id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
5827 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | প্রেমহীন | প্রেমমূলক | শেষ ভালোবাসা দিয়েছি তোমার পূর্বের মহিলাকে
এখন হৃদয় শূন্য, যেমন রাত্রি রাজপথ
ঝকমক করে কঠিন সড়ক, আলোয় সাজানো, প্রত্যেক বাঁকে বাঁকে
প্রতীক্ষা আছে আঁধারে লুকানো তবু জানি চিরদিন
এ-পথ্ থাকবে এমনি সাজানো, কেউ আসবে না, জনহীন, প্রেমহীন
শেষ ভালোবাসা দিয়েছি তোমার পূর্বের মহিলাকে!
রূপ দেখে ভুলি কী রূপের বান, তোমার রূপের তুলনা
ক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1897 |
5178 | শামসুর রাহমান | রঙ | চিন্তামূলক | এই পৃথিবীতে দেখতে দেখতে
অনেক কিছুরই রঙ বদলায়,
এই চিরচেনা আকাশের রঙ-
তা-ও চদলায় অবেলায়।
কখনো কখনো মেঘ হয়ে যায়
গ্রাম্য মেলার ঢ্যাঙা এক সঙ,
কখনো সে মেঘ এক লহমায়
সুরসুন্দরী, কখনো ঝিনুক,
বুদ্ধ রাজার বিষণ্ন মুখ।
কোনো কোনো ফুল রঙ পাল্টায়,
কোনো কোনো প্রাণী পারে আগাগোড়া
বদলাতে রঙ। শুধু ডোরাকাটা
বাঘ পারেনাতো পাল্টাতে, হায়,
তার ব... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/rong/ |
3676 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ভোরের পাখি ডাকে কোথায় | রূপক | ভোরের পাখি ডাকে কোথায়
ভোরের পাখি ডাকে।
ভোর না হতে ভোরের খবর
কেমন করে রাখে।
এখনো যে আঁধার নিশি
জড়িয়ে আছে সকল দিশি
কালীবরন পুচ্ছ ডোরের
হাজার লক্ষ পাকে।
ঘুমিয়ে-পড়া বনের কোণে
পাখি কোথায় ডাকে।ওগো তুমি ভোরের পাখি,
ভোরের ছোটো পাখি,
কোন্ অরুণের আভাস পেয়ে
মেল’ তোমার আঁখি।
কোমল তোমার পাখার ‘পরে
সোনার রেখা স্তরে স্তরে,
বাঁধা আছে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/vorer-pakhi-dake-kothai/ |
831 | জসীম উদ্দীন | নক্সী কাঁথার মাঠ - চার | কাহিনীকাব্য | (চার)চৈত্র গেল ভীষণ খরায়, বোশেখ রোদে ফাটে,
এক ফোঁটা জল মেঘ চোঁয়ায়ে নামল না গাঁর বাটে |
ডোলের বেছন ডোলে চাষীর, বয় না গরু হালে,
লাঙল জোয়াল ধূলায় লুটায় মরচা ধরে ফালে |
কাঠ-ফাটা রোদ মাঠ বাটা বাট আগুন লয়ে খেলে,
বাউকুড়াণী উড়ছে তারি ঘূর্ণী ধূলী মেলে |
মাঠখানি আজ শূণ্য খাঁ খাঁ, পথ যেতে দম আঁটে,
জন্-মানবের নাইক সাড়া ... | https://www.bangla-kobita.com/jasimuddin/nokshi-kathar-maath-4/ |
120 | আল মাহমুদ | কবিতা এমন | চিন্তামূলক | কবিতা তো কৈশোরের স্মৃতি। সে তো ভেসে ওঠা ম্লান
আমার মায়ের মুখ; নিম ডালে বসে থাকা হলুদ পাখিটি
পাতার আগুন ঘিরে রাতজাগা ভাই-বোন
আব্বার ফিরে আসা, সাইকেলের ঘন্টাধ্বনি–রাবেয়া রাবেয়া–
আমার মায়ের নামে খুলে যাওয়া দক্ষিণের ভেজানো কপাট!
কবিতা তো ফিরে যাওয়া পার হয়ে হাঁটুজল নদী
কুয়াশায়-ঢাকা-পথ, ভোরের আজান কিম্বা নাড়ার দহন
পিঠার পেটে... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3754.html |
4753 | শামসুর রাহমান | ডাহুক | রূপক | ডাহুক তার গলার ভেতর রাত্রিকে খানিক খেলিয়ে, খানিক
বাজাতে বাজাতে নিজের ভেতর স্থির হয়। ডাহুক গহনতায়
ডুব দিতে থাকে ক্রমাগত; ডাহুকের পালকগুলো রাত্রি
হয়ে ওঠে। রাত্রিময়তা রাত্রিকে স্পর্শ করে ডাহুককণ্ঠে।
ডাহুক আমাকে দেয় রাত্রি, যেমন সাকী ভরে তোলে সুরাপায়ীর পাত্র।
রাত্রি এমন এক প্রহরে প্রবেশ করে, যখন রাত্রি, ডাহুক আর এই আমার
মধ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/dahuk/ |
5793 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | দেখা হবে | ভক্তিমূলক | ভ্রূ-পল্লবে ডাক দিলে, দেখা হবে চন্দনের বনে-
সগন্ধের সঙ্গে পাবো, দ্বিপ্রহরে বিজন ছায়ায়
আহা, কি শীতল স্পর্শ হৃদয়-ললাটে, আহা, চন্দন চন্দন
দৃষ্টিতে কি শান্তি দিলে, চন্দন, চন্দন
আমি বসে থাকবো দীর্ঘ নিরালায়
প্রথম যৌবনে আমি অনেক ঘুরেছি অন্ধ, শিমূলে জরুলে
লক্ষ লক্ষ মহাদ্রুম, শিরা-উপশিরা নিয়ে জীবনের কত বিজ্ঞাপন
তবুও জীবন জ্বল... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1890 |
5745 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | একটি কথা | রূপক | একটি কথা বাকি রইলো, থেকেই যাবে
মন ভোলালো ছদ্মবেশী মায়া
আর একটু দূর গেলেই ছিল স্বর্গ নদী
দূরের মধ্যে দূরত্ব বোধ কে সরাবে।
ফিরে আসার আগেই পেল খুব পিপাসা
বালির নীচে বালিই ছিল, আর কিছু না
রৌদ্র যেন হিংসা, খায় সমস্তটা ছায়া
রাত্রি যেমন কাঁটা, জানে শব্দভেদী ভাষা
বালির নীচে বালিই ছিল, আর কিছু না
একটি কথা বাকি রইলো, থেকেই য... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1795 |
5999 | হুমায়ূন আহমেদ | কাচপোকা | রূপক | একটা ঝকঝকে রঙিন কাচপোকা
হাঁটতে হাঁটতে এক ঝলক রোদের মধ্যে পড়ে গেল।
ঝিকমিকিয়ে উঠল তার নকশাকাটা লাল নীল সবুজ শরীর।
বিরক্ত হয়ে বলল,রোদ কেন?
আমি চাই অন্ধকার ।চির অন্ধকার
আমার ষোলটা পায়ে একটা ভারি শরীর বয়ে নিয়ে যাচ্ছি-
অন্ধকার দেখব বলে।
আমি চাই অন্ধকার ।চির অন্ধকার
একটা সময়ে এসে রোদ নিভে গেল
বাদুড়ে ডানায় ভর করে নামল... | http://kobita.banglakosh.com/archives/1119.html |
636 | জয় গোস্বামী | একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট | রূপক | একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট
অন্যটিতে আরম্ভের ডানা ছড়ানো ঈগল
ছোঁ মেরে ওঠে আবার, তার নখে সরীসৃপ
পায়ের গোছে শিকল
একটি শুভ আরম্ভের মাঙ্গলিক ঘট
ঘটের নীচে সাপের চোখ, মণি
বুড়ো আঙুল কেটে দেওয়ার পরেও বাকি থাকে
কলম, তর্জনী
মাটির কান, মাটির নীচে রক্ত চলাচল–
ভূর্গভের হৃদয় নড়ে–ওষ্ঠ? নড়ে তা-ও!
দুঃখ তার কণ্ঠা ক্ষুর দিয়ে
... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1724 |
4466 | শামসুর রাহমান | একজন লোক | রূপক | লোকটার নেই কোন নামডাক।
তবু তার কথা অষ্টপ্রহর
ভেবে লোকজন অবাক বেবাক।লোকটার নেই কোনোখানে ঠাঁই।
জীবন লগ্ন পথের ধুলায়,
হাতে ঘোরে তার অলীক লাটাই।লোকটা কারুর সাতে-পাঁচে নেই।
গাঁয়ের মোড়ল, মিলের মালিক-
তবু ঘুম নেই কারুর চোখেই;
লোকটার কাঁধে অচিন শালিক।
বলে দশজনে এবং আমিও
রোদ্দুর খায় লোকটা চিবিয়ে,
জ্যোৎস্নাও তার সাধের পানীয়।
হাজ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekjon-lekhok/ |
4365 | শামসুর রাহমান | আমার অসুখ | প্রেমমূলক | হ্যালো হ্যালো জাভেদ, তুমি
শুনতে পাচ্ছ?
এখানে কিছুই শোনা যাচ্ছে না।
অনেক্ষণ ধরে চেষ্টা করছি, শুধু হ্যালো হ্যালো
বলাই সার, ওপার থেকে
কোনো সাড়াশব্দ নেই। টেলিফোনের ভেতর
একটা ভূতুড়ে আওয়াজ ছাড়া
অন্য কোনো ধ্বনি আমার কানে
বাজছে না আজ।অথচ একজন মানুষের কণ্ঠস্বর
শোনার জন্যে আমি কী রকম তৃষ্ণার্তা হয়ে উঠেছি
তুমি তা বুঝতে পারবে না জ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/amar-osukh/ |
4143 | রেদোয়ান মাসুদ | নীল পাঞ্জাবীওয়ালা বাবুটা | প্রেমমূলক | একটা ছেলে যখন একটা মেয়েকে নক দেয়, প্রথম দুই একদিন মেয়েটি কিছু না বললেও কয়েকদিন যেতেই মেয়েটি ছেলেটির সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে দেবে, অপমান করবে, রাগ দেখাবে অথবা ছেলেটির কোনো কথার আর কোনো উত্তর দেবে না। একটা ভদ্র ছেলে কোনোভাবেই এই অপমান সহ্য করতে পারবে না। সে রাগে ঐ মেয়েকে আর জীবনেও নক দেবে না। কিন্তু একটা বাউলা ছেলে ব... | http://kobita.banglakosh.com/archives/5872.html |
992 | জীবনানন্দ দাশ | কুড়ি বছর পরে–জীবনান্দ দাশ | প্রেমমূলক | আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি!
আবার বছর কুড়ি পরে-
হয়তো ধানের ছড়ার পাশে
কার্তিকের মাসে-
তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে-তখন হলুদ নদী | https://banglapoems.wordpress.com/2012/10/02/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be/ |
877 | জসীম উদ্দীন | মুসাফির | চিন্তামূলক | চলে মুসাফির গাহি,
এ জীবনে তার ব্যথা আছে শুধু, ব্যথার দোসর নাহি।
নয়ন ভরিয়া আছে আঁখিজল, কেহ নাই মুছাবার,
হৃদয় ভরিয়া কথার কাকলি, কেহ নাই শুনিবার।
চলে মুসাফির নির্জন পথে, দুপুরের উঁচু বেলা,
মাথার উপরে ঘুরিয়া ঘুরিয়া করিছে আগুন-খেলা।
দুধারে উধাও বৈশাখ-মাঠ রৌদ্রেরে বুকে চাপি,
ফাটলে ফাটলে চৌচির হয়ে করিতেছে দাপাদাপি।
নাচে উলঙ্গ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/756 |
4870 | শামসুর রাহমান | নগ্ন স্তব্ধতা | মানবতাবাদী | যে-কোনো দিনেরই মতো তিমিরের নাড়ী-ছেঁড়া আলো
ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। একটি তরুণী
লাল নীল ঘুড়ি
ছেড়ে দেয় বায়ু স্তরে; বিকেলে চায়ের কাপে প্রফুল্ল চুমুক,
ঘোরানো সিঁড়িতে গাঢ়-মিহি স্বরে কথোপকথন,
ছাদের ওপারে ছিল জ্বলজ্বলে ডাগর বেলুন,
চাঁদ বলি তাকে। কবি তাঁর
শব্দের ঝর্ণাকে ব্যালে শিক্ষকের ধরনে নিপুণ
পরিচালনায়
মোহন গন্তব্যে পৌঁছে দেন। এখা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/nogno-stobdhota/ |
5316 | শামসুর রাহমান | স্বপ্নচারিতায় | প্রেমমূলক | খুব ফিকে গাঁদা রঙের বিকেল। চোখ চোলা,
মন ডুবুরীর আঁটো পোশাক পরেছে
নিরিবিলি; আমাকে কি মানায় এখন জেগে
স্বপ্ন দেখা? দেখি অকস্মাৎ ঘরে এসে, হে নবীনা,
তুমি একগুচ্ছ ফুল তুলে দিতে হাতে
ঋজু স্মিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে। কিছুক্ষণ ছিলে বসে
দূরে টুকরো টাকরা কথা, আমার গতায়ু
যৌবনের শুশ্রুষায় নিজেকে নিয়োগ
করেছিলে বুঝি, নয়তো কী ক’রে আবার
আমার... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/swopnocharitai/ |
5223 | শামসুর রাহমান | শিবির | সনেট | প্রতিদিন ভিড় ঠেলে পথ চলি, দেখি সবখানে
দলাদলি, মরমুখো সব দল, খুন খারাবির
জন্যে তৈরী সর্বক্ষণ অনেকেই, শান্তির দাবির
যেন মূল্য নেই কোনো। মোহময় শ্লোগানে শ্লোগানে
মুখর চৌদিক, অতিকায় জন্তু বিধ্বস্ত উদ্যানে
ভীষণ চঞ্চল, অন্ধ ওরা আর জন্মেই বধির-
তাহলে কোন্ দলে ভিড়ে ঢেকে নেবো মাথা শিরস্ত্রাণে?আমার শিবির নেই কোনো, আমি অত্যস্ত এক... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shibir/ |
5 | অতুলপ্রসাদ সেন | বাংলা ভাষা | স্বদেশমূলক | মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে,
তোমার বোলে,
কতই শান্তি ভালোবাসা!কি যাদু বাংলা গানে!
গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,
গেয়ে গান নাচে বাউল,
গান গেয়ে ধান কাটে চাষা!বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন্,
হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন-
ঐ ফুলেরই মধুর রসে,
বাঁধলো সুখে মধুর বাসা!বাজিয়ে রবি তোমার বীণে,
আনলো মালা জগৎ জিনে!
তোমার চর... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4245.html |
3052 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | চেয়ে থাকা | ভক্তিমূলক | মনেতে সাধ যে দিকে চাই
কেবলি চেয়ে রব।
দেখিব শুধু, দেখিব শুধু,
কথাটি নাহি কব।
পরানে শুধু জাগিবে প্রেম,
নয়নে লাগে ঘোর,
জগতে যেন ডুবিয়া রব
হইয়া রব ভোর।
তটিনী যায়, বহিয়া যায়,
কে জানে কোথা যায়;
তীরেতে বসে রহিব চেয়ে,
সারাটি দিন যায়।
সুদূর জলে ডুবিছে রবি
সোনার লেখা লিখি,
সাঁঝের আলো জলেতে শুয়ে
করিছে ঝিকিমিকি।
সুধীর স... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/cheye-thaka/ |
3125 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ডাকাতের সাড়া পেয়ে | হাস্যরসাত্মক | ডাকাতের সাড়া পেয়ে
তাড়াতাড়ি ইজেরে
চোক ঢেকে মুখ ঢেকে
ঢাকা দিল নিজেরে।
পেটে ছুরি লাগালো কি,
প্রাণ তার ভাগালো কি,
দেখতে পেল না কালু
হল তার কী যে রে! (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dakater-sara-peye/ |
2661 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজ গড়ি খেলাঘর | চিন্তামূলক | আজ গড়ি খেলাঘর,
কাল তারে ভুলি—
ধূলিতে যে লীলা তারে
মুছে দেয় ধূলি।(স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/aj-gori-khelaghor/ |
2492 | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | ধূমপান নিষেধ - অথচ | নীতিমূলক | এখন তোমার জন্যে ধূমপান নিষেধ - তা বেশ----
বহুকাল উপভোগ করেছো তো ধোঁয়ার আবেশ
কিছু কিছু স্বাধীনতা হয়তো বা ভালো লুপ্ত হলে
স্বেচ্ছায় পারোনি যেটা, আজ হৃদ-রোগের কবলে
পড়ে সেটা থামিয়েছো। হৃদয়ের গেছে কি বাসনা ?
নিজেকে সম্রাট ভেবে যে দু'ঠোটে পুড়িয়েছো সোনা
সেই ঠোঁট সে হৃদয় কখনো কি বলে না তোমাকে
শুধু মাত্র বেঁচে থাকা - এই লোভে প্র... | https://www.bangla-kobita.com/rafiquzzaman/dhumpan-nishedh-othocho/ |
5174 | শামসুর রাহমান | যেসব কবিতা আমি | সনেট | যেসব কবিতা আমি কুটি কুটি করে ছিঁড়ে ফেলি,
মেলার মাটির পাখি হয়ে ওরা শূন্যে ঝুলে থাকে,
শ্রাবণ ধারায় গলে যায়, পুনরায় যেন ডাকে
মাটির ভেতর থেকে বীজ-স্বরে। বকুল, চামেলি
কিংবা মল্লিকার মাংসে পুর্নজন্ম নিতে চায়, গূঢ় চেলি
হ’য়ে সূর্যাস্তের দিকে উড়ে যাবে ভেবে শূন্যতাকে
তুষ্ট করবার ব্যর্থতায় অন্ধকারে মুখ ঢাকে।
টেবিলে সাগর দস্যু আর ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jesob-kobita-ami/ |
3855 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শান্তি | প্রেমমূলক | থাক্ থাক্ চুপ কর্ তোরা , ও আমার ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছে ।
আবার যদি জেগে ওঠে বাছা কান্না দেখে কান্না পাবে যে ।
কত হাসি হেসে গেছে ও , মুছে গেছে কত অশ্রুধার ,
হেসে কেঁদে আজ ঘুমাল , ওরে তোরা কাঁদাস নে আর ।কত রাত গিয়েছিল হায় , বসেছিল বসন্তের বায় ,
পুবের জানালাখানি দিয়ে চন্দ্রালোক পড়েছিল গায় ;
কত রাত গিয়েছিল হায় , দূর হতে বেজেছিল ব... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shanti/ |
4934 | শামসুর রাহমান | পূর্বপুরুষের রক্ত | সনেট | আমার শিরায় পূর্বপুরুষের রক্ত কী উচ্ছল
নাচে আগোচরে। অগ্নিকুন্ড, বর্শা অসি ক্ষুরধার,
স্বেদসিক্ত ঘোড়া, চিত্রায়িত রাঙা কাচ, সিংহদ্বার
ঝলসানো হরিণ এবং মল্লযুদ্ধ রক্তোৎপল
মাঝে মধ্যে আনে ঘোর স্তরে স্তরে অবচেতনের।
আমিও ছিলাম সেই দূর শতকের সুবিশাল
দূর্গের প্রাকার আর আমার গন্ডারচর্ম ঢাল
ঝলসে উঠেছে রণক্ষেত্রে, ডঙ্কা শক্রূ হননেরনে... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/purbopurusher-rokto/ |
4778 | শামসুর রাহমান | তিনটি ঘোড়া | রূপক | তিনটি শাদা ঘোড়া বাতাসে দেয় লাফ,
বন্য কেশরের জ্বলছে বিদ্যুৎ।
চোখের কোণে কাঁপে তীব্র নরলোক,
তিনটি শাদা ঘোড়া বাতাসে দেয় লাফ।আকাশে মেঘদল সঙ্গ চায় বুঝি,
মাটির নির্ভর উঠছে দুলে শুধু।
বাতাসে ঝলমল মুক্ত তলোয়ার,
তিনটি তলোয়ার আঁধারে ঝলসায়।স্বপ্নহীনতায় স্বকাল হলো ধু-ধু,
স্বস্তি নেই খাটো মাঠের মুক্তিতে।
খুরের ঘায়ে ওড়ে অভ্র চৌদিকে,... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tinti-ghora/ |
1716 | পাবলো নেরুদা | আমার কাছ থেকে দূরে থেকো না | প্রেমমূলক | আমার কাছ থেকে দূরে থেকো না, দয়া করো
একটা দিন অনেক অনেক দীর্ঘ সময়,
অনেক দূরে ঘুমে থাকা ট্রেনের আশায়
নীরব ইস্টিশানের জন্যে, আমার জন্যে।
একদন্ড আমায় ছেড়ে যেয়ো না, কারণ-
ভয়ের শীতল স্রোত ঘিরে ফেলে আমায়,
অথবা ঘর খোঁজা ধোঁয়া এসে চেপে বসে
বুকের উপরে, গলা টিপে ধরে আমার।
হারিওনা তুমি ছায়া হয়ে সমুদ্র তীরে;
তোমার চোখের পাতায় হারিও... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3942.html |
1149 | জীবনানন্দ দাশ | মনোসরণি | চিন্তামূলক | মনে হয় সমাবৃত হয়ে আছি কোন্ এক অন্ধকার ঘরে–
দেয়ালের কর্নিশে মক্ষিকারা স্থিরভাবে জানে :
এইসব মানুষেরা নিশ্চয়তা হারায়েছে নক্ষত্রের দোষে;
পাঁচফুট জমিনের শিষ্টতায় মাথা পেতে রেখেছে আপোষে।হয়তো চেঙ্গিস আজও বাহিরে ঘুরিতে আছে করুণ রক্তের অভিযানে।
বহু উপদেশ দিয়ে চলে গেলে কনফুশিয়াস–
লবেজান হাওয়া এসে গাঁথুনির ইঁট সব ক’রে ফেলে ফাঁস... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/monosharonii/ |
3262 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দ্বিতীয় সর্গ | কাহিনীকাব্য | "এত কাল হে প্রকৃতি করিনু তোমার সেবা,
তবু কেন এ হৃদয় পূরিল না দেবি?
এখনো বুকের মাঝে রয়েছে দারুণ শূন্য,
সে শূন্য কি এ জনমে পূরিবে না আর?
মনের মন্দির মাঝে প্রতিমা নাহিক যেন,
শুধু এ আঁধার গৃহ রয়েছে পড়িয়া--
কত দিন বল দেবি রহিবে এমন শূন্য,
তা হোলে ভাঙিয়ে যাবে এ মনোমন্দির!
কিছু দিন পরে আর দেখিব সেখানে চেয়ে
পূর্ব্ব হৃদয... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/diteya-ago/ |
575 | কায়কোবাদ | বঙ্গভূমি ও বঙ্গভাষা | স্বদেশমূলক | ‘বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা আমার জন্মভূমি।
গঙ্গা পদ্মা যাচ্ছে ব’য়ে,
যাহার চরণ চুমি।
ব্রহ্মপুত্র গেয়ে বেড়ায়,
যাহার পূণ্য-গাথা!
সেই-সে আমার জন্মভূমি,
সেই-সে আমার মাতা!
আমার মায়ের সবুজ আঁচল
মাঠে খেলায় দুল!
আমার মায়ের ফুল-বাগানে,
ফুটছে কতই ফুল!
শত শত কবি যাহার
গেয়ে গেছে গাথা!
সেই-সে আমার জন্মভূমি,
সেই-সে আমার মাতা!
... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3840.html |
3770 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যথাকর্তব্য | নীতিমূলক | ছাতা বলে, ধিক্ ধিক্ মাথা মহাশয়,
এ অন্যায় অবিচার আমারে না সয়।
তুমি যাবে হাটে বাটে দিব্য অকাতরে,
রৌদ্র বৃষ্টি যতকিছু সব আমা-’পরে।
তুমি যদি ছাতা হতে কী করিতে দাদা?
মাথা কয়, বুঝিতাম মাথার মর্যাদা,
বুঝিতাম তার গুণে পরিপূর্ণ ধরা,
মোর একমাত্র গুণ তারে রক্ষা করা। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jothakortobyo/ |
3737 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মুহুর্ত মিলায়ে যায় | রূপক | মুহুর্ত মিলায়ে যায়
তবু ইচ্ছা করে—
আপন স্বাক্ষর রবে
যুগে যুগান্তরে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/muhurto-milae-jai/ |
4147 | রেদোয়ান মাসুদ | বেঁচে থাকার আকুতি | প্রেমমূলক | বেঁচে থেকেও মরে গেছি
মরবার নেই কোন ভয়,
হেরে গিয়েও বেঁচে আছি
হারবার আর কিছু নেই।
যা হারাবার তাই হারিয়েছি
দুঃখগুলো রয়েছে পাশে,
ভালোবাসা হৃদয়ে ছিল
হৃদয়েই যতনে আছে।
চোখ দুটো তাকিয়ে ছিল
এখনও তাকিয়েই আছে,
ঘুমের ঘরে স্বপ্নগুলো
শুধু দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে।
মেঘের আড়ালে চাঁদটি
এখনও লুকোচুরি খেলে,
বৃষ্টিগুলো হঠাৎ করে
চোখ ভাসিয়ে মারে।
... | http://kobita.banglakosh.com/archives/2127.html |
854 | জসীম উদ্দীন | পুতুল | স্বদেশমূলক | পুতুল, তুমি পুতুল ওগো ! কাদের খেলা-ঘরের ছোট খুকু,
কাদের ঘরের ময়না পাখি ! সোহাগ-করা কাদের আদরটুকু।
কার আঁচলের মানিক তুমি। কার চোখেতে কাজললতা হয়ে,
এসেছ এই সোনার দেশে রামধনুকের রঙের হাসি লয়ে।
ভোর বেলাকার শিশির তুমি, কে রেখেছে শিউলী ফুলের পরে,
খোকা-ভোরের হাসিখানি কে রেকেছে পদ্মপাতায় ধরে।
পুতুল! তুমি মাটির পুতুল! নানা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/205 |
1983 | বিষ্ণু দে | আলেখ্য | চিন্তামূলক | আঁটসাঁট বেঁধে আচল জড়ালো কোমরে,
মুগ্ধ চোখের এক নিমেষের দেরিতে
লঘু লাবণ্যে লাফ দিয়ে হল পার |
কালো পাহাড়ের গায় চমকাল রেখা,
শাড়ির শাদায় কস্তাপাড়ের সিঁদুরে
কষ্টিতে ঋজু কোমল শরীরে তরল স্রোতের ছন্দ |
এই লাবণ্যে এই নিশ্চিত ছন্দে
আমরা সবাই কেনইবা পার হব না
সামনের এই পাহাড়ের খাড়া খন্দ ? | http://kobita.banglakosh.com/archives/4117.html |
2775 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ইয়ারিং ছিল তার দু কানেই | হাস্যরসাত্মক | ইয়ারিং ছিল তার দু কানেই।
গেল যবে স্যাকরার দোকানেই
মনে প’ল, গয়না তো চাওয়া যায়,
আরেকটা কান কোথা পাওয়া যায়–
সে কথাটা নোটবুকে টোকা নেই!
মাসি বলে, “তোর মত বোকা নেই।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/iyaring-chilo-tar-du-kanei/ |
4930 | শামসুর রাহমান | পুরাণের পাখি | মানবতাবাদী | না রাজু, তোমাকে আমরা ঘুমোতে দেব না।
এই যে আমরা দাঁড়িয়ে আছি তোমার শিয়রে
প্রতারিত, লুষ্ঠিত মানুষের মতো,
আমাদের মধ্যে কেউ এমন নেই যে তোমাকে
ঘুমোতে দেবে।
জেগে থাকতেই ভালবাসতে তুমি
এই নিদ্রাচ্ছন্ন দেশে; অন্ধকারে দু’টি চোখ সর্বক্ষণ
জ্বলত পবিত্র দীপশিখার মতো,
সেই চোখে আজ রাজ্যের ঘুম।
না রাজু, তোমার এই ভঙ্গি আমাদের প্রিয় নয়,
এ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/puraner-pakhi/ |
5212 | শামসুর রাহমান | শহরে নেমেছে সন্ধ্যা | সনেট | শহরে নেমেছে সন্ধ্যা, যেন নীরব ধর্মযাজিকা
প্রার্থনায় নতজানু। ফুটপাতে বেকার যুবক,
বিশীর্ণ কেরানী ঘোরে, লাস্যময়ী দৃষ্টির কুহক
হেনে হেঁটে যায়, কেউ কেউ দোকানকে মরীচিকা
ভেবে চিত্রবৎ স্থাণু কারো কারো চোখে স্বপ্নশিখা।
ক্লান্ত পাখিঅলা পঙ্গু পথিকের সঙ্গে মারাত্মক
বচসায় মাতে আর স্বপ্ননাদিষ্ট পুলিশও নিছক
অভ্যাসে বাজায় বাঁশি, কম্পম... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shohore-nemeche-sondhya/ |
1167 | জীবনানন্দ দাশ | মৃত্যুর আগে | প্রকৃতিমূলক | আমরা হেঁটেছি যারা নির্জন খড়ের মাঠে পউষসন্ধ্যায়,
দেখেছি মাঠের পারে নরম নদীর নারী ছড়াতেছে ফুল
কুয়াশার ; কবেকার পাড়াগাঁর মেয়েদের মতো যেন হায়
তারা সব; আমরা দেখেছি যারা অন্ধকারে আকন্দ ধুন্দুল
জোনাকিতে ভ’রে গেছে; যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপ দাঁড়ায়েছে চাঁদ – কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;
আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শী... | https://banglarkobita.com/poem/famous/887 |
972 | জীবনানন্দ দাশ | এখানে আকাশ নীল | সনেট | এখানে আকাশ নীল- নীলাভ আকাশ জুড়ে সজিনার ফুল
ফুটে থাকে হিম শাদা- রং তার আশ্বিনের আলোর মতন;
আকন্দফুলের কালো ভীমরুল এইখানে করে গুঞ্জরণ
রৌদ্রের দুপুর ভ’রে;- বারবার রোদ তার সুচিক্বণ চুল
কাঁঠাল জামের বুকে নিঙড়ায়ে;- দহে বিলে চঞ্চল আঙুল
বুলায়ে বুলায়ে ফেরে এইখানে জাম লিচু কাঁঠালের বন,
ধনপতি, শ্রীমন্তের, বেহুলার, লহনার ছুঁয়েছে চর... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ekhaney-akash-nil/ |
2702 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ | প্রকৃতিমূলক | আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা
গেঁথেছি শেফালিমালা।
নবীন ধানের মঞ্জরী দিয়ে
সাজিয়ে এনেছি ডালা।
এসো গো শারদলক্ষ্মী, তোমার
শুভ্র মেঘের রথে,
এসো নির্মল নীল পথে,
এসো ধৌত শ্যামল
আলো-ঝলমল
বনগিরিপর্বতে।
এসো মুকুটে পরিয়া শ্বেত শতদল
শীতল-শিশির-ঢালা।ঝরা মালতীর ফুলে
আসন বিছানো নিভৃত কুঞ্জে
ভরা গঙ্গার কূলে
ফিরিছে মরাল ডানা পাতিবারে
... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/amra-bedhechi-kasher-guccho/ |
4496 | শামসুর রাহমান | একদা তোমার আমি | প্রেমমূলক | একদা, তোমাকে আমি অহংকারী বলে জানতাম। মনে পড়ে,
কোনো এক পঁচিশে বৈশাখে
তুমি আর আমি পাশাপাশি ছিলাম কী মুগ্ধ বসে।
চিনতে পারনি তুমি পাশে-বসে-থাকা জবুথবু
তরুণকে যার
কবিতা তখন এ শহরে যত্রতত্র
বাচ্চা রাজহাঁসের মতন
পাখা ঝাপটাত, সেই পদাবলি পাঠক গোষ্ঠীকে দিয়েছিল
ভীষণ ভড়কে আর উদাসীন পণ্ডিতবর্গের
টেরিকাটা দামি মাথা চুলকোতে বাধ্য করে... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekoda-tomar-ami/ |
3848 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শক্তের ক্ষমা | নীতিমূলক | নারদ কহিল আসি, হে ধরণী দেবী,
তব নিন্দা করে নর তব অন্ন সেবি।
বলে মাটি, বলে ধূলি, বলে জড় স্থুল,
তোমারে মলিন বলে অকৃতজ্ঞকুল।
বন্ধ করো অন্নজল, মুখ হোক চুন,
ধুলামাটি কী জিনিস বাছারা বুঝুন।
ধরণী কহিলা হাসি, বালাই, বালাই!
ওরা কি আমার তুল্য, শোধ লব তাই?
ওদের নিন্দায় মোর লাগিবে না দাগ,
ওরা যে মরিবে যদি আমি করি রাগ। (কণিকা কাব... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shokter-khoma/ |
2369 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | মেঘ ও চাতক | নীতিমূলক | উড়িল আকাশে মেঘ গরজি ভৈরবে;—
ভানু পলাইল ত্রাসে;
তা দেখি তড়িৎ হাসে;
বহিল নিশ্বাস ঝড়ে;
ভাঙ্গে তবু মড়-মড়ে;
গিরি-শিরে চূড়া নড়ে,
যেন ভূ-কম্পনে;
অধীরা সভয়ে ধরা সাধিলা বাসবে।
আইল চাতক-দল,
মাগি কোলাহলে জল—
“তৃষায় আকুল মোরা, ওহে ঘনপতি!
এ জ্বালা জুড়াও, প্রভু, করি এ মিনতি।”
বড় মানুষের ঘরে ব্রতে, কি পরবে,
ভিখারী-মণ্ডল যথ... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/megh-o-catok/ |
4116 | রেদোয়ান মাসুদ | আমার ভাবনা | প্রেমমূলক | আমার ভাবনার মাঝে তোমার ছায়া
প্রতি ছায়া হয়ে থাকে।
আমার চোখের মাঝে তোমার ছবি
অবিরাম ভেসে উঠে।
আমার কানের মাঝে তোমার সূর
এখনও বেঝে উঠে।
আমার হাতের সাথে তোমার স্পর্শ
এখনও শিহরন জাগে।
আমার আকাশ তোমার জন্য এখনও
মেঘে ঢাকা থাকে।
আমার চলার পথ তোমার আশায়
এখনও থেমে থাকে।
আমার হৃদয়ে তোমার জন্য এখনও
ঝর্ণা বয়ে আছে।
আমার দেহের রক্ত ম... | http://kobita.banglakosh.com/archives/2080.html |
4781 | শামসুর রাহমান | তিনটি হাঁস এবং পিতামহ | রূপক | রাস্তার লোকটা সেই তিনটি নিস্তব্ধ হাঁস রেখে
চলে গেলো, প্রায় কিছু না বলেই লম্বাটে পা ফেলে
অন্তর্হিত; যেন বোবা, ক্ষমাপ্রার্থী হয়তোবা। দেখি
স্কুটার-দলিত শাদা-লাল হাঁসগুলো বারান্দার
কংক্রীটে নিঃসাড় চঞ্চু রেখে নির্বিকার পড়ে আছে
মূক বেহালার মতো।তাদের শরীর ছুঁয়ে বুঝি
বহু যুগ বয়ে গেছে প্রবল হাওয়ার। কে বলবে
ওরা তিনজন মৃদু ঘুরতো ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tinti-hash-o-pitamoho/ |
4132 | রেদোয়ান মাসুদ | তুমি আসবে বলে | প্রেমমূলক | তুমি আসবে বলে
প্রজাপতিরা ছিল ডানা মেলে
জোনাকিরা ছিল আলো নিয়ে
গোলাপ ফুল আগে থেকেই ফুটেছিল
তোমাকে বরন করবে বলে।
কিন্ত তুমি আগে থেকেই নাকি জানতে
গোলাপে কাটা আছে
আর সেই ভয়ে তুমি আর
আসলেনা এই হৃদয়ে।
তুমি কি জান না
গোলাপের গন্ধ নিতে পরীরা আসে
আকাশ থেকে, ভোমরা আসে
গুন গুন গানের সূরে
মৌমাছিরাও আসে মধু নিতে?
কিন্তু আজকের গোলাপট... | http://kobita.banglakosh.com/archives/2194.html |
2951 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ক্ষণমিলন | সনেট | পরম আত্মীয় বলে যারে মনে মানি
তারে আমি কতদিন কতটুকু জানি!
অসীম কালের মাঝে তিলেক মিলনে
পরশে জীবন তার আমার জীবনে।
যতটুকু লেশমাত্র চিনি দুজনায়,
তাহার অনন্তগুণ চিনি নাকো হায়।
দুজনের এক জন এক দিন যবে
বারেক ফিরাবে মুখ, এ নিখিল ভবে
আর কভু ফিরিবে না মুখোমুখি পথে,
কে কার পাইবে সাড়া অনন্ত জগতে!
এ ক্ষণমিলনে তবে, ওগো মনোহর,
তোমারে ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/khonmilon/ |
5626 | সুকুমার রায় | দাদা গো দাদা | ছড়া | দাদা গো দাদা, সত্যি তোমার সুরগুলো খুব খেলে!
এম্নি মিঠে- ঠিক যেন কেউ গুড় দিয়েছে ঢেলে!
দাদা গো দাদা, এমন খাসা কণ্ঠ কোথায় পেলে?-
এই খেলে যা! গান শোনাতে আমার কাছেই এলে?
দাদা গো দাদা, পায়ে পড়ি তোর, ভয় পেয়ে যায় ছেলে-
গাইবে যদি ঐখেনে গাও, ঐ দিকে মুখ মেলে । | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/dada-go-dada/ |
525 | কাজী নজরুল ইসলাম | সান্তনা | স্বদেশমূলক | চিত্ত- কুঁড়ি- হাস্না- হানা মৃত্যু- সাঁঝে ফুটলো গো!
জীবন- বেড়ায় আড়াল ছাপি' বুকের সুবাস টুটলো গো!
এই ত কারার প্রাকার টুটে'
বন্দী এল বাইরে ছুটে,
তাই ত নিখিল আকুল- হৃদয় শ্মশান- মাঝে জুটল গো!
ভবন- ভাঙ্গা আলোর শিখায় ভূবন রেঙ্গে উঠলো গো।স্ব-রাজ দলের চিত্ত- কমল লুটল বিশ্বরাজের পায়,
দলের চিত্ত উঠলো সুটে শতদলের শ্বেত আভায... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/santona/ |
2456 | মোহাম্মদ কামাল | বাঙালি রক্তের মত লাল-2 - | স্বদেশমূলক | রক্তের আলকাতরা অন্ধকারে বধ্যরাত্রিদালি’র চোয়ানো ঘড়ির মত মহাকালে জমাটধ্বংস চমকে উজ্জ্বলন্ত পলকের লোমহর্ষ লাল! গলনাঙ্কে হিমালয় এত ফিনকি ধারা কখনো দ্যাখেনিকখনো দ্যাখেনি এত জল বঙ্গোপসাগরকখনো মাখেনি কোন মুক্তিযুদ্ধ এত সংশপ্তকের হৃৎপিণ্ডের লাভালক্ষপ্রাণের ঘনীভূত একছোপ চোয়ানো রক্তের মতমহাকালের প্রকাশ্য দিবালোকে জমাটবাংলাদেশে... | https://banglapoems.wordpress.com/2013/11/02/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a4-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-2-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be/ |
5017 | শামসুর রাহমান | বারবার ফিরে আসে | স্বদেশমূলক | বার বার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়ে, ঘোরে হাতে হাতে,
মিছিলে পতাকা হয় বারবার রক্তাপ্লুত শার্ট।
বিষম দামাল দিনগুলি ফিরে আসে বারবার,
বারবার কল্লোলিত আমাদের শহর ও গ্রাম।
‘আবার আসবো ফিরে’ ব’লে সজীব কিশোর
শার্টের আস্তিন দ্রুত গোট... | https://banglapoems.wordpress.com/2016/02/15/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0/ |
1842 | পূর্ণেন্দু পত্রী | নিসর্গ | চিন্তামূলক | ছিঃ ছিঃ।
ছেঁড়া-খোঁড়া এক ফালি সবুজ রুমালের জন্যে আমাদের হা-পিত্যেশ,
আর তুই মাছরাঙা রঙের সাত-সাতটা পাহাড়
আর মিছিলের মতো লম্বা আঠারো মাইল শাল-মহুয়ার বন
আর গায়ে হলুদের কনের মতো একটা গোটা নদী আঁকড়িয়ে?
আবার নীল মেঘের খোঁপায় কি গুজেছিস ওটা?
সূর্যাসে-র লাল পালক?
চলতে-ফিরতে পায়ে বাজছে রুপোর মল
ভিতরে একশো গন্ডা পাখির স্বর।
আদরখা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1215 |
538 | কাজী নজরুল ইসলাম | সুরা আদ-দুহা | ভক্তিমূলক | শপথ প্রথম দিবস- বেলার শপথ রাতের তিমির- ঘন,
করেন নি প্রভু বর্জন তোমা', করেন নি দুশমনী কখনো।
পরকাল সে যে উত্তমতর, হইকাল আর দুনিয়া হ'তে,
অচিরাত তব প্রভু দানিবেন (সম্পদ) খুশী হইবে যাতে।
পিতৃহীন সে তোমারে তিনি কি করেন নি পরে শরন দান?
ভ্রান্ত পথে তোমারে পাইয়া তিনিই না তোমা পথ দেখান?
তিনি কি পাননি অভাবী তোমারে আভাব সব করেন মো... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/sura-ad-duha/ |
2807 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এই দেহটির ভেলা নিয়ে দিয়েছি সাঁতার গো | চিন্তামূলক | এই দেহটির ভেলা নিয়ে দিয়েছি সাঁতার গো,
এই দু-দিনের নদী হব পার গো।
তার পরে যেই ফুরিয়ে যাবে বেলা,
ভাসিয়ে দেব ভেলা,
তার পরে তার খবর কী যে ধারি নে তার ধার গো,
তার পরে সে কেমন আলো, কেমন অন্ধকার গো।
আমি যে অজানার যাত্রী সেই আমার আনন্দ।
সেই তো বাধায় সেই তো মেটায় দ্বন্দ্ব।
জানা আমায় যেমনি আপন ফাঁদে শক্ত করে বাঁধে
অজানা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1942 |
5597 | সুকুমার রায় | খুচরো ছড়া | ছড়া | শুনেছ কি ব'লে গেলোশুনেছ কি ব'লে গেলো সীতানাথ বন্দ্যো?
আকাশের গায়ে নাকি টকটক গন্ধ?
টকটক থাকে নাকো হ'লে পরে বৃষ্টি--
তখন দেখেছি চেটে একেবারে মিষ্টি।বল্ব কি ভাইবলব কি ভাই হুগলি গেলুম
বলছি তোমায় চুপি-চুপি--
দেখতে পেলাম তিনটে শুয়োর
মাথায় তাদের নেইকো টুপি।।কহ ভাই কহ রেকহ ভাই কহ রে, অ্যাঁকা চোরা শহরে,
বদ্যিরা কেন কেউ আলু... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/khuchro-chhora/ |
4342 | শামসুর রাহমান | আজকাল বহু রাত | প্রেমমূলক | একজন ধার্মিক যেমন পবিত্র ধর্মগ্রন্থে অকুণ্ঠ বিশ্বাসী,
তেমনি আমিও বিশ্বাস অর্পণ করেছি
আমার প্রতি তোমার গভীর ভালোবাসায়।
এক মোহন, মজবুত সুতোয় গ্রথিত আমরা দু’জন;
আমরা যে-ঘর বানিয়েছি শূন্যের মাঝার
তার একটি ইটকেও খসাবার সাধ্যি নেই কোনো
জলোঠোসের কিংবা ভূমিকম্পের। আমরা পরস্পর
লগ্ন থাকব, যতদিন বেঁচে আছি।
এটাতো খুবই সত্যি আমাদের... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ajkal-bohu-rat/ |
3176 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তোমার বীণায় কত তার আছে | প্রেমমূলক | তোমার বীণায় কত তার আছে
কত-না সুরে,
আমি তার সাথে আমার তারটি
দিব গো জুড়ে।
তার পর হতে প্রভাতে সাঁঝে
তব বিচিত্র রাগিণীমাঝে
আমারো হৃদয় রণিয়া রণিয়া
বাজিবে তবে।
তোমার সুরেতে আমার পরান
জড়ায়ে রবে।তোমার তারায় মোর আশাদীপ
রাখিব জ্বালি।
তোমার কুসুমে আমার বাসনা
দিব গো ঢালি।
তার পর হতে নিশীথে প্রাতে
তব বিচিত্র শোভার সাথে
আমারো হৃদয় জ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/tomar-binai-koto-tar-ache/ |
785 | জসীম উদ্দীন | ও মোহন বাঁশী | ভক্তিমূলক | ও মোহন বাঁশী!
বাজাও বাজাওরে কানাই!
ধীরে অতি ধীরে;
আমি জল আনিতে যমুনাতে,
ও বাঁশী শুনব ফিরে ফিরেরে কানাই!
ধীরে অতি ধীরে।
কলসী ভরার ছলে,
তোমার ছায়া দেখব জলেরে কানাই!
আমি হারায়ে পায়ের নূপুর,
ও ঘরে নাহি যাব ফিরেরে কানাই।
ধীরে অতি ধীরে।
তোমার বাঁশীর স্বরে
যদি কলসীর জল নড়েরে,
তারে ঘুম পাড়াবরে,
কাঁকণ বাজাইয়া করেরে কানাই!
আমি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/799 |
4058 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হে ভুবন | ভক্তিমূলক | হে ভুবন
আমি যতক্ষণ
তোমারে না বেসেছিনু ভালো
ততক্ষণ তব আলো
খুঁজে খুঁজে পায় নাই তার সব ধন।
ততক্ষণ
নিখিল গগন
হাতে নিয়ে দীপ তার শূন্যে শূন্যে ছিল পথ চেয়ে।
মোর প্রেম এল গান গেয়ে;
কী যে হল কানাকানি
দিল সে তোমার গলে আপন গলার মালাখানি।
মুগ্ধচক্ষে হেসে
তোমারে সে
গোপনে দিয়েছে কিছু যা তোমার গোপন হৃদয়ে
তারার মালার মাঝে চিরদিন রবে ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1929 |
1410 | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | চৈত্রের সংলাপ | প্রেমমূলক | ক.
তুমি আমার চৈত নিদানের
বড় কষ্টের চাল
ফুটছো ম্রিয়মাণ আলোতে
বুকে অনন্ত কাল ।
খ.
তোমার কথা ভেবে ভেবে
আমার কাটে দিন
তুমি তখন অন্য কারোর
শুধতে আছো ঋণ ।
গ.
ট্রেন ছুটছে হু- হু হাওয়ায়
আমার চোখে জল
তোমার কাছে রেখে এলাম
সুখের করতল ।
ঘ.
পোষ্টাপিসের পিয়ন বললো
নেই চিঠি নেই নেই
হঠাৎ মেঘে ঢাকলো আকাশ
রোদের অজান্তেই । | https://banglarkobita.com/poem/famous/1038 |
2538 | যতীন্দ্রমোহন বাগচী | দ্বিপ্রহরে | প্রকৃতিমূলক | বইয়ের পাতায় মন বসেনা, খোলা পাতা খোলাই পড়ে’ থাকে,
চোখের পাতায় ঘুম আসেনা—- দেহের ক্লান্তি বুঝাই বলো কা’কে ?
কাজের মাঝে হাত লাগাব, কোথাও কোন’ উত্সাহ নাই তার,
চেয়ে আছি চেয়েই আছি, চাওয়ার তবু নাইক কিছু আর !বেলা বাড়ে, রোদ চড়ে’ যায়, প্রখর রবি দহে আকাশ তল,
ঝাঁঝাঁ করে ভিতর-বাহির, চোখের পথে শুকায় চোখের জল ;
মোহাচ্ছন্ন মৌন জগৎ,... | https://www.bangla-kobita.com/jatindramohan/post20160512101251/ |
155 | আহসান হাবীব | ইচ্ছা | ছড়া | মনারে মনা কোথায় যাস?
বিলের ধারে কাটব ঘাস।
ঘাস কি হবে?
বেচব কাল,
চিকন সুতোর কিনব জাল।
জাল কি হবে?
নদীর বাঁকে
মাছ ধরব ঝাঁকে ঝাঁকে।
মাছ কি হবে?
বেচব হাটে,
কিনব শাড়ি পাটে পাটে।
বোনকে দেব পাটের শাড়ি,
মাকে দেব রঙ্গিন হাঁড়ি। | http://kobita.banglakosh.com/archives/3804.html |
3010 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গীতোচ্ছ্বাস | সনেট | নীরব বাঁশরিখানি বেজেছে আবার ।
প্রিয়ার বারতা বুঝি এসেছে আমার
বসন্তকানন-মাঝে বসন্তসমীরে ।
তাই বুঝি মনে পড়ে ভোলা গান যত ।
তাই বুঝি ফুলবনে জাহ্নবীর তীরে
পুরাতন হাসিগুলি ফুটে শত শত ।
তাই বুঝি হৃদয়ের বিস্মৃত বাসনা
জাগিছে নবীন হয়ে পল্লবের মতো ।
জগৎ-কমলবনে কমল-আসনা
কত দিন পরে বুঝি তাই এল ফিরে ।
সে এল না -- এল তার মধুর মিলন,
বস... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/geetochchhash/ |
1687 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | শিয়রে মৃত্যুর হাত | চিন্তামূলক | শিয়রে মৃত্যুর হাত। সারা ঘরে বিবর্ণ আলোর
স্তব্ধ ভয়। অবসাদ। চেতনার নির্বোধ দেয়ালে
স্তিমিত চিন্তার ছায়া নিভে আসে। রুগ্ণ হাওয়া ঢালে
ন্যাসপাতির বাসী গন্ধ। দরজার আড়ালে কালো-টুপি
যে আছে দাঁড়িয়ে, তার নিষ্পলক চোখ, রাত্রি ভর
হলে সে হারাবে।
সিঁড়ি-অন্ধকারে মাথা ঠুকে ঠুকে
কে যেন উপরে এল অনভিজ্ঞ হাতে চুপিচুপি
ভিজিট চুকিয়ে দিয়ে ম্রি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1628 |
2902 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কালের প্রবল আবর্তে প্রতিহত | ভক্তিমূলক | কালের প্রবল আবর্তে প্রতিহত
ফেনপুঞ্জের মতো,
আলোকে আঁধারে রঞ্জিত এই মায়া,
অদেহ ধরিল কায়া।
সত্তা আমার,জানি না, সে কোথা হতে
হল উত্থিত নিত্যধাবিত স্রোতে।
সহসা অভাবনীয়
অদৃশ্য এক আরম্ভ-মাঝে কেন্দ্র রচিল স্বীয়।
বিশ্বসত্তা মাঝখানে দিল উঁকি,
এ কৌতুকের পশ্চাতে আছে জানি না কে কৌতুকী।
ক্ষণিকারে নিয়ে অসীমের এই খেলা,
নববিকাশের স... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/kalar-probal-abata/ |
6009 | হেলাল হাফিজ | অচল প্রেমের পদ্য - ১১ | প্রেমমূলক | যুক্তি যখন আবেগের কাছে অকাতরে পর্যুদস্ত হতে থাকে,
কবি কিংবা যে কোনো আধুনিক মানুষের কাছে
সেইটা বোধ করি সবচেয়ে বেশি সংকোচ আর সঙ্কটের সময়।
হয় তো এখন আমি তেমনি এক নিয়ন্ত্রনহীন
নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি,
নইলে এতদিন তোমাকে একটি চিঠিও লিখতে
না পারার কষ্ট কি আমারই কম!
মনে হয় মরণের পাখা গজিয়েছে। | https://banglarkobita.com/poem/famous/212 |
4722 | শামসুর রাহমান | জমিনের বুক চিরে | সনেট | জমিনের বুক চিরে লাঙলের পৌরুষে কৃষক
শস্য তোলে কায়ক্লেশে; রকমারি রঙিন আনাজে
ঋদ্ধ করে গৃহকোণ। মাঠ ছেড়ে চ’লে আসে সাঁঝে;
কোনো কোনো জ্যোৎস্নারাতে কী ব্যাকুল করে সে পরখ,
শোঁকে ফসলের ডগা। কিছুতেই ভাবে না নরক
নিজের কুটিরটিকে, বিবির পাশেই শোয়, মাঝে
উদোম বাচ্চার ঘুম, সারাদিন হাড়ভাঙা কাজে
কাটে, রাতে স্বপ্ন দ্যাখে পঙ্গপাল নামে বেধড়... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jominer-buk-chire/ |
3864 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শীতের হাওয়া | প্রেমমূলক | শীতের হাওয়া হঠাৎ ছুটে এল
গানের বেলা শেষ না হতে হতে?
মনের কথা ছড়িয়ে এলোমেলো
ভাসিয়ে দিল শুকনো পাতার স্রোতে।
মনের কথা যত
উজান তরীর মতো;
পালে যখন হাওয়ার বলে
মরণ-পারে নিয়ে চলে,
চোখের জলের স্রোত যে তাদের টানে
পিছু ঘাটের পানে —
যেথায় তুমি, ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/5754.html |
2734 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমি চেয়ে আছি তোমাদের সবাপানে | ভক্তিমূলক | আমি চেয়ে আছি তোমাদের সবাপানে।
স্থান দাও মোরে সকলের মাঝখানে।
নীচে সব নীচে এ ধূলির ধরণীতে
যেথা আসনের মূল্য না হয় দিতে,
যেথা রেখা দিয়ে ভাগ করা নেই কিছু
যেথা ভেদ নাই মানে আর অপমানে,
স্থান দাও সেথা সকলের মাঝখানে।যেথা বাহিরের আবরণ নাহি রয়,
যেথা আপনার উলঙ্গ পরিচয়।
আমার বলিয়া কিছু নাই একেবারে,
এ সত্য যেথা নাহি ঢাকে আপনারে,
সেথ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ami-cheye-achi-tomader-sobapane/ |
1896 | পূর্ণেন্দু পত্রী | সব দিয়েছেন | ভক্তিমূলক | দেবার সময় সব দিয়েছেন তিনি।
সাগর জলে নোনা এবং
চায়ের জলে চিনি।
রূপ দিয়েছেন
ধূপ দিয়েছেন
মনকে অন্ধকূপ দিয়েছেন
চাঁদের আলোয় বিষ দিয়েছেন রাতে
তাঁরই কাচের বাসন ভাঙে সামান্য সংঘাতে।
দেবার সময় যা দিয়েছেন
নেবার সময় সবই নেবেন তুলে।
থাকবে কিছু রক্তফোঁটা
ঘনান্ধকার রাত্রে ফোটা
ব্যথাকাতর দু-একটি আঙ্গুলে। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1262 |
5443 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | এই নবান্নে | মানবতাবাদী | এই হেমন্তে কাটা হবে ধান,
আবার শূন্য গোলায় ডাকবে ফসলের বান-
পৌষপার্বণে প্রাণ-কোলাহলে ভরবে গ্রামের নীরব শ্মশান।
তবুও এ হাতে কাস্তে তুলতে কান্না ঘনায়ঃ
হালকা হাওয়ায় বিগত স্মৃতিকে ভুলে থাকা দায়;
গত হেমন্তে মরে গেছে ভাই, ছেড়ে গেছে বোন,
পথে-প্রান্তরে খামারে মরেছে যত পরিজন;
নিজের হাতের জমি ধান-বোনা,
বৃথাই ধুলোতে ছড়িয়েছ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/280 |
570 | কায়কোবাদ | আযান | ভক্তিমূলক | কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।
কি মধুর আযানের ধ্বনি!
আমি তো পাগল হয়ে সে মধুর তানে,
কি যে এক আকর্ষণে, ছুটে যাই মুগ্ধমনে
কি নিশীথে, কি দিবসে মসজিদের পানে।
হৃদয়ের তারে তারে, প্রাণের শোণিত-ধারে,
কি যে এক ঢেউ উঠে ভক্তির তুফানে-
কত সুধা আছে সেই মধুর আযানে।
নদ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3832.html |
1817 | পূর্ণেন্দু পত্রী | ছেঁড়া-খোঁড়া | প্রকৃতিমূলক | লোকালয় ছিঁড়ে-খুঁড়ে, ক্ষয় ক্ষতি দুহাতে ছড়িয়ে।
গেরিলা বাতাস গেছে নৈঋত কোণের দিকে বেঁকে।
এখন কোথাও শব্দ নেই।
এখন কোথাও সুখ নেই।
রেডিও, টিভিতে শুধু
সংবাদের নানাবিধ ধানভানা আছে।
অনেকদিনের পর আকাশে ফুটেছে দুটি তারা।
বহুদিন আগেকার তিনফোটা শিশিরের জল
হাতের তালুতে নিয়ে কচুপাতা জঙ্গলের একধারে সুখী হয়ে আছে।
অনেকদিনের পরে আকাশের... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1277 |
2066 | মহাদেব সাহা | আমার সোনার বাংলা | স্বদেশমূলক | আমি যে দেশকে দেখি সে কি এই স্বপ্নভূমি থেকে জেগে ওঠা
বহুদূরব্যাপী কল্লোলিত, সে কি রূপসনাতন
সে কি আমার সোনার বাংলা, কোনো রূপকথা নয়!
তার চক্ষুদ্বয় তবে এমন কোটরাগত কেন, মুখ জুড়ে সূর্যাস্তের
কালোছায়া,
কেন তার সবুজ গাছের দিকে সহসা তাকালে দেখি
ধূসর পিঙ্গল বর্ণ, নেমেছে তুষার আর মাছে সারি সারি
কুয়াশার তাঁবু
লোকশ্রুত এই কি সোনার... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1346 |
128 | আল মাহমুদ | ত্যাগে দুঃখে | চিন্তামূলক | আজকাল চোখে আর অন্য কোনো স্বপ্নই জাগেনা।
কবিতার কথা বুঝি, কবিতার জন্য বহুদূর একাকী গিয়েছি
পদচারণার স্মৃতি সারাদিন দুঃখবোধ ঐকান্তিক সখ্যতা ভেঙেছে
ত্যাগে দুঃখে ভরে আছে সামান্য পড়ার ঘর
সন্তানসহ দুঃখী সঙ্গিনীর মুখ।
অবোধ বাল্যেও নাকি একটা ছোট কাপও ভাঙিনি–
আমার আম্মা প্রায়ই আমার বোনের কাছে শৈশব শোনান।
সুন্দর ফ্লাওয়ার ভাসে জ্য... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3756.html |
3395 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পিলসুজের উপর পিতলের প্রদীপ | গীতিগাথা | পিলসুজের উপর পিতলের প্রদীপ,
খড়কে দিয়ে উসকে দিচ্ছে থেকে থেকে।
হাতির দাঁতের মতো কোমল সাদা
পঙ্খের কাজ-করা মেজে;
তার উপরে খান-দুয়েক মাদুর পাতা।
ছোটো ছেলেরা জড়ো হয়েছি ঘরের কোণে
মিটমিটে আলোয়।
বুড়ো মোহন সর্দার
কলপ-লাগানো চুল বাবরি-করা,
মিশকালো রঙ
চোখ দুটো যেন বেরিয়ে আসছে,
শিথিল হয়েছে মাংস,
হাতের পায়ের হাড়গুলো দীর্ঘ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/pelsujar-upar-petalar-prodep/ |
3328 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নিষ্ফল উপহার | গীতিগাথা | নিম্নে আবর্তিয়া ছুটে যমুনার জল--
দুই তীরে গিরিতট, উচ্চ শিলাতল।
সংকীর্ণ গুহার পথে মূর্ছি জলধার
উন্মত্ত প্রলাপে ওঠে গর্জি অনিবার।এলায়ে জটিল বক্র নির্ঝরের বেণী
নীলাভ দিগন্তে ধায় নীল গিরিশ্রেণী।
স্থির তাহা, নিশিদিন তবু যেন চলে--
চলা যেন বাঁধা আছে অচল শিকলে।মাঝে মাঝে শাল তাল রয়েছে দাঁড়ায়ে,
মেঘেরে ডাকিছে গিরি ইঙ্গিত বা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/nisful-uphar/ |
6048 | হেলাল হাফিজ | প্রত্যাবর্তন | প্রেমমূলক | প্রত্যাবর্তনের পথে
কিছু কিছু ‘কস্ট্লি’ অতীত থেকে যায়।
কেউ ফেরে, কেউ কেউ কখনো ফেরে না।
কেউ ফিরে এসে কিছু পায়,
মৌলিক প্রেমিক আর কবি হলে অধিক হারায়।
তবু ফেরে, কেউ তো ফেরেই,
আর জীবনের পক্ষে দাঁড়ায়,
ভালোবাসা যাকে খায় এইভাবে সবটুকু খায়।
প্রত্যাবর্তনের প্তহে
পিতার প্রস্থান থেকে,
থাকে প্রণয়ের প্রাথমিক স্কুল,
মাতার... | https://banglarkobita.com/poem/famous/120 |
2976 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গণিতে রেলেটিভিটি প্রমাণের ভাবনায় | হাস্যরসাত্মক | গণিতে রেলেটিভিটি প্রমাণের ভাবনায়
দিনরাত একা ব’সে কাটালো সে পাবনায়–
নাম তার চুনিলাল, ডাক নাম ঝোড়্কে।
১ গুলো সবই ১ সাদা আর কালো কি,
গণিতের গণনায় এ মতটা ভালো কি।
অবশেষে সাম্যের সামলাবে তোড় কে।একের বহর কভু বেশি কভু কম হবে,
এক রীতি হিসাবের তবুও কি সম্ভবে।
৭ যদি বাঁশ হয়, ৩ হয় খড়কে,
তবু শুধু ১০ দিয়ে জুড়বে সে জোড় কে।যোগ যদি ক... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/gonite-reletivity-promaner-vabnai/ |
981 | জীবনানন্দ দাশ | কবি | চিন্তামূলক | ভ্রমরীর মতো চুপে সৃজনের ছায়াধূপে ঘুরে মরে মন
আমি নিদালির আঁখি, নেশাখোর চোখের স্বপন!
নিরালায় সুর সাধি,- বাঁধি মোর মানসীর বেণী,
মানুষ দেখেনি মোরে কোনোদিন,- আমারে চেনেনি!
কোনো ভিড় কোনোদিন দাঁড়ায়নি মোর চারিপাশে,-
শুধায়নি কেহ কভু-‘আসে কি রে,- সে কি আসে-আসে!’
আসেনি সে ভরাহাটে-খয়াঘাটে-পৃথিবীর পসরায় মাঝে,
পাটনী দেখেনি তারে ক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/905 |
2301 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | কবি | সনেট | কে কবি-- কবে কে মোরে? ঘটকালি করি,
শবদে শবদে বিয়া দেয় যেই জন,
সেই কি সে যম-দমী? তার শিরোপরি
শোভে কি অক্ষয় শোভা যশের রতন?
সেই কবি মোর মতে, কল্পনা সুন্দরী
যার মনঃ-কমলেতে পাতেন আসন,
অস্তগামি-ভানু-প্রভা-সদৃশ বিতরি
ভাবের সংসারে তার সুবর্ণ-কিরণ।
আনন্দ, আক্ষেপ ক্রোধ, যার আজ্ঞা মানে
অরণ্যে কুসুম ফোটে যার ইচ্ছা-বলে;
নন্দন-কান... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/kobi/ |
191 | কাজী নজরুল ইসলাম | অনাদি কাল হতে অনন্ত লোক | ভক্তিমূলক | অনাদি কাল হতে অনন্ত লোক
গাহে তোমারই জয়।
আকাশ-বাতাস রবি-গ্রহ তারা চাঁদ,
হে প্রেমময়।।
সমুদ্র-কল্লোল নির্ঝর-কলতান-
হে বিরাট, তোমারই উদার জয়গান;
ধ্যান গম্ভীর কত শত হিমালয়
গাহে তোমারই জয়।।
তব নামের বাজায় বীণা বনের পল্লব
জনহীন প্রান্তর স্তব করে, নীরব।
সকল জাতির কোটি উপাসনালয়
গাহে তোমারই জয়।।
আলোকের উল্লাসে, আঁধারের ত... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/onadikal/ |
1140 | জীবনানন্দ দাশ | ভেবে ভেবে ব্যথা পাব | সনেট | ভেবে ভেবে ব্যথা পাব: মনে হবে, পৃথিবীর পথে যদি থাকিতাম বেঁচে
দেখিতাম সেই লক্ষ্মীপেঁচাটির মুখ যারে কোনোদিন ভালো করে দেখি নাই আমি –
এমনি লাজুক পাখি, — ধূসর ডানা কি তার কুয়াশার ঢেউয়ে ওঠে নেচে;
যখন সাতটি তারা ফুটে ওঠে অন্ধকারে গাবের নিবিড় বুকে আসে সে কি নামি?শিউলির বাবলার আঁধার গলির ফাঁকে জোনাকির কুহকের আলো
করে না কি? ঝিঁঝি... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/vebe-vebe-betha-pabo/ |
5089 | শামসুর রাহমান | মরুর বালি | প্রেমমূলক | কেউ কি এসে কবির এমন ক্ষয়া জীবন-গোধূলিতে
গান গেয়ে আজ পুঁতবে খুঁটি কবির প্রাণের খোলা ভিতে।
কৃষ্ণপক্ষে আজকে যাদের জীবন কাটে স্মৃতি নিয়ে,
কে-বা চাইবে সুখী হ’তে স্মৃতির জালটি ছিঁড়ে দিয়ে?ক’দিন ধ’রে মুষড়ে আছি একলা নিজের ছোট ঘরে,
ভুগছি আমি, কাঁপছি এবং পুড়ছি বেজায় কালো জ্বরে!
কেউ কি আমায় বলতে পারো শান্তি কোথায় পাবো কিছু?
কোথায় ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/morur-bali/ |
700 | জয় গোস্বামী | প্রত্যেকটা মাধুর্যের দিন | প্রেমমূলক | রাত্রে অসম্ভব ভয় করে
মনে পড়ে তোমাকে প্রবলপ্রবল
প্রবলগত আট বছরের প্রত্যেকটা মাধুর্যের দিন
ফিরে এসে মন ছিঁড়ে খায়কী করে সমস্তটুকু মুছে ফেলব বলো?তোমার প্রেমিক,তিনি আমাকে কি সাহায্য করবেন
তোমারই মতন?ওষুধের স্ট্রিপ শেষ,চোখ খুলে বসে থাকি একা বিছানায়----রাত্রি কেটে যায় | https://www.bangla-kobita.com/joygoswami/protyekta-madhurjer-din/ |
5794 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | দেখা হলো ভালোবাসা, বেদনায় | চিন্তামূলক | শব্দ মোহ বন্ধনে কবে প্রথম ধরা পড়েছিলুম আজ মনে নেই
কোনো এক নদীর তীরে দাঁড়িয়ে জলস্রোতের পাশে
অকস্মাৎ দেখা যেন ঠিক আর এক স্রোত
সমস্ত ধ্বনির পাশাপাশি অন্য এক ধ্বনি
জীবন যাপনের পাশাপাশি এক অদেখা জীবন যাপন…
এক একদিন মনে হয়, প্রত্যেক পথেরই বুকের মধ্যে রয়েছে
দিক-হারাবার ব্যাকুলতা
চেনা বাড়ির রাস্তা দুঃখে কাতরায় নিরুদ্দেশের জন্য... | https://www.bangla-kobita.com/sunilgangopadhyay/dekha-holo-bhalobasa-bedonai/ |
607 | জয় গোস্বামী | c.c.d | চিন্তামূলক | ভরন্ত C.C.D থেকে বেরিয়ে এল প্রেমিক-প্রেমিকা...
দেখামাত্র শ্বাস আটকে আসে!
এখন নিশ্চয় সে-ও কোনও C.C.D-তে বসে
তার নব্যপুরুষকে নিয়ে
মোবাইলে ছবি তুলছে--- যেমন আমার ছবি তুলত একদিনদেখতে দেখতে আমার চোখের সামনে ভিড় করা C.C.D
একটা হানাবাড়ি।সব আলো নিভে গেছে,আবছা অন্ধকার
চারপাশে কেউ নেই----এমনকী ওয়েটারও নয়এক কাপ চা হাতে নিয... | https://www.bangla-kobita.com/joygoswami/ccd/ |
4277 | শঙ্খ ঘোষ | হাতেমতাই | চিন্তামূলক | হাতের কাছে ছিল হাতেমতাই
চূড়োয় বসিয়েছি তাকে
দুহাত জোড় করে বলেছি ‘প্রভু
দিয়েছি খত দেখো নাকে।
এবার যদি চাও গলাও দেব
দেখি না বরাতে যা থাকে -
আমার বাঁচামরা তোমারই হাতে
স্মরণে রেখো বান্দাকে!’
ডুমুরপাতা আজও কোমরে ঝোলে
লজ্জা বাকি আছে কিছু
এটাই লজ্জার। এখনও মজ্জার
ভিতরে এত আগুপিছু!
এবার সব খুলে চরণমূলে
ঝাঁপাব ডাঁই করা পাঁকে
এ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1134 |
302 | কাজী নজরুল ইসলাম | চরকার গান | স্বদেশমূলক | ঘোর –
ঘোর রে ঘোর ঘোর রে আমার সাধের চরকা ঘোর
ওই স্বরাজ-রথের আগমনি শুনি চাকার শব্দে তোর॥
১
তোর ঘোরার শব্দে ভাই
সদাই শুনতে যেন পাই
ওই খুলল স্বরাজ-সিংহদুয়ার, আর বিলম্ব নাই।
ঘুরে আসল ভারত-ভাগ্য-রবি, কাটল দুখের রাত্রি ঘোর॥
২
ঘর ঘর তুই ঘোর রে জোরে
ঘর্ঘরঘর ঘূর্ণিতে তোর
ঘুচুক ঘুমের ঘোর
তুই ঘোর ঘোর ঘোর।
তোর ঘুর-চাক... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/chorkar-gan/ |
3421 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রচ্ছন্ন পশু | মানবতাবাদী | সংগ্রামমদিরাপানে আপনা-বিস্মৃত
দিকে দিকে হত্যা যারা প্রসারিত করে
মরণলোকের তারা যন্ত্রমাত্র শুধু,
তারা তো দয়ার পাত্র মনুষ্যত্বহারা!
সজ্ঞানে নিষ্ঠুর যারা উন্মত্ত হিংসায়
মানবের মর্মতন্তু ছিন্ন ছিন্ন করে
তারাও মানুষ বলে গণ্য হয়ে আছে!
কোনো নাম নাহি জানি বহন যা করে
ঘৃণা ও আতঙ্কে মেশা প্রবল ধিক্কার--
হায় রে নির্লজ্জ ভাষা! ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/paschanna-pushu/ |
5841 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | ভালোবাসি, ভালোবাসি | প্রেমমূলক | ধরো কাল তোমার পরীক্ষা,
রাত জেগে পড়ার
টেবিলে বসে আছ,
ঘুম আসছে না তোমার
হঠাত করে ভয়ার্ত কন্ঠে উঠে আমি বললাম-
ভালবাসো?
তুমি কি রাগ করবে?
নাকি উঠে এসে জড়িয়ে ধরে বলবে,
ভালোবাসি, ভালোবাসি…..ধরো ক্লান্ত তুমি,
অফিস থেকে সবে ফিরেছ,
ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত পীড়িত,
খাওয়ার টেবিলে কিছুই তৈরি নেই,
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে
ঘর্মাক্ত আমি... | http://kobita.banglakosh.com/archives/2584.html |
1061 | জীবনানন্দ দাশ | দুটি তুরঙ্গম | চিন্তামূলক | আকাশে সমস্ত দিন আলো;
পাতায় পালকে রোদ ঝিকমিক করে;
জলগুলো চ'লে গেছে চেনা পথ ধ'রে
অবিরল আরো দূর জলের ভিতরে।যদিও গভীরভাবে সময়ের সাগর উজ্জ্বল-
কি এক নিঃশব্দ নিবিড় আবেগে তাকে কালো
দু'টি তুরঙ্গম যেন অনন্তের দিকে টেনে নেয়;
নিরন্তর এ রকম অগ্রসর হ'য়ে যাওয়া ভালো।সারাদিন এঁকেবেঁকে নদীটির ঢেউ
মিশে যায় শাদা কালো রঙের সাগরে;
সারাদিন ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/duti-turongom/ |
2566 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | 1-আরোগ্য | চিন্তামূলক | এ দ্যুলোক মধুময়, মধুময় পৃথিবীর ধূলি–অন্তরে নিয়েছি আমি তুলিএই মহামন্ত্রখানি,চরিতার্থ জীবনের বাণী।দিনে দিনে পেয়েছিনু সত্যের যা-কিছু উপহারমধুরসে ক্ষয় নাই তার।তাই এই মন্ত্রবাণী মৃত্যুর শেষের প্রান্তে বাজে–সব ক্ষতি মিথ্যা করি অনন্তের আনন্দ বিরাজে।শেষ স্পর্শ নিয়ে যাব যবে ধরণীরব’লে যাব তোমার ধূলিরতিলক পরেছি ভালে,দেখেছি ... | https://banglapoems.wordpress.com/2011/11/30/1-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af/ |
6059 | হেলাল হাফিজ | যুগল জীবনী | চিন্তামূলক | আমি ছেড়ে যেতে চাই, কবিতা ছাড়ে না।
বলে,–’কি নাগর
এতো সহজেই যদি চলে যাবে
তবে কেন ঘর বেঁধেছিলে উদ্ধাস্তু ঘর,
কেন করেছিলে চারু বেদনার এতো আয়োজন।
শৈশব কৈশোর থেকে যৌবনের কতো প্রয়োজন
উপেক্ষার ‘ডাস্টবিনে’ ফেলে
মনে আছে সে-ই কবে
চাদরের মতো করে নির্দ্বিধায় আমাকে জড়ালে,
আমি বাল্য-বিবাহিতা বালিকার মতো
অস্পষ্ট দু’চোখ তুলে নির্... | https://banglarkobita.com/poem/famous/130 |
1070 | জীবনানন্দ দাশ | নাবিক | চিন্তামূলক | কবে তব হৃদয়ের নদী
বরি নিল অসম্বৃত সুনীল জলধি!
সাগর-শকুন্ত-সম উল্লাসের রবে
দূর সিন্ধু-ঝটিকার নভে
বাজিয়া উঠিল তব দুরন্ত যৌবন!
-পৃথ্বীর বেলায় বসি কেঁদে মরে আমাদের শৃঙ্খলিত মন!
কারাগার-মর্মরের তলে
নিরাশ্রয় বন্দিদের খেদ-কোলাহলে
ভ’রে যায় বসুধার আহত আকাশ!
অবনত শিরে মোরা ফিরিতেছি ঘৃণ্য বিধিবিধানের দাস!
-সহস্রের অঙ্গুলিতর্জন
নি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/896 |
2525 | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | সাদা অন্ধকার | চিন্তামূলক | কতিপয় হাস্যকর লোক বসে বসে
কথার পিঠের সাথে কথা জুড়ে জুড়ে
উদ্ভট মজার খেলা দেখাবার নির্লজ্জ সাহসে
মূল্যবান কাগজের শুভ্রতাকে খুঁড়ে
কবরের মত শুধু গহ্বর বানিয়ে চলেছেকতিপয় হাস্যকর লোক বসে বসে
সারি সারি ম্যাচের খোলসে
বারুদবিহীন কাঠি ঠুকে ঠুকে - আগুন জ্বলেছে
আগুন জ্বলেছে বলে কর্কশ চিৎকার
করে যাচ্ছে অযথাই - আরকতিপয় হাস্যকর লোক ব... | https://www.bangla-kobita.com/rafiquzzaman/shada-ondhokar/ |
2206 | মহাদেব সাহা | ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস | মানবতাবাদী | কতোদিন কোথাও ফোটে না ফুল, দেখি শুধু
অস্ত্রের উল্লাস
দেখি মার্চপাস্ট, লেফট রাইট, কুচকাওয়াজ ;
স্বর্ণচাঁপার বদলে দেখি মাথা উঁচু করে আছে হেলমেট
ফুলের কুঁড়ির কোনো চিহ্ন নেই, গাছের আড়ালে থেকে
উঁকি দেয় চকচকে নল,
যেখানে ফুটতো ঠিক জুঁই, বেলি, রঙিন গোলাপ
এখন সেখানে দেখি শোভা পাচ্ছে বারুদ ও বুলেট ;
প্রকৃতই ফুলের দুর্ভিক্ষে আজ বির... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1361 |
1244 | জীবনানন্দ দাশ | সূর্য নিভে গেলে | প্রেমমূলক | সূর্য, মাছরাঙা, আমি
উত্তীর্ণ হয়েছে পাখী মদী সূর্যের অন্ধ আবেগের
দু’মুহূর্তে আনন্দের পরীক্ষার বুঝি।
নিভে গেছে;- আমি কেন তবু সূর্য খুঁজি।
তুমি
জানি না কোথায় তুমি- সূর্য নিভে গেছে;
তোমার মননে আজ স্থির
সন্ধ্যার কুমোর পোকা- বাঁশের ছ্যাঁদায় ঘূণ-
শাদা বেতফলের শিশির।
আছে
‘নেই- নেই-’ মনে হয়েছিল কবে- চারিদিকে উঁচু- উঁচু গাছে,
বা... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/shurjo-nivey-geley/ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.