content
stringlengths
0
209k
রবিবারে আপনি সফর করতে বেরিয়েছিলেন
গতকালও টহল মেরে এসেছেন
"
কিকিরা অমায়িক হাসি হেসে বললেন, "যাচ্চলে, আমার তো খেয়ালই থাকে না
বুড়ো হয়ে ভীমরতি হয়েছে আমার
...তা স্যান্ডেলউড, ইয়ে মানে-তিরিশ হাজার টাকার ব্যাপারটা তোমায় বলেনি তারাপদ?" কিকিরা বললেন বটে বোকা সেজে, কিন্তু তিনি জানেন, তারাপদর কাছ থেকে সব খবরই পেয়েছে চন্দন
তারাপদ চন্দনের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসল
চন্দন বলল, "যা ইচ্ছে আপনি করুন, স্যার
কিন্তু আপনার পায়ের দায়িত্ব আমি নিচ্ছি না
পরে যখন ব্যথায় কাতরাবেন, আমি নেই
"
কিকিরা হেসে-হেসে জবাব দিলেন, "পাগল নাকি! আমি তোমার অ্যাডভাইস ছাড়া কিছু করি নাকি? তবে কী জানো, তিরিশ হাজারের লোভটা সামলাতে পারিনি বলে দু'দিন বাড়ির বাইরে বেরিয়েছি
খুব সাবধানে
ওয়াকিং করিনি বললেই হয়, সঙ্গে ছড়ি রেখেছি
প্রথমদিন তারাপদ ছিল
...তুমি সব শুনেছ তো?"
"লোচন দত্ত শুনেছি
"
"কাল একবার উত্তরে গিয়েছিলাম
বাগবাজার আর দিনেন্দ্র স্ট্রিট
"
চন্দন বসল
বসে হাত বাড়িয়ে তারাপদর সামনে রাখা প্লেট থেকে একটা শিঙাড়া তুলে নিল
কিকিরা নিজেই বললেন, "দিনেন্দ্র স্ট্রিটে থাকেন লোচনের মাসতুতো দাদা
অনিলচন্দ্র দেব, অনিলদা
মাসতুতো হলেও ঠিক নিজের মাসির নয়
মায়ের খুড়তুতো দিদির ছেলে
বয়েস হয়েছে
পঞ্চাশ-টঞ্চাশ হবে
অনিলচন্দ্র সেরে একবার সতীশবাবুর কাছে গেলাম
সতীশবাবু নোচনের বড় শ্যালক
থাকেন বাগবাজারে
আলাদাভাবেই থাকেন, মানে লোচনের নিজের শ্যালক হলেও, নিজেদের পৈতৃক বাড়িতে থাকেন না
ভাড়া বাড়িতে থাকেন
"
চন্দন বলল, "দেখুন কিকিরা, আমি তারার মুখের গোড়ার কথা সব শুনেছি
সব ব্যাপারে আপনি নাক গলাতে যান কেন?"
মজা করে কিকিরা বললেন, "নাক এখনো গলাইনি; শুধু গন্ধটা শুকছি
...তা ছাড়া তিরিশ হাজার ফেলনা নয় আজকের দিনে
আমি গরিব মানুষ
যদি থার্টি থাউজেন্ড পেয়ে যাই...
"কচু পাবেন
ওসব ধাপ্পাবাজি আমি অনেক দেখেছি
"
"তুমি আগে থেকেই সব মাটি করে দিচ্ছ! কথাগুলো যদি না শোনো, ব্যাপারটার মধ্যে কী আছে বুঝবে কেমন করে?"
চন্দন আর কথা বলল না
কিকিরা সামান্য সময় চুপ করে থেকে বললেন, "ব্যাপারটা যা ভাবছ তা নয়
এর মধ্যে সামথিং হ্যাজ...!"
বগলা চা নিয়ে এসেছিল চন্দনের জন্য
তারাপদদের চা তখনও শেষ হয়নি
চা নিতে নিতে কিকিরার দিকে তাকাল চন্দন
বলল, "সামথিং তো সব ব্যাপারেই থাকে
তা বলে আপনি খোঁড়া পায়ে নেচে বেড়াবেন!"
কিকিরা কথাটা শুনলেন, পাত্তা দিলেন না
চন্দন নিজের ঝোঁকেই বলল, "আমার মাঝে-মাঝে মনে হয়, আপনার উচিত ছিল ক্রিমিন্যাল প্র্যাকটিসে নেমে পড়া
বিস্তর পয়সা কামাতেন
আজকাল ও-লাইনে অনেক কদর
"
কিকিরা বললেন, "নেক্সট লাইফ, মানে পরের জন্মে চেষ্টা করব
এখন আমার কথাটা শোনো
"
চন্দন আর কিছু বলল না
কিকিরা বললেন, "বলছিলাম অনিলবাবুর কথা
বাড়িতে গিয়েই ধরলাম তাঁকে
বললাম, আমি লোচনবাবুর হয়ে কাজ করছি
ভদ্রলোক আমাকে পাত্তাই দিতে চান না
পরে ফোন করলেন লোচনকে
জেনুইন পার্টি আমি
শেষে কথা বললেন
"
"কী বললেন?" তারাপদ বলল
"বললেন টেলিফোন কল বার-দুই হয়েছে
টেলিফোনে গলা শুনে তিনি আন্দাজ করতে পারেননি ওটা মোহনের গলা কি না! এত বছর পর কারও গলার স্বর মনে রাখা অসম্ভব
তার ওপর লাইনে শব্দ হচ্ছিল
পাবলিক বুথ থেকে ফোন করছিল বোধ হয় কেউ
"
"অনিলবাবুর মোট কথাটা কী?
"বললেন, মোহন কি না তা তিনি জানেন না, তবে লোকটা লোচনদের ঘরবাড়ি পরিবার ছাপাখানা সম্পর্কে যা-যা বলল, দু-দশটা কথা, তা ঠিকই
মানে অনিলবাবু যতটা জানেন
"
চন্দন তাচ্ছিল্যের গলায় বলল, "এটা কোনো কথা হল কিকিরা? ইনফরমেশান জোগাড় করা কঠিন নাকি?"
কিকিরা বললেন, "কোনো কোনো জিনিস খুঁজে বের করা কঠিন
মানে, আমি বলছি-কোনো লোক বা বাড়ির সম্পর্কে আমরা যখন খোঁজখবর করি, ওপর-ওপরই করি
হয়ত খানিকটা খুঁটিয়েও করলাম কিন্তু সেটা কতটা হতে পারে
তোমার মা-বাবা-ভাই-বোন ঘরবাড়ি সম্পর্কে তুমি যা জানো, যতটা জানো, দেখেছ ছেলেবেলা থেকে-আমি বা তারাপদ ততটা কি জানতে পারি? পারি না
"
চন্দন বলল, "জাল মোহন কি সব কথা বলতে পেরেছে?"
"সব কথা নয়
সে-অবস্থাও ছিল না
মোহন দত্ত-পরিবার সম্পর্কে, নিজের বাবা আর কাকা, মানে লোচনের বাবা সম্বন্ধে দু-চার কথা যা বলেছে, তা ঠিক
"
"একটু শুনি?"
"যেমন ধরো সে বলেছে, তার বছর দশ বয়েসে তাকে দত্তক নেন রামকৃষ্ণ দত্ত, মানে লোচনের জ্যাঠামশাই
লোচনের বয়েস তখন দশ-এগারো
মোহন নামটা রামকৃষ্ণরই দেওয়া
আগে তার নাম ছিল গোপাল
নিজের বাবার সম্পর্কে এইটুকু তার ভাসা-ভাসা মনে আছে যে, ভদ্রলোক বড় গরিব ছিলেন, সামান্য একটা কাজ করতেন
স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন
...তা রামকৃষ্ণর বন্ধু ছিলেন ভদ্রলোক
গোপালের নিজের বাবার টিবি রোগ হয়