content
stringlengths 0
209k
|
|---|
বাড়াবাড়ি
|
উনি মারাও যান
|
মারা যাওয়ার আগে রামকৃষ্ণকে বলেন, গোপালকে দত্তক নিয়ে নিতে
|
রামকৃষ্ণর ছেলেপুলে ছিল না
|
তিনি এবং তাঁর স্ত্রী গোপালকে দত্তক নিয়ে নেন
|
পোষ্যও বলতে পারো
|
"
|
তারপদ বলল, "অনিলবাবু এ-সব জানেন?"
|
"জানেন
|
শুনেছেন
|
"
|
"আর কী বলল মোহন?"
|
"লোচনের বাবার অসুখের কথা
|
দু-দুবার এমন অসুখ হয়েছিল যে, মারা যেতে বসেছিলেন
|
নোচনের মা দক্ষিণেশ্বরে পুজো দিতে গিয়ে গঙ্গার ঘাটে পা হড়কে হাত-পা ভেঙেছিলেন-সে কথাও বলেছে
|
"
|
চন্দন আর তারাপদ সিগারেট ধরাল
|
কিকিরাও একটা চেয়ে নিলেন
|
"অনিলবাবুর কী ধারণা, এই লোকটা আসল মোহন?"
|
মাথা নাড়তে নাড়তে কিকিরা বললেন, "না
|
তাঁর ধারণা লোকটা জাল
|
"
|
"আসল বলে তিনি মানতে চাইছেন না কেন?"
|
"যে জন্যে তোমারাও মানতে চাইছ না
|
মরা মানুষ কেমন করে ফিরে আসবে? মোহন যে মারা গেছে তার প্রমাণ রয়েছে হাতেনাতে
|
লোচন ছাড়াও বাকি দুজন তাকে মারতে দেখেছে, লোচনের মেজো শ্যালক আর মোহনের বন্ধু
|
"
|
তারাপদ বলল, "অনিলবাবু শেষ পর্যন্ত কী বলতে চাইলেন?"
|
"তিনি অবাক হয়েছেন ঠিকই, তবে এই ফোন করা মোহনকে ভদ্রলোক জালিয়াত জোচ্চোর ছাড়া আর কিছু ভাবতে রাজি না
|
"
|
চন্দন কোনো কথা বলল না
|
তারাপদও চুপচাপ
|
কিকিরা নিজের থেকেই বললেন, "অনিলবাবু সেরে গেলাম সতীশবাবুর কাছে
|
উনি থাকেন বাগবাজারে
|
পৈতৃক বাড়িতে থাকেন না
|
বাগবাজারে একটা বাড়ির দোতলা ভাড়া নিয়ে থাকেন
|
"
|
"পৈতৃক বাড়ি কী দোষ করল?"
|
"সেটা কি আমি জিজ্ঞেস করতে পারি? নিজেদের ফ্যামিলির ব্যাপার
|
..সতীশবাবু মানুষটি কিন্তু সজ্জন
|
ভাল
|
বছর পঞ্চান্ন বয়েস হয়েছে
|
একটা ওষুধ কোম্পানিতে কেমিস্ট
|
পরিবার বলতে স্ত্রী আর ছেলে
|
ছেলে কলেজে পড়ায়
|
বিয়ে-থা এখনো হয়নি
|
"
|
"সতীশবাবু কী বললেন?"
|
"বললেন অনেক কথাই
|
মোহনের গলার স্বর তিনি ধরতে পারেননি ঠিকই তবে দু-পাঁচটা কথা প্রমাণ হিসাবে যা বললেন, তা ঠিকই
|
সতীশবাবু বেশ আশ্চর্যই হলেন
|
উনি বললেন, দেখুন, ও-বাড়ির সব খোঁজখবর আমি রাখি না, কুটুমবাড়ির নাড়ির খবর, হাঁড়ির খবর রেখে আমার কী লাভ! তবে হ্যাঁ, আমাদের জামাইয়ের বাবা যেদিন মারা গেলেন সেদিন কলকাতা যে জলে ডুবে ছিল, তা আমার মনে আছে
|
ওদের ছাপাখানায় আগুন লেগে অনেক ক্ষতি হয়েছিল সেটাও আমি জানি
|
...এইরকম কয়েকটা কথা মোহন যা বলেছে-সতীশবাবু স্বীকার করে নিলেন সত্যি বলেই
|
"
|
"সতীশবাবুর ধারণা, এ-মোহন তবে আসল?"
|
"না, সে কথা তিনি কেমন করে বলবেন
|
"
|
"তবে?"
|
"তবে এটা তিনি স্পষ্টই বললেন, মোহন ছেলেটিকে তাঁর খুবই ভাল লাগত
|
হাসিখুশি ছেলে, আচার-ব্যবহার সুন্দর
|
চট করে নজর কেড়ে নিত
|
মোহন কিন্তু স্বভাবে খুব ভিতু ছিল
|
সাবধানী ছিল
|
বেপরোয়া ধরনের ছেলে সে একেবারেই ছিল না
|
চলন্ত ট্রামে বাসে সে লাফিয়ে উঠত কি না সন্দেহ
|
ময়দানে বড় খেলা থাকলে গণ্ডগোলের ভয়ে সে মাঠে যেত না
|
রেডিয়ো শুনত, টিভি দেখত
|
এই ছেলে যে কেমন করে ঝরনা-নামা দেখতে পাহাড়ের মাথায় উঠবে, উঠে অমন বিপজ্জনক জায়গায় যাবে-সতীশবাবুর তা মাথায় ঢোকেনি
|
বললেন, একেই বলে নিয়তির টান মশাই, নিয়তি তাকে টান ছিল...
|
"
|
চন্দন হঠাৎ বলল, "ওর কি ভারটিগো রোগ ছিল? তা থাকলে মাথা ঘুরে যেতে পারে
|
"
|
কিকিরা বললেন, "সে-খবর নিইনি
|
"
|
তারাপদ বলল, "সতীশবাবুর কথা থেকে কি আপনার মনে হল, ওঁর মনে কোনো সন্দেহ আছে?"
|
"সন্দেহের কথা কেমন করে বলবেন! তবে আমার মনে হল, ব্যাপারটা এমনই যে, সতীশবাবু মনে-মনে মেনে নিতে পারেননি
|
"
|
"লোচন সম্পর্কে বললেন কিছু?"
|
"না
|
নিজের ভগিনীপতি সম্পর্কে চুপচাপ দেখলাম
|
বেশি কিছু বললেন
|
হয়ত এড়িয়ে গেলেন
|
"
|
চন্দন বলল, "আপনার কী মনে হচ্ছে?"
|
"ভাবছি
|
এখনো অনেকের সঙ্গে দেখা করা বাকি
|
দেখি কোথাকার জল
|
কোথায় গড়ায়
|
মুশকিল কী জানো চাঁদু, যে দু'জন বড় সাক্ষী ছিল, তাদের একজন এখন চা বাগানে, অন্যজন বেপাত্তা
|
ঘটনা যে সময় ঘটেছে তখন ওরা ওখানে ছিল
|
ওরাই বলতে পারে
|
"
|
বাধা দিয়ে তারাপদ বলল, "স্যার, অন্য দু'জন কাছে ছিল কিন্তু পাশে বা গায়ের কাছে ছিল না
|
আমার যতদূর মনে হচ্ছে লোচন সেই রকমই
|
বলেছিল
|
"
|
চন্দন বলল, "সতীশবাবুর কী ধারণা, এই লোকটা মোহন হলেও হতে পারে?"
|
"না
|
তা নয়; তবে তিনি ধোঁকা খেয়েছেন
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.