content
stringlengths
0
129k
এখন যদি আপনি সেই
নামাজ না পড়েন তাহলে আপনাকে ভন্ড ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে? আপনি বলবেন চুরি করা মহাপাপ
আবার নিজেই চুরি করবেন তাহলে আপনাকে মানুষ ভন্ড ছাড়া কি বলতে পারে বলে আপনার মনে হয়?
আমাদের দেশের রাজনীতিবীদরা মুখে বলে তারা জনগনের জন্য এই করে সেই করে
কিন্তু কাজের বেলাতে ফুটো
এখন জনগন তাদের ভন্ড ছাড়া আর কি বলতে পারে? আপনিই বলে দেন
আমার প্রশ্নের জবাব দেননি; পৃথিবীতে হাদীস তো দূরে থাক, কোরানের সব আদেশ নির্দেশ পক্ষরে অক্ষরে মানেন এমন কয়জন মুসলমান পাবেন? যদি দুয়েকজন পাওয়াও যায়, তাহলে বাকিরা কি সব ১০০% মুসলমানের থেকে কম ষ্ট্যাটাসের মুসলমান নয়? ৫০-৫০ এর ব্যাপার ধর্ম জগতেও হতেই পারে, এবং হচ্ছেও
পৃথিবীতে ১০০% ধার্মিক নেই
আর নেই দেখেই সমস্ত ধার্মিকরাই ভন্ড
আমি বুঝতে পারছি না আপনি বার বার এই ধরনের উদাহরন দিচ্ছেন কেন? আমি কি বলেছি না যে ১০০% ধার্মিক সম্ভব? এই সহজ ব্যাপারটা যদি আপনি এত কথা বলার পরেও বুঝতে না পারেন তাহলে আমার আর কিই বা বলার থাকতে পারে
কাজেই ধার্মিক মানেই চরমপন্থী হতে হবে এই ধারনা তত্ত্বীয়ভাবে হয়ত ঠিক,তবে ব্যাবহারিক অর্থে খাটে না
আর সব শেষে, ধার্মিক মানে যেহেতু ১০০% বিশ্বাসী হতে হবে সেই জন্যেই যৌক্তিকভাবেই ধার্মিক মানেই চরমপন্থি হতে সে বাধ্য
আমি সুবিধাবাদী ধার্মিকদের কথা বলছি না
১০০% ধার্মিক না হয়েও(আপনার কথা অনুযায়ী) ধার্মিকরা যা করছে দুনিয়াতে তাতে ১০০% হলে কি হ ভাবতেই গা শিউরে উঠে
সাইফুল ইসলাম মে 12, 2010 11:51 পূর্বাহ্ন -
@আদিল মাহমুদ,
আর একটা ব্যাপার বলতে ভুলে গেছি আদিল ভাই
আচ্ছা ধর্ম ছাড়া আর কি কি ব্যাপার আছে যেগুলো তাত্ত্বিক ভাবে সম্ভব নয় কিন্তু প্রাক্টিকালি সম্ভব? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব
আমি কি আসলেই জানিনা নাকি এখন মনে পড়ছে না বুঝতে পারছি না
তাই জানতে চাইছি
আদিল মাহমুদ মে 12, 2010 6:04 অপরাহ্ন -
@সাইফুল ইসলাম,
এ মুহুর্তে লিষ্ট মনে আসছে না; তবে আমি গোঁড়ামী, ধার্মিক, উদারতা এ ব্যাপারগুলিকে অনেকটা সংখ্যা রেখার মত দেখি; মানে পুরো ব্যাপারটাই আপেক্ষিক
সংখ্যা রেখার শুরু কিংবা শেষ আছে? বড় জোর বলা যায় যে এই সংখ্যা এই সংখ্যার থেকে মানে বড় কিংবা ছোট
তবে কখনোই বলা যায় না যে এখানে শুরু এবং এখানে শেষ, অর্থাৎ পরম বলে কিছু নেই
বড় সংখ্যা বা ছোট সংখ্যা কাকে বলা যাবে? বড়জোর সংখ্যা রেখার মাঝে কোন নির্দিষ্ট প্যারামিটারের বেসিসে একটা জোন নির্ধারন করা যাবে
এই জোনটার পরিব্যাপ্তি হবে শুধুমাত্র এই প্যারামিটারের জন্যই
আমার কাছে ধার্মিক, মুক্তমনা, গোঁড়ামী এসবের সংজ্ঞাও অনেকটা এমন
এগুলি সবই আপেক্ষিক
স্থান কাল পাত্র ভেদে পরম বলে কিছু নেই, থাকতে পারে না
হাজার বছর আগের ধার্মিক কিংবা মুক্তমনার সাথে তাই এ যুগের ধার্মিক কিংবা মুক্তমনার তফাত থাকবেই
ধর্মের তো আরো সুবিধে এই এটা যেহেতু বিশ্বাসের ব্যাপার, তাই এর প্রয়োগ হল ব্যাক্তি নির্ভর
যুক্তি বা গণিত নির্ভর হলে বলা যেত যে এই ধার্মিকেরা যুক্তিহীন ধর্ম পালন করছে, তাই তারা দাবী করলেও তারা আসল ধার্মিক নয়
ধর্মে এমন কোন কথা বলার অবকাশ নেই
যার যা বিশ্বাস সেটাই ধর্ম
এভাবেই একই মূল ধর্ম থেকে জন্ম নেয় শিয়া, সুন্নী এসব গোত্রের
কে আসল ধার্মিক, কে ভন্ড বা নকল এটা নির্ধারন করার কোন উপায় নেই আগেই বলেছি
"ধার্মিক মানে যেহেতু ১০০% বিশ্বাসী হতে হবে সেই জন্যেই যৌক্তিকভাবেই ধার্মিক মানেই চরমপন্থি হতে সে বাধ্য
- এখানেই যুক্তি তর্কের খুব গোঁড়াতেই মতের বড় তফাত
আমি আগেই বলেছি যে আপনার কাছে ঈশ্বরে বিশ্বাস মানেই চরমপন্থী বোঝায় তাহলে আমার কিছু বলার নেই
আমার কাছে তা নয়, আমার ধারনা এখানের অনেক সদস্যই তেমনি ভাবেন, যদিও যুক্তির জগতে গনতন্থের স্থান নগন্য
আমার বিবেচনায় কাউকে শুধুমাত্র ঈশ্বরে বা ধর্মে বিশ্বাসী হলে চরমপন্থী বলা যায় না, বড় জোর বলা যায় কুসংস্কারবাদী, যেহেতু ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমানিত সত্য নয়
চরমপন্থী হলে দেখাতে হবে যে সেই ঈশ্বরে বিশ্বাস অন্য কোন কারো ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াচ্ছে
এখানে মানতে হবে যে বেশীরভাগ ধার্মিককে এবার দোষারপ করা যাবে
কারন বেশীরভাগ ধার্মিক শুধুমাত্র ইশ্বরে ব্যাক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন না
তবে তত্ত্বীয়ভাবে তারা শুধুমাত্র নিজের মাঝে সেই বিশ্বাস রাখলে সমস্যা হয় না, তেমন উদাহরন ধর্মজগতে কম হলেও আছে
"পৃথিবীতে ১০০% ধার্মিক নেই
আর নেই দেখেই সমস্ত ধার্মিকরাই ভন্ড
- আমিও তো একই কথাই বলেছি
তত্ত্বীয়ভাবে খাঁটি ১০০% ধার্মিক মনে হয় না কেউ আছেন বলে
আমি কিন্তু বলেছি যে ধর্মের অত্যন্ত মৌলিক বিষয় ছাড়া বেশীরভাগ রীতিনীতি না মানলেও কিন্তু কাউকে ধর্মের চোখেই অধার্মিক বলা যাচ্ছে না
এখানে ভন্ড হবে কেমন করে? যেমন, ধার্মিক হতে গেলেই নামাজ পড়তে হবে, দাঁড়ি রাখতে হবে এমন কোন কথা আছে? নামাজ না পড়লে হয়ত গুনাহ হবে বলে ধর্ম মত দেয়, তবে একেবারে অধার্মিক বলে দেয় না
কাজেই আমি নিজেকে মুসলমান দাবী করে নামাজ না পড়লে ভণ্ডামী বলা যাবে কি?
আমার কাছে ভন্ড তারাই যারা মুখে দিনরাত যপে কোরানের সকল বিধিবিধান সব যুগে সব দেশে পালন করতে হবে, কিন্তু নিজেরা সেটা করে না, জিজ্ঞাসা করা হলে নানান যুক্তি দাড়া করায় তারা
আমি আগেই যদি স্বীকার করি যে সেগুলির অনেক কিছুই এই যুগে পালন সম্ভব নয় তবে কি আমাকে ভণ্ড বলা যায়? আমাকে সুবিধাবাদী ধার্মিকও বলা যায় না, কারন আমি কোরান থেকেই কিছু আয়াত কোট করে আমার দাবীর স্বপক্ষে যুক্তি দিতে পারব
ধর্মের সুবিধে বা অসুবিধে দুইই এখানে 🙂
নিজের বক্তব্য প্রমানে ব্যাখ্যা দাবী করা এমন কিছু নয়
এক কোরান দিয়েই বি্বর্তনবাদের স্বপক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্কের খেলা করা যায়
"১০০% ধার্মিক না হয়েও(আপনার কথা অনুযায়ী) ধার্মিকরা যা করছে দুনিয়াতে তাতে ১০০% হলে কি হ ভাবতেই গা শিউরে উঠে
- কথা সত্য
ধর্মের নামে অনেক গা শিউরে ওঠা ব্যাপার ঘটে
তবে পৃথিবী থেকে ধর্ম উঠে গেলেই কি এসব চলবে না? বা ধার্মিক ছাড়া আর কেউ ভয়াবহ কিছু করে না?
সাইফুল ইসলাম মে 13, 2010 2:03 অপরাহ্ন -
@আদিল মাহমুদ,
আদিল ভাই আপনি বলেছেন,
আমার কাছে ভন্ড তারাই যারা মুখে দিনরাত যপে কোরানের সকল বিধিবিধান সব যুগে সব দেশে পালন করতে হবে, কিন্তু নিজেরা সেটা করে না, জিজ্ঞাসা করা হলে নানান যুক্তি দাড়া করায় তারা
আমি আগেই যদি স্বীকার করি যে সেগুলির অনেক কিছুই এই যুগে পালন সম্ভব নয় তবে কি আমাকে ভণ্ড বলা যায়? আমাকে সুবিধাবাদী ধার্মিকও বলা যায় না, কারন আমি কোরান থেকেই কিছু আয়াত কোট করে আমার দাবীর স্বপক্ষে যুক্তি দিতে পারব
আমার দেয়া প্রথম মন্তব্যে লেখককে আমি একটি কথা বলেছিলামঃ
কেননা ধর্মতো বিজ্ঞান নয়, যে আজকে যা পালন করলেন কালকে তা ভুল প্রমানিত হলেই বর্জন করবেন
দু তিন হাজার বছর আগে যা ছিল ধর্ম আজও ঠিক তেমনিই আছে
বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয় নি, আর হবেও না
একজন মুসলমান বলতে বুঝায় এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোরান এবং হাদিসের প্রত্যেকটি কথা মনেপ্রানে বিশ্বাস করে
মুসলমান হবার প্রথম শর্তই হল এটা, আপনাকে কোরান এবং হাদিস সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হতে হবে
কেউ যখন নিজেকে মুসলমান হিসেবে দাবী করে তখন কোরান এবং হাদিসের উপরে তার বিশ্বাসের কথাই বলে
এখন কেউ যদি বলে আমি মুসলমান কিন্তু আমি এটাও বিশ্বাস করি যে কোরানের এবং হাদিসের প্রত্যেকটি নির্দেশ এই সমাজে পালন করা যাবে না
তাহলে তাকে ভন্ড ছাড়া আর কি বলা যায়?
মুসলমান কিন্তু কোরান এবং হাদিসের সব নির্দেশকে সর্বকালীন বলে মনে না করাটা হল সোনার পাথর বাটির মতই অবাস্তব জিনিস
কেননা ইসলাম কিংবা অন্যান্য ধর্ম কিন্তু গডের বানী
এখন কেউ যদি ইসলামের গড মানে আল্লাহর উপরে বিশ্বাস করে, কিন্তু একই সাথে এও বলে যে আল্লাহর সব বানী এই যুগে প্রযোয্য নয় তাহলে আপনি তাকে কি বলবেন? উত্তর দেবেন আশা করি
আমি আগেই বলেছি যে আপনার কাছে ঈশ্বরে বিশ্বাস মানেই চরমপন্থী বোঝায় তাহলে আমার কিছু বলার নেই
আমার যে কথাটার প্রেক্ষিতে এই কথা বলেছেন সে কথাটা আর একবার পড়ে দেখুন
ঈশ্বর বিশ্বাসের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই
আপনি ঈশ্বর বিশ্বাসী হয়ে দিব্বি ভাল একজন মানুষের জীবন কাটাতে পারবেন
ডিইষ্টরা কিন্তু ধর্ম ছাড়াই ঈশ্বরে বিশ্বাস করে
কিন্তু আমার আপত্তি হল ধার্মিকদের নিয়ে
ধার্মিক মানে হল যে একটি নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাস করে
এখন আপনি যদি ইসলাম ধর্মে কিংবা সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করেন তার মানে হল আপনি ইসলাম কিংবা সনাতন ধর্মের ঈশ্বরে এবং তার দেয়া বানীতে বিশ্বাস করেন
এখন এই আপনিই যদি বলেন যে আমি ইসলাম ধর্মের আল্লাহতে বিশ্বাস করি কিন্তু তার সব বানী সার্বজনীন নয়
তাহলে আপনাকে ভন্ড ছাড়া কি বলা যায়? আপনি মুসলমান মানেই হল আপনি আল্লাহ ও তার কোরানে বিশ্বাস করেন
যেহেতু ধর্মের কোন পরিবর্তন করা যাবে না ঠিক সেই জন্যেই যখনই বলবেন যে আপনি একজন মুসলমান আর কোরানের সব আয়াত সর্বকালীন নয় তার মানে কি দাঁড়ায় বলে আপনার মনে হয়?
ব্রাইট স্মাইল্ মে 13, 2010 5:29 অপরাহ্ন -
@সাইফুল ইসলাম, আপনার বক্তব্যের সাথে একমত
আদিল মাহমুদ মে 13, 2010 5:45 অপরাহ্ন -
@সাইফুল ইসলাম,
আপনি তো এবার আমাকে বিপদে ফেলে দিলেন, দিব্ব্যী হালকার উপর ঝাড়ি ঝুড়ি দিয়ে ভেবেছিলাম কাটিয়ে দেব, এক সময়ে বিরক্ত হয়ে ক্ষ্যামা দেবেন 🙂
এবার মনে হয় ধরা খেলাম
"এখন কেউ যদি বলে আমি মুসলমান কিন্তু আমি এটাও বিশ্বাস করি যে কোরানের এবং হাদিসের প্রত্যেকটি নির্দেশ এই সমাজে পালন করা যাবে না
তাহলে তাকে ভন্ড ছাড়া আর কি বলা যায়"
- আপনার এই উক্তি বা তারপরের বেশ কিছু লাইন অনুযায়ী স্বীকার করতে বাধা নেই যে তাদের ভন্ড বলাটা আসলে যুক্তিসংগত
আমি নিজে এ বিষয়টা নিয়ে অন্য ব্লগের কঠিন ধার্মিক ভাইদের প্রায়ই বিপদে ফেলি