content
stringlengths
0
129k
নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরাণি
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা-
ন্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী
নোইনং ছিদান্তি শস্ত্রানি নৈনং দহতি পাবকঃ
ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ
অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য এব্ব চ
নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থানুরচলোহইয়ং সনাতনঃ
অব্যক্তোহয়মচিন্ত্যেহয়মবিকার্যোহয়মুচ্যতে
তস্মাদেবং বিদিত্বৈনং নানুশোচিতুমহর্ষি
অর্থাৎ, মানুষেরা যেমন জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে নূতন বস্ত্র পরিধান করে, আত্মা তেমনি জীর্ণ শরীর পরিত্যাগ করে নূতন শরীর গ্রহণ করে
একে শস্ত্র ছিন্ন করতে পারে না, অগ্নি দগ্ধ করতে পারে না,জল ভেজাতে পারে না, বাতাস শুকোতে পারে না
এ অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য, অশোষ্য, শাশ্বত, সর্বজ্ঞ, স্থির, অচল এবং সনাতন
ভাষার অতীত, চিন্তার অতীত এবং বিকারহীন বলে কথিত
এগুলো জানবার পরে, হে অর্জুন - তুমি আর শোক করতে পার না
এভাবেই শ্রকৃষ্ণ বৈধতা দিতে চেয়েছেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ আর পাইকারী প্রাণনাশকে
গনহত্যা কিংবা যুদ্ধবাজির কথা যদি বাদও দেই, নৈতিকতা কিংবা মূল্যবোধের ধারক হিসেবেও আজ তেমন উন্নত কিছু মনে হবে না আজ হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ কিংবা পুরাণগুলোকে
কিছুদিন আগে রণদীপ বসু মুক্তমনায় আট পর্বে লিখেছিলেন, অস্পৃশ্য ও ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং একজন বাবাসাহেব[10] নামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ
সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন,
পৃথিবীতে যতগুলো কথিত ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তার মধ্যে মনে হয় অন্যতম বর্বর, নীতিহীন, শঠতা আর অমানবিক প্রতারণায় পরিপূর্ণ গ্রন্থটির নাম হচ্ছে হিন্দুদের 'মনুস্মৃতি' বা 'মনুসংহিতা'
কথাটি মিথ্যে নয়
এই মনুসংহিতা থেকে আমরা পাই- মানুষের সমৃদ্ধি কামনায় পরমেশ্বর নিজের মুখ থেকে ব্রাক্ষ্মণ, বাহু থকে ক্ষত্রিয়, উরু থেকে বৈশ্য, আর পা থেকে শুদ্র সৃষ্টি করেছিলেন (১:৩১)
একই কথা বলা হয়েছে অন্য শ্লোকেও -
সর্বস্যাস্য তু সর্গস্য গুপ্ত্যর্থং স মহাদ্যুতিঃ
মুখবাহুরুপজ্জানাং পৃথক্ কর্মাণ্যকল্পয়ৎ
(১:৮৭)
অর্থাৎ, এই সকল সৃষ্টির অর্থাৎ ত্রিভুবনের রক্ষার জন্য মহাতেজযুক্ত প্রজাপতি ব্রহ্মা নিজের মুখ, বাহু, উরু এবং পাদ- এই চারটি অঙ্গ থেকে জাত ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের পৃথক পৃথক কার্যের ব্যবস্থা করে দিলেন
হিন্দুরা জোর গলায় বলেন, ঈশ্বরের চোখে নাকি সবাই সমান, অথচ, তাদের ধর্মগ্রন্থেই আছে ব্রাক্ষ্মণদের মাথা থেকে আর শুদ্রদের পা থেকে তৈরী করেছিলেন মহান ঈশ্বর! মনু বলেছেন- দাসত্বের কাজ নির্বাহ করার জন্যই বিধাতা শুদ্রদের সৃষ্টি করেছিলেন (৮:৪১৩)
এই সমস্ত নিম্নবর্ণের হিন্দুরা বাসার সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে চলে যাওয়ার পর গঙ্গা-জল ছিটিয়ে গৃহকে 'পবিত্র' করা হয়
শ্রী এম.সি.রাজার কথায়, 'আপনি বাড়ীতে কুকুর-বিড়ালের চাষ করতে পারেন, গো-মুত্র পান করতে পারেন, এমনকি পাপ দূর করার জন্য সারা গায়ে গোবর লেপতে পারেন, কিন্তু নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ছায়াটি পর্যন্ত আপনি মারাতে পারবেন না' ! মনুসংহিতার দৃষ্টিতে শুদ্রদের উপার্জিত ধন সম্পত্তি তাদের ভোগের ও অধিকার নেই
সব উপার্জিত ধন দাস-মালিকেরাই গ্রহণ করবে -এই ছিল মনুর বিধান - 'ন হি তস্যাস্তি কিঞ্চিত স্বং ভর্ত্তৃহার্যধনো হি সঃ' (৮:৪১৬)
শুদ্ররা ছিল বঞ্চণার করুনতম নিদর্শন; তাদের না ছিল নাগরিক অধিকার, না ছিল ধর্মীয় বা অর্থনৈতিক অধিকার
শুদ্রদের যাতে অন্য তিন বর্ণ থেকে আলাদা করে চেনা যায় এবং শুদ্ররা যেন প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখে যে তিন বর্ণের মানুষের ক্রীতদাস হয়ে সেবা করবার জন্যই তাদের জন্ম
তিন বর্ণের মানুষদের থেকে শুদ্ররা যে ভিন্নতর জীব, মনুষ্যেতর জীব তা জানানোর জন্য প্রতি মাসে মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলবার নির্দেশ দিয়েছেন মনু (৫:১৪০)
শুধু মনুসংহিতা নয়, হিন্দুদের পূজনীয় মহাকাব্যগুলোতেও বর্ণবাদের ছাপ স্পষ্ট
মহাভারতে আমরা দেখি নিষাদ বালক একলব্যকে দ্রোনাচার্য ধনুর্বিদ্যা শিখাতে অস্বীকার করেছিলেন, কেবল একলব্য ছোট জাতের ছিলো বলেই
পরে একলব্য নিজে নিকেই অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ধনুর্বিদ্যায় পারদর্শি হয়ে উঠলে দ্রোণ নিজের প্রিয় ছাত্র অর্জুনকে উপরে রাখতে 'গুরু দক্ষিণা' হিসেবে বুড়ো আঙ্গুল কেটে নেন
এ থেকে পরিস্কার যে, হিন্দু ধর্মের নৈতিকতা অনুযায়ী ছোটজাতের লোকজনের বিদ্যাচর্চা করা ঠিক না
বুড়া আঙ্গুল কাটা যায় তাতে
আবার রামায়নে আমরা দেখি, তপস্যা করার তথা বেদ পাঠ করার অপরাধে রাম শম্বুক নামের এক শুদ্রের শিরোচ্ছেদ করেছিল
এই ঘটনা হিন্দুদের 'রামরাজ্যের' প্রকৃত স্বরূপকে তুলে ধরে
নারীদের সম্পর্কেও উচ্চারিত হয়েছে চরম অবমাননাকর কিছু শ্লোক
মনুর দৃষ্টিতে নারী স্বভাবব্যভিচারিণী, কামপরায়ণা; কাম, ক্রোধ, পরহিংসা, কুটিলতা ইত্যাদি যত খারাপ দোষ আছে, সবই নারীর বৈশিষ্ট্য, এসবই দিয়ে নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে[11]! যেমন, মনুসংহিতার একটি শ্লোকে (২: ২১৩)বলা হয়েছে -
স্বভাব এষ নারীণাং নরাণামিহ্ দূষণম্
অতোহর্থান্ন প্রমাদ্যন্তি প্রমদাসু বিপশ্চিতঃ
অর্থাৎ, ইহলোকে (শৃঙ্গার চেষ্টার দ্বারা মোহিত করে) পুরুষদের দূষিত করাই নারীদের স্বভাব; এই কারণে পণ্ডিতেরা স্ত্রীলোকসম্বন্ধে কখনোই অনবধান হন না
আরো বলা হয়েছে -
মাত্রা স্বস্রা দুহিত্রা বা না বিবিক্তাসনো ভবেৎ
বলবানিন্দ্রিয়গ্রামো বিদ্বাংসমপি কর্ষতি
(২:২১৫)
অর্থাৎ, মাতা, ভগিনী বা কন্যার সাথে কোনও পুরুষ নির্জন গৃহাদিতে বাস করবে না, কারণ এদের চিত্ত এতোই চঞ্চল যে, এরা বিদ্বান্ ব্যক্তিকেও আকর্ষণ করে কামের বশবর্তী করে তোলে
মনু সংহিতা মতে, নারীর গৃহকর্ম এবং সন্তান উৎপাদন (৯:২৬)
সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্যই নারী এবং সন্তান উৎপাদনার্থে পুরুষ সৃষ্টি হয়েছে (৯:৯৬)
নারী মন্ত্রহীন, অশুভ (৯:১৮), নারীদের জন্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত-অমন্ত্রক (২:৬৬); কন্যা, যুবতী, রোগাদি পীড়িত ব্যক্তির হোম নিষিদ্ধ এবং তা করলে তারা নরকে পতিত হয় (১১:৩৭)! স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে -
বিশীলঃ কামবৃত্তো বা গুণৈর্বা পরিবর্জিতঃ
উপচর্যঃ স্ত্রিয়া সাধ্ব্যা সততং দেববৎ পতিঃ॥ (৫:১৫৪)
বাংলা করলে দাঁড়ায়, স্বামী দুশ্চরিত্র, কামুক বা নির্গুণ হলেও তিনি সাধ্বী স্ত্রী কর্তৃক সর্বদা দেবতার ন্যায় সেব্য
কোনো নারী (স্ত্রী) যদি স্বামীকে অবহেলা করে, ব্যভিচারিণী হলে সংসারে তো নিন্দিত হবেই সাথে-সাথে যক্ষা, কুষ্ঠ ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়, শুধু তাই নয় পরজন্মে শৃগালের গর্ভে জন্ম নিবে সেই নারী (৫:১৬৩-১৬৪); শুধু স্বামীর সেবার মাধ্যমেই নারী স্বর্গে যাবে (৫:১৫৫)
সাধ্বী নারী কখনো জীবিত অথবা মৃত স্বামীর অপ্রিয় কিছু করবেন না (৫:১৫৬)
স্বামী মারা গেলে স্ত্রী সারা জীবন ফলমূল খেয়ে দেহ ক্ষয় করবেন, কিন্তু অন্য পুরুষের নামোচ্চারণ করবেন না (৫:১৫৭)
অথচ স্ত্রী মারা গেলে দাহ ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ করেই স্বামী আবার দার পরিগ্রহ করবেন (৫:১৬৮)
ধরণের অসংখ্য বিভৎস এবং অমানবিক ঘটনা ছড়িয়ে আছে ধর্মগ্রন্থের পাতায় পাতায়, যেগুলোকে অহরহ 'নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের সার্বজনীন উৎস' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়
এটি নিঃসন্দেহ যে, যীশু, মূসা কিংবা মুহম্মদ 'মানবিক' কাজের যে সমস্ত নমুনা ধর্মগ্রন্থের পাতায় রেখে গেছেন, তার চাইতে আমরা আজ অনেক বেশি মানবিক জীবন যাপন করছি
রামের সেই তথাকথিত 'রামরাজ্য' কিংবা 'মনুরাজ্য'র চেয়ে আমরা আজ ভাল আছি একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়
তবে যে ব্যাপারটি বোঝা প্রয়োজন তা হল, ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত এবং নবী পয়গম্বরদের সে সময়কার ভায়োলেন্সগুলোকে কেবল ধর্মগ্রন্থ থেকে ঢালাওভাবে আয়াত তুলে তুলে সমালোচনা করার পাশাপাশি এর নৃতাত্ত্বিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি বিবর্তনীয় বিশ্লেষণও কিন্তু হাজির করা প্রয়োজন
নইলে বিশ্লেষণ কিন্তু অসম্পূর্ণই থেকে যাবে
আমি আমার 'বিশ্বাসের ভাইরাস' নামের একটি প্রবন্ধে এ নিয়ে কিছুটা আলোচনা করেছিলাম
আমি প্রবন্ধটিতে বলেছিলাম, মানুষ আসলে আদিমকাল থেকে বহু সংঘাত, মারামারি এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে গিয়ে আজ এই পর্যায়ে এসে পৌছেছে
একটা সময় সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করাটা ছিল মানব জাতির টিকে থাকার ক্ষেত্রে অনেক বড় নিয়ামক
যে গোত্রে বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতে পারা গিয়েছিল যে যোদ্ধারা সাহসের সাথে যুদ্ধ করে মারা গেলে পরলোকে গিয়ে পাবে অফুরন্ত সুখ, সাচ্ছ্বন্দ্য, হুর পরী উদ্ভিন্নযৌবনা চিরকুমারী অপ্সরা, (আর বেঁচে থাকলে তো আছেই সাহসী যোদ্ধার বিশাল সম্মান আর পুরস্কার) - তারা হয়ত অনেক সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছে এবং নিজেদের এই 'যুদ্ধাংদেহী জিন' (আক্ষরিক অর্থে অবশ্যই নয়) পরবর্তী প্রজন্মে বিস্তৃত করতে সহায়তা করেছে
মানব সভ্যতাকে অনেকে শিশুদের মানসজগতের সাথে তুলনা করেন
শিশুদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই একটা সময় পর্যন্ত অভিভাবকদের সমস্ত কথা নির্দ্বিধায় মেনে চলতে হয় -এ আমরা জানি
ধরা যাক একটা শিশু চুলায় হাত দিতে গেল, ওমনি তার মা বলে উঠল - চুলায় হাত দেয় না - ওটা গরম! শিশুটা সেটা শুনে আর হাত দিল না, বরং সাথে সাথে হাত সরিয়ে নিলো
মার কথা শুনতে হবে - এই বিশ্বাস পরম্পরায় আমরা বহন করি - নইলে যে আমরা টিকে থাকতে পারবো না, পারতাম না
এখন কথা হচ্ছে - সেই ভাল মা-ই যখন অসংখ্য ভাল উপদেশের পাশাপাশি আবার কিছু মন্দ বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন উপদেশও দেয় - 'শনিবার ছাগল বলি না দিলে অমঙ্গল হবে', কিংবা 'রসগোল্লা খেয়ে অংক পরীক্ষা দিতে যেও না - গেলে গোল্লা পাবে' জাতীয় - তখন শিশুর পক্ষে সম্ভব হয় না সেই মন্দ বিশ্বাসকে অন্য দশটা বিশ্বাস কিংবা ভাল উপদেশ থেকে আলাদা করার
সেই মন্দবিশ্বাসও বংশপরম্পরায় সে বহন করতে থাকে অবলীলায়
সব বিশ্বাস খারাপ নয়, কিন্তু অসংখ্য মন্দ বিশ্বাস হয়ত অনেক সময় জন্ম দেয় 'বিশ্বাসের ভাইরাসের'
এগুলো একটা সময় প্রগতিকে থামাতে চায়, সভ্যতাকে ধ্ব্বংস করে
যেমন, ডাইনী পোড়ানো, সতীদাহ, বিধর্মী এবং কাফেরদের প্রতি ঘৃণা, মুরতাদদের হত্যা এগুলোর কথা বলা যায়
যা হোক, সার্বিকভাবে ভায়োলেন্স কতটুকু কমেছে সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, বহুদিন ধরে চলে আসা বর্বর কুৎসিৎ রীতি নীতি আমরা অনেকাংশেই ত্যাগ করতে পেরেছি, পেরেছি বিশ্বাসের ভাইরাসের বিভিন্ন প্রতিষেধক তৈরি করতে
নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে আমরা আজ সচেতন হয়েছি
ধর্মানুমোদিত না হবার পরেও (মনে রাখতে হবে, কোন ধর্মেই দাসপ্রথাকে বিলোপের আহবান জানানো হয়নি) আমরা পৃথিবীতে দাসমুক্তি ঘটাতে পেরেছি,আধুনিক গণতান্ত্রিক আইনে লিঙ্গ ও বর্ণের পার্থক্য কিংবা জাতিভেদ বিলোপ করতে পেরেছি
মেয়েরা অফিস আদালতে পুরুষদের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে, আজ কোন নারীকে আর মৃত স্বামীর চিতায় প্রাণ দিতে হয় না, কিংবা বেদ পড়ার জন্য শম্বুকের মত কোন হতভাগ্য শুদ্রকে
চুরি করার জন্য হাত কেটে ফেলার মত বিধান কিংবা ব্যাভিচারের জন্য পাথর ছুঁড়ে হত্যার মত কিছু আইন বর্বরতার সাক্ষ্য হিসেবে এখনো দু চারটি সনাতন ইসলামী রাষ্ট্রে দেখা গেলেও সার্বিকভাবে সাড়া পৃথিবীতে এ ধরণের বর্বর আইনের চর্চা কমে এসেছে
এমনকি বাংলাদেশের হাইকোর্টে সম্প্রতি ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, এ আমরা পত্রিকায় ক'দিন আগেই দেখলাম[12]
ইন্টারনেটের কল্যাণে ধর্মীয় নীতি আর আইন কানুনগুলোর সমালোচনা এমনকি বাংলা ব্লগসাইটগুলোতেও খুব উজ্জ্বলভাবেই লক্ষ্যনীয়
আর পশ্চিমে তো এ ধরণের বর্বর প্রথা আর অমানবিক আইন কানুন বহুদিন ধরেই অনুপস্থিত;এমনকি হত্যা, খুন খারাবির মত নৃশংসতাও উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে কমে এসেছে বলে অনেক গবেষক মনে করেন আজ
স্টিভেন পিঙ্কার তার 'হিস্ট্রি অব ভায়োলেন্স' প্রবন্ধে বলেন[13] -
, , , , , , , , , . , - - . 1200 -1990. , - , 24 100,000 0.6 100,000 1960.
মিথ অব নোবেল স্যাভেজ
কিন্তু যত আশাবাদীই হই কিংবা হওয়ার অভিনয় করি নাকেন কেন, সত্যি বলতে কি মানুষের বেঁচে থাকার ইতিহাস আসলে শেষ পর্যন্ত সহিংসতারই ইতিহাস
যে কোন প্রাচীন ইতিহাসভিত্তিক জনপ্রিয় চলচিত্রগুলোতে চোখ রাখলেই দেখা যায় এক রাজা আরেক রাজার সাথে যুদ্ধ করছে,কেউ ষড়যন্ত্র করছে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য, কেউবা পার্শ্ববর্তী রাজ্য আক্রমণের জন্য মুখিয়ে আছে, কখনো গ্ল্যাডিয়েটরদের ক্ষুদার্থ সিংহের খাঁচায়, কখনো বা নরবলি দেয়া হয়েছে কিংবা কুমারী নারী উৎসর্গ করা হয়েছে রাজ্যের সমৃদ্ধি কামনায়
আমরা ইতিহাসের সিঁড়ি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে যত পেছনের দিকেই যাই না কেন, এ ধরনের যুদ্ধ এবং অমানবিক নৃশংসতার হাত থেকে আমরা নিস্তার পাই না
আমাদের আদিম পূর্বপুরুষেরা কেউ বা যুদ্ধ করেছে লাঠি সটা দিয়ে, কেউ বা বল্লম দিয়ে, কেউ বা তীর ধনুক দিয়ে কিংবা কেউ বুমেরাং ব্যবহার করে
আদিম গুহাচিত্রগুলোতে চোখ রাখলেই দেখা যায় তীক্ষ্ণ সেসব অস্ত্র ব্যবহার করে তারা পশু শিকার করেছে, কখনো বা হানাহানি মারামারি করেছে নিজেদের মধ্যেই
তারপরেও আমাদের স্কুল কলেজের বই পত্রে শেখানো হয়েছে কিংবা জনপ্রিয় মিডিয়ায় বহুদিন ধরে বোঝানো হয়েছে আমরা নাকি খুব শান্তিপ্রিয় জীব
তারা পশুদের মত নির্বিচারে হানাহানি মারামারি করে না
আসলে মানুষ খুব 'শান্তিপ্রিয় প্রজাতি' - সমাজে গেড়ে বসা এই মিথটিকে স্টিভেন পিঙ্কার তার ব্ল্যাঙ্ক স্লেট চিহ্নিত করেছেন 'মিথ অব নোবেল স্যাভেজ' ( )হিসেবে
অবশ্য এই অযাচিত মিথটিকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে নৃতাত্ত্বিক এবং সমাজতাত্ত্বিকদের অবদানও ফেলে দেবার মতো নয়
তারা প্রথম থেকেই উৎসাহী ছিলেন আমাদের অন্ধকার জীবনের ইতিবৃত্তগুলো বেমালুম চেপে গিয়ে একধরণের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি জনমানসে প্রোথিত করতে
সে সব 'শান্তিকামী নৃতত্ত্ববিদেরা' এক সময় সোৎসাহে বলে বেড়াতেন যে, ছোট খাট যুদ্ধ টুদ্ধ হলেও মানবেতিহাসের পাতায় কোন নরভক্ষণের () দৃষ্টান্ত নেই