text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে নিলামে চায়ের গড় দামে শীর্ষস্থান দখল করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের কৈয়াছড়া ডলু চা-বাগান। এ নিয়ে পরপর দুবার এই বাগানের চা নিলামে গড়ে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২০-২১ নিলাম মৌসুমে ফটিকছড়ির ভুজপুরের এই বাগানের ৮ লাখ ৪৩ হাজার কেজি চা বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য ছিল ২৫৩ টাকা ৪০ পয়সা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিলেটের হবিগঞ্জের মধুপুর চা-বাগান। নিলামে কেদারপুর টি কোম্পানির এই বাগানের চায়ের প্রতি কেজির গড় মূল্য ছিল ২৪৬ টাকা। সব মিলিয়ে নিলামে বিক্রি হওয়া চায়ের গড় দামে সেরা দশে ব্র্যাকের দুটি, ইস্পাহানি গ্রুপের তিনটি, ফিনলের তিনটি, এইচআরসি ও কেদারপুর টি কোম্পানির একটি করে বাগান রয়েছে। নিলামে চা বেচাকেনা মধ্যস্থতাকারী কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২০-২১ মৌসুমের নিলাম শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৮ মে। শেষ হয় গত ১৫ মার্চ। চলতি ২০২১-২২ মৌসুমের নিলাম শুরু হয়েছে ৩ মে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে প্রগ্রেসিভ টাওয়ারে প্রতি সপ্তাহে একবার এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে নিলামে ৮ কোটি ২৫ লাখ কেজি চা বিক্রি হয়। এতে চায়ের গড় মূল্য ছিল ১৮৯ টাকা। সেই হিসাবে বাজারের গড় দামের চেয়েও ব্র্যাকের কৈয়াছড়া ডলু বাগানটির চা ৩৪ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। নিলামে দামের দিক থেকে সংস্থাটির আরেকটি বাগান কর্ণফুলীর অবস্থান সেরা ছয়ে। ব্র্যাকের কর্ণফুলী চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গড় মূল্যের দিক থেকে শীর্ষ ১০-১৫টি বাগানের মধ্যে সব সময় থাকে ব্র্যাকের তিনটি বাগান। ব্র্যাকের কৈয়াছড়া ডলু বাগানের চায়ের মান ভালো ছিল বলেই নিলামে ক্রেতারা বেশি দামে কিনেছেন। চা-পাতা উত্তোলন থেকে শুরু করে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই মানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ নজর দেওয়া হয়েছে। তাই সেরা দামও পাওয়া গেছে। চা বিপণনের নিয়মানুযায়ী, বাগানে উৎপাদিত চা নিলামে তুলে বিক্রি করতে হয়। নিলামে কেনার পর কর পরিশোধ করে গুদাম থেকে তা খালাস করে নেন ক্রেতারা। এরপরই তা বাজারজাত করার সুযোগ আছে। আবার বাগানমালিকেরা চাইলে নিজেদের উৎপাদিত চায়ের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নিজেরা প্যাকেটজাত করতে পারবেন।
0
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইপর্বের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার আয়োজনে ব্যস্ত। ইরান চুক্তি বাতিল, কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির বদলে আরও অবরোধ, ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক বাহিনীকে উসকানি কিংবা সামরিক আগ্রাসনের হুমকি, জবরদস্তি করে অন্য তহবিল থেকে টাকা নিয়ে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রত্যক্ষ মদদদান, চীনের ওপর খবরদারি ও বাণিজ্যযুদ্ধের পাশাপাশি সামরিক হুমকি বৃদ্ধি, বিশ্ব পরিবেশ চুক্তি থেকে প্রত্যাহার-সবই ট্রাম্প-সমর্থক যুদ্ধবাজ, বর্ণবাদী, সাম্প্রদায়িক ও বৃহৎ করপোরেট গোষ্ঠীগুলোকে চাঙা করেছে। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের মনোনয়নই ছিল অনেকের কাছে বড় বিস্ময়। তাঁর নির্বাচিত হওয়া ছিল আরও বেশি বিস্ময়ের। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ তো বটেই, বহু রিপাবলিকানও ট্রাম্পের ধরন হজম করতে পারেননি, যদিও ট্রাম্প তাঁদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অবস্থানকেই খুব স্থূলভাবে প্রকাশ করছেন। মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই উত্থান তাৎপর্যপূর্ণ। এ রকম স্পষ্ট 'অপর'বিদ্বেষী, অ-শ্বেতাঙ্গ, অ-খ্রিষ্টান, অ-পুরুষ, অ-ব্যবসার প্রতি খড়্গহস্ত কেউ যখন অনেক ধাপ পার হয়ে সরকারপ্রধানের পদ পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন তা থেকে সমাজের চিত্রই ভেসে ওঠে। বোঝা যায়, সমাজে এই রাজনীতির উল্লেখযোগ্য সমর্থন আছে। গত নির্বাচনের পর বিভিন্ন জরিপ ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ পুরুষেরাই ট্রাম্পের প্রধান সমর্থক, যাঁদের মধ্যে অনেক শ্রমিকও আছেন। ট্রাম্পের মূল স্লোগান ছিল 'আমেরিকা ফার্স্ট'। ট্রাম্প যখন বলেন, সব কারখানা দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে কিংবা যখন বলেন, 'উইল মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন', তখন দেশের শ্রমজীবী মানুষের একটি অংশও তাঁর প্রতি সমর্থন বোধ করে। কারণ তাদের ধারণা, এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তাদের কাজের ব্যবস্থা করবেন। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি আর দানবাকার সামরিক শক্তির এই দেশে কাজের সমস্যা হলো কোথায়? একদিকে বিশ্ব পুঁজিবাদের ক্রমবর্ধমান সামরিকীকরণ ও আর্থিকীকরণ (ফিন্যান্সিয়ালাইজেশন), অন্যদিকে নাগরিক পরিষেবা ও সর্বজন সম্পদের দ্রুত ব্যক্তিমালিকানাধীনকরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে তথাকথিত নব্য উদারতাবাদী পর্বের পুঁজিপন্থী পুনর্গঠন জোরদার হয়েছে গত কয়েক দশকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানীয় জল ও জ্বালানি শক্তি ব্যবহার সক্ষমতার জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যয়কে বোঝা হিসেবে দেখিয়ে সামরিক বাজেট, করপোরেট সংস্থাগুলোকে দেওয়া ভর্তুকি আর কর ছাড়ের সুবিধাগুলো বাড়ানো হচ্ছে। কৃচ্ছ্রসাধনের হাতিয়ার তাক করা হচ্ছে জনগুরুত্বসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় ব্যয়গুলোর প্রতি। পাশাপাশি বিশ্বায়নের নামে পুঁজির আন্তর্জাতিকীকরণ হয়েছে দ্রুত। যেখানে কর কম বা কর ফাঁকি দেওয়া যায়, যেখানে মজুরি কম, মুনাফা সর্বোচ্চ করার সুবিধা বেশি, যেখানে দুর্নীতিবাজ সরকার ও আমলাদের দিয়ে যা খুশি করা যায়, পুঁজি চলে গেছে সেখানেই। পুঁজির বিনিয়োগ সুবিধা একচেটিয়া করতে বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের চাপ দেওয়া হয়েছে, কোথাও দেনদরবার, কোথাও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বহুজাতিক পুঁজির পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদের সব হাত, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এডিবি, সিআইএ, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, মিডিয়া-সবই কাজে লাগানো হয়েছে। সেই ধারায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পুঁজিবাদী কেন্দ্র দেশগুলোর বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা ও বাণিজ্যিক তৎপরতা সব প্রান্তস্থ দেশে নিয়ে গেছে। যেভাবে এই কাজগুলো হয়েছে, তাতে প্রান্তস্থ দেশে উন্নয়নের নামে প্রাণ-প্রকৃতি বিনাশী মূলধন সংবর্ধন হয়েছে দ্রুত, বৈষম্য আর বিপদ বেড়েছে। অন্যদিকে এই একই কারণে কেন্দ্র দেশগুলোতে স্থিতিশীল কাজের সুযোগ কমে গেছে, বেড়েছে বেকারত্ব কিংবা খণ্ডকালীন চুক্তিভিত্তিক ভাসমান অনিশ্চিত কাজ। পুঁজি যখন কোনো দিকে অতিরিক্ত মুনাফার সন্ধান পায়, তখন লাগামছাড়াভাবে সেদিকেই ছুটতে থাকে, এর ফলে অতি বিনিয়োগসহ নানাবিধ ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এসব অসংগতি ও অস্থিরতা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য। গত কয়েক দশকে শিল্প খাতের তুলনায় আর্থিকসহ পরিষেবা খাতের বিকাশ ঘটেছে বহুগুণ। এসব খাতে কাজ খুবই অস্থায়ী ধরনের, নিরাপত্তাহীন এবং অধিকাংশের মজুরিও অনেক কম। আউটসোর্সিং এসব খাতে কর্মসংস্থানের অন্যতম ধরন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ কর্মসংস্থান এ রকম অনিশ্চিত, অনির্দিষ্ট। এদের বড় অংশ আবার অভিবাসী, যেকোনো সংকটের প্রথম শিকার। কর্মসংস্থানের সংকটে জর্জরিত পুরোনো নাগরিকদের কাছে এই অভিবাসীদের ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা খুবই সহজ। চরম প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির জন্য এই পরিস্থিতি খুবই সুবিধাজনক। তাই একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বা স্থিতিশীল কর্মসংস্থান, অন্যদিকে অভিবাসী ঘৃণাই প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু। এর ওপর ভর করেই ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন। আসলে পুঁজির গতি পরিবর্তন তার আগ্রহের বিষয় নয়, সাধ্যেরও অতীত; জাতীয়তাবাদী-বিদ্বেষী আওয়াজ তাঁর রাজনীতি। বস্তুত, সত্তরের দশক থেকেই বিশ্বজুড়ে নব্য উদারতাবাদী বা সঠিকভাবে বললে গোঁড়া পুঁজিবাদী দর্শনের আধিপত্য তৈরি হয়েছে। তিনটি পর্বে তার শক্তি বৃদ্ধি ঘটেছে: এক. সত্তরের দশকে এর সূত্রপাত, আশির দশকে একে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিগ্যান ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থ্যাচার কর্তৃত্বাধীন রাষ্ট্রশক্তি। দুই. সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে পুঁজিবাদী কেন্দ্রের ক্ষমতা একচেটিয়া হয়েছে এবং তিন.২০০১ সাল থেকে তথাকথিত 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃহৎ করপোরেট স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ-সন্ত্রাসের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। মার্কিন প্রয়োজনে তৈরি করা মুসলিম সন্ত্রাসীরা এই পর্বে বিশ্ব সন্ত্রাসের ভালো উপলক্ষ হয়েছে। 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ' থাবায় একে একে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়াকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। এই মডেলেই পুষ্টি পেয়েছে ধর্ম ও জাতির নামে সন্ত্রাস। ইউরোপে শরণার্থীপ্রবাহ এসবেরই পরিণতি, ইউরোপ-আমেরিকাজুড়ে খ্রিষ্টান ও শ্বেতাঙ্গ চরমপন্থীদের জোরদার বিস্তার একই সময়ের দৃশ্য। একজন বিশেষজ্ঞ পশ্চিমা দেশগুলোতে তিন ধরনের জাতি-বর্ণবিদ্বেষী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন। এগুলো হলো: এক. প্রত্যক্ষভাবে ফ্যাসিস্ট বা নব্য নাৎসি ভাবধারায় গঠিত; দুই. আধা ফ্যাসিবাদী পার্টি, প্রত্যক্ষভাবে না বললেও ফ্যাসিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মসূচি দ্বারা পরিচালিত এবং তিন. চরম ডানপন্থী পার্টিগুলো, যেগুলো বর্ণবাদী, অন্য ধর্মবিদ্বেষী, অভিবাসীবিরোধী কর্মসূচি দ্বারা পরিচালিত। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এই ধারা এখন অনেক জোরদার। ভারত, বাংলাদেশেও আমরা তা প্রত্যক্ষ করছি। ধর্মীয় বর্ণগত বা জাতীয়তাবাদী আওয়াজে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির সঙ্গে পরিবেশ ও মানুষ বৈরী পুঁজিপন্থী উন্নয়ন ধারার ঐক্য প্রবল। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে এই রাজনীতির মধ্যে সংহতিও বেশ শক্ত। সে জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে মোদি, নেতানিয়াহু, ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলার পুঁজিপন্থী গোষ্ঠীর পরস্পরের ঐক্য, ইউরোপজুড়ে বর্ণবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মৈত্রী, সৌদি রাজতন্ত্রের সঙ্গে সখ্য খুব নিবিড়। সন্দেহ নেই, এসব প্রবণতা থেকে ট্রাম্পের আবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাই জোর পাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গত নির্বাচনে প্রকাশিত আরেকটি লক্ষণও বিশেষভাবে খেয়াল করার বিষয়। সেবারই মূলধারার প্রার্থীদের মধ্যে বার্নি স্যান্ডার্স প্রথম একচেটিয়া পুঁজি, সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধবিরোধী কথা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা বলেছেন এবং বিপুল সমর্থনও পেয়েছেন। বার্নি স্যান্ডার্স হঠাৎ করে এসব কথা বলার সাহস পেলেন কোথায়? তাঁর সমর্থনের ভিত্তি কোথায়? প্রকৃতপক্ষে বার্নি স্যান্ডার্সকে তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে শ্রমিক, নারী, অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, সন্ত্রাস, বৈষম্যবিরোধী লড়াই; 'আমরা ৯৯ %' শিরোনামে কয় বছরের চিন্তা ও আন্দোলনের বিস্তার। এসব লড়াইয়ে বিভিন্ন পরিচয়ের মানুষ বৈষম্য ও নিপীড়নবিরোধী নতুন বিশ্বের দাবি তুলেছে, পুঁজির হিংস্রতার বিপরীতে মানুষের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আওয়াজে ঐক্য গড়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তা এখন দুর্বল দেখা গেলেও তার প্রকাশ ঘটছে নানাভাবে, লড়াই থামেনি। দুনিয়াজুড়েই স্বৈরতন্ত্র, সহিংসতা, রক্ষণশীলতার পাশাপাশি মানুষের বৈশ্বিক সংহতির পক্ষে অনেক নতুন উপাদান, বাঁকবদল দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও তার বাইরে নয়। আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক[]
8
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুই রকম তথ্য দিল তালেবান। সশস্ত্র সংগঠনটির এক সদস্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে প্রথমে বলেছিলেন, তাঁদের ২৮ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন হামলায়। কিন্তু তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলছেন, তাঁদের কেউ হতাহত হননি। কাবুলের স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে ভয়াবহ হামলায় এ পর্যন্ত ৯০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে ১৫০ জনের বেশি। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে মার্কিন সেনা ও বেসামরিক আফগান নারী-শিশু রয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বিমানবন্দরের আবে গেটের অদূরে প্রথম বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে কিছুটা দূরে ব্যারন হোটেলের কাছে। কাবুল ছাড়তে অপেক্ষায় থাকা পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকেরা এই হোটেলে রয়েছেন। বিস্ফোরণস্থলের একটু দূরেই মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনাদের অবস্থানস্থল। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জানায়, তাদের ১৩ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এরপর নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালেবানের এক সদস্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর চেয়ে আমরা বেশি সদস্য হারিয়েছি।' তিনি জানান, ২৮ তালেবান সদস্য সেখানে নিহত হয়েছেন। ওই তালেবান সদস্য বলেছিলেন, এরপরও আফগানিস্তান থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার জন্য ৩১ আগস্টের পর সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু তালেবানের এই সদস্যের সঙ্গে সশস্ত্র সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের বক্তব্যের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেছেন, 'আমাদের কেউ হতাহত হননি। যে এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সেই এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।' বিবিসির পশতু সার্ভিসকে এ তথ্য দিয়েছেন তিনি।
3
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েশি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩৪ হয়েছে। আহত কয়েক শ মানুষ। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মামুজু শহরের হাসপাতালসহ অনেক ভবন-স্থাপনা। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো মানুষ। উদ্ধারকর্মীরা এখন উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়। বিবিসি বলছে, ভূমিকম্পটি প্রায় সাত সেকেন্ডের মতো স্থায়ী ছিল। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল দ্বীপের মাজেনি শহর থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। কেন্দ্রস্থলের গভীরতা ১০ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল দ্বীপের মামুজু শহর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণে। কেন্দ্রস্থলের গভীরতা ১৮ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূমিকম্প সুলাওয়েশি দ্বীপে আঘাত হানে। ভূমিকম্পে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তারা প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানের দিকে ছোটে। স্থানীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান আলি রহমান বলেন, সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু মামুজু শহরেই ২৬ জন নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আলি রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।পৃথকভাবে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ মামুজু শহরে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। ভূমিকম্পে মামুজু হাসপাতাল গুঁড়িয়ে গেছে। হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কিছুসংখ্যক রোগী ও হাসপাতালের কর্মী আটকা পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। মামুজু শহরের উদ্ধারকারী সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালটি একেবারে ধসে গেছে। হাসপাতালটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে রোগী ও হাসপাতালের কর্মীরা আটকে আছেন। তাঁদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন রোগী ও হাসপাতালকর্মী আটকা পড়েছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি তিনি। দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে একটি হোটেলের অংশ বিশেষে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক গভর্নরের অফিসও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামুজুর বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।মামুজুর এক অধিবাসী বলেন, ভূমিকম্পে পুরো শহরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির মাত্রা ব্যাপক। হেন্দ্রা নামের ২৮ বছর বয়সী এক যুবক বলেন, শহরের অনেক সড়কে ফাটল ধরেছে। অনেক ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পটি খুবই শক্তিশালী ছিল। ভূমিকম্পে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে এক দৌড়ে ঘরের বাইরে চলে যান তিনি। ভূমিকম্পের সময়ের যেসব ছবি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যায়, লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছেন। তাঁদের চেহারায় আতঙ্ক। ভূমিকম্পের পর দেশটির আবহাওয়া সংস্থা স্থানীয় অধিবাসীদের পরাঘাতের ব্যাপারে সতর্ক করে। সুনামির আশঙ্কায় সৈকত এলাকা এড়িয়ে চলতে বলে। আবহাওয়া সংস্থার প্রধান দ্বিকোরিটা কর্ণবতী ( ) বলেন, ভূমিকম্পের মতোই পরাঘাত শক্তিশালী হতে পারে। এমনকি পরাঘাতের মাত্রা ভূমিকম্পের চেয়েও বেশি হতে পারে। পরাঘাতের জেরে সুনামি হতে পারে। সুনামি দ্রুত আঘাত হানে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। ২০১৮ সালে সুলাওয়েশি দ্বীপের পালু শহরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সুনামি হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়।
3
পরপর দুই প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় "আম্পান" ও "ইয়াস"-এর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন। ভিটে-মাটি হারায় মানুষ, ভেসে যায় মাছের ঘের, সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেকেই। পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতাপনগর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে হাওলাদার বাড়ি ও দরগাহতলার আইট গ্রাম দুটি। যাতায়াতের বহুল ব্যবহৃত রাস্তাটি ভেঙে পরিণত হয় খালে। চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা। নৌকা পারাপারে প্রতিদিন অন্তত ২০ টাকা খরচ হতো শিক্ষার্থীদের। একটি মাত্র নৌকায় পার হতে হতো ৪০০ পরিবারের অন্তত দেড় হাজার মানুষকে। স্থানীয়দের এই দুর্ভোগ লাঘবে সম্প্রতি এগিয়ে এসেছে চিকিৎসকদের পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ''ডু সামথিং ফাউন্ডেশন''। সংগঠনটি দুর্গম প্রতাপনগরের হাজারো মানুষের যাতায়াতের কষ্ট দূর করতে নির্মাণ করে দিয়েছে একটি ভাসমান সেতু। ৫৬টি ড্রাম দিয়ে তৈরি ৩৫০ ফিট দৈর্ঘ্যের ভাসমান সেতুটির নির্মাণকাজ শেষে গত ২৮ মার্চ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষে ভাসমান সেতুটি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সাইদুল ইসলাম বলেন, "যে জায়গায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে আগে ছিল ৪০টি পরিবারের বসতভিটা, মসজিদ ও কবরস্থান। সব কিছু নদীতে বিলীন হয়ে তৈরি হয় গভীর খাল। যাতায়াতের পথ ছিল না। সেতুটি তৈরি হওয়ায় মানুষের খুব উপকার হচ্ছে।" ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. নাজমুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "একজন রোগী যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো রাস্তা এখানে ছিল না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দৈনিক ২০ টাকা খরচ হতো নৌকায় পারাপারে। একটি মাত্র নৌকায় পার হতে হতো ৪০০ পরিবারকে। কী যে কষ্ট ছিল সেটা কেবল এই অঞ্চলের মানুষই অনুধাবন করতে পারত। মানুষের কষ্ট লাঘবে এই সেতুটি তৈরি হয়। ভাসমান সেতুটি বিছিন্ন দুটো গ্রামকে সংযুক্ত করেছে ইউনিয়নের সঙ্গে। এখন মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে।" তিনি আরও বলেন, "উপকূল অঞ্চলে জোয়ার-ভাটা হয়। এটি এমনভাবে নির্মিত যাতে পানির উচ্চতা বাড়লে সেতু উপরে ভেসে উঠবে। সব মিলিয়ে এটি মানুষের উপকারে আসবে বলে আমরা মনে করছি।"
6
তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। শপথ বাক্য পাঠ শেষে জেলা প্রশাসক নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে আপনারা নির্বাচিত হয়েছেন। আজকে শপথ বাক্যের প্রতিটি কথা আপনাদের মেনে চলতে হবে। আপনাদের বিচারিক ক্ষমতাও দেওয়া আছে, যা অন্যদের দেওয়া হয়নি। গ্রাম আদালতের বিচারগুলো যেন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ওয়ারিশ সনদ, নাগরিক সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতার সাথে কাজ করবেন। ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের আশা ও ভরসাস্থল। আপনি সবার জন্য। কে আপনাকে ভোট দিল বা না দিল তা দেখবেন না। আপনাদের মাধ্যমে মতলব উত্তর ও দক্ষিণের সকল ইউপির জনগণের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করেন মতলব দক্ষিণ নায়েরগাঁও উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ভূইয়া ও মতলব উত্তর গজরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল্লাহ। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে অনিশ্চিত গন্তব্য ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিবেন না। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও এখনও নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তাই সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে অবিলম্বে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। অন্যথায় এর ফলাফল করো জন্যই ভালো হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উদ্ধোধনকালে আজ তিনি একথা বলেন। ১১টায় দলের নির্বাচনী গণসংযোগ দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়। পল্টন মোড়ে গণসংযোগের উদ্ধোধন করেন চরমোনাই পীর। নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশের বুকে তুলে ধরতে হলে আসন্ন নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু ব্যক্তিকে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে পুণরায় দুর্নীতিবাজদের আর ভোট দেয়া যাবে না। দলকর্তৃক মনোনীত সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদেরকে হাতপাখায় ভোট দিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি আহ্বান জানান। ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, ঢাকা-১১ এর প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, ঢাকা-৭ এর আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, ঢাকা-৮ এর আলহাজ্ব আবুল কাশেম, ঢাকা-১০ এর আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল, ঢাকা-১৮ এর আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, ঢাকা-১২ এর এডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, ঢাকা-৯ এর এডভোকেট মানিক মিয়া, ঢাকা-১৭ এর আমিনুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।
9
সামরিক শাসন আমলে পাস হওয়া আইনগুলো নতুন করে পাস করার বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির দলীয় সাংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি দাবি করেছেন, সরকারকে সন্তুষ্ট করতে আদালতে রায় দেওয়া হয়। তাঁর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে এক্সপাঞ্জ করার দাবি করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মন্ত্রীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার সেই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেছেন।গতকাল শুক্রবার পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বোট ক্লাবের সভাপতি হওয়ার জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন কি-না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন এমপি হারুন। আজ শনিবার এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ চেয়েছেন সরকার দলীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ দাবি জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে স্পিকার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।আজ সংসদে গান্ধী আশ্রম (ট্রাস্টি বোর্ড) বিল ২০২১ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের বক্তব্য দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে 'আপত্তিকর' মন্তব্য করার কারণে প্রথমে এক্সপাঞ্জের মুখোমুখি হন বিএনপির এমপি হারুন।বক্তব্যে তিনি সামরিক শাসনামলে পাস হওয়া আইনগুলো নতুন করে পাস করার বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্নে তোলেন। হারুন বলেন, কিছু আইন রাখা আর কিছু বাদ দেওয়াটা আইনের একটি অসংগতি। আওয়ামী মার্কা বিচারকেরা আপনাদের সন্তুষ্ট করার জন্য, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সন্তুষ্ট করার জন্য এ ধরনের রায় প্রদান করেছেন। আর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছে। আমরা সামরিক আইনের পক্ষে নই। সামরিক আইনের বিরোধিতা করে জেল খেটেছি। অবশ্যই সামরিক আইন সংবিধানসম্মত নয়। কিন্তু আইনের অস্পষ্টতা ও অপপ্রয়োগ কাম্য নয়।এর আগে অন্য একটি বিলের ওপর আইনমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে বিএনপির এই এমপি বলেন, আইনমন্ত্রীর কাছে এমন কোনো বক্তব্য আমরা আশা করি না। আপনাদের আওয়ামী মার্কা বিচারকেরা সন্তুষ্ট করছেন। আপনারা এটা নিয়ে রাজনীতি করছেন। এর প্রয়োজন নেই।জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ তাঁর আসল রূপ আজ বের করে দিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে নির্মম হত্যাকাণ্ড তাঁরা ঘটিয়েছিলেন ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫-এ যে ইনডেমনিটি অরডিন্যান্স তাঁরা বানিয়েছিলেন। এটা নিয়ে তখন তাঁরা বলেননি যে উনি এখন বললেন, এটা আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবী (হারুন বলেছেন আওয়ামী সমর্থিত বিচারক)। সংসদ সদস্য ভুলে যান, একটা দেশের জনগণ সুপ্রিম কোর্টের ব্যাপারে এভাবে উক্তি করতে পারেন, এটা দুঃখজনক।আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যাপারটা হচ্ছে, উনি তখন কোথায় ছিলেন? বলেছেন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। ওনার নেতা জাতির পিতাকে খুন করার পরে যে একুশ বছর দেশ চালিয়ে গেছেন একটি এফআইআর হয়নি। ইনডেমনিটি যখন হয় সেটা একটি প্যাকেটের মধ্যে ভরে সবগুলো আইন এই সংসদের মধ্যে বসে আইন করে ফেললেন, তখন উনি কোথায় ছিলেন? তাঁরা এখন বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা হচ্ছে আমাদের মতের।হারুনকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের আচরণ হচ্ছে এমনই। তাঁদের থেকে গণতন্ত্রের বার্তা শুনতে এখানে বসিনি। গণতন্ত্রের বার্তা শুনব সেটাও আমার বিশ্বাস নয়। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক সংসদে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে এ রকম কথা বলতে পারে এটা দুঃখজনক। আমি আবারও অনুরোধ করছি, এক্সপাঞ্জ করার জন্য।পরে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হবে বলে সংসদকে জানান।এদিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, তিনি (হারুনুর রশীদ) পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ প্রধান থেকে শুরু করে অনেকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আমি আজকের এই মহান সংসদে গতকাল (শুক্রবার) হারুনুর রশিদের প্রদত্ত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।অবশ্য স্পিকার এই বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।হুইপ বলেন, তিনি কী কারণে যেন পরীমণির বিষয়ে বড় বেশি আগ্রহী। আমি জানি না তাঁর বাসায় কী অবস্থা! এর আগেও তিনি পরীমণির বিষয়ে সংসদে কথা বলেছিলেন। গতকালও সুযোগ পেয়ে ওর বিষয়ে সংসদে উপস্থাপন করেছেন।আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন আরও বলেন, স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মদ, জুয়া, হাউজি, রেসকোর্স সবকিছু আইন করে বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর (হারুনের) প্রয়াত নেতা জিয়াউর রহমান সাহেব বিসমিল্লাহের রহমানের রহিম বলে বাংলাদেশে মদ, জয়া, হাউজি সবকিছু জায়েজ করে দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে বাংলাদেশে মদ, জুয়া, হাইজির বন্ধ করা দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
6
লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস হামলার তিন বছর পূতির্তে ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার ও দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মরগান অর্টাগাসের এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে, সহিংসতার অবসান, সংলাপ, স্থানীয় জনগণের সুরক্ষায় নবায়িত/অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং মিয়ানমারে মানবিক সহায়তার বাধামুক্ত প্রবেশের দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বলা হয়, মিয়ানমারে এখনো স্থানীয় বাসিন্দাদের হত্যা ও হাজার হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগমুক্ত হতে পারছে না। কেননা, এই ধরনের পরিস্থিতি শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কমায় এবং শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট করে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বলা হয়, মিয়ানমার যেন শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। সেইসঙ্গে রাখাইন রাজ্য বিষয়ে কফি আনানের নেতৃত্বে পরিচালিত এডভাইজরি কমিশনের দেয়া সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে জোরালো প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার ও বাংলাদেশে সঙ্কটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সবার মানবিক দুর্ভোগ লাঘবে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯৫১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছে বলে উল্লেখ করে। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অব্যাহত উদারতার আন্তরিক প্রশংসা করে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই সংকট সমাধানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতি প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বানও জানায়। যুক্তরাষ্ট্র ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিশ্চিত করতে ও নৃশংসতার জন দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করে। গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ সামরিক নেতৃবৃন্দ ও সামরিক বাহিনীর ইউনিটগুলোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ, জাতিসংঘের তদন্ত প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা এবং মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) কার্যক্রমে পুরোপুরিভাবে অংশ নিতে এবং আদালতের রায় মেনে নিতে উৎসাহিত করা। যুক্তরাষ্ট্র এই নৃশংসতার জন্য দায়ীদের শাস্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রশংসা করে। তবে আরো অনেক কিছু করার বাকি আছে বলে স্বীকার করে। বিবৃতিতে মিয়ানমারে কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্তরাধিকার কাটিয়ে উঠতে এবং গণতন্ত্রের প্রসার ও শান্তি অর্জনের জন্য সেখানকার জনগণের প্রচেষ্টার সঙ্গে অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।
3
প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা শেষে এবার নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে, এমন প্রত্যাশা ছিল মৎস্যজীবীদের। কিন্তু ঘটছে তার উল্টোটা। উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে এখন আর বড় ইলিশ ধরা পড়ছে না। ইলিশ শিকারে গিয়ে শূন্য হাতেই ফিরে আসছে শত শত নৌকা-ট্রলার। জেলেরা মনে করছেন, প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার পর গভীর সমুদ্রে ফিরে গেছে ইলিশ।নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হওয়ায় হতাশ উপকূলের জেলেরা। বরগুনার পাথরঘাটার পদ্মা এলাকার জেলে পনু মিয়া বলেন, 'এখন নদীতে কেউ জাটকা ধরে না, মোরা বড় ফাঁসের জাল বানাইছি, এই জালে দুই এউক্কা যা ইলিশ পাই, হেইয়াই বেইচ্চা কিন্না কোনো রহম দিন কাডাই।'তবে বড় ইলিশ না পেলেও জাটকা যে ধরা যাবে না, এই সচেতনতা বাড়ছে জেলেদের মধ্যে। এ জন্য এখন আর ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করেন না তাঁরা। বরগুনা সদরের বরইতলা এলাকার জেলে নুরুল ইসলামের ভাষ্য, 'ইলিশের পোনা না বাঁচাইলে মোরাও বাঁচতে পারমু না। গাঙে মোরা কেউ ছোডো ফাঁসের জাল হালাই না। এহন যদি পোনা মারি, তয় হারা বচ্ছর ধরমু কী?'এদিকে এবার প্রজনন মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ ডিম ছেড়েছে বলে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানান, গত বছর দেশের নদ-নদী ও মোহনায় ৫১ দশমিক ২ শতাংশ মা-ইলিশ ডিম ছেড়েছিল। এ বছর ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ মা-ইলিশ ডিম ছেড়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, 'বরগুনা, পটুয়াখালী ভোলা, চাঁদপুর, শরীয়তপুরসহ মোট ১০টি পয়েন্টে আমরা ইলিশের ডিম ছাড়া পর্যবেক্ষণ করেছি। এবার অতীতের সব রেকর্ডভেঙে গেছে। আমরা আশা করছি, এই মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন ৬ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। এখন আমাদের এই ইলিশ রক্ষা করতে হবে, মাছ বড় হতে দিতে হবে। জাটকা সংরক্ষণের চলমান পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা যথাযথভাবে করা সম্ভব হলে অধিকাংশ ইলিশ সংরক্ষণ সম্ভব হবে। এ ছাড়া অভয়াশ্রমগুলোতে শতভাগ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে হবে।বরগুনার তিনটি প্রধান নদ-নদী ও মোহনায় এ বছর মা-ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিশ্বজিত কুমার দেব। তিনি বলেন, মা-ইলিশ সংরক্ষণে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। যার ফলে এবার ডিম ছাড়ার হার বেড়েছে। প্রজননের সময় শেষ হওয়ায় ইলিশ নদী থেকে সমুদ্রে ফিরতে শুরু করেছে। এখন জাটকা শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নেও আমরা জেলেদের সচেতন করাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করছি, ইলিশ সুরক্ষায় আমরা এবারও সফল হব।
6
প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশের মতো পিরোজপুরেও বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি হাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৫৩ জন।এদিকে জেলা হাসপাতালে বেড রয়েছে মাত্র ২৪টি। মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছে ২০-২৫ জন রোগী। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর সেবা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।জানা গেছে, বছরের শুরু থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত জেলা হাসপাতালে ৬২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। এদিকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ার কারণে শুধু এপ্রিল মাসের শুরু থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১৬৩ জন রোগী। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালে এখন ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৭৫ জন।রোগীর স্বজনেরা জানান, জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের অবস্থা খুবই খারাপ। পুরো ডায়রিয়া ওয়ার্ড রোগীতে কানায় কানায় পূর্ণ। অনেক রোগী বেড না পেয়ে মেঝেতে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ছোট ওয়ার্ডে অনেক বেশি রোগী হওয়ায় হাসপাতালে অপরিচ্ছন্ন অবস্থা বিরাজমান। সব মিলিয়ে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে স্বজনেরা অনেক ভোগান্তিতে আছেন। সামান্য বিষয়েও রোগীকে খুলনা বা বরিশালে পাঠানো হয়। গরমের সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের রোগীদের ভোগান্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্বিগুণ হারে।রোগীর স্বজন সালমা আক্তার বলেন, 'আমার ছেলের বয়স আড়াই বছর। তিন দিন ধরে অসুস্থ। রোগী একটু পরপর আসছে, কিন্তু সিট নেই। সিট থাকলেও রেক্সিন ভালো নেই। নোংরা পরিবেশ। পরিষ্কার করতে আসেন না কেউ। নিজেরাই যতটুকু পরিচ্ছন্ন করা যায়, করে আছি।'রোগীদের সঙ্গে নার্সরা দুর্ব্যবহার করছেন অভিযোগ তুলে আরেক স্বজন আফসার আলী বলেন, 'পরামর্শ চাইতে গেলেও রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্যান ঘোরে না, মশারি নেই, কোনো কথাই বলা যায় না। একটি সিরিঞ্জ, তা-ও বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।'এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নার্স মিরা বড়াল জানান, হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ২৪টি। সেখানে রোগী ভর্তি অনেক বেশি। ওয়ার্ডে নার্স মাত্র তিনজন। ফলে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী যেভাবে সেবা দেওয়া দরকার, তা তাঁরা দিতে পারছেন না। আর ওয়ার্ড পরিষ্কার করার জন্য হাসপাতালে মাত্র একজন সুইপার আছেন। যিনি পুরো হাসপাতাল পরিষ্কার করার দায়িত্বে আছেন। চাইলেও রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, 'ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ আছে। আমরা চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। ফ্লোরে রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় কিছুটা সমস্যা হলেও আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও আমরা তাঁদের সেবা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।'জেলা সিভিল সার্জন হাসনাত ইউসুফ জাকী এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'শুষ্ক মৌসুমে ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আমাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে পিরোজপুরে মোট ৬৭টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের জন্য আইভি স্যালাইন মজুত আছে ১০০০ সিসির ১৩ হাজার ৪১৮টি এবং ৫০০ সিসির ৫ হাজার ৩৩১টি। 'তিনি আরও বলেন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও যথেষ্ট পরিমাণ মজুত আছে। চাইলে সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশুদ্ধ পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
6
বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদকও খ্যাতিমান কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমান আর নেই। আজ শনিবার বিকেল ৪টা ৮ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরতচিকিৎসকরা। এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পীর হাবিবুর রহমান স্ট্রোক করলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। করোনামুক্ত হলেও কিডনি জটিলতার কারণে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় স্ট্রোক করলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পীর হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবার গভীরভাবে শোকাভিভূত। তারা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা জানিয়েছেন। বরেণ্য সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমানের জন্ম, ১৯৬৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ শহরে।
6
বিশেষ ধরনের মাশরুমের চা পান করে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন একজন গবেষক। তিনি হলেন ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলার চাপিল গ্রামে। তিনি ছত্রাক তত্ত্ববিদ ও মাশরুম গবেষক এবং উদ্যোক্তা।মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মাশরুম বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন মাশরুমের গবেষণাগার। শুধু তাই নয়, তাঁর গ্রামে করোনার উপসর্গ থাকা একাধিক বয়স্ক রোগীকে এই মাশরুমের চা পান করিয়ে সফলতাও পেয়েছেন।করোনা বিস্তার রোধে উপকারী মাশরুমটির বৈজ্ঞানিক নাম গ্যানোডার্মা লুসিডাম। এর নির্যাস ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করার ক্ষমতা রাখে। এ দেশে একে ঋষি মাশরুম নামে চেনেন অনেকে। মেহগনি, আম, জাম, কাঁঠাল, একাশিয়া ও বাঁশের গোঁড়ার দিকে এই মাশরুম জন্মাতে দেখা যায়। এগুলো গাছের ওপর পরজীবী হিসেবে জন্মায়। এই মাশরুম শুকিয়ে তা গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো পান করা যায়।ড. আনোয়ার তাঁর এলাকার ১১ জন বয়স্ক রোগীকে এই গ্যানোডার্মা লুসিডাম মাশরুমের চা পান করিয়ে করোনাসহ বিভিন্ন রোগ থেকে সুস্থ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ওই এলাকার আব্দুস সালাম ও আব্দুল রশিদের করোনা পজিটিভ ছিল এবং আজিমউদ্দিন ও মো. মোক্তার আলীর করোনার সব ধরনের উপসর্গ ছিল। সাত থেকে ১০ দিন গ্যানোডার্মা লুসিডাম মাশরুমের চা পান করার পরই তাঁরা সুস্থ হয়ে ওঠেন।জানতে চাইলে আব্দুস সালাম আজকের পত্রিকা কে বলেন, 'আমার করোনার উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করি। পরে জানতে পারি আমার করোনা হয়েছে। এ রকম কথা শুনে প্রথমে চিন্তায় পড়ে যাই। হোমকোয়ারেন্টিনে থেকে ডাক্তারের পরামর্শ মতো কাজ করি। কিন্তু আমার শরীরের কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। পরে আমার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন আমার কথা শুনে আমাকে প্রতিদিন মাশরুমের চা পান করাত, আর বলত কাকা কোনো চিন্তা কইরেন না। কয়েক দিন এই চা পান করার পর করোনাসহ ঠান্ডা-কাশি, জ্বরসহ সব চলে যাবে। ঠিক তাই হয়েছে। সাত-আট দিন এই চা পান করার পর আমি সুস্থ হয়ে উঠি। আগের থেকে এখন খুব ভালো আছি।'এ বিষয়ে মাশরুম গবেষক ড. আনোয়ার বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর আগে চীনে এই মাশরুমের ব্যবহার শুরু হয়। তারপর সারা বিশ্বে এটি গবেষণার বিষয় হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। গ্যানোডার্মা লুসিডাম মূলত মাশরুমটির বৈজ্ঞানিক নাম। চীন-জাপানে এটি লিংঝি এবং রেইসি মাশরুম বলে পরিচিত। বিভিন্ন জটিল রোগে প্রাকৃতিক সুরক্ষার জন্য সারা বিশ্বে এর ব্যবহার দিন-দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, 'আমরা করোনা থেকে মুক্ত হতে টিকার পেছনে ছুটলেও এর উৎপত্তিস্থল চীন ও প্রতিবেশী দেশে গ্যানোডার্মা মাশরুমের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে করোনা রোগীর ওপর এর প্রায়োগিক গবেষণা। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, হংকং, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, এমনকি আফ্রিকার নাইজেরিয়াতেও এর ওপর গবেষণা হয়েছে।' আনোয়ার বলেন, ইতিমধ্যে আমেরিকা-ইউরোপ ও চীনেও বেড়েছে এই মাশরুমের ব্যবহার। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র মাশরুমটি করোনার প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য এফডিএ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে। এই মাশরুম করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকেরা মাশরুমটি করোনার বিরুদ্ধে কাজ করছে বলে জার্নালে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, এই মাশরুমের রস মানুষের শরীরে লিম্ফোসাইট ও বি-সেল তৈরির মাধ্যমে ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। করোনাভাইরাসে প্রতিরোধে একইভাবে মাশরুমের রস বা চা দারুণ কাজ করছে। টিকার পাশাপাশি মানুষ এই মাশরুমের রস পান করলে অনেকাংশে মৃত্যু ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।কীভাবে মাশরুমটি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করে এমন প্রশ্নে ড. আনোয়ার বলেন, গ্যানোডার্মা মাশরুমের নির্যাস অস্থি মজ্জায় আরএনএ এবং ডি এনএর সংশ্লেষ বাড়ায়, যাতে বেশি-বেশি লিম্ফোসাইট তৈরি হয়। এ কারণে শরীরের ইমিউনিটি বৃদ্ধি পায়। করোনাভাইরাস শরীরে প্রচুর প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনিন তৈরি করে যা মালটি-অর্গান ফেইলিউরের জন্য দায়ী।পক্ষান্তরে গ্যানোডার্মা মাশরুমের নির্যাসে থাকা পলিস্যাকারাইড ও ট্রাইটারপেনয়েড সাইটোকাইনিনের ক্ষতিকর প্রকোপ থেকে মানবদেহকে রক্ষা করে। ভাইরাসের প্রোটিন-কোট সংশ্লেষে বাধা দিয়ে ভাইরাসের বংশ বৃদ্ধি রোধ করে। এভাবে গ্যানোডার্মা মাশরুম করোনাজনিত মৃত্যু ও হস্পিটালাইজেশন কমায়।এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও জীবাণু বিশেষজ্ঞ ড. আলী আজম তালুকদার বলেন, আর মাশরুমের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। করোনা প্রতিরোধে টিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টিকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাশরুম চা পান করা যেতে পারে।
6
নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারায় হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চাইলেন সিলেটের শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান। ক্ষমা চাওয়ার পর সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। ওসির পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল হালিম কাফী জানান, শাহপরান থানায় করা এক ডাকাতির মামলার আসামি মোহাম্মদ ইউসুফ হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ওই জামিন আবেদনের শুনানিতে গত ৯ মার্চ ডাকাতি মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে ওই থানার ওসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু সময়মতো আদালতকে তদন্তের অগ্রগতি না জানানোর কারণে আদালত ওসিকে তলব করেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
হাম্মাদ সফির বয়স মাত্র ১১ বছর। বর্তমানে পাকিস্তানে অনলাইন স্টার। তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। তার কিছু ভিডিও কয়েক লক্ষ বার দেখা হয়েছে। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পড়ুয়ারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাম্মাদের বক্তব্য শোনে। হাম্মাদ একজন মোটিভেশনাল স্পিকার। তার ভাষণ শুনে অনেকেই নিজেদের ক্যারিয়ার সমস্যার সমাধান বের করে থাকেন। লাখ লাখ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় তার কথা শোনেন। কথা বলার সময় হাম্মাদ নিজের হাত, মুখের ভঙ্গিমা, চলার ধরন এবং হাসিকে এমনভাবে ব্যবহার করে, যে দেখে বোঝাই যাবে না, তার বয়স এত কম। হাম্মাদের উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ প্রভাব মানুষের ওপর এতটাই পড়ে যে, তার মাধ্যমে অনেকেই বাঁচার নতুন রাস্তা খুঁজে পান। মাদ্রাসার পড়াশোনা ছেড়ে হম্মাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পোকেন ইংলিশের কোর্স করে। এখন সে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দেয়। তার ইংরেজি বলার ধরন অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ৭ বছরেই চাকরিপ্রার্থী, জবাব দিলেন গুগলপ্রধান বয়স মাত্র ৭। এরমধ্যেই গুগলে চাকরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করছে ব্রিটেনের চোলে ব্রিজওয়াটার। আর সেই স্বপ্নের কথা জানিয়ে চাকরি চেয়ে গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইয়ের কাছে সটান চিঠি লিখে ফেলল সেই মেয়ে। হতবাক পিচাই সেই চিঠির উত্তরে জানিয়েছেন, 'আগে পড়াশোনা শেষ তো করো। তারপর না হয় চাকরির কথা ভেবো। আমি তোমার পড়া শেষের পর চাকরির আবেদনের অপেক্ষায় থাকব।' বড় হওয়ার, বৃহৎ হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই তো দেখে। কিন্তু কত বড়ো সে স্বপ্ন? তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ধারণা অনেকেরই থাকে না। শৈশব বলতে যে আলুভাতে মার্কা জীবনের কথা ভাবা হয়, তা কাটাচ্ছে না চোলে। তার আগেই গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সে। তাই বাবার কাছে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে করতেই একদিন জানতে পারে গুগলের কথা। অ্যান্ডি ব্রিজওয়াটার তাকে জানিয়েছেন, গুগল হল কাজের আদর্শ জায়গা। সেখানে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করা যায়। তাছাড়া, অফিসে ব্যাগ, চেয়ার, শিশুদের খেলে বেড়ানোর জন্য গো কার্টস বা স্লাইডস রয়েছে। যা শুনে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে চোলের বাবা বলেন, আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে। অ্যান্ডির পরামর্শেই 'গুগল বস' পিচাইকে চিঠি লেখে চোলে। হাতে লেখা সেই চিঠি প্রকাশ করেছেন অ্যান্ডি। চোলে জানিয়েছে, সে কম্পিউটার, রোবট এবং ট্যাব পছন্দ করে। পড়াশোনায় সে ভালই। গুগলে কাজ করা ছাড়াও তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে চকোলেট কারখানায় কাজ করা। তবে অলিম্পিকে সাঁতারও কাটতে পারে সে। সঙ্গে এটাও জানিয়েছে, এর আগে কেবল ফাদার ক্রিসমাসকে চিঠি লিখেছে। গুগলের সিইও পিচাই যে তার সাহসিনী মেয়ের চিঠির উত্তর দেবেন তা স্বপ্নেও ভাবেননি অ্যান্ডি। পিচাই-এর উত্তর তিনি আপলোড করেছেন তার লিঙ্কড ইন প্রোফাইলে। পিচাই বলেছেন, 'তোমার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আমার জেনে আনন্দ হচ্ছে যে তুমি কম্পিউটার এবং রোবট পছন্দ কর। আশা করছি এ রকমভাবেই তুমি প্রযুক্তি শিক্ষা চালিয়ে যাবে। আমি মনে করি, তোমার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে যদি কঠোর পরিশ্রম করতে থাক তাহলে তুমি যা কিছু ভাবছ- গুগলে কাজ করা বা অলিম্পিকে সাঁতার কাটা সবই সম্ভব হবে। স্কুলের পাঠ শেষ করে তুমি কখন চাকরির আবেদন করবে সেই অপেক্ষায় থাকব। তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে শুভেচ্ছা রইল।' চোলের বাবা জানিয়েছেন, এই চিঠি মেয়েকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
3
নরসিংদীর যুব মহিলা লীগের বহিস্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে তিন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়ি্যবাকে এক মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার দু'জন মহানগর হাকিম গতকাল সোমবার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে, পাপিয়াকে রিমান্ডে নেওয়া হলেও তার প্রশ্রয়দাতারা সামনে আসবে কিনা, রয়েছে সে প্রশ্নও। এ ছাড়া গতকাল সোমবার নরসিংদী জেলা মহিলা লীগের কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাপিয়াকে দেখতে ভিড় :জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাপিয়াকে দেখতে আদালতে ভিড় করেছেন অনেকেই। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এদিন বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয় পাপিয়াকে। এরপর কাঠগড়ার পাশে একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। এ সময় পাপিয়াকে না দেখতে পেয়ে সেখানে উপস্থিত বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, 'তাকে কাঠগড়ায় ওঠানো হচ্ছে না কেন?' বিচারক এজলাসে আসেন ৩টা ৪৫ মিনিটে। এরপর পাপিয়াকে কাঠগড়ায় ওঠানো হয়। ছবি তুলতে চাইলে আসামি শেখ তায়ি্যবা এক সাংবাদিককে বলেন, 'আপনি ছবি উঠাচ্ছেন কেন?' রিমান্ড শুনানির পর প্রায় ১৫ মিনিট বিরতির সময় কাঠগড়ায় থাকা পাপিয়া ও তার স্বামীর সঙ্গে আইনজীবীরা কথা বলেন। তখন পাপিয়াকে বলতে শোনা যায়, এ ঘটনায় তার জীবন শেষ হয়ে গেল। ওই সময় আইনজীবী তাদের বলেন, রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হলেও তারা যেন জিজ্ঞাসাবাদকারীদের শেখানোমতে কোনো কথা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে না বলেন। এদিকে পাপিয়ার রিমান্ড শুনানির সময় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বেশ কয়েকবার বচসা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মামলার এজাহার বা রিমান্ড আবেদনে অনৈতিক কাজে পাপিয়ার জড়িত থাকার কোনো তথ্য নেই। দুই পুরুষ আসামিকে শুরুতেই কাঠগড়ায় তোলা হলেও আদালতের কার্যক্রম শুরুর আগমুহূর্তে পাপিয়াকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় আইনজীবীদের কেউ কেউ বলেন, তাকে অবশ্যই কাঠগড়ায় তুলতে হবে। তারা অপকর্ম করবে আর ছবি তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হবে, এটা কেন? বাবার সংসারের ভিন্ন হাল : পাপিয়া কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও তার বাবার সংসার চলে অটো গাড়ির ভাড়ায়। তার বাবা সাইফুল বারী পেট্রোবাংলার গাড়িচালক ছিলেন। বর্তমানে নরসিংদীতে নিজ এলাকায় তার একটি অটো গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি অটো গাড়ি ভাড়া দিয়ে চলে তাদের সংসার। আর পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন গানের শিক্ষক মতিউর রহমান চৌধুরীর বড় ছেলে। মতিউর রহমান স্থানীয় নজরুল একাডেমির অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০০০ সালের দিকে নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সুমনের উত্থান শুরু। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও ছিল তার আয়ের উৎস। পরে সুমন ২০১১ সালে বিয়ে করেন পাপিয়া চৌধুরীকে। এরপর পাপিয়াকে রাজনীতির মাঠে কাজে লাগান তিনি। ক্যাসিনোকাণ্ডে পাপিয়ার নাম : ক্যাসিনোকাণ্ডে পাপিয়ার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়েও গোয়েন্দারা খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন। পাপিয়া ও তার স্বামী অনলাইন ক্যাসিনোর গডফাদার সেলিম প্রধানের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন। তার গুলশানের বাসায় পাপিয়ার ও তার স্বামীর যাতায়াত ছিল। সেলিম প্রধান ধরা পড়ে কারাগারে গেলেও অনেকেই কৌশলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ক্যাসিনোর টাকা দিয়েই ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের এক বাসায় ২০১৮ সালে একটি ও ২০১৯ সালে আরেকটি ফ্ল্যাট কেনেন। ফার্মগেট, ২৮ ইন্দিরা রোডের একেকটি ফ্ল্যাটের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। একেকটি ফ্ল্যাটে ডেকোরেশন করেছেন অন্তত দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা দিয়ে। ফ্ল্যাটে রয়েছে দামি খাট-পালঙ্ক, ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি ও আসবাব। এ ধরনের অভিযান চলার কারণে ক্যাসিনো থেকে পাওয়া টাকা পাপিয়া সরাতে পারেননি। ব্যাংকের টাকাগুলো বিভিন্ন সময়ে উঠিয়ে নিয়েছেন। অনেক টাকা দেশের বাইরে পাঠিয়েছেন। বাকি টাকা দেশে রেখে হুন্ডি চালিয়ে আসছিলেন- এমন তথ্যও পেয়েছে র্যাব। তবে তাদের সব অ্যাকাউন্ট তল্লাশি ও দেশের বাইরে পাঠানো টাকার সন্ধান করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সহায়তা চাওয়া হবে। পরস্পরবিরোধী বক্তব্য : পাপিয়াকে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হীরু সমকালকে বলেন, পাপিয়া লবিং করে ঢাকা থেকে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। ২০১৭ সালে সম্মেলন মঞ্চে স্থানীয় নেতাদের তোপের মুখে সে সময় পাপিয়াকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করতে পারেনি কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ। পরে ঢাকায় গিয়ে পাপিয়াকে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। নজরুল ইসলাম হীরু বলেন, সরাসরি পাপিয়া ও তার স্বামীর সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নেই। কারও সঙ্গে ছবি থাকার অর্থ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা নয়। পাপিয়া ছিল দুর্বৃত্ত চক্রের। এ চক্রের ধান্ধা ছিল ঢাকায়। কয়েক বছর আগে পাপিয়ার স্বামীর বাসায় গুলি করা হয়। এ সময় পাপিয়ার শরীরে গুলি লাগে। এরপর তারা নরসিংদী ছেড়ে চলে যান। নজরুল ইসলাম আরও বলেন, 'যুব মহিলা লীগের কাউন্সিলের সময় আমি মঞ্চে বসে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আক্তারকে অনুরোধ করেছিলাম, পাপিয়াকে কোনোভাবেই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে না আনতে। তখন নাজমা আক্তার, বর্তমান শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া আমার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল একমত না হওয়ায় আমার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। পরে আমি নরসিংদীর কাউন্সিলে কমিটি ঘোষণা করতে দিইনি। তিনি বলেন, 'পাপিয়ার অপকর্মের দায় যুব মহিলা লীগ নিচ্ছে না, সেখানে আওয়ামী লীগের দায় নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। পাপিয়ার স্বামী সুমন কার লোক, তাদের জন্ম কোথায় থেকে- নরসিংদীবাসী জানে। আমি রাজনীতিতে আসার আগেই সুমন ছিলেন প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের দেহরক্ষী। সুমনকে যারা তৈরি করেছে এ দায় তাদের, আওয়ামী লীগের নয়। আর নরসিংদীর রাজনীতিতে সুমন ও পাপিয়া আমার অনুসারী নয়। পাপিয়া কখনও নাগাল পায়নি। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার নির্বাচনী প্রচার করতে চায় পাপিয়া ও সুমন। আমি বলেছি, আমার নির্বাচনী প্রচার তোমাদের করতে হবে না। কারণ, তারা ভোট চাইলে ভোট আরও কমবে।' এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল সমকালকে বলেন, তৎকালীন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রহিমা আক্তার ও রাজি উদ্দিন রাজুর তদবিরে পাপিয়াকে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি গঠনের দিন পাল্টাপাল্টি শোডাউন হচ্ছিল। তাই ঢাকা থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নরসিংদী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া বলেন, পাপিয়াকে রাজনীতির মাঠে আমদানি করেছেন এমপি নজরুল ইসলাম হীরু। এর দায় দলের অন্য কেউ নেবে না।
6
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী সময়ের জাতীয় দলের এই সূচির কথা মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশ সফরে তারা খেলবে তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট ম্যাচ। এগুলো হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি ভেন্যুতে। এর আগে সবমিলিয়ে ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। যেখানে পাকিস্তানের ১০ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র দুটি। বাকি একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। টাইগারদের পাওয়া একমাত্র জয়টি ছিল ঘরের মাঠ শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুরে। সবশেষ দুই টি-টোয়েন্টিতেও বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টেস্ট ক্রিকেটের হিষেব-নিকেশের দিকে চোখ দিলে আরো শোচনীয় অবস্থা টাইগারদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাকে কোনো জয় তো নেই-ই, ড্র করাটাও যেন হয়ে উঠে রীতিমতো দুঃসাধ্য কাজের শামিল। ১২টি টেস্ট ম্যাচে সর্বোচ্চ একবার ড্র করার সফলতা দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে খুলনায় সেই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন সাকিব-মুশফিকরা। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে, বাকি সবকটি ম্যাচই জিতে নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে পরিসংখ্যান মেনে তো আর ক্রিকেট চলে না। রিয়াদের বর্তমান টি-টোয়েন্টি দল বলুন কিংবা লিটল মাস্টার মুমিনুল হকের টেস্ট দল, দুটি দলই এখন বেশ পরিপক্ব। পাকিদের চোখ রাঙাতে মুখিয়ে থাকবে নিশ্চয়ই, তা অবশ্য বলার অপেক্ষা রাখে না। সাথে টাইগারদের আত্মবিশ্বাসের ঝুলিও মেলা ভার। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তিকে মাটিতে নামিয়ে দেয়া বাংলাদেশকে এবার নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পারে পাকিস্তান। মিরপুরে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে ১৯ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে পাকিস্তানের এই সফর। সিরিজের বাকি দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যুতে, ২০ ও ২২ নভেম্বর। ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ৪ থেকে ৮ ডিসেম্বর, ঢাকায়।
12
হিলারি ক্লিনটন জয়ী হতে না পারায় ক্লিনটন পরিবার রাজনীতির অঙ্গন থেকে হারিয়ে যাবেন বলে অনেকে মনে করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ক্লিনটন দম্পতির একমাত্র সন্তান চেলসি ক্লিনটন আসছেন রাজনীতিতে এবং তিনি অভিষিক্ত হবেন নিউইয়র্কের ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচনে অবতীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে। ৭৯ বছর বয়সী কংগ্রেসওম্যান নিতা লোয়ির অবসর গ্রহণের পর। টানা ৩০ বছর ধরে তিনি এ আসনে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। নিউইয়র্ক সিটি সংলগ্ন চাপাকুয়ায় ক্লিনটন দম্পতির বাড়ির লাগোয়া ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি ও রকল্যান্ড এলাকা নিয়ে গঠিত এই কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টেই অতি সম্প্রতি ১.৬ মিলিয়ন ডলার দিয়ে আরেকটি বাড়ি ক্রয় করেছেন ক্লিনটন দম্পতি। এ বাড়িতেই বাস করছেন চেলসি এবং তার স্বামী মার্ক মেজভিনস্কি। সাথে থাকে দুই সন্তান চার্লটি এবং আইডানও। উল্লেখ্য, বাবা ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণায় সুযোগ (বয়সের কারণে) না পেলেও মায়ের প্রচারণায় সরব ছিলেন চেলসি। বক্তৃতা-বিবৃতি এবং টক শো-তে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজের স্বতন্ত্র একটি ইমেজ রচনায়ও সক্ষম হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী চেলসি। এ কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মা হিলারি যা পারলেন না, কন্যা চেলসি সেটি করে দেখাতে পারেন। আর সে অভিযাত্রা শুরু করতে পারেন এই আসন থেকে কংগ্রেসওম্যান হবার মধ্য দিয়ে। বিডি-প্রতিদিন/ ১২ নভেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ
3
পঞ্চমবারের মতো ইতালিয়ান ওপেনে শিরোপা নিতে যাচ্ছেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা নোভাক জোকোভিচ। সেমিফাইনালে ক্যাসপার রুডকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ফাইনালে। সেমিফাইনালে প্রায় এক হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। সেই দর্শকের সামনেই সেমিফাইনালে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ ছিলেন র্যাঙ্কিংয়ের ৩৪তম তারকা। ক্যাসপার প্রথম সেটে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও দুই সেট ৭-৫, ৬-৩ গেমে জেতেছেন জোকোভিচই। ৩৬তম ১০০০ মাস্টার্স শিরোপা জেতার লড়াইয়ে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ ডিয়েগো শোয়ার্জমান। যিনি কোয়ার্টারফাইনালে ফেবারিট নাদালকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। সেমিফাইনালে শোয়ার্জমান ৬-৪, ৫-৭, ৭-৬ (৭-৪) গেমে হারিয়েছেন কানাডিয়ান ডেনিস শাপোভালভকে। জোকোভিচ ইউএস ওপেনে অনাকাঙ্ক্ষিত কাণ্ডের জন্ম দিয়ে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন। লাইন জাজকে আঘাত করায় বিদায় নিতে হয়েছিল আগেভাগে। সেই টুর্নামেন্টে না পারলেও নতুন করে শিরোপা মঞ্চে এবার তিনি।
12
করোনা মহামারির ভয়াবহ রূপ দেখেছে লাতিন আমেরিকার দেশ পেরু। করোনায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হার দেশটিতে। এর মধ্যেই স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার পেরু সরকার জানিয়েছে, দেশটির প্রায় ১ লাখ শিশু তাদের মা-বাবার মধ্যে অন্তত একজনকে করোনা সংক্রমণে হারিয়েছে। খবর এএফপির। চিকিত্সাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটের বরাত দিয়ে পেরুর নারীবিষয়ক মন্ত্রী আনাহি দুরান্দ বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের প্রায় ৯৮ হাজার শিশু মহামারির সময় তাদের মা, বাবা অথবা অভিভাবককে হারিয়েছে।' এএফপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেরুতে প্রতি ১০ লাখে ৬ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুহারের দিক দিয়ে সারা বিশ্বে এটি রেকর্ড। এ মুহূর্তে ১৮ হাজারের বেশি পরিবারকে প্রতি দুই মাসে ৫০ মার্কিন ডলার করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে দেশটির সরকার। সরকারের এ সুবিধার আওতায় মানসিক ও শিক্ষাগত সহায়তাও আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আনাহি দুরান্দ। ৮৩ হাজারের বেশি শিশু-কিশোরের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান ব্যবস্থায় মূল বিষয়টি হলো সহায়তা নিতে অনেক পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই।' পেরুর এই মন্ত্রী বলেন, অনেক পরিবার এসে সহায়তা চায়। কিন্তু তাঁদের কাছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো সনদ থাকে না। কারণ, করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অনেকের বাসায় মৃত্যু হয়েছে। ফলে তাঁদের মৃত্যুসনদ নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। ৩ কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের দেশে পেরুতে করোনার প্রথম দুই ধাক্কার পর এ মুহূর্তে তৃতীয় ঢেউ চলছে পেরুতে। ভাইরাসটি শনাক্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ২০ লাখের বেশি মানুষ। আর মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষের।
3
কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের পর বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে সারাদেশে ৫৮ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হলেও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিনে আজ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। কবে নাগাদ চলতে পারে সে ব্যাপারেও নিশ্চিত নয় সংশ্লিষ্টরা। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নারায়নগঞ্জের যাত্রীরা। বুধবার (১১ আগস্ট) সারাদেশে সড়ক, রেল এবং নৌ চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ চলাচলকারী ট্রেন চালু হয়নি। কারণ হিসেবে স্থানীয় কর্মকর্তারা কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তবে বিভাগীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ক্রমান্বয়ে এ রুটের ট্রেন চলাচল চালু হবে। যদিও রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে মূলত বেসরকারি সংস্থা ট্রেন পরিচালনা করতো। প্রতিদিন এ পথে আসা-যাওয়া করতো ১৬ জোড়া ট্রেন। মাত্র ১৫ টাকা ভাড়ায় ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে পারতেন যাত্রীরা। অপরদিকে বাসে ঢাকায় যেতে যাত্রীদের ব্যয় করতে হয় ৩৬ টাকা। সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টার মতো। তবে নারাগঞ্জের যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ঢাকা- নারায়নগঞ্জ রুটে দীর্ঘদিন রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। তারা মনে করেছেন, নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সুবিধা দিতেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ রুটে ট্রেন চললে পবিহন কর্তাদের ক্ষতি হয়। তাই তাদের যোগসাজেস ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীরা অতিদ্রুত ট্রেন চালুর দাবি জানান।
6
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যুগান্তরের রিপোর্টার হামিদ-উজ-জামান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বণিক বার্তার উপ-নগর সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।গত শুক্রবার সংগঠনটির ১১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনিবাহী নতুন কমিটি গঠিত হয়। নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ, যুগ্ম-সম্পাদক মফিজুল সাদিক। অন্যান্য পদে অর্থ সম্পাদক সাইদ রিপন, দপ্তর সম্পাদক এম আর মাসফি, প্রচার ও গবেষণা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন হাসিবুল ইসলাম। শুক্রবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ভোটগ্রহণ হয়। এর আগে দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন-২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।বিজ্ঞপ্তি
6
জর্জ ফ্লয়েড হত্যার বিচার চাই! এই দাবিতে প্রতিবাদে মেতেছে আমেরিকা থেকে গোটা বিশ্ব। শক্ত হাতে বিক্ষোভ আটকাতে গিয়েও বেগ পেতে হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। প্রতিবাদ মিছিলে কেঁপে উঠেছে হোয়াইট হাউসও। প্রতিবাদের আগুনে জ্বলে উঠেছে পুলিশের গাড়ি, ভেঙেছে দোকানপাট। কৃষ্ণাঙ্গ নিরস্ত্র ফ্লয়েডকে হত্যাই করা হয়েছে। মেডিক্যাল পরীক্ষা থেকে পাকাপাকি কারণ মিলল। মিনিয়াপোলিসের হেনেপিন কাউন্টি ময়নাতদন্ত থেকে সাফ জানা গেল হাঁটু দিয়ে ঘাড়ে চাপ দিয়ে ফ্লয়েডকে হত্যা করা হয়েছে। বিবৃতিতে এ-ও বলা হয়েছে হাঁটু দিয়ে ঘাড়ে চাপ দেয়ার ফলেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ফ্লয়েডের। যা নরহত্যা। অর্থাৎ যে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিন, ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু চেপে ধরেছিলেন, আর্তনাদের পরও ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে পা সরাননি, মৃত্যুর দায় তার। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এসেছে। বরখাস্ত করা হয়েছে উপস্থিত তিন অন্য পুলিশ কর্মীকেও। কিন্তু বর্ণবিদ্বেষের এই আন্দোলন আবারও উসকে দিলো শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ বিতর্ককে।সূত্র : জি নিউজ
3
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ক্রমাগতভাবে সবকিছুতেই না বলছে। বিএনপির এই না বলা গণতন্ত্রকে না বলার শামিল। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি ক্রমাগতভাবে সবকিছুতেই না বলছে। অথচ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অনুসন্ধান কমিটি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সমাজের বোদ্ধা হিসেবে পরিচিতদের সঙ্গে বসেছে। এমন অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার উদাহরণ অনেক পুরোনো গণতান্ত্রিক দেশেও কেউ দিতে পারবেন না। বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী এবং যাঁরা বিএনপির পক্ষে সারাক্ষণ কথা বলেন, তাঁরাও সেখানে গেছেন। তাঁরা বলেছেন, বিএনপির আসলে নাম দেওয়ার কথা ছিল, অথচ বিএনপি দিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনাকালে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে ছয় কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, 'আমরা যখন নির্বাচন করেছিলাম, তখন আমরা দলীয় ব্যানারে নির্বাচন করেছি, আমরা যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি, তখন সব মানুষের জন্য, সব দলের জন্য কাজ করতে বদ্ধপরিকর।' হাছান মাহমুদ বলেন, আজ যখন গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে, তখন অনেক ভুঁইফোড় সাংবাদিক ও ভুঁইফোড় গণমাধ্যমের জন্ম হচ্ছে। সে জন্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের অনুরোধে আমরা নীতিগতভাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ডেটাবেইস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই কাজটি প্রেস কাউন্সিলকে করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। তাঁরা যদি নীতিমালার ভিত্তিতে ডেটাবেইস তৈরি করেন, তাহলে প্রকৃত সাংবাদিকেরা ডাটাবেইসে স্থান পাবেন। আর যারা ভুঁইফোড়, তাঁরা ডাটাবেইসে স্থান পাবেন না। তখন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।' প্রথম ধাপে ঢাকা জেলার ১২৪ জন সাংবাদিকের মধে ২ কোটি ৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশের ৫৩০ জন সাংবাদিকের মধে বিতরণ করা হয় ৫৩ লাখ টাকার চেক।
9
কেউ ভ্যান চালান আবার কেউ অটো চালিয়ে রোজগার করেন। এমন ২০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেন স্থানীয় প্রভাবশালী সিদ্দিকুর রহমান। অবরুদ্ধ এসব পরিবার উপায়ন্তর না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানায়। পরে গত বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পুলিশ সেখানে গিয়ে রাস্তাটি অবমুক্ত করে। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রামে।ওই পরিবারগুলার মধ্য শফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি ইজিবাইক চালাই। অথচ সকাল বেলা বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে দেখি রাস্তা বন্ধ। আমার মতো আরও ৫-৭ জন ভ্যান ও ইজিবাইক চালক আটকে ছিলেন। পরে পুলিশ রাস্তা অবমুক্ত করে দেন।'সালিমুল নামের এক ভ্যানচালক বলেন, 'সিদ্দিকুর রহমান সকাল বেলা বাঁশ দিয়ে পথ আটক দেন। আমরা ভ্যান নিয়ে যাতি পারছিলাম না। ভ্যান নিয়ে বের হতে না পারলি আমাগর আয় বন্ধ। তিনি মাঝে মধ্যেই এ রকম রাস্তা আটকায় দিয়ে যান।'স্থানীয়রা জানান, রাস্তার পাশ সিদ্দিকুর রহমানর জমি আছ। রাস্তায় একটু কাঁদা পানি জমলে ভ্যান ও ইজিবাইক চালকেরা তাঁর জমির ওপর দিয়ে যায়। তাঁর জমির ওপর গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয় ওঠেন। আর রাস্তা বন্ধ কর দিয়ে যান।সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'রাগের বশবর্তী হয়ে আমার জমিতে বাঁশ দিয়ে আটকে দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের কথায় বাঁশ খুলে দিয়েছি। আমার ভুল আমি বুঝতে পেরেছি।'উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানদ পাল বলেন, 'বিষয়টি শুনে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ গিয়ে বিষয়টির সমাধান করেছে বলে কানতে পেরেছি।'মহম্মদপুর থানার এস আই আহাদ জানান, 'আমি যায় রাস্তাটি চলাচলর উপযোগী করে দিয়েছি। রাস্তায় ওই ব্যক্তি যদি আর কোনো ঝামেলা করলে আমাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছি। পরবর্ততে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাক্ষাতের বিষয়টি একেবারে নাকচ করেনিরাশিয়া। বুধবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই মন্তব্য করেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের বৈঠকের জন্য অগ্রিম প্রস্তুতি প্রয়োজন। দিমিত্রি পেসকভ বলেন, অনেক আগেই ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা থেমে গেছে যা এখনোশুরু হয়নি। ইউক্রেন পূর্বে বলেছে, রাশিয়া তাদের কোনো অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্তিকরণ করলে শান্তি আলোচনা সেখানেইশেষ হবে। বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল
3
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। একটি প্রতিষ্ঠানকে স্কুলের পোশাক তৈরির একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ায় স্কুলটিকে সতর্ক করে কমিশন। একই শিক্ষার্থীদের পোশাক বানানোর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজকে ৭৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পোশাক বানানো-সংক্রান্ত এক মামলায় বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই আদেশ দেয় প্রতিযোগিতা কমিশন। মামলার আদেশে বলা হয়, মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ যোগসাজশের মাধ্যমে ভিকারুননিসা স্কুলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এককভাবে পোশাক সরবরাহ করে। এতে স্কুল ও পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের প্রতিযোগিতা আইনের ১৫ (১) ধারার বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজকে ৭৯ হাজার ৮৯৭ টাকা প্রশাসনিক আর্থিক জরিমানা এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও একচ্ছত্রভাবে দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীদের পোশাক সরবরাহের ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ায় ভিকারুননিসা নূন স্কুলকে সতর্ক করা হয়েছে। আদেশে ভিকারুননিসা স্কুলের উদ্দেশে বলা হয়, একক প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে প্রতিটি ক্যাম্পাসের জন্য ন্যূনতম তিনটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক বানাতে হবে। দরজির দোকান নির্বাচনের জন্য দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এর আগে স্কুলের পোশাক, রং, নকশা, মনোগ্রাম সম্পর্কে অভিভাবকদের জানাতে হবে। এরপর মনোনীত পোশাক নির্বাচিত তিনটি দরজি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিতে হবে। মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পোশাকের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা রাখা হয়।প্রতিষ্ঠানটির কারখানা পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে। তবে তাঁদের কোনো কার্যালয় নেই। লালবাগে একটি কারখানা আছে যেখানে পোশাক তৈরি করা হয়। তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে দরপত্রের মাধ্যমে তিনি ভিকারুননিসা স্কুলের পোশাক তৈরির কাজ পান। এরপর আর দরপত্র ডাকা হয়নি।
6
নেত্রকোণা জেলার মদন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন করলো আওয়ামী লীগ। সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে আবদুল হান্নান তালুকদার শামীমকে বাদ দিয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়ে বলে জানান সাইফ। জানা গেছে, আবদুল হান্নান তালুকদার গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। গত ২৮ নভেম্বর আওয়ামীলীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আবদুল হানান তালুকদারসহ প্রথম ধাপের ২৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।
6
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সেখানকার জাতীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন। 'ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট অব ইউক্রেন' নামের সংগঠনটি নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই দাবি করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। এই তালিকায় কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিকের নামও রয়েছে, জানায় সংগঠনটি। উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেটস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ ভাষাভাষী অধ্যুষিত এই দুটি অঞ্চল একত্রে ডোনবাস নামে পরিচিত। স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পর অঞ্চল দুটিকে বেসামরিকীকরণের লক্ষ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরই মধ্যে বুধবার ৪৯তম দিনে গড়িয়েছে এই সামরিক অভিযান। এই সময়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে নিজেদের সাধ্যমতো প্রতিরোধীও গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। ফলে রাজধানী কিয়েভ ও এর আশেপাশের এলাকা এবং চেরনিহিভ থেকে পিছু হঁটতে বাধ্য হয় রুশ বাহিনী। এদিকে, আমেরিকা ও ইউরোপী ইউনিয়নের দেশগুলো এই অভিযানকে 'পুতিনের ভূমি জবরদখল' বলে আখ্যা দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় ব্যবহৃত গুলির সূত্র ধরে তার খুনিদের শনাক্ত করে পুলিশ। বুধবার সকালে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে এ কথা জানান পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি জানান, এমপি লিটনের খুনিরা গত ৩০ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের ধোপাডাঙ্গায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ফাহিম নামে এক যুবকের কাছ থেকে তার মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করে। ছিনতাই শেষে তাড়াহুড়া করে পালাতে গিয়ে পিস্তলের ৬ রাউন্ড বুলেটের ম্যাগাজিনটি তাদের অগোচরে রাস্তায় পড়ে যায়, যা স্থানীয় জনগণের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ উদ্ধার করে। ডিআইজি ফারুক জানান, ওই পিস্তলের বুলেট পরীক্ষা করে দেখা যায়, এমপি লিটনের শরীর থেকে অপারেশন করে বের করা এবং তার বাড়িতে হত্যার পর পাওয়া বুলেটের খোসার সঙ্গে ওই ম্যাগাজিনের বুলেটের মিল রয়েছে। পরে ওই সূত্র ধরে খুনিদের আটক করা হয় এবং পিস্তলটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক সাংসদ ও জাতীয় পার্টি নেতা কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান এমপি লিটন হত্যার 'মূল পরিকল্পনাকারী' বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। বগুড়া শহরের রহমাননগর জিলাদারপাড়ার ক্লিনিক কাম-বাসভবন থেকে মঙ্গলবার বিকেলে কাদের খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এমপি লিটন হত্যায় চারজন অংশ নেয় উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কাদের খানের গাড়িচালক আবদুল হান্নান, দুই গৃহকর্মী শাহিন মিয়া ও মেহেদী হাসান এবং তাদের সহযোগী রানা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন গ্রেফতার আছেন এবং রানা পলাতক।
6
পঞ্চগড়ে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবু বক্কর সিদ্দীক (১৬), শিশির (১৮), নতুন ইসলাম (১৮) নামে তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকালে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মডেলহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিকালে সিদ্দীক, নতুন ও শিশির মোটরসাইকেল যোগে মডেলহাট বাজার থেকে মজারাজা দিঘীতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মডেলহাট এলাকায় অপরদিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলে সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. রুকসানা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আর 'খারাপ খবরের শিরোনাম হবেন না' বলে শপথ নিয়েছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের শপথবাক্য পাঠ করান ওবায়দুল কাদের। প্রায় চার দশক আগে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্রসংগঠনের সভাপতির দায়িত্বপালনকারী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, 'যারা বেশি দুর্নীতি করে, তারাই বেশি নীতির কথা বলে। যারা বেশি অনিয়ম করে, তারাই বেশি নিয়মের কথা বলে। ছাত্রলীগকে এই দলে দেখতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এমনটা চান না। অনুপ্রবেশকারীদের কারণে বদনামের ভাগিদার না হয়ে ছাত্রলীগকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।' এ সময় তার আহ্বানে হাত ওপরে তুলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শপথ নেন, 'আমরা খারাপ খবরের শিরোনাম হব না, আমরা ইতিবাচক খবরের শিরোনাম হব।' জঙ্গিবাদ নির্মূলে ছাত্রলীগকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, 'অর্জনের সোনালী ফসলে বাংলাদেশ ভরে গেছে। কিন্তু বিপদ যেকোনো সময় আসতে পারে। যেমন এসেছিল হলি আর্টিজানে ও শোলাকিয়ায়, সর্বশেষ আশকোনায়। এখানে যুক্ত হয়েছে নতুন ডায়মেনশন-আত্মঘাতী নারী। নারীদের সঙ্গে অবুঝকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জঙ্গি হামলার নতুন এ বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে হবে।' নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, 'নির্বাচনে হেরে বিএনপির মাথা ঠিক নেই। নিজেদের আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে দিতে তারা এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। তাদের ঘরে সুখ নেই। তাদের মরা গাঙে জোয়ার আসে না। তাই সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করা ছাড়া এ দলটির আর কিছুই করার নেই।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের চেয়েও গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, 'তিনি (শেখ হাসিনা) শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, একজন রাষ্ট্রনায়ক। কারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভাবেন পরবর্তী নির্বাচনের কথা, রাষ্ট্রনায়ক ভাবেন পরবর্তী প্রজন্মের কথা। শেখ হাসিনার অবস্থান এখন অনেক ওপরে, তিনি বিশ্ব দরবারে অনেক উচ্চতায় চলে গেছেন।' ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী শমী কায়সার বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের পতাকাতলে এসে দেশের জন্য কাজ করা উচিত।' সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, 'স্বাধীনতার সম্পূর্ণ সুখ উপভোগ করতে হলে একাত্তরের পরাজিত শক্তির যে প্রেতাত্মা আজও ছদ্মবেশে লুকিয়ে আছে, তাদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে।'
9
চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, যেমন শুষ্কতা, অ্যালার্জি, সংক্রমণ ইত্যাদি সমাধানে আই ড্রপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চোখের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য এবং রোগ নিরাময়ের জন্য আই ড্রপ ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি জানা উচিত।সময় নিনচোখের ড্রপ ব্যবহারে তাড়াহুড়ো করবেন না। চোখের শুধু এক ফোঁটা ওষুধ নেওয়ার ক্ষমতা আছে। তাই আই ড্রপ একেক চোখে কয়েক ফোঁটা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলে সময় নিয়ে আস্তে আস্তে দিন।ড্রপ ব্যবহারে সতর্ক হোনযদি বিভিন্ন ধরনের আই ড্রপ ব্যবহার করতে হয়, তাহলে একটি ব্যবহারের পর অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বিরতি দিন। তারপর অন্য ড্রপটি ব্যবহার করুন। এতে চোখে জ্বালাপোড়া করবে না এবং চোখ দিয়ে পানি পড়বে না। এ ছাড়া ওষুধের কার্যকারিতাও কমে যাবে না।ড্রপের মাত্রা ঠিক রাখুনঅন্যান্য ওষুধের মতো আই ড্রপও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়। কোনো কারণে আই ড্রপ দেওয়ার কথা মনে না থাকলে বা বেশি ব্যবহার করলে তা চিকিৎসায় প্রভাব ফেলে।ড্রপ দেওয়া বন্ধ করবেন নাকোনো কারণেই নিজে থেকে চোখে ড্রপ দেওয়া বন্ধ করবেন না। বন্ধ করতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।মেয়াদ শেষের তারিখ দেখে নিনআই ড্রপের মেয়াদ শেষের তারিখ দেখে নিন। চিকিৎসকের নির্দেশিত তারিখের পরেও যদি আই ড্রপ বেঁচে যায়, তাহলে তা ব্যবহার না করে রেখে দিন। চোখে সমস্যা থাকলেও তা চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া পুনরায় ব্যবহার করবেন না।সতর্কতাচোখে ড্রপ ব্যবহারের আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।আই ড্রপের বোতলের মুখ খোলার পর এক মাসের বেশি এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। তাই আই ড্রপের বোতলে ব্যবহার শুরুর তারিখটি লিখে রাখুন।যদি ড্রপটি সাসপেনশনের মতো হয় তাহলে ব্যবহারের আগে কিছুক্ষণ ঝাঁকিয়ে নিন।ড্রপ দেওয়ার পরে চোখের কোনার নাকের পাশটা চেপে ধরুন, যাতে গলায় ড্রপ চলে না যায়।ড্রপ ব্যবহারের পর ১০ সেকেন্ড চোখ বন্ধ রাখুন। তারপর কিছুক্ষণ চোখ মিটমিট করুন। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক কাজে ফিরে যান।যদি আপনার আই ড্রপ ও আই অয়েন্টমেন্ট উভয়টিই ব্যবহার করতে হয়, সে ক্ষেত্রে আগে আই ড্রপ ব্যবহার করুন এবং তারপর আই অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করুন। অয়েন্টমেন্ট ব্যবহারের পরে অন্তত দুই ঘণ্টা বিরতি দিয়ে অন্য ড্রপ ব্যবহার করবেন যদি প্রয়োজন হয়।যা এড়িয়ে চলবেনচোখ লাল হলে কখনোই নিজে নিজে আই ড্রপ ব্যবহার করবেন না।আই ড্রপের বোতলটি যেন চোখে লেগে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।কখনোই চোখের কালো অংশে, অর্থাৎ কর্নিয়ায় সরাসরি ড্রপ ফেলবেন না।কন্টাক্ট লেন্স পরা অবস্থায় আই ড্রপ ব্যবহার করবেন না।লেখক: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম
4
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজ শনিবার চতুর্থ টেস্টে ইনিংস ও ২৫ রানে জয় পেয়েছে ভারত। দিনটি ছিল ভারতের জন্য বিশেষ কিছু। ১৯৭১ সালের এই দিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কারের। আজ পূর্ণ হলো অর্ধশত বছর। তাই গাভাস্কারকে বিশেষ ক্যাপ দিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে ভারত ক্রিকেট বোর্ড( বিসিসিআই)। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ইনিংস ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে স্বাগতিক ভারত। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ২০৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আজ শনিবার ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৬৫ রান তুলে। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৩৫ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। এ নিয়ে ৪ ম্যাচের সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতল স্বাগতিক ভারত। ম্যাচ সেরা হন ঋষভ পন্ত। সিরিজ সেরা হন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। আগামী জুনে ইংল্যান্ডের লর্ডস স্টেডিয়ামে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখী হবে বিরাট কোহলি বাহিনী। তার আগে আজ লাঞ্চ বিরতির সময় সুনীল গাভারস্কারকে বিশেষ সেই ক্যাপ উপহার দেয় বিসিসিআই। ৫০ বছর আগে উন্ডিজের বিপক্ষে ওই টেস্টে প্রথম ইনিংসে সুনীল ৬৫ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস। ভারত সেই ম্যাচটি জিতে ৭ উইকেটে। ভারতের জার্সিতে কিংবদন্তি এ ব্যাটসম্যান খেলেছেন ১২৫ টেস্ট ও ১০৮ ওয়ানডে। টেস্টে ১০ হাজার ১২২ ও ওয়ানডেতে ৩ হাজার ৯২ রান করেছেন তিনি।
12
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় 'অশনি' মোকাবিলায় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, ভূমিধস ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিটি ক্যাম্পে কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশনাসহ নয়টি কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মিকন তঞ্চঙ্গ্যা স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'যে সকল পাহাড়ের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় তাদেরকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।'পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশনা দিয়ে প্রত্যেক ক্যাম্পে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ফোন নম্বর সবাইকে জানিয়ে দিতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে, নিরাপত্তার লক্ষ্যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মোবাইল টিম প্রস্তুত করা, শেল্টারের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে শেল্টার সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনাক্রমে ঘূর্ণিঝড় সহনীয় শেল্টার কিট বিতরণে ব্যবস্থা গ্রহণ, দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি খাবার বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান, ক্যাম্পে অবস্থিত স্লোপ প্রোটেকশন, রিটেইনিং ওয়াল, গাইড ওয়াল মেরামত প্রয়োজন হলে জরুরিভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা, বৃষ্টি ও বন্যার পানি নিরাপদে নির্গমনের জন্য ক্যাম্প অভ্যন্তরে অবস্থিত ড্রেনসমূহ পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা ও ক্যাম্পে কর্মরত সিপিপি, ডিআরআর স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি ও দুর্যোগ পরবর্তী প্রস্তুতি বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ঘূর্ণিঝড় অশনি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে।'এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশের পশ্চিম অথবা পূর্বাঞ্চলের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অশনি আঘাত হানতে পারে।এ প্রসঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, 'শুক্রবার সকালে আন্দামান সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পরিবর্তন হয়ে পরিণত হবে গভীর লঘুচাপে। পরে নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপের পর এটি ঘূর্ণিঝড় 'অশনি' রূপ নেবে। এখন পর্যন্ত লঘুচাপটি বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার দিকে মুখ করে আছে।'লঘুচাপটির গতিপথ বারবার বদলাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এটি তৈরি হলেও আসলে কোনদিকে যাবে তা বলা মুশকিল। তবে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী এটি বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশায় আঘাত হানতে পারে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।'
6
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে ভেঙে পড়া বেইলি সেতুর কাজ শেষ হয়নি দুই বছরেও। ঢাকা থেকে দীঘিরপাড় যাতায়াতের প্রধান সড়কে অবস্থিত সেতুটি দ্রুত ঠিক করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।জানা যায়, বেইলি সেতুটি ২ বছর আগে গাছের গুঁড়ি বোঝাই একটি ট্রাক অতিক্রম করার সময় ভেঙে পড়ে যায়। পরে পাশ দিয়ে একটি অস্থায়ী বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়। ওই সেতুটি দিয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করছে। অস্থায়ী ওই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১৪ মে সেতুটির গোড়ায় ব্যারিকেড না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেট কার খাদে পড়ে যায়। এতে জিসান ও ফাহিম নামে দুই বন্ধু নিহত হন এবং জাহিদ হাসান নামে একজন গুরুতর আহত হন। এর আগেও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ওই স্থানে পড়ে যায়। এতে দুজন গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ ২ বছর ধরে এলাকাবাসী ওই স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।স্থানীয়রা জানান, অস্থায়ী সেতুটির ওপর দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। যেকোনো সময় এই সেতুতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন এই পথে যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দারা।পুরা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, 'দুই বছর আগে সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেতুটি নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। যদি দ্রুত সেতুটি নির্মাণ না করা হয়, তবে আবারও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'রুবেল আরও জানান, এই সেতুর গোড়ায় মাটি পরীক্ষার জন্য একটি বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। গর্তে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পচা দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব।স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, 'প্রতিদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। গত ১৪ মে এখানে একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাধ্য হয়ে জোড়াতালি দেওয়া বেইলি সেতু দিয়ে যানবাহন চালাতে হচ্ছে।সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশলী ফাহিম রহমান খান বলেন, 'সেতুটি নির্মাণের জন্য এখনো টেন্ডার হয়নি, এস্টিমেট দেওয়া হয়েছে। এস্টিমেট পাশ হলে টেন্ডার দেওয়া হবে। আশা করছি মাসখানেকের মধ্যে টেন্ডার দেওয়া হবে। ২০২০ সালে সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আগে ভেঙে পড়া সেতুটির মুখে বেরিক্যাড এবং সংকেত সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।'
6
ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে ভোলা, মাদারীপুর ও ঝালকাঠিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। মাদারীপুরে পদ্মা, ঝালকাঠিতে নদনদী শান্ত থাকলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।তবে, ভোলার কোথাও বেড়িবাঁধের কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ।জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় অশনি আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুপার সাইক্লোন হয়ে উপকূলে আঘাত হানার কথা রয়েছে। তাই উপকূলীয় জেলাগুলোতে দুই নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।ঘূর্ণিঝড় অশনির গতকাল সোমবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে বাড়তে পারে। উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভোলা জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ সোমবার বলেন, 'বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে আজ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রস্তুত রয়েছেন। অফিস সার্বক্ষণিক খোলা থাকছে।'এ দিকে ভোলা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির নেতা মো. ফারুক বলেন, 'সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় অধিকাংশ মাছ ধরা ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। কেউ কেউ সমুদ্রতীরের ছোট খালগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। যারা এখনো ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পাননি, তাঁদের নিরাপদে তীরে আনার চেষ্টা চলছে।'শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে মাদারীপুরের শিবচরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে মাঝেমধ্যে হালকা বাতাস বইতে থাকে। তবে তীব্র বাতাস না থাকায় বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে ঘাট সূত্রে জানা গেছে। সকাল থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। বাংলাবাজার ফেরিঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. আক্তার হোসেন জানান, পদ্মা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরি চলাচল করছে। তবে আবহাওয়া আরও বৈরী হলে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে গতকাল সোমবার সকাল ৯টার পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।এ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব শুরু হলেও লঞ্চ চলাচল করছে বলে জানান কাঠালিয়া লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. তুহিন সিকদার। তিনি বলেন, 'নদী স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে লঞ্চ চলাচল করছে। বন্ধের নির্দেশনা পাইনি। পেলে বন্ধ করা হবে।'
6
সিঙ্গাপুরে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২১ মিনিটে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরপরই সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়। এর আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার মধ্যরাতে গোলাম সারওয়ারকে নিয়ে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। শনিবার সকালে সেটি সিঙ্গাপুরে পৌঁছায়। গোলাম সারওয়ার হৃদরোগের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছেন। সিঙ্গাপুরে গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী সালেহা সারওয়ার, দুই ছেলে গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জন ও গোলাম সাব্বির অঞ্জন, জামাতা মিয়া নাঈম হাবিব এবং সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম। গোলাম সারওয়ারের চিকিৎসার বিষয়টি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন সমকালের প্রকাশক এ. কে. আজাদ। পরিবার এবং সমকালের পক্ষ থেকে শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর কাছে সম্পাদকের আশু রোগমুক্তির জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুর রওনা দেওয়ার সময় সহকর্মীরা ল্যাবএইড হাসপাতালে ভিড় জমান, প্রিয় সম্পাদককে সাহস জোগান। এ সময় সমকালের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, উপসম্পাদক আবু সাঈদ খান, সহযোগী সম্পাদক সবুজ ইউনুস, বার্তা সম্পাদক মশিউর রহমান টিপু, নগর সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, চিফ রিপোর্টার লোটন একরাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানি সম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অনেকে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সমকাল সম্পাদককে দেখতে হাসপাতালে যান। রাষ্ট্রপতি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। গত রোববার মধ্যরাতে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন দেশবরেণ্য সাংবাদিক, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার। তার চিকিৎসায় ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ সোমবার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সোহরাবুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- কার্ডিওলজিস্ট ডা. বরেন চক্রবর্তী, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. খাজা নাজিমুদ্দিন, নেফ্রোলজিস্ট ডা. রফিকুল আলম ও রেসপিরেটরি মেডিসিনের ডা. সাইদুল ইসলাম। ডা. সোহরাবুজ্জামান সমকালকে বলেন, গোলাম সারওয়ার হার্ট অ্যাটাক নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ফুসফুসে পানি জমেছে এবং নিউমোনিয়া সংক্রমণ আছে। হার্টের পাশাপাশি তিনি কিডনি, ফুসফুসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। এ কারণে দ্রুত নিউমোনিয়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। একই কারণে তার ফুসফুসে জমে থাকা পানি অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শেই গোলাম সারওয়ারকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে।
6
অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচে ১২৩ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নামে। তামিম ইকবালের ১২৮* ও লিটন কুমার দাসের ১৭৬ রানের ইনিংসে ভর করে ৪৩ ওভারে বাংলাদেশ তুলে ৩২২ রান। কিন্তু বৃষ্টি আইনে জেতার জন্য জিম্বাবুয়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪২ রান। এই রান তাড়া করতে নেমে ৩৭.৩ ওভারে ২১৮ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক হিসেবে শেষটা জয়েই রাঙিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ডি/এল মেথডে ১২৩ রানে হারিয়ে মাশরাফিকে তিন ম্যাচের সিরিজটি ৩-০ তে উপহার দিয়েছেন সতীর্থরা। সাইফউদ্দিন প্রথম ওয়ানডে খেললেও দ্বিতীয়টিতে ছিলেন বাইরে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ফিরে তার সামর্থ্য দেখালেন দ্বিতীয় উইকেট নিয়ে। সাইফউদ্দিন পেয়েছেন ব্রেন্ডন টেলরের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি। এবারের বাংলাদেশের সফরটা ভুলে যেতে চাইবেন আফ্রিকান দেশটির সাবেক অধিনায়ক। আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতায় এবারও ব্যর্থ তিনি। সাইফউদ্দিনের বলে শর্ট মিড-উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ধরা পড়ার আগে ১৫ বলে করেন ১৪ রান। তার বিদায়ে ২৮ রানে জিম্বাবুয়ে হারায় দ্বিতীয় উইকেট। পরের উইকেটটি নেন আফিফ। লিটন-তামিমের দাপটে ব্যাট হাতে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ হয়নি তার। তবে বোলিং দিয়ে অভিষেক রাঙানোর সুযোগ ছিল তার সামনে। সেই সুযোগটা কাজে লাগালেন মাত্র দ্বিতীয় বলে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার বল হাতে নেওয়ার দ্বিতীয় ডেলিভারিতে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন শন উইলিয়ামসকে। তিনি বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ৩০ রানে। এরপর উইকেট উদযাপন করেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনার নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ফিরিয়েছেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার রেগিস চাকাভাকে। ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন চাকাভা। মন্থর ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়লেও বেশিদূর যেতে পারেননি। তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। যাওয়ার আগে ৪৫ বলে মাত্র এক বাউন্ডারিতে করেন ৩৪ রান। এরপর দ্বিতীয় স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট উদযাপন করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার দ্বিতীয় শিকার ওয়েসলি মাদেভেরে। চাপের মধ্যে বেশ ভালোই খেলছিলেন মাদেভেরে। হাফসেঞ্চুরির সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছিলো তার ব্যাটিংয়ে। কিন্তু হলো না, সাইফউদ্দিনের বল তার ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে উঠে গেলে পয়েন্টে দাঁড়ানো মেহেদী হাসান মিরাজ নেন সহজ ক্যাচ। মাদেভেরেকে বিদায় নিতে হয় ৪২ বলে ৪২ রানে। তার আউটের খানিক পরই রান আউট হয়ে ফিরেছেন রিচমন্ড মুটুমবামি (০)। জিম্বাবুয়ের বিপদ আরও বাড়ে টিনোটেন্ডা মুতোমবোজির (৭) বিদায়ে। তাকে আউট করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আগের ম্যাচে তিরিপানো ঝড় তুলেছিলেন। এই ম্যাচেও হয়তো আশঙ্কা ছিল এমন কিছুর। হয়নি শেষ পর্যন্ত। তাকে ১৫ রানেই বোল্ড করেছেন তাইজুল ইসলাম। তবে এক প্রান্ত আগলে সিকান্দার রাজা লড়াই চালিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন কিছু শটস খেলে। ৫০ বলে ৬১ রান করে ফেলা সিকান্দার রাজাকে বিদায় দিয়েছেন সাইফউদ্দিন। উড়িয়ে মারলেও তাকে বাউন্ডারিতে তালুবন্দী করেন মোহাম্মদ নাঈম। এই সাইফ পরের বলে তিশুমাকে বোল্ড করেই ছেটে দেন জিম্বাবুয়ের লেজ। তারা ৩৭.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় ২১৮ রানে।
12
বিশ্বের শীর্ষ ধনী তিনি। চাইলেই নিজের স্বপ্নপূরণের ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজেই মহাকাশ যান তৈরির কোম্পানি স্থাপন করেছেন। এরপর নিজের রকেট জাহাজ নিউ শেপার্ডে করে মহাকাশ ভ্রমণে বেড়িয়েছেন।মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন প্রায় চার দশক আগে। ১৯৮২ সালের কথা সেটা। মিয়ামির পালমেটো হাইস্কুলে ৬৮০ জন শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে প্রথম হন বেজোস। সেই সুবাদে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় একটি পত্রিকায় তাঁর সে বক্তব্য ছাপা হয়। সেখানে লেখা হয়, জেফ বেজোস মহাকাশে হোটেল, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও কলোনি স্থাপন করতে চান। এতে ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষ পৃথিবী প্রদক্ষিণের সুযোগ পাবেন। পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতেই তাঁর এ পরিকল্পনা।মহাকাশে বসতি গড়ে গোটা বিশ্বকে তিনি ন্যাশনাল পার্কে বদলে দিতে চান।এতটুকু পড়ে বেজোসকে নিশ্চয়ই পাগল ভেবেছিল সবাই। কিন্তু বেজোস ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া, সমালোচনায় থামেননি বলেই আকাশ ছুঁয়েছেন। হয়েছেন বিশ্বের সেরা উদ্যোক্তাদের একজন।সফল ব্যবসা দাঁড় করাতে অন্যদেরও প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা দেন।নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তাঁর দেওয়া ১০টি পরামর্শ এখানে তুলে ধরা হলো:নতুন কোনো কিছু উদ্ভাবন করতে গেলে মানুষ ভুল বুঝবে। অনেক সমালোচক জুটবে। বিষয়টি মেনে নিতে আপত্তি না থাকলে তবেই নতুন কিছু করতে পারবেন।যদি বুঝতে পারেন আপনার পছন্দের কাজ কোনটা, তবে কাজের মধ্যে আনন্দ পাবেন। আপনি চাকরি করতে পারেন, ভালো ক্যারিয়ারও গড়তে পারেন। কিন্তু মনের কথা শুনলে আপনি জ্যাকপট পেয়ে যাবেন।সফল হতে চাইলে ব্যর্থ হতেই হবে। অনেক পরিশ্রম করার পাশাপাশি ঝুঁকিও নিতে হবে।সব সময়ই যে বাজার গবেষণার ফলাফল মানতে হবে, তা নয়। ২০১৩ সালে কোনো ক্রেতাকে যদি কথা বলার ডিভাইসের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হতো, তবে অ্যামাজনের স্মার্টস্পিকার ইকো বাজারেই আসত না। কারণ কোনো ক্রেতাই ইকো ডিভাইস কেনার কথা তখনো ভাবেননি। গান চালু করার জন্য কোনো ডিভাইস লাগবে কি না, তা জিজ্ঞেস করলে, 'ধন্যবাদ, লাগবে না' কথাটিই শুনতে হতো।আগামী ১০, ২০ ও ৩০ বছর পরে কী কী পরিবর্তন আসবে তা নিয়ে অনেকেই ভাবেন। কোন বিষয়গুলো বদলাবে না, সেটা আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন। ভেবে দেখুন, এমন কী আছে যার চাহিদা ১০ বছরেও ফুরাবে না? উত্তর খুঁজে পেলে সে বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করুন।ভালো মান ধরে রাখার ব্যাপারটি সংক্রামক। খুব দক্ষ কর্মীদের দলে নতুন কাউকে নিয়োগ দিলে তিনিও ভালো মানের কাজ করবেন।দলগতভাবে কাজ করলে দক্ষতা থাকা আবশ্যক নয়। যাঁরা ফুটবল দলের কোচ, তাঁরা যে খুব ভালো খেলোয়াড় তা নয়। সিনেমার পরিচালকেরাও অভিনেতা নন। কিন্তু ফুটবল বা অভিনয়ের উঁচু মান সম্পর্কে তাঁদের ধারণা আছে।১৯৯৪ সালে অনলাইন বুকশপ হিসেবে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করেন জেফ বেজোস। বিনিয়োগের অর্থ পেয়েছিলেন মা-বাবার কাছে।অনলাইনে বুক বিক্রির প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন আদৌ সফল হবে কি না, তা নিয়ে নিজেই সন্দিহান ছিলেন বেজোস। শঙ্কার কথা মাকে জানিয়ে বলেছিলেন, 'সফলতা আসার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ।'পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে বেজোস জানান, কখনোই ভাবেননি অ্যামাজন এত বড় হবে। অ্যামাজনের সফলতায় সবচেয়ে বেশি অবাক তিনিই হয়েছেন। বর্তমানে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ১৯৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।সূত্র: থাউজেন্ড ইয়ারস অব ক্যারিয়ার অ্যাডভাইস, সিএনবিসিঅনুবাদ: আনিকা জীনাত
1
ফেনী-১ ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত স্বাধীনতার পর থেকে ফেনী-১ আসনে বিএনপি জিতেছে পাঁচবার ১৯৯১-২০০৮ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়েছেন চারবার আসনটির বর্তমান সাংসদ জাসদের (ইনু) শিরীন আখতার আগামী নির্বাচনেও শিরীন আখতার জোটের প্রার্থী হতে চান স্থানীয় আওয়ামী লীগ জোটকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় আর কিছুদিনের মধ্যেই বইতে শুরু করবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এলাকা ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিকল্প কারও নাম শোনা যাচ্ছে না। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে আছেন। এ আসনে বর্তমান সাংসদ হলেন ১৪-দলীয় জোটের শরিক জাসদের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। তিনি আগামী নির্বাচনেও এখানে জোটের প্রার্থী হতে চান। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ জোটকে ছাড়তে নারাজ। দলটির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও আলোচনায় রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে ফেনী-১ আসনে বিএনপি জিতেছে পাঁচবার। এর মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়েছেন চারবার। ২০০১ সালে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই প্রয়াত মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দর। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। এই নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জাসদের শিরীন আখতার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৭৩ সালে ফেনী-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মূসা। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে এখানে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম। আগামী নির্বাচনেও ফেনী-১ আসনে এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়াই ২০-দলীয় জোটের একমাত্র প্রার্থী। তবে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিএনপি যদি এই নির্বাচনে অংশ নেয় এবং খালেদা জিয়া যদি নির্বাচন না করতে পারেন; সে ক্ষেত্রে এ আসনে বিএনপি বা ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী কে হতে পারেন, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে দলীয় নেতা-কর্মীরা এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার বিকল্প কাউকে চিন্তা করছেন না। স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র বলেছে, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের কাউকে প্রার্থী করা হতে পারে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী কে হতে পারেন, তা বলতে পারছেন না কেউ। দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারসন প্রার্থী হতে না পারলে কিংবা বিএনপি ভালো প্রার্থী দিতে না পারলে নির্বাচন কেমন হবে বলা মুশকিল। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ফেনী-২ আসনের সাবেক সাংসদ জয়নাল আবদীন বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে যায়, কেন্দ্র থেকে যাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তিনিই দলীয় প্রার্থী হবেন এবং নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর আহম্মদ মজুমদার, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মজুমদার ও পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেবের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের দাবি, ফেনী-১ আসনে বিএনপির ভোট অনেক বেশি। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। এই নেতারা বলছেন, বর্তমানে অনেক নেতা-কর্মীই মামলা-হামলার ভয়ে এলাকাছাড়া। এখন আবার পুলিশ 'গায়েবি' মামলা দিচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা নতুন করে হয়রানির আশঙ্কা করছেন। এ কারণে বিএনপির পক্ষে প্রচার অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। কোনো কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী বা তাঁদের পক্ষে ব্যানার, পোস্টার সাঁটানো হয়েছে এরই মধ্যে। আবার কেউ কেউ জোটের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। বর্তমান সাংসদ শিরীন আখতার অনেক আগে থেকেই মাঠে আছেন। এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নানা সভা-সমাবেশে যোগদান, নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক, দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিনি। শিরীন আখতার প্রথম আলোকে বলেন, 'এ এলাকা থেকে আগে যাঁরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাঁরা কোনো দিনও এলাকায় মানুষের সুখ-দুঃখের খবর নিতেন না। আমি সারা বছরই এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি।' ক্ষমতাসীন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা শিরীন আখতার মাঠে সক্রিয় থাকলেও আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর পক্ষে তাঁদের সমর্থকেরা প্রচার শুরু করেছেন। ২০০১ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খায়রুল বাশার মজুমদার। পরে তিনি জোটের প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এই দুজন এবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে (নাসিম) প্রার্থী হিসেবে চান স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী। তাঁর বাড়ি ফেনীর পরশুরামে। পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নাসিম এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তাই দলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পেতে চান। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির সভাপতি শেখ আবদুল্লাহ ও ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরীও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০০৮ সালের নির্বাচন মোট ভোটার:৩ লাখ ৪ হাজার ৬৬৪ বিজয়ী প্রার্থী:খালেদা জিয়া (বিএনপি) প্রাপ্ত ভোট:১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী:ফয়েজ আহম্মদ (আ.লীগ) প্রাপ্ত ভোট:৫৮ হাজার ৫৫১। আগামী পর্ব কুমিল্লা-১ আসন নিয়ে
9
রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যেই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মনোনয়ন চাইছেন ১৯ জন। তবে এখন পর্যন্ত প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়নি। এই নির্বাচনী এলাকায় (ঢাকা-৪) ধানের শীষ প্রতীক কে পাচ্ছেন-তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও আলোচনা মূলত তিনজনকে নিয়ে। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা কাটবে না। একসময় বৃহত্তর ডেমরা এলাকা নিয়ে ছিল ঢাকা-৪ আসন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগে এই আসন ভেঙে দুটি আসন করা হয়। এখন শ্যামপুর-কদমতলী এলাকা নিয়ে ঢাকা-৪ আসন। বাকি অংশ নিয়ে ঢাকা-৫ আসন। অবিভক্ত ঢাকা-৪ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির হয়ে নির্বাচন করেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তিন দফা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি দুই দফায় বিজয়ী হন। এরপর আসনটি ভাগ হলে সালাহ উদ্দিন আহমেদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এ সময় ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই। তিনি এবার মুন্সিগঞ্জ থেকে নির্বাচন করতে চান। ফলে ঢাকা-৪ আসনে নতুন প্রার্থী মনোনয়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৪-এর পাশাপাশি ঢাকা-৫ আসন থেকেও দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে তিনি ঢাকা-৫ আসন থেকেই নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি চান ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন পাক তাঁর ছেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবীন। তানভীর আহমেদও ঢাকা-৪ আসনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। ঢাকা-৪ আসনে বাবা-ছেলেসহ ১৯ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামপুর থানা বিএনপির সভাপতি আ ন ম সাইফুল ইসলাম, কদমতলী থানা বিএনপির সভাপতি মীর হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা এম এ মালেক, শ্যামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলিমুল আলী, মহিলা দলের নেত্রী হামিদা বানু, শ্যামপুর থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক কমিশনার মোজাম্মেল হোসেন, কদমতলী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার আবদুর রাশেদ, কদমতলী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল রানা, শ্যামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, শ্যামপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাহবুব, কদমতলী থানা মহিলা দলের সভানেত্রী রাজিয়া সুলতানা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর খান, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন, দনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুম্মন মিয়া ও বৃহত্তর শ্যামপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুর রাজ্জাক। আরেকজন প্রার্থীর নাম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকেই ডামি প্রার্থী রয়েছেন। মূলত তানভীর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ও মীর হোসেনের মধ্যেই প্রার্থিতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আলোচিত এই তিনজনের কেউই আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তাই তাঁদের মধ্যে যে কেউ দলীয় মনোনয়ন পেলে সেটি হবে বিএনপির এই আসনে নতুন মুখ।
9
সিলেট বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ সময়ে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। ৮৩২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে তিনজনের করোনা শনাক্তকরা হয়। শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ।গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক হিমাংশু লাল রায় জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে সিলেট বিভাগে করোনায় কেউ মারা যায়নি।এদিকে ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে মাত্র তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুজন সিলেটের, অপরজন হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।নতুন আক্রান্তদের নিয়ে বিভাগে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৮৯৯ জনে। সিলেট বিভাগের চার জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা এখন ১ হাজার ১৭৭ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৯৮৪ জন, সুনামগঞ্জের ৭৩ জন, মৌলভীবাজারের ৭২ জন এবং হবিগঞ্জ জেলার ৪৮ জন মারা গেছেন।
6
আখাউড়া যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত অ্যাডভোকেট কবির খলিফার বাড়িতে নিজ অর্থায়নে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। আইনমন্ত্রীর এ ধরনের ভালো উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা। আখাউড়া পৌরসভা মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক তাকজিল খলিফা কাজল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আইনমন্ত্রী সব সময়ই সাধারণ মানুষ ও দলের হয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যুবলীগ নেতার মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে তার পুরাতন টিনেরঘরটি নতুন করে নির্মাণ করে দিবেন বলে আমার সাথে কথা হয়। উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন- আহবায়ক আব্দুল মমিন বাবুল জানান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কবির খলিফা শুক্রবার (২৬ জুন) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শনিবার (২৭ জুন) সকালে সদর উপজেরাল বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা গ্রামে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তার নামাজে যানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল তার পরিবারসহ বসবাসকৃত পুরাতন টিনেরঘরটির বিষয়ে মন্ত্রীকে অবগত করলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নিজ অর্থায়নে যুবলীগ নেতার বাড়িতে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যেন তার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। উল্লেখ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবি সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট কবির খলিফা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ৯০ এর গণআন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
6
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ঐতিহাসিক জয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চে ড্র করতে পারলেই নিউজিল্যান্ড থেকে প্রথমবার ইতিহাস গড়ে ফেরার সুযোগ ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সামনে। কিন্তু কিউইরা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিন দিনেই জিতে নিয়েছে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট।লিটন দাসের লড়াকু সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশ আজ হেরেছে ইনিংস ও ১১৭ রানের ব্যবধানে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আওতাধীন সিরিজটি তাই শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়।নিউজিল্যান্ডের 'বদলার' দিনটা কি বেদনারও নয়?ঘাসে ভরা ক্রাইস্টচার্চের ২২ গজে বাংলাদেশ সুবিধা করতে না পারলেও নিউজিল্যান্ডে প্রথমবার সিরিজ ড্রয়ের তৃপ্তি তো আছেই, সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে মূল্যবান ১২ পয়েন্ট বাগিয়ে নিতে পারায় দল নিয়ে গর্বিত মুমিনুল হক।ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, 'প্রথম ম্যাচে আমরা ভালো করলেও এই ম্যাচের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। আমাদের সামনে ছন্দ ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল। দুভার্গ্যবশত আমরা পারিনি। তবে দল নিয়ে আমি গর্বিত।'প্রশান্তির পরশ জাগিয়ে লিটন ফিরতেই শেষ বাংলাদেশমাউন্ট মঙ্গানুইয়ে অধরা জয় ও ইবাদত-লিটনের বীরোচিত পারফরম্যান্স থেকে ইতিবাচক দিক খুঁজে নিলেন মুমিনুল, 'বিদেশে ভালো খেলার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। দ্বিতীয় টেস্ট হারলেও বেশ কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। ইবাদত দুর্দান্ত ছিল। লিটনের ইনিংস দেখে একবারও মনে হয়নি এই (ক্রাইস্টচার্চের) উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন।'
12
নাটোরের লালপুরে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা জোরপূর্বক ভোট কেটে নেওয়ার ঘটনায় ৬৯টি অবৈধ ভোট বাতিল করেছে প্রশাসন। আজ রোববার বেলা সোয়া ১টার দিকে গৌরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সহকারী ব্যবস্থাপক (সম্প্রসারণ) শাহীন উদ্দিন বলেন, আজ বেলা সোয়া ১টার দিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম জয়ের সঙ্গে তাঁর সমর্থকেরা ভোটকেন্দ্রের ৪ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। কোনো কিছু বোঝার আগেই সিল ও স্বাক্ষরবিহীন ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক ভোট কেটে নিয়ে বাক্সে ঢোকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুর রহমানসহ প্রশাসনের লোকজন আসলে তাঁরা পালিয়ে যান। এখন সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ব্যালট পেপারে সিল ও স্বাক্ষর না থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ঘটনায় ৬৯টি ভোট বাতিল করা হয়েছে।লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুর রহমান বলেন, নৌকার সমর্থকেরা জোরপূর্বক ভোট কেটে নেওয়ার চেষ্টা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
6
'ডেঙ্গু জ্বর' শব্দটি আজ আমাদের জীবনে একটি আতঙ্কের সমার্থক হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এডিস মশার কামড়ে হওয়া এই জ্বর মহামারি আকারে আজ জনজীবনে ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত এক দশকে এই মশার এমন বিস্তার ঘটেছে যে প্রায় বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা এই রোগের বিপৎসীমায় রয়েছে। একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী এডিস মশা একবারে প্রায় ১০০টি ডিম পাড়ে এবং পূর্ণ জীবদ্দশায় পাঁচবার ডিম পাড়তে পারে। সুতরাং এর বিস্তারের মাত্রা যে কত ভয়াবহ, তা সহজেই অনুমান করা যায়। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যখন প্রথম এই মশার অস্তিত্ব আমাদের দেশে পরিলক্ষিত হয়, তখন ঢাকা সিটি করপোরেশন খুব স্বল্প পরিসরে কিছু প্রকল্প হাতে নেয়। তখন কর্তৃপক্ষ এর ভয়াবহতা সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে পারেনি। তাই পরবর্তী সময়ে সাময়িকভাবে এই সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছে। মানে যখন এই মশার উৎপাত বেড়েছে, তখনই শুধু এই মশা দমনের চেষ্টা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অদক্ষ জনবল দিয়ে কীটনাশক স্প্রে করা, ফগার মেশিন প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করা। যাঁরা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাঁদের নেই কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, নেই কোনো মশার ওপর জ্ঞান। তাঁরা সঠিকভাবে জানেন না কোথায় কোন প্রজাতির মশা রয়েছে। যেমন এডিস না কিউলেক্স প্রভৃতি, নির্দিষ্ট স্থানে লার্ভার ঘনত্ব কী রকম, কোন মশার জন্য কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় আর কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা কতটুকু। সে কারণে তাঁরা নিজ ইচ্ছেমতো অত্যুৎসাহী হয়ে কীটনাশকের মাত্রা বাড়িয়ে মশা দমনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের ফল বিপরীত হতে পারে। কারণ, মশারা অতিরিক্ত প্রতিকূল পরিবেশ থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য পি-৪৫০ জিনকে ব্যবহার করে নিজের শরীরতত্ত্বীয় (ফিজিওলজিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্ট) পরিবর্তন এনে প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তখন আর আগের ব্যবহৃত কীটনাশক দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। সাম্প্রতিক কালে আইসিডিডিআরবি এডিস ও কিউলেক্স মশার ডিম সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখেছে যে ঢাকায় বিগত ১০ বছরে যেসব কীটনাশক মশা দমনে ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে মশারা প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে। যার অর্থ এই দাঁড়ায়, এসব প্রচলিত কীটনাশক দিয়ে আর ওই মশা দমন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পাবলিক হেলথ পেস্টিসাইড কর্তৃক অনুমোদনকৃত ৭৩টি কীটনাশক রয়েছে, যার মধ্যে ৬৮টি মশা দমনে ব্যবহার করা হয়। এই ৬৮টি কীটনাশকের প্রতিটির রেকমেন্ডেড ডোজ রয়েছে। অনুমোদিত ডোজের অতিরিক্ত প্রয়োগ করলে মশারা যেমন কীটনাশক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, তেমনি তা পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন পারমেথ্রিন নামক বহুল প্রচলিত যে পাইরিথ্রয়েড কীটনাশক আমরা অ্যাডালটিসাইড (পূর্ণ বয়স্ক) মশা দমনের জন্য ব্যবহার করি, সেটা যে শুধু টার্গেটেড (মশা) প্রজাতি ছাড়াও অন্যান্য নন-টার্গেটেডের (যেমন কেঁচো ও অন্যান্য উপকারী অণুজীব) মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তা ছাড়া ইউএলভি ফগ মেশিনে এসব পাইরিথ্রয়েডের মাত্রাতিরিক্ত (১ থেকে ৪ আউন্স/গ্যালন) ব্যবহারের ফলে বায়ুদূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান সময়ে টেমফোস কীটনাশকটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত একটি মশার ওষুধ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটির প্রয়োগের মাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা কিনা প্রতি লিটারে এক মিলিলিটারের বেশি নয়। এই মাত্রার থেকে বেশি প্রয়োগ করলে সেটা মানুষ ও জলজ পরিবেশ-উভয়ের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কীটনাশকটি অতিমাত্রায় পানিতে দ্রবীভূত হয় এবং তার ফলে এটি মশা ছাড়াও অন্যান্য উপকারী প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে এবং এই পানি যদি আমাদের ভূগর্ভস্থ সঞ্চিত পানির সঙ্গে মিশে যায় এবং যদি এর পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয় (শূন্য দশমিক ১৫ মাইক্রোগ্রাম/লিটারপ্রতি ৪৮ ঘণ্টায়), তবে তা আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। যেমন ভার্টিগো, রেসপিরেটরি ফেলিউর, অ্যাবডোমিনাল ক্র্যাম্প প্রভৃতি। আমাদের আবহাওয়া, জীবনযাত্রার মান এসব পর্যালোচনা করলে বলা যায় যে মশা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং এসব মশাবাহিত ব্যাধি থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সেখানে মশার ওপর গবেষণা পরিচালনা করার জন্য একটি সেল থাকবে, এই সেলের অধীনে গবেষণা পরিচালনা করবেন এন্টোমলজিস্ট, কেমিস্ট, এনভায়রনমেন্টাল জিওকেমিস্ট, মলিকুলার বায়োলজিস্ট প্রভৃতি বিজ্ঞানীরা। মশা দমনের জন্য কীটনাশক ব্যবহার থেকেও বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল করা পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী। পূর্ণবয়স্ক মশা দমনের চেয়ে লার্ভা দমন অধিক কার্যকরী। স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিকের মাধ্যমে গামা রশ্মি দিয়ে মশা বন্ধ্যত্বকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। আরও রয়েছে ওলবাকিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া মশার শরীরে ঢুকিয়ে দিলে ওই মশার শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মশা তখন আর ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়াতে পারে না। এ ছাড়া লার্ভা ধ্বংসের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের মশকভুক মাছ, যেমন গ্যাম্বুসিয়া চাষ করা যেতে পারে। এসব পদ্ধতি গ্রহণ করা ছাড়াও আমাদের সরকারের উচিত একটি 'মশা নিয়ন্ত্রণ সেল' গঠন করা। এর মাধ্যমে সারা বছর মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ইত্যাদি থেকে মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষিত (তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ) মাঠকর্মী প্রতিটি গ্রামে, ওয়ার্ডে গিয়ে ১৫ দিন অন্তর নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে প্রেরণ করবেন এবং এ গবেষণাগারের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি 'সেন্ট্রাল ডেটাবেইস (তথ্যভান্ডার) ম্যানেজমেন্ট' থাকবে এবং এই তথ্যভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে মশা নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং করা হবে। এই তথ্যভান্ডারে মাঠপর্যায় থেকে সব সময় তথ্য সংগ্রহ করে আপডেট করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে স্কুল, কলেজ, ওয়ার্ড প্রভৃতি স্থানে। এই মশা নিয়ন্ত্রণ সেল বিশ্বের উন্নত মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগুলোতে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তা বাংলাদেশে প্রয়োগ করবে। আসলে এত সব পরিকল্পনা গ্রহণ অনেক কঠিন, সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ মনে হলেও এসব ছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভবপর নয়। এস বিপুলেন্দু বসাক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়য়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক
8
জয়পুরহাট থেকে নিখোঁজ হওয়ার নয় বছর পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে স্ত্রী আফরোজা বেগমকে (৫৫) খুঁজে পেলেন স্বামী লুৎফর রহমান। গতকাল সোমবার সকালে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হকের সহযোগিতায় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এ সময় লুৎফর রহমানের মেয়ের জামাই মানিক মিয়া সঙ্গে ছিলেন। লুৎফর রহমানের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কলিন্দরপুর গ্রামে।লুৎফর রহমান জানান, ২৫ বছর আগে সন্তান হওয়ার পর হঠাৎ তাঁর স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। অতিরিক্ত কথা বলা, এলোমেলো কাজকর্মসহ অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। আর্থিক অনটনের পরও নিজের ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় কবিরাজি ও ডাক্তারি চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু তাতেও ভালো হননি। নয় বছর আগে আফরোজা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের ধারণা ছিল আফরোজা বেগম হয়তো মারা গেছেন।কিন্তু গত রোববার এক ইউপি সদস্য জানান, আফরোজা বেগমকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় পাওয়া গেছে। পরে পাঁচবিবি থানায় গেলে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখানো হলে লুৎফর রহমান নিশ্চিত হন যে ওই নারীই তাঁর হারিয়ে যাওয়া স্ত্রী। পরে লুৎফর রহমান, তাঁর মেয়ের জামাই ও শ্যালকের বউকে নিয়ে রোববার সকালে মির্জাপুর এসে পৌঁছান।ওসি শেখ রিজাউল হক বলেন, স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের 'মানবতায় আমরা' কয়েকজন সদস্য রোববার সকালে অসুস্থ ওই বৃদ্ধাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে ঠিকানা জানতে চাইলে সে জানায়, তাঁর বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলায়। পরে পাঁচবিবি থানায় অসুস্থ আফরোজা বেগমের নাম ঠিকানা ও ছবি পাঠানো হলে তারা তাঁর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঠিকানা নিশ্চিত করে।সংগঠনের সদস্য সুকান্ত সরকার বলেন, রোববার সকালে তিনি মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এক বৃদ্ধাকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানের নজরে আসে। তিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামকে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তা পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য থানায় নিয়ে যেতে বলেন।
6
ময়মনসিংহে আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি উদ্বোধন করবেন মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামের নিচতলায় বঙ্গবন্ধু গ্যালারি পরিদর্শন করেন মেয়র।মসিক সূত্র জানায়, মসিক মেয়রের নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র, চিঠিপত্র, বাণীসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নান্দনিক উপস্থাপনের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি।এ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সচিব রাজীব কুমার সরকার, প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচকে দেবনাথ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে সোমবার সকালে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ার দুর্ঘটনায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ লঞ্চের সঙ্গে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ডের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। মর্নিং বার্ড লঞ্চে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। লঞ্চ দুর্ঘটনার সময় সদরঘাটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ময়ূর-২ লঞ্চটি সদরঘাটে নোঙর করা ছিল। সকালে মুন্সিগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ মর্নিং বার্ড সদরঘাটে আসে। মর্নিং বার্ড যখন ময়ূর-২ লঞ্চকে ক্রস করছিল তখন পেছন দিক দিয়ে সেটি মর্নিং বার্ডকে জোরে ধাক্কা দেয়। ওই ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় মার্নিং বার্ড। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, যাত্রীদের মধ্যে যারা ভেতরে ছিলেন তারা বের হতে পারেননি। কিছু যাত্রী যারা বাইরে ছিলেন তারা সাঁতরে তীরে উঠেন। নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা বের হতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে।
6
শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে এবং চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাঁরা বিদ্রোহ করছেন এবং বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছেন, তাঁদের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।বুধবার টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর সমাধিতে যাওয়ার সময় নবগঠিত দল বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দের ওপর হামলার ঘটনাককে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে বলেন, এই হামলার ব্যাপারে তদন্ত চলছে।।বিএনপির নেতারা বলেছেন, সরকার নাকি গণতন্ত্রকে বিলীন করে ফেলছে-এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে আপনারা কোন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন?গণতন্ত্রের সম্মুখযাত্রায় পদে পদে যারা বাধা তৈরি করে, তারাই আবার মায়াকান্না কাঁদছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রের নামে যারা নির্বাচনবিমুখ, যারা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী নয়, যারা ক্ষমতায় থাকাকালে ভোটারবিহীন নির্বাচন করে এবং সোয়া এক কোটি ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করে, তারাই আবার গণতন্ত্রের কথা বলে!আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চেয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কেন আপনি সংসদে গেলেন না? জনমতকে অসম্মান কে দেখাল-সরকার, না আপনারা?বিএনপি নিশ্চিত হয়েছে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবে না, সে জন্য তারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় এমন দাবি করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি উসকানি দিয়ে নানা ঘটনা ঘটিয়ে সরকারের ওপর দায় চাপাতে চায়। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রতিটি অঘটনের সঙ্গে বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক দোসররা জড়িত।বিএনপিই শীর্ষ পর্যায় থেকে হত্যা-সন্ত্রাসের মদদ দেয়, আওয়ামী লীগ নয়-দাবি ওবায়দুল কাদেরের।বিএনপির রাজনীতি অস্থিরতাপূর্ণ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এ অস্থিরতা ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার অস্থিরতা, এ অস্থিরতার কারণে বিএনপি ক্রমশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।
9
আওয়ামী লীগ ইনডেমনিটির পথে হাঁটে না বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, 'ইনডেমনিটি কথা শুনলেই আওয়ামী লীগের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। বিএনপি ইনডেমনিটি দিয়ে আমাদের রক্তক্ষরণ করিয়েছে। এই আইনে লিগ্যাল কাভারেজ দেওয়া হয়েছে। এই আইনের মধ্যে কেউ অন্যায় করে থাকলে তাকে প্রোটেকশন দেওয়া হয়নি।'আজ বৃহস্পতিবার সংসদে পাস হওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার কথা স্বীকার ও খুনিদের পুনর্বাসিত করার বিষয়টি স্বীকার করে জনগণের কাছে মাফ চাইলে আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে ঐকমত্যে আসবে।সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত আগের দুই কমিশনকে হেফাজত প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ইনডেমনিটি আর লিগ্যাল কাভারেজ এক কথা নয়। ইনডেমনিটি হচ্ছে অন্যায় করার পরে তাকে প্রোটেকশন দেওয়ার জন্য আইন করা। লিগ্যাল কাভারেজ হচ্ছে যেকোনো বৈধ কাজ যেটার লিগ্যাল কাভারেজ ছিল না সেটা তার আওতায় আনা। ইনডেমনিটি কথা শুনলেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। ইনডেমনিটি আওয়ামী লীগ দেয় না, এটা বিএনপি দেয়। তারা ইনডেমনিটি দিয়ে আমাদের রক্তক্ষরণ করিয়েছে।আনিসুল হক বলেন, 'জাতির পিতার হত্যার বিচার করতে ২১ বছর আমাদের অপেক্ষা করিয়েছে। ইনডেমনিটির কথা আর আমাদের কাছে শোনাতে আসবেন না। আমরা ওই পথে হাঁটি না। এই আইনে লিগ্যাল কাভারেজ দেওয়া হয়েছে। ২০১২ সালে যে কাজটা করা হয়েছে সেটা থেকে শুরু করে সেটার লিগ্যাল কাভারেজ। এই আইনের মধ্যে কেউ অন্যায় করে থাকলে তাকে প্রোটেকশন দেওয়া হয়নি। সেই কারণে তাদের যেসব প্রস্তাব গ্রহণ করা যায় না। তাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করব। না হলে সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব এসব প্রস্তাব ভোটে হারিয়ে দেওয়ার জন্য।'বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই-বাছাই ও সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, খসড়া আইনটি 'তড়িঘড়ি করে' আনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, 'আমি বলেছি এটা তড়িঘড়ি করে করার আইন নয়, এটা সত্য। বর্তমান কমিশনের মেয়াদের মধ্যে আইন করা সম্ভব নয় এটাও বলেছি। কারণ, আমি বলেছিলাম করোনার সময় যে সীমিত সময়ের জন্য সংসদ বসে, এর মধ্যে এই আইন পাস করা কঠিন হবে। সংসদকে শ্রদ্ধা জানিয়েই এটা বলেছিলাম।'মন্ত্রী বলেন, 'সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের একটি প্রতিনিধি দল আমার কাছে গিয়ে আইনের একটি খসড়া দিয়ে পাসের প্রস্তাব করেন। আমি আইনটি পাস করার জন্য সময় লাগবে বলে তাদের জানাই। তারা অরডিন্যান্স করে এটা করার প্রস্তাবও দেন। আমি বললাম সংসদকে পাস কাটিয়ে এই আইন করব না। সংসদে নেওয়া ছাড়া এ আইন আমরা করব না।'আইনমন্ত্রী বলেন, 'আমরা তড়িঘড়ি করিনি। এ আইনের কথা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ হয়, তখনই এই আইনের বিষয়ে কথা হয়েছিল। তখনই প্রধানমন্ত্রী এই আইনটি করার জন্য বলেছিলেন।'আইনে সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ইসি গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়ে ২০১২ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়েছিল। তখন থেকেই এই সার্চ কমিটির ধারণা এসেছে। এটা কল্পনা থেকেও আসেনি, আকাশ থেকেও পড়েনি। এটা তো নতুন আবিষ্কার নয়। সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত দুই কমিশন হয়েছে। যার কারণে এটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ফলে জনমত যাচাই তো দশ বছর ধরে হয়ে গেছে। বিষয়টি হলো তালগাছটি না পেলে অনেক অভিযোগ থাকে।আনিসুল হক বলেন, 'দুজন বিশিষ্ট নাগরিক কারা হবে সেটা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমরা তো আইনে কোথাও বলিনি যে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে তাদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না। বিশিষ্ট নাগরিকের ক্রাইটেরিয়া তো বলে দেওয়া হয়নি। আমরা কেবল রাষ্ট্রপতিকে এই সুযোগটি দিয়েছি।'বিএনপির সংসদ সদস্যদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'উনারা তো তালগাছ চান। উনারা কিছুই মানেন না, যতক্ষণ তালগাছটা উনাদের না হয়। উনারা আদালতের রায়ও মানেন না। উনাদের কথা হলো, যেটা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী করেছেন, সেটা ভালো। কিন্তু যুদ্ধ করে জাতির পিতা যেটা করে দিয়েছেন সেটা ভালো না।'বিএনপি এমপিদের ঐকমত্যের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঐকমত্য করতে হলে উনাদের সত্যকে স্বীকার করতে হবে। আর সত্যটি হচ্ছে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উনারা ইনডেমনিটি অরডিন্যান্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে দেননি। খুনিদের পুনর্বাসিত করেছেন। এসব সত্য মেনে জনগণের কাছে মাফ চাইলে আমরা ঐকমত্যে আসব।এর আগে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তারা একটি অস্বাভাবিক সরকার আনতে চায়। তাদের এমপিরা (সংসদ সদস্য) এখানে সংশোধনী প্রস্তাব দিলেও বিএনপি নেতারা এরই মধ্যে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগেই ক্ষমতা নিশ্চিত করা তাদের উদ্দেশ্য।ইনু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অনেক ফাঁক ছিল। এর মধ্য দিয়ে ইয়াজউদ্দীনকে ক্ষমতায় এনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছুতোয় বিএনপি একটি অস্বাভাবিক সরকার গঠন করতে চায়।ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এর আগে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, আইনটি করার জন্য সময় প্রয়োজন। এই আইনটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।মেনন বলেন, বিএনপি আইন নয় সরকারের উৎখাত চায়। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে লাভ নেই।
6
প্রাথমিকে পড়ার সময় থেকে শুরু করে ১২ বছর বাদাম বিক্রি করছেন। বাদাম বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন পড়ালেখা। এভাবে করেছেন এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক (বিএ) পাস। এরপর টিউশনি করে স্নাতকোত্তর (এমএ) পাসও করেছেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় মেলেনি কোনো চাকরি। এখন শুঁটকি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চলে তাঁর।এমন করুণ গল্প মো. কবির হোসেনের (৩২)। তিনি মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সাতানী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। জন্মের পর থেকেই তাঁর দুই হাত বিকলাঙ্গ।কবির হোসেন বলেন, '২০০২ সাল থেকে বাদাম বিক্রি করে বলড়া মুন্নু আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ও আদর্শ মহাবিদ্যালয় খাবাশপুর থেকে ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করি। পরে আদর্শ মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে বিএ পাস করি। ২০১৬ সালে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ থেকে দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাসও করি।'কবির বলেন, 'লেখাপড়া শেষ করে সরকারি-বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি টিউশনি করে সংসার চালাই। একাধিক চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিলেও চাকরি পাইনি। ২০১৪ সালে শিউলি বেগমকে বিয়ে করি। আমার এক ছেলে ও মেয়ে আছে।'কবির হোসেন বলেন, '২০২০ সালে করোনায় টিউশনির আয় বন্ধ হয়ে গেলে ভাড়ারিয়া বাজারে শুঁটকি মাছ বিক্রি শুরু করি। তবে পুঁজি কম থাকায় শুঁটকি বিক্রি করে আয়ও কম হয়। সমাজের কোনো বিত্তবান যদি আমার শুঁটকি ব্যবসায় সহায়তা করতেন অথবা আমাকে যদি কেউ চাকরি দিতেন, স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালো থাকতে পারতাম।'ভাড়ারিয়া বাজারের মামুন লাইব্রেরির কর্ণধার জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'বাজারের বিভিন্ন জায়গায় বসে শুঁটকি বিক্রি করে সংসার চালায় কবির। ছেলেটা পরিশ্রমী। প্রতিবন্ধী হলেও ওই হাত দিয়েই কাজ করে সে।'ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ পান্নু মিয়া বলেন, পরিষদ থেকে কবির হোসেনকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
6
চৈত্র মাসের শুরুতে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন হাজারো রোগী আসছেন আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে। ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে কী করা জরুরি তা অনেকেই জানেন না। বিষয়টি নিয়ে আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। এসব পরামর্শ আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো- সবসময় জীবাণুমুক্ত পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান চিকিৎসকরা বলেছেন, ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে জীবাণুমুক্ত পানি ও খাবার খাওয়া অপরিহার্য। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যারা ফুটিয়ে পানি খাই না। অথচ চিকিৎসকরা একে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে বলেছেন। কেননা পানি ফুটিয়ে না খেলে তাতে ডায়রিয়ার জীবাণু দেহে প্রবেশ করতে পারে। আর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে ডায়রিয়ার চলমান প্রকোপ থেকে বেঁচে থাকা যাবে। একইসঙ্গে রাস্তায় ধূলিকণাযুক্ত ও রাসায়নিক বস্তুমিশ্রিত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুকে ফিডার খাওয়ানোর সময় ফিডার ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। খাওয়ার আগে হাত ধৌত করুন ডায়রিয়া থেকে বাঁচার জন্য খাবার খাওয়ার আগে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ভালোভাবে ধৌত করতে হবে। এতে হাতে থাকা জীবাণু ঝরে পড়বে এবং খাওয়ার সময় দেহে প্রবেশ করবে না। বিশেষ করে শিশুকে ফিডার খাওয়ানোর সময় ফিডারের নিপলের ছিদ্রটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। পচা, বাসি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে তৈরি খাবার পরিহার করুন চিকিৎসকরা বলেন, ডায়রিয়া হওয়ার মূল কারণই হলো- পচা, বাসি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে তৈরি খাবার আহার করা। একটানা দীর্ঘদিন যদি কেউ এভাবে আহার করতে থাকে তাহরে সে নির্ঘাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হবে। কেননা এসব খাবারে বিভিন্ন রোগজীবাণু থাকে। এগুলো আমাদের পেটে গিয়ে উপর্যুপরি স্বাস্থ্যহানি ঘটায় এবং ডায়রিয়া রোগের সৃষ্টি করে।
4
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকে যুক্ত হলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। সিনেমাটিতে টিক্কা খানের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাকে। এতে প্রতীকী হিসেবে মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিকে অভিনয় করবেন তিনি। আজ সোমবার বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন জায়েদ খান। এদিন রাজধানীতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) সিনেমাটির ডিরেক্টর অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স ঈশান রাজা বাঙ্গালীর উপস্থিতিতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় 'বঙ্গবন্ধু' নির্মাণ করছেন বলিউডের পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। এতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ, শেখ হাসিনার একটি চরিত্রে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশাসহ শতাধিক অভিনয়শিল্পী অভিনয় করছেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে মুম্বাইয়ের দাদা সাহেব ফালকে স্টুডিওতে সিনেমাটির প্রথম ধাপের শুটিং শুরু হয় এবং তা চলে এপ্রিল পর্যন্ত। চলতি সপ্তাহে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ অংশের শুটিং। মার্চে সিনেমাটি মুক্তির কথা থাকলেও করোনার কারণে শুটিং শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই ২০২২ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সিনেমাটি মুক্তি পেতে পারে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
2
'করোনাভাইরাস' আক্রান্ত সন্দেহে রায়হান আহমেদ (২৮) নামে চীন ফেরত এক মেডিকেল শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চলছে তোলপাড়। চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগি ও স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। পুলিশ প্রহরায় বিশেষ ওয়ার্ডে রেখে করা হচ্ছে পর্যবেক্ষন। রায়হান আহমেদ হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার আব্দুন নূরের ছেলে। তিনি চীনে মেডিকেল ইন্টার্নি কোর্স করতে গিয়েছিলেন। এদিকে, বিষয়টি নজরে আসে পুলিশ প্রশাসনের। সন্ধ্যার পর হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ রায়হান আহমেদকে বাসা থেকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে তাকে পর্যবেক্ষনে রাখার জন্য পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালের বিশেষ (করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের জন্য খোলা) ওয়ার্ডে রাখা হয়। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'রায়হান আহমেদকে সদর হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পরীক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত কি-না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তার রক্ত ঢাকায় পাঠানো হবে।' তিনি বলেন, 'যেহেতু তাকে আশকোণা হজ্ব ক্যাম্পে দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেহেতু তার শরীরে করোনা ভাইরাস থাকার আশঙ্কা নেই।' বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
4
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে এক যুবককে গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে আজকে নির্যাতনের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি সাংবাদিকদের দৃষ্টিগোচর হয়। এদিকে, নির্যাতনে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রেমিক ছেলেটি সিরাজদিখান ইছাপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার দুই পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত শনিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাইফুলকে ডেকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক গাছের সাথে বেঁধে মানুষের সামনে দুই ঘণ্টাব্যাপী অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। পরে এলাকাবাসী সিরাজদিখান থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে সাইফুল ইসলাম রাজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত সাইফুল ইসলাম রাজনের নানা জজ মিয়া বলেন, আমার নাতির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত খারাপ। আমরা তাকে বাঁচানোর জন্য ঢাকায় হাসপাতালে নিয়ে যাব। তারা আমার নাতিকে পরিকল্পিতভাবে ফোন করে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অমানবিকভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। তার দুটি পা ভেঙে দিয়েছে। মাথায় আঘাত করে দুই স্থানে বড় বড় গর্ত করেছে। এছাড়া লাঠিসোঁটা দিয়ে শরীরে আঘাত করা হয়েছে। দুদিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আমার নাতি। তিনি আরও বলেন, সাবেক মেম্বার ও আলমগীরের নেতৃত্বে তার ভাই-ভাতিজারা মিলে আমার নাতিকে হাত-পা বেঁধে আসর নামাজ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেরেছে। জানি না আমার নাতির ভাগ্যে কী আছে? আমি এর সঠিক বিচার চাই। অভিযুক্ত মো. আলমগীর বলেন, গত দুই মাস আগে আমার ভাতিজিকে অপহরণ করছে। পরে পুলিশ গিয়ে আমার ভাতিজিকে উদ্ধার করে আনছে। আর ছেলেকে আমরা জেলে দিয়ে দিছি। হাইকোর্ট থেকে জামিনে এসেছে এক সপ্তাহ আগে। এসেই আমাদের হুমকি দিয়েছে। পরে শুক্রবার খোঁজখবর নিয়ে দেখেছে আমাদের বাড়িতে লোকজন কম আছে। এই সুযোগে লোকজন নিয়ে ভাতিজিকে তুলে নিতে আসে। তখন আত্মীয়স্বজনরা ধরে তাকে গণধোলাই দিয়েছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) আজগর হোসেন জানান, প্রেম-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এক যুবককে মারধর করা হয়েছে।এ ঘটনায় ওই যুবকের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে সিরাজদিখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের ধরতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
কক্সবাজারের উখিয়ায় সিএনজি অটোরিকশা ও ডাম্পারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সংলগ্ন টিভি টাওয়ার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে নিহতদের মধ্যে দুজন ডাম্পার ও সিএনজির চালক। উখিয়াস্থ শাহপুরী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ শেফায়েতুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার শিকার সিএনজি (কক্সবাজার-থ নং ১১-৫৩২৯) কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে মিনিট্রাকটি টেকনাফমুখী ছিল। নিহতদের লাশ উদ্ধার ও আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সন্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, ট্রাকটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছিল। অপরপ্রান্তের সিএনজিটি রাস্তা ঢালু হওয়ার কারণে এবং অন্ধকার থাকায় ট্রাকের মুখোমুখি পড়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি ও ডাম্পার দুমড়ে মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীবসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
6
ছুটিতে সমুদ্রভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক। সি-বোটে ফুটবল নিয়ে জাগলিং করতে গিয়ে হঠাৎ গোলিয়াথ মাছের ওপর পড়ে যান তিনি। দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা এই চেলসি মিডফিল্ডারকে নিয়ে।মৌসুম বিরতিতে নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অবকাশ যাপন করছেন পুলিসিক। শনিবার সি-বোটে সমুদ্রভ্রমণে বের হয়েছিলেন । সেখানেই বল নিয়ে জাগলিং করছিলেন তিনি। হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে বিলুপ্তপ্রায় গোলিয়াথ মাছের ওপরে পড়ে যান এই চেলসি মিডফিল্ডার। দৃশ্যটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বেশ আলোচনা হয়। ব্লু প্ল্যানেট সোসাইটি কাল টুইটারে জানিয়েছে, গোলিয়াথের মতো বিলুপ্তপ্রায় মাছের ওপর নির্যাতন করার কোনো দরকার ছিল!গোলিয়াথ প্রজাতির মাছ সাধারণত লবণাক্ত পানিতে থাকে। এই মাছ আমেরিকার পূর্ব উপকূল, ক্যারিবিয়ান উপকূলে বেশি পাওয়া যায়। এই প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়। এই মাছের প্রজননক্ষমতাও মন্থর। আমেরিকায় ১৯৯০ থেকে এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ১৯৯৩ থেকে এই মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
12
চতুর্থবারের মতো স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ হতে যাচ্ছেন নর্থ হ্যামশায়ারের রিপাবলিকান আবুল খান। পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান বলেন, এমন একটি এলাকায় (রকিংহাম-২০) বাস করছি, যেখানে বাঙালির লেশমাত্র নেই। ইন্ডিয়ান কিংবা দক্ষিণ এশিয়ানেরও পরশ পাই না। শ্বেতাঙ্গ এবং আদি আমেরিকানের সংখ্যাই বেশি। বিবর্ণ হলেও তাদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। তারা আমাকে নিজের মানুষ ভাবেন এবং ভরসা রাখেন আমার ওপর। এটিই হচ্ছে গোপন তথ্য আমার নির্বাচনে জয়ের। তিনি বলেন, ২০১২ সালে প্রথম বিজয় দেন এলাকাবাসী। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হইনি। তবে ২০১৬ এবং ২০১৮ সালেও লড়েছি। জয় ছিনিয়ে এনে দায়িত্ব পালন করছি। নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে রয়েছি বলে এবারও সবার অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি নিশ্চয়ই জয় দেবেন ভোটারেরা। করোনাকালে আমি সপরিবারে আক্রান্ত হয়েছিলাম। সবার দোয়ায় রক্ষা পেয়েছি। এবা জয়ী হলে নিজ এলাকার জন্য আরও বেশি উন্নয়ন ঘটাব, যাতে পরবর্তীতে স্টেটের গণ্ডি পেড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আসন গাড়তে পারি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
4
হাটহাজারীতে হেফাজতের সহিংস তান্ডব-নাশকতায় উস্কানি এবং ইন্ধনের অভিযোগে গ্রেফতার চট্টগ্রামের সাবেক এমপি ও জামায়াত ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। শনিবার (১৫ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইকবালের আদালত পুলিশের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে শনিবার (১৫ মে) ভোরে সাতকানিয়া পৌরসভার ছমদর পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে জামায়াত নেতা শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের মজলিশে সূরার সদস্য। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আবদুল্লাহ আল মাসুম ভোরের কাগজকে বলেন, হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের নাশকতার সাথে শাহজাহান চৌধুরীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। সাতকানিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হাটহাজারীতে নাশকতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা গ্রেফতার দেখানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দেন। গ্রেফতার হওয়া শাহজাহান চৌধুরী সাতকানিয়া আসনের সাবেক এমপি ছিলেন। সন্ত্রাসী গ্রুপকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জামায়াতের সাবেক এ এমপি'র বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টি মামলা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির সফরকে ঘিরে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এসময় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
6
এই টেস্টের আগে আমরা অত ভালো করছিলাম না। টেস্ট, টি-টোয়েন্টি-কোনো জায়গাতেই ভালো করছিলাম না। এর একটা কারণ ছিল যে আমাদের একই খেলোয়াড়েরা ঘুরেফিরে সব জায়গায় খেলে। এখানে কিছু কিছু জায়গায় বদল আসছে। শুধু ইতিবাচক হয়েই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারি।আমাদের ২০২২ সালের শুরুটা সুন্দর হলো। কিন্তু পেছনে যে ম্যাচগুলোয় খারাপ খেলেছিলাম, সেগুলো যেন আমরা ভুলে না যাই। সেই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না করি। ওটা থেকে যদি আমরা শিক্ষা নিই, তবে সামনে আরও ভালো করতে পারব। আমরা সব সময় ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলি, অতীতের ভুল নিয়ে বলি না।নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারানো, তারা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল-এটা দারুণ ব্যাপার। কিন্তু ম্যাচটা এখন শেষ। এখন আরেকটা ম্যাচের জন্য তৈরি হতে হবে। আমার মনে হয়, এই আত্মবিশ্বাসটা আমাদের পরবর্তী ম্যাচে সহায়তা করবে। সে সঙ্গে সম্পূরকভাবে বলা যায়, আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এই সিরিজে খেলতে যায়নি। এখন নতুন খেলোয়াড়েরা শিখেছে কীভাবে বড় দলগুলোকে হারানো যায়। এই অভ্যাসটা যেন ধরে রাখতে পারি। এটা কিন্তু খুবই ইতিবাচক ব্যাপার যে এই টেস্টের প্রতিটা সেশন আমরা জিতেছি। তবে এটাও ঠিক যে এ ধরনের টেস্ট ম্যাচ আমরা অনেক দিন খেলি না। আমরা কি হঠাৎ করে ভালো খেললাম নাকি এটাই নিয়মিত ঘটবে, সেটা পরের ম্যাচ দিয়ে বোঝা যাবে। তবে এই টেস্টে আমরা দারুণভাবে দাপট দেখিয়েছি। এর পেছনে আমার মনে হয়েছে, খেলোয়াড়েরা খুবই নির্ভার ছিল।আর দুটো টার্নিং পয়েন্টের কথা বলা যায়, লিটন দাস-মুমিনুলের জুটি আর ইবাদতের দ্বিতীয় ইনিংসের বিধ্বংসী বোলিং। এই দুটি পয়েন্ট বাদ দিলে টেস্ট ম্যাচটা কিন্তু সমানে সমান ছিল। এই দুটো বিষয় বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এ টেস্টের আগেও বলেছি, আমাদের জেতালে ফাস্ট বোলাররাই জেতাবে। মনে হয়েছে, ইবাদত, খালেদ, রাহি কিংবা তাসকিন-ফাস্ট বোলারদের যে বয়সে পরিপক্বতা আসে, সেখানে তারা অবস্থান করছে। আমার মনে হয়েছিল, এটা তাদের দিয়ে হবে। আরেকটা বিষয় আমার যেটা ভালো লেগেছে, নির্বাচক কমিটি যেভাবে এই তরুণ দলটির ওপর আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে। এটা নির্বাচকদের জন্য বড় পাওয়া যে তারা বেশির ভাগ সময় সঠিক ছিল-এটা তারা প্রমাণ করেছে। আর একটা অনুরোধ থাকবে, নির্বাচক প্যানেলে কী হয় সেটা যেন পরিষ্কার করা হয়। অর্থাৎ নির্বাচকেরা কতটা স্বাধীনভাবে নির্বাচন করে আর টিম ম্যানেজমেন্ট কতটা নির্বাচন করে কিংবা বাইরের লোকেরা কতটা যুক্ত থাকে-এসবে যেন স্বচ্ছতা থাকে। বাইরের লোক বলতে বোঝাচ্ছি, বোর্ড সভাপতিসহ কেউ কেউ এতে যুক্ত থাকেন। তবু নির্বাচকদের জন্য এটা বড় সাফল্য বলব।আরেকটা বিষয় মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ জাতীয় দলের পারফরম্যান্স কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো নয়। সেই পার্থক্যটা রয়েই গেছে। একটা ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে বলতে পারেন না যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট ভালো কিংবা আমাদের আম্পায়ারিংয়ের মান ভালো হয়ে গেছে। এই পার্থক্যগুলো দ্রুত দূর করা উচিত। পাশাপাশি পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাও থাকা উচিত।আগেই বলেছি, এই টেস্ট শেষ। এই টেস্টে আমরা সফল হয়েছি। দুই সপ্তাহ, তিন সপ্তাহ আগেও আমরা কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৭ রানে অলআউট হয়েছি, এটাও সত্য। এখন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যেন এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি।আমিনুল ইসলাম বুলবুল: সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ
6
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে ঘরের মাঠে স্থগিত হয়েছে পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (পিএসএল)। টুর্নামেন্টের বাকি অংশ আয়োজন করা হচ্ছে আরব আমিরাতে। কিন্তু এ নিয়ে একের পর এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। নানা জটিলতার কারণে এখনও পর্যন্ত সব ক্রিকেটারকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে উড়িয়ে নিতে পারেনি বোর্ড। নানা জটিলতার পর একটি বাণিজ্যিক বিমানকে ভাড়া করা হয়েছিল শেষ ১৬ জন ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফকে আরব আমিরাতে নেওয়ার জন্য। কিন্তু বিমানটি মোট ৫ জনকে নিয়ে উড়ে যায়। সাবেক অধিনায়ক সরফরাজসহ মোট ১১ জন ক্রিকেটারকে বিমানে চড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঠিক করেছিল, লাহোর এবং করাচি থেকে ২৫ মে দু'টি চাটার্ড ফ্লাইটে করে আবুধাবি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে পিএসএলে অংশ নিতে চলা প্রতিটি ক্রিকেটারকে। তবে এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত লাহোর ও করাচির হোটেলে কার্যত বন্দি হয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফ। বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মালিবাগ এলাকায় ট্রেনের ধাক্কা দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দু'জন হলেন নয়ন কুমার সরকার (২৭) ও আবদুল বাতেন (৬৫)। আজ শনিবার (১৬ ফেব্রুযারি) সকাল ৯টা ও বেলা ১১টার দিকে পৃথক ঘটনা দু'টি ঘটে। দু'জনের মরদেহই ময়না-তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক মজুমদার দু'জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, নয়ন একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। থাকতেন পরিবারের সঙ্গে মিরপুরের কল্যাণপুরের বাসায়। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রেমে ব্যর্থ হওয়ায় নয়নের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তারপর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। সকালে মালিবাগের কাঁচাবাজার সংলগ্ন রেললাইনে কমলাপুরগামী একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তেজগাঁওয়ে কারওয়ান বাজার এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত আবদুল বাতেন ঢাকায় তার ছেলের কাছে বেড়াতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি রেললাইন পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় মারা যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
6
সারাদেশের অভ্যন্তরীণ ছোট নদী,খাল,জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ও তালেবপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী নদীর সাড়ে ৮ কিলোমিটারের অধিক পুনঃখনন শুরু হয় অনিয়মের মধ্য দিয়ে। ১৬ টি প্যাকেজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কখনো দেশিয় ড্রেজার আবার কখনো ভেকু দিয়ে নদী খননের কাজ শুরু করে। ফলে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে তীরবর্তী ফসলি জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটার ফলে গোলড়া এলাকার উত্তর-পশ্চিম তীরের ফসলি জমি ভেঙ্গে পড়া শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নজরে আসায় উপজেলা প্রশাসন ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। অভিযোগ ওঠেছে নিয়ম অনুযায়ী নদী খনন কাজে কাটার মেশিন ব্যবহার না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাশিমনগর গ্রামের মুফতি আব্বাস উদ্দিন বলেন, ভাঙ্গনের কবল থেকে নদী তীরবর্তী আমার জমি রক্ষা করতে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বিনোদপুর গ্রামের সোহরাব হোসেন বলেন, সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নদী খননের কথা থাকলেও এখানে সেটা মানা হচ্ছে না। বুধবার ( ২ ডিসেম্বর) দুপুরে কাশিমনগর ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় ওই স্থানগুলোতে চলছে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। হায়দার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রশিদের মাধ্যমে প্রতিদিন শতশত ট্রলি মাটি বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে দায়িত্বে থাকা মোঃ রিপন হোসেন জানান, নিলামপ্রাপ্ত ব্যাক্তির কাছ থেকে ক্রয় করে খননকৃত মাটির মুল্যসহ ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে বৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। হায়দার এন্টারপ্রাইজের মতো ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ও মাটি বিক্রি করছে। এদিকে, উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই নিলামের মাধ্যমে মোঃ আমজাদ হোসেন, আবু নঈন মোঃ বাশার, দেওয়ান মাহবুবুল আলম ও আবুল কালাম আজাদকে ২ কোটি ১১ লক্ষাধিক ঘনফুট মাটি/বালু ড্যাম্পিং স্পটের ও নদী খননকৃত মাটি সরবরাহের অনুমতি পায়। এ সুযোগে নিলামপ্রাপ্ত ব্যাক্তির বাইরে একাধিক প্রতিষ্ঠান অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। মাটি বিক্রির সাথে জড়িতরা জানান, নিলাম প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের কাছ থেকে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কিনে নিয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এসব মাটি সবই খননকৃত । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিলামপ্রাপ্ত একাধিক ব্যাক্তি জানান, আমরা নিলামপ্রাপ্ত হলেও ক্ষমতাসীন স্থানীয় প্রভাবশালীরা এটা নিয়ন্ত্রণ করছেন। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা বলেন, বিষয়টি সরেজমিন দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও রুনা লায়লা বলেন, কৃষি জমি রক্ষার্থে ও ভাঙ্গন রোধে ড্রেজার দিয়ে নদী তীরবর্তী খনন কাজ বন্ধ করা হয়েছে। নিলামকৃত মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নিতে বাধা নেই। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় ইউনিয়ন কমিটির উপস্থিতিতে লাল নিশানের বাইরে থেকে মাটি কেটে নেয়ার সুযোগ নেই।
6
রাজশাহী মহানগরের একটি রেস্তোরাঁর সামনে বিষপানের পর প্রকাশ্যে নিজের বুকে ছুরি বসিয়ে আত্মঘাতী যুবক বুলবুল আহমেদ ছিলেন রাজশাহী কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।বুলবুল আহমেদের বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল মালেক। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বুধবার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ আসর জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে। একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা।গতকাল নয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে জানা যায়, কিশোর বয়সে এক আত্মীয়ের প্রেমে পড়েন বুলবুল। এক সময় জানাজানি হয় বিষয়টি। বুলবুলদের পারিবারিক অবস্থা ভালো না থাকায় মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি এই সম্পর্ক। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতেই মেয়েটিকে বিয়ে দেয় পরিবার। এরপর ভেঙে পড়েন বুলবুল। তবে চালিয়ে যান পড়াশোনা। অনার্স পাস করেন। ভর্তি হন মাস্টার্সে। এদিকে ওই মেয়েটি এখন এক সন্তানের মা। তিনিও ভর্তি হয়েছেন রাজশাহীর একটি কলেজে অনার্সে। সেই সূত্রে আবারও দুজনের যোগাযোগ। কখনো কখনো দেখাও হতো। গত মঙ্গলবারও এক রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন তাঁরা। সঙ্গে ছিলেন মেয়েটির এক বান্ধবী। সেখানে বিয়ের প্রস্তাবে মেয়েটি সায় দেননি। পরে বাইরে বেরিয়ে এসে ওই কাণ্ড ঘটান বুলবুল।দুপুরে বুলবুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষের ভিড়। সবার চেহারায় শোকের ছায়া। তবে মঙ্গলবার ঠিক কী কারণে তিনি ওই ঘটনা ঘটালেন তার সঠিক কারণ জানাতে পারেননি স্বজনেরা।রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, বুলবুলের ঘটনায় কোনো পক্ষেরই অভিযোগ নেই। এ কারণে ওই দুই মেয়েকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার রাতেই পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
6
'কি দোষ ছিলো আমার। নিয়ম অনুযায়ী সঠিক লেন দিয়েই মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বাসটি আমাকে চাপা দিয়ে চলে গেলো। এখন পা নেই। কিভাবে সংসার চালাবো। সন্তানদের কিভাবে মানুষ করবো। বাকি জীবনইবা কার মুখের দিকে তাকিয়ে কাটাবো। এভাবে পঙ্গু হয়ে থাকার চেয়ে মরে গেলাম না কেন' বলতে বলতে কান্না করেন ধামরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো মো. সালাউদ্দিন ফকির। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। সালাউদ্দিনের ছোট ভাই ফারুক ফকির ভোরের কাগজকে বলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্দা এলাকার মৃত হাকিম ফকিরের ছেলে সালাউদ্দিন। রাজধানীর ধানমন্ডি মধুবাজার এলাকায় ডিশ লাইনের চাকরি করতেন এবং স্ত্রী নীলা বেগম, দুই সন্তান রিয়ান (৮) ও দেড় বছরের সামিয়াকে নিয়ে ওই এলাকারই একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। গত ১৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে যাওয়ার সময় ধামরাই থানার কালামপুর এলাকায় বেপরোয়া গতিতে আসা রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফারুক ফকির বলেন, চাকরির সামান্য বেতন দিয়ে সংসার চলতো সালাউদ্দিনের। পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এখন সারাদিন কান্না করে আর সন্তানদের জন্য দুশ্চিন্তা করে কাটে তার। কিছুতেই তিনি পা হারানোর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার করে সালাউদ্দিনের চিকিৎসা খরচ চলছে। এদিকে চালকের প্রতিযোগীতার বলি হলেও ওই পরিবহনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সালাউদ্দিনের দুই সন্তানের ভবিষ্যতেও কথা চিন্তা করে হলেও আমরা ক্ষতিপূরণ চাই। এ বিষয়ে থামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা ভোরের কাগজকে বলেন, এ ঘটনার পরের দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ২০। পরে বাসটি শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। তবে, বাসটির চালক ও হেল্পার পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এক প্রশ্নের উত্তরে ওসি আরো বলেন, বাস কর্তৃপক্ষ মিমাংসার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। ভিকটিমের পরিবার যদি যোগাযোগ করে তাহলে আমরা সেটিও চেষ্টা করে দেখবো।
6
প্রকাশ্যে গৃহকর্মীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সিরাজগঞ্জে আরাফাত শাকিল (৩৮) নামের এক ব্যাংক ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতিত গৃহকর্মীর দায়েরকৃত মামলায় রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার দুপুরে শাকিলকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গ্রেপ্তার আরাফাত শাকিল শহরের রহমতগঞ্জ মহল্লার ৪ নম্বর গলির শওকত আলীর ছেলে। তিনি শহরের এসবি ফজলুল হক রোড (গোশালা) জনতা ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক। সদর থানার ওসি মো. বাহাউদ্দীন ফারুকী জানান, নূরজাহান তুর্কী (৫৯) নামের এক গৃহকর্মীকে প্রকাশ্যে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে আরাফাত শাকিল ও তার বোন জান্নাতুল নাঈম সাথীকে (৩৪) আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি শাকিলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার নথি থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত জান্নাতুল নাঈম সাথী বেলকুচিতে সরকারি চাকরি করেন। ৮ মাস আগে তার বেলকুচির সরকারি কোয়ার্টারে মাসিক ৬ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মীর কাজ নেন তুর্কী। তুর্কীর কাজকর্ম পছন্দ না হওয়ায় প্রায়ই তাকে গালমন্দ করা হত। এরপর তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হলে হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান তুর্কী। এরপর গত ২০ জুলাই রহমতগঞ্জের একটি বাড়িতে কাজ করতে যাওয়ার পথে জান্নাতুল নাঈম সাথী ও তার বড় ভাই ব্যাংক ম্যানেজার আরাফাত শাকিল মিলে তুর্কীকে প্রকাশ্যে মারধর ও তার শ্লীলতাহানি করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তুর্কীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে রোববার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু ঘোষ সন্ধায় বলেন, মামলার অপর আসামি ব্যাংক ম্যানেজারের ছোট বোন জান্নাতুল নাঈম সাথীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
6
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজকে নেতৃত্বের ভার দিলো পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দল লাহোর কালান্দার্স। আসন্ন চতুর্থ আসরে ফখর জামান ও ইয়াসির শাহকে টপকে দলটির অধিনায়ক হলেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। গত তিন আসরে লাহোরের অধিনায়ক ছিলেন আজহার আলি ও ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। প্রথম আসরে অধিনায়ক ছিলেন আজহার। আর পরের দুই আসরে ম্যাককুলাম। পিএসএলে এই দু'জনের নেতৃত্বে লাহোরের পারফরমেন্সে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২৬টি ম্যাচের মধ্যে ১৮টিতে হেরেছে তারা। এখন পালা হাফিজের। তার নেতৃত্বে দল কতটা উন্নতি করে সেটি এখন দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় দলের টি-২০ অধিনায়ক ছিলেন হাফিজ। তিনি ১২২.৩৫ স্ট্রাইক রেটে ২৪৮টি ম্যাচ খেলে ৫২৪৪ রান করেন।
12
ঢাকা: প্রথমবারের মতো কলকাতার সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। 'ডিকশনারি' নামের ওই সিনেমা বানিয়েছেন অভিনেতা, নির্মাতা ও রাজনীতিবিদ ব্রাত্য বসু। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি কলকাতার সিনেমা হলে মুক্তি পায়। এতদিন বাংলাদেশের দর্শকরা অপেক্ষায় ছিলেন সিনেমাটি দেখার। কিন্তু সে সুযোগ ছিল না। এবার মিলবে মোশাররফের 'ডিকশনারি' দেখার সুযোগ।কারন সিনেমাটি দেখা যাবে টিভির পর্দায়। রোববার (২৩ মে) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় জি বাংলায় হবে 'ডিকশনারি'র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার।কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর দুটি ছোট গল্প 'বাবা হওয়া' ও 'স্বামী হওয়া' অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে 'ডিকশনারি'। এতে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিক মকরকান্তি চ্যাটার্জির চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। যার শিক্ষাগত যোগ্যতা অত বেশি নয়। কঠোর দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ছেলেকে শিল্পপতি বানানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। ইংরেজি ভাষার প্রতি মকরের বিশেষ দুর্বলতা আছে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অতটা গৌরবের চোখে দেখে না মকর। তাঁর মনে হয়, ভালো ইংরেজি জানা ছাড়া এ সময়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া খুবই কঠিন। 'ডিকশনারি' সিনেমায় মোশাররফ করিমের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী পৌলমী বসু। আরো আছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়, নুসরাত জাহান ও মধুরিমা বসাক।সিনেমাটির সংলাপ-চিত্রনাট্য লিখেছেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় ও ব্রাত্য বসু। সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই মোশাররফ অভিনীত 'ডিকশনারি' নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে গৌতম বুদ্ধ পুরস্কার জিতেছে।দেখুন মোশাররফ করিম অভিনীত 'ডিকশনারি'র ট্রেলার:'ডিকশনারি'র সাফল্যের পর কলকাতার আরো একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মোশাররফ করিম। সিনেমার নাম 'হুব্বা'। সেটিও বানাবেন ব্রাত্য বসু। ভারতের হুগলির দাউদ ইব্রাহিমখ্যাত গ্যাংস্টার হুব্বা শ্যামলের জীবনের গল্প নিয়ে বানানো হবে সিনেমাটি। মূল চরিত্র হুব্বা শ্যামল হয়েই পর্দায় থাকবেন মোশাররফ।নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে গ্যাংস্টার হুব্বা শ্যামলের আবির্ভাব। তখন হুগলি জেলার অন্ধকার জগতের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী ছিল হুব্বা শ্যামল। খুন, অপহরণ, মাদক পাচারের ৩০টি মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে। ৭০টা মোবাইল ফোন ব্যবহার করত হুব্বা। লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিল একবার।তাঁর ভয়াবহতার গল্পই উঠে আসবে ব্রাত্য বসুর 'হুব্বা' সিনেমায়। এর মধ্য দিয়ে নেতিবাচক চরিত্রে হাজির হবে মোশাররফ করিম।
2
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় একদিকে বন্যার পানি। আর অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে বোরো ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। এমন পরিস্থিতিতে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন কৃষকেরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শ্রমিকের মজুরি বেশি। অঞ্চল ভেদে এ বছর একজন শ্রমিকের মজুরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। দিনে একজন শ্রমিক ৫ থেকে ৬ শতাংশ জমির ধান কাটতে পারেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে ধান গাছ নুয়ে পড়ায় শ্রমিক বেশি লাগছে। বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে না পারাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ধান হয়েছে ২০ থেকে ২৫ মণ। এতে শ্রমিক লাগছে ১০ থেকে ১২ জন। প্রতিমণ ধান এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। ধান লাগানো থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত যে টাকা খরচ হচ্ছে তা শ্রমিক সংকটের কারণে উঠে আসছে না।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় বোরো ধান চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। এখনো প্রায় ১০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়নি।স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, চলতি মৌসুমে বোরো ধান আবাদ ভালো হয়েছে। কিন্তু একদিকে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ধেয়ে আসছে বন্যার পানি। এই সংকটের মধ্যে দফায় দফায় বৃষ্টিতে পানি জমে পাকা ধান নষ্ট হচ্ছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার গাইবান্ধা, ইসলামপুর সদর, পার্থশী, নোয়ারপাড়া, চিনাডুলী, চরপুটিমারী, চরগোয়ালিনী এবং গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। খেতে পাকা ধান কিন্তু শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেন না। নিচু খেতে বৃষ্টির পানি জমে ধান নষ্ট হতে শুরু করেছে। পার্থশী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ঢুকে পড়েছে যমুনা নদীর বন্যার পানি। ইউনিয়নের গামারিয়া এলাকার কমোড়বনে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ধান খেত।গামারিয়া গ্রামের কৃষক ছইদুর মিয়া জানান, ইতিমধ্যে কমোড়বন এলাকায় আমার তিন বিঘা ধানের খেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।ডেংগারগড় বানিয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক আমিনুর জানান, শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটতে পারিনি। গত দুই দিনে আমার চার বিঘা ধানের জমি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের সোনামুখী গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, সপ্তাহখানেক আগেই ধান পেকেছ। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছি না।গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মালমারা গ্রামে কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, শ্রমিকের মজুরি যেমন বেশি। তেমন শ্রমিকের সংকটও চলছে। মাথাপিছু এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।গাইবান্ধা ইউনিয়নের কৃষক সুলতান আকন্দ বলেন, 'আমি চার বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধান কাটার খরচও যোগ হবে। সব মিলিয়ে হিসেব করে দেখলে বোরো ধান লাগিয়ে লাভ হয় না।'ধান কাটার শ্রমিক ফুইমুদ্দিন, হাসমত, শহিজল, আকবরসহ অনেকেই জানান, সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেশি। সে কারণেই ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি টাকায় শ্রম না বেচলে আমাদের সংসার কীভাবে চলবে।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এল এম রেজওয়ান জানান, শ্রমিক সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ায় আগে যেসব খেতে ধান পাকা ছিল, তা কাটা হয়নি। এখন সব খেতের ধান একসঙ্গে কাটতে হচ্ছে। এ কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজপাঠক (বন্যার পানি পরিমাপক) আব্দুল মান্নান বলেন, যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে বন্যার পানি।
6
বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২৬ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় ইয়াবা বহনের দায়ে ট্রলারটিও জব্দ করা হয়েছে। আজ বুধবার ভোর রাতে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপের ৫ নটিক্যাল মাইল দূরের বঙ্গোপসাগর থেকে ওই সব ইয়াবাসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার আব্দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আব্দুল মোতালেবের ছেলে মুহিদুল ইসলাম, সালেহ আহমেদের ছেলে আবুল হোসেন, নুর মোহাম্মদের ছেলে আবুল কাশেম, আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ ফজল করিম ও ইয়াকুব আলীর ছেলে মনুর আলী। তাঁরা সকলেই চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার বাসিন্দা।কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার আব্দুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাগর পথে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে জানা যায়। এমন সংবাদে টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সৈয়দ তৈমুর পাশার নেতৃত্বে একটি দল সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোররাতের দিকে সেন্টমার্টিন ছেড়াদ্বীপ হতে আনুমানিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে মিয়ানমার সীমানা হতে বাংলাদেশ সীমানায় অবৈধভাবে একটি কাঠের নৌকাকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। নৌকাটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কোস্ট গার্ডের সদস্যগণ নৌকাটিকে থামার সংকেত দেয়। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকাটি না থেমে দ্রুত মিয়ানমার সীমানায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দ্রুত তাদের ধাওয়া করে নৌকাসহ ৫ জনকে আটক করা হয়।পরবর্তীতে নৌকাটি তল্লাশি করে পানির ড্রামের ভেতর লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২৬ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়।আব্দুর রহমান আরও বলেন, জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহৃত কাঠের নৌকা এবং আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
6
চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বন্দর এলাকার সল্টগোলা রেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৫) নগরীর বন্দর থানাধীন গোসাইলডাঙ্গা এলাকার মো: ইসলামের ছেলে। তিনি ছাত্রলীগ বন্দর থানা শাখার ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। সিএমপি বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাহেদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল মোটরসাইকেলটি চালিয়ে গোসাইলডাঙ্গার দিকে আসার সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে বিপরীতমুখী একটি লরি তার মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে নিয়েছে। তিনি আরো জানান, ঘটনার পর লরি চালক পলাতক রয়েছে তবে লরিটি জব্দ করা হয়েছে। সূত্র : ইউএনবি
6
বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে মাদারীপুওে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য দান, বর্নাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভা। আজ বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে সকালে র্যালী ও দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আওলাদ হোসেন মাষ্টার, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম খোকন, পৌর মেয়র মোঃ এনায়েত হোসেন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সরদার লোকমান, দপ্তর সম্পাদক সরদার বেলাল হোসেন, মহিলা নেত্রী শিবলী বাশার ও চায়না খানম প্রমুখ। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজৈর উপজেলা আওয়ামীলী অনুরুপ কর্মসূচী শেষে দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক জমির উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদেও মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বক্কার, দেলোয়ার হোসেন দিলীপ, রেদওয়ানুল হক রেজন, ইমরুল খালিদ, মোস্তফা মনির সুজন, সবুজ আকন প্রমুখ।
6
রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেসে গেট এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মগবাজার, শান্তিনগর, মৌচাক, সাতরাস্তা, বাংলামটর ও কাকরাইলে ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শান্তিনগর মোড় থেকে রামপুরা এবং বাংলামোটর এলাকার ফ্লাইওভারসহ প্রায় রাস্তাঘাট। রবিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত শিশুসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
6
তথ্য মন্ত্রণালয় এবং মুজিববর্ষ উদযাপন কমিটির আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত হলো স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা জনকের মুখ। ৪০ মিনিট ব্যাপ্তির সিনেমাটির কাহিনী, চিত্রনাট্য লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন মান্নান হীরা। সিনেমায় মমতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারজানা ছবি এবং সোলায়মান চরিত্রে স্বাক্ষ্য শহীদ। মমতা চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ফারজানা ছবি বলেন, বাস্তবিকভাবে আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু সিনেমায় আমি যে চরিত্রটি করেছি যুদ্ধের বিভীষিকা নিজের মধ্যে ধারণ করে অদেখা সব চরিত্রের কাল্পনিক অস্তিত্ব সৃষ্টি করতে হয়েছে। সিনেমায় বেশ কিছু দৃশ্যে মমতা চরিত্রের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি কথোপকথন দেখানো হয়েছে। যা আমার জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। বলা যায়, এটি আমার স্বপ্নের একটি কাজ। এদিকে সিনেমাটি প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, সিনেমাটি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে নির্মিত। আগামী ১৭ মার্চ থেকে বছরব্যাপি সারাদেশে প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের উৎসবগুলোতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
2
তিন ক্রিকেটার সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেনকে আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে ডাকা হয়েছে। শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণেই তাদের ডাকা হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে তাদের উপস্থিত থাকার কথা বলা হলেও পরে সময় পরিবর্তন করা হয়। বিকেল ৩টায় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে এই তিন ক্রিকেটারের শুনানি হবে। একটি নিউজ পোর্টালকে বিসিবি পরিচালক, ডিসিপ্লিনারি কমিটির অন্যতম সদস্য জালাল ইউনুস এ কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, 'সকাল ১১টার পরিবর্তে শুনানির সময় নির্ধারণ করা নেয়া হয়েছে বিকেল ৩টায়। কারণ দুপুর ১২টায় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের একটি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। ওই মিটিংয়ের পরই ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে তিন ক্রিকেটারের শুনানি হবে।' আজ শুনানির পরই জানা যাবে কী শাস্তি হতে যাচ্ছে এই তিনজনের। তিনজনকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে ডাকা হলেও, শাস্তিটা মূলতঃ হতে যাচ্ছে সাব্বিরের। নতুন করে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারেন তিনি। কারণ তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবুও তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে। এছাড়া নাসিরের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। পায়ের অপরারেশন করে বিশ্রামে আছেন তিনি। আর মোসদ্দেকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী সামিয়া শারমিন নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন মংমনসিংহ আদালতে। তার শাস্তির ব্যাপারে জালাল ইউনুস বলেন, 'আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন মোসাদ্দেক দোষী না নির্দোষ। আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত হলে মোসাদ্দেককে অবশ্যই শাস্তি দেবে বিসিবি। তবে সেটা এখন নয়। তার বিষয়ে আদালত কি সিদ্ধান্ত দেন তার উপরে নির্ভর করবে আমাদের (বোর্ডের) সিদ্ধান্ত।' সাব্বির-নাসিরের ব্যাপারে তিনি জানান, 'নাসির যেহেতু আপাতত খেলার অবস্থায় নেই। তাই তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করাটাও অযৌক্তিক। বাকি থাকলো সাব্বির। তাকে এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল পাশাপাশি অর্থ দণ্ডেও করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও আচরণে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। আবারও তার বিরুদ্ধে বলগাহীন ও শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের অভিযোগ। তাই আমরা তাকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্রিকেটের বাইরে রাখার চিন্তাভাবনা করছি।'
12
চলতি বছরের শুরুতে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে বাড়তে থাকে করোনার টিকা প্রয়োগের হার। সে সময় ওই অঞ্চলের অনেক নেতাই করোনার টিকাকে মহামারি থেকে বেরিয়ে আসার তাৎক্ষণিক পথ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে এই মহামারি ঠেকাতে যে শুধু টিকা যথেষ্ট নয়, তা আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে করোনা। পুরো ইউরোপে ফের ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংক্রমণ বাড়তে থাকার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। কিছু রোগীকে সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ জার্মানিতে পাঠানো শুরু করেছে নেদারল্যান্ডস। করোনা সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তারে লাগাম টানতে সম্প্রতি আংশিক লকডাউন জারি করেছে দেশটি। এই লকডাউনের আওতায় টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করেননি এমন ব্যক্তিদের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এদিকে জার্মানিতেও সম্প্রতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু। দেশটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের মুখে রয়েছে জার্মানি। ওদিকে এরই মধ্যে অস্ট্রিয়ায় লকডাউন জারি করা হয়েছে।মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, করোনার সংক্রমণ বাড়ায় আয়ারল্যান্ডেও রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। দেশটিতে এরই মধ্যে ১২ বছরের বেশি বয়সীদের ৮৯ শতাংশই করোনার টিকা পেয়েছে। এ ছাড়া পর্তুগালে ৮৭ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া থাকলেও সেখানে সংক্রমণ কমাতে বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে সরকার। এদিকে যুক্তরাজ্যেও হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। দেশটি এখনো লকডাউনের চিন্তা না করলেও সেখানকার জনগণকে টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা মনে করছেন, মোট জনগোষ্ঠীর যে বাকি অংশকে টিকা দেওয়া যায়নি, তাদের কারণেই করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। এ কারণে গত শুক্রবার অস্ট্রিয়া সরকার জানায়, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির সবার জন্য টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। গত ১৭ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার সিএনএনকে বলেন, টিকা না নেওয়া ব্যক্তিরাই সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। যদি সবাই টিকা নিত, তাহলে আর বিধিনিষেধ প্রয়োগের প্রয়োজন হতো না। তবে এসব যুক্তি মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধু মাত্র টিকা দিয়ে একটি মহামারি ঠেকানো সম্ভব নয়। এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড হেইম্যান বলেন, 'টিকা মৃত্যু ঠেকাচ্ছে, কিন্তু আমরা যা দেখছি তা হলো একটি ভাইরাস, যা নিজেকে স্থানীয় একটি সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং কিছু দেশে এটি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে, কারণ সেখানে নিয়ন্ত্রণের কঠোরতা কম।'এ নিয়ে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ইনস্টিটিউট অব ইনেফকশনের সহকারী পরিচালক চার্লস বাংহ্যাম বলছেন, টিকা খুব ভালো সুরক্ষা দেয়। এতে গুরুতর রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে করোনার ডেলটা ধরন খুবই সংক্রামক। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের জনগণের মধ্যে আচার-ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। কিছু সতর্কতা সেভাবে পালন করা হচ্ছে না।চার্লস বাংহ্যামের মতে, ভ্যাকসিন প্রয়োগের হার খুব ভালো হলেও করোনার এই সংক্রমণ থামানো সম্ভব নয়।জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস বিভাগের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সার্ভেইলেন্স বিভাগের অধ্যক্ষ রালফ রেইন্টজেস বলেন, টিকা সাহায্য করে। তারা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় একটি বাধা। তবে এটি একা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।চলতি শীত মৌসুমে ইউরোপে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী চিত্রে শঙ্কা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, শীত পেরিয়ে বসন্ত আসার আগেই করোনায় আরও ৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে ইউরোপে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউরোপ মহাদেশের ৫৩ দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ১৫ লাখ। নতুন আরও ৭ লাখ মৃত্যু হলে এই সংখ্যা পৌঁছাবে ২২ লাখে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ শাখা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এরই মধ্যে বলা হয়েছে, 'ইউরোপের ৫৩টি দেশের মধ্যে ৪৯টি দেশের হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে উপচে পড়ছে করোনা রোগীর ভিড়। চলতি বছর মার্চের পর গত ছয় মাসে সংক্রমণের এত বিস্তার ইউরোপে দেখা যায়নি।'করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক ও পরিবর্তিত ধরন ডেল্টার বিস্তার, টিকাদান কর্মসূচির ধীরগতি, মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রভৃতি কারণে ইউরোপে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এদিকে ইউরোপের চলমান করোনাভাইরাস সংকট অনেকটাই তার বয়স্ক জনসংখ্যার জন্য ভুল টিকা বেছে নেওয়ার কারণে হতে পারে বলে মনে করেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী প্যাসকেল সরিওট। বিবিসির এক অনুষ্ঠানে সরিওট বলেন, 'যখন আপনি যুক্তরাজ্যের দিকে তাকান, সেখানে সংক্রমণ শীর্ষ ছুঁয়েছিল। তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশটির এত বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। যুক্তরাজ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি বয়স্ক লোকদের দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। যেখানে ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে লোকেরা ভেবেছিল যে এই টিকা বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাজ করে না।'সরিওটের দাবি, যে টিকাগুলো এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যেমন-মডার্না বা ফাইজার-বায়োএনটেক, সেগুলো প্রাথমিকভাবে ভালো পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি করে। কিন্তু সেই সুরক্ষা কিছু সময় পরেই হ্রাস পেতে শুরু করে। ওদিকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের মতো ভাইরাল ভেক্টর ব্যবহার করে তৈরি টিকাগুলো শক্তিশালী টি-সেল তৈরি করতে পারে। তিনি বলছেন, এটি করোনা প্রতিরোধে বেশি কাজে দেয়।ইসরায়েলের ৪ হাজার ৮০০ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপরে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পরে অ্যান্টিবডির মাত্রা দ্রুত হ্রাস পায়। বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। কাতারেও টিকা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি করোনা টিকার দুই ডোজ নেওয়ার দুই মাস পরই কমতে থাকে কার্যকারিতা।অবশ্য করোনার টিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা নানামাত্রিক রাজনীতির কারণে বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি টিকাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে এখনই স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিষয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যকে একপাশে সরিয়ে রেখে ভাবা উচিত সব পক্ষের। তবেই করোনার টিকা, এর প্রয়োগ ও কার্যকারিতা নিয়ে একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে। আর কেবল তখনই করোনাভাইরাস ঠেকানোর পথে সত্যিকারের ও চিরস্থায়ী অগ্রগতির দেখা পাবে মানুষ।
3
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সর্বত্র ময়লা আবর্জনায় ভরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ক্যাম্পাসের এমন হয়েছে বলে দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের।সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি আবাসিক হলের আশেপাশের জায়গাগুলো, আমতলা, মীর মশাররফ একাডেমি বিল্ডিং, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনগুলোর আশেপাশে আবর্জনা স্তুপ হয়ে আছে।এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকের পচা পানিতে কচুরিপানা জন্মেছে। যেখান থেকে সহজেই মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে।এ ছাড়া একাডেমিক ভবনের পাশের জায়গাগুলোও আগাছায় পরিপূর্ণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের আশেপাশেও আগাছা আর ময়লার স্তূপ। যার ফলে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। অভিযোগ করলেও পরিষ্কার করা হয়নি দাবি শিক্ষার্থীদের।এ বিষয়ে লালন শাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, 'হলগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেনা বিধায় হলে মশার জ্বালায় পড়া যাচ্ছে না। এতে করে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।'প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল বলেন, 'সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকা উচিৎ। আমরা সবকিছু পরিষ্কার করে দিব।'
6
মুক্ত আকাশে উড়ে পৃথিবীর বৈচিত্র যখন এক পলকে দেখা যায়, সে সৌন্দর্য মাটিতে দাঁড়িয়ে শুধু কল্পনাই করা যায়। যে সৌন্দর্য হয়তো আমরা কাছ থেকে অনুভব করতে পারি না। আর পাখা মেলে উড়ে বেড়ানো পাখিগুলো আমাদেরকে যেন সে স্বাধীন উড়ে বেড়ানোর লালসা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই মাটির বাসিন্দা হয়ে আকাশকে দাঁপিয়ে বেড়ানোর জন্য মানুষের নানা আয়োজন। ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবার নিয়ে সবাই চায় একটু ভ্রমণ, একসাথে আনন্দ করা, ব্যস্ত জীবনের বাইরে গিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে। তবে করোনার কারণে এসব হয়তো হয়ে উঠছে না। এবার আপনাদের জানাবো এমন এক ভ্রমণের কথা, যার কথা শুনলে যাওয়ার জন্য মন ব্যাকুল হবেই। যেহেতেকু করোনার কারণে এখন আর হয়ে উঠছে না, আবার বড় বাজেটেরও ব্যাপার তো থেকেই যায়। তাই পরের ঈদে যেতে পারবেন এমন প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন এখনই। ছেলেবেলায় বেলুন নিয়ে সবাই খেলতে পছন্দ করে। তবে, বেলুন মানুষকে আকাশেও নিয়ে যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উৎসব করে বেলুনে চড়ে আকাশে উড়ে বেড়ায় মানুষ। হট এয়ার বেলুনের সাথে অনেক আগ থেকেই মানুষ পরিচিত হলেও বিশ্বব্যাপী এর পরিচিতি ও ব্যবহার তেমন নেই। ১৯৭৮ সালে কিওসু'তে প্রথম বেলুন উৎসব শুরু করে জাপান। প্রতিবছর শরৎকালে আয়োজিত এই উৎসবে সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক প্রতিযোগী যোগ দেয়। প্রতিযোগিতা ছাড়াও উৎসবটির মূল আকর্ষণ হলো রাতের আকাশে রঙিন বেলুন। রঙিন এই রাতের আকাশে অসংখ্য গরম বাতাসের বেলুন উড়িয়ে দেয়া হয়। বেলুন ছাড়াও আতশবাজি ও সঙ্গীতের সাথে সময়কে উপভোগ করতেই অনেকেই উৎসবটিতে যোগ দেয়। তাইওয়ানে প্রতিবছর গ্রীষ্মের সময় আয়োজন করা হয় তাইতুঙ আন্তর্জাতিক বেলুন ফেস্টিভ্যাল। এক মাসব্যাপী পালিত এই ফেস্টিভ্যালে রঙিন ও কার্টুন চরিত্র নির্ভর অসংখ্য হট এয়ার বেলুন আকাশে ভাসতে থাকে। যদি আপনি চান এসব রঙিন হট এয়ার বেলুনে আপনিও ভেসে বেড়াবেন আকাশে তার জন্য আপনাকে কমপক্ষে এক মাস আগেই বুকিং সেরে ফেলতে হবে। ফিলিপাইনে আন্তর্জাতিক বেলুন ফেস্টিভ্যাল সাধারণত জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসের ভেতরেই হয়ে থাকে। চার দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসব ফিলিপাইনের সবচেয়ে বিখ্যাত স্পোর্ট ফেস্টিভ্যাল। ১৯৯৪ সালে যখন প্রথম এই ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়, তখন এর মূল লক্ষ্য ছিলও ফিলিপাইনের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। সময়ের সাথে সাথে ফেস্টিভ্যালটিতে আরও নানা অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে যেমন - স্কাইডাইভিং, রিমোট কন্ট্রোল হেলিকপ্টার প্রদর্শনী। এশিয়া ও ইউরোপ থেকে পর্যটকদের পাশাপাশি অসংখ্য পাইলট ফেস্টিভ্যালে যোগ দেয়। পরিবারের সাথে সময় উপভোগের জন্য ব্রিস্টল আন্তর্জাতিক বেলুন ফেস্টিভ্যাল খুব বিখ্যাত। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসব সাধারণত প্রতি বছর আগস্ট মাসে আয়োজন করা হয়ে থাকে। শিশুদের বিনোদনের জন্য ফেস্টিভ্যাল প্রবেশ উন্মুক্ত রাখা হয়। ফেস্টিভ্যালের সবচেয়ে উপভোগ্য ঘটনা ঘটে রাতে, যখন রাতের আকাশে আতশবাজি ঝলমল করতে থাকে এবং হট এয়ার বেলুনে করে রাতের আকাশের সেই ঝলমল চেহারা দেখা যায়। প্রতি বছর অক্টোবর মাসে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বেলুন উৎসবের আয়োজন করে মেক্সিকো। ১৯৭২ সালে মাত্র ১৩টি হট এয়ার বেলুন আকাশে উড়িয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে আলবাকার্কি আন্তর্জাতিক বেলুন ফেস্টিভ্যালে পাঁচশত এর বেশি হট এয়ার বেলুন আকাশে ওড়ে। যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেলুন উৎসব তাই এর ভাবগাম্ভীর্যও বিশেষ গুরুত্ব পায়। রঙিন বেলুন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র, ইতিহাসের বিখ্যাত ব্যক্তি, জীবজন্তু সবকিছু যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে বেলুনের মধ্যদিয়ে। ৩৬৫ একর এলাকাজুড়ে নির্মিত বেলুন ফিয়েস্তা পার্কে আকর্ষণীয় বেলুন দেখতে জড়ো হয় শত শত দর্শক।
3
গ্রিসের লেসবস দ্বীপে এক শরণার্থী শিবিরে আশ্রয়ে থাকা অন্তঃসত্ত্বা এক আফগান নারী শরণার্থী তার তাবুতে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। জার্মানিতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন খারিজ হওয়ায় মানসিক অসুস্থতায় ভোগা ২৬ বছরের ওই নারী কারা তেপে অভিবাসী শিবিরের নিজ তাবুতে আগুন লাগিয়ে দেন। রোববার সকালে এই ঘটনায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। মঙ্গলবার চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানায় গ্রিসের অভিবাসী মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই নারীকে তার সন্তান জন্মের সময় পর্যন্ত গ্রিসে থাকার জন্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তিনি তা বুঝকে পারেননি। অপরদিকে পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, শিবিরের অন্য অধিবাসীদের সহযোগিতায় পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ওই আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওই নারীকে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে জবানবন্দীর জন্য সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে নেয়া হবে। গত বছরের নভেম্বরে ইউরোপিয়ান কমিটি ফর প্রিভেনশন অব দ্যা টর্চার (সিপিটি) এক প্রতিবেদনে জানায়, গ্রিসে অভিবাসী ও শরণার্থীদের পরিস্থিতি শোচনীয় ও অমানবিক। শরণার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া ও তাদের যথাযথ যত্নের জন্য গ্রিক কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
3
বাংলাদেশে সফররত ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভদৌরিয়া রোববার বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানকে সফরের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ ছাড়া তারা বাংলাদেশ ও ভারতের বিমানবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে এসে পৌঁছলে বিমানবাহিনীর একটি চৌকস কনটিনজেন্ট তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ ছাড়া তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার সিমুলেটর ইনস্টিটিউট ও বিমানবাহিনী জাদুঘরসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমিতে অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০২১-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য চার দিনের সরকারি সফরে ২৬ জুন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান বাংলাদেশে আসেন। তার এ সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে এবং দুই রাষ্ট্রের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়।
6
সরকার উৎখাতের চেষ্টার অভিযোগে তুরস্কের অ্যাকটিভিস্ট ওসমান কাভালাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। গতকাল সোমবার এই রায় দেওয়া হয়।২০১৭ সাল থেকে বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন কাভালা। ২০১৩ ও ২০১৬ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাভালা। রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে এই রায় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পশ্চিমা বিশ্ব।এ রায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমা কূটনীতিকেরাও।২০১৩ সালে তুরস্কে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজন ও অর্থায়নের জন্য প্রথম অভিযুক্ত করা হয়েছিল কাভালাকে। ওই মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার পরপরই তাঁকে আবার অভিযুক্ত করা হয়। এবার ওই দুই মামলাতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস বলেছে, কাভালার অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তাঁকে দমানোর জন্য গ্রেপ্তার করা হয়।কাভালা প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন এবং যুক্তরাজ্যে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা করতেন। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছে। তুরস্ক সরকার কাভালাকে মার্কিন বিলিয়নিয়ার জর্জ সোরোসের এজেন্ট হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
3
ন্যাটোয় যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল ইউক্রেন। ওই কারণে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এখন রাশিয়ার নিকটতম প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডের ন্যাটোয় যোগদানের সিদ্ধান্তের পর কী হতে চলেছে তা সময় বলবে। তবে আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করতে শুরু করেছে ফিনল্যান্ড। রাশিয়ার হামলা থেকে জনগণকে রক্ষার উপায় কী হবে তা এখনই ভাবতে হচ্ছে ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন ও তার প্রশাসকে। রুশ হামলা শুরু হলে তারা ভূ-পৃষ্ঠের হেলসিঙ্কি ছেড়ে ভূগর্ভের হেলসিঙ্কিতে চলে যাবেন। মানে ৭৫ বছর আগে যেসব বাঙ্কার তৈরি হয়েছিল হেলসিঙ্কিতে, সেগুলোই এখন কাজে লাগানো হবে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ফিনল্যান্ড আক্রমণ করেছিল রাশিয়া। ১৯৩৯-৪০ সালে সাড়ে তিন মাস ধরে চলা সেই যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে ফিনল্যান্ড। বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজধানী হেলসিঙ্কি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৫ সালে শুরু হয় মাটির নিচে বাঙ্কার বানানো। ফিনিশ ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি ২০০ মাইল বিস্তৃত মাটির নিচের এই এলাকাটিতে রয়েছে অন্তত ৫০০ বাঙ্কার। নির্মাণশৈলী অনুসারে অন্তত ৯ লাখ মানুষের স্থান হবে বাঙ্কারগুলোতে। এমনিতে রাজধানী হেলসিঙ্কির জনসংখ্যা সাড়ে ছয় লাখ। ফলে পুরো রাজধানীই আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয়ই নিতে পারবে খুব সহজেই। ফলে ধারণা করা হচ্ছে ইউক্রেনের মতো অসহায় নয় বরং বেশ প্রস্তুতি নিয়েই ন্যাটোর কড়া নাড়ছে ফিনল্যান্ড। সূত্র : পুবের কলম
3
'আমি যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে পারি। এমনকি প্রয়োজনে যেকোনো সময় ঠান্ডা মেঝেতে শুয়েও রাত কাটাতে পারি।' কথাগুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নতুন মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলার। ২০১২ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কে এমনভাবে বর্ণনা করেন এনগোজি। আসলেই ভাবাই যায় না কতটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এনগোজিকে। ছোটবেলাতেই নৃশংস গৃহযুদ্ধ দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। ওই গৃহযুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবও পড়েছিল তাঁর পরিবারের ওপর। পুরো সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল তাঁর পরিবার। তাই তখন থেকেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে এনগোজির। বিবিসির ওই সাক্ষাৎকারে এনগোজি বলেন, 'জীবন পুরো পেছনের দিকে চলে গিয়েছিল। আমার মা-বাবা তাঁদের পুরো সঞ্চয় হারিয়েছিলেন, আমাদের নিজের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। ইগবোসে ছিলাম।' গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৬০ সালে যখন ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় নাইজেরিয়া, তখন এনগোজির বয়স ৬ বছর। তিনি দেশটির দক্ষিণে একটি ছোট্ট গ্রামে বেড়ে উঠেছিলেন। তাঁর মা-বাবা দুজনই তখন উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপে যান। এনগোজির বাবা নাইজেরিয়ার খুব প্রখ্যাত অধ্যাপক ছিলেন। এনগোজি ও তাঁর আরও ছয় ভাইবোন সে সময় ছিলেন দাদির কাছে। ৯ বছর বয়সেই এনগোজি রান্না করা, কাঠ আনা এবং পরিবারের অনেক কাজ করতে শিখে গিয়েছিলেন। কিছুদিনের মধ্যে নাইজেরিয়ায় গৃহযুদ্ধের শুরু হয়। পড়াশোনা ব্যাহত হয় এনগোজির। সেই সঙ্গে পড়তে হয় আরও কষ্টের জীবনে। ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। গৃহযুদ্ধের মধ্যেই একবার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এনগোজির তিন বছরের ছোট্ট বোনটি। জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। বোনটিকে কোলে নিয়ে একা তিন মাইল দূরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছেন এনগোজি। তিনিও তখন শিশু। তাঁর ওই সাহসিকতায় সেবার জীবন বেঁচেছিল তাঁর বোনের। বিয়াফ্রান রাষ্ট্র গঠন নিয়ে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত নাইজেরিয়ায় গৃহযুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নিহত হয়। বহু বছর ধরে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে টিকে থাকতে হয়েছিল এনগোজির পরিবারকে। তিনি বলেন, 'আমরা একদিন খাবার খেয়েছি। কখনো মেঝেতে, কখনো বাংকারে ঘুমাতে হতো। সত্যিই দেখেছি যে কষ্ট সহ্য করার অর্থ কী। দেখতাম আমার চারপাশে শিশুরা মারা যাচ্ছে।' জীবনের এমন সব কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া এনগোজির জীবনের পরের সাফল্য যেন এক গল্পগাথা। কর্ম সময়জুড়েই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। ১৯৭৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর এমআইটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর প্রথম নারী হিসেবে তিনি নাইজেরিয়ার অর্থ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। বিশ্বব্যাংকে ২৫ বছর কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছিলেন। গত বছরের শেষ অবধি তিনি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-গ্যাভির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি লাখ লাখ শিশুর বার্ষিক টিকা প্রদান নিরীক্ষণ করেছেন। অবশেষে নিলেন নতুন দায়িত্ব। তবে ডব্লিউটিওর দায়িত্ব প্রাপ্তি নিয়েও কম ঝামেলা হয়নি। কারণ গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাগড়ায় নেতা নির্বাচন নিয়ে দোটানার মধ্যে পড়ে যায় ডব্লিউটিও। প্রথমে এনগোজির নাম প্রস্তাব করেছিল সংস্থাটির তিন সদস্যের মনোনয়ন কমিটি। প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী তাঁরই নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভেটো দিয়ে বসে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন এনগোজির মনোনয়নের বিরোধিতা করে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইউ মিউং-হিকে ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক পদে বসাতে ভেটো দেয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা সংস্থাটির প্রধান হিসেবে এমন একজনকে চায়, যার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে কাজ করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর মিউং-হিকে এমনই একজন মনে হয় ওয়াশিংটনের কাছে। তবে গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের বিদায়ের পর নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এনগোজিকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়ে পশ্চিমা একজন কূটনীতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, 'একজন নারী বা আফ্রিকান বলে তাঁকে এই পদে বেছে নেওয়া হয়নি। যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।' কূটনীতিকের এই মন্তব্যের যথার্থতা আছে। কারণ, বাণিজ্যকে সব সময় 'একটি লক্ষ্য ও একটি আবেগ' হিসেবে বর্ণনা করে এসেছেন এনগোজি। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের চেয়েও বড় কিছু তিনি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নাইজেরিয়ার অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এনগোজি। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন বছরের ব্যবধানে আফ্রিকার বৃহত্তম দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘরে যায়। তিনি সরকারের সংস্কার উন্নয়নে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করে এমন সব কর্মসূচি বিকাশের জন্যও কৃতিত্ব পান। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের জুন পর্যন্ত নাইজেরিয়ার অর্থমন্ত্রী ছিলেন এনগোজি। এরপর মাসখানেকের জন্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। পরে ২০১১-১৫ মেয়াদে আবার অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি দেশটির ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা সামাল দিয়েছিলেন। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করতে চান এনগোজি। নির্বাচিত হওয়ার পর ৬৬ বছর বয়সী এনগোজি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি থেকে বিশ্বকে পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে একটি শক্তিশালী ডব্লিউটিও। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। তিনি বলেন, 'একজন নারী ও একজন আফ্রিকান হিসেবে নয়, আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিস্তীর্ণ সংস্কার করতে আমার সাহস ও আবেগের প্রতি আপনাদের আস্থার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।' তিনি বলেন, 'এটি একটি দীর্ঘ এবং কঠিন রাস্তা, অনিশ্চয়তায় পূর্ণ, তবে এখন এটি একটি নতুন দিনের ভোর। সঠিক কাজ শুরু করা যেতে পারে।' বড় বড় সব জায়গা ছাড়াও সারা বিশ্বের অন্তত ২০টি অলাভজনক সংস্থায় এনগোজি পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। নিজস্ব ডক্টরেট ডিগ্রি ছাড়াও ১০টি সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেছেন তিনি। ২০টির ওপর বড় পুরস্কার পেয়েছেন। বিশ্বের ক্ষমতাশালী ১০০ নারীর মধ্যে রয়েছেন তিনি। বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী মানুষের তালিকায়ও রয়েছে তাঁর নাম। এই তালিকায় আফ্রিকার মধ্যে তাঁর অবস্থান ১০-এ। আগামী পয়লা মার্চ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এনগোজি। ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
0
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নদী ভাঙনে গ্রামের পর গ্রাম, পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্টসহ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি। সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ এই তিন নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে কেদারপুর ইউনিয়নের ছানি কেদারপুর, দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, কেদারপুর, ভূতেরদিয়া, পূর্ব ভূতেরদিয়া, মোল্লার হাট, এমপির হাটসহ নদীর তীরবর্তী এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে এক সময় কেদারপুর ইউনিয়ন শুধু কাগজে-কলমে থাকবে, বাস্তবে তা চলে যাবে নদীর পেটে।গত সোমবার সকালে কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতের দিয়া গ্রামের (মৌলবী গঞ্জ) একই বাড়ির কয়েকটি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এগুলোর একটি গ্রামের মাসুদুর রহমান রানার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতের দিয়া গ্রামটি নদী ভাঙনে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। আমাদের বাড়ি থেকে নদী ছিল কয়েক কিলোমিটার দূরে। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই নদীতে আমাদের বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।'বুগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দিয়ে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ এ তিনটি খরস্রোতা নদী প্রবাহিত হয়েছে। আর এ তিনটি নদীই কেদারপুর ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে গেছে।ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ফসলি জমি। এ ছাড়া গত কয়েক বছরের নদীভাঙনে কয়েক শ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মুজাফফার প্যাদাসহ বেশ কয়েকজন জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধ না করলে নদী ভাঙন রোধ করা যাবে না।কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নূরে আলম বেপারী জানান, কেদারপুর ইউনিয়নের চারদিকে নদী থাকায় প্রতিবছর বর্ষায় তীব্র ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে ইউনিয়নের মানচিত্র। নদী ভাঙন রোধে পরিকল্পিত নদীশাষন ও নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বাবুগঞ্জ-মুলাদী আসেন সাংসদ মো. গোলাম কিবরিয়া টিপু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা ভাঙন থেকে রক্ষা করতে একটি ইন্টিগ্রেটর প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে।
6
বলেশ্বর নদে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে বড়মাছুয়া-রায়েন্দা ফেরি। নদীপথে পিরোজপুরের সঙ্গে বাগেরহাট জেলার যোগাযোগের সহজ মাধ্যম এটি। দুপাড়ে ফেরির জন্য পন্টুন ও জেটি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এ ফেরিটি।এ দিকে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মঠবাড়িয়া অংশের জেটি নির্মাণ ও সার্বিক কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছেন।ফেরি ঘাটে চলাচলের জন্য রায়েন্দা ঘাট থেকে পাঁচরাস্তা পর্যন্ত ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক পাকাকরণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আধা কিলোমিটার মূল সড়ক হবে ১৮ ফুট চওড়া। দুই পাশে ৩ ফুট করে ফুটপাত করা হবে।এদিকে মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া ঘাট সংলগ্ন অংশে ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮ ফুট চওড়া ৫০০ মিটার সড়ক ও পন্টুনের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আবু হানিফ নিশ্চিত করেছেন। চলতি মাসের শেষের দিকে ফেরি নির্দিষ্ট ঘাটে চলে আসবে বলে জানিয়েছে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
6
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাড়াউন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মু. আবু ছালেকের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকেরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ গতকাল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।জানা গেছে, উপজেলার গাড়াউন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ছয়জন শিক্ষক রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬০। পাঁচ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন আবু ছালেক।অভিযোগে বলা হয়েছে, আবু ছালেক এই বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকেই প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকেরা তাঁর অসদাচরণ ও অশালীন মন্তব্যের শিকার হচ্ছেন। তাঁর মতের সঙ্গে দ্বিমত হলেই যে কাউকে অপমান ও অপদস্থ হতে হচ্ছে। এসব থেকে বিরত থাকতে বললে উল্টো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করিয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাথা ম্যাসেজ করানো ও পাকা চুল তোলান আবু ছালেক। তাঁর এসব আচরণে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ মাসের শুরুর দিকে শিক্ষক আবু ছালেকের নানা অশোভন আচরণ ও শিক্ষকদের প্রতি অশালীন মন্তব্যের কথা মৌখিকভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে তাঁকে সতর্ক করেন।এ বিষয়ে গাড়াউন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইভীন নাজনিন বলেন, 'পাঁচ বছর ধরে তাঁর অশ্রাব্য মন্তব্য ও অশোভন আচরণে শিক্ষকেরা অতিষ্ঠ। অনেকবার তাঁর বিরুদ্ধে রেজুলেশন হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সবার অসংখ্য অভিযোগ। কিন্তু বারবার চেষ্টা করে তাঁকে সবকিছু থেকে রক্ষা করেছি। চেয়েছি সবাই মিলে মিশে থাকুক। কিন্তু এবার এতকিছুই করেছে যে, বাধ্য হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে হয়েছে।শিক্ষক আবু ছালেক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাকা চুল তোলানোর ছবি ২৬ মার্চের। এদিন কোনো ক্লাস ছিল না বলে এক ছাত্র মাথার পাকা চুল এনে দেয়। আর কোনো শিক্ষকের সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করিনি।এক সপ্তাহ আগে আমাকে হেনস্তা করেছে একজন শিক্ষক। আমি অভিযোগ দিয়েছি। আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে।
6
কেশবপুরের গড়ভাঙ্গায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত শনিবার সন্ধ্যায় আট দলীয় হাডুডু টুর্নামেন্টের ফাইনালে উপজেলার হাবাসপোল দল ২-০ গোলের ব্যবধানে মনিরামপুরের লাউড়ি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।খেলা উপভোগ করার জন্য মাঠের চারপাশে কেশবপুরসহ পাশের উপজেলা থেকে আসা হাজারো দর্শকের সমাগম ঘটে। এ সময় ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গার একটি মাঠে স্থানীর যুব সমাজ এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে।শিক্ষক ফিরোজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে হাডুডু খেলায় বিজয়ীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার তুলে দেন পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাঁজিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মুকুল, ইউপি আব্দুল আহাদ আল বাহার, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য কবরী বেগম। হাডুডুর ধারা বর্ণনা করেন রফিকুল ইসলাম।
6
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বন্য হাতির আক্রমণের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে হাতির আক্রমণের আতঙ্কে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। শনিবার ভোর রাতে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে একদল হাতি।হাতির আক্রমণে এলাকার কাজী বাড়ির দিদারুল আলমের বাড়ি ও সেলিম হকের দোকানে ভাঙচুর চালায় হাতির পালটি। সেই সঙ্গে ঘরে রাখা ধানসহ বিভিন্ন আসবাবের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কয়েক বছর ধরে প্রতি রাতে কোনো না কোনো গ্রামে হামলা চালায় হাতিগুলো। ভেঙে ফেলে ঘরবাড়ি। এই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে আনোয়ারার ইউএনও শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, হাতিগুলোর বিষয়ে বন বিভাগ সরেজমিনে তদন্ত করে গেছে। হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বন বিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
6
'পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ-২০২২' উদ্বোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ক্যাম্পাসের শেখ রাসেল চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, নিজের কর্মস্থল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সবার পবিত্র দায়িত্ব। এ সময় তিনি, ক্যাম্পাসের যেখানে সেখানে অযাচিত পোস্টার ও ব্যানার টানানো থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেন। বর্ষা মৌসুমে কোনোভাবেই যেন পানি জমে ডেঙ্গু মশার জন্ম না হয় সে বিষয়েও সচেতন থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান ড. হুমায়ুন আখতার। এখন থেকে প্রতি মাসের শেষ সোমবার বাউবি ক্যাম্পাসসহ সকল আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দের বর্ণাঢ্য এক র্যালি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে লাইব্রেরির ও পার্কের মোড় দিয়ে শেখ রাসেল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। নানা স্লোগান সংবলিত প্লাকার্ড, ক্যাপ, অ্যাপ্রোন পরিহিত প্রায় অর্ধশতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীও র্যালিতে অংশ নেন। এ ছাড়া বাউবির সকল আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন করা হয়। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দুপুর ১২.০০ টা থেকে ১.০০ টা পর্যন্ত সকল স্কুল ও বিভাগের প্রত্যেকে নিজ নিজ অফিস ও প্রাঙ্গণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় অংশ নেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাউবি প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নাসিম বানু, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন, ট্রেজারার অধ্যাপক মোস্তফা আজাদ কামাল এবং রেজিস্ট্রার ড. শফিকুল আলমসহ বিভিন্ন স্কুলের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শাখা প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
6
বছর দশেক আগেও রবিশস্য ফলেছে যেখানে, এখন সেখানে শস্য তো দূরের কথা শুষ্ক মৌসুমেও কোমর পানি। একটি খাল নিশ্চিহ্ন হওয়ায় পানি নিষ্কাশন না হতে পেরে ২০০ বিঘা জমি বিলে পরিণত হয়েছে। বলছি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামের কৈখালী মাঠের কথা।দীর্ঘ ১ দশক ধরে জলাবদ্ধ থাকায় একসময়ের ফসলের মাঠটি এখন স্থানীয়রা কৈখালী বিল নামে ডাকেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, কৈখালী বিলের ২০০ বিঘা জমিতে কোমর পানি জমে রয়েছে। ফলে চলতি রোপা আমন ধানের চাষ করতে পারেননি এই এলাকার দুই শতাধিক কৃষক।আগামী বোরো-ইরি মৌসুমে চাষ করতে হলে সেচ যন্ত্র দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা লাগবে এই বিলে। কিন্তু নিষ্কাশনে ব্যয়বহুল হওয়ায় কৃষকদের পক্ষে তা সম্ভব নয়।পুরন্দরপুর রেললাইন থেকে উৎপত্তি হওয়া কৈখালী মাঠের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ছোট্ট খালটি দিয়ে পানি রাজাপুরের মধ্য দিয়ে চলে যেত কপোতাক্ষে নদে। কৈখালী বিলের শেষ প্রান্ত থেকে রাজাপুর নায়েব বাড়ি পর্যন্ত অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে খালটি নিশ্চিহ্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর এতেই স্থায়ী জলাবদ্ধতায় চাষের অনুপযোগী হয়েছে এই বিলটি।কথা হয় পুরন্দরপুর গ্রামের কৃষক হায়দার আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'এই বিলে আমার দুই বিঘা জমি রয়েছে। ৮-১০ বছর আগে এসব জমিতে রবিশস্য চাষ করেছি। এখানে ভালো ফসল ফলত। কিন্তু এখন সব সময় পানি জমে থাকায় আর আবাদ করতে পারি না। আবাদ করতে হলে পানি সেচে চাষ করতে হবে। যা অনেক ব্যয়বহুল।'একই গ্রামের জনি বিশ্বাস বলেন, 'কৈখালী মাঠে প্রায় ২০০ বিঘা জমি রয়েছে। সবই এখন পানির তলায়। সেখানে আমারসহ গোত্রীয়দের চার বিঘা জমি রয়েছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আবাদি জমি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আবাদি জমি হারিয়ে আমিসহ এলাকার বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।'সেলিম হোসেন নামে অপর কৃষক বলেন, 'আমার যতটুকু আবাদি জমি আছে তার সবটুকুই এই বিলে। এখন আবাদ না হওয়ায় কষ্টে আছি।'পাশের গ্রাম রাজাপুরের মিজানুর রহমান বলেন, 'খালটি নিশ্চিহ্ন হওয়ায় শুধু কৈখালী নয় আমাদের গ্রামের সোমপঁচার বিলেও আবাদ হয় না। পানি নিষ্কাশন না হতে পেরে এই বিলে এ বছরও রোপা আমনসহ অন্যান্য ফসল হয়নি।'এদিকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। আবেদনে প্রায় দেড় শ কৃষক গণস্বাক্ষর করেছেন।আবেদনপত্রে বলা হয়, 'জলাবদ্ধ আমাদের জমিগুলো থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকা খালটি বেশ কয়েক বছর ধরে বাঁধ, দখল ও অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের জন্য পানি নিষ্কাশনে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।'তবে স্থানীয় কেউ কেউ বলছেন, এখানে যে খালটি ছিল তা সরকারিভাবে নিবন্ধিত হওয়ার আগেই দখল হয়ে যায়। ফলে এখানে নতুন করে খাল খননের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে কৃষকদের।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, 'পুরন্দরপুর গ্রামের কৃষকদের খাল খননের একটি আবেদন পেয়েছি। খালটি সরকারি হলে পুনরুদ্ধার করা হবে।'
6
এখন গ্রামগঞ্জে করোনায় মৃত্যু বেশি বেড়েছে বিধায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রামের মানুষকে বেশি টিকার দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, 'আমরা গ্রামগঞ্জে বেশি টিকার দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। কারণ গ্রামের লোকেরা টিকা কম পেয়েছে। তাই গ্রামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে এবং পঞ্চাশ-ঊর্ধ্ব লোকের মৃত্যু প্রায় ৯০ শতাংশ। আমরা তাদেরকে আগে টিকা দিব। অন্যদেরকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। আগে বয়স্কদের টিকা দিতে হবে। তাদেরকে সুরক্ষিত করতে হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের টিকা দেয়া হবে।' শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জে জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে টিকা দিতে প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা করে রেখেছেন। সেব্যাপারে যত টাকাই লাগুক তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শোক সভায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সিফাত কৌরাইশী সুমনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : ইউএনবি
6
৩২ বছর আগে ১৬ বছরের এক কিশোর কী অসাধারণ দৃঢ়তায় দাঁড়িয়েছিল ইমরান খান, ওয়াকার ইউনিস, ওয়াসিম আকরামদের নিয়ে গড়া বিশ্বসেরা গতির আক্রমণের সামনে। খুব বেশি রান সে করেনি। কিন্তু কিশোরটির অদম্য মানসিকতা সেদিন অবাক করেছিল সবাইকে। এমনকি ওয়াকারের বাউন্সারে রক্তাক্ত হয়েও কিশোরটি হাল ছেড়ে দেয়নি। বিশ্বকে শাসনের বার্তা সে জানিয়ে দিয়েছিল। সেই কিশোর পরবর্তীকালে আসলেই ক্রিকেটের দুনিয়া শাসন করেছে। নিজের পায়ের নিচে নামিয়ে এনেছে ক্রিকেটের সম্ভব-অসম্ভব সব রেকর্ড। কিংবদন্তি হিসেবে ঠাঁই করে নিয়েছে ক্রিকেট ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে। গোটা একটা দেশ, একটা জাতির স্বপ্ন আবর্তিত হয়েছে তাঁর ভালো-মন্দ ঘিরে। শচীন টেন্ডুলকারের অভিষেক মুহূর্তটিই আজ মনে করলেন ওয়াসিম আকরাম। তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন সেই 'ওয়ান্ডার বয়'র কীর্তি। সেই টেন্ডুলকার আজ যখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, পাকিস্তানি কিংবদন্তি তখন তাঁকে শুভকামনা জানাতে গিয়ে মনে করিয়ে দিলেন ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসের কথা, অভিষেকলগ্নে তাঁর সেই দৃঢ়তার কথা। , ... - ! ! ... ! ://./ টুইটারে ওয়াসিম লিখেছেন, 'এমনকি তুমি যখন ১৬ বছরের কিশোর, তখন বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে অসাধারণ দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে মুখোমুখি হয়েছ। সুতরাং আমি নিশ্চিত যে তুমি কোভিড ১৯-কে বিশাল একটা ছক্কা মেরে দূর করে দেবে। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো কিংবদন্তি! দারুণ হবে যদি তুমি তোমার বিশ্বকাপ জয়ের দশকপূর্তির দিনটা হাসপাতালের চিকিৎসক আর নার্সদের সঙ্গে উদ্যাপন কর। ব্যাপারটা দারুণ হবে। ছবি দিতে ভুলে যেয়ো না কিন্তু!' টেন্ডুলকার এত দিন বাড়িতেই ছিলেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিছুটা সতর্কতা হিসেবেই। কিছুদিন আগে মাঠে ফিরেছিলেন টেন্ডুলকার, রোড সেফটি লিজেন্ড ক্রিকেটে ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটারদের দলের হয়ে। সেখানেও তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ২০০ টেস্ট খেলে ক্রিকেট ছেড়েছিলেন ৮ বছর আগে। কিন্তু লিজেন্ড ক্রিকেটে তাঁর খেলা দেখে মনেই হয়নি, তিনি এত দিন আগে খেলা ছেড়েছেন। তবে এই লিজেন্ড ক্রিকেটকেই করোনার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের রায়পুরে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে জৈব সুরক্ষা বলয় ও স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারগুলো ছিল বেশ দুর্বল, অভিযোগ উঠেছে এমনই। . . ! ://./ গত কয়েক মাসে এ উপমহাদেশে করোনা সংক্রমণের হার অনেক কমে গেলেও গত কয়েক সপ্তাহে এই হার ঊর্ধ্বমুখী। ভারতেও হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। এর মধ্যে টেন্ডুলকারের আবাস মহারাষ্ট্র প্রদেশ ও এর রাজধানী মুম্বাইয়ে করোনা সংক্রমণের হার ও পরিমাণ দুইই ভারতে সবচেয়ে বেশি।
12
দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) জহির রায়হান ভিআইপি প্রজেকশন হলে এই নির্বাচনের (২০১৯-২০২১) ভোট হয়। দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনকৃত এফবিসিসিআইয়ের অঙ্গসংগঠনটির নির্বাচন। প্রথম ধাপে শনিবার সাধারণ সদস্যরা ১৯ জন নির্বাহী সদস্যকে নির্বাচিত করেছেন। এরপর ১৯ জন মিলে সম্পাদকীয় পদের জন্য ১০ জনকে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত ১৯ সদস্য হলেন, খোরশেদ আলম খসরু- ১২১, সামসুল আলম - ১১৭, ইস্পাহানী- ১১৩, কামাল মোহাম্মাদ লিপু - ১১০, মেহেদী হাসান সিদ্দিকী মনির- ১০৬, মোর্শেদ খান হিমেল- ১০৩, রশীদুল আমিন হলি- ১০০, জাহিদ হোসেন- ৯৮, এ. জে. রানা- ৯৬, মোহাম্মদ হোসেন- ৯৫, ইয়ামিন হক ববি- ৮৬, কামাল লিপু- ৮১, অপূর্ব রানা- ৮০, নাদির খান- ৭৯, শহিদুল আলম- ৭৬, ইকবাল হোসেন জয়- ৭৩, ইলা - ৭২, ড্যানি সিডাক- ৬৯ ও আলিমুল্লাহ খোকন- ৬৫্ এবার চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০১৯-২১ মেয়াদি নির্বাচনে ১৯ কার্যনির্বাহী সদস্য পদের বিপরীতে প্রার্থী হন ৪১ জন। মোট ভোটার ছিলেন ১৪০ জন। দুই সহযোগী সদস্য পদের বিপরীতে প্রার্থী হন ৯ জন। এতে মোট ভোটার ৫৪ জন। তবে এবারের নির্বাচনে কোনো প্যানেল নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিরাজুল ইসলাম উকিল। সদস্য হিসেবে ছিলেন- মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (উপসচিব), মো. খাদেমুল ইসলাম (সহকারী প্রোগ্রামার)। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন আবদুর রহিম খান (যুগ্ম সচিব), সদস্য আবদুছ সামাদ আল আজাদ (যুগ্মসচিব) ও সৈয়দা নাহিদা হাবিবা (উপসচিব) ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট এই সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন হয়। ২০১১-১৩ মেয়াদি ওই নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন যথাক্রমে সোহেল রানা ও ডিপজল।
2
মিয়ানমারে আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে জয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে দেশটির সামরিক বাহিনী। শুক্রবার রাজধানী নেপিডোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে কোনো মন্তব্য করলো জান্তা কর্তৃপক্ষ। ব্রিগেডিয়ার জাও মিন তুন বলেন, সামরিক বাহিনী সরকারি মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক শিগগির পুরোমাত্রায় চালু করবে। মিয়ানমারে বিক্ষোভ ধীরে ধীরে কমে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'শান্তিকামী মানুষের সহায়তায় বিক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে, যার মূল্য আমরা দেই। আমরা জনগণকে অনুরোধ করছি নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সহযোগিতা করার এবং তাদের সাহায্য করার।' ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন জানান, মিয়ানমারে চলমান বিক্ষোভে সামরিক বাহিনী দুই শ' ৪৮ জন নিহত হওয়ার রেকর্ড সংরক্ষণ করেছে। তবে সামরিক বাহিনী কোনো প্রকার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেন তিনি। অপরদিকে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে ১৬ পুলিশ সদস্য নিহত হয় বলে সামরিক এই মুখপাত্র জানান। এর আগে মিয়ানমারের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী থাইল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) তাদের বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৬১৪ জন নিহত হয়েছেন। ১ ফেব্রুয়ারি তাতমাদাও নামে পরিচিত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী। সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। সূত্র : রয়টার্স
3
কলকাতার পার্কসার্কাসে জন্ম শহীদ কাদরীর। ১৯৪২ সালে। বাবার মৃত্যুর পর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কয়েক দিন আগে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন তাঁরা। বড় ভাইয়ের বন্ধু ছিলেন খোকন। তিনি একদিন এসে শহীদের বড় ভাই শাহেদের খোঁজ করছিলেন। তিনি শহীদকে বলেন, 'তুই শামসুর রাহমানের কবিতা পড়েছিস? নাম শুনেছিস?''না তো, আমি নাম জানি না।''আরে তাঁর কবিতা তো দেশ পত্রিকায় ছাপা হয়। দেশ পত্রিকায় কখনো দেখিসনি?''না তো!''আচ্ছা, আমি বাচ্চু ভাইকে তোর কথা বলব।' বলে চলে যান খোকন।মহিউদ্দিন আহমদের ছদ্মনাম ছিল আহমদ মীর। তিনি 'স্পন্দন' নামে পত্রিকা বের করতেন ওয়ারী থেকে। তাঁর পত্রিকায়ই ছাপা হলো শহীদ কাদরীর প্রথম কবিতা 'পরিক্রমা'। কবিতাটি ছিল মার্ক্সিস্ট কবিতা। দ্বিতীয় কবিতাটিও ছাপা হয় সেখানেই 'জলকন্যার জন্য' নামে। স্পন্দন খুলে কেউ তাঁর কবিতা পড়ছে কি না, সেটা দেখার জন্য খান মজলিসের বুক স্টলে যেতেন শহীদ কাদরী। একদিন দেখেন শামসুর রাহমান সেখানে দাঁড়িয়ে 'স্পন্দন' খুলে কবিতা পড়ছেন। শামসুর রাহমানকে শহীদ কাদরী জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনার কেমন লাগল "জলকন্যার জন্য" কবিতাটা?' শামসুর রাহমান হেসে বললেন, 'আপনি কি শহীদ কাদরী? আপনার কথা তো খোকন আমাকে বলেছে।'শহীদের পকেটে এক টাকা ছিল। সদরঘাটের রিভার ভিউ ক্যাফেতে শামসুর রাহমানকে নিয়ে গেলেন তিনি। চা-বিস্কুট নিয়ে বসলেন। শহীদ বললেন, 'আমার কাছে আরেকটা কবিতা আছে, শুনবেন?'শামসুর রাহমান শুনলেন। সে কবিতায় একটা লাইন ছিল, 'মেয়েটা সারারাত জেগে ভূল বানানে কবিতা লেখে...'।শামসুর রাহমান বললেন, 'আপনার "ভূল" বানানটা কিন্তু ভুল।'এভাবে শুরু হলো কথা। শামসুর রাহমানের আশিক লেনের বাড়ি যান সেখান থেকে। তাঁর ছাপা হওয়া কবিতার বান্ডিল বের করে শুনিয়ে যান একের পর এক কবিতা। গাঢ় হলো বন্ধুত্বের বন্ধন।সূত্র: জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, শহীদ কাদরী লেখা না-লেখার গল্প, পৃষ্ঠা ৪৫-৪৬
6
স্বাগতা। অভিনেত্রী, মডেল ও উপস্থাপক। একুশে টিভিতে প্রচার হচ্ছে তার উপস্থাপনায় চলচ্চিত্রের গান নিয়ে অনুষ্ঠান 'অনুরোধের ছায়াছন্দ'। এ অনুষ্ঠান, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে- এই সময়ে চলচ্চিত্রবিষয়ক অন্যান্য অনুষ্ঠানের চেয়ে 'অনুরোধের ছায়াছন্দ' কতটা আলাদা? একেবারেই আলাদা, যা দর্শক দেখলেই বুঝতে পারবেন। এখানে চলচ্চিত্রের নতুন গান, পুরোনো দিনের গান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্রের গানও প্রচার হয়ে থাকে। পাশাপাশি অনুরোধের গানও থাকছে। সিনেমাবিষয়ক অনুষ্ঠানের প্রতি আপনার আলাদা কোনো দুর্বলতা আছে? যেহেতু নিজেও চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা করছি, তাই এ ধরনের অনুষ্ঠানের প্রতি আলাদা আগ্রহ কাজ করে। এক সময় ভেবেছি, ফিল্ম রিলেটেড অনুষ্ঠান করলে পড়ায় সহায়ক হবে। তাই সবসময় মিউজিক ও ফিল্মের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। যে জন্য কাজটি অনেক সহজ হয়েছে। মোটা দাগে বলতে পারি, সিনেমাবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার আনন্দই আলাদা। এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেও চলচ্চিত্র সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারছি। শুধু দেশীয় ছবি নয়, বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র সম্পর্কে জানাশোনা হচ্ছে। সায়ংকাল ধারাবাহিকটির ৫০তম পর্ব প্রচার হয়েছে গতকাল। এতে আপনার অভিনীত 'নার্গিস' চরিত্রটি নিয়ে দর্শকদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এ নাটকের যখন শুটিং করি তখন নির্মাতা আফসানা মিমি আমাকে বলেছেন, 'নার্গিস' চরিত্র যদি পর্দায় ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারি, তাহলে দর্শকের মনে দাগ কাটবে। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। 'নার্গিস' ইতিবাচক, স্বাবলম্বী এক মেয়ে। সে জীবনকে অনেক সহজ করে দেখে। কিন্তু তার আরেকটি রূপ আছে, যেটা গল্পে পরে দেখা যাবে। শওকত আলীর উপন্যাসে যে বাস্তবতার ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়, তা সহজেই মানুষের মনে নাড়া দেয়। যে জন্য 'নার্গিস' চরিত্রটি দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছে। আবারও মঞ্চ নাটকের নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছিলেন... রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কালমৃগয়া' নিয়ে কাজ শুরু করলেও করোনার কারণে মঞ্চায়ন সম্ভব হয়নি। এই গীতিনাট্য যেহেতু শিশুদের নিয়ে, তাই ঘরের বাইরে গিয়ে তাদের সঙ্গে মহড়া দেওয়া কঠিন। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই নাটকটি মঞ্চায়নের কথা ভাবব। শুনেছি, একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন? হ্যাঁ, 'দাহ' নামে এ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন আলম আনোয়ার। এটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য বানানো হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবেও এটি দেখানো হবে। হতাশাগ্রস্ত এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ঈদের কাজের কী খবর? আসছে ঈদে দুটি নাটকে অভিনয় করার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি নাটক না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে গল্প আমাকে বলা হয়েছিল শেষ পর্যন্ত তা দাঁড়ায়নি। করোনার মধ্যে কষ্ট করে এমন কাজ করার কোনো মানে হয় না। তবে চন্দন চৌধুরীর 'ওয়ান্ডার লাভার বয়' নামে একটি নাটকে কাজ করব। শুটিং হবে ২৪ জুলাই।
2
একটি মাত্র 'এস' কম পড়ায় এবার ট্রোলের শিকার হলেন বিগ বি। রিয়েলিটি শো 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি'তে একজন শিল্পী এসেছিলেন যিনি অতি কম খরচে একটি নকল হাত বানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে বর্ষীয়াণ অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন সেই শিল্পীর প্রশংসা করে লেখেন 'প্রথেটিক হ্যান্ড'। লেখার কথা ছিল 'প্রস্থেটিক হ্যান্ড'। লিখতে গিয়ে শুধু একটি ইংরেজি অক্ষর 'এস' কম পড়ে। আর সেই টাইপো শুধরে দেন এক নেটাগরিক। পরের পোস্টে অমিতাভ বচ্চন ভুল শুধরে নিয়ে ক্ষমা চান। ভুল চিহ্নিত করার জন্য ধন্যবাদ জানান সেই নেটাগরিককে। দ্বিতীয় পোস্টের তলায় ফের ট্রোলের জোয়ার আসে। কেউ আবার সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতম ভুল ধরতে আরম্ভ করলেন। একজন লিখলেন, 'স্যর আপনার সারাটা জীবন তো ভুল শুধরাতে শুধরাতেই কেটে গেল।' কেউ আবার মিম পোস্ট করে জানালেন, 'কত দিন তোর ভুল ঢাকা দিয়ে চলব!' কেউ আবার সুযোগ পেয়ে পুরনো একটি পোস্ট নিয়ে পড়লেন। সেই পোস্টে অমিতাভ বচ্চন লিখেছিলেন, 'মনে রাখবেন, সেই মানুষগুলোই আপনার দিকে আঙুল তোলে, যারা আপনার সমানে সমানে কখনও পৌঁছাতে পারবে না।' কেউ কেউ তার এই পোস্ট নিয়েও বলেন যে, এই ধরনের ঔদ্ধত্য তাকে মানায় না। বলেন, 'নিশ্চয়ই সেই টুইটটা অমিতাভ না, জয়া বচ্চন করেছেন!'
2
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন কমিশন একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে।জার্মানির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিলস অ্যানেন দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে শেখ হাসিনা একথা বলেন।বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমর্থন ও সহযোগিতায় একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে।ইহসানুল করিম বলেন, তারা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, আগামীর নির্বাচন, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার বিভিন্ন খাত নিয়ে আলোচনা করেন।'আমাদের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ইতোমধ্যে এই কমিশন সারাদেশের জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ৬ হাজারেরও বেশি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। এসব নির্বাচনে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই এবং এসব নির্বাচনে কখনো আমরা এবং কখনো তারা (বিরোধী দল) জয়ী হয়েছে', প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে একথা বলেন প্রেস সচিব।শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনে তাঁর দলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দলটি সামরিক শাসনে ক্রমাগত ভোগান্তির সম্মুখীন হয়। সামরিক শাসনে এদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানসমূহ ভেঙ্গে পড়েছিল।জার্মান মন্ত্রী বলেন, এটাই তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং তিনি আকাশপথে ভ্রমণের সময় এ দেশের সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেছেন। তিনি এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন।জার্মান মন্ত্রী, ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের উন্নয়ন এবং এটি বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জার্মান কোম্পানীর মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।জার্মান মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়শী প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে জার্মানীর দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের আগ্রহ ব্যাক্ত করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু, সংখ্যায় তারা স্থানীয় জনগণকেও ছাপিয়ে গেছে এবং তাদের সনাক্তকরণের জন্য রেজিষ্ট্রেশনের পর পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই রোহিঙ্গা সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশী।তাঁর সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জানিয়ে জার্মান মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সরকারের জন্য ব্যাপক সমস্যা।প্রধানমন্ত্রী তাঁর জার্মান সফরের কথা স্মরণ করে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, জার্মানীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ এবং বাংলাদেশের জার্মানীর রাষ্ট্রদূত ড. টমাস প্রিন্জ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
9