id stringlengths 1 4 | title stringlengths 1 55 | author stringclasses 125
values | poem stringlengths 4 14.6k | label int64 0 11 | label_name stringclasses 12
values |
|---|---|---|---|---|---|
3606 | দিন যায় | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | সুখের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে
শীতের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে
অর্ধেক কপাল জুড়ে রোদ পড়ে আছে
শুধু ঝড় থমকে আছে গাছের মাথায়
আকাশমনির ।ঝড় মানে ঝোড়ো হাওয়া, বাদ্ লা হাওয়া নয়
ক্রন্দনরঙের মত নয় ফুলগুলি
চন্দ্রমল্লিকার ।জয়দেবের মেলা থেকে গান ভেসে আসে
সঙ্গে ওড়ে ধুলোবালি, পায়ের নূপুর
সুখের চট্ কা ভাঙে গৈরিক আবাসে
দিন যা... | 1 | চিন্তামূলক |
2640 | গর্ব করে নিই নে ও নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গর্ব করে নিই নে ও নাম, জান অন্তর্যামী,
আমার মুখে তোমার নাম কি সাজে।
যখন সবাই উপহাসে তখন ভাবি আমি
আমার কণ্ঠে তোমার নাম কি বাজে।
তোমা হতে অনেক দূরে থাকি
সে যেন মোর জানতে না রয় বাকি,
নামগানের এই ছদ্মবেশে দিই পরিচয় পাছে
মনে মনে মরি যে সেই লাজে।অহংকারের মিথ্যা হতে বাঁচাও দয়া করে
রাখো আমায় যেথা আমার স্থান।
আর-সকলের দৃষ্টি হত... | 3 | ভক্তিমূলক |
4835 | অন্য লোক | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | যে লেখে, সে আমি নয়
কেন যে আমায় দোষী করো!
আমি কি নেকড়ের মতো ক্রুব্ধ হয়ে ছিঁড়েছি শৃঙ্খল?
নদীর কিনারে তার ছেলেবেলা কেটেছিল
সে দেখেছে সংসারের গোপন ফাটল
মাংসল জলের মধ্যে তার আয়না খুঁজেছে, ভেঙেছে।
আমি তো ইস্কুলে গেছি, বই পড়ে প্রকাশ্য রাস্তায়
একটা চাবুক পেয়ে হয়ে গেছি শূন্যতায়
ঘোড়সওয়ার।
যে লেখে সে আমি নয়
যে লেখে সে আমি নয়
সে এ... | 1 | চিন্তামূলক |
446 | মোহর্রম | কাজী নজরুল ইসলাম | নীল সিয়া আসমা লালে লাল দুনিয়া,–
‘আম্মা ! লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া’।
কাঁদে কোন্ ক্রদসী কারবালা ফোরাতে,
সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারেরও ছোরাতে !
রুদ্র মাতম্ ওঠে দুনিয়া দামেশকে–
‘জয়নালে পরাল এ খুনিয়ারা বেশ কে?
‘হায় হায় হোসেনা’ ওঠে রোল ঝন্ঝায়,
তল্ওয়ার কেঁপে ওঠে এজিদেরো পঞ্জায়!
উন্মাদ ‘দুলদুল্’ ছুটে ফেরে মদিনায়,... | 2 | মানবতাবাদী |
1382 | অমর্ত্য গান | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | সাধারণ, তুমি সাধারণ, তাই
অসাধারণের গানে
উতলা হয়ো না হয়ো না, তোমার
যা কিছু স্বপ্ন সীমা টানো তার,
তুলে দাও খিল হৃদয়ে, নিখিল
বসুধার সন্ধানে
যেয়ো না, তোমার নেই অধিকার
দুর্লভ তার গানে।
সাধারণ, তুমি সাধারণ, তাই
ছোট আশা ভালবাসা—
তা-ই দিয়ে ছোট হৃদয় ভরাও,
তার বেশি যদি কিছু পেতে চাও
পাবে না, পাবে না, যাকে আজও চেনা
হল না, ... | 0 | প্রেমমূলক |
5154 | ব্যবধান | হেলাল হাফিজ | অতো বেশ নিকটে এসো না, তুমি পুড়ে যাবে,
কিছুটা আড়াল কিছু ব্যবধান থাকা খুব ভালো।
বিদ্যুত সুপারিবাহী দু’টি তার
বিজ্ঞানসম্মত ভাবে যতোটুকু দূরে থাকে
তুমি ঠিক ততোখানি নিরাপদ কাছাকাছি থেকো,
সমূহ বিপদ হবে এর বেশী নিকটে এসো না।
মানুষ গিয়েছে ভূলে কী কী তার মৌল উপাদান।
তাদের ভেতরে আজ বৃক্ষের মতন সেই সহনশীলতা নেই,
ধ্রুপদী স্নিগ... | 2 | মানবতাবাদী |
518 | সুরা নাস | কাজী নজরুল ইসলাম | (শুরু করিলাম) ল'য়ে নাম আল্লার
করুণা ও দয়া যাঁর অশেষ অপার।বল, আমি তাঁরি কাছে মাগি গো শরণ
সকল মানবে যিনি করেন পালন।
কেবল তাঁহারি কাছে - ত্রিভুবন মাঝ
সবার উপাস্য যিনি রাজ- অধিরাজ।
কুমন্ত্রণা দানকারী "খান্নাস" শয়তান
মানব দানব হ'তে চাহি পরিত্রাণ। | 3 | ভক্তিমূলক |
4550 | স্বেচ্ছানির্বাসিত | শামসুর রাহমান | তিনি, অকৃতদার প্রৌঢ় অধ্যাপক, কির্কেগার্ডের ‘আইদার অর’ গ্রন্থে
নিমগ্ন সেই কখন থেকে। দুপুর মিশে গেছে বিকেলে। টেবিলে চা
জুড়িয়ে পানি। তশতরিতে একটি করুণ টোস্ট বিস্কুট ফ্যালফ্যাল
তাকিয়ে আছে অধ্যাপকের দিকে। তিনি, নিঃসঙ্গ পাঠক, বই থেকে
দৃষ্টি সরিয়ে জানলার বাইরে তাকান। হলদে বিকেল হেলান
দিয়েছে আকাশে। অধ্যাপকের মনে হলো কী এক ধূসর... | 1 | চিন্তামূলক |
72 | চোখেই তোমার মঙ্গা | আবিদ আনোয়ার | "আমি খুঁজি কোনো প্রকৃত কবিকে"
বলেছিলে কবে চিরকুটে লিখে
সেই থেকে আমি নিজে খুঁজে ফিরি প্রকৃত কবির সংজ্ঞা-
ঘেঁটেছি অনেক কাব্যবোধিনি
বাস্তবে বহু কবিকেও চিনি
ফসল না-হোক কবি ফলিয়েছে উর্বরা মাতা গঙ্গা!
নিজেও লিখেছি কম নয় - ঢের
ওজনেই হবে দশ-বারো সের:
আসলেই আমি প্রাচুর্যময়, চোখেই তোমার মঙ্গা!ঠাকুর জানতো প্রেম জমে ভালো সমিল মাত্... | 1 | চিন্তামূলক |
2032 | নারীর মুখের যোগ্য শোভা নেই | মহাদেব সাহা | কী করে বলো না করি অস্বীকার এখনো আমার কাছে
একটি নারীর মুখই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দর্শনীয়,
তার চেয়ে অধিক সুন্দর কিছু অদ্যাবধি দেখিনি কোথাও;
অন্তত আমার কাছে নারীর মুখের চেয়ে অনবদ্য শিল্প কিছু নেই
তাই নারীর মুখের দিকে নির্বোধের মতো চেয়ে রই,
মাঝে মাঝে বিসদৃশ লাগে তবু চোখ ফেরাতে পারি না
নিতান্ত হ্যাংলা ভেবে পাছে করে নীরব ভর্ৎসনা ত... | 0 | প্রেমমূলক |
2715 | জবাবদিহি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কবি হয়ে দোল-উৎসবে
কোন্ লাজে কালো সাজে আসি,
এ নিয়ে রসিকা তোরা সবে
করেছিলি খুব হাসাহাসি।
চৈত্রের দোল-প্রাঙ্গণে
আমার জবাবদিহি চাই
এ দাবি তোদের ছিল মনে,
কাজ ফেলে আসিয়াছি তাই।
দোলের দিনে, সে কী মনের ভুলে,
পরেছিলাম যখন কালো কাপড়,
দখিন হাওয়া দুয়ারখানা খুলে
হঠাৎ পিঠে দিল হাসির চাপড়।
সকল বেলা বেড়াই খুঁজি খুঁজি
কোথা সে ... | 1 | চিন্তামূলক |
1043 | রিস্টওয়াচ | জীবনানন্দ দাশ | কামানের ক্ষোভে চূর্ণ হ’য়ে
আজ রাতে ঢের মেঘ হিম হ’য়ে আছে দিকে-দিকে!
পাহাড়ের নিচে- তাহাদের কারু- কারু মণিবন্ধে ঘড়ি
সময়ের কাঁটা হয়তো বা ধীরে-ধীরে ঘুরাতেছে;
চাঁদের আলোর নিচে এই সব অদ্ভুত প্রহরী
কিছুক্ষণ কথা কবে;-
হৃদয়যন্ত্রের যেন প্রীত আকাঙ্ক্ষার মতো ন’ড়ে,
সমুজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো গিলে।
জলপাই পল্লবের তলে ঝরা বিন্দু-বিন্দু শি... | 1 | চিন্তামূলক |
3193 | মুক্ত যে ভাবনা মোর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মুক্ত যে ভাবনা মোর
ওড়ে ঊর্ধ্ব-পানে
সেই এসে বসে মোর গানে। (স্ফুলিঙ্গ) | 1 | চিন্তামূলক |
3994 | ক্ষণকাল | শামসুর রাহমান | ঘুমভাঙা চোখে দেখি, হাতঘড়িতে ভোর ছ’টী। আকাশ-ঝারি
শহরময় অবিরল জল ছিটোচ্ছে রাতের শেষ প্রহর থেকেই। শ্রাবণ-
ধারায় আমি হয়ে উঠি গুণীর সেতারের আলাপ। আমার মনের
গহনে চকিতে কদম ফুল ফোটে। এই ফুল ফোটালে তুমি, অথচ
নিজেই জানলে না। জানি, এখন তুমি ঘুমের গহীন গাঙে স্বপ্নময়
ডুবসাঁতারে নিমগ্ন, ছুঁয়েছ জলজ গুল্ম আর কয়েকটি রঙিন শঙ্খ
গাঙের তল... | 1 | চিন্তামূলক |
3710 | অলৌকিক আসর | শামসুর রাহমান | এই যে আমি পথ হাঁটছি দিনের পর দিন, শহরের ধুলোবালি
মাখছি শরীরে হামেশা, বুকে টেনে নিচ্ছি বিষের ধোঁয়া,
দাবদাহের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছি-এর পরিণতি কী শেষ তক?
কখনও কখনও ক্লান্তির প্রহরে এই প্রশ্ন আমাকে কামড়ে ধরে।
কামড়ের জ্বালা ভুলে থাকার জন্যে চোখ মেলে দিই ঘরের
জানলার বাইরে। এই সামান্য ছোট ঘর, লেখার টেবিল, চেয়ার,
খাট আর বেশ কিছু ... | 0 | প্রেমমূলক |
2238 | বাবার স্মরণে | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | সকালের খবরের কাগজটা নিয়ে আর
কারো সাথে টানাটানি হয় না,
''একটু থাম না খোকা, শিরোনামগুলো দেখি,''
এ কথা এখন কেউ কয় না ।
প্রতি ভোরে কাগজটা দরোজায় পড়ে থাকে
চেয়ে দেখি যেই ---
বড় বেশী মনে পড়ে, বাবা তোমাকেই ।।কাজে বের হতে গেলে, কাঁধে হাত রেখে,
বলো না এখন তুমি, ''সাবধানে যাস,''
থমকে দাঁড়িয়ে তবু অপেক্ষা করি ---
বুক ভরে জমে ওঠে গা... | 9 | শোকমূলক |
675 | বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে | জয় গোস্বামী | ১
বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে,
রক্ত
গড়িয়ে পড়ছে…
কেউ ছুটে গেল খালের ওদিকে
বুক ফাটা গলায় কার মা ডাকল : “রবি রে…”
উত্তরের পরিবর্তে, অনেকের স্বর মিলে একটি প্রকাণ্ড হাহাকার
ঘুরে উঠল…
কে রবি? কে পুষ্পেন্দু? ভরত?
কাকে খুঁজে পাওয়া গেছে? কাকে আর পাওয়া যায় নি?
কাকে শেশ দেখা গেছে
ঠেলাঠেলি জনতাগভীরে?
রবি তো পাচার হচ্ছে লাশ ... | 6 | স্বদেশমূলক |
2491 | উৎসর্গ (আরোগ্য) | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কল্যাণীয় শ্রীসুরেন্দ্রনাথ করবহু লোক এসেছিল জীবনের প্রথম প্রভাতে —
কেহ বা খেলার সাথী, কেহ কৌতূহলী,
কেহ কাজে সঙ্গ দিতে, কেহ দিতে বাধা।
আজ যারা কাছে আছ এ নিঃস্ব প্রহরে,
পরিশ্রান্ত প্রদোষের অবসন্ন নিস্তেজ আলোয়
তোমরা আপন দীপ আনিয়াছ হাতে,
খেয়া ছাড়িবার আগে তীরের বিদায়স্পর্শ দিতে।
তোমরা পথিকবন্ধু,
যেমন রাত্রির তারা
অন্ধকারে লু... | 1 | চিন্তামূলক |
728 | হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে | জয় গোস্বামী | অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে
হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে
করো আনন্দ আয়োজন করে পড়ো
লিপি চিত্রিত লিপি আঁকাবাঁকা পাহাড়ের সানুতলে
যে একা ঘুরছে, তাকে খুঁজে বার করো
করেছো, অতল; করেছিলে; পড়ে হাত থেকে লিপিখানি
ভেসে যাচ্ছিল–ভেসে তো যেতই, মনে না করিয়ে দিলে;
–’পড়ে রইল যে!’ পড়েই থাকত–সে-লেখা তুলবে বলে
কবি ডুবে মরে, কবি ... | 0 | প্রেমমূলক |
1579 | মাতাল ও মাছকন্যা | পাবলো নেরুদা | অনুবাদ:চয়ন খায়রুল হাবিবএক্কেবারে নেংটো মেয়েটি ঢোকবার সময়
পানাশালাত বেশ ক’জন জোয়ান মর্দ বসে বসে পান করছিল।
পান করতে করতে,ওরা মেয়েটির দিকে
থু থু থু…করে থুতু ছিটাচ্ছিল।
সবে সাগর থেকে উঠে আসা মেয়েটি
এসবের কিছুই বুঝতে পারছিল না।
মেয়েটি পথ হারানো মাছকন্যা ।
টিটকারি থু থুক্কার জ্বলজ্বলে মাংশ ছুয়ে
পিছলে পিছলে খসে পড়ছিল।
খিস্তি... | 2 | মানবতাবাদী |
1264 | দরোজা | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | শীতের শহর ঘুরে প্রতিটি শীতার্ত দরোজায়
কড়া নেড়ে যাই
দরোজা খোলে না ।
একটি কুৎসিত হাত যদি খুলে দিতো
আবদ্ধ কপাট
একজোড়া অন্ধ চোখও নীমিলিত বিপন্ন পাতায়
সহানুভূতির নম্র কেশর ওড়াতো
একজোড়া বোবা ঠোঁটও যদি
কাঁপতো না বলা কিছু শব্দের তাড়ায়!
তবু জানি এই পোড়া গ্রহে
মোহন বন্দিত্ব নিয়ে একটি বাড়ানো হাত
হোক সে বিষণ্ণ ম্লান বিশীর্ণ পাণ্ড... | 0 | প্রেমমূলক |
1393 | আমি ও তিনি | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | আমি বললুম, “এটা কিছু নয়।”
তিনি বললেন, “এটাই
মন্দাকিনীর ধারা নিশ্চয়,
এতেই তৃষ্ণা মেটাই।”
আমি বললুম, “মন্দাকিনী কি
এত কাছে? এটা ছল।”
তিনি বললেন, “না, না, এটা ঠিকই
স্বর্গঙ্গার জল।”
আমি বললুম, “পিছনের টানে
ঠিক নয় বসে যাওয়া।”
তিনি বললেন ,”বইছে এখানে
অতি পবিত্র হাওয়া।”
আমি বললুম, “বসুন তা হলে,
স্নান করে হাওয়া খান,–
পাথরে ... | 4 | রূপক |
971 | পেঁচা | জীবনানন্দ দাশ | প্রথম ফসল গেছে ঘরে,
হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে
শুধু শিশিরের জল;
অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে
হিম হয়ে আসে
বাঁশাপাতা– মরা ঘাস — আকাশের তারা!
বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা!
ধানক্ষেতে– মাঠে
জমিছে ধোঁয়াটে
ধারালো কুয়াশা!
ঘরে গেছে চাষা;
ঝিমায়েছে এ পৃথিবী –
তবু টের পাই
কার যেন দুটো চোখে নাই এ ঘুমের
কোনো সাধ!
হলুদ পাতার ভীড়ে ব’সে,
শিশিরের... | 5 | প্রকৃতিমূলক |
735 | আমার খোদারে দেখিয়াছি আমি | জসীম উদ্দীন | আমার খোদারে দেখিয়াছি আমি
গরীবের কুঁড়ে ঘরে,
দীন দুঃখীর নয়নের জল
যেথায় অঝোরে ঝরে।
অথ্যাচারীর পীড়নের ঘায়,
কত ব্যথাতুর কাদে নিরালায়;
তাদের অশ্রু গড়ায়ে পড়িছে
খোদার মাটির পরে।
তাইত আমরা পড়িনে নামাজ
একা ঘরে নির্জনে,
লোকালয়ে মোরা মসজিদ গড়ি
সব ভাই একাসনে;
জায়নামাজের পাটি আমাদের,
আকাশের চেয়ে বিসতৃত ঢের,
তাই ত আকাশ লুটায়েছে ছের... | 2 | মানবতাবাদী |
3981 | কোথায় চলেছি_ | শামসুর রাহমান | যাচ্ছি, ক্রমাগত যাচ্ছি; সেই কবে থেকে
আজ অব্দি, বলো,
কোথায় চলেছি? বলা যায়,
এই অধমের আওতায়
যা-কিছু দেখার আর শোনার, ছোঁয়ার
সবই তো হয়েছে এ জীবনে-
বিনীত স্বীকার করি গোধূলিবেলায়,
তবু কেন মনোলোকে তুষারের স্তূপ?আমার যাপিত জীবনের সঙ্গে কোনও
বিবাদ, ঝগড়াঝাঁটি নেই,
নেই কোনও বায়বীয় খেদের বালাই। এই মাটি,
হাওয়ার চুমোয় শিহরিত গাছের সব... | 1 | চিন্তামূলক |
198 | আঁধারে | কাজী নজরুল ইসলাম | অমানিশায় আসে আঁধার তেপান্তরের মাঠে;
স্তব্ধ ভয়ে পথিক ভাবে,– কেমনে রাত কাটে!
ওই যে ডাকে হুতোম-পেঁচা, বাতাস করে শাঁ শাঁ!
মেঘে ঢাকা অচিন মুলুক; কোথায় রে কার বাসা?
গা ছুঁয়ে যায় কালিয়ে শীতে শূন্য পথের জু জু–
আঁধার ঘোরে জীবন-খেলার নূতন পালা রুজু। (ঝড় কাব্যগ্রন্থ) | 4 | রূপক |
3356 | সর্বদেহের ব্যাকুলতা কী বলতে চায় বাণী | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সর্বদেহের ব্যাকুলতা কী বলতে চায় বাণী,
তাই আমার এই নূতন বসনখানি।
নূতন সে মোর হিয়ার মধ্যে দেখতে কি পায় কেউ।
সেই নূতনের ঢেউ
অঙ্গ বেয়ে পড়ল ছেয়ে নূতন বসনখানি।
দেহ-গানের তান যেন এই নিলেম বুকে টানি।
আপনাকে তো দিলেম তারে, তবু হাজার বার
নূতন করে দিই যে উপহার।
চোখের কালোয় নূতন আলো ঝলক দিয়ে ওঠে,
নূতন হাসি ফোটে,
তারি সঙ্গে, যতনভর... | 0 | প্রেমমূলক |
4672 | জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী | সুকান্ত ভট্টাচার্য | কত যুগ, কত বর্ষান্তের শেষে
জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী;
আকাশে মেঘের তাড়াহুড়ো দিকে দিকে
বজ্রের কানাকানি।
সহসা ঘুমের তল্লাট ছেড়ে
শান্তি পালাল আজ।
দিন ও রাত্রি হল অস্থির
কাজ, আর শুধু কাজ!
জনসিংহের ক্ষুদ্ধ নখর
হয়েছে তীক্ষ্ণ, হয়েছে প্রখর
ওঠে তার গর্জন-
প্রতিশোধ, প্রতিশোধ!
হাজার হাজার শহীদ ও বীর
স্বপ্নে নিবিড় স্মরণে গ... | 6 | স্বদেশমূলক |
2890 | নাটক | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নাটক লিখেছি একটি।
বিষয়টা কী বলি।
অর্জুন গিয়েছেন স্বর্গে,
ইন্দ্রের অতিথি তিনি নন্দনবনে।
উর্বশী গেলেন মন্দারের মালা হাতে
তাঁকে বরণ করবেন ব'লে।
অর্জুন বললেন, ``দেবী, তুমি দেবলোকবাসিনী,
অতিসম্পূর্ণ তোমার মহিমা,
অনিন্দিত তোমার মাধুরী,
প্রণতি করি তোমাকে।
তোমার মালা দেবতার সেবার জন্যে।উর্বশী বললেন, ``কোনো অভাব নেই দেবলোকের... | 1 | চিন্তামূলক |
1890 | আবুল হাসানের জন্য এলিজি | মহাদেব সাহা | আমারও শীতকাল আসে, আসে হুহু প্রকৃতির জ্বর
কুয়াশায় ভেজে জমি, ভিজে ওঠে তোমার কবর
মনে হয় এই শীতে আমিও বিদেশী!
আমারও সঞ্চয় ছিলো লাল মোজা, পশমের টুপি
ছিলো কাশ্মীরি শালের মিহি কাজ, কিছু হাতে বোনা উলের আদর
আর উষ্ণ জল, সহিষ্ণু যুবতী একজন
ছিলো তার রক্তিম রাখাল;
এই শীতে সেই যে রাখাল গেলো দূর বনে, একজন কবি
গেলো কুয়াশায়
হাতের তালুত... | 9 | শোকমূলক |
1451 | তোমাকে বলেছিলাম | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | তোমাকে বলেছিলাম, যত দেরীই হোক,
আবার আমি ফিরে আসব।
ফিরে আসব তল-আঁধারি অশথগাছটাকে বাঁয়ে রেখে,
ঝালোডাঙার বিল পেরিয়ে,
হলুদ-ফুলের মাঠের উপর দিয়ে
আবার আমি ফিরে আসব।
আমি তোমাকে বলেছিলাম।
আমি তোমাকে বলেছিলাম, এই যাওয়াটা কিছু নয়,
আবার আমি ফিরে আসব।
ডগডগে লালের নেশায় আকাশটাকে মাতিয়ে দিয়ে
সূর্য যখন ডুবে যাবে,
নৌকার গলুইয়ে মাথা র... | 0 | প্রেমমূলক |
3020 | ফুলের অক্ষরে প্রেম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ফুলের অক্ষরে প্রেম
লিখে রাখে নাম আপনার—
ঝ’রে যায়, ফেরে সে আবার।
পাথরে পাথরে লেখা
কঠিন স্বাক্ষর দুরাশার
ভেঙে যায়, নাহি ফেরে আর। (স্ফুলিঙ্গ) | 4 | রূপক |
3688 | অনিবার্য ঘরে ফেরা | শামসুর রাহমান | এইমতো স্থিতি তার, স্পন্দনরহিত সর্বক্ষণ,
পতিত ফলের মতো ম্লান।
এভাবেই থাকে সে প্রায়শ
রাত্রিদিন এমন নিঃসাড়
পারিপার্শ্বিকের
প্রতি উদাসীন।টেলিফোন বাজে,
বেজে চলে ক্রমাগত বেলা অবেলায়;
পোস্টম্যান, বালকের রঙিন মার্বেল
অথবা উড়ন্ত ঘুড়ি, উদ্ভিন্ন মল্লিকা,
সোমত্ত গাছের
বাকলের ঘ্রাণ,
অকাল বৃষ্টির জুঁই-
কিছুই পারে না তার শিরায় জাগাতে... | 1 | চিন্তামূলক |
2220 | নগ্নপদ্য - ১২ | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | উল্টো হয়ে ঝুলে আছি অন্ধকারের ডালে
অন্ধকারের লতা-পাতা
খাচ্ছে ছিড়ে গানের খাতা
যাচ্ছে ঢুকে মাংস ফুড়ে ক্ষয়িষ্ণু কঙ্কালে ।।
চোখের থেকে দৃষ্টি ঝুলে অন্ধ
ভাগ্য ভালো বন্ধ-নাকে ঢোকে না দুর্গন্ধ
বোধ ঢেকেছে মগজ-গলা অজস্র জঞ্জালে ।।
রক্ত বড় হীম
সাপের না-কি অভিশাপের
জিহ্বা-চেরা পরিমাপের
লোভ ধরেছে ঝিম ।
দিনের মুখে মুষ্টি হেনে রাত্রি... | 1 | চিন্তামূলক |
4731 | মৃত পৃথিবী | সুকান্ত ভট্টাচার্য | পৃথিবী কি আজ শেষে নিঃস্ব
ক্ষুধাতুর কাঁদে সারা বিশ্ব,
চারিদিকে ঝরে পড়া রক্ত,
জীবন আজকে উত্যক্ত।
আজকের দিন নয় কাব্যের
পরিণাম আর সম্ভাব্যের
ভয় নিয়ে দিন কাটে নিত্য,
জীবনে গোপন-দুর্বৃত্ত।
তাইতো জীবন আজ রিক্ত,
অলস হৃদয় স্বেদসিক্ত;
আজকে প্রাচীর গড়া ভিন্ন
পৃথিবী ছড়াবে ক্ষতচিহ্ন।
অগোচরে নামে হিম-শৈত্য,
কোথায় পালাবে মরু দৈত্য?
জ... | 2 | মানবতাবাদী |
3495 | দুঃস্বপ্নের | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | আমার এখন সমস্তটাই স্মৃতিসৌধ,
হৃৎপিন্ডে পিন ফোটানো
কালো ব্যাজের মৌন বিষাদ,
একুশে ভোর, নগ্ন পায়ে শহীদ মিনার,
আমার এখন সমস্তটুক্ এক মিনিটের নীরবতা।দু’চোখ বেয়ে রাত্রি ঝরে, পাংশুটে রাত,
রক্তমাখা চাঁদের দেহে জোৎস্না উধাও,
উল্টে পড়ে রোদের বাটি,
আমার এখন আকাশ জুড়ে দুঃস্বপ্নের দালানকোঠা।উঠোনে সাপ
অবিশ্বাসের ভীষণ কালো রক্তজবা,
ল... | 0 | প্রেমমূলক |
4393 | মূল্যের উপমা | শামসুর রাহমান | (তাকে, আমাকে যে কবি ব’লে উপহাস করত)লিখি না গোয়েন্দা গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী
কিংবা চিত্রতারকার বিচিত্র জীবনপঞ্জি লিখে
হয়নি প্রচুর অর্থাগম। অথচ যা-করি তা-ও
যায় না কখনো বলা অসংকোচে ভদ্রমণ্ডলীকে।
আমার উঠোনে সুখ নয় জানি মরালগামিনী
সকালের তাজা রোদে অপরাহ্নে অথবা উধাও
রাত্রির উপুড় করা অন্ধকারে। যখন প্রেমিক
প্রেমিকার উন্মোচ... | 1 | চিন্তামূলক |
3856 | একটি তালিকা | শামসুর রাহমান | (কবি-নাট্যকার বের্টোল্ট ব্রেশ্টের একটি কবিতা স্মরণে রেখে)তানভির আহমেদ খান, প্রতিষ্ঠিত, নামজাদা
লেখক, সাফল্যে তৃপ্ত, অন্ধকার বারান্দায় আজ
আছেন নিশ্চুপ বসে। মনের ভেতর তার কী-যে
তোলপাড়, জানে না দালান কোঠা, গলির জোনাকি।
তবে কি লিখতে না-পারার শুশুনিয়া মাঠ তাকে
করেছে ভীষণ গ্রাস? এইতো সেদিনও তার এক
পয়মন্ত গ্রন্থ হাটে বিকিয়েছ... | 2 | মানবতাবাদী |
3433 | হিং টিং ছট্ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্বপ্ন দেখেছেন রাত্রে হবুচন্দ্র ভূপ —
অর্থ তার ভাবি ভাবি গবুচন্দ্র চুপ।
শিয়রে বসিয়ে যেন তিনটে বাদঁরে
উকুন বাছিতেছিল পরম আদরে —
একটু নড়িতে গেলে গালে মারে চড় ,
চোখে মুখে লাগে তার নখের আঁচড় ।
সহসা মিলালো তারা , এল এক বেদে,
‘পাখি উড়ে গেছে ‘ ব‘লে মরে কেঁদে কেঁদে।
সম্মুখে রাজারে দেখি তুলি নিল ঘাড়ে ,
ঝুলায়ে বসায়ে দিল... | 10 | ব্যঙ্গাত্মক |
4114 | তিনটি হাঁস এবং পিতামহ | শামসুর রাহমান | রাস্তার লোকটা সেই তিনটি নিস্তব্ধ হাঁস রেখে
চলে গেলো, প্রায় কিছু না বলেই লম্বাটে পা ফেলে
অন্তর্হিত; যেন বোবা, ক্ষমাপ্রার্থী হয়তোবা। দেখি
স্কুটার-দলিত শাদা-লাল হাঁসগুলো বারান্দার
কংক্রীটে নিঃসাড় চঞ্চু রেখে নির্বিকার পড়ে আছে
মূক বেহালার মতো।তাদের শরীর ছুঁয়ে বুঝি
বহু যুগ বয়ে গেছে প্রবল হাওয়ার। কে বলবে
ওরা তিনজন মৃদু ঘুরতো ... | 4 | রূপক |
2501 | এ জন্মের সাথে লগ্ন স্বপ্নের জটিল সূত্র যবে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এ জন্মের সাথে লগ্ন স্বপ্নের জটিল সূত্র যবে
ছিঁড়িল অদৃশ্যঘাতে, সে মুহূর্তে দেখিনু সম্মুখে
অজ্ঞাত সুদীর্ঘ পথ অতি দূর নিঃসঙ্গের দেশে
নিরাসক্ত নির্মমের পানে। অকস্মাৎ মহা একা
ডাক দিল একাকীরে প্রলয় তোরণ চূড়া হতে ।
অসংখ্য অপরিচিত জ্যোতিষ্কের নিঃশব্দতা মাঝে
মেলিনু নয়ন; জানিলাম একাকীর নাই ভয়,
ভয় জনতার মাঝে; একাকীর কোনো লজ... | 1 | চিন্তামূলক |
1970 | কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই | মহাদেব সাহা | তোমার দুঃখের সাতমহল বাড়ির পুরনো বাসিন্দা বলেই
আমি হৈচৈ শামিয়ানার নিচে যাই না,
ভালোবাসার জন্য ব্যাকুলতা আছে বলেই তো
রঙিন কুয়াশা কুড়াতে যাই না কোথাও-
ঝরা বকুলের জন্য ব্যাকুল হয়েছি বহুবার কিন্তু বিদেশী
খেলনার দিকে ছুটিনি
নক্ষত্রপুঞ্জকে ডলার ভেবেছি বলেই আমি বসে আছি এমন
তোমার পথ চেয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বিমান
ধরার তাড়া নেই ... | 0 | প্রেমমূলক |
2798 | তোমার সৃষ্টির পথ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কবির শেষ রচনা ৩০শে জুলাই ১৯৪১ সকাল সাড়ে নটা...তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে
হে ছলনাময়ী !
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে ।
এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্বরে করেছ চিহ্নিত ;
তার তরে রাখোনি গোপন রাত্রি ।
তোমার জ্যোতিষ্ক তারে
যে পথ দেখায়
সে যে তার অন্তরের পথ,
সে যে চির স্বচ্ছ,
সহজ বিশ্বাসে... | 1 | চিন্তামূলক |
2590 | কীর্তি যত গড়ে তুলি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কীর্তি যত গড়ে তুলি
ধূলি তারে করে টানাটানি।
গান যদি রেখে যাই
তাহারে রাখেন বীণাপাণি। (স্ফুলিঙ্গ) | 1 | চিন্তামূলক |
542 | পাছে লোকে কিছু বলে | কামিনী রায় | করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,-
পাছে লোকে কিছু বলে।আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।হৃদয়ে বুদবুদ মত
উঠে চিন্তা শুভ্র কত,
মিশে যায় হৃদয়ের তলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি
সযতনে শুকায়ে রাখি;-
নিরমল নয়নের জলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।একটি স্ন... | 1 | চিন্তামূলক |
4859 | একটাই তো কবিতা | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | একটাই তো কবিতা
লিখতে হবে, লিখে যাচ্ছি সারা জীবন ধরে
আকাশে একটা রক্তের দাগ, সে আমার কবিতা নয়
আমার রাগী মুহূর্ত কবিতা থেকে বহুদূরে সরে যায়
একটাই তো কবিতা লিখতে হবে
অথচ শব্দ তাকে দেখায় না সহস্রার পদ্ম
যজ্ঞ চলেছে সাড়স্বরে, কিন্তু যাজ্ঞসেনী অজ্ঞাতবাসে
একটাই কো কবিতা
কখন টলমলে শিশিরের শালুক বনে ঝড় উঠবে তার ঠিক নেই
দরজার পা... | 1 | চিন্তামূলক |
3120 | বুদ্ধভক্তি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জাপানের কোনো কাগজে পড়েছি, জাপানি সৈনিক
যুদ্ধের সাফল্য কামনা করে যুদ্ধমন্দিরে
পূজা দিতে গিয়েছিল। ওরা শক্তির বাণ মারছে চীনকে,
ভক্তির বাণ বুদ্ধকে।
হুংকৃত যুদ্ধের বাদ্য
সংগ্রহ করিবারে শমনের খাদ্য।
সাজিয়াছে ওরা সবে উৎকটদর্শন,
দন্তে দন্তে ওরা করিতেছে ঘর্ষণ,
হিংসার উষ্মায় দারুণ অধীর
সিদ্ধির বর চায় করুণানিধির--
ওরা তাই স্... | 2 | মানবতাবাদী |
3241 | যে করে ধর্মের নামে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যে করে ধর্মের নামে
বিদ্বেষ সঞ্চিত
ঈশ্বরকে অর্ঘ্য হতে
সে করে বঞ্চিত। (স্ফুলিঙ্গ) | 7 | নীতিমূলক |
608 | ওরা ভস্মমুখ | জয় গোস্বামী | ওরা ভস্মমুখ। ওরা নির্বাপিত। ওরা
ধূম্রনাসা কাঠ
অনেক পাঁকের নীচে আধপোড়া কাঠ হয়ে ওরা
পালিয়ে ঘুরেছে কতক্ষণ।
এক একটি ক্ষণের সঙ্গে এক এক শতক পার হল
এখন আমার কাজ ওদের বিছানাগুলি খোঁড়া
ওদের সযত্নে শুইয়ে গায়ে চাপা দেওয়া
চাদর কম্বল নয়–মাটি
ওরা মা বাবার মতো। ওদের অস্থি-র খোঁজ পেতে
শত শত গোর গর্ত বাঙ্কার ফক্স-হোল খুঁড়ে খুঁড়ে
ত... | 4 | রূপক |
2583 | কালো অন্ধকারের তলায় | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কালো অন্ধকারের তলায়
পাখির শেষ গান গিয়েছে ডুবে।
বাতাস থমথমে,
গাছের পাতা নড়ে না,
স্বচ্ছরাত্রের তারাগুলি
যেন নেমে আসছে
পুরাতন মহানিম গাছের
ঝিল্লি-ঝংকৃত স্তব্ধ রহস্যের কাছাকাছি।
এমন সময়ে হঠাৎ আবেগে
আমার হাত ধরলে চেপে;
বললে, "তোমাকে ভুলব না কোনোদিনই।"
দীপহীন বাতায়নে
আমার মূর্তি ছিল অস্পষ্ট,
সেই ছায়ার আবরণে
তোমার অন্তর... | 0 | প্রেমমূলক |
1945 | একুশের কবিতা | মহাদেব সাহা | ভিতরমহলে খুব চুনকাম, কৃষ্ণচূড়া
এই তো ফোটার আয়োজন
বাড়িঘর কী রকম যেন তাকে হলুদ অভ্যাসবশে চিনি,
হাওয়া একে তোলপাড় করে বলে, একুশের ঋতু!
ধীরে ধীরে সন্ধ্যার সময় সমস্ত রঙ মনে পড়ে, সূর্যাস্তের
ন্নি সরলতা
হঠাৎ আমারই জামা সূর্যাস্তের রঙে ছেয়ে যায়,
আর আমার অজ্ঞাতে কারা আর্তনাদ করে ওঠে রক্তাক্ত রক্তিম
বলে তাকে!
আমি পুনরায় আকাশখানি... | 6 | স্বদেশমূলক |
4793 | জালা-কুঁজো সংবাদ | সুকুমার রায় | পেটমোটা জালা কয়, "হেসে আমি মরিরে
কুঁজো তোর হেন গলা এতটুকু শরীরে!"
কুঁজো কয়, "কথা কস্ আপনাকে না চিনে,
ভুঁড়িখানা দেখে তোর কেঁদে আর বাঁচিনে।"
জালা কয়, "সাগরের মাপে গড়া বপুখান,
ডুবুরিরা কত তোলে তবু জল অফুরান।"
কুঁজো কয়, "ভালো কথা ! তবে যদি দৈবে,
ভুঁড়ি যায় ভেস্তিয়ে, জল কোথা রইবে?"
"নিজ কথা ভুলে যাস?" জালা কয় গর্জে... | 8 | হাস্যরসাত্মক |
2054 | বৈশাখে নিজস্ব সংবাদ | মহাদেব সাহা | মা আমাকে বলেছিলো- যেখানেই থাকিস তুই
বাড়ি আসবি পয়লা বোশেখে। পয়লা বোশেখ বড়ো ভালো দিন
এ দিন ঘরের ছেলে বাইরে থাকতে নেই কভু, বছরের এই একটি দিনে
আমি সিদ্ধিদাতা গণেশের পায়ে দিই
ফুলজল, কে বলবে কী করে কার বছর কাটবে,
বন্যা, ঝড় কিংবা অগ্নিকান্ড কতো কি ঘটতে পারে, তোর তো কথাই নেই
মাসে মাসে সর্দিজ্বর, বুকব্যাথা লেগেই আছে, বত্রিশ বছর... | 1 | চিন্তামূলক |
4316 | বিছানা | শামসুর রাহমান | গৃহকোণে খাটের ওপর সাবলীল শুয়ে থাকে
আমার বিছানা সারাক্ষণ। যদি কেউ ভালো করে
চোখ রাখে বিছানার ওপর, তাহলে শহজেই
নজরে পড়বে তার বাদামি চাদর, ফুল-তোলা;
চারটি বালিশ বেশ নরম এবং ঝকঝকে।
মশারি খাটানো হয় রাত্রিবেলা, পায়ের নিকট
শীতকালে নিভৃতে গোটানো থাকে লেপ। বেড়ালের
সঙ্গ ছাড়া বিছানার নেই কোনো প্রকাশ্য বাহার।আমার গৃহিণী রোজ বিছানার... | 1 | চিন্তামূলক |
764 | গৌরী গিরির মেয়ে | জসীম উদ্দীন | হিমালয় হতে আসিলে নামিয়া তুষার বসন ত্যাজি,
হিমের স্বপন অঙ্গে মাখিয়া সাঁঝের বসনে সাজি।
হে গিরি দুহিতা তোমার নয়নে অলকার মেঘগুলি,
প্রতি সন্ধ্যায় পরাইয়া যেত মায়া-কাজলের তুলি।
তুহিন তুষারে অঙ্গ মাজিতে দুগ্ধধবল কায়,
রবির কিরণ পিছলি পিছলি লুটাত হিমানী বায়!
রাঙা মাটি পথে চলিতে চলিতে পথ যেন মমতায়,
আলতা রেকায় রঙিন হইয়া জড়াইত দুটি... | 3 | ভক্তিমূলক |
1330 | তুমি চলে যাচ্ছো | নির্মলেন্দু গুণ | তুমি চলে যাচ্ছো, নদীতে কল্লোল তুলে লঞ্চ ছাড়ছে,
কালো ধুঁয়ার ধস ধস আওয়াজের ফাঁকে ফাঁকে
তোমার ক্লান্ত অপস্রিয়মাণ মুখশ্রী,-সেই কবে থেকে
তোমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।তুমি চলে যাচ্ছো, তোমার চলে যাওয়া কিছুতেই
শেষ হচ্ছে না, সেই কবে থেকে তুমি যাচ্ছো, তবু
শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে নাবাতাসের সঙ্গে কথা বলে, বৃষ্টির সঙ্... | 0 | প্রেমমূলক |
136 | ভয়ের চোটে | আল মাহমুদ | অঙ্ক নিয়ে বসলে আমার কখন কী যে হয়
টেবিলটাও পর হয়ে যায় বইগুলো সব ভয়।
ভয়ের চোটে ভাবতে থাকি শহর ভেঙে কেউ
দালান কোঠা বিছিয়ে দিয়ে তোলে খেতের ঢেউ।
রাস্তাগুলো নদী এবং গলিরা সব খাল
ইলেকট্রিকের খাম্বাগুলো পাল্টে হলো তাল।
মোটরগাড়ি গরুর পালে হাম্বা তুলে হাঁটে
পুলিশগুলো গুলিস্তানে নিড়ানি ঘাস কাটে।
আব্বা হলেন কাকতাড়ুয়া আম্মা হলুদ পা... | 8 | হাস্যরসাত্মক |
1198 | ফিরে এসো | তসলিমা নাসরিন | কোনও একদিন ফিরে এসো, যে কোনও একদিন, যেদিন খুশি
আমি কোনও দিন দিচ্ছি না, কোনও সময় বলে দিচ্ছি না, যে কোনও সময়।
তুমি ফিরে না এলে এই যে কী করে কাটাচ্ছি দিন
কী সব কাণ্ড করছি,
কোথায় গেলাম, কী দেখলাম
কী ভালো লেগেছে, কী না লেগেছে — কাকে বলবো!
তুমি ফিরে এলে বলবো বলে আমি সব গল্পগুলো রেখে দিচ্ছি।
চোখের পুকুরটা সেচে সেচে খালি করে দ... | 0 | প্রেমমূলক |
3534 | নীল পাঞ্জাবীওয়ালা বাবুটা | রেদোয়ান মাসুদ | একটা ছেলে যখন একটা মেয়েকে নক দেয়, প্রথম দুই একদিন মেয়েটি কিছু না বললেও কয়েকদিন যেতেই মেয়েটি ছেলেটির সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে দেবে, অপমান করবে, রাগ দেখাবে অথবা ছেলেটির কোনো কথার আর কোনো উত্তর দেবে না। একটা ভদ্র ছেলে কোনোভাবেই এই অপমান সহ্য করতে পারবে না। সে রাগে ঐ মেয়েকে আর জীবনেও নক দেবে না। কিন্তু একটা বাউলা ছেলে ব... | 0 | প্রেমমূলক |
1666 | তাজমহল ১৯৭৫ | পূর্ণেন্দু পত্রী | বহুদিন একভাবে শুয়ে আছো, ভারতসম্রাট।
বহুদিন মণিমুক্তো, মহফিল, তাজা ঘোড়া, তরুণ গোলাপ
এবং স্থাপত্য নিয়ে ভাঙাগড়া সব ভুলে আছো।
সর্বান্তঃকরণ প্রেম, যা তোমার সর্বোচ্ছ মুকুট, তাও ভুলে গেছো নাকি?
পাথরের ঢাকনা খুলে কখনো কি পাশে এসে মমতাজ বসে কোনোদিন?
সুগন্ধী স্নানের সব পুরাতন স্মৃতিকথা বলাবলি হয় কি দুজনে?
জানি প্রতি জোৎস্নারাতে ... | 0 | প্রেমমূলক |
3478 | অভিমানের খেয়া | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | এতোদিন কিছু একা থেকে শুধু খেলেছি একাই,
পরাজিত প্রেম তনুর তিমিরে হেনেছে আঘাত
পারিজাতহীন কঠিন পাথরে।
প্রাপ্য পাইনি করাল দুপুরে,
নির্মম ক্লেদে মাথা রেখে রাত কেটেছে প্রহর বেলা__
এই খেলা আর কতোকাল আর কতোটা জীবন!
কিছুটাতো চাই__হোক ভুল, হোক মিথ্যে প্রবোধ,
আভিলাষী মন চন্দ্রে না-পাক জোস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই,
কিছুটাতো চাই, কিছ... | 0 | প্রেমমূলক |
3061 | বাকি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কুসুমের গিয়েছে সৌরভ,
জীবনের গিয়েছে গৌরব।
এখন যা-কিছু সব ফাঁকি,
ঝরিতে মরিতে শুধু বাকি। (কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থ) | 1 | চিন্তামূলক |
3555 | শুধু ভালবাসি তোমায় | রেদোয়ান মাসুদ | হাজার কাজের ভিড়ে ভুলতে চেয়েছি তোমায়
পারিনি ভুলতে তোমায় স্মৃতিগুলো শুধু কাঁদায়।
আকাশে বাতাসে শুনি শুধু তোমারি প্রতিধ্বনি
মেঘের আড়ালে ভেসে ওঠে তোমারি প্রতিচ্ছবি।
রাতের বেলা ঘুমের জন্য চোখ বুজে শুয়ে থাকি
ঘুম আসেনা চোখে তাই সারা রাত জেগে থাকি।
বিছানা থেকে উঠে জানালার ফাকে দেই উকি
জ্যোৎস্না ছড়ানো চাঁদের মাঝে তোমায় খুজি,
যখন... | 0 | প্রেমমূলক |
2944 | পরের কর্ম-বিচার | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নাক বলে, কান কভু ঘ্রাণ নাহি করে,
রয়েছে কুণ্ডল দুটো পরিবার তরে।
কান বলে, কারো কথা নাহি শুনে নাক,
ঘুমোবার বেলা শুধু ছাড়ে হাঁকডাক। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | 7 | নীতিমূলক |
677 | বাদুড় বৃষ্টির মধ্যে দেবদারু গাছ ছেড়ে যায় | জয় গোস্বামী | বাদুড় বৃষ্টির মধ্যে দেবদারু গাছ ছেড়ে যায়
বাদুড় আমার রক্ত খেয়ে
আকাশে পালায়
পালিয়ে বাঁচে না
রাত্রে দেখা যায়
বাদুড় চাঁদের মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে
পেট থেকে রক্ত, রক্ত নয়, বালি ওগরায় | 4 | রূপক |
4297 | বাঁচাবে | শামসুর রাহমান | এ শহরে জীবিকা সর্বত্রগামী; ছোট বড় সব
চাকুরে, টাউট, উচ্চাকাংক্ষী ধনবান, ভিখারীর
ভিড়, শীতরাতে অতি ব্যবহারে জীর্ণ, শীর্ণকায়
রঙিন গণিকা, গঞ্জনায় অভ্যস৫ত খঞ্জের জন্যে
আয়ের নানান পথ খোলা। বেশ কিছু বেকার যুবক
মাস্তানের দঙ্গলে সহজে ভিড়ে যায়। যত্রতত্র
ধর্মের ব্যবসা জমে ওঠে; নীতিবিবর্জত ফাঁপা
রাজনীতি, বাণিজ্যিক সভ্যতার মরু বেড়ে ... | 2 | মানবতাবাদী |
2847 | দুয়ারে তোমার ভিড় ক’রে যারা আছে | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুয়ারে তোমার ভিড় ক’রে যারা আছে,
ভিক্ষা তাদের চুকাইয়া দাও আগে।
মোর নিবেদন নিভৃতে তোমার কাছে–
সেবক তোমার অধিক কিছু না মাগে।
ভাঙিয়া এসেছি ভিক্ষাপাত্র,
শুধু বীণাখানি রেখেছি মাত্র,
বসি এক ধারে পথের কিনারে
বাজাই সে বীণা দিবসরাত্র।দেখো কতজন মাগিছে রতনধূলি,
কেহ আসিয়াছে যাচিতে নামের ঘটা–
ভরি নিতে চাহে কেহ বিদ্যার ঝুলি,
কেহ ফিরে... | 4 | রূপক |
4661 | গোপন খবর | সুকান্ত ভট্টাচার্য | শোন একটা গোপন খবর দিচ্ছি আমি তোমায়,
কলকাতাটা যখন খাবি খাচ্ছিল রোজ বোমায়,
সেই সময়ে একটা বোমা গড়ের মাঠের ধারে,
মাটির ভেতর সেঁধিয়ে গিয়ে ছিল এক্কেবারে,
অনেক দিনের ঘটনা তাই ভুলে গেছ্ল লোকে,
মাটির ভেতর ছিল তাইতো দেখে নি কেউ চোখে,
অনেক বর্ষা কেটে গেল, গেল অনেক মাস,
যুদ্ধ থামায় ফেলল লোকে স্বস্তির নিঃশ্বাস,
হাঠাৎ সেদিন একলা রা... | 4 | রূপক |
1880 | আপনি বলুন, মার্কস | মল্লিকা সেনগুপ্ত | ছড়া যে বানিয়েছিল, কাঁথা বুনেছিল
দ্রাবিড় যে মেয়ে এসে গমবোনা শুরু
করেছিল
আর্যপুরুষের ক্ষেতে, যে লালন
করেছিল শিশু
সে যদি শ্রমিক নয়, শ্রম কাকে বলে ?
আপনি বলুন মার্কস, কে শ্রমিক,
কে শ্রমিক নয়
নতুনযন্ত্রের যারা মাসমাইনের
কারিগর
শুধু তারা শ্রম করে !
শিল্পযুগ যাকে বস্তি উপহার দিল
সেই শ্রমিকগৃহিণী
প্রতিদিন জল তোলে, ঘর মোছ... | 2 | মানবতাবাদী |
3373 | সুখদুঃখ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শ্রাবণের মোটা ফোঁটা বাজিল যূথীরে—
কহিল, মরিনু হায় কার মৃত্যুতীরে!
বৃষ্টি কহে, শুভ আমি নামি মর্তমাঝে,
কারে সুখরূপে লাগে কারে দুঃখ বাজে। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | 7 | নীতিমূলক |
4019 | গদ্য সনেট_ ৭ | শামসুর রাহমান | আজ প্রত্যুষ ঘুম ভাঙতেই আমার দৃষ্টির
দিগন্তে তোমার মুখের চন্দ্রোদয়। তুমি ফিরে আসছো
ভাবার সঙ্গে সঙ্গে প্রসন্নতার আবির ছড়িয়ে পড়ে
সারা ঘরে, বইয়ের র্যাবকে, কবিতার খাতায়,
আমার দেহমনে। আজকের দিন ওস্তাদ বিলায়েৎ খাঁর
সেতারের আলাপের মাধুর্য হয়ে ওঠে। রাত বাড়তেই অধৈর্য
আমি তোমাকে দু’বার টেলিফোন করি। লাইনের
ব্যস্ততায় সঙ্কোচ ও লজ্জা... | 0 | প্রেমমূলক |
3919 | কবির আভায় প্রজ্বলিত | শামসুর রাহমান | ইদানিং কখনও কখনও হঠাৎ কী-যে হয়,
আমার চোখের সামনে কিছু
ছবি ঝলসে ওঠে, যেগুলো বড় বেখাপ্পা, বেগানা।
সেসব ছবি আমাকে ঘিরে ঘুরতে থাকে
বেশ কিছুক্ষণ। তখন আমার বেহুঁশ হওয়ার
উপক্রম। নিজেকে সামলে রাখি কোনও মতে।ক্ষণিক পরে নিজেকে দেখতে পাই একটি বাগানে।
বাগানের সৌন্দর্য এমনই, যা’
বর্ণনা করা আমার সাধ্যাতীত, শুধুউ অসামান্য
কোনও শিল্পী ... | 1 | চিন্তামূলক |
3027 | বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি,
সে কি সহজ গান।
সেই সুরেতে জাগব আমি
দাও মোরে সেই কান।
ভুলব না আর সহজেতে,
সেই প্রাণে মন উঠবে মেতে
মৃত্যুমাঝে ঢাকা আছে
যে অন্তহীন প্রাণ।
সে ঝড় যেন সই আনন্দে
চিত্তবীণার তারে
সপ্ত সিন্ধু দশ দিগন্ত
নাচাও যে ঝংকারে।
আরাম হতে ছিন্ন ক'রে
সেই গভীরে লও গো মোরে
অশান্তির অন্তরে যেথায়
শান্তি সুমহান। ( তিনধরিয়... | 3 | ভক্তিমূলক |
4499 | সময়ের লালা | শামসুর রাহমান | অনেক শতাব্দী চুপচাপ বসে আছি, মনে হয়।
অনেক শতাব্দী অস্তিত্বের শৈলাবাসে ফুলপাতা,
উদাস সুরভি, কিছু ওষুধের চাপা ঘ্রাণ নিয়ে,
পায়ে নিয়ে কম্বলের তাপ,
অনেক শতাব্দী মিশরের সুপ্রাচীন
প্রকোষ্ঠের মতো
মগজের ভেতরে কখনো
অমাবস্যা, কখনো ডাগর
পূণিমা, অদ্ভুত ফ্রেস্কো নিয়ে বসে আছি, মনে হয়।
স্পন্দন আছে কি নেই, বোঝা মুশকিল। অকস্মাৎ
কেমন খটক... | 2 | মানবতাবাদী |
3423 | হাতে কোনো কাজ নেই | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হাতে কোনো কাজ নেই,
নওগাঁর তিনকড়ি
সময় কাটিয়ে দেয়
ঘরে ঘরে ঋণ করি।
ভাঙা খাট কিনেছিল,
ছ পয়সা খরচা–
শোয় না সে হয় পাছে
কুঁড়েমির চর্চা।
বলে, “ঘরে এত ঠাসা
কিঙ্কর কিঙ্করী,
তাই কম খেয়ে খেয়ে
দেহটারে ক্ষীণ করি।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | 7 | নীতিমূলক |
284 | চরকার গান | কাজী নজরুল ইসলাম | ঘোর –
ঘোর রে ঘোর ঘোর রে আমার সাধের চরকা ঘোর
ওই স্বরাজ-রথের আগমনি শুনি চাকার শব্দে তোর॥
১
তোর ঘোরার শব্দে ভাই
সদাই শুনতে যেন পাই
ওই খুলল স্বরাজ-সিংহদুয়ার, আর বিলম্ব নাই।
ঘুরে আসল ভারত-ভাগ্য-রবি, কাটল দুখের রাত্রি ঘোর॥
২
ঘর ঘর তুই ঘোর রে জোরে
ঘর্ঘরঘর ঘূর্ণিতে তোর
ঘুচুক ঘুমের ঘোর
তুই ঘোর ঘোর ঘোর।
তোর ঘুর-চাক... | 6 | স্বদেশমূলক |
4477 | শুভবাদী রোদ চুমো খেয়েছিলো | শামসুর রাহমান | শুভবাদী রোদ চুমো খাচ্ছে লতাগুল্মে ঢাকা এই
রেস্তোরাঁকে, প্রাণে
পুরনো বৈভব নিয়ে বসে আছি, ছোট
টেবিলের ওপারে তরুণী, একা গায়ে
টোমাটো রঙের পুলওভারের প্রগাঢ় মমতা।
সমুখে স্যালাড, বিফ স্টেক,
সোনালি সুরার পাত্রে ঠোঁট।
কখনও দেখছি তাকে বিদেশী সংকোচে, কখনও বা নিসর্গকে।একটু একটু নিচ্ছি স্বাদ
বাদামি রুটির,
মুখের ভেতর গলে টাটকা মাখন;
... | 1 | চিন্তামূলক |
1922 | ইচ্ছা করে, কেন ইচ্ছা করে | মহাদেব সাহা | ইচ্ছা করে, কেন ইচ্ছা করে, একদিন উড়ে যাবো
ফিরেও আসবো না
শুধু পড়ে রবে খাঁচা, খাঁচাতেই সম্ভব করেছি বাঁচা
এই উড়ে যাওয়া, আর ফিরেও আসবো না।
তবু ইচ্ছা করে, কেন ইচ্ছে করে, একদিন
উড়ো যাবো, ফিরেও আসবো না,
পাবে না জলের তৃষ্ণা প্রত্যক্ষ রোগের গ্লানি-, গাঢ় নিদ্রা
উড়ে যেতে যেতে এই পাখিত্বেই মেলাবো অধিক, হবে প্রেম গভীর প্রণয়
আমি আর ক... | 1 | চিন্তামূলক |
4783 | খাই খাই | সুকুমার রায় | খাই খাই করো কেন, এসো বসো আহারে—
খাওয়াব আজব খাওয়া, ভোজ কয় যাহারে।
যত কিছু খাওয়া লেখে বাঙালির ভাষাতে,
জড় করে আনি সব— থাক সেই আশাতে।
ডাল ভাত তরকারি ফল-মূল শস্য,
আমিষ ও নিরামিষ, চর্ব্য ও চোষ্য,
রুটি লুচি, ভাজাভুজি, টক ঝাল মিষ্টি,
ময়রা ও পাচকের যত কিছু সৃষ্টি,
আর যাহা খায় লোকে স্বদেশে ও বিদেশে—
খুঁজে পেতে আনি খেতে— ন... | 8 | হাস্যরসাত্মক |
2465 | আশার সীমা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সকল আকাশ , সকল বাতাস ,
সকল শ্যামল ধরা ,
সকল কান্তি , সকল শান্তি
সন্ধ্যাগগন - ভরা ,
যত - কিছু সুখ যত সুধামুখ ,
যত মধুমাখা হাসি ,
যত নব নব বিলাসবিভব ,
প্রমোদমদিরারাশি ,
সকল পৃথ্বী , সকল কীর্তি ,
সকল অর্ঘ্যভার ,
বিশ্বমথন সক... | 3 | ভক্তিমূলক |
4380 | মানবিক আর্তনাদ | শামসুর রাহমান | ঘুটঘুটে এক গলির মোড়ে
এলাম যেন কিসের ঘোরে।
ডানে বামে বন্ধ দোরে
পড়ছে ধাক্কা বেজায় জোরে-
শুনছি শুধু অবাক হয়ে শুনছি।একলা আমি আঁধার ঘরে
বসছি বটে নড়ে চড়ে।
হঠাৎ এ কি ভীষণ ঝড়ে
বসত বাড়ি বেজায় নড়ে-
শুনছি শুধু অবাক হয়ে শুনছি।জানলা ধরে দাঁড়াই একা,
কারও সঙ্গে হবেই দেখা।
পছন্দ যার আমার লেখা,
তার জন্যেই আঁকছি রেখা-
আঁকছি শুধু, মগ্ন হ... | 2 | মানবতাবাদী |
830 | আকাশে সাতটি তাঁরা-জীবনানন্দ থেকে গ্রন্থিত | জীবনানন্দ দাশ | ছেলে: আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি এই ঘাসে
ব’সে থাকি; বাংলার নীল সন্ধ্যা-কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে;
আমার চোখের পরে আমার মুখের পরে চুল তার ভাসে;
পৃথিবীর কোনো পথে এ কন্যারে দেখিনিকো-দেখি নাই অত
অজস্রচুলের চুমা হিজলে, কাঁঠালে , জামে ঝরে অবিরত,
জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর চুলের বিন্যাসে।
মেয়ে: পৃথিব... | 6 | স্বদেশমূলক |
818 | অনেক রাত্রিদিন | জীবনানন্দ দাশ | অনেক রাত্রিদিন ক্ষয় ক'রে ফেলে
এখন এসেছি এক উৎসের ভিতরে;
মাঠের উপরে ক্রমে ছায়া নেমে আসে,
দু-চারটে উঁচু গাছ রোদে খেলা করে।
পৃথিবী রক্তপাত অশান্তি এখন;
অর্থময়তা তবু পেতে পারে মন।কেউ নেই - শুধু এই মননের সহায়তা আছে;
যা-কিছু বুঝেছি অনেক দিন সে-সবের নীতি
দু-চারটে বই ঠাণ্ডা সলতের আলো
নক্ষত্র ও সূর্যে আধো উজ্জ্বল প্রকৃতি
আছে তব... | 1 | চিন্তামূলক |
3748 | আমার অজ্ঞতা নিয়ে | শামসুর রাহমান | এখন মাঝরাস্তায় আমি; শ্বাসরোধকারী নিঃসঙ্গতা
একটা মাকড়সার মতো হাঁটছে
আমার চোখে, গালে, কণ্ঠনালীতে,
বুকে, ঊরুতে আর
অন্ধকারের জোয়ার খলখলিয়ে উঠছে আমার চারপাশে।অন্ধকার ছাড়া কিছুই চোখে পড়ছে না। মনে হয়,
এখানে কোথাও তুমি আছো, ডাকলেই
সাড়া দেবে লহমায়। তলোয়ার মাছের মতো
তোমার কণ্ঠস্বর
ঝলসে উঠবে অন্ধকারে।
কণ্ঠে সমস্ত নির্ভরতা পুরে তো... | 1 | চিন্তামূলক |
2317 | অনেক হাজার বছরের | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অনেক হাজার বছরের
মরু-যবনিকার আচ্ছাদন
যখন উৎক্ষিপ্ত হল,
দেখা দিল তারিখ-হারানো লোকালয়ের
বিরাট কঙ্কাল;--
ইতিহাসের অলক্ষ্য অন্তরালে
ছিল তার জীবনক্ষেত্র।
তার মুখরিত শতাব্দী
আপনার সমস্ত কবিগান
বাণীহীন অতলে দিয়েছে বিসর্জন।
আর, যে-সব গান তখনো ছিল অঙ্কুরে, ছিল মুকুলে,
যে বিপুল সম্ভাব্য
সেদিন অনালোকে ছিল প্রচ্ছন্ন
অপ্রকাশ থেকে... | 3 | ভক্তিমূলক |
4311 | বার্ধক্যে জসীমউদ্দীন | শামসুর রাহমান | গলায় জড়ানো তাঁর শাপলা রঙের মাফলার, কষ্ট পান
প্রায়শই বাতে, কফ নিত্যসঙ্গী, কখনো হাঁপান
সিঁড়ি ভেঙে। এ কেমন একাকিত্ব এলো ব্যেপে
অস্তিত্বের উড়ানির চরে? প্রহরে-প্রহরে শুধু দাগ মেপে
নানান ওষুধ খেয়ে ধুধু সময়ের খালে
লগি ঠেলা নক্ষত্রবিহীন এ গোধূলি কালে।আপাতত কিছুতেই নেই মন, শিশু বৈকালী সাহিত্য সভা,
জয়নুলী চিত্রকলা, ইতল-বিতল, রক্... | 1 | চিন্তামূলক |
2052 | বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ | মহাদেব সাহা | আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে
জাগাতে পারিনি ভালোবাসা,
ঢালতে পারিনি কোনো বন্ধুত্বের
শিকড়ে একটু জল-
ফোটাতে পারিনি কারো একটিও আবেগের ফুল
আমি তাই অন্যের বন্ধুকে চিরদিন বন্ধু বলেছি;
আমার হয়তো কোনো প্রেমিকা ছিলো না,
বন্ধু ছিলো না,
ঘরবাড়ি, বংশপরিচয় কিচ্ছু ছিলো না,
আমি ভাসমান শ্যাওলা ছিলাম,
শুধু স্বপ্ন ছিলাম;
কারো প্রেমিকাকে... | 0 | প্রেমমূলক |
4532 | সৌন্দর্যের স্পর্ধা নিয়ে | শামসুর রাহমান | অগ্রসরমান, অগ্রসরমান, অগ্রসরমান, অতি দ্রুত
চতুর্দিক থেকে
নিরেট দেয়াল, সত্তা-চেপে-ধরা, দম-বন্ধ করা;
দেয়ালের গায়ে সংখ্যাহীন
সনাতনী উদ্যত তর্জনী, নিত্যদিন তার হাসি মুছে-ফেলা।
কেউ কেউ ঢেলা ছুঁড়ে মজা লোটে, কেউবা শাসায়
সর্বক্ষণ নানা ছলছুতোয়, সে নারী মাথা কোটে
বিরূপ বাসায়, ছেঁড়া সুতোয় সেলাই করে পীড়িত যৌবন।কপালে, কোমরে, বুকে, ... | 2 | মানবতাবাদী |
3995 | ক্ষয় | শামসুর রাহমান | পুবের আকাশে প্রতিদিন একই
সূর্য সকালে আবির মাখে।
কীর্তিনাশার প্রমত্তা রূপ
আজও খেলে যায় চরের বাঁকে।আমি শুধু আমি বদলে যাচ্ছি,
মানে মোট কথা হচ্ছি বুড়ো।
গতকল্যের কিছু নেই বাকি,
বিগত যুগের স্বপ্ন গুঁড়ো।দেয়ালের এই পিকাসো মাতিস
চির অক্ষয় থাকবে বটে;
অথচ আমার দেহের চিত্রে
কত কী-যে শুধু নিত্য ঘটে।চোখ ফেরালেই বছর ফুরায়,
কমে ক্রমাগ... | 1 | চিন্তামূলক |
1690 | পাওয়া না-পাওয়ার কানামাছি | পূর্ণেন্দু পত্রী | রঙীন রুমালে চোখ দুটো বাঁধা
নিজের সঙ্গে নিজের অষ্টপ্রহর- কানামাছি খেলা
ভারী চমৎকার ধাঁধা।
যাকে ছোঁবার তাকে না ছুঁয়ে
আকাশ ধরতে হাত বাড়িয়ে আমি ধুলো মাটির ভূয়ে।
হাত বাড়ালে হাতে জলের বদলে শামুক
অথচ ভেতরটা পরাগসুদ্ধ ফুলের জন্যে আপাদমস্তক কামুক।
সিদুর রঙের কিছু দেখলেই মন উসখুস, ইচ্ছেয় আগুন
বিশ্বাসের বাকলে সত্যিই এল ফাল্গুন?
ক... | 1 | চিন্তামূলক |
171 | রাজার | উৎপল কুমার বসু | রাজার মতো রাজা।
ভিনগ্রামেতে চলে গেলেন। কালোমহিষ বাহন।
পরনে সেই পরিচ্ছদ
যা আমরা জন্মকালে পরে থাকি।মস্ত বড়ো চাষের ঢালু জমি।
অন্যদিকে নীল পাহাড়, বাদাম ক্ষেত-রাজ্যে তার।
একটি নদী, কয়েক ঘর
প্রজা এবং আত্মজন।সন্ধেবেলা বুনোশুয়োর আগুনে ঝলসায়।
রাজা প্রকাণ্ড এই মহাদেশের গল্প বলেন।
এবং কোন স্রোতস্বতী পেরিয়ে গেলে প্রতি মানুষ
আক... | 4 | রূপক |
806 | অঘ্রাণ | জীবনানন্দ দাশ | আমি এই অঘ্রাণেরে ভালোবাসি- বিকেলের এই রঙ- রঙের শূন্যতা
রোদের নরম রোম- ঢালু মাঠ- বিবর্ণ বাদামি পাখি- হলুদ বিচালি
পাতা কুড়াবার দিন ঘাসে-ঘাসে- কুড়ুনির মুখে তাই নাই কোনো কথা,ধানের সোনার কাজ ফুরায়েছে- জীবনেরে জেনেছে সে- কুয়াশায় খালি
তাই তার ঘুম পায়- খেত ছেড়ে দিয়ে যাবে এখনি সে- খেতের ভিতর
এখনি সে নেই যেন- ঝ'রে পড়ে অঘ্রাণের এ... | 5 | প্রকৃতিমূলক |
816 | অনেক নদীর জল | জীবনানন্দ দাশ | অনেক নদীর জল উবে গেছে —
ঘরবাড়ি সাকো ভেঙে গেল;
সে সব সময় ভেদ করে ফেলে আজ
কারা তবু কাছে চলে এল
যে সুর্য অয়নে নেই কোনো দিন,
— মনে তাকে দেকা যেত যদি —
যে নারী দেখে নি কেউ — ছ-সাতটি তারার তিমিরে
হৃদয়ে এসেছে সেই নদী।
তুমি কথা বল — আমি জীবন-মৃত্যুর শব্দ শুনি:
সকালে শিশির কণা যে-রকম ঘাসে
অচিরে মরণশীল হয়ে তবু সূর্যে আবার
মৃত্যু... | 1 | চিন্তামূলক |
4730 | মুহূর্ত (খ) | সুকান্ত ভট্টাচার্য | মুহূর্তকে ভুলে থাকা বৃথা
যে মুহূর্ত
তোমার আমার আর অন্য সকলের
মৃত্যুর সূচনা,
যে মুহূর্ত এনে দিল আমার কবিতা
আর তোমার আগ্রহ।
এ মুহূর্তে সূর্যোদয়,
এ মুহূর্তে নক্ষত্রের সভা,
আর এক মুহূর্তে দেখি কালো ঝড়ে
সুস্পষ্ট সংকেত।
অনেক মুহূর্ত মিলে পৃথিবীর
বাড়াল ফসল,
মুহূর্তে মুহূর্তে তারপর
সে ফসলে ঘনালো উচ্ছেদ।এমন মুহূর্ত এল আমার জীব... | 1 | চিন্তামূলক |
189 | অবসর | কাজী নজরুল ইসলাম | লক্ষ্মী আমার! তোমার পথে আজকে অভিসার,
অনেক দিনের পর পেয়েছি মুক্তি-রবিবার।
দিনের পর দিন গিয়েছে হয়নি আমার ছুটি,
বুকের ভিতর ব্যর্থ কাঁদন পড়ত বৃথাই লুটি
বসে ঢুলত আঁখি দুটি!
আহা আজ পেয়েছি মুক্ত হাওয়া
লাগল চোখে তোমার চাওয়া
তাইতো প্রাণে বাঁধ টুটেছে রুদ্ধ কবিতার।
তোমার তরে বুকের তলায় অনেক দিনের অনেক কথা জমা,
কানের কাছে মুখটি... | 0 | প্রেমমূলক |
3569 | খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় | লালন শাহ | খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।
ধরতে পারলে মনবেড়ি
দিতাম পাখির পায়।আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা
মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাঁটা।
তার উপরে সদর কোঠা
আয়নামহল তায়।খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।কপালের ফ্যার নইলে কি আর
পাখিটির এমন ব্যবহার।
খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার
কোন বনে পালায়।খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।মন তুই রই... | 1 | চিন্তামূলক |
1259 | তরুণী | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | কবিতা যেমন গোপন থাকে না
তুমিও থাকো না তেমনি
নিজেকে ওড়াও বাতাসে ও মেঘে
শহর কাঁপাও তোলপাড় বেগে
শত যুবকের বিস্মিত চোখে
জ্বলে না পাওয়ার বহ্নি । | 0 | প্রেমমূলক |
4941 | প্রার্থনা | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | ঋজু শাল অশ্বত্থের শিকড়ে শিকড়ে যত ক্ষুধা
সব তুমি সয়েছ, বসুধা।
স্তব্ধ নীল আকাশের দৃশ্য অন্তহীন পটভূমি
চক্ষুর সীমানা-প্রান্তে বেঁধে দিয়ে তুমি
এঁকে দিলে মাঠ বন বৃষ্টি-মগ্ন নদী-তার দুরাভাস তীর
আমাকে নিঃশেষে দিলে তোমার একান্ত মৃদু মাটির শরীর।
আমার জন্মের ভোর সূযর্য-শরে আহত মাটিতে
প্রত্যহকে ধরে থাকা অবাধ্য মুঠিতে।
নিবির ঘ... | 5 | প্রকৃতিমূলক |
4889 | জন্ম হয় না, মৃত্যু হয় না | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | আমার ভালোবাসার কোনো জন্ম হয় না
মৃত্যু হয় না-
কেননা আমি অন্যরকম ভালোবাসার হীরের গয়না
শরীরে নিয়ে জন্মেছিলাম।
আমার কেউ নাম রখেনি, তিনটে
চারটে ছদ্মনামে
আমার ভ্রমণ মর্ত্যধীমে,
আগুন দেখে আলো ভেবেছি, আলোয় আমার
হাত পুড়ে যায়
অন্ধকারে মানুষ দেখা সহজ ভেবে ঘূর্ণিমায়ায়
অন্ধকারে মিশে থেকেছি
কেউ আমাকে শিরোপা দেয়, কেউ দু’চোখে হাজার ছি... | 1 | চিন্তামূলক |
1793 | রাজার উপর রাজা | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | গাছ পুঁতিলাম ফলের আশায়,
পেলাম কেবল কাঁটা।
সুখের আশায় বিবাহ করিলাম
পেলাম কেবল ঝাঁটা ||
বাসের জন্য ঘর করিলাম
ঘর গেল পুড়ে।
বুড়ো বয়সের জন্য পুঁজি করিলাম
সব গেল উড়ে ||
চাকুরির জন্যে বিদ্যা করিলাম,
ঘটিল উমেদারি।
যশের জন্য কীর্ত্তি করিলাম,
ঘটিল টিটকারী ||
সুদের জন্য কর্জ্জ দিলাম,
আসল গেল মারা।
প্রীতির জন্য প্রাণ দিলাম,
শেষে ... | 3 | ভক্তিমূলক |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.