content
stringlengths 0
209k
|
|---|
...মরা মানুষ ফিরে আসে না-এটা সবাই বোঝে
|
কথা হল, মোহন সত্যিই মারা গিয়েছে কি না?"
|
"সতীশবাবুরও সন্দেহ রয়েছে?"
|
"বাইরে প্রকাশ করলেন না, ভেতরে মনে হল, কোনো একটা সন্দেহ আছে
|
"
|
চন্দন আর তারাপদ পরস্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল
|
কিকিরা তাঁর মচকানো পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন
|
দেখলেন নিজে
|
দেখালেন চন্দনকে, "হাঁটতে পারি
|
ব্যথা কম
|
বেশি হাঁটাচলা করলে ব্যথা বাড়ে
|
"
|
"আপনি তা হলে বেশি হাঁটাচলা করছেন?"
|
হাসলেন কিকিরা, ছেলেমানুষ যেমন করে মিথ্যে গল্প সাজায়, অবিকল সেইভাবে বললেন, "না, কোথায়? রিকশায়-রিকশায় ঘুরি
|
আজকাল আবার অটো বেরিয়েছে
|
" বলে অন্য কথায় চলে গেলেন
|
"কাল আমি তুলসীবাবুর কাছে যাব
|
পটুয়াটোলা লেন
|
উনি ম্যানেজার ছিলেন দত্ত কোম্পানির ছাপাখানার
|
তুলসীবাবুই একমাত্র লোক যিনি জাল মোহনকে সামনাসামনি দেখেছেন
|
দেখি তিনি কী বলেন?"
|
"আরও তো আছে
|
"
|
"হ্যাঁ, ভবানী আর সেই উকিল মিহিরবাবু, থিয়েটার পাগলা
|
"
|
"সবই কি একদিনে সারবেন?"
|
"তা বোধ হয় হবে না
|
দেখি! একটা কথা আমায় বড় ভাবাচ্ছে হে! তোমরা নিশ্চয় লক্ষ করেছ, যে দু'জন লোক লোচনদের সঙ্গে ছিল তখন-মানে ঘটনার সময়, তাদের কেউ আর কলকাতায় নেই
|
একজন চলে গিয়েছে চা বাগানে, অন্যজন কোথায় কেউ জানে না
|
তার চেয়েও যা আশ্চর্যের ব্যাপার, লোচনের মেজো শ্যালক আগে কলকাতাতেই থাকত
|
ঘটনার পর সে চা বাগানে চলে গিয়েছে চাকরি নিয়ে
|
সতীশবাবুই আমাকে বললেন
|
মোহনের বন্ধু সম্পর্কে অবশ্য তিনি কিছু জানেন না
|
আমি ভাবছি, এই দুটো লোককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, না, তারা নিজেরাই সরে গেছে
|
লাখ টাকার প্রশ্ন হে! জবাবটা কে দেবে?"
|
কথাটা শুনেই একেনবাবু ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন, "ওই যাঃ স্যার, এত যে রাত হয়েছে, সেটা তো একদম খেয়াল হয়নি
|
না স্যার, আপনাকে এখন আর ডিস্টার্ব করা উচিত হবে না
|
"
|
ইতিমধ্যেই অরুণও দেখলাম অশোকের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন
|
"কী ব্যাপার?" অরুণ আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করলেন
|
"নাথিং দ্যাট আর্জেন্ট স্যার," একেনবাবু একেবারে হাত দুটো জোড়া করে বললেন
|
"দোষটা সম্পূর্ণ আমার
|
আমরা যদি একটু খেয়াল করতাম যে, এগারোটা বেজে গেছে, তাহলে কখনোই ডোর বেলটা বাজাতাম না, নেভার স্যার! যাক, যা হওয়ার হয়ে গেছে
|
উই মাস্ট লিভ রাইট নাউ
|
আপনারা স্যার নিশ্চিন্ত মনে শুয়ে পড়ুন
|
দেয়ার ইজ অলওয়েজ টুমরো
|
"
|
এই কথার পর অত্যন্ত নির্লজ্জ না হলে কেউ বলবে না যে, ঠিক আছে,কাল দেখা হবে
|
অশোক বললেন, "ভেতরে আসুন
|
উই মাস্ট হ্যাভ সামথিং ইমপর্ট্যান্ট টু সে
|
"
|
"আপনি শিওর স্যার? আই মিন ইট ইজ নট টু লেট?"
|
"ডাজ'ন্ট ম্যাটার, আসুন
|
"
|
"থাঙ্ক ইউ স্যার, থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ
|
"
|
.
|
আবার আমরা সাহানি ম্যানসনের ফ্যামিলি রুমে গিয়ে বসলাম
|
ওঁদের গেস্টরা দেখলাম চলে গেছেন
|
কফির কাপগুলো তখনও ইতস্তত ছড়িয়ে আছে
|
সেগুলো দেখে প্লাস টেনশনে -আমার বেশ কফির পিপাসা পাচ্ছিল
|
কিন্তু এবার আর কেউ চা- কফির জন্য আপ্যায়ন করলেন না
|
অরুণ 'আমি একটু আসছি' বলে ভেতরে চলে গেলেন
|
আর অশোকও আমাদের সামনে বসলেন না
|
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফায়ার প্লেসের কাঠগুলোকে খোঁচাতে খোঁচাতে প্রশ্ন করলেন, "বলুন মিস্টার সেন, হাউ ক্যান উই হেল্প ইউ?"
|
প্রশ্নটা একেনবাবুর কানে ঢুকল কিনা জানি না, কারণ উনি মুগ্ধ দৃষ্টিতে ফায়ার প্লেসটা দেখছেন
|
বললেন, "যাই বলুন স্যার, এই ফায়ার প্লেস জিনিসটা কিন্তু একেবারে মার্ভেলাস
|
হ্যাঁ বাড়িতে আপনাদের সেন্ট্রাল হিট আরও কীসব আছে জানি ঠিকই, কিন্তু এই উড বার্নিং ফায়ার প্লেসের আগুনের গরম স্যার, একেবারে আউট অফ দ্য ওয়ার্লর্ড! আমি আবার স্যার ঠান্ডায় বড় কাবু হই! এই যে আপনার এখানে বসে আমি গনগনে তাপ পোয়াচ্ছি -ইট ইজ জাস্ট...!"
|
একেনবাবুর বকবকানি শুরু করতেই দেখলাম অশোকের ভুরু দুটো একটু একটু করে কুঁচকোচ্ছে
|
বলতে কী আমারও অস্বস্তি লাগছিল, রাত দুপুরে উনি এই খেজুরে আলাপ শুরু করেছেন দেখে!
|
"প্লিজ," একেনবাবুকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে অশোক বললেন, "এটা বলার জন্য নিশ্চয়ই এত রাত্রে আসেননি!"
|
"ইউ আর রাইট স্যার
|
সত্যি কথা বলতে কী স্যার, আমি গরমের কোনো কথাই ভাবছিলাম না, বরং তার উল্টোটাই ভাবছিলাম
|
আমার মাথায় আপনাদের ফ্রিজার নিয়ে একটা প্রশ্ন ঘুরছিল
|
"
|
"ফ্রিজার!"
|
"হ্যাঁ স্যার
|
আপনাদের বেসমেন্টে বোধহয় একটা ফ্রিজার আছে
|
আসলে স্যার, আমি ফ্রিজার-টিজার ঠিক চিনি না
|
তবে কিনা শ্যামলবাবুর বাড়িতে ক'দিন আগে একটা ফ্রিজার দেখেছিলাম
|
আপনাদের বেসমেন্টে যে বক্সটা আছে, সেটাও হুবহু এক সাইজ,
|
এক চেহারা
|
তাই মনে হল ফ্রিজারই নিশ্চয়ই হবে!"
|
"আই অ্যাম নট সারপ্রাইজড
|
আই ডু হ্যাভ এ ফ্রিজার ইন মাই বেসমেন্ট
|
"
|
বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল না যে, অশোক তার বিরক্তিটা প্রাণপণে চাপার চেষ্টা করছেন
|
"ইজ ইট ওয়ার্কিং স্যার?"
|
"ইয়েস
|
"
|
"আমি তো শুনেছিলাম ওটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল
|
" একেনবাবু মাথা চুলকোতে চুলকোতে বললেন
|
এত রাত্রে কারোর বাড়িতে এসে কেউ যে এরকম ননসেন্স প্রশ্ন করে যেতে পারে, সেটা বোধহয় অশোক কল্পনাও করতে পারেননি
|
কিন্তু অন্যপক্ষে উনি আমাদের একেনবাবুকে চেনেন না!
|
"কার কাছে শুনলেন?"
|
"মিস্টার শিকদার স্যার...
|
"
|
"ও এবার বুঝেছি!" অশোক একেনবাবুর কনফিউশনের সূত্রটা ফাইনালি ধরতে পারলেন
|
"ইয়েস, ওটা খারাপ হয়েছিল কয়েকদিনের জন্য
|
ঠিক খারাপ নয়
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.