খুব সহজেই মৌলবাদী আন্দোলনের সাথে জড়িতে হয়ে পড়ে
৪) ধর্ম যখন ভাবের জগত ছেড়ে রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, বিজ্ঞানের মত ইহজাগতিক অবভাস বা এর প্রতি ঝুকে পড়ে, তখন মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে
আফটার অল, ধর্মের ভিত্তি বিশ্বাস আর "বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর"
ধর্মের ব্যাপারে কনজারভেটিজম বা রক্ষণশীলতার অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে আমার মনে হয় না
হয় আপনি ধর্ম মানছেন নয়ত আপনি মানছেন না
ইসলামে নৃত্যশিল্প অবশ্যই হারাম- একটা অচেনা মেয়ের চুল দেখলে যেখানে মুসলমানদের যৌনানুভূতিতে সুড়সুড়ি লাগে(পর্দাপ্রথা অন্তত তাই ইঙ্গিত করে), সেখানে একদল নারীর অঙ্গভঙ্গী নিঃসন্দেহে একজন মুমিনের ঈমান ধ্বংস করে দিবে
ইসলাম মেনে চলতে গেলে আমাদের সংস্কৃতি থেকে নৃত্যশিল্প বাদ দিতে হবে
গানের ব্যাপারে কোরানে যদিও কিছু বলা হয়নি, একটু খেয়াল করলেই দেখবেন যে গানের কথাগুলোর সিংহভাগই অনৈসলামিক উপাদানে ভর্তি
বাংলা গানগুলো থেকে প্রেম ও নারী সম্পর্কিত অংশগুলো কেটে দিলে বাংলা গানের কিছুই বলতে গেলে বাকি থাকবে না(এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে প্রেম সাহিত্যের একটা বিরাট এলাকাজুড়ে বিরাজ করে)
আমাদের সংগীতশিল্প মৃতপ্রায় হয়ে যাবে
সমাজে আমরা যদি ইসলামি জেন্ডার সেগ্রেগেশন প্রতিষ্ঠা করি, তাহলে আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর কি দশা হবে সেটা আপনার কল্পনাশক্তির কাছে ছেড়ে দিলাম
এখন আপনি কতটুকু ধর্ম মানছেন সেটা আপনিই জানেন
মোদ্দা কথা হল, "মডারেট মুসলিম" একটা অস্পষ্ট টার্ম
এই পশ্চিমা সুভাষণটা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে, তাই এটা পরিহার করা দরকার
রামগড়ুড়ের ছানা মে 8, 2010 7:01 অপরাহ্ন -
ইসলাম মেনে চলতে গেলে পুরো্ সমাজকেই উল্টে ফেলতে হবে
নাচ,গানতো আছেই এরপর পত্রপত্রিকায় ছাপানো ছবি, বিলবোর্ড, টেলিভিসন, গল্পের কাহিনি, পোষাক কোনটা আমাদের ইসলামসম্মত? বেশিভাগ মানুষ সুবিধাবাদি, পা দিয়ে থাকে দুই নৌকায়, "তাল গাছটি আমার" এর মত বলতে থাকে আসলে ইসলামই সঠিক
আদিল মাহমুদ মে 8, 2010 7:20 অপরাহ্ন -
@রামগড়ুড়ের ছানা,
কথা অনেকটাই সত্য
ব্যাবহারিক অর্থে তেমনই দাঁড়ায়
আক্ষরিক অর্থে মূল ইসলাম মানতে গেলে অনেকটা এরকমই দাঁড়ায়
পৃথিবী হবে মুসলিম এবং নন-মুসলিম এই দুটি ভাগে বিভক্ত
এটা যারা বোঝেন তারা যথাসম্ভব মডারেট হতে চেষ্টা করেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করেন কোরান হাদীসের বিধি বিধানকে কোনভাবে যুগোপযোগী ইন্টারপ্রেশটশন দিতে
ভবঘুরে মে 8, 2010 4:14 অপরাহ্ন -
আপনার প্রবন্ধে ধরি মাছ না ছুই পানি জাতীয় কিছু লিখেছেন যা বোধগম্য হলো না ঠিকমতো
আপনার নিজের যে বেশ ভূষা ও আচরনের বর্ননা করেছেন, তাতে আপনি ঠিক এক্সট্রিমিষ্ট না হলেও যথেষ্ট ফান্ডামেন্টালিষ্ট তা কিন্ত চালাক পাঠক বুঝতে পারে
আপনার ধরি মাছ না ছুই পানি জাতীয় কথা বার্তার এটাও অন্যতম কারন হতে পারে বলে মনে হয়
ফান্ডামেন্টালিষ্টরা মনে করে তারাই সব চাইতে বেশী চালাক, 😛
বকলম মে 8, 2010 2:17 অপরাহ্ন -
আবিদ ভাই আপনার শিরোনামের '' কথাটা না থাকলেও চলত