content
stringlengths
0
129k
শিক্ষিকা হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
শেয়ার করুন
নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস থেকে বরের লাফ
জহির রায়হান সোহাগ, চুয়াডাঙ্গা
২৯ নভেম্বর, ২০২১ ১০:২২
আপডেট: ২৯ নভেম্বর, ২০২১ ১০:৩৪
লিংকডইনে শেয়ার করুন
ইমেইল করুন
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন
মেহেরপুর সদরে মাইক্রবাস থেকে লাফিয়ে ট্রাকচাপায় এক যুবক নিহত হয়েছেন
ছবি নিউজবাংলা
নিহত বোরহানের বাবা মিয়া জান জানান, বোরহানের স্ত্রীর আগেও দুইবার বিয়ে হয়েছিল
বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা মেনে নিতে পারছিলেন না
ফেরার সময় মাইক্রোবাসে ওই বিষয়ে বোরহানের সঙ্গে আমাদের মনমালিন্য হয়
পরে সে মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেয়
তখন বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় বোরহান
মেহেরপুর সদরে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাইক্রোবাস থেকে লাফিয়ে পড়ে ট্রাকচাপায় এক যুবক নিহত হয়েছেন
মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে রোববার রাত ১টার দিকে ওই দুর্ঘটনা ঘটে
উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন
নিহত বোরহান উদ্দিনের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজেলার নতুন দরবেশপুর গ্রামে
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন
বোরহানের বাবা মিয়া জান বলেন, 'আমার ছেলের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে পপি খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল
আমাদের না জানিয়ে তারা গত শনিবার বিয়ে করে
'পরে বোরহান নববধূকে নিয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলার সিংহাটি গ্রামে তার চাচাতো বোনের বাড়ি গিয়ে ওঠে
'
তিনি আরও বলেন, 'বাড়ি না ফেরায় আমরা বোরহানকে খোঁজাখুঁজি করি
রোববার রাতে জানতে পারি সে (বোরহান) সিংহাটি গ্রামে আছে
সেখানে রাতেই তাদের আনতে যাই
পরে মাইক্রোবাসে করে নববধূকে নিয়ে নতুন দরবেশপুর গ্রামের উদ্দেশে রওনা হই
'
পথে চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেয় বোরহান
এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয় বলে জানান তিনি
মিয়া জান জানান, বোরহানের স্ত্রীর আগেও দুইবার বিয়ে হয়েছিল
বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা মেনে নিতে পারছিলেন না
ফেরার সময় মাইক্রোবাসে ওই বিষয়ে বোরহানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনমালিন্য হয়
কিছু পরে বোরহান মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেয়
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাজিদ হাসান জানান, হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর ওই যুবকের মৃত্যু হয়
ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে
বিষয়টি মেহেরপুর সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি
আরও পড়ুন:
ভোটারদের ভোটের খিচুড়ি গেল এতিমখানায়
খুনের দায়ে ফাঁসির আসামি আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ফাঁসি দেয়ার আগে অন্তত ১০ বার চিন্তা করি: প্রধান বিচারপতি
আদালত ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে চান প্রধান বিচারপতি
শিক্ষিকা হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
শেয়ার করুন
রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ আছে, সেবা নেই
আহসান হাবীব অপু, রাজশাহী
২৯ নভেম্বর, ২০২১ ০৯:৫৯
আপডেট: ২৯ নভেম্বর, ২০২১ ১০:১৮
লিংকডইনে শেয়ার করুন
ইমেইল করুন
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন
রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থাকলেও মিলছে না সেবা
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বর্তমানে জরুরি বিভাগ থেকে রোগীদের তাড়াতাড়িই পাঠানো হচ্ছে
তবে রোগীদের ওয়ার্ডে যেতে যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লেগে যায়
এই সময়টা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ
কারণ ১০ মিনিটের মধ্যে রোগী ম্যানেজ করতে পারলে এক ধরেনের রেজাল্ট আসে আবার ১০ মিনিট পর ম্যানেজ করলে আরেক ধরনের রেজাল্ট পাওয়া যায়
এখানকার প্রতিটি মিনিটই গোল্ডেন মিনিট
গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে
রোগীদের জরুরি চিকিৎসা না দিয়েই পাঠানো হয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে
এতে তাৎক্ষণিক সেবা না পেয়ে রোগীর জটিলতা বাড়ে এমনকি অনেকের মৃত্যুও হয়
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর নাম-ঠিকানা রেজিস্ট্রার আর কোন ওয়ার্ডে যাবে সেটি ঠিক করে দেয়া ছাড়া কোনো কাজ নেই
জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকলেও সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই
রাজশাহী নগরীর ছোট বনগ্রাম এলাকার জাহিদুজ্জামান চলতি মাসের শুরুর দিকে তার স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান
সেখানে টিকিট কেটে খাতায় নাম এন্ট্রি করে প্রায় ২০ মিনিট পর মাকে নিয়ে পৌঁছান ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে
এরপর রিপোর্ট নিয়ে যান ওয়ার্ড চিকিৎসকের কাছে
সেখানেও লম্বা লাইন
মিনিট বিশেক পর সিরিয়াল পান ডাক্তারের
এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বাইরে থেকে ওষুধপত্র আনাসহ নানা প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর তার মায়ের চিকিৎসা শুরু হয়
অথচ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা মিললে চিকিৎসা আরও আগে শুরু করা যেত
শুধু জাহিদুজ্জামানের মা নন, এভাবে প্রত্যেক রোগীকেই হাসপাতালে যাওয়ার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয় চিকিৎসা শুরু হতে
দুর্গাপুর উপজেলার সায়বাড় গ্রামের বাসিন্দা জনাব আলীর স্বজনরা জানান, জনাব আলী ডায়াবেটিস রোগী
রক্তচাপ কমে যাওয়ায় ২২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়
জরুরি বিভাগে নাম, ঠিকানা এন্ট্রি শেষে তাকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিতে বলা হয়
রোগীকে ট্রলিতে তুলে ওয়ার্ডের দিকে যাচ্ছিলেন স্বজনরা
মাঝপথে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়
তাই আবারও জরুরি বিভাগের দিকে ট্রলি ঘুরিয়ে নেয়া হয়
তবে জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর সময়ই তিনি মারা যান
এমনকি জরুরি বিভাগে ইসিজি করার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করতে পারেনি নার্স
ইসিজি করতে পাঠানো হয় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে
পরে জনাব আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয় বেলা ১১টা ৫ মিনিটে
একইভাবে ১৫ জুন নাটোরের সিংড়ার বাসিন্দা বেলালুজ্জামানকে নেয়া হয় রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে
সেখানে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয় ৩৬ মিনিটে
এরপর চিকিৎসা শুরু হতে না হতেই তিনি মারা যান
এভাবে অনেক রোগীই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যাচ্ছেন
জরুরি সেবা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা
তবে জরুরি সেবার বিষয়ে রামেক হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামসুর রহমান জানান, জরুরি বিভাগে রোগী এলে তার অবস্থা বুঝেই তাকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়
এখানে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকেন
তারা রোগী দেখে প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের ওয়ার্ডে পাঠান
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীদের জরুরি সেবা দিতে না পারার বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবছেন
জরুরি বিভাগকে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে
এটির বাস্তবায়ন হলে এ বিভাগেই মিলবে সব ধরনের চিকিৎসা
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বর্তমানে জরুরি বিভাগ থেকে রোগীদের তাড়াতাড়িই পাঠানো হচ্ছে
তবে রোগীদের ওয়ার্ডে যেতে যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগে যায়
এই সময়টা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ